বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

আধুনিক বিজ্ঞান

মোট প্রশ্ন৩,৮৭৯এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

আধুনিক বিজ্ঞান

PrepBank · পাতা ১৪ / ৩৯ · ১,৩০১১,৪০০ / ৩,৮৭৯

১,৩০১.
কোয়ান্টাম মেকানিক্সে Zero-point energy কী?
  1. বস্তু বা কণার সর্বাধিক শক্তি
  2. কোন কণার ইলেকট্রন হারানো
  3. বস্তু বা কণার সবচেয়ে কম গতিশীল শক্তি
  4. পরমাণুর ভাঙ্গনের সময় উৎপন্ন শক্তি
ব্যাখ্যা
• কোয়ান্টাম মেকানিক্সে Zero-point energy বলতে বোঝায় বস্তু বা কণার সবচেয়ে কম গতিশীল শক্তি।

• কোয়ান্টাম তত্ত্ব:

- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয় ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- এই তত্ত্বের সাহায্যে তিনি কালো বস্তুর বিকিরণের শক্তি কোয়ান্টায়নের কথা বলেন।
- কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কারের ফলে ফটোইলেকট্রিক ক্রিয়া, দ্য ব্রগলি তরঙ্গ, কম্পটন প্রভাব ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়।
- ১৯০০ সালে ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন।
- ১৯০৫ সালে আইনষ্টাইনের আপেক্ষিকতা তত্ত্ব প্রবর্তিত হয়।
- আইনষ্টাইন আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বের সাহায্যে ভর ও শক্তির, E = mc2 বিখ্যাত সম্পর্কটি বের করেন।
- আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা হলো - কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা, আপেক্ষিকতা তত্ত্ব, পারমাণবিক পদার্থবিজ্ঞান, নিউক্লিয় পদার্থবিজ্ঞান ইত্যাদি।

উৎস:
১. ব্রিটানিকা। [লিঙ্ক]
২.পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. শাহজাহান তপন।
১,৩০২.
"Dead Star" বলা হয় কোনটিকে?
  1. Neutron star
  2. Brown dwarf
  3. White dwarf
  4. Red dwarf
ব্যাখ্যা
• (White dwarf) শ্বেত বামনকে মৃততারা ("Dead Star") বলা হয়।

শ্বেত বামন:
- মহাবিশ্বের অধিকাংশ তারারই শেষ দশা হচ্ছে শ্বেত বামন।
- কারণ অধিকাংশ তারার ভর সূর্যের সমান বা তার কাছাকাছি হয়।
- আর এই ভরের তারাদের মৃত্যু ঘটে শ্বেত বামন সৃষ্টির মাধ্যমে।
- শ্বেত বামনের জীবনকাল প্রায় ১,৫০০ কোটি বছর হয়, যা আমাদের মহাবিশ্বের বর্তমান বয়সের চেয়েও বেশি।
- শ্বেত বামন এর জীবনকাল শেষে কৃষ্ণ বামনে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হয়।

অপশন আলোচনা:
ক) Neutron star: নিউট্রন তারকা হল একটি অত্যন্ত ঘনস্তর বিশিষ্ট তারকা, যা একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের পর গঠন হয়।

খ) Brown dwarf: ব্রাউন ডোয়ার্ফ হল একটি ছোট ও ঠান্ডা তারকা, যার তেজস্ক্রিয়তা সাধারণত অন্যান্য তারকার তুলনায় কম।

ঘ) Red dwarf: লাল ডোয়ার্ফ হল একটি ছোট ও ঠান্ডা তারকা, যা দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ীভাবে ফিউশন প্রক্রিয়া চালিয়ে যায়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট। [লিংক]
১,৩০৩.
‘ইকোলজি’ শব্দটি কিসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত?
  1. জ্যোতির্বিজ্ঞান
  2. পরিবেশ
  3. অর্থনীতি
  4. চিকিৎসাশাস্ত্র
ব্যাখ্যা
‘ইকোলজি’:
- গ্রিক ‘Oikos’ অর্থ "বাসস্থান" এবং "logos" অর্থ "বিদ্যা" ইংরেজি Ecology পরিভাষাটি এসেছে।
- ‘ইকোলজি’ হলো পরিবেশের সাথে প্রাণীজগতের সম্পর্ক বিষয়ক বিদ্যা।
- ১৮৬৯ সালে ‘ইকোলজি’ শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন জার্মান ভূতাত্ত্বিক আর্নেস্ট হেকেল।
- জীববিজ্ঞানের যে বিশিষ্ট শাখায় পরিবেশে বিন্যস্ত বিভিন্ন জীব ও তার পারিপার্শ্বিক জড় উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া, নির্ভরশীলতা ও মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি বলে।
- জীব একে অপরের সাথে এবং তাদের পরিবেশের সাথে কীভাবে সম্পর্ক রক্ষা করে, সে সম্পর্কিত অধ্যয়ন হল ইকোলজি।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
১,৩০৪.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর ক্ষেত্রে ভুল তথ্য কোনটি?
  1. কোনো স্থানের জলবায়ু অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
  2. কাছাকাছি অঞ্চলের আবহাওয়া একই সময়ে ভিন্ন হতে পারে।
  3. আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান ভিন্ন।
  4. কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত একই রকম হয়।
ব্যাখ্যা
আবহাওয়া: 
- আবহাওয়া বলতে স্বল্প সময়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থানের বায়ুমণ্ডলের অবস্থাকে বোঝায়। 
- বায়ুর তাপমাত্রা, চাপ, বায়ু কোন দিক থেকে কত জোরে প্রবাহিত হচ্ছে, বায়ুর আর্দ্রতা বা বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ, মেঘ, কুয়াশা ও বৃষ্টিপাত- এই অবস্থাগুলোকে একত্রে আবহাওয়া বলা হয়। 
যেমন- কোনো দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বোঝা যায় আবহাওয়া বেশ গরম, আবার কোনো দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে বোঝা যায় আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা। আবার আকাশ মেঘলা অথবা কুয়াশাচ্ছন্ন- এরকম অবস্থাও স্বল্প সময়ের আবহাওয়া নির্দেশ করে। 

জলবায়ু: 
- জলবায়ু সহসা বদলায় না, জলবায়ু হলো কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়ার একটি সামগ্রিক বা গড় ফল। 
যেমন- বাংলাদেশের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র- থেকে বোঝা যায় বাংলাদেশে বেশ গরম পড়ে এবং বায়ু ভেজা বা আর্দ্র থাকে। আবার রাশিয়ার জলবায়ু শীতপ্রধান; এ থেকে বুঝা যায় রাশিয়ায় সাধারণত খুব শীত পড়ে। 

আবহাওয়া ও জলবায়ুর পার্থক্য: 
- আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান মূলত একই। 
- বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা (জলীয় বাষ্পের আপেক্ষিক পরিমাণ), বৃষ্টিপাত সবগুলোই আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান। 
- উপাদানসমূহ একই হলে আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে- 
১। কোনো স্থানের বায়ুমণ্ডলের স্বল্পকালীন অবস্থাই আবহাওয়া, আর কোনো স্থানের অনেক বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাই জলবায়ু। 
২। কোনো স্থানের আবহাওয়া অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে। কিন্তু কোনো স্থানের জলবায়ু সহসা পরিবর্তন হয় না, পরিবর্তন হতে অনেক বছর লেগে যায়। 
৩। কাছাকাছি অঞ্চলের আবহাওয়া একই সময়ে ভিন্ন হতে পারে। 
যেমন- কোনো নির্দিষ্ট দিনে ফরিদপুরে বৃষ্টি হতে পারে কিন্তু বরিশালে বৃষ্টি নাও হতে পারে। 
- কিন্তু কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সাধারণত একই রকম। 
যেমন- বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলবায়ু একই রকম। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
১,৩০৫.
কোন বলের কারণে গ্রহসমূহ নক্ষত্রের চারিদিকে ঘুরতে থাকে?
  1. সবল নিউক্লিয় বল
  2. তাড়িতচৌম্বক বল
  3. মহাকর্ষ বল
  4. দুর্বল নিউক্লিয় বল
ব্যাখ্যা
মহাকর্ষ বল: 
- মহাবিশ্বের প্রত্যেক বস্তু একে অপরকে আকর্ষণ করে মহাকর্ষ বলের প্রভাবে। 
- বস্তুর ভরের কারণে এ আকর্ষণ ঘটে। 
- মহাকর্ষ বলের কারণে গ্রহসমূহ নক্ষত্রের চারদিকে ঘুরে, পৃথিবীর যাবতীয় প্রাণী ও বস্তু ভূ-পৃষ্ঠের সংলগ্ন থাকে, বস্তুর ওজন অনুভূত হয় ইত্যাদি। 
- দুটি বস্তুর মধ্যে গ্রাভিটন নামক এক প্রকার কণার পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে মহাকর্ষ বল কার্যকর হয়। 
- অবশ্য গ্রাভিটনের অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। 
- মহাকর্ষ বলের পাল্লা অসীম। 

উৎস: পদার্থ প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩০৬.
জোয়ারের প্রধান কারণ কী?
  1. বায়ুর চাপ
  2. চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় টান
  3. সমুদ্রের তাপমাত্রা
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
• জোয়ার ভাঁটার প্রধান কারণ চন্দ্র ও সূর্যের মহাকর্ষীয় টান ও পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক বল। 

• জোয়ার-ভাঁটা:

- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or low Tide) বলে।
- প্রতি ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘটিত  হয়। অর্থাৎ সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু'বার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়।

- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাঁটা বেশি অনুভূত হয়।
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- Encyclopedia Britannica.
১,৩০৭.
মৃততারা বলা হয় কোনটিকে?
  1. লোহিত বামন
  2. শ্বেত বামন
  3. কৃষ্ণ বামন
  4. নিউট্রন তারকা
ব্যাখ্যা
শ্বেত বামনকে মৃততারা বলা হয়।

শ্বেত বামন:

- মহাবিশ্বের অধিকাংশ তারারই শেষ দশা হচ্ছে শ্বেত বামন।
- কারণ অধিকাংশ তারার ভর সূর্যের সমান বা তার কাছাকাছি হয়।
- আর এই ভরের তারাদের মৃত্যু ঘটে শ্বেত বামন সৃষ্টির মাধ্যমে।
- শ্বেত বামনের জীবনকাল প্রায় ১,৫০০ কোটি বছর হয়, যা আমাদের মহাবিশ্বের বর্তমান বয়সের চেয়েও বেশি।
- শ্বেত বামন এর জীবনকাল শেষে কৃষ্ণ বামনে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: NASA ওয়েবসাইট।
১,৩০৮.
নিম্নের কোনটি বিয়োজক?
  1. ছত্রাক
  2. পাখি
  3. পোকামাকড়
  4. ব্যাঙ
ব্যাখ্যা
বায়োম: 
- ইকোসিস্টেম যখন বৃহৎ এলাকা নিয়ে গড়ে উঠে তখন তাকে বায়োম বলে। 
- নির্দিষ্ট পরিবেশ ও জলবায়ুর প্রভাবে বিশেষ ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে গড়ে উঠা জীবমণ্ডলের বৃহৎ ভৌগোলিক এককই বায়োম। তাই বায়োম হচ্ছে জীবমণ্ডলের সর্ববৃহৎ একক। 
বাংলাদেশের বায়োম: 
- বাংলাদেশে পরিবেশের অজীব উপাদান (যেমন- অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন গ্যাস ইত্যাদি), মাটির জৈব উপাদান (যেমন- মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচে সৃষ্ট ইউরিয়া ও হিউমাস, ভূপ্রকৃতি ও মাটি ইত্যাদি) এবং সজীব উপাদানের (যেমিন- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক ইত্যাদি) প্রভাবে সেখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীদের পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার ভিত্তিতে যে বাস্তুতন্ত্রের একক গড়ে উঠে তাকেই বাংলাদেশী বায়োম বলা হয়। 
- এতে উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মধ্যে পুষ্টিচক্র সক্রিয় হয় অর্থাৎ শক্তির প্রবাহ অক্ষুণ্ণ থাকে। 
- বাংলাদেশের বায়োম দুই প্রকার। 
যথা-
(ক) বাংলাদেশের স্থলজ বায়োম: 
১। শস্যক্ষেত্রের বায়োম (Biome of Crops): 
- বাংলাদেশের শস্যক্ষেত্রের প্রধান উদ্ভিদ হচ্ছে ধান, পাট, ঘাস, আগাছা ইত্যাদি। 
- এখানে ইকোসিস্টেমের উৎপাদক হচ্ছে ঐ সকল উদ্ভিদসমূহ। 
- কীট-পতঙ্গ প্রথম স্তরের খাদক। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদক ব্যাঙ, পাখি, গরু, ছাগল, ভেড়া, মানুষ ইত্যাদি। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হলো সাপ ও শিকারী পাখি। 
এখানে, মাটিতে বিয়োজক সৃষ্টি হয় ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং কাক, শিয়াল ও পাখির গলিত মৃতদেহের সমন্বয়ে। 

২। বনভূমির বায়োম (Biome of Forest): 
- বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় যেসব বনভূমি রয়েছে তাদের বায়োম প্রায় একই প্রকার। 
- তবে খাদ্য শৃঙ্খলে বিভিন্ন স্তরের উৎসগুলো এক প্রকার নয়। এখানে উৎপাদক হচ্ছে তৃণ, গুল্ম, ঘাস, গাছপালা ইত্যাদি। 
- আর প্রথম স্তরের খাদক বানর, হরিণ, বাদুড়, হাতি নানা ধরনে পোকামাকড় ইত্যাদি। 
- দ্বিতীয় স্তরের খাদ্য হচ্ছে- পাখি, ফড়িং, ব্যাঙ, বাঘ। 
- তৃতীয় স্তরের খাদক হচ্ছে- বেজি, সাপ, চিল প্রভৃতি। 
- বনভূমির গাছের পাতা, বিভিন্ন মৃত প্রাণীদের দেহ মাটিতে পঁচে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাকের প্রভাবে বিয়োজক সৃষ্টি হয়, পরিশেষে পুষ্টিচক্র সক্রিয় থাকে। 
- বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে বনভূমির বায়োমকে কতিপয় বায়োম-এ ভাগ করা যায়। 
যেমন- (১) সুন্দর বনের বায়োম, (২) মধুপুর অরণ্যের বায়োম (৩) চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বায়োম এবং (৪) সিলেট অঞ্চলের বনভূমির বায়োম। 

(খ) বাংলাদেশের জলজ বায়োম: 
- বাংলাদেশের জলজ বায়োম আবার দুই প্রকার। 
যথা- স্বাদু পানির বায়োম এবং লবণাক্ত পানির বায়োম। 
- বাংলাদেশের হাওড়, বাঁওড়, বিল প্রভৃতি এলাকার বায়োমকে স্বাদু পানির বায়োম বলা হয়। 
যেমিন- নেত্রকোনা এবং কিশোরগঞ্জের হাওড়, দক্ষিণ-পশ্চিমা অঞ্চলের বাঁওড়, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জের বিল প্রভৃতি বাংলাদেশের স্বাদু পানির বায়োমের উদাহরণ। 
- বাংলাদেশের উপকূলীয় সাগর ও মহাসাগরের লবণাক্ত পানির বায়োমকে লবণাক্ত পানির বায়োম বলা হয়। 

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী)।
১,৩০৯.
পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি কোথায়?
  1. ক) মূল মধ্যরেখায়
  2. খ) নিরক্ষরেখায়
  3. গ) উপক্রান্তীয় অঞ্চলে
  4. ঘ) মেরুবৃত্তে
ব্যাখ্যা
পৃথিবী তার নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে নিয়ত আবর্তনশীল। পৃথিবীর এই আবর্তনের গতি আহ্নিক গতি নামে পরিচিত।

- পৃথিবীর সর্বত্র আহ্নিক গতি সমান নয়। নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর পরিধি সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এখানে আবর্তন গতিও সবচেয়ে বেশি যা প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার।

- নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে আবর্তন বেগ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। ঢাকায় পৃথিবীর আর্বতন বেগ ১,৬০০ কিলোমিটার।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩১০.
পৃথিবী থেকে নক্ষত্রের দূরত্ব মাপার একক কী?
  1. কিলোমিটার 
  2. মাইল 
  3. আলোক বর্ষ
  4. নটিক্যাল মাইল 
ব্যাখ্যা

- মহাকাশের বিশাল দূরত্ব পরিমাপের জন্য আলোক বর্ষ ব্যবহৃত হয়। এটি সময়ের একক নয়, বরং দূরত্বের একক। এক আলোক বর্ষ হলো এক বছরে শূন্য মাধ্যমে আলো যে দূরত্ব অতিক্রম করে। নক্ষত্রগুলো পৃথিবী থেকে এতটাই দূরে যে কিলোমিটার বা মাইলে সেই দূরত্ব প্রকাশ করা হলে সংখ্যাটি অনেক বড় হয়ে যায়, তাই আলোক বর্ষ ব্যবহার করা সুবিধাজনক। 

নক্ষত্র (Star): 
- যেসব জ্যোতিষ্কের নিজের আলো আছে তাদের নক্ষত্র বলে। 
- মহাকাশে অসংখ্য নক্ষত্র রয়েছে। খালি চোখে মাত্র কয়েক হাজার নক্ষত্র দেখা যায়। এদের কয়েকটি পৃথিবী থেকে শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে দেখা যায়। 
- নক্ষত্রগুলো হলো জ্বলন্ত গ্যাসপিন্ড, এরা হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দিয়ে তৈরি। এই গ্যাস অতি উচ্চ (প্রায় ৬০০০° সেলসিয়াস) তাপমাত্রায় জ্বলছে। 
- সূর্যের প্রখর আলোর জন্য দিনের বেলায় অন্যান্য নক্ষত্র দেখা যায় না। 

- পৃথিবী থেকে দেখলে মনে হয় নক্ষত্রগুলো যেন একই সমতলে অবস্থান করছে। কিন্তু পৃথিবী থেকে এরা বিভিন্ন দূরত্বে অবস্থান করছে। পৃথিবী ও নক্ষত্রদের মধ্যে এবং নক্ষত্রদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্ব এত বেশি যে কিলোমিটার দ্বারা এই দূরত্ব প্রকাশ করা যায় না। এই দূরত্ব আলোক বর্ষ এককে মাপা হয়। 
- আলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে। এই বেগে এক বছরে আলো যে পরিমাণ দূরত্ব অতিক্রম করে তাকে এক আলোক বর্ষ বলে। 
- সূর্য পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্র। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড। সূর্যের নিকটতম নক্ষত্র প্রক্সিমা সেন্টারাই (Proxima Centauri)। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩১১.
হিউম্যান প্যাপিলোমা কী ?
  1. ক) ছত্রাক
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ভাইরাস
  4. ঘ) অণুজীব
ব্যাখ্যা
• হিউম্যান প্যাপিলোমা একধরনের ভাইরাস।
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (Human papillomavirus-HPV): হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস Papovaviridae ফ্যামেলি অন্তর্গত ভাইরাসগুলোর একটি উপগোষ্ঠী যা মানুষকে সংক্রামিত করে।
- এর ফলে আঁচিল এবং টিউমারের পাশাপাশি যৌনাঙ্গের ক্যান্সার হয়।
- বিশেষ করে মহিলাদের জরায়ু ক্যান্সার হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৩১২.
নিচের কোনটি ভাইরাসজনিত রোগ নয়?
  1. প্লেগ
  2. ইনফ্লুয়েঞ্জা
  3. পীতজ্বর
  4. জলাতঙ্ক
ব্যাখ্যা


তথ্যসূত্র - তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১৩.
কোনটি নবায়নযােগ্য সম্পদ?
  1. ক) প্রাকৃতিক গ্যাস
  2. খ) চুনাপাথর
  3. গ) বায়ু
  4. ঘ) কয়লা
ব্যাখ্যা
নবায়নযােগ্য শক্তি (Renewable Energy):
- যে জ্বালানি পুন: পুন ব্যবহার করলে সাধারণত ফুরােয় না এমনকি অদূর ভবিষ্যতেও ঘাটতির সম্ভাবনা থাকে না, তাকে নবায়নযােগ্য জ্বালানি বলা হয়।
যেমন: সূর্যের আলাে, সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা, সমুদ্রের ঢেউ, বায়ু, নদীর বহমান পানি, পৃথিবীর গভীরের উত্তপ্ত ম্যাগমা।

অনবায়নযােগ্য শক্তি (Non-Renewable Energy):
অনবায়নযােগ্য মানে হলাে, যে শক্তি একবার ব্যবহার করা হলে তা থেকে পুনরায় শক্তি উৎপন্ন করা যায় না। এটি হলো মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, যা পুনরায় উৎপন্ন করা যায় না।
যেমন - তেল, গ্যাস, কয়লা, ইউরেনিয়াম।

তথ্যসূত্র:- পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১৪.
সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প হলে সৃষ্টি হয়- 
  1. টর্নেডো 
  2. সুনামি 
  3. ঘূর্ণিঝড় 
  4. বন্যা 
ব্যাখ্যা

সুনামি: 
- Tsunami একটি জাপানি শব্দ। যার ‘সু’ অর্থ বন্দর এবং ‘নামি’ অর্থ ঢেউ। 
অর্থাৎ সুনামি শব্দের অর্থ হলো বন্দরের ঢেউ। এটি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- সমুদ্রতলদেশে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধস এবং নভোজাগতিক ঘটনা সুনামি সৃষ্টি করতে পারে। 
- সুনামি প্রাকৃতিক দুর্যোগটি শুধুমাত্র সাগরে সংঘটিত হয়। 
- সাধারণত সমুদ্রের তলদেশে একটা ভূমিকম্প হলে সুনামি তৈরি হয়। 
- ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর স্বরণকালের ভয়ঙ্কর একটি প্রাকৃতিক দূর্যোগ ঘটে। 
- ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের কাছাকাছি ভারত মহাসাগরের তলদেশে সৃষ্টি হয়েছিল ট্রাক্টনিক ভূমিকম্প। 
- ইউরেশিয়ান প্লেট ও অস্ট্রেলিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে সৃষ্টি হওয়া এই মারাত্মক ভূমিকম্পটি ছিল রিখটার স্কেলে নয় মাত্রার। 
- এই জলোচ্ছাসে তিন লাখের মতো মানুষ নিহত হয় যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার আচেহ প্রদেশেই নিহত হয়েছে এক লাখ মানুষ। 
- অগভীর পানিতে যাওয়ার সময় সুনামি তার শক্তি হারায় অর্থাৎ কমে। 
- বঙ্গোপসাগরে ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত অগভীর পানি বাংলাদেশকে সুনামির কবল থেকে রক্ষা করে থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩১৫.
মৌচাকে কয় ধরনের মৌমাছি থাকে? 
  1. এক ধরনের 
  2. দুই ধরনের 
  3. তিন ধরনের 
  4. চার ধরনের 
ব্যাখ্যা

মৌমাছির জাত: 
- মৌমাছির কলোনিতে তিন জাতের মৌমাছি থাকে। 
যেমন- একটি রাণী, কয়েক হাজার কর্মী ও কয়েকশত পুরুষ। 
- মৌমাছিদের মধ্যে শ্রমবণ্টন লক্ষ করা যায়। 
- তিন ধরনের মৌমাছির দৈহিক গঠনে ভিন্নতা দেখা যায়, এদের এরূপ অবস্থাকে বহুরূপতা বলে। 

রাণী মৌমাছি গঠন: 
- একটি মৌচাকে মাত্র একটি রাণী মৌমাছি থাকে। 
- রাণী মৌমাছি আকারে অনেক বড়। 
- এদের উদর বেশ প্রশস্ত। 
- এদের ডানাগুলো ছোট এবং উদরের শেষ প্রান্ত ক্রমশ সরু। 
- এ সরু প্রান্তে বাঁকানো হুল থাকে যা রূপান্তরিত ওভিপজিটর। 
- এদের প্রোবোসিস ও রেণুখলি থাকে না, পদ ক্ষুদ্রাকৃতির, ম্যান্ডিবল বা চোয়াল তীক্ষ্ণ, মোম ও মধু সৃষ্টি করতে পারে না, লালাগ্রন্থি নেই। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩১৬.
লেজার রশ্মি কে কত সালে আবিষ্কার করেন?
  1. মাইম্যান, ১৯৬০
  2. রাদারফোর্ড, ১৯১৯
  3. বোর, ১৯৬৩
  4. হাইগ্যান, ১৯৬১
ব্যাখ্যা
LASER এর পূর্ণরূপ - Light Amplification by Stimulated Emission Radiation. অর্থাৎ উত্তেজিত বিকিরণের সাহায্যে আলোক বিবর্ধক।
১৯৬০ সালে আমেরিকান পদার্থবিদ থিওডর মাইম্যান প্রথম লেজার তৈরী করেন। লেজারের বিবিধ ব্যবহারের মধ্যে রয়েছে মৃদু শল্যচিকিৎসা এবং পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব পরিমাপ করা।

উৎস: ব্রিটানিকা
১,৩১৭.
মানুষের সুষুম্না স্নায়ু কয় জোড়া?
  1. ক) ১২
  2. খ) ৩১
  3. গ) ২৪
  4. ঘ) ১৬
ব্যাখ্যা

- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
- মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- মানুষের সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া।
উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩১৮.
এক নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে কী বলা হয়? 
  1. পরম আর্দ্রতা
  2. বায়বীয় আর্দ্রতা
  3. গ্যাসীয় আর্দ্রতা
  4. আপেক্ষিক আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
বায়ুর আর্দ্রতা (Humidity): 
- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না। 
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা। 
অর্থাৎ, বায়ুর আর্দ্রতার উপর বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণক্ষমতা নির্ভর করে। 
- বায়ুমণ্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম। 
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে। 
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়। 
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। 
যথা- 
১। পরম আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা। 

২। আপেক্ষিক আর্দ্রতা: 
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপৃক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাতকে বলা হয় আপেক্ষিক আর্দ্রতা। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩১৯.
ভূত্বকের গড় গভীরতা কত কিলোমিটার?
  1. ক) ০৫ কি.মি.
  2. খ) ১০ কি.মি.
  3. গ) ২০ কি.মি.
  4. ঘ) ৩৫ কি.মি
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তা ‘ভূত্বক’ নামে পরিচিত।
- ভূত্বের গড় গভীরতা ২০ কিমি।
- মহাসাগরীয় ভূত্বকের গড় গভীরতা ০৫ কিলোমিটার এবং মহাদেশীয় পৃষ্ঠে ভূত্বকের গড় গভীরতা ৩৫ কিমি।
- মহাদেশীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (Al) দ্বারা গঠিত যা ‘সিয়াল’ (SiAl) স্তর নামে পরিচিত।
- মহাসাগরীয় ভূত্বক সিলিকন (Si) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg) দ্বারা গঠিত যা ‘সিমা’ (SiMg) স্তর নামে পরিচিত।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩২০.
আমাদের দেশে বনায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-
  1. গাছপালা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে
  2. গাছপালা O₂ ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়
  3. দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো অবদান নেই
  4. ঝড় ও বন্যার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়
ব্যাখ্যা
- পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কোন দেশের মোট আয়তনের ন্যূনতম ২৫ ভাগ বনভূমি থাকতে হয়।
- বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের শতকরা ১৭ ভাগ।

উল্লেখ্য যে,
- আমাদের দেশের জন্য বনায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ-
গাছপালা অক্সিজেন ত্যাগ করে পরিবেশকে নির্মল রাখে ও জীব জগতকে বাঁচায়।
• গাছপালা বিভিন্ন ছোট জীবজন্তু ও পাখির আশ্রয়স্থল হিসাবে কাজ করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
• গাছপালা বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে জীবজগতকে রক্ষা করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩২১.
কোন প্রকার বায়ু চাপবলয় দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয়? 
  1. স্থানীয় বায়ু
  2. নিয়ত বায়ু
  3. মৌসুমি বায়ু
  4. সাময়িক বায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ু: 
- পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে যে বায়ু সারাবছর একইদিকে প্রবাহিত হয় তাকে নিয়ত বায়ু বলে। 
- নিয়ত বায়ু তিন প্রকার। 
- যথা: পশ্চিমা বায়ু, অয়ন বায়ু, মেরু বায়ু। 
- পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে। 
- অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু প্রবাহিত হয় ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে। 
- মেরু বায়ু প্রবাহিত হয় মেরু অঞ্চলের উচ্চচাপ বলয় থেকে মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়ের দিকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩২২.
নিম্নের কোন গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে?
  1. পৃথিবী
  2. শুত্রু
  3. মঙ্গল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পৃথিবী, শুত্রু ও মঙ্গল এই তিন গ্রহের বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড রয়েছে। 
 
Both Venus and Mars have atmospheres made of about 96 percent carbon dioxide. 
Earth's atmosphere started out like Venus' atmosphere. 
But Earth's ocean absorbed much of this carbon dioxide, and as photosynthesis evolved, plants converted carbon dioxide to oxygen, increasing oxygen levels in the air from 0.01 percent to 21 percent today.
 
Source: Nasa Website
 
 
১,৩২৩.
আধুনিক চাষে “হাইড্রোপনিক্স” বলতে কী বোঝায়?
  1. পানির নিচে চাষ
  2. মাটি ছাড়া চাষ
  3. সূর্যালোক ছাড়া চাষ
  4. রোবট দ্বারা চাষ
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোপনিক্স (Hydroponics) হলো একটি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, যেখানে মাটি ব্যবহার না করে উদ্ভিদকে পুষ্টিকর তরল দ্রবণে জন্মানো হয়। 

- এই পদ্ধতিতে উদ্ভিদ সরাসরি প্রয়োজনীয় খনিজ লবণ ও পুষ্টি গ্রহণ করে, ফলে বৃদ্ধি হয় দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে।
 
মূল ধারণা:
- হাইড্রোপনিক্স শব্দটি এসেছে “Hydro” (পানি) এবং “Ponos” (পরিশ্রম) শব্দ থেকে।
- এটি এমন এক চাষপদ্ধতি যেখানে পানি ও পুষ্টি মিশ্রণই উদ্ভিদের প্রধান মাধ্যম।

চাষ পদ্ধতি:
- উদ্ভিদ মাটির পরিবর্তে পানি, বালু, কঙ্কর, পারলাইট, বা কোকোপিট ইত্যাদির ওপর জন্মায়।
- এই মাধ্যমে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সালফার, আয়রন, জিংক, বোরন ইত্যাদি খনিজ দ্রবীভূত করে দেওয়া হয়।

অবশ্যক শর্ত:
সূর্যালোক, পানি, পুষ্টি দ্রবণ, অক্সিজেন ও নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা।

সুবিধা:
- মাটির রোগ ও কীটনাশকের সমস্যা থাকে না।
- পানি খরচ কম (প্রায় ৮০–৯০% পর্যন্ত সাশ্রয়)।
- শহুরে ছাদ বা নিয়ন্ত্রিত গ্রীনহাউসে সহজে চাষ সম্ভব।
- উৎপাদন বেশি ও সময় কম লাগে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

১,৩২৪.
মানবদেহে ইনসুলিন নির্গত করে কোন গ্রন্থি?
  1. ক) সাবম্যান্ডিবুলার
  2. খ) পিটুইটারি
  3. গ) আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স
  4. ঘ) প্যারোটিড
ব্যাখ্যা
অগ্ন্যাশয়ের ভিতর আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যান্স নামক এক ধরনের গ্রন্থি আছে যা থেকে ইনসুলিন নির্গত হয়। ইনসুলিনের অভাবেই ডায়াবেটিস রোগ হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
১,৩২৫.
যক্ষ্মা (TB) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ট্রেপটোমাইসিন হলো- 
  1. অ্যান্টিবায়োটিক
  2. ব্যথানাশক
  3. অ্যান্টিসেপটিক
  4. চেতনানাশক 
ব্যাখ্যা

- যক্ষ্মা (TB) রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত স্ট্রেপটোমাইসিন হলো একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত এবং ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে বা তাদের বৃদ্ধি রোধে কাজ করে, বিশেষত Mycobacterium tuberculosis-এর বিরুদ্ধে এটি কার্যকর। 

চিকিৎসা শাস্ত্রে রসায়ন: 

- মানুষের রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি যেমন- MRI, CT scan, X-ray ইত্যাদি যন্ত্রের তত্ত্ব-রাসায়নিক তত্ত্ব থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাধারণ সরঞ্জাম যেমন- সিরিঞ্জ, স্যালাইনের ব্যাগ, ছুরি, কাঁচি, সূঁচ ইত্যাদি রসায়নের অবদান। 
- বিভিন্ন রোগব্যাধি নিরাময়ে ব্যবহৃত ওষুধ, যেমন- নিউমোনিয়ায় পেনিসিলিন, যক্ষ্মায় স্ট্রেপটোমাইসিন, টাইফয়েডে ক্লোরোমাইসেটিন ইত্যাদি রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন করা হচ্ছে। 
- তাছাড়া অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে টিংচার আয়োডিন, হেক্সাক্লোরোফিন, চেতনানাশক হিসেবে ইথার, ক্লোরোফরম ইত্যাদি রসায়নের অনন্য আবিষ্কার যা মানুষের জীবন রক্ষায় চিকিৎসা শাস্ত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩২৬.
আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ-
  1. ধূলিকণা
  2. বায়ুস্তর
  3. বৃষ্টির কণা
  4. অতি বেগুনী রশ্মি
ব্যাখ্যা

- আকাশে রংধনু সৃষ্টির কারণ- বৃষ্টির কণা। 
- সূর্য থেকে যে আলোর রশ্মি পৃথিবীতে আসে তার রঙ মূলত সাদা। 
- এই সাদা রঙের ভেতরে বেগুনী, নীল, আসমানি, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল এই সাতটি রং বিদ্যমান থাকে। 
- সাদা আলোর একটি বিশেষ ধর্ম আছে যা প্রিজমের মধ্য দিয়ে গমন করলে সাদা আলো সাতটি ভিন্ন রঙে বিশ্লেষিত হয়ে যায়। 
- আকাশে যখন বৃষ্টি পড়ে তখন বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ভাসমান প্রিজমের মতো কাজ করে। 
- সূর্য হতে আলো বৃষ্টির ফোঁটার একপাশ দিয়ে প্রবেশ করে বের হবার সময় সাত রঙের বর্ণালী সৃষ্টি করে। 
- বৃষ্টির ফোঁটা বা কণার প্রিজমসুলভ বৈশিষ্ট্যের কারণেই সৃষ্টি হয় রংধনু।  
- বৃষ্টির ফোঁটা হতে বের হওয়া সাত রঙের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় বলেই আমরা রংধনুকে দেখতে পাই। 
- ঘন মাধ্যম থেকে লঘু মাধ্যমে যাওয়ার সময় আলোকরশ্মি যদি দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে মাধ্যম দুটির সংকট কোণের চেয়ে বেশি কোণে আপতিত হয়, তবে ওই আপতিত রশ্মি, দুই মাধ্যমের বিভেদ তলে আপতিত হওয়ার পর ওর সবটুকুই প্রতিফলিত হয়ে আবার ঘন মাধ্যমেই ফিরে আসে, এই ঘটনাকে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ  প্রতিফলন বলে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩২৭.
পতঙ্গনাশক হিসেবে কোন ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়?
  1. Bacillus thuringiensis
  2. Lactobacillus
  3. Escherichia coli
  4. Bacillus megaterium
ব্যাখ্যা
• ব্যাকটেরিয়া: 
- ব্যাকটেরিয়া (Bacteria) হলো আদি নিউক্লিয়াসযুক্ত, অসবুজ, এককোষী একদল আণুবীক্ষণিক জীব।

- Bacillus thuringiensis (Bt) হলো একটি গ্রাম-পজিটিভ, মাটি-বাসি ব্যাকটেরিয়া, যা প্রাকৃতিকভাবে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের কীটপতঙ্গ ধ্বংস করতে সক্ষম।
- এটি জৈবিক পতঙ্গনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি এমন একটি প্রোটিন তৈরি করে যা নির্দিষ্ট পোকামাকড়ের লার্ভা বা শূককীট (larvae) ধ্বংস করে দেয়।

• ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা:
জীবনের জন্য প্রয়োজনীয়:
- ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন পরিবেশে, যেমন- মাটি, জল, বাতাস এবং মানুষের শরীরে, বসবাস করে এবং জীবন্ত জিনিসের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ করে।  

খাদ্য উৎপাদনে সাহায্য:
- কিছু ব্যাকটেরিয়া, যেমন ল্যাক্টোব্যাসিলাস, দই ও পনির তৈরিতে সাহায্য করে.  

রোগ প্রতিরোধে সহায়ক:
- ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন- স্ট্রেপ্টোমাইসিন, টেট্রাসাইক্লিন) রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে.  

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সাহায্য:
- কিছু ব্যাকটেরিয়া বর্জ্য পদার্থ, যেমন- পচনশীল পদার্থ এবং তেল দূষণকে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে.  

জৈবপ্রযুক্তিতে ব্যবহার:
- ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন জৈবপ্রযুক্তিগত কাজে, যেমন- জিন প্রযুক্তি, এবং অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়.  

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ১ম পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
১,৩২৮.
রেশম উৎপাদনের জন্য রেশমকীট মূলত কোন গাছের পাতায় পালন করা হয়?
  1. অর্জুন
  2. আম
  3. বহেরা
  4. তুঁত
ব্যাখ্যা

• সেরিকালচার (Sericulture):
- রেশমকীট মূলত তুঁত গাছের পাতা খেয়ে বেড়ে ওঠে এবং কোকুন তৈরি করে, যা থেকে রেশম সুতা সংগ্রহ করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে সেরিকালচার (Sericulture) বলা হয়।
- রেশম পোকার বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে Bombyx mori রেশম চাষে বেশি ব্যবহার করা হয়।
- এ পোকা তুঁত গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করে বিধায় রেশম চাষীকে তুঁত গাছ চাষ করতে হয়।
- রেশম চাষ এর ইংরেজি হলো Sericulture। ল্যাটিন শব্দ 'Serio' থেকে Sericulture শব্দের উৎপত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। 'Serio' শব্দের অর্থ Silk বা রেশম।
- রেশম পোকার খাদ্যের জন্য তুঁত গাছ চাষ করে এই পোকার লার্ভা পালন করে তাদের সৃষ্ট গুটি বা কোকুন থেকে রেশম সুতা আহরণ করার পদ্ধতিকে রেশম চাষ বলা হয়।
- তুঁত গাছ চাষ ও রেশম পোকার লার্ভা পালন ছাড়াও এ পোকার বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে অধিক উৎপাদনশীল রেশম পোকা উদ্ভাবন করা আধুনিক রেশম চাষের অন্তর্ভুক্ত।
- এ দেশের মাটি, আবহাওয়া ও জলবায়ু রেশম চাষের জন্য বেশ উপযোগী।

উৎস: কৃষি শিক্ষা প্রথমপত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম)- বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩২৯.
বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিম্নের কোন বিক্রিয়াটি বহুল ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) ফিশন
  2. খ) ফিউশন
  3. গ) হাইড্রোলাইসিস
  4. ঘ) বিযোজন
ব্যাখ্যা
কিছু কিছু পরমাণুকে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরমাণুতে পরিণত করলে অর্থাৎ ফিশন বিক্রিয়া ঘটালে প্রচুর পরিমাণে তাপশক্তি বের হয়। এই তাপশক্তি ব্যবহার করে জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়। আমরা সেটিকে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র বলি।
উৎস: নবম শ্রেণির রসায়ন বিজ্ঞান
১,৩৩০.
ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ কোনটি?
  1. হাম
  2. প্লেগ
  3. রুবেলা
  4. মাম্পস
ব্যাখ্যা



তথ্যসূত্র - প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১,৩৩১.
গোধূলির কারণ কী?
  1. ক) প্রতিফলন
  2. খ) বিক্ষেপণ
  3. গ) প্রতিসরণ
  4. ঘ) ব্যতিচার
ব্যাখ্যা
• গোধুলির মূল কারণ হলো আলোর বিক্ষেপণ
- সূর্য যখন দিগন্তের নিচের দিকে অবস্থান করে, তখন নীল আর সবুজ রং ভেঙে যায় এবং আমরা কমলা এবং লাল রং-এর আভা দেখতে পাই। এসময় সূর্যকে লাল দেখায়। এটাই গোধুলি নামে পরিচিত।
- এর কারণ, আলোর যে রংগুলোর তরঙ্গদৈঘ্য ছোট (যেমন, বেগুনি এবং নীল) সেগুলোর বিক্ষেপণ বেশি হয়, বেশি তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলো যেমন, কমলা এবং লাল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি বলে এর বিক্ষেপণ কম হওয়ায় এরা সরাসরি পৃথিবীতে চলে আসে।

উৎস: বিবিসি।
১,৩৩২.
আইনস্টাইন নােবেল পুরস্কার পান-
  1. আপেক্ষিক তত্ত্বের উপর
  2. মহাকর্ষীয় ধ্রুবক আবিষ্কারের জন্য
  3. কৃষ্ণগহ্বর আবিষ্কারের জন্য
  4. আলোক তড়িৎ ক্রিয়ার ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য
ব্যাখ্যা
- কোন কোন ধাতুর উপর আলো পড়লে তাৎক্ষণিক ইলেকট্রন নির্গত হয় একে ফটো-তড়িৎ ক্রিয়া বলে।
- ১৯০৫ সালে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাহায্যে ফটো তড়িৎ ক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন।
- এই জন্য তিনি ১৯২১ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
১,৩৩৩.
কোন স্থানের সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোন রেখাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. অক্ষরেখা
  2. মেরুবৃত্তীয় রেখা
  3. দ্রাঘিমারেখা
  4. নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
- দ্রাঘিমারেখার উপর সূর্যের অবস্থানের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণ করা হয়।
- পুরো পৃথিবীকে মোট ৩৬০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখায় বিভক্ত করা হয়েছে।
- প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- মূল মধ্যরেখা বা ০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখাকে প্রমাণ সময় বিবেচনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখার পূর্বদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে যোগ করে প্রমাণ সময় নির্ণয় করতে হয়।
- মূল মধ্যরেখার পশ্চিমদিকে অবস্থিত অঞ্চলসমূহের ক্ষেত্রে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে ৪ মিনিট করে সময় বিয়োগ করে প্রমাণ সময় নির্ণয় করতে হয়।
- ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমারেখা আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত যা প্রশান্ত মহসাগরের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
১,৩৩৪.
ঢাকার দ্রাঘিমা ৯০° পূর্ব এবং রিয়াদের দ্রাঘিমা ৬০° পূর্ব। ঢাকার স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা হলে সেই সময় রিয়াদের স্থানীয় সময় কত?
  1. দুপুর ১ টা
  2. দুপুর ১২টা
  3. বিকাল ৩টা
  4. রাত ১২টা
ব্যাখ্যা
আমরা জানি,
প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্য সময়ের পার্থক্য ৪ মিনিট

ঢাকা ও রিয়াদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ৯০° -  ৬০° = ৩০°

সময়ের পার্থক্য হবে ৩০ × ৪ = ১২০মিনিট অর্থাৎ ২ ঘণ্টা

প্রশ্নে উল্লিখিত,
৬০° পূর্ব দ্রাঘিমা দেখে আমরা বুঝতে পারি, রিয়াদ ঢাকার পশ্চিমে অবস্থিত।
তাই ঢাকার স্থানীয় সময় থেকে এই ২ ঘণ্টা বাদ যাবে।

রিয়াদের স্থানীয় সময় হবে
= বিকাল৩টা – ২ ঘণ্টা ।

এখানে বিকাল ৩টা বলতে ১৫টা হবে।]

= ১৫টা - ২ ঘণ্টা= ১৩টা অর্থাৎ দুপুর ১ টা

উত্তর: রিয়াদের স্থানীয় সময় হবে দুপুর ১ টা
১,৩৩৫.
এইডস রোগ রক্তের কোন কণিকা ধ্বংস করে দেয়?
  1. লোহিত কণিকা
  2. শ্বেত কণিকা
  3. অনুচক্রিকা
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• এইডস:
- এইডস (Acquired Immune Deficiency Syndrome) রোগটি HIV (Human Immunodeficiency Virus) নামক ভাইরাসের কারণে হয়।
- এই ভাইরাসটি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়।
- HIV প্রধানত CD4 + T lymphocyte নামক একটি বিশেষ ধরনের শ্বেত কণিকা আক্রমণ করে এবং ধীরে ধীরে এগুলিকে ধ্বংস করে।
- এই কোষগুলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমের মূল সেনা, যারা বিভিন্ন রোগজীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে।
- যখন এই কোষের সংখ্যা খুব কমে যায়, তখন শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজেই নানা ধরনের সংক্রমণ ও কিছু ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়  এ অবস্থাকেই বলা হয় এইডস।

উৎস: National Institutes of Health (NIH)।
১,৩৩৬.
এনজাইম, অ্যান্টিবডি এবং হরমোন এর মৌলিক উপাদান _____।
  1. লবণ
  2. ভিটামিন
  3. ক্যালসিয়াম
  4. প্রোটিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন:
- প্রোটিন জীবদেহের একটি অত্যন্তগুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক পদার্থ।
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। আর অ্যামাইনো অ্যাসিড হলো প্রোটিনের মূল গাঠনিক একক।
-  প্রোটিন অণু বহু সংখ্যক অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে তৈরি। প্রোটিন শব্দটি সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেন জি. মুলার ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে। 

- প্রোটিন অসংখ্য অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত বৃহদাকার যৌগিক জৈব অণু। 
- একটি কোষের অভ্যন্তরে সারাক্ষণ শত শত প্রকার প্রোটিন তৈরি হয়।
- জীবদেহের প্রায় সর্বত্রই প্রোটিন বিরাজমান। জৈব ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এনজাইম, অ্যান্টিবডি, হরমোন। এগুলো সবই প্রোটিন।
-  সব এনজাইম প্রোটিন কিন্তু সব প্রোটিন এনজাইম নয়।
- বিভিন্ন অ্যামাইনো অ্যাসিড বিভিন্নভাবে শৃঙ্খলিত হয়ে এক একটি প্রোটিন গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৩৭.
রােগ প্রতিরােধ-ব্যবস্থার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার ফলে হয় -
  1. ক) নিউমোনিয়া
  2. খ) অ্যাজমা
  3. গ) যক্ষা
  4. ঘ) অ্যানিমিয়া
ব্যাখ্যা

অ্যাজমা সাধারণত রােগ প্রতিরােধ-ব্যবস্থার অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়ার ফলে হয়ে থাকে। অর্থাৎ কোনাে একটি বহিঃস্থ পদার্থ ফুসফুসে প্রবেশ করলে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করতে দেহের প্রতিরােধ-ব্যবস্থার যেটুকু প্রতিক্রিয়া দেখানাের কথা, তার চেয়ে অনেক তীব্রভাবে প্রতিক্রিয়া ঘটলে অ্যাজমা হতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রেই অ্যাজমা আক্রান্ত শিশু বা ব্যক্তির বংশে হাঁপানি বা অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে। এটি ছোঁয়াচে নয়, জীবাণুবাহিত রােগও নয়।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

১,৩৩৮.
কোন মাধ্যমে শব্দের গতি সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. ক) শূন্যতায়
  2. খ) কঠিন পদার্থে
  3. গ) তরল পদার্থে
  4. ঘ) বায়বীয় পদার্থে
ব্যাখ্যা
শব্দের বেগ সবচেয়ে বেশি কঠিন মাধ্যমে এবং সবচেয়ে কম বায়বীয় মাধ্যমে।

উল্লেখ্য, শব্দ মাধ্যম ছাড়া পরিবাহিত হতে পারে না।
তাই শূণ্যতায় শব্দের কোন অস্তিত্বই নেই, গতি কম বা বেশি হওয়ার তো প্রশেই আসে না।

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বই
১,৩৩৯.
'গ্রানাইট' কোন ধরনের শিলার উদাহরণ?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. স্তরীভূত শিলা
ব্যাখ্যা

- জন্মের প্রথমে পৃথিবী ছিলো একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। এর পর আবার তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে বলে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় বলে তাকে প্রাথমিক শিলা ও অস্তরীভূত শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলায় কোন জীবাশ্ম নেই।
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক, সিল, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।
- পাললিক শিলার উদাহরণঃ চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, জিপসাম, ডায়াটম, ডোলোমাইট ইত্যাদি।
- আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- নিস, মার্বেল, স্লেট, গ্রাফাইট, কোয়ার্টাজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রুপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টাজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হলে নিস।
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪০.
প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ কোনটি? 
  1. স্পুটনিক-১
  2. টেলস্টার-১
  3. এক্সপ্লোরার-৩
  4. ভ্যানগার্ড-১
ব্যাখ্যা

বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটি হলো স্পুটনিক-১।

• কৃত্রিম উপগ্রহ ও এর ইতিহাস: 
- মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ। 
- রকেটের সাহায্যে এদের উৎক্ষেপণ করা হয়। 
- পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা এদের নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরে। 
- কৃত্রিম উপগ্রহ চাঁদের তুলনায় অনেক ছোট এবং চাঁদের তুলনায় অনেক নিচু দিয়ে পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে। 
- নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরার জন্য এদের প্রয়োজনীয় দ্রুতি থাকতে হয়। পৃথিবী থেকে কৃত্রিম উপগ্রহের উচ্চতা যত বেশি হবে তার দ্রুতি হবে তত কম। ফলে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করতে এরা বেশি সময় নেবে। 
- পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় এর নিজ অক্ষের চারদিকে একবার ঘুরে। সুতরাং, কোনো কৃত্রিম উপগ্রহ যদি ২৪ ঘণ্টায় পৃথিবীর চারদিকে একবার ঘুরে আসে, তাহলে একে পৃথিবী থেকে স্থির বলে মনে হবে। 

- মহাকাশযাত্রার প্রথম পদক্ষেপটির সূচনা করেছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালের ৪ঠা অক্টোবর। তারা স্পুটনিক-১ নামক কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে উৎক্ষেপণ করে, স্পুটনিক শব্দের অর্থ হলো ভ্রমণসঙ্গী বা সহযাত্রী। একই বছর ২রা নভেম্বর স্পুটনিক-২ নামক আরেকটি কৃত্রিম উপগ্রহ তারা মহাকাশে পাঠান। 
- প্রথম মার্কিন কৃত্রিম উপগ্রহের নাম এক্সপ্লোরার-১, এই উপগ্রহ ১৯৫৮ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি মহাকাশে পাঠানো হয়। 
- ভস্টক-১ নামক সোভিয়েত কৃত্রিম উপগ্রহ মানুষ নিয়ে প্রথম পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। যে মানুষটি প্রথম মহাকাশে গিয়েছিলেন, তিনি হলেন সোভিয়েত ইউনিয়নের ইউরি গ্যাগারিন। তিনি ১৯৬১ সালের ১২ই এপ্রিল ভস্টক-১ কৃত্রিম উপগ্রহে চড়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করেন। 
- ভস্টক-৬ নামক কৃত্রিম উপগ্রহে (মহাকাশযান) চড়ে প্রথম সোভিয়েত নারী মহাকাশচারি ভেলেনটিনা তেরেসকোভা মহাকাশে ঘুরে আসেন ১৯৬৩ সালে। 
- ইনটেলসেট-১ কৃত্রিম উপগ্রহকে পাঠানো হয় বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের জন্য যোগাযোগ উপগ্রহ হিসেবে। 
- রিমোটসেনসিং বা দূর অনুধাবনের জন্য পাঠানো প্রথম উপগ্রহ হলো ল্যান্ডসেট-১, একে পাঠানো হয় ১৯৭২ সালে। 
- আন্তর্জাতিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য অ্যাপোলো-সয়োজ টেস্ট প্রজেক্ট নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে প্রথম পাঠানো হয় ১৯৭৫ সালে। 
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ এ পর্যন্ত হাজার হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। কয়েক হাজার কৃত্রিম উপগ্রহ বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হাজার হাজার অব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহ বা তাদের অংশবিশেষ মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ হিসেবে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। 

অন্যান্য অপশন:
- টেলস্টার-১: এটি ছিল প্রথম বাণিজ্যিক যোগাযোগ উপগ্রহ (১৯৬২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক উৎক্ষেপিত)।
- এক্সপ্লোরার-৩: এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাথমিক বৈজ্ঞানিক উপগ্রহ (১৯৫৮ সালে উৎক্ষেপিত)।
- ভ্যানগার্ড-১: এটি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সফলভাবে উৎক্ষেপিত প্রথম সৌরশক্তিচালিত উপগ্রহ (১৯৫৮ সালে উৎক্ষেপিত)।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

১,৩৪১.
পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে সমান দুই ভাগে বিভক্তকারী রেখার নাম কী?
  1. গ্রিনউইচ রেখা
  2. নিরক্ষরেখা
  3. কর্কটক্রান্তি রেখা
  4. মকরক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা

নিরক্ষরেখা:
- পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই গোলার্ধে বিভক্তকারী রেখাটির নাম নিরক্ষরেখা।
- এটি সর্ববৃহৎ অক্ষাংশ রেখা।
- নিরক্ষরেখার (০০) উত্তর ও দক্ষিণে এই অক্ষরেখা সমূহের আকার ক্রমশ ছোট হতে হতে দুই মেরুতে একেবারে বিন্দুতে পরিণত হয়।
- অর্থাৎ অক্ষরেখাগুলো নিরক্ষরেখার সাথে কৌণিক দুরত্বে কল্পিত কতিপয় সমাক্ষরেখা।
- ২৩.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে কর্কটক্রান্তি রেখা ও মকর ক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত হয়।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখাসমূহ যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত ও কুমেরু বৃত্ত নামে অভিহিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৩৪২.
ভয়েজার-২ মহাকাশে প্রেরণ করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৭৭ সালে
  2. খ) ১৯৮৩ সালে
  3. গ) ১৯৯৭ সালে
  4. ঘ) ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
২০ আগস্ট ১৯৭৭ সালে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ভয়েজার-২ যানটি মহাকাশের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করে।
এবং একই বছরে ৫ সেপ্টেম্বর ভয়েজার-১ প্রেরণ করা হয়। 

১ আগস্ট ২০১২ সালে ভয়েজার-১ এবং ১০ ডিসেম্বর ২০১৮ ভয়েজার-২ ইন্টারস্টেলার স্পেসে প্রবেশ করে।

সূত্র: নাসা ওয়েবসাইট
১,৩৪৩.
উপকূলের কোনো একটি স্থানে জোয়ারের কত ঘন্টা পর ভাঁটা হয়?
  1. ৬ ঘন্টা
  2. ১২ ঘন্টা
  3. ১৮ ঘন্টা
  4. ২৪ ঘন্টা
ব্যাখ্যা

জোয়ার-ভাঁটা: 
- উপকূলে কোনো একটি স্থানে পর পর দুটি জোয়ারের মধ্যে ব্যবধান হলো প্রায় ১২ ঘণ্টা। 
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষন শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দের শক্তি প্রভৃতি কারনে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় পরপর এক জায়গায় ফুলে উঠাকে জোয়ার এবং নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলে। 
- সমুদ্রের একই জায়গায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা হয়। 
- জোয়ারের ৬ ঘন্টা পরে ভাঁটা হয়। 

উৎস: মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৪৪.
কোনো অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সম্পর্ককে কী বলা হয়?
  1. জীবমণ্ডল
  2. পরিবেশ
  3. বাস্তুতন্ত্র
  4. খাদ্যশৃঙ্খল
ব্যাখ্যা

• কোন অঞ্চলের জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ককে বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) বলা হয়।

• পরিবেশ ও এর উপাদান:
- পরিবেশ গঠিত হয় জীব উপাদান ও জড় উপাদান নিয়ে।
- জীব উপাদানের মধ্যে উদ্ভিদ, প্রাণী ও অণুজীব অন্তর্ভুক্ত।
- জড় উপাদানের মধ্যে বায়ু, পানি, মাটি, আলো, তাপ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত।
- পরিবেশে জীব ও জড় উপাদান সবসময় পারস্পরিক ক্রিয়া ও আদান-প্রদানে যুক্ত থাকে।
 
• বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem):
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক নির্ভরশীল সম্পর্ককে বাস্তুতন্ত্র বলা হয়।
- বাস্তুতন্ত্রে জীব উপাদান জড় উপাদানের উপর নির্ভরশীল।
- একইভাবে জীব উপাদানও একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
- এই নির্ভরশীলতার মাধ্যমেই জীবের বেঁচে থাকা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।
 
• জীব ও জড় উপাদানের পারস্পরিক সম্পর্ক:
- উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য সূর্যালোক, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে।
- প্রাণী খাদ্য ও অক্সিজেনের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।
- বায়ু, পানি ও মাটি ছাড়া কোনো জীবের জীবনধারণ সম্ভব নয়।
- এ সম্পর্ক কখনো সহজ, আবার কখনো জটিল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
 
• বাস্তুতন্ত্রে প্রক্রিয়াসমূহ:
- সালোকসংশ্লেষণ উদ্ভিদ ও জড় উপাদানের সম্পর্কের প্রধান প্রক্রিয়া।
- শ্বসন উদ্ভিদ ও প্রাণীর শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়া।
- এই দুই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশে গ্যাস ও শক্তির প্রবাহ বজায় থাকে।
- ফলে জীবমণ্ডলে একটি সামগ্রিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- জীবমণ্ডল → পৃথিবীর সকল বাস্তুতন্ত্রের সমষ্টি।
- পরিবেশ → জীব ও জড় উপাদানের সামগ্রিক অবস্থা।
- খাদ্যশৃঙ্খল → জীবের মধ্যে খাদ্যনির্ভর সম্পর্কের ধারা।

 উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

১,৩৪৫.
বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ কী? 
  1. নিম্নচাপ
  2. অতিবৃষ্টি
  3. উচ্চচাপ
  4. বায়ুপ্রবাহ
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়: 

• কালবৈখাশী ঝড় বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
• এটি গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। 
• সাধারণত বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায়। 
• কালবৈশাখী ঝড়ে বাৎসরিক এক পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত হয় 
• এ ঝড়ের ফলে উষ্ণতা স্বাভাবিকের তুলনায় ৫-১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস কমে যায়।
• কালবৈশাখী ঝড় সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো নিম্নচাপ (Depression)। 
• নিম্নচাপের কারণে উষ্ণ বাতাস ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এর ফলে সৃষ্ট ফাঁকা জায়গা পূরণের জন্য ঠান্ডা বাতাস প্রচন্ড বেগে ঐ ফাঁকা স্থানের দিকে অগ্রসর হয়। ফলে ঝড়ের উৎপত্তি হয়। 
• এ ঝড়ের গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ৪০ কি. মি. থেকে ৮০ কি.মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে। 
• এ ঝড় দেশের পূর্বাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সংঘটিত হয় এবং এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বেশি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১,৩৪৬.
পোলিও টিকা দেওয়া শুরু করার শেষ বয়স সীমা কত?
  1. ৬ সপ্তাহ
  2. ৬ মাস
  3. ২ বছর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পোলিও টিকার ১ম ডোজের উপযুক্ত বয়স ৬ সপ্তাহ এবং টিকা শুরু করার শেষ বয়স সীমা ২ বছর।

- পোলিও এক ধরনের ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ।
- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন।
- ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।
- বাংলাদেশে ১৯৫৫ সালে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

• সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি:

উৎস:
১. পরিবেশ শিক্ষা-বিজ্ঞান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
১,৩৪৭.
'ধনুষ্টংকার' রোগ কোনটির সংক্রমনে হয়?
  1. ক) ভাইরাস
  2. খ) ব্যাকটেরিয়া
  3. গ) ছত্রাক
  4. ঘ) শৈবাল
ব্যাখ্যা


সূত্র: জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (উদ্ভিদবিজ্ঞান), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৪৮.
আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯০৫ সালে
  2. খ) ১৯১১ সালে
  3. গ) ১৯১৬ সালে
  4. ঘ) ১৯০০ সালে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
আপেক্ষিক তত্ত্ব মূলত দুইভাগে বিভক্ত, যথা- আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব এবং আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব।
আপেক্ষিকতার সাধারণ বা সার্বিক তত্ত্ব পরস্পরের তুলনায় ঊর্ধ্ব বা নিম্নগতিশীল বস্তুসমূহ বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করেছে। এটি প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সালে।
পক্ষান্তরে আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব শুধু পরস্পরের তুলনায় সমগতিতে সঞ্চরণশীল বা অসঞ্চরণশীল বস্তু বা সিস্টেম নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এটি সাধারণ তত্ত্বের একটি বিশেষ রূপ। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯০৫ সালে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১,৩৪৯.
মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক কে ছিলেন?
  1. স্টিফেন হকিং
  2. রন্টজেন
  3. ভিক্টর হেস
  4. গ্যালিলিও
ব্যাখ্যা

• মহাজাগতিক রশ্মি হলো উচ্চ-শক্তির কণা, যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। এর আবিষ্কারক ছিলেন ভিক্টর হেস। ১৯১২ সালে হেস বেলুনের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের উচ্চতার সঙ্গে কণার তীব্রতা পরিমাপ করেন। তিনি দেখেন, উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কণার পরিমাণও বাড়ছে, যা নির্দেশ করে যে এই কণাগুলো পৃথিবীর বাইরে থেকে আসছে। তাই তিনি প্রমাণ করেন যে মহাজাগতিক রশ্মি একটি মহাকাশীয় উৎস থেকে আসে। অন্যান্য অপশন  যেমন স্টিফেন হকিং ছিলেন কালো গহ্বর ও মহাবিশ্ব বিজ্ঞানের গবেষক, রন্টজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কারক এবং গ্যালিলিও খগোলীয় পর্যবেক্ষক, তারা এই আবিষ্কারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো গ) ভিক্টর হেস।
 
• মহাজাগতিক রশ্মি (Cosmic rays):
- বাইরে থেকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে উচ্চ শক্তিসম্পন্ন যে আহিত কণাসমূহ প্রবেশ করে তাদেরকে সমষ্টিগতভাবে মহাজাগতিক রশ্মি বলা হয়।
- ধারণা করা হয় ছায়াপথের বাইরে নতুন নতুন নক্ষত্রের বিস্ফোরণের ফলে বেশির ভাগ মহাজাগতিক রশ্মির সৃষ্টি হয়।
- কসমিক-রে বা মহাজাগতিক রশ্মির আবিষ্কারক- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস।
- মহাজাগতিক রশ্মি আবিষ্কারের জন্য ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস ১৯৩৬ সালে অপর বিজ্ঞানী কার্ল ডেভিড অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- ভিক্টর ফ্রান্সিস হেস একজন অস্ট্রীয়-মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী।
- বেলুনের মাধ্যমে বহনযোগ্য বিভিন্ন যন্ত্রের মাধ্যমে হেস এবং তার সহকর্মীরা প্রমাণ করেছিলেন, যে বিকিরণ পরিবেশকে আয়নিত করে তার উৎস হল মহাজাগতিক।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের আধুনিক ব্যাখ্যা প্রদান করেন স্টিফেন হকিং।
- গ্যালিলিও মুক্তভাবে পড়ন্ত বস্তুর জন্য তিনটি সূত্র প্রদান করেন।
- ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী উইলিয়াম রন্টজেন আবিষ্কার করেন যে, তড়িৎক্ষরণ নল থেকে যখন ক্যাথোড রশ্মি নলের দেয়ালে পড়ে তখন এক্সরে উৎপন্ন হয়।

উৎস:
১. পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. ব্রিটানিকা

১,৩৫০.
ফসল উৎপাদনের জন্য কোন ধরনের মাটি উত্তম?
  1. এঁটেল মাটি
  2. পলি মাটি
  3. বেলে মাটি
  4. দো-আঁশ মাটি
ব্যাখ্যা
দো-আঁশ মাটি: 

- ফসল উৎপাদনের জন্য দো-আঁশ মাটি উত্তম।
- কারণ, দো-আঁশ মাটিতে বালি, পলি, কর্দমকণা প্রায় সমান অনুপাতে বিদ্যমান থাকে।
- এ মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে তাই চাষের জন্য সর্বাপেক্ষা উপযোগী।
- এ মাটির পানি ধারণ ও শোষণ ক্ষমতা উভয় বেশি।
- বাংলাদেশের অধিকাংশ মাটি দো-আঁশ মাটি।
- কৃষিক্ষেত্রে দো-আঁশ মাটিকে আদর্শ মাটি বলা হয়। 
 
উৎস: কৃষি শিক্ষা, অষ্টম শ্রেণি।
১,৩৫১.
রেশম পোকা থেকে তৈরি গুটিকে কী বলা হয়?
  1. ক) ফাইব্রেয়ন
  2. খ) বোরাক্স
  3. গ) কোকুন
  4. ঘ) কেরাটিন
ব্যাখ্যা
রেশম:
- সৌন্দর্য ও গুণে রেশমের তৈরি পোশাক আসলে রাজকীয় পোশাক। 
- রেশমকে তন্তুর রাণি বলা হয়। 
- রেশম বা পলু পোকা নামের এক জাতীয় পোকার গুটি বা কোকুন থেকে রেশম বা সিল্ক তন্তু আহরণ করা হয়ে থাকে। 
- বাংলাদেশের রাজশাহী জেলায় রেশমের চাষ করা হয়।
- রেশম রাজকীয় তন্তু কিন্তু পানি ধারণক্ষমতা অত্যধিক হওয়ায় রেশমের তৈরি পোশাক পানি দিয়ে ধোয়া যায় না। 
- এগুলো হচ্ছে পলু পোকার মুখ নিসৃত লালা যা আপন শরীরের চারপাশে এরা বুনতে থাকে।
- রেশম তন্তু ফাইব্রেয়ন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরি।
- রেশম পোকা থেকে তৈরি গুটিকে কোকুন (Cocoon) বলা হয়।

--------------------------------
- মানুষের চুল ও নখে কেরাটিন নামক প্রোটিন থাকে।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২. সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫২.
ফোটন কণা-
  1. ক) ভরহীন
  2. খ) তড়িৎ নিরপেক্ষ
  3. গ) স্থিতিশীল
  4. ঘ) উপরের সবগুলি
ব্যাখ্যা
আলাে যে ক্ষুদ্র শক্তির প্যাকেট রুপে নির্গত হয় তাকে ফোটন বলে।
ফোটন ভরহীন, তড়িৎ নিরপেক্ষ স্থিতিশীল/সুস্থিত। ফোটন এর দুইটি সম্ভাব্য সমবর্তন দশা রয়েছে।
ফোটন এর কোনো চার্জ না থাকার কারনে তড়িৎ বা চুম্বক ক্ষেত্র প্রভাব বিস্তার করতে পারেনা। কোয়ান্টাম তত্ত্বের অপর নাম ফোটন তত্ত্ব।
১,৩৫৩.
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য মূলত কোন প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয়?
  1. পারমাণবিক সংযোজন
  2. পারমাণবিক বিভাজন
  3. তেজস্ক্রিয় ক্ষয়
  4. আয়নীকরণ
ব্যাখ্যা

◉ পারমাণবিক বিভাজন (Nuclear Fission) হলো একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস (যেমন ইউরেনিয়াম-235 বা প্লুটোনিয়াম-239) ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয়।
- এই শক্তি পানিকে বাষ্পে রূপান্তরিত করতে ব্যবহৃত হয়, যা টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

নিউক্লিয় ফিশন বিক্রিয়া: 
- নিউক্লিয় ফিশন হল এমন একটি পারমাণবিক প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি বা ততোধিক হালকা নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়।
- একে বিয়োজন বিক্রিয়াও বলা হয়।
- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
পারমাণবিক সংযোজন (Nuclear Fusion) — হালকা পরমাণু মিলিয়ে ভারী পরমাণু তৈরি, যা সূর্যের শক্তির উৎস, তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখনো বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়।
তেজস্ক্রিয় ক্ষয় (Radioactive Decay) — স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিউক্লিয়াস থেকে কণা বা বিকিরণ নির্গমন, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া নয়।
আয়নীকরণ (Ionization) — ইলেকট্রন যোগ-বিয়োগ করে আয়ন তৈরি, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল প্রক্রিয়া নয়। 

উৎস: রসায়ন (নবম-দশম শ্রেণি)।

১,৩৫৪.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরের গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে?
  1. ক) ট্রপোস্ফিয়ার
  2. খ) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  3. গ) আয়োনোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার স্তরের ওজোন গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে। এই স্তর ভূ-পৃষ্ট থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। সূত্রঃ বিজ্ঞান ৬ষ্ঠ শ্রেণি।
১,৩৫৫.
পৃথিবীর পরিধি কত ডিগ্রি?
  1. ক) ৩৬০ ডিগ্রি
  2. খ) ২৬০ ডিগ্রি
  3. গ) ১৮০ ডিগ্রি
  4. ঘ) ৯০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:

- পৃথিবীর পরিধি ৩৬০ ডিগ্রি।
- পৃথিবীকে বলা হয় আদর্শ গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৬.
আলফ্রেড নোবেল কী আবিষ্কার করেন?
  1. ক) বিদ্যুৎ
  2. খ) পলিও টিকা
  3. গ) ডিনামাইট
  4. ঘ) কয়লা
ব্যাখ্যা

- সুইডেনের বৈজ্ঞানিক আলফ্রেড নোবেল ডিনামাইট আবিস্কার করেন।
মানবকল্যানের জন্য তিনি ডিনামাইট আবিষ্কার করলেও যখন এটি ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহৃত হতে থাকে তখন তিনি ডিনামাইট আবিস্কার বাবদ প্রাপ্ত অর্থ মানবকল্যানে দান করেন।
সে অর্থে তিনি ১৮৯৬ সালে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তন করেন যা ১৯০১ সাল থেকে ৬ টি বিষয়ে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সারা বিশ্বে প্রদান করা হয়।

- ১৯৫২ সালে জোনাস এডওয়ার্ড সাল্ক‌ পোলিওর টিকা উদ্ভাবন করেন। ১৯৫৭ সালে আলবার্ট সাবিন মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা আবিষ্কার করেন।

উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা এবং লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার : অক্টোবর সংখ্যা

১,৩৫৭.
আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক বলা হয় কাকে?
  1. গ্যালিলিও
  2. হাবল
  3. টলেমি
  4. নিকোলাস কোপার্নিকাস
ব্যাখ্যা
- নিকোলাস কোপার্নিকাস (১৪৭৩-১৫৪৩) একজন বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
- নিকোলাস কোপার্নিকাস প্রথম আধুনিক সুর্যকেন্দ্রিক সৌরজগতের মতবাদ প্রদান করেন।
- নিকোলাস কোপার্নিকাস হলেন, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের জনক।
- গ্যালিলিও দৃঢ়ভাবে কোপার্নিকাস এর সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্বকে সমর্থন করেছিলেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
১,৩৫৮.
কোয়াসার কী?
  1. মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু
  2. সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ
  3. সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ
  4. একটি সুপারনোভা বিস্ফোরণের অবশেষ
ব্যাখ্যা
• কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু, যা সাধারণত অনেক দূরের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থান করে। এগুলো একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চারপাশে গঠিত গ্যাস ও ধূলিকণার ঘূর্ণনের ফলে তাপ ও শক্তি উৎপন্ন করে অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। কোয়াসার এতটাই উজ্জ্বল যে এটি একটি গোটা গ্যালাক্সিকে ছাপিয়ে আলো দিতে পারে, যদিও এর আকার তুলনামূলকভাবে ছোট। এরা মূলত মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- তাই সঠিক উত্তর হলো: ক) মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু।


কোয়াসার (Quasar): 

- মহাবিশ্বে এ যাবৎ কালের আবিস্কৃত সবচেয়ে বিস্ময়কর বস্তু সম্ভবত কোয়াসার। 
- কোয়াসার হলো মহাবিশ্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল বস্তু। 
- একটি কোয়াসারের মোট শক্তির পরিমাণ একটি সম্পূর্ণ গ্যালাক্সির শক্তির চেয়ে প্রায় 100 গুণ বেশি। অথচ একটি কোয়াসারের ব্যাপ্তি সৌরজগতের প্রায় দ্বিগুণের মতো। 
- বিজ্ঞানীদের অনেকেই মনে করেন কোয়াসার হলো গ্যালাক্সির কেন্দ্রে অবস্থিত ঘূর্ণায়মান ব্ল্যাক হোল যা ক্রমাগত সন্নিকটবর্তী নক্ষত্রসমূহকে গ্রাস করে চলছে। 
- সুতরাং কোয়াসারের শক্তির উৎস ব্ল্যাক হোল কর্তৃক নক্ষত্র গলধঃকরণ হতে পারে। 
- কোয়াসার এখনও মহাবিশ্বের অতি রহস্যময় এক বস্তু। 
- তবে কোয়াসারের যে বৈশিষ্ট্যগুলো এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়েছে তাদের মধ্যে উলেখযোগ্য হলো: কোয়াসার দেখতে নক্ষত্রের মতো, তাদের রং নীলাভ, কতকগুলো কোয়াসার তীব্র বেতার বিকিরণের উৎস, কোয়াসারের লোহিত সরণ খুবই বেশি প্রভৃতি। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৫৯.
Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC) -এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা কত সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে?
  1. ৩০ সেন্টিমিটার
  2. ৩৮ সেন্টিমিটার
  3. ৩৪ সেন্টিমিটার
  4. ৪০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
- জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)-এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের প্রভাব অনেক মারাত্মক এবং তা ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে। 
- পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে প্রায় ০.৭° সেলসিয়াস বেড়েছে। 
- ১৯৬১-২০০৩ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা গড়ে প্রতি বছরে ১.৮ সেন্টিমিটার করে বেড়েছে। 
- ১৯৯৫-২০০৬ পর্যন্ত ১২ বছরের মধ্যে ১১ বছরই প্রচন্ড গরম পড়েছে। পরবর্তী দুই দশকে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা প্রতি দশ বছরে গড়ে ০.২°-০.৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাবে। 
- ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১°-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। 
- প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়, আইলা, সিডর, নার্গিস, ক্যাটরিনার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ আরো ঘন ঘন হবে এবং তার মাত্রা আরো ভয়ানক হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৬০.
কে প্রথম বোসন কণার ধারণা ব্যবহার করে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন?
  1. ম্যাক্স প্ল্যাংক
  2. জগদীশচন্দ্র বসু
  3. প্রফুল্ল চন্দ্র বসু 
  4. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
ব্যাখ্যা

আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা: 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের সূচনা হয়। 
- 1803 সালে ডাল্টন পারমাণবিক তত্ত্ব দিয়েছেন, 1897 সালে থমসন সেই পরমাণুর ভেতর ইলেকট্রন আবিষ্কার করেছেন, 1911 সালে রাদারফোর্ড দেখিয়েছেন, পরমাণুর কেন্দ্রে খুবই ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াসে পজিটিভ চার্জগুলো থাকে। কিন্তু দেখা গেল নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরন্ত ইলেকট্রনের মডেলটি কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না, কারণ বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় সূত্র অনুযায়ী এই অবস্থায় ইলেকট্রন তার শক্তি বিকিরণ করে নিউক্লিয়াসের ভেতর পড়ে যাবে; কিন্তু বাস্তবে তা কখনো ঘটে না। 
- 1900 সালে ম্যাক্স প্ল্যাংক কোয়ান্টাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেন, যা ব্যবহার করে কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়। পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানী বোর পরমাণুর স্থিতিশীলতা ব্যাখ্যা করার জন্য কোয়ান্টাম তত্ত্ব ব্যবহার করেন। 
- বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু 1924 সালে কোয়ান্টাম তত্ত্বের ধারণা ব্যবহার করে বিকিরণ সংক্রান্ত কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্ব প্রদান করেন। এজন্য বিজ্ঞানী বসুকে কোয়ান্টাম সংখ্যায়নতত্ত্বের জনক হিসেবে অভিহিত করা হয়, এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ একশ্রেণির মৌলিক কণাকে বোসন (Boson) নাম দেওয়া হয়। 
- 1900 থেকে 1930 সাল পর্যন্ত এই সময়টিতে হাইজেনবার্গ, শ্রোডিঙ্গার, ডিরাকসহ অনেক বড় বড় বিজ্ঞানী মিলে পদার্থের কোয়ান্টাম তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত করেন। 

- বিদ্যুৎ চৌম্বকীয় তরঙ্গের বাহক হিসেবে ইথার নামে একটি বিষয় কল্পনা করে নেওয়া হয়েছিল এবং 1887 সালে মাইকেলসন ও মোরলি তার অস্তিত্ব আবিষ্কার করার চেষ্টা করে দেখান যে প্রকৃতপক্ষে ইথার বলে কিছু নেই এবং আলোর বেগ স্থির কিংবা গতিশীল সব মাধ্যমে সমান। 
- 1905 সালে আইনস্টাইনের থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকে এই বিষয়টির ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। থিওরি অব রিলেটিভিটি থেকেই সর্বকালের সবচেয়ে চমকপ্রদ সূত্র E = mc2 বের হয়ে আসে, যেখানে দেখানো হয় বস্তুর ভরকে শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। 
- কোয়ান্টাম তত্ত্বের সাথে থিওরি অব রিলেটিভিটি ব্যবহার করে ডিরাক 1931 সালে প্রতি কণা (Anti Particle) অস্তিত্ব ঘোষণা করেন, যেটি পরের বছরেই আবিষ্কৃত হয়ে যায়।
- 1895 সালে রন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন। 
- 1896 সালে বেকেরেল দেখান যে পরমাণুর কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছে। 
- 1899 সালে পিয়ারে ও মেরি কুরি রেডিয়াম আবিষ্কার করেন এবং বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন পরমাণুগুলো আসলে অবিনশ্বর নয়, সেগুলো ভেঙে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৬১.
ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য কোন বিজ্ঞানীরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন? 
  1. ওয়াল্টার ব্রাটেইন, আইনস্টাইন ও ফ্রেমিং 
  2. উইলিয়াম শকলি, ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি 
  3. জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন ও উইলিয়াম শকলি 
  4. নিউটন, জন বারডিন ও গ্যালিলিও 
ব্যাখ্যা

ট্রানজিস্টর (Transistor): 
- ১৯৪৭ সালে বেল ল্যাবরেটরিতে প্রথম ট্রানজিস্টর তৈরি করা হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর আবিষ্কারের জন্য জন বারডিন, ওয়াল্টার ব্রাটেইন এবং উইলিয়াম শকলিকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। 
- এই ট্রানজিস্টর কত দ্রুত এবং কত ব্যাপকভাবে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দেবে সেটি তখনো কেউ অনুমান করতে পারেনি। 
- ট্রানজিস্টর ভ্যাকুয়াম টিউবের মতোই কাজ করতে পারে কিন্তু ভ্যাকুয়াম টিউবের তুলনায় এটি অতি ক্ষুদ্র এবং ওজন খুবই কম, এটি ব্যবহার করতে খুব অল্প বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়, এটি অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে বড় কথা এটি অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। 
- কাজেই ট্রানজিস্টর খুব দ্রুত ভ্যাকুয়াম টিউবকে সরিয়ে তার স্থান দখল করে নিতে শুরু করল এবং পৃথিবীর মানুষ স্বল্প মূল্যে ট্রানজিস্টর ব্যবহার করে তৈরি নানা ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি পেতে শুরু করল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৬২.
কালবৈশাখী ঝড় বাংলাদেশে কোন দিক থেকে প্রবাহিত হয়?
  1. দক্ষিণ-পশ্চিম
  2. দক্ষিণ-পূর্ব
  3. উত্তর-পশ্চিম
  4. উত্তর-পূর্ব
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।
- কালবৈশাখী ঝড়ের অপর নাম নরওয়েস্টার।
- কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
        ii) ২২ এপ্রিল ২০২২, বিবিসি বাংলা।
১,৩৬৩.
সিলিকনের ব্যবহার কোন শিল্পে বেশি হয়?
  1. ক) ওষুধ
  2. খ) টেকটোনিক
  3. গ) কাগজ
  4. ঘ) ইলেকট্রনিক
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রনিক শিল্পে সিলিকনের ব্যবহার বেশি হয়। সিলিকন অর্ধপরিবাহী হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
১,৩৬৪.
সর্বপ্রথম সমন্বিত বর্তনীর ধারনা দেন কে?
  1. ক) চার্লস ব্যাবেজ
  2. খ) জ্যাক কিলবি
  3. গ) ওয়াল্টার ব্রাটেইন
  4. ঘ) রবার্ট নায়েস
ব্যাখ্যা
সমন্বিত বর্তনী:
- ১৯৫৮ সালে জ্যাক কিলবি সম্বনিত বর্তনীর ধারণা দেন
- ১৯৫৯ সালে জ্যাক কিলবি ও রবার্ট নায়েস প্রথম প্রকৃত মনোলিথিক আইসি তৈরি করে।
- একটি IC তে সাধারণত বহু সংখ্যাক Transistor, Capacitor, Logic Gate Resistor থাকে। 

উৎস: কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল ( ভোকেশনাল )।
১,৩৬৫.
মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটের ভাল উৎস -
  1. ক) খাবার পানি
  2. খ) ডাবের পানি
  3. গ) গ্লুকোজের পানি
  4. ঘ) শরবতের পানি
ব্যাখ্যা
আমাদের শরীরে বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ, খনিজ ও লবণ রয়েছে। এগুলো বিভিন্ন শারীরবৃত্তিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয়। স্নায়ু ও মাংসপেশির কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। এদের ইলেকট্রোলাইট বলা হয়। সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম হলো প্রধান ইলেকট্রোলাইট। যেকোনো কারণে শরীরে এসব উপাদানের পরিমাণ কমে বা বেড়ে গেলে সৃষ্টি হয় ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা।

কচি ডাবের শাঁসে স্নেহ ও খনিজ জাতীয় পর্দাথের পরিমাণ বেশি থাকে। খনিজ পদার্থের মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণে পটাসিয়াম, সোডিয়াম ও ফসফরাস থাকে (Sodium, calcium, potassium, chloride, phosphate, and magnesium are all electrolytes. U.S. National Library of Medicine)। মূলত কচি ডাবের ভিতরের তরল পদার্থই ডাবের পানি হিসেবে পরিচিত। এই পানি ৯৯ ভাগ চর্বিমুক্ত এবং কম ক্যালরিযুক্ত। প্রচলিতভাবে উন্নত দেশের ডাবের পানি কোমল ও সতেজ পানীয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালে এর চাহিদা ব্যাপক। কচি ডাবের পানি শরীরকে ঠান্ডা ও দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখে। এ ছাড়াও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত, বয়স্ক এবং বৃদ্ধ লোকের জন্য ডাবের পানি খুবই কার্যকর।

আমাদের দেশে প্রক্রিয়াজাতকৃত ডাবের পানির বাণিজ্যিক চাহিদা আছে। ডাবের পানি প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্রথমে ভালমানের কচি ডাব সংগ্রহ করে পরিস্কার পানিতে দৌত করতে হয়। অতঃপর ডাব থেকে পানি বের করে মসৃণ কাপড়ে ছেকে নিতে হবে যাতে কোন আঁশ বা শাঁস না থাকে। এখন পরিস্কার ডাবের পানি একটি কাঁচের বিকার বা কনটেইনারে নিয়ে ৯৫-১০০০ সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রায় ১০ মিটিন ওয়াটার বাথে রেখে পাস্তুরাইজেশন করেত হবে। পাস্তুরাইজেশনকৃত ডাবের পানির সাথে ১০০পিপিএম পটাসিয়াম মেটাবাইসালফাইট এবং ০.০৫% কার্বক্সিমিথাইল সেলুলোজ যোগ করতে হবে যাতে কোন অবশিষ্টাংশ বা দ্রব্যাদি বোতলের নিচে পড়ে না থাকে। পরিশেষে গরম পানিতে ফুটানো কাঁচের বোতলে গরম অবস্থায় ডাবের পানি ভর্তি করে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় শুষ্ক ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় ডাবের পানি প্রায় ৬-৮ মাস সহজে সংরক্ষণ করা যায়।

Source: BARI, Prothomalo.com
১,৩৬৬.
কোন পরীক্ষা গর্ভবতী মায়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. ক) ইসিজি
  2. খ) এক্সরে
  3. গ) আলট্রাসনোগ্রাফি
  4. ঘ) ব্লাড সুগার
ব্যাখ্যা
সাধারণত X-Ray নিরাপদ ধরা হলেও গর্ভাবস্থায় একাধিকবার X-Ray করলে গরভের সন্তানের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে গর্ভাবস্থায় X-Ray করানো হয় না।
বাকী পরীক্ষাগুলোতে কোন সমস্যা নেই।
১,৩৬৭.
'পাথফাইন্ডার' মঙ্গলপৃষ্ঠে কত সালে অবতরণ করে?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
- মার্স পাথফাইন্ডার ১৯৯৬ সালের ৪ ডিসেম্বর উৎক্ষেপণ করা হয়।
- ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই মঙ্গল গ্রহের এরেস ভ্যালিসে সফলভাবে অবতরণ করে।
- এটি ছিল নাসার "ফাস্ট, বেটার, চিপার" (Faster, Better, Cheaper) দর্শনের অধীনে পরিচালিত অন্যতম সফল মিশন, যা সীমিত বাজেটে দ্রুত এবং কার্যকর উপায়ে আন্তগ্রহীয় গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
- এই মিশনটি একটি উন্নত ল্যান্ডার এবং সোজার্নার নামের স্বয়ংচালিত রোভার বহন করেছিল, যা মঙ্গল গ্রহে অবতরণ করা ও পরিচালিত প্রথম রোবোটিক রোভার হিসেবে ইতিহাস গড়ে।
- সোজার্নার ছোট হলেও এর কার্যক্ষমতা ছিল অসাধারণ; এটি মঙ্গলের পৃষ্ঠে বিভিন্ন শিলা ও মাটির নমুনা বিশ্লেষণ করে মূল্যবান তথ্য সংগ্রহ করে।
- পাথফাইন্ডার মিশন তখন পর্যন্ত অভূতপূর্ব পরিমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্য পৃথিবীতে প্রেরণ করেছিল, যার মধ্যে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল, আবহাওয়া, ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- পাথফাইন্ডারের সাফল্য নাসাকে পরবর্তী রোভার মিশনগুলোর জন্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট।
১,৩৬৮.
How many types of COVID-19 vaccines are being approved to use in Bangladesh?
  1. 9
  2. 4
  3. 7
  4. 8
  5. None
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ৯ ধরনের COVID-19 ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কোভিড ভ্যাক্সিন:
- COVID-19 এর জন্য দায়ী হলো SARS CoV-2 নামক বিশেষ করোনা ভাইরাস।
- ২০১৯ সালে চীনের উহান প্রদেশে কোভিড-১৯ প্রথম সনাক্ত করা হয়েছিল।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নজরে আসে।
- এটি অদ্যবধি বাংলাদেশসহ সমস্ত পৃথিবীতে মহামারীর তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে ৯ ধরনের COVID-19 ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
- সেগুলো হলো:
• সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া- কোভোভ্যাক্স (নোভাভ্যাক্স ফর্মুলেশন),
• মডার্না- স্পাইকভ্যাক্স,
• Pfizer/BioNTech- Comirnaty,
• গামলেয়া- স্পুটনিক ভি
• জ্যান্সেন (জনসন অ্যান্ড জনসন)- জকোভডেন,
• অক্সফোর্ড/অস্ট্রাজেনেকা- ভ্যাক্সজেভরিয়া,
• সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া- কোভিশিল্ড (অক্সফোর্ড/অস্ট্রাজেনেকা ফর্মুলেশন),
• সিনোফার্ম (বেইজিং)- কোভিলো,
• সিনোভাক- করোনাভাক। 

উৎস: WHO ওয়েবসাইট। [link]
১,৩৬৯.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোনস্তর রয়েছে?
  1. স্ট্রাটোমণ্ডল
  2. মেসোমণ্ডল
  3. তাপমণ্ডল
  4. ট্রপোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমণ্ডল(Stratosphere): 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল, যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। 
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)। 
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়। 
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে। 
- এ স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা । বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়। 

- স্ট্রাটোমণ্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে। 
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোনমণ্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার। 
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultra Violet Rays) শোষণ করে। জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর। তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না। 
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬° সেলসিয়াস) অনেক বেশি। 
 
উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭০.
নিচের কোনটি লঘুমস্তিষ্কের অংশ?
  1. মেডুলা
  2. মেরুরজ্জু
  3. থ্যালামাস
  4. হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা

পশ্চাৎমস্তিষ্ক লঘুমস্তিষ্ক নামেও পরিচিত। লঘুমস্তিষ্ক গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোটো এবং গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থান করে৷

লঘুমস্তিষ্কের অংশ তিনটি,
যথা- সেরিবেলাম, পনস এবং মেডুলা বা সুষুম্নাশীর্ষক।

গুরুমস্তিষ্কের অংশ হলো- সেরিব্রাম, থ্যালামাস, হাইপোথ্যালামাস।
মেরুরজ্জু বা সুষুম্নাকাণ্ড মেরুদণ্ডের মধ্যে সংরক্ষিত থাকে। মেরুরজ্জু মস্তিষ্কের অংশ নয়।

সূত্র: বিজ্ঞান বোর্ড বই, অষ্টম শ্রেণি

১,৩৭১.
'স্লেট' কোন ধরনের শিলার উদাহরণ?
  1. পাললিক শিলা
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. রূপান্তরিত শিলা
  4. স্তরীভূত শিলা
ব্যাখ্যা

- জন্মের প্রথমে পৃথিবী ছিলো একটি উত্তপ্ত গ্যাসপিণ্ড। এই গ্যাসপিণ্ড ক্রমান্বয়ে তাপ বিকিরণ করে তরল হয়। এর পর আবার তাপ বিকিরণ করে উপরিভাগ শীতল ও কঠিন আকার ধারণ করে। এভাবে গলিত অবস্থা থেকে ঘনীভূত বা কঠিন হয়ে যে শিলা গঠিত হয় তাকে বলে আগ্নেয় শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা পৃথিবীর প্রথম পর্যায়ে সৃষ্টি হয় বলে তাকে প্রাথমিক শিলা ও অস্তরীভূত শিলা বলে।
- আগ্নেয় শিলা স্ফটিকার, অপেক্ষাকৃত ভারী, কঠিন ও কম ভঙ্গুর।
- আগ্নেয় শিলায় কোন জীবাশ্ম নেই।
- গ্রানাইট, গ্যাব্রো, ডলোরাইট, ল্যাকোলিথ, ব্যাথোলিথ, ডাইক, সিল, ব্যাসল্ট, অ্যান্ডিসাইট ইত্যাদি আগ্নেয় শিলার উদাহরণ।
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তা পাললিক শিলা। এ শিলায় পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা নরম ও হালকা যা সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়। পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
- পাললিক শিলার উদাহরণ- চুনাপাথর, কয়লা, নুড়িপাথর, বেলেপাথর, পলিপাথর, কর্দমপাথর, চক, কোকিনা, লবণ, জিপসাম, ডায়াটম, ডোলোমাইট ইত্যাদি।
- আগ্নেয় শিলা ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- নিস, মার্বেল, স্লেট, গ্রাফাইট, কোয়ার্টাজাইট ইত্যাদি রূপান্তরিত শিলার উদাহরণ।
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রুপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টাজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হলে নিস।
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৭২.
যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে বলা হয়-
  1. ক) তড়িৎ মোটর
  2. খ) ডায়নামো
  3. গ) ট্রান্সফর্মার
  4. ঘ) ডায়োড
ব্যাখ্যা

- যে যন্ত্রের সাহায্যে পরিবর্তী উচ্চ বিভবকে নিম্ন বিভব এবং নিম্ন বিভবকে উচ্চ বিভবে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ট্রান্সফর্মার বলে।
- যে তড়িৎযন্ত্র তড়িৎ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে তাকে তড়িৎ মোটর বলে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে যান্ত্রিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয় তাকে ডায়নামো বা জেনারেটর বলে। তাড়িত চৌম্বক আবেশের উপর ভিত্তি করে এই যন্ত্রের মূলনীতি প্রতিষ্ঠিত।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

১,৩৭৩.
শনি গ্রহের উপগ্রহের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১৪৬টি
  2. ২৪৭টি
  3. ২৭৪টি
  4. ২৮২টি
ব্যাখ্যা
শনি গ্রহ:
- শনি সৌরজগতের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রহ।
- সূর্য থেকে এর দূরত্ব ১৪৩ কোটি কিলোমিটার।
- শনি গ্রহ উজ্জ্বল বলয় দ্বারা বেষ্টিত এবং এর ভূ-ত্বক বরফে ঢাকা।
- সূর্যের চারদিকে শনির একবার ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ২৯.৪ বছর।
- গ্রহটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।
- এর উপগ্রহ রয়েছে ২৭৪টি

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি শনি গ্রহের চারপাশে আরও ১২৮টি নতুন চাঁদের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
- এই আবিষ্কারের ফলে এখন শনির মোট চাঁদের সংখ্যা ২৭৪। 

উৎস: NASA Science (.gov)
১,৩৭৪.
কোনটি একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান?
  1. আগ্নেয়গিরির ছাই
  2. গাড়ির ধোঁয়া
  3. কলকারখানার বর্জ্য
  4. কৃষিজ রাসায়নিক
ব্যাখ্যা
• আগ্নেয়গিরির ছাই একটি প্রাকৃতিক দূষণকারী উপাদান, যেটি কোনও মানব ক্রিয়ার ফল নয়।

-  আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই, গ্যাস এবং লাভা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বায়ুমণ্ডলে ও পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিক দূষণ সৃষ্টি করে।
-  তবে এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয় এবং প্রাকৃতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের অংশ।

অপরদিকে, 
গাড়ির ধোঁয়া: 
- এটি একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উপাদান।
- বিভিন্ন যানবাহন পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার করে। জ্বালানি পোড়ালে কার্বন মনোঅক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন অক্সাইড (NOx), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂), এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণা (PM2.5) নির্গত হয়।
- এসব উপাদান বায়ু দূষণ সৃষ্টি করে এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

• কলকারখানার বর্জ্য: 
- এটিও একটি মানবসৃষ্ট দূষণকারী উৎস।
- শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা ফ্যাক্টরি থেকে বর্জ্য পদার্থ যেমন– রাসায়নিক, তেল, ভারী ধাতু (lead, mercury), এবং বর্জ্য পানির মাধ্যমে পরিবেশে নিক্ষিপ্ত হয়।
- এগুলো জলদূষণ, মৃত্তিকা দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

কৃষিজ রাসায়নিক:
- এটি মানুষ কর্তৃক চাষের জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম উপাদান যেমন– সার (fertilizer), কীটনাশক (pesticide), আগাছানাশক (herbicide)।
- এইসব রাসায়নিক উপাদান মাটির গুণমান নষ্ট করে, ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে, এবং খাদ্যশৃঙ্খলে বিষাক্ত পদার্থ যোগ করে।

তথ্যসূত্র:
- ভূগোল ও পরিবেশ – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)।
১,৩৭৫.
ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটে প্রধানত কোন উপাদান থাকে?
  1. সোনা
  2. গ্যালিয়াম
  3. সিলিকন
  4. তামা
ব্যাখ্যা

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হলো একটি ছোট চিপ যা বৈদ্যুতিক সার্কিটের বিভিন্ন উপাদান একত্রিত করে। এতে প্রধানত সিলিকন ব্যবহার করা হয় কারণ সিলিকন আধা-পরিবাহী হিসেবে কাজ করে এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে উপযুক্ত। IC-তে ছোট ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটার ইত্যাদি সিলিকন চিপের ভিতরে একত্রিত থাকে, যা বিদ্যুৎ সংকেত নিয়ন্ত্রণ ও প্রসেসিং সক্ষম করে। অন্য উপাদান যেমন সোনা বা তামা সংযোগের জন্য ব্যবহার হতে পারে, কিন্তু মূল উপাদান হিসেবে সিলিকন অপরিহার্য।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো গ) সিলিকন।

• ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট:
- ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (IC) হল একটি ছোট আকারের ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে অসংখ্য ট্রানজিস্টর, রেজিস্টর, ক্যাপাসিটর ইত্যাদি একটি একক চিপে যুক্ত থাকে। একে সিলিকন চিপও বলা হয়। 
- পঞ্চাশের দশকে একটি সিলিকনের পাতলা পাতে (Wafer) অসংখ্য ট্রানজিস্টর তৈরি করে সেগুলো কেটে আলাদা করে নেওয়া হতো।
- তখন শুধু ট্রানজিস্টর তৈরি না করে তার সাথে ডায়োড কিংবা রেজিস্টর এবং ক্যাপাসিটর বসিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি সার্কিট তৈরি করা শুরু হয়। এভাবেই আইসি তৈরির যাত্রা শুরু হয়। 

• IC এর প্রধান উপাদান:
→ সিলিকন (Silicon):
- এটি সেমিকন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করে।
- সিলিকন সহজে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, যা IC তৈরির জন্য একে উপযুক্ত।

• সিলিকন ব্যবহারের কারণ:
- এটির সহজলভ্যতা বেশী। 
- এটি তুলনামূলকভাবে সস্তা। 
- এর বৈদ্যুতিক বৈশিষ্ট্য IC তৈরির জন্য উপযোগী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 

১,৩৭৬.
IPCC-এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০০ বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা কত ডিগ্রী সেলসিয়াস বেড়েছে?
  1. ০.৫° সেলসিয়াস
  2. ০.১° সেলসিয়াস
  3. ০.৬° সেলসিয়াস
  4. ১.০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য গঠিত Intergovernmental Panel on Climate Change (IPCC)-এর চতুর্থ মূল্যায়ন রিপোর্ট (AR4) অনুযায়ী, জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের প্রভাব অনেক মারাত্মক এবং তা ধীরে ধীরে বেড়েই চলছে। 
- পৃথিবীর তাপমাত্রা গত ১০০ বছরে প্রায় ০.৬° সেলসিয়াস বেড়েছে। 
- ১৯৬১-২০০৩ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা গড়ে প্রতি বছরে ১.৮ সেন্টিমিটার করে বেড়েছে। 
- ১৯৯৫-২০০৬ পর্যন্ত ১২ বছরের মধ্যে ১১ বছরই প্রচন্ড গরম পড়েছে। পরবর্তী দুই দশকে বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা প্রতি দশ বছরে গড়ে ০.২°-০.৩° সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাবে। 
- ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১°-৬.৪° সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। 
- ২০৮০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। 
- প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়, আইলা, সিডর, নার্গিস, ক্যাটরিনার মতো ভয়াবহ দুর্যোগ আরো ঘন ঘন হবে এবং তার মাত্রা আরো ভয়ানক হবে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৭৭.
মানবদেহে পিটুইটারি গ্রন্থির অবস্থান কোথায়?
  1. অগ্নাশয়ে
  2. গলার উপরের অংশে উভয় পাশে
  3. গ্রীবা অঞ্চলে
  4. মস্তিষ্কের নিচের অংশে
ব্যাখ্যা
পিটুইটারী গ্রন্থি- এটি মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত। এ গ্রন্থিকে হরমোন সৃষ্টিকারী প্রধান গ্রন্থি বা প্রভুগ্রন্থি বলে। কারণ এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যা যেমন বেশি তেমন বিভিন্ন গ্রন্থির উপর এসব হরমোন এর প্রভাবও বেশি। এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শক্তিশালী ও সবচেয়ে ছোট গ্রন্থি। এ গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিন, এডরেনোকর্টিকোট্রপিন, থাইরোট্রপিন, প্রোল্যাকটিন ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়।

থাইরয়েড গ্রন্থি- গলার উপরের অংশে উভয় পার্শ্বে অবস্থিত। প্রজাপতি আকৃতির চোখ বের হয়ে আসা রোগটি এ গ্রন্থির সমস্যার কারণে হয়। আয়োডিন এর অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায় ও গলগন্ড গঠন করে। বিপাকের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। এ গ্রন্থি থেকে ট্রাইআয়োডোথাইরোনিন, থাইরক্সিন, ক্যালসিটোনিন এ তিনটি হরমোন নিঃসৃত হয়।

প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি- দু’জোড়া প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থাইরয়েড গ্রন্থির পেছনে এবং আংশিক থাইরয়েড গ্রন্থির মধ্যে অবস্থিত। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনের নাম প্যারাথাইরক্সিন হরমোন। মূলতঃ শরীরের ফসফরাস ও ক্যালসিয়াম বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

থাইমাস গ্রন্থি- এ গ্রন্থি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত। শিশুকালে এ গ্রন্থি বিকশিত হতে থাকে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে ছোট হয়।
এ গ্রন্থি থেকে থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়।

আইলেটস্ অফ ল্যাংগারহ্যানস- এ গ্রন্থির অবস্থান অগ্ন্যাশয়ের মাঝে। এ গ্রন্থি থেকে ইনসুলিন, গুকাগণ প্রভৃতি হরমোন নিঃসৃত হয় যা শরীরের শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।

গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি- এ গ্রন্থি মেয়েদের ডিম্বাশয় এবং ছেলেদের শুক্রাশয়ে অবস্থিত। জনন অঙ্গ হতে নিঃসৃত হরমোন দেহের পরিণত বয়সের লক্ষণসমূহ বিকশিত করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও প্রাণীর জনন অঙ্গের বৃদ্ধি, জননচক্র ও যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে। জনন অঙ্গ হতে পরিণত বয়সের পুরুষে টেস্টোস্টেরন ও স্ত্রী দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয়।

সূত্রঃ জীববিজ্ঞান, এসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৮.
উপকূলবর্তী অঞ্চলে জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটার সৃষ্টি হয়?
  1. ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট পর
  2. ৪ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর
  3. ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর
  4. ৮ ঘণ্টা ১৬ মিনিট পর
ব্যাখ্যা
•  উপকূলে একটি জোয়ারের প্রায় ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট পর ভাঁটা হয়।

• জোয়ার-ভাঁটা:

- সমুদ্রের একই স্থানে প্রতিদিন দুইবার জোয়ার এবং দুইবার ভাঁটা ঘটে।
- সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠাকে জোয়ার এবং নিচে নেমে যাওয়াকে ভাঁটা বলা হয়।
- পর পর দুটি জোয়ার বা দুটি ভাঁটার মধ্যে ব্যবধান হলো ১২ ঘণ্টা ২৬ মিনিট।
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রগত শক্তির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়। অর্থাৎ, সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু’বার জোয়ার এবং দু’বার ভাঁটা ঘটে।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাঁটা অধিক অনুভূত হয়।
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।
- তবে দেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন নদীপথে সমুদ্রের পানি প্রবাহিত হলে এবং নেমে গেলে, তাকে জোয়ার ভাঁটা বলা হয় না।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৭৯.
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব কোন দুটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যাখ্যা করে? 
  1. ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি
  2. জোয়ার-ভাটা ও মেরু-প্রবাহ
  3. বন্যা ও খরা
  4. ঘূর্ণিঝড় ও বজ্রপাত
ব্যাখ্যা
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব: 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের মূল ধারণা হলো ভূ-পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত যাদেরকে প্লেট বলা হয়। 
- এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। 
- এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কয়েক সেন্টিমিটার কোনো একদিকে সরে যায়। 
- প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়, আবার কখনো কখনো একে অন্যের দিকে আসে। 
- প্লেটগুলো কখনো কখনো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে। 
- প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব দ্বারা ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

- দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা ঘটে। 
- প্লেটগুলোর সংযোগস্থলে উঁচু পর্বত থাকলে ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদগীরণের ঘটনা আরও বাড়ে।
- ধারণা করা হয়, প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়।
- তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়, এ গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূ-পৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
- বেরিয়ে আসা গলিত তরল পদার্থ ম্যাগমা নামে পরিচিত।
- একইভাবে প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে যা ভূমিকম্প নামে পরিচিত। 

উৎস: বিজ্ঞান, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,৩৮০.
শতকরা হিসেবে সমুদ্রের পানিতে লবণের পরিমাণ কত?
  1. ক) ২-৩%
  2. খ) ২.৫-৩.৫%
  3. গ) ৩-৩.৫%
  4. ঘ) ২.৫-৩%
ব্যাখ্যা
সমুদ্রের পানিতে ২.৫% থেকে ৩.৫% লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে।
যে পানির ঘনত্ব বেশি সে পানিতে সাঁতার কাটা সহজ।
পুকুর, নদী বা বিলের পানির চেয়ে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব বেশি।
সমুদ্রের পানিতে সাঁতার কাটা সহজ হয়।
১,৩৮১.
ডায়ালাইসিস কেন করা হয়? 
  1. বৃক্ক বিকল হলে রক্ত পরিশোধনের জন্য
  2. রক্তের প্লাজমা পরিবর্তনের জন্য
  3. রক্তের লোহিত কণিকা বৃদ্ধি করার জন্য
  4. রক্তে অক্সিজেন বৃদ্ধির জন্য 
ব্যাখ্যা

ডায়ালাইসিস (Dialysis): 
- বৃক্ক সম্পূর্ণ অকেজো বা বিকল হওয়ার পর বৈজ্ঞানিক উপায়ে রক্ত পরিশোধন করার নাম ডায়ালাইসিস। 
- সাধারণত 'ডায়ালাইসিস মেশিনের' সাহায্যে রক্ত পরিশোধন করা হয়। 
- এই মেশিনের ডায়ালাইসিস টিউবটির এক প্রান্ত রোগীর হাতের কব্জির ধমনির সাথে এবং অন্য প্রান্ত ঐ হাতের কব্জির শিরার সাথে সংযোজন করা হয়। 
- ধমনি থেকে রক্ত ডায়ালাইসিস টিউবের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করানো হয়। এর প্রাচীর আংশিক বৈষম্যভেদ্য হওয়ায় ইউরিয়া, ইউরিক এসিড এবং অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে। 
- পরিশোধিত রক্ত রোগীর দেহের শিরার মধ্য দিয়ে দেহের ভেতর পুনরায় প্রবেশ করে। 
উল্লেখ্য, 
- ডায়ালাইসিস টিউবটি এমন একটি তরলের মধ্যে ডুবানো থাকে, যার গঠন রক্তের প্লাজমার অনুরূপ হয়। এভাবে ডায়ালাইসিস মেশিনের সাহায্যে নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ (ইউরিয়া এবং অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ) বাইরে নিষ্কাশিত হয়। তবে এটি একটি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৬, সংস্করণ)।

১,৩৮২.
শিশুর জন্মের পর কত দিন বয়স পর্যন্ত তাকে নবজাতক বলা হয়?
  1. ২১ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ১৪ দিন
  4. ৭ দিন
ব্যাখ্যা
শিশুর জন্মের পর ১৪ দিন বয়স পর্যন্ত তাকে নবজাতক বলা হয়।
শিশুর জন্মের পর পরই তাকে শাল দুধ দিতে হয় এবং সঠিক পরিমাণে মায়ের দুধ অর্থাৎ পুষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হয়।
এই সময় তাকে প্রয়োজনীয় সেবা ও টিকা প্রদান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

আবার,
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, জন্মের পর থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত বয়সী শিশুকে নবজাতক বলা হয়।
তবে, যেহেতু অপশনে ২৮ দিন নেই, তাই সঠিক উত্তর হিসাবে বোর্ড বইকে প্রাধান্য দিয়ে ১৪ দিনকে সঠিক উত্তর ধরা হচ্ছে।
১,৩৮৩.
কোন বিজ্ঞানী সর্বপ্রথম মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ সম্পর্কিত সূত্র প্রদান করেন?
  1. ক) স্টিফেন হকিং
  2. খ) এডুইন হাবল
  3. গ) জর্জ ল্যামেটার
  4. ঘ) আলবার্ট আইনস্টাইন
ব্যাখ্যা
১৯২০ সালে বিখ্যাত মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী এডউইন হাবল তার ২.৫ মি. টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্যালাক্সিগুলো পর্যবেক্ষণের সময় লক্ষ্য করলেন যে, গ্যালাক্সিগুলো পরস্পর থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে।

১৯২৯ সালে হাবল তাঁর দীর্ঘ নয় বছরের পর্যবেক্ষণের ফলাফল পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মহাবিশ্ব অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশ করেন যা হাবলের সূত্র নামে পরিচিত।

হাবলের সূত্রানুসারে-
গ্যালাক্সিসমূহ নিজেরা এবং পৃথিবী হতে দ্রুতগতিতে দূরে সরে যাচ্ছে এবং গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতো বেশি পরষ্পর হতে দূরে সরে যাওয়ার বেগও ততো বেশি।

সূত্রঃ পদার্থ বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,৩৮৪.
1 amu ভরের সমতুল্য শক্তি কত?
  1. ক) 931 MeV
  2. খ) 93.4 MeV
  3. গ) 943 MeV
  4. ঘ) 980 MeV
ব্যাখ্যা
কোন ব্যাখ্যা যোগ করা হয়নি।
১,৩৮৫.
Natrium কার ল্যাটিন নাম?
  1. ক) নাইট্রোজেন
  2. খ) আয়রন
  3. গ) সোডিয়াম
  4. ঘ) টাংস্টেন
ব্যাখ্যা
সোডিয়াম এর ল্যাটিন নাম Natrium যা থেকে এর প্রতীক Na এসেছে৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৩৮৬.
ওজোন গ্যাস বায়ু মণ্ডলের কোন স্তরে বেশি পরিমাণে আছে?
  1. ক) স্ট্রাটোস্ফিয়ার
  2. খ) ট্রপোস্ফিয়ার
  3. গ) আয়নোস্ফিয়ার
  4. ঘ) এক্সোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
এই স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি শুষে নেয়।
এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনো রকম জলীয়বাষ্প থাকে না।
ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
ঝড়-বৃষ্টি থাকেনা বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
১,৩৮৭.
দ্রাঘিমারেখাগুলো এক-একটি -
  1. সরলরেখা
  2. পূর্ণবৃত্ত
  3. অধিবৃত্ত
  4. অর্ধবৃত্ত
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমারেখা (Longitude): 
- নিরক্ষরেখাকে ডিগ্রি, মিনিট ও সেকেন্ডে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগবিন্দুর উপর দিয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত যে সকল রেখা কল্পনা করা হয়েছে, সেগুলোই হলো দ্রাঘিমারেখা।
- এ রেখাগুলো পৃথিবীর পরিধির অর্ধেকের সমান। অর্থাৎ এক-একটি অর্ধবৃত্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,৩৮৮.
পানি দেহে কোন রোগের কারণ হতে পারে যখন অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য নষ্ট হয়?
  1. এসিডোসিস
  2. নিউমোনিয়া
  3. হেপাটাইটিস
  4. ডায়াবেটিস
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান। 
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না। 
- মানুষের দৈহিক ওজনের ৬০-৭৫% হচ্ছে পানি। 
- মানুষের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন। 
- পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে। 
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়। 
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেক দিনই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। 
- পানি দেহে অম্ল ও ক্ষারের সমতা নষ্ট করে এসিডোসিস রোগের সৃষ্টি হয়। 
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৮৯.
স্কার্ভি রোগের লক্ষণ কী?
  1. ক) ঘুম না হওয়া
  2. খ) মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
  3. গ) হাড় ক্ষয় হওয়া
  4. ঘ) রাতকানা
ব্যাখ্যা
- ভিটামিন-সি(C) এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। 
- ভিটামিন সি এর অপর নাম এসকরবিক এসিড। 
 
এসকরবিক এসিডের অভাবজনিত অবস্থা :
১। ভিটামিন সি এর দীর্ঘদিনের অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। স্বার্ভি রোগে দাঁতের মাড়ি ফুলে স্পঞ্জের মতো হয়ে যায়, রক্তক্ষরণ হয়, গোড়া আলগা ও নরম হয়ে যায়, অনেক সময় দাঁত পড়ে যায়।
২। ত্বক খসখসে হয়, ফুসকুড়ি ওঠে এবং ত্বক চুলকায়।
৩। অস্থি দুর্বল হয় ও অস্থি সন্ধিতে বা গাঁটে ব্যথা হয়, অস্থি দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়।
৪। লৌহের পরিশোষণ ব্যাহত হয় ও রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়।
৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং সহজেই সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয় ।
৬। রক্তবাহী নালী ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ত্বকের ভিতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ হতে পারে।
৭। ক্ষধামন্দা অলসতা খিটখিটে মেজাজ পরিলক্ষিত হয়।
 
উৎস : গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,৩৯০.
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ
  2. জোয়ার-ভাটা
  3. ভূ-গর্ভস্থ জলধারা
  4. সমুদ্রের গভীরতা 
ব্যাখ্যা

- সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও নিযত বায়ুপ্রবাহই এর প্রধানতম কারণ। অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু এবং মেরু বায়ুর মতো নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় ঘর্ষণের ফলে পানিকে নির্দিষ্ট দিকে ঠেলে নিয়ে যায়, যা স্থায়ী সমুদ্রস্রোত তৈরি করে

সমুদ্রস্রোত: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি করে। 
- সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে, একে সমুদ্রস্রোত বলে। 

সমুদ্রস্রোতের কারণ: 
১। নিয়ত বায়ুপ্রবাহ: 
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহই সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান কারণ। এসব বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোতের দিক ও গতি নিয়ন্ত্রণ করে। অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী প্রধান সমুদ্রস্রোতগুলোর সৃষ্টি হয়। 

২। পৃথিবীর আহ্নিক গতি: 
- পৃথিবীর আহ্নিক গতির ফলে ফেরেলের সূত্র অনুসারে বায়ুপ্রবাহের মতো সমুদ্রজলও উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে যায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৩। সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য: 
- সমুদ্রের গভীরতার তারতম্য অনুসারে তাপমাত্রার পার্থক্য হয়। অগভীর সমুদ্রের জল দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উপরে ওঠে। তখন গভীরতর অংশের শীতল জল নিচে নেমে আসে। এজন্য ঊর্ধ্বগামী ও নিম্নগামী সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। সমুদ্রের পৃষ্ঠে গতি সবচেয়ে বেশি। সমুদ্রের ১০০ মিটার নিচ থেকে গতি কমতে থাকে। 

৪। সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পার্থক্য: 
- সমুদ্রজলে লবণের পরিমাণ সর্বত্র সমান নয়। অধিক লবণাক্ত জল বেশি ভারী বলে তার ঘনত্বও বেশি। বেশি ঘনত্বের জল কম ঘনত্বের দিকে নিম্ন প্রবাহরূপে প্রবাহিত হয় ও সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি করে। 

৫। সমুদ্রজলের তাপমাত্রার পার্থক্য: 
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে উষ্ণমণ্ডলের সমুদ্রের জল বেশি উষ্ণ বলে তা জলের উপরের অংশ দিয়ে পৃষ্ঠপ্রবাহ বা বহিঃস্রোতরূপে মেরু অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে, মেরু অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী জলরাশি জলের নিচের অংশ দিয়ে অন্তঃপ্রবাহ বা অন্তঃস্রোতরূপে নিরক্ষীয় উষ্ণমণ্ডলের দিকে প্রবাহিত হয়। এইভাবে উষ্ণ ও শীতল সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৬। মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফের গলন: 
- মেরু অঞ্চলের সমুদ্রে বরফ কিছু পরিমাণ গলে গেলে জলরাশি স্ফীত হয় ও সমুদ্রজলের লবণাক্ততার পরিমাণ হ্রাস পায়। এর ফলে সমুদ্রস্রোতের সৃষ্টি হয়। 

৭। ভূখন্ডের অবস্থান: 
- সমুদ্রস্রোতের প্রবাহপথে কোনো মহাদেশ, দ্বীপ প্রভৃতি ভূখণ্ড অবস্থান করলে সমুদ্রস্রোত তাতে বাধা পেয়ে দিক ও গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। অনেক সময় এর প্রভাবে সমুদ্রস্রোত একাধিক শাখায় বিভক্ত হয়। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৯১.
পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি কোথায়? 
  1. মেরু অঞ্চলে 
  2. নিরক্ষরেখায়
  3. কর্কটক্রান্তি রেখায়
  4. মকরক্রান্তি রেখায়
ব্যাখ্যা

আহ্নিক গতি (Rotation): 
- পৃথিবী তার নিজের মেরুদন্ডের বা অক্ষের চারদিকে দিনে একবার নির্দিষ্ট গতিতে পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করে।
- পৃথিবী তার নিজের মেরুদন্ডের উপর একবার পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আবর্তন করতে সময় নেয় ২৩ ঘণ্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘণ্টা অর্থাৎ একদিন। একে সৌরদিন বলে।
- নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর আবর্তনের বেগ সবচেয়ে বেশি। ঘণ্টায় প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার।
- ঢাকায় পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগ ১৬০০ কিলোমিটার।
- যত মেরুর দিকে যাবে এ আবর্তনের বেগ তত কমতে থাকে এবং মেরুদ্বয়ে প্রায় নিঃশেষ হয়ে যায়।

উৎস:  NASA ওয়েবসাইট এবং  ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।

১,৩৯২.
মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের -
  1. ক) এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
  2. খ) অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে
  3. গ) এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে
  4. ঘ) এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে
ব্যাখ্যা
স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে।
স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে।

উল্লেখ্য,

মস্তিস্ক হলো স্নায়ুতন্ত্রের অঙ্গ।
স্নায়ুতন্ত্রের গঠনগত ও কার্যকরী একককে নিউরন বলে। মস্তিষ্কে নিউরন থাকে ১০ বিলিয়ন।
মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
মস্তিষ্ক আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
১,৩৯৩.
বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসায় কোনটি ব্যবহৃত হচ্ছে?
  1. ক) এন্টিবডি
  2. খ) এন্টিবায়োটিক
  3. গ) ইন্টারফেরন
  4. ঘ) ভ্যাকসিনেশন
ব্যাখ্যা

Interferons were discovered in 1957 by British bacteriologist Alick Isaacs and Swiss microbiologist Jean Lindenmann. Type I Interferons were the first to be produced by recombinant DNA technology and used therapeutically for viral infections, cancers, and autoimmune diseases.

Source: Britannica and Sciencedirect Paper.

১,৩৯৪.
বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হলো-
  1. অক্সিজেন
  2. কার্বন-ডাই-অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের (Universe) সবচেয়ে বেশি গ্যাসটি হলো হাইড্রোজেন।
- মহাবিশ্বের সবচেয়ে প্রচুর পরিমাণে প্রাপ্ত মৌলিক উপাদান হলো হাইড্রোজেন।
- ধারণা করা হয়, মহাবিশ্বের মোট স্বাভাবিক (সাধারণ) পদার্থের মোট ভরের প্রায় ৭৫% হলো হাইড্রোজেন।
- মহাবিশ্বের মোট পদার্থের মধ্যে, তারার (Stars) গঠন (যেমন: সূর্য), আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ (Interstellar Clouds) এবং গ্যালাক্সিদের মধ্যবর্তী স্থানে (Intergalactic Space) হাইড্রোজেন গ্যাস মুখ্য উপাদান হিসেবে থাকে।
- তারার মধ্যে নিউক্লীয় ফিউশন (Nuclear Fusion) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাইড্রোজেন ক্রমাগত হিলিয়ামে রূপান্তরিত হতে থাকে।
- হাইড্রোজেন হলো পর্যায় সারণির সবচেয়ে হালকা মৌল।
- এরপরেই প্রচুর পরিমাণে প্রাপ্ত গ্যাস হলো হিলিয়াম; এটি প্রায় ২৪% এর কাছাকাছি থাকে।
- বাকি সমস্ত উপাদান (যেমন: অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, ইত্যাদি) একত্রে মাত্র ১% এরও কম পরিমাণে থাকে।

অন্যান্য অপশন:
-  ক) অক্সিজেন, গ) নাইট্রোজেন: এই গ্যাস দুটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের প্রধান উপাদান (নাইট্রোজেন প্রায় ৭৮%, অক্সিজেন প্রায় ২১%)। তবে, মহাবিশ্বের সামগ্রিক ভরের তুলনায় এদের পরিমাণ খুবই নগণ্য।
- খ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড: এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি গৌণ উপাদান এবং মহাবিশ্বের মৌলিক উপাদানগুলোর মধ্যে এর পরিমাণ খুবই কম।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা।

১,৩৯৫.
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) পৃথিবীর কক্ষপথে আবর্তিত না হয়ে কোন স্থানে সূর্যকে কেন্দ্র করে পরিভ্রমণ করছে? 
  1. নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথ
  2. সূর্য–পৃথিবী L2 ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু
  3. ভূ-স্থির কক্ষপথ
  4. মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ
ব্যাখ্যা

• জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সূর্য–পৃথিবী L2 ল্যাগরেঞ্জ বিন্দুর নিকটে অবস্থান করে পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, যা গভীর মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।

• জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST):
- জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ একটি শক্তিশালী ইনফ্রারেড মহাকাশ দূরবীক্ষণ যন্ত্র।
- এটি ২৫ ডিসেম্বর ২০২১ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়।
- এটি যুক্তরাষ্ট্রের নাসা (NASA), ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA) এবং কানাডীয় মহাকাশ সংস্থার (CSA) যৌথ প্রকল্প।
- এটি হাবল স্পেস টেলিস্কোপের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত।

• কক্ষপথ ও অবস্থান:
- JWST পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করে না।
- এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- এটি সূর্য–পৃথিবী ব্যবস্থার L2 ল্যাগরেঞ্জ বিন্দুর নিকটে অবস্থান করে।
- এই অবস্থানে সূর্য, পৃথিবী ও চাঁদ একই দিকে থাকে, ফলে টেলিস্কোপের সানশিল্ড একদিকে রেখে তাপ ও আলো থেকে সুরক্ষা দেওয়া যায়।
- L2 বিন্দুতে মাধ্যাকর্ষণ বলের সাম্যাবস্থার কারণে টেলিস্কোপ তুলনামূলকভাবে কম জ্বালানি ব্যবহার করে স্থিতিশীলভাবে কক্ষপথে থাকতে পারে।

• ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু (Lagrange Point):
- ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু হলো এমন বিশেষ স্থান যেখানে দুটি বৃহৎ বস্তুর মাধ্যাকর্ষণ বল ও কক্ষীয় গতি একে অপরকে সাম্যাবস্থায় রাখে।
- সূর্য–পৃথিবী ব্যবস্থায় মোট পাঁচটি ল্যাগরেঞ্জ বিন্দু রয়েছে, যথা L1, L2, L3, L4 ও L5.
- L2 বিন্দুটি পৃথিবীর বিপরীত দিকে সূর্য থেকে দূরে অবস্থিত।

• বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব:
- L2 অবস্থান থেকে JWST মহাবিশ্বের প্রাচীনতম গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম।
- এটি নক্ষত্রের জন্মপ্রক্রিয়া, গ্রহীয় বায়ুমণ্ডল, এবং প্রাথমিক মহাবিশ্বের অবস্থা বিশ্লেষণ করে।
- ইনফ্রারেড পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি ধূলিকণার আড়ালে থাকা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু শনাক্ত করতে পারে।

• অন্যান্য অপশন:
- নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথ → পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২০০–২০০০ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথ, যেখানে হাবল স্পেস টেলিস্কোপ অবস্থান করে।
- ভূ-স্থির কক্ষপথ → বিষুবরেখার উপর প্রায় ৩৫,৭৮৬ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত কক্ষপথ, যেখানে উপগ্রহ পৃথিবীর ঘূর্ণনের সাথে সমান কৌণিক বেগে আবর্তিত হয়।
- মঙ্গল গ্রহের কক্ষপথ → মঙ্গল গ্রহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত কক্ষপথ, যা গ্রহ অনুসন্ধানী মহাকাশযানের জন্য ব্যবহৃত হয়।

উৎস: NASA, James Webb Space Telescope – Orbit Overview Page [Link], Britannica.

১,৩৯৬.
নিয়ত বায়ু কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা

যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয় তাকে বলা হয় নিয়ত বায়ু।
নিয়ত বায়ু তিন প্রকার।
যথা:
• অয়ন বায়ু,
• পশ্চিমা বায়ু ও
• মেরু বায়ু।
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে সদা প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয়- অয়ন বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

১,৩৯৭.
জারণ বিজারণ একটি-
  1. ক) আলাদা বিক্রিয়া
  2. খ) সম্পূরক বিক্রিয়া
  3. গ) যুগপৎ ক্রিয়া
  4. ঘ) একক বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
জারণ বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রন ত্যাগ করে বিজারক, সে অন্য পদার্থকে ইলেকট্রন গ্রহণ করিয়ে সেই পদার্থের বিজারণ ঘটায় বলে তাকে বিজারক বলে। ইলেকট্রন গ্রহণ করে জারক, অন্য পদার্থের ইলেকট্রন ত্যাগের মাধ্যমে সে পদার্থের জারণ ঘটায় বলে একে জারক বলে।জারণ বিজারণ একই সাথে ঘটে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
১,৩৯৮.
'ফ্লোরিকালচার' কী?
  1. সবজিচাষ সংক্রান্ত বিদ্যা
  2. ফলচাষ সংক্রান্ত বিদ্যা
  3. ফুলচাষ সংক্রান্ত বিদ্যা
  4. শস্যচাষ সংক্রান্ত বিদ্যা
ব্যাখ্যা
- ফ্লোরিকালচার বা ফুল চাষ হল উদ্যানপালনের একটি শাখা যা ফুল শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। 
- উদ্ভিদ প্রজননের মাধ্যমে নতুন জাত উদ্ভাবন ফুল চাষীদের একটি প্রধান পেশা। 

অন্যদিকে, 
- ফলচাষ বিষয়ক বিদ্যাকে পোমোলজি বলা হয়। 
- মাঠ ফসল উৎপাদন এবং মাটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা বিদ্যাকে এগ্রোনমি বলা হয়। 
- হর্টিকালচার হল উন্নয়ন, টেকসই উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং উচ্চ-মূল্যের, নিবিড়ভাবে চাষ করা খাদ্য এবং শোভাময় উদ্ভিদের বিজ্ঞান ও শিল্প। 
- রেশম চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- সেরিকালচার। 
- মৌমাছির পালন বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- এপিকালচার। 
- মৎস্য চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- পিসিকালচার। 
- চিংড়ি চাষ বিষয়ক বিদ্যাকে বলা হয়- প্রণকালচার। 
- পাখী পালন বিদ্যাকে বলা হয়- এভিকালচার এবং 
- সামুদ্রিক মৎস্য পালন বিদ্যাকে বলা হয়- মেরিকালচার। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,৩৯৯.
নিম্নলিখিত কোন গ্যাসটি গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে?
  1. আর্গন
  2. নাইট্রাস অক্সাইড
  3. নাইট্রোজেন
  4. হিলিয়াম
ব্যাখ্যা

অপশনে উল্লিখিত গ্যাসসমূহের মধ্যে নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস গ্রিন হাউস প্রভাব সৃষ্টি করে।

গ্রিন হাউস প্রভাব:
- শীতপ্রধান দেশে গ্রিন হাউসের (কাঁচ নির্মিত একটি ঘর) মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে সবুজ উদ্ভিদ জন্মানো হয়।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ শীতপ্রধান দেশের গ্রিন হাউস ঘরের ন্যায় সূর্য থেকে আগত রশ্মি তাপ বিকিরণে বাঁধা সৃষ্টি করে বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে।
- গ্রিন হাউস গ্যাস কর্তৃক বায়ুমণ্ডলের এইরূপ তাপ বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে গ্রিন হাউস অ্যাফেক্ট (Greenhouse effect) বলে।
- গ্রিন হাউস ইফেক্ট কথাটি সর্বপ্রথম সোভানটে আরহেনিয়াস প্রথম ব্যবহার করেন।
- গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ হলো-কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (CFC)। 

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান নিয়ামক হিসেবে নিম্নে গ্রিন হাউস গ্যাস ও গ্রিন হাউস প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

গ্রিন হাউস গ্যাসসমূহ:
১। কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2):
- কার্বন ডাইঅক্সাইড বর্ণহীন, সামান্য গন্ধযুক্ত কার্বন ও অক্সিজেন নিয়ে গঠিত একটি গ্যাস।
- পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ০.০৩ শতাংশ কার্বন ডাইঅক্সাইড।
- জীবের প্রশ্বাসের সাথে কার্বন ডাইঅক্সাইড, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে, উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহের পচন, মোটরযান ও শিল্প কারখানার জ্বালানি (কয়লা, প্রাকৃতিক গ্যাস, তৈল) পোড়ানো থেকে কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়।
- বর্তমানে তরল ও কঠিন কার্বন ডাইঅক্সাইড রেফ্রিজারেন্ট হিসেবে আইসক্রিম, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়।
- সবুজ উদ্ভিদ এর খাদ্য প্রস্তুতে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করলেও বন উজাড় বৃদ্ধি পাওয়ায়, অধিক হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার, মোটরযানের সংখ্যা প্রভৃতি বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বিশ্বব্যাপী কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে এবং বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করছে।

২। মিথেন (CH4):
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন।
- এছাড়াও জলাভূমিতে পানির নিচে পানা পচনের মাধ্যমে, ধানের বর্জ্য অবশিষ্টাংশের পচন থেকে মিথেন পাওয়া যায়।
- তাপ ধারণ ক্ষমতার ক্ষেত্রে মিথেন কার্বন ডাই অক্সাইডের চাইতে ২০ গুণ বেশি তাপ ধারণ করে।

৩। ক্লোরোফ্লোরো কার্বন (CFC):
- সিএফসি সাধারণত বিষমুক্ত, নিষ্ক্রিয় এবং ফ্লোরিন ও কার্বনের সমন্বয়ে গঠিত যৌগ।
- সিএফসি হিমায়নে (ফ্রিজ, এসি) ও স্প্রে-ক্যানে (অ্যারেসোল), মাইক্রো ইলেকট্রিক সার্কিট ও প্লাস্টিক ফোমে ব্যবহৃত হয়।

৪। নাইট্রাস অক্সাইড (N2O):
- অক্সিজেনের সাথে নাইট্রোজেন যুক্ত হয়ে নাইট্রোজেনের অক্সাইডসমূহ তৈরি করে।
- এটিও বর্ণহীন, সামান্য মিষ্টিগন্ধযুক্ত।
- এই গ্যাসের উৎসসমূহ হলো মোটরযান, শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র, নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ রাসায়নিক সার, কারখানা।

অন্যদিকে,
- আর্গন (Ar): বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে তৃতীয় সর্বাধিক পরিমাণে থাকে। গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
- নাইট্রোজেন (N2): পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ৭৮.০৯% গঠন করে। গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
- হিলিয়াম : এটি একটি নিষ্ক্রিয় (inert) গ্যাস। পর্যায় সারণির Noble gas গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,৪০০.
ট্রানজিস্টরে টার্মিনাল হিসেবে থাকে -
  1. ক) ইমিটার
  2. খ) বেস
  3. গ) কালেক্টর
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ট্রানজিস্টরে তিনটি টার্মিনাল থাকে। যথা:
i) ইমিটার (Emitter),
ii) বেস (Base) এবং
iii) কালেক্টর (Collector)।

- ট্রানজিস্টর হলো তিন প্রান্ত (Terminal) বিশিষ্ট একটি ডিভাইস (Device)।
- ১৯৪৮ সালে আমেরিকায় বেল ল্যাবরেটরীতে প্রথম এর আবিষ্কার হয়।
- আবিষ্কারের পর থেকেই ট্রানজিস্টর ইলেকট্রনিক জগতে বিপ্লবের সৃষ্টি করেছে।
- ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির এটি একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।
- বিবর্ধক (Amplifier) হিসেবে এর ব্যবহার সর্বাধিক।
- সাধারণ ট্রানজিস্টরে ইলেকট্রন এবং হোল উভয় ধরনের চার্জ বাহক থাকে বলে একে বাইপোলার ট্রানজিস্টর বলে।
- ইলেকট্রনিক বিবর্ধক ও সুইচ হিসেবে ট্রানজিস্টর ব্যবহৃত হয়।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।