বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৬ / ৩৯ · ১,৫০১১,৬০০ / ৩,৮৭৯

১,৫০১.
ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন কে?
  1. লিউয়েন হুক
  2. এডওয়ার্ড জেনার
  3. লুই পাস্তুর
  4. রবার্ট হুক
ব্যাখ্যা
- ডাচ বিজ্ঞানী লিউয়েন হুক সর্বপ্রথম অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন এবং এই যন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাকটেরিয়া, হাইড্রা, ভলভক্স ইত্যাদি আবিষ্কার করেন।
- তিনি তাঁর নিজের আবিষ্কৃত সরল অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে এক ফোঁটা বৃষ্টির পানিতে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
- তিনি এদের নাম দেন Animalcule অর্থাৎ ক্ষুদ্র প্রাণী, তাই তাকে Father of Bacteriology অর্থাৎ ব্যাকটেরিওলজির জনক বলা হয়।
- জার্মান বিজ্ঞানী এহরেনবার্গ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাকটেরিয়া নামকরণ করেন।
- ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর (১৮২২-১৮৯৫) ব্যাকটেরিয়ার উপর ব্যাপক গবেষণা করে ব্যাকটেরিয়া তত্ত্বকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
- রবার্ট হুক প্রথম কোষপ্রাচীর আবিষ্কার করেন।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা এবং
২. জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫০২.
কোনটি ‘ঈশ্বর কণা’ নামে পরিচিত?
  1. Higgs Boson
  2. Electron
  3. Neutron
  4. Proton
ব্যাখ্যা
• হিগের কণা:
- ব্রিটিশ পদার্থবিজ্ঞানী পিটার হিগস ১৯৬৪ সালে এমন একটি কণার ধারনা দেন, যা বস্তুর ভর সৃষ্টি করে এবং এর ফলে মহাবিশ্ব সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। এই কণাটিকে হিগের কণা বলা হয়।
- হিগস কণা একটি বোসন কণা।
- হিগস বোসন কণাটি - (Higgs Boson) ঈশ্বর কণা নামে পরিচিত।
- পদার্থবিজ্ঞানী লিওর লেডারম্যান ১৯৯৩ সালে হিগস কণাকে ঈশ্বর কণা নামে চিহ্নিত করেন।
- ৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই বোসন কণাটি আবিষ্কৃত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৫০৩.
মস্তিস্কে রক্তক্ষরণজনিত রোগ কোনটি?
  1. ক) হার্ট এট্যাক
  2. খ) আলসার
  3. গ) স্ট্রোক
  4. ঘ) ডায়বেটিক
ব্যাখ্যা
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা ফলে স্ট্রোক হয়। যাতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যা একটি রক্ত সঞ্চালনের জনিত একটি রোগ। 

- হার্ট এট্যাক হলো হৃদপিন্ডে রক্তক্ষরণজনিত রোগ।
- আলসার হলো পাকস্থলিতে তৈরী হওয়া ক্ষত।
- ডায়বেটিক - রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়ে গেলে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫০৪.
সামুদ্রিক মাছ আর শৈবালের মধ্যে কোনটির প্রাচুর্য বেশি?
  1. Potassium
  2. Iodine
  3. Magnesium
  4. Iron
ব্যাখ্যা
• সামুদ্রিক মাছ এবং শৈবাল—উভয়েই পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও আয়োডিনের (Iodine) প্রাচুর্য শৈবালে সবচেয়ে বেশি। শৈবাল প্রাকৃতিকভাবে আয়োডিন শোষণ করে এবং সংরক্ষণ করে, যা আমাদের থাইরয়েড হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে। সামুদ্রিক মাছেও আয়োডিন থাকে, তবে পরিমাণে তা শৈবালের তুলনায় কম। পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম এবং আয়রন উভয় উৎসেই থাকতে পারে, তবে আয়োডিনের আধিক্য তুলনামূলকভাবে শৈবালেই বেশি লক্ষ্য করা যায়। তাই আয়োডিন উপাদানের দিক থেকে শৈবাল বেশি সমৃদ্ধ।
- সঠিক উত্তর: খ) Iodine.

- খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং লবণ, সামুদ্রিক শৈবাল ও সামুদ্রিক মাছে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- এ সমস্ত উপাদান দেহের বৃদ্ধির কাজে সাহাজ্য করে।
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ হয়।
- লৌহের অভাবে রক্তশূণ্যতা দেখা দেয়।

সূত্র: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,৫০৫.
মহাবিশ্বের সৃষ্টি, গঠন ও বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়? 
  1. Astronomy
  2. Meteorology
  3. Geology
  4. Cosmology
ব্যাখ্যা

মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য: 
- মহাবিশ্ব কেন সৃষ্টি হলো, কিভাবে সৃষ্টি হলো, কেনইবা এটি টিকে আছে এ সম্পর্কে আমাদের কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে এটি কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে এর বিবর্তনের ধারা সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা হয়েছে। 
- রাতের আকাশে অসংখ্য তারা বা নক্ষত্র দেখতে পাওয়া যায়, এমন অসংখ্য নক্ষত্র নিয়ে গঠিত হয়েছে একটি গ্যালাক্সি। 
- সপ্তদশ শতাব্দীতে টেলিস্কোপের ব্যবহার থেকে জানা যায়, সূর্য ছায়াপথ গ্যালাক্সির (Milky way) অন্যান্য নক্ষত্রের মতোই একটি সাধারণ নক্ষত্র। তখন মনে করা হতো, সূর্য হচ্ছে গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু। 
- বিংশ শতাব্দীতে এসে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন, সূর্যের অবস্থান গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে অনেক অনেক দূরে। 
- এরূপ কোটি কোটি গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত হয়েছে এ মহাবিশ্ব। 
- ছায়াপথ গ্যালাক্সিতে নক্ষত্রের সংখ্যা প্রায় 1011 । মহাবিশ্বে এরকম প্রায় 1011 সংখ্যক গ্যালাক্সি রয়েছে। আর প্রত্যেকটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে গ্যালাক্সির প্রায় সমসংখ্যক নক্ষত্র। 

- পৃথিবী মহাবিশ্বের তুলনায় অতি অতি ক্ষুদ্র। পৃথিবী থেকে মহাকাশে নক্ষত্রদের দেখতে কাছাকাছি মনে হলেও এদের পরস্পরের মধ্যে রয়েছে অনেক আলোক বর্ষের ব্যবধান। 
- সভ্যতার সেই শুরু হতেই বিজ্ঞানীগণ এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য এবং পরিণতি সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা পোষণ করে আসছেন। এসব ধারণা এবং বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টার ফল হিসেবে বিজ্ঞানের একটি শাখা সৃষ্টি হয়েছে, যা কসমোলজি (Cosmology) বা 'মহাজাগতিক বিজ্ঞান' নামে পরিচিত। 
- বিংশ শতাব্দীতে দুই জন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিকের দ্বারা দুটি পরীক্ষা সংঘটিত হয়, যেগুলোর মাধ্যমে মহাবিশ্ব সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রায় সকল পদার্থ বিজ্ঞানীদের মাঝে গৃহীত হয়েছে। পরীক্ষা দুটি হলো- 
১। মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ এবং ২। মহাজাগতিক পশ্চাৎপট বিকিরণ। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫০৬.
'এনজিওপ্লাস্টি' কোন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) হৃদরোগ
  2. খ) স্নায়ুরোগ
  3. গ) রেচনতন্ত্রের রোগ
  4. ঘ) পারকিনসন
ব্যাখ্যা
হৃদরোগের চিকিৎসায় পেসমেকার, ওপেন হার্ট সার্জারি, করোনারি বাইপাস সার্জারি, এনজিওপ্লাস্টি ব্যবহৃত হয়।

পেসমেকার
- হৃৎপিন্ডে ডান অ্যাট্রিয়াম-প্রাচীরের উপর দিকে অবস্থিত, বিশেষায়িত কার্ডিয়াক পেশিগুচ্ছে গঠিত ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ন্ত্রিত একটি ছোট অংশ যা বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রবাহ ছড়িয়ে দিয়ে হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে এবং স্পন্দনের ছন্দময়তা বজায় রাখে তাকে পেসমেকার বলে।

ওপেন হার্ট সার্জারি
- শল্যচিকিৎসক যখন রোগীর বুক কেটে উন্মুক্ত করে হৃৎপিন্ডে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন তখন সে প্রক্রিয়াকে ওপেন হার্ট সার্জারি বলে ।

করোনারি বাইপাস সার্জারি
- এক বা একাধিক করোনারি ধমনির ল্যুমেন (গহ্বর) রূদ্ধ হয়ে গেলে হৃৎপিন্ডে রক্ত সরবরাহ অব্যাহত রাখতে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দেহের অন্য অংশ থেকে (যেমন-পা থেকে) একটি সুস্থ রক্তবাহিকা (ধমনি বা শিরা) কেটে এনে বৃদ্ধ ধমনির পাশে স্থাপন করে রক্ত সরবরাহের যে বিকল্প পথ সৃষ্টি করা হয় তাকে করোনারি বাইপাস বলে । করোনারি বাইপাস সৃষ্টির সামগ্রিক অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়াটিকে করোনারি বাইপাস সার্জারি বলা হয়।

এনজিওপ্লাস্টি
- বড় ধরনের অস্ত্রোপচার না করে হৃৎপিন্ডের সংকীর্ণ ল্যুমেন (গহ্বর)-যুক্ত বা রূদ্ধ হয়ে যাওয়া করোনারি ধমনি পুনরায় প্রশস্ত ল্যুমেনযুক্ত বা উন্মুক্ত করার পদ্ধতিকে এনজিওপ্লাস্টি বলে।
- এনজিওপ্লাস্টির উদ্দেশ্য হচ্ছে সরু বা বন্ধ হয়ে যাওয়া ল্যুমেনের ভেতর দিয়ে হৃৎপিন্ডে পর্যাপ্ত O2 সরবরাহ নিশ্চিত করে হৃৎপিন্ড ও দেহকে সচল রাখা।
- বুকে ব্যথা (অ্যানজাইনা), হার্ট ফেইলিউর, হার্ট অ্যাটাক প্রভৃতি মারাত্মক রোগ থেকে মুক্তির সহজ উপায় এনজিওপ্লাস্টি।
- ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে সুইজারল্যান্ডের ডাঃ অ্যানডেস গয়েন জিগ সর্বপ্রথম এ পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান ২য়  পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি) - গাজী আজমল ও গাজী আসমত ।
১,৫০৭.
কতটি আঞ্চলিক টুকরা নিয়ে টেকটনিক প্লেট গঠিত?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৫
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৭
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর ব্যবচ্ছেদে দেখা যায় যে ভূ-ত্বক ৮টি বড় বড় টুকরা এবং ৬টি আঞ্চলিক টুকরা দ্বারা বিভক্ত।
এগুলো টেকটনিক প্লেট নামে পরিচিত। ভূ-পৃষ্ঠে যেসব কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে তার মধ্যে অন্যতম হলো এই প্লেটগুলোর বিভিন্ন রকমের স্থানান্তর বা বিচ্যুতি।



উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।

১,৫০৮.
ধান গাছের ব্লাইট রোগ হয় নিচের কোনটির জন্য?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) শৈবাল
ব্যাখ্যা
Takaeshi ১৯০৮ সালে প্রমাণ করেন যে, ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে ধান গাছের ব্লাইট রোগ হয়।

ব্যাকটেরিয়া ঘটিত আরো কিছু রোগের নাম:

- মানুষের রোগ:

- উদ্ভিদের রোগ:


সূত্র- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র(উদ্ভিদবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৫০৯.
কোন মৌলিক পদার্থটি পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি আছে?
  1. ক) হাইড্রোজেন
  2. খ) লৌহ
  3. গ) অক্সিজেন
  4. ঘ) নাইট্রোজেন
১,৫১০.
ডোপিং এর জন্য অপদ্রব্য হিসেবে পর্যায় সারণির কোন সারির মৌল ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) প্রথম সারির
  2. খ) দ্বিতীয় সারির
  3. গ) চতুর্থ সারির
  4. ঘ) পঞ্চম সারির
ব্যাখ্যা
ডোপিং (Doping):
- বহির্জাত অর্ধপরিবাহী তৈরির জন্য বিশুদ্ধ অর্ধপরিবাহীর সাথে সুনিয়ন্ত্রিত ও উপযুক্ত উপায়ে সামান্য পরিমাণ অপদ্রব্য মিশানোর প্রক্রিয়াকে ডোপিং বলে ।
- ডোপিং এর ফলে অর্ধপরিবাহীর তড়িৎ পরিবাহিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় ।
- ডোপিং এর জন্য দুই ধরনের অপদ্রব্য ব্যবহার করা হয়। যথা-
১. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৩ এর মৌল, যেমন –বোরন, অ্যালুমিনিয়াম, গ্যালিয়াম ইত্যাদি।
২. পর্যায় সারণির গ্রুপ-১৫ এর মৌল, যেমন – ফসফরাস, আর্সেনিক, এন্টিমনি ইত্যাদি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১১.
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সুনামির ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি হওয়ার কারণ কী?
  1. রিং অফ ফায়ার (Ring of Fire)-এ অবস্থিতি
  2. অতিরিক্ত দ্বীপের উপস্থিতি
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. সমুদ্রের তলদেশে শৈবাল স্তরের আধিক্য
ব্যাখ্যা

• প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকাটি রিং অফ ফায়ার নামক একটি ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত। এটি মূলত টেকটোনিক প্লেটের একটি অতি সক্রিয় সীমানা যেখানে পৃথিবীর অধিকাংশ ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত ঘটে।সমুদ্রের তলদেশে এই প্রবল ভূ-আলোড়নের কারণেই এখানে সুনামির হার পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি।

• রিং অফ ফায়ারের বৈশিষ্ট্য:
- এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় বেসিন জুড়ে বিস্তৃত একটি ঘোড়ার খুরের মতো আকৃতির অঞ্চল।
- বিশ্বের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির প্রায় ৭৫ শতাংশই এই বলয়ে অবস্থিত।
- এই অঞ্চলে প্লেট টেকটোনিকসের কারণে প্রায়ই সমুদ্রতলদেশীয় ভূমিকম্প হয়।
- জাপান, ইন্দোনেশিয়া এবং চিলির মতো দেশগুলো এই বলয়ের কারণে সবচেয়ে বেশি সুনামির ঝুঁকিতে থাকে।

• সুনামি (Tsunami):
- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়। তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেষু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫১২.
মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে কোন গ্যাসের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. অক্সিজেন
  2. নাইট্রোজেন
  3. হাইড্রোজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

মঙ্গল গ্রহ (Mars):
- মঙ্গল গ্রহ পৃথিবীর নিকটতম প্রতিবেশী।
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়। খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার। এর ব্যাস ৬,৭৮৭কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং
- কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫১৩.
নিচের কোনটি হৃদপিণ্ডকে আবৃত করে রাখে? 
  1. ক) পেরিকার্ডিয়াম
  2. খ) যকৃত    
  3. গ) পলুরা 
  4. ঘ) পেরিটোনিয়াম 
ব্যাখ্যা
পেরিকার্ডিয়াম নামক পদার্থটি হৃদপিণ্ডকে আবৃত করে রাখে। 

- দেহের যে প্রকোষ্ঠময় পেশল অঙ্গের নিরবিছিন্ন ছন্দময় সংকোচন ও প্রসারণের কারণে সমগ্র দেহে রক্ত সংবাহিত হয় তাকে হৃৎপিণ্ড বলে।
- মানুষের হৃদপিণ্ড বক্ষগহ্বরে মধ্যচ্ছদার উপরে ও দুই ফুসফুসের মাঝ-বরাবর বাম দিকে একটু বেশি বাঁকা হয়ে অবস্থিত।
- এটি দেখতে ত্রিকোণাকার; গোঁড়াটি চওড়া ও ঊর্ধ্বমুখী থাকে, কিন্তু সূচালো শীর্ষ দেশ নিচের দিকে পঞ্চম পাঁজরের ফাঁকে অবস্থান করে।
- হৃৎপিণ্ড একটি পাতলা দ্বিস্তরী আবরণে আবৃত। এর নাম পেরিকার্ডিয়াম।
- পেরিকার্ডিয়াম এর বাইরের দিক তন্তুময় পেরিকার্ডিয়াম এবং এর ভেতরের দিক সেরাস পেরিকার্ডিয়াম নামে পরিচিত।
- সেরাস পেরিকার্ডিয়াম আবার দুই স্তরে বিভক্ত, বাইরের দিকে প্যারাইটাল স্তর এবং ভেতরের দিকে ভিসেরাল স্তর।
- প্যারাইটাল ও ভিসেরাল স্তর দুটির মাঝখানের পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড নামক তরল পদার্থ থাকে।
- হৃৎপিন্ডের প্রাচীর অনৈচ্ছিক পেশি ও যোজক টিস্যু নিয়ে গঠিত। এর প্রাচীর গঠনকারী পেশীকে কার্ডিয়াক পেশি বলে।

সূত্র: National Library of Medicine Website [লিঙ্ক]
১,৫১৪.
মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৫
  2. খ) ১৯৫৬
  3. গ) ১৯৫৭
  4. ঘ) ১৯৫৮
ব্যাখ্যা

- মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর।
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন স্পুটনিক-১ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে।
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হল- ভ্রমণসঙ্গী
- ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-২ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন।

উৎস: অষ্টম শ্রেণি বিজ্ঞান

১,৫১৫.
হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর জমাট বাঁধতে বাধা দেয়-
  1. ক) মনোসাইট
  2. খ) নিউট্রোফিল
  3. গ) বেসোফিল
  4. ঘ) ইওসিনোফিল
ব্যাখ্যা
বেসোফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্তবাহিকার ভিতর জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণ করে। ইওসিনোফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
[সূত্রঃ জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি]
১,৫১৬.
কোনটি শরীরের ভেতর স্বাভাবিক শারীরিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়?
  1. ইস্ট্রোজেন
  2. ইনসুলিন
  3. টেস্টস্ট্রেরন
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা
হরমোন :
- মানুষসহ বিভিন্ন প্রাণীদেহে এক ধরনের নালিবিহীন গ্রন্থি থাকে। এ সব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস সরাসরি রক্তের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এ ধরনের রসকে হরমোন বলে।
- মানব দেহের কয়েকটি নালিবিহীন গ্রন্থি : মানব দেহের কয়েকটি নালিবিহীন গ্রন্থির নাম হলো- পিটুইটারি গ্রন্থি, থাইরয়েড গ্রন্থি, প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি, থাইমাস গ্রন্থি, এডরেনাল গ্রন্থি, আইলেটস অফ ল্যাংগারহ্যানস, গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি। 

আইলেটস্ অফ ল্যাংগারহ্যানস-
এ গ্রন্থির অবস্থান অগ্ন্যাশয়ের মাঝে। এ গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন, গ]কাগণ প্রভৃতি হরমোন নিঃসৃত হয় যা শরীরের শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে ।

গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি-
- এ গ্রন্থি মেয়েদের ডিম্বাশয় এবং ছেলেদের শুক্রাশয়ে অবস্থিত। জনন অঙ্গ হতে নিঃসৃত হরমোন দেহের পরিণত বয়সের লক্ষণসমূহ বিকশিত করতে ভূমিকা রাখে।
- এছাড়াও প্রাণীর জনন অঙ্গের বৃদ্ধি, জননচক্র ও যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- জনন অঙ্গ হতে পরিণত বয়সের পুরুষে টেস্টোস্টেরন ও স্ত্রী দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়। 

উৎস: জীবিবিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৭.
প্রোটিনের অভাবে শিশুদের মাঝে কোন রোগ দেখা দেয়?
  1. ক) কোয়াশিওরকর
  2. খ) ম্যারাসমাস
  3. গ) উভয়টিই
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রোটিন ও প্রোটিন-ক্যালরি অভাবজনিত রোগ প্রোটিন ও ক্যালরির অভাবে বিশেষত শিশুদের মধ্যে যে ধরনের অপুষ্টি দেখা যায় তাকে প্রোটিন-শক্তি ঘাটতিজনিত অপুষ্টি বা Protein Energy Malnutrition (PEM) বা PCM (Protein Calorie Malnutrition) বলা হয়।
মারাত্মক মাত্রায় প্রোটিন ও প্রোটিন-ক্যালরির অভাবে শিশুদের মধ্যে কোয়াশিওরকর (গা ফোলা) ও ম্যারাসমাস (হাড্ডিসার) রোগ হয়।

কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor): শৈশবে মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত ও পরবর্তীতে খাবারে প্রোটিনের অভাব (Protein Deficiency) ঘটলে কোয়াশিওরকর রোগ হতে পারে। 

ম্যারাসমাস (Marasmus): খাদ্যে প্রোটিনের সাথে সাথে ক্যালরির তীব্র অভাব (Protein - Calorie Deficiency) হলে ম্যারাসমাস বা হাড্ডিসার রোগ হতে পারে। 

উৎস : গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৫১৮.
বিগব্যাং কত বছর আগে সংঘটিত হয়েছিল?
  1. ১০.৮ বিলিয়ন বছর
  2. ১৩.৮ বিলিয়ন বছর
  3. ১৬.৮ বিলিয়ন বছর
  4. ১৭.৮ বিলিয়ন বছর
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়।
- বিগ ব্যাং সিদ্ধান্ত অনুসারে, মহাবিশ্বের উৎপত্তি ঘটেছে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে।
- এই সিদ্ধান্তে বলা হয় যে, মহাবিশ্ব একটি একটি সুপারনোভা বা মহাস্থির বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুগুলি আরম্ভিক অবস্থায় ছিল।  
- এটাই মহাবিশ্বের বয়স।

 উৎস: i) Las Cumbres Observatory.
          ii) পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫১৯.
পরিমাণের দিক থেকে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের অবস্থান কত?
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চতুর্থ
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
- অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
- বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা হারঃ
• নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
অক্সিজেন ২০.৭১%,
• আর্গন ০.৮০%,
• জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
• কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫২০.
টেকটোনিক প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে সাধারণত কী ঘটে? 
  1. তুষারপাত
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বৃষ্টিপাত
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুসারে, পৃথিবীর শিলামণ্ডল কয়েকটি পৃথক প্লেটে বিভক্ত, যা গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের ওপরে ভাসমান অবস্থায় থাকে।
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছর কয়েক সেন্টিমিটার করে সরে যায়, কখনো একে অপরের থেকে দূরে সরে, আবার কখনো পরস্পরের দিকে আসে বা পরস্পরের সঙ্গে ঘষা খায়।
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলেই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা বেশি ঘটে, বিশেষত যেখানে উঁচু পর্বতশ্রেণী বিদ্যমান
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষ ও ঘর্ষণের ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, যা ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলিয়ে ফেলে।
- এই গলিত পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত এবং চাপের ফলে ভূপৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে এলে তা লাভা নামে পরিচিত হয় এবং এই প্রক্রিয়াকে আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলা হয়।
- প্লেটগুলোর সংঘর্ষের ফলে যখন পৃথিবী কেঁপে ওঠে, তখন ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৫২১.
অগ্ন্যাশয় থেকে পর্যাপ্ত ইনসুলিন নির্গত না হলে কোন রোগ হয়?
  1. ক) স্কার্ভি
  2. খ) বহুমূত্র রোগ
  3. গ) গলগণ্ড
  4. ঘ) রিকেটস
ব্যাখ্যা
ডায়াবেটিস, বহুমূত্র বা মধুমেহ রোগ
- ডায়াবেটিস এক ধরনের বিপাকজনিত রোগ।
- আমরা যখন কিছু খাই, এটি গ্লুকোজে পরিণত হয়ে রক্তের মাঝে আসে।
- প্যানক্রিয়াস থেকে ইনসুলিন নামে এক ধরনের হরমোন নির্গত হয়, যেটি রক্তের এই গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
- কারো ডায়াবেটিস হলে প্যানক্রিয়াস যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না কিংবা শরীর ইনসুলিনকে ব্যবহার করতে পারে না।
- যে কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- মানুষের রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা হলো ৪.০-৬.০ mMole\l কিংবা (৭০-১১০ মি.গ্রা./ডেসি.লি.)।
- ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ নয়।
- ডায়াবেটিস রোগীদের করোনারি হৃদরোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
- দীর্ঘস্থায়ী ডায়াবেটিস রোগে রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং এর থেকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন হয়।
- উচ্চ রক্তচাপ করোনারি হৃদরোগের পূর্বলক্ষণ।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১,৫২২.
'বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্ব' প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২১ সালে
  2. খ) ১৯০৫ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯১১ সালে
ব্যাখ্যা
- আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব পরস্পরের তুলনায় ঊর্ধ্ব বা নিম্নগতিশীল বস্তুসমূহ বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
- পক্ষান্তরে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব শুধু পরস্পরের তুলনায় সমগতিতে সঞ্চরণশীল বা অসঞ্চরণশীল বস্তু বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- এটি সাধারণ তত্ত্বের একটি বিশেষ রূপ। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৫২৩.
ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরী কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মেক্সিকো
  2. খ) গুয়েতেমালা
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) রাশিয়া
ব্যাখ্যা

ভিসুভিয়াস হচ্ছে আগ্নেয় পর্বত, এর অবস্থান ইতালিতে।  

নিচে বিভিন্ন প্রকার পর্বত সম্পর্কে আলোচনা করা হলো -

পর্বতের প্রকারভেদঃ

পর্বত নানা প্রকারে গঠিত হয়। উৎপত্তির কারণ ও গঠন অনুসারে পর্বতকে পাঁচ শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ভঙ্গিল বা ভাঁজ পর্বত (Fold Mountain):
বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে শিলায় ঢেউ এর মতো ভাঁজ পড়ে যে পর্বতের সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্কিল পর্বত বলে।
- 'পাত ভূগঠন তত্ত্ব' ভঙ্গিল পর্বত সৃষ্টির কারণ।
যেমন - হিমালয়, আন্দিজ, আল্পস, রকি ইত্যাদি।

২. স্তূপ পর্বত (Block Mountain):
প্রবল ভূ-আলোড়নের ফলে শিলাস্তরের সংকোচন ও প্রসারণ চাপের সৃষ্টি হয়। এতে কখনো কখনো ভূত্বক খাড়াভাবে ফেটে যায়, যে রেখা বরাবর ফাটল হয় তাকে চ্যুতিরেখা বলে।
- কখনো কখনো দেখা যায়, দুটি সমান্তরাল ফাটলের মধ্যবর্তী অংশটি চাপের ফলে পাশ্ববর্তী স্থান অপেক্ষা ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়।
- এই উত্থিত অংশ ভূমির উপর স্তূপ আকারে দাঁড়িয়ে থাকে বলে এধরনের পর্বতকে স্তূপ পর্বত বলে।
যেমন - জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, ফ্রান্সের ভোজ পর্বত ইত্যাদি।

৩. ল্যাকোলিথ পর্বত (Lacolith Mountain):
পৃথিবীর অভ্যন্তরে ম্যাগমা বা গলিত শিলার উপাদানসমূহের সাথে বিবিধ গ্যাস মিশ্রিত অবস্থায় থাকে।
- এ গ্যাস অনেক সময় ঊর্ধ্বপ্রবাহী হয়ে ভূপৃষ্টের দিকে আসার চেষ্টা করে। এ গ্যাসের সাথে প্রচুর ম্যাগমাও থাকে।
- কিন্তু প্রায়ই তা ভূত্বকে আসার পথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ভূত্বকের নিচেই সঞ্চিত থাকে। আস্তে আস্তে এই ম্যাগমা কঠিন আকার ধারন করে।
- এই ধরণের পর্বতকে ল্যাকোলিথ বা গম্বুজ পর্বত বলে। ভূআলোড়ন এ জাতীয় পর্বত গঠনে প্রভাব বিস্তার করে।
যেমন - যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাক হিলস্‌ ও হেনরী পর্বত

৪. আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত (Volcanic Mountain):
কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভূআলোড়নের ফলে ভূত্বকের দুর্বল অংশ ফেটে যায়। ঐ ফাটলের মধ্য দিয়ে ভূগর্ভস্থ উত্তপ্ত লাভা, নানা প্রকার গ্যাস ও বাষ্প, ছাই ইত্যাদি প্রবল বেগে নির্গত হয়ে ফাটলের চারদিকে সঞ্চিত হয়।
- এরূপে বার বার ঐসব পদর্থ ফাটলের চারদিকে সঞ্চিত হতে হতে উঁচু পর্বতের সৃষ্টি হয়।
- আগ্নেয় পদার্থ সঞ্চিত হয়ে এ প্রকার পর্বত গঠিত হয় বলে একে আগ্নেয় বা সঞ্চয়জাত পর্বত বলে।
যেমন - ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, হাওয়ায় দ্বীপের মোনালোয়া ইত্যাদি।

৫. ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত (Erosional or Residual Mountain):
সৌরতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, হিমবাহ ইত্যাদি প্রাকৃতিক শক্তিসমূহের ফলে ভূত্বকের নরম অংশ ক্ষয় হতে হতে অপসারিত হয়।
- কঠিন শিলাগুলো অল্প ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে পর্বতরূপে থেকে যায়। এরূপ সৃষ্ট পর্বতকে ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট পর্বত বলে।
যেমন - ভারতের আরাবল্লী, ইউরোপের সিয়েরা নেভেদা, উত্তর আমেরিকার অ্যাপালেশিয়ান ইত্যাদি।

উৎসঃ উচ্চ মাধ্যমিক ভূগোল (১ম পত্র) বোর্ড বই।

১,৫২৪.
সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহের গতি প্রকৃতি ও কক্ষপথ সংক্রান্ত সূত্র প্রদান করেন- 
  1. স্যার আইজ্যাক নিউটন
  2. জোহানেস কেপলার
  3. গ্যালিলিও গ্যালিলি
  4. নিকোলাস কপারনিকাস
ব্যাখ্যা

সূর্যের চারিদিকে গ্রহের গতি: 
- সূর্যের চারদিকে পৃথিবীসহ মোট আটটি গ্রহ প্রদক্ষিণ করছে।
- সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহের গতি প্রকৃতি ও কক্ষপথ সংক্রান্ত সূত্র প্রদান করেন ডেনমার্কের জ্যোতির্বিদ জোহান কেপলার (Johann Keplar) ১৬১৮ খ্রিস্টাব্দে।

• গ্রহের গতি সংক্রান্ত কেপলারের সূত্র ৩টিঃ
- ১ম সূত্রঃ (কক্ষপথের সূত্র),
- ২য় সূত্রঃ (ক্ষেত্রফলের সূত্র),
- ৩য় সূত্রঃ (আবর্তনকালের সূত্র),

উৎস: NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

১,৫২৫.
RNA ভাইরাসঘটিত রোগ কোনটি?
  1. পোলিও
  2. গুটি বসন্ত
  3. যক্ষ্মা
  4. হেপাটাইটিস B
ব্যাখ্যা

পোলিও রোগটি পোলিওভাইরাস (Poliovirus) দ্বারা সৃষ্ট হয়, যা একটি RNA ভাইরাস।
- এটি স্নায়ুতন্ত্রকে আক্রমণ করে এবং পক্ষাঘাত (Paralysis) ঘটাতে পারে।

• DNA ভাইরাসঘটিত রোগ:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA থাকে তাদেরকে DNA ভাইরাস বলা হয়।
- DNA ভাইরাসঘটিত রোগের উদাহরণ হলো- গুটি বসন্ত (Smallpox), চিকেনপক্স (Chickenpox), হার্পিস সিমপ্লেক্স, হেপাটাইটিস-বি, মানব প্যাপিলোমা ভাইরাস সংক্রমণ ইত্যাদি।
- DNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ভেরিওলা ভাইরাস, হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস, পারভোভাইরাস B19 ইত্যাদি।

• RNA ভাইরাসঘটিত রোগ:
- যে ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে RNA থাকে তাদেরকে RNA ভাইরাস বলা হয়।
- RNA ভাইরাসঘটিত রোগের উদাহরণ হলো- ডেঙ্গু, সাধারণ ঠান্ডা, ইনফ্লুয়েঞ্জা (Flu), COVID-19, পোলিও, এইডস, হাম, র‍্যাবিস, ইবোলা ইত্যাদি।
- RNA ভাইরাসের উদাহরণ হলো- ডেঙ্গু ভাইরাস (Dengue Virus DENV), রাইনোভাইরাস, করোনভাইরাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস, SARS-CoV-2, পোলিও ভাইরাস, HIV, মিজলস ভাইরাস, র‍্যাবিস ভাইরাস, ইয়েলো ফিভার ভাইরাস ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ২য় পত্র, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল, গাজী আসমত।

১,৫২৬.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরটির বিস্তৃতি সবচেয়ে বেশি?
  1. ট্রপোমন্ডল
  2. স্ট্র‍্যাটোমন্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. তাপমন্ডল
ব্যাখ্যা

- The troposphere is the lowest layer of our atmosphere. Starting at ground level, it extends upward to about 10 km (6.2 miles or about 33,000 feet) above sea level.
- The next layer up is called the stratosphere. The stratosphere extends from the top of the troposphere to about 50 km (31 miles) above the ground.
Above the stratosphere is the mesosphere. It extends upward to a height of about 85 km (53 miles) above our planet.
- The layer of very rare air above the mesosphere is called the thermosphere. High-energy X-rays and UV radiation from the Sun are absorbed in the thermosphere, raising its temperature to hundreds or at times thousands of degrees.
However, the air in this layer is so thin that it would feel freezing cold to us! In many ways, the thermosphere is more like outer space than a part of the atmosphere. Many satellites actually orbit Earth within the thermosphere! Variations in the amount of energy coming from the Sun exert a powerful influence on both the height of the top of this layer and the temperature within it. Because of this, the top of the thermosphere can be found anywhere between 500 and 1,000 km (311 to 621 miles) above the ground.

সূত্র: Encyclopedia Britannica

১,৫২৭.
নিচের কোনটির কারণে নদীখাত গভীর হয়?
  1. ক) সমুদ্রস্রোত    
  2. খ) নদীস্রোত
  3. গ) জলোচ্ছ্বাসের স্রোত
  4. ঘ) জোয়ার-ভাটার স্রোত
ব্যাখ্যা
সমুদ্র এবং উপকূলবর্তী নদীর জলরাশি প্রতিদিনই কোনো একটি সময়ে ঐ জলরাশি ধীরে ধীরে ফুলে উঠছে এবং কিছুক্ষণ পরে আবার তা ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে। জলরাশির এরকম নিয়মিত স্ফীতি বা ফুলে ওঠাকে জোয়ার বা নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দু'বার ভাটা হয়। উপকূলে কোন একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা পর পর দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা। জোয়ার ভাটায় নদীখাত গভীর হয় 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম 
১,৫২৮.
বাংলাদেশে উৎপাদিত নিম্নলিখিত কোন রাসায়নিকটি কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়?
  1. নাইট্রিক অ্যাসিড
  2. অ্যামোনিয়াম সালফেট
  3. পটাসিয়াম ক্লোরাইড
  4. ইথানল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে মূলত ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি এবং এমওপি সার বেশি ব্যবহৃত হয়।
- বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর সাড়ে ২৬ লক্ষ টন ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয়।
- কিন্তু বাংলাদেশে উৎপাদন হয় প্রায় ১০ লক্ষ টন। 
- টিএসপি সার প্রয়োজন হয় সাড়ে সাত লক্ষ মেট্রিকটন।
- কিন্তু দেশে উৎপাদন হয় এক লক্ষ মেট্রিকটন। 
- ডিএপি সারের প্রয়োজন হয় সাড়ে ১৬ লাখ। তার মধ্যে সাড়ে ১৫ লাখ মেট্রিকটন সার বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। 
- এমওপি সারের চাহিদা রয়েছে আট লক্ষ, যার পুরোটাই বেলারুশ, রাশিয়া, কানাডা থেকে আমদানি করা হয়।
- বাংলাদেশে উৎপাদিত অ্যামোনিয়াম সালফেট রাসায়নিকটি কৃষিখাতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। 

বাংলাদেশে অ্যামোনিয়াম সালফেট সার নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার, এটি সাধারণত কৃষিতে ব্যবহৃত হয়। এতে ২১% নাইট্রোজেন এবং ২৪% সালফার থাকে। এটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এবং ফসলের ফলন বাড়াতে সহায়ক।
পটশিয়াম ক্লোরাইড বা মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত একটি সার। কিন্তু এটি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না, প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়।
১,৫২৯.
কোনটি জন্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘস্থায়ী অস্থায়ী পদ্ধতি?
  1. বন্ধ্যাকরণ
  2. স্পার্মিসাইড
  3. স্পঞ্জ
  4. ইমপ্লান্ট
ব্যাখ্যা

• জন্মনিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিগুলো বিভিন্ন সময়ের জন্য কার্যকর হয়। এর মধ্যে কিছু দীর্ঘস্থায়ী এবং স্থায়ী, আবার কিছু অস্থায়ী। উদাহরণস্বরূপ, বন্ধ্যাকরণ স্থায়ী পদ্ধতি, যা একবার করলে তা পরিবর্তন করা যায় না। ইমপ্লান্ট হলো একটি দীর্ঘস্থায়ী কিন্তু অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এটি শরীরে ছোট রড হিসেবে প্রতিস্থাপিত হয় এবং কয়েক বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে, কিন্তু প্রয়োজন হলে পরে বের করা যায়। অন্যদিকে, স্পার্মিসাইড এবং স্পঞ্জ অল্প সময়ের জন্য কার্যকর হয়, ব্যবহারের পরপরই প্রভাব হারায়।
- সুতরাং দীর্ঘস্থায়ী কিন্তু অস্থায়ী পদ্ধতি হলো ইমপ্লান্ট, যা নিয়ন্ত্রিত সময়ের জন্য কার্যকর থাকে।

 
• দীর্ঘমেয়াদী অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি (Long term temporary contraceptive methods):
- এই ধরনের পদ্ধতিগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয় যাতে দীর্ঘ সময় ধরে গর্ভধারণ রোধ করা যায়, তবে প্রয়োজনে তা বাতিল করা যায়। 
- এগুলো সাধারণত হরমোন বা যান্ত্রিক উপাদান ব্যবহার করে কার্যকর হয়। 

• অন্তঃজরায়ুজ যন্ত্র (Intrauterine Device - IUD):
- এটি একটি ছোট, টি-আকৃতির ধাতব বা প্লাস্টিকের যন্ত্র যা জরায়ুর ভেতরে স্থাপন করা হয়। 
- IUD অত্যন্ত কার্যকরী এবং দীর্ঘমেয়াদী জন্মনিয়ন্ত্রণ প্রদান করে। 
- এটি সহজেই স্থাপন ও অপসারণযোগ্য, তাই এটি অস্থায়ী হলেও দীর্ঘস্থায়ী কার্যকারিতা প্রদান করে। 

• ইমপ্লান্ট (Implant):
- ইমপ্লান্ট হলো একটি ছোট, দণ্ডাকৃতি যন্ত্র যা প্রোজেস্টেরন হরমোন সমৃদ্ধ। 
- এটি মহিলাদের বাহুতে প্রতিস্থাপন করা হয় এবং ধীরে ধীরে হরমোন নির্গত করে গর্ভধারণ রোধ করে। 
- ইমপ্লান্টও দীর্ঘমেয়াদী অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের একটি উদাহরণ। 

- এই ধরণের পদ্ধতিগুলো দীর্ঘ সময় ধরে কার্যকর হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী অপসারণ করা যায়। 
- সুতরাং, জন্মনিয়ন্ত্রণের দীর্ঘস্থায়ী অস্থায়ী পদ্ধতি হলো ইমপ্লান্ট। 

সঠিক উত্তর: ঘ) ইমপ্লান্ট। 

সূত্র: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল এবং গাজী আসমত। 

১,৫৩০.
ক্যান্সার রোগ নিরাময়ে ব্যবহৃত হয় -
  1. ক) পেনিসিলিন
  2. খ) স্ট্রেপ্টোমাইসিন
  3. গ) রঞ্জন রশ্মি
  4. ঘ) রেডিয়াম
ব্যাখ্যা
ক্যান্সার রোগ নিরাময়ে রেডিয়াম ব্যবহৃত হয়। 

-রেডিওঅ্যাকটিভ বা তেজস্ক্রিয় মৌল রেডিয়ামের আবিষ্কর্তা মেরি কুরি ও তাঁর স্বামী পিয়েরে কুরি।
- ১৯৯৮ সালের ২১ ডিসেম্বর এই মৌল আবিষ্কার করেন তাঁরা।
- প্রায় এক বছর পর মৌলটির নামকরণ করা হয় রেডিয়াম।
- শব্দটির উত্স ল্যাটিন রেডিয়াস (রশ্মি) থেকে। রশ্মিরূপে মৌলটি শক্তি নিঃসরণ করতে পারে বলেই এমন নামকরণ।
- রেডিয়াম পানিতে মেশালে তা অন্ধকারে জ্বলতে থাকে।

সূত্র: ৩ পৃষ্ঠা, সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম,  বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৩১.
করোনা ভাইরাসে নিম্নের কোন নিউক্লিক এসিড বিদ্যমান?
  1. Deoxyribonucleic acid
  2. Oxyribonucleic acid
  3. Ribonucleic acid
  4. Chromatin
ব্যাখ্যা
ভাইরাসে নিউক্লিক অ্যাসিড হিসেবে DNA বা RNA থাকে।
করোনা ভাইরাসে নিউক্লিক এসিড হিসেবে RNA থাকে।
RNA এর পূর্ণরূপ Ribonucleic acid .
 
Coronaviruses (CoVs) are positive-stranded RNA(+ssRNA) viruses with a crown-like appearance under an electron microscope (coronam is the Latin term for crown) due to the presence of spike glycoproteins on the envelope.
 
Source: www.ncbi.nlm.nih.gov
১,৫৩২.
দশ বছর বয়সের পর কত বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে?
  1. ক) ৩-৪ বছর
  2. খ) ১-৫ বছর
  3. গ) ২-৩ বছর
  4. ঘ) ৩-৮ বছর
ব্যাখ্যা
বয়ঃসন্ধিকাল হল শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পণ করার মধ্যবর্তী সময় ।
এ সময় কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে ।
আকস্মিক হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মানসিক আবেগের তীব্রতার উত্থান পতন ঘটে। এর ইংরেজি Adolescence ।
দশ বছর বয়সের পর ৩ থেকে ৪ বছর ধরে ছেলে-মেয়ের শরীরে পরিবর্তন আসে। 

এ সময়ে ছেলে-মেয়েরা আকস্মিক লম্বা হতে থাকে, ওজন বাড়তে থাকে। 
বয়ঃসন্ধিকালে তিন ধরনের পরিবর্তন দেখা যায় - 
- শারীরিক পরিবর্তন
- মানসিক পরিবর্তন
- আচরণগত পরিবর্তন 

সূত্র - নবম-দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান, বোর্ড বই
১,৫৩৩.
সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ারের অবস্থান মস্তিষ্কের কোন অংশে?
  1. ক) অগ্রমস্তিষ্ক
  2. খ) পশ্চাৎ মস্তিষ্ক
  3. গ) মধ্যমস্তিষ্ক
  4. ঘ) পার্শ্বমস্তিষ্ক
ব্যাখ্যা
অগ্রমস্তিষ্কের প্রধান অংশ হচ্ছে - সেরেব্রাম, থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস।
এর মধ্যে সেরেব্রামে দুটি বড়, কুন্ডলি পাকানো ও খাজবিশিষ্ট খন্ড আছে। এদেরকে সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৫৩৪.
পূর্ণিমা ঘটে তখনই, যখন- 
  1. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে থাকে
  2. চাঁদ সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়
  3. সূর্য পৃথিবীর এক পাশে এবং চাঁদ তার উল্টো পাশে থাকে
  4. পৃথিবী সূর্যকে ঢেকে ফেলে
ব্যাখ্যা
চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া। 

সূর্যগ্রহণ: 

- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ সরলরেখায় অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

উৎস: ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা। [লিঙ্ক]।
১,৫৩৫.
রক্তে শ্বেত কণিকার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে তাকে কী বলে ?
  1. অ্যানিমিয়া
  2. পলিসাইথেমিয়া
  3. লিউকেমিয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
১. অ্যানিমিয়া: লোহিত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায় অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় কমে যায়।

২. পলিসাইথিমিয়া: লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পায়।

৩. লিউকোসাইটোসিস: শ্বেত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিক অবস্থার মান থেকে বেড়ে যদি ১ ঘন মি.লি. রক্তে ২০,০০০ - ৩০,০০০ হয়।

৪. লিউকেমিয়া: নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা, প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে ১ ঘন মি.লি. রক্তে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে।

সূত্রঃ প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৬.
সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ হচ্ছে-
  1. ক) পরভোজী
  2. খ) স্বভোজী
  3. গ) পরজীবি
  4. ঘ) মিথোজীবি
ব্যাখ্যা
- যে সকল উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরি করতে পারে তাদেরকে বলা হয় অটোফাইট বা স্বভোজী।
- ক্লোরোফিলের উপস্থিতির জন্য এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করতে পারে।
- ছত্রাক ছাড়া পৃথিবীর অধিকাংশ উদ্ভিদ অটোফাইট।
- সকল সপুষ্পক উদ্ভিদ হচ্ছে স্বভোজী। 

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক উদ্ভিদবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৫৩৭.
ইউরেনাসের উপগ্রহ নয় কোনটি?
  1. মিরান্ডা
  2. এরিয়েল
  3. আমব্রিয়েল
  4. ডিমোস
ব্যাখ্যা
ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- ইউরেনাসে একদিন সময় লাগে প্রায় ১৭ ঘন্টা।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৮টি।
• এর মধ্যে প্রধান পাঁচটি চাঁদ: মিরান্ডা, এরিয়েল, আমব্রিয়েল, টাইটানিয়া এবং ওবেরন।

অন্যদিকে,
- মঙ্গল গ্রহের উপগ্রহ দুইটি: ডিমোস ও ফোবোস।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com & NASA ওয়েবসাইট।
১,৫৩৮.
সেক্সট্যাণ্ট নামক যন্ত্রের সাহায্যে কি পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) উষ্ণতা
  2. খ) অক্ষাংশ
  3. গ) সময়
  4. ঘ) দ্রাঘিমাংশ
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ নির্ণয় করার পদ্ধতি
• প্রধানত দুইটি পদ্ধতিতে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। যথা:-
১। ধ্রুবতারার অবস্থান : আকাশে ধ্রুবতারার সাহায্যে দিনের বেলায় কিংবা দক্ষিণ গোলার্ধে অক্ষাংশ নির্ণয় করা সম্ভব নয়। উত্তর গোলার্ধের কোনো স্থানে ধ্রুবতারা যত ডিগ্রি কোণে অবস্থান করে সেই মানই উক্ত স্থানের অক্ষাংশ।
২। সূর্যের অবস্থান : আকাশে সূর্যের অবস্থান অনুযায়ী সেক্সট্যান্ট নামক যন্ত্র ব্যবহার করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। 

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৩৯.
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি?
  1. ক) আর্লিবার্ড
  2. খ) এস্ট্রোলার
  3. গ) ওবেরী হল
  4. ঘ) কসমস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম বাণিজ্যিক যােগাযােগ কৃত্রিম উপগ্রহ হলো ইন্টেলসেট 1 (Intelsat-I)।
৬ এপ্রিল ১৯৬৫ এটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয়। এর ডাকনাম ছিল - আর্লিবার্ড।
উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৫৪০.
গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত দ্রাঘিমা রেখাটি মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত হয় কত সালে? 
  1. ১৮৮২ সালে
  2. ১৮৮৪ সালে
  3. ১৯৮৪ সালে
  4. ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা (International Date Line):
- দ্রাঘিমারেখার নিয়মানুসারে মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতি ১দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয়। - আমরা জানি ০° দ্রাঘিমার ঠিক উল্টো দিকে ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা।
- যেহেতু প্রতি ১ এর জন্য ৪ মিনিট সেহেতু ১৮০ এর জন্য delta*bo * 8 = 9% মিনিট অর্থাৎ ১২ ঘণ্টার পার্থক্য হয়।
- এভাবে দুই দিকে, পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ১২ ঘণ্টা করে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধান হয়।
- পূর্ব দিকে গেলে ১২ ঘণ্টা বাড়ে আর পশ্চিম দিকে গেলে ১২ ঘণ্টা কমে অর্থাৎ একই দ্রাঘিমায় ১৮০° তে সময়ের ব্যবধান দেখা দেয় ২৪ ঘণ্টা।
- এর জন্য তারিখ ও বারের যে সমস্যা হয় তার সমাধানকল্পে ১৮৮৪ সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে integrate b - 0 deg db দ্রাঘিমারেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসেবে স্থির করা হয় ।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৫৪১.
'বঙ্গোপসাগর' হলো একটি -
  1. হ্রদ
  2. সাগর
  3. উপসাগর
  4. মহাসাগর
ব্যাখ্যা
- আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
১। মহাসাগর (Ocean), 
২। সাগর (Sea), 
৩। উপসাগর (Bay), 
৪। হ্রদ (Lake)। 

মহাসাগর (Ocean): 
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানি রাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। 
যথা: প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean), আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean), ভারত মহাসাগর (Indian Ocean), উত্তর মহাসাগর (North Ocean), দক্ষিণ মহাসাগর (South Ocean)। 

সাগর (Sea): 
- সাগর হচ্ছে মহাদেশের উপকূলভাগে মহাসাগরের প্রান্তে অবস্থিত জলভাগ যা প্রাকৃতিক ভূ-প্রকৃতি দ্বারা মহাসাগর থেকে আংশিকভাবে বিচ্ছিন্ন। 
- সংক্ষেপে মহাসাগর অপেক্ষা স্বল্প আয়তন বিশিষ্ট জলরাশিকে সাগর (Sea) বলে। 
যেমন- জাপান সাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর, লোহিত সাগর, ভূ-মধ্যসাগর। 

উপসাগর (Bay): 
- শুধুমাত্র একদিকে জল এবং বাকী তিনদিক স্থলভাগ দ্বারা পরিবেষ্টিত জলরাশিকে উপসাগর (Bay) বলে। 
যেমন- মেক্সিকো উপসাগর, পারস্য উপসাগর, বঙ্গোপসাগর। 

হ্রদ (Lake): 
- চারদিকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক জলরাশিকে হ্রদ (Lake) বলে। 
যেমন- রাশিয়ার বৈকাল হ্রদ, আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ। 
- যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত সুপিরিয়র হ্রদ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৫৪২.
এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি কোন গ্যাসের কারণে হয় না?
  1. Sulfur Dioxide
  2. Nitrogen Dioxide
  3. Carbon Dioxide
  4. Nitric Oxide
ব্যাখ্যা
• এসিড বৃষ্টি:
- বায়ুমণ্ডলে অধঃক্ষেপণ বৃষ্টিতে pH এর মান 5.6 এর কম হলেই ঐ অধঃক্ষেপণকে এসিড বৃষ্টি বলে।
- এসিড বৃষ্টির কারণ হচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট বায়ু দূষণ ক্রিয়া।
- সাধারণত কলকারখানা অঞ্চলের এসিড বৃষ্টির পানির pH এর মান 5.6 থেকে 3.5 এর মধ্যে থাকে।
- এই এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী গ্যাস বা এসিড বৃষ্টির কারণ মূলত সালফার ডাই অক্সাইড (SO2), নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (যেমন- NO, NO2).
- এর মূলে তিনটি এসিডের (H2SO3, H2SO4, HNO3 এর) ভূমিকা রয়েছে; যা প্রাইমারি বায়ুদূষক SO2 গ্যাস ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ (NOx) হতে উৎপন্ন হয়।

• কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), কার্বন মনোঅক্সাইড (CO) এবং নাইট্রাস অক্সাইড (N2O) এসিড বৃষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত নয় বা এসিড বৃষ্টির কারণ নয়।

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,৫৪৩.
নাসার মহাকাশযান Perseverance কোন গ্রহে অবতরণ করে?
  1. চন্দ্র
  2. মঙ্গল
  3. বুধ
  4. শত্রু
ব্যাখ্যা
১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ সালে নাসার মহাকাশযান Perseverance সাফল্যের সাথে মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করে।

উৎস: দৈনিক পত্রিকা
১,৫৪৪.
জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলা হয় -
  1. ক) ভাইরাসকে
  2. খ) ব্যাকটেরিয়াকে
  3. গ) DNA কে
  4. ঘ) RNA কে
ব্যাখ্যা

ভাইরাসকে জীব ও জড়ের সেতুবন্ধন বলা হয়।
জীব জগতে ভাইরাসের অবস্থান সম্পর্কে ফ্রান্সের বিজ্ঞানী নোবেল জয়ী ও লুই পাস্তুরের গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রাক্তন পরিচালক A. Lowff 1952 সালে মন্তব্য করেন “A virus is a virus” অর্থাৎ ভাইরাস ভাইরাসই । এরা জীবও নয় জড়ও নয়।
[তথ্যসূত্র - জীব বিজ্ঞান, প্রথম পত্র, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি, পৃষ্ঠা - ২০।]

১,৫৪৫.
ছয় সপ্তাহ বয়সে শিশুকে কোন টিকা দেওয়া উচিৎ?
  1. টিটি
  2. বিসিজি
  3. ডিটি
  4. ডিপিটি-1
ব্যাখ্যা

- জন্মের ছয় সপ্তাহ বয়সে 'ডিপিটি-1' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়। 

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম ইত্যাদির ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৪৬.
জরায়ুর সংক্রমণ জনিত গর্ভপাতের জটিলতা-
  1. ক) খিঁচুনি
  2. খ) মাথাব্যাথা
  3. গ) বমি
  4. ঘ) রক্তক্ষরণ
ব্যাখ্যা
জরায়ুর গায়ের আবরণী কলাকে এন্ডোমেট্রিয়াম বলে। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে এর সংক্রমণকে এন্ড্রোমেট্রাইটিস বলে।
জরায়ুর সংক্রামকজনিত গর্ভপাতের প্রথম ও প্রধান জটিলতা রক্তক্ষরণ।
১,৫৪৭.
“The origin of species by means of natural selection” বইটির লেখক কে?
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) ম্যালথাস
  3. গ) লিনিয়াস
  4. ঘ) ওয়ালেস
ব্যাখ্যা
১৯৫৯ সালে ডারউইনের The origin of species by means of natural selection বইটি প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৪৮.
জিপিএস দ্বারা কোনটি জানা যায়?
  1. অক্ষাংশ
  2. দ্রাঘিমাংশ
  3. উচ্চতা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানচিত্রে জিপিএস ও জিআইএস (GPS and GIS in Maps): 
- বর্তমানে মানচিত্র তৈরি, পঠন এবং ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে আধুনিক ব্যবহার হচ্ছে জিপিএস এবং জিআইএস।
- জিপিএস-এর ইংরেজি হলো Global Positioning System (GPS)।
- কোনো একটি স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান জানতে চাইলে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে জিপিএস-এর মাধ্যমে জানা।
- জিপিএস দ্বারা কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা ও দূরত্ব জানা যায়।
- এছাড়া ঐ স্থানের উত্তর দিক, তারিখ ও সময় জানা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৫৪৯.
নদী প্রবাহের প্রাথমিক পর্যায় কোনটি?
  1. ক) নিম্নগতি
  2. খ) উর্ধ্বগতি
  3. গ) মধ্যগতি
  4. ঘ) চক্রগতি
ব্যাখ্যা
- পর্বতের উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত নদীর প্রবাহকে তিনভাগে ভাগ করা হয়।
- উর্ধ্বগতি হলো প্রাথমিক অবস্থা যেখানে ক্ষয় সাধন হলো প্রধান কাজ এবং এতে নদীর স্রোতের গতিবেগ সবচেয়ে বেশি থাকে।
- মধ্যগতি শুরু হয় যখন নদী সমভূমি দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ সময় সঞ্চয় সাধন প্রধান কাজ। স্রোতের বেগ পূর্বের তুলনায় অনেক কমে যায়।
- সর্বশেষ হলো নিম্নগতি যেখানে স্রোতের বেগ একেবারেই কমে যায়।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৫৫০.
শতকরা সংযুক্তির দিক থেকে বায়ুতে কোনটির পরিমান সবচেয়ে কম?
  1. ক) ধূলিকণা
  2. খ) আর্গন
  3. গ) কার্বন ডাই অক্সাইড
  4. ঘ) জলীয় বাষ্প
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডল নানাপ্রকার গ্যাস ও বাষ্পের সমন্বয়ে গঠিত হলেও এর প্রধান উপাদান দুইটি হলো- নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন।
- বায়ুমণ্ডলে আয়তনের দিক থেকে এ দুটি গ্যাস একত্রে শতকরা ৯৮.৭৩ ভাগ এবং বাকিগুলো শতকরা ১.২৭ ভাগ।

বায়ুর উপাদানের শতকরা হার:
• নাইট্রোজেন- ৭৮.০২%
• অক্সিজেন- ২০.৭১%
• আর্গন- ০.৮০%
• কার্বন ডাই অক্সাইড- ০.০৩%
• জলীয় বাষ্প- ০.৪১%
• অন্যান্য গ্যাসসমূহ- ০.০২%
• ধূলিকণা ও কণিকা- ০.০১%

অর্থাৎ, শতকরা সংযুক্তির দিক থেকে বায়ুতে ধূলিকণার পরিমান সবচেয়ে কম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৫১.
ফেরেলের সূত্রানুসারে বায়ু প্রবাহ নিরক্ষরেখা অতিক্রম করার পর উত্তর গোলার্ধে কোন দিকে বেঁকে যায়?
  1. ক) পূর্বদিকে
  2. খ) পশ্চিমদিকে
  3. গ) বামদিকে
  4. ঘ) ডানদিকে
ব্যাখ্যা
পৃথিবী পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে আবর্তনশীল হওয়ায় এবং নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তনের কারণে গতিবেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। এর ফলে ঘূর্ণায়মান ভূপৃষ্ঠে বায়ু প্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতসহ যেকোন গতিশীল পদার্থ সরাসরি উত্তর-দক্ষিণে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে যায়।

মার্কিন আবহাওয়াবিদ উইলিয়াম ফেরেল ১৮৫৯ সালে এই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং ব্রিটানিকা)
১,৫৫২.
এক মাসে মোট কতবার ভরা কটাল ও মরা কটাল হয়?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা

অমাবস্যা তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর একই পাশে এবং পূর্ণিমা তিথিতে পৃথিবীর এক পাশে চাঁদ ও অপর পাশে সূর্য অবস্থান করে। ফলে এ দুই তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমসূত্রে থাকে এবং উভয়ের মিলিত আকর্ষণে যে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বলে।
সপ্তমী ও অষ্টমী তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সমকোণে অবস্থান করার ফলে চন্দ্রের আকর্ষণে এ সময়ে চাঁদের দিকে জোয়ার হয়। সূর্যের আকর্ষণের জন্য এ জোয়ারের বেগ তত প্রবল হয় না। এ রূপ জোয়ারকে মরা কটাল বলে। এক মাসে দু’বার ভরা কটাল এবং দু’বার মরা কটাল হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়।

১,৫৫৩.
ছায়াপথ তার নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে আসতে যে সময় লাগে তাকে কি বলে?
  1. ক) পলিসার
  2. খ) কসমিক ইয়ার
  3. গ) আলোক বর্ষ
  4. ঘ) সৌর বছর
ব্যাখ্যা
ছায়াপথ:

- সৌরজগতের গ্রহসমূহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে, আর সূর্য মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির মধ্যবিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে।
- এই মধ্যবিন্দুর চারদিকে একবার ঘুরে আসতে পৃথিবীর ২২৫-২৫০ মিলিয়ন বছর সময় লাগে।
- এই সময়টাকেই কসমিক ইয়ার বা গ্যালাকটিক ইয়ার বলে।
- ছায়াপথের নিজ অক্ষে আবর্তনকালকে কসমিক ইয়ার বলে।

তথ্যসুত্র - Britannica.com
১,৫৫৪.
বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. অর্থনৈতিক সুবিধা
  2. রপ্তানি সমস্যা
  3. পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন
  4. উৎপাদন সমস্যা
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাপী জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে আনার প্রধান কারণ হলো পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা। 

• জীবাশ্ম জ্বালানি:

- জীবাশ্ম জ্বালানি হল কার্বন-ভিত্তিক দাহ্য উপাদান যা পৃথিবীর ভূত্বকের মধ্যে প্রাগৈতিহাসিক জীবের (উদ্ভিদ বা প্রাণী) অবশিষ্টাংশ থেকে গঠিত হয়।

• জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস) পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4) ও নাইট্রাস অক্সাইড (N2O)-এর মতো গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়।
- এই গ্যাসগুলো বায়ুমণ্ডলে জমে গিয়ে গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টি করে, ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বেড়ে যায় — এটিকেই বলা হয় গ্লোবাল ওয়ার্মিং।

• এর ফলাফল:
- হিমবাহ গলা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। 
- খরা, বন্যা, ঝড়–ঝঞ্ঝার বৃদ্ধি। 
- কৃষিতে বিপর্যয়। 
- জীববৈচিত্র্যের হুমকি। 

• এর ফলে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি (যেমন সৌর, বায়ু, জলশক্তি) ব্যবহার বাড়ানোর প্রতি জোর দেওয়া হচ্ছে।

তথ্যসূত্র:
- সাধারন বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
- IPCC Reports (Intergovernmental Panel on Climate Change).
- ব্রিটানিকা।
১,৫৫৫.
আইনস্টাইন কোন সূত্র দিয়ে ভর ও শক্তিকে এক জায়গায় নিয়ে আসেন?
  1. ক) E = mc2
  2. খ) E = 1/2 mc2
  3. গ) E = 1/2 mv2
  4. ঘ) E = mv2
ব্যাখ্যা

পদার্থ ও শক্তির অভিন্নতা বিষয়ক সূত্র E=mc2 যেখানে আইনস্টাইন ভর ও শক্তিকে এক জায়গায় নিয়ে আসেন।
E=mc2 হলো থিউরি অফ রিলেটিভিটি থেকে আগত একটি সূত্র।

১,৫৫৬.
রোগ সৃষ্টির জন্য যে সকল অণুজীব দায়ী তাদেরকে বলা হয়-
  1. ক) ইনফেকশন
  2. খ) প্যাথজেনিক
  3. গ) জীবাণু
  4. ঘ) টক্সিন
ব্যাখ্যা

জীববিজ্ঞানে ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে আদি এবং ব্যাপকতর অর্থে রােগ সংক্রামক জীবাণু হচ্ছে এমন যেকোন কিছু যা রােগ উৎপন্ন করতে পারে। এর পশ্চিমা পরিভাষা প্যাথােজেন।
Oxford Dictionary অনুসারে,
Pathogenic = (of a bacterium, virus, or other microorganism) causing disease.
১৮৮০ সালে সাধারণত রােগ সংক্রমণ সংঘটক (এজেন্ট) যেমন : ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, প্রিয়ন, এমনকি অন্য কিছু অণুজীবকে বােঝাতেও এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
এক কথায়,
- যেসব অণুজীব রোগ সৃষ্টি করে তাদের বলা হয় প্যাথজেনিক।

- ইনফেকশন হলো সংক্রমণ।
- টক্সিন হলো বিষাক্ত পদার্থ।
- জীবাণু হলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুজীব যারা রোগ সৃষ্টি করতেও পারে, নাও পারে।

১,৫৫৭.
উত্তর গোলার্ধে কোন দিনটিকে ‘মহাবিষুব’ বলা হয়?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২২ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২৩ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

উত্তর গোলার্ধে ২১ মার্চ দিনটিকে ‘মহাবিষুব’ বলা হয়।

মহাবিষুব:

- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক পূর্বদিকে ওঠে এবং ঠিক পশ্চিমদিকে অস্ত যায়। বছরে মাত্র এই দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১ শে মার্চ দিনটিকে উত্তর গোলার্ধে মহাবিষুব বলে।
- ২৩ শে সেপ্টেম্বর দিনটিকে বলে জলবিষুব।

উল্লেখ্য,
উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।
- ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা মহাবিষুব বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৫৮.
আলোক তড়িৎ ক্রিয়ায় নির্গত ইলেকট্রনকে কী বলা হয়? 
  1. নিউট্রন
  2. প্রোটন
  3. ফটোইলেকট্রন
  4. হাইড্রনিয়াম আয়ন
ব্যাখ্যা
আলো তড়িৎ ক্রিয়া (Photo Electric Effect): 
- কোনো ধাতব পৃষ্ঠে উপযুক্ত তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো ফেললে তার থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়, এই ঘটনাকে আলোক তড়িৎ ক্রিয়া বলে। 
- আলো তড়িৎ ক্রিয়ায় নিঃসৃত ইলেকট্রনগুলোকে ফটোইলেকট্রন (Photoelectron) বলে। 
- উপযুক্ত ব্যবস্থার সাহায্যে ফটোইলেকট্রনগুলোর একমুখী স্রোত তৈরি করা যায়, এর ফলে যে তড়িৎ প্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে আলোতড়িৎ প্রবাহ (Photoelectric current) বলে। 
- আলোক তড়িৎ প্রবাহ নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর নির্ভর করে। 
যেমন- 
(ক) আপতিত বিকিরণের প্রাবল্য, 
(খ) আপতিত বিকিরণের কম্পাংক, 
(গ) দুই তড়িৎ দ্বারের বিভব পার্থক্য এবং 
(ঘ) ফটোইলেকট্রন নির্গতকারী পাতের প্রকৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৫৯.
কোন গ্রহের কোনো উপগ্রহ নেই?
  1. Earth
  2. Mercury
  3. Jupiter
  4. Mars
ব্যাখ্যা
• Mercury - বুধ হলো সৌরজগতের এমন একটি গ্রহ যার কোনো প্রাকৃতিক উপগ্রহ বা চাঁদ নেই। এটি সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ এবং আকারেও সবচেয়ে ছোট। সূর্যের অত্যন্ত নিকটে অবস্থিত হওয়ায়, সূর্যের মহাকর্ষ বলের কারণে কোনো উপগ্রহ তার চারপাশে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারে না। এ ছাড়া, নিজস্ব মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় কোনো চাঁদ আকর্ষণ করে রাখতে পারে না। ফলে মার্কিউরি একা ভ্রমণ করে তার কক্ষপথে। অপরদিকে, পৃথিবীর একটি, মঙ্গলের দুটি এবং বৃহস্পতির অসংখ্য উপগ্রহ রয়েছে। সুতরাং সঠিক উত্তর: খ) Mercury.

বুধ গ্রহ:

- সৌরজগতের গ্রহ ৮টি।
- সূর্যের নিকটতম ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ হলো বুধ।
- সূর্য থেকে বুধ গ্রহের গড় দূরত্ব ৫.৮ কোটি কিলোমিটার।
- বুধ গ্রহের ব্যাস ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে বুধের সময় লাগে ৮৮ দিন।
- বুধ গ্রহে মেঘ, বৃষ্টি, বাতাস বা পানি কোনো কিছু নেই।
- বুধ ও শুক্র গ্রহের কোন উপগ্রহ নেই।

অন্যদিকে,
- পৃথিবীর উপগ্রহ ১টি (চাঁদ)।
- সবচেয়ে বেশি উপগ্রহ রয়েছে শনি গ্রহের।
- বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা ৮০টি।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬০.
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে সমুদ্রবন্দরের জন্য কয়টি সংকেত প্রচার করা হয়?
  1. ক) ৪
  2. খ) ১০
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ১১
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় নদীবন্দরের জন্য ১ থেকে ৪ নম্বর এবং সমুদ্রবন্দরের জন্য ১ থেকে ১১ নম্বর পর্যন্ত হুঁশিয়ারি সংকেত প্রচার করা হয়। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬১.
মানদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত?
  1. ১৪০/৮০ (mm Hg)
  2. ১২০/৬০ (mm Hg)
  3. ১২০/৮০ (mm Hg)
  4. ১৩০/৭০ (mm Hg)
ব্যাখ্যা

রক্তচাপ:
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে।
- তাই রক্তচাপ বলতে সাধারণভাবে ধমনির রক্তচাপকেই বুঝায়।
- রক্তচাপ হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা, ধমনির প্রাচীরের স্থিতিস্থাপকতা এবং রক্তের ঘনত্ব এবং পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধমনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- স্বাভাবিক রক্তচাপকে সাধারণত ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়।
- তবে বয়স ও পরিস্থিতিভেদে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কম-বেশি হতে পারে।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

১,৫৬২.
'পৃথিবীর উৎপত্তি' সম্পর্কে ভূগোলের কোন শাখায় আলোচনা করা হয়?
  1. Geomorphology
  2. Climatology
  3. Bio-Geography
  4. Soil Geography
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক ভূগোল (Physical Geography):
- ভূগোলের যে শাখা পৃথিবীর জন্ম, ভূ-প্রকৃতি অর্থাৎ পাহাড়, পর্বত, বায়ুমন্ডল ও বারিমন্ডল প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে এবং ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে।

⇒ প্রাকৃতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়সমূহ নিম্নরূপ:
• ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology):
- ভূমিরূপবিদ্যা পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ অবস্থা, পৃথিবীর উৎপত্তি, ভূ-আলোড়ন, বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ, নদ-নদীর উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ, ভূ-ত্বকের পরিবর্তন, খনিজ ও শিলা এবং পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করে।

• জলবায়ুবিদ্যা (Climatology):
- এ শাখায় বায়ুর গঠন, উপাদান, বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুপুঞ্জ, বায়ুপ্রাচীর, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে আলোচনা করে।

• সমুদ্রবিদ্যা (Oceanography):
- পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র।
- এ শাখায় সাগর মহাসাগরের তলদেশের ভূমিরূপ, সমুদ্রস্রোত, মানব জীবনের উপর সমুদ্রস্রোতের প্রভাব, বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্র পথে যোগাযোগ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

• মৃত্তিকা ভূগোল (Soil Geography):
- মৃত্তিকা ভূগোল অশ্মমন্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকার গঠন, উপাদান, বন্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে।

• জীব ভূগোল (Bio-Geography):
- এ শাখা পৃথিবী পৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ ও উদ্ভিদের বন্টন নিয়ে আলোচনা করে।

• গাণিতিক ভূগোল (Mathematical Geography):
- গাণিতিক ভূগোলে জ্যোতিষ্কমন্ডলী, সৌরজগৎ, পৃথিবী ও এর আকৃতি, গতি, আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা ও সময়, আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতির ফলাফল প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৬৩.
আমাদের শরীরের কোনো স্থানে কেটে গেলে রক্তের কোন উপাদানটি রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
  1. ক) এলবোমিন
  2. খ) ফাইব্রিনোজেন
  3. গ) অক্সিহিমোগ্লোবিন
  4. ঘ) হরমোন
ব্যাখ্যা
অণুচক্রিকার প্রধান কাজ রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাধানোতে সাহায্য করা৷ যখন কোনো রক্তবাহিকা বা টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায় তখন অণুচক্রিকা গুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাস্টিন নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে। থ্রমবিন পরবর্তী সময়ে রক্তরসের প্রোটিন - ফাইব্রিবোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাধায় কিংবা তঞ্চন ঘটায়৷ ফাইব্রিন একধরনের অনমনীয় প্রোটিন।
উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৫৬৪.
নিচের কোনটি গ্রিন হাউজ গ্যাস?
  1. CO2
  2. N2O
  3. CFC
  4. উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• গ্রিন হাউজ: 
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস এফেক্ট বলে। 
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ওজোন (O3), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC) ইত্যাদি। 
- গ্রিন হাউজ গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে গেলে- 
• পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, 
• জলবায়ু পরিবর্তন হয়, 
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে, 
• জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে ইত্যাদি। 

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 

১,৫৬৫.
ব্ল্যাক হোলের ভর -
  1. ক) প্রায় শূন্য
  2. খ) শূন্য
  3. গ) সসীম
  4. ঘ) অসীম
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালে ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর আবিষ্কার করেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন হুইলার।
- কৃষ্ণগহবর বা কৃষ্ণবিবরে মহাকর্ষজনিত আকর্ষণ থাকে প্রবল।
- কৃষ্ণবিবরের আয়তন সসীম।
- ঘনত্ব, ভর, অভিকর্ষজ ত্বরণ, মুক্তিবেগ প্রায় অসীম।
১,৫৬৬.
বৃক্কের আবরণীকে বলা হয় -
  1. ক) প্লুরা
  2. খ) পেরিকার্ডিয়াম
  3. গ) ক্যাপসুল
  4. ঘ) পেরিঅস্টিয়াম
ব্যাখ্যা
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ যার সাহায্যে দেহের ৮০% রেচন কার্য সম্পন্ন হয়।
- বৃক্ক এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে। একে ক্যাপসুল বলা হয়।
- ক্যাপসুল সংলগ্ন অংশকে কর্টেক্স (Cortex) বলে। এর ভেতরের অংশকে মেডুলা (Medula) বলা হয়। উভয় অঞ্চলই যোজক কলা এবং রক্তবাহী নালি দিয়ে গঠিত।

অন্যদিকে, 
» ফুসফুসের পর্দার নাম – প্লুরা;
» হৃদপিন্ডের পর্দার নাম - পেরিকার্ডিয়াম;
» অস্থির আবরণীর নাম - পেরিঅস্টিয়াম।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণীর জীববিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত) ও জীববিজ্ঞান ৯ম-১০ম শ্রেণি।
১,৫৬৭.
‘Plum Pudding Model’ কার সাথে সম্পর্কিত?
  1. জন ডাল্টন
  2. রাদারফোর্ড
  3. নিলস বোর
  4. জে. জে. থমসন
ব্যাখ্যা

- 'প্লাম পুডিং মডেল' (Plum Pudding Model) হলো পরমাণুর গঠনের একটি প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক মডেল, যা ১৯০৪ সালে ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী জে. জে. থমসন প্রস্তাব করেন। 

পরমাণুর মৌলিক ধারণা: 
- সর্বপ্রথম খ্রিষ্টপূর্ব ৪৬০ অব্দে গ্রিক দার্শনিক লুসিপাস এবং ডেমোক্রিটাস হামান দিস্তার সাহায্যে পদার্থকে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করেন। তিনি এ সূক্ষ্ম কণার নাম দেন অ্যাটমা যার অর্থ অবিভাজ্য অর্থাৎ পদার্থ অতি সূক্ষ্ম অসংখ্য কণার সমন্বয়ে গঠিত। 
- প্রায় একই সময়ে ভারতের বিজ্ঞানী আচার্য কণাদ ডেমোক্রিটাসের মতবাদকে সমর্থন করেন। 
- ১৮০৩ সালে ব্রিটিশ স্কুল শিক্ষক জন ডাল্টন বলেন পরমাণু অবিভাজ্য একে সৃষ্টি বা ধ্বংস করা যায় না। ১৮০৮ সালে জন ডাল্টন প্রস্তাব করেন যে, মৌলিক পদার্থগুলো অবিভাজ্য। যা অতিশয় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার সমন্বয়ে গঠিত, এ ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণাকে পরমাণু বলে। 
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে জোসেফ জন থমসন পরমাণুর গঠন সম্পর্কে প্রস্তাব করেন যে, পরমাণু একটি গোলক বিশেষ যার সবদিকে সমানভাবে ধনাত্মক আধান বিস্তৃত। ইলেকট্রনসমূহ এ গোলকের অভ্যন্তরে এমনভাবে সজ্জিত থাকে যে, গোলকের কেন্দ্রের প্রতি এদের আকর্ষণ এবং বিকর্ষণ পরস্পর সমান। 
- ১৯০৪ সালে থমসন তাঁর প্রস্তাবিত পরমাণুর গঠন সম্পর্কিত ধারণাকে আরও উন্নত করেন এবং বলেন যে, “পরমাণু ইলেকট্রনের সমন্বয়ে গঠিত যা স্থিতিস্থাপক গোলকের স্যুপে অবস্থিত ধনাত্মক চার্জকে প্রশমিত করে, যা Plum Pudding Model নামে পরিচিত। 
- ১৯১১ সালে বিজ্ঞানী আর্নেস্ট রাদারফোর্ড বলেন যে, পরমাণু বিভাজ্য, একে বিভাজিত করলে ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন ইত্যাদি কণিকা পাওয়া যায়। তিনি স্বর্ণপাতের উপর α-কণার বিক্ষেপণের মাধ্যমে পরমাণুতে নিউক্লিয়াসের উপস্থিতি প্রমাণ করেন। 
- সর্বশেষ ১৯১৩ সালে নিলস বোর রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের আরও উৎকর্ষ সাধন করেন। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৬৮.
'Aquaculture' শব্দটি দ্বারা কী বুঝায়?
  1. মাছ চাষ
  2. মৌমাছি চাষ
  3. রেশম চাষ
  4. পাখি পালন
ব্যাখ্যা
মৎস্যবিজ্ঞান: 
- জীববিজ্ঞানের যে শাখায় মাছের বিভিন্ন দিক যেমন- শ্রেনীবিন্যাস, মাছ চাষ ও ব্যবস্থাপনা, মাছের প্রজনন, প্রতিপালন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বিপণন, রোগতত্ত্ব তথা মাছ সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে মৎস্যবিজ্ঞান বলে। 
- বর্তমানে মাছ চাষের সাথে অন্যান্য অর্থনৈতিক গুরুত্ব সম্পন্ন জলজ প্রাণি যেমন- চিংড়ি, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক, কচ্ছপ, ব্যাঙ ইত্যাদি চাষ করা হয়। 
- বিজ্ঞানের ভাষায় মাছ চাষকে বলা হয় একোয়াকালচার (Aquaculture)। 
- Aquaculture শব্দটি Latin শব্দ 'Aqua' যার অর্থ “পানি” এবং English শব্দ 'Culture' যার অর্থ "চাষ” নামক দু'টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। 
অর্থাৎ, Aquaculture অর্থ পানিতে চাষ অথবা মাছ চাষ। 
- অন্যভাবে, নিয়ন্ত্রিত বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন জলজ জীবের চাষকে একোয়াকালচার বলে। 
- একে Aquafarming ও বলা হয়। 
যেমন- মাছ চাষ (Fish farming/culture), চিংড়ি চাষ (Shrimp farming/culture), ওয়েস্টার চাষ (Oyster farming/culture), সীউঈড চাষ (Seaweed farming/culture) ইত্যাদি। 

কিছু আধুনিক চাষ পদ্ধতি: 
- চিংডি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় প্রণকালচার। 
- সামদ্রিক মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় মেরিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় পিসিকালচার। 
- মৌমাছি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এপিকালচার। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় সেরিকালচার। 
- পাখি পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয় এভিকালচার। 

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
১,৫৬৯.
কোন জারক রস পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়?
  1. পেপসিন
  2. এমাইলেজ
  3. রেনিন
  4. ট্রিপসিন
ব্যাখ্যা
• রেনিন দুগ্ধ আমিষ কেসিনকে প্যারাকেসিনে পরিণত করে। যা পাকস্থলীতে দুগ্ধ জমাট বাঁধায়।

- দুধ একটি আদর্শ খাবার।
- এতে সুষম খাদ্যের ৬ টি উপাদানই বিদ্যমান।
- দুধে যে শর্করা থাকে তাকে ল্যাকটোজ বলে।
- এতে যে প্রোটিন থাকে তাকে কেসিন বলে।
- দুধকে জমাট বাঁধায় রেনিন।

উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
১,৫৭০.
শিশুদের জন্মের ১৮ মাস বয়সে কোন টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়?
  1. বিসিজি
  2. টিটি
  3. ডিপিটি
  4. ডিটি
ব্যাখ্যা
- শিশুদের জন্মের ১৮ মাস বয়সে 'ডিপিটি ও ওপিভি (Booster dose)' টিকা নেয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।

ভ্যাকসিনেশন: 
- বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization-WHO) এর (Expended Programe on Immounization -EPI) কার্যক্রমের আওতায় শিশুদের প্রাণঘাতী কয়রকটি রোগ যথা- যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, টিটেনাস, পোলিও এবং হাম-ইত্যাদি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- এছাড়াও হেপাটাইটিস-বি এবং হিমোফাইলা ইনফ্লুয়েঞ্জা-বি-এর ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 
- মা এবং শিশুকে টিটেনাস থেকে রক্ষার জন্য টিটেনাস টক্সেয়েড (tetanus toxoid) ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। 


উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭১.
শিশুদের জন্মের কত বছর পর মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়?
  1. ক) ১২ মাস পর
  2. খ) ৬ মাস পর
  3. গ) ১৮ মাস পর
  4. ঘ) ২৪ মাস পর
ব্যাখ্যা
শিশুদের জন্মের ৬ মাস পর থেকেই মায়ের দুধের পাশাপাশি বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হয়।

পুষ্টিকর উপাদান নিশ্চিত করা এবং শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস পূর্ণ হলে তাকে সিরিয়াল এবং শাকসবজি ও ডিমের মতো পারিবারিক খাবার চটকে খাওয়াতে হবে। দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুকে অন্যান্য পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি মায়ের দুধ খাইয়ে যেতে হবে। একেই বলে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো। এর মধ্য দিয়ে শিশু শুধুমাত্র মায়ের দুধ খাওয়া থেকে পারিবারিক খাবার খাওয়ায় অভ্যস্ত হয়। শিশুর ক্রমবর্ধমান পুষ্টি চাহিদা পূরণে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পর্বে ছয় মাস থেকে ২৪ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয় এবং এমন একটি সময়ে এটা হয় যখন তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ঘটে।

সূত্র: ইউনিসেফ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট। 
১,৫৭২.
কোনটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ নয়?
  1. ক) প্লুটোনিয়াম
  2. খ) নেপচুনিয়াম
  3. গ) টাইটেনিয়াম
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

ভারী মৌলিক পদার্থের নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত আলফা, বিটা ও গামা রশ্মি নির্গমনের প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে।
প্রকৃতপক্ষে যেসব মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা ৮২-এর চেয়ে বেশি তাদেরকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ বলা হয়।
যেমন- ইউরেনিয়াম-৯২, নেপচুনিয়াম-৯৩, প্লুটোনিয়াম-৯৪ ইত্যাদি।

টাইটেনিয়াম তেজস্ক্রিয় মৌল নয়। এর পারমাণবিক সংখ্যা - ২২।

১,৫৭৩.
আমিষের অভাবে শিশুদের কোন রোগটি দেখা দেয়? 
  1. ক) ডায়ারিয়া
  2. খ) নিউমোনিয়া
  3. গ) কোয়াশিয়রকর
  4. ঘ) নেফ্রোটিক সিনড্রম
ব্যাখ্যা

কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত এক রোগ। বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়। এ রোগের উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে অস্পষ্ট ধরনের জড়তা বা নিষ্ক্রিয়তা এবং খিটমিটে ভাব; পরবর্তী পর্যায়ে ডায়রিয়া, রোগ সংক্রমণ প্রবণতা, শরীরে পানি জমা, ত্বকের প্রদাহ এবং যকৃতের স্ফীতি দেখা দেয়। চুলের রং ক্রমে লালচে হয়ে যায়। রোগ গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধি কখনই সম্পূর্ণ হয় না।
এছাড়া শিশুদের মেরাসমাস রোগটিও শরীরে আমিষের ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট

১,৫৭৪.
জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলে কত শতাংশ থাকে?
  1. ০.৪১%
  2. ৭৮.০১%
  3. ০.০৩%
  4. ২০.৭১%
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় ০.৪১% থাকে। এটি বায়ুমণ্ডলের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা বায়ুর আর্দ্রতা সৃষ্টি করে এবং জলচক্রের অংশ হিসেবে কাজ করে। জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং বৃষ্টির সৃষ্টি ও জলবাষ্পীয় মেঘ গঠনে ভূমিকা রাখে। 
- তাই সঠিক উত্তর হলো (ক) ০.৪১%।


বায়ুমণ্ডলের উপাদান: 
• বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• অক্সিজেনের পরিমাণ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

• বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর শতকরা হার:
- নাইট্রোজেন ৭৮.০১%,
- অক্সিজেন ২০.৭১%,
- আর্গন ০.৮০%,
- জলীয়বাষ্প ০.৪১%,
- কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩% ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৭৫.
সূর্য অপেক্ষা পৃথিবীর উপর চন্দ্রের আকর্ষণ শক্তি প্রায়-
  1. ক) দ্বিগুণ
  2. খ) তিনগুণ
  3. গ) চারগুণ
  4. ঘ) ছয়গুণ
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর উপর চন্দ্র ও সূর্য উভয়রই আকর্ষণ রয়েছে। এই আকর্ষনের সাথে পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিক শক্তির প্রভাবে জোয়ার-ভাঁটা হয়।
- সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সকল বস্তুকেই সর্বদা কম-বেশি আকর্ষন করছে।
- সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষ গুণ বড় এবং পৃথিবী অপেক্ষা ১৩ লক্ষ গুণ বড়।
- কিন্তু আবার সূর্য পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত আর চন্দ্র মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার।
- উপর্যুক্ত কারনে পৃথিবীর উপর চাঁদের আকর্ষণ ক্ষমতা বেশি; প্রায় দ্বিগুণ।
- জোয়ার-ভাঁটা তৈরির ক্ষেত্রে সূর্যের ক্ষমতা চাঁদের ক্ষমতার ৪/৯ ভাগ।

উৎস: ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৭৬.
নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard)?
  1. ভূমিধস
  2. জলোচ্ছ্বাস 
  3. ভূমিকম্প 
  4. খরা
ব্যাখ্যা

• কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) হচ্ছে- খরা।

খরা ( Drought):
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উওর-পশ্চিমাঞ্চল অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
 
অন্যদিকে: 
- ভূমিকম্প, ভূমিধস, জলোচ্ছ্বাস ,কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) নয়। 

 উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৭৭.
গ্রিনিচের মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে যে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে সেই স্থানের কী বলা হয়? 
  1. মূল মধ্যরেখা
  2. নিরক্ষরেখা
  3. দ্রাঘিমা
  4. অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা

দ্রাঘিমারেখা (Longitude): 
- নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে সকল রেখা কল্পনা করা হয়েছে, সেগুলোই হলো দ্রাঘিমারেখা।
- এ রেখাগুলো পৃথিবীর পরিধির অর্ধেকের সমান। অর্থাৎ এক-একটি অর্ধবৃত্ত।
- অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমারেখাগুলো হলো কাল্পনিক।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের কাছে গ্রিনিচ (Greenwich) মান মন্দিরের উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত যে মধ্যরেখা অতিক্রম করেছে তাকে মূল মধ্যরেখা বলে।
- গ্রিনিচের দ্রাঘিমা ০। গ্রিনিচের মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব বা পশ্চিমে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বকে ঐ স্থানের দ্রাঘিমা বলে।
- পৃথিবীর পরিধি দ্বারা উৎপন্ন কোণ ৩৬০
- মূল মধ্যরেখা, এই ৩৬০° কে ১০ অন্তর অন্তর সমান দুই ভাগে অর্থাৎ পূর্ব ও পশ্চিমে ১৮০করে ভাগ করেছে।
- অক্ষাংশের ন্যায় দ্রাঘিমাকেও মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করা হয়েছে।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

১,৫৭৮.
উদ্ভিদের বৃদ্ধি মাপক যন্ত্রের নাম কী?
  1. ক) ক্যালোরিমিটার
  2. খ) স্ফিগমোম্যানোমিটার
  3. গ) অক্সানোমিটার
  4. ঘ) পোটোমিটার
ব্যাখ্যা
- উদ্ভিদের বৃদ্ধি নির্ণায়ক যন্ত্রের নাম ক্রেস্কোগ্রাফ
- এটির আবিষ্কারক জগদীশচন্দ্র বসু।
- তিনি প্রচুর পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন যে, উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনের মধ্যে অনেক সাদৃশ্য আছে।

অপশনগুলোর মধ্যে অক্সানোমিটার (auxanometer) দ্বারা উদ্ভিদের বৃদ্ধি পরিমাপ করা যায়।
Auxanometer (Noun):
Meaning: an instrument for determining and measuring the rate of growth in plants consisting essentially of a lever with a long and a short arm which is attached to the plant.
 
অপরদিকে, 
- রক্তচাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো স্ফিগমোম্যানোমিটার,
- তাপ পরিমাপক যন্ত্রের নাম হলো  ক্যালরিমিটার,
- পোটোমিটার হলো উদ্ভিদের প্রস্বেদন বা উদ্ভিদের পাতার পানি নিঃস্বরণের হার নির্ণায়ক যন্ত্র।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৫৭৯.
অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা কেমন পরিবর্তন হয়?
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) শূন্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অর্ধপরিবাহী:
- যে সকল পদার্থের তড়িৎ পরিবাহিতা অপরিবাহী ও পরিবাহীর মাঝামাঝি সেসব পদার্থকে অর্ধপরিবাহী বা সেমিকন্ডাক্টর বলে । যেমন— জার্মেনিয়াম, সিলিকন, গেলিয়াম ইত্যাদি অর্ধপরিবাহী পদার্থ।
- অর্ধপরিবাহীর আপেক্ষিক রোধ পরিবাহী এবং অন্ধ্রকের আপেক্ষিক রোধের মাঝামাঝি। এদের আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm ক্রমের।
- কিন্তু কেবল আপেক্ষিক রোধ দিয়েই অর্ধপরিবাহী চিহ্নিত করা যায় না। কেননা এমন কিছু সংকর ধাতু ও আছে যাদের আপেক্ষিক রোধ জার্মেনিয়াম, সিলিকন প্রভৃতির সমক্রমের কিন্তু এগুলো অর্ধপরিবাহী নয়।

অর্ধপরিবাহীর বৈশিষ্ট্য:
১। পরম শূন্য তাপমাত্রায় (0 K) এরা অন্তরকের ন্যায় কাজ করে।
২। কক্ষ তাপমাত্রায় সাধারণত আপেক্ষিক রোধ 10-4 Ωm থেকে 10-2 Ωm  এর মধ্যে থাকে ।
৩। অর্ধপরিবাহীর সাথে কোনো অপদ্রব্য যোগ করলে এর তড়িৎ পরিবাহিতা বৃদ্ধি পায়
৪ । একটি নির্দিষ্ট তাপমাত্রার পোঁছা পর্যন্ত এর রোধ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে হ্রাস পায়। 
৫। এদের পরিবহন ব্যান্ড ও যোজন ব্যান্ডের মধ্যে শক্তি পার্থক্য 1.1 eV বা এর চেয়ে কম।
৬। কক্ষ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহীর পরিবহন ব্যান্ড আংশিক পূর্ণ ও যোজন ব্যান্ড আংশিক খালি থাকে।  

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮০.
ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ কয়টি?
  1. ২২টি
  2. ২৭টি
  3. ৬২টি
  4. ৮৭টি
ব্যাখ্যা
ইউরেনাস:
- ইউরেনাসের বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগ অনেক শীতল।
- এই গ্রহের বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে মিথেন গ্যাস উপস্থিত হওয়ায় এটিকে সবুজ রঙের দেখা যায়।
- তাই একে সবুজ গ্রহ বলা হয়।
- এটি সৌরজগতের তৃতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- এটি সৌরজগতের শীতলতম গ্রহ।
- এটিতে শনির মতো একটি বলয় রয়েছে।
- উইলিয়াম হার্শেল ১৭৮১ সালে গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন।
- ইউরেনাস গ্রহের উপগ্রহ ২৭টি।
- এগুলো হলো: অ্যামব্রিয়েল, অ্যারিয়েল, ওফেলিয়া, ওবেরন, কর্ডেলিয়া, কিউপিড, ক্যালিবান, ক্রেসিডা, জুলিয়েট, টাইটানিয়া, ট্রিন্কুলো, ডেসডিমোনা, প্যাদ্রিতা, পুক, পোর্শিয়া, প্রোসপেরা, ফ্রান্সিসকো, ফার্ডিনান্দ, বিয়ান্কা, বেলিন্দা, মার্গারেট, মিরান্ডা, ম্যাব, রোসালিন্ড, সাইকোরাক্স, সেটেবস, স্টেফানো।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) NASA ওয়েবসাইট।
১,৫৮১.
যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে কী বলে?
  1. ক) সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা
  2. খ) অপসারী সীমা
  3. গ) পরিবর্তক চ্যুতি সীমা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্লেট টেকটোনিক্স (Plate Tectonics) ভূতাত্ত্বিক মতবাদ অনুসারে ভূত্বক প্রধানত সাতটি বড় ও কয়েকটি ক্ষুদ্র গতিশীল কঠিন প্লেট দ্বারা গঠিত, যেগুলি নিম্নস্থ ভ্রাম্যমান উষ্ণ গুরুমন্ডলীয় পদার্থের ওপর ভাসছে। প্লেটের বিচলন (movement) ও পারস্পরিক ক্রিয়া ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত, পর্বত সৃষ্টি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য ভূতাত্ত্বিক ঘটনাবলীর নিয়ন্ত্রক বলে ধারণা করা হয়।
তিন ধরনের পারস্পরিক প্লেট সীমানার কথা জানা যায়। যথা: সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা, অপসারী সীমা ও পরিবর্তক চ্যুতি সীমা।

সমকেন্দ্রাভিমুখী সীমা যখন একে অপরের দিকে অগ্রসরমান দুটি প্লেট কেন্দ্রাভিমুখী হয়ে অবশেষে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, তখন একটি প্লেট অপরটির নিচে চাপা পড়ে। এই ধরনের প্লেট সংঘর্ষের ফলে পর্বতমালার সৃষ্টি হয় এবং প্লেট প্রান্তিকের আশেপাশে আগ্নেয়গিরির কর্মকান্ড সংঘটিত হয়।
অপসারী সীমা এই ক্ষেত্রে দুটি প্লেট একে অপরের থেকে সরে যেতে থাকে। এই ধরনের প্লেট সীমানার ফলে নতুন সমুদ্র তলদেশের এবং সামুদ্রিক আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি হয়।
পরিবর্তক চ্যুতি সীমা যখন দুটি প্লেট একে অপরকে অতিক্রম করে যায়, তখন তাকে পরিবর্তক চ্যুতি সীমা বলে। তিন ধরনের প্লেট বিচলনেই ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া

১,৫৮২.
বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. আইসোটোপ
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ: 
- পর্যায় সারণিতে 82Pb এর পরবর্তী মৌলসমূহ বিশেষ করে 86Rn থেকে শুরু করে সারণির শেষের দিকের সব মৌল এবং তাদের যৌগসমূহ তেজস্ক্রিয়। 
- এই আইসোটোপগুলো তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণ করে অন্য মৌলের আইসোটোপে পরিণত হয় বলে এ ধরনের আইসোটোপগুলোকে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ বলে।
- প্রকৃতপক্ষে তেজস্ক্রিয় রশ্মি বিকিরণের ফলে মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসে বিভাজন ঘটে এবং মৌলটি অন্য মৌলে পরিবর্তিত হয়। 
- প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে তৈরি আইসোটোপের সংখ্যা ১৩০০ এরও অধিক। 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে এসব তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ তৈরি করা হয়। 

চিকিৎসাক্ষেত্রে আইসোটোপের ব্যবহার: 
- চিকিৎসাক্ষেত্রে তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপের প্রধানত দু'ধরনের ব্যবহার আছে। 
যেমন- 
ক) রোগ নিরাময়ে আইসোটোপ ব্যবহার করা হয় ও 
খ) কোন রোগ বা রোগাক্রান্ত স্থান নির্ণয়। 
- শরীরের কোন স্থানে কোন ক্ষতিকর ক্যান্সার টিউমার-এর উপস্থিতি তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ দ্বারা নির্ণয় করা যায়।
- আবার নিরাময়ের জন্য 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি নিক্ষেপ করে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে ধ্বংস করা হয়। 
- থাইরয়েড গ্রন্থি বা এর অস্বাভাবিক বৃদ্ধিজনিত রোগের চিকিৎসায় আয়োডিন-131(131I) ব্যবহৃত হয়। এ তেজস্ক্রিয় আয়োডিন আইসোটোপ থাইরয়েড গ্রন্থিতে অবস্থিত কোষ কলা বৃদ্ধি প্রতিহত করে। 
- শ্বেত-কণিকা অত্যধিক বৃদ্ধিজনিত রক্তাল্পতা (blood-leucaemia) রোগের চিকিৎসায় তেজষ্ক্রিয় ফসফরাস-৩২ (32P) এর ফসফেট ব্যবহৃত হয়। 
- দেহের হাড় বেড়ে যাওয়া এবং কোথায়, কি কারণে ব্যাথা হচ্ছে তা নির্ণয়ের জন্য 99mTc (Isotope of  Technetium) আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 
- প্লুটোনিয়াম-২৩৮ হার্টে পেইসমেকার বসাতে ব্যবহার করা হয়। 
- এছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে, পৃথিবীর বয়স নির্ধারণে C-14 আইসোটোপ, কীটপতঙ্গ দমনে, ধাতব পাতের পুরুত্ব নির্ধারণে, পাইপ লাইনের ছিদ্র অন্বেষণে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৩.
'Meteorology' কী সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান ?
  1. ক) বিষ সম্পর্কিত বিদ্যা
  2. খ) পরিবেশের সাথে জীবের সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান
  3. গ) উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞান
  4. ঘ) আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া ও জলবায়ু সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলা হয় Meteorology।
বিষ সম্পর্কিত বিদ্যাকে বলা হয় টক্সিকোলজি (Toxicology)।
পরিবেশের সাথে জীবন সম্পর্ক সম্বন্ধীয় বিজ্ঞানকে বলে ইকোলজি (Ecology)।
উদ্যান বিষয়ক বিজ্ঞানকে বলা হয় হর্টিকালচার (Horticulture)।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৫৮৪.
কোনটি পৃথিবীর বার্ষিক গতির ফলাফল?
  1. বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি
  2. দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি
  3. দিন-রাত্রি সংঘটন
  4. জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
বার্ষিক গতি
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
আহ্নিক গতি

- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ:
• দিন-রাত্রি সংঘটন,
• জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি,
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি,
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি প্রভৃতি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৫৮৫.
আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকে কী বলে?
  1. ক) ভুমিকম্প
  2. খ) সুনামি
  3. গ) বন্যা
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকে সুনামি বলে। 

সুনামি (Tsunami)  ‘সুনামি’  জাপানি শব্দ। বাংলায় এর অর্থ ‘পোতাশ্রয় ঢেউ’। সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি।

সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প হলে তা সমুদ্র তলদেশের মাটিকে যেমন নাড়া দেয়, তেমনি স্বাভাবিকভাবেই পানিতেও কম্পন সৃষ্টি হয়। ভূমির কম্পন যখন পানিতে সঞ্চালিত হয়, তখন তার ফলে সুনামির উৎপত্তি হতে পারে। গভীর জলে সুনামি প্রতি ঘন্টায় ৬০০ মাইল (১০০০ কিলোমিটার) গতির হতে পারে। সুনামির ঢেউ সাধারণত হয় ধারাবাহিক এবং একটি ঢেউয়ের চূঁড়া থেকে আরেকটি ঢেউয়ের চূড়ার দূরত্ব ১০০ মাইলের (১৬০ কিলোমিটার) মতো হতে পারে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১,৫৮৬.
সুনামি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান কোথায়?
  1. সমুদ্রের তলদেশে
  2. পাহাড়ে
  3. মরুভূমিতে
  4. মেরু অঞ্চলে 
ব্যাখ্যা

• সুনামি প্রধানত সমুদ্র বা মহাসাগরের তটে সংঘটিত হয়। এটি সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধসের কারণে সৃষ্ট বিশাল জলোচ্ছ্বাস। তাই সুনামি সংঘটিত হওয়ার সম্ভাব্য স্থান হলো সমুদ্রের তলদেশে। পাহাড়, মরুভূমি বা মেরু অঞ্চলে সুনামি সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এগুলোতে বড় জলোচ্ছ্বাসের উৎস থাকে না। সুনামি সাধারণত উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে এবং সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পানি স্থানান্তরিত হয়ে বিশাল তরঙ্গ তৈরি করে। এই তরঙ্গ উপকূলে পৌঁছালে ব্যাপক ধ্বংস ঘটায়। তাই সমুদ্রতট এবং তলদেশই মূল সুনামি সংঘটনের সম্ভাব্য স্থান।

- সঠিক উত্তর: ক) সমুদ্রের তলদেশে।

সুনামি:
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। 
- এর শাব্দিক অর্থ 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প।
- আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে। এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৮৭.
বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুচাপের কি পরিবর্তন হয়?
  1. ক) বায়ুচাপ বেড়ে যায়
  2. খ) বায়ুচাপ কমে যায়
  3. গ) বায়ুচাপ স্থির থাকে
  4. ঘ) বায়ুচাপ কখনো বাড়ে কখনো কমে
ব্যাখ্যা
• বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুচাপ কমে যায়
- বায়ুতে তাপমাত্রা বাড়লে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যায়।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক বলে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৮৮.
টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) গ্যালিলিও
  2. খ) আর্কিমিডিস
  3. গ) হ্যান্স লিপারহে
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা

১৬১০ সালে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও প্রথম জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ক টেলিস্কোপ আবিষ্কার করেন এবং এর সাহায্যে বৃহস্পতির চারটি উপগ্রহ এবং চাঁদের পিঠে পাহাড় আবিষ্কার করেন।
সূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, শাহজাহান তপন

১,৫৮৯.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটের উদ্ভাবক কে?
  1. ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  2. নিউম্যান
  3. জেক কেলবি
  4. চার্লস ব্যাবেজ
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (Integrated Circuit) বা আইসি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক উপাদান যা অনেকগুলি ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটার একত্রিত করে একটি ছোট চিপে তৈরি করা হয়। এর উদ্ভাবক হলেন জেক কেলবি। ১৯৫৮ সালে তিনি প্রথমবারের মতো টেক্সাস ইন্সট্রুমেন্টস-এ একটি পূর্ণ কার্যক্ষম ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করেন। এই উদ্ভাবনের ফলে কম্পিউটার, মোবাইল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস আরও ছোট, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হয়। জেক কেলবির এই কাজ আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির ভিত্তি স্থাপন করেছে এবং বৈদ্যুতিন যন্ত্রের বিপ্লব ঘটিয়েছে।

- উত্তর: গ) জেক কেলবি।

ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট: 
- আধুনিক কম্পিউটারের দ্রুত অগ্রগতির মূলে রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট। 
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কেলবি নামক একজন বিজ্ঞানী ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর সমন্বিত করে একটি সার্কিট তৈরি করেন যা আইসি নামে পরিচিত লাভ করে। 
- আইসি ব্যবহারের ফলে কম্পিউটার আকার ছোট হয় এবং এর ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। 
- আইসি আবিষ্কারের সাথে কমে আসে কম্পিউটার মূল্য এবং হিসাব নিকাশের সময়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৫৯০.
'প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।' সূত্রটি-
  1. কেপলারের প্রথম সূত্র
  2. কেপলারের দ্বিতীয় সূত্র
  3. কেপলারের তৃতীয় সূত্র
  4. নিউটনের ১ম সূত্র
ব্যাখ্যা
• কেপলারের সূত্র:
- প্রাচীনকাল থেকেই বিজ্ঞানীরা সৌর জগতের সূর্য ও গ্রহগুলির গতিবিধি সম্পর্কে অনুসন্ধিৎসু ছিলেন।
- বিভিন্ন সময়ে বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন।
- গ্রীক বিজ্ঞানী টলেমী, কোপার্নিকাস, ট্রাইকোব্রাহে প্রমুখ বিজ্ঞানীদের পরস্পর বিরোধী, জটিল এবং অস্পষ্ট তথ্যসমূহ বিশ্লেষণ করে।
- ডেনমার্কের বিজ্ঞানী জন কেপলার সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, গ্রহগুলো কোনো এক বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে অবিরাম ঘুরছে।
- জন কেপলার সৌরজগতের গ্রহগুলির গতি সংক্রান্ত তিনটি সূত্র উপস্থাপন করেন, তার নাম অনুসারে এগুলো কেপলারের সূত্র নামে পরিচিত।

• কেপলারের সূত্রসমূহ:
• প্রথম সূত্র: সূর্যকে ফোকাসে রেখে প্রতিটি গ্রহ উপবৃত্তাকার পথে সুর্যকে প্রদক্ষিণ করছে।
• দ্বিতীয় সূত্র: প্রতিটি গ্রহ এমনভাবে ঘুরছে যে, সূর্য ও ঐ গ্রহের কেন্দ্ৰ সংযোজক কাল্পনিক রেখা সমান সময়ে সমান ক্ষেত্রফল অতিক্রম করে।
• তৃতীয় সূত্র: সূর্যের চারিদিকে প্রতিটি গ্রহের আবর্তনকালের বর্গ এর কক্ষপথের অর্ধপরাক্ষের (semi major axis) ঘনফলের সমানুপাতিক। গ্রহগুলো উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯১.
এক্সরে কী ধরনের বিকিরণ? 
  1. অনুদৈর্ঘ্য তরঙ্গ 
  2. পরমাণু কণা বিকিরণ 
  3. শব্দ তরঙ্গ 
  4. তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ 
ব্যাখ্যা

এক্সরে: 
- এক্সরে হলো এক ধরনের তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ। 
- এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চেয়ে অনেক কম। 
- এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য 10-10 m এর কাছাকাছি। 
- ১৮৯৫ সালে রন্টজেন এক্সরে আবিস্কার করেন। 
- এক্সরে রঞ্জনরশ্মি নামেও পরিচিত। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক্সরের অবদান নিচে বর্ণনা করা হলো- 
১. স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড় ইত্যাদি এক্সরের সাহায্যে খুব সহজেই সনাক্ত করা যায়। 
২. মুখমণ্ডলীর যে কোনো ধরনের রোগ নির্ণয়ে এক্সরের ব্যবহার অনেক যেমন- দাঁতের গোড়ায় ঘা এবং ক্ষয় নির্ণয়ে এক্সরে ব্যবহৃত হয়। 
৩. পেটের এক্সরের সাহায্যে অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা সনাক্ত করা যায়। 
৪. এক্সরের সাহায্যে পিত্ত থলি ও কিডনির পাথরকে সনাক্ত করা যায়। 
৫. বুকের এক্সরের সাহায্যে ফুসফুসের রোগ যেমন- যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসের ক্যান্সার ইত্যাদি নির্ণয় করা যায়।
৬. চিকিৎসার কাজেও এক্সরে ব্যবহার করা যায়। এটি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। রেডিওথেরাপি প্রয়োগ করে ক্যান্সারের চিকিৎসা করা যায়। 
- এক্সরের অপ্রয়োজনীয় বিকিরণ সম্পাত যাতে রোগীর ক্ষতি করতে না পারে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এজন্য এক্সরে নেওয়ার সময় রোগীকে সীসা নির্মিত এপ্রোন দ্বারা যথাসম্ভব আচ্ছাদিত করতে হবে। 
- অতি জরুরী না হলে গর্ভবতী মহিলাদের উদর এবং পেলভিক অঞ্চলের এক্সরে করা উচিত নয়। অন্য কোনো এক্সরে পরীক্ষা প্রয়োজন হলে সীসা নির্মিত এপ্রোন অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯২.
আলফা কণিকা মূলত কী দিয়ে গঠিত? 
  1. একটি প্রোটন ও একটি নিউট্রন
  2. দুটি প্রোটন ও তিনটি নিউট্রন
  3. একটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
  4. দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয়তা: 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ থেকে তিন ধরণের রশ্মি নির্গত হয়। 
- যে রশ্মিটি ধনাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ঋণাত্মক আধান গ্রন্থ। 
- যে রশ্মিটি ঋণাত্মক পাতের দিকে বেঁকে গেছে সেটি ধনাত্মক আধান গ্রন্থ। 
- আর যে রশ্মিটি কোনো দিকেই বিচ্যুত হয়নি সেটি তড়িৎ নিরপেক্ষ। 
- ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা কণিকা (α), ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে বিটা কণিকা (β) এবং তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা রশ্মি (γ) বলে। 

আলফা কণিকার ধর্ম ও প্রকৃতি: 
১। আলফা কণিকা দুটি প্রোটন ও দুটি নিউট্রন নিয়ে গঠিত অর্থাৎ এটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস। এর ভর 6.6×10-27 কেজি। 
২। আলফা কণিকা ধনাত্মক চার্জ বহন করে। এর পরিমাণ 3.2×10-19 কুলম্ব। 
৩। আলফা কণিকার শক্তি 1 MeV বা 1.6×10-13 J হতে 9 MeV বা 1.44×10-12 J পর্যন্ত হয়। 
৪। এই রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়। 
৫। আলফা কণিকার আয়নিত করার ক্ষমতা খুব বেশি। β-কণিকার চেয়ে প্রায় 100 গুণ এবং γ-কণিকার চেয়ে প্রায় 1000 গুণ বেশি। 
৬। আলফা কণিকা ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে। 
৭। আলফা কণিকা সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়। এর ভেদন ক্ষমতা খুব কম। 
৮। জিংক সালফাইডে আলফা কণিকা প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে। 
৯। ধাতব প্লেটের মধ্য দিয়ে যাবার সময় আলফা কণিকার কণাগুলো চারিদিকে বিক্ষিপ্ত হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৫৯৩.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল -
  1. দক্ষিণ পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল খরার জন্যে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- এই অঞ্চলের রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর প্রভৃতি জেলা খরার জন্যে অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ।
- অনাবৃষ্টি, দীর্ঘদিন শুষ্ক আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত অপেক্ষা বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের হার অধিক হলে সাধারণত খরা দেখা দেয়।

সূত্র: সাধারণ বিজ্ঞান : নবম-দশম শ্রেণি। 
১,৫৯৪.
কোনটি অনৈচ্ছিক পেশি?
  1. ক) হাতের পেশি
  2. খ) পায়ের পেশি
  3. গ) বুকের পেশি
  4. ঘ) হৃৎপিন্ডের পেশি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ডের পেশি দেখতে ঐচ্ছিক পেশির মত হলেও কাজ করে অনৈচ্ছিক পেশির মত৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৫৯৫.
গ্রীষ্মকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কোন দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে?
  1. ভারত
  2. নরওয়ে
  3. আর্জেন্টিনা
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

মৌসুমি বায়ু:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধাণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চল এই বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়।
- এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে।
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়। ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে।
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৫৯৬.
দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন কোনটি?
  1. ২১ মার্চ
  2. ২১ জুন
  3. ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২২ ডিসেম্বর।
• উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত - ২১ জুন।
• দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত - ২১ জুন।
• পৃথিবীর দিনরাত্রি সর্বত্র সমান - ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।

১,৫৯৭.
মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস কত সালে নোবেল পুরস্কার পান?
  1. ১৯২৬ সাল
  2. ১৯৩৬ সাল
  3. ১৯৪৬ সাল
  4. ১৯৫৬ সাল
ব্যাখ্যা
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- মহাজাগতিক রশ্মি হচ্ছে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার স্রোত। বহির্বিশ্ব থেকে এসব কণা এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে।
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- মহাজাগতিক রশ্মিতে থাকে ৮৯ ভাগ প্রোটন, ৯ ভাগ নিউট্রন এবং ২ ভাগ কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন ও লোহার ভারী নিউক্লিয়াস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট।
১,৫৯৮.
মানুষের রক্তরসে পানির পরিমাণ কত?
  1. ৮-৯%
  2. ৪০-৪৫%
  3. ৬০-৬৫%
  4. ৯১-৯২%
ব্যাখ্যা
• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তের উপাদান দুটি। যথা-
১. রক্তরস:
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ।
- এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 

২. রক্তকণিকা:
- রক্তকণিকা তিন ধরনের। যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।
- লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে।
- শ্বেত রক্তকণিকা জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়।
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, বাংলাদেশ।
১,৫৯৯.
এ্যানথ্রাক্স জীবাণুর মূল উৎস কোনটি? 
  1. ক) পানি 
  2. খ) বায়ু
  3. গ) মাটি
  4. ঘ) সবগুলোই 
ব্যাখ্যা
এন্থ্রাক্স জীবাণুর মূল উৎস হচ্ছে মাটি। 

এ্যানথ্রাক্স (Anthrax)  Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়াঘটিত মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি। 
গ্রীক শব্দ এ্যানথ্রাক্স-এর অর্থ Coal বা কয়লা। এ রোগের কারণে শরীরে কালো রঙের ক্ষত সৃষ্টি হয় বলেই এর এই নামকরণ। 
বাংলায় একে তড়কা রোগ বলা হয়। 
এতে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি গৃহপালিত প্রাণি আক্রান্ত হতে পারে। 
এটি ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু বাহিত রোগ। 
এ জীবাণুর মূল উৎস মাটি। দীর্ঘদিন (অন্তত ৩/৪ দশক) রড আকৃতির এই জীবাণু স্পোর মাটিতে টিকে থাকতে পারে। 
গবাদিপশু বা কোনো তৃণভোজী প্রাণি মাটি থেকে ঘাস খাবার সময় সহজেই এ রোগের জীবাণু (Spore) দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। 
এ রোগের জীবাণু সংক্রমিত পানি পান করলেও গবাদিপশু এ্যানথ্রাক্স দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। প্রাণি থেকে এ রোগ মানুষেও ছড়ায়। 
এটি জোনোটিক (zoonotic) রোগ।  তবে মানুষ থেকে মানুষে এ রোগের বিস্তার ঘটেনা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া ওয়েবসাইট। 
১,৬০০.
Rover Sojourner কত সালে মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করে?
  1. ১৯৯৯
  2. ১৯৯৫
  3. ১৯৯৭
  4. ১৯৯৩
ব্যাখ্যা
- Mars Pathfinder was launched December 4, 1996 and landed on Mars' Ares Vallis on July 4, 1997. 
- It was designed as a technology demonstration of a new way to deliver an instrumented lander and the first-ever robotic rover to the surface of the red planet. 
- Pathfinder not only accomplished this goal but also returned an unprecedented amount of data and outlived its primary design life.
 
- Sojourner is a rover that landed on Mars in 1997 in a location called Ares Vallis where it explored and took many photos.
- In 1997, NASA scientists did something pretty amazing. For the first time, they used a small wheeled robot to study the surface of Mars. This robotic explorer, called a rover, was named Sojourner. It was only about the size of a microwave oven. However, it went on to share lots of important new information with scientists.
 
Source: Nasa Website