বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা / ৩৯ · ১০১২০০ / ৩,৮৭৯

১০১.
ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রতি কিলোমিটার উচ্চতায় কত ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা হ্রাস পায়?
  1. ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
‍ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রতি কিলোমিটার উচ্চতায় ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে তাপমাত্রা হ্রাস পায়। এ কারণে একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন উচ্চতার স্থানের তাপমাত্রা ভিন্ন হয়।
যেমন: দিনাজপুর ও ভারতের শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত কিন্তু শিলংয়ের উচ্চতা অধিক হওয়ায় সেখানে তাপমাত্রা দিনাজপুর অপেক্ষা কম।

তবে বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোবিরতি ও মেসোবিরতিতে তাপমাত্রা স্থিতাবস্থায় থাকে এবং তাপমণ্ডল থেকে উপরের দিকে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১০২.
'কোভিড-১৯'-এর জন্য তৈরি টিকা কীভাবে কাজ করে?
  1. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উদ্দীপিত করার জন্য দুর্বল ভাইরাসের একটি রূপ প্রবর্তন করে
  2. পরিশোধিত ভাইরাল প্রোটিনের সাবইউনিট প্রবিষ্ট করানোর মাধ্যমে
  3. হোস্ট কোষে জেনেটিক উপাদান বহন করার জন্য একটি ভাইরাস ঘটিত বাহক ব্যবহার করে
  4. mRNA সরবরাহ করে যা হোস্ট কোষ গুলোকে একটি ভাইরাল প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়
ব্যাখ্যা

- 'কোভিড-১৯'-এর জন্য তৈরি টিকা mRNA সরবরাহ করে যা হোস্ট কোষ গুলোকে একটি ভাইরাল প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়, কারণ mRNA টিকা শরীরের কোষে প্রবেশ করে এবং কোষকে নির্দিষ্ট ভাইরাল প্রোটিন (যেমন- SARS-CoV-2 স্পাইক প্রোটিন) তৈরি করতে নির্দেশ দেয়। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ওই প্রোটিন চিনে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সাহায্য করে
অন্যদিকে, ভাইরাল ভেক্টর টিকা (যেমন- অ্যাস্ট্রাজেনেকা, জ্যানসেন) একটি দুর্বল ভাইরাস (vector) ব্যবহার করে স্পাইক প্রোটিনের জেনেটিক উপাদান কোষে পৌঁছে দেওয়া হয়। কোষ প্রোটিন তৈরি করে এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়। দুর্বল ভাইরাস বা প্রোটিন-ভিত্তিক টিকা (যেমন- সিনোফার্ম, নোভাভ্যাক্স) দুর্বল বা নিষ্ক্রিয় ভাইরাস অথবা ভাইরাল প্রোটিনের সাবইউনিট সরাসরি শরীরে প্রবেশ করানো হয়। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা প্রতিক্রিয়া জানায় এবং অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
উপর্যুক্ত  আলোচনা থেকে ঘ) 'mRNA সরবরাহ করে যা হোস্ট কোষ গুলোকে একটি ভাইরাল প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়' অপশনকে সর্বোত্তম উত্তর হিসেবে নেওয়া হয়েছে

সহজে বলা যায়,
- কোভিড-১৯ টিকার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রযুক্তি থাকলেও, সবচেয়ে আধুনিক ও বহুল ব্যবহৃত টিকাগুলো (যেমন Pfizer-BioNTech, Moderna) হলো mRNA টিকা।
- এই টিকাগুলোতে-
- শরীরে mRNA প্রবেশ করানো হয়,
- সেই mRNA হোস্ট কোষকে ভাইরাসের স্পাইক প্রোটিন তৈরি করার নির্দেশ দেয়,
- ইমিউন সিস্টেম ওই প্রোটিনকে চিনে অ্যান্টিবডি তৈরি করে,
- ভবিষ্যতে আসল ভাইরাস এলে শরীর দ্রুত প্রতিরোধ করতে পারে। 

COVID-19 টিকা: 
- COVID-19 টিকা হলো এমন একটি প্রতিরোধমূলক টিকা যা SARS-CoV-2 করোনাভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট করোনাভাইরাস রোগ ২০১৯ (COVID-19) প্রতিরোধের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই টিকা বিভিন্ন ধরনের সাসপেনশনের মাধ্যমে তৈরি হতে পারে, যেমন- পরিবর্তিত মেসেঞ্জার RNA (mRNA), রিকম্বিন্যান্ট প্রোটিন অথবা ভাইরাসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী উপাদান (Antigen)। 
- টিকাটি সাধারণত ইন্ট্রামাসকুলার ইনজেকশনের মাধ্যমে (পেশিতে ইনজেকশন) প্রয়োগ করা হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) সক্রিয় করে ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি ও ইমিউন মেমোরি তৈরি করে, ফলে ভবিষ্যতে ভাইরাস সংক্রমণ হলেও রোগের তীব্রতা কমে যায়। COVID-19 রোগ প্রধানত জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট দ্বারা চিহ্নিত, যা গুরুতর ক্ষেত্রে তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। 

mRNA টিকা (Messenger RNA Vaccine): 
- mRNA টিকা এমন একটি আধুনিক টিকা প্রযুক্তি যেখানে শরীরে সিন্থেটিক মেসেঞ্জার RNA (mRNA) প্রবেশ করানো হয়। এই mRNA কোষকে নির্দিষ্ট একটি ভাইরাল প্রোটিন তৈরি করার নির্দেশ দেয়, ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ওই প্রোটিনকে চিনে ভবিষ্যতে প্রকৃত রোগজীবাণুকে ধ্বংস করতে শেখে।
- mRNA টিকার বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে জীবিত বা নিষ্ক্রিয় রোগজীবাণু ব্যবহার করা হয় না, তাই এটি ঐতিহ্যবাহী টিকার থেকে ভিন্ন। মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রথম অনুমোদিত mRNA টিকা হলো ফাইজার-বায়োএনটেক ও মডার্না COVID-19 টিকা, যা ২০২০ সালের শেষে SARS-CoV-2 সংক্রমণ প্রতিরোধে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পায়।
- mRNA ভ্যাকসিন কোষের স্বাভাবিক প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়াকে কাজে লাগায়। mRNA সাধারণত DNA থেকে রাইবোসোমে প্রোটিন তৈরির নির্দেশ বহন করে। ভ্যাকসিনে কৃত্রিম (সিন্থেটিক) mRNA ব্যবহার করে রোগজীবাণুর নির্দিষ্ট প্রোটিন (যেমন- SARS-CoV-2 এর স্পাইক প্রোটিন) তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। এই প্রোটিন কোষের পৃষ্ঠে প্রদর্শিত হলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তা শনাক্ত করে অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা ভবিষ্যতে প্রকৃত রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। সিন্থেটিক mRNA কোষে প্রবেশ করানো হয় লিপিড ন্যানোপার্টিকেল বা অন্যান্য বাহকের মাধ্যমে, অথবা সরাসরি ইনজেকশনের মাধ্যমে।
- কৃত্রিম mRNA টিকা বার্ড ফ্লু, HIV/AIDS, ম্যালেরিয়া ও যক্ষ্মার মতো রোগ প্রতিরোধে বড় সম্ভাবনা রাখে। পুরোনো টিকার তুলনায় এটি দ্রুত তৈরি করা যায়, কারণ জীবন্ত ভাইরাস চাষের প্রয়োজন নেই। mRNA সহজে পরিবর্তন করা যায়, তাই নতুন ভাইরাসের রূপ বা নতুন রোগের জন্য দ্রুত টিকা তৈরি সম্ভব। 
- দীর্ঘমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি কম, কারণ mRNA দ্রুত ভেঙে শরীর থেকে অপসারিত হয়। স্বল্পমেয়াদী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (মাথাব্যথা, ক্লান্তি ইত্যাদি) হতে পারে। 
- mRNA টিকার প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো কোল্ড স্টোরেজের প্রয়োজন, কম স্থিতিশীলতা এবং উচ্চ উৎপাদন খরচ, যা গবেষণার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
 - জনসন অ্যান্ড জনসনের জ্যানসেন টিকা একটি রিকম্বিন্যান্ট (ভাইরাল ভেক্টর) টিকা, যা মাঝারি থেকে গুরুতর COVID-19 রোগ প্রতিরোধে কার্যকর ছিল। এছাড়াও অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা ছিল ভাইরাল ভেক্টরভিত্তিক যা ২০২০ সালের শেষের দিকে যুক্তরাজ্যে প্রথম অনুমোদিত হয়েছিল এবং নোভাভ্যাক্স টিকা ছিল প্রোটিন-ভিত্তিক টিকা যা ২০২১ সালে ইউরোপে প্রথম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত।

উৎস: britannica.com ওয়েবসাইট [লিঙ্ক] [লিঙ্ক]।

১০৩.
mRNA ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রবেশের পর প্রধানত কী কাজ করে?
  1. রোগজীবাণুর সম্পূর্ণ গঠন তৈরি করে
  2. মানব ডিএনএ পরিবর্তন করে
  3. প্রস্তুত অ্যান্টিবডি সরাসরি শরীরে প্রবেশ করায়
  4. নির্দিষ্ট ভাইরাল প্রোটিন তৈরির নির্দেশ প্রদান করে
ব্যাখ্যা

• নির্দিষ্ট ভাইরাল প্রোটিন তৈরির নির্দেশ প্রদান করে — কারণ mRNA ভ্যাকসিন দেহের কোষকে ভাইরাসের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন (যেমন স্পাইক প্রোটিন) তৈরি করতে নির্দেশ দেয়, যা রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করে।

• mRNA ভ্যাকসিন:
- mRNA এর পূর্ণরূপ messenger Ribonucleic Acid.
- এটি একটি জেনেটিক নির্দেশবাহী অণু, যা কোষকে নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরির তথ্য প্রদান করে।
- mRNA ভ্যাকসিন মানবদেহে প্রবেশ করার পর কোষের রাইবোজোমে পৌঁছে।
- রাইবোজোম mRNA–এর নির্দেশ অনুসারে ভাইরাসের একটি নির্দিষ্ট প্রোটিন তৈরি করে।
- এই প্রোটিন নিজে রোগ সৃষ্টি করে না, তবে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এটিকে বিদেশি হিসেবে শনাক্ত করে।
- ফলস্বরূপ অ্যান্টিবডি ও স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন প্রতিরক্ষা কোষ তৈরি হয়।
- ভবিষ্যতে প্রকৃত ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয়।

• কার্যপ্রক্রিয়া:
- mRNA কোষের নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করে না।
- এটি মানব ডিএনএ–এর সঙ্গে যুক্ত বা পরিবর্তন করে না।
- কোষে সাময়িকভাবে অবস্থান করে এবং পরে ভেঙে যায়।

• প্রয়োগ:
- COVID-19 প্রতিরোধে mRNA প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- Pfizer-BioNTech ও Moderna ভ্যাকসিন এই প্রযুক্তির উদাহরণ।

উৎস: Britannica, Messenger RNA Vaccine Overview.

১০৪.
পোলিও টীকা আবিস্কারক জোনাস সাল্ক যুক্তরাষ্ট্রের এক শহরে মারা যান, শহরটির নাম-
  1. La Martini
  2. La Zola
  3. San Antonio
  4. San Hose
ব্যাখ্যা
পোলিও:
- পোলিও (পোলিওমাইলাইটিস) হল পোলিওভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট একটি পঙ্গু করে দেওয়া এবং প্রাণ-সংশয়কারী রোগ, যা একজন ব্যক্তির মেরুদন্ডকে সংক্রামিত করতে পারে, যার ফলে পক্ষাঘাত হতে পারে।
- পোলিও টিকা পোলিও প্রতিরোধ করতে পারে।
- OPV-এর পূর্ণরূপ: Oral Polio Vaccine যা পোলিও রোগের টীকা।
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন এবং ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ জোনাস সাল্ক:
- ১৯১৪ সালে নিউইয়র্কে জন্ম নেওয়া জোনাস সাল্ক ভাইরাস নিয়ে গবেষণা শুরু করেন ১৯৩০-এর দশকে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্লুর প্রতিষেধকের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। 
- ১৯৪৮ সালে পোলিও ভাইরাস নিয়ে গবেষণা এবং প্রতিষেধক তৈরির চেষ্টার জন্য বৃত্তি পান।
- ১৯৫০ সালের দিকে পোলিও ভ্যাকসিনের প্রাথমিক একটি সংস্করণ তৈরিতে সফল হোন।
- ১৯৫২ সালে সাল্কের নেতৃত্বে একটি দল প্রথম পোলিও টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করে।
- ১৯৫৪ সালে এই টিকার পরীক্ষাগার প্রয়োগ শুরু হয়।
- ১৯৫৫ সালে এই টিকা কার্যকর এবং নিরাপদ বলে ঘোষণা করা হয়।
-  ১৯৯৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোলা নামক শহরে মারা যান জোনাস সাল্ক। 

উৎস: Britannica.
১০৫.
এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায়-
  1. গনোরিয়া
  2. সিফিলিস
  3. এইডস
  4. ক্যান্সার
ব্যাখ্যা

- মানবদেহে এইচআইভির আক্রমণে এইডস রোগ হয়।
- HIV এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Human Immunodeficiency Virus.
- এইডস রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের শ্বেতকনিকা ধ্বংস হয়।
- ফলে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা লোপ পায়।
- তাই এইচআইভি সংক্রমণের সর্বশেষ পর্যায়ে হলো এইডস।
- 'AIDS' এর পূর্ণরূপ- Acquired Immunodeficiency Syndrome।
- ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম এইডস রোগের সন্ধান পাওয়া যায়।

১০৬.
মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু কোনটি? 
  1. কোয়াসার
  2. নিউট্রন স্টার
  3. কৃষ্ণবিবর
  4. বোসন কণা
ব্যাখ্যা
কোয়াসার (Quasar): 
- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়সার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়সারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। 
- অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি আমাদের সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান বণ্ঢ্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস বণ্ঢ্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি।

উৎস: পদার্থ দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০৭.
উচ্চ পর্বতের উপর পানির স্ফুটনাষ্ক কমে যায়, কারণ ঐ উচ্চতায় __
  1. ক) বায়ুর চাপ বেশি
  2. খ) বায়ুর চাপ কম
  3. গ) সূর্য তাপের প্রখরতা বেশি
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পানির স্ফুটনাঙ্ক বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সাথে পরিবর্তিত হয়।
- নিম্নচাপ বা উচ্চ উচ্চতায়, স্ফুটনাঙ্ক কম থাকে।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠে বায়ুর চাপ সবচেয়ে বেশি। তাই পৃথিবীর পৃষ্ঠে পানির স্ফুটনাঙ্ক সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১০০° সেলসিয়াস।
- কিন্তু পৃথিবী হতে যত উপরে উঠা যায় তত বায়ুর চাপ কমে যায়, ফলে স্ফুটনাঙ্ক হ্রাস পায়।
- সুউচ্চ পর্বতে বায়ুর চাপ পৃথিবীর বায়ুর চাপ অপেক্ষা কম বিধায় পর্বতের উপর পানির স্ফুটনাঙ্ক কম। তাই পর্বতের উপর পানি কম তামপাত্রায় ফুটতে থাকে।
- মাউন্ট এভারেস্টের শীর্ষে নিম্ন বায়ুমণ্ডলীয় চাপে, বিশুদ্ধ জল প্রায় 154°F (68°C) এ ফুটতে থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১০৮.
সেরিকালচার কী?
  1. রেশম পোকার চাষ বিদ্যা
  2. মাছ চাষ বিদ্যা
  3. পাখি পালন বিদ্যা
  4. চিংড়ি চাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা

 • সেরিকালচার:
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- রেশম পকার ইংরেজি নাম Silk Worm.
- বৈজ্ঞানিক নাম: Bombyx Mori.
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

অন্যদিকে,
- মৎস্য চাষ বিদ্যা - পিসিকালচার.।
- পাখিপালন বিদ্যা- এভিকালচার।
- চিংড়ি পালনবিদ্যা- প্রনকালচার।

উৎস: ব্রিটানিকা

১০৯.
হৃদযন্ত্রের সংকোচন হওয়াকে বলা হয়-
  1. ক) ডায়াস্টল
  2. খ) সিস্টল
  3. গ) ডায়াসিস্টল
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে রক্ত দেহের অভ্যন্তরে গতিশীল থাকে। এমনকি বিশ্রামরত অবস্থায়ও এর সংকোচন ও প্রসারণ চক্রাকারে চলতে থাকে।
- হৃদপিন্ডের প্রকোষ্ঠগুলোর সংকোচনকে সিস্টোল এবং
- সম্প্রসারণকে ডায়াস্টোল বলে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১১০.
অগভীর পানিতে সুনামির শক্তি কেমন হয়? 
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. কমে যায়
  3. অনির্ধারিত
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ, সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে।
- সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 
- ১৭৬২ সালের ২ এপ্রিল বঙ্গোপসাগরের আরাকান অঞ্চলে সংঘটিত একটি ভূমিকম্প থেকে সৃষ্ট সুনামি বাংলাদেশে আঘাত এনেছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১১১.
ভূমিকম্পের কোন তরঙ্গটি সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন? 
  1. S তরঙ্গ
  2. P তরঙ্গ
  3. L তরঙ্গ
  4. H তরঙ্গ
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের তরঙ্গ (Earthquake Waves): 
- পুকুরের ঠিক মধ্যে কোনো পাথর নিক্ষেপ করলে যেমন পানির তরঙ্গগুলো পুকুরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ঠিক সেরূপে ভূমিকম্পের তরঙ্গগুলো তার মূল উৎস হতে সবদিকে সমভাবে ছড়িয়ে পড়ে। 
- সাধারণত ভূমিকম্পের তরঙ্গ তিন প্রকারের, এরা উৎস হতে গন্তব্য স্থানের দিকে তিনটি ভিন্ন পথে গমন করে। 
যেমন- 
(ক) প্রাথমিক বা P তরঙ্গ (Primary wave): 
- এটি সবচেয়ে দ্রুতগতি সম্পন্ন তরঙ্গ। 
- এর গতি প্রতি সেকেন্ডে ৫ থেকে ৮ কি.মি.। 
- এ জাতীয় তরঙ্গ কেবলমাত্র কঠিন বস্তু নয়, নরম বস্তুর মধ্য দিয়েও প্রবাহিত হতে পারে।
অর্থাৎ, এ তরঙ্গ সরাসরি পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করেও অপর প্রান্তে যেতে পারে। 
- পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের গঠন সম্পর্কে এই P-তরঙ্গের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি জানা সম্ভব। 

(খ) দ্বিতীয় বা S তরঙ্গ (Secondary wave): 
- এই S-তরঙ্গের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ থেকে ৫ কি. মি. হয়। 
- এটি প্রধানত সমকোণে প্রবাহিত হয় এবং পৃথিবীর অভ্যন্তরে বেশি দূর যেতে পারে না, কারণ এ তরঙ্গ তরল পদার্থের মধ্য দিয়ে চলতে পারে না। 

(গ) পৃষ্ঠ বা L তরঙ্গ (Longitudinal wave): 
- পৃষ্ঠ তরঙ্গকে L তরঙ্গ বলা হয়। 
- প্রাথমিক ও দ্বিতীয় তরঙ্গ ভূত্বকের ওপরে পৌঁছবার পর যে তরঙ্গটি খুব মৃদুগতিতে পৃথিবীর উপরিভাগ দিয়ে চলে, তাকে পৃষ্ঠ বা L তরঙ্গ বলে । কারণ, এ তরঙ্গটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ দিয়ে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘপথ অতিক্রম করে। এ কারণে দূরবর্তী ভূমিকম্পে প্রথম ও দ্বিতীয় তরঙ্গ ভূত্বকের অভ্যন্তর দিয়ে সর্বপ্রথম যে স্থানে পৌছে, তার কিছু সময় পর পৃষ্ঠ তরঙ্গও সে স্থানে পৌছে। 
- তরঙ্গের এ গতির দ্বারাই ভূমিকম্পের কেন্দ্র নিরূপণ করা যায়। 
- এ তরঙ্গের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ থেকে ৪ কি. মি.। 


উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
১১২.
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে কী পরিমাণে চর্বির প্রয়োজন হয়?
  1. ক) ১০-২০ গ্রাম
  2. খ) ৫০-৬০ গ্রাম
  3. গ) ১৫০-১৮৫ গ্রাম
  4. ঘ) ৮০-১০০ গ্রাম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
উৎস অনুযায়ী স্নেহপদার্থ দুই ধরনের : উদ্ভিজ্জ এবং প্রাণিজ স্নেহপদার্থ।
সয়াবিন, সরিষা, তিল, বাদাম, সূর্যমুখীর তেল ভোজ্যতেল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিন তেল উৎকৃষ্টতম।
চর্বি, ঘি, ডালডা ইত্যাদি প্রাণিজ স্নেহপদার্থ। ডিমের কুসুমে স্নেহপদার্থ আছে, কিন্তু সাদা অংশে স্নেহপদার্থ থাকে না। একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির দিনে ৫০-৬০ গ্রাম চর্বির প্রয়োজন হয়।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১১৩.
সৌর কোষ কি ধরনের ডিভাইস?
  1. p-n জাংশন ডিভাইস
  2. একটি ট্রানজিস্টর ডিভাইস
  3. একটি অর্ধপরিবাহী ডিভাইস
  4. ধাতব অর্ধপরিবাহী ডিভাইস
ব্যাখ্যা
- সৌর কোষ হলো এমন এক ধরনের কোষ যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তর করে। 
- তাই একে সৌরশক্তি রূপান্তরক বলা হয়। 
- মূলত: এটি একটি p-n জাংশন ডিভাইস। 
- এটি একটি সিলিকন p-n জাংশন। এর ওপরের পৃষ্ঠে গ্লাস বা প্লাস্টিকের তৈরি একটি স্বচ্ছ জানালা থাকে। যার মধ্যদিয়ে
আলোক রশ্মি সহজে প্রবেশ করতে পারে।
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১৪.
যক্ষ্মার ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ
  2. খ) সংক্রমিত গরুর দুধ খেলে আক্রান্ত হবে
  3. গ) যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসের রোগ
  4. ঘ) অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস দেহের প্রায় যেকোনো জায়গায় হতে পারে
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ। সংক্রমিত গরুর দুধ খেয়েও যে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যক্ষ্মা শুধু ফুসফুসের রোগ এই ধারণাটা সঠিক নয়। যক্ষ্মা অন্ত্র, হাড়, ফুসফুস এরকম দেহের প্রায় যেকোনো জায়গায় হতে পারে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১১৫.
এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস কোনটি?
  1. নাইট্রাস অক্সাইড
  2. কার্বন মনোঅক্সাইড
  3. কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. সালফার ডাই অক্সাইড
ব্যাখ্যা
এসিড বৃষ্টি: 
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে। 
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া। 
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে। 
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন- NO, NO2)
- এর মূলে তিনটি এসিডের (H2SO3, H2SO4, HNO3) ভূমিকা রয়েছে; যা প্রাইমারি বায়ুদূষক SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NOx) হতে উৎপন্ন হয়। 
 
অন্যদিকে, 
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়। 
 
উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১১৬.
নিয়ত বায়ুর অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. মৌসুমি বায়ু
  2. অয়ন বায়ু
  3. পশ্চিমা বায়ু
  4. মেরু বায়ু 
ব্যাখ্যা

- মৌসুমি বায়ু নিয়ত বায়ুর (গ্রহীয় বায়ু বা স্থায়ী বায়ু) অন্তর্ভুক্ত নয়। নিয়ত বায়ু সারা বছর ধরে নির্দিষ্ট পথে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়, কিন্তু মৌসুমি বায়ু একটি পর্যায়ক্রমিক বায়ু (সাময়িক বায়ু) যা ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে তার প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে। 

নিয়ত বায়ু: 
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৭.
মানবদেহে সেক্স ক্রোমোজোম কয়টি?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ২২ টি
  4. ৪৪ টি
ব্যাখ্যা
A sex chromosome is a type of chromosome that participates in sex determination. Humans and most other mammals have two sex chromosomes, the X and the Y.
Females have two X chromosomes in their cells, while males have both X and a Y chromosomes in their cells.
Source: britannica.com
১১৮.
UDMC-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Union Disaster Management Committee
  2. Union Development Management Council
  3. Urban Development Monitoring Council
  4. Urban Disaster Monitoring Committee
ব্যাখ্যা

UDMC:
- UDMC-এর পূর্ণরূপ: Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC।
- এই কমিটি দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করে থাকে।
- স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসের অন্তত একবার UDMC এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- DMC গঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার এনজিও কর্মকর্তা দুর্যোগের বিপর্যস্ত গ্রুপের প্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে।
- স্বাভাবিক সময়ে এ কমিটি একটি করে মিটিং করে এবং দুর্যোগ কালীন সময়ে একাধিক মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

⇒ বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপ:
- NDMC: National Disaster Management Council.
- NDMAC: National Disaster Management Advisory Committee.
- DDMC: District Disaster Management Committee.
- UZDMC: Upazila Disaster Management Committee.

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১১৯.
ম্যালেরিয়া জীবাণু বহনকারী মশার গণ হলো-
  1. ক) Aedes
  2. খ) Mansonia
  3. গ) Culex
  4. ঘ) Anopheles
ব্যাখ্যা
Malaria is a life-threatening disease caused by parasites that are transmitted to people through the bites of infected female Anopheles mosquitoes. It is preventable and curable. সূত্রঃ World Health Organization.
১২০.
বায়ুর আর্দ্রতা কিভাবে নির্ধারিত হয়?
  1. বায়ুর গতি এবং তাপমাত্রার উপর
  2. বায়ুর আর্দ্রতার প্রকারের উপর
  3. বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতার উপর
  4. বায়ুর তাপমাত্রা এবং চাপের উপর
ব্যাখ্যা
• বায়ুর আর্দ্রতা:
- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতিকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। যথা- পরম আর্দ্রতা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২১.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্দেশ করে?
    ব্যাখ্যা
    তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
    ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম প্রভৃতি তেজস্ক্রিয় মৌল। 
    অপশনের গ) তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্দেশ করে।

    সূত্র - রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
    ১২২.
    বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান কোনটি? 
    1. নাইট্রোজেন 
    2. অক্সিজেন 
    3. কার্বন ডাই-অক্সাইড 
    4. জলীয়বাষ্প
    ব্যাখ্যা

    - বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উপাদান হচ্ছে অক্সিজেন। 

    বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 

    - বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত। 
    - বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান। 
    - ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলো প্রায় একই রকম থাকে যা সমমণ্ডল (Homosphere) নামে পরিচিত। 
    - আর ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন এই ৯০ কিলোমিটারের ঊর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের যে অংশ রয়েছে সেখানে বিভিন্ন গ্যাসের অনুপাত সমান থাকে না বলে তাকে বিষমমণ্ডল (Heterosphere) বলে। 
     
    বায়ুমণ্ডলের উপাদান ও এর শতকরা সংযুক্তি: 
    ১. নাইট্রোজেন (N2) ⇒ ৭৮.০২%, 
    ২. অক্সিজেন (O2) ⇒ ২০.৭১%, 
    ৩. আর্গন (Ar) ⇒ o.৮০%, 
    ৪. কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) ⇒ ০.০৩%, 
    ৫. ওজোন (O3) ⇒ ০.০০০১%, 
    ৬. অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯%, 
    ৭. জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১% এবং 
    ৮. ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১%। 

    উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১২৩.
    নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় -
    1. ক) ধ্রুবক
    2. খ) পরিবর্তনীয়
    3. গ) আপেক্ষিক
    4. ঘ) কোনটিই নয়
    ব্যাখ্যা
    নিউটনীয় বলবিদ্যায় দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় ধ্রুব - গতি নির্ভর নয়।
    কিন্তু আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে
    দৈর্ঘ্য, ভর ও সময় আপেক্ষিক, যা বস্তু বা প্রসঙ্গ কাঠামোর উপর নির্ভরশীল।
    একে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা বলে।

    উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
    ১২৪.
    করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সাধারণত কতদিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়?
    1. ক) ৬ দিন
    2. খ) ৩০ দিন 
    3. গ) ২১ দিন
    4. ঘ) ২৮ দিন
    ব্যাখ্যা
    করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সাধারণত ৫-৬ দিনের মধ্যেই লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে, কোন কোন ক্ষেত্রে ইহা ১৪ দিনের উপরেও সময় নিয়ে থাকে। 

    করোনা ভাইরাস সমগোত্রীয় ভাইরাসের একটি বড় পরিবার, যেগুলি সাধারণ সর্দিজ্বর থেকে শুরু করে মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (মার্স) ও সিভিয়ার অ্যাকিউট রেস্পিরেটরি সিন্ড্রোমের (সার্স) মতো মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

    ২০১৯ সালে চীনের উহান প্রদেশে একটি নতুন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সনাক্ত করা হয়েছিল। এটি একটি নতুন করোনা ভাইরাস যা আগে কখনো মানুষের মধ্যে দেখা যায়নি।

    রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।
    এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে। 
    সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।
    সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির ইনকিউবেশন পিরিয়ড ১৪দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

    সূত্র: World Health Organization Website. 
    ১২৫.
    আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে কী করতে হয়? 
    1. ১ দিন যোগ
    2. ১ দিন বিয়োগ
    3. ২ দিন যোগ
    4. ২ দিন বিয়োগ
    ব্যাখ্যা

    আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাঃ
    - ১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই। একেই বলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা।
    - আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন যোগ এবং পূর্বগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন বিয়োগ হবে।

    • মূল মধ্যরেখাঃ
    - যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০° দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
    - গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
    - প্রতি ১ দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়।

    উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

    ১২৬.
    ইলেকট্রনের বিপরীত কণা কোনটি?
    1. ক) প্রোটন
    2. খ) নিউট্রন
    3. গ) মেসন
    4. ঘ) পজিট্রন
    ব্যাখ্যা
    মহাবিশ্বের বিভিন ধরনের কণা:
    মহাবিশ্বের সকল কণাকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা: (ক) ফার্মিওন ও (খ) বোসন।

    ⇒ ফার্মিওন (Fermion):
    - মহাবিশ্বের সকল পদার্থ এই কণিকা দ্বারা গঠিত। এদের স্পিন 1/2.
    - ফার্মিওন কণা আবার দু'রকমের (১) কোয়ার্ক ও (২) লেপ্টন।

    কোয়ার্ক (Quark):
    - কোয়ার্ক দিয়ে প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত।
    - দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন; এবং দুটি ডাউন ও একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত।
    - কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। এগুলো হলো আপ (u) ও ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)। 
    - কোয়ার্ক সব সময় দলবদ্ধ অবস্থায় থাকে।
    - কোয়ার্কের এক একটি দলকে বলে হ্যাড্রন (Hadron)।

    - তিনটি কোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন গঠিত হয় তাদেরকে বলা হয় বেরিয়ন (Baryon)। যেমন- প্রোটন, নিউট্রন হলো বেরিয়ন কণা।
    - একটি কোয়ার্ক ও তার এন্টিকোয়ার্ক নিয়ে যে হ্যাড্রন হয় তাদের বলা হয় মেসন (Meson )।

    লেপ্টন (Lepton):
    - ছয় প্রকার লেপ্টন কণিকা রয়েছে।
    - তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ইলেকট্রন ও মিউওন। 
    - ইলেকট্রনের স্পিন 1/2.
    - ইলেকট্রনের বিপরীত কণা পজিট্রন।

    ⇒ বোসন (Boson):
    - বোসন কণা পাউলির বর্জন নীতি মানে না।
    - এদের স্পিন পূর্ণসংখ্যা 0, 1 ইত্যাদি। 
    - স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুসারে বোসন কণাগুলো দু'ধরনের। (i) গেজ বোসন ও (ii) হিগস বোসন

    সূত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১২৭.
    শিশুর বয়স কয় মাস পূর্ণ হলে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দিতে হয়?
    1. ক) ৩ মাস
    2. খ) ৯ মাস
    3. গ) ৬ মাস
    4. ঘ) কোনটি নয়
    ব্যাখ্যা
    - গত ২০২২ সালের জুন মাসে শিশুদের জন্য জাতীয় ভিটামিন এ-প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হয়।
    - ক্যাম্পেইন চলাকালে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের শিশুকে নিকটস্থ ইপিআই ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো।
    - নীল রঙের ১টি করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ৬-১১ মাস বয়সের শিশুকে দেওয়া হয়। 
    - লাল রঙের ১টি করে ভিটামিন ‘এ; ক্যাপসুল  ১২-৫৯ মাস বয়সের শিশুকে দেওয়া হয়।

    সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট, দৈনিক পত্রিকা রিপোর্ট। 
    ১২৮.
    স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন খুব বিখ্যাত -
    1. ক) দার্শনিক
    2. খ) পদার্থবিদ
    3. গ) রসায়নবিদ
    4. ঘ) কবি
    ব্যাখ্যা
    স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
    তাঁর রচিত বইসমূহ-
    - A Brief History of Time,
    - The Universe in a Nutshell
    - The Grand Design, ইত্যাদি। 

    - বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time.

    সূত্র: ব্রিটানিকা
    ১২৯.
    চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায় কেন?
    1. অপবর্তনে
    2. আলোর বিচ্ছুরণে
    3. বায়ুমণ্ডলের প্রতিসরণে
    4. দৃষ্টিপ্রেমে
    ব্যাখ্যা
    - চাঁদ থেকে আলোক রশ্মি পৃথিবীপৃষ্ঠে আসার সময় বায়ুমণ্ডলে আলোর প্রতিসরণ ঘটে। 
    - দিগন্তের কাছে তা অধিক পরিমাণে বেঁকে যায় বলেই চাঁদ দিগন্তের কাছে অনেক বড় দেখায়। 

    উৎস: scientificamerican.com
    ১৩০.
    জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ হচ্ছে - 
    1. বায়োগ্যাস
    2. জিওথার্মাল
    3. পেট্রোলিয়াম
    4. জলবিদ্যুৎ
    ব্যাখ্যা

    • জীবাশ্ম জ্বালানি হলো সেই ধরনের জ্বালানি যা প্রাকৃতিকভাবে পৃথিবীতে সৃষ্টি হওয়া মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশিষ্ট থেকে তৈরি হয়। পেট্রোলিয়াম, কয়লা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস এর মধ্যে প্রধান উদাহরণ। এই জ্বালানি নির্দিষ্ট সময়ে নিঃশেষ হয়ে যায় এবং পুনঃপ্রয়োগযোগ্য নয়।
    - প্রশ্নে উল্লিখিত অপশন গুলির মধ্যে, পেট্রোলিয়াম হলো জীবাশ্ম জ্বালানির একটি উদাহরণ। বায়োগ্যাস এবং জিওথার্মাল নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আর জলবিদ্যুৎও পুনঃনবীকরণযোগ্য উৎস থেকে উৎপন্ন হয়, তাই সেগুলো জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ নয়।

    • জীবাশ্ম জ্বালানি:
    - কোটি কোটি বছর পূর্বে গাছপালা, জীবজন্তু প্রভৃতি প্রচন্ড ভুমিকম্প বা কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে কাদা ও বালির বেশ গভীরে ঢাকা পড়ে। এদেরই দেহাবশেষ এ জীবাশ্ম কঠিন বা তরল আকারে খনি থেকে তুলে তাপ শক্তি উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়। এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে। 

    • জীবাশ্ম জ্বালানির উদাহরণ:
    - কয়লা,
    - খনিজ তেল,
    - প্রাকৃতিক গ্যাস।

    • পেট্রোলিয়াম:
    - পেট্রোলিয়াম এক ধরনের জীবাশ্ম জ্বালানি।
    - তেলের প্রতিশব্দ হচ্ছে পেট্রোলিয়াম।
    - ইহা একটি ল্যাটিন শব্দ যা দুটো শব্দ নিয়ে গঠিত পেট্রো + অলিয়াম। পেট্রো শব্দের অর্থ রক বা শিলা এবং অলিয়াম শব্দের অর্থ অয়েল বা তৈল। অর্থাৎ পাথরের বা শিলার স্তরে সঞ্চিত যে তেল তাহাকে পেট্রোলিয়াম বলে।
    - আজ থেকে প্রায় পাঁচশত কোটি বছর আগে সমুদ্রের তলদেশে পাললিক শিলার স্তরে গাছ-পালা ও প্রাণিদেহের দেহাবশেষ জৈব বিধ্বংসী পাতন প্রক্রিয়ার ফলে খনিজ তেলের সৃষ্টি হয়।
    - ইহা কার্বন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌগ। তাই পেট্রোলিয়াম হচ্ছে তরল জীবাশ্ম জ্বালানি।

    • অন্যান্য অপশন আলোচনা:
    - জল বিদ্যুৎ ও জিও থার্মাল, বায়োগ্যাস নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

    উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১৩১.
    নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ায় ইউরেনিয়াম পরমাণুকে আঘাত করা হয়-
    1. ইলেক্ট্রন দ্বারা
    2. নিউট্রন দ্বারা
    3. পজিট্রন দ্বারা
    4. প্রোটন দ্বারা
    ব্যাখ্যা


    সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৩২.
    একটি পেন্ডুলাম ঘড়ি বিষুবরেখা থেকে মেরুতে নিলে ঘড়িটি-
    1. ক) স্লো হবে
    2. খ) ফাস্ট হবে
    3. গ) ঠিক সময় দেবে
    4. ঘ) কোনো রকম প্রভাবিত হবে না
    ব্যাখ্যা

    একটি ভারী আয়তনহীন বস্তুকণাকে ওজনহীন, নমনীয় এবং অপ্রসারণশীল সুতা দিয়ে ঝুলিয়ে দিলে এটি যদি ঘর্ষণ এড়িয়ে স্বাধীনভাবে দুলতে পারে তবে তাকে সরল দোলক বলে।
    কৌণিক বিস্তার অল্প হলে-
    সরল দোলকের দোলনকাল, T = 2π √(L/g).
    এখানে, t= দোলনকাল, L= কার্যকরী দৈর্ঘ্য (সূতার দৈর্ঘ্য+দোলকপিন্ডের ব্যাসার্ধ), g= অভিকর্ষজ ত্বরণ।

    উপরের সূত্রমতে আমরা পাই,
    ১. সরল দোলকের দোলনকাল কাযকরী দৈর্ঘ্য ও অভিকর্ষজ ত্বরণের উপর নির্ভরশীল।
    ২. একটি সরল দোলককে পৃথিবীর কেন্দ্রে নিলে তার দোলনকাল অসীম হবে, কারণ পৃথিবীর কেন্দ্রে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান শূন্য। এক্ষেত্রে দোলকঘড়ি চলবে না।
    ৩. গ্রীষ্মকালে দোলকঘড়ি ধিরে চলে। কারন, অধিক তাপমাত্রার জন্য দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য বাড়ে, ফলে দোলককাল বাড়ে এবং ঘড়ি ধিরে চলে।
    ৪. শীতকালে দোলকঘড়ি দ্রুত চলে। কারণ, কম তাপমাত্রায় দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য কমে, ফলে দোলককাল কমে এবং ঘড়ি দ্রুত চলে।
    ৫. দোলকঘড়ি বিষুবরেখা হতে মেরু অঞ্চলে নিলে ঘড়ি দ্রুত চলবে। কারণ, বিষুবরেখার চেয়ে মেরু অঞ্চলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান বেশি। ফলে দোলনকাল কমবে এবং ঘড়ি দ্রুত চলবে।
    ৬. দোলককে পাহাড়ের উপর নিয়ে গেলে অভিকর্ষজ ত্বরণের মান কম বলে দোলনকাল বাড়বে।
    ৭. কোন সরল দোলকের কার্যকরী দৈর্ঘ্য ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ বাড়বে, আর মাধ্যাকর্ষণ জনিত ত্বরণ ৯ গুণ বাড়লে দোলনকাল ৩ গুণ কমবে।

    ১৩৩.
    ধূমকেতু কীভাবে ছুটে চলে?
    1. গ্রহসমূহের আবর্তন পথের সোজাদিকে
    2. গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে
    3. বৃত্তাকার কক্ষপথে
    4. ক ও গ
    ব্যাখ্যা
    ধূমকেতু (Halley's Comet):
    - ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক।
    - ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ।
    - অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে।
    - জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত।

    ⇒ হ্যালির ধূমকেতু ৭৬ বছর পরপর দেখা যায়। 
    - ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধুমকেতু সর্বশেষ দেখা গেছে।
    - হ্যালির ধূমকেতু আবার দেখা যাবে ২০৬১ সালে।

    উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
    ii) NASA ওয়েবসাইট।
    ১৩৪.
    কোন দ্রাঘিমা রেখাটি 'আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা' হিসেবে পরিচিত?
    1. ০° দ্রাঘিমা রেখা
    2. ৯০° দ্রাঘিমা রেখা
    3. ১২০° দ্রাঘিমা রেখা
    4. ১৮০° দ্রাঘিমা রেখা
    ব্যাখ্যা
    আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
    - পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
    - এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

    ⇒ ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
    - ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
    - তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারনের এই সমস্যা সমাধানের উদেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
    - আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালিতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৩৫.
    জাতীয় টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় সর্বশেষ কোন রোগটির বিরুদ্ধে টিকাদান কার্যক্রম সংযোজিত হয়েছে?
    1. হেপাটাইটিস-বি
    2. নিউমোনিয়া
    3. পোলিও
    4. ধনুষ্টংকার
    ব্যাখ্যা

    সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (Expanded Program on Immunization) হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক পরিচালিত টিকাদান কর্মসূচি।
    - এটি জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলিতে শিশুদের সংক্রামক রোগগুলির বিরুদ্ধে টিকাদানের মাধ্যমে শিশু মৃত্যুহার কমানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরিচালিত একটি চলমান কর্মসূচি।
    - ৭ এপ্রিল ১৯৭৯ বাংলাদেশে ১ বছরের কম বয়সী সকল শিশুদের বহুল পরিচালিত সংক্রামক রোগ যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, হাম, পোলিও এবং মা ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার বিষয়ে কাজ শুরুকরে।
    - পরবর্তীকালে এর অধীনে ২০০৩ সাল থেকে হেপাটাইটিস রোগের টিকা, ২০০৯ সাল থেকে হিমোফাইলাস রোগের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
    - ২০১৫ সাল থেকে নিউমোকক্কাস ব্যাকটেরিয়াঘটিত নিউমোনিয়ার (ফুসফুস প্রদাহ) টিকা দেওয়া হচ্ছে।
    সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের www.dghs.gov.bd ওয়েবসাইট

    ১৩৬.
    FET হচ্ছে এক ধরনের ____________।
    1. ভ্যাকসিন
    2. আইসি
    3. ট্রানজিস্টার
    4. জীবাণু
    ব্যাখ্যা

    FET: 
    - ফিল্ড এফেক্ট ট্রানজিস্টর বা FET 'তিন প্রান্ত' (three terminal) বিশিষ্ট একধরনের সলিড স্টেট ডিভাইস।
    - বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের পরিবর্তন করে এ ডিভাইসের ভিতর প্রবাহিত কারেন্ট পরিবর্তন করা হয় বলে একে ফিল্ড এফেক্ট ট্রানজিস্টর বা FET বলে।
    - যেহেতু সংখ্যাগুরু বাহক দ্বারা কারেন্ট প্রবাহিত হয়, তাই একে একধ্রুবী (Unipolar) ডিভাইসও বলা হয়।

    FET এর ব্যবহার: 
    ১। বাইপোলার ট্রানজিস্টর যে সমস্ত কাজে ব্যবহার করা হয়, FET ও একই ধরনের কাজ করতে পারে। এছাড়াও FET অনেক কাজে ব্যবহৃত হয় যেখানে বাইপোলার ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা যায় না।
    ২। FET এর ইনপুটে উচ্চ রোধ এবং আউটপুটে স্বল্প পরিমাণের রোধ থাকায় বাইপোলার ট্রানজিস্টরের চেয়ে FET উন্নতমানের। এ কারণে FET এর ব্যবহারও বেশি। 
    ৩। FET এর ইনপুটে উচ্চ রোধ থাকায় বর্তনীতে লোডিং ক্রিয়া খুব কম হয়। তাই উন্নতমানের ভোল্টমিটার, দোলনদর্শী (Oscilloscope), বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পরিমাপক যন্ত্রপাতিতে FET এর বহুল ব্যবহার রয়েছে। 
    ৪। লজিক বর্তনীতে (logic circuit) FET বহুল পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।
    ৫। ক্ষুদ্র আকৃতির জন্য LSI বর্তনী এবং কম্প্যুটারের মেমোরিতে FET ব্যবহার করা হয়।
    ৬। মিশ্রণ ক্রিয়া সম্পাদনে Fm, TV ইত্যাদি গ্রাহকযন্ত্রে FET ব্যবহার করা হয়।

    তথ্যসুত্র: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

    ১৩৭.
    ডেঙ্গুর কয়টি সেরোটাইপ বা ধরন রয়েছে?
    1. ১ টি
    2. ২ টি
    3. ৩ টি
    4. ৪ টি
    ব্যাখ্যা
    ডেঙ্গুর কয়টি সেরোটাইপ বা ধরন
    - বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ডেঙ্গুর সংক্রমণ হয় ১৯৬০ সালের দিকে।
    - চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর (ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ ও ডেন-৪) চারটি ধরন রয়েছে।
    - মূলত, কেউ যদি প্রথমবার একটা সেরোটাইপ দিয়ে আক্রান্ত হয়, তবে দ্বিতীয়বার সে যখন আবার অন্য একটা সেরোটাইপ দিয়ে আক্রান্ত হয়, তখন তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
    - সম্প্রতি, দেশে বিগত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ডেঙ্গুর সেরোটাইপ বা ধরন ‘ডেন-২’-এর প্রাধান্য বিস্তার করছে।
    - ২০২৪ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউিট (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু পজিটিভ অর্ধশত (৫০টি) রোগীর নমুনা বিশ্লেষণ করে সেখানে ৭০ শতাংশ (৬৯ দশমিক ২০ শতাংশ) ডেন-২ এর উপস্থিতি পেয়েছে

    সূত্র- বিবিসি রিপোর্ট।
    ১৩৮.
    ভরা কটাল কখন হয়?
    1. অমাবস্যায়
    2. বর্ষায়
    3. বন্যায়
    4. ঘূর্ণিঝড়ের সময়
    ব্যাখ্যা
    ভরা কটাল বা তেজ কটাল:
    - ভরা কটাল হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে।
    - অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই দিকে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে। উভয়ের মিলিত শক্তিতে আকর্ষণ প্রবল হয় এবং পানি বেশি ফুলে ওঠে। এই ধরনের জোয়ারকে ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে।
    - পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর একদিকে সূর্য এবং অন্যদিকে চন্দ্র একই সমান্তরালে অবস্থান করে।
    - চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে মুখ্য জোয়ার হয়, সেখানেই সূর্যের আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়।
    = আবার চন্দ্রের বিপরীত দিকে যেখানে তার আকর্ষণে গৌণ জোয়ার হয়।
    - পূর্ণিমা তিথিতে উভয় বিপরীত স্থানেই জোয়ারের বেগ সর্বাধিক হয়। একেও ভরা কটাল বা তেজ কটাল (Spring Tide) বলে।

    তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৩৯.
    ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ সাধারণত কোথায় ঘটে? 
    1. ভূপৃষ্ঠের কেন্দ্রস্থলে
    2. টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে
    3. সমুদ্রপৃষ্ঠের ঠিক নিচে
    4. মহাদেশীয় সমভূমির মধ্যভাগে
    ব্যাখ্যা

    • পৃথিবীর ভূত্বক কতগুলো বড় বড় শিলাখণ্ড বা প্লেট (Tectonic Plates) দ্বারা গঠিত। এই প্লেটগুলোর সীমানায় যখন সংঘর্ষ হয় বা একটি অন্যটি থেকে দূরে সরে যায়, তখন সেই অস্থিরতার কারণে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

    • প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 

    - এই তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত, এগুলোকে প্লেট বলা হয়। 
    - এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
    - এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। 
    - প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে। 
    - কখনও কখনও প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। 

    - প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 
    - দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে। 
    - প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে। 
    - ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়। - তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে। 
    - বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত। 
    - একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে। - আজকাল বাংলাদেশেও ভূমিকম্প সংঘটিত হচ্ছে। 

    উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

    ১৪০.
    এন্টিবায়োটিক কাজ করে-
    1. শরীরে প্রতিরোধ বাড়িয়ে
    2. জীবাণু ধ্বংস করে
    3. উপকারী জীবাণু জোরদার করে
    4. ভাইরাস ধ্বংস করে
    ব্যাখ্যা
    অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ হচ্ছে জীবাণু ধ্বংস করা। 

    এন্টিবায়োটিক হলো এমন একটা উপাদান যা ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে সংগ্রহ করে অন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস কে ধ্বংস জন্য বা তার বংশবৃদ্ধি রোধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এন্টিবায়োটিক ভাইরাসের ক্ষেত্রে অকার্যকর।  

    এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিকগুলো:
    ১. এন্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় শারীরিক স্থূলতার ঝুঁকি থাকে।
    ২. এন্টিবায়োটিক অন্ত্রের অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মেরে ফেলে যাতে অগ্ন্যাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায়।

    এন্টিবায়োটিকের ক্ষতিকর দিক রোধে করণীয়- 
    ১) ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া সাধারন রোগে ভুগলেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার না করা।
    ২) ডাক্তারের পরামর্শ মত ডোজ ও সময় অনুসারে এন্টিবায়োটিক সেবন করা।
    ৩) ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্রে দেয়া ঔষধের ব্যাপারে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করা, কোন ঔষধ কেন দেয়া হয়েছে সে সম্পর্কে ধারনা নেয়া।
    ৪) মেয়াদ উত্তীর্ণ এন্টিবায়োটিক সেবন না করা।

    উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
    ১৪১.
    কোনগুলি জলবায়ুর নিয়ামক?
    1. ক) মৃত্তিকা, অক্ষাংশ
    2. খ) বার্ষিক গতি
    3. গ) আহ্নিকগতি
    4. ঘ) বায়ুর মৃদুভাবাপন্ন
    ব্যাখ্যা
    • মৃত্তিকা, অক্ষাংশ জলবায়ুর নিয়ামক।

    • জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ:
    আবহাওয়া ও জলবায়ু কিছু উপাদানসমূহ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। নিম্নে এদের সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-
    ১. অক্ষাংশ: সূর্যকিরণ একেক অক্ষাংশে একেকভাবে পড়ে। তাই এটি জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক।
    - নিরক্ষীয় অঞ্চলে সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই অঞ্চলে বায়ুর তাপ বেশি হয়।
    - আবার উচ্চ অক্ষাংশে সূর্য তির্যকভাবে কিরণ দেয়, ফলে বায়ুর তাপ কম হয়। 
    ২. উচ্চতা: উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বাযুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়।
    - সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬°সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
    - উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়।
    ৩. সমুদ্র থেকে দূরত্ব: সমুদ্র থেকে দূরত্বও জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে।
    - জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
    ৪. বায়ুপ্রবাহ: বায়ুপ্রবাহের জন্য কোনো এলাকার জলবায়ুতে বিশেষ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
    - যেমন- কোনো এলাকায় যদি জলীয়বাম্পপূর্ণ বায়ু প্রবাহিত হয় তবে এ এলাকায় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় । 
    ৫. সমুদ্রস্রোত: শীতল বা উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে উপকূল সংলগ্ন এলাকার বায়ু ঠান্ডা বা উষ্ণ হয়।
    - যেমন, উষ্ণ উপসাগরীয় স্রোতের প্রভাবে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলবর্তী এলাকার উষ্ণতা বেড়ে যায়।
    ৬. পর্বতের অবস্থান: উচ্চ পর্বত রয়েছে এমন অঞ্চলে বায়ু প্রবাহ বাধা পাওয়ায় জলবায়ুও ভিন্নরকম হয়।
    - পর্বতের অবস্থানের কারণেই হিমালয়ের আশেপাশে বৃষ্টিপাত বেশি হয়।
    ৭. ভূমির ঢাল: ভূমির ঢালের কারণে সূর্যকিরণ পতিত হবার ধরণেও পার্থক্য হয়।
    - তাই ভূমির ঢালের অবস্থান জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে।
    ৮. মৃত্তিকা: অনাবৃত এলাকায় বেলেমাটি দ্রুত ঠান্ডা বা গরম হয়ে উঠে।
    - আবার পলিমাটি তাপ সংরক্ষণ ক্ষমতার জন্য ঠান্ডা বা গরম হতে বেশি সময় নেয়।
    - সুতরাং মৃত্তিকার গুণাগুনও জলবায়ুর একটি নিয়ামক।
    ৯. বনভূমির অবস্থান: বনভূমির অবস্থানের জন্যই বায়ুর উষ্ণতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ ইত্যাদির হারকে কমিয়ে নিতে সাহায্য করে।
    - বৃষ্টিপাত ঘটানো এবং অন্যান্য আবহাওয়া ও জলবায়ুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এই বনভূমির অবস্থান।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৪২.
    নিচের কোনটি সুষম খাদ্যের উপাদান নয়?
    1. ক) ভিটামিন
    2. খ) খনিজ লবণ
    3. গ) পানি
    4. ঘ) পুষ্টি
    ব্যাখ্যা
    - উল্লেখিত প্রশ্নে 'পুষ্টি' সুষম খাদ্যের উপাদান নয়।

    • সুষম খাদ্য:
    - মানবদেহের পুষ্টির চাহিদা সঠিকভাবে পূরণের জন্য সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অপরিহার্য।
    - সুষম খাদ্যের উপাদান ৬টি।
    - সুষম খাদ্যে শর্করা, আমিষ ও চর্বি জাতীয় খাদ্যের অনুপাত =  ৪ : ১ : ১

    • সুষম খাদ্যের উপাদান:
    ১. শর্করা,
    ২. আমিষ,
    ৩. ভিটামিন,
    ৪. খনিজ লবণ,
    ৫. চর্বি ও
    ৬. পানি।

    উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৪৩.
    ৩০ ও ৪০ উর্দ্ধ মহিলারা বেশি কোন ঝুঁকিতে থাকেন ?
    1. ক) ডায়াবেটিস
    2. খ) উচ্চ রক্তচাপ
    3. গ) ক্লোনিক ফ্যাটিগ রোগ
    4. ঘ) ক ও খ
    ব্যাখ্যা
    ৩০ ও ৪০ উর্দ্ধ মহিলারা সুস্থ গর্ভধারণ করতে পারেন।
    কিন্তু বয়স্ক মহিলাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কম বয়সী মহিলাদের তুলনায় বেশি হয়।
    সোর্স: https://www.urmc.rochester.edu/
    ১৪৪.
    'ক্লাউড সিডিং' পদ্ধতিতে নিচের কোনটি সর্বাধিক কার্যকরী?
    1. ক) ক্যালসিয়াম কার্বনেট
    2. খ) সিলভার আয়োডাইড
    3. গ) কার্বন মনোক্সাইড
    4. ঘ) পটাসিয়াম নাইট্রেট
    ব্যাখ্যা
    - ক্লাউড সিডিং বলতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃত্রিম বৃষ্টিপাত ঘটানোকে বোঝায়। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বৃষ্টির পাশাপাশি কৃত্রিম তুষারপাত ঘটানো হয়।
    - ১৮৯১ সালে লুই গাথমান প্রথম কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টিতে তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহারের প্রস্তাব করেন।
    - পরে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী আরভিং ল্যাংমুর সাথে যৌথভাবে কৃত্রিম বৃষ্টি সৃষ্টি করার পন্থা উদ্ভাবন করেন।
    - ‘ক্লাউড সিডিং' এর জনক বলা হয় মার্কিন রসায়নবিদ ভিনসেন্ট শায়েফারকে।
    - যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল ইলেকট্রিকের গবেষণাগারে শায়েফার ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বৃষ্টিপাতের সফল ব্যহারিক প্রয়োগ ঘটান।
    - বিমান, রকেট বা মিসাইলের সাহায্যে মেঘের উপর ড্রাই আইস (জমাটবাধা কার্বন ডাইঅক্সাইড), সিলভার আয়োডাইড, পটাসিয়াম আয়োডাইড, তরল প্রোপেন গ্যাস, এমনকি পটাসিয়াম ক্লোরাইড (লবণ) ছড়িয়ে দিলেও তা মেঘগুলোকে দ্রুত ঘনীভূত হতে সহায়তা করে এবং যার ফলশ্রুতিতে বৃষ্টিপাতে ঘটে।
    - বর্তমানে ক্লাউড সিডিং করার জন্য ড্রাই আইস (জমাটবাধা কার্বন ডাইঅক্সাইড) এবং সিলভার আয়োডাইড’ই সবচেয়ে বেশি কার্যকর ও জনপ্রিয়। 

    সূত্র- ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট [লিংক]
    ১৪৫.
    গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে কোন হরমোন?
    1. ক) ইনসুলিন
    2. খ) ট্রিপসিন
    3. গ) গ্লুকাগন
    4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
    ব্যাখ্যা
    প্যানক্রিয়াস একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্র গ্রন্থি। এটি গুরুত্বপুর্ন দুইটি হরমোন ইনসুলিন এবং গ্লুকাগন নিঃসরণ করে। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
    উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
    ১৪৬.
    'আকবর' ও 'সোনালিকা' কোন উন্নত জাতের ফসল?
    1. ক) আলু
    2. খ) টমেটো
    3. গ) গম
    4. ঘ) বেগুন
    ব্যাখ্যা
    • গম:
    - গমের উন্নত জাত
    : বলাকা, দোয়েল, সোনালিকা, আকবর, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দী। 

    এছাড়াও - 
    - বেগুনের উন্নত জাত
    : শুকতারা, তারাপুরী, ইওরা ,ইসলামপুর্‌, খটখটিয়া, শিংনাথ, ঝুমকো, মুক্তকেশী, কাজলা, নয়নতারা, বিজয়, চমক এফ১।
    - টমেটোর উন্নত জাত: বাহার, মানিক, রতন, মিন্টো, ঝুমকা। 
    - আলুর উন্নত জাত: ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, সিন্দুরী। 

    উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট।
    ১৪৭.
    বারিমণ্ডলে পানির শতকরা কতভাগ বায়ুমণ্ডল ধারণ করে?
    1. ০.০০০১%
    2. ০.০০১%
    3. ০.০১%
    4. ০.১%
    ব্যাখ্যা
    বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টনঃ
    • সমুদ্র (৯৭.২৫%),
    • হিমবাহ (২.০৫%),
    • ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
    • হৃদ (০.০১%),
    • মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
    • বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
    • নদী(০.০০০১%),
    • জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

    উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৪৮.
    ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয় তাকে কী বলা হয়?
    1. ক) ফ্যাদোগ্রাফ
    2. খ) সিসমোগ্রাফ
    3. গ) ম্যানোগ্রাফ
    4. ঘ) ব্যারোগ্রাফ
    ব্যাখ্যা
    ভূমিকম্প
    • ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
    • ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়।
    • কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়।
    • সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। • কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ এর মত ছড়িয়ে পড়ে।  
    • ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে।
    • ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার।
    • ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে। 

    তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৪৯.
    বার্ষিক গতির ফল হলো- 
    1. দিবারাত্রি সংঘটন
    2. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি
    3. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি
    4. দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি
    ব্যাখ্যা

     বার্ষিক গতি:
    - পৃথিবী নিজ অক্ষে আবর্তিত হতে হতে সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির আকর্ষণে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথেনির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারিদিকে আবর্তিত হতে থাকে। 
    - পৃথিবীর এইরূপ গতিকে বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলা হয়।
    - সূর্যের চারিদিকে একবার পূর্ণ পরিক্রমণ বা আবর্তনের জন্যে পৃথিবীর মোট সময় প্রয়োজন ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
    - একে সৌরবছর (Solar Year) বলে। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৩৬৫ দিনে এক সৌর বছর গণনা করা হয়।
    - প্রতি বছর অতিরিক্ত ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড সময় কালকে প্রতি চার বছর অন্তর ১ দিন বা ২৪ ঘন্টা হিসেবে ঐ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসকে ২৮ দিনের বদলে ২৯ দিন হিসেবে গণনা করা হয়।
    - এই বছরটি অধিবর্ষ (Leap Year) নামে অভিহিত।

    - পৃথিবী বার্ষিক গতির ফলাফল প্রধানত দুইটি। যথা:

    (ক) দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্যের হ্রাস-বৃদ্ধি;
    (খ) ঋতু পরিবর্তন।

    দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি:পৃথিবীর দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধির প্রকৃত কারণ-
    (ক) পৃথিবীর অভিগত গোলাকৃতি;
    (খ) পৃথিবীর উপবৃত্তাকার কক্ষপথ;
    (গ) পৃথিবীর অবিরাম আবর্তন পরিক্রমণ গতি;
    (ঘ) পৃথিবীর মেরুরেখার সর্বদা একই মুখে অবস্থান;
    (ঙ) পৃথিবীর কক্ষপথে কৌণিক অবস্থান।

    অন্যদিকে,
    আহ্নিক গতি:
    - পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
    - পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ:
    • দিন-রাত্রি সংঘটন,
    • জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
    • বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
    • তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
    • জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

    ১৫০.
    নিচের কোনটি হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
    1. ক) পেসমেকার
    2. খ) ওপেন হার্ট সার্জারি
    3. গ) এনজিওপ্লাস্টি
    4. ঘ) সবগুলো
    ব্যাখ্যা
    হৃদরোগের চিকিৎসায় পেসমেকার, ওপেন হার্ট সার্জারি, করোনারি বাইপাস সার্জারি, এনজিওপ্লাস্টি ব্যবহৃত হয়।

    পেসমেকার
    - হৃৎপিন্ডে ডান অ্যাট্রিয়াম-প্রাচীরের উপর দিকে অবস্থিত, বিশেষায়িত কার্ডিয়াক পেশিগুচ্ছে গঠিত ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ন্ত্রিত একটি ছোট অংশ যা বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রবাহ ছড়িয়ে দিয়ে হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে এবং স্পন্দনের ছন্দময়তা বজায় রাখে তাকে পেসমেকার বলে।

    ওপেন হার্ট সার্জারি
    - শল্যচিকিৎসক যখন রোগীর বুক কেটে উন্মুক্ত করে হৃৎপিন্ডে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন তখন সে প্রক্রিয়াকে ওপেন হার্ট সার্জারি বলে ।

    করোনারি বাইপাস সার্জারি
    - এক বা একাধিক করোনারি ধমনির ল্যুমেন (গহ্বর) রূদ্ধ হয়ে গেলে হৃৎপিন্ডে রক্ত সরবরাহ অব্যাহত রাখতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেহের অন্য অংশ থেকে (যেমন-পা থেকে) একটি সুস্থ রক্তবাহিকা (ধমনি বা শিরা) কেটে এনে বৃদ্ধ ধমনির পাশে স্থাপন করে রক্ত সরবরাহের যে বিকল্প পথ সৃষ্টি করা হয় তাকে করোনারি বাইপাস বলে । করোনারি বাইপাস সৃষ্টির সামগ্রিক অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়াটিকে করোনারি বাইপাস সার্জারি বলা হয়।

    এনজিওপ্লাস্টি
    - বড় ধরনের অস্ত্রোপচার না করে হৃৎপিন্ডের সংকীর্ণ ল্যুমেন (গহ্বর)-যুক্ত বা রূদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনি পুনরায় প্রশস্ত ল্যুমেনযুক্ত বা উন্মুক্ত করার পদ্ধতিকে এনজিওপ্লাস্টি বলে।
    - এনজিওপ্লাস্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া ল্যুমেনের ভেতর দিয়ে হৃৎপিন্ডে পর্যাপ্ত O2 সরবরাহ নিশ্চিত করে হৃৎপিন্ড ও দেহকে সচল রাখা।
    - বুকে ব্যথা (অ্যানজাইনা), হার্ট ফেইলিউর, হার্ট অ্যাটাক প্রভৃতি মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তির সহজ উপায় এনজিওপ্লাস্টি।
    - ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে সুইজারল্যান্ডের ডাঃ অ্যানডেস গয়েন জিগ সর্বপ্রথম এ পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন।

    সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত ।
    ১৫১.
    হাড় ও দাঁতকে মজবুত করে-
    1. ক) আয়োডিন
    2. খ) আয়রন
    3. গ) ম্যাগনেসিয়াম
    4. ঘ) ফসফরাস
    ব্যাখ্যা
    • ফসফরাস দাঁত ও অস্থি গঠন, রক্ত তঞ্চন, পেশী সংকোচন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

    অন্যদিকে,
    • আয়রন রক্তের হিমোগ্লোবিনের অন্যতম প্রধান উৎস।
    • ম্যাগনেসিয়াম শরীর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং
    • আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্লান্ডের কর্মকান্ড ব্যাহত হয় এবং গলগন্ড, বামনত্ব, প্রভৃতি দেখা দেয়।

    উৎস:- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৫২.
    সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কোনটি?
    1. ক) বায়ুপ্রবাহ
    2. খ) সমুদ্রের অগভীর মগ্নচড়া
    3. গ) সমুদ্রের তাপের পরিচলন
    4. ঘ) হিমশৈল
    ব্যাখ্যা

    সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে।

    নিয়ত বায়ু প্রবাহই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। এসব বায়ু প্রবাহ সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে।
    সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির আরো কিছু কারণের মধ্যে - পৃথিবীর আহ্নিক গতি, সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য, সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য উল্লেখযোগ্য।

    উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

    ১৫৩.
    প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে -
    1. ক) ভিটামিন
    2. খ) স্নেহ
    3. গ) শর্করা
    4. ঘ) আমিষ
    ব্যাখ্যা
    প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন (আমিষ)

    - কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এ চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়।
    - শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
    - মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে ।
    - অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক।
    - উৎস দিয়ে বিবেচনা করা হলে আমিষ দুই প্রকার: প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ।
    - প্রাণী থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা প্রাণিজ আমিষ। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, ছানা, পনির এগুলো প্রাণিজ আমিষ।
    - উদ্ভিদ থেকে যে আমিষ পাওয়া যায় তা উদ্ভিজ্জ আমিষ। ডাল, শিমের বিচি, মটরশুঁটি, বাদাম হচ্ছে উদ্ভিজ্জ আমিষের উদাহরণ। 

    সূত্র: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৫৪.
    একটি পূর্ণবয়স্ক (Term) নবজাতকের ওজন কত কম হলে LBW বাচ্চা বলা হয়?
    1. ক) ৩ কেজি
    2. খ) ২.৫ কেজি
    3. গ) ২ কেজি
    4. ঘ) ১.৫ কেজি
    ব্যাখ্যা

    A term used to describe an infant born weighing 5.5 pounds (2500 grams) or less.
    A low birth weight may occur when an infant is born too early (premature). These infants may have an increased risk of serious health problems.
    Smoking cigarettes, being exposed to secondhand tobacco smoke, drinking alcohol, and taking certain drugs during pregnancy can increase the risk of having an infant with a low birth weight.
    Source: cancer.gov
    সুতরাং দেখা যাচ্ছে ২.৫ কেজি বা তার কম ওজনের বাচ্চাদের LBW বাচ্চা বলা হয়।

    ১৫৫.
    মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে যে গ্যাসীয় পদার্থসমূহের বলয় রয়েছে তা হল -
    1. ধূমকেতু
    2. নক্ষত্র
    3. গ্রহাণুপুঞ্জ
    4. উল্কা
    ব্যাখ্যা
    সৌরজগৎ সৌরজগতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
    - সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত সূর্যের প্রবল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে বিভিন্ন আকারের গ্রহ (Planet) একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে, ডিম্বাকৃতির একটি পথে ক্রমাগত আবর্তিত হচ্ছে।
    - এই পথটি কক্ষপথ নামে পরিচিত।
    - আবার গ্রহসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকারের কিছু গোলাকার বস্তু, যা উপগ্রহ (Satellite) পরিচিত।
    - যেমন: পৃথিবী নামক গ্রহটিকে ঘিরে আবর্তিত হয় চাঁদ নামক উপগ্রহ।

    ⇒ প্রায় এক কিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট গ্রহাণু সংখ্যা প্রায় ১৭০০টি।
    - বুধ সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
    - মঙ্গল ও বৃহস্পতি নামক গ্রহ দুইটির কক্ষপথের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে এক কিলোমিটার বা তার চেয়ে ক্ষুদ্রায়তনের হাজার হাজার গ্রহাণু (Asteroids), লক্ষ লক্ষ ধূমকেতু (Comet), উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteoroids), সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও বিভিন্ন ধরনের গ্যাসীয় পদার্থসমূহের এক বলয়, যা গ্রহানুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

    উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৫৬.
    বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- 
    1. Microbiology
    2. Mycology
    3. Evolution
    4. Embryology
    ব্যাখ্যা

    – বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয়- Evolution. 

    অন্যদিকে, 
    - ভ্রুণ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Embryology, 
    - অণুজীব বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় Microbiology,  
    - ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় Mycology. 

    উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

    ১৫৭.
    আহ্নিক গতির বেগ কোন অক্ষাংশে সর্বাপেক্ষা বেশি?
    1. ক) সুমেরু বিন্দুতে
    2. খ) মেরু প্রদেশে
    3. গ) কর্কটক্রান্তি রেখায়
    4. ঘ) নিরক্ষরেখায়
    ব্যাখ্যা
    পৃথিবীর আহ্নিক গতি:

    - আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি।
    - পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
    - পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
    - নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
    - এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
    - পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
    - নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

    তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৫৮.
    সূর্য যে গ্যালাক্সিতে আছে তার নাম -
    1. ক) নেবুলা
    2. খ) কোয়াসার
    3. গ) মিল্কিওয়ে
    4. ঘ) পেলিকান
    ব্যাখ্যা
    আমরা যে গ্যালাক্সিতে বাস করি তার নাম Milky Way বা আকাশ গঙ্গা।
    এই ছায়াপথে প্রায় 1011 সংখ্যক নক্ষত্র রয়েছে এবং মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে আর প্রত্যেক গ্যালাক্সিতে রয়েছে আমাদের গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র।

    উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
    ১৫৯.
    টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংঘর্ষের ফলে কী সৃষ্টি হয়? 
    1. হারিকেন
    2. বজ্রপাত
    3. ভূমিকম্প
    4. ঘূর্ণিঝড়
    ব্যাখ্যা

    প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
    - প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুসারে, পৃথিবীর শিলামণ্ডল কয়েকটি পৃথক প্লেটে বিভক্ত, যা গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
    - এই প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার করে সরে যায়, কখনো একে অপরের থেকে দূরে সরে, আবার কখনো পরস্পরের দিকে আসে বা পরস্পরের সঙ্গে ঘষা খায়।
    - প্লেটগুলোর সংযোগস্থলেই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা বেশি ঘটে, বিশেষত যেখানে উঁচু পর্বতশ্রেণী বিদ্যমান।
    - প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ও ঘর্ষণের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলিয়ে ফেলে।
    - এই গলিত পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত এবং চাপের ফলে ভূপৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে এলে তা লাভা নামে পরিচিত হয় এবং এই প্রক্রিয়াকে আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলা হয়।
    - প্লেটগুলোর সংঘর্ষের ফলে যখন পৃথিবী কেঁপে ওঠে, তখন ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। 

    উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।

    ১৬০.
    বায়ুমণ্ডলের যে স্তরের আবহাওয়া শান্ত ও শুষ্ক থাকে-
    1. মেসোমণ্ডল
    2. ট্রপোমণ্ডল
    3. স্ট্রাটোমণ্ডল
    4. তাপমণ্ডল
    ব্যাখ্যা

    - বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বশিষ্ট ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়। যথা:
    ১. ট্রপোমণ্ডল,
    ২. স্ট্রাটোমণ্ডল,
    ৩. মেসোমণ্ডল,
    ৪. তাপমণ্ডল ও
    ৫. এক্সোমণ্ডল।
    - বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
    - এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
    - এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
    - এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
    - ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

    ১৬১.
    ডায়রিয়ার কারণ নিচের কোনটি?
    1. ব্যাকটেরিয়া
    2. রোটা ভাইরাস
    3. Protozoa
    4. ফাংগাস
    ব্যাখ্যা
    রোটাভাইরাস,
    - রোটাভাইরাস, Reoviridae পরিবারের ভাইরাসগুলির একটি গ্রুপ যা বিশ্বব্যাপী শিশুদের মধ্যে গুরুতর ডায়রিয়ার প্রধান কারণ হিসাবে পরিচিত।
    - রোটাভাইরাসগুলি অন্ত্রের আস্তরণের কোষগুলিতে বৃদ্ধি পায়, যেখানে তারা তীব্র গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের জন্ম দেয়, বিশেষ করে শিশুর ডায়রিয়া এবং শীতকালীন ডায়রিয়া হিসাবে পরিচিত।
    - ল্যাটিন শব্দ রোটা মানে "চাকা" এবং এইভাবে রোটাভাইরাসগুলি তাদের চাকার মতো চেহারার জন্য নামকরণ করা হয়েছে, যা একটি মাইক্রোস্কোপের নীচে স্পষ্ট।
    - এগুলিকে আরও গঠনগতভাবে চিহ্নিত করা হয় নন-এনভেলপড ডবল-স্ট্র্যান্ডেড আরএনএ ভাইরাস হিসাবে।

    উৎস: ব্রিটানিকা। 
    ১৬২.
    খাদ্যের কাজ হলো-
    1. ক) দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ
    2. খ) দেহে তাপ উৎপাদন, কর্মশক্তি প্রদান
    3. গ) রোগ প্রতিরোধ করা, দেহকে সুস্থ, সবল রাখা
    4. ঘ) উপরের সবকটি
    ব্যাখ্যা
    খাদ্যের কাজ প্রধানত তিনটি৷ যথাঃ দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ ও রক্ষণাবেক্ষণ; দেহে তাপ উৎপাদন, কর্মশক্তি প্রদান; রোগ প্রতিরোধ করা, দেহকে সুস্থ, সবল রাখা ইত্যাদি।
    উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৬৩.
    ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে কী বলা হয়?
    1. বিন্দু
    2. অনুকেন্দ্র
    3. উপকেন্দ্র
    4. সমকেন্দ্র
    ব্যাখ্যা
    ভূমিকম্প:

    - ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
    - একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
    - ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
    - কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
    - ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
    - ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
    - যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

    তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৬৪.
    কোথায় সুনামি হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক?
    1. ক) আটলান্টিক মহাসাগরে
    2. খ) ভারত মহাসাগরে
    3. গ) দক্ষিণ চীন সাগরে
    4. ঘ) প্রশান্ত মহাসাগরে
    ব্যাখ্যা
    সুনামি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি মূলত জাপানি শব্দ। এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ। সমুদ্র তলদেশে প্রচন্ড মাত্রার ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কিংবা অন্য কোনো কারণেই ভূ আলোড়নের সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। ভূকম্পনে সৃষ্ট এ সমুদ্র ঢেউ সুনামি নামে পরিচিত। পৃথিবীর মহাসাগর সমূহের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর অংশে সুনামি হবার সম্ভাবনা সর্বাধিক।
    ১৬৫.
    সিলিকনের সাথে বোরন যুক্ত হলে কোন অর্ধপরিবাহী গঠিত হয়?
    1. ক) n-টাইপ
    2. খ) p-টাইপ
    3. গ) pn-টাইপ
    4. ঘ) np-টাইপ
    ব্যাখ্যা
    সিলিকনের সাথে ফসফরাস যুক্ত হলে n-টাইপ অর্ধপরিবাহী গঠিত হয়।
    সিলিকনের সাথে বোরন যুক্ত হলে p-টাইপ অর্ধপরিবাহী গঠিত হয়।
    ১৬৬.
    বাদুড় ওড়ার সময় কোন ধরনের শব্দ তৈরি করে?
    1. ক) স্বাভাবিক শব্দ
    2. খ) আলট্রাসাউন্ড
    3. গ) ইনফ্রাসাউন্ড
    4. ঘ) শব্দেতর
    ব্যাখ্যা
    বাদুড় ওড়ার সময় শব্দের প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে। বাদুড়ের তৈরি এই শব্দ আমরা শুনতে পাই না, কারণ শব্দটি আলট্রাসাউন্ড অর্থাৎ আমাদের শােনার বাইরের কম্পাঙ্কের শব্দ। বাদুড় প্রায় 100 kHz কম্পনের শব্দ তৈরি করতে পারে। উৎসঃ ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান
    ১৬৭.
    পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্র সমান হয়-
    1. ২৩ অক্টোবর ও ২২ ডিসেম্বর
    2. ২২ ডিসেম্বর ও ২৩ সেপ্টেম্বর
    3. ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর
    4. ২১ জুন ও ২২ ডিসেম্বর
    ব্যাখ্যা
    - পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দিন ও দীর্ঘতম রাত ২২ ডিসেম্বর। 
    - পৃথিবীর দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত ২১ জুন। 
    - পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর। 
    - এই সময় সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় তাই সর্বত্র দিবারাত্রি সমান থাকে। 

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 
    ১৬৮.
    করোনারী থ্রম্বসিস অসুখটি-
    1. যকৃতের
    2. হৃৎপিন্ডের
    3. অগ্ন্যাশয়ের
    4. কিডনীর
    ব্যাখ্যা
    রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশংকা বাড়ায়। স্বাভাবিক মাত্রা থেকে রক্তে কোলেস্টেরল বেশি হলে রক্তনালীর অন্তঃপ্রাচীরের গাত্রে কোলেস্টেরল ও ক্যালসিয়াম জমা হয়ে রক্ত নালি গহ্বর সংকুচিত হয়। ফলে ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা কমে যায় এবং শক্ত হয়ে যায়— এ অবস্থাকে ধমনির কাঠিন্য বা Arteriosclerosis বলে ।
     
    আর্টারিওস্ক্লেরোসিস এর কারণে ধমনির প্রাচীরে ফাটল দেখা দিতে পারে। ধমনিগাত্রের ফাটল দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হয়ে জমাট বাঁধার কারণে রক্ত প্রবাহ বাধা প্রাপ্ত হয়।
     
     হৃদপিন্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিকের রক্তনালীতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু ঘটতে পারে। 

    হার্ট ব্লক: হৃদপিন্ডের স্পন্দন প্রবাহ উৎপাদন ত্রুটিপূর্ণ হলে বা উৎপন্ন প্রবাহ সঠিক পথে পরিবাহিত না হলে তাকে হৃদ
    অবরোধ বা হার্ট ব্লক বলে ।
    হার্ট অ্যাটাক: হৃদপিন্ডের করোনারি ধমনি কোনো কারণে বন্ধ হয়ে গেলে হৃদপেশির রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়ে যে রোগ
    সৃষ্টি হয় তাকে হার্ট অ্যাটাক বলে ।
    হার্ট ফেইলিউর: হৃদপিন্ডের অ্যাট্রিয়াম অথবা ভেন্ট্রিকল অথবা উভয়ের সংকোচন ক্ষমতা লোপ পাওয়াকে হার্ট ফেলিওর
    বলে।
     
     উৎস : হৃদপিণ্ডের যত কথা, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
    ১৬৯.
    'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে' কোন বিজ্ঞানী প্রথম ধারণা করেছিলেন? 
    1. আইজ্যাক নিউটন 
    2. জোহান কেল্লার 
    3. নিকোলাস কোপার্নিকাস 
    4. গ্যালিলিও গ্যালিলি
    ব্যাখ্যা

    নিকোলাস কোপার্নিকাস: 
    - নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ছিলেন। তিনিই প্রথম ধারণা দেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। 
    - পরবর্তীতে জোহান কেল্লার (১৫৭১-১৬৩০) গ্রহের গতি সম্পর্কিত সূত্র আবিস্কার করেন যা কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত। তিনি প্রচলিত বৃত্তাকার কক্ষপথের ধারণা পাল্টে উপবৃত্তাকার কক্ষপথের কল্পনা করেন। 

    গ্যালিলিও গ্যালিলি: 
    - গ্যালিলিও গ্যালিলি (১৫৬৪-১৬৪২) কে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জনক বলা হয়। 
    - তিনিই প্রথম প্রমাণ করেন যে পরীক্ষণ এবং বিভিন্ন রাশির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মূল ভিত্তি। 
    - পরীক্ষালব্ধ ফলাফল ছাড়া কখনোই কোন ঘটনা গাণিতিকভাবে প্রমাণ করা যায় না। 

    আইজ্যাক নিউটন: 
    - আইজ্যাক নিউটন (১৬৪২-১৭২৭) ছিলেন সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের একজন। 
    - তিনি মহাকর্ষসূত্র, ব্যবকলন ক্যালকুলাসের নীতি প্রবর্তন করেন। 
    - এছাড়া তিনি আলোর কণাতত্ত্ব আবিষ্কার করেন। তিনি হচ্ছেন ক্ল্যাসিক্যাল মেকানিক্স এর জনক। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১৭০.
    বায়ুমন্ডলের কোন স্তরটি ভূত্বকের সবচেয়ে নিকটবর্তী?
    1. ট্রপোস্ফিয়ার
    2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
    3. মেসোস্ফিয়ার
    4. এক্সোস্ফিয়ার
    ব্যাখ্যা
    ট্রপোমন্ডল (Troposphere): বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
    এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়। ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
    ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।

    সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৭১.
    ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র কোনটি?
    1. NIPORT
    2. SPARRSO
    3. BCSIR
    4. BTRC
    ব্যাখ্যা
    SPARRSO:

    • পূর্ণরূপ: Space Research and Remote Sensing Organizations
    • এটি বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র।
    • এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
    • প্রতিষ্ঠা: ১৯৮০ সাল। 
    • এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার সাভারে অবস্থিত। 

    অন্যদিকে,
    • NIPORT: National Institute of Population Research and Training
    • BTRC: Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission
    • BCSIR: Bangladesh Council of Scientific and Industrial Research

    উৎস: SPARSO ওয়েবসাইট।
    ১৭২.
    'পশ্চিমা বায়ু' এক ধরনের-
    1. সাময়িক বায়ু
    2. স্থানীয় বায়ু
    3. নিয়ত বায়ু
    4. অনিয়মিত বায়ু
    ব্যাখ্যা
    বায়ুপ্রবাহ: 
    - বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
    - বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
    যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
    - বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
    - বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
    যথা- নিয়ত বায়ু, সাময়িক বায়ু, স্থানীয় বায়ু ও অনিয়মিত বায়ু। 

    নিয়ত বায়ু: 
    - যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
    - নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
    - এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
    - নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
    যথা- অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু। 

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৭৩.
    গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই কোন ট্যাবলেট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়? 
    1. ভিটামিন ডি
    2. ফলিক অ্যাসিড
    3. আয়োডিন
    4. ক্যালসিয়াম
    ব্যাখ্যা
    গর্ভকালীন বিভিন্ন সমস্যা ও সচেতনতা: 
    - প্রতিবছর গর্ভকালীন জটিলতায় অনেক নারী মৃত্যুবরণ করেন। 
    - গর্ভকালীন সমস্যা সম্পর্কে অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাব মা ও শিশুর উভয়ের জন্য জীবনঘাতী হতে পারে। 
    - তাই সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

    গর্ভকালীন রক্তস্বল্পতা: 
    - গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্ত প্রবাহ ও পুষ্টির ঘাটতির কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। 

    ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী:  
    - প্রথম মাস থেকে ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট গ্রহণ করতে  বলা হয়। 
    - তৃতীয় মাস থেকে আয়রন ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। 
    - আয়রনযুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন: কচুশাক, কলিজা, তেঁতুল, তরমুজ, ডিম ইত্যাদি। 
    - ভিটামিন C সমৃদ্ধ খাবার খেলে আয়রনের শোষণ বৃদ্ধি পায়। যেমন: আমলকি, লেবু, কাঁচামরিচ, পেয়ারা, আনারস, কাঁচা ফলমূল ইত্যাদি। 

    উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৭৪.
    ‘ফ্লুরোনা‘ কিসের নাম?
    1. ক) এক প্রকার ভাইরাস
    2. খ) ইতালির একটি শহরের নাম
    3. গ) ফ্লু ও করোনা ভাইরাসের সম্মিলিত লক্ষণ
    4. ঘ) এক জাতীয় গোলাপ ফুল
    ব্যাখ্যা
    - কারোর যদি একই সঙ্গে সাধারণ ফ্লু ও করোনা—এই দুইয়ের উপসর্গ থাকে তাহলে তাকে বলা হচ্ছে ফ্লুরোনা। - এর লক্ষণগুলো হলো জ্বর, কাশি, ক্লান্তি, সর্দি, গলা ব্যথা ইত্যাদি।
    - তবে এটি করোনাভাইরাসের নতুন কোনো ভ্যারিয়েন্ট বা রূপ নয়। একে অনেকে ডাবল সংক্রমণও বলছেন।

    উৎস : কালের কন্ঠ
    ১৭৫.
    বারিমণ্ডলের জলরাশির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধারণ করে -
    1. ভূগর্ভ
    2. হিমবাহ
    3. হ্রদ
    4. বায়ুমণ্ডল
    ব্যাখ্যা
    • বারিমণ্ডলে জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টন:
    - সমুদ্র -- ৯৭.২৫%, (সবচেয়ে বেশি)
    - হিমবাহ -- ২.০৫%,
    - ভূগর্ভস্থ পানি -- ০.৬৮%,
    - হ্রদ -- ০.০১% 
    - মাটির আর্দ্রতা -- ০.০০৫%, 
    - বায়ুমণ্ডল -- ০.০০১%, 
    - নদী -- ০.০০০১%, 
    - জীবমণ্ডল -- ০.০০০০৪%। 

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৭৬.
    সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে শনির সময় লাগে -
    1. ১ বছর
    2. ১১ বছর
    3. ২২ বছর
    4. ২৯ বছর
    ব্যাখ্যা
    শনি (Saturn):
    - সূর্য থেকে শনির গড় দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
    - সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে শনির সময় লাগে ২৯ বছর।
    - এর ব্যাস প্রায় ১,২০,০০০ কিলোমিটার।

    তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৭৭.
    সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে পৃথিবী অবস্থান করলে উক্ত ঘটনাটিকে কী বলা হয়?
    1. অমাবস্যা
    2. সূর্যগ্রহণ
    3. পূর্ণিমা
    4. চন্দ্ৰগ্ৰহণ
    ব্যাখ্যা
    • সূর্যগ্রহণ:
    - যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ।
    - চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে।
    - তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
    - অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।

    • চন্দ্ৰগ্ৰহণ:
    - চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
    - পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
    - চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।

    • পূর্ণিমা:
    - পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে।

    • অমাবস্যা:
    - চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
    - চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

    উৎস: বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট। [link]
    ১৭৮.
    বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় 'আম্ফান' কবে আঘাত হানে?
    1. ক) ২০১৮
    2. খ) ২০১৯
    3. গ) ২০২০
    4. ঘ) ২০২১
    ব্যাখ্যা
    - ২০ মে ২০২০ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান।
    - এর নামকরণ করে থাইল্যান্ড। আম্ফান অর্থ দৃঢ়তা।
    - বাতাসের গতিবেগের দিক থেকে এটিকে বঙ্গোপসাগরের সবচেয়ে তীব্রতম ঘূর্ণিঝড় বলা হচ্ছে।
    - এর সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ২৭২ কিলোমিটার।
    - ফলে এটি তীব্রতায় ১৯৯৯ সালে উড়িষ্যায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের (ঘন্টায় ২৬০ কিমি) গতিকেও ছাড়িয়ে যায়।
    - তবে প্রাণহানিতে সবচেয়ে প্রলয়ংকারী সাইক্লোন ছিলো ১৯৭০ সালের ঘূর্নিঝড়। এতে প্রায় ৩-৫ লক্ষ মানুষ মারা যায়।

    তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো।
    ১৭৯.
    "Pillars of Creation" বলা হয় কোনটিকে?
    1. পৃথিবী
    2. নীহারিকা
    3. বৃহস্পতি
    4. ধূমকেতু
    ব্যাখ্যা
    নীহারিকা (Nebula):
    - সৃষ্টি জগতের সকল উপাদানকে একত্রে মহাবিশ্ব বলা হয়।
    - মহাকাশে বিরাজমান সকল নক্ষত্র, গ্রহ-উপগ্রহ, গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, উল্কা, ধূমকেতু এবং জৈব ও অজৈব জগতের সকল মহাজাগতিক পদার্থসমূহকে ব্যাপক মহাবিশ্ব ও জ্যোতিষ্কমন্ডলী অর্থে 'জ্যোতিষ্ক' বলে।

    ⇒ নীহারিকা বা নেবুলা (Nebula) হলো ধুলা, হাইড্রোজেন, হিলিয়াম ও আয়নিত গ্যাসের আন্তর্মহাকাশীয় মেঘ।
    - নীহারিকা হলো নক্ষত্রের জন্মস্থান।
    - মহাকর্ষের টানে গ্যাসীয় কণাগুলো একত্র হয়ে ধীরে ধীরে নক্ষত্র গঠন করে।
    - নীহারিকা প্রধানত গ্যাস, ধুলা ও প্লাজমা দ্বারা গঠিত।
    - নীহারিকাগুলো মূলত অবস্থিত আন্ত নাক্ষত্রিক শূন্যস্থান বা interstellar medium (ISM)-এ।
    - নীহারিকার মেঘস্তম্ভকে নক্ষত্র সৃষ্টির আধার হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
    - তাই নাসার বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন "Pillars of Creation"।

    উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
    ii) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৮০.
    বায়ুমন্ডলে নিচের উপাদানগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে?
    1. জলীয়বাষ্প
    2. আর্গন
    3. অক্সিজেন
    4. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
    ব্যাখ্যা
    বায়ুমন্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি -- ৭৮.০১%।
    - দ্বিতীয় সর্বোচ্চ থাকে, অক্সিজেন -- ২০.৭১%,

    এছাড়া অন্যান্য উপাদান থাকে,
    - আর্গন -- ০.৮০%,
    - জলীয়বাষ্প -- ০.৪১%
    - কার্বন-ডাই-অক্সাইড -- ০.০৩%
    - অন্যান্য গ্যাস -- ০.০২% ও
    - ধূলিকণা ও কণিকা --- ০.০১% 

    উৎস: নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।

    অপশনগুলোর মধ্যে বায়মন্ডলে অক্সিজেনের সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে।
    ১৮১.
    জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে কোন বন্যার সৃষ্টি হয়?
    1. নগর বন্যা
    2. আকস্মিক বন্যা
    3. মৌসুমী বন্যা
    4. উপকূলীয় বন্যা
    ব্যাখ্যা
    বন্যা (Flood): 
    - সাধারণ অর্থে নদীর পানি যখন দু'কূল ছাপিয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রাম, নগর, বন্দর, বাড়িঘর ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ফসল বিনষ্ট করে তখন তাকে বন্যা বলে। 
    - অধ্যাপক Chambers এর মতে, 'Flood is a condition of abnormally great flow of water in the river'. 
    - প্রায় প্রতি বছর দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়। 

    বন্যার প্রকারভেদ: 
    - সাধারণত বন্যা চার প্রকারের হয়ে থাকে। 
    যথা-মৌসুমী বন্যা, আকস্মিক বন্যা, উপকূলীয় বন্যা এবং নগর বন্যা। 
    ১. মৌসুমী বন্যা (Seasonal Flood): 
    - বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে মৌসুমী বন্যা বলে। 
    - কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে মৌসুমী বন্যা তেমন ক্ষতি করে না বরং ফসল উৎপাদনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তবে মাঝে মাঝে বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। 

    ২. আকস্মিক বন্যা (Flash Flood): 
    - বর্ষা মৌসুম ব্যতীত অন্য যে কোনো মৌসুমী আকস্মিক বৃষ্টিপাত বা পাহাড়ি ঢলের ফলে যে বন্যার সৃষ্টি হয়, তাকে আকস্মিক বন্যা বলে। 
    - বাংলাদেশের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ প্রভৃতি জেলায় আকস্মিক বন্যা হতে দেখা দেয়। 
    - বোরো মৌসুমে এ ধরনের বন্যা হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। 

    ৩. উপকূলীয় বন্যা (Coastal Flood): 
    - উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি বা জোয়ার-ভাটাজনিত কারণে যে বন্যা সৃষ্টি হয়, তাকে উপকূলীয় বন্যা বলে। 

    ৪. নগর বন্যা (Urban Flood): 
    - নগর এলাকায় সুষ্ঠু ও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা দেখা দেয়। এ ধরনের বন্যাকে নগর বন্যা বলে। 
    - ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে এ ধরনের বন্যা দেখা দেয়। 

    উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৮২.
    সেরিকালচার দিয়ে কী বুঝায়? 
    1. মৎস্য চাষ 
    2. রেশম চাষ
    3. চিংড়ি চাষ 
    4. মৌমাছি চাষ 
    ব্যাখ্যা

    আধুনিক চাষ: 
    - মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - পিসিকালচার; 
    - চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - প্রণকালচার; 
    - মৌমাছির চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - এপিকালচার; 
    - রেশমের চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - সেরিকালচার
    - উদ্যানবিদ্যা বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - হর্টিকালচার; 
    - পাখিপালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলে - এভিকালচার; 
    - সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যাকে বলে - মেরিকালচার। 

    উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

    ১৮৩.
    নিম্নের কোন উপাদানটি মঙ্গল গ্রহে সবচেয়ে বেশি রয়েছে?
    1. হাইড্রোজেন
    2. নাইট্রোজেন 
    3. অক্সিজেন 
    4. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
    ব্যাখ্যা

    - মঙ্গল গ্রহে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ)।

    মঙ্গল (Mars):

    - মঙ্গল পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ। বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়।
    - খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়। সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
    - এর ব্যাস ৬,৭৮৭কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
    - এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
    - সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
    - মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
    - এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
    - মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

    উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

    ১৮৪.
    মহাদেশীয় ভূত্বক কোন দুটি উপাদান দ্বারা গঠিত?
    1. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
    2. সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
    3. নিকেল ও লোহা
    4. সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম
    ব্যাখ্যা
    - ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তা ‘ভূত্বক’ নামে পরিচিত।
    - ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি।
    - মহাসাগরীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা ০৫ কিলোমিটার এবং মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি।
    - মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা ‘সিয়াল’ (SiAl) স্তর নামে পরিচিত।
    - মহাসাগরীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা ‘সিমা’ (SiMg) স্তর নামে পরিচিত।
    (তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
    ১৮৫.
    কোনটি দ্বারা শাকসবজির চাষ বোঝায়?
    1. এপিকালচার
    2. সেরিকালচার
    3. হর্টিকালচার
    4. কোনটিই নয়
    ব্যাখ্যা

    প্রশ্ন: কোনটি দ্বারা শাকসবজির চাষ বোঝায়?

    সমাধান:
    শাকসবজি, ফুল ও ফলের বাণিজ্যিক চাষকে উদ্যান তত্ত্ব (Horticulture) বলা হয়।

    [অপশনে - olericulture এবং horticulture থাকলে শাকসবজির চাষের ক্ষেত্রে অবশ্যই olericulture দাগাতে হবে,

    তবে অপশনে olericulture না থাকলে - horticulture-ই সঠিক উত্তর।]

    হর্টিকালচার (Horticulture):
    হর্টিকালচার বা উদ্যানপালন পুষ্টি, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি ফল, সবজি, ফুল, মশলা এবং শোভাবর্ধক গাছপালা চাষের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, মানুষের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধি করে। এছাড়াও, এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয়ের একটি বড় উৎস। 

    অন্যান্য অপসনসমূহ, 
    এপিকালচার (Apiculture) — মৌমাছি পালন।
    সেরিকালচার (Sericulture) — রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট পালন।

    উৎস:
    ১. কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ২. ব্রিটানিকা।

    ১৮৬.
    ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গের কম্পাঙ্ক সাধারণত কত?
    1. 2-10 Hz
    2. 2-10 kHz
    3. 2-10 MHz
    4. 2-10 GHz
    ব্যাখ্যা

    - ইকোকার্ডিওগ্রাফিতে ব্যবহৃত শব্দ তরঙ্গ বা আল্ট্রাসাউন্ডের কম্পাঙ্ক সাধারণত 2 থেকে 10 মেগাহার্টজ (MHz) এর মধ্যে থাকে। 

    ইকোকার্ডিওগ্রাফি: 

    - ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের সাহায্যে হৃৎযন্ত্রের কার্যক্রমের গুণগত ও পরিমাণগত মূল্যায়ন করা যায়। 
    - শব্দের প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
    - শব্দ তরঙ্গ হচ্ছে যান্ত্রিক তরঙ্গ যা মাধ্যমের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। 
    - আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রে শব্দের প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করা হয়। 
    - আল্ট্রাসনোগ্রাফি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল। 
    - উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ হৃৎপিণ্ডের যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। এই প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত তরঙ্গের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব মনিটরে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে 2-10 MHz কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়। 
    - টিস্যুর মধ্যে শব্দ তরঙ্গ সাধারণত 1540 ms-1 এবং রক্তের মধ্যে 1570 ms-1 বেগে সঞ্চালিত হয়। 
    - আপতিত শব্দ তরঙ্গ হৃৎযন্ত্রের টিস্যুর সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে হৃৎযন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে সঞ্চালিত হতে থাকে। 
    - যত বেশি কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, প্রতিফলিত বিম্বের স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা তত বেশি হয়। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

    ১৮৭.
    হিগস কণা (Higgs Boson) আবিষ্কারের জন্য কোন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে?
    1. লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার
    2. স্পিৎজার স্পেস টেলিস্কোপ
    3. হাবল স্পেস টেলিস্কোপ
    4. কেপলার স্পেস অবজারভেটরি
    ব্যাখ্যা
    ◉ লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডার (LHC) বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী পার্টিকল অ্যাক্সিলারেটর, যা সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সের সীমান্তে অবস্থিত CERN-এ স্থাপন করা হয়েছে। ২০১২ সালে এখানেই হিগস বোসনের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়, যা পদার্থবিজ্ঞানের স্ট্যান্ডার্ড মডেল এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

    হিগস বোসন: 
    - হিগস বোসন এর স্পিন 0, তবে এর ভর আছে। 
    - হিগস বোসন বুঝতে হলে হিগস ক্ষেত্র সম্বন্ধে জানতে হবে। 
    - হিগস ক্ষেত্র একটি তাত্ত্বিক বলক্ষেত্র যা সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। 
    - এই ক্ষেত্রের কাজ হলো মৌলিক কণাগুলোকে ভর প্রদান করা। 
    - যখন কোনো ভরহীন কণা হিগস ক্ষেত্রে প্রবেশ করে তখন তা ধীরে ধীরে ভর লাভ করে। ফলে তার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। 
    - হিগস বোসনের মাধ্যমে ভর কণাতে স্থানান্ডরিত হয়। 
    এই হিগস বোসন কণাই ঈশ্বর কণা ( God's Particle) নামে পরিচিত। 

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা। 
    ১৮৮.
    সুনামি কোন ভাষার শব্দ?
    1. ক) চীনা
    2. খ) উত্তর কোরিয়ান
    3. গ) জাপানি
    4. ঘ) ইংরেজি
    ব্যাখ্যা

    Tsunami একটি জাপানি শব্দ। সু অর্থ বন্দর এবং নামি অর্থ ঢেউ। সুতরাং সুনামি অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
    সুনামিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্মরণকালের ভয়ঙ্কর সুনামি ঘটেছিলো।
    সূত্র: মাধ্যমিক বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

    ১৮৯.
    বায়ুমণ্ডলের শীতলতম অঞ্চল কোনটি?
    1. আয়নোস্ফিয়ার
    2. মেসোস্ফিয়ার
    3. ট্রপোস্ফিয়ার
    4. স্ট্র‍্যাটোস্ফিয়ার
    ব্যাখ্যা
    - বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তর হলো ৫০-৮৫ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত মেসোস্ফিয়ার।
    - এ স্তরের শুরু থেকে তাপমাত্রা হ্রাস পেতে থাকে এবং ৮৩ কি.মি. উচ্চতায় -৯৩°সে. তাপমাত্রায় বায়ুমণ্ডল শীতলতম অবস্থায় পৌঁছে।
    - মেসোস্ফিয়ারে তাপমাত্রা হ্রাসের কারণ হলো এ অঞ্চলে UV- রশ্মি শোষণকারী ওজোন গ্যাস এবং অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের অনুপস্থিতি। 
    সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
    ১৯০.
    আবহাওয়ায় ৯০% আদ্রতা মানে-
    1. বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৯০%
    2. ১০০ ভাগ বাতাসে ৯০ ভাগ জলীয় বাষ্প
    3. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান সম্পৃক্ত অবস্থায় ৯০%
    4. বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমান বৃষ্টিপাতের সময়ের ৯০%
    ব্যাখ্যা
    - আবহাওয়ায় ৯০% আর্দ্রতা বলতে বুঝায়, বায়ু যতখানি জলীয় বাষ্প ধারন করতে পারে সম্পৃক্ত অবস্থায় তার ৯০% জলীয় বাষ্প রয়েছে। 

    আর্দ্রতা: 
    - কোনো এলাকার বায়ুমণ্ডলে প্রকৃতপক্ষে যতখানি জলীয় বাষ্প আছে এবং যতখানি জলীয় বাষ্প থাকতে পারে তার শতকরা অনুপাতই হলো আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 
    - বায়ুতে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিকে আর্দ্রতা বলে। 
    - কোন স্থানের আর্দ্রতা সেই স্থানের বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রার উপর নির্ভরশীল। 
    - যে বায়ুতে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি, সে বায়ু জলবায়ুকে অধিক প্রভাবিত করে। 
    - ফলে সেই এলাকায় দিনে খুবই গরম পড়ে এবং রাতে প্রচন্ড ঠান্ডা পড়ে। 
    - বায়ুর আর্দ্রতা সূর্যকিরণকে ভূপৃষ্ঠে আসতে অধিক বাঁধা সৃষ্টি করে বলে এ অবস্থা হয়। 
    - বর্ষাকালে অধিক আর্দ্রতার কারণে রোগবালাই এবং পোকামাকড় দ্বারা ফসল সহজেই আক্রান্ত হয়। 
    - শীতকালে বাতাস শুষ্ক থাকে অর্থাৎ বাতাসে আর্দ্রতা অনেক কম থাকে। 
    - শীতকালে বাতাসের গড় আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৭২% থেকে ৮৫% হয় থাকে। 
    - অপরদিকে গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে এই আর্দ্রতা হয় ৮৩% থেকে ৯০% পর্যন্ত। 

    উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৯১.
    দিনাজপুর জেলার বড় পুকুরিয়ায় কোন খনিজ প্রকল্পের কাজ চলছে?
    1. ক) কঠিন শিলা
    2. খ) কয়লা
    3. গ) চুনাপাথর
    4. ঘ) কাঁদামাটি
    ব্যাখ্যা
    - আবিষ্কৃত পাঁচটি কয়লাখনির মধ্যে অন্যতম দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি উন্নয়নের কাজ শুরু হয় ১৯৯৬ সালে।

    _____________________________
    - বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ।
    - বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি।
    - এটি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত।
    - এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৫ সালে।
    - এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।

    উৎস: বাংলাপিডিয়া
    ১৯২.
    রাডারে যে তড়িৎ চৌম্বক ব্যবহার করা হয় তার নাম কি?
    1. ক) অবলোহিত বিকিরণ
    2. খ) এক্সরে
    3. গ) গামা রশ্মি
    4. ঘ) মাইক্রোওয়েভ
    ব্যাখ্যা
    রাডার যন্ত্রে, নৌ ও বিমান চালনায়, রেডিও যােগাযােগ ব্যবস্থায়, শিল্প কারখানায় এই তরঙ্গ ব্যবহৃত হয়।
    এই ছাড়া খাবার গরম করা ও রান্নার কাজে মাইক্রোওভেন ব্যবহৃত হয়। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
    ১৯৩.
    প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন-
    1. ক) উইলিয়াম হার্ভে
    2. খ) ল্যামার্ক
    3. গ) চার্লস রবার্ট ডারউইন
    4. ঘ) হার্বার্ট স্পেন্সার
    ব্যাখ্যা
     • প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব উপস্থাপন করেন চার্লস রবার্ট ডারউইন
    - ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীববিজ্ঞান তথা সমগ্র বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক চিন্তাধারার সৃষ্টি করেন বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন।
    - ইংল্যান্ডের স্রাসবেরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন। 
    - প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত গ্যালাপ্যাগোস দ্বীপপুঞ্জ পরিভ্রমণকালে তিনি এ অঞ্চলের উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুলের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য দেখে বিশেষভাবে আকৃষ্ট হন এবং সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ১৮৩৯ খ্রিষ্টাব্দে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তনের প্রায় ২০ বছর পরে ১৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে 'প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব' নামে একটি বইয়ে তাঁর প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব বা বিবর্তনের তত্ত্ব প্রকাশ করেন।
    - ডারউইনের সাফল্য ছিল, জৈব বিবর্তনের কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত সংখ্যক বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি প্রক্রিয়ার ধারণা প্রতিষ্ঠা করা যা, বিবর্তনের যাবতীয় বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারবে। 
    - জৈব বিবর্তনের কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক নির্বাচনকে উল্লেখ করে আরও একজন সমসাময়িক ব্রিটিশ প্রকৃতি বিজ্ঞানী, আলফ্রেড ওয়ারলেস একই সময়ে কিন্তু স্বাধীনভাবে অনুরূপ তত্ব প্রণয়ন করেন। 
    - তবে বিভিন্ন এঁতিহাসিক কারণে তাঁর চেয়ে ডারউইনের তত্ত্বটি অধিক প্রচলিত।

    উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৯৪.
    নিচের কোন রশ্মিটি আসলে ইলেকট্রন-
    1. ক) আলফা
    2. খ) বিটা
    3. গ) গামা
    4. ঘ) কোনোটিই না
    ব্যাখ্যা
    তেজস্ক্রিয় পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে বিটা রশ্মি নির্গত হয় যা আসলে ইলেকট্রন, কিন্তু আমরা জানি নিউক্লিয়াসে ইলেকট্রন থাকে না। সেজন্য নিউক্লিয়াসের ভেতরের একটি নিউট্রনকে প্রোটনে পরিবর্তিত হতে হয়।
    উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
    ১৯৫.
    নিচের কোনটি জীবাশ্ম জ্বালানি?
    1. পারমাণবিক শক্তি
    2. প্রাকৃতিক গ্যাস
    3. জিও থার্মাল
    4. জলবিদ্যু
    ব্যাখ্যা
    - জীবাশ্ম জ্বালানি হলো এক প্রকার জ্বালানি যা বায়ুর অনুপস্থিতিতে অবাত পচন প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়। মৃত গাছের পাতা, মৃতদেহ ইত্যাদি হাজার হাজার বছর ধরে মাটির নিচে চাপা পড়ে এ জ্বালানি তৈরি হয়।
    - এসব জীবাশ্ম জ্বালানিসমূহ অনবায়নযোগ্য। অর্থাৎ এসব জ্বালানি পুনরায় ব্যবহার করা যায় না এবং এদের মজুদ সীমিত।

    বিভিন্ন জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে রয়েছে:
    - প্রাকৃতিক গ্যাস
    - খনিজ তেল
    - কয়লা প্রভৃতি।

    অন্যদিকে,
    - পারমাণবিক শক্তি, জিও থার্মাল বা ভূ-তাপ শক্তি, জলবিদ্যুৎ, বায়ু, সৌরতাপ প্রভৃতি হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি।

    (তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট)
    ১৯৬.
    ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমাণ কোন সূত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়?
    1. E = pV
    2. E = mc²
    3. E = hf
    4. E = kT
    ব্যাখ্যা
    • ফোটন:
    - ফোটন কণা তাড়িতচৌম্বক বল বহন করে।
    - ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
    - প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
    - কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

    • ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
    ১। প্রতিটি ফোটন কণাই তড়িৎ নিরপেক্ষ।
    ২। শূন্য মাধ্যমে প্রতিটি ফোটন কণাই আলোর বেগে(C= 3×108 ms-1) চলাচল করে। কোনো ঘটনাতেই ফোটনের বেগের কোনো হ্রাস বৃদ্ধি ঘটে না।
    ৩। প্রতি ফোটন দ্বারা বাহিত শক্তির পরিমান E = hf; এখানে f = বিবিরণের কম্পাঙ্ক, h = প্লাংকের ধ্রুবক।
    - ফোটনের স্রোতে ফোটন কণার সংখ্যা যত বেশী হয়, বাহিত শক্তির পরিমাণও তত বেশী হয়। ফলে বিকিরণের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
    ৪ । নিউটনীয় বলবিদ্যায় ফোটনের ভর ব্যাখ্যা করা যায় না। ফোটনের যে ভর আছে এই ধারণা বর্জনীয়। সহজে বলা যায়, ফোটনের স্থির ভর শূন্য।

    উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ১৯৭.
    বাতজ্বর হয় কিসের সংক্রমণের ফলে?
    1. ক) স্ট্রেপটোকক্কাস
    2. খ) রেট্রোভাইরাস
    3. গ) ফাইলেরিয়া
    4. ঘ) মাইকোব্যাক্টেরিয়াম
    ব্যাখ্যা
    স্ট্রেপটোকক্কাস অণুজীবের সংক্রমণে সৃষ্ট শ্বাসনালির প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর, টনসিলের প্রদাহ অথবা মধ্যকর্ণের সংক্রামক রোগ বাতজ্বরের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। বিশেষ করে হৃদপিণ্ড এই রোগে আক্রান্ত হয়। হৃদপেশি এবং হৃদপিন্ডের কপাটিকা বা ভাল্ব অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফলে হৃদপিন্ড যথাযথভাবে রক্ত পাম্প করতে পারে না৷
    উৎসঃ জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।
    ১৯৮.
    আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন-
    1. ক) ১৯০০ সালে
    2. খ) ১৯০৪ সালে
    3. গ) ১৯০৫ সালে
    4. ঘ) ১৯২১ সালে
    ব্যাখ্যা
    আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের সূত্রপাত ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্বের আবিষ্কারের মাধ্যমে। এই তত্ত্বের সাহাজ্যে তিনি কালো বস্তুর (ডার্ক ম্যাটার) বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন। ১৯০৫ সালে আলবার্ট আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার তত্ত্ব প্রদান করেন। উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান (২য় পত্র) বোর্ড বই।
    ১৯৯.
    শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম কী?
    1. Hertz
    2. Newton
    3. Decibel
    4. Nanometer
    ব্যাখ্যা
    • শব্দ দূষণ পরিমাপের এককের নাম হলো ডেসিবেল (Decibel)। ডেসিবেল শব্দের তীব্রতা বা আওয়াজের মাত্রা পরিমাপের একটি ইউনিট। এটি একটি লোগারিদমিক স্কেল যা শব্দের চাপ বা শক্তির তুলনামূলক মাত্রা নির্ধারণ করে। সাধারণভাবে, মানুষের কান ০ ডেসিবেল থেকে শুরু করে প্রায় ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ শুনতে পারে, যেখানে ১২০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ ক্ষতিকর হতে পারে। হার্টজ (Hertz) শব্দের ফ্রিকোয়েন্সি পরিমাপ করে, নিউটন (Newton) বলের একক এবং ন্যানোমিটার (Nanometer) দৈর্ঘ্যের একক। তাই শব্দ দূষণ পরিমাপের সঠিক একক হলো গ) ডেসিবেল।

    শব্দদূষণ:

    - মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতার উর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।
    - শব্দের তীব্রতা পরিমাপক একক হচ্ছে ডেসিবল।
    - শব্দের মাত্রা ৪৫ ডেসিবল হলেই সাধারণত মানুষ ঘুমাতে পারে না।
    - ৮৫ ডেসিবল শ্রবণ শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুর করে এবং মাত্রা ১২০ ডেসিবল হলে কানে ব্যথা শুরু হয়।
    - বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)- এর মতে, সাধারণত ৬০ ডেসিবেল শব্দ একজন মানুষকে সাময়িকভাবে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দ পুরোপুরি বধির করে ফেলে।
    সুতরাং, ৬০ ডেসিবলের চেয়ে বেশি মাত্রার শব্দ শব্দদূষণ ঘটায়।

    উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
    ২০০.
    কোনটি অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ?
    1. ভাইরাস ধ্বংস করা
    2. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করা
    3. কোষ বিভাজন বন্ধ করা
    4. কোনটিই নয়
    ব্যাখ্যা

    অ্যান্টিবায়োটিক যেভাবে কাজ করে
    - অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে
    - ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে (যেমনঃ Penicillin)
    - ব্যাকটেরিয়ার DNA প্রতিলিপি প্রক্রিয়া ব্যাহত করে।
    - প্রোটিন সংশ্লেষণ থামিয়ে দেয় (যেমনঃ Tetracycline)।

    আন্টিবায়োটিক গ্রহণে সতর্কতা
    - চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ বিপজ্জনক।
    - কোর্স সঠিকভাবে শেষ করতে হবে।
    - ভুলভাবে বা বেশি ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (Antibiotic Resistance) দেখা দেয়, যা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    উৎস:
    - জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
    - স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ।
    - WHO (World Health Organization).