বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১৭১ / ৩০৬ · ১৭,০০১১৭,১০০ / ৩০,৮৩২

১৭,০০১.
বাংলাদেশ সর্বপ্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে?
  1. জাতিসংঘ
  2. কমনওয়েলথ
  3. ইসলামী সম্মেলন সংস্থা
  4. জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৮ই এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে, এটি ছিল কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের প্রথম যোগদান।  

কমনওয়েলথ ও বাংলাদেশ:
- স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করেছিলো।
- আন্তর্জাতিক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ সর্বপ্রথম কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে।
- বাংলাদেশ ৩৪তম দেশ হিসেবে কমনওয়েলথে যোগ দিয়েছিলো।

অন্যদিকে: 
- জাতিসংঘ (UN): বাংলাদেশ ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে ১৩৬তম সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে যোগ দেয়।
- ইসলামী সম্মেলন সংস্থা (OIC): বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোর সম্মেলনে OIC-এ যোগ দেয়।
- জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (NAM): বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালে ন্যাম-এর সদস্য পদ লাভ করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট, স্ব স্ব ওয়েবসাইট। 

১৭,০০২.
মাত্র ১টি সংসদীয় আসন-
  1. লক্ষ্মীপুর জেলায়
  2. মেহেরপুর জেলায়
  3. ঝালকাঠী জেলায়
  4. রাঙামাটি জেলায়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আসন:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি।
- জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।
- ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি সংসদীয় আসনের মাত্র ১টি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।

জেলাগুলো হলো-
- রাঙ্গামাটি,
- বান্দরবান, 
- খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৭,০০৩.
পূর্বে মারমারা কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. মান্দি
  2. মগ
  3. ডাইংনেট
  4. বোডো
ব্যাখ্যা
মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- এই জনগোষ্ঠীর জনগণের অধিকাংশই বাংলাদেশের তিনটি পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করে।
- তারা মূলত মায়ানমারের আরাকানিদের বংশধর।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।

উল্লেখ্য,
- বহু পূর্বে মারমারা ‘‘মগ’’ নামেই পরিচিত ছিল।
- বর্তমানে তারা নিজেদের মারমা বলেই দাবী করে।
- মারমা শব্দটি মারমাজা বা ম্রাইমাচা নামক উপমহাদেশীয় প্রাচীন ব্রাহ্মী হস্তাক্ষর লিপি থেকে উদ্ভুত।
- স্বাধীনতা উত্তরা বাংলাদেশে সরকারিভাবে মারমা জনগোষ্টী স্বতন্ত্র উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে।

⇒ মারমারা মূলত বৌদ্ধ ধর্মালম্বী।
- মারমা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসবের নাম ‘সাংগ্রাই’।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান হলেন একজন কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান হলেন একজন হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান হলেন রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।
- মারমাদের গ্রাম রোয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭,০০৪.
বাংলাদেশে কয়টি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ: 
- বাংলাদেশে দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ রয়েছে
: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
- ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই): এটি ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এখানে লেনদেন কম্পিউটারাইজড স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
- চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই): এটি ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর ট্রেডিংও কম্পিউটারাইজড স্বয়ংক্রিয় ট্রেডিং সিস্টেমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
- উভয় স্টক এক্সচেঞ্জই স্ব-নিয়ন্ত্রিত এবং বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান, যেগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC)-এর অনুমোদন সাপেক্ষে।

উৎস: BSEC ওয়েবসাইট। 
১৭,০০৫.
Who is the designer of our National Flag?
  1. Jainul Abedin
  2. Kamrul Hasan
  3. Quayum Chowdhury
  4. Hashem Khan
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার শিল্পী কামরুল হাসান।
- ১৯৭২ সালে কামরুল হাসান সবুজের মাঝে লাল বৃত্তের জাতীয় পতাকার নকশা করেন।
- এর পূর্বে ব্যবহৃত মানচিত্র খচিত পতাকাটি ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান জহুরুল হক হলের ১১৬ নং কক্ষে শিবনারায়ণ দাস ও আরো কয়েকজন মিলে চূড়ান্ত করেন।
- পতাকাটি ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ডাকসু ভিপি আ স ম রব প্রথম উত্তোলন করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৩ শে মার্চ বাংলাদেশের সর্বত্র পাকিস্তানের পতাকা'র পরিবর্তে লাল-সবুজের পতাকা উড়ানো হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি।
- ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
- ‘জাতীয় পতাকা' গাঢ় সবুজ রঙের হবে।
- দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত হবে  ১০:৬।
- আয়তক্ষেত্রাকার সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকিবে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
          ii) বাংলাপিডিয়া ।
১৭,০০৬.
কোথায় আগরতলা মামলার শুনানি শুরু হয়?
  1. ঢাকা সেন্ট্রাল জেল
  2. কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে
  3. ঢাকা হাইকোর্ট
  4. সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
ব্যাখ্যা
আগরতলা মামলার বিচারকার্য: 
- আগরতলা মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
- ১৯৬৮ সালের ১৯শে জুন বেলা এগারোটায় কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টের একটি বিশেষ কক্ষে মামলার শুনানি শুরু হয়।
- বিচারকাজ চলার সময় পাকিস্তানের উভয় অংশে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে।
- পূর্ব পাকিস্তানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি ও আগরতলা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জোরদার হয়।
- ধীরে ধীরে পূর্ব পাকিস্তানের গণবিক্ষোভ ১৯৬৯ সালে এসে গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত হয়।
- অবশেষে আইয়ুব সরকার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে নতি স্বীকার করে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।
- মামলার সকল অভিযুক্ত ২২শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে মুক্তি লাভ করেন। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৭,০০৭.
‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করে -
  1. আওয়ামী লীগ
  2. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  3. ছাত্রলীগ
  4. ছাত্র ইউনিয়ন
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- এ ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম 'বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক’ ঘোষণা করা হয় ।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭,০০৮.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার কত?
  1. ক) ১.৫৯%
  2. খ) ২.২৩%
  3. গ) ২.৬১%
  4. ঘ) ৩.৫৫%
ব্যাখ্যা
২০২২-২৩ অর্থবছরে বৃহৎ ৩টি খাত:

- জিডিপির সর্ববৃহৎ খাত - সেবাখাত (১৩টি খাত নিয়ে গঠিত)।
- সবচেয়ে ছোট খাত - কৃষিখাত।
- কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত - কৃষিখাত (৪৫.৩৩ শ্রমশক্তি নিয়োজিত)।
- সবচেয়ে ছোট খাত শিল্পখাত (১৭.০২% শ্রমশক্তি - নিয়োজিত)।
- জিডিপির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল খাত - শিল্পখাত।
- এর প্রবৃদ্ধির হার - ৮.১৮%।
- কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম।
- এর প্রবৃদ্ধির হার - ২.৬১%।

তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা, ২০২৩।
১৭,০০৯.
সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে কত প্রকার রিটের (Writ) উল্লেখ রয়েছে?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৫ প্রকার
  4. ৭ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধানের রিট (Writ):
⇒ মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে প্রতিকার পাওয়ার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে রিট দাখিল করা যায়।
⇒ সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ কারও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে তা পুনর্বহাল করতে পারে। এই ক্ষমতাকে রিট এখতিয়ার বলা হয়, যা হাইকোর্টের একটি বিশেষ সাংবিধানিক ক্ষমতা।
⇒ রিট হলো আদালত বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের দেওয়া একটি আদেশ বা নির্দেশ।

⇒ সংবিধানে রিটগুলোর নাম উল্লেখ নেই, তবে ১০২(২) অনুচ্ছেদ বিশ্লেষণ করে পাঁচ ধরনের রিটের কথা জানা যায়:

১. Writ of Prohibition: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)-এ উল্লেখ আছে।
২. Writ of Mandamus: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(অ)-তে উল্লেখিত।
৩. Writ of Certiorari: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(ক)(আ)-তে উল্লেখিত।
৪. Writ of Habeas Corpus: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(অ)-তে উল্লেখিত।
৫. Writ of Quo Warranto: এটি অনুচ্ছেদ ১০২(২)(খ)(আ)-তে উল্লেখিত।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১৭,০১০.
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা কোনটি?
  1. সিলেট
  2. খুলনা
  3. কুমিল্লা
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা:
- স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বশেষ শত্রুমুক্ত জেলা ঢাকা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে মিত্রবাহিনীর কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত পরাজয় হয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর।
- কিন্তু আত্মসমর্পণের পরও পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে যুদ্ধ চালিয়ে গিয়েছিল।
- ঢাকায় আত্মসমর্পণের ১ সপ্তাহ পর্যন্ত যুদ্ধ চলার পর ২৩ ডিসেম্বর হানাদারমুক্ত হয় কুমিল্লার হোমনা।
- কিন্তু ঢাকার মিরপুর তখনো পাকিস্তানি বাহিনী ও বিহারিদের হাতে পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি এক বিশেষ সামরিক অভিযানের পর ৩১ জানুয়ারি ১২ নম্বর সেকশনের ডি ব্লক ঈদগাহ মাঠে আত্মগোপনকারী পাকিস্তানি সেনা, বিহারি, রাজাকার, আলবদরদের অস্ত্রসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্ত হয় মিরপুর।

অন্যদিকে -
- খুলনা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৭ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- সিলেট জেলা শত্রুমুক্ত হয় ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১।
- কুমিল্লা জেলা শত্রুমুক্ত হয় ৮ ডিসেম্বর ১৯৭১।

উৎস: জানুয়ারি ৩০, ২০২৩, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। 
১৭,০১১.
বাংলাদেশের সাহিত্যে সর্বোচ্চ পুরষ্কার কোনটি?
  1. ২১শে পদক
  2. স্বাধীনতা দিবস পুরষ্কার
  3. বাংলা একাডেমি পুরষ্কার
  4. শিশু একাডেমি পুরষ্কার
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বাংলাদেশের সাহিত্যে সর্বোচ্চ পুরষ্কার।
- বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে সামগ্রিক অবদানের জন্য লেখকদের সৃজনী প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- ১৯৬০ সালে এ পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়।
- বাংলা সাহিত্যের ১০টি শাখায় এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
- প্রতিটি পুরস্কারের মূল্যমান ৩,০০,০০.০০ (তিন লক্ষ) টাকা।
- প্রতি বছর মাসব্যাপী আয়োজিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা ও অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার প্রাপ্তদের পুস্কারের অর্থমূল্যের চেক, সম্মাননা পত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন।

• স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার
- স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।
- মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ সরকার এ পুরস্কার প্রবর্তন করে।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,০১২.
নিম্নের কোনটি মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর শাখা নয়?
  1. পাঙন
  2. মৈতৈ
  3. রৈথৈই
  4. বিষ্ণুপ্রিয়া
ব্যাখ্যা

- রৈথৈই মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর শাখা নয়।

মণিপুরী:
- পাঙন সম্প্রদায় মূলত মণিপুরী নৃগোষ্ঠীর একটি শাখা।
- মণিপুরের রাজা চৌরজিৎ সিংহের সময়কালে সংঘটিত বার্মা-মণিপুর যুদ্ধ (১৮১৯-১৮২৫) এর প্রেক্ষাপটে মণিপুরী জনগণের একটি অংশ ভারত ও বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
- বাংলাদেশে আগত মণিপুরীরা প্রধানত তিনটি শাখায় বিভক্ত হয়:
- (১) বিষ্ণুপ্রিয়া, (২) মৈতৈ এবং (৩) পাঙন।
- পাঙনরা আর্য বংশভুক্ত হলেও মৈতৈ ভাষায় কথা বলেন এবং তারা ইসলাম ধর্ম অনুসরণ করেন।
- এদের ভাষাগত পরিচিতি মৈতৈদের সঙ্গে মিলে গেলেও ধর্মীয় পরিচয় আলাদা। ফলে, পাঙনদের আলাদা একটি সম্প্রদায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- মূলত ধর্মীয় বিশ্বাসে মুসলিম হলেও, তারা মণিপুরী সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেই বিবেচিত।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সনদ।

১৭,০১৩.
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয় কবে?
  1. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  4.  ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়। 
- এর আগে গত ২০ নভেম্বর, ২০২৫ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
- অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে।
- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।

উল্লেখ্য,
- বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিতকরণে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠনসংক্রান্ত প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।
- প্রস্তাবে সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন আদালত ও ট্রাইবুনালের ওপর তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকরভাবে পালনের জন্য একটি আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [link]

১৭,০১৪.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস বঙ্গবন্ধুকে ‘পয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করে -
  1. ক) ১৯৭১ সালের ৮ মার্চ
  2. খ) ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল
  3. গ) ১৯৭১ সালের ৮ মে
  4. ঘ) ১৯৭১ সালের ৫ জুন
ব্যাখ্যা
• মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নিউজ উইকস ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপর কভার স্টোরি প্রকাশ করে।
- এই স্টোরিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজনীতির কবি বা পয়েট অব পলিটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র:- mujib100.gov.bd
১৭,০১৫.
কোন মুঘল সম্রাটের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত?
  1. ক) সম্রাট বারর
  2. খ) সম্রাট শাহজাহান
  3. গ) সম্রাট হুমায়ুন
  4. ঘ) সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা

• মুঘল ইতিহাসে শাহজাহানের রাজত্বকাল “The Age of Marble” নামে খ্যাত।
• তিনি ছিলেন ভারতবর্ষের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা। তিনি ইতিহাসে ‘The Prince of Builders or Engineer King” নামে পরিচিত ।
• সম্রাট শাহজাহানের সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হল আগ্রার তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত তাজমহল হচ্ছে সম্রাট তার প্রিয়তমা পত্নী • মমতাজ মহলের স্মৃতিকে অমর করে রাখার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, ৯ম - ১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

১৭,০১৬.
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসা বিজ্ঞানী কে ছিলেন?
  1. ডা. হোসনেয়ারা বেগম
  2. ডা. জোহরা বেগম কাজী
  3. ডা. ফিরোজা বেগম
  4. ডা. মমতাজ বেগম কাজী
ব্যাখ্যা
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসা বিজ্ঞানী:
- উপমহাদেশের প্রথম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী।

⇒ তিনি ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ২৩ বছর বয়সেই তিনি দিল্লির 'লেডি হাডিং মেডিকেল কলেজ' থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমবিবিএস পাস করেন।
- এজন্য পুরস্কার হিসেবে পান ভাইসরয় পদক।
- ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন।
- ১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশকিছু বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন।
- পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেলে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।
- তার কারণে চিকিৎসা শাস্ত্রে এদেশে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।

⇒ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘকাল মানবতার সেবায় নিঃস্তার্থ কর্মকান্ডের স্তীকৃতিস্তরূপ ডাঃ জোহরা কাজীকে তমঘা-ই-পাকিস্তান (১৯৬৪), বেগম রোকেয়া পদক (২০০২) এবং একুশে পদক (২০০৮) প্রদান করা হয়।
- তিনি ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলপিডিয়া।
১৭,০১৭.
৬ দফা দাবি পেশ করা হয়:
  1. ১৯৭০ সালে
  2. ১৯৬৬ সালে
  3. ১৯৬৫ সালে
  4. ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
• ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়: ১৯৬৬ সালে। 
----------------- 
ছয় দফা:

- ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লাগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে ৬ দফা দাবি পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ৬ দফা প্রস্তাব এবং দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলনের কর্মসূচি গৃহীত হয়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান বিরোধীদলীয় সম্মেলনে ৬ দফা পেশ করেন।
- ১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘আমাদের বাঁচার দাবি: ৬ দফা কর্মসূচি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রচার করা হয়।

ঐতিহাসিক ছয় দফার দফাসমূহ:
• প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)।
• দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
• তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)।
• চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)।
• পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)।
• ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,০১৮.
কোন যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে মহারাজা অশোক বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন?
  1. মেবার যুদ্ধ 
  2. প্লাসি যুদ্ধ
  3. কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ
  4. কলিঙ্গ যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন। তিনি পাটলীপুত্র হতে তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন।
- রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে তিনি কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন।
- তিনি ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন। প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ রক্তক্ষয়ী কলিঙ্গ যুদ্ধের পর অশোকের রাজনৈতিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গীতে আমূল পরিবর্তন আসে।
- তিনি কলিঙ্গ যুদ্ধের পরেই রাজ্যজয়ের নীতি বর্জন করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধই তাঁকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে, মানব সংঘ, কল্যাণ ও শান্তির ক্ষেত্রে যুদ্ধ কতটা ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। 
- তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করার পর দেবনামপিয় পিয়দসি (পিয়দসি, অর্থাৎ দেবতাদের প্রিয়জন) শীর্ষক ধর্ম- রাজকীয় উপাধি গ্রহণ করেন এবং নিজেকে শান্তি ও মানবজাতির কল্যাণের কাজে নিবেদিত করেন।
- কলিঙ্গ যুদ্ধের রক্তবন্যা তাঁকে একজন নীতিবান ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। ওই সময় থেকেই তিনি জীবনের সর্বক্ষেত্রে বিশ্বশান্তি ও ন্যায়নিষ্ঠ শাসন প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।
- সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন। অশোকের প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭,০১৯.
এক বিদ্যালয়ের সাথে অন্য বিদ্যালয়ের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা কী বলে?
  1. অন্তঃক্রীড়া
  2. আন্তঃক্রীড়া
  3. লীপ ক্রীড়া
  4. প্রীতিম্যাচ
ব্যাখ্যা
আন্তঃক্রীড়া:

- এই ক্রীড়াসূচি বিদ্যালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- প্রতিষ্ঠানের চারি দেয়ালের মধ্যে বা নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আকারে যে সমস্ত খেলধুলা হয় তা হলো অন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি।
- প্রতিষ্ঠানের চারি দেয়ালের বাহিরে বা অন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতিযোগিতা আকারে যে সমস্ত খেলধুলা হয় তা হলো আন্তঃক্রীড়া কর্মসূচি।

তথ্যসূত্র - দৈনিক জনকন্ঠ, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০।
১৭,০২০.
প্রকৃতির কন্যা বলা হয় -
  1. ক) পঞ্চগড়কে
  2. খ) জাফলংকে
  3. গ) কুয়াকাটাকে
  4. ঘ) বান্দরবানকে
ব্যাখ্যা
• জাফলং: 
- অবস্থান: সিলেটনগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। 
-  প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং
- খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি।
- পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয়। সীমান্তের ওপারে ইনডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরামধারায় প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেলপানি,উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও শুনশান নিরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদেরদারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশী-বিদেশীপর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে।
- প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও জাফলং বিউটি স্পট, পিকনিকস্পট, সৌন্দর্যের রাণী- এসব নামেও পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। ভ্রমনপিয়াসীদের কাছে জাফলং এর আকর্ষণই যেন আলাদা। সিলেট ভ্রমনে এসে জাফলং নাগেলে ভ্রমনই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।

তথ্যসূত্র: সিলেট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।
১৭,০২১.
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে মোট কতজন উপদেষ্টা রয়েছেন? [অক্টোবর, ২০২৪]
  1. ১৭ জন
  2. ১৮ জন
  3. ২০ জন
  4. ২১ জন
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার:

- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।
- নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আগস্ট, ২০২৪ সালে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে।
- এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

⇒ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
- শপথ গ্রহণের স্থান: বঙ্গভবন।
- মোট উপদেষ্টা: ২১ জন।
- নারী উপদেষ্টা রয়েছে ৪ জন।

উল্লেখ্য,
⇒ প্রধান উপদেষ্টা: ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এছাড়াও,
⇒ অন্যান্য উপদেষ্টাগণ:
১. জনাব সালেহ উদ্দিন আহমেদ
২. জনাব ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
৩. ড. আসিফ নজরুল
৪. জনাব হাসান আরিফ
৫. জনাব মোঃ তৌহিদ হোসেন
৬. লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গ আলম চৌধুরী (অব:)
৭. জনাব আদিলুর রহমান খান
৮. জনাব আলী ইমাম মজুমদার
৯. জনাব মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
১০. সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
১১. জনাব মোঃ নাহিদ ইসলাম
১২. জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া
১৩. জনাব ফারুক ই আজম, বীর প্রতীক
১৪. ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
১৫. মিজ নূরজাহান বেগম
১৬. অধ্যাপক ডাঃ বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার
১৭. মিজ ফরিদা আখতার
১৭. মিজ্ শারমীন এস মুরশিদ
১৯. ড. আফম খালিদ হাসান
২০. জনাব সুপ্রদীপ চাকমা।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
১৭,০২২.
'অনিল বাগচীর একদিন' চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. নজরুল ইসলাম খান
  3. তানভীর মোকাম্মেল
  4. মোরশেদুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
অনিল বাগচীর একদিন:
- 'অনিল বাগচীর একদিন' একটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্র।
- চলচ্চিত্রটি হুমায়ূন আহমেদের 'অনিল বাগচীর একদিন' উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে।
- চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন মোরশেদুল ইসলাম।
- চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেন আরেফ সৈয়দ, জ্যোতিকা জ্যোতি, গাজী রাকায়েত, মিশা সওদাগর।
- ২০১৫ সালে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়।
- চলচ্চিত্রটি ৪০তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র, শ্রেষ্ঠ পরিচালক, শ্রেষ্ঠ পার্শ্বচরিত্রে অভিনেতা, শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক, শ্রেষ্ঠ নারী কণ্ঠশিল্পী, এবং শ্রেষ্ঠ সংলাপ রচয়িতা বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।
১৭,০২৩.
কার নেতৃত্বে ফরায়েজী আন্দোলন গড়ে উঠে?
  1. হাজী শরিয়ত উল্লাহ
  2. মুহসিন উদ্দিন দুদুমিয়া
  3. হাজী মুহম্মদ মহসীন
  4. মীর নিসার আলী
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলন: 
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।
- সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের উপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।
- দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে।
- তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে।
- তিনি ইসলাম ধর্মকে এসব কুসংস্কার আর অনৈসলামিক অনাচার মুক্ত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হন।
- এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে তিনি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানদের মধ্যে এক ধর্মীয় সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,০২৪.
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে কতটি তফসিল ছিলো?
  1. ক) ছয়টি
  2. খ) পাঁচটি
  3. গ) চারটি
  4. ঘ) তিনটি
ব্যাখ্যা
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে চারটি তফসিল ছিলো।

• সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মোট ১৫৩ টি অনুচ্ছেদ আছে।
- সংবিধানের ভাগ বা অধ্যায় আছে ১১টি,
- তফসিল আছে ৭টি।
- মূলনীতি আছে ৪টি।
- ১৯৭২ সালের ৪ঠা নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদে গৃহীত হয়।
- তখন সংবিধানের চারটি মূলনীতি ছিলো। এগুলো হলো:
- প্রথম তফসিল : অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল : রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বিলুপ্ত),  
- তৃতীয় তফসিল : শপথ ও ঘোষণা, 
- চতুর্থ তফসিল : ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী।

অন্যদিকে,
- ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নতুন করে আরো তিনটি তফসিল সংবিধানে যুক্ত করা হয়। এগুলো হলো:
- পঞ্চম তফসিল : বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, 
- ষষ্ঠ তফসিল : বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল : মুজিবনগর সরকার জারিকৃত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।
- বর্তমানে সংবিধানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৭,০২৫.
বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান গণপরিষদে প্রথম উত্থাপিত করা হয় কত তারিখে?
  1. ১ অক্টোবর, ১৯৭২
  2. ১২ অক্টোবর, ১৯৭২
  3. ৪ নভেম্বর, ১৯৭২
  4. ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়নের লক্ষ্যে খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়: ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।
- 'খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি' সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গণপরিষদে উত্থাপন করেন যোগাযোগ মন্ত্রী এম মনসুর আলী।
- খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়: ১৭ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবধিান প্রণয়ন কমিটি সংবিধানের চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন করেন: ১১ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- খসড়া সংবিধান গণপরিষদে উত্থাপিত হয়: ১২ অক্টোবর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদে বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়: ৪ নভেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- সংবিধান স্পিকার কর্তৃক প্রমাণীকৃত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেনঃ ১৪ ডিসেম্বর ও ১৫ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে।
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ ১০৯ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়: ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১৭,০২৬.
জনাব আহসান এইচ মনসুর বাংলাদেশ ব্যাংকের কততম গভর্নর?
  1. ১১তম
  2. ১২তম
  3. ১৩তম
  4. ১৪তম
ব্যাখ্যা

• ড. আহসান এইচ মনসুর:
- তিনি পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) এর প্রাক্তন নির্বাহী পরিচালক ছিলেন।
- ড. আহসান এইচ. মনসুর ১৪ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৩তম গভর্নর হিসেবে যোগদান করেন।

- ড. মনসুর ১৯৮১ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর অর্থনীতিবিদ প্রোগ্রামের অধীনে যোগদান করেন।
- আইএমএফ-এ তার দীর্ঘ কর্মজীবনে, ড. মনসুর মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়ান, আফ্রিকান এবং মধ্য আমেরিকান দেশগুলির সাথে কাজ করেন।
- তিনি আইএমএফের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী বিভাগ (আর্থিক বিষয়ক এবং নীতি পর্যালোচনা ও উন্নয়ন বিভাগ) এবং অঞ্চল বিভাগে (মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য এশিয়া এবং এশিয়ান বিভাগ) কাজ করেন।

- তিনি ১৯৯৮-২০০১ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে আইএমএফের সিনিয়র রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রীর (১৯৮৯-৯১) আর্থিক উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনকালে, ড. মনসুর ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সফলভাবে প্রবর্তনের সাথে জড়িত ছিলেন। 

উল্লেখ্য,
- জনাব এ এন হামিদুল্লাহ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর ছিলেন।
 
উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৭,০২৭.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মধ্যযুগীয় মসজিদ কোনটি?
  1. কুসুম্বা মসজিদ
  2. বড় সোনা মসজিদ
  3. ষাট গম্বুজ মসজিদ
  4. সাত গম্বুজ মসজিদ
ব্যাখ্যা
• ষাটগম্বুজ মসজিদ  বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলির মধ্যে বৃহত্তম এবং সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যের অন্যতম চিত্তাকর্ষক নিদর্শন। 

♦ ষাট গম্বুজ মসজিদ:

• ষাট গম্বুজ মসজিদ বাগেরহাটে অবস্থিত।
• ষাট গম্বুজ মসজিদটি বর্তমানে বাগেরহাট শহর থেকে তিন মাইল পশ্চিমে গড়াদীঘির পূর্ব পাড়ে অবস্থিত।
• ষাট গম্বুজ মসজিদ নামে পরিচিত ষাট গম্বুজ মসজিদ, এই বৃহত্তম মসজিদটি সুলতানি আমলে নির্মিত হয়।
• খান জাহান আলি (উলুঘ খান) এটি নির্মাণ করেন ১৫০০ শতাব্দীতে। 
• মসজিদটির মোট গম্বুজ সংখ্যা ৮১ টি । 

- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত।
- ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।
- সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খান জাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন।
- খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ষাট-গম্বুজ-মসজিদ - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন-গণপ্রজাতন্ত্রী, parjatan.gov.bd.
১৭,০২৮.
ঢাকা জেলায় সংসদীয় আসন সংখ্যা কয়টি?
  1. ক) ৮ টি
  2. খ) ১৩ টি
  3. গ) ১৫ টি
  4. ঘ) ২০ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ঢাকা জেলায় সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে। এর সংখ্যা ২০ টি।
সূত্র: parliament.gov.bd
১৭,০২৯.
[তৎকালীন সাম্প্রতিক প্রশ্ন। বর্তমানে গুরুত্বহীন।] কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উৎপাদনে সম্প্রতি চীনের সাথে বাংলাদেশের কোন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. বেক্সিমকো
  2. স্কয়ার
  3. ইনসেপটা
  4. এক্‌মি
ব্যাখ্যা
গত আগস্ট, ২০২১ তারিখে করোনাভাইরাস ঠেকাতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মত চীনের সিনোফার্মের টিকা যৌথ উৎপাদনের লক্ষ্যে ঢাকায় একটি ত্রি-পক্ষীয় সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশের সরকার।
- চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুটি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ অব কোম্পানিজ ও চায়না সিনোফার্ম ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এবং ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার এই চুক্তি স্বাক্ষর করে।

- চুক্তি অনুযায়ী চীন থেকে ভ্যাকসিন উৎপাদনের কাঁচামাল ও উপকরণ বা বাল্ক নিয়ে আসা হবে, যেটি 'সেমি-ফিনিসড' অবস্থায় থাকবে।
- এরপর দেশেই বোতলজাতকরণ, লেবেলিং ও ফিনিশিং করবে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস।
- উৎপাদনের পর সরকার চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত দামে ইনসেপ্টার কাছ থেকে ভ্যাকসিন কিনে নেবে।

উৎস: বিবিসি বাংলা রিপোর্ট।
১৭,০৩০.
বাংলাদেশের কৃষির কয়টি উপখাত রয়েছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

কৃষির উপখাত:
- বাংলাদেশের কৃষির ৪টি উপখাত রয়েছে। যথা:
• শস্য ও শাকসবজি,
• প্রাণি সম্পদ,
• বনজ সম্পদ,
• মৎস সম্পদ।

⇒ শস্য ও শাক-সবজি (Crops and vegetables):
- এটি বাংলাদেশের কৃষির সর্ববৃহৎ উপখাত।
- এ খাতে বিভিন্ন ধরনের খাদ্য শস্য যেমন ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তৈলবীজ, বাদাম, পিয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ এবং বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি যেমন লাল শাক, পালং শাক, পটল, ঢেরস, করলা, লাউ, বেগুন, শসা, টমেটো, কপি ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।
- তাছাড়া এ উপখাতে বিভিন্ন ধরনেরর অর্থকারী ফসল যেমন পাট, চা, আখ, তামাক, রেশম, তুলা, রবার ইত্যাদি উৎপাদিত হয়।

⇒ প্রাণিসম্পদ (Livestock):
- গৃহে পালিত নানাজাতীয় পশু-পাখি নিয়েই বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ উপখাত গঠিত।
- গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, হাঁস-মুরগি, কবুতর প্রভৃতি এদেশের প্রাণিসম্পদের অন্তর্ভূক্ত।
- প্রাণি সম্পদ থেকে প্রাপ্ত মাংস, দুধ, ডিম, ইত্যাদি মানব দেহের অত্যাবশ্যকীয় প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করে।
- তাছাড়া চাষাবাদ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চামড়া ও চমড়া জাতীয় দ্রব্যদি উৎপাদন ও রপ্তানিতে এ উপখাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

⇒ বনজ সম্পদ (Forest Resources):
- এটি আমাদের কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপখাত।
- বাংলাদেশের মোট ভূখন্ডের শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ জুড়ে বন রয়েছে।
- বনে সুন্দরি, গড়ান, গেওয়া, কেওড়া, শাল, গর্জন, গামাড়ি, গোলপাতা প্রভৃতি গাছ জন্মে।
- এগুলো থেকে দেশের কাঠের চাহিদার সিংহভাগ পূরণ হয় এবং কয়েকটি শিল্পের কাঁচামালের যোগান আসে।
- জ্বালানি কাঠ, বাঁশ, বেত, মোম, মধু, বিভিন্ন ধরনের ফলমূল, ইত্যাদি এ উপখাত থেকে পাওয়া যায়।

⇒ মৎস্য সম্পদ (Fisheries):
- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মৎস্য সম্পদের বিপুল সম্ভাবনা থাকায় বাংলাদেশ সরকার একে একটি পৃথক খাত হিসেবে গণ্য করেছে।
- তবে সার্বিক বিবেচনায় এ খাতও কৃষিখাতের অন্তর্ভূক্ত।
- বাংলাদেশের অসংখ্য নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়।
- এছাড়াও দেশের সামুদ্রিক মৎস্য ক্ষেত্রগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাছ আহরিত হয়।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭,০৩১.
বর্তমানে রাজস্ব বাজেটে পরিচালিত সরকারি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের সংখ্যা কয়টি? (মার্চ-২০২৬)
  1. ৪৩টি
  2. ৩৯টি
  3. ৪১টি
  4. ৪০টি
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের সংখ্যা ৪৩টি।
- সারাদেশে সরকারি ৪৩টি দিবাযত্ন কেন্দ্রে দুই হাজার ৮৩০ শিশু রাখার ব্যবস্থা আছে।
- কর্মজীবী মায়েরা কাজে গেলে তাদের শিশুরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, সেজন্য সরকার এই উদ্যোগ নেয়।
- ৪৩টি দিবাযত্ন কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টি নিম্নবিত্তের শিশুদের জন্য, বাকি ১০টি মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য।
- কেন্দ্রগুলোর আবাসন সক্ষমতা যথাক্রমে ৮০, ৬০ ও ৫০। 
- মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে এ কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হয়।

উৎস: প্রথম আলো [লিংক]।

১৭,০৩২.
বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের স্তর নয় কোনটি?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. জেলা পরিষদ
  4. বিভাগীয় পরিষদ
ব্যাখ্যা
- বিভাগীয় পরিষদ বাংলাদেশের স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের স্তর নয়।

স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন:
- স্থানীয় সরকার বলতে স্থানীয় জনগণের ভোটে নির্বাচিত স্বশাসনের অধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে থাকে।
- স্থানীয় সরকারের নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকার কথা বলা হয়, যার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে স্বায়ত্বশাসন।
- সুতরাং স্থানীয় সরকার বলতে মূলত স্থানীয় স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানকেই বোঝানো হয়।

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:
- বাংলাদেশে শহরের জন্য দুই স্তর বিশিষ্ট ও পল্লীর জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো রয়েছে।
- শহুরে স্থানীয় সরকার: সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা।
- পল্লী স্থানীয় সরকার: জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,০৩৩.
মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. তাজউদ্দীন আহমেদ
  4. আতাউল গণি ওসমানি
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি:

- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৭,০৩৪.
বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত কত জন ব্যক্তি র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ করেন? [অক্টোবর, ২০২৪]
  1. ১১ জন
  2. ১২ জন
  3. ১৩ জন
  4. ১৪ জন
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার:

- ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট র‍্যামন ম্যাগসাইসাইয়ের নামে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
- র‍্যামন ম্যাগসেসে ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।
- ১৯৫৮ সাল থেকে পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়।
- এখন পর্যন্ত ১৩ জন ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে র‍্যামন ম্যাগসেসে পুরস্কার লাভ করেন।

⇒ পুরস্কারপ্রাপ্ত ১৩ বাংলাদেশি:
১. ১৯৭৮ সালে প্রথম র‍্যামন ম্যাগসেসে পান: সমাজসেবী তহরুন্নেসা আবদুল্লাহ।
২. ১৯৮০ সালে: ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
৩. ১৯৮৪ সালে: গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
৪. ১৯৮৫ সালে: গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
৫. ১৯৮৭ সালে: ক্যাথলিক ধর্মযাজক রিচার্ড উইলিয়াম টিম।
৬. ১৯৮৮ সালে: দিদার কমপ্রিহেন্সিভ ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ইয়াসিন।
৭. ১৯৯৯ সালে: বেসরকারি সংগঠন বাঁচতে শেখার প্রতিষ্ঠাতা অ্যাঞ্জেলা গোমেজ।
৮. ২০০৪ সালে: বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
৯. ২০০৫ সালে: প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।
১০. ২০১০ সালে: বেসরকারি সংগঠন সিডিডির নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম নোমান খান।
১১. ২০১২ সালে: বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
১২. ২০২১ সালে: প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী।
১৩. ২০২৩ সালে: জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের করভি রাখসান্দ।

উৎস: i) The Ramon Magsaysay Award Foundation ওয়েবসাইট।
ii) ৩১ আগস্ট, ২০২১, প্রথম আলো।
১৭,০৩৫.
জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন কত তারিখে কার্যক্রম শুরু করে?
  1. ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  2. ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  3. ১৫সেপ্টেম্বর ২০২৪
  4. ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
ব্যাখ্যা
• জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন:
-জুলাই বিপ্লবে আহত এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারকে সহায়তা করার জন্য জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
-জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে-১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ।
-সংগঠনটির লক্ষ -
• ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে স্বল্পমেয়াদি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
•  জুলাই বিপ্লবে  জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা।

তথ্যসূত্র: জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন এবং প্রথম আলো {লিংক}
১৭,০৩৬.
ষাট গম্বুজ মসজিদ কোন স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন?
  1. মুঘল
  2. সুলতানি
  3. নবাবী
  4. ইউরোপীয়
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ:
- ষাট গম্বুজ মসজিদ সুলতানী স্থাপত্য শৈলীর নিদর্শন।

⇒ ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করা হয়। 
- সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন। 
- খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়। 
- তুঘলকি ও জৌনপুরী নির্মাণশৈলী এতে সুস্পষ্ট।
- মসজিদের নাম ষাট গম্বুজ হলেও এর গম্বুজের সংখ্যা আসলে ৭৭টি। 
- মিনারের চারটি গম্বুজ যুক্ত করলে এর মোট গম্বুজের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১টিতে।
- মসজিদটির গায়ে কোনো শিলালিপি নেই। 
- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত।
- বাগেরহাট শহরটিকেই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। 
- ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর  ওয়েবসাইট।

১৭,০৩৭.
বর্তমানে বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশন কয়টি‌?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা ১২টি।
দেশের সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশন- ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন (১২তম)। সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে শপথ বাক্য পাঠ করান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
উৎসঃ নিকারের ওয়েবসাইট এবং পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭,০৩৮.
বিবিএস SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে বর্তমানে নির্ভরশীলতার অনুপাত কত?
  1. ক) ৪৩
  2. খ) ৫১
  3. গ) ৬২
  4. ঘ) ৮৬
ব্যাখ্যা
নির্ভরশীলতার অনুপাত হলো একটি দেশের মোট জনসংখ্যার তুলনায় নির্ভরশীল বা অনুপার্জনক্ষম জনসংখ্যার অনুপাত। নির্ভরশীল জনসংখ্যাকে কে মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করে শতকরা হিসেবে এই অনুপাত বের করা হয়।
বিবিএসের সর্বশেষ SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে বর্তমানে নির্ভরশীলতার অনুপাত (শতকরা):
- জাতীয় পর্যায়ে : ৫১
- শহরাঞ্চলে : ৪৬
- গ্রামাঞ্চলে : ৫৫।
(সূত্রঃ বিবিএস SVRS Report-2019)
১৭,০৩৯.
প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট -
  1. ক) ক্ষেত্রফল
  2. খ) বর্গ
  3. গ) বৃত্ত
  4. ঘ) ত্রিভূজ
ব্যাখ্যা
জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক:
অনুচ্ছেদ-৪:
(১) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সঙ্গীত “আমার সোনার বাংলা”র প্রথম দশ চরণ ৷ 
(২) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় পতাকা হইতেছে সবুজ ক্ষেত্রের উপর স্থাপিত রক্তবর্ণের একটি ভরাট বৃত্ত ৷ 
(৩) প্রজাতন্ত্রের জাতীয় প্রতীক হইতেছে উভয় পার্শ্বে ধান্যশীর্ষবেষ্টিত, পানিতে ভাসমান জাতীয় পুষ্প শাপলা, তাহার শীর্ষদেশে পাটগাছের তিনটি পরস্পর-সংযুক্ত পত্র, তাহার উভয় পার্শ্বে দুইটি করিয়া তারকা ৷ 
(৪) উপরি-উক্ত দফাসমূহ-সাপেক্ষে জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক সম্পর্কিত বিধানাবলী আইনের দ্বারা নির্ধারিত হইবে ৷

সূত্র: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। 
১৭,০৪০.
সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু কী?
  1. সুযোগের সমতা
  2. মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা
  3. জাতীয় সংস্কৃতি
  4. জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১৮ নং অনুচ্ছেদের বিষয়বস্তু - জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা।

অন্যদিকে,
’জাতীয় সংস্কৃতি’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ২৩ নং অনুচ্ছেদ।
’সুযোগের সমতা’ সম্পর্কিত অনুচ্ছেদ, ১৯ নং অনুচ্ছেদ।
’মৌলিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার কথা’ ১৫ নং অনুচ্ছেদে বর্ণিত।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৭,০৪১.
বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই কোন দেশের?
  1. ক) ইসরায়েল
  2. খ) তাইওয়ান
  3. গ) দক্ষিণ সুদান
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘভুক্ত ১৯৩টি দেশের মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে - ১৫৪টি দেশের; সম্পর্ক নেই - ৩৯টি দেশের।

কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা উল্লেখযোগ্য দেশ - ইসরায়েল, তাইওয়ান (বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে), রুয়ান্ডা, কঙ্গো, শাদ, বেনিন, টোগ, টোঙ্গা, দক্ষিণ সুদান অন্যতম।
১৭,০৪২.
বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান কত?
  1. ক) ৪৮তম
  2. খ) ৫৭তম
  3. গ) ৭৬তম
  4. ঘ) ৮৪তম
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা সূচক:
The Economist Intelligence Unit (EIU) কর্তৃক প্রকাশিত Global Food Security Index 2021 প্রকাশিত হয় ফেব্রুয়ারি ২০২২। এতে ১১৩টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। 
সূচক অনুযায়ী—
- শীর্ষ দেশ : আয়ারল্যান্ড
- সর্বনিম্ন দেশ : বুরুন্ডি 
• সার্কভুক্ত দেশের অবস্থান:
৭১. ভারত,
৭৫. পাকিস্তান,
৭৭. শ্রীলংকা,
৭৯. নেপাল ও
৮৪. বাংলাদেশ

সূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, এপ্রিল - ২০২২
১৭,০৪৩.
মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরটি কোথায় অবস্থিত?
  1. কক্সবাজারের মহেশখালী
  2. চট্টগ্রামের বাঁশখালী
  3. পটুয়াখালীর কলাপাড়া 
  4. কক্সবাজারের টেকনাফ
ব্যাখ্যা

মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর:
- মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর। 
- এটি কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে নির্মাণাধীন।
- এই বন্দরের নেভিগেশন চ্যানেল ১৬–১৮ মিটার গভীর হওয়ায় বড় আকারের জাহাজ বা মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়তে পারবে।
- প্রকল্পটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উদ্যোগ, যার মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরের ওপর চাপ কমবে এবং আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়বে।
- মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য নির্মিত জেটি সম্প্রসারণ করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বন্দরে রূপ দেওয়া হচ্ছে।
- জাপান সরকারের সরকারি সংস্থা জাইকার- সহায়তায় নির্মিত এই বন্দর ২০২৬ সালে প্রথম ধাপে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; 
- এবং ২০২৯–২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি সম্পন্ন হবে।
- এটি বড় কন্টেইনার জাহাজ হ্যান্ডলিং, ট্রানজিট সুবিধা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন [লিঙ্ক]। 

১৭,০৪৪.
ছয় দফার কত নং দফাটি প্রতিরক্ষা বিষয়ক?
  1. ক) দ্বিতীয়
  2. খ) তৃতীয়
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত। ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।

ছয় দফার দফা গুলো হলো:-
- প্রথম দফা (শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি)
- দ্বিতীয় দফা (কেন্দ্রিয় ও প্রাদেশিক সরকারের ক্ষমতা)
- তৃতীয় দফা (মুদ্রা ও অর্থবিষয়ক)
- চতুর্থ দফা (রাজস্ব ও শুল্কনীতি বিষয়ক)
- পঞ্চম দফা (বৈদেশিক মুদ্রা ও বাণিজ্য)
- ষষ্ঠ দফা (প্রতিরক্ষা বিষয়ক)।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
১৭,০৪৫.
হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি কে?
  1. আব্দুর রউফ
  2. সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত
  3. সাজেদা চৌধুরী
  4. বেগম রাজিয়া বানু
ব্যাখ্যা
সংবিধান:

- ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্যগণ হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হস্তলিখিত সংবিধানে প্রথম স্বাক্ষর করেন।
- হস্তলিখিত সংবিধানে ৩৯৯ জন গণপরিষদ সদস্যের স্বাক্ষর রয়েছে। 
- একমাত্র বিরোধী দলীয় সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সংবিধানে স্বাক্ষর করেন নি।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর ছাড়া ৯৩ পৃষ্ঠা।
- বাংলাদেশের হস্তলিখিত সংবিধান স্বাক্ষর সহ ১০৯ পৃষ্ঠা।
- হস্তলিখিত সংবিধানে স্বাক্ষর করেননি- সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২ হতে বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১৭,০৪৬.
মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ২ নং সেক্টরে
  2. ৬ নং সেক্টরে
  3. ৮ নং সেক্টরে
  4. ১১ নং সেক্টরে
ব্যাখ্যা
• তারামন বিবি:
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- তারামন বিবির আসল নাম ছিল তারাবানু।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের (বীর উত্তম)।
- মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পরে ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য বীর প্রতীক উপাধিতে ভূষিত করে।
- মৃত্যুবরণ করেন - ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর।

তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার।
১৭,০৪৭.
মুজিবনগর সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. খ) এম মনসুর আলী
  3. গ) খন্দকার মুশতাক আহমেদ
  4. ঘ) তাজউদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী প্রবাসী/মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।
এই সরকারের গঠন:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দিন আহমদ
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এ এইচ এম কামরুজ্জামান
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- পররাষ্ট্র ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৭,০৪৮.
মারকিউরাস নাইট্রাইট আবিষ্কার সাথে জড়িত কোন বাঙ্গালি বিজ্ঞানী?
  1. রাজেন্দ্র প্রসাদ
  2. আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ বসু
  4. জগদীশ চন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

◉ মারকিউরাস নাইট্রাইট (HgNO₂) আবিষ্কার করেন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। ১৮৯৫ সালে তাঁর এই আবিষ্কার বিশ্ববিজ্ঞানমহলে আলোড়ন তোলে এবং তাঁকে “মাস্টার অব নাইট্রাইটস” বলা হয়।

প্রফুল্ল চন্দ্র রায়: 

- আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্ম ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট, খুলনার পাইকগাছার রাড়ুলি গ্রামের জমিদার পরিবারে।
- মারকিউরাস নাইট্রাইট (HgNO₂) আবিষ্কার করেন প্রখ্যাত বাঙালি রসায়নবিদ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়।
- তিনি ১৮৯৫ সালে এই যৌগটি আবিষ্কার করেন।
- এটি দেশীয় বিজ্ঞানচর্চার পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত।

উল্লেখ্য, 
- তিনি নিজ বাসভবনে গবেষণা শুরু করে পরে বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই প্রতিষ্ঠান ছিল ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম রসায়নভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান।
- তিনি মোট ১২টি যৌগিক লবণ ও ৫টি থায়োএস্টার আবিষ্কার করেন। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া ও পত্রিকা রিপোর্ট। 

১৭,০৪৯.
সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয় -
  1. ১ জানুয়ারি, ১৯৯১
  2. ১ জানুয়ারি, ১৯৯২
  3. ১ জানুয়ারি, ১৯৯৩
  4. ১ জানুয়ারি, ১৯৯৪
ব্যাখ্যা
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি:
- ১৯৭৪ সালে দেশে প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৭৮ সালে 'মৌলিক শিক্ষা একাডেমি' নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে এটির নামকরণ করা হয় 'জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি'।
- এখানে প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
- এই প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করে থাকে।
- ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণীত হয়।
- এই আইনের অধীনে ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি দেশের ৬৮টি উপজেলায় এবং ১ জানুয়ারি, ১৯৯৩ সারা দেশে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন চালু হয়।

উৎস: i) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ওয়েবসাইট।
ii) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
১৭,০৫০.
১৯৭১ সালে কোথায় পাকিস্তানি বাহিনী অস্ত্র সমর্পণ করে?
  1. ক) ঢাকা সেনানিবাসে
  2. খ) কুমিল্লা সেনানিবাসে
  3. গ) যশোর সেনানিবাসে
  4. ঘ) চট্টগ্রাম সেনানিবাস
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে মোট ১১ টি সেক্টরে ও ৬৪ টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করা হয়।
-  যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।
- পাকিস্তানি বাহিনী যুদ্ধবন্দী হলেও ঢাকা সেনানিবাসে তাদের অবস্থান ছিল সশস্ত্র এবং জ্যাকব ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের অস্ত্র রাখার অনুমতি দেন।
- ১৯৭১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকা সেনানিবাসের গলফ মাঠে অস্ত্র সমর্পণ করে পাকিস্তানি বাহিনীর ৩০ হাজার সৈন্য।
- তাদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী। মিত্রবাহিনীর পক্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল সগৎ সিং অস্ত্র গ্রহণ করেন।
- আত্মসমর্পণের দলিলের নাম ছিল ‘ইন্সট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার’ । এই ঘটনাকে ফল অব ঢাকা বা ঢাকার পতন বলেও ডাকা হয়।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট এবং  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
১৭,০৫১.
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়?
  1. ক) সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা
  2. খ) রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা
  3. গ) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
  4. ঘ) জরুরী অবস্থার সরকার ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী
- শিরোনাম - সংবিধান [দ্বাদশ সংশোধন] আইন, ১৯৯১।
- উত্থাপনকারী - তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
- সংসদে পাশের তারিখ - ৬ আগস্ট, ১৯৯১।

বিষয়বস্তু সমূহ:
- রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তন।
- উপ-রাষ্ট্রপতি ও উপ-প্রধানমন্ত্রী পদগুলো বাতিল ঘোষণা।

উল্লেখ্য যে,  দ্বাদশ সংশোধনীকে চতুর্থ সংশোধনীর বিপরীত সংশোধনী বলা হয়।

তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন-একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি। 
১৭,০৫২.
অবিভক্ত বাংলায় কার সময়ে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) লর্ড ডানডাস
  2. খ) লর্ড আর্থার জেমস
  3. গ) লর্ড মেয়ো
  4. ঘ) লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক আদমশুমারি হয় ১৮৭২ সালে লর্ড মেয়োর সময়।
এই আদমশুমারি নানাবিদ কারণে মানসম্মত হয়নি। তবে এই আদমশুমারির মাধ্যমেই বাংলা প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট রাজ্যরূপে বিবেচিত হয়।
এরপর ১৮৮৯ এবং ১৮৯১ সালে আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান আমলে ১৯৬১ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া এবং বিবিএস)
১৭,০৫৩.
স্থির মূল্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের মাথাপিছু জিডিপি কত টাকা?
  1. ক) ১,৮২৭
  2. খ) ৮০,৪৬০
  3. গ) ১৫৩,১৯৭
  4. ঘ) ১৬০,০৬০
ব্যাখ্যা

২০১৮-১৯ অর্থবছরে
১. স্থিরমূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি - ১,৮২৭ মার্কিন ডলার বা ১৫৩,১৯৭ টাকা
২. স্থিরমূল্যে মাথাপিছু জাতীয় আয়/ GNI - ১,৯০৯ মার্কিন ডলার বা ১৬০,০৬০ টাকা।
উৎসঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৯।

১৭,০৫৪.
বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থনীতির মোট খাত - [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ১৪টি
  2. ১৫টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪:
- অর্থনীতির মোট খাত: ১৯টি ।

⇒ ১৯টি খাত হলো -
১। কৃষি ও বনজ এবং মৎস্য সম্পদ (উপখাত - ৪টি)।
২। খনিজ ও খনন (গ্যাস, তেল ইত্যাদি) (উপখাত - ২টি)।
৩। ম্যানুফ্যাকচারিং (উপখাত - ৩টি)।
৪। বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাষ্প এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (উপখাত - ২টি)।
৫। পানি সরবরাহ, পয়নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুর্নব্যবহার কার্যক্রম।
৬। নির্মাণ।
৭। পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, যানবাহন ও মোটরসাইকেল মেরামত।
৮। পরিবহণ এবং সংরক্ষণ (উপখাত - ৫টি)।
৯। আবাসন এবং খাদ্য পরিবেশন কার্যক্রম।
১০। তথ্য ও যোগাযোগ।
১১। আর্থিক এবং বীমা কার্যক্রম (উপখাত-৩টি)।
১২। রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম।
১৩। পেশাদার, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রম।
১৪। প্রশাসনিক ও সহায়তামূক পরিষেবা কার্যক্রম।
১৫। জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা।
১৬। শিক্ষা।
১৭। মানবস্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কার্যক্রম।
১৮। শিল্পকলা ও বিনোদন।
১৯। অন্যান্য সেবা কার্যক্রম।

উল্লেখ্য:
- অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুসারে অর্থনীতির মোট খাত ১৯টি।
- ২০০৫-০৬ ভিত্তি বছরের খাত ছিল ১৫টি।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১৭,০৫৫.
উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির সময় নিম্নের কোনটি ঘটে না?
  1. রপ্তানি হ্রাস পায়
  2. উৎপাধন ব্যয় বৃদ্ধি পায়
  3. দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়
  4. আমদানি হ্রাস যায়
ব্যাখ্যা
মুদ্রাস্ফীতি:
- মুদ্রাস্ফীতি বলতে বোঝায় পণ্য ও সেবার দাম বেড়ে যাওয়াকে, যা সাধারণত ঘটে অতিরিক্ত মুদ্রা সরবরাহের কারণে।
- একটি দেশের বাজারে পণ্যের মজুদ এবং মুদ্রার পরিমাণের মধ্যে ভারসাম্য থাকতে হয়।
- যদি পণ্যের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ অনেক বেড়ে যায় অর্থাৎ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।
- এর ফলে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে আপনাকে আগের চাইতে বেশি মুদ্রা খরচ করতে হবে। এর মানে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে ওই মুদ্রার মান বা ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে।

⇒ মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব:
• মুদ্রাস্ফীতির সবচেয়ে বিরূপ প্রভাব পড়ে সীমিত আয়ের মানুষের ওপর।

• আয় বণ্টনের উপর প্রভাব
- মুদ্রাস্ফীতির ফলে অর্থ ও সম্পদ এক শ্রেণীর লোকের হাত হতে অন্য এক শ্রেণীর লোকের হাতে চলে যায়।
- মুদ্রাস্ফীতির ফলে মুদ্রার মূল্য কমে যায়। সেই কারণে ওই দেশে উৎপন্ন পণ্যের রপ্তানি বৃদ্ধি পায়
- মুদ্রাস্ফীতি চলাকালীন ঋণগ্রহীতারা লাভবান হলেও ঋণদাতার ক্ষতিগ্রস্ত হন।
- মুদ্রাস্ফীতির ফলে কাঁচামালের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সামগ্রিক উৎপাদন খরচের ওপর এর প্রভাব পড়ে। ফলে জিনিষপত্রের দাম বেড়ে যায়।
- মুদ্রার মান পড়ে যাওয়ায় অন্য দেশ থেকে আমদানি কমে যায়।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক অর্থনীতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,০৫৬.
যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. তাজউদ্দীন আহমদ
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরে বাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

⇒ ১৯৫৩ সালে  ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,০৫৭.
প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা কার কর্তৃত্বে প্রযুক্ত হয়?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. মন্ত্রী
  4. সচিব
ব্যাখ্যা
সংবিধানের চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ।
- ২য় পরিচ্ছেদ: প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

⇒ অনুচ্ছেদ-৫৫: মন্ত্রিসভা:
(১) প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি মন্ত্রিসভা থাকিবে এবং প্রধানমন্ত্রী ও সময়ে সময়ে তিনি যেরূপ স্থির করিবেন, সেইরূপ অন্যান্য মন্ত্রী লইয়া এই মন্ত্রিসভা গঠিত হইবে।
(২) প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তত্বে এই সংবিধান-অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।
(৩) মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকিবেন।
(৪) সরকারের সকল নির্বাহী ব্যবস্থা রাষ্ট্রপতির নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে।
(৫) রাষ্ট্রপতির নামে প্রণীত আদেশসমূহ ও অন্যান্য চুক্তিপত্র কিরূপে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত হইবে, রাষ্ট্রপতি তাহা বিধিসমূহ-দ্বারা নির্ধারণ করিবেন এবং অনুরূপভাবে সত্যায়িত বা প্রমাণীকৃত কোন আদেশ বা চুক্তিপত্র যথাযথভাবে প্রণীত বা সম্পাদিত হয় নাই বলিয়া তাহার বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাইবে না।
(৬) রাষ্ট্রপতি সরকারী কার্যাবলী বন্টন ও পরিচালনার জন্য বিধিসমূহ প্রণয়ন করিবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৭,০৫৮.
বাংলাদেশ সংবিধানের কততম অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৯৩
  2. অনুচ্ছেদ ৯৪
  3. অনুচ্ছেদ ৯৫
  4. অনুচ্ছেদ ৯৬
ব্যাখ্যা

অধ্যাদেশ জারি করার ক্ষমতা:
- অধ্যাদেশ জারি করেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- বাংলাদেশ সংবিধানের  পঞ্চম ভাগের ৩য় পরিচ্ছেদের ৯৩ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। 

⇒ ৯৩ নং অনুচ্ছেদ: অধ্যাদেশ প্রণয়ন-ক্ষমতা
- সংসদ ভাঙা বা অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি জরুরি পরিস্থিতিতে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন।

অন্যদিকে,
- ৯৪ নং অনুচ্ছেদে সুপ্রীম কোর্ট প্রতিষ্ঠা।
- সংবিধানের ৯৫ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি।
- ৯৬ নং অনুচ্ছেদে বিচারকদের পদের মেয়াদ সম্পর্কে বলা হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭,০৫৯.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা-
  1. ক) এক-দলীয়
  2. খ) দ্বি-দলীয়
  3. গ) বহু-দলীয়
  4. ঘ) প্রভুত্বকারী দলীয়
ব্যাখ্যা
বহু-দলীয় ব্যবস্থা (Multi Party System): এই ব্যবস্থায় দেশসমূহে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল থাকে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজস্ব নীতি-আদর্শ ও কর্মসূচীর উপর ভিত্তি করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। যে রাজনৈতিক দলটি নির্বাচনে একক সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন লাভ করে সেই রাজনৈতিক দলটি সরকার গঠন করে। তবে কোন একটি দল একক সংখ্যা গড়িষ্ঠতা লাভ করতে ব্যর্থ হলে একাধিক রাজনৈতিক দলের সম্মিলনে জোট সরকার (Coalition Government) গঠিত হয়ে থাকে। বহু-দলীয় ব্যবস্থায় অনেকগুলো রাজনৈতিক দল থাকলেও কার্যক্ষেত্রে দু’টি রাজনৈতিক দল মূখ্য হয়ে উঠে। [সূত্র: পৌরনীতি ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এর বই]
১৭,০৬০.
জাতিসংঘে উত্থাপিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বমোট কতবার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে?
  1. ক) ২ বার
  2. খ) ৩ বার
  3. গ) ৪ বার
  4. ঘ) ৫ বার
ব্যাখ্যা
সোভিয়েত ইউনিয়নের ভেটো প্রয়োগ

পাকিস্তানের পতন অনিবার্য হয়ে উঠলে পতন ঠেকাতে আমেরিকা চেয়েছিল যুদ্ধ বিরতি করাতে। এই লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি অস্থায়ী সদস্য নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন ডাকা হলে জর্জ ডব্লিউ বুশ যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন এতে ভেটো প্রয়োগ করে।

- আবারও যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করলে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবারও ভেটো প্রয়োগ করে।

- শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের পরিবর্তে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ৭ ডিসেম্বর একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন তৃতীয়বারের মতো ভেটো প্রয়োগ করে।


তথ্যসূত্র: ইতিহাস ৩, বিএ অ্যান্ড বিএসএস প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,০৬১.
মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
  1. আ.স.ম. রব
  2. জিয়াউর রহমান
  3. আতাউল গণি ওসমানি
  4. এ.কে. খন্দকার
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি:

- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৭,০৬২.
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন কোনটি?
  1. রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
  2. ছাত্র ইউনিয়ন
  3. তমদ্দুন মজলিশ
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা কমিটি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
- তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর নামকরণ হয় পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য তথ্য:
- ভাষা আন্দোলন ছিলো বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার আন্দোলন।
- ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সময় উর্দু বনাম বাংলা বিতর্ক প্রথম ওঠে।
- ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। 
- ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা প্রকাশ করে 'তমদ্দুন মজলিশ।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে।
- ভাষার আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,০৬৩.
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ৪ ভাগে
  2. ৫ ভাগে
  3. ২ ভাগে
  4. ৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট) ও অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ) এ দুই শ্রেণিতে বিভক্ত।

i. সুপ্রিম কোর্ট:
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং এটি দুটি বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত।
- যথা- হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগ।

ii. অধস্তন দেওয়ানি বিচার বিভাগ:
অধস্তন দেওয়ানি আদালত চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত:
যথা- সহকারি জজের আদালত, সাবজজ আদালত, অতিরিক্ত জজের আদালত এবং জেলা জজের আদালত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৭,০৬৪.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী পরিচালিত অভিযান কী নামে পরিচিত?
  1. ক) অপারেশন ক্লিনহার্ট
  2. খ) অপারেশন সার্চলাইট
  3. গ) অপারেশন জ্যাকপট
  4. ঘ) অপারেশন ক্লোজডোর
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে যে অভিযানের মাধ্যমে গণহত্যা চালায় তা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে পরিচিত।
এই অভিযানের নীল নকশা প্রস্তুত করেন জেনারেল টিক্কা খান এবং মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী।
ঢাকা শহরে অপারেশন সার্চ লাইট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলো রাও ফরমান আলী।
২৫শে মার্চ রাতে পাকহানাদার বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায়।
অন্যদিকে,
- অপারেশন ক্লিনহার্ট : ২০০৩ সালে সেনাবাহিনী পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান
- অপারেশন জ্যাকপট : ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ কমান্ডোদের পরিচালিত নৌ অভিযান।
- অপারেশন ক্লোজডোর : ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৭,০৬৫.
মনসাপূজা উপলক্ষে নির্মিত কাহিনীভিত্তিক ছবি -
  1. ক) সখের হাঁড়ি
  2. খ) করন্ডিচিত্র
  3. গ) আলপনা
  4. ঘ) ঘটচিত্র
ব্যাখ্যা
করন্ডিচিত্র শোলা নির্মিত ক্যানভাসে কয়েকটি প্যানেলে অঙ্কিত মনসার কাহিনীভিত্তিক ছবি। এটি করন্ডি, মেড় বা মুন্ডুস নামে হিন্দু সমাজে পূজিত হয়। মনসাপূজা উপলক্ষে মালাকাররা করন্ডিচিত্র অঙ্কন করে।

সখের হাঁড়ি চিত্রিত মৃণ্ময় পাত্র।কলস বা ঘটসদৃশ মাটির পাত্রের গায়ে সাগু ও আঠার সঙ্গে রং মিশিয়ে তুলির মোটা টানে মাছ, পাখি, পদ্ম, পাতা ও জ্যামিতিক রেখা অাঁকা হয়। 

আলপনা এ শ্রেণীর একটি জনপ্রিয় লোকচিত্র। হিন্দু রমণীদের ব্রত এর আদি উৎস। লক্ষ্মীব্রত, সেঁজুতিব্রত, মাঘমন্ডল ব্রত, হরিচরণ ব্রত, বসুধারা ব্রত ইত্যাদি উপলক্ষে ছড়া ও কথা বলা এবং আলপনা দেওয়ার রীতি আছে। সাধারণত ঐহিক সুখ-সম্পদ ও আত্মীয়-স্বজনের মঙ্গল কামনা করে ছড়া বলে ও কাম্যবস্ত্তর আলপনা এঁকে দেবতার কাছে প্রার্থনা করা হয়। হিন্দু সমাজে  অন্নপ্রাশন ও  বিবাহ উপলক্ষেও আলপনা অাঁকা হয়। 

ঘটচিত্র মাটির তৈরী কলস জাতীয় পাত্র ঘট নামে পরিচিত। মঙ্গলঘট, মনসাঘট, নাগঘট, লক্ষ্মীর ঘট, কার্তিকের ভাঁড়, দক্ষিণরায়ের বারা ইত্যাদি বিচিত্র ধরনের ঘট রয়েছে। এ ঘটগুলি হিন্দুদের বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা উপলক্ষে নির্মিত হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৭,০৬৬.
নিচের কোন জেলায় সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি নেই?
  1. ক) শেরপুর
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) নোয়াখালী
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের মোট ৩৫টি জেলায় সরকারি মোট বনভূমি রয়েছে যার পরিমাণ ২৫,৭৫১.৯৬ বর্গ কিলোমিটার (শতকরা ১৭.৪৫ ভাগ)।
- এর মধ্যে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমির পরিমাণ ১৩,৩৯৯ বর্গকিলোমিটার (শতকরা ১২.৭৪ ভাগ)।
- শেরপুর, নোয়াখালী ও হবিগঞ্জসহ দেশের মোট ২৯টি জেলায় সংরক্ষিত বনভূমি রয়েছে।
- রাজশাহী জেলায় সরকারি কিংবা সংরক্ষিত বনভূমি নেই।
(তথ্যসূত্র: বিবিএস পকেটবুক-২০২০)
১৭,০৬৭.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গ বা বিভাগ কতটি?
  1. ৩টি
  2. ৫টি
  3. ৭টি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন বিভাগ:
- গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অঙ্গ বা বিভাগ তিনটি
i) আইন বিভাগ,
ii) শাসন বিভাগ 
iii) বিচার বিভাগ।

• সরকারের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী ও গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ - শাসন বিভাগ।
- শাসন বিভাগের দুইটি অংশ রয়েছে। যথা− রাজনৈতিক অংশ এবং অ-রাজনৈতিক অংশ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
১৭,০৬৮.
আলু চাষের জন্য কোন মাটি সবচেয়ে উপযোগী?
  1. এঁটেল
  2. বেলে
  3. বেলে দো-আঁশ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
আলু:
- আলু বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফসল।
- উৎপাদনের দিক থেকে ধান, গম ও ভুট্টার পরেই চতুর্থ স্থানে আছে আলু।
- আলু একটি স্টার্চ প্রধান খাদ্য এবং ভাতের বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।
- আলু চাষের জন্য বেলে দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।

উল্লেখ্য,
- বর্তমানে আলু চাষের মোট জমির শতকরা ৬৫ ভাগ জমিতে উন্নত জাতের আলু এবং ৩৫ ভাগ জমিতে দেশি জাতের আলুর চাষ হয়ে থাকে।
- ১৯৬০ সাল থেকে এ পর্যন্ত যেসব উন্নত জাতের আলুর চাষ হচ্ছে তার মধ্যে হিরা, আইলসা, পেট্রোনিস, মুল্টা, ডায়ামন্ড, কার্ডিনাল, মন্ডিয়াল, কুফরী সিন্দুরী, চমক, ধীরা, গ্রানোলা, ক্লিওপেট্রা ও চিনেলা জাতটি সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে।
- এগুলো সবই উচ্চফলনশীল জাত।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।
১৭,০৬৯.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
  1. সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ
  2. হামিদুজ্জামান খান
  3. গোপাল চন্দ্র পাল
  4. হামিদুর রহমান
ব্যাখ্যা

•  শহীদ মিনার:
- শহীদদের উদ্দেশে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৫২ সালের একুশে ফ্রেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার উদ্দেশ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে এই স্তম্ভ নির্মিত হয়, যা বর্তমানে ‘শহীদ মিনার’ নামে পরিচিত।
- শেরেবাংলা এ.কে. ফজলুল হক এবং আওয়ামী লীগের উদ্যোগে যুক্তফ্রন্ট সরকার কর্তৃক ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের সর্বত্র স্বতঃস্ফূর্তভাবে একুশে ফেব্রুয়ারি পালিত হয়। - এরফলেই শহীদ মিনারের নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা সহজতর হয়ে ওঠে। 
- বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী হামিদুর রহমান মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত শহীদ মিনারের স্থপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।
- তাঁরই রূপকল্পনা অনুসারে নভেম্বর, ১৯৫৭ সালে তিনি ও নভেরা আহমেদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে সংশোধিত আকারে শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ কাজ শুরু হয়।
- এ নকশায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেলের সম্মুখভাগের বিস্তৃত এলাকা এর অন্তর্ভূক্ত ছিল। 
- ১৯৬৩ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ ব্যক্তিত্ব আবুল বরকতের মাতা হাসিনা বেগম কর্তৃক নতুন শহীদ মিনারের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: ঢাকা জেলা অফিস।

১৭,০৭০.
শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয় -
  1. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে
  4. ২৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
•উপাধি:
- গণআন্দোলনের মুখে আইয়ুব সরকার ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয় এবং শেখ মুজিবসহ সকল বন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হয়। 
- মুক্তির পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক বিশাল জনসভায় শেখ মুজিবর রহমানসহ মামলায় অভিযুক্তদের এক গণসম্বর্ধনা দেয়া হয় এবং শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- এরপর থেকে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা ‘বঙ্গবন্ধু’ নামেই জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
 
উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, BA & BSS প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,০৭১.
সংবিধানের ৪০নং অনুচ্ছেদে কোন বিষয়টির উল্লেখ রয়েছে?
  1. ধর্মীয় স্বাধীনতা
  2. পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা
  3. বাক-স্বাধীনতা
  4. সংগঠনের স্বাধীনতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৩৫ - বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৩৬ - চলাফেরার স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৭ - সমাবেশের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৮ - সংগঠনের স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৩৯ - চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪০ - পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪১ - ধর্মীয় স্বাধীনতা।
- অনুচ্ছেদ ৪২ - সম্পত্তির অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৪৩ - গৃহ ও যোগাযোগের রক্ষণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৪ - মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ।
- অনুচ্ছেদ ৪৫ - শৃঙ্খলামূলক আইনের ক্ষেত্রে অধিকারের পরিবর্তন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৭,০৭২.
সম্প্রতি, (২০২৪সালে) স্থানীয় সরকারের কতজন জনপ্রতিনিধিকে অপসারণ করা হয়েছে?
  1. ১০৫০ জন
  2. ১২৮০ জন
  3. ১৭৬০ জন
  4. ১৮৭৫ জন
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

স্থানীয় সরকারের চার ধাপে সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ এক হাজার ৮৭৫ জনপ্রতিনিধিকে অপসারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে
- ১২ সিটি করপোরেশনের মেয়র,
- ৬০ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,
- ৪৯৩ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,
- ৪৯৩ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান,
- ৪৯৪ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও
- ৩২৩ পৌরসভার মেয়র।

এ সংক্রান্ত ২০২৪ সালের  ১৮ আগস্ট ও ১৯ আগস্ট পৃথক দুইটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সূত্র- স্থানীয় সরকার বিভাগ।
১৭,০৭৩.
ভারতের অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা কে?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. ইন্দিরা গান্ধী
  3. সুভাষচন্দ্র বসু
  4. জওহরলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা
মহাত্মা গান্ধী:

- তাঁর পুরো নাম মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- তিনি ২ অক্টোবর ১৮৬৯ সালে ভারতে জন্মগ্রহন করেন।
- তিনি ধর্মীয় সহনশীলতা এবং অহিংসার মতবাদ গ্রহণ করেছিলেন।
- অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তা ও ভারত রাষ্ট্রের জনক মহাত্মা গান্ধী।
- তিনি ১৮৮৮ থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে আইন অধ্যয়ন করেন।
- তিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের একটি কার্যকর রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপান্তরিত করেন।
- অসহযোগ আন্দোলন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বাধীনে প্রবর্তিত ভারতের একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী আন্দোলন।
- ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি অনশনের মাধ্যমে কলকাতায় (কলকাতা) দাঙ্গার অবসান ঘটান।
- ১৯৪৮ সালের জানুয়ারী মাসে তিনি একজন তরুণ হিন্দু ধর্মান্ধ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাপিডিয়া।
১৭,০৭৪.
ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল কোনটি?
  1. মহিষমারি
  2. ফালানপুর
  3. দহগ্রাম
  4. দুর্গাপুর
ব্যাখ্যা
দহগ্রাম ছিটমহল:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।
- ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দের পর থেকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা ছিটমহল পাটগ্রাম উপজেলার একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন ‘দহগ্রাম ইউনিয়ন’ হিসেবে পরিগণিত হয়।
- ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুন ইজারার মাধ্যমে উক্ত তিন বিঘা বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৭,০৭৫.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কত সালে জুলিও কুরি শান্তি পদক প্রদান করা হয়?
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৭৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান:

- শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বিশ্ব শান্তি পরিষদ' কর্তৃক 'জুলিও কুরি' শান্তি পদকে ভূষিত করে।
- ১৯৭২ সালের ১০ অক্টোবর চিলির সান্টিয়াগো শহরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব শান্তি পরিষদের সভায় বঙ্গবন্ধুকে ১৯৫০ সালে প্রবর্তিত জুলিও কুরি শান্তি পদকের জন্যে মনোনীত করা হয়।
- ২৩ মে, ১৯৭৩ সালে ঢাকায় বিশ্ব শান্তি পরিষদ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এর তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র বঙ্গবন্ধুর হাতে জুলিও কুরি শান্তি পদক তুলে দেন।

তথ্যসূত্র - কারাগারের রোজনামচা ও আওয়ামীলীগ ওয়েবসাইট।
১৭,০৭৬.
বাংলাদেশ রপ্তানি ক্ষেত্রে নিচের কোন দেশে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. সিঙ্গাপুর
  3. ভারত
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশসহ মোট ৩৮টি দেশে রপ্তানি ক্ষেত্রে জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে।
ইইউ বর্হিভূত দেশগুলো হলো:
- যুক্তরাজ্য
- অস্ট্রেলিয়া
- নিউজিল্যান্ড
- জাপান
- কানাডা
- তুরস্ক
- রাশিয়া
- বেলারুশ
- লিচেনস্টাইন
- নরওয়ে এবং
- সুইজারল্যান্ড।
(তথ্যসূত্র: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট)
১৭,০৭৭.
'সংগ্রাম' ও 'মইটানা' চিত্রকর্মের শিল্পী-
  1. ক) এস এম সুলতান
  2. খ) শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  3. গ) কামরুল হাসান
  4. ঘ) জয়নুল আবদিন
ব্যাখ্যা

• বাংলার ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের উপর ম্যাডোনা-৪৩ ছবি এঁকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন বিখ্যাত হন।
• তাঁর আঁকা আরো কিছু বিখ্যাত চিত্রকর্মঃ
- মনপুরা ৭০,
- সংগ্রাম,
- পাইন্যার মা,
- গায়ের বধূ,
- নবান্ন,
- মইটানা ইত্যাদি।

১৭,০৭৮.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার দশম ভ্যাক্সিন হিসেবে অনুমোদন দেয় কোন টিকাকে?
  1. ক) Comirnaty
  2. খ) Covovax
  3. গ) Nuvaxovid
  4. ঘ) Spikevax
ব্যাখ্যা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে করোনার দশম ভ্যাক্সিন হিসেবে অনুমোদন দেয় - Nuvaxovid.
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।
১৭,০৭৯.
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিচারপতি হয়েছেন কে?
  1. নুসরাত জাহান চৌধুরী 
  2. সোমা সাইদ
  3. রুবি কাজি 
  4. শালিনা মিয়া
ব্যাখ্যা

সোমা এস সাইদ: 
- যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের প্রথম মুসলিম বিচারপতি হিসেবে নিউইয়র্ক স্টেট - সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন সোমা এস সাইদ।
- আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন :দেড় দশকের বেশি সময় ।
-  ২০২১ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়নে কুইন্স কাউন্টি সিভিল কোর্টের বিচারক নির্বাচিত হন সোমা সাইদ। 
- ২০২২ সালে তাকে নিউ ইয়র্ক কাউন্টি ক্রিমিনাল কোর্টে দায়িত্ব দেওয়া হয়,
- সেখানে তিনি ২০২৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা।

১৭,০৮০.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস কবে?
  1. ২ মার্চ
  2. ৭ মার্চ
  3. ২৬ মার্চ
  4. ৩ মার্চ
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা দিবস: 
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।

- ১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ, ডাকসু সহ-সভাপতি আ. স. ম. আব্দুর রব এবং ডাকসু সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মাখন এক বৈঠকে বসে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন। 

- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। 
- সেই থেকে ২ মার্চ ই জাতীয় পতাকা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।  


- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং দি ডেইলি ষ্টার বাংলা (২ মার্চ, ২০২১)।
১৭,০৮১.
বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয় কত সালে?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৩ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ টেলিভিশন:
- বাংলাদেশ টেলিভিশন বাংলা ভাষায় বিশ্বের প্রথম টেলিভিশন।
- এটি ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবন (বর্তমান রাজউক ভবন) থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৮০ সাল থেকে বিটিভি রঙিন সম্প্রচার শুরু করে।
- ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হয়।
- ২০০৪ সালের ১১ই এপ্রিল বিটিভি ওয়ার্ল্ড চালু হয়।
- ২০১৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সমগ্র ভারতে বিটিভি ওয়ার্ল্ডের সম্প্রচার শুরু হয়।
- ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে বিটিভি সম্প্রচার শুরু করে।
- বিটিভির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রের সংখ্যা ২টি। যথা:
• ঢাকা।
• চট্টগ্রাম।
- উপকেন্দ্র বা রিলে কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪টি। এগুলো হলো:
নাটোর, খুলনা, ময়মনসিংহ, সিলেট, রংপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, উখিয়া এবং রাঙ্গামাটি।

তথ্যসূত্র - বিটিভি ওয়েবসাইট।
১৭,০৮২.
হিন্দু লেখকগণ কোন মুসলিম শাসককে 'জগৎভূষণ' উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. নুসরত শাহ
  4. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা
আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,০৮৩.
২০২৪-২৫ অর্থবছরে GDP'র সাময়িক হিসাবে শিল্প খাতের অবদান কত?
  1. ৩৭.৪৪%
  2. ৩৫.৩৭%
  3. ৫১.৬২%
  4. ১০.৯৪%
ব্যাখ্যা

• GDP'র সাময়িক হিসাব: ২০২৪-২৫:

• বাংলাদেশের GDP'র খাতভিত্তিক অবদান (২০২৪-২৫)

- কৃষি: ১০.৯৪%
- শিল্প: ৩৭.৪৪%
- সেবা: ৫১.৬২%
 
• বাংলাদেশের GDP'র খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হার (২০২৪-২৫)

- কৃষি: ১.৭৯%
- শিল্প: ৪.৩৪%
- সেবা: ৪.৫১%

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।

১৭,০৮৪.
জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে, বাংলাদেশে জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ কোনটি?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) সিলেট
  3. গ) চট্রগ্রাম
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
• জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২ অনুসারে,
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম বিভাগ - ঢাকা।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম বিভাগ - বরিশাল।

- জনসংখ্যায় বৃহত্তম জেলা - ঢাকা।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম জেলা - বান্দরবান।

- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে।

- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি - ঢাকা বিভাগে।
- বিভাগ হিসেবে জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম - বরিশাল বিভাগে।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট।
১৭,০৮৫.
বাংলাদেশের তৈরি ল্যাপটপ কোনটি?
  1. শাপলা
  2. যমুনা
  3. দোয়েল
  4. এসার
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে তৈরি ল্যাপটপ দোয়েল:
- ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর এই ল্যাপটপের উদ্বোধন হয়।
- ল্যাপটপের মাদার বোর্ডসহ শতকরা ৬০ ভাগ যন্ত্রাংশই তৈরি করা হয়েছে দেশের মাটিতে।
-  ১৯৬৭ সালে টেলিফোন সেট উৎপাদনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল টেশিস কোম্পানি৷
- ১৯৬৪ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের IBM 1620 কম্পিউটার দিয়ে বাংলাদেশে কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হয়।
- এটি ছিল আইবিএম কোম্পানির একটি মেইনফ্রেইম কম্পিউটার।
- IBM 1620  সিরিজের কম্পিউটারটি স্থাপিত হয় তৎকালীন পাকিস্থান পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রে যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র।
- কম্পিউটারটি বর্তমানে ঢাকার আগারগাঁও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। 

তথ্যসূত্র:
১. মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-১, এসএসসি ও দাখিল, ভোকেশনাল। 
৩. প্রথম আলো।

১৭,০৮৬.
নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয়- 
  1. ১লা সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সাল
  2. ১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল
  3. ১লা জানুয়ারি, ২০১৮ সাল
  4. ১লা জানুয়ারি, ২০১৭ সাল
ব্যাখ্যা

- ১ নভেম্বর, ২০০৭ সালের  নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ করা হয়।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ:
- মূলত বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার জন্য ১৯৯৪ সালে একটি রিট মামলা করেছিলেন জেলা জজ ও জুডিশিয়াল এসোসিয়েশনের তৎকালীন মহাসচিব মাসদার হোসেন।
- সেই মামলাটি 'মাসদার হোসন মামলা' নামে পরিচিত, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে যার চূড়ান্ত রায় হয়েছিল ১৯৯৯ সালে।
- রায়ের আট বছর পর ১লা নভেম্বর, ২০০৭ সাল মূল নির্দেশনাটি বাস্তবায়ন করে বিচার বিভাগকে আলাদা করা হয়েছিল।
- নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ সংবিধানের ২২ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে।

উৎস: বিবিসি বাংলা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭,০৮৭.
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে কে নেতৃত্ব প্রদান করেন?
  1. এ টি এম হায়দার
  2. এ কে খন্দকার
  3. এ কে নিয়াজী
  4. জগজিৎ সিং অরোরা
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ:
- পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূচনা ঘটিয়েছিল, একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী অভিযান চালিয়ে ঢাকা ও অন্যান্য শহরগুলিতে হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এই অভিযানটি মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
- দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পর্যুদস্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- এই আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন পূর্বাঞ্চলের সম্মিলিত বাহিনী প্রধান লেঃ জেনারেল জগজিত সিং অরোরা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক লেঃ জেঃ এ কে নিয়াজী।
- এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মুক্তিবাহিনীর উপ-সেনা প্রধান ও বিমান বাহিনী প্রধান গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার।
- প্রতি বছর এই দিনটি "বিজয় দিবস" হিসাবে পালিত হয়।

উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে মুক্তিবাহিনীর নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন -
- এস ফোর্স অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কে এম সফিউল্লাহ,
- ২নং সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ টি এম হায়দার এবং,
- টাঙ্গাইল মুক্তি বাহিনীর অধিনায়ক জনাব কাদের সিদ্দিকী। 

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৭,০৮৮.
কততম সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০টি করা হয়েছে?
  1. ক) চতুর্দশ
  2. খ) পঞ্চদশ
  3. গ) ষোড়শ
  4. ঘ) সপ্তদশ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের বর্তমানে মোট আসন সংখ্যা ৩৫০ টি। এর মধ্যে ৩০০ টি আসন জনগণের ভোটে সরাসরি নির্বাচিত এবং ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত। ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৪৫টি থেকে ৫০টি করা হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১৭,০৮৯.
অপারেশন সার্চলাইটে কয় ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানি সৈন্য অংশগ্রহণ করে?
ব্যাখ্যা
অপারেশন সার্চ লাইট:
- ১৯৭১ সালের ১৫ মার্চ ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের সাথে সমঝোতার উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেনারেলসহ ঢাকায় আসেন। 
- ১৬ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক চলে।
- ২১ মার্চ ভুট্টো ঢাকায় আসেন এবং আলোচনায় অংশ নেন। 
- ইয়াহিয়া খান ভুট্টোর মতের বিরুদ্ধে যাওয়া সমীচীন মনে করেননি।
- কারণ তখন পাঞ্জাবে ভুট্টোর ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল। 
- তাছাড়া পাকিস্তান সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর অধিকাংশ সদস্য ছিলেন পাঞ্জাব থেকে আগত। 
- পাঞ্জাবিরা কিছুতেই ছয় দফার বাস্তবায়নে সম্মত ছিল না। 
- আওয়ামী লীগও ছয়দফার প্রশ্নে ছাড় দিতে রাজি ছিল না। 
- ইতোমধ্যে ঢাকায় ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবসে পাকিস্তানী পতাকার পরিবর্তে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। 
- ভুট্টো ও ইয়াহিয়া খান বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনায় কালক্ষেপণ করে অলক্ষ্যে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পূর্ব পাকিস্তানে সেনাসদস্য ও সামরিক সরঞ্জামাদি আনয়ন করতে থাকে। 
- পাকিস্তান সামরিক জান্তা শক্তির সাহায্যে বাঙালির দমন করার একটি পরিকল্পনা করে রেখেছিল।
- এর নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। 
- ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ৩ ব্যাটেলিয়ান পাকিস্তানী সৈন্য 'অপারেশন সার্চলাইটে' অংশগ্রহণ করে।
- তারা ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা সংগঠিত করে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭,০৯০.
কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব কোন শাসনামলে হয়েছিল বলে মনে করা হয়?
  1. সেন 
  2. পাল
  3. গুপ্ত
  4. মুঘল 
ব্যাখ্যা

- কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব পাল শাসনামলে হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

কৌলীন্য প্রথা:

- রাঢ় ও  বরেন্দ্র এর ব্রাহ্মণদের মধ্যে কৌলীন্য প্রথা অধিক মাত্রায় প্রভাব বিস্তার করেছিল।
- তারা সম্ভবত কান্যকুব্জের পাঁচ ব্রাহ্মণ-রক্ষিতীশ, মেধতিথী, বিতরগ, সুধনিধি এবং সম্ভরি-এর উত্তরসূরি।
- গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক এবং বর্মণ রাজা হরিবর্মণ উভয়েই যথাক্রমে শকদ্বীপী ও বৈদিক ব্রাহ্মণ নিয়ে এসেছিলেন বলে জানা যায়।
- বলা হয়ে থাকে, এ ব্রাহ্মণদের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টির ফলস্বরূপ বাংলায় সামাজিক প্রথা হিসেবে কৌলিন্য প্রথার সূত্রপাত হয়েছে।
- সেন রাজা বল্লালসেনকেও কৌলিন্য প্রথার স্রষ্টা হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়, যদিও এ দাবির সমর্থনে সেন যুগের কোনো সাহিত্যিক ও উৎকীর্ণলিপি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
- তৃতীয় বিগ্রহপালের বনগাঁ তাম্রশাসনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, তাঁর কর্মকর্তা ঘন্তিস-এর প্রো-পিতামহের মাধ্যমে তাঁর পূর্বপুরুষের সাথে কোলঞ্চ (কান্যকুব্জ) ব্রাহ্মণ কচ্ছ-এর যোগসূত্র ছিল।
- ফলে কৌলীন্য প্রথার উদ্ভব পাল শাসনামলে হয়েছিল বলে মনে করা হয়।

উল্লেখ্য,
- কুলীন অর্থ হলো উত্তম পরিবার বা সম্ভ্রান্ত বংশজাত। 
- বাচস্পতি মিশ্র-এর মতে, এটি চিহ্নিত হয় আচার (শুদ্ধতা), বিদ্যা (জ্ঞান), বিনয় (শৃঙ্খলাবোধ), প্রতিষ্ঠা (শুদ্ধতার খ্যাতি), তীর্থ-দর্শন (তীর্থযাত্রা), নিষ্ঠা (কর্তব্যনিষ্ঠা), তপস্যা (কঠোর ধ্যান), আবৃত্তি (সমবর্ণে বিবাহ) এবং দান (উদারহস্ত) দিয়ে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।[লিঙ্ক]

১৭,০৯১.
তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয় কবে?
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৮২ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ২০০৩ সালে
ব্যাখ্যা
- ইনডেমনিটি হলো কোন বিচারকার্যকে বাধা প্রধান সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বা আইন। কোনো অভিযান বা অভ্যুত্থানের ক্ষয়ক্ষতি আদালতের বহির্ভূত রাখার জন্য আইনসভা যে বিল পাস করে তাকেই ইনডেমনিটি বিল বলে।
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৩ বার ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়

- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সাথে জড়িতদের দায়মুক্তি করে ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ সালে প্রথম ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন।

- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এরশাদ সরকারের জারিকৃত সকল প্রকার সামরিক আইন,অধ্যাদেশ,বিধি-নির্দেশ ইত্যাদিকে ও বৈধতাদানের উদ্দেশ্য ২য ইনডেমিনিটি বিলটি' ১৯৮৬ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে পাস হয় এবং সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীতে এটি অন্তর্ভুক্ত' করা হয়।

- ২০০২ সালের অপারেশন ক্লিন হার্টের বৈধতা প্রদান করার জন্য ২০০৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৭,০৯২.
সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কত সদস্য বিশিষ্ট ছিল?
  1. ২৯ সদস্য
  2. ৩৩ সদস্য
  3. ৪০ সদস্য
  4. ৪৪ সদস্য
ব্যাখ্যা

সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ:
- ১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহবায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রধান মন্ত্রীর পদ ছেড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন। ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।' এর প্রতিবাদে ভাষা আন্দোলন নতুন করে শুলুহয়ে যায়। এবার প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ছাত্র জনতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে। সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহবান করা হয়। ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎস: i) ইতিহাস ২য়, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

১৭,০৯৩.
পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগের আবিষ্কারক কে?
  1. বিজ্ঞানী মোবারক আহমদ খান
  2. বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম
  3. বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী
  4. বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
পাটের তৈরি সোনালি ব্যাগের আবিষ্কারক ড. মোবারক আহমদ খান।

সোনালি ব্যাগ:

- প্লাস্টিকের কোন উপকরণ ছাড়াই পাট দিয়ে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব পলিথিন ব্যাগ।
- এটি বাজারে প্রচলিত পলি ব্যাগের মতোই, তবে পচনশীল।
- পাট থেকে পলিথিন ব্যাগ উদ্ভাবন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী পরমাণু শক্তি কমিশনের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ জুট মিল করপোরেশনের বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা ড. মোবারক আহমদ খান।
- তিনি এই ব্যাগের নাম দিয়েছেন ‘সোনালি ব্যাগ’।

উল্লেখ্য,
- ২০ বছর ধরে মোবারক আহমদ খান পাটের বাণিজ্যিক ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন।
- ২০০৯ সালে এই বিজ্ঞানী পাটের সঙ্গে পলিমারের মিশ্রণ ঘটিয়ে মজবুত, তাপ বিকিরণরোধী ও সাশ্রয়ী ঢেউটিন ‘জুটিন’ বানান।
- এই পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি তাঁকে ২০১৫ সালে স্বর্ণপদক দেয়।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ২০২৪ সালে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পান ড. মোবারক আহমদ খান।

অন্যদিকে -
- পাটের জিনোম সিকোয়েন্স বা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেন বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম।
- পঞ্চব্রীহি ধান উৎপাদনের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন বিজ্ঞানী ডক্টর আবেদ চৌধুরী।

উৎস: i) বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন। 
          ii) ৭ এপ্রিল, ২০১৮, প্রথম আলো।
১৭,০৯৪.
কোন যুগে অস্ট্রিক জাতি বাংলায় বসতি স্থাপন করে?
  1. আর্য যুগে
  2. প্রাক-আর্য যুগে
  3. বৈদিক যুগে
  4. গুপ্ত যুগে
ব্যাখ্যা

বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- নৃতাত্ত্বিক গঠন প্রক্রিয়ার দিক থেকে বাঙালি জাতি হলো একটি সংকর জাতি।
- বাঙালি জাতিধারার নৃতাত্ত্বিক গঠনে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ থাকলেও অস্ট্রিক জাতির ভূমিকা সর্বাধিক।
- ইন্দোচীন থেকে আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠীর অন্তর্গত অস্ট্রিক জাতি প্রাক আর্য যুগে বাংলায় বসতি স্থাপন করে।
- এই অস্ট্রিক নরগোষ্ঠী থেকেই বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে।
- অস্ট্রিক নরগোষ্ঠীর সাথে দ্রাবিড় ও আর্য জাতির সংমিশ্রণে বাঙালি জাতি গড়ে উঠেছে।
- তবে ইতিহাসের নানা পর্যায়ে বাঙালি রক্তপ্রবাহে ভোটচীনীয়, ককেশীয়, ইংরেজ, পর্তুগিজ প্রভৃতি জাতিসত্ত্বার সংমিশ্রণ ঘটেছে।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

• অস্ট্রিক জাতি:
- অস্ট্রিক প্রাচীন বাংলার একটি নৃগোষ্ঠী।
- প্রাচীন বাঙালি জনগোষ্ঠীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রাক-আর্য বা অনার্য নরগোষ্ঠী ও আর্য নরগোষ্ঠী।
- আর্যপূর্ব জনগোষ্ঠী চার ভাগে বিভক্ত: নেগ্রিটো, অস্ট্রিক, দ্রাবিড় ও ভোটচীনীয়।
- অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে বলে মনে করা হয়। অস্ট্রিক জাতিকে নিষাদ জাতিগোষ্ঠী নামেও অভিহিত করা হয়।
- অস্ট্রিকদের আদি বাসস্থান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এখান থেকে তারা পূর্ব ভারত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ, শ্রীলঙ্কা এবং অন্যদিকে পাপুয়া নিউগিনি, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- অস্ট্রিকদের সংস্কৃতি ও সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। তারা কলা, লাউ, বেগুন, নারকেল, পান, সুপারি, হলুদ, আদা প্রভৃতি ফসলের চাষ করত। সম্ভবত গরু তাদের গৃহপালিত পশু ছিল না।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি। 

১৭,০৯৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'সংসদ অধিবেশন' এর উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৭১
  2. অনুচ্ছেদ ৭২
  3. অনুচ্ছেদ ৭৩
  4. অনুচ্ছেদ ৭৪
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ৭১ - দ্বৈত-সদস্যতায় বাধা।
- অনুচ্ছেদ ৭২ - সংসদের অধিবেশন।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ - সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাণী।
- অনুচ্ছেদ ৭৩ক - সংসদ সম্পর্কে মন্ত্রীগণের অধিকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৪ - স্পীকার ও ডেপুটি স্পীকার।
- অনুচ্ছেদ ৭৫ - কার্যপ্রণালী-বিধি, কোরাম প্রভৃতি।
- অনুচ্ছেদ ৭৬ - সংসদের স্থায়ী কমিটিসমূহ।
- অনুচ্ছেদ ৭৭ - ন্যায়পাল।
- অনুচ্ছেদ ৭৮ - সংসদ ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়মুক্তি।
- অনুচ্ছেদ ৭৯ - সংসদ-সচিবালয়।
- অনুচ্ছেদ ৮০ - আইনপ্রণয়ন-পদ্ধতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।
১৭,০৯৬.
মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত তৃতীয় বীরত্বসূচক খেতাব কোনটি?
  1. ক) বীরউত্তম
  2. খ) বীরপ্রতীক
  3. গ) বীরশ্রেষ্ঠ
  4. ঘ) বীরবিক্রম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে।
এগুলো হলো:
সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক – বীরশ্রেষ্ঠ – ৭ জন
দ্বিতীয় বীরত্বসূচক – বীরউত্তম - ৬৮ জন
তৃতীয় বীরত্বসূচক – বীরবিক্রম - ১৭৫ জন
চতুর্থ বীরত্বসূচক - বীরপ্রতীক - ৪২৬ জন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১৭,০৯৭.
প্রাচীন ’মহাস্থানগড়’ কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. তিস্তা
  2. সুরমা
  3. করতোয়া 
  4. কুশিয়ারা
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড়:
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি।
- পূর্বে এর নাম ছিল পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর।
- এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এখানে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন সাম্রাজ্যের প্রচুর নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে।
- এর অবস্থান বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
- বগুড়া শহর থেকে উত্তরে মহাস্থান গড় অবস্থিত।
- মহাস্থানগড় বগুড়ায় জেলার করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত।
- সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন যখন গৌড়ের রাজা ছিলেন তখন এই গড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন পর্যটন কেন্দ্র।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭,০৯৮.
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর  ছিলেন কে?
  1. এ. এন. হামিদুল্লাহ
  2. ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন
  3. আব্দুর রউফ তালুকদার
  4. ড. ফখরুদ্দীন আহমদ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ ব্যাংক:
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক স্থাপিত হয়।
- বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
- বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধানের পদবী গভর্নর।
-বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার (১২তম)।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদের মেয়াদ ৪ বছর।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর  ছিলেন- এ. এন. হামিদুল্লাহ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। 
১৭,০৯৯.
The duration of a valid cheque is
  1. 6 months
  2. 15 days
  3. 1 year
  4. 2 months
ব্যাখ্যা
চেক বুক:
- চেক বা Cheque হলো বিশেষভাবে মুদ্রিত এক ধরনের কাগজ যা Bank কর্তৃক গ্রাহকের হিসাবের বিপরীতে ইস্যু করা হয়ে থাকে।
- চেক একটি হস্তান্তরযোগ্য দলিল।
- ব্যাংক সাধারণত গ্রাহক বরাবর চেক প্রদান করে।
- ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনে গ্রাহক সেই চেক ইস্যু করতে পারেন।
- একটি চেক ইস্যুর তারিখ থেকে ছয় মাস মেয়াদে কার্যকর থাকে।
- ওই মেয়াদের মধ্যে তিনবার চেকে উল্লেখিত টাকা পরিশোধের জন্য ব্যাংকের কাছে প্রদান করা যায়।

উৎস: ১২ জুলাই ২০১৭, প্রথম আলো।
১৭,১০০.
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ-এ নিম্নের কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেননি?
  1. এরিক ক্ল্যাপটন
  2. জর্জ হ্যারিসন
  3. জন লেনন
  4. বব ডিলান
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন, যে ধরণের আয়োজন এর আগে বিশ্বের মানুষ কখনও দেখেনি।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।
- জর্জ হ্যারিসন, বব ডিলানের মতো তারকাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অন্যরকম এক পরিচিতি পায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সাধারণ মানুষের কাছে।

উল্লেখ্য,
- জন লেনন, রিঙ্গো স্টার, বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন এবং বিখ্যাত সব পপ শিল্পী এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
- তবে জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
ii) ১ অগাস্ট ২০২১, BBC।