বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৭ / ৩৯ · ১,৬০১১,৭০০ / ৩,৮৭৯

১,৬০১.
শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে-
  1. নক্ষত্রমণ্ডলী
  2. শুক্র গ্রহ
  3. বুধ গ্রহ
  4. মঙ্গলগ্রহ
ব্যাখ্যা

শুক্র (Venus):
- শুক্র গ্রহকে ভোরের আকাশে শুকতারা এবং সন্ধ্যার আকাশে সন্ধ্যাতারা হিসেবে দেখা যায়।
- শুকতারা বা সন্ধ্যাতারা আসলে কোনো তারা নয়, শুক্র গ্রহ।
- কিন্তু নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করে বলেই আমরা একে ভুল করে তারা বলি।
- শুক্র গ্রহটি ঘন মেঘে ঢাকা। তাই এর উপরিভাগ থেকে সূর্যকে কখনই দেখা যায় না।
- শুক্রের মেঘাচ্ছন্ন বায়ুমণ্ডল প্রধানত কার্বন ডাইঅক্সাইডের তৈরি।
- এটি সৌরজগতের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও সবচেয়ে উত্তপ্ত গ্রহ।
- সূর্য থেকে শুক্র গ্রহের দূরত্ব ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর দিন ও রাতের মধ্যে আলোর বিশেষ কোনো তারতম্য হয় না।
- এখানে বৃষ্টি হয় তবে এসিড বৃষ্টি।
- শুক্রের ব্যাস ১২,১০৪ কিলোমিটার।
- সূর্যকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সুতরাং শুক্রে ২২৫ দিনে এক বছর।
- শুক্রের কোনো উপগ্রহ নেই।
- সকল গ্রহ এদের নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বে পাক খেলেও শুক্র গ্রহ পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাক খায়। (বোর্ড বই)

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬০২.
যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে ________ বলে।
  1. আইসোবার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোটোপ
  4. পারমাণবিক সংখ্যা
ব্যাখ্যা
- যে সকল পরমাণুর ভরসংখ্যা সমান তাদেরকে আইসোবার বলে। ভরসংখ্যা সমান হলেও প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান নয়।
- যে সকল পরমাণুতে সমান সংখ্যক নিউট্রন থাকে, তাদের পরস্পরকে আইসোটোন বলে।
- একই মৌলের একাধিক ভরসংখ্যা বিশিষ্ট পরমাণু থাকলে সেগুলোকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে।
- কোন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকা প্রোটন সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬০৩.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে কোন অবস্থা বিরাজ করে? 
  1. উচ্চচাপ
  2. নিম্নচাপ
  3. নিম্ন তাপ
  4. শুষ্ক আবহাওয়া
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচন্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। 
- স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬০৪.
নিচের কোনটির জলরাশি পৃথিবীর মোট পানির মধ্যে সবচেয়ে কম? 
  1. হ্রদ 
  2. নদী 
  3. হিমবাহ 
  4. ভূগর্ভস্থ পানি 
ব্যাখ্যা

- জলরাশির পৃথিবীর মোট পানির মধ্যে সবচেয়ে কম আছে নদীর মধ্যে যা শতকরা ০.০০০১ ভাগ । 

বারিমণ্ডল: 
- 'Hydrosphere'-এর বাংলা প্রতিশব্দ বারিমণ্ডল। 
- 'Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'Sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সর্বত্র রয়েছে পানি, এ বিশাল জলরাশি পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থায় থাকে যেমন- কঠিন (বরফ), গ্যাসীয় (জলীয়বাষ্প) এবং তরল। বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসেবে, ভূপৃষ্ঠে রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূপৃষ্ঠের তলদেশে রয়েছে ভূগর্ভস্থ তরল পানি। 
- বারিমণ্ডল বলতে বোঝায় পৃথিবীর সকল জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ। 
- পৃথিবীর সকল জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ পানি রয়েছে সমুদ্রে (মহাসাগর, সাগর ও উপসাগর) এবং মাত্র ৩ ভাগ পানি রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূগর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডলে। 
- পৃথিবীর সমস্ত পানিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন- লবণাক্ত ও মিঠা পানি। 
- পৃথিবীর সকল মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবণাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ পানি মিঠা পানির উৎস। 

- জলরাশির অবস্থানভিত্তিক বিস্তরণ ও শতকরা হার হচ্ছে- 
• সমুদ্র = ৯৭.২৫, 
• হিমবাহ = ২.০৫, 
• ভূগর্ভস্থ পানি = ০.৬৮, 
• হ্রদ = ০.০১, 
• মাটির আর্দ্রতা = ০.০০৫, 
• বায়ুমণ্ডল = ০.০০১, 
নদী = ০.০০০১ এবং 
• জীবমণ্ডল = ০.০০০০৪ ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬০৫.
পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ কত ডিগ্রী?
  1. ১৮০°
  2. ৯০°
  3. ৩৬০°
  4. ২৭০°
ব্যাখ্যা
• অক্ষাংশ নির্ণয় (Determining latitude)
- একজন ভূগোলবিদের জন্য অক্ষাংশ নির্ণয় করতে জানা খুবই জরুরি।
- আমরা জানি পৃথিবী বৃত্তের কেন্দ্রে উৎপন্ন কোণ ৩৬০°।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করার জন্য গ্লোবটিকে আমরা যদিমাঝখান দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে কেটে নেই, তাহলে এর মধ্যে আমরা পৃথিবীর ঠিক মধ্যকিন্দু পাব। এখন যদি আমরা কোনো একটি স্থানের অক্ষাংশ নির্ণয় করতে চাই, তাহলে সেই মধ্যবিন্দুর সঙ্গে নির্ণেয় স্থানটির নিরক্ষরেখার (০°) পরিপ্রেক্ষিতে যে কোণ উৎপন্ন হয় তা নির্ণয় করতে হবে। এই কোণই হলো সেই স্থানের অক্ষাংশ।

অক্ষাংশ নির্ণয়ের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে।
সেগুলো হলো –

•  সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে:
যে যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি পরিমাপ করা যায় তাকে সেক্সট্যান্ট যন্ত্র বলে। সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়।
কোনো স্থানের অক্ষাংশ = ৯০০– (মধ্যাহ্ন সূর্যের উন্নতি বিযুবলম্ব)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,৬০৬.
নিচের কোনটি স্নায়বিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা?
  1. ক) প্যারালাইসিস
  2. খ) এপিলেপসি
  3. গ) পারকিনসন রোগ
  4. ঘ) সবগুলোই
ব্যাখ্যা
স্নায়বিক বৈকল্যজনিত শারীরিক সমস্যা:

 প্যারালাইসিস (Paralysis ) : 
 •শরীরের কোনো অংশের ঐচ্ছিক মাংসপেশি ইচ্ছামতো নাড়াতে পারার ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে প্যারালাইসিস বলে।
 •সাধারণত মস্তিষ্কের কোনো অংশের ক্ষতির কারণে ঐ অংশের সংবেদন গ্রহণকারী পেশিগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
•স্নায়ু রোগ, সুষুম্নাকাণ্ডের কিংবা কশেরুকার ক্ষয় রোগও প্যারালাইসিসের কারণ হতে পারে।

এপিলেপসি (Epilepsy ) :
 •এপিলেপসি মস্তিষ্কের একটি রোগ, যাতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে খিঁচুনি বা কাঁপুনি দিতে থাকে।
•অনেক ক্ষেত্রে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এই রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়। 

পারকিনসন রোগ (Parkinson's disease):
 •পারকিনসন রোগ মস্তিষ্কের এমন এক অবস্থা, যেখানে হাতে ও পায়ের কাঁপুনি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর নড়াচড়া, হাঁটাহাঁটি করতে সমস্যা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৬০৭.
ধাতু এবং লঘু এসিড কি উৎপন্ন করে?
  1. ক) লবণ + হাইড্রোজেন
  2. খ) অক্সিজেন + নাইট্রোজেন
  3. গ) কার্বন + অক্সিজেন
  4. ঘ) লবণ + পানি
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক সক্রিয়তা সিরিজে হাইড্রোজেনের উপরের ধাতুসমূহ লঘু এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও হাইড্রোজেন উৎপন্ন করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৬০৮.
'এল নিনো' (El Nino) একটি-
  1. 'ইতালিক' শব্দ
  2. 'রুশ' শব্দ
  3. 'স্প্যানিশ' শব্দ
  4. 'ইংরেজি' শব্দ
ব্যাখ্যা
এল নিনো:

- এল নিনো এক প্রকার উষ্ণ স্রোত।
- 'এল নিনো' (El Nino) একটি 'স্প্যানিশ' শব্দ।
- এল নিনো প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।
- তা বিরাজমান থাকে প্রায় ১ বছর কখনো কখনো ১৮ মাস পর্যন্ত যখন, সমুদ্র পৃষ্ঠ’র তাপমাত্রা বিস্তর পার্থক্য হয় (প্রায় ০.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস)। 
- এল নিনোর কারণে অস্ট্রেলিয়াতে খড়া দেখা দিতে পারে।
- এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে অতিবর্ষণ ও ভারতে বর্ষাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
- চলমান এল নিনো বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখার লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে যেতে পারে।
- সাধারণত যে বছর এল নিনো শুরু হয়, তার পরের বছরটিতে তীব্র গরম অনুভূত হয়।
- এর আগে ২০১৫ সালে এল নিনো হয়েছিল বলে ২০১৬ সালে বিশ্বে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা দেখা গিয়েছিল।


Image Source: ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, যুক্তরাষ্ট্র
• অপরদিকে, 'লা নিনো' শব্দটিও ''স্প্যানিশ' যার অর্থ বালিকা। এল নিনো প্রভাবে সাগরে উষ্ণ পানির স্রোত প্রবাহিত হবার পর পরবর্তীতে সাগরের পানির উষ্ণতা কমে আসে। সাগরের পানির এ উষ্ণতা কমে আসাই লা নিনো নামে পরিচিত। লা নিনোর প্রভাবে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হয়।  

উৎস: National Geographic Society.
১,৬০৯.
Adult cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে-
  1. ক) নেলী
  2. খ) শেলী
  3. গ) ডলি
  4. ঘ) মলি
ব্যাখ্যা
Adult cell ক্লোন করে যে ভেড়ার জন্ম হয়েছে তার নাম দেয়া হয়েছে ডলি

ডলি হলো মানব-ইতিহাসে প্রথম সফল স্তন্যপায়ী প্রাপ্তবয়স্ক ক্লোন প্রাণী।
ডলির জন্ম হয়  ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই।
ডলির নামকরণ করা হয় আমেরিকার বিখ্যাত শিল্পী ডলি পের্টনের নামে।
২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফুসফুসে জটিলতার কারণে মাত্র সাড়ে ছয় বছর বয়সে মারা যায় ডলি।
ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব স্কটল্যান্ডে সংরক্ষিত আছে ডলির স্টাফ করা দেহ।

সূত্র: বিবিসি ওয়েবসাইট।
১,৬১০.
বিশ্ববাজারে ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া কী নামে পরিচিত?
  1. কুষ্টিয়া গ্রেড
  2. চুয়াডাঙ্গা গ্রেড
  3. পাবনা গ্রেড
  4. যশোর গ্রেড
ব্যাখ্যা
কুষ্টিয়া গ্রেড:

- বাংলাদেশে পালিত ছাগলের প্রায় নব্বই ভাগই হলো ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল।
- এই জাতের ছাগলের চামড়া অত্যন্ত উন্নত মানের এবং মাংস অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল ব্যতীত ছাগলের অন্যান্য জাতের মধ্যে যমুনাপারি বা রামছাগল, কাশ্মিরী, বারবারি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
- দেশের সর্বত্রই এই জাতের ছাগল দেখা যায়। তবে কৃষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে এই ছাগলের পালন সর্বাধিক হয়।
- যার কারণে বিশ্ববাজারে ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগলের চামড়া কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১,৬১১.
বিগ ব্যাং কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ক) পৃথিবীতে
  2. খ) সূর্যে
  3. গ) মহাকাশে
  4. ঘ) সর্বত্র
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং মহাবিশ্বের সর্বত্রই সংঘটিত হয়েছিল। নির্দিষ্ট কোন জায়গায় সংঘটিত হয়নি। 

একসময় এই মহাবিশ্বের কোনো অস্তিত্ব ছিল না। এক বিরাট কসমিক বিস্ফোরণের মাধ্যমে সৃষ্টি হয় সকল প্রকার কণা, প্রতিকণা ও পদার্থ। সৃষ্টি হয় ছায়াপথ, গ্রহ, উপগ্রহ। মহাজগৎ সৃষ্টির এই তত্ত্বকে বলা হয় ‘দ্য বিগ ব্যাং থিওরি’। 

স্টিফেন হকিং বিগ ব্যাং তত্ত্ব এর ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন। 

সূত্র- BBC Science Focus Website [লিঙ্ক]
১,৬১২.
আপেক্ষিক তত্ত্বের ভিত্তিতে নিচের কোনটি ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়?
  1. মহাকর্ষ
  2. নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি
  3. সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা
  4. উল্লিখিত সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব: 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিক তত্ত্ব প্রকাশ করেন। 
- তার তত্ত্ব অনুসারে স্থান, ভর ও সময় ধ্রুব রাশি নয়, এগুলো সকলই আপেক্ষিক। 
- বেগের পরিবর্তনের সাথে সাথে স্থান, ভর ও সময় পরিবর্তন হয়। কেবল মাত্র শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগই পরম বেগ। উচ্চ গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এই ধারণা পরীক্ষালব্ধমানের সাথে সম্পূর্ণভাবে মিলে যায়। আইনস্টইনের এই তত্ত্বকে আপেক্ষিক তত্ত্ব বলা হয়। 
- ১৯১৬ সালে আইনস্টাইন আপেক্ষিকতার আরো একটি তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। 
- মহাকর্ষ, নাক্ষত্রিক গতিপ্রকৃতি, সম্প্রসারণশীল মহাবিশ্বের ধারণা ইত্যাদি এই তত্ত্বের ভিত্তিতে ব্যাখ্যা প্রদান করা যায়। 
- আইনস্টাইন তার আপেক্ষিক তত্ত্বকে দু'ভাগে ভাগ করেন। 
যথা- বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব এবং সার্বিক আপেক্ষিক তত্ত্ব। 

বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য: 
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। 
- ১৯০৫ সালে আইনস্টাইন এই দুটি স্বীকার্য প্রদান করেন। 
যথা- 
প্রথম স্বীকার্য: 
- স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে। 

দ্বিতীয় স্বীকার্য: 
- শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৩.
অক্ষাংশ হিসেবে গর্জনশীল চল্লিশের অবস্থান কোনটি?
  1. ৪০° উত্তর থেকে ৪৭°
  2. ৪০° দক্ষিণ থেকে ৪৭°
  3. ৪১° উত্তর থেকে ৪৩°
  4. ৪৩° দক্ষিণ থেকে ৪৯°
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু: 
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়। 
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। 
- এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়। 
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল। 
- আবার দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু। 
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)। 

- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়। 
- ৩০° থেকে ৫০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে। 
- বায়ু নিম্নদিকে প্রবাহিত হয় বলেই এই অঞ্চলে আনুভূমিক বায়ু অনুভব করা যায় না। 
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত। 
- কিন্তু এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো। এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে। 
- উত্তর গোলার্ধে ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬১৪.
মায়ের শালদুধ কীভাবে শিশুর জন্য উপকারী?
  1. শিশুকে দ্রুত ঘুম পাড়াতে সহায়তা করে
  2. শিশুর হাড় মজবুত করে
  3. শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
  4. শিশুর দাঁত গঠনে সহায়তা করে
ব্যাখ্যা
শিশুকে মায়ের দুধ দেয়ার প্রয়োজনীয়তা: 
- জন্মের পরপরই সুস্থ নবজাতককে উষ্ণ রাখার জন্য মায়ের পেট ও বুকে রাখা হয়। 
- প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী শিশুর জন্য মায়ের দুধ সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য। 
১। শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ বা কলোস্ট্রাম শিশুর প্রথম টিকা হিসাবে কাজ করে। শালদুধ এন্টিবডি ও প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিনসমৃদ্ধ হওয়ায় শিশুর বহু রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। 
২। শিশু জন্মের প্রথম ৩-৫ দিন শালদুধ অল্প মাত্রায় আসে। তবে এ পরিমাণই নবজাতকের শারীরিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। শালদুধ শিশুর পরিপাচক অন্ত্রসমূহকে উদ্দীপিত করে। যার ফলে অন্ত্র থেকে দ্রুত মিকোনিয়াম (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার হয়। এ অবস্থা জন্ডিস সৃষ্টিকারী জীবাণু শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে। 
৩। শিশু মায়ের স্তন মুখে নেয়া ও চোষার ফলে মায়ের শরীরে অক্সিটোসিন নামক হরমোন নির্গত হয়। এতে মা শান্ত, অবসাদমুক্ত বোধ করেন এবং শিশুর সাথে মায়ের ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হয়। 
৪। শিশু জীবনের প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত বাড়তি খাবারের সাথে মায়ের দুধ দেয়া চলতে থাকে। 
৫। মায়ের দুধে রোগ জীবাণু প্রবেশের ভয় থাকে না, এ দুধের উত্তাপ শরীরের তাপমাত্রা অনুযায়ী থাকে বলে একে ঠান্ডা বা গরম করতে হয় না। 
৬। শিশুকে বুকের দুধ দিতে হলে ধৈর্য ও মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন। কারণ, মানসিক অশান্তি, স্বাস্থ্যহীনতা, রোগাক্রান্ত অবস্থা বা উত্তেজিত পরিস্থিতিতে শিশুকে দুধ দিলে মায়ের দুধ কমে যাবে, শিশুর মধ্যেও অতৃপ্তি আসবে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬১৫.
নিচের কোনটি বায়ুর উপাদান নয়?
  1. হিলিয়াম
  2. আর্গন
  3. নিয়ন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
• বায়ুর উপাদান নয় - ফসফরাস।

• বায়ুর উপাদান:
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি হলো- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকিগুলো শতকরা ১.২৭ ভাগ।

• বায়ুর উপাদানের শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
- অক্সিজেন- ২০.৭১%
- আর্গন - ০.৮০%
- কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
- জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
- অন্যান্য গ্যাস (যেমন- নিয়ন, হিলিয়াম, ক্রিপটন, জেনন, নাইট্রাস অক্সাইড)- ০.০২%
- ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬১৬.
কখন চন্দ্রগ্রহণ ঘটে?
  1. পৃথিবী সূর্য ও চন্দ্রের মাঝে এলে
  2. চন্দ্র সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে এলে
  3. সূর্য পৃথিবী ও চন্দ্রের মাঝে এলে
  4. পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় এলে
ব্যাখ্যা

চন্দ্ৰগ্ৰহণ:
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।
- এই সময় চাঁদ গাঢ় লাল বা তামাটে রং ধারণ করে, যা সাধারণত 'রক্তচাঁদ' নামে পরিচিত।

⇒ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ: এই চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ পুরোপুরি পৃথিবীর ছায়ার আড়ালে চলে যায়। এ সময় চাঁদ লালচে রং ধারণ করে।

⇒ আংশিক চন্দ্রগ্রহণ: চাঁদের একটি অংশের ওপর যখন পৃথিবীর ছায়া পড়ে, তখন আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হয়। চাঁদের পৃষ্ঠের ওপর পৃথিবীর ছায়া ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং পরে তা কমে যায়। তবে পুরো চাঁদ পৃথিবীর ছায়ার আড়ালে চলে যায় না।

⇒ উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ: এই চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদ সরাসরি পৃথিবীর মূল ছায়ার ভেতরে থাকে না। বরং ছায়ার বাইরের অংশ বা উপচ্ছায়ার ভেতর দিয়ে যায়। এর ফলে চাঁদ স্বাভাবিকের চেয়ে কম উজ্জ্বল দেখায়।

এছাড়াও,
- সূর্যগ্রহণ: যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে।

- পূর্ণিমা: পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে।

- অমাবস্যা: চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

উৎস: i) বিবিসি বাংলা।
ii) প্রথম আলো

১,৬১৭.
কিসের তারতম্য থেকে আবহাওয়ার অবস্থা জানা যায়?
  1. ক) জলবায়ু
  2. খ) আর্দ্রতা
  3. গ) বৃষ্টিপাত
  4. ঘ) বায়ুচাপ
ব্যাখ্যা
বায়ু তার ওজনের কারণে ভূপৃষ্ঠের ওপর যে চাপ প্রয়োগ করে তাকে বায়ুচাপ বলে। বায়ুচাপের তারতম্য থেকে আবহাওয়ার অবস্থা জানা যায়।
১,৬১৮.
কোন রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ নেই?
  1. ক) ক্যান্সার
  2. খ) যক্ষ্মা
  3. গ) এইডস
  4. ঘ) নিউমোনিয়া
ব্যাখ্যা
এইডস:
- সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী রোগ হচ্ছে ‘এইডস’ (AIDS)। এটি একটি সংক্রামক রোগ।
- ১৯৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম আমেরিকায় AIDS চিহ্নিত হয় এবং তখন থেকে সারা বিশ্বে AIDS মরণব্যাধি হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।
- আফ্রিকার দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
- প্রাকৃতিক নিয়মে সব মানুষের দেহেই রোগ-জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা থাকে, একে ইমিউনিটি বলা হয়।
- রক্তের লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি প্রস্তুতের মাধ্যমে জীবাণুর আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে যা AIDS আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে ধীরে ধীরে এই ক্ষমতা কমতে থাকে।
- এই কারণে এ রোগটির নাম দেওয়া হয়েছে- ‘অ্যাকুয়ার্ড ইম্যুন ডেফিসিয়েন্সি সিনড্রম’ যা সংক্ষেপে AIDS ( Acquired Immune Deficiency Syndrome)।
- এটি এক ধরনের ভাইরাস, যার নাম Human Immuno Deficiency Virus (HIV), এটি AIDS রোগের সংক্রমণ করে থাকে।
- HIV দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। দেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করার পর HIV রক্তের শ্বেত কণিকার T- লিম্ফোসাইটকে আক্রমণ করে, যার ফলে দেহের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়।
- HIV ভাইরাস সংক্রমণের পর প্রথম ৫ বছর পর্যন্ত মানুষের দেহে কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না। এসব মানুষ তখন এই রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে এবং তখন তারা অন্যকে সংক্রমিত করতে পারে।
- এইডস রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ নেই। এটি ধীরে ধীরে মানুষের শরীরে কাজ করে। 
- প্রধাণত যৌন ক্রিয়ার মাধ্যমেই আক্রান্ত ব্যক্তির দেহ থেকে HIV সুস্থ ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হয়, মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে সদ্যোজাত শিশুর দেহে এ রোগ সংক্রমিত হতে পারে।
- এছাড়াও রক্ত সঞ্চালন কিংবা ড্রাগ ব্যবহারকারীদের সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ সঞ্চারিত হতে পারে।
- AIDS প্রতরোধ করার সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয় হলো, HIV সংক্রমণ কীভাবে ঘটে সে সম্পর্কে সবাইকে শিক্ষা দেওয়া।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৬১৯.
নীহারিকার ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সত্য?
  1. গ্যাস, ধুলা ও প্লাজমা দ্বারা নীহারিকা গঠিত
  2. নীহারিকায় শতকরা ৯০ ভাগ হাইড্রোজেন বিদ্যমান
  3. শতকরা ১ ভাগ কার্বন বিদ্যমান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নীহারিকার:
- প্রধানত গ্যাস, ধুলা ও প্লাজমা দ্বারা নীহারিকা গঠিত।
- বেশির ভাগ নীহারিকায় শতকরা ৯০ ভাগ হাইড্রোজেন, শতকরা ৯ ভাগ হিলিয়াম আছে।
- এ ছাড়া বাকি শতকরা ১ ভাগ হিসেবে রয়েছে কার্বন, নাইট্রোজেন, ম্যাগনেসিয়াম, সালফার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাসিয়াম।
- নীহারিকাগুলো মূলত অবস্থিত আন্ত নাক্ষত্রিক শূন্যস্থান বা interstellar medium (ISM)-এ।
- এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে ছোটো নীহারিকা NGC 7027 মাত্র ০.১ আলোকবর্ষ।
- আবিষ্কৃত সর্ববৃহৎ ট্যারান্টুলা নেবুলা প্রায় ১৮৬২ আলোকবর্ষ।

তথ্যসুত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ২ জুন ২০২৩।
১,৬২০.
কোন রোগের কারণ সম্পূর্ণরূপে জানা যায়নি?
  1. এপিলেপসী
  2. পারকিনসন
  3. প্যারালাইসিস
  4. ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা
• এপিলেপসী রোগের কারণ সম্পূর্ণরূপে জানা যায়নি। 
• এটি মস্তিস্কের রোগ।
• একে মৃগী রোগ বলা হয়। 
• আক্রান্ত ব্যাক্তির কাপুনি বা খিচুনি দিয়ে উঠে। 

সূত্র - মাধ্যমিক জীব বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,৬২১.
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে বায়ুচাপ কেমন বিদ্যমান থাকে?
  1. নিম্নচাপ
  2. উচ্চচাপ
  3. চারপাশের সমান 
  4. বায়ুচাপ অনুপস্থিত থাকে 
ব্যাখ্যা

◉ ঘূর্ণিঝড় মূলত অতিমাত্রায় নিম্নচাপের কেন্দ্রকে ঘিরে সৃষ্টি হয়। কেন্দ্রে চাপ কমে গেলে আশেপাশের এলাকা থেকে বাতাস প্রবল বেগে ভেতরের দিকে ধাবিত হয়।

ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬২২.
সাধারণত রেডিওথেরাপিতে কোন রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে?
  1. আলফা
  2. এক্সরে
  3. লেজার
  4. ইনফ্রারেড
ব্যাখ্যা
- রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়।
- রেডিও থেরাপি শব্দটি ইংরেজি Radiation Therapy এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- রেডিওথেরাপি হলো ক্যানসার আরোগ্য বা নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল।
- এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়।
- সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে।

শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়। 

উৎস : বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬২৩.
মহাবিশ্বে কয় ধরনের বল হয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
মহাবিশ্বের চার ধরনের বল রয়েছে। যথা-মহাকর্ষ, তাড়িৎচৌম্বকীয়, দুর্বল নিউক্লিয়ার বল এবং শক্তিশালী নিউক্লিয়ার বল। উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬২৪.
‘ইকোলজি’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন -
  1. আর্নেস্ট হেকেল
  2. লেস্টার ব্রাউন
  3. নরম্যান বোরল্যাগ
  4. আরহেনিয়াস
ব্যাখ্যা
বাস্তুবিদ্যা (Ecology):

- জীববিজ্ঞানের যে বিশিষ্ট শাখায় পরিবেশে বিন্যস্ত বিভিন্ন জীব ও তার পারিপার্শ্বিক জড় উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া, নির্ভরশীলতা ও মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।
- প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রধান নিয়ামক : পানি, গাছপালা ইত্যাদি।
- পরিবেশবিজ্ঞানের ইংরেজি পরিভাষা Ecology ইকোলজি। 
- গ্রিক  ওইকোস অর্থাৎ "বাসস্থান" এবং লোগোস অর্থাৎ "বিদ্যা" ইংরেজি Ecology পরিভাষাটি এসেছে।
- ইকোলজি শব্দটি জার্মান বিজ্ঞানী আর্নস্ট হেকেল ১৮৬৯ সালে সর্বপ্রথম প্রণয়ন করেন।
- ‘ইকোলজি’ হলো পরিবেশের সাথে প্রাণীজগতের সম্পর্ক বিষয়ক বিদ্যা।
- সুইডিশ বিজ্ঞানী সুভনটে আরহেনিয়াস ১৮৯৬ সালে সর্বপ্রথম ‘গ্রিনহাউজ’ শব্দটি ব্যবহার করেন।
- লেস্টার ব্রাউন প্রথম ‘জলবায়ু শরনার্থী’ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন।
- নরম্যান বোরলগ সবুজ বিপ্লবের জনক হিসেবে অভিহিত।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং অ্যাকাডেমিয়া। 
১,৬২৫.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়?
  1. এক্সোস্ফিয়ার
  2. স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. ট্রপোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা

• এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere): 
- তাপমণ্ডলের (থার্মোস্ফিয়ার) উপরে প্রায় ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোস্ফিয়ার বলে। 
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়। 

• এক্সোস্ফিয়ারের বৈশিষ্ট্য: 
- এক্সোস্ফিয়ার, তাপমণ্ডল (থার্মোস্ফিয়ার) অতিক্রম করে ৯৬০ কিলােমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়। এটি ক্রমান্বয়ে ইন্টারপ্লানেটারি স্পেসে প্রবেশ করে। 
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়। 
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলাে সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৬২৬.
WWF এর পূর্ণরূপ কোনটি?
  1. ক) World Wide Federation for Nature
  2. খ) World Wide Fund for Nature
  3. গ) World Warming Federation for Natural  
  4. ঘ) Wild World Fund for Nature
ব্যাখ্যা
WWF এর পূর্ণরূপ হচ্ছে World Wide Fund for Nature.

- ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার ( ডব্লিউডবিএফ ) হল একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারী সংস্থা।
- ইহা ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, মরুভূমি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কাজ করে এবং পরিবেশের উপর মানবিক প্রভাব হ্রাস পায়।
- এটি পূর্বে ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের নামকরণ করা হয়েছিল, যা কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল নাম।
- লিভিং প্ল্যানেট রিপোর্ট ডব্লিউডএফএফ দ্বারা ১৯৯৮ সাল থেকে প্রতি দুই বছর প্রকাশিত হয়; এটি একটি লিভিং প্ল্যানেট সূচক এবং পরিবেশগত পদাঙ্ক হিসাব উপর ভিত্তি করে।  
- বিশ্বের বৃহত্তম সংরক্ষণ সংস্থা (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার, সংক্ষেপে নাম) যেটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য তহবিল সংগ্রহ করে, এটি বিভিন্ন দেশগুলিতে বিতরণ করে, প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলি উন্নীত করে, বিভিন্ন প্রচারাভিযান, শিক্ষা এবং সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করে WWF. 

সূত্র- WWF Website [লিঙ্ক]
১,৬২৭.
প্রাথমিক ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় তাকে কী বলে?
  1. বুস্টার ডোজ
  2. ডিএনএ টিকা
  3. বিসিজি
  4. টিটেনাস টক্সয়েড
ব্যাখ্যা

টিকা (Vaccine):
- টিকা হলো প্রাণিদেহে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীবের নিষ্ক্রিয় পরিস্রুত সাসপেনশন। 
- সাধারণত কোনো রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব দিয়েই ওই রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
- টিকা প্রবেশ করালে প্রাণিদেহে ওই একই জীবাণু বা নিকট সম্পর্কিত রোগ জীবাণুর আক্রমণ প্রতিরোধক্ষম হয়ে ওঠে।
- দেহে টিকা দেওয়া মানে হলো ওই রোগের জীবাণু দেহে প্রবেশে করানো।
- কিন্তু যেহেতু এ জীবাণুগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে নিষ্ক্রিয় থাকে সেহেতু এরা জীবদেহে কোনো রোগ সৃষ্টি না করে রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। 

টিকা দেওয়ার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা: 
১। টিকা দেওয়ার ফলে দেহে অ্যান্টিবডি সৃষ্টি করে রোগাক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়।
২। ভ্যাকসিন দেহের মধ্যে প্রবিষ্ট ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াদের প্রজনন ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়।
৩। টিকার মাধ্যমে যে সব রোগ- প্রতিরোধ করা হয় সে রকম কয়েকটি হলো- যক্ষ্মা, টিটেনাস, কলেরা, জলাতঙ্ক, হুপিংকাশি, গুটি বসন্ত, ডিপথেরিয়া, পোলিও, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস-B ইত্যাদি।
৪। টিকা দেওয়ার ফলে কৃত্রিম শক্তির ইমিউনিটি সৃষ্টি করা হয়।

বুস্টার ডোজ (Booster dose): 
- দেহে অধিক মাত্রায় অ্যান্টিবডি সৃষ্টি এবং ইমিউনিটি সাধনের জন্য প্রাথমিক ভ্যাকসিন দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে যে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় তাকে বুস্টার ডোজ বলে।

তথ্যসূত্র: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬২৮.
ব্যারোমিটার আবিষ্কার করেন-
  1. এডিসন
  2. গ্যালিলিও
  3. টরেসিলি
  4. জর্জ কেলী
ব্যাখ্যা
ব্যারোমিটার: 
- টরেসিলি ১৬৪৩ সালে তরল তলের উচ্চতা ও বায়ুচাপের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে প্রথম বায়ুমন্ডলীয় চাপ পরিমাপের যন্ত্র আবিস্কার করেন। এর নাম ব্যারোমিটার। - যে যন্ত্র দিয়ে বাতাসের চাপ মাপা হয় সে যন্ত্রকে বলা হয় ব্যারোমিটার। 
- বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপার জন্য এখনো নির্ভরতার সঙ্গে ব্যারোমিটার ব্যবহার করা হচ্ছে। 
- ব্যারোমিটারে পারদ স্তভের উচ্চতাকে বায়ুমন্ডলীয় চাপের আদর্শ ধরা হয়। 
- আদর্শ বায়ু চাপ 76cm পারদ স্তম্ভের ওজনের সমান। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬২৯.
রক্তের প্রধান উপাদান
  1. ক) এরিথ্রোসাইট
  2. খ) লিউকোসাইট
  3. গ) প্লাজমা
  4. ঘ) থ্রম্বােসাইট
ব্যাখ্যা
রক্তের প্রধান উপাদান হলাে রক্তরস বা প্লাজমা
সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% হলাে রক্তকনিকা।
রক্তরসের ৯০% হলাে পানি এবং বাকি ১০% হলাে বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদান।

রক্তকনিকা ৩ প্রকার।
যথাঃ
১. এরিথ্রোসাইট বা লােহিত রক্তকনিকা,
২. লিউকোসাইট বা শ্বেত রক্তকনিকা এবং
৩. থ্রম্বােসাইট বা অনুচক্রিকা।

সূত্র: বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণি
১,৬৩০.
ক্ষারক একটি এসিডকে প্রশমন করলে কি উৎপন্ন হয়?
  1. ক) লবণ ও পানি
  2. খ) অক্সিজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন
ব্যাখ্যা
ক্ষারক হলো ঐ সকল পদার্থ যা এসিডকে প্রশমিত করে এর বৈশিষ্ট্যসূচক ধর্ম বিলুপ্ত করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৬৩১.
রকেট আবিষ্কার করেন কে?
  1. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
  2. থিওডর মাইম্যান
  3. উইলিয়াম গিলবার্ট
  4. ডব্লিউ কনগ্রিড
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন আবিষ্কার:
- ডব্লিউ কনগ্রিড রকেট আবিষ্কার করেন।

- মাইকেল ফ্যারাডে ডায়নামো আবিষ্কার করেন।
- উইলিয়াম গিলবার্ট বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেন।
- ডিনামাইট আবিষ্কার করেন আলফ্রেড নোবেল।
- ওপেনহেইমার আবিষ্কার করেন পারমাণবিক বোমা; 
- থিওডর মাইম্যান আবিষ্কার করেন লেজার রশ্মি;
- টমাস আলভা এডিসন আবিষ্কার করেন গ্রামোফোন, ফনোগ্রাফ, সিনেমা প্রজেক্টর, ভিডিও ক্যামেরা এবং দীর্ঘস্থায়ী বৈদ্যুতিক বাতি (বাল্ব) সহ বহু যন্ত্র।
- পেনিসিলিন আবিষ্কার করেন আলেকজান্ডার ফ্লেমিং। 

উৎস: Britannica.
১,৬৩২.
শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইট যে ক্রম অনুসারে জ্বলে তা হলো-
  1. লাল-সবুজ-হলুদ-লাল-সবুজ
  2. লাল-সবুজ-হলুদ-সবুজ-লাল
  3. লাল-হলুদ-সবুজ- হলুদ -লাল 
  4. লাল-হলুদ-লাল-সবুজ-হলুদ
ব্যাখ্যা
শহরের রাস্তায় ট্রাফিক লাইট যে ক্রম অনুসারে জ্বলে তা হলো:
লাল-হলুদ-সবুজ- হলুদ -লাল 
ট্রাফিক সিগন্যালে লাল মানে থামতে হবে।
হলুদ বাতি জ্বলে উঠলে নিতে হবে যাত্রার প্রস্তুতি। অর্থাৎ আরও কিছু সময় অপেক্ষা করার পরই যাত্রা শুরু নির্দেশক হলুদ আলো।
আর সবুজ বাতি জ্বলে উঠলেই এগিয়ে যেতে হবে।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
১,৬৩৩.
ধুমকেতু সুমেকার লেভী-৯ এর প্রথম ভাঙ্গা টুকরাটি কবে বৃহস্পতি গ্রহে আঘাত হানে?
  1. ১৫ জুলাই, ১৯৯৪
  2. ১৬ জুলাই, ১৯৯৪
  3. ১৭ জুলাই, ১৯৯৪
  4. ১৮ জুলাই, ১৯৯৪
ব্যাখ্যা
ধুমকেতু সুমেকার লেভী-৯:
- ধুমকেতু সুমেকার লেভী-৯ থেকে টুকরো টুকরো অংশ বৃহস্পতির বায়ুমণ্ডলে 221,000 কি.মি (137,300 মাইল) বেগে প্রতি ঘন্টায় ১৬ জুলাই, ১৯৯৪ সালে আঘাত আনতে শুরু করেছিল। 
- পৃথিবী-ভিত্তিক পর্যবেক্ষকদের জন্য গ্রহের 9.92-ঘন্টা ঘূর্ণন সময় দ্রুত প্রতিটি প্রভাবের স্থানকে দৃশ্যমান করে তুলেছিল। 
- গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আলাদা হয়ে প্রতিটি খণ্ড জোভিয়ান বায়ুমণ্ডলের গভীরে নিমজ্জিত হয় এবং প্রচণ্ড শক্তিতে বিস্ফোরিত হয় এবং "ফায়ারবল" নামক অতি-গরম গ্যাসের বুদবুদ তৈরি করে।

উৎস: Britannica.
১,৬৩৪.
কোনটির সংক্রমণে আমাশয় হয়?
  1. ক) প্রোটোজোয়া
  2. খ) ছত্রাক
  3. গ) ব্যাকটেরিয়া
  4. ঘ) ক ও গ
ব্যাখ্যা
আমাশয় (Dysentery): Entamoeba histolytica নামক এক ধরনের প্রােটোজোয়া, সিগেলা (Shigella) নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি জীবাণুর সংক্রমণে আমাশয় হয়। ঘন ঘন মলত্যাগ, মলের সাথে শ্লেষ্মা বের হওয়া, পেটে ব্যথা, অনেক সময় শ্লেষ্মাযুক্ত মলের সাথে রক্ত যাওয়া এবং দুগ্ধজাত দ্রব্য হজম না হওয়া আমাশয় রােগের লক্ষণ। আমাশয় হলে প্রয়ােজনে পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়, কারণ সময়মতাে চিকিৎসা না করা হলে মারাত্মক কিছু ঘটতে পারে।
এ রােগ প্রতিরােধে যা করতে হবে তা হলাে: বিশুদ্ধ পানি পান করা, শাকসবজি ও ফলমূল উত্তমরূপে পানি দিয়ে ধৌত করা, মল ত্যাগের পর হাত সাবান দিয়ে ভালােভাবে ধােয়া, স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করা, খাওয়ার আগে হাত ও থালাবাসন ভালােভাবে ধুয়ে নেওয়া।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান।
১,৬৩৫.
ভূমিকম্পের সংগে নিচের কোনটি সংঘটনের সম্পর্ক আছে?
  1. ক) নদীভাঙ্গা
  2. খ) বন্যা
  3. গ) খরা
  4. ঘ) সুনামি
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্পের ফলেই সুনামি সংঘটিত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৬৩৬.
যে যন্ত্রের সাহায্যে ডুবোজাহাজে পানির নিচ থেকে ওপরের দৃশ্য দেখা যায় -
  1. টেলিস্কোপ
  2. পেরিস্কোপ
  3. বাইনোকুলার
  4. দূরবীক্ষণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
পেরিস্কোপ:
- পেরিস্কোপ হলো কোনো লুক্কায়িত স্থান থেকে পর্যবেক্ষণের জন্য যন্ত্রবিশেষ।
- এর সরলতম আকারে এটি ৪৫ ডিগ্রী কোনে প্রতি প্রান্তে পরস্পরের সাথে সমান্তরালে স্তাপিত দর্পণসহ একটি নল দ্বারা গঠিত।
- পেরিস্কোপ আলোর প্রতিফলন এবং ব্যতিচার নীতির উপর তৈরি হয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে পরীক্ষায় ব্যবহার করা হতো।
- এটি সাধারণত পানির নিচে বা কোন অবরুদ্ধ স্থানে থাকা জিনিস দেখতে ব্যবহৃত হয়।
- পেরিস্কোপের মাধ্যমে একটি নাবিক বা ব্যবহারকারী সাবমেরিন বা অন্যান্য যানের উপরিভাগের দৃশ্য দেখতে পারে।

উল্লেখ্য,
- সর্বপ্রথম পেরিস্কোপ ব্যবহৃত হয় সাবমেরিনে বা ডুবজাহাজে।

অন্যদিকে,
- বাইনোকুলার এক ধরনের হস্তধৃত দূরবীক্ষণ যন্ত্র, স্বাভাবিক দৃষ্টিসীমার বাইরে অবস্থিত বস্তু দেখার জন্য ব্যবহার হয়।

উৎস: i) Britannica.
ii) জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর ওয়েবসাইট।
১,৬৩৭.
সেলুলার ফোনের জনক কে?
  1. স্টিভ জবস
  2. টমাস এডিসন
  3. মার্টিন কুপার
  4. আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল
ব্যাখ্যা
মোবাইল ফোন বা সেলুলার ফোন (Mobile Phone): 
- মোবাইল ফোন বা সেলফোন বর্তমান বিশ্বে সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং ব্যবহৃত যোগাযোগ মাধ্যম।
- এটি প্রকৃত পক্ষে একটি ট্রান্সমিটার ও রিসিভার অর্থাৎ একে এক কথায় ট্রান্সসিভার বলে।
- প্রথম দিকে এটি শুধু যোগাযোগ মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি বিনোদন থেকে শুরু করে ইন্টারনেট ব্যবহার পর্যন্ত সকল কাজেই ব্যবহার করা যায়।
- মোবাইল ফোন এখন একটি ছোটো খাটো কম্পিউটারের ন্যায় কাজ করে।
- এর সাহায্যে গেইম খেলা, গানশুনা, গান ডাইনলোড করা, সিনেমা দেখা, ভিডিও কনফারেন্স করা, ইন্টারনেট ব্যবহার করা, চিঠি-পত্র আদান প্রদান করা, স্থির ও ভিডিও চিত্র গ্রহন ও প্রেরণ ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করা যায়।
- তাছাড়াও মোবাইল ফোন দিয়ে ক্যাশ পেমেন্ট, বিল পরিশোধ, এয়ারপোর্টে চেক-ইন, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির দরখাস্ত করা যায়।

 
মার্টিন কুপার:
- মার্টিন কুপার (জন্ম: ২৬ ডিসেম্বর, ১৯২৮, শিকাগো, ইলিনয়, যুক্তরাষ্ট্র) একজন আমেরিকান প্রকৌশলী।
- তিনি ১৯৭২–৭৩ সালে প্রথম মোবাইল সেল ফোন তৈরি করার দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। 
- তিনি প্রথম মোবাইল ফোন কল করেন।
- তিনি ব্যাপকভাবে সেলুলার ফোনের জনক হিসেবে পরিচিত। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
Britannica. 
১,৬৩৮.
The radiant energy of the Sun results from
  1. ক) Nuclear fission
  2. খ) Nuclear fusion
  3. গ) Cosmic radiation
  4. ঘ) Combustion
ব্যাখ্যা
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ভিন্ন মৌল তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বা নিউক্লিয় সংযোজন বিক্রিয়া বলে।
- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া।
- নিউক্লিয় ফিউশন নীতির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৬৩৯.
জোয়ার-ভাঁটার তেজ কটালে কোন সময়ে হয়? 
  1. অমাবস্যার তিথিতে
  2. যখন চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে সমকোণ অবস্থান করে
  3. একাদশীতে
  4. অষ্টমী তিথিতে
ব্যাখ্যা

• জোয়ার-ভাঁটার তেজ সবচেয়ে বেশি হয় অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময়, কারণ তখন সূর্য ও চন্দ্র এক রেখায় থাকে। সুতরাং সঠিক উত্তর: ক) অমাবস্যার তিথিতে।

পানির উচ্চতা ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ: 
- পানির উচ্চতার উপর ভিত্তি করে জোয়ার ভাঁটাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১. তেজ কটাল বা ভরা কটাল এবং 
২. মরা কটাল। 

তেজ কটাল বা ভরা কটাল (Spring Tide): 
- চন্দ্রের মত সূর্যও জোয়ার ভাঁটা সৃষ্টিতে সাহায্য করে। 
- যখন অমাবস্যার সৃষ্টি হয় তখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- অন্যদিকে পূর্ণিমার সময় পৃথিবীর একপাশে সূর্য ও অন্যপাশে চন্দ্র অবস্থান করে। এই সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে। এ সময় সূর্যের আকর্ষণ চন্দ্রের আকর্ষণকে সাহায্য করে। 
- মূলত পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণে জোয়ারের পানি ফুলে উঠে। এই জোয়ারকেই বলা হয় ভরা কটাল বা তেজ কটাল। 
- পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবী পৃষ্ঠের যে স্থানে চন্দ্রের প্রভাবে মুখ্য জোয়ার হয়, সে স্থানে সূর্যের প্রভাবে গৌণ জোয়ার হয়। 
- আবার চন্দ্রের প্রভাবে যে স্থানে গৌণ জোয়ার হয় ঐ স্থানে সূর্যের আকষর্ণে মুখ্য জোয়ার হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৪০.
নিচের কোনটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি?
  1. ক) কোহি সুলতান
  2. খ) ফুজিয়ামা
  3. গ) মাওনালেয়া
  4. ঘ) স্ট্রম্ব্যালি
ব্যাখ্যা
- যেসব আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যূৎপাত অনেক আগে বন্ধ হয়ে গেছে তবে ভবিষ্যতে আবার হতে পারে তাদের সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বলা হয়।
সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ:
- ফুজিয়ামা (জাপান)
- কিলিমাঞ্জারো (তাঞ্জানিয়া) প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- কোহি সুলতান (ইরান) : মৃত আগ্নেয়গিরি
- স্ট্রম্ব্যালি (ইতালি) : সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
- মাওনালেয়া (যুক্তরাষ্ট্র) : সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
১,৬৪১.
পোলিও ভ্যাকসিন এর আবিষ্কারক কে?
  1. জোনাস সাল্ক
  2. লুই পাস্তুর
  3. এডওয়ার্ড জেনার
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
ব্যাখ্যা

পোলিও ভ্যাকসিন:
- পোলিও ভাইরাসজনিত স্নায়ুতন্ত্রের সংক্রামক রোগ পোলিও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
- আবিষ্কারক: জোনাস সাল্ক, যুক্তরাষ্ট্র
- সময়কাল: ১৯৫৫ সাল।
- বৈশিষ্ট্য: Killed virus (নিষ্ক্রিয় ভাইরাস) দ্বারা তৈরি, ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রদান।
- ব্যাপক ব্যবহার শুরু: ফেব্রুয়ারি ১৯৫৪, মার্কিন স্কুলশিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে।
- ফলাফল: যুক্তরাষ্ট্রে পোলিও আক্রান্তের হার প্রতি ১ লক্ষে ১৮ জন থেকে কমে ২ জনের নিচে নেমে আসে।

অন্যান্য অপশনসমূহ - 
- লুই পাস্তুর: জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্সসহ একাধিক ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন এবং জীবাণু তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করেন।
- এডওয়ার্ড জেনার: গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন।
- আলেকজান্ডার ফ্লেমিং: পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা

১,৬৪২.
লোহিত রক্তকণিকার কাজ নয় কোনটি?
  1. ক) রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা
  2. খ) দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা
  3. গ) হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখা
  4. ঘ) নিষ্কাশনের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইড বহন করা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকার কাজ হলো দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা, হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখা এবং নিষ্কাশনের জন্য কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা। অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করা।
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৪৩.
কোনটি মৌলিক বল নয়?
  1. ক) অভিকর্ষ
  2. খ) তড়িৎ চৌম্বকীয় বল
  3. গ) সবল নিউক্লিয় বল
  4. ঘ) দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে অসংখ্যা ধরণের বল আছে। কিন্তু সকল বলই ১) মহাকর্ষ, ২) তড়িৎ চৌম্বকীয়, ৩) সবল নিউক্লিয়, এবং ৪) দুর্বল নিউক্লিয় বল এই চারটি মৌলিক বলের সংমিশ্রণ।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৬৪৪.
ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের কেন্দ্রে কী থাকে?
  1. অত্যধিক বায়ুচাপ
  2. নিম্ন বায়ুচাপ
  3. অত্যধিক তাপমাত্রা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

◉ ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোনের কেন্দ্রকে "চোখ" (Eye) বলা হয়। এই কেন্দ্রে বায়ুচাপ অত্যন্ত নিম্ন থাকে, যা আশপাশের উচ্চ বায়ুচাপবিশিষ্ট বাতাসকে কেন্দ্রের দিকে টেনে আনে।

ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ Cyclone।
- ঘূর্ণিঝড়ের বাতাস কুণ্ডলি পাকানো সাপের আকার ধারণ করে বলে এরূপ নামকরণ করা হয়েছে।
- বায়ুর অনিয়মিত প্রবাহের দরুন ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়। সমুদ্রের পানিপৃষ্ঠের বায়ুপুঞ্জের মধ্যে নিম্নস্তরের বায়ু উষ্ণ ও আদ্র হয় এবং ওপরের দিকের বায়ু শীতল ও শুষ্ক হয়।
- বায়ুর প্রবাহের সময় নিম্নের উষ্ণ ও আদ্র বায়ু ওপরে ওঠে ওপরের শীতল বায়ুর সাথে ঘনীভূত হয়ে আদ্রতা বাড়ে এবং বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড় সাধারণত সমুদ্রের ওপর সংঘটিত হয়ে সমুদ্রের পাশ্ববর্তী এলাকায় ক্ষতিসাধন করে।
- ঘূর্ণিঝড়ের সময় বায়ু প্রবাহের গতিবেগ থাকে ৬৫ কি.মি বা এরও বেশি।
- ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু আবর্তনের কেন্দ্রকে চোখ বলে।
- ঘূণিঝড়ের জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠের কাছাকাছি নিকটবর্তী এলাকায় অন্তত ২৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াস তাপমাত্রা বিশিষ্ট যথেষ্ট পরিমাণে উষ্ণ ও আদ্র বায়ু প্রয়োজন হয়।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,৬৪৫.
আধুনিক চাষ বিষয়ক নিচের কোন জোড়াটি সঠিক? 
  1. হর্টিকালচার — মাছ চাষ
  2. এভিকালচার — রেশম চাষ
  3. প্রণকালচার — চিংড়ি চাষ
  4. সেরিকালচার — মৌমাছি পালন
ব্যাখ্যা

- আধুনিক চাষ বিষয়ক সঠিক জোড়াটি হচ্ছে প্রণকালচার — চিংড়ি চাষ । 

আধুনিক কৃষি ও চাষ বিষয়ক বিজ্ঞানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি: 

• মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
• রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
• মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
• পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 
• চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
• উদ্যান পালন (ফল, ফুল ও শাকসবজি চাষ) বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় হর্টিকালচার। 
• সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা। 

১,৬৪৬.
নিচের কোনটি আপদ (Hazard)-এর প্রত্যক্ষ প্রভাব?
  1. অর্থনৈতিক
  2. সামাজিক
  3. পরিবেশগত
  4. অবকাঠামোগত
ব্যাখ্যা
• আপদ (Hazard)-এর প্রত্যক্ষ প্রভাব- অবকাঠামোগত। 

• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ অনুসারে,
‘‘আপদ (Hazard) ’’ অর্থ এমন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা যাহা প্রাকৃতিক নিয়মে, কারিগরি ত্রুটির কারণে অথবা মানুষের দ্বারা সৃষ্ট হইয়া থাকে এবং ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে এবং জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহের ভয়াবহ ও অপূরণীয় ক্ষতিসহ দুঃখ দুর্দশার সৃষ্টি করে।

• আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।

বিভিন্ন ধরনের আপদ:
• প্রাকৃতিক আপদ হল- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি
• মানবসৃষ্ট আপদ হল- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি
• কারিগরি আপদ হল- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি
- মনে রাখতে হবে - ‘আপদ দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের সম্ভাব্য কারণ’। 

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
১,৬৪৭.
কোন রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে?
  1. বিটা রশ্মি
  2. গামা রশ্মি
  3. আলফা রশ্মি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আলফা রশ্মির বৈশিষ্ট্য:
- আলফা রশ্মি মূলত একটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে, এর পরিমাণ ৩.২ × ১০- ১৯ কুলম্ব।
- আলফা রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- আলফা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা কম। সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৪৮.
হাম রোগের জন্য নিচের কোনটি দায়ী?
  1. ক) মোরবিলি ভাইরাস
  2. খ) ভ্যারিওলা ভাইরাস
  3. গ) পলিওমাভাইরাস
  4. ঘ) আলফাভাইরাস
ব্যাখ্যা
হাম রোগের জন্য মোরবিলি ভাইরাস দায়ী।  এই ভাইরাস রক্তকণিকা গলিয়ে দেয় অথবা ভেঙে ফেলে, কোষ নষ্ট করে ইত্যাদি। লক্ষণ প্রকাশের আগে ১০-১৪ দিন পর্যন্ত জীবাণু সুপ্তাবস্থায় থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এ সময় বেশিও হতে পারে।

হাম (Measles)  একটি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি রোগ। এ রোগের লক্ষণগুলি হচ্ছে জ্বর, শরীরে ব্যথা, হাঁচি, নাক বন্ধ এবং মুখ গহবরের ভিতরে ছোট ছোট দানার উদ্ভব। তৃতীয় বিশ্বে এ রোগ শিশুদের ব্যাপক ভোগান্তি এবং মৃত্যুর কারণ। সপ্তম শতাব্দী থেকে এ রোগের কথা জানা গেছে। অনুন্নত দেশে এ রোগে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লক্ষ শিশু মারা যায়।

জীবাণুকণিকা বা নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে এ রোগের সংক্রমণ ও বিস্তার ঘটে। শ্বাসনালীর মাধ্যমে এ রোগজীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। তবে চোখের পর্দা বা কনজাংটিভা দিয়েও এ রোগ প্রবেশ করতে পারে। তৃতীয় বিশ্বের শিশুদের মধ্যে এ রোগের হার বেশি এবং অনেক দিন শরীরে জীবাণু বহনের জন্য এ রোগে মৃত্যুর হারও বেশি। একমাত্র টিকার মাধ্যমে মৃত্যুর হার প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই ভাইরাস নষ্ট করার কোন ঔষধ নেই। তবে তেমন কোন জটিলতা না থাকলে সম্পূর্ণ বিশ্রামই এ রোগের প্রধান প্রতিষেধক।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১,৬৪৯.
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত কয়টি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
ভাইরাসের গঠনঃ
বিভিন্ন প্রকার ভাইরাসের গঠন বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
সাধারণভাবে প্রতিটি ভাইরাস প্রধানত দুটি অংশে বিভক্ত।
যথা -
- প্রােটিন আবরণ তথা ক্যাপসিড ও
- নিউক্লিক এসিড।

ক্যাপসিড (Capsid):
অপেক্ষাকৃত জটিল ভাইরাসে নিউক্লিক এসিডের বাইরে একে ঘিরে অবস্থিত প্রােটিন আবরণটি হলাে ক্যাপসিড। এ প্রােটিন আবরণটি অসংখ্য প্রােটিন অণু দ্বারা গঠিত। ক্যাপসিড আবরণের এক একটি প্রােটিন অণুকে ক্যাপসােমিয়ার (capsomere) বলে।
এ ক্যাপসােমিয়ার অণুসমূহ নির্দিষ্ট ভাইরাস নির্দিষ্ট ধরণের।
কোনাে কোনাে প্রাণি ভাইরাসের ক্যাপসিডের বাহিরে একটি লিপােপ্রােটিনের স্তর থাকে এবং এর একককে পেপলােমার (peplomer) বলে। এ ধরনের ভাইরাসকে লিপপাভাইরাস (lipovirus) বলে।

নিউক্লিক এসিড (Nucleic Acid):
প্রতিটি ভাইরাস দেহের কেন্দ্রে অবস্থান করে নিউক্লিক এসিড।
নিউক্লিক এসিড ভাইরাসের বংশগতি নির্ধারক পদার্থ। নিউক্লিক এসিড দু'ধরনের তথা DNA (ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক এসিড) ও RNA (রাইবাে নিউক্লিক এসিড)।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)
১,৬৫০.
Which specific branch of agriculture is associated with honey production?
  1. Sericulture
  2. Apiculture
  3. Pisciculture
  4. Horticulture
  5. Aquaculture
ব্যাখ্যা

• এপিকালচার বা মৌচাষ হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা যেখানে মধু এবং মোম উৎপাদনের উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিকভাবে মৌমাছি পালন করা হয়। মৌমাছিরা ফুল থেকে নেক্টার সংগ্রহ করে তা মধুতে রূপান্তর করে, যা এপিকালচারিস্টরা সংগ্রহ করেন।

• এপিকালচার:
- যে পদ্ধতিতে কৃত্রিম ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন করে মৌচাক থেকে মধু ও মোম সংগ্রহ করা হয়, তাকে এপিকালচার বলা হয়।

• এটি কৃষির একটি বিশেষায়িত শাখা যেখানে মৌমাছির প্রজনন, পরিচর্যা এবং মধু, মোম, পরাগরেণু, রয়‍্যাল জেলি ও প্রোপোলিসের মতো মূল্যবান পণ্য উৎপাদন সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
- মধু উৎপাদন বা মধু চাষের সাথে সম্পর্কিত শাখা হলো এপিকালচার।
- এটি কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মৌমাছি পালন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিকশিত হচ্ছে।

• এপিকালচারের গুরুত্ব:
→ অর্থনৈতিক উপকারিতা:
- মধু ও মৌমাছির অন্যান্য উপজাত দ্রব্য (যেমন মোম, প্রোপোলিস) বিক্রি করে আয় করা যায়।
- বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষকদের জন্য এটি একটি লাভজনক পেশা।
→ পরাগায়নে ভূমিকা:
- মৌমাছি ফসলের পরাগায়নে সাহায্য করে, যা কৃষি উৎপাদন ২০-৩০% পর্যন্ত বাড়াতে পারে।
→ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা:
- মৌমাছি বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে।

অন্যদিকে,
• পিসিকালচার- এটি হলো আধুনিক কৃষির একটি বিশেষ শাখা যেখানে মাছ চাষ, ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ইত্যাদি সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• সেরিকালচার- এ শাখায় রেশমকীট পালন ও রেশম উৎপাদন অর্থাৎ রেশম চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• হর্টিকালচার- আধুনিক কৃষির এ শাখায় ফলমূল, শাকসবজি ও ফুলের চাষ সম্পর্কিত আলোচনা করা হয়।
• অ্যাকুয়াকালচার- এ শাখায় মাছ, শেলফিশ, জলজ উদ্ভিদ এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। 

তথ্যসূত্র:
- FAO (Food and Agriculture Organization).
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)।

১,৬৫১.
ফাইজার ও বায়োএনটেক উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ রোগের টিকা কোনটি?
  1. ক) mRNA-1273
  2. খ) Tozinameran
  3. গ) Covishield
  4. ঘ) Vero cells
ব্যাখ্যা
- ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের টিকা হলো Comirnaty (কমিরনাটি) বা Tozinameran. এটির কোডনেম BNT162b2.
- যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে এই টিকার অনুমোদন প্রদান ও প্রয়োগ শুরু করে।
অন্যদিকে,
- ভেরোসেল : সিনোফার্মের টিকা
- মডার্নার টিকার নাম : mRNA-1273
- জনসন অ্যান্ড জনসন এর টিকা : Janssen
- গামালিয়া রিসার্চ ইনস্টিটিউটের টিকা : Sputnik-V
- সিনোভ্যকের টিকা : করোনাভ্যাক
- ভারত বায়োটেকের টিকা : কোভ্যাক্সিন
- অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা : কোভিশিল্ড।

(তথ্যসূত্র: বিবিসি ওয়ার্ল্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট)
১,৬৫২.
উল্কা ও কসমিক কণার সন্ধান পাওয়া গেছে বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে?
  1. ক) এক্সোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে
  2. খ) স্ট্রাটোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে
  3. গ) ট্রপোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে
  4. ঘ) আয়নোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে
ব্যাখ্যা
- মেসোবিরতির উপরের অংশ থেকে তাপমণ্ডল শুরু হয়।
- মেসোপজের উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমন্ডল বলে।
- এই মণ্ডলে বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ।
- তাপমণ্ডল মেসোমণ্ডল হতে উপরের দিকে যথাক্রমে আয়নোস্ফিয়ার, এক্সোস্ফিয়ার ও ম্যাগনিটোস্ফিয়ার নামক তিনটি স্তরে বিভক্ত।
- তাপমণ্ডলের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল বলে।
- বেতার তরঙ্গ প্রতিফলিত হয় আয়নোস্ফিয়ারে।
- বায়ুমণ্ডলের আয়নোমণ্ডলের উর্ধ্বস্তরে উল্কা ও কসমিক কণার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।
১,৬৫৩.
মহাজাগতিক রশ্মি কী? 
  1. সূর্যের আলো
  2. পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র
  3. মহাশূন্য থেকে আগত উচ্চ শক্তিসম্পন্ন কণা 
  4. বেতার তরঙ্গ
ব্যাখ্যা

মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays): 
- মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays. 
- মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বা Cosmic rays বলা হয়। 
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী। 
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হলো মহাজাগতিক। 
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।

১,৬৫৪.
আমরা কোন ছায়াপথে বাস করি?
  1. ক) এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
  2. খ) মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি
  3. গ) ক্যানিস মেজর ডর্ফ গ্যালাক্সি
  4. ঘ) ভার্গো এ গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
আমাদের সোলার সিস্টেমের অবস্থান Milky Way বা আকাশ গঙ্গা নামক ছায়াপথে। অর্থাৎ, আমরা মানুষরা এই আকাশ গঙ্গা ছায়াপথে বাস করি। এই ছায়াপথে প্রায় 1011 সংখ্যক নক্ষত্র রয়েছে৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৬৫৫.
দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কোন খনিজ পদার্থটির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে?
  1. ক) সিলিকা বালি
  2. খ) কঠিন শিলা
  3. গ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  4. ঘ) ইউরেনিয়াম
ব্যাখ্যা
- রেলপথ, রাস্তাঘাট, গৃহ, সেতু ও বাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কাজে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়। 
- রংপুর জেলার রানীপুকুর ও শ্যামপুর এবং দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 
 
(রেফারেন্সঃ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিভাগ)
১,৬৫৬.
আইনস্টাইনের বিখ্যাত সূত্র E = mc2 এর ‘c’ দ্বারা কি বুঝায়?
  1. আলোর ভর
  2. আলোর বেগ
  3. পদার্থে সঞ্চিত শক্তি
  4. বস্তুর ভর
ব্যাখ্যা
E = mc2 সূত্রের আবিষ্কারক আলবার্ট আইনস্টাইন।
যেখানে, E = শক্তি, m = ভর, c = আলাের বেগ।
১৯০৫ সালে তিনি দেখান যে, পদার্থ এবং শক্তি প্রকৃতপক্ষে অভিন্ন। পদার্থকে শক্তিতে রূপান্তরিত করা যায়।
একে আইনস্টাইনের 'থিওরি অফ রিলেটিভিটি' বা 'আপেক্ষিকতাবাদ' বলা হয়।
১,৬৫৭.
বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের ক্ষেত্রে কোনটি সত্য?
  1. ক) একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে
  2. খ) একই সময়ে সকল স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে
  3. গ) বিভিন্ন সময়ে একই স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে
  4. ঘ) বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে
ব্যাখ্যা
• বিগ ব্যাংগ তত্ত্বের ক্ষেত্রে একই সময়ে সকল স্থানে বিস্ফোরণ ঘটে সত্য।
- জর্জ লেমাইটারকে বিগ ব্যাংগ মডেলের জনক বলা হয়ে থাকে।
- জর্জ গ্যামো মহাবিশ্বের প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা করেছিলেন যে, গ্যালাক্সিসমূহ পরস্পর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে তাই সুদুর অতীতে নিশ্চয়ই তারা পরস্পরের খুব কাছাকাছি ছিল।
- অর্থাৎ কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুর করে।
- এই তত্ত্বের নাম মহাবিস্ফোরণ তত্ত বা বিগ ব্যাংগ তন্তু।
- সাধারণ বিস্ফোরণ একটি নির্দিষ্ট স্থান বা কেন্দ্র থেকে শুরু করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- কিন্তু বিগ ব্যাংগের বিস্ফোরণ একই সময় সকল স্থানে ঘটেছিল।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাংগ বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির শুরু বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়।
- অর্থাৎ বিগ ব্যাংগের পূর্বে কিছুই ছিল না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৫৮.
‘RADAR’ শব্দটির পূর্ণরূপ কী? 
  1. Radio Data And Response
  2. Radio Direction And Ranging
  3. Radio Detection And Ranging
  4. Radio Detection And Response
ব্যাখ্যা
RADAR: 
- 'RADAR' শব্দটির পূর্ণরূপ হচ্ছে Radio Detection And Ranging
- এটি এমন একটি যন্ত্র যার সাহায্যে দূরবর্তী কোনো বস্তুর উপস্থিতি, দূরত্ব ও দিক নির্ণয় করা যায়। 
- রাডার হলো এমন একটি কৌশল বা ব্যবস্থা যার সাহায্যে রেডিও প্রতিধ্বনির মাধ্যমে কোন বস্তুর উপস্থিতি জানা যায়। 
- যুদ্ধে শত্রু বিমানের উপস্থিতি ও গতিবিধি, বিমানের পথ নির্দেশ, ঝড়ের পূর্বাভাস ইত্যাদি কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- ১৯২২ সালে এ.এইচ. টেলর এবং লিও সি ইয়ং রাডার উদ্ভাবন করেন। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৫৯.
পর পর একটি জোয়ার ও একটি ভাটার মধ্যবর্তী সময় ব্যবধান কত?
  1. ক) ১২ ঘন্টা
  2. খ) ৬ ঘন্টা
  3. গ) ২৪ ঘন্টা
  4. ঘ) ৩ ঘন্টা
ব্যাখ্যা

চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি প্রভৃতি কারণে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর এক জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য জায়গায় নেমে যায়। সমুদ্রের পানির এভাবে ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে।
সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাটা হয়। উপকূলের কোনো স্থানে পর পর দুইটি জোয়ার কিংবা পর পর দুইটি ভাটার মধ্যবর্তী সময় ব্যবধান ১২ ঘন্টা। জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা পরে হয় ভাটা।

সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৬৬০.
সূর্য যে ছায়াপথে রয়েছে তার নাম কী?
  1. অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
  2. ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি
  3. মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি
  4. ক্যানিস মেজর ডোয়ার্ফ গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ:
- অন্ধকার আকাশে এদের উজ্জ্বল দীপ্তি দীর্ঘপথের মতো দেখায়।
- একটি ছায়াপথ লক্ষ কোটি নক্ষত্রের সমষ্টি।
- শীতকালে রাত্রিবেলা পরিষ্কার আকাশে লক্ষ করলে উত্তর-দক্ষিণে বেশ বড় পরিসরযুক্ত তেজোদ্দীপ্ত স্বচ্ছ দীর্ঘ আলোর রেখা দেখা যায়।
- তারকা খচিত এই আলোর পথই হলো ছায়াপথ।
- বিজ্ঞানীরা একে বিরাট চক্রাকার মন্ডল বলে অনুমান করেন।
- সৌরজগৎ এরকম একটি ছায়াপথের অন্তর্গত।

মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি (Milky Way Galaxy)
- মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সি হলো একটি বৃহৎ সর্পিল (spiral) গ্যালাক্সি, যেখানে কয়েকশো বিলিয়ন তারা রয়েছে, যাদের একটি হলো আমাদের সূর্য।
- এর নাম এসেছে আকাশে দেখা একটি অস্পষ্ট আলোকিত রেখা থেকে, যেটি অসংখ্য তারা ও গ্যাস মেঘের সমষ্টি — যেটিকে আমরা পৃথিবী থেকে “মিল্কি ওয়ে” নামে দেখি।
- যদিও পৃথিবী নিজেই এই গ্যালাক্সির ভেতরে অবস্থিত, তবুও এর সম্পূর্ণ গঠন বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি জানেন না, কারণ গ্যালাক্সির বিশাল অংশ মহাকাশের ধূলিকণায় ঢাকা থাকে, যা সাধারণ টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা কঠিন।
- তবে রেডিও ও ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই গ্যালাক্সির বড় কাঠামো সম্পর্কে জানতে পারেন।
- এই টেলিস্কোপগুলো এমন ধরনের রশ্মি শনাক্ত করতে পারে, যেগুলো ধূলিকণার বাধা পেরিয়ে আমাদের কাছে পৌঁছায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
Britannica.
১,৬৬১.
তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার হয় নিচের কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায়
  2. খ) ক্যান্সার রােগ নিরাময়ে
  3. গ) ঘড়ির কাঁটা ও নম্বর অন্ধকারে জ্বলজ্বল করার কাজে
  4. ঘ) সবগুলাে
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা:-
ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
- যে সব মৌল হতে তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজস্ক্রিয় মৌল বলে।
- ফরাসি বিজ্ঞানী হেনরী বেকেরেল ১৮৯৬ সালে এক্সরে নিয়ে গবেষণা করার সময় একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করেন। 
- তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় বেকেরেল রশ্মি।

- পরবর্তীকালে মাদাম কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়ের কুরি ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান যে রেডিয়াম, পােলােনিয়াম, থােরিয়াম, আক্টিনিয়াম প্রভৃতি ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস থেকেও বেকেরেল রশ্মির মত একই ধরনের রশ্মি নির্গত হয়, যা এখন তেজস্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত।

ব্যবহার:
১. ক্যান্সার রােগ নিরাময়ের কাজে তেজস্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়।
২. উন্নত বীজ তৈরির গবেষণায় তেজস্ক্রিয়তা সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৩. ঘড়ির কাঁটায় তেজস্ক্রিয় থােরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
৪. তেজস্ক্রিয় আইসােটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
৫. নির্মাণ বা উৎপাদন শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়।


উৎস-  পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৬২.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা কত? 
  1. ক) ০.০৫ মিলিগ্রাম/লিটার
  2. খ) ০.০৩ মিলিগ্রাম/লিটার
  3. গ) ০.০২ মিলিগ্রাম/লিটার
  4. ঘ) ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পানিতে আর্সেনিকের সহনীয় মাত্রা ০.০১ মিলিগ্রাম/লিটার। 

- আর্সেনিক দূষণ  ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আর্সেনিক দূষণ ধরা পড়ার পর থেকে বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত জেলাসমূহে আর্সেনিক দূষণের আশঙ্কা দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ সালে  নবাবগঞ্জ সদর (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে (School of Environmental Sciences – SOES/ এস.ও.ই.এস) অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারের পর বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এর পর থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর প্রিভেনটিভ এন্ড সোশাল মেডিসিন (নিপসম), বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বি.ডব্লিউ.ডি.বি)-এর গ্রাউন্ড ওয়াটার সার্কেল, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি), বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ইত্যাদি সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ দেশের ভিতরে আর্সেনিক দূষণের প্রমাণ অনুসন্ধান করা শুরু করে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট।
১,৬৬৩.
ভূমিকম্পের কম্পকেন্দ্রের লম্ব বরাবর ভূ-পৃষ্ঠে যে বিন্দু থাকে, তাকে কী বলা হয়? 
  1. অগ্নিকেন্দ্র
  2. প্লেটকেন্দ্র
  3. উপকেন্দ্র 
  4. ভূমিকেন্দ্র
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প: 
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়। 
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র বলা হয়। 
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ-পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে, তাকে উপকেন্দ্র বলা হয়। 
- সাধারণত ভূ-ত্বকের ৩২ কি.মি. এর মধ্যে ভূমিকম্পের উৎস স্থান থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে গভীরতা আরও বেশি হতে পারে। 
- কম্পকেন্দ্র থেকে ভূমিকম্প চারিদিকে ঢেউ-এর মত ছড়িয়ে পড়ে। 
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়ে থাকে। 
- ভূমিকম্প মাপন যন্ত্রের নাম সিসমোমিটার, ভূমিকম্পনের রেখা যে কাগজে অংকিত হয়, তাকে সিসমোগ্রাফ বলে। 

ভূমিকম্পের কারণসমূহ: 
১. ভূ-ত্বক কতকগুলো প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহ বিভিন্ন দিকে যেমন: একে অপরের বিপরীত দিকে, একে অপরের অভিমুখে এবং পরস্পর সমান্তরালভাবে সঞ্চালিত হয়। এইরূপ সঞ্চালনের ফলে সৃষ্ট চাপ থেকে আকস্মিকভাবে প্রচন্ড কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূ-পৃষ্ঠে এই কম্পন ভূমিকম্পের সৃষ্টি করে। 
২. ভূ-গর্ভস্থ তাপের ফলে বিপুল পরিমাণ বাষ্প সৃষ্টি হলে, ঐ বাষ্প ভূ-ত্বকের নিচের অংশে প্রবল বেগে ধাক্কা দেয়। ফলে ভূ-পৃষ্ঠে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। 
৩. ভূ-ত্বকের বিভিন্ন অংশে তাপ বিকিরণের ফলে সংকুচিত হলে সংলগ্ন এলাকার ভূ-ত্বকের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে ভূ-অভ্যন্তরে বিভিন্ন শিলারাশির মধ্যে টান সৃষ্টির হয়, ফলে ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। 
৪. অনেক ক্ষেত্রে আগ্নেগিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময়ে ঐ এলাকা কেঁপে উঠে ভূমিকম্প হয়। 
- অন্যান্য আরও কতিপয় কারণ যেমন: ভূ-গর্ভস্থ চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি, শিলাচ্যুতি, ভূমিধ্বস, হিমবাহের চলাচল ইত্যাদি কারণে ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৬৪.
এইডস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কোনটি অধিকতর কার্যকরী?
  1. ক) সচেতনতা সৃষ্টি
  2. খ) শিক্ষার ব্যবস্থা
  3. গ) আক্রান্তদের এড়িয়ে চলা
  4. ঘ) আক্রান্তদের প্রতি যত্নবান হওয়া
ব্যাখ্যা

এইডস প্রতিরোধের ক্ষেত্রে,
প্রতিরোধে করণীয়-
১. বৈধ যৌন সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে,
২. নিরাপদ রক্ত প্রদান নিশ্চিত করা,
৩. অস্ত্রোপচারে জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা,
৪. ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে চলা।
সর্বোপরি, এইডস থেকে নিজেকে এবং সমাজ ও মানবসভ্যতাকে রক্ষা করতে হলে এর বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করতে হবে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প কিছুই নাই।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৬৬৫.
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযােগ কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. ক) ইন্টেলসেট 1
  2. খ) আলিবার্ড হল
  3. গ) ওবেরী হল
  4. ঘ) কসমস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যােগাযােগ কৃত্রিম উপগ্রহ হলো ইন্টেলসেট 1 (Intelsat-I)।
৬ এপ্রিল ১৯৬৫ এটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর ডাকনাম ছিল - আর্লিবার্ড।
১,৬৬৬.
বারিমণ্ডলের কতভাগ মহাসাগর, সাগর এবং উপসাগর ধারণ করছে?
  1. ২৯ ভাগ
  2. ৭১ ভাগ
  3. ৯০ ভাগ
  4. ৯৭ ভাগ
ব্যাখ্যা
• বারিমণ্ডল:
- পৃথিবীর জলভাগই হলো বারিমণ্ডল।
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere।
- Hydro অর্থ পানি এবং Sphere অর্থ ক্ষেত্র। অর্থাৎ আভিধানিক অর্থে Hydrosphere এর অর্থ পানির ক্ষেত্র বা আধার।
- অক্সিজেন (O) এবং হাইড্রোজেন (H2) এর সমন্বয়ে পানি (H2o) গঠিত।
- মহাসাগর, সাগর, উপসাগর, হ্রদ, নদীসহ অন্যান্য জলাধার নিয়ে বারিমণ্ডল গঠিত। 
- পৃথিবীর ৭১% জলভাগ এবং ২৯% স্থলভাগ।
- পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগই মহাসাগর, সাগর এবং উপসাগর ধারণ করছে
- অবশিষ্ট ৩ ভাগ অন্যান্য জলাধার ধারণ করছে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৬৭.
কোন তিনটি জেলা নিয়ে সুন্দরবনের বিস্তৃতি?
  1. ক) বাগেরহাট, খুলনা ও বরগুনা
  2. খ) বরগুনা, বাগেরহাট ও পিরোজপুর
  3. গ) খুলনা, পটুয়াখালী ও সাতক্ষীরা
  4. ঘ) সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
- সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি।
- সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ বা ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা বাংলাদেশের অংশে পড়েছে। সুন্দরবনের বাকি অংশ ভারতে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সু্ন্দরবন অবস্থিত।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি এবং বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
১,৬৬৮.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ?
  1. ভূমিকম্প
  2. মরুকরণ
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. নদীভাঙন
ব্যাখ্যা

• দুর্যোগ:
- যে অবস্থা অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে তাই দুর্যোগ।
- এর ফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। 
 
দুর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধানত দুর্যোগ দুই ধরনের-
১/ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
২/ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ।
 
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- যেমন- যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই।

১,৬৬৯.
কসমিক-রে এর আবিষ্কারক কে?
  1. ক) উইলিয়াম রাদারফোর্ড
  2. খ) রন্টজেন
  3. গ) ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস
  4. ঘ) জন হুইলার
ব্যাখ্যা
মহাজগতিক রশ্মি ইংরেজি হলো Cosmic rays।
মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য তিনি ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১,৬৭০.
কোন রোগের নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই?
  1. ক) এইডস
  2. খ) গনোরিয়া
  3. গ) গলগণ্ড রোগ
  4. ঘ) গোদ রোগ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তরঃ গনোরিয়া।

এইডস, গলগণ্ড এবং গোদ রোগের সুনির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে।
গনোরিয়া রোগেরও নির্দিষ্ট লক্ষণ রয়েছে; কিন্তু অনেক সময় মহিলাদের কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। প্রায় ৫০ ভাগ মহিলা রোগীর ক্ষেত্রে লক্ষণ অপ্রকাশিত থাকে।
তাই বুঝাই যাচ্ছে, প্রশ্নকর্তা গনোরিয়াকে উত্তর হিসেবে বিবেচনায় নিয়েই প্রশ্নটি করেছেন।

নিচে গনোরিয়া রোগের সাধারণ লক্ষণ গুলো লিঙ্গভেদে আলোচনা করা হলোঃ

পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়া রোগের লক্ষণ যা হবে-

১. মূত্রনালিতে সংক্রমণ।
২. মূত্রনালি হতে পুঁজের মতো বের হয়।
৩. প্রস্রাব করতে কষ্ট হয়, জ্বালাপোড়া করে এবং প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৪. হাঁটু বা অন্যান্য গিঁটে ব্যথা করে, ফুলে ওঠে।
৫. প্রস্রাব করতে কষ্ট হয় এবং এমনকি জটিল অবস্থায় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৬. পুরুষত্বহীন হয়ে যেতে পারে।

মহিলাদের ক্ষেত্রে গনোরিয়া রোগের লক্ষণ যা হবে-

১. অনেকসময় মহিলাদের কোনও লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে।
২. যোনিপথ আক্রান্ত হতে পারে।
৩. যোনিপথে এবং মূত্রনালিতে জ্বালা-পোড়া করে।
৪. পুঁজ সদৃশ হলুদ স্রাব বের হয়।
৫. তলপেটে ব্যথা হতে পারে।
৬. ঋতুস্রাব সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৭. বন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে।

উৎসঃ National Health Portal of India, পত্রিকা রিপোর্ট এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৬৭১.
নিচের কোনটি মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশ নয়?
  1. ত্বক
  2. অশ্রু ও লালা
  3. পোষ্টিক নালীর এসিড
  4. সবগুলোই প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর
ব্যাখ্যা

মানবদেহের প্রথম প্রতিরক্ষা স্তরের অংশগুলো হচ্ছে - ত্বক, লোম, অশ্রু ও লালা, সিরুমেন, পোষ্টিক নালীর এসিড এবং রেচন-জননতন্ত্রের এসিড৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই

১,৬৭২.
কোন যন্ত্রে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়?
  1. টেলিভিশন
  2. টেপরেকর্ডার
  3. রেডিও
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার মূলত বিদ্যুতের ভোল্টেজ কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। ঘরোয়া বা ছোট ইলেকট্রনিক যন্ত্র যেমন টেলিভিশন, টেপ রেকর্ডার ও রেডিওতে সাধারণত পাওয়ার সাপ্লাইয়ে মেইন ভোল্টেজকে কমানো প্রয়োজন হয়, যাতে যন্ত্রের ভেতরের সার্কিট নিরাপদভাবে কাজ করতে পারে। তাই এই যন্ত্রগুলিতে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহার করা হয়। এটি মেইন ভোল্টেজকে যন্ত্রের উপযুক্ত ভোল্টেজে নামিয়ে আনে এবং সার্কিটের ক্ষতি বা সংক্ষিপ্ত সংযোগের ঝুঁকি কমায়। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো – উপরের সবগুলো।

ট্রান্সফর্মার:

• ট্রান্সফরমার একটি স্থির বৈদ্যুতিক যন্ত্র যা বিদ্যুৎ শক্তিকে একটি বৈদ্যুতিক বর্তনি (সার্কিট) থেকে অপর একটি বৈদ্যুতিক বর্তনিতে ফ্রিকুয়েন্সিকে কোন প্রকার পরিবর্তন না করে স্থানান্তর করে।
• ট্রান্সফর্মার প্রধানত ২ প্রকার। যথা: স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার এবং স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার।

• আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার (Step up Transformer):
- যে ট্রান্সফর্মার অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহকে অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে আরোহী বা স্টেপ আপ ট্রান্সফর্মার বলে।
- উদাহরণ: দূরদূরান্তে তড়িৎ প্রেরণের জন্য আরোহী বা স্টেপআপ ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয়।

• অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার (Step down Transformer):
- যে ট্রান্সফর্মার অধিক বিভবের অল্প তড়িৎপ্রবাহকে অল্প বিভবের অধিক তড়িৎ প্রবাহে রূপান্তরিত করে তাকে অবরোহী বা স্টেপ ডাউন ট্রান্সফর্মার বলে।
- উদাহরণ: অবরোহী বা স্টেপডাউন ট্রান্সফর্মার ব্যবহৃত হয় নিম্ন ভোল্টেজ ব্যবহারকারীর যন্ত্রপাতি যেমন রেডিও, টেলিভিশন, টেপরেকর্ডার, ভিসিআর, ভিসিপি, ইলেকট্রিক ঘড়ি, ওয়াকম্যান ইত্যাদিতে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষণ, বিএড প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৬৭৩.
কোন রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন থাকে?
  1. ক) লসিকা
  2. খ) শ্বেত রক্তকণিকা
  3. গ) অনুচক্রিকা
  4. ঘ) লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্তকণিকা:
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি- অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়। এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন। 
- লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

লোহিত কণিকার কাজ:
- দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
- হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা। 
==============
শ্বেত রক্তকণিকার ১-১৫ দিন এবং অনুচক্রিকার ৫-১০ দিন।

উৎস: নবম দশন শ্রেনীর বিজ্ঞান বই।
১,৬৭৪.
যে রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায় তাকে বলে-
  1. ধনুষ্টঙ্কার
  2. হৃদরোগ
  3. জন্ডিস
  4. এইডস
ব্যাখ্যা
এইডস: 
- AIDS রোগের পূর্ণরূপ হচ্ছে Acquired Immune Deficiency Syndrome. 
- Human immunodeficiency virus বা HIV নামক ভাইরাস এই রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী। 
- HIV এমনই ভয়ংকর জাতের ভাইরাস যে এ ভাইরাস মানুষের শরীরে অনুপ্রবেশ করার পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে নষ্ট করে দেয়। 
- ফলে HIV আক্রান্ত রোগী যে কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে এবং যা তাকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৭৫.
পিসিকালচার কী উদ্দেশ্য বা বিষয় নির্দেশ করে?
  1. পাখি পালন
  2. মৌমাছি পালন
  3. রেশম পালন
  4. মৎস্য পালন
ব্যাখ্যা

• পিসিকালচার বলতে মূলত মৎস্য পালনকে বোঝায়, অর্থাৎ পরিকল্পিত ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাছ চাষ করা। এই প্রক্রিয়ায় পুকুর, দিঘি, হ্রদ বা নিয়ন্ত্রিত জলাশয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা হয় মানুষের খাদ্য ও বাণিজ্যিক চাহিদা পূরণের জন্য। পিসিকালচারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক পরিমাণ মাছ উৎপাদন সম্ভব হয়, যা প্রোটিনের ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে পিসিকালচার সঠিকভাবে মৎস্য পালনকেই নির্দেশ করে (ঘ)।

• পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।
- মাছ ছাড়াও বিভিন্ন শামুক, ঝিনুক, কাঁকড়া ইত্যাদি অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন প্রাণীদের চাষ পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

• অপশন আলোচনা:
• সেরিকালচার (Sericulture):
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

• এভিকালচার (Aviculture):
- পাখি পালন বিষয়াদি বিদ্যাকে এভিকালচার বলে।
- যে বিদ্যায় পাখিদের সমস্ত শ্রেণী ও বাসস্থান নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে এভিকালচার বলে।

• এপিকালচার (Apiculture):
- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে।
- বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি পালনের তথা এপিকালচার ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

• এছাড়াও
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যা - প্রণকালচার,
- উদ্যান বিদ্যা - হর্টিকালচার,
- সামুদ্রিক মৎস পালনবিদ্যা - মেরিকালচার।

উৎস:
১. কৃষিশিক্ষা প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।

১,৬৭৬.
একটি অর্ধ পরিবাহী পদার্থে তড়িৎ পরিবাহিতার জন্য দায়ী কোনটি?
  1. ক) হোল
  2. খ) মুক্ত ইলেকট্রন
  3. গ) মুক্ত ইলেকট্রন ও হোল
  4. ঘ) মুক্ত ইলেকট্রন ও প্রোটন
ব্যাখ্যা
জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতি অর্ধপরিবাহী পদার্থের পরমাণুর বাইরের কক্ষপথে 4 টি যোজন ইলেকট্রন থাকার ফলে এগুলো প্রতিবেশী পরমাণুর ইলেকট্রনের সাথে ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে বাইরের কক্ষপথে অষ্টক পূর্ণ করে অর্থাৎ সমযোজী বন্ধন (Covalent Band) গঠন করে।
ফলশ্রুতিতে  বিশুদ্ধ জার্মেনিয়াম বা সিলিকনে কোনো স্বাধীন বা মুক্ত ইলেকট্রন থাকে না। তাই নিম্ন তাপমাত্রায় তাদের কোনো পরিবহন ক্ষমতা থাকে না।

কক্ষ তাপমাত্রায় বা একটু বেশি তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর কিছু সংখ্যক সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে যায় এবং মুক্ত ইলেকট্রনের সৃষ্টি হয়
বিভব পার্থক্য বা তড়িৎক্ষেত্রের প্রভাবে এই মুক্ত ইলেকট্রনগুলো তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি করে।
একই সময়ে অন্য একটি প্রবাহ যাকে হোল প্রবাহ বলে, ইলেকট্রনের গতির বিপরীত দিকে সৃষ্টি হয়।
তাপীয় শক্তির জন্য ইলেকট্রন যখন কোনো সমযোজী বন্ধন ভেঙ্গে বের হয়ে আসে তখন ইলেকট্রনের এই অপসারণ সমযোজী বন্ধনে একটি শূন্য স্থান রেখে আসে। ইলেকট্রনের এই শূন্যতা বা অনুপস্থিতিকে হোল বলা হয়, যেটি ধনাত্মক আধান হিসেবে কাজ করে।

একটি হোলের চার্জ 1.6x10-19 C। যখনই একটি ইলেকট্রন মুক্ত হয়, তখনই একটি হোলের সৃষ্টি হয়।
সুতরাং তাপীয় শক্তি হোল-ইলেকট্রন জোড় সৃষ্টি করে। যতগুলো মুক্ত ইলেকট্রন সৃষ্টি হয় ততগুলোই হোলের সৃষ্টি হয়।
হোল হলো একটি ইলেকট্রনের অনুপস্থিতি।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৭৭.
কৃষ্ণবিবরের ক্ষেত্রে নিচের কোন বিষয়টি ভুল?
  1. ক) অসীম আয়তন
  2. খ) অসীম ভর
  3. গ) অসীম মুক্তিবেগ
  4. ঘ) অসীম ঘনত্ব
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণবিবরের অসীম ভর, অসীম ঘনত্ব, অসীম মুক্তিবেগ, অসীম অভিকর্ষজ ত্বরণ হলেও এর আয়তন সসীম।
অর্থাৎ ক্ষুদ্র একটি অংশে বিশাল পরিমাণ ভর কেন্দ্রীভূত অবস্থায় থাকে।
কৃষ্ণবিবরের মহাকর্ষ বল এতই প্রবল যে আলোর কণা ফোটনও এই মহাকর্ষ বলকে অতিক্রম করে দৃষ্টিগ্রাহ্য হতে পারে না।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৬৭৮.
নিচের কোন ভাইরাসটি উদ্ভিদদেহে রােগ সৃষ্টি করে?
  1. ক) রুবিওলা ভাইরাস
  2. খ) অ্যাডেনাে ভাইরাস
  3. গ) ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস
  4. ঘ) টিএমভি ভাইরাস
ব্যাখ্যা
- রুবিওলা ভাইরাস মানবদেহে রুবেলা বা জার্মান হাম রােগের জন্য দায়ী।
- অ্যাডেনাে ভাইরাস মানবদেহে ভাইরাল নিউমােনিয়ার জন্য দায়ী।
- ভ্যাকসিনিয়া ভাইরাস গবাদি পশুর ক্ষেত্রে গাে- বসন্ত রােগের জন্য দায়ী। 
- টিএমভি ভাইরাস তামাকের 'মোজাইক' রােগের জন্য দায়ী। অ্যাডল্ফ মেয়ার (Adlof  Mayer) ১৮৮৬ সালে সর্বপ্রথম তামাক গাছের মোজাইক রোগের কারণ বর্ণনা করেন।

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান- ১ম পত্র বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৬৭৯.
বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে কোনটির উপর? 
  1. বায়ুর উষ্ণতা
  2. বায়ুর চাপ
  3. বায়ুর ঘনত্ব
  4. বায়ুর প্রকৃতি
ব্যাখ্যা
বাষ্পীভবন (Evaporation): 
- বাষ্পীভবন এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা নদী, হ্রদ, জলাশয় বা সমুদ্রের পানি সূর্যের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং তা বায়ুমন্ডলের মিশে যায়।
- এই জলীয়বাষ্প হালকা বলে তা উপরে উঠে বায়ুমন্ডলে অদৃশ্য হয়ে যেতে সক্ষম হয়। 
- এক্ষেত্রে বায়ুর উষ্ণতার পরিমাণের উপর নির্ভর করে যে কতটুকু জলীয়বাষ্প ধারণ করা সম্ভব হবে। 
- জলীয়বাষ্প প্রধানত সমুদ্র থেকে বাষ্পীভূত হলেও নদ-নদী ও উদ্ভিদ জগতও জলীয়বাষ্পের অন্যতম উৎস। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮০.
বিগ ব্যাং (Big Bang) থিউরির প্রবক্তা___।
  1. ক) আলবার্ট আইনস্টাইন
  2. খ) জি. ল্যামেটার
  3. গ) স্টিফেন হকিং
  4. ঘ) এ. হাবল
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্ব একটি বিন্দুতে ছিল; হঠাৎ এক মহা বিস্ফোরণের মাধ্যমে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয় এটা বিগ ব্যাং থিওরি নামে পরিচিত। 
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)। জি ল্যামেটার বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী।
অন্যদিকে,
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেন – স্টিফেন হকিং।
- স্টিফেন হকিং বিশ্বের একজন প্রথিতযশা পদার্থবিজ্ঞানী।
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের ব্যাখ্যা সংম্বলিত স্টিফেন হকিং এর বিখ্যাত বই – A Brief History of Time।

সুতরাং বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার এবং বিগ ব্যাং (Big Bang) তত্ত্বের আধুনিক তত্ত্ব ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করেন স্টিফেন হকিং।

উৎস: ব্রিটানিকা

১,৬৮১.
রেডিয়াম আবিষ্কার করেন-
  1. ক) পিয়ারে কুরি
  2. খ) মেরি কুরি
  3. গ) উভয়েই
  4. ঘ) রাদারফোর্ড
ব্যাখ্যা
১৮৯৯ সালে পিয়ারে কুরি এবং মেরি কুরি সর্বপ্রথম রেডিয়াম আবিষ্কার করেন৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৬৮২.
কোথায় দিন রাত্রি সর্বত্র সমান?
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. নিরক্ষরেখায়
  3. উত্তর গোলার্ধে
  4. দক্ষিণ গোলার্ধে
ব্যাখ্যা
নিরক্ষরেখা: 
- দুই মেরু থেকে সমান দূরত্বে পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে যে রেখা কল্পনা করা হয়েছে, তাকে নিরক্ষরেখা বলে। 
- এই নিরক্ষরেখাটির মান ০ ডিগ্রি, এখানে দিন রাত সর্বত্র সমান। 
- পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ায় এ রেখাও বৃত্তাকার। 
- নিরক্ষরেখা পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই ভাবে ভাগ করেছে। 
- এ রেখার উত্তরে পৃথিবীর অর্ধাংশকে উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণের অর্ধাংশকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়। 
- এই রেখাটির মান ০ ডিগ্রি। এখানে দিন রাত সর্বত্র সমান। 
- নিরক্ষরেখার সাহায্যে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্ব স্থির করা হয়। 

উৎস: ভূগোল, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৩.
বায়ুপ্রবাহ প্রধানত কত প্রকার?
  1. চার
  2. দুই
  3. তিন
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

অন্যদিকে, 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

- সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
• স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
• মৌসুমি বায়ু।

- স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
• পার্বত্য বায়ু।
• উপত্যকা বায়ু।

- অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
• ঘূর্ণিবাত বায়ু।
• প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৪.
সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে নিচের কোন বিজ্ঞানী জানতেন?
  1. থেলিস
  2. গ্যালিলিও
  3. আরিস্তারাকস
  4. কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
- প্রথম সূর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের ধারণা দেন আরিস্তারাকস (310 BC)। 
- থেলিস সূর্যগ্রহণের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এবং লোডস্টোনের চৌম্বক ধর্ম সম্পর্কে জানতেন। 
- ১৫৪৩ সালে কোপার্নিকাস তার একটি বইয়ে সূর্যকেন্দ্রিক একটি সৌরজগতের ব্যাখ্যা দেন। 
- কোপার্নিকাসের তত্ত্বটি দীর্ঘদিন লোকচক্ষুর আড়ালে পড়ে ছিলো, গ্যালিলিও (১৫৬৪-১৬৪২) সেটিকে সবার সামনে নিয়ে আসেন। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮৫.
Covid-19 রোগী প্রথম কোন শহরে দেখা যায়?
  1. দিল্লি
  2. লন্ডন
  3. উহান
  4. কিউবেক
ব্যাখ্যা
COVID-19 অতিমারী বা মহামারি:
- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ে চীনা সরকার প্রথম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে অবহিত করে।
- ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ইস্যুতে বিশ্বে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি করে।
- ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগের নামকরণ করে COVID-19।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ মার্চ ২০২০ সালে COVID-19 কে অতিমারী বা মহামারি হিসেবে চিহ্নিত করে।

উৎস: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওয়েবসাইট।
১,৬৮৬.
গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয় কেন?
  1. উষ্ণতা থেকে রক্ষার জন্য
  2. অত্যধিক ঠাণ্ডা থেকে রক্ষার জন্য
  3. আলো থেকে রক্ষার জন্য
  4. ঝড়-বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য
ব্যাখ্যা
গ্রিন হাউজ: 
- শীতপ্রধান অঞ্চলের অত্যধিক ঠান্ডা থেকে রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তাপ ধরে রাখার জন্য কাঁচ নির্মিত ঘরের মধ্যে গাছ লাগানো হয়। 
- এই কাঁচ নির্মিত ঘরকে গ্রীন হাউজ বলা হয়। 
- গাছকে উষ্ণতা প্রদান করার জন্য গ্রিন হাউজে গাছ লাগানো হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৮৭.
দুর্যোগ প্রশমন বলতে কী বোঝায়? 
  1. ত্রাণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত
  2. দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস
  3. দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ
  4. আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ
ব্যাখ্যা
প্রশমন (Mitigation): 
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। 
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
- দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৮৮.
পিসিকালচার বলতে কী বুঝায়?
  1. পাখি পালন বিদ্যা
  2. মাছ চাষ বিদ্যা
  3. রেশম পোকার চাষ বিদ্যা
  4. মৌমাছি চাষ বিদ্যা
ব্যাখ্যা
• পিসিকালচার (Pisciculture):
- বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে মৎস্য চাষ তথা মৎস্য পালন, আহরণ ও সংরক্ষণ পদ্ধতিকে পিসিকালচার বলে।

অন্যদিকে,
• সেরিকালচার (Sericulture):
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।

• এভিকালচার (Aviculture):
- পাখি পালন বিষয়াদি বিদ্যাকে এভিকালচার বলে।

• এপিকালচার (Apiculture):
- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৬৮৯.
প্রাকৃতিক মানচিত্র কোন স্কেলে অঙ্কন করা হয়?
  1. ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র
  2. বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র
  3. ক্ষুদ্র ও বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানচিত্র:
- স্কেলের উপর ভিত্তি করে মানচিত্রকে প্রধান দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা:
১. ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র:
- যখন ব্যাপক এলাকাকে ছোট করে কাগজে অঙ্কন করা হয় তখন তাকে ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র বলে।
- এ ক্ষেত্রে সমগ্র পৃথিবী বা মহাদেশ বা দেশের বড় এলাকাকে একটি ছোট কাগজে দেখানো হয়।
- ভূ-চিত্রাবলীর মানচিত্র ও দেওয়াল মানচিত্র ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র।

২. বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র:
- ক্ষুদ্র এলাকাকে বৃহৎ স্কেলে অঙ্কন করে যখন অনেক বড় করে দেখান হয়, তখন তাকে বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র বলে।
- যেমন: ১"=১৬ মাইল; ১৬"= ১মাইল।
- যেমন মৌজা মানচিত্র বা ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র, ভূ-সংস্থানিক মানচিত্র বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র।

উল্লেখ্য,
প্রাকৃতিক মানচিত্র (Physical map):
- যে মানচিত্রে কোনো দেশ বা অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভূমিরূপ যেমন: পর্বত, মালভূমি, ভূমি, নদী, হ্রদ ইত্যানি সম্পর্কে তথ্য থাকে তাকে প্রাকৃতিক মানচিত্র বলে।
- প্রাকৃতিক মানচিত্র বৃহৎ স্কেলে অঙ্কন করা হয়

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৬৯০.
Autoclave এর কাজ-
  1. ভাইরাস ধ্বংস করা
  2. টিটেনাস ড্রীবানু মারা
  3. ফাংগাস ধ্বংস করা 
  4. সব জীবানু ধ্বংস করা
ব্যাখ্যা

• অটোক্লেভের কাজ (Function of Autoclave): 
- অটোক্লেভ হলো একটি যন্ত্র যা বাষ্পের মাধ্যমে জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization) প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়।  
- এটি উচ্চ তাপমাত্রা (প্রায় ১২১° সেলসিয়াস) ও চাপ (১৫ পাউন্ড প্রতি বর্গ ইঞ্চি) ব্যবহার করে জীবাণু ধ্বংস করে।  
- অটোক্লেভের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাংগাস এবং স্পোরসহ সকল প্রকার জীবাণু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা যায়।  
- এটি সাধারণত চিকিৎসা উপকরণ, ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম, সার্জিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট ইত্যাদি জীবাণুমুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।  
- শুধুমাত্র ভাইরাস, টিটেনাস জীবাণু বা ফাংগাস নয় — অটোক্লেভের কাজ হলো সব জীবাণু ধ্বংস করা।  

সুতরাং, অটোক্লেভের প্রধান কাজ হলো সকল প্রকার জীবাণু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা।  
- সঠিক উত্তর: ঘ) সব জীবাণু ধ্বংস করা।

সূত্র - sciencedirect [link]

১,৬৯১.
ডিজিটাল ঘড়ি বা ক্যালকুলেটরে কালচে অনুজ্জ্বল যে লেখা ফুটে উঠে তা কিসের ভিত্তিতে তৈরি?
  1. ক) এলইডি
  2. খ) আইসি
  3. গ) এলসিডি
  4. ঘ) সিলিকন চিপ
ব্যাখ্যা
আধুনিক ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতিগুলি সব সূক্ষ্ম সিলিকন চিপ-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। সিলিকন চিপ এক প্রকার অতি পাতলা বিস্কুটের মতো ক্রিস্টালের ফালি/স্লাইস যা অন্তত ১০ হাজার ইলেকট্রনিক কম্পোনেন্ট ধারণ করে। বর্তমানে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে, যেমন কম্পিউটার, টেলিফোন, গাড়ি, রুটি সেঁকার যন্ত্র বা টোস্টার, বাসাবাড়ির বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি, ইত্যাদিতে ব্যাপকভাবে ও বিপুল সংখ্যায় সমন্বিত বর্তনী ব্যবহৃত হয়।

তবে, প্রশ্নে ঝামেলা আছে,
সিলিকন চিপের উপর resistors, capacitors, transistors etc বসিয়ে IC তৈরি হয়। এবং আইসি এর কাজ শুধু ডিসপ্লের সাথে সম্পর্কিত নয়। ক্যল্কুলেটরের ডিসপ্লেতে সিলিকন চিপ নেই এবং সেটা থাকার কোন সুযোগও নেই। সহজ কথায়, যে ডিজিট দেখা যায় সেটা LCD display এর মাধ্যমে আর LCD Display তে যা দেখাচ্ছে তা আসছে অনেকগুলো কম্পোনেন্টের Combined Effort থেকে।
১,৬৯২.
করোনা ভাইরাসের প্রকৃত নাম কী?
  1. ক) Nobel Corona Virus
  2. খ) Novel Corona Virus
  3. গ) SARS
  4. ঘ) None of them
ব্যাখ্যা
সাম্প্রতিক সময়ে চীনে ছড়িয়ে পড়া নতুন একটি প্রাণঘাতী ভাইরাস হলো করোনা ভাইরাস, যার নাম করণ করা হয়েছে 2019 Novel Corona Virus (2019-nCoV)।ভারাসটির প্রথম সংক্রমণ ঘটে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ এবং একে চিহ্নিত করা হয় ৭ জানুয়ারি ২০২০।ধারণা করা হচ্ছে ভাইরাসটি চীনের উহানের সামুদ্রিক খাবার বা পশুপাখির বাজার থেকে ছড়িয়েছে।করোনাভাইরাস প্রথম সনাক্ত হয় ১৯৬০ সালে। এটা মূলত ভাইরাসের বড় একটা গোত্র। সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপিরেটরি সিনড্রোম (SARS) ভাইরাসের সঙ্গে বর্তমান ভাইরাসের ৮০% মিল রয়েছে।২০০২-২০০৩ সালে সার্স ভাইরাসের আক্রমণে চীনের মূল ভূখণ্ড ও হংকংয়ে প্রায় আট শতাধিক মানুষ মারা যায়।করোনা ভাইরাসের লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে - জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা, পেটে জ্বালাপোড়া, পাতলা পায়খানা। মারাত্মক লক্ষণ সমূহের মধ্যে রয়েছে - নিউমোনিয়া, সিভিয়ার অ্যাকুইট রেসপেটরি সিনড্রোম, কিডনি বিকল, মৃত্যু।
Source: LiveMCQ Lecture
১,৬৯৩.
কৃষিতে 'বাংলামতি' কী?
  1. গম
  2. ধান
  3. পাট
  4. চা
ব্যাখ্যা

বাংলামতি:
- 'বাংলামতি' কৃষিতে এক প্রকার ধান।
- এটি ধানের উন্নত জাত।
- ব্রি ধান-৫০ যার জনপ্রিয় নাম বাংলামতি (বাসমতীর ন্যায়) ধানের জাত অনুকূল বোরো মওসুমের জন্য উপযোগী।
- অবমূক্তকারী প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। 
- জীবনকাল: ১৫৫ দিন দিন
- উৎপাদন ( সেচ সহ ) / প্রতি হেক্টর: ৬.০ টন কেজি
⇒ জাতের বৈশিষ্ট্য:
১। গাছের উচ্চতা ৮২ সেন্টিমিটার।
২। গাছ হেলে পড়ে না।
৩। চাল লম্বা, চিকন, সুগন্ধি ও সাদা।
৪। ভাত ঝরঝরে।
৫। চালে প্রোটিনের পরিমাণ ৮.২%।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

১,৬৯৪.
বায়ু দ্বারা কোথায় অধিক ক্ষয়ীভবন সংঘটিত হয়?
  1. ক) মেরুঅঞ্চলে
  2. খ) পার্বত্য অঞ্চলে
  3. গ) প্লাবিত সমভূমিতে
  4. ঘ) মরুঅঞ্চলে
ব্যাখ্যা
- যেসব প্রাকৃতিক শক্তির দ্বারা ক্ষয়ীভবনের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন সংঘটিত হয় তাদের মধ্যে বায়ু অন্যতম।
- বায়ু দ্বারা ক্ষয়ীভবন পরিমাণ সর্বাধিক হয় মরুভূমিতে। মরু এলাকা শুষ্ক, বৃষ্টিহীন ও গাছপালা শূন্য হওয়ায় সেখানকার মাটির সুদৃঢ় নয়। যার কারণে বায়ুপ্রবাহের আঘাতে এই অঞ্চলের শিলা সহজেই বাহিত হয়ে ধীর পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষয় সাধন করে।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৬৯৫.
আপেক্ষিক তত্ত্ব অনুসারে নিচের কোনটি আপেক্ষিক?
  1. ক) স্থান
  2. খ) বস্তুর ভর
  3. গ) সময়
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আপেক্ষিক তত্ত্ব:
- আপেক্ষিক তত্ত্ব পদার্থবিজ্ঞানে এক আলোড়ন সৃষ্টিকারী তত্ত্ব। এই তত্ত্বের প্রবর্তক আলবার্ট আইনস্টাইন।
- আপেক্ষিক তত্ত্বের মতে স্থান, কাল ও জড় বা ভর পরম কিছু নয়, আপেক্ষিক।
- বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এই তত্ত্বের সূচনা করেন ১৯০৫ সালে বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব (special theory of relativity) প্রবর্তনের মাধ্যমে।
- ভরের আপেক্ষিকতা ও ভরকে শক্তিতে রূপান্তর, এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের উপর ভিত্তি করে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়।

আপেক্ষিক তত্ত্বের স্বীকার্য:
- আইনস্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব দুটি মৌলিক স্বীকার্যের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- প্রথম স্বীকার্য: স্থির বা গতিশীল সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক সূত্রসমূহ অপরিবর্তিত থাকে।
- দ্বিতীয় স্বীকার্য: শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ সকল জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর পর্যবেক্ষকের জন্য একই এবং তা আলোর উৎস বা পর্যবেক্ষকের গতির উপর নির্ভরশীল নয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. শাহজাহান তপন, মুহম্মদ আজিজ হাসান, ড. রানা চৌধুরী)।
১,৬৯৬.
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষে ঘুরে আসতে যা সময় লাগে তাকে বলা হয় -
  1. ক) সৌরবর্ষ
  2. খ) আলোকবর্ষ
  3. গ) গ্যালাকটিক ইয়ার
  4. ঘ) পালসার ইয়ার
ব্যাখ্যা
সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি-ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে, এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
অর্থ্যাৎ ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।
সোর্সঃ ব্রিটানিকা
১,৬৯৭.
কোন বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায়? 
  1. মহাকর্ষ বল
  2. দুর্বল নিউক্লীয় বল
  3. বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় বল
  4. সবল নিউক্লীয় বল
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল(Gravitation): 
- এই সৃষ্টিজগতের সকল বস্তু তাদের ভরের কারণে একে অপরকে যে বল দিয়ে আকর্ষণ করে সেটাই হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- এই মহাকর্ষ বলের কারণে গ্যালাক্সির ভেতরে নক্ষত্ররা ঘুরপাক খায় কিংবা সূর্যকে ঘিরে পৃথিবী ঘোরে, পৃথিবীকে ঘিরে চাঁদ ঘোরে। 
- পৃথিবীর মহাকর্ষ বল যখন আমাদের ওপর কাজ করে আমরা সেটাকে বলি মাধ্যাকর্ষণ। 
- এই মাধ্যাকর্ষণ বল আমাদের পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে, অর্থাৎ নিচের দিকে টেনে রেখেছে এবং এর কারণেই আমরা নিজেদের ওজনের অনুভূতি পাই। 
- পদার্থবিজ্ঞানের একটি চমকপ্রদ বল হচ্ছে মহাকর্ষ বল। 
- ভর আছে সেরকম যেকোনো বস্তু অন্য বস্তুকে মহাকর্ষ বল দিয়ে আকর্ষণ করে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৬৯৮.
সাধারণভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য একটি দেশের মোট ভূমির কত ভাগ বনাঞ্চল প্রয়োজন?
  1. ২০
  2. ৩০
  3. ২৫
  4. ৪০
ব্যাখ্যা
- যে সকল স্থানে বিভিন্ন প্রকারের প্রচুর পরিমানে গাছপালা দেখা যায় তাকে বন ভূমি বলা হয়ে থাকে। 
- এক সময় পৃথিবীর স্থল ভাগের প্রায় ৪০ ভাগ বনভূমি দ্বারা আবৃত ছিল। 
- কিন্তু মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে বনভূমি থেকে গাছপালা কেটে ফেলে বর্তমানে তা প্রায় ২৪ ভাগে এসে দাঁড়িয়েছে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানের তাপ, মাটি, আলো, জলবায়ু প্রভৃতির কারণে বনভূমির তারতম্য হয়ে থাকে। 
- দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য বনভূমি অপরিহার্য। 
- একটি দেশের জন্য অন্তত ২৫% বনভূমির প্রয়োজন। 

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশে সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৮ শতাংশ। 

উৎস: বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৬৯৯.
ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে কাল্পনিক রেখাটি বাংলাদেশের উপর দিয়ে গিয়েছে তা হলো-
  1. ক) মূল মধ্যরেখা
  2. খ) কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. গ) মকরক্রান্তি রেখা
  4. ঘ) আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে সাড়ে তেইশ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে। এর প্রভাবে বাংলাদেশে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে এবং এখানকার জলবায়ু ক্রান্তিয় জলবায়ুর অন্তর্গত।
(সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি)

১,৭০০.
একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু ১৬০০ বছর হলে মৌলটির ৬০% ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে?
  1. ২১০০ বছর
  2. ৯৬০ বছর
  3. ১৭৬০ বছর
  4. ১৯৬০ বছর
ব্যাখ্যা
প্রশ্ন: একটি তেজস্ক্রিয় মৌলের অর্ধায়ু ১৬০০ বছর হলে মৌলটির ৬০% ক্ষয় হতে কত বছর লাগবে? 

সমাধান:
আমরা জানি,
অর্ধায়ু, T = 0.693/λ     [λ = ক্ষয়ধ্রুবক]
বা, 1600 = 0.693/λ
বা, λ = 0.693/1600
∴ λ = 0.000433

আবার,
মৌলটির 60% ক্ষয় হলে, অবশিষ্ট আছে (100 - 60)%
= 40%

∴ তেজস্ক্রিয় ভাঙ্গনের বা ক্ষয়ের সূচকীয় সূত্র:
N = N0e- tλ
বা, N/N0 = e- tλ
বা, e- tλ = 40% = 40/100 = 2/5
বা, ln(e- tλ) = ln(2/5)
বা, - tλ = - 0.92
বা, t = 0.92 /0.000433
∴ t = 2124.71 

অর্থাৎ, অর্ধায়ূ 2124.71 বছর

এই মান অপশন ক) ২১০০ বছর এর কাছাকাছি হওয়ায় সঠিক উত্তর হিসেবে এটি গ্রহণ করা হলো।