বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৫৫ / ৩০৬ · ৫,৪০১৫,৫০০ / ৩০,৮৩২

৫,৪০১.
ব্যবহারের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহৃত হয় কোন খাতে?
  1. ক) বিদ্যুৎ উৎপাদনে
  2. খ) গৃহস্থালির কাজে
  3. গ) শিল্পখাতে
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• ব্যবহারের দিক থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহৃত হয়।

• জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বোচ্চ ব্যবহারের কয়েকটি খাত হচ্ছে:
- বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার - ৪২৫.৮ বিলিয়ন ঘনফুট (৪২.০০%)। 
- শিল্পখাতে ব্যবহার – ১৮১.৭ বিলিয়ন ঘনফুট (১৮.০০%)।
- গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার - ১৩৪.২ বিলিয়ন ঘনফুট। (১৩.০০%)।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২২।
৫,৪০২.
বাংলাদেশে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তদারকির দায়িত্ব কোন সংস্থার?
  1. অর্থ মন্ত্রণালয়
  2. ফিনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস রেগুলেটরি কমিশন
  3. সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন
  4. বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাখ্যা

• আর্থিক প্রতিষ্ঠান:
- আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ অনুযায়ী 'আর্থিক প্রতিষ্ঠান' বলতে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে লাইসেন্স প্রাপ্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বুঝায়।
- বাংলাদেশ ব্যাংক এর আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের লাইসেন্স প্রদান, নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং তদসংক্রান্ত প্রবিধান প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে এবং প্রয়োজনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করতে পারে।

- তফসিলি ব্যাংক ছাড়াও দেশে কার্যরত সকল ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (Non-Bank Financial Institutions)
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক।
- বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ৩৫ টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে। 
- সাধারণত মার্চেন্ট ব্যাংক, বিনিয়োগ কোম্পানী, মিউচুয়াল এসোসিয়েশন, মিউচুয়াল কোম্পানি, লিজিং কোম্পানি এবং বিল্ডিং সোসাইটিসমূহ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: সোনালী ব্যাংকের ওয়েবসাইট। Link

৫,৪০৩.
সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করেন কে?
  1. ক) ঈশান কিষাণ
  2. খ) কেন উইলিয়ামসন
  3. গ) ঋষব পন্ত
  4. ঘ) শুবমান গিল
ব্যাখ্যা
- সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরি করেন শুবমান গিল
- তিনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হায়দরাবাদে এই কীর্তি গড়েন। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, ফেব্রুয়ারি ২০২৩। 
৫,৪০৪.
ইন্দিরা গান্ধীর প্রথম ঢাকা সফরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার কয় বছর মেয়াদী 'মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ক) ২৫ বছর
  2. খ) ২৭ বছর
  3. গ) ৩০ বছর
  4. ঘ) ৩৫ বছর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭২ সালের ১৭ মার্চে প্রথম ঢাকা সফরে আসেন ইন্দিরা গান্ধী। 
- ইন্দিরা গান্ধীর বাংলাদেশ আগমন উপলক্ষে দিনটিকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়।
- তিনি ছিলেন বাংলাদেশ সফরকারী প্রথম বিদেশি সরকার প্রধান। 
- ইন্দিরা গান্ধীর এই প্রথম ঢাকা সফরেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি ২৫ বছর মেয়াদী দীর্ঘ মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তিটিতে শেখ মুজিবুর রহমান ও ইন্দিরা গান্ধী সই করেন মিসেস গান্ধীর ঢাকা সফরের তৃতীয় দিনে।
 
উৎস: বিবিসি 
৫,৪০৫.
সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়সসীমা কত?
  1. ৬০ বছর
  2. ৬৩ বছর
  3. ৬৫ বছর
  4. ৬৭ বছর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতিসহ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৭ বছর।

• বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচারকদের পদের মেয়াদ: একজন বিচারপতি ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার পদে বহাল থাকেন।

প্রধান বিচারপতি:

- দেশের বর্তমান ও ২৬তম প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
- ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে জুবায়ের রহমান চৌধুরী দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

⇒ সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- প্রধান বিচারপতিকে শপথ পড়ান মহামান্য রাষ্ট্রপতি। প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করেই অন্যান্য বিচারপতি দের নিয়োগ দেয়া হয়।
- প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের জন্যে ন্যূনতম দশ বছর সুপ্রিমকোর্টে অ্যাডভোকেট বা দেশের বিচার বিভাগীয় পদে দশ বছর নিযুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়।
- প্রধান বিচারপতি ৬৭ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।

উল্লেখ্য,
- সংবিধান অনুযায়ী বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর। ২৫তম প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। সে হিসাবে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হয়েছে।
- সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬১ সালের ১৮ মে। সে হিসাবে তাঁর ৬৭ বছর পূর্ণ হবে ২০২৮ সালের ১৭ মে। অর্থাৎ ওই সময়ে তিনি অবসরে যাবেন।

উৎস: i) সুপ্রিমকোর্ট ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

৫,৪০৬.
New Development Bank-এর বর্তমান সভাপতি কে?
  1. দিলমা রুসেফ
  2. মার্কোস প্রাডো
  3. লেসলি ম্যাসডর্প
  4. কে ভি কামাথ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

New Development Bank:

- এটি একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
- নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এনডিবি) ব্রিকস দেশসমূহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি বহুমুখী উন্নয়ন ব্যাংক।
- পূর্বে ব্যাংকটি 'ব্রিকস ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক' নামে পরিচিত ছিল।
- সদর দপ্তর: সাংহাই, চীন।
- বর্তমান সদস্য: ৮টি।
- দাপ্তরিক ভাষা: ইংরেজি।
- বর্তমান সভাপতি: দিলমা রুসেফ।

অন্যদিকে -
- কে ভি কামাথ নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রথম প্রেসিডেন্ট।
- লেসলি ম্যাসডর্প নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট।
- মার্কোস প্রাডো ট্রয়জো নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট।

উৎস: New Development Bank ওয়েবসাইট।
৫,৪০৭.
'কাবিখা' কোন ধরনের কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত?
  1. দারিদ্র বিমোচন
  2. নিরক্ষরতা দূরীকরণ
  3. টিকাদান কর্মসূচি
  4. কাজের প্রশিক্ষণ
ব্যাখ্যা

কাবিখা:
- 'কাবিখা' বা 'কাজের বিনিময়ে খাদ্য' দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচীর অন্তর্ভুক্ত।
- ১৯৭৪ সালে দেশব্যাপী চরম খাদ্যাভাব দেখা দিলে বিশেষ করে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য এবং গ্রামীণ এলাকায় বেকারত্বের কারণে বৃহত্তর রংপুর জেলার মানুষ অনাহারের সম্মুখীন হলে সরকার 'ফুড ফর ওয়ার্ক' বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে।

⇒ কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি (কাবিখা) কর্মসূচীর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামীন অবকাঠামো নির্মাণ/পুননির্মাণ।
- স্বাভাবিক অবস্থায় গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এই কর্মসূচীর আওতায় বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন।
- গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
- গ্রামীণ দরিদ্র জনগনের আয় বৃদ্ধি।
- দেশের সর্বত্র খাদ্য সরবরাহের ভারসাম্য আণয়ন এবং
- দারিদ্র বিমোচনে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি।

তথ্যসূত্র - সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫,৪০৮.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, আউশ ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা -
  1. বরিশাল
  2. কুমিল্লা
  3. দিনাজপুর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

ধান উৎপাদন:
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়।
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪ অনুসারে ময়মনসিংহ জেলায় সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়।
- বিভাগ অনুসারে রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়।
- আউশ ধান উৎপাদনে শীর্ষে কুমিল্লা জেলা।
- আমন ধান উৎপাদনে শীর্ষে দিনাজপুর জেলা।
- বোরো ধান উৎপাদনে শীর্ষে ময়মনসিংহ জেলা।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৫,৪০৯.
নবনির্মিত মওলানা ভাসানী সেতু কোন দুটি জেলাকে যুক্ত করেছে?
  1. কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট
  2. রংপুর ও কুড়িগ্রাম
  3. গাইবান্ধা ও রংপুর
  4. কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা
ব্যাখ্যা

মওলানা ভাসানী সেতু:
- তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে 'মওলানা ভাসানী সেতু'।
- এটি গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ঘাট থেকে কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী পর্যন্ত বিস্তৃত।
- সেতুটির দৈর্ঘ্য ১৪৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৯.৬০ মিটার এবং সেতুটিতে মোট ৩০টি পিলার রয়েছে।
- সেতুটি সৌদি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় ও এলজিইডির তত্ত্বাবধানে চীনা একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে।
- মোট নির্মাণ ব্যয় হয়েছে ৮৮৫ কোটি টাকা।
- ২০ আগস্ট, ২০২৫ সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তথ্যসূত্র- বাসস।

৫,৪১০.
'ম্যাডোনা-৪৩' কার অঙ্কিত চিত্রকর্ম?
  1. জয়নুল আবেদিন
  2. এস এম সুলতান
  3. কামরুল হাসান
  4. কাইয়ুম চৌধুরি
ব্যাখ্যা
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন:
- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহুকুমার কেন্দুয়াতে (বর্তমান নেত্রকোণা) জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সবচেয়ে বড় খেতাব হেলাল-ই-ইমতিয়াজ অর্জন করেন এবং ১৯৭১ সালে সেটি বর্জন করেন।
- ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।

⇒ জয়নুল তাঁর প্রথম জীবনেই নদী ও অবারিত প্রকৃতির মাঝে রোমান্টিকতার অনুপ্রেরণা পান।
- জয়নুল আবেদিন ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী, যারা দেশ ভাগের পর ঢাকায় অভিবাসী হয়েছিলেন, আর্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯৬৮ সালে ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রদের তরফ থেকে 'শিল্পাচার্য' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭৪ সালে তিনি জাতীয় অধ্যাপক (বাংলাদেশ) সম্মান লাভ করেন।
- ১৯৭৫ সালে জয়নুল আবেদিন সোনারগাঁও এ একটি লোকশিল্প জাদুঘর এবং ময়মনসিংহে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা প্রতিষ্ঠা করেন। এ দুটি প্রতিষ্ঠানে তাঁর অংকিত কিছু চিত্রকর্ম সংরক্ষিত আছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ সংবিধানের মূল সাজসজ্জার পরিকল্পনাকারী ছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন।
- 'মুক্তিযোদ্ধা' জয়নুল আবেদিনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম।
- ১৯৪৩ সালের ভয়াল দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে জয়নুল আবেদিনের আঁকা স্কেচধর্মী চিত্রকর্ম 'ম্যাডোনা'।
- তাঁর আরো কিছু বিখ্যাত শিল্পকর্ম: দুর্ভিক্ষ, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, বিদ্রোহী, মনপুরা, নবান্ন, মহিলা ইত্যাদি।
- ‘দুই মহিলা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩), ‘পাইন্যার মা’ (গোয়াশ, ১৯৫৩) ও ‘মহিলা’ (জলরং, ১৯৫৩), 'ফসল মাড়াই', জলরং (১৯৬৩) হলো এ আমলের উল্লেখযোগ্য চিত্রকর্ম।
- ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফ্টস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক শিল্প আন্দোলনের তিনিই পুরোধা।
- ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের (বর্তমান চারুকলা ইনস্টিটিউ) তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ।
- ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিজয়কে ভিত্তি করে আঁকা ৬৫ ফুট দীর্ঘ স্ক্রল পেইন্টিং (চাইনিজ ইঙ্ক, জলরঙ ও মোম) ‘নবান্ন’ এবং ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারানো হাজারো মানুষের স্মৃতির উদ্দেশ্যে আঁকা ৩০ ফুট দীর্ঘ ‘মনপুরা’ পেইন্টিংটির মাঝে তাঁর কর্মের বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়।

⇒ ম্যাডোনা-৪৩:
- ১৯৪৩ সালের ভয়াল দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে জয়নুল আবেদিনের আঁকা স্কেচধর্মী চিত্রকর্ম 'ম্যাডোনা'।
- শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ১৯৪৩ সালের দুর্ভিরে সময় যেসব ছবি এঁকেছেন, তার বেশিরভাগেরই মূল বিষয়বস্তু ছিল মা ও শিশু।
- মূলত এই দু’টি চরিত্রকে প্রাধান্য দিয়েই তিনি এঁকেছেন একের পর এক কালজয়ী ছবি।
- এই চিত্রমালা দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা ও মানবিক দুর্দশা ফুটিয়ে তোলে।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
৫,৪১১.
নিচের কোনটির কারনে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে?
  1. উৎপাদন বেড়ে যাওয়া
  2. অর্থের মান বৃদ্ধি
  3. পণ্যের দাম কমে যাওয়া
  4. মূল্যস্তর এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা
• মুদ্রাস্ফীতি:
- মুদ্রাস্ফীতির ফলে সাধারণ মূল্যস্তর এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
- মুদ্রাস্ফীতির সময় অর্থের যোগান বৃদ্ধি পাওয়ায় সমাজের ব্যয়োপযোগী আয়ের পরিমাণ বেড়ে মোট চাহিদা বৃদ্ধি পায়।
- দেশে পূর্ণ নিয়োগ অবস্থার পূর্ব পর্যন্ত চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে দ্রব্যের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়।
- কিন্তু দেশ পূর্ণ নিয়োগ অবস্থায় পৌছানোর পর দ্রব্যসামগ্রীর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয় না।
- চাহিদা বৃদ্ধির তুলনায় জিনিসপত্রের পরিমাণ বৃদ্ধি না পাওয়ায় দ্রব্য মূল্যের বৃদ্ধি ঘটে।
- তাই মুদ্রাস্ফীতি যদি দীর্ঘকাল স্থায়ী হয় তাহলে শ্রমিকরা অধিক মজুরি দাবি করে।
- মুদ্রাস্ফীতির সময় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পায় ।
- এবং সে সাথে যন্ত্রপাতি ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পায়।
- এর ফলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে যায়।
- এভাবে মুদ্রাস্ফীতির ফলে দেশে উৎপাদন ব্যয় এবং মুল্যস্তর বৃদ্ধি পায়।

উৎস: অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্বাবিদ্যালয়।
৫,৪১২.
নিচের কোনটি প্রশাসনিক কাঠামোর স্তর নয়?
  1. ক) জেলা প্রশাসন
  2. খ) সিটি কর্পোরেশন
  3. গ) সচিবালয়
  4. ঘ) উপজেলা প্রশাসন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো স্তরভিত্তিক। এর প্রধান দুটি স্তর রয়েছে। যথা: কেন্দ্রীয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসন।

- কেন্দ্রীয় প্রশাসন হলো সচিবালয়। কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। মাঠ প্রশাসন কেন্দ্রীয় প্রশাসনে গৃহীত সকল নীতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে।

মাঠ প্রশাসন কতগুলো স্তরে বিভক্ত।
এগুলো হলো:
- বিভাগীয় প্রশাসন
- জেলা প্রশাসন
- উপজেলা প্রশাসন।

এদের মধ্যে বিভাগীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন হলো সর্বনিম্ন স্তর যা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত।

অন্যদিকে,
- সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ হলো স্থানীয় সরকার কাঠামোর অংশ।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৫,৪১৩.
জাতীয় সংসদে কোরাম হতে হলে কতজন সংসদ সদস্যের উপস্থিত থাকতে হবে?
  1. মোট সংসদ সদস্যের ১/৫ ভাগ
  2. মোট সংসদ সদস্যের ১/১০ ভাগ
  3. মোট সংসদ সদস্যের ১/৩ ভাগ
  4. মোট সংসদ সদস্যের অর্ধেক
ব্যাখ্যা

কোরাম:
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে। অর্থাৎ মোট সংসদ সদস্যের ১/৫ ভাগ। 
- জাতীয় সংসদের বৈঠক চলাকালে কোনো সময়ে উপস্থিত সংসদ সংখ্যা ৬০ জনের কম বলে যদি সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয় তাহলে তিনি অনূন্য ৬০ জন সদস্য উপস্থিত না হওয়া পর্যন্ত বৈঠক স্থগিত রাখবেন কিংবা মুলতবি করবেন।

উল্লেখ্য,
- কোরাম বলতে বুঝায় একটি বৈধ সভার শুরু হতে শেষ পর্যন্ত ভোটদানের অধিকারী সদস্যের একটি নূন্যতম সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা এবং নূন্যতম এই সংখ্যা সংগঠনের আইন নিয়ম দ্বারা পূর্বেই নির্ধারিত করে দেওয়া।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫,৪১৪.
বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর কোনটি?
  1. ক) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর
  2. খ) মংলা সমুদ্রবন্দর
  3. গ) মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর
  4. ঘ) পায়রা সমুদ্রবন্দর
ব্যাখ্যা
পায়রা সমুদ্র বন্দর:
- বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর ‘পায়রা বন্দর'।
- ‘পায়রা বন্দর' পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া, বালিয়াতলী, ধূলাসার, ধানখালী ও টিয়াখালী ইউনিয়নের অনত্মর্গত রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
- শিপিং-বান্ধব বিস্মীর্ণ এলাকা হিসেবে এটি সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য প্রাকৃতিকভাবেই উপযুক্ত একটি অঞ্চল।
- ১৩ আগস্ট, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
- এ উদ্বোধনের দ্বারা বাংলাদেশের আমদানি- রপ্তানি বাণিজ্য তথা দেশের সার্বিক উন্নয়নে নতুন মাইল ফলক রচিত হবে বলে আশা করা যায়।
- ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
- এটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রামনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত।

উৎস: পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ।
৫,৪১৫.
আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রের অধ্যাদেশ জারি করেন কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

• মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র অধ্যাদেশ' ব্যবস্থাটি জারি করেন আইয়ুব খান।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল। যথা-
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য,
- উচ্চ বিলাসী আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।
- অতঃপর তিনি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন।
- ১৯৫৯ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করেন।
- এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দুই অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার করে ৮০ - হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

[উল্লেখ্য যে, [শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে।]

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪১৬.
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এ আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন -
  1. ক) আতাউল গণি ওসমানী
  2. খ) এ কে খোন্দকার
  3. গ) আব্দুল জলিল
  4. ঘ) কেউই নন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন কিন্তু তিনি সাক্ষর করেননি। ১৯৭১ সালের ৬-১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়। ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪১৭.
ব্রোঞ্জ নির্মিত স্তূপ পাওয়া গেছে কুমিল্লা জেলার কোথায়?
  1. মুরাদনগরে
  2. রামচন্দ্রপুরে
  3. মোহনপুরে
  4. ময়নামতিতে
ব্যাখ্যা
• ব্রোঞ্জ-নির্মিত স্তূপ:
- বাংলাদেশের শিল্পকলার ঐতিহ্য প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরনো। স্থাপত্য বা স্তূপ হলো বৌদ্ধ স্থাপত্যের একটি নিদর্শন।
- বৌদ্ধগণই স্তূপ-নির্মাণের রীতিকে গ্রহণ করে পূজা-অর্চনায় এবং ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের ক্ষেত্রে এ রীতিকে বৈশিষ্ট্য প্রদান করেছেন।
- বৌদ্ধ-প্রধান অঞ্চল ময়নামতিতে দশ ইঞ্চি দীর্ঘ একটি ব্রোঞ্জ-নির্মিত স্তূপ পাওয়া গেছে।
- বাংলার অন্যতম বিশিষ্ট রীতির স্থাপত্য-নিদর্শন হল মন্দির। ময়নামতিতে মন্দিরের জনপ্রিয়তা লক্ষ করা যাচ্ছে।
- শালবন বিহারের কেন্দ্রিয় মন্দিরটির প্রত্যেক বাহু ১৭০ ফুট দীর্ঘ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪১৮.
ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ওয়াচে স্থান পাওয়া বাংলাদেশের একমাত্র স্থান কোনটি?
  1. নারায়ণগঞ্জ
  2. বাগেরহাট
  3. সিলেট
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা

⇒ ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ওয়াচের করা তালিকায় ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার জন্য বিখ্যাত ২৫ টি শহরের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদের শহর বাগেরহাট৷ 

⇒ পনেরোশ শতকে মুসলিম ধর্মপ্রচারক খান জাহান আলীর হাত ধরে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে ভৈরব নদীর তীরে বাগেরহাট শহরের গোড়াপত্তন ৷
- শহরটির ঐতিহ্যবাহী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ, সিংরা মহজিদ, খান জাহান আলীর সমাধিসৌধ, নয় গম্বুজ মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, বিবি বেগনী মসজিদ, চুনাখোলা মসজিদ, রনবিজয়পুর মসজিদ৷
- দিল্লীর তুঘলকি স্থাপত্যরীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থাপনায় সমৃদ্ধ এই শহরের প্রাচীন নাম ছিল খলিফাতাবাদ ৷

উল্লেখ্য,
⇒ ১৯৯৬ সাল থেকে ওয়ার্ল্ড মনুমেন্ট ওয়াচ এ তালিকা প্রকাশ করে আসছে৷ ডাব্লিইউএমএফ এর সদরদপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে৷ ভারত, যুক্তরাজ্য, পেরু, স্পেন, পর্তুগাল ও কম্বোডিয়ায় তাদের শাখা রয়েছে৷

উৎস: ডয়েচ লেভেল।

৫,৪১৯.
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন কে?
  1. আমিনুল ইসলাম বুলবুল
  2. নাইমুর রহমান
  3. হাবিবুল বাশার
  4. গাজী আশরাফ হোসেন লিপু
ব্যাখ্যা
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশ:

- বাংলাদেশ টেস্ট ম্যাচে প্রথম জয় পায় ২০০৫ সালে।
- প্রথম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন নাইমুর রহমান।
- টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি করেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
- বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে ১০ নভেম্বর ২০০০ সালে।
- প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করে বাংলাদেশ।
- টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম ইকবাল।
- বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয় পায় কোন দলের বিপক্ষে  জিম্বাবুয়ে।
- টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম ব্যক্তিগত হাজার রান সংগ্রাহক হাবিবুল বাশার।
- ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।

তথ্যসূত্র - bangladesh.gov.bd
                দৈনিক প্রথম আলো,০৬ জানুয়ারি ২০১৭।
                দৈনিক প্রথম আলো,১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
                সময় নিউজ, ১৪ জুন ২০২৩।
৫,৪২০.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে মোট সংসদ সদস্যদের মধ্যে নারী সদস্য কত শতাংশ? 
  1. ৭ শতাংশ
  2. ১৩ শতাংশ
  3. ১৬ শতাংশ
  4. ১৯ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এ নারী প্রার্থী: 
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে মোট ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে মোট ৩৫০টি সিট রয়েছে — যার মধ্যে ৩০০টি সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০টি নারীদের জন্য সংরক্ষিত।
- এবার নির্বাচনে ৭ জন নারী নির্বাচিত হয়েছেন। তার মধ্যে ছয়জনই বিএনপির। একজন স্বতন্ত্র। 
- সে হিসাবে সংসদে মোট নারী সংসদ সদস্যের সংখ্যা হবে ৫৭।
- অর্থাৎ সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব হবে ১৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, 
- এবার ২৯৯টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ৮৬ জন।
-  যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৪ শতাংশ।
- এবার নারীর তুলনায় পুরুষেরা মনোনয়ন পেয়েছেন ২২ গুণ বেশি।
- মনোনয়নের তুলনায় জয় পেয়েছেন ৮ শতাংশের বেশি নারী।
-  পুরুষেরা যত মনোনয়ন পেয়েছেন, তার তুলনায় জয় পেয়েছেন ১৫ শতাংশ। 

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link) (Link) 

৫,৪২১.
মৌলিক অধিকার লংঘনের প্রতিকারে কোন আদালতে যেতে হয়?
  1. ক) জেলা জজ আদালতে
  2. খ) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  3. গ) জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে
  4. ঘ) হাইকোর্ট বিভাগে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোন সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তি মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে পারবেন।
মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের (১) দফা অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগ কোন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আবেদনক্রমে মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য যে কোনো ব্যক্তি বা সংস্থাকে নির্দেশ দিতে পারবে। সূত্রঃ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর পৌরনীতি ও সুশাসন বই।
৫,৪২২.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী ‘মুজিবনগর’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) সাতক্ষীরা
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) ঝিনাইদহ
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার।
- ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে। যা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাজধানী।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলা গ্রামের নামকরণ হয় মুজিবনগর।
- মুজিবনগর সরকারের কর্মকান্ড বাংলাদেশ ভূখন্ডের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়েছিল বলে এ সরকার প্রবাসী মুজিবনগর সরকার হিসেবেও খ্যাত।

সোর্সঃ বাংলাপিডিয়া।

৫,৪২৩.
‘নাইন মান্থস টু ফ্রিডম’ প্রামাণ্যচিত্রের নির্মাতা কে?
  1. ক) গীতা মেহতা
  2. খ) এস. সুখদেভ
  3. গ) তারেক মাসুদ
  4. ঘ) জেরেমি চুয়া
ব্যাখ্যা
- ‘নাইন মান্থস টু ফ্রিডম : দ্য স্টোরি অফ বাংলাদেশ’ হলো ভারতীয় চলচ্চিত্রকার এস. সুখদেভ নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র।
- প্রামাণ্যচিত্রটিতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ বাস্তবচিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়। ১৯৭২ সালে প্রামাণ্যচিত্রটি প্রথম প্রদর্শিত হয়।
(তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া)
৫,৪২৪.
জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এর লক্ষ্য অনুসারে ২০২৭ সালের মধ্যে জাতীয় আয়ে শিল্প খাতের অবদান কত শতাংশে উন্নীত করতে হবে?
  1. ক) ৩৮ শতাংশ
  2. খ) ৪০ শতাংশ
  3. গ) ৪২ শতাংশ
  4. ঘ) ৪৫ শতাংশ
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২:
দেশিয় কাঁচামাল ও সম্পদ ব্যবহার করে শ্রমঘন শিল্পায়নের পাশাপাশি ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগত সুবিধাকে ধারন করে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করা, খাতভিত্তিক উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা এবং উৎপাদিত পণ্যের গুণগতমানের উৎকর্ষ সাধনই জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এর মূল উদ্দেশ্য।

শিল্পনীতির লক্ষ্য:
- টেকসই ও পরিবেশসম্মত শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন।
- সরকারের সামগ্রিক রূপকল্প ২০৪১ অর্জনের লক্ষ্যে জনশক্তির দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে জাতীয় আয়ে শিল্প খাতের অবদান ৪০ শতাংশে উন্নীতকরণ;
- ৪র্থ শিল্প বিপ্লবসহ দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে দীর্ঘ মেয়াদে শিল্পায়ন প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে সরকারি ও ব্যক্তি খাতের সক্ষমতার উন্নয়ন।

সূত্র: Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার, মে ও জুন ২০২২
৫,৪২৫.
প্রাচীন বাংলার সমতট জনপথের বর্তমান অবস্থান কোনটি?
  1. ক) রবিশাল অঞ্চল
  2. খ) খুলনা অঞ্চল
  3. গ) কুমিল্লা অঞ্চল
  4. ঘ) রংপুর অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী একসময় সমতট নামে পরিচিত ছিল। রাজ্য রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল কর্মান্ত বা ত্রিপুরা (কুমিল্লা) জেলার ময়নামতির অদূরে বড়কামতা। সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৫,৪২৬.
শিল্পখাতে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের হার প্রায় -
  1. ক) ৪২.০০%
  2. খ) ১৮.০০%
  3. গ) ১৩.০০%
  4. ঘ) ২৯.০০%
ব্যাখ্যা
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, প্রাকৃতিক গ্যাস সর্বোচ্চ ব্যবহারের কয়েকটি খাত হচ্ছে -
বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার - ৪২৫.৮ বিলিয়ন ঘনফুট (৪২.০০%)। ব্যবহারের দিক থেকে এই খাতে সবচেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
শিল্পখাতে ব্যবহার – ১৮১.৭ বিলিয়ন ঘনফুট (১৮.০০%)
গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার - ১৩৪.২ বিলিয়ন ঘনফুট। (১৩.০০%)
 
উৎস: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ ওয়েবসাইট। 
৫,৪২৭.
বাংলাদেশের কতটি জীবন বীমা কোম্পানি রয়েছে?
  1. ৩৬
  2. ২৬
  3. ৪৬
  4. ৫৬
ব্যাখ্যা

• বীমা প্রতিষ্ঠান:
-  আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে, বেসরকারি খাতের বীমা কোম্পানিগুলি এই শিল্পে প্রবেশ শুরু করে এবং এটি সম্প্রসারিত হয়।
- বর্তমানে, ৮২টি কোম্পানি বীমা আইনের অধীনে কাজ করছে।

এর মধ্যে-

- ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানি, 
- ৪৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানি, 

• বাংলাদেশের বীমা কোম্পানিগুলি নিম্নলিখিত পরিষেবাগুলি প্রদান করে:
- জীবন বীমা,
- সাধারণ বীমা,
- পুনর্বীমা,
- ক্ষুদ্র-বীমা,
- তাকাফুল বা ইসলামী বীমা।

• বর্তমান বাংলাদেশে দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
১. সাধারণ বীমা কর্পোরেশন।
২. জীবন বীমা কর্পোরেশন।
- এই দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রনালয়ের অধীনে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

⇒ বাংলাদেশ সরকার সরকারি বা বেসরকারি সব ধরণের বীমা প্রতিষ্ঠান এর তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রনের উদ্দেশ্যে বীমা আইন ২০১০ প্রণয়ন করেন। এই আইনের অধীনে ২০১১ সালে Insurance Development and Regulatory Authority (IDRA) বা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ এবং ডেইলিস্টার বাংলা [লিংক]।

৫,৪২৮.
সর্বদলীয় রাষ্ট্র ভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় কবে?
  1. ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  3. ৩০ মার্চ, ১৯৪৮
  4. ১ অক্টোবর ১৯৪৭
ব্যাখ্যা
→ ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
• ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন:
 
- সময়: ২৭ জানুয়ারি, ১৯৫২
- পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমউদ্দিন ঢাকায় এক জনসভায় ঘোষণা করেন:
- "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।"
- এই ঘোষণায় ছাত্র, শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী সমাজে চরম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
- ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫২:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ছাত্র ধর্মঘট ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
- ঐ সভায় ৪ ফেব্রুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল ও সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

• ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২: 
- স্থান: বার লাইব্রেরি, ঢাকা
- সভাপতি: মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী উদ্দেশ্যঅ
• উপস্থিত সংগঠনসমূহ:
- পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ
- তমাদ্দুন মজলিশ
- ইসলামী ছাত্রসংঘ
- যুবসংঘ
- পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ
- সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- সদস্য সংখ্যা: ২৮ জন (মতান্তরে ৪০ জন)
-  উদ্দেশ্য: রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা।

উৎস: বিশ্বসভ্যতা ও ইতিহাস, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪২৯.
বাংলাদেশে কতটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়েছে?
  1. ৮টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সরকারের 'পরিকল্পনা কমিশন' এর 'সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ' (General Economic Division) পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। 
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৭টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে
• অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ জুলাই, ২০২০ - জুন, ২০২৫।
• পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুমোদন করে - জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল।
• বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে- পরিকল্পনা কমিশন।
• বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৮টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
• বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সময়কাল - ১৯৭৩-৭৮।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন।

৫,৪৩০.
বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব কে ছিলেন?
  1. নজিবউদ্দৌলা
  2. সিরাজউদ্দৌলা
  3. মুর্শিদ কুলি খান
  4. মীর কাসিম
ব্যাখ্যা

নবাব মুর্শিদকুলি খান: 
- ১৭০০ সালে বাংলায় আসেন মুর্শিদ কুলি খান।
- তিনি ১৭২৭ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।
- প্রথমে তাঁকে বাংলার দেওয়ান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- দেওয়ানের কাজ ছিল সুবার রাজস্ব আদায় ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।
- সম্রাট ফররুখ শিয়ারের রাজত্বকালে ১৭১৬ খ্রিস্টাব্দে মুর্শিদ কুলি খান বাংলার সুবাদার নিযুক্ত হন।
- সম্রাট আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর দুর্বল মুঘল সম্রাটগণ দূরবর্তী সুবাগুলোর দিকে তেমন দৃষ্টি দিতে পারেননি।
- আঠারো শতকের বাংলায় মুঘল শাসনের ইতিহাস নিজামত বা নবাবি আমলরূপে পরিচিত।
- আর প্রায় স্বাধীন শাসকগণ পরিচিত হন 'নবাব' হিসেবে।
- মুর্শিদ কুলি খান বাংলার প্রথম স্বাধীন নবাব। 
- তিনি ঢাকা থেকে বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
-  বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৫,৪৩১.
ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড এবং ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডকে একত্রিত করে কোন ব্যাংক গঠিত হয়?
  1. যমুনা ব্যাংক 
  2. পূবালী ব্যাংক 
  3. জনতা ব্যাংক
  4. রূপালী ব্যাংক 
ব্যাখ্যা

জনতা ব্যাংক পিএলসি:
- ১৯৭১ সালে যুদ্ধের পর স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সাথে সাথে, রক্ত, অশ্রু, বেদনা এবং আমাদের লক্ষ লক্ষ প্রিয়জনের বেদনায় ভরা একটি যুদ্ধ, দেশের ইতিমধ্যেই ভাঙা আর্থিক ভিত্তি পুনর্নির্মাণের উত্তরাধিকারকে একটি নবজাত রাষ্ট্রের ধসে পড়া অর্থনৈতিক বাস্তবতার বিরুদ্ধে দিনের একটি জরুরি আহ্বান হিসেবে অনুভূত হয়েছিল।
- এই পটভূমিতে, দেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য, এই অঞ্চলে পূর্বে পরিচালিত বেশ কয়েকটি ব্যাংককে একীভূত করে নতুন ব্যাংক তৈরির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং এই উদ্যোগের ফলে ১৯৭২ সালে ব্যাংক জাতীয়করণ আদেশ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৬) এর অধীনে পূর্ববর্তী ইউনাইটেড ব্যাংক লিমিটেড এবং ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেডকে একত্রিত করে জনতা ব্যাংক গঠিত হয়

⇒ ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর জনতা ব্যাংক জয়েন্ট স্টক অফ রেজিস্ট্রারদের সাথে নিবন্ধিত হয় এবং জনতা ব্যাংক লিমিটেড নামে একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে পুনর্গঠন করে।
- কোম্পানি আইন ১৯৯৪-এর ২০২০ সংশোধনীর আওতায়, ব্যাংকটির নামকরণ করা হয় জনতা ব্যাংক পিএলসি।
- চেয়ারম্যান: জনাব এম. ফজলুর রহমান।

উৎস: Janata Bank PLC ওয়েবসাইট।

৫,৪৩২.
Among the European traders who came first to Bengal were-
  1. The Portuguese
  2. the English
  3. The Dutch
  4. The French
  5. None of the above
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তাঁর নাম ভাস্কো-ডা-গামা।
- তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন।
- উপমহাদেশে তাঁর এ আগমন ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- পর্তুগিজ ব্যবসায়ীরা প্রথম বাংলায় আসেন।

অপরদিকে,
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- উপমহাদেশে সর্বশেষে আগত ইউরোপীয় বণিক কোম্পানি হচ্ছে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
- ১৬৬৪ সালে এই বাণিজ্যিক কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬৬৮ সালে কোম্পানি সর্বপ্রথম সুরাট এবং পরের বছর মুসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- ১৬৭৩ সালে পন্ডিচেরিতে ফরাসি উপনিবেশ গড়ে ওঠে।

ওলন্দাজ বা ডাচ:
- হল্যান্ডের অধিবাসী ওলন্দাজ বা ডাচ।
- 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যিক উদ্দেশে ১৬০২ সালে এই উপমহাদেশে আসে।
- ওলন্দাজ ও অপর ইউরোপীয় শক্তি ইংরেজদের মধ্যে ব্যবসায়-বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।
- ১৭৫৯ সালে সংঘটিত বিদারার যুদ্ধে তারা ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- ফলে ১৮০৫ সালে তারা সকল বাণিজ্য কেন্দ্র গুটিয়ে ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
- প্রথমে পর্তুগিজ পরে ওলন্দাজ শক্তির পতন।
- ভারতে ইংরেজ শক্তির উত্থানের পথ সুগম করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪৩৩.
'মাৎস্যন্যায়' কোন সময়কে নির্দেশ করে?
  1. ৬ষ্ঠ-৭ম শতককে
  2. ৭ম-৮ম শতককে
  3. ৮ম-৯ম শতককে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৩৪.
বাংলাদেশে কয় ধরনের ভূমি রয়েছে?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৭
  3. গ) ১১
  4. ঘ) ১৬
  5. ঙ) ২৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমানে ১৬ ধরনের ভূমি রয়েছে। পূর্বে ছিল ১১২৪ ধরনের। ২৭ ফেব্রুয়ারী ভূমি মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা ১৬ শ্রেণীতে নিয়ে আসে। এগুলো হলোঃ বন, পাহাড়, নদী, রাস্তা, আবাদি, আবাসিক, টার্মিনাল, বন্দর, জলাভূমি, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প, বাণিজ্যিক, বিনোদন কেন্দ্র, স্মৃতিস্তভ ও ধর্মীয় স্থান। (সূত্রঃ ভূমি মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইট)
৫,৪৩৫.
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একযোগে ১০০টি সড়ক সেতুর উদ্বোধন করেন -
  1. ক) ১ জানুয়ারি, ২০২৩
  2. খ) ১৬ ডিসেম্বর, ২০২২
  3. গ) ৭ নভেম্বর, ২০২২
  4. ঘ) ১ নভেম্বর, ২০২২
ব্যাখ্যা
৭ নভেম্বর, ২০২২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যান চলাচলের জন্য ২৫ জেলায় ১০০টি সড়ক সেতুর উদ্বোধন করেছেন।

দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সারা দেশে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই সেতুগুলো একযোগে উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চ্যুয়ালি এসব সেতুর উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, “এটি হচ্ছে একযোগে একশ' সেতু উদ্বোধনের একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।”

৮৭৯ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নবনির্মিত সেতুগুলো রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এগুলো ৩৩টি রুটে ফেরি পরিষেবা মুক্ত করেছে, যা সড়ক যোগাযোগকে মসৃণ, দ্রুত, সহজতর ও নিরাপদ করবে।

সেতুগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে রয়েছে ৪৬টি, সিলেটে ১৭টি, বরিশালে ১৪টি, ঢাকা ও রাজশাহীতে ৭টি, ময়মনসিংহে ৬টি ও রংপুর বিভাগে ৩টি। 

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, ডিসেম্বর ২০২২ ও দৈনিক প্রথম আলো।
৫,৪৩৬.
কোন সিটি কর্পোরেশন দেশে প্রথমবারের মতো বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে?
  1. ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন
  2. ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন
  3. চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
  4. নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা

আমিনবাজার বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প:
- বাংলাদেশের প্রথম বর্জ্য থেকে শক্তি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আমিনবাজার বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প।
- ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে দেশে প্রথমবারের মতো বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- তুরাগ নদের কাছাকাছি আমিনবাজার এলাকায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ শুরু হয়েছে।
- প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চায়না মেশিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন (সিএমইসি)।
- ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর সিএমইসির সঙ্গে চুক্তি সই করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
- প্রকল্পটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা: ৪২.৫ মেগাওয়াট।
- প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয়:  ১৫ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা।
- ২০২৬ সালের মধ্যে এ প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।

⇒ এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি দিন ৩ হাজার টন বর্জ্য পোড়ানোর মাধ্যমে ৪২ দশমিক ৫ মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।
- বর্জ্য পোড়ানোর ফ্লাই অ্যাশ বা ছাই সিমেন্ট কারখানায় সিমেন্ট তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।
- বটম অ্যাশ সড়ক নির্মাণের কাজে ব্যবহৃত হবে।
- এ কেন্দ্র থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা (প্রতি ইউনিট) বিদ্যুৎ ১৮.২৯৫ টাকার সমপরিমাণ ২১ দশমিক ৭৮ সেন্ট দিয়ে কিনবে বিপিডিবি।

উৎস: i) Business Insider.
ii) প্রথম আলো।

৫,৪৩৭.
‘গম্ভীরা’ বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের গান?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• গম্ভীরা গান:
- গম্ভীরা গান  এক প্রকার জনপ্রিয়  লোকসঙ্গীত।
- সাধারণত বৃহত্তর  রাজশাহী অঞ্চলে এ গান প্রচলিত।
- ‘গম্ভীরা’ হচ্ছে এক প্রকার উৎসব। ধারণা করা হয় যে, গম্ভীরা উৎসবের প্রচলন হয়েছে শিবপূজাকে কেন্দ্র করে।
- শিবের এক নাম ‘গম্ভীর’, তাই শিবের উৎসব গম্ভীরা উৎসব এবং শিবের বন্দনাগীতিই হলো গম্ভীরা গান।
- গম্ভীরা উৎসবের সঙ্গে এ সঙ্গীতের ব্যবহারের পেছনে জাতিগত ও পরিবেশগত প্রভাব রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৩৮.
কত তারিখে 'জাতীয় শহীদ সেনা দিবস' পালনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার?
  1. ১ ফেব্রুয়ারি
  2. ১১ ফেব্রুয়ারি
  3. ১৯ ফেব্রুয়ারি
  4. ২৫ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস:
- ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি 'জাতীয় শহীদ সেনা দিবস' পালনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
- জাতীয় শহীদ সেনা দিবস বাংলাদেশের 'গ' শ্রেণিভুক্তি (সরকারি ছুটি ব্যতীত) একটি জাতীয় দিবস।
- বিডিআরের দরবার হল থেকে সূচনা হওয়া ওই বিদ্রোহের ইতি ঘটে নানা ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে পরদিন। পিলখানায় বিদ্রোহের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে জওয়ানরাও বিদ্রোহ করে।
- সেই বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিডিআরের নাম বদলে যায়, পরিবর্তন আসে পোশাকেও। এ বাহিনীর নাম এখন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।
৫,৪৩৯.
১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের বড়লাট ছিলেন -
  1. ক) লর্ড কার্জন
  2. খ) লর্ড হার্ডিঞ্জ
  3. গ) লর্ড মিন্টো
  4. ঘ) লর্ড চেমসফোর্ড
ব্যাখ্যা
- ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বরে ভারতের বড়লাট লর্ড কার্জনের পদত্যাগের পর লর্ড মিন্টো তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। 
- তাঁর ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বৃটেনে একটি উদারনৈতিক সরকারের আবির্ভাব ঘটে এবং জন মর্লি ভারত সচিব নিযুক্ত হন।
-  জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে ভারতে তখন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন চলছিল। 
- বঙ্গভঙ্গ বাতিলের কংগ্রেসী দাবি সরাসরি মেনে নেয়া সম্ভব ছিল না বিধায় বৃটিশ সরকার কিছুটা সমঝোতামূলক মনোভাব নিয়ে কংগ্রেসকে অন্যভাবে খুশী করার চেষ্টা করে এবং আইন পরিষদের গঠনকে আরও প্রতিনিধিত্বমূলক করার কথা বিবেচনা করে। 
 
উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৪০.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ চট্টগ্রামে পাকবাহিনীর অভিযান
  2. বঙ্গোপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর অভিযান
  3. মুক্তিবাহিনীর নৌকমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
  4. মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এইদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে অপারেশন জ্যাকপটে অংশ নেয়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৫,৪৪১.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী কোন বিভাগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বাস করে?
  1. রাজশাহী
  2. বরিশাল
  3. সিলেট
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার ৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।

দেশে বসবাসকার উপজাতির সংখ্যা:
• মোট উপজাতির সংখ্যা - ১৬,৫০,৪৭৮ জন।
• পুরুষ - ৮,২৪,৯৩৩ জন।
• মহিলা - ৮,২৫,৫৪৫ জন।
- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি বাস করে চট্টগ্রাম বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ৬০.০৪%)।
- দ্র নৃ-গোষ্ঠীভুক্ত জনসংখ্যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাস করে রাজশাহী বিভাগে (এ জনগোষ্ঠীর ১৪.৮২)।
- উপজাতির সংখ্যা সবচেয়ে কম বরিশাল বিভাগে (০.২৫%)।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।
৫,৪৪২.
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি কোথায় অবস্থিত?
  1. মানিকগঞ্জ
  2. টাঙ্গাইল
  3. ময়মনসিংহ
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি:
- বালিয়াটি জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জে অবস্থিত।
- মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং ঢাকা থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে সাটুরিয়া উপজেলার বালিয়াটি গ্রামে বালিয়াটি প্রাসাদ জাদুঘরটি অবস্থিত।
- এ জমিদার পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জনৈক গোবিন্দ রাম সাহা যিনি আঠার শতকের মাঝামাঝি সময়ে একজন মহাজন ও ব্যবসায়ী ছিলেন।
- জমিদার পরিবারের বিভিন্ন উত্তরাধিকারের মধ্যে “কিশোরিলাল রায় চৌধুরী, রায়বাহাদুর হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী তৎকালীন শিক্ষাখাতে উন্নয়নের জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
- ঢাকার জগন্নাথ কলেজ প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কিশোরিলাল রায় চৌধুরীর পিতা এবং যার নামানুসারে উক্ত প্রতিষ্ঠানের নামকরণ করা হয়।

⇒ বালিয়াটি জমিদার বাড়ি নামে পরিচিত, এই প্রাসাদ চত্বরটি প্রায় ১৬,৫৫৪ বর্গমিটার জমির উপর ছড়িয়ে থাকা ৭টি দক্ষিণমুখী দালানের সমাবেশ।
- এই দালানগুলো খ্রিষ্টীয় মধ্য ঊনবিংশ শতক থেকে বিংশ শতকের প্রথমভাগের বিভিন্ন সময়ে জমিদার পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
- সামনের চারটি প্রসাদ ব্যবহৃত হত ব্যবসায়িক কাজে।
- এই প্রসাদের পেছনের প্রাসাদকে বলা হয় অন্দর মহল যেখানে বসবাস করত তারা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৪৪৩.
মো. সাহাবুদ্দিন কততম রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ নিয়েছেন?
  1. ক) ১৯তম
  2. খ) ২০তম
  3. গ) ২১তম
  4. ঘ) ২২তম
ব্যাখ্যা
২২তম রাষ্ট্রপতি:

- বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেন - মো. সাহাবুদ্দিন।
- এ নির্বাচনের নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে একমাত্র প্রার্থী সাহাবুদ্দিনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
- দুদকের সাবেক কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন।
- ১৯৪৯ সালে পাবনায় জন্মগ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
- ২০০৬ সালে তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসরে যান।
- ব্যক্তিজীবনে তিনি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু নামেই বেশি পরিচিত।
- পেশায় আইনজীবী মো. সাহাবুদ্দিন ১৯৮২ সালে বিসিএস (বিচার) ক্যাডারে যোগ দেন।
- বিচারকের বিভিন্ন পদে চাকরি শেষে ২০০৬ সালে জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসর নেন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২৩ এপ্রিল ২০২৩।
৫,৪৪৪.
'সিন্দুরী' বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে কীসের নাম?
  1. বেগুন
  2. আম
  3. আলু
  4. টমেটো
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
• ইরাটম, ব্রি হাইব্রিড - ১ চান্দিনা, মালা, বিপ্লব, দুলাভোগ, মোহিনী, সুফলা: উন্নত জাতের ধান।
• সোনালিকা ও আকবর: উন্নত জাতের গম।
• সুমাত্রা ও ম্যানিলা: উন্নত জাতের তামাক।
• বর্ণালী, শুভ্রা ও উত্তরণ উন্নত জাতের ভুট্টা।
• মহানন্দা, ল্যাংড়া ও মােহনভােগ উন্নত জাতের আম।
• বাহার: উন্নত জাতের টমেটো।
• যমুনা: উন্নত জাতের মরিচ।
• শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, ইসলামপুরী, কাজলা, বিজয়, মুক্তকেশী, ঝুমকো: উন্নত জাতের বেগুন।
• হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ট, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা: উন্নত জাতের আলু।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
৫,৪৪৫.
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসেবে জিডিপি কৃষি খাতের অবদান-
  1. ক) ১৩.৬০%
  2. খ) ১৩.৬৫%
  3. গ) ১৩.৭০%
  4. ঘ) ১৩.৮০%
ব্যাখ্যা
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জানুয়ারি ২০২০।
৫,৪৪৬.
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার তথ্য প্রকাশ করা বিখ্যাত প্রতিবেদন ‘জেনোসাইড’ কোথায় প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. সানডে টাইমস
  2. ডেইলি টেলিগ্রাম
  3. দ্য মর্নিং নিউজে
  4. নিউ ইয়র্ক টাইমস
ব্যাখ্যা

• অ্যান্থনি মাসকারেনহাস:
-  ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিষয়টি বিশ্ববাসীর কাছে সর্বপ্রথম উন্মোচিত করেন।
- মার্চের শেষ থেকে পাকাসেনারা পরিকল্পিতভাবে হাজার হাজার লোককে হত্যা করে চলেছে।
- সানডে টাইমসের পাকিস্তান-প্রতিনিধি অ্যান্থনি ম্যাসকারেনহাস এই প্রথামবারের মতো নিরবতার পর্দা উন্মোচন করলেন।
- তিনি সেখানে পাকসেনাদের কীর্তিকলাপ দেখেছেন।  
- তিনি পাকিস্তান ছেড়ে এসেছেন বিশ্ববাসীকে সেসব জানানোর জন্য। 
- সেনাবাহিনী শুধু স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলা বা বাংলাদেশ ধারণার সমর্থকদেরই হত্যা করছে না। স্বেচ্ছাকৃতভাবে খুন করা হচ্ছে হিন্দু ও বাঙালি মুসলমান সবাইকে। 
- এরপর তিনি পাকিস্তান থেকে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
- পরিবারসহ লন্ডনে চলে যাওয়ার পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতা ফাঁস করে দেন। 

- ১৩ জুন, ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যের সানডে টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ম্যাসকারেনহাসের সেই প্রতিবেদন।
- সম্পাদকীয় পাতার দুই পৃষ্ঠা জুড়ে ছাপা হয় সেই প্রতিবেদন, সঙ্গে ছিল বিশাল হরফের শিরোনাম- জেনোসাইড
- এক শব্দের সেই শিরোনামেই প্রথমবারের মতো ফাঁস হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার ব্যাপকতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ, বাংলা ট্রিবিউন।

৫,৪৪৭.
মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর পর বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান) আওয়ামী লীগের সভাপতি কে হয়েছিলেন?
  1. ক) আবদুস সালাম খান
  2. খ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) মাওলানা আব্‌দুর রশীদ তর্কবাগীশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিগণঃ -- আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সেল (সিআরআই) সূত্রে জানা যায়, দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন। এরপর ওই বছর একটি বিশেষ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ১৯৬৪ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতি পদে ছিলেন ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত। ওই বছর ষষ্ঠ কাউন্সিলে দলের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন। ১৯৭৪ সালে দশম কাউন্সিলে সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান। ১৯৭৫ সালে ঘাতকের গুলিতে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিহত হন তিনি। এরপর ১৯৭৮ সালে কাউন্সিলে সভাপতি হন আবদুল মালেক। তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে দলের সভাপতি পদে আছেন শেখ হাসিনা। দলের ১৩তম কাউন্সিলে তিনি প্রথম সভাপতি হন। সর্বশেষ ২০তম কাউন্সিলেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। উৎসঃ প্রথম আলো আর্কাইভ।
৫,৪৪৮.
২০২০ সালে বাংলাদেশের কোন খাতে সর্বোচ্চ বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছে?
  1. ক) তৈরি পোশাক
  2. খ) টেলিযোগাযোগ
  3. গ) গ্যাস ও খনিজ
  4. ঘ) বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা
তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন। 
কিছুটা মডিফাই করে প্রশ্নটি প্রণীত হয়েছে। 

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা (UNCTAD) গত ১৬ জুন ২০২০ বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন (WIR) প্রকাশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী-
- বিদেশি বিনিয়োগ প্রাপ্তিতে শীর্ষ দেশ - যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় - চীন।
- বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী শীর্ষ দেশ - চীন, দ্বিতীয় - যুক্তরাজ্য।
- বিদেশি বিনিয়োগ প্রাপ্তিতে বাংলাদেশের শীর্ষ খাত- তৈরি পোশাক খাত।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (LDC) মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ প্রাপ্তিতে শীর্ষ দেশ - কম্বোডিয়া, দ্বিতীয় - মায়ানমার, বাংলাদেশের অবস্থান - ৫ম।

উৎসঃ Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার।
৫,৪৪৯.
তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার কে?
  1. তামিম
  2. সাকিব
  3. মাহমুদুল্লাহ
  4. মুশফিকুর রহিম
ব্যাখ্যা
- মুশফিকুর রহিম তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করা একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার। 
- ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মুশফিকুর রহিম একটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন, যা বাংলাদেশ দলের ৬৩৮ রানের সর্বোচ্চ ইনিংসের অংশ ছিল। 
- ২০১৮ এবং ২০২০ সালে মিরপুরে তিনি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরপর দুটি টেস্টে ১৫ মাসের ব্যবধানে ডাবল সেঞ্চুরি করেন। 
- এর মধ্যে প্রথমটি তাকে প্রথম উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে দুটি টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি করার গৌরব এনে দেয়।
- ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের ইনিংস এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের টেস্টে সর্বোচ্চ ইনিংস। 

উৎস: ESPNcricinfo. 
৫,৪৫০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় পরিচালিত অপারেশন 'কিলো ফ্লাইট' কার নামানুসারে গঠিত হয়? 
  1. এম এ জি ওসমানী
  2. এম এ রব
  3. এ কে খন্দকার
  4. জিয়াউর রহমান 
ব্যাখ্যা

• এ কে খন্দকার: 
- এ কে খন্দকারের জন্ম ১৯৩০ সালে বাবার কর্মস্থল রংপুরে। 
- তাঁর আদি নিবাস পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার পুরান ভারেঙ্গা গ্রামে। 
- ১৯৪৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ও ১৯৪৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি। 
- ১৯৫২ সালে পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। 
- গ্রুপ ক্যাপ্টেন হিসেবে তিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন এবং ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

- মুক্তিযুদ্ধের অব্যবহিত আগে এ কে খন্দকার ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর দ্বিতীয় প্রধান।
 - সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি মহান মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।
 - তাঁর সঙ্গে ছিলেন বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ বৈমানিক। তাঁরা মুক্তিবাহিনীর বিমান শাখা গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। 

- নাগাল্যান্ডের ডিমারপুরে একটি বিমানঘাঁটি করা হয় এবং ২৮ সেপ্টেম্বর বিমানবাহিনী গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
 - এই বিমানবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল তিনটি বিমান নিয়ে।
 - এ কে খন্দকারের নাম অনুসারে গঠন করা ‘কিলো ফ্লাইট’ ছিল মুক্তিবাহিনীর বিমান উইংয়ের প্রথম ইউনিট। 
- ‘কে’ দিয়ে যেহেতু খন্দকার হয়, তাই এর নাম দেওয়া হলো ‘কিলো ফ্লাইট’। ‘কে’ ফর কিলো। আর ‘ফ্লাইট’ হচ্ছে বিমানের ভাষায় স্কোয়াড্রন থেকে ছোট একটা ইউনিট। 

- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক মুহূর্তে মুক্তিবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবে এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
 - স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমানবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন।
- তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত বিমানবাহিনী পুনর্গঠিত হয়। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর প্রধান ছিলেন তিনি।

- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অনন্য অবদান রাখার জন্য এ কে খন্দকার ১৯৭৩ সালে ‘বীর উত্তম’ খেতাব এবং ২০১১ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। 
- তিনি সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
- মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে এ কে খন্দকারের লেখা ১৯৭১: ভেতরে বাইরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের আলোচিত একটি গ্রন্থ। 

- ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ (শনিবার) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। 
- তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর।


তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link) (Link2)

৫,৪৫১.
প্রাচীন বাংলার প্রথম স্বাধীন নরপতির নাম কী?
  1. হর্ষবর্ধন
  2. শশাঙ্ক
  3. অশোক
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
সপ্তম শতকের প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪-৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।
সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪৫২.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দায়িত্ব রাষ্ট্রের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ২১
  2. অনুচ্ছেদ ২৩(ক)
  3. অনুচ্ছেদ ২৫
  4. অনুচ্ছেদ ১৮(ক)
ব্যাখ্যা

◉ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৩(ক)-এ বলা হয়েছে—
“রাষ্ট্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃগোষ্ঠী, অনগ্রসর জনগোষ্ঠী এবং সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

বাংলাদেশের সংবিধান:
- অনুচ্ছেদ ২৩ক: উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি: রাষ্ট্র বিভিন্ন উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের অনন্য বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঞ্চলিক সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও বিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ১৮ক: পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।
- অনুচ্ছেদ ২১: নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য।
- অনুচ্ছেদ ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

৫,৪৫৩.
বাংলাদেশের সংবিধান কত তারিখে গণপরিষদে গৃহীত হয় -
  1. ২ অক্টোবর, ১৯৭২
  2. ১১ এপ্রিল, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
• ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহিত হয়।
• ১৫ ডিসেম্বর গণপরিষদ সদস্যরা চূড়ান্তভাবে গৃহিত সংবিধানের কপিতে স্বাক্ষর করেন।
• ১৯৭২ সালের হাতে লেখা সংবিধান কপিতে মোট ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
• সবার প্রথমে স্বাক্ষর করেন বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান।
• তবে গণপরিষদের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
• ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।  

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৫,৪৫৪.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, এশিয়ার কোন দেশে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে?
  1. ভারত
  2. নেপাল
  3. শ্রীলঙ্কা
  4. জাপান
ব্যাখ্যা
রপ্তানি আয়:
- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশ - যুক্তরাষ্ট্র।
- যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।
- যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হার ১৫.৮৭%।
- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে জার্মানি।
- জার্মানিতে রপ্তানি হার ১১.২১%।
- একক দেশ হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্যের তৃতীয় অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য।
- যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হার ১০.৫২%।

• এশিয়া,
- এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে – জাপানে।
- জাপানে রপ্তানি হার ৩.৪০%।

• অঞ্চল,
- অঞ্চল হিসাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে - ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহে।
- ইউরোপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্রেতা রাষ্ট্র - জার্মানি।
- ইউরোপের দেশগুলোতে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক।

তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
৫,৪৫৫.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী কোনটি?
  1. আত্মকথা
  2. স্মৃতি কথা
  3. বোধোদয়
  4. আত্মচরিত
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে।
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।
- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৫৬.
বৃহত্তর যুক্ত বাংলার প্রস্তাবকে বলা হয় -
  1. ক) কাশিম-বসু প্রস্তাব
  2. খ) হক-সোহরাওয়ার্দি প্রস্তাব
  3. গ) বসু-সোহরাওয়ার্দি প্রস্তাব
  4. ঘ) হাশিম-সোহরাওয়ার্দি প্রস্তাব 
ব্যাখ্যা
• অখন্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে হিন্দু মুসলমান সম্পর্ক চরম পর্যায়ে চলে গেলে তা এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু। প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাসে বসু-সোহরাওয়ার্দি প্রস্তাব নামে খ্যাত
- শরৎচন্দ্র বসু এক প্রস্তাবে অখন্ড বাংলাকে একটি ‘সোস্যালিস্ট রিপাবলিক’ হিসেবে গড়ে তোলার আহবান  জানান।
-  অখন্ড বাংলা রাষ্ট্রের প্রবক্তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৃহত্তর বাংলাকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমৃদ্ধ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,  এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৫,৪৫৭.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. গ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার
- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল ঘোষিত মুজিবনগর সরকার ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে।
- বৈদ্যনাথতলার পরিবর্তিত নাম মুজিবনগর।
- তাজউদ্দিন আহমেদ ১২ এপ্রিল মন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করেন;
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান - প্রেসিডেন্ট
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম - ভাইস-প্রেসিডেন্ট
- তাজউদ্দীন আহমেদ - প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
- খন্দকার মোশতাক আহমদ - পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ
 - এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান - অভ্যন্তরীণ সরকার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন
 - ক্যাপ্টেন মনসুর আলী - অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৫৮.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’ ভাষা আন্দোলনের সময়ে রচিত জনপ্রিয় গানটির রচয়িতা-
  1. আবদুল লতিফ
  2. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  3. আলতাফ মাহমুদ
  4. গোবিন্দ হালদার
ব্যাখ্যা

ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের সময়ে লেখা আবদুল লতিফের সবেচেয়ে জনপ্রিয় ও বিখ্যাত গান - ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’। এ গানটিতে তিনি বাংলাদেশের লোকসঙ্গীতের আবহ ও সুরকে ফুটিয়ে তুলেছেন।
গানটি পূর্ব বাংলার ঐতিহ্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক প্রতীকী গানের বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত তার আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ এর প্রথম সুরকার তিনি।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]

৫,৪৫৯.
২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘাটতির (অনুদানসহ) পরিমাণ ____ কোটি টাকা।
  1. ক) ১,৪১,২১২
  2. খ) ১,৪৫,৩৮০
  3. গ) ১,৪১,৩৮০
  4. ঘ) ১,৪৪,৩৮০
ব্যাখ্যা
২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘাটতির (অনুদানসহ) পরিমাণ ১,৪১,২১২ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ঘাটতির (অনুদান ব্যতীত) পরিমাণ ১,৪৫,৩৮০ কোটি টাকা।
৫,৪৬০.
‘সাবাস বাংলাদেশ’ ভাস্কর্যের স্থপতি কে?
  1. নিতুন কুণ্ডু
  2. হামিদুর রহমান
  3. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা

সাবাস বাংলাদেশ:
- 'সাবাস বাংলাদেশ' ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্যগুলোর অন্যতম।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী ভাস্কর্যটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ভাস্কর্য।
- ভাস্কর্যটির স্থপতি শিল্পী নিতুন কুণ্ডু।
- এই ভাস্কর্যটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত।
- ১৯৯২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কংক্রিটে তৈরি ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেন জাহানারা ইমাম।
- মূল ভাস্কর্যটি ৪০ বর্গফুট মাপের একটি বেদির ওপর অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা।

৫,৪৬১.
'ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন' কবে উদ্বোধন করা হয়?
  1. ১২ মার্চ, ২০২৩
  2. ১৮ মার্চ, ২০২৩
  3. ২৪ মার্চ, ২০২৩
  4. ২৮ মার্চ, ২০২৩
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন:
- ‘ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন’ দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ডিজেল আসবে।
- ১৮ মার্চ,২০২৩ তারিখে এই ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন ভার্চ্যুয়ালি উদ্বোধন করা হয়।
- পাইপলাইনটি উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। 

উল্লেখ্য,
- শিলিগুড়ি টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন তৈরি করা হয়েছে।
- বছরে ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করা যাবে এই পাইপলাইন দিয়ে। 
- চুক্তি অনুসারে, সরবরাহ শুরুর পর ১৫ বছর পর্যন্ত এই পাইপলাইন দিয়ে ভারত থেকে ডিজেল নেবে বিপিসি।
- এ পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় মোট ১৩১.৫৭ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে।
- তার মধ্যে বাংলাদেশ অংশে ১২৬.৫৭ কিলোমিটার এবং ভারত অংশে ৫ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে।

উৎস: ১৮ মার্চ ২০২৩, প্রথম আলো।
৫,৪৬২.
ছয় দফা অনুযায়ী কর ধার্য ও আদায়ের ক্ষমতা ছিল কার হাতে?
  1. ক) আঞ্চলিক সরকারের হাতে
  2. খ) উভয় সরকারের হাতে
  3. গ) বিশেষ কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে
  4. ঘ) কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে
ব্যাখ্যা
• ছয় দফার চতুর্থ দফা ছিল - আঞ্চলিক সরকারে হাতে থাকবে সকল প্রকার কর ধার্য করার ও আদায়ের ক্ষমতা।
• আদায়কৃত রাজস্বের একটি অংশ কেন্দ্রীয় সরকারকে দেয়া হবে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৫,৪৬৩.
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের সুর রচনায় কার প্রভাব রয়েছে?
  1. ক) লালন সাঁই
  2. খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) গগণ হরকরা
  4. ঘ) অতুলপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত রচনার ইতিহাস:
- ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক রচিত ‘আমার সোনার বাংলা’ শীর্ষক সঙ্গীতটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গৃহীত হয়।
- এই সঙ্গীত বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
- বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫) বিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যম হিসেবে এ গান প্রচার করেন।
- গানটি সুর করার ক্ষেত্রে গগন হরকরা রচিত কালজয়ী বাউল গান ‘আমি কোথায় পাবো তারে’ এর প্রভাব রয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীতে গগন হরকরার প্রভাব পড়ে যেভাবে:
- তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের নদীয়ার (বর্তমান কুষ্টিয়া) একটি ছোট গ্রামে গগনের বাস।
- ভূ-খন্ডের এই অংশে তখন প্রতিনিধিত্ব লালন সাঁই, গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙাল হরিনাথ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের মতো কালজয়ী প্রতিভাদের। শিলাহদহ এস্টেটে ঠাকুরবাড়ির জমিদারি দেখাশোনার জন্য আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- শিলাইদহ পোস্ট অফিসে ডাকহরকরার কাজের ফাঁকে গান রচনা ও গাইতেন গগন। তিনি বাউল সম্রাট ফকির লালনের অনুসারী ছিলেন।
- রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে এলে চিঠিপত্রাদি দিতে জমিদার কাচারিতে যাওয়া হতো গগনের।
- তার রচিত ও সুরারোপিত ‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটি শুনে মুগ্ধ হন রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ গগণের নাম ও তার গানের বিষয়ে তার প্রবন্ধ “An Indian Folk Religion” এ উল্লেখ করেন।
- সেখানে ‘আমি কোথায় পাবো তারে’-গানটির উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “The first Baul song, which I chanced to hear with any attention, profoundly stirred my mind.”

এই গান রবীন্দ্রনাথকে এতোটাই প্রভাবিত করে যে, তিনি এর সুরে রচনা করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’।
---------------
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ডাকঘর নাটকটি গগন হরকরার জীবন থেকে প্রভাবিত হয়ে লিখেছিলেন।
- নাটকের গগেন্দ্রনাথ ঠাকুর চরিত্রটি তা প্রমাণ করে।

উৎস: ডেইলি স্টার পত্রিকা রিপোর্ট ও বিডি নিউজ২৪.কম আর্কাইভ।
৫,৪৬৪.
বাংলাদেশের বৃহত্তম সেতু কোনটি?
  1. পদ্মা সেতু
  2. মেঘনা সেতু
  3. বঙ্গবন্ধু সেতু
  4. গড়াই সেতু
ব্যাখ্যা
পদ্মা সেতু:
- পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত পদ্মা সেতু একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু।
- এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু।
- সেতুটি মুন্সিগঞ্জের মাওয়া, লৌহজংকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- এর ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত উত্তর-পুর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৬.১৫ কিলোমিটার।
- পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সভাপতি ছিলেন অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী।
- সেতুতে মোট পাইল রয়েছে ২৭২টি।
- পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় করে।
- পদ্মা সেতুর মোট স্প্যান ৪১টি, যার প্রতিটির দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার।
- পদ্মা সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৪২টি।
- পদ্মা সেতুর নেভিগেশন ক্লিয়ারেন্স ১৮.৩০ মিটার।
- ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে প্রথম স্প্যান বসানো হয়।
- ১০ ডিসেম্বর ২০২০ সালে শেষ স্প্যান বসানো হয়।
- ২৫ জুন ২০২২ সালে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তথ্যসূত্র - ডেইলি স্টার বাংলা, জুন ২৫, ২০২২ ও যুগান্তর, ২৪ জুন ২০২২।
৫,৪৬৫.
একুশে পদক চালু করা হয় কবে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৬ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা

একুশে পদক:
- এটি বাংলাদেশের একটি জাতীয় পুরস্কার।
- ১৯৭৬ সালে প্রথম এ পুরস্কার চালু করা হয়। 
- জাতীয় জীবনে নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশিষ্ট অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার একুশে পদক প্রদান করে থাকে।
- এ পুরস্কারের জন্য বিবেচ্য ক্ষেত্রগুলি হলো সাহিত্য, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা, অর্থনীতি ও দারিদ্য বিমোচন, শিল্প-সংস্কৃতি, সঙ্গীত, নৃত্য, চারুকলা, নাট্যাভিনয়, ভাস্কর্য, এবং ভাষা আন্দোলনে অবদান।
- প্রতিটি পুরস্কারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নগদ ১৮ ক্যারেট মানের তিন ভরি ওজনের স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র ও নগদ অর্থ।
- শুরুতে পুরস্কারের অর্থের পরিমাণ ছিল পঁচিশ হাজার টাকা।
- পরবর্তী সময়ে এ অর্থের পরিমাণ চল্লিশ হাজার টাকায় উন্নীত হয়।
- সরকার ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী  আবুল বরকত  রফিক উদ্দিন আহমদ,  আবদুস সালাম ও  আবদুল জববার এ চারজন শহীদকে ২০০০ সালে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।

৫,৪৬৬.
দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. ঢাকা
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. খুলনা
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

দেশের প্রথম জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ:
- দেশের প্রথম 'জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ' নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত।
- নারায়ণগঞ্জে ২১ জন শহীদের নামে নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’।
- ১৪ জুলাই, ২০২৫ তারিখে নারায়ণগঞ্জের হাজীগঞ্জ এলাকায় স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৫ উপদেষ্টা। তারা হলেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
- বৈষম্যের বিরুদ্ধে টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে, অর্থাৎ ৩৬ জুলাই পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে শহীদ হন ৫৬ জন, আহত হন ৩৭০ জন ।
- নিহতদের মধ্যে ২১ জন ছিলেন নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা।
- শহীদদের স্মরণে সরকারি উদ্যোগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় নির্মিত হয়েছে এই স্মৃতিস্তম্ভ।

তথ্যসূত্র - যুগান্তর ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

৫,৪৬৭.
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পদবী কী ছিলো?
  1. ক) সিপাহি
  2. খ) ক্যাপ্টেন
  3. গ) ল্যান্স নায়েক
  4. ঘ) ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার
ব্যাখ্যা
বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ হামিদুর রহমান(১৯৪৫-১৯৭১)  ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহি এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদ। পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার চাপড়া থানার ডুমুরিয়া গ্রামে ১৯৪৫ সালে তাঁর জন্ম। 
-  ১৯৭১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন এবং রেজিমেন্টের চট্টগ্রাম সেনানিবাস কেন্দ্রে তাঁকে নিয়োগদান করা হয়। ২৫ মার্চ রাতে পাকবাহিনীর আক্রমণের মুখে তিনি সেনানিবাস ত্যাগ করে গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। পরে তিনি বর্তমান মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ধলই নামক স্থানে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেন।
- ২৮ অক্টোবর ১৯৭১ তিনি শহীদ হন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৬৮.
নিচের কোন জেলা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ফরিদপুর
  2. ঢাকা
  3. ক ও খ 
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বঙ্গ:
- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪৬৯.
'জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থী'- উক্তিটি কার?
  1. দুদু মিয়া
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. তিতুমীর
  4. হাজী শরীয়তউল্লাহ
ব্যাখ্যা
• দুদু মিয়া:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল ফরিদপুর জেলায় এবং তার নেতৃত্বে এটি শুরু হয়।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর পুত্র দুদু মিয়া।
- তিনি ধর্মীয় সংস্কারমূলক এ আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেন।
- দুদু মিয়া ঘোষণা করেন, “জমি থেকে খাজনা আদায় আল্লাহর আইনের পরিপন্থি”।

অপরদিকে,
- হাজী শরীয়তুল্লাহ একটি ইসলামী সংস্কার আন্দোলনের ডাক দেন।
- আল্লাহ কর্তৃক নির্দেশিত অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে ফরজ বলা হয়।
- শরীয়তুল্লাহ মুসলমানদের স্থানীয় লোকাচার পালনের বিরোধী ছিলেন।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে।
- অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় কর্তব্যসমূহকে কার্যকর করতে হাজী শরিয়তউল্লাহ ফরায়েজি মতাদর্শ প্রতিষ্ঠিত করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রথমপত্র, মো. মোজাম্মেল হক।
৫,৪৭০.
বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু মাছ গ্রহণের পরিমাণ কত গ্রাম?
  1. ক) ৪৫.২৮ গ্রাম
  2. খ) ৫২.৪২ গ্রাম
  3. গ) ৬২.৫৮ গ্রাম
  4. ঘ) ৭২.৭৫ গ্রাম
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু মাছ গ্রহণের পরিমাণ ৬২.৫৮ গ্রাম যা চাহিদার (৬০ গ্রাম) তুলনায় বেশি।
(সূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০ : পৃষ্ঠা-৯০)
৫,৪৭১.
মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের পরিমাণ শতকরা কত? [কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪]
  1. ১০.৫৫%
  2. ৯.৬২%
  3. ১১.২৫%
  4. ৮.৯৫%
ব্যাখ্যা

মৎস্য উৎপাদন:
- মোট মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৫০,১৮,৪৮৩ মে.টন।
- মিঠা পানিতে মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৪৩,৮৯,৮৬০ মে.টন।
- লোনা মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ: ৪,২৮,৬২৩ মে.টন।

• ইলিশ - ১০.৫৫%।
• চিংড়ি - ৫.১৯%।
• মেজরকার্প (রুই, কাতলা, মৃগেল) - ২২.৬৪%।
• এক্সটিককার্প (সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, ইত্যাদি) - ১১.০৯%।
• অন্যান্যকার্প (কালিবাউস, বাটা, ঘনিয়া) - ৩.১৩%।
• তেলাপিয়া - ৮.৭৬%।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৫,৪৭২.
২০২৫ সালের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে প্যারাস্যুটিং প্রদর্শনীতে কতজন প্যারাট্রুপার অংশগ্রহণ করেছিলেন?
  1. ৫২ জন
  2. ৫৩ জন
  3. ৫৪ জন
  4. ৫৫ জন
ব্যাখ্যা

• সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ব রেকর্ড:
- মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং করে বাংলাদেশ বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে।
- ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ সালে রাজধানীর তেজগাঁও পুরোনো বিমানবন্দর সংলগ্ন প্যারেড গ্রাউন্ডে সশস্ত্র বাহিনীর উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই প্যারাস্যুটিং প্রদর্শনীতে টিম বাংলাদেশ-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার অংশ নেন।
- স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে তারা জাতীয় পতাকা হাতে আকাশ থেকে অবতরণ করেন।
- এটি বিশ্বের সর্বাধিক পতাকা হাতে প্যারাস্যুটিং, যার মাধ্যমে এই বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
- এই ঐতিহাসিক আয়োজন প্রত্যক্ষ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

উৎস: ইত্তেফাক প্রতিবেদন।

৫,৪৭৩.
কোন শাসক সর্বপ্রথম বাংলায় মুদ্রা প্রচলন করেন?
  1. ঈশা খাঁ
  2. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  4. শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ
ব্যাখ্যা
⇒ শামসুদ্দিন ফিরোজ শাহ:
→ ১২০০ হতে ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এ অঞ্চলে মুসলিম যুগের শাসনামল লক্ষ করা যায়।
→ ইতিহাসে এ সময়কে স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
→ ১৩০১ খ্রিস্টাব্দে শামছুদ্দিন ফিরোজ শাহ বিনিময় প্রথা রহিত করে সোনারগাঁয়ে প্রথম মুদ্রার প্রচলন করেন।
 
→ মধ্যযুগে শেরশাহের আমলে সমগ্র রাজত্বকে কতগুলো সরকার এবং পরগণায় বিভক্ত করা হয়। তখন জমির উৎপাদিত ফসলের এক-চতুর্থাংশ খাজনা হিসাবে কৃষকরা দিত।
→ সম্রাট আকবরের আমলে ১৫৮২ খ্রিস্টাব্দে রাজা টোডরমল এ অঞ্চলের রাজস্ব বন্দোবস্তের তালিকা প্রস্তুত করেন।
 
তথ্যসূত্র: অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৭৪.
বাংলাদেশের ওরাওঁ নৃগোষ্ঠী বসবাস করে কোন জেলায়?
  1. হবিগঞ্জ
  2. ময়মনসিংহ
  3. রাজশাহী
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ নৃগোষ্ঠী: 
- ওরাওঁ নৃগোষ্ঠীর বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে। তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।

উল্লেখ্য, 
- তাদের ভাষা কুরুক। পোশাকের ক্ষেত্রে পুরুষরা লুঙ্গি, ধুতি ও শার্ট পরিধান করে, আর নারীরা শাড়ি, ব্লাউজ ও সালোয়ার-কামিজ পরে। ঐতিহ্যগতভাবে তারা জড়োপাসক এবং ধরমেশ বা সূর্যদেবতার উপাসক। তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘ডানডাকাঁটা’ উৎসব। ওরাওঁদের খাবারের মধ্যে ভাত, শাক-সবজি ও শুঁটকি মাছ প্রধান, পাশাপাশি দেশীয় মদও তাদের সংস্কৃতির অংশ। তারা বিভিন্ন নৃত্য ও সঙ্গীত উৎসবের মাধ্যমে সামাজিক জীবনকে আনন্দময় করে তোলে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৭৫.
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী কত সালে সংসদে পাস হয়
  1. ২০১৩ সালে
  2. ২০১২ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১১ সালে
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী:
-  সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন ২০১১ সালের ২৫ জুন সংসদে পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা হয়।
- রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা আবারও প্রতিষ্ঠিত হয়।

 • এ সংশোধনীতে আরো যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়:
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল, 
- সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০-এ উন্নীতকরণ।
- সংবিধানের পূর্ববর্তী অনুচ্ছেদ ৭-এর স্থলে ৭(১) এবং ৭(খ) যুক্ত করা হয়, যার উদ্দেশ্য অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের সমাপ্তি ঘটানো।

উৎস: সংবিধান।

৫,৪৭৬.
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ নির্বাচনে বাংলাদেশ কয় বার জয়লাভ করেছে?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. নির্বাচিত হয়নি
ব্যাখ্যা

• নিরপত্তা পরিষদ:
- জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য ৫টি দেশ।
- দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদেরও স্থায়ী সদস্য।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫টি।
- এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী সদস্য এবং ১০টি অস্থায়ী সদস্য।
- স্থায়ী সদস্য ৫টি দেশ হলো: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।
- অস্থায়ী সদস্যরা ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। 
- নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যেকোন প্রস্তাব পাশের জন্যে এই ৫টি দেশের সম্মতির প্রয়োজন হয়।
- জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ দু’বার নির্বাচিত হয়, প্রথমবার জাপানকে পরাজিত করে ১৯৭৯-১৯৮০ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০০০-২০০১ সালে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৭৭.
বাংলায় তুর্কি শাসন প্রতিষ্ঠা পায় কত সালে?
  1. ১২২৫ সালে
  2. ১২২৬ সালে
  3. ১২২৭ সালে
  4. ১২২৮ সালে
ব্যাখ্যা
তুর্কি শাসন:
- ১২২৭ সালে বাংলায় তুর্কি শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- ১২২৭ থেকে ১২৮১ সাল পর্যন্ত তেমন ১৫ জন তুর্কি শাসক বাংলা শাসন করেছিলেন।
- বাংলায় প্রথম তুর্কি শাসক ছিলেন নাসিরুদ্দিন মাহমুদ।
- এ সময় থেকে বাংলার শাসনকর্তারা দিল্লির সুলতানদের কাছ থেকে নিয়োগ লাভ করে এখানকার শাসক হতেন।
- বাংলায় দিল্লির অনুগত কোনো শাসনই প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বরং দিল্লির মনোনীত তুর্কি শাসকরাই একের পর এক বিরোধিতা অব্যাহত রাখেন।
- দিল্লির শাসকরা যেমন, ইলতুতমিশ, বলবন, গিয়াসউদ্দিন তুঘলক ও মুহাম্মদ বিন তুঘলক বাংলার শাসকদেরকে প্রতিহত করতে একের এর এক অভিযান চালিয়ে বিদ্রোহ দমন করেন।
- দিল্লির শাসনকালে বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ লেগেই ছিল।
- দিল্লির সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন বাংলার তৎকালীন স্বাধীন শাসক তুগ্রিল খানকে দমনের জন্য নিজেই আক্রমণ করেন।যুদ্ধে তুগ্রিল খান নিহত হন। ফলে বাংলা দিল্লির শাসনাধীন হয়।
- ১২৮৭ সালে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন মারা গেলে বঘরা খান নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ নাম ধারণ করে ১২৯০ সাল পর্যন্ত বাংলার স্বাধীন সুলতান হিসেবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- ১৩২৫ সালে দিল্লির শাসক গিয়াসউদ্দিন তুঘলক বাংলা অধিকার করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৭৮.
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্য অনুযায়ী, ধান উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কত?
  1. ক) দ্বিতীয়
  2. খ) তৃতীয়
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) পঞ্চম
ব্যাখ্যা
• খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO):
- রিপোর্ট প্রকাশকাল - ১৫ জুন ২০২৩ইং  
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)এর তথ্য অনুযায়ী, 
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ দেশ - চীন।
- দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। 
- ধান উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয়।

এছাড়াও - 
- ধান আমদানিতে শীর্ষ দেশ - চীন।
- ধান রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ - ভারত।

- গম উৎপাদনে শীর্ষ দেশ - চীন।
- গম আমদানিতে শীর্ষ দেশ - মিশর।
- গম রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ - রাশিয়া।

- ভুট্টা উৎপাদনে শীর্ষ দেশ - যুক্তরাষ্ট্র (৩৬২.৪ মি. টন)।
- ভুট্টা আমদানিতে শীর্ষ দেশ - চীন (২৩.৩ মি. টন)।
- রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ - যুক্তরাষ্ট্র (৫৮.৯ মি. টন)।

তথ্যসূত্র: খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) ওয়েবসাইট।
৫,৪৭৯.
বর্তমানে দেশের চাহিদার কত শতাংশ ঔষধ দেশে উৎপাদিত হয়? [সেপ্টেম্বর, ২০২৫]
  1. ৫৭ শতাংশ 
  2. ৬৬ শতাংশ 
  3. ৮৭ শতাংশ 
  4. ৯৮ শতাংশ 
ব্যাখ্যা

ঔষধ শিল্প:
- স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশে ঔষধ প্রাপ্তি মূলত আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল।
- ফলে অনেক উচ্চ মূল্যে জনগণকে ঔষধ ক্রয় করতে হতো।
- বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৮% ঔষধ দেশে উৎপাদিত হয়
- বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঔষধ আমদানিকারক দেশ হতে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।
- এরা বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল উন্নত বিশ্বের ইউরোপ ও আমেরিকাসহ রপ্তানি করছে ১৫৭টি দেশে।

⇒ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ২১৩ মিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ থেকে ওষুধ রপ্তানি শুরু হয় ১৯৮৫ সালে।
- ১৯৭৩ সালে প্রয়োজনীয় ওষুধ আমদানি করার জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের অধীনে একটি সেল গঠন করা হয়েছিল।
- সরকার ১৯৭৪ সালে ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তর গঠন করে।
- ১৯৮২ সালে ঔষধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে ক্ষতিকর ও অপ্রয়োজনীয় ঔষধ বাজারজাতকরণ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ বৃদ্ধি করা হয়।
- ১৯৮২ সালের ওষুধনীতিতে ১৫০টি ওষুধকে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
         ii) The Daily Star Bangla.

৫,৪৮০.
বাংলাদেশে সাংবিধানিক গণভোট ছিল- 
  1. তৃতীয় গণভোট
  2. প্রথম গণভোট
  3. দ্বিতীয় গণভোট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- ১৯৯১ সালে সাংবিধানিক গণভোেট তথা দেশের ৩য় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে।
- দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে।
- সর্বশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তৃতীয় গণভোট:
- গণ আন্দোলনে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করেন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ।
- এর ৩ মাসের মধ্যে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয় বিএনপি।
- ১৬ বছরের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রীশাসিত সংসদীয় পদ্ধতির (পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি) সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট মধ্যরাতে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদে বিল পাস হয়।

উৎস: গণভোট আইন ১৯৯১ এবং  প্রথম আলো পত্রিকা।[লিঙ্ক]

৫,৪৮১.
সংবিধানের কোন সংশোধনীতে "রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম" সংযোজিত হয়?
  1. দ্বিতীয় সংশোধনী
  2. চতুর্থ সংশোধনী
  3. অষ্টম সংশোধনী
  4. দশম সংশোধনী
ব্যাখ্যা

অষ্টম সংশোধনী:
- সংসদে উত্থাপন: ১১ মে, ১৯৮৮।
- উত্থাপনকারী: সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।
- সংসদে গৃহীত: ৭ জুন, ১৯৮৮।
- রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভ: ৯ জুন, ১৯৮৮।

⇒ এ সংশোধনীর মৌলিক বিষয়গুলো হল:
- ইসলাম ধর্মকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ঘোষণা দান,
- হাইকোর্ট বিভাগের ছয়টি বেঞ্চ যথাক্রমে বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, যশোর, রংপুর ও সিলেটে স্থাপন করা,
- বাংলাদেশের কোন নাগরিক রাষ্ট্রপতির অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ থেকে কোন উপাধি গ্রহণ করতে পারবে।
- রাজধানীর বানান Dacca এর পরিবর্তে Dhaka এবং বাংলা ভাষা ইংরেজি Bengali এর পরিবের্ত Bangla গৃহীত হয়।

⇒ কিন্তু এ সংশোধনী হাইকোর্ট বিভাগীয় বেঞ্চ সম্পর্কে দু'জন নাগরিক রীট পিটিশন করেন। তারা দুজন হলেন- আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও জালাল উদ্দিন। তাদের এ রীট পিটিশনের ফলে ঢাকার বাইরে হাইকোর্ট বিভাগের ৬টি স্থায়ী বেঞ্চ রহিত করা হয়। পরবর্তীতে এটি বাতিল হয়ে যায়।

উৎস: i) BBC.
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪৮২.
রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অনুযায়ী কাজী নজরুল ইসলাম কবে থেকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসাবে বিবেচিত হবেন?
  1. ১৯৭২ সালের ৪ মে
  2. ১৯৭৩ সালের ২৪ মে
  3. ১৯৭২ সালের ২৪ মে
  4. ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি:
- বাংলাদেশের জাতীয় কবির রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেলেন কাজী নজরুল ইসলাম।
- তিনি ১৯৭২ সালের ৪ মে থেকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসাবে বিবেচিত হবেন।

- ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে কলকাতা থেকে সরকারি উদ্যোগে সপরিবার ঢাকায় আনা হয়।
- তাঁর বসবাসের জন্য ধানমন্ডির ২৮ নম্বর (পুরাতন) সড়কের ৩৩০-বি বাড়িটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
- ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য কাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
- ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গভবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ উল্লাহ কবি নজরুল ইসলামকে ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী কবি নজরুল ইসলামের উদ্দেশে একটি মানপত্র পাঠ করেন।
- ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে।
- একই বছর, ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

উল্লেখ্য, 
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।
• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র-মঙ্গল।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো নিউজ। [লিঙ্ক] ও প্রজ্ঞাপন [লিঙ্ক]
৫,৪৮৩.
'একুশে পদক-২০২৩' পুরস্কার প্রদান করা হয় কত জন ব্যক্তিকে?
  1. ক) ২০ জন
  2. খ) ২১ জন
  3. গ) ১৯ জন
  4. ঘ) ২৪ জন
ব্যাখ্যা
একুশে পদক-২০২৩
- 'একুশে পদক' বাংলাদেশের দ্বিতীয় সম্মানজনক বেসামরিক পুরস্কার।
- ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সালে এই পদকের প্রচলন করা হয়।
- বাংলাদেশ সরকারের ‘সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়' এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
- ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় 'একুশে পদক-২০২৩' এর জন্য ১৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ২টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। 

উৎস: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, ফেব্রুয়ারি ২০২৩।
৫,৪৮৪.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতটি দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৭৮-৮০):
- ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ এ দু বছরের জন্য একটি দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা রচনা করা হয়।
-  বাংলাদেশের একটিমাত্র দ্বি-বার্ষিক পরিকল্পনা।
- কারণ হিসেবে বলা হয় প্রথম পরিকল্পনার অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো শেষ করা।
- প্রথম পরিকল্পনার ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ক্ষেত্র প্রস্তুত করা, বৈদেশিক সাহায্যের সম্ভবনা যাচাই প্রভৃতির জন্য দুৎবছর মেয়াদী একটি অন্তর্বতীকালীন পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪৮৫.
Who won Bangla Academy Literary Award 2022 for liberation war based research?
  1. ক) Subhash Singh Roy
  2. খ) Muhammad Shamsul Haque
  3. গ) Mokaram Hossain
  4. ঘ) Parvez Hossain
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২:
সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় এ বছর ১১টি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন এই পুরস্কার পাচ্ছেন।

• বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২২ পাচ্ছেন —
- কবিতায় - ফারুক মাহমুদ ও তারিক সুজাত।
- কথাসাহিত্যে - তাপস মজুমদার ও  পারভেজ হোসেন।
- প্রবন্ধ বা গবেষণায় - মাসুদুজ্জামান।
- অনুবাদে - আলম খোরশেদ।
- নাটকে - মিলন কান্তি দে ও ফরিদ আহমদ দুলাল।
- শিশুসাহিত্যে ধ্রুব এষ।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গবেষণায় - মুহাম্মদ শামসুল হক
- বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণায় - সুভাষ সিংহ রায়।
- বিজ্ঞান, কল্পবিজ্ঞান বা পরিবেশ বিজ্ঞানে - মোকারম হোসেন।
- আত্মজীবনী, স্মৃতিকথা বা ভ্রমণ কাহিনীতে - ইকতিয়ার চৌধুরী এবং
- ফোকলোরে - আবদুল খালেক ও মুহম্মদ আবদুল জলিল।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ডেইলি স্টার নিউজ।
৫,৪৮৬.
রানী চাঁদ সুলতানা কোন মুসলিম রাজ্যের রানী ছিলেন?
  1. ক) আহমদ নগর
  2. খ) বিজাপুর
  3. গ) গোলকুন্ডা
  4. ঘ) খান্দেশ 
ব্যাখ্যা
রানী চাঁদ সুলতানা আহমদ নগর মুসলিম রাজ্যের রানী ছিলেন।

• আহমদ নগর:

- সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে দাক্ষিণাত্যে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুন্ডা, বিদর এবং খান্দেশ এই পাঁচটি স্বাধীন মুসলিম রাজ্য ছিল। এদের মধ্যে আহমদনগর ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
- আকবর প্রথমে দূত পাঠিয়ে এসব রাজ্যের সুলতানদের মোগল আধিপত্য মেনে নেয়ার প্রস্তাব দেন।
কিন্তু একমাত্র খান্দেশের সুলতান সম্রাট আকবরের আনুগত্য স্বীকার করে। ফলে আকবর সমরাভিযানের প্রস্তুতি মনোনিবেশ নেন।
- ১৫৯৫ খ্রিস্টাব্দে মোগল বাহিনী আহমদনগর অভিযানে বের হয়।
- আহমদনগরের রাণী চাঁদ সুলতানা আকবরকে বেরার প্রদেশ দান করে তাঁর সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেন।
- ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে চাঁদ সুলতানার মৃত্যুর পর আহমদনগর আকবরের সাম্রাজ্যভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫,৪৮৭.
ভাষা আন্দোলনের কোন শহীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. আবদুল জব্বার
  2. আবদুস সালাম
  3. আবুল বরকত
  4. রফিক উদ্দীন
ব্যাখ্যা
আবুল বরকত:
- ভাষা আন্দোলনের আবুল বরকত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন।

⇒ ভাষা শহিদ আবুল বরকত ১৯২৭ সালের ১৩ জুন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায় গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৮ সালে সপরিবার ঢাকায় চলে আসেন।
- তিনি ১৯৫১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে চতুর্থ হয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ভর্তি হন।
- বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির দাবিতে সংগঠিত আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল জব্বার সাধারণ গ্রামীণ কর্মজীবী মানুষ ছিলেন।
- রফিক উদ্দীন আহমদ মানিকগঞ্জ জেলার দেবেন্দ্রনাথ কলেজের বাণিজ্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।
- আবদুস সালাম ডাইরেক্টর অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অফিসে রেকর্ড কিপার পদে চাকরি করতেন।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৫,৪৮৮.
মণিপুরীরা সাধারণত কোন জেলায় বসবাস করে?
  1. সিলেটে
  2. ময়মনসিংহ
  3. বান্দরবান
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী। নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাসা (Rasa) নৃত্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৪৮৯.
(প্রশ্নটি তৎকালীন সাম্প্রতিক ছিল)
Which international organization recently declared Bangladesh as lower middle income country?
  1. ক) IMF
  2. খ) OECD
  3. গ) WB
  4. ঘ) ADB
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে বেরিয়ে এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় উন্নীত হয়েছে।
- ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক তালিকায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

- বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় বর্তমানে ২,৮২৪ মার্কিন ডলার।
- যেসব দেশের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬ ডলার থেকে শুরু করে ৪ হাজার ১২৫ পর্যন্ত সেসব দেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় রাখা হয়।

- আগে বাংলাদেশের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ৪৫ ডলার বা তার নিচে ছিলো, তাই বাংলাদেশকে বলা হতো নিম্ন আয়ের দেশ।
- বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে এ তালিকাতেই ছিল।

 সূত্র: ডেইলি স্টার। 
৫,৪৯০.
কোরিয়ান ইপিজেড কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. কুড়িগ্রাম
  4. নীলফামারী
ব্যাখ্যা

কোরিয়ান ইপিজেড:
- দেশের একমাত্র বেসরকারি ইপিজেড কোরিয়ান ইপিজেড।
- এটি চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত।
- কোরিয়ান ইপিজেড-এর প্রতিষ্ঠাতা কিয়াক সুং।
- চট্টগ্রামে কোরিয়ান ইপিজেড এর কার্যক্রম ১৯৯৫ সালে শুরু হয়।
- প্রথমে দুই দেশের সরকার উদ্যোগ নিলেও কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান ইয়াংওয়ান গ্রুপ শিল্পাঞ্চলটি গড়ে তোলে বেসরকারিভাবে।
- ইয়াংওয়ান করপোরেশন পরিচালিত কেইপিজেডে বর্তমানে ৪৮টি শিল্পে ৩৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।
- এই ইপিজেডের ৫২ শতাংশ জমি বনায়ন ও পরিবেশের জন্য নির্ধারিত।
- ফলে এটিকে বড় পরিবেশবান্ধব ইপিজেড বলা হয়।

উৎস: i) বণিক বার্তা।
ii) বেজা ওয়েবসাইট।

৫,৪৯১.
শরীফ কমিশন বাংলা বর্ণমালার পরিবর্তে কোন হরফ প্রবর্তনের সুপারিশ করেছিল?
  1. আরবি হরফ
  2. রোমান হরফ
  3. উর্দু হরফ
  4. ইংরেজি হরফ
ব্যাখ্যা

• শিক্ষা আন্দোলন: 
- ১৯৫৯ সালের ৫ জানুয়ারি গঠিত হয়েছিল পাকিস্তানের শিক্ষা বিভাগের সচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বাধীন শিক্ষা কমিশন।
- পাকিস্তান রাষ্ট্রের ভাবাদর্শে শিক্ষাকে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষায় শরীফ শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদন জমা দেয়।
- মাত্র আট মাসে প্রস্তুত সেই প্রতিবেদন প্রত্যাঘাতের ভয়ে প্রকাশিত হয় ১৯৬২ সালে।
- প্রকাশিত হওয়ার পরপরই পূর্ববঙ্গ আবার ফুঁসে ওঠে। ভেঙে ফেলে আইয়ুব শাহির রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সময়ের কঠিন-কঠোর মার্শাল ল।
- প্রতিবেদনের সুপারিশে শরীফ কমিশন প্রথমত বলেছিল, উর্দু হবে পাকিস্তানের শিক্ষার ভাষা, ইংরেজি হবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক।
- আর বাংলা বর্ণমালার বদলে চালু হবে রোমান হরফ।
- দ্বিতীয়ত, শিক্ষাকে পণ্য ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্র শিক্ষার দায়িত্ব নেবে না বলে কমিশন সুপারিশ করে। অর্থাৎ যাঁর টাকা আছে, শিক্ষার অধিকার তাঁরই, এটাই ছিল এই সুপারিশের মূলকথা।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। 

৫,৪৯২.
সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে নিম্নের কোনটি বর্ণিত হয়েছে?
  1. জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন
  2. জাতীয় সংস্কৃতি
  3. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
  4. নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন বর্ণিত হয়েছে।

অনুচ্ছেদ - ২৫: আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন,

- জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও সমতার প্রতি শ্রদ্ধা,
- অন্যান্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা,
- আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইনের ও জাতিসংঘের সনদে বর্ণিত নীতিসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা,
এই সকল নীতি হইবে রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভিত্তি এবং এই সকল নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র -

(ক) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শক্তিপ্রয়োগ পরিহার এবং সাধারণ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চেষ্টা করবেন;
(খ) প্রত্যেক জাতির স্বাধীন অভিপ্রায় অনুযায়ী পথ ও পন্থার মাধ্যমে অবাধে নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নির্ধারণ ও গঠনের অধিকার সমর্থন করবেন; এবং
(গ) সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতাবাদ বা বর্ণবৈষম্যবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের সর্বত্র নিপীড়িত জনগণের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামকে সমর্থন করবেন।

অন্যদিকে,
- অনুচ্ছেদ ২২: নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ।
- ২৩ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় সংস্কৃতি।
- ২৪ নং অনুচ্ছেদ : জাতীয় স্মৃতি নিদর্শন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৫,৪৯৩.
নিচের কোনটি 'হোয়াইট গোল্ড' নামে পরিচিত?
  1. চিংড়ি
  2. পাট
  3. রূপচাঁদা
  4. ইলিশ
ব্যাখ্যা

হোয়াইট গোল্ড:
- বাংলাদেশ বিদেশে চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
- তাই চিংড়িকে 'সাদা সোনা' বা 'হোয়াইট গোল্ড' বলা হয়।
- বাংলাদেশে বর্তমানে বিশ্বের মোট চিংড়ির একটা উল্লেখযোগ্য অংশ উত্পাদিত হচ্ছে, তবে বছরভেদে এর পরিমান ওঠানামা করে।
- ২০২১-২২ অর্থবছরে ৪১ কোটি ডলারের চিংড়ি রপ্তানি হয়।
- প্রবৃদ্ধি দাড়ায় ২৩.৮৪ শতাংশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ আগস্ট ২০২৩ ও ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩।

৫,৪৯৪.
মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরের প্রধান হল-
  1. জেলা প্রশাসক
  2. বিভাগীয় কমিশনার
  3. উপজেলা নির্বাহী
  4. জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা
• বিভাগীয় প্রশাসন :
- মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বোচ্চ স্তরের - বিভাগ।
- প্রতিটি বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন বিভাগীয় কমিশনার।
- বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রশাসকদের কাজ তদারক করেন।

• জেলা প্রশাসন :
- জেলা প্রশাসন মাঠ বা স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর।
- এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন জেলা প্রশাসক।
- জেলা প্রশাসক জেলার মুখ্য বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটক।
- দেশের সব জেলায় একজন করে জেলা প্রশাসক আছেন।

• উপজেলা প্রশাসন :
- মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামোর সর্বনিন্ম স্তরের হল - উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলার প্রধান প্রশাসক হলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
- তিনি উপজেলা উন্নয়ন কমিটির প্রধান।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৫,৪৯৫.
২০২১-২২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে-
  1. ক) ৫.১ শতাংশ
  2. খ) ৬.১ শতাংশ
  3. গ) ৭.২ শতাংশ
  4. ঘ) ৮.২ শতাংশ
ব্যাখ্যা
কোভিড পরবর্তী উত্তরণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে জানানো হয়।-
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ বলেছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০২১-২২ অর্থবছরে হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ।
-এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৭ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপন দিয়েছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সংশোধন করে ৬ দশমিক ১ শতাংশ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ।
উৎসঃ বাজেট বক্তৃতা (২০২১-২২) এবং দৈনিক পত্রিকা।
৫,৪৯৬.
কৌলীন্য প্রথা বাংলার সেন বংশের কোন রাজা প্রবর্তন করেন?
  1. বিজয় সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. লক্ষ্মণ সেন
  4. হেমন্ত সেন
ব্যাখ্যা

বল্লাল সেন:
- সেন বংশের দ্বিতীয় রাজা বল্লাল সেন।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন। কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায়, যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫,৪৯৭.
বাংলাদেশের জরুরি সেবার হেল্পলাইন নাম্বার কোনটি?
  1. ৯৯৯
  2. ১০৬
  3. ১০৯
  4. ৩৩৩
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন সেবায় হেল্পলাইন:
- ৯৯৯: বাংলাদেশের জরুরি সেবার কল সেন্টার। এখানে বিনামূল্যে ফোন করে আপনি জরুরী মুহুর্তে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বুলেন্স এর সাহায্য নিতে পারবেন। এছাড়া যে কোন অপরাধের তথ্যও পুলিশকে জানাতে পারবেন। 

এছাড়াও,
- ১০৬: দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার। যে কোন দুর্নীতি চোখে পড়লে বিনামূল্যে কল করে জানিয়ে দিন।
- ১৬১২৩: কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন। কৃষি, মৎস, প্রানীসম্পদ বিষয়ক যে কোন পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জানতে পারবেন।
- ১০৯: নারী নির্যাতন বা বাল্যবিবাহ হতে দেখলেই বিনামূল্যে কল করুন এই নাম্বারে।
- ১০৯৮: শিশু সহায়তামুলক কল সেন্টার। চারপাশে শিশুদের যে কোন সমস্যা হলে বিনামূল্যে কল করে সেবা নিতে পারেন এই নাম্বার থেকে।
- ৩৩৩: জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার। বাংলাদেশের যে কোন তথ্য জানতে ও সরকারি কর্মকর্তাদেরর সাথে কথা বলতে কল করুন এই নাম্বারে।
- ১৬২৬৩: বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য কল সেন্টার। যে কোন সমস্যায় ২৪ ঘন্টায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
- ১৬১০৮: মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার। মানবাধিকার বিঘ্নিত হলে কল করুন এই নাম্বারে।
- ১৩১: বাংলাদেশ রেলওয়ে কল সেন্টার। ট্রেন ও এর টিকিট সম্পর্কে জানতে কল করুন।
- ১০৫: জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য কল সেন্টার।
- ১০০: বিটিআরসি কল সেন্টার।
- ১৬৪২০: বিটিসিএল কল সেন্টার।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৫,৪৯৮.
বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটের নকশা করেছিলেন কে?
  1. জয়নুল আবেদীন
  2. বিমান মল্লিক
  3. কাইয়ুম চৌধুরী
  4. কামরুল হাসান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ডাকটিকিট: 
বাংলাদেশের ডাকটিকিট একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক উপাদান, যা স্বাধীনতার পর দেশের পরিচয় ও ঐতিহ্যকে বিশ্বে তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথম ডাকটিকিটের প্রকাশ:
প্রকাশের তারিখ: ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই।
স্থান: একযোগে মুজিবনগর, কলকাতার বাংলাদেশ মিশন ও লন্ডন থেকে।
সংখ্যা: প্রথমবার প্রকাশিত ডাকটিকিটের সংখ্যা ছিল ৮টি।

নকশা ও ডিজাইন:
নকশা: ডাকটিকিটগুলোর নকশা করেছিলেন প্রবাসী বাঙালি বিমান মল্লিক।
বৈশিষ্ট্য: প্রথম ডাকটিকিটটি স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র সম্বলিত ছিল, যার রং গাঢ় লাল, নীল ও বেগুনী।
মূল্যের বার্তা:
মূল্য: ১০ পয়সা।
বার্তা: ডাকটিকিটের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূখণ্ড এবং দেশের পরিচয় বিশ্বকে জানানো হয়।

মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী স্মারক ডাকটিকিট:
মুক্তিযুদ্ধ শেষে প্রথম স্মারক ডাকটিকিট ২১ ফেব্রুয়ারী ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়, যা ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি ধারণ করে।

ডাকটিকিটের সংখ্যা ও সুভ্যেনির:
বাংলাদেশ ডাকবিভাগ বর্তমানে ৭৩২ প্রকার ডাকটিকিট এবং ২৮টি সুভ্যেনির প্রকাশ করেছে।

জাতীয় ডাকটিকিট দিবস:
তারিখ: ২৯ জুলাই।
দিবস: ২০১৫ সালের ২৯ জুলাই থেকে বাংলাদেশে 'জাতীয় ডাকটিকিট দিবস' পালিত হচ্ছে।

এটি বাংলাদেশী সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জাতীয় আবেগকে ধারণ করে।

উৎস:
i) ডাক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট। [link]
ii) জুলাই ২৯, ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৫,৪৯৯.
'শিখা' কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. মাসিক
  2. ত্রৈমাসিক
  3. অর্ধবার্ষিক
  4. বার্ষিক
ব্যাখ্যা

শিখা পত্রিকা: 
- শিখা ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)। 

উল্লেখ্য,
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
- এ উক্তিকেই শিখা পত্রিকার লেখকগোষ্ঠী তাদের মটো বা আদর্শবাণী হিসেবে বিবেচনা করত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫,৫০০.
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রচিত 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাস এর রচয়িতা-
  1. ক) ড. মুনীর চৌধুরী
  2. খ) জাহানারা ইমাম
  3. গ) আবদুল লতিফ
  4. ঘ) জহির রায়হান
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিত রচিত সাহিত্যকর্ম:
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী রচনা করেন ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি'।
- সঙ্গীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়' এবং ‘তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি'র মতো সঙ্গীত।
- ড. মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন 'কবর' নাটক।
- জহির রায়হান রচনা করেন ‘আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি।
- ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।