⇒ বৃটিশ আমলে যেসব রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা হিন্দু আইনের বেশ কিছু প্রচলিত প্রথার সংস্কার করা হয়েছিল তার মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশে বিদ্যমান উল্লেখযোগ্য কিছু আইনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেয়া হল।
১। The Hindu Widow's Re-marriage Act, 1856 এই আইনের মুখবন্ধে বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ থাকাকে প্রচলিত প্রতিষ্ঠিত প্রথা হিসেবে স্বীকার করলেও এটিকে হিন্দু আইনের মূল ধারণার পরিপন্থি বলে বিধবা বিবাহের আইনগত বৈধতা দেয়া হয় এবং বিবাহের পর ভূমিষ্ঠ সন্তানদের স্বীকৃতি দেয়া হয়।
২। The Hindu Disposition of Property Act, 1916 এর মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবার পূর্বে তার বরাবর সম্পত্তি দান করার আইনগত বৈধতা দেয়া হয়।
৩। The Hindu Inheritance (Removal of Disabilities) Act, 1928 এর মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার যে প্রচলিত নিয়ম ছিল তা রদ করা হয়। তবে বাংলাদেশে শুধুমাত্র হিন্দু মিতাক্ষরা মতাবলম্বীদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য করা হয়।
8 The Hindu Law of Inheritance (Amendment) Act, 1929-এ উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে পুত্রের কন্যা, কন্যার কন্যা, বোন এবং বোনের পুত্রকে দাদার পর এবং চাচার আগে স্থান দেয়া হয়। তবে এটিও শুধুমাত্র মিতাক্ষরা মতাবলম্বীদের জন্য প্রযোজ্য।
৫। The Hindu Women's Right to Property Act, 1937 আইনের মাধ্যমে বিধবাদের জীবনস্বত্বে প্রাপ্ত সম্পত্তির পরিমান সুনির্দিষ্ট করা হয়।
৬। The Hindu Women's Rights to Property (Extension to Agricultural Land) Act, 1943 (Amendment Act)-এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট স্থানে কৃষিভূমিতে নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
৭। The Hindu Married Women's Right to Separate Residence and Maintenance Act, 1946 দ্বারা বিশেষ ক্ষেত্রে নারীদের পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণের অধিকারের আইনগত স্বীকৃতি দেয়া হয়।
৮। The Hindu Marriage Disabilities Removal Act, 1946 দ্বারা একই কাস্ট বা বর্ণের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে বিবাহের আইনগত বৈধতা দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, বর্ণিত আইনগুলো শুধুমাত্র হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এসব রাষ্ট্রীয় আইন দ্বারা হিন্দু সনাতন ধর্মের প্রচলিত বিভিন্ন প্রথাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, হিন্দু নারীর অধিকারের প্রতি রাষ্ট্র সংবেদনশীল হয়েছে যার প্রতিফলন আইনগুলোর মধ্যে দেখা যায়। তাছাড়া কিছু প্রগতিশীল আইন বাংলাদেশের মিতাক্ষরা মতাবলম্বীদের মধ্যে প্রয়োগযোগ্য করা হয়েছে যা দায়ভাগ মতাবলম্বীদের সংস্কারের পক্ষে জোড়ালো যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।