বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৯ / ৩৯ · ১,৮০১১,৯০০ / ৩,৮৭৯

১,৮০১.
নিচের কোনটি বায়োম এর অন্তর্ভুক্ত?
  1. তুন্দ্রা জীবভূমি
  2. মরু জীবভূমি
  3. বন জীবভূমি
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

বায়োম:- 
- বায়োম বা জীবভূমি হচ্ছে বিস্তৃত পরিসরের প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেম বা প্রতিবেশ।
- অর্থাৎ প্রতিবেশের উদ্ভিদের ভিন্নতার জন্য প্রতিটি বৃহৎ বায়োম বা জীবভূমি পৃথক নামে পরিচিত।
- যেমন- বন জীবভূমি, তৃণ জীবভূমি, মরু জীবভূমি, তুন্দ্রা জীবভূমি, স্বাদুপানির বায়োম ও সামুদ্রিক লবণাক্ত পানির জীবভূমি।
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু, সূর্যরশ্মির পতন, সমুদ্রের অবস্থান এবং বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহের ভিন্নতার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক পৃথক বায়োম বা জীবভূমি তৈরি হয়েছে।

উৎস:  পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০২.
চাঁদ কত সময়ে পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে?
  1. ক) ২৭ দিনে ৪ ঘন্টায়
  2. খ) ২৭ দিন ৮ ঘন্টায়
  3. গ) ২৮ দিন ২ ঘন্টায়
  4. ঘ) ২৯ দিন ৬ ঘন্টায়
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ। চাঁদ ২৭ দিন ৮ ঘন্টায় পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে। এটি পৃথিবীর আয়তনের ৫০ ভাগের একভাগ। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
১,৮০৩.
পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে দূরত্ব কোন এককে মাপা হয়?
  1. নটিক্যাল মাইল
  2. কসমিক ইয়ার
  3. আলোক বর্ষ
  4. আলোক মাইল
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না।
- এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়।
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে।
- এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৮০৪.
শুক্র গ্রহকে পশ্চিম আকাশে আমরা কীরূপে দেখতে পাই?
  1. শুকতারা
  2. ধ্রুবতারা
  3. সন্ধ্যাতারা
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

শুক্র (Venus):
- শুক্র হলো সূর্য থেকে দ্বিতীয় গ্রহ এবং সৌরজগতের ষষ্ঠ বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি আমাদের সৌরজগতের সবচেয়ে উষ্ণতম গ্রহ।
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।
- শুক্রের কোন বলয় নেই।

উল্লেখ্য,
- শুক্র গ্রহকে পৃথিবীর যমজ গ্রহ হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- কারণ এটির আকার এবং আকৃতি অনেকটাই পৃথিবীর সাথে মেলে।
- এটির গঠনও অনেকটা একই রকমের।
- শুক্র গ্রহে বিশাল পাহাড়, সমতল ভূমি ও অনেক আগ্নেয়গিরি রয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন।

উৎস: i) NASA ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০৫.
কোন গ্রিন হাউস গ্যাস কার্বন ডাই-অক্সাইডের চেয়ে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে?
  1. নাইট্রাস অক্সাইড 
  2. ক্লোরোফ্লোরোকার্বন 
  3. মিথেন
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

গ্রিন হাউজ প্রভাব: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Green house effect) বলে। 
- গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো- কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো- 
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2): 
- কার্বন ডাই-অক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইড। জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়। বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে। 

২। মিথেন (CH4): 
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন। এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়। তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই-অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে। 

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC): 
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ। সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়। 

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O): 
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে। এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত। এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮০৬.
সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ ও গ্রহরাজ বলা হয়- 
  1. বুধ গ্রহকে
  2. বৃহস্পতি গ্রহকে
  3. শুক্র গ্রহকে
  4. পৃথিবী গ্রহকে
ব্যাখ্যা

বৃহস্পতি (Jupiter):
- বৃহস্পতি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ। একে গ্রহরাজ বলে।
- এর ব্যাস ১,৪২,৮০০ কিলোমিটার। আয়তনে পৃথিবীর চেয়ে ১,৩০০ গুণ বড়।
- এটি সূর্য থেকে প্রায় ৭৭.৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে।
- তাই পৃথিবীর সাতাশ ভাগের একভাগ তাপ পায়। বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি।
- বায়ুমন্ডলের উপরিভাগে তাপমাত্রা খুবই কম এবং অভ্যন্তরের তাপমাত্রা অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৩০,০০০° সেলসিয়াস)।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বৃহস্পতির সময় লাগে ৪,৩৩১ দিন।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৭৯টি। এ গ্রহে জীবের অস্তিত্ব নেই।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

১,৮০৭.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বায়ুর চাপ অত্যন্ত কম এবং মেঘ ও জলীয় বাষ্পহীন?
  1. ক) ট্রপোস্ফেয়ার
  2. খ) স্ট্রাটোস্ফেয়ার
  3. গ) মেসোস্ফেয়ার
  4. ঘ) থার্মোস্ফেয়ার
ব্যাখ্যা
• বায়ুমন্ডলের মেসোস্ফেয়ার স্তরে বায়ুর চাপ অত্যন্ত কম এবং মেঘ ও জলীয় বাষ্পহীন
- বায়ুর তাপমাত্রার বিন্যাসের ভিত্তিতে বায়ুমন্ডলকে প্রধান ছয়টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
- বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ হলো:
১. ট্রপোস্ফেয়ার
২. স্ট্রাটোস্ফেয়ার
৩. মেসোস্ফেয়ার
৪. থার্মোস্ফেয়ার
৫. আয়নোস্ফেয়ার
৬. এক্সোসফেয়ার

মেসোস্ফেয়ার:
মেসো অর্থ মধ্যভাগ। মেসোস্ফেয়ার সাধারণত থার্মোস্ফেয়ার এবং স্ট্রাটোস্ফেয়ার এর মাঝ বরাবর অবস্থান করে।
- এই স্তরে বায়ুর চাপ অত্যন্ত কম এবং মেঘ ও জলীয় বাষ্পহীন।
- ফলে এখানে শ্বাসপ্রশ্বাস সম্ভব নয় এই স্তরের ওপরের অংশকে মোসোপজ বলে।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮০৮.
আকুপাংচার হলো-
  1. ক) জাপানের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
  2. খ) গ্রীসের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
  3. গ) চীন দেশীয় প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
  4. ঘ) মিসরের প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
- আকুপাংচার ব্যথা ও রোগ নিরাময় করার জন্য ব্যবহৃত প্রাচীন চৈনিক চিকিৎসাপদ্ধতি
- শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সরু লম্বা সুই ফুটিয়ে চিকিৎসা করা হয়।
- বহুপুর্বে চীনা চিকিৎসাবিদ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলো আকুপাংচার।
১,৮০৯.
নিম্নের কোনটি বৈশ্বিক উষ্ণতার সরাসরি প্রভাব নয়? 
  1. বরফ গলে যাওয়া
  2. ভূমিকম্পের হার বৃদ্ধি
  3. লবণাক্ততা বৃদ্ধি
  4. বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
- প্রশ্নে উল্লেখিত অপশনে বৈশ্বিক উষ্ণতার সরাসরি প্রভাব নয়- ভূমিকম্পের হার বৃদ্ধি। 

মিঠা পানিতে বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব: 

১। সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি: 
- বৈশ্বিক উষ্ণতা হলো বিশ্বের বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, যা বিভিন্ন কারণে দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। 
- বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে পানির তাপমাত্রাও বেড়ে যাবে। 
- প্রায় ১০০ বছর আগে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা প্রায় ১০ সেলসিয়াস কম ছিল। 
- কিন্তু ১০০ বছরে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা মাত্র ১০ সেলসিয়াস বেড়েছে, কারণ তাপমাত্রা অল্প একটু বেড়ে গেলেই মেরু অঞ্চলসহ নানা জায়গায় সঞ্চিত বরফ গলতে শুরু করে। এ বরফ গলা পানি শেষ পর্যন্ত সমুদ্রে গিয়েই পড়ে যার ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে। 
- ফলে পৃথিবীর যে সকল দেশ নিচু, সেগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাবে, বাংলাদেশ হচ্ছে সেরকম নিচু এলাকার একটি দেশ। 

২। লবণাক্ততা: 
- সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি নদনদী, খালবিল, পুকুর, ভূগর্ভস্থ পানি আর হ্রদের পানিতে মিশে যাবে যার ফলে পানির সকল উৎসই লবণাক্ত হয়ে পড়বে। 
- পানির সকল উৎস লবণাক্ত হলে প্রথমত মিঠা পানিতে বসবাসকারী জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীসমূহ মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এবং এক পর্যায়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কারণ, পানির তাপমাত্রা বাড়লে যেরকম পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়, ঠিক সেরকম লবণাক্ততা বাড়লেও দ্রবীভূত অক্সিজেন অনেক কমে যাবে, যার ফলে জলজ প্রাণীরা আর বেঁচে থাকতে পারবে না। 
- জলজ উদ্ভিদের বড় একটি অংশ লবণাক্ত পানিতে জন্মাতেও পারে না, বেড়ে উঠতেও পারে না, যে কারণে পানির জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। 

৩। বৃষ্টিপাত: 
- বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে পারে। এ সংক্রান্ত কম্পিউটার মডেলিং থেকে ধারণা করা যায়, কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে, আবার কোনো কোনো এলাকায়, বিশেষ করে নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাবে। 
- বৃষ্টিপাত কমে গেলে খরা সৃষ্টি হয়, এমনকি বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমিতেও পরিণত হতে পারে। 
- বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আর ধরন পরিবর্তন হলে নদনদী, খালবিলে পানির পরিমাণ এবং প্রবাহ পরিবর্তিত হবে, যা অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। 
- কম্পিউটার মডেলিং থেকে এটাও অনুমান করা যায়, কোনো এলাকায় শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাবে, যা থেকে অসময়ে বন্যা হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১০.
বায়ু প্রবাহের কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক নয়? 
  1. বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে বেঁকে যায়।
  2. বায়ুপ্রবাহ দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।
  3. উচ্চচাপের স্থান থেকে নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়।
  4. নিম্নচাপের স্থান থেকে উচ্চচাপের দিকে প্রবাহিত হয়।
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা - 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু এবং 
• অনিয়মিত বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১১.
মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কোন শিলার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. মিশ্র শিলা
  4. রূপান্তরিত শিলা
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা: 
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে। 
যেমন: চুনাপাথর, বেলেপাথর, পাথুরিয়া কয়লা, সৈন্ধব লবণ, খড়িমাটি প্রভৃতি। 
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে। 
- এ শিলার পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। আর স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে এ শিলাকে স্তরীভূত শিলাও বলা হয়। 
- পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ। 
- তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলায় গঠিত। 
- পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্তরীভূত, জীবাশ্ম বিশিষ্ট, অকেলাসিত, তরঙ্গচিহ্ন ও কোমলতা ইত্যাদি। 
- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পাললিক শিলা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। 

- পাললিক শিলা প্রধানত তিন প্রকার। 
যথা - 
১। যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- বেলেপাথর। 
২। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- চুনাপাথর এবং 
৩। জৈবিক উপায়ে গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- বাংলাদেশের জামালগঞ্জের কয়লা ও গোপালগঞ্জের পিট কয়লা। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১২.
মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের গাঠনিক উপাদানগুলোর মধ্যে মূলত কোনগুলোর প্রাধান্য থাকে? 
  1. অক্সিজেন ও সিলিকন
  2. অ্যালুমিনিয়াম ও ক্যালসিয়াম
  3. সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম
  4. সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ভূ-ত্বক: 
- সৃষ্টির আদি অবস্থায় পৃথিবী একটি জ্বলন্ত বাষ্পীয় অগ্নিপিণ্ড ছিল। 
- কোটি কোটি বছর যাবৎ ঘূর্ণনরত এই জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড ক্রমশ তাপ বিকিরণ করে শীতল ও সংকুচিত হতে থাকে এবং গ্যাসীয় অবস্থা থেকে তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয়। এ সময়ে পৃথিবীর গঠনকারী ভারী উপাদানসমূহ পৃথিবীর কেন্দ্রভাগে সঞ্চিত হতে থাকে। 
- অপেক্ষাকৃত হালকা উপাদানসমূহ উপরের দিকে স্তরীভূত হয়ে জমাট বাঁধতে থাকে, ক্রমশ পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বাইরের স্তর জমাট বেঁধে কঠিনাকার ধারণ করে যা ভূ-ত্বক হিসেবে পরিচিত। 

ভূ-ত্বক গঠনকারী উপাদানসমূহ: 
- পৃথিবীপৃষ্ঠের সর্বাপেক্ষা বাইরে শিলা দ্বারা গঠিত যে কঠিন বহিরাবরণ রয়েছে, তাকে ভূ-ত্বক বলা হয়। 
- ভূ-ত্বকের গড় পুরুত্ব ২০ কিলোমিটার। 
- মহাদেশের উঁচু পর্বত চূড়া হতে সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত পুরুত্ব সবচেয়ে বেশি (গড় পুরুত্ব ৩৫ কিলোমিটার)। অপরদিকে সমুদ্র তলদেশে এর গড় পুরুত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। 
- মহাদেশের তলদেশের ভূ-ত্বক মহাদেশীয় ভূ-ত্বক ও মহাসাগরের তলদেশের ভূ-ত্বক মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক নামে পরিচিত। 
- মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের গাঠনিক উপাদানগুলোর মধ্যে সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়ামের (Al) প্রাধান্য থাকায় এই স্তরকে সিয়াল স্তর (Sial) নামে অভিহিত করা হয়। 
- সিয়াল স্তরের নিচের অংশ অপেক্ষকৃত ভারী স্তরটি নাম সিমা (Sima) স্তর, এই স্তরটি সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ স্তর। 
- ভূ-ত্বক গঠনকারী উপাদানসমূহের মধ্যে মোট ১৫ টি উপাদান দ্বারা ভূ-ত্বকের শতকরা ৯৯ ভাগের অধিক অংশ গঠিত। 
- এই উপাদানসমূহের মধ্যে প্রধান ৮ টি হলো- অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম। 
- এই পর্যন্ত বিজ্ঞানীগণ ভূ-ত্বক গঠনকারী মোট ১০৫ টি মৌলিক উপাদান আবিষ্কার করেছেন। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮১৩.
যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে চাঁদ থাকে, তখন হয়-
  1. চন্দ্রগ্রহণ
  2. সূর্যগ্রহণ
  3. অমাবশ্যা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
সূর্যগ্রহণ:
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ।
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে।
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।
- সূর্যগ্রহণ হয় তিন ধরনের। 
- এই ধরনগুলো নির্ভর করে চাঁদ সূর্যকে কতটা ঢেকে ফেলছে তার ওপর।
 
চন্দ্ৰগ্ৰহণ:
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।
- চন্দ্রগ্রহণও আছে তিন রকম।
 
উৎস: ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা।
১,৮১৪.
নিচের কোনটি তেজস্ক্রিয় পরমাণুর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল
  2. নিউট্রন ও প্রোটনের অনুপাত সুষম
  3. স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নির্গত করে
  4. এর পারমাণবিক সংখ্যা সাধারণত 82 -এর বেশি
ব্যাখ্যা

• তেজস্ক্রিয় পরমাণু (Radioactive Atom):
- তেজস্ক্রিয় পরমাণু হলো এমন একটি পরমাণু যার নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল।
- এই অস্থিতিশীলতার কারণে পরমাণুটি নিজে থেকেই বিকিরণ (radiation) নির্গত করে এবং ধীরে ধীরে স্থিতিশীল নিউক্লিয়াসে রূপান্তরিত হয়।

• তেজস্ক্রিয় বিকিরণের প্রকারভেদ:
i) α-বিকিরণ (Alpha Radiation): হেলিয়াম নিউক্লিয়াস (২ প্রোটন + ২ নিউট্রন) নির্গত হয়।
ii) β-বিকিরণ (Beta Radiation): একটি নিউট্রন প্রোটনে রূপান্তরিত হয় এবং ইলেকট্রন বা পজিট্রন নির্গত হয়।
iii) γ-বিকিরণ (Gamma Radiation): উচ্চ শক্তির ফোটন নির্গত হয়, যা পদার্থের গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম।

• তেজস্ক্রিয় পরমাণুর বৈশিষ্ট্য:
- নিউক্লিয়াস অস্থিতিশীল থাকা এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
- স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিকিরণ নির্গত করা তেজস্ক্রিয়তার মূল চিহ্ন।
- ভারী মৌলগুলোর (পারমাণবিক সংখ্যা > 82) অস্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যেমন ইউরেনিয়াম (92) ও থোরিয়াম (90)।

উৎস: Encyclopaedia Britannica [link]

১,৮১৫.
ভূ-পৃষ্ঠের অক্ষাংশ দ্বারা কোনটি পরিমাপ করা যায়?
  1. ধ্রুবতারার অবস্থান
  2. সূর্যের অবস্থান
  3. ক ও খ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ:
- ভূ-পৃষ্ঠের যে কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলে।
- প্রধানত দুইটি পদ্ধতিতে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। যথা:
১। ধ্রুবতারার অবস্থান:
- উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানে ধ্রুবতারা যত ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে সেই মানই উক্ত স্থানের অক্ষাংশ।

২। সূর্যের অবস্থান:
- আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮১৬.
এক স্থানে প্রতিদিন কতবার জোয়ার ও ভাটা সংঘটিত হয়?
  1. ক) ২ বার
  2. খ) ৩ বার
  3. গ) ৬ বার
  4. ঘ) ৫ বার
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা
• সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক স্থানে ফুলে ওঠে এবং এক স্থানে নেমে যায়। পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
• এক স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়।
• জোয়ার ভাটার মধ্যকার ব্যবধান প্রায় ১২ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।
• জোয়ার—ভাটার স্থিতিকাল ৬ ঘণ্টা ৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
• সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলো স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার-ভাটা অধিক হয়। সাধারণত সমুদ্রের মধ্যভাগ অপেক্ষা উপকূলের কাছে অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা অধিক থাকে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৭.
নিচের কোন পদার্থ প্রকৃতিতে কঠিন, তরল ও বায়বীয় তিন অবস্থাতেই পাওয়া যায়?
  1. ক) পারদ
  2. খ) লবণ
  3. গ) পানি
  4. ঘ) কর্পূর
ব্যাখ্যা
- সূর্য থেকে যে শক্তি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় সৌরশক্তি।
- সূর্য সকল শক্তির উৎস।
- পৃথিবীতে যত শক্তি আছে তার সবই কোনো না কোনোভাবে সূর্য থেকেই আসা বা সূর্য কিরণ ব্যবহৃত হয়েই তৈরি হয়েছে।
- প্রকৃতপক্ষে সূর্যের শক্তির উৎস পারমাণবিক শক্তি, কারণ সূর্যে ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- এ শক্তি পৃথিবীতে বিকিরিত হয়।
- সৌরশক্তির সকল উৎস ফিউশন বিক্রিয়া

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮১৮.
নিচের কোন ক্ষেত্রে চৌম্বক শক্তিকে মানবদেহের রোগ শনাক্তকরণে কাজে লাগানো হয়?
  1. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  2. সিটি স্ক্যান
  3. এমআরআই
  4. ইসিজি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে শব্দশক্তির সাহায্যে মানবদেহের রোগ নির্ণয় করা হয়।
- সিটি স্ক্যানে তড়িচ্চুম্বকীয় তরঙ্গকে মানবদেহের রোগ শনাক্তকরণে কাজে লাগানো হয়।
- এমঅারঅাই তে চৌম্বক শক্তিকে মানবদেহের রোগ শনাক্তে কাজে লাগানো হয়।
- ইসিজি তে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কর্মকান্ডকে লেখের সাহায্যে উপস্থাপন করা হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৮১৯.
SMOG কি?
  1. ক) সিগারেটের ধোঁয়া
  2. খ) কুয়াশা
  3. গ) দূষিত বাতাস
  4. ঘ) শিশির
ব্যাখ্যা
• SMOG হচ্ছে এক ধরণের দূষিত বাতাস
- ধোঁয়া ও কুয়াশা মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- 'SMOG' শব্দটি SMOKE ও FOG শব্দ দুটো থেকে এসেছে।
- মোটরগাড়ি, কলকারখানার ধোঁয়া, কলকারখানার বর্জ্য, ধূলিকণা ইত্যাদি মিলে SMOG সৃষ্টি হয়।
- SMOG অবস্থায় বেশিক্ষণ বিরাজ করলে ফুসফুসে সমস্যা দেখা দেয়।
- এই ধোঁয়ায় অবস্থিত বিভিন্ন গ্যাস বৃষ্টির পানির সাথে মিশে এসিড বৃষ্টি ঘটায় এবং মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করে।
- মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি পেলে তাতে উদ্ভিদ সহজে জন্মে না।
- SMOG শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে ফুসফুসে প্রবেশ করে এবং মানবদেহে ক্যানসার, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিস প্রভৃতি মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: National Geographic Society.
১,৮২০.
মূল মধ্যরেখার (০°) প্রতিপাদ স্থান কোন দ্রাঘিমায় অবস্থিত?
  1. ০°
  2. ৯০°
  3. ১৮০°
  4. ৩৬০°
ব্যাখ্যা

প্রতিপাদ স্থান (The Antipodes): 
- ​ভূ-পৃষ্ঠে যে কোনো একটি স্থানের ঠিক বিপরীত দিকে অবস্থিত স্থানকে প্রতিপাদ স্থান বলা হয়। 
- ​অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু কল্পিত ব্যাস ভূ-অভ্যন্তরস্থ কেন্দ্রকে ছেদ করে ঠিক উল্টোপাশে যে বিন্দুটিকে স্পর্শ করবে, সেই বিন্দুটিকে প্রথম বিন্দুটির 'প্রতিপাদ স্থান' বলা হয়। 
​- প্রথম বিন্দুটি যে দ্রাঘিমায় অবস্থিত হয় ঐ বিন্দুটির প্রতিপাদ স্থান ঠিক তার বিপরীতে ১৮০° দূরত্বের দ্রাঘিমায় অবস্থিত হয়। 
​- উদাহরণস্বরূপ, মূল মধ্যরেখার (০°) প্রতিপাদ স্থান হলো ১৮০° দ্রাঘিমারেখা। 
​- অপরদিকে, কোনো স্থানের প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ একই ডিগ্রিতে অবস্থিত হলেও বিপরীত গোলার্ধে অবস্থিত হয়।
​- উদাহরণস্বরূপ, একটি স্থানের অক্ষাংশ ৪০° উত্তর হলে, এর প্রতিপাদ স্থানের অক্ষাংশ ৪০° দক্ষিণ হবে। 
​- ঢাকার প্রতিপাদ স্থান দক্ষিণ আমেরিকার চিলির নিকটে প্রশান্ত মহাসাগরের অবস্থিত।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২১.
২০২৫ সালে হংকং থেকে রওনা দেওয়া ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি বিমান ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে পৌঁছানোর মূল কারণ কী?
  1. সময় ভ্রমণ
  2. বিমানযাত্রার সময়সূচির ত্রুটি
  3. দিনরাত্রি পরিবর্তন
  4. আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
ব্যাখ্যা
• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার জন্যই - ২০২৫ সালে হংকং থেকে রওনা দেওয়া ক্যাথে প্যাসিফিকের একটি বিমান ২০২৪ সালে লস অ্যাঞ্জেলসে পৌঁছায়।

• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।
- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২২.
টাইড (জোয়ার-ভাটা) এর কারণ-
  1. ক) চাঁদ ও সূর্যের অভিকর্ষ শক্তির প্রভাব
  2. খ) পৃথিবীর বার্ষিক গতি
  3. গ) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
টাইড (জোয়ার-ভাটা) এর কারণ প্রধানত ২টি। ১) চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং ২) পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৮২৩.
কোন রোগটি মশার কামড়ে হয় না?
  1. ক) ডেঙ্গু
  2. খ) ম্যালেরিয়া
  3. গ) কলেরা
  4. ঘ) এনসেফালাইটিস
ব্যাখ্যা

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং এনসেফালাইটিস হয় মশার কামড়ের ফলে।
পানিবাহিত রোগ কলেরা হয় ভিব্রিও কলেরা নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে।

উৎসঃ সিডিসি

১,৮২৪.
বিষুবরেখার মান কত ডিগ্রি?
  1. শূন্য ডিগ্রি
  2. নব্বই ডিগ্রি
  3. সাড়ে তেইশ ডিগ্রি
  4. ১৮০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে থাকা কাল্পনিক রেখা নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বা নিরক্ষবৃত্ত রেখা নামে পরিচিত। এর মান শূন্য ডিগ্রি।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৮২৫.
গ্রীনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণে রয়েছে?
  1. নাইট্রাস অক্সাইড
  2. হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড
  3. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  4. সি এফ সি
ব্যাখ্যা

• গ্রীনহাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কার্বন-ডাই-অক্সাইড (CO2) রয়েছে। এটি প্রধানত জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন কয়লা, তেল এবং গ্যাস পোড়ানোর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে নিঃসৃত হয়। এছাড়া বন উজাড় এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে CO2 নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। কার্বন-ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলের তাপ ধরে রাখে, যা পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য অন্যতম প্রধান কারণ। অন্যান্য গ্রীনহাউস গ্যাস যেমন নাইট্রাস অক্সাইড বা সি এফ সি কম পরিমাণে থাকে, এবং হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সাধারণত গ্রীনহাউস গ্যাস হিসেবে বিবেচিত হয় না। তাই প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট উভয় উৎসের কারণে CO2 পৃথিবীর গ্রীনহাউস প্রভাবের প্রধান অবদানকারী।

- উত্তর: গ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড। 

• গ্রীনহাউস গ্যাস:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warning) এর হার বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- আমরা জানি, যে বায়ুমন্ডল পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
- এ ক্ষেত্রে বায়ুমন্ডল হলো গ্রীনহাউস বা কাঁচ ঘরের কাঁচের দেয়াল বা ছাদ এবং সূর্যালোক ভূ-পৃষ্ঠ শোষণ করে ও বায়ুমন্ডলকে উত্তপ্ত করে তোলে।
- মানুষ যখন গাছ-পালা কেটে, কাঠ-কয়লা পুড়িয়ে, কারখানার ধোঁয়া ইত্যাদির দ্বারা মিথেন, ওজোন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ইত্যাদি গ্যাস তৈরি করছে তখন তাকে বলা হয় গ্রীনহাউস গ্যাস।
- বায়ুমন্ডলে তাই গ্রীনহাউস গ্যাসের পুরু চাদর তৈরি হয়েছে কারণ এই সব গ্যাস আর ফিরে যেতে পারে না।
- এই তাপ শোষণের মাত্রা যত বাড়বে পৃথিবীর উষ্ণতা ততই বাড়বে।
- উষ্ণতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়াই হলো গ্রীনহাউস প্রভাব।

• গ্রীনহাউস এফেক্ট: 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো যেমন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, ঔষধ, জ্বালানি, পানিসহ প্রয়োজনীয় উপকরণাদি পরিবেশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাবে। 
- পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশেষ করে বনাঞ্চল ধ্বংস হলে বৃষ্টিপাতের হার কমে যায়, চাষাবাদের যথেষ্ট ক্ষতি হয়। 
- গ্রীনহাউস গ্যাস (যেমন- CO2, CO, CH4, N2O ইত্যাদি) বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যাকে গ্রীনহাউস এফেক্ট (Green house effect) বলে। 

গ্রীনহাউস এফেক্টের কারণে- 
• সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে এবং উপকূল অঞ্চল তলিয়ে যাবে, 
• আবহাওয়ার পরিবর্তন হবে, 
• বনাঞ্চল ধবংস হবে, 
• বিভিন্ন রোগবালাইয়ের প্রভাবে ফসলের ক্ষতি হবে, 
• মানুষের মধ্যে নতুন সব রোগের প্রকোপ দেখা দিবে, 
• ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের তীব্রতা বেড়ে যাবে। 
- পরিবেশ সুরক্ষিত থাকলে গ্রীনহাউস এফেক্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই এখন থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। 

উৎস:
- জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮২৬.
জোয়ার-ভাটার ওপর কোন মহাজাগতিক বস্তুর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে?
  1. সূর্য
  2. পৃথিবী
  3. নক্ষত্র
  4. চন্দ্র
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা: 
- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়। 
- চন্দ্র অপেক্ষা সূর্য ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা সূর্য প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে সূর্য গড়ে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং পৃথিবী থেকে চন্দ্র গড়ে প্রায় ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর চন্দ্রের আকর্ষণ ক্ষমতা সূর্য অপেক্ষা বেশি। 
- ফলে জোয়ার ভাটায় চন্দ্রের প্রভাব বা চাঁদের আকর্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায়। 
- জোয়ার ভাটাকে প্রধানত চারভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১. মুখ্য জোয়ার: 
- চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে আবর্তনকালে পৃথিবীর যে অংশ চন্দ্রের নিকটবর্তী হয়, সেখানে চন্দ্রের আকর্ষণ সর্বাপেক্ষা বেশি হয়। এই আকর্ষণে চারদিক থেকে জলরাশি এসে চন্দ্রের দিকে ফুলে ওঠে এবং জোয়ার হয়। এরূপ সৃষ্ট জোয়ারকে মুখ্য জোয়ার বা প্রত্যক্ষ জোয়ার বলে। 

২. গৌণ জোয়ার: 
- চাঁদ পৃথিবীর যে পার্শ্বে আকর্ষণ করে তার বিপরীত দিকের জলরাশির ওপর মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব কমে যায় এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির সৃষ্টি হয়। এতে চারদিক থেকে পানি ঐ স্থানে এসে জোয়ারের সৃষ্টি করে। এভাবে চাঁদের বিপরীত দিকে যে জোয়ার হয় তাকে গৌণ জোয়ার বা পরোক্ষ জোয়ার বলে। 

৩. ভরা কটাল বা তেজ কটাল: 
- অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করলে, চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত বলের প্রবল আকর্ষণে যে তীব্র জোয়ারের সৃষ্টি হয়, তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

৪. মরা কটাল: 
- চন্দ্র ও সূর্য যখন পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে তখন চন্দ্রের আকর্ষণে সেখানে জোয়ার হয় এবং সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়। এই ধরনের জোয়ারকে মরা কটাল বা মরা জোয়ার বলে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৭.
পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ কোনটি?
  1. চন্দ্র
  2.  সূর্য
  3. ফোবস
  4. ডিমোস
ব্যাখ্যা

- চন্দ্র (বা চাঁদ) হলো পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ, এটি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে এবং সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 

পৃথিবী (Earth): 
- সৌরজগতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রহ হচ্ছে 'পৃথিবী'। এটি সৌরজগতের মাঝারী আকারের একটি গ্রহ (গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কি. মি. প্রায়)। 
- পৃথিবী নিজ কক্ষপথটি ডিম্বাকৃতির ও মোট ৩৬৫ দিন ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড বা এক বছরে সূর্যকে প্রদক্ষিন করে থাকে। 
- পৃথিবী নিজ অক্ষে ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা এক দিনে আর্বতন করে। 
- পৃথিবীর একটি মাত্র উপগ্রহ হলো চন্দ্র। 
- সৌরজগতের সকল গ্রহের মধ্যে কেবল পৃথিবী জীব ও উদ্ভিদের বসবাস উপযোগী গ্রহ। 

চন্দ্র (Moon): 
- চন্দ্র পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ। 
- প্রায় ৩৭.৯ মিলিয়ন বর্গ কি. মি. আয়তন বিশিষ্ট চন্দ্র মোট ২৯ দিন ১২ ঘন্টা ৪৪ মিনিট বা এক চন্দ্র মাসে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। 
- চন্দ্রের নিজস্ব কোনো আলো নাই, সূর্যের আলোকে এটি আলোকিত হয়। এই আলো বিচ্ছুরিত হয়ে পৃথিবীকে রাতের বেলা আলো দিয়ে থাকে। 

অন্যদিকে, 
- ডিমোস ও ফোবস মঙ্গল গ্রহের দুটি প্রাকৃতিক উপগ্রহ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা।

১,৮২৮.
ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রটিতে পদার্থবিজ্ঞানের কোন নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে?
  1. ক) আলোর প্রতিফলন
  2. খ) শব্দের প্রতিফলন
  3. গ) পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. ঘ) আলোর প্রতিসরণ
ব্যাখ্যা
ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রটিতে পদার্থবিজ্ঞানের শব্দের প্রতিফলন নীতি প্রয়োগ করা হয়েছে। 

- ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের সাহায্যে হৃত্যন্ত্রের কার্যক্রমের গুণগত ও পরিমাণগত মূল্যায়ন করা যায়।
- শব্দের প্রতিফলনের নীতির ওপর ভিত্তি করে ইকোকার্ডিওগ্রাফি যন্ত্রের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
- শব্দতরঙ্গ হচ্ছে যান্ত্রিক তরঙ্গ যা মাধ্যমের সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্রে শব্দের প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করা হয়।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফি উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দের প্রতিফলনের উপর নির্ভরশীল।
- উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ হৃৎপিন্ডের যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশি থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়। এই প্রতিবিম্ব প্রতিফলিত তরঙ্গের দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক প্রতিবিম্ব মনিটরে পর্যবেক্ষণ করা যায়। এক্ষেত্রে 2-10MHz কম্পাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
- টিস্যুর মধ্যে শব্দ তরঙ্গ সাধারণত 1540ms এবং রক্তের মধ্যে 1570ms-1 বেগে সঞ্চালিত হয়।
- আপতিত শব্দ তরঙ্গ হৃত্যন্ত্রের টিস্যুর সংকোচন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে হৃত্যন্ত্রের বিভিন্ন স্থানে সঞ্চালিত হতে থাকে।
- যত বেশি কমাঙ্কের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, প্রতিফলিত বিম্বের স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা তত বেশি হয়।

সূত্র: ৩৪৫ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮২৯.
আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে সংঘটিত হয়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. তাপমণ্ডল
ব্যাখ্যা
• আবহাওয়া এবং জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন মূলত বায়ুমণ্ডলের ট্রপোমণ্ডল স্তরে সংঘটিত হয়। ট্রপোমণ্ডল হলো বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর যেখানে আমাদের দৈনন্দিন আবহাওয়া দেখা যায়। এখানে বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ ও বায়ু প্রবাহের পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন আবহাওয়া ঘটনা যেমন বৃষ্টি, ঝড়, মেঘের সৃষ্টি ইত্যাদি ঘটে। স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল ও তাপমণ্ডল অন্যান্য স্তর যেখানে বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন পদার্থ ও তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু সেখানকার পরিবর্তনগুলি সাধারণত জলবায়ুর দৈনন্দিন পরিবর্তনের মতো তীব্র নয়। তাই আবহাওয়া ও জলবায়ুসংক্রান্ত পরিবর্তন ট্রপোমণ্ডলে হয়।

বায়ুমণ্ডলের স্তরসমূহ:

- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ হতে উপরের দিকে বায়ুমণ্ডলের মোট পাঁচটি স্তর বা পর্যায়ে রয়েছে। বায়ুমণ্ডলের এই ৫ টি স্তর হলো:
১) ট্রপোমণ্ডল (Troposphere),
২) স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere),
৩) মেসোমণ্ডল (Mesosphere),
৪) তাপমণ্ডল (Thermosphere) এবং
৫) এক্সোমণ্ডল (Exosphere)।

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
• ট্রপোমণ্ডল ভূ-পৃষ্ঠ হতে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরূ অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
• ট্রপোমণ্ডল স্তরে উচ্চতা যত বাড়তে থাকে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা ততই কমতে থাকে। এই উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে তাপ কমে যাওয়ার প্রবনতাকে বলা হয় স্বাভাবিক তাপ হ্রাস।
• ট্রপোমণ্ডলে সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬০ সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমে যায়।
• ট্রপোমণ্ডল স্তরে আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত সকল প্রক্রিয়া ঘটে থাকে।
• মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৩০.
মানুষের রক্তের প্রকৃতি কেমন?
  1. ক) নিরপেক্ষ
  2. খ) ঈষৎ ক্ষারধর্মী
  3. গ) ঈষৎ অম্লধর্মী
  4. ঘ) তীব্র ক্ষারধর্মী
ব্যাখ্যা

মানুষের রক্তের pH এর মান 7.35-7.45। অর্থাৎ স্বাভাবিক অবস্থায় রক্ত ঈষৎ ক্ষারীয় প্রকৃতির।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7 হলে তা নিরপেক্ষ।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 0-6.9 হলে তা অম্লধর্মী।
কোনো দ্রবণের pH এর মান 7.1-14 হলে তা ক্ষারধর্মী।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৮৩১.
পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কোনটি প্রয়োজন?
  1. অধিক শিকার
  2. অধিক বৃক্ষনিধন
  3. টেকসই উন্নয়ন
  4. রাসায়নিক ব্যবহার বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• পরিবেশ সংরক্ষণ বলতে বোঝায়—প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশকে এমনভাবে রক্ষা করা যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও তা ব্যবহার করতে পারে।
- এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন হয় টেকসই উন্নয়ন,
যার মূলনীতি হলো:
“বর্তমান প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানো, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে।”  

টেকসই উন্নয়নের মূল দিকগুলো:
- পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা।
- অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
- সামাজিক ন্যায্যতা ও দারিদ্র্য দূরীকরণ। 

এই তিনটি দিক একসঙ্গে সমন্বয় করেই পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সম্ভব।

অন্যদিকে, 
অধিক শিকার:
এটি বন্যপ্রাণীর সংখ্যা হ্রাস করে এবং জৈব বৈচিত্র্যের ভারসাম্য নষ্ট করে। পরিবেশ সংরক্ষণের পরিপন্থী।

অধিক বৃক্ষনিধন:
বৃক্ষ কেটে ফেলার ফলে বায়ু দূষণ বাড়ে, জলবায়ু পরিবর্তন হয় এবং মাটির ক্ষয় ঘটে। এটি পরিবেশ ধ্বংসের অন্যতম কারণ।

রাসায়নিক ব্যবহার বৃদ্ধি:
কীটনাশক ও সার অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটি, পানি ও খাদ্যদূষণ ঘটে, যা মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ—দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর।

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
- সাধারণ বিজ্ঞান – অষ্টম শ্রেণি, NCTB ।
১,৮৩২.
ভাইরাস একটি -
  1. বহুকোষী জীব
  2. দ্বিকোষী জীব
  3. অকোষী জীব
  4. এককোষী জীব
ব্যাখ্যা
• ভাইরাস:
- প্রাণী ও উদ্ভিদ দেহে ভাইরাস নানাবিধ রোগ উৎপন্ন করে।
- ভাইরাস আক্রমণের ফলে মানুষের অন্ধত্ব, পঙ্গুত্ব এমনকি অকাল মৃত্যুও হতে পারে।
- স্বল্প পরিসরে ভাইরাস মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর অনেক উপকারও করে।
- তবে তুলনামূলকভাবে ভাইরাস মানুষের উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে থাকে।
- ভাইরাস হলো অকোষীয়।
- ভাইরাস সাধারণত দুইটি অংশ নিয়ে গঠিত।
- যেমন- প্রোটিন আবরণ এবং নিউক্লিক এসিড (ডিএনএ কিংবা আরএনএ)।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৮৩৩.
আমাশয় রোগের জীবাণুর জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক) Yersinia pestis
  2. খ) Entamoeba histolytica
  3. গ) Escherichia coli
  4. ঘ) Myxococcus xanthus
ব্যাখ্যা
আমাশয় রোগের জীবাণুর জন্য দায়ী- Entamoeba histolytica. 

অ্যামিবীয় আমাশয় (Amoebic dysentery, Amoebiasis) Entamoeba histolytica নামক এককোষী পরজীবীঘটিত আমাশয়। এ এককোষী জীবাণু অন্ত্রের শ্লৈষ্মিক ঝিল্লি আক্রমণ করে এবং রোগ শুরু হলে শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির স্থানে স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং সেগুলি থেকে শ্লেষ্মা, পচা দেহকোষ, অ্যামিবা-কোষ নির্গত হয়। রোগ লক্ষণে থাকে পেটব্যথা, ঘন ঘন শ্লেষ্মা সহকারে ঘন ঘন মলত্যাগ (দিনে ৩০ বার বা ততোধিক হতে পারে), মলত্যাগে যন্ত্রনা, বমি ও সাধারণ দৌর্বল্য। পেটে  একটি বিশেষ ধরণের (tenesmus) ব্যথা অনুভুত হতে দেখা যায়। নাভীর চারপাশে কামড়সহ মলত্যাগের তাড়াহুড়ো ইচ্ছে কিন্তু বাথরুমে গিয়ে মলত্যাগের অতৃপ্তি।  জীবাণুঘটিত রক্ত আমাশয়ে যেখানে মলের সঙ্গে টাটকা রক্তপাত ঘটে, সেখানে অ্যামিবীয় আমাশয়ে মারাত্মক পরিস্থিতি ব্যতীত সাধারণত মলে কোনো রক্ত থাকে না।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১,৮৩৪.
জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি সম্পর্কিত কয়টি সূত্র প্রদান করেন?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র:
- ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলারের (Johann Kepler) গ্রহ সম্পর্কিত সূত্র সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে।
- ১৬১৮ সালে কেপলার বলেন, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে কেপলার এর গ্রহ সম্পর্কীয় গতিসূত্র বলা হয়।

- সূত্র তিনটি:
প্রথম সূত্র (উপবৃত্ত সূত্র):- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
দ্বিতীয় সূত্র (ক্ষেত্রফল সূত্র):- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
তৃতীয় সূত্র (আবর্তনকালের সূত্র): - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৩৫.
নাসার তথ্যমতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ১৫° সেলসিয়াস 
  2. ২৫° সেলসিয়াস 
  3. ৩২° সেলসিয়াস 
  4. ২৭° সেলসিয়াস 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর তাপমাত্রা:
- জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সারা বিশ্ব জুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে।
- ১৯৭৯ সাল থেকে National Oceanic and Atmospheric Administration (NOAA) সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রার হিসেব রাখছে।
- প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর আবির্ভাবের কারণে তাপমাত্রা বৃদ্ধির আরও নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাষ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
- নাসার তথ্যমতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১৫° সেলসিয়াস। 
- নাসা আরো জানায় ২০২৩ সাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ডকৃত উষ্ণতম গ্রীষ্মকাল। 

এছাড়াও, 
- শনিগ্রহের গড় তাপমাত্রা -১৪০° সেলসিয়াস। 
- মঙ্গলগ্রহের গড় তাপমাত্রা -১১০° সেলসিয়াস।  
- শুক্রগ্রহের গড় তাপমাত্রা ৪৬৪° সেলসিয়াস। 

তথ্যসূত্র: 
১. নাসা ওয়েবসাইট। [লিংক] 
২. Space.com ওয়েবসাইট। [লিংক] 

১,৮৩৬.
কোন্ বাঙালি বিজ্ঞানী কৃষ্ণগহ্বর নিয়ে গবেষনা করেছেন?
  1. ড. কুদরত-ই-খুদা
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. জামাল নজরুল ইসলাম
  4. অতীশ দীপংকর
ব্যাখ্যা

- জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন প্রখ্যাত বাঙালি গণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী এবং স্টিফেন হকিংয়ের একজন সহকর্মী। তিনি কৃষ্ণগহ্বর (Black Hole) ও মহাবিশ্বের বিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেছেন এবং এ বিষয়ে বাংলায় একটি বইও লিখেছেন। 

বাঙালি বিশ্ববিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম: 
- বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞানে জামাল নজরুল ইসলামের মতো অবদান আর কারও নেই। এই বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীর জন্ম তাঁর বাবার কর্মক্ষেত্র ঝিনাইদহে ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ সালে। 
- পেশাগতভাবে তিনি ছিলেন একজন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী, এবং তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র ছিল আপেক্ষিকতা, বিশ্বতত্ত্ব এবং কোয়ান্টাম তত্ত্ব।
- আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, কোয়ান্টাম মেকানিক্স, কসমোলজি ও মহাবিশ্বের সৃষ্টি তত্ত্বের মতো জটিল বিষয় নিয়ে মৌলিক গবেষণা করেছেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত বই 'কৃষ্ণগহ্বর’ (ব্ল্যাক হোল)।
- ছাত্রজীবনে তাঁর সমসাময়িক ও আজীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বিস্ময়কর বিজ্ঞান-প্রতিভা স্টিফেন হকিং। কেমব্রিজ এবং পশ্চিমে শিক্ষার গবেষণা ও অধ্যাপনায় থাকাকালে তাঁর বন্ধু ও সুহৃদমহল গড়ে ওঠে বিশ্বের সেরা বিজ্ঞানীদের নিয়ে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন তাঁর শিক্ষক ফ্রিম্যান ডাইসন, পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান, ভারতের সুব্রহ্মনিয়াম চন্দ্রশেখর, পাকিস্তানের আবদুস সালাম, ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন ও অমিয় বাগচী, তাঁর সহপাঠী জয়ন্ত নারলিকার, ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ জিম মার্লিস প্রমুখ।  
- তাঁর গবেষণা আইনস্টাইন-পরবর্তী মহাবিশ্ব গবেষণায় বিরাট অবদান রেখেছে। তিনি এই ধারায় গবেষণা অব্যাহত রেখে পরবর্তীকালে লেখেন ফার ফিউচার অব দ্য ইউনিভার্স বা মহাবিশ্বের দূরবর্তী ভবিষ্যৎ।
- জামাল নজরুল ইসলাম দেশে গড়ে তুলেছেন উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণাগার আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গাণিতিক ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণাকেন্দ্র বা রিচার্স সেন্টার ফর ম্যাথমেটিক্যাল অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্স (আরসিএমপিএস), যেটি সম্পর্কে বলতে গিয়ে দেশের প্রবীণ পদার্থবিজ্ঞানী প্রফেসর এ এম হারুন-অর রশিদ ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে আগত খ্যাতিমান পদার্থবিজ্ঞানী, আপেক্ষিকতত্ত্ববিদ এবং বিশ্ব সৃষ্টি তাত্ত্বিকদের অবদান’ স্মরণ করে এ প্রতিষ্ঠানকে প্রফেসর ইসলামের শ্রেষ্ঠ কীর্তি আখ্যা দিয়েছিলেন।
- ২০১৩ সালের ১৬ মার্চ মধ্যরাতে এ মহান বিজ্ঞানী আমাদের ছেড়ে গেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা।

১,৮৩৭.
সাইক্লোনের সময় নদীবন্দরের ক্ষেত্রে কয়টি মহাবিপদ সংকেত ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ১০টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ১টি
ব্যাখ্যা

ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে ১০টি এবং নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত নির্ধারিত আছে। এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন বার্তা বহন করে।
- ১ নম্বর নৌ সতর্কতা সংকেত: বন্দর এলাকা ক্ষণস্থায়ী ঝোড়ো আবহাওয়ার কবলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিবেগের কালবৈশাখীর ক্ষেত্রেও এই সংকেত প্রদর্শিত হয়। এই সংকেত আবহাওয়ার চলতি অবস্থার ওপর সতর্ক নজর রাখারও তাগিদ দেয়।
- ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত: বন্দর এলাকায় নিম্নচাপের সমতুল্য তীব্রতার একটি ঝড়, যার গতিবেগ ঘণ্টায় অনূর্ধ্ব ৬১ কিলোমিটার বা একটি কালবৈশাখী, যার বাতাসের গতিবেগ ৬১ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। নৌযান এদের যেকোনোটির কবলে নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ৬৫ ফুট বা তার কম দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে।
- ৩ নম্বর নৌ বিপৎসংকেত: বন্দর এলাকা ঝড়ে কবলিত। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ একটানা ৬২-৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিবেগের একটি সামুদ্রিক ঝড় শিগগিরই বন্দর এলাকায় আঘাত হানতে পারে। সব নৌযানকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।
- ৪ নম্বর নৌ মহাবিপদ সংকেত: বন্দর এলাকা একটি প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতার সামুদ্রিক ঝড়ে কবলিত এবং শিগগিরই বন্দর এলাকায় আঘাত হানবে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার বা তদূর্ধ্ব। সব ধরনের নৌযানকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে হবে।
১ এবং ২ নম্বর সংকেত কালবৈশাখী এবং বর্ষাকালীন ঝড়ো হাওয়ার জন্য প্রযোজ্য। ৩ এবং ৪ নং সংকেত সমুদ্রবন্দরকেন্দ্রিক বড় ঝড় এবং ঘূর্ণিঝড় এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই নৌ বন্দরের জন্য ৪টি সতর্কতা সংকেত থাকলেও সাইক্লোন জনিত পূর্বাভাসের জন্য প্রযোজ্য সতর্কতা সংকেত ২টি এবং মহাবিপৎসংকেত ১টি।

সূত্র: খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয় এর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো কর্তৃক প্রকাশিত ''ঘূর্ণিঝড় ও আবহাওয়ার নতুন সতর্ক সংকেত এবং গণদুর্যোগ বার্তা''।

১,৮৩৮.
বিশ্বব্যাংক অনুযায়ী ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সাহায্যের কত শতাংশ বাংলাদেশকে প্রদান করবে?
  1. ৩০%
  2. ৪০%
  3. ৫০%
  4. ৬০%
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংক অনুযায়ী ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্ব সাহায্যের ৩০ শতাংশ বাংলাদেশকে প্রদান করবে।

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি:
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকুল প্রভাবগুলোর কারণে সমুদ্র উপকূলীয় দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী একটি বড় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা নাজুক হয়ে উঠছে।
- এখানকার ৬০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে মাত্র ৫ মিটার উপরে।
- বিশ্বব্যাংকের এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে যে প্রতি ৩-৫ বছরে বাংলাদেশের দুই- তৃতীয়াংশ অঞ্চল বন্যাপ্লাবিত হয়।
- ফলশ্রুতিতে, অবকাঠামো, বাসস্থান, কৃষি এবং জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়।
- সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ঝড় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতেও থাকে।
- 'Inter-governmental Panel on Climate Change (IPCC)'- এর প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের ভূমির ১৭ শতাংশ এবং খাদ্য উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হারিয়ে যাবে।

উল্লেখ্য,
- ২০১০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রণীত 'Economics of Adaptation to Climate Change: Bangladesh' প্রতিবেদন বলা হয়েছে যে শুধুমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা মোকাবিলায় ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং আবর্তক ব্যয় বাবদ যথাক্রমে ৫,৫১৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২। link
১,৮৩৯.
সর্বশেষ কোন সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গিয়েছিল? 
  1. ১৯৮৬ সালে
  2. ১৯৮৪ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

ধূমকেতু (Comet): 
- মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে যাদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে, এসব জ্যোতিকে ধূমকেছূ বলে। 
- ধূমকেতু আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিক। 
- সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বসবাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উপয় হরে পাবার অদৃশ্য হয়ে যায়। 
- সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিক্রমণ করে। 
- সূর্যের নিকটবর্তী হলে এদের দেখা যায় । 
- এরা সূর্যের যত কাছাকাছি আসতে থাকে তত এর লেজ লম্বা হতে থাকে। 
- এরা অনেক দীর্ঘ কক্ষপথে সূর্যকে পরিক্রমণ করে বলে অনেক বছর পর পর এরা আবির্ভূত হয়। 
- জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডমন্ড হ্যালি যে ধূমকেতু আবিষ্কার করেন তা হ্যালির ধূমকেতু নামে পরিচিত। 
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছরে একবার দেখা যায়। 
- মহাবিশ্ব ও আমাদের পৃথিবী হ্যালির ধূমকেতু ২৪০ খ্রিষ্টপূর্ব অব্দ থেকে দেখা যায় এবং সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে হ্যালির ধূমকেতু দেখা গেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৪০.
মানবদেহের রক্তে বিদ্যমান রক্তকণিকার পরিমাণ কত?
  1. ৪০%
  2. ৪৫%
  3. ৫০%
  4. ৫৫%
ব্যাখ্যা

মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে: লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।
সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৮৪১.
নিম্নলিখিত কোনটি ভাইরাসজনিত রোগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. রুবেলা
  2. টাইফয়েড
  3. হেপাটাইটিস বি
  4. রুবেলা
ব্যাখ্যা

- টাইফয়েড হলো একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ।

• ভাইরাসজনিত রোগ:
- এইডস,
- পোলিও,
- ডেঙ্গু,
- ইনফ্লুয়েঞ্জা,
- পীতজ্বর,
- হাম,
- রুবেলা,
- মাম্পস,
- হেপাটাইটিস বি,
- জন্ডিস,
- হার্পিস ইত্যাদি।

• ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ:
- আমাশয়,
- টাইফয়েড,
- কলেরা,
- কুষ্ঠ,
- যক্ষ্মা,
- ধনুষ্টংকার,
- ডিপথেরিয়া,
- হুপিং কাশি ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।

১,৮৪২.
‘The Origin of Species by means of Natural Selection’ বইটি কার লেখা?
  1. Charles Darwin
  2. Stephen jay gould
  3. Albrecht Von Haller
  4. William Wallace
ব্যাখ্যা
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্বতি। এর প্রকৃত অর্থ ক্রমবিকাশ।
- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফেন জে. গোল্ড এর মতে, Evolution পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান জীববিদ Albrecht Von Haller, ১৯৭৪ সালে।
- ইংরেজ প্রকৃতি বিজ্ঞানী চার্লস রবার্ট ডারউইন অভিব্যক্তির কলাকৌশল সম্পর্কিত তাঁর মতামত ১৮৫৯ সালে ২৮ নভেম্বর ‘The Origin of species by means of natural selection’ নামক বইটিতে প্রকাশ করেন।
- ডারউইনের মতামতটি প্রাকৃতিক নির্বাচন মতামত নামে পরিচিত।
- ডারউইনের মতবাদের মূলতত্ত্বগুলো সম্পূর্ণ পৃথকভাবে, সংক্ষেপে ও তুলনামূলকভাবে কম নমুনা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ওয়ালেস আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছিলেন বলে বিবর্তনের মতবাদকে যৌথভাবে “Darwin - Wallace’s Theory” বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৩.
পয়েন্ট মিউটেশনের ফলে কোন রোগ হয়?
  1. ক) লুই গ্রেগরি ডিজিজ
  2. খ) হান্টিংটনস ডিজিজ
  3. গ) পারকিনসন ডিজিজ
  4. ঘ) আলঝেইমার ডিজিজ
ব্যাখ্যা
পয়েন্ট মিউটশনের ফলে হান্টিংটনস রোগ (Huntington’s Disease) হয়। এই রোগ হলে মস্তিষ্ক ঠিকমত কাজ করে না। শরীরের পেশীগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষমতা লোপ পায় এবং পরে মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে মৃত্যও ঘটে। সাধারণত চল্লিশ বছরের আগে এই রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। পয়েন্ট মিউটশনের ফলে সিকেল সেল নামে রক্তকনিকার আরেকটি রোগ হয়।
উৎসঃ বিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণী
১,৮৪৪.
কোন জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০টি উপাদান থাকে?
  1. ক) MSI
  2. খ) LSI
  3. গ) VLSI
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
• সমন্বিত বর্তনীর মধ্যে উপাদানের সংখ্যার উপর ভিত্তি করে মন্বিত বর্তনীকে কয়েক ভাগে ভাগ করা হয়।

১. মধ্যম মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা MSI (Medium Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০টি উপাদান থাকে ।

২. বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা LSI (Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০০০টি উপাদান থাকে।

৩. অতি বড় মাত্রার সমন্বিত বর্তনী বা VLSI (Very Large Scale Integrated Circuits): এই জাতীয় সমন্বিত বর্তনীতে প্রায় ১০,০০০টির অধিক উপাদান থাকে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৫.
ডিজিটাল টেলিফোনের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি?
  1. নতুন ধরনের মাইক্রোফোন
  2. অপটিক্যাল ফাইবারে বার্তা প্রেরণ
  3. বোতাম টিপে ডায়াল করা
  4. ডিজিটাল সিগনালে বার্তা প্রেরণ
ব্যাখ্যা
- টেলিফোনে প্রধাণত দুটো প্রধান অংশ থাকে। 
যথা- গ্রাহক যন্ত্র ও প্রেরক যন্ত্র। 
- টেলিফোনে সংবাদ আদান দু'পদ্ধতিতে হয়ে থাকে। 
যথা- এনালগ ও ডিজিটাল। 
- এনালগ পদ্ধতিতে শব্দকে সরাসরি তড়িতে পরিণত করে প্রেরণ করা হয়। 
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে তড়িৎশক্তিকে ডিজিটাল সংবাদে রূপান্তর করে। 
- এনালগ পদ্ধতিতে শব্দ আদান-প্রদানে অসুবিধা হয় কিন্তু ডিজিটাল পদ্ধতিতে শব্দ আদান প্রদানে সুবিধা হয়। 
- বর্তমানে ডিজিটাল টেলিফোন ব্যবস্থা বহুলভাবে প্রচলিত। এটির সুবিধা হল কম্পিউটার ব্যবস্থার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৪৬.
কোন খাদ্যে পচন ধরে না?
  1. ক) ফল
  2. খ) মধু
  3. গ) দুধ
  4. ঘ) চা
ব্যাখ্যা
মধুতে পচন ধরে না।
- এটি সহজে নষ্ট হয় না কারন মধুতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না।
- ব্যাকটেরিয়া মধু অন্যান্য পদার্থে বৃদ্ধি পায় না কারণ এই পদার্থগুলোতে পানির পরিমাণ খুব কম থাকে এবং বস্তুতে থাকা যে কোনও ব্যাকটেরিয়াকে ডিহাইড্রেট করে।

উৎস: Physicsforums website.
১,৮৪৭.
ইলেকট্রনের প্রতিকণা (Antiparticle) কী? 
  1. পজিট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. নিউট্রিনো
ব্যাখ্যা
কণা (Particle) ও প্রতি কণা (Antiparticle): 
- প্রতি কণা হলো এমন কণিকা যার ভর এবং স্পিন অন্য একটি কণিকার সমান, কিন্তু যার চার্জ, বেরিয়ন সংখ্যা, লেপ্টন সংখ্যা অন্য কণিকাটির সমমানের অথচ বিপরীতধর্মী। 
- বলবাহী কণা ছাড়া সকল কণারই প্রতি কণা রয়েছে। 
- ইংরেজ পদার্থবিদ পল ডিরাক গাণিতিকভাবে প্রমাণ করেন যে, ইলেকট্রনের স্পিন 1/2 । এরপর তিনি ইলেকট্রনের বিপরীত কণা পজিট্রন (এন্টিইলেকট্রন, e+) আবিষ্কার করেন এবং এর জন্য পল ডিরাক ১৯৩২ সালে নোবেল পুরস্কার পান। 

- যখন কণা ও প্রতিকণা মিলিত হয় তখন তারা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে নির্ভেজাল শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তির উদ্ভব ঘটে। 
- তবে সাধারণ পরমাণুতে কণা ও প্রতিকণা কখনও একসাথে থাকে না। 
- কণাগুলো যেমন পদার্থ (Matter) গঠন করে তেমনি প্রতিকণাগুলো মিলে প্রতিপদার্থ (Anti Matter) তৈরি করে। 
- মহাবিশ্বের সকল কণাকে দুভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। 
যথা- (ক) ফার্মিওন ও (খ) বোসন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৪৮.
নিচের কোনটি প্রোটিনের অভাব জনিত রোগ?
  1. রিকেটস
  2. গলগন্ড
  3. মেরাসমাস
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
প্রোটিনের অভাবজনিত রোগঃ
খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে 'মেরাসমাস' ও 'কোয়াশিয়রকর' নামক দুটি রোগ হয়।
মেরাসমাস রোগে পেশী ও মেদ ক্ষয় হয় ও চামড়া কুচকে যায়, দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে শতকরা ৬০ ভাগ কমে যায়, কম বয়সে এ রোগ হলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে।
সাধারণত ২ - ৪ বছর বয়সে শিশুদের খাদ্যে আমিষের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়। এ রোগে শিশুদের দেহের বৃদ্ধি থেমে যায়, পেশী ক্ষয় হতে থাকে, পানি জমে শরীর ফুলে যায়, রক্তাল্পতা দেখা দেয় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। 
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।
১,৮৪৯.
অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত, পিত্তথলি ও কিডনি পাথরের অস্তিত্ব নির্ণয় করা যায় কোনটির মাধ্যমে?
  1. ক) এনজিওগ্রাফি
  2. খ) এমআরআই
  3. গ) সিটিস্ক্যান
  4. ঘ) এক্সরে
ব্যাখ্যা

এক্সরের ব্যবহারঃ    
১। স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙ্গে যাওয়া হাড় ইত্যাদি খুব সহজে শনাক্ত করা যায়।
২। দাঁতের ক্যাভিটি এবং অন্যান্য ক্ষয় বের করার জন্য এক্স-রে ব্যবহার করা হয়।
৩। পেটের এক্স-রে করে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা (Intestional Obstruction) শনাক্ত করা যায়।
৪। এক্স-রে দিয়ে পিক্তথলি ও কিডনি পাথরের অস্তিত্ত্ব বের করা যায়।
৫। বুকের এক্স-রে করে ফুসফুসের রােগ যেমন যক্ষ্মা, নিউমােনিয়া ফুসফুসের ক্যান্সার নির্ণয় করা যায়।
৬। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে, তাই রেডিওথেরাপিতে এক্স-রে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা হয়।
উৎসঃ  ৯ম- ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান

১,৮৫০.
মানুষের দেহকোষে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোমের সংখ্যা কত?
  1. ক) ৪৬টি
  2. খ) ২৩টি
  3. গ) ৪৪টি
  4. ঘ) ২টি
ব্যাখ্যা

মানব দেহকোষে ক্রোমোসোমের সংখ্যা হলো ২৩ জোড়া বা ৪৬টি। এর মধ্যে ২২জোড়া বা ৪৪টি হলো অটোসোম। আর ১ জোড়া বা ২টি হলো সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম।
সেক্স ক্রোমোসোম XX হলে তা হবে নারী এবং XY হলে তা হবে পুরুষ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৮৫১.
দুর্যোগ প্রশমন বলতে কী বোঝায়? 
  1. দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধার অভিযান
  2. আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
  3. দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
  4. দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ প্রশমন (Mitigation): 
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। 
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫২.
উত্তর গোলার্ধে ______ উত্তর অক্ষরেখাকে 'কর্কটক্রান্তি' রেখা বলা হয়।
  1. ১৩.৫°
  2. ৬৬.৫°
  3. ২৩.৫°
  4. ৩৩.৫°
ব্যাখ্যা

কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকরক্রান্তি রেখা:
- উত্তর গোলার্ধে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা বলা হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়। 
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৮৫৩.
বাংলাদেশের অবস্থান কোন দুটি প্লেটের মাঝে, যেখানে ভূস্তরের ভূমিকম্প প্রবণতা রয়েছে?
  1. Indian Plate and African Plate
  2. Indian Plate and Australian Plate
  3. Indian Plate and Sunda Plate
  4. Indian Plate and Myanmar Plate
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ ও ভূমিকম্প:
- বাংলাদেশে ভূমিকম্প হয়ে থাকে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের কারণে। 
- ভূস্তরের ভূমিকম্প প্রবণ ইন্ডিয়ান প্লেট ও মায়ানমার সাব-প্লেটের (Indian Plate and Myanmar Plate) মাঝখানে বাংলাদেশ অবস্থিত। 
- ভূ-তত্ত্ব বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভারতীয় ও ইউরেশীয় প্লেট দু'টি (১৯৩৪ খ্রীষ্টাব্দের পর থেকে) দীর্ঘদিন ধরে হিমালয়ের পাদদেশে আটকা পড়ে আছে। 
- কিন্তু বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি ভূ-তাত্ত্বিক চ্যুতি এলাকা বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৫৪.
চিন্তার সঙ্গে মস্তিস্কের যে অংশের সম্পর্ক তাকে বলা হয়-
  1. ক) সেরিব্রাম
  2. খ) সেরিবেলাম
  3. গ) মেডুলা
  4. ঘ) স্পাইনাল কর্ড
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। এটা ডান ও বাম খন্ডে বিভক্ত। এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত। এই দুইখন্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত।
স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে বা সেরিব্রামে অবস্থিত।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং বিজ্ঞান ৮ম শ্রেণি।
১,৮৫৫.
'পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘুরে' ধারণাটি প্রথম প্রমাণ করেন কে?
  1. আইজ্যাক নিউটন 
  2. জোহান কেল্লার
  3. বিজ্ঞানী গ্যালিলিও
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক অ্যারিস্টটল মনে করতেন পৃথিবীর চারপাশে সূর্য ঘােরে। বিখ্যাত গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী টলেমী জোরালােভাবে বলেন যে পৃথিবীকে কেন্দ্র করেই সবকিছু ঘুরছে। কোপার্নিকাস নামে একজন জ্যোর্তিবিদ সম্পূর্ণ নতুন মতবাদ ব্যাক্ত করেন। তিনি পৃথিবীকেন্দ্রিক মডেলের পরিবর্তে সূর্যকেন্দ্রিক মডেলের প্রস্তাব করেন। তার মডেলের মূল কথা ছিল পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘােরে।

পরবর্তীতে বিজ্ঞানী গ্যলিলিও প্রথম কোপার্নিকাসের মতবাদের পক্ষে প্রমাণ হাজির করেন।

সূত্র: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৮৫৬.
নিচের কোনটি আলোর ক্ষুদ্রতম কণিকা?
  1. পজিট্রন
  2. মেসন
  3. কোয়ান্টাম
  4. ডিউটেরন
ব্যাখ্যা
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্লাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্বের প্রস্তাবনা করেন।
- এই তত্ত্ব অনুসারে শক্তি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তি গুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়।
- প্রত্যেক প্রকার কম্পাঙ্কের (রঙের আলোর) জন্য এই শক্তি প্যাকেটের একটি সর্ব নিম্ন মান আছে।
- এই সর্ব নিম্ন শক্তি সম্পন্ন কণিকার নাম কোয়ান্টাম বা ফোটন।
- প্লাঙ্কের মতে কৃষ্ণ বস্তুর বিকিরণ আলাদা আলাদা বা গুচ্ছ গুচ্ছ বান্ডিল বা প্যাকেট আকারে সংঘটিত হয়।
- কোয়ান্টম তত্ত্ব ব্যবহার করে ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন দীর্ঘ দিনের রহস্যময় আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা
দেন। এতে আলোর কণা তত্ত্ব পুনর্জীবিত হয়। 

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইট।
১,৮৫৭.
জন্ডিস রোগ হলে দেহে কোনটির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়? 
  1. বিলিরুবিন 
  2. হিমোগ্লোবিন
  3. ইনসুলিন 
  4. কোলেস্টেরল 
ব্যাখ্যা

বিলিরুবিন: 
- লোহিত রক্তকণিকার অধিক ভাঙন কিংবা যকৃত বা পিত্তনালীর কোনো সমস্যার কারণে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে। 
- এই মাত্রাতিরিক্ত বিলিরুবিন শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হতে থাকে, যাকে বলা হয় জন্ডিস। 

কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি। 
- এটি কয়েক ধরনের হয়ে থাকে ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল, এইচডিএল এবং টোটাল কোলেস্টরল। 
- এর মধ্যে একটা হলো উপকারী। আর তিনটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন হলো অগ্ন্যাশয়ের প্রধান হরমোন। 
- এটি এক ধরনের পলিপ্যাপটাইড, যা গ্লুকোজকে রক্ত থেকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন নিঃসরণকারী কোষগুলো (আইল্যেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স-এর বিটা কোষ) থেকে নিঃসৃত হয়। 

হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন একটি অক্সিজেন বাহী লৌহসমৃদ্ধ মেটালোপ্রোটিন। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৫৮.
কোনটি হতে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়?
  1. ক) পেনিসিলিন
  2. খ) ইনসুলিন
  3. গ) পেনিসিলিয়াম
  4. ঘ) ইথিলিন
ব্যাখ্যা
- পেনিসিলিন হলো একটি অ্যান্টিবায়োটিক। 
- অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) প্রকৃতপক্ষে মানুষের উৎপাদিত রাসায়নিক বস্তু নয়।
- অ্যান্টিবায়োটিক একটি জটিল জৈব যৌগ।
- বিভিন্ন প্রকার ছত্রাক, অ্যাকটিনোমাইসিটিস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা হয়, যাদের বেশির ভাগই মাটিতে বাস করে।
- অণুজীব কর্তৃক উৎপাদিত বিশেষ রাসায়নিক পদার্থের প্রভাবে রোগ বিস্তারকারী বিভিন্ন অণুজীবের বংশ বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধা পায়।
- অণুজীব কর্তৃক উৎপাদিত এবং অন্যান্য অণুজীবের জন্য বিষাক্ত এসব রাসায়নিক পদার্থকে অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণু প্রতিরোধক বলে ।
-  Alexander Fleming যুগান্তকারী অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন (Penicillin) আবিষ্কার করেন।
- তিনি লক্ষ্য করেন যে, Penicillium notatum নামক এক ধরণের ছত্রাক Staphylococcus aureus নামক এক প্রকার ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রহিত করে।
- এমনিভাবে Penicillium notatum হতে পেনিসিলিন নামক অত্যাশ্চর্য ঔষধটির আবিষ্কার ঘটে।
- ১৯৪৫ খৃষ্টাব্দে S.A. Waksman এসমস্ত রোগ প্রতিরোধকারী জীবজ রাসায়নিক পদার্থের নামকরণ করেন অ্যান্টিবায়োটিকস (Antibiotics)।
- বর্তমানে প্রচলিত বেশির ভাগ অ্যান্টিবায়োটিক চারটি গণের অণুজীব থেকে পাওয়া যায়। যথা - Streptomyces, Penicillium, Cephalosporium Bacillus

উৎস: উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৫৯.
প্রথম অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কারের জন্য স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিংকে কত সালে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়?
  1. ক) ১৯২৮ সালে
  2. খ) ১৯৪৫ সালে
  3. গ) ১৯৪০ সালে
  4. ঘ) ১৯৩৭ সালে
ব্যাখ্যা

- ১৯২৮ সালে স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং প্রথম পেনিসিলিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।
- ১৯৪০ সালে বিজ্ঞানী চেইন ও ফ্লোরি এবং তাঁদের সহকর্মীরা ১৯৪০ সালের শুরুতেই বিশুদ্ধ পেনিসিলিন উৎপাদনে সক্ষম হন এবং পেনিসিলিনের বানিজ্যিক উৎপাদনেও অবদান রাখেন।
- বিজ্ঞানী ফ্লেমিং, চেইন ও ফ্লোরিকে এজন্য ১৯৪৫ সালে শারীরিবিদ্যা বা চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করা হয়।
সূত্র: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

১,৮৬০.
HAARP এর পূর্ণরূপ কী?
  1. ক) High-frequency Active Astronomical Research Program
  2. খ) High-frequency Active Astronomical Research Project
  3. গ) High-frequency Active Auroral Research Program
  4. ঘ) High-frequency Active Auroral Research Project
ব্যাখ্যা
হার্প (HAARP)
- HAARP এর পূর্ণরূপ হচ্ছে High-frequency Active Auroral Research Program.
- হার্প আয়নোস্ফিয়ার বা আয়নমন্ডলের বৈশিষ্ট্য এবং আচরণ নিয়ে গবেষণা করে।
- আয়নোস্ফিয়ার হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫০ মাইল থেকে ৪০০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমন্ডলীয় এলাকা।
- আয়নোস্ফিয়ারে উচ্চ কম্পাঙ্কের রেডিও তরঙ্গ পাঠানো হয় এবং এর প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- হার্প এর অবস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায়।
- এটি ইউএস এয়ার ফোর্স, নেভি, ইউনিভার্সিটি অফ আলাস্কা ফেয়ারব্যাংকস এবং ডিফেন্স এডভান্সড রিসার্চ প্রোজেক্টস এজেন্সির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চলে।
- ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট স্থান পরিবর্তন করে এটিকে ইউনিভার্সিটি অফ আলাস্কা ফেয়ারব্যাংকসে নিয়ে আসা হয়।

সূত্র: https://haarp.gi.alaska.edu
১,৮৬১.
মানবদেহে কোন খনিজ পদার্থের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ফসফরাস
  2. পটাসিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি রয়েছে। 

ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: 
- ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 

ক্যালসিয়ামের প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: 
- দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 

- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৬২.
ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম কী?
  1. ক) Wuchereria bancrofti
  2. খ) Plasmodium vivax
  3. গ) Escherichia coli
  4. ঘ) Clostridium tetani
ব্যাখ্যা
ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণুর নাম হচ্ছে Plasmodium vivax. 

- ম্যালেরিয়া মশা বাহিত এক প্রকার সংক্রমিত রোগ যা মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীদের ক্ষেত্রে দেখা যায়।
- এটি একটি পরাশ্রয়ী রোগ যা বিভিন্ন পরজীবী যেমন- প্লাসমডিয়াম ভাইভ্যাক্স (পি. ভাইভ্যাক্স), প্লাসমডিয়াম ফ্যালসিপেরাম (পি. ফ্যালসিপেরাম), প্লাসমডিয়াম ম্যালেরি (পি. ম্যালেরি) এবং প্লাসমডিয়াম ওভেল (পি. ওভেল) দ্বারা ঘটে থাকে।

সূত্র- World Health Organization Website [লিঙ্ক]
১,৮৬৩.
দেশের প্রথম সেচ প্রকল্প কোনটি?
  1. গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প
  2. ডিএনডি প্রকল্প
  3. তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প
  4. কর্ণফুলী বহুমুখী প্রকল্প
ব্যাখ্যা
গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প: 
- দেশের প্রথম সেচ প্রকল্প গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প। 
- কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় গঙ্গা কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প অবস্থিত।
- দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতাক্ষ জি কে সেচ প্রকল্প।
- ১৯৫৪ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পদ্মা নদীর তীরে গঙ্গা কপোতাক্ষ (জি কে) নামের দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।
- ১৯৬৯ সালে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,৮৬৪.
ডায়োট এর ব্যবহার কোনটি?
  1. AC থেকে DC তৈরি করা
  2. DC থেকে AC তৈরি করা
  3. AC সিগন্যালের পজিটিভ অংশ অপসারণ করা
  4. উপরের সবগুলো
১,৮৬৫.
প্রোটিন ও নিউট্রন কি দ্বারা গঠিত?
  1. বোসন
  2. কোয়ার্ক
  3. হেড্রন
  4. কোয়াসার
ব্যাখ্যা
- কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। 
- সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত।
- আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হয় কোয়ার্ক দিয়ে।  
- দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং  দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত।
- কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। এগুলো হলো:
          - আপ (u) ও ডাউন (d), 
          - চার্ম (p) ও  স্ট্রেঞ্জ (s) এবং 
          - টপ (t) ও বটম (b)
 
উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৮৬৬.
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ংকরী সাইক্লোন কোন বছর ঘটে ছিল? 
  1. ১৯৬১ সালে 
  2. ১৯৭০ সালে 
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ২০০৭ সালে
ব্যাখ্যা

সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- সাইক্লোন শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ "Kyklos" থেকে, যার অর্থ হলো Coil of Snakes বা সাপের কুণ্ডলী। 
অর্থাৎ, নিম্নচাপের কারণে যখন বাতাস প্রচণ্ড গতিবেগে ঘুরতে থাকে, তখন সেটাকে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলে। 
- দক্ষিণ এশিয়াতে যা সাইক্লোন, আমেরিকাতে সেটা হ্যারিকেন (Hurricane) এবং দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে টাইফুন (Typhoon) নামে পরিচিত। 
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং মাঝখানে ফানেল আকৃতির উপকূলীয় এলাকা বিদ্যমান। 
- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। 
- ১৯৬০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য সাইক্লোন বাংলাদেশে আঘাত এনেছে যার মধ্যে ১৯৬০, ১৯৬১, ১৯৬৩, ১৯৬৫, ১৯৭০, ১৯৮৫, ১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের সাইক্লোন ছিল প্রলয়ংকরী। তবে ১৯৭০ সালের সাইক্লোনটি সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ংকরী সাইক্লোন হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে চিহ্নিত হয়েছে। 

সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ ও করণীয়: 
- সাইক্লোন সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে, তাই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সহজসাধ্য নয়। 
- তবে যে দুটি কারণ মূলত সাইক্লোন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা হলো নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণত সাইক্লোন তৈরি হতে সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়, দুর্ভাগ্যবশত বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এই তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকে। 
- সমুদ্রের উত্তপ্ত পানি বাষ্পীভবনের ফলে উপরে উঠে যখন জল কণায় পরিণত হয় তখন বাষ্পীভবনের সুপ্ত তাপটি বাতাসে ছেড়ে দেয়। সে কারণে বাতাস উত্তপ্ত হয় এবং বাষ্পীভবন আরো বেড়ে যায়, ফলে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে আশপাশের বাতাস সেখানে ছুটে আসে, যা বাড়তি তাপমাত্রার কারণে ঘুরতে ঘুরতে উপরে উঠতে থাকে এবং সাইক্লোন সৃষ্টি করে। 
- এই প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের বেগ অনেক বেশি হয়। তবে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার চাইতে বেশি হলে সেটাকে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হয়েছিল ১৯৯১ সালে, তখন বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার। 

- সাইক্লোন অত্যন্ত শক্তিশালী, একটি দুর্বল সাইক্লোনও শক্তিতে মেগাটন শক্তির কয়েক হাজার পারমাণবিক বোমার সমান। 
- তাছাড়া যেহেতু সাইক্লোন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই এটি প্রতিরোধ করা প্রায় অসাধ্য। 
- সম্প্রতি আমেরিকাতে ঝড়ের সময় সিলভার আয়োডাইড (AgI) নামক রাসায়নিক দ্রব্য বাতাসে ছড়িয়ে পানিকে শীতল করে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ কমানোর চেষ্টা করা হলেও নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি ঠিকভাবে কাজ করেনি। 
- এছাড়া সাগরে তেল বা অন্যান্য  রাসায়নিক দ্রব্য ছিটিয়ে বাষ্পীভবন কমিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার চিন্তাভাবনা করা হয়। তবে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করা কখনোই বাস্তবভিত্তিক নয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস প্রক্রিয়া জোরদার করে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 
- সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের আরেকটি মারাত্মক দিক হলো জলোচ্ছ্বাস। তাই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় উঁচু করে মজবুত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। 
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় নিচু এলাকায় বসবাস করা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 
- জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর জন্য উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ তৈরি করা যেতে পারে, সাথে সাথে সেখানে প্রচুর গাছপালা লাগিয়েও ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৬৭.
'অভিব্যক্তি' বলতে কী বোঝায়? 
  1. জীবের অপরিবর্তিত থাকা 
  2. ধারাবাহিক পরিবর্তন ছাড়া হঠাৎ রূপান্তর 
  3. পরিবেশের প্রভাবে অস্থায়ী পরিবর্তন 
  4. জীবের ধীর ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ ধারণ করা 
ব্যাখ্যা

বিবর্তন: 
- বিবর্তন একটি জৈবিক পদ্ধতি, এর প্রকৃত অর্থ হলো ক্রমবিকাশ।
- পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব রয়েছে তারা বিভিন্ন সময়ে এ ভূমণ্ডলে আবির্ভূত হয়েছে, আবার অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণী সময়ের আবর্তে বিলুপ্ত হয়েছে। যেমন- ডাইনোসর আজ থেকে কয়েক মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়েছে, আবার কোন কোন জীব ধীর গতিতে পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। 
- কয়েক লক্ষ বা হাজার বছর সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভাব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলা হয়। 

- হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টেফেন জে. গোল্ড (১৯৯১) এর মতে 'Evolution' পরিপদটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান জীববিদ Albrecht von Haller (১৭৭৪ সালে)। 
- তিনি বলেন ধীর অথচ ক্রমাগত ও পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের মাধ্যমে কোন সত্ত্বা সরল থেকে জটিল হওয়ার ধারাবাহিক পরিবর্তনই বিবর্তন। 
- কোন প্রাণী বা উদ্ভিদ ধীরে ধীরে ধারাবাহিক রূপান্তরের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন প্রাণী বা উদ্ভিদ এ পরিণত হওয়াকে অভিব্যক্তি বলা হয়। 
- অভিব্যক্তির মূল কথা হলো প্রজাতিগুলো পরিবর্তনযোগ্য অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে জীবের চেহারায় পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৬৮.
সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পৃথিবী গ্রহের অবস্থান কত? 
  1. তৃতীয়
  2. প্রথম 
  3. দ্বিতীয় 
  4. চতুর্থ 
ব্যাখ্যা

গ্রহ: 
- গ্রহসমূহ সাধারণত গোলাকৃতির, গ্রহগুলোতে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ রয়েছে। 
- কিন্তু গ্রহগুলো নিজেরা শক্তি উৎপাদন করে না, তাই কোনো গ্রহ নিজে আলো বা তাপ নিঃসরণ করে না। 
- পৃথিবী থেকে সূর্যের অন্যান্য গ্রহকে উজ্জ্বল দেখালেও এগুলো আসলে সূর্যের আলোতে আলোকিত। 
- সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে আটটি গ্রহ। 
যেমন- 
বুধ: 
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। 
- বুধ গ্রহে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই। 

শুক্র: 
- পৃথিবী থেকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা এবং ভোরবেলায় শুকতারা রূপে যে তারাটি দেখা যায়, সেটি কোনো নক্ষত্র নয়। এটি আসলে সূর্যের একটি গ্রহ, যার নাম শুক্র। 
- সূর্যের আলো এ গ্রহের উপরে পড়ে, তাই একে আলোকিত দেখা যায়। 

পৃথিবী: 
- কেবল পৃথিবীতেই জীবনের জন্য উপযোগী উপকরণ ও পরিবেশ রয়েছে। 
- পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে তৃতীয় গ্রহ। 

মঙ্গল: 
- মঙ্গলকে কখনো কখনো লাল গ্রহ বলা হয় কারণ এর পৃষ্ঠ লাল রঙের। এর পৃষ্ঠ ধূলিময় এবং খুবই পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। 
- মঙ্গলের মাটির নিচে পানি থাকার সম্ভাবনা আছে বলে বিজ্ঞানীরা এখন মনে করেন। 

বৃহস্পতি: 
- বৃহস্পতি সূর্যের সবচেয়ে বড়ো গ্রহ। 
- এটিতে শুধু গ্যাসই রয়েছে, কোনো কঠিন পৃষ্ঠ নেই। 

শনি: 
- শনি গ্রহটিও কেবল গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এটিকে ঘিরে কতগুলো রিং বা আংটা রয়েছে। 

ইউরেনাস: 
- ইউরেনাস গ্যাস ও বরফ দিয়ে গঠিত। 

নেপচুন: 
- নেপচুনও অনেকটা ইউরেনাসের মতো একটি গ্রহ। 
- এছাড়া প্লুটো নামক একটি জ্যোতিষ্ককে গ্রহ বলা হতো। কিন্তু ২০০৬ সালে বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্ত নেন যে, এটি একটি ক্ষুদ্র অসম্পূর্ণ গ্রহাণু।

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।

১,৮৬৯.
পৃথিবীর আহ্নিক গতি বলতে কী বোঝায়?
  1. পৃথিবীর কক্ষপথ পরিবর্তন
  2. চাঁদের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
  3. পৃথিবীর নিজ অক্ষে আবর্তন
  4. সূর্যের চারপাশে পৃথিবীর আবর্তন
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি।
- এই গতিবেগ মেরুদ্বয়ের দিকে ক্রমশ কমে আসতে থাকে এবং ৯০° উত্তর ও ৯০° দক্ষিণ মেরুবিন্দু দ্বয়ে প্রায় স্তিমিত হয়ে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৭০.
নিচের কোনটি পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্যে দায়ী নয়?
  1. জলীয় বাষ্প
  2. ওজোন
  3. মিথেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
- বায়ুমন্ডলে বিদ্যমান নাইট্রোজেন এবং অক্সিজেন ব্যতীত অন্যান্য গৌণ গ্যাসসমূহ ‘গ্রিনহাউজ গ্যাস’ নামে পরিচিত।
- এসব গ্যাস পৃথিবী থেকে বিকিরিত সূর্যের তাপ আটকে রেখে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি করছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন প্রভৃতির কারণে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে এসব গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে যা ‘গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়া বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ নামে পরিচিত।
গ্রিনহাউজ গ্যাসসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- কার্বন ডাই-অক্সাইড
- মিথেন
- জলীয় বাষ্প
- নাইট্রাস অক্সাইড
- ওজোন
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন
- হাইড্রো ক্লোরোফ্লোরো কার্বন প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্রঃ ন্যাশনালজিওগ্রাফিক এবং মার্কিন পরিবেশ এজেন্সি)
১,৮৭১.
ট্রপোমণ্ডলে নিচের কোনটি ঘটে? 
  1. কুয়াশা
  2. বৃষ্টিপাত
  3. তুষারপাত
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভুপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে। 
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়। 
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)। 
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার এবং মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 

ট্রপোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য: 
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর ঘনত্ব ও উষ্ণতা কমতে থাকে। সাধারণভাবে প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় ৬.৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। 
- উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায়। 
- নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকে। 
- ধূলিকণার অবস্থানের ফলে সমগ্র বায়ুমণ্ডলের ওজনের প্রায় শতকরা ৭৫ ভাগ এই স্তর বহন করে। 
- যে উচ্চতায় তাপমাত্রা বন্ধ হয়ে যায় তাকে ট্রপোবিরতি বলে। এখানে তাপমাত্রা - ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৭২.
MRI স্ক্যানারে চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা পরিমাপে নিচের কোন এককটি প্রধানত ব্যবহার করা হয়?
  1. টেসলা (T)
  2. জুল (J)
  3. নিউটন (N)
  4. ওয়াট (W)
ব্যাখ্যা
MRI:
- MRI এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
- MRI যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয় ।
- নিউক্লীয় চৌম্বক অনুনাদের ভৌত এবং রাসায়নিক নীতির উপর ভিত্তি করে এমআরআই যন্ত্র কাজ করে। এই নীতি ব্যবহার করে কোনো অণুর প্রকৃতি সম্পর্কে তথ্য জানা যায় ৷
- MRI একটি নিরাপদ রোগ নির্ণয় পদ্ধতি।
- এই যন্ত্রে এক্সরে বা অন্য কোনো ধরনের বিকিরণ ব্যবহার করা হয় না।
- শরীরের যে অংশের MRI স্ক্যান করা হয় সেখান থেকে প্রাপ্ত সংকেতকে একটি কম্পিউটারের সাহায্যে পরিবর্তিত করে সেই অংশের অত্যন্ত স্পষ্ট প্রতিবিম্ব গঠন করা হয় ।
- প্রত্যেকটি প্রতিবিম্ব শরীরের কোনো স্থানের এক একটি ফালির মতো কাজ করে।
- এভাবে অনেকগুলো প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, যেগুলো শরীরের ঐ অংশের সকল বৈশিষ্ট্যকে ফুটিয়ে তুলে।
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়।
- ব্রেন এবং মেরুরজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
- MRI স্ক্যানারে চৌম্বক ক্ষেত্রের তীব্রতা পরিমাপে টেসলা এককটি প্রধানত ব্যবহার করা হয়।

অন্যদিকে, 
- কাজ ও শক্তির একক জুল (J).
- বলের একক নিউটন (N).
- ক্ষমতার একক ওয়াট (W).

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,৮৭৩.
কোনটি আবিষ্কারের ফলে ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব এসেছে? 
  1. কম্পিউটার
  2. অসিলেটর
  3. ট্রানজিস্টর
  4. টেলিভিশন
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর: 
- ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের ফলে ইলেকট্রনিকস জগতে বিপ্লব এসেছে। 
- ১৯৪৮ সালে বেল ল্যাবরেটরির উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন পৃথিবীর প্রথম ব্যবহারিক পয়েন্ট-কন্টাক্ট ট্রানজিস্টর তৈরি করতে সক্ষম হন। 
- ট্রানজিস্টর p এবং n ধরনের সেমিকন্ডাক্টর দিয়ে তৈরি এক ধরনের ডিভাইস, যেটি তার ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। 
- n-p-n এবং p-n-p দুই ধরনের ট্রানজিস্টর আছে। 
- n-p-n ট্রানজিস্টরের যেদিক দিয়ে কারেন্ট ঢোকে তার নাম কালেক্টর এবং n-p-n ট্রানজিস্টরের যেদিক দিয়ে কারেন্ট বের হয় তার নাম অ্যামিটার (Emitter)। 
- মাঝখানে রয়েছে বেস, এই বেসটি পানির ট্যাপের মতো। 
- এই বেসে অল্প একটু কারেন্ট দিলেই যেন ট্যাপটি খুলে যায় অর্থাৎ অনেক বিদ্যুতের প্রবাহ হতে থাকে। আবার এই অল্প কারেন্ট বন্ধ করে দিলেই বিদ্যুতের প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। 
- এই ট্রানজিস্টর দিয়ে অসংখ্য ইলেকট্রনিকস যন্ত্রপাতি তৈরি করা হয়। 
- ছোট সিগন্যালকে বড় করার জন্য ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়, যেটাকে বলা হয় অ্যামপ্লিফায়ার। 
- নানা ধরনের সিগন্যালকে প্রক্রিয়া করার জন্যও ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৭৪.
কোনটি ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়?
  1. ক) এনোফিলিস
  2. খ) কিউলেক্স
  3. গ) পুরুষ এডিস
  4. ঘ) স্ত্রী এডিস
ব্যাখ্যা
স্ত্রী এডিস   মশা ডেঙ্গু রোগ ছড়ায়। 

- ডেঙ্গুজ্বর (Dengue)  প্রধানত এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকার একটি ভাইরাসঘটিত সংক্রামক ব্যাধি।
- ডেঙ্গু ভাইরাস Flaviviridae গোত্রভুক্ত, যার প্রায় ৭০ ধরনের ভাইরাসের মধ্যে আছে ইয়োলো ফিভার (yellow fever) ও কয়েক প্রকার এনসেফালাইটিসের ভাইরাস।
- ডেঙ্গুজ্বরের অনুরূপ একটি রোগের মহামারীর প্রথম তথ্য পাওয়া যায় ১৭৭৯ ও ১৭৮০ সালে চিকিৎসা সংক্রান্ত বইপুস্তকে।
- ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে কলকাতায় প্রথম ডেঙ্গুজ্বর শনাক্ত হয়।
- ১৮৭১-৭২ সালে এ রোগ মহামারী আকারে দেখা দেয়।
- মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, বিশেষ করে গরম এবং বর্ষার সময়টাতেই ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি থাকে।
- শীতকালে এই জ্বর হয় না বললেই চলে।
- শীতে লার্ভা অবস্থায় ডেঙ্গু মশা অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে।
- বর্ষার শুরুতেই সেগুলো থেকে নতুন করে ডেঙ্গু ভাইরাস বাহিত মশা বিস্তার লাভ করে।

সূত্র: WHO Website [লিঙ্ক]
১,৮৭৫.
মহাকাশে মানুষ বহনকারী প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটির নাম কি?
  1. ক) স্পুটনিক-১
  2. খ) ভস্টক-১
  3. গ) ইনটেলসেট-১
  4. ঘ) ল্যান্ডসেট-১
ব্যাখ্যা

Vostok, any of a series of manned Soviet spacecraft, the initial flight of which carried the first human being into space. Launched on April 12, 1961, Vostok 1, carrying cosmonaut Yury A. Gagarin, made a single orbit of Earth before reentry.
সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,৮৭৬.
পারমাণবিক বোমার জনক বলা হয় কাকে?
  1. ওপেনহেইমার
  2. আলফ্রেড বার্নাড নোবেল
  3. আইনস্টাইন
  4. মাদাম কুরী
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক বোমার জনক:
- পারমাণবিক বোমা ওপেন হেইমার আবিষ্কার করেন।
- তিনি মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ।
- মার্কিন সরকারের গবেষণা প্রকল্প ম্যানহাটন প্রকল্প যা প্রথম পারমাণবিক বোমা আবিষ্কার করে।
- এই প্রকল্প বিজ্ঞানীরা প্রথম  পরীক্ষামূলক পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় দক্ষিণ নিউ মেক্সিকোতে।

আপরদিকে,
- পিয়েরে কুরির সাথে কাজ করে, মেরি কুরি 1898 সালে পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন।
- আইনস্টাইন- থিওরি অব রিলেটিভিটির প্রবক্তা।
- আলফ্রেড বার্নাড নোবেল- ডিনামাইট আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৮৭৭.
কোন বিজ্ঞানী তাপ গতিবিজ্ঞানে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন?
  1. ক) কোপার্নিকাস
  2. খ) লর্ড কেলভিন
  3. গ) ইরাতোস্থিনিস
  4. ঘ) গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা
১৭৯৮ সালে কাউন্ট রামফোর্ড দেখান, তাপ এক ধরনের শক্তি এবং যান্ত্রিক শক্তিকে তাপশক্তিতে রূপান্তর করা যায়। আরও অনেক বিজ্ঞানীর গবেষনার উপর ভিত্তি করে লর্ড কেলভিন ১৮৫০ সালে তাপ গতিবিজ্ঞানের (থার্মোডিনামিক্সের) দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিয়েছিলেন।
উৎসঃ ৯ম-১০ম শ্রেণি - পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৮৭৮.
সূর্য কী?
  1. ধূমকেতু
  2. নক্ষত্র 
  3. গ্রহ
  4. উপগ্রহ
ব্যাখ্যা

সূর্য: 
- সূর্য একটি নক্ষত্র। 
- এটি একটি জ্বলন্ত গ্যাসপিণ্ড। 
- এটি হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। 
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার। 
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। 
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে। 
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৮৭৯.
আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত 'GPS' এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. Great Positioning System
  2. Global Positioning System
  3. Global Pointing System
  4. Global Publication System
ব্যাখ্যা
GPS: 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত GPS এর পূর্ণরূপ 'Global Positioning System'
- GPS হলো এমন একটি স্যাটেলাইটনির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যেকোনো স্থানের অবস্থান নিঁখুতভাবে নির্ণয় করা যায়। 
- সময়ের সাথ সাথে জিপিএস প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি সাধনের কারণে এখন মোবাইলের মাধ্যমেই যেকোনো বস্তু বা ব্যক্তির অবস্থান যথাযথভাবে নির্ণয়, ট্র্যাকিং সহ আরও অনেক সুবিধা ভোগ করা যায়। 
- জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং হলো একটি নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম। 
- এটি ব্যবহারকারীদের অবস্থান, নেভিগেশন এবং সময় সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে। 
- এর সাহায্যে আমরা পৃথিবীর যেকোনো স্থানে বসে আমাদের বর্তমান লোকেশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে পারি। 
- আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রযুক্তি দ্বারা যেকোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয় করা সম্ভব। 

উৎস: Britannica.com
১,৮৮০.
'Microbiology' কোন ধরণের বিদ্যা?
  1. ক) শৈবাল বিষয়ক বিদ্যা
  2. খ) অণুজীববিদ্যা
  3. গ) ভ্রূণ সম্পর্কিত বিদ্যা
  4. ঘ) বিববর্তনবিদ্যা
ব্যাখ্যা
Microbiology - অণুজীব বিষয়ক বিদ্যা
Embryology - ভ্রণ সম্পর্কিত বিদ্যা
Evolution - বিবর্তন সম্পর্কিত বিদ্যা
Mycology - ছত্রাক সম্পর্কিত বিদ্যা।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি
১,৮৮১.
টেকটোনিক প্লেট তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. আলফ্রেড ওয়েগেনার
  2. চার্লস ডারউইন
  3. আইজ্যাক নিউটন
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
◉ আলফ্রেড ওয়েগেনার ১৯১২ সালে মহাদেশীয় সঞ্চালন তত্ত্ব (Continental Drift Theory) প্রস্তাব করেন, যা পরবর্তীতে টেকটোনিক প্লেট তত্ত্বের ভিত্তি তৈরি করে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ বিশাল প্লেটে বিভক্ত, যা ধীরে ধীরে সরে যায় এবং ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরি ও পাহাড় গঠনের জন্য দায়ী।

টেকটোনিক প্লেট:
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে।
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়।
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়।

- এই মতবাদ অনুসারে ভূ-ত্বক প্রধানত ৭টি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো হলো:
• ইউরেশীয় প্লেট (Eurasian Plate),
• উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate),
• দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate),
• আফ্রিকান প্লেট (African Plate),
• অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate),
• ভারত-অস্ট্রেলীয় প্লেট (Indo-Australian Plate) ও
• প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate)

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৮৮২.
শস্য স্যালাইনের উপকরণ -
  1. ক) ১ লিটার পানি
  2. খ) ৫০ গ্রাম চালের গূঁড়া
  3. গ) ১ চিমটি লবণ
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

সম্প্রতি শস্য স্যালাইন নামে আর একটি স্যালাইন উদ্ভাবিত হয়েছে। এক লিটার পানি, 50 গ্রাম চালের গুঁড়া, এক চিমটি লবণ মিশিয়ে বাড়িতে এ স্যালাইন তৈরি করা যায়।
স্যালাইন ব্যবহারের সময় যে বিষয়গুলাে মনে রাখা দরকার তা হলাে: পাতলা পায়খানা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত রােগীকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে, রােগীর বমি হলেও স্যালাইন খাওয়া বন্ধ করা যাবে না, শিশু রােগীকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। রােগীকে নিয়মিত অন্যান্য খাবারও খেতে হবে। ডায়রিয়া সেরে যাওয়ার পরও অন্তত এক সপ্তাহ রােগীকে বাড়তি খাবার দিতে হবে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।

১,৮৮৩.
মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণকারী ক্রোমোজোম কতটি? 
  1. ০২টি
  2. ২২টি
  3. ৪৪টি
  4. ৪৬টি
ব্যাখ্যা
- মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণকারী সেক্স-ক্রোমোজোম- ০২টি। 

ক্রোমোজোম: 
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। 
- এই ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম। 
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালী ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনো ভূমিকা নেই। 
- বাকি এক জোড়া বা ২টি ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স-ক্রোমোজোম যা মানবদেহে লিঙ্গ নির্ধারণ করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৪.
সাইক্লোন গঠনের পেছনে কী দায়ী?
  1. উচ্চচাপ
  2. নিম্নচাপ
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. নিম্ন তাপমাত্রা
ব্যাখ্যা
• সাইক্লোন: 
- সাইক্লোন সৃষ্টির পেছনে ‍গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণভাবে সাগরের তাপমাত্রা ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলে তা সাইক্লোন সৃষ্টির জন্যে উপযোগী হয়। 
- বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারাবছর এই পরিমাণ তাপমাত্রা থাকার কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। 
- বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার বেশি হলে একে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
 
উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৫.
নিচের কোন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়?
  1. লিউকেমিয়া
  2. লিউকোসাইটোসিস
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. পারপুরা
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত হচ্ছে প্রাণিদেহের এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। যেমন- 

(i) পলিসাইথিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। 

(ii) অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

(iii) লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

(iv)লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ২০,০০০-৩০,০০০ হয়, তাকে লিউকোসাইটোসিস বলে। 
- নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এ অবস্থা হয়। 

(v) থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- থ্রম্বোসাইটোসিস রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। 
- রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়াকে থ্রম্বোসিস বলে। 
- হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিকায় রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস বলে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

(vi) পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। 
- পারপুরা অবস্থায় অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

(vii) থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া একধরনের বংশগত রক্তের রোগ। 
- থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। 
- হিমোগ্লোবিনের অস্বাভাবিকতার কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। 
- সাধারণত শিশু অবস্থায় এ থ্যালাসেমিয়া রোগটি শনাক্ত হয়। 
- এ রোগের জন্য রোগিকে প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। 
- তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮৮৬.
কিসের সমন্বয়ে আইসি (IC) তৈরি হয়?
  1. ক) ট্রানজিস্টর
  2. খ) ক্যাপাসিটর
  3. গ) ডায়োড
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।
১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, ডায়োড বা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে।
আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। সাথে সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৮৮৭.
আপেক্ষিকতার তত্ত্বের ভিত্তিতে কোনটির ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়?
  1. মহাকর্ষ
  2. নাক্ষত্রিক গতি প্রকৃতি
  3. সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্ব
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিকতার নীতি (Principle of Relativity): 
- যখন কোনো বস্তুর অবস্থান বা বেগ পরিমাপ করা হয় তখন কোনো স্থির বিন্দুকে প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
- ঐ প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দূরত্বকে তার অবস্থান বলা হয় এবং প্রসঙ্গ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুটির রৈখিক দ্রতিকে বেগ বলা হয়।
- কিন্তু এই মহাবিশ্বে কোনো কিছুই স্থির নয়।
- সুতরাং পরম স্থির বলে কোনো অবস্থান পাওয়া সম্ভব নয় যাকে স্থির প্রসঙ্গ কাঠামো হিসাবে বিবেচনা করা যায়।
- তাই প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে যা পরিমাপ করা হয় তা পরম নয়।
অর্থাৎ, সব সময় অবস্থান বা বেগকে আপেক্ষিকভাবে পরিমাপ করি।
- চিরায়ত বল বিদ্যার মতে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি।
- কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটান।
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়। এগুলো সকলই আপেক্ষিক।
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে এদের পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ।
- উচ্চ গতিশীল (আলোর কাছাকাছি বেগে) বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধ মানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক বলা হয়। - পরমাণবিক ও নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞানে এই তত্ত্বের গুরত্ব অপরিসীম।
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বে বলেন প্রাকৃতিক নিয়মাবলীর গাণিতিক সূত্রসমূহ সকল জড় কাঠামোতে অভিন্ন। এটাই আপেক্ষিকতার নীতি।
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন।
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮৮.
টর্নেডো কী কারণে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ভূমিকম্প
  2. খ) অত্যধিক বৃষ্টিপাত
  3. গ) ঘূর্ণিঝড়
  4. ঘ) বায়ুর নিম্মচাপ
ব্যাখ্যা
• টর্নেডো বায়ুর নিম্মচাপের জন্য সৃষ্টি হয়।

টর্নেডো: টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়।
- টর্নেডো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা স্থলভাগে সৃষ্টি হয়।
- স্থলভাগে নিম্নচাপ সৃষ্টির ফলে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়ে টর্নেডোতে রূপ নেয়।
- এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে।
- এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
- তবে চোঙ ভূমি স্পর্শ না করলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় না।
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়। 

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৮৯.
অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ কী?
  1. ভাইরাস ধ্বংস করে।
  2. ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ।
  3. প্রোটিন বাড়ায়।
  4. কোষ বিভাজন বন্ধ করে।
ব্যাখ্যা
• অ্যান্টিবায়োটিক (Antibiotic) হল একধরনের ঔষধ যা ব্যাকটেরিয়া-জনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়।

অ্যান্টিবায়োটিক যেভাবে কাজ করে:
- অ্যান্টিবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে। 
- ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ধ্বংস করে (যেমনঃ Penicillin)। 
- ব্যাকটেরিয়ার DNA প্রতিলিপি প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। 
- প্রোটিন সংশ্লেষণ থামিয়ে দেয় (যেমনঃ Tetracycline)। 

আন্টিবায়োটিক গ্রহনে সতর্কতা- 
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ বিপজ্জনক।
- কোর্স সঠিকভাবে শেষ করতে হবে। 
- ভুলভাবে বা বেশি ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স (Antibiotic Resistance) দেখা দেয়, যা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে

তথ্যসূত্র: 
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ । 
- WHO (World Health Organization). 
১,৮৯০.
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঋতু বৈচিত্রের পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. বন্যা
  2. তীব্রখরা
  3. ভূমিক্ষয়
  4. অতিবৃষ্টি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের ঋতুচক্র বদলে যাচ্ছে, এর নেতিবাচক প্রভাব দেশের কৃষি উৎপাদনের উপরে পড়তে শুরু করেছে। 
- বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম একটি নিদর্শন বৃষ্টিপাতের ধরন পাল্টে যাওয়া।
- খরাসহ বিভিন্ন কারণে দেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিনে দিনে নিম্নমুখী হয়ে সেচ কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে যার ফলে বিভিন্ন কৃষির উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 
- জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেশে ফসল উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
- পরিবেশ ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার অসংলগ্ন আচরণের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে কৃষি খাতকে ইতিমধ্যে ধকল পোহাতে হচ্ছে। 
- দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রের আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। 
- ফলে অতিবৃষ্টি, অসময়ে বৃষ্টি, বন্যা, তীব্রখরা, নদীর নাব্যতা সংকট, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি সমস্যা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। 
- এই সবগুলোই কৃষি খাতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। 
যেমন- 
• ফসল উৎপাদনে খরার প্রভাব, 
• ফসল উৎপাদনে তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব, 
• ফসল উৎপাদনে লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রভাব, 
• ফসল উৎপাদন এবং কার্বন নিঃসরণ, 
• সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও ফসল উৎপাদনে তার প্রভাব ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- বায়ু প্রবাহের প্রভাবের জন্য ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতা সৃষ্টি, জমির উর্বরতার হ্রাস-বৃদ্ধি, ভূমিক্ষয়, জমির গঠন, বাস্তুসংস্থানের সক্রিয়তা, পানিচক্র বা খাদ্য চক্রের মত প্রক্রিয়ার স্বাভাবিকতা রক্ষা ইত্যাদিতে পরিবর্তন ঘটে। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯১.
বায়ূ দূষণের ফলে সৃষ্ট রোগ কোনটি?
  1. ক) আমাশয়
  2. খ) ডায়রিয়া
  3. গ) অ্যাজমা
  4. ঘ) টাইফয়েড
ব্যাখ্যা
- জগতের প্রতিটি প্রাণের অস্তিত্বের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বায়ু। বায়ু দূষণের ফলে মানব স্বাস্থ্যের উপর যে প্রভাব পড়ে তা হলো- 

মানব স্বাস্থ্যের উপর বায়ু দূষণের প্রভাব:
- বায়ু দূষণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় মানব স্বাস্থ্য।
- দূষিত বায়ু গ্রহণের মাধ্যমে শুধুমাত্র শ্বাস-প্রশ্বাসই নয় এর মাধ্যমে জীবনও বিপন্ন হতে পারে।
- বায়ু দূষণের ফলে শ্বাসনালীতে জ্বালা, কাশি ও দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
- বিশেষ করে সালফারের অক্সাইডগুলো ফুসফুসে নানা ধরনের রোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ।
- নাইট্রোজেনের অক্সাইডগুলোর বিষাক্ত প্রতিক্রিয়ায় ফুসফুস ফুলে যায় এবং ফুসফুসে পানি জমে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
- অতিমাত্রায় বায়ু দূষণ দীর্ঘস্থায়ী হাঁপানি, শ্বাসনালীর প্রদাহ ও কণ্ঠস্বর ভঙ্গের কারণ হতে পারে।

বায়ু দূষণের ফলে মানব স্বাস্থ্যের আরো যেসব ক্ষতি হতে পারে:
১. অ্যাজমা
২. ব্রঙ্কাইটিজ 
৩. মাথাব্যাথা 
৪. চোখের সমস্যা 
৫. হাইপারটেনশন 
৬. রক্তের অক্সিজেন বহন ক্ষমতা হ্রাস
৭. হৃদরোগ
৮. অবসন্নতা  
৯. মাথা ঘূন্নি 
১০. আলসার
১১. বমি বমি ভাব 
১২. খিচুনী ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯২.
মানব মস্তিষ্ক কতটি প্রধান অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
- মানব মস্তিষ্ক ৩টি প্রধান অংশে বিভক্ত। যথা-
(১) অগ্রমস্তিষ্ক, (২) মধ্যমস্তিষ্ক ও (৩) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক।

অগ্রমস্তিষ্ক - অগ্রমস্তিষ্ক মস্তিষ্কের প্রধান অংশ গঠন করে। এটি তিন অংশে বিভক্ত। যথা- (ক) সেরেব্রাম, (খ) থ্যালামাস ও (গ) হাইপোথ্যালামাস।

মধ্যমস্তিষ্ক - হাইপোথ্যালামাসের নিচে ছোট অংশটি মধ্যমস্তিষ্ক। পৃষ্ঠীয় দিকে দুটি গোলাকার খণ্ড এবং অঙ্কীয় দিকে দুটি নলাকার ও পুরু স্নায়ুরজ্জু নিয়ে গঠিত, প্রথম দুটি সেরেব্রাল পেডাংকল এবং শেষের দুটি কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা।

পশ্চাৎমস্তিষ্ক - এটি মস্তিষ্কের পিছনের অংশ এবং ৩টি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত। যথা- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংগাটা এবং পনস।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৮৯৩.
কোন গ্রহের চারটি বৃহত্তম চাঁদকে গ্যালিলিয়ান উপগ্রহ বলা হয়?
  1. ইউরেনাস
  2. মঙ্গল
  3. বৃহস্পতি
  4. শনি
ব্যাখ্যা

বৃহস্পতির চাঁদ বা উপগ্রহ:
- বৃহস্পতির ৯৫টি চাঁদ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘ (IAU) দ্বারা স্বীকৃত।
- এই চাঁদগুলো ১৬১০ সালে জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি প্রথম দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে আবিষ্কার করেন।
- চারটি বৃহত্তম চাঁদকে (গ্যালিলিয়ান স্যাটেলাইটস) গ্যালিলিয়ান উপগ্রহ বলা হয়।

• বৃহত্তম চারটি চাঁদ-
- আইও (Io): সৌরজগতের সবচেয়ে সক্রিয় আগ্নেয়গিরিময় বস্তু।
- ইউরোপা (Europa): এর বরফ আচ্ছাদনের নিচে তরল জলের একটি মহাসাগর থাকতে পারে, যেখানে জীবনের জন্য উপাদান রয়েছে।
- গ্যানিমিড (Ganymede): সৌরজগতের বৃহত্তম চাঁদ, যা বুধ গ্রহের চেয়েও বড়।
- ক্যালিস্টো (Callisto): এতে কয়েকটি ছোট গর্ত রয়েছে, যা ইঙ্গিত করে যে এর পৃষ্ঠে খুব সামান্য কার্যকলাপ বিদ্যমান।

উৎস: NASA Science ওয়েবসাইট।

১,৮৯৪.
মানবদেহে মোট ওজনের শতকরা কত ভাগ ক্যালসিয়াম থাকে?
  1. ক) ৫%
  2. খ) ৮%
  3. গ) ২%
  4. ঘ) ১০%
ব্যাখ্যা
ক্যালসিয়াম: 
- ক্যালসিয়াম (Ca) প্রাণীদের হাড় ও দাঁতের একটি প্রধান উপাদান। 
- মানুষের শরীরের মোট ওজনের শতকরা দুই ভাগ হচ্ছে ক্যালসিয়াম। 
- খনিজ পদার্থের মধ্যে দেহে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- অস্থি এবং দাঁতে ফসফরাস ও  ম্যাগনেসিয়ামের সাথে যুক্ত হয়ে এর  ৯০% শরীরে সঞ্চিত থাকে। 
- রক্ত এবং লসিকাতে এর উপস্থিতি রয়েছে। 

- ক্যালসিয়ামের উদ্ভিজ্জ উৎস হচ্ছে: ডাল, তিল, সয়াবিন, ফুলকপি, গাজর, লালশাক, পালংশাক, কচুশাক, কলমিশাক, বাধঁকপি এবং ফল। 
- প্রাণিজ উৎস হচ্ছে: দুধ, ডিম, ছোট মাছ, শুঁটকি মাছ ইত্যাদি। 
- হাড় ও দাঁটের গঠন শক্ত রাখার জন্য ক্যালসিয়াম একটি অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ। 
- এ ছাড়া ক্যালসিয়াম রক্ত সঞ্চালনে, হৃৎপিণ্ডের পেশির স্বাভাবিক সংকোচনে এবং স্নায়ু ও পেশির সঞ্চালনে সাহায্য করে। 
- ক্যালসিয়ামের অভাবের কারণে রিকেটস এবং বয়স্ক নারীদের অস্টিওম্যালেসিয়া রোগ হয়। 
- এর অভাবে শিশুদের দাঁত উঠতে দেরি হয় এবং তাদের রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৮৯৫.
বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা কত মিলিগ্রাম?
  1. ক) ০.০১ মিলিগ্রাম
  2. খ) ০.০১ মিলিগ্রাম
  3. গ) ০.১ মিলিগ্রাম
  4. ঘ) ০.০৫ মিলিগ্রাম
ব্যাখ্যা
আর্সেনিক দূষণ:

- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic).
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।
- প্রকৃতিতে প্রাপ্ত আর্সেনিক একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়।

- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম।
- তবে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ দেশের মাত্রা নির্ধারণ করে থাকে। বাংলাদেশে প্রতি লিটার পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০৫ মিলিগ্রাম।
- চাঁদপুর জেলা দেশের মধ্যে সবচেয়ে আর্সেনিক দূষণপ্রবণ জেলা।

তথ্যসূত্র: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।
১,৮৯৬.
প্রোটিন হজম করার জন্য পাকস্থলিতে কোন অবস্থা প্রয়োজন?
  1. ক) ক্ষারীয়
  2. খ) এসিডিক
  3. গ) বেসিক
  4. ঘ) ক্ষারীয়
  5. ঙ) প্রশমিত
ব্যাখ্যা
প্রোটিন হজম করার জন্য পাকস্থলীর pH এর মান 2 অর্থাৎ এসিডিক রাখা প্রয়োজন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই।
১,৮৯৭.
উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র কোনটি? 
  1. পাইরোমিটার 
  2. ট্যাকোমিটার 
  3. ওডোমিটার 
  4. অডিওমিটার 
ব্যাখ্যা

- উচ্চ তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র- পাইরোমিটার। 

আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিমাপক যন্ত্র: 
- সেক্সট্যান্ট- সূর্য ও অন্যান্য গ্রহের কৌণিক উন্নতি পরিমাপক যন্ত্র। 
- সিসমোগ্রাফ- ভূমিকম্প নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- মোটর গাড়ির গতি নির্ণায়ক যন্ত্র- ওডোমিটার। 
- ট্যাকোমিটার- উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অ্যালটিমিটার- উচ্চতা নির্ণায়ক যন্ত্র। 
- অডিওমিটার- শব্দের তীব্রতা পরিমাপক যন্ত্র। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,৮৯৮.
মানবদেহের রক্তে কত রকমের অ্যান্টিবডি দেখা যায়?
  1. পাঁচ
  2. তিন
  3. দুই
  4. চার
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি (Antibody): 
- অ্যান্টিবডি অ্যান্টিজেনের বিপরীত বস্তু বা নিজস্ব বস্তু বা কণিকা বা কোষ অথবা কোষগুচ্ছ। 
- অ্যান্টিবডি প্রধানত অ্যান্টিজেনের সাড়ায় দেহের B-লিম্ফোসাইট থেকে উৎপাদিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- এরা রক্তের প্লাজমা ও কলারসে বর্তমান থাকে। 
- এরা অ্যান্টিজেনের সাথে যুক্ত (combine) হতে পারে এবং ক্লোনাল নির্বাচন (colonal selection) দ্বারা উৎপাদিত হয় এবং দেহের প্রধান সৈনিক বা রক্ষণাবেক্ষণের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। 
- অ্যান্টিবডিগুলো অনুপ্রবেশকারী বা বহিরাগত অ্যান্টিজেনকে ভক্ষণ করে, কখনো বিনষ্ট করে, কখনো মেরে ফেলে, কখনো বাইরে নিক্ষেপ করে। 
- অ্যান্টিজেন হচ্ছে non-self আর অ্যান্টিবডি হচ্ছে self বস্তু। 

অ্যান্টিবডির প্রকার: 
- মানবদেহের রক্তে পাঁচ রকমের ইমিউনোগ্লোবিউলিন অর্থাৎ অ্যান্টিবডি দেখা যায়। 
যথা- IgG, IgA, IgM, IgD ও IgE। 
- এগুলো মানবদেহের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- পাঁচ প্রকার অ্যান্টিবডির মধ্যে IgG রক্তরসে সর্বাধিক মাত্রায় থাকে এবং IgD ও IgE সবচেয়ে কম পরিমাণে থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৮৯৯.
পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি কীসের মতো?
  1. আয়তাকার
  2. নিখুঁত গোলক
  3. উপবৃত্তাকার
  4. অভিগত গোলক
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকার ও আকৃতি (Size and Shape of the Earth):
- ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথমবারের মতো মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন।
- তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং কিছুটা চাপা এবং স্ফীত। তার তোলা ছবিতেও পৃথিবীকে গোলাকার দেখা যায়।
- তবে বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি একদম নিখুঁত গোল নয়। বরং এটি কিছুটা চাপা ও স্ফীত হওয়ায় এর প্রকৃত আকৃতি হয় অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)।

•  পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যাস:
- নিরক্ষীয় ব্যাস (পূর্ব-পশ্চিমে) = ১২,৭৫৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় ব্যাস (উত্তর-দক্ষিণে) = ১২,৭১৪ কি.মি.
- পার্থক্য = ৪৩ কি.মি.।
- গড় ব্যাস = ১২,৭৩৪.৫ কিমি → প্রায় ১২,৮০০ কিমি (গণনার সুবিধার জন্য)।
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি:
- গড় ব্যাসার্ধ = ৬,৪০০ কি.মি.।
- নিরক্ষীয় পরিধি = ৪০,০৭৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় পরিধি = ৪০,০০৯ কি.মি.।
- গড় পরিধি ≈ ৪০,০০০ কি.মি.।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৯০০.
নিম্নের কোনটি মাঠ ফসলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. সমষ্টিগতভাবে চাষ করা হয়
  2. এক সাথে সংগ্রহ করা হয়
  3. বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয়
  4. শুকিয়ে ব্যবহার করা হয়
ব্যাখ্যা
মাঠ ফসল:
- মাঠ ফসল সাধারণত সমষ্টিগতভাবে চাষ করা হয়।
- মাঠ ফসলে সাধারণত বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয় না।
- মাঠ ফসল সাধারণত এক সাথে পরিপক্ক হয় বিধায় এক সাথেই সংগ্রহ করা হয়।
- মাঠ ফসল সাধারণত শুকিয়ে ব্যবহার করা হয়, যেমন- ধান, পাট, ডাল ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• উদ্যান ফসল:
- সাধারণত প্রতিটি গাছকে এককভাবে যত্ন নেয়া হয়, যেমন- আম, জাম, কলা ইত্যাদি।
- উদ্যান ফসলে বেড়া নির্মাণের প্রয়োজন হয়। 
- উদ্যান ফসল পর্যায়ক্রমে পরিপক্ক হয় বিধায় ধাপে ধাপে সংগ্রহ করা হয়, যেমন- টমেটো, বেগুন ইত্যাদি।
- উদ্যান ফসল সাধারণত তাজা অবস্থায় ব্যবহার করা হয়, যেমন-বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফল। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।