বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৬৩ / ৩০৬ · ৬,২০১৬,৩০০ / ৩০,৮৩২

৬,২০১.
বাংলাদেশের প্রধান সরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কোনটি?
  1. বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট
  2. বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন
  3. বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট
  4. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা

BADC:
- বাংলাদেশের প্রধান সরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC)।
- এটি কৃষি উপকরণ সরবরাহের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি প্রতিষ্ঠান৷
- এর অংশ হিসেবে BADC বিভিন্ন ফসলের উফশী বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও সরবরাহ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত সার সরবরাহ করে থাকে।
- ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন দেশ স্বাধীনের পর BADC নামধারণ করে।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - BADC ওয়েবসাইট।

৬,২০২.
'ফারাক্কা লং মার্চ'-এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. চিত্তরঞ্জন দাশ
  3. এ.কে. ফজলুল হক
  4. নওয়াব আব্দুল লতিফ
ব্যাখ্যা
ফারাক্কা লং মার্চ:
- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'ফারাক্কা লংমার্চ' সংঘটিত হয়েছিল।

- মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে 'ফারাক্কা লং মার্চ' সংঘটিত করা।
- ১৯৭৬ সালের ১৮ই এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ফেরার পর মাওলানা ভাসানী ঘোষণা দেন ভারত যদি বাংলাদেশকে পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তাহলে তিনি লংমার্চ করবেন।

⇒ এজন্য ১৬ই মে রাজশাহী শহর থেকে লংমার্চ করার ঘোষণা দেন তিনি।
- কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য ১৯৭৬ সালের ২রা মে মাওলানা ভাসানীকে প্রধান করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট 'ফারাক্কা মিছিল পরিচালনা জাতীয় কমিটি' গঠিত হয়।
- এই লংমার্চের আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর কাছে একটি চিঠি লিখেন আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
- সে চিঠিতে মিসেস গান্ধির কাছে লংমার্চের কারণ বর্ণনা করেন ভাসানী।
- লংমার্চের মিছিল রাজশাহী থেকে প্রেমতলী, প্রেমতলী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মনকষা এবং মনকষা থেকে শিবগঞ্জ পর্যন্ত ৬৪ মাইল অতিক্রম করবে।
- মাওলানা ভাসানীর অনুসারীরা তাকে একজন রাজনীতিবিদের চেয়ে 'দার্শনিক' হিসেবেই বেশি বিবেচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২০৩.
'The Spirit of Islam’ গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. আবুল কালাম আজাদ
  4. হাজী শরিয়তুল্লাহ
ব্যাখ্যা

- ‘The Spirit of Islam’ সৈয়দ আমীর আলীর বিখ্যাত গ্রন্থ।

সৈয়দ আমীর আলী:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত।
- তিনি ১৮৪৯ সালে ভারতের হুগলি জেলায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন।
- ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে তাঁর লেখা দুইটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো The Spirit of Islam এবং A Short History of the Saracens।
- এই গ্রন্থদ্বয়ে তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং গৌরবময় অতীতকে বিশ্লেষণাত্মকভাবে উপস্থাপন করেন।
- তাঁর লেখাগুলো শুধু ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, মুসলিম সমাজে আত্মবিশ্বাস ও সংস্কার চিন্তার বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: বাংলাদেশ ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২০৪.
বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক এবং বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা একত্রিত হয়ে গঠিত হয়-
  1. উত্তরা ব্যাংক পিএলসি
  2. অগ্রণি ব্যাংক পিএলসি
  3. বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি
  4. পূবালী ব্যাংক পিএলসি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি:
- বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (BDBL) গঠিত হয় ১৬ নভেম্বর ২০০৯ তারিখে Companies Act,
- 1994 অনুযায়ী একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে।
- এটি গঠিত হয় রাষ্ট্রীয় খাতে দুইটি উন্নয়নমূলক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (DFIs)- 
১) বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক (BSB) এবং
২) বাংলাদেশ শিল্প ঋণ সংস্থা (BSRS).

উৎস: বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি ওয়েবসাইট।
৬,২০৫.
দেশের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম কী?
  1. বঙ্গবন্ধু সোলার লিমিটেড
  2. তিস্তা সোলার লিমিটেড
  3. পদ্মা সোলার লিমিটেড
  4. কাপ্তাই সোলার লিমিটেড
ব্যাখ্যা
•  দেশের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ :
- দেশের বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নাম - তিস্তা সোলার লিমিটেড।
- উদ্বোধন করা হয় ২ আগস্ট, ২০২৩ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অনাবাদি চরের সাড়ে ছয়শ একর জমিতে গড়ে উঠেছে দেশের সবচেয়ে বড় ও এশিয়ার অন্যতম বড় সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। তিস্তা সোলার লিমিটেড নামের এই কেন্দ্রটি গড়ে তুলেছে বেক্সিমকোর গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো পাওয়ার লিমিটেড।

- তিস্তা পাড়ের লাটশালা এলাকায় বিশাল এই কেন্দ্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭ সালে।
- বসানো হয় সাড়ে পাঁচ লাখ সোলার প্যানেল।
- উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে সুন্দরগঞ্জের তিস্তা পাড় থেকে রংপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে ১২২টি টাওয়ারের ১৩২ কিলো ভোল্টের ৩৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন।
- নির্মাণ করা হয়েছে সাবস্টেশন, বসানো হয়েছে ইনভার্টারসহ সব ধরনের যন্ত্র। 

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক (২ আগস্ট, ২০২৩)।
৬,২০৬.
বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন কে?
  1. ক) নবাব সুজাউদ্দৌলা
  2. খ) সম্রাট শাহ আলম
  3. গ) মীর কাশিম
  4. ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
বাংলার স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের শেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

বাংলার নবাব মীর কাশিম, মুঘল সম্রাট শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলার সম্মিলিত বাহিনী মেজর মনরো'র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ বাহিনীর নিকট পরাজয় বরণ করে।

বক্সারের যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে বাংলার নামমাত্র টিকে থাকা স্বাধীনতাও পুরোপুরি বিনষ্ট হয় এবং ভারতে ইংরেজদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ আরও সুগম হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,২০৭.
বাংলাদেশ প্রাকৃতিক গ্যাস সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়-
  1. সার কারখানায়
  2. সিমেন্ট কারখানায়
  3. বিদ্যুৎ উৎপাদনে
  4. রান্নার কাজে
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার:
-  বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে।

⇒ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বোচ্চ ব্যবহারের কয়েকটি খাত হচ্ছে –
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার: ৩৭২.৩ বিলিয়ন ঘনফুট (৪১.০০%),
- শিল্পখাতে ব্যবহার: ১৭০.৪ বিলিয়ন ঘনফুট (১৯.০০%),
- ক্যাপটিভ: ১৪৯.৮ বিলিয়ন ঘনফুট (১৭%),
- গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার: ৯৭.৮ বিলিয়ন ঘনফুট। (১১.০০%)।

উল্লেখ্য,
- পেট্রোবাংলার তথ্যমতে দেশে গ্যাসক্ষেত্র ২৯টি।
- উত্তোলনরত ২০টি, উৎপাদনে যায়নি ৪টি, এবং উৎপাদন স্থগিত রয়েছে ৫টি।
- উত্তোলনযোগ্য, প্রমাণিত ও সম্ভাব্য (2P) গ্যাসের মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানা।
- প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র তিতাস।

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।
ii) প্রথম আলো।

৬,২০৮.
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ রাষ্ট্রদূত কে? (জানুয়ারি-২০২৬)
  1. ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন
  2. জন স্মিথ
  3. জন কেরি
  4. ডেভিড মিলার
ব্যাখ্যা

• ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন:
- বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ রাষ্ট্রদূত- ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন।

- তিনি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত।
- ১৯ ডি‌সেম্বর, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে অনুমোদন দি‌য়ে‌ছে মার্কিন সিনেট।
- ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পুরো নাম ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। 
- ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। 
- ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। 
- ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

উৎস: বণিক বার্তা ও বাংলা ট্রিবিউন। 

৬,২০৯.
বাংলাদেশের প্রথম ফিশ ওয়ার্ল্ড একুরিয়াম কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) পটুয়াখালী
  2. খ) খুলনা
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
 • প্রথম ফিশ ওয়ার্ল্ড একুরিয়াম:
- এ্যাডভেঞ্চার ভ্রমণ বিনোদনের জন্য দেশে প্রথমবারের মতো ফিস ওয়ার্ল্ড এ্যাকুরিয়াম হয়েছে কক্সবাজার শহরের ঝাউতলায়। যা কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে সংযোজন হয়েছে বিনোদনের নতুন ধাপ।
- বেসরকারিভাবে এটি তৈরি করেন রেডিয়েন্ট গ্রুপ।
- এটি মালেশিয়ার টেকনিক্যাল প্রকৌশলির সহায়তায় নির্মিত হয়েছে। 
- এই এ্যাকুরিয়ামে বঙ্গোপসাগরের থাকা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মৎস্য সংক্ষণ করা হয়েছে। 
- অচেনা এবং বিলুপ্ত প্রায় অনেক মাছও রয়েছে।
- সাগরের বিলুপ্ত মাছ বিভিন্ন প্রাণী সংরক্ষণে একটি জাদুঘরও করা হচ্ছে। 
- কক্সবাজারে স্থাপিত এটিই হচ্ছে দেশের প্রথম সামুদ্রিক ফিস এ্যাকুরিয়াম।

তথ্যসূত্র: দৈনিক কালের কন্ঠ।
৬,২১০.
'পলকূত' লুসাই জনগোষ্ঠীর কোন ধরনের উৎসব?
  1. শস্য কাটার উৎসব
  2. মৃত আত্মাদের স্মরণে
  3. বসন্ত উৎসব
  4. বর্ষবরণ উৎসব
ব্যাখ্যা
লুসাই:
- লুসাই নৃ-গোষ্ঠী বার্মা থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হয়।
- তারা নিজেদের মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর বংশধর বলে পরিচয় দেয়।
- বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলায় ও ভারতের মিজোরামে লুসাইয়ের বসবাস রয়েছে।
- বর্তমানে শতভাগ লুসাই খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী।
- ধর্মীয় উৎসব পালন ছাড়াও বছরে তারা প্রধান তিনটি উৎসব পালন করে থাকে:
১. চাপচারকূত (বসন্ত উৎসব)।
২. মীমতূত (মৃত আত্মাদের স্মরণে)।
৩. পলকূত (শস্য কাটার উৎসব)।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,২১১.
বাংলাদেশের সমরাস্ত্র কারখানা কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ):
- বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান।
- এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি ঢাকার অদূরে গাজীপুর জেলার চতর মৌজার ৩০৩.১৪ একর জমির উপর অবস্থিত।
- চীনের কারিগরী সহযোগিতায় কারখানাটি ১৯৭০ সালের ০৬ এপ্রিলে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৭ সালে কারখানাটি নিয়মিত উৎপাদনের জন্য চালু হয়।
- দেশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিকরণ এ প্রতিষ্ঠানের মূল কর্মপরিধি।

তথ্যসূত্র - প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,২১২.
দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন কোনটি?
  1. এফবিসিসিআই
  2. বিজিএমইএ
  3. ডিসিসিআই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

FBCCI:
- FBCCI-এর পূর্ণরূপ: The Federation of Bangladesh Chambers of Commerce and Industry (FBCCI).
- এটি ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন।
- এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও চেম্বারসমূহকে একত্রিত করে সামগ্রিক ব্যবসা উন্নয়নে কাজ করা।
- দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ১৯৭৩ সালে ট্রেড অর্গানাইজেশন অর্ডিন্যান্স অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাক্ট, ১৯১৩- এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সদরদপ্তর ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- এফবিসিসিআই দেশব্যাপী চেম্বার ও সমিতিসমূহ গঠনে সহায়তা প্রদান করে এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ, শিল্প-বাণিজ্য, কৃষি, পর্যটন, মানবসম্পদ এবং যোগাযোগসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে।
- ফেডারেশন অভিন্ন স্বার্থের প্রশ্নে দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও বণিক সমিতিসমূহের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে।
- এফবিসিসিআই শিল্প ও বাণিজ্য মেলা আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বণিক সমিতির সঙ্গে কাজ করে।
- এফবিসিসিআই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ফোরামের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের শিল্প-বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে বহির্বাণিজ্য সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিকা পালন করে।
- বিদেশী বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ সহযোগী নির্বাচনে কাজ করে এফবিসিসিআই।
- দেশের শিল্প ও বাণিজ্য স্বার্থ সংরক্ষণে এফবিসিসিআই সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনসমূহের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে।
- এফবিসিসিআই বিভিন্ন দেশের জাতীয় বাণিজ্য সংস্থাসমূহের সঙ্গে যৌথ চেম্বার/সহযোগিতা চুক্তি করেছে।

উৎস: FBCCI ওয়েবসাইট।

৬,২১৩.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ধাতব মুদ্রা প্রচলন করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে 
  2. ১৯৭৩ সালে 
  3. ১৯৭৪ সালে 
  4. ১৯৭১ সালে 
ব্যাখ্যা

⇒ স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রথম চারটি ধাতব মুদ্রা প্রচলন করা হয়।
- এগুলো হচ্ছে পাঁচ পয়সা, ১০ পয়সা, ২৫ পয়সা এবং ৫০ পয়সা।
- এর পরের বছর ১৯৭৪ সালে আরেকটি নতুন মুদ্রা সংযোজিত হয় যার মূল্যমান ছিল এক পয়সা।

⇒ ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ কয়েনেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী, এই ধাতব মুদ্রাগুলো বাতিল বা অচল করা হয়নি এবং এগুলো এখনো চাহিদা অনুযায়ী বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে যে এক, পাঁচ ও ১০ পয়সার কয়েন প্রচলিত হয়েছিল, সেগুলো মূলত অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি। অন্যদিকে ২৫ এবং ৫০ পয়সা ছিল ইস্পাতের তৈরি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে যেসব কাগজের তৈরি ব্যাংক নোট রয়েছে সেগুলো বাংলাদেশ সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন থেকে ছাপানো হয়। কিন্তু ধাতব মুদ্রা দেশে নয় বরং অন্য দেশ থেকে তৈরি করে নিয়ে আসতে হয়।
- বাংলাদেশে সবশেষ ২০১১-১২ অর্থবছরে তিনটি ধাতব মুদ্রা বিদেশ থেকে মিন্ট করে বা তৈরি করে নিয়ে আসা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশে ব্যাংক এবং বিবিসি।

৬,২১৪.
'E-TIN' চালু করা হয় কত সালে?
  1. ২০১১ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৩ সালে
  4. ২০১৪ সালে
ব্যাখ্যা

E-TIN:
- E-TIN এর পূর্ণরূপ: Electronic Taxpayer's Identification Number.
- 'E-TIN' চালু করা হয় ২০১৩ সালে।
- এটি আয়কর নিবন্ধন আধুনিক সংস্করণ।
- এটি ১২ ডিজিটের ১টি নম্বর।
- একজন করদাতাকে সহজে, ঘরেবসে অনলাইনে নিবন্ধন পেতে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
- www. incometax.gov.bd এই সাইট গেলে ই- টিআইএন নিবন্ধন নেওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র - জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওয়েবসাইট।

৬,২১৫.
তমুদ্দিন মজলিশ কবে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে পুস্তিকা প্রকাশ করে?
  1. ১৯৪৮ সাল
  2. ১৯৪৭ সাল
  3. ১৯৪৬ সাল
  4. ১৯৪৯ সাল
ব্যাখ্যা

তমুদ্দিন মজলিশ:
-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তমুদ্দিন মজলিশ মূলত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ।
- তমুদ্দিন মজলিসের লক্ষ ছিল, কুসংস্কার দুর করে যুক্তিবাদের উপর সত্য সুন্দর ও মানবীয় মুল্যবোধ ভিত্তিক শিল্প ও সাহিত্যের মাধ্যমের দেশ ও সমাজ কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
- তমদ্দুন মজলিশের বাংলা মুখপত্র ছিল সাপ্তাহিক সৈনিক
- তমদ্দুন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

বি.দ্র.  -অনেক বইতে তমুদ্দিন মজলিশ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় উল্লেখ আছে, অপশনে ২ রা সেপ্টেম্বর থাকলে তা সঠিক উত্তর বলে গণ্য হবে।
         - অনেক সময় অপশনে সাহিত্য ও সংস্কৃতি দুটোই থাকলে সঠিক উত্তর হবে- সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- এ বিষয় আরো বিস্তারিত তথ্য লাইভ এসসিকিউ এর তথ্যকল্পদ্রুম বাটনে দেখুন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,২১৬.
রূপালী-১ কোন ফসলের জাত?
  1. ভুট্টা
  2. তুলা
  3. তামাক
  4. তরমুজ
ব্যাখ্যা
তুলার চাষ: 
- বাংলাদেশে দুই ধরনের তুলা চাষ করা হয়।
- সমতল এলাকার ৭টি জোনে সমভূমির তুলা বা আপল্যান্ড কটন এবং পার্বত্য এলাকার ২টি জোনে পাহাড়ি তুলার চাষ করা হয়।
- পাহাড়ি তুলা এপ্রিল-মে মাসে এবং সমভূমির তুলা জুলাই-আগস্ট মাসে বপন করা হয়।
- পাহাড়ি তুলা ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে এবং সমভূমির তুলা জানুয়ারি-মার্চ মাসে উত্তোলন করা হয়।
- তুলার চাষকৃত জাতগুলো: সমতল এলাকায় বর্তমানে, সিবি-৫, সিবি-৯ সিবি-১০ ও সিবি-১১ প্রভৃতি উচ্চফলনশীল জাতের তুলা এবং হাইব্রিড জাতের মধ্যে হীরা হাইব্রিড, রূপালী-১ ও ডিএম-১ জাতের তুলা চাষ হচ্ছে।
- এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে পাহাড়ি তুলা-১ ও পাহাড়ি তুলা-২ নামে উচ্চফলনশীল জাতের তুলা চাষ হয়।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)।
৬,২১৭.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিলো?
  1. ক) জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড
  2. খ) বঙ্গভঙ্গ রদ
  3. গ) সিমলা ডেপুটেশন
  4. ঘ) সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ
ব্যাখ্যা
১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর ভারতীয় মুসলমানদের ৩৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আগা খানের নেতৃত্বে সিমলায় বড়লাট লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাত করেন।
তারা মুসলমানদের বিভিন্ন দাবী দাওয়া বড়লাটের নিকট পেশ করে। এটিই সিমলা ডেপুটেশন নামে পরিচিত।
অন্যদিকে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করা হয় ১৯১১ সালে।
জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় ১৯১৯ সালে।
সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ঘোষিত হয় ১৯৩২ সালে।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,২১৮.
মহামুনি বিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া
  2. কুমিল্লা
  3. চট্টগ্রাম
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

মহামুনি বিহার:
- মহামুনি বিহার চট্টগ্রামের রাউজানে অবস্থিত।
- রাউজান উপজেলার ২০০ বছরের ঐতিহাসিক প্রাচীন নিদর্শন মহামুনি বিহার।
- 'চাইঙ্গা ঠাকুর' নামের এক বৌদ্ধ ধর্মগুরু এই বিহারে ১৮০৫ মতান্তরে ১৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামানব গৌতম বুদ্ধের মূর্তি স্থাপন করেন।
- এ কারণে গৌতম বুদ্ধের নামে এ বিহারের নামকরণ করা হয় মহামুনি মন্দির।
- এই মন্দিরটির কারণে মহামুনি গ্রাম ধর্মপ্রাণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র তীর্থস্থানে পরিণত হয়।
- এ মন্দিরকে কেন্দ্র করে মং সার্কেল রাজা ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে মহামুনি মন্দির চত্বরে মেলার প্রবর্তন করেন, যা চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে শুরু হয়।

তথ্যসুত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট ও দৈনিক সমকাল, ১৪ এপ্রিল ২০১৮।

৬,২১৯.
ষাট গম্বুজ মসজিদ কোন শতাব্দীতে নির্মিত হয়?
  1. ১৩শ
  2. ১৪শ
  3. ১৫শ
  4. ১৬শ
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করা হয়। সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।
- মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই।

⇒ এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত। বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।

উল্লেখ্য, ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য:
- বাংলাদেশের তিনটি স্থান ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় স্থান করে নিয়েছে:
১. নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার (১৯৮৫ সালে),
২. বাগেরহাট জেলার ষাটগম্বুজ মসজিদ (১৯৮৫ সালে),
৩. সুন্দরবন (১৯৯৭ সালে)।

উল্লেখ্য,
- সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য,
- পাহাড়পুরের সোমপুর বৌদ্ধবিহার ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২২তম বিশ্ব ঐতিহ্য,
- ষাটগম্বুজ মসজিদ ইউনেস্কো ঘোষিত ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্য।

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
ii)  প্রথম আলো।

৬,২২০.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে ‘Annihilate These Demons' শিরোনামের পোস্টারটি কে এঁকেছিলেন?
  1. জয়নুল আবেদিন
  2. কামরুল হাসান
  3. এস এম সুলতান
  4. আনোয়ারুল হক
ব্যাখ্যা

কামরুল হাসান:
- কামরুল হাসান একজন চিত্রশিল্পী।
- প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
- ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর পিতার কর্মস্থল কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- কামরুল হাসান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (১৯৬৯-৭০) এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি ‘পটুয়া কামরুল হাসান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 
- কামরুল হাসানের 'তিন কন্যা' ও 'নাইওর' চিত্রকর্ম অবলম্বনে যুগোস্লাভ সরকার (১৯৮৫) ও বাংলাদেশ সরকার (১৯৮৬) ডাকটিকেট প্রকাশ করেছে।

⇒ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে "ANNIHILATE THESE DEMONS (এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে)" শিরোনামের পোস্টারটি এঁকেছিলেন শিল্পী কামরুল হাসান।
- ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ থেকে নয় মাসব্যাপী বাংলাদেশজুড়ে পাকিস্তানি বাহিনী যে নির্মম গণহত্যাযজ্ঞ, ধ্বংসযজ্ঞ ও নারীর প্রতি নিগ্রহযজ্ঞ চালায়, তার মূল নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন পাকিস্তানের খোদ প্রেসিডেন্ট অর্থাৎ জেনারেল ইয়াহিয়া। 
- সুতরাং শিল্পী কামরুল হাসান তাঁর ব্যঙ্গাকৃতির মুখাবয়বে ফুটিয়ে তোলেন ১৯৭১-এর সব নিষ্ঠুরতা, অমানবিকতা ও ধ্বংসের প্রতীকী রূপ। 
- মুক্তিযুদ্ধের মতো এক বিশাল প্রতিরোধযজ্ঞে একটি পোস্টার বা একটি শিল্পকর্মও কত শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল, এটাই তার বাস্তব প্রমাণ। 
- এই পোস্টার ১৯৭১ সালের মে মাসে প্রথমে কলকাতা থেকে জয় বাংলা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। তারপর ওই মাসেই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার এক রঙে এর লক্ষাধিক কপি ছাপিয়ে মুক্তাঞ্চলে বিলি করে।
- কিছুদিন পরে বিদেশিদের উদ্দেশে প্রচারিত এই পোস্টারের ইংরেজি ভাষ্যের বক্তব্য ছিল: Annihilate the Demons।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) প্রথম আলো। 

৬,২২১.
বারো ভূঁইয়াদের নেতা ছিলেন -
  1. ঈসা খান
  2. শায়েস্তা খান
  3. শেরশাহ
  4. ইসলাম খান
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বারো ভূঁইয়া বাংলার স্থানীয় প্রধান ও জমিদার, যাঁরা আকবর ও জাহাঙ্গীর এর রাজত্বকালে মুগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
- বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া।
-  প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- ঈসা খান সরাইলের জমিদার, ভাটি অঞ্চলের শাসক এবং বারো ভূঁইয়াদের নেতা।

আকবরনামা’য় প্রাপ্ত ভাটিতে মুগলদের যুদ্ধবিগ্রহের বিবরণ অনুযায়ী ভূঁইয়াদের তালিকা:
(১) ঈসা খান মসনদ-ই-আলা,
(২) ইবরাহিম নরল,
(৩) করিমদাদ মুসাজাই,
(৪) মজলিস দিলওয়ার,
(৫) মজলিস প্রতাপ,
(৬) কেদার রায়,
(৭) শের খান,
(৮) বাহাদুর গাজী,
(৯) তিলা গাজী,
(১০) চাঁদ গাজী,
(১১) সুলতান গাজী,
(১২) সেলিম গাজী,
(১৩) কাসিম গাজী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২২২.
সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন -
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. লর্ড ক্যানিং
  4. উইলিয়াম বেন্টিংক
ব্যাখ্যা
লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:
- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।

⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।
- কোর্ট অব ডাইরেক্টরস (Court of Directors) বেন্টিঙ্ককে সমর্থন করেছিলেন।
- কারণ তিনি শান্তি, শৃঙ্খলা ও মিতব্যয়িতার ধ্বজাধারী ছিলেন।
- ভারতে তাঁর প্রশাসন শান্তিপূর্ণ কার্যাবলির জন্য বিশিষ্টতা অর্জন করেছিল। 

উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।

অন্যদিকে,
- ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল, প্রথমে ফোর্ট উইলিয়ম-এর গভর্নর এবং পরে গভর্নর জেনারেল।
- ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২২৩.
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস-
  1. খনিজ তেল
  2. প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. পাহাড়ী নদী
  4. ওপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে বিদ্যুৎ শক্তির উৎস — খনিজ তেল,প্রাকৃতিক গ্যাস,পাহাড়ী নদী।
---------------------
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করা হয়।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

প্রাকৃতিক গ্যাস: বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস। বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে।
খনিজ তেল: বিশেষ করে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে অনেক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চালানো হয়।
পাহাড়ী নদী: কাপ্তাই হ্রদে হাইড্রোইলেকট্রিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদনে অবদান রাখে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণীর নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহৃত হচ্ছে যা নিচে দেওয়া হলো:
• পানি বিদ্যুৎ
• সোলার পিভি ব্যবহার করে সৌর বিদ্যুৎ
• বায়ু বিদ্যুৎ
• পৌর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ
• গোবর এবং পোল্ট্রি বর্জ্য ব্যবহার করে বায়োগ্যাস
• বাতাসের গতি
• ধানের তুষ এবং ইক্ষুর ছোবড়া, বর্জ্য, শিল্প প্রক্রিয়ার অব্যবহৃত তাপ থেকে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি উৎপাদন।

আবার,
নিউক্লীয় বিক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

উৎস: নবায়নযোগ্য-জ্বালানির-সম্ভাবনা, বিদ্যুৎ বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,২২৪.
দেশে ইলিশের অভয়াশ্রম কতটি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৫টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

ইলিশ:
- জাতীয় মাছ ইলিশ আমাদের ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
⇒ বর্তমানে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশ।
- বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬%।
- দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশ মাছের অবদান প্রায় ১২%। 
- বাংলাদেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১%।

⇒ প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ থাকে ২২দিন।
- সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে ভোলা জেলায়।
- বাংলাদেশে ইলিশের চারটি প্রজনন ক্ষেত্র রয়েছে।
- দেশে ইলিশ অধ্যুষিত জেলা ৩৮টি।
- ইলিশের অভয়াশ্রম ৬টি।

উৎস: i) ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প।
ii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)

৬,২২৫.
৬ষ্ঠ জনশুমারি অনুযায়ী খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা কত জন?
  1. ক) ৪.০ জন
  2. খ) ৪.০২ জন
  3. গ) ৪.০৪ জন
  4. ঘ) ৪.০৫ জন
ব্যাখ্যা
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুসারে দেশে -
• খানার সংখ্যা - ৪,১০,১০,০৫১ জন।
• খানা প্রতি গড় সদস্য সংখ্যা – ৪.০ জন।
• সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৬৬%।
• প্রতিবন্ধী জনসংখ্যা - ২৩,৬১,৬০৪ জন।
• জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ - ঢাকা।
• জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ - বরিশাল।
• জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা – ঢাকা।
• জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা – বান্দরবান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৬,২২৬.
গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ কে ছিলেন?
  1. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
  2. শ্রীগুপ্ত
  3. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
  4. সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় তিন শতকের শেষ এবং চার শতকের প্রথমদিকে সম্ভবত প্রথম চন্দ্রগুপ্ত অথবা সমুদ্রগুপ্তের মাধ্যমে বাংলায় গুপ্ত শাসন সম্প্রসারিত হয়।
- শ্রীগুপ্ত হচ্ছেন গুপ্ত বংশের আদি পুরুষ।
- এল্যানের মতে, পাটলীপুত্র (মগধের অভ্যন্তরে) নগরের অদূরে শ্রীগুপ্তের রাজত্ব ছিল।
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম কুমারগুপ্তের সময় (৪৩২-৪৪৮ খ্রি.) থেকে উত্তর বাংলা গুপ্ত সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে গড়ে ওঠে।
- এটির নাম ছিল তখন ‘পুন্ড্রবর্ধন ভুক্তি’।
- হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২২৭.
‘অভ্র’ কী-বোর্ড উদ্ভাবনের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একুশে পদক লাভ করেন -
  1. মেহদী হাসান খান
  2. তানবিন ইসলাম সিয়াম 
  3. রিফাত নবী
  4. বর্ণিত সবাই
ব্যাখ্যা

‘অভ্র’ কী-বোর্ড:
- ‘অভ্র’ কী-বোর্ড উদ্ভাবন করেন মেহদী হাসান খান।

⇒ প্রোগ্রামার মেহদী হাসান খান ২০০৩ সালের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ইউনিকোডভিত্তিক বাংলা লেখার প্রোগ্রাম অভ্র প্রকাশ করেন।
- ছোট আকারের এই প্রোগ্রাম দিয়ে সরাসরি ই–মেইলে ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বাংলা লেখার সূচনা হয়।
- শুরুতে ই-মেইলের মাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী হাতে পান অভ্র।
- অভ্রের সঙ্গে যোগ হলেন রিফাত উন নবী, তানবিন ইসলাম, শাবাব মুস্তাফা, ওমর ওসমান—আরও পরে সারিম খান। তাঁরা সবাই অভ্রের জন্য কাজ করতে লাগলেন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে একুশে পদক লাভ করেন অভ্র'র মেহদী হাসান খান ও রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম ও শাবাব মুস্তাফা।

উৎস: i) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, সপ্তম শ্রেণি।
ii) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

৬,২২৮.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র দেশে আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু করেন -
  1. ১৯৯৭ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
আশ্রয়ণ প্রকল্প:
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন নোয়াখালী বর্তমান লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চর পোড়াগাছা গ্রামে ভূমিহীন-গৃহহীন, অসহায় ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করেন।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা সারাদেশের গৃহহীন-ভূমিহীন মানুষকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে শুরু করেন 'আশ্রয়ণ প্রকল্প'।
- ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে সমগ্র দেশে শুরু করেন আশ্রয়ণ প্রকল্প।

প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
 ১। ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল অসহায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন।
২। প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহে সক্ষম করে তোলা।
৩। আয়বর্ধক কার্যক্রম সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র দূরীকরণ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,২২৯.
বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক অনুমোদিত নতুন ১০০ টাকার নোটে কোন স্থাপনার ছবি আছে? (সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
  1. ষাট গম্বুজ মসজিদ
  2. কুসুম্বা মসজিদ
  3. কান্তজিউ মন্দির
  4. ছোট সোনা মসজিদ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশি নতুন ১০০ টাকার নোট:
- ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ১০০ টাকা মূল্যমানের ব্যাংক নোট ১২ আগস্ট, ২০২৫ থেকে বাজারে এসেছে।
- এই ব্যাংক নোট প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে ইস্যু করা হয়।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত ১০০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটটির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪০ মিমি x ৬২ মিমি।
- নোটটি ১০০ শতাংশ সুতি কাগজে মুদ্রিত এবং নোটে জলছাপ হিসেবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ থাকছে। নোটটিতে থাকছে নীল রঙের আধিক্য।
- নোটের সামনে বাঁ পাশে আছে বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের ছবি। 
- নোটের মাঝখানের ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা-কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি মুদ্রিত রয়েছে। নোটের পেছন ভাগে আছে সুন্দরবনের ছবি।
- নোটটিতে মোট ১০ ধরনের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে।

উৎস: যুগান্তর পত্রিকা।

৬,২৩০.
বাংলাদেশের সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের বিষয়বস্তু কী?
  1. আইনসভা
  2. বিচার বিভাগ
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. মৌলিক অধিকার
ব্যাখ্যা
সংবিধানে মোট ভাগ:
বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে:
১. প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র সম্পর্কে বলা হয়েছে।
২. দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি রয়েছে।
৩. তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার সংরক্ষিত।
৪. চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ বর্ণিত।
৫. পঞ্চম ভাগে আইনসভা সম্পর্কিত বিধান রয়েছে।
৬. ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
৭. সপ্তম ভাগে নির্বাচন ব্যবস্থা বর্ণিত।
৮. অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বিষয়ক বিধান রয়েছে।
৯. নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ এবং নবম-ক ভাগে জরুরী বিধানাবলী রয়েছে।
১০. দশম ভাগে সংবিধান সংশোধনের নিয়ম উল্লেখিত।
১১. একাদশ ভাগে বিবিধ বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬,২৩১.
'বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -২' কোন ধরনের স্যাটেলাইট?
  1. ভূ-পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট
  2. গোয়েন্দা স্যাটেলাইট
  3. নেভিগেশন স্যাটেলাইট
  4. ওয়েদার স্যাটেলাইট
ব্যাখ্যা
 বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- ২:
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট -২ আর্থ অবজারভেটরি বা ভূ-পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট।
- ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক মহাকাশযান নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নির্মাণ ও উৎক্ষেপণে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে।
- এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান করবে।
- ফলে দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের জন্য অরবিটাল স্লট প্রয়োজন হবে না।
- এই স্যাটেলাইটের লাইফ টাইম হবে ১৮ বছরের মতো।
- দেশের সমুদ্রসীমায় ‘সি রিসোর্স’ ভালোভাবে পর্যবেক্ষণে এই স্যাটেলাইট কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। 

উল্লেখ্য,
- বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছে স্যাটেলাইট ক্লাবের ৫৭তম গর্বিত সদস্য। 

উৎস: ২৪ জুলাই, ২০২৩, যুগান্তর।
৬,২৩২.
বাংলাদেশের সংবিধানের ৮৫ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব
  2. নির্দিষ্টকরণ আইন
  3. বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি
  4. সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদসমূহ:

- অনুচ্ছেদ ৮৩ - সংসদের আইন ব্যতীত করারোপে বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৮৪ - সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।
- অনুচ্ছেদ ৮৫ - সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ।
- অনুচ্ছেদ ৮৬ - প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে প্রদেয় অর্থ।
- অনুচ্ছেদ ৮৭ - বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৮৮ - সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়।
- অনুচ্ছেদ ৮৯ - বার্ষিক আর্থিক বিবৃতি সম্পর্কিত পদ্ধতি।
- অনুচ্ছেদ ৯০ - নির্দিষ্টকরণ আইন।
- অনুচ্ছেদ ৯১ - সম্পূরক ও অতিরিক্ত মঞ্জুরী।
- অনুচ্ছেদ ৯২ - হিসাব, ঋণ প্রভৃতির উপর ভোট।
- অনুচ্ছেদ ৯৩ - অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ৯৪ - সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- অনুচ্ছেদ ৯৫ - বিচারক-নিয়োগ।
- অনুচ্ছেদ ৯৬ - বিচারকদের পদের মেয়াদ।
- অনুচ্ছেদ ৯৭ - অস্থায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬,২৩৩.
কোন বিদেশী পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে 'রাজনীতির কবি' (Poet of Politics) উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. নিউজ উইকস
  2. দি ইকোনমিস্ট
  3. টাইম
  4. গার্ডিয়ান
ব্যাখ্যা
• Poet of Politics:
- রাজনীতির কবি ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব’।
- তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক 'বিশ্ববন্ধু' উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের একজন স্বপ্নদ্রষ্টা।
- ৫ এপ্রিল, ১৯৭১ সাংবাদিক লোরেন জেঙ্কিন্স সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস পত্রিকায় তার প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'রাজনীতির কবি' বা Poet of Politics বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
- সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর 'স্টাইল' সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- নিউজউইকস যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন।
- ১৯৩৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) রাষ্ট্রপতির কার্যালয়।
ii) ১৫ আগস্ট ২০১৮, দৈনিক জনকণ্ঠ।
৬,২৩৪.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয় -
  1. ক) ২০০৮ সালে
  2. খ) ২০০৯ সালে
  3. গ) ২০১০ সালে
  4. ঘ) ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা
• ২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
৬,২৩৫.
নিচের কোনটি সরিষার জাত?
  1. ক) সুফলা
  2. খ) চান্দিনা
  3. গ) সিভিএল-১
  4. ঘ) কল্যাণীয়া
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সরিষা শীতকালীন ফসল।
- সরিষা চাষের জন্য বেলে দোআঁশ অথবা পলি দোআঁশ মাটি উপযোগী।
- সরিষার কয়েকটি জাতের নাম হলোঃ
- টরি-৭
- কল্যাণীয়া
- সোনালী সরিষা
- সম্পদ
- রাই সরিষা
- বারি সরিষা-৮
- বারি সরিষা-১৪
- বারি সরিষা-১৫
- বারি সরিষা-১৬

[উৎসঃ কৃষিশিক্ষা, নবম-দশম শ্রেণি]
৬,২৩৬.
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ স্তর কোনটি? 
  1. উপজেলা পরিষদ 
  2. পৌরসভা
  3. জেলা পরিষদ 
  4. ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়।
যথা-
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ ও 
- জেলা পরিষদ। 

এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি) স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে।
- উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে।
-  বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ স্তর- জেলা পরিষদ।

• জেলা পরিষদ
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন আমল থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান হিসেবে 'জেলা পরিষদ' থাকলেও ১৯৯১ সালে জেলা পরিষদ আইন বিলুপ্ত করে দেওয়ার পর প্রায় এক দশক জেলা পরিষদের অস্তিত্ব ছিল না।
- পুনরায় ২০০০ সালে জেলা পরিষদ আইন পাশ করে দেশের সকল জেলায় জেলা পরিষদ গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়।
- পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর।

⇒ গঠন
- একজন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত হয়।
- কোনো জেলার সংসদ-সদস্যগণ আইন অনুযায়ী উক্ত জেলার পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন।
- আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্য বা অন্য কোনো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান বা সদস্যদের স্বীয় পদে থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই।
- আইন অনুযায়ী জেলার অন্তর্ভুক্ত সিটি কর্পোরেশনের (যদি থাকে) মেয়র ও কমিশনারবৃন্দ, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কমিশনার এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সকল সদস্যদের ভোটে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিতে জেলা পরিষদের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হবেন।
- প্রথম বারের মতো ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্বাচনের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠন করা হয়।

 উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৬,২৩৭.
বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে দ্বৈত ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয় কোন দেশ?
  1. ক) ভারত
  2. খ) আমেরিকা
  3. গ) জার্মানি
  4. ঘ) যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
- বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দ্বৈত ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য।   

তথ্যসূত্র:- Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার, সেপ্টেম্বর ২০২২
৬,২৩৮.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা কথা বর্ণিত হয়েছে?
  1. ২ক
  2. ৪ নং
  3. ৩ নং
  4. ২ নং
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা' সংবিধানের ৩ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে।

• বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগ:
- অনুচ্ছেদ ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ ২ক: রাষ্ট্রধর্ম।
- অনুচ্ছেদ ৩: রাষ্ট্রভাষা।
- অনুচ্ছেদ ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদ ৪ক: জাতির পিতার প্রতিকৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৫: রাজধানী।
- অনুচ্ছেদ ৬: নাগরিকত্ব।
- অনুচ্ছেদ ৭: সংবিধানের প্রাধান্য।
- অনুচ্ছেদ ৭ক: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ।
- অনুচ্ছেদ ৭খ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলি সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬,২৩৯.
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের হিসাবমতে, বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতির সংখ্যা কত?
  1. ক) ৩২
  2. খ) ৩৮
  3. গ) ৪২
  4. ঘ) ৪৫
  5. ঙ) ৪৮
ব্যাখ্যা
সরকারি হিসাব মতে, বাংলাদেশে বসবাসকারী উপজাতি/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা - ৪৮ এবং আদিবাসী ফোরামের হিসাবমতে - ৪৫।
৬,২৪০.
১৯৮৮ সালের সিউল অলিম্পিকে বাংলাদেশের কোন ভাস্করের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়?
  1. ক) শামীম সিকদার
  2. খ) সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
  3. গ) হামিদুজ্জামান খান
  4. ঘ) আবদুস সুলতান
ব্যাখ্যা
- হামিদুজ্জামান খান হলেন একজন বাংলাদেশী ভাস্কর।
- তিনি ১৯৮১ সালে বঙ্গভবনে 'পাখি পরিবার',
- ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমিতে 'মুক্তিযোদ্ধা',
- ১৯৮৮ সালে আশুগঞ্জ জিয়া সারকারখানায় 'জাগ্রত বাংলা'এবং
- ১৯৮৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল অলিম্পিক পার্কে 'স্টেপস' (সিঁড়ি) নির্মাণ করেন।
- "His piece titled ‘Steps’ has found a permanent place in the Seoul Olympic Park in Korea."
Source: Bengal Foundation
৬,২৪১.
'Transparency International Bangladesh (TIB) কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ২০০২ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৬ সালে
ব্যাখ্যা
• 'Transparency International Bangladesh (TIB):
- এটি সুশীল সমাজের অংশ।
- ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রাথমিকভাবে এটি একটি ট্রাস্ট হিসেবে গঠিত হয় এবং পরে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোতে একটি নিবন্ধিত বেসরকারি সংস্থা (NGO) হিসেবে নিবন্ধিত হয় ।
- টিআইবি একটি নির্দলীয়, অলাভজনক এবং স্বাধীন সংস্থা যা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য নিবেদিত যেখানে সরকার, রাজনীতি, ব্যবসা, নাগরিক সমাজ এবং দৈনন্দিন জীবন থেকে দুর্নীতি নির্মূল করা হবে।
- টিআইবি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কল্পনা করে।
- এটি সচেতনতা বৃদ্ধি, সততা বৃদ্ধি এবং উন্নত সমাজের জন্য নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি অর্জনের চেষ্টা করে।
- টিআইবি নাগরিকদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করতে, পদক্ষেপ নিতে এবং সুশাসন ও স্বচ্ছতার জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে সক্ষম করার জন্য গবেষণা তথ্য, অ্যাডভোকেসি রিসোর্স এবং নাগরিক সম্পৃক্ততা ব্যবহার করে।

উৎস: TIB ওয়েবসাইট।
৬,২৪২.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ - পুস্তিকাটি সম্পাদনা করেন -
  1. ক) আবুল মনসুর আহমদ
  2. খ) কাজী মোতাহার হোসেন
  3. গ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. ঘ) দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালে ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকার নিবন্ধন সমূহের লেখক ছিলেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন,
- অধ্যাপক আবুল কাশেম এবং
- আবুল মনসুর আহমদ।
- ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে অধ্যাপক আবুল কাশেম সম্পাদিত পুস্তিকা প্রকাশ করে। 
- এই পুস্তিকায় বাংলা ভাষাকে পূর্ব বাংলায় শিক্ষার একমাত্র মাধ্যম, অফিস ও আদালতের ভাষা এবং পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তুলে ধরা হয়।
- দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ১৯৪৯ সালে মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪৩.
মুজিব নগর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) কুষ্টিয়া
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) চুয়াডাঙ্গা
  4. ঘ) যশোর
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- মেহেরপুর জেলায় মুজিব নগর অবস্থিত।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকার  মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
- মুজিব নগর সরকার গঠিত হয় -  ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে
- সরকার শপথ গ্রহন করে ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ সালে।
- শপথ বাক্য পাঠ করান অধ্যপক ইউসুফ আলী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করা হয়
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,২৪৪.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত?
  1. BSRI
  2. BARI
  3. BINA
  4. BADC
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA):
- বাংলাদেশে নার্সভুক্ত (NARS) প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ‍ইনস্টিটিউট (বিনা) একটি অন্যতম ও একক প্রতিষ্ঠান।
- এর প্রধান কাজ হলো পরমাণু শক্তির শান্তিপূ্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাৎপর্য্পূণ অবদান রাখা। 
- বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) বাংলাদেশের পারমাণবিক কৌশল কাজে লাগিয়ে কৃষিখাতে অবদান রাখার একমাত্র প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবস্থিত।

⇒ মুখ্য নির্বাহী হিসেবে মহাপরিচালক বিনা’র সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন।
- প্রধান কার্যালয়ের মোট ১১ টি বিভাগের সমন্বয়ে বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- বিনা'র মোট ১৩টি উপকেন্দ্র রয়েছে।
- দশটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনা'র গবেষণা কাজ পরিচালিত হয়।

অন্যদিকে,
-  বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC)-এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)-এর প্রধান কার্যাবলী গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরে অবস্থিত।
- BSRI (Bangladesh Sugarcrop Research Institute) পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত।

উৎস: BINA ওয়েবসাইট।

৬,২৪৫.
প্রাচীন বাংলার গৌড় রাজ্য বর্তমানে অবস্থান কোথায়?
  1. কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ
  2. পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ
  3. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
  4. চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৪৬.
'জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন' এর সভাপতি কে?
  1. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া
  3. মীর মুগ্ধ
  4. জেনারেল ওয়াকার-উজ- জামান
ব্যাখ্যা
• জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন:
- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় সরকার বহন করবে।
- আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে তাদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসহ যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করা হবে।
- একইসঙ্গে আন্দোলনে আহত চিকিৎসধীন ছাত্র জনতার চিকিৎসা সেবা সুনিশ্চিতে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আলাদা স্পেশালাইজড ডেডিকেটেড কেয়ার ইউনিট তৈরি করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের স্মৃতি সংরক্ষণ ও শহিদ পরিবারগুলোকে সহায়তার জন্য গঠন করা হয়েছে 'জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন'।
- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ফাউন্ডেশনের সভাপতি।
- ফাউন্ডেশনের সাত সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কাজী ওয়াকার আহমদ (কোষাধ্যক্ষ), তথ্য উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম (দপ্তর সম্পাদক) এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া, নুরজাহান বেগম ও সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন এস মুর্শিদ (কার্যনির্বাহী সদস্য)।
- এ ফাউন্ডেশনে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ইতোমধ্যে ১০০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

উৎস: তথ্য অধিদফতর
৬,২৪৭.
ভারত শাসন আইন-১৯৩৫ - এ কী ধরনের সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়?
  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  2. কেন্দ্র শাসিত সরকার
  3. ব্রিটিশ শাসিত সরকার
  4. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার 
ব্যাখ্যা

• ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ভারত শাসনে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার পদ্ধতি এবং প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন ছিল ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- এ আইনে স্থির হয় যে, বৃটিশ ভারতের প্রদেশসমূহ ও দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটা যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হবে।
- যুক্তরাষ্ট্রের শাসনভার গভর্নর জেনারেল ও তাঁর মন্ত্রীসভার হাতে ন্যস্ত থাকবে।
- মন্ত্রীগণ আইন সভার মধ্য থেকে গভর্নর জেনারেল কর্তৃক নিয়োজিত হবেন এবং তাঁরা আইন সভার নিকট দায়ী থাকবেন।

- ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের আইনে কেন্দ্রে একটা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠনের ব্যবস্থা ছিল।
- উচ্চ কক্ষটি রাষ্ট্রসভা এবং নিম্নকক্ষ ফেডারেল পরিষদ নামে অভিহিত হবে স্থির হয়।
- মোট এগারটি গভর্নর শাসিত প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইন সভা এবং অবশিষ্ট পাঁচটিতে এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ অনুযায়ী কেন্দ্রের ন্যায় বিভিন্ন প্রদেশেও মুসলিম ও অনুন্নত শ্রেণির জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা হয়।

- এ আইনে প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসনের পরিবর্তে স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
- নতুন আইন অনুযায়ী প্রদেশের শাসন ব্যবস্থার প্রধান হবেন একজন গভর্নর।
- জনগণের নির্বাচনে গঠিত হবে একটি আইন সভা।
- ঐ আইন সভার সদস্যদের মধ্য থেকে গভর্নরকে পরামর্শ দান ও সাহায্যের জন্য একটি মন্ত্রীসভা গঠিত হবে।
- আইন-শৃংখলা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গভর্নরের এখতিয়ারে থাকবে।
- মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকবেন প্রাদেশিক আইন সভার নিকট।
- গভর্নরকে বিশেষ ক্ষমতাও দেয়া হয়।
- সে ক্ষমতা বলে তিনি ইচ্ছা করলে আইনসভা ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দিতে পারবেন। তাছাড়া যেকোন অর্ডিন্যান্স বা জরুরী আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও তাঁর ছিল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২৪৮.
কীসের মাধ্যমে কুলকে মিষ্টি জাতে রূপান্তরিত করা যায়?
  1. বীজের মাধ্যমে
  2. কুড়ি সংযোজন
  3. কাটিং
  4. লেয়ার গ্রাফটিং
ব্যাখ্যা
কুল চাষ:
- কুলকে ইংরেজিতে Ber বা Jujube বলে।
- বর্তমানে কুল চাষ ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
- বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের উৎকৃষ্ট জাত উদ্ভাবনের ফলে বাণিজ্যিকভাবে কুলের চাষ বেড়েছে।
- কুলে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি ও খণিজ লবণ আছে।

⇒ কুলের ফুল পেটের গ্যাস ও রুচি বর্ধকের ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- কুল ও পাতা উভয়েই ক্ষত রোগের জন্য উপকারী।
- কুল কাচা ও পাকা উভয় অবস্থায় খাওয়া হয়।
- বাংলাদেশে বিশেষ করে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, কুমিল্লা, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহে উৎকৃষ্ট জাতের চাষ হয়ে থাকে। 

⇒ জলবায়ু ও মাটি:
- কুল জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়া প্রয়োজন।
- কুল আর্দ্র আবহাওয়ায় চাষ অনুপোযোগী।
- উঁচু বা মাঝারি জমি, দোআশ মাটিতে কুলের চাষ ভালো হয়, তবে সব মাটিতেই চাষ করা যায়।

⇒ বংশবিস্তার:
- কুল বীজ ও কলম উভয় মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যায়।
- কুঁড়ি সংযোজন করে যেকোন কুল গাছকে মিষ্টি জাতে বা উন্নত জাতে রূপান্তরিত করা যায়।
- সেজন্য কুড়ি সংযোজনই সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি।
- বীজের মাধ্যমে চারা গাছে মাতৃগুণ থাকে না এবং ফল আসতে সময় বেশি লাগে।
- সাধারণত কুলে রিং বা টি বাডিং করা হয়।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৪৯.
বাংলাদেশের বার্ষিক বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে-
  1. বাংলাদেশে ব্যাংক
  2. এশিয় উন্নয়ন ব্যাংক
  3. আইএমএফ
  4. বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম :
- বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম (BDTF) হল একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা ফোরাম যা বাংলাদেশ সরকার এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে আগ্রহী আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বার্ষিক বৈদেশিক সাহায্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে - বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম।
- বাংলাদেশের উন্নয়ন ফোরামের সমন্বয়কারী - বিশ্বব্যাংক।
-  ১৯৭৪ সালের অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ এইড গ্রুপ।
- ২০০১ সালের আগ পর্যন্ত এ সম্মেলনকে ‘প্যারিস কনসোর্টিয়াম’ বলা হতো।

উৎস: Economic Relations Division, Ministry of Finance.
৬,২৫০.
কোন ইংরেজ লর্ড সর্ব প্রথম বিচার কার্য ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশীয়দের ওপর ন্যস্ত করেন?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড ওয়েলেসলি
  4. লর্ড বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা
বিচার ব্যবস্থা:

- কর্নওয়ালিসের সময় বিচার ব্যবস্থার সংস্কার করা হয়, একে ফৌজদারি ও দেওয়ানি এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
- ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে বিচার ব্যবস্থার সংস্কারের ফলে সদর নিজামত আদালত মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
- বাংলা বিহার এ উড়িষ্যাকে মোট ১২টি বিভাগে বিভক্ত করে প্রতিটি বিভাগে একটি ভ্রাম্যমান কোর্ট স্থাপন করা হয়।
- এই আদালতের প্রত্যেকটিতে দুজন ইংরেজ বিচারক এবং আইন ব্যাখ্যার জন্য কাযি ও মুফতি নিযুক্ত করা হয়।
- লর্ড বেন্টিঙ্ক সর্ব প্রথম বিচার কার্য ও রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেশীয়দের ওপর ন্যস্ত করেন।
- তিনি ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সর্বপ্রথম জুড়ি ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন এবং ভারতীয়দের জুরির সদস্য নিযুক্ত করা হয়। 

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৫১.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার মূল নকশাকার কে ছিলেন?
  1. কামরুল হাসান 
  2. আ স ম আব্দুর রব 
  3. শিবনারায়ণ দাস
  4. সিরাজুল ইসলাম 
ব্যাখ্যা

• জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬ অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক- পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস। 
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার। ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৮ নং কক্ষে তিনি এই নকশা তৈরি করেছিলেন 

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো। 

৬,২৫২.
সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয় কোথায়?
  1. ক) লন্ডন
  2. খ) নয়াদিল্লি
  3. গ) আঙ্কারা
  4. ঘ) কলকাতা
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষ ভাস্কর্য উদ্বোধন করা হয় - ১৩ ডিসেম্বর, ২০২১; তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায়। 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,২৫৩.
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি-
  1. জিন্নাতুনেছা তাহমিদা
  2. নাজমুন আরা সুলতানা
  3. ডা. সুসানে গীতি
  4. নাজনীন আক্তার পান্না
ব্যাখ্যা

• সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।
• ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল হোন ডা. সুসানে গীতি।
• ড. জিন্নাতুনেছা তাহমিদা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের প্রথম মহিলা চেয়ারম্যান ছিলেন।

৬,২৫৪.
সম্প্রতি পঞ্চমবারের মতো বাংলাদেশ কোন কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে?
  1. ক) UNHRC
  2. খ) DHRC
  3. গ) MNRC
  4. ঘ) UNDRC
ব্যাখ্যা
• পঞ্চমবারের মতো জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (UNHRC) সদস্য নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ।
• যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ হলে এ–সংক্রান্ত ভোটাভুটি হয়। ভোটে জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যদেশের মধ্যে ১৮৯টি ভোট দেয়।
• ভোটাভুটিতে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৬০টি ভোট পেয়ে সদস্য নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ।

তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, নভেম্বর ২০২২
৬,২৫৫.
দেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থার নাম কী?
  1. ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ
  2. জাতীয় সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ
  3. বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা
  4. বাংলাদেশ তথ্য ও সংবাদ সংস্থা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস):
- বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) দেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা।
- বাসস ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি যাত্রা শুরু করে।
- পাকিস্তানের অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপিপি) ঢাকা ব্যুরোকে নতুন দেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থায় রূপান্তরিত করা হয়।
- ঢাকার প্রধান কার্যালয় এবং চট্টগ্রামে একটি ব্যুরো নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিএসএসের রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, খুলনা, বরিশাল, রাঙ্গামাটি এবং সিলেটেও ব্যুরো রয়েছে।
- জাতীয় সংবাদ সংস্থাটির প্রতিনিধিরা দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় নিয়োজিত রয়েছেন।
- সংস্থাটি প্রায় সার্বক্ষণিকভাবে জাতীয়, আন্তর্জাতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়নমূলক এবং অন্যান্য খবর প্রায় ৫০টি গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেয়।
- বাসস আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি থেকে সংবাদ সংগ্রহ করে এবং ভারতের প্রেস ট্রাস্ট (পিটিআই), পাকিস্তানের অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপিপি), চীনের সরকারি সংবাদ সংস্থা শিনহুয়া, মালয়েশিয়ার বারনামা এবং অস্ট্রেলিয়ার ট্রান্সডাটা সংস্থার সঙ্গে সংবাদ বিনিময় করে।
- ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের বাংলা পত্রিকার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাসস বাংলা সংবাদ পরিষেবা চালু করে।

উৎস: Jagannath University Journal of Social Sciences.
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)।
৬,২৫৬.
প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল কতসালে উপমহাদেশে ক্রিপস কমিশন প্রেরণ করেন?
  1. ক) ১৯৪১
  2. খ) ১৯৪২
  3. গ) ১৯৪৩
  4. ঘ) ১৯৪৪
ব্যাখ্যা
রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বৃটিশ সরকারের পক্ষ থেকে স্যার স্টাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে ১৯৪২ সালে ‘ক্রিপস কমিশন’ উপমহাদেশে আসে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান মিত্র পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগদান করলে জাপানি আক্রমনের বিরুদ্ধে এ দেশীয় সাহায্য সহযোগীতা লাভের জন্য চার্চিল এ কমিশনকে ভারতে প্রেরণ করে।
উৎস - বাংলাপিডিয়া।
৬,২৫৭.
বাংলাদেশে "তৈল বীজ গবেষণা কেন্দ্র" কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর
  2. ঢাকা
  3. ময়মনসিংহ
  4. কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীন গবেষনা কেন্দ্র সমূহ:
i. কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
ii. উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
iii. তৈল বীজ গবেষণা কেন্দ্র - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
iv. উদ্ভিদ কৌলি সম্পদ কেন্দ্র - জয়দেবপুর, গাজীপুর।
v. ডাল গবেষণা কেন্দ্র - ঈশ্বরদী, পাবনা।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৬,২৫৮.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত-
  1. হালদা নদী
  2. চলনবিল
  3. টাঙ্গুয়ার হাওর
  4. হাইল হাওর
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক মৎস প্রজনন কেন্দ্র।
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বদনাতলী পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে এটি ফটিকছড়ির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে।
- প্রতিবছর হালদা নদীতে একটি বিশেষ মূহুর্তে ও বিশেষ পরিবেশে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস ও কার্প জাতীয় মাতৃমাছ প্রচুর পরিমাণ ডিম ছাড়ে।
- ডিম ছাড়ার বিশেষ সময়কে তিথি বলা হয়ে থাকে।
- স্থানীয় জেলেরা ডিম ছাড়ার তিথির পূর্বেই নদীতে অবস্থান নেন এবং ডিম সংগ্রহ করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৬,২৫৯.
পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার জন্য নির্মিত সেনানিবাস-
  1. ক) পদ্মা সেনানিবাস
  2. খ) শেখ রাসেল সেনানিবাস
  3. গ) জাজিরা সেনানিবাস
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস
ব্যাখ্যা
- পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার জন্য যে সেনানিবাস প্রতিষ্ঠিত হয় - শেখ রাসেল সেনানিবাস।
- ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীন ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড এই সেনানিবাসে অবস্থান করবে।
- শরীয়তপুরের জাজিরায় উদ্বোধন হলো শেখ রাসেল সেনানিবাস।
- ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী এই সেনানিবাসের উদ্বোধন করেন।

তথ্যসূত্র:- দৈনিক জনকণ্ঠ।
৬,২৬০.
বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে কবে বাংলাদেশে আনা হয়?
  1. ২৪ জুন, ২০০৬
  2. ২৫ জুন, ২০০৬
  3. ২৩ জুন, ২০০৬
  4. ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান:
- বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের জন্ম ২৯শে অক্টোবর ১৯৪১, ঢাকার পৈত্রিক নিবাসে।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা আর অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান “বীরশ্রেষ্ঠ” উপাধিতে ভূষিত করা হয় তিনি তাদের অন্যতম।
- পেশায় ছিলেন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একজন ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট।
- ১৯৭১ সালে নিয়মিত কাজের আড়ালে তিনি একটি বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে যোগদানের পরিকল্পনা করতে থাকেন।
- এনিয়ে তিনি কয়েকজন দেশপ্রেমিক বাঙালি অফিসারের সাথে আলোচনা করেন।
- পরিকল্পনা মোতাবেক ২০শে আগস্ট ১৯৭১ সকাল ১১.১৫ মিনিটে পাঞ্জাবী পাইলট অফিসার রাশেদ মিনহাজসহ টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমান (কল সাইন ব্লু-বার্ড-১৬৬) ছিনতাই করে ভারত অভিমূখে উড্ডয়ন করেন।
- অপর পাইলটের সাথে কন্ট্রোল নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে সিন্ধুর বেদিনে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে উভয়েই শাহাদত বরণ করেন।
- পরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার লাশ উদ্ধার করে মশরুর বিমান ঘাটির ৪র্থ শ্রেণীর কবরস্তানে অত্যন্ত অমর্যাদার সাথে দাফন করে।
- শাহাদতের ৩৫ বছর পর ২৪শে জুন ২০০৬ মতিউরের দেহাবশেষ পাকিস্তান থেকে দেশে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি কবর স্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৬,২৬১.
Where is the first medical park of Bangladesh located?
  1. Munshiganj
  2. Gazipur
  3. Dhaka
  4. Narayanganj
ব্যাখ্যা
ঔষধ পার্ক:

- দেশের প্রথম ঔষধ পার্ক মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অবস্থিত।
- এখানকার কারখানায় উৎপাদিত ওষুধ দিয়েই দেশের বাজারে চাহিদা পূর্ণ করে রপ্তানিও করে ওষুধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো।
- রাজধানীর অদূরে মেঘনা নদীর পার ঘেঁষে গড়ে ওঠা মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে দেশের প্রথম ওষুধ শিল্প পার্ক।
- ঢাকা থেকে ৩৭ কিলোমিটার দূরত্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে উপজেলার বাউশিয়া মৌজায় ২০০ একর জমির ওপর বাস্তবায়ন হচ্ছে প্রকল্পটি।
- ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে ২০০৮ সালে সরকার এই শিল্প পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়।
- পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয় এপিআই শিল্প পার্কটির।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রতিদিন, ৭ এপ্রিল, ২০১৮।
৬,২৬২.
স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন কে?
  1. তোফায়েল আহমেদ
  2. শাহজাহান সিরাজ
  3. সিরাজুল আলম খান
  4. কাদের সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৬,২৬৩.
তমদ্দুন মজলিসের সাধারণ সম্পাদক এর দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. অধ্যাপক আবুল করিম
  2. অধ্যাপক আবদুল মতিন
  3. অধ্যাপক আবুল কাশেম
  4. ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা প্রকাশিত হয়।
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’।
- এর আহ্বায়ক মনোনিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

অধ্যাপক আবুল কাশেম:
- আবুল কাশেম শিক্ষাবিদ, ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ, লেখক।
- তিনি ১৯৪৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এবং ১৯৪৫ সালে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। 
- আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।
- তিনি ছিলেন এর সাধারণ সম্পাদক।
- এই সংগঠনের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম তিনি বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতিদানের দাবি উত্থাপন করেন।

উৎস: ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৬৪.
রামসাগর দিঘী কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) ঠাকুরগাঁও
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) নীলফামারী
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
• রামসাগর দীঘি:
রামসাগর দীঘি দিনাজপুরে অবস্থিত। 
- বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন সমূহের মধ্যে দিনাজপুরের রামসাগর অন্যতম।
- দিনাজপুরের বিখ্যাত রাজা রামনাথ আলীবর্দীখানের সময়ে ১৭৫০থেকে ১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে দীঘিটি খনন করেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৬,২৬৫.
'চুকনগর বধ্যভূমি' কোথায় অবস্থিত?
  1. যশোর
  2. খুলনা
  3. রাজশাহী
  4. গাজীপুর
  5. বাগেরহাট
ব্যাখ্যা
চুকনগর বধ্যভূমি:
- পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম যেসব গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে একটি চুকনগর গণহত্যা।
- এটি খুলনা জেলার ডুমুরিয়ার ছোট্ট শহরে অবস্থিত।
- ১৯৭১ সালের ২০ মে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে খুলনার ডুমুরিয়ার ছোট্র শহর চুকনগরে পাকিস্তানি বর্বর সেনারা নির্মম এ হত্যাকান্ড ঘটায়।
- এ স্থানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত হয়েছে।

⇒ চুকনগর গণহত্যা:
- অতর্কিত এ হামলা চালিয়ে মুক্তিকামী ১০-১২ হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে তারা।
- মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনারা যে নির্মম অত্যাচার, নির‌যাতন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, তারও এক নীরব সাক্ষী হয়ে আছে আজকের চুকনগর।
- ওই দিন যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগ পুরুষ হলেও বহু নারী ও শিশুকেও হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা।
- পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে দক্ষিণাঞ্চলের জনগোষ্ঠী বাঁচার তাগিদে ভারতে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়।
- মে মাসের মাঝামাঝি সময় বৃহত্তর খুলনার বাগেরহাট, রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া, শরণখোলা, মংলা, দাকোপ, বটিয়াঘাটা, চালনা, ফরিদপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ভারতে যাবার উদ্দেশে রওনা হন।
- ভারতে যাবার জন্যে তারা ট্রানজিট হিসেবে বেছে নেন ডুমুরিয়ার চুকনগরকে।
- ২০মে সকাল ১০টার দিকে ৩টি ট্রাকে করে হঠাৎ পাকিস্তানি সেনারা চুকনগর বাজারের ঝাউতলায় (তৎকালীন পাতখোলা) এসে থামে।
- দুপুর ৩টা পর্যন্ত তারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করতে থাকে।
- মাঠে, ক্ষেতে, খালে-বিলে পড়ে থাকে লাশ আর লাশ।
- এসব স্থান থেকে লাশ নিয়ে নদীতে ফেলার কাজ শুরু করেন স্থানীয়রা।
- চুকনগরের ফসলি জমিগুলোয় আজও পাওয়া যায় সেদিনের শহীদদের হাড়গোড়, তাদের শরীরে থাকা বিভিন্ন অলঙ্কার। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,২৬৬.
Who was awarded the 'Bangladesh Independence Award' for the contribution in the Liberation War?
  1. William A. S. Ouderland
  2. Indira Gandhi
  3. Pranab Mukherjee
  4. Nikolai Podgorny
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশ সরকার তিন ক্যাটাগরিতে সম্মাননা প্রদান করে।
- এর মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মাননা হিসেবে 'বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা' প্রদান করা হয় ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী 'শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে'।
- ২৫ জুলাই ২০১১ তারিখে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছিল।
- এই পুরস্কার বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার সহযোগী হিসাবে এবং এই জাতীয় জটিল আঞ্চলিক যুদ্ধ পরিচালনা করার দক্ষতার স্বীকৃতি দেয়।
- এছাড়া ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জি সহ মোট ১৫ জনকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয় ৩১২ জন ব্যক্তি ও ১০টি সংগঠনকে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,২৬৭.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১৪৩
  2. অনুচ্ছেদ ১৪৪
  3. অনুচ্ছেদ ১৪৫
  4. অনুচ্ছেদ ১৪৬
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১৪২ - সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৩ - প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৪ - সম্পত্তি ও কারবার প্রভৃতি-প্রসঙ্গে নির্বাহী কর্তৃত্ব।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫ - চুক্তি ও দলিল।
- অনুচ্ছেদ ১৪৫(ক) - আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৬ - বাংলাদেশের নামে মামলা।
- অনুচ্ছেদ ১৪৭ - কতিপয় পদাধিকারীর পারিশ্রমিক প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ১৪৮ - পদের শপথ।
- অনুচ্ছেদ ১৪৯ - প্রচলিত আইনের হেফাজত।
- অনুচ্ছেদ ১৫০ - ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- অনুচ্ছেদ ১৫১ - রহিতকরণ।
- অনুচ্ছেদ ১৫২ - ব্যাখ্যা।
- অনুচ্ছেদ ১৫৩ - প্রবর্তন, উল্লেখ ও নির্ভরযোগ্য পাঠ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
৬,২৬৮.
জাতীয় স্মৃতিসৌধের উচ্চতা কত?
  1. ক) ৪৬.৫ মি
  2. খ) ৪৬ মি
  3. গ) ৪৫.৫ মি
  4. ঘ) ৪৫ মি
ব্যাখ্যা
- সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ 'সম্মিলিত প্রয়াস' নামে পরিচিত। এটির স্থপতি সৈয়দ মইনুল হোসেন।
- ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। তবে মূল সৌধের নির্মাণ শুরু হয় ১৯৭৮ সালে।
- এতে সাতটি ফলক রয়েছে যা বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট (১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৫৬, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯ এবং ১৯৭১) কে নির্দেশ করে।
- স্মৃতিসৌধের সর্বোচ্চ উচ্চতা ১৫০ ফুট/ ৪৫.৭২ মিটার (প্রায় ৪৬ মিটার)।
- ১৯৮২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া, ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট এবং দৈনিক প্রথম আলো)
৬,২৬৯.
সাত জন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য নন কে?
  1. মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. মোস্তফা কামাল
  3. মোহাম্মদ রুহুল আমিন
  4. হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা
• ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন ছিলেন নৌবাহিনীর সদস্য।

• মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৭৩ সালে সাতজন মুক্তিযোদ্ধাকে কে সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি প্রদান করেন।
- এদের মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য তিনজন, সাবেক ই. পি. আর. সদস্য দুইজন এবং বিমান বাহিনী ও নো বাহিনীর একজন করে।

• বীরশ্রেষ্ঠদের কর্মস্থল:
- ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর : সেনাবাহিনী।
- সিপাহী মোস্তফা কামাল : সেনাবাহিনী।
- ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান : বিমান বাহিনী।
- ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ : সাবেক ই. পি. আর.।
- ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ : সাবেক ই. পি. আর.।
- সিপাহী হামিদুর রহমান : সেনাবাহিনী।
- ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : নৌবাহিনী।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৬,২৭০.
ছয় দফা দিবস পালিত হয় কবে?
  1. ৭ জুন
  2. ১১ জুন
  3. ১৬ জুন
  4. ২৫ জুন
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালন করা হয়।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,২৭১.
আইন প্রণয়নের ক্ষমতা কার উপর ন্যস্ত থাকে?
  1. রাষ্ট্রপতির
  2. আইন মন্ত্রণালয়ের
  3. সুপ্রীম কোর্টের
  4. জাতীয় সংসদের
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান:
• সংবিধানের ৬৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী,
- 'জাতীয় সংসদ' নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকবে,
- এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হবে,
- তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করবে না।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬,২৭২.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জেড ব্রিগেড ফোর্সের সদর দপ্তর কোথায় ছিল?
  1. তেলঢালা
  2. আগরতলা
  3. ত্রিপুরা
  4. হেজামারা
ব্যাখ্যা
ব্রিগেড ফোর্স (Brigade Forces): 

• মুক্তিযুদ্ধে ১১ টি সেক্টর ও অনেকগুলো সাব সেক্টর ছিল।
• মে ও জুন মাসে তিনটি ব্রিগেড ফোর্সে বিভক্ত করা হয়।
• ফোর্সের নামকরণ করা হয় অধিনায়কদের নামের আদ্যক্ষর দিয়ে।

• জেড ফোর্স 
- গঠন: ৭ জুলাই ১৯৭১);
- অধিনায়ক : মেজর জিয়াউর রহমান;
- সদর দপ্তর: তেলঢালা; ভারত
- এটাই ছিল তৎকালীন স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রথম একটি সম্পূর্ণ ব্রিগেড। 

এস ফোর্স:
- কে.এম.সফিউল্লাহর নেতৃত্বে এস ফোর্স।
- ‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডটি অক্টোবরে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।

কে ফোর্স:
- খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে কে ফোর্স।
- ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় ৪র্থ, ৯ম ও ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৭৩.
বাংলাদেশ নিম্নের কোন দেশের সাথে TICFA চুক্তি স্বাক্ষর করেছে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. চীন
  4. ভারত
ব্যাখ্যা

TICFA চুক্তি:
- TICFA-এর পূর্ণরূপ: Trade and Investment Cooperation Forum Agreement.
- টিকফা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা ফোরাম চুক্তি।
- এটি একটি কৌশলগত কাঠামো যা উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা ও সহযোগিতার সুযোগ তৈরি করে।
- এই চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য, শ্রম, এবং মেধা সম্পদসহ বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য একটি ফোরাম তৈরি করা হয়েছে। 
-  টিকফা-এর পূর্বের নাম ছিল 'টিফা' (Trade and Investment Framework Agreement)। 

⇒ TICFA-এর মূল উদ্দেশ্য:
- যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ পরস্পরের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা করার একটি মাধ্যম তৈরি করা।

উৎস: U.S. Embassy in Bangladesh (.gov)

৬,২৭৪.
'কামতা' গ্যাসক্ষেত্রটি অবস্থিত-
  1. ক) নোয়াখালী
  2. খ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

- সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্রটি খাগড়াছড়িতে অবস্থিত।
- 'কামতা' গ্যাসক্ষেত্র অবস্থিত গাজীপুরে।
- এটি ১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করে।
- সালদা গ্যাসক্ষেত্র, তিতাস গ্যাসক্ষেত্র, শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র কুমিল্লায় অবস্থিত।
- সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রটি নোয়াখালীতে অবস্থিত।

উৎস: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৬,২৭৫.
কৃষি কাজের জন্যে সর্বোত্তম মাটি কোনটি?
  1. ক) দোআঁশ মাটি
  2. খ) বেলে মাটি
  3. গ) এঁটেল মাটি
  4. ঘ) লাল মাটি
ব্যাখ্যা
কৃষি কাজের জন্যে সবচেয়ে উপযোগী মাটি হলো দোআঁশ মাটি। ৫০ ভাগ বালিকণা ও ৫০ ভাগ পলি ও কর্দমকণা সমৃদ্ধ দোআঁশ মাটি কৃষি কাজের জন্যে সবচেয়ে উপযোগী। বাংলাদেশের অধিকাংশ মাটিই দোআঁশ মাটি। যার কারণে বাংলাদেশের ভূমি সর্বত্রই উর্বর।
(সূত্রঃ কৃষি শিক্ষা : ষষ্ঠ শ্রেণী)
৬,২৭৬.
নিচের কোন মোবাইল ব্যাংকিং সেবাটি বাংলাদেশে প্রথম চালু হয়?
  1. উপায়
  2. রকেট
  3. নগদ
  4. বিকাশ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেট।

মোবাইল ব্যাংকিং:
- মোবাইল ব্যাংকিং বলতে মূলত মোবাইল টেলিযোগাযোগ ডিভাইসের সাহায্যে ব্যাংকিং ও আর্থিক সুবিধাকে বোঝায়।
- এর সাহায্যে ব্যাংকিংয়ের সব সুবিধা মোবাইলেই পাওয়া যায়।
- অর্থাৎ ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব কার্যক্রম মোবাইলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করার সুবিধাই হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং।
- শুরুতে মোবাইল ব্যাংকিং সাধারণত এসএমএসের মাধ্যমে করা হতো।
- ১৯৯৯ সালে স্মার্টফোনের আবির্ভাবের পর ইউরোপীয় ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের প্রথম মোবাইল ব্যাংকের সুবিধা প্রদান করে।
- বাংলাদেশে ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংক লিমিটেড সর্বপ্রথম ২০১১ সালের ৩১শে মার্চ প্রথম বারের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেছিল।
- তাদের পরিচালিত মোবাইল ব্যাংকিং সেবার নাম রকেট।
- রকেটের আগমন বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার একটি নতুন যুগের সূচনা করে।
- ২০১১ সালে যখন প্রথম এই মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবা চালু হয়েছিলো তখন এটি বাংলালিংক এবং সিটিসেল মোবাইল অপারেটর এর ‘এজেন্ট’ এবং ‘নেটওয়ার্ক’ সহায়তা গ্রহণ করার মাধ্যমেই পথচলা শুরু করে।
- ২০১৬ সালে এ সেবার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রকেট, যা এখন টাকার রকেট নামে পরিচিত।
- এরপর থেকে অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এই সেবা চালু করে এবং ধীরে ধীরে মোবাইল ব্যাংকিং বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- রকেট আসার পরপরই ২০১১ সালে ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গসংগঠন হিসেবে দ্বিতীয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা হিসেবে বিকাশের (BKASH) আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- ব্যাংক ছাড়াও ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ থেকে পরিচালিত নগদ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হয়।
- প্রথম এজেন্ট ব্যাকিং সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া।
- মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান 'বিকাশ'।

তথ্যসূত্র - ডাচ-বাংলা ব্যাংক ওয়েবসাইট।
৬,২৭৭.
নিচের কোন রাজনৈতিক দলটি যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না?
  1. ক) কৃষক শ্রমিক পার্টি
  2. খ) নেজামে ইসলাম
  3. গ) খেলাফত রাব্বানী
  4. ঘ) গণতন্ত্রী দল
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট নামে নির্বাচনি জোট গঠিত হয়।

যুক্তফ্রন্টের দলগুলো হলো:

- আওয়ামী মুসলিম লীগ
- কৃষক শ্রমিক পার্টি
- নেজামে ইসলাম
- গণতন্ত্রী দল।

- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা। যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।

- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জোট ২৩৭টি ‍মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
- আবুল হাশিম নেতৃত্বাধীন খেলাফত রাব্বানী পার্টি যুক্তফ্রন্ট জোটের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৬,২৭৮.
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের মুক্তিযুদ্ধে প্রাপ্ত খেতাব বাতিলের প্রজ্ঞাপন কবে জারি করা হয়?
  1. ৬ জুন, ২০২১
  2. ১০ জুন, ২০২১
  3. ২৬ জুন, ২০২১
  4. ২৮ জুন, ২০২১
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে প্রাপ্ত খেতাব বাতিল:
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।
- ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।

- যাঁদের খেতাব বাতিল হলো তাঁরা হলেন:
• লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীর উত্তম, গেজেট নং ২৫),  
• লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নূর চৌধুরী (বীর বিক্রম, গেজেট নং ৯০),
• লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীর প্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) এবং
• নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীর প্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।
- যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।

উৎস: ৬ জুন, ২০২১, প্রথম আলো।
৬,২৭৯.
বঙ্গবন্ধু কত সালে প্রথম ছয়দফা উত্থাপন করেন?
  1. ক) ১৯৬৫ সালের ২৩ মার্চ
  2. খ) ১৯৬৬ সালের ২৩ মার্চ
  3. গ) ১৯৬৮ সালের ২৩ জুন
  4. ঘ) ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধীদলসমূহের সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম ছয়দফা দাবী উত্থাপন করেন।
- একই বছরের ১৮-১৯ মার্চ আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ছয়দফা গৃহীত হয় এবং ২৩শে মার্চ বঙ্গবন্ধু সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ছয়দফা উত্থাপন করেন।
- ৭ জুন ছয়দফা দিবস পালিত হয়। ছয়দফা দাবী কে ‘বাঙালির মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনাকার্টা’ বলা হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,২৮০.
বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের কতটি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে?
  1. ১৩৫টি
  2. ১৩৪টি
  3. ১৩০টি
  4. ১২৭টি
ব্যাখ্যা
• বঙ্গবন্ধুর শাসনামল:
- বঙ্গবন্ধু সরকার বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়েছেন।
- মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করায় ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ অন্যান্য সমাজতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আস্তরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করায় বঙ্গবন্ধু সরকার প্রথম দিকে মার্কিন সাহায্য গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায়।
- তবে বঙ্গবন্ধু সরকার দেশের স্বার্থে পুঁজিবাদী ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
- তারপরও বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩০টি রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অর্জন করে
- এ ছাড়া জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ ও ইসলামি সম্মেলন সংস্থার সদস্যপদসহ ১৪টি আস্তর্জাতিক সংগঠনের সদস্যপদ লাভ করে।



উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম - ১০ম শ্রেণি।
৬,২৮১.
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. মহাখালী, ঢাকা
  2. অক্সিজেন, চট্রগ্রাম
  3. সেগুনবাগিচা, ঢাকা
  4. আজিমপুর ঢাকা
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট: 
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘ কর্তৃক একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- এই ঘোষণা বাংলা ভাষা ও ভাষা শহিদদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রথম ঐতিহাসিক ধাপ।
- প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ: ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯।
- ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন: ১৫ মার্চ ২০০১ সালে।
- জাতিসংঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান।
- ঢাকার সেগুনবাগিচায় ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- উদ্বোধন: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০ সালে।
- অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ইনস্টিটিউট ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,২৮২.
বাংলাদেশ থেকে কবে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার সমাপ্ত হয়?
  1. ১৮ মার্চ, ১৯৭৩
  2. ১৮ মার্চ, ১৯৭২
  3. ১২ মার্চ, ১৯৭২
  4. ১২ মার্চ, ১৯৭৩
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি, পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডনে পৌঁছান বঙ্গবন্ধু।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে তখন থেকেই তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। সেদিন সন্ধ্যায় তিনি বৈঠক করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে।
- এছাড়াও সেখানে তিনি লেবার পার্টির নেতা হেরল্ড উইলসন, এমপি পিটার শোর, কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল আর্নল্ড স্মিথসহ অন্যান্য আরো অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
- আলোচনার মূল বিষয়বস্তুই ছিল- বাংলাদেশ গঠনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সর্বোচ্চ সহযোগিতার প্রসঙ্গ।
- এরপর ১০ জানুয়ারি লন্ডন থেকে দিল্লি হয়ে দেশে ফিরলেন।
- পথিমধ্যে সাইপ্রাসে যাত্রা বিরতিকালে সাইপ্রাসের রাষ্ট্রপতি ম্যাকারিয়াস বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা জানান।
- দিল্লিতে বঙ্গবন্ধুকে উষ্ণ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
- সেদিনের সেই ঐতিহাসিক সংবর্ধনায় লাখো ভারতবাসীর সাথে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীসহ মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্য।
- মুক্তিযুদ্ধে সার্বিক সহযোগিতার জন্য তিনি সকল ভারতবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
- আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে ব্যক্তিগত বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে মার্চের মধ্যে সব ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।
- ফলে ১২ মার্চ ১৯৭২ তারিখেই সৈন্য প্রত্যাহার সমাপ্ত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।  
৬,২৮৩.
বাংলাদেশেল জাতীয় প্রতীকের নিচে যেগুলো রয়েছে?
  1. ক) ধান, পান, শাপলা
  2. খ) ধান, পাট, শাপলা
  3. গ) ধান, পান, পাট
  4. ঘ) পাট, পান, শাপলা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক:
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকে ৪টি তারকা আছে।
- এ প্রতীক হলো পানিতে ভাসমান জাতীয় ফুল শাপলা এবং এর উভয় পার্শ্বে একটি করে ধানের শীষ, চূড়ায় পাটগাছের পরস্পরযুক্ত তিনটি পাতা এবং পাতার উভয় পার্শ্বে দুটি করে তারকা।
- বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীকের কেন্দ্রে রয়েছে পানিতে ভাসমান একটি শাপলা ফুল।
- পানি, ধানপাট প্রতীকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে বাংলাদেশের নিসর্গ ও অর্থনীতি।
- এ তিনটি উপাদানের উপর স্থাপিত জলজ প্রস্ফুটিত শাপলা হলো অঙ্গীকার, সৌন্দর্য ও সুরুচির প্রতীক।
- তারকাগুলোতে ব্যক্ত হয়েছে জাতির লক্ষ্য ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,২৮৪.
বাংলাদেশে কোন বছরে নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।
- ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট। 

৬,২৮৫.
দেশে প্রথমবারের মতো ’গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬' কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?  
  1. কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র
  2. জাতীয় কনভেনশন সেন্টার
  3. কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন
  4. প্রেস ক্লাব মিলনায়তন
ব্যাখ্যা

• ’গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬' :
- দেশে প্রথমবারের মতো 'গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬' অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
- সময়: ১৫ জানুয়ারি,২০২৬
- স্থান:  কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) ।
- মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের (কেআইবি) মিলনায়তনে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। 
- এর পরে একটি ডকুমেন্টারিতে গণমাধ্যম সম্মিলনের আয়োজনের উদ্দেশ্য তুলে ধরা হয়।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার ।

৬,২৮৬.
সম্প্রতি, সরকার কয়টি আদালতকে 'বিশেষ আদালত' ঘোষণা করে? [জানুয়ারি,২০২৬]
  1. ৪টি
  2. ৩টি
  3. ৬টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

'বিশেষ আদালত:
- সম্প্রতি, সরকার ৩টি আদালতকে 'বিশেষ আদালত' ঘোষণা করে।
- সময়: ১২ জানুয়ারি,২০২৬।
- সারা দেশে পারিবারিক আপিল আদালত, শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল এবং ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনালকে বিশেষ আদালত হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার।
- বিশেষ আদালত (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আইন, ২০০৩-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে এ ঘোষণা দিয়ে ১২ জানুয়ারি আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

উৎস: পত্রিকা নিউজ।

৬,২৮৭.
What was the title of the largest "Crop- field-mosaic" the Guinness World Record recognized recently?
  1. ক) Bangabandhu in field portrait
  2. খ) Crop field mosaic of Bangabandhu
  3. গ) Shasyachitre Bangabandhu
  4. ঘ) Bangabandhur Sonar Bangla
ব্যাখ্যা
শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু’র প্রতিকৃতি:

- ফসলের সবুজ মাঠের বুকে ১০০ বিঘা আয়তনজুড়ে বিশাল ‘ক্যানভাস’। সেখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশাল প্রতিকৃতি।
- টানা ৩২ দিন ধরে চলছে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ।
- ফসলের খেতে ধানের চারা লাগিয়ে শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলার এই কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন অর্ধশতাধিক কিষান-কিষানি, যার নেতৃত্বে আছেন আটজন কৃষি প্রকৌশলী।
- বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ‘শস্যচিত্রে বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ’।
- এটি বাস্তবায়ন করছে ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকেয়ার গ্রুপ অব কোম্পানিজ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ৬ মার্চ ২০২১।
৬,২৮৮.
বর্তমানে বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ১৭৩ জন
  2. ১৭৪ জন
  3. ১৭৫ জন
  4. ১৭৬ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৬,২৮৯.
বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিয়ে প্রথম জ্ঞানকোষের নাম কী?
  1. ক) বন্ধুপিডিয়া
  2. খ) মুজিবপিডিয়া
  3. গ) জয়বাংলাপিডিয়া
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধুপিডিয়া
ব্যাখ্যা
• মুজিবপিডিয়া:
- বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিয়ে প্রথম এনসাইক্লোপিডিয়া হলো ‘মুজিবপিডিয়া’
- এটি উপমহাদেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ এনসাইক্লোপিডিয়া বা জ্ঞানকোষ, যাতে অনুসরণ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপদ্ধতি।
- ১/৮ ডিমাই সাইজের দুই খণ্ডের এ বইটিতে রয়েছে ৫৯১টি ভুক্তি ও ৭৫০টি ঐতিহাসিক আলোকচিত্র।
- এর প্রধান সম্পাদক কবি ও গবেষক কামাল চৌধুরী এবং সম্পাদক ফরিদ কবির।

তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
৬,২৯০.
Where will “Sheikh Hasina Palli Unnayan Academy” be established?
  1. Rangpur
  2. Jamalpur
  3. Shariatpur
  4. Gopalganj
ব্যাখ্যা
• পল্লী উন্নয়ন একাডেমি:
- শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি স্থাপিত হবে - জামালপুরে।

- দেশে নতুন করে দুটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হবে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায়। আরেকটি রংপুরে। 
- জামালপুরের একাডেমির নাম হবে শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, জামালপুর।
- আর রংপুরেরটির নাম হবে শেখ রাসেল পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, রংপুর।

- নতুন দুটি একাডেমি হলে দেশে মোট চারটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি হবে।
- বর্তমানে কুমিল্লায় বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) এবং বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) রয়েছে।
- এ ছাড়া যশোরের আরেকটি পল্লী উন্নয়ন একাডেমি করার পরিকল্পনা আছে সরকারের।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (২৭ ডিসেম্বর, ২০২২)।
৬,২৯১.
মোহর ও শুভ্রা কোন ফসলের জাত?
  1. ক) সরিষা
  2. খ) ভুট্টা
  3. গ) গম
  4. ঘ) আলু
ব্যাখ্যা
- মোহর ও শুভ্রা হলো ভুট্টার দুটো জাত।
- ভুট্টার অন্যান্য জাতের মধ্যে রয়েছে:
- বর্ণালি
- উত্তরণ
- খই ভুট্টা
- বারি ভুট্টা ইত্যাদি।
(তথ্যসূত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস)
৬,২৯২.
কোনো কারণে সংসদ ভেঙে গেলে বা অবলুপ্ত হলে সংবিধান অনুযায়ী কত দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়?
  1. ৪৫ দিন
  2. ৬০ দিন
  3. ৯০ দিন
  4. ১২০ দিন
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১২৩ নং অনুচ্ছেদ:
⇒ নির্বাচন-অনুষ্ঠানের সময় -
- (১) রাষ্ট্রপতি-পদের মেয়াদ অবসানের কারণে উক্ত পদ শূন্য হলে মেয়াদ-সমাপ্তির তারিখের পূর্ববর্তী নব্বই হতে ষাট দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
- তবে শর্ত থাকে যে, যে সংসদের দ্বারা তিনি নির্বাচিত হয়েছেন সেই সংসদের মেয়াদকালে রাষ্ট্রপতির কার্যকাল শেষ হইলে সংসদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত অনুরূপ শূন্য পদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না, এবং অনুরূপ সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের দিন হতে ত্রিশ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির শূন্য পদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

- (২) মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার পর নব্বই দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

- (৩) সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে
(ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে; এবং
(খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাংগিয়া যাণবার ক্ষেত্রে ভেঙে যাবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে।
- তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত, সংসদ সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করবে না।

- (৪) সংসদ ভেঙে যাওয়া ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদের কোনো সদস্যপদ শূন্য হলে পদটি শূন্য হবার নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত শূন্যপদ পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তবে শর্ত থাকে যে, যদি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতে, কোনো দৈব-দূর্বিপাকের কারণে এই দফার নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব না হয়, তা হলে উক্ত মেয়াদের শেষ দিনের পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে উক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
৬,২৯৩.
বিখ্যাত মুনিপুরী নাচ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের?
  1. রংপুর
  2. বান্দারবান
  3. সুনামগঞ্জ 
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

 মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- সংস্কৃতি মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী।
- নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,২৯৪.
চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্রের উপজীব্য কী?
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) দুর্ভিক্ষ
  3. গ) দেশভাগ
  4. ঘ) মহামারি
ব্যাখ্যা
'চিত্রা নদীর পাড়ে' ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পটভূমিতে নির্মিত একটি চলচ্চিত্র যা পরিচালনা করেন তানভীর মোকাম্মেল। এটি ১৯৯৮ সালে মুক্তি পায় এবং ১৯৯৯ সালে শ্রেষ্ঠ সিনেমা ও শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ সাতটি ক্যাটাগরিতে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। এতে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, তৌকির আহমেদ, আফসানা মিমি প্রমুখ অভিনয় করেন। (সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন, রোর বাংলা এবং চিত্রা নদীর পাড়ে চলচ্চিত্র)
৬,২৯৫.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন নিচের কোনটি?
  1. ক) তমদ্দুন মজলিশ
  2. খ) রাষ্ট্রভাষা পরিষদ
  3. গ) রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  4. ঘ) সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- পরবর্তীতে ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিশ' নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য,
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৯৬.
বাংলাদেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বর্তমানে বিশ্বের কতটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ১৩৮টি
  2. ১৪২টি
  3. ১৪৪টি
  4. ১৪৮টি
ব্যাখ্যা
দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য:
- বর্তমানে দেশের কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য বিশ্বের ১৪৮টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

⇒ বাংলাদেশ থেকে কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, জার্মানি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্যসহ ১৪৮টি দেশে কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি হয়।
- বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুসারে, উল্লেখযোগ্য কৃষিজাত রপ্তানি পণ্য হলো পাট ও পাটজাত দ্রব্য, সুগন্ধি চাল, শাক-সবজি ও ফলমূল যেমন হিমায়িত আলু, কচু, পটোল, কচুমুখি, লাউ, পেঁপে, শিম, করলা, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা, মিষ্টিকুমড়া, আম, কাঁঠাল, লেবু, লিচু, লটকন, আমড়া, পেয়ারা, শুকনা বরই ইত্যাদি। চা, ফুল, নানা রকম মসলা যেমন কালিজিরা, হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, শুকনা মরিচ, বিরিয়ানি মসলা, কারি মসলা, তামাক, ড্রিংকস, ড্রাই ফুডস প্রভৃতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
- তবে এর মধ্যে ‘ড্রাই ফুড’ বা শুকনা খাদ্য রপ্তানিতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এসব ড্রাই ফুডের মধ্যে আছে বিস্কুট, চানাচুর, কেক, পটেটো ক্র্যাকার ও বাদামের মতো নানা রকম খাদ্যপণ্য। কৃষি প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের মধ্যে বেশি রপ্তানি হয় রুটি, বিস্কুট ও চানাচুরজাতীয় শুকনা খাবার, ভোজ্যতেল ও সমজাতীয় পণ্য, ফলের রস, বিভিন্ন ধরনের মসলা, পানীয় এবং জ্যাম-জেলির মতো বিভিন্ন সুগার কনফেকশনারি।
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষিপণ্য থেকে ১.১২ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল সরকার।

উৎস: i) বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
ii) কালের কন্ঠ। [link]
৬,২৯৭.
বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক প্রধান কে?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. স্পিকার
  4. সংসদ সচিব
ব্যাখ্যা
❐  বাংলাদেশের সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ সাহাবুদ্দিন।

রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানসমূহ বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
- নিয়মমাফিক রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত এবং তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগের ১ম পরিচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও কার্যাবলি নির্ধারিত আছে।

⇒ বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রচলিত এবং এদেশকে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ সকল কারণেই রাষ্ট্রপতি দেশের প্রধান নির্বাহী; কিন্তু অলঙ্কারিক প্রধান। রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব পালনের অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে পরামর্শ করতে হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। সংসদে অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে পদচ্যুত করা যায়।

⇒ বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮ (৪) অনুসারে পঁয়ত্রিশ বছর বয়স্ক বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক নির্দিষ্ট আইনের আওতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন। তাঁকে অবশ্যই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে। এছাড়া এই সংবিধানের আওতায় তিনি কখনও এই পদ থেকে অপসারিত হননি এই শর্তটিও পূরণ করতে হবে। তবে উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে তিনি কখনই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। 

⇒ রাষ্ট্রের প্রধান হওয়ায় সরকারের সকল কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তিনি অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ প্রদান করেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি প্রধান বিচারপতি, এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দান করে থাকেন। তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের সর্বাধিনায়ক।

⇒ রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহবান করে।  কোন বিল সংসদে পাশ হলে তা সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। সংসদ ভেঙে দেয়া হলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করে আইন তৈরি করতে পারেন যা সংসদে আইন হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ রাষ্ট্রপতি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্মানসূচক পদক বা খেতাব প্রদান করে থাকেন। তাঁর অনুমতি ব্যতিত দেশের কোন নাগরিক বিদেশী কোন খেতাব বা সম্মান গ্রহণ করতে পারেন না। রাষ্ট্রপতির ওপর বর্তানো কাজের অংশ হিসেবে তিনি সকল জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের দায়িত্বপূর্ব শপথ বাক্য পাঠ করান।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৯৮.
বাংলাদেশ সর্বপ্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে?
  1. কমনওয়েলথ
  2. ও আই সি 
  3. জাতিসংঘ
  4. ন্যাম
ব্যাখ্যা

কমনওয়েলথ:
- বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে।
- এটি ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ।

অন্যদিকে,
- জাতিসংঘ: ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ লাভ করে।
- খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO): ১৯৭৩ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ এই সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে।
- জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM): ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ এই সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। 
- বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সদস্যপদ লাভ করে। 

উৎস: সংশ্লিষ্ট  সংস্থার ওয়েবসাইট।

৬,২৯৯.
জিডিপির সর্ববৃহৎ খাত কোনটি?
  1. ক) সেবাখাত
  2. খ) কৃষিখাত
  3. গ) শিল্পখাত
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• জিডিপির সর্ববৃহৎ খাত - সেবাখাত (১৩টি খাত নিয়ে গঠিত) এবং ছোট খাত - কৃষিখাত। 
• আবার, কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত - কৃষিখাত (৪০.৬% শ্রমশক্তি নিয়োজিত) এবং ছোট খাত - শিল্পখাত (২০.৪% শ্রমশক্তি নিয়োজিত)।
• অর্থনীতি/জিডিপির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত - শিল্পখাত; প্রবৃদ্ধির হার ১০.৪৪%। 
• অন্যদিকে, কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম; প্রবৃদ্ধির হার - ২.২০%।
• সার্বিকভাবে অর্থনীতি/জিডিপিতে কৃষি ও সেবা খাতের অবদান – ক্রমহ্রাসমান এবং শিল্পখাতের অবদান - ক্রমবর্ধমান। 
• যদিও সাময়িক হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির হার পূর্ববর্তী অর্থবছরের ০.৫৮ শতাংশ হতে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৩১ শতাংশে।
 
তথ্যসূত্র: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২
৬,৩০০.
মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের প্রথম মহিলা সদস্য কে ছিলেন?
  1. আম্বিকা চক্রবর্তী
  2.  কল্পনা দত্ত
  3. কল্যাণী দাস
  4. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
ব্যাখ্যা

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার:
- ১৯১১ সালে চট্টগ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার মাস্টারদা সূর্যসেন-এর ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা ছিলেন।
- প্রীতিলতা মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বাধীন বিপ্লবী দলের প্রথম মহিলা সদস্য হন।
- তিনি টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস এবং রিজার্ভ পুলিশ লাইন দখল অভিযানে যুক্ত ছিলেন।
- তিনি জালালাবাদ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- ১৯৩২ সালের জুন মাসে মাস্টারদা প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্তকে বোমা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম কারাগার ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেবার নির্দেশ প্রদান করেন।
- ১৯৩২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা পাহাড়তলীতে ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
- ক্লাব আক্রমণ সফল করে ফিরে যাওয়ার সময়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।