বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

মোট প্রশ্ন৭৬৮এই পাতা৬৬প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

PrepBank · পাতা / · ৭০১৭৬৬ / ৭৬৮

৭০১.
কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়? 
  1. ঘনীভবন
  2. বাষ্পীভবন
  3. গলনাংক
  4. স্ফুটনাংক
ব্যাখ্যা
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাংক এর মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অন্যদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০২.
বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH কত? 
ব্যাখ্যা
পানি: 
- পানি একটি তরল পদার্থ। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় পানি তরল হলেও অত্যন্তশীতল অবস্থায় কঠিন বরফে পরিণত হয়। আবার উচ্চ তাপমাত্রায় গ্যাসীয় বাষ্পে পরিণত হয়। 
- জীবজগতের সকল উদ্ভিদ ও প্রাণির দেহ গঠনের জন্য পানি একটি অপরিহার্য উপাদান। 

পানির ধর্ম: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বচ্ছ, স্বাদহীন, গন্ধহীন ও বর্ণহীন হয়ে থাকে। 
- পানির কিছু সাধারণ ধর্ম নিম্নে উল্লেখ করা হলো- 
• গলনাংক: 
- শীতল অবস্থায় পানি কঠিন বরফ হিসেবে থাকে। 
- প্রমাণ চাপে বরফ ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গলে যায়। 
অর্থাৎ, পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 

• স্ফূটনাংক: 
- প্রমাণ চাপে অর্থাৎ ৭৬০ মি মি পারদ চাপে পানি ১০০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পে পরিণত হয়। 
অর্থাৎ, পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

• অম্লত্ব ও ক্ষারকত্ব: 
- বিশুদ্ধ পানি নিরপেক্ষ। 
অর্থাৎ, বিশুদ্ধ অবস্থায় এটি অ্যাসিড বা ক্ষার কোন ধর্মই প্রদর্শন করে না। 
- তবে এসিডের উপস্থিতিতে এটি ক্ষার হিসেবে আবার ক্ষারের উপস্থিতিতে এটি অ্যাসিড হিসেবে কাজ করে। 
- বিশুদ্ধ অবস্থায় ২০°-২৭°C তাপমাত্রায় পানির pH হলো ৭, তবে উচ্চ তাপমাত্রার পানির pH ৭ এর নিচে। 

• দ্রাবক: 
- পানি একটি ভাল দ্রাবক। 
- এটি বেশিরভাগ অজৈব লবণ এবং কিছু কিছু জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে। 
- এজন্য পানিকে সর্বজনীন দ্রাবক বলা হয়। 

• ঘনত্ব: 
- ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি হয়। 
- ৪° সেলসিয়াসের চেয়ে কম ও বেশি তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব কমতে থাতে। 
- ৪° সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব ১ গ্রাম/কিউবিক সেন্টিমিটার বা ১০০০ কেজি/ঘনমিটার। 
অর্থাৎ, ১ সি সি পানির ভর ১ গ্রাম এবং ১ ঘন মিটিার পানির ভর ১০০০ কেজি। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৩.
How many times lighter is an electron than a hydrogen atom?
  1. 184 times
  2. 920 times
  3. 1840 times
  4. 2180 times
  5. 2410 times
ব্যাখ্যা

- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু মূলত একটি প্রোটন এবং একটি ইলেকট্রন নিয়ে গঠিত। প্রোটনের ভর ইলেকট্রনের ভরের তুলনায় প্রায় ১৮৩৬ থেকে ১৮৪০ গুণ বেশি। যেহেতু হাইড্রোজেন পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভরই প্রোটন দ্বারা গঠিত, তাই একটি হাইড্রোজেন পরমাণু একটি ইলেকট্রনের তুলনায় প্রায় ১৮৪০ গুণ হালকা হয় বা একটি হাইড্রোজেন পরমাণু ইলেকট্রনের তুলনায় ১৮৪০ গুণ ভারী

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর একটি ক্ষুদ্রতম কণিকা হচ্ছে ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হচ্ছে ইলেকট্রন। 
- ইলেকট্রনের ভর অতি সামান্য। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় ১৮৪০ গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- ইলেকট্রনের সংকেত e- । 
- ইলেকট্রনের আসল ভর ও প্রকৃত আধান যথাক্রমে 9.11×10-28 g ও -1.60×10-19 C. 
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্রিটানিকা। 

৭০৪.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৫ টি
  2. ৭ টি
  3. ১৮ টি
  4. ৬ টি
ব্যাখ্যা
• পর্যায় সারণি (Periodic Table):
- পর্যায় সারণি হলো এমন একটি সারণি, যেখানে মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সাজানো হয়।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য-
- পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি রয়েছে।
- সারণিতে ১৮ টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বাম দিকে গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।
৭০৫.
HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) কোন ধরণের বিক্রিয়া?
  1. বিয়োজন বিক্রিয়া
  2. দহন বিক্রিয়া
  3. পানি যোজন বিক্রিয়া 
  4. প্রশমন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া: 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
উদাহরণ: HCl (aq) + NaOH (aq) → NaCl (aq) + H2O (l) 

পানি যোজন বিক্রিয়া: 
- আয়নিক যৌগ দ্রবণ থেকে কেলাস গঠনের সময় এক বা একাধিক সংখ্যা পানির অণুকে সংযুক্ত করার প্রক্রিয়াকে পানি যোজন বিক্রিয়া বলে। 
- আয়নিক যৌগের কেলাসের সাথে সংযুক্ত পানিকে কেলাস পানি বলে। 

বিয়োজন বিক্রিয়া: 
- বিয়োজন বিক্রিয়া সংযোজন বিক্রিয়ার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া।
- এ প্রক্রিয়ায় যৌগের অণু ভেঙ্গে একাধিক মৌল বা যৌগে পরিণত হয়।
- প্রকৃতপক্ষে যৌগের অণু উহার উপাদানসমূহে বিভক্ত হয়।
উদাহরণ: মারকারী (II) অক্সাইড উচ্চ তাপে বিয়োজিত হয়ে উহার সরলতম উপাদান মারকারী ও অক্সিজেনে পরিণত হয়। 

দহন বিক্রিয়া: 
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়। 
উদাহরণ: কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৬.
নিচের কোনটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস?
  1. হাইড্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. হিলিয়াম
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• হিলিয়াম একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের উদাহরণ।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার:

- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়।
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা।
- H2 গ্যাসের তুলনায় He গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92% ।
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়।
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে।
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন।
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়।
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী ও নাগ)।

৭০৭.
উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. প্রস্বেদন 
  2. নিঃসরণ 
  3. শ্বসন 
  4. অভিসরণ 
ব্যাখ্যা

প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়।
যথা- (ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, (খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং (গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০৮.
কোন অবস্থায় বিক্রিয়ার গতিবেগ বৃদ্ধি পায়?
  1. বিক্রিয়ার আয়তন বৃদ্ধি পেলে
  2. উৎপাদকের ঘনমাত্রা কম থাকলে 
  3. বিক্রিয়ার তাপমাত্রা কম থাকলে
  4. বিক্রিয়াকের ঘনমাত্রা বেশি থাকলে
ব্যাখ্যা

বিক্রিয়ার গতিবেগ বা বিক্রিয়ার হার (Rate of Reaction): 
- যখন কোন রাসায়নিক বিক্রিয়া সংগঠিত হয় তখন বিক্রিয়ক বিক্রিয়া করে উৎপাদে পরিণত হয়। 
- বিক্রিয়কের পরিমাণের হ্রাস ঘটে এবং উৎপাদের পরিমাণের বৃদ্ধি ঘটে। 
অর্থাৎ, বিক্রিয়কের ঘনমাত্রার হ্রাস এবং উৎপাদের ঘনমাত্রার বৃদ্ধি ঘটে। 
- বিক্রিয়ক ও উৎপাদের ঘনমাত্রার পরিবর্তনের হারকে ঐ বিক্রিয়ার গতিবেগ বা বিক্রিয়ার হার বলে। 
• বিক্রিয়ার হার = ঘনমাত্রার পরিবর্তন / সময়ের ব্যবধান । 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০৯.
লেড (Lead) এর পারমাণবিক সংখ্যা কত?
  1. ৬০
  2. ৭২
  3. ৮০
  4. ৮২
ব্যাখ্যা
• Pb (লেড):
- লেড এর রাসায়নিক প্রতীক  Pb.
- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৮২।
- এর পারমাণবিক ভর ২০৭। 
- এটি গ্রুপ ১৪ তে অবস্থিত। 

উৎস: রসায়ন, নবম - দশম শ্রেণি।
৭১০.
একটি অণু ভাঙলে কী পাওয়া যায়?
  1. ক) প্রোটন
  2. খ) ইলেকট্রন
  3. গ) নিউট্রন
  4. ঘ) পরমাণু
ব্যাখ্যা
একটি অণু ভাঙলে পরমাণু পাওয়া যায় এবং পরমাণু ভাঙলে পাওয়া যায় ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৭১১.
ঊর্ধ্বপাতন প্রক্রিয়ায় পদার্থকে তাপ দিলে কী ঘটে? 
  1. সরাসরি তরলে রূপান্তরিত হয় 
  2. সরাসরি বাষ্পে রূপান্তরিত হয় 
  3.  প্রথমে তরলে, পরে বাষ্পে রূপান্তরিত হয় 
  4. কোনো পরিবর্তন হয় না 
ব্যাখ্যা

ঊর্ধ্বপাতন: 
- পদার্থের সাধারণ পরিবর্তনের ধারাক্রম হলো তাপের প্রভাবে কঠিন থেকে তরল, তরল থেকে বাষ্পীয় অবস্থায় রূপান্তর। 
- কিন্তু এমন কিছু পদার্থ আছে যাদেরকে তাপ দিয়ে কঠিন থেকে সরাসরি বাষ্প এবং বাষ্পকে শীতল করলে সরাসরি কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়। 
- এক্ষেত্রে কঠিন থেকে বাষ্প এবং বাষ্প থেকে কঠিন অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়ার সময় পদার্থ তার মধ্যবর্তী তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয় না, যাদের উদ্বায়ী পদার্থ বলে। 
- কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ প্রয়োগে সরাসরি বাষ্পে পরিণত করে এবং ঐ বাষ্পকে শীতল করে সরাসরি কঠিন অবস্থায় ফিরে আনার প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতনবলা হয়। 
যেমন- আয়োডিন, কর্পূর, নিশাদল, ন্যাপথোলিন প্রভৃতি উদ্বায়ী পদার্থ এবং এরা উর্ধ্বপাতিত হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১২.
মৌলগুলোর মধ্যে কোনটি সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ধাতু?
  1. লিথিয়াম (Li)
  2. সোডিয়াম (Na)
  3. ক্যালসিয়াম (Ca)
  4. ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
ব্যাখ্যা

• ধাতুর প্রতিক্রিয়াশীলতা: ধাতুর প্রতিক্রিয়াশীলতা নির্ভর করে ধাতুটি কত সহজে ইলেকট্রন হারিয়ে ধনায়ন (cation) তৈরি করতে পারে তার উপর। অর্থাৎ, যে ধাতুটি দ্রুত ইলেকট্রন হারাতে পারে, সেটিই বেশি প্রতিক্রিয়াশীল।

- লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K) ইত্যাদি ধাতু গ্রুপ-১ এ অন্তর্ভুক্ত, যাদের প্রতিক্রিয়াশীলতা অত্যন্ত বেশি।
- এদের মধ্যে প্রতিক্রিয়াশীলতা নিচের দিকে বাড়ে, অর্থাৎ Li < Na < K < Rb < Cs 

• সোডিয়াম (Na):
- এটি একটি নরম, রূপালী ধাতু যা বাতাসে বা পানির সংস্পর্শে এলে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- পানির সাথে বিক্রিয়া করলে এটি হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে এবং সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) তৈরি করে:
2Na + 2H2O → 2NaOH + H2
- এই বিক্রিয়াটি এতটাই তীব্র যে, সোডিয়ামকে সাধারণত কেরোসিন তেলে সংরক্ষণ করা হয় যেন এটি বাতাস বা আর্দ্রতার সাথে বিক্রিয়া না করে।

সুতরাং, সবচেয়ে প্রতিক্রিয়াশীল ধাতু হলো সোডিয়াম (Na)।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।

৭১৩.
যদি প্রধান শক্তিস্তর n = 3 হয়, তবে M শক্তিস্তরের সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা কত?
  1. 18
  2. 16
  3. 8
  4. 32
ব্যাখ্যা

পরমাণুর শক্তিস্তরে ইলেকট্রন বিন্যাস: 
- বোরের মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1, 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
অতএব এই সূত্রানুসারে- 
• K শক্তিস্তরের জন্য n = 1 অতএব, K শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 12) টি = 2 টি। 
• L শক্তিস্তরের জন্য n = 2 অতএব, L শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 22) টি = 8 টি। 
M শক্তিস্তরের জন্য n = 3 অতএব, M শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 32) টি = 18 টি। 
• N শক্তিস্তরের জন্য n = 4 অতএব, N শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রন থাকতে পারে = 2n2 টি = (2 × 42) টি = 32 টি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭১৪.
পদার্থের ক্ষয় ঘটায় কোনটি?
  1. সূর্যের আলো
  2. বাতাস ও পানি
  3. শীতল তাপমাত্রা
  4. নিষ্ক্রিয় পদার্থ
ব্যাখ্যা

• পদার্থের ক্ষয়: এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে পদার্থ ধীরে ধীরে তার প্রাকৃতিক অবস্থা, শক্তি বা আকৃতি হারায়, সাধারণত রাসায়নিক বিক্রিয়া বা পরিবেশগত প্রভাবে।

বাতাস ও পানি:
- বাতাসে থাকা অক্সিজেন এবং পানির আর্দ্রতা লোহা বা অন্যান্য ধাতুর সাথে বিক্রিয়া করে।
- এর ফলে ধাতু মরচে ধরে বা ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- উদাহরণ: লোহা যখন আর্দ্র পরিবেশে থাকে, তখন লোহায় লাল মরচে গঠিত হয়।

অন্যান্য উপাদান:
- সূর্যের আলো: এটি প্রধানত তাপ ও আলোর প্রভাব ফেলে, কিন্তু সরাসরি ক্ষয় ঘটায় না।
- শীতল তাপমাত্রা: পদার্থকে ঠান্ডা করে, কিন্তু ক্ষয় সৃষ্টি করে না।
- নিষ্ক্রিয় পদার্থ: রাসায়নিকভাবে প্রতিক্রিয়াশীল নয়, তাই ক্ষয় ঘটায় না।

সুতরাং, পদার্থের ক্ষয় ঘটায় মূলত বাতাস ও পানি।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন।  

৭১৫.
কোনটি চাপের একক? 
  1. ওয়াট
  2. জুল
  3. নিউটন
  4. প্যাসকেল
ব্যাখ্যা
চাপ: 
- চাপ হলো একক ক্ষেত্রফলে কোন বস্তুর তলের ওপর লম্বভাবে প্রযুক্ত সমভাবে বিতরিত বল। 
- পারিপার্শ্বিক চাপের সাপেক্ষে যে চাপ উৎপন্ন হয় তাকে বলা হয় গজ চাপ। 
- চাপের একক হলো প্যাসকেল এবং সংকেত Pa. 

অন্যদিকে, 
- কাজ/শক্তি/তাপের একক - জুল, 
- বল/ওজনের একক - নিউটন এবং 
- বৈদ্যুতিক ক্ষমতার একক - ওয়াট। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম দশম শ্রেণি।
৭১৬.
হাইড্রোজেনের প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন স্থায়ী আইসোটোপ কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

হাইড্রোজেনের প্রকৃতিতে পাওয়া যায় এমন স্থায়ী আইসোটোপ সংখ্যা ৩টি। 

স্থায়ী আইসোটোপ
- স্থায়ী আইসোটোপ তিনটি যা প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। এরা হল হাইড্রোজেন/প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম।
- যে সব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন, সে সব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোপ বলা হয়।
- আইসোটোপসমূহের মধ্যে রাসায়নিক ধর্মের কোন পার্থক্য দেখা যায় না।
- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ তিনটিতেই হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা 1।
- প্রথমটির ভর সংখ্যা 1, দ্বিতীয়টির 2 এবং তৃতীয়টির 3।
- প্রথম আইসোটোপে কোন নিউট্রন নেই, দ্বিতীয়টিতে ১টি নিউট্রন এবং তৃতীয়টিতে ২টি নিউট্রন আছে।
- প্রকৃতিতে সকল আইসোটোপের পরিমাণ সমান থাকে না। যেমন, এক লক্ষ হাইড্রোজেন পরমাণুর মধ্যে হাইড্রোজেনের পরিমাণ 99985 টি, ডিউটেরিয়াম পরমাণুর সংখ্যা 15টি এবং ট্রিটিয়ামের সংখ্যা অতি নগণ্য।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১৭.
মুদ্রা ধাতু বলতে কোন গ্রুপের মৌলগুলোকে বোঝায়?
  1. গ্রুপ-২ 
  2. গ্রুপ-১১
  3. গ্রুপ-১৭ 
  4. গ্রুপ-১৮
ব্যাখ্যা

মুদ্রা ধাতু বলতে ১১ গ্রুপের মৌলগুলোকে বোঝায়। 

মুদ্রা ধাতু (Coin Metals)
- গ্রুপ-11 এর 4টি মৌল হলো কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম।
- প্রথম দুটি মৌল কালের জন্য মুদ্রা তৈরি ও ব্যবসায় ব্যবহৃত হতো।

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals)
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, বেরিয়াম এবং রেডিয়াম মৌলগুলো রয়েছে।
- এই মৌলগুলো মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায় এবং ক্ষার তৈরি করে।

হ্যালোজেন গ্রুপ (Halogen)
- গ্রুপ-17 এর 6টি মৌল হলো ফ্লোরিন (F), ক্লোরিন (Cl), ব্রোমিন (Br), আয়োডিন (I), অ্যাস্টাটিন (As) এবং টেনেসিন (Ts)।
- এই মৌলগুলোকে X দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
- হ্যালোজেন মানে লবণ উৎপাদনকারী এবং এর মূল উৎস সামুদ্রিক লবণ।
- হ্যালোজেন মৌলগুলোর সাথে ধাতু যুক্ত হয়ে লবণ গঠন করে, যেমন F + Na → NaF এবং Cl + Na → NaCl।
- হ্যালোজেন মৌল নিজেই ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে দ্বিমৌল অণু গঠন করে, যেমন Cl₂, I₂ ইত্যাদি।

নিষ্ক্রিয় গ্যাস (Inert Gases)
- পর্যায় সারণির 18 নং গ্রুপের মৌল হলো হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) এবং ওগানেসন (Og)।
- এই মৌলগুলোর সবচেয়ে বাইরের শক্তিস্তরে ইলেকট্রন পূর্ণ থাকে, তাই এরা যৌগ গঠন করতে চায় না।
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নিষ্ক্রিয় থাকে।
- সাধারণ তাপমাত্রায় এরা গ্যাস আকারে থাকে।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৭১৮.
স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আয়তন বিকৃতি ও আয়তন পীড়নের অনুপাতকে কী বলে?
  1. সংনম্যতা
  2. ইয়ং গুণাঙ্ক
  3. দৃড়তার গুণাঙ্ক
  4. পয়সনের অনুপাত
ব্যাখ্যা
আয়তন গুণাঙ্ক: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে বস্তুর আয়তন পীড়ন ও আয়তন বিকৃতির অনুপাত একটি ধ্রুব সংখ্যা। এ ধ্রুব সংখ্যাকে বস্তুর উপাদানের আয়তন গুণাঙ্ক বলে। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে B দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, আয়তন গুণাঙ্ক, B = আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি। 
- কঠিন, তরল ও গ্যাস সবারই আয়তন থাকায় আয়তন গুণাঙ্ক পদার্থের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য। 

সংনম্যতা: 
- স্থিতিস্থাপক সীমার মধ্যে আয়তন বিকৃতি ও আয়তন পীড়নের অনুপাততে সংনম্যতা বলে। 
∴ সংনম্যতা =  আয়তন বিকৃতি/আয়তন পীড়ন = 1/(আয়তন পীড়ন/আয়তন বিকৃতি) = 1/আয়তন গুণাঙ্ক = 1/B. 
অর্থাৎ, সংনম্যতা হচ্ছে আয়তন গুণাঙ্কের বিপরীত রাশি। 
- আয়তন গুণাঙ্ককে তাই কখনো কখনো অসংনম্যতা বলা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. শাহজাহান তপন)।
৭১৯.
সোডিয়াম ক্লোরাইড এর গলনাঙ্ক কত?
  1. ক) 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  2. খ) 802 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  3. গ) 800 ডিগ্রী সেলসিয়াস
  4. ঘ) 803 ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সেই তাপমাত্রা কে গলনাংক বলে। 801 ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সোডিয়াম ক্লোরাইড গলতে শুরু করে।
৭২০.
কোন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন থাকে না?
  1. লিথিয়াম 
  2. হাইড্রোজেন
  3. হিলিয়াম 
  4. কার্বন
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়।  
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- বিজ্ঞানী চ্যাডউইক ১৯৩২ সালে নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
-  নিউট্রনের ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- নিউট্রনের আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২১.
রাদারফোর্ড মডেল অনুযায়ী নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কোন বল ভারসাম্য রাখে? 
  1. বিকর্ষণ বল 
  2. গ্রাভিটেশনাল বল 
  3. চুম্বকীয় বল 
  4. কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ বল 
ব্যাখ্যা

পরমাণু মডেল (Atom Model): 
- ১৮৯৭-১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিজ্ঞানী পরমাণুর উপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রাপ্ত তথ্য থেকে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে যে মতবাদ উপস্থাপন করেন, তা পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। 
যেমন- থমসন পরমাণু মডেল, রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল, বোর পরমাণু মডেল ইত্যাদি। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল: 
- পরমাণুতে মৌলিক কণিকাগুলো কিভাবে সজ্জিত আছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড একটি মডেল প্রস্তাব করেন যা রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল নামে পরিচিত। তিনি পরমাণুর গঠনকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন, তাই তাঁর প্রস্তাবিত মডেলকে পরমাণুর সৌর মডেলও বলা হয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলর প্রস্তাবগুলো হলো- 
• পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অত্যন্ত ক্ষুদ্র ও ভারী ধনাত্মক আধানবিশিষ্ট কেন্দ্র থাকে, যাকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। এটি পরমাণুর প্রায় সব ভর বহন করে। 
• নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান থাকে। 
• মডেলটিকে পরমাণুর সৌর মডেল বলা হয়, কারণ এটি সৌরমণ্ডলের মতো সাজানো। 
• নিউক্লিয়াস ও ইলেকট্রনের মধ্যে কেন্দ্রমুখী বৈদ্যুতিক আকর্ষণ ইলেকট্রনের কেন্দ্রমুখী বলের সাথে ভারসাম্য রাখে। 

রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা: 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেল পরমাণুতে নিউক্লিয়াস এবং নিউক্লিয়াসের চারিদিকে পরিভ্রমণরত ইলেকট্রনের অস্তিত্ব সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা প্রদান করলেও এর সীমাবদ্ধতার কারণে এটি গ্রহণযোগ্য নয়। 
- রাদারফোর্ডের পরমাণু মডেলের সীমাবদ্ধতা বা ত্রুটিসমূহ নিম্নরূপ- 
• ইলেকট্রন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হওয়ায় একে অপরকে বিকর্ষণ করে, যা মডেল ব্যাখ্যা করতে পারে না। 
• ম্যাক্সওয়েলের তত্ত্ব অনুযায়ী, ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রন শক্তি বিকিরণ করলে শেষ পর্যন্ত নিউক্লিয়াসে পতিত হওয়া উচিত কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। 
• ইলেকট্রনের কক্ষপথের আকার ও আকৃতি নির্ধারণ করা যায় না। 
• একাধিক ইলেকট্রন বিশিষ্ট পরমাণুতে ইলেকট্রনের অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কে কোনো নির্দেশনা নেই। 
• পরমাণুর বর্ণালী (spectrum) ব্যাখ্যা করা যায় না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২২.
'নিঃসরণ'-এর জন্য কোন শর্ত প্রয়োজন?
  1. আলো 
  2. স্বতঃস্ফূর্ত ছড়িয়ে পড়া
  3. উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চল 
  4. কোনো নির্দিষ্ট ছিদ্রপথ এবং চাপের প্রভাব
ব্যাখ্যা

ব্যাপন (Diffusion): 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
• কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
• রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
• ছাতিম গাছের ফুলের গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে যার ফলে মন উদাস হয়ে যায়। 
• ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

নিঃসরণ (Effusion): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন- 
• রিক্সার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় টিউব থেকে বাতাস বেরিয়ে পড়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 
• পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে বাস বা ট্রাক চলছে, হঠাৎ করে চাকা ফেটে গিয়ে ভিতরের বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই নিঃসরণ। 
• শহর এলাকায় যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয় শ্বে পাইপের কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৩.
রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের একক কোনটি? 
  1. লিটার
  2. মোল
  3. গ্রাম
  4. কিলোগ্রাম
ব্যাখ্যা
মোল: 
- রাসায়নিক পদার্থ পরিমাপের এসআই একক হচ্ছে মোল। 
- কোনো উপাদানের যে পরিমাণের মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক অণু, পরমাণু বা আয়ন থাকে, সেই পরিমাণকে পদার্থের মোল বলে। 
- পদার্থের পারমাণবিক ভর অথবা আণবিক ভরকে গ্রাম এককে প্রকাশ করলে যে সংখ্যা মান পাওয়া যায় তার মধ্যে অ্যাভোগেড্রো সংখ্যক পরমাণু বা অণু বর্তমান থাকে। 
- অ্যাভোগেড্রোর এ সংখ্যার মান 6.023×1023 । 
- কোনো পদার্থের ১ মোল বলতে সেই পরিমাণ পদার্থকে বুঝায় যার মধ্যে ঐ পদার্থের উপাদান কণিকার সংখ্যা 6.023×1023 । 
- কোনো মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ১ মোল অণু বলতে 6.023×1023 টি অণুকে বুঝায়। 
- আবার একইভাবে কোনো মৌলিক পদার্থের ১ মোল পরমাণু বলতে 6.023×1023 টি পরমাণু বুঝায়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৪.
কোনটি অস্থায়ী মূল কণিকা?
  1. পজিট্রন
  2. নিউট্রিনো
  3. ম্যাসন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অস্থায়ী মূল কণিকা: কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে।
এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা।

সূত্রঃ রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৫.
টিউমার নির্ণয় ও চিকিৎসায় কোন তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়?
  1. 192Ir
  2. 131Zn
  3. 60Co
  4. 32P
ব্যাখ্যা

টিউমার নির্ণয় ও চিকিৎসায় 60Co তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহৃত হয়। 

রোগ নিরাময়ে
- সর্বপ্রথম থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ ব্যবহার করা হয়।
- রোগীকে পরিমাণমতো তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 131I সমৃদ্ধ দ্রবণ পান করানো হয়।
- এই আইসোটোপ থাইরয়েডে পৌঁছে বিটা রশ্মি নির্গত করে, যা থাইরয়েডের ক্যানসার কোষকে ধ্বংস করে।
- এছাড়া ইরিডিয়াম আইসোটোপ ব্রেইন ক্যানসার নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়।
- টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় ও নিরাময়ে তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ 60Co ব্যবহার করা হয়।
- 60Co থেকে নির্গত গামা রশ্মি ক্যানসারের কোষকলাকে ধ্বংস করে।
- রক্তের লিউকোমিয়া রোগের চিকিৎসায় 32P এর ফসফেট ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৭২৬.
SATP তে তাপমাত্রা কত ধরা হয়? 
  1. 0°C
  2. 4°C
  3. 25°C
  4. 100°C
ব্যাখ্যা
SATP: 
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3। 

STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৭.
বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি-
  1. যুক্ত অবস্থার চাইতে কম
  2. যুক্ত অবস্থার চাইতে অধিক
  3. যুক্ত অবস্থার সমান
  4. কোনোটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
- পরমাণুর কেন্দ্র হচ্ছে শক্তির ভাণ্ডার। 
- যুক্ত অবস্থা বা ঐক্যবদ্ধ অবস্থা হলো একটি স্থিতিশীল অবস্থা যেখানে পরমাণুর নিউক্লিয়াস এবং ইলেকট্রনগুলো শক্তভাবে আবদ্ধ থাকে। 
- অন্যদিকে, বিচ্ছিন্ন অবস্থা বা অযৌগিক অবস্থায় পরমাণু বা পরমাণুর কণিকাগুলো পরস্পর থেকে আলাদা থাকে। 
- বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পরমাণুর কণিকাগুলোর (নিউক্লিয়াসের প্রোটন ও নিউট্রন এবং ইলেকট্রনগুলোর) মধ্যে কোন আকর্ষণ শক্তি কাজ করে না। ফলে এই অবস্থায় পরমাণুর শক্তি বা শক্তির পরিমাণ বেশি হয়। কারণ, যুক্ত অবস্থায় আকর্ষণ শক্তিগুলো পরমাণুকে একত্রিত ও স্থিতিশীল রাখে, যা শক্তির একটি অংশ গ্রাস করে ফেলে। 
সুতরাং, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একটি পরমাণুর শক্তি যুক্ত অবস্থার চাইতে বেশি থাকে। 

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৭২৮.
d-ব্লক সর্বমোট মৌলের সংখ্যা কয়টি? 
  1. ৮টি
  2. ১৮টি
  3. ৩২টি
  4. ৪০টি
ব্যাখ্যা
d-ব্লক মৌল: 
- যেসব মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসে সর্বশেষ ইলেকট্রনটি d অরবিটালে প্রবেশ করে তাদের d-ব্লক মৌল বলে। 
- পর্যায় সারণির চতুর্থ পর্যায়ের স্ক্যানডিয়াম (Sc, 21) থেকে জিঙ্ক (Zn, 30) এবং পঞ্চম পর্যায়ের ইট্রিয়াম (Y, 39) থেকে ক্যাডমিয়াম (Cd, 48) হলো d-ব্লক মৌল। 
- এছাড়া ষষ্ঠ পর্যায় ও সপ্তম পর্যায়েও d-ব্লক মৌল আছে। 
- পর্যায় সারণির 3 থেকে গ্রুপ 12 এর মৌলসমূহ এ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। 
- এ শ্রেণিতে সর্বমোট 40টি মৌল আছে। 
- এ ব্লকের মৌলের পরমাণুর d1 থেকে d10 পর্যন্ত ইলেকট্রন থাকতে পারে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭২৯.
কোন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ ঘটে না?
  1. দহন বিক্রিয়া
  2. সংযোজন বিক্রিয়া
  3. প্রশমন বিক্রিয়া
  4. বিয়োজন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• প্রশমন বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ ঘটে না। 

• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া:
- রেডক্স অর্থ জারণ-বিজারণ। যে বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে তাকে রেডক্স বিক্রিয়া বলে।   

- Reduction (বিজারণ) শব্দের প্রথমাংশ Red এবং Oxidation (জারণ) শব্দের প্রথমাংশ Ox এর সমন্বয়ে গঠিত শব্দ হলো Redox. 

• রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া:  
- জারণ এবং বিজারণ উভয় প্রক্রিয়া একই সাথে ঘটে।
- একটি পদার্থ ইলেকট্রন ত্যাগ করার সাথে সাথেই অন্য একটি পদার্থ সেই ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এই কারণে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়াগুলিকে একত্রে রেডক্স বিক্রিয়া বলা হয়।
- জারণ-বিজারণ একটি যুগপৎ বিক্রিয়া। 

• কিছু বিক্রিয়াতে জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে থাকে।
→ উদাহরণ-
- সংযোজন বিক্রিয়া, 
- বিয়োজন বিক্রিয়া, 
- প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া,
- দহন বিক্রিয়া। 

• নন-রেডক্স বিক্রিয়া:
- এ ধরণের বিক্রিয়ায় জারণ-বিজারণ তথা ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে না।

→ উদাহরণ-
- প্রশমন বিক্রিয়া,
- অধ:ক্ষেপণ বিক্রিয়া ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৭৩০.
ফিউশন প্রক্রিয়ায় -
  1. একটি পরমাণু ভেঙ্গে প্রচণ্ড শক্তি সৃষ্টি করে
  2. একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে
  3. ভারী পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু গঠিত হয়
  4. একটি পরমাণু ভেঙ্গে দুটি পরমাণু সৃষ্টি হয়
ব্যাখ্যা
- ফিউশন প্রক্রিয়ায় একাধিক পরমাণু যুক্ত হয়ে নতুন পরমাণু গঠন করে এবং প্রচন্ড তাপশক্তি উৎপন্ন করে। 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াস হতে দুটি প্রক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করা যায়। যথা-
১. নিউক্লিয়ার ফিশন বা নিউক্লীয় বিভাজন:
- যে প্রক্রিয়ায় ভারী পরমাণুর নিউক্লিয়াস শক্তিশালী কণিকার আঘাতের ফলে প্রায় সমান দুটি খন্ডে বিভক্ত হয় এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বলে।

২. নিউক্লিয়ার ফিউশন বা নিউক্লীয় সংযোজন:
- যে প্রক্রিয়ায় একাধিক হালকা নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে একটি ভারী নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় এবং তাতে প্রচুর শক্তি নির্গত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিউশন বলে।
- জার্মান বিজ্ঞানী বেথের মতে সূর্য রশ্মি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অত্যাধুনিক উচ্চ তাপমাত্রায় সব সময় হাইড্রোজেন পরমাণু হিলিয়াম পরমাণুতে পরিবর্তিত হচ্ছে এবং শক্তি নির্গত হচ্ছে। প্রকৃতি এ শক্তি ব্যবহার করছে।
- সূর্যে এ বিক্রিয়া স্বচ্ছন্দে ঘটে।

উৎস:
১. উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি]
২. রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩১.
নিচের কোনটি তরলের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. নির্দিষ্ট আয়তন আছে
  2. নির্দিষ্ট আকার নেই
  3. প্রবাহিত হতে পারে
  4. নির্দিষ্ট আকার রয়েছে
ব্যাখ্যা
• তরল পদার্থ:
- পদার্থের ৩ টি প্রধান অবস্থার মধ্যে একটি হলো তরল।

• তরলের বৈশিষ্ট্য:
- তরলের আয়তন নির্দিষ্ট (চাপ ও তাপমাত্রা স্থির থাকলে)।
- তরলের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই; এটি যে পাত্রে রাখা হয়, সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল প্রবাহিত হতে পারে (যেমন: পানি, তেল)। 
- তরলের অণুগুলোর মধ্যবর্তী আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম কিন্তু গ্যাসের চেয়ে বেশি শক্তিশালী । 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৭৩২.
কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ কেমন থাকে? 
  1. তীব্র
  2. দুর্বল
  3. মাঝারি
  4. আকর্ষণ নেই
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এ সকলই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৩.
নিচের কোন পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই কিন্তু নির্দিষ্ট আয়তন আছে?
  1. ইট
  2. অক্সিজেন
  3. অ্যামোনিয়া
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে। 
- কঠিন পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ বল খুবই তীব্র। 
যেমন- ইট, কাঠ, লোহা, সোনা, রূপা, কয়লা, চাল, গম ইত্যাদি। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার নেই, তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে। 
- একে যখন যে পাত্রে রাখা যায় সে পাত্রের আয়তন ধারণ করে। 
- পানিকে কলসীতে রাখলে কলসীর আকার, বোতলে রাখলে বোতলের আকার, গ্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে। 
যেমন- দুধ, পানি, অ্যালকোহল, কেরোসিন তেল, নারিকেল তেল, সয়াবিন তেল এসবই তরল পদার্থ। 

গ্যাসীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, তবে এর নির্দিষ্ট ওজন আছে। 
- এ ধরনের পদার্থকে যে পাত্রেই রাখা হোক না কেন সে পাত্রকে পূর্ণ করে রাখে। 
- যে পাত্রে গ্যাসীয় উপাদানকে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই তার আয়তন, সে পাত্রের আকারই তার আকার। 
যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড, অ্যামোনিয়া -এরা সকলেই গ্যাসীয় পদার্থ। 
- গ্যাসীয় পদার্থের অণুগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আকর্ষণ নেই বললেই চলে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৪.
সর্বপ্রথম কে পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা সম্পর্কে মতবাদ প্রদান করেন? 
  1. ডেমোক্রিটাস
  2. অ্যারিস্টটল
  3. রাদারফোর্ড
  4. জন ডাল্টন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর ধারণা ও উৎপত্তি: 
- পদার্থ ক্ষুদ্র কণা দ্বারা গঠিত, যা অণু ও পরমাণু হতে পারে। 
- গ্রীক দার্শনিক ডেমোক্রিটাস (খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ অব্দ) সর্বপ্রথম পরমাণুর ধারণা দেন। 
- তিনি বলেন, পরমাণু অবিভাজ্য এবং এটি পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা। 
- "Atom" শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ "Atomos", যার অর্থ অবিভাজ্য। 
- প্লেটো ও অ্যারিস্টটল তার মতের বিরোধিতা করেন এবং পদার্থকে নিরবিচ্ছিন্ন (Continuous) বলে মনে করেন। 

ডাল্টনের পরমাণু তত্ত্ব: 
- ১৮০৩ সালে জন ডাল্টন পরীক্ষালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে পরমাণু তত্ত্ব দেন। 
- তিনি বলেন, পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, যা অবিভাজ্য। 
- ডাল্টনের মতবাদ গ্রহণযোগ্যতা পেলেও, পরবর্তী গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে পরমাণু আসলে বিভাজ্য। 

আধুনিক পরমাণু গঠন: 
- পরমাণু ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। 
- রাদারফোর্ডের গবেষণায় প্রমাণিত হয় যে,পরমাণুর ধনাত্মক আধান ও ভর নিউক্লিয়াসে থাকে। 
- নিউক্লিয়াস খুব ছোট এবং পরমাণুর বেশিরভাগ অংশ ফাঁকা। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের চারপাশে ঘুরছে, তবে নির্দিষ্ট কক্ষপথের উল্লেখ নেই। 

বোরের পরমাণু মডেল: 
- বোরের মডেল অনুযায়ী:ইলেকট্রন নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘোরে। 
- পরমাণুর ভরের প্রায় পুরোটাই নিউক্লিয়াসে থাকে। 
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে, যা পরমাণুর ভর বহন করে। 
- ইলেকট্রন ও নিউক্লিয়াসের মধ্যবর্তী স্থান প্রায় ফাঁকা। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭৩৫.
একটি ইলেকট্রনের চার্জের পরিমাণ হলো-
  1. 1.60×10-19C
  2. 1.73×10-19C
  3. 9.11×10-28C
  4. 6.02×10-23C
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রন (Electron):
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন।
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হল ইলেকট্রন।
- এর ভর অতি সামান্য।
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা।
- ইলেকট্রন একক ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা।
- ইলেকট্রনের সংকেত e-.
- ইলেকট্রনের আসল ভর- 9.11×10-28 g ।
- ইলেকট্রনের প্রকৃত আধান 1.60×10-19 Coulomb।
- আপেক্ষিক আধান -1.

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৬.
গরম চায়ের কাপে নিচের কোন প্রক্রিয়াটি ঘটে? 
  1. পাতন
  2. ঘনীভবন
  3. বাষ্পীভবন
  4. ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা
বাষ্পীভবন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদান করে ঐ তরল পদার্থকে বাষ্পে পরিণত করার প্রক্রিয়াকে বাষ্পীভবন বলে। 
যেমন: চায়ের কাপে গরম চা রাখলে ঐ গরম চা থেকে পানি বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ায় বাষ্পাকারে উড়ে যায়। 

ঘনীভবন: 
- আবার উক্ত বাষ্পকে শীতল করলে তা তরলে পরিণত হয় যাকে ঘনীভবন বলে। 
যেমন: জলীয় বাষ্প তাপশক্তি নির্গত করে ঠান্ডা হয়ে পানিতে পরিণত হয়। 

পাতন: 
- কোনো তরলকে তাপ প্রদানে বাষ্পে পরিণত করে তাকে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিণত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। 
অর্থাৎ, পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন। 

ঊর্ধ্বপাতন: 
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। 
যেমন: নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) এই পদার্থগুলোকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, এই পদার্থগুলোকে ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৩৭.
কোন দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়? 
  1. সম্পৃক্ত দ্রবণে
  2. অসম্পৃক্ত দ্রবণে
  3. অতিপৃক্ত দ্রবণে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
দ্রবণ (Solution): 
- কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় যেকোনো ভৌত অবস্থায় একাধিক উপাদানের সম্পূর্ণ সমসত্ত্ব মিশ্রণ, যাতে উপাদানগুলোর পরিমাণের অনুপাত একটি সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে তাকে দ্রবণ বলা হয়। 
- দ্রবণের প্রতিটি অংশের গঠন, ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম অভিন্ন হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদান কম পরিমাণে থাকে অর্থাৎ যা দ্রবীভূত হয়, তাকে দ্রব বলা হয়। 
- দ্রবণের মধ্যে যে উপাদানের পরিমাণ বেশি এবং যার মধ্যে দ্রব যোগ করা হয় তাকে দ্রাবক বলা হয়। 

দ্রবণের শ্রেণিবিভাগ: 
- ঘনমাত্রা অনুযায়ী দ্রবণকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। 
যেমন- 
i. সম্পৃক্ত দ্রবণ (Saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক দ্রব দ্রবীভূত হয়ে যে দ্রবণ উৎপন্ন করে তাকে ঐ নির্দিষ্ট তাপমাত্রার সম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- এ অবস্থায় দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলেও দ্রবণের ঘনমাত্রার কোনো পরিবর্তন ঘটে না। 

ii. অসম্পৃক্ত দ্রবণ (Unsaturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত হতে পারে তার চেয়ে কম পরিমাণ দ্রব দ্রবণে উপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অসম্পৃক্ত দ্রবণে অতিরিক্ত দ্রব যোগ করলে দ্রবণের ঘনমাত্রা বেড়ে যায়। 

iii. অতিপৃক্ত দ্রবণ (Super-saturated Solution): 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রাবকে সর্বাধিক যে পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকতে পারে যদি কোনো বিশেষ কারণে দ্রবণে আরও অতিরিক্ত দ্রব দ্রবীভূত থাকে তবে ঐ দ্রবণকে অতিপৃক্ত দ্রবণ বলা হয়। 
- অতিপৃক্ত দ্রবণ অস্থায়ী প্রকৃতির হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৮.
নিষ্ক্রিয় গ্যাস কয়টি?
  1. ১০
ব্যাখ্যা
• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপটন (Kr), জেনন (Xe),রেডন (Rn) ও  ওগানেসন (Og) এ সাতটি মৌল পর্যায় সারণিতে 18তম গ্রুপের মৌল।
- সাধারণত এরা যৌগ গঠন করে না বলে এরা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা নোবেল গ্যাস হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। 
- এ মৌলগুলো প্রকৃতিতে খুবই কম পরিমাণে পাওয়া যায়।
- মৌলগুলোর নিষ্ক্রিয়তার কারণ পরে আবিষ্কৃত হয়।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস আবিষ্কারের জন্য লর্ড রেলি (Lord Rayleigh) ও স্যার উইলিয়াম রামসে (Sir William Ramsay) কে ১৯০৪ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩৯.
মুক্তার প্রধান রাসায়নিক উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড
  2. ম্যাগনেসিয়াম কার্বনেট
  3. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
  4. সোডিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
- ঝিনুকের খোলসের ভিতরে কোনো শক্ত বস্তু প্রবেশ করলে ঐ স্থানে প্রদাহের সৃষ্টি হয় এবং
- ঐ বস্তুকে জড়িয়ে ঝিনুকের শরীর থেকে এক ধরনের পদার্থ নির্গত হয়।
- যা পরে মুক্তায় রূপ নেয়।
- তাই বলা যায় মুক্তা হলো ঝিনুকের প্রদাহের ফল।
- ক্যালসিয়াম কার্বনেট হল একটি রাসায়নিক যৌগ যার সংকেত হচ্ছে CaC03
- এটা প্রধানত তিনটি উপাদান কার্বন, অক্সিজেন এবং ক্যালসিয়াম দ্বারা গঠিত।
- পাথর বা শিলার মধ্যে এটা একটা সাধারণ উপাদান এবং মুক্তা, সামুদ্রিক প্রাণীর খােলস,শামুক,ডিমের খােসা ইত্যাদির প্রধান উপাদান।

উৎসঃ
১. প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২. বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৭৪০.
পানি বরফে পরিণত হলে-
  1. ঘনত্ব বেড়ে যাবে
  2. ঘনত্ব কমে যাবে
  3. আয়তন কমে যাবে
  4. ভর কমে যাবে
ব্যাখ্যা
• বরফ:
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়।
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।
- কারণ, বরফে পানির অণুগুলো একটি ক্রিস্টাল গঠন তৈরি করে, যেখানে তারা একে অপরের থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করে ফলে ঘনত্ব কমে যায়।

- বরফ পানিতে পরিণত হলে আয়তন কমে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭৪১.
পরমাণুর কেন্দ্রে কোনটি অবস্থান করে?
  1. ইলেকট্রন
  2. শুধুমাত্র প্রোটন
  3. প্রোটন এবং নিউট্রন
  4. ইলেকট্রন এবং প্রোটন
ব্যাখ্যা

- পরমাণুর কেন্দ্রকে বলা হয় নিউক্লিয়াস, এই নিউক্লিয়াস পরমাণুর একটি ক্ষুদ্র ও ঘনত্বপূর্ণ অঞ্চল যেখানে ধনাত্মক আধানযুক্ত প্রোটন এবং আধানহীন (নিরপেক্ষ) নিউট্রন অবস্থান করে। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর এই নিউক্লিয়াসেই পুঞ্জীভূত থাকে। 

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 
- স্বাভাবিক অবস্থায় পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা সমান থাকে। 
- কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা কখনো সমান আবার কখনো বেশি থাকতে পারে। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪২.
কোন তাপমাত্রায় বরফ গলে পানি হয়?
  1. ০° সেলসিয়াস
  2. ১০° সেলসিয়াস
  3. ৪° সেলসিয়াস
  4. ১০০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- বিশুদ্ধ বরফ স্বাভাবিক চাপে ০° সেলসিয়াস (0°C) তাপমাত্রায় গলতে শুরু করে এবং পানিতে পরিণত হয়, এই তাপমাত্রাকে পানির গলনাঙ্ক বলা হয়। একইভাবে, পানি যখন শীতল হয়ে ০° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পৌঁছায়, তখন তা জমে বরফে পরিণত হতে শুরু করে। 

পানি: 
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.সি. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 

গলনাঙ্ক: 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাঙ্ক। 
- বরফের গলনাঙ্ক ০° সেলসিয়াস। 

স্ফুটনাংক: 
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। 
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৪৩.
অভিস্রবণ প্রক্রিয়ার ফলে কী ঘটে? 
  1. কোষের পানি কমে না 
  2. দ্রাবক স্থির থাকে 
  3. দুই দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়া চলে 
  4.  দ্রাবকের ঘনত্ব বাড়ে না 
ব্যাখ্যা

অভিস্রবণ: 
- যে প্রক্রিয়ায় একটি বৈষম্যভেদ্য ঝিল্লিয মধ্য দিয়ে হালকা ঘনত্বের দ্রবণ হতে পানি (দ্রাবক) অধিক ঘন দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে অভিস্রবণ বলে। 
- দুটি দ্রবণের ঘনত্ব সমান না হওয়া পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। 
- পানিতে কিসমিস ডুবিয়ে রাখলে অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় কিছুক্ষণের মধ্যেই কিসমিস ফুলে ওঠে। 
- অভিস্রবণ দুই ধরনের। 
যথা- 
(১) অন্তঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের বাইরে থেকে ভেতরে প্রবেশ করে তখন অন্তঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- অন্তঃঅভিস্রবণের ফলে মাটি থেকে পানি মূলরোমে প্রবেশ করে; উদ্ভিদ মাটি থেকে পানি শোষণ করতে পারে। 
উদাহরণ- কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ধীরে ধীরে ফুলে উঠে। 

(২) বহিঃঅভিস্রবণ: 
- দ্রাবক যখন কোষের ভেতর থেকে বাইরে আসে তখন বহিঃঅভিস্রবণ ঘটে। 
- টসটসে আঙ্গুর ঘন চিনির কিংবা লবণের দ্রবণে ডুবিয়ে রাখলে কিছুটা চুপসে যায়। কারণ বহিঃঅভিস্রবণের ফলে আঙ্গুরের ভেতরের পানি বাইরের ঘন দ্রবণে চলে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৪.
নিচের কোনটি আয়নিক বন্ধনের বৈশিষ্ট্য?
  1. ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়
  2. ধাতু ও অধাতু মধ্যে ইলেকট্রন হস্তান্তর হয়
  3. শুধুই ধাতু দ্বারা গঠিত যৌগ হয়
  4. বন্ধন গঠন ব্যবহৃত হয় শুধু শক্তিশালী ধাতুতে
ব্যাখ্যা

- আয়নিক বন্ধন হলো ধাতু ও অধাতুর মধ্যে তৈরি একটি রাসায়নিক বন্ধন।
- এই ধরনের রাসায়নিক বন্ধনে একটি ধাতু ইলেকট্রন হারায় এবং একটি অধাতু ইলেকট্রন গ্রহণ করে।
- এর ফলে ধাতু ধনাত্মক আয়ন এবং অ-ধাতু ঋণাত্মক আয়ন তৈরি করে।
- এই বিপরীত আয়নের মধ্যে ইলেকট্রস্ট্যাটিক আকর্ষণ দ্বারা যৌগ স্থিতিশীল হয়।
 
এছাড়াও অন্যান্য রাসায়নিক বন্ধন ও তাদের বৈশিষ্ট:
- সমযোজী: ইলেকট্রন ভাগাভাগি করা হয়।
- ধাতব: ধাতুগুলোর মধ্যে তৈরি হয়।
- হাইড্রোজেন: হাইড্রোজেন পরমাণুর বন্ধন। 
 
তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, Britannica 

৭৪৫.
জারণ-বিজারণ একটি -
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. যুগপৎ বিক্রিয়া
  3. নিরপেক্ষকরণ বিক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• জারণ বিক্রিয়া একটি যুগপৎ বিক্রিয়া।
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
-  জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।

• জারণ অর্ধবিক্রিয়া Na0 → Na+ + e (ইলেকট্রন দান বা জারণ)
• বিজারণ অর্ধবিক্রিয়াCl0 + e → Cl- (ইলেকট্রন গ্রহণ বা বিজারণ)

এই দুই অর্ধবিক্রিয়াকে যোগ করলে জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া পাওয়া যায়।
• জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া: Na0 + Cl0 → Na+ + Cl- → NaCl

এভাবে মনে রাখতে হবে,
- জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
- জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
- বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস- নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই

৭৪৬.
কোন অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল সবচেয়ে বেশি? 
  1. কঠিন
  2. তরল
  3. গ্যাসীয়
  4. প্লাজমা
ব্যাখ্যা
পদার্থের অবস্থা (States of Matter): 
- যার ভর আছে, স্থান দখল করে, স্থিতিশীল ও গতিশীল অবস্থার পরিবর্তনে বাঁধা সৃষ্টি করে, তাকে পদার্থ বলা হয়।
- সাধারণভাবে ইন্দ্রিয় গ্রাহ্য অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। কঠিন অবস্থা (Solid state): 
- পদার্থের এ অবস্থায় নির্দিষ্ট ভরের পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতির, নির্দিষ্ট আয়তন ও আকৃতি থাকে। এ অবস্থায় পদার্থের নির্দিষ্ট ত্রিমাত্রিক গঠন বিন্যাসে থাকে। 
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই প্রবল থাকে এবং উপাদান কণার গতিশক্তি খুবই নগণ্য। গতিশক্তি কম হওয়ায় সুনির্দিষ্ট নিয়মে সজ্জিত থাকে। এ কারণে নির্দিষ্ট আকৃতির ও উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট হয়। 
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি গতিশক্তির তুলনায় অনেক বেশি থাকে। 

২। তরল অবস্থা (Liquid state): 
- এ অবস্থায় পদার্থের ভর ও আয়তন নির্দিষ্ট থাকে কিন্তু আকার নির্দিষ্ট থাকে না। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় ভর ও আয়তনের কোনো পরিবর্তন না ঘটিয়ে সে পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- এ অবস্থায় অণুগুলোর মধ্যকার আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কঠিন অবস্থার তুলনায় কম বলে অণুগুলো দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ থাকে না। অণুগুলোর গতিশক্তি কঠিন অবস্থার তুলনায় যথেষ্ট বেশি বলে অতি সহজে চলাচল করতে পারে। এ কারণে তরল অবস্থায় পদার্থের প্রবাহ গুণ থাকে এবং আকৃতি সহজে পরিবর্তনশীল হয়। 
- এ অবস্থায় পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল ও গতিশক্তি প্রায় সমান হয়। 

৩। গ্যাসীয় অবস্থা (Gasious state): 
- এ অবস্থায় পদার্থ ওর ভর নির্দিষ্ট রাখে কিন্তু কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট আকার বা আকৃতি বজায় রাখতে পারে না। এ অবস্থায় যতো কম পরিমাণের পদার্থ হোক না কেন তা পাত্রকে পূর্ণ করে অবস্থান করবে। এর মূল কারণ এ অবস্থায় উপাদান অণুগুলোর মধ্যে আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কার্যকর হয় না বললেই চলে। 
- অণুগুলোর গতিশক্তিও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় এবং বিক্ষিপ্তভাবে স্বাধীন স্বত্ত্বায় এদিক ওদিক চলাচল করতে থাকে। 
- গ্যাসীয় অবস্থায় একদিকে ঘনত্ব যেমন মারাত্মকভাবে কমে যায় অন্যদিকে সংকোচনশীলতা মারাত্মক ভাবে বেড়ে যায়। এজন্য আকার ও আয়তন স্থির থাকে না। 
- এ অবস্থায় উপাদান কণাগুলোর গতিশক্তি আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের তুলনায় অনেক বেশি হয়। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৭.
প্রশমন বিক্রিয়ার ফলে কোন পদার্থ উৎপন্ন হয়?
  1. লবণ ও পানি
  2. পানি ও অক্সিজেন
  3. গ্যাস ও লবণ
  4. পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
প্রশমন বিক্রিয়া (Nutralisation Reaction): 
- এসিড দ্রবণ ও ক্ষার দ্রবণ যোগ করলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। 
- বিক্রিয়ার সময় এসিড তার এসিড ধর্ম এবং ক্ষার তার ক্ষার ধর্মকে হারিয়ে ফেলে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- এসিড জলীয় দ্রবনে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করে থাকে। 
- এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও ক্ষারের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি উৎপন্ন করে। 
• H+(aq) + OH-(aq) → H2O (l) 
- এসিড, হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) ও ক্ষার, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) কে কোনো কাঁচের জারের মধ্যে এক সাথে মিশালে সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) লবণ ও পানি (H2O) উৎপন্ন হয়। 
• HCl (aq) + NaOH (aq)→ H+(aq) + Cl- (aq) + Na+ (aq) + OH- (aq)→ NaCl(aq) + H2O (l) 
- এক্ষেত্রে, হাইড্রোক্লোরিক এসিডের হাইড্রোজেন আয়ন (H+) ও সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) যুক্ত হয়ে পানি (H2O) উৎপন্ন করে। এটিই মূলত প্রশমন বিক্রিয়া। 

- এসিড মাত্রই জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) তথা হাইড্রোনিয়াম আয়ন (H3O+) দান করবে, এটি এসিডের প্রধান বৈশিষ্ট্য। 
- ক্ষার জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন (OH-) দান করবে। 
- এসিড দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা কম হয় এবং ক্ষার দ্রবণের pH মান 7 অপেক্ষা বেশি হয়। 
- এসিড দ্রবণের হাইড্রোজেন আয়নের গাঢ়ত্ব যত বেশি, এসিড তত তীব্র হয় এবং দ্রবনের pH মান তত কম হয়। 
- ক্ষার দ্রবণের হাইড্রোক্সিল আয়নের গাঢ়ত্ব যত বেশি, ক্ষার তত তীব্র হয় এবং দ্রবণের pH মান তত বেশি হয়। 
- জলীয় দ্রবণে এসিড-ক্ষার প্রশমন বিক্রিয়ার সময় যখন দ্রবণ পূর্ণ প্রশমিত হয় তখন দ্রবণের pH মান 7 এর কাছাকাছি হয়। 
- পূর্ণ প্রশমনের ক্ষেত্রে দ্রবণে কোনো অতিরিক্ত এসিড অথবা অতিরিক্ত ক্ষার এর কোনটিই থাকে না। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৮.
প্লাজমা অবস্থায় কণাগুলির বৈশিষ্ট্য কী?
  1. কণাগুলি আয়নিত হয়
  2. কণাগুলি নির্জীব থাকে
  3. কণাগুলি গতি হারায়
  4. কণাগুলি কঠিন হয়
ব্যাখ্যা
• প্লাজমা হল একটি বৈদ্যুতিক পরিবাহী মাধ্যম যেখানে প্রায় সমান সংখ্যক ধনাত্মক এবং ঋণাত্মক চার্জযুক্ত কণা থাকে , যা গ্যাসের পরমাণুগুলি আয়নিত হয়ে গেলে উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ এটি একটি আয়নিত অবস্থা। 
- এটিকে কখনও কখনও পদার্থের চতুর্থ অবস্থা হিসাবে উল্লেখ করা হয়, যা কঠিন , তরল এবং বায়বীয় অবস্থা থেকে পৃথক ।
- এটি এমন একটি বিশেষ অবস্থা, যা খুব উচ্চ তাপমাত্রায় বা উচ্চ  শক্তির সাহায্যে  উৎপন্ন হয়। এই আয়নিত গ্যাসীয় অবস্থার  কারনে এরা  বিশেষ অবস্থায়  বিদ্যুৎ পরিবহন করতে পারে। 

⇒ প্লাজমার কণাগুলি পদার্থের মধ্যে সর্বোচ্চ গতিশক্তি প্রাপ্ত হয়  এবং তারা একে অপরের সাথে সংঘর্ষ করতে থাকে, ফলে এটি একটি বিদ্যুৎ পরিবাহী হিসেবে কাজ করে। এটি সূর্যের কেন্দ্র এবং আয়নোস্ফিয়ারে পাওয়া যায়, এবং এটি প্লাজমা টিভি, প্লাজমা কাটিং, এবং আণবিক গবেষণার মতো প্রযুক্তিতে ব্যবহার হয়।

অন্যদিকে,
কণাগুলি নির্জীব:  প্লাজমা অবস্থায় কণাগুলির গতি থাকে, সুতরাং এটি  সঠিক নয়। এটি গতিশীল এবং শক্তিসম্পন্ন। 

কণাগুলি গতি হারায়:  প্লাজমা কণাগুলি সবসময় গতিশীল থাকে, তাই তারা গতি হারায় না। বরং উচ্চ গতিতে চলে। 

কণাগুলি কঠিন হয়:   প্লাজমা গ্যাসের একটি অবস্থা, এবং এটি কঠিন অবস্থায় পরিণত হয় না। এটি তরল বা কঠিন নয়, বরং একটি আয়নিত গ্যাস।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
- ব্রিটানিকা
৭৪৯.
অ্যামোনিয়ার একটি অণুতে কয়টি পরমাণু থাকে?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
অ্যামোনিয়া হলো নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি রাসায়নিক যৌগ যার রাসায়নিক সংকেত NH3.
অর্থাৎ, এর একটি অণুতে একটি নাইট্রোজেন ও তিনটি হাইড্রোজেন পরমাণু রয়েছে। 
সুতরাং, মোট চারটি পরমাণু রয়েছে।
৭৫০.
নিচের সংকেতটিতে মৌলের -
  1. প্রোটন সংখ্যা 13
  2. ভর সংখ্যা 27
  3. নিউট্রন সংখ্যা 14
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
সংকেতটিতে মৌলের 
প্রোটন সংখ্যা
= ইলেকট্রন সংখ্যা
= পারমানবিক সংখ্যা
= 13

ভর সংখ্যা
= পারমানবিক ভর
= 27

নিউট্রন সংখ্যা
= ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা
= 27 - 13
= 14
৭৫১.
যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে কী বলে? 
  1. যৌগিক পদার্থ
  2. মৌলিক পদার্থ
  3. বহুমৌলিক পদার্থ
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থ ছাড়া ভিন্ন ধর্ম বিশিষ্ট অন্য কোন নতুন পদার্থ পাওয়ার যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বা মৌল বলে। 
যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হিলিয়াম, নিয়ন, কার্বন, তামা, দস্তা, পারদ, সোনা, রূপা প্রভৃতি মৌলিক পদার্থ। 

যৌগিক পদার্থ: 
- দুই বা তার বেশি সংখ্যক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট ওজনের অনুপাতে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয়ে ভিন্ন ধর্মী পদার্থ গঠন করে যা যৌগিক পদার্থ নামে পরিচিত। 
অর্থাৎ, যে পদার্থের রাসায়নিক বিশ্লেষণ করলে দুই বা তার বেশি মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায়, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। 
যেমন- পানি, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, খাদ্য লবন, এসিড, ক্ষার প্রভৃতি হল যৌগিক পদার্থ। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৭৫২.
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ কোনটি? 
  1. HCl
  2. Na2CO3
  3. KMnO4
  4. H2SO4
ব্যাখ্যা
প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থ বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়, বাতাসের সংস্পর্শে বাতাসের জলীয় বাষ্প বা কোনো উপাদানের সাথে বিক্রিয়া করে না, ওজনকালে রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় করে না এবং উৎপন্ন দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, সেসব পদার্থকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- Na2CO3, H2C2O4.2H2O, K2Cr2O7

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- প্রাইমারি পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে কোনো বৈশিষ্ট্যের অভাব ঘটলে সে সব রাসায়নিক পদার্থকে সেকেন্ডারি পদার্থ বলে। 
যেমন- গাঢ় H2SO4, HCl এসিড, NaOH ট্যাবলেট, KMnO4

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৭৫৩.
What substance is commonly formed during a combustion reaction?
  1. Carbon dioxide
  2. Sodium chloride
  3. Argon gas
  4. Nitrogen gas
  5. All of the above
ব্যাখ্যা
• ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া, 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া, 
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং 
৪। দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি।

দহন বিক্রিয়া (Combustion Reaction):
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ,
- কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- সালফারকে বায়ুতে পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- মিথেন গ্যাসকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পোড়ালে মিথেনের উপাদান মৌল কার্বন পরিবর্তিত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন পরিবর্তিত হয়ে উহার অক্সাইড পানি উৎপন্ন করে। এ দহন বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন তাপ রান্নাসহ অন্যান্য কাজ বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৪.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়?
  1. 4K
  2. 277K
  3. 273K
  4. 286K
ব্যাখ্যা
পানি(H2O):
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে। 
- পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি থাকে ৪° সেলসিয়াস বা ২৭৭ কেলভিন তাপমাত্রায়।
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলতে শুরু করে,সেটা হচ্ছে বরফের গলনাংক।
- বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস।
- বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হওয়া শুর করে, তাকে স্ফুটনাংক বলে।
- পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫৫.
পর্যায় সারণির গ্রুপ–11 এর মৌলগুলোকে কী বলা হয়?
  1. ক্ষার ধাতু
  2. মৃৎক্ষার ধাতু
  3. মুদ্রা ধাতু
  4. হ্যালোজেন
ব্যাখ্যা

- পর্যায় সারণির গ্রুপ–১১ তে অবস্থিত মৌলগুলো (যেমন: কপার, সিলভার ও গোল্ড) প্রাচীনকাল থেকে বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে মুদ্রা তৈরিতে ব্যবহৃত হতো, এ কারণে আধুনিক পর্যায় সারণিতে এই গ্রুপের মৌলগুলোকে মুদ্রা ধাতু (Coinage Metals) বলা হয়। 

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে হাইড্রোজেন ব্যতীত গ্রুপ-1 এ অবস্থিত মৌলসমূহকে ক্ষার ধাতু (alkali metal) বলা হয়। 
যেমন- Li, Na, K, Rb এর প্রত্যেকেই ক্ষার ধাতু। 
- এদের বিশেষ ধর্ম হলো এরা প্রত্যেকেই পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইড্রোজেন গ্যাস ও ক্ষার উৎপন্ন করে থাকে। 
- এরা প্রত্যেকেই একটি মাত্র ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক একযোজী আয়নে পরিণত হয় এবং আয়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যৌগ গঠন করে। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণিতে গ্রুপ-2 এ অবস্থিত মৌলগুলোকে মৃৎক্ষার ধাতু (alkaline earth metal) বলা হয়। 
যেমন- Be, Mg, Ca, Sr প্রত্যেকেই মৃৎক্ষার ধাতু। 
- এরাও ক্ষার ধাতুর মতো তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। দুটি করে ইলেকট্রনকে দান করে দ্বিধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সাইড যৌগ গঠন করে। 
- এদের অক্সাইড সমূহ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ক্ষারীয় দ্রবন উৎপন্ন করে। মৃৎক্ষার ধাতুর মৌলগুলো বিভিন্ন যৌগ হিসেবে মাটিতে থাকে বলে এদের এরূপ নামকরণ করা হয়েছে। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর মাত্র তিনটি মৌলকে মুদ্রা ধাতু বলে। 
যেমন- কপার বা তামা (Cu), রূপা (Ag) ও সোনা (Au)। 
- এ মৌল তিনটির ধাতব উজ্জ্বলতা অসাধারণ। বর্তমান বাজারে সংকর ধাতুর তৈরী ধাতব মুদ্রা প্রচলিত আছে। 

• হ্যালোজেন: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ–17 এর মৌলগুলোকে (যেমন: F, Cl, Br, I) হ্যালোজেন বা লবণ উৎপাদনকারী বলা হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫৬.
বরফ গলে পানি হওয়াকে কী ধরনের পরিবর্তন বলা হয়?
  1. নিউক্লিয়ার পরিবর্তন
  2. সাময়িক পরিবর্তন
  3. ভৌত পরিবর্তন
  4. রাসায়নিক পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা, 
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া, 
• বরফ গলে পানি হওয়া, 
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• লোহায় মরিচা ধরা, 
• দুধ থেকে দই হওয়া, 
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া, 
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৫৭.
সাধারণ রসায়নিক বিক্রিয়ায় কোনটি ঘটে না?
  1. গ্যাসের উৎপাদন
  2. তাপের উৎপাদন
  3. পারমাণবিক ভাঙন
  4. বর্ণ পরিবর্তন
ব্যাখ্যা

• রসায়নিক বিক্রিয়া: এটি এমন প্রক্রিয়া যেখানে পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস পরিবর্তিত হয়, নতুন পদার্থ গঠিত হয়, কিন্তু পরমাণুর নিউক্লিয়াস (প্রোটন ও নিউট্রন) অপরিবর্তিত থাকে।

সাধারণ রসায়নিক বিক্রিয়ার সময় দেখা যায়:
- গ্যাসের উৎপাদন: যেমন সোডিয়াম বায়ারাইটের সাথে পানি প্রতিক্রিয়ায় হাইড্রোজেন গ্যাস নিঃসৃত হয়।
- তাপের উৎপাদন: যেমন লৌহের জ্বালানি অগ্নিসংযোগে তাপ নিঃসৃত হয়।
- বর্ণ পরিবর্তন: যেমন আয়রনকে অক্সিজেনের সাথে প্রতিক্রিয়ায় লাল মরিচা তৈরি হয়।

• পারমাণবিক ভাঙন (Nuclear fission): এটি কেবল পারমাণবিক বিক্রিয়ায় ঘটে, যেখানে নিউক্লিয়াস ভাঙে এবং প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়। এটি সাধারণ রসায়নিক বিক্রিয়ার অংশ নয়।

সুতরাং, সাধারণ রসায়নিক বিক্রিয়ায় পারমাণবিক ভাঙন ঘটে না।

তথ্যসূত্র: NCTB মধ্যমিক রসায়ন। 

৭৫৮.
আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে নিচের কোনটি করা যায়?
  1. বরফ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়
  2. ধাতুর ভেজাল নির্ণয় করা যায়
  3. লোহা পানিতে ডুবে গেলেও লোহার জাহাজ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
আর্কিমিডিসের নীতি: 
- বস্তুকে কোন তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ডুবালে বস্তুটির ওজন কম মনে হয়। 
- বস্তুটির উপর ক্রিয়াশীল ঊর্ধ্ব চাপজনিত বল বস্তুর ওজনের বিপরীত দিকে ক্রিয়া করে, একে প্লবতা বলে। 
- তাই কোন কঠিন পদার্থকে তরল বা বায়বীয় পদার্থে ডুবালে ওজন কম মনে হয় যার মূল কারণ প্লবতা। এই হারানো ওজন বস্তু দ্বারা অপসারিত তরল বা বায়বীয় পদার্থের ওজনের সমান। আর্কিমিডিসের নীতি তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। 
- আর্কিমিডিসের নীতির উপর ভিত্তি করে- 
ধাতুর ভেজাল নির্ণয় করা সম্ভব
বরফ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায় এবং 
লোহা পানিতে ডুবে গেলেও লোহার জাহাজ পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করা যায়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৭৫৯.
আইসোটোনের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. প্রোটন সংখ্যা সমান থাকে
  2. নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
  3. প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা সমান থাকে
  4. ভরসংখ্যা সমান থাকে
ব্যাখ্যা
• আইসোটোন: 
- যে সকল নিউক্লিয়াসের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু ভর সংখ্যা সমান নয় তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়। 

• আইসোটোপ: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের প্রোটন সংখ্যা একই , কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোপ বলে। 

• আইসোবার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের ভর সংখ্যা একই, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলে। 

• আইসোমার: 
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬০.
যে বিক্রিয়ায় ভারী নিউক্লিয়াস ভেঙে হালকা নিউক্লিয়াস তৈরি হয় তাকে কী বলে? 
  1. ফিশন বিক্রিয়া 
  2. ফিউশন বিক্রিয়া
  3. রাসায়নিক বিক্রিয়া 
  4. আয়োনাইজেশন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর বা আয়নের সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে, নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে, এখানে ইলেকট্রনের কোনো ভূমিকা নেই। 
- এ বিক্রিয়ার ফলে নতুন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। 
- যে বিক্রিয়ার ফলে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে বড় মৌলের নিউক্লিয়াস অথবা কোনো বড় মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে একাধিক ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস তৈরি হয় সেই বিক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- বিভিন্ন রকমের নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া আছে; তবে এদের মধ্যে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া ও নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া অন্যতম। 

নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়ার সাথে নিউট্রন আর প্রচুর (Fission) পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- নিচে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো- 


নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ছোট ছোট নিউক্লিয়াসসমূহ একত্রিত হয়ে বড় নিউক্লিয়াস গঠন করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন (Fusion) বিক্রিয়া বলে।
- নিচে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো- 


উৎস:
রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬১.
মোলার দ্রবণ কীভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়? 
  1.  প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক কেজি দ্রবীভূত থাকে 
  2. প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক মোল লিটার দ্রবীভূত থাকে 
  3. প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক গ্রাম দ্রবীভূত থাকে 
  4. প্রতি লিটার দ্রবণে দ্রবের এক মোল দ্রবীভূত থাকে 
ব্যাখ্যা

মোলার দ্রবণ: 
- নির্দিষ্ট তাপমাত্রার দ্রবণের প্রতি লিটার আয়তনের মধ্যে কোনো দ্রবের এক মোল পরিমাণ দ্রব দ্রবীভূত থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ দ্রবের মোলার দ্রবণ বলে। 
- প্রকৃতপক্ষে মোলার দ্রবণের প্রতি লিটারে মধ্যে যত মোল দ্রব দ্রবীভূত থাকে দ্রবনের মাত্রা তত মোলার হবে। 
- একে M দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- মোলার দ্রবণে দ্রবীভূত দ্রবের পরিমাণকে বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- গ্রাম, মোল, গ্রাম-অণু, গ্রাম-তুল্যভর ইত্যাদি। 
- প্রকৃত পক্ষে ল্যাবরেটরিতে প্রস্তুতকৃত দ্রবণের ঘনমাত্রা প্রকাশের বিভিন্ন পদ্ধতি থাকলেও মোলারিটি দ্রবনের ঘনমাত্রার প্রকাশের একটি আদর্শ পদ্ধতি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬২.
পলিথিন কোন বিক্রিয়ার মধ্যমে তৈরি হয়?
  1. সংযোজন
  2. ঘনীভবন
  3. প্রতিস্থাপন
  4. বিয়োজন
ব্যাখ্যা

• পলিথিন হলো একটি পলিমার, যা ইথিলিন বা ইথিন (CH2=CH2) নামক মনোমার থেকে তৈরি হয়।
- যে প্রক্রিয়ায় অসংখ্য ইথিলিন অণু উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রায় পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃহৎ চেইন পলিমার (পলিথিন) তৈরি করে, তাকে পলিমারাইজেশন বিক্রিয়া বলে।
- এই পলিমারাইজেশন বিক্রিয়াটি একটি সংযোজন বিক্রিয়ার (Addition Reaction) উদাহরণ।

 • সংযোজন বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক যৌগ বা মৌল যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ উৎপন্ন করে সে বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়। 

• সংযোজন পলিমার:
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন ক্ষুদ্র অণুর অপসারণ ব্যাতিত মনোমার অণুসমূহ পরস্পর যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল পলিমার গঠন করে এবং গঠিত পলিমারের আণবিক ভর মনোমারের আণবিক ভরের পূর্ণ গুণিতক হয় তাকে সংযোজন পলিমার বলে।
- সাধারণত দ্বিবন্ধন যুক্ত যৌগসমূহ যেমন অ্যালকিন, প্রতিস্থাপিত অ্যালকিন ও ভিনাইল যৌগসমূহে সংযোগ পলিমারকরণ (addition polymerization) ঘটে।

• পলিথিন:
- ১০০০ - ১২০০ বায়ু চাপে ইথিন গ্যাসকে তরলীকৃত করে সমান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ২০০০০ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে ইথিনের অসংখ্য অণু পরপর যুক্ত হয়ে যুত পলিমার পলিথিন গঠন করে।
- পলিথিন তৈরির এই প্রক্রিয়া টি সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। 
- পলিথিন একটি সাদা অসচ্ছ ও শক্ত প্লাস্টিক পদার্থ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৩.
নিচের কোন ধরণের বন্ধনে অণুগুলির আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে কম?
  1. ধাতব
  2. হাইড্রোজেন
  3. সমযোজী
  4. আয়নিক
ব্যাখ্যা

• বন্ধনগুলির মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনে অণুগুলির আকর্ষণ সবচেয়ে কম। হাইড্রোজেন বন্ধন অন্যান্য বন্ধনের তুলনায় খুব দুর্বল এবং কম স্থায়ী। আয়নিক, সমযোজী বা ধাতব বন্ধনের তুলনায় হাইড্রোজেন বন্ধনের শক্তি কম হওয়ায় অণুগুলির মধ্যে আকর্ষণও সর্বনিম্ন থাকে। উদাহরণস্বরূপ, জল অণুর মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধন থাকলেও, এটি কেবল অপেক্ষাকৃত সামান্য শক্তি প্রদান করে এবং সহজে ভেঙে যায়। তাই বন্ধনের শক্তির ক্রম হয়: আয়নিক > সমযোজী > ধাতব > হাইড্রোজেন। এই কারণে হাইড্রোজেন বন্ধন অণুগুলিকে একে অপরের সাথে সবচেয়ে কম টান ধরে রাখে।

 • বিভিন্ন ধরণের রাসায়নিক বন্ধন:
- রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে পরমাণু বা অণু একে অপরের সাথে যুক্ত থাকে।
- বন্ধনের শক্তি নির্ভর করে পরমাণু বা আয়নের মধ্যে আকর্ষণ বলের উপর।
- বিভিন্ন বন্ধনের ক্ষেত্রে এই আকর্ষণ শক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয়।

• আয়নিক বন্ধন (Ionic Bond):
- আয়নিক বন্ধনে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের মধ্যে শক্তিশালী তড়িৎস্থিতিক আকর্ষণ থাকে।
- এই আকর্ষণ বল খুব শক্তিশালী হওয়ায় আয়নিক বন্ধন অত্যন্ত স্থিতিশীল।
- তাই আয়নিক বন্ধনে আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে বেশি।

• সমযোজী বন্ধন (Covalent Bond):
- সমযোজী বন্ধনে পরমাণুগুলি ইলেকট্রন ভাগাভাগি করে।
- ইলেকট্রন ভাগাভাগির কারণে পরমাণুগুলির মধ্যে যথেষ্ট শক্তিশালী আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।
- আয়নিক বন্ধনের তুলনায় এটি কিছুটা দুর্বল হলেও যথেষ্ট স্থিতিশীল।

• ধাতব বন্ধন (Metallic Bond):
- ধাতব বন্ধনে ধাতব আয়ন ও মুক্ত ইলেকট্রনের মধ্যে আকর্ষণ থাকে।
- এই আকর্ষণ সমযোজী ও আয়নিক বন্ধনের তুলনায় তুলনামূলকভাবে দুর্বল।
- তবুও এটি হাইড্রোজেন বন্ধনের চেয়ে শক্তিশালী।

• হাইড্রোজেন বন্ধন (Hydrogen Bond):
- হাইড্রোজেন বন্ধন একটি দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল।
- এটি মূলত অণুর মধ্যে সৃষ্টি হয়, পরমাণুর মধ্যে নয়।
- এই বন্ধনের স্থায়িত্ব কম এবং বন্ধন শক্তি তুলনামূলকভাবে খুব দুর্বল।
- তাই সকল বন্ধনের মধ্যে হাইড্রোজেন বন্ধনে আকর্ষণশক্তি সবচেয়ে কম।

• বন্ধনের আকর্ষণ শক্তির ক্রম:
- আয়নিক বন্ধন > সমযোজী বন্ধন > ধাতব বন্ধন > হাইড্রোজেন বন্ধন। 

সূত্র: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী ও অধ্যাপক হারাধন নাগ। 

৭৬৪.
কোয়ার্ক কণিকা দ্বারা গঠিত হয় নিচের কোনটি??
  1. ইলেক্ট্রন
  2. নিউট্রন
  3. প্রোটন
  4. খ + গ
ব্যাখ্যা

কোয়ার্ক (Quark) : কোয়ার্ক পদার্থ গঠনের অন্যতম মৌলিক কণিকা। সকল বস্তু প্রোটন ও নিউট্রন দ্বারা গঠিত। আর এই প্রোটন ও নিউট্রন গঠিত হলো কোয়ার্ক দিয়ে।
দুটি আপ কোয়ার্ক ও একটি ডাউন কোয়ার্ক নিয়ে প্রোটন এবং দুটি ডাউন এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে নিউট্রন গঠিত।
কোয়ার্ক মূলত ৬ টি। এগুলো হলো আপ (u), ডাউন (d), চার্ম (c) ও স্ট্রেঞ্জ (s) এবং টপ (t) ও বটম (b)।

সূত্রঃ পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৫.
কোন উপ-স্তরে সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন থাকতে পারে?
  1. s
  2. p
  3. d
  4. f
ব্যাখ্যা

• s, p, d, f উপ-স্তরের মধ্যে d-উপ-স্তর সর্বাধিক 10 ইলেকট্রন ধারণ করতে পারে।

- কোনো অণুতে ইলেকট্রনগুলো নির্দিষ্ট শক্তি স্তর বা শেল (n) অনুযায়ী বিভক্ত থাকে।
- d-উপ-স্তরের 10 ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা transition metals এবং তাদের রাসায়নিক ও চৌম্বক বৈশিষ্ট্য বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- d-উপ-স্তরের ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, মৌলের রং, প্রতিক্রিয়াশীলতা এবং চৌম্বকীয়তা প্রভাবিত হয়।
- প্রতিটি শেলের ভিতরে থাকে বিভিন্ন উপ-স্তর (s, p, d, f)।
- প্রতিটি উপ-স্তরের ইলেকট্রনের ধারণক্ষমতা নির্ধারিত হয় 2(2l + 1) সূত্র অনুযায়ী, যেখানে ( l )হলো উপ-স্তরের কোয়ান্টাম সংখ্যা।

প্রত্যেক উপ-স্তরের সর্বাধিক ইলেকট্রন সংখ্যা:
⇒ s-উপ-স্তর: l = 0 → 2(2×0 + 1) = 2 ইলেকট্রন,
⇒ p-উপ-স্তর: l = 1 → 2(2×1 + 1) = 6 ইলেকট্রন,
⇒ d-উপ-স্তর: l = 2 → 2(2×2 + 1) = 10 ইলেকট্রন,
⇒ f-উপ-স্তর: l = 3 → 2(2×3 + 1) = 14 ইলেকট্রন।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৬৬.
কোন তেজস্ক্রিয় পদার্থ অল্পমাত্রায় মানবদেহের জন্য নিরাপদ?
  1. রেডিয়াম-২২৬
  2. ইউরেনিয়াম-২৩৮
  3. টেকনিশিয়াম-৯৯ 
  4. প্লুটোনিয়াম-২৩৯ 
ব্যাখ্যা

  তেজস্ক্রিয় মৌলগুলোর মধ্যে টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99) তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
- এটি কম শক্তির বিকিরণ উৎপন্ন করে, গবেষণা এবং চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত হয়।
- এর লাইফটাইম ৬ ঘণ্টা।

• তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity):
- তেজস্ক্রিয় মৌল বা ইসোটোপ তার নিউক্লিয়াস থেকে কণা বা বিকিরণ (অ্যালফা, বেটা, গামা) নির্গত করে।
- এতে শক্তি মুক্ত হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
- তেজস্ক্রিয়তা হালকা বা শক্তিশালী হলে বিপদজনক, তাই নিরাপদ ব্যবহার নির্ভর করে বিকিরণের ধরণ ও শক্তির ওপর।

• টেকনিশিয়াম-৯৯ (Tc-99):
- তেজস্ক্রিয়, তবে কম শক্তির বেটা বিকিরণ করে।
- চিকিৎসা ও গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
- নিরাপদ মাত্রায় ব্যবহৃত হলে মানবদেহে ক্ষতি করে না।

অপশন আলোচনা:
• রেডিয়াম-২২৬ (Ra-226):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয়।
- শক্তিশালী অ্যালফা বিকিরণ করে।
- সরাসরি মানবদেহে বিপজ্জনক; নিরাপদ নয়।

• ইউরেনিয়াম-২৩৮ (U-238):
- ভারী তেজস্ক্রিয় ধাতু, দীর্ঘ জীবনকাল থাকা সত্ত্বেও বিপজ্জনক।
- পারমাণবিক শক্তি ও অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত।

• প্লুটোনিয়াম-২৩৯ (Pu-239):
- অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় ও ভারী।
- পারমাণবিক অস্ত্রে ব্যবহৃত।
- মানবদেহে খুবই বিপজ্জনক।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।