বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৫৬ / ৩০৬ · ৫,৫০১৫,৬০০ / ৩০,৮৩২

৫,৫০১.
বাংলাদেশে বর্তমানে বিভাগের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ বর্তমানে আটটি 'বিভাগ' রয়েছে।
• বাংলাদেশের ৮টি বিভাগগুলো হলো:
- ঢাকা বিভাগ,
- চট্টগ্রাম বিভাগ,
- রাজশাহী বিভাগ,
- খুলনা বিভাগ,
- সিলেট বিভাগ,
- বরিশাল বিভাগ,
- রংপুর বিভাগ,
- ময়মনসিংহ বিভাগ।

উল্লেখ্য,
- ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলার নামেই নতুন দুটি প্রশাসনিক বিভাগ প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে সরকার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৫০২.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ২ নং সেক্টরে
  2. খ) ৭ নং সেক্টরে
  3. গ) ৯ নং সেক্টরে
  4. ঘ) ১১ নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)। 

তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের দুইজন 'বীরপ্রতীক' খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু। 
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করে। 
- তিনি ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। 

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য অন্য আরেকজন মহিলা মুক্তিযুদ্ধাকে 'বীরপ্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তিনি হলেন- ডা. সেতারা বেগম।
- ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে ২নং সেক্টরের অধীনে যুদ্ধ করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার পত্রিকা।
৫,৫০৩.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্য কে?
  1. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান
  2. ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক
  3. ড. নিয়াজ আহমদ খান
  4. এমাজউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০তম উপাচার্য: 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন ৩০তম উপাচার্য হিসেবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। 
মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর আর্টিকল ১১(২) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। 

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়:
- ১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নাথান কমিশন গঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় নি। রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারত সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হলে বঙ্গভঙ্গ রদের রাজকীয় ক্ষতিপূরণ হিসেবে এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন স্যার পি জে হার্টজ।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০৪.
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ কতবার নির্বাচিত হয়?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. নির্বাচিত হয়নি
ব্যাখ্যা
- জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য ৫টি দেশ।
- দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদেরও স্থায়ী সদস্য।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫টি।
- এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী সদস্য এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য।
- স্থায়ী সদস্য ৫টি দেশ হলো: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
- অস্থায়ী সদস্যরা ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। 
- নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যেকোন প্রস্তাব পাশের জন্যে এই ৫টি দেশের সম্মতির প্রয়োজন হয়।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ দু’বার নির্বাচিত হয়, প্রথমবার জাপানকে পরাজিত করে ১৯৭৯-১৯৮০ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০০০-২০০১ সালে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০৫.
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড গঠিত হয় কত সালে? 
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৪
  3. ১৯৭৮
  4. ১৯৮২
ব্যাখ্যা

বিসিবি:
- বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
- বিসিবি মূলত ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রধান সদর দপ্তর- ঢাকায় ।
- বিসিবি সর্বপ্রথম ১৯৭৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহযোগী সদস্য এবং ২৬শে জুন ২০০০-এ পূর্ণ সদস্য হন।
- বর্তমানে বিসিবি’র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আমিনুল ইসলাম।

উৎস: বিসিবি ওয়েবসাইট।

৫,৫০৬.
বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ ধাপ কোনটি?
  1. উপজেলা প্রশাসন
  2. জেলা প্রশাসন
  3. বিভাগীয় প্রশাসন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
স্থানীয় প্রশাসন: 
- বাংলাদেশের স্তরভিত্তিক প্রশাসনিক কাঠামোর দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে স্থানীয় প্রশাসন বা মাঠ প্রশাসন।
- প্রথম স্তরটি হচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রশাসন।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রথম ও সর্বোচ্চ ধাপ হচ্ছে বিভাগীয় প্রশাসন।
- বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো ৩টি স্তরে বিভক্ত।
যথা:- বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন।
- স্থানীয় প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তর হলো উপজেলা প্রশাসন ৷

• শহরাঞ্চলের স্থানীয় সরকারের স্তর হচ্ছে -
- পৌরসভা
- সিটি কর্পোরেশন।

সূত্র -পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫০৭.
মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরের সদরদপ্তর কোথায় ছিল?
  1. হরিণা
  2. হেজামারা
  3. বাঁশতলা
  4. মেলাঘর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর:
=১নং সেক্টর:
- চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার সমগ্র পূর্বাঞ্চল বেলোনিয়া বুলগের মুহুরী নদীর তীরে নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রব।
- সদরদপ্তর: হরিণা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান, পরে মেজর রফিকুল ইসলামের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ২নং সেক্টর:
- ঢাকা, কুমিল্লা এবং ফরিদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার অংশ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মেলাঘর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এটিএম হায়দারের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৩নং সেক্টর:
- উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: হেজামারা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ, পরে মেজর এএনএম নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৪ নং সেক্টর:
- উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা পর্যন্ত ১০০ মাইল বিস্তৃত সীমান্ত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: প্রথমে করিমগঞ্জে এবং পরে আসামের মাসিমপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর চিত্তরাজন দত্ত, পরে ক্যাপ্টেন এ রবের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৫নং সেক্টর:
- সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নিয়ে গঠিত।
- বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান।
- সদরদপ্তর: বাঁশতলা।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর মীর শওকত আলী।

= ৬নং সেক্টর:
- সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা নিয়ে গঠিত। প্রধানত রংপুর ও দিনাজপুরের ইপিআর বাহিনী নিয়ে এই সেক্টর গঠিত হয়।
- সদরদপ্তর: বুড়ি মাড়ি (বাংলাদেশের ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে একমাত্র সদর দপ্তর)।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম খেদেমুল বাশার।

= ৭নং সেক্টর:
-রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ নিয়ে গঠিত হয়।
- বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর।
- সদরদপ্তর: তরঙ্গপুর।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর নজরুল হক, পরে সুবেদার মেজর এ রব এবং মেজর কাজী নুরুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৮নং সেক্টর:
- কুষ্টিয়া, যশোর থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা,
- বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল,
- বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ।
- সদরদপ্তর: কল্যাণী।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর আবু ওসমান চৌধুরী, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর স্থলাভিষিক্ত হন।

= ৯নং সেক্টর:
- বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: বশিরহাট।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম জলিল, পরে মেজর এম এ মঞ্জুর এবং মেজর জয়নাল আবেদীনের স্থলাভিষিক্ত হন।

= ১০নং সেক্টর:
- সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন।

= ১১নং সেক্টর:
- টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা নিয়ে গঠিত।
- সদরদপ্তর: মহেন্দ্রগঞ্জ।
- সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম আবু তাহের।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫০৮.
কত তারিখে শহীদ শফিউরের পিতা প্রথম শহীদ মিনারের অনানুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেছিলেন?
  1. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  3. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
  4. ২৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার:
- শহীদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিসৌধ।
- এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

⇒ প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ হয়েছিল অতিদ্রুত এবং নিতান্ত অপরিকল্পিতভাবে।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ শুরু করে রাত্রির মধ্যে তা সম্পন্ন করে। শহীদ মিনারটি ছিল ১০ ফুট উচ্চ ও ৬ ফুট চওড়া। মিনার তৈরির তদারকিতে ছিলেন জিএস শরফুদ্দিন (ইঞ্জিনিয়ার শরফুদ্দিন নামে পরিচিত), ডিজাইন করেছিলেন বদরুল আলম। সাথে ছিলেন সাঈদ হায়দার।
- ২৪ ফেব্রুয়ারি সকালে, ২২ ফেব্রুয়ারির শহীদ শফিউরের পিতা অনানুষ্ঠানিকভাবে শহীদ মিনারের উদ্বোধন করেন।
- ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে দশটার দিকে শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন আজাদ সম্পাদক আবুল কালাম শামসুদ্দিন।
- উদ্বোধনের দিন অর্থাৎ ২৬ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ও সেনাবাহিনী মেডিকেলের ছাত্র হোস্টেল ঘিরে ফেলে এবং প্রথম শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।

⇒ বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেবার পরে ১৯৫৭ সালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির তত্ত্বাবধানে। বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন। তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়। ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৫০৯.
ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে কোন চেতনার উন্মেষ ঘটেছিলো?
  1. ক) সাম্প্রদায়িক চেতনা
  2. খ) বাঙালি জাতীয়তাবাদ
  3. গ) মুসলিম জাতীয়তাবাদ
  4. ঘ) বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ
ব্যাখ্যা

- বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে পূর্ব বাংলার জনগণের মধ্যে নিজস্ব জাতীয়তাবোধ তথা বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই জাতীয়তাবোধের ভিত্তি ছিলো বাংলা ভাষা ও বাঙালি সংস্কৃতি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্যের সূচনা হয় তা-ই পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিসংগ্রামের মুখ্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিলো।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)

৫,৫১০.
যে বিভাগে সাক্ষরতার হার সর্বাধিক -
  1. ক) ঢাকা বিভাগ
  2. খ) রাজশাহী বিভাগ
  3. গ) বরিশাল বিভাগ
  4. ঘ) খুলনা বিভাগ
ব্যাখ্যা
পঞ্চম আদমশুমারি রিপোর্ট অনুসারে দেশে ৭ বছর ও তার উর্ধ্বের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাক্ষরতার হার ৫৬.০৯ শতাংশ।
এছাড়া শুধু পড়তে পারে এমন জনগোষ্ঠীর হার ৭.৮৩ শতাংশ।

বিভাগ অনুযায়ী সাক্ষরতার হার - সর্বাধিক বরিশাল বিভাগে এবং সর্বনিম্ন সিলেট বিভাগে।
বরিশাল বিভাগ - ৫৯.৫৫ শতাংশ
চট্টগ্রাম বিভাগ - ৫৯.৪৮ শতাংশ
ঢাকা বিভাগ - ৫৬.৯৮ শতাংশ
খুলনা বিভাগ - ৫৬.৮০ শতাংশ
রাজশাহী বিভাগ - ৫৩.২৫ শতাংশ
রংপুর বিভাগ - ৫১.৯৭ শতাংশ
সিলেট বিভাগ - ৪৯.৭৮ শতাংশ

তবে,
পঞ্চম আদমশুমারি পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিভাগ ভেঙ্গে ময়মনসিংহ বিভাগ সৃষ্টির পর সাক্ষরতার হার ঢাকা বিভাগে ৬০.৫৭ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫.৩৮ শতাংশ
রিপোর্টে যেহেতু বরিশাল দেওয়া তাই বরিশালকেই সঠিক উত্তর হিসাবে ধরা হলো।
৫,৫১১.
যুক্তফ্রন্টের শরীক 'বামপন্থী গণতন্ত্রী দল' কার নেতৃত্বে গড়ে উঠে?
  1. ক) হাজী দানেশ
  2. খ) মওলানা ভাসানী
  3. গ) ফজলুল হক
  4. ঘ) আতাহার আলী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্বান্ত হয়। 
- যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়। 
যথা- 
১। মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, 
২। এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি, 
৩। মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি এবং 
৪। হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল ‘নৌকা’। 
- পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা- আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে যুক্তফ্রন্ট প্রণীত একুশ দফা কর্মসূচির মূখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 
- আওয়ামী মুসলিম লীগের নির্বাচনী কর্মসূচির ৪২ দফা থেকে প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে যুক্তফ্রন্টের 'একুশ দফা' নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫১২.
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৬২টি আসনের মধ্যে কয়টি আসন লাভ করে?
  1. ১৬২টি
  2. ১৬১টি
  3. ১৬০টি
  4. ১৫৯টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- ফলে সেদিন থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হয়।
- ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
- কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা হয়।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হয় ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭০ এর পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
- আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান 'নৌকা' প্রতীক নিয়ে ঐতিহাসিক ছয় দফার পক্ষে প্রচারাভিযানে নামেন।

⇒ নির্বাচনের ফলাফল:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি আসন লাভ করে।
- সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ আওয়ামী লীগ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- আবার পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ মোট ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- সে সময় জাতীয় পরিষদের সদস্যদের এমএনএ এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের এমপিএ বলা হতো।
- ভোটের ফলাফল মূল্যায়নে দেখা যায়, মোট প্রদত্ত ভোটের মধ্যে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে ৭৫.১০% এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৭০.৪৮% ভোট পায়।
- নির্বাচনের এমন ফলাফল পূর্ব পাকিস্তানকে একটি পৃথক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫১৩.
ছয় দফার মধ্যে কোন দফাটি বৈদেশিক বাণিজ্য সংক্রান্ত?
  1. তৃতীয় দফা
  2. চতুর্থ দফা
  3. পঞ্চম দফা
  4. ষষ্ঠ দফা
ব্যাখ্যা
৬ দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন।

• দফাগুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা।
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা।
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা।
- ষষ্ঠ দফা: প্রতিরক্ষা বিষয়ক।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৪.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) খাজা নাজিমুদ্দিন
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) আবু হোসেন সরকার
  4. ঘ) শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-১৪১)
৫,৫১৫.
পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলা ভাষার জন্য প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন কে?
  1. গোলাম মাহবুব
  2. এ.কে. ফজলুল হক
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. হোসেন শহীদ সোরওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন 

ভাষা আন্দোলন (১৯৪৮-১৯৫২):
- মাতৃভাষার অধিকার গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার।
- পাকিস্তানের শতকরা ৫৬ জনের মাতৃভাষা ছিল বাংলা।
- উর্দু কোনো অঞ্চলেরই মাতৃভাষা ছিল না।
- অথচ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়।
- অগণতান্ত্রিকভাবে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বাঙালিদের যে আন্দোলন শুরু হয়, তা-ই ভাষা আন্দোলন নামে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
- পূর্ব বাংলায় রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বুদ্ধিজীবী ও ছাত্র নেতৃত্বের সমন্বয়ে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- তাদের দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
- ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে পরিষদের ব্যবহারিক ভাষা হিসেবে গ্রহণের দাবি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করেন। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিতা, নবম দশম শ্রেণি।
৫,৫১৬.
Who was appointed as the lawyer for Sheikh Mujib in the Agartala conspiracy case?
  1. William Carey
  2. William Jersey
  3. Thomas Awdry
  4. Thomas William
  5. None of them
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি, ১৯৬৮ বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করে মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য'।
- তবে এটি 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' হিসেবেই বেশি পরিচিত।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন ৩৫ জনকে আসামি করে পাকিস্তান দন্ডবিধির ১২১-ক ধারা এবং ১৩১ ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়।
- আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিবের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন টমাস উইলিয়ামস।
- ১৯৬৮ সালের ৫ আগস্ট ব্রিটিশ আইনজীবী ও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য টমাস উইলিয়ামস শেখ মুজিবের পক্ষে ট্রাইব্যুনাল গঠন সংক্রান্ত বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন পেশ করেন। 
- গণআন্দোলনের মুখে শেষ পর্যন্ত আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবর রহমানসহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। 
 
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৭.
নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠী?
  1. রাখাইন
  2. খেয়াং
  3. লুসাই
  4. ম্রো
ব্যাখ্যা
মুরং/ম্রো:

- ম্রো একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার বিভিন্ন এলাকায় এদের অধিক সংখ্যক বসতি রয়েছে।
- জেলার তোইন, মঙ্গু, তৈনফা, লুলোইং, উত্তরহানগড়, দক্ষিণ হানগড়, তঙ্কাবতী, হরিণঝুড়ি, টেকের পানছড়ি, রেনিখ্যং, পানতলা, থানখ্যং, সোয়ালক, তিনডো, সিংপা, আলীখং এবং ভারিয়াতালি মৌজায় এদের বসবাস।
- ম্রোরা, ম্রু ও মুরং নামেও পরিচিত।
- ম্রোদের নিজস্ব ভাষা থাকলেও পূর্বে বর্ণমালা ছিল না। ইদানীং ম্রোদের নিজস্ব বর্ণমালা তৈরি হয়েছে।
- ম্রোরা নিজেদেরকে ‘মারুচা’ বলে অভিহিত করে থাকেন।
- ম্রো সমাজ পিতৃতান্ত্রিক। পিতা পরিবারের প্রধান।
- ম্রোরা ধর্মপ্রাণবাদী এবং তাদের তিনজন দেবতা আছে- তুরাই যিনি বিশ্ব সৃষ্টিকর্তা, সাংতুং অর্থাৎ পাহাড়ের দেবতা এবং ওরেং যিনি নদীর দেবী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৫১৮.
বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার কোথায় অবস্থিত?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. খাগড়াছড়ি
  3. চট্টগ্রাম
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
- ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগার।
- এটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।
- এটি ১৯৬৮ সালের ৭ মে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে।
- এর বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লক্ষ টন।
- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এটির শতভাগ শেয়ারের মালিক।
- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ও সিঙ্গাপুরে অবস্থিত সেল ইস্টার্ন পেট্রোলিয়াম লিঃ কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যৌথ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ চট্টগ্রামস্থ ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ অপরিশোধিত খনিজ তেল ও পেট্রোলিয়াম শোধন করে। 
- এখানে উপজাত হিসেবে ন্যাপথা ও ফার্নেস তেল উৎপাদিত হয় যা দেশের চাহিদা পূরণের পর রপ্তানি করা হয়।

উৎস: বিপিসি ও ইআরএল ওয়েবসাইট; অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫১৯.
বাংলাদেশে প্রথম সাংবিধানিক গণভোট কখন অনুষ্ঠিত হয়েছিল? 
  1. ১৯৭৭ সালে 
  2. ১৯৮৫ সালে 
  3. ১৯৯১ সালে 
  4. ১৯৯৩ সালে 
ব্যাখ্যা

- ১৯৯১ সালে প্রথম সাংবিধানিক গণভোট তথা দেশের '৩য় গণভোট' অনুষ্ঠিত হয়। 

• বাংলাদেশে গণভোট:
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে।
- সর্বশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

• তৃতীয় গণভোট: 
- গণ আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ।
- এর ৩ মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি। 
- ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতির (পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি) সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট মধ্যরাতে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে বিল পাস হয়।

তথ্যসূত্র: গণভোট আইন ১৯৯১ এবং  প্রথম আলো ।

৫,৫২০.
নিচের কোনটি স্থানীয় সরকার নয়?
  1. ক) সিটি কর্পোরেশন
  2. খ) জেলা পরিষদ
  3. গ) উপজেলা প্রশাসন
  4. ঘ) ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার হলো এমন সরকার ব্যবস্থা যা ছোট ছোট এলাকার স্থানীয় প্রয়োজন মেটানোর জন্যে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা গঠিত ও আইনের মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ্য করা যায়।
এগুলো হলো: ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ।
এছাড়া শহরাঞ্চলে পৌরসভা ও ১২টি শহরে সিটি কর্পোরেশন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি স্থানীয় পার্বত্য জেলা পরিষদ রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন - হলো সরকারের প্রশাসন ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর।
(সূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৫২১.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস কোন বছর নাগরিক শক্তি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেছিলেন?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা
নাগরিক শক্তি:
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৭ সালে "নাগরিক শক্তি" নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের চেষ্টা করেছিলেন। 

⇒ নোবেল শান্তি বিজয়ী, বিশ্বব্যাপী ক্ষুদ্রঋণ আন্দোলনের অগ্রদূত মুহাম্মদ ইউনূস।
- দেশব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওয়াজেদের পদত্যাগ এবং দেশত্যাগের পর ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট ইউনূসকে বাংলাদেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নিযুক্ত করা হয়।
- ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউনূস একটি রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন ,নাগরিক শক্তি  এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
- জরুরি অবস্থা এবং দেশের দুটি প্রধান দল, আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্বের সময় তার ঘোষণা আসে।
- ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তার আন্দোলন সুশাসন পুনরুদ্ধার এবং দুর্নীতি দূরীকরণের চেষ্টা করবে।
- তবে, ২০০৭ সালের মে মাসে, ইউনূস সমর্থনের অভাবের কারণ দেখিয়ে দল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা স্থগিত রাখেন।

উৎস:Britannica.
৫,৫২২.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ১১
  2. খ) ১০
  3. গ) ১৩
  4. ঘ) ১৬
ব্যাখ্যা
গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব:
- সংবিধানের ১৬ নং অনুচ্ছেদে গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতিকরণের কথা বলা হয়েছে।
- নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবন যাত্রার মানের বৈষম্য ক্রমাগতভাবে দূর করিবার উদ্দেশ্যে কৃষিবিপ্লবের বিকাশ, গ্রামাঞ্চলে বৈদ্যুতীকরণের ব্যবস্থা, কুটিরশিল্প ও অন্যান্য শিল্পের বিকাশ এবং শিক্ষা, যোগাযোগ-ব্যবস্থা ও জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের আমূল রূপান্তরসাধনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
৫,৫২৩.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে? (ডিসেম্বর, ২০২৫)
  1. কাজী হাবিবুল আওয়াল
  2. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার
  3. আনিসুর রহমান
  4. এ এম এম নাসির উদ্দীন
ব্যাখ্যা

নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত। 
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।
- নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন সমূহ,
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
• জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
• সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
• জেলা পরিষদ নির্বাচন।
• উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
• পৌরসভা নির্বাচন।
• ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

৫,৫২৪.
বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. টাঙ্গাইল
  3. নরসিংদী
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট:
- বাংলাদেশ তাতঁ শিক্ষা ও প্রশিক্ষন ইন্সটিটিউট গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের  বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এর অধীন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের নিয়ন্ত্রনাধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
- এটি নরসিংদীর সাহেপ্রতাপ নামক স্থানে অবস্থিত।
- অত্র প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮১ সালে তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের সার্বিক তত্তাবধানে ২০১০ সালে তাঁতি এবং তাঁতি পরিবারের সন্তানদের ১০% কোটা সংরক্ষন রেখে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলাম অনুযায়ী ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল  ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স  চালু হয়।
- লক্ষ্য: তাঁতি অথবা তাঁত শিল্পী, তাঁত উদ্যোক্তা, তাঁত সহযোগী এবং তাঁত পেশায় আগ্রহীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, চলতি মূলধন যোগান, গুণগত মানসম্পন্ন তাঁত বস্ত্র উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁত খাতের সম্প্রসারণসহ তাঁতিদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন।

উৎস: বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট ওয়েবসাইট।

৫,৫২৫.
দিনেমাররা ভারতবর্ষে ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে কত সালে?
  1. ক) ১৫৯০ সালে
  2. খ) ১৬১০ সালে
  3. গ) ১৬২০ সালে
  4. ঘ) ১৬৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
ডেনমার্কের অধিবাসীদের বলা হয় দিনেমার। ১৬২০ সালে দিনেমাররা ভারতবর্ষে বাণিজ্য করার জন্য ‘ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে এবং দক্ষিণ ভারতের তাঞ্জোর জেলার দিবাঙ্কুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে.১৬৭৬ সালে তারা তারা বাংলার শ্রীরামপুরে তাদের বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে। ১৮৪৫ সালে ইংরেজদের কাছে তাদের বাণিজ্যকুঠি বিক্রি করে তারা ভারতবর্ষ থেকে চিরতরে বিদায় নেয়। [সূত্র: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস প্রথম পত্র, অধ্যাপক মোঃ গোলাম মোস্তফা]
৫,৫২৬.
বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র ছিল কোনটি?
  1. ক) লন্ডন
  2. খ) ৮নং থিয়েটার রোড, কলকাতা
  3. গ) নয়া দিল্লি
  4. ঘ) স্টকহোম
ব্যাখ্যা
গ্রেট ব্রিটেনের ভূমিকা:
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে ব্রিটেনের প্রচার মাধ্যম বিশেষ করে বিবিসি এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত পত্র-পত্রিকা বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতন এবং বাঙালিদের সংগ্রাম ও প্রতিরোধ, ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের করুণ অবস্থা, পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি সম্পর্কে বিশ্ব জনমতকে জাগ্রত করে তোলে।
- ব্রিটিশ সরকারও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপারে খুবই সহানুভূতিশীল ছিল।
- লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫২৭.
'অপারেশন বিগ বার্ড' কী?
  1. ১৯৭১ সালে গনহত্যার অভিযান
  2. ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র জমা দান
  3. ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবকে হত্যার অভিযান
  4. ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবকে গ্রেফতারের অভিযান
ব্যাখ্যা
অপারেশন বিগ বার্ড:
- ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের জন্য পরিচালিত অপারেশনটির নাম অপারেশন 'বিগ বার্ড'।
- ২৫ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাতের অন্ধকারে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- সেই কালরাত্রিতেই জেনারেল রাও ফরমান আলী খানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় সামরিক অভিযানের কোড 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে ঢাকায় ও দেশের অন্যান্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ব্যাপক তাণ্ডব ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো করা হয়।
- ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ওয়্যারলেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
- রাত ১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর রোডের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়।
- এর কয়েক মিনিটের মধ্যে ওয়্যারলেসে ৫৭ ব্রিগেডের মেজর জাফর জানায়-'বিগ বার্ড ইন দ্য কেজ, অন্যান্য পাখিরা নীড়ে নেই, ওভার' 
- অতঃপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঢাকা থেকে রাওয়ালপিন্ডির লয়ালপুর জেলে স্থানান্তর করা হয়।
- ০৮ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পান।

সূত্র: উইটনেস টু স্যারেন্ডার; লেখক: সালিক সিদ্দিক। 
৫,৫২৮.
ঢাকা শেরাটন হোটেলের বর্তমান নাম কী?
  1. রূপসী বাংলা
  2. চিরন্তন বাংলা
  3. শ্বাশত বাংলা
  4. অপূর্ব বাংলা
ব্যাখ্যা
• প্রশ্নটি তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন ছিল। সেই অনুযায়ী উত্তর গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে নাম হচ্ছে- হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল।

হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল:
যাত্রা শুরু: ১৯৬৬ খ্রি.।
স্বত্বাধিকারী: বাংলাদেশ সার্ভিসেস লি।
স্থপতি: উইলিয়াম বি. ট্যাবলার।
অবস্থান: ঢাকার শাহবাগ।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ১ম পাঁচ তারকা হোটেল।
- রেডক্রস মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে 'নিরপেক্ষ স্থান' ঘোষণা করেছিল।
- নাম পরিবর্তন ক্রম:
ইন্টার কন্টিনেন্টাল> শেরাটন> রূপসী বাংলা> ইন্টার কন্টিনেন্টাল (সর্বশেষ)।

তথ্যসূত্র: হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল ওয়েবসাইট।
৫,৫২৯.
কণিষ্কের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. মথুরা
  2. পাটলিপুত্র
  3. পুরুষপুর
  4. তক্ষশীলা
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৩০.
৭১ -এর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম ভাস্কর্যের নকশা প্রণয়ন করেন কে?
  1. ক) মৃণাল হক
  2. খ) নিতুন কুণ্ডু
  3. গ) আজিজুল জলিল পাশা
  4. ঘ) আব্দুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেরনায় নির্মিত সর্বপ্রথম ভাস্কর্য জাগ্রত চৌরঙ্গী, যা গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর, চান্দনা, চৌরাস্তায় অবস্থিত।
- মুক্তিযুদ্ধের সূচনা লগ্নে গাজীপুরে সংগঠিত প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ সংগ্রামের চেতনার আলোকে ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদের স্মরণে নির্মিত হয় এটি।
- এর উচ্চতা মাটি থেকে একশত ফুট।
- দু’পাশে ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১১নং সেক্টরের ১০৭ জন এবং ৩নং সেক্টরের ১০০ জন শহীদ সৈনিকের নাম খোদাই করা হয়েছে। - জাগ্রত চৌরঙ্গীর নকশা প্রণয়ন করেন বরেণ্য শিল্পী আঃ রাজ্জাক।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৫৩১.
ইউনেস্কোর 'মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড' তালিকায় স্থান পাওয়া বাঙালি লেখকের গ্রন্থ কোনটি?
  1. পুতুলনাচের ইতিকথা
  2. সুলতানা’স ড্রিম
  3. তিতাস একটি নদীর নাম
  4. চিলেকোঠার সেপাই
ব্যাখ্যা
Sultana’s Dream:
- Sultana’s Dream গ্রন্থটি রোকেয়া নিজেই বাংলায় অনুবাদ করেন।  
- এটি একটি প্রতীকী রচনা এবং এতে বর্ণিত নারীস্থান মূলত রোকেয়ারই স্বপ্নকল্পনার প্রতীক।
- জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকোর ‘ওয়ার্ল্ড মেমোরি’র তালিকায় স্থান পেয়েছে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা উপন্যাস ‘সুলতানা’স ড্রিম’।
- এর মধ্য দিয়ে বাংলা অঞ্চলে নারীস্বাধীনতার অন্যতম পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ঐতিহ্যগত উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ।
- মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলান বাটোরে ইউনেসকোর ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড কমিটি ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক’ বা মৌক্যাপের দশম সাধারণ সভায় ঘোষণাটি দেওয়া হয়।
- বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মৌক্যাপের কাছে ‘সুলতানা’স ড্রিম’-এর নামের আবেদন জানিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। 

উৎস:বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো।
৫,৫৩২.
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম কী?
  1. ময়নামতি
  2. সুবর্ণগ্রাম
  3. পুণ্ড্রনগর
  4. সোমপুর বিহার
ব্যাখ্যা

• মহাস্থানগড়:
- বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- পাহাড়পুরের মত এখানেও বৌদ্ধ এবং হিন্দু সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে মহাস্থানগড়ই সর্বাধিক প্রাচীন।
- অবস্থান: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ নগরী পুন্ড্রনগরের অবস্থান।
- ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পুন্ড্রনগরই হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- এর পূর্বদিকে করতোয়া নদী প্রবাহিত।
- প্রাচীন এ সভ্যতাটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত।
- উৎপত্তি: খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে মহাস্থান ব্রাহ্মলিপিতে 'পুন্দনগল' এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, এ পুন্দনগলই হচ্ছে প্রাচীন পুঞ্জের রাজধানী পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি ও চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং- এর বর্ণনায় পুণ্ড্রনগরের উল্লেখ আছে।
- হিউয়েন সাং- এর বর্ণনা থেকেই আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে মহাস্থানকে পুণ্ড্রনগর বলে চিহ্নিত করেন।
- মহাস্থানগড়ের প্রাচীনতম নাম 'পুণ্ড্রনগর'।

অন্যদিকে,
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর বৌদ্ধ বিহার পাল আমলের স্থাপত্য।
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সোনারগাঁও-এর প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, ‍উন্মু্ক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

৫,৫৩৩.
বাংলাদেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান-
  1. ক) ১ শতাংশের অধিক
  2. খ) ২ শতাংশের অধিক
  3. গ) ৩ শতাংশের অধিক
  4. ঘ) ৪ শতাংশের অধিক
ব্যাখ্যা
- বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম, তেলাপিয়া উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ এবং এশিয়ার মধ্যে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।
- বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের ১২.২২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে।
- দেশের জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক শতাংশের অধিক। একক প্রজাতি হিসেবে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ।
- পৃথিবীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের অধিক ইলিশ উৎপাদনকারী বাংলাদেশ ‘ইলিশের দেশ’ হিসেবে পরিচিত।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল।
৫,৫৩৪.
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম কী?
  1. সাংলান
  2. চাপচারকূত
  3. বৈসু
  4. ওয়ানগালা
ব্যাখ্যা

ত্রিপুরা:
- একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন জাতি। ব্রিটিশ আমলে ত্রিপুরা ছিল একটি দেশীয় রাজ্য।
- ১৯৪৭ সালের পর ত্রিপুরী জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বসবাস সুবাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অর্জন করে।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড ও মিরসরাই, নোয়াখালীর বিলোনীয়া অঞ্চল, কুমিল্লা, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরা বসবাস করেন।
- ত্রিপুরা জাতি যে ভাষায় কথা বলে তা কক্-বরক নামে অভিহিত।
- কক্-বরক্ ভাষাটি ৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত স্বাধীন ত্রিপুরা রাজ্যের রাষ্ট্রভাষা ছিল।
- ত্রিপুরা ভারতে যোগ দিলে কক্-বরক্ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা হারায়।
- ত্রিপুরা জাতির সামাজিক কাঠামো পিতৃতান্ত্রিক।
- এই জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম বৈসু।
- ধর্ম বিশ্বাসে ত্রিপুরা জাতি সনাতন ধর্মের অনুসারী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।

৫,৫৩৫.
যমুনা রেলসেতু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় কবে?
  1. ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  2. ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  3. ০৮ মার্চ, ২০২৫
  4. ১৮ মার্চ, ২০২৫
ব্যাখ্যা

যমুনা রেলসেতু:
- যমুনা সেতু যমুনার নদীর ওপর অবস্থিত রেল সেতু।
- সেতুটি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে।
- সেতুর দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার।
- সেতুর মোট স্প্যান ৪৯টি।
- সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৫০টি।
- সেতুটিতে ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে।
- ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে যমুনা রেলসেতু দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
- ১৮ মার্চ, ২০২৫ তারিখে যমুনা সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।

উল্লেখ্য,

- শুরুতে সেতুর ব্যয় নির্ধারিত ছিল ৯,৭৩৪.০৭ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে ১৬,৭৮০.৯৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।
- এর মধ্যে ২৭ দশমিক ৬০ শতাংশ অর্থায়ন এসেছে দেশীয় উৎস থেকে এবং ৭২ দশমিক ৪০ শতাংশ ঋণ দিয়েছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
- রেল সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে জাপানি কোম্পানি ওটিজি ও আইএইচআই।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট।

৫,৫৩৬.
বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা কতটি? ( মে-২০২৫)
  1. ৮ টি
  2. ১২ টি
  3. ৬ টি
  4. ১০ টি
ব্যাখ্যা
• দেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
- বিভাগ - ৮টি
- জেলা ৬৪টি
- সিটি কর্পোরেশন - ১২ টি
- উপজেলা -৪৯৫ টি
- মেট্রো থানা- ১০৫ টি
- পৌরসভা - ৩২৭ টি
- ইউনিয়ন - ৪,৫৯৬ টি
- মৌজা - ৫৮,৮৪৬ টি
- গ্রাম - ৯০,০৪৯ টি
- মহল্লা - ১৫,১৫৩ টি

উৎস : জনশুমারি- ২০২২।
৫,৫৩৭.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ তথ্যনুসারে, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয়ের পরিমান কত?
  1. ২,০২০ মার্কিন ডলার
  2. ২,৮২০ মার্কিন ডলার
  3. ২,৮০০ মার্কিন ডলার
  4. ২,৬২০ মার্কিন ডলার
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭২.২৮ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১৭১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.১২%।
- পুরুষ: মহিলা = ৯৬.৩: ১০০।
- গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল: ৭২.৩ বছর (পুরুষ: ৭০.৮; নারী: ৭৩.৮)।
- স্থূল জন্মহার (প্রতি ১০০০): ১৯.৪ জন। 
- স্থূল মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০): ৬.১ জন।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি: ২,৬৭১ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৪৮.৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৬৪,৩৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৩.৯৭%।
- মূল্যস্ফীতি: ৮.৪৮%।
- মোট তফসিলি ব্যাংক: ৬১টি।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর+): ৭৭.৯% (পুরুষ: ৮০.১%, মহিলা: ৭৫.৮%)।
- পুরুষ ও নারীর অনুপাত (২০২৩): ৯৬.৩: ১০০।
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭%।
- চরম দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।
- জাতীয় মহাসড়ক: ৪২৯৪ কিলোমিটার।
- আঞ্চলিক মহাসড়ক: ৫০৪০ কিলোমিটার।
- রেলপথ: ৩২৫৪ কিলোমিটার।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫, বিবিএস।

৫,৫৩৮.
ইলা মিত্র সংগ্রহশালা কোথায় অবস্থিত?
  1. ঈশ্বরদী
  2. ত্রিশাল
  3. নাচোল
  4. আলফাডাঙ্গা
ব্যাখ্যা
ইলা মিত্র সংগ্রহশালা:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র।
- জমিতে উৎপন্ন ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ দাবি জানিয়ে ১৯৪৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়েছিল 'তেভাগা আন্দোলন'।
- এ আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন ইলা মিত্র।

                 

- তাঁর স্মরণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে 'ইলা মিত্র সংগ্রহশালা'।
- সংগ্রহশালাটি নির্মিত হয়েছে উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের রাওতারা গ্রামের কেন্দুয়া এলাকায় ইলা মিত্র মঠের পাশেই।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার।
- সংগ্রহশালায় ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগই তেভাগা আন্দোলন ও ইলা মিত্র সম্পর্কিত বই, পত্র-পত্রিকা, দুর্লভ স্থিরচিত্র।
- এ ছাড়াও রয়েছে জেলার ঐতিহ্যবাহী নানা উপাদান।

উৎস: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, সমকাল।
৫,৫৩৯.
নিম্নের কোনটি সংবিধানের মূলনীতি? 
  1. অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
  2. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ
  3. ন্যায়পাল
  4. সমাজতন্ত্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয় ৷
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।
- সংবিধানে মোট ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ আছে ১১টি।
- তফসিল আছে ৭টি।
- প্রস্তাবনা আছে ১টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।

⇒ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম - ২৫তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে। এগুলো হলো:
• জাতীয়তাবাদ:  মূল সংবিধানের ৯নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছে।'
• সমাজতন্ত্র: মূল সংবিধানের ১০ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, 'মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান ঘটিয়ে ন্যায়ানুগ সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজ কায়েম করা হবে।'
• গণতন্ত্র: সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ হবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সমাজজীবন হতে সর্বপ্রকার বৈষম্য দূরীভূত করে নাগরিকদের মৌলিক মানবিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার নিশ্চয়তা বিধান করা হবে।
• ধর্ম নিরপেক্ষতা: সংবিধানের ১২ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কোন ধর্মের ব্যবহার, কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির বৈষম্য বা তার উপর উৎপীড়ন করা হবে না।'

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও নাগরিকতা,, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৪০.
দেশের একমাত্র ‘ফসফেটিক‘ সার কারখানা কোনটি?
  1. ঘোড়াশাল সার কারখানা
  2. আশুগঞ্জ সার কার‌খানা
  3. শাহজালাল সার কারখানা
  4. টিএসপি সার কারখানা
ব্যাখ্যা
• টিএসপি সার কারখানা:
- অবস্থান - পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম।
- এটি দেশের একমাত্র ফসফেটিক সার কারখানা।
- টিএসপি কমপ্লেক্স লিঃ এর স্থাপনা তৎকালীন পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইপিআইডিসি’র) সময়ে আরম্ভ হলেও ১৯৭৬ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যায়।
- এ ফ্যাক্টরীর বার্ষিক উত্‍পাদন ক্ষমতা ১,০০,০০০  মেট্রিক টন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
৫,৫৪১.
সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে জনমত গঠন করেন কে?
  1. ক) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. খ) নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) দুধু মিয়া
ব্যাখ্যা
- বহুকাল আগে থেকেই হিন্দু সমাজে অনেক কুপ্রথা প্রচলিত হয়েছিল। এর অন্যতম হচ্ছে সতী।
- সতীদাহ প্রথা অনুসারে স্বামী মারা গেলে স্ত্রীকে স্বামীর চিতায় জীবন্ত পেড়ানো হতো।
- গোঁড়া হিন্দুদের প্রবল প্রতিরোধের মধ্যেও রামমোহন রায় সতীদাহের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে থাকেন
- তিনি প্রভাবিত করতে থাকেন কোম্পানির শাসকদের।
- এই সূত্রে ১৮২৯ সালে গভর্নর জেনারেল উইলিয়াম বেন্টিঙ্কের অনুমোদনে সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত ঘোষণা করে আইন পাশ হয়।
- রামমোহন রায়কে সাধারণভাবে রাজা রামমোহন রায় বলা হয়।
- তিনি রাজা উপধিটি পেয়েছিলেন সেসময়ের নামেমাত্র মোগল সম্রাট দ্বিতীয় আকবরের (১৮০৬-১৮৩৭) কাছ থেকে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৫,৫৪২.
ব্রিটিশ শাসনামলে কোন সালে ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী করা হয়?
  1. ১৯০৫ সালে
  2. ১৯১১ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯৩২ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালে ঢাকাকে প্রাদেশিক রাজধানী করা হয়।

রাজধানী ঢাকা:

- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ায় পূর্বে ঢাকা বাংলার রাজধানী ছিল চারবার।
- স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পূর্বে ঢাকা ১৬১০, ১৬৬০, ১৯০৫ ও ১৯৪৭ সালে মোট চারবার বাংলার রাজধানীর মর্যাদা পায়।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- জনপদ হিসেবে ঢাকার গোড়াপত্তন হয় ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে।
- শহর হিসেবে এর গোড়াপত্তন হয় ১২২৯ খ্রিস্টাব্দে।
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯০৫ সালে ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করা হয়। বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Business Standard.
৫,৫৪৩.
কোন মাসে আউশ ধান কাটা হয়?
  1. বৈশাখ
  2. অগ্রহায়ণ
  3. ভাদ্র
  4. জ্যেষ্ঠ
ব্যাখ্যা

আউশ ধান:
- বাংলাদেশে তিন মৌসুমে ধানের চাষ করা হয়- আউশ, আমন ও বোরো মৌসুম।
- আউশ ধান দুইভাবে চাষ করা হয়। বোনা আউশ এবং রোপা আউশ।
- বোনা আউশের জনপ্রিয় আধুনিক জাতসমূহ: ব্রিধান৪৩, ব্রিধান৬৫, ব্রিধান৮৩ এবং বিনাধান-১৯।
- রোপা আউশ ধানের আধুনিক জাতসমূহ: ব্রিধান৪৮, ব্রিধান৮২, ব্রিধান৮৫,  বিনাধান-১৯ এবং ব্রি হাইব্রিড ধান৭।
- আউশ ধান বর্ষা মৌসুমে আবাদ করা হয়।
- ফলে আউশ ধান চাষের পানি সেচের প্রয়োজন হয় না।
- বৈশাখ-জ্যেষ্ঠ মাসে আউশ ধানের চারা রোপণ করা হয়।
- শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে আউশ ধান কাটা হয়।

উল্লেখ্য,
- আউশ ধান রোপনের সময়: মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল,
- আউশ ধান উত্তোলনের সময়: মধ্য জুলাই – মধ্য আগস্ট।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

৫,৫৪৪.
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা কত সালে প্রণীত হয়?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১৮ সালে
  3. ২০২০ সালে
  4. ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা: 
ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ হলো ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রণীত একটি ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং বর্ধিত জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।
- নেদারল্যান্ডস কে অনুসরণ করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে শতবর্ষী ডেল্টা প্ল্যান তথা ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
- বন্যা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল হিসেবে ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’ ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের অনুমোদন পায়।
- এই পরিকল্পনার প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য ৮০টি প্রকল্প গ্ৰহণ করা হয়েছে।
- এর মধ্যে ৬৫টি ভৌত অবকাঠামো প্রকল্প এবং ১৫টি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, দক্ষতা ও গবেষণা বিষয়ক প্রকল্প।
- এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ১৪৫ বিলিয়ন টাকা
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন।

উৎস: বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড
৫,৫৪৫.
কক্সবাজার বিমানবন্দর দেশের কততম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে? [মে, ২০২৫]
  1. ৩য়
  2. ৪র্থ
  3. ৫ম
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর:
- বর্তমানে দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে।
• ঢাকা: শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর,
• চট্টগ্রাম: শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং
• সিলেট: ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।

উল্লেখ্য,
- ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে কক্সবাজার বিমানবন্দর দেশের চতুর্থ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

- ২০২১ সালে বিমানবন্দরটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার প্রকল্প শুরু হয়।
- এর আওতায় রানওয়ে সম্প্রসারণ, নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ এবং ২৪ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনার উপযোগী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
- সম্প্রসারণের পর কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ১০,৭০০ ফুট বা ৩.২৬ কিলোমিটার, যা হবে দেশের সবচেয়ে বড় রানওয়ে।

তথ্যসূত্র: নিউজ রিপোর্ট। [LINK]
৫,৫৪৬.
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে সর্বনিম্ন চাঁদার পরিমাণ কত?
  1. ৫০০ টাকা
  2. ৭০০ টাকা
  3. ৮০০ টাকা
  4. ১০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি:
- ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো নাগরিক ৬০ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করে অবসর জীবনের সময় পেনশন সুবিধা পেতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
- ১৭ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- পেনশন কর্মসূচি চালুর আগে পাঁচটি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) হয় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের।
- এগুলো হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, সোনালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড।
- চার শ্রেণির ব্যক্তিদের নিয়ে চারটি পেনশন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

স্কিমগুলো হলো -
১. প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাস স্কিম,
২. বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রগতি স্কিম,
৩. অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কর্মীদের জন্য সুরক্ষা স্কিম, এবং
৪. অসচ্ছল ব্যক্তিদের জন্য সমতা স্কিম।

- স্কিম ভেদে সর্বনিম্ন মাসিক চাঁদা ১ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ চাঁদা ১০ হাজার টাকা।
- সমতা স্কিমে ১ হাজার টাকার মধ্যে চাঁদাদাতা ৫০০ টাকা প্রদান করবেন এবং সরকার থেকে ৫০০ টাকা ভর্তুকি দেয়া হবে। 

উৎস: সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষ।
৫,৫৪৭.
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে কার নিকট দায়ী থাকেন? 
  1. সুপ্রিম কোর্ট
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. জাতীয় সংসদ
  4. সেনাপ্রধান
ব্যাখ্যা

প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ও কাজ:
-----------------------------------------
সংবিধান অনুযায়ী দেশের সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
​মন্ত্রিপরিষদের সহযোগিতায় তিনি শাসনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।
​প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার সদস্য, সাংবিধানিক পদে রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশে রাষ্ট্রদূত ইত্যাদি নিয়োগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের প্রধান। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা নির্ধারণ করেন ও মন্ত্রীদের মধ্যেদপ্তর বণ্টন করেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের একজন সদস্য ও সংসদ নেতা।
পররাষ্ট্র বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ছাড়া কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদিত হতে পারে না।
আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
দেশের জরুরি অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া যেকোনো নির্দেশ দিতে পারেন।
তবে প্রধানমন্ত্রী সংসদের কাছে জবাবদিহি করবেন। সংসদ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনাস্থা ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে জবাবদিহি চালু রাখতে পারে।
জাতির মুখপাত্র হিসেবে প্রধানমন্ত্রী:
প্রধানমন্ত্রী জাতির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৫,৫৪৮.
কার পতনের মাধ্যমে বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু হয়?
  1. ঈসা খাঁ
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. মুর্শিদ কুলী খান
ব্যাখ্যা

বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা-এর পতনের মাধ্যমে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু হয়েছিল।

ব্রিটিশ শক্তির শাসন শুরু:
- নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল তাই পলাশীর যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- প্রধান সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোম্পানি কর্তৃক পরাজিত হন।
- এ যুদ্ধের রাজনৈতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী ও ধ্বংসাত্মক। এর ফলে বাংলায় ব্রিটিশ শাসনের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়।
- অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৫৪৯.
’প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’ সংবিধানের যে অনুচ্ছেদে রয়েছে- 
  1. অনুচ্ছেদ- ৩
  2. অনুচ্ছেদ- ২
  3. অনুচ্ছেদ- ২(ক)
  4. অনুচ্ছেদ- ৪
ব্যাখ্যা

- অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷

• সংবিধানের অনুচ্ছেদ : 
- অনুচ্ছেদ- ১: প্রজাতন্ত্র।
- অনুচ্ছেদ- ২: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা।
- অনুচ্ছেদ- ২(ক): রাষ্ট্রধর্ম।
→ অনুচ্ছেদ- ৩: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা৷
- অনুচ্ছেদে- ৪: জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক।
- অনুচ্ছেদে- ৪(ক): জাতির পিতার প্রতিকৃতি।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৫,৫৫০.
‘বঙ্গমাতা’ চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. অমিতাভ রেজা
  2. গৌতম কৈরী
  3. দেলোয়ার জাহান ঝন্টু
  4. দিলিপ বিশ্বাস
ব্যাখ্যা
•  বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘বঙ্গমাতা’। 
- ‘বঙ্গমাতা' চলচ্চিত্রের পরিচালক - গৌতম কৈরী।
- লেখক খোরশেদ বাহারের বঙ্গমাতা, ইতিহাসের নিভৃত সৈনিক উপন্যাস অবলম্বনে সিনেমার চিত্রনাট্য লিখেছেন নাসরীন মুস্তাফা এবং
- সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছেন গৌতম কৈরী। 
- ছবিতে ‘বঙ্গমাতা’র চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যোতিকা জ্যোতি।
- ‘বঙ্গবন্ধু’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন মনির আহমেদ,
- শেখ হাসিনার কিশোরীবেলার চরিত্রে আছেন লাবণ্য চৌধুরী।

সূত্র: প্রথম আলো। 
৫,৫৫১.
মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কোন দেশ সহায়তা করছে?
  1. চীন
  2. জাপান
  3. রাশিয়া
  4. নেদারল্যান্ড
ব্যাখ্যা
মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র হল বাংলাদেশের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নের ১,৪১৪ একর জমিতে এই বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
- ৬০০ মেগাওয়াট এর মোট দুটি ইউনিট তৈরি হবে।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১২০০ ইউনিট।
- জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।
- বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনায় মাতারবাড়িকে ‘বিদ্যুৎ হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা রয়েছে।
- ২৯ জুলাই, ২০২৩ তারিখে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয় মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট।
- পরীক্ষামূলক উৎপাদনের শুরুতে ৩৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। 

উৎস: ২৯ জুলাই, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৫,৫৫২.
কত সালে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা 'বাকশাল' গঠন করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাকশাল:
- বাকশাল ব্যবস্থা ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা।
- ১৯৭৪ সালের জুন মাসে জাসদ 'বিপ্লবী গণবাহিনী' নামে একটি সশস্ত্র অঙ্গসংগঠন ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে 'বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা' নামে একটি সেল গঠন করে।
- এসকল কারণে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদল সমূহের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহ অবস্থান বিঘ্নিত হয়।
- ১৯৭৪ সালে সরকার দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে।
- ১৯৭৫ সালে ২৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৯৭৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সকল রাজনৈতিক দল ভেঙে দিয়ে 'বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ' বা 'বাকশাল' গঠন করা হয়।
- বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৫৩.
একাধিক আসনে বিজয়ী প্রার্থীগণ কোন আসনে প্রতিনিধিত্ব করতে চান তা কতদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হয়?
  1. ক) ১৫ দিন
  2. খ) ১০ দিন
  3. গ) ৬০ দিন
  4. ঘ) ৩০ দিন
ব্যাখ্যা
- কোনো ব্যক্তি একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্য হবেন না।
- যদি কেউ একই সময়ে দুই বা ততোধিক নির্বাচনি এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তা হলে নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে তিনি কোন নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে চান তা নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। তা না হলে তাঁর সকল আসন শূন্য হবে। 

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৫,৫৫৪.
কোনটি অনুপার্জিত আয়?
  1. ক) কমিশন
  2. খ) প্রাপ্য কমিশন
  3. গ) অগ্রিম প্রাপ্ত কমিশন
  4. ঘ) প্রাপ্ত কমিশন
ব্যাখ্যা
সেবা প্রদান ব্যতীত অগ্রিম টাকা বা লভ্যাংশ গ্রহণ করাকে অনুপার্জিত আয় বলে, কারণ এই আয়টা এখনো সেবা প্রদানের মাধ্যমে উপার্জন করা হয় নি।
তবে কমিশন, প্রাপ্য কমিশন এবং প্রাপ্ত কমিশন এগুলো সেবা প্রদান করার পর উপার্জিত আয়।
৫,৫৫৫.
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার নির্মিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৯ সালে
  2. ১৯৬১ সালে
  3. ১৯৬৩ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

প্রথম শহিদ মিনার:
- ঢাকায় প্রথম শহিদ মিনার নির্মিত হয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজের হোস্টেলের সামনে।
- নির্মিত হয়: ২৩ ফ্রেবুয়ারি, ১৯৫২ সালে।
- এর ডিজাইনার ছিলেন- ডা. বদরুল আলম।
- ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে শহিদ শফিউর রহমানের পিতা মৌলভি মাহবুবুর রহমান এ শহিদ মিনার টি উদ্ধোধন করেন।


কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার:
- ৫২-এর ভাষা আন্দোলনে বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গ কারীদের স্মরণে নির্মিত হয় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার।
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে।
- নির্মিত হয়: ১৯৬৩ সালে।
- স্থপতি: হামিদুর রহমান ও সহকর্মী ছিলেন- নভেরা আহমেদ।
- স্তম্ভ রয়েছে- ৫ টি।
- ভাষা শহিদ আবুল বরকতের মা হাসিনা বেগম কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের উদ্বোধন করেন (১৯৬৩ সালে)

তথ্যসূত্র - ঢাকা জেলা অফিস, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৫,৫৫৬.
বর্তমানে সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে-
  1. ক) ১৩,৮৪১ টি
  2. খ) ১৩,৯৯১ টি
  3. গ) ১৪,১৪১ টি
  4. ঘ) ১৪,৯৪১ টি
ব্যাখ্যা
- গ্রামীণ জনগণকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য প্রথম সেবা কেন্দ্র হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক।
- বর্তমানে সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে ১৪,১৪১ টি।
- প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন সেবা প্রার্থী একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে সেবা গ্রহণ করে থাকেন এবং এদের ৯৫ শতাংশই নারী ও শিশু।
- ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারি, ২০২২ পর্যন্ত এসব কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে মানুষ সেবা নিয়েছে ১১১.১৭ কোটিরও বেশি বার।  

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল।
৫,৫৫৭.
শান্তিতে অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু কোন পদকে ভূষিত হন?
  1. ক) ম্যাগসেসে পদক
  2. খ) জুলিও কুরি শান্তি পদক
  3. গ) আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার
  4. ঘ) জওহরলাল নেহেরু পদক
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়। 
- ১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

উৎস: কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট। 
৫,৫৫৮.
দেশে প্রথম কাগজকল স্থাপিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫১ সালে
  2. খ) ১৯৫২ সালে
  3. গ) ১৯৫৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম কাগজকল হলো রাঙামাটি জেলার চন্দ্রঘোনায় অবস্থিত কর্ণফুলী পেপার মিল। এটি ১৯৫৩ সালে স্থাপিত হয়।
এটির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মে. টন। এতে কাঁচামাল হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বনাঞ্চলের বাঁশ ব্যবহৃত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী এবং বিসিআইসি ওয়েবসাইট)
৫,৫৫৯.
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BFRI) সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রংপুর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

BFRI:
- BFRI এর পূর্ণনাম: বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (Bangladesh Fisheries Research Institute)।
- এটি একমাত্র জাতীয় মৎস্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৪ সাল।
- অধিভুক্ত মন্ত্রণালয়: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
- সদরদপ্তর: ময়মনসিংহ।
- বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদের উৎপাদনশীলতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে গবেষণা পরিচালনা, কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচী প্রদানে সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে।
- ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থিত ৫টি কেন্দ্র হতে পরিচালিত হয়ে থাকে।

• গবেষণা কেন্দ্রগুলো হচ্ছে-
1. স্বাদুপানি কেন্দ্র ময়মনসিংহে অবস্থিত।
2. নদী কেন্দ্র চাদপুরে অবস্থিত।
3. চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্র বাগেরহাটে অবস্থিত
4. লোনাপানি কেন্দ্র পাইকগাছা, খুলনায় অবস্থিত।
5. সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র কক্সবাজারে অবস্থিত

উৎস: বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট। 

৫,৫৬০.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২ অনুযায়ী, কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি আলু উৎপাদন হয়?
  1. ঝিনাইদহ
  2. ফরিদপুর
  3. বগুড়া
  4. নওগাঁ
ব্যাখ্যা
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২ অনুযায়ী,

- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ বিভাগ - খুলনা।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - ঝিনাইদহ।

- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - ঠাকুরগাঁও।
- মাছ উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - ময়মনসিংহ।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা - বগুড়া।

তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২২।
৫,৫৬১.
মুক্তিযুদ্ধের সময় কে-ফোর্স এর নেতৃত্বে কে ছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. কে এম শফিউল্লাহ
  4. খাইরুল বাসার
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে ব্রিগেড:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রধান সেনাপতি কর্নেল এম এ জি ওসমানী বিগ্রেড আকারে তিনটি ফোর্স গঠন করেছিলেন।
ফোর্স ৩টি হলো:
- জেড ফোর্স (জিয়াউর রহমান),
- কে ফোর্স (খালেদ মোশাররফ) এবং
- এস ফোর্স (কে এম শফিউল্লাহ)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬২.
"জনশুমারি ও গৃহগণনা- ২০২২" বাংলাদেশের কততম জনশুমারি ছিলো?
  1. সপ্তম
  2. ষষ্ঠ
  3. পঞ্চম
  4. চতুর্থ
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ২০২২ সালে বাংলাদেশে ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২ সালে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর তথ্য সংগ্রহে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে - CAPI.
- CAPI এর পূর্ণরূপ - Computer Assisted Personal Interviewing.
- গণনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে- মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (Modified De-facto) পদ্ধতি।

সূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
৫,৫৬৩.
'ঐতরেয় আরণ্যক' গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে কোন জনপদের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. সমতট
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো।
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৬৪.
বাংলাদেশে উন্নত জাতের তামাকের মধ্যে রয়েছে কোনটি?
  1. সুমাত্রা
  2. আকবর
  3. শতাব্দী
  4. দোয়েল
ব্যাখ্যা

◉ সুমাত্রা হলো বাংলাদেশে চাষযোগ্য উন্নত জাতের তামাক, এটি উচ্চ ফলন ও গুণগত মানের জন্য পরিচিত।

বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
- উন্নত জাতের ধান: ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১, চান্দিনা, হীরা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা, আশা, প্রগতি।
- উন্নত জাতের গম: সোনালিকা, বলাকা, দোয়েল, অগ্রণী, আনন্দ, কাঞ্চন, শতাব্দীআকবর
- উন্নত জাতের টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী।
- উন্নত জাতের তামাক: সুমাত্রা ও ম্যানিলা।
- উন্নত জাতের ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ।
- উন্নত জাতের আলু: হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা।
- উন্নত জাতের তুলা: সিবি-১০, রূপালী, ডেলফোজ।

সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

৫,৫৬৫.
ওয়ানডে'তে বাংলাদেশের বর্তমান অধিনায়ক কে?
  1. ক) সাকিব আল হাসান
  2. খ) মুশফিকুর রহিম
  3. গ) মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ
  4. ঘ) তামিম ইকবাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে টিমের নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাঁহাতি উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবালকে। তিনি দেশের ক্রিকেট দলের ১৪তম অধিনায়ক।
উল্লেখ্য বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মমিনুল হক এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
উৎসঃ বিসিবির ওয়েবসাইট।
৫,৫৬৬.
নিচের কোনটি কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অতি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো?
  1. সচিবালয়
  2. পরিদপ্তর
  3. দপ্তর
  4. অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রিয় প্রশাসন:

- কেন্দ্রিয় প্রশাসনের অতিগুরুত্বপূর্ণ কাঠামোর নাম সচিবালয়।
- প্রশাসনিক সংগঠনের পদসোপানে সচিবালয়ের স্থান সর্বোচ্চ।
- সচিবালয় মন্ত্রীকে তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ ও পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজকে এগিয়ে নিয়ে থাকে।
- এছাড়া মন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ, সংসদে তা উত্থাপন ও বক্তব্য প্রস্তুত করতে সহযোগিতা প্রদানসহ নানাবিধ প্রশাসনিক কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
- সচিবালয় মন্ত্রণালয় চালনার অন্যতম প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেব কাজ করে। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৬৭.
‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কমিটি’ কত সালে গঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৬৯
  2. খ) ১৯৭১
  3. গ) ১৯৫৪
  4. ঘ) ১৯৫২
ব্যাখ্যা
‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’:
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
⇨ কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
⇨ এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অন্যদিকে, 
⇨ ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহ্বায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
⇨ ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
⇨ ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এর আহ্বায়ক ছিলেন আবদুল মতিন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৬৮.
বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ইপিজেড কোনটি?
  1. ক) REPZ
  2. খ) KEPZ
  3. গ) CEPZ
  4. ঘ) DEPZ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ইপিজেড - কোরিয়ান ইপিজেড (KEPZ)।
- এটি ১৯৯৯ সালে অক্টোবরে চট্টগ্রামে চালু হয়।
- এছাড়া রাঙ্গুনিয়ায় আরেকটি প্রাইভেট ইপিজেড চালু হওয়ার কথা থাকলেও সেটি এখনো স্থাপিত হয় নি।
—------------
বর্তমানে সরকারি ইপিজেড ৮টি। এগুলো হলো:
চট্টগ্রাম, ঢাকা (সাভার), আদমজী, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, মোংলা, উত্তরা (নীলফামারী) ও কর্ণফুলী ইপিজেড। 
বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড হচ্ছে চট্টগ্রাম ইপিজেড।

উৎস: BEZA ওয়েবসাইট।
৫,৫৬৯.
বঙ্গবন্ধু জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের কোন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ক) লাহোর সম্মেলন
  2. খ) হাভানা সম্মেলন
  3. গ) বেলগ্রেড সম্মেলন
  4. ঘ) আলজিয়ার্স সম্মেলন
ব্যাখ্যা
১৯৭৩ সালের ৫-৯ সেপ্টেম্বর আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের চতুর্থ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে এবং বাংলাদেশ ন্যামের সদস্য হয়।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ন্যাম ওয়েবসাইট)
৫,৫৭০.
'NIPORT'-এর পূর্নরূপ কী?
  1. National Institute of Population Research and Training
  2. National Institute of Population Reduction and Training
  3. National Institute of Population Recognition and Training
  4. National Institute of Population Research and Technical
ব্যাখ্যা
জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট):
- NIPORT-এর পূর্নরূপ: National Institute of Population Research and Training.
- এটি বাংলাদেশের জনসংখ্যা বিষয়ক জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি কর্মসূচী ব্যবস্থাপনার  ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার একটি আদর্শ আঞ্চলিক প্রতিষ্ঠান তৈরির দিকে দৃষ্টি রেখে ১৯৭৭ সালে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (NIPORT)-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- নিপোর্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তা/কর্মচারীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মনোভাবের পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে।

উৎস: জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) ওয়েবসাইট। 
৫,৫৭১.
একুশে পদক প্রবর্তিত হয় কত সাল থেকে?
  1. ১৯৭২
  2. ১৯৭৫
  3. ১৯৭৬
  4. ১৯৭৮
ব্যাখ্যা

একুশে পদক:
- একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার।
- ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান একুশে পদক প্রবর্তন করেন। 
- জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে বাংলাদেশ সরকারের 'সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়' এই পুরস্কার প্রদান করে। 

একুশে পদক ২০২৫:
- একুশে পদক- ২০২৫ পেয়েছেন দেশের বিশিষ্ট ১৭ জন ব্যক্তি ও ১টি প্রতিষ্ঠান।
• গবেষণা - মঈদুল হাসান (মূলধারা ৭১ এর রচয়িতা)।
• ভাষা ও সাহিত্যে - শহীদুল জহির (মো. শহীদুল হক) (মরণোত্তর) ও হেলাল হাফিজ (মরণোত্তর)।
• সংস্কৃতি ও শিক্ষা - ড. শহীদুল আলম (ফটোগ্রাফার, মানবাধিকার কর্মী এবং দৃকের প্রতিষ্ঠাতা),
• বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - মেহেদী হাসান খান (অভ্র'র জনক) ও রিফাত নবী, তানবিন ইসলাম সিয়াম ও শাবাব মুস্তাফা।
• সাংবাদিকতা - মাহফুজ উল্লা (মরণোত্তর)।
• সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার - মাহমুদুর রহমান।
• শিল্পকলা (চলচ্চিত্র) - আজিজুর রহমান (মরণোত্তর)।
• সংগীত - উস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া (মরণোত্তর) ও ফেরদৌস আরা।
• আলোকচিত্র - নাসির আলী মামুন।
• চিত্রকলা - রোকেয়া সুলতানা।
• শিক্ষা - ড. নিয়াজ জামান।
• সমাজসেবা - মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী (মরণোত্তর)।
• ক্রীড়ায়: বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

৫,৫৭২.
বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল কোনটি?
  1. ক) গম
  2. খ) পাট
  3. গ) চা
  4. ঘ) আলু
ব্যাখ্যা
যেসব ফসল সরাসরি বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে চাষ করা হয় তাদের অর্থকরী ফসল বলা হয়। বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল হলো পাট

বাংলাদেশের অন্যান্য অর্থকরী ফসলসমূহ হলো:
- চা
- আখ বা ইক্ষু
- তামাক
- তুলা
- রাবার
- ফুল প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: ‍ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৫৭৩.
ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস কবে পালিত হয়?
  1. ২০ জানুয়ারি
  2. ২৪ জানুয়ারি
  3. ১৫ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৮ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- এছাড়া, ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সকল আসামি মুক্তি বাধ্য হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে তোফায়েল আহামেদ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ( বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ) শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৪.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১ অনুসারে, জিডিপিতে অবদান রাখা খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে কোন খাতে?
  1. নির্মাণ
  2. স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা
  3. বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি
  4. ম্যানুফ্যাকচারিং
ব্যাখ্যা
-  সার্বিকভাবে ১৫টি খাতের মধ্যে অর্থনীতিতে/জিডিপিতে অবদান রাখা খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি –
‘স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা’ খাতের; হার - ৯.৯৪% এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি – ‘নির্মাণ’ খাতের; হার - ৮.৬৮%।
-  সার্বিকভাবে ১৫টি খাতের মধ্যে অর্থনীতিতে/জিডিপিতে অবদান রাখা খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবদান –
‘ম্যানুফ্যাকচারিং’ খাতের; ৫৫৯,৬২৭ কোটি টাকা  এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান – ‘পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, যানবাহন ও মেরামত’ খাতের; ৩৮৭,৬০৬ কোটি টাকা (১৪.০৮%)।
উৎস : অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২১
৫,৫৭৫.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়-
  1. ক) ১০ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  3. গ) ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
• ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়।
• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
• যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
• বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
• মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৭৬.
রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য কী?
  1. প্রার্থী মনোনয়ন
  2. সমস্যা নির্বাচন ও সমাধান
  3. রাজনৈতিক সংযোগ সাধন
  4. সরকার গঠন
ব্যাখ্যা

রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি:
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক দেশে একাধিক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।
- রাজনৈতিক দলের মূল লক্ষ্য রাষ্ট্র ক্ষমতা লাভ এবং সরকার গঠন।
- শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত দলের লক্ষ্য হল ক্ষমতায় টিকে থাকা।
- রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি বহুমুখী।

• অন্যান্য কার্যাবলি-
- রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব সংরক্ষণ।
- রাজনৈতিক সংযোগ সাধন।
- রাজনৈতিক নিয়োগ।
- রাজনৈতিক অংশগ্রহণ।
- সমস্যা নির্বাচন ও সমস্যা সমাধান।
- জনমত গঠন ও প্রার্থী মনোনয়ন ইতাদি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  

৫,৫৭৭.
অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ এর প্রতিপাদ্য বিষয় কী ছিল?
  1. জুলাই গণঅভ্যুত্থান : নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ
  2. গণজাগরণ : স্বাধীন বাংলাদেশ
  3. ৩৬ জুলাই : নতুন বাংলাদেশ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অমর একুশে বইমেলা-২০২৫:
- অমর একুশে বইমেলা-২০২৫ এর উদ্বোধন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ সালে বিকাল ৪টায় বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন করেন তিনি।
- এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য বিষয় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান : নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ’।
- ১ ফেব্রুয়ারী থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে।
- এবারের মেলায় মোট ৭০৮টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এরমধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৯৯টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৬০৯টি।
- এছাড়া মোট ইউনিট ছিল ১০৮৪টি।
- এবার মোট প্যাভিলিয়নের সংখ্যা ৩৭টি।

থ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো।
৫,৫৭৮.
বাংলাদেশে ৭ম জাতীয় সংসদের বিলুপ্তি ঘটে ২০০১ এর জুলাই মাসের কত তারিখে?
  1. ১০
  2. ১১
  3. ১২
  4. ১৩
ব্যাখ্যা
সপ্তম সংসদ নির্বাচন:
- ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
- ৮১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
- নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৭৪.৯৬ শতাংশ।
- এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়লাভ করে।
- নির্বাচনের এক মাস দুদিন পর ১৯৯৬ সালের ১৪ জুলাই সংসদ গঠিত হয়।
- এই সংসদ ২০০১ সালের ১৩ জুলাই মেয়াদ শেষ করে।

তথ্যসূত্র - যুগান্তর পত্রিকার রিপোর্ট।
৫,৫৭৯.
বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে কোন ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা সর্বাধিক? 
  1. বৌদ্ধ
  2. হিন্দু
  3. খ্রিষ্টান
  4. ইসলাম
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ধর্ম: 
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী সবচেয়ে বেশি।

- ২০২২ সালের জনশুমারি অনুসারে, দেশের মোট বৌদ্ধ জনসংখ্যা প্রায় ১০ লাখ (০.৬১%), যার অধিকাংশই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- খ্রিস্টান ধর্মানুসারী প্রায় ৪ লাখ (০.৩০%), এবং হিন্দু ধর্মানুসারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে কম, কারণ হিন্দু জনসংখ্যা (৭.৯৫%) মূলত বাঙালি সম্প্রদায় থেকে আসে।

» তুলনামূলক অন্যান্য ধর্ম:
• খ্রিস্টান: 
- বাংলাদেশে মোট খ্রিস্টান ধর্মানুসারী প্রায় ৪ লাখ (০.৩০%)।  যার অধিকাংশই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অন্তর্গত। 
- এদের মধ্যে গারো (প্রধানত খ্রিস্টান), সাঁওতালের একটি অংশ, ওরাওঁ, খাসিয়া, লুসাই, বম ইত্যাদি অন্যতম।
- এদের সংখ্যা বৌদ্ধদের তুলনায় কম।
• হিন্দু: 
- বাংলাদেশে মোট হিন্দু ধর্মানুসারী প্রায় ১৩ মিলিয়ন (৭.৯৫% )।
- কিন্তু ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীতে হিন্দু অনুসারী কম (যেমন ত্রিপুরা, সাঁওতালের একটি অংশ, মণিপুরী)।
- এর মূল কারণ মোট হিন্দু জনসংখ্যার অধিকাংশ বাঙালি হিন্দু।

• অন্যান্য: 
- কিছু গোষ্ঠী (যেমন ম্রো, কিছু খুমিঐতিহ্যবাহী প্রকৃতি-উপাসনা করে।

তথ্যসূত্র: 
i) জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
ii) US State Department. (Link)
iii) IWGIA - International Work Group for Indigenous Affairs. (Link) 

৫,৫৮০.
মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) অধ্যাপক ইউসুফ আলী
  2. খ) কামরুজ্জামান
  3. গ) তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী সরকার/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এ সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমেদ
- স্বরাষ্ট্র-ত্রাণ-পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ-বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

৫,৫৮১.
’রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটির আহ্বায়ক কে ছিলেন?
  1. গোলাম কিবরিয়া 
  2. আব্দুল মতিন চৌধুরি
  3. অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া
  4. সজিব রেজা চৌধুরি
ব্যাখ্যা

'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ',
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।

 - ২রা মার্চ দেশের শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
-  রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নতুন কমিটির আহবানে ১১ই মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

’ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ 
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ গঠিত হয়।
- এ কমিটি আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠিত হয়,
- যার নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন পুনরায় সঞ্জীবিত হতে থাকে।

 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ'
- ৩১শে জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম কর্ম পরিষদ' গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।

৫,৫৮২.
দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা রহিত করেন কে?
  1. রবার্ট ক্লাইভ
  2. ওয়ারেন হেস্টিংস
  3. ব্যামফিল্ড ফুলার
  4. উইলিয়াম বেন্টিংক
ব্যাখ্যা

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উল্লেখ্য,
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে। অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়। নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৫৮৩.
কর্ণফুলি টানেল কোন বিভাগে অবস্থিত?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. সিলেট
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্প: 
- চট্টগ্রাম হলো বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর এবং বৃহত্তম বাণিজ্যিক নগরী।
- কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম শহরকে দুইভাগে বিভক্ত করেছে।
- এক ভাগে রয়েছে নগর ও বন্দর এবং অপর ভাগে রয়েছে ভারী শিল্প এলাকা।
- কর্ণফুলী নদীর উপর ইতোমধ্যে ৩ টি সেতু নির্মিত হয়েছে, যা বিরাজমান প্রচুর পরিমাণ যানবাহনের জন্য যথেষ্ট নয়।
- নদীর মরফলজিক্যাল বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীর তলদেশে পলি জমা একটি বড় সমস্যা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যকারীতার জন্য বড় হুমকি।
- এই পলি জমা সমস্যার মোকাবেলা করার জন্য কর্ণফুলী নদীর উপর আর কোনো সেতু নির্মাণ না করে এর তলদেশে টানেল নির্মাণ করা প্রয়োজন।
- এ জন্য সরকার চট্টগ্রাম জেলার দুই অংশকে সংযুক্ত করার জন্য কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

- কর্ণফুলী নদীর মুখে অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমেই অধিকাংশ দেশের আমদানি এবং রপ্তানি কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। প্রস্তাবিত টানেল চট্টগ্রাম বন্দর নগরকে কর্ণফুলী নদীর অপর অংশের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করবে এবং পরোক্ষভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের মাধ্যমে সারা দেশের সাথে সংযুক্ত করবে।
- প্রস্তাবিত টানেল সাইটে নদীর প্রস্থ ৭০০ মিটার এবং পানির গভীরতা ৯ থেকে ১১ মিটার।
- প্রস্তাবিত টানেলের দৈর্ঘ্য ৩৪০০ মিটার। 

উৎস: বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ [লিঙ্ক]
৫,৫৮৪.
'জন্ম আমার ধন্য হলো' গানটির সুরকার -
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আব্দুল লতিফ
  3. আব্দুল গাফফার চৌধুরী
  4. আজাদ রহমান
ব্যাখ্যা
জন্ম আমার ধন্য হলো:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে অনুপ্রেরণা দেওয়া গান ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’।
- গানটির গীতিকবি নয়ীম গহর।
- গানটির সুরকার আজাদ রহমান

উল্লেখ্য,
- আজাদ রহমান ১৯৬৪ সালে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতে (খেয়াল) প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদকে ভূষিত হন।
- বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’র সূচনা সঙ্গীত ‘আমরা নতুন আমরা কুঁড়ি’ গানটির সুরকার আজাদ রহমান।
- আজাদ রহমান শ্রেষ্ঠকণ্ঠশিল্পী, শ্রেষ্ঠসুরকার, শ্রেষ্ঠসঙ্গীত পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার লাভ করেছেন।
- ১৬ মে ২০২০ এ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮৫.
১৯৭২ সালে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. শাহ আবদুল হামিদ
  2. আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. মোহাম্মদ উল্ল্যাহ
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ২২শে মার্চ তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবু সায়িদ চৌধুরী সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করেন। ৭ এপ্রিল এটির সংশোধনী আদেশ জারি করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল ৪১৪ জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এতে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ
- ১০ ও ১১ই এপ্রিল এই অধিবেশনের মোট দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে গণপরিষদের কার্যপ্রণালি বিধি প্রণীত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
৫,৫৮৬.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা- ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কত?
  1. ১.০২%
  2. ১.১২%
  3. ১.২২%
  4. ১.৩২%
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৫:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭২.২৮ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১৭১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.১২%।
- পুরুষ: মহিলা = ৯৬.৩: ১০০।
- গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল: ৭২.৩ বছর (পুরুষ: ৭০.৮; নারী: ৭৩.৮)।
- স্থূল জন্মহার (প্রতি ১০০০): ১৯.৪ জন। 
- স্থূল মৃত্যুহার (প্রতি ১০০০): ৬.১ জন।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি: ২,৬৭১ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৪৩,৯৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৬৪,৩৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- স্থির মূল্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৩.৯৭%।
- মূল্যস্ফীতি: ৮.৪৮%।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৫।

৫,৫৮৭.
জাপান কবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়?
  1. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  2. ১০ জানুয়ারি ১৯৭২
  3. ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৭২
  4. ১৫ আগস্ট ১৯৭৫
ব্যাখ্যা

→ জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়: ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরব দেশ:
- আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয় - ইরাক।
- ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৮ জুলাই ১৯৭২ সালে।
- লেবানন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২৮ মার্চ, ১৯৭৩ সালে।
- ইরান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪ সালে।

• বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী আরো কিছু উল্লেখযোগ্য রাষ্ট্র:
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম মুসলিম দেশ আফ্রিকার - সেনেগাল।
- এশিয়ার মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

- এশিয়ার বাইরে প্রথম দেশ বা প্রথম ইউরোপীয় দেশ হিসেবে - ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি স্বীকৃতি দেয় পূর্ব-জার্মানি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় - ৪ এপ্রিল, ১৯৭২ তারিখে।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে সর্ব প্রথম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ভেনিজুয়েলা (২ মে ১৯৭২)।
- প্রথম পশ্চিমা দেশ হিসেবে গ্রেট ব্রিটেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৯৭২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি।
- ফ্রান্স বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭২।
- ব্রাজিল বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ১৫ মে, ১৯৭২।
- আর্জেন্টিনা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে - ২৫ মে ১৯৭২।

তথ্যসূত্র - পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট, সংগ্রামের নোটবুক ও প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৫,৫৮৮.
শ্রীচৈতন্যেদেবের আবির্ভাবের সময় বাংলার সুলতান কে ছিলেন?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ
  3. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
• সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ:
- সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ ছিলেন হোসেন শাহি যুগের শ্রেষ্ঠ সুলতান।
- তিনি সৈয়দ হোসেন হাবসি শাসন উচ্ছেদ করে সিংহাসনে বসেন এবং সুলতান হয়ে আলাউদ্দিন হোসেন শাহ উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আরব দেশীয় সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- তাঁর শাসনামল ছিল ১৪৯৮ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত।
- তিনি বাংলার আকবর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর আমলে শ্রী চৈতেন্যদেব "বৈষ্ণব ধর্ম" প্রচার করেন।
- তাঁর সমাধি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী তাঁরই প্রতিষ্ঠিত ছোট সোনা মসজিদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৮৯.
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপি'র চূড়ান্ত হিসাব অনুসারে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার কত? (মার্চ-২০২৬)
  1. ৩.৭১%
  2. ৪.৩৫%
  3. ৩.৪৯%
  4. ২.৪২%
ব্যাখ্যা

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জিডিপি'র চূড়ান্ত হিসাব: 
- চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি'র প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৪৯%। সাময়িক হিসাবে যা ছিলো ৩.৯৭%। 

- অর্থনীতি/জিডিপিতে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার= ২ দশমিক ৪২ শতাংশ।
- অর্থনীতি/জিডিপিতে শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধির হার= ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ।
-অর্থনীতি/জিডিপিতে সেবাখাতে প্রবৃদ্ধির হার= ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

→ বাংলাদেশের জিডিপি'কে উৎপাদনের ভিত্তিতে ৩টি বৃহৎ খাতে বিভক্ত করা হয়েছে।
যথা- কৃষিখাত, শিল্পখাত ও সেবাখাত।

উল্লেখ্য,
→  সার্বিকভাবে জিডিপি ১৯টি খাত নিয়ে গঠিত। এ ১৯টি খাতের মধ্যে ৬টি খাত আবার উপখাতে বিভক্ত। এই ১৯টি খাত ৩টি বৃহৎ খাতের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫ এবং সমসাময়িক জিডিপি সমীক্ষা।

৫,৫৯০.
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. কর্নেল এম এ জি ওসমানী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. এ কে খন্দকার
  4. কর্নেল এম এ রব
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ সংগঠন ও পরিচালনা: 
- মুজিবনগর সরকার আতাউল গণি ওসমানীকে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করে।
- তিনি মুক্তিবাহিনীকে সংগঠিত করেন।
- তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস এর বাঙালি সদস্য সমন্বয়ে গঠিত;
- সৈন্য, ব্যাটেলিয়ান ই পি আর, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মুক্তি বাহিনীর নিয়মিত বাহিনী গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।
- উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা।
- প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা করার  মোট ১২টি মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল।
-  মুজিবনগর সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপন করে।
- ১০ এপ্রিল, ৪টি এবং পরবর্তীকালে ১১ এপ্রিল ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল যারা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, কৃষক, নারী, রাজনৈতিক দলের কর্মী, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।


 উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৯১.
'ভাওয়াইয়া' বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের গান?
  1. ময়মনসিংহ
  2. রাজশাহী
  3. রংপুর
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
ভাওয়াইয়া:
- ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান ভাবসমৃদ্ধ বিধায় 'ভাব' থেকে 'ভাওয়াইয়া' কথাটির উৎপত্তি বলে অনুমিত হয়।
- এ গানের মূল সুর নর-নারীর প্রণয়। প্রণয়ের বিচ্ছেদ জ্বালাই এতে অধিক রূপায়িত হয়।
- ভাওয়াইয়া গান দুই প্রকার- দীর্ঘ সুরবিশিষ্ট ও চটকা সুরবিশিষ্ট।
- প্রথম শ্রেণীর গানে নর-নারীর, বিশেষত নবযৌবনাদের অনুরাগ, প্রেমপ্রীতি ও ভালোবাসার আবেদন ব্যক্ত হয়।
এরূপ গানের মধ্যে 'ওকি গাড়িয়াল ভাই', 'যে জন প্রেমের ভাব জানে না', 'কোন দ্যাশে যান মইশাল বন্দুরে', 'নউতোন পিরিতির বড় জ্বালা' ইত্যাদি অধিক জনপ্রিয়।
- অপরপক্ষে চটকা এক প্রকার রঙ্গগীতি।
- এ গান চটুল ও দ্রুত তালের।
গ্রাম্য 'চট' (অর্থ তাড়াতাড়ি) শব্দটির স্ত্রীলিঙ্গান্তর করে 'চটকা' শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
- এ শ্রেণীর গানে যথেষ্ট হাস্যরসের উপাদান থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯২.
'সোহরাই' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাতীয় উৎসব?
  1. চাকমা
  2. ত্রিপুরা
  3. সাঁওতাল
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৩.
ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কোন আসামিকে?
  1. ক) সার্জেন্ট জহু্রুল হক
  2. খ) ড. শামসুজ্জোহা
  3. গ) আসাদুজ্জামান
  4. ঘ) নূর হোসেন
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা
• ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
• এই মামলার ১৭ নং আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
• রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে ১৮ ফেব্রুয়ারি,১৯৬৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। 
• গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৪.
চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন কে?
  1. শায়েস্তা খান
  2. শাহ সুজা
  3. মীর জুমলা
  4. মীর মদন
ব্যাখ্যা
সুবেদার শায়েস্তা খান:

- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল।
- তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগ ও ফিরিঙ্গি জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ।
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
-তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৫৯৫.
কোনটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হিসাবে প্রসিদ্ধ নয়? 
  1. ময়নামতি
  2. পাহাড়পুর
  3. মহাস্থানগড়
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা

 • প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয় - সুন্দরবন।

• প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান:
- প্রত্ন’ শব্দের অর্থ অতি পুরাতন বা প্রাচীন।
- এ-সম্পর্কিত যে তত্ত্ব তা-ই হচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব।
- আর প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান হলো যেসব স্থানে প্রাচীন কালের জিনিসপত্র, মুদ্রা, অট্টালিকা, স্থাপত্য, গহনা, ধাতব বস্ত্র ইত্যাদি পাওয়া যায়।

- বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি স্থানে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো মহাস্থানগড়, ময়মামতি, পাহাড়পুর ও উয়ারী-বটেশ্বর।

• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বা স্রোতজ বনভূমি। 
- বাংলাদেশে অবস্থিত সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম World Heritage হিসেবে ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও পঞ্চম শ্রেণীর বাংলা বোর্ড বই।

৫,৫৯৬.
মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত একমাত্র বিদেশি কোন দেশের নাগরিক ছিলেন?
  1. ক) আমেরিকা
  2. খ) অস্ট্রেলিয়া
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা
অস্ট্রেলিয়ার ওলন্দাজ নাগরিক উইলিয়ম ওডারল্যান্ডই একমাত্র বিদেশি যিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার কর্তৃক ‘বীর প্রতীক’ রাষ্ট্রীয় খেতাবে ভূষিত হন।
- ওডারল্যান্ড ১৯১৭ সালের ৬ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৪০ সালে সেনাবাহিনীর চাকুরি ছেড়ে ওলন্দাজ বাহিনীর গেরিলা কমান্ডো হিসেবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯৩৯-১৯৪৫) অংশগ্রহণ করেন।
- ঢাকায় বাটা সু কোম্পানির প্রোডাকশন ম্যানেজার হিসেবে ওডারল্যান্ড ১৯৭০ সালের শেষের দিকে প্রথম  ঢাকায় আসেন।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গেরিলা কমান্ডো হিসেবে স্বীয় অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে এবং স্বয়ং ২নং সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা শাখার সক্রিয় সদস্যরূপে অকুতোভয় ওডারল্যান্ড বাটা ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণসহ টঙ্গীর  কয়েকটি গোপন ক্যাম্পে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়মিত গেরিলা রণকৌশলের প্রশিক্ষণ দিতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৫৯৭.
ভাষা আন্দোলন কত সালে হয়?
  1. ১৯৪৭
  2. ১৯৫২
  3. ১৯৬৬
  4. ১৯৭১
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন হয়েছিল ১৯৫২ সালে।

ভাষা আন্দোলন:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
- তমদ্দুন মজলিশ ছিলো ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৫৯৮.
বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত সর্বমোট বীর মুক্তিযোদ্ধা-
  1. ক) ৬৭৬ জন
  2. খ) ৪৩৯ জন
  3. গ) ৪২৬ জন
  4. ঘ) ৬৭২ জন
ব্যাখ্যা

- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত। যথা- বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন এবং বীর প্রতীক ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ছিল ৬৭৬ জন।
- কিন্তু ৬ জুন, ২০২১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যা মামলায় দণ্ডিত ৪ খুনির বীরত্বসূচক রাষ্ট্রীয় খেতাব বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যার ফলে বর্তমানে খেতাবপ্রাপ্ত সর্বমোট বীর মুক্তিযোদ্ধা ৬৭২ জন।
- দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী এই খেতাব বাতিল করা হয়েছে।

খেতাব বাতিল হওয়া চার খুনি হলেন-
- লে. কর্নেল শরিফুল হক ডালিম (বীরউত্তম, গেজেট নং ২৫), লে. কর্নেল এস এইচ এম এইচ এম বি নুর চৌধুরী (বীরবিক্রম, গেজেট নং ৯০), লে. এ এম রাশেদ চৌধুরী (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ২৬৭) ও নায়েক সুবেদার মোসলেম উদ্দিন খান (বীরপ্রতীক, গেজেট নং ৩২৯)।

উৎসঃ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৫৯৯.
আলুর একটি জাত-
  1. ডায়মন্ড
  2. রূপালী
  3. ড্রামহেড
  4. ব্রিশাইল
ব্যাখ্যা
• উচ্চ ফলনশীল আলুর কয়েকটি জাত:
- হীরা,
- আইলসা,
- ডায়মন্ড,
- কার্ডিনাল,
- চমক,
- সুন্দরী,
- কুফরী ইত্যাদি।


অন্যদিকে,
• 'রূপালী' - উন্নত জাতের তুলা শস্যের নাম।

• উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস,
- ড্রামহেড,
- গোল্ডেন ক্রস,
- প্রভাতী,
- অগ্রদূত ইত্যাদি।

• উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব,
- ইরাটম,
- ব্রিশাইল,
- ময়না,
- চান্দিনা,
- হরিধান,
- নারিফা,
- প্রগতি ইত্যাদি।

- সফল : সরিষার জাত
- উত্তরণ : ভুট্টার জাত
- ‍শুকতারা : বেগুনের জাত।

সূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস এবং কৃষি শিক্ষা বোর্ডবই)
৫,৬০০.
নিচের কোনটি প্রশাসনিক কাঠামোর স্তর নয়?
  1. জেলা প্রশাসন
  2. বিভাগীয় প্রশাসন
  3. পৌরসভা
  4. উপজেলা প্রশাসন
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর হলো উপজেলা প্রশাসন।
- সর্বোচ্চ স্তর হলো সচিবালয়। এর নিচে বিভাগীয় প্রশাসন। তার নিচে জেলা প্রশাসন।
বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে মাঠ প্রশাসন ধরা হয়।
এছাড়া, প্রশাসন ব্যবস্থায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বিভাগ, অধিদপ্তর ও দপ্তর রয়েছে।
অন্যদিকে,
- পৌরসভা হলো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।
(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)