বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৭৮ / ৩০৬ · ৭,৭০১৭,৮০০ / ৩০,৮৩২

৭,৭০১.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কয়টি দেশ বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৭টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি
- ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯ টি জেলার মধ্যে যশোর প্রথম স্বাধীন হয়।
- এই দিনই (৬ ডিসেম্বর) ভুটান প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- একই দিনে দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ভুটান এবং ভারত; মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন এই দুই দেশই শুধুমাত্র বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।
- ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরেই বঙ্গবন্ধু বহির্বিশ্বের স্বীকৃতি ও দেশ গঠনে তাদের সহযোগিতা লাভের জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।
- ৩য় ও ৪র্থ দেশ হিসেবে যথাক্রমে পোল্যান্ড ও বুলগেরিয়া ১২ জানুয়ারি ১৯৭২ তারিখে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭২ সালে ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম মুসলিম দেশ হিসাবে সেনেগাল বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকৃতি দেয়।
- সর্বশেষ দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশকে ১৯৭৫ সালের ৩১ আগস্ট স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা।
৭,৭০২.
নিম্নের কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি নেই?
  1. ক) ভারত
  2. খ) জার্মানি
  3. গ) চীন
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
 দেশ হিসেবে/একক দেশ হিসেবে/রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশ - যুক্তরাষ্ট্র। 
- যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক উদ্ধৃত্ত রয়েছে/বাণিজ্য ঘাটতি নেই।
- এছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্ধৃত্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য - তৈরি পোশাক।
- অঞ্চল হিসাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে - ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে। 
- ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা রাষ্ট্র জার্মানি।
-  ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।
- এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে – জাপানে; রপ্তানির পরিমাণ – ৮৯৫.০৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যা মোট - রপ্তানির ২.৬৪%।
 
উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২
৭,৭০৩.
ষাট গম্বুজ মসজিদ এর সর্বমোট গম্বুজ সংখ্যা কত?
  1. ৬০টি
  2. ৭৭টি
  3. ৮১টি
  4. ৮৯টি
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। 
- তবে মসজিদটির স্থাপত্যশৈলী দেখলে এটি যে খান-ই-জাহান নির্মাণ করেছিলেন সে সম্বন্ধে কোনো সন্দেহ থাকে না।
- ধারণা করা হয় তিনি ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন। এ মসজিদটি বহু বছর ধরে ও বহু অর্থ খরচ করে নির্মাণ করা হয়েছিলো। পাথরগুলো আনা হয়েছিলো রাজমহল থেকে।
- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত; বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।
- মসজিদের ভেতরে ৬০টি স্তম্ভ বা পিলার আছে।
- এগুলো উত্তর থেকে দক্ষিণে ৬ সারিতে অবস্থিত এবং প্রত্যেক সারিতে ১০টি করে স্তম্ভ আছে।
- প্রতিটি স্তম্ভই পাথর কেটে বানানো, শুধু ৫টি স্তম্ভ বাইরে থেকে ইট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এই ৬০টি স্তম্ভ ও চারপাশের দেয়ালের ওপর তৈরি করা হয়েছে গম্বুজ।
- মসজিদটির নাম ষাট গম্বুজ (৬০ গম্বুজ) মসজিদ হলেও এখানে গম্বুজ মোটেও ৬০টি নয়, গম্বুজ, ১১টি সারিতে মোট ৭৭টি। 
- মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।

[ষাটগম্বুজ নামকরণ নিয়ে জনশ্রুতি আছে, সাতটি করে সারিবদ্ধ গম্বুজ আছে বলে এ মসজিদের নাম ছিল আসলে সাত গম্বুজ। মানুষের মুখে মুখে ষাট গম্বুজ হয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, গম্বুজগুলো ৬০টি স্তম্ভের ওপর অবস্থিত বলে ‘ষাট খাম্বা’ কালে কালে ‘ষাটগম্বুজ’ হয়ে উঠেছে।]

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।
ii) বাগেরহাট জেলা, জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭,৭০৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত বছর বয়সে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য হন?
  1. ৩৮ বছর
  2. ৩৬ বছর
  3. ৩৪ বছর
  4. ৩২ বছর
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় ।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন।
- তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর।
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭,৭০৫.
বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান-
  1. ক) পঞ্চম
  2. খ) দ্বিতীয়
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) তৃতীয়
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ‘The State of World Fisheries and Aquaculture 2020’ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান ধরে রেখে বিগত ১০ বছরের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির হারে দ্বিতীয় স্থানে উন্নীত হয়েছে।
- বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে পঞ্চম স্থান ধরে রেখেছে।
৭,৭০৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট সরকারের কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. ক) অর্থ ও পরিকল্পনা
  2. খ) স্বরাষ্ট্র ও ত্রাণ
  3. গ) কৃষি ও সমবায়
  4. ঘ) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ৪ এপ্রিল এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
১৪ মে এ মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় এ মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
(সূত্রঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,৭০৭.
ছয়দফা কর্মসূচি প্রথম কে ঘোষণা করেন?
  1. ক) মলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলগুলোর সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক 'ছয়দফা কর্মসূচি' পেশ করেন। এ কর্মসূচিকে তিনি 'পূর্ব পাকিস্তানের বাঁচার দাবি' বলে অভিহিত করেন।
উৎসঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী, শেখ মুজিবুর রহমান।
৭,৭০৮.
শিল্পজাত পণ্যের মধ্যে রপ্তানি আয়ের দিক থেকে বাংলাদেশ ২য় সর্বোচ্চ আয় করে কোন খাত থেকে?  
  1. ক) তৈরি পোশাক
  2. খ) পাট ও পাটজাত পণ্য  
  3. গ) কৃষিজাত দ্রব্য
  4. ঘ) হিমায়িত চিংড়ি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত  ‘তৈরি পোশাক’ ও ‘নীটওয়্যার’ – ইত্যাদি কয়েক ধরনের রপ্তানি পণ্যের সমন্বয়ে গঠিত।
• ২০২১-২২ অর্থবছরে তৈরি পোশাক ও নীটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি আয় - ২৭,৪৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৭.৪৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা মোট রপ্তানি আয়ের - ৮১.২৫% (নীটওয়্যার- ৪৪.৫৩% ও তৈরি পোশাক - ৩৬.৭২%)।
• অর্থাৎ, রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের অবদান - ৮১.২৫%।   

• এই খাতের বাইরে শিল্পজাত পণ্যের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় আসে - পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে (৬৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। 
• রপ্তানিতে ‘প্রাথমিক পণ্য’-এর অবদান/রপ্তানির হার ৪.১৫% এবং ‘শিল্পজাত পণ্য’-এর অবদান/রপ্তানির হার - ৯৫.৮৪%। 

• প্রাথমিক পণ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছে - ‘হিমায়িত খাদ্য’।
• দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি হয়েছে - ‘কৃষিজাত পণ্য’। 

উৎস: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, জুলাই-ফেব্রুয়ারি, ২০২২ পর্যন্ত।  
৭,৭০৯.
ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১নং সেক্টরে
  2. ৪নং সেক্টরে
  3. ৭নং সেক্টরে
  4. ১১নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ ও সেক্টর:

- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : ১নং সেক্টর।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : ২নং সেক্টর।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : ৪নং সেক্টর।
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : ৭নং সেক্টর।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : ৮নং সেক্টর।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার রুহুল আমীন : ১০নং সেক্টর।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : পশ্চিম পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৭,৭১০.
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা কোনটি?
  1. খুলনা
  2. বরিশাল
  3. ঢাকা
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

⇒ স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা ঢাকা।

⇒ উল্লেখ্য:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরাজয় হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর।
- কিন্তু আত্মসমর্পণের পরও পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল।
- ঢাকায় আত্মসমর্পণের ১ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর ২৩ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় কুমিল্লার হোমনা।
- কিন্তু ঢাকার মিরপুর তখনো পাকিস্তানি বাহিনী ও বিহারিদের হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সামরিক অভিযানের পর ৩১ জানুয়ারি ১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লক ঈদগাহ মাঠে আত্মগোপনকারী পাকিস্তানি সেনা, বিহারি, রাজাকার, আলবদরদের অস্ত্রসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় মিরপুর।

⇒ অন্যদিকে:
- খুলনা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- সিলেট জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- কুমিল্লা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১।

তথ্যসূত্র - জানুয়ারি ৩০, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।

৭,৭১১.
বাংলাদেশ সর্বপ্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে জয় লাভ করে কোন দলের বিপক্ষে?
  1. কেনিয়া
  2. জিম্বাবুয়ে
  3. কানাডা
  4. পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ করে ১৯৯৭ সালে।
- ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ বাংলাদেশ সর্বপ্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
- ১৭ মে, ১৯৯৮ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম জয় পায়।
- ২০০৫ সালে বাংলাদেশ প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় লাভ করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

তথ্যসূত্র - ক্রিক ইনফো ওয়েবসাইট ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
৭,৭১২.
কাবাডি খেলাকে জাতীয় খেলার মর্যাদা দেয়া হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

কাবাডি:
- কাবাডি খেলাকে জাতীয় খেলার মর্যাদা দেয়া হয় ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ সফররত ভারতীয় কাবাডি দলের সঙ্গে প্রথম কাবাডি টেস্ট খেলে।
- ১৯৭৮ সালে এশিয়ান অ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশন গঠন করা হয়।
- ১৯৮০ সালে সফলভাবে প্রথম এশীয় কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করা হয়
  এবং এতে ভারত চ্যাম্পিয়ন ও বাংলাদেশ রানার্স আপ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

৭,৭১৩.
বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রথম কখন থেকে চালু করা হয়?
  1. ক) ১ জানুয়ারি, ১৯৯০
  2. খ) ১ জানুয়ারি, ১৯৯১
  3. গ) ১ জানুয়ারি, ১৯৯২
  4. ঘ) ১ জানুয়ারি, ১৯৯৩
ব্যাখ্যা
প্রাথমিক শিক্ষা আইন:
- বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয় ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি।
-  ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি  প্রতি জেলার একটি করে থানায় পরীক্ষামূলকভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রথমে চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং আইন মন্ত্রণালয়।
৭,৭১৪.
বাংলাদেশের কোন জেলাসর্বাধিক বনাঞ্চলসম্পন্ন? (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)
  1. রাঙ্গামাটি
  2. বান্দরবান
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বাগেরহাট
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
- দেশে মোট বনাঞ্চলের পরিমাণ - ৬৩,৬৩,০০০ একর।

সর্বাধিক বনাঞ্চলসম্পন্ন জেলা:
১) রাঙ্গামাটি - ১৩,৭৮,৫৬৪.১৩ একর।
২) বান্দরবান - ৭,৯৭,৫৪১.৪৯ একর।
৩) বাগেরহাট - ৫,৬৬,৫১২.৯৫ একর।
৪) খাগড়াছড়ি - ৫,৫৪,১১৬.২১ একর।
৫) খুলনা - ৫,৬৪,০৮১.৬১ একর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৭,৭১৫.
আসাদ গেট কোন স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়?
  1. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  2. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. ছয়দফা আন্দোলন
  4. ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
আসাদ গেট:
- শহীদ আসাদ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর শহীদ ছাত্রনেতা।
- আসাদুজ্জামান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
- তিনি ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র সংগ্রাম কমিটির ১১ দফা আদায়ের মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- তাঁর মৃত্যু ঊনসত্তরের ছাত্র-গণআন্দোলনের গোটা অবয়বকেই পাল্টে দেয় এবং তা আইয়ুব খানের শাসন ও নিপীড়নমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়।
- আসাদ গেট ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষার্থে নির্মিত হয়। 
- অনেক জায়গায় জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইয়ুবের নামফলক নামিয়ে আসাদের নাম উৎকীর্ণ করে।
- এভাবে ‘আইয়ুব গেট’ হয়ে যায় ‘আসাদ গেট’, ‘আইয়ুব এভিনিউ’ নামান্তরিত হয়ে হয় ‘আসাদ এভিনিউ’।
- তখন থেকে আসাদের নাম হয়ে ওঠে নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূর্ত প্রতীক। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭১৬.
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. আকবর
  2. শাহজাহান
  3. বাবর
  4. হুমায়ুন
ব্যাখ্যা
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই ছিলেন মুঘল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।

বাবর:
- জহিরউদ্দীন মুহম্মদ বাবর ভারতবর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- পিতার দিক থেকে বাবর ছিলেন বিখ্যাত তুর্কি তৈমুর লং-এর অধস্তন পঞ্চম পুরুষ এবং মায়ের দিক থেকে তাঁর পূর্বপুরুষ ছিলেন বিখ্যাত মোঙ্গল নেতা চেঙ্গিস খান।
- উপমহাদেশে বাবরের প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ মুঘল বংশ নামে পরিচিত হয়েছে মোঙ্গলদের সাথে তাঁর সম্পর্ক থাকার কারণেই।
- বাবর ১৪৮৩ খ্রিস্টাব্দে মধ্য এশিয়ার ফারগানায় জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতার মৃত্যুর পর বাবর বার বছর বয়সে ফারগানার অধিপতি হন।
- ১৫০৪ খ্রিস্টাব্দে উজবেক শাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রথম বারের মতো বাবর কাবুল জয় করেন।
- কাবুল বিজয়ের পরও বাবর পিতৃসিংহাসন পুনরুদ্ধার ও রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ করেন।
- কাবুল অধিকারের পর বাবর ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা করেন।
- এসময় ভারতের শাসন ক্ষমতায় ছিলেন লোদী সুলতানরা।
- বাবরের আক্রমণের পূর্বে ভারতের শেষ সুলতান ছিলেন ইব্রাহিম লোদী।
- ভারতের কেন্দ্রীয় শক্তির দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ করে বাবর এদেশে মোগল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭১৭.
কোন গ্রন্থে বঙ্গ জনপদের অবস্থান সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায়?
  1. অর্থশাস্ত্র
  2. রঘুবংশ
  3. আইন-ই-আকবরী
  4. ঐতরেয় আরণ্যক
ব্যাখ্যা
- ‘বঙ্গ’ হলো প্রাচীন বাংলায় বসবাসকারী একটি জনগোষ্ঠী ও জনপদের নাম।
- ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠীর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় বেদের শাখা হিসেবে রচিত ‘ঐতরেয় আরণ্যক’ গ্রন্থে।
- তবে বঙ্গের অবস্থান সম্পর্কে প্রথম ধারণা পাওয়া যায় কালিদাস রচিত ‘রঘুবংশ’ গ্রন্থে। রঘুবংশ গ্রন্থের মতে গঙ্গার দুইধারার মধ্যবর্তী স্থানে বঙ্গ জনপদের অবস্থান।
- গ্রিক লেখকগণ বঙ্গ জনপদকেই গঙ্গারিডিই হিসেবে অভিহিত করেন। ‘বঙ্গ’ শব্দ থেকেই বর্তমান ‘বাংলাদেশ’ নামের উদ্ভব হয়েছে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৭,৭১৮.
অস্ট্রোলয়েড জাতিগোষ্ঠী প্রাচীন সাহিত্যে কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. নিগ্রো
  2. নিষাদ
  3. দ্রাবিড়
  4. দাস
ব্যাখ্যা

→ প্রাচীন সাহিত্যে অস্ট্রোলয়েডদের 'নিষাদ' নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্ট্রোলয়েড: 
- অস্ট্রোলয়েড জাতিগোষ্ঠী প্রাচীন বাংলায় একটি আদিম নৃগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত, তাদের প্রাচীন সাহিত্যে “নিষাদ” নামে উল্লেখ করা হয়েছে।
- নৃতত্ত্ববিদদের মতে, এরা আদি অস্ট্রেলীয় জনগোষ্ঠীর অংশ এবং অনেক সময় অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয় বলেও অভিহিত হন।
- মধ্য ও দক্ষিণ ভারত থেকে শুরু করে সিংহল ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত এদের বিস্তৃতি ছিল, তবে একটি অংশ কালক্রমে বাংলায় অভিবাসন করে।
- বাংলার প্রাচীন বং ও নেগ্রিটো জাতিগোষ্ঠীর পরে এদের আগমন ঘটে।
- বর্তমান বাংলাদেশের কোল, ভীল, সাঁওতাল, মুন্ডা, মালপাহাড়ি প্রভৃতি গোষ্ঠী এদের উত্তরসূরি।
- অস্ট্রোলয়েডদের কৃষিনির্ভর সভ্যতা, ভাষা ও সামাজিক পদ্ধতির প্রভাব বাংলার সংস্কৃতিতে গভীরভাবে পরিলক্ষিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

৭,৭১৯.
অর্থনীতিতে উৎপাদন বলতে কী বোঝায়?
  1. উপযোগ সষ্টি করা
  2. অধিক সম্পর্ক সৃষ্টি করা
  3. সম্পর্ক বণ্টন করা
  4. কল্যাণ বৃদ্ধি করা
ব্যাখ্যা
উৎপাদনের ধারণা (Concept of Production)
সাধারণ অর্থে 'উৎপাদন' বলতে কোন কিছু সৃষ্টি করাকে বুঝায়। কিন্তু অর্থনীতিতে উৎপাদন বলতে শুধু সৃষ্টি করাকে বুঝায় না। অর্থনীতিতে উৎপাদন বলতে কোন নির্দিষ্ট সময়ে কোন দ্রব্যের আকার ও আকৃতির পরিবর্তন করে দ্রব্যের উপযোগ সৃষ্টি করাকে উৎপাদন বলে।

প্রকৃতপক্ষে মানুষ কোন কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। মানুষের আশে পাশে যা কিছু রয়েছে সবই প্রকৃতির দান। মানুষ কেবল মাত্র প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদের রূপগত, গুণগত, পরিমাণগত ও অবস্থানগত পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করতে পারে বা ভবিষ্যতের জন্য মজুদ রেখে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি করতে পারে। এভাবে কোন দ্রব্যের আকার ও আকৃতি পরিবর্তন করাকে অর্থনীতিতে উৎপাদন বলে। যেমন- বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে আসবাবপত্র প্রস্তুত করে মানুষ কোন নতুন দ্রব্য বা পদার্থ সৃষ্টি করতে পারে না। শুধুমাত্র কাঠের আকার ও আকৃতি পরিবর্তন করে আসবাবপত্র তৈরী করে উপযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে মাত্র। অর্থাৎ আসবাবপত্র তৈরীর মাধ্যমেই কাঠের উপযোগ সৃষ্টি করা হলো। সুতরাং অর্থনীতিতে উৎপাদন বলতে কোন দ্রব্য সৃষ্টি করাকে বুঝায় না; বরং দ্রব্যের আকার ও আকৃতি পরিবর্তন করে অধিক উপযোগ সৃষ্টি করাকে বুঝায়। বিভিন্ন অর্থনীতিবিদ উৎপাদনের বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। যেমন:

অধ্যাপক মার্শালের মতে, “এ বস্তু জগতে মানুষ প্রকৃতি প্রদত্ত বস্তুকে অধিকতর উপযোগী করে তোলার উদ্দেশ্যে এরূপ পূর্নবিন্যাস করে যাতে তাকে অধিকতর কার্যোপযোগী করা যায়।”

অধ্যাপক ডানিয়েল বি. সুইটস এর মতে, “উৎপাদন হলো এমন একটি পদ্ধতি যা দ্বারা মানুষ প্রকৃতি প্রদত্ত বস্তুকে ভোগের উপযোগী করে তুলতে পারে।”

সুতরাং সংক্ষেপে বলা যায়, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানুষ প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদের সাথে নিজের শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করে অধিকতর উপযোগ সৃষ্টি করে তাকে উৎপাদন বলে।

উৎস: অর্থনীতি ১ম পত্র, এইচসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭২০.
What is the per capital income ($ US) of Bangladesh in 2021?
  1. ক) 2254
  2. খ) 2454
  3. গ) 2554
  4. ঘ) 3054
ব্যাখ্যা
• নতুন ভিত্তি বছর (২০১৫-২০১৬) অনুযায়ী GDP'র সাময়িক হিসাবে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের,
- মাথাপিছু GDP ২,৪২৬ মার্কিন ডলার;
- মাথাপিছু আয় ২,৫৫৪ মার্কিন ডলার;
- GDP'র প্রবৃদ্ধির হার ৫.৪৩%।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২ অনুসারে,
- মাথাপিছু জিডিপি ২,৭২৩ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জাতীয় আয় ২,৮২৪ মার্কিন ডলার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৭,৭২১.
”আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভ” নাগরিকের কী ধরনের অধিকার?
  1. নৈতিক অধিকার
  2. অর্থনৈতিক অধিকার
  3. রাজনৈতিক অধিকার
  4. সামাজিক অধিকার
ব্যাখ্যা

• সামাজিক অধিকার:
- সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
যেমন-
- জীবন রক্ষার,
- স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের,
- পরিবার গঠনের,
- শিক্ষার,
- আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের,
- সম্পত্তি লাভের;
- ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

• রাজনৈতিক অধিকার:
- নির্বাচনে ভোটাধিকার,
- নির্বাচিত হওয়া।
- রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ।

• অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
যেমন-
- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার,
- ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার,
- অবকাশ লাভের অধিকার,
- শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৭,৭২২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় সুন্দরবন কত নম্বর সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ৭ নম্বর
  2. খ) ৮ নম্বর
  3. গ) ৯ নম্বর
  4. ঘ) ১০ নম্বর
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও বঙ্গোপসাগর)
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।

- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর,
- ঢাকা-২ নং সেক্টর,
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর,
- মুজিব নগর-৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন-৯ নং সেক্টর,

সূত্র: ঢাকা বিভাগের ওয়েবসাইট।
৭,৭২৩.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ কে?
  1. ক) রফিক
  2. খ) শফিক
  3. গ) বরকত
  4. ঘ) সালাম
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন
- ভাষা আন্দোলন  বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে সংগঠিত গণআন্দোলন।
-  ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত এবং ১৯৫২ সালে এই আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮) শুধুমাত্র উর্দুকে জাতীয় ভাষা হিসেবে ঘোষণার প্রতিবাদে বাঙালী ছাত্ররা সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে।
- ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জড়ো হতে শুরু করে।
- ২১ ফেব্রুয়ারির মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ আরও অনেকে।
- ২০০০ সালে তাদের রাষ্ট্রীয় একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
- বরকত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
- রফিক ছিলেন বাদামতলী কমার্শিয়াল প্রেসের মালিকের ছেলে।
- তারা তিনজন নিহত হন ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে।
- পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে মারা যান রিকশাচালক সালাম এবং হাইকোর্টের কর্মচারী শফিউর রহমান।
- ১৯৫২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি প্রাণ হারানোর তালিকায় আরো দুটি নাম পাওয়া যায়- অহিউল্লাহ ও আবদুল আউয়াল।
- এ ছাড়া সালাউদ্দীন নামেও একজন ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ হন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 
- বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষার আন্দোলনে প্রথম শহিদ রফিকউদ্দিন আহমেদ। 

উৎস: i) দৈনিক ইত্তেফাক, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।
         ii) প্রথম আলো, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১।
৭,৭২৪.
সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৮৯ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯৩ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা
স্টক এক্সচেঞ্জ:
- সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশন অ্যাক্ট ১৯৯৩ এর অধীনে ১৯৯৩ সালের ৮ জুন সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠিত হয়।
- বাংলাদেশের পুঁজি বাজার পরিচালনা করে বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ কিমিশন বা Bangladesh Securities and Exchange Commission.
- গ্রাহকের পুঁজির নিরাপত্তা বিধান ও পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করা এই কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।
- বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ দুইটি।
- একটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং অপরটি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ।
- পুঁজি বাজার বা স্টক মার্কেটকে সেকেন্ডারি মার্কেট হিসাবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ:
- ঢাকার শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ নিয়ে গঠিত।
- এটি দেশের বৃহত্তম শেয়ার বাজার।
- এটি রাজধানী ঢাকার প্রধানতম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলে অবস্থিত।
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৫৪ সালে।
- আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে ১৯৫৬ সালে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ:
- চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ১৯৯৫ সালের ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম থেকে শুরু হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে সরকারের কাছে আবেদন করলে সিকিউরিটিস এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন ১৯৯৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের দ্বিতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে এর অনুমোদন দেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও BSEC ওয়েবসাইট।
৭,৭২৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদে নাগরিকের পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. ৩৮
  2. ৪০
  3. ৪১
  4. ৪২
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৪০ নং অনুচ্ছেদে পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে। 
• ৪০। আইনের দ্বারা আরোপিত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে কোন পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের কিংবা কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার জন্য আইনের দ্বারা কোন যোগ্যতা নির্ধারিত হইয়া থাকিলে অনুরূপ যোগ্যতাসম্পন্ন প্রত্যেক নাগরিকের যে কোন আইনসঙ্গত পেশা বা বৃত্তি-গ্রহণের এবং যে কোন আইনসঙ্গত কারবার বা ব্যবসায়-পরিচালনার অধিকার থাকিবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৭,৭২৬.
সরকারি গেজেট অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা কতজন?
  1. ৮৩৪ জন
  2. ৮৩৬ জন
  3. ৮৩৯ জন
  4. ৮৪৪ জন
ব্যাখ্যা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহীদদের গেজেট:
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন। ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে আরেকটি গেজেট করেছে মন্ত্রণালয়। এই গেজেট অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা এখন ৮৩৬ জন।
উল্লেখ্য,
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ তহবিল করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রথম আলো।

৭,৭২৭.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. সরফরাজ খান
  2. সিরাজ-উদ-দৌলা
  3. আলীবর্দী খান
  4. মুর্শিদ কুলি খান
ব্যাখ্যা

• নবাব মুর্শিদ কুলি খান:
- মুর্শিদ কুলি খান (১৭০০-১৭২৭) বাংলায় নওয়াবী শাসনের প্রতিষ্ঠাতা।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের পর কোনো কোনো সুবা স্বাধীন হয়ে যায়।
- বাংলাও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
- বিশেষ করে মুর্শিদকুলী খানের সময় থেকে বাংলায় নবাবী আমলের সূচনা হয়।
- সম্রাট আওরঙ্গজেব তাঁকে কর তলব খান উপাধি দিয়ে ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার দিওয়ান নিযুক্ত করেন।
- বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব মুর্শিদ কুলি খান দায়িত্ব গ্রহণ করে।
- তিনি ঢাকা বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন ১৭১৭ সালে।
- তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব ধার্য না করে সঠিক ব্যবস্থাপনার দ্বারা রাজস্বের পরিমাণ বৃদ্ধি করেন।

অন্যদিকে -
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলা-বিহার-ওড়িশার শেষ স্বাধীন নবাব।
- আলীবর্দী খান (১৬৭৬-১৭৫৬) বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নওয়াব (১৭৪০-১৭৫৬)।
- ইলিয়াস শাহ বাংলাদেশে ইলিয়াস শাহী রাজবংশ-এর প্রথম শাসক।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া। 

৭,৭২৮.
বাংলাদেশ চা বোর্ড কবে গঠিত হয়?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
চা বোর্ড:
- বাংলাদেশ চা বোর্ড চট্টগ্রামে অবস্থিত।
- ১৯৫১ সালে প্রথম পাকিস্তান টি বোর্ড গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশে চা অধ্যাদেশ-১৯৭৭ এর মাধ্যমে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ চা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়।
- চা বোর্ড বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন।
- চা বোর্ডের অধীনে দেশে বর্তমানে ১৬৮টি চা বাগান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড।
৭,৭২৯.
উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠন করে কারা?
  1. সরকারি দল
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. সশস্ত্র বাহিনী
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে 'বিকল্প সরকার' বলা হয় বিরোধী দলকে। 
- উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরোধী দলও সরকারি দলের ন্যায় গঠন করে- ছায়া মন্ত্রিসভা। 
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন।
- সরকার যেন স্বৈরাচারি ও দুর্নীতিপরায়ণ না হয় সেজন্যে বিরোধী দল ছায়া সরকার বা বিকল্প সরকারের ভূমিকা পালনের মাধ্যমে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে থাকে।
- তবে বর্তমান সময়ে গণতন্ত্রের অপর নাম হল দলীয় শাসন। 

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৭,৭৩০.
'ষাট গম্বুজ মসজিদ' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. শাহ বায়েজীদ বোস্তামী
  2. সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  3. শাহ মখদুম রূপোশ
  4. খান জাহান আলী
ব্যাখ্যা
ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- এটি বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- ১৫ শতকের দিকে খান জাহান আলী ঐতিহাসিক মসজিদের শহরটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ষাট গম্বুজ মসজিদটিতে ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে।
- মসজিদটি উত্তর-দক্ষিণে বাইরের দিকে প্রায় ১৬০ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ১৪৩ ফুট লম্বা এবং পূর্ব-পশ্চিমে বাইরের দিকে প্রায় ১০৪ ফুট ও ভিতরের দিকে প্রায় ৮৮ ফুট চওড়া।
- দেয়ালগুলো প্রায় ৮·৫ ফুট পুরু।
- এ বিশাল মসজিদের চতুর্দিকে প্রাচীর ৮ফুট চওড়া, এর চার কোনে চারটি মিনার আছে।
- মসজিদটি ছোট ইট দিয়ে তৈরী, এর দৈর্ঘ্য ১৬০ফুট, প্রস্থ ১০৮ ফুট, উচ্চতা ২২ফুট।
- মসজিদের পশ্চিম দিকে প্রধান মেহরাবের পাশে একটি দরজাসহ মোট ২৬টি দরজা আছে।
- ইউনেস্কো এ মসজিদটি বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছে।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৭,৭৩১.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার  ক্ষমতায় ছিল কত দিন? 
  1. ৫৬ দিন
  2. ৬৫ দিন
  3. ৫০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট সরকার
- ১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- পাকিস্তান সরকার পূর্ববাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি।
- তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলি কাগজের কলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
- উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের ইন্ধনে ঐ দাঙ্গা হয়েছিল। শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দি করা হয়। বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মাধ্যমে পূর্ববাংলার প্রতি পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর চরম বৈরী মনোভাব প্রকাশ পায়।
- পূর্ববাংলায় পাকিস্তানের অরাজক শাসন পর্ব শুরু হয়।
- কেন্দ্র এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হতে থাকে। দেশ সামরিক শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি বোর্ড বই।

৭,৭৩২.
কোন বাংলাদেশী সর্বপ্রথম এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন?
  1. ক) মুসা ইব্রাহিম
  2. খ) নিশাত মজুমদার
  3. গ) এম. এ. মুহিত
  4. ঘ) ওয়াসফিয়া নাজরীন
ব্যাখ্যা
মুসা ইব্রাহিম:
- মুসা ইব্রাহীম একজন বাংলাদেশী পর্বতারোহী।
- তিনি প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন।
- তিনি ২৩ মে ২০১০ তারিখে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৫ মিনিটে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন।
- এভারেস্ট জয়ী মুসা ইব্রাহিমের গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটের দুর্গাপুর উপজেলা।
- মুসা ইব্রাহীম চায়না-তিব্বতের দিক দিয়ে এভারেস্ট জয় করেছিলেন।
- ২০১০ সালের ২৩ মে এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বাংলাদেশকে ৬৭তম এভারেস্টজয়ী দেশ হিসেবে পরিণত করে মুসা ইব্রাহীম।

উল্লেখ্য,
- তেনজিং নোরগে একজন নেপালী শেরপা পর্বতারোহী ছিলেন।
- তিনি এবং এডমন্ড হিলারি ১৯৫৩ সালের ২৯ শে মে যৌথভাবে বিশ্বে সর্বপ্রথম পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্ট পর্বত জয় করেন ।

উৎস: i) প্রথম আলো, ১০ মার্চ, ২০১৮।
         ii) মে ২৬, ২০১০, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৭,৭৩৩.
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট কত সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করে?
  1. ১০ সদস্যবিশিষ্ট
  2. ১২ সদস্যবিশিষ্ট
  3. ১৪ সদস্যবিশিষ্ট
  4. ১৫ সদস্যবিশিষ্ট
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ:  
- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের নিরঙ্কুশ জয় শুরু থেকেই মুসলিম লীগ সুনজরে দেখেনি।
- তারা যুক্তফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র আরম্ভ করে।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ও বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিলে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
- কেন্দ্রীয় সরকার সুযোগ খুঁজতে থাকে যেকোনো অজুহাতে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করতে।
- ১৯৫৪ সালের ৩০শে মে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন জারি করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি। 

৭,৭৩৪.
সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন কে?
  1. ক) লুইস আই কান
  2. খ) হামিদুর রহমান
  3. গ) কামরুল হাসান
  4. ঘ) মৃণাল হক
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার কামরুল হাসান। ১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।
এর পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে শিবনারায়ণ দাস ও আরো কয়েকজন মিলে চূড়ান্ত করেন যা ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম রব প্রথম উত্তোলন করেন। ১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা’র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৭,৭৩৫.
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন SMART card (NID) কোন দেশ থেকে তৈরি করেছে?
  1. ক) জাপান
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) নেদারল্যান্ড
  4. ঘ) ভারত
ব্যাখ্যা
ফরাসি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে ৯ কোটি ভোটারের জন্য উন্নত মানের জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট এনআইডি কার্ড) তৈরি করা হয়েছে। [সূত্র: কালের কন্ঠ]
৭,৭৩৬.
জিডিপিতে কোন খাতের অবদান ক্রমবর্ধমান?
  1. খনিজ ও খনন
  2. কৃষিখাত
  3. নির্মাণ খাত
  4. শিল্পখাত
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ অনুযায়ী,


- জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৩.৩৫ শতাংশ।
- কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৩.১১ শতাংশ।
- কৃষি খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী ৪০.৬ শতাংশ।

- জিডিপিতে শিল্প খাতের অবদান ৩৫.৩৬ শতাংশ।
- শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৬.৪৮ শতাংশ।
- শিল্প খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী ২০.৪ শতাংশ।

- জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান ৫১.৩০ শতাংশ।
- সেবা খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৫.৩২ শতাংশ।
- সেবা খাতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠী ৩৯.০ শতাংশ।

• বাংলাদেশের জিডিপিতে সেবাখাতের অবদান সবচেয়ে বেশি।
• ২০১৮-২০১৯ সময়ে কৃষি ও শিল্পখাতের অবদান ছিলো যথাক্রমে ১৩.৬০ ও ৩৫.১৪।

• সুতরাং জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ক্রম হ্রাসমান এবং শিল্পখাতের অবদান ক্রমবর্ধমান।

উৎসঃ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০।

৭,৭৩৭.
মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রথম রণকৌশল কোনটি?
  1. ক্যালকাটা স্ট্র্যাটেজি
  2. ইউনাইটেট ওফেনসিভ
  3. তেলিয়াপাড়া রণকৌশল
  4. মেহেরুপুর রণকৌশল
ব্যাখ্যা
তেলিয়াপাড়া রণকৌশল:
মহান মুক্তিযুদ্ধে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়ার একটি বর্ণাঢ্য ইতিহাস রয়েছে। এখান থেকেই যেমন মুক্তিবাহিনী গঠন, মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও রাজনৈতিক সরকার গঠনের প্রস্তাব তথা মুক্তিযুদ্ধের প্রাথমিক প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রথম পাঠের অনুশীলন হয় তেমনি এখানে সংগঠিত হয়েছে বহু সম্মুখ সমর।
- ২৮ মার্চ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত সময়ে এখানে সংগঠিত নানা বিষয় যেমন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ইতিহাসের অমূল্য উপাদান; তেমনি সম্মুখ সমরক্ষেত্র হিসেবেও এ স্থানের রয়েছে অতুলনীয় গৌরব-গাঁথা।

২৫ মার্চ পাক বাহিনীর বর্বোরোচিত হামলার পর বাঙ্গালি অনেক সেনা অফিসার বিদ্রোহ করেন। বিদ্রোহী অফিসারদের অনেকেই (খালেদ মোশাররফ, শাফায়াত জামিল, জিয়াউর রহমান, এস এম রেজা, কে এম সফিউল্লাহ প্রমুখ এম.এ.জি ওসমানীর উপস্থিতি বৈঠক করেন। তেলিয়াপাড়া তখন ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গলের অস্থায়ী হেডকোয়ার্টার। সেখান থেকে পূর্ব যোগাযোগের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় তেলিয়াপাড়া বিওপি-এর কাছে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষের আলোচনায় ৪ এপ্রিল তেলিয়াপাড়া চা বাগানের ম্যানেজার বাংলোতে বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তাদের একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়।

৪ এপ্রিল সকালের মধ্যেই সেনা কর্মকর্তাদের সকলে তেলিয়াপাড়া বাংলোতে উপস্থিত হন। ১০টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ-এর পূর্বাঞ্চলীয় মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার ভি সি পান্ডে ও আগরতলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ওমেস সায়গল বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে সঙ্গে নিয়ে তেলিয়াপাড়াস্থ সেনা সদরে এসে উপস্থিত হন। ৭ সকাল ১১টায় সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

এখানেই সিদ্ধান্ত হয় যে, বিদ্রোহী অফিসাররা যুদ্ধ চালিয়ে যাবেন। এখানেই প্রথম বিদ্রোহী সকল ইউনিটের সমন্বয়ে 'মুক্তিফৌজ' গঠন করে।
এই বৈঠকের স্থানের নাম অনুসারে এখানে গৃহীত যুদ্ধকৌশলকে "তেলিয়াপাড়া রণকৌশল" নামে অভিহিত করা হয়। এটাই মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রথম রণকৌশল হিসাবে পরিগণিত।

তেলিয়াপাড়া সেনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশ সরকার গঠনের আগে। তাই নিকট অতীতে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার উদাহরণ বিশ্লেষণ করে সভার লিখিতাকারে কোনো সিদ্ধান্ত সংরক্ষণ করা হয়নি।
- ‘মৌখিকভাবে বাহিনীর সংগঠন, নেতৃত্ব ও যুদ্ধ পরিচালনার যে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদন পায়।
- ১১ এপ্রিল নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বেতার ভাষণে এই সভার সিদ্ধান্তের কিছু অংশ উচ্চারিত হয়েছিল। উক্ত ভাষণে 'মুক্তিফৌজ' গঠনের কথাও বলা হয়।
পরে এই সভার সিদ্ধান্তগুলোকে পরিবর্ধন, পরিমার্জন, সংশোধন, সংযোজনের মাধ্যমে আরও সময়োপযোগী করে তোলা হয়’।
- সভা শেষে কর্নেল ওসমানী তাঁর রিভলভার থেকে ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।’
- ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্তানুযায়ী ১০ এপ্রিল তেলিয়াপাড়ায় ২য় সেনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

উৎসঃ মূলধারা ৭১, বাংলাপিডিয়া ও তেলিয়াপাড়া উপজেলা ওয়েবসাইট।
৭,৭৩৮.
নিচের কোন জেলায় রাজবংশী জনগোষ্ঠীর বসবাস নেই?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
রাজবংশী:

- রাজবংশী বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- হিমালয় অঞ্চল বা ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে আগত রাজবংশীরা খর্বকায়, চ্যাপ্টা নাক, উঁচু চোয়ালবিশিষ্ট এক মিশ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ।
- এরা বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বী। বর্তমানে এদের কেউ কেউ মুসলমান, কেউবা খ্রিস্টান।
- বাংলাদেশে এদের বসবাস প্রধানত রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী এবং অতি অল্পসংখ্যায় বগুড়া ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- রাজবংশীরা মূলত কৃষিজীবী, তবে মাছধরা এবং মাছ বিক্রয় এদের অন্যতম পেশা। মেয়েরা কুটির শিল্পের কাজে দক্ষ।
- পিতাই পরিবারের প্রধান।
- রাজবংশীদের কোন লেখ্য ভাষা বা বর্ণমালা নেই।
- এদের ভাষা স্থানিক তথা আঞ্চলিক ভাষার এক মিশ্ররূপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৩৯.
অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কে পাঠ করেন?
  1. ক) ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) এম এ হান্নান
  4. ঘ) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী গণহত্যা শুরু করলে প্রাথমিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক তৎপরতা ছাড়াই পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।
- ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণ ও গণহত্যা শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান হতে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের অধিকাংশ সদস্য প্রতিবেশি দেশ ভারতে আশ্রয় নেন।
- তারা একত্রিত হয়ে মুক্তিযুদ্ধ সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের একটি অস্থায়ী সরকার গঠন করেন।
- ১৩ এপ্রিল আগরতলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের এক সভায় সরকার গঠন অনুমোদন করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল অস্থায়ী সরকারের সদস্যগণ মেহেরপুর বৈদ্যনাথ তলায় শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের প্রধান ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- তাঁর নাম অনুসারে বৈদ্যনাথ তলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর এবং দেশে-বিদেশে সরকার পরিচিত হয় মুজিবনগর সরকার নামে ।
- আওয়ামী লীগের চীপ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলী অস্থায়ী সরকারের (মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত) সদস্যদের শপথ পাঠ করান।
- শপথ অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউসুফ আলী স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন
- এ সরকার গঠনের মাত্র দুই ঘন্টা পর পাকিস্তানি বাহিনীর বিমান মুজিবনগরে বোমাবর্ষণ করে এবং মেহেরপুর দখল করে নেয়।
- ফলে মুজিবনগর সরকারের সদর দপ্তর কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোডে স্থানান্তরিত হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,৭৪০.
বাংলার প্রাচীনতম জনপদ কোনটি?
  1. বঙ্গ জনপদ
  2. পুণ্ড্র জনপদ
  3. বরেন্দ্র জনপদ
  4. সমতট জনপদ
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলো পুণ্ড্র।
- বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থান ভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়।

অপরদিকে,
বঙ্গ জনপদ:
- প্রাচীন বাংলা কতগুলো অঞ্চল বা জনপদে বিভক্ত ছিল।
- এর মধ্যে 'বঙ্গ' জনপদ ছিল অন্যতম।
- বর্তমান বরিশাল, ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নীচু জলাভূমি নিয়ে 'বঙ্গ' জনপদ গঠিত ছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী 'বঙ্গ' জনগোষ্ঠী থেকে 'বঙ্গ' নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়।

বরেন্দ্র জনপদ:
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।

সমতট জনপদ:
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৭৪১.
‘Gender Equality and Women’s Empowerment at Work Place’ শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদকাল কত?
  1. ক) জুলাই ২০১৯ - ডিসেম্বর ২০২০
  2. খ) জুলাই ২০১৮ - ডিসেম্বর ২০২০
  3. গ) জুলাই ২০১৭ - ডিসেম্বর ২০২০
  4. ঘ) জুলাই ২০১৬ - ডিসেম্বর ২০২০
ব্যাখ্যা
‘Gender Equality and Women’s Empowerment at Work Place’ শীর্ষক প্রকল্পটির মেয়াদকাল জুলাই ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত।
৭,৭৪২.
সুন্দরবনে কয়টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেন্দ্র আছে?
  1. ক) ৪ টি
  2. খ) ৩ টি
  3. গ) ২ টি
  4. ঘ) ৬ টি
ব্যাখ্যা
• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- এ-বনের জীববৈচিত্র্য বিশ্বের যে কোনো ম্যানগ্রোভ বনের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ।
- সুন্দরবন ১৮৭৮ সনে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৭৯ সনে সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বভার বন বিভাগ গ্রহণ করে।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার। তন্মধ্যে স্থলভাগ ৪,১৪৩ বর্গকিলোমিটার (৭০%) এবং জলভাগ ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার (৩০%)।
- সমগ্র সুন্দরবন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে বিস্তৃত।

এছাড়া,
- ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেন্দ্র এবং ৩টি বিশেষায়িত বণ্যপ্রানী (ডলফিন) অভয়ারণ্য বিদ্যমান।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সনে UNESCO সুন্দরবনের ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে ৭৯৮তম World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা করে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সনে নীলকমলে World Heritage Site-এর নামফলক উন্মোচন করেন।
- সুন্দরবনের জলভাগ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ায় ১৯৯২ সনের ২১ মে থেকে এটি Ramsar Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।

তথ্যসূত্র: বন সংরক্ষকের দপ্তর, খুলনা।
৭,৭৪৩.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করা হয় কখন?
  1. ক) ২ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ৭ মার্চ ১৯৭১
  3. গ) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  4. ঘ) ৩ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ৩ মার্চ (১৯৭১) অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২ মার্চ
ঢাকায় এবং পরদিন সারাদেশে হরতাল ডাকেন।
- তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানবাসী বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- ২ এবং ৩ মার্চ হরতালের ফলে সকল সরকারি কর্মকান্ড অচল হয়ে পড়ে।
- কোনো কোনো ছাত্র এবং শ্রমিক সংগঠন স্বাধীনতার ঘোষণা দাবি করেন।
- পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ৩ মার্চ ১৯৭১ ঢাকায় পল্টন ময়দানে আয়োজিত জনসভায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গ্রহণ করে।
- সভায় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থিতিে ‘স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের ঘোষণা ও কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৪৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, কোন ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম?
  1. হো
  2. গুর্খা
  3. লুসাই
  4. ভিল
ব্যাখ্যা

ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী:
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, দেশে দেশে ৫০টি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী রয়েছে।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে শতকরা হিসাবে যা ২৯.২৯ শতাংশ।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।

⇒ চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে আছে পার্বত্য চট্টগ্রামেরই দুই জাতিগোষ্ঠী মারমা ও ত্রিপুরা। সংখ্যার দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকা সমতলের সাঁওতালদের সংখ্যা ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৯ জন।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর। এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০১ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- আর হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৪ জন।
- লুসাই জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ৩৮০ জন।

উৎস: i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) প্রথম আলো।

৭,৭৪৫.
কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন কে?
  1. বল্লাল সেন
  2. বিজয় সেন
  3. হেমন্ত সেন
  4. লক্ষ্মণ সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৭৪৬.
ইংরেজদের বিরুদ্ধে তিতুমীর কোন জেলায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ক) চবিবশ পরগনা
  2. খ) নদীয়া
  3. গ) ফরিদপুর
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- তিতুমীরের প্রকৃত নাম সাইয়িদ মীর নিসার আলী।
- পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার বশিরহাট মহকুমার চাঁদপুর (মতান্তরে হায়দারপুর) গ্রামে ১৭৮২ সালে তাঁর জন্ম। 
- তিতুমীর ইংরেজ ও ‍জমিদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ানোর জন্যে ১৮৩১ সালের অক্টোবর মাসে নারকেলবাড়িয়ায় এক দুর্ভেদ্য বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করে।
- তিনি তাঁর মুজাহিদ বাহিনীতে বিপুল সংখ্যক মুজাহিদ নিয়োগ করে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দান করেন। 
- অচিরেই তিনি চবিবশ পরগনা, নদীয়া ও ফরিদপুর জেলায় স্বীয় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিতুমীর তাকি ও গোবরডাঙার জমিদারদের নিকট কর দাবি করলে তারা ইংরেজদের শরণাপন্ন হন। কলকাতা থেকে এক ইংরেজ বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরিত হয়। কিন্তু ইংরেজ ও জমিদারদের সম্মিলিত বাহিনী মুজাহিদদের নিকট শোচনীয় পরাজয় বরণ করে। 
- অবশেষে লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বে ১০০ অশ্বারোহী, ৩০০ স্থানীয় পদাতিক, দুটি কামানসহ গোলন্দাজ সৈন্যের এক নিয়মিত বাহিনী তিতুমীরের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেন।
- ১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর ইংরেজ বাহিনী মুজাহিদদের উপর আক্রমণ চালায়।
- ১৮৩১ সালের ১৯ নভেম্বর কর্নেল স্টুয়ার্টের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর কামানের গোলায় তিতুমীরের বাঁশেরকেল্লা ধ্বংস হয়ে যায় এবং তিতুমীর শহিদ হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
৭,৭৪৭.
দেশে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ- [কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪]
  1. ৩,৬৫,৯৬,০০০ একর
  2. ৩,৫২,৯৬,০০০ একর
  3. ৩,৯২,৯৬,০০০ একর
  4. ৪,৯২,৯৬,০০০ একর
ব্যাখ্যা

- মোট আবাদযোগ্য জমি: ৩,৯২,৯৬,০০০ একর।
 - পূর্বে ছিল ৩,৯৩,৫৮,০০০ একর। 

অন্যদিকে,
- ​বাংলাদেশের বনাঞ্চল: ৬৩,৬৩,৩০৯.৩৩ একর বা ২৫,৭৫,১৯৬.০১ হেক্টর। 
- সর্বাধিক বনাঞ্চল : রাঙামাটি: ১৩,৭৮,৫৬৪.১৩ একর। [ সর্বাধিক বনাঞ্চল]
- সার্বিকভাবে বিভাগ হিসাবে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন: রংপুর বিভাগ।
- সার্বিক ভাবে জেলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন: ময়মনসিংহ জেলা।

​উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৭,৭৪৮.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মুসলিম জনসংখ্যা কত শতাংশ?
  1. ৯০.৫৯%
  2. ৯১.০৮%
  3. ৯২.৬০%
  4. ৯৩.২৩%
ব্যাখ্যা

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যা,
• মুসলমান - ৯১.০৮%।
• হিন্দু - ৭.৯৬%।
• বৌদ্ধ - ০.৬১%।
• খ্রিষ্টান - ০.৩০%।
• অন্যান্য - ০.০৬%।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।

৭,৭৪৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. বাঁশতলা
  2. হেজামারা
  3. হরিণা
  4. মেলাঘর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫০.
বর্তমানে দেশে উপজেলার সংখ্যা কতটি?
  1. ৪৯৩টি
  2. ৪৯৪টি
  3. ৪৯৫টি
  4. ৪৯৬টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বর্তমানে উপজেলার সংখ্যা ৪৯৫টি।
- গত ২৬ জুলাই ২০২১ অনুষ্ঠিত নিকারের ১১৭তম সভায় নতুন তিনটি উপজেলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
এগুলো হলো:
- ৪৯৫তম : ডাসার, (মাদারীপুর)
- ৪৯৪তম : মধ্যনগর, (সুনামগঞ্জ)
- ৪৯৩তম : ঈদগাঁও (কক্সবাজার)।
- গত ১০ আগস্ট ২০২১ নতুন উপজেলাগুলোর গেজেট প্রকাশ করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় ওয়েবসাইট)
৭,৭৫১.
বাংলাদেশ রপ্তানি ক্ষেত্রে নিচের কোন দেশে জিএসপি সুবিধা পেয়ে আসছে?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) চীন
  3. গ) দক্ষিণ কোরিয়া
  4. ঘ) তুরস্ক
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশসহ মোট ৩৮টি দেশে রপ্তানি ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে।
ইইউ বর্হিভূত দেশগুলো হলো:
- কানাডা
- অস্ট্রেলিয়া
- নিউজিল্যান্ড
- জাপান
- তুরস্ক
- রাশিয়া
- বেলারুশ
- লিচেনস্টাইন
- নরওয়ে
- সুইজারল্যান্ড
- যুক্তরাজ্য।
(সূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো)
৭,৭৫২.
বঙ্গবন্ধু সেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী কে?
  1. স্টিভ পলার্ড
  2. জর্জ স্টিভেসন
  3. ক্রিস্টোফার নোলান
  4. রবার্ট ডেভিলা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু সেতু:
- বঙ্গবন্ধু সেতু ১৯৯৮ সালের জুনে উন্মুক্ত করা হয়। 
- এই সেতুর যমুনা নদীর পূর্ব পাড়ের ভুয়াপুর এবং পশ্চিম পাড়ে সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে।
 - এটি ১৯৯৮ সালে নির্মাণকালীন সময়ে পৃথিবীর ১১তম বৃহত্তম সেতু এবং বর্তমানে এটি দক্ষিণ এশিয়ার ৬ষ্ঠ বৃহত্তম সেতু। 
- এটি যমুনা নদীর উপর দিয়ে নির্মিত যা বাংলাদেশের প্রধান তিনটি সেতুর একটি এবং পানি প্রবাহের উপর ভিত্তি করে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম।
- বঙ্গবন্ধু সেতু যা বাংলাদেশের পূর্ব এবং পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে কৌশলগত সেতুবন্ধন তৈরী করেছে।
- ইংল্যান্ডের স্টিভ পলার্ড হলেন বঙ্গবন্ধু সেতু প্রকল্পের প্রধান প্রকৌশলী।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ
৭,৭৫৩.
দ্বীপ ছাড়া 'সুমাত্রা' কী?
  1. উন্নত জাতের ধান
  2. উন্নত জাতের তামাক
  3. উন্নত জাতের গম
  4. উন্নত জাতের ভুট্টা
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
- উন্নত জাতের ধান হলো ব্রি হাইব্রিড - ১ চান্দিনা, মালা , বিপ্লব, দুলাভোগ, সুফলা ইত্যাদি।
- সোনালিকা ও আকবর: উন্নত জাতের গম।
- সুমাত্রা ও ম্যানিলা: উন্নত জাতের তামাক।
- বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ: উন্নত জাতের ভুট্টা।
- মহানন্দা, ল্যাংড়া ও মােহনভােগ উন্নত জাতের আম।
- বাহার: উন্নত জাতের টমেটো।
- যমুনা: উন্নত জাতের মরিচ।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৭,৭৫৪.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক দলের ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. সরকার গঠন
  2. রাজনৈতিক শিক্ষাদান
  3. সামাজিক শিষ্টাচার শিক্ষাদান
  4. সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দলের ভূমিকার অন্তর্ভুক্ত নয়- সামাজিক শিষ্টাচার শিক্ষাদান।

• রাজনৈতিক দলের ভূমিকা :
- সরকার গঠন
- নেতৃত্ব তৈরি,
- জনমত গঠন,
- রাজনৈতিক শিক্ষাদান,
- গঠনমূলক বিরোধিতা,
- সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭,৭৫৫.
বাংলাদেশের ওষুধশিল্পে প্রথম মার্কিন পেটেন্ট (মেধাস্বত্ব) প্রাপ্ত টিকার নাম কী?
  1. ডেঙ্গু ভ্যাক্স
  2. বঙ্গভ্যাক্স
  3. বঙ্গফ্লু
  4. টাইফয়েড কনজুগেড ভ্যাকসিন
ব্যাখ্যা

কোভিড-১৯ টিকা ‘বঙ্গভ্যাক্স’:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে ওষুধশিল্পে প্রথমবারের মতো গ্লোব বায়োটেকের আবিষ্কৃত কোভিড-১৯ টিকা বঙ্গভ্যাক্স মার্কিন পেটেন্ট (মেধাস্বত্ব) পেয়েছে।
- গ্লোব বায়োটেকের বিজ্ঞানী কাকন নাগ ও নাজনীন সুলতানার তত্ত্বাবধানে ‘কোভিড-১৯’ শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ আবিষ্কারের গবেষণার ফলশ্রুতিতে তৈরি এই টিকা।
- প্রথমে এই টিকার টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকুয়েন্স ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ডেটাবেজে প্রকাশিত হয়।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২০ সালে গ্লোব বায়োটেক আবিষ্কৃত এই এমআরএনএ টিকা কোডিড-১৯ ভ্যাকসিন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গভ্যাক্স বিশ্বের একমাত্র এক ডোজের বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্ট–বিরোধী কার্যকরী কোভিড টিকা।
- এটি তৈরিতে ন্যানোটেকনোলজির নিজস্ব উদ্ভাবিত মৌলিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
- এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমআরএনএসহ অন্যান্য প্রযুক্তির টিকা তৈরি করা যাবে।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা প্রতিবেদন। [link]

৭,৭৫৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কতটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়
  1. ৩টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স:

- মুক্তিযুদ্ধের সময় ৩টি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- “জেড” ফোর্স, “কে” ফোর্স, “এস” ফোর্স নিয়ে ৩টি ব্রিগেড ফোর্স।
- জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে জেড ফোর্স।
- ‘জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় ও ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫৭.
আকিজ জুট মিলস কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ফরিদপুর
  2. গোপালগঞ্জ
  3. ঠাকুরগাঁও
  4. ঝিনাইদহ
ব্যাখ্যা
আকিজ জুট মিল:
- বিশ্বের বৃহত্তম পাটকল আকিজ জুট মিলস।
- এটি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় অবস্থিত।
- আকিজ গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং আকিজ জুট মিলের মালিক এস কে নাসির উদ্দিন।

উল্লেখ্য,
⇒ বাংলাদেশের পাট শিল্প:
- বাংলাদেশে বছরে ১১-১২ লাখ টন পাট উৎপাদন হয়।
- যার মধ্যে দুই লাখ টন কাঁচা পাট সরাসরি রপ্তানি করা হয় এবং আরও দুই লাখ টন স্থানীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।
- বাকি সাত লাখ টন ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন পণ্য বিশেষ করে বিশ্ববাজারে রপ্তানির জন্য সুতা তৈরিতে।

উৎস: i) আকিজ জুট মিল ওয়েবসাইট। 
ii) The Business Standard পত্রিকা রিপোর্ট।
৭,৭৫৮.
মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা জেলা কত নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভূক্ত ছিল?
  1. ক) ১নং
  2. খ) ২নং
  3. গ) ৪নং
  4. ঘ) ৮নং
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালে ‍মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।

১নং সেক্টর - চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে গঠিত। 
২ নং সেক্টর - ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
৪নং সেক্টর - উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত। 
৮ নং সেক্টর - এপ্রিল মাসে এই সেক্টরের অপারেশনাল এলাকা ছিল কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৫৯.
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের আসন সংখ্যা ছিল?
  1. ১৬৯ টি
  2. ১৬২ টি
  3. ১৬৭ টি
  4. ১৬০ টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন:
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের নির্বাচনের কমিশনার ছিলেন-  বিচারপতি আব্দুস সাত্তর ।
- পূর্ব পাকিস্তানে মোট জাতীয় পরিষদে আসন ছিল- ১৬৯ টি।
- তার মধ্যে তৎকালীন আওয়ামীলীগ ১৬৭ টি আসনে জয় লাভ করেন।
- প্রাদেশিক পরিষদের মোট আসন ছিলো-৩১০ টি।
- তার মধ্যে তৎকালীন আওয়ামীলীগ ২৯৮টি আসনে জয় লাভ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭,৭৬০.
শেরে বাংলা একে ফজলুল হক কত সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১৯৪০
  2. খ) ১৯৪৩
  3. গ) ১৯৪১
  4. ঘ) ১৯৪২
ব্যাখ্যা
১৯৪০ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ সভায় শেরে বাংলা একে ফজলুল হক ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

তার প্রস্তাবে বলা হয়,
ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস) গঠন করতে হবে যার মধ্যে গঠনকারী এককগুলি হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।

২৪শে মার্চ লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়। এই প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়। ১৯৪৬ সালের এপ্রিলে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে লাহোর প্রস্তাব সংশোধন করে একাধিক রাষ্ট্রের (স্টেটস) পরিবর্তে কেবল একটি রাষ্ট্র (স্টেট) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,৭৬১.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. সবুজপত্র
  2. ভোরের কাগজ
  3. ইত্তেফাক
  4. সমকাল
ব্যাখ্যা
সিকান্দার আবু জাফর: 
- তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।
- 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গান - আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই।

• তাঁর রচিত  গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর, 
- তিমিরান্তক।  

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু, 
- জয়ের পথে, 
- পূরবী, 
- নবী কাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৭,৭৬২.
বাংলাদেশে বর্তমানে কত স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা রয়েছে? [সেপ্টম্বর,২০২৫]
  1. চার স্তরবিশিষ্ট
  2. তিন স্তরবিশিষ্ট
  3. দুই স্তরবিশিষ্ট
  4. পাঁচ স্তরবিশিষ্ট
ব্যাখ্যা

স্থানীয় সরকার কাঠামো:
- বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়। 

- যথা- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ।
- এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন,
- পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি) স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে।
- উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে।
- গ্রাম বা এর নিকটবর্তী হচ্ছে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ।
- শহর এলাকায় রয়েছে পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৮০ পৃষ্ঠা।

৭,৭৬৩.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক চা বাগান রয়েছে কোন জেলায়? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. চট্টগ্রাম 
  2. সিলেট 
  3. হবিগঞ্জ 
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত চা বাগান:
- ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশে চা বাগানের সংখ্যা ছিল ১৫০টি।
- চা বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত চা বাগানের সংখ্যা ১৭১টি।
- বর্তমানে দেশে ৩টি চা নিলাম কেন্দ্র রয়েছে (চট্টগ্রাম, শ্রীমঙ্গল, পঞ্চগড়)।

⇒ দেশে সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে মৌলভীবাজার জেলায়। মৌলভীবাজার জেলায় ৯০টি চা বাগান রয়েছে।
- দেশের দ্বিতীয় সর্বাধিক চা বাগান রয়েছে হবিগঞ্জ জেলায়। হবিগঞ্জ জেলায় ২৫ টি চা বাগান রয়েছে।
- সিলেট জেলায় ১৯ টি চা বাগান রয়েছে।
- চট্টগ্রাম জেলায় ২২ টি চা  বাগান রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।

৭,৭৬৪.
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তুলা উৎপন্ন হয় কোন জেলায়? (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)
  1. ফরিদপুর
  2. ময়মনসিংহ
  3. ঝিনাইদহ
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা

কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে,
- বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তুলা উৎপন্ন হয় - ঝিনাইদহ।
- ঝিনাইদহ জেলায় ২০২৩-২৪ বছরে মোট ৩,৯৮২ একর জমিতে পাটের আবাদ হয় উৎপাদন হয়- ২৫,১১৮.৬০ বেল।
- এবং মোট তুলার আবাদ হয়- ৬৭,৩৪৫.২ মে.টন

​এছাড়াও,
​- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
-পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- ভূট্টা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা দিনাজপুর।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

​​উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪।

৭,৭৬৫.
বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রের ঘোষণা হয়েছিল কবে?
  1. ক) ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. খ) ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. গ) ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ঘ) ১০ জানুয়ারী ১৯৭২
ব্যাখ্যা
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করার মাধ্যমে বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকার শপথ নেওয়ার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
- মুজিবনগর সরকারের শপথ বাক্য পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এ ঘোষণা প্রবাসী মুজিবনগর সরকার পরিচালনার অন্তর্বর্তীকালীন সংবিধান হিসাবে কার্যকর হয়।

উৎস: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র - বাংলাপিডিয়া
৭,৭৬৬.
গণভোটের বিধান বাতিল করা হয় কোন সংশোধনীর মাধ্যমে?
  1. ক) অষ্টম সংশোধনী
  2. খ) সপ্তম সংশোধনী
  3. গ) পঞ্চদশ সংশোধনী
  4. ঘ) ষোড়শ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী
• উত্থাপন: ২৫ জুন ২০১১
• উত্থাপনকারী: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ উত্থাপন করেন
• গৃহীত: ৩০ জুন ২০১১ 
• রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৩ জুলাই ২০১১ সালে।

সংশোধনীর বিষয়বস্তু
⇨ এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ৮,৯,১০,১২ অনুচ্ছেদ পুণর্বহাল করায় বাহাত্তরের মূল সংবিধানের  চেতনাকে ধারণ করা সম্ভব হয়েছে অর্থাৎ ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
⇨ এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেওয়া হয়।
⇨ এই সংশোধনীর মাধ্যমে পূর্বের ৪টি তফসিলের সাথে আরো নতুন ৩ টি তফসিল যুক্ত করা হয়েছে।
⇨ প্রস্তাবনায় ‘‘বিস্‌মিল্লাহির-রহ্‌মানির রহিম (দয়াময়, পরম দয়ালু, আল্লাহের নামে)’’ এর সাথে ‘পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তার নামে’ সংযুক্ত করা হয়।
⇨ ‘‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্য ঐতিহাসিক যুদ্ধের’’ শব্দগুলির পরিবর্তে [জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের] প্রতিস্থাপিত।
⇨ ৪ক অনুচ্ছেদ (জাতির পিতার প্রতিকৃতি) প্রতিস্থাপিত হয়।  
⇨ এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
⇨ ৬৫(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। 
⇨ সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়। 
⇨ এই সংশোধনীর দ্বারা সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের বিধানটি বাতিল করা হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।  
৭,৭৬৭.
আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল-
  1. সুপ্রিম কোর্ট
  2. সুশীল সমাজ
  3. রাজনৈতিক দল
  4. আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল রাজনৈতিক দল।
- গণতন্ত্রের অপর নাম সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন।
- জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে।
- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, "আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।" তাই গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।

•  গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিম্নরূপ-
১ । জনমত গঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতা দান।
২। সরকার গঠন।
৩। আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ ।
৪। শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তন।
৫। বিরোধী বিকল্প পক্ষ।
৬। ভিন্নমুখী মতামত একত্রীকরণ।
৭। সংসদীয় সরকারের উপযোগী ।

উৎস: পৌরনীতি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৭৬৮.
কবে বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দেয়?
  1. ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর
  2. ১৯৭১ সালের ৩১ ডিসেম্বর
  3. ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি
  4. ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ:  
- ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ছিলো যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ।
- ব্রিজ কালভার্ট সব যুদ্ধের সময় বোমা মেরে উড়িয়ে দিয়েছে শত্রু বাহিনী।
- যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। প্রায় সবারই হাতে অস্ত্র।
- এই সুযোগে রাজাকার, আল-বদর আর চোর-ডাকাতরা গুপ্ত হত্যা ও ডাকাতি শুরু করে।
- আর বদনাম রটাতে লাগলো মুক্তিযোদ্ধাদের নামে।
- এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র জমা দেয়ার আহ্বান জানালেন।
- বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বান মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পড়ল।
- নির্দেশ মোতাবেক দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদের পর থেকেই অস্ত্র জমা দেওয়া  শুরু হয়।
- সেই ধারাবাহিকতায় ৩০ জানুয়ারি ১৯৭২ গেরিলা বাহিনীর অস্ত্র জমা দেওয়ার দিন নির্ধারণ করা হয়।
- আর মুজিব বাহিনীর অস্ত্র জমা দেওয়ার দিন ছিল ৩১ জানুয়ারি।
- উভয় অনুষ্ঠানেই বঙ্গবন্ধু উপস্থিত থেকে অস্ত্র জমা নেন।

উৎস: দৈনিক ভোরের কাগজ ও বাংলা ট্রিবিউন। [লিঙ্ক], [লিঙ্ক]
৭,৭৬৯.
সম্মিলিত বিরোধী জোটের হয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন কে?
  1. ক) আতাউর রহমান
  2. খ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. গ) এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) ফাতেমা জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
সম্মিলিত বিরোধী জোট/Combined Opposition Party (COP)
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৯৬৪ সালের ২৬ জুলাই আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক জোট গঠিত হয় যা 'সম্মিলিত বিরোধী জোট' (Combined Opposition Party-COP) নামে পরিচিত। এ জোটের শরিক দলগুলো হলো -

১. পাকিস্তান আওয়ামী লীগ,
২. ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ভাসানী),
৩. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (কাউন্সিল),
৪. নেজাম-ই-ইসলাম,
৫. জামায়াতে ইসলামী।

• 'সম্মিলিত বিরোধী জোট' আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহ কে আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়ন করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
• এ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসতে থাকে ততই ফাতেমা জিন্নাহর প্রতি জনসমর্থন অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।
• এর মূল কারণ ছিল আইয়ুব খানের স্বেচ্ছাচারী শাসনের ফলে জনগণের মনে সঞ্চিত ক্ষোভ, মৌলিক গণতন্ত্রীদের দুর্নীতি এবং পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানের তোষামোদি ও চাটুকারিতা, বিরোধী জোটের অন্তর্ভুক্ত নেতা-নেত্রীদের জনপ্রিয়তা ইত্যাদি।
• কিন্তু ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রীকে (Basic Democrats) নগদ অর্থ প্রদানসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খান পূর্বের মতোই তার সপক্ষে ধরে রাখতে সমর্থ হন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৭,৭৭০.
বাংলাদেশ রাইফেলস এর বর্তমান নাম কি?
  1. ক) বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড
  2. খ) বাংলাদেশ গার্ড
  3. গ) বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
  4. ঘ) গার্ড অফ বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর বর্তমান নাম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিডিআর বিদ্রোহের পর ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ রাইফেলস এর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে বিডিআর ১৯৭২ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছে। উৎস: বিজিবি ওয়েবসাইট
৭,৭৭১.
শশাঙ্কের সময়ে গৌড়ের রাজধানীর নাম কী ছিল?
  1. সুবর্ণগ্রাম
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. কর্ণাটক
  4. কোটিবর্ষ
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭,৭৭২.
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য -
  1. ক) ইলিশ
  2. খ) পাট
  3. গ) তৈরি পোশাক
  4. ঘ) চিংড়ি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য:
- বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ।
- ২০২১-২২ অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় প্রায় ৪২.৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা উক্ত সময়ে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮২ শতাংশ।
- ২০২২-২৩ অর্থবছরে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) মোট ৩৭,০৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় অর্জিত হয়।
- ২০২২- ২৩ অর্থবছরে দেশের মোট রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে তৈরি পোশাক এবং নীটওয়্যার দ্রব্যাদির অবদান হচ্ছে ৮৪.৫৮ শতাংশ। 
- এর মধ্যে তৈরি পোশাক ৩৮.৫৭% এবং নীটওয়্যার ৪৬.০১%।
- ২০২২-২৩ অর্থবছরে তৈরি পোশাক ও নীটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি আয়: ৩১,৩৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩১.৩৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা মোট রপ্তানি আয়ের ৮৪.৫৮%। 
- এই খাতের বাইরে শিল্পজাত পণ্যের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় আসে: পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে (৪৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। 
- রপ্তানিতে ‘প্রাথমিক পণ্য’-এর অবদান/রপ্তানির হার: ২.৮৯% এবং ‘শিল্পজাত পণ্য’-এর অবদান/রপ্তানির হার: ৯৭.১১%। 
- প্রাথমিক পণ্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়েছেL ‘কৃষিজাত পণ্য’।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রপ্তানি হয়েছে: ‘হিমায়িত খাদ্য’। 

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩।
৭,৭৭৩.
In which year did Bangladesh become a member of the Asian Development Bank?
  1. in 1972
  2. in 1973
  3. in 1974
  4. in 1975
  5. in 1976
ব্যাখ্যা
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (Asian Development Bank):
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক একটি আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যাংক।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯ ডিসেম্বর, ১৯৬৬।
- সদর দপ্তর: ম্যানিলা, ফিলিপাইন।
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৬৮টি দেশ।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের লক্ষ্য এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কে উৎসাহিত করা।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এর সদস্যপদ লাভ করে: ১৪ মার্চ ১৯৭৩ সালে।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি ফাতিমা ইয়াসমিন।

উৎস: Asian Development Bank ওয়েবসাইট।
৭,৭৭৪.
বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমি কোথায় অবস্থিত?
  1. শ্রীপুর
  2. কালিয়াকৈর
  3. ঘাটাইল
  4. ভালুকা
ব্যাখ্যা
₻ বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমি 
- বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি একাডেমি গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার শফিপুরে অবস্থিত।

- এটির উদ্দেশ্য আনসার ও ভিডিপি বাহিনীর সব পর্যায়ের সদস্য-সদস্যা ও কর্মকর্তাদের দক্ষ করে তোলা।
- এটি ১৯৭৬ সালে 'ন্যাশনাল ট্রেইনিং সেন্টার' নামে যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৮২ সালে এর নামকরণ হয় 'আনসার ট্রেইনিং স্কুল', ১৯৮৬ সালে 'আনসার একাডেমি' এবং ১৯৯৫ সালে 'বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি একাডেমী'।

উৎস- বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি ওয়েবসাইট।
৭,৭৭৫.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুসারে, জিডিপিতে শিল্পখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ কত?
  1. ১৭%
  2. ১৯%
  3. ২২%
  4. ২৬%
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪:
- অর্থনীতি/জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান = ১১.০২%।
- অর্থনীতি/জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান = ৩৭.৯৫%।
- অর্থনীতি/জিডিপিতে সেবাখাতের অবদান= ৫১.০৮%।

অন্যদিকে,
- অর্থনীতি/জিডিপিতে কৃষিখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ৪৫%।
- অর্থনীতি/জিডিপিতে শিল্পখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ১৭%।
- অর্থনীতি/জিডিপিতে সেবাখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ৩৮%।

তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৭,৭৭৬.
কৈবর্ত্য বিদ্রোহের সময় সেন বংশের কোন রাজা রামপালকে সাহায্য করেন?
  1. ক) সমান্ত সেন
  2. খ) বল্লাল সেন
  3. গ) হেমন্ত সেন
  4. ঘ) বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
• হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন (১০৯৮-১১৬০ খ্রিষ্টাব্দে) সিংহাসনে আরোহণ করেন। তার সুদীর্ঘ রাজত্বকালই সেন বংশের শাসনের শক্তিশালী ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিল।

কৈবর্ত্য বিদ্রোহের সময় বিজয় সেন রামপালকে সাহায্য করেন। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। 

• রাঢ় শূর বংশের রাজকন্যা বিলাসদেবীকে তিনি বিয়ে করেন এবং বৈবাহিক আত্মীয়তার সূত্র ধরে রাঢ় বিজয় সেনের অধিকারে আসে।


উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,৭৭৭.
আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার (ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড) পদকে ভূষিত হন বাংলাদেশের কোন নারী?
  1. ক) সাইদা মুনা তাসনীম
  2. খ) সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
  3. গ) রাবার ফাতিমা
  4. ঘ) নাজনীন আহমেদ
ব্যাখ্যা
- যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক সাহসী নারী পুরস্কার (ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ অ্যাওয়ার্ড) পান আইনজীবী ও বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
- বাংলাদেশ ছাড়াও আরও ১১ দেশ থেকে ১১ জন সাহসী নারী এই পুরস্কার পান।
- শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, লৈঙ্গিক সমতা এবং নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখায় নারীদের এই পুরস্কার দিয়ে থাকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এবার দিয়ে ১৬ বার এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
৭,৭৭৮.
পারস্যের কবি হাফিজের সাথে পত্রালাপ হয়েছিল -
  1. ক) গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. খ) আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  3. গ) সুলতান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ
  4. ঘ) সুলতান শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
- গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান।
- সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
- পারস্যের বিখ্যাত কবি হাফিজের সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ ছিল।
- একবার তিনি হাফিজের নিকট কবিতার একটি চরণ লিখে পাঠান এবং কবিতাটিকে পূর্ণ করার জন্য কবিকে অনুরোধ জানান।
- হাফিজ দ্বিতীয় চরণটি রচনা করে কবিতাটি পূর্ণ করে পাঠান।
- তিনি সুলতানের নিকট একটি গজলও লিখে পাঠান।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন। 

উৎস: ইতিহাস, SSHL, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,৭৭৯.
গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা ও গণতন্ত্রের সম্পর্ক কেমন ?
  1. পরিপূরক
  2. বিপরীত
  3. সম্পূরক
  4. কোন সম্পর্ক নেই
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্র ও রাজনৈতিকদলের সম্পর্ক:
-  গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক একে অপরের পরিপূরক।
- গণতন্ত্র ছাড়া যেমন রাজনৈতিক দল টিকতে পারে না। তেমনি রাজনৈতিক দল না থাকলে গণতন্ত্রও সম্ভব নয়।
-  গণতন্ত্র মানে হল রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে সকলের অংশগ্রহণ। স্বাধীন বাংলাদেশের যাত্রা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল।
-  ১৯৭২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সংবিধানে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করা হয়। 
-  মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চার মূলনীতির একটি হল গণতন্ত্র, যা সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।
-  স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় - ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ ।
 
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,৭৮০.
বাংলাদেশের একমাত্র অস্ত্র কারখানা কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর
  2. সাভার
  3. চট্টগ্রাম
  4. কেরানীগঞ্জ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ):
- বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান।
- এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার চতর মৌজার ৩০৩.১৪ একর জমির উপর অবস্থিত।
- চীনের কারিগরী সহযোগিতায় কারখানাটি ১৯৭০ সালের ০৬ এপ্রিলে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৭ সালে কারখানাটি নিয়মিত উৎপাদনের জন্য চালু হয়।
- দেশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর চাহিদা পূরণ করে উদ্ধৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিকরণ এ প্রতিষ্ঠানের মূল কর্মপরিধি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের একমাত্র মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি গাজীপুরে অবস্থিত।

উৎস: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৭,৭৮১.
বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তি 'রানী হামিদ' নিচের কোন খেলার সাথে জড়িত?
  1. ক্রিকেট
  2. ফুটবল
  3. টেনিস
  4. দাবা
ব্যাখ্যা
রানী হামিদ: 
- রানী হামিদ বাংলাদেশের প্রথম মহিলা আন্তর্জাতিক দাবা মাস্টার। 
- তিনি ৩ বার ব্রিটিশ মহিলা দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হন।
- রানী জাতীয় মহিলা দাবায় চ্যাম্পিয়ন হন ১৮ বার।
- ১৯৮৪ সালে আন্তর্জাতিক দাবা ফেডারেশন থেকে 'ফিদে' খেতাব অর্জন করেন। 
- ১৯৮৫ সালে তিনি ফিদে আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার খেতাব পান।
- সর্বশেষ, কমনওয়েলথ দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৫ তে স্বর্ণ পদক লাভ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম আবারো উজ্জ্বল করেন তিনি। 

উৎস: ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, যুগান্তর।
৭,৭৮২.
১৪৬নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোন নামে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে?
  1. বাংলাদেশ সরকার
  2. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
  3. বাংলাদেশ
  4. মামলা করা সম্ভব নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।

১৪৬নং অনুচ্ছেদ: বাংলাদেশের নামে মামলা: 
"বাংলাদেশ"-এই নামে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বা বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাবে।

সূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৭,৭৮৩.
দেশে বর্তমানে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর সংখ্যা -
  1. ২২.২ শতাংশ
  2. ২৩.২ শতাংশ
  3. ২২.৮ শতাংশ
  4. ২৩.৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা
দেশে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর সংখ্যা:
- ৮ সেপ্টেম্বর সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। 
- দেশে বর্তমান ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের নাগরিকদের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৭৬.৮ শতাংশ। 
- সেই হিসাবে নিরক্ষর ২৩.২ শতাংশ মানুষ।
- অবশ্য প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার আরও কম।
- ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নিবন্ধনের বাইরে কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় যাতে না থাকে, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা থাকবে।

উল্লেখ্য,
- বিবিএসের প্রায়োগিক সাক্ষরতা জরিপ ২০২৩-এর তথ্য বলছে, ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের প্রায়োগিক সাক্ষরতা প্রায় ৭৩ শতাংশ।
- আর ১১ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের এই হার ৭৩ দশমিক ৬৯।

উৎস: ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, প্রথম আলো।
৭,৭৮৪.
বাংলাদেশে সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী?
  1. ক) সিডর
  2. খ) আইলা
  3. গ) বুলবুল
  4. ঘ) সিত্রাং
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে সম্প্রতি আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের নাম সিত্রাং।
- অক্টোবর ২০২২ সালে  ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত আনে।
- ঘূর্ণিঝড়টি ভোলা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে গেছ।
- ৪১৯ ইউনিয়নের ১০ হাজার ঘরবাড়ি এবং ৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে৷
 চার কোটি ৮০ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৮০ লাখ গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন৷ 

• কীভাবে নামকরণ হয় ঘূর্ণিঝড়ের?
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা আঞ্চলিক কমিটি একেকটি ঝড়ের নামকরণ করে।
- যেমন ভারত মহাসাগরের ঝড়গুলোর নামকরণ করে এই সংস্থার আটটি দেশ।
- দেশগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মায়ানমার, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড এবং ওমান, যাদের প্যানেলকে বলা হয় WMO/ESCAP।
- একসময় ঝড়গুলোকে নানা নম্বর দিয়ে শনাক্ত করা হতো। কিন্তু সেসব নম্বর সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বোধ্য হতো।
- ফলে সেগুলোর পূর্বাভাস দেয়া, মানুষ বা নৌযানগুলোকে সতর্ক করাও কঠিন মনে হতো।
- এ কারণে ২০০৪ সাল থেকে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোয় ঝড়ের নামকরণ শুরু হয়।
- সে সময় আটটি দেশ মিলে মোট ৬৪টি নাম প্রস্তাব করে। সেই তালিকায় থাকা একটি নামই সিত্রাং।
- এর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বা অস্ট্রেলিয়া অঞ্চলে ঝড়ের নামকরণ করা হতো।

• ভারত মহাসাগরে ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বলা হলেও আটলান্টিক মহাসাগরীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় হারিকেন, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বলা হয় টাইফুন।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

 
৭,৭৮৫.
'অন্ধকূপ হত্যা' কাহিনী কার বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত?
  1. মীর জাফর
  2. জে.জেড হলওয়েল
  3. নবাব সিরাজ-উদ্দৌলা
  4. লর্ড ক্লাইভ
ব্যাখ্যা
অন্ধকূপ হত্যা:
- বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা কর্তৃক কলকাতা দখলের সময় সংঘটিত হওয়া কথিত ঘটনা অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
- এ কাহিনী মূলত কলকাতা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইংরেজ সেনাপতি জে.জেড হলওয়েলের বিবরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত।
- নবাব কর্তৃক ১৭৫৬ সালে ২০ জুন কলকাতার ইংরেজ দুর্গ দখলের পর ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে অবিশ্বাস্য রকম ক্ষুদ্র একটি কক্ষে আবদ্ধ রেখে হত্যা করা হয় বলে এই উপাখ্যানে দাবি করা হয়।

উল্লেখ্য,
- নবাব কলকাতা আক্রমণ করলে (১৬-২০ জুন, ১৭৫৬) ফোর্ট উইলিয়ামের ইংরেজরা পলায়ন করতে বাধ্য হয়।
- জন জেফেনিয়াহ হলওয়েলসহ ১৭০ জন ইংরেজ পলায়নের জন্য সময়মতো জাহাজে উঠতে ব্যর্থ হয় এবং পরিণামে তারা নবাবের সৈন্যদের হাতে বন্দি হয়।
- ১৪৬ জন ইংরেজ বন্দিকে দুর্গের ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট ৩ ইঞ্চি প্রস্থ একটি বন্দিশালায় গ্রীষ্মের অসহনীয় গরমে রাত্রিযাপনে বাধ্য করা হয়।
- ১২৩ জন ইংরেজ এই বন্দিশালায় মারা যায়।
- জীবিতদের মধ্যে একজন ছিলেন হলওয়েল।
- তিনি এই শোকাবহ ঘটনার বিস্তৃত বর্ণনা দেন এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার জন্য নবাবকে দায়ী করেন।
- কিন্তু পরবর্তীকালের ইতিহাসবিদগণ হলওয়েলের কাহিনীর সত্যতা সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার মতো প্রমাণ আবিষ্কার করেন।
- সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নবাবের সম্পূর্ণ অজ্ঞাতেই ঘটেছিল।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৮৬.
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে 'কাদেরিয়া বাহিনী' কোন অঞ্চলে যুদ্ধ করে?
  1. গোপালগঞ্জ
  2. ময়মনসিংহ
  3. টাঙ্গাইল
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
আঞ্চলিক বাহিনী:
- সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে যেসব বাহিনী গড়ে উঠে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা, ময়মনসিংহ)।
- বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল)।
- হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ, বরিশাল)।
- হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ)।
- আকবর বাহিনী (মাগুরা)।
- লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা)।
- জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)।
- এছাড়া ছিল ঢাকার গেরিলা দল, যা 'ক্র্যাক প্লাটুন' নামে পরিচিত।
- ঢাকা শহরের বড় বড় স্থাপনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ব্যাংক ও টেলিভিশন ভবনে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় ঢাকার গেরিলারা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৭,৭৮৭.
সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বিলটি পাশ হয় কবে?
  1. ১৯৯৪ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৬ সালে
  4. ১৯৯৭ সালে
ব্যাখ্যা
ত্রয়োদশ সংশোধনী:
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর শিরোনাম সংবিধান [ত্রয়োদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯৬।
- সংসদে বিলটি পাশ হয় ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে।
- ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন।
- ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে আপিল বিভাগ তত্ত্বাবাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সর্ম্পকিত সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করেছে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি নিউজ, ১০ মে ২০১১।
৭,৭৮৮.
জাতীয় সংসদের ১ নং আসন কোনটি?
  1. রংপুর-১
  2. পঞ্চগড়-১
  3. দিনাজপুর-১
  4. ঠাকুরগাঁও-১
ব্যাখ্যা

সংসদীয় আসন:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা: ৩৫০টি।
- মহিলাদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসন: ৫০টি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে সংসদীয় আসন সংখ্যা: ৩টি।
• বান্দরবান।
• রাঙ্গামাটি।
• খাগড়াছড়ি।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যেক জেলায় একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে। 

- জাতীয় সংসদের ১ নং আসন: পঞ্চগড়-১।
- জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন: বান্দরবান।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।
- ঢাকা জেলায় ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭,৭৮৯.
বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের নাম কী? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. বঙ্গভবন
  2. গণভবন
  3. উত্তরাভবন
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা
প্রধান উপদেষ্টা:
- বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবনের নাম যমুনা।
- রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ও কার্যালয়।
- এটি ঢাকার রমনা থানার মিন্টো রোডে অবস্থিত।
- পূর্বে এটি বাংলাদেশে সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য সরকারি অতিথি ভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো।

উল্লেখ্য,
- প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ মানুষ ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণভবনে।
- এর ফলে এই দুই জায়গায় আপাতত অফিস করা বা বসবাস করার মতো পরিবেশ নেই।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Daily Star Bangla।
৭,৭৯০.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ‘এগারো দফা’ প্রণীত হয়?
  1. ক) বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
  2. খ) একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন
  3. গ) চুয়ান্নর প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
  4. ঘ) উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
ব্যাখ্যা
‘উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’ এর প্রেক্ষাপটে ১৯৬৯ সালের জানুয়ারি মাসে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে ‘এগারো দফা’ দাবী ঘোষণা করা হয়।
এই এগারো দফার মধ্যে ছাত্রদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া, ছয়দফা, কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার এবং পাকিস্তানের শাসনতান্ত্রিক বিষয়াদি অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
যার কারণে ‘এগারো দফা’ পূর্ব বাংলার সকল স্তরের জনসাধারণের সমর্থন লাভ করতে সক্ষম হয়।
সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৯১.
বাংলাদেশে সমুদ্র মৎস্যক্ষেত্র রয়েছে -
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

মৎস্য সম্পদ:
- সামুদ্রিক মৎস্য দপ্তর হিসাব অনুযায়ী, সামুদ্রিক মৎস্য পণের মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশী রপ্তানি করে চিংড়ি।
- বর্তমানে বিশ্বের ৫৬ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের মাছ।
- সমুদ্র থেকে বানিজ্যিকভাবে আহরিত মৎস্য প্রজাতির মধ্যে চিংড়ি ছাড়া রয়েছে সার্ডন, ইলিশ, পোয়া, রূপচান্দা ও দাতিনা ইত্যাদি।

⇒ বাংলাদেশে সমুদ্র মৎস্যক্ষেত্র রয়েছে ৪টি।
- সেগুলো হচ্ছে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড, মিডল গ্রাউন্ড, সাউথ প্যাচেন ও সাউথ অব সাউথ প্যাচেস।

⇒ সমুদ্র অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, উপকূলব্যাপী ৭১০ কিমি দীর্ঘ তটরেখা থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত একান্ত অর্থনৈতিক এলাকয় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের বিশাল সুযোগ রয়েছে।
- এই এলাকায় মৎস্য আহরন মোট ১৮৭ ও চিংড়ি আহরণে মোট ৩৮ টি ট্রলার অর্থাৎ সর্বমোট ২২৫ টি বাণিজ্যিক ট্রলার বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে মৎস্য সম্পদ আহরণে নিয়োজিত রয়েছে।
- এর বাইরে মোট ৫২ হাজার ৫১৪ টি যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক নৌযানে মৎস্য আহরনে নিয়োজিত প্রায় ২ দশমিক ৭০ লাখ মৎস্যজীবীর পরিবারের ন্যূনতম ১৩ দশমিক ৫০ লাশ মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭,৭৯২.
'ওয়ানগালা' কাদের উৎসব?
  1. চাকমাদের
  2. গারোদের
  3. ত্রিপুরাদের
  4. সাঁওতালদের
ব্যাখ্যা

'গারো' উপজাতি:
- গারোদের ঐতিহ্যবাহী ধর্মের নাম 'সাংসারেক'। 
- গারোদের প্রধান দেবতা 'তাতারা রাবুগা'। 
- গারোদের ধর্ম খ্রিস্টান। 
- গারোদের উৎসব 'ওয়ানগালা'। 
- গারোদের ভাষা মান্দি।
- গারোদের পরিবার মাতৃতান্ত্রিক। 
- বাংলাদেশে গারো উপজাতির মূল নিবাস- ময়মনসিংহ জেলার গারো পাহাড়ি এলাকায়।
- তাছাড়া, শেরপুর, নেত্রকোনা, রংপুর, জামালপুর, সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলাতেও কিছু গারো উপজাতি বাস করে।

উল্লেখ্য,
- চাকমাদের প্রধান উৎসবের নাম বিঝু।
- বৈসুক ত্রিপুরাদের প্রধান উৎসবের নাম।
- সোহরাই হলো সাঁওতালদের প্রধান উসব।

উৎস: ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।

৭,৭৯৩.
Who among the following was impeached in the British Parliament?
  1. Robert Clive
  2. Lord Cornwallis 
  3. Warren Hastings 
  4. Lord Wellesley 
ব্যাখ্যা

ওয়ারেন হেস্টিংস:
- ব্রিটিশ আমলে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।
- তাঁর শাসন কালকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথমপর্ব: ১৭৭২-১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাংলার গভর্নর হিসেবে আর দ্বিতীয় পর্ব, ১৭৭৪-১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত গভর্নর জেনারেল হিসেবে।
- ১৭৭৩ সালে রেগুলেটিং অ্যাক্ট পাস হলে বাংলার গভর্নরকে গভর্নর জেনারেল হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। সেই হিসেবে বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস।

⇒ গভর্নর পদে নিযুক্ত হয়ে হেস্টিংস সর্ব প্রথমেই সীমান্ত নীতি বিষয়ে পরিবর্তন সাধন করেন এবং অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির সূচনা করেন।
-  ওয়ারেন হেস্টিংস ইংরেজদের শত্রু মারাঠাদের আশ্রয়ে বাস করার অজুহাতে সম্রাট শাহ আলমকে দেয় বার্ষিক ছাব্বিশ লক্ষ টাকা বন্ধ করে দেন এবং সম্রাটের নিকট হতে 'বারানসীর সন্ধি' দ্বারা এলাহাবাদ ও কারা জেলা দু'টি অযোধ্যার নবাবকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রদান করেন। 

⇒ রাজস্ব আদায়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থা প্রবর্তন এবং দিউয়ানী বিচার ব্যবস্থার সংস্কার সাধন হেস্টিংসের অভ্যন্তরীণ শাসন নীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল।
- তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান এবং বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জমিদারদের সাথে 'পাঁচসালা ভূমি বন্দোবস্ত' করেন।
- তবে নানা কারণে এ ব্যবস্থা ফলপ্রসূ না হলে তিনি ১৭৭৭ সালে 'একসালা বন্দোবস্ত' করেন।

⇒ তিনি কোম্পানির কর্মচারীদের বিনা শুল্কে ব্যক্তিগত বাণিজ্য বন্ধ করে দেন।
- তিনি মোগল বিচার ব্যবস্থাকে অনুসরণ করে তাকে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও ন্যায়বিচারমূলক করার নীতি গ্রহণ করেন।
- তিনি বিচার বিভাগকে রাজস্ব বিভাগ হতে পৃথক করে প্রত্যেক জেলায় একটি করে দিওয়ানী ও ফৌজদারী আদালত স্থাপন করেন। 
- ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতীয় শিক্ষা-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার আমলে মুসলমানদের উচ্চ শিক্ষার জন্য কলকাতা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয় (১৭৮১)। গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল। হেস্টিংস এর পৃষ্ঠপোষকতায় চার্লস উইলকিন্স বাংলায় ছাপাখানা (প্রেস) স্থাপন করে।

⇒ পদত্যাগ ও ইমপীচমেন্ট:
- হেস্টিংসের কার্যকালের শেষ দিকে ইংল্যান্ডে তাঁর বিরুদ্ধে নানা প্রকার অভিযোগ ও অপবাদ প্রকাশ পেতে থাকে। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে হেস্টিংস পদত্যাগ করে দেশে ফিরে যান। উইলিয়াম পিট ও লর্ড জান্ডাসের চেষ্টার ফলে হেস্টিংসকে বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়। বিশেষ করে চৈৎ সিংহ, অযোধ্যার বেগমদের প্রতি অসদাচারণ ও অত্যাচারের অভিযোগ ছিল গুরুতর। সাত বৎসর ধরে বিচারের পর হেস্টিংস অভিযোগ হতে মুক্ত হলেন বটে, কিন্তু আত্মপক্ষ সমর্থনের ব্যয় সংকুলান করতে গিয়ে তিনি একেবারে সর্বস্বান্ত হলেন। পিট ও ডান্ডাসের বিরোধিতার ফলে তাঁর ভাতাও বন্ধ করে দেয়া হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) BBC.

৭,৭৯৪.
'প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ' কোন অনুচ্ছেদের আলোচ্য বিষয়?
  1. অনুচ্ছেদ ৬
  2. অনুচ্ছেদ ৭
  3. অনুচ্ছেদ ৭ক
  4. অনুচ্ছেদ ৭খ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ ০৭: সংবিধানের প্রাধান্য
(১) প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; এবং জনগণের পক্ষে সেই ক্ষমতার প্রয়োগ কেবল এই সংবিধানের অধীন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হবে ৷
(২) জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসমঞ্জস হয়, তাহলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে ।

অনুচ্ছেদ ০৬ : নাগরিকত্ব
অনুচ্ছেদ ০৭ক:সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ
অনুচ্ছেদ ০৭খ :সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
৭,৭৯৫.
চতুর্থ সংশোধনীর আলোচ্য বিষয় কী ছিল?
  1. ক) রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা প্রর্বতন
  2. খ) সংসদীয় শাসন পদ্ধতি
  3. গ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

চতুর্থ সংশোধনী-
- উত্থাপন: ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি
- উত্থাপনকারী: আইনমন্ত্রী শ্রী মনোরঞ্জন ধর উত্থাপন করেন
- গৃহীত ও রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ:: ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি
আলোচ্য বিষয়-
- সংসদীয় শাসন পদ্ধতির পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি শাসিত শাসন পদ্ধতি চালু এবং বহুদলীয় রাজনীতির পরিবর্তে একদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন
- জাতীয় সংসদের কতক ক্ষমতা খর্ব করা হয়; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অনেকটা খর্ব হয়; সুপ্রিম কোর্ট
নাগরিকদের মৌলিক অধিকারসমূহ রক্ষা ও প্রয়োগের এখতিয়ার থেকে বঞ্চিত হয়
- ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী গৃহিত হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়

- ত্রয়োদশ সংশোধনীর দ্বারা একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান করা হয়
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান

৭,৭৯৬.
হাজী মোহাম্মদ দানেশ কোন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন?
  1. ক) স্বদেশী আন্দোলন
  2. খ) তেভাগা আন্দোলন
  3. গ) কার্পাস আন্দোলন
  4. ঘ) আইন অমান্য আন্দোলন
ব্যাখ্যা
 - হাজী মোহাম্মদ দানেশ তেভাগা আন্দোলনের নেতা হিসেবেই সমধিক পরিচিত।
- হাজী দানেশ ১৯৩৮ সালে বঙ্গীয় প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গসংগঠন কৃষক সমিতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং উত্তরবঙ্গে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন।
-  তাঁর নেতৃত্বে দিনাজপুর জেলায় টোল আদায় বন্ধ ও জমিদারি উচ্ছেদের দাবিতে কৃষক আন্দোলন জোরদার হয়। 
- আন্দোলনকালে তিনি গ্রেফতার হন এবং কারাভোগ করেন (১৯৩৮)। 
 
==========
 
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন। ১৯৪৬-৪৭ এবং ১৯৪৮-৫০ দুই দফায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলনে দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- এই আন্দোলন কৃষকসভার কমিউনিস্টদের মাধ্যমে রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় সংঘটিত হয়।
- নাচোলের রানী ইলা মিত্র তেভাগা আন্দোলনের একজন নেত্রী।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া, এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী। 
 
৭,৭৯৭.
বাংলাপিডিয়া প্রকাশের উদ্যোক্তা -
  1. ক) বাংলা একাডেমী
  2. খ) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
  4. ঘ) দি ইউনিভার্সিটি প্রেস
ব্যাখ্যা
বাংলাপিডিয়া প্রকাশের উদ্যোক্তা - বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি।

বাংলাপিডিয়া:
- বাংলাপিডিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ।
- এটি বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির উদ্যোগে ২০০৩ সালে প্রথম প্রকাশ করা হয়।
- এরপর ২০১২ সালে এর দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়। ১৪৫০ জন পণ্ডিত বাংলাদেশের প্রাচীন থেকে বর্তমান - পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি এতে সংযোজন করেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৭,৭৯৮.
লালবাগের কেল্লা স্থাপন করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. টিপু সুলতান
  3. ইসলাম খান
  4. শাহ সুজা
ব্যাখ্যা
লালবাগ কেল্লা:
- লালবাগ কেল্লা পুরাতন ঢাকার লালবাগে অবস্থিত।
- সতের শতকে ১৬৭৮ সালে সুবাদার আজম শাহ এটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মাঝে এর কাজ বন্ধ হয়ে গেলে ১৬৮০ সালে শায়েস্তা খান পুনরায় এর কাজ শুরু করে এটি নির্মাণ করেন।
- লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে শায়েস্তা খানের কন্যা 'ইরান দুখত রহমত বানুর' সমাধি অবস্থিত।
- ইরান দুখত 'পরীবিবি' নামে পরিচিত।
- ১৯১০ সালে লালবাগ কেল্লা প্রত্নতত্ত্ব নির্দশন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এর আদি নাম কেল্লা আওরঙ্গবাদ। লালবাগে অবস্থিত হওয়ায় পরে এর নামকরণ করা হয় লালবাগ কেল্লা।

তথ্যসূত্র - প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৭,৭৯৯.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে কয়টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়?
  1. ১১
  2. ৩২
  3. ৬৪
ব্যাখ্যা

• সেক্টর ও সাব সেক্টরসমূহ:
- মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ১১ টি সেক্টরের অধীনে ৬৪ টি সাবসেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা নিয়ে ১নং সেক্টর গঠিত। এ সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল হরিনাতে। সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম। 
- ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশ নিয়ে ২নং সেক্টর গঠিত। আগরতলার ২০ মাইল দক্ষিণে মেলাঘরে ছিল এ সেক্টরের সদরদপ্তর। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দার।
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে ৩নং সেক্টর গঠিত হয়।
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে ৪নং সেক্টর গঠিত।
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে ৫নং সেক্টর গঠিত।
- ৬ নং সেক্টর  সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত।
- ৭ নং সেক্টর  রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- ১০ নং সেক্টর  নৌ-কমান্ডো বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- ১১ নং সেক্টর  টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭,৮০০.
বৃহত্তর রংপুর জেলা মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) চার নম্বর
  2. খ) ছয় নম্বর
  3. গ) আট নম্বর
  4. ঘ) নয় নম্বর
ব্যাখ্যা
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ৬ নং সেক্টর গঠিত হয়েছিল। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার। সূত্র- বাংলাপিডিয়া।