বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ২১ / ৩০৬ · ২,০০১২,১০০ / ৩০,৮৩২

২,০০১.
লর্ড ব্রাইস এর মতে, সুনাগরিকের গুণ কোনটি?
  1. বিবেক 
  2. আত্মত্যাগ
  3. সচেতনতা
  4. জ্ঞান
ব্যাখ্যা

• সুনাগরিকের গুণাবলি:
- সুনাগরিক বলতে সেই ব্যক্তিকে বুঝায় যিনি রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য চিন্তাভাবনা করেন এবং প্রয়োজনীয় কর্তব্য সম্পাদন করেন।
- নিজের অধিকার এমনভাবে ভোগ করেন যাতে অন্যের সমঅধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি না হয়।
- তিনি রাষ্ট্রের আইন-কানুনের প্রতি আনুগত্য দান করেন এবং দেয় করসমূহ সময়মত পরিশোধ করেন।
- এরূপ নাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

- লর্ড ব্রাইস বলেন, "সেই ব্যক্তি সুনাগরিক যে বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক এ তিনটি গুণের অধিকারী।" 

উৎস: পৌরনীতি , বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

২,০০২.
সংবিধানের কোন তফসিল অনুসারে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির নিকট শপথ গ্রহণ করেন?
  1. প্রথম তফসিল
  2. দ্বিতীয় তফসিল
  3. তৃতীয় তফসিল
  4. চতুর্থ তফসিল
ব্যাখ্যা
সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রপতির নিকট শপথ গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের সংবিধানের তফসিল:

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি। যথা:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

⇒ সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:
• রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার।
• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ, পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।
• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যবৃন্দ।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,০০৩.
পাট উৎপাদনের জন্য উপযোগী আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ -
  1. ৪০-৫০%
  2. ৫৫-৭০%
  3. ৬০-৭৫%
  4. ৮০-৯০%
ব্যাখ্যা
পাট চাষ:
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।
- এদেশের প্রায় সব জেলায় পাটের চাষ হয়।
- গত কয়েক বছরে পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য যেমন, ব্যাগ, বস্তা, জুতা এমনকি শাড়ী বিদেশীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে এবং বিদেশের বাজারে এসব পণ্য রপ্তানীর সুযোগ সৃষ্টি উৎপাদনের জন্য এর আধুনিক চাষপদ্ধতি জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ জলবায়ু:
- পাট উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ার ফসল, পাট উৎপাদনের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা হল ২৫-৩৫° সে. এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৮০-৯০%।
- পাট চাষের সময় সুষমভাবে বর্ণিত ১২৫-২০০ সে. মি. বৃষ্টিপাত উপকারী, চাষ অবস্থায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ক্ষতিকর।

⇒ মাটি:
- পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব পদার্থযুক্ত দোঁআশ মাটি পাটের জন্য ভাল।
- বেলে দোআশ বা এটেল দোঁআশ মাটিতে পাট চাষ করলেও ভাল ফসল পাওয়া যায়।
- এঁটেল মাটিতে পানি জন্মে থাকে বলে তা পাট চাষের জন্য উপযোগী নয়।

⇒ জমি নির্বাচন:
- উঁচু, মাঝারি নিচু এবং মাঝারি নিচু জমি অর্থাৎ যে জমিতে বৃষ্টির পানি দাঁড়ায় না বা জমে গেলেও নিষ্কাশন করা সম্ভব তেমন জমিই পাট চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।

⇒ পাটের জাত:
- পাটের প্রধান প্রজাতি ২টি:
১। দেশী পাট: Corchorus capsularis
- ডি-১৫৪-২' সিভিএল-১ (সবুজ পাট), সিভিই-৩ (আশু পাট), সিসি-৪৫ (জো পাট); এটম পাট-৩৮, বিজেআরআই দেশিী পাট-৫; বিজেআরআই দেশি-৬, বিজেআরআই দেশি পাট-৭, বিজেআরআই দেশি
২। তোষা পাট: Corchorus olitorius
- ফাল্গুনী তোষা (ও-৯৮৯৭), ওএম-১, ৩-৪, ৩-৭২, বিজেআরআই তোষা পাট-৪, বিজেআর আই তোষা পাট-৫, ৩-৭৯৫, বিজেআরআই তোষা পাট-৬ (ও-৩৮২০)।

⇒ বীজ বপনের সময়:
- বাংলাদেশের কৃষি ঋতুর ভিত্তিতে পাট উৎপাদনের জন্য খরিপ-১ ঋতু হল উপযুক্ত সময় (মার্চ-এপ্রিল থেকে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত)।
- দেশি পাট সাধারণত ১৫ই মার্চ থেকে ১৫ই মে এই সময়ের মধ্যে বুনতে হয়।
- তবে কোন জমিতে যদি জুলাই আগষ্টের দিকে বর্ষার পানি জমার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সে জমিতে কিছুটা আগাম বীজ বোনা উচিত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা ১মপত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০০৪.
'হ্যারি পটার' কি?
  1. ক) একটি পুতুলের নাম
  2. খ) একটি কম্পিউটার নাম
  3. গ) শিশুতোষ বইয়ের সিরিজ
  4. ঘ) এক ধরনের মোবাইল সেট
ব্যাখ্যা
হ্যারি পটার জেকে রাউলিং রচিত একটি শিশুতোষ ফ্যান্টাসি বইয়ের সিরিজ। এ বই অবলম্বনেই নির্মিত হয়েছে বিখ্যাত হ্যারি পটার চলচ্চিত্র।
২,০০৫.
আউশ ধান রোপনের সময় -
  1. ক) মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
  2. খ) জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু
  3. গ) মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি
  4. ঘ) এপ্রিল – মে
ব্যাখ্যা
আউশ ধান রোপনের সময়=মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
আউশ ধান উত্তোলনের সময় =মধ্য জুলাই – আগস্টের শুরু

আমন ধান রোপনের সময়=জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু
আমন ধান উত্তোলনের সময়= ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু

বোরো ধান রোপনের সময়= মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি
বোরো ধান উত্তোলনের সময় = এপ্রিল – মে

তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০২১
২,০০৬.
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি কার সভাপতিত্বে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়?
  1. আবদুল মতিন
  2. মওলানা ভাসানী
  3. শামসুল আলম
  4. আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত আন্দোলন: 
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুরু হয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০০৭.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ভাগে "নির্বাচন" সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. অষ্টম ভাগে
  2. সপ্তম ভাগে
  3. ষষ্ঠ ভাগে
  4. পঞ্চম ভাগে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১১টি ভাগ রয়েছে।
- এর মধ্যে প্রথম ভাগে প্রজাতন্ত্র,
- দ্বিতীয় ভাগে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি,
- তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার,
- চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগ,
- পঞ্চম ভাগে আইনসভা,
- ষষ্ঠ ভাগে বিচার বিভাগ,
- সপ্তম ভাগে নির্বাচন,
- অষ্টম ভাগে মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক,
- নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ ও নবম-ক ভাগ জরুরী বিধানাবলী,
- দশম ভাগে সংবিধান সশোধন এবং একাদশ ভাগ বিবিধ।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান।
২,০০৮.
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ-
  1. ক) শহীদ আব্দুল জব্বার
  2. খ) শহীদ আবুল বরকত
  3. গ) শহীদ শফিউর রহমান
  4. ঘ) রফিকউদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম শহীদ রফিকউদ্দিন আহমদ রফিক।
- তিনি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানার পারিল গ্রামের উত্তরপাড়ায় ১৯২৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম আব্দুল লতিফ এবং মাতার নাম রাফিজা খাতুন।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

২,০০৯.
আধুনিক অর্থনীতির জনক কে?
  1. ক) John Maynard Keynes
  2. খ) Paul Samuelson
  3. গ) Joseph Stieglitz
  4. ঘ) David Ricardo
ব্যাখ্যা
আধুনিক অর্থনীতির জনক- 'Paul Samuelson' বাংলায় 'পল স্যামুয়েলসন'। 
- Paul Samuelson, in full Paul Anthony Samuelson.
- তিনি একজন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ।
- ১৯৭০ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।   
- তিনি গণিতের মাধ্যমে অর্থনীতির অসংখ্য তত্ব ব্যাখ্যা করেন যা অর্থনীতিতে অনেক বঢ় অবদান রাখে।

• আধুনিক অর্থশাস্ত্রের জনক অ্যাডাম স্মিথ।
- অর্থনীতিকে ‘সম্পদের বিজ্ঞান’ বলেছেন। 
- অ্যাডাম স্মিথের বিখ্যাত গ্রন্থ- 'The Wealth of Nations’
- তিনি ক্লাসিকাল অর্থনীতির প্রবক্তা।

- অধ্যাপক মার্শাল অর্থনীতিকে ‘কল্যাণের বিজ্ঞান’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি নিও-ক্লাসিকাল অর্থনীতির প্রবক্তা।
- অর্থনীতির আধুনিক মতবাদের প্রবক্তা লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লায়নেল রবিন্স।

উৎস: অর্থনীতি- একাদশ দ্বাদশ শ্রেণী
২,০১০.
ইংরেজি কত সালে 'পঞ্চাশের মন্বন্তর' হয়েছিল?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯৪৩ সালে
  3. ১৯৪৬ সালে
  4. ১৯৪৯ সালে
ব্যাখ্যা
 দুর্ভিক্ষ:
- ইংরেজি ১৯৪৩ সালে বাংলায় সংঘটিত দুর্ভিক্ষ পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- বাংলা ১৩৫০ বঙ্গাব্দে এই দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হওয়ায় এটিকে "পঞ্চাশের মন্বন্তর" বলা হয়।
- এ দুর্ভিক্ষে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ মারা যায়।
-এ দুর্ভিক্ষের জন্যে কৃত্রিম সংকটকে দায়ী করা হয়। এ দুর্ভিক্ষকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার - মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১১.
নিচের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য?
  1. দলীয় সংগঠনবিহীন
  2. দলীয় কর্মসূচিবিহীন
  3. বেসরকারি সংগঠন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী:
- চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা তাদের স্বার্থগত ইস্যুগুলোতে একই রকম মনোভাব পোষণ করে।
- এই গোষ্ঠী নানাবিধ চাপ প্রয়োগ ও কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করে। 

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য:
• দলীয় সংগঠনবিহীন,
• দলীয় কর্মসূচিবিহীন,
• নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া,
• সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা,
• সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়,
• সমজাতীয় মনোভাব,
• বেসরকারি সংগঠন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১২.
BIRDEM এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) ডা. আবুল কালাম আজাদ
  2. খ) ডা. নুরুল ইসলাম
  3. গ) ডা. সিদ্দিকুর রহমান
  4. ঘ) ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম
ব্যাখ্যা
- BIRDEM (Bangladesh Institute of Research and Rehabilitation in Diabetes, Endocrine and Metabolic Disorders) এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
- বারডেম ১৯৮০ সালে ঢাকার শাহবাগে সরকার প্রদত্ত জমিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির অধীন একটি প্রতিষ্ঠান।
(তথ্যসূত্র: বারডেম ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া)
২,০১৩.
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR) এর বর্তমান প্রধান কে?(সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধান উপদেষ্টা
  3. জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
  4. মন্ত্রীপরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা

NICAR:
- NICAR-এর পূর্ণরূপ: National Implementation Committee for Administrative Reform বা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।
- এটি ১৯৮২ সালে গঠিত।
- ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক রিয়ার এডমিরাল এম.এ খানকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠিত হয়। 
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই কমিটির আহবায়ক।
- বর্তমান আহ্বায়ক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

উৎস: i) NICAR ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২,০১৪.
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) কত দফা নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করেছেন?
  1. ১ দফা
  2. ৬ দফা
  3. ৯ দফা
  4. ১১ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালের সংবিধান অনুযায়ী আইয়ুব খানের প্রেসিডেন্ট পদের মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় ১৯৬৫ সালের ২ জানুয়ারি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হয়।
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটার ছিলেন সমগ্র পাকিস্তানে ৮০,০০০ (আশি হাজার) মৌলিক গণতন্ত্রী।
- ১৯৬৪ সালের নভেম্বর মাসে মৌলিক গণতন্ত্রীদের নির্বাচন আয়োজন করা হয়। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত হয় 'সম্মিলিত বিরোধী দল' (COP) |
- আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিরোধী দলের প্রার্থী মনোনীত করা হয় মিস ফাতিমা জিন্নাহকে। তিনি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ভগ্নি।
- প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্মিলিত বিরোধী দল (কপ) ৯ দফা নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করে। যেমন-
১. একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করা হবে,
২. জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচন করা হবে,
৩. জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদকে আইন ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হবে,
৪. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দেয়া হবে,
৫. প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা হ্রাস করা হবে,
৬. শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হবে,
৭. আইনের ব্যাখ্যা প্রদানের ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টকে প্রদান করা হবে,
৮. সকল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেয়া হবে, এবং
৯. নিবর্তনমূলক সকল আইন বিলুপ্ত করা হবে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০১৫.
কোন বিদেশী পত্রিকা বঙ্গবন্ধুকে 'poet of politics' উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. নিউজ গার্ডিয়ান
  2. দি ইকোনোমিস্ট
  3. নিউজ উইক
  4. দি সান
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:
- রাজনীতির কবি’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তিনি শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নয়, বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক ’বিশ্ববন্ধু’ উপাধিতেও বিশ্বনন্দিত।
- ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত নিউজ উইক ম্যাগাজিন বঙ্গবন্ধুকে (Poet of Politics ) ’রাজনীতির কবি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন
- সকল শ্রেণী ও আদর্শের অনুসারীদের একতাবদ্ধ করার জন্য সম্ভবত তাঁর ‘স্টাইল’ সবচেয়ে বেশি উপযোগী ছিল।
- এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী ৭ মার্চের ভাষণকে এক অনবদ্য কবিতা এবং বঙ্গবন্ধুকে মহাকবি হিসেবে ভূষিত করার অবারিত যুক্তি রয়েছে।
- এ জন্যই বঙ্গবন্ধু বিশ্বপরিমন্ডলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এক অসাধারণ মহাগ্রন্থে।
 
উৎস:- বাংলাপিডিয়া ও প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
২,০১৬.
২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেছে কোন সংস্থা?
  1. UNDP
  2. UNESCO
  3. UNICEF
  4. FAO
ব্যাখ্যা
২১শে ফেব্রুয়ারি 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস:
- ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো।

⇒ ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়।
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।

⇒ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার বিষয়ে প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন কানাডাপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এবং কানাডার বহুভাষিক ও বহুজাতিক সংগঠন ‘মাতৃভাষা প্রেমিক গোষ্ঠী’। তৎকালীন সরকার ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় ঘোষণা করেন যে, পৃথিবীর বিকাশমান ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলির মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের (ইউনেসকো) অধিবেশনে বাংলাদেশসহ ২৭টি দেশের সমর্থন নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি এই বিশেষ দিবসটিকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশ প্রথম বারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে।
- UNESCO'র পর জাতিসংঘও ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
২,০১৭.
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহয্য করে বায়ুর-
  1. ক) অক্সিজেন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) নাইট্রোজেন
  4. ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে এবং গাছকে সবুজ ও সতেজ করতে নাইট্রোজেন ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশের কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার হচ্ছে ইউরিয়া।
এছাড়া ফল, বীজ ও মূলের উন্নয়নে ফসফরাস,
ফুল ও ফল ধারণে- পটাসিয়াম এবং
উদ্ভিদের কোষ বৃদ্ধি ও কোষ বিভাজনের জন্য- ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হয়।
উৎসঃ কৃষি মন্ত্রনালয়ের ওয়েবসাইট
২,০১৮.
বিক্রমশীল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন —
  1. গোপাল
  2. দেবপাল
  3. ধর্মপাল 
  4. মহীপাল
ব্যাখ্যা

• ধর্মপালের সাফল্য:
- বাংলা সর্বপ্রথম উত্তর ভারতীয় রাজনীতিতে স্বল্পকালের জন্য হলেও কিছু সাফল্য অর্জন করেছিল। 
- ধর্মপালের অধীনে বাংলার নতুন শক্তি ও উদ্দীপনার পরিচয় এই প্রশস্তিসমূহেই পাওয়া যায়।
- পাল রাজাদের মধ্যে ধর্মপালই প্রথম সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি পরমেশ্বর, পরমভট্টারক ও মহারাজাধিরাজ গ্রহণ করেন। 
- পিতার ন্যায় তিনিও বৌদ্ধ ছিলেন।
- বরেন্দ্র অঞ্চলের সোমপুর নামক স্থানে (বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুরে) একটি বিহার বা বৌদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেন যা সোমপুর মহাবিহার নামে পরিচিত।
- খুব সম্ভবত এটি সমগ্র ভারতবর্ষে সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ বিহার।
- ভাগলপুরের ২৪ মাইল পূর্বে তিনি আরেকটি বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ধর্মপালের অপর নাম 'বিক্রমশীল' অনুসারে বিহারটির নাম দেয়া হয় বিক্রমশীল বিহার। 
- তারনাথ উল্লেখ করেন যে, ধর্মপাল বৌদ্ধ শিক্ষার জন্য ৫০টি শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল নিজে বৌদ্ধ হলেও হিন্দু ধর্মের প্রতি উদার ছিলেন। 
- নারায়ণ মন্দিরের জন্য তিনি নিষ্কর ভূমিদান করেন। 

উৎস: ইতিহাস-১ম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০১৯.
বাংলাদেশ ভূখণ্ডের বাইরে নিম্নের কোন জনপদের অবস্থান ছিল?
  1. হরিকেল 
  2. রাঢ়
  3. বরেন্দ্র
  4. সমতট 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ভূখণ্ডের বাইরে অবস্থিত একটি প্রাচীন জনপদ ছিল রাঢ় জনপদ। বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি বড় অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। 

রাঢ় জনপদ:
- বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি বড় অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। 
- রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- পশ্চিবঙ্গের আধুনিক হাওড়া, হুগলি ও বর্ধমান জেলার বিভিন্ন বৃহদাকার বসতি স্থানসমূহ বা অজয় ও দামোদর নদের মধ্যবর্তী অংশে অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের উল্লেখযোগ্য অংশ দক্ষিণ রাঢ়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং এর দক্ষিণ সীমা সম্ভবত রূপনারায়ণ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল ও পশ্চিম সীমা প্রসারিত ছিল দামোদর নদের অপর পারে অবস্থিত আরামবাগ মহকুমা পর্যন্ত। 
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

এছাড়াও, 
- বরেন্দ্র: বরেন্দ্র উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ। ঐতিহাসিকদের মতে বর্তমান রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ এবং দার্জিলিং ও কোচবিহারসহ গঠিত সমগ্র অঞ্চল বরেন্দ্র এলাকা।
- হরিকেল জনপদ: হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ। চট্টগ্রাম ও সিলেট প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদের অংশ ছিল।
- সমতট: দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট। বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

২,০২০.
সম্প্রতি সরকার কোন নদীকে 'মৎস্য হেরিটেজ' এলাকা ঘোষণা করেছে? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. কর্ণফুলী নদী
  2. ফেনী নদী
  3. নাফ নদী
  4. হালদা নদী
ব্যাখ্যা

মৎস্য হেরিটেজ:
- সরকার সম্প্রতি হালদা নদীকে 'মৎস্য হেরিটেজ' এলাকা ঘোষণা করেছে। 

⇒ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় হালদা নদীকে মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করে ৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
- প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিবেশগত মান উন্নয়নের মাধ্যমে রুইজাতীয় মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকরণ ও গাঙ্গেয় ডলফিনের আবাসস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ও মানিকছড়ি উপজেলা, চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারী উপজেলা এবং পাঁচলাইশ থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হালদা নদী এবং নদী তীরবর্তী ৯৩ হাজার ৬১২ টি দাগের ২৩ হাজার ৪২২.২৮০৫৯ একর জায়গা "হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ" হিসেবে ঘোষণা করা হলো।
- এপ্রিল-জুন মাসে হালদা নদীর বিভিন্ন স্থানে রুইজাতীয় মাছের প্রজননের ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ নিষিক্ত ডিম পাওয়া যায়।

⇒ প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, এ নদী হতে কোনো প্রকার মাছ ও জলজ প্রাণি ধরা বা শিকার করা যাবেনা, তবে মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর প্রজনন মৌসুমে নির্দিষ্ট সময়ে মাছের নিষিক্ত ডিম আহরণ করা যাবে।
- প্রাণি ও উদ্ভিদের আবাসস্থল ধ্বংসকারী কোনো প্রকার কার্যকলাপ করা যাবেনা। 
- নদীর চারপাশের বসতবাড়ি, শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পয়ঃপ্রণালী সৃষ্ট বর্জ্য ও তরল বর্জ্য নির্গমন করা যাবেনা। কোনো অবস্থাতেই নদীর বাঁক কেটে সোজা করা যাবেনা।
- হালদা নদীর সাথে সংযুক্ত ১৭ টি খালে প্রজনন মৌসুমে (ফেব্রুয়ারি-জুলাই) মৎস্য আহরণ করা যাবেনা।
- হালদা নদী এবং এর সংযোগ খালের উপর নতুন করে কোনো রাবার ড্যাম এবং কংক্রিট ড্যাম নির্মাণ করা যাবেনা।
- 'হালদা নদী মৎস্য হেরিটেজ তদারকি কমিটি' এ অনুমতি ব্যতিরেকে হালদা নদীতে নতুন পানি শোধানাগার, সেচ প্রকল্প স্থাপনের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করা যাবেনা
- মাছের প্রাক-প্রজনন পরিভ্রমণ সচল রাখার স্বার্থে হালদা নদী এবং সংযোগ খালের পানির প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবেনা।
- সারা বছর হালদা নদীর কর্ণফুলী মোহনা থেকে নাজিরহাট ব্রিজ (অভয়াশ্রম এলাকা) পর্যন্ত ইঞ্জিন চালিত ভারী নৌযান (বালুবাহী ও পণ্যবাহী নৌকা এবং ড্রেজার) চলাচল করতে পারবে না।
- হালদা এবং তার শাখা নদীর বালুমহাল ইজারা বন্ধ করা এবং ড্রেজার দিয়ে/ক্ষতিকর পদ্ধতিতে বালু উত্তোলন করা যাবে না।
- নদীর অববাহিকা অঞ্চলে কোন প্রকার তামাক চাষ করা যাবে না।
- নদীর অববাহিকা অঞ্চলে কৃষি জমিতে ক্ষতিকর কোন কীটনাশক বা বালাইনাশক ব্যবহার করা যাবে না। 

উৎস: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। 

২,০২১.
৬ দফা আনুষ্ঠানিকভাবে কত তারিখে ঘোষণা করা হয়?
  1. ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. ২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৬
  3. ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
  4. ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা:
পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার প্রশ্নে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক মহাসম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সম্মিলিত ৬ দফাভিত্তিক ঘোষণা উত্থাপন বা পেশ করেন।
- এটাই ইতিহাসে ‘ছয় দফা কর্মসূচি’ নামে পরিচিত।
- ১৯৬৬ সালের ৫ - ৬ ফেব্রুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে বিরোধী দলের একটি সম্মেলনে ছয় দফা দাবী পেশ করেন।
- আর এটি ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়।
- ঐতিহাসিক ছয় দফার খসড়া প্রণেতা - রুহুল কুদ্দুস । তিনি একজন সি এস পি কর্মকর্তা।

• দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।।
২,০২২.
যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় কবে?
  1. ১২ নভেম্বর, ১৯৫৩ সালে
  2. ১৩ নভেম্বর, ১৯৫৩ সালে
  3. ১৪ নভেম্বর, ১৯৫৩ সালে
  4. ১৫ নভেম্বর, ১৯৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৩ সালের নভেম্বর মাসে যুক্তফ্রন্ট একটি একুশ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করে এবং এটিকে নির্বাচনী ইশতেহারের অর্ন্তভুক্ত করে।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো,
• আওয়ামী লীগ।
• কৃষক শ্রমিক পার্টি।
• নেজামে ইসলাম।
• গণতন্ত্রী দল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন। 
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন। পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি, তফসিল ফেডারেশন ২৭টি, খেলাফতে রব্বানী ২টি, খ্রিস্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি, কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০২৩.
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম পুস্তিকা বের করেন -
  1. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. তমদ্দুন মজলিশ
  3. রাষ্ট্রভাষা বাংলা সংগ্রাম পরিষদ
  4. সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিশ গঠিত হয়।
- এটিই ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। 
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রথম পুস্তিকা প্রকাশিত হয়।
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম পরিচালিত হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর প্রতিবাদ করেন।
- তিনি ‘বাংলা’ ভাষাকেও অধিবেশনের ভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।
- ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে শুরু থেকেই যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। 
- তমদ্দুন মজলিশের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের অক্টোবর মাসে গঠিত হয় প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। 
- এর আহ্বায়ক মনোনিত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূঁইয়া।

উৎস: i) ইতিহাস, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
২,০২৪.
কোন রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন করে?
  1. জনতা ব্যাংক পিএলসি
  2. সোনালী ব্যাংক পিএলসি
  3. অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি
  4. রূপালী ব্যাংক পিএলসি
ব্যাখ্যা

রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ:
- রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা ৬টি।
• সোনালী ব্যাংক পিএলসি।
• রূপালী ব্যাংক পিএলসি।
• জনতা ব্যাংক পিএলসি।
• অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি।
• বেসিক ব্যাংক লিমিটেড।
• বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড।

⇒ সোনালী ব্যাংক পিএলসি:
- বাংলাদেশের রাষ্ট্র মালিকানাধীন সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসি।
- বাংলাদেশ ব্যাংক্স (ন্যাশনালাইজেশন) অর্ডার ১৯৭২, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ নম্বর ২৬, ১৯৭২ অনুসারে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, ব্যাংক অব বাহ্ওয়ালপুর এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক নিয়ে ‘সোনালী ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
- সোনালী ব্যাংক লিমিটেড এর শাখার সংখ্যা বর্তমানে ১২৩১টি।
- দেশের অভ্যন্তরে ১২৩৪টি এবং বিদেশে ২টি শাখা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- নিকাশ এমন একটি প্রক্রিয়া যাহার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে দেনা পাওনা অতি সহজেই নিষ্পত্তি করা যায়।
- নিকাশ ঘরে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রতিনিধিগণ মিলিত হয় এবং সকলে সেখানে আসার সময় অন্য ব্যাংকের নামে কাটা চেকসমূহ সাথে করে নিয়ে আসে। নিকাশ-ঘরে একত্রিত হওয়ার পর তারা চেক বিনিময় করে।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিকাশ ব্যবস্থার দায়িত্ব 'বাংলাদেশ ব্যাংক' গ্রহণ করে।
- যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের হয়ে নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন করে।

উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।

২,০২৫.
সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক কোনটি?
  1. ক) জনতা ব্যাংক লিমিটেড
  2. খ) অগ্রনী ব্যাংক লিমিটেড
  3. গ) সোনালী ব্যাংক লিমিটেড
  4. ঘ) রূপালি ব্যাংক লিমিটেড
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক ৬টি। এর মধ্যে সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো সোনালী ব্যাংক লিমিটেড।
পাকিস্তান আমলের ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, ব্যাংক অব বাহওয়ালপুর ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সমন্বয়ে ১৯৭২ সালে সোনালী ব্যাংক লিমিটেড যাত্রা শুরু করে।
এর অনুমোদিত মূলধন ছয় হাজার কোটি টাকা। শাখার সংখ্যা ১,২২৫টি।
রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক হলোঃ
- জনতা ব্যাংক লিমিটেড
- অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড
- রূপালি ব্যাংক লিমিটেড
- বেসিক ব্যাংক লিমিটেড এবং
- বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেড।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংক ওয়েবসাইট)
২,০২৬.
দেশের মোট রপ্তানি আয়ের কত শতাংশ রেডিমেড গার্মেন্টস সেক্টর থেকে আসে?
  1. ক) ৮৭ শতাংশ
  2. খ) ৮৫ শতাংশ
  3. গ) ৮৯ শতাংশ
  4. ঘ) ৮১ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ‘তৈরি পোশাক' ও ‘নীটওয়্যার’ - ইত্যাদি কয়েক ধরনের রপ্তানি পণ্যের সমন্বয়ে গঠিত। 
- ২০২১-২২ অর্থবছরে তৈরি পোশাক ও নীটওয়্যার পণ্যের রপ্তানি আয় - ২৭,৪৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ২৭.৪৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা মোট রপ্তানি আয়ের - ৮১.২৫% (নীটওয়্যার- ৪৪.৫৩% ও তৈরি পোশাক - ৩৬.৭২%)। 
- অর্থাৎ, রপ্তানি আয়ে তৈরি পোশাক খাতের অবদান - ৮১.২৫%
 
উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২
২,০২৭.
পাল বংশের 'শেষ মুকুট' বলে অভিহিত করা হয়-
  1. গোপাল
  2. চন্দ্রপাল
  3. দেবপাল
  4. রামপাল
ব্যাখ্যা

পাল বংশ:
- শশাঙ্ক পরবর্তী বাংলায় অরাজকতার যুগের অবসান ঘটিয়ে গোপাল বাংলার সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং পাল রাজ বংশের সূচনা করেন। 

- গোপালের রাজত্বকাল সম্পর্কে সঠিকভাবে জানার উপায় নেই।
- অনুমান করা হয় গোপাল ৭৫৬ হতে ৭৮১ খিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেছিলেন। 
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা-- গোপাল।
- গোপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাল রাজবংশের শাসন বাংলায় প্রায় ‘চারশ' বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- গোপালের ক্ষমতা লাভ সর্ম্পকে খালিমপুর তাম্রশাসন থেকেও জানা যায়। গোপালের উত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাল রাজবংশ। 
- প্রায় চারশত বছর ধরে ১৭ জন পাল নৃপতি বাংলা শাসন করেন।
- গোপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শাসনের উপর ভিত্তি করে তার পরবর্তী দুই উত্তরাধিকারী ধর্মপাল ও দেবপাল সাম্রাজ্যকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যান। 
- রামপালকেই পাল বংশের 'শেষ মুকুট' বলে অভিহিত করা হয়। 
- যদিও তার মৃত্যুর পর তার দুই পুত্র তৃতীয় গোপাল ও মদনপাল কিছু সময় বাংলার শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। 
- ১১ শতকের শেষ দিকে সেন বংশের উত্থানের ফলে পাল রাজত্বের অবসান ঘটে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০২৮.
বাংলাদেশের কোন নৃগোষ্ঠী সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ‘পাঞ্চেস’ ব্যবস্থার প্রচলন করেছে?
  1. সাঁওতাল
  2. ওরাঁও
  3. রাজবংশী
  4. রাখাইন
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- বাংলাদেশের একটি প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হলো ওরাওঁ।
- মূলত তারা দেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে বসবাস করলেও বর্তমানে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় তারা ছড়িয়ে রয়েছে। নৃবিজ্ঞানীদের মতে, ওরাওঁরা দ্রাবিড় বংশোদ্ভূত একটি জনগোষ্ঠী।

উল্লেখ্য, 
- তারা মূলত কুঁড়ুখ ভাষায় কথা বলে, এটা দ্রাবিড় ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি আদি ও কথ্য ভাষা।
- এই ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই। এছাড়াও ওরাওঁদের মধ্যে সাদরি ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।

এছাড়াও, 
- ওরাওঁ সমাজে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও বিবাদ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষ গ্রাম সংগঠন রয়েছে, যাকে ‘পাঞ্চেস’ বলা হয়।
- পাঞ্চেস সাধারণত গ্রামের সাত থেকে আটজন বয়স্ক ও অভিজ্ঞ ব্যক্তির সমন্বয়ে গঠিত হয়, যারা বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা করেন এবং গ্রামবাসীদের মধ্যে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখেন।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
২,০২৯.
ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে?
  1. ১৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• ওলন্দাজ
→ হল্যান্ডের অধিবাসীদের ওলন্দাজ বা ডাচ বলা হয়।
→ তারা ‘ডাচ ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি’ গঠন করে বাণিজ্যের উদ্দেশে ১৬০২ খ্রিস্টাব্দে উপমহাদেশে আসে।
→ তারা কালিকট, নাগাপট্টম, বাংলার চুঁচুড়া, বাকুড়া, বলাসোর, কাশিমবাজার এবং বরানগরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
→ কিন্তু অপর ইউরোপীয় শক্তি ইংরেজদের সঙ্গে তাদের ব্যবসায়-বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ শুরু হয় এবং একই সঙ্গে তারা বাংলার শাসকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে।
১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ওলন্দাজরা বিদরার যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ফলে ১৮০৫ খ্রিস্টাব্দে শেষ পর্যন্ত সকল বাণিজ্যকেন্দ্র গুটিয়ে তারা এদেশ
ত্যাগে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৩০.
‘বাকল্যান্ড বাঁধ’ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. শীতলক্ষ্যা
  2. ধলেশ্বরী
  3. বুড়িগঙ্গা
  4. করতোয়া
ব্যাখ্যা
বাকল্যান্ড বাঁধ:

- বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ।
- ১৮৬৪ সালে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন।
- নদীর ঘাট পর্যন্ত কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,০৩১.
ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকায়
  2. খুলনায়
  3. নারায়ণগঞ্জে
  4. চাঁদপুরে
ব্যাখ্যা
• ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট:
- ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (মৎস্য প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট) — চাঁদপুর জেলার বাবুরহাটে অবস্থিত।
- এই ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে মৎস্য সেক্টরের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মৎস্য চাষীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এছাড়াও - 
- নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত।
- সামুদ্রিক মৎস্য ও প্রযুক্তি কেন্দ্র অবস্থিত কক্সবাজারে।
- 'বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট' ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্নে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাপিডিয়া ও ফিশারিজ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
২,০৩২.
সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফিতি ছিলো কত শতাংশ?
  1. ক) ৫.৪০ শতাংশ
  2. খ) ৫.৪৮ শতাংশ
  3. গ) ৫.৬৫ শতাংশ
  4. ঘ) ৬.০২ শতাংশ
ব্যাখ্যা
সদ্যসমাপ্ত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফিতি ছিলো ৫.৬৫ শতাংশ। এর আগের ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফিতি ছিলো ৫.৪৮ শতাংশ। চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরে অনুমিত গড় মূল্যস্ফিতি ৫.৪ শতাংশ।
(সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন)
২,০৩৩.
স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশে প্রথম জনশুমারি হয় কবে?
  1. ১৯৭৩ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৮ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৪ সালে প্রথম জনশুমারি ও গৃহগণনা হয়। 
- ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি হয় এবং
- ১৯৮৬ সালে প্রথম অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ছয়টি আদম শুমারি ও গৃহগণনা শুমারি পরিচালিত হয় যার সর্বশেষটি হয় ২০২২ সালে।
- ৬ষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মূল তথ্যসংগ্রহ কার্যক্রম ১৫-২১ জুন ২০২২ সময়ে সম্পন্ন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
২,০৩৪.
২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কত?
  1. ৫.০%
  2. ৫.৫%
  3. ৬.০%
  4. ৬.৫%
ব্যাখ্যা

জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬:
- বাজেটের ক্রম: ৫৪তম (অন্তবর্তীকালীনসহ ৫৫তম)।
- বাজেটের শিরোনাম: 'বৈষম্যহীন ও টেকসই অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যয়'।
- বাজেট উত্থাপনকারী: ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ (অর্থ উপদেষ্টা)।
- বাজেট উত্থাপন: ২ জুন, ২০২৫।
- অনুমোদন হয় : ২২ জুন, ২০২৫।
- কার্যকর হয়: ১ জুলাই, ২০২৫।
- বাজেটের আকার: ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
- জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার: ৫.৫%।
- অনুমিত মুদ্রাস্ফীতির হার: ৬.৫%।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (ADP): ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৩.৭%)।

তথ্যসূত্র - জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬।

২,০৩৫.
বাংলাদেশের কোন ক্রিকেটার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হয়েছেন? [জানুয়ারি,২০২৬]
  1. তাইজুল ইসলাম
  2. রিশাদ হোসেন
  3. তাসকিন আহমেদ
  4. মোস্তাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

-  আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান।
- বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার উইকেট সংখ্যা ১৫৮টি।
- আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাকিব আল হাসানের উইকেট এখন ১৪৯টি।

উল্লেখ্য,
- আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হয়েছেন তাইজুল ইসলাম।
- মুশফিকুর রহিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সব ফরম্যাট মিলিয়ে মুশফিকুর রহিমের মোট রানই সর্বোচ্চ।(টেস্ট (৬৩২৮), ওয়ানডে (৭৭৯৫) ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে (১৫০০)) 

• সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক:
- আন্তর্জাতিক সব ফরম্যাট - মুশফিকুর রহিম
- ওয়ানডে (ODI) - তামিম ইকবাল (8,357 রান)
- টি-টোয়েন্টি (T201) সাকিব আল হাসান (2,551 রান)।

উৎস: Cricinfo.com.

২,০৩৬.
ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুসারে, কত শতাংশ লোক গ্রামে বাস করে?
  1. ৬৬.৫৬%
  2. ৬৬.২৩%
  3. ৬৮.১২%
  4. ৬৮.৩৪%
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- এটি দেশের ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

উল্লেখ্য,
- মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৬৬%) নাগরিক শহরে বাস করে।
- এবং দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৩৪%) নাগরিক গ্রামে বাস করে।

• সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।
২,০৩৭.
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের ভূমিকা ছিল -
  1. রাষ্ট্রভাষার দাবির পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেন
  2. ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে অংশ নেন
  3. পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব দেন
  4. সরকারি কাগজে বাংলা ব্যবহার না করার প্রস্তাব দেন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের করাচিতে গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হয়।
- সেদিন কুমিল্লার সন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্বপ্রথম পাকিস্তান গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব তুলেছিলেন।
- তিনি সরকারি কাগজে বাংলা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।
- ২৫ ফেব্রুয়ারি ওই অধিবেশনে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তই সর্বপ্রথম রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে সোচ্চার হন।
- তিনি অধিবেশনে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গণপরিষদে যে কার্যবিবরণী লেখা হয় তা ইংরেজি ও উর্দু ভাষায় লিপিবদ্ধ হয়।
- সমগ্র পাকিস্তানের ৫৬ শতাংশ মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলেন।
- অধিবেশনে ইংরেজি ও উর্দুর সঙ্গে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি তোলেন তিনি।

উৎস: প্রথম আলো।
২,০৩৮.
বাের্ডের ওপর তেলরঙের ‘চর দখল’ ছবিটি কার আঁকা? 
  1. ক) এস,এম, সুলতান
  2. খ) জয়নুল আবেদীন
  3. গ) মর্তুজা বশীর
  4. ঘ) হাশেম খান
ব্যাখ্যা

এস এম সুলতানের চিত্রকর্ম:
- 'সভ্যতার ক্রমবিকাশ' 
- 'পাট কাটা',
- 'ধান কাটা',
- 'ধান ঝাড়া',
- 'জলকে চলা',
- 'চর দখল',
- 'গ্রামের খাল',
- 'মৎস্য শিকার'

উৎস: সমকাল রিপোর্ট।

২,০৩৯.
হাড়িভাঙ্গা কীসের নাম?
  1. ক) কলা
  2. খ) আম
  3. গ) ধান
  4. ঘ) লিচু
ব্যাখ্যা
হাড়িভাঙ্গা হলো আমের একটি জাত।
আমের অন্যান্য জাতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- মহানন্দা
- আম্রপালি
- হিমসাগর বা ক্ষীরসাপাত
- ফজলি
- ল্যাংড়া
- গোপালভোগ
- মোহনভোগ
- বান্দিগুড়ি
- গৌরমতি
- সূর্যপুরী প্রভৃতি।

(তথ্যসূত্র: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট)
২,০৪০.
কত সালে 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি' প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৭৪ সালে
  2. খ) ১৯৭৮ সালে
  3. গ) ১৯৮৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায় এবং ১ জানুয়ারি ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয় ।

উৎস: i) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট।
          ii) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
২,০৪১.
বর্তমানে দেশের কোন বিভাগে সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি?
  1. ময়মনসিংহ
  2. বরিশাল
  3. ঢাকা
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয় : ১৫-২১ জুন ২০২২
- এটি দেশের প্রথম ডিজিটাল শুমারি।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১১১৯ জন।
- স্বাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৪.৮০%।
- পুরুষের সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭৬.৭১%।
- মহিলার সাক্ষরতার হার (৭ বছর বা তদূর্ধ্ব) - ৭২.৯৪%।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে (৭৮.২৪%)।
- বিভাগভিত্তিক সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে (৬৭.২৩%)।
- সাক্ষরতার হারে শীর্ষ জেলা পিরোজপুর (৮৫.৫৩%)।
- সাক্ষরতার হারে সর্বনিম্ন জেলা জামালপুর (৬১.৭০%)।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
২,০৪২.
বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের ২ক নং অনুচ্ছেদে কী সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. রাষ্ট্রধর্ম
  2. প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা
  3. নাগরিকত্ব
  4. সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের প্রথম ভাগের অনুচ্ছেদ -
- ১ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্র,
- ২ নং অনুচ্ছেদ: প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা,
- ২ক নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রধর্ম,
- ৩ নং অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রভাষা,
- ৪ নং অনুচ্ছেদ: জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় প্রতীক,
- ৪ক নং অনুচ্ছেদ: জাতির পিতার প্রতিকৃতি,
- ৫ নং অনুচ্ছেদ: রাজধানী,
- ৬ নং অনুচ্ছেদ: নাগরিকত্ব,
- ৭ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের প্রাধান্য,
- ৭ক নং অনুচ্ছেদ: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ,
- ৭খ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
২,০৪৩.
১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কোথায় ঘোষণা করেন “উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”?
  1. ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে
  2. খ) রেসকোর্স ময়দানে
  3. গ) কার্জন হলে
  4. ঘ) গণপরিষদ অধিবেশনে
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৮ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন।
- তিনি ২১শে মার্চ রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এবং ২৪শে মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ঘোষণা করেন, “উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা”।
- উভয় স্থানেই তার এই ঘোষণা উপস্থিত জনতা ও ছাত্ররা ‘না না’ ধ্বনি দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
২,০৪৪.
বেনাপোল স্থলবন্দর কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সাতক্ষীরা
  2. পটুয়াখালী
  3. শেরপুর
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

বেনাপোল স্থলবন্দর:
- বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ স্থল বন্দর বেনাপোল স্থলবন্দর।
- বেনাপোল স্থলবন্দর যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল সীমান্তে অবস্থিত।
- মোট ৮৬.৬৮ একর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- স্থলবন্দরটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য আমদানি/রপ্তানির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হিসেবে কাজ করে।।
- বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ তল্লাশী ঘাঁটি ও আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত।
- দেশের স্থল বাণিজ্যের প্রায় ৯০% এ বন্দরের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

⇒ কয়েকটি স্থলবন্দরের নাম ও অবস্থান:
- বুড়িমারী স্থলবন্দর: পাটগ্রাম, লালমনিরহাট।
- আখাউড়া স্থলবন্দর: আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
- ভোমরা স্থলবন্দর: ভোমরা, সাতক্ষীরা সদর।
- নাকুগাঁও স্থলবন্দর: নালিতাবাড়ী, শেরপুর।
- তামাবিল স্থলবন্দর: গোয়াইনঘাট সিলেট।
- সোনাহাট স্থলবন্দর: ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।
- দর্শনা স্থলবন্দর: দামুরহুদা, চুয়াডাঙ্গা।
- বিলোনিয়া স্থলবন্দর: বিলোনিয়া, ফেনী।

উৎস: বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ।

২,০৪৫.
‘বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. মৌলভীবাজার
  3. হবিগঞ্জ
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক:
- বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত।
- বন বিভাগের বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলায় মিশ্র চিরহরিৎ প্রাকৃতিক বনে গড়ে তোলা হয়েছে বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক।
- বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের আকর্ষণ করতে ২০০৬ সালে সংরক্ষিত এই বনভূমিকে ইকোপার্ক ঘোষণা করা হয়।
- ইকোপার্কটির আয়তন ৮৮৭ একর।

উল্লেখ্য,
- ইকোপার্ক রক্ষা ও ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় জনবল নেই।
- প্রায় ৯০০ একরের ইকোপার্কটি চলছে মাত্র তিনজনের লোকবল দিয়ে।
- ইকোপার্কের চারপাশে জনবসতি থাকলেও জনসাধারণের অবাধ চলাচল রোধে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা নেই।
- মৌলভীবাজার শহরের কাছে ছায়ানিবিড় ইকোপার্কটির অবস্থান হলেও সুযোগ-সুবিধা ও নিরাপত্তার অভাবে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারেনি।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii)  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, প্রথম আলো।
২,০৪৬.
বাংলাদেশে মর্যাদা অনুসারে ২য় বীরত্বসূচক খেতাব-
  1. বীরপ্রতীক
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীরউত্তম
  4. বীরবিক্রম
ব্যাখ্যা

 ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে — সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের খেতাব প্রদান করেন।

• মুক্তিযুদ্ধের খেতাব ৪ পর্বে বিভক্ত।
যথা-
- বীরশ্রেষ্ঠ (মর্যাদা অনুসারে প্রথম বীরত্বসূচক খেতাব),
- বীর উত্তম (মর্যাদা অনুসারে দ্বিতীয় বীরত্বসূচক খেতাব),
- বীর বিক্রম (মর্যাদা অনুসারে তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব) এবং
- বীর প্রতীক (মর্যাদা অনুসারে চতুর্থ বীরত্বসূচক খেতাব)।

• খেতাবপ্রাপ্ত মোট বীর মুক্তিযোদ্ধা:
• ১ম উপাধি: বীরশ্রেষ্ঠ, ৭ জন,
• ২য় উপাধি: বীর উত্তম, ৬৮ জন,
• ৩য় উপাধি: বীর বিক্রম, ১৭৫ জন এবং
• ৪র্থ উপাধি: বীর প্রতীক, ৪২৬ জন।
- মুক্তিযুদ্ধে খেতাবপ্রাপ্ত মোট যোদ্ধার সংখ্যা ৬৭৬ জন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

২,০৪৭.
'তমদ্দুন মজলিশ' সংগঠনটি কোন আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট?
  1. গণঅভ্যুত্থান
  2. ভাষা আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন
  4. ৬ দফা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য:
• ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
• ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় 'উর্দু বনাম বাংলা' বিতর্ক প্রথম ওঠে।
• ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন।
• ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
• বাঙালির ‍মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
• ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৪৮.
দেশের একমাত্র সরকারি হার্ড বোর্ড কারখানা কোনটি?
  1. কর্ণফুলী হার্ড বোর্ড মিলস লিঃ
  2. পাবনা হার্ড বোর্ড মিলস লিঃ
  3. খুলনা হার্ড বোর্ড মিলস লিঃ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
খুলনা হার্ড বোর্ড মিলস লিঃ:
- খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস্ লিঃ, শহর খালিশপুর, খুলনা দেশের একমাত্র সরকারি হার্ডবোর্ড কারখানা।
- খুলনা হার্ডবোর্ড মিলস্ লিঃ এর স্থাপনা তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইপিআইডিসি’র) সময়ে ১৯৬৫ সালে।
- কারখানাটি কানাডীয় সরকারি সাহায্য সংস্থার সহায়তায় স্থাপিত হয়।
- এটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন( বিসিআইসি) এর অধিনস্থ্য একটি প্রতিষ্ঠান।
- কারখানার প্রধান কাঁচামাল সুন্দরবনে উৎপাদিত কাঁচা সুন্দরী জ্বালানী কাঠ।

উল্লেখ্য,
- দেশের একমাত্র সরকারি হার্ডবোর্ড মিলটি ১৯৬৫ সালে স্থাপন করা হয়।
- কানাডীয় অনুদানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা মিলটি স্থাপন করে।
- স্বাধীনতার পরে সেটি বিসিআইসির কাছে আসে।
- তখন কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩ কোটি বর্গফুট।

[উল্লেখ্য, মিলটি প্রতিষ্ঠার পরে অনেকবার বন্ধ ও পুনরায় চালু হয়েছে। বর্তমানে মিলটী বন্ধ রয়েছে এবং মিলটি চালুর জন্য বাংলাদেশের অন্তবর্তাকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। মিলটি চালু হলয়ে বেকার সমস্যার অনেকখানি সমাধান হবে।]

উৎস: i) খুলনা হার্ড বোর্ড মিলস লিঃ।
ii) প্রথম আলো।
২,০৪৯.
নিচের কোনটি প্রাচীন বাংলার জনপদ নয়?
  1. ক) তাম্রলিপ্ত
  2. খ) রাঢ়
  3. গ) চন্দ্রদ্বীপ
  4. ঘ) পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে পুণ্ড্রনগর ছাড়া বাকী সবগুলোই প্রাচীন জনপদ। পুণ্ডনগর হলো প্রাচীন পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী।

• প্রচীন জনপদ:

- প্রাচীনকালে বাংলা নামে কোনো অখণ্ড রাষ্ট্র ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি অঞ্চলের শাসক নিজেদের মতো শাসন করতো। বাংলার এ অঞ্চলগুলোকে তখন সমষ্টিগতভাবে নাম দেয়া হয় জনপদ। 
• জনপদগুলো হলো:
- গৌড়, বঙ্গ, পুণ্ড্র, হরিকেল, সমতট, বরেন্দ্র, চন্দ্রদ্বীপ, রাঢ়, তাম্রলিপ্ত প্রভৃতি।

• জনপদগুলোর অবস্থান:

- গৌড় জনপদ: বর্তমান চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর এলাকায় এটি বিস্তৃত ছিলো।
- বঙ্গ জনপদ: বঙ্গ জনপদ অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
- পুণ্ড্র জনপদ: বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ: বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- হরিকেল জনপদ: সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ ছিলো।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সমতট জনপদ: বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- তাম্রলিপ্ত: মেদিনীপুর।

• প্রাচীন জনপদের রাজধানী:

- গৌড় জনপদের রাজধানী - কর্ণসুবর্ণ
- সমতট জনপদের রাজধানী - বড়কামতা।
- পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী - পুণ্ড্রনগর/পুণ্ড্রবর্ধন।
- রাঢ় জনপদের রাজধানী - কোটিবর্ষ।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৫০.
পাঙন জনগোষ্ঠীর কোন ভাষায় কথা বলে?
  1. সাদরি
  2. লামদানি
  3. কুঁড়ুখ
  4. মেইতেইলোন
ব্যাখ্যা
- পাঙন সম্প্রদায়ের ভাষার নাম ‘মেইতেইলোন’। এটি একটি মণিপুরী ভাষা।
অন্যদিকে,
- লামদানি : সমতলের গারোদের ভাষার নাম
- সাদরি ও কুঁড়ুখ : ওরাঁওদের ভাষার নাম
(তথ্যসূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী ও সপ্তম শ্রেণী)
২,০৫১.
টংক আন্দোলনের সাথে কোন নৃগোষ্ঠীর নাম জড়িত?
  1. মণিপুরী
  2. রাখাইন
  3. হাজং
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
টঙ্ক প্রথা হলো টাকার পরিবর্তে ধানের মাধ্যমে খাজনা আদায়৷ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের হাজং সম্প্রদায়ের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিলো।
ধানের মাধ্যমে খাজনা পরিশোধে কৃষকদেরকে কয়েকগুণ বেশি খাজনা প্রদান করতে হতো। তাই হাজং কৃষকরা এই প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে।
কমরেড মনি সিংহ টঙ্ক আন্দোলনে কৃষকদের নেতৃত্ব দেন।
১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদের মাধ্যমে টঙ্ক প্রথা ও টঙ্ক আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী এবং দৈনিক ইত্তেফাক)
২,০৫২.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের মূলনীতি (Fundamental Principles of State Policy) বর্ণিত হয়েছে?
  1. ৮–২৫ অনুচ্ছেদ
  2. ৯–২৫ অনুচ্ছেদ
  3. ৮–২৪ অনুচ্ছেদ
  4. ১০–২৭ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে (Part II) রাষ্ট্রের মূলনীতি বর্ণিত হয়েছে। অনুচ্ছেদ ৮ থেকে ২৫ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি (Fundamental Principles of State Policy) নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসমূহ:
- সংবিধানের ২য় অধ্যায়ের ৮ম - ২৫ তম অনুচ্ছেদ পর্যন্ত রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতিগুলো বর্ণিত হয়েছে।
- জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই ৪টি বিষয়কে রাষ্ট্রের স্তম্ভ বা মৌলিক আদর্শ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।
- এতে আরো বলা হয়েছে, উপরোক্ত চারটি নীতিসহ ২য় ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলে গণ্য হবে।

• জাতীয়তাবাদ:
- ভাষাগত ও সংস্কৃতিগত একক সত্তাবিশিষ্ট যে বাঙালী জাতি ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রাম করে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করেছেন, সেই বাঙালী জাতির ঐক্য ও সংহতি হবে বাঙালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তি (অনুচ্ছেদ ৯)।

• সমাজতন্ত্র:
- মানুষের উপর মানুষের শোষণ হতে মুক্ত ন্যায়ানুগ ও সাম্যবাদী সমাজ লাভ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হল রাষ্ট্রের লক্ষ্য (অনুচ্ছেদ ১০)।

• গণতন্ত্র:
- প্রজাতন্ত্র হবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা থাকবে, মানব সত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হবে। প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে (অনুচ্ছেদ ১১)।

• ধর্মনিরপেক্ষতা:
- ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হল সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা অবসান, রাষ্ট্র কর্তৃক কোনো ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা না দেওয়া, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মকে ব্যবহার না করা এবং কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ নিপীড়নের অবসান (অনুচ্ছেদ ১২)।

উৎস:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৫৩.
সাংস্কৃতিক সংগঠন ''উদীচী'' র প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. ক) ওয়াহিদুল হক
  2. খ) সত্যেন সেন
  3. গ) সানজিদা বেগম
  4. ঘ) সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা
সত্যেন সেন (২৮ মার্চ, ১৯০৭-৫ জানুয়ারি, ১৯৮১) হলেন প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ উদীচী সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের কিংবদন্তি বিপ্লবী, সাহিত্যিক এবং শ্রমিক-সংগঠক।
২,০৫৪.
নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্যে প্রয়োজন-
  1. সার্বভৌমত্ব
  2. জনসমষ্টি
  3. জাতিসংঘের সমর্থন
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রের উপাদান:

- রাষ্ট্রের উপাদান চারটি।

• জনসমষ্টি:
- রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে জনসমষ্টি।
- জনসমষ্টি বলতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনগণকে বোঝায়।

• নির্দিষ্ট ভূখণ্ড:  নির্দিষ্ট ভূখণ্ড হচ্ছে রাষ্ট্রের অপরিহার্য দ্বিতীয় উপাদান।

• সরকার:
- রাষ্ট্রের অপরিহার্য তৃতীয় উপাদানটি হলো সরকার।
- সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ থাকে- আইনবিভাগ, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগ।
- এ তিন বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়।

•সার্বভৌমত্ব: - রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
২,০৫৫.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করে কবে?
  1. ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা:
- ২০ নভেম্বর, ২০২৫ সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগ।
- প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে রায় দেন।
- আপিল বিভাগ বলছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আর চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয় আপিল বিভাগ।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]

২,০৫৬.
‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয় কবে?
  1. ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২৩ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর গেজেট জারি করা হয়।
- ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে আয়োজন করা হবে গণভোট। 
- গণভোটে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন উপস্থাপন করা হবে।
- গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের হবে।
- এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসীসহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। 

উৎস: প্রথম আলো।

২,০৫৭.
ক্রিপস মিশন কোন উদ্দেশ্যে এদেশে আগমন করে?
  1. রাজনৈতিক
  2. অর্থনৈতিক
  3. সামাজিক
  4. সাংস্কৃতিক
ব্যাখ্যা
ক্রিপস মিশন:

- ক্রিপস মিশন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এদেশে আগমন করে।
- ক্রিপস মিশন ১৯৪২ সালের ২৩ মার্চ ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপসের নেতৃত্বে ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক ভারতে প্রেরিত একটি মিশন।
- এ মিশনের মাধ্যমে ভারতকে নতুন কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়।
- শ্রমিক দলের একজন চরমপন্থি সদস্য ও সে সময়ের হাউস অব কমন্স-এর নেতা ক্রিপস ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন প্রবল সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- দুটি বিষয়ের ওপর বিবেচনা করে ক্রিপস মিশন প্রণোদিত হয়।
- প্রথমত, ১৯৪০ সালের অক্টোবরে গান্ধী কর্তৃক সত্যাগ্রহ আন্দোলনের আহবান, যার উদ্দেশ্য ছিল। ভারতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ব্রিটিশদের যুদ্ধ তৎপরতাকে বিঘ্নিত করা এবং ব্রিটিশদের স্বার্থে এর সমাপ্তি টানা।
- দ্বিতীয়ত, যুদ্ধে জাপানিদের হাতে সিঙ্গাপুর (১৯৪২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি), রেঙ্গুন (৮ মার্চ) ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের (২৩ মার্চ) পতন সমগ্র ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক কাঠামোকে হুমকির সামনে ফেলে দিয়েছিল।
- এরকম সংকটময় পরিস্থিতিতে ব্রিটিশগন উপলব্ধি করেছিল যে, ভারতীয়দের সমর্থন পেতে হলে কিছু কাজ করতে হবে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
২,০৫৮.
নিম্নোক্ত কোন বাংলাদেশী ‘সি টু সামিট’ অভিযান সম্পন্ন করেছেন?
  1. বাবর আলী
  2. ইকরামুল হাসান শাকিল
  3. ওয়াসফিয়া নাজনীন
  4. শাহরিয়ার আলম
ব্যাখ্যা

ইকরামুল হাসান শাকিল:
- ‘সি টু সামিট’ অভিযান সম্পন্ন করেছেন ইকরামুল হাসান শাকিল।

উল্লেখ্য,
- ৬ষ্ঠ বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট হয় করেছেন ইকরামুল হাসান শাকিল। ২০২৫ সালের ১৯ মে তিনি এভারেস্ট চূড়া জয় করেন।
- সবচেয়ে কম সময়ে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
- কক্সবাজার থেকে হেঁটে গিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন ইকরামুল হাসান শাকিল। ইকরামুল হাসান তাঁর এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘সি টু সামিট’, অর্থাৎ সমুদ্র থেকে শৃঙ্গ।
- শাকিলের 'সি টু সামিট' অভিযাত্রা শুরু হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কক্সবাজার থেকে। এরপর ৯০ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন এবং ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতার এভারেস্ট জয় করেন।

উৎস: i) The Business Standard.
ii) প্রথম আলো।

২,০৫৯.
বঙ্গবন্ধুকে হিমালয়ের সাথে তুলনা করেছেন কোন নেতা?
  1. সুভাষ বসু
  2. ইন্দিরা গান্ধী
  3. ফিদেল কাস্ত্রো
  4. গাদ্দাফি
ব্যাখ্যা
আমি হিমালয় দেখিনি, শেখ মুজিবকে দেখেছি:
- ‘আমি হিমালয় দেখিনি কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় এই মানুষটি  হিমালয়’— ফিদেল কাস্ত্রো।
- ফিদেল কাস্ত্রো ছিলেন কিউবা প্রজাতন্ত্রের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।
- ফিদেল কাস্ত্রো ছিলেন একজন জগৎখ্যাত বিপ্লবী ও একজন মুক্তিদাতা।
- তিনি তার দ্বীপ জাতিকে ঔপনিবেশিক শক্তি এবং মাফিয়া ডনদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিলেন; যারা ১৬ শতকের অর্ধেক থেকে ২০ শতকের মধ্যে শাসন করেছিল এবং ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকার অন্যান্য স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রাণিত করেছেন যে নেতা, যে যোদ্ধা।

উৎস: ৯ মার্চ ২০২২, যুগান্তর।
২,০৬০.
বাংলাদেশে রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়ন কোন সংস্থাটির দায়িত্ব?
  1. ক) জাতীয় রপ্তানি কাউন্সিল
  2. খ) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো
  3. গ) রপ্তানি উন্নয়ন ফোরাম
  4. ঘ) রপ্তানি উন্নয়ন কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বাংলাদেশে রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়নে কাজ করে থাকে। 
- দেশের রপ্তানি উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সরকার দেশের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে একটি স্বায়ত্তশাসিত কর্পোরেশনে উন্নীত করে।
- বিদেশে আমাদের দ্রব্যের জন্য আরও অধিক এবং উত্তম বাজার খুঁজে বের করার জন্য রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ইতোমধ্যেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারের উপর সার্ভে সম্পন্ন করেছে। সে অনুযায়ী বর্তমানে রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, অর্থনীতি ২য় পত্র; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬১.
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমির বৃক্ষ কোনটি?
  1. চাপালিশ
  2. তেলসুর
  3. গর্জন
  4. সবগুলো 
ব্যাখ্যা
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমি:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব অংশের পাহাড়ি অঞ্চলকে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পত্রপতনশীল বনভূমি এলাকা নামে অভিহিত করা হয়।
- মূলত উষ্ণ ও আর্দ্রভূমির কিছু এলাকা জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোপঝাড় ও গুলু জন্ম নেয়।
- এসব গাছের পাতা একত্রে ফোটেও না, বারেও না।
- ফলে সারা বছর বনগুলো সবুজ থাকে।
- সে কারণেই এসব বনকে চিরহরিৎ বা চিরসবুজ বনভূমি বলে।
- চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও সিলেট এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এ বনভূমির পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার।
- চাপালিশ, ময়না, তেলসুর, মেহগনি, জারুল, সেগুন, গর্জন এ বনভূমির উল্লেখযোগ্য গাছ।
- সিলেটের পাহাড়ে প্রচুর বাঁশ ও বেত জন্মে।
- পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে রাবার চাষ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
২,০৬২.
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে, রেমিট্যান্স প্রেরণে শীর্ষ দেশ - [ডিসেম্বর, ২০২৫] 
  1. সংযুক্ত আরব আমিরাত
  2. যুক্তরাজ্য
  3. সৌদি আরব
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুসারে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, গত জুলাই-নভেম্বর সময়ে সৌদি আরব থেকে সর্বোচ্চ ২০৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। যুক্তরাজ্য থেকে ১৬৭ কোটি, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ১৫৮ কোটি, মালয়েশিয়া থেকে ১৪৩ কোটি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১০৩ কোটি ডলার এসেছে। একই সময়ে ইতালি থেকে ৮৩ কোটি, ওমান থেকে ৭৭ কোটি, কুয়েত থেকে ৬৪ কোটি, কাতার থেকে ৫৯ কোটি ও সিঙ্গাপুর থেকে ৫৫ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে।
- সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি কাজ করেন সৌদি আরবে।
- ইউএই, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশেও প্রচুর বাংলাদেশি কর্মী গেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে গেছেন শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাজীবীরা।

রেমিট্যান্স প্রেরণে শীর্ষ দেশ:
১. সৌদি আরব, 
২. সংযুক্ত আরব আমিরাত, 
৩. যুক্তরাজ্য,  
৪. মালয়েশিয়া,
৫.  যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।  [link]

২,০৬৩.
সাভার, ঢাকায় অবস্থিত যুব কেন্দ্রের নাম কী?
  1. ক) শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইন্সটিটিউট
  2. খ) যুব কেন্দ্র
  3. গ) জাতীয় যুব কেন্দ্র
  4. ঘ) NIIT
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় যুব উন্নয়ন বিষয়ক কার্যক্রম এদেশের উন্নয়ন মাত্রার গতি নির্ধারক।
- যুবদের উদ্যোগ ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার সঠিক বিকাশ ও উপযুক্ত লালনের জন্য প্রয়োজন পরিপূর্ণ শিক্ষা ও উপযুক্ত প্রশিক্ষণ।
- যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের আওতায় ২৭১০.২৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দে একটি উন্নয়ন প্রকল্প হিসাবে ১৯৯৮ইং সনে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়।

তথ্যসূত্র: শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইন্সটিটিউট।
২,০৬৪.
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কার্যকর দপ্তর কয়টি? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ১৮টি
  2. ২০টি
  3. ২২টি
  4. ২৫টি
ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশের জন্য একটি আধুনিক ও সুন্দর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যয়কে সামনে রেখে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।
- সচিবালয় থেকে ১৯৭২ সালে এ মন্ত্রণালয়টি হাইকোর্ট ভবনে এবং ১৯৯৩ সালে শের-ই-বাংলা নগরের গণভবন কমপ্লেক্সে বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

উল্লেখ্য, 
- প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪টি দপ্তর/সংস্থা নিয়ে এ মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছিল।
- বর্তমানে ২৫টি দপ্তর/সংস্থা নিয়ে এ মন্ত্রণালয় পরিচালিত হচ্ছে।
- মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমানে মোট পদসংখ্যা হয়েছে ২৩২টি।

উৎস: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
২,০৬৫.
ভারতের কোন গভর্নর জেনারেল সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেছিলেন?
  1. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক
ব্যাখ্যা
ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেছিলেন।

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক:

- ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক।
- লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৮ -৩৫ সাল পর্যন্ত ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- বেন্টিংক মাদ্রাজের গভর্নর হিসেবে ১৮০৩ সালে প্রথম ভারতে আসেন।
- ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা পরে তাঁর পদবিকে ভারতের গভর্নর জেনারেল হিসেবে পুনরাখ্যায়িত করা হয়।

⇒ ১৮৩৩ সালের সনদ আইন দ্বারা বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেলে উন্নীত করা হয়।
- ফলে বাংলার তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

উল্লেখ্য,
- লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক সাধারণত হস্তক্ষেপ না করা এবং অনাক্রমণের নীতি অনুসরণ করেছিলেন।
- ১৮৩১ সালে মহিশূরে অনেকদিন যাবৎ চলতে থাকা কুশাসন ঐ রাজ্যটিকে ব্রিটিশ প্রশাসনে আনতে তাঁকে বাধ্য করে।
- বেন্টিঙ্ক উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করেন এবং সেখানে রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।
- সতীদাহ নিবারণ ও ঠগী দমন হলো বেন্টিঙ্কের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কীর্তি।
- তিনি সতীদাহ প্রথার বিলোপ সাধন করেন

অন্যদিকে,
- ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন বাংলার প্রথম গভর্নর-জেনারেল, প্রথমে ফোর্ট উইলিয়মএর গভর্নর এবং পরে গভর্নর জেনারেল।
- ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
- স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড মাউন্টব্যাটেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৬৬.
‘ধ্রুব ৭২’ ভাস্কর্যের রূপকার কে?
  1. আবদুর রাজ্জাক
  2. সৌমিত্র শেখর
  3. মৃণাল হক
  4. সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালেদ
ব্যাখ্যা
‘ধ্রুব ’৭২’:
- বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান ১৯৭২ সালের সংবিধানকেন্দ্রিক দেশের প্রথম ভাস্কর্য-স্থাপনা ‘ধ্রুব ৭২’।
- ভাস্কর্যটি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
- ভাস্কর্য-স্থাপনাটির রূপকার উপাচার্য সৌমিত্র শেখর।
- এখানে বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা চারটি সুউচ্চ স্তম্ভে উৎকীর্ণ আছে।
- ‘ধ্রুব ’৭২’ স্থাপনা নির্মিত হয়েছে সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় প্রশাসন ভবনের প্লাজায়, যা ‘সংবিধান আঙিনা’ হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক প্রথম আলো, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৩।
২,০৬৭.
বাংলাদেশের প্রায় কত শতাংশ জনগোষ্ঠী বর্তমানে সরকারের জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহায়তা পেয়ে থাকেন?
  1. ৩০%
  2. ৪২%
  3. ২৫%
  4. ৩৪%
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি:
- সামাজিক নিরাপত্তা হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা, যা বিভিন্ন কর্মসূচি এবং আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজের মানুষের মধ্যে পরস্পর সহাবস্থান এবং সম্পৃক্তির একটি সুষম পরিবেশ তৈরি করে।
- এর উদ্দেশ্য হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক দুর্যোগের ফলে মানুষের মধ্যে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা মোকাবেলা, বিভিন্ন আইনি সহায়তা এবং অসুস্থতা, বয়স্ক, শারীরিক অসুবিধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, শিল্পদুর্ঘটনা ইত্যাদির ক্ষেত্রেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সহায়তা করা। 

উল্লেখ্য,
- ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তায় মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
- এটি মোট বাজেটের ১৬.৫৮ শতাংশ এবং মোট জিডিপির ২.৫২ শতাংশ।

অন্যদিকে -
- বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশ।
- সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ৩৪ শতাংশ (মোট জনসংখ্যার শতাংশ হিসেবে সুবিধাভোগী আওতাভুক্তির পরিমাণ ৩২ থেকে ৩৪ শতাংশ)।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
         ii) ২৩ মার্চ, ২০২৪, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
২,০৬৮.
সার্জেন্ট জহুরুল হককে কখন বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়?
  1. ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  2. ১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  4. ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
ব্যাখ্যা
• সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে আর্মি হেফাজতে মনজুর শাহ গুলি করে হত্যা করে।

• আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও সার্জেন্ট জহুরুল হক:
• ৩ জানুয়ারি, ১৯৬৮ আইয়ুব খান সরকার ঢাকায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
•  শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলা দায়ের করা হয়।
• এ মামলার মোট আসামি ছিলেন ৩৫ জন।
• মামলাটির আনুষ্ঠানিক নাম 'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য' যা 'আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা' নামে বেশি পরিচিত।
• ১নং আসামি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
• ১৭নং আসামি ছিলেন সার্জেন্ট জহুরুল হক।
• তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। 
• জন্ম: ১৯৩৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীর সদর উপজেলার সোনাপুর গ্রামে।
• তাকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে আর্মি হেফাজতে মনজুর শাহ গুলি করে হত্যা করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
২,০৬৯.
কোথায় সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়?
  1. ফতেহপুর
  2. কানপুর
  3. ব্যারাকপুর
  4. বিহার
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- বাংলায় ব্রিটিশ-বিরোধী প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন হলো সিপাহী বিদ্রোহ।
- ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।
- এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।

• পরোক্ষ কারণ: 
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৭০.
বাংলাদেশের ষষ্ঠ আদমশুমারিতে কারিগরি সহায়তা করবে-
  1. ক) UNFPA
  2. খ) WFP
  3. গ) NASA
  4. ঘ) IFAD
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ আদমশুমারি (জনশুমারি) অনুষ্ঠিত হবে ২৫-৩১ অক্টোবর ২০২১ সালে।
- বাংলাদেশের ষষ্ঠ আদমশুমারিতে কারিগরি সহায়তা করবে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (নাসা)।
২,০৭১.
সর্বশেষ বাংলাদেশের কোন শিল্পটি ইউনেস্কোর 'বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য' এর তালিকায় স্থান পেয়েছে? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. জামদানি বুননশিল্প 
  2. শীতলপাটি বুননশিল্প
  3. ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’
  4. টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের ঐতিহ্যবাহী শিল্প
ব্যাখ্যা

• ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:
- ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ আর সৃষ্টিশীলতাকে লালন করার প্রত্যয়ে ইউনেস্কো ঘোষিত সংস্কৃতি বিষয়ক বিভিন্ন কনভেনশনের আলোকে বিএনসিইউ’র সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।
- বর্তমানে দেশে ৬টি ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে।
- এগুলো হলো: বাউলগান (২০০৮), জামদানি বুননশিল্প (২০১৩), মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬) ও শীতলপাটি বুননশিল্পের (২০১৭), ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ (২০২৩) ও টাঙ্গাইল শাড়ি বুননের ঐতিহ্যবাহী শিল্প (২০২৫) ।

উল্লেখ্য,
- সর্বশেষ ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছে টাঙ্গাইল শাড়ি বয়ন শিল্প।
- ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে ভারতের নয়াদিল্লির লালকেল্লায় এক অধিবেশনে ইউনেসকোর রিপ্রেজেন্টেটিভ লিস্ট অব ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটিতে (আইসিএইচ) আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
- দীর্ঘদিন ধরে বাঙালির নন্দনচর্চা, ঐতিহ্য ও সামাজিক বুননে বিশেষ স্থান দখল করে থাকা টাঙ্গাইলের শাড়ি তার সূক্ষ্ম, দীপ্তিময় নকশা ও অপূর্ব কারুকাজের জন্য বিশ্বে পরিচিত। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন।
ii) প্রথম আলো।

২,০৭২.
জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস -
  1. ক) ১২ সেপ্টেম্বর
  2. খ) ২ আগস্ট
  3. গ) ২৩ ডিসেম্বর
  4. ঘ) ২৩ জুলাই
২,০৭৩.
বাংলাদেশ তাতঁ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
  2. নশিপুর, দিনাজপুর
  3. ঈশ্বরদী, পাবনা
  4. সাহেবপ্রতাপ, নরসিংদী
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ তাতঁ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট:
→ বাংলাদেশ তাতঁ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এর অধীন বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের নিয়ন্ত্রনাধীন একটি প্রতিষ্ঠান এই প্রতিষ্ঠান নরসিংদীর সাহেপ্রতাপ নামক স্থানে অবস্থিত।
→ অত্র প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮১ সালে তাঁতিদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ পরবর্তীতে বর্তমান সরকারের সার্বিক তত্তাবধানে ২০১০ সালে তাঁতি এবং তাঁতি পরিবারের সন্তানদের ১০% কোটা সংরক্ষন রেখে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলাম অনুযায়ী ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল  ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স  চালু হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ তাঁত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট। 
২,০৭৪.
বাংলাদেশ CTBT অনুমোদন করে -
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯৮ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ২০০০ সালে
ব্যাখ্যা
CTBTO:
- পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ সংস্থা CTBTO।
- পারমাণবিক পরীক্ষা-নিষেধাজ্ঞা চুক্তি, আনুষ্ঠানিকভাবে বায়ুমণ্ডলে, মহাকাশে এবং পানির নিচে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ করার চুক্তি।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যের দ্বারা ৫ আগস্ট, ১৯৬৩ সালে মস্কোতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর সদরদপ্তর: ভিয়েনা, অস্ট্রিয়া।
- বর্তমান নির্বাহী প্রধান: রবার্ট ফ্লয়েড।

⇒ CTBT:
- CTBT-এর পূর্ণরূপ: Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty.
- এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সামরিক-বেসামরিক সকল পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ CTBT চুক্তিটি গ্রহণ করে: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৮৭টি।
- অনুমোদিত দেশ: ১৭৮টি।

⇒ বাংলাদেশ CTBT স্বাক্ষর করে ২৪ অক্টোবর, ১৯৯৬ সালে (দক্ষিণ এশিয়ায় ১ম)।
- বাংলাদেশ ৫৪তম দেশ হিসেবে CTBT অনুমোদন করে ৮ মার্চ, ২০০০ সালে।

উৎস: Arms Control Association ওয়েবসাইট।
২,০৭৫.
ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়-
  1. ক) ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  2. খ) ৫ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  3. গ) ৭ ডিসেম্বর, ১৯৭১
  4. ঘ) ৮ ডিসেম্বর, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
• ভারত বাংলাদেশ কে স্বীকৃতি দেয়- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১। 

- মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৬ ডিসেম্বর গুরুত্বপূর্ণ ও ঘটনাবহুল একটি দিন।
- এদিন প্রথম দেশ হিসেবে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।
- লোকসভার অধিবেশনে এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দানের ঘোষণা করেন।
- এসময় লোকসভার সদস্যরা দাঁড়িয়ে ইন্দিরা গান্ধীর ঘোষণাকে স্বাগত জানান।
- একইসঙ্গে লোকসভার অধিবেশনে হর্ষধ্বনির সঙ্গে 'জয় বাংলা' স্লোগান উচ্চারিত হয়।
- এদিন ইন্দিরা গান্ধী অধিবেশনে তার বক্তব্যে বলেন, 'বাংলাদেশের জনগণ পাকিস্তানি স্বৈরতান্ত্রিক ও গণহত্যা নির্যাতন নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।' 

সুত্র: ডেইলি স্টার।
২,০৭৬.
তারামন বিবি কত নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ৮নং
  2. খ) ৭নং
  3. গ) ১১নং
  4. ঘ) ৯নং
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মহিলা ২ জন‌।
- একজন ডা. সেতারা বেগম এবং অপরজন তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ১১ নং সেক্টরে কর্নেল তাহেরের অধীনে যুদ্ধে অংশ নেন এবং পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেন।
- তিনি ১ ডিসেম্বর, ২০১৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর নিজ জেলা ছিল কুড়িগ্রাম।

উৎস: দৈনিক প্রথম আলো।
২,০৭৭.
‘ইসাবেলিন হুইটিয়ার’ নাম কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. মাছ
  2. পাখি
  3. ফল
  4. ভাইরাস
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
----------------------
• ইসাবেলিন হুইটিয়ার:
-ইসাবেলিন হুইটিয়ারের দেখা মিলেছে বাংলাদেশে।
- এই পাখি বাংলাদেশের জন্য নতুন পাখি।
- এ নিয়ে বাংলাদেশে পাখির প্রজাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩০টি।
- অক্টোবর মাসের ১৬ তারিখে হঠাৎ ইসাবেলিন হুইটিয়ারের দেখা মেলে কুয়াকাটায়।
- গোটা পৃথিবীতে এই গণের প্রায় ৩৩টি প্রজাতি থাকলেও গোটা ভারতবর্ষে ৯ জাতের হুইটিয়ারের দেখা মেলে।

সূত্র- প্রথম আলো।
২,০৭৮.
স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করে কোন সংস্থা?
  1. স্থানীয় সরকার বিভাগ 
  2. অর্থ মন্ত্রণালয়
  3. সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  4. মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ
ব্যাখ্যা

স্বাধীনতা পুরস্কার:
- স্বাধীনতা পুরস্কার হলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পুরস্কার।
- এটি দেশের কল্যাণ ও জাতির সেবা ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেয়া হয়ে থাকে।
- ১৯৭৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।
- বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ এই পুরস্কার প্রদান করে থাকে।
- ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কারে মোট সাতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে এই সম্মান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- ২০২৫ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকা: 
• স্যার ফজলে হাসান আবেদ – সমাজসেবা;
• অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম – বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি;
• বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর – শিক্ষা ও গবেষণা;
• মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান (আজম খান) – মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতি;
• নভেরা আহমেদ – সংস্কৃতি;
• আবরার ফাহাদ – প্রতিবাদী তারুণ্য;
• মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ – সাহিত্য। 

উৎস: মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট। 

২,০৭৯.
'Stasis' শব্দটি কোন ভাষার শব্দ?
  1. ক) ল্যাটিন 
  2. খ) গ্রীক
  3. গ) ফরাসি 
  4. ঘ) ইংরেজি
ব্যাখ্যা
উৎপত্তি
-  রাজনৈতিক দল নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তা "Stasiology” নামে পরিচিত। ‘Stasis’
শব্দের অর্থ বিরোধীতার মনোভাব। এই শব্দটি গ্রিক থেকে ইংরেজি ভাষায় এসেছে।
 
উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, (এইচএসসি প্রোগ্রাম),উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২,০৮০.
কোন নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. ভাগীরথী
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা

পলাশী যুদ্ধ:
- ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ২৩ জুন ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশীর আমবাগানে নবাব সিরাজউদ্দৌলার সঙ্গে ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের যুদ্ধ হয়।
- এই যুদ্ধে নবাবের পক্ষে ছিলেন দেশপ্রেমিক মীরমদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিনফ্রে।
- জেতার সবধরণের সুযোগ সুবিধা এবং এদের প্রাণপাত লড়াইয়ের পরও নবাব পরাজিত হন তার সেনাপতি মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে।
- সিরাজউদ্দৌলা ২২ বছর বয়সে সিংহাসনে বসেন।
- সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ও মৃত্যু বাংলায় প্রত্যক্ষ ঔপনিবেশিক শাসনের পথ সুগম করে।
- যুদ্ধের ফলে মীরজাফরকে বাংলার সিংহাসনে বসালেও প্রকৃত ক্ষমতা ছিল রবার্ট ক্লাইভের হাতে।
- পলাশী যুদ্ধের ফলে ইংরেজ বা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ পায়। অপরদিকে ফরাসিরা এদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়।
- পলাশী যুদ্ধের সুদূর প্রসারী পরিণতি ছিল সমগ্র উপমহাদেশে কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠা। এ ভাবেই এ যুদ্ধে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়।

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৮১.
সমতটের রাজধানী ছিল কোথায়?
  1. কুমিল্লা
  2. কোটিবর্ষ
  3. বড় কামতা
  4. কর্ণসুবর্ণ 
ব্যাখ্যা

সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা। 
- দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

২,০৮২.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম সার কারখানাটি বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সিলেট
  2. জামালপুর
  3. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  4. নরসিংদী
ব্যাখ্যা
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম সার কারখানা হলো ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
- এটি নরসিংদীতে অবস্থিত।
- দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৭০ সালে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় বার্ষিক ৩,৪০,০০০ মেঃ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী লিঃ এবং ১৯৮৫ সালে বার্ষিক ৯৫,০০০ মেঃ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১২ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক এ কারখানার উদ্বোধন করা হয়।
- সার উৎপাদনের ক্ষমতা: বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন।
- বিসিক জানায়, কারখানাটি ৩০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
- ১১০ একর জমিতে কারখানাটি নির্মিত হবে।
- নির্মাণ ব্যয়: ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
- কারখানাটির দৈনিক সার উৎপাদন হবে ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম সার কারখানা, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্লু গ্যাস থেকে পরিবেশদূষণকারী আহরণ করা হবে এবং ক্যাপচার করা কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে ইউরিয়া সারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে (প্রায় ১০ শতাংশ)।
- এটি দেশে ‘অত্যাধুনিক, শক্তি সাশ্রয়ী ও সবুজ’ সার কারখানা, যা ইউরিয়া সারের আমদানি কমিয়ে দেবে এবং কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
২,০৮৩.
বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক কোনটি?
  1. ব্রাক ব্যাংক পিএলসি
  2. এবি ব্যাংক পিএলসি
  3. ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসি
  4. ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসি।

এবি ব্যাংক পিএলসি:
- বাংলাদেশের সর্বপ্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক পিএলসি।
- ১৯৮১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর এবি ব্যাংক পিএলসি আত্মপ্রকাশ করে।
- শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের লক্ষ্যে আরব বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচিতি নিয়ে ১৯৮২ সালের ১২ই এপ্রিল ব্যাংকটি তার কর্মকান্ড শুরু করে।
- ব্যাংকটি ১৯৯৬ সালে প্রথম এটিএম সেবা চালু করে।
- ১৯৯৯ সালে এটি প্রথম বাংলাদেশি ব্যাংক হিসেবে সুইফট সেবা চালু করে।

উৎস: এবি ব্যাংক পিএলসি ওয়েবসাইট।
২,০৮৪.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ধারায় নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে?
  1. ৯৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১১৮ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৪২ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদ 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সর্বোচ্চ চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।
- রাষ্ট্রপতি সংবিধান ও প্রণীত আইনের বিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রদান করবেন।
- একাধিক কমিশনার থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
- এই অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনারদের পদ মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এবং তাদের ভবিষ্যৎ সরকারি নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উল্লেখ করা হয়েছে।
- পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মতো একই পদ্ধতি ও কারণ ছাড়া কোনো নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যাবে না।
- সর্বশেষে, কমিশনারদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ব্যবস্থাও এই অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে,
সংবিধানের ৯৬ নং অনুচ্ছেদ:
- এই অনুচ্ছেদে বিচারকদের পদের মেয়াদ ও অপসারণ নিয়ে বলা হয়েছে।
- এতে বলা হয়েছে, কোনো বিচারক ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত পদে বহাল থাকবেন।
- প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের ক্ষেত্রে সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির আদেশ ছাড়া বিচারককে অপসারণ করা যাবে না।
- অভিযোগের তদন্ত ও পদ্ধতি সংসদ আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।
- তাছাড়া, বিচারক চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগ করতে পারবেন।

• সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ:
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত।
- সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিত করতে পারে।
- তবে সংশোধনী বিলের শিরোনামে সংশোধনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
- বিলটি সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত হতে হবে। 
- গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হলে তিনি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন।
- সম্মতি না দিলে নির্ধারিত সময় শেষে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

সংবিধানের ১৪৬ নং অনুচ্ছেদ:
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- "বাংলাদেশ" নাম ব্যবহার করে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারের পক্ষ থেকে মামলা করা যেতে পারে। 

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

২,০৮৫.
আয়তনে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা-
  1. গাজীপুর
  2. ঢাকা
  3. রাঙ্গামাটি
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

• আয়তনে বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা রাঙ্গামাটি।
• আয়তনে বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম জেলা নারায়ণগঞ্জ।
• জনসংখ্যায় বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলা ঢাকা।
• জনসংখ্যায় বাংলাদেশের ক্ষুদ্রতম জেলা বান্দরবান।
উৎসঃ পঞ্চম আদমশুমারি।

২,০৮৬.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার কত সালে পেয়েছেন?
  1. ১৯৮৪ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০১৪ সালে
  4. ২০২৪ সালে
ব্যাখ্যা
ড. মুহাম্মদ ইউনূস র‍্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন - ১৯৮৪ সালে। 

র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার
-  ফিলিপিন্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট র‌্যামন ম্যাগসেসের নামে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। 
-  ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ মর্মান্তিক এক বিমান দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। 
-  ১৯৫৮ সাল থেকে র‌্যামন ম্যাগসেসে অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। 
-  ‘এশিয়ার নোবেল’ খ্যাত র‌্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার সারা বিশ্বে খুবই মর্যাদাপূর্ণ। 
-  ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
-  বাংলাদেশ থেকে মোট ১৩  জন এ পুরস্কার পেয়েছেন।

সূত্র- বিবিসি রিপোর্ট।
২,০৮৭.
বাংলাদেশের উচ্চতর বিচার বিভাগ কোনটি?
  1. জেলা জজের আদালত
  2. হাইকোর্ট
  3. সুপ্রিম কোর্ট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট:
- সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে থাকে।
- প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত নির্ধারিত সংখ্যক বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত।
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট প্রধান বিচারপতি ও প্রত্যেক বিভাগের বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- এসকল বিচারকবৃন্দ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২,০৮৮.
ভাটিয়ালি মূলত কোন অঞ্চলের গান?
  1. বরিশাল
  2. ময়মনসিংহ
  3. দিনাজপুর
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা

ভাটিয়ালি হলো ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত
- প্রচলিত মতে মাঝিমাল্লাদের গান থেকে ভাটিয়ালি সুরের উৎপত্তি।
- নিকট অতীতে নদীবিধৌত বাংলাদেশে সাধারণত নদীর ভাটির স্রোতে নৌকা বাইতে মাঝিদের তেমন বেগ পেতে হতো না। তাই সেই অবসর ও আনন্দে তারা লম্বা টানে গলা ছেড়ে গান গাইত। কালক্রমে এই গানই ভাটিয়ালি গান নামে পরিচিতি লাভ করে।

অন্যদিকে,
- রংপুর অঞ্চল ভাওয়াইয়া গানের জন্যে বিখ্যাত। রংপুর ও কুচবিহার জেলা ভাওয়াইয়া গানের জন্মস্থান। ভাওয়াইয়া গানের বিখ্যাত শিল্পী হলেন আব্বাসউদ্দীন আহমেদ।
- চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের বিখ্যাত লোকসঙ্গীত হলো গম্ভীরা।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল ভাণ্ডারি গানের জন্যে বিখ্যাত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

২,০৮৯.
'ওয়ানগালা' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব?
  1. সাঁওতাল
  2. গারো
  3. মারমা
  4. মণিপুরী
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকাও গাজীপুরজেলায় গারোরা বাস করে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।
২,০৯০.
নিচের কোন ব্যক্তি ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনের শহীদ নন?
  1. ক) আসাদ
  2. খ) মতিউর
  3. গ) বরকত
  4. ঘ) জহুরুল হক
ব্যাখ্যা
- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতার উপর পুলিশের গুলিবর্ষণে আবুল বরকত  শাহাদত বরণ করেন।
- তাঁকে আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান:    
- ডাকসুর আহ্বানে ১৯৬৯ সালের ১৪ই জানুয়ারি সমগ্র পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়। 
- ২০শে জানুয়ারি নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্ররা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালন করেন।
- হরতাল  পালনকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হন। 
- আসাদের হত্যার প্রতিবাদে ২২, ২৩ ও ২৪ তারিখে ব্যাপক কর্মসূচী ঘোষিত হয়। 
- আবারও পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র কিশোর মতিউর নিহত হয় এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়। 
- ২৪শে জানুয়ারির পর থেকে লাগাতার আন্দোলন ও হরতালে বহু মানুষ পুলিশ ও সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ও আহত হয় ।
- ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সার্জেন্ট জহুরুল হককে নৃশংসভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- ১৮ই ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহাকে বেয়োনেট চার্জ করে হত্যা করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
২,০৯১.
স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. তাজউদ্দিন আহমদ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন - শেখ মুজিবুর রহমান

• সংসদ নেতা হলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে শাসক দলের নেতা, যিনি জাতীয় সংসদে সরকারের কার্যক্রম নির্ধারন ও পরিচালনার জন্য দায়ী থাকেন।
• সংসদ নেতা সংসদ সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন।
• বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নেতা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
• বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংসদ নেতার কার্যালয় অবস্থিত।
• বর্তমান সংসদ নেতা হলেন শেখ হাসিনা।

তথ্যসূত্র:- সংসদ সচিবালয় ও আওয়ামী লীগ ওয়েবসাইট।
২,০৯২.
নিচের কোন জেলায় গারোদের বসবাস নেই?
  1. ক) খাগড়াছড়ি
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) সুনামগঞ্জ
  4. ঘ) গাজীপুর
ব্যাখ্যা
• গারো:
- গারো  বাংলাদেশে বসবাসকারী একটি নৃগোষ্ঠী। 
- টাংগাইল, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, গাজীপুর জেলায় এদের বাস। 
- এদের সংখ্যা প্রায় দেড়লক্ষ। 
- বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের মেঘালয় রাজ্যে এদের বসবাস রয়েছে। 
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে গারোরা মঙ্গোলীয় জনগোষ্ঠীর তিববতীবর্মণ শাখার বোড়ো উপশাখার অন্তর্ভুক্ত।
- গারোদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- এতে দেবতা মিসি আর সালজং এর উদ্দেশ্যে উৎপাদিত ফসল উৎসর্গ করা হয়। 
- উল্লেখ্য ওয়ানগালা না হওয়া পর্যন্ত মান্দিরা নতুন উৎপাদিত ফসলাদি খেত না। 
- আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।
২,০৯৩.
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল কত সালে টেস্ট মর্যাদা লাভ করে?
  1. ২০১৮ সালে
  2. ২০১৯ সালে
  3. ২০২১ সালে
  4. ২০২২ সালে
ব্যাখ্যা

নারী ক্রিকেট দল:
- ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে ওয়ানডে স্ট্যাটাস লাভ করে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
- ২০১৮ সালে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল এশিয়া কাপের শিরোপা জয় করে।
- ২০১৮ সালে মালয়েশিয়ায় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হয়েছিল এশিয়া কাপ।
- বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ২০২১ সালে টেস্ট মর্যাদা পায়।

তথ্যসূত্র - ক্রিক ইনফো ওয়েবসাইট ও ঢাকা টাইমস, ০২ এপ্রিল ২০২১।

২,০৯৪.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র কোথায় থেকে প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. কুমারখালী
  2. রংপুর
  3. মুর্শিদাবাদ
  4. শ্রীরামপুর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো দিগদর্শন। এটি বর্তমান হুগলির শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।

দিগ্দর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমাচার দর্পণ সাময়িকী।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
২,০৯৫.
নিচের কোনটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. ক) দলীয় সংগঠন বিহীন
  2. খ) জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
  3. গ) সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃৃক্ত নয়
  4. ঘ) জাতীয় সংসদে হ্যাঁ-না ভোটে অংশ নেয়া
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী: (Pressure Group)
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হল এমন এক দল ব্যক্তির সমষ্টি। যারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যের
ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং নিজেদের লক্ষ্য সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন থাকে। 
- অ্যালমন্ড গ্যাব্রিয়েল ও জি পাওয়েল বলেন, “স্বার্থগোষ্ঠী বলতে আমরা নির্দিষ্ট স্বার্থের বন্ধনে আবদ্ধ অথবা সুযোগ-সুবিধা দ্বারা সংযুক্ত এমন এক ব্যক্তিসমষ্টিকে বুঝি যারা এরূপ বন্ধন সম্পর্কে সচেতন।” 

অধ্যাপক অ্যালমন্ড ও পাওয়েল চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীকে এক ধরনের স্বার্থকামী গোষ্ঠী হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মতে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত। এরা হলো:
- স্বতঃস্ফুর্ত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- সংগঠন ভিত্তিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- অসংগঠিত স্বার্থকামী গোষ্ঠী
- প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থকামী গোষ্ঠী।

চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

১। দলীয় সংগঠনবিহীন
২। দলীয় কর্মসূচিবিহীন 
৩। নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়া
৪। সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা
৫। সরাসরি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত নয়
৬। সমজাতীয় মনোভাব
৭। বেসরকারি সংগঠন

রেফারেন্স: 
রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী।
২,০৯৬.
বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার ঘোষণা করা হয়েছিল কবে?
  1. ২৬ মার্চ ১৯৭১
  2. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
  3. ১৪ এপ্রিল ১৯৭১
  4. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার গঠন:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল ও মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের জন্য এই দিনটির তাৎপর্য অপরিসীম, কেননা এই দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- এদিন (১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল) কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
- এটি 'মুজিবনগর সরকার' নামেই সমধিক পরিচিত এবং মুজিব নগর সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১ দেশের 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ' নামকরণ করে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম সহযোগী আওয়ামী লীগ নেতা তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে মন্ত্রীসভা ঘোষণা করা হয়।
- উল্লেখ্য, মেহেরপুর মহকুমা পরবর্তীতে জেলা হিসাবে উন্নীত হয় এবং বৈদ্যনাথতলার নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়- মুজিবনগর।
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর ছিলো স্বাধীন দেশের অস্থায়ী রাজধানী এবং সচিবালয়/সদরদপ্তর ছিলো- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোড।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯৭.
সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান কোনটি?
  1. বাহাদুর শাহ পার্ক
  2. গুলশান পার্ক
  3. রমনা পার্ক
  4. কার্জন হল
ব্যাখ্যা
সিপাহী বিদ্রোহ:
- পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহীদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়। 
- ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয় - সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭ সালে)।
- ব্যারাকপুরে প্রথম প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করেন - মঙ্গল পান্ডে।
- সিপাহী বিদ্রোহের প্রথম শহীদ - মঙ্গল পান্ডে।
- ভারতবর্ষে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে - ১৮৫৭ সালে।
- সিপাহী বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত স্থান - বাহাদুর শাহ পার্ক।
- সিপাহী বিদ্রোহকালীন গভর্নর জেনারেল ছিলেন - লর্ড ক্যানিং।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২,০৯৮.
খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ অনুযায়ী, দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার কত?
  1. ১৬.৫%
  2. ১৭.২%
  3. ১৮.৭%
  4. ১৯.৩%
ব্যাখ্যা

খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) Household Income and Expenditure Survey (HIES) 2022 শিরোনামে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২ প্রকাশ করে।
- জনপ্রতি দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ - ২,৩৯৩ কিলোক্যালোরি।
- খানাপ্রতি মাসিক গড় আয় - ৩২,৪২২ টাকা (শহুরে ৪৫,৭৫৭ টাকা, গ্রামীণ ২৬,১৬৩ টাকা)।
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর এবং তদূর্ধ্ব) - ৭৪% (পুরুষ ৭৫.৮%, নারী ৭২.৬%)।
- দেশে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৮.৭%।
- শহরে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ১৪.৭%।
- গ্রামে উচ্চ দারিদ্র্যের হার - ২০.৫%।

এছাড়াও,
- দেশে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৫.৬%।
- শহরে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৩.৮%।
- গ্রামে নিম্ন দারিদ্র্যের হার - ৬.৫%।

তথ্যসূত্র - খানা আয় ও ব্যয় জরিপ চূড়ান্ত প্রতিবেদন-২০২২।

২,০৯৯.
সাক্ষরতা সম্পর্কিত কোন বক্তব্যটি সঠিক?
  1. সাক্ষরতা আর শিক্ষা একই
  2. পড়া ও লেখার ক্ষমতা
  3. শুধু পড়তে পারার দক্ষতা
  4. শুধু স্বাক্ষর দেওয়ার জ্ঞান
ব্যাখ্যা

• সাক্ষরতা:
- সাক্ষরতা হচ্ছে  পড়া ও লেখার ক্ষমতা
- সমাজজীবন যত জটিল হয় ব্যবহারিক সাক্ষরতার স্তর তত উন্নীত হয় বলে একজন নিরক্ষর লোকের পক্ষে কর্মসংস্থান দুরূহ হয়ে ওঠে, দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াও কষ্টকর হয়।
- দেশে প্রায়োগিক সাক্ষরতার হার ৬২.৯২ শতাংশ।
- দেশে এমন প্রায়োগিক সাক্ষরতা সম্পন্ন মানুষের হার ৬২ দশমিক ৯২। তাদের বয়স সাত বছর থেকে তার বেশি।
- ৭ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায়োগিক সাক্ষরতায় পুরুষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন নারীরা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং ভোরের কাগজ পত্রিকা রিপোর্ট।[লিঙ্ক] [লিঙ্ক]

২,১০০.
বাংলাদেশে প্রথম গণভোট অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৭ সালে
  3. ১৯৭৮ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
  5. ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা

⇒ গণভোট:
- বাংলাদেশে ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট।
- এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।

⇒ প্রথম গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।

⇒ দ্বিতীয় গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে।
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।

⇒ তৃতীয় গণভোট:
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।
- এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।