বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

মোট প্রশ্ন৭৬৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদার্থের অবস্থা, রাসায়নিক গঠন ও পরিবর্তন (বিক্রিয়া) এবং পর্যায়বৃত্ত ধর্ম

PrepBank · পাতা / · ৬০১৭০০ / ৭৬৮

৬০১.
পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে কোন অবস্থার পদার্থের প্রাধান্য বেশি? 
  1. কঠিন 
  2. গ্যাসীয় 
  3. প্লাজমা 
  4. তরল 
ব্যাখ্যা

প্লাজমা অবস্থা: 
- কঠিন, তরল এবং বায়বীয় ছাড়া আরও একটি পদার্থের অবস্থা হলো 'প্লাজমা'। 
- চারটি অবস্থাই পদার্থের অভ্যন্তরের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। 
- প্লাজমা অবস্থা সচরাচর চোখে ধরা পড়ে না। 
- কঠিন থেকে তরলে তাপমাত্রা বা শক্তি অধিক হয়, তরল থেকে বাষ্পে তাপ ও শক্তি আরও অধিক হয়। তাপ শক্তি অত্যন্ত অধিক হলে বা অতি উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থ প্লাজমা অবস্থায় পরিণত হয়। 
- প্লাজমা অবস্থায় বস্তুর অণুগুলো ইলেকট্রন, প্রোট্রেন ও নিউট্রনে রূপান্তরিত হয়। অন্যভাবে বলা যায় গ্যাসীয় অণুসমূহ আয়নিত হয়। 
- তবে নিয়ন সাইন, ফ্লোরোসেন্ট লাইট (টিউব লাইট, এনার্জি বাল্ব) এর মধ্যে গ্যাস পরমাণু আয়নিত বা প্লাজমা অবস্থায় থাকে। 
- পৃথিবীর বাইরের মহাবিশ্বে প্লাজমা অবস্থারই প্রাধান্য বেশি। 
- সূর্য এবং অধিকাংশ নক্ষত্র, উত্তর মেরুতে দৃশ্যমান মেরুজ্যোতি পদার্থের প্লাজমা অবস্থা। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬০২.
কোনটি পরমাণুর স্থায়ী মূল কণিকা?
  1. আলফা কণিকা
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রিনো
  4. উপরের সবকয়টি
ব্যাখ্যা
পরমাণু ও পরমাণুর মূল কণিকা:

• মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা, সাধারণত যার স্বাধীন অস্তিত্ব নেই, কিন্তু ক্ষুদ্রতম একক রূপে সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে পারে, তাকে পরমাণু বলে।
• প্রত্যেক মৌলের প্রতীক দ্বারা ঐ মৌলের পরমাণুকে বোঝানো হয়। যেমন: H দ্বারা হাইড্রোজেনের পরমাণু বোঝায়।
- যে সকল ক্ষুদ্র কণা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলে।
- পরমাণুর মূল কণিকা তিন প্রকার। যথা: 

১. স্থায়ী মূল কণিকা: যে সব মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে, তাদেরকে স্থায়ী মূল কণিকা বলে। স্থায়ী মূল কণিকা তিনটি। যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন।

২. অস্থায়ী মূল কণিকা: যে সব মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে খুবই অল্প সময়ের জন্য অস্থায়ীভাবে থাকে, তাদেরকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলে। যেমন: পাইওন, মিউওন, নিউট্রিনো, মেসন প্রভৃতি। অস্থায়ী মূল কণিকাগুলো সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কণিকায় পরিণত হয়।

৩. কম্পোজিট কণিকা: স্থায়ী মূল কণিকা ও অস্থায়ী মূল কণিকা ব্যতিত আরও এক শ্রেণীর ভারী কণিকা বিভিন্ন পরমাণু থেকে পাওয়া যায়, এদেরকে যৌগিক কণা বা কম্পোজিট কণিকা বলে। যেমন: আলফা কণিকা, ডিউটেরন কণা ইত্যাদি।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
৬০৩.
প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- 
  1. কঠিন ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে 
  2. তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে 
  3. কঠিন ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে 
  4. কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের ক্ষেত্রে 
ব্যাখ্যা

প্যাসকেলের সূত্র:  
- প্যাসকেলের সূত্র (Pascal's Law) হলো পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি যা তরলের গতিবিদ্যা (fluid dynamics) এর অন্তর্গত।
- এই সূত্রটি প্রথম ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেজ প্যাসকেল প্রস্তাব করেছিলেন।
- প্যাসকেলের সূত্রটি প্রযোজ্য- বায়বীয় ও তরল পদার্থের ক্ষেত্রে

প্যাসকেলের সূত্রটি নিম্নরূপ: 
- "কোনো আবদ্ধ তরলের মধ্যে চাপের পরিবর্তন হলে, সেই পরিবর্তনটি তরলের সব দিকেই সমানভাবে সঞ্চারিত হয়"।
- এই সূত্রটি গাণিতিকভাবে প্রকাশ করা যায়-
P = F/A
এখানে,
- P হলো চাপ (Pressure),
- F হলো বল (Force),
- A হলো ক্ষেত্রফল (Area).

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০৪.
একটি পরমাণু ইলেকট্রন দান করলে তার জারণ সংখ্যা কেমন হয়? 
  1. শূন্য
  2. ঋণাত্মক
  3. ধনাত্মক
  4. অসীম
ব্যাখ্যা
জারণ সংখ্যা (Oxidation Number): 
- মৌলের পরমাণু ইলেকট্রন গ্রহণ বা দানের মাধ্যমে আয়নে পরিণত হয়। 
- পরমাণু এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় এবং বিপরীতভাবে এক বা একাধিক ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- কোনো পরমাণু যত সংখ্যক ইলেকট্রন দান করে তত ধনাত্মক চার্জযুক্ত হয় এবং যত সংখ্যক ইলেকট্রন গ্রহন করে তত ঋণাত্মক চার্জযুক্ত হয়। 
- যৌগের মধ্যে কোন মৌলের জারণ সংখ্যা মৌলটির পরমাণুকে মুক্ত অবস্থা থেকে যৌগের অণুর মধ্যে যে অবস্থায় বর্তমান সে অবস্থায় পরিণত করতে কী পরিমাণ জারণ বা বিজারণ প্রয়োজন তা নির্দেশ করে। 
- এ পরিবর্তনের জন্য যদি জারণের প্রয়োজন হয় তবে জারণ সংখ্যা হবে ধনাত্মক। 
- বিজারণের প্রয়োজন হলে জারণ সংখ্যা হবে ঋণাত্মক। 
- মুক্ত অবস্থায় থাকা মৌলের অণু বা পরমাণুর জারণ সংখ্যাকে শূন্য ধরা হয়। 
যেমন- Na, K, Fe, O2, H2, N2, P4, S8, ইত্যাদি অণুতে স্ব স্ব পরমাণুর জারণ সংখ্যার মান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৫.
নিচের কোনটি মুদ্রা ধাতুর উদাহরণ? 
  1. লিথিয়াম 
  2. সোডিয়াম 
  3. কপার 
  4. ক্যালসিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌলকে (লিথিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, রুবিডিয়াম, সিজিয়াম এবং ফ্রানসিয়াম) ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষারধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু: 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে অবস্থিত 6 টি (বেরিলিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, স্ট্রনসিয়াম, বেরিয়াম এবং রেডিয়াম) মৌলকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে।  
- এই ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়। 
- এরা ক্ষার তৈরি করে, এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়। 

মুদ্রা ধাতু: 
- পর্যায় সারণির গ্রুপ-11 এর 4 টি মৌল হচ্ছে কপার, সিলভার, গোল্ড এবং রন্টজেনিয়াম। 
- এই চারটি মৌলের মধ্যে প্রথম 3 টি মৌলকে মুদ্রা ধাতু (Coin Metals) বলা হয়, কারণ এই গ্রুপের সবচেয়ে নিচের মৌল রন্টজেনিয়াম (Rg) ছাড়া অন্য যে 3 টি মৌল আছে তা দিয়ে প্রাচীনকালে মুদ্রা তৈরি হতো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হতো। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০৬.
পরমাণুর কোন বৈশিষ্ট্যটি সঠিক? 
  1. এটি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে
  2. এটি একটি যৌগ
  3. এটি স্বাধীনভাবে সব সময় থাকে
  4. এটি দুই বা তার অধিক পরমাণুর সংযোগে গঠিত হয়
ব্যাখ্যা
পরমাণু: 
- মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসয়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাকে পরমাণু বলে। 

পরমাণুর বৈশিষ্ট্যসমূহ: 
- পরমাণু মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা বা একক। 
- সাধারণত পরমাণু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না, তবে কিছু কিছু মৌলিক পদার্থের পরমাণু স্বাধীনভাবে থাকতে পারে। 
যেমন- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি। 
- পরমাণু সরাসরি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে। 
- একটি পরমাণুকে ভাঙলে ওই মৌলের আর কোন অস্তিত্বই থাকে না। 

অণু: 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৭.
একই মৌলের একাধিক পরমাণুর সংযোগে কোন ধরনের অণু গঠিত হয়? 
  1. যৌগের অণু 
  2. মৌলের অণু 
  3. আয়নিক অণু 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

পরমাণু ও অণু (Atoms and Molecules): 
- পরমাণু হলো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যার মধ্যে মৌলের গুণাগুণ বর্তমান থাকে। 
যেমন- নাইট্রোজেনের পরমাণুতে নাইট্রোজেনের ধর্ম বিদ্যমান আর অক্সিজেনের পরমাণুতে অক্সিজেনের ধর্ম বিদ্যমান থাকে। 
- দুই বা দুইয়ের অধিক সংখ্যক পরমাণু পরস্পরের সাথে রাসায়নিক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকলে তাকে অণু বলে। 
যেমন- দুটি অক্সিজেন পরমাণু (O) পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন অণু (O2) গঠিত হয়। আবার, একটি কার্বন পরমাণু (C) দুটি অক্সিজেন পরমাণুর (O) সাথে যুক্ত হয়ে একটি কার্বন ডাই-অক্সাইড অণু (CO2) গঠিত হয়। 
- একই মৌলের একাধিক পরমাণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হলে তাকে মৌলের অণু বলে। যেমন- O2। 
- ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু পরস্পর যুক্ত হলে তাকে যৌগের অণু বলে। যেমন-CO2 । 

উৎস:
রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬০৮.
কোন বিক্রিয়াটিতে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ইস্পাতকে চুম্বকে পরিণত করলে
  2. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড বাষ্পীভূত হওয়া
  3. পানিতে চুন যোগ করলে
  4. পানিতে খাদ্য লবণ যোগ করলে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) পানিতে চুন যোগ করলে

চুনকাম এবং তাপ সৃষ্টি
- বিল্ডিং-এ যখন রং করা হয় তখন সবার আগে চুনকাম করা হয়।
- বড় একটি পাত্রের মধ্যে পানি নিয়ে ধীরে ধীরে চুনের বড় বড় টুকরা ঢেলে দেওয়া হয়।
- পানিতে চুন গলতে থাকে এবং পানির তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।
- একসময় পানি ফুটতে থাকে। এক্ষেত্রে চুনের সাথে পানির বিক্রিয়ায় তাপের সৃষ্টি হয়েছে।
- রাসায়নিক সমীকরণ: CaO (s) + H₂O (l) → Ca(OH)₂ + তাপ
- তাই এখানে রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটেছে। 

ভৌত পরিবর্তন (Physical Change)
- এ পরিবর্তনের ফলে পদার্থের নতুন অণু বা পরমাণুর সৃষ্টি হয় না।
- অর্থাৎ এ জাতীয় পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠন বা উপাদানের কোনো পরিবর্তন ঘটে না, কেবলমাত্র পদার্থের কিছু বিশেষ অবস্থা যেমন ভৌত অবস্থা, বৈদ্যুতিক অবস্থা ও চৌম্বক অবস্থা ইত্যাদির পরিবর্তন ঘটে।
- উদাহরণ ১: একখন্ড ইস্পাতকে চুম্বক দ্বারা ঘর্ষণ করাতে থাকলে এটি এক সময় লোহাকে আকর্ষণ করার এক বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়। এটি অবশ্যই ভৌত পরিবর্তন, কেননা এটি ইস্পাতের অস্থায়ী পরিবর্তন এবং এর ফলে কোনো নতুন অণুর সৃষ্টি হয় না।
- উদাহরণ ২: কিছু পরিমাণ খাবার লবণকে একটি কাঁচের পাত্রে নিয়ে পানি যোগ করে দ্রবণ তৈরী কর। এ দ্রবণকে বিকারে নিয়ে উত্তপ্ত করলে পানি বাষ্পীভূত হয়ে উড়ে যায়। কঠিন অবশেষ হিসেবে লবণ পাওয়া যায়। কঠিন অবস্থায় বা দ্রবীভূত অবস্থায় উপাদানসমূহের গঠন ও সংযুক্তির কোনো পরিবর্তন ঘটে না। সুতরাং এটিও ভৌত পরিবর্তন।
- উদাহরণ ৩: পরীক্ষাগারে অল্প পরিমাণ অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডকে তাপ দিলে তা বাষ্পীভূত হয়ে নলের শীতল অংশে জমা হয়। এটিও ভৌত পরিবর্তন। এ পরিবর্তনে নতুন কোনো উপাদানের সৃষ্টি হয় না, শুধু অবস্থার পরিবর্তন ঘটে মাত্র।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৯.
How many elements are found naturally in nature?
  1. 88
  2. 90
  3. 118
  4. 98
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
মৌলিক পদার্থ: 
- এ পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। 
- যার মধ্যে ৯৮টি প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 
- আর বাকী ২০টি কৃত্রিমভাবে তৈরি মৌলিক পদার্থ। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থেরই একটি নাম আছে। 
- আর এদেরকে সংক্ষিপ্ত ও সুবিধাজনকভাবে প্রকাশের জন্যই আলাদা প্রতীক ব্যবহার করা হয়। 
- প্রতীক সাধারণত মৌলের ল্যাটিন, গ্রিক বা ইংরেজি নামের একটি বা দুটি আদ্যক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৬১০.
গ্যালভানাইজিং প্রক্রিয়ায় নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) নিকেল
  2. খ) জিংক
  3. গ) ক্রোমিয়াম
  4. ঘ) তুঁতে
ব্যাখ্যা

- লোহার তৈরি জিনিসের ওপর জিংকের প্রলেপ দেওয়াকে বলা হয় গ্যালভানাইজিং। গ্যালভানাইজিং এর উদ্দেশ্য হলো লোহার জিনিসকে মরিচার হাত থেকে রক্ষা করা।
- ধাতুর তৈরি জিনিসপত্রের ক্ষয় রোধের জন্য তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতির সাহায্যে একটি ধাতুর ওপর অন্য ধাতুর প্রলেপ দেওয়াকে বলা হয় ইলেকট্রোপ্লেটিং। সাধারণত নিকেল ব ক্রোমিয়াম ধাতু এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: মাধ্যমিক রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি

৬১১.
পৃথিবীতে আবিস্কৃত মৌলের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১১৮ টি
  2. ২০ টি
  3. ৯৮ টি
  4. ১০৮ টি
ব্যাখ্যা
মৌল বা মৌলিক পদার্থ: 
- পৃথিবীতে অসংখ্য পদার্থগুলোর মধ্যে কতগুলো পদার্থ আছে যেগুলোকে ভেঙে যত ক্ষুদ্র কণাতে পরিনত করা হোক না কেন প্রত্যেক ক্ষুদ্র কণাতেই ঐ পদার্থের ধর্ম ও গুণাগুণ বিদ্যমান থাকে। 
- যে পদার্থগুলোকে ভাঙলে বা বিশ্লেষণ করলে ঐ পদার্থ ছাড়া অন্য কোন ধর্ম বিশিষ্ট পদার্থ পাওয়া যায় না তাদেরকে মৌলিক পদার্থ বা সংক্ষেপে মৌল বলা হয়। 
- পৃথিবীতে বর্তমানে আবিস্কৃত মৌলের সংখ্যা ১১৮টি, এর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায় প্রায় ৯৮টি মৌল, বাকি মৌলগুলো কৃত্রিমভাবে ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা হয়েছে।
যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন, সোডিয়াম, পটাসিয়াম বা হিলিয়াম এগুলো সব মৌলিক পদার্থ। 
- এই মৌলিক পদার্থগুলোকে প্রতীক দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- হাইড্রোজেনের প্রতীক H, আবার সোডিয়ামের প্রতীক Na। 
- প্রতিটি মৌলিক পদার্থের নির্দিষ্ট পারমাণবিক সংখ্যা ও ভরসংখ্যা রয়েছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১২.
নিচের কোন মৌলিক কণিকাটি আধানহীন? 
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. পজিট্রন
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন: ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন। 

নিউট্রন: 
- নিউট্রন আধানহীন বা চার্জ নিরপেক্ষ কণা। 
- ১৯৩২ সালে বিজ্ঞানী চ্যাডউইক নিউট্রন আবিষ্কার করেন। 
- ইহার ভর প্রায় প্রোটনের ভরের সমান। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণু ছাড়া সকল পরমাণুর নিউক্লিয়াসে নিউট্রন বিদ্যমান। 
- নিউট্রনের প্রতীক হচ্ছে n. 
- নিউট্রনের আসল ভর 1.675×10-24 g. 
- আপেক্ষিক আধান শূন্য। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৩.
হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয় কোনটি? 
  1. হিলিয়াম 
  2. ডিউটেরিয়াম 
  3. প্রোটিয়াম 
  4. ট্রিটিয়াম 
ব্যাখ্যা

- হাইড্রোজেনের আইসোটোপ নয়- হিলিয়াম। এটি সম্পূর্ণ আলাদা একটি মৌল এবং নোবেল গ্যাস, যার পারমাণবিক সংখ্যা ২ । 

আইসোটোপ: 
- 1912 সালে সর্বপ্রথম তেজস্ক্রিয় পদার্থে আইসোটোপ থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। 
- 1916 সালে জে.জে. থমসন (J.J.Thomson) নিয়নের একটি নমুনায় 22 amu ভরের অতি সামান্য পরিমাণে এবং 20 amu ভরের অধিকাংশ নিয়ন অণু শনাক্ত করেন। 
- তিনি সর্বপ্রথম ধারণা করেন, নিয়ন নমুনায় 22 amu (atomic mass unit) ভরের কোনো নতুন মৌল থাকতে পারে। 
- যেসব পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে। 
- যেহেতু আইসোটোপগুলোর প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যা একই তাই এরা একই মৌলের পরমাণু। 
- হাইড্রোজেনের তিনটি আইসোটোপ: প্রোটিয়াম, ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম। 
- আইসোটোপসমূহের (গ্রিক শব্দ iso = একই, top = স্থান) প্রোটন সংখ্যা একই হওয়ায় পর্যায় সারণিতে এদের স্থান একই জায়গায় নির্ধারিত। 

আইসোবার: 
- প্রকৃতিতে এমন কিছু পরমাণু রয়েছে যাদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন কিন্তু ভর সংখ্যা অভিন্ন। এ ধরনের পরমাণুকে পরস্পরের আইসোবার বলে। 
- আইসোবারসমূহের প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় পর্যায় সারণিতে এদের অবস্থানও ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। 
- এদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মও ভিন্ন ভিন্ন। 

আইসোটোন: 
- প্রকৃতিতে এমন কতিপয় পরমাণু রয়েছে যাদের নিউট্রন সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন সংখ্যা এবং ভর সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন, এসব পরমাণুকে পরস্পরের আইসোটোন বলে। 
- আইসোটোনসমূহের প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এরা ভিন্ন ভিন্ন পরমাণুর হয়ে থাকে। 
- পর্যায় সারণিতে এদের অবস্থান ভিন্ন ভিন্ন জায়গায়। 
- এদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৪.
নিচের কোনটি চার্লসের সূত্র?
  1. V ∝ T
  2. PV = K
  3. V ∝ n
  4. P ∝ T
ব্যাখ্যা
চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/273 ; 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
গাণিতিকভাবে, V ∝ T

বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, PV = K. 

গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক। 
গাণিতিকভাবে, P ∝ T. 

অ্যাভোগেড্রোর সূত্র: 
- ১৮১১ সালে ইতালীয় পদার্থবিজ্ঞানী অ্যাভোগেড্রো গ্যাসের আয়তন ও অণুর সংখ্যার মধ্যকার সম্পর্ক প্রকাশকারী যে সূত্র প্রদান করেন তাকে অ্যাভোগেড্রো সূত্র বলে। 
- স্থির তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসের মোল সংখ্যা বাড়লে তার আয়তনও বৃদ্ধি পায় এবং মোল সংখ্যা হ্রাস করলে আয়তনও হ্রাস পায়। 
অর্থাৎ, "স্থির তাপমাত্রা ও চাপে কোনো গ্যাসের আয়তন তার মোল সংখ্যার সমানুপাতিক”। 
সুতরাং কোনো গ্যাসের আয়তন V এবং মোল সংখ্যা n হলে অ্যাভোগেড্রোর সূত্রানুসারে, V ∝ n (চাপ ও তাপমাত্রা স্থির থাকলে)। 
বা, V = Kn (K সমানুপাতিক ধ্রুবক)। 
- একে NA দ্বারা প্রকাশ করা হয়। অ্যাভোগেড্রোর সংখ্যার পরীক্ষালব্ধ মান NA = 6.023 × 1023  । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ) এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৫.
নিচের কোনটি রাসায়নিক পরিবর্তন?
  1. গলন
  2. বাষ্পীভবন
  3. সালোকসংশ্লেষণ
  4. প্রস্বেদন
ব্যাখ্যা
রাসায়নিক পরিবর্তন:  
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। যেমন: 
• লোহায় মরিচা ধরা,
• দুধ থেকে দই হওয়া,
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া,
• উদ্ভিদ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর বৃদ্ধি,
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া,
• সালোকসংশ্লেষণ, ইত্যাদি।

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে, তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। যেমন:
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা (বাষ্পীভবন),
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া,
• বরফ গলে পানি হওয়া,
• তাপ দ্বারা মোম গলানো (গলন) ইত্যাদি। 

→ সালোকসংশ্লেষণ হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে আলোক শক্তি শর্করার আকারে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আলোক শক্তি দ্বারা চালিত একটি প্রক্রিয়ায়, গ্লুকোজ অণু (বা অন্যান্য শর্করা), পানি এবং কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে তৈরি হয় এবং অক্সিজেন একটি উপজাত হিসাবে নির্গত হয়।

উৎস:
১) রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২) ব্রিটানিকা।
৬১৬.
SATP এর পূর্ণরূপ কী? 
  1. Standard Air Temperature and Pressure
  2. Standard Absolute Temperature and Pressure
  3. Standard Actual Temperature and Pressure
  4. Standard Ambient Temperature and Pressure
ব্যাখ্যা
SATP: 
- SATP হলো Standard Ambient Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 25°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- SATP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 24.789 dm3। 

STP: 
- STP হলো Standard Temperature & Pressure বা প্রমাণ বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ও চাপ। 
- এক্ষেত্রে তাপমাত্রাকে 0°C এবং চাপকে 1 atm বা 1.01 bar ধরা হয়। 
- STP তে গ্যাসের মোলার আয়তন 22.4 dm3। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৭.
রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় বস্তুর যে তাপীয় ধর্ম স্থির থাকে, সেটি কী?
  1. এন্ট্রপি
  2. চাপ
  3. ওজন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
এন্ট্রপি: 
- কোনো সিষ্টেমের বিশৃঙ্খলা সূচক পরিমাপকে এন্ট্রপি বলে। 
- কোনো গ্যাসকে রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় সঙ্কুচিত করার সময় কিছু কাজ করা হয়। ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 
- আবার রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় গ্যাসকে প্রসারিত হতে দিলে গ্যাসকে কিছু কাজ করতে হয়। 
- অন্তর্নিহিত শক্তির দ্বারা গ্যাস এই কাজ করে, ফলে গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও তাপমাত্রা উভয়েই হ্রাস পায়। 
- বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় উপলব্ধি করেন যে, সমোষ্ণ প্রক্রিয়ায় যেমন তাপমাত্রা স্থির থাকে, রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়াও তেমনি কোনো একটি রাশি স্থির থাকে। 
- ক্লসিয়াস এই রাশিটির নাম দেন এন্ট্রপি। 
- কোনো বস্তুর এন্ট্রপির মান আজো জানা সম্ভব হয়নি। তবে কোনো বস্তু যদি তাপ গ্রহণ বা বর্জন করে, তাহলে বস্তুর এন্ট্রপির পরিবর্তন হয়। 
- কোনো বস্তুর তাপমাত্রার সাপেক্ষে গৃহীত বা বর্জিত তাপ পরিবর্তনের হার দ্বারা এন্ট্রপির পরিবর্তন পরিমাপ করা হয়। 
- রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় বস্তুর যে তাপীয় ধর্ম স্থির থাকে, তাকে এন্ট্রপি বলে। 
অর্থাৎ, এন্ট্রপি হলো বস্তুর এমন একটি ভৌত ধর্ম যা রুদ্ধতাপীয় প্রক্রিয়ায় স্থির থাকে। এন্ট্রপিরকে s দ্বারা সূচিত করা হয়। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৮.
বায়বীয় পদার্থ অত্যন্ত সংকোচনশীল হওয়ার প্রধান কারণ কী? 
  1. কণিকাগুলোর গতি কম
  2. কণিকাগুলো নির্দিষ্ট স্থানে থাকে
  3. কণিকাগুলোর মধ্যে দূরত্ব কম
  4. কণিকাগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি
ব্যাখ্যা

- বায়বীয় পদার্থ অত্যন্ত সংকোচনশীল হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে কণিকাগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি 

কঠিন পদার্থ: 

- কঠিন পদার্থের মধ্যে কণিকাগুলো গতিশীল কিন্তু তা দেখা সম্ভব নয়। 
- একটি নির্দিষ্ট অবস্থানে থেকে প্রতিটি কণা অবিরত কম্পিত হচ্ছে। 
- এদের মধ্যকার প্রবল আন্তঃআণবিক শক্তি কণাগুলোকে পরস্পর থেকে বিছিন্ন হতে দেয় না, তাই কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন বজায় থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থ থেকে তরল অবস্থায় আসতে পদার্থ অতিরিক্ত শক্তি গ্রহণ করে। 
- এ অবস্থায় অতিরিক্ত শক্তির কারণে কণিকাগুলো গতির বিস্তার বৃদ্ধি পায় বা কণাগুলো মধ্যের দূরত্ব বেশি হয় এবং আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বলের প্রভাব কমে যায়। কিন্তু একেবারে লুপ্ত হয় না। 
- সামান্য আকর্ষণ বলের কারণে কণিকা গুচ্ছগুলো পাত্রের মধ্যে থাকে। একারণে এটি পাত্রের যে কোন স্থানে সরে যায় এবং পাত্রের আকার গ্রহণ করতে পারে। 

বায়বীয় পদার্থ: 
- বায়বীয় অবস্থায় পদার্থের মধ্যে আরও অনেক বেশি শক্তি যোগ হয় তখন কণিকাগুলোর গতি অত্যন্ত বেড়ে যায় এলোমেলোভাবে সবদিকে ছুটাছুটি করে পরস্পরের থেকে অনেক দূরত্বে চলে যায়। 
- তখন এই পদার্থের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল খুবই নগন্য হয়ে যায়। এজন্য বায়বীয় অবস্থায় বস্তুর কোন আকার বা আয়তন নাই এবং অত্যন্ত সংকোচনশীল। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৯.
কোনো পদার্থের এক মোলের তাপমাত্রা এক কেলভিন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপকে কী বলা হয়? 
  1. আপেক্ষিক সুপ্ততাপ 
  2. সুপ্ততাপ 
  3. আপেক্ষিক তাপ 
  4. মোলার আপেক্ষিক তাপ 
ব্যাখ্যা

গ্যাসের মোলার আপেক্ষিক তাপ: 
- কোনো পদার্থের এক মোলের তাপমাত্রা এক কেলভিন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপকে মোলার আপেক্ষিক তাপ বলে
- কোনো পদার্থের এক মোলের তাপমাত্রা এক কেলভিন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপকে ঐ পদার্থের মোলার আপেক্ষিক তাপ বা মোলার তাপীয় ক্ষমতা বলে।
- তাপমাত্রা পরিবর্তনের জন্য পদার্থের চাপ এবং আয়তনের পরিবর্তন ঘটে।
- চাপ স্থির রেখে এক মোল গ্যাসের তাপমাত্রা এক কেলভিন বৃদ্ধি করতে প্রয়োজনীয় তাপশক্তিকে স্থির চাপে গ্যাসের মোলার আপেক্ষিক তাপ বলে।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২০.
ডায়মন্ডের কঠোরতার প্রধান কারণ কী?
  1. দুর্বল আন্তঃআণবিক আকর্ষণ
  2. কার্বন পরমাণুর শক্তিশালী কোভালেন্ট বন্ধন
  3. ভ্যান ডার ওয়ালস বল
  4. হাইড্রোজেন বন্ধন
ব্যাখ্যা
- ডায়মন্ড হলো কার্বনের একটি স্ফটিক রূপভেদ, যা পৃথিবীর অন্যতম কঠিন পদার্থ হিসেবে পরিচিত।
- এর কঠোরতার প্রধান কারণ হলো কার্বন পরমাণুগুলোর মধ্যে শক্তিশালী কোভালেন্ট বন্ধন।

• কোভালেন্ট বন্ধন:
- প্রতিটি  কার্বন পরমাণু তার চারটি ভ্যালেন্স ইলেকট্রনের মাধ্যমে চারটি অন্যান্য কার্বন পরমাণুর সঙ্গে শক্তিশালী C-C কোভালেন্ট বন্ধন তৈরি করে।
- ফলে এটি একটি ত্রিমাত্রিক (3D) জালিকা কাঠামো তৈরি করে।
- এই বন্ধনগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী, তাই ডায়মন্ড খুব কঠিন এবং এটি সহজে ভাঙে না বা চ্যাপ্টা হয় না।

উৎস: রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
৬২১.
রাদারফোর্ডের কোন পরীক্ষার মাধ্যমে পরমাণুর কেন্দ্রের অস্তিত্ব জানা যায়? 
  1. β কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  2. α কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  3. ∞ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
  4. γ কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা
ব্যাখ্যা

রাদারফোর্ড পরমাণু মডেল: 
- বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড 1911 সালে α-কণা বিচ্ছুরণ পরীক্ষা শেষে পরমাণুর গঠন সম্পর্কে একটি মডেল উপস্থাপন করেন। সেটি হলো- 

i. পরমাণুর দুটি অংশ একটি নিউক্লিয়াস এবং অপরটি নিউক্লিয়াসের বাইরের অংশ।
ii. পরমাণু প্রায় সমস্ত ভর পরমাণুর আয়তনের তুলনায় খুব সূক্ষ্ম স্থানে পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। পরমাণুর কেন্দ্রের এ সূক্ষ্ম অংশকে নিউক্লিয়াস বলে। নিউক্লিয়াসের আকার গোলাকার এবং ব্যাস 10-12 10-13 cm এর মধ্যে।
iii. ভারী ধনাত্মক আধান যুক্ত কণা প্রোটন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে। ইলেকট্রনের ভর অত্যন্ত নগণ্য। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভর নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে।
iv. পরমাণু আধান নিরপেক্ষ। পরমাণুতে ধনাত্মক আধান যুক্ত প্রোটনের সংখ্যা ও ঋণাত্মক আধান যুক্ত ইলেকট্রনের সংখ্যা সমান থাকে। একটি প্রোটন যে পরিমাণ ধনাত্মক আধান বহন করে, একটি ইলেকট্রন ঠিক ঐ একই পরিমাণ ঋণাত্মক আধান বহন করে।
v. নিউক্লিয়াসের বাইরে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বৃত্তাকার পথে সমদ্রুতগতিতে আবর্তন করে।

• রাদারফোর্ড পরমাণুর মডেলকে সৌর মডেলের সাথে তুলনা করা হয়। কারণ-
- রাদারফোর্ড তাঁর পরমাণু মডেলকে সৌরজগতের সাথে তুলনা করেন।
- সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ কক্ষ পথে বিভিন্ন গ্রহগুলো যেভাবে পরিভ্রমণ করে ঠিক একইভাবে ইলেকট্রনগুলো নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নিজ নিজ কক্ষপথে তীব্র বেগে পরিভ্রমণ করে।
- তাঁর ধারণা মতে নিউক্লিয়াসের চারদিকে ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের মধ্যে বিদ্যমান স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণজনিত কেন্দ্রমুখী বল এবং অপরটি ঘূর্ণায়মান ইলেকট্রনের কেন্দ্রবিমুখী বল।
- এ দুই প্রকার বলের মান পরস্পর সমান কিন্তু বিপরীতমুখী।
- তাই বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড পরমাণু মডেলকে সৌর মডেলের সাথে তুলনা করেন।

তথ্যসূত্র: রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬২২.
যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বলা হয় -
  1. ক) বিজারক
  2. খ) বিকারক
  3. গ) জারক
  4. ঘ) ক এবং খ
ব্যাখ্যা
- জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের বর্জন ঘটে এবং বিজারণে গ্রহণ হয়।
- যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক (Oxidant) এবং যে বিক্রিয়ক ইলেকট্রন বর্জন করে তাকে বিজারক (Reductant) বলে।
- জারক অন্যকে জারিত করে এবং নিজে বিজারিত হয়, বিজারক অন্যকে বিজারিত করে এবং নিজে জারিত হয়।
এভাবে মনে রাখতে হবে,
জারণ = ইলেক্ট্রন ত্যাগ
জারক = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারণ = ইলেক্ট্রন গ্রহণ
বিজারক = ইলেক্ট্রন ত্যাগ

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৬২৩.
পরমাণুর অস্থায়ী কণিকার উদাহরণ কোনটি?
  1. নিউট্রন
  2. নিউট্রিনো
  3. ইলেকট্রন
  4. প্রোটন
ব্যাখ্যা

পরমাণুর মূল কণিকা: 
ঊনিশ শতকের শেষ দশকে পরমাণু অবিভাজ্য এ ধারণাটির বিলুপ্তি ঘটে এবং পরমাণু কতগুলো অতিসূক্ষ্ম কণিকার সমষ্টি বলে প্রমাণিত হয়। এসব অতিসূক্ষ্ম কণিকাকে আর বিভাজন করা যায় না এবং এরা মূল উপাদান হিসেবে সব পরমাণুতেই থাকে। এদেরকে পরমাণুর মূল কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মূল কণিকা কয়েক ধরনের। 
যেমন- 
(১) স্থায়ী মূল কণিকা: 
- ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন এই তিনটি মূল কণিকা সব মৌলের পরমাণুতে থাকে বলে এগুলোকে স্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- শুধুমাত্র হাইড্রোজেন পরমাণুতে শুধু ১ টি ইলেকট্রন ও ১ টি প্রোটন আছে, এতে কোনো নিউট্রন নেই। 

(২) অস্থায়ী মূল কণিকা: 
- কিছু কিছু মূল কণিকা কোন কোন মৌলের পরমাণুতে অস্থায়ীভাবে খুব স্বল্প সময়ের জন্য বিরাজ করে। এগুলোকে অস্থায়ী মূল কণিকা বলা হয়। 
- অস্থায়ী মূলকনিকার সংখ্যা প্রায় ১০০। 
- নিউট্রিনো, অ্যান্টি নিউট্রিনো, পজিট্রন, মেসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য অস্থায়ী মূলকণিকা। 

(৩) কম্পোজিট কণিকা: 
- স্থায়ী ও অস্থায়ী মূলকণিকা ছাড়াও আরও এক প্রকার কণিকা পরমাণুতে থাকে, যাদেরকে কম্পোজিট কণিকা বলা হয়। 
- আলফা কণিকা ও ডিউটেরন কণিকা ইত্যাদি কম্পোজিট কণিকার উদাহরণ। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৪.
হাইড্রোজেন পরমাণুতে কোনটি নেই?
  1. ইলেকট্রন
  2. প্রোটন
  3. নিউট্রন
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• হাইড্রোজেন (H) পরমাণু:
- হাইড্রোজেন মৌলের প্রতীক H এবং সংকেত H2
- হাইড্রোজেনের পারমাণবিক সংখ্যা ১ এবং ভর সংখ্যাও ১।
- একটি হাইড্রোজেন পরমাণু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এখানে কেন্দ্রের বাইরে কক্ষপথে ১টি ইলেকট্রন এবং কেন্দ্রে ১টি প্রোটন অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন (প্রোটিয়াম) পরমাণুর কেন্দ্রে কোনো নিউট্রন থাকে না।
- তবে হাইড্রোজেনের অন্য দুটি আইসোটোপ- ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১টি ও ২টি করে নিউট্রন পরমাণুর কেন্দ্রে অবস্থান করে।
- হাইড্রোজেন পরমাণু বলতে স্বাভাবিকভাবে প্রোটিয়াম কেই বোঝায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬২৫.
ঘনত্বের S.I একক কী? 
  1. g/mL
  2. kg/m3
  3. kg/L
  4. g/cm3
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব (Density): 
- একই আয়তনের সকল পদার্থের ভর সমান নয়, তাই পদার্থের একক আয়তনের ভরকে তার ঘনত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
যেমন- দশ একক আয়তনের বস্তুর ভর বিশ একক হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব দুই একক। 
অর্থাৎ, বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে।
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V  । 
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং আয়তনের একক ঘনমিটার (m3), তাই ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার (সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)
- ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার (সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা g/cm3) বহুল প্রচলিত, এটি S.I এককের উপগুণিতক। 

- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। ঘনত্বের মাত্রা, [ρ] = ML-3  । 
- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়। 
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়। 
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়। 
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc । 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৬.
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে সাধারণত ইলেকট্রন আসক্তি কী করে? 
  1. বাড়ে
  2. কমে যায়
  3. শূন্য হয়ে যায়
  4. অপরিবর্তিত থাকে
ব্যাখ্যা
ইলেকট্রন আসক্তি: 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 
যেমন- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির ২ নং গ্রুপ-এর মৌল। এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি। আবার Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra ইলেকট্রন আসক্তি সবচেয়ে কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৭.
পাইপলাইনের কোথাও ছিদ্র হয়ে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি কোন প্রক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. দহন
  2. বিকিরণ
  3. ব্যাপন
  4. নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
নিঃসরণ: 
- কোনো নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় বাহ্যিক চাপের প্রভাবে পাত্রের সূক্ষ ছিদ্রপথ দিয়ে কোনো উপাদানের উচ্চ চাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে একমুখী বের হওয়ার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলা হয়। 
যেমন- 
১। রিক্সার চাকা ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় টিউব থেকে বাতাস বেরিয়ে পড়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 
২। পাকা রাস্তা দিয়ে দ্রুত গতিতে বাস বা ট্রাক চলছে, হঠাৎ করে চাকা ফেটে গিয়ে ভিতরের বায়ু বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই নিঃসরণ। 
৩। শহর এলাকায় যে পাইপ লাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ করা হয় শ্বে পাইপের কোথাও ছিদ্র হয়ে গেলে তীব্র বেগে গ্যাস বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাই হচ্ছে নিঃসরণ। 

ব্যাপন: 
- অসম ঘনত্ব বিশিষ্ট একটি গ্যাস বা তরল অপর গ্যাসের বা তরলের মধ্যে স্বাভাবিক ও স্বত:স্ফূর্ত অনু প্রবেশকে ব্যাপন বলা হয়। 
যেমন- 
১। কোনো কক্ষের মধ্যে অথবা এয়ারকন্ডিশনার যুক্ত বাসের মধ্যে চলার সময় বায়ুর গুমোট ভাব ও দুর্গন্ধ তাড়ানোর জন্য এয়ার ফ্রেসনার ছড়িয়ে দেয়া হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
২। রাতের বেলা ঘরের কোনে হাসনা-হেনা বা গোলাপ ফুল ফুটলে তার গন্ধও ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
৩। ঘরের মসা, আরশোলা, পিঁপড়া মারার ক্ষেত্রে যে অ্যারোসল ব্যবহার করা হয় তার গন্ধ ব্যাপন প্রক্রিয়াই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। 
- প্রতিটি ক্ষেত্রে উচ্চ ঘনত্বের অঞ্চল থেকে নিম্ন ঘনত্বের অঞ্চলে উপাদানের পরিব্যাপ্তি ঘটেছে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৮.
ধাতুর ক্ষয়রোধের পদ্ধতি নয় কোনটি?
  1. ইলেকট্রোপ্লেটিং
  2. পানিতে ধৌতকরণ
  3. রং করা
  4. গ্যালভানাইজিং
ব্যাখ্যা
• পানিতে ধৌতকরণ ধাতুর ক্ষয়রোধের কোনো পদ্ধতি নয়। 

• ধাতুর ক্ষয়:

- ধাতু যখন বাতাসের অক্সিজেন, আর্দ্রতা বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সঙ্গে বিক্রিয়া করে ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়, তখন তাকে ধাতুর ক্ষয় বলা হয়।

• এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যেখানে ধাতু বাতাসের অক্সিজেন, জলীয় বাষ্প, বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এসে অক্সিডাইজড (জারিত) হয় এবং ক্ষয়ে যায়। 
- এটিকে মরিচা পড়া বা ক্ষয়ে যাওয়া বলা হয়। 

• ধাতুর ক্ষয় বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন:  
→ রাসায়নিক বিক্রিয়া:
- যখন ধাতু বাতাসের অক্সিজেন বা অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন তাদের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, যা ধাতুর ক্ষয় ঘটায়।
→ বায়ু দূষণ:
- বায়ু দূষণের কারণে অ্যাসিড বৃষ্টি বা অন্যান্য ক্ষতিকারক পদার্থ ধাতুর সংস্পর্শে এলে, তা দ্রুত ক্ষয়ে যেতে পারে।

• ধাতু ক্ষয়রোধের উপায়:
(i) রং করা,
(ii) ইলেকট্রোপ্লেটিং,
(iii) গ্যালভানাইজিং করে ইত্যাদি।

• ধাতু বা সংকর ধাতু যদি বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সংস্পর্শে না আসে তবে ধাতু ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না।
 • কম সক্রিয় ধাতু সাধারণত বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে না। কিন্তু বেশি সক্রিয় ধাতু বাতাসের অক্সিজেন এবং পানির সাথে দ্রুত বিক্রিয়া করে।
- অতএব, বেশি সক্রিয় ধাতুর ক্ষয় হওয়া থেকে ধাতুকে রক্ষা করার জন্য বেশি সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দেওয়া হয়।
- এভাবে বেশি সক্রিয় ধাতুকে ক্ষয় হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।
- একটি অধিক সক্রিয় ধাতুর উপর কম সক্রিয় ধাতুর প্রলেপ দুইভাবে দেওয়া যায়। যথা-ইলেকট্রোপ্লেটিং ও গ্যালভানাইজিং।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬২৯.
নিচের কোনটিকে মৌলিক কণিকা বলা হয়? 
  1. প্রোটন
  2. ইলেকট্রন 
  3. নিউট্রন 
  4. সবগুলোই 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- ১। ইলেকট্রন, ২। প্রোটন ও ৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন (electron) নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩০.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে কতটি পর্যায় আছে?
  1. ৫ টি
  2. ৭ টি
  3. ৮ টি
  4. ১১ টি
ব্যাখ্যা

• পর্যায় সারণি (Periodic Table):
- পর্যায় সারণি হলো এমন একটি সারণি, যেখানে মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুযায়ী সাজানো হয়।

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য-
- পর্যায় সারণিতে ৭ টি পর্যায় বা আনুভূমিক সারি রয়েছে।
- সারণিতে ১৮ টি গ্রুপ বা খাড়া স্তম্ভ রয়েছে।
-  প্রতিটি পর্যায় বাম দিকে গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৬৩১.
কোনটি বিদ্যুৎ কুপরিবাহী?
  1. তামা
  2. রাবার
  3. লোহা
  4. রূপা
ব্যাখ্যা
• সুপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থ খুব সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে তাকে তাপ সুপরিবাহী বলে।
- যেমন- লোহা, তামা, রূপা, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি।

• কুপরিবাহী পদার্থ:
- যে সব পদার্থ সহজে তাপ পরিবহণ করতে পারে না তাকে তাপ কুপরিবাহী পদার্থ বলে।
- যেমন- তুলা, কাঠ, পশম, রাবার, কাঁচ, পাস্টিক ইত্যাদি।

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি এবং পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩২.
সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক কণা -
  1. ক) হিগস-বোসন
  2. খ) ফোটন
  3. গ) পজিট্রন
  4. ঘ) মেসন
ব্যাখ্যা
- সর্বশেষ আবিষ্কৃত মৌলিক কণা হলো হিগস-বোসন ।
- ২০১২ সালের ৪ জুলাই LHC (Large Hadron Collider ) এর বিজ্ঞানীরা ঘোষণা করেছিলেন যে তারা একটি আকর্ষণীয় সংকেত সনাক্ত করেছেন যা সম্ভবত হিগস বোসন থেকে।

সূত্র- ব্রিটানিকা
৬৩৩.
1 atm = কত প্যাসকেল?
  1. 1.01325 × 102
  2. 1.01325 × 10- 2
  3. 1.01325 × 10- 5
  4. 1.01325 × 105
ব্যাখ্যা
চাপ (Pressure): 
- গ্যাসপাত্রে গ্যাসের অণুসমূহ অবিরত ইতস্তত ছুটাছুটি করার ফলে গ্যাস পাত্রের একক ক্ষেত্রফলের ওপর গ্যাস অণুসমূহ যে বল প্রয়োগ করে, তাকে গ্যাসের চাপ বলে। 
- বহুকাল থেকে গ্যাসের চাপের একক বায়ুচাপ বা বায়ুমণ্ডল বা অ্যাটমসফিয়ার (atmosphere, সংক্ষেপে atm) ব্যবহৃত হয়ে আসছে। 
- ০°C তাপমাত্রায় 45° অক্ষাংশে সমুদ্র সমতলে যে পরিমাণ বায়ুচাপ 760 mm পারদ স্তম্ভের চাপের সমান হয়, তাকে এক বায়ুমণ্ডল চাপ বা এক বায়ুচাপ (atm) বলে।
- মি.মি. পারদ mm (Hg) এককেও চাপ প্রকাশ করা হয়। 
- বিজ্ঞানী টরিসেলির (E.Torricelli) নামানুসারেও নিম্নচাপের ক্ষেত্রে টর (torr) একক ব্যবহৃত হয়। 
∴ 1 torr = 1 mm (Hg)। 
- সাধারণভাবে বিভিন্ন গণনার কাজে চাপের একক atm, mm (Hg) বা torr ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজে S.I এককে গ্যাসের চাপ নিম্নরূপে প্রকাশ করা হয়। 
- S.I এককে গ্যাসের চাপকে নিউটন/মিটার2 বা প্যাসকেল (Pa) এককে প্রকাশ করা হয়। 
- প্রতি বর্গমিটারে এক নিউটন বলকে প্যাসকেল (Pascal) বলা হয়।
[1Pa = 1 Nm-2 [Nm-2 = kgms-2.m-2 = kgm-1.s-2]. 

1 বায়ুমণ্ডল চাপ = 1 atm = 0.76 m (Hg) স্তম্ভের ভর। 
= 0.76 m x (13.5951 x 103 kgm-3) x 9.80665 ms-2
1 atm = 101.325 x 103 Nm-2 = 101.325 × 103 Pa = 101.325 kPa. 
1 atm = 101.325 kPa = 1.01325 × 105 Pa = 1.01325 × 105 Nm-2 = 760 mm (Hg). 

চাপের বিভিন্ন এককের সম্পর্ক: 
- গ্যাসের চাপকে নিম্নোক্ত বিভিন্ন এককে প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- 
1 atm = 76.0 cm (Hg) = 760 mm (Hg) = 101.325 kPa = 101.325× 103 Pa = 760 torr = 1 bar. 
উল্লেখ্য,
- S.I এককে যে পরিমাণ বল এক কিলোগ্রাম ভর বিশিষ্ট কোন বস্তুর ওপর প্রযুক্ত হয়ে এক মিটার/(সেকেন্ড)2 ত্বরণ সৃষ্টি করে, তাকে এক নিউটন (N) বলে। 
∴ 1 N বল = 1 kgms-2

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৬৩৪.
ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে বলা হয় পরস্পরের ___।
  1. আইসোটোপ
  2. আইসোটোন
  3. আইসোবার
  4. আইসোমার 
ব্যাখ্যা

• ভর সংখ্যা সমান কিন্তু প্রোটন ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন পরমাণুগুলোকে বলা হয় আইসোবার। 

আইসোবার:
- এটি হলো সেই পরমাণু বা নিউক্লিয়াস, যেগুলোর ভর সংখ্যা (A) সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা (Z) এবং নিউট্রন সংখ্যা (N) ভিন্ন।
- অর্থাৎ, এগুলোতে মোট নিউক্লিয়ন সংখ্যা একই থাকলেও, মৌলিক পরিচয় বা পারমাণবিক সংখ্যা আলাদা।
- এই কারণে সমপরমাণুর রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ভিন্ন হতে পারে।
উদাহরণ:
- 14C (কার্বন-14) এবং 14​N (নাইট্রোজেন-14)।
- উভয়ের ভর সংখ্যা 14 সমান।
- কার্বনের প্রোটন সংখ্যা 6 এবং নিউট্রন সংখ্যা 8।
- নাইট্রোজেনের প্রোটন সংখ্যা 7 এবং নিউট্রন সংখ্যা 7।
- তাই এগুলো আইসোবার।

• অপশন আলোচনা:
আইসোটোপ: প্রোটন সংখ্যা সমান, কিন্তু নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন। উদাহরণ: 12C ও 14C.
আইসোটোন: নিউট্রন সংখ্যা সমান, কিন্তু প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন। উদাহরণ: 14C ও 15N.
আইসোমার: একই নিউক্লিয়াসের বিভিন্ন উত্তেজিত বা স্থিতিশীল অবস্থার পার্থক্য।

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩৫.
ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২ হলে, Mg2+ এর ইলেক্ট্রন সংখ্যা কত?
  1. ১৬
  2. ১৪
  3. ১২
  4. ১০
ব্যাখ্যা
• কোন মৌলের প্রোটন সংখ্যাই ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা।
• আবার কোনো মৌলে প্রোটন সংখ্যার সমান সংখ্যক ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাইরে অবস্থান করে।
- তাই মৌলের প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যা হবে ইলেট্রন সংখ্যার সমান।

• কোনো মৌলের ভরসংখ্যা ও পারমাণবিক সংখ্যার পার্থক্য হল নিউট্রন সংখ্যা।
অর্থাৎ,
ভর সংখ্যা = প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা।

- ম্যাগনেসিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা ১২।
- অর্থাৎ ম্যাগনেসিয়ামের ইলেট্রন সংখ্যা ১২।
- Mg2+ এর মানে হচ্ছে - ম্যাগনেসিয়াম ২টি ইলেক্ট্রন ত্যাগ করেছে।
- তাই, Mg2+ এর ইলেক্ট্রন সংখ্যা ১০।

সূত্র: বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি।
৬৩৬.
কার্বনের তেজস্ক্রিয় আইসোটোপে প্রোটন কতটি?
  1. ক) ৬
  2. খ) ৭
  3. গ) ৮
  4. ঘ) কোনটাই না
ব্যাখ্যা
৬ টি প্রোটন এবং ৮ টি নিউট্রন সমৃদ্ধ কার্বনের C14 আইসোটোপটি তেজস্ক্রিয়।উল্লেখ্য যে প্রোটন সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে আইসোটোপে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
৬৩৭.
What type of process happens in iron during rust formation?
  1. Only Physical Change
  2. Oxidation Reaction
  3. Reduction Reaction
  4. Thermal Reaction
  5. Combustion Reaction
ব্যাখ্যা
• লোহায় মরিচা পড়ার সময় লোহাতে জারণ বিক্রিয়া ঘটে। 

• মরিচা:

- বিশুদ্ধ লোহা, জলীয় বাষ্প ও বায়ুর অক্সিজেন রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে লোহার যে অক্সাইড গঠন করে তাকে মরিচা বলে।

• লোহাকে বাতাসে দীর্ঘসময় রেখে দিলে বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে লোহা বিক্রিয়া করে মরিচা তৈরি করে।
- লোহার উপর মরিচা পড়া অনেক ধীর গতিতে সংঘটিত হয়।
- লোহায় মরিচা পড়ার এই প্রক্রিয়া টি জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া। 
- এখানে এক ধাপে জারণ এবং অন্যধাপে বিজারণ ঘটে থাকে। 

• মরিচা পড়ার প্রক্রিয়া:
- লোহা (Fe) অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে।
- এই বিক্রিয়ায় লোহা অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয় এবং ইলেকট্রন ত্যাগ করে।
- এর ফলে লোহাতে জারণ ঘটে।
- ত্যাগকৃত ইলেকট্রনটি অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন আয়ন গ্রহণ করে পানি তৈরি করে, যা বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে।
- ফলে, লোহার অক্সাইড (Fe2O3) গঠিত হয়, যা মরিচা নামে পরিচিত।
- এই পুরো প্রক্রিয়াটি জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে থাকে। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- ব্রিটানিকা। 
৬৩৮.
নাইট্রাস অক্সাইড মূলত কোন ধরনের পদার্থের উদাহরণ? 
  1. তেজস্ক্রিয় পদার্থ 
  2. উত্তেজক পদার্থ  
  3. বিস্ফোরক পদার্থ 
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

বিস্ফোরক পদার্থ (Explosive substance): 
- টিএনটি, পার-অক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিন ইত্যাদি এক ধরনের বিস্ফোরক পদার্থ।এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় মনে রাখতে হবে এসব পদার্থে আগুন লাগলে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ হতে পারে, যার জন্য শরীরের এবং গবেষণাগারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়াচাড়া করতে হয়। 

দাহ্য পদার্থ (Flammable substance): 
- অ্যালকোহল, ইথার ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। এসব পদার্থে দ্রুত আগুন ধরে যেতে পারে। তাই এদের আগুন বা তাপ থেকে সব সময় দূরে রাখতে হবে। 

বিষাক্ত পদার্থ (Toxic substance): 
- বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল এ ধরনের পদার্থ। এ পদার্থ শরীরে লাগলে বা শ্বাস-প্রশ্বাস অথবা ক্ষতের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে শরীরের নানা ধরনের ক্ষতি হতে পারে। এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস, মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। 

উত্তেজক পদার্থ (Irritant substance): 
- ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। এগুলো ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের পদার্থ ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ব্যবহার করতে হবে। 

স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ পদার্থ (Health risk substance): 
- বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি এ ধরনের পদার্থ। এ ধরনের পদার্থ ত্বকে লাগলে বা শ্বাসপ্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে গেলে তা শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে। এগুলো শরীরে প্রবেশ করলে ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগ কিংবা শ্বাসতন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। তাই এগুলোকে সতর্কভাবে রাখতে হবে এবং ব্যবহারের সময় অ্যাপ্রোন, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ও মাস্ক পরে নিতে হবে। 

তেজস্ক্রিয় পদার্থ (Radioactive substance): 
- ইউরেনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ। এসব পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক রশ্মি বের হয় যা ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধি সৃষ্টি করতে পারে কিংবা একজনকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। তাই এসব পদার্থ ব্যবহারের সময় বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। 

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর (Dangerous for environment): 
- লেড, মার্কারি ইত্যাদি পদার্থগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই এগুলোকে ব্যবহার করার সময় যথেষ্ট সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ব্যবহারের পরে এগুলো যেখানে-সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখতে হবে। এসব পদার্থকে যথাসম্ভব পুনরুদ্ধার করে আবার ব্যবহার করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে এগুলো সহজে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। 

ক্ষত সৃষ্টিকারী (Corrosive): 
- হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের ঘন দ্রবণ এ জাতীয় পদার্থের উদাহরণ। এ পদার্থগুলো শরীরে লাগলে শরীরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে তা শরীরের ভেতরের অঙ্গেরও ক্ষতিসাধন করতে পারে। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩৯.
কোনটি শুষ্ক বরফের উপাদান? 
  1. NH3
  2. CO2
  3. H2O
  4. PH3
ব্যাখ্যা

• শুষ্ক বরফ:
- শুষ্ক বরফ( Dry ice ) হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) এর কঠিন রূপ। 
- শুষ্ক বরফের উর্দ্ধপাতন হয়, যার অর্থ এটি তার কঠিন রূপ থেকে সরাসরি তার গ্যাসীয় অবস্থায় চলে যায়। 
- "শুষ্ক বরফ" আসলে কঠিন হিমায়িত কার্বন ডাই অক্সাইড, যা ঠাণ্ডা -78.5 °C (-109.3° ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় পরমানন্দ বা গ্যাসে পরিণত হয়। 
- তাই এর নাম 'শুষ্ক বরফ' বা 'ড্রাই আইস'। 

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

৬৪০.
টিউবলাইটে সাধারণত কোন গ্যাস ব্যবহার করা হয়?
  1. অক্সিজেন
  2. আর্গন
  3. রেডন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

• টিউবলাইটের ভেতরে খুব কম চাপে নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিসেবে আর্গন এবং সামান্য পারদ বাষ্প ব্যবহার করা হয়।

• আর্গনের ব্যবহার:
১. বৈদ্যুতিক বাল্বের ফিলামেন্টকে জারণ থেকে রক্ষা করার জন্য গ্যাসভর্তি বাল্বে আর্গন ব্যবহার করা হয়। সাধারণ টিউব লাইটগুলিতে আর্গন এবং মারকারি (পারদ) বাষ্পের মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়।
২. রসায়ন গবেষণাগারে যেখানে অতি নিষ্ক্রিয় আবহাওয়ার প্রয়োজন হয় সেখানে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।
৩. ঝালাই এর কাজে যেখানে নিষ্ক্রিয় আবহাওয়া প্রয়োজন হয় সেখানে অক্সিজেনের সাথে আর্গন ব্যবহার করা হয়। আজকাল এ্যালুমিনিয়াম এবং মরিচাবিহীন স্টীলের ঝালাই এর কাজে প্রচুর পরিমাণে আর্গন ব্যবহার করা হচ্ছে।
৪. তেজষ্ক্রিয়তা পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত গাইগার মূলার কাউন্টারে আর্গন গ্যাস ব্যবহার করা হয়।।
৫. বিভিন্ন ধাতু যেমন অ্যালুমিনিয়াম বা স্টেইনলেস স্টিল জোড়া দেওয়ার সময় (TIG Welding) বাতাস থেকে অক্সিজেন সরিয়ে দিয়ে পরিষ্কার ঢালাই নিশ্চিত করতে আর্গন শিল্ডিং গ্যাস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৬. রেডিওকার্বন ডেটিং: ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় পটাশিয়াম-আর্গন ডেটিং পদ্ধতিতে শিলা বা খনিজের বয়স নির্ণয় করা হয়।

উৎস: রসায়ন বই, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ব্রিটানিকা।

৬৪১.
পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় বৃহৎ অণুকে কী বলা হয়? 
  1. মনোমার অণু 
  2. পলিমার অণু
  3. আয়নিক যৌগ 
  4. মৌলিক অণু 
ব্যাখ্যা

পলিমারকরণ (Polymerization) বিক্রিয়া: 
- প্রভাবক, উচ্চ চাপ ও তাপের প্রভাবে যখন এক বা একাধিক যৌগের অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু পরস্পরের সাথে যুক্ত হয়ে একটি বৃহদাকার অণু তৈরি করে তখন তাকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। 
- এক্ষেত্রে বৃহদাকার অণুটিকে পলিমার অণু এবং ক্ষুদ্র অণুটিকে মনোমার অণু বলা হয়। 
- যে বিক্রিয়ায় অসংখ্য মনোমার থেকে পলিমার উৎপন্ন হয় তাকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে। 
- 1200 atm চাপে 200 °C তাপমাত্রায় ও O2 প্রভাবকের উপস্থিতিতে ইথিলিনের অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে বৃহৎ পলিমার অণু পলিথিন উৎপন্ন করে, এ বিক্রিয়া হচ্ছে ইথিলিনের পলিমারকরণ বিক্রিয়া। 
এখানে, ইথিলিন মনোমার এবং পলিথিন পলিমার অণু হিসেবে বিবেচিত। যেখানে, n দ্বারা ইথিলিনের অসংখ্য অণুর সংখ্যা বোঝায়। 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪২.
হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা গ্যাস কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. নিয়ন
  3. আর্গন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার: 
- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়। 
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা গ্যাস। 
- হাইড্রোজেন (H2) গ্যাসের তুলনায় হিলিয়াম (He) গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় 92%। 
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়। 
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্‌কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে। 
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন। 
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। 
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়। 
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী ও নাগ)।

৬৪৩.
উদ্ভিদে কোন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে বের হয়ে যায়? 
  1. শ্বসন
  2. নিঃসরণ
  3. প্রস্বেদন
  4. অভিসরণ
ব্যাখ্যা
প্রস্বেদন: 
- উদ্ভিদ মাটি থেকে যে পরিমাণ পানি শোষণ করে তার সামান্য অংশই বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ব্যয় করে। 
- অধিকাংশ পানি উদ্ভিদদেহ থেকে বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। 
- যে শারীরতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদদেহ থেকে পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায় তাকে প্রস্বেদন বলে। 
- প্রস্বেদনের প্রধান অঙ্গ উদ্ভিদের পাতা। 
- এছাড়া প্রক্রিয়াটি কান্ড এবং তার শাখা প্রশাখার মাধ্যমেও হয়ে থাকে। 
- উদ্ভিদে তিন ধরনের প্রস্বেদন দেখা যায়। যথা- 
(ক) পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন, 
(খ) ত্বকীয় প্রস্বেদন এবং 
(গ) লেন্টিকুলার প্রস্বেদন। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৪.
পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে সাধারণত ইলেকট্রন আসক্তির কী পরিবর্তন হয়? 
  1. বৃদ্ধি পায়
  2. হ্রাস পায়
  3. শূন্য হয়ে যায় 
  4. অপরিবর্তিত থাকে 
ব্যাখ্যা
• পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে মৌলের ইলেকট্রন আসক্তির মান বৃদ্ধি পায়। 

• ইলেকট্রন আসক্তি: 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণুতে এক মোল ইলেকট্রন প্রবেশ করিয়ে এক মোল ঋণাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তি নির্গত হয়, তাকে ঐ মৌলের ইলেকট্রন আসক্তি বলে। 
- ইলেকট্রন আসক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে ইলেকট্রন আসক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে ইলেকট্রন আসক্তির মান কমে। 
যেমন- Be, Ca, Sr, Ba, Mg এবং Ra মৌলগুলো পর্যায় সারণির ২ নং গ্রুপ-এর মৌল।
- এই মৌলগুলোর মধ্যে Be এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এর জন্য Be এর ইলেকট্রন আসক্তির মান সবচেয়ে বেশি।
- আবার Ra এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে বেশি, এর জন্য Ra ইলেকট্রন আসক্তি সবচেয়ে কম। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬৪৫.
কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।- এটি কোন ধরনের বিক্রিয়া?
  1. সংযোজন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া
  4. দহন বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- 
১। সংযোজন বিক্রিয়া, 
২। বিয়োজন বিক্রিয়া, 
৩। প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং 
৪। দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি।

দহন বিক্রিয়া (Combustion Reaction):
- এ প্রক্রিয়ায় কোন মৌল বা যৌগকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পুড়িয়ে তার সাথে সংযুক্ত উপাদান মৌলগুলোকে অক্সাইড যৌগে পরিণত করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ,
- কার্বনকে বায়ুতে পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- সালফারকে বায়ুতে পোড়ালে সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়।
- মিথেন গ্যাসকে বায়ুর অক্সিজেনের উপস্থিতিতে পোড়ালে মিথেনের উপাদান মৌল কার্বন পরিবর্তিত হয়ে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং হাইড্রোজেন পরিবর্তিত হয়ে উহার অক্সাইড পানি উৎপন্ন করে। এ দহন বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন তাপ রান্নাসহ অন্যান্য কাজ বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬৪৬.
নিচের কোনটি বয়েল ও চার্লসের সমন্বয় সূত্র?
  1. V ∝ 1/P
  2. V ∝ T
  3. PT = V
  4. PV/T = ধ্রুবক 
ব্যাখ্যা
বয়েল ও চার্লসের সূত্রের সমন্বয়: 
বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন এর উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 

চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোনো নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন তার উপর আরোপিত পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক। 

এখন, 
নির্দিষ্ট ভরের কোনো গ্যাসের আয়তন V, চাপ P ও কেনভিন তাপমাত্রা T হলে- 
বয়েলের সূত্র মতে, V ∝ 1/P যখন তাপমাত্রা স্থির। ................ (i)
চার্লসের সূত্র মতে, V ∝ T যখন চাপ স্থির।................. (ii) 

(i) নং ও (ii) নং সম্পর্ক হতে লিখা যায়-
V ∝ (1/P) × T (যখন তাপমাত্রা ও চাপ উভয়েই পরিবর্তনশীল)
বা, V = K × T/P (এখানে, K একটি সমানুপাতিক ধ্রুবক) 
বা, PV = KT
বা, PV/T = K 
সুতরাং, PV/T = ধ্রুবক 
- এই সূত্রটিই বয়েল ও চার্লসের সূত্রের সমন্বয়।
৬৪৭.
স্বাভাবিক আদর্শ পরিবেশে পানির ঘনত্ব যে তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ মান পরিগ্রহ করে তা হলো -
  1. ০° সেন্টিগ্রেড
  2. ১০০° সেন্টিগ্রেড
  3. ৪° সেন্টিগ্রেড
  4. ২৬৩° সেন্টিগ্রেড
ব্যাখ্যা
- বিশুদ্ধ পানি স্বাদহীন, গন্ধহীর আর বর্ণহীন। 
- পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপরে নির্ভর করে, পানির ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। 
- আর সেটি হচ্ছে ১ গ্রাম/ সি.সি বা ১০০০ কেজি/মিটার কিউব। 
অর্থাৎ, ১ সি.স. পানির ভর হলো ১ গ্রাম বা ১ কিউবিক মিটার পানির ভর হলো ১০০০ কেজি। 
- যে তাপমাত্রায় বরফ গলে যায়, সেটিই হচ্ছে বরফের গলনাংক। বরফের গলনাংক ০° সেলসিয়াস। 
- অন্যদিকে বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। আর পানির স্ফুটনাংক ১০০° সেলসিয়াস। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৮.
কোন নিষ্ক্রিয় গ্যাসের সর্বশেষ শক্তিস্তরে আটটি ইলেকট্রন নেই? 
  1. জেনন (Xe)
  2. নিয়ন (Ne)
  3. হিলিয়াম (He)
  4. ক্রিপ্টন
ব্যাখ্যা

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- হিলিয়াম (He), নিয়ন (Ne), আর্গন (Ar), ক্রিপ্টন (Kr), জেনন (Xe), রেডন (Rn) ও ওগানেসন (Og)।
- এরা অন্য মৌলের সাথে বিক্রিয়া করে না বলে এদেরকে অভিজাত বা মহান বা Noble গ্যাসও বলে। - একমাত্র হিলিয়াম ছাড়া অন্য সকল নিষ্ক্রিয় মৌলের যোজ্যতা স্তরে ৮ টি ইলেকট্রন আছে। 
- হিলিয়ামের যোজ্যতা স্তরে ২টি ইলেকট্রন আছে। 

নিস্ক্রিয় গ্যাসের ধর্মসমূহ: 
১. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলো সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে এক পরমাণুক গ্যাস। 
২. নিস্ক্রিয় গ্যাসগুলোর কোন বর্ণ, স্বাদ বা গন্ধ নেই। 
৩. প্রতি লিটার পানিতে নিস্ক্রিয় গ্যাসের দ্রাব্যতা অনেক কম। 
৪. গ্যাসের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক অত্যন্ত কম। 
৫. নিস্ক্রিয় গ্যাসসমূহের মধ্যে দুর্বল আকর্ষণ বল থাকার কারণে এদের গলনতাপ ও বাষ্পীয়ভবন তাপ কম।
৬. নিস্ক্রিয় গ্যাসের আয়নিকরণ শক্তি সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট। 

৬৪৯.
সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার নাম- 
  1. ব্যাপন
  2. নিঃসরণ
  3. পাতন
  4. ঊর্ধ্বপাতন
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:

- সুগন্ধির শিশির মুখ খুলে রাখলে সুগন্ধি ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়ার নাম- ব্যাপন

অন্যদিকে,
ব্যাপন: 
- কোন মাধ্যমে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের স্বতঃস্ফূর্ত ও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাপন বলে। এই প্রক্রিয়ায় কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ উচ্চ ঘনমাত্রার স্থান থেকে নিম্ম ঘনমাত্রার দিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ছড়িয়ে পরে।

নিঃসরণ:
- সরু ছিদ্রপথে উচ্চচাপের স্থান থেকে কোন গাস নিম্মচাপের স্থানের দিকে সজোরে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে নিঃসরণ বলে। যেমন: সিলিন্ডার থেকে গ্যাস সজোরে বেরিয়ে আসার ঘটনা নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে প্রমান করে।

পাতন:
- কোন তরলকে তাপ প্রদানে বাস্পে পরিণত করে পুনরায় শীতলীকরণের মাধ্যমে তরলে পরিনত করার পদ্ধতিকে পাতন বলে। অর্থাৎ

             পাতন = বাষ্পীভবন + ঘনীভবন

ঊর্ধ্বপাতন:
- যে প্রক্রিয়ায় কোন কঠিন পদার্থকে তাপ প্রদান করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরিবাস্পে পরিণত হয়, সেই ঘটনাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে। যেমন: কর্পূর, আয়োডিন, নিশাদল ইত্যাদি ঊর্ধ্বপাতিত পদার্থ।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী

৬৫০.
Al এ উপস্থিত নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 12
  2. 13
  3. 14
  4. 11
ব্যাখ্যা

• অ্যালুমিনিয়ামে উপস্থিত নিউট্রন সংখ্যা 14টি। 

- অ্যালুমিনিয়ামের রাসায়নিক সংকেত Al এবং এটি এক ধাতব মৌল।
- এর পারমাণবিক সংখ্যা 13, যার অর্থ নিউক্লিয়াসে 13টি প্রোটন থাকে।
- এর পারমানবিক ভর 27। 
- নিউট্রন সংখ্যা বাড়লে নিউক্লিয়াস স্থিতিশীল থাকে।
- অ্যালুমিনিয়াম একমাত্র প্রাকৃতিক আইসোটোপ 27Al নিয়ে গঠিত, যার নিউট্রন সংখ্যা 14 হওয়াই এটির স্থিতিশীলতার মূল কারণ।
- যদি নিউট্রন সংখ্যা বেশি বা কম হতো, তবে মৌলটি তেজস্ক্রিয় (Radioactive) হয়ে যেতে পারত।

নিউট্রন সংখ্যা = ভর সংখ্যা - প্রোটন সংখ্যা 
= 27 - 13  
= 14 

উৎস:
- NCTB, রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫১.
নিচের কোনটি বয়েলের সূত্রকে সমর্থন করে? 
  1. V/T = ধ্রবক
  2. PV = ধ্রবক
  3. P/V = ধ্রবক
  4. VT = ধ্রবক
ব্যাখ্যা

• বয়েলের সূত্র: 
- স্থির তাপমাত্রায় কোন নির্দিষ্ট ভরের গ্যাসের আয়তন ঐ গ্যাসের উপর প্রযুক্ত চাপের ব্যস্তানুপাতিক। 
- গাণিতিকভাবে, V ∝ 1/P বা, PV = ধ্রুবক। 

• চার্লসের সূত্র: 
- স্থির চাপে কোন নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন প্রতি ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি বা হ্রাসে 0°C তাপমাত্রায় তার আয়তনের 1/273 ভাগ যথাক্রমে বৃদ্ধি বা হ্রাস পায়। 
- গাণিতিক ভাষায়, Vt = V0 (273 + t)/ 273 
- এ সূত্রকে অন্যভাবেও প্রকাশ করা যায়, “স্থির চাপে নির্দিষ্ট ভরের যে কোন গ্যাসের আয়তন তার পরম তাপমাত্রার সমানুপাতিক”। 
- গাণিতিকভাবে, V ∝ T বা, V/T = ধ্রুবক। 

• গে-লুস্যাকের চাপের সূত্র: 
- স্থির আয়তনে নির্দিষ্ট ভরের কোন গ্যাসের চাপ তার পরম তাপমাত্রার সাথে সমানুপাতিক । 
- গাণিতিকভাবে, P ∝ T বা, P/T = ধ্রুবক। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

৬৫২.
প্রোটনের আপেক্ষিক ভর কত?
  1. ক) ০.১
  2. খ) ১
  3. গ) ০.০১
  4. ঘ) ০.১১
ব্যাখ্যা
নিউট্রন এবং প্রোটনের আপেক্ষিক ভর হলো ১, ইলেকট্রনের ০।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬৫৩.
হাইড্রোজেন বোমা বিস্ফোরণের সময় কোন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়?
  1. ক) নিউক্লিয় বিভাজন
  2. খ) তেজস্ক্রিয় বিকিরণ
  3. গ) নিউক্লিয় সংযোজন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় দুটি ক্ষুদ্র নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে অপেক্ষাকৃত বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ভিন্ন মৌল তৈরি করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন বা নিউক্লিয় সংযােজন বিক্রিয়া বলে।

- সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্রে শক্তির উৎস হচ্ছে নিউক্লিয় ফিউশন বিক্রিয়া।

- নিউক্লিয় ফিউশন নীতির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোজেনের আইসােটোপ - ডিউটেরিয়াম, ট্রিটিয়াম ব্যবহার করে হাইড্রোজেন বােমা তৈরি করা হয়।

উৎসঃ পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৪.
শুষ্ক কোষে কে ইলেকট্রন দান করে? 
  1. দস্তার খোল
  2. কার্বন দণ্ড
  3. কয়লার গুঁড়া
  4. ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell): 
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ।
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে। 

গঠন: 
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। 
- চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়। 
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে। 
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে। 
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে। 
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে। 
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়। 
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে। 
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে। 
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
৬৫৫.
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কী নেই?
  1. আকার
  2. ভর
  3. আয়তন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
পদার্থ: 
- যে বস্তুর নির্দিষ্ট ভর আছে এবং জায়গা দখল করে তাকে পদার্থ বলে। 
- কক্ষ তাপমাত্রায় কোনো কোনো পদার্থ কঠিন, তরল এবং বায়বীয় এই তিন অবস্থায় থাকতে পারে। 
যেমন- 
কঠিন পদার্থ: 
- কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট ভর, নির্দিষ্ট আকার এবং নির্দিষ্ট আয়তন থাকে। 
- সব পদার্থের কণাগুলোর মধ্যেই এক ধরনের আকর্ষণ বল থাকে। একে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের কণাগুলোর মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল সবচেয়ে অনেক বেশি থাকার কারণে কঠিন পদার্থের কণাগুলো খুব কাছাকাছি এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকে। 

তরল পদার্থ: 
- তরল পদার্থের নির্দিষ্ট ভর ও নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। 
- তরল পদার্থকে যে পাত্রে রাখা হয় তরল পদার্থ সেই পাত্রের আকার ধারণ করে। 
- তরল পদার্থের কণাগুলো কঠিন পদার্থের কণাগুলোর চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি দূরত্বে থাকায় এদের মধ্যে আন্তঃকণা আকর্ষণ বল কঠিনের চেয়ে কম হয়। 

গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থ: 
- গ্যাসীয় বা বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট ভর আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার কিংবা নির্দিষ্ট আয়তন নেই। 
- যেকোন পরিমাণ গ্যাসীয় পদার্থ যেকোনো আয়তনের পাত্রে রাখলে গ্যাসীয় পদার্থ সেই পাত্রের পুরো আয়তন দখল করে। 
- গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলো কঠিন ও তরলের চেয়ে বেশি দূরে দূরে অবস্থান করে বলে এদের আন্তঃকণা আকর্ষণ বল খুবই কম। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৬.
মৌলিক গ্যাস সাধারণত কেমন অণু গঠন করে? 
  1. একপরমাণুক
  2. দ্বিপরমাণুক
  3. ত্রিপরমাণুক
  4. বহুপরমাণুক
ব্যাখ্যা
- পদার্থ মাত্রই অসংখ্য পরমাণুর এক সাথে অণু হিসেবে আবদ্ধ থাকার একটি স্থায়ী অবস্থা। তবে নিষ্ক্রিয় গ্যাসগুলো এক পরমাণুক অনুরূপে প্রকৃতিতে স্থায়ীরূপে অবস্থান করে। 
- চারিপার্শ্বের বায়ুতে যে নাইট্রোজেন অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি গ্যাসগুলো আছে এরা প্রত্যেকেই মৌলিক গ্যাস অণু। 
- মৌলিক গ্যাসের অণুগুলো দ্বিপরমাণুক অণু। 
যেমন- N2, O2, H2, F2, Cl2 ইত্যাদি। 
- ওজোন (O3), ফসফরাস (P4), সালফার (S8) এরাও মৌলিক অণু কিন্তু বহু পরমাণুক অণু। 
- আবার পানি (H2O), খাবার লবণ (NaCl), কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), অ্যামোনিয়া (NH3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl) প্রভৃতি যৌগের অণুতে ভিন্ন ভিন্ন মৌলের পরমাণু মিলে অণুগঠন করেছে। 

- একই ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণু একত্রে মিলিত হয়ে মৌলের একটি অণু সৃষ্টি করে এবং ভিন্ন ধরনের দুই বা ততোধিক পরমাণুর সংযোজনের ফলে যৌগের অণু উৎপন্ন করে। 
- সব অণুর মধ্যেই পরমাণুগুলো এক বিশেষ আকর্ষণ বলের দ্বারা পরস্পর পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। 
- এভাবে একই বা ভিন্ন ভিন্ন মৌলের দুই বা ততোধিক পরমাণু মিলিত হয়ে রাসায়নিক বন্ধনের সৃষ্টি হয়। 
- আবার একই মৌলের অসংখ্য পরমাণু পরস্পর যুক্ত হয়েও রাসায়নিক বন্ধন সৃষ্টি করতে পারে, যেমন- ধাতব বন্ধন। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৭.
কোনটি ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয়?
  1. নিশাদল
  2. ন্যাপথলিন
  3. ইথানল 
  4. আয়োডিন
ব্যাখ্যা

ইথানল ঊর্ধ্বপাতনযোগ্য পদার্থ নয়। 

ঊর্ধ্বপাতন
- যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থে তাপ প্রয়োগ করা হলে কঠিন পদার্থটি তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেই প্রক্রিয়াকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
- নিশাদল (NH4Cl), কর্পূর (C10H16O), ন্যাপথলিন (C10H8), কঠিন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2), আয়োডিন (I2), অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড (AlCl3) ইত্যাদি পদার্থগুলোতে তাপ প্রয়োগ করা হলে সেগুলো তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়।
- এই পদার্থগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়।

অন্যদিকে, ইথানল তরল পদার্থ। 

উৎস: রসায়ন- ৯ম-১০ম শ্রেণি। 

৬৫৮.
এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়াকে কী বলা হয়?
  1. প্রশমন বিক্রিয়া
  2. বিয়োজন বিক্রিয়া
  3. সংযোজন বিক্রিয়া
  4. জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

প্রশমন বিক্রিয়া:
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড তথা এসিডের সাথে ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
- যে বিক্রিয়ায় এসিড ও ক্ষার বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়, তাকে প্রশমন বিক্রিয়া বলে।
- এই প্রশমন বিক্রিয়াকে এসিড-ক্ষার বিক্রিয়াও বলা হয়
যেমন- লঘু NaOH দ্রবণে ধীরে ধীরে লঘু HCl দ্রবণ করলে NaCl (লবণ) এবং H2O (পানি) উৎপন্ন হয়।
- প্রশমন বিক্রিয়ায় সব সময় তাপ উৎপন্ন হয় অর্থাৎ প্রশমন বিক্রিয়া একটি তাপ উৎপাদি বিক্রিয়া।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫৯.
শুকনা চুনে পানি ঢাললে কোনটি ঘটে?
  1. তাপের শোষণ ঘটে
  2. মিশ্রণের তাপমাত্রা হ্রাস পায়
  3. মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
  4. বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি থেকে কম হয়
ব্যাখ্যা
• শুকনা চুনে পানি ঢাললে মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। 

• রাসায়নিক বিক্রিয়া:

- রাসায়নিক বিক্রিয়া হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে এক বা একাধিক পদার্থ একত্রিত হয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নতুন পদার্থে রূপান্তরিত হয়।

• তাপের পরিবর্তনের ভিত্তিতে বিক্রিয়াকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
- তাপোৎপাদী বিক্রিয়া।
- তাপহারী বিক্রিয়া। 

• তাপোৎপাদী বিক্রিয়া:
- যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে তাপ উৎপন্ন হয়, তাকে তাপোৎপাদী বিক্রিয়া বলা হয়। 

• শুকনা চুন (ক্যালসিয়াম অক্সাইড, CaO) পানির সাথে বিক্রিয়া করে ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড [Ca(OH)2] তৈরি করে।
- এই বিক্রিয়াটি অত্যন্ত তাপ উৎপাদী (Exothermic) অর্থাৎ তাপ নির্গত হয়। 
- এই বিক্রিয়ায় 63.95 kJ/mol তাপ উৎপন্ন হয়।
- এর ফলে শুকনা চুনে পানি ঢাললে মিশ্রণের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- বিক্রিয়কের অভ্যন্তরীণ শক্তি উৎপাদের অভ্যন্তরীণ শক্তি থেকে বেশি হয়। 

• বিক্রিয়াটি হলো - CaO + H2O → Ca(OH)2 ​+ 63.95 kJ/mol

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬৬০.
অ্যাটমের ভরসংখ্যা বলতে কী বোঝায়?
  1. প্রোটন ও নিউট্রনের সমষ্টি
  2. ইলেকট্রনের সংখ্যা
  3. নিউট্রনের সংখ্যা
  4. প্রোটনের সংখ্যা
ব্যাখ্যা

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটনের অবস্থান। 
- কোনো একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যত সংখ্যক প্রোটন থাকে, প্রোটনের সেই সর্বমোট সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বলে। 
- একে 'Z' দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- 1913 খ্রিষ্টাব্দে বিজ্ঞানী মোসলে সর্বপ্রথম পারমাণবিক সংখ্যা নির্ণয়ের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। 
- অক্সিজেনের পারমাণবিক সংখ্যা, Z = 8. সুতরাং অক্সিজেন নিউক্লিয়াসে 8 টি প্রোটন আছে। 

পারমাণবিক ভর সংখ্যা: 
- পারমাণবিক ভর সংখ্যা বলতে পরমাণুর নিউক্লিয়াসে অবস্থিত নিউট্রন এবং প্রোটনের সমষ্টির সংখ্যাকে বোঝানো হয়। 
- একে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলে। 
- সুতরাং, পারমাণবিক ভর সংখ্যা = (প্রোটন সংখ্যা + নিউট্রন সংখ্যা)। 
- যেমন- কার্বনের পারমাণবিক ভর সংখ্যা 12 বলতে বোঝায় কার্বন পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 6 টি প্রোটন এবং 6 টি নিউট্রন আছে। 
- পারমাণবিক ভর সংখ্যাকে A দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
অর্থাৎ, A = (P + n)। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬১.
H+ সংকেত দ্বারা পরমাণুর কোন কণিকা বুঝায়?
  1. প্রোটন
  2. নিউট্রন
  3. নিউট্রিনো
  4. ইলেকট্রন
ব্যাখ্যা
পরমাণুর মৌলিক কণিকাসমূহ: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মৌলিক কণিকাগুলো হলো- ১. ইলেকট্রন ২. প্রোটন ও ৩. নিউট্রন। 

প্রোটন (Proton): 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- ইহার সংকেত H+ .
- প্রোটনের আরেকটি সংকেত P.
- প্রোটনের আসল ভর 1.67×10-24 g ও আধান 1.60× 10-19 C. 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 
- প্রোটনের আপেক্ষিক আধান +1.
- প্রোটনের আপেক্ষিক ভর 1 একক। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬২.
​পরমাণুর কেন্দ্রে কোন কণিকাগুলো অবস্থান করে? 
  1. ইলেকট্রন ও প্রোটন 
  2. প্রোটন ও নিউট্রন 
  3. ইলেকট্রন ও নিউট্রন 
  4. প্রোটন, নিউট্রন ও ইলেকট্রন 
ব্যাখ্যা

মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
​- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রকে নিউক্লিয়াস বলা হয়। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর পরমাণুর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬৩.
নিচের কোনটি নোবেল গ্যাস?
  1. হাইড্রোজেন
  2. নিয়ন 
  3. অক্সিজেন
  4. ক্লোরিন
ব্যাখ্যা

পর্যায় সারণির ১৮ নম্বর গ্রুপের মৌলগুলোকে নোবেল গ্যাস বা নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। নিয়ন (Ne) হলো একটি নোবেল গ্যাস।
- এই গ্যাসগুলো রাসায়নিকভাবে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয় কারণ এদের ইলেকট্রন বিন্যাস অত্যন্ত স্থিতিশীল।

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির যেসব মৌলের পরমাণু সমূহ ইলেকট্রন আদান, প্রদান বা শেয়ারের মাধ্যমে বন্ধন গঠন করে না তাদেরকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 
- যৌগ গঠন না করার বৈশিষ্ট্যের কারণে এদেরকে নোবেল গ্যাস বলা হয়। 

পর্যায় সারণির গ্রুপ ১৮ এর মৌল গুলোকে বলা হয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এ গ্রুপের মৌল গুলো হলো—
- হিলিয়াম (He),
- নিয়ন (Ne), 
- আর্গন (Ar), 
- ক্রিপটন (Kr), 
- জেনন (Xe), 
- রেডন (Rn), 
- ওগানেসন (Og)।

- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।

• গ্রুপ ১৮ এর মৌল অর্থাৎ নিষ্ক্রিয় গ্যাস গুলোকে বলা হয় নোবেল গ্যাস।

উৎস: মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণী।

৬৬৪.
ইলেকট্রনের আধানের ধর্ম কী?
  1. ধনাত্মক
  2. ঋণাত্মক
  3. নিরপেক্ষ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সকল পদার্থের পরমাণু হাইড্রোজেন ছাড়া তিনটি কণা দিয়ে তৈরি।
- সেগুলো হচ্ছে ইলেকট্রন, প্রোটন এবং নিউট্রন। এই কণাগুলোকে পরমাণুর সাংগঠনিক (fundmental) বা মৌলিক কণা বলে।
- পরমাণুর কেন্দ্রে বা নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে এবং ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসকে ঘিরে ঘুরতে থাকে।

• ইলেকট্রন:
- ইলেকট্রন হলো পরমাণুর একটি মৌলিক কণিকা যার আধান বা চার্জ ঋণাত্মক (নেগেটিভ)।
- এ আধানের পরিমাণ - 1.6 × 10- 19 কুলম্ব। একে e প্রতীক দিয়ে প্রকাশ করা হয়। একটি ইলেকট্রনের ভর 9.11 × 10- 28 g।
- ইলেকট্রনের আপেক্ষিক আধান -1 ধরা হয় এবং এর ভর প্রোটন ও নিউট্রনের ভরের তুলনায় 1840 গুণ কম। তাই এর আপেক্ষিক ভরকে শূন্য ধরা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬৬৫.
কোন পানির প্লবতা বেশি হয়?  
  1. সমুদ্রের
  2. পুকুরের
  3. নদীর
  4. সুইমিং পুলের
ব্যাখ্যা
সাগরে সাঁতার কাটা সহজ: 
- কোন প্রবাহী অর্থাৎ তরল বা বায়বীয় পদার্থে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে নিমজ্জিত কোনো বস্তুর উপর তরল বা বায়বীয় পদার্থ লম্বভাবে যে ঊর্ধ্বমূখী বল প্রয়োগ করে তাকে প্লবতা বলে। 
- সমুদ্রের পানিতে নানা রকম লবণ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। যার কারণে সমুদ্রের পানির ঘনত্ব সাধারণ পানির থেকে বেশি হয়। ফলে সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি আর নদীর পানির প্লবতা কম। 
- যেহেতু সমুদ্রের পানির প্লবতা বেশি, সেহেতু সমুদ্রের পানিতে সাতারুর শরীর হালকা বোধ হয়। 
- ফলে সাঁতার কাটা অধিকতর সহজ হয়। 

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং কালের কণ্ঠ পত্রিকা।
৬৬৬.
গ্যাসের পরমশূন্য তাপমাত্রা নির্ভর করে- 
  1. বাহ্যিক বলের উপর
  2. গ্যাসের ভর ও ঘনত্বের উপর
  3. গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
পরমশূন্য তাপমাত্রা: 
- যে তাপমাত্রায় গ্যাসের আয়তনের বিলুপ্তি ঘটে অর্থাৎ আয়তন শূন্য হয়ে যায়, সে তাপমাত্রাকে পরমশূন্য তাপমাত্রা বলে। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা হলো - 273°C । 
- পরমশূন্য তাপমাত্রা গ্যাসের প্রকৃতি ও চাপের উপর নির্ভর করে না। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় গ্যাসের স্থানান্তর গতি শূন্য হয়, গ্যাসের অণুসমূহের স্থানান্তরণ একেবারে স্তব্দ হয়ে যায়। এ সময় অণুসমূহ পরস্পরের খুবই নিকটে আসে, ফলে আয়তন খুবই কম হয়। 
- পরমশূন্য তাপমাত্রায় কম্পন গতির জন্য পদার্থের যে শক্তি অবশিষ্ট থাকে, তাকে শূন্য বিন্দু শক্তি বলা হয়। 

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, হাজারী নাগ।
৬৬৭.
ক্রোমিয়ামের সর্বশেষ শক্তিস্তরে কয়টি ইলেকট্রন থাকে?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা
- ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন হলো- ২, ৮, ১৩ এবং ১ । 
অতএব, ক্রোমিয়ামের সর্বশেষ শক্তিস্তরে ১টি ইলেকট্রন থাকতে পারবে। 

ইলেকট্রন বিন্যাস: 

- বোরের মডেলে যে শক্তিস্তরের কথা বলা হয়েছে তাকে প্রধান শক্তিস্তর বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রধান শক্তিস্তরের সর্বোচ্চ ইলেকট্রন ধারণ ক্ষমতা 2n2, যেখানে n = 1 2, 3, 4 ইত্যাদি। 
- নিম্নে কতগুলো মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাস দেখানো হলো- 


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৮.
নিচের কোনটি সত্য?
  1. ক) বাতাসের আর্দ্রতা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  2. খ) তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে শব্দের বেগ হ্রাস পায়।
  3. গ) মাধ্যমের ঘনত্ব হ্রাস পেলে শব্দের বেগ বৃদ্ধি পায়।
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

পরীক্ষা করে দেখা গেছে আলাের দ্রুতি শূন্যস্থানে সব সময় 3x108 ms-1 নির্দিষ্ট। কিন্তু শব্দের দ্রুতি সবসময় সমান নয়।
0°C বা 273 K তাপমাত্রায় এবং প্রমাণ বায়ুচাপে, শুষ্ক বাতাসে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1

তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়। হিসাব করে দেখা গেছে প্রতি 1°C বা 1K তাপমাত্রা বাড়লে শব্দের দ্রুতি প্রায় 0.6 ms-1 পরিমাণ বেড়ে যায়।

বাতাসের আর্দ্রতা বাড়লেও শব্দের দ্রুতি বেড়ে যায়।
 
মাধ্যম ভেদে শব্দের দ্রুতির পরিবর্তন হয়। মাধ্যম যত ঘন ও স্থিতিস্থাপক হয় শব্দের দ্রুতি তাতে তত বেশি হয়।
যেমন- বায়ু মাধ্যমে শব্দের দ্রুতি 332 ms-1, পানি মাধ্যমে 1450 ms-1 এবং লােহার মধ্যে 5220 ms-1 |

বায়বীয় পদার্থে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে কম, তরল পদার্থের মধ্যে তা থেকে বেশি। কঠিন পদার্থের মধ্যে শব্দের দ্রুতি সবচেয়ে বেশি।
বায়ু চাপের পরিবর্তনে বাতাসে শব্দের বেগ প্রভাবিত হয় না।

সূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৬৬৯.
আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো কী অনুসারে সাজানো হয়েছে?
  1. পারমাণবিক ভর
  2. ঘনত্ব
  3. পারমাণবিক সংখ্যা
  4. ধাতব ধর্ম
ব্যাখ্যা
• আধুনিক পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো তাদের পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারে সাজানো হয়েছে। 

• পর্যায় সারণি:
- আবিষ্কৃত মৌল সমূহকে তাদের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্মাবলির সামঞ্জস্য রেখে যে সারণিতে পর্যায় ক্রমে স্থান দেয়া হয়েছে তাকে পর্যায় সারণি (Periodic table) বলে।

• আধুনিক পর্যায় সারণিতে (Modern Periodic Table) মৌলগুলোর পারমাণবিক সংখ্যা অর্থাৎ প্রোটন সংখ্যার ক্রম অনুসারে সাজানো হয়েছে।
- ১৯১৩ সালে মোসলে পারমাণবিক ভরের পরিবর্তে পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারী মৌলগুলোকে পর্যায় সারণিতে সাজানোর প্রস্তাব দেন।
- এর পূর্বে মেন্ডেলিভের পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো তাদের পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজানো ছিলো। 

• আধুনিক পর্যায় সারণির বৈশিষ্ট্য:
- পর্যায় সারণির মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (প্রোটন সংখ্যা) অনুসারে সাজানো হয়।
- পর্যায় সারণিতে 18টি গ্রুপ এবং 7টি পর্যায় রয়েছে।
- একটি গ্রুপ হল পর্যায় সারণীর উল্লম্ব কলাম, যা মৌলের ইলেকট্রন বিন্যাসের উপর ভিত্তি করে গঠিত।
- একটি পর্যায় হল পর্যায় সারণীর অনুভূমিক সারি।
- প্রতিটি পর্যায় বামদিকের গ্রুপ ১ থেকে শুরু করে ডানদিকে গ্রুপ ১৮ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মূল পর্যায় সারণির নিচে ল্যান্থানাইড ও অ্যাক্টিনাইড সারির মৌল হিসেবেও দেখানো হলেও এগুলো যথাক্রমে ৬ এবং ৭ পর্যায়ের অংশ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৬৭০.
হাইড্রোজেন বোমায় ক্রিয়া করে-
  1. ফিশন বিক্রিয়া 
  2. ফিউশন বিক্রিয়া
  3. ফিশন ও ফিউশন উভয়টিই
  4. সাধারণ রাসায়নিক বিক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• হাইড্রোজেন বোমা:
- হাইড্রোজেন বোমায় মূলত পারমাণবিক বিক্রিয়া ঘটে।  
- এখানে ফিশন ও ফিউশন উভয় বিক্রিয়া ব্যবহৃত হয়।  
- হাইড্রোজেন বোমার মূল শক্তি ফিউশন বিক্রিয়া থেকে আসলেও, সেই বিক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রথমে একটি ফিশন বিক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।

- প্রথমে ফিশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়।  
- সেই শক্তি দিয়ে হাইড্রোজেন আইসোটোপ (ডিউটেরিয়াম ও ট্রিটিয়াম)-এর ফিউশন বিক্রিয়া শুরু হয়।  
- এই ফিউশন বিক্রিয়ায় অতি অল্প সময়ে বিপুল শক্তি উৎপন্ন হয়।  
- হাইড্রোজেন বোমা কে বলা হয় থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা।  
- এটি সাধারণ পারমাণবিক বোমার তুলনায় অনেক গুণ বেশি শক্তিশালী।  
- সঠিক উত্তর: গ) ফিশন ও ফিউশন উভয়টিই।  
- উল্লেখ্য, অপশনে, "ফিশন ও ফিউশন উভয়টিই" - না থাকে - তাহলে, "ফিউশন বিক্রিয়া" - উত্তর হিসেবে গণ্য হবে।  

• নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো মৌলের নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে তাকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পরমাণুর বা আয়নের সর্ববহিস্থ শক্তিস্তর থেকে ইলেকট্রনের আদান-প্রদান ঘটে। নিউক্লিয়াসের কোনো পরিবর্তন হয় না। 
- কিন্তু নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় পরমাণুর নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন ঘটে, এখানে ইলেকট্রনের কোনো ভূমিকা নেই। 
- এ বিক্রিয়ার ফলে নতুন মৌলের পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সৃষ্টি হয়। 
- যে বিক্রিয়ার ফলে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে বড় মৌলের নিউক্লিয়াস অথবা কোনো বড় মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে একাধিক ছোট মৌলের নিউক্লিয়াস তৈরি হয় সেই বিক্রিয়াকে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া বলে। 
- নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়।
- বিভিন্ন রকমের নিউক্লিয়ার বিক্রিয়া আছে; তবে এদের মধ্যে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া ও নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া অন্যতম। 
 
• নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ায় ছোট ছোট নিউক্লিয়াসসমূহ একত্রিত হয়ে বড় নিউক্লিয়াস গঠন করে তাকে নিউক্লিয় ফিউশন (Fusion) বিক্রিয়া বলে। 
নিচে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার উদাহরণ দেওয়া হলো-

• নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া: 
- যে নিউক্লিয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো বড় এবং ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস ভেঙে ছোট ছোট মৌলের নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া বলে। 
- এই বিক্রিয়ার সাথে নিউট্রন আর প্রচুর (Fission) পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। 
- স্বল্পগতির নিউট্রন দিয়ে কে আঘাত করলে নিউক্লিয়াসটি প্রায় দুইটি সমান অংশে বিভক্ত হয়ে এর নিউক্লিয়াস ও তিনটি নিউট্রন ও তার সাথে প্রচুর পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হয়। এটি একটি নিউক্লিয়ার ফিশন বিক্রিয়া। 

- এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হয়, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পারমাণবিক অস্ত্র, বিশেষত পারমাণবিক বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
 ব্রিটানিকা [link]

৬৭১.
নিচের কোনটি হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা গ্যাস?
  1. লিথিয়াম
  2. হাইড্রোজেন
  3. সোডিয়াম
  4. অক্সিজেন
ব্যাখ্যা

নিষ্ক্রিয় গ্যাস হিলিয়ামের ব্যবহার:
- হিলিয়াম খুবই হাল্কা এবং অদাহ্য হওয়ায় বেলুনে ও উড়োজাহাজে ব্যবহৃত হয়।
- একমাত্র হাইড্রোজেন গ্যাস হিলিয়াম অপেক্ষা হালকা
- হাইড্রোজেন (H2) গ্যাসের তুলনায় হিলিয়াম (He) গ্যাসের উত্তোলন ক্ষমতা প্রায় ৯২%।
- হাইড্রোজেনের দাহ্যতার কারণে তা বিপজ্জনক হওয়ায় বর্তমানে একমাত্র হিলিয়াম ব্যবহৃত হয়।
- অলিম্পিক সাইক্লিস্ট প্রতিযোগীরা তাদের সাইকেলের টায়ার বাতাসের পরিবর্তে হাল্‌কা ও অদাহ্য হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা পূর্ণ করে।
- হাপানী রোগীর শ্বাসকাজে সহায়তার জন্য এবং গভীর পানির ডুবুরিগণ এবং অধিক চাপে কর্মরত ব্যক্তিগণ ৪০% হিলিয়াম ও অক্সিজেনের 20% মিশ্রণের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করেন।
- ধাতু সংকরের গলন ও জোড়া লাগানোর সময় হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়।
- নিম্ন তাপমাত্রায় গবেষণাকার্যে তরল হিলিয়াম ব্যবহার করা হয়।
যেমন- তরল হিলিয়াম NMR (NMR = Nuclear Magnetic Resonance Spectroscopy) মেশিন শীতলকরণে ব্যবহৃত হয়।
- হিলিয়ামের গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক সর্বনিম্ন এবং পরমশূন্য তাপমাত্রার খুবই নিকটে।

অন্যদিকে,
- লিথিয়াম ও সোডিয়াম ধাতু, আর অক্সিজেন গ্যাস হিলিয়ামের চেয়ে ভারী।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন প্রথম পত্র, (হাজারী নাগ)।

৬৭২.
থার্মোসেটিং প্লাস্টিকের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. সবসময় ভঙ্গুর প্রকৃতির হয়
  2. তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়।
  3. শক্ত ও কম নমনীয় হয়
  4. বারবার গলিয়ে নতুন আকৃতি দেওয়া যায়
ব্যাখ্যা
• বারবার গলিয়ে নতুন আকৃতি দেওয়া যায় থার্মোপ্লাস্টিকের বৈশিষ্ট্য।

• গঠন ও তাপীয় বেশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে কৃত্রিম পলিমারকে আবার দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
যেমন-
১। থার্মোপ্লাস্টিক ও
২। থার্মোর্সেটিং প্লাস্টিক।

• থার্মোসেটিং প্লাস্টিক:
- এরা অপেক্ষাকৃত শক্ত ও কম নমনীয় হয়।
- তাপ প্রয়োগে এগুলো গলে যায় না বরঞ্চ কালো কয়লায় পরিণত হয়।
- এ জাতীয় পলিমার অণুতে পরমাণুগুলোর শিকলের মধ্যে সমযোজী এবং পার্শ্ববর্তী শিকলের গঠনের সাথে দৃঢ়ভাবে হাইড্রোজেন বন্ধন বর্তমান থাকে।
- যেমন- ব্যাকেলাইট প্লাস্টিক, ফাইবার গ্লাস, কৃত্রিম রেজিন ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।
৬৭৩.
স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব কোনটি?
  1. সোডিয়াম ক্লোরাইড
  2. পটাশিয়াম ক্লোরাইড
  3. অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
  4. ক্যালসিয়াম কার্বনেট
ব্যাখ্যা
দ্রব (Solute): 
- দুটি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপন্ন দ্রবণে যে উপাদানটির আপেক্ষিক পরিমাণ কম থাকে এবং যে উপাদানটি অপর উপাদানের মধ্যে দ্রবীভূত থাকে তাকে দ্রব বলা হয়। 
- খাদ্য লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করে যে দ্রবণ প্রস্তুত করা হয় তাতে খাদ্য লবণ দ্রব। 
একইভাবে, 
- চিনির জলীয় দ্রবণে চিনি দ্রব। 
- দ্রাবকের মধ্যে দ্রবের দ্রবীভূত হওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী দ্রবকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(i) স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব এবং 
(ii) অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব: 
- এ ধরনের দ্রব দ্রাবকের মধ্যে খুবই সামান্য পরিমাণে দ্রবীভূত হয়ে সম্পৃক্ত দ্রবণ উৎপন্ন করে। 
- সাধারণ তাপমাত্রায় যেসব লবণের দ্রাব্যতা 0.01 গ্রাম অণু/লিটার বা 001 mol.L-1 এর চেয়ে কম তাদের স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব বলা হয়। 
যেমন - সিলভার ক্লোরাইড (AgCl), সিলভার ব্রোমাইড (AgBr), সিলভার আয়োডাইড (AgI), সিলভার কার্বনেট (Ag2CO3), ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3),  ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড (CaF2), ক্যালসিয়াম সালফেট (CaSO4), ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড Ca(OH)2, লেড ক্লোরাইড (PbCl2) ইত্যাদি স্বল্প দ্রবণীয় দ্রব। 

অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব: 
- বেশ কিছু দ্রব আছে যারা পানিতে সম্পূর্ণভাবে দ্রবীভূত হয়ে যায়। 
- এদের দ্রাব্যতা গুণ অনেক বেশি হওয়ায় এরা দ্রবণে সম্পূর্ণভাবে আয়নিত অবস্থায় থাকে। 
- এ জাতীয় দ্রবের আণবিক অবস্থা ও আয়নিক অবস্থার মধ্যে কোনো সাম্যাবস্থা বিরাজ করে না। 
যেমন- সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl), সোডিয়াম নাইট্রেট (NaNO3), পটাশিয়াম ক্লোরাইড (KCI), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3), অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড (NH4Cl), অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3) ইত্যাদি অতিমাত্রায় দ্রবণীয় দ্রব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৪.
যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় -
  1. আইসোমার
  2. আইসোটোন
  3. আইসোটোপ
  4. আইসোবার
ব্যাখ্যা

• যেসব পরমাণুর ভর সংখ্যা সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাদের বলা হয় আইসোবার। 

• আইসোবার:
- 'Iso' অর্থ সমান এবং 'bar' শব্দটি ওজন বা ভরকে বোঝায়। তাই আইসোবার হলো সেইসব পরমাণু, যারা ভিন্ন মৌলের হওয়া সত্ত্বেও তাদের ভর সংখ্যা A, অর্থাৎ প্রোটন ও নিউট্রনের মোট সংখ্যা সমান।
- কার্বন-14 এবং নাইট্রোজেন-14 হলো আইসোবার। উভয়ের ভর সংখ্যা 14 হলেও তাদের পারমাণবিক সংখ্যা (6 এবং 7) ভিন্ন।
- যেহেতু এদের পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন, তাই এদের রাসায়নিক ধর্ম ভিন্ন হয়।

• আইসোটোন:
- এদের নিউট্রন সংখ্যা (N) সমান কিন্তু পারমাণবিক সংখ্যা (Z) ও ভর সংখ্যা (A) উভয়ই ভিন্ন হয়।

• আইসোটোপ:
- এদের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) সমান কিন্তু ভর সংখ্যা (A) ভিন্ন হয়।

• আইসোমার:
- যেসব নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা একই কিন্তু শক্তি অবস্থা, গঠন, ও ধর্ম ভিন্ন তাদেরকে আইসোমার বলা হয়।

উৎস: রসায়ন বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৫.
আইসোটোপ বলতে কী বোঝায়?
  1. একই প্রোটন সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন নিউট্রন সংখ্যা
  2. একই নিউট্রন সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন প্রোটন সংখ্যা
  3. একই ভর সংখ্যা কিন্তু ভিন্ন পারমাণবিক সংখ্যা
  4. একই ইলেকট্রন সংখ্যা
ব্যাখ্যা
• আইসোটোপ:
- যে সকল পরমাণুর প্রোটন সংখ্যা সমান কিন্তু ভরসংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে একে অপরের আইসোটোপ বলা হয়।
- আইসোটোপ গুলো একই মৌলের পরমাণু হয়ে থাকে।
যেমন- হাইড্রোজেন পরমাণুর ৭ টি আইসোটোপ আছে। যার মধ্যে ৩ টি আইসোটোপ প্রকৃতিতে পাওয়া যায়। 

অপরদিকে,
• আইসোবার:
- যে সকল পরমাণুর ভর সংখ্যা একই ও পারমাণবিক সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোবার বলা হয়

• আইসোটোন:
- যে সকল পরমাণুর নিউট্রন সংখ্যা একই কিন্তু ভর সংখ্যা ও প্রোটন সংখ্যা ভিন্ন তাদেরকে আইসোটোন বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- রসায়ন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৬.
নিম্নের কোন বাক্যটি সত্য নয়?
  1. পদার্থের নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন থাকে
  2. প্রোটন ধনাত্মক আধানযুক্ত
  3. ইলেকট্রন ঋণাত্মক আধানযুক্ত
  4. ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভিতরে অবস্থান করে
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন- 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 

ইলেকট্রন: 
- পরমাণুর ক্ষুদ্রতম কণিকা ইলেকট্রন। 
- সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ উপাদান হলো ইলেকট্রন। 
- একটি ইলেকট্রন একটি হাইড্রোজেন পরমাণুর তুলনায় 1840 গুণ হালকা। 
- ইলেকট্রন একটি ঋণাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 

প্রোটন: 
- ইলেকট্রনের মত প্রোটনও সকল মৌলের পরমাণুর একটি সাধারণ মূল কণিকা। 
- এটি পরমাণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রে থাকে। 
- হাইড্রোজেন পরমাণু থেকে একটি ইলেকট্রন অপসারণ করলে যে ধনাত্মক বিদ্যুৎবাহী কণা পাওয়া যায় তাকেই প্রোটন বলা হয়। 
- প্রোটন একটি ধনাত্মক তড়িৎধর্মী কণা। 
- প্রোটনের ভর প্রায় হাইড্রোজেনের ভরের সমান। 

অন্যদিকে, 
- ইলেকট্রন পরমাণুর নিউক্লিয়াসের বাইরে বিভিন্ন কক্ষপথে অবস্থান করে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৭.
কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা কিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়? 
  1. গলনাংক
  2. স্ফুটনাংক
  3. বাষ্পীভবন
  4. ঘনীভবন
ব্যাখ্যা
- কোনো কঠিন পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা গলনাংক এর মাধ্যমে নির্ণয় করা যায়। 
- যে তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলতে আরম্ভ করে সে তাপমাত্রাকে গলনাঙ্ক বলা হয়। 
- কঠিন পদার্থের সাথে যদি কোন অপদ্রব্য মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাহলে বুঝতে হবে কঠিন পদার্থটি যে তাপমাত্রায় গলার কথা সে তাপমাত্রায় গলবে না। 

অন্যদিকে, 
- তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন তরল পদার্থ বিশুদ্ধ নাকি অবিশুদ্ধ তা নির্ণয় করা যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৮.
একটি পরমাণু ভেঙ্গে একাধিক পরমাণু তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলে -
  1. ক) ফিউশন
  2. খ) ফিশন
  3. গ) এরোশন
  4. ঘ) বিযোজন
ব্যাখ্যা

যে নিউক্লিয় বিক্রিয়ায় একটি নিউক্লিয়াস বিভাজিত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয় তাকে ফিশন বিক্রিয়া বলে।
অন্যদিকে দুটি নিউক্লিয়াসের সংযােগে একটি নিউক্লিয়াস তৈরি হওয়া কে ফিউশন বিক্রিয়া বলে।

৬৭৯.
মৌলের নিউট্রন সংখ্যা কত?
  1. 7
  2. 8
  3. 9
  4. 17
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক সংখ্যা ও ভর সংখ্যা লেখার নিয়ম: 
- কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা (Z) যত তার নিউক্লিয়াসে ঠিক ততটি প্রোটন থাকে। 
- যদি কোন পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা Z হয়, তবে সেই পরমাণুতে Z সংখ্যক প্রোটন ও Z সংখ্যক ইলেকট্রন আছে। 
- পরমাণুর ভর সংখ্যা যদি A হয়, তবে নিউট্রনের সংখ্যা = A - Z. 
- কোন মৌলের পরমাণুর পারমাণবিক সংখ্যা, ভর সংখ্যা নিম্ন রীতিতে দেখানো হয়- 

এখানে, 
X = মৌলের প্রতীক। 
Z = মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে পাদদেশে বসে। 
A = পরমাণুর ভর সংখ্যা। এটি প্রতীকের বাম পার্শ্বে শীর্ষদেশে বসে। এটি প্রোটন ও নিউট্রনের সংখ্যা যাকে নিউক্লিয়ন সংখ্যাও বলা হয়। 

অক্সিজেন (O) মৌলের নিউট্রন সংখ্যা নির্ণয়: 

- অক্সিজেনের প্রোটন সংখ্যা 8 এবং 
- নিউক্লিয়ন সংখ্যা বা পারমাণবিক ভর 17 
অতএব, অক্সিজেনের নিউট্রন সংখ্যা হবে = 17 - 8 = 9 । 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮০.
____ পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে।
  1. ক) এক মোল
  2. খ) এক লিটার
  3. গ) এক গ্রাম
  4. ঘ) এক মৌল
ব্যাখ্যা
এক মোল পরিমাণ পদার্থের আয়তনকে মোলার আয়তন বলে। প্রমাণ অবস্থায় যে কোনো গ্যাসীয় পদার্থের মোলার আয়তন 22.4 লিটার৷ এক মোল হাইড্রোজেনের আয়তন 22.4 লিটার৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬৮১.
তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের হার কী দ্বারা নির্ধারিত হয়?
  1. বিকিরণ শক্তি দ্বারা
  2. নিউক্লিয়ন সংখ্যা দ্বারা
  3. অর্ধায়ু দ্বারা
  4. নিউক্লিয়াসের আকার দ্বারা
ব্যাখ্যা

তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের হার  অর্ধায়ু দ্বারা নির্ধারিত হয়। 

তেজস্ক্রিয় ক্ষয় (Radioactive Decay)
- তেজস্ক্রিয়তায়, কোনো পদার্থের ক্ষয় হলো সেই সময়, যার মধ্যে কোনো তেজস্ক্রিয় নমুনায় থাকা অর্ধেক সংখ্যক পরমাণুর নিউক্লিয়াস ক্ষয় হয়ে যায়।

তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের প্রকার
1. আলফা ক্ষয় (Alpha Decay):
 - একটি হিলিয়াম আয়ন (আলফা কণা) নির্গত হয়।
 - Daughter নিউক্লিয়াসের পারমাণবিক সংখ্যা parent নিউক্লিয়াসের থেকে ২ কম হয় এবং পারমাণবিক ভর সংখ্যা ৪ কম হয়।

2. বিটা ক্ষয় (Beta Decay):
 - একটি বিটা কণা (ইলেকট্রন বা পজিট্রন) নির্গত হয়।

3. গামা রশ্মি (Gamma Ray):
 - গামা রশ্মি তেজস্ক্রিয় পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের disintegration এবং কিছু subatomic কণার ক্ষয়কালে উৎপন্ন হয়।

অর্ধায়ু (Half-life)
- তেজস্ক্রিয় ক্ষয়ের হারকে অর্ধায়ু দিয়ে প্রকাশ করা হয়।
- কোনো আইসোটোপের অর্ধেক পরিমাণ ক্ষয় হতে যে সময় লাগে, তাকে অর্ধায়ু বলে।
- বিভিন্ন unstable atomic nuclei এবং তাদের ক্ষয়ের ধরনের উপর নির্ভর করে অর্ধায়ুর সময়কাল ভিন্ন হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। 

৬৮২.
নিচের কোনটি জারক পদার্থের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) জারণ ঘটায়
  2. খ) এক বা একাধিক ইলেকট্রন হারায়
  3. গ) নিজের বিজারণ ঘটে
  4. ঘ) সংশ্লিষ্ট পরমাণুর জারণ সংখ্যা হ্রাস পায়
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- জারক পদার্থ জারণ ঘটায়, এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে, নিজের বিজারণ ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণুর জারণ সংখ্যা হ্রাস পায়।
- বিজারক পদার্থ বিজারণ ঘটায়, এক বা একাধিক ইলেকট্রন হারায়, নিজের জারণ ঘটে এবং সংশ্লিষ্ট পরমাণুর জারণ সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

৬৮৩.
একই পর্যায়ে বাম থেকে ডানে গেলে আয়নিকরণ শক্তির পরিবর্তন কীভাবে হয়?
  1. অপরিবর্তিত থাকে
  2. কমে 
  3. বাড়ে
  4. প্রথমে বাড়ে পরে কমে 
ব্যাখ্যা
আয়নিকরণ শক্তি (Ionization Energy): 
- গ্যাসীয় অবস্থায় কোনো মৌলের এক মোল গ্যাসীয় পরমাণু থেকে এক মোল ইলেকট্রন অপসারণ করে এক মোল ধনাত্মক আয়নে পরিণত করতে যে শক্তির প্রয়োজন হয়, তাকে ঐ মৌলের আয়নিকরণ শক্তি বলে। 
- আয়নিকরণ শক্তি একটি পর্যায়বৃত্ত ধর্ম। 
- একই পর্যায়ের বামের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বেশি এবং ডানের মৌলের পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কম। 
- পারমাণবিক ব্যাসার্ধ কমলে আয়নিকরণ শক্তির মান বাড়ে এবং পারমাণবিক ব্যাসার্ধ বাড়লে আয়নিকরণ শক্তির মান কমে। 
উদাহরণ- 
• Na, Mg, Al, Si এর মধ্যে Si এর আয়নিকরণ শক্তির মান বেশি। কারণ এই মৌলগুলোর মধ্যে Si এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম। পক্ষান্তরে, এই মৌলগুলোর মধ্যে Na এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান বেশি বলে এদের মধ্যে সোডিয়ামের আয়নিকরণ শক্তির মান কম। 
• গ্রুপ-1 এর Li, Na, K, Rb, Cs, Fr ক্ষার ধাতুগুলোর মধ্যে Li এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, এজন্য এদের মধ্যে Li এর আয়নিকরণ শক্তির মান সবচেয়ে বেশি। 
• আবার, গ্রুপ-17 এর F, Cl, Br, I এবং At মৌলগুলোর মধ্যে F এর পারমাণবিক ব্যাসার্ধের মান সবচেয়ে কম, কাজেই এই মৌলগুলোর মধ্যে F এর আয়নিকরণ শক্তির মান সবচেয়ে বেশি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮৪.
আর্সেনিকের নিউক্লিয়াসে প্রোটনের সংখ্যা কত?
  1. ৩৪
  2. ৩৩
  3. ৩২
  4. ৩৯
ব্যাখ্যা

- আর্সেনিকের (As) পারমাণবিক সংখ্যা হচ্ছে ৩৩ । 
- ধূসর আভাযুক্ত সাদা রংবিশিষ্ট ভঙ্গুর প্রকৃতির একটি অর্ধধাতু বা উপধাতু হচ্ছে আর্সেনিক (Arsenic).
- প্রকৃতিতে আর্সেনিক বিভিন্ন যৌগ আকারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।
- ৩৩ আণবিক সংখ্যাবিশিষ্ট আর্সেনিকের আণবিক ভর ৭৪.৯২।

পারমাণবিক সংখ্যা: 
- কোন মৌলের একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে যতটি প্রোটন থাকে; প্রোটনের সে সংখ্যাকে ঐ মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা বা প্রোটন সংখ্যা বলা হয়। 
- প্রোটন সংখ্যাকে সাধারণত Z দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
যেমন- সোডিয়াম পরমাণুর নিউক্লিয়াসে 11টি প্রোটন আছে। তাই সোডিয়ামের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z= 11
তদ্রুপ, ক্লোরিনের পারমাণবিক সংখ্যা হল, Z = 17 
- মৌলের ধর্ম এর পারমাণবিক সংখ্যার উপর নির্ভর করে। 
- রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় পরমাণুর সর্ববহিঃস্থ শক্তিস্তরের ইলেকট্রনসমূহ অংশগ্রহণ করে এবং ইলেকট্রনের সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে; কিন্তু প্রোটন সংখ্যা বা পারমাণবিক সংখ্যার কোন পরিবর্তন ঘটে না। 

অন্যদিকে, 
- জার্মেনিয়ামের (Ge) পারমাণবিক সংখ্যা ৩২। 
- সেলেনিয়ামের (Se) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৪। 
- ইট্রিয়ামের (Y) পারমাণবিক সংখ্যা ৩৯। 

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি, রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ) এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়। 

৬৮৫.
ধাতব কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়-
  1. লবণ
  2. পানি
  3. কার্বন ডাইঅক্সাইড
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
◉ ধাতব কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়ায় লবণ, পানি ও ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। 
 
সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- এসিডের অণুতে প্রতিস্থাপন যোগ্য হাইড্রোজেন বর্তমান থাকে। 
- এ হাইড্রোজেন ধাতু বা ধাতুর ন্যায় ক্রিয়াশীল মূলক দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়। 

ধাতব কার্বোনেট ও হাইড্রোজেন কার্বোনেটের সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- এসিড ধাতব কার্বোনেট বা ধাতব হাইড্রোজেন কার্বোনেট এর সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন করে থাকে। যেমন- 
• Na2CO3(s) + 2HCl(aq) → 2NaCl(aq) + H2O(l) + CO2(g)
• NaHCO3(s) + HCl(aq) → NaCl(aq) + H2O(l) + CO2(g)

ধাতুর অক্সাইডের সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- এসিড ধাতুর অক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ধাতুর অক্সাইড সমূহ ক্ষার ধর্মী এটির সাথে এসিডের বিক্রিয়া ঘটে। 

ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- এসিড ধাতুর হাইড্রোক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি উৎপন্ন করে থাকে। 
- ধাতুর হাইড্রোক্সাইড ক্ষার বিধায় এটির সাথে এসিডের বিক্রিয়া ঘটে। 
- এসিড ও ক্ষারের বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন হয়। 

সক্রিয় ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া: 
- ধাতুর সাথে এসিডের বিক্রিয়া সক্রিয়তার সিরিজ অনুসারে সম্পন্ন হয়। 
- পর্যায় তালিকায় মৌল সমূহের ধর্মকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কোনো মৌল তড়িৎ ধনাত্মক, কোনো মৌল তড়িৎ ঋণাত্মক আবার কোনো কোনো মৌল রাসায়নিকভাবে নিষ্কিয়। 
- তড়িৎ ধনাত্মক মৌল রাসায়নিক বিক্রিয়ার সময় জারিত হয়ে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়। 
- হাইড্রোজেনসহ সকল ধাতু তড়িৎ ধনাত্মক মৌল। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৬.
জারণ এবং বিজারণ বিক্রিয়ার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য কী?
  1. উভয়েই ইলেকট্রন গ্রহণ করে 
  2. উভয়েই ইলেকট্রন দান করে 
  3. জারণে ইলেকট্রন দান হয়, বিজারণে ইলেকট্রন গ্রহণ হয় 
  4. জারণে ইলেকট্রন গ্রহণ হয়, বিজারণে ইলেকট্রন দান হয়
ব্যাখ্যা

রেডক্স বিক্রিয়া: 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ও গ্রহণ ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া রেডক্স (Redox) বিক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। 
- রেডক্স (Redox) শব্দটি বিজারণ বা Reduction এর Red এবং জারণ বা Oxidation এর Ox এর সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং Redox অর্থ জারণ-বিজারণ। 
- বিজারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের গ্রহণ এবং জারণ বিক্রিয়ায় ইলেকট্রনের দান ঘটে। 
- জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ায় মৌলের জারণ সংখ্যার পরিবর্তন ঘটে। 
- সকল জারণ বিজারণ বিক্রিয়া ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। 
- ইলেকট্রনের স্থানান্তরের মাধ্যমে সংঘটিত বিক্রিয়া সমূহ হচ্ছে- সংযোজন বিক্রিয়া, বিয়োজন বিক্রিয়া, প্রতিস্থাপন বিক্রিয়া এবং দহন বিক্রিয়া ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৭.
পদার্থের ভৌত অবস্থা মূলত নির্ভর করে-
  1. গতিশক্তি ও আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  2. আন্তঃআণবিক শক্তির উপর
  3. গতিশক্তির উপর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• আন্ত:আণবিক আকর্ষণ শক্তি ও গতি শক্তি-এ দু প্রকারের শক্তির উপর পদার্থের ভৌত অবস্থা নির্ভর করে। 
• তাপমাত্রা বাড়ালে গতিশক্তি বৃদ্ধি পায় কিন্তু আন্তঃআণবিক আকর্ষণ শক্তি হ্রাস পায়।

- কঠিন পদার্থ (Solid): 
কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন ও ত্রি মাত্রিক গঠন রয়েছে। কারণ, এক্ষেত্রে আন্ত:আণবিক বলের মান খুব বেশি হওয়ায় অণুগুলো একে অন্য থেকে আলাদা হতে পারে না। অণুগুলোর শুধুমাত্র দোলন বা কম্পনের স্বাধীনতা থাকে। 

- তরল পদার্থ (Liquid): 
তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকলেও এর কোন নির্দিস্ট আকৃতি নেই। কারণ, এ ক্ষেত্রে অণুগুলো একে অপরের কাছাকাছি থাকলেও এদের আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল তুলনামূলকভাবে কঠিন পদার্থের চেয়ে কম। ফলে এদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধি পায়। এ জন্য অণুগুলির চলাফেরা করার স্বাধীনতা থাকে। তাই কঠিন পদার্থকে তরল পদার্থে রূপান্তরিত করলে আয়তন বেড়ে যায় ।

পানি ব্যতিক্রম ধর্মী তরল পদার্থ। কারণ বরফকে পানিতে রূপান্তরিত করলে আয়তন কমে যায়। এর কারণ হলো বরফের গঠণ কাঠামোতে অনেক ফাঁকা স্থান থাকে যা তরল পানির ক্ষেত্রে পূরণ হয়। এ ছাড়া তরল পানিতে হাইড্রোজেন বন্ধনের উপস্থিতি পানির আয়তন হ্রাসের অন্যতম কারণ ।

- গ্যাস (Gas):  
বাষ্পীয় বা গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের অণুসমূহের মধ্যে পারষ্পরিক আকর্ষণ খুবই কম। ফলে এরা যথেষ্ট দূরে দূরে অবস্থান করে এবং বিনা বাধায় চলাফেরা করতে পারে। ফলে পাত্রের পুরো জায়গা এরা দখল করে। তবে চাপ প্রয়োগে অণুসমূহ কাছাকাছি আসে এবং গ্যাসের আয়তন কমে যায়। তাপ বাড়ালে উল্টো ঘটনা ঘটে। আন্ত:আণবিক শক্তি কমে যায় এবং গতিশক্তি বেড়ে যায়। ফলে গ্যাস অণুসমূহ আরো ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যাসের আয়তন বেড়ে যায়।

উৎস: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৮.
আয়নিক যৌগে ধনাত্মক আয়নকে কী বলা হয়? 
  1. ক্যাটায়ন
  2. অ্যানায়ন 
  3. নিউট্রন
  4. কোভালেন্ট আয়ন
ব্যাখ্যা

আয়নিক বন্ধন: 
- দুটি বিপরীতধর্মী আধানের মধ্যে স্থির বৈদ্যুতিক আকর্ষণের মাধ্যমে যে বন্ধনের সৃষ্টি হয় তাকে আয়নিক বন্ধন বলে। 
- আয়নিক বন্ধন গঠনের ক্ষেত্রে তড়িৎ ধনাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে দান করে ধনাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- অন্যদিকে, তড়িৎ ঋণাত্মক মৌল ইলেকট্রনকে গ্রহন করে ঋণাত্মক আয়নে পরিনত হয়। 
- ধনাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে ক্যাটায়ন এবং ঋণাত্মক আধান যুক্ত পরমাণুর আয়নকে অ্যানায়ন বলে। 
যেমন- NaCl যৌগের মধ্যে Na+ ক্যাটায়ন ও CI- অ্যানায়ন। 
- ক্যাটায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় কম এবং অ্যানায়নের মধ্যে ইলেকট্রনের সংখ্যা প্রোটনের তুলনায় বেশি থাকে। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৯.
প্রমাণ দ্রবণ কোনটি?
  1. 1.0g H2SO4
  2. 1.0M Na2CO3
  3. 1.0mL H2SO4
  4. 1.0mol H2SO4
ব্যাখ্যা
প্রমাণ দ্রবণ: 
- কোনো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের নমুনা দিয়ে তৈরি করা দ্রবণের ঘনমাত্রা সঠিকভাবে জানা থাকলে ঐ দ্রবণকে ঐ নমুনা দ্রবের প্রমাণ দ্রবণ বলে। 
যেমন- 1M Na2CO3 দ্রবণ, 0.5M Na2CO3 দ্রবণ, 0.1M Na2CO3 দ্রবণ হলো প্রত্যেকেই এক একটি প্রমাণ দ্রবণ। 
কারণ, Na2CO3 প্রথমত প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ এবং দ্বিতীয়ত প্রতিটি প্রস্তুত করা দ্রবণের বেলায় নির্দিষ্ট পরিমাণ Na2CO3 রাসায়নিক নিক্তিতে সঠিকভাবে ওজন করে দ্রবণটি তৈরি করা হয়। 

প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যেসব কঠিন রাসায়নিক পদার্থকে (১) বিশুদ্ধ অবস্থায় প্রস্তুত করা যায়; (২) এরা বাতাসের সংস্পর্শে জলীয় বাষ্প বা O2 সহ বিক্রিয়া করে না; (৩) এদের ওজন নেয়ার সময় রাসায়নিক নিক্তিকে ক্ষয় করে না এবং (৪) এদের দ্রবণের ঘনমাত্রা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকে, এদেরকে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) ক্ষার, 
(২) কেলাসিত ইথেন ডাইওয়িক এসিড বা অক্সালিক এসিড (H2C2O4.2H2O), 
(৩) পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট (K2Cr2O7) জারক পদার্থ, 
(৪) কেলাসিত সোডিয়াম ইথেন ডাইওয়েট বা অক্সালেট (Na2C2O4.2H2O) বিজারক পদার্থ ইত্যাদি হলো প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ। 

সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ: 
- যে সব পদার্থের মধ্যে প্রাইমারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থের চারটি বৈশিষ্ট্যের যেমন বিশুদ্ধতা, বাতাসে অপরিবর্তিত থাকা, রাসায়নিক নিক্তির ক্ষয় না করা অথবা ঘনমাত্রার পরিবর্তন না ঘটা ইত্যাদির মধ্যে কোনো একটির অভাব ঘটলে, এদেরকে সেকেন্ডারি স্ট্যান্ডার্ড পদার্থ বলে। 
যেমন- 
(১) NaOH ক্ষার, 
(২) HCl এসিড, 
(৩) H2SO4 এসিড, 
(৪) পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4) জারক পদার্থ,
(৫) সোডিয়াম থায়োসালফেট (Na2S2O3.5H2O) বিজারক ইত্যাদি। 
- এ সব সেকেন্ডারি পদার্থের মোলার দ্রবণ বা ডেসিমোলার (0.1M) দ্রবণ প্রমাণ দ্রবণ হয় না। 
- সেকেন্ডারি পদার্থের দ্রবণকে অপর পদার্থের প্রমাণ দ্রবণ দ্বারা টাইট্রেশন করে এর সঠিক মোলার ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়। 
- এরূপ সেকেন্ডারি পদার্থের যেমন KMnO4 এর 0.1M দ্রবণ তৈরি করে জারণ-বিজারণ টাইট্রেশনে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
৬৯০.
গ্যাল্ভানিক কোষে তড়িৎ প্রবাহ ঘটে -
  1. বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগে।
  2. স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
  3. তাপীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে।
  4. আলো শোষনের মাধ্যমে।
ব্যাখ্যা
গ্যাল্ভানিক কোষ (Galvanic cell) এমন একটি যন্ত্র যেখানে স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং এর মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।
- গ্যাল্ভানিক কোষে দুটি ভিন্ন ধাতু (অ্যানোড এবং ক্যাথোড) দ্রবণে ডুবানো থাকে।
- একে অপরের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং ইলেকট্রন  অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে চলে যায়। এই ইলেকট্রন চলাচলই তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করে।
- এটি স্বতঃস্ফূর্ত  কারণ তাতে বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগের দরকার নেই, শুধুমাত্র রাসায়নিক বিক্রিয়া থেকেই তড়িৎ শক্তি উৎপন্ন হয়। অর্থাৎ স্বতঃস্ফূর্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি হয়। 


অন্যদিকে, 
বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগে: এটি ইলেকট্রোলাইসিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে বাহ্যিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।

তাপীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে: তাপীয় বিক্রিয়া (thermoelectric effect) তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন করতে পারে, তবে গ্যাল্ভানিক কোষে এটি প্রযোজ্য নয়।

আলো শোষণের মাধ্যমে: এটি সোলার কোষে প্রযোজ্য, যেখানে আলো থেকে তড়িৎ প্রবাহ উৎপন্ন হয়।


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণী।  
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী। 
-"Chemistry: Principles and Applications" by J. D. Lee — Galvanic Cells chapter.
৬৯১.
নিচের কোন পদার্থের ঘনত্ব বেশি?
  1. পানি
  2. পারদ
  3. কাচ
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
- অপশনে উল্লেখিত পদার্থগুলোর মধ্যে 'পারদ'-এর ঘনত্ব বেশি যা প্রায় 13.6 gm/cc

ঘনত্ব (Density): 
- তরল এবং বায়বীয় পদার্থের চাপ বোঝার আগে ঘনত্ব সম্পর্কে ধারণাটি অনেক স্পষ্ট থাকা দরকার। 
- ঘনত্ব হচ্ছে একক আয়তনে ভরের পরিমাণ। 
অর্থাৎ, কোনো বস্তুর ভর যদি m এবং আয়তন V হয় তাহলে তার ঘনত্ব, 
• ρ = m/V 
- ঘনত্বের একক = kg/m3 অথবা gm/cc.
- ঘনত্বের মাত্রা [P] = ML-3  । 
- তাপমাত্রা বাড়লে কিংবা কমলে পদার্থের আয়তন বাড়বে কিংবা কমতে পারে। যেহেতু ভরের কোনো পরিবর্তন হয় না তাই পদার্থের ঘনত্ব তাপমাত্রার সাথে পরিবর্তন হতে পারে। 
- সেজন্য পদার্থের ঘনত্বের কথা বলতে হলে সাধারণত সেটি কোন তাপমাত্রায় মাপা হয়েছে সেটিও বলে দিতে হয়। 
- নিচে কয়েকটি পদার্থের ঘনত্ব দেওয়া হলো- 


উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯২.
Alkaline Earth Metals কোনটি? 
  1. সিজিয়াম 
  2. রেডিয়াম 
  3. লিথিয়াম 
  4. রুবিডিয়াম 
ব্যাখ্যা

ক্ষার ধাতু (Alkali Metals): 
- পর্যায় সারণির 1 নং গ্রুপে 7 টি মৌল আছে। 
- এদের মধ্যে হাইড্রোজেন ছাড়া বাকি 6 টি মৌল লিথিয়াম (Li), সোডিয়াম (Na), পটাসিয়াম (K), রুবিডিয়াম (Rb), সিজিয়াম (Cs) এবং ফ্রান্সিয়াম (Fr) -কে ক্ষারধাতু বলে। 
- এই ছয়টি মৌলের প্রত্যেকটি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে হাইড্রোজেন গ্যাস এবং ক্ষার তৈরি করে বলে এদেরকে ক্ষার ধাতু (Alkali Metals) বলা হয়। 

মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals): 
- পর্যায় সারণির 2 নং গ্রুপে বেরিলিয়াম (Be), ম্যাগনেসিয়াম (Mg), ক্যালসিয়াম (Ca), স্ট্রনসিয়াম (Sr), বেরিয়াম (Ba) এবং রেডিয়াম (Ra) এই 6 টি মৌল আছে, যাদেরকে মৃৎক্ষার ধাতু বলে। 
- এই মৃৎক্ষার ধাতুগুলোকে মাটিতে বিভিন্ন যৌগ হিসেবে পাওয়া যায়, আবার এরা ক্ষার তৈরি করে। এজন্য সামগ্রিকভাবে এদের মৃৎক্ষার ধাতু (Alkaline Earth Metals) বলা হয়।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯৩.
নিচের কোনটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসে থাকে না? 
  1. meson
  2. neutron
  3. proton
  4. electron
ব্যাখ্যা
মৌলিক কণিকা: 
- যে সব সূক্ষ্ম কণিকা দ্বারা পরমাণু গঠিত তাদেরকে মৌলিক কণিকা বলা হয়। 
- পরমাণুর মধ্যে তিনটি মৌলিক কণিকা থাকে। 
যেমন - 
১। ইলেকট্রন, 
২। প্রোটন ও 
৩। নিউট্রন। 
- পরমাণুর কেন্দ্রে নিউক্লিয়াস থাকে। 
- আর নিউক্লিয়াসে প্রোটন ও নিউট্রন অবস্থান করে। 
- ইলেকট্রন (electron) নিউক্লিয়াসের বাহিরে থাকে এবং তার চারদিকে ঘূর্ণায়মান থাকে।‌ 
- পরমাণু আধান নিরপেক্ষ, কারণ একটি পরমাণুতে যতটি প্রোটন আছে ততটি ইলেকট্রনও আছে। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৪.
কোনো পরমাণুর চতুর্থ কক্ষের ইলেকট্রন সংখ্যা-
  1. ৮টি
  2. ১৬টি
  3. ৩২টি
  4. ৬৪টি
ব্যাখ্যা
- আমরা এখানে "চতুর্থ কক্ষ" বলতে বুঝি n = 4 শক্তিস্তর, অর্থাৎ প্রধান কোয়ান্টাম সংখ্যা n = 4।

- একটি শক্তিস্তরে সর্বোচ্চ ইলেকট্রনের সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় এই সূত্রে:
- সর্বোচ্চ ইলেকট্রন সংখ্যা=2n2  
- n = শক্তিস্তরের সংখ্যা (কক্ষ)।
- যখন n = 4, তখন:
- 2n2=2×42=2×16=32।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৯৫.
কোন তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয়?
  1. 4° C
  2. 4° K
  3. 25° C
  4. 100° C
ব্যাখ্যা
ঘনত্ব (Density): 
- একই আয়তনের সকল পদার্থের ভর সমান নয়, তাই পদার্থের একক আয়তনের ভরকে তার ঘনত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
যেমন- দশ একক আয়তনের বস্তুর ভর বিশ একক হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব দুই একক। 
অর্থাৎ, বস্তুর একক আয়তনের ভরকে তার উপাদানের ঘনত্ব বলে।
গাণিতিকভাবে বলা হয়, V আয়তনের কোন বস্তুর ভর m হলে ঐ বস্তুর ঘনত্ব, ρ = m/V  । 
এখানে, বস্তুর ভরকে m দ্বারা, আয়তনকে V দ্বারা এবং ঘনত্বকে ρ [গ্রীক অক্ষর রো] অথবা d অথবা D অক্ষর দ্বারা প্রকাশ করা হয়। 
- যেহেতু ভরের একক কিলোগ্রাম (kg) এবং আয়তনের একক ঘনমিটার (m3), তাই ঘনত্বের একক কিলোগ্রাম প্রতি ঘনমিটার (সংক্ষেপে কিলোগ্রাম/ঘনমিটার (kg/m3)।
- ব্যবহারিক বা প্রায়োগিক ক্ষেত্রে ঘনত্বের একক গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার (সংক্ষেপে গ্রাম/সিসি (g/cc অথবা g/cm3) বহুল প্রচলিত, এটি S.I এককের উপগুণিতক। 
- ভরের মাত্রাকে আয়তনের মাত্রা দিয়ে ভাগ করলে ঘনত্বের মাত্রা পাওয়া যায়। ঘনত্বের মাত্রা, [ρ] = ML-3  । 

- তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে একই বস্তুর আয়তন পরিবর্তন হয়, তাই ঘনত্বেরও পরিবর্তন হয়।
- পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পানির ঘনত্ব সব চেয়ে বেশি হয় 4° C তাপমাত্রায়
- 4° C থেকে তাপমাত্রা বাড়লেও পানির ঘনত্ব কমে যায়, 4° C থেকে তাপমাত্রা কমলেও পানির ঘনত্ব কমে যায়।
- কেবল মাত্র 4° C তাপমাত্রায় 1 ঘনমিটার পানির ভর 1000 কিলোগ্রাম হয়, তাই পানির ঘনত্ব 1000 kgm-3 অথবা 1gm/cc ।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৬.
বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির-
  1. তাপমাত্রা বেশি
  2. ঘনত্ব কম
  3. দ্রবণীয়তা বেশি
  4. ঘনত্ব বেশি
ব্যাখ্যা
• বরফ:
- পানিকে বরফে পরিণত করলে আয়তন বাড়ে।
- বরফ পানিতে ভাসে কারণ বরফের তুলনায় পানির ঘনত্ব বেশি।
- এ কারণে পানির তুলনায় বরফের ঘনত্ব কম।
- একই পরিমাণ পানি যখন বরফে পরিণত হয় তখন বরফের আয়তন বেড়ে যায়।
- সমপরিমাণ ওজনের বরফ পানির চেয়ে বেশি জায়গা দখল করে বলেই বরফ পানিতে ভাসে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬৯৭.
ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত কোন গ্যাস ব্যবহৃত হয়?
  1. হিলিয়াম
  2. জেনন
  3. রেডন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা

ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন (Xenon) গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- জেনন গ্যাসের মধ্য দিয়ে উচ্চ বিভবশক্তির বিদ্যুৎ প্রবাহিত করলে এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল সাদা আলো উৎপন্ন করে, যা প্রাকৃতিক দিনের আলোর খুব কাছাকাছি।
- এই বিশেষ গুণের কারণে ক্যামেরার ফ্ল্যাশ গানে জেনন ভর্তি টিউব ব্যবহার করা হয়। 

• নিষ্ক্রিয় গ্যাস:
- পর্যায় সারণির শূন্য গ্রুপের মৌলসমূহ রাসায়নিকভাবে নিষ্ক্রিয় এবং কক্ষ তাপমাত্রায় গ্যাসীয়।
এইজন্য এদেকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলে।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মোট ৭টি।
- এগুলো হলো- হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপ্টন, জেনন, রেডন ও ওগানেসন।
- এগুলোর মধ্যে প্রথম ৬টি প্রকৃতিতে প্রাপ্ত।
- ওগানেসন (Og) পরীক্ষাগারে তৈরি এবং তেজস্ক্রিয়।
- ফটোগ্রাফিক ফ্ল্যাশ লাইটে প্রধানত জেনন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৯৮.
 'বরফ গলে পানি হওয়া' কোন ধরনের পরিবর্তন? 
  1. সাময়িক পরিবর্তন 
  2. ভৌত পরিবর্তন 
  3. রাসায়নিক পরিবর্তন
  4. নিউক্লিয়ার পরিবর্তন 
ব্যাখ্যা

ভৌত পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে কোন পদার্থের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক গঠনের কোন পরিবর্তন না ঘটে শুধু বাহ্যিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে তাকে ভৌত পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• পানিকে তাপ দিয়ে বাষ্পে পরিণত করা, 
• লবণ পানিতে দ্রবীভূত হওয়া, 
বরফ গলে পানি হওয়া
• তাপ দ্বারা মোম গলানো ইত্যাদি। 

রাসায়নিক পরিবর্তন: 
- যে পরিবর্তনের ফলে পদার্থের অণুর গঠনের পরিবর্তন হয় অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন পদার্থে পরিণত হয়, তাকে রাসায়নিক পরিবর্তন বলে। 
যেমন- 
• লোহায় মরিচা ধরা, 
• দুধ থেকে দই হওয়া, 
• গাছের পাতা হলুদ হওয়া, 
• ফল পেকে লাল বা হলুদ হওয়া ইত্যাদি।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৯৯.
নিচের কোন পারমাণবিক সংখ্যাটি নিষ্ক্রিয় গ্যাসের নয়?
  1. ৩৬
  2. ৫৪
  3. ৭৪
  4. ৮৬
ব্যাখ্যা
নিষ্ক্রিয় গ্যাস: 
- পর্যায় সারণির শূন্য (০) গ্রুপের অন্তর্গত হিলিয়াম, নিয়ন, আর্গন, ক্রিপটন, জেনন এবং র‍্যাডন-এ ছয়টি মৌলকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বা অভিজাত গ্যাস (noble gases) বলা হয়।
- এরা রাসায়নিকভাবে অতিশয় নিষ্ক্রিয়।
- অন্যান্য মৌলিক গ্যাসের (যেমন হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ক্লোরিন ইত্যাদি) ন্যায় এরা দ্বিপরমাণুক অণু গঠন করে না।
- সাধারণ অবস্থায় এ গ্যাসগুলি অন্য কোন মৌলের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করে না এবং কোনরূপ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে না বলে এদের নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা হয়। 

- Tungsten (W)- এর পারমাণবিক সংখ্যা ৭৪।

নিষ্ক্রিয় গ্যাসসমূহের ইলেক্ট্রন বিন্যাস: 

- উপরের সারণি থেকে দেখা যায় যে, হিলিয়ামের একমাত্র কক্ষপথটি দুটি ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ (1s2) এবং অন্য সবগুলি নিষ্ক্রিয় গ্যাস মৌলের শেষ কক্ষপথটি আটটি (ns2np6) ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে।
- মৌলের কক্ষপথগুলি ইলেকট্রন দ্বারা পরিপূর্ণ হলে মৌল একটি অতি সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস পায় যা সহজে পরিবর্তিত হতে চায় না।
- নিষ্ক্রিয় গ্যাস মৌলগুলির প্রতিটির জন্য এরূপ সুস্থিত ইলেকট্রন বিন্যাস রয়েছে। এ কারণেই এরা রাসায়নিকভাবে অত্যন্ত নিষ্ক্রিয়। 

তথ্যসূত্র: রসায়ন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০০.
যে মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয়, তাকে কী বলা হয়? 
  1. ধাতু 
  2. অধাতু 
  3. অপধাতু 
  4. অস্থায়ী মৌল 
ব্যাখ্যা

মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম: 
- পর্যায় সারণিতে অবস্থিত মৌলগুলোর কিছু ধর্ম আছে, যেমন- ধাতব ধর্ম, অধাতব ধর্ম, পরমাণুর আকার, আয়নিকরণ শক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা ইলেকট্রন আসক্তি ইত্যাদি। এসব ধর্মকে পর্যায়বৃত্ত ধর্ম বলে। 

ধাতব ধর্ম (Metallic Properties): 
- যে সকল মৌল চকচকে, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী তাদেরকে ধাতু বলা হয়। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন ত্যাগ করে ধনাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে ধাতু বলে। 
- ধাতুর ইলেকট্রন ত্যাগের এই ধর্মকে ধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন ত্যাগ করতে পারবে সেই মৌলের ধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- লিথিয়াম (Li) একটি ধাতু কারণ Li একটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে Li+ এ পরিণত হয়। 
• Li → Li+ + e-
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে ধাতব ধর্ম হ্রাস পায়। 

অধাতব ধর্ম (Non-metallic Properties): 
- যে সকল মৌল চকচকে নয়, আঘাত করলে ধাতব শব্দ করে না এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী নয় তাদেরকে অধাতু বলা হয়। 
- আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল এক বা একাধিক ইলেকট্রন গ্রহণ করে ঋণাত্মক আয়নে পরিণত হয় তাদেরকে অধাতু বলে। 
- অধাতুর ইলেকট্রন গ্রহণের এই ধর্মকে অধাতব ধর্ম বলে। 
- যে মৌলের পরমাণু যত সহজে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে পারবে সেই মৌলের অধাতব ধর্ম তত বেশি। 
যেমন- ক্লোরিন (Cl) একটি অধাতু কারণ Cl একটি ইলেকট্রন গ্রহণ করে Cl- এ পরিণত হয়। 
• Cl + e- → Cl-
- পর্যায় সারণিতে যেকোনো পর্যায়ের বাম থেকে ডানে গেলে অধাতব ধর্ম বৃদ্ধি পায়। 

অর্ধধাতু বা অপধাতু: 
- যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ধাতুর মতো আচরণ করে এবং কোনো কোনো সময় অধাতুর মতো আচরণ করে তাদেরকে অর্ধধাতু বা অপধাতু বলা হয়। 
- আবার আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, যে সকল মৌল কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন ত্যাগ করে এবং কোনো কোনো সময় ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাদেরকে অপধাতু বলে। 
যেমন- সিলিকন (Si) একটি অপধাতু। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।