বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

Hindu Law

মোট প্রশ্ন২০৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

Hindu Law

PrepBank · পাতা / · ১০১২০০ / ২০৪

১০১.
হিন্দু দায়ভাগ মতে, সকুল্যের ঊর্ধ্বতন ____________ পুরুষ সমানোদক নামে অভিহিত।
  1. তিন
  2. পাঁচ
  3. সাত
  4. আট
ব্যাখ্যা

দায়ভাগ আইনে তিন শ্রেণীর উত্তরাধিকার নির্ধারিত আছে, যথা: সপিণ্ড, সাকুল্য এবং সমানোদক।

সপিণ্ড:
একজন মারা গেলে সে অর্থাৎ তার আত্মা যাদের নিকট হতে পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী তাহারা সকলেই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড। সপিণ্ড সর্বমোট ৫৩ জন।

সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন তিন পুরুষ সকুল্য নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় সপিণ্ডদের পিণ্ডদানের পর যা অবশিষ্ট থাকে সেই পিণ্ডলেপ সকুল্যদের উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়।

সমানোদক:
সকুল্যের ঊর্ধ্বতন সাত পুরুষ সমানোদক নামে অভিহিত। শ্রাদ্ধের সময় তাদের উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র জল নিবেদন করা হয়। সংস্কৃতে উদক শব্দের অর্থ জল।

উত্তরাধিকারিত্বে সপিণ্ডদের দাবী অগ্রগণ্য অর্থাৎ তাহারা প্রথম শ্রেণীর উত্তরাধিকারী। সপিণ্ডদের পর সকুল্যদের দাবী এবং সর্বশেষ সমানোদকের দাবী।

১০২.
'Succession per stripes' অর্থ কি?
  1. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  2. প্রতিনিধিত্ব উত্তরাধিকার
  3. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  4. অংশপিছু উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়:
 
(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation): প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।
 
খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succession per stirpes): যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবংউত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশপ্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।
 
(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita): মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
১০৩.
কোনটি বিবাহিতা মহিলার সীমিত স্ত্রীধন এর উদাহরণ?
  1. স্বামীর নিকট হতে দানসূত্রে প্রাপ্ত স্থাবর সম্পত্তি
  2. অনাত্মীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত দানকৃত সম্পত্তি
  3. কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

একজন মহিলা বিবাহিতা অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহাও তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে। যেমন বিবাহ উপলক্ষ্যে স্ত্রী যে সমস্ত যৌতুকাদি পাইয়া থাকেন অথবা বিবাহিতা অবস্থায় আত্মীয়দের নিকট হইতে কোন সম্পত্তি দানসূত্রে পাইলে তাহাও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

তবে ব্যতিক্রম এই যে, বাংলাদেশে বিবাহিতা অবস্থায় অনাত্মীয় ব্যক্তির নিকট হইতে দানসূত্রে কোন কিছু পাইলে, স্বামীর নিকট হইতে দানসূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পাইলে অথবা বিবাহিতা অবস্থায় কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হইলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

স্বামীর জীবদ্দশায় উক্ত তিন প্রকারের সম্পত্তিতে বিবাহিতা মহিলার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত দান বিক্রয় ইত্যাদি করা যায় না। স্বামী মারা গেলে অবশ্য ঐ সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্ত্রীধনরূপে গণ্য হইবে। অর্থাৎ উক্ত তিন রকমে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্বামীর জীবদ্দশায় পুরাপুরি স্ত্রীধনরূপে গণ্য না করিয়া বরং সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

১০৪.
হিন্দু উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে -
  1. প্রত্যেকে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  2. প্রত্যেকে এক পুত্রের সম্পত্তির অর্ধেক করে পাবে
  3. সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  4. সকলে একত্রে এক পুত্রের সম্পত্তির অর্ধেক পাবে
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-
(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।

১০৫.
আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে কোন বিবাহ সবচেয়ে অসম্মানজনক?
  1. ব্রহ্ম বিবাহ
  2. দৈব বিবাহ
  3. আর্শ বিবাহ
  4. পৈশাচ বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রাচীন প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক এবং নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। মনুস্মৃতি এবং অন্যান্য হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, পৈশাচ বিবাহে একজন পুরুষ একজন নারীকে অজ্ঞান, নেশাগ্রস্ত বা মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় প্রলুব্ধ করে বা বলপূর্বক (যেমন ধর্ষণের মাধ্যমে) বিবাহ করে। এই বিবাহ সম্পূর্ণভাবে নারীর সম্মতি এবং মর্যাদার বিরুদ্ধে, যা এটিকে নৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) ব্রহ্ম বিবাহ: এটি হিন্দু বিবাহের সবচেয়ে পবিত্র এবং সম্মানজনক প্রকার। এতে কন্যার পিতা তার কন্যাকে বেদজ্ঞ, সৎ এবং নৈতিক চরিত্রের পাত্রের কাছে কন্যাদান করেন, কোনো যৌতুক ছাড়াই। এটি ধর্ম, জ্ঞান এবং সদগুণের প্রতীক, তাই এটি অসম্মানজনক নয়।
খ) দৈব বিবাহ: এই বিবাহে কন্যাকে ধর্মীয় যজ্ঞের দক্ষিণা হিসেবে পুরোহিতের কাছে দেওয়া হয়। যদিও এটি ব্রহ্ম বিবাহের তুলনায় কিছুটা নিম্নমানের, তবুও এটি প্রশস্ত (অনুমোদিত) এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য। এটি অসম্মানজনক নয়।
গ) আর্শ বিবাহ: এই বিবাহে কন্যার পিতা একটি গাভী এবং ষাঁড়ের বিনিময়ে কন্যাকে দান করেন। এটি একটি প্রশস্ত বিবাহ এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য, যদিও এটি ব্রহ্ম বা দৈব বিবাহের তুলনায় কম সম্মানজনক। তবে, এটি পৈশাচ বিবাহের মতো নিন্দনীয় নয়।

পৈশাচ বিবাহের অসম্মানজনক প্রকৃতি:
নৈতিক দিক: পৈশাচ বিবাহে নারীর সম্মতি থাকে না, এবং এটি বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি হিন্দু ধর্মের ধর্ম ও নৈতিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ: এই বিবাহ সমাজে পাপাচার হিসেবে বিবেচিত হত এবং সম্পূর্ণভাবে নিন্দিত।
আধুনিক দৃষ্টিকোণ: আধুনিক আইনে পাইশাচ বিবাহের কার্যকলাপ (যেমন ধর্ষণ বা জোরপূর্বক বিবাহ) দণ্ডবিধির অধীনে যৌন নির্যাতন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক, কারণ এটি নারীর ইচ্ছা ও সম্মতির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ঘ) পৈশাচ বিবাহ।

১০৬.
হিন্দু আইনের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত কোন নীতিকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ইস্টোপেল নীতি
  2. প্রতিনিধিত্ব নীতি
  3. উভয়
  4. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
⇒ দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়-

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation):
প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

(খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Succssession per stripes):
যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবং উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশ প্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita):
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
১০৭.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ কোন তারিখে কার্যকর হয়েছে?
  1. ১ জানুয়ারি ২০১২
  2. ২৭ জানুয়ারি ২০১৩
  3. ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১২
  4. ১৫ আগস্ট ২০১৩
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২-এর প্রেক্ষাপট:
- আইন পাসের তারিখ: আইনটি প্রণীত হয় ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১২ (ধারা ১(৩) অনুযায়ী)।
- কার্যকর হওয়ার তারিখ: সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন (এস.আর.ও নং ৩০-আইন/২০১৩) দ্বারা ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ তারিখে এটি কার্যকর হয়।

⇒ অর্থাৎ আইনের ধারা ১(৩) এ বলা হয়েছে, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকার কার্যকর তারিখ নির্ধারণ করবে।
- প্রকৃতপক্ষে, ২৭ জানুয়ারি ২০১৩ (১৪ মাঘ ১৪১৯ বঙ্গাব্দ) থেকে এটি কার্যকর হয়।
- সুতরাং, সঠিক উত্তর খ) ২৭ জানুয়ারি ২০১৩।

১০৮.
মিতাক্ষরা আইনে কারা অসতীত্বের কারণে স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়?
  1. কন্যা
  2. বিধবা স্ত্রী
  3. মাতা
  4. সকল মহিলা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে কিছু ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, যথা:
-  অসতীত্ব;
- ধর্মচ্যুত হলে বা ধর্ম ত্যাগ করলে;
- সন্ন্যাসী উত্তরাধিকার হয় না। সন্ন্যাসীকে সংসার ত্যাগী হিসাবে মৃত ধরা হয়;
- অন্ধ, বধির, মূক, অঙ্গহীন, পুরুষত্বহীন এবং বুদ্ধি প্রতিবন্ধী পুরুষ ও মহিলাগণ হিন্দু আইনে উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত। এমনকি দুরারোগ্য কুষ্ঠ-ব্যধীগ্রস্ত ব্যক্তিগণও উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত;
- হত্যাকারী এবং তার ওয়ারিশ মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার হতে বঞ্চিত হবে।


উল্লেখ্য,
⇒ অসতীত্ব জনিত কারণে মিতাক্ষরা আইনে শুধুমাত্র বিধবাই স্বামীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত। এই কারণে অন্য কোন মহিলা সম্পত্তি পাইতে বাধাপ্রাপ্ত হন না। কিন্তু দায়ভাগ মতে শুধু বিধবাই নহে, একই নিয়মে এবং কারণে অন্যান্য মহিলারাও যেমন কন্যা অথবা মাতা উত্তরাধিকার হইতে বঞ্চিত হইবে। 

অসতীত্ব একজন নারীকে পুরুষের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারিত্ব লাভে বঞ্চিত করিলেও অসতীত্বের কারণে একজন নারী কোন স্ত্রীলোকের উত্তরাধিকারিত্ব হইতে বঞ্চিত হয় না। নজীরে আছে, অসতীত্বের কারণে কন্যা তাহার মাতার স্ত্রীধনের উত্তরাধিকারিত্ব হইতে বঞ্চিত হয় নাই। কলিকাতা হাইকোর্টে নগেন্দ্র বনাম বিনয়কৃষ্ণ মামলায় এই প্রশ্নটির মীমাংসা হয়। (30 cal 521)।

১০৯.
বাংলাদেশের আইনানুযায়ী, উইল বা ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে একজন হিন্দু নাবালক ও তার সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ করতে পারবেন-
  1. পিতা
  2. মাতা
  3. আদালত
  4. পিতা এবং মাতা উভয়
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইন ও অভিভাবকত্ব:
প্রাচীন হিন্দু আইনে একজনের ভালমন্দ বুঝার বয়স হলেই তাকে সাবালক বলে গণ্য করা হতো। দায়ভাগা মতে, একজনের বয়স ১৫ হলে ও মিতাক্ষরা মতে ১৬ বছর হলে সাবালক হয়। তবে ১৮৭৫ সালে "ভারতীয় সাবালকত্ব আইন" পাস হওয়ার পর থেকে কোন নারী বা পুরুষ ১৮ বছর পূর্ণ হলে সাবালক বলে গণ্য হয়। এ আইন বাংলাদেশে প্রযোজ্য। এ আইনে উল্লেখ আছে যে, হিন্দু ও মুসলিমদের ক্ষেত্রে বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ এবং দত্তক ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে এ আইন সমভাবে প্রযোজ্য হবে। হিন্দু আইনে অভিভাবকত্ব বলতে বুঝায়, নাবালকের জীবন ও বিষয়-সম্পত্তির নিরাপত্তা পরিচালনার দায়িত্ব আইনসম্মতভাবে পালন করাই হচ্ছে অভিভাবকত্ব।

হিন্দু আইন অনুযায়ী কিছু আইনগত ব্যাখ্যা নিম্নে তুলে ধরা হলঃ
- হিন্দু আইনে পিতা একমাত্র প্রকৃত ও স্বাভাবিক অভিভাবক এবং পিতার জীবিত অবস্থায় অন্য কেউ অভিভাবক হতে পারে না।

- পিতা যদি জীবিত থাকেন তবে সে যে কোন বয়সের নাবালকের দায়িত্ব ও অভিভাকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন ও তার অভিভাকত্বই মাতার চাইতে উর্ধ্বে থাকবে। তবে পিতা যদি দ্বিতীয় বিয়েতে আবদ্ধ হন সেক্ষেত্রে মাতা তার নাবালিকা কন্যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

- যদি পিতা অনুপস্থিত বা অবর্তমান থাকে তবে মাতা তার নাবালিকা কন্যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।

- বাংলাদেশের আইনানুযায়ী হিন্দু বাবাই শুধুমাত্র উইল বা ইচ্ছাপত্রের মাধ্যমে একজন নাবালক ও তার সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু, একজন মা তার নাবালক সন্তানের অভিভাবক নিয়োগ করতে পারবেন না। তবে আদালত অনেক সময় একজন মায়ের ইচ্ছাকে সম্মান প্রদান করতে পারেন।

- মা তার অভিভাবকত্ব হারান যদি তিনি ধর্মান্তরিত হন।

- হিন্দু আইনে দত্তক নেবার আইনগত অধিকার আছে। দত্তক গ্রহণের পর নাবালক দত্তক পুত্রের অভিভাবকত্ব তার স্বাভাবিক পিতা-মাতার নিকট হতে দত্তক পিতা-মাতার নিকট বর্তায়। একজন দত্তক সন্তান প্রকৃত সন্তানের সমপরিমাণ সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে।
১১০.
'The Hindu Inheritance (Removal of Disabilities) Act' আইনটি কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ১৮৫৬
  2. ১৯১৬
  3. ১৯২৮
  4. ১৯৩৭
ব্যাখ্যা
⇒ বৃটিশ আমলে যেসব রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা হিন্দু আইনের বেশ কিছু প্রচলিত প্রথার সংস্কার করা হয়েছিল তার মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশে বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য কিছু আইনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল।
১। The Hindu Widow's Re-marriage Act, 1856 এই আইনের মুখবন্ধে বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ থাকাকে প্রচলিত প্রতিষ্ঠিত প্রথা হিসেবে স্বীকার করলেও এটিকে হিন্দু আইনের মূল ধারণার পরিপন্থি বলে বিধবা বিবাহের আইনগত বৈধতা দেয়া হয় এবং বিবাহের পর ভূমিষ্ঠ সন্তানদের স্বীকৃতি দেয়া হয়।
২। The Hindu Disposition of Property Act, 1916 এর মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পূর্বে তার বরাবর সম্পত্তি দান করার আইনগত বৈধতা দেয়া হয়।
 
৩। The Hindu Inheritance (Removal of Disabilities) Act, 1928 এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার যে প্রচলিত নিয়ম ছিল তা রদ করা হয়। তবে বাংলাদেশে শুধুমাত্র হিন্দু মিতাক্ষরা মতাবলম্বীদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য করা হয়।
 
8 The Hindu Law of Inheritance (Amendment) Act, 1929-এ উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুত্রের কন্যা, কন্যার কন্যা, বোন এবং বোনের পুত্রকে দাদার পর এবং চাচার আগে স্থান দেয়া হয়। তবে এটিও শুধুমাত্র মিতাক্ষরা মতাবলম্বীদের জন্য প্রযোজ্য।
৫। The Hindu Women's Right to Property Act, 1937 আইনের মাধ্যমে বিধবাদের জীবনস্বত্বে প্রাপ্ত সম্পত্তির পরিমান সুনির্দিষ্ট করা হয়।
৬। The Hindu Women's Rights to Property (Extension to Agricultural Land) Act, 1943 (Amendment Act)-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে কৃষিভূমিতে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
 
৭। The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946 দ্বারা বিশেষ ক্ষেত্রে নারীদের পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণের অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি দেয়া হয়।
৮। The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946 দ্বারা একই কাস্ট বা বর্ণের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বিবাহের আইনগত বৈধতা দেয়া হয়।
 
উল্লেখ্য, বর্ণিত আইনগুলো শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এসব রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা হিন্দু সনাতন ধর্মের প্রচলিত বিভিন্ন প্রথাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, হিন্দু নারীর অধিকারের প্রতি রাষ্ট্র সংবেদনশীল হয়েছে যার প্রতিফলন আইনগুলোর মধ্যে দেখা যায়। তাছাড়া কিছু প্রগতিশীল আইন বাংলাদেশের মিতাক্ষরা মতাবলম্বীদের মধ্যে প্রয়োগযোগ্য করা হয়েছে যা দায়ভাগ মতাবলম্বীদের সংস্কারের পক্ষে জোড়ালো যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
১১১.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নারী সপিণ্ড কয়জন?
  1. ৭ জন
  2. ৪ জন
  3. ৯ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:

১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
১১২.
১৮৫৬ সালে নিম্নের কোন আইন পাশ হয়?
  1. বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন
  2. হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন
  3. হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন
  4. হিন্দু বিবাহ বিচ্ছেদ আইন
ব্যাখ্যা
• উচ্চ-বর্ণের হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন যাবৎ বিধবাদের পুনরায় বিবাহের অনুমোদন দেয় নি। বিধবারা এমনকি যারা শৈশবে বা কৈশোরে বিধবা হয়েছিলেন তারাও বৈরাগ্য ও কঠোর ত্যাগ স্বীকার করে জীবনযাপন করবেন এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। তথাকথিত পরিবারের সম্মান ও পারিবারিক সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য এরকম নিয়ম করা হয়েছিল। পণ্ডিত ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের অকালন্ত প্রচেষ্টায় ব্রিটিশ সরকার ভারতে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন, ১৮৫৬, প্রণয়ন করে যার মাধ্যমে বিধবাদের উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তির অধিকার ইত্যাদি সামাজিক রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীন সময়ে তখনকার ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসির সহায়তায় ভারতবর্ষের সকল বিচারব্যবস্থায় হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ বৈধ করা হয়েছিল। ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ক্যানিং আইন প্রণয়ন করে বিধবা বিবাহ কে আইনি স্বীকৃতি দেন। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংকয়ের দ্বারা সতীদাহ বিলুপ্ত করার পর এটিই প্রথম বড় সমাজ সংস্কার আইন।
১১৩.
দেবোত্তরের অধীনে যে দেবমূর্তি থাকে, তাকে আইনত কী ধরা হয়?
  1. সেবায়েত
  2. বৈধ সত্ত্বা
  3. সরকারি সম্পত্তি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

দেবত্তোর (Debutter):
মন্দির নির্মাণ করিয়া তাহাতে কোন দেবমূর্তির প্রতিষ্ঠা করতঃ নিয়ত পূজার্চনার ব্যয় নির্বাহের জন্য কোন সম্পত্তি দান করলে তা সাধারণত দেবোত্তর নামে পরিচিত। এই রকম বিগ্রহ বা দেবমূর্তি এক বৈধ সত্ত্বা (Juridical person) এবং তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গিত সম্পত্তির তিনি আইনত মালিক।

দেবোত্তর দুই রকমের হইতে পারে। যেমন- যখন কোন পরিবারের কোন ব্যক্তি পারিবারিক গৃহ দেবতার পূজা অর্চনার জন্য কোন সম্পত্তি দান করে যান, তা ব্যক্তিগত অথবা পারিবারিক দেবোত্তর বলা হয়। কারণ তদবস্থায় বিগ্রহের সেবা পূজার দায়িত্ব তাঁর বংশধরগণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। আবার সর্বসাধারণের উদ্দেশ্যে অনুরূপ দান সম্পন্ন হলে তা সার্বজনীন দেবোত্তররূপে পরিগণিত হয়।

১১৪.
জনৈক হিন্দু লোক ‘M’ মারা গেছেন। তাঁর ২ পুত্র এবং স্ত্রী  বেঁচে আছেন। স্ত্রী সম্পত্তির কত অংশ পাবেন?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৪ অংশ
  4. পুত্রদের দ্বারা বঞ্চিত হবেন
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ মৃত্যুবরণ করলে নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে সবার আগে তাঁর পুত্র, পুত্রের অনুপস্থিতিতে পৌত্র (পুত্রের পুত্র) এবং পুত্র ও পৌত্রের অনুপস্থিতিতে প্রপ্রৌত্র (পুত্রের পুত্রের পুত্র) সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। কারণ, পুত্র তাঁর পিতার, পৌত্র তাঁর পিতার ও প্রপৌত্র তাঁর পিতা ও পিতামহের প্রতিনিধিত্ব করেন।  সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ অনুসারে বিধবা স্ত্রী তাঁর জীবদ্দশায় মৃত স্বামীর সম্পত্তিতে পুত্রের সমান জীবনস্বত্ব পাবেন।

এখানে 'M' সম্পত্তি মোট তিন অংশে বিভক্ত হবে। সম্পত্তির বণ্টন:
- পুত্র (১) পাবে ১/৩ অংশ।
- পুত্র (২) পাবে ১/৩ অংশ।
- স্ত্রী পাবে ১/৩ অংশ।

১১৫.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ধারণে কোন নীতি অনুসরণ করা হয়?
  1. ধর্মীয় শুদ্ধি নীতি
  2. আত্মিক বন্ধন নীতি
  3. পারিবারিক সমতা নীতি
  4. আধ্যাত্মিক কল্যাণ নীতি
ব্যাখ্যা
হিন্দু উত্তরাধিকার আইন:
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন: ১. বিধবা স্ত্রী; ২. কন্যা; ৩. মাতা; ৪. পিতার মাতা ও ৫. পিতার পিতার মাতা। পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।
১১৬.
বাংলাদেশে স্বাভাবিক পুত্র জন্মালে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের কত ভাগ পায়?
  1. তিন ভাগের এক ভাগ
  2. পাঁচ ভাগের দুই ভাগ
  3. চার ভাগের এক ভাগ
  4. পাঁচ ভাগের এক ভাগ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু আইন অনুযায়ী, যদি দত্তকী পুত্রের দত্তক গ্রহণকারী পিতার নিজস্ব (স্বাভাবিক) পুত্র জন্মগ্রহণ করে, তাহলে দত্তকী পুত্র তার দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ (১/৩) পায়।
তবে, যদি দত্তকী পুত্র ছাড়া দত্তকী পিতার কোনো স্বাভাবিক পুত্র না থাকে, তাহলে দত্তকী পুত্রই সম্পত্তির পূর্ণ উত্তরাধিকারী হয়।

⇒ বাংলাদেশে দত্তকী পুত্রের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিধান হিন্দু আইনের বিভিন্ন মতপন্থার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। সাধারণত, দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার স্বাভাবিক পুত্রের মতো অধিকারের দাবিদার হলেও কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে।
- দত্তকী পুত্র যদি শুদ্র শ্রেণির হয়, তাহলে সে দত্তকী পিতার সম্পত্তির সমান অংশ পায়। কিন্তু অন্যান্য বর্ণের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার ত্যাজ্যবিত্তের তিন ভাগের এক ভাগ অংশ পায়। এই নিয়মটি বাংলাদেশের প্রচলিত দত্তক আইনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
যদিও বিভিন্ন মতপন্থায় ভিন্ন ভিন্ন হিসাব দেখা যায়, যেমন—
- বেনারস মতপন্থী মতে, দত্তকী পুত্র চার ভাগের এক ভাগ পায়।
- বোম্বে ও মাদ্রাজ মতপন্থী মতে, সে পাঁচ ভাগের এক ভাগ পায়।
কিন্তু বাংলাদেশের প্রচলিত দত্তক আইন অনুসারে দত্তকী পুত্র দত্তকী পিতার সম্পত্তির তিন ভাগের এক ভাগ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়ে থাকে।
১১৭.
হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে কোন পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রযোজ্য?
  1. মিতাক্ষরা পদ্ধতি
  2. দায়ভাগ পদ্ধতি
  3. উত্তরাধিকার পদ্ধতি
  4. সম্পত্তি বণ্টন পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন মূলত দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System) অনুসারে পরিচালিত হয়।
- হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দুইটি প্রধান পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে:
১) দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System)
২) মিতাক্ষরা পদ্ধতি (Mitakshara System)

- প্রচলন: দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে অনুসৃত হয়।
- উত্তরাধিকার নীতি: এই পদ্ধতিতে যে ব্যক্তি পিন্ডদান (শেষকৃত্য করার অধিকার) করতে পারেন, তিনিই উত্তরাধিকারী হন।
- বৈধব্য অধিকার: ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীর অধিকার আইন অনুযায়ী, বিধবারা উত্তরাধিকার পেতে শুরু করেন।
- পুত্র ও স্ত্রী উভয়ের অংশ: দায়ভাগ মতে, পুত্র পিতার সম্পত্তির প্রধান উত্তরাধিকারী হলেও বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ পান।
১১৮.
হিন্দু আইনে 'Factum valet' নীতিটির প্রবর্তক-
  1. মনু
  2. নারদ
  3. জীমুতবাহন
  4. যাজ্ঞবল্ক্য
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum valet] নীতিটির প্রবর্তক হলো জীমুতবাহন।

Factum valet quod fieri non debuit অর্থ হলো উচিৎ নয় এমন কোন কাজ কেউ করে ফেললে সেটাকে অবৈধ গণ্য করা হবে না। এটা বর্তমানে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষর উভয় মতবাদে স্বীকৃত নীতি। এই নীতির আলোকে আদালত হিন্দু আইনের কতিপয় ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে।
যেমন অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বিধি মোতাবেক একটি দিক নির্দেশক পন্থা মাত্র, সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি অবৈধ হবে না।
১১৯.
'Factum valet' নীতি অনুসারে উচিৎ নয় এমন কোন কাজ করা হলে-
  1. বৈধ গণ্য করা হবে না
  2. অবৈধ গণ্য করা হবে না
  3. অবৈধ গণ্য করা হবে
  4. বাতিল হবে
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনে ফ্যাক্টাম ভ্যালেট (Factum valet] নীতিটির প্রবর্তক হলো জীমুতবাহন। Factum valet quod fieri non debuit অর্থ হলো উচিৎ নয় এমন কোন কাজ কেউ করে ফেললে সেটাকে অবৈধ গণ্য করা হবে না। এটা বর্তমানে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষর উভয় মতবাদে স্বীকৃত নীতি। এই নীতির আলোকে আদালত হিন্দু আইনের কতিপয় ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে।

যেমন- অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া একটি বিয়ে অনুষ্ঠিত হলো। বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতি বিধি মোতাবেক একটি দিক নির্দেশক পন্থা মাত্র, সম্মতি ছাড়া বিয়ে হলে সেটি অবৈধ হবে না।
১২০.
'Factum valet' নীতি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়?
  1. নির্দেশাত্মক বিধানের ক্ষেত্রে
  2. সুপারিশমূলক বিধানের ক্ষেত্রে
  3. অবশ্য পালনীয় বিধানের ক্ষেত্রে
  4. ক ও খ ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
• Quod fieri non debet factum valet (বিধিমত যা অকর্তব্য, তা করা হলে বিধিসম্মত বলে ধরা হয়) এই প্রবচনের উপর ভিত্তি করে factum valet মতবাদের উৎপত্তি হয়েছে। ফ্যাকটাম ভ্যালেট হিন্দু দায়ভাগা আইনের একটি নীতি। হিন্দু আইনে এই মতবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মতবাদ হিসেবে পরিচিত। যে কাজ করা উচিৎ নয় বা করা হয়েছে, তাকে বৈধ হিসেবে গণ্য করার নীতি ‘factum valet’ নামে পরিচিত।

আইনের বিধানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
- নির্দেশাত্মক বিধান (Directory provision of law), 
- অবশ্য পালনীয় বিধান (mandatory provision of law) বলা হয়।

অবশ্য পালনীয় বিধান অমান্য করলে সেই কাজটি বেআইনী বলে গণ্য হবে এবং অন্য কোন সূত্র প্রয়োগ করে তা বৈধ করা যায় না। তবে আইনের সুপারিশমূলক/নির্দেশাত্মক বিধান উপেক্ষা করেও কোন একটি কাজ করা হলে, এরূপ কৃত কার্যকে আইনতঃ সিদ্ধ বলে গ্রহণ করাকে ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি বলা হয়। অর্থাৎ ‘directory’ নির্দেশের পরিপন্থী কাজ অনুচিত হলেও উক্ত কাজকে সরাসরি বেআইনী বলা যায় না। হিন্দু আইনে অনুরূপ কাজ factum valet নীতি অনুযায়ী বৈধ করা যায়।

যেমন- হিন্দু ধর্ম মতে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া কোন বিয়ে হতে পারে না। কিন্তু অনুরূপ বিধান লংঘন করে কোন বিয়ে হয়ে গেলে তা ফ্যাকটাম ভ্যালেট নীতি অনুযায়ী বৈধ গণ্য হয়ে থাকে। একইভাবে শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে কোন ব্যক্তি তার একমাত্র সন্তানকে দত্তক দিতে পারেন না। কিন্তু ঐ বিধি উপক্ষো করে যদি কেউ তার একমাত্র পুত্রকে দত্তক দিয়েই ফেলেন তাহলে তা অসিদ্ধ বলে বিবেচিত হয় না। তবে উভয়ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে হয়। এছাড়াও ফ্যাক্টাম ভ্যালেট নীতির কারণে এক বা একাধিক স্ত্রী থাকা সত্তে¡ও একজন হিন্দু পুনরায় বিবাহ করতে পারে।
১২১.
নিম্নলিখিত কোনটি হিন্দু আইনের প্রথার একটি প্রকার নয়?
  1. স্থানীয় প্রথা
  2. আধুনিক প্রথা
  3. পারিবারিক প্রথা
  4. জাতি বা সম্প্রদায় প্রথা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের প্রথা (Custom) হলো এমন একটি উৎস যা দীর্ঘকাল ধরে সমাজে পালিত হয়ে আসছে এবং আইনের মর্যাদা পেয়েছে। হিন্দু আইনে প্রথাগুলি সাধারণত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যগতভাবে পালিত হয়। প্রথাগুলিকে সাধারণত চারটি প্রকারে ভাগ করা হয়:

১) স্থানীয় প্রথা (Local Customs): এগুলি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় পালিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়ম যা আইনি মর্যাদা পায়।
২) পারিবারিক প্রথা (Family Customs): এগুলি একটি পরিবারের মধ্যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পালিত হয়। এটি পরিবারের নির্দিষ্ট ঐতিহ্য বা নিয়মের উপর ভিত্তি করে।
৩) জাতি বা সম্প্রদায় প্রথা (Caste or Community Customs): এগুলি নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের মধ্যে পালিত হয় এবং তাদের জন্য বাধ্যতামূলক হয়। উদাহরণস্বরূপ, পাঞ্জাবের কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাইয়ের বিধবার পুনর্বিবাহের প্রথা।
৪) গিল্ড প্রথা (Guild Customs): এগুলি ব্যবসায়ী বা পেশাগত গোষ্ঠীর মধ্যে পালিত হয়।

"আধুনিক প্রথা" হিন্দু আইনের প্রথার একটি প্রকার নয়:
- হিন্দু আইনে প্রথা হিসেবে গণ্য হওয়ার জন্য কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, যেমন এটি প্রাচীন, ধারাবাহিক, যুক্তিসঙ্গত, নৈতিক এবং আইনের সাথে সাংঘর্ষিক না হওয়া। "আধুনিক প্রথা" বলতে কোনো নতুন বা সম্প্রতি প্রচলিত অভ্যাস বোঝায়, যা দীর্ঘকাল ধরে পালিত হয়নি এবং তাই হিন্দু আইনের প্রথার মর্যাদা পায় না। হিন্দু আইনের প্রথাগুলি ঐতিহ্যগত এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে হবে, যা "আধুনিক প্রথা" ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে, স্থানীয় প্রথা, পারিবারিক প্রথা এবং জাতি বা সম্প্রদায় প্রথা হিন্দু আইনের ঐতিহ্যগত উৎস হিসেবে স্বীকৃত এবং দীর্ঘকাল ধরে পালিত হয়ে আসছে। সুতরাং, আধুনিক প্রথা হিন্দু আইনের প্রথার একটি প্রকার নয়।

১২২.
সাধারনত কোন ধরনের হিন্দু ব্যক্তিদের উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে?
  1. হত্যাকারী
  2. অসতী বিবাহিত স্ত্রীলোক
  3. সন্ন্যাসী
  4. উল্লিখিত সকল ব্যক্তি
ব্যাখ্যা
• হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে কিছু লোককে উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়ে থাকে-

প্রথমত, ধর্মচ্যুত হলেও অর্থাৎ কেউ হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করলে, তাকে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হবে।

দ্বিতীয়ত, অসতী স্ত্রী অর্থাৎ যদি কোন বিবাহিত স্ত্রীলোক অসতী হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীলোকটি উত্তরাধিকার সূত্রে কোন সম্পত্তি পাবে না।

তৃতীয়ত, যার কাছ থেকে সম্পত্তি পাবে তাকেই যদি হত্যা করা হয় সেক্ষেত্রে তার কাছ থেকে উত্তরাধিকার হিসেবে কোন সম্পত্তি পাবে না।

চতুর্থত, প্রতিবন্ধীদেরকে সাধারণত সম্পত্তি দেওয়া হয় না। যেমন, অন্ধ, বধির, মূক, পুরুষত্বহীন, অঙ্গহীন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, দুরারোগ্য ব্যক্তিদেরকে উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পত্তি দেয়া হয় না, কেননা তাদেরকে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে উত্তরাধিকার হিসেবে গণ্য করা হয় না। যার ফলে তারা উত্তরাধিকার হিসেবে কোন সম্পত্তি পায় না।

পঞ্চমত, সন্ন্যাসীরা যেহেতু সংসার ছাড়া হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে সন্ন্যাসীদেরকেও হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুসারে সম্পত্তি দেওয়া হয় না।
১২৩.
দানের ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. স্থাবর অথবা অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে।
  2. শুধু অস্থাবর সম্পত্তি দান করা যেতে পারে।
  3. গ্রহীতা নাবালক হলে, তার অভিভাবক তার পক্ষে দান গ্রহণ করতে পারবে।
  4. দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির অস্তিত্ব থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা
• একজন নিজস্ব সম্পত্তিতে তার স্বত্ব দখল যদি বিনা পণে অন্যের বরাবরে পরিত্যাগ করে এবং শেষোক্ত ব্যক্তি যদি তা গ্রহণ করে, তবে ঐ সম্পত্তিতে দাতার স্বত্ব লোপ পায় এবং গ্রহীতার স্বত্ব অর্জিত হয়। এইভাবে স্বত্ব দখলের হস্তান্তরকে দান বলা হয়।

দানের উপাদান (essentials):

(ক) দান কার্যে একজন দাতা থাকতে হবে এবং তাকে দানকৃত সম্পত্তির মালিক হতে হবে। যেহেতু দান এক প্রকার হস্তান্তর সেই হেতু যে দান করবে তার সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকতে হবে। চুক্তি আইন অনুযায়ী কোন নাবালক বা অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তি আইনতঃ কোন চুক্তি করতে এবং তদনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না। অতএব এই প্রকার ব্যক্তি কোন দানও করতে পারবে না।

(খ) দান কার্যে একজন গ্রহীতা থাকতে হবে। গ্রহীতা নাবালক হলে, তার অভিভাবক তার পক্ষে দান গ্রহণ করতে পারবে। দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্যু হলে দান বাতিল গণ্য হবে।

(গ) স্থাবর অথবা অস্থাবর এই উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে কিন্তু দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির অস্তিত্ব এবং এতে দাতার মালিকানা অবশ্যই থাকতে হবে। দানের সময় যে সম্পত্তির অস্তিত্ব থাকে না বা দাতা ভবিষ্যতে মালিক হতে পারে এই রকম সম্পত্তি দান করা যাবে না।

(ঘ) দান পণ বিহীন হতে হবে। অবৈধ বা কেউকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দান পণ বিহীন হইলেও বে-আইনী হবে।
১২৪.
একজন অবিবাহিতা কন্যা স্ত্রীধন রেখে মারা গেলে প্রথমে কে উত্তরাধিকারী হয়?
  1. পিতা
  2. মাতা
  3. সহোদর ভ্রাতা
  4. সহোদর বোন
ব্যাখ্যা

স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার: 
স্ত্রীধনের উত্তরাধিকার পুরুষদের উত্তরাধিকার হতে ভিন্ন প্রকৃতির। কোন অবিবাহিতা কন্যা স্ত্রীধন রাখিয়া মারা গেলে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরা উভয় মতপন্থী মতে নিম্নোক্ত তালিকা অনুযায়ী ক্রমিকানুসারে তাহার ওয়ারিশদের উপর বর্তায়। যথা:
(ক) সহোদর ভ্রাতা।
(খ) মাতা।
(গ) পিতা
(ঘ) পিতার নিকটতম উত্তরাধিকারীগণ।

১২৫.
"হিবা-বিল-ইওয়াজ" (Hiba-bil-Ewaz) কী?
  1. উইল করা সম্পত্তি
  2. ওয়াকফ সম্পত্তি
  3. বিনা প্রতিদানে দান
  4. প্রতিদান সাপেক্ষে দান
ব্যাখ্যা

⇒"হিবা-বিল-ইওয়াজ" (Hiba-bil-Ewaz) হলো ইসলামিক আইনে একটি বিশেষ ধরনের দান (হিবা), যেখানে দানের বিনিময়ে দাতা কিছু প্রতিদান (ইওয়াজ) গ্রহণ করেন। এটি সাধারণ "হিবা" (বিনা প্রতিদানে দান) থেকে আলাদা।

হেবা-বিল-এওয়াজ (Heba-bil-Ewaz):
সংজ্ঞা: প্রতীকী কোনো প্রতিদানের বিনিময়ে কোনো সম্পত্তির দানকে বলা হয় হেবা-বিল-এওয়াজ।
প্রক্রিয়া: দাতা (দানকারী) প্রাপকের কাছ থেকে প্রতীকী কোনো বস্তু (যেমন – ধর্মীয় গ্রন্থ, জায়নামাজ, পানির গ্লাস ইত্যাদি) গ্রহণ করে দলিল সম্পাদন করেন।
দলিলের নাম: এই দলিলকে বলা হয় হেবা-বিল-এওয়াজনামা (Deed of Heba-bil-Ewaz)।

১২৬.
হিন্দু বিবাহের প্রাচীন প্রকারের মধ্যে আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে কোনটি সবচেয়ে অসম্মানজনক? 
  1. আর্শ বিবাহ
  2. ব্রহ্ম বিবাহ
  3. পৈশাচ বিবাহ
  4. দৈব বিবাহ 
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রাচীন প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক এবং নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। মনুস্মৃতি এবং অন্যান্য হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে, পৈশাচ বিবাহে একজন পুরুষ একজন নারীকে অজ্ঞান, নেশাগ্রস্ত বা মানসিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় প্রলুব্ধ করে বা বলপূর্বক (যেমন ধর্ষণের মাধ্যমে) বিবাহ করে। এই বিবাহ সম্পূর্ণভাবে নারীর সম্মতি এবং মর্যাদার বিরুদ্ধে, যা এটিকে নৈতিক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য করে তোলে।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) আর্শ বিবাহ: এই বিবাহে কন্যার পিতা একটি গাভী এবং ষাঁড়ের বিনিময়ে কন্যাকে দান করেন। এটি একটি প্রশস্ত বিবাহ এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য, যদিও এটি ব্রহ্ম বা দৈব বিবাহের তুলনায় কম সম্মানজনক। তবে, এটি পৈশাচ বিবাহের মতো নিন্দনীয় নয়।
খ) ব্রহ্ম বিবাহ: এটি হিন্দু বিবাহের সবচেয়ে পবিত্র এবং সম্মানজনক প্রকার। এতে কন্যার পিতা তার কন্যাকে বেদজ্ঞ, সৎ এবং নৈতিক চরিত্রের পাত্রের কাছে কন্যাদান করেন, কোনো যৌতুক ছাড়াই। এটি ধর্ম, জ্ঞান এবং সদগুণের প্রতীক, তাই এটি অসম্মানজনক নয়।
ঘ) দৈব বিবাহ: এই বিবাহে কন্যাকে ধর্মীয় যজ্ঞের দক্ষিণা হিসেবে পুরোহিতের কাছে দেওয়া হয়। যদিও এটি ব্রহ্ম বিবাহের তুলনায় কিছুটা নিম্নমানের, তবুও এটি প্রশস্ত (অনুমোদিত) এবং ধর্মীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য। এটি অসম্মানজনক নয়।

পৈশাচ বিবাহের অসম্মানজনক প্রকৃতি:
নৈতিক দিক: পৈশাচ বিবাহে নারীর সম্মতি থাকে না, এবং এটি বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এটি হিন্দু ধর্মের ধর্ম ও নৈতিকতার মূলনীতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
সামাজিক দৃষ্টিকোণ: এই বিবাহ সমাজে পাপাচার হিসেবে বিবেচিত হত এবং সম্পূর্ণভাবে নিন্দিত।
আধুনিক দৃষ্টিকোণ: আধুনিক আইনে পাইশাচ বিবাহের কার্যকলাপ (যেমন ধর্ষণ বা জোরপূর্বক বিবাহ) দণ্ডবিধির অধীনে যৌন নির্যাতন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অর্থাৎ হিন্দু বিবাহের আটটি প্রকারের মধ্যে পৈশাচ বিবাহ আত্মসম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে অসম্মানজনক, কারণ এটি নারীর ইচ্ছা ও সম্মতির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) পৈশাচ বিবাহ।

১২৭.
একজন হিন্দু ব্যক্তির স্ত্রী 'খ', কন্যা 'গ', পিতা 'ঘ' এবং ভাই 'চ' এর মধ্যে সপিণ্ড হিসেবে কে অগ্রগণ্য হবে?
  1. 'গ'
  2. 'খ'
  3. 'চ'
  4. 'ঘ'
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকারী ৩ প্রকার:
ক- সপিণ্ড,
খ- সকুল্য, ও
গ- সমানোদক।
 
সপিণ্ড:
যে সকল ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির আত্নার কল্যাণের জন্য পিণ্ডদান করেন এবং মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে যাদের মৃত্যুতে তিনি পিণ্ডদানের যোগ্য ছিলেন তারা সবাই পরস্পরের সপিণ্ড। পুরুষ সপিণ্ডর সংখ্যা ৪৮জন এবং মহিলা সপিণ্ডর সংখ্যা ৫ জন মিলে সর্বমোট ৫৩ জন সপিণ্ড হবে।
 
সকুল্য:
প্রপিতামহের উর্ধ্বতন ৩ পুরুষ সকুল্য নামে পরিচিত। সপিণ্ড-র ৫৩ জনের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সকুল্যগন সম্পত্তির উত্তরাধিকার লাভ করে। সকুল্যেও মোট সংখ্যা ৩৩ জন সকলেই পুরুষ।
 
সমানোদক:
সকুল্যের উর্ধ্বতন ৭ পুরুষকে সমানোদক বলে। সপিণ্ড ও সকুল্যের কেউ বিদ্যমান না থাকলে সমানোদকগন উত্তরাধিকার লাভ করে। সমানোদকদের সংখ্যা ১৪৭ জন। এরা সকলেই পুরুষ।
 
• নিম্নে প্রথম ১০ জন সপিণ্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ
১) পুত্র;
২) পুত্রের পুত্র;
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র;
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা);
৫) কন্যা;
৬) কন্যার পুত্র;
৭) পিতা;
8) মাতা;
৯) ভাই, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই;
১০) ভাই এর পুত্র, সহোদর ভাই না থাকলে বৈমাত্রেয় ভাই এর পুত্র।

উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে হিন্দু দায়ভাগ আইনানুযায়ী সপিণ্ড হিসাবে অগ্রগণ্য হবে স্ত্রী। 
১২৮.
একজন হিন্দু ব্যক্তি কতটুকু সম্পত্তি উইল করতে পারেন?
  1. সমুদয় সম্পত্তি
  2. অর্ধেক সম্পত্তি
  3. এক-তৃতীয়াংশ সম্পত্তি
  4. এক-চতুর্থাংশ সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: ক) সমুদয় সম্পত্তি

- একজন হিন্দু ব্যক্তি তার সম্পত্তির সমুদয় অংশ উইল করতে পারেন। হিন্দুদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতা নেই, যেমন মুসলমানদের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা নিষিদ্ধ। তাই হিন্দু ব্যক্তি তার সমস্ত সম্পত্তি উইল করতে পারবেন। উইল করার ক্ষেত্রে আদালত থেকে উইল প্রবেট করতে হয়, যা আদালতের মাধ্যমে উইলের বৈধতা নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য, 
- একজন মুসলিম তার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত উইল করতে পারেন। এর মানে হলো, মৃত্যুর পর তাঁর দাফন-কাফন এবং দেনা পরিশোধের পর, তিনি তার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি কাউকে উইল করতে পারবেন না। তবে, যদি অন্য ওয়ারিশদের সম্মতি থাকে, তাহলে সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা সম্ভব। উইল কার্যকর হয় মৃত্যুর পর, তবে নাবালক সন্তানের ক্ষেত্রে, সেই দান সন্তান সাবালক হওয়ার পর হস্তান্তর করতে হবে।
১২৯.
হিন্দু আইনে অজাত ব্যক্তি বরাবর-
  1. সরাসরি দান করা যায়
  2. শর্ত সাপেক্ষে দান করা যায়
  3. কোনো শর্তেই দান করা যায় না
  4. দান স্বত্ব ছাড়া দিতে হবে
ব্যাখ্যা
• একজন নিজস্ব সম্পত্তিতে তার স্বত্ব দখল যদি বিনা পণে অন্যের বরাবরে পরিত্যাগ করে এবং শেষোক্ত ব্যক্তি যদি তা গ্রহণ করে, তবে ঐ সম্পত্তিতে দাতার স্বত্ব লোপ পায় এবং গ্রহীতার স্বত্ব অর্জিত হয়। এইভাবে স্বত্ব দখলের হস্তান্তরকে দান বলা হয়।

দানের উপাদান (essentials):

(ক) দান কার্যে একজন দাতা থাকতে হবে এবং তাকে দানকৃত সম্পত্তির মালিক হতে হবে। যেহেতু দান এক প্রকার হস্তান্তর সেই হেতু যে দান করবে তার সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষমতা থাকতে হবে। চুক্তি আইন অনুযায়ী কোন নাবালক বা অপ্রকৃতস্থ ব্যক্তি আইনতঃ কোন চুক্তি করতে এবং তদনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারে না। অতএব এই প্রকার ব্যক্তি কোন দানও করতে পারবে না।

(খ) দান কার্যে একজন গ্রহীতা থাকতে হবে। গ্রহীতা নাবালক হলে, তার অভিভাবক তার পক্ষে দান গ্রহণ করতে পারবে। দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্যু হলে দান বাতিল গণ্য হবে।

(গ) স্থাবর অথবা অস্থাবর এই উভয় প্রকার সম্পত্তি দান করা যেতে পারে কিন্তু দানের সময় দানকৃত সম্পত্তির অস্তিত্ব এবং এতে দাতার মালিকানা অবশ্যই থাকতে হবে। (দানের সময় যে সম্পত্তির অস্তিত্ব থাকে না বা দাতা ভবিষ্যতে মালিক হইতে পারে এই রকম সম্পত্তি দান করা যাবে না।)

(ঘ) দান পণ বিহীন হতে হবে। অবৈধ বা কেউকে প্রতারণার উদ্দেশ্যে দান পণ বিহীন হলেও বে-আইনী হবে।

• পূর্বে অজাত ব্যক্তির বরাবরে হিন্দু আইন অনুযায়ী কোন দান করা যেতো না, কিন্তু ১৯১৬ সনের Hindu Disposition of Property Act পাশ হওয়ার পর হতে কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে অজাত ব্যক্তির বরাবরে দান করা যায়। অজাত ব্যক্তির বরাবরে সরাসরি কোন দান করা যায় না। এইরূপ ব্যক্তির বরাবরে দান করতে হলে দানের সময় জীবিত এক বা একাধিক ব্যক্তির বরাবরে জীবনস্বত্ব অথবা অন্য কোন প্রকার সীমিত স্বত্ব সৃষ্টি করে তাদের মাধ্যমে কোন নির্দিষ্ট অজাত ব্যক্তির বরাবরে দান করা চলে।

তবে, অজাত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ স্বত্ব দিতে হবে এবং এমন কোন শর্ত আরোপ করা যাবে না যাতে অজাত ব্যক্তির নাবালক অবস্থা অর্থাৎ ১৮ বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর তার উপর দানকৃত সম্পত্তি বর্তিবে। এই শর্তগুলি হস্তান্তর আইনের ১৩, ১৪, ১৬ ও ২০ ধারা অনুযায়ী এবং হস্তান্তর আইনের এই ধারাগুলি ১৯২৯ সনের হস্তান্তর আইনের একটি সংশোধনীর পর হতে হিন্দু আইনেও প্রযোজ্য হবে।
১৩০.
উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে দায়ভাগ মতবাদ কোন নীতিকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. প্রতিনিধিত্ব মতবাদ
  2. অংশপিছু উত্তরাধিকার
  3. মাথাপিছু উত্তরাধিকার
  4. উল্লিখিত সবগুলোকে
ব্যাখ্যা
• দায়ভাগ মতবাদ নিম্নোক্ত নীতিগুলিকে স্বীকৃতি দেয়ঃ

(ক) প্রতিনিধিত্ব মতবাদ (Doctrine of representation):
প্রতিনিধিত্ব মতবাদ অনুসারে পুত্র, পৌত্র যার পিতা মারা গিয়েছে, তারা সকলেই পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে, কারণ পৌত্র তার পিতার এবং প্রপৌত্র তার পিতা ও পিতামহ উভয়েরই প্রতিনিধিত্ব করে।

(খ) অংশপিছু উত্তরাধিকার (Sucssession per stripes):
যেখানে প্রতিনিধিত্ব মতবাদ প্রয়োগ করা হয় এবং উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির স্থলবর্তীরুপে অংশ প্রাপ্ত হন সেখানে এরুপে স্থলবর্তীরুপে অংশ পাওয়াকে অংশপিছু উত্তরাধিকার বলে।

(গ) মাথাপিছু উত্তরাধিকার (Succession per capita):
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে তার উত্তরাধিকারগণের সমান অংশ সম্পত্তি প্রাপ্ত হওয়াকে মাথাপিছু উত্তরাধিকার বলে।
১৩১.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর কোন ধারা অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকরি হিসেবে গণ্য হয় না?
  1. ৫ ধারা
  2. ৭ ধারা
  3. ৮ ধারা
  4. ৯ ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৮ ধারা-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে: "ধারা ৪ এর অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্তি বা হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকরি হিসাবে গণ্য হইবে না।"
- এই বিধান অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকরা সরকারি কর্মচারী নন এবং তারা সরকারি চাকুরীর সুযোগ-সুবিধা (পেনশন, গ্রেড ইত্যাদি) পাবেন না। তাদের ভূমিকা একটি স্বতন্ত্র নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে।
- অর্থাৎ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ৮ ধারা অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন সরকারি চাকরি হিসেবে গণ্য হয় না।

১৩২.
'কোন হিন্দু বিবাহ শুধুমাত্র গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না'- নিম্নলিখিত কোন আইনে এই বিধান করা হয়েছে?
  1. The Hindu Women Marriage Act,1856
  2. The Hindu Widow's Re- Marriage Act,1856
  3. The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946
  4. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act,1856
ব্যাখ্যা
⇒ ১৯৪৬ সালের হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন (The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946) অনুযায়ী,

- হিন্দুদের মধ্যে কোন বিবাহ যেটা অন্যান্যভাবে বৈধ, সেই বিবাহ গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না। এই আইন পাশ হওয়ার পর বিভিন্ন উপ- বর্ণের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করা হয়।
- যেমন- ভিন্ন বর্ণের কোন ছেলে এবং মেয়ে বিয়ে করলে সনাতন আইনে বিবাহ অবৈধ হলেও ১৯৪৬ সালের আইনের কারণে বিবাহটি বৈধ হবে। আবার একজন বিধবা যদি পুনরায় একই গোত্রের কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করে, তাহলে ঐ বিবাহ অবৈধ হবে না।
১৩৩.
নিম্নলিখিত কোনটি বেদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. গীতা
  2. ঋগ্বেদ
  3. যজুর্বেদ
  4. সামবেদ
ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর হলো: গীতা।

⇒ বেদ হলো হিন্দু ধর্মের প্রাচীনতম ধর্মগ্রন্থ, যা "শ্রুতি" হিসেবে পরিচিত।
বেদ চারটি —
১) ঋগ্বেদ – দেবতাদের স্তোত্র ও মন্ত্র সংকলন।
২) যজুর্বেদ – যজ্ঞ ও ধর্মীয় আচারবিধি সম্পর্কিত বিধান।
৩) সামবেদ – সঙ্গীত ও স্তোত্রের সংকলন।
৪) অথর্ববেদ – জাদু-টোনা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনের অনুশাসন সংক্রান্ত।

⇒ উল্লিখিত প্রশ্নে গীতা (Bhagavad Gita) বেদের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- এটি মহাভারতের অংশ এবং হিন্দু দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ হলেও এটি "শ্রুতি" নয়, বরং "স্মৃতি" শাস্ত্রের অন্তর্গত।
১৩৪.
দায়ভাগ স্কুল অনুসারে হিন্দু আইন প্রযোজ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে, বিধবা কী অধিকার পান?
  1. পুত্রের অর্ধেক অংশ
  2. পুত্রের সমান অংশ
  3. সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ
  4. কোনো অধিকার পান না
ব্যাখ্যা
- দায়ভাগ পদ্ধতি হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের একটি বিশেষ শাখা, যা প্রধানত বাংলাদেশ, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে প্রচলিত। এই পদ্ধতি অনুসারে, পিন্ডদান করার অধিকারী ব্যক্তিরাই উত্তরাধিকারী হন, অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্র।
- ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীদের সম্পত্তির অধিকারের আইন (Hindu Women’s Rights to Property Act, 1937) প্রণীত হওয়ার আগে বিধবারা কোনো উত্তরাধিকার পেতেন না, কেবলমাত্র ভরণপোষণের অধিকার ছিল। তবে, এই আইনের মাধ্যমে বিধবা স্ত্রীকে ছেলের সমান অংশ দেওয়া হয়, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

- এই আইনের ৩(১) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো হিন্দু ব্যক্তি উইল বা অন্য কোনো বৈধ দলিল ছাড়া মারা যান, তাহলে তার বিধবা স্ত্রী তার পুত্রের সমান অংশ পাবেন। যদি একাধিক স্ত্রী থাকেন, তাহলে সবাই মিলে একটি পুত্রের সমান অংশ ভাগ করে নেবেন।

- তবে, বিধবার সম্পত্তির অধিকার স্থায়ী মালিকানা নয়, বরং এটি সীমিত স্বত্ব (Hindu Woman’s Estate)। অর্থাৎ তিনি জীবদ্দশায় সম্পত্তির ভোগদখল করতে পারবেন, প্রয়োজনে বিক্রি করতে পারবেন, কিন্তু নিজের মৃত্যুর পর সেই সম্পত্তি তার স্বামীর উত্তরাধিকারীদের কাছেই ফিরে যাবে।

- অর্থাৎ দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসারে, বিধবা স্ত্রী পুত্রের সমান অংশের অধিকারী হন এবং তিনি জীবনস্বত্ব ভিত্তিতে সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন। তবে, এটি স্থায়ী মালিকানা নয়, কারণ তিনি মৃত্যুর পর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন না।
১৩৫.
হিন্দু আইনে বিবাহকে কী হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. সামাজিক রীতি
  2. দেওয়ানী চুক্তি
  3. আইনি অনুমোদন
  4. ধর্মীয় পবিত্র বন্ধন
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনে বিয়ে (Marriage) হলো একটি "পবিত্র বন্ধন" (Sacrament) - যা শুধু পার্থিব বা আইনি বিষয় নয়, বরং আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যে কারণে হিন্দু বিবাহ "পবিত্র বন্ধন"-

ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ:
হিন্দু ধর্মে বিবাহ একটি পূজা বা যজ্ঞসদৃশ ধর্মীয় আচার। ‘সপ্তপদী’ (সাতপাক) ও ‘হোমযজ্ঞ’-এর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আত্মিক ও ধর্মীয় মিলন ঘটে।

জন্মজন্মান্তরের সম্পর্ক:
বিশ্বাস অনুযায়ী, হিন্দু দম্পতির সম্পর্ক শুধু এই জন্মেই নয়, বরং বহু জন্ম ধরে স্থায়ী। এই বন্ধন মৃত্যুর পরেও থাকে — একে বলা হয় "অবিচ্ছেদ্য (indissoluble)"।

চুক্তির নয়, কর্তব্যের ভিত্তিতে:
মুসলিম আইনে বিবাহ একটি দেওয়ানী চুক্তি (civil contract) হলেও, হিন্দু আইনে বিবাহ মূলত ধর্মীয় কর্তব্য (religious duty) হিসেবে বিবেচিত।

তালাকের সীমিত সুযোগ:
হিন্দু শাস্ত্রে স্বাভাবিকভাবে তালাকের কোনো সুযোগ নেই। পরবর্তীকালে কিছু বিধিবদ্ধ আইন (যেমন ভারতের Hindu Marriage Act, 1955) দ্বারা কিছু ব্যতিক্রম যুক্ত হলেও, বাংলাদেশে এখনো হিন্দুদের জন্য তালাক বৈধ নয়।
১৩৬.
কোনটি হিন্দু আইনের একটি আধুনিক উৎস?
  1. স্মৃতি
  2. বিধিবদ্ধ আইন
  3. মিতাক্ষরা মতবাদ
  4. দায়ভাগ মতবাদ
ব্যাখ্যা
হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস:
আধুনিক যুগে হিন্দু আইনের বিকাশে কিছু নতুন উৎস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, যেমন—ঃ
- আদালতের সিদ্ধান্ত (Judicial Precedents): বিভিন্ন মামলার বিচারিক সিদ্ধান্ত, যা ভবিষ্যতের জন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করে।
- বিধিবদ্ধ আইন (Statutory Law): সংসদ কর্তৃক প্রণীত হিন্দু ব্যক্তিগত আইন।
- সুবিচার ও ন্যায়পরায়ণতা (Justice, Equity, and Good Conscience): যেখানে কোনো নির্দিষ্ট বিধান নেই, সেখানে ন্যায়বিচার ও বিবেকবোধের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

⇒ হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসগুলোর মধ্যে বিধিবদ্ধ আইন (Statutory Law) অন্যতম।

- আধুনিক সময়ে হিন্দু ব্যক্তিগত আইনের বিভিন্ন দিককে স্পষ্ট ও সুসংগঠিত করার জন্য বিধিবদ্ধ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
-কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধিবদ্ধ আইন হলো—
- Hindu Marriage Act – হিন্দু বিবাহ সম্পর্কিত আইন।
- Hindu Succession Act – হিন্দু উত্তরাধিকার সম্পর্কিত আইন।
- Hindu Adoption and Maintenance Act – দত্তক ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন।
- Hindu Minority and Guardianship Act – হিন্দু নাবালক ও অভিভাবকত্ব সম্পর্কিত আইন।

অন্য অপশন গুলোর মধ্যে:
- মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ – হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের দুটি প্রাচীন মতবাদ। এগুলো আধুনিক উৎস নয়।
- স্মৃতি – এটি হিন্দু আইনের একটি প্রাচীন উৎস, আধুনিক নয়।
১৩৭.
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী, কোন কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও ভরণপোষণ পাওয়ার অধিকারী?
  1. স্বামী যদি নিষ্ঠুর আচরণ করে
  2. স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠে আক্রান্ত হয়
  3. স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে
  4. উল্লিখিত সব কারণ
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর ঘ) উল্লিখিত সব কারণ।

⇒ বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইনটি ১৯৪৬ সালের।
১৯৪৬ সালের "বিবাহিতা নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ" আইন অনুযায়ী নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারিণী -
- স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়,
- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশঙ্কা থাকে;
- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- স্বামী যদি ধর্মান্তর গ্রহণ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে,
- স্বামী যদি স্ত্রীর বর্তমানে পুনরায় বিবাহ করে,
এই ধরনের অন্যান্য যৌক্তিকতাপূর্ণ কারণে।

তবে নিম্নলিখিত কারণে স্ত্রী স্বামীর নিকট হতে আইনত ভরণপোষণ পেতে পারে না-
- স্ত্রী যদি অসৎ চরিত্রের অথবা অসতী হয়,
- স্ত্রী যদি অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়,
- স্ত্রী যদি আইনসংগত কারণ ব্যতীত স্বামীর সাথে স্ত্রীরূপে বসবাস করতে অনিচ্ছুক হয়।
----------------
The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946, Section-2. Grounds for claiming separate residence and maintenance
Notwithstanding any custom or law to the contrary a Hindu married woman shall be entitled to separate residence and maintenance from her husband on one or more of the following grounds, namely,- 
(1) if he is suffering from any loathsome disease not contracted from her; 
(2) if he is guilty of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him; 
(3) if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish; 
(4) if he marries again; 
(5) if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion; 
(6) if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine; 
(7) for any other justifiable cause: 
Provided that a Hindu married woman shall not be entitled to separate residence and maintenance from her husband if she is unchaste or ceases to be a Hindu by change to another religion or fails without sufficient cause to comply with a decree of a competent Court for the restitution of conjugal rights.
১৩৮.
প্রজাপত্য বিবাহে কনের পিতা বরের কাছ থেকে কী গ্রহণ করতেন?
  1. পণ
  2. গাভী
  3. অলঙ্কার
  4. কিছুই না
ব্যাখ্যা
উত্তর: ঘ) কিছুই না।
→ প্রজাপত্য বিবাহে কনের পিতা বরের কাছ থেকে কোন পণ গ্রহণ করতেন না।
- এই বিবাহে কনের পিতা কন্যাকে বরের হাতে দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ দিতেন, যাতে তারা একসঙ্গে সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন।
- এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং অনুপ্রাণিত বিবাহ ছিল, যেখানে কোনো অর্থনৈতিক বা পার্থিব স্বার্থ ছিল না, শুধুমাত্র বিশ্বাস এবং শুভ কামনা ছিল।

⇒ হিন্দু সমাজে দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুযায়ী আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার মধ্যে প্রথম চারটি সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং পরবর্তী চারটি অবৈধ বা অননুমোদিত ছিল।
- এই বিবাহের প্রকারভেদ নিম্নরূপ:
অনুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
ব্রাহ্ম বিবাহ: এটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বিবাহ পদ্ধতি, যেখানে একটি অলঙ্কৃত, শিক্ষিত এবং চরিত্রবান কন্যাকে কোনও পণ ছাড়াই, ব্রাহ্মণ পুরুষের হাতে তুলে দেয়া হতো।
দৈব বিবাহ: এই বিবাহে, কন্যাকে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের কাছে প্রদান করা হতো।
আর্য বিবাহ: এই পদ্ধতিতে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে এক বা দুটি গাভী গ্রহণ করতেন, যা পণ হিসেবে ছিল।
প্রজাপত্য বিবাহ: এখানে, কনের পিতা বরের কাছ থেকে কোনো পণ না নিয়ে কন্যা প্রদান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ দিতেন যাতে তারা সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাতে পারেন।
অননুমোদিত ৪ প্রকার বিবাহ:
অসুর বিবাহ: এই বিবাহে বর কনের পিতা বা অভিভাবকের কাছ থেকে কন্যাকে টাকা দিয়ে ক্রয় করতেন।
রাক্ষস বিবাহ: এই ধরনের বিবাহে, কন্যার আত্মীয়দের মারধর করে এবং তারা বিরোধী অবস্থায় থাকলেও, বর কন্যাকে জোরপূর্বক নিয়ে আসতেন।
গন্ধর্ব বিবাহ: এটি একটি সম্মতিপূর্ণ বিবাহ, যেখানে বর এবং কনে পরস্পরের সম্মতি ও অভ্যন্তরীণ ইচ্ছায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেন।
পৈশাচ বিবাহ: এটি ছিল সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিবাহ, যেখানে কন্যার সম্মতি ছাড়াই, মদ্যপ বা নিদ্রিত অবস্থায় কন্যার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা হতো।
১৩৯.
এক হিন্দু ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারী হিসেবে একজন জীবিত পুত্র, দুইজন কন্যা এবং একজন মৃত পুত্রের পুত্র রয়েছে। মৃত পুত্রের পুত্র কত অংশ পাবে?
  1. ১/২ অংশ
  2. ১/৩ অংশ
  3. ১/৬ অংশ
  4. ২/৩ অংশ
ব্যাখ্যা
এখানে প্রতিনিধিত্বের নীতি (Doctrine of Representation) অনুসারে,
মৃত পুত্রের পুত্র (পৌত্র) তার পিতার অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে। অর্থাৎ, মৃত পুত্রের পুত্র তার পিতার উত্তরাধিকারী হয়ে, পিতার অংশটি গ্রহণ করবে।

এ ক্ষেত্রে, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের (পৌত্র) অংশ সমানভাবে ভাগ হবে। তাই, জীবিত পুত্র এবং মৃত পুত্রের পুত্রের মধ্যে ১/২ অংশ করে ভাগ হবে।

উল্লেখ্য, হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী না থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে। তবে সম্পত্তি পেলেও উক্ত সম্পত্তির শুধুমাত্র জীবনস্বত্ব (Life Interest) ভোগ করতে পারবে। মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তি ছেলে উত্তরাধিকারীর নিকট চলে যাবে।
১৪০.
The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946 দ্বারা কোন ধরনের বাধা দূর করা হয়?
  1. বয়সজনিত বাধা
  2. গোত্রজনিত বাধা
  3. পুনর্বিবাহজনিত বাধা
  4. উল্লিখিত কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৬ সালের হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন (The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946) অনুযায়ী,

হিন্দুদের মধ্যে কোন বিবাহ যেটা অন্যান্যভাবে বৈধ, সেই বিবাহ গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না। এই আইন পাশ হওয়ার পর বিভিন্ন উপ- বর্ণের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করা হয়।

যেমন- ভিন্ন বর্ণের কোন ছেলে এবং মেয়ে বিয়ে করলে সনাতন আইনে বিবাহ অবৈধ হলেও, ১৯৪৬ সালের আইনের কারণে বিবাহটি বৈধ হবে।
১৪১.
"শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু" (Sri Balusu vs Sri Balusu -1899) মামলায় নিচের কোন নিয়ম প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ বৈধ হবে
  2. হিন্দু নারীদের বিচ্ছেদের অধিকার বৈধ হবে
  3. একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেয়া বৈধ হবে
  4. হিন্দু নারীদের সম্পত্তিতে অধিকার বৈধ হবে
ব্যাখ্যা
⇒ শ্রীবালুসু বনাম শ্রীবালুসু (1899) 22 Mad-308, 26 IA 113
 
এই মামলার বিবাদী মাদ্রাজ উপমতপন্থী হিন্দু আইনের আওতাভুক্ত কোন এক পিতার একমাত্র পুত্র ছিল। সেই অঞ্চলের এক বিধবা তাহার স্বামীর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি নিয়া উক্ত পিতার একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেন। বিধবার মৃত স্বামীর ভাবী উত্তরাধিকারী এই মামলার বাদী উক্ত দত্তকের বৈধতা সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করিয়া মামলা দায়ের করেন।
 
বিচার্য বিষয়:
১। স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তাহার নিকটবর্তী সপিণ্ডদের সম্মতি নিয়া কোন বিধবা আইনত দত্তক নিতে পারে কিনা।
২। একমাত্র পুত্রকে দত্তক নেওয়া যায় কিনা।
 
বিজ্ঞ প্রিভিকাউন্সিল সুপ্রাচীন ধর্মশাস্ত্রগুলি পর্যালোচনা করিয়া এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, মাদ্রাজ উপমতপন্থী অনুযায়ী স্বামীর মৃত্যুর পর নিকটবর্তী সপিগুদের অনুমতি স্বামীর অনুমতির ন্যায় গণ্য হইবে। অতএব প্রথম বিচার্য বিষয়টি বাদীর বিপক্ষে যাইবে।
 
বিজ্ঞ প্রিভিকাউন্সিল আরও সাব্যস্ত করেন যে, কোন কোন প্রাচীন মুনিঋষি একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া বা নেওয়া সমর্থন করেন নাই সত্য, কিন্তু তাহাদের মতামত পড়িয়া বিজ্ঞ প্রিভিকাউন্সিলের এই ধারণাই জন্মে যে, বশিষ্ট সৌণক প্রমুখ মুনিগণ এই বিষয়ে যে মত দিয়েছেন তাহা নির্দেশক (recommendatory) ছিল, কোন অবস্থাতেই আদেশমূলক (mandatory) ছিল না। অতএব কেহ যদি সেই নির্দেশ উপেক্ষা করিয়া দত্তক নিয়া থাকে, তবে (Factum valet) নীতি অনুযায়ী ইহা বৈধ বিবেচিত হইবে।
 
নিম্ন আদালতে একমাত্র পুত্রকে দত্তক বৈধ সাব্যস্ত হয়। মাদ্রাজ হাইকোর্টে আপীলে নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে। বাদী এই রায়ের অসম্মতিতে প্রিভিকাউন্সিলে আপীল দায়ের করে। প্রিভি কাউন্সিলে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে।
The main issue raised was one of law as to the invalidity of the adoption of an only son. Both Courts decided that the adoption was valid.
১৪২.
বিধবা স্ত্রী স্বামীর সম্পত্তিতে কী অধিকার পাবে?
  1. সম্পত্তির একচেটিয়া মালিক হবে
  2. এক পুত্রের সমান অংশ পাবে
  3. এক পুত্রের অর্ধেক অংশ পাবে
  4. কোনো অংশ পাবে না
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-
(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
১৪৩.
একজন হিন্দু ব্যক্তি সম্পত্তির কত অংশ উইল করতে পারে?
  1. এক-তৃতীয়াংশ
  2. অর্ধেক
  3. দুই-তৃতীয়াংশ
  4. নির্দিষ্ট বিধান নেই
ব্যাখ্যা
• উইল হচ্ছে নিজের অবর্তমানে কাউকে সম্পত্তি দিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা। তবে কোনো মুসলমান তাঁর দাফন-কাফনের ব্যয় ও দেনা পরিশোধের পর সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করতে পারবে না। অর্থাৎ উইলের ক্ষেত্রে পুরো সম্পত্তি দিয়ে যেতে পারবেন না। যদি এক-তৃতীয়াংশের বেশি উইল করা হয়, তাহলে সে উইল কার্যকর করা যাবে না।
তবে সম্পত্তির উইলের ক্ষেত্রে অন্য ওয়ারিশদের অনুমতি নিয়ে এর বেশিও উইল করা যাবে। দান সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হয়। উইল কার্যকর হয় মৃত্যুর পর। তবে নাবালক সন্তান থাকলে দানের ক্ষেত্রে সন্তান সাবালক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হবে।

একজন হিন্দু ব্যক্তিও তাঁর সম্পত্তি উইল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম নেই। একজন হিন্দু ব্যক্তি তাঁর সমুদয় সম্পত্তি উইল করতে পারেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে জেলা জজ আদালত থেকে উইলকারীর মৃত্যুর পর উইল প্রবেট করতে হয়। প্রবেট হচ্ছে আদালতের মাধ্যমে উইলের প্রমাণ। যেকোনো হেবা বা দান লিখিত আকারে হতে হবে তা রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে।
১৪৪.
দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালককে কী বলা হয়?
  1. ট্রাস্টি
  2. সেবায়েত
  3. পুরোহিত
  4. মন্দির ব্যবস্থাপক
ব্যাখ্যা

⇒ সেবায়েত (Shebait) হলো হিন্দু আইনে দেবোত্তর সম্পত্তি (Debottar Property) বা মন্দিরের আইনি ও ধর্মীয় পরিচালক।
- দেবোত্তর সম্পত্তি হলো যে সম্পত্তি মন্দির বা দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা হয়।
- এই সম্পত্তি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন সেবায়েত, যিনি দেবতার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

সেবায়েতের ভূমিকা ও বৈশিষ্ট্য:
- সেবায়েত মন্দির বা দেবতার সেবক হিসেবে কাজ করেন এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ করেন।
- তিনি দেবতার আইনি প্রতিনিধি হিসেবেও বিবেচিত হন।

নিয়োগ:
- সাধারণত বংশানুক্রমিক (পরিবার বা সম্প্রদায়ের মাধ্যমে)।
- কিছু ক্ষেত্রে ট্রাস্ট বা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত হতে পারেন।

ক্ষমতা:
- সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ও পূজা-অর্চনা পরিচালনা।
- Legal Necessity (আইনসম্মত প্রয়োজন) থাকলে সম্পত্তি বিক্রি বা বন্ধক দিতে পারেন (আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে)।

সীমাবদ্ধতা:
- সেবায়েত স্বেচ্ছায় সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন না (যেমন: ব্যক্তিগত লাভের জন্য)।
- দেবোত্তর সম্পত্তির আয় শুধু ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করতে হয়।

১৪৫.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী হলে, উক্ত নিবন্ধকের-
  1. জরিমানা হতে পারে
  2. নিয়োগ স্থগিত করতে পারে
  3. দেওয়ানি কারাগারে দণ্ডিত হতে পারে
  4. ক বা গ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২
 
ধারা ১৪- নিয়োগ স্থগিত বা বাতিলকরণ:
 
সরকারের নিকট যদি সন্তোষজনকভাবে এই মর্মে প্রতীয়মান হয় যে, কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক তাহার দায়িত্ব পালনে কোন অসদাচরণের জন্য দায়ী অথবা তাহার কর্তব্য পালনে অসমর্থ বা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে, সরকার লিখিত আদেশ দ্বারা, তাহার নিয়োগ অনধিক দুই বৎসরের জন্য স্থগিত বা বাতিল করিতে পারিবে: 
তবে শর্ত থাকে, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধককে যথাযথ কারণ দর্শানোর সুযোগ প্রদান না করিয়া অনুরুপ কোন আদেশ প্রদান করা যাইবে না।
১৪৬.
হিন্দু আইনে দানের বৈধতা সম্পর্কে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ
  2. দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে
  3. দান একবার করা হলে তা প্রত্যাহারযোগ্য
  4. উল্লিখিত সবগুলাই সঠিক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:খ) দানের বিষয়বস্তুর দখল গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হতে হবে। 

→ হিন্দু আইনে, দানের মাধ্যমে সম্পত্তির মালিকানা স্বত্ব গ্রহীতার কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার আগে, দানগ্রহীতা সেই সম্পত্তির দখল পেতে হবে। দানের বিষয়বস্তুর দখল দেওয়া ছাড়া দান কার্যকর হয় না।
- হিন্দু আইনে, দান সম্পন্ন হওয়ার জন্য দানগ্রহীতাকে সম্পত্তির দখল নিতে হবে। দান কেবল তখনই কার্যকর হয়, যখন দানগ্রহীতা সেই সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেন। দানের মাধ্যমে মালিকানা হস্তান্তর ঘটে, তবে দানের বিষয়বস্তুর দখল নিলে তবেই সেটি আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে পূর্ণ হয়।

বাকি অপশনগুলির ব্যাখ্যা:
ক) মৃত্যুর আশঙ্কায় কৃত দান অবৈধ: এটি সঠিক নয়, কারণ মৃত্যুর আশঙ্কায় করা দান হিন্দু আইনে বৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
গ) দান একবার করা হলে তা প্রত্যাহারযোগ্য: এটি সঠিক নয়, কারণ একবার দান করার পর তা প্রত্যাহার করা যায় না।

১৪৭.
হিন্দু আইনে দত্তক গ্রহণের প্রধান কারণ কী?
  1. ধর্মীয় ও পার্থিব
  2. সামাজিক ও আইনি
  3. পার্থিব ও অর্থনৈতিক
  4. ধর্মীয় ও আইনি
ব্যাখ্যা
• অন্যের পুত্রকে হিন্দু আইনের বিধান অনুযায়ী নিজ পুত্ররূণে গ্রহণ করাকে দত্তক গ্রহণ বলা যাইতে পারে। সুপ্রাচীন রোমান আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত ছিল। কিন্তু বর্তমানে হিন্দু আইন ব্যতীত অন্য কোন আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান চালু নাই।

দত্তক গ্রহণের উদ্দেশ্য:
প্রধান দুইটি কারণে হিন্দু আইনে দত্তক নেওয়ার বিধান প্রচলিত। একটি ধর্মীয় কারণ আর অপরটি বলা যেতে পারে পার্থিব কারণ। মুনিবর বশিষ্ট সাবধান বাণী উচ্চারণ করিয়া গিয়াছেন "পুত্রহীনদের স্বর্গে কোন স্থান নাই।" একজন মৃত ব্যক্তি তার নিম্নতন তিন পুরুষ অর্থাৎ পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র হইতে সরাসরি পিণ্ড পাওয়ার অধিকারী। যার পুত্র, পৌত্র এবং প্রপৌত্র নাই মৃত্যুর পর তার আত্মা এইভাবে পিণ্ড পাওয়ার আশা করতে পারে না। এসব বিবেচনাকে ধর্মীয় কারণ হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

পক্ষান্তরে প্রত্যেক মানুষই নিজ বংশের ধারাবাহিকতা চালু রাখতে চায়। প্রায় সকল মানুষই চায় যে মৃত্যুর পরও তার পুত্র পৌত্রাদির মাধ্যমে তার নাম এই পৃথিবীতে আরও কিছুদিন থাকুক। এইসব বিবেচনাকে পার্থিব কারণ হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।
১৪৮.
হিন্দু বিধবার সম্পত্তির [Widow's Property] ক্ষেত্রে নিম্নের কোন বিধান সঠিক নয়?
  1. শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে
  2. সাধারণত চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে না
  3. একচ্ছত্র মালিকানা থাকে
  4. কিছু ক্ষেত্রে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে
ব্যাখ্যা
বিধবার সম্পত্তি: [Widow's Property]

কোন হিন্দু স্ত্রী উত্তরাধিকারসূত্রে তার স্বামীর নিকট হতে যে সম্পত্তি অর্জন করে তা বিধবার সম্পত্তি নামে পরিচিত। স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি এক না। স্ত্রীধনের সাথে বিধবার সম্পত্তির পার্থক্য হলো এই যে বিধবার সম্পত্তি বলতে শুধুমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে কোন নারী যে সম্পত্তি স্বামীর নিকট থেকে পেয়ে থাকে কিন্তু উত্তরাধিকার সম্পত্তি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত না। স্ত্রীধনের উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং সে যেমন প্রয়োজন তেমনভাবে হস্তান্তর করতে পারে। কিন্তু বিধবার সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারী শুধুমাত্র সীমিত স্বার্থ অর্জন [Limited Interest] করে বা শুধুমাত্র জীবন-স্বত্ব অর্জন [Life Interest] করে।

অর্থাৎ এমন সম্পত্তির উপর মহিলার কোন একচ্ছত্র মালিকানা থাকে না এবং তিনি এমন সম্পত্তি ইচ্ছানুসারে হস্তান্তর করতে পারে না। বিধবার সম্পত্তি কোন হিন্দু নারী চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করার অধিকারী না হলেও নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে সে চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করতে পারে-

১) ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে;
২) আইনগত প্রয়োজনে;
৩) সম্পত্তির হিতার্থে বা মঙ্গলে।
১৪৯.
দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কে পালন করেন?
  1. সরকার
  2. দানকারী
  3. সেবায়েত
  4. মন্দির কমিটি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) সেবায়েত

- দেবোত্তর সম্পত্তির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হলো সেবায়েতের। সেবায়েত হলেন সেই ব্যক্তি যিনি দেবতার পূজা, সেবা এবং সম্পত্তির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
- যদিও দেবতা বা বিগ্রহ সম্পত্তির আইনি মালিক, তার পক্ষে নিজে তা পরিচালনা করা সম্ভব নয়, তাই সেবায়েতকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়। 
- সেবায়েত, দেবতার প্রতিনিধির মতো কাজ করেন এবং সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ, পূজা-অর্চনা ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করেন।
- সেবায়েতের দায়িত্ব, তার নিয়োগ এবং তার উত্তরাধিকার সাধারণত অর্পণনামা বা উৎসর্গপত্রে উল্লেখ থাকে।
১৫০.
সপ্রতিবন্ধ দায়ে উত্তরাধিকার লাভ হয়-
  1. জন্মসূত্রে
  2. মৃত্যুর পর
  3. উইল থাকলে
  4. আদালতের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

সপ্রতিবন্ধ দায় (Obstructed heritage):
যখন একজনের মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অপরের উত্তরাধিকার অথবা উত্তরজীবীসূত্রে অধিকার জন্মায় তখন ইহাকে সপ্রতিবন্ধ দায় বলা যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে অপ্রতিবন্ধ দায়ের ন্যায় জন্মসূত্রে সম্পত্তিতে অধিকার জন্মায় না। অর্থাৎ যেখানে একজনের সম্পত্তি পাওয়া অপরের মৃত্যুর উপর নির্ভরশীল তাহাকেই বলা যায় সপ্রতিবন্ধ দায়। 
এইক্ষেত্রে একজনের অস্তিত্ব অপরের সম্পত্তি পাওয়ার বাধা সৃষ্টি করে। বাধা অপসারিত হইলে পরে অন্যের উপর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বর্তায়। এইভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হওয়ার পর সম্পত্তি পাওয়াকে বলা হয় সপ্রতিবন্ধ দায়।

অপ্রতিবন্ধ দায় (Unobstructed heritage):
সংস্কৃত এবং বাংলায় দায় কথার অর্থ উত্তরাধিকার (inheritance)। যখন একজন কোন প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ বাধা ব্যতিরেকেই কোন সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে তখন তাহাকে অপ্রতিবন্ধ দায় বলা হয়। যেমন- মিতাক্ষরা মতে জন্মসূত্রে পুত্র পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে পিতার সহ-উত্তরাধিকারী হয়, এখানে পিতার অস্তিত্ব পুত্রের পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হইতে কোন বাধা সৃষ্টি করে না। এইভাবে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হওয়াকে বলে "অপ্রতিবন্ধ দায়।"

১৫১.
দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসারে, বিধবা স্ত্রী কী ভিত্তিতে সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন?
  1. দান হিসেবে
  2. জীবনস্বত্ব ভিত্তিতে
  3. অস্থায়ী ভাড়া ভিত্তিতে
  4. স্থায়ী মালিকানা ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

⇒ দায়ভাগ পদ্ধতি অনুযায়ী, বিধবা স্ত্রীর সম্পত্তির অধিকার "জীবনস্বত্ব" (Life Estate) ভিত্তিক।  এর বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
সীমিত স্বত্ব:
- বিধবা স্ত্রী সম্পত্তির ভোগদখল ও ব্যবহার করতে পারেন (যেমন: ফসল তোলা, বাস করা)।
- জরুরি প্রয়োজনে বিক্রিও করতে পারেন (যদি আদালত অনুমোদন দেয়)।
স্থায়ী মালিকানা নয়:
- তিনি সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিক নন।
- তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি স্বামীর উত্তরাধিকারীদের (পুত্র, পৌত্র ইত্যাদি) কাছে ফিরে যায়।
১৯৩৭ সালের আইনের প্রভাব:
- হিন্দু উইমেন্স রাইটস টু প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৯৩৭ অনুযায়ী বিধবা পুত্রের সমান অংশ পান, কিন্তু তা শুধু জীবনস্বত্ব হিসেবে।

উদাহরণ:
যদি স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে এক পুত্র ও এক বিধবা স্ত্রী থাকেন, তবে:
- পুত্র পাবে ৫০% (স্থায়ী মালিকানা)।
- বিধবা পাবেন ৫০% (জীবনস্বত্বে), যা তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র বা স্বামীর অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের কাছে ফিরে যাবে।

১৫২.
দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নিম্নের কে নারী সপিণ্ড নয়?
  1. কন্যা
  2. মাতা
  3. বোন
  4. পিতার মাতা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:

১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা;
৫. পিতার পিতার মাতা।
১৫৩.
'A marriage between Hindus, which is otherwise valid, shall not be invalid by reason only of belonging to the same gotra.' - কোন আইনে এই বিধান রয়েছে?
  1. The Hindu Women Marriage Act,1856
  2. The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946
  3. The Hindu Widow's Re- Marriage Act,1856
  4. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act,1856
ব্যাখ্যা

The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946 - Section 2: একই গোত্র, প্রবর বা জাতির উপ-বিভাগের মধ্যে বিবাহ:
হিন্দু আইন, হিন্দু প্রথা বা ব্যবহার অনুযায়ী কোনো বিধান থাকলেও, যদি বিবাহটি অন্যভাবে বৈধ হয়, তা কেবল নিম্নলিখিত কারণে অগ্রহণযোগ্য হবে না:
(ক) উভয় পক্ষ একই গোত্র বা প্রবর এর অন্তর্ভুক্ত।
(খ) উভয় পক্ষ একই জাতির বিভিন্ন উপ-বিভাগের অন্তর্গত।

অর্থাৎ:
যদি হিন্দু বিবাহের অন্যান্য বৈধ শর্ত পূরণ হয়, তবে শুধুমাত্র একই গোত্র/প্রবর বা একই জাতির উপ-বিভাগের পার্থক্য বিবাহকে অবৈধ করতে পারবে না।

১৫৪.
হিন্দু আইনের কোন স্কুলটি আসাম ও বাংলায় প্রাধান্য পায়?
  1. মিতাক্ষরা
  2. দায়ভাগ
  3. বেনারস
  4. মিথিলা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের দুটি প্রধান স্কুল হলো মিতাক্ষরা এবং দায়ভাগ। দায়ভাগ স্কুল জিমুতবাহনের রচিত দায়ভাগ গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটি আসাম ও বাংলায় প্রাধান্য পায়। এই স্কুলটি উত্তরাধিকার নীতিতে আধ্যাত্মিক উপকার বা ধর্মীয় কার্যকারিতা (Doctrine of Oblations) এর উপর জোর দেয়। এতে পুত্রদের জন্মগত সম্পত্তির অধিকার নেই, এবং পরিবারের নারীরাও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, কোনো সহ-উত্তরাধিকারী (coparcener) নিঃসন্তান মারা গেলে, তার বিধবা স্ত্রী তার অংশের উত্তরাধিকারী হতে পারেন এবং নিজের অধিকারে সম্পত্তি বিভাজনের দাবি করতে পারেন।

অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) মিতাক্ষরা: মিতাক্ষরা স্কুল বিজ্ঞানেশ্বরের মিতাক্ষরা নামক যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতির ভাষ্যের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এবং এটি ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে (আসাম ও বাংলা ব্যতীত) প্রাধান্য পায়। এটি উত্তরাধিকারে রক্তের সম্পর্কের নৈকট্য (Principle of Propinquity) এর উপর নির্ভর করে।
গ) বেনারস: বেনারস (বানারস) মিতাক্ষরা স্কুলের একটি উপ-স্কুল, যা উত্তর ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে (গ্রামীণ পাঞ্জাব ব্যতীত) প্রচলিত। এটি আসাম ও বাংলায় প্রাধান্য পায় না।
ঘ) মিথিলা: মিথিলা মিতাক্ষরা স্কুলের আরেকটি উপ-স্কুল, যা তিরহুত এবং উত্তর বিহারের কিছু জেলায় প্রচলিত। এটি আসাম ও বাংলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
অর্থাৎ দায়ভাগ স্কুল আসাম এবং বাংলায় প্রাধান্য পায়, কারণ এটি এই অঞ্চলের স্থানীয় আইনি ও সামাজিক প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) দায়ভাগ।

১৫৫.
কোন আইনে মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে?
  1. স্ত্রী অধিকার আইন, ১৯৪৭
  2. সম্পত্তি অধিকার আইন, ১৯৫৭
  3. উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫
  4. সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭
ব্যাখ্যা
সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ এর ধারা ৩- সম্পত্তির উত্তরাধিকার হস্তান্তর:
(১) হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদের অনুসারী কোন হিন্দু ব্যক্তি উইল সম্পাদন ব্যতীত কোন প্রকার সম্পত্তি রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিলে এবং হিন্দু আইনের অন্যান্য মতবাদের বা প্রথা আইনের অনুসারী কোন হিন্দু ব্যক্তি স্বতন্ত্র সম্পত্তি রাখিয়া উইল সম্পাদন ব্যতীত মৃত্যুবরণ করিলে, তাহার বিধবা স্ত্রী, বা একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকিলে সকল বিধবা স্ত্রী একত্রে, তিনি উইল সম্পাদন ব্যতীত যে সম্পত্তি রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিয়াছেন সেই সম্পত্তিতে, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, একজন পুত্রের অনুরূপ অংশের অধিকারী হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, কোন মৃত পুত্রের কোন পুত্র জীবিত না থাকিলে, উক্ত মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীও একজন পুত্রের অনুরূপ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হইবেন, এবং উক্ত মৃত পুত্রের পুত্র বা পুত্রের পুত্র জীবিত থাকিলে উক্ত পুত্রের পুত্রের অনুরূপ সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হইবেন:

আরও শর্ত থাকে যে, কোন মৃত পুত্রের মৃত পুত্রের বিধবা স্ত্রীর ক্ষেত্রেও, প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সহকারে, একই বিধান প্রযোজ্য হইবে।

(২) দায়ভাগ মতবাদ ব্যতীত হিন্দু আইনের অন্য কোন মতবাদের অনুসারী বা কোন প্রথা আইনের অনুসারী কোন হিন্দু ব্যক্তি যৌথ পরিবারে কোন স্বত্ব রাখিয়া মৃত্যুবরণ করিলে, সম্পত্তিতে তাহার নিজের যে স্বত্ব ছিল তাহার বিধবা স্ত্রীরও, উপ-ধারা (৩) এর বিধান সাপেক্ষে, সেই একই স্বত্ব থাকিবে।

(৩) এই ধারার বিধান অনুসারে কোন সম্পত্তিতে হিন্দু বিধবার স্বত্ব সৃষ্টি হইলে, তাহা হিন্দু মহিলার সম্পত্তি নামে একটি সীমিত স্বত্ব হইবে, তবে শর্ত থাকে যে, তাহারও একজন পুরুষ মালিকের অনুরূপ সম্পত্তি বন্টনের দাবী করিবার অধিকার থাকিবে।

(৪) প্রথা বা উত্তরাধিকারের অন্যান্য বিধান বা উক্ত সম্পত্তিতে প্রযোজ্য দানের শর্তাবলী অনুসারে যে সম্পত্তিতে কেবল একজনই উত্তরাধিকারী হইবে বা উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫ (১৯২৫ সনের ৩৯ নং আইন) প্রযোজ্য হইবে, সেই সম্পত্তির ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।
১৫৬.
বিধবার সম্পত্তি বলতে কী বোঝায়?
  1. স্ব-উপার্জিত সম্পত্তি
  2. পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি
  3. স্বামীর কাছ থেকে পাওয়া স্ত্রীধন
  4. স্বামীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি
ব্যাখ্যা
বিধবার সম্পত্তি:
যে হিন্দু স্ত্রী তার স্বামীর কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি লাভ করেন, সেটি বিধবার সম্পত্তি হিসেবে পরিচিত।
- স্ত্রীধন ও বিধবার সম্পত্তি এক নয়। বিধবার সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি, যা কোনো নারী তার স্বামীর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পায়; কিন্তু এটি স্ত্রীধনের অন্তর্ভুক্ত নয়।
- স্ত্রীধনতে মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে এবং তিনি ইচ্ছেমতো তা হস্তান্তর করতে পারেন। কিন্তু বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার মালিকানা সীমিত, অর্থাৎ তিনি কেবল জীবন-স্বত্ব বা সীমিত স্বার্থ অর্জন করেন।
এর মানে হলো, বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার কোনো একচ্ছত্র মালিকানা নেই, এবং তিনি ইচ্ছামতো তা বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না। তবে, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বিধবার সম্পত্তি চূড়ান্তভাবে হস্তান্তর করা সম্ভব,যেমন:
১) ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে
২) আইনগত প্রয়োজনে
৩) সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবহারের জন্য বা মঙ্গলে
১৫৭.
হিন্দু আইনের কোন উৎসটি "স্মৃতি" হিসেবে পরিচিত?
  1. বেদ
  2. আইন প্রণয়ন
  3. ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ
  4. আদালতের সিদ্ধান্ত
ব্যাখ্যা
⇒ স্মৃতি হলো হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় ও সামাজিক বিধানসংবলিত গ্রন্থ, যা প্রাচীন ঋষিরা সংকলন করেছেন।
- এটি মৌখিকভাবে প্রচলিত নিয়ম ও আচার-অনুশাসন লিপিবদ্ধ করার মাধ্যমে গঠিত হয়েছে।
সুতরাং, উল্লিখিত প্রশ্নে স্মৃতি হলো ধর্মীয় শাস্ত্রসমূহ।
- মূল স্মৃতিগুলো হলো:
১) মনুস্মৃতি – প্রাচীনতম ও সর্বাধিক প্রভাবশালী স্মৃতি।
২) যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি – মিতাক্ষরা মতবাদের ভিত্তি।
৩) নারদ স্মৃতি – আইনি ও বিচারসংক্রান্ত বিধান।
৪) পরাশর স্মৃতি – যুগের পরিবর্তন অনুযায়ী বিধানের পরিবর্তন নির্দেশ করে।

অন্য অপশন গুলোর মধ্যে:
- বেদ (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ও আদি গ্রন্থ, যা স্মৃতি নয়।
- আইন প্রণয়ন (Statutory Law) – এটি আধুনিক বিধিবদ্ধ আইন, যা স্মৃতি শাস্ত্রের অন্তর্গত নয়।
- আদালতের সিদ্ধান্ত (Judicial Decisions) – এটি হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস, কিন্তু স্মৃতি নয়।
১৫৮.
পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তান যদি পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ দিতে ব্যর্থ হন, তবে অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বাধিক কারাদণ্ড কী হতে পারে?
  1. ২ মাসের কারাদণ্ড
  2. ৩ মাসের কারাদণ্ড
  3. ৪ মাসের কারাদণ্ড
  4. ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা ৫(১) অনুসারে, যদি কোনো সন্তান এই আইনের অধীন পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে সে অনূর্ধ্ব ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে। অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ড হতে পারে।

অর্থাৎ: প্রথম শাস্তি: অর্থদণ্ড (সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা)।
অর্থদণ্ড না দিলে বিকল্প শাস্তি: কারাদণ্ড (সর্বোচ্চ ৩ মাস)।
সুতরাং, এই আইনে সর্বাধিক কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩ মাস।

⇒ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ এর ধারা-৫: পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ না করিবার দণ্ড:
(১) কোন সন্তান কর্তৃক ধারা ৩ এর যে কোন উপ-ধারার বিধান কিংবা ধারা ৪ এর বিধান লংঘন অপরাধ বলিয়া গণ্য হইবে এবং উক্ত অপরাধের জন্য অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবে; বা উক্ত অর্থদণ্ড অনাদায়ের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইবে। 
(২) কোন সন্তানের স্ত্রী, বা ক্ষেত্রমত, স্বামী কিংবা পুত্র-কন্যা বা অন্য কোন নিকট আত্নীয় ব্যক্তি— 
 (ক) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে বাধা প্রদান করিলে; বা 
(খ) পিতা-মাতার বা দাদা-দাদীর বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ প্রদানে অসহযোগিতা করিলে— 
 তিনি উক্তরূপ অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করিয়াছে গণ্যে উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

১৫৯.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর অধীন বিবাহ নিবন্ধিত না হলে, উক্ত বিবাহ-
  1. অবৈধ হবে
  2. বৈধ হবে
  3. বাতিল হবে
  4. ক এবং গ
ব্যাখ্যা
ধারা ৩: হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন-

(১) অন্য কোন আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন করা যাইবে।
 
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন হিন্দু বিবাহ এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হইলেও উহার কারণে কোন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পন্ন বিবাহের বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না।
১৬০.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, বিবাহ নিবন্ধনের জন্য ন্যূনতম বয়স কত?
  1. পুরুষ ও নারীর উভয়ের জন্য ১৮ বছর
  2. পুরুষ ও নারীর উভয়ের জন্য ২১ বছর
  3. পুরুষের জন্য ১৮ বছর, নারীর জন্য ১৬ বছর
  4. পুরুষের জন্য ২১ বছর, নারীর জন্য ১৮ বছর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) পুরুষের জন্য ২১ বছর, নারীর জন্য ১৮ বছর।

হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৫: হিন্দু বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ-
অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, ২১ (একুশ) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু পুরুষ বা ১৮ (আঠার) বৎসরের কম বয়স্ক কোন হিন্দু নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে উহা এই আইনের অধীন নিবন্ধনযোগ্য হইবে না।

১৬১.
নিচের কোনটি অননুমোদিত হিন্দু বিবাহের প্রকার?
  1. আর্য
  2. দৈব
  3. অসুর
  4. প্রজাপত্য
ব্যাখ্যা

• দায়ভাগ ও মিতাক্ষরা অনুসারে হিন্দুদের মধ্যে আট প্রকার বিবাহ প্রচলিত ছিল, যার প্রথম চারটি সামাজিকভাবে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট চারটি অননুমোদিত। আট প্রকার বিবাহ হলো:

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।
 
অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।

১৬২.
নারী সপিণ্ডের মধ্যে কে অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কন্যা
  2. পিতার মাতা
  3. বোন
  4. পিতার পিতার মাতা
ব্যাখ্যা

উত্তর: গ) বোন।

হিন্দু উত্তরাধিকার আইন:

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে।
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা। 

১৬৩.
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের উপর কোন প্রতিষ্ঠান তত্ত্বাবধান করবে?
  1. পারিবারিক আদালত
  2. জেলা প্রশাসন
  3. জেলা রেজিস্ট্রার
  4. সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ১৩(১) অনুযায়ী, হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের উপর জেলা রেজিস্ট্রার তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণ করবে। জেলা রেজিস্ট্রার তার দপ্তরের অধীন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের দায়িত্ব এবং কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

⇒  হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ ধারা ১৩ তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ, ইত্যাদি:
(১) প্রত্যেক হিন্দু বিবাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা রেজিস্ট্রারের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণে থাকিয়া তাহার দাপ্তরিক ও অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করিবেন। 
(২) হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকগণের উপর মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন এর সাধারণ তত্ত্বাবধানের ক্ষমতা থাকিবে। 
(৩) জেলা রেজিস্ট্রার তাহার স্থানীয় অধিক্ষেত্র এলাকায় যে কোন সময় যে কোন হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকের কার্যালয় পরিদর্শন করিতে পারিবেন। 

ব্যাখ্যা: এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে “মহাপরিদর্শক” অর্থ Registration Act, 1908 এর অধীন নিযুক্ত মহাপরিদর্শক নিবন্ধন, বা তদকর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা।
১৬৪.
হিন্দু আইনে উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কন্যাদের মধ্যে অগ্রাধিকার পাবে-
  1. অবিবাহিত কন্যা
  2. পুত্রবর্তী কন্যা
  3. বিধবা কন্যা
  4. সন্তানহীন কন্যা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-

(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
১৬৫.
হিন্দু আইনের প্রধান কতটি উৎস রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু আইনের মূল উৎস চারটি। এগুলো হলো—
১) শ্রুতি (Shruti) – এটি হিন্দু ধর্মের মৌলিক ভিত্তি। বেদসমূহ (ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ) শ্রুতি শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।
২) স্মৃতি (Smriti) – প্রাচীন ঋষিদের লিপিবদ্ধ করা সামাজিক ও ধর্মীয় বিধি-নিষেধ, যেমন মনুস্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি, নারদ স্মৃতি, পরাশর স্মৃতি ইত্যাদি।
৩) ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ (Commentaries and Digests) – বিভিন্ন স্মৃতি ও শাস্ত্রের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ। এর দুটি প্রধান মতবাদ হলো মিতাক্ষরা মতবাদ ও দায়ভাগ মতবাদ।
৪) প্রথা (Custom) – দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রীতিনীতি, যা আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি তিন ধরনের— স্থানীয় প্রথা, শ্রেণি প্রথা ও পারিবারিক প্রথা।

এছাড়া, আধুনিক সময়ে আদালতের রায়, বিধিবদ্ধ আইন ও সুবিচার হিন্দু আইনের নতুন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, তবে মূল ঐতিহ্যগত উৎস চারটিই।
১৬৬.
Factum Valet নীতি অনুযায়ী, একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া হলে তা কী হবে?
  1. বৈধ
  2. অবৈধ
  3. শর্তসাপেক্ষে বৈধ
  4. আদালতের অনুমতি প্রয়োজন
ব্যাখ্যা
→ Factum Valet নীতি অনুযায়ী, শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া নিষিদ্ধ, তবে যদি এই বিধান উপেক্ষা করে একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া হয়, তবে তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে না। তবে এ ধরনের কাজ করতে হলে প্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করতে হয়।
অর্থাৎ Factum Valet নীতি অনুযায়ী, একমাত্র পুত্রকে দত্তক দেওয়া হলে তা বৈধ হবে। 

- Factum Valet মতবাদ, হিন্দু আইন অনুসারে, এমন একটি নীতি যা নির্দেশ করে যে, কোনো কার্য বা কাজ আইনত নিষিদ্ধ হলেও তা যদি বাস্তবে সংঘটিত হয়, তবে তা বৈধ বলে গণ্য হতে পারে।
- অর্থাৎ, যে কাজটি আইনত বা শাস্ত্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ বা অশুদ্ধ বলে ধরা হয়, সেটি যদি বাস্তব জীবনে ঘটতে থাকে, তবে তা ওই সময়ের পরিস্থিতি অনুযায়ী বৈধতা লাভ করে।
১৬৭.
হিন্দু আইনে কোন বিবাহে বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করা হতো?
  1. দৈব বিবাহ
  2. আর্য বিবাহ
  3. অসুর বিবাহ
  4. প্রজাপত্য বিবাহ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনে আর্য বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন। এটি আট প্রকার বিবাহের মধ্যে অনুমোদিত চারটির একটি।

অনুমোদিত ৪ প্রকার:
ব্রাহ্ম: সর্বোত্তম পদ্ধতি, যাতে অলঙ্কারে সজ্জিতা কন্যাকে শিক্ষিত ও চরিত্রবান বরের হাতে তুলে দেয়া হতো; এক্ষেত্রে বরের নিকট থেকে কোন পণ নেয়া হতো না;
দৈব: এ ধরনের বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের নিকট কন্যা সম্প্রদান করা হতো;
আর্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে এক বা দুই জোড়া গাভী গ্রহণ করতেন;
প্রজাপত্য: এ বিবাহে কনের পিতা বরের নিকট থেকে কোন পণ গ্রহণ ছাড়াই কন্যা দান করতেন এবং তাদের আশীর্বাদ করতেন যাতে তারা পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুখের সঙ্গে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে।

অননুমোদিত ৪ প্রকার:
অসুর: এ বিবাহে বর পিতা অথবা অভিভাবকের নিকট থেকে মূল্য দিয়ে কনেকে ক্রয় করত;
রাক্ষস: এ বিবাহে কন্যার আত্মীয়দের প্রহার করে রোরুদ্যমান কন্যাকে তুলে নেয়া হতো;
গন্ধর্ব: বর ও কনের পরস্পরের পরিচয় ও সম্মতিতে এ বিবাহ অনুষ্ঠিত হতো;
পৈশাচ: নিকৃষ্টতম বিবাহ; এতে কন্যার প্রেমিক (কন্যার সম্মতি ব্যতিরেকে) নিদ্রিত অবস্থায় অথবা মদোম্মত্ত বা উম্মত্ত কন্যার সঙ্গে সঙ্গত হতো।

১৬৮.
দেবোত্তর সম্পত্তির আইনি মালিক কে?
  1. দানকারী
  2. সেবায়েত
  3. বিগ্রহ বা দেবমূর্তি
  4. মন্দির কমিটি
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) বিগ্রহ বা দেবমূর্তি।

- দেবোত্তর সম্পত্তির আইনি মালিক হলো বিগ্রহ বা দেবমূর্তি। এটি আইনের দৃষ্টিতে একটি বৈধ আইনি সত্তা বা জুডিশিয়াল পারসন হিসেবে বিবেচিত হয়।
- অর্থাৎ, দেবতার উদ্দেশ্যে দান করা সম্পত্তির আইনি মালিক সেই দেবতা বা বিগ্রহ।
- যদিও দেবতার পক্ষে সম্পত্তি পরিচালনা করার ক্ষমতা নেই, তাই দেবতার সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব সেবায়েত এর উপর থাকে।
- সেবায়েত দেবতার প্রতিনিধির মতো কাজ করেন, তবে তিনি দেবতার আইনি মালিকানা ধারণ করেন না, সেটি বরং বিগ্রহ বা দেবমূর্তি এরই থাকে।
১৬৯.
স্বাভাবিক অভিভাবক কোন ক্ষেত্রে নাবালকের সম্পত্তির হস্তান্তর করতে পারে?
  1. আইনসঙ্গত প্রয়োজনীয় কারণে
  2. নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থে
  3. ক ও খ
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
স্বাভাবিক অভিভাবক আইনসঙ্গত প্রয়োজনীয় কারণে অথবা নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থে নাবালকের সম্পত্তি হস্তান্তর অথবা দায়বদ্ধ করতে পারে। আইনসঙ্গত কারণ এবং নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থে বলিতে কি বুঝায় তাহার বিশদ আলোচনা আছে প্রিভি কাউন্সিলে উত্থাপিত হনুমান প্রসাদ বনাম মুসাম্মত বাবুই নামক অনুসরণীয় মামলায়। যদি কোন স্বাভাবিক অথবা কার্যতঃ অভিভাবক আইনসঙ্গত প্রয়োজন অথবা নাবালকের সম্পত্তির মঙ্গলার্থ ব্যতীত নাবালকের স্বার্থের পরিপন্থী অন্য কোন কারণে নাবালকের পক্ষে তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করে, তবে নাবালক সাবালকয়য়ে তিন বৎসরের মধ্যে এই প্রকার হস্তান্তর রদের জন্য মামলা করতে পারে।

আদালতের নিযুক্তীয় অভিভাবক নাবালকের পক্ষে হস্তান্তর করতে হলে, আদালতের আগাম অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি দেয়ার সময় হস্তান্তরের আইনত প্রয়োজন আছে কিনা এবং প্রস্তাবিত হস্তান্তর নাবালকের সম্পত্তির হিতার্থে হবে কিনা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে আদালত অনুমতি দেন আর সেই কারণেই এইসব হস্তান্তর সাধারণত নাবালক সাবালক হয়ে রদ করতে পারে না। তবে আদালত হইতে যদি প্রতারণামূলকভাবে অনুমতি নেয়া হয়ে থাকে, তবে সেই ক্ষেত্রে হস্তান্তর রদের মামলা চলতে পারে।
১৭০.
হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয় কোনটি?
  1. শ্ৰুতি
  2. স্মৃতি
  3. প্রথা
  4. নিবন্ধ
ব্যাখ্যা

• হিন্দু আইনের মূল উৎস ৪টি। যথা-

বেদ বা শ্ৰুতি:
অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ বা শ্ৰুতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

স্মৃতি:
প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ:
ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

প্রথা:
ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা,
(২) শ্রেণী প্রথা,
(৩) পারিবারিক প্রথা।

১৭১.
রঞ্জিত দাস তার দুই পুত্র রাম, শ্যামল এবং এক কন্যা পূজাকে রেখে মারা যায়। রঞ্জিত দাসের সম্পত্তি কিভাবে উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টন হবে?
  1. রাম ও শ্যামল মোট সম্পত্তির অর্ধেক এবং পূজা বাকি অর্ধেক পাবে
  2. রাম, শ্যামল, পূজা মোট সম্পত্তির ১/৩ অংশ করে পাবে
  3. রাম ও শ্যামল মোট সম্পত্তির অর্ধেক করে পাবে এবং পূজা কোন সম্পত্তি পাবে না
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

নিম্নে প্রথম ৫ জন সপিন্ডগণের তালিকা ক্রমানুসারে দেওয়া হলঃ

১) পুত্র,
২) পুত্রের পুত্র,
৩) পুত্রের পুত্রের পুত্র,
৪) স্ত্রী, পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের স্ত্রী, পুত্রের পুত্রের পুত্রের স্ত্রী।(বিধবা),
৫) কন্যা।

হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে-
মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র এবং বিধবা স্ত্রী থাকলে, কন্যারা উত্তরাধিকারী হিসেবে সম্পত্তি পাবে না।

• সমাধান:
এখানে, রঞ্জিত দাস সম্পত্তির অংশ সমান ২ ভাগে বিভক্ত হবে। উক্ত সম্পত্তির মধ্যে ১ অংশ পাবে রাম এবং ১ অংশ পাবে শ্যামল। কন্যা কোন সম্পত্তি পাবে না। কারণ ঊর্ধ্বতন শেয়ারার(ভাইদের) দ্বারা বঞ্চিত হবে।

সুতরাং সম্পত্তির মোট বন্টন:

⇒ রাম পাবে ১/২ অংশ;
⇒ শ্যামল পাবে ১/২ অংশ।
১৭২.
স্বামী যদি হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত হন, স্ত্রী-
  1. ভরণপোষণের অধিকার হারান
  2.  স্বামীর সঙ্গে থাকতে বাধ্য
  3. বিবাহ অবৈধ ঘোষণা করতে পারেন
  4. পৃথক থেকেও ভরণপোষণের অধিকারী হন
ব্যাখ্যা

• ১৯৪৬ সালের বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন (The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946) অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে:

- স্বামী যদি দুরারোগা কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
- if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
- if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

- স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;

- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
- if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

- স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
- if he marries again; এবং

- অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
- for any other justifiable cause

১৭৩.
বিবাহিতা অবস্থায় হিন্দু নারীর কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হলে, ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত কী হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে?
  1. পূর্ণ স্ত্রীধন
  2. স্বামীর সম্পত্তি
  3. সীমিত অর্থে স্ত্রীধন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) সীমিত অর্থে স্ত্রীধন।

- বিবাহিতা অবস্থায় হিন্দু নারী যদি কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন করেন, তবে সেই সম্পত্তি স্বামীর জীবদ্দশায় সীমিত অধিকার সহ স্ত্রীধন হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ স্বামী জীবিত থাকাকালে স্ত্রী সম্পূর্ণভাবে বিক্রি, দান বা হস্তান্তর করতে পারেন না। স্বামী মারা গেলে সেই সম্পত্তি পূর্ণ স্ত্রীধন হিসেবে পরিণত হয়।

স্ত্রীধন:
যে সমস্ত সম্পত্তিতে মহিলাদের চূড়ান্ত মালিকানা রহিয়াছে অর্থাৎ যে সকল সম্পত্তিতে মহিলাগণ সম্পূর্ণ স্বত্বের অধিকারিণী তাহাকে বলা যায় স্ত্রীধন। ঐ সকল সম্পত্তি মহিলারা তাহাদের ইচ্ছানুযায়ী ভোগ-দখল, দান, বিক্রয়, উইল ইত্যাদি করিতে পারেন, তাহাতে কাহারও আইনত বাধা দেওয়ার কিছুই থাকে না।

- সকল মতেই একজন মহিলা কুমারী অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন বলিয়া গণ্য হইবে।

- অনুরূপভাবে সকল মতেই বিধবা উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবেই কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহা তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

- একজন মহিলা বিবাহিতা অবস্থায় উত্তরাধিকার সূত্র ব্যতীত অন্য যে কোন ভাবে কোন সম্পত্তি অর্জন করুন না কেন তাহাও তাহার স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে। যেমন- বিবাহ উপলক্ষ্যে স্ত্রী যে সমস্ত যৌতুকাদি পাইয়া থাকেন অথবা বিবাহিতা অবস্থায় আত্মীয়দের নিকট হইতে কোন সম্পত্তি দানসূত্রে পাইলে তাহাও স্ত্রীধন হিসাবে গণ্য হইবে।

তবে ব্যতিক্রম এই যে, বাংলাদেশে বিবাহিতা অবস্থায় অনাত্মীয় ব্যক্তির নিকট হইতে দানসূত্রে কোন কিছু পাইলে, স্বামীর নিকট হইতে দানসূত্রে স্থাবর সম্পত্তি পাইলে অথবা বিবাহিতা অবস্থায় কৌশলগত শিল্পকলার মাধ্যমে কোন সম্পত্তি অর্জিত হইলে ঐ সকল সম্পত্তি স্বামীর জীবিতকাল পর্যন্ত সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে। স্বামীর জীবদ্দশায় উক্ত তিন প্রকারের সম্পত্তিতে বিবাহিতা মহিলার পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না এবং স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নিজের ইচ্ছামত দান বিক্রয় ইত্যাদি করা যায় না। স্বামী মারা গেলে অবশ্য ঐ সকল সম্পত্তি সম্পূর্ণ স্ত্রীধনরূপে গণ্য হইবে। অর্থাৎ উক্ত তিন রকমে প্রাপ্ত সম্পত্তিকে স্বামীর জীবদ্দশায় পুরাপুরি স্ত্রীধনরূপে গণ্য না করিয়া বরং সীমিত অর্থে স্ত্রীধনরূপে গণ্য করা যাইতে পারে।

উল্লেখ্য,
- যদি কোন মহিলার ভরণপোষণের জন্য মাসহারা বাবদ কোন অর্থ অথবা সম্পত্তি দেওয়া হয়, তবে তাহা সমস্ত মতপন্থী অনুযায়ীই স্ত্রীধনরূপে গণ্য।

- স্ত্রীধন দ্বারা অর্জিত সম্পত্তিও স্ত্রীধন হইবে। স্ত্রীধনের বিনিময়ে আপোষ মীমাংসায় অন্য কোন সম্পত্তি পাওয়া গেলে তাহাও স্ত্রীধন হইবে।

১৭৪.
হিন্দু বিধবার বিয়ে নিম্নের কোন আইন দ্বারা Regulated হয়?
  1. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act, 1856
  2. The Hindu Women Marriage Act, 1856
  3. The Hindu Women Re-marriage Act, 1856
  4. The Hindu Widow's Re-marriage Act, 1856
ব্যাখ্যা
The Hindu Widow's Re-marriage Act, 1856 হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহকে বৈধতা প্রদান করে। এই আইনের বিধান দ্বারাই হিন্দু বিধবা বিবাহ পরিচালিত হয়।

- আইনটি ২৬ জুলাই ১৮৫৬ এ আইন প্রণয়ন করেছিল।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে ভারতবর্ষের সকল বিচারব্যবস্থায় হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ বৈধ করেছিল।
- বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় তৎকালীন বড়লাট লর্ড ডালহৌসি আইন প্রণয়ন করে বিধবা বিবাহ কে আইনি স্বীকৃতি দেন।
১৭৫.
একজন হিন্দু তার একজন অবিবাহিত কন্যা 'A', একজন বিবাহিত কন্যা 'B' এবং একজন বিবাহিত পুত্র সম্ভাব্য কন্যা 'C' কে রেখে মারা যায়। উক্ত মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকার সম্পত্তি বণ্টন-
  1. 'A' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি পেয়ে যাবে।
  2. 'A' এবং 'C' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি সমান ভাবে পেয়ে যাবে।
  3. 'A' 'B' এবং 'C' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি সমান ভাবে পাবে।
  4. 'C' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি পেয়ে যাবে।
ব্যাখ্যা
- অবিবাহিত কন্যা 'A' মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ সম্পত্তি পেয়ে যাবে।
বিবাহিত কন্যা 'B' এবং বিবাহিত পুত্র সম্ভাব্য কন্যা 'C' কে অবিবাহিত কন্যা 'A' বঞ্চিত করে কারণ অবিবাহিত কন্যার অবস্থান উত্তরাধিকারীর তালিকায় তাদের (B & C) সবার আগে।
১৭৬.
বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও, স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকারী-
  1. স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়
  2. স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে
  3. স্বামী যদি দুরারোগ্য কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়
  4. উল্লিখিত সকল কারণে
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৬ সালের বিবাহিতা হিন্দু নারীর পৃথক বাসস্থান এবং ভরণপোষণ আইন (The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946) অনুযায়ী, নিম্নলিখিত কারণে বিবাহিতা হিন্দু নারী স্বামী হতে পৃথক থেকেও স্বামীর নিকট হতে ভরণ-পোষণের অধিকার পেতে পারে:

- স্বামী যদি দুরারোগা কুষ্ঠ, সিফলিস ইত্যাদি সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয় এবং এই সমস্ত ব্যাধি যদি স্ত্রীর নিকট হতে সংক্রামিত না হয়;
- if he (husband) is suffering from any loathsome disease not contracted from her;

- স্বামী যদি স্ত্রীর প্রতি নিষঠুর আচরণ করে এবং নিষ্ঠুরতা যদি এই প্রকারের হয় যে স্বামীগৃহে তার জীবনাশংকা থাকে;
- if he is gulity of such cruelty towards her as renders it unsafe or undesirable for her to live with him;

- স্বামী যদি গৃহে কোন উপ-পত্নী রেখে তার সাথে বসবাস করতে থাকে;
- if he keeps a concubine in the house or habitually resides with a concubine;

- স্বামী যদি ধর্মান্তর হয়;
if he ceases to be a Hindu by conversion to another religion;


- স্বামী যদি স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিরেকে তাকে পরিত্যাগ করে;
- if he is guilty of desertion, that is to say, of abandoning her without her consent or against her wish;

- স্বামী যদি পুনরায় বিবাহ করে;
- if he marries again
; এবং

- অন্য কোন যুক্তিসঙ্গত কারণে।
- for any other justifiable cause
১৭৭.
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন কোন মতবাদ অনুসারে হয়?
  1. দায়ভাগ মতবাদ
  2. মিতাক্ষরা মতবাদ
  3. মায়ূখ মতবাদ
  4. ব্যক্তিগত আইন
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়। এই মতবাদে মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণ ও আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ) অনুসরণ করে উত্তরাধিকার নির্ধারণ করা হয়।
- অর্থাৎ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের অখণ্ড হিন্দু পরিবার বা যৌথ পরিবারের সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ (Dayabhaga School) অনুসারে হয়ে থাকে। এই মতবাদের উদ্ভব ঘটেছিল বাংলা অঞ্চলে এবং এটি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে প্রচলিত।

মতবাদের বৈশিষ্ট্য:
- উত্তরাধিকার সৃষ্টি হয় মালিকের মৃত্যুর পর (জন্মসূত্রে নয়)।
- মৃত ব্যক্তির সপিণ্ডরা (যারা পিণ্ডদানের অধিকারী) প্রধান উত্তরাধিকারী।
- এটি আধ্যাত্মিক নীতি (Doctrine of Spiritual Benefit) এর উপর ভিত্তি করে গঠিত।

- সুতরাং, বাংলাদেশে হিন্দু সম্পত্তি বণ্টন দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে হয়।

১৭৮.
সপ্রতিবন্ধ দায় বলতে কী বোঝায়?
  1. শুধুমাত্র দানকৃত সম্পত্তির অধিকার
  2. জীবিত ব্যক্তির জীবদ্দশায় সম্পত্তি পাওয়া
  3. জন্মসূত্রে কোনো বাধা ছাড়া সম্পত্তিতে প্রাপ্ত অধিকার
  4. কারো মৃত্যুর পরে সম্পত্তিতে প্রাপ্ত অধিকার
ব্যাখ্যা

অপ্রতিবন্ধ দায় (Unobstructed heritage):
সংস্কৃত এবং বাংলায় দায় কথার অর্থ উত্তরাধিকার (inheritance)। যখন একজন কোন প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ বাধা ব্যতিরেকেই কোন সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারীত্ব লাভ করে তখন তাহাকে অপ্রতিবন্ধ দায় বলা হয়। যেমন- মিতাক্ষরা মতে জন্মসূত্রে পুত্র পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে পিতার সহ-উত্তরাধিকারী হয়, এখানে পিতার অস্তিত্ব পুত্রের পূর্বপুরুষাগত সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হইতে কোন বাধা সৃষ্টি করে না। এইভাবে সম্পত্তিতে উত্তরাধিকারী হওয়াকে বলে "অপ্রতিবন্ধ দায়।"

সপ্রতিবন্ধ দায় (Obstructed heritage):
যখন একজনের মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে অপরের উত্তরাধিকার অথবা উত্তরজীবীসূত্রে অধিকার জন্মায় তখন ইহাকে সপ্রতিবন্ধ দায় বলা যাইতে পারে। এইক্ষেত্রে অপ্রতিবন্ধ দায়ের ন্যায় জন্মসূত্রে সম্পত্তিতে অধিকার জন্মায় না। অর্থাৎ যেখানে একজনের সম্পত্তি পাওয়া অপরের মৃত্যুর উপর নির্ভরশীল তাহাকেই বলা যায় সপ্রতিবন্ধ দায়। 
এইক্ষেত্রে একজনের অস্তিত্ব অপরের সম্পত্তি পাওয়ার বাধা সৃষ্টি করে। বাধা অপসারিত হইলে পরে অন্যের উপর মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বর্তায়। এইভাবে প্রতিবন্ধকতা অপসারিত হওয়ার পর সম্পত্তি পাওয়াকে বলা হয় সপ্রতিবন্ধ দায়।

যেমন- মিতাক্ষরা মতে পিতা পৃথক সম্পত্তি রাখিয়া মারা গেলে পুত্র পিতার পৃথক সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে পায় অথবা কোন সহ-উত্তরাধিকারী মারা গেলে অন্যান্য সহ-উত্তরাধিকারীগণ মৃত ব্যক্তির অংশ উত্তরজীবী সূত্রে পায়। অপ্রতিবন্ধ দায় এবং সপ্রতিবন্ধ দায়, এই দুইটি শব্দেরই প্রয়োগ মিতাক্ষরা আইনে দৃষ্ট হয়। দায়ভাগ মতে এই পার্থক্যের সুযোগ নাই, কারণ দায়ভাগ মতে উত্তরাধিকার লাভের সূত্র একটাই এবং তাহা সর্বদাই সপ্রতিবন্ধ দায়।

১৭৯.
বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী কোন বর্ণের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের সমান অংশ পায়?
  1. শূদ্র
  2. বৈশ্য
  3. ব্রাহ্মণ
  4. ক্ষত্রিয়
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী, শূদ্র সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র স্বাভাবিক পুত্রের সমান অংশ পায়।
- শূদ্র সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্রকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বাভাবিক পুত্রের সমান অধিকার দেয়া হয়।
- অন্যদিকে, ব্রাহ্মণ, বৈশ্য, ও ক্ষত্রিয় সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দত্তকী পুত্র সাধারণত সম্পত্তির এক ভাগ পায়, যা স্বাভাবিক পুত্রের অংশের তুলনায় কম।

এই বিধান মূলত হিন্দু আইন এবং ঐতিহাসিক সমাজ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, যেখানে শূদ্র সম্প্রদায়ের জন্য এই নিয়মের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, যেন তারা তাদের পুত্রকে সমান অধিকার প্রদান করতে পারে।
১৮০.
হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে নারী সপিণ্ড কয়জন?
  1. ৪ জন
  2. ৫ জন
  3. ৬ জন
  4. ৭ জন
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে-
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

• মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ— তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড। আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:

১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।
১৮১.
'P' তার ২ পুত্র 'A' ও 'B', ২ পৌত্র 'C' ও 'D', ২ প্রপৌত্র 'E' ও 'F', ১ কন্যা 'G' এবং ১ স্ত্রী 'H' কে রেখে মারা যায়। হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী 'P'এর সম্পত্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে থেকে কে বঞ্চিত হবেন?
  1. স্ত্রী (H)
  2. কন্যা (G)
  3. পৌত্র (C & D)
  4. প্রপৌত্র (E & F)
ব্যাখ্যা

⇒ সমাধান: এখানে 'P' সম্পত্তি মোট পাঁচ অংশে বিভক্ত হবে। এই পাঁচ অংশের মধ্যে ১ অংশ পাবে পুত্র 'A', ১ অংশ পাবে পুত্র 'B', ১ অংশ পাবে ২ পৌত্র মিলে 'C' ও 'D', ১ অংশ পাবে ২ প্রপৌত্র মিলে 'E' ও 'F' এবং ১ অংশ পাবে স্ত্রী 'H'। কন্যা 'G' সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন।

সম্পত্তির বণ্টন:
- পুত্র(A)পাবে ১/৫ অংশ
- পুত্র (B) পাবে ১/৫ অংশ
- পৌত্র(C&D) পাবে ১/৫ অংশ
- প্রপৌত্র (E&F) পাবে ১/৫ অংশ
- স্ত্রী (H) পাবে ১/৫ অংশ

-হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী 'P'এর সম্পত্তির উত্তরাধিকারীদের মধ্যে থেকে কন্যা 'G'  বঞ্চিত হবেন।

অর্থাৎ কন্যা 'G' সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হবেন।
১৮২.
কোন উৎসটি হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত?
  1. স্মৃতি
  2. শ্রুতি
  3. প্রথা
  4. নিবন্ধ
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইনের মূল উৎস ৪টি। যথা-

বেদ বা শ্ৰুতি
অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ বা শ্ৰুতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

স্মৃতি
প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতাক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

প্রথা
ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা,
(২) শ্রেণী প্রথা,
(৩) পারিবারিক প্রথা।

• হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসসমূহ:
(ক) আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির,
(খ) বিধিবদ্ধ আইন,
(গ) সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা।
১৮৩.
মিতাক্ষরা ও দায়ভাগা মতবাদের প্রধান পার্থক্য কোন বিষয়ে দেখা যায়?
  1. অভিভাবকত্ব
  2. স্ত্রীধন
  3. উত্তরাধিকার
  4. বিবাহ ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

মিতাক্ষরা ও দায়ভাগা এই দুই হিন্দু আইন মতবাদের প্রধান পার্থক্য তাদের উত্তরাধিকার নীতি ও পূর্বপুরুষের সম্পত্তির অধিকারের ক্ষেত্রে দেখা যায়।

মিতাক্ষরা মতবাদ (ভারতের অধিকাংশ অংশে প্রচলিত)
উত্তরাধিকার জন্মসূত্রে: সন্তান জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই পিতৃসম্পত্তিতে তার অধিকার জন্মায়।
যৌথ পরিবার ব্যবস্থা: পরিবার যৌথভাবে সম্পত্তির মালিক হয়।
সহঅংশীদারিত্ব (Coparcenary): পিতা, পুত্র, পৌত্র ও প্রপৌত্র – এই চার পুরুষ মিলে সহঅংশীদার গঠন করে।

ফলাফল: প্রত্যেক সহঅংশীদারের জন্মের সঙ্গে সঙ্গে সম্পত্তিতে তার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সে তার ভাগ দাবি করতে পারে।

দায়ভাগা মতবাদ (মূলত বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত)
উত্তরাধিকার মৃত্যুর পর: পিতার মৃত্যুর পরেই পুত্র সম্পত্তিতে অধিকার পায়।
পিতার জীবিত অবস্থায় অধিকার নেই: পিতার জীবিত অবস্থায় সন্তানদের কোনো আইনগত অধিকার থাকে না।
সহঅংশীদারিত্বের সৃষ্টি হয় না: পিতার মৃত্যুর পূর্বে কোনো Coparcenary বা যৌথ মালিকানা গঠিত হয় না।

⇒ অন্যান্য ক্ষেত্রে,
- অভিভাবকত্ব (Guardianship) বিষয়ে উভয় বিদ্যালয় প্রায় একই নীতি অনুসরণ করে।
- স্ত্রীধন (Stridhan) সম্পর্কেও মিতাক্ষরা ও দায়ভাগা বিদ্যালয়ের মধ্যে কেবলমাত্র কিছু ক্ষুদ্র পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়, যেমন উত্তরাধিকার সূত্রে স্ত্রীধনের ব্যবস্থাপনা বা সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে। তবে এগুলো মূল মতবাদগত পার্থক্য নয়।
-  বিবাহ ব্যবস্থা (Marriage Laws) উভয় বিদ্যালয়ে প্রায় একই নীতির উপর ভিত্তি করে গঠিত। বিবাহ, তার বৈধতা, ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য নেই।

১৮৪.
দায়ভাগ মতবাদ নিম্নলিখিত কোন এলাকার ক্ষেত্রে অপ্রযোজ্য?
  1. পশ্চিমবঙ্গ
  2. বাংলাদেশ
  3. পশ্চিমবঙ্গ ব্যতীত ভারতের অন্যান্য অংশে
  4. ক এবং খ উভয়
ব্যাখ্যা
• হিন্দু আইন হিন্দুদের ধর্মীয় এবং ব্যক্তিগত আইন। এ আইন যারা জন্মসূত্রে হিন্দু, হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত, হিন্দু পিতা মাতার অবৈধ সন্তান এবং যে ক্ষেত্রে পিতা খ্রীষ্টান এবং মাতা হিন্দু সেই ক্ষেত্রে অবৈধ সন্তান যদি মায়ের কাছে হিন্দু আচার অনুযায়ী লালিত পালিত হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে হিন্দু আইন প্রযোজ্য।

বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা-
১- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং
২- মিতাক্ষরা পদ্ধতি।

দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যদিও বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দায়ভাগ মতবাদ প্রযোজ্য, কিন্তু যে সকল ক্ষেত্রে দায়ভাগ এবং মিতাক্ষরার মধ্যে কোন বিরোধ নেই, সেই সকল ক্ষেত্রে এই অঞ্চলেও মিতাক্ষর মতবাদ প্রয়োগ করা হয়।
১৮৫.
উপার্জনের উৎস অনুযায়ী স্ত্রীধন কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৪ প্রকার
  3. ৬ প্রকার
  4. ৮ প্রকার
ব্যাখ্যা
• স্ত্রীধন:
স্ত্রীর স্বোপার্জিত কিংবা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত সম্পত্তি হচ্ছে স্ত্রীধন। তারা এ ধন নিজের ইচ্ছামতো বিক্রয় অথবা দান করতে পারে। উপার্জনের উৎস অনুযায়ী স্ত্রীধন চার প্রকার-

ক. শুল্ক (কন্যাপণ):
স্বামীগৃহে যাইতে উৎসাহিত করার জন্য দেওয়া উপহার সামগ্রী। কোন হিন্দু মহিলা মারা যাওয়ার পর তার শুল্ক সম্পত্তি পর্যায়ক্রমে (১) ভ্রাতা (২) মাতা (৩) পিতা (৪) স্বামী উত্তরাধিকার হিসাবে এক জনের অনুপস্থিতিতে অন্যজন পাবেন।

খ. যৌতুক (বিবাহকালে প্রাপ্ত উপহার):
যৌতুক হল কন্যাকে বিবাহের সময় দেওয়া উপহার। অবাগ্দত্তা কন্যা, বাগ্দত্তা কন্যা, বিবাহিতা কন্যা যার পুত্র রয়েছে কিংবা পুত্রসম্ভবা, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা সমান অংশে; পুত্র, দৌহিত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র, সতীন পুত্র, সতীন পৌত্র, সতীন প্রপৌত্র। উপর্যুক্তদের অভাবে স্ত্রীলোকের যৌতুক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হবে স্বামী, ভাই, মা, বাবা;

গ. অন্বাধেয় (বিবাহোত্তরকালে পিতৃদত্ত):
অন্বধেয়ক হল বিবাহের পরবর্তী সময় প্রাপ্ত উপহার। এক্ষেত্রে উত্তরাধিকারক্রম প্রায় যৌতুকের মতোই, তবে পার্থক্য হলো- বিবাহিতা কন্যাদের চেয়ে পুত্ররা অগ্রাধিকার পায় এবং নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত স্ত্রীলোকের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারী হয় তার ভাই, মা, পিতা, স্বামী;

ঘ. অযৌতুক (বিবাহের পূর্বে বা পরে আত্মীয়গণ কর্তৃক প্রদত্ত; বিবাহের পূর্বে পিতৃদত্ত): 
অযৌতুক হল শুল্ক, অন্বষেয়ক এবং যৌতুক ব্যতীত অন্য কোনভাবে অর্জিত সম্পত্তি। এ ক্ষেত্রে পুত্র এবং কুমারী কন্যারা সমান অংশীদার; বিবাহিত পুত্রবতী অথবা পুত্রসম্ভবা কন্যা, পৌত্র, দৌহিত্র, বন্ধ্যা বিবাহিতা কন্যা এবং নিঃসন্তান বিধবা কন্যা।
১৮৬.
হিন্দু আইন প্রণয়নে ঐতিহাসিকভাবে কারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন?
  1. রাজা
  2. ব্রাহ্মণ
  3. আদালত
  4. সাধারণ জনগণ
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের প্রকৃতি অনুসারে, ঐতিহাসিকভাবে ব্রাহ্মণরা আইন প্রণয়ন ও ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। হিন্দু সমাজে ব্রাহ্মণরা শুধুমাত্র ধর্মীয় নেতৃত্বই প্রদান করেননি, বরং তারা স্মৃতি গ্রন্থ (যেমন মনুস্মৃতি, যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতি) এবং সংস্কৃত ভাষ্যের মাধ্যমে আইনি নীতি প্রণয়ন ও ব্যাখ্যা করতেন। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ হিসেবে বিবেচিত হতেন এবং তাদের নির্দেশ সাধারণত সমাজের সকল স্তরের মানুষ মেনে চলত।

অন্যান্য অপশন গুলো:
ক) রাজা: হিন্দু আইন রাজার আদেশের উপর নির্ভরশীল ছিল না। এটি ধর্ম (Dharma) এবং স্মৃতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল, যা রাজা এবং প্রজা উভয়ের উপর সমানভাবে প্রযোজ্য ছিল।
গ) আদালত: আদালত হিন্দু আইন প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা করত, কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা ছিল না। আধুনিক সময়ে আদালত হিন্দু আইনের প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু প্রাচীনকালে এটি ব্রাহ্মণদের দ্বারা পরিচালিত হত।
ঘ) সাধারণ জনগণ: সাধারণ জনগণ প্রথাগত রীতিনীতি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছিল, কিন্তু আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় তাদের সরাসরি ভূমিকা ছিল না।
অর্থাৎ হিন্দু আইন প্রণয়নে ঐতিহাসিকভাবে ব্রাহ্মণরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তারা স্মৃতি ও ধর্মশাস্ত্রের ব্যাখ্যার মাধ্যমে আইনি কাঠামো তৈরি করতেন। তাই সঠিক উত্তর হলো খ) ব্রাহ্মণ।

১৮৭.
স্ত্রীধন এবং বিধবার সম্পত্তি সম্পর্কিত নিচের কোনটি সঠিক?
  1. স্ত্রীধন উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হয়
  2. বিধবার সম্পত্তি স্ব-উপার্জিত
  3. স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে
  4. বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে
ব্যাখ্যা
→ সঠিক উত্তর: গ) স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে।

→ স্ত্রীধন হলো সেই সম্পত্তি যা কোনো হিন্দু স্ত্রী তার পিতামাতার কাছ থেকে বা স্বামীর কাছ থেকে উপহার হিসেবে লাভ করেন, এবং তার উপর মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে। অর্থাৎ, স্ত্রীর কাছে এই সম্পত্তি থাকে এবং তিনি তা ইচ্ছামতো হস্তান্তর বা বিক্রি করতে পারেন। 

→ বিধবার সম্পত্তি হলো সেই সম্পত্তি যা কোনো হিন্দু নারী তার স্বামীর থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পায়, এবং এর উপর সীমিত স্বার্থ থাকে। বিধবার সম্পত্তিতে মহিলার একচ্ছত্র মালিকানা থাকে না, অর্থাৎ তিনি সম্পত্তি বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারেন না, তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এটি হস্তান্তর করা যেতে পারে।

→ তাহলে বলা যায়, স্ত্রীধনে মহিলার হস্তান্তরের অধিকার থাকে, কিন্তু বিধবার সম্পত্তিতে তা থাকে না। 
১৮৮.
হিন্দু আইনের নিচের কোনটি মিতাক্ষরা স্কুলের উপ-স্কুল নয়?
  1. মিথিলা স্কুল
  2. বেনারস স্কুল
  3. মহারাষ্ট্র স্কুল
  4. গুজরাট স্কুল 
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু আইনের মিতাক্ষরা স্কুল (Mitakshara School) ভারতের অধিকাংশ অংশে প্রচলিত এবং এটি যাজ্ঞবল্ক্য স্মৃতির উপর বিজ্ঞানেশ্বরের লেখা ভাষ্য। এই স্কুলটি আবার ৫টি উপ-স্কুলে বিভক্ত হয়েছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় প্রথা ও ব্যাখ্যার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
• মিতাক্ষরা স্কুলের ৫টি উপ-স্কুল হলো:
১) বেনারস স্কুল (Benaras School) – উত্তর ভারত, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশ অঞ্চলে প্রচলিত।
২) মিথিলা স্কুল (Mithila School) – বিহার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অংশে প্রচলিত।
৩) মহারাষ্ট্র স্কুল (Maharashtra School) বা মায়ুখ স্কুল – মহারাষ্ট্র অঞ্চলে প্রচলিত।
৪) পাঞ্জাব স্কুল (Punjab School) – পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ ইত্যাদিতে প্রচলিত।
৫) দ্রাবিড় বা মাদ্রাজ স্কুল (Dravida or Madras School) – দক্ষিণ ভারত (তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক ইত্যাদি)।
- এই ৫টি উপ-স্কুলের মধ্যে মৌলিক নীতিগুলো একই রকম, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে (যেমন: দত্তক, উত্তরাধিকার ইত্যাদি) স্থানীয় প্রথার কারণে পার্থক্য রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এখানে "গুজরাট স্কুল" আলাদা কোনো উপ-স্কুল হিসেবে মিতাক্ষরা স্কুলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়। গুজরাট অঞ্চলে মূলত মহারাষ্ট্র স্কুলের প্রভাব দেখা যায়। তাই "গুজরাট স্কুল" সঠিক উত্তর।

১৮৯.
'কোন হিন্দু বিবাহ শুধুমাত্র গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না'- নিম্নলিখিত কোন আইনে এই বিধান করা হয়েছে?
  1. The Hindu Women Marriage Ceremonies Act,1856
  2. The Hindu Women Marriage Act,1856
  3. The Hindu Widow's Re- Marriage Act,1856
  4. The Hindu Marriage Disabilities Removal Act,1946
ব্যাখ্যা
১৯৪৬ সালের হিন্দু বিয়ে (অসমর্থতা দূরীকরণ) আইন (The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946) অনুযায়ী,

হিন্দুদের মধ্যে কোন বিবাহ যেটা অন্যান্যভাবে বৈধ, সেই বিবাহ গোত্র বা প্রবরের কারণে অবৈধ হবে না। এই আইন পাশ হওয়ার পর বিভিন্ন উপ- বর্ণের পাত্র-পাত্রীর মধ্যে বিয়ের ক্ষেত্রে সব বাধা দূর করা হয়।
যেমন- ভিন্ন বর্ণের কোন ছেলে এবং মেয়ে বিয়ে করলে সনাতন আইনে বিবাহ অবৈধ হলেও ১৯৪৬ সালের আইনের কারণে বিবাহটি বৈধ হবে। আবার একজন বিধবা যদি পুনরায় একই গোত্রের কোন ব্যক্তিকে বিবাহ করে, তাহলে ঐ বিবাহ অবৈধ হবে না।
১৯০.
হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়-
  1. বন্ধ্যা কন্যা
  2. পুত্রবতী কন্যা
  3. পুত্রসম্ভবা কন্যা
  4. অবিবাহিত কন্যা
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়- বন্ধ্যা কন্যা।

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কেউ মৃত্যুবরণ করলে নিয়ম অনুযায়ী মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে সবার আগে তাঁর পুত্র, পুত্রের অনুপস্থিতিতে পৌত্র (পুত্রের পুত্র) এবং পুত্র ও পৌত্রের অনুপস্থিতিতে প্রপ্রৌত্র (পুত্রের পুত্রের পুত্র) সম্পূর্ণ সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। কারণ, পুত্র তাঁর পিতার, পৌত্র তাঁর পিতার ও প্রপৌত্র তাঁর পিতা ও পিতামহের প্রতিনিধিত্ব করেন।

সম্পত্তিতে হিন্দু নারীর অধিকার:
পিতা বা স্বামীর সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের একচ্ছত্র অধিকার নেই, জীবনস্বত্ব আছে। দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর সম্পত্তির সম্পূর্ণ উত্তরাধিকার হন জীবিত পুত্র বা পুত্রেরা। পুত্রের উপস্থিতিতে কন্যা সম্পত্তি পান না। অর্থাৎ কন্যার অধিকার নির্ভর করবে পুত্র থাকা বা না থাকার ওপর।

১. কন্যা হিসেবে: মৃত ব্যক্তির পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র ও স্ত্রী থাকলে কন্যা তাঁর পিতার সম্পত্তি পান না। তাঁদের কেউ না থাকলে কন্যাদের মধ্যে অবিবাহিত কন্যার দাবি সবার আগে। তবে বিধবা কন্যা, বন্ধ্যা কন্যা ও যে কন্যার পুত্রসন্তান নেই, শুধু কন্যাসন্তান আছে, তিনি কিছু পাবেন না।

২. স্ত্রী (বিধবা) হিসেবে: সম্পত্তিতে হিন্দু মহিলার অধিকার আইন, ১৯৩৭ পাস হওয়ার পর মৃত ব্যক্তির বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ জীবনস্বত্ব পান।

৩. মা হিসেবে: মৃত ব্যক্তির স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, দৌহিত্র ও পিতা জীবিত থাকলে মা কিছু পান না।

৪. বোন হিসেবে: কোনো অবস্থাতেই বোন তাঁর ভাইয়ের সম্পত্তি পান না।

১৯১.
হিন্দু আইনের আধুনিক উৎস নয় কোনটি?
  1. সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা
  2. ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
  3. আদালতের সিদ্ধান্ত
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

 হিন্দু আইনের প্রাচীন উৎস ৪টি। যথা-

বেদ বা শ্ৰুতি:
অতি প্রাচীনকালে দেবতাগণ প্রত্যক্ষভাবে যা বলেছিলেন ও তৎকালে মুনিগণ যা শুনেছিলেন এবং পরবর্তীকালে যা মুনিবর কৃষ্ণদ্বৈপায়ন কর্তৃক সংকলিত হয় তাই বেদ। ঋক বেদ, যজু বেদ, সাম বেদ ও অথর্ব বেদ এই চারটি বেদকে একত্রে শ্রুতি শাস্ত্র বলা হয়। বেদ বা শ্ৰুতি হচ্ছে হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি।

স্মৃতি:
প্রাচীনকালে মানুষের পালনীয় ঐশ্বরিক নির্দেশাবলি যা আর্য ঋষিগণ গুরু শিষ্য পরম্পরায় আবৃত্তি আকারে স্মরণে রেখেছিলেন, যা পরবর্তীকালে মুনিগণ গ্রন্থ আকারে সংকলিত করেন ইহাই স্মৃতি শাস্ত্ৰ বা সংহিতা নামে পরিচিত।

ব্যাখ্যা বা নিবন্ধ
ধর্মীয় অনুশাসনে বিভিন্ন স্মৃতির মধ্যে জটিলতা দেখা দিলে ব্যাখ্যার উদ্ভব হয়। আঞ্চলিক রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে পণ্ডিতগণ নিজেদের মতামত বা ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে প্রাচীন আইনের সংশোধন করে থাকেন। ব্যাখ্যাসমূহের মধ্যে দুটি মতবাদই অনুসরণ করা হয়ে থাকে-
(১) মিতাক্ষরা মতবাদ,
(২) দায়ভাগ মতবাদ।

প্রথা:
ইহা এমন রীতি যা দেশ, অঞ্চল বা মহল্লায় প্রচলিত থাকাকালে আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। আদালত কর্তৃক হিন্দু প্রথাকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(১) স্থানীয় প্রথা,
(২) শ্রেণী প্রথা,
(৩) পারিবারিক প্রথা।

• হিন্দু আইনের আধুনিক উৎসসমূহ:
(ক) আদালতের সিদ্ধান্ত বা নজির,
(খ) বিধিবদ্ধ আইন,
(গ) সুবিচার, ন্যায়পরায়ণতা।

১৯২.
কোনো হিন্দু ব্যক্তির ৩ জন স্ত্রী এবং দুই পুত্র থাকলে, উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রীদের মধ্যে সম্পত্তির বণ্টন কীভাবে হবে?
  1. সকলে একত্রে সম্পত্তির অর্ধেক পাবে
  2. প্রত্যেকে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  3. সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে
  4. পুত্র থাকায় স্ত্রীগণ বঞ্চিত হবে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে হিন্দুদের মধ্যে দু’ধরনের উত্তরাধিকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। যথা- দায়ভাগ পদ্ধতি এবং মিতাক্ষরা পদ্ধতি। দায়ভাগ পদ্ধতি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে প্রচলিত আছে। দায়ভাগ মতে পিন্ডদানের অধিকারী ব্যক্তি মাত্রই মৃত ব্যক্তির উত্তরাধিকারী। যারা পিন্ড দিতে পারে তারাই মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তির ওয়ারিশ বলা হয়। ভারতের অন্যান্য প্রদেশ এবং পাকিস্তানে মিতাক্ষরা পদ্ধতি প্রযোজ্য হয়ে থাকে।

উত্তরাধিকার সম্পর্কিত কিছু সাধারণ নিয়ম-

(১) পুত্র পিতার সমগ্র সম্পত্তির একক উত্তরাধিকারী;
(২) পুত্র একাধিক হলে সমান হারে সম্পত্তি পাবে; 
(৩) পুত্র মারা গিয়ে থাকলে পৌত্র উত্তরাধিকারী হবে (পিতার অংশ পাবে);
(৪) বিধবা স্ত্রী এক পুত্রের সমান অংশ ‘জীবন স্বত্ব পাবে। (সম্পত্তিতে হিন্দু নারীদের অধিকার আইনের ৩(১) ধারা);
(৫) একাধিক বিধবা স্ত্রী থাকলে সকলে একত্রে এক পুত্রের সমান সম্পত্তি পাবে;
(৬) মৃতের বিধবা পুত্রবধূ/প্রপৌত্রবধূ থাকলে সে এক পুত্রের সমান ‘জীবন স্বত্ত্ব’ পাবে;
(৭) কন্যার পূর্বের কোন উত্তরাধিকারী না থাকলে, কন্যা পিতার সম্পত্তি পাবে;
(৮) কন্যাদের মধ্যে ‘কুমারী কন্যার’ দাবি প্রথম এবং সে-ই সব সম্পত্তি পাবে;
(৯) কুমারী কন্যা না থাকলে পুত্রবর্তী কন্যা উত্তরাধিকারী হবে;
(১০) বন্ধ্যাকন্যা, বিধবা কন্যা, সন্তানহীন কন্যা এবং যে সব কন্যার শুধু কন্যা সন্তান আছে তারা উত্তরাধিকারী হবে না। তবে এরূপ কন্যাদের মধ্যে যে, কোন দত্তকপুত্র গ্রহণ করেছে সে বঞ্চিত হবে না।
১৯৩.
হিন্দু বিয়ে এক প্রকার-
  1. পার্থিব বন্ধন
  2. দেওয়ানী চুক্তি
  3. আংশিক চুক্তি
  4. পবিত্র বন্ধন
ব্যাখ্যা
⇒ হিন্দু বিয়ে একটি ধর্মীয় পবিত্র বন্ধন (Sacrament) বিধায় ইহা একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধন যা ইহলোক ও পরলোকেও স্থায়ী। মুসলিম বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি। কাজেই আইন মোতাবেক যেমন এরুপ চুক্তি করা যায়, তেমনি এর পরিসমাপ্তিও ঘটানোও যায়। হিন্দু বিয়ে এরুপ পর্যায়ভূক্ত নয়।
তাই শাস্ত্রীয় বিধান মতে কোন পক্ষই তালাকের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না। তবে পরবর্তীকালে বিধিবদ্ধ আইন দ্বার এর কিছু ব্যতিক্রম করা হয়েছে। ১৮৮৬ সালে ধর্মান্তরের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ আইন প্রবর্তিত হয়।

এই আইনে বলা হয়েছে যে, যদি কোন নারী বা পুরুষ ধর্ম ত্যাগ করে, খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে, তবে আদালত তাদের পূর্ব অুনষ্ঠিত বিয়ের বন্ধন ছিন্ন হয়েছে ঘোষণা প্রদান করতে পারেন। কলকাতা হাইকোর্ট গবর্ধন বনাম জাসোদমনি মামলায় এই মর্মে রায় প্রদান করেন যে, যদি কোন হিন্দু নারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তখন তার উপর আর হিন্দু আইনের কোন অধিকার থাকে না। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তার বিয়ের বন্ধন সঙ্গে সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৯৫৫ সালে ভারতের হিন্দুদের জন্য আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদের আইন প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু তা বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য নয়। যে কোনও রূপ, বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্য কোনওভাবে হিন্দু বিবাহের বিচ্ছেদ বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়।
ধারণাটি হল স্বামী এবং স্ত্রী চিরকাল একসাথে থাকবে এবং একসাথে সমস্ত ধর্মীয় এবং পার্থিব কার্য সম্পাদন করবে। বিয়ের পর তারা একটি নিখুঁত সংযোগে পরিণত হয়, দেহ ও আত্মায় উভয়ই মিলিত হয়, যা বিচ্ছিন্ন উচিত নয়।
১৯৪.
বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইনের কোন পদ্ধতি প্রযোজ্য?
  1. Mitakshara
  2. Dayabhaga
  3. Both Mitakshara and Dayabhaga
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ হিন্দু উত্তরাধিকার আইনে দুইটি প্রধান পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে:
১) দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System)
২) মিতাক্ষরা পদ্ধতি (Mitakshara System)

→ বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন দায়ভাগ পদ্ধতি (Dayabhaga System) অনুসারে পরিচালিত হয়।

দায়ভাগ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য:
- ভৌগলিক প্রচলন: এই পদ্ধতি প্রধানত বাংলাদেশ (তৎকালীন বাংলা অঞ্চল) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে অনুসরণ করা হয়।
- উত্তরাধিকারের ভিত্তি: এই পদ্ধতিতে পিণ্ডদান (মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পাদন করার অধিকার) উত্তরাধিকার নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। যে ব্যক্তি পিণ্ডদান করার অধিকারী হন, তিনিই সাধারণত উত্তরাধিকারী হিসাবে গণ্য হন।
- সম্পত্তিতে মালিকানা: দায়ভাগ পদ্ধতিতে পিতা তার জীবদ্দশায় পারিবারিক সম্পত্তির একক মালিক হন। পুত্রদের পিতার জীবদ্দশায় সম্পত্তিতে কোন জন্মসূত্রে অধিকার (birthright) থাকে না।
- বিধবার অধিকার: ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীর অধিকার আইন (Hindu Women's Rights to Property Act, 1937) এর মাধ্যমে বিধবাদের উত্তরাধিকার স্বীকৃত হয়। এই মতে, একজন বিধবা তার স্বামীর সম্পত্তিতে এক পুত্রের সমান অংশ পেতে পারেন।

১৯৫.
হিন্দু আইনে বিয়ে এক প্রকার-
  1. দেওয়ানী চুক্তি
  2. পার্থিব বন্ধন
  3. পবিত্র বন্ধন
  4. আংশিক চুক্তি
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিয়ে একটি ধর্মীয় পবিত্র বন্ধন (Sacrament) বিধায় ইহা একটি অবিচ্ছেদ্য বন্ধন যা ইহলোক ও পরলোকেও স্থায়ী। মুসলিম বিয়ে একটি দেওয়ানী চুক্তি। কাজেই আইন মোতাবেক যেমন এরুপ চুক্তি করা যায়, তেমনি এর পরিসমাপ্তিও ঘটানোও যায়। হিন্দু বিয়ে এরুপ পর্যায়ভূক্ত নয়।
তাই শাস্ত্রীয় বিধান মতে কোন পক্ষই তালাকের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না। তবে পরবর্তীকালে বিধিবদ্ধ আইন দ্বার এর কিছু ব্যতিক্রম করা হয়েছে। ১৮৮৬ সালে ধর্মান্তরের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ আইন প্রবর্তিত হয়।

এই আইনে বলা হয়েছে যে, যদি কোন নারী বা পুরুষ ধর্ম ত্যাগ করে, খৃষ্টান ধর্ম গ্রহণ করে, তবে আদালত তাদের পূর্ব অুনষ্ঠিত বিয়ের বন্ধন ছিন্ন হয়েছে ঘোষণা প্রদান করতে পারেন। কলকাতা হাইকোর্ট গবর্ধন বনাম জাসোদমনি মামলায় এই মর্মে রায় প্রদান করেন যে, যদি কোন হিন্দু নারী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তখন তার উপর আর হিন্দু আইনের কোন অধিকার থাকে না। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তার বিয়ের বন্ধন সঙ্গে সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

১৯৫৫ সালে ভারতের হিন্দুদের জন্য আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদের আইন প্রবর্তন করা হয়েছে। কিন্তু তা বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য প্রযোজ্য নয়। যে কোনও রূপ, বিবাহবিচ্ছেদ বা অন্য কোনওভাবে হিন্দু বিবাহের বিচ্ছেদ বাংলাদেশে অনুমোদিত নয়।
ধারণাটি হল স্বামী এবং স্ত্রী চিরকাল একসাথে থাকবে এবং একসাথে সমস্ত ধর্মীয় এবং পার্থিব কার্য সম্পাদন করবে। বিয়ের পর তারা একটি নিখুঁত সংযোগে পরিণত হয়, দেহ ও আত্মায় উভয়ই মিলিত হয়, যা বিচ্ছিন্ন উচিত নয়।
১৯৬.
প্রথাকে আইনের মর্যাদা দিতে হলে নিম্নলিখিত কোন বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে?
  1. প্রথাটি অবশ্যই নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকতে হবে
  2. যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে
  3. নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের পরিপন্থী হবে না
  4. উল্লিখিত সকল বৈশিষ্ট্য
ব্যাখ্যা
প্রথা (Customs):

ইহা এমন একটি নিয়ম বা রীতি যাহা একটি বিশেষ পরিবারে অথবা শ্রেণীতে অথবা অঞ্চলবিশেষে বহুকাল প্রচলিত হইবার দরুন আইনের যোগ্যতা অর্জন করেছে। স্মৃতি এবং প্রথার মধ্যে বিরোধ উপস্থিত হলে আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা স্মৃতির চেয়েও শক্তিশালী; হিন্দু আইনের এই নীতিগত প্রশ্নটির মীমাংসা হয় কালেক্টার, মাদুরা বনাম মুট্টুরামলিঙ্গ মামলায় প্রিভি কাউন্সিলে (12 Μ.Ι. Α. 379) তাহাতে বলা হয়- "Clear proof of usage will out weigh the written texts of the law" অর্থাৎ আইনত প্রতিষ্ঠিত প্রথা হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী লিখিত বিধান হইতেও অধিক শক্তিশালী।

কোন কোন পণ্ডিত ব্যক্তি প্রথাকে শ্রুতি অথবা স্মৃতিশাস্ত্রের অবলুপ্ত অথবা বিস্মৃত অংশ বলে মনে করেন। তাদের বক্তব্য প্রথাগুলি অতি প্রাচীনকালে শ্রুতি অথবা স্মৃতিশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে লিখিত আকারে স্মৃতি প্রণয়নকালে এইগুলি অসাবধানবশতঃ স্মৃতিশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হয় নাই, কিন্তু সুপ্রাচীন প্রথারূপে জনসমাজে চালু রয়েছে। প্রথা তিন প্রকার, যথা:

(১) স্থানীয় প্রথা: যে প্রথা কোন বিশেষ স্থানে বা অঞ্চলে চালু রয়েছে।

(২) শ্রেণী প্রথা: যেসব প্রথা হিন্দু সমাজের কোন বিশেষ শ্রেণীর মধ্যে সীমাবদ্ধ তাহাকে শ্রেণী প্রথা বলে। হিন্দু সমাজে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোক রয়েছে। যেসব প্রথা কোন একটি বিশেষ সম্প্রদায় অথবা জনগোষ্ঠির মধ্যে সীমাবদ্ধ তাহাই সেই সম্প্রদায়ের জন্য শ্রেণী প্রথা নামে অবহিত।

(৩) পারিবারিক প্রথা: যেসব প্রথা বা রীতি কোন একটি বিশেষ পরিবারে স্মরণাতীত কাল হতে চালু  আছে তা সেই পরিবারের পারিবারিক প্রথা নামে পরিচিত।

একটি প্রথাকে আইনের মর্যাদা পেতে হলে, তার মধ্যে নিম্নলিখিত উপাদানগুলি অবশ্যই থাকতে হবে-

(ক) প্রথাটি অবশ্যই সুপ্রাচীন, সুনিশ্চিত, যুক্তিযুক্ত এবং সুপ্রমাণিত হতে হবে।

(খ) ইহা নৈতিকতা বিরোধী অথবা সাধারণ নিয়মের (opposed to public policy) পরিপন্থী হলে চলবে না।

(গ) ইহা আইনসভা কর্তৃক কোন আইন দ্বারা নিষিদ্ধ ঘোষিত হইলে চলবে না। যেমন একসময়ে হিন্দুদের মধ্যে সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে লর্ড বেন্টিংকের সময় রাজা রামমোহন রায় প্রমুখ মহানুভব ব্যক্তিদের উদ্যোগে আইনসভা কর্তৃক উহা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়।

(ঘ) প্রথাটিকে অবশ্য স্মরণাতীত কাল হইতে আরম্ভ হইয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকতে হবে।
১৯৭.
দত্তহোম বলতে কী বোঝায়?
  1. দত্তক গ্রহণের সময় সম্পদ দান
  2. দত্তক গ্রহণের পরে কোর্টে নিবন্ধন
  3. দত্তক গ্রহণের যোগ্যতা অর্জন
  4. দত্তক নেওয়া উপলক্ষে যজ্ঞানুষ্ঠান
ব্যাখ্যা

দত্তহোম:
দত্তক নেওয়া উপলক্ষে যদি কোন যজ্ঞানুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়, তাহাকে দত্তহোম বলে। দত্তক গ্রহণকালে দত্তহোম অত্যাবশ্যক কিনা এই বিষয়ে উপমহাদেশের বিভিন্ন হাইকোর্টের নজীরে মতভেদ আছে। দত্তক গ্রহণকালে দত্তহোম করিতে হইবে হিন্দু ধর্মশাস্ত্রে এই রকম কোন অবশ্য পালনীয় আদেশ (Mandatory provision of law) নাই।

ফলে, বাংলাদেশে দত্তহোম ব্যতীত অন্যান্য শর্তানুযায়ী দত্তক গ্রহণ করিলে তাহা (factum valet) নীতি অনুযায়ী সকল বর্ণের হিন্দুদের জন্য আইনত সিদ্ধ হইবে। তবে সাধারণত বিত্তবানরাই প্রয়োজনবোধে দত্তক নিয়া থাকেন এবং তাহারা এই উপলক্ষে দত্তহোম এবং সেই সঙ্গে আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেন।

১৯৮.
নিম্নের কোন উত্তরাধিকারীর ক্ষেত্রে হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' স্বীকৃত?
  1. ভ্রাতুস্পুত্র
  2. প্রপৌত্র
  3. কন্যার পুত্র
  4. পিতার ভ্রাতা
ব্যাখ্যা
→ হিন্দু আইনে মৃতের সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ে দুই ধরনের উত্তরাধীকার পদ্ধতি চালু আছে:
(ক) মিতক্ষরা পদ্ধতি
(খ) দায়ভাগ পদ্ধতি।

বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু ধর্মীয় লোকজন মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে দায়ভাগ পদ্ধতি অনুসরণ করেন। দায়ভাগ মূলত জীমূতবাহন রচিত হিন্দু ধর্মীয় সম্পত্তির উত্তরাধীকার বিষয়ক আইন গ্রন্থ। এ আইনগ্রন্থ অনুযায়ী, যারা মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যানের জন্য পিণ্ডদানের অধিকারী, কেবলমাত্র তারাই মৃত ব্যক্তির সপিণ্ড এবং যোগ্য উত্তরাধিকারী হিসেবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি পেয়ে থাকেন। মিতক্ষরা পদ্ধতি অনুসারে জন্ম হওয়ামাত্রই যেমন একজন পুত্র সন্তান পূর্ব পুরুষের সম্পত্তিতে পিতার সমান অংশীদারী হন, দায়ভাগ আইনে তেমনটা হয় না।

- হিন্দু দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে- শুধুমাত্র পুত্র, পৌত্র (যার বাবা মৃত), প্রপৌত্র (যার বাবা ও পিতামহ দুজনই মৃত) উত্তরাধিকারী হিসেবে থাকলে, পৌত্রিক পূর্বপুরুষের সম্পত্তিতে 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' বা Doctrine of Representation প্রযোজ্য হবে। মহিলাদের ক্ষেত্রে এ নীতি প্রযোজ্য নয়।

- সাধারণত একজন পুত্র, একজন পৌত্র এবং একজন প্রপৌত্র, তারা সকলেই একসঙ্গে পিতৃপক্ষীয় সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার অর্জন করে থাকে। এর কারণ হলো- পৌত্র তার মৃত পিতার অধিকারের প্রতিনিধিত্ব করে এবং প্রপৌত্র তার মৃত পিতা ও পিতামহের অধিকারের প্রতিনিধিত্ব করে।
- 'প্রতিনিধিত্ব মতবাদ' অনুসারে তারা সকলে অংশপিছু (Per-Stripes) সম্পত্তি পাবে, মাথাপিছু (Per-Capita) নয়।
১৯৯.
সপিণ্ড বলতে বোঝায়-
  1. দান গ্রহণকারী
  2. যিনি পিণ্ডদানের অধিকারী
  3. যিনি মৃত ব্যক্তির ঋণ শোধ করেন
  4. যিনি মৃত ব্যক্তির ঔরসজাত সন্তান
ব্যাখ্যা
সপিণ্ড:
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি বণ্টন হয়ে থাকে দায়ভাগ মতবাদ অনুসারে। এই মতবাদ অনুসারে উত্তরাধিকার নির্ণয় করতে যে নীতি অনুসরণ করা হয়, তা হলো মৃত ব্যক্তির আত্মার কল্যাণে আধ্যাত্মিক নীতি (ডকট্রিন অব স্পিরিচুয়াল বিলিফ)। হিন্দুধর্মাবলম্বী কোনো মানুষ মারা গেলে মৃত ব্যক্তির আত্মার সদ্‌গতির জন্য শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়। শেষকৃত্যের তিনটি ধাপ আছে।
১. পিণ্ডদান;
২. পিণ্ডলেপ ও
৩. জলদান।

মৃত ব্যক্তির শ্রাদ্ধে যে ব্যক্তি পিণ্ডদানের অধিকারী, তাকে বলা হয় ‘সপিণ্ড’। সপিণ্ডরাই মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রধানতম অধিকারী। মাতৃকুল ও পিতৃকুলের ঊর্ধ্বতন তিন পুরুষ, পুত্র ও কন্যার অধস্তন তিন পুরুষ এবং ঊর্ধ্বতন মাতৃ ও পিতৃকূলের ছয় পুরুষ—তাঁরা হলেন পুরুষ সপিণ্ড।

আর নারী সপিণ্ড পাঁচজন। তাঁরা হলেন:
১. বিধবা স্ত্রী;
২. কন্যা;
৩. মাতা;
৪. পিতার মাতা ও
৫. পিতার পিতার মাতা।

⇒ পিতৃকুলের সপিণ্ডরা জীবিত থাকলে মাতৃকুলের সপিণ্ডরা সম্পত্তি পান না।
২০০.
"নিবন্ধন না হলেও হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিবাহ বৈধ"- হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর কত ধারায় উল্লেখ আছে?
  1. ধারা ২
  2. ধারা ৩(১)
  3. ধারা ৩(২)
  4. ধারা ৪(১)
ব্যাখ্যা
হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন, ২০১২ এর ধারা ৩: হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন:
(১) অন্য কোন আইন, প্রথা ও রীতি-নীতিতে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, হিন্দু বিবাহের দালিলিক প্রমাণ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে হিন্দু বিবাহ, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিবন্ধন করা যাইবে। 
 
(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন হিন্দু বিবাহ এই আইনের অধীন নিবন্ধিত না হইলেও উহার কারণে কোন হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সম্পন্ন বিবাহের বৈধতা ক্ষুণ্ন হইবে না।