বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১৭২ / ৩০৬ · ১৭,১০১১৭,২০০ / ৩০,৮৩২

১৭,১০১.
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮১ অনুযায়ী 'অর্থ বিল' (Money Bill)-এর সংজ্ঞায় কোন ধরনের বিল অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. কর আরোপ, নিয়ন্ত্রণ, রদবদল, মওকুফ বা রহিতকরণ
  2. সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ বা গ্যারান্টি প্রদান
  3. সংযুক্ত তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যয় সংক্রান্ত বিল
  4. স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর আরোপ বা ফি ধার্যকরণ
ব্যাখ্যা

◉ অনুচ্ছেদ ৮১(১)-এ অর্থবিলের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে—
• কর সংক্রান্ত পরিবর্তন,
• সরকার কর্তৃক ঋণ গ্রহণ বা দায়-দায়িত্ব,
• সংযুক্ত তহবিল সংক্রান্ত ব্যয়, 
• সরকারের হিসাব ও নিরীক্ষা। 

কিন্তু ৮১(২)-এ বলা হয়েছে—
শুধু স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কর, জরিমানা, লাইসেন্স ফি বা ফি ধার্যকরণ–এর মতো বিষয় কোনো বিলকে অর্থবিল হিসেবে গণ্য করবে না।

অর্থবিল:
- অর্থবিল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল।
- কোনো বিল অর্থবিল কিনা এ প্রশ্নে স্পিকারের দেওয়া সার্টিফিকেট চূড়ান্ত মত বলে গৃহীত হয়।
- অর্থবিল বা অর্থব্যয় সংক্রান্ত বিলের উদ্যোক্তা সরকার।

⇒ প্রতি বছর পরবর্তী বছরের জন্য সরকারের আর্থিক প্রস্তাবাবলি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে অর্থবিল সংসদে উত্থাপন করা হয়।
- সংসদে উত্থাপনের পর যথানিয়মে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিলটি পাস করতে হয়।
- অর্থবিল রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য উপস্থাপিত হলে পনের দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতি প্রদান করেন।
- রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদানে অসমর্থ হলে উক্ত মেয়াদের শেষে বিলটি আইনে পরিণত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৮১ নং অনুচ্ছেদে 'অর্থবিল' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

উৎস:
i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৭,১০২.
চেয়ারম্যান ব্যতীত কতজন প্রতিনিধি নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত?
  1. ২১ জন
  2. ১৫ জন
  3. ২০ জন
  4. ১৩ জন
ব্যাখ্যা
চেয়ারম্যান ব্যতীত ২০ জন প্রতিনিধি নিয়ে জেলা পরিষদ গঠিত। 

• জেলা পরিষদ:
- ২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদ গঠিত। 
- ১ জন চেয়ারম্যান, ১৫ জন সদস্য এবং সংরক্ষিত আসনে ৫ জন মহিলা সদস্য নিয়ে মোট ২১ জন। 
- এরা সবাই পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হবেন একটি নির্দিষ্ট জেলার অধীনে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, কমিশনারবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের ভোটে।
- এই পরিষদের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। 

উৎস: লাইভ এম সি কিউ লেকচার ও জেলা পরিষদ আইন, ২০০০।
১৭,১০৩.
গ্রামকে ‘ঠি’ বলে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. গারো
  2. চাক
  3. ত্রিপুরা
  4. মারমা
ব্যাখ্যা
চাক:
- চাক বাংলাদেশের ক্ষুদ্র আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার বাইশারি, নাইক্ষ্যংছড়ি, কামিছড়া, ক্রোক্ষং, বাকখালি, আলেখ্যং, ক্রোয়াংঝিড়ি ও ডুছড়ি এলাকায় চাকদের বসবাস।
- বান্দরবান বোমাং সার্কেলের বোমাং রাজপুস্তিকায় ও রাজ্য অভিষেক অনুষ্ঠানে চাকরা ‘মিঙসাক’ নামে তালিকাভুক্ত আছে।
- চাক সমাজ প্রধানত ২টি গোত্রে বিভক্ত। যা আবার কয়েকটি উপগোত্রে বিভক্ত। গোত্রীয় প্রতীক জালোয়া বা পইত্যা (পাকানো সুতার রশি)।
- চাকদের জীবনধারা বৈচিত্র্যপূর্ণ ও ঐতিহ্যমন্ডিত।
- শিশুর জন্ম ও নামকরণ সংক্রান্ত অনুষ্ঠানাদির মধ্যে নাইংছাঙাহাং-এ অবস্থান, পুতরংবুওয়ে (জন্মপরবর্তী অনুষ্ঠান), ভেগলুংশাত পো (চুংবংলংউচ্ছেং ছাহেকা) উল্লেখযোগ্য।
- বিবাহ সংক্রান্ত প্রথার মধ্যে আচাংগায়ুগা (কনে দেখা), চাঁগায়ুগা (কোষ্ঠী বিচার)-সহ আরো অনেক প্রথা পালন করা হয়।
- ১৯৫৯ সালে চাক ধর্মগুরু মহাথেরো গন্ধর্ব ওয়েংসারের প্রচেষ্টায় চাক সমাজে শিক্ষার বিস্তার ঘটে।
- চাকরা দুই ধারায় বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি ও বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা (লক্ষ্মীপূজা বা ওয়াইগ্যা, ফুলপূজা, প্রদীপপূজা) করে।
- পিতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামোতে চাকদের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী শুধু ছেলেরা।
- চাকরা বাড়িকে ‘কিং’ এবং গ্রামকে ‘ঠি’ বলে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৭,১০৪.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয় -
  1. ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ২২ মার্চ, ১৯৭২ সালে
  4. ১২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

• সংবিধান:
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয় - ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান রচনা কমিটির প্রধান - ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির সদস্য সংখ্যা ছিল - ৩৪ জন।
- একমাত্র মহিলা সদস্য ছিল - বেগম রাজিয়া বানু।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য - সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপন করে - ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
- গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয় - ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭,১০৫.
তারেক রহমান বাংলাদেশের কততম প্রধানমন্ত্রী?
  1. ১০ম
  2. ১১তম
  3. ১২তম
  4. ১৩তম
ব্যাখ্যা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান:
- তারেক রহমান বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী।
- ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হয়ে সরকারপ্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার পর ছেলে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

• বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। এর পর একে একে শেখ মুজিবুর রহমান, মুহাম্মদ মনসুর আলী, শাহ আজিজুর রহমান, আতাউর রহমান খান, মিজানুর রহমান চৌধুরী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, কাজী জাফর আহমেদ, বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা, এর মধ্যে বেগম খালেদা জিয়া দু’বার এবং শেখ হাসিনা ৫ বার প্রধানমন্ত্রী হন।

• ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। 
- ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

উৎস: বাংলাদেশ টেলিভিশন ওয়েবসাইট।

১৭,১০৬.
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন কত তারিখে?
  1. ক) ১৭ মার্চ ২০২২
  2. খ) ২১ মার্চ ২০২২
  3. গ) ২৩ মার্চ ২০২২
  4. ঘ) ২৬ মার্চ ২০২২
ব্যাখ্যা
২১ মার্চ ২০২২ শতভাগ বিদ্যুতায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
একই দিনে ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের সবচেয়ে বড় ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, এপ্রিল ২০২২
১৭,১০৭.
বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৭৬৩ সালে
  2. ১৭৬৪ সালে
  3. ১৭৬৫ সালে
  4. ১৭৬২ সালে
ব্যাখ্যা

• মীর কাসিম ও বক্সারের যুদ্ধ:
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৬০ সালের ২০ অক্টোবর মীর জাফরকে সরিয়ে দিয়ে তার জামাতা মীর কাসিমকে মুর্শিদাবাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করেছিল।
- তার মাত্র চার বছরের রাজত্বকাল ১৭৬০ থেকে শুরু হয়ে ১৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে শেষ হয়েছিল।
- মীর কাসিম নবাব হয়ে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর হয়েছিলেন।
- ইংরেজদের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে তিনি রুখে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন।

- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিনাশুল্কে বাণিজ্য করার অন্যায় অধিকার থেকে ইংরেজ কর্মচারীরা ব্যক্তিগত ফায়দা নিতে থাকে। 
- এর ফলে নবাবের অনেক আর্থিক ক্ষতি হয়েছিল। তিনি ইংরেজ গভর্নরের কাছে এর প্রতিকার দাবি করেছিলেন।
- তবে তারা এর উপযুক্ত সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হওয়ায় মীর কাসিম পরবর্তী সময়ে দেশীয় বণিকদের ওপর থেকেও বাণিজ্য শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। 
- এতে ইংরেজ কোম্পানির কর্মচারীদের অযৌক্তিক সুবিধা পাওয়ার পথ বদ্ধ হলে তারা তা মেনে নিতে পারেনি। 
- নবাব মীর কাসিমের সাথে ইংরেজদের বিরোধ চরমে উঠলে তা পাটনায় সংঘর্ষের রূপ নেয়।
- এরপর ১৭৬৩ সালের ৭ জুলাই নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। 
- পরপর কাটোয়া, ঘেরিয়া, মুর্শিদাবাদ, সুটি, উদয়নালা ও মুঙ্গেরে নবাব বাহিনীর সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়েছিল।
- নবাব তখন পরাজিত হয়ে পাটনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন। 
- এরপর অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সাহায্য নিয়ে তিনি বাংলাকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে দু'পক্ষে প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়। 
- তাদের সম্মিলিত বাহিনী বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের কাছে পরাজিত হয়। 
- নিদারুণ দুঃখকষ্ট ও দারিদ্র ভোগ করে ১৭৭৭ সালের ৬ জুন জন্মভূমি থেকে অনেক দূরে শাজাহানাবাদের এক অখ্যাত পল্লীতে মৃত্যুবরণ করেছিলেন মীর কাসিম।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭,১০৮.
সর্ব প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবী উত্থাপন করেন-
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সর্ব প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবী উত্থাপন করেন।

ভাষা আন্দোলন:

- ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭,১০৯.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের প্রস্তাব করেন কে?
  1. খাজা নিজামুদ্দিন
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. নবাব খাজা সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

 • মুসলিম লীগ:
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গের গোঁড়াসমর্থক ঢাকার নওয়াব  খাজা সলিমুল্লাহ কংগ্রেস সমর্থকদের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি এ সভায় একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের প্রস্তাব করেন।
- সভার সভাপতি নওয়াব ভিকার-উল-মুলক প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং এভাবে সর্ব ভারতীয় মুসলিম লীগ সৃষ্টি হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না। 
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৭,১১০.
Bangabandhu Sheikh Mujibur Raman's mother's name is -
  1. ক) Sheikh Fazilatunnessa
  2. খ) Sayera Khatun
  3. গ) Amena Khatun
  4. ঘ) Ayesha Begum
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- ১৯৪৭ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে বি.এ পাশ করেন।
- ১৯৪২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন।
- বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পিতা শেখ লুৎফর রহমান।
- তাঁর মায়ের নাম সায়েরা খাতুন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের সাথে তাদের দাবি আদায়ের পক্ষে আন্দোলন করার জন্যে ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করা হয়।
- ১৯৫৩ সালে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।১৯৬৬ সালেই তিনি দলের সভাপতি হন।
- ১৯৬৬ সালে তিনি তাঁর বিখ্যাত ছয়দফা কর্মসূচী ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৭,১১১.
কয়েকটি চাকমা পরিবার মিলে গঠিত হয়-
  1. সার্কেল
  2. মৌজা
  3. গোত্র
  4. আদাম
ব্যাখ্যা
- পরিবার চাকমা সম্প্রদায়ের ক্ষুদ্রতম সামাজিক সংগঠন।
- এর পরের স্তরগুলি হচ্ছে পর্যায়ক্রমে গোত্তি বা গোজা, আদাম বা পাড়া, গ্রাম বা মৌজা এবং চাকমা সার্কেল।
- কতগুলো চাকমা পরিবার নিয়ে গঠিত হয় আদাম বা পাড়া।
- আদামের প্রধানকে বলা হয় কারবারী।
- চাকমা রাজা গ্রাম বা মৌজা প্রধানের সাথে আলাপ করে কারবারীকে নিয়োগ করেন।
- কারবারীদের কাজ হল গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সালিশ বিচারকাজে মৌজাপ্রধানকে সহায়তা করা।
- কারবারীকে কোনো বেতন-ভাতা প্রদান করা হয় না।
- কতগুলো আদাম মিলে গঠিত হয় চাকমা গ্রাম বা মৌজা।
- মৌজার প্রধান হেডম্যান।
- চাকমা রাজার সুপারিশক্রমে স্থানীয় জেলা প্রশাসক হেডম্যান নিয়োগ করেন।
- হেডম্যানদের প্রধান কাজ সংশ্লিষ্ট মৌজার খাজনা আদায় করা, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং সালিশের মাধ্যমে গোলোযোগ নিস্পত্তি করা।
- চাকমা সমাজের কয়েকশত মৌজা বা গ্রাম নিয়ে চাকমা-সার্কেল গঠিত হয়।
- চাকমা রাজা চাকমা-সার্কেলের প্রধান।
- চাকমা রাজা বংশপরম্পরায় নিযুক্ত হন।
- চাকমা সমাজের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তিনি জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দান করেন।
- চাকমা রাজা চাকমা সমাজের সংহতির প্রতীক।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,১১২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ভূমিকা লিখেছেন কে?
  1. শমসের মবিন চৌধুরী
  2. এনামুল হক
  3. শেখ হাসিনা
  4. শেখ রেহানা
ব্যাখ্যা
অসমাপ্ত আত্মজীবনী:

- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী' বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা বই।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে।
- অসমাপ্ত আত্মজীবনী লেখা হয়েছে ১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন তিনি কারারুদ্ধ ছিলেন।
- আত্মজীবনীর শুরু হয়েছে তাঁর জন্মের সময় থেকে; পাশাপাশি এসেছে পিতৃপুরুষের কথাও। আর বইটি শেষ হয়েছে ১৯৫৪ সালের ঘটনাবলি দিয়ে।
- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির ভূমিকা লিখেছেন শেখ হাসিনা।
- এই প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন বাংলাদেশের খ্যাতনামা ইতিহাসবিদ, সাহিত্যিক এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
- বাংলা ভাষা ছাড়াও ইংরেজি ভাষায়ও এই বইয়ের অনুবাদ হয়েছে। বাংলাদেশে এই বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড।
- এছাড়া ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ভারতে পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া থেকে এবং পাকিস্তানে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস পাকিস্তান থেকে। এছাড়া পাকিস্তানে উর্দু ভাষাতেও এর অনুবাদ বের হবার কথা রয়েছে।
- ইংরেজিতে এই বইয়ের ভাষান্তর করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ফকরুল আলম।

তথ্যসূত্র - অসমাপ্ত আত্মজীবনী, দৈনিক প্রথম আলো, ১৪ই আগস্ট ২০২০ এবং বিবিসি বাংলা, ১৯ জুন ২০১২।
১৭,১১৩.
বাংলাদেশের বীমা কোম্পানিসমূহের নিয়ন্ত্রক সংস্থার নাম কী?
  1. IDRA
  2. IDA
  3. SEC
  4. BSEC
ব্যাখ্যা
IDRA:
- IDRAএর পূর্ণরূপ: Insurance Development and Regulatory Authority. 
- ২০১১ সালের ২৬শে জানুয়ারী বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আইন ২০১০ এর বিধানের অধীনে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (IDRA) গঠিত হয়েছে।
- বাংলাদেশ সরকার বীমা ব্যবসার বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য বীমা আইন ২০১০ প্রণয়ন করেছে।
- এটি বীমা ব্যবসার তত্ত্বাবধান এবং পলিসি হোল্ডারের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- কর্তৃপক্ষ 'জাতীয় বীমা নীতি ২০১৪' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বীমা শিল্পের পদ্ধতিগত উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করছে।
- IDRA একজন চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত।

উৎস: বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট।
১৭,১১৪.
'মুক্তির সনদ' নামে পরিচিত নিচের কোনটি?
  1. ছয় দফা
  2. এগারো দফা
  3. একুশ দফা
  4. চার দফা
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
- ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির 'মুক্তির সনদ' বা 'ম্যাগনেকার্টা' হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক 'লাহোর প্রস্তাব' এর ভিত্তিতে রচিত।
- ৭ জুন ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস পালন করা হয়।

উৎস:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১১৫.
দেশের প্রথম উপকূলীয় নদীবন্দর কোনটি?
  1. হাতিয়া
  2. বাউফল
  3. আনোয়ারা
  4. সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা

দেশের উপকূলীয় নদীবন্দর:
- দেশের প্রথম উপকূলীয় নদীবন্দর হলো সন্দ্বীপ।
- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সন্দ্বীপকে দেশের প্রথম উপকূলীয় নদীবন্দর হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআইডব্লিউটিএ) সন্দ্বীপ উপকূলীয় নদীবন্দরের সংরক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। 

উল্লেখ্য,
- দেশের দ্বিতীয় উপকূলীয় নদীবন্দর হলো হাতিয়া। নোয়াখালীর হাতিয়াকে দেশের ২য় উপকূলীয় নদীবন্দর ঘোষণা করেছে সরকার।

উৎস: i) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ওয়েবসাইট।
ii) দৈনিক ইনকিলাব।

১৭,১১৬.
জাতীয় সংসদের সদস্য নন-
  1. ক) স্পিকার
  2. খ) হুইপ
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ৫৬(৩) এবং ৭৪(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধানমন্ত্রী এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার জন্যে অবশ্যই সংসদ সদস্য হতে হবে। তাদের সংসদ সদস্যপদ বাতিল হলে তারা তাদের স্ব স্ব বহাল থাকতে পারবেন না।
সংসদ কর্তৃক প্রণীত কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে সংসদের চিফ হুইপ বা হুইপ নির্বাচিত হওয়ার জন্যে অবশ্যই সংসদ সদস্য হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হলেও তিনি সংসদের সদস্য নন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের সংবিধান : আরিফ খান)
১৭,১১৭.
৬ষ্ঠ বাংলাদেশি হিসেবে ইকরামুল হাসান শাকিল মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন কবে?
  1. ১৭ মে, ২০২৫
  2. ১৮ মে, ২০২৫
  3. ১৯ মে, ২০২৫
  4. ২০ মে, ২০২৫
ব্যাখ্যা
ইকরামুল হাসান শাকিল:
- সম্প্রতি ৬ষ্ঠ বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেছেন ইকরামুল হাসান শাকিল।
- তিনি এভারেস্ট চূড়া জয় করেন ১৯ মে, ২০২৫ সালে।
- সবচেয়ে কম সময়ে এভারেস্ট চূড়া জয় করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন তিনি।
- কক্সবাজার থেকে হেঁটে গিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন ইকরামুল হাসান শাকিল।
- ইকরামুল হাসান তাঁর এই অভিযানের নাম দিয়েছেন 'সি টু সামিট', অর্থাৎ সমুদ্র থেকে শৃঙ্গ।
- শাকিলের 'সি টু সামিট' অভিযাত্রা শুরু হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কক্সবাজার থেকে।
- এরপর ৯০ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন এবং ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতার এভারেস্ট জয় করেন।

⇒ এভারেস্ট জয়ী বাংলাদেশি:
- এখন পর্যন্ত ছয়জন বাংলাদেশি এভারেস্ট জয় করেছেন। (জুন, ২০২৫)
- তাঁরা হলেন:
১ম: মুসা ইব্রাহিম, ২০১০ সালের ২৩ মে।
২য়: এম এ মুহিত, ২০১১ সালের ২১ মে।
৩য়: নিশাত মজুমদার, ২০১২ সালের ১৯ মে।
৪র্থ: ওয়াসফিয়া নাজরিন, ২০১২ সালের ২৬ মে।
৫ম: বাবর আলী, ২০২৪ সালের ১৯ মে।
৬ষ্ঠ: ইকরামুল হাসান শাকিল, ২০২৫ সালের ১৯ মে। (সর্বশেষ, জুন, ২০২৫)

উল্লেখ্য:
- মো. খালেদ হোসেন, ২০১৩ সালের ২০ মে মাউন্ট এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন। তবে চূড়া থেকে নামার পথে দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। তাই এভারেস্ট জয়ী হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারেননি।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।
১৭,১১৮.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক কে ছিলেন?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,১১৯.
‘সি টু সামিট’ অভিযান সম্পন্ন করেছেন কে?
  1. বাবর আলী
  2. ইকরামুল হাসান শাকিল
  3. এম এ মুহিত 
  4. তৌফিক আহমেদ তমাল
ব্যাখ্যা

সি টু সামিট:
- ৬ষ্ঠ বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট হয় করেছেন ইকরামুল হাসান শাকিল।
- ২০২৫ সালের ১৯ মে তিনি এভারেস্ট চূড়া জয় করেন।
- সবচেয়ে কম সময়ে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নতুন রেকর্ডও গড়েছেন তিনি।
- কক্সবাজার থেকে হেঁটে গিয়ে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্টে বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন ইকরামুল হাসান শাকিল।
- ইকরামুল হাসান তাঁর এই অভিযানের নাম দিয়েছেন ‘সি টু সামিট’, অর্থাৎ সমুদ্র থেকে শৃঙ্গ।
- শাকিলের 'সি টু সামিট' অভিযাত্রা শুরু হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কক্সবাজার থেকে।
- এরপর ৯০ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রায় এক হাজার ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন এবং ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতার এভারেস্ট জয় করেন।

উৎস: i) The Business Standard.
ii) প্রথম আলো।

১৭,১২০.
সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত কততম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ?
  1. ৫২২ তম
  2. ৬২০ তম
  3. ৭৯৮ তম
  4. ৮৯৮ তম
ব্যাখ্যা
• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- সুন্দরবন দুটি বন বিভাগে বিভক্ত: সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ ও সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার।
- সমগ্র সুন্দরবন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে বিস্তৃত।
- এছাড়া ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেন্দ্র এবং ৩টি বিশেষায়িত বণ্যপ্রানী (ডলফিন) অভয়ারণ্য বিদ্যমান।

- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সনে UNESCO সুন্দরবনের ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে ৭৯৮তম World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা করে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৯ সনে নীলকমলে World Heritage Site-এর নামফলক উন্মোচন করেন।
- সুন্দরবনের জলভাগ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ায় ১৯৯২ সনের ২১ মে থেকে এটি Ramsar Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- টাঙ্গুয়ার হাওর ১০ জুলাই, ২০০০ সালে রামসার সাইটের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বন সংরক্ষণ দপ্তর ও রামসার সাইট।
১৭,১২১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ প্রভৃতিকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-৭ক
  2. অনুচ্ছেদ-৭খ
  3. অনুচ্ছেদ-৭
  4. অনুচ্ছেদ-১৫
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সংবিধান:
- সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- সংবিধান কার্যকর হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান সর্বমোট ১৭বার সংশোধন হয়েছে। 

- বাংলাদেশের সংবিধানের-৭ক অনুচ্ছেদের বিধান: সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ:
(১) কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায় -
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে ; কিংবা
(খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে-তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।

উল্লেখ্য,
-২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ৭ক অনুচ্ছেদটি সংবিধানে যুক্ত করা হয়।

এছাড়াও,
অনুচ্ছেদ-৭ এর বিধান → সংবিধানের প্রাধান্য।
অনুচ্ছেদ-৭খ এর বিধান → সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য। 
অনুচ্ছেদ-১৫ এর বিধান→ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৭,১২২.
যমুনা বঙ্গবন্ধু সেতুর পিলার কয়টি?
  1. ৭৫ টি
  2. ৫৯ টি
  3. ৫০ টি
  4. ৪৫ টি
ব্যাখ্যা
যমুনা সেতু:
- এটি যমুনার নদীর ওপর নির্মিত।
- সেতুটি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে।
- সেতুর দৈর্ঘ্য ৪.৮ কিলোমিটার।
- সেতুর মোট স্প্যান ৪৯টি।
- সেতুর মোট পিলার রয়েছে ৫০টি।
- সেতুটিতে ডুয়েল গেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ করা হবে।
- এর নির্মাণ ব্যয় ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা।
- ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
- সেতুর ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।

উল্লেখ্য,
- জাপান ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে সেতুটি নির্মিত হচ্ছে।
- ডব্লিউডি-১ ও ডব্লিউডি-২ নামে দুটি প্যাকেজে জাপানি পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
- ডব্লিউডি-১ প্যাকেজটি বাস্তবায়ন করছে জাপানি আন্তর্জাতিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওবাইসি, টোআ করপোরেশন ও জেইসি (ওটিজে) জয়েন্ট ভেঞ্চার।
- ডব্লিউডি-২ প্যাকেজটি বাস্তবায়নে রয়েছে জাপানের আইএইচআই ও এসএমসিসি জয়েন্ট ভেঞ্চার।
- সেতুটি নির্মাণে জাপান, ভিয়েতনাম, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের কর্মীরা নিয়োজিত আছেন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) সেতু বিভাগ ওয়েবসাইট।
১৭,১২৩.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করা হয় -
  1. বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাবেশে
  3. মুজিবনগরে
  4. ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে
ব্যাখ্যা
প্রথম পতাকা উত্তোলন:
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস। 
- মানচিত্র খচিত পতাকার নকশাকার: শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)।
- ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা আনুষ্ঠানিক উত্তোলন করেন এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন: কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
১৭,১২৪.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ?
  1. রাঢ়
  2. বঙ্গ
  3. সমতট
  4. গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৭,১২৫.
অপোকপা কোন সম্প্রদায়ের আদি ধর্মের নাম?
  1. ক) মৈতৈ মণিপুরী
  2. খ) সাঁওতাল
  3. গ) খাসিয়া
  4. ঘ) বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী
ব্যাখ্যা
অপোকপা বা সানামাহি হলো মৈতৈ মণিপুরী সম্প্রদায়ের আদি ধর্মের নাম। অপোকপা সর্বপ্রাণ ধর্মের অন্তর্গত। তবে মৈতৈই মণিপুরীদের অধিকাংশই বর্তমানে সনাতন ধর্মের অনুসারী।

অন্যদিকে,
- সাঁওতালদের ধর্ম : খ্রিস্টান
- খাসিয়াদের ধর্ম : খ্রিস্টান
- বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সম্প্রদায় : বৈষ্ণবধর্মের অনুসারী।

(তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
১৭,১২৬.
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. দিনাজপুর
  2. রংপুর
  3. রাজশাহী
  4. কুষ্টিয়া
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া কয়লার খনি: 
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার অন্তর্গত ৯নং হামিদপুর ইউনিয়নে ভবানীপুর বাজার হইতে দক্ষিনে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটি অবস্থিত। 
- এখানে সবচেয়ে দামী বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলন করা হয়। 
- এই কয়লা খনি থেকে বার্ষিক ১০ লক্ষ মেট্রিক টন বিটুমিনাস কয়লা উৎপাদন করা হয়। 
- উত্তোলিত কয়লা দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানী করার পর স্থানীয় বিভিন্ন শিল্প কারখানায় বিক্রয় করা হয়। 
- বড়পুকুরিয়া খয়লাখনির কয়লা দ্বারা খনি সংলগ্ন স্থানে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নামে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। 
- বড় পুকুরিয়া কয়লা খনিটি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার একটি প্রসিদ্ধ স্থান। 

উৎস: বড়পুকুরিয়া-কয়লা-খনি, dinajpur.gov.bd
১৭,১২৭.
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০-এ কয়টি ভৌগোলিক হটস্পট নির্ধারণ করা হয়েছে?
ব্যাখ্যা
ব-দ্বীপ পরিকল্পনা:
- ব-দ্বীপ পরিকল্পনা দেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন পরিকল্পনা।
- বাংলাদেশের ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বা ডেল্টা প্ল্যান ১০০ বছরের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।
- এই পরিকল্পনা প্রণয়নে ও বাস্তবায়নে নেদারল্যান্ডস সরকার বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।
- ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে এই পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- ডেল্টা প্ল্যানে ছয়টি হটস্পট নির্ধারণ করা হয়েছে।

⇒ দুর্যোগ ঝুঁকিপ্রবণ ৬টি হটস্পট:
১. উপকূলীয় অঞ্চল: সাইক্লোনপ্রবণ অঞ্চল- ১৩ টি উপকূলীয় ও ৬ টি নদী বাহিত জেলা।
২. বরেন্দ্র ও খরাপ্রবণ অঞ্চল: খরা (মূলত কৃষি)।
৩. হাওর এবং আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল: ৭ টি জেলা।
৪. পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল: পাহাড় ধস ও আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল।
৫. নদী অঞ্চল এবং মোহনা: বন্যাপ্রবণ অঞ্চল।
৬. নগরাঞ্চল: ভূমিকম্প, জলাবদ্ধতা ইত্যাদি।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ওয়েবসাইট।
১৭,১২৮.
ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়?
  1. ক) ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৪২০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৮১০ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ঢাকায় সর্বপ্রথম বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয় ১৬১০ সালে। মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবাবাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
উৎসঃ নবম দশম শ্রেণি সমাজ বই।
১৭,১২৯.
নিচের কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) বাংলা একাডেমি
  2. খ) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন
  3. গ) এটর্নি জেনারেলের কার্যালয়
  4. ঘ) দুর্নীতি দমন কমিশন
ব্যাখ্যা
সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক যেসব প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়
- জাতীয় সংসদ
¬- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
- জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশন হলো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। বাংলা একাডেমি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবিধান এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী)
১৭,১৩০.
বর্তমানে বাংলাদেশের 'চামড়া শিল্প নগরীর' অবস্থান কোথায়?
  1. আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ
  2. শ্রীপুর, গাজীপুর
  3. হেমায়েতপুর, সাভার
  4. হাজারীবাগ, ঢাকা
ব্যাখ্যা

• ট্যানারি শিল্প:
- ট্যানারি শিল্প বলতে চামড়া পাকা করা বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়, এমন কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়।
- ট্যানারিতে পশুর কাঁচা চামড়া পাকা করার পর জুতা, ব্যাগ, স্যুটকেস, বেল্ট, মানিব্যাগ, জ্যাকেট ইত্যাদি উৎপাদনের উপযোগী চামড়া তৈরি করা হয়।
- ১৯৪০ সালে প্রথম ট্যানারি স্থাপিত হয় নারায়নগঞ্জে যার উদ্যোক্তা ছিলেন আর.পি সাহা (রণদাপ্রসাদ সাহা)।
- পরবর্তীকালে ট্যানারিটি ঢাকার হাজারীবাগে স্থানান্তর করা হয়।
- এই ট্যানারিকে কেন্দ্র করেই হাজারীবাগ এলাকায় অনেক ট্যানারি গড়ে ওঠে।
- দেশ বিভাগের আগ পর্যন্ত পূর্ববঙ্গে উৎপাদিত সব কাঁচা চামড়া পশ্চিম বাংলায় বিশেষত কলকাতায় রপ্তানি হতো।
- উপর্যুক্ত বাধা কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে ২০১৬ সালে ট্যানারিগুলোকে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় ২০০ একর জমির উপর কেন্দ্রীয়ভাবে বর্জ্য শোধনাগার সুবিধাসহ স্থানান্তরের পবিকল্পনা নেয়া হয়।
- ২০১৭ সালে ট্যানারি শিল্প জনবহুল হাজারীবাগ এলাকা থেকে সাভারে নিজস্ব শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) BBC.

১৭,১৩১.
সাকরাইন উৎসব কখন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. বৈশাখ মাসের প্রথম দিন
  2. পৌষ মাসের শেষ দিন
  3. কার্তিক মাসের প্রথম দিন
  4. চৈত্র মাসের শেষ দিন
ব্যাখ্যা
সাকরাইন উৎসব: 
- সাকরাইন উৎসব মূলত পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব।
- প্রতি বছর পৌষ মাসের শেষ দিন (পৌষ সংক্রান্তি) এই উৎসব পালিত হয়।
- ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বয়সী মানুষ এতে অংশ নেয়।
- সকাল থেকেই ঘুড়ি ওড়ানো শুরু হয়, যা দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে।
- ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফাটানো, গান-বাজনা ও ডিজে পার্টি আয়োজন হয়।
- অনেক বাড়িতে পিঠা-পুলি, তেহারি, পোলাওসহ নানা খাবার তৈরি হয়।
- উৎসবটি শত বছরের পুরোনো। কেউ কেউ মনে করেন, এটি মুঘল আমল থেকে চলে আসছে।
- পুরান ঢাকার অনেক বাসিন্দা উৎসবের আধুনিক রূপ পছন্দ করেন না।
- তবে অনেকে বলেন, পরিবর্তনে উৎসব আরও রঙিন ও প্রাণবন্ত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা নিউজ। [লিঙ্ক]
১৭,১৩২.
কার প্রচেষ্টায় বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাস হয়?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
→ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রচেষ্টায় বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ করে।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- জন্ম: ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর (১২ আশ্বিন ১২২৭ বঙ্গাব্দ),
- পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে। ​
- পিতার নাম: ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।​
→শিক্ষা জীবন:
- ১৮২৮ সালে কলকাতার পাঠশালায় ভর্তি।
- ১৮২৯ সালে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি হন।
- ১৮৩৪ সালে ১৪ বছর বয়সে দীনময়ী দেবীর সঙ্গে বিয়ে।
- ১৮৩৯ সালে হিন্দু ল কমিটির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি লাভ। 
• কর্মজীবন:
- ১৮৪১ সালে ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান পন্ডিত হিসেবে নিযুক্ত।
- ১৮৫০ সালে সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক হন এবং পরবর্তীতে অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। ​
→ সমাজ সংস্কার:
- বাল্যবিবাহের কুফল ও বিধবাদের করুণ জীবন দেখে তিনি সমাজ সংস্কারের পথে এগিয়ে যান।
- ১৮৫৬ সালে তাঁর প্রচেষ্টায় বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ করে।

উল্লেখ্য,
- রাজা রামমোহন রায় প্রচেষ্টায় সতীদাহ প্রথা বাতিল হয়।​

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৩৩.
কার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) গোলাম রসুল
  3. গ) দুদু মিয়া
  4. ঘ) পরাগল শাহ
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তউল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে ফরায়েজি আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
প্রথমদিকে এটি ছিলো একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন। তবে শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র দুদু মিয়া এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং তিনি একে রাজনৈতিক রূপ দেন।
দুদু মিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ফরায়েজী আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া)
১৭,১৩৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জনসংখ্যায় সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. বম
  2. ভিল
  3. গুর্খা
  4. লুসাই
ব্যাখ্যা
• ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংখ্যা - ৫০টি।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী - চাকমা (৪,৮৩,৩৬৫ জন)।
- জনসংখ্যায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যথাক্রমে - মারমা (২,২৪,২৯৯ জন) ও ত্রিপুরা (১,৫৬,৬২০ জন)।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে ছোট ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী - ভিল (৯৫জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যে জেলায় - রাঙ্গামাটি (৩,৭২,৮৭৫ জন)।
- ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে কম যে জেলায় - লালমনিরহাট (১১৮ জন)।

উল্লেখ্য, 
- সর্বশেষ ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন।
- তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি: CPI.
- গণনা পদ্ধতি: Modified De-fecto.
- দেশে মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- সাক্ষরতার হার: ৭৪.৮০%।

উৎস: ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২।
১৭,১৩৫.
উন্নত প্রথায় শিক্ষা দেয়া বলতে কী বোঝায়?
  1. শিক্ষা গ্রহণে সাহায্য
  2. ছাত্রদের তৈরি ও পাসে সাহায্য
  3. ক্লাসে প্রশ্ন করা ও পরীক্ষা নেয়া
  4. পাঠ্য বইয়ে যা আছে সে সম্পর্কে বলা
ব্যাখ্যা
পাঠদান পদ্ধতি:
- পাঠদান পদ্ধতিগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা -
• সনাতন পদ্ধতি।
• আধুনিক পদ্ধতি।

- সনাতন পদ্ধতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
• বক্তৃতা।
• প্রদর্শন।
• টিউটোরিয়াল।
• আবৃত্তি।
• পূর্ব নির্ধারিত পাঠ।
• সর্দার পড়ো ব্যবস্থা।

- আধুনিক পদ্ধতির তালিকায় রয়েছে:
• আলোচনা।
• প্রশ্ন ও উত্তর।
• প্যানেল আলোচনা।
• সেমিনার ও সিম্পোজিয়াম।
• স্প্রিং বোর্ড।
• বাহ্ ও ব্রেইন স্টর্মিং সেশন।
• ভূমিকাভিনয়।
• সাক্ষাৎকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - শিক্ষাদানের নীতি ও শিক্ষাদানের পদ্ধতি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। (লিংক)
১৭,১৩৬.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা কি?
  1. ক) রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) ধর্ম নিরপেক্ষতা
  4. ঘ) মুদ্রা ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ।
৬ দফার প্রথম দফা ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৩৭.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' দিয়েছিল-
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. ভারত
  3. রাশিয়া
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া) এতে ভেটো প্রয়োগ করায় এই প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে যায়।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের পক্ষে 'ভেটো' প্রদান করেছিল।
- চীন ও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ছিল ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন (বর্তমান রাশিয়া)।
- অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস: প্রথম আলো আর্কাইভ ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৩৮.
বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার শপথ নেয় কোন তারিখে?
  1. ক) ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১
  2. খ) ২৬ মার্চ , ১৯৭১
  3. গ) ১০ জানুয়ারি , ১৯৭২
  4. ঘ) ১১ এপ্রিল, ১৯৭১
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল এ সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১৭,১৩৯.
'শিশুস্বর্গ ও চারুপীঠ' প্রতিষ্ঠাকারী-
  1. ফকির লালন শাহ
  2. কামরুল হাসান
  3. এস. এম. সুলতান
  4. জয়নুল আবেদীন
ব্যাখ্যা

- 'শিশুস্বর্গ ও চারুপীঠ' প্রতিষ্ঠা করেন এস. এম. সুলতান।
- এটি নড়াইলে অবস্থিত।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ‌চিত্রশিল্পঃ
• হত্যাযজ্ঞ,
• চর দখল,
• ধানকাটা ইত্যাদি।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭,১৪০.
২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট আমদানির পরিমান কত?
  1.  ৭৯ বিলিয়ন
  2. ৬১ বিলিয়ন
  3. ৮২ বিলিয়ন
  4. ৫৬ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা

- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, 
- যা এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে ৭ শতাংশ কম। 
- আগের অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৬ হাজার ৫১৪ কোটি ডলারের পণ্য।
- পরিমাণের দিক থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে।
- সব মিলিয়ে সোয়া ১৪ কোটি টন পণ্য আমদানি হয়েছে, 
- যা এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টনের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি।

- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ৫০টি শুল্ক স্টেশনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খালাস হওয়া পণ্যের তথ্য পর্যালোচনা করে আমদানির এই চিত্র পাওয়া গেছে।

উৎস: প্রথম আলো [লিংক]

১৭,১৪১.
২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনা তে বাংলাদেশে মোট কয়টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে?
  1. ৪৮টি
  2. ৪৯টি
  3. ৫০টি
  4. ৫১টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২:
- সময়কাল: ১৫-২১ জুন, ২০২২ সাল।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ তে বাংলাদেশে মোট ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কথা বলা হয়েছে।
- জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ মোডিফাইড ডি-ফ্যাক্টো (modified de facto) পদ্ধতি অনুসারে পরিচালনা করা হয়েছে।
- শুমারিতে জিআইএস (Geographic Information System) বেইজড ডিজিটাল ম্যাপ ব্যবহার করে CAPI (Computer Assisted Personal Interviewing) পদ্ধতিতে ট্যাবলেট এর মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করা হয়।
- দেশের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জনসংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯।
- ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নারীর সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৪০৮।
- পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৫১ জন।
- জনশুমারিতে দেশের ৫০টি জাতিসত্তার জনসংখ্যা তুলে ধরা হয়।
- এর মধ্যে চাকমাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি
- সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় অবস্থানে মারমা ও ত্রিপুরা।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে কম সংখ্যায় ভিল জনগোষ্ঠীর।এই জনগোষ্ঠীর মাত্র ৯৫ জন রয়েছে বাংলাদেশে।
- এরপর গুর্খা জনগোষ্ঠী সংখ্যা ১০০ জন বাংলাদেশে বসবাস করছে।
- হো জনগোষ্ঠীর মানুষ আছে ২২৩ জন।
- রাঙামাটিতে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
- ২য় পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি।


উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১৭,১৪২.
সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের কোন ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ?
  1. সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করা
  2. সংসদে উপস্থিতি না থাকা
  3. সরকারের নীতির প্রশংসা করা
  4. ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা
ব্যাখ্যা
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলের ভূমিকা:
• বিকল্প সরকার ও ছায়া মন্ত্রিসভা:
- সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় বিরোধী দল বিকল্প সরকার গঠন করে এবং ছায়া মন্ত্রিসভা হিসেবে কাজ করে।
- কার্যকর বিরোধী দল গণতন্ত্রের স্বরূপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে পার্লামেন্টের ভিতরে ও বাহিরে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।
- যেমন, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বিরোধী দল হল রাজা বা রাণীর 'বিকল্প সরকার'।

• গঠনমূলক সমালোচনা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না। বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।

• অধিকার বাস্তবায়ন: জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।

• গণতন্ত্র রক্ষা: আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ। এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়। শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে। জন স্টুয়ার্ট মিল তাই বলেন, “যেখানে বিরোধী দল নেই, সেখানে গণতন্ত্র নেই”।

• বিকল্প নীতি উত্থাপন: বিরোধী দলের অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে সরকারি নীতিমালাগুলো ভালোভাবে যাচাই বাছাই করা। এক্ষেত্রে যদি কোন নীতিমালা জন বান্ধব মনে না হয়, সেক্ষেত্রে বিরোধী দিল দেশের স্বার্থে উন্নততর বিকল্প নীতি প্রস্তাব করতে পারে। এর মধ্য দিয়ে বিরোধী দল জনগণের নিকট তাদের অবস্থানও স্পষ্ট করতে পারে।

• সমস্যা চিহ্নিত করা: রাষ্ট্রে অনেক ধরনের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক সমস্যা বিদ্যমান থাকে। এ ধরনের সমস্যাগুলো সমগ্র জনগোষ্ঠীর পক্ষে বিরোধীদল সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,১৪৩.
২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার নির্ধারিত 'বয়স্ক ভাতা' জনপ্রতি কত টাকা?
  1. ৫৫০  টাকা
  2. ৬০০ টাকা
  3. ৬৫০ টাকা
  4. ৭০০ টাকা
ব্যাখ্যা

• 'বয়স্ক ভাতা' কর্মসূচি:
- 'বয়স্ক ভাতা' বাংলাদেশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- এটি দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ, দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম বা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক নাগরিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য চালু করা হয়েছে।
- এর মূল লক্ষ্য হলো বয়স্কদের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিবার ও সমাজে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা, চিকিৎসা ও পুষ্টির সুবিধা বাড়ানো এবং মনোবল জোরদার করা।
- দেশের বয়োজ্যেষ্ঠ দুস্থ ও স্বল্প উপার্জনক্ষম অথবা উপার্জনে অক্ষম বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সামাজিক নিরাপত্তা বিধানে ও পরিবার ও সমাজে মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৭-৯৮ অর্থ বছরে 'বয়স্কভাতা' কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।
- প্রাথমিকভাবে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ৫ জন পুরুষ ও ৫ জন মহিলাসহ ১০ জন দরিদ্র বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিকে প্রতিমাসে ১০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়।
- পরবর্তীতে দেশের সকল পৌরসভা ও সিটিকর্পোরেশনকে এ কর্মসূচির আওতাভুক্ত করা হয়।
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপকারভোগী ৬১ লক্ষ জন, জনপ্রতি মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকা এবং বাজেট ৪৭৯১.৩১ কোটি টাকা।
- এটি আগের অর্থবছরের ৬০০ টাকা থেকে বাড়ানো হয়েছে।

তথ্যসূত্র:
i) সমাজসেবা অধিদপ্তর। 
ii) বাসস। 
iii) প্রথম আলো। 

১৭,১৪৪.
দেশে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ‘ইউনিকর্ন’ স্টার্টআপ কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে -
  1. নগদ
  2. বিকাশ
  3. বাংলালিংক
  4. টেলিটক
ব্যাখ্যা
'ইউনিকর্ন' স্টার্টআপ কোম্পানি ২০২৩:

- একটি স্টার্টআপের সামগ্রিক মূল্যমান ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের সমান হলে তাকে ইউনিকর্ন কোম্পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এ ছাড়া কোম্পানির মূল্যমান ১০ বিলিয়ন বা ১ হাজার কোটি ডলার পার হলে তাকে ডেকাকর্ন কোম্পানির মর্যাদা দেওয়া হয়।
- দেশে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে ‘ইউনিকর্ন’ স্টার্টআপ বা ১০ হাজার কোটি টাকার কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদ।
- ২৯ জুলাই ২০২৩ সালে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ সামিট ২০২৩’ অনুষ্ঠানে নগদকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে এ–বিষয়ক সরকারি স্বীকৃতি ‘ফাস্টেস্ট টু ইউনিকর্ন অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেন নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক।
- সরকারের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি ‘স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২৯ জুলাই ২০২৩।
১৭,১৪৫.
নিচের কোনটি বাংলাদেশের নির্বাচিত স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান নয়?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. সিটি কর্পোরেশন
  4. বিভাগীয় পরিষদ
ব্যাখ্যা
- বিভাগীয় পরিষদ বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান নয়।

স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন:
- স্থানীয় সরকার বলতে স্থানীয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত স্বশাসনের অধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে থাকে।
- স্থানীয় সরকারের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কথা বলা হয়, যার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে স্বায়ত্বশাসন।
- সুতরাং স্থানীয় সরকার বলতে মূলত স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকেই বোঝানো হয়।
- বর্তমানে নির্বাচিত স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
শহুরে স্থানীয় সরকার:
- দুই স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে
- সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা।

পল্লী স্থানীয় সরকার:
- তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে
- জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ।

উৎস: i) পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট।
১৭,১৪৬.
রাষ্টপতি পদপ্রার্থীর বয়স কমপক্ষে কত বছর হতে হবে?
  1. ৩০ বছর
  2. ৩৫ বছর
  3. ৩৮ বছর
  4. ৪০ বছর
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:

- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৪৭.
পদ্মা সেতুর আয়ুষ্কাল কত বছর?
  1. ক) ৮০ বছর
  2. খ) ১০০ বছর
  3. গ) ১২০ বছর
  4. ঘ) ১৫০ বছর
ব্যাখ্যা
- পদ্মাসেতু বিশ্বের ১২২তম দীর্ঘতম সেতু।
- বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু চীনের ডানইয়াং-কুশান গ্রান্ড সেতু।
- ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে পদ্মাসেতু দ্বিতীয় দীর্ঘতম। (প্রথম ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতু)
- ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকা, পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চল, বাংলাদেশ ও নেপালের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি গঠিত।
- পদ্মা সেতুর মূল সেতুতে ২ লাখ ৮৯ হাজার টন স্টিলের লাগানো হয়েছে।
- পদ্মা সেতুতে টোল আদায় করা হবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে।
- পদ্মা সেতুর ১ ও ৪২ নম্বর পিলারের সঙ্গে রয়েছে নিচতলা থেকে জরুরি বহির্গমনের দুটি সিঁড়ি।
- পদ্মা সেতু প্রকল্পে বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশের মানুষ সরাসরি যুক্ত ছিল।
- পদ্মা সেতুর আয়ুষ্কাল ১০০ বছর।
- পদ্মা সেতুতে স্থাপিত বাতির সংখ্যা ৪১৫টি।
- পদ্মা সেতু নির্মানে মাথাপিছু খরচ ১৭৮৫ টাকা।

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, জুলাই ২০২২
১৭,১৪৮.
সর্বস্তরে 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' প্রণয়ন করা হয় -
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৮৭ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭:
- ১৯৪৭ সালে ভারত বর্ষ ভাগ হয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর প্রথম আঘাতটাই আসে বাংলা ভাষার ওপর।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনেই স্বাধীনতার বীজ বপন করা হয়েছিল, যা অঙ্কুরিত হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পরিপূর্ণতা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
- স্বাধীনতার পরপর সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রয়োগের জন্য একাধিক পরিপত্র জারি করা হয়।
- সর্বোপরি ১৯৮৭ সালে বাংলা ভাষার প্রচলন আইন সংসদ কর্তৃক পাশ হয়।

⇒ ১৯৮৭ সালের ৮ মার্চ ‘বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭’ প্রণয়ন করা হয়।
- ঐ আইনের ৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারি অফিস-আদালত, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়া অন্য সব ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন-আদালতের সওয়াল-জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগ কার্যাবলি অবশ্যই বাংলায় লিখিত হবে।
- এই ধারা মোতাবেক কোনো কর্মস্থলে যদি কোনো ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় আবেদন বা আপিল করেন তা হলে তা বেআইনি ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হবে।’

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৭,১৪৯.
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন-এর বর্তমান সভাপতি কে? [অক্টোবর, ২০২৫]
  1. আমিনুল ইসলাম বুলবুল
  2. আসিফ আকবর
  3. তাবিথ আউয়াল
  4. কাজী সালাউদ্দিন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন:
- বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বাংলাদেশের ফুটবল খেলার প্রশাসনিক সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭২ সালে।
- ১৯৭৩ সালে এএফসি এবং ১৯৭৬ সালে ফিফার সদস্যপদ লাভ করে।
- বাফুফে সভাপতি: তাবিথ আউয়াল।
- প্রধান কার্যালয়: ঢাকার মতিঝিলে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম-এর কাছে ‘বিএফএফ ভবন’-এ অবস্থিত।

⇒ এই সংস্থাটি বাংলাদেশের পুরুষ, নারী এবং অনূর্ধ্ব-২৩ দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ এবং ফেডারেশন কাপের মতো প্রতিযোগিতার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে।

উৎস: i) বাফুফে ওয়েবসাইট।
ii) FIFA ওয়েবসাইট।

১৭,১৫০.
কান্তজীউ মন্দিরের ভৌগলিক অবস্থান কোন জেলা?
  1. রংপুর
  2. দিনাজপুর
  3. রাজশাহী
  4. নওগাঁ
ব্যাখ্যা

কান্তজীউ মন্দির

- উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জেলা দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার অন্তর্গত সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্তনগর গ্রামে এই মন্দিরের অবস্থান।
- জেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমের নদীটির নাম ঢেঁপা।
- এই নদীর তীরবর্তী শ্যামগড় এলাকার কান্তনগর গ্রামটি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে প্রাচীন কান্তজীউ মন্দিরের জন্য।
- শ্রীকৃষ্ণের নামের এই কান্ত শব্দটি দিয়েই দিনাজপুরের তৎকালীন জমিদার প্রাণনাথ মন্দিরটির নাম রাখেন কান্তজীউ মন্দির।
-  মন্দিরের গোড়াপত্তনের আগে স্থানীয় গ্রামটির নাম ছিলে শ্যামনগর।
- মন্দির প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্রামের নাম বদলে রাখা হয় কান্তনগর।

- শ্রীকৃষ্ণের যুদ্ধ-বিগ্রহ অধিষ্ঠানকে চির স্মরণীয় করে রাখতে জমিদার প্রাণনাথ রায় ১৭০৪ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করেন। পোড়ামাটির অলঙ্করণ সমৃদ্ধ এ মন্দিরটি উৎসর্গ করা হয় শ্রীকৃষ্ণ ও তার স্ত্রী রুক্মিণীর প্রতি।

 - মন্দিরের কাজ অসমাপ্ত রেখেই মারা যান প্রাণনাথ। পরে তার পালক পুত্র রামনাথ রায় ১৭৫২ সালে সফলভাবে মন্দির নির্মাণের বাকি কাজ সম্পন্ন করেন। সব মিলিয়ে পুরো নির্মাণ কাজে সময় লেগেছিলো প্রায় ৪৮ বছর।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং দ্যা ডেইলি স্টার।

১৭,১৫১.
বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে কবে গৃহীত হয়?
  1. ১০ এপ্রিল
  2. ১৭ এপ্রিল
  3. ৪ নভেম্বর
  4. ১৬ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয় ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল।
- এই কমিটি লক্ষ্য ছিল সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন।
- একইদিনে পরিষদের সামনে সকল প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী ড. কামাল হোসেন।
- ১৯৭২ সালের ১৭ এপ্রিল খসড়া কমিটির প্রথম অধিবেশন বসে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়  ৪ নভেম্বর ১৯৭২ সালে ।
- গণপরিষদ সদস্যরা সংবিধানে স্বাক্ষর করেন ১৫ ডিসেম্বর।
- সংবিধান প্রণয়ন কমিটির একমাত্র বিরোধীদলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত । তিনি এতে স্বাক্ষর করেননি।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।

 উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৫২.
বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) ঈশ্বরদী, পাবনা
  2. খ) নশিপুর, দিনাজপুর
  3. গ) শিবগঞ্জ, বগুড়া
  4. ঘ) সাভার, ঢাকা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট দিনাজপুর জেলার নশিপুরে অবস্থিত। এটি ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর পূর্বে এটি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধীনে একটি গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হয়।
- বর্তমানে এটির অধীনে ৫টি আঞ্চলিক কেন্দ্র ও ২টি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট)
১৭,১৫৩.
কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি সবচাইতে বেশি?
  1. ভারত
  2. জাপান
  3. যুুক্তরাজ্য
  4. চীন
ব্যাখ্যা
বাণিজ্যে:
- টাকার অঙ্কে বাংলাদেশ সর্বাধিক পণ্য আমদানি করে চীন থেকে (১৬,১৩৯ মিলিয়ন ডলার)। যা মোট আমদানি বাণিজ্যের প্রায় ২৭.৪৬ শতাংশ। 
- চীনের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত (১০,০২৬ মিলিয়ন ডলার), যা মোট আমদানি বাণিজ্যের প্রায় ১৭.৬ শতাংশ। 
- বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক ঘাটতি সবচেয়ে বেশি চীনের এবং দ্বিতীয় ভারত।  
- বাংলাদেশ জাপান থেকে ২,৩৮৬ মিলিয়ন ডলার আমদানি করে যা মোট আমদানি বাণিজ্যের প্রায় ৪.০৬% শতাংশ। ।

অন্যদিকে, 
• দেশ হিসেবে/একক দেশ হিসেবে/রপ্তানি বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় অংশীদার দেশ - যুক্তরাষ্ট্র।
• যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্যিক উদ্ধৃত্ত রয়েছে/বাণিজ্য ঘাটতি নেই।
• যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য উদ্ধৃত্ত রয়েছে। 

উৎস: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।
১৭,১৫৪.
কোন রাজা স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন? 
  1. রামপাল
  2. শশাঙ্ক
  3. ধর্মপাল 
  4. লক্ষণ সেন 
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:

• শশাঙ্ক ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
• তিনি স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন।
• এর রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। 
• সপ্তম শতকের শুরুতে তিনি রাজ্য গড়ে তোলেন।
• উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন হর্ষবর্ধন। 
• তিনি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উন্নয়নের উদ্যোগ নেন। 
• তাঁর আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।
• তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় একশ বছর গৌড়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় যা 'মাৎস্যন্যায়' নামে পরিচিত।  
• ধর্মপাল: পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ  রাজা। 
• রামপাল: পাল বংশের সর্বশেষ সফল শাসক।
• লক্ষণসেন: সেন বংশের সর্বশেষ রাজা। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।  
১৭,১৫৫.
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ছিল কোন শাসনব্যবস্থার পরিণতি?
  1. মারাঠা শাসন
  2. নবাবি শাসন
  3. দ্বৈত শাসন
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
- দ্বৈত শাসনের সময় প্রশাসনিক অদক্ষতা ও লোভ দুর্ভিক্ষকে বাড়িয়ে তোলে।

• 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর:
- দিউয়ানি ও দ্বৈত শাসনের চূড়ান্ত পরিণাম ছিল বাংলায় 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের' ধ্বংসলীলা।
- একদিকে দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অন্যদিকে অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়।
- পরপর দু'বছর অনাবৃষ্টি ও খরার ফলে ১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় এক প্রচণ্ড দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়।
- টাকায় একমণ হতে চাউলের মূল্য বাড়তে বাড়তে টাকায় তিন সেরে এসে দাঁড়ালো।
- খোলাবাজারের খাদ্যশস্য বেশি লাভের আশায় কোম্পানির কর্মচারীরা মজুদ করা শুরু করে।
- খাদ্যের অভাবে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছিল।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,১৫৬.
তথ্য কমিশনার নিয়োগ দেন কে?
  1. স্পিকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা
নতুন তথ্য কমিশনার:
- শহীদুল আলম ঝিনুক তথ্য কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন।
- তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর ১৫(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ প্রদান করেন।
- সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি সাবেক তথ্য কমিশনার সুরাইয়া বেগমের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
- বিধি অনুযায়ী তথ্য কমিশনার পদে নিযুক্তির মেয়াদ পাঁচ বছর অথবা নিযুক্তের বয়স ৬৭টি বছর পূর্ণ হওয়ার মধ্যে যেটি আগে হয়।  
- নতুন তথ্য কমিশনার শহীদুল আলম ঝিনুক দশম বিসিএস কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১ সালে বিচার বিভাগে যোগ দেন।

উৎস: ২৪ আগস্ট ২০২৩, সমকাল।
১৭,১৫৭.
ঢাকার শেষ নবাব ছিলেন -
  1. খাজা আতিকুল্লাহ বাহাদুর
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন বাহাদুর
  3. খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর
  4. খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
ব্যাখ্যা

নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর:
- তিনি ২৬এপ্রিল, ১৮৯৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ঢাকার পঞ্চম এবং শেষ নবাব।
- তাঁর পিতা ছিলেন নবাব স্যার খাজা সলিমুল্লাহ বাহাদুর।
- নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুরের শাসনামলেই ঢাকার নবাবপরিবারের সম্পদ ও জৌলুশ কমতে থাকে।
- ১৯৫২ সালে ইস্ট পাকিস্তান এস্টেটঅ্যাকিউজিশন অ্যাক্ট দ্বারা যা চূড়ান্তভাবে বর্জন করতে হয়।
- ২১শে নভেম্বর ১৯৫৮ তারিখে নবাব হাবিবুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিভাগ ওয়েবসাইট।

১৭,১৫৮.
কোনটি প্রত্যক্ষ কর নয়?
  1. ভ্রমণ কর
  2. ভূমি উন্নয়ন কর
  3. মূল্য সংযোজন কর
  4. দানকর
ব্যাখ্যা
- মূল্য সংযোজন কর প্রত্যক্ষ কর নয়। 

পরোক্ষ কর:
- যেসব করের বোঝা সরাসরি ব্যক্তিকে বহন করতে হয় না তাদের পরোক্ষ কর বলা হয়।

পরোক্ষ করের মধ্যে রয়েছে:
- সম্পূরক শুল্ক,
- মূল্য সংযোজন কর (মূসক),
- আমদানি শুল্ক,
- আবগারি শুল্ক প্রভৃতি।

প্রত্যক্ষ কর:
- প্রত্যক্ষ কর হলো এরূপ কর যার বোঝা সরাসরি ব্যক্তিকে বহন করতে হয়।

প্রত্যক্ষ করসমূহ হলো:
দানকর,
- ভূমি উন্নয়ন কর,
- আয়কর,
- ভ্রমণ কর ইত্যাদি।

সূত্র: কর ব্যবস্থা ও নিরীক্ষা শাস্ত্র, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,১৫৯.
দেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন জাতীয় সংসদ কোনটি?
  1. ক) তৃতীয় সংসদ
  2. খ) চতুর্থ সংসদ
  3. গ) পঞ্চম সংসদ
  4. ঘ) ষষ্ঠ সংসদ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বল্পকালীন সংসদ হলো ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ। ১৯৯৬ সালের ১৯ মার্চ থেকে ৩০শে মার্চ পর্যন্ত এই সংসদের মেয়াদ ছিলো মাত্র ১২ দিন।
- এই সংসদে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী পাশ হয়।
- সপ্তম সংসদ হলো দেশের প্রথম পূর্ণমেয়াদকালীন সংসদ।
- প্রথম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে কোন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলো না।
- চতুর্থ সংসদে নারীদের জন্যে সংরক্ষিত কোন আসন ছিলো না।
- বর্তমান সংসদ দেশের ১১তম সংসদ।
(তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
১৭,১৬০.
'ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ' প্রতিষ্ঠা হয় কোন শাসকের আমলে?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. ওয়ারেন হেস্টিংস
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
• লর্ড ওয়েলেসলি ভারতবর্ষে নবাগত ইংরেজ কর্মচারিদের শিক্ষার জন্য কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে একটি কলেজ স্থাপন করেন।

• লর্ড ওয়েলেসলি:

- ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসলি কোম্পানির গভর্নর হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করেন।
- অধীনতামূলক মিত্রতানীতি প্রবর্তন করেন লর্ড ওয়েলেসলি।
- এই নীতি অনুযায়ী ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণবর্হিভূত দেশীয় রাজ্যগুলোকে ব্রিটিশদের অধীনে ও নিরাপত্তায় থেকে রাজ্য শাসনে অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা প্রদান করা হতো। 
- টিপু সুলতান এই নীতিগ্রহণে অস্বীকার করলে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধে তিনি ব্রিটিশদের নিকট পরাজিত ও নিহত হন। 
- তিনি ইংরেজ অধিকৃত স্থানে জমি জরিপ করার জন্য ড. ফ্রান্সিস বুকাননকে নিযুক্ত করেন।
- তিনি এদেশের কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।  

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৬১.
‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে -
  1. ক) গণতান্ত্রিক যুবলীগ
  2. খ) তমদ্দুন মজলিশ
  3. গ) মুসলিম লীগ
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক সংসদ 
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন:
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ‘তমদ্দুন মজলিস’ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে।
- তমদ্দুন মজলিস সভা-সমিতি ও লেখনীর মাধ্যমে বাংলা ভাষার পক্ষে জনমত গড়ে তোলে।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নূরুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে তমদ্দুন মজলিস ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে
- ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করে - গণতান্ত্রিক যুবলীগ।
-  ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন
করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,১৬২.
'মতি মসজিদ' কোন মুঘল সম্রাটের সময়ের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি?
  1. সম্রাট শাহজাহান
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট বাবর
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
সম্রাট শাহজাহান:
- ১৬২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ ফেব্রুয়ারি 'আবুল মুজাফফর শিহাব উদ্দিন মুহাম্মদ শাহজাহান বাদশাহ গাজী' উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন।
- তাঁর ত্রিশ বছরের রাজত্বকালে মোগল সাম্রাজ্য গৌরবের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করেছিল।
- সমরকুশলী হিসেবে সম্রাট শাহজাহান দক্ষতার পরিচয় দেন।
- মোগল আধিপত্য বিস্তারেও তিনি বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেন।
- তাঁর আমলে আহমদনগর, বিজাপুর, গোলকুণ্ডায় মোগল আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তিনি পর্তুগিজদের দমন করে হুগলী দখল করেন।
- সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে সর্বপ্রথম পশ্চিম এশিয়ার এবং ইউরোপের সাথে ভারতবর্ষের বহির্বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
- সম্রাট শাহজাহান ছিলেন সৌন্দর্য পিপাসু শিল্পমনা মানুষ।
- The Prince of Builder নামে খ্যাত সম্রাট শাহজাহানের আমলে মোগল শিল্প ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়।
- সম্রাটের স্ত্রী মমতাজ মহলের সমাধির উপর নির্মিত স্মৃতিসৌধ তাজমহল বিশ্বের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম একটি নিদর্শন।
- তাজমহলকে ঐতিহাসিক হ্যাভেল ভারতের 'ভেনাস দ্যা মিলো' নামে আখ্যায়িত করেছেন।
- এছাড়া মতি মসজিদ, দিওয়ান-ই-আম, দিওয়ান-ই-খাস, জামে মসজিদ তাঁর আমলের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম কীর্তি।
- শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন তাঁর শিল্পানুরাগের এক অপূর্ব নিদর্শন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,১৬৩.
জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয় কত তারিখে?
  1. ক) ৩ অক্টোবর
  2. খ) ৬ অক্টোবর
  3. গ) ৯ অক্টোবর
  4. ঘ) ১২ অক্টোবর
ব্যাখ্যা
জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয় ৯ অক্টোবর।

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, নভেম্বর ২০২২
১৭,১৬৪.
অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয় কবে?
  1. ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে
  2. ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে
  3. ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে
  4. ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে
ব্যাখ্যা
 অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা: 
- বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রদানে বদ্ধপরিকর।
- ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন ২০০১ প্রণয়ন করা হয়। এ আইন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংরক্ষণে অনন্য দলিল।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫, ১৭, ২০ এবং ২৯ অনুচ্ছেদে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমসুযোগ ও অধিকার প্রদান করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ দায়-দায়িত্বের অংশ হিসেবে ২০০৫-০৬ অর্থ বছর হতে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।
- শুরুতে ১,০৪,১৬৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ২০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়। 

২০২৩-২৪ বাজেটে, 
- প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩.৬৫ লক্ষ হতে ২৯ লক্ষ জনে বৃদ্ধি করা হয়। 
- প্রতিবন্ধী ডাটাবেজ এর আওতাভুক্ত সকলকে এ ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।
- প্রতিবন্ধী ছাত্র/ছাত্রীদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৭৫০ টাকা হতে ৯০০ টাকায়, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা হতে ৯৫০ টাকায় এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৯০০ টাকা হতে ৯৫০ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে;

উৎস: জাতীয় বাজেট ২০২৩-২৪।
১৭,১৬৫.
পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি কে ছিলেন?
  1. এম. এ. জি. ওসমানী
  2. এ. কে. খন্দকার
  3. জিয়াউর রহমান
  4. কাদের সিদ্দিকী
ব্যাখ্যা

পাকিস্তানের আত্মসমর্পণ:
- ১৯৭১ সালের ৬ থেকে ১৬ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডার প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭,১৬৬.
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিযুক্ত হন-
  1. ক) তামিম ইকবাল
  2. খ) মাহমুদুল্লাহ
  3. গ) জয়া আহসান
  4. ঘ) তাহসান খান
ব্যাখ্যা
এক বছরের জন্য জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) শুভেচ্ছা দূত হিসেবে নিযুক্ত হন অভিনেত্রী জয়া আহসান।
১৭,১৬৭.
বাংলাদেশের মহিলাদের জন্য করমুক্ত বাৎসরিক ব্যক্তিগত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা কত?
  1. ক) ৩,০০,০০০/- টাকা
  2. খ) ৩,৫০,০০০/- টাকা
  3. গ) ৪,০০,০০০/- টাকা
  4. ঘ) ৪,৭৫,০০০/- টাকা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা:
- সরকার কর্তৃক ঘোষিত আয় যা অতিক্রম করলে আয়কর প্রদানের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন।
- মহিলা এবং ৬৫ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের ব্যক্তিদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৪,০০,০০০/- টাকা।

উৎস: ২০২৩-২৪ জাতীয় বাজেট।

১৭,১৬৮.
বাংলাদেশের সংবিধান সর্বশেষ সংশোধন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১৫ সালে
  2. ২০১৬ সালে
  3. ২০১৭ সালে
  4. ২০১৮ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন:
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।
- ১৯৭২ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১৭ বার বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধিত হয়েছে।
- ১৯৭৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্যে প্রথম সংশোধনী গৃহীত হয়।
- সর্বশেষ ২০১৮ সালে সংবিধানের ১৭তম সংশোধনী গৃহিত হয়।
- সপ্তদশ সংশোধনীর বিষয়বস্তু ছিল সংবিধানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্যদের মেয়াদ বৃদ্ধি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১৭,১৬৯.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কবে শপথ গ্রহণ করে?
  1. ১ এপ্রিল, ১৯৫৪
  2. ২ এপ্রিল, ১৯৫৪
  3. ৩ এপ্রিল, ১৯৫৪
  4. ৪ এপ্রিল, ১৯৫৪
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকার:
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসসিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আর মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে। বাকি আসন অন্যরা পায়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক সরকার গঠনের রায় লাভ করে।
- জনগণই যে 'সকল ক্ষমতার উৎস'-এই নির্বাচন তা প্রমাণ করে।
- জনগণ এ নির্বাচনে মুসলিম লীগকে প্রত্যাখ্যান করে এবং পূর্ববাংলায় এর শাসনের অবসান ঘটায়।

⇒ ১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলি কাগজের কলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
- উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের ইন্ধনে ঐ দাঙ্গা হয়েছিল। শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দি করা হয়। বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মাধ্যমে পূর্ববাংলার প্রতি পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠীর চরম বৈরী মনোভাব প্রকাশ পায়। পূর্ববাংলায় পাকিস্তানের অরাজক শাসন পর্ব শুরু হয়। কেন্দ্র এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন হতে থাকে। দেশ সামরিক শাসনের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৭,১৭০.
'রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’ মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়-
  1. ১৯৬৯ সালের ২২ জুন
  2. ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন
  3. ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি
  4. ১৯৬৮ সালের ১৯ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাঃ
১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আইয়ুব খানের সরকার রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে। সরকারি নথিতে এই মামলার নাম ছিলো ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’।
-এ মামলায় বঙ্গবন্ধুসহ অভিযুক্ত ছিলেন ৩৫ জন।
-ঢাকা সেনানিবাসে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার কার্য শুরু হয় ১৯৬৮ সালের ১৯শে জুন।
- গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৭১.
বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু নিচের কোনটি?
  1. বিচার বিভাগ
  2. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  3. নির্বাহী বিভাগ
  4. আইনসভা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১৭,১৭২.
আইয়ুব খানের সামরিক শাসন কত বছর স্থায়ী হয়েছিল?
  1. প্রায় ৫ বছর
  2. প্রায় ৭ বছর
  3. প্রায় ১০ বছর
  4. প্রায় ১২ বছর
ব্যাখ্যা
সামরিক শাসন:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আইয়ুব খানের যোগসাজশে নির্বাচিত সংসদীয় সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- কিন্তু উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান এতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

⇒ আইয়ুব খান:
- আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা পাকাপাকি করার জন্য ১৩ জন জেনারেলকে বরখাস্ত করেন এবং নিজেকে ভূষিত করেন ফিল্ড মার্শাল উপাধিতে।
- তা ছাড়া রাজধানী করাচি থেকে প্রথমে স্থানাস্তর করেন রাওয়ালপিন্ডিতে, পরে ইসলামাবাদে।
- আইয়ুব খান অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নতুন শিল্প–কলকারখানা নির্মাণ, সড়ক নির্মাণ, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
- তাঁর শাসনকালকে অখণ্ড পাকিস্তানের সবচেয়ে সফল দশক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থায় শাসনকাঠামোকে পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছিল।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীর আস্থা ভোটে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- ১৯৬৯ সালে গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আইয়ুব খানের পতন হয় এবং তাঁর পতনের মধ্য দিয়ে মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থার অবসান ঘটে।

⇒ ১৯৫৮-১৯৬৯ প্রায় ১০ বছর আইয়ুব খানের সামরিক শাসন স্থায়ী হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
১৭,১৭৩.
অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা অনুয়ায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্বে ছিলেন কে?
  1. আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী
  2. রাও ফরমান আলী
  3. খাদিম হোসেন রাজা
  4. টিক্কা খান
ব্যাখ্যা

অপারেশন সার্চলাইটের পরিকল্পনা:
- পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যামূলক অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন সার্চ লাইট’।
- পাকিস্তান বাহিনীর ১৪ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা এবং ৫৭ ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী খান ১৯৭১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অপারেশন সার্চলাইট নামে একটি সামরিক অভিযানের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছেন।
- ১৭ মার্চ চীফ অব স্টাফ জেনারেল আবদুল হামিদ খানের নির্দেশে জেনারেল রাজা পরদিন ঢাকা সেনানিবাসে জিওসি অফিসে অপারেশন সার্চলাইট পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন।
- এই অপারেশন সার্চ লাইট অনুযায়ী ঢাকা শহরের গণহত্যার মূল দায়িত্ব দেওয়া হয় জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।
- ঢাকার বাহিরে এ অপারেশনের দায়িত্ব পান জেনারেল খাদিম হোসেন রাজা।
- এ পরিকল্পনার সার্বিক তত্ত্বাবধান অর্থাৎ মূল দায়িত্বে ছিলেন জেনারেল টিক্কা খান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বিবিসি।

১৭,১৭৪.
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের পুরাতন নাম কী?
  1. গোল্ডেন হক
  2. মুক্তা মনি
  3. হিমালয়
  4. বিজয় কেতন
ব্যাখ্যা
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ
- কবির গ্রুপের এস আর শিপিংয়ের মালিকানাধীন মোট ২৪টি জাহাজের মধ্যে সর্বশেষ যুক্ত হয় জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ।
- ২০১৬ সালে তৈরি এই বাল্ক ক্যারিয়ারটির দৈর্ঘ্য ১৮৯ দশমিক ৯৩ মিটার
- এবং প্রস্থ ৩২ দশমিক ২৬ মিটার।ড্রাফট ১১ মিটারের কিছু বেশি।
- গত বছর জাহাজটি এসআর শিপিং কিনে নেওয়ার আগে এটির নাম ছিল গোল্ডেন হক।
- মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন নাম হয় এমভি আবদুল্লাহ।]

সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন। 
 
১৭,১৭৫.
বাংলাদেশে ‘হোয়াইট গোল্ড’ নামে পরিচিত কোনটি?
  1. ক) ইলিশ
  2. খ) চিংড়ি
  3. গ) কাঁকড়া
  4. ঘ) তেলাপিয়া
ব্যাখ্যা
রপ্তানির মাধ্যমে অধিক পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করায় বাংলাদেশে চিংড়িকে হোয়াইট গোল্ড নামে অভিহিত করা হয়। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় সবচেয়ে বেশি চিংড়ি চায় হয়। এ অঞ্চলটিকে বাংলাদেশের কুয়েতসিটি বলা হয়।
(সূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০১৯)
১৭,১৭৬.
২০২১ সালে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষ পালিত হয়?
  1. ক) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  2. খ) ভিক্টোরিয়া কলেজ
  3. গ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. ঘ) ঢাকা কলেজ
ব্যাখ্যা

- ১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
- বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ব বাংলার অসন্তুষ্ট মুসলমানদের দাবীর প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯১২ সালের ২৭ মে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট নাথান কমিশন গঠিত হয়।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন স্যার পি জে হার্টগ।
- ২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পালিত হচ্ছে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)

১৭,১৭৭.
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা কতজন?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ৫ জন
  4. ৬ জন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলা হয়ে থাকে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
- একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে কাজ করবেন।
- সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কোন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা (এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অর্ন্তভুক্ত) এবং আনুষাঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন।
- দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন।
- নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রদান করেন।

⇒ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। 
- বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দীন।
- অন্য চার নির্বাচন কমিশনার হলেন অতিরিক্ত সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, জেলা ও দায়রা জজ (অবসরপ্রাপ্ত) আবদুর রহমানেল মাসুদ, যুগ্ম সচিব (অবসরপ্রাপ্ত) বেগম তহমিদা আহমদ এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান।
১৭,১৭৮.
বরিশাল এর প্রাচীন নাম কি?
  1. ক) নদীয়া
  2. খ) চন্দ্রদ্বীপ
  3. গ) শাহবাজপুর
  4. ঘ) হরিকেল
ব্যাখ্যা
বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল। এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
[সূত্র- বোর্ড বইঃ নবম-দশম শ্রেণি(বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
১৭,১৭৯.
মুজিব নগর সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. গ) তাজউদ্দিন আহমদ
  4. ঘ) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
সুত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণী।
১৭,১৮০.
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটির আহবায়ক ছিলেন কে?
  1. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. তাজউদ্দীন আহমেদ
  3. মোজাফফর আহমদ
  4. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,১৮১.
বেঙ্গল প্যাক্টের মূল উদ্দেশ্য কি ছিল?
  1. ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন
  2. অর্থনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করা
  3. হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের ঐক্য 
  4. ভারতের স্বাধীনতা 
ব্যাখ্যা

বেঙ্গল প্যাক্ট:
- ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩) একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও উদার মনের রাজনীতিবিদ।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত ও স্বাধীন করতে হলে হিন্দু-মুসলমান ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অপরিহার্য।
- এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি স্যার আব্দুর রহিম, স্যার আব্দুল করিম, মাওলানা আকরাম খান, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মৌলভী মজিবর রহমান প্রমুখ মুসলমান নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
- এর ফলশ্রুতিতে ১৯২৩ সালে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা বেঙ্গল প্যাক্ট নামে পরিচিত।

- চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল-
- হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা;
- এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া অংশকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সমানভাবে উন্নয়নের পথ সুগম করা।
- এই চুক্তি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১৭,১৮২.
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রথম কবে প্রদান শুরু হয়?
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৬০ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের সমসাময়িক জীবিত লেখকদের সামগ্রিক মৌলিক অবদান চিহ্নিত করে তাঁদের সৃজনী প্রতিভাকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি করাই বাংলা একাডেমির সাহিত্য পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্য।
- প্রতি বছর মাসব্যাপী আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার প্রাপ্তদের পুস্কারের অর্থমূল্যের চেক, সম্মাননা পত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৫৫ সালে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা ও প্রকাশনার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু হয় একাডেমির।
- ১৯৬০ সাল থেকে প্রবর্তন করা হয় বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার।
-২০২৫ সালে ৭ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৪' প্রদান করা হয়।

সূত্র: সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো।
১৭,১৮৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় 'মুজিবনগর' কোন সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ক) ২ নং
  2. খ) ৮ নং
  3. গ) ১০ নং
  4. ঘ) ১১ নং
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে-১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।মুজিব নগর ছিলো ৮ নং সেক্টরের অন্তর্গত।
Source:dhakadiv.gov.bd
১৭,১৮৪.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের পক্ষে রাশিয়া কয়বার ভেটো দেয়?
  1. ১ বার
  2. ২ বার
  3. ৩ বার
  4. ৪ বার
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অবদান:
- ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে পাকিস্তানের পক্ষে মোট তিনবার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে।
- তবে তিনবারই সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় সেই প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করে, এর ফলে পাকিস্তানপন্থী প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

উল্লেখ্য,
- একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ প্রয়োগের উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে তাদের সপ্তম নৌবহর প্রেরণ করে। এই পদক্ষেপের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারত মহাসাগরে তাদের নৌবহর মোতায়েন করে এবং সপ্তম নৌবহরের পিছু নেয়। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়লেও শেষ পর্যন্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের কৌশলগত সহায়তা বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ৯ম-১০ম শেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,১৮৫.
বাংলাদেশে বর্তমানে কয়স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান রয়েছে?
  1. ২ স্তর
  2. ৩ স্তর
  3. ৪ স্তর
  4. ৫ স্তর
ব্যাখ্যা
স্থানীয় সরকার:
- স্থানীয় সরকার হলো রাষ্ট্রের ভৌগলিক অবস্থানের ভিত্তিতে বিভক্ত করা ক্ষুদ্রতর শাসন কাঠামো।
- এটি হল কেন্দ্রীয় সরকারের বর্ধিত ও সহায়ক অংশ।
- স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পরিচালিত হয়।
- স্থানীয় প্রশাসন কেন্দ্রিয় সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করে।

⇒ বাংলাদেশে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এ স্তরগুলো হল: জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, এবং ইউনিয়ন পরিষদ।

উলেখ্য, 
• শহরে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
• পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
• গ্রাম বা এর নিকটবর্তী হল ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ।
• ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বশেষ ও কার্যকরী স্তর বলে বিবেচিত।

উৎস: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৭,১৮৬.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হন কে?
  1. সৈয়দ আজিজুল হক
  2. মওলানা ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী 
  4. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

মন্ত্রিসভা গঠন
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত ছিলেন।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন। 
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। 
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই মন্ত্রিসভা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বর্ধমান হাউজকে বাংলা একাডেমি করার প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করেন। কেন্দ্রীয় সরকার এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭,১৮৭.
বাংলাদেশের মেয়েদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেন কে? (জুলাই-২০২৫)
  1. ফারজানা হক
  2. আবিদা সুলতানা
  3. নিগার সুলতানা
  4. রিতু মনি
ব্যাখ্যা
• মেয়েদের ওয়ানডে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন নিগার সুলতানা।
- লাহোরে  বিশ্বকাপ বাছাইয়ে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে  ৭৮ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।
- নিগারের ৮০ বলে ১০১ রানের ইনিংস করেন।
- সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন মাঠে  পাওয়া সেঞ্চুরিটি এই সংস্করণে নিগারের প্রথম ও বাংলাদেশের তৃতীয়।
- আগের দুটি সেঞ্চুরিই ফারজানা হকের।
-  ২০২৩ সালে মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে ১৫৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ফারজানা হক, সেটিই এত দিন মেয়েদের ওয়ানডে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরি ছিল।
- তাঁকে পেছনে ফেলে আজ মেয়েদের ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন নিগার।

উৎস: প্রথম আলো লিংক।
১৭,১৮৮.
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির কোন পেনশন স্কিমটি দরিদ্র সীমার নিচে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য প্রযোজ্য?
  1. সুরক্ষা
  2. প্রগতি
  3. সমতা
  4. প্রবাস
ব্যাখ্যা
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি:
- ১৮ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো নাগরিক ৬০ বছর বয়সে না পৌঁছানো পর্যন্ত কিস্তি পরিশোধ করে অবসর জীবনের সময় পেনশন সুবিধা পেতে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
- ১৭ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- পেনশন কর্মসূচি চালুর আগে পাঁচটি সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) হয় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের।
- এগুলো হচ্ছে নির্বাচন কমিশন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, সোনালী ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড।
- চার শ্রেণির ব্যক্তিদের নিয়ে চারটি পেনশন কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

৪টি স্কিম:
• প্রবাস: 
- এটি শুধু বিদেশে কর্মরত বা অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য।
- এর মাসিক চাঁদার হার ধরা হয়েছে ৫ হাজার, সাড়ে ৭ হাজার ও ১০ হাজার টাকা করে।

• প্রগতি:
- এই স্কিম বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য।

• সুরক্ষা:
- এই স্কিমটা স্বনির্ভর ব্যক্তির জন্য।
- অর্থাৎ কেউ কোথাও চাকরি করছেন না কিন্তু নিজে উপার্জন করতে পারেন, তারা সুরক্ষা স্কিমে অংশ নিতে পারবেন।
- এর আওতায় পড়েন ফ্রিল্যান্সার, কৃষক, শ্রমিক ইত্যাদি পেশার লোকজন।

• সমতা:
- এই স্কিমে চাঁদার হার একটিই: এক হাজার টাকা।
- তবে এক্ষেত্রে প্রতিমাসে ব্যক্তি দেবে পাঁচশ টাকা আর বাকি পাঁচশো দেবে সরকার।
- মূলত দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এই স্কিম।
- স্কিম ভেদে সর্বনিম্ন মাসিক চাঁদা ১ হাজার টাকা, সর্বোচ্চ চাঁদা ১০ হাজার টাকা।
- সমতা স্কিমে ১ হাজার টাকার মধ্যে চাঁদাদাতা ৫০০ টাকা প্রদান করবেন এবং সরকার থেকে ৫০০ টাকা ভর্তুকি দেয়া হবে। 

উৎস: সর্বজনীন পেনশন কর্তৃপক্ষ।
১৭,১৮৯.
ECNEC-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Economic Committee of National Economy
  2. Executive Committee of the National Economic Council
  3. Economic Council of National Executive
  4. Executive Council of National Economy 
ব্যাখ্যা

ECNEC:
- ECNEC-এর পূর্ণরূপ হলো- Executive Committee of the National Economic Council.
- বাংলায় এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি হিসেবে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের একটি প্রধান সরকারি সংস্থা।
- সংস্থাটি দেশের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের দায়িত্বে কাজ করে।
- একনেকের সভাপতি সাধারণত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এবং তার অনুপস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। 
- এই কমিটি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। 
- সংস্থাটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তত্ত্বাবধান ও নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

- একনেক মূলত এমন প্রকল্প যাচাই ও অনুমোদন করে যেগুলোর বাজেট বড়—
• সরকারি ক্ষেত্রে পাঁচ কোটি টাকার বেশি;
• এবং বেসরকারি ক্ষেত্রে পনের কোটি টাকার বেশি।

- এছাড়া এটি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে;
- বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগ যাচাই করে;
- এবং দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালার পর্যালোচনা ও প্রয়োগ নিশ্চিত করে।

- একনেককে কখনও কখনও ‘অর্থনৈতিক মিনি-ক্যাবিনেট’ বলা হয়।
- কারণ এটি দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন নিশ্চিত করে।
- দেশের বড় ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এবং বেসরকারি প্রকল্পের অনুমোদনে একনেকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৭,১৯০.
বাংলাদেশের সংবিধানে কোন ধরণের মালিকানার উল্লেখ নেই?
  1. রাষ্ট্রীয় মালিকানা
  2. যৌথ মালিকানা
  3. সমবায়ী মালিকানা
  4. ব্যক্তিগত মালিকানা
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধানে যৌথ মালিকানার উল্লেখ নেই।

মালিকানা নীতি:
- বাংলাদেশ সংবিধানের একটা উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে, এখানে তিন ধরনের মালিকানা নীতি স্বীকার করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে-
১. রাষ্ট্রীয় মালিকানা,
২. সমবায় মালিকানা এবং,
৩. ব্যক্তিগত মালিকানা।

⇒ সংবিধানের অনুচ্ছেদ-১৩:
- মালিকানার নীতি- “উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা;
(খ) সমবায়ী মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে সমবায়সমূহের সদস্যদের পক্ষে সমবায়সমূহের মালিকানা; এবং
(গ) ব্যক্তিগত মালিকানা, অর্থাৎ আইনের দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ব্যক্তির মালিকানা৷”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭,১৯১.
সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর?
  1. ক) ৪৮(১) অনুচ্ছেদ
  2. খ) ৪৯ অনুচ্ছেদ
  3. গ) ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ
  4. ঘ) ৫০ অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নূন্যতম বয়স ২৫ বছর।
- সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার ন্যূনতম বয়স ৩৫ বছর।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১২২(২) খ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যক্তির ভোটাধিকার প্রাপ্তির নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
- সংবিধানের ১২২(১) অনুচ্ছেদে বলা আছে 'প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকার- এই নীতির ভিত্তিতে সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।'
- তাই ভোটার হওয়ার নূন্যতম বয়স ১৮ বছর।
- রাষ্ট্রপতি হওয়ার নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।

উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১৭,১৯২.
মুক্তিযুদ্ধকালীন 'বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল' কত নং সেক্টরে অবস্থিত ছিল?
  1. ১ নং
  2. ২ নং
  3. ৪ নং
  4. ৯ নং
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল:
- মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসায় গড়ে উঠেছিল ফিল্ড হাসপাতাল।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় 'বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল' ২ নং সেক্টরে অবস্থিত ছিল।
- বাংলাদেশ হাসপাতাল নামে পরিচিত ওই চিকিৎসাকেন্দ্র।

উল্লেখ্য,
- মুক্তিযুদ্ধের সময় ১১টি সেক্টরের প্রতিটির হেডকোয়ার্টারের সঙ্গেই একটি করে মেডিকেল ইউনিট ছিল। ২ নম্বর সেক্টর বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ঢাকা শহর ও ফরিদপুর জেলার পূর্বাংশ নিয়ে বিস্তৃত ছিল। ২ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল ভারতের আগরতলায়, প্রথমে মতিনগরে, পরে মেলাঘরে। এর নেতৃত্বে ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ। ঢাকায় গেরিলাযুদ্ধের পরিকল্পনা এবং পরিচালনা মূলত এই সেক্টর থেকেই করা হয়েছিল।

- মুক্তিযুদ্ধের সময় আহতদের জটিল ও সমন্বিত চিকিৎসাগুলো দেওয়া হতো মূলত ভারতীয় কোনো হাসপাতালে, তবে স্বতন্ত্রভাবে সম্পূর্ণ বাংলাদেশি জনবলে ও অর্থায়নে পরিচালিত ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’ নামে পরিচিত এই চিকিৎসাকেন্দ্র মুক্তিযুদ্ধের মেডিকেল যুদ্ধের আইকনে পরিণত হয়। বাংলাদেশ হাসপাতালের নেপথ্যের কারিগর হিসেবে যে কয়েকজন চিকিৎসকের নাম বিশেষভাবে জড়িত, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডা. এম এ মোবিন, প্রয়াত ডা. আখতার আহমেদ, ডা. নাজিমুদ্দীন আহমেদ ও ডা. সিতারা বেগম।

- ক্যাপ্টেন আখতার মেজর খালেদের সঙ্গে পরামর্শ করে কুমিল্লা সীমান্তের কাছে আগরতলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবার জন্য একটি হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেন। ডা. আখতার ২ নম্বর সেক্টরের সেনা অফিসার থাকার কারণে পদাধিকারবলেই হয়ে যান হাসপাতালের কমান্ডিং অফিসার, তবে মূল কাজকর্ম চালাতেন ডা. নাজিম। একাত্তরের মে মাসের দিকে এই মেলাঘর হাসপাতালে ইংল্যান্ড থেকে এসে যোগ দেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. এম এ মোবিন। সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ হাসপাতালে যোগ দেন আর্মি মেডিকেল কোরের ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম।

- ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় অর্জন পর্যন্ত বিভিন্নভাবে ডা. আখতার, ডা. নাজিম, ডা সিতারা এবং পরামর্শক হিসেবে ডা. মোবিন বাংলাদেশ হাসপাতালে সক্রিয় ছিলেন। ২ নম্বর সেক্টরের অধীন সাবসেক্টরগুলোতে ফার্স্ট এইডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যোদ্ধা থাকতেন।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৯৩.
সংবিধানের কোন সংশোধনীর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছর করা হয়? 
  1. একাদশ
  2. দ্বাদশ  
  3. ত্রয়োদশ
  4. চতুর্দশ 
ব্যাখ্যা

চতুর্দশ সংশোধনী: 
- সময়: মে, ২০০৪ সাল।
- চতুর্দশ সংবিধান সংশোধনীতে বলা হয়েছে স্পীকার অথবা ডেপুটি স্পীকার সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতে অসমর্থ হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করানোর বিধান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৩০০ থেকে ৩৪৫-এ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
- যার মধ্যে ৪৫টি আসন হবে সংরক্ষিত মহিলা আসন। এ ৪৫টি বর্ধিত আসনে মনোনীত নারী প্রার্থীদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
- সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর আওতায় সাধারণ আসনের সংখ্যানুপাতে নারী আসনগুলো ভাগ করা হবে।
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসর গ্রহণের বয়স ৬৫ থেকে ৬৭বছর,
- পিএসসির চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের বয়সসীমা ৬২ থেকে ৬৫ বছর
- এবং মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের অবসর বসয়সীমা ৬০ থেকে ৬৫ বছরে উন্নীত করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭,১৯৪.
নিচের কোন উপজাতি সমতলে বসবাস করে?
  1. ক) তঞ্চঙ্গা
  2. খ) মুরং
  3. গ) কোচ
  4. ঘ) পাংখোয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীসমূহের মধ্যে কোচ সম্প্রদায় অন্যতম প্রাচীন। এরা প্রধানত দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, ‍ঠাকুরগাঁও, শেরপুর প্রভৃতি অঞ্চলে বসবাস করে। কোচরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী হলেও এদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও প্রথা রয়েছে। কোচ সমাজে আংশিক মাতৃতান্ত্রিকতা দেখা যায়।
অন্যদিকে মুরং, পাংখোয়া, তঞ্চঙ্গা, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, লুসাই, বম, চাক, খুমি এবং খ্যাং নৃগোষ্ঠী পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : অষ্টম শ্রেণী)
১৭,১৯৫.
শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের জন্য নিচের কোন গুচ্ছটি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ?
  1. ক) উদ্ভাবন ও বিজ্ঞান
  2. খ) ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন
  3. গ) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
  4. ঘ) পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও অনুশীলন
ব্যাখ্যা
শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব হলো পাঠদান।
- তাছাড়া শিক্ষার্থীর সার্বিক বিকাশের জন্য তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করাটাও শিক্ষকের দায়িত্ব।
- এই দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করার জন্য তাঁর পেশাগত জ্ঞান থাকা জরুরি।
- পেশাগত জ্ঞানের পাশাপাশি সেই জ্ঞান কাজে লাগানোর মতো দক্ষতা এবং তাঁর অনুশীলন থাকতে হবে।
১৭,১৯৬.
নিচের কোন জেলায় পাংখোয়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে?
  1. সিলেট
  2. রংপুর
  3. রাঙামাটি
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

পাংখোয়া:
- পাংখোয়া বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাংখোয়া অন্যতম।
- পার্বত্য রাঙামাটি জেলার সাজেক উপত্যকা থেকে বান্দরবানের রুমা পর্যন্ত এবং পাশ্ববর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্য সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পাংখোয়া জাতির বসবাস রয়েছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী নিজেদের ধর্মবিশ্বাসে বৌদ্ধ।
- প্রকৃতি উপাসনাও পাংখোয়া সমাজে প্রচলিত।
- তাদের সৃষ্টিকর্তার নাম ‘পত্যেন’।
- তাদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম ‘খোজিং’।
- খোজিং পূজা শ্রাবণ মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
- এই পূজা পাংখোয়া সমাজে সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়।
- পাংখোয়া সমাজে পিতাই পরিবারের প্রধান।
- পিতার মৃত্যুর পর পুত্রসন্তানরা পারিবারিক বিষয়-আশয়ের উত্তরাধিকারী হয়ে থাকে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠী দুটো গোত্রে বিভক্ত পাংখোয়া ও ভানজাঙ।
- ধর্মীয় বিশ্বাস, সামাজিক আচার-অনুষ্ঠান ও পূজাপার্বণ নিয়ে পাংখোয়াদের নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
- পাংখোয়া জনগোষ্ঠীতেই মৃতদেহ কবর দেওয়ার রীতি প্রচলিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১৭,১৯৭.
সমুদ্র সমতল হতে দিনাজপুর জেলার গড় উচ্চতা কত মিটার?
  1. ৩৭.৫০ মিটার
  2. ৩৫ মিটার
  3. ৩০ মিটার
  4. ২১.৫০ মিটার
ব্যাখ্যা
দিনাজপুর জেলা:

- উত্তরবঙ্গের প্রাচীন ও বৃহত্তম একটি জেলার নাম দিনাজপুর।
- এর পূর্বনাম ছিল গন্ডোয়ানাল্যান্ড।
- দিনাজপুর জেলাটি পূনর্ভবা নদীর তীরে অবস্থিত।
- সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে সবচেয়ে উঁচু ভূমির জেলাটি ৩৭.৫ মিটার উঁচু।
- দিনাজপুর জেলায় কয়লা খনি আছে তিনটি।
- দেশের প্রথম কয়লা শোধনাগার দিনাজপুরেই যার নাম বিরামপুর কয়লা শোধনাগার।
- দেশে প্রথম লোহার খনির খোঁজ পাওয়া যায় দিনাজপুর জেলার হাকিমপুরের ইসবপুর গ্রামে।

তথ্যসূত্র - সময় নিউজ, ১৩ জানুয়ারি ২০২২।
১৭,১৯৮.
বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য কোনটি?
  1. চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য
  2. পাট ও পাটজাত পণ্য
  3. হিমায়িত খাদ্য
  4. রাসায়নিক দ্রব্যাদি
ব্যাখ্যা
বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো পাট ও পাটজাত পণ্য। ২০২০-২০২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিলো ১১৬১.৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
২০২০-২০২১ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে বিভিন্ন পণ্যের অবদান:
প্রথম : তৈরি পোশাক (৩১.৪৫ বিলিয়ন ডলার)
দ্বিতীয় : পাট ও পাটজাত পণ্য (১১৬১.৪৮ মিলিয়ন ডলার)
তৃতীয় : কৃষিপণ্য (১০২৮.১৪ মিলিয়ন ডলার)
চতুর্থ : চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য (৯৪১.৬৭ মিলিয়ন ডলার)।

(তথ্যসূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট)
১৭,১৯৯.
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ [Representation of the People's Order (RPO)] প্রথম কত সালে প্রণয়ন করা হয়?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

RPO:
- RPO-এর পূর্ণরূপ: Representation of People Order.
- বাংলাদেশে সংবিধানের আওতায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যতগুলো আইন আছে তার মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত মূল আইন হলো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আইন।
-  বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তীতে সংবিধান তৈরির পর নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রথমবারের মতো আরপিও বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ প্রণয়ন করা হয়েছিলো। 

⇒ বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর সংসদ কার্যকর না থাকায় ১৯৭২ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ জারি করেছিলেন।
- এটি ছিল ওই বছর রাষ্ট্রপতির ১৫৫ নম্বর আদেশ।
- ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে আদেশটি অনুমোদন পায়।
- পরে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় সংসদ আরপিও সংশোধনও করেছে।
- বাংলাদেশের সব কয়টি নির্বাচন হয়েছে ১৯৭২ সালে জারি করা রাষ্ট্রপতির আদেশ দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী।
- এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ নামে পরিচিত।

⇒ ২০২৩ সালে সর্বশেষ সংসদে পাশ হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইন ২০২৩।
- গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুসারে যে কোন নিবন্ধিত দলের ন্যুনতম এক-তৃতীয়াংশ জেলা (২১ জেলা) ও ১০০ উপজেলায় অফিস থাকতে হবে। আর অন্তত ১০০টি উপজেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার থানায় অফিস থাকতে হবে, যার প্রতিটিতে সদস্য হিসেবে কমপক্ষে ২০০ জন ভোটার থাকবে।
- কোনো দল পরপর তিন বছর তথ্য সরবরাহে ব্যর্থ হলে নিবন্ধন বাতিল হবে।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) বিবিসি।

১৭,২০০.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী, বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান কত?
  1. প্রথম
  2. দ্বিতীয়
  3. তৃতীয়
  4. চর্তুথ
ব্যাখ্যা
• মাছ উৎপাদন:
- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার The State of World Fisheries and Aquaculture ২০২২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ ৩য়,
- বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম স্থান অর্জন করেছে। 
- পাশাপাশি বিশেষ সামুদ্রিক ও উপকূলীয় ক্রাস্টাশিয়ান্স ও ফিনফিস উৎপাদনে যথাক্রমে ৮ম ও ১১তম স্থান অধিকার করেছে। 
- এছাড়া বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১ম।
- তেলাপিয়া উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে ৪র্থ এবং এশিয়ার মধ্যে ৩য় স্থান অধিকার করেছে। 

তথ্যসূত্র: অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩।