বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ৪৩ / ৩০৬ · ৪,২০১৪,৩০০ / ৩০,৮৩২

৪,২০১.
মণিপুরি জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব কোনটি?
  1. চৈত্রসংক্রান্তি
  2. মাঘীপূর্ণিমা
  3. ওয়ানগালা
  4. মহারাসলীলা
ব্যাখ্যা

• মণিপুরী:
- মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম আদিবাসী সম্প্রদায়।
- জাতিগত দিক থেকে মণিপুরীরা মঙ্গোলীয় মানবগোষ্ঠীর তিব্বতি-বর্মি পরিবারের কুকি-চীন গোত্রভুক্ত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলা এবং ঢাকায় মণিপুরী সম্প্রদায় বসবাস করে।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।
- মণিপুরীদের মেইতেই নামেও অভিহিত করা হতো।

⇒ মণিপুরে তিন গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বাস- বিষ্ণুপ্রিয়া, মৈতৈ ও পাঙান।
- বাংলাদেশের মণিপুরীদের মধ্যে বিষ্ণুপ্রিয়ারা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।

⇒ মণিপুরী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব 'মহারাসলীলা'। 

অন্যদিকে,
- চৈত্র সংক্রান্তি হলো বাংলা বছরের শেষ দিনের উৎসব। 
- গারোদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- মাঘী পূর্ণিমা হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অত্যন্ত পবিত্র উৎসব। 

তথ্যসূত্র:
i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,২০২.
২০২০-২০২১ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে মোট জাতীয় সঞ্চয়ের পরিমাণ জিডিপির কত শতাংশ?
  1. ২১.২৫ শতাংশ
  2. ২৪.১৭ শতাংশ
  3. ২৯.৯২ শতাংশ
  4. ৩০.৩৯ শতাংশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রকাশিত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে:
- মোট জাতীয় সঞ্চয় জিডিপির : ৩০.১৯ শতাংশ
- মোট দেশজ সঞ্চয় জিডিপির : ২৪.১৭ শতাংশ।
মোট বিনিয়োগ জিডিপির : ২৯.৯২ শতাংশ
- সরকারি বিনিয়োগ : ৮.৬৭ শতাংশ
- বেসরকারি বিনিয়োগ : ২১.২৫ শতাংশ
(তথ্যসূত্র: বিবিএস ওয়েবসাইট)
৪,২০৩.
উপমহাদেশে ঘোড়ার ডাক ব্যবস্থার প্রচলন করেন কে?
  1. আলাউদ্দিন খিলজি
  2. শাহ সুজা 
  3. শেরশাহ
  4. মীর জুমলা 
ব্যাখ্যা

• শেরশাহ:
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
-  তাঁর প্রকৃত নাম ফরিদ। 
- ১৫৩৯ খ্রিস্টাব্দে চৌসার যুদ্ধে (বক্সারের নিকটে) হুমায়ুনকে পরাভূত করে তিনি ‘শাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন।
- তাঁর সাহস ও বীরত্বের জন্য বাহার খান তাঁকে ‘শের খান’ খেতাবে ভূষিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ডাক ব্যবস্থার উন্নতির জন্য তিনি ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন।
- শেরশাহ মুদ্রা ব্যবস্থার সংস্কার সাধন।
- তিনি বিখ্যাত ‘গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড' নির্মাণ করেন। 
- গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ ও সরাইখানা স্থাপন করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৪,২০৪.
দেশের প্রথম নকশিপল্লী নির্মিত হচ্ছে কোথায়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) জামালপুর
  3. গ) সিলেট
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
জামালপুর জেলায় ৩০০ একর জমির উপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে দেশের প্রথম নকশিপল্লী ‘জামালপুর শেখ হাসিনা নকশিপল্লী’ নির্মিত হচ্ছে।
(সূত্র: কালেরকণ্ঠ)
৪,২০৫.
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কত সালে স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
  1. ১৯৭৪ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৭ সালে
ব্যাখ্যা

স্থলসীমান্ত চুক্তি:
⇒ ১৯৭৪ সাল:
- বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অপদখলীয় ভূমি ও ছিটমহল সমস্যা সমাধানে স্থলসীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- ১৯৭৪ সালের ১৬ মে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- চুক্তি অনুযায়ী, দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাওয়ার জন্য ভারত বাংলাদেশকে তিন বিঘা করিডর শর্তসাপেক্ষে ব্যবহার করতে দিতে রাজি হয়।

⇒ ১৯৯২ সাল:
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের সরকার বাংলাদেশকে তিন বিঘা করিডর ব্যবহারের সুযোগ দেয়।
- প্রাথমিকভাবে, দৈনিক ১২ ঘণ্টা করে ব্যবহারের সুযোগ পায় বাংলাদেশিরা।

⇒ ২০১১ সাল:
- ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ঢাকা সফরের সময় তিন বিঘা করিডর বাংলাদেশিদের সার্বক্ষণিক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার ও তাৎক্ষণিকভাবে তা কার্যকরের ঘোষণা দেন।
- ওই সফরেই ১৯৭৪ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রটোকল স্বাক্ষর করে।

⇒ ২০১৫ সাল:
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের মন্ত্রিসভা ৫ মে, ২০১৫ স্থলসীমান্ত চুক্তি ও এর প্রটোকল বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন বিল অনুমোদন করে।
- ৬ মে ২০১৫ তা ভারতের রাজ্য সভায় এবং ৭ মে, ২০১৫ লোকসভায় পাশ হয়।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বিবিসি বাংলা।

৪,২০৬.
দেশের প্রথম ধান জাদুঘর অবস্থিত -
  1. ক) গাজীপুর
  2. খ) বগুড়া
  3. গ) চাদঁপুর
  4. ঘ) ময়মসিংহ
ব্যাখ্যা
দেশের প্রথম ধান জাদুঘর অবস্থিত - বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI), গাজীপুর।

• ধান জাদুঘর:
- দেশের প্রথম ধান জাদুঘর অবস্থিত - বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI), গাজীপুর।
- ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যনিরাপত্তায় উৎপাদন বাড়াতে উদ্ভাবন হয়েছে ধানের উচ্চফলনশীল নতুন নতুন জাত। তাই হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যগুলোকে ধরে রাখতে গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) স্থাপন করা হয়েছে দেশের প্রথম রাইস মিউজিয়াম বা ধান জাদুঘর।

- এখন পর্যন্ত উদ্ভাবিত ১০৮টি ধানের জাত তাকে তাকে সাজিয়ে রাখা হয়েছে
- ব্রি উদ্ভাবিত নতুন জাতের প্রদর্শনীর পাশাপাশি এ জাদুঘরের মাধ্যমে আধুনিক ধান বিষয়ক কৃষিপ্রযুক্তি দেশি-বিদেশি পরিদর্শকদের জন্য - তুলে ধরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ধানের জাত ও প্রযুক্তিগুলোর নমুনা ও রেপ্লিকা স্থাপন করা হয়েছে।
- কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সব কটি জাত এই জাদুঘরে রাখা হয়েছে।
- জাদুঘর প্রকল্পের পরিচালক আবদুল মোমিন।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্রথম আলো (১৫ আগস্ট, ২০২২)।
৪,২০৭.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. এ কে ফজলুল হক
  4. নূরুল আমিন
ব্যাখ্যা
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের পর কৃষক প্রজা পার্টি ও মুসলিম লীগের সমর্থনে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হন।

অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ।
- অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৪৬ সালে অবিভক্ত বাংলায় সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন মুসলিমলীগ ১১৪টি আসন পেয়ে জয় লাভ করে এবং সোহরাওয়ার্দী মুখ্যমন্ত্রী হন।

এছাড়াও,
- ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান সৃষ্টি হলে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।
- ১৯৩৫ সালে ভারত শাসন আইন প্রবর্তনের পর ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় মুসলিম লীগ ও কৃষক প্রজা পার্টির কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয় যার মুখ্যমন্ত্রী (অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী) নির্বাচিত হন শেরে বাংলা একে ফজলুল হক।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২০৮.
How many types of COVID-19 vaccines are being approved to use in Bangladesh?
  1. ক) 3
  2. খ) 4
  3. গ) 7
  4. ঘ) 8
  5. ঙ) None
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৮টি ভ্যাকসিন অনুমোদন দেওয়া হয়। এগুলো নিম্নরূপ:
 
1. Serum Institute of India  -  COVOVAX (Novavax formulation)
2. Moderna  -  Spikevax
3. Pfizer/BioNTech  -  Comirnaty
4. Gamaleya  -  Sputnik  V
5. Johnson & Johnson) -  Ad26.COV2.S
6. Serum Institute of India  -  Covishield (Oxford/ AstraZeneca formulation)
7. Sinopharm (Beijing) - Covilo
8. Sinovac - CoronaVac
 
উৎস: covid19.trackvaccines.org
৪,২০৯.
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে মোট কতজনকে বীরউত্তম খেতাব প্রদান করা হয়?
  1. ৬৭ জন
  2. ৬৮ জন
  3. ৬৯ জন
  4. ৭০ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২১০.
কোন সুলতানের শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়?
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  2. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. সুলতান সিকান্দর শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- আলাউদ্দীন হুসেন শাহ বাংলায় হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি আরাকান ও চট্টগ্রাম দখল করেন।
- তার সময়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো।
- তিনি বাংলাকে রাজদরবারের ভাষা হিসেবে স্থান দেন।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- তাকে নৃপতি তিলক, জগৎভূষণ, কৃষ্ণাবতার বলা হতো।
- তার শাসনামলকে বাংলার স্বর্ণযুগ বলা হয়

উল্লেখ্য,
⇒ তিনি অনেক জনকল্যাণমূলক কাজও করেন।
- তিনি গরিব-দুঃখীদের জন্যে দেশে অনেক লঙ্গরখানা স্থাপন ও পানির কূপ খনন করেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- তিনি বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রীচৈতন্যদেবকে সম্মান করতেন এবং তাঁকে বৈষ্ণব ধর্ম প্রচারে সুবিধা দিয়েছিলেন।
- তার সময়ে বিজয়গুপ্ত পদ্মপুরাণ বা মনসা মঙ্গল, বিপ্রদাস মনসা বিজয় এবং যশোরাজ খান শ্রীকৃষ্ণ বিজয় কাব্য রচনা করেন।
- মালাধর বসু শ্রীমদ্ভাগবত বাংলা ভাষায় অনুবাদ করেন।
- তিনি শ্রীকৃষ্ণ বিজয় নামে আর একটি কাব্যও রচনা করেন।
- তাঁর রাজত্বকালে গৌড়ের 'ছোট সোনা' মসজিদ নির্মিত হয়।
- দীর্ঘ ২৬ বছর রাজত্ব করার পর আলাউদ্দীন হোসেন শাহ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২১১.
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয় নিচের কোনটি?
  1. সরকারি কর্ম কমিশন
  2. রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
  3. নির্বাচন কমিশন
  4. বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন
ব্যাখ্যা

- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। 

• সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ:
- রাষ্ট্রপতির কার্যালয়,
- জাতীয় সংসদ,
- ন্যায়পাল,
- সুপ্রিম কোর্ট,
- প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল,
- নির্বাচন কমিশন,
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়,
- সরকারি কর্ম কমিশন।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

৪,২১২.
'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ কমিটি গঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৮ সালে
  2. ১৯৫০ সালে
  3. ১৯৫১ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা
• ভাষা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ :
- ১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ এর প্রতিবাদ করেন।
- আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রতিবাদ জানায়।
- ১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কমিটি গঠিত হয়।
- ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে গণপরিষদ কর্তৃক পঠিত মূলনীতি কমিটির সুপারিশে বলা হয়, উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।
- দেশজুড়ে প্রতিবাদ সভা-সমাবেশ চলতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
৪,২১৩.
ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা কর্মসূচি কত সালে উত্থাপিত হয়?
  1. ১৯৬৮ সালে
  2. ১৯৬৯ সালে
  3. ১৯৭০ সালে
  4. ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:
- সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবির বাস্তবায়ন এবং প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের জন্য আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৬৯ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে গঠিত একটি সংগ্রাম পরিষদ।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠন ও সুসংবদ্ধকরণ এবং নেতৃত্ব প্রদানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মূখ্য ভূমিকা পালন করে।
-  ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র সমাজ, বিশেষত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (DUCSU) আট জন ছাত্রনেতা সম্মিলিতভাবে গঠন করেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। 
- ৪ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

উল্লেখ্য,
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই উনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৪,২১৪.
দেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা কোনটি?
  1. লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কারখানা
  2. মেঘনা সিমেন্ট কারখানা
  3. ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি
  4. আকিজ সিমেন্ট কারখানা
ব্যাখ্যা
ছাতক সিমেন্ট কোম্পানী লিমিটেড:
- দেশের প্রথম সিমেন্ট কারখানা বর্তমান সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকে স্থাপিত হয়।
- ছাতক সিমেন্ট কোং লিঃ, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকে অবস্থিত দেশের একমাত্র স্বয়ংসম্পূর্ণ সিমেন্ট কারখানা।
- এটি ১৯৩৭ সনে আসাম বেঙ্গল সিমেন্ট কোম্পানী নামে ব্যক্তি মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত।
- ১৯৬৫ সনে পাক-ভারত যুদ্ধের পর ব্যক্তি মালিক কর্তৃক কারখনাটি পরিত্যক্ত হলে ১৯৬৬ সন হতে উহা ইপিআইডিসি’র নিয়ন্ত্রনে আসে।
- বাংলাদেশের স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে বিএমওজিসি, পরে বিএমইডিসি এবং সর্বশেষ ১৯৮২ সালের ১লা জুলাই থেকে বিসিআইসি’র নিয়ন্ত্রণে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন।
৪,২১৫.
'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর' কোথায় অবস্থিত?
  1. পটুয়াখালী
  2. গজারিয়া
  3. আড়াইহাজার
  4. মিরসরাই
ব্যাখ্যা

- চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলা জুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর'।
- এর আয়তন প্রায় ৩০ হাজার একর।
- এখানে প্রায় ১৫ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান হবে।
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ বা বেজা এটি বাস্তবায়ন করছে।
উৎসঃ বেজা ওয়েবসাইট।

৪,২১৬.
ভারতের মুসলিম জাগরণের প্রথম অগ্রদূত কে?
  1. ক) একে ফজলুল হক
  2. খ) আবুল কালাম আজাদ
  3. গ) স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. ঘ) নবাব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
আলিগড় আন্দোলনের প্রবর্তক ছিলেন স্যার সৈয়দ আহমদ খান। পিছিয়ে পড়া মুসলমান সম্প্রদায়কে যুক্তিবাদী আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার জন্য উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে যে আন্দোলনের সূচনা করেন তা আলিগড় আন্দোলন নামে খ্যাত। ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহের পর অনগ্রসর মুসলিম সমাজে কিছু কিছু সংস্কারের প্রয়োজন অনুভূত হয়। হিন্দুদের তুলনায় অনগ্রসর পাশ্চাত্য শিক্ষায় উদাসীন মুসলিম সমাজের দুরবস্থার কথা সৈয়দ আহমদ অবগত ছিলেন। ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে পাশ্চাত্য শিক্ষাকে প্রগতির যথার্থ সোপান বলে মনে করতেন তিনি এজন্য মুসলমানদের মধ্যে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রসারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তিনি ভারতের মুসলিম জাগরণের প্রথম অগ্রদূত। (রেফারেন্স- dailybangladesh.com)
৪,২১৭.
সংযুক্ত তহবিলের উপর ধার্য ব্যয় বলে উল্লিখিত বিষয়সমূহ সংবিধানের কোন ধারার অন্তর্ভুক্ত-
  1. ৮৪
  2. ৮১
  3. ৮৮
  4. ৮৫
ব্যাখ্যা

৮৮নং অনুচ্ছেদ - সংযুক্ত তহবিলের উপর দায় :

⇒ ৮৮নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে:

(ক) রাষ্ট্রপতিকে দেয় পারিশ্রমিক ও তাঁহার দপ্তর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয়;
(খ) (অ) স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার, 
(আ) সুপ্রীম কোর্টের বিচারকগণ,
(ই) মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
(ঈ) নির্বাচন কমিশনারগণ,
(উ) সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্যদিগকে দেয় পারিশ্রমিক;

 (গ) সংসদ, সুপ্রীম কোর্ট, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারী কর্ম কমিশনের কর্মচারীদিগকে দেয় পারিশ্রমিকসহ প্রশাসনিক ব্যয়;

 (ঘ) সুদ, পরিশোধ-তহবিলের দায়, মূলধন পরিশোধ বা তাহার ক্রম-পরিশোধ এবং ঋণসংগ্রহ-ব্যপদেশে ও সংযুক্ত তহবিলের জামানতে গৃহীত ঋণের মোচন-সংক্রান্ত অন্যান্য ব্যয়সহ সরকারের ঋণ-সংক্রান্ত সকল দেনার দায়;

 (ঙ) কোন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রী বা রোয়েদাদ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোন পরিমাণ অর্থ; এবং

 (চ) এই সংবিধান বা সংসদের আইন-দ্বারা অনুরূপ দায়যুক্ত বলিয়া ঘোষিত অন্য যে কোন ব্যয়।

অন্যদিকে,
⇒ ৮৪নং অনুচ্ছেদ - সংযুক্ত তহবিল ও প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাব।
- ৮৪ (১) সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত সকল রাজস্ব, সরকার কর্তৃক সংগৃহীত সকল ঋণ এবং কোন ঋণ পরিশোধ হইতে সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত সকল অর্থ একটি মাত্র তহবিলের অংশে পরিণত হইবে এবং তাহা "সংযুক্ত তহবিল" নামে অভিহিত হইবে। 
- ৮৪ (২) সরকার কর্তৃক বা সরকারের পক্ষে প্রাপ্ত অন্য সকল সরকারী অর্থ প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে জমা হইবে।

⇒ ৮১নং অনুচ্ছেদ -অর্থবিল সংক্রান্ত।

⇒ ৮৫নং অনুচ্ছেদ -সরকারী অর্থের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত।
-  সরকারী অর্থের রক্ষণাবেক্ষণ, ক্ষেত্রমত সংযুক্ত তহবিলে অর্থপ্রদান বা তাহা হইতে অর্থ প্রত্যাহার কিংবা প্রজাতন্ত্রের সরকারী হিসাবে অর্থপ্রদান বা তাহা হইতে অর্থ প্রত্যাহার এবং উপরি-উক্ত বিষয়সমূহের সহিত সংশ্লিষ্ট বা আনুষঙ্গিক সকল বিষয় সংসদের আইন-দ্বারা এবং অনুরূপ আইনের বিধান না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত বিধিসমূহ-দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে।

উৎস: সংবিধান।

৪,২১৮.
সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনীর বিষয়বস্তু কী?
  1. গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ
  2. সীমানা অন্তর্ভুক্ত ও বহির্ভূতকরণ
  3. সংবিধানের চতুর্থ ভাগের সংশোধন
  4. মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের তৃতীয় সংশোধনী:
- ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে এ সংশোধনী পাস হয়।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারতকে বেরুবাড়ি হস্তান্তর করে। 
- এ হস্তান্তরের শর্ত ছিল ভারত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় যাবার জন্য বাংলাদেশকে তিন বিঘা করিডোর প্রদান করবে। 

সীমানা অন্তর্ভুক্ত ও বহির্ভূতকরণের বিজ্ঞপ্তি-
- চুক্তি অনুসারে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যবর্তী ভূ-সীমানা নির্ধারণের পর সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি দ্বারা সরকার যে তারিখ বর্ণনা করেন সেই তারিখ হইতে উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে বর্ণিত 'অন্তর্ভুক্ত এলাকা' বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সীমানার অংশ হইবে এবং 'বহির্ভূত এলাকা' উহার অংশ হইবে না।

অন্যদিকে,
• সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
- সংবিধানের চতুর্থ ভাগের সংশোধন।
-মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।

• সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর বিষয়বস্তু:
- গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৪,২১৯.
বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম - 
  1. বঙ্গ
  2. পুন্ড্র
  3. বরেন্দ্র
  4. গঙ্গারিডাই
ব্যাখ্যা

বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদের নাম- 'পুন্ড্র'। 
-------------
'পুন্ড্র' জনপদ:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- এটি বাংলার প্রাচীনতম জনপদ।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
প্রাচীন বাংলার আরো জনপদ সমূহ হচ্ছে:
- বঙ্গ,
- বরেন্দ্র,
- সমতট,
- হরিকেল,
- রাঢ়,
- চন্দ্রদ্বীপ,
- তাম্রলিপ্ত,
- গঙ্গারিডাই,
- গৌড় প্রভৃতি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি, বাংলাপিডিয়া।

৪,২২০.
শান্তিতে অবদানের জন্যে বঙ্গবন্ধু কোন পদকে ভূষিত হন?
  1. ক) ম্যাগসেসে পুরস্কার
  2. খ) ইদান পুরস্কার
  3. গ) জুলিও কুরি পদক
  4. ঘ) ইউএস কংগ্রেশনাল মেডেল
ব্যাখ্যা
শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিশ্ব শান্তি পরিষদ জুলিও কুরি শান্তি পদকে ভূষিত করে। ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
১৯৭৩ সালের ২৩শে মে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।
(সূত্রঃ কারাগারের রোজনামচা ও একুশে টেলিভিশন)
৪,২২১.
পার্বত্য চট্টগ্রামে সার্কেল বিদ্যমান রয়েছে-
  1. ক) ২টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ৪টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে ৩টি সার্কেল বিদ্যমান রয়েছে। এগুলো হলো:
১) চাকমা সার্কেল (রাঙামাটি),
২) মং সার্কেল (খাগড়াছড়ি) এবং 
৩) বোমাং সার্কেল (বান্দরবান)।

- পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ৩ সার্কেল প্রধানরা স্থানীয় পাহাড়ি জনগণের কাছে 'রাজা' হিসেবেই পরিচিত।
- সরকারিভাবে সার্কেল প্রধানদের সার্কেল চীফ বলা হয়। 

উৎসঃ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৪,২২২.
কোন নৃ-গোষ্ঠীর তিব্বত থেকে এসেছে?
  1. ক) গারো
  2. খ) ম্রো
  3. গ) ওঁরাত
  4. ঘ) খাসিয়া
ব্যাখ্যা
গারোরা বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাস করে। তারা তিব্বত থেকে এদেশে আসে। এরা নৃতাত্ত্বিকভাবে মঙ্গোলয়েড জাতিগোষ্ঠীর। নিজেদের গারোরা মান্দি বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। তাদের ভাষার নাম আচিক খুসিক। তবে গারো ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণী।
৪,২২৩.
মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক নাটক 'কী চাহ শঙ্খচিল'-এর রচয়িতা কে?
  1. সৈয়দ শামসুল হক
  2. নাসির উদ্দীন ইউসুফ
  3. মমতাজউদদীন আহমদ
  4. আবদুল্লাহ আল মামুন
ব্যাখ্যা
মমতাজউদদীন আহমদ:
- এক অঙ্কের নাটক রচনায় তিনি ছিলেন পথিকৃৎ।
- মমতাজউদদীন আহমদের নাটক লেখার যাত্রা শুরু হয় ১৯৬০ সালে।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তার লেখা প্রথম নাটক 'বিবাহ'।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি লিখেছিলেন “স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা” নাটকটি।
- স্বাধীনতার এক যুগ পরে এসে তিনি রচনা করলেন তার বিখ্যাত নাটক "সাতঘাটের কানাকড়ি"।
- ১৯৮৩-৮৪ সালে এসে 'কী চাহ শঙ্খচিল' নাটকে মমতাজউদদীন আহমদ যেমন লিখলেন এক অনন্য প্রেম, স্বাধীনতা আর প্রতিবাদের কথা। 
- তার হাতে জন্ম নিলো "ক্ষত বিক্ষত", "রঙ্গপঞ্চাদশ", "প্রেম বিবাহ সুটকেশ", "জমিদার দর্পণ", "হৃদয় ঘটিত ব্যাপার স্যাপার" এর মতো অসাধারণ সব নাটক।
- টেলিভিশনে নাট্যকার হিসেবে মমতাজউদদীন আহমদের যাত্রা শুরু হয় ‘দখিনের জানালা’ নাটকটি দিয়ে। 
- চার্লি চ্যাপলিন-ভাঁড় নয় ভবঘুরে নয়, আমার ভিতরে আমি, জগতের যত মহাকাব্য, লাল সালু ও সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, মহানামা কাব্যের গদ্যরূপ, সাহসী অথচ সাহস্য, নেকাবী এবং অন্যগণ, জন্তুর ভিতর মানুষ' এর মতো বিশাল গদ্য ভাণ্ডার ছিল অসামান্য।
- ভাষা আন্দোলন নিয়ে তিনি লিখেছিলেন 'একুশ আমার বাংলা আমার', লিখেছিলেন শিশু সাহিত্য ও কিশোর রচনা, সরস রচনা।
- তার স্বাধীনতার সংগ্রাম নাটক 'বর্ণচোরা'।

উৎস: ১০ জানুয়ারি ২০২১, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা।
৪,২২৪.
নিম্নের কোনটি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান?
  1. ব্র্যাক
  2. সাজেদা ফাউন্ডেশন
  3. শক্তি ফাউন্ডেশন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ক্ষুদ্র ঋণ:
- ক্ষুদ্রঋণের মূল ধারণাটি হচ্ছে, দরিদ্র ব্যক্তিদের কিছু টাকা ঋণ দেওয়া।
- সেই টাকায় তাঁরা ছোট আকারে ব্যবসা শুরু করবেন। ব্যবসার মুনাফা থেকে ঋণের টাকা ফেরত দেবেন প্রতিষ্ঠানকে।
- প্রতিষ্ঠান আবার ওই টাকা ঋণ দেবে অন্য কাউকে।
- এভাবেই বিষয়টি দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখবে।
- বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণের জনক ড. মুহাম্মদ ইউনুস।
- ব্র্যাক, আশা, বুরো বাংলাদেশ, টিএমএসএস, এসএসএস, সাজেদা ফাউন্ডেশন, উদ্দীপন, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন, পদক্ষেপ মানবিক উন্নয়ন, শক্তি ফাউন্ডেশন-এ ১০টি দেশের শীর্ষ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান।

⇒ বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক বিশেষ আইনবলে যাত্রা শুরু করে ১৯৮৩ সালে।
- এ গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে বহুমাত্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা হয়।
- এ জন্য ২০০৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ দেশের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম দেখভালে বহু বছর কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা ছিল না।
- প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ২০০৬ সালে গঠিত হয় মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)।
- এ সংস্থার সনদ ছাড়া বর্তমানে কেউ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালাতে পারেন না।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বিবিসি বাংলা।
৪,২২৫.
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. আতাউর রহমান
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. সামছুল হক
  4. আব্দুস সালাম খান
ব্যাখ্যা
• আওয়ামী মুসলীম লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার রোজ গার্ডেনে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়।
- আওয়ামী মুসলীম লীগ থেকে মুসলীম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়-১৯৫৫ সালে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটি নিম্নরুপ: 
- প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি - মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক - সামছুল হক।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সহ সভাপতি - আতাউর রহমান ও আব্দুস সালাম খান।
- প্রতিষ্ঠাকালীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক - শেখ মুজিবুর রহমান।

- ১৯৫৩ সালের ৩-৫ জুলাই আওয়ামী মুসলিম লীগের দ্বিতীয় সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
- ১৯৬৬ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।

সূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ওয়েবসাইট।
৪,২২৬.
বাংলাদেশ কমনওয়েলথের কততম সদস্য? 
  1. ৩৪ তম
  2. ৩২ তম
  3. ২৯ তম
  4. ৩৬ তম
ব্যাখ্যা

কমনওয়েলথ:
- কমনওয়েলথ এর সদর দপ্তর লন্ডনে।
- আধুনিক কমনওয়েলথ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- কমনওয়েলথে দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজী।
- এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৫৬টি দেশ। (জানুয়ারি, ২০২৬)
- বাংলাদেশ ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথের সদস্য হয়।
- বাংলাদেশ কমনওয়েলথের ৩২তম সদস্য।
- বর্ণবাদ নিয়ে সমালোচনার জেরে ১৯৬১ সালে কমনওয়েলথ থেকে সরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
- বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে সদস্যভুক্ত করায় পাকিস্তান ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ ত্যাগ করে।
- পরবর্তিতে পাকিস্তান ১৯৮৯ সালে ও দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৯৪ সালে কমনওয়েলথে যোগদান করে।

উৎস: কমনওয়েলথ অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৪,২২৭.
দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত ছিল কোন জনপদ?
  1. বঙ্গ
  2. হরিকেল
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. তাম্রলিপ্ত
ব্যাখ্যা
তাম্রলিপ্ত:
- হরিকেলের উত্তরে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার (প্রাচীন যুগে মিধুনাপুর নামে পরিচিত) তমলুক শহরই ছিল প্রাচীন তাম্রলিপ্তি নগরস্থল।
- বর্তমান শহরটি বঙ্গোপসাগরের কাছে রূপনারায়ণের তীরে অবস্থিত।

⇒ সমুদ্র উপকূলবর্তী এ এলাকা ছিল খুব নিচু ও আর্দ্র।
- নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি ছিল খুবই উওম।
- প্রাচীনকালে তাম্রলিপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- চৈনিক তীর্থযাত্রী হিউয়েন-সাং তাম্রলিপ্তি শহরকে ‘তান-মো-লি-তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৪,২২৮.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এর অন্যতম আয়োজক রবি শঙ্কর কোন দেশের অধিবাসী?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ভারত
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের মুখে যুদ্ধ বিরতি ঘটিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করতে জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
- তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
 
উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
         ii) ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো।
৪,২২৯.
কোন আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন
  3. উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  4. একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:

- উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে 'এগারো দফা' প্রণীত হয়।
- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষনা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৩০.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২ অনুসারে, জিডিপির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত হিসেবে পরিচিত শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধির হার কত?
  1. ক) ১০.৪৪%
  2. খ) ৮.৪৪%
  3. গ) ৭.৪৮%
  4. ঘ) ৬.৩১%
ব্যাখ্যা
• জিডিপির সর্ববৃহৎ খাত – সেবাখাত (১৩টি খাত নিয়ে গঠিত) এবং ছোট খাত - কৃষিখাত। 
• আবার, কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত - কৃষিখাত (৪০.৬% শ্রমশক্তি নিয়োজিত) এবং ছোট খাত - শিল্পখাত (২০.৪% শ্রমশক্তি নিয়োজিত)।
• অর্থনীতি/জিডিপির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত - শিল্পখাত; প্রবৃদ্ধির হার ১০.৪৪%। 
• অন্যদিকে, কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম; প্রবৃদ্ধির হার - ২.২০%।
• সার্বিকভাবে অর্থনীতি/জিডিপিতে কৃষি ও সেবা খাতের অবদান – ক্রমহ্রাসমান এবং শিল্পখাতের অবদান - ক্রমবর্ধমান। 
• যদিও সাময়িক হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধির হার পূর্ববর্তী অর্থবছরের ০.৫৮ শতাংশ হতে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৩১ শতাংশে।
 
তথ্যসূত্র:- অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২।
৪,২৩১.
উচ্চ ফলনশীল কলার জাত কোনটি?
  1. অগ্নিশ্বর
  2. চমক
  3. অগ্রদূত
  4. মালা
ব্যাখ্যা
উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
- সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার জাত:
- বর্ণালি, শুভ্রা, খই, মোহর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
৪,২৩২.
প্রখ্যাত সুফিসাধক খান জাহান আলী এর উপাধি কী ছিলো?
  1. ক) আল ফাজিল
  2. খ) উলুগ খান
  3. গ) খান-ই-জাহান
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
খান জাহান ছিলেন একজন প্রখ্যাত সুফিসাধক এবং বৃহত্তর যশোর ও খুলনা জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত এলাকার আঞ্চলিক শাসক।
- তিনি খান জাহান আলী নামে সমধিক পরিচিত।
- তাঁর উপাধি ছিল ‘উলুগ খান’ ও ‘খান-ই-আযম’।
- তিনি পনেরো শতকের প্রথমার্ধে খলিফাতাবাদে (বাগেরহাটে) শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
- এ সময়ে পরবর্তী ইলিয়াসশাহী বংশের  নাসিরুদ্দীন মাহমুদ শাহ (১৪৩৫-১৪৫৯) গৌড়ের সুলতান ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,২৩৩.
'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন কে?
  1. এম মনসুর আলী
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. বেগম রাজিয়া বানু
ব্যাখ্যা
সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- এদিন পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন: ড. কামাল হোসেন।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন: এম মনসুর আলী।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন: ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এতে স্বাক্ষর করেননি।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান, বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৩৪.
বাংলাদেশে প্রশাসনিক কাঠামোয় বিভাগের সংখ্যা কত?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা

• দেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
- বিভাগ = ৮টি।
- জেলা = ৬৪টি।
- সিটি কর্পোরেশন= ১২ টি।
- উপজেলা= ৪৯৫ টি।
- মেট্রো থানা= ১০৫ টি।
- পৌরসভা= ৩২৭ টি।
- ইউনিয়ন = ৪,৫৯৬ টি।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,২৩৫.
দুর্যোগের আগাম বার্তা জানার টোল ফ্রি নম্বর কত?
  1. ১০৯
  2. ১০৬
  3. ১০৯০
  4. ৯৯৯
ব্যাখ্যা
দুর্যোগের আগাম বার্তা জানার টোল ফ্রি নম্বর
- দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুর্যোগের আগাম বার্তা জানার টোল ফ্রি নম্বর হচ্ছে ১০৯০।
- যে-কোনো মোবাইল ফোন হতে ১০৯০ নম্বরে ডায়াল করে ১ ডায়াল করলে সমূদ্রগামী জেলেদের জন্য আবহাওয়া বার্তা;
- ২ ডায়াল করলে নদী বন্দরসমূহের জন্য সতর্ক সংকেত;
- ৩ ডায়াল করলে দৈনন্দিন আবহাওয়া বার্তা;
- ৪ ডায়াল করলে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্ক সংকেত;
- ৫ ডায়াল করলে দেশের বন্যা তথা বিভিন্ন নদ/নদীর পানি হ্রাস-বৃদ্ধির অবস্থায় সম্পর্কিত তথ্য অবহিত হওয়া যাবে।

উৎস- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৪,২৩৬.
বঙ্গভঙ্গের সময় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশের রাজধানী ছিলো কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. আসাম
  4. উড়িষ্যা
ব্যাখ্যা
 • বঙ্গভঙ্গ
- ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর লর্ড কার্জনের সময়ে বাংলা প্রেসিডেন্সিকে ভেঙ্গে দুটো প্রদেশ করা হয় যা বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত।
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম' প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয় ঢাকায়।
- পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় কলকাতা।
- কিন্তু কংগ্রেস ও হিন্দুদের তীব্র বিরোধিতা এবং সহিংস আন্দোলনের কারণে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
- লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় ১৯১১ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লিতে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা দেন।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৪,২৩৭.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদন করে-
  1. ক) ২৪ আগস্ট, ২০২১
  2. খ) ২৪ অক্টোবর, ২০২১
  3. গ) ২৪ নভেম্বর, ২০২১
  4. ঘ) ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (UNGA) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ অনুমোদন করে - ২৪ নভেম্বর, ২০২১।

৪,২৩৮.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম বাংলাদেশী সভাপতি কে?
  1. ড . কামাল হোসেন
  2. হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
  3. প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস
  4. বি এ সিদ্দিকি
ব্যাখ্যা

জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ:
- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম বাংলাদেশী সভাপতি: হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
- তিনি নির্বাচিত হন ১৯৮৬ সালে (৪১তম অধিবেশন)।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্র।
- সদস্যপদ লাভ করে: ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪।
- বাংলাদেশের প্রথম সদস্যপদ আবেদনে (১৯৭২) চীন ভেটো দেয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন উ থান্ট।
-  বাংলাদেশ ১৯৮৮ সালে সর্বপ্রথম ইরাক-ইরান (UNIIMOG) মিশনে অংশগ্রহণ করে।
- মোট ২বার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদ লাভ করে ১৯৭৯-৮০ ও ২০০০-০১ সালে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।

৪,২৩৯.
The Climate Vulnerable Forum জোটের বর্তমান সভাপতি কে?
  1. পল কাগামে
  2. ওবেদ মোজেস
  3. শেখ হাসিনা
  4. রদ্রিগো দুদার্তে
ব্যাখ্যা
- The Climate Vulnerable Forum (CVF) জোটের বর্তমান সভাপতি বাংলাদেশ। ২০২০-২০২২ মেয়াদে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
- The Climate Vulnerable Forum হলো জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সর্বাধিক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জোট।
- ২০০৯ সালে কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনের প্রাক্কালে মালদ্বীপের উদ্যোগে এই জোট গঠিত হয়।
- এই জোটের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৪৮টি।
(সূত্র: Climate Vulnerable Forum ওয়েবসাইট)
৪,২৪০.
দেশের প্রথম বিনিয়োগ ব্যাংকিং চ্যাটবট’-এর নাম কী?
  1. AIBanking
  2. AIInvest
  3. PrimeInvest
  4. Midlenvest
ব্যাখ্যা
দেশের প্রথম বিনিয়োগ ব্যাংকিং চ্যাটবটঃ
- দেশের প্রথম বিনিয়োগ ব্যাংকিং চ্যাটবট’র নাম প্রাইমইনভেস্ট (PrimeInvest)।
- সম্প্রতি (নভেম্বর, ২০২৪) পিবিআইএলের প্রধান কার্যালয়ে নতুন এই চ্যাটবট উদ্বোধন করা হয়।

⇒ বাংলাদেশের বিনিয়োগ ব্যাংকিং খাতে প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত চ্যাটবট ‘প্রাইমইনভেস্ট’ চালু করেছে প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (পিবিআইএল)।
- এই চ্যাটবটটি গ্রাহকদের সঙ্গে আরো সহজ, দ্রুত এবং কার্যকরী যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করবে।
- ‘প্রাইমইনভেস্ট’ সার্বক্ষণিকভাবে (২৪/৭) গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং তাদের বিনিয়োগ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে।
- এটি পিবিআইএলের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য আরো সহজ ও ইন্টারেক্টিভ সেবা নিশ্চিত করবে।

উৎস: বণিক বার্তা।
৪,২৪১.
BIRDEM এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) ডা. নুরুল ইসলাম
  2. খ) ডা. মোহাম্মদ জাফরুল্লাহ
  3. গ) ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
  4. ঘ) ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
- BIRDEM (Bangladesh Institute of Research and Rehabilitation in Diabetes, Endocrine and Metabolic Disorders) এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
- বারডেম ১৯৮০ সালে ঢাকার শাহবাগে সরকার প্রদত্ত জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
(তথ্যসূত্র: বারডেম ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
৪,২৪২.
বাংলাদেশের প্রাচীনতম জনপদ কোনটি?
  1. মহাস্থানগড়
  2. পাহাড়পুর
  3. ময়নামতি
  4. উয়ারীবটেশ্বর
ব্যাখ্যা
❐ বাংলাদেশের প্রাচীনতম জনপদ হলো পুণ্ড্র এবং এর রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়।

পুণ্ড্র জনপদ:

- পুণ্ড্র ছিল পূর্বাঞ্চলের জনপদসমূহের মধ্যে খুব সম্ভবত প্রাচীনতম।
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকের (আনুমানিক) মহাস্থান ব্রাহ্মী লিপিতে উল্লিখিত পুদনগল (পুণ্ড্র নগর) এবং বগুড়া যে অভিন্ন তা একাধিক উৎস থেকে প্রমাণ করা যায়। প্রাচীন এই জনপদের সীমানা চিহ্নিত করে ড. নীহাররঞ্জন রায় লিখেছেন, "পুণ্ড্রবর্ধনের কেন্দ্র বা হৃদয়স্থানের একটি নতুন নাম পাইতেছি দশম শতক হইতে; এ নাম বরেন্দ্র অথবা বরেন্দ্রী।" অর্থাৎ এই প্রাচীন জনপদটি ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে দুটো ভিন্ন নামে পরিচিতি লাভ করেছিল। কতিপয় লিপি প্রমাণে এ কথা বলা যায় যে, বরেন্দ্র পুণ্ড্রবর্ধনেরই অংশবিশেষ। মধ্যযুগের মুসলিম ঐতিহাসিকরা বরেন্দ্রিকে বলতেন বরীন্দ্র।

⇒ বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ। প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্যের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর। এর বর্তমান নাম মহাস্থানগড়। বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুণ্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়। গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

⇒ মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গেছে। সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২-১১২৫) যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল। ১৮৭৯ সালে প্রাচীন পুণ্ড্রবর্ধন রাজ্যের ঐতিহাসিক নিদর্শন আবিষ্কার করেন ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ আলেকজান্ডার কানিংহ্যাম। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ঐতিহাসিক স্থান। ২০১৬ সালে এটিকে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

অন্যদিকে -
• পাহাড়পুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।

• ময়নামতি:
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান। সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।

• উয়ারী বটেশ্বর:
- বাংলাদেশের রাজাধানী ঢাকা থেকে ৭০-৭৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নরসিংদীর জেলার বেলাব উপজেলায় অবস্থিত দুটি গ্রামের নাম উয়ারী ও বটেশ্বর। এই দুটি প্রাচীন গ্রামে প্রাপ্ত প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নমুনার বিচারে, বর্তমানে বাংলাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নিদর্শন হিসাবে উয়ারী-বটেশ্বরকে উল্লেখ করা হয়। আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন প্রত্নস্থান নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর। এ পর্যন্ত ৫০টি প্রত্নস্থান উৎখননের পর মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম।
৪,২৪৩.
When did Chittagong Hill Tracts Accord signed?
  1. ক) 1995
  2. খ) 1996
  3. গ) 1999
  4. ঘ) 1997
ব্যাখ্যা
পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি:

- এই চুক্তি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের প্রাক্কালে মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমার নেতৃত্বে পাহাড়ি জনগণের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচিতির স্বীকৃতি সম্পর্কিত কতিপয় দাবি পেশ করেন।
- ১৯৭৩ সালের মার্চ মাসে লারমার নেতৃত্বে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে ওঠে।
- পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যোগ হয় শান্তি বাহিনী নামে একটি সামরিক শাখা।
- ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সালের মধ্যে শান্তি বাহিনী সামরিক দিক থেকে অধিকতর সংগঠিত হয়।
- ১৯৭৭ সালে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সাঁজোয়া বহরের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
- ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে একটি আইন পাশ করে সরকার রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান তিনটি জেলায় স্থানীয় সরকার পরিষদ গঠন করে।
- পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তিচুক্তি পাহাড়ি জনগণের বিশেষ অবস্থান ও মর্যাদার স্বীকৃতি দিয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৪,২৪৪.
বাংলাদেশের তৈরি জাহাজ 'স্টেলা মেরিস' রপ্তানি হয়েছে-
  1. ডেনমার্কে
  2. নরওয়েতে
  3. ফিনল্যান্ডে
  4. সুইডেনে
ব্যাখ্যা

• জাহাজ রপ্তানি:
-বাংলাদেশ থেকে জাহাজ রপ্তানি শুরু হয় ২০০৮ সালে।
- ঢাকার আনন্দ শিপইয়ার্ড ডেনমার্কে ‘এমভি স্টেলা মরিস‘ নামের ছোট আকারের জাহাজ রপ্তানি করে।
- এর পরেই যুক্ত হয় চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড।

• আনন্দ শিপইয়ার্ড:
- আনন্দ শিপইয়ার্ড এন্ড স্লিপওয়ে লিমিটেড নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনাঘাটে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম শিপইয়ার্ড।
- এর প্রধান কার্যালয় ঢাকার নয়াপল্টনে অবস্থিত।
- এটি ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে।
- এটির শিপইয়ার্ডের আয়তন প্রায় ৮০ হাজার বর্গমিটার।
- ২০০৮ সালে আনন্দ শিপইয়ার্ড ডেনমার্কে প্রথম স্টেলা মেরিস নামে জাহাজ রপ্তানি করে।
- প্রতিষ্ঠানটি ডেনমার্ক, জার্মান, নরওয়ে ও মোজাম্বিকসহ বিভিন্ন দেশে জাহাজ রপ্তানি করে।

এছাড়াও,
- বাংলাদেশে প্রথম যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ করে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড।
- বাংলাদেশের প্রধান জাহাজ নির্মাণ কারখানা খুলনায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: 
i) আনন্দ শিপইয়ার্ড এন্ড স্লিপওয়ে লিমিটেড ওয়েবসাইট। 
ii) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
iii) দৈনিক প্রথম আলো। 

৪,২৪৫.
ঐতিহাসিক ছয় দফার পঞ্চম দফা কী বিষয়ক ছিল?
  1. বাণিজ্য বিষয়ক
  2. প্রতিরক্ষা বিষয়ক
  3. শুল্কনীতি বিষয়ক
  4. প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
ছয় দফা:
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)।
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪,২৪৬.
বাংলাদেশে রেলপথ রয়েছে কতটি জেলায়?
  1. ক) ৪৮টি
  2. খ) ৪৫টি
  3. গ) ৪৪টি
  4. ঘ) ৪০টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু আছে - ৪৪ জেলায়।
- ২০ টি জেলায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু নেই।
- বরিশাল বিভাগে কোন রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।

এছাড়াও,
- দূরত্বের দিক থেকে বাংলাদেশের দীর্ঘতম রেলপথ  ঢাকা থেকে পঞ্চগড়।
- ৫০৭ কিলোমিটার পথ মাড়িয়ে ২৩টি স্টেশন ঘুরে ঢাকা থেকে পঞ্চগড় পৌঁছাবে। 
- চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প শুরু হয় ২০১১ সালে।
- চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু-কক্সবাজার-ধুমধুমিয়া পর্যন্ত মোট দৈর্ঘ্য ১২৮ কিলোমিটার।
- এই পথে মোট ৯ টি রেলস্টেশন হবে।
- ২০২৩ সালের জুনে চালু হতে পারে নতুন এই রেলপথ।
- চালু হলে রেলপথ হবে ৪৫ টি।

উৎস:রেলপথ মন্ত্রনালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
৪,২৪৭.
কার নেতৃত্বে মন্ত্রী মিশন ভারতে এসেছিলো?
  1. সিরিল র‌্যাডক্লিফ
  2. স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস
  3. পেথিক লরেন্স
  4. এ. ভি. আলক্সান্ডার
ব্যাখ্যা
- ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনার জন্যে ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকার তৎকালীন ভারত সচিব পেথিক লরেন্স কে প্রধান করে তিন সদস্যের ক্যাবিনেট বা মন্ত্রী মিশন ভারতে পাঠায়।
- এর অপর দুই সদস্য হলেন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস এবং এ. ভি. আলেকজান্ডার।
- এই মিশন ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে এবং তিন স্তর বিশিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা করে।
- মুসলিম লীগ শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা মেনে নিলেও কংগ্রেসের অসহযোগিতায় মন্ত্রী মিশন পরিকল্পনা সফল হয়নি।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৪,২৪৮.
ইরানের কবি হাফিজের সাথে কার যোগাযোগ ছিল?
  1. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ্
  2. সিকান্দর শাহ
  3. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  4. জালালুদ্দিন মোহাম্মদ শাহ
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ:
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ ১৩৯০-৯১ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন।
বাংলার ইতিহাসে তাঁর রাজত্বকাল নানা কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করে।
খ্যাতি ও সাফল্যের বিচারে তিনি ইলিয়াস শাহী বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুলতান ছিলেন।
তিনি ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসেবেও প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ছিলেন।
তিনি বিদ্বান, কবি ও সাহিত্যিকদের সমাদর ও শ্রদ্ধা করতেন।
তিনি ফার্সি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
ইরানের কবি হাফিজের সাথে গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ এর যোগাযোগ ছিল। 
তিনি হাফিজকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানান।
গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
তাঁর রাজত্বকালেই প্রথম বাঙালি মুসলিম কবি শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর কাব্য 'ইউসুফ জোলেখা' রচনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৪৯.
দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় মুক্তিযুদ্ধের সময় নিম্নের কোনটি পাঠ করে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেন?
  1. ক) বিবিসি
  2. খ) সংবাদ পরিক্রমা
  3. গ) বজ্রকণ্ঠ
  4. ঘ) চরমপত্র
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির সাংবাদিক মার্ক টালি পুরোটা সময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে খবর প্রচার করে পেছেন।
- এদিকে দেশে অবরুদ্ধ থেকেও অনেক বাঙালি সাংবাদিক ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে খবর পাঠিয়েছে। এজন্য তাদের শত্রুর হাতে চরম মূল্যও দিতে হয়।
- একাত্তরের শহিদ নিজামউদ্দিন ও নাজমুল হক এরকমই দুজন সাংবাদিক।
- এছাড়া আকাশবাণী, বিবিসি, ভোয়া প্রভৃতি বেতারকেন্দ্র আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিল।
- আকাশবাণী কলকাতা থেকে প্রতি রাতে প্রচারিত 'সংবাদ পরিক্রমা' খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ছিল।
- 'সংবাদ পরিক্রমা' পাঠ করে দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে উঠেন
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের 'বজ্রকন্ঠ' ও 'চরমপত্রসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান শ্রোতাদের মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি। 
৪,২৫০.
চাকমা সমাজে পাড়ার প্রধানকে কী বলা হয়?
  1. ক) আদাম
  2. খ) কার্বারি
  3. গ) হেডম্যান
  4. ঘ) চাকমা রাজা
ব্যাখ্যা
চাকমা:
- বাংলাদেশের রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাসকারী প্রধান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা। 
- নৃতাত্ত্বিক বিচারে চাকমারা মঙ্গোলীয় নৃগোষ্ঠীর লোক।
- তাদের মুখমণ্ডল গোলাকার, নাক চ্যাপ্টা, চুল সোজা এবং কালো, গায়ের রং ঈষৎ হলদেটে।
- বাংলাদেশের বাইরেও চাকমারা ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম ও অরুণাচলে বসবাস করে।

সামাজিক জীবন:
- চাকমা সমাজে মূল অংশ পরিবার।
- কয়েকটি চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় ‘আদাম’ বা ‘পাড়া’।
- পাড়ার প্রধানকে বলা হয় কার্বারি
- কয়েকটি পাড়া নিয়ে গঠিত হয় মৌজা।
- মৌজার প্রধানকে বলা হয় হেডম্যান।
- কার্বারি ও হেডম্যান মিলে যথাক্রমে পাড়া ও মৌজার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা করে।
- কয়েকটি মৌজা মিলে চাকমা সার্কেল গঠিত হয় এবং এর প্রধান হলেন চাকমা রাজা।
- চাকমা সমাজে রাজার পদটি বংশানুক্রমিক।
- চাকমা সমাজ পিতৃতান্ত্রিক । চাকমা পরিবারে পিতাই প্রধান।
- তারপরে মা ও জ্যেষ্ঠপুত্রের স্থান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৪,২৫১.
'গ্লোবাল ইয়ুথ ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যাওয়ার্ড-২০২৪' লাভ করে -
  1. আইপিডিসি ফাইন্যান্স
  2. বাংলাদেশ ব্যাংক
  3. বিএসইসি
  4. উপরের কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

‘গ্লোবাল ইয়ুথ ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যাওয়ার্ড’:

- দেশের তরুণ সম্প্রদায়কে আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৪ সালের ‘গ্লোবাল ইয়ুথ ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- সেপ্টেম্বর, ২০২৪-এ মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরে অনুষ্ঠিত এএফআই গ্লোবাল পলিসি ফোরামের সভায় বাংলাদেশ ব্যাংককে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
- পুরস্কার প্রদানকারী সংস্থা: Alliance for Financial Inclusion.

⇒ আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে নীতিনির্ধারণী ও নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তর্জাতিক জোট অ্যালায়েন্স ফর ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন (এএফআই) আর্থিক খাতের সম্মানজনক ‘গ্লোবাল ইয়ুথ ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যাওয়ার্ড’ দিয়ে থাকে।
- পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের যুব সমাজের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু কার্যক্রম বিবেচনা করা হয়েছে।
- ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য আর্থিক সাক্ষরতার নির্দেশিকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
- পাশাপাশি এ নির্দেশিকা অনুসারে শিক্ষার্থী ও তরুণদের নির্দিষ্ট শ্রেণির আওতাভুক্তকরণ ও তাদের আর্থিক সাক্ষরতা নিশ্চিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারা।
- আর্থিক সাক্ষরতা প্রদান ও গ্রাহক স্বার্থ নিশ্চিতে পৃথক ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে।
- এ ছাড়া জাতীয় শিক্ষাক্রমে আর্থিক সাক্ষরতাবিষয়ক অধ্যায় সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উৎস: Alliance for Financial Inclusion ওয়েবসাইট।
৪,২৫২.
বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যানের সময়সীমা কত সাল নাগাদ?
  1. ২০৪১ সাল
  2. ২০৫০ সাল
  3. ২১০০ সাল
  4. ২১৫০ সাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান:
- ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পনি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ।
- ২০২০ সালের ১ জুলাই ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রীকে ডেল্টা কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান করা হয়েছে।
- ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ৮০টি প্রকল্প।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
৪,২৫৩.
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ গণভোট নির্বাচনে কতটি বিষয়ে প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি 
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

• গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়।
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা হবে গণভোট। 
- গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে।
- গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের হবে।
- এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

উৎস: প্রথম আলো।

৪,২৫৪.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য সংখ্যা কত?
  1. ৩০০টি
  2. ৩৩০টি
  3. ৩৪৫টি
  4. ৩৫০টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যা ৩৫০
- প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারের সরাসরি ভোটের ভিত্তিতে প্রতি আসন থেকে একজন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
- সাধারণত প্রতি ৫ বছর অন্তর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৩রা জুলাই, ২০১১ তারিখে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী সংরক্ষিত মহিলা আসন সংখ্যা ৪৫ হতে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধানে সর্বোচ্চ আইন পরিষদকে বাংলায় ‘জাতীয় সংসদ’ এবং ইংরেজিতে ‘হাউজ অব্ দ্য নেশন’ বলা হয়েছে।

সূত্র: জাতীয় সংসদ ও বাংলাপিডিয়া।

৪,২৫৫.
ভারতের প্রথম রেলপথ ব্যবস্থা কার আমলে স্থাপিত হয়েছিল?
  1. লর্ড ডালহৌসি
  2. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  3. লর্ড মিন্টো
  4. লর্ড ডাফরিন
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ডালহৌসী কঠোরতার সাথে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রসারের পথ আরও প্রশস্ত করে তোলেন।
- তিনি গভর্নর জেনারেলের কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (ছোট লাট) নিযুক্ত করেন।
 
• তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসঙ্গত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসীকে সাহায্য করেন। ডালহৌসী এমন একটি আইন পাস করান যাতে এদেশীয়গণ ধর্মান্তরিত হলেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করতে পারে।
- তিনি পূর্তবিভাগের প্রতিষ্ঠিত গঙ্গা খাল খনন ও জল সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তিনি রাজপথ ও সড়কগুলোর উন্নয়ন করেন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়।
- এদেশীয় রেলপথ ব্যবস্থার জনক ছিলেন ডালহৌসী। তাঁর সময়ে বোম্বাই হতে টানা পর্যন্ত রেললাইন চালু হয় (১৮৫৩ খ্রি:)।
- ডালহৌসি ডাক বিভাগের সংস্কার, কলকাতা হতে আগ্রা পর্যন্ত প্রথম টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা ও পেনী পোস্টকার্ড ব্যবস্থা চালু করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৪,২৫৬.
শহর অঞ্চলে কয় স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
শহর অঞ্চলে দুই স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।

অন্যদিকে -
• গ্রাম অঞ্চলে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- জেলা পরিষদ।
- উপজেলা পরিষদ।
- ইউনিয়ন পরিষদ।

• পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে।
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ।
২. রাঙামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ।
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৪,২৫৭.
'আমার সোনার বাংলা' রবীন্দ্র সংগীতের প্রথম কত পঙক্তি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে স্বীকৃত?
  1. ক) ৮
  2. খ) ১০
  3. গ) ১২
  4. ঘ) ১৪
ব্যাখ্যা

- 'আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি' এই গানটির প্রথম ১০ চরন বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে গৃহীত।
- এটি প্রথম ১৯০৫ (১৩১২) সালে বঙ্গদর্শন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- এই গানের সুরকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং এবং এতে বাউল গগন হরকরার সুরের প্রভাব রয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

৪,২৫৮.
বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন কবে পাশ করা হয়?
  1. ১৯৮৯
  2. ১৯৯০ 
  3. ১৯৯২
  4. ১৯৯৩
ব্যাখ্যা

• বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা:
- দেশের সকল শিশুকে একটি ন্যূনতম স্তর পর্যন্ত শিক্ষিত করে তোলাই সর্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য।
- এই লক্ষ্য অর্জনের প্রধান উপায় হচ্ছে বাধ্যতামুলক প্রাথমিক শিক্ষা।
- এ অবস্থায় আইনের মাধ্যমে সকল শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়।
- এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বলা হয়।
- ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন সংসদে পাশ করা হয়
- এবং ১৯৯২ সালে প্রতি জেলায় একটি করে থানায় পরীক্ষামূলক ভাবে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা চালু করা হয়।
- ১৯৯৩ সালে সারাদেশে তা সম্প্রসারণ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,২৫৯.
রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য বা রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত হলে কে দায়িত্ব পালন করবেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. বিচারপতি
  3. স্পীকার 
  4. চীফ হুইফ
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ৫৪ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে, 
⇒ রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করিবেন।

রাষ্ট্রপতি:
- সংসদীয় পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকার রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আইন অনুসারে সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হবেন।
- রাষ্ট্রপতি, রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে, রাষ্ট্রের অন্যান্য সকল ব্যক্তির উপর অগ্রাধিকার দেবেন এবং এই সংবিধান এবং অন্য কোন আইন দ্বারা তার উপর অর্পিত ও আরোপিত ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন এবং দায়িত্ব পালন করবেন।
-  কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদ বেশি রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হবেন না, পদ পরপর থাকুক বা না থাকুক।
- রাষ্ট্রপতি সংসদের সদস্য হতে পারবেন না, এবং যদি সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন, তবে তিনি যেদিন রাষ্ট্রপতি হিসাবে তার পদে প্রবেশ করবেন সেদিন সংসদে তার আসন খালি করবেন।
- কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হবেন যদি তার বয়স পঁয়ত্রিশ বছরের কম হয়, সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য না হন।
- এই সংবিধানের অধীনে অভিশংসন মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ করা হয়ে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

৪,২৬০.
ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. সুশীল সমাজ
  2. বিরোধী দল
  3. রাজনৈতিক দল
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে সুশীল সমাজ।
- বর্তমানে সুশীল সমাজ মানব পুঁজি গঠন, সমাজসেবা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
- সুশীল সমাজ সরকারের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট।
- সুশীল সমাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং সরকার সুশীল সমাজের বক্তব্য বা সুপারিশসমূহকে উপেক্ষা করতে পারে না।
- সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সাহায্য করা ও মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়া সুশীল সমাজের দায়িত্ব।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৪,২৬১.
দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয়ের রেকর্ড হয়েছে কোন মাসে? [জানুয়ারি - ২০২৫]
  1. ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে
  2. ২০২৪ সালের নভেম্বরে
  3. ২০২১ সালের জুলাইয়ে
  4. ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে
ব্যাখ্যা
এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স:
- ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ২৬৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। [জানুয়ারি - ২০২৫] 
- এটি দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রাপ্তির রেকর্ড।
- এর আগে ২০২০ সালের জুলাই মাসে ২.৫৯ বিলিয়ন ডলার ছিল সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয়ের রেকর্ড।
- রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণগুলো হলো ডলারের দাম বৃদ্ধি, হুন্ডির চাহিদা কমে যাওয়া এবং অর্থ পাচার হ্রাস।
- ২০২৪ সালে মোট রেমিট্যান্স আয় ২৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।
- এটি দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব এবং প্রবাসীদের ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

সূত্র: প্রথম আলো ও The Business Standard।
৪,২৬২.
বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে কোন ক্রিকেটার পাঁচ উইকেট পেয়েছেন?
  1. সোহাগ গাজী
  2. রুবেল হোসেন
  3. তাইজুল ইসলাম
  4. তাসকিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
◉ বাংলাদেশের পক্ষে ওয়ানডে অভিষেকে পাঁচ উইকেট পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

তাসকিন আহমেদ:
- বাংলাদেশি ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদ।
- তাসকিন আহমেদের ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয় ১৭ জুন, ২০১৪ তারিখে।
- ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভারতের বিপক্ষে।
- অভিষেক ম্যাচেই তিনি ৫ উইকেট লাভ করেন।
- প্রথম বাংলাদেশি হিসাবে তাসকিন আহমেদ পাঁচ উইকেট পেয়েছিলেন।

⇒ ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ:
- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয় — ১৯৭৯ সালে — ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফি দিয়ে।
- ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ — ১৯৯৭ সালে।
- সর্বপ্রথম একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে — ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ — পাকিস্তানের বিপক্ষে।
- একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম জয় — কেনিয়ার বিপক্ষে — ১৭ মে, ১৯৯৮ সালে।
- প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় লাভ — জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে— ২০০৫ সালে।

উৎস: i) ESPNcricinfo.
        ii) ১২ মে ২০১৮, প্রথম আলো।
৪,২৬৩.
বাংলাদেশে মাতৃতান্ত্রিক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোনটি?
  1. চাকমা
  2. সাঁওতাল
  3. মারমা 
  4. গারো
ব্যাখ্যা

গারো:
- ‘গারো' ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ তথা টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় বাস করে।
- গারো জনগোষ্ঠীর আদি আবাসস্থল তিব্বতে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের নিজস্ব ভাষার নাম আচিক।
- গারোদের সমাজ ব্যবস্থা মাতৃতান্ত্রিক।
- সমগ্র গারোসমাজ ১৩টি দলে বিভক্ত।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- বর্তমানে গারোদের বেশিরভাগই খ্রিস্টধর্মে বিশ্বাসী।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।

৪,২৬৪.
BIRDEM এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) ডা. ক্ষিতিশ চন্দ্র মণ্ডল
  2. খ) ডা. নুরুল ইসলাম
  3. গ) ডা. আখতার হামিদ
  4. ঘ) ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
BIRDEM (Bangladesh Institute of Research and Rehabilitation in Diabetes, Endocrine and Metabolic Disorders) এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

বারডেম ১৯৮০ সালে ঢাকার শাহবাগে সরকার প্রদত্ত জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়। বারডেম বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।

(তথ্যসূত্র: বারডেম ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
৪,২৬৫.
বাংলাদেশের কোথায় কমনওয়েলথ সমাধি রয়েছে?
  1. যশোরে
  2. সিলেটে
  3. কুমিল্লায়
  4. খুলনায়
ব্যাখ্যা
কমনওয়েলথ সমাধি:
- ২য় বিশ্বযুদ্ধে মিয়ানমারে (তৎকালীন বার্মা) সংঘটিত যুদ্ধে যে ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সৈন্য নিহত হন তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মিয়ানমার, আসাম এবং বাংলাদেশে মােট ৯টি সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।
- এর মধ্যে বাংলাদেশে ২টি কমনওয়েলথ সমাধিক্ষেত্র রয়েছে।
- যার একটি কুমিল্লার ময়নামতিতে এবং অন্যটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪,২৬৬.
স্বাধীন গৌড়রাজ্য বিস্তৃত ছিল -
  1. ক) বাংলার উত্তর, উত্তর পশ্চিমাংশ ও মগধ
  2. খ) সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গ
  3. গ) বাংলার উত্তর,পূর্ব বঙ্গ
  4. ঘ) তিব্বত ও দাক্ষিণাত্য
ব্যাখ্যা

- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গৌড়ের পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন। এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে সামন্তরাজা শশাঙ্ক ৫৯৪ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকে গৌড় অঞ্চলে ক্ষমতা দখল করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।

৪,২৬৭.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, আবাদযোগ্য নয় এমন জমির পরিমাণ -
  1. ৮০,৪১,০৭০ একর
  2. ৮৩,৫৮,০০০ একর
  3. ৮৫,৭৯,৩২১ একর
  4. ৮৯,২৮,৬৯২ একর
ব্যাখ্যা

আবাদী ও অনাবাদী জমি:
- আবাদযোগ্য নয় এমন জমির পরিমাণ ৮৩,৫৮,০০০ একর।
- মোট আবাদযোগ্য জমি ৩,৯২,৯৬,০০০ একর বা ১,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর।
- এক ফসলি জমি ৫০,৪৯,০০০ একর বা ২০,৪৪,০০০ হেক্টর।
- দুই ফসলি জমি ১,০১,৪০,০০০ একর বা ৪১,০৫,০০০ হেক্টর।
- তিন ফসলি জমি ৪৫,৯৩,০০০ একর বা ১৮,৫৯,০০০ হেক্টর।
- চার ফসলি জমি ৪৭,০০০ একর বা ১৯,০০০ হেক্টর।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

৪,২৬৮.
রাষ্ট্র কী ধরনের প্রতিষ্ঠান?
  1. অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান
  2. ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান
  3. রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান
  4. সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্র:
- রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান।
- বিশ্বের সকল মানুষ কোনো না কোনো রাষ্ট্রে বসবাস করে।
- অধ্যাপক গার্নার বলেন, 'সুনির্দিষ্ট ভুখণ্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী, সুসংগঠিত সরকারের প্রতি স্বভাবজাতভাবে আনুগত্যশীল, বহিঃশত্রুর নিয়ন্ত্রণ হতে মুক্ত স্বাধীন জনসমষ্টিকে রাষ্ট্র বলে।'

→ রাষ্ট্রের ৪টি উপাদান রয়েছে। যথা:
• জনসমষ্টি।
• নির্দিষ্ট ভূখণ্ড।
• সরকার।
• সার্বভৌমত্ব।
- এই চারটি উপাদান রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। এর কোন একটি না থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হতে পারে না ৷

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৪,২৬৯.
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের কততম প্রধানমন্ত্রী?
  1. ক) দ্বাদশ
  2. খ) দশম
  3. গ) একাদশ
  4. ঘ) নবম
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ১২তম প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি ২০০৯ সাল থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত।
- বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ।
- দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

(সূত্র: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ওয়েবসাইট)
৪,২৭০.
কত সালে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ভিশন 'ডেল্টা প্ল্যান ২১০০' অনুমোদন করা হয়?
  1. ২০১৬ সালে
  2. ২০১৮ সালে
  3. ২০২০ সালে
  4. ২০২১ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান:
- ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বা ব-দ্বীপ পরিকল্পনা দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- বাংলাদেশের ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে: বন্যা, নদী ভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পনি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন।
- ২০২০ সালের ১ জুলাই ১২ সদস্যের এই কাউন্সিল গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য এই মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপে অর্থাৎ ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য গ্রহণ করা হয়েছে ৮০টি প্রকল্প।

⇒ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ তে দেশের আটটি হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে প্রতিটি অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির মাত্রার উপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।
- একই ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির সম্মুখীন জেলাসমূহকে একেকটি গ্রুপের আওতায় আনা হয়েছে যাকে "হটস্পট" (পানি ও জলবায়ু উদ্ভূত প্রায় অভিন্ন সমস্যাবহুল অঞ্চল) হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

⇒ দুর্যোগ ঝুঁকিপ্রবণ ৬টি হটস্পট:
১. উপকূলীয় অঞ্চল: সাইক্লোনপ্রবণ অঞ্চল- ১৩ টি উপকূলীয় ও ৬ টি নদী বাহিত জেলা।
২. বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল: খরা (মূলত কৃষি)।
৩. হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল: ৭ টি জেলা।
৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল: পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল।
৫. নদী অঞ্চল এবং মোহনা: বন্যাপ্রবণ অঞ্চল।
৬. নগরাঞ্চল: ভূমিকম্প, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।

৪,২৭১.
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনা করেন কে?
  1. ক) হাসান হাফিজুর রহমান
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) হাসান আজিজুল হক
  4. ঘ) আবদুর রাজ্জাক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র সম্পাদনা করেন হাসান হাফিজুর রহমান।
১৯৭৩ সালে প্রথম বাংলা একাডেমীর মাধ্যমে দলিলপত্রাদি সংগ্রহের কাজ শুরু হয় এবং এরশাদের সময়ে ১৯৮২ সালে এসব দলিলপত্রাদি খণ্ডাকারে প্রকাশ করা হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
৪,২৭২.
সংবিধানের ২৩ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. জাতীয় সংস্কৃতি
  2. জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
  3. সুযোগের সমতা
  4. মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ২৩ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - জাতীয় সংস্কৃতি।

অন্যদিকে,
’জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৮ নং অনুচ্ছেদ।
’সুযোগের সমতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৯ নং অনুচ্ছেদ।
’মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা’ ১৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
৪,২৭৩.
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কবে শপথ গ্রহণ করে? 
  1. ৫ আগস্ট, ২০২৪
  2. ৬ আগস্ট, ২০২৪
  3. ৮ আগস্ট, ২০২৪
  4. ১০ আগস্ট, ২০২৪
ব্যাখ্যা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান।
- এরপর ৮ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গবন্ধু ভবনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন।
- এই সরকারের প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মনোনীত করা হয়।
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার  ৮ আগস্ট, ২০২৪ সালে রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণ করেন।
- অন্যান্য উপদেষ্টা একই দিনে শপথ গ্রহণ করেন।
- সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীতে শিক্ষার্থী, অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও ছিলেন।
- এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছিল অংশগ্রহণমূলক, নিরপেক্ষ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসন। 

- এই সরকার গঠনের জন্য আইনগত ভিত্তি ছিল সংসদ ভেঙে যাওয়া;
- এবং দেশের বিশেষ পরিস্থিতিতে সংবিধানের ‘প্রয়োজনীয়তা নীতি’ অনুসরণ করা।

- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল:
• রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কার করা,
• অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা,
• জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডের বিচার করা,
• ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা।

উৎস:
জাতীয় তথ্য বাতায়ন; 
প্রথম আলো পত্রিকা। 

৪,২৭৪.
'বাংলা ব্লকেড' কর্মসূচির সময় শিক্ষার্থীরা কোন দাবিতে একত্রিত হয়েছিল?
  1. শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি
  2. শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বৃদ্ধি
  3. শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ইন্টারনেট সুবিধা
  4. কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ
ব্যাখ্যা
বাংলা ব্লকেড:
- কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
- ৫ জুন, ২০২৪ তারিখে হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়।
- এটি বাতিলের দাবিতে ৭ জুলাই, ২০২৪ তারিখে সারা দেশে সড়ক-মহাসড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
- শাহবাগ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্ধারিত হওয়া এই কর্মসূচির নাম দিয়েছেন ‘বাংলা ব্লকেড’।

⇒ সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সে সময় কোটা পদ্ধতি বাতিল করে সরকার। পরে ২০২১ সালে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করলে গত ৫ জুন এক রায়ের মাধ্যমে আবারও ফিরে আসে কোটা ব্যবস্থা।
- সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলনে নামে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
 
উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC.
৪,২৭৫.
পেঁয়াজ আমদানিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ - 
  1. বাংলাদেশ
  2. ভারত
  3. নেপাল
  4. ভুটান
ব্যাখ্যা

পেঁয়াজ আমদানি:
- পেঁয়াজ আমদানিতে বিশ্বে ১ নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হিসাবে, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ৭ লাখ ২৭ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করে।
- ওই বছর আর কোনো দেশ বাংলাদেশের চেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করেনি।

অন্যদিকে,
• পেঁয়াজ আমদানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল - যুক্তরাষ্ট্র।
- তাদের আমদানির পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৬০ হাজার টন।

• পেঁয়াজ আমদানিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল মালয়েশিয়া।
- তাদের আমদানি সোয়া পাঁচ লাখ টন।

•  পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম।
 • চলতি বছরে ১১ মাসে পেঁয়াজের আমদানি ৮ লাখ ৬৪ হাজার টন ছাড়িয়ে গেছে।
- ২০২৩ সাল শেষেও আমদানির শীর্ষ তালিকায় থাকবে বাংলাদেশ।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।

৪,২৭৬.
ঐতিহাসিক ‘কাগমারি সম্মেলন’ এর নেতৃত্ব দেন-
  1. ক) স্যার সলিমুল্লাহ
  2. খ) শহীদ তিতুমীর
  3. গ) মওলানা ভাসানী
  4. ঘ) সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন। ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি। কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রণ্ট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোর একুশ দফা প্রতিশ্রুতির অন্যতম ছিল জোটনিরপেক্ষ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি। সোহরাওয়ার্দীর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বক্তব্য আওয়ামী লীগের বামপন্থি নেতৃবৃন্দ সমর্থন করেন নি। এঁদের পুরোধা ছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি (সম্মেলনেরও সভাপতি) মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। আওয়ামী লীগের আইনসভার সদস্য ও নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কাউন্সিল অধিবেশনে মওলানা ভাসানী সোহরাওয়ার্দীর অনুসৃত সামরিক জোটের সমালোচনা করেন। ওই ভাষণে মওলানা প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলেন। সোহরাওয়ার্দী সামরিক জোটের পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেন। তিনি পাকিস্তান স্বাক্ষরিত সামরিক চুক্তি এবং কেন্দ্র কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানে আরোপিত অর্থনৈতিক নীতিমালার পক্ষেও রায় দেন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৪,২৭৭.
বাংলাদেশ LDC মুক্ত হলে কোন সুবিধা পাবে না?
  1. ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি
  2. সহজ শর্তে ঋণ
  3. মেধাস্বত্ব থেকে ছাড়
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ LDC উত্তরণের অসুবিধা: 
- এলডিসি থেকে বের হলে সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হবে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে।
- এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতায় শুল্কমুক্ত বাণিজ্য–সুবিধা পায়।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিএসপি সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। 
- যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নে জিএসপির আওতায় এই শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে ২০২৯ সাল পর্যন্ত।
- এলডিসি থেকে বের হলে ওষুধশিল্পের ওপর মেধাস্বত্ব বিধিবিধান আরও কড়াকড়ি হবে।
- এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোকে আবিষ্কারক প্রতিষ্ঠানকে মেধাস্বত্বের জন্য অর্থ দিতে দিতে হয় না।
- এ কারণে এলডিসির গরিব নাগরিকেরা স্বল্প মূল্যে ওষুধ পায়।
- ২০৩৩ সালের আগে কোনো দেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে গেলে ওষুধশিল্পের এই সুবিধা থাকবে না।
- এলডিসি হিসেবে যেকোনো দেশ তার দেশে উৎপাদিত পণ্য বা সেবার ওপর নগদ সহায়তা ও ভর্তুকি দিতে পারে।
- বাংলাদেশ এখন যে রপ্তানি আয় বা রেমিট্যান্স আনায় নগদ সহায়তা দেয় তা নিয়ে আপত্তি উঠতে পারে।
- এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়া দেশগুলো আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সহজ শর্তের ঋণ পাওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে।
- এলডিসি থেকে বের হলে জাতিসংঘে চাঁদার পরিমাণ বেড়ে যাবে।
- আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নত দেশগুলো স্বল্পোন্নত দেশের শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের বৃত্তি দেয়।
- এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে এ ধরনের বৃত্তির সংখ্যা কমে যাবে।

উৎস: Centre for Policy Dialogue (CPD) ওয়েবসাইট। 
৪,২৭৮.
বর্তমানে সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা-
  1. ক) ২,৫০,০০০ টাকা
  2. খ) ৩,০০,০০০ টাকা
  3. গ) ৩,৫০,০০০ টাকা
  4. ঘ) ৪,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
• ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের করমুক্ত আয়সীমা নিম্নরূপ:
- সাধারণ করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩,০০,০০০ টাকা
- নারী, তৃতীয় লিঙ্গ ও ৬৫ বছরের উর্ধ্ব করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩,৫০,০০০ টাকা।
- প্রতিবন্ধী করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৪,৫০,০০০ টাকা।
- গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৪,৭৫,০০০ টাকা।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল।
৪,২৭৯.
কর্মসংস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে ছোট খাত কোনটি?
  1. শিল্প খাত
  2. শিক্ষা খাত
  3. সেবা খাত
  4. কৃষিখাত
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুসারে,
- জিডিপির সর্ববৃহৎ খাত – সেবাখাত (৯টি খাত নিয়ে গঠিত) এবং
- ছোট খাত – কৃষিখাত (২টি খাত নিয়ে গঠিত)।

- কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত – কৃষিখাত (৪০.৬% শ্রমশক্তি নিয়োজিত) এবং
- ছোট খাত – শিল্পখাত (২০.৪% শ্রমশক্তি নিয়োজিত)।

অর্থনীতি/জিডিপির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত - শিল্পখাত; প্রবৃদ্ধির হার - ৬.১২%।
অন্যদিকে, কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম; প্রবৃদ্ধির হার - ৩.৪৫%।
৪,২৮০.
উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত নয় কোনটি?
  1. ড্রামহেড
  2. প্রতিভা
  3. গোল্ডেন ক্রস
  4. অগ্রদূত
ব্যাখ্যা
উচ্চ ফলনশীল কলার জাত:
- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর, অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী।

উচ্চ ফলনশীল আলুর জাত:
- হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরী, মুলটা ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল গমের জাত:
- কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব।

উচ্চ ফলনশীল পেঁয়াজের জাত:
- সুখ সাগর, ঝিটকা, কৈলাসনগর, তাহেরপুরী, ভাতি।

উচ্চ ফলনশীল বাঁধাকপির জাত:
- গ্রীন এক্সপ্রেস, ড্রামহেড, গোল্ডেন ক্রস, প্রভাতী, অগ্রদূত।

উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত:
- বিপ্লব, হিরা, মালা, ইরাটম, ময়না, চান্দিনা, হরিধান, নারিফা, সুফলা, প্রগতি ইত্যাদি।

উচ্চ ফলনশীল আমের জাত:
- মহানন্দা, ল্যাংড়া, ফজলি, হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, গোপালভোগ, সূর্যপুরী, হিমসাগর, মোহনভোগ প্রভৃতি।

উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার জাত:
- বর্ণালি, শুভ্রা, খই, মোহর।

তথ্যসূত্র - জাতীয় কৃষি বাতায়ন।
৪,২৮১.
বর্তমান আয়কর আইনে পুরুষদের জন্য নিম্নতম করযোগ্য আয় কত টাকা? [মে, ২০২৫]
  1. ৩,০০,০০০ টাকা
  2. ৩,২৫,০০০ টাকা
  3. ৩,৫০,০০০ টাকা
  4. ৩,৭৫,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
করমুক্ত আয়সীমা:
- আয়কর আইনের অধীনে আরোপযোগ্য বা পরিশোধযোগ্য কোনো প্রকারের কর বা সারচার্জ হলো আয়কর।
- সাধারণভাবে, মোট আয়ের করহারের তফসিল অনুযায়ী করহার প্রয়োগ করে একজন করদাতার মোট আয়ের উপর আরোপযোগ্য আয়করের পরিমান নিরূপণ করা হয়।
- আয়কর আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ১২ নং আইন) এর ধারা ২(৬৯) এ সংজ্ঞায়িত ব্যক্তিগণের মধ্যে অনিবাসী বাংলাদেশীসহ সকল স্বাভাবিক ব্যক্তি (Indivisual), হিন্দু অবিভক্ত পরিবার ও অংশীদারি ফার্মের ক্ষেত্রে মোট আয়ের উপর আয়করের হার নিম্নরূপ হবে:

• সাধারণ করদাতা (পুরুষ): ৩,৫০,০০০ টাকা।
• মহিলা ও ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের করদাতা: ৪,০০,০০০ টাকা।
• প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ করদাতা: ৪,৭৫,০০০ টাকা।
• গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা: ৫,০০,০০০ টাকা।
• কোন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পিতামাতা বা আইনানুগ অভিবাবকের ক্ষেত্রে এরূপ প্রত্যেক সন্তান/পোষ্যের জন্য করমুক্ত সীমা ৫০,০০০/- টাকা বেশি।

উৎস: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।
৪,২৮২.
'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল' গানটির সুর করেছেন কে?
  1. গোবিন্দ হালদার
  2. ফজলে খোদা
  3. আপেল মাহমুদ
  4. সমর দাস
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র:
- স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের প্রবাসী সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বেতার সম্প্রচার কেন্দ্র।
- চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এর প্রাথমিক যাত্রা শুরু হয়।
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রচারিত গানগুলো মানুষকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়েছে।


স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান:
⇒ তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর - কথা ও সুর: আপেল মাহমুদ, কণ্ঠ: রথীন্দ্রনাথ রায়।
⇒ পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার: সমর দাস, সমবেত কণ্ঠে গাওয়া।
⇒ মোরা একটি ফুলকে বাঁচাব বলে যুদ্ধ করি - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার ও কণ্ঠ: আপেল মাহমুদ।
⇒ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে - গীতিকার: গোবিন্দ হালদার, সুরকার: আপেল মাহমুদ, কণ্ঠ: স্বপ্না রায়।
⇒ সালাম সালাম হাজার সালাম - গীতিকার: ফজলে খোদা, সুরকার ও কণ্ঠ: আব্দুল জব্বার।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৪,২৮৩.
হস্তলিখিত মূল সংবিধানে গণপরিষদের কতজন সদস্য স্বাক্ষর করেন?
  1. ৪০৩ জন
  2. ৩৯৯ জন
  3. ৩৪৩ জন
  4. ৩০৩ জন
ব্যাখ্যা
সংবিধানে স্বাক্ষর:
- বাংলাদেশের সংবিধান স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন।
- এটি একটি লিখিত দলিল।
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৭২ সালের ১১ই এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গণপরিষদের সদস্য ছিল মোট ৪০৩ জন।
- গণপরিষদের ৩৯৯ জন সদস্য হস্তলিখিত মূল সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সংবিধানে গণপরিষদ সদস্যদের স্বাক্ষর দান উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
৪,২৮৪.
বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের শীর্ষস্থানীয় ক্রেতা 'H&M' কোন দেশভিত্তিক প্রতিষ্ঠান?
  1. ডেনমার্ক
  2. নেদারল্যান্ডস
  3. সুইডেন
  4. যুক্তরাজ্য
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

পোশাকের শীর্ষ ক্রেতা:

- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ক্রেতাদের তথ্য অনুয়ায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কয়েক হাজার ক্রেতার কাছে ৩ হাজার ৬৩৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে শীর্ষ ১০ ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ১ হাজার ৫০ কোটি ডলারের পোশাক কিনেছে। অর্থাৎ মোট রপ্তানির ২৯ শতাংশই নিয়েছে এই ১০ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। তারা বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক নিয়ে মূলত বড় বাজারগুলোতে বিক্রি করছে। বাংলাদেশি পোশাকের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র।

⇒ বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের শীর্ষ ১০ ক্রেতার তালিকায় এইচঅ্যান্ডএম, ইন্ডিটেক্স ও প্রাইমার্কের পরে আছে ডেনমার্কের বেস্টসেলার, যুক্তরাজ্যের মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার, নেদারল্যান্ডসের সিঅ্যান্ডএ, জাপানের ইউনিক্লো, পোল্যান্ডের এলপিপি, যুক্তরাজ্যের নেক্সট ও পোল্যান্ডের পেপকো। 

• শীর্ষ ক্রেতা H&M:
- বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় ক্রেতা সুইডেনের বহুজাতিক খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান H&M।
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিশ্বের ৪৪টি দেশের সহস্রাধিক আউটলেটে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পোশাক তুলেছে এই কোম্পানি।
- বাংলাদেশে তৈরি এইচঅ্যান্ডএমের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে পোল্যান্ড, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে।
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২৫৯ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কিনেছে এইচঅ্যান্ডএম।
- বাংলাদেশের দুই শতাধিক কারখানা থেকে এই পোশাক কিনেছে তারা। 

এছাড়াও,
- বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের দ্বিতীয় শীর্ষ ক্রেতা ইন্ডিটেক্স। স্পেনের বহুজাতিক এই কোম্পানি প্রতিবছরই বাংলাদেশ থেকে পোশাক কেনা বাড়াচ্ছে। গত অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ২১৮ কোটি ডলারের পোশাক কিনেছে ইন্ডিটেক্স। এর আগে তারা বাংলাদেশ থেকে এক অর্থবছরে দুই বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক কেনেন।

উৎস: প্রথম আলো।
৪,২৮৫.
ভাষা আন্দোলন নির্ভর উপন্যাস কোনটি?
  1. ক) নেকড়ে অরণ্য
  2. খ) জীবন ক্ষুদা
  3. গ) আরেক ফালগুণ
  4. ঘ) আনন্দের মৃত্যু
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস - আরেক ফাল্গুন। প্রকাশকাল - ১৯৬৮ সাল। এটি ১৯৫৫ সালের ভাষা দিবস ২১ ফেব্রুয়ারি পালন নিয়ে লেখা। পুলিশ ভাষা দিবস পালনকারী অনেককে গ্রেপ্তার করলে একজন বলে - ‘আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুন হবো’ যা প্রণিধানযোগ্য। উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৪,২৮৬.
BSTI-এর পূর্ণ অভিব্যক্তি কী?
  1. Bangladesh Salt Testing Institute
  2. Bangladesh Strategic Training Institute
  3. Bangladesh Standards and Testing Institution
  4. Bangladesh Society for Telecommunication and Information
ব্যাখ্যা
• BSTI -এর পূর্ণ অভিব্যক্তি - Bangladesh Standards and Testing Institution.
• ২৫শে জুলাই ১৯৮৫ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের জারীকৃত ‘দি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন অধ্যাদেশ, ১৯৮৫’ -এর মাধ্যমে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) গঠিত হয়।
• অতঃপর ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত কৃষিপণ্য বিপনন ও শ্রেণী বিন্যাস পরিদপ্তরটি বিএসটিআই’র সঙ্গে একীভূত হয়। উক্ত অধ্যাদেশটি ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন আইন-২০১৮’ -তে পরিণত করা হয়েছে।
• বর্তমানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধিনে বিএসটিআই একটি স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র:- Bangladesh Standards and Testing Institution ওয়েবসাইট। 
৪,২৮৭.
বাংলাদেশের শ্রমশক্তি বিদেশে প্রেরণ করা হয় কোন সাল থেকে?
  1. ১৯৭৫ সাল
  2. ১৯৭৬ সাল
  3. ১৯৭৭ সাল
  4. ১৯৭৮ সাল
ব্যাখ্যা
জনশক্তি রপ্তানি:
- বৈদেশিক কর্মসংস্থান বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ২০ জানুয়ারি শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও কর্মী প্রেরণ বিষয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশসমূহের সাথে সমঝোতা সৃষ্টি হয়। 
- শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে বাংলাদেশ সরকার ২০০১ সালের ২০ ডিসেম্বর তারিখে ‘প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়’ নামে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করে। 

⇒ পোশাক খাতের পরপরই দেশের জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান জনশক্তি রপ্তানি খাতের।
- ১৯৭৩ সালে সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সেসব দেশের ফুলেফেঁপে ওঠা অর্থনীতিই বাংলাদেশসহ তৎকালীন স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জনশক্তি রপ্তানির দ্বারোন্মোচন করে।
- ১৯৭৬ সালে প্রথম জনশক্তি রপ্তানি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির মূল গন্তব্য উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত (জিসিসি) ছয়টি দেশ।
- অর্থাৎ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন, ও কাতার।
- পরবর্তী সময়ে এই তালিকায় যুক্ত হয় মালয়েশিয়ার নাম।
- এছাড়াও সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ বিশ্বের প্রায় ১৭০টি দেশে বাংলাদেশি অভিবাসী রয়েছে।

উৎস: i) জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো।
ii) দৈনিক ইত্তেফাক।
৪,২৮৮.
বাংলাদেশের পাখি তালিকায় যুক্ত হওয়া নতুন পাখি কোনটি?
  1. ক) ধনেশ
  2. খ) উদয়ী জিরিয়া
  3. গ) কালো শালিক
  4. ঘ) ব্রাউন ক্রো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পাখি তালিকায় যুক্ত হওয়া নতুন পাখি – উদয়ী জিরিয়া।
লম্বাপায়ের এ পাখিটি মূলত সৈকতপাখি। জলাভূমি আশপাশে আপনমনে ঘুরে বেড়ায়।
এর ইংরেজি নাম Oriental Plover এবং  বৈজ্ঞানিক নাম Charadrius veredus. 

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, সেপ্টেম্বর ২০২২।
৪,২৮৯.
'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' বাতিল করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০৬ সালে
  4. ২০১০ সালে
ব্যাখ্যা
'ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ' বাতিল করা হয় ১৯৯৬ সালে।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ:

- ‘ইনডেমনিটি’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা।
- ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ হলো সেই অধ্যাদেশ, যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা থেকে শাস্তি এড়ানোর জন্য বাংলাদেশে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে ডার্কেস্ট ল’ বা সবচেয়ে কালো আইন নামে পরিচিত।
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এ ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে খন্দকার মোশতাক হন দেশের রাষ্ট্রপতি।
- বঙ্গবন্ধুর খুনি ও তাদের দোসররা নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যাকে আইনসিদ্ধ করতে চেয়েছিল।
- তাই তখন খুনিদের ‘প্রয়োজনে’ জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ।
- খন্দকার মোশতাক আহমেদ কর্তৃক ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি অধ্যাদেশের আকারে এ আইনটি প্রণীত হয়; যা ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ নম্বর ৫০ নামে অভিহিত ছিল।
- ১৯৭৯ সালে সংসদ কর্তৃক ওই ইনডেমনিটি অনুমোদন করা হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর পর সংশোধিত আইনে এ আইনটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নামক ইতিহাসের কালো আইনটি বাতিল করা হয়।
- এর ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ সুগম হয় এবং ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ১২ নভেম্বর ২০২১, যুগান্তর।
৪,২৯০.
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্ত ছিলেন না -
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) নবাব স্যার সলিমুল্লাহ
  3. গ) শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. ঘ) মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্ত ছিলেন না - নবাব স্যার সলিমুল্লাহ।

• যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় - ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ সালে।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।

- দলগুলো ছিল -
→ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
→ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
→ মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং
→ হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪,২৯১.
নিচের কোন প্রতিষ্ঠানকে ২০২৩ সালের একুশে পদক প্রদান করা হয়?
  1. বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর
  2. বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
  3. হৃদরোগ ইন্সটিটিউট
  4. ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট
ব্যাখ্যা
একুশে পদক ২০২৩:
- এটি বাংলাদেশের একটি জাতীয় এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। 
- বাংলাদেশের বিশিষ্ট ভাষাসৈনিক, ভাষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানকারী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় পর্যায়ে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৬ সাল থেকে একুশে পদক প্রদান করা হচ্ছে। 
- ১৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক ও ২টি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৩ সালের একুশে পদক প্রদান করা হয়।

১৯ জন বিশিষ্ট নাগরিক:
- খালেদা মনযুর-ই-খুদা, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শামসুল হক (মরণোত্তর) ও হাজী মো. মজিবর রহমান: ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য।
- মাসুদ আলী খান ও শিমুল ইউসুফ: শিল্পকলায় (অভিনয)।
- মনোরঞ্জন ঘোষাল, গাজী আব্দুল হাকিম ও ফজল-এ-খোদা (মরণোত্তর): শিল্পকলায় (সংগীত)।
- জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়: শিল্পকলায় (আবৃত্তি)।
- নওয়াজীশ আলী খান: শিল্পকলায়।
- কনক চাঁপা চাকমা: শিল্পকলায় (চিত্রকলা)।
- মমতাজ উদ্দীন (মরণোত্তর): মুক্তিযুদ্ধে।
- মো. শাহ আলমগীর (মরণোত্তর): সাংবাদিকতা।
- ড. মো. আবদুল মজিদ: গবেষণায়।
- প্রফেসর ড. মযহারুল ইসলাম (মরণোত্তর): শিক্ষায়।
- মো. সাইদুল হক: সমাজসেবায়।
- অ্যাডভোকেট মঞ্জুরুল ইমাম (মরণোত্তর) ও আকতার উদ্দিন মিয়া (মরণোত্তর): রাজনীতিতে।
- ড. মনিরুজ্জামান (মরণোত্তর): ভাষা ও সাহিত্যে

দুটি প্রতিষ্ঠান হলো:
- শিক্ষায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।
- সমাজসেবায় অবদানের জন্য বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন।

উৎস: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৪,২৯২.
সংবিধান সংস্কার কমিশন উচ্চ কক্ষের জন্য কয়টি আসনের সুপাারিশ করেছেন?
  1. ১০৫ 
  2. ১১০ 
  3. ১০০ 
  4. ৪০০ 
ব্যাখ্যা

- উচ্চকক্ষ: ১০৫টি আসন, নিম্নকক্ষ: ৪০০টি আসন;

• উচ্চকক্ষ
- উচ্চকক্ষ মোট ১০৫ (একশো পাঁচ) জন সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হবে;
- এর মধ্যে ১০০ জন সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন।
- রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (Proportional Representation-PR) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের মনোনয়ের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ (একশো) জন প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে।
- এই ১০০ (একশো) জন প্রার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ৫ জন আইন দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করবে।
- অবশিষ্ট ৫টি আসন পূরণের জন্য রাষ্ট্রপতি নাগরিকদের মধ্য থেকে (যারা কোনো কক্ষেরই সদস্য ও রাজনৈতিক দলের সদস্য নন) প্রার্থী মনোনীত করবেন।
- কোনো রাজনৈতিক দলকে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতির ভিত্তিতে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের যোগ্য হতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১% নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়াও,
- উচ্চকক্ষের স্পিকার সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।
- উচ্চকক্ষের একজন ডেপুটি স্পিকার থাকবেন যিনি সরকার দলীয় সদস্য ব্যতিত উচ্চকক্ষের অন্য সকল সদস্যের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন।

উৎস: সংবিধান সংস্কার কমিশন।[লিঙ্ক]

৪,২৯৩.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফায় কয়টি ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিল?
  1. ১টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
একুশ দফা:
- ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পূর্ববাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের অবসানকল্পে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রণ্ট নামে এক নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হয়।
- এই মোর্চা গঠনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি এ.কে ফজলুল হক, আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রণ্টের পক্ষ থেকে ২১টি প্রতিশ্রুতি সম্বলিত যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করা হয় তা-ই ২১-দফা নামে পরিচিত। এই ২১ দফার মধ্যে ভাষা সংক্রান্ত দফা ছিল ৫টি: ১, ১০, ১৬, ১৭, ১৮ নং দফা।  

এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হল:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার, মাতৃভাষায় শিক্ষাদান, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের মধ্যকার বৈষম্য বিলোপ করে সকল বিদ্যালয়কে সরকারি সাহায্যপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে;
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

সূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
৪,২৯৪.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয়?
  1. ১৪০(৩)
  2. ১৩৮(১)
  3. ১৩৫(১)
  4. ১২৫(৪)
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয়া হয় — ১৩৮(১) অনুচ্ছেদ।

সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ:

অনুচ্ছেদ: ১৩৮(১)।
বিবরণ: বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী - "প্রত্যেক সরকারী কর্ম কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন"।
সাম্প্রতিক ঘটনা: সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ১৪তম চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন ও ১২ জন সদস্য পদত্যাগ করেছেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান, প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
৪,২৯৫.
'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' প্রণয়ন করা হয় -
  1. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭
  2. ৮ মার্চ, ১৯৮৭
  3. ২৬ মার্চ, ১৯৮৭
  4. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৭
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আঘাতটাই আসে বাংলা ভাষার ওপর।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, যা অঙ্কুরিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরিপূর্ণতা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতার পরপর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য একাধিক পরিপত্র জারি করা হয়।
- সর্বোপরি ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন সংসদ কর্তৃক পাশ হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হবে।
- এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হবে।’

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৪,২৯৬.
পাট উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান-
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) প্রথম
  3. গ) দ্বিতীয়
  4. ঘ) চতুর্থ
ব্যাখ্যা

- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- পাট রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশ- প্রথম।
- পাট উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশ- দ্বিতীয়।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ দেশ- ভারত।
- পাট রপ্তানিতে শীর্ষ দেশ- বাংলাদেশ।
- পাট উৎপাদনে বাংলাদেশের শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস।

৪,২৯৭.
OMS-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Open Market System
  2. Online Market Sale
  3. Open Market Sale
  4. Online Market Share
ব্যাখ্যা
OMS:
- OMS এর পূর্ণরূপ: Open Market Sale.
- Public Food Distribution System (PFDS) এর আওতায় খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রয় একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
- খাদ্যশস্যের বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রবণতা রোধ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীকে মূল্য সহায়তা (Price Support) দেয়া এবং বাজার দর স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।
- এর মধ্যে নগদ সহায়তায় (Monetised) আকারে ওপেন মার্কেট সেল (OMS) সহায়তা দিয়ে থাকে।

কার্যক্রমের আওতা:
ক) খোলা বাজারে চাল/আটা/গম বিক্রির এলাকা/আওতা, শুরুর সময় ও মূল্য খাদ্য বিভাগ, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারণ হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর ওএমএস এর আওতায় চাল/আটা/গম বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
খ) ওএমএস কার্যক্রমে সাপ্তাহিক বিক্রয়ের দিন, বন্ধের দিন ও দৈনন্দিন বিক্রয় পরিমাণ মহাপরিচালক, খাদ্য অধিদপ্তর নির্ধারণ করবেন।
গ) সরকার প্রয়োজনবোধে খাদ্যশস্যের মূল্য, বিতরণের পরিমাণ, ডিলার সংখ্যা, সুবিধাভোগীর সংখ্যা এবং এ কার্যক্রমের আওতা/পরিধি ইত্যাদি_হাস/বৃদ্ধিসহ এ নীতিমালার যে কোন অংশ সংশোধন/সংযোজন/বিয়োজন করতে পারবে।

উৎস: খাদ্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৪,২৯৮.
গণভোটের মাধ্যমে কততম সংশোধনী গৃহিত হয়?
  1. ক) চতুর্থ
  2. খ) অষ্টম
  3. গ) দ্বাদশ
  4. ঘ) ত্রয়োদশ
ব্যাখ্যা
১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদে সংবিধানের ১২তম সংশোধনী গৃহিত হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর এ সংশোধনীর পক্ষে বিপক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত যেখানে সংশোধনীর পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় পড়ে। এতে ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৯১ রাষ্ট্রপতি এই বিলে স্বাক্ষর করেন। এ সংশোধনীতে সরকার ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়। রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে সর্বময় ক্ষমতা মন্ত্রিসভার হাতে ন্যস্ত করা হয়৷ (সূত্রঃ আইন মন্ত্রণালয়)
৪,২৯৯.
শিক্ষাদানের প্রথম ধাপ কোনটি?
  1. পাঠ পরিকল্পনা
  2. প্রশ্নোত্তর
  3. পর্যালোচনা
  4. মূল্যায়ন
ব্যাখ্যা

পাঠ পরিকল্পনা:
- শিক্ষাদানের প্রথম ধাপ হলো পাঠ পরিকল্পনা।
- এতে শিক্ষক পাঠের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, বিষয়বস্তু, শিখন কৌশল ও সময় বণ্টন নির্ধারণ করেন।
- পরিকল্পনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর পূর্ব জ্ঞান, আগ্রহ ও শ্রেণির পরিবেশ বিবেচনা করা হয়।
- এটি শিক্ষককে আত্মবিশ্বাস দেয় এবং পাঠকে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- প্রশ্নোত্তর, পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন সবই পাঠ পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপ।
- ভালো পরিকল্পনা থাকলে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।

তথ্যসূত্র - শিক্ষাদানের নীতিমালা এবং শিক্ষাদানের পদ্ধতি, বাংলাদেশের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪,৩০০.
Which is the first point of historical six-point movement?
  1. The federating units or the provinces shall deal with all affairs except foreign relations and defence
  2. The federating units or provinces shall reserve the rights to levy taxes
  3. There shall be a parliamentary government formed by a legislature elected on the basis of universal adult franchise
  4. Separate accounts shall be maintained for the foreign exchange earnings of the two wings
  5. There shall be two separate but easily convertible currencies for the two wings of Pakistan
ব্যাখ্যা
ঐতিহাসিক ছয় দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ' বা ‘ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ মনু মিয়া।
 
• দফা গুলো হলো:
১ম দফা:
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের জন্য সত্যিকার অর্থে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনতন্ত্র প্রণয়ন করতে হবে। সরকার হবে সংসদীয় পদ্ধতির। সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সকল প্রাপ্ত বয়স্কের ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভাগুলো গঠিত হবে।
২য় দফা:
- যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে থাকবে দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয়। অবশিষ্ট সকল বিষয় প্রদেশের হাতে থাকবে।
৩য় দফা:
- দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু থাকবে অথবা দেশের দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে। তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা ও মূলধন অন্য অঞ্চলে পাচার হতে না পারে।
৪র্থ দফা:
- সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে তবে কেন্দ্রিয় সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য আদায় কৃত অর্থের একটি অংশ কেন্দ্রিয় সরকার পাবে।
৫ম দফা:
- বৈদেশিক বাণিজ্যি ও বৈদেশিক মুদ্রার উপর প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা থাকবে। সকল প্রকার বৈদেশিক চুক্তি ও সহযোগিতার ব্যাপারে প্রাদেশিক সরকার দায়িত্ব পালন করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা যুক্তিযুক্ত হারে উভয় সরকার কর্তৃক মেটানো হবে।
৬ষ্ঠ দফা:
- আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সরকারগুলো স্বীয় কর্তৃত্বাধীন আধা সামরিক বাহিনী (প্যারা মিলিশিয়া) গঠন ও পরিচালনা করতে পারবে।
 
 উৎস: পৌরনীতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি।