বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৫ / ৩৯ · ১,৪০১১,৫০০ / ৩,৮৭৯

১,৪০১.
হিমোগ্লোবিনের লোহিত কণিকা তৈরিতে অংশগ্রহন করে -
  1. ক) ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি১২
  2. খ) ভিটামিন বি ও ভিটামিন বি১২
  3. গ) ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি২,
  4. ঘ) ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি
ব্যাখ্যা
 হিমোগ্লোবিনের লোহিত কণিকা তৈরিতে অংশগ্রহন করে - ফলিক এসিড ও ভিটামিন বি১২

ভিটামিন বি-১২ বা সায়ানোকোবালামিন (Vitamin B12)

ভিটামিন বি-১২ এর রাসায়নিক নাম সায়ানোকোবালামিন (Cyanocobalamin)।

সায়ানোকোবালামিনের উৎস: যকৃত, মাছ, মাংস, বৃক্ক, ডিম ইত্যাদিতে এই ভিটামিন যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যায়।

সায়ানোকোবালামিনের কাজ:
১। রক্তের লোহিত কণিকা গঠনে ফলিক এসিডের সাথে ভিটামিন বি-১২ কাজ করে।
২। অত্যাবশ্যক এ্যামাইনো এসিড মিথিওনিন তৈরিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করে ।
সায়ানোকোবালামিনের অভাবজনিত অবস্থা
৩। ভিটামিন বি-১২ এর অভাবে পার্নিসাস এ্যনিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা হয়ে শরীর ফ্যাকাশে, দুর্বল ও অবসন্ন হয়ে যায়।
৪। স্নায়ুবিক অস্থিরতা ও চলফেরায় অক্ষমতা দেখা দেয়।


উৎস : গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র,এইচএসসি প্রোগ্রাম;বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৪০২.
TB (যক্ষ্মা) হলে নিচের কোন রক্তকণিকা বেড়ে যায়?
  1. Neutrophil
  2. Basophil
  3. Lymphocyte
  4. Eusinophil
ব্যাখ্যা

TB (Tuberculosis) একটি chronic infectious disease, যা Mycobacterium tuberculosis দ্বারা সৃষ্ট।
- যক্ষ্মার ক্ষেত্রে দেহের প্রতিরোধব্যবস্থা প্রধানত cell-mediated immunity–এর মাধ্যমে কাজ করে, যেখানে T-lymphocyte গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- যেহেতু TB একটি দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ, তাই রক্তে সাধারণত Lymphocyte-এর সংখ্যা বৃদ্ধি (lymphocytosis) দেখা যায়।
- TB-তে শরীরের প্রতিক্রিয়া মূলত granuloma formation ও T-cell–নিয়ন্ত্রিত immune response এর মাধ্যমে হয়, যা সরাসরি লিম্ফোসাইট বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

১,৪০৩.
উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল হলে দক্ষিণ গোলার্ধে কী কাল বিরাজ করে?
  1. শরৎকাল
  2. গ্রীষ্মকাল
  3. বসন্তকাল
  4. শীতকাল
ব্যাখ্যা
- সূর্যের দক্ষিনায়ণের কারণে ২৩শে সেপ্টেম্বরের দেড় মাস পূর্বের ও দেড় মাস পরের সময়ে উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে। তখন দক্ষিণ গোলার্ধে বসন্তকাল বিরাজ করে।
- একইভাবে, ২১শে মার্চের পূর্বের ও পরের দেড় করে সময়ে উত্তর গোলার্ধে যখন বসন্তকাল বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করে।
- ২১শে জুনের পূর্বের ও পরের দেড় মাস করে মোট তিন মাস যখন উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে।
- ২২শে ডিসেম্বরের পূর্বের ও পরের দেড় মাস করে মোট তিন মাস যখন উত্তর গোলার্ধে শীতকাল বিরাজ করে তখন দক্ষিণ গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৪০৪.
ভূমিকম্প সৃষ্টির প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ভূগর্ভস্থ চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি
  2. শিলাচ্যুতি
  3. প্লেটসমূহের সঞ্চালন
  4. ভূগর্ভস্থ বাষ্প
ব্যাখ্যা
- ভূত্বকের কোন অংশের আকস্মিক কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- বিভিন্ন কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এর মধ্যে প্রধান কারণ হলো পৃথিবীর উপরিভাগের প্লেটসমূহের সঞ্চালন এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যূৎপাত।
এছাড়া অন্যান্য কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- শিলাচ্যুতি বা শিলাতে ভাঁজের সৃষ্টি
- তাপ বিকিরণ
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প
- ভূগর্ভস্থ চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি
- হিমবাহের প্রভাব প্রভৃতি।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৪০৫.
নিচের কোন অবদানের জন্য চিকিৎসা শাস্ত্রে ২০২০ সালের নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়?
  1. ক) আত্মভক্ষণ প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য
  2. খ) হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্তের জন্য
  3. গ) জিনোম ইডিটিংয়ের জন্য
  4. ঘ) ক্যান্সারের চিকিৎসা আবিষ্কার
ব্যাখ্যা

- হেপাটাইটিস সি ভাইরাস শনাক্ত ও এর চিকিৎসার উন্নতির জন্যে হার্ভে জে আল্টার (যুক্তরাষ্ট্র), চার্লস রাইস (যুক্তরাষ্ট্র), মিকায়েল হগটন (যুক্তরাজ্য) চিকিৎসা বিজ্ঞানে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

- রসায়নে ২০২০ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফ্রান্সের এমানুয়েল শারপন্টিয়ের এবং যুক্তরাষ্ট্রের জেনিফার ডাউডনা।
- জিনোম এডিটিংয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্যে তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

(সূত্র: নোবেল পুরস্কার ওয়েবসাইট)

১,৪০৬.
পারকিনসন রোগ সম্পর্কে কোনটি প্রযোজ্য?
  1. ক) নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয়
  2. খ) পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হয়
  3. গ) শিশুরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়
  4. ঘ) কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
পারকিনসন রোগটি নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।

মস্তিস্কে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের ঘাটতির কারণে এই রোগ দেখা দেয়। ব্রেন এর মধ্যে ছোট একটা অংশ রয়েছে, যেটিকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় 'সাবস্ট্যানশিয়া নাইগ্রা' বলা হয়। এই অংশের স্নায়ু কোষ বা নিউরোন শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ডোপামিন নামক নিউরোট্রান্সমিটার (এক ধরণের রাসায়নিক পদার্থ) নষ্ট হয়ে যায় অথবা এর ঘাটতি দেখা দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় মস্তিস্কে ব্যাজাল গ্যাংলিয়া নামের একটি অংশ মানুষের চলাফেরা এবং গতির সমন্বয় করে থাকে, ডোপামিনের অভাবে সেই সমন্বয়ের প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে যায়, তখন একজন মানুষ আক্রান্ত হয় পারকিনসন্স রোগে।

পারকিনসন্স এর লক্ষণসমূহ-
এই রোগে আক্রান্ত হলে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপসর্গ দৃশ্যমান হয়।
প্রথমত: হাত এবং পায়ে কাঁপুনি হয়।
দ্বিতীয়ত: শরীরের একপাশের হাত এবং পা স্বাভাবিকের তুলনায় শক্ত হয়ে যায়।
তৃতীয়ত: চলাফেরার গতি ধীর হয়ে যায়।

আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে:
কেউ আক্রান্ত হলে শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারায় সামনের দিকে ঝুঁকে হাঁটতে দেখা যাবে।
কণ্ঠ বা কথার স্বর নীচু হতে পারে বা কমে যেতে পারে।
এমনকি চোখের পাতার নড়াচড়াও কমে যেতে পারে।
শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে সমস্যা হওয়ায় আক্রাত ব্যক্তি বার বার পড়ে যেতে পারেন।
এছাড়া হতাশা, উদ্বেগ, উদাসীনতা ঘুম কমে যাওয়া- এধরনের লক্ষণ যেমন দেখা দেয়।
কোষ্ঠ কাঠিন্য এবং প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো সমস্যাও হয়ে থাকে।

সূত্র: National Institute on Aging Website. 
১,৪০৭.
বজ্রপাতের সময় আপনি নিজের গাড়ি করে যাচ্ছেন। নিজেকে সুরক্ষিত রাখার জন্য আপনি কোন উপায়টি গ্রহণ করবেন? 
  1. গাড়ির মধ্যেই বসে থাকবেন
  2. কোনো গাছের তলায় আশ্রয় নিবেন
  3. বাইরে এসে মাটিতে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়বেন
  4. বাইরে এসে আকাশের দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকবেন
ব্যাখ্যা
National Oceanic and Atmospheric Administration of the USA Government এর মতে,
No place outside is safe when a thunderstorm is in the area. Get inside as soon as you hear thunder. Run to a substantial building or hard-topped metal vehicle as fast as you can.
এখানে স্পষ্ট করে বলা আছে যে, বাইরে যাওয়া কোনভাবেই নিরাপদ নয়
তারা আরও বলে যে,
If you can’t get to a safe building or vehicle:
— Avoid open areas. Don’t be the tallest object in the area.
অর্থাৎ, যদি কোন বিল্ডিং বা ছাদ বিশিষ্ট গাড়ি আশেপাশে না থাকে তাহলেই কেবল বাইরে শুয়ে পড়তে হবে যেন আশেপাশের সবকিছুর চেয়ে নিজের উচ্চতাটা কম থাকে।

তাছাড়া, আমাদের সরকারি নির্দেশনা/লিফলেটেও গাড়ির ভেতরেই থাকতে বলা হয়েছে এবং গাড়ির ভেতরে কোন ধাতব অংশের সঙ্গে যেন স্পর্শ না লাগে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাইরে খোলা জায়গাতে যেতে সরাসরিভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি আবহাওয়া সেবা সংস্থার প্রচারণামূলক নির্দেশিকার একটা ছবি দিয়ে দেয়া হলো- 
১,৪০৮.
স্নেহ পদার্থের অভাবে দেহে কী রোগ সৃষ্টি হতে পারে? 
  1. একজিমা
  2. বেরিবেরি
  3. অ্যানিমিয়া
  4. রাতকানা
ব্যাখ্যা
স্নেহ পদার্থের গঠন: 
- তেল ও চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানকে স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাট বলা হয়। 
- ফ্যাটি অ্যাসিড ও গ্লিসারলের সমন্বয়ে স্নেহ পদার্থে গঠিত। 
- ফ্যাটি অ্যাসিডের বৈশিষ্ট্যের উপর স্নেহ পদার্থ বা ফ্যাটের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। 
- খাদ্যে প্রায় ২০ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কঠিন স্নেহ পদার্থগুলোকে চর্বি বলে। 
যেমন- মাছ ও মাংসের চর্বি। 
- চর্বি হলো সম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 
- স্বাভাবিক তাপমাত্রায় তরল স্নেহ পদার্থকে তেল বলে। 
যেমন- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি। 
- তেলগুলো অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড। 

স্নেহ পদার্থের কাজ: 
১। স্নেহ পদর্থের প্রধান কাজ দেহে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করা। 
২। স্নেহ পদার্থ দেহের তাপমাত্রা বজায় রাখে। 
৩। দেহে সঞ্চিত হয়ে ভবিষ্যতের খাদ্য ভান্ডার হিসেবে কাজ করে। 
৪। ত্বকের মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। 
৫। চর্মরোগ প্রতিরোধ করে। 
৬। শেহে দ্রবণীয় ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণে ফ্যাট সাহায্য করে। 

স্নেহ পদার্থের অভাবজনিত অবস্থা: 
- দেহে স্নেহ পদার্থের অভাবে চর্মরোগ, ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হওয়া, একজিমা ইত্যাদি হতে পারে। 
- দীর্ঘদিন স্নেহ পদার্থের ঘাটতি হলে দেহে সঞ্চিত প্রোটিনের ক্ষয় হয়। 
- এতে ওজন হ্রাস হয় ও স্বাস্থ্যহানি ঘটে। 

অধিক ফ্যাট গ্রহণের কুফল: 
- অতিরিক্ত স্নেহ জাতীয় পদার্থ গ্রহণ করলে স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ও রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ইত্যাদি অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪০৯.
গ্রীষ্মকালে কোন রঙের জামা আরামদায়ক?
  1. ক) নীল
  2. খ) লাল
  3. গ) সাদা
  4. ঘ) কালো
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকালে সাদা রঙের জামা অধিক আরামদায়ক কারণ সাদা রঙের জামার তাপ শোষণ ক্ষমতা কম। সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
১,৪১০.
‘ব্ল্যাক বক্স’ কী?
  1. একটি ধরনের স্যাটেলাইট যন্ত্র
  2. মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণ প্যানেল
  3. বিমানের দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্র
  4. দূরবর্তী অঞ্চলের তাপমাত্রা নির্ধারণ যন্ত্র
ব্যাখ্যা
বিমানের ব্ল্যাক বক্স:
- ব্ল‍্যাক বক্স একটি যন্ত্র যাতে বিমান উড্ডয়নের শুরু থেকে অবতরণ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা রেকর্ড করা থাকে।
- এটিকে বিমানের 'ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডারও বলা হয়।
- প্রথম দিকে এটি লাল রঙের ছিল এবং 'রেড এগ' নামে পরিচিত ছিল।
- ব্ল্যাক বক্স অত্যন্ত শক্তিশালী ধাতব পদার্থ (স্টেইনলেস স্টিল বা টাইটেনিয়াম) দিয়ে তৈরি।
- এটি ১০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ এবং প্রচণ্ড চাপেও অক্ষত থাকে।
- সর্বশেষ ২৫ ঘণ্টা পর্যন্ত তথ্য ধরে রাখতে পারে।
- অর্থাৎ ‘ব্ল্যাক বক্স’ বিমানের দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহকারী যন্ত্র। 

উল্লেখ্য, 
- ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে, দক্ষিণ কোরিয়ার মুয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেজু এয়ারের একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়।
- উড়োজাহাজটি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে আসছিল।
- এতে ১৮১ জন আরোহী ছিল, যার মধ্যে ১৭৯ জন নিহত হয়েছেন।
- দুর্ঘটনার পর ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়।
- ব্ল্যাক বক্সটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়ায় এর তথ্য উদ্ধার সম্ভব হয়নি।
- ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হবে।

তথ্যসূত্র:  প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক] ও ইত্তেফাক নিউজ। [লিঙ্ক]
১,৪১১.
তেজস্ক্রিয় পদার্থ মানবদেহে কোন রোগের কারণ হতে পারে?
  1. ক্যান্সার
  2. অ্যানিমিয়া
  3. যক্ষ্মা 
  4. ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয়তা: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন।
- পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কারখানা থেকে দুর্ঘটনা বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলে বের হয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ দিয়ে মাটির মারাত্মক দূষণ হয়ে থাকে। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন- রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি শুধু মাটির উর্বরতাই নষ্ট করে না, এরা প্রাণীদেহের ত্বক ও ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৪১২.
এনজিনা হলে কী হয়?
  1. ক) হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন বহনের সুযোগ বাড়ে
  2. খ) খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হয়
  3. গ) হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হয়
  4. ঘ) খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনি গাত্রে চর্বি জমা হলে রক্তের সাহায্যে হৃৎপিণ্ডে অক্সিজেন ও খাদ্যসার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বুকে ব্যাথা অনুভূত হয়। এ অবস্থাকে এনজিনা বলে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪১৩.
তরঙ্গ দৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি প্রথম আবিষ্কার করেন কে?
  1. ক) রবার্ট হুক
  2. খ) অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিং
  3. গ) জগদীশচন্দ্র বসু
  4. ঘ) আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
জগদীশচন্দ্র বসু
- ১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশচন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানে অধ্যাপনা এবং গবেষণা শুরু করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসু প্ৰথম বিনা তারে দুরবর্তী স্থানে সংকেত পাঠানো বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন এবং সফল হন। 
- ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বারের মত দূরবর্তী স্থানে বিনা তারে রেডিও তরঙ্গ প্রেরণ করে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই প্রথম তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে মিলিমিটার (৫মিলিমিটার) পর্যায়ে পরিমাপের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। 
- জগদীশচন্দ্র বসুই সর্বপ্রথম রেডিও সংকেত শনাক্ত করার কাজে অর্ধপরিবাহি জাংশন ব্যবহার করেন।
- এই আবিষ্কারকে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করে জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর আবিষ্কারকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন।
- জীব পদার্থবিজ্ঞানে জগদীশচন্দ্র বসু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। 
- তিনি উদ্ভিদের শারীরিতত্বের উপর গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হচ্ছে উদ্ভিদের বৃদ্ধি রেকর্ড করার জন্য ক্রেস্কোগ্রাফ। 
- তিনি উদ্ভিদের উদ্দীপকে সাড়া দেওয়ার কারণ ও প্রক্রিয়াকে ব্যাখ্যা করেন।
- তিনি দেখান যে বিভিন্ন উদ্দীপনায় উদ্ভিদেও সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি রাসায়নিক নয় বৈদ্যুতিক। 
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের একটি হচ্ছে ‘Response in the living and non-living'. 
- ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে উদ্ভিদ-শরীরিতত্ত্ব নিয়ে গবেষণার জন্য কলকাতায় বসু মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ নভেম্বর জগদীশচন্দ্র বসু পরলোকে গমন করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪১৪.
কোনটি ফসলের অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান?
  1. ম্যাগনেসিয়াম
  2. ক্যালসিয়াম
  3. পটাশিয়াম
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
অত্যাবশ্যকীয়/অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান:
– গাছ যে সকল খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে তারমধ্যে ১৬ টি উপাদানকে অত্যাবশ্যকীয়/অপরিহার্য মনে করা হয়।
– কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন ব্যতিত অন্যান্য ১৩ টি উপাদান গাছ মাটি হতে সংগ্রহ করে থাকে এবং এই ১৩ টি উপাদান কে বলা হয় খনিজ পুষ্টি (Mineral Nutrients)। গাছ কার্বন, হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকে বাতাস এবং পানি হতে।

– গাছের পুষ্টি গ্রহনের পরিমাণের উপরে নির্ভর করে এ সকল পুষ্টি উপাদান কে মোট ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
(১) মূখ্য উপাদান (Macro nutrient)- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম , ম্যাগনেসিয়াম ও সালফার,
(২) গৌন উপাদান (Micro nutrient) - আয়রণ, ম্যাঙ্গানিজ, জিঙ্ক, কপার, মলিবডেনাম, বোরণ ও ক্লোরিন।

এ পুষ্টি উপাদানসমূহ এর অভাবে গাছ এর স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।

উপকারী/প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান:
– সোডিয়াম, সিলিকন, এলুমিনিয়াম, কোবাল্ট, সেলেনিয়াম প্রভৃতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।
এগুলো সব গাছের জন্য অত্যাবশ্যকীয় নয় তবে সুনির্দিষ্ট গাছের জন্য দরকারি বলে ধরা হয়।
যেমন: নারিকেল গাছের জন্য সোডিয়াম।

উৎস: i) উদ্ভিদ পুষ্টি ও সার ব্যবস্থাপনা, Bachelor of Agriculture Education, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Texus A&M Agrilife Extension ওয়েবসাইট
১,৪১৫.
হিগস বোজন কণা শণাক্ত করা হয়-
  1. ক) ২০১০ সালে
  2. খ) ২০১১ সালে
  3. গ) ২০১২ সালে
  4. ঘ) ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা

On July 4, 2012, scientists at the LHC announced that they had detected an interesting signal that was likely from a Higgs boson with a mass of 125–126 gigaelectron volts (billion electron volts; GeV). Further data was needed to definitively confirm those observations, and such confirmation was announced in March 2013. That same year Higgs and Belgian physicist François Englert (who had also proposed the Higgs mechanism) shared the Nobel Prize in Physics.

Source: Encyclopaedia Britannica

From CERN website:

১,৪১৬.
তেজস্ক্রিয়তার এস. আই. লব্ধ একক কোনটি? 
  1. ওহম
  2. কুরী
  3. বেকেরেল
  4. রন্টজেন
ব্যাখ্যা
তেজস্ক্রিয় পদার্থ: 
- কয়েকটি বিশেষ ধরনের নিঃসরণ করে ভারী নিউক্লিয়াসগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙ্গে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে তেজস্ক্রিয়তা বলে। 
- ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে হেনরি বেকারেল তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। 
- তেজস্ক্রিয়তার এসআই লব্ধ একক হলো বেকেরেল (Bq), যা আবিষ্কারকের নামানুসারে করা হয়। 
- তেজস্ক্রিয় পদার্থ যেমন: রেডন (Rn), রেডিয়াম (Ra), থোরিয়াম (Th), ইউরেনিয়াম (U) ইত্যাদি। 
- উচ্চমাত্রায় তেজস্ক্রিয়তার ফলে গাছপালা মরে যায়। এছাড়া অন্যান্য খাদ্যশৃংখলের মাধ্যমে এরা প্রাণীদেহে প্রবেশ করে ভয়াবহ রোগ সৃষ্টি করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪১৭.
Black Hole-এর ভেতরের ভৌত অবস্থা কেমন ধারণা করা হয়?
  1. আয়তন অনেক বড়, ঘনত্ব খুবই কম
  2. আয়তন প্রায় অসীমের কাছাকাছি, ঘনত্ব প্রায় শূন্য
  3. আয়তন ও ঘনত্ব উভয়ই অসীম 
  4. আয়তন প্রায় শূন্য, ঘনত্ব প্রায় অসীম
ব্যাখ্যা

◉ কৃষ্ণবিবর তখনই তৈরি হয় যখন কোনো বৃহদাকারের নক্ষত্র নিজের মহাকর্ষীয় আকর্ষণে ধসে পড়ে। ধসের ফলে ভেতরের পদার্থ একেবারে কেন্দ্রে সিঙ্গুলারিটি (Singularity) নামক বিন্দুতে সংকুচিত হয়।

আয়তন (Volume): এই সিঙ্গুলারিটির আয়তন প্রায় শূন্য বলে ধরা হয়।
ঘনত্ব (Density): যেহেতু বিশাল ভর একেবারে ক্ষুদ্র বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাই ঘনত্ব প্রায় অসীম হয়ে যায়।
• মহাকর্ষীয় প্রভাব: এই অসীম ঘনত্বের কারণে মহাকর্ষ শক্তি এত প্রবল হয় যে আলো পর্যন্ত বের হতে পারে না।

কৃষ্ণবিবর (Black hole): 
- ১৯৬৯ সালে জন হুইলার নামক জনৈক মার্কিন বিজ্ঞানী কৃষ্ণবিবর আবিষ্কার করেন। 
- তিন সৌর ভরের সমান বা বেশি ভরের নক্ষত্রের সুপার নোভা বিস্ফোরণের পর এর অন্তর্বস্তু অনির্দিষ্টভাবে সংকুচিত হতে থাকে। এই সংকোচনের কারণে আয়তন প্রায় শূন্য এবং ঘনত্ব প্রায় অসীম হওয়ায় মহাকর্ষ ক্ষেত্র এমন প্রবল হয় যে, এ জাতীয় বস্তু থেকে এর মহাকর্ষকে কাটিয়ে কোনো প্রকার আলো বা সংকেতও বেরিয়ে আসতে পারে না। তাই বস্তুটিকে আর দেখা যায় না, নক্ষত্রের এই অবস্থাকে বলা হয় কৃষ্ণবিবর (Black hole)। 
- বাস্তবে g-এর মান এত বেশি হয় যে, ফোটন কণাও এর পৃষ্ঠ থেকে মুক্ত হতে বা বেরিয়ে আসতে পারে না। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪১৮.
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ওজন কত?
  1. ক) ২০০ গ্রাম
  2. খ) ১৫০ গ্রাম
  3. গ) ৩০০ গ্রাম
  4. ঘ) ৪৫০ গ্রাম
ব্যাখ্যা
একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির হৃদপিণ্ডের ওজন ৩০০ গ্রাম। স্ত্রীলোকের ওজন পুরুষের চেয়ে এক তৃতীয়াংশ কম হয়।
১,৪১৯.
রক্তশূন্যতা বলতে কী বোঝায়?
  1. ক) রক্তের পরিমাণ কমে যাওয়া
  2. খ) রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়া
  3. গ) রক্তরসের পরিমাণ কমে যাওয়া
  4. ঘ) রক্তে অনুচক্রিকার পরিমাণ কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
রক্তে তিন ধরনের রক্তকণিকা থাকে।
যথা-
১. লোহিত রক্তকণিকা,
২. শ্বেত রক্তকণিকা ও
৩. অনুচক্রিকা।
রক্তের রং লাল হয় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে‌ বলা হয় রক্তশূন্যতা।
রক্তশূন্যতা রোগ হয় সাধারণত লৌহঘটিত আমিষের অভাবে।
রক্তে হিমোগ্লোবিনের কাজ ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে কলায় পরিবহন করা এবং কলা থেকে কার্বণ-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে ফুসফুসে পরিবহন করা।
১,৪২০.
জোয়ার-ভাটা তৈরিতে চন্দ্রের ক্ষমতা সূর্যের ক্ষমতার তুলনায়-
  1. ক) অর্ধেক
  2. খ) সমান
  3. গ) দেড়গুণ
  4. ঘ) দ্বিগুণ
ব্যাখ্যা
চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত মহাকর্ষীয় শক্তির (প্রধানত চাঁদের কেননা,জোয়ার উৎপাদনে সূর্যের ক্ষমতা চন্দ্রের ৪/৯ ভাগ / প্রায় অর্ধেক। অর্থাৎচন্দ্রের ক্ষমতা সূর্যের ক্ষমতার দ্বিগুণ ) প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার ও নেমে যাওয়ার ঘটনাকে ভাঁটা (একত্রে জোয়ার-ভাটা) বলা হয়।
১,৪২১.
তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন কে? 
  1. মার্কোনি 
  2. গ্যালিলিও 
  3. ম্যাক্সওয়েল 
  4. আইনস্টাইন 
ব্যাখ্যা

- ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অভূতপূর্ব উন্নতি ঘটে। 
- ১৮৬৪ সালে বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল আলোর তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের ধারণা দেন।
- তিনি তড়িৎ ক্ষেত্র এবং চুম্বক ক্ষেত্র একত্র করে তড়িৎ চুম্বকীয় তত্ত্বের বিকাশ ঘটান যা পরবর্তীতে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী হেনরিখ হার্জের পরীক্ষা দ্বারা প্রমাণিত হয়।
- ১৮৯৬ সালে বিজ্ঞানী মার্কোনি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গ ব্যবহার করে অধিক দূরত্বে সংকেত পাঠানোর পন্থা আবিষ্কার করেন
- বাঙ্গালী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুও একই প্রকার পরীক্ষা নীরিক্ষা চালান।
- পরবর্তীতে তিনি বেতার যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪২২.
নিম্নের কোনটি জীবাণুনাশক বা এন্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. আয়োডিন
  2. সোডিয়াম
  3. ক্যালসিয়াম
  4. পটাসিয়াম
ব্যাখ্যা

আয়োডিন একটি বহুল ব্যবহৃত এন্টিসেপটিক, যা ক্ষতস্থানে প্রয়োগ করে জীবাণু ধ্বংস ও সংক্রমণ প্রতিরোধ করা হয়। সাধারণত পোভিডোন-আয়োডিন (Povidone-iodine) দ্রবণ আকারে ব্যবহৃত হয়।

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন:
- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান।

বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন: 
- নিউমোনিয়া নিরাময়ে পেনিসিলিন।
- যক্ষ্মা নিরাময়ে স্ট্রেপটোমাইসিন।
- টাইফয়েড নিরাময়ে ক্লোরোমাইসেটিন।
- অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন।
- চেতনা নাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪২৩.
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ১টি
  2. খ) ২টি
  3. গ) ৩টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যাঃ
বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা-
১ নং – বেতবুনিয়া (রাঙ্গামাটি),১৯৭৫
২ নং – তালিবাবাদ (গাজীপুর), ১৯৮২
৩ নং – মহাখালী (ঢাকা),১৯৯৫ এবং
৪ নং – সিলেট, ১৯৯৭।

১,৪২৪.
ভূ-পৃষ্ঠে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়-
  1. কার্বন
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠের গঠন: 
- ভূ-পৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক। 
- ভূত্বকের পুরুত্ব খুবই কম। 
- ভূত্বকের প্রধান উপাদান বা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায় অক্সিজেন। 

ভূত্বকে বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ:
→ ভূত্বকে অক্সিজেনের পরিমাণ ৪২.৭%, 
→ সিলিকনের পরিমাণ ২৭.৭%, 
→ অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ৮.১%, 
→ লোহা বা আয়রনের পরিমাণ ৫.১%, 
→ ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৩.৭%, 
→ সোডিয়ামের পরিমাণ ২.৮%, 
→ পটাসিয়ামের পরিমাণ ২.৬% এবং 
→ ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ ২.১%। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪২৫.
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদ প্রদান করেন-
  1. ক) ডারউইন
  2. খ) ল্যামার্ক
  3. গ) মেন্ডেল
  4. ঘ) কেউই না
ব্যাখ্যা
অর্জিত বৈশিষ্ট্যের উত্তরাধিকার মতবাদকে ল্যামার্কিজম বলে। এই মতবাদ দেন জ্যা বাপ্টিস্ট ল্যামার্ক৷
উৎসঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪২৬.
AC কে DC তে রুপান্তরিত করার জন্য কি ব্যবহৃত হয়?
  1. Dynamo
  2. Transformer
  3. Rectifier
  4. Motor
ব্যাখ্যা
রেকটিফায়ার (Rectifier):
যে সার্কিট অলটারনেটিং বা AC কারন্টকে ডাইরেক্ট বা DC কারেন্টে রূপান্তর করে তা রেকটিফায়ার। যে পদ্ধতিতে রেকটিফাই করা হয় তাকে রেকটিফিকেশন বলে।
এটি মূলত AC কারেন্টকে পালসেটিং DC তে রূপান্তর করে। অধিকাংশ ইলেকট্রিক সার্কিট লো- ভোল্টেজ এবং লো-ডি.সি. কারেন্টে চলে। এই বিপুল পরিমাণ পাওয়ারের চাহিদা মেটাতে সেল ব্যবহার সাশ্রয়ী নয়। তাই এ.সি. কে প্রয়োজনীয় মানে কমিয়ে ডি.সি. তে রূপান্তরিত করে ব্যবহার করা হয়।

রেকটিফায়ার সার্কিটের প্রকারভেদঃ
• ১. হাফ ওয়েভ রেকটিফায়ার (Half Wave Rectifier)
• ২. ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Full Wave Rectifier)
২.১ সেন্টার ট্যাপ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Center Tape Full Wave Rectifier)
২.২ ব্রীজ ফুল ওয়েভ রেকটিফায়ার (Bridge Full Wave Rectifier)


উৎস: www.eeebangla.com.
১,৪২৭.
ফোটন কণায় কোন ধরনের বল বিদ্যমান?
  1. দুর্বল নিউক্লিয় বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. সবল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
• ফোটন:
- ফোটন কণায় তাড়িতচৌম্বক বল বিদ্যমান।
- ফোটন কণার নিশ্চল ভর শূন্য (০)।
- প্রতিটি কোয়ান্টা আকার তার বা শক্তি তাড়িতচৌম্বক তরঙ্গের কম্পাংকের উপর নির্ভরশীল।
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের মূল কথা হলো, তাড়িতচৌম্বক বিকিরণ তরঙ্গধর্মী নয়, বরং এক ধরণের কণার স্রোত, এই কণার নাম ফোটন (Photon)।

• ফোটন কণার ধর্মসমূহ:
১. পদার্থের ক্ষুদ্র অংশ কে যেমন পরমাণু বলে, তেমনি আলোর ক্ষুদ্র অংশকে ফোটন বলে।
২. ফোটন আলোর বেগে প্রবাহিত হয়।
৩. ফোটনের স্থিতি ভর শূন্য।
৪. প্রতি ফোটনের নির্দিষ্ট শক্তি এবং নির্দিষ্ট রৈখিক ভরবেগ আছে।
৫. ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ। এর কোন চার্জ নেই।
৬. ফোটন এর কণা-তরঙ্গ দ্বৈত রুপ আছে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৮.
কোন রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে?
  1. বিটা রশ্মি
  2. আলফা রশ্মি
  3. গামা রশ্মি
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আলফা রশ্মির বৈশিষ্ট্য:
- আলফা রশ্মি মূলত একটি আয়নিত হিলিয়াম নিউক্লিয়াস।
- আলফা রশ্মি ধনাত্মক চার্জ বহন করে, এর পরিমাণ ৩.২ × ১০- ১৯ কুলম্ব।
- আলফা রশ্মি তড়িৎ ক্ষেত্র ও চৌম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয়।
- আলফা রশ্মি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
- আলফা রশ্মির ভেদন ক্ষমতা কম। সহজেই বস্তু দ্বারা শোষিত হয়।

অন্যদিকে, 
- বিটা রশ্মি ঋণাত্মক চার্জ বহন করে এবং গামা রশ্মি চার্জ নিরপেক্ষ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪২৯.
নিচের কোনটি চার্জ নিরপেক্ষ রশ্মি?
  1. ক) আলফা রশ্মি
  2. খ) বিটা রশ্মি
  3. গ) গামা রশ্মি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ধনাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে আলফা রশ্মি, ঋণাত্মক আধান গ্রস্থ রশ্মিকে বিটা রশ্মি এবং তড়িৎ নিরপেক্ষ রশ্মিকে গামা রশ্মি বলে।

গামা রশ্মির ধর্ম ও প্রকৃতি:
১। গামা রশ্মি অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যরে তাড়িতচৌম্বকীয় তরঙ্গ।
২। এই রশ্মি আলোর বেগে গতিশীল।
৩। এর কোন চার্জ ও ভর নাই।
৪। এই রশ্মি বিদ্যুৎ ক্ষেত্র ও চুম্বক ক্ষেত্র দ্বারা বিক্ষিপ্ত হয় না।
৫। এটি ফটোগ্রাফিক প্লেটের উপর বিক্রিয়া করে।
৬। এর আয়নিত করার ক্ষমতা আছে তবে বিটা রশ্মি অপেক্ষা কম।
৭। জিংক সালফাইডে গামা রশ্মি প্রতিপ্রভা সৃষ্টি করে।
৮। গামা রশ্মির প্রতিলন, প্রতিসরণ, ব্যাতিচার, অপবর্তন ইত্যাদি সব আলোকীয় ধর্ম আছে।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৪৩০.
মস্তিষ্কের ধমনী ছিড়ে রক্তপাত হওয়াকে বলে -
  1. কার্ডিয়াক এ্যারেস্ট
  2. কার্ডিয়াক ফেইলিউর
  3. হার্ট এ্যাটাক
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
স্ট্রোক: 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক (Stroke) বলা হয়। 
- স্ট্রোক একটি স্নায়বিক রোগ। 

স্ট্রোকের কারণ: 
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে। 
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন- উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়। 
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

লক্ষণ: 
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা ও কথা বলতে সমস্যা অনুভব করা, কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া, মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া, শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া, মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি। 

প্রতিরোধের উপায়: 
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা। 
- উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা। 
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৩১.
ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে-
  1. ক) ট্রপোমন্ডল
  2. খ) তাপমন্ডল
  3. গ) স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ঘ) মেসোমন্ডল
ব্যাখ্যা
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
যথা-
• ট্রপোমন্ডল, 
• স্ট্রাটোমন্ডল,
• মেসোমন্ডল,
• তাপমন্ডল ও
• এক্সোমন্ডল।

ট্রপোমন্ডল
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪° সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় ও নিচের দিকের বাতাসে জলীয়বাষ্পের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায়।
- ভূ-পৃষ্ঠের নিকটতম বায়ুস্তরকে বলে ট্রপোমন্ডল
- আবহাওয়া ও জলবায়ুজনিত যাবতীয় প্রক্রিয়ার বেশির ভাগ বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে ঘটে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড় ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৪৩২.
মাছ চাষের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন মাত্রা কত? 
  1. ২ পিপিএম
  2. ৫ পিপিএম
  3. ১০ পিপিএম
  4. ১২ পিপিএম
ব্যাখ্যা
মাছ চাষের পুকুরের পানির গুণাগুণ: 
- মাছের বেঁচে থাকা, খাদ্যগ্রহণ ও আশানুরূপ বৃদ্ধির জন্য পুকুরের পানির গুণাগুণ অনুকূল মাত্রায় থাকা দরকার। 
- পুকুরে পানির গুণাগুণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১) ভৌত গুণাগুণ: 
ক) গভীরতা: 
- পুকুর বেশি গভীর হলে সূর্যের আলো পুকুরের অধিক গভীরতা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। ফলে অধিক গভীর অঞ্চলে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য প্লাংকটন তৈরি হয় না। আবার সেখানে অক্সিজেনের অভাব হতে পারে। অন্যদিকে পুকুর অগভীর হলে গ্রীষ্মকালে পুকুরের পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। এসব কারণে মাছের ক্ষতি হতে পারে ও উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। 

খ) তাপমাত্রা: 
- তাপমাত্রার বৃদ্ধির উপর মাছের বৃদ্ধি নির্ভর করে। যেমন- শীতকালে মাছ খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেয় ফলে মাছের বৃদ্ধি কমে যায়। এ কারণে শীতকালে পুকুরে সার ও খাদ্য প্রয়োগের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হয়। রুই জাতীয় মাছের বৃদ্ধি ২৫-৩০° সে. তাপমাত্রা সবচেয়ে ভালো হয়। 

গ) ঘোলাত্ব: 
- কাদা কণার কারণে পুকুরের পানি ঘোলা হলে পানিতে সূর্যালোক প্রবেশে বাধা পায়। এতে করে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়। 

ঘ) সূর্যালোক: 
- যে পুকুরে সূর্যালোক বেশি পড়ে সেখানে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। ফলে সেখানে ফাইটোপ্লাংটন বেশি উৎপাদিত হয় ও মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। 

২। রাসায়নিক গুণাগুণ: 
ক ) দ্রবীভূত অক্সিজেন: 
- পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন মাছ চাষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানত ফাইটোপ্লাংকটন ও জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন তৈরি করে পুকুরের পানিতে দ্রবীভূত হয়। বায়ুমণ্ডল হতে সরাসরি পানির উপরিভাগেও কিছু অক্সিজেন মিশ্রিত হয়। পুকুরে বসবাসকারী মাছ, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণী এ অক্সিজেন দ্বারা শ্বাসকার্য চালায়। রাতে সূর্যালোকের অভাবে সালোকসংশ্লেষণ হয় না বলে পানিতে কোনো অক্সিজেন তৈরি হয় না। এজন্য সকালে পুকুরে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় ও বিকেলে বেশি থাকে। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমপক্ষে ৫ মিলি গ্রাম/লিটার (৫ পিপিএম বা ১ মিলিয়ন ভাগের পাঁচ ভাগ) থাকা প্রয়োজন। 

খ ) দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড: 
- পুকুরে মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ফাইটোপ্লাংকটনের উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকা প্রয়োজন। তবে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড মাছের জন্য ক্ষতিকর। পানিতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ১২ মিলি গ্রাম/লিটারের (১২ পিপিএম) নিচে থাকলে তা মাছ ও চিংড়ির জন্য বিষাক্ত নয়। মাছের ভালো উৎপাদন পাওয়ার জন্য পুকুরের পানিতে ১-২ পিপিএম কার্বন ডাই-অক্সাইড থাকা প্রয়োজন। 

গ) পিএইচ (pH): 
- পুকুরের পানির pH মান নির্ণয় করে অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাত্রা বোঝা যায়। মাছ চাষের জন্য পুকুরের পানির pH ৬.৫-৮.৫ এর মধ্যে হলে ভালো হয়। pH ৪ এর নিচে বা ১১ এর উপরে হলে মাছ মারা যায়। পানির pH কমে অম্লীয় হয়ে গেলে পুকুরে চুন (১-২ কেজি/শতক) প্রয়োগ করতে হবে। পুকুরে pH বেড়ে ক্ষারীয় অবস্থা বেশি বেড়ে গেলে অ্যামোনিয়াম সালফেট বা তেঁতুল পানিতে গুলে পুকুরে প্রয়োগ করা যেতে পারে। 

ঘ) ফসফরাস: 
- প্রাকৃতিক পানিতে অতি অল্প পরিমাণ ফসফরাস থাকে। এই ফসফরাস ফসফেটে রূপান্তরিত হয়। পরিমিত ফসফেটের উপস্থিতিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইটোপ্লাংটন জন্মায়। 

উৎস: কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৩৩.
সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে কী বলা হয়?
  1. সেরিকালচার
  2. প্রণকালচার
  3. মেরিকালচার
  4. পিসিকালচার
ব্যাখ্যা
আধুনিক চাষবিদ্যা: 
- সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর চাষবিদ্যাকে মেরিকালচার বলা হয়। 

অন্যদিকে, 
- সাধারণ মৎস্য চাষবিদ্যাকে পিসিকালচার বলা হয়। 
- রেশম কীট পালন ও রেশম উৎপাদনের বিদ্যাকে সেরিকালচার বলা হয়। 
- চিংড়ি ও অন্যান্য শেলফিশ চাষবিদ্যাকে প্রণকালচার বলা হয়। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৪৩৪.
গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে?
  1. ক) বৃষ্টিপাত হবে না
  2. খ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  3. গ) মেঘ-রৌদ্রের লুকোচুরি হবে না
  4. ঘ) সাইক্লোন হবে
ব্যাখ্যা
গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে। যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১,৪৩৫.
'রেডিওথেরাপি' কোষের কোনটিকে ধ্বংস করে?
  1. নিউক্লিয়াস
  2. মাইটোকন্ড্রিয়া
  3. কোষগহবর
  4. DNA
ব্যাখ্যা

• রেডিওথেরাপি মূলত ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন রোধ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি উচ্চ-শক্তির রেডিয়েশন ব্যবহার করে কোষের মধ্যে জিনগত উপাদানকে লক্ষ্য করে। বিশেষভাবে, রেডিওথেরাপি কোষের DNA কে ধ্বংস করে। DNA হলো কোষের জেনেটিক ম্যাটেরিয়াল যা কোষের বৃদ্ধি, বিভাজন এবং পুনর্নবীকরণের নিয়ন্ত্রণ করে। যখন DNA ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কোষ ঠিকমতো বিভাজন করতে পারে না এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয়। তাই, রেডিওথেরাপি মূলত ক্যান্সার কোষকে সুনির্দিষ্টভাবে ধ্বংস করার জন্য DNA-কে লক্ষ্য করে, অন্য কোষাংশ যেমন নিউক্লিয়াস বা মাইটোকন্ড্রিয়ার উপর সরাসরি প্রভাব কম থাকে।

সঠিক উত্তর: ঘ) DNA.

কোমোথেরাপি (Camotherapy):
- কেমোথেরাপি হলো এমন এক ধরনের চিকিৎসা যেখানে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ঔষধ ব্যবহার করে শরীরের জন্য ক্ষতিকর দ্রুত বিভাজনরত কোষ ধ্বংস করা হয়। এটি ক্যান্সার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি।
- ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর শরীরের কিছু কোষ বিভাজনের গতি অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। জীবদেহের কোষ বিভাজনের উপর ভিত্তি করে কেমোথেরাপি গঠিত।
- কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক ঔষধ কোষ বিভাজনের নির্দিষ্ট ধাপে প্রয়োগ করা হয়। কোষ বিভাজনের কোন ধাপে প্রয়োগ করা হবে তার উপর নির্ভর করে রাসায়নিক ঔষধ ঠিক করা হয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময় জুড়ে থাকে।
- যেমন প্রতিদিনে একবার, সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার প্রভৃতি। সাধারণত এভাবে প্রায় ছয়বার ঔষধ প্রয়োগ করা হয়।

রেডিওথেরাপি (Radio Therapy) :
- রেডিওথেরাপি হলো ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল যার মাধ্যমে শরীরের ক্যান্সার আক্রান্ত অঙ্গের কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়।
- রেডিও থেরাপি একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া যা ব্যবহার করে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করা হয়।
- রেডিও থেরাপি শব্দটি ইংরেজি Radiation Therapy এর সংক্ষিপ্ত রূপ।
- এটি ব্যবহার করে ক্যান্সার, থাইরয়েড গ্রন্থির অস্বাভাবিক প্রকৃতি, রক্তের কিছু ব্যধির চিকিৎসা করা হয়।
- সাধারণত রেডিওথেরাপি উচ্চ শক্তি সম্পন্ন এক্সরে ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করে। শরীরের যে অঙ্গে ক্যানসার হয়েছে সে অঙ্গের আক্রান্ত স্থানে রশ্মি প্রয়োগ করা হয় এর ফলে কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ক্ষমতা ধ্বংস হয়ে যায়।
- এ প্রক্রিয়ায় কিছু সংখ্যক সুস্থ কোষও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তবুও আমাদের উদ্দেশ্য হলো যত কম সংখ্যক সুস্থ কোষকে ক্ষতিগ্রস্থ করে বহু সংখ্যক ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ সুস্থ কোষ নিজ থেকেই এই ক্ষয়পূরণ করতে পারে।
- দুই ধরনের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের DNA ধ্বংস করা হয় একটি হলে ফোটন কণাকে কাজে লাগিয়ে অন্যটি তেজস্ক্রিয় কণার মাধ্যমে।

উৎস: মাধ্যমিক বিজ্ঞান, SSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদায়লয়।

১,৪৩৬.
শিশু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত LBW এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Less birth weight
  2. Lean birth weight
  3. Level birth weight
  4. Low birth weight
ব্যাখ্যা
LBW:
- পূর্ণরূপ: Low Birth Weight
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুযায়ী, Low Birth Weight (LBW) বা কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণকারী শিশু বলতে বোঝায় যেসব নবজাতকের ওজন জন্মের সময় ২.৫ কিলোগ্রামের (২৫০০ গ্রাম) কম হয়।
- এটি শিশুদের অপুষ্টি, গর্ভকালীন জটিলতা ও মাতৃস্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক।
- WHO ২০২৫ সালের মধ্যে কম জন্ম ওজনের হার ৩০% কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
- এ জন্য বিভিন্ন দেশভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যার মধ্যে পুষ্টি উন্নয়ন, মাতৃস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও গর্ভকালীন সেবা উন্নতকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

উৎস: WHO অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১,৪৩৭.
পৃথিবীর উপর কার  আকর্ষণ বেশি? 
  1. ক) চন্দ্রের
  2. খ) সূর্যের
  3. গ) শনি
  4. ঘ) মঙ্গলের
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ সূত্র অনুযায়ী মহাকাশে বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র প্রভৃতি প্রতিটি পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তাই এর প্রভাবে সূর্য ও চাঁদ পৃথিবীকে আকর্ষণ করে। পৃথিবী হতে  সূর্য গড়ে ১৫ কোটি কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। কিন্তু পৃথিবীর উপর সূর্য অপেক্ষা চাঁদের আকর্ষণ বল বেশি হয়। কারণ সূর্য চন্দ্র অপেক্ষা ২ কোটি ৬০ লক্ষগুণ বড় হলেও পৃথিবী থেকে চন্দ্রের গড় দূরত্ব মাত্র ৩৮.৪ লক্ষ কিলোমিটার। এ কারণেই পৃথিবীর ওপর সূর্যের আকর্ষণ শক্তি চন্দ্ৰ অপেক্ষা অনেক কম। ফলে জোয়ার-ভাটার ব্যাপারে সূর্য অপেক্ষা চন্দ্রের প্রভাব বেশি। 
জোয়ার উৎপাদনে সূর্যের ক্ষমতা চন্দ্রের ৪/৯ ভাগ। চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থিত হলে চাঁদ ও সূর্য উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়। 

Source: বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, এসএসসি প্রোগ্রাম 
১,৪৩৮.
প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ কত?
  1. ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg)
  2. ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)
  3. ৮০-১২০ মিলিমিটার (mm Hg)
  4. ১০০-১৫০ মিলিমিটার (mm Hg)
ব্যাখ্যা
রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন এবং প্রসারণের ফলে হৃৎপিণ্ড থেকে রক্ত ধর্মনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ধর্মনিপ্রাচীরে যে পার্শ্বচাপ সৃষ্টি হয়, সেটাকে রক্তচাপ বলে।
- নিলয়ের সিস্টোল অবস্থায় ধর্মনিতে যে চাপ থাকে, তাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোল অবস্থায় যে চাপ থাকে, তাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলে।
- স্বাভাবিক এবং সুস্থ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ১১০-১৪০ মিলিমিটার (mm Hg) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ পারদ স্তম্ভের ৬০-৯০ মিলিমিটার (mm Hg)।
- মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপকে ১২০/৮০ (mm Hg) এভাবে প্রকাশ করা হয়।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে রক্তচাপ নির্ণয় করা যায়।

তথ্যসূত্র - বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৩৯.
স্যার আলেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিন নামক এন্টিবায়োটিক তৈরি করেন কোনটি থেকে?
  1. ক) Penicillium claviforme
  2. খ) Penicillium crustosum
  3. গ) Penicillium notatum
  4. ঘ) Penicillium commune
ব্যাখ্যা
In 1928 Scottish bacteriologist Alexander Fleming first observed that colonies of the bacterium Staphylococcus aureus failed to grow in those areas of a culture that had been accidentally contaminated by the green mold Penicillium notatum. He isolated the mold, grew it in a fluid medium, and found that it produced a substance capable of killing many of the common bacteria that infect humans. সূত্রঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৪৪০.
কোন রক্তধারী ব্যক্তিদের সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা বলা হয়?
  1. ক) গ্রুপ A
  2. খ) গ্রুপ B
  3. গ) গ্রুপ AB
  4. ঘ) গ্রুপ O
ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টেইনার 1901 সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে তা A, B, AB এবং O— এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন। 

গ্রুপ A: এ শ্রেণির রক্তে A এন্টিজেন ও b এন্টিবডি থাকে।
গ্রুপ B: এ শ্রেণির রক্তে B এন্টিজেন ও a এন্টিবডি থাকে।
গ্রুপ AB: এই শ্রেণির রক্তে A ও B এন্টিজেন থাকে এবং কোনো এন্টিবডি থাকে না।
গ্রুপ O: এ শ্রেণির রক্তে কোনো এন্টিজেন থাকে না কিন্তু a ও b এন্টিবডি থাকে।

 O গ্রুপের রক্তবিশিষ্ট ব্যক্তি সব গ্রুপের রক্তের ব্যক্তিকে রক্ত দিতে পারে। এদের বলা হয় সর্বজনীন রক্তদাতা (universal donor)।
AB রক্তধারী ব্যক্তি যেকোনো ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করতে পারে। তাই তাকে সর্বজনীন রক্তগ্রহীতা (universal recipient) বলা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
১,৪৪১.
ফোটন সম্পর্কে সর্বপ্রথম ধারণা দেন কে?
  1. ক) নিউটন
  2. খ) আইনস্টাইন
  3. গ) পাউলি
  4. ঘ) ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক
ব্যাখ্যা
১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক সর্বপ্রথম ফোটন সম্পর্কে ধারণা দেন। ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক আলোর কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রদান করেন। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুসারে আলোকরশ্মি কোনো উৎস থেকে অবিচ্ছন্ন তরঙ্গের আকারে না বেরিয়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্তিগুচ্ছ বা প্যাকেট আকারে বের হয়। শক্তির এই সর্ব নিম্নমানের কণিকাকে বলে কোয়ান্টাম বা ফোটন।
১,৪৪২.
বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ কত শতাংশের বেশি হলে কোনো প্রাণী বাঁচতে পারে না?
  1. ক) ৩%
  2. খ) ১০%
  3. গ) ১২%
  4. ঘ) ২৫%
ব্যাখ্যা
US National Library of Medicine National Institutes of Health এর মতে,
- বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের ঘনত্ব ৫% এর বেশি হলে শ্বাসযন্ত্রে এসিডোসিস হয়,
- ১০% এর বেশি হলে খিচুনি দেখা দেয় এবং
- ৩০% এর বেশি হলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সংজ্ঞা হারাতে হবে এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হবে।
ব্যাখ্যার তথ্য থেকে বিবেচনায় নিয়ে আমরা উত্তর হিসেবে ২৫%-কে বিবেচনা করছি।
১,৪৪৩.
জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ -
  1. মহাকর্ষ শক্তি ও কেন্দ্রাতিগ শক্তি
  2. কেন্দ্রাতিগ শক্তি ও কেন্দ্রমুখী শক্তি
  3. মহাকর্ষ শক্তি ও কেন্দ্রমুখী শক্তি
  4. ঘর্ষণ শক্তি ও মহাকর্ষ শক্তি
ব্যাখ্যা
- সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে একই জায়গায় ফুলে ওঠে আবার অন্য সময় নেমে যায়। 
- এর কারণ মূলত দুটি; যথা- চন্দ্র-সূর্যের আকর্ষণ শক্তি (যা মূলত মহাকর্ষ শক্তি) এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিগ শক্তি। 
- সমুদ্রের পানির এইরূপ ফুলে ওঠাকে জোয়ার (Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or Low Tide) বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা সংঘটিত হয়।
- জোয়ার-ভাটার প্রধান দুটি কারণ হলো:
     (ক) মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব (The Force of Gravitational Attraction)
     (খ) কেন্দ্রাতিগ/বহির্মুখী শক্তি (Centrifugal force)
 
উৎস: বারিমণ্ডল, এসএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৪৪৪.
কিসের পার্থক্যের জন্যে বায়ু প্রবাহ হয়ে থাকে?
  1. ক) বারিপাত
  2. খ) বায়ুর আর্দ্রতা
  3. গ) বায়ুর চাপ
  4. ঘ) বাষ্পীভবন
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠের সমান্তরাল বায়ু চলাচলকে বায়ু প্রবাহ বলে। বায়ুর চাপ ও তাপের পার্থ্যক্যের কারণে বায়ু প্রবাহ সংঘটিত হয়।
- বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বায়ু হালকা ও শুষ্ক হয়ে উপরের দিকে উঠে যাওয়ার ফলে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এতে করে উচ্চচাপযুক্ত অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে বায়ু ধাবিত হয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৪৪৫.
তিনদিকে স্থলভাগ ও একদিকে জলবেষ্টিত জলরাশিকে কী বলা হয়?
  1. মহাসাগর
  2. সাগর
  3. উপসাগর
  4. হ্রদ
ব্যাখ্যা
• উপসাগর:
- যে জলরাশি তিন দিক থেকে স্থলভাগ দ্বারা বেষ্টিত এবং এক দিক সমুদ্র বা মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, তাকে উপসাগর (Bay বা Gulf) বলা হয়।

⇒ উদাহরণ:
- বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)
- পারস্য উপসাগর (Persian Gulf)
- মেক্সিকো উপসাগর (Gulf of Mexico)

অন্যদিকে,
• মহাসাগর: পৃথিবীর বিশাল জলভাগের প্রতিটি বড় অংশকে মহাসাগর বলা হয়। যেমন- আটলান্টিক, প্রশান্ত মহাসাগর।
• সাগর: মহাসাগর অপেক্ষা তুলনামূলক ছোট, কিন্তু মহাসাগরের অংশবিশেষ এমন জলরাশিকে বলা হয় সাগর। যেমন- আরব সাগর।
• হ্রদ: চারদিকে স্থলবেষ্টিত জলাধারকে হ্রদ বলা হয়। যেমন- ভিক্টোরিয়া হ্রদ, বৈকাল হ্রদ। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
১,৪৪৬.
কোন সালে প্রথম নভোযান আকাশে পাঠানো হয়?
  1. ১৯৫৭
  2. ১৯৫৯
  3. ১৯৬১
  4. ১৯৬৩
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৭ সালে প্রথম 'স্পুটনিক-১' নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। 
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-১ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে এই যাত্রার সূচনা করে। 
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হল- ভ্রমণসঙ্গী। 
- একই বছর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-২ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং নাসা [লিঙ্ক]।
১,৪৪৭.
কত সালে বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হন?
  1. ক) ১৯৯৮ সালে
  2. খ) ২০০৬ সালে
  3. গ) ২০১৫ সালে
  4. ঘ) ২০১৯ সালে
ব্যাখ্যা
কৃষ্ণগহ্বর প্রচন্ড শক্তিশালী অভিকর্ষ বলের টানে সবকিছু শোষণ করে নিজের দিকে নেয়‌। এর চরিত্র এতই সর্বগ্রাসী যে কোনো ধরনের তরঙ্গ এমনকি আলোও শোষিত হয়ে যায়। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো একটা কৃষ্ণগহ্বরের ছবি তুলতে সক্ষম হন বিজ্ঞানীরা। ছবিটি ধারণ করে ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ। ব্যাকহোলটি মেসিয়ার ৮৭ গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত।
১,৪৪৮.
পৃথিবী কোন গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত?
  1. হ্যাবিটেবল গ্যালাক্সি
  2. এন্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি
  3. মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি
  4. ট্রায়াঙ্গুলাম গ্যালাক্সি
ব্যাখ্যা
গ্যালাক্সি:
- গ্যালাক্সি হলো একটি বৃহৎ নক্ষত্রমণ্ডলী, যা লক্ষ-কোটি তারা, গ্যাস, ধুলিকণা এবং অন্যান্য মহাজাগতিক উপাদান দ্বারা গঠিত।
- এখানে রয়েছে হাজার হাজার কোটি নক্ষত্র ও গ্রহ, উপগ্রহ।
- গ্যালাক্সিগুলি মহাকর্ষীয় শক্তির মাধ্যমে একত্রিত থাকে
- পৃথিবী যে গ্যালাক্সির অন্তর্ভুক্ত তার নাম হলো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি বা আকাশগঙ্গা ছায়াপথ।
- এই ছায়াপথটি অসংখ্য গ্রহ-নক্ষত্রের সমন্বয়ে উত্তর- দক্ষিণে বিস্তৃত।
- এটি ১-২ লাখ আলোকবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এই গ্যালাক্সিতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন বা তারও বেশি তারা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
১,৪৪৯.
'বিগ রিপ' দ্বারা বুঝায় -
  1. ক) মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।
  2. খ) মহাবিশ্ব ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।
  3. গ) মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছালে তা আবার সংকুচিত হবে।
  4. ঘ) মহাবিশ্বের সবকিছুই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা
বিগ রিপ (Big Rip):
মহাবিশ্বে অদৃশ্য শক্তির পরিমাণ যদি খুব বেশি হয়, তখন এর সম্প্রসারণের ত্বরণ আরো বেড়ে যাবে এবং এই ক্রমবর্ধমান ত্বরণ এত বেশি হবে যে মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি থেকে শুর করে যত রকম বস্তু রয়েছে তা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর পর্যায়ে ভেঙ্গে গিয়ে মৌলিক কণা ও বিকিরণে বিশ্লিষ্ট হয়ে যাবে এবং এই কণাগুলো পরস্পর থেকে অনেক দূরে সরে যাবে।

এরূপ অবস্থায় অদৃশ্য শক্তি ও সম্প্রসারণ হার অসীম হবে। মহাবিশ্ব তখন অনন্যতা বা সিঙ্গুলারিটিতে পৌছুবে এবং আমাদের এই পরিচিত মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে। এই অনন্যতার সময় যে কোনো ধরনের বল, তা সে যতই প্রবল হোক না কেন, পদার্থের উপর তার কোনো প্রভাবই থাকবে না।
মহাবিশ্বের সবকিছুই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, একে বিগ রিপ (Big Rip) বা মহাবিচ্ছেদ নামে অভিহিত করা হয়।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৫০.
বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক-
  1. ক) K
  2. খ) C
  3. গ) A
  4. ঘ) S
ব্যাখ্যা
বৈদ্যুতিক প্রবাহের একক Ampere এবং একক প্রকাশের প্রতীক A
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪৫১.
সুনামি কোথায় সংঘটিত হয়? 
  1. পাহাড়ে
  2. মরুভূমিতে
  3. নদীতে
  4. সমুদ্রের তলদেশে
ব্যাখ্যা
সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি সংঘটিত হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৫২.
মানুষের শরীরের রক্তে পটাশিয়ামের স্বাভাবিক মাত্রা কত?
  1. ২.৯-৫ mmoI/L
  2. ৩.৫-৫ mmoI/L
  3. ৭-৮ mmoI/L
  4. ৩.৯-৮ mmoI/L
ব্যাখ্যা
- পটাসিয়াম শরীরের একটি অপরিহার্য ইলেক্ট্রোলাইট, এবং রক্তে পটাসিয়ামের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা স্বাভাবিক শারীরিক ক্রিয়াকলাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রার স্বাভাবিক পরিসীমা সাধারণত প্রতি লিটার (mEq/L) বা মিলিমোলস প্রতি লিটার (mmol/L) 3.5 থেকে 5.0 মিলি সমতুল্য।

Hypokalemia:
যখন রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার নিচে নেমে যায় (3.5 mEq/L এর কম), তখন তাকে হাইপোক্যালেমিয়া বলা হয়। 

Hyperkalemia:
যখন রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিক সীমার (5.0 mEq/L-এর বেশি) থেকে বেড়ে যায়, তখন তাকে হাইপারক্যালেমিয়া বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা। 
১,৪৫৩.
প্র‍থম আবিষ্কৃত কৃষ্ণ গহ্বরের নাম কী?
  1. Cygnus X-1
  2. Persius AA-2
  3. Galactus S
  4. Pegasus M5
ব্যাখ্যা

Scientists think stellar-mass black holes, which contain up to a few times the sun's mass, form when giant stars die and collapse in on themselves.
- The first black hole ever discovered was Cygnus X-1, located within the Milky Way in the constellation of Cygnus, the Swan.
- Astronomers saw the first signs of the black hole in 1964 via gas it sucked away from a closely orbiting blue supergiant star.
- As this gas spiraled into the black hole, it became so hot it emitted high-energy X-rays and gamma-rays that satellites could detect.
- A trio of studies in 2011 suggested Cygnus X-1 was located about 6,070 light-years from Earth, but the new research suggests the black hole is actually about 7,240 light-years away.

সূত্র: Encyclopedia Britannica

১,৪৫৪.
তড়িচ্চালক শক্তির একক হলাে-
  1. ক) জুল
  2. খ) ভােল্ট
  3. গ) কুলম্ব
  4. ঘ) অ্যাম্পিয়ার
ব্যাখ্যা

তড়িচ্চালক শক্তি/বলের একক (unit of emf) : তড়িচ্চালক বলের একক হলাে জুল/কুলম্ব (JC-1), বা ভােল্ট (volt, V)। তবে ভোল্টই সর্বাধিক ব্যবহৃত একক। সুতরাং তড়িচ্চালক বল ও বিভব পার্থক্যের একক একই। ভােল্ট এর নিম্নোক্ত সংজ্ঞা দেয়া যায়:
তড়িৎ বর্তনীর কোনাে এক বিন্দু হতে 1 কুলম্ব চার্জকে তড়িৎ কোষসহ সম্পূর্ণ বর্তনী একবার ঘুরিয়ে পুনরায় ওই বিন্দুতে আনতে যত জুল কাজ সম্পন্ন করা হয় কোষের তড়িচ্চালক বল হবে তত ভােল্ট। (উৎসঃ ১১-১২শ শ্রেণির পদার্থ বিজ্ঞান)

১,৪৫৫.
উপকূলে কোনো একটি স্থানে জোয়ারের কত সময় পর ভাটার সৃষ্টি হয়? 
  1. ৮ ঘণ্টা ১২ মিনিট 
  2. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট 
  3. ১২ ঘণ্টা ২৮ মিনিট
  4. ১৩ ঘণ্টা ১৬ মিনিট
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাটা: 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার ও দুইবার ভাটা হয়। সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা বলে। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘন্টা ১৩ মিনিট পর ভাটা হয়। 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। 
অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার ও দু’বার ভাটা হয়। 
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাটা বেশি অনুভূত হয়। 
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে। 
- তবে বিভিন্ন নদীপথে দেশের ভিতরে সমুদ্রের পানি যখন প্রবেশ করে এবং নেমে যায় তাকে জোয়ার ভাটা বলে না। 
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪৫৬.
দেহে শর্করার অভাব হলে কোন রোগ দেখা দেয়?
  1. কোয়াশিয়রকর
  2. মেরাসমাস
  3. হাইপোগ্লাইসেমিয়া
  4. বেরিবেরি
ব্যাখ্যা
শর্করার অভাব জনিত রোগ - হাইপোগ্লাইসেমিয়া।
আমিষের অভাব জনিত রোগ - কোয়াশিয়রকর,মেরাসমাস।
ভিটামিন বি১ এর অভাবজনিত রোগ - বেরিবেরি।
সূত্রঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি
১,৪৫৭.
থ্যালাসেমিয়া কী?
  1. ক) হরমোনজনিত সমস্যা
  2. খ) রক্তজনিত সমস্যা
  3. গ) স্নায়ুজনিত সমস্যা
  4. ঘ) হৃদরোগজনিত সমস্যা
ব্যাখ্যা
থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে একটি রক্তজনিত সমস্যা। 

থ্যালাসেমিয়া হচ্ছে এমন একটি রোগ, যেটি উত্তরাধিকারসূত্রে হয়ে থাকে। আর এ রোগে আক্রান্ত রোগীর শরীরে রক্তের ব্যাধি হয়ে থাকে, যা শরীরের হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরির ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

লক্ষণসমূহ- 
১. জন্ডিস ও ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
২. তন্দ্রা ও ক্লান্তি
৩. বুকে ব্যথা
৪. হাত পা ঠণ্ডা হয়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৬. থ্যালাসেমিয়ার কারণে পায়ে ক্রাম্প হতে পারে।
৭. থ্যালাসেমিয়া হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।
৮. অনেক সময় থ্যালাসেমিয়া হলে শিশুরা আর খেতে চায় না বা খাবারে অনীহা দেখা দিতে পারে।
৯. থ্যালাসেমিয়ার কারণে শিশুদের বৃদ্ধিতে বিলম্ব দেখা দিতে পারে বা শিশুরা ঠিক মতো বেড়ে ওঠে না।
১০. অনেক সময় মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।

সূত্র: https://www.mayoclinic.org/diseases-conditions/thalassemia/symptoms-causes/syc-20354995
১,৪৫৮.
দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়োডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়োড তৈরি করা হলে তাকে কী বলা হয়?
  1. ট্রান্সফরমার
  2. ট্রানজিস্টর
  3. জেনারেটর
  4. রেক্টিফায়ার
ব্যাখ্যা
দুটি অর্ধপরিবাহী ডায়োডকে পাশাপাশি যুক্ত করে একটি অর্ধপরিবাহী ট্রায়োড তৈরি করা হলে তাকে ট্রানজিস্টর বলে।

- ১৯৪৭ সালে ট্রানজিস্টর প্রথম তৈরি করেন উইলিয়াম শকলি, জন বার্ডিন এবং ওয়াল্টার ব্রাটেইন।
- ট্রানজিস্টর তৈরি করতে প্রয়োজন সেমিকন্ডাক্টর (সিলিকন, জার্মেনিয়াম)।
- ট্রানজিস্টরের অপর নাম অর্ধপরিবাহী ট্রায়োড।
- ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয় বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে।
- ইলেকট্রনিক্সে বিপ্লব শুরু হয় ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের সময় থেকে।
- ট্রানজিস্টর প্রধানত ব্যবহার করা হয় এমপ্লিফায়ার বা বিবর্ধক হিসেবে।
১,৪৫৯.
অতিবেগুনী রশ্মির সাহায্যে ভিটামিন ডি তৈরীর শেষ ধাপ সংগঠিত হয়-
  1. ক) লিভারে
  2. খ) কিডনিতে
  3. গ) অগ্ন্যাশয়ে
  4. ঘ) অন্ত্রে
ব্যাখ্যা
সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমে থাকা কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন ডি তৈরী হয়। সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরীর শেষ ধাপ সংগঠিত হয় কিডনিতে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪৬০.
উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন-
  1. ক) ২৩ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ২১ জুন
  3. গ) ২২ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ২১ মার্চ
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর তথা উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন ২১ জুন,
- পৃথিবীর তথা উত্তর গোলার্ধের ক্ষুদ্রতম দিন ২২ ডিসেম্বর।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর তথা উত্তর গোলার্ধের সর্বত্র দিবারাত্রি সমান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৬১.
কোন সালে মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
- মহাকাশ যাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা হয়েছিল ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। 
- তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এই যাত্রার সূচনা করেছিলেন স্পুটনিক-১ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে। 
- স্পুটনিক শব্দের অর্থ হল- ভ্রমণসঙ্গী। 
- ১৯৫৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন স্পুটনিক-২ কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেন। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি। 
১,৪৬২.
নদী সিকস্তি বলা হয় কাদের?
  1. নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণ
  2. নদীর চর জাগলে যারা দখল করতে চায়
  3. নদীতে যারা সারা বছর মাছ ধরে
  4. নদীর পাড়ে যারা বসবাস করে
ব্যাখ্যা

• নদীভাঙন:
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ।
- নদী ভাঙ্গনে সর্বস্বান্ত জনগণকে নদী সিকস্তি বলে। 

উল্লেখ্য:
- নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে নদী পয়স্তি বলে।

১,৪৬৩.
সূর্যগ্রহণ ঘটে কোন অবস্থায়? 
  1. সূর্য চাঁদের পিছনে চলে গেলে 
  2. চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে থাকলে 
  3. পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝে থাকলে 
  4. সূর্য পৃথিবী ও চাঁদের মাঝে থাকলে 
ব্যাখ্যা

পূর্ণিমা: 
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে। 

অমাবস্যা: 
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে। 
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা। 

সূর্যগ্রহণ: 
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ। 
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে। 
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে। 
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

চন্দ্ৰগ্ৰহণ: 
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। 
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। 
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।
 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট [লিঙ্ক]।

১,৪৬৪.
সমুদ্র পৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ কত?
  1. ৭.৯ সে. মি.
  2. ৭৬ সে. মি.
  3. ৭২ সে. মি.
  4. ৭৭ সে. মি.
ব্যাখ্যা
• বায়ুর চাপ:
- ভূপৃষ্ঠের প্রতি একক জায়গায় বায়ুর গ্যাসের অনুগুলোর সংঘর্ষের ফলে প্রদত্ত বলই হলো বায়ুর চাপ।
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ ৭৬ সেন্টিমিটার বা ২৯.৯২ ইঞ্চি পারদ স্তম্ভের সমান।
- আদর্শ অবস্থায় বায়ুমণ্ডলের চাপ ১০১৩.২৫ মিলিবার (১০১,৩২৫ প্যাসকেল) বা ৭৬০ পারদ মি.মি., ২৯.৯২ পারদ ইঞ্চি, বা ১৪.৬৯৬ পাউন্ড/ইঞ্চি২।
- এটিএম (atm) এককটি পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় বায়ুমণ্ডলীয় চাপের সমতুল্য অর্থাৎ পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুমণ্ডলীয় চাপ প্রায় ১ এটিএম।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৬৫.
নিম্নের কোনটি রিসাইকেলযোগ্য?
  1. ক) কয়লা
  2. খ) কাঁচ
  3. গ) পেট্রোল
  4. ঘ) ডিজেল
ব্যাখ্যা
- গৃহস্থালী এবং শিল্পজাত বর্জ্যে এক বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে কাঁচজাত কঠিন বর্জ্য। কাঁচ ভাঙ্গুর হওয়ায় অন্যান্য ব্যবহার্য দ্রব্যের তুলনায় কাঁচ সামগ্রীর বর্জ্য তুলনামূলকভাবে বেশি।
- কাঁচ 100% রিসাইকেলযোগ্য একটি উপকরণ।

কাঁচ রিসাইক্লিং এর ধাপসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো :
১। বর্জ্য কাঁচ সংগ্রহ (Collection of waste glass) : পরিত্যক্ত ভাঙ্গা কাঁচের টুকরা, কাঁচ কারখানার ত্রুটিপূর্ণ কাঁচ দ্রব্য ও বিভিন্ন উৎস হতে প্রাপ্ত কাঁচ সামগ্রী রিসাইকেল কারখানায় নেয়া হয়।
২। পরিষ্কারকরণ (Cleaning) : সংগৃহীত কাঁচ বর্জ্যকে পানি দ্বারা উত্তমরূপে ধৌত করে কাঁচের গায়ে লেগে থাকা মাটি, কাদা, ধুলা-বালি, গাম, লেবেল ইত্যাদি অপসারিত করা হয়।
৩। পৃথকীকরণ (Separation) : পরিষ্কার বর্জ্য কাঁচ মিশ্রণ থেকে রঙ্গিন ও বর্ণহীন কাঁচ দ্রব্য পৃথক করে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
৪। চূর্ণকরণ (Crushing) : পৃথকীকৃত কাঁচ বর্জ্যকে ক্রাশার মেশিনের সাহায্যে অতি ক্ষুদ্র আকৃতির টুকরায় পরিণত করা
হয় । চুর্ণীকৃত ক্ষুদ্রাকৃতির এ কাঁচ কিউলেট (cullet) নামে পরিচিত । ৫। অপদ্রব্য অপসারন (Removal of contaminant) : চূর্ণীকরণ প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত কিউলেটকে একটি কনভেয়ার বেল্টের উপর পরিচালনা করলে ধাতব কণাসমূহ চুম্বক দ্বারা এবং হালকা ওজনের অপদ্রব্য বায়ু প্রবাহ দ্বারা অপসারিত হয় ।
৬। বিগলন (Smelting) : অপদ্রব্যমুক্ত চূর্ণীকৃত কাঁচের সাথে নির্দিষ্ট অনুপাতে প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন- সোডাঅ্যাশ, বোরাক্স, নাইটার ইত্যাদি মিশানো হয়। অত:পর প্রাপ্ত মিশ্রণকে ট্যাংক ফার্নেসে 1300 1450°C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে গলিত কাঁচ পাওয়া যায়।
৭। আকৃতি প্রদান (Shapping) : বিগলিত কাঁচকে যান্ত্রিক উপায়ে ব্যবহার উপযোগী বিভিন্ন ধরনের কাঙ্খিত আকৃতি প্রদান করা হয় ।
৮। কোমলায়ন (Annealing) : বিগলিত কাঁচ থেকে উৎপাদিত নির্দিষ্ট আকৃতি বিশিষ্ট উত্তপ্ত কাঁচ দ্রব্যকে ধীরে ধীরে কক্ষ তাপমাত্রায় এনে কোমলায়ন করা হয়।
৯। সমাপন (Fininishing) : কোমলায়নকৃত কাঁচ বস্তুকে পরিষ্কারকরণ, ঘর্ষণ ও মসৃণ করে ব্যবহার উপযোগী করা হয়।

সূত্র: ৩৩৩ পৃষ্ঠা, রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।   
১,৪৬৬.
রক্ত জমাট বা প্রদাহের উৎস নির্ণয়ে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. ক) এমআরআই
  2. খ) বায়োপসি
  3. গ) সিটি স্ক্যান
  4. ঘ) ইসিজি
ব্যাখ্যা
- রক্ত জমাট বা প্রদাহের উৎস নির্ণয়ে সিটি স্ক্যান যন্ত্রটি ব্যবহার করা হয়।  

সিটি স্ক্যান
:
- ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) সংস্করণের মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের সবচেয়ে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য একটি পরীক্ষা পদ্ধতি হলো সিটি স্ক্যান।
- এর মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অজস্র এক্স-রে ছবি তোলা হয় এবং কম্পিউটারের মাধ্যমে সেগুলোকে একত্র করা হয়।
- সিটি স্ক্যান এমন একটি মেডিকেল ইমেজিং পদ্ধতি, যাতে রোগীর শরীরের ভেতরের অবস্থা স্ক্যান করে ইমেজ বা ছবি তোলা হয়।
- একজন রেডিওলজি টেকনোলজিস্ট এই পরীক্ষা করেন।

যেসব ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান করা হয়
• টিউমার, ক্যানসারের অবস্থান নির্ণয়ে 
• মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ ও অন্যান্য সমস্যা নিরীক্ষণে 
• অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন থেরাপি ও বায়োপসির গাইডলাইন নিশ্চিতকরণে 
• রক্ত জমাট বা প্রদাহের উৎস নির্ণয়ে 
• রক্ত চলাচলে বাধাবিপত্তি বা ব্লকেজ পরীক্ষা করতে 
• ফুসফুসের রোগ ও রোগের ধরন জানতে
• মূত্রনালিতে পাথর আছে কি না তা নির্ণয়ে এবং
• যেকোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা প্রদাহ নির্ণয়ে। 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।
১,৪৬৭.
কোভিড-১৯ যে ধরনের ভাইরাস-
  1. ক) DNA
  2. খ) DNA + RNA
  3. গ) mRNA
  4. ঘ) RNA
ব্যাখ্যা
• COVID-19 এর জন্য দায়ী হলো SARS CoV2 নামক বিশেষ করোনা ভাইরাস। এটি এক ধরনের আরএনএ ভাইরাস। কারণ ভাইরাসটির জিনোম হলো RNA।

• Covid-19 ভাইরাস:
- Severe Acute Respiratory Syndrome রোগের কারণ হলো SARS করোনা ভাইরাস।
- এই ভাইরাসের কারণে ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত চীন, তাইওয়ান, কানাডা প্রভৃতি দেশে বহু লোকের মৃত্যু হয়েছিলো।
- Middle East Respiratory Syndrome রোগের কারণ হলো MERS করোনা ভাইরাস।
- ২০১২ সালে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকায় এই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছিলো।
- COVID-19 এর জন্য দায়ী হলো SARS CoV-2 নামক বিশেষ করোনা ভাইরাস।
- ২০১৯ সালে চীনের উহান প্রদেশে কোভিড-১৯ প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নজরে আসে।
- এটি অদ্যবধি বাংলাদেশসহ সমস্ত পৃথিবীতে মহামারীর তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

উৎস: WHO ওয়েবসাইট এবং ব্রিটানিকা।
১,৪৬৮.
কোন গতির কারণে জোয়ার-ভাঁটা সৃষ্টি হয়? 
  1. বার্ষিক গতি
  2. আহ্নিক গতি
  3. পর্যাবৃত্ত গতি
  4. মধ্যাকর্ষণ শক্তি
ব্যাখ্যা
আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নির্দিষ্ট গতিতে আবর্তিত হচ্ছে যা আহ্নিক গতি নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলাফল সমূহ- 
• দিন-রাত্রি সংঘটন, 
জোয়ার-ভাঁটা সৃষ্টি
• বায়ুপ্রবাহ ও সমুদ্রস্রোত সৃষ্টি, 
• তাপমাত্রার তারতম্য সৃষ্টি, 
• জীব জগতের সৃষ্টি ও বংশবিস্তার প্রভৃতি। 

অন্যদিকে, 
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর অবিরাম ঘূর্ণনের সাথে সাথে নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাটার বিপরীত দিকে) নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে যা পৃথিবীর বার্ষিক গতি নামে পরিচিত। 
- পৃথিবীর বার্ষিক গতির কারণে ঋতু পরিবর্তন ও দিন- রাত্রির হ্রাস বৃদ্ধি হয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৬৯.
মানুষের রক্তের শ্রেণীবিন্যাস করা হয় কবে?
  1. ক) ১৮০২
  2. খ) ১৯০০
  3. গ) ১৯০১
  4. ঘ) ১৯০২
ব্যাখ্যা
১৯০১ সালে বিজ্ঞানী কার্ল লেন্ড স্টেইনার মানুষের রক্তের শ্রেনিবিন্যাস করে তা 'A', 'B', 'O', এবং 'AB' এ চারটি গ্রুপের নামকরণ করেন।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণী জীববিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪৭০.
যক্ষার ঝুঁকি সম্পন্ন নবজাতককে যক্ষ্মা প্রতিরোধী বিসিজি ভ্যাক্সিন শরীরে প্রয়োগ করা হয় কখন?
  1. জন্মের ৬ মাস পরে
  2. জন্মের ৩ মাস পরে
  3. জন্মের পর পরই
  4. জন্মের ১৮ সপ্তাহ পরে
ব্যাখ্যা

BCG vaccine, vaccine against tuberculosis. The BCG vaccine is prepared from a weakened strain of Mycobacterium bovis, a bacteria closely related to M. tuberculosis, which causes the disease. The vaccine was developed over a period of 13 years, from 1908 to 1921, by French bacteriologists Albert Calmette and Camille Guérin, who named the product Bacillus Calmette-Guérin, or BCG. The vaccine is administered immediately after birth only in infants at high risk of tuberculosis. BCG vaccine produces an immune response that partly protects infants and young children from serious forms of tuberculosis.
সূত্র: Encyclopedia Britannica

১,৪৭১.
আমিষের অভাবে কোন রোগ হয়?
  1. ক) জেরপথ্যালমিয়া
  2. খ) পেলেগ্রা
  3. গ) বেরিবেরি
  4. ঘ) মেরাসমাস
ব্যাখ্যা
আমিষের অভাবজনিত রোগ-
খাদ্যে পরিমিত প্রয়োজনীয় জৈব আমিষ বা মিশ্র আমিষ না থাকলে শিশুর দেহে আমিষের অভাবজনিত সমস্যার সৃষ্টি হয়। দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগলে দেহের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। শিশুদের কোয়াশিয়রকর ও মেরাসমাস রোগ দেখা দেয়।

কোয়াশিয়রকর রোগের লক্ষণ
- শিশুদের খাওয়ায় অরুচি হয়।
- পেশি শীর্ণ ও দুর্বল হতে থাকে, চামড়া এবং চুলের মসৃণতা ও রং নষ্ট হয়ে যায় ৷
- ডায়রিয়া রোগ হয়, শরীরে পানি আসে।
- পেট বড় হয়। উপযুক্ত চিকিৎসার দ্বারা এ রোগ নিরাময় হলেও দেহে মানসিক স্থবিরতা আসে।
- কোয়াশিয়রকর রোগ মারাত্মক হলে শিশুর মৃত্যু হতে পারে।

মেরাসমাস রোগের লক্ষণ
- আমিষ ও ক্যালরি উভয়েরই অভাব ঘটে, ফলে দেহের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায় ।
- শরীর ক্ষীণ হয়ে অস্থিচর্মসার হয়।
- চামড়া বা ত্বক খসখসে হয়ে ঝুলে পড়ে।
- শরীরের ওজন হ্রাস পায়।

-------------------------------------
- ভিটামিন A এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। এর অভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে চোখের কর্নিয়ায় আলসার হতে পারে, এ অবস্থাকে জেরপথ্যালমিয়া রোগ বলে।
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) - এর অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়। 
- ভিটামিন B কমপ্লেক্স থায়ামিন (B1) - দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।

উৎস: ৮ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই এবং ৯ম-১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বই
১,৪৭২.
কোনটি মডারেটর হিসাবে ব্যবহৃত হয়? 
  1. কয়লা
  2. গ্রাফাইট
  3. সীসা
  4. বোরন
ব্যাখ্যা
মডারেটর: 
- নিউক্লিয় বিক্রিয়ার জন্য তাপীয় নিউট্রন অর্থাৎ ধীর গতির নিউট্রন প্রয়োজন। 
- অথচ এই বিক্রিয়ায় নির্গত নিউট্রনের শক্তি প্রায় 181MeV অর্থাৎ দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রন, সেইজন্য এর গতি কমিয়ে তাপীয় নিউট্রন তৈরি করা প্রয়োজন। 
- মডারেটরের কাজ হলো দ্রতগতি সম্পন্ন নিউট্রনগুলিকে আবার পরবর্তী বিভাজনে কাজে লাগাতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মন্দন ঘটিয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত করে নিতে হয়। 
- যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে পাঠালে উচ্চ গতির নিউট্রন মন্দীভূত হয়ে তাপীয় নিউট্রনে পরিণত হতে পারে, তাদের বলা হয় মডারেটর। 
- বহুল প্রচলিত দুটি মডারেটর হল: 
১। ভারী জল বা ডিউটেরিয়াম অক্সাইড (D2O) এবং 
২। গ্রাফাইট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৩.
কোন পানি গাছ সহজে গ্রহণ করতে পারে?
  1. মহাকর্ষীয় পানি
  2. জলাকর্ষী পানি
  3. কৈশিক পানি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মাটিতে রন্ধ্র:
- মাটিতে দুই প্রকার রন্ধ্র থাকে:
• সূক্ষ্ম রন্ধ্র ও
• স্থূল রন্ধ্র। 

⇒ মাটির রন্ধ্র পরিসরে যে পানি থাকে তাকে মৃত্তিকা পানি বলে।
- পানি একটি সার্বজনীন দ্রাবক যাতে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদান দ্রবীভূত থাকে।
- পানি মাটি থেকে উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের বাহক হিসেবে কাজ করে।

⇒ মৃত্তিকা পানি প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা হয়:
• মহাকর্ষীয় পানি,
• কৈশিক পানি ও,
• জলাকর্ষী বা আদ্রিক পানি।
- কৈশিক পানি গাছের গ্রহণ উপযোগী পানি।

⇒ ফসলের বৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য জমি বা মাটির কোন ক্ষতি সাধন না করে কৃত্রিম উপায়ে প্রয়োজনীয় পরিমান পানি ফসলের জমিতে সরবরাহ করাকে পানি সেচ বলে।
- সেচের পানি মাটির খাদ্য উপাদান দ্রবীভূত করে এবং গাছের জন্য সহজলভ্য করে।
- জমির জো অবস্থা আনতে, জমির লবনাক্ততা, ক্ষারত্ব দূর করতে, অনুজীবের কার্যাবলি বাড়াতে, সারের কার্যকারিতা বাড়াতে সেচ প্রয়োজন।
⇒ সেচের পানির দুইটি উৎস রয়েছে:
• ভূ-পৃষ্ঠস্থ ও,
• ভূ-গর্ভস্থ পানি।
- মাটির উর্বরতা ও ফসল উৎপাদন সেচের পানির গুণাগুণের উপর অনেকটা নির্ভরশীল।
- ফসলের পানির ন্যূনতম চাহিদা হল যে পরিমাণ পানি গ্রহণ করতে না পারলে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়।
- আবার ফসলের যে বৃদ্ধি পর্যায় পানির অভাব হলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায় তাকে ফসলের পানির ক্রান্তিকাল বলে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৭৪.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের প্রাচীর কয় স্তর বিশিষ্ট?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৬
ব্যাখ্যা
হৃদপিণ্ডের প্রাচীর: অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত। এসব পেশিকে হৃদপেশী বা কার্ডিয়াক পেশি  বলে। পেশিগুলো তিন স্তরবিশিষ্ট - 

- এপিকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের সবচেয়ে বাইরের স্তর এবং যোজক কলায় তৈরি। এই স্তরে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি লেগে থাকে।
- মায়োকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরে মধ্যবর্তী স্তর। স্তরটি পুরু, দৃঢ় প্রকৃতির এবং এগুলো হৃদপিণ্ডের সংকোচন প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে।
- এন্ডোকার্ডিয়াম: এটি হৃদপ্রাচীরের ভেতরের স্তর যা হৃদপিণ্ডের প্রকোষ্ঠের অন্তঃপ্রাচীর গঠন করে, হৃদকপাটিকাসমূহ ঢেকে রাখে এবং রক্তের সাথে হৃদপিণ্ডের অবিচ্ছিন্ন সংযোগ ঘটায় ।

সূত্র- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(প্রাণিবিজ্ঞান), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৪৭৫.
ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে কত পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে?
  1. ক) ৯০° - ৯৫°
  2. খ) ৯৫° - ১১০°
  3. গ) ৯৮° - ১০৪°
  4. ঘ) ৯৫° - ১০৫°
ব্যাখ্যা
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৪৭৬.
ফেরেলের সূত্র অনুযায়ী বায়ুপ্রবাহের দিক কোনটি? 
  1. পূর্ব গোলার্ধের বাম দিকে ও পশ্চিম গোলার্ধের বাম দিকে
  2. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের ডান দিকে
  3. উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে
  4. উত্তর গোলার্ধের বাম দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের পশ্চিম দিকে
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রকার বায়ুপ্রবাহ: 
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু কিছু নিয়ম মেনে প্রবাহিত হয়। 
যেমন- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়। 
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়। 
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার। 
যথা- 
• নিয়ত বায়ু, 
• সাময়িক বায়ু, 
• স্থানীয় বায়ু ও 
• অনিয়মিত বায়ু। 

নিয়ত বায়ু (Planatary Winds): 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। 
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। 
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
• অয়ন বায়ু, 
• পশ্চিমা বায়ু ও 
• মেরু বায়ু। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৪৭৭.
মানব দেহে রক্ত সংবহনতন্ত্র প্রধানত কত প্রকার?
ব্যাখ্যা

মানবদেহের রক্ত সংবহনতন্ত্র প্রধানত: ২ ধরনের।
- সিস্টেমিক সংবহনতন্ত্র ও
- পালমোনারি সংবহনতন্ত্র।
মূলত: রক্ত সংবহনের জন্য বিভিন্ন অঙ্গের পারস্পরিক সহযোগিতায় যে অঙ্গতন্ত্র গঠিত হয় তাকে ''রক্ত সংবহনতন্ত্র'' বলে। এ তন্ত্র রক্ত, রক্তবাহিকা ও হৃদপিন্ড দিয়ে গঠিত।
উৎসঃ একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র বই (উন্মুক্ত)।

১,৪৭৮.
অগ্ন্যাশয় রসে কোন এনজাইম থাকে?
  1. ল্যাকটেজ
  2. সুক্রেজ
  3. অ্যামাইলেজ
  4. আইসোমলটেজ
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলতঃ তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 

- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে: 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২.পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ
১,৪৭৯.
ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে ডাক্তারদের মতে কোন তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক?
  1. Discipline, Diet, Detox
  2. Daily exercise, Diet, Drug 
  3. Discipline, Diet, Drug
  4. Diet, Distance, Drug
ব্যাখ্যা

- ডায়াবেটিস চিকিৎসায় চিকিৎসকরা মূলত তিনটি 'D' বা তিনটি মূলভিত্তি (Discipline, Diet, Drug) মেনে চলার পরামর্শ দেন। 

ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা: 
- রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করে গ্লুকোজের মাত্রা নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। 
- চিকিৎসা করে ডায়াবেটিস রোগ একেবারে নিরাময় করা যায় না, কিন্তু এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। 
- ডাক্তারদের মতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি 'D' মেনে চলা অত্যাবশ্যক। 
যেমন: Discipline, Diet ও Drug. 
(i) শৃঙ্খলা (Discipline): একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য তার সুশৃঙ্খল জীবনব্যবস্থা মহৌষধস্বরূপ। এছাড়া নিয়মিত এবং ডাক্তারের পরামর্শমতো পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা, রোগীর দেহের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বিশেষভাবে পায়ের যত্ন নেওয়া, নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করা এবং দৈহিক কোনো জটিলতা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। 

(ii) খাদ্য নিয়ন্ত্রণ (Diet): ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় হলো খাদ্য নিয়ন্ত্রণ করা, মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা ও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত এবং সময়মতো খাদ্য গ্রহণ করা। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবারের মেনু অনুসরণ করলে সুফল পাওয়া যায়। তবে যার ডায়াবেটিস নেই, তার মিষ্টি খাওয়া বা না খাওয়ার সাথে ডায়াবেটিসের সম্পর্ক নেই। 

(iii) ঔষধ সেবন (Drug): ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ সেবন করা উচিত নয়। ডাক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ঔষধ খাওয়া বা ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে। ঠিকমতো চিকিৎসা না করা হলে রোগীর রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যায়। উভয় ক্ষেত্রেই রোগী বেহুঁশ হয়ে পড়তে পারে। এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। যদি ডায়াবেটিস রোগী হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান, তখন তাকে বসিয়ে গ্লুকোজ বা চিনির পানি খাইয়ে দিলে অনেক সময় খারাপ পরিণতি এড়ানো যেতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৪৮০.
মৌমাছি পালন সংক্রান্ত বিজ্ঞানকে কী বলে?
  1. এপিকালচার
  2. হর্টিকালচার
  3. মেরিকালচার
  4. সেরিকালচার
ব্যাখ্যা
এপিকালচার:
- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৌমাছি প্রতিপালন এবং মৌমাছির মধু সংগ্রহ করাকে এপিকালচার বলে।
- বর্তমানে কৃত্রিম উপায়ে মৌমাছি পালনের তথা এপিকালচার ব্যবস্থার প্রচলন শুরু হয়।

হর্টিকালচার:
- উদ্যান সম্পর্কিত বিদ্যাকে হর্টিকালচার বলে।

সেরিকালচার:
- বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম পোকার চাষ পদ্ধতিকে বলে সেরিকালচার।
- তুঁতজাত রেশম মথের প্রতিপালন এবং এর গুটি থেকে অপরিশোধিত রেশম নিষ্কাশন ও পরিশোধন করে ব্যবহারোপযোগী পণ্যে পরিণত করার সার্বিক পদ্ধতিই সেরিকালচার নামে পরিচিত।

মেরিকালচার:
- সমুদ্রের পানিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ জীবকে অর্থনৈতিক লাভবানের জন্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষাবাদ করাকে সামুদ্রিক মৎস্য চাষ বা মেরিকালচার বলে।

উৎস: Britannica.
১,৪৮১.
একটি বড় দেয়াল থেকে কমপক্ষে কতটুকু দুরত্বে দাড়ালে শব্দের প্রতিধ্বনি শুনা যাবে?
  1. ক) ৩৩ মি
  2. খ) ১৬.৫ মি
  3. গ) ১৬৫ মিটার
  4. ঘ) ০.১ মিটার
ব্যাখ্যা
শব্দের প্রতিধ্বনি তৈরী হতে সর্বনিম্ন ০.১ সেকেন্ড লাগে। এই সময়ে শব্দ অতিক্রম করে ৩৩ মিটার৷ শব্দের যাওয়া আসা মিলিয়ে ৩৩ মিটার অতিক্রম করতে হলে বড় দেয়ালের কমপক্ষে ১৬.৫ মিটার দুরত্বে দাড়াতে হবে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৪৮২.
নিচের কোনটি দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান?
  1. ক) গ্লাইকোজেন
  2. খ) গ্লুকোজ
  3. গ) ফ্রুক্টোজ
  4. ঘ) সুক্রোজ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্যালাক্টোজ হলো এক শর্করা পুষ্টি উপাদান।
- সুক্রোজ, ল্যাকটোজ হলো দ্বি-শর্করা পুষ্টি উপাদান।
- শ্বেতসার, গ্লাইকোজেন হলো বহু শর্করা পুষ্টি উপাদান।
সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

১,৪৮৩.
ফোটনের চার্জ সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. ক) ধনাত্মক চার্জযুক্ত
  2. খ) চার্জ নিরপেক্ষ
  3. গ) ঋনাত্মক চার্জযুক্ত
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ অর্থাৎ এর কোনো চার্জ নেই। ফোটন তড়িৎ নিরপেক্ষ হওয়ায় এর উপর তড়িৎ বা চৌম্বক ক্ষেত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। ফোটনের আচরণ কখনও কণার মতো আবার কখনও তরঙ্গের মতো। কোয়ান্টাম তত্ত্বের অপর নাম ফোটন তত্ত্ব।
১,৪৮৪.
বাংলাদেশের অধিকসংখ্যক সাইক্লোন সংঘটিত হওয়ার কারণ-
  1. ক) দক্ষিণের ফানেলাকার আকৃতি
  2. খ) দ্রুত হারে বন উজাড়
  3. গ) বাংলাদেশের ব-দ্বীপ আকৃতি
  4. ঘ) কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণ বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেলাকার আকৃতির কারণে এ দেশে অধিকসংখ্যক সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী।
১,৪৮৫.
বায়ুমন্ডলের মোট শক্তির কত শতাংশ সূর্য থেকে আসে?
  1. ৯৯.৯৭%
  2. ৯৮%
  3. ৯৪%
  4. ৯০%
ব্যাখ্যা
- বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য। 
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে। 
- বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে। 
- পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয় বিকিরণ পদ্ধতি। 
- ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় পরিবহন প্রক্রিয়া। 
- পানি ও বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয় পরিচলন প্রক্রিয়ায়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮৬.
গত তিন দশকে বাংলাদেশের কোন অংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে?
  1. পূর্বাংশে
  2. পশ্চিমাঞ্চলে
  3. মধ্যাঞ্চলে
  4. উত্তরাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় (Cyclone): 
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রচণ্ড শক্তিশালী এবং মারাত্মক ধ্বংসকারী প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় উল্লেখযোগ্য। স্থান অনুসারে ঘূর্ণিঝড়ের বিভিন্ন নামকরণ হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। 
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। 
- বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- বর্ষাকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় হয় এবং একই ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। 
- বাংলাদেশের দক্ষিণে ফানেল আকৃতির কারণে এ দেশে অধিক সংখ্যক ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়। 
- ঘূর্ণিঝড় একটি সাময়িক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশে বেশি ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, টেকনাফ, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, উরিরচর, চর জব্বার, চর আলেকজান্ডার প্রভৃতি স্থানে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮৭.
নিচের কোনটিকে পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে?
  1. সাইক্লোন
  2. টাইফুন
  3. সুনামি
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা
• "সুনামিকে" পৃথিবীর তৃতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

• সুনামি:

- সুনামি শব্দটি একটি জাপানি শব্দ, যেখানে "সু" অর্থ বন্দর এবং "নামি" অর্থ ঢেউ।
- তাই সুনামির অর্থ হলো "বন্দরের ঢেউ"।
- এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা ইত্যাদির কারণে সৃষ্টি হয়।
- এই প্রাকৃতিক দুর্যোগটি সাধারণত সাগরে সংঘটিত হয় এবং সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে এটি তৈরি হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর একটি ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হয়, যা স্বরণকালের অন্যতম।
- এই দুর্যোগটি ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে একটি ট্রাক্টনিক ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয়।
- সুনামি সাধারণত অগভীর পানিতে প্রবেশের সময় তার শক্তি হারায়।
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮৮.
পৃথিবীর বারিমণ্ডলের জলরাশির শতকরা কতভাগ জল বায়ুমণ্ডল ধারন করে?
  1. ৯৭.২৫%
  2. ২.০৫%
  3. ০.০১%
  4. ০.০০১%
ব্যাখ্যা
বারিমন্ডলের জলের পরিমাণ ভিত্তিক বন্টন নিম্নরুপ-
সমুদ্র (৯৭.২৫%),
হিমবাহ (২.০৫%),
ভূগর্ভস্থ পানি (০.৬৮%),
হৃদ (০.০১%)
মাটির আর্দ্রতা (০.০০৫%),
বায়ুমণ্ডল (০.০০১%),
নদী(০.০০০১%),
জীবমন্ডল (০.০০০০৪%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৮৯.
মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে পৃথিবীর অবস্থান কোথায়?
  1. সেগিতারিয়াস বাহু
  2. ওরিয়ন-সিগনাস বাহু
  3. পারসেউস বাহু
  4. কারিনা বাহু
ব্যাখ্যা

• পৃথিবী (Earth):
- পৃথিবী আমাদের বাসভূমি।
- এটি সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১২,৬৬৭ কিলোমিটার।
- পৃথিবী একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় নেয় ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৭ সেকেন্ড।
- তাই এখানে ৩৬৫ দিনে এক বছর। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ।
- পৃথিবী মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি এর ওরিয়ন-সিগনাস বাহুতে অবস্থিত, যা মিল্কিওয়ের চারটি সর্পিল বাহুর মধ্যে একটি , যা গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ দূরে অবস্থিত।
- পৃথিবী একমাত্র গ্রহ যার বায়ুমন্ডলে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও তাপমাত্রা রয়েছে যা উদ্ভিদ ও জীবজন্তু বসবাসের উপযোগী।
- সৌরজগতের গ্রহগুলোর মধ্যে একমাত্র পৃথিবীতেই প্রাণের অস্তিত্ব আছে।

উৎস: NASA, ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

১,৪৯০.
মানবদেহের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত-
  1. ক) ৪০০ : ৫০০
  2. খ) ৫ : ১০০
  3. গ) ১ : ৭০০
  4. ঘ) ২ : ১০০
ব্যাখ্যা
- মানবদেহের রক্তে শ্বেত কণিকা ও লোহিত কণিকার অনুপাত ১ : ৭০০
- শ্বেতকণিকা মানবদেহে রক্তের একটি উপাদান।
- রক্তে বর্ণহীন, নিউক্লিয়াসযুক্ত এবং তুলনামূলকভাবে স্বল্পসংখ্যক ও বৃহদাকার যে কোষ দেখা যায় এবং যারা দেহকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে তাকে শ্বেতকণিকা বলে।
- মানুষের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা গোল, দ্বিঅবতল, নিউক্লিয়াসবিহীন চাকতির মতো ও লাল বর্ণের।
- লোহিত রক্তকণিকার কাজ হিমোগ্লোবিন ফুস্ফুস থেকে দেহ কোষে O₂ এবং সামান্য CO₂ পরিবহন করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১,৪৯১.
রিখটার স্কেলে কত মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি?
  1. ২ মাত্রা
  2. ৩ মাত্রা
  3. ৪ মাত্রা
  4. ৫ মাত্রা
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প: 
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে। 
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। 
- বড় ধরনের ভূমিকম্প নদীর গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে। 
- ভূমিকম্পের ফলে আমাদের অন্যতম প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে গিয়েছিল। 
- পৃথিবীর মাঝে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
- ২০১০ সালে হাইতিতে, ২০১১ সালে জাপানে এবং ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
- জাপানের ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্ট সুনামি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে আঘাত করে একটি নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল। 
- ভুমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 
- এই স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া। 
- ১৮৮৪ সালে মানিকগঞ্জ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৪৯২.
কিসের সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) প্রতিধ্বনি
  3. গ) প্রতিসরণ
  4. ঘ) প্রতিসরাঙ্ক
ব্যাখ্যা
প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা হয়।
- কোন শব্দ উৎস থেকে শব্দ করা হলে তা কোন কঠিন তলে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে আবার যদি শব্দের উৎসের নিকট ফিরে আসে, তখন সেই শব্দের পুনরাবৃত্তি শোনা যায়, শব্দের এই পুনরাবৃত্তিকে শব্দের প্রতিধ্বনি বলে।
- ফ্যাদোমিটার যন্ত্র ব্যবহার করে সমুদ্রের গভীরতা মাপা হয়। 
- প্রতিধ্বনির সাহায্যে সমুদ্রের গভীরতা, কূপের গভীরতা ইত্যাদি নির্ণয় করা হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৩.
ক্লোরোসিস ঘটে কোন খনিজের অভাবে?
  1. ক) ম্যাগনেসিয়াম
  2. খ) লৌহ
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা


সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১,৪৯৪.
কোন গ্যাসটি গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য কম দায়ী?
  1. CO2
  2. CFC
  3. N2O
  4. CH4
ব্যাখ্যা
- গ্রিন হাউজ ইফেক্টের জন্য কম দায়ী হচ্ছে- N2O যা বায়ুতে শতকরা ৬ ভাগ।
 
গ্রিন হাউজ গ্যাস: 
- যে সব গ্যাস ভূপৃষ্ঠের বিকিরিত IR রশ্মিকে শোষণ করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, তাদেরকে গ্রিন হাউজ গ্যাস বলে। 
- CO2 গ্যাসকে প্রধান গ্রিন হাউজ গ্যাস বলা হয়। 
- এছাড়া জলীয় বাষ্প, মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ফ্রিয়ন বা ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC) ও ওজোন গ্যাস (O3) গ্রিন হাউজ প্রভাব সৃষ্টি করে থাকে। 
- শেষের গ্যাসগুলোর ঘনত্ব বায়ুমণ্ডলে CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক কম হলেও এদের IR রশ্মি শোষণ ও বিকিরণ ক্ষমতা CO2 গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি। তাই গ্লোবাল ওয়ার্মিং-এ এদের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। 


উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
১,৪৯৫.
মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয়ে কোন রশ্মি ব্যবহৃত হয়?
  1. আলফা রশ্মি
  2. রঞ্জন রশ্মি
  3. মৃদু রশ্মি
  4. অতিবেগুনি রশ্মি
ব্যাখ্যা
এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মির ব্যবহার (Uses of X-ray): 
- বর্তমান সভ্যতায় এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- নীচে কিছু প্রচলিত ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হলো- 
১। চিকিৎসা ক্ষেত্রে: 
- রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- চিকিৎসা বিজ্ঞানে সর্বাধিক ব্যবহারের কারণেই এক্সরে জনসাধারণের কাছে বহুল পরিচিত। 
- এক্সরের ভেদন ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে রেডিওগ্রাফি গ্রহণ করা হয়। 
- কোমল এক্সরে মাংসপেশী ভেদ করতে পারে কিন্তু হাড় বা ধাতু ভেদ করে যেতে পারে না। 
- কোমল এক্সরে ব্যবহার করে দেহের হাড় ভাঙলে, কোনো অবাঞ্ছিত বস্তু যেমন বন্দুকের গুলি, দুর্ঘটনায় কোনো ধাতব বস্তু দেহে প্রবেশ করলে, পাকস্থলি বা মুত্রথলিতে পাথর সৃষ্টি হয়েছে কিনা তা সনাক্ত ও অবস্থান চিহ্নিত করা যায়। 
- এছাড়াও ফুসফুসের কোনো ক্ষত, পরিপাক নালীতে ক্ষত বা টিউমার, দাঁতের গোড়ায় আলসার ইত্যাদি নির্ণয়ে এক্সরে সর্বদাই ব্যবহার হচ্ছে। 
- বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় এবং কোনো কোনো চর্মরোগ নিরাময়ে এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

২. গোয়েন্দা বিভাগে: 
- চোরাচালান ধরার জন্য কাঠের, ধাতব বাক্সে বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক, নিষিদ্ধ বস্তু লুকানো থাকলে কিংবা কেউ গহনা বা মুদ্রা গলাধকরণ করলে তা সন্ধানের জন্য এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 
- এমনকি হত্যাকান্ড অনুসন্ধানেও এক্সরে প্রয়োগ করা হয়। 

৩। শিল্প ক্ষেত্রে: 
- শিল্প ক্ষেত্রে এক্সরের বহুবিধ ব্যবহার রয়েছে। 
- আসল ও নকল রত্নের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়, ঢালাই করা ধাতুর ভিতরের ত্রুটি নির্ণয়, আকরিকের মধ্যে অপদ্রব্যের উপস্থিতি নির্ণয়, ঝিনুকের মধ্যে মুক্তার সন্ধান করা, ঝালাই-এর ত্রুটি নির্ণয়, মূল্যবান ধাতুর বিশুদ্ধতা নির্ণয় ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হয়। 
- টফি, লজেন্সে কোনো ক্ষতিকর বস্তু আছে কিনা তা সনাক্ত করার জন্য এবং টফি, লজেন্স, সিগারেট ইত্যাদির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণের জন্যও এক্সরে ব্যবহার করা হয়। 

৪। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ক্ষেত্রে: 
- কেলাসের গঠণ সংক্রান্ত পরীক্ষায়, অণু-পরমাণুর গঠন বিষয়ক গবেষণায় এক্সরের ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৪৯৬.
প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ উড্ডয়ন করে কোন দেশ?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) রাশিয়া
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
৪ অক্টোবর ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক-১ নামে রাশিয়া মহাশূন্যে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায়।
১,৪৯৭.
ইউরি গ্যাগারিন মহাশূন্যে যান-
  1. ক) ১৯৫৬ সালে
  2. খ) ১৯৬১ সালে
  3. গ) ১৯৬৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
Yuri Gagarin, Soviet cosmonaut who on April 12, 1961, became the first man to travel into space.Neil Armstrong is the first person to set foot on the Moon during the afternoon of July 20, 1969.
Source: britannica.com
১,৪৯৮.
জুম চাষ হয়-
  1. বরিশালে
  2. ময়মনসিংহে
  3. খাগড়াছড়িতে
  4. দিনাজপুরে
ব্যাখ্যা
• জুম চাষ:
- জুম চাষ (Jhum) বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি।
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- মূলত পাহাড়ের জঙ্গল পরিষ্কার করে চাষাবাদ করাই হলো জুম।
- এক্ষেত্রে সাধারণত পাহাড়ের গায়ে কিছু স্থানে চাষ করার পর কয়েক বছর সেই স্থানের উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য রেখে দিয়ে আবার পাহাড়ের অন্য স্থানে গিয়ে চাষ করা হয়।

- জুম চাষিদের জুমিয়া বলা হয়।
- জুম চাষ পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
- বর্তমানে প্রতিবছর প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ভূমি এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা হয়।
- সাধারণভাবে জন্মানো প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ভুট্টা, কাউন, তিল, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ, বরবটি, তুলা, কলা, আদা, হলুদ প্রভৃতি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায় (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) জুম চাষ হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ৬ এপ্রিল, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
১,৪৯৯.
‘রক্তের’ ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক নয়?
  1. রক্ত দেহের তাপের সমতা রক্ষা করে।
  2. রক্তের লোহিত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ধ্বংস করে।
  3. রক্তের অণুচক্রিকা রক্তপাত বন্ধ করে।
  4. রক্ত অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়।
ব্যাখ্যা
রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা ।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয় ।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদণ্ডি প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে যার ফলে রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহণ করে।

রক্তের কাজ:
রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। যথা:
(i) খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায় ৷ এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে।
(ii) রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন-ডাই অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়।
(iii) দেহের মধ্যে সর্বদাই দহন ক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায় ।
(iv) নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে। এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয় ।
(v)  রক্তের শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে
(vi) দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়৷
(vii) রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দূষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১,৫০০.
কোন রূপান্তরিত শিলাটি বেলেপাথর থেকে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) নিস
  2. খ) ব্যাসল্ট
  3. গ) রায়োলাইট
  4. ঘ) কোয়ার্টজাইট
ব্যাখ্যা
রূপান্তরিত শিলা
ভূ-আন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত , ভূমিকম্পসহ অন্যান্য রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন ধরনের শিলার সৃষ্টি করে, যাকে রূপান্তরিত শিলা বলা হয়। যেমন - কাঁদা রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট
রূপান্তরিত হয়ে নিসে পরিণত হয়।

রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়। 

রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ
• উৎস ও গঠন প্রণালি অনুসারে রূপান্তরিত শিলা দুই প্রকার। যথা -
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়। যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস  (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়। যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।