বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৮ / ৩৯ · ১,৭০১১,৮০০ / ৩,৮৭৯

১,৭০১.
‘শরীরের পানির অণুর ভেতরকার হাইড্রোজেনের প্রোটন থেকে ফিরে আসা সংকেতকে কম্পিউটার দিয়ে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়’ - কথাটি নিচের কোন যন্ত্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. CT scan
  2. MRI
  3. X-ray
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
MRI:
- MRI এর অর্থ হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইম্যাজিং (Magnetic Resonance Imaging)।
- MRI যন্ত্রে শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র এবং রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে শরীরের কোনো স্থানের বা অঙ্গের বিস্তৃত প্রতিবিম্ব গঠন করা হয় ।

MRI এর ব্যবহার:
- পায়ের গোড়ালির মচকানো এবং পিঠের ব্যাথায় এমআরআই ব্যবহার করে জখমের বা আঘাতের তীব্রতা নিরূপণ করা হয়।
- ব্রেন এবং মেরুরজ্জুর বিস্তৃত প্রতিবিম্ব তৈরির জন্য এমআরআই হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ।

MRI ও CT scan এর পার্থক্য:
- CT scan যন্ত্রে এক্স-রে পাঠিয়ে প্রতিচ্ছবি নেওয়া হয়, আর MRI যন্ত্রে একজন রোগীকে অনেক শক্তিশালী চৌম্বকক্ষত্রে রেখে তার শরীরে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গ দেওয়া হয়।
-  MRI যন্ত্র দিয়ে শরীরের পানির অনুর ভেতরকার হাইড্রোজেনের প্রোটন থেকে ফিরে আসা সংকেতকে কম্পিউটার দিয়ে বিশ্লেষণ করে শরীরের ভেতরকার অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়।
- CT scan দিয়ে যা কিছু করা সম্ভব, MRI দিয়েও সেগুলো করা সম্ভব। তবে MRI দিয়ে শরীরের ভেতরকার কোমল টিস্যুর ভেতরকার পার্থক্যগুলো ভালো করে বুঝা সম্ভব। CT scan করতে যে সময়ের দরকার হয় তার তুলনায় একটু বেশি সময় লাগে MRI করতে।
- CT scan-এ এক্স-রে ব্যবহার করা হয় বলে যত কমই হোক তেজস্ক্রিয়তার একটু ঝুঁকি থাকে, যা MRI-এ নেই।
- শরীরের ভেতর কোনো ধাতব কিছু থাকলে (যেমন: পেস মেকার) MRI করা যায় না, কারণ আরএফ (RF) মানে Radio Frequency ধাতুকে উত্তপ্ত করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৭০২.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য কয়টি?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ৫ টি
  4. ৭ টি
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ: 

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অর্থ হলো, যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য: 


• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য তিনটি। এগুলো হলো:

(ক) দুর্যোগকালিন সময়ে জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো বা পরিমাণ হ্রাস করা;
(খ) দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছানো ও পূণর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ সুষ্ঠুরূপে সম্পন্ন করা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৩.
শিশুদের জন্মের এক মাসের মধ্যে কোন টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়? 
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিপিটি 
  4. ডিটি 
ব্যাখ্যা

- শিশুদের জন্মের এক মাসের মধ্যে 'বিসিজি ও ওপিভি-ও' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expanded Program on Immunization-EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়রকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭০৪.
মৎস্য চাষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে কী বলা হয়? 
  1. এপিকালচার 
  2. প্রণকালচার 
  3. এভিকালচার 
  4. পিসিকালচার 
ব্যাখ্যা

আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
- সামদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
- উদ্যান পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।

১,৭০৫.
মহাবিশ্ব সম্পর্কিত এডউইন হাবল এর তত্ত্ব অনুসারে -
  1. ক) মহাবিশ্ব প্রসারণশীল।
  2. খ) মহাবিশ্ব তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ দ্বারা পূর্ণ।
  3. গ) মহাবিশ্বের অধিকাংশ ভরই আমাদের দৃষ্টির আড়ালে রয়ে গেছে।
  4. ঘ) মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল।
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তার ২.৫ মি. টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।

হাবলের সূত্রানুসারে -
গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।


সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭০৬.
আইপিসিসি ওয়ার্কিং গ্রুপ : চতুর্থ মূল্যায়নের রিপোর্ট অনুযায়ী, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কত মিটার বৃদ্ধি পেলে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন হারিয়ে যাবে?
  1. ক) ১.৫ মিটার
  2. খ) ০.৫ মিটার
  3. গ) ১ মিটার
  4. ঘ) ২ মিটার
ব্যাখ্যা
আইপিসিসি ওয়ার্কিং গ্রুপ II তাদের চতুর্থ মূল্যায়নে রিপোর্ট করেছে যে,
চাল ও গমের উৎপাদন ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশে যথাক্রমে ৮ শতাংশ এবং ৩২ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। 
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি প্রভাব হিসেবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বিশেষ করে উপকূল অঞ্চল বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধি পেলে, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 
 
উৎস: http://nda.erd.gov.bd/, National Plan for Disaster Management 2010 - 2015
১,৭০৭.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে দূরত্বে সংকেত পাঠানোর প্রক্রিয়া কে আবিষ্কার করেন? 
  1. জগদীশ চন্দ্র বসু
  2. জি. মার্কনী
  3. হেনরিখ হার্জ
  4. জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অবদান: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন। 
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়। 
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন। 
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান। 
- পরবর্তীতে বিজ্ঞানী জি. মার্কনী বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭০৮.
একজন মানুষের দৈনিক সুষম খাদ্য গ্রহণের জন্য কতটুকু আমিষ গ্রহণ করা উচিত?
  1. ক) ৬০%
  2. খ) ১৫%
  3. গ) ২০%
  4. ঘ) ৫%
ব্যাখ্যা
একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দৈনিক সুষম খাদ্যের বিভাজনে দেখা যায় যে তাঁর ৬০% শর্করা, ১৫% আমিষ, ২০% অসম্পৃক্ত স্নেহ এবং ৫% সম্পৃক্ত স্নেহ গ্রহণ করা উচিৎ।
উৎসঃ বিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি
১,৭০৯.
পৃথিবীর বারিমণ্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল ভূগর্ভে ধারণ করে?
  1. ২.০৫%
  2. ০.৬৮%
  3. ০.০১%
  4. ০.০০১%
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টনঃ
• সমুদ্র (৯৭.২৫%),
• হিমবাহ (২.০৫%),
• ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
• হৃদ (০.০১%),
• মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
• বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
• নদী(০.০০০১%),
• জীবমণ্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭১০.
ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের নাম কী?
  1. BNT162b2
  2. BNT174v2
  3. BNT142b2
  4. BNT122C2
ব্যাখ্যা
জার্মান প্রতিষ্ঠান বায়োএনটেক ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান ফাইজার উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের নাম BNT162b2.
তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলিম দম্পতি উগুর সাহিন ও তার স্ত্রী ডা. ওজলেম টুরেসি এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবনে নেতৃত্ব দেন।
যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে গত ২ ডিসেম্বর এই ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করে। যুক্তরাষ্ট্র অনুমতি দেয় ১১ ডিসেম্বর।

(সূত্র: বায়োএনটেক ও ফাইজার ওয়েবসাইট)
১,৭১১.
শ্বেত বামন কী?
  1. অতি বৃহৎ গ্যালাক্সি
  2. অত্যন্ত উজ্জ্বল নক্ষত্র
  3. বিশালাকার গ্যাসীয় গ্রহ
  4. ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত বামন তারকা: 
- শ্বেত বামন হলো এক ধরনের ক্ষীণ উজ্জ্বলতার তারকা, যা মাঝারি ও নিম্ন ভরের তারকাদের জীবনচক্রের শেষ পর্যায়ে গঠিত হয়।
- একটি সাধারণ শ্বেত বামন নক্ষত্রের কেন্দ্রীয় অংশটি কার্বন এবং অক্সিজেনের মিশ্রণ দ্বারা গঠিত।
- এই কেন্দ্রের চারপাশে হিলিয়ামের একটি পাতলা আবরণ এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, হাইড্রোজেনের আরও পাতলা আবরণ থাকে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- প্রথম আবিষ্কৃত তারকাগুলোর সাদা রঙের কারণে এদের হোয়াইট ডোয়ার্ফ বলা হয়।
- কম উজ্জ্বলতা সম্পন্ন হয়।
- ভর প্রায় সূর্যের সমান, কিন্তু ব্যাস পৃথিবীর সমান।
- অত্যন্ত ঘন এবং সংক্ষিপ্ত আকৃতির হয়।
- গড় ঘনত্ব পানি থেকে প্রায় ১০ লক্ষ গুণ বেশি।
- এই তারকারা মহাকাশে নিভে যাওয়া সূর্যের মতো ধীরে ধীরে শীতল হতে থাকে এবং একসময় সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় কালো ডোয়ার্ফে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: Britannica.
১,৭১২.
হার্টে পেইসমেকার স্থাপনের ক্ষেত্রে কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়? 
  1. ফসফরাস–৩২ 
  2. কোবাল্ট–৬০ 
  3. প্লুটোনিয়াম–২৩৮ 
  4. আয়োডিন–১৩১ 
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার: 
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সব শাখায় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে।
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপের ব্যবহার নিম্নে দেওয়া হলো- 
চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহার: 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়। আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131 (131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৩.
উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয় কোন যন্ত্রে?
  1. এক্স-রে
  2. সিটিস্ক্যান
  3. আল্ট্রাসনোগ্রাফি
  4. ইসিজি
ব্যাখ্যা
আল্ট্রাসনোগ্রাফি:

- শরীরের অভ্যন্তরীণ নরম পেশী বা টিস্যুর সমস্যা নির্ণয়ে আল্ট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগিয়ে যে পরীক্ষা করা হয় তাকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি বলে।
- আল্ট্রাসনোগ্রাফিতে উচ্চ কম্পাংকের শব্দের প্রতিফলন বা প্রতিধ্বনিকে কাজে লাগানো হয়।
- উচ্চ কম্পাংকের শব্দ যখন শরীরের গভীরের কোনো অঙ্গ বা পেশী থেকে প্রতিফলিত হয় তখন প্রতিফলিত তরঙ্গের সাহায্যে ঐ অঙ্গের অনুরূপ একটি প্রতিবিম্ব মনিটরের পর্দায় গঠন করা হয়।
- রোগ নির্ণয়ে যে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় সেই শব্দের কম্পাংক ১-১০ মেগাহার্টজ হয়ে থাকে।
- হৃদপিন্ডে অথবা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য নরম অঙ্গ যেমন- যকৃৎ, পিত্তথলি, প্রধানরক্ত নালী সমূহে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়।
- বিশেষত ভ্রুণের বৃদ্ধি, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের টিউমার সনাক্তকরণে।
- এক্সরের তুলনায় আল্ট্রাসনোগ্রাফি অধিকতর নিরাপদ রোগ নির্ণয়ের কৌশল।

তথ্যসূত্র- বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭১৪.
কেপলারের ৩য় সূত্রটি কী নামে পরিচিত?
  1. পর্যায়কালের সূত্র
  2. উপবৃত্তের সূত্র
  3. ক্ষেত্রফলের সূত্র
  4. কক্ষপথের সূত্র
ব্যাখ্যা

• কেপলারের তৃতীয় সূত্রকে সাধারণত পর্যায়কালের সূত্র বা লক্ষ্যকালের সূত্র (Law of Periods) বলা হয়। এটি গ্রহগুলোর কক্ষপথের আকার ও তাদের সূর্যের চারপাশে আবর্তনের সময়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করে। সূত্রটি অনুযায়ী, কোনো গ্রহের কক্ষপথের অর্ধ-প্রধান অক্ষের ঘনের মান (a3) এবং তার কক্ষপথ সম্পূর্ণ করতে লাগা সময়ের বর্গের মান (T2) এর মধ্যে একটি ধ্রুবক অনুপাত থাকে। সহজভাবে বলতে গেলে, বড় কক্ষপথের গ্রহের কক্ষকাল বেশি হয় এবং ছোট কক্ষপথের গ্রহের কক্ষকাল কম হয়। এই সূত্র সৌরজগতে গ্রহের গতিবিধি ও কক্ষপথ বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) পর্যায়কালের সূত্র।
 
কেপলারের সূত্র:
- ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলারের (Johann Kepler) গ্রহ সম্পর্কিত সূত্র সূর্যের চারদিকে গ্রহগুলোর গতি ব্যাখ্যা করে।
- ১৬১৮ সালে কেপলার বলেন, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- এই সম্পর্কে তিনি তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- তার নাম অনুসারে এই তিনটি সূত্রকে কেপলার এর গ্রহ সম্পর্কীয় গতিসূত্র বলা হয়।
- সূত্র তিনটি:

প্রথম সূত্র (উপবৃত্ত সূত্র):
- সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।

দ্বিতীয় সূত্র (ক্ষেত্রফল সূত্র):
- প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্র সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।

তৃতীয় সূত্র (আবর্তনকালের সূত্র বা, পর্যায়কালের সূত্র):
- সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের ঘনফলের সমানুপাতিক।

উৎস: পদার্থ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৫.
পৃথিবীতে কোনো বস্তুর ওজন ৯৮ নিউটন, মঙ্গল গ্রহে ঐ বস্তুর ভর কত হবে?
  1. ক) ৯৮ কেজি
  2. খ) ১০ কেজি
  3. গ) ১৮ কেজি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আমরা জানি, কোন বস্তুর ওজন = বস্তুর ভর × অভিকর্ষজ ত্বরণ
ভর = ওজন / অভিকর্ষজ ত্বরণ
= ৯৮ / ৯.৮
= ১০ কেজি

সুতরাং, পৃথিবীতে বস্তুর ভর ১০ কেজি

যেহেতু বস্তুর ভর অপরিবর্তিত থাকে, তাই মঙ্গল গ্রহেও বস্তুর ভর ১০ কেজি হবে।
১,৭১৬.
ব্ল্যাক হোল কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৭৯ সালে
  2. ১৯৪৯ সালে
  3. ১৯৫৯ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
১,৭১৭.
সিটি স্ক্যান (CT Scan) এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Computed Thermal Scan
  2. Comprehensive Tissue Scan
  3. Computerized Testing Scan
  4. Computed Tomography Scan
ব্যাখ্যা

সিটি স্ক্যান: 
- সিটি স্ক্যান এর সম্প্রসারিত অর্থ হচ্ছে কম্পিউটেড টমোগ্রাফি স্ক্যান (Computed Tomography Scan)
- সিটি স্ক্যান এর সাহায্যে প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি প্রতিবিম্ব তৈরির একটি প্রক্রিয়া। 
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রিমাত্রিক বস্তুর কোনো ফালি বা অংশের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব তৈরি করা হয় সে প্রক্রিয়াকে টমোগ্রাফি বলে। 
- সিটি স্ক্যান একটি বৃহৎ যন্ত্র, এ যন্ত্রে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
- এক্সরে যেখানে শরীরের অভ্যন্তরের কোনো ত্রিমাত্রিক অঙ্গের দ্বিমাত্রিক প্রতিবিম্ব গঠন করে, সেখানে সিটি স্ক্যান যন্ত্র দ্বারা সৃষ্ট প্রতিবিম্ব ত্রিমাত্রিক। 

- সিটি স্ক্যানের সাহায্যে শরীরের নরম টিস্যু, রক্তবাহী শিরা বা ধমনী, ফুসফুস, ব্রেণ ইত্যাদির ত্রিমাত্রিক ছবি পাওয়া যায। 
- যকৃত, ফুসফুস এবং অগ্নাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার কাজে সিটি স্ক্যান ব্যবহৃত হয়। 
- সিটি স্ক্যানের প্রতিবিম্ব চিকিৎসককে টিউমার সনাক্তকরণ, টিউমারের আকার, অবস্থান এবং টিউমারটি পাশ্ববর্তী অন্য টিস্যুকে কী পরিমাণ আক্রান্ত করেছে তা নির্ধারণেও সাহায্য করে। 
- মাথার সিটি স্ক্যানের সাহায্যে মস্তিষ্কের ভেতরে কোনো ধরনের রক্তপাত, ধমনীর ফুলা এবং টিউমারের উপস্থিতি সম্পর্কে জানা যায়। 
- সিটি স্ক্যানের দ্বারা রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা আছে কীনা তাও জানা যায়। 
- সাধারণত গর্ভবতী মহিলাদের সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করা হয় না। 
- সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় 'ডাই' ব্যবহৃত হরে এলার্জি জনিত বিক্রিয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৮.
তুলার সাদা মাছি পোকার দমনে কোনটি স্প্রে করা হয়?
  1. ফেনডেলারেট ২০
  2. ক্লোরোপাইরিফস ২০
  3. কার্বোসালফান ২০
  4. সাকসেস
ব্যাখ্যা

তুলার ক্ষতিকর পোকা ও তার দমন ব্যবস্থাপনা:
• জ্যাসিড পোকা:
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
- চারা গজানোর ২-৩ সপ্তাহ পর থেকেই এদের আক্রমণ শুরু হয়।
- নিম্ফ ও পূর্ণবয়স্ক উভয় পোকাই পাতার রস শোষণ করে যায় এবং ফলে পাতা হলদে এবং পরে লালচে হয়ে যায়।
⇒ প্রতিকার:
- সাকসেস ১.৫ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত জমিতে স্প্রে করতে হবে।

• বোল ওয়ার্ম:
⇒ লক্ষণ:
- ৫-৬ সপ্তাহ বয়সী তুলাগাছের এই পোকার লার্ভা গাছের ডগা, কুড়ি, ফুল বা বোলছিদ্র করে দেয়।
- এতে গাছের ডগা ঢলে পড়ে ও শুকিয়ে যায়।
- ফুল, কুড়ি বা কচি বোল মাটিতে ঝরে পড়ে ও ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
⇒ দমন ব্যবস্থা:
ক) জমি গভীর চাষ দিয়ে রোদে শুকাতে হবে। এতে পোকা, লার্ভা বা শুককীট মরে যায় ও পাখিতে খেয়ে ফেলে।
খ) জমির আশপাশের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে হবে।
গ) ঝরে পড়া কুড়ি, ফুল ও বোল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
ঘ) আলোর ফাঁদ দিয়ে বোল ওয়ার্ম পোকার মথ ধরতে হবে।
ঙ) ফেনডেলারেট ২০ তরল ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

• লাল গান্ধি পোকা:
⇒ ক্ষতির লক্ষণ:
- পূর্ণবয়স্ক পোকা গাছের পাতা, কুড়ি, ফুল ও বল থেকে রস চুষে খায়।
- ফলে বোলের বৃদ্ধি ব্যহত হয়, তুলার আঁশ হলদে হয়ে যায় এবং বীজ নষ্ট হয়।
⇒ প্রতিকার:
ক) ডিমের গাদা ও লার্ভা/ক্রীড়া সংগ্রহ করে মেরে ফেলতে হবে।
খ) পাখি যেন পোকা খেতে পারে তাই জমির পাশে ডাল পুঁতে দিতে হবে।
গ) কার্বোসালফান ২০ তরল ২ মি.লি. ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

• তুলার সাদা মাছি:
⇒ ক্ষতির ধরণ:
- সাদা মাছি পাতার রস শোষণ করে, এরা পাতার উপর এক ধরনর মধুকণা নিঃসরণ করে, ফলে সেখানে সুটি মোল্ড ছত্রাক জন্মায়।
- এর আঠালো পদার্থ তুলার লিন্টের সাথে লেগে লিন্টের গুণগত মান নষ্ট হয়।
⇒ প্রতিকার:
- ক্লোরোপাইরিফস ২০ তরল ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭১৯.
আই.সি তে ইলেকট্রনিক ডিভাইস হিসেবে থাকে-
  1. ক) ট্রানজিস্টার
  2. খ) ডায়োড
  3. গ) রেজিস্টর
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
আই.সি এর পূর্ণ নাম ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। আই.সি কে সিলিকন চিপ বা চিপ বলা হয়। এটি এক ধরনের মাইক্রো ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস যাতে অনেকগুলো ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ডায়োর ক্যাপাসিটর ইত্যাদি কম্পনেন্ট সিলিকন চিপ এর উপর নির্মাণ করে জোড়া লাগানো হয়।
১,৭২০.
গর্ভকালীন সময়ে অত্যাবশ্যকীয় টিকা কোনটি?
  1. ক) হেপাটাইটিস-বি
  2. খ) করোনা
  3. গ) রুবেলা
  4. ঘ) টিটেনাস
ব্যাখ্যা
গর্ভকালীন সময়ে একজন মায়ের টিটেনাস টিকা গ্রহণ করতে হয়। 

টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) থেকে রক্ষ পাওয়ার জন্য টিটি টিকা নিতে হয়। হবু মায়েদের টিটি টিকা নিতে হবে যেন বাচ্চার ধনুষ্টঙ্কার না হয়। যদি আগে কোণ টিকা নেওয়া না থাকে, তবে সবগুলোই দিতে হবে। শিশুদের যে পেন্টা ভ্যালেন্ট টিকা দেয়া হয় তাতে ধনুষ্টঙ্কার প্রতিরোধী টিকা থাকে। কিন্তু এই টিকা নবজাতককে সুরক্ষা দিতে পারে না বিধায় সম্প্রসারিত টিকা দান কর্মসূচির আওতায় আমাদের দেশে সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারী—যাদের বয়স ১৫ থকে ৪৯ বছর, তাদের জন্য ধনুষ্টঙ্কার ও রুবেলার বিরুদ্ধে টিটি ও এমআর টিকা দেয়া হয়।

টিটেনাসের ৫টি টিকার ডোজ সম্পন্ন থাকলে আর গর্ভাবস্থায় এই টিকা নেয়ার প্রয়োজন নেই। আর কেউ যদি কোনো টিকা না নিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ৫ মাসের পর ১ মাসের ব্যবধানে পর পর দুটি টিটি টিকা দিয়ে নিতে হবে। আর যদি পূর্বে দুই ডোজ টিকা নেয়া থাকে তাহলে প্রতি গর্ভাবস্থায় মাত্র একটি বুষ্টার ডোজ নিতে হবে। মাকে দেয়া এই টিকা মা ও বাচ্চা উভয়েরই ধনুষ্টংকার রোগের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। প্রসবকালে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতায় অসতর্কতা এবং অপরিষ্কার ছুরি, ব্লেড বা কাঁচি ব্যবহার করলে (বাচ্চার নাভী কাটার সময়) অথবা নাভীর গোড়ায় নোংরা কিছু লাগিয়ে দিলে নবজাতকের ধনুষ্টংকার রোগ হয়।

সূত্র:  উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ ওয়েবসাইট। 
১,৭২১.
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে কী করতে হয়?
  1. ১ দিন যোগ
  2. ২ দিন যোগ
  3. ১ দিন বিয়োগ
  4. ২ দিন বিয়োগ
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখাঃ
- ১৮০° পূর্ব দ্রাঘিমা এবং ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই। একেই বলে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা।
- আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অতিক্রমের সময় পশ্চিমগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন যোগ এবং পূর্বগামী যানের ক্ষেত্রে একদিন বিয়োগ হবে।

• মূল মধ্যরেখাঃ
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কল্পিত রেখাকে ০ দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বই হলো সেই স্থানের দ্রাঘিমাংশ।
- প্রতি ১দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময় ব্যবধান হয়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭২২.
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে কোন রোগটি হয়ে থাকে?
  1. ক) ডায়াবেটিস
  2. খ) এইডস
  3. গ) যক্ষ্মা
  4. ঘ) অস্টিওপরোসিস
ব্যাখ্যা
মানবদেহে ক্যালসিয়ামের অভাবে অস্টিওপরোসিস রোগটি হয়ে থাকে। 

- অস্টিওপোরোসিস হাড়ের ক্ষয়জনিত একটি রোগ।
- এ সমস্যায় ঘনত্ব কমে গিয়ে হাড় হালকা ও ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
- সাধারণত বয়স্ক নারী এবং পুরুষ এর মাঝে এ রোগটি দেয়া দেয়। 

সূত্র- ১৯৯ পৃষ্ঠা, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৭২৩.
হাড় ভাঙা আছে কিনা তা যাচাই করার জন্য কোন রশ্মি ব্যবহার করা হয়?
  1. রঞ্জন রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. বিটা রশ্মি
  4. আলফা রশ্মি
ব্যাখ্যা

• হাড় ভাঙা আছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য রঞ্জন রশ্মি (X-ray) ব্যবহার করা হয়। রঞ্জন রশ্মি এমন এক ধরনের বিদ্যুৎচুম্বকীয় রশ্মি, যা ঘনত্বের উপর নির্ভর করে পদার্থের মধ্যে দিয়ে ভিন্নভাবে প্রক্ষেপিত হয়। হাড় ঘন ও কঠিন হওয়ায় রঞ্জন রশ্মিকে কম প্রবাহিত করে, আর নরম টিস্যু বা মাংসের মধ্য দিয়ে বেশি প্রবাহিত হয়। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে রঞ্জন রশ্মি দিয়ে হাড়ের অবস্থান, ভাঙা বা ফাটল সহজেই ধরা যায়। গামা, বিটা বা আলফা রশ্মি মূলত চিকিৎসা বা বিকিরণ সংক্রান্ত কাজে ব্যবহৃত হয়, তবে হাড় পরীক্ষা করতে এগুলো ব্যবহার করা হয় না। তাই হাড় ভাঙা নির্ণয়ের জন্য রঞ্জন রশ্মিই সঠিক পদ্ধতি।

- উত্তর: ক) রঞ্জন রশ্মি। 

• এক্সরে (রঞ্জন রশ্মি):
- জার্মান পদার্থবিদ উইলহেলম রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কার করেন।
- ১৮৯৫ সালে এক্স-রশ্মি আবিষ্কৃত হয়।
- এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য বিজ্ঞানী রন্টজেন 1901 সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন।
- এটি একটি তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ।
- এক্স-রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য 10- 8 m থেকে 10- 13 m পর্যন্ত।
- এক্স-রশ্মি উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন।

• এক্সরে এর ব্যবহার:
- হীরক সনাক্তকরণ,
- স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল শনাক্ত করা,
- শরীরের ভিতরের কোন বস্তুর বা ফুসফুসে কোন ক্ষতের অবস্থান নির্ণয়,
- গোয়েন্দা বিভাগে কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক রাখলে তা খুঁজে বের করতে এক্স রশ্মি বা রঞ্জন রশ্মি ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭২৪.
কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের কোন দিক বরাবর অতিক্রম করেছে? 
  1. উত্তর-পশ্চিম
  2. উত্তর-দক্ষিণ
  3. দক্ষিণ-পূর্ব
  4. পূর্ব-পশ্চিম
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা: 
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। 
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত। 
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার ছেদ বিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়। 
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১,৭২৫.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউস গ্যাস?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) ওজোন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) অক্সিজেন
ব্যাখ্যা
• কার্বন ডাই অক্সাইড হলো গ্রীন হাউস গ্যাস।

গ্রীন হাউস অ্যাফেক্ট:
- শীত প্রধান দেশে গ্রীন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রীন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমন্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট বলে।

গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো-
- কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2),
- মিথেন (CH4),
- নাইট্রাস অক্সাইড (N2O),
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC),
- ওজোন (O3)
- জলীয় বাষ্প

- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.
১,৭২৬.
ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে কোনটি?
  1. ক) লিফ রোল
  2. খ) লিফ ব্লাইট
  3. গ) লিফ কার্ল
  4. ঘ) লিফ বেইন
ব্যাখ্যা
ধানের পাতা ধ্বসা (leaf blight) ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ঘটে। এছাড়া আলুর লিফরোল (পাতা কুঁচকাইয়া যাওয়া), পেঁপের লিফকার্ল, ক্লোরোসিস (পাতায় হলুদাভ দাগ) ইত্যাদি রোগ ভাইরাস দ্বারা ঘটে থাকে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৭২৭.
বিজ্ঞানী গ্যালিলিও কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. ইতালি
  2. ফ্রান্স
  3. গ্রিস
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা
গ্যালিলিও:
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও একজন ইতালিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী,জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং দার্শনিক।
- বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গাণিতিক সূত্র দেওয়ার পর পরীক্ষা করে সেই সূত্রটি প্রমাণ করার বৈজ্ঞানিক ধারার সূচনা করেন।
- গ্যালিলিওকে আধুনিক বিজ্ঞানের জনক বলা হয়।
- তিনি আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সূচনা করেন।
- ১৬০৯ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও একটি উন্নত ধরণের দূরবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
- গ্যালিলিও মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর জন্য তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- সূত্রগুলো স্থির অবস্থান থেকে মুক্তভাবে পড়ন্ত যেকোনো বস্তুর পরিমাপের বেলায় ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে,
- ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন।
- নিউটন বলবিদ্যা ও গতিবিদ্যার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার সূত্র প্রদান করেন।

উৎস i) পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।  
          ii) Britannica.
১,৭২৮.
small pox কী ধরনের রোগ?
  1. DNA ভাইরাস ঘটিত
  2. RNA ভাইরাস ঘটিত
  3. ব্যাকটেরিয়া ঘটিত
  4. mRNA ভাইরাস ঘটিত
ব্যাখ্যা
smallpox - রোগটি DNA ভাইরাস ঘটিত। অপশনগুলোর মধ্যে একমাত্র খ) স্মলপক্স DNA টাইপ ভাইরাসঘটিত।

Smallpox বা গুটিবসন্ত মানবজাতির ইতিহাসে একমাত্র রোগ যেটা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছে।

- WHO ১৯৮০ সালে গুটিবসন্ত নির্মূলের ঘোষণা দেয়।
- গুটিবসন্ত হয় - ভেরিওলা ভাইরাসের কারনে। (DNA Type)
- সর্বশেষ ১৯৭৭ সালে সোমালিয়াতে দেখা গিয়েছিল।
ভ্যাক্সিনঃ এডয়ার্ড জেনার ১৭৯৬ সালে তৈরি করেন।

গণস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এটাকেই সবচেয়ে বড় সফলতা বলা যায়।

Smallpox is an acute contagious disease caused by the variola virus, a member of the orthopoxvirus family. It was one of the most devastating diseases known to humanity and caused millions of deaths before it was eradicated. It is believed to have existed for at least 3000 years.

The smallpox vaccine, created by Edward Jenner in 1796, was the first successful vaccine to be developed. He observed that milkmaids who previously had caught cowpox did not catch smallpox and showed that a similar inoculation could be used to prevent smallpox in other people.

The World Health Organization launched an intensified plan to eradicate smallpox in 1967. Widespread immunization and surveillance were conducted around the world for several years. The last known natural case was in Somalia in 1977. In 1980 WHO declared smallpox eradicated – the only infectious disease to achieve this distinction. This remains among the most notable and profound public health successes in history.

Source: WHO

Poxviruses are brick or oval-shaped viruses with large double-stranded DNA genomes. Poxviruses exist throughout the world and cause disease in humans and many other types of animals. Poxvirus infections typically result in the formation of lesions, skin nodules, or disseminated rash.
Infection in humans usually occurs due to contact with contaminated animals, people, or materials. While some poxviruses, such as smallpox (variola virus), no longer exist in nature, other poxviruses can still cause disease. These include monkeypox virus, orf virus, molluscum contagiosum, and others.

Content source: Centers for Disease Control and Prevention (CDC), USA Govt.
১,৭২৯.
সৌরজগতের কোন গ্রহটি পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়?
  1. বুধ 
  2. শুক্র
  3. নেপচুন
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা

• শুক্র (Venus):
- বুধের মতো শুক্র গ্রহকেও ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি।
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। (বোর্ড বই)

 উল্লেখ্য নাসার তথ্য মতে,
- শুক্রের মতো, ইউরেনাসও পূর্ব থেকে পশ্চিমে ঘূর্ণন করে।
- তবে ইউরেনাসের বিশেষত্ব হলো এটি পার্শ্বাভিমুখে ঘূর্ণন করে, যা একে অনন্য করে তুলেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৩০.
নিচের কোন রোগটির জন্য ব্যাকটেরিয়া দায়ী?
  1. ক) আনডিউলেটেড ফিভার
  2. খ) জলাতঙ্ক
  3. গ) পীত জ্বর
  4. ঘ) টুংরো রোগ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- মানুষের অধিকাংশ মারাত্মক রোগগুলিই ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে। মানুষের যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, টাইফয়েড, কলেরা, ডিপথেরিয়া, আমাশয়, ধনুষ্টংকার, হুপিংকাশি ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ। এ ছাড়াও এনথ্রাক্স, মেনিনিজাইটিস, কুষ্ঠ, আনডিউলেটেড ফিভার ইত্যাদি রোগও ব্যাকটেরিয়া দিয়ে হয়ে থাকে।
- AIDS, ডেঙ্গু, বার্ড ফ্লু, চিকুনগুনিয়া, সোয়াইন ফ্লু, SARS, জলাতঙ্ক, গুটি বসন্ত, জলবসন্ত, ভাইরাল নিউমোনিয়া, সাধারণ সর্দি, হাম, ইনফ্লুয়েঞ্জা, হার্পিস, পীত জ্বর, গো- বসন্ত, এনোজেনিটাল ক্যান্সার, তামাক, সিম, গোল আলু ইত্যাদির মোজাইক রোগ, কলার বানচি টপ রোগ, ধানের টুংরো রোগ ইত্যাদি বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে হয়ে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৭৩১.
জোয়ার-ভাটার ফলে নিচের কোনটি ঘটে? 
  1. নদীর পানি বরফে পরিণত হয়
  2. নদীখাত গভীর হয়
  3. নদীর পানি শুকিয়ে যায়
  4. নদীর প্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটার প্রভাব: 
- মানব-জীবনের উপর জোয়ার-ভাটার যথেষ্ট প্রভাব আছে। 
- বিশ্বের সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশসমূহে জোয়ার-ভাটার নিম্নের প্রভাবসমূহ লক্ষ করা যায়- 
১। জোয়ার-ভাটার মাধ্যমে ভূখণ্ড থেকে আবর্জনাসমূহ নদীর মধ্য দিয়ে সমুদ্রে গিয়ে পতিত হয়। 
২। দৈনিক দু'বার জোয়ার-ভাটা হওয়ার ফলে ভাটার টানে নদীর মোহনায় পলি ও আবর্জনা জমতে পারে না। 
৩। জোয়ার-ভাটার ফলে সৃষ্ট স্রোতের সাহায্যে নদীখাত গভীর হয়। 
৪। বহু নদীতে ভাটার স্রোতের বিপরীতে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ (Hydroelectricity) উৎপাদন করা হয়। 
৫। জোয়ারের পানি নদীর মাধ্যমে সেচে সহায়তা করে এবং অনেক সময় খাল খনন করে জোয়ারের পানি আটকিয়ে সেচকার্যে ব্যবহার করা হয়। 
৬। শীতপ্রধান দেশে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি জোয়ারের সাহায্যে নদীতে প্রবেশ করে এবং এর ফলে নদীর পানি সহজে জমে না ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৩২.
গবাদিপশুর 'তড়কা' রোগ কোনটির কারনে হয়?
  1. ব্যাকটেরিয়া
  2. ভাইরাস
  3. ছত্রাক
  4. পরজীবী
ব্যাখ্যা
তড়কা (Anthrax)ঃ এটি গবাদিপশুর ব্যাকটেরিয়াজনিত একটি মারাত্মক সংক্রামক রােগ। বাংলাদেশে যুগ যুগ ধরে তড়কা রােগ হয়ে আসছে, তবে বিগত বছরগুলাের তুলনায় বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা অধিক হওয়ায় তা ব্যাপকভাবে আলােচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতেঃ
• তড়কা এক ধরনের Acute রােগ যা Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে।
• পশু থেকে পশু ও পশু থেকে মানুষের শরীরেও সংক্রমিত হতে পারে।
• পশু অথবা মানুষের শরীরে জীবাণু প্রবেশের পর রােগের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে ৬০ দিনের মত সময় লাগে।
• বায়ুবাহিত ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ফুসফুস সংক্রমিত হলে অতি অল্প সময়ে তার লক্ষণ পরিলক্ষিত হতে পারে।
• তড়কা রােগ মূলত: শরীরে তিন ধরনের অংশকে আক্রান্ত করে। যেমন- ত্বক, ফুসফুস ও অন্ত্র
• শতকরা ৯৫% ক্ষেত্রে ত্বকেই সরাসরি সংক্রমিত হয়। ত্বকে ফোড়া/ক্ষত সৃস্টি হয় এবং Toxin এর কারণে রােগী অস্বস্তিতে ভােগে ।
• ৪-৫% ক্ষেত্রে ফুসফুসে সংক্রমণ হয়। এ সময় সাধারণ সর্দি কাশির মত লক্ষণ দেখা যায়।
• ১% এর কম ক্ষেত্রে অন্ত্রে সংক্রমণ হয়। এ অবস্থায় অরুচি, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি লক্ষণসমূহ প্রকাশ পায়।
• পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং রােগের লক্ষণসমূহ দেখে তড়কা রােগ নির্ণয় করা সম্ভব । আক্রান্ত মানুষদের সাধারণ Antibiotic প্রয়ােগে সম্পূর্ণভাবে সুস্থ করে তােলা যায়। এ রােগের প্রতিষেধকও পাওয়া যায়।

উৎস:  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট
১,৭৩৩.
পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন কোন বিজ্ঞানী?
  1. ক) বোর
  2. খ) ডাল্টন
  3. গ) রাদারফোর্ড
  4. ঘ) নিউটন
ব্যাখ্যা
১৯১১ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল প্রদান করেন। রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেছেন বলে, এ মডেলটিকে সােলার সিস্টেম মডেল বা সৌর মডেল বলে। আবার, এ মডেলের মাধ্যমে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস সম্পর্কে ধারণা দেন বলে এ মডেলটিকে নিউক্লিয়ার মডেলও বলা হয়। রাদারফোর্ডই সর্বপ্রথম নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনের কক্ষপথ সম্বন্ধে ধারণা দেন।

উৎসঃ রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৩৪.
কোন বস্তুর বেগ আলোর বেগের সমান হলে,তার ভর হবে -
  1. ক) শুন্য
  2. খ) সমান
  3. গ) দ্বিগুন
  4. ঘ) অসীম
ব্যাখ্যা
আইন্সটাইনের থিউরি অফ রিলেটিভিটি অনুযায়ী, বস্তুর বেগ যদি কখনো আলোর বেগের সমান হয়ে যায়, তখন তার ভর অসীম হয়ে যাবে।
১,৭৩৫.
মানুষের রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্লুকোজ বেড়ে যায় কোন রোগের কারণে?
  1. অ্যাজমা
  2. ডায়বেটিস
  3. হেপাটাইটিস
  4. ক্যান্সার
ব্যাখ্যা
• ডায়বেটিস হলে মানুষের রক্তে অতিরিক্ত পরিমাণ গ্লুকোজ বেড়ে যায়।

• ডায়বেটিস:

- বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামক এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে কমিয়ে দেয়।
- অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহেন্স থেকে গ্লুকানল এবং ইনসুলিন নির্গত হয়।
- ডায়াবেটিস রোগে ইনসুলিন ব্যবহৃত হয়।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন নির্গত করতে পারে না, কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৩৬.
Fathometer is used to measure -
  1. ক) Sound intensity
  2. খ) Earthquakes
  3. গ) Rainfall
  4. ঘ) Ocean depth
ব্যাখ্যা
• ফ্যাদোমিটার - সমুদ্রের গভীরতা নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ফ্যাদোমিটার।
• ব্যারোমিটার - বায়ুর চাপ নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ব্যারোমিটার।
• ট্যাকোমিটার - উড়োজাহাজের গতি নির্ণায়ক যন্ত্র ট্যাকোমিটার।
• ভিক্টোমিটার - ভিন্টেজ এয়ারক্রাফট বা ভিক্টোমিটার একটি কেন্দ্রাতিক ট্যাকোমিটার উড়োজাহাজের গতি নির্ণয়ে ব্যবহার করে ইউ. এস নেভি।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৭৩৭.
কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত বিদ্যা কোনটি?
  1. ক) Geology
  2. খ) Anthropology
  3. গ) Neurology
  4. ঘ) Entomology
ব্যাখ্যা
কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে কীটতত্ত্ব বা Entomology বলে। Geology হচ্ছে ভূতত্ত্ব, Anthropology হচ্ছে নৃবিজ্ঞান এবং Neurology হচ্ছে স্নায়ুবিদ্যা।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৩৮.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বাংলাদেশকে কোন রোগ মুক্ত ঘোষণা করেছে?
  1. পোলিও
  2. ফাইলেরিয়া
  3. কালাজ্বর
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
পোলিও: 
- ‘পোলিওমাইটিলিজ’ এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা ‘পোলিও’ নামে অধিক পরিচিত। 
- ১৮৪০ সালে জ্যাকব হেইনার প্রথম এই রোগ শনাক্ত করেন। 
- ১৯০৯ সালে কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার পোলিও ভাইরাস শনাক্ত করেন। 
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন। 
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন। 
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১টি দেশকে পোলিও ‍মুক্ত ঘোষণা করে। 

কালাজ্বর: 
- কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্বে প্রথম স্বীকৃতি পায় - বাংলাদেশ।
- কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে বিশ্বের প্রথম কোনো দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ।
- ৩১ অক্টোবর ভারতের দিল্লীতে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত ডব্লিউএইচওর ৭৬তম দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্মেলনে বাংলাদেশকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- এর আগে বাংলাদেশ ফাইলেরিয়া ও পোলিও নির্মূল করে সনদ পেয়েছিল। এবার কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্বে প্রথম হয় বাংলাদেশ। 

ফাইলেরিয়া: 
- কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগের পাশাপাশি চর্মরোগের ঝুঁকি রয়েছে। 
- দেশে কিউলেক্স মশার প্রভাব দেখা দেয় অক্টোবর থেকে, অবশ্য শীতের তীব্রতা বাড়লে মশার কামড়ের মাত্রা কমে। 
- কিউলেক্স মশার কামড়ে ফাইলেরিয়া বা গোদরোগ ও জাপানি এনসেফালাইটিস হয়। 
- বাংলাদেশে লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস নির্মূলে ২০০১ সালে জাতীয় কর্মসূচি চালু হয়। 
- মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ডের পর বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের চতুর্থ দেশ হিসাবে লিম্ফ্যাটিক ফাইলেরিয়াসিস নির্মূল করেছে। 

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট এবং দৈনিক প্রথম আলো ও যুগান্তর পত্রিকা।
১,৭৩৯.
বিড়াল কিংবা কুকুর কামড়ালে কোন ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়?
  1. ক) OPV
  2. খ) HDCV
  3. গ) DPT
  4. ঘ) MMR
ব্যাখ্যা
বিড়াল কিংবা কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগের সম্ভাবনা থাকে; তাই জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করতে হয়।

• জলাতঙ্ক রোগের টিকার নাম - HUMAN DIPLOID CELL VACCINES (HDCV).
• জলাতঙ্ক রোগের টিকা আবিষ্কার করেন - লুই পাস্তুর।

১৮৮৫ সালের ৬ই জুলাই জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে মানবদেহে টিকা প্রয়োগ করা হয়। 
জলাতঙ্ক, যা হাইড্রোফোবিয়া নামেও পরিচিত, একটি তীব্র ভাইরাল সংক্রমণ যা প্রায় সবসময়ই মারাত্মক। এটি সংক্রামক রোগের বিভাগের অধীনে আসে এবং খামার বা বন্য প্রাণীদের দ্বারা সংক্রামিত হয়; সাধারণত মাংসাশী যেমন কুকুর, বিড়াল, শেয়াল, রেকুন। এটি বেশিরভাগ আফ্রিকা এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার কিছু অংশে দেখা যায়। 

জলাতঙ্কের লক্ষণ:
সন্দেহজনক প্রাণি কামড়ানোর ৯ থেকে ৯০ দিনের মাঝে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দেয়। কারো শরীরে জলাতঙ্কের লক্ষণ দেখা দিলে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে উন্মত্ত বা পাগলামো আচরণ এবং মৌন আচরণ—এ দুই ধরনের আচরণ দেখা দিতে পারে। অস্বাভাবিক আচরণে আক্রান্ত ব্যক্তির কথাবার্তা ও ভাবভঙ্গি হবে অস্বাভাবিক। সে উদ্দেশ্য ছাড়াই ছুটে বেড়াবে, ক্ষুধামন্দা হবে, বিকৃত আওয়াজ করবে, বিনা প্ররোচনায় অন্যকে কামড়াতে আসবে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- OPV (Oral Polio Vaccine) - পোলিও রোগের টিকার নাম ।
- DPT - ডিফথেরিয়া, হুপিং কাশি ও ধনুষ্টঙ্কারের টিকা।
- MMR - ভ্যাকসিন হাম রোগের টিকা।

সূত্র: National Library of Medicine Website, ও ব্রিটানিকা.
১,৭৪০.
রাতের আকাশে “ছুটন্ত তারা” হিসেবে দেখা জ্বলন্ত বস্তুর নাম কী?
  1. উপগ্রহ
  2. গ্রহ
  3. উল্কা
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

উস্কা (Meteor):
- রাতের আকাশে “ছুটন্ত তারা” হিসেবে দেখা জ্বলন্ত বস্তুর নাম- উল্কা।
-  রাতের মেঘমুক্ত আকাশে অনেক সময় মনে হয় যেন নক্ষত্র ছুটে যাচ্ছে বা কোনো নক্ষত্র যেন এই মাত্র খসে পড়ল।
- এই ঘটনাকে নক্ষত্রপতন বা তারা খসা বলে।
- এরা কিন্তু আসলে কোনো নক্ষত্র নয়, এদের নাম উল্কা ।
- মহাশুন্যে অজস্র জড়পিন্ড ভেসে বেড়ায়।
- এই জড়পিণ্ডগুলো অভিকর্ষ বলের আকর্ষণে প্রচণ্ড গতিতে (সেকেন্ডে প্রায় ৩ কিলোমিটার) পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে।
- বায়ুর সংস্পর্শে এসে বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে এরা জ্বলে ওঠে।
- ফলে এদের ছুটন্ত তারা বলে মনে হয়।
- বেশিরভাগ উল্কাপিন্ডই আকারে বেশ ক্ষুদ্র।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।

১,৭৪১.
কোনো স্থানের বায়ুচাপ হঠাৎ কমে গেলে কী হয়?
  1. বায়ুপ্রবাহ কমে যায়
  2. বায়ুপ্রবাহ বেড়ে যায়
  3. বায়ুপ্রবাহ থেমে যায়
  4. বায়ুপ্রবাহ অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
- বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুচাপ কমে যায় এবং আবার বায়ুচাপ কমে গেলে বায়ুপ্রবাহ বেড়ে যায়। 
- বায়ুতে তাপমাত্রা বাড়লে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়। 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে। 
- তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে। 
- যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত। 
- অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক বলে। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৪২.
সমুদ্রের জল প্রধানত ফুলে উঠে কার আকর্ষণে?
  1. ক) সূর্য
  2. খ) চন্দ্র
  3. গ) পৃথিবী
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের জল তরল বলে চাঁদের আকর্ষণে সমুদ্রের জল প্রধানত ফুলে উঠে। সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত প্রবল হয় না।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল বই
১,৭৪৩.
কোনটি গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া?
  1. ই. কোলাই
  2. স্ট্যাফাইলোকক্কাস
  3. সালমোনেলা
  4. ভিব্রিও
ব্যাখ্যা
• গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া হলো স্ট্যাফাইলোকক্কাস। 

• গ্রাম রঞ্জন পদ্ধতি:

- ১৮৮৪ সালে ড্যানিশ চিকিৎসক Hans Christian Gram ব্যাকটেরিয়ার জন্য একটি রঞ্জন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন, যাকে বলা হয় Gram staining বা গ্রাম রঞ্জন পদ্ধতি।
- স্লাইডে ব্যাকটেরিয়া স্মিয়ার (Smear) নিয়ে তাতে ক্রিস্টাল ভায়োলেট রং দিতে হবে, এরপর আয়োডিন দিতে হবে। এরপর এটি অ্যালকোহলে ধুয়ে স্যাফ্রানিন-এর লাল রং-এ কাউন্টার স্টেইন করতে হবে।

• গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া:
- যে সকল ব্যাকটেরিয়া গ্রাম রঞ্জন পদ্ধতিতে ক্রিস্টাল ভায়োলেট রং ধরে রাখতে পারে তাদেরকে গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া বলা হয়।
- ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া, ক্লসট্রিডিয়াম, স্ট্রেপ্টোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, অ্যাকটিনোব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি গ্রাম পজিটিভ।

• গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া:
- যে সকল ব্যাকটেরিয়াতে ভায়োলেট রং ধুয়ে চলে যাবে এবং স্যাফ্রানিনের লাল রং ধরে রাখবে তাদেরকে বলা গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া বলা হয়।
 - এনটেরোব্যাকটেরিয়া, সকল সায়ানোব্যাকটেরিয়া, শিগেলা, সালমোনেলা, রাইজোবিয়াম, ভিব্রিও, ই. কোলাই ইত্যাদি গ্রাম নেগেটিভ।

• চিকিৎসা ক্ষেত্রে গ্রাম স্টেইনিং অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
- পেনিসিলিন বা পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ গ্রাম পজিটিভ ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর উপাদান পেপটিডোগ্লাইকান উৎপাদন বন্ধ করে দেয়, ফলে নতুন সৃষ্ট কোষ টিকে থাকতে পারে না।
- আবার টেট্রাসাইক্লিন, স্ট্রেস্টোমাইসিন জাতীয় ওষুধ গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন সংশ্লেষণ বন্ধ করে দেয়, তাই নতুন সৃষ্ট কোষ টিকে থাকতে পারে না। এভাবে রোগী আরোগ্য হয়।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৭৪৪.
জোয়ার-ভাঁটার তেজকটাল কখন হয়?
  1. যখন চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণে অবস্থান করে
  2. অমাবস্যা তিথিতে
  3. অষ্টমী তিথিতে
  4. একাদশীতেে
ব্যাখ্যা

পানির উচ্চতা ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ: 
- পানির উচ্চতার উপর ভিত্তি করে জোয়ার ভাঁটাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. তেজ কটাল বা ভরা কটাল এবং 
২. মরা কটাল। 
 
তেজ কটাল বা ভরা কটাল (Spring Tide): 
- চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। 
- যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে। 
- মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে। এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল। 
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের যে স্থানে চন্দ্রের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার হয়, সে স্থানে সূর্যের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়। 
- আবার চন্দ্রের প্রভাবে যে স্থানে গৌণ জোয়ার হয় ঐ স্থানে সূর্যের আকষর্ণে মুখ্য জোয়ার হয়। 
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪৫.
দিন-রাত্রি হওয়ার কারণ কোনটি?
  1. আহ্নিক গতি 
  2. মধ্যাকর্ষণ শক্তি
  3. বার্ষিক গতি
  4. দোলন গতি
ব্যাখ্যা

পৃথিবীতে দিন-রাত্রি সংঘটিত হয় আহ্নিক গতির কারণে। আহ্নিক গতি বলতে পৃথিবী তার অক্ষের চারপাশে ঘূর্ণনকে বোঝায়। এই ঘূর্ণনের ফলে পৃথিবীর এক পাশ সূর্যের দিকে থাকে, যা দিন, আর বিপরীত পাশ অন্ধকারে থাকে, যা রাত সৃষ্টি করে। পৃথিবী একবার পূর্ণ ঘূর্ণন করতে প্রায় ২৪ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই প্রতিদিন এই ঘূর্ণনের কারণে সূর্য উঠা ও অস্ত যাওয়ার পরিবর্তন ঘটে এবং দিন-রাত্রির পর্যায়বতী চক্র চলতে থাকে। মধ্যাকর্ষণ শক্তি, দোলন গতি বা বার্ষিক গতি দিন-রাত্রির জন্য নয়, বরং অন্যান্য প্রাকৃতিক ঘটনা ও ঋতু পরিবর্তনের জন্য দায়ী। তাই দিন-রাত্রির জন্য সঠিক কারণ হলো আহ্নিক গতি।

আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ-
দিন-রাত্রি সংঘটন,
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি,
• জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৪৬.
কৃষিক্ষেত্রে রবি মৌসুমের সময়কাল কোনটি?
  1. জ্যৈষ্ঠ থেকে ভাদ্র
  2. কার্তিক থেকে ফাল্গুন
  3. শ্রাবণ থেকে আশ্বিন
  4. চৈত্র থেকে আষাঢ়
ব্যাখ্যা

ফসলের মৌসুম:
- একটি ফসল বীজ বপন থেকে শুরু করে তার শারীরিক বৃদ্ধি ও ফুল-ফল উৎপাদনের জন্য যে সময় নেয় তাকে ঐ ফসলের মৌসুম বলে।
- অর্থাৎ কোনো ফসলের বীজ বপন থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত সময়কে সে ফসলের মৌসুম বলে।
- বাংলাদেশের জলবায়ুর উপর নির্ভর করে বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের ফসল জন্মে।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারা বছরকে প্রধানত দুটি মৌসুমে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
ক. রবি মৌসুম
খ. খরিপ মৌসুম

⇒ রবি মৌসুম:
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কে রবি মৌসুম বলে।
- রবি মৌসুমের প্রথম দিকে কিছু বৃষ্টিপাত হয়, তবে তা খুবই কম হয়ে থাকে।
- এ মৌসুমে তাপমাত্রা, বায়ুর আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত সবই কম হয়ে থাকে।

⇒ খরিপ মৌসুম:
- চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিপ মৌসুম। 
- খরিপ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

তথ্যসূত্র - কৃষিশিক্ষা, সপ্তম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১,৭৪৭.
নিচের কোনটি ফোটন কণার সাথে সম্পর্কিত?
  1. আলো
  2. শব্দ
  3. বিদ্যুৎ
  4. মহাকর্ষ
ব্যাখ্যা
ফোটন হচ্ছে আলোর কণা বা ক্ষুদ্রতম একক।
প্লাঙ্কের তত্ত্ব অনুসারে - আলোকরশ্মি কোন শক্তি হতে অনবরত বের না হয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিচ্ছিন্ন প্যাকেট বা শক্তি বের হয়। প্রত্যেক বর্ণের আলোর জন্য এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটের শক্তির নির্দিষ্ট মান রয়েছে। এই এক একটি বিচ্ছিন্ন প্যাকেটকে কোয়ান্টাম বা ফোটন বলে।
ফোটনের কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য দেয়া হলো-
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৭৪৮.
পরিবেশের বিভিন্ন দূষকের মধ্যে ওজনহীন প্রভাবক কোনটি?
  1. তেল
  2. ছাই
  3. ধূলিকণা
  4. গামারশ্মি
ব্যাখ্যা

১। কঠিন আবর্জনা (Solid Wastes):
- যে সকল কঠিন পদার্থ পরিবেশের দূষণ ঘটায় সেগুলো কঠিন আবর্জনার অন্তর্ভুক্ত।
- যেমন- গৃহস্থালি ও জবাইখানার কঠিন বর্জ্য (সবজির অব্যবহৃত অংশ, মাছ, মুরগির ময়লা) পরিবেশকে দূষিত করে।
- এছাড়াও নির্মাণ কাজের পর অবশিষ্ট কঠিন পদার্থ বাতাসের সাথে মিশে পরিবেশ দূষণ ঘটায়।
- রান্নার পরে অব্যবহৃত ছাই (Ashes) বাংলাদেশের গ্রামীণ পরিবেশে দূষণ ঘটায়।
- শিল্পজ আবর্জনাও নদী ও সাগরের পানিকে দূষিত করে এবং নির্গত ধোঁয়া বায়ুদূষণও ঘটায়।
- যেমন চিনি কারখানা, সার কারখানা, লৌহ ও ইস্পাত নির্মাণ কারখানা, ইটের ভাঁটা ও চামড়া শিল্পের কারখানা থেকে কঠিন বর্জ্য ও ধোঁয়া পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে।

২। তরল আবর্জনা (Liquid Wastes):
- পরিবেশের তরল দূষকসমূহ হলো- তেল, অ্যাসিড, অ্যাসিড বৃষ্টি, তরল কীটনাশক ও অন্যান্য বিষাক্ত তরল পদার্থ।
- বর্তমানে বাংলাদেশের হাওড়, বাওড়, নদীতে ইঞ্জিন চালিত নৌকা, লঞ্চ, স্টিমারের চলন চালু হওয়ার কারণে তেল নিঃসারণের ফলে জলজ প্রতিবেশ দূষিত হচ্ছে।
- এছাড়া তেলবাহী জাহাজ এর দুর্ঘটনার ফলে সামুদ্রিক প্রতিবেশও দূষিত হয়।
- পানিতে অ্যাসিডের পরিমাণ অধিক হলে এটি জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য হুমকি হয়ে যায়।
-   কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত তরল কীটনাশক মাটির উর্বরতা হ্রাস করে এবং বৃষ্টির পানির সাথে মিশে নদী ও সাগরের পানিতে মিশে ও জলজ প্রতিবেশের ক্ষতি করে।
- কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত জীবানুনাশক, কীটনাশক যেমন- D.D.T. এলড্রিন, ক্লোরোডেন ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরিবেশ এবং মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

৩। গ্যাসীয় অবর্জনা (Gaseous Wastes):
- উদ্ভিদ ও প্রাণিকূলের অস্তিত্বের জন্য বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
- প্রাণী শ্বাসপ্রশ্বাস তথা জীবনধারণের জন্য অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং উদ্ভিদ সূর্যালোকের সাহায্যে পানি ও ক্লোরোফিল ব্যবহার করে কার্বন ডাই অক্সাইডের সাহায্যে প্রস্তুত করে এবং অক্সিজেন (O2) ত্যাগ করে।
- কিন্তু বর্তমানে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন এবং নগরায়নের কারণে বাতাসে কার্বন মনো অক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2), সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), ওজোন (O3) প্রভৃতি গ্যাসের মাত্রা বেড়ে গিয়ে পরিবেশকে দূষিত করছে।
- এই সব গ্যাসকে পরিবেশের গ্যাসীয় দূষক হিসেবে ধরা হয়।

৪। ওজনহীন প্রভাবক (Waste without weight):
- পরিবেশের ওজনহীন প্রভাবক হিসেবে ধরা হয় এক্সরে রশ্মি, আলফা রশ্মি ও গামা রশ্মিকে
- এই সকল রশ্মির কারণে ক্যান্সার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়া শব্দকে ওজনহীন দূষক হিসেবে ধরা হয়।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৪৯.
কোনটি বায়ুর উপাদান নয়?
  1. ক) জলীয় বাষ্প
  2. খ) আর্গন
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম বায়ুর উপাদান নয়।

বায়ুমন্ডলের উপাদান (Elements of Atmosphere):
-বায়ুমন্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয়বাষ্পের সংমিশ্রনে গঠিত।
- বায়ুমন্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%।
- অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান। 



উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৭৫০.
নিচের কোনটি সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র?
  1. প্রক্সিমা সেন্টারাই
  2. আলফা সেন্টারাই 'এন'
  3. আলফা সেন্টারাই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রক্সিমা সেন্টারাই:
- সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই।
- প্রক্সিমা সেন্টারাই সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র, যা পৃথিবী থেকে প্রায় ৪.২ আলোকবর্ষ দূরে আলফা সেন্টারাই সিস্টেমে অবস্থিত।
- এটি একটি লাল বামন, যা নক্ষত্রের সবচেয়ে সাধারণ ধরন।
- এটি সূর্যের চেয়ে সাত গুণ ছোট।
- এর তাপমাত্রা প্রায় ৩,১০০ কেলভিন, যা সূর্যের তাপমাত্রার অর্ধেকের একটু বেশি।
- আকারে এটি বৃহস্পতি গ্রহের চেয়ে মাত্র ৫০% বড়।
- লাল বামন নক্ষত্র তাদের হাইড্রোজেন জ্বালানি খুব কার্যকরভাবে ব্যবহার করে, ফলে এদের আয়ুষ্কাল অত্যন্ত দীর্ঘ।
- জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, প্রক্সিমা সেন্টারাই চার ট্রিলিয়নেরও বেশি বছর একই অবস্থায় থাকবে (তুলনামূলকভাবে, মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর)।
- আলফা সেন্টারাই সিস্টেমটি সেন্টরাস নক্ষত্রপুঞ্জে দেখা যায়।
- তবে প্রক্সিমা সেন্টারাই সাধারণত খালি চোখে দেখা যায় না।
- ১৯১৫ সালে এটি স্কটিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী রবার্ট ইনেস আবিষ্কার করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,৭৫১.
নীহারিকা কী?
  1. গ্রহ
  2. অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ
  3. উল্কা পিণ্ড
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• নীহারিকা (Nebula):
- নীহারিকা হলো মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ।
- এদের আকার বিচিত্র।
- কিছু নীহারিকার দেহ গ্যাসীয় পদার্থে পূর্ণ।
- এদেরকে গ্যাসীয় নীহারিকা বলে।
- এক একটি নীহারিকার মধ্যবর্তী দূরত্ব ব্যাপক।
- এক একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে।
- এরা যেহেতু পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোক বর্ষ দূরে রয়েছে, তাই এদের মাঝে যেসব নক্ষত্র রয়েছে তাদের পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৭৫২.
নিচের কোন ব্যাকটেরিয়া লম্বা দন্ডের ন্যায়?
  1. ক) কক্কাস
  2. খ) ব্যাসিলাস
  3. গ) কমা
  4. ঘ) স্পাইরিলাম
ব্যাখ্যা

- ব্যাসিলাস দেখতে লম্বা দণ্ডের ন্যায়। ধনুষ্টংকার, রক্তামাশয় ইত্যাদি রোগ এরা সৃষ্টি করে। 
- কক্কাস ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি গোলাকার। এরা এককভাবে অথবা দলবেঁধে থাকতে পারে, যেমন- নিউমোনিয়া রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া। 
- কমা ব্যাকটেরিয়া বাঁকা দণ্ডের ন্যায়। মানুষের কলেরা রোগের ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের। 
- স্পাইরিলাম ব্যাকটেরিয়ার আকৃতি প্যাঁচানো। 

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, সপ্তম শ্রেণি

১,৭৫৩.
সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ ____________ পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
  1. বৃত্তাকার
  2. উপবৃত্তাকার
  3. সর্পিলাকার
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রিক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করেন।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- তিনি সৌর জগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত কয়েকটি সূত্র উপস্থাপন করেন।
- তাঁর নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত

• প্রথম সূত্র - সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র - প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্রের সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র - সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক।

- গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

তথ্যসূত্র - পদার্থবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৫৪.
নিচের কোন রেখায় সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. বিষুবরেখা
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মূল মধ্যরেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
- নিরক্ষরেখার উভয় পার্শ্বে ৫ ডিগ্রি করে এলাকায় সূর্য সারাবছর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- যার কারণে এখানে দিনরাত্রি সবসময় প্রায় সমান এবং তাপমাত্রার সারাবছর একই থাকে।
- ঋতুপরিবর্তন বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হয় না। অধিক তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত এখানকার জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল)
১,৭৫৫.
কিসের সংক্রমণে রিউম্যাটিক ফিভার হয়?
  1. ক) স্ট্রেপটোকক্কাস
  2. খ) স্টেফাইলোকক্কাস
  3. গ) ই কোলাই
  4. ঘ) টি টু ফাজ
ব্যাখ্যা
স্ট্রেপটোকক্কাসের সংক্রমণে রিউম্যাটিক ফিভার বা বাতজ্বর হয়৷ এর লক্ষণগুলো হচ্ছে শ্বাসনালীর প্রদাহ, টনসিলের প্রদাহ, ফুসকুড়িযুক্ত সংক্রামক জ্বর৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।
১,৭৫৬.
বাংলাদেশে প্রাপ্ত একটি জীবন্ত জীবাশ্ম হলো-
  1. কিং ক্র্যাব
  2. পিঁপড়া
  3. পেঁচা
  4. কিং ফিশ
ব্যাখ্যা
• King Crab বা রাজ কাঁকড়া:
- রাজ কাঁকড়া (অশ্বখুরাকৃতির কাঁকড়া বা সাগর কাঁকড়া) প্রকৃত পক্ষে কাঁকড়া নয় তবে কাঁকড়ার সহিত সাদৃশ্যযুক্ত সামুদ্রিক অ্যারাকনিড।
- প্রাগৈতিহাসিক এই প্রাণীকে "জীবন্ত জীবাশ্ম" বলা হয় যা প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বা ৫৫ কোটি বছর পূর্বে ট্রাইলোবাইট থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এদের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হওয়ায় অঙ্গসংস্থানিক পরিবর্তন ছাড়াই এরা পৃথিবীতে টিকে আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৭৫৭.
জোয়ার-ভাঁটার তেজ কটাল কখন হয়?
  1. অষ্টমী তিথিতে
  2. যখন চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণ অবস্থান করে
  3. একাদশীতে
  4. অমাবস্যার তিথিতে
ব্যাখ্যা

পানির উচ্চতা ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ: 
- পানির উচ্চতার উপর ভিত্তি করে জোয়ার ভাঁটাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. তেজ কটাল বা ভরা কটাল এবং 
২. মরা কটাল। 

তেজ কটাল বা ভরা কটাল (Spring Tide): 
- চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার-ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। 
- যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে। 
- মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে, এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল। 
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের যে স্থানে চন্দ্রের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার হয়, সে স্থানে সূর্যের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়। 
- আবার চন্দ্রের প্রভাবে যে স্থানে গৌণ জোয়ার হয় ঐ স্থানে সূর্যের আকষর্ণে মুখ্য জোয়ার হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৭৫৮.
কৃত্রিম উপগ্রহ কী জন্যে ব্যবহার করা হয়?
  1. গোয়েন্দা নজরদারি
  2. আবহাওয়ার পূর্বাভাস
  3. খনিজ সম্পদের সন্ধান
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• কৃত্রিম উপগ্রহ:
- মানুষের তৈরি বিভিন্ন উপগ্রহ আছে যারা পৃথিবীর চারদিকে ঘুরছে।
- এদের বলে কৃত্রিম উপগ্রহ।
- আবহাওয়ার পূর্বাভাস, তথ্য আদান-প্রদান, গোরেন্দা নজরদারি, খনিজ সম্পদের সন্ধান,পরিবেশ দূষণ নির্ণয় ইত্যাদি কাজে এসব কৃত্রিম উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৭৫৯.
বাংলাদেশে সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ংকরী সাইক্লোনটি হয়েছিল কোন সালে?
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৮৫ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ২০০৯ সালে
ব্যাখ্যা
সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- সাইক্লোন শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ "Kyklos" থেকে, যার অর্থ হলো Coil of Snakes বা সাপের কুণ্ডলী। 
অর্থাৎ, নিম্নচাপের কারণে যখন বাতাস প্রচণ্ড গতিবেগে ঘুরতে থাকে, তখন সেটাকে সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় বলে। 
- দক্ষিণ এশিয়াতে যা সাইক্লোন, আমেরিকাতে সেটা হ্যারিকেন (Hurricane) এবং দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে টাইফুন (Typhoon) নামে পরিচিত। 
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বত, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং মাঝখানে ফানেল আকৃতির উপকূলীয় এলাকা বিদ্যমান। 
- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। 
- ১৯৬০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অসংখ্য সাইক্লোন বাংলাদেশে আঘাত এনেছে যার মধ্যে ১৯৬০, ১৯৬১, ১৯৬৩, ১৯৬৫, ১৯৭০, ১৯৮৫, ১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের সাইক্লোন ছিল প্রলয়ংকরী। তবে ১৯৭০ সালের সাইক্লোনটি সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ংকরী সাইক্লোন হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে চিহ্নিত হয়েছে। 

সাইক্লোন সৃষ্টির কারণ ও করণীয়: 
- সাইক্লোন সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে, তাই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সহজসাধ্য নয়। 
- তবে যে দুটি কারণ মূলত সাইক্লোন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা হলো নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা। 
- সাধারণত সাইক্লোন তৈরি হতে সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়, দুর্ভাগ্যবশত বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এই তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকে। 
- সমুদ্রের উত্তপ্ত পানি বাষ্পীভবনের ফলে উপরে উঠে যখন জল কণায় পরিণত হয় তখন বাষ্পীভবনের সুপ্ত তাপটি বাতাসে ছেড়ে দেয়। সে কারণে বাতাস উত্তপ্ত হয় এবং বাষ্পীভবন আরো বেড়ে যায়, ফলে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে আশপাশের বাতাস সেখানে ছুটে আসে, যা বাড়তি তাপমাত্রার কারণে ঘুরতে ঘুরতে উপরে উঠতে থাকে এবং সাইক্লোন সৃষ্টি করে। 
- এই প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের বেগ অনেক বেশি হয়। তবে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলোমিটার বা তার চাইতে বেশি হলে সেটাকে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। 
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী সাইক্লোন হয়েছিল ১৯৯১ সালে, তখন বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলোমিটার। 

- সাইক্লোন অত্যন্ত শক্তিশালী, একটি দুর্বল সাইক্লোনও শক্তিতে মেগাটন শক্তির কয়েক হাজার পারমাণবিক বোমার সমান। 
- তাছাড়া যেহেতু সাইক্লোন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই এটি প্রতিরোধ করা প্রায় অসাধ্য। 
- সম্প্রতি আমেরিকাতে ঝড়ের সময় সিলভার আয়োডাইড (AgI) নামক রাসায়নিক দ্রব্য বাতাসে ছড়িয়ে পানিকে শীতল করে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ কমানোর চেষ্টা করা হলেও নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি ঠিকভাবে কাজ করেনি। 
- এছাড়া সাগরে তেল বা অন্যান্য  রাসায়নিক দ্রব্য ছিটিয়ে বাষ্পীভবন কমিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার চিন্তাভাবনা করা হয়। তবে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করা কখনোই বাস্তবভিত্তিক নয়। 
- ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস প্রক্রিয়া জোরদার করে মানুষের প্রাণ বাঁচানোর এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 
- সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের আরেকটি মারাত্মক দিক হলো জলোচ্ছ্বাস। তাই ঘূর্ণিঝড়প্রবণ এলাকায় উঁচু করে মজবুত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। 
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় নিচু এলাকায় বসবাস করা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 
- জলোচ্ছ্বাস ঠেকানোর জন্য উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ তৈরি করা যেতে পারে, সাথে সাথে সেখানে প্রচুর গাছপালা লাগিয়েও ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৬০.
'এল নিনো' দ্বারা কী বুঝায়?
  1. প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলবায়ু ঘটনা
  2. সৌর কার্যকলাপের পরিবর্তন
  3. অস্বাভাবিক মেরু বরফ গলন
  4. ভারত মহাসাগরের জোয়ার-ভাটা প্রভাব
ব্যাখ্যা

◉ এল নিনো হলো একটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলবায়ু ঘটনা, যা ঘটে যখন পূর্ব-মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। সাধারণত প্রতি ২–৭ বছর অন্তর ঘটে এবং কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

​এল নিনো:
- এল নিনো এক প্রকার উষ্ণ স্রোত।
- 'এল নিনো' (El Nino) একটি 'স্প্যানিশ' শব্দ।
- এল নিনো প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।
- তা বিরাজমান থাকে প্রায় ১ বছর কখনো কখনো ১৮ মাস পর্যন্ত যখন, সমুদ্র পৃষ্ঠ’র তাপমাত্রা বিস্তর পার্থক্য হয় (প্রায় ০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস)।
- এল নিনোর কারণে অস্ট্রেলিয়াতে খড়া দেখা দিতে পারে।
- এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবর্ষণ ও ভারতে বর্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
- চলমান এল নিনো বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখার লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে যেতে পারে।
- সাধারণত যে বছর এল নিনো শুরু হয়, তার পরের বছরটিতে তীব্র গরম অনুভূত হয়।
- এর আগে ২০১৫ সালে এল নিনো হয়েছিল বলে ২০১৬ সালে বিশ্বে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল।

​অপরদিকে, 'লা নিনো' শব্দটিও ''স্প্যানিশ' যার অর্থ বালিকা। এল নিনো প্রভাবে সাগরে উষ্ণ পানির স্রোত প্রবাহিত হবার পর পরবর্তীতে সাগরের পানির উষ্ণতা কমে আসে। সাগরের পানির এ উষ্ণতা কমে আসাই লা নিনো নামে পরিচিত। লা নিনোর প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়।

উৎস: National Geographic Society.

১,৭৬১.
‘ব্ল্যাকবক্স’ যন্ত্রটি কিসে ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) জাহাজে
  2. খ) বিমানে
  3. গ) রকেটে
  4. ঘ) সাবমেরিনে
ব্যাখ্যা

সব প্লেনেই ব্ল্যাকবক্স থাকে। এসব বক্স প্লেন চলার সময় বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে রাখে।
ব্ল্যাকবক্সের সংখ্যা এক বা ক্ষেত্রবিশেষে দুটি হয়।
একটি ককপিটে পাইলটদের কথোপকথন ধারণ করে, যা ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (সিভিআর) নামে পরিচিত।
অপরটি প্লেন চলাচলের বিভিন্ন তথ্য ধারণ করে, যা ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর) নামে অভিহিত।
সূত্রঃ প্রথম আলো

১,৭৬২.
কোনো সিলিকন চিপে লক্ষ লক্ষ বর্তনী সংযোজিত হলে তাকে কী বলে?
  1. ক) সমান্তরাল বর্তনী
  2. খ) অর্ধপরিবাহী ট্রানজিস্টর
  3. গ) সমন্বিত বর্তনী
  4. ঘ) অর্ধপরিবাহী ডায়োড
ব্যাখ্যা
ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর, ডায়ােড ইত্যাদি ব্যবহার করে অনেক প্রয়ােজনীয় সার্কিট তৈরি করা হয়। ধীরে ধীরে প্রযুক্তির উন্নতি হতে থাকে এবং এই ধরনের নানা কিছু ব্যবহার করে তৈরি করা আস্ত একটি সার্কিট ছােট একটা জায়গার মাঝে ঢুকিয়ে দেওয়া শুরু হলাে এবং তার নাম দেওয়া হলাে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট।

একটা ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট হয়তাে একটা নখের সমান। তার ভেতরে প্রথমে হাজার হাজার ট্রানজিস্টর দিয়ে তৈরি সার্কিট ঢােকানাে শুরু হয় এবং দেখতে দেখতে একটা আইসির ভেতর বিলিয়ন ট্রানজিস্টর পর্যন্ত বসানাে সম্ভব হয়ে উঠতে থাকে।

একটি ছােট চিপের ভেতর বিলিয়ন ট্রানজিস্টর ঢােকানাের এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় VLSI বা Very Large Scale Integration. এই প্রক্রিয়াটি এখনাে থেমে নেই এবং চিপের ভেতর আরাে ট্রানজিস্টর ঢুকিয়ে আরাে জটিল সার্কিট তৈরি করার প্রক্রিয়া এখনাে চলছে।
উৎসঃ নবন-দশম শ্রেণী, পদার্থবিজ্ঞান।
১,৭৬৩.
নিচের কোনটি স্নায়বিক রোগ?
  1. এনজাইনা
  2. মায়োকার্ডাইটিস
  3. অ্যাজমা
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়।
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ।

• স্ট্রোকের কারণ:
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে।
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়।
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

• লক্ষণ:
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি।

• প্রতিরোধের উপায়:
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা।
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৬৪.
রক্তে কোলেস্টেরল-এর পরিমাণ বেড়ে গেলে কোনটি খাওয়া উচিত নয়?
  1. ক) বেলে মাছ
  2. খ) খাসির মাংস
  3. গ) পালংশাক
  4. ঘ) মুরগীর মাংস
ব্যাখ্যা
-  'রেড মিট' বলতে গরু বা খাসির মাংসকে বুঝায়। 
- রক্তে কোলেস্টেরল-এর পরিমাণ বেড়ে গেলে গরু বা খাসির মাংস খাওয়া উচিত নয়। 
- কারণ রেড মিটে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম, যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। 
- আর উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি জটিলতা দেখা দিতে পারে। 
- রেড মিটে যে কোলেস্টেরল থাকে সেটি বেশি বেড়ে গেলে হার্টের শিরায় জমে রক্ত জমাট বাঁধিয়ে দেয়।
 
উৎস : বিবিসি 
১,৭৬৫.
বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা কত অংশ? 
  1. ০.৪১% 
  2. ২০.৭১%
  3. ০.০৩% 
  4. ০.৮০%
ব্যাখ্যা

বায়ুমণ্ডল: 
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল। 
- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere; বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ। 
- বায়ুমণ্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে। তবে বায়ু কঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে।

বায়ুমণ্ডলের উপাদানের পরিমাণ: 
উপাদানের নাম ⇒ শতকরা অংশ: 
• নাইট্রোজেন ⇒ ৭৮.০২, 
• অক্সিজেন ⇒ ২০.৭১, 
• আর্গন ⇒ o.৮০, 
• কার্বন ডাই-অক্সাইড ⇒ ০.০৩, 
• ওজোন ⇒ ০.০০০১, 
• অন্যান্য গ্যাস ⇒ ০.০১৯৯, 
জলীয়বাষ্প ⇒ ০.৪১ এবং 
• ধূলিকণা ও কনিক্স ⇒ ০.০১ । 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৬৬.
কোন ধর্মকে কাজে লাগিয়ে রংধনু তৈরি হয়?
  1. ক) আলোর প্রতিফলন
  2. খ) আলোর প্রতিসরণ
  3. গ) পানির কণায় পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন
  4. ঘ) আলোর বিচ্ছুরণ
ব্যাখ্যা
রংধনু তৈরি হয় পানির পূর্ণ অভ্যক্তরীণ প্রতিফলন দিয়ে। বৃষ্টি হবার পরপর যদি রােদ ওঠে তাহলে আমরা রংধনু দেখি। তার কারণ তখন বাতাসে পানির কণা থাকে এবং পানির কণায় সেই আলাে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলিত হবার সময় ভিন্ন ভিন্ন রঙের আলাে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণে বেঁকে যায়। এই আলাের রশ্মিগুলাে দিয়ে রংধনুর ভিন্ন ভিন্ন রঙের ব্যান্ড (band) তৈরি হয়। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১,৭৬৭.
নিচের কোনটি কয়লার রূপান্তরিত রূপ?
  1. ক) মার্বেল
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) কোয়ার্টজাইট
  4. ঘ) গ্রানাইট
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ, রাসায়নিক ক্রিয়া প্রভৃতির ফলে রূপ পরিবর্তন করে যে নতুন শিলায় পরিণত হয় তা রূপান্তরিত শিলা নামে পরিচিত।

বিভিন্ন রূপান্তরিত শিলা:
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইট
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল
- বেলপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
১,৭৬৮.
জিনতত্ত্ব ও আধুনিক জীববিজ্ঞানে ভাইরাস কী হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. অনুঘটক
  2. এনজাইম
  3. ভেক্টর
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা

• ভাইরাস জিন স্থানান্তরের বাহক (Vector) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

• ভাইরাসের উপকারিতা:

- বিজ্ঞানীরা অনেক গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে ভাইরাসকে মানবকল্যাণে বিভিন্নভাবে ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন। ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য উপকারিতাগুলো হলো—

- বসন্ত, পোলিও এবং জলাতঙ্ক রোগের প্রতিরোধক টিকা (Vaccine) ভাইরাস ব্যবহার করেই তৈরি করা হয়।
- ভাইরাসের মাধ্যমে উদ্ভিদের রোগ প্রতিরোধক টিকা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
- ভাইরাসকে কখনো কখনো অ্যালার্জি, জিনতত্ত্ব ও আধুনিক জীববিদ্যা গবেষণায় বাহক (Vector) হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে ভাইরাস ব্যবহৃত হয়। যেমন— ফাজ ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে ব্যাকটেরিয়াজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে।
- কিছু ভাইরাস ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ দমন করা সম্ভব হয়েছে।
- কোষীয় প্রক্রিয়া, অভিব্যক্তি ও জেনেটিক নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনে ভাইরাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
- ভাইরাস জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে, যা জীববিজ্ঞানের মৌলিক ধারণা বোঝার ক্ষেত্রে সহায়ক।
 
• ভাইরাসের কৃষিক্ষেত্রে প্রভাব (উদাহরণ):

- লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাস আক্রমণের ফলে লম্বা লম্বা সাদা দাগ সৃষ্টি হয়।
- এর ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে ফুলের মূল্য বেড়ে যায়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৬৯.
ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের টিকা কোন শ্রেণির মধ্যে পড়ে? 
  1. টক্সয়েড টিকা
  2. মৃত জীবাণুভিত্তিক টিকা
  3. জীবন্ত টিকা
  4. ডিএনএ টিকা
ব্যাখ্যা
টিকা: 
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিদ্রুত সাসপেনশন। 
- টিকায় বিদ্যমান অণুজীবগুলো (ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) জীবিত, অর্ধমৃত বা মৃতও হতে পারে। এদের এমনভাবে নিষ্ক্রিয় করা হয় যাতে এরা জীবকোষে কোনো রোগ সৃষ্টি করতে না পারে, কিন্তু রোগের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে।

টিকার প্রকারভেদ: 
- মানবদেহের বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুকে দমন করতে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের টিকা আবিষ্কার করেছেন। 
যেমন- 
১। নিষ্ক্রিয়কৃত জীবাণু জীবন্ত টিকা (Attenuated live vaccine): 
- কালচার করা, ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় বা দুর্বল করে দেওয়া জীবিত জীবাণু নিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ- BCG, হাম, মাম্পস, পোলিও, জলাতঙ্ক, যক্ষ্মা, গুটিবসন্ত, প্লেগ, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

২। মৃত জীবাণুভিত্তিক নিষ্প্রাণ টিকা (killed vaccine): 
- এধরনের টিকা মৃত জীবাণু দিয়ে তৈরি। 
উদাহারণ- ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরা প্রভৃতি ভ্যাকসিন। 

৩। নিষ্ক্রিয় বিষভিত্তিক টিকা (Toxoid vaccine): 
- এ ধরনের টিকা জীবাণু নিঃসৃত টক্সয়েড দিয়ে তৈরি। 
উদাহরণ-ডিপথেরিয়া, টিটেনাস (ধনুষ্টংকার) প্রভৃতি রোগের ভ্যাকসিন। 

৪। দেহ তলের রাসায়নিক বস্ত (Surface chemical molecule): 
- অনেক ক্ষেত্রে সংক্রমণকারী জীবাণুর দেহ তল থেকে রাসায়নিক উপাদান (নির্দিষ্ট প্রোটিনের অংশ) আলাদা করে ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 
উদাহরণ- হেপাটাইটিস-B ভ্যাকসিন, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ভ্যাকসিন প্রভৃতি। 

৫। ডিএনএ টিকা (DNA vaccine): 
- রিকমবিনেন্ট DNA পদ্ধতিতে DNA ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৭০.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত সংঘটিত হয় কবে?
  1. ২১ জুন
  2. ২২ ডিসেম্বর
  3. ২১ মার্চ
  4. ২৩ সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৭৭১.
রক্তে উচ্চ কোলেস্টরেলের কারণে কোন রোগ হয়?
  1. ক) এনিমিয়া
  2. খ) এনজিনা
  3. গ) লিউকোমিয়া
  4. ঘ) অস্টিওপরোসিস
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৭৭২.
মৎস্যচাষ বিষয়ক বিদ্যাকে কি নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) Sericulture
  2. খ) Pisciculture
  3. গ) Horticulture
  4. ঘ) Fishiculture
ব্যাখ্যা

মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যা - পিসিকালচার;
মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যা - এপিকালচার;
চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা - প্রণকালচার;
মৌমাছির চাষ - এপিকালচার;
রেশমের চাষ - সেরিকালচার;
উদ্যানবিদ্যা - হর্টিকালচার;
পাখি পালন বিদ্যা - এভিকালচার;
সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যা - মেরিকালচার;

১,৭৭৩.
পৃথিবীর আবর্তন বেগ ঘন্টায় প্রায়-
  1. ক) ১৫০০ কি.মি.
  2. খ) ১৬০০ কি.মি.
  3. গ) ১৭০০ কি.মি.
  4. ঘ) ১৮০০ কি.মি.
ব্যাখ্যা

- পৃথিবী গতিশীল।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি।
- এজন্য নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তন বেগ সবচেয়ে বেশি।
- যা ঘণ্টায় প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার।
- ঢাকায় পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ ১৬০০ কিলোমিটার।
উৎসঃ‌ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৭৭৪.
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে নদীবন্দরের জন্য কয়টি সংকেত প্রচার করা হয়?
  1. ক) ১১
  2. খ) ৮
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদীবন্দরের জন্য ১ থেকে ৪ নম্বর এবং সমুদ্রবন্দরের জন্য ১ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত হুঁশিয়ারি সংকেত প্রচার করা হয়। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৭৫.
মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ফ্রান্সিস হেস কোন সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ১৯৩৯ সালে
  2. ১৯৩৮ সালে
  3. ১৯৩৩ সালে
  4. ১৯৩৬ সালে
ব্যাখ্যা
মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে  বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক-  ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১,৭৭৬.
বাংলাদেশের চেয়ে পূর্ব দিকে অবস্থিত দেশে দিন কখন শুরু হয়?
  1. পরে 
  2. আগে 
  3. একসাথে 
  4. ঋতুর উপর নির্ভর করে 
ব্যাখ্যা

- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘোরে, তাই সূর্য সবসময় পূর্ব দিকে আগে উদিত হয়। বাংলাদেশের চেয়ে পূর্ব দিকে অবস্থিত দেশগুলো (যেমন: থাইল্যান্ড, জাপান) ভূ-পৃষ্ঠের ঘূর্ণন অনুযায়ী সূর্যের সামনে আগে আসে। তাই পূর্ব দিকের দেশগুলোর সময় বাংলাদেশের সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, জাপানের অবস্থান বাংলাদেশের পূর্বে হওয়ায় সেখানে বাংলাদেশের অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে দিন শুরু হয়। 

স্থানভেদে সময়ের পার্থক্য: 
- প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট। 
- পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঘুরছে, এজন্যই পূর্ব দিকের স্থানগুলোতে আগে দিন হচ্ছে এবং পশ্চিম দিকের স্থানগুলোতে পরে দিন হচ্ছে। এতে বুঝা যায়, বাংলাদেশ থেকে যেসব দেশ পূর্ব দিকে অবস্থিত, সেসব দেশে আগে সকাল হবে এবং পশ্চিম দিকের দেশগুলোতে পরে সকাল হবে। 
- প্রতি ডিগ্রি দূরত্বের জন্য সময়ের ব্যবধান হচ্ছে ৪ মিনিট। এই প্রতিটি ডিগ্রিকে ৬০ মিনিটে ভাগ করা হয় এবং প্রতি ১ মিনিট দূরত্বের জন্য ৪ সেকেন্ড সময়ের পার্থক্য হয়। 
- এখানে একটি বিষয় লক্ষ্য করতে হবে দূরত্বের ব্যবধানের মিনিটকে অনেকে সময়ের মিনিট হিসেবে ধরে ভুল করে। আসলে দূরত্বের মিনিটের ক্ষেত্রে ১ ডিগ্রিকে ৬০ মিনিটে ভাগ করা হয়। এই দূরত্বের ৬০ মিনিটের প্রতি মিনিটের জন্য সময়ের ৪ সেকেন্ড লাগে। এভাবে দূরত্বের ব্যবধানের ৬০ মিনিটের জন্য লাগে ৬০ × ৪ = ২৪০ সেকেন্ড অর্থাৎ ৪ মিনিট সময়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৭৭৭.
কাকে 'সবুজ গ্রহ' বলা হয়? 
  1. শনি
  2. মঙ্গল
  3. ইউরেনাস
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা

- ইউরেনাসকে  সবুজ গ্রহ' বলা হয়।

ইউরেনাস: 

- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই  ইউরেনাস কে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।

• সৌরজগৎ (Solar System):
- সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগৎ (Solar System) বলে।
- বুধ সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ এবং এটির সূর্যের নিকটতম গ্রহ।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে এর ৮৮ দিন সময় লাগে।
- সৌরজগতের উষ্ণতম গ্রহের নাম শুক্র।
- শুক্র পৃথিবীর নিকটতম গ্রহ।
- পৃথিবী থেকে সূর্যের গড় দুরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলা হয়।
- মঙ্গল গ্রহকে লাল গ্রহ বলা হয়। মঙ্গলের ২টি উপগ্রহ হলো: ডিমোস ও ফোবস।
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি। একে গ্রহরাজ বলা হয়।

উৎস: NASA  ওয়েবসাইট।

১,৭৭৮.
একটি কর্মী মৌমাছির জীবনকাল-
  1. ক) ১০ দিন
  2. খ) ৩০ দিন
  3. গ) ৫০ দিন
  4. ঘ) ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
একটি কর্মী মৌমাছির আয়ুষ্কাল প্রায় ৫০ দিন।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
১,৭৭৯.
আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কোনটি?
  1. Vibrio cholerae
  2. Clostridium tetani
  3. Bacillus dysenteriae
  4. Salmonella typhosa
ব্যাখ্যা
- কলেরা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Vibrio cholerae.
- টাইফইয়েড রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Salmonella typhosa.
- আমাশয় রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Bacillus dysenteriae.
- ধ্নুষ্টংকার রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া Clostridium tetani.

- কয়েকটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ:
• ডিপথেরিয়া,
• গণোরিয়া,
• টাইফয়েড,
• জ্বর,
• কুষ্ঠ,
• টিটেনাস,
• নিউমোনিয়া,
• কলেরা ইত্যাদি।

উৎস:
১. উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৭৮০.
এল নিনো মূলত কী?
  1. ঝড়
  2. মহাসাগরের উষ্ণ জলস্রোত
  3. ভূমিকম্পের একটি প্রকার
  4. আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা
ব্যাখ্যা
• এল নিনো:
- এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের বিষুবীয় অঞ্চলের (Equatorial Pacific Ocean) এক ধরনের অস্বাভাবিক উষ্ণ জলস্রোতের প্রাকৃতিক ঘটনা।
- এটি বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন, যেমন খরা, অতিবৃষ্টি, ও ঘূর্ণিঝড় প্রভাবিত করতে পারে।

• এল নিনোর মূল বৈশিষ্ট্য:
- সাধারণত প্রতি ২-৭ বছর পরপর ঘটে। 
- প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব অংশের (দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলে) পানি অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে পড়ে। 
- লা নিনো হলো এর বিপরীত, যেখানে সাগরের পানি অস্বাভাবিকভাবে শীতল হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৭৮১.
যক্ষ্মা রোগের টিকা কোনটি? 
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিটি
  4. ডিপিটি
ব্যাখ্যা
- Bacillus Calmatte Guerin-BCG হলো যক্ষ্মা রোগের টিকা। 
- যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা। 
- টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন। 
- ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়। 
- ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়। 
- পোলিও রোগের টিকার নাম ওপিভি (Oral Polio Vaccine). 
- হাম রোগের টিকা এমএমআর। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৭৮২.
বিমান চলাচলের জন্য বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরটি ব্যবহৃত হয়?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. এক্সোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
• বিমান চলাচলের জন্য বায়ুমণ্ডলের স্তর হিসেবে প্রধানত স্ট্রাটোমণ্ডল ব্যবহার করা হয়। স্ট্রাটোমণ্ডল মেসোস্ফিয়ারের নিচে এবং তাপমণ্ডলের উপরে অবস্থিত। এই স্তরে বাতাস বেশ স্থিতিশীল থাকে এবং ঝড় বা বায়ুর গরমাগরম পরিবর্তন কম হয়, যা বিমানের জন্য নিরাপদ ও সুষম উড্ডয়নের পরিবেশ তৈরি করে। তাপমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলে বায়ুর গতিবেগ বেশি ও অস্থির হওয়ায় বিমান চলাচলের জন্য কম সুবিধাজনক। এক্সোমণ্ডল বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে উপরের স্তর যা মহাকাশের খুব কাছে, সেখানে বিমান চলাচল সম্ভব নয়। তাই বিমান চলাচলের জন্য প্রধানত স্ট্রাটোমণ্ডল ব্যবহার করা হয়।

স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):

- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে।
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়।

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে।
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত।
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না।
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৩.
কোনো স্থানের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে কি হয়?
  1. ক) মেঘের সৃষ্টি হয়
  2. খ) নিম্মচাপ হয়
  3. গ) উচ্চচাপ হয়
  4. ঘ) চাপের পরিবর্তন হয় না
ব্যাখ্যা

বায়ুর চাপ সব জায়গায় একরকম থাকে না। কোনো স্থানে বায়ুর তাপ বেড়ে গেলে বায়ু আয়তনে বেড়ে যায় ও প্রসারিত হয়। ফলে বায়ুহালকা হয় এবং ওজন কমে যায়। তখন সেখানকার বায়ুর চাপ কমে যায়। আবার কোথাও বায়ুর তাপ কমে গেলে সেখানকার বায়ুর ওজন বেড়ে যায়। ফলে বায়ুর চাপও বেড়ে যায়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বায়ুর তাপ কমলে চাপ বাড়ে এবং বায়ুর তাপ বাড়লে, চাপ কমে।
এছাড়া জলীয়বাষ্প বায়ুর চেয়ে হালকা। এ কারণে বায়ুতে যদি জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি হয় তখন সেই বায়ুর ওজন অনেক কমে যায়। ফলে বায়ুর চাপও কম থাকে। বায়ুর চাপ বেশি থাকলে তাকে উচ্চচাপ বলে। আবার বায়ুর চাপ কম থাকলে তাকে নিম্নচাপ বলে।
নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষরেখা থেকে ৫ ডিগ্রি উত্তর ও ৫ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে এই নিæচাপ বলয় বিস্তৃত। নিরক্ষরেখার উপর সূর্য বৎসরে দুইবার লম্বভাবে কিরণ দেয়। তাই এ অঞ্চল ভ‚-পৃষ্ঠের উষ্ণতম অঞ্চল। অত্যধিক তাপের জন্য এ অঞ্চলের বায়ুঅত্যন্ত হালকা ও প্রসারিত হয়ে উর্ধ্বমূখী হয়। ফলে বায়ুর ওজন কমে যায় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। এভাবেই নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রান্তিয় উচ্চচাপ বলয়ঃ
নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উত্তপ্ত বায়ুউর্ধ্বমুখী হয় এবং যতই উপরে ওঠে ততই ধীরে ধীরে শীতল হয়। শীতল বায়ু ভারী হওয়ার ফলে ভ‚-পৃষ্ঠে নেমে আসে এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলে (কর্কটক্রান্তী ও মকরক্রান্তীর কাছাকাছি) স্থান করে নেয়। এভাবে ২৫ ডিগ্রি থেকে ৩৫ ডিগ্রি উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যবর্তী অঞ্চলে দুইটি উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়। উত্তর গোলার্ধে এর নাম কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এর নাম মকরীয় উচ্চচাপ বলয়।
উৎসঃ ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৭৮৪.
পাচক রস কোনগুলো?
  1. ক) ট্রিপসিন
  2. খ) লাইপেজ
  3. গ) এমাইলেজ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি পাকস্থলির প্রাচীরে থাকে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় ট্রিপসিন, লাইপেজ, এমাইলেজ যা গ্যাস্ট্রিক জুস বা পাচক রস নামে পরিচিত।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৭৮৫.
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ নয় কোনটি?
  1. ক) লাল
  2. খ) সবুজ
  3. গ) নীল
  4. ঘ) বেগুনি
ব্যাখ্যা
টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ তিনটি। যথা- লাল, সবুজ এবং নীল।

- অপরদিকে, বেগুনি রঙ টেলিভিশনে ব্যবহৃত মৌলিক রঙ নয়। 
- টেলিভিশন শব্দের বাংলা অর্থ দূরদর্শন। অর্থাৎ দূর থেকে দেখা। 
- টেলিভিশনে দেখা ও শোনা দুটোই ঘটে। শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য প্রয়োজন একটি প্রেরক স্টেশন। 
- শব্দ ও ছবি প্রেরণের জন্য টেলিভিশন প্রেরক স্টেশনে পৃথক পৃথক প্রেরক যন্ত্র থাকে। 
- একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে প্রেরণ করা হয়। 
- অন্য একটি প্রেরক যন্ত্রের সাহায্যে ছবিকে তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে তা তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ হিসেবে প্রেরণ করা হয়। 
- যে দৃশ্য প্রেরণ বা সম্প্রচার করতে হবে তার প্রতিবিম্ব বা ছবি লেন্সের মধ্য দিয়ে টেলিভিশন ক্যামেরার পর্দায় ফেলা হয়। 
- এ ছবিকে টেলিভিশন ক্যামেরা তড়িৎ সংকেতে রূপান্তরিত করে। 
- এ তরঙ্গ বা সংকেতকে মডুলেশন প্রক্রিয়ায় উচ্চ কম্পাঙ্কের বাহক তরঙ্গের সঙ্গে মিশ্রিত করা হয়।
- ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জন লোগি বেয়ার্ড ১৯২৬ সালে প্রথম টেলিভিশন আবিষ্কার করেন।
- ডিসপ্লে বা প্রদর্শনীর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে টেলিভিশনকে সিআরটি, প্লাজমা, এলসিডি, এলইডিসহ বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা যায়। 

সূত্র- ৩৭৬ পৃষ্ঠা, পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৭৮৬.
তুলার অধিক ফলন পেতে হলে হেক্টর প্রতি কী পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে?
  1. ৫-৬ টন
  2. ২-৩ টন
  3. ৬০০-৭০০ কেজি
  4. ২৫০-৩০০ কেজি
ব্যাখ্যা
তুলা:
- তুলা একটি গুরুত্বপূর্ণ আঁশ জাতীয় ফসল।
- উন্নতমানের আঁশ পেতে হলে তুলা সংগ্রহ ও তুলা প্রক্রিয়াজাতকরণ খুবই সতর্কতার সাথে সঠিক পদ্ধতিতে করতে হবে।
- সংগৃহীত তুলা সংরক্ষণও যথাযথভাবে করতে হবে।
- আমাদের বস্ত্রশিল্পের অন্যতম কাঁচামাল এই তুলার বহুবিধ ব্যবহারের জন্য এর উৎপাদন বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

⇒ সার প্রয়োগ:
- সার প্রয়োগের অধিক ফলন পেতে হলে এবং উন্নত মানের আঁশ এর জন্য সুষম সার প্রয়োগ করতে হবে। 
- জৈব সার/গোবর/জৈবসার: হেক্টর প্রতি ৫-৬ টন।

⇒ সার প্রয়োগ পদ্ধতি:
- জমিতে শেষ চাষ দেয়ার পর এক-চতুর্থাংশ ইউরিয়া অর্ধেক এমপি সার এবং অন্যন্য সারসমূহ সম্পূর্ণ অংশই জমিতে প্রয়োগ করতে হবে; বাকী ইউরিয়া ও এমপি সার সমান তিনভাগে ভাগ করে তুলাগাছের বয়স ২০-২৫ দিন হলে প্রথম বার, ৪০-৫০ দিন হলে দ্বিতীয় বার এবং ৬০-৭০ দিন হলে তৃতীয় বার পার্শ্ব প্রয়োগ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৮৭.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে-
  1. ১০ কি. মি.
  2. ১০ নিউটন
  3. ২৭ কি. মি
  4. ৫ কি. মি.
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রতি বর্গ সেন্টিমিটারে ১০ নিউটন। 
- গড় সমুদ্রপৃষ্ঠীয় চাপ হচ্ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপ। 
- পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের শীর্ষ পর্যন্ত গড়ে ১ বর্গ সেন্টিমিটার প্রস্থচ্ছেদের বায়ুর কলামের ভর ১.০৩ কিলোগ্রাম এবং এটি ১০.১ নিউটন ওজন প্রয়োগ করে, যার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠে ১০.১ নিউটন চাপের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ওয়েবসাইট।
১,৭৮৮.
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ু স্তরকে কী বলা হয়?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. গ) ফটোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা - ট্রপোমন্ডল, স্টার স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমন্ডল, তাপমন্ডল ও এক্সোমন্ডল।
- ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে ট্রপোস্ফিয়ার বা ট্রপোমন্ডল।
- আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।

উৎস:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৭৮৯.
নিচের কোনটি ধানের ব্লাস্ট রোগের কারন?
  1. ভাইরাস
  2. কৃমি
  3. ছত্রাক
  4. ব্যাকটেরিয়া
ব্যাখ্যা
ব্লাস্ট রোগ:
⇒ কারন:
- ছত্রাক সংক্রমনে হয়।

⇒ লক্ষণ:
১) পাতায় ডিম্বাকৃতির দাগ পড়ে।
২) দাগের চারিদিকে গাঢ় বাদামী এবং মাঝের অংশ সাদা ছাই বর্ণের হয়।
৩) কান্ডের গিঁটে, খোল ও পাতার সংযোগস্থান কালো দাগ সৃষ্টি করে।
৪) শিষের গোড়ায় কালো দাগের সৃষ্টি করে এবং গোড়া পচে যায় এতে চিটা ও অপুষ্ট দানা হয়।

⇒ দমন ব্যবস্থা:
১) জমিতে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করতে হবে।
২) রোগ প্রতিরোধী জাত যেমন- বিআর-৩, বিআর-১৪, বিআর-১৫, বিআর-১৬, বিআর-২৪ ইত্যাদি চাষ করা।
৩) রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার করা ও বীজ শোধন করা।
৪) পটাশ জাতীয় সার উপরি প্রয়োগ করা।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯০.
রেডিও কার্বনের অর্ধায়ু কত বছর?
  1. ক) ৫৫৬৮ বছর
  2. খ) ৪৫৮৬ বছর
  3. গ) ৫৫৭৮ বছর
  4. ঘ) ৫৬৭৮ বছর
ব্যাখ্যা

রেডিও কার্বনের ((carbon-14) অর্ধায়ু 5700 ± 30 বছর।। 

কোনো কোনো পদার্থের স্বাভাবিক পরমাণু তেজষ্ক্রিয় না হলে এদের আইসোটোপসমূহ তেজষ্ক্রিয় পদার্থরূপে আচরণ করতে পারে। এ সকল আইসোটোপকে রেডিও আইসোটোপ বলে।
যে সময়ে কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের মোট পরমাণুর ঠিক অর্ধেক পরিমাণ ভেঙ্গে যায় তাকে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু বলে।
অর্থাৎ, যে সময় কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থের 'N' সংখ্যক অণু ভেঙ্গে N/2 সংখ্যক হয়, সেই সময় হলো অর্ধায়ু।

The half-life of radiocarbon (14C) is 5700 ± 30 yr, which makes it particularly useful for dating in archaeology.

আবার,
ব্রিটানিকা অনুসারে, অর্ধায়ু 5,730 ± 40 বছর।

উৎস: U.S. Department of Health & Human Services Website and Cambridge ডিকশনারি। 

১,৭৯১.
‘বিছা পোকা’র ডিম পাট গাছের কোন অংশে থাকে?
  1. পাতার উপরে
  2. পাতার নিচে
  3. গাছের ডগায়
  4. গাছের কাণ্ডে
ব্যাখ্যা
পাটের বিছা পোকা:
– স্ত্রী মথ পাটের পাতার নিচের/উল্টো দিকে গুচ্ছাকারে ডিম পাড়ে।

⇒ ক্ষতির ধরণ :
ডিম ফুটে বাচ্চা বের হবার পর থেকে এরা পাতার নিচে থাকে ও পাতার সবুজ অংশ খেয়ে পর্দার মতো করে ফেলে।
– দলবদ্ধভাবে ৬-৭ দিন থাকার পর এরা গাছের সব পাতায় ছড়িয়ে পড়ে ও সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এ অবস্থায় আক্রান্ত পাতা অনেক দূর থেকে সহজেই চেনা যায়।
– বড় হবার সাথে সাথে এরা সারা মাঠে ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো পাতা খেয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে।
– আক্রমণ বেশি হলে এরা কচি ডগা পর্যন্ত খেয়ে গাছকে পাতাশূন্য বা ডাটাসার করে ফেলে ।ফলে গাছের বৃদ্ধি কমে যায় ও আঁশের ফলন কম হয়।

⇒ দমন পদ্ধতি:
– ফসলের জমির দুই প্রান্ত থেকে কেরোসিন তেলে ভিজানো দড়ি পাট গাছের ওপর দিয়ে টেনে নিয়ে যেতে হবে।
– পাটের বিছা পোকা দমনের জন্য ডায়াজিনন ৬০% ইসি, নূভাক্রন ৪০% ইসি ১.৫ মিলি ঔষধ ১ লিটার পানিতে বা ১৮ মিলি ঔষধ ১২ লিটার পানিতে মিশিয়ে অথবা রিপকর্ড ১০% বা সিমবুশ ১০% ইসি অথবা কারাতে ১.৫ ইসি ৬ মিলি ঔষধ ১২ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
– পাট কাটার পর গভীরভাবে চাষ করলে পুত্তলীগুলো (লার্ভা) উপরে উঠে আসে এবং প্রাকৃতিক শত্রু (যেমন: পাখি) দ্বারা ধ্বংস হয়।

উৎস: কৃষি বাতায়ন ওয়েবসাইট।
১,৭৯২.
মানবদেহের সাধারণ ডায়াস্টোলিক রক্ত চাপ হলো -
  1. ৮০ - ১২০ মি.মি. (পারদ)
  2. ৭০ - ৯০ মি.মি. (পারদ)
  3. ১১০-১৩০ মি.মি. (পারদ)
  4. ৯৮.৪ মি.মি. (পারদ)
ব্যাখ্যা
রক্ত চাপ : রক্ত প্রবাহের সময় ধমনিগাত্রে যে চাপ সৃষ্টি হয় তাকে রক্তচাপ বলে।

হৃদপিন্ডের সংকোচনশীল অবস্থায় যে সর্বাধিক চাপ সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের স্বাভাবিক সিস্টোলিক প্রেসার হলো ১১০-১৩০ মি.মি. Hg গড়ে ১২০ মি.মি।

হৃদপিন্ডের শিথিল অবস্থায় যে সর্বনিম্ন চাপ সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক প্রেসার বলে। সুস্থ প্রাপ্ত বয়স্ক লোকের ডায়াস্টোলিক প্রেসার হলো ৭০-৯০ মি.মি. (গড়ে ৮০ মি.মি. Hg) রক্ত চাপকে সাধারণতঃ ১২০/৮০ রূপে প্রকাশ করা হয়।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৩.
পানিতে ডুবন্ত অবস্থায় শ্রুত শব্দের মূলে তরঙ্গের কোন ধর্ম কাজ করে?
  1. ক) প্রতিসরণ
  2. খ) প্রতিফলন
  3. গ) দোলন
  4. ঘ) প্লবতা
ব্যাখ্যা
তরঙ্গের প্রতিফলন কিংবা প্রতিসরণ হয়। তরঙ্গ এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে যাবার সময় তরঙ্গের খানিকটা যদি প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে সেটা হচ্ছে প্রতিফলন। তরঙ্গ যখন প্রথম মাধ্যম থেকে দ্বিতীয় মাধ্যমে যায় সেটা হচ্ছে প্রতিসরণ। আমরা যখন শব্দের প্রতিধ্বনি শুনি সেটা হচ্ছে শব্দের প্রতিফলন। পানিতে ডুবে থাকা অবস্থায় যদি বাইরের শব্দ শুনি সেটা হচ্ছে প্রতিসরণ। (উৎসঃ ৯ম- ১০ম শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)
১,৭৯৪.
আসল ও নকল গহনার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) গামা রশ্মি
  2. খ) এক্সরে রশ্মি
  3. গ) আলফা রশ্মি
  4. ঘ) বিটা রশ্মি
ব্যাখ্যা
- আসল ও নকল গহনার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়- এক্সরে রশ্মি

এক্সরে (X-ray)

- নলের যে অংশে ক্যাথোড রশ্মি আপতিত হয় সে অংশ থেকে সবুজাভ হলুদ রং-এর আলোর আভা ছাড়াও এক প্রকার অদৃশ্য রশ্মি বিকিরিত হয়। 
- এই অদৃশ্য রশ্মির প্রকৃত নাম না জানা থাকায় প্রফেসর রঞ্জন এর নামকরণ করেন এক্সরে (X-Rays)।
- একে রঞ্জন রশ্মিও বলে।
- ব্যাপক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনিত হন যে, অধিক গতিসম্পন্ন ইলেকট্রনগুলো কোনো ধাতুর প্রতিবন্ধকে বাধা পেলে গতিশক্তি হারায় এবং এই গতিশক্তি এক্সরেতে রূপান্তরিত হয়।
- এক্সরের একক হলো রন্টজেন।
- যে পরিমাণ বিকিরণের জন্য স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় এক মিলিলিটার বায়ুতে এক কুলম্ব আধান উৎপন্ন করতে পারে তাকে এক রন্টজেন বলে।

শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের ব্যবহার
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে।
যেমন: 
• আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়
• ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়
• আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়
• ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা
• ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়
• মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়।
• টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৫.
কোন সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সমকোণে অবস্থান করে?
  1. পূর্ণিমার সময়
  2. মুখ্য জোয়ারের সময়
  3. মরা কটালের সময়
  4. ভরা কটালের সময়
ব্যাখ্যা
• চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী যখন সমকোণে অবস্থান করে, তখন তা মরা কটালের সময় ঘটে। এই অবস্থায় চন্দ্র পৃথিবীর চারদিকে এমন একটি কোণে থাকে, যা সূর্যের সঙ্গে ৯০ ডিগ্রি কোণ গঠন করে। এর ফলে চাঁদের আকর্ষণ শক্তি সূর্যের আকর্ষণ শক্তির সাথে সরাসরি যোগ হয় না এবং সামুদ্রিক জোয়ার তুলনামূলকভাবে কম থাকে। পূর্ণিমা বা মুখ্য জোয়ার সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী সরলরেখায় অবস্থান করে, যা বেশি জোয়ার সৃষ্টি করে। তাই চাঁদ, সূর্য ও পৃথিবীর সমকোণ অবস্থানকে মরা কটালের সময় বলা হয়।
- সঠিক উত্তর হলো (গ) মরা কটালের সময়।


জোয়ার-ভাটা:

- মহাকর্ষ শক্তি এবং কেন্দ্রাতিগ শক্তির কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। - সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
- জোয়ার-ভাটাকে প্রধান চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
• মুখ্য জোয়ার।
• গৌণ জোয়ার।
• ভরা কটাল।
• মরা কটাল।

মরা কটাল (Neap Tide):
- মরা কটালে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না। এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৬.
ডোপিং করার জন্য কত ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) ২ ধরনের
  2. খ) ৩ ধরনের
  3. গ) ৪ ধরনের
  4. ঘ) ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস
: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৭৯৭.
বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী কত বছর আগে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে?
  1. ৪.৬ বিলিয়ন
  2. ১০.৫ বিলিয়ন
  3. ১৩.৮ বিলিয়ন
  4. ২০ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে। 

• বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্ব হলো মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য উদ্‌ঘাটনের তত্ত্ব। 

•  অতি সাম্প্রতিক হিসাবে দেখা গেছে আজ থেকে 13.8 বিলিয়ন বছর বা, 13.8 × 109 বছর  আগে আমাদের এ মহাবিশ্বের উদ্ভব।
- বিগ ব্যাং তত্ত্ব (Big Bang Theory) অনুযায়ী একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র, প্রচণ্ড উত্তপ্ত ও ঘন বিন্দু থেকে মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে মহাবিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে।
- তারপর মহাবিশ্ব অবিশ্বাস্য দ্রুতবেগে প্রসারিত হয়েছে এবং ক্রমেই ঠান্ডা হতে হতে বিভিন্ন কণার মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলে ধীরে ধীরে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন পদার্থ।
- ক্রমে উপগ্রহ, গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি সবকিছু তৈরি হয়েছে। 

• পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৪.৫৪ বিলিয়ন বছর আগে, অর্থাৎ ৪৫৪ কোটি বছর আগে।
- এই তথ্য ভূতাত্ত্বিক গবেষণার ভিত্তিতে পাওয়া যায়। বিশেষ করে প্রাচীনতম শিলা ও চন্দ্র এবং উল্কাপিণ্ড থেকে পাওয়া উপাদানের রেডিওঅ্যাকটিভ ডেটিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানা যায়।

তথ্যসূত্র:
- পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; ড. শাহজাহান তপন।
১,৭৯৮.
ডিপথেরিয়া রোগে দেহের কোন অংশ আক্রান্ত হয়?
  1. ক) চোখ
  2. খ) ফুসফুস
  3. গ) গলা
  4. ঘ) কিডনি
ব্যাখ্যা
ডিপথেরিয়া রোগে  মানবদেহের গলার অংশ আক্রান্ত হয়। 

- ডিপথেরিয়া হল এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ঘটিত ব্যাধি।
- করিনিব্যাকটিরিয়াম ডিপথেরি নামে ব্যাকটিরিয়ার সংক্রমণ থেকে এই রোগ হয়।
- ব্যাকটেরিয়া ঘটিত এই মারাত্মক রোগ গলা ও নাকের মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে।
- গলার পিছন দিকটা পুরু আস্তরণ দ্বারা ঢেকে যায়, ফলে খাবার খেতে ও গিলতে সমস্যা হয়।
- মাঝে মাঝে শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
-  এই রোগে হৃদপিণ্ড, কিডনি ও মস্তিষ্কের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

লক্ষণ- 
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ২-৫ দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেকের মাঝে আবার লক্ষণ নাও প্রকাশ পেতে পারে। আবার অনেকের কাছে সাধারণ সর্দির মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়।
- তবে ডিপথেরিয়ার দৃশ্যমান অতি সাধারণ উপসর্গ হচ্ছে গলা ও টনসিলে ধূসর পর্দা পড়া।
- এগুলো ছাড়াও জ্বর, শরীর ঠাণ্ডা হওয়া, ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ভীষণ কাশি, গলা ব্যথা, নীলচে ত্বক, লালা ঝরা ইত্যাদি লক্ষণও প্রকাশ পায়।

সূত্র: Centers for Disease Control and Prevention [লিঙ্ক]
১,৭৯৯.
কোন বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে?
  1. ক) দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমী বায়ু
  2. খ) উত্তর-পূর্ব মহাদেশীয় বায়ু
  3. গ) উত্তর-পশ্চিম অয়ন বায়ু
  4. ঘ) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী
ব্যাখ্যা
• বর্ষাকালে দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে ফেরেলের সূত্রানুসারে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে বেঁকে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু হিসেবে প্রবাহিত হয়।
• সমুদ্র থেকে আগত হওয়ায় এই বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকে। ফলে এই মৌসুমি বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
• এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারা বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৮০০.
মেরুদেশীয় ব্যাস ও নিরক্ষীয় ব্যাসের মধ্যে পার্থক্য কত কিলোমিটার?
  1. ২৩ কিমি
  2. ৪৩ কিমি
  3. ৩৩ কিমি
  4. ৫৩ কিমি
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর আকার ও আকৃতি (Size and Shape of the Earth):
- ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল, মহাকাশচারী ইউরি গ্যাগারিন প্রথমবারের মতো মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে দেখেন।
- তিনি বুঝতে পারেন যে পৃথিবী পুরোপুরি গোল নয়, বরং কিছুটা চাপা এবং স্ফীত। তার তোলা ছবিতেও পৃথিবীকে গোলাকার দেখা যায়।
- তবে বাস্তবে পৃথিবীর আকৃতি একদম নিখুঁত গোল নয়। বরং এটি কিছুটা চাপা ও স্ফীত হওয়ায় এর প্রকৃত আকৃতি হয় অভিগত গোলক (Oblate Spheroid)।

•  পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যাস:
- নিরক্ষীয় ব্যাস (পূর্ব-পশ্চিমে) = ১২,৭৫৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় ব্যাস (উত্তর-দক্ষিণে) = ১২,৭১৪ কি.মি.
- মেরুদেশীয় ব্যাস ও নিরক্ষীয় ব্যাসের মধ্যে পার্থক্য = ৪৩ কি.মি.।
- গড় ব্যাস = ১২,৭৩৪.৫ কিমি → প্রায় ১২,৮০০ কিমি (গণনার সুবিধার জন্য)।
- পৃথিবীর ব্যাসার্ধ ও পরিধি:
- গড় ব্যাসার্ধ = ৬,৪০০ কি.মি.।
- নিরক্ষীয় পরিধি = ৪০,০৭৭ কি.মি.।
- মেরুদেশীয় পরিধি = ৪০,০০৯ কি.মি.।
- গড় পরিধি ≈ ৪০,০০০ কি.মি.।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।