বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১৬৬ / ৩০৬ · ১৬,৫০১১৬,৬০০ / ৩০,৮৩২

১৬,৫০১.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না?
  1. ২৪ নং অনুচ্ছেদ
  2. ২৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. ২৬ নং অনুচ্ছেদ
  4. ২৮ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ২৬ নং অনুচ্ছেদ: মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- সংবিধানের তৃতীয় ভাগ মৌলিক অধিকরের শুরুতেই ২৬ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না।
- আর যদি করা হয়, তবে তা স্বতঃসিদ্ধভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুসারে, মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী পূর্বেকার সকল আইন সাংবিধানিকভাবে অবৈধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬,৫০২.
সংবিধানের সংশোধন সংক্রান্ত বিধান কোন অধ্যায়ে অন্তর্ভুক্ত?
  1. ৭ম অধ্যায়
  2. ৮ম অধ্যায়
  3. ৯ম অধ্যায়
  4. ১০ম অধ্যায়
ব্যাখ্যা

• দশম অধ্যায়:
- সংবিধানের দশম অধ্যায়ে 'সংবিধানের সংশোধন' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
- সংসদের আইন-দ্বারা এই সংবিধানের কোন বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের দ্বারা সংশোধিত হইতে পারিবে।
- অনুরূপ সংশোধনীর জন্য আনীত কোন বিলের সম্পূর্ন শিরনামায় এই সংবিধানের কোন বিধান সংশোধন করা হইবে বলিয়া স্পষ্টরূপে উল্লেখ না থাকিলে বিলটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা যাইবে না।

- সংসদের মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত না হইলে অনুরূপ কোন বিলে সম্মতিদানের জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে না।
- উপরি-উক্ত উপায়ে কোন বিল গৃহীত হইবার পর সম্মতির জন্য রাষ্ট্রপতির নিকট তাহা উপস্থাপিত হইলে উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন, এবং তিনি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৬,৫০৩.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্স কোথায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. সিলেট
  3. ময়মনসিংহ
  4. চট্রগ্রাম
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্স: 
- চট্টগ্রামের হালিশহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্যাটারি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- মহানগরীর হালিশহরের আর্টিলারি সেন্টার অ্যান্ড স্কুলে এ কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

• জাদুঘরে স্থাপিত রয়েছে
- জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অতি বাস্তব প্রতিকৃতি।
- মহান মুক্তিযুদ্ধে মুজিব ব্যাটারির প্রথম গোলাবর্ষণকারী ঐতিহাসিক ৩.৭ ইঞ্চি হাউইটজার।
- আর্টিলারি রেজিমেন্টে ব্যবহৃত গোলাবারুদ ও সব কামানের প্রতিরূপ।
- মহান মুক্তিযুদ্ধে গোলন্দাজ বাহিনীর উল্লেখযোগ্য অপারেশনসমূহের গৌরবময় ইতিহাস।

সূত্র- যুগান্তর।
১৬,৫০৪.
‘ডাচ ডিজিজ‘ কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) অর্থনীতি
  2. খ) রাজনীতি
  3. গ) পরিবেশ
  4. ঘ) যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• মূলত একটি মাত্র প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অতি নির্ভরতা (৮০ ভাগ বা বেশি) এবং ভবিষ্যতে এই সম্পদের পরিমাণ বা মূল্য হ্রাস পেলে যে আর্থিক মন্দার সৃষ্টি হয়, সেটাকে ডাচ ডিজিজ বলা হয়ে থাকে। 
• ডাচ ডিজিজ কথাটি প্রথম ১৯৭৭ ব্যবহার করে দ্য ইকোনমিস্ট ম্যাগাজিন।
• ১৯৫৯ সালে নেদারল্যান্ডসে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুদের সন্ধান পায় দেশটি।
• বিপুল পরিমাণ গ্যাসের উত্তোলন ও রপ্তানির ফলে নেদারল্যান্ডসের অর্থনীতি প্রাথমিক দিকে সমৃদ্ধ হলেও পরবর্তী সময়ে এ গ্যাসেই তাদের বিপর্যয় ডেকে আনে অর্থনীতিতে।
• ম্যাগাজিনটি নেদারল্যান্ডসের এ অর্থনৈতিক বিপর্যয়কে বুঝানোর জন্য ডাচ ডিজিজ কথাটির প্রয়োগ করেন।
• অর্থাৎ ডাচ ডিজিজ বলতে বোঝায় কোনো দেশ একটি মাত্র প্রাকৃতিক সম্পদ কিংবা একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিনির্র্ভরতা (৮০ ভাগ বা বেশি) এবং ভবিষ্যতে এ সম্পদের কিংবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভঙ্গুর অবস্থা সৃষ্টি হলে যে আর্থিক মন্দার সৃষ্টি হয়, সেটাকে ডাচ ডিজিজ বলা হয়ে থাকে।
• ডাচ জিজিজের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে ভেনিজুয়েলা। ভেনিজুয়েলা বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদকারী দেশ এবং উৎপাদিত তেলের প্রায় সবটাই রফতানি করে থাকে।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট ও বণিক বার্তা।
১৬,৫০৫.
গতকাল ০৭ অক্টোবর বিশ্বব্যাংক `South Asia Economic Focus' নামের প্রতিবেদন ২০২১-২২ অর্থ বছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কত দিয়েছে?
  1. ক) ৫.১%
  2. খ) ৬.৪%
  3. গ) ৬.৯%
  4. ঘ) ৭.১%
ব্যাখ্যা
- করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার উচ্চ প্রবৃদ্ধির দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
- চলতি ২০২১–২২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
- বিশ্বব্যাংকের সাউথ এশিয়ান ইকোনমিক ফোকাস প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
- এতে সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে আরও বেড়ে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।
- প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সরকার জিডিপিতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

তথ্যসূত্র: দৈনিক প্র্রথম আলো।
১৬,৫০৬.
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র কোনটি?
  1. রক্তে পাওয়া বাংলা, রক্ত দিয়ে রাখব
  2. সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়
  3. লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই
  4. স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক
ব্যাখ্যা
- কলকাতা মিশনে কর্মরত জনাব হোসেন আলী সর্বপ্রথম ১৯৭১ সালের ১৮ই এপ্রিল বিদেশের কোন দুতাবাসে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কুটনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন।
- এছাড়া দিল্লী, লন্ডন, ওয়াশিংটন, নিউইয়র্কসহ আরও কয়েকটি স্থানে কুটনীতিকরা বাংলাদেশের হয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির যাত্রা শুরু হয়।
- 'সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়' হল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূলমন্ত্র।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।
১৬,৫০৭.
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়- 
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৬ সালে
  4. ১৯৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

- আদমশুমারি:
- আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় দশ বছর পরপর।
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয় – ১৯৭৪ সালে।
- প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৭.৬৪ কোটি।
- এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট ৬টি আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে যথা: ১৯৭৪, ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০২২ সালে।
- ষষ্ঠ আদমশুমারির নাম হয় 'জনশুমারি ও গৃহগণনা'।
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

১৬,৫০৮.
কোন সভ্যতা নদী কেন্দ্রিক ছিলো না?
  1. ক) মিশর
  2. খ) গ্রিক
  3. গ) ব্যাবিলন
  4. ঘ) সিন্ধু
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা প্রাচীন গ্রিসের কয়েকটি নগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে। আড্রিয়াটিক, ঈজিয়ান ও ভূমধ্যসাগর সাগর দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় গ্রিক সভ্যতাকে ওসেনিয়ান বা সাগরীয় সভ্যতাও বলা হয়।
অন্যদিকে মিশর, সিন্ধু ও ব্যাবিলনীয় সভ্যতা যথাক্রমে নীলনদ, সিন্ধু নদী এবং ইউফ্রেতিস ও টাইগ্রিস নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১৬,৫০৯.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, আউশ ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা -
  1. দিনাজপুর
  2. কুমিল্লা
  3. ময়মনসিংহ
  4. চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

ধান উৎপাদন:
- বাংলাদেশের প্রায় ৮০-৮৫ ভাগ জমিতে ধান চাষ করা হয়।
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ - ২০২৪ অনুসারে ময়মনসিংহ জেলায় সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়।
- বিভাগ অনুসারে রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপন্ন হয়।
- আউশ ধান উৎপাদনে শীর্ষে কুমিল্লা জেলা।
- আমন ধান উৎপাদনে শীর্ষে দিনাজপুর জেলা।
- বোরো ধান উৎপাদনে শীর্ষে ময়মনসিংহ জেলা।

তথ্যসূত্র - কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১৬,৫১০.
Who was the first Independent king of Bengal?
  1. ক) Gopal
  2. খ) Shashank
  3. গ) Lokkhon Sen
  4. ঘ) Dhormo Pal
ব্যাখ্যা
শশাঙ্ক:

- বাংলাদেশের ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ - পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।
- উত্তর ভারতে শশাঙ্কের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন হর্ষবর্ধন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫১১.
In which type of account we should deposit our money in order to earn higher rate of return?
  1. ক) Current
  2. খ) Savings
  3. গ) Fixed deposit
  4. ঘ) Home savings account
ব্যাখ্যা
ফিক্সড ডিপোজিট:

- উচ্চ হারে রিটার্ন অর্জনের জন্য আমাদের ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিতে হবে।
- ফিক্সড ডিপোজিট হলো একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যাংকের দ্বারা প্রদত্ত এক ধরনের সুদের নির্দিষ্ট হার।
- এই বিনিয়োগের মেয়াদের উপর নির্ভর করে সুদের হার ২.৯০% – ৮% পর্যন্ত হতে পারে ।
- যদি বিনিয়োগকারী প্রবীণ নাগরিক হোন তাহলে ০.২৫% থেকে ০.৫০% সুদ বেশি হতে পারে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১৬,৫১২.
কত সালে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনটি প্রবর্তন করা হয়?
  1. ২০০১ সালে
  2. ২০০৮ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা
মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন:
- মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন ও অধ্যাদেশ রহিতক্রমে এতদসংক্রান্ত আইন পুনঃপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন।
- মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনটি প্রবর্তন করা হয় ২০১২ সালে।

⇒ মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন -
- এই আইন মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ নামে অভিহিত হইবে।
- ইহা ৩ মাঘ, ১৪১৮ বঙ্গাব্দ/১৬ জানুয়ারি, ২০১২ খ্রিস্টাব্দ তারিখ হতে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য হবে।

উল্লেখ্য,
⇒ দেশে মানি লন্ডারিং ঠেকাতে ২০০২ সালে প্রথম মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন করা হয়।
- পরে কয়েক দফা এই আইনের সংশোধন করা হয়।
- মানি লন্ডারিং আইন অনুযায়ী, অর্থ বা সম্পত্তি পাচারের অর্থ হচ্ছে দেশের বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করে দেশের বাইরে অর্থ বা সম্পদ পাঠানো কিংবা রক্ষণ করা।
- আবার দেশের বাইরে এমন অর্থ বা সম্পত্তি, যাতে বাংলাদেশের স্বার্থ রয়েছে, কিন্তু তা আনা হয়নি, তা–ও মানি লন্ডারিং আইনে অপরাধ।
- আবার বিদেশ থেকে প্রকৃত পাওনা দেশে না আনা কিংবা বিদেশে প্রকৃত দেনার অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করা এই আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়।

⇒ মানিলণ্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২ বাংলাদেশের একটি আইন যা ২০০২ সালের ৭ নং আইন হিসাবে চিহ্নিত এবং ৭ই এপ্রিল, ২০০২ তারিখে আইন হিসাবে প্রচারিত। আইনটি ৩০শে এপ্রিল ২০০২ তারিখ থেকে কার্যকর হয়। এ আইনটি “মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ (সংশোধন) আইন” দ্বারা ২০০৩ সালে সংশোধন করা হয়। পরে, ২০১২ সালে এই আইনটি রহিত করা হয়।

উৎস: আইন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৬,৫১৩.
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত কতবার প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ২ বার
  2. খ) ৩ বার
  3. গ) ৪ বার
  4. ঘ) ৫ বার
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ৩ বার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়।
যথা -
- ১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ ভোটে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর দেশে দ্বিতীয়বার প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশে সর্বশেষ প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জয় লাভ করেন।

- ১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হলে প্রত্যক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বন্ধ হয়ে যায়।
- বর্তমানে পরোক্ষভাবে অর্থ্যাৎ সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়।

সূত্র- নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশের সংবিধান।

১৬,৫১৪.
GDP হিসাবের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি গণ্য করা হয় না?
  1. ক) দেশে কর্মরত বিদেশীদের আয়
  2. খ) রপ্তানি আয়
  3. গ) প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স
  4. ঘ) ইপিজেডসমূহের উৎপাদন
ব্যাখ্যা
GDP (Gross Domestic Product) স্থূল দেশজ উৎপাদন হলো একটি দেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে উৎপন্ন সকল পণ্য ও সেবার মূল্যের সমষ্টি।

GDP হিসাব নির্ণয়ের ক্ষেত্রে বিদেশে অবস্থিত প্রবাসীদের অর্জিত আয় যুক্ত হয় না। তবে দেশে কর্মরত বিদেশীদের অর্জিত আয় যুক্ত হয়।

অন্যদিকে,
মোট জাতীয় আয় (GNP) নির্ণয়ের ক্ষেত্রে প্রবাসীদের অর্জিত আয় বা রেমিট্যান্স যুক্ত হয় এবং দেশে অবস্থিত বিদেশীদের অর্জিত আয় যুক্ত হয় না।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক অর্থনীতি)
১৬,৫১৫.
বাংলাদেশের ’নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ পাস হয় কত সালে?
  1. ২০০২ সালে
  2. ২০০৫ সালে
  3. ২০০০ সালে
  4. ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা

• নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০:
- নারী ও শিশু নির্যাতনমূলক অপরাধসমূহ কঠোরভাবে দমনের উদ্দেশ্যে এ আইন পাশ করা হয়।
- এ আইনের ধারা ৩৫ টি।
- পরিচিতি: এই আইন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ নামে অভিহিত হইবে।
- আইনের প্রাধান্য : আপাততঃ বলবৎ অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১৬,৫১৬.
বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ -
  1. ৭৫০ টাকা
  2. ৮০০ টাকা
  3. ৯০০ টাকা
  4. ৯৫০ টাকা
ব্যাখ্যা
 অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা: 
- বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমঅধিকার ও সমমর্যাদা প্রদানে বদ্ধপরিকর।
- ২০০১ সালে বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন ২০০১ প্রণয়ন করা হয়। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫, ১৭, ২০ এবং ২৯ অনুচ্ছেদে অন্যান্য নাগরিকদের সাথে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমসুযোগ ও অধিকার প্রদান করা হয়েছে।
- সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদ দায়-দায়িত্বের অংশ হিসেবে ২০০৫-০৬ অর্থ বছর হতে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচি প্রবর্তন করা হয়।
- শুরুতে ১,০৪,১৬৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে জনপ্রতি মাসিক ২০০ টাকা হারে ভাতা প্রদানের আওতায় আনা হয়। 

২০২৩-২৪ বাজেটে -
- প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩.৬৫ লক্ষ হতে ২৯ লক্ষ জনে বৃদ্ধি করা হয়। 
- প্রতিবন্ধী ছাত্র/ছাত্রীদের মাসিক শিক্ষা উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৭৫০ টাকা হতে ৯০০ টাকায়, মাধ্যমিক স্তরে ৮০০ টাকা হতে ৯৫০ টাকায় এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৯০০ টাকা হতে ৯৫০ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়েছে।

উৎস: জাতীয় বাজেট ২০২৩-২৪।
১৬,৫১৭.
ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
  2. আইন, বিচার ও সংসদ
  3. পররাষ্ট্র
  4. স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়
ব্যাখ্যা

ড. মুহাম্মদ ইউনূস:
- বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- তিনি বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক যৌথভাবে ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ১৯৮৭ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।

⇒ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৯৬ সালে সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সেই উপদেষ্টা পরিষদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- তত্ত্বাবধায়ক সরকার হলো বাংলাদেশের একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা, যার অধীনে দুইটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ কোন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে থাকে।
- ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- এর চারদিন পর সংবিধান অনুযায়ী ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- তারা হলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়াও,
- ১৯৯০ সালে প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত সরকার কার্যকাল, পদ্ধতি ও সাংবিধানিকতার বিচারে ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ না হলেও বাস্তবে সেটিই ছিল প্রথম নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং পরবর্তী সাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভিত্তিভূমি ও পথনির্দেশক।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।
iii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,৫১৮.
যদি একটি দল টানা দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেয়, তাহলে কী হবে?
  1. সতর্কবার্তা দেওয়া হবে
  2. নিবন্ধন স্থগিত হবে
  3. নিবন্ধন বাতিল হবে 
  4. আর্থিক জরিমানা হবে
ব্যাখ্যা
- টানা দুইটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিল হবে।

রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিলের কারণ:
- কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১৬,৫১৯.
'আনোয়ারা' ছবিটি পরিচালনা করেন কে?
  1. ক) মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. খ) জহির রায়হান
  3. গ) তারেক মাসুদ
  4. ঘ) তানভীর মোকাম্মেল
ব্যাখ্যা
 • জহির রায়হান: 
- জহির রায়হান ছিলেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, লেখক।
- ১৯৩৫ সালে তিনি ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা মওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ কলকাতা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যাপক এবং ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন।

⇒ জহির রায়হান পরিচালিত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে:
- Stop Genocide,
- জীবন থেকে নেওয়া,
- কখনও আসেনি,
- কাজল,
- কাঁচের দেয়াল,
- বেহুলা,
- আনোয়ারা,
- সঙ্গম,
- বাহানা প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১৬,৫২০.
বাংলাদেশের কোন বিভাগে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বসবাস নেই?
  1. ক) ঢাকা
  2. খ) খুলনা
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ৩১.৫ লক্ষ। দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যেই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের বসবাস রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সর্বাধিক ১৫ লক্ষ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৬ লক্ষ, ঢাকা বিভাগে ৩ লক্ষ, সিলেট বিভাগে ৩ লক্ষ, রংপুর বিভাগে ২ লক্ষ এবং বরিশাল ও খুলনা বিভাগে ২.৫ লক্ষ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ শ্রেণী)
১৬,৫২১.
সপ্তম জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের অন্যতম কার্যক্রম কোনটি ছিল?
  1. গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি
  2. পাবর্ত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি
  3. ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল
  4. বর্নিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ:
- ‘ইনডেমনিটি’ শব্দের অর্থ হচ্ছে শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা।
- ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ হলো সেই অধ্যাদেশ, যে অধ্যাদেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের শাস্তি এড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা থেকে শাস্তি এড়ানোর জন্য বাংলাদেশে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছিল, যা দেশের ইতিহাসে ডার্কেস্ট ল’ বা সবচেয়ে কালো আইন নামে পরিচিত।
- ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ এ ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি অধ্যাদেশ জারি করেন।
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে খন্দকার মোশতাক হন দেশের রাষ্ট্রপতি।
- বঙ্গবন্ধুর খুনি ও তাদের দোসররা নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধানের হত্যাকে আইনসিদ্ধ করতে চেয়েছিল।
- তাই তখন খুনিদের ‘প্রয়োজনে’ জারি করা হয় ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ।
- খন্দকার মোশতাক আহমেদ কর্তৃক ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি অধ্যাদেশের আকারে এ আইনটি প্রণীত হয়; যা ১৯৭৫ সালের অধ্যাদেশ নম্বর ৫০ নামে অভিহিত ছিল।
- ১৯৭৯ সালে সংসদ কর্তৃক ওই ইনডেমনিটি অনুমোদন করা হয়।
- ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর পর সংশোধিত আইনে এ আইনটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর সপ্তম জাতীয় সংসদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ নামক ইতিহাসের কালো আইনটি বাতিল করা হয়।
- এর ফলে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ সুগম হয় এবং ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হাইকোর্ট কর্তৃক সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। 

এছাড়াও,
- ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গঙ্গা নদীর পানি বন্টন বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। 
- ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল ‘পার্বত্য চট্রগ্রাম শান্তি চুক্তি’।

উৎস: i) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
         ii) ১২ নভেম্বর ২০২১, যুগান্তর।
১৬,৫২২.
চাণক্যের বিখ্যাত গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র কতখন্ডে রচিত?
  1. ক) ১৫
  2. খ) ১৬
  3. গ) ১৭
  4. ঘ) ১৮
ব্যাখ্যা

- চাণক্য খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০ অব্দে জন্ম গ্রহণ করে।
- সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী কৌটিল্য যিনি অতীব বুদ্ধিমান ‘চাণক্য’ বা সম্রাটের প্রাথমিক জীবনের শিক্ষক বিষ্ণুগুপ্ত বলেও পরিচিত।।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির দিকপাল ও ভারতের ম্যাকিয়াভ্যালি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
- চন্দ্রগুপ্তের এবং বিন্দুসারের উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
- তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হল অর্থশাস্ত্র ( ১৫ খন্ডে ) ও চাণক্যনীতি।
- অর্থশাস্ত্র গ্রন্থটি রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতিকৌশলের সার সংক্ষেপ।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ , বিবিএস প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,৫২৩.
মুসলিম লীগ কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. লাহোর
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. আলীগড়
ব্যাখ্যা
মুসলিম লীগ:
- মুসলিম লীগ উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল,
- এর প্রতিষ্ঠা হয় বাংলাদেশের ঢাকায়।
- ১৯০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ঢাকায় আয়োজিত মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনের অধিবেশনে এ দলের সূচনা ঘটে।
- শুরুতে আগা খানের নেতৃত্বে এবং পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে পরিচালিত মুসলিম লীগ মুসলিম জাতীয়তাবাদের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এই দলটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টিতে মূল নেতৃত্ব দেয়।
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে বাংলায় মুসলিম লীগ সাফল্য অর্জন করে।
- একই বছরে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক মুসলিম লীগে যোগদান করলে তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা কার্যত মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভায় রূপান্তরিত হয়।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫২৪.
পূর্ববাংলায় প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচন ছিল কোনটি?
  1. ১৯৫৪ সালের নির্বাচন
  2. ১৯৬৫ সালের নির্বাচন
  3. ১৯৭০ সালের নির্বাচন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের গুরুত্ব:
- ১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের নির্বাচনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- পূর্ববাংলায় এটি ছিল প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোটে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
- নির্বাচন ছিল অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ।
- নির্বাচনে সরকারি দলের এমন শোচনীয় পরাজয় ছিল বিরল ঘটনা।
- পূর্ববাংলার তৎকালীন সরকার নির্বাচনে পরাজয়ের সম্ভাবনা এড়ানোর জন্য নির্বাচন পিছিয়ে দেন, কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা করেননি।
- এই নির্বাচনে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ লাভ করেছিল এবং তারা উক্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার দাবির সপক্ষে ভোট দিয়ে জনগণ পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছিল।
- এই নির্বাচনে মুসলিম লীগের পরাজয়ের ফলে পাকিস্তান গণপরিষদে উক্ত দলের সদস্য সংখ্যা হ্রাস পায়, ফলে পাকিস্তানে কোয়ালিশন সরকার গঠন অপরিহার্য হয়ে পড়ে।
- পূর্ববাংলায় সেই যে মুসলিম লীগের পতন ঘটলো, এরপর আর কখনো এখানে মুসলিম লীগ দল শক্তিশালী হতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫২৫.
বক্সারের যুদ্ধ হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং _____________ এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
  1. সিরাজ-উদ-দৌলা, সুজা-উদ-দৌলা, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম
  2. মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা
  3. মীর জাফর, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এবং সুজা-উদ-দৌলা
  4. মীরজাফর, সিরাজ-উদ-দৌলা এবং মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম
ব্যাখ্যা
বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ নবাব মীর কাসিম ও তাঁর মিত্রশক্তির সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ। 
- পলাশীর যুদ্ধের পর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
- মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাহিনী এবং মীর কাসিম, মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা-এর সম্মিলিত সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াই হয়েছিল।
 
উল্লেখ্য,
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে।
- এই যুদ্ধের ফলে বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন।
- সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়।
- মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) Britannica.
১৬,৫২৬.
গণ-অভ্যুত্থানে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন -
  1. ৩ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  2. ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  3. ১১ ডিসেম্বর, ১৯৯০
  4. ১৭ ডিসেম্বর, ১৯৯০
ব্যাখ্যা
এরশাদ সরকারের সামরিক শাসনের পতন:
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- টানা ৯ বছর আন্দোলনের পর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গড়ে ওঠা সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের দুর্বার আন্দোলনেই পতন ঘটে স্বৈরশাসক এরশাদের।
- ধারাবাহিক আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৯৯০ সালের ১০ অক্টোবর শিক্ষার্থী জেহাদ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়।
- ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী মিছিলে হামলা চালায় নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের ক্যাডাররা।
- সে হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শামসুল আলম খান মিলন।
- এর পর সারাদেশের শহর-বন্দর, এমনকি গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।
- অবশেষে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরশাদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিবিসি বাংলা।
১৬,৫২৭.
নিম্নের কোন ব্যক্তিত্ব “নাইটহুড” উপাধি প্রাপ্ত?
  1. ড. মুহম্মদ ইউনুস
  2. ফজলে হাসান আবেদ
  3. ড. আনিসুজ্জামান
  4. আখতার হামিদ খান
ব্যাখ্যা
ফজলে হাসান আবেদ:
- ব্রাকের প্রতিষ্ঠাতা ও ইমেরিটাস চেয়ার স্যার ফজলে হাসান আবেদ।
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ ১৯৩৬ সালের ২৭শে এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ২০১০ সালে তিনি ব্রিটেনের সম্মানজনক নাইট উপাধিতে ভূষিত হন।
- স্যার ফজলে হাসান আবেদ ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর মারা যান। 

উল্লেখ্য,
- যুক্তরাজ্যের রানির দেওয়া অন্যতম সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি ‘নাইট’।
- ব্রিটিশ সরকার ১৩৪৮ সাল থেকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য নাইট উপাধি ঘোষণা করে।
- ২০১০ সালে দ্বিতীয় বাঙালি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এ গৌরবময় উপাধি অর্জন করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা ফজলে হাসান আবেদ।
- বাংলাদেশসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বেশ কটি দেশে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ায় তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এছাড়াও,
- ২০১৭ সালে ‘নাইট’ উপাধি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আখলাকুর রহমান চৌধুরী।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম বাঙালি হিসেবে ‘নাইট’ খেতাব পেয়েছিলেন।

উৎস: i) ব্র্যাক ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
১৬,৫২৮.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মুসলিম লীগ কতটি আসন লাভ করে?
  1. ক) ২৩৭
  2. খ) ১৪৩
  3. গ) ২২৮
  4. ঘ) ৩০৯
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট:
• ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।যথা: 

১. আওয়ামী মুসলিম লীগ – হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা ভাসানী
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি – শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি – মওলানা আতাহার আলী
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল – হাজী মোহাম্মদ দানেশ
• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৮টি আসন লাভ করে।
• এর মধ্যে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনও ছিল।
• ১৯৩৭ সাল থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষমতায় আসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৭টি আসন।
• যুক্তফ্রন্টের ২২৮টি আসনের মধ্যে
» আওয়ামী মুসলিম লীগ পায় ১৪৩টি আসন,
» কৃষক শ্রমিক পার্টি ৪৮,
» নেজামে ইসলাম ২২,
»গণতন্ত্রী দল ১৩, এবং
»খেলাফতে রববানী পার্টি পায় ২টি আসন।
» অমুসলিম আসনে কংগ্রেস পায় ২৫টি,
 » তফসিলী ফেডারেশন ২৭টি এবং সংখ্যালঘুদের যুক্তফ্রন্ট পায় ১৩টি আসন।

SOURCE: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক ।
১৬,৫২৯.
'জাতীয় নাগরিক পার্টি' কত তারিখে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  2. ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  3. ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  4. ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
ব্যাখ্যা
জাতীয় নাগরিক পার্টি:
- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
- জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে এ দলটি গঠিত হয়।
- জাতীয় নাগরিক পার্টি'র প্রতীক শাপলা।

উৎস: প্রথম আলো।
১৬,৫৩০.
কোন সাম্রাজ্যের পতনের পর স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে?
  1. গুপ্ত
  2. সেন
  3. কুষাণ
  4. মৌর্য
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টীয় প্রায় ৪ শতকের শুরুতে উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রথম গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- মগধ বা বরেন্দ্রের অধিপতি ছিলেন গুপ্তদের আদিপুরুষ শ্রীগুপ্ত। 
- প্রথম চন্দ্রগুপ্তের হাত ধরে গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর একে একে সমুদ্রগুপ্ত, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বিক্রমাদিত্য, ১ম কুমারগুপ্ত মহেন্দ্রাদিত্য, স্কন্ধগুপ্ত বিক্রমাদিত্যের প্রবল পরাক্রান্ত শাসন লক্ষ করা যায়।
- তবে পরবর্তীকালের গুপ্ত শাসকগণ অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছিলেন।
- তারপর হুনদের আক্রমণের মধ্য দিয়ে গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।

⇒ ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বিশাল গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- সেই অস্থিতিশীল পরিবেশে বাংলাদেশে দুটো স্বাধীন রাষ্ট্রের উত্থান ঘটে।
- এর একটি হচ্ছে স্বাধীন 'বঙ্গ রাষ্ট্র', অপরটি 'গৌড় রাজ্য।

⇒ স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্র:
- গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব বঙ্গে একটি স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে। স্বাধীন বঙ্গ রাষ্ট্রের রাজারা তামার পাতে খোদাই করা রাজ নির্দেশ জারি করতেন। এগুলোকে তাম্রশাসন বলা হতো। এ রকম ৭টি তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।
- স্বাধীন বঙ্গরাজ্যে চন্দ্রগুপ্ত, ধর্মাদিত্য ও সমাচারদেব নামের তিনজন রাজা ছিলেন। তারা ৫২৫-৬০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোট ৭৫ বছর রাজত্ব করেন। তারা 'মহাধিরাজ' উপাধি ধারণ করতেন। এতে তাদের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচয় পাওয়া যায়। স্বাধীন বঙ্গের যথেষ্ট যশ, খ্যাতি, প্রভাব ও সমৃদ্ধির কথা জানা যায়। সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে গৌড়ের রাজা শশাঙ্কের নেতৃত্বে বাংলার পুন্ড্র বা পণ্ড্রবর্ধন, গৌড় এবং বঙ্গকে একত্রিত করে একটি বিশাল গৌড় রাজ্য স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫৩১.
মনিপুরী নৃগোষ্ঠী বসবাস করে কোথায়?
  1. সিলেট
  2. পটুয়াখালী
  3. রাঙ্গামাটি
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

মণিপুরী: 
- মণিপুরী আদিবাসীদের আদি নিবাস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর।
- ঐতিহাসিক মণিপুর রাজ্য থেকে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংকটে তারা বাংলাদেশে আগমন করে।
- প্রথম অভিবাসন ঘটে মণিপুর-বার্মা যুদ্ধের সময় (১৮১৯–১৮২৫)।
- তখন মণিপুর রাজপরিবারের সদস্যরা সিলেট অঞ্চলে আশ্রয় নেন।
- বর্তমানে তারা প্রধানত বাংলাদেশের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় বাস করে।
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানায় এদের ঘন বসতি রয়েছে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১৬,৫৩২.
সোহরাওয়াদী কোন দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা?
  1. কংগ্রেস
  2. আওয়ামী লীগ
  3. মুসলিম লীগ
  4. কৃষক-প্রজা পার্টি
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী:
- অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

⇒ ১৯২১ সনে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হবার পর দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের অসাম্প্রদায়িক মানসিকতা, উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও গভীর স্বদেশপ্রেম দ্বারা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হন।
- ১৯২১ সালে শহীদ সোহরাওয়ার্দী বঙ্গীয় আইন পরিষদে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
- তিনি ব্রিটিশ শাসন অবসানের লক্ষ্যে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯২৩ সালে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ এর নেতৃত্বে 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তি সম্পাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

⇒ ১৯৩৭ সালে তিনি মুসলিম লীগে যোগ দেন।
- ১৯৪৯ সালের আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- পাকিস্তানে ১৯৫৬ সালে যে সংবিধান প্রণয়ন হয় তার পিছনেও শহীদ সোহরাওয়ার্দীর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
- ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৩ সালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে.এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর প্রস্তাব অনুযায়ী সেই দলের নামকরণ করা হয় 'পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ'।
- ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবরের তৃতীয় কাউন্সিল সভায় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হিসেবে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেয়া হয়।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫৩৩.
'তিন নেতার মাজার'-এর সাথে সংশ্লিষত ব্যক্তি নয় কে?
  1. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. খাজা নাজিমুদ্দিন
  4. এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
'তিন নেতার মাজার'-এর সাথে সংশ্লিষত ব্যক্তি নয় আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। 

তিন নেতার মাজার
:
- রাজধানী ঢাকার দোয়েল চত্বরের কাছে অবস্থিত তিন নেতার মাজার বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম নিদর্শন।
- বাংলাদেশের জাতীয় তিন নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, খাজা নাজিমুদ্দিন এবং এ কে ফজলুল হক-এর সমাধির উপর ১৯৬৩ সালে স্থপতি মাসুদ আহমদ ও এস এ জহিরুদ্দিনের নকশায় তিন নেতার মাজার স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছে।
- তিন নেতার মাজারের কাছেই রয়েছে হাইকোর্ট এবং শিশু একাডেমি।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতার পূর্ব সময়ে এই তিন মহান নেতাই তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। বাংলার বাঘ খ্যাত শের-এ-বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী। ফজলুল হক ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া যুক্তফ্রন্ট গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
- খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৪৮ সালে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন। ১৯৫১ সালে তাঁকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়।
- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯২৪ সালে কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র হন এবং খাজা নাজিমুদ্দিনের মন্ত্রীসভায় তিনি শ্রমমন্ত্রী নিযুক্ত ছিলেন। ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Daily Star.
১৬,৫৩৪.
বাংলাদেশে প্রথম কত সালে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়?
  1. ক) ১৯৪৩
  2. খ) ১৯৫৭
  3. গ) ১৯৫৫
  4. ঘ) ১৯৫৯
ব্যাখ্যা

১৯৫৫ সালে সিলেটের হরিপুরে বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়।
বাংলাদেশে প্রথম গ্যাস উত্তোলন করা হয় ১৯৫৭ সালে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন যা আমাদের দেশের গ্যাসে ৯৫-৯৯ ভাগ থাকে।
সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র সাঙ্গু।
১৯৯৭ সালে মাগুরছড়া ও ২০০৫ সালে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
উৎস: বাংলাপিডিয়া

১৬,৫৩৫.
চলতি অর্থবছরে সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা কত টাকা পর্যন্ত?
  1. ক) ১,০০,০০০ টাকা
  2. খ) ২,৫০,০০০ টাকা
  3. গ) ৪,০০,০০০ টাকা
  4. ঘ) ৬,০০,০০০ টাকা
ব্যাখ্যা
চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ২,৫০,০০০ টাকা। মহিলা ও ৬৫ বছর উর্ধ্ব করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,০০,০০০ টাকা।(সূত্র: এনবিআর ওয়েবসাইট)
১৬,৫৩৬.
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের কাজ কোনটি?
  1. রাজনৈতিক দল গঠন করা
  2. প্রার্থী মনোনয়ন
  3. ভোটার তালিকা প্রণয়ন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
নির্বাচন কমিশনের কাজ:
 
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করবে।
- রাষ্ট্রপতি ও সংসদ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন করবে।
- সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণ করবে।
- এলাকা ভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রণয়ন।
- সংবিধানের বিধান সাপেক্ষে নির্বাচন সংক্রান্ত সকল বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করতে পারবে।
 
তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫৩৭.
কয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ৪টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট গঠন:- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর।
• যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস:- সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােড।
যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল:- ৪ টি । এগুলো হলো - 
১। আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২। কৃষক-শ্রমিক পার্টি (এ. কে. ফজলুল হক) 
৩। নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী) 
৪। গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)

• যুক্তফ্রন্টের সভাপতি:- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
• পার্লামেন্টারি বাের্ডের সদস্য:- এ.কে. ফজলুল হক, হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী।
• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক:- নৌকা। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৩৮.
কোন ব্যাংকটি দীর্ঘদিন মালদ্বীপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) আরব- বাংলাদেশ ব্যাংক
  2. খ) ন্যাশনাল ব্যাংক
  3. গ) দি সিটি ব্যাংক
  4. ঘ) আইএফআইসি ব্যাংক
ব্যাখ্যা
১৯৮২ সালে বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সরকারের অনুমোদন প্রাপ্তি, মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রে প্রথম বৈদেশিক যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক অব মালদ্বীপ লিমিটেড) স্থাপন (পরবর্তী সময়ে ১৯৯২ সালে ব্যাংক অব মালদ্বীপ লিমিটেড-এ আইএফআইসি’র শেয়ার মালদ্বীপ সরকারের কাছে বিক্রি করা হয়)।
[ সূত্রঃ আইএফআইসি ব্যাংক]
১৬,৫৩৯.
মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা কোনটি?
  1. সাহিত্য
  2. নৃত্য
  3. চিত্রকলা
  4. ভাস্কর্য
ব্যাখ্যা

মণিপুরী:
- বাংলাদেশের বিখ্যাত মনিপুরী নাচ সিলেট অঞ্চলের।
- বর্তমানে মণিপুরীরা বৃহত্তর সিলেটে বসবাস করছে। সিলেট শহর ও শহরতলি, মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, কুলাউড়া ও বড়লেখা থানা, হবিগঞ্জের চুনারঘাট এবং সুনামগঞ্জের ছাতকে এদের বসবাস লক্ষ্য করা যায়।
- মণিপুরী সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধশালী ও ঐতিহ্যবাহী। নৃত্য ও সঙ্গীত মণিপুরীদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে সমৃদ্ধ শাখা হচ্ছে মণিপুরী নৃত্য।
- মণিপুরী ভাষায় নৃত্যের প্রতিশব্দ হচ্ছে জাগই (Jagoi)।
- এই নৃত্যে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চালনার মাধ্যমে বৃত্ত বা উপবৃত্ত সৃষ্টি করা হয়।
- মণিপুরী সংস্কৃতির সবচেয়ে উৎকৃষ্ট নিদর্শন হচ্ছে রাস (Rasa) নৃত্য।
- ভারতীয় সংস্কৃতিতে রাসার অবদান অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১৬,৫৪০.
দেশের প্রথম অলিম্পিক কমপ্লেক্স কোথায় নির্মিত হচ্ছে?
  1. খুলনা
  2. ঢাকা
  3. ময়মনসিংহ 
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

- দেশের প্রথম অলিম্পিক কমপ্লেক্স কোথায় নির্মিত হচ্ছে- ময়মনসিংহের ত্রিশালে ।
- সেনাবাহিনীর প্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের প্রথম অলিম্পিক কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।
- ত্রিশাল সামরিক প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রায় ১৭৩ একর জমিতে এ কমপ্লেক্স তৈরি করা হচ্ছে।
- ৩৩টি খেলার জন্য এখানে মাঠ থাকছে। ২৩টি ইনডোর গেম, ৭টি আউটডোর গেম ও ৩টি অ্যাকোয়াটিক গেম একসঙ্গে আয়োজন করা যাবে। প্রথম পর্যায়ে একটি ইনডোর স্টেডিয়াম করা হচ্ছে, যার মধ্যে ১২ হাজার ৫০০ আসন থাকবে।

উৎস: প্রথম আলো। 

১৬,৫৪১.
বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কোন পর্যায়ের উপাধি 'অ্যাডমিরাল'?
  1. সেনাবাহিনী
  2. বিমান বাহিনী
  3. নৌ-বাহিনী
  4. বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা

অ্যাডমিরাল:
- 'অ্যাডমিরাল' বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ চার-তারকা পদমর্যাদা।
- এই উপাধি সাধারণত নৌবাহিনী প্রধানকে দেওয়া হয়।
- যা নৌ-বাহিনীর সর্বোচ্চ অর্জনযোগ্য পদবি হিসেবে স্বীকৃত।
- অ্যাডমিরাল সশস্ত্র বাহিনীর নৌবাহিনী পর্যায়ের উপাধি, যা সেনাবাহিনীতে জেনারেল বা বিমানবাহিনীতে এয়ার চিফ মার্শাল-এর সমতুল্য।
- অ্যাডমিরাল উপাধিতে পদোন্নতি সিলেক্টিভ এবং সরকারি অনুমোদনের উপর নির্ভর করে।
- বর্তমানে নৌ-বাহিনীর 'অ্যাডমিরাল' এম নাজমুল হাসান।

তথ্যসূত্র - নৌ-বাহিনীর ওয়েবসাইট।

১৬,৫৪২.
নিচের কোন ব্যক্তি লাহোর প্রস্তাব উত্থাপক এর সাথে সম্পর্কিত?
  1. খাজা নাজিমউদ্দিন
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা

লাহোর প্রস্তাব:
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের বার্ষিক অধিবেশনে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক একটি প্রস্তাব পেশ করেন।
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি সভায় গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব নামে পরিচিত।
- লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তি ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব।
- এ প্রস্তাব ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যে পৃথক আবাসভূমির স্বপ্ন বপন করে।
- এ প্রস্তাবে ভারতে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও ১৯৪৬ সালের দিল্লি অধিবেশনে কেবল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব গৃহিত হয়।

​অন্যদিকে, 
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৬,৫৪৩.
ঐতিহাসিক ’বাঘা মসজিদ’ কোথায় অবস্থিত?
  1. খুলনা
  2. ঢাকা
  3. চট্টগ্রাম
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

• বাঘা মসজিদ:
- রাজশাহীর বাঘা শহরটি আয়তনে অনেক ছোট হলেও এর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই মসজিদটি ইতিহাসে এক বিরাট স্থান দখল করে আছে।
- ১৫২৩ খ্রিস্টাব্দে হুসেইন শাহী বংশের শাসক সুলতান নুসরাত শাহের শাসনামলে এটি নির্মিত হয়।
- মসজিদটি তার জটিল ফুল ও জ্যামিতিক নকশা মিশ্রিত চিত্তাকর্ষক পোড়ামাটির অলঙ্করণের জন্য সুপরিচিত।

- ৫০০ বছরেরও বেশি পুরানো হওয়া সত্ত্বেও শত শত চড়াই-উৎড়াই পেরিয়ে মসজিদটি এখনও অটুট অবস্থায় রয়েছে।
- শুধু দর্শনার্থীরাই নন; প্রার্থনার জন্য আগত স্থানীয় মুসলমানরাও এর আঙিনা, প্রার্থনা হল এবং সুন্দর খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বারগুলো প্রায়ই ঘুরে দেখেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং প্রথম আলো।

১৬,৫৪৪.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের প্রথম মিশন স্থাপিত হয় কোথায়?
  1. নয়াদিল্লি
  2. লন্ডন
  3. ওয়াশিংটন
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
- মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের প্রথম মিশন স্থাপিত হয় কলকাতায়।
- এদিন কলকাতায় অবস্থিত পাকিস্তান উপ-দূতাবাসের তৎকালীন ডেপুটি হাইকমিশনার এম হোসেন আলী পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
১৬,৫৪৫.
বাংলাদেশ WTO এর সদস্যপদ লাভ করে কত সালে?
  1. ১৯৯৯ সাল
  2. ১৯৯০ সাল
  3. ১৯৯৫ সাল
  4. ১৯৯১ সাল
ব্যাখ্যা

• বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (World Trade Organization):
- ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ সদস্য রাষ্ট্র আফগানিস্তান। ২৯ জুলাই, ২০১৬ সালে দেশটি বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার সদস্যপদ লাভ করেছিল।
- বাংলাদেশ সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য।
- বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভা শহরে অবস্থিত।
-  WTO এর পূর্বসুরী সংস্থা GATT.
- GATT প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৯৪৮ সালে ২৩ সদস্য নিয়ে। 
-  বাংলাদেশ WTO এর সদস্যপদ লাভ করে- ১ জানুয়ারি, ১৯৯৫।

উৎস: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার ওয়েবসাইট।

১৬,৫৪৬.
বাংলাদেশ 'জাতীয় শিশু দিবস' পালিত হয় কত তারিখ?
  1. ক) ৮ মার্চ
  2. খ) ২ মার্চ
  3. গ) ১৭ মার্চ
  4. ঘ) ২৬ মার্চ
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর জাতির জনক এবং বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতিল।
- শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গীপাড়া গ্রামে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা শেখ লুৎফর রহমান ছিলেন গোপালগঞ্জ দেওয়ানি আদালতের সেরেস্তাদার।
- মুজিব ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তৃতীয় ছিলেন। তিনি স্থানীয় গীমাডাঙ্গা স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
- চোখের সমস্যার কারণে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা চার বছর ব্যাহত হয়।
- ১৯৪২ সালে তিনি গোপালগঞ্জ মিশনারী স্কুল থেকে ম্যাট্রিক, ১৯৪৪ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে আই.এ এবং একই কলেজ থেকে ১৯৪৭ সালে বি.এ পাশ করেন।
- স্কুল জীবন থেকেই মুজিবের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলীর বিকাশ ঘটে।  
- অস্থিতিশীল অবস্থার সুযোগ নিয়ে একদল সংক্ষুব্ধ সেনাসদস্য ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাঁকে এবং পরিবারের অন্য যেসব সদস্য তাঁর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তাদের সবাইকে হত্যা করে। 
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম দিনকে কেন্দ্র করে ১৭ মার্চ জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৬,৫৪৭.
বাংলাদেশের কোন জেলায় জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম? [জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২]
  1. রাঙামাটি
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. জামালপুর
  4. শেরপুর
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি:
- বিভাগ: ঢাকা বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ২১৫৬ জন।
- জেলা: ঢাকা জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০,০৬৭ জন।

• জনসংখ্যার ঘনত্ব সবচেয়ে কম:
- বিভাগ: বরিশাল বিভাগ; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ৬৮৮ জন।
- জেলা: রাঙামাটি জেলা; প্রতি কিলোমিটারে বসবাস - ১০৬ জন।

উৎস: জনশুমারি ও গৃহগণনা চূড়ান্ত রিপোর্ট ২০২২।
১৬,৫৪৮.
নিচের কোনটি পূর্বদেশের জনপদ?
  1. ক) রাঢ়
  2. খ) বঙ্গ
  3. গ) গৌড়
  4. ঘ) সমতট
ব্যাখ্যা
গৌড়:

- পূর্বদেশের জনপদ হচ্ছে গৌড়।
- গৌড়, জনপদ  প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল। 
- মুর্শিদাবাদকে কেন্দ্র করে গৌড় জনপদটি পশ্চিম ভাগীরথীর নিকটে গড়ে উঠেছিল।
- মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং পশ্চিম বর্ধমান নিয়ে ছিল প্রাচীন গৌড় রাজ্য। 
- আদি অভিলেখর মধ্যে খ্রিস্টীয় ৫৫৪ অব্দে উৎকীর্ণ মৌখরি বংশীয় রাজা ঈশান বর্মণের হরাহ লিপিতে গৌড়বাসীর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- কোনো একসময় গৌড়ের অবস্থান উপকূলীয় অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- সাত শতকের প্রথম দিকে গৌড়ের অত্যন্ত শক্তিশালী রাজা শশাঙ্কের উত্থান গৌড়ের রাজ্যসীমার সম্প্রসারণ ঘটিয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ছিরুটি অঞ্চলে অবস্থিত ছিল। আর একারণেই মুর্শিদাবাদ গৌড়ের কেন্দ্রবিন্দু বলে পরিগণিত হয়।
- তেরো শতকে বাংলার মুসলমান সুলতানদের শাসনাধীন সমগ্র অঞ্চলই গৌড় নামে পরিচিত ছিল। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৪৯.
বাংলাদেশে কত প্রকার পাট চাষ হয়?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে পাটচাষ
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- নদী অববাহিকায় পলিযুক্ত দোআঁশ মাটিতে পাট ভালো হয়।
- পাটচাষের জন্য ২০° থেকে ৩৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও ১৫০ থেকে ২৫০ সেমি গড় বৃষ্টিপাত প্রয়োজনীয়।
- বাংলাদেশে দুই ধরণের পাট দেখা যায়। যথা - ১. দেশী পাট ও ২. তোষা পাট।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের কৃষিজ পণ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
১. খাদ্যশস্য  - চাল, ডাল, গম, তেলবীজ, সবজি, ফলমূল প্রভৃতি।
২. অর্থকরী ফসল - পাট, চা, ইক্ষু, তামাক, ফুল প্রভৃতি।
- ধান বা চাল বাংলাদেশের প্রধান খাদ্যশস্য।

তথ্যসূত্র - ১.বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ( নবম দশম শ্রেণি)।
১৬,৫৫০.
সিমলা ডেপুটেশনে মুসলমান প্রতিনিধিগণ সাক্ষাৎ করেন কার সাথে? 
  1. লর্ড মর্লি
  2. লর্ড মিন্টো
  3. লর্ড চেমস ফোর্ড
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা
সিমলা ডেপুটেশন
- সিমলা ডেপুটেশন ছিল ভারতীয় মুসলিমদের একটি প্রতিনিধি দল, যা ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর ভাইসরয় লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাৎ করে
- এই সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষায় ব্রিটিশ সরকারের সমর্থন আদায় করা।
- ১৮৯২ সালের ভারতীয় কাউন্সিল আইনে মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
- মুসলমান নেতারা উপলব্ধি করেন যে, নতুন শাসনতান্ত্রিক সংস্কারে তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করা জরুরি।
- আলীগড় কলেজের সেক্রেটারি নওয়াব মুহসিন-উল-মুলক এর উদ্যোগে লর্ড মিন্টোর সাথে সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।
- ১ অক্টোবর, আগা খানের নেতৃত্বে ৩৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল লর্ড মিন্টোর সাথে দেখা করে।
- প্রতিনিধিদল মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের দাবি সহ বিভিন্ন দাবি পেশ করে।
- লর্ড মিন্টো মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচনের প্রতি সমর্থন জানান।
- ১৯০৯ সালের মর্লি-মিন্টো সংস্কারে মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা হয়।
- এ উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের সৃষ্টির দিকে পরিচালিত করে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৫১.
বর্তমানে [অক্টোবর, ২০২৪] দেশে কয়টি ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য:

- ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ আর সৃষ্টিশীলতাকে লালন করার প্রত্যয়ে ইউনেস্কো ঘোষিত সংস্কৃতি বিষয়ক বিভিন্ন কনভেনশনের আলোকে বিএনসিইউ’র সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়।
- বর্তমানে দেশে ৫টি ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে
- এগুলো হলো: বাউলগান (২০০৮), জামদানি বুননশিল্প (২০১৩), মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬) ও শীতলপাটি বুননশিল্পের (২০১৭) ও ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ (২০২৩)।

উল্লেখ্য,
- ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আন্তসরকার কমিটির ১৮তম অধিবেশনে বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’।
- এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পর পঞ্চম বিমূর্ত ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর ‘ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় স্থান পেল রিকশা ও রিকশাচিত্র।

⇒ ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’:
- জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’।
- বাংলাদেশের ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ শিল্পের ঐতিহ্যগত গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনেস্কোর ২০২৩ সালে অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত Intergovernmental Committee’র ১৮তম অধিবেশনে ঢাকা শহরের রিকশা ও রিকশাচিত্রকে Intangible Cultural Heritage হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন।
১৬,৫৫২.
নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন কবে?
  1. ১৭৫৫ সালে
  2. ১৭৫৬ সালে
  3. ১৭৫৮ সালে
  4. ১৭৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

সিরাজউদ্দৌলা:
- আলীবর্দী খানের কোনো পুত্র ছিল না।
- তার তিন কন্যা আমেনা, ময়মুনা ও ঘষেটি ।
- ময়মুনা ও আমেনার দুই পুত্র ছিল।
- কিন্তু ঘষেটি বেগমের কোনো পুত্র ছিল না।
- আলীবর্দী খান আমেনার পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন।
- এ কারণে তাঁকেই তাঁর জীবিতকালে বাংলার নবাব পদে মনোনীত করে যান।
- আলীবর্দী খান দৌহিত্য ছিলেন সিরাজউদ্দৌলা।
- সিরাজ ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- তাঁর পিতার নাম মির্জা মুহম্মদ হাসিম মইনুদ্দীন খান।
- ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে নবাব আলীবর্দী খানের মৃত্যু হয়।
- তখন ১৭৫৬ সালে সিরাজউদ্দৌলা বাংলা বিহার ও উড়িষ্যার মসনদে আরোহণ করেন।
- নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ১৭৫৬ সালের ১০ এপ্রিল বাংলার সিংহাসনে বসেন।
- নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ১৭৫৬ সালে কলকাতায় ইংরেজদের ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ অধিকার করেন।
- তিনি কলকাতা অধিকার করে এর নাম রাখেন আলীনগর।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এসসি, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,৫৫৩.
কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র কত সালে চালু করা হয়?
  1. ১৯৬১ সালে
  2. ১৯৬২ সালে
  3. ১৯৬৩ সালে
  4. ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র:

- বাংলাদেশে পানিশক্তি দ্বারা পরিচালিত একমাত্র বিদ্যুৎ স্থাপনা হলো কর্ণফুলি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় অবস্থিত।
- ১৯৬২ সালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা হয়।
- কর্ণফুলি নদীর নির্ধারিত স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ করে সঞ্চিত পানির বিরাট জলাধার সৃষ্টি এবং পানির এই শক্তিকে গতিশক্তিতে রুপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- এজন্য ৬৭০.৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৪৫.৭ মিটার উঁচু বাঁধ তৈরি করা হয়।
- এই বাধেঁর পাশে ১৬ টি জলকপাট সংযুক্ত ৭৪৫ ফুট দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একটি জল নির্গমনপথ বা স্পীলওয়ে রয়েছ।

তথ্যসূত্র - রাঙ্গামাটি জেলা ওয়েবসাইট।
১৬,৫৫৪.
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কত?
  1. ৬৫ জন
  2. ৬৬ জন
  3. ৬৭ জন
  4. ৬৮ জন
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।
 
- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীর বিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীর প্রতীক : ৪২৪ জন।
 
তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৫৫.
বাংলাদেশের জাতীয় ওয়েব পোর্টাল -
  1. www.bangladesh.com
  2. www.bangladesh.gov.net
  3. www.bangladesh.gov.bd
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় ওয়েব পোর্টাল:
- অনেক দেশেরই জাতীয় ওয়েব পোর্টাল আছে। সরকার পরিচালিত এ ধরনের সাইট নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের তথ্যসেবার পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়।
- সরকারি সাইটের ডোমেইন বা ওয়েব ঠিকানায় .মড়া-এর সঙ্গে দেশের নির্ধারিত কোড থাকে।

⇒ বাংলাদেশের জাতীয় ওয়েব পোর্টাল www.bangladesh.gov.bd।
- এখানে .gov-এর পরে যুক্ত হওয়া .bd হচ্ছে কান্ট্রি কোড।
- ওয়েব পোর্টালটি ‘বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন’ নামেও পরিচিত।
- বিভিন্ন সেবা ও তথ্যের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরের ঠিকানাও এ পোর্টালে রাখা হয়েছে।
- অর্থাৎ কেউ যদি সরকারি কোনো সাইটের ঠিকানা না জানে, সমস্যা নেই।

⇒ এই পোর্টালের ঠিকানা জানা থাকলেই এখান থেকে সরকারি বিভিন্ন সাইটে যাওয়া যাবে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলার জন্য চালু করা সাইটের লিংকও আছে এখানে।
- সর্বসাধারণের জন্য সরকারি নির্দেশনা, বিজ্ঞপ্তির পাশাপাশি বিভিন্ন সেবার জন্য অনলাইনে আবেদন কিংবা নিবন্ধন করা যাবে এ পোর্টাল থেকে। এ ছাড়া পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আয়কর, অর্থ ও বাণিজ্য, নিয়োগ, ট্রেন ও বিমানের টিকিট বুকিং, পোস্টাল ও কুরিয়ার, রেডিও-টিভির খবর, ইউটিলিটি বিল, মৎস্য ও প্রাণী, ট্রেজারি চালানসংক্রান্ত সেবার লিংক পাওয়া যাবে পোর্টালটিতে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
ii) কালের কন্ঠ।
১৬,৫৫৬.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুসারে দেশে চালু কমিউনিটি ক্লিনিকের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ১৩,৫৯২টি
  2. খ) ১৩,৬৩৩টি
  3. গ) ১৩,৭১৫টি
  4. ঘ) ১৩,৮৮১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ অনুসারে দেশে বর্তমানে ১৩,৮৮১টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১ : পৃষ্ঠা-১৮৮)
১৬,৫৫৭.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফা কোনটি ছিল?
  1. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  2. মার্শাল ল প্রত্যাহার
  3. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা
  4. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ বিরোধী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গঠন করে।
- এই জোট 'যুক্তফ্রন্ট' নামে পরিচিত।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টে মূলত চারটি রাজনৈতিক দল ছিল।
- ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫৫৮.
কোনটি আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি?
  1. পেশাজীবী সংঘঠন
  2. সুশীল সমাজ
  3. আমলাতন্ত্র
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা

• গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব:
- আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তিই হল রাজনৈতিক দল।
- গণতন্ত্রের অপর নাম সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন।
- জনগণ প্রতিনিধি নির্বাচন করে পরোক্ষভাবে শাসনকার্যে অংশগ্রহণ করে।
- অধ্যাপক ফাইনার বলেন, "আধুনিক গণতান্ত্রিক শাসন কার্যত রাজনৈতিক দলের শাসন।" তাই গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব অপরিসীম।

•  গণতন্ত্রে রাজনৈতিক দলের গুরুত্ব ও ভূমিকা নিম্নরূপ-
১ । জনমত গঠন ও রাজনৈতিক সচেতনতা দান।
২। সরকার গঠন।
৩। আইন প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ ।
৪। শান্তিপূর্ণভাবে সরকার পরিবর্তন।
৫। বিরোধী বিকল্প পক্ষ।
৬। ভিন্নমুখী মতামত একত্রীকরণ।
৭। সংসদীয় সরকারের উপযোগী ।

উৎস: পৌরনীতি প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,৫৫৯.
মাতৃপ্রধান পরিবার ব্যবস্থার প্রচলন কোন জাতিসত্তায় রয়েছে?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. বম
  4. গারো
ব্যাখ্যা
গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।
- আশ্বিন মাসে একেক গ্রামের মানুষদের সামর্থ্যানুযায়ী সাত দিন কিংবা তিনদিন ধরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হতো।
- তাদের আদি ধর্মের নাম 'সাংসারেক'।

সূত্র: নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ।
১৬,৫৬০.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য-প্রস্থের অনুপাত কোনটি?
  1. ৯:৫
  2. ১২:৬
  3. ১০:৬
  4. ১৬:১২
ব্যাখ্যা

জাতীয় পতাকা:

- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং ১০:৬  অনুপাতে আয়তাকার, তাতে থাকবে সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পতাকা উত্তোলন করেন। সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ২ মার্চ ২০২২।

১৬,৫৬১.
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য কী?
  1. মূল্যস্তর স্থীতিশীল রাখা
  2. মুনাফা অর্জন
  3. বিনিয়োগ বৃ্দ্ধি
  4. অর্থ স্থানান্তর
ব্যাখ্যা

• কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্দেশ্য :
- মুদ্রা প্রচলন: ধাতব মুদ্রা ও কাগজী নোট ইস্যু করা; তবে এক টাকার নোট ইস্যু করে সরকার।
- ঋণ নিয়ন্ত্রণ: বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থবাজার স্থিতিশীল রাখা।
- মূল্যস্তরের স্থিতিশীলতা রক্ষা: অর্থের যোগান ও সুদের হার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্তর স্থিতিশীলতা রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য।
- অর্থ গঠন ও পরিচালনা: একটি শক্তিশালী ও শৃঙ্খলাপূর্ণ অর্থব্যবস্থা গড়ে তোলা ও পরিচালনা করা।
- ব্যাংক ব্যবস্থার সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ: সুসংহত ও শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও নিয়ন্ত্রণ করা।
- সরকারের ব্যাংক হিসেবে কাজ করা: কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের তহবিল সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন নিষ্পত্তি করে। 
- ব্যাংকের ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন: তালিকাভুক্ত ব্যাংকের ব্যাংকিং সংক্রান্ত লেনদেন নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম উদ্দেশ্য।
- নিকাশ ঘরের দায়িত্ব পালন: কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিকাশ ঘরের মাধ্যমে দেশের আন্তঃ ব্যাংকিং দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি করে। 
- মূলধন গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক তালিকাভুক্ত
ব্যাংকগুলোকে ঋণ প্রদান করে মূলধনের যোগান দিয়ে থাকে। 
- মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ: একেক দেশের মুদ্রার মান একেক রকম। আন্তর্জাতিক লেনদেনর জন্য দু'টি ভিন্ন মুদ্রার মধ্যে একটি বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়।

উৎস: ফিন্যান্স, ব্যাংকিং ও বীমা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,৫৬২.
বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা কোন ধরনের?
  1. যুক্তরাষ্ট্রীয়
  2. এককেন্দ্রিক
  3. রাজতন্ত্র
  4. কেন্দ্রশাসিত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকার: 
- সরকার যে কোন দেশের শাসনব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু।
- সরকারকে কেন্দ্র করে একটি রাষ্ট্রের শাসনতান্ত্রিক কার্যাবলি সম্পাদিত হয়।
- মূলত: রাষ্ট্রের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধিত হয় সরকারের মাধ্যমে।
- রাষ্ট্র গঠিত হয় চারটি মূল উপাদানের সমন্বয়ে যেমন, নির্দিষ্ট ভূ-খন্ড, জনগণ, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
- সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক।
- এবং সংসদীয় কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- অর্থাৎ এই সরকার কাঠামোয় একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে।
- কেন্দ্রীয় সরকারই রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সূতিকাগার হিসেবে আইন প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা পালন করবে।
- সরকারের তিনটি অঙ্গ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫৬৩.
'ভাওয়ালের গড় ও মধুপুর গড়' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) সাতক্ষীরা
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
শালবন:
- শালবন  এক ধরনের বনভূমি যেখানে শালগাছ মুখ্য উদ্ভিদ প্রজাতি।
- বনের শ্রেণীবিন্যাসে শালবনকে গ্রীষ্মমন্ডলীয় আর্দ্র পত্রঝরা বনাঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- ভারতেই এই শ্রেণীর বনভূমি প্রায় ১৩০ লক্ষ হেক্টর জায়গা দখল করে আছে।
- বাংলাদেশ এবং নেপালে রয়েছে মোট ১০ লক্ষ হেক্টরের বেশি স্থান জুড়ে এ ধরনের বনভূমি।
- বাংলাদেশে মোট শালবন এলাকা প্রায় ১,২১,০০০ হেক্টর অর্থাৎ দেশের বনভূমির শতকরা প্রায় ৩২ ভাগ।
- শালবন দেশের মাত্র কয়েকটি জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ছড়ানো।
- বেশির ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায়।
- এ বনাঞ্চল 'ভাওয়ালের গড় ও মধুপুরের গড়' নামে পরিচিত।
- ‘মধুপুর গড়’ নামেই এটি সুপরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৬,৫৬৪.
দেশে প্রথম ফাইভ জি প্রযুক্তি চালু হয় কত তারিখে?
  1. ২২ নভেম্বর ২০২১
  2. ১ ডিসেম্বর ২০২১
  3. ১২ ডিসেম্বর ২০২১
  4. ৩০ ডিসেম্বর ২০২১
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ফাইভ জি (ফিফথ জেনারেশন) ইন্টারনেট সেবা চালু হয় ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর।

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর কোম্পানি টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড দেশে প্রথমবারের মতো পরিক্ষামূলকভাবে ছয়টি স্থানে পঞ্চম প্রজন্মের এই প্রযুক্তি সেবা চালু করে।
চীনা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে এতে সহায়তা করে।

(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
১৬,৫৬৫.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন ছিলেন কে? 
  1. চৌধুরী মোহাম্মদ আলী
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. নুরুল আমিন
  4. ইসমাইল ইব্রাহিম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহষ্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা অমান্য করে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে ছাত্ররা মিছিল করে।
- ছাত্ররা দলবদ্ধ হয়ে শ্লোগান দিতে থাকলে পুলিশ বাহিনী এসে তাদের তাড়া করে এবং ছাত্রদের উপর কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। প্রতিবাদে ছাত্ররা ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে।
- এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন। ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়। তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

⇒ উল্লেখ্য:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

১৬,৫৬৬.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং কত সালে বাংলায় আসেন?
  1. ৬৩৮ সালে
  2. ৭৩২ সালে
  3. ৫৩২ সালে
  4. ৬৪৮ সালে
ব্যাখ্যা

হিউয়েন সাং:
- হিউয়েন সাং বাংলায় এসেছিলেন আনুমানিক ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে। [Wisdom Library]
- হিউয়েন সাং সাত শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি দেখেছেন, সমতটের ত্রিশটি বিহারে দু- হাজার শ্রমণের বাস।
- কনৌজে সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য গ্রহণের পর তিনি মগধের নালন্দা মহাবিহারে পড়াশোনা করেন।
- বাংলার কর্ণসুবর্ণ, পুন্ড্রনগর, সমতট এবং তাম্রলিপ্তি ভ্রমণ করেন।
- তিনি রাজনৈতিক, সামাজিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করেন, যা সাত শতকের বাংলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।
- তাঁর রচনা জিউ জি (সি-উ চি) মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ প্রদান করে।
- বৌদ্ধ গ্রন্থ সংগ্রহ তাঁর প্রধান লক্ষ্য হলেও, ভ্রমণকালীন বিভিন্ন অঞ্চলের বর্ণনায় তিনি বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখেন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এর বইয়ে দেওয়া আছে, হিউয়েন সাং বাংলায় এসেছিলেন আনুমানিক ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে।

উৎস: ¡) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
          ¡¡) Wisdom Library. [লিঙ্ক]

১৬,৫৬৭.
সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে নিম্নের কাকে অভিশংসন করা যেতে পারে?
  1. রাষ্ট্রপতি 
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি-কে অভিশংসন করা যেতে পারে।

রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President):

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন (Impeachment of the President) সম্পর্কে বলা আছে।

⇒ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ ভাগ নির্বাহী বিভাগের ৫২ নং অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অভিশংসন সম্পর্কে বলা আছে।
- ৫২ (১) এই সংবিধান লংঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসিত করা যেতে পারবে; এর জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের স্বাক্ষরে অনুরূপ অভিযোগের বিবরণ লিপিবদ্ধ করে একটি প্রস্তাবের নোটিশ স্পীকারের নিকট প্রদান করতে হবে; স্পীকারের নিকট অনুরূপ নোটিশ প্রদানের দিন হতে চৌদ্দ দিনের পূর্বে বা ত্রিশ দিনের পর এই প্রস্তাব আলোচিত হতে পারবে না; এবং সংসদ অধিবেশনরত না থাকলে স্পীকার অবিলম্বে সংসদ আহবান করবেন।
- ৫২ (২) এই অনুচ্ছেদের অধীন কোন অভিযোগ তদন্তের জন্য সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত বা আখ্যায়িত কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা কর্তৃপক্ষের নিকট সংসদ রাষ্ট্রপতির আচরণ গোচর করতে পারবেন।
- ৫২ (৩) অভিযোগ-বিবেচনাকালে রাষ্ট্রপতির উপস্থিত থাকবার এবং প্রতিনিধি-প্রেরণের অধিকার থাকবে।
- ৫২ (৪) অভিযোগ-বিবেচনার পর মোট সদস্য-সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে অভিযোগ যথার্থ বলিয়া ঘোষণা করে সংসদ কোন প্রস্তাব গ্রহণ করলে প্রস্তাব গৃহীত হবার তারিখে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হবে।
- ৫২ (৫) এই সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ-অনুযায়ী স্পীকার কর্তৃক রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব-পালনকালে এই অনুচ্ছেদের বিধানাবলী এই পরিবর্তন-সাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে যে, এই অনুচ্ছেদের (১) দফায় স্পীকারের উল্লেখ ডেপুটি স্পীকারের উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে এবং (৪) দফায় রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হইবার উল্লেখ স্পীকারের পদ শূন্য হইবার উল্লেখ বলিয়া গণ্য হবে; এবং (৪) দফায় বর্ণিত কোন প্রস্তাব গৃহীত হলে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে বিরত হবেন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৬,৫৬৮.
বাংলাদেশের প্রথম টাকার নকশাকার কে?
  1. ক) কে জি মুস্​তাফা
  2. খ) কামরুল হাসান
  3. গ) গোলাম কিবরিয়া
  4. ঘ) মোহাম্মদ সলীমউল্লাহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম টাকার ও মুদ্রার নকশাকার:
- বাংলাদেশের প্রথম টাকা ও কয়েনের নকশাকার শিল্পী কে জি মুস্​তাফা।
- স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকিটসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ স্মারকের নকশাকারও তিনি।
-  ১৯৭২ সালে ১০ পয়সার ধাতব মুদ্রা তিনি নকশা করলেন।
- সেটির এক পাশে রাখলেন পানের ছবি যে পান ‘বাঙাল’দের প্রাণের বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে।
- জয়নুল আবেদিন ও কামরুল হাসানের পরামর্শে মুস্​তাফা হাত দিলেন ১ টাকার নোট নকশায়। 
- কাগজের টাকার পর ১, ৫, ১০, ২৫ এবং ৫০ পয়সার ধাতব মুদ্রারও নকশা করলেন মুস্​তাফা। 
- ৭ জুলাই ভোর ৩টার দিকে রাজধানীর হলি ফ‍্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত‍্যাগ করেন। 

উৎস: ৭ জুলাই, ২০২৩, প্রথম আলো।
১৬,৫৬৯.
নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের লক্ষ্যে গঠন করা হয়েছে-
  1. ক) BIDA
  2. খ) BDF
  3. গ) BIDF
  4. ঘ) BAMCO
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ অবকাঠামাে উন্নয়ন তহবিলঃ
নিজস্ব তহবিল থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন তহবিল’ (Bangladesh Infrastructure Development Fund-BIDF) গঠন করা হয়েছে।
-বাংলাদেশ ব্যাংকে গচ্ছিত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুতের অর্থ দিয়ে এই বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়।
-তহবিলটির বার্ষিক বিনিয়ােগ লক্ষ্যমাত্রা ২০০ কোটি মার্কিন ডলার যা স্থানীয় মুদ্রায় ১৭,০০০ কোটি টাকা।
-দক্ষিণ এশিয়া, এমনকি বিশ্বে এ ধরনের তহবিল এটাই প্রথম।
-আপাতত এই তহবিলের অর্থ বিদ্যুৎখাত ও বন্দর উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে।
-১৫ মার্চ ২০২১, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ তহবিল উদ্বোধন করেন।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার মার্চ-এপ্রিল, ২০২১ এবং দৈনিক পত্রিকা।
১৬,৫৭০.
বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল কত সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জন করে? 
  1. ১৯৯৯ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ২০০২ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ক্রিকেট:
- বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা অর্জন করে।
- বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম জয় লাভ করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।
- ২০০৫ সালে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশ তাদের প্রথম টেস্ট জয় পায়।
- ২০০০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলে।
- জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওয়েবসাইট।

১৬,৫৭১.
বাংলাদেশের সর্বশেষ পৌরসভা কোনটি?
  1. ক) শায়েস্তাগঞ্জ,হবিগঞ্জ
  2. খ) ঈদ্গাঁও, কক্সবাজার
  3. গ) মাধবদী, নরসিংদী
  4. ঘ) শ্যামনগর, সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বর্তমানে মোট পৌরসভা ৩৩০টি।
- সর্বশেষ পৌরসভা - শ্যামনগর, সাতক্ষীরা।

তথ্যসূত্র: Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।
১৬,৫৭২.
বীটজবা ও চাম্পা কোন জাতীয় ফলের নাম?
  1. ক) পেঁপে
  2. খ) কলা
  3. গ) আম
  4. ঘ) জামরুল
ব্যাখ্যা
• কলার উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে:
- অগ্নিশ্বর
- অমৃতসাগর
- মোহনবাঁশী
- কানাইবাঁশী
- বীটজবা 
- চাম্পা
- মেহেরসাগর
- কবরি ইত্যাদি।

সূত্রঃ কৃষিশিক্ষা বোর্ডবই এবং কৃষি তথ্য সার্ভিস
১৬,৫৭৩.
'গৌড়ের রত্ন' নামে বিখ্যাত স্থাপনা কোনটি?
  1. ক) ষাট গম্বুজ মসজিদ
  2. খ) দারাস বাড়ি মসজিদ
  3. গ) কান্তজির মন্দির
  4. ঘ) ছোট সোনা মসজিদ
ব্যাখ্যা
ছোট সোনা মসজিদ: 
- প্রাচীন বাংলার গৌড়ের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় সেন বংশের রাজাদের স্মৃতিচিহ্ন ও সুলতানী আমলে নির্মিত মসজিদই এ এলাকার ঐতিহাসিক স্থাপনা।
- এই স্থাপনাগুলোর মধ্যে সুলতানী স্থাপত্যের ছোট সোনামসজিদ অন্যতম।
- ছোট সোনা মসজিদ ১৪৯৩ সালে নির্মাণ করা হয়।
- ওয়ালি মোহাম্মদ মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বলে শিলালিপি থেকে জানা যায়।
- উত্তর-দক্ষিণে ৮২ ফুট লম্বা ও পূর্ব-পশ্চিমে ৫২.৫ ফুট চওড়া মসজিদটি সম্পূর্ন সোনালী রঙে ঢাকা ছিল তাই একে ‘গৌড়ের রত্ন’ বলা হত।

উৎস: ট্রাভেল নিউজ.গভ.বিডি।
১৬,৫৭৪.
১৯৭০ সালে ভয়াবহ বন্যায় প্রেক্ষাপট নিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা চিত্রকর্ম কোনটি?
  1. ম্যাডোনা-৪৩
  2. সংগ্রাম
  3. মনপুরা-৭০
  4. কেনটিই নয়
ব্যাখ্যা
জয়নুল আবেদিন বিখ্যাত চিত্রকর্ম:
- ১৯৭০ সালে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘটিত ভয়াবহ বন্যায় প্রেক্ষাপট নিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা চিত্রকর্ম 'মনপুরা-৭০'।
- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহুকুমার কেন্দুয়াতে (বর্তমান নেত্রকোণা) জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৭৪ সালে জাতীয় অধ্যাপক (বাংলাদেশ) সম্মান লাভ করেন।
- তিনি ১৯৫৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের সবচেয়ে বড় খেতাব হেলাল-ই-ইমতিয়াজ অর্জন করেন এবং ১৯৭১ সালে সেটি বর্জন করেন।
- ১৯৬৮ সালে ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্রদের তরফ থেকে 'শিল্পাচার্য' উপাধি লাভ করেন।
- ১৯৭৬ সালের ২৮ মে ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়।
- 'মুক্তিযোদ্ধা' জয়নুল আবেদিনের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রকর্ম।
- ১৯৪৩ সালের ভয়াল দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে জয়নুল আবেদিনের আঁকা স্কেচধর্মী চিত্রকর্ম 'ম্যাডোনা'।

- এছাড়াও তাঁর আঁকা কয়েকটি বিখ্যাত চিত্রকর্ম হলো:
• ম্যাডোনা-৪৩,
• সংগ্রাম,
• পাইন্যার মা,
• গাঁয়ের বধূ,
• নবান্ন এবং মইটানা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৭৫.
গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা নয় কোনটি?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. পৌরসভা
  4. জেলা পরিষদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা:

⇨ শহর অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা-
- পৌরসভা এবং
- সিটি কর্পোরেশন।

⇨ গ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা -
- ইউনিয়ন পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ এবং
- জেলা পরিষদ।

⇨ এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩টি জেলা নিয়ে আঞ্চলিক স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আঞ্চলিক পরিষদ-
১. বান্দরবান পাহাড়ী জেলা পরিষদ
২. রাঙ্গামাটি পাহাড়ী জেলা পরিষদ
৩. খাগড়াছড়ি পাহাড়ী জেলা পরিষদ

• স্থানীয় প্রশাসনের অঙ্গ হলো:
- বিভাগীয় প্রশাসন,
- জেলা প্রশাসন,
- উপজেলা প্রশাসন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৬,৫৭৬.
জীবন বীমা কর্পোরেশন কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৭২
  2. খ) ১৯৭৩
  3. গ) ১৯৭৫
  4. ঘ) ১৯৯০
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে সরকারি মালিকানাধীন বীমা প্রতিষ্ঠান দুইটি। এগুলো হলো :
- সাধারণ বীমা কর্পোরেশন
- জীবন বীমা কর্পোরেশন।
- দুটি প্রতিষ্ঠানই ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশে বেসরকারি পর্যায়ে ৩৩টি জীবন বীমা ও ৪৬টি সাধারণ বীমা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

(তথ্যসূত্রঃ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং জীবন বীমা কর্পোরেশন ওয়েবসাইট)

১৬,৫৭৭.
বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে অ্যাটর্নি-জেনারেল পদের মেয়াদকাল-
  1. ১ বছর
  2. ৪ বছর
  3. ৫ বছর
  4. সুনির্দিষ্ট নয়
ব্যাখ্যা
• অ্যাটর্নি-জেনারেল:
৬৪। (১) সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হইবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি-জেনারেল পদে নিয়োগদান করিবেন।
(২) অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করিবেন।
(৩) অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁহার বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
(৪) রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি-জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করিবেন।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
১৬,৫৭৮.
৭ই মার্চের ভাষণে মূলত কত দফা দাবি তোলা হয়?
  1. ১ দফা
  2. ৪ দফা
  3. ৬ দফা
  4. ১১ দফা
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ১৯৭১-এ প্রদত্ত ১৮ মিনিটের ভাষণটি তাঁর স্বভাবসুলভ তাৎক্ষণিক বক্তব্য ছিল, পূর্বে তৈরি করা বক্তৃতা নয়।
- এটিকে অনেকেই রাজনীতির কবিতা বলে থাকেন।
- তাঁর এই ভাষণকে তুলনা করা হয় আব্রাহাম লিংকন, উইনস্টন চার্চিল, মার্টিন লুথার কিং ও পেরিক্লিসের মহতী যুগান্তকারী ভাষণগুলোর সাথে।
- এর মহত্ত্ব ও বিরাটত্বের কারণে ২০১৭ সনের অক্টোবরে জাতিসংঘের এডুকেশন, কালচার ও সাইন্টিফিক অর্গানাইজেশন, ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের অসাধারণ ভাষণটিকে পৃথিবীর অন্যতম ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে স্বাধীনতাকামী বাঙালি জাতিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
- ভাষণে মূলত ৪ দফা দাবি তোলা হয়।
• মার্শাল ল প্রত্যাহার,
• সেনাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া,
• রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং
• জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৬,৫৭৯.
নিচের কোন নোটটিতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে?
  1. ৫ টাকা
  2. ১০ টাকা
  3. ২০ টাকা
  4. ৫০ টাকা
ব্যাখ্যা
⇒ ৫ টাকার নোটে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে।

ব্যাংক নোট:

- বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে যেসব নোট বের করা হয় সেগুলো ব্যাংক নোট নামে পরিচিত।
- এসব নোটে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের স্বাক্ষর থাকে।
- বর্তমানে দেশে সাতটি ব্যাংক নোট প্রচলিত রয়েছে।
- নোটগুলো হলো- ১০, ২০, ৫০, ১০০, ২০০, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট।
- বাংলাদেশের প্রচলিত ১, ২ ও ৫ টাকার নোট হলো সরকারি নোট।
- সরকারি নোট অর্থ মন্ত্রণালয় বের করে আর এগুলোতে অর্থসচিবের স্বাক্ষর থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট।
১৬,৫৮০.
'ওরাওঁ' ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে কোন জেলায়?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. বান্দরবান
  3. রাঙ্গামাটি
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
ওরাওঁ:
- ওরাওঁ বাংলাদেশের একটি নৃগোষ্ঠী। এদের বাসস্থান বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলে।
- নৃবিজ্ঞানীদের মতে, তারা অস্ট্রিক এবং ভাষাতাত্ত্বিক সূত্রে দ্রাবিড়।
- তারা মুঘল শাসনামলে বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রবেশ করে এবং সে অঞ্চলে তাদের স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলে।
- তারা বর্তমানে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমণিরহাট, রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, বগুড়া, রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাজীপুর, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় বসবাস করছে।
- ওরাওঁরা জড়োপাসক, তাদের ভগবানের নাম ধরমী বা ‘ধার্মেশ’ বা ‘ধরমেশ’।
- ওরাওঁরা তাদের সৃষ্টিকর্তা ধরমেশকে সন্তুষ্ট রাখার জন্য তাঁর উদ্দেশ্যে পূজা করে এবং তাঁর উদ্দেশ্যে ‘ডানডাকাঁটা’ উৎসবের আয়োজন করে।
- ওরাওঁদের ভাষার নাম কুরুক।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৬,৫৮১.
ইউরোপীয়দের বণিকদের মধ্যে কাদের 'ফিরিঙ্গি' নামে ডাকা হতো?
  1. ইংরেজদের
  2. ফরাসিদের
  3. দিনেমারদের
  4. পর্তুগিজদের
ব্যাখ্যা
ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের আগমন:

- পর্তুগিজ-রা ভারতীয় উপমহাদেশে ইউরোপীয়দের মধ্যে প্রথম এসেছিল। 
- আগমন সাল: ১৪৯৮ সালে।
- বাংলায় আগমন: ১৫১৬ সালে। 
- বাংলায় পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের ফিরিঙ্গি নামে ডাকা হতো।  
- পর্তুগিজ-রা বাংলায় প্রথম কুঠি স্থাপন করে হুগলি-তে ১৫১৭ সালে। 
- তারা বাংলা ত্যাগ করে ১৬৬৬ সালে।
- ভাস্কো দা গামা উত্তমাশা অন্তরীপ হয়ে ইউরোপ থেকে ভারতবর্ষে আসার জলপথ আবিষ্কার করেন। এরপর থেকে বিভিন্ন ইউরোপীয় শক্তি বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে পাড়ি জমাতে শুরু করে।
- পর্তুগিজদের পর ইংরেজ (ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬০০ সালে), ওলন্দাজ (ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬০২ সালে), দিনোমার (ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬২০ সালে), ফরাসি (ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-১৬৬৪ সালে) প্রভৃতি ইউরোপীয় শক্তি ভারতে আগমন করে।
- এদের মধ্যে ভারতীয় উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন করে ফরাসিরা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া। 
১৬,৫৮২.
গারো নৃগোষ্ঠী কোন জেলায় বসবাস করে? 
  1. ময়মনসিংহ 
  2. টাঙ্গাইল
  3. সিলেট
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

গারো:
- গারো ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড় ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী আদিবাসী সম্প্রদায়।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ ছাড়াও টাঙ্গাইল, সিলেট, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ঢাকাও গাজীপুরজেলায় গারোরা বাস করে।
- গারোরা ভাষা অনুযায়ী বোডো মঙ্গোলীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।
- জাতিগত পরিচয়ের ক্ষেত্রে অনেক গারোই নিজেদেরকে মান্দি বলে পরিচয় দেন।
- গারোদের ভাষায় 'মান্দি' শব্দের অর্থ হল 'মানুষ'।
- গারোদের সমাজে মাতৃতান্ত্রিক পরিবার প্রথা প্রচলিত।
- তাদের প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের নাম 'ওয়ানগালা'।

উৎস: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সনদ।

১৬,৫৮৩.
কৃষিতে ‘ডায়মন্ড’ কোন ফসলের উন্নত জাত? 
  1. মরিচ
  2. আলু
  3. টমেটো
  4. তরমুজ
ব্যাখ্যা

ফসলের উন্নত জাতের নাম:
- তরমুজের উন্নত জাত: পদ্মা, বারি তরমুজ-১, বারি তরমুজ-২, মধুমালা।
- আলু: হীরা, আইলসা, ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, চমক, মরিনী, সুন্দরী, কুফরি।
- আমের জাত: মহানন্দা, মোহনভোগ, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হাড়িভাঙ্গা,, ক্ষীরসাপাতি।
- মরিচের জাত: যমুনা।
- টমেটো: বাহার, মানিক, রতন, অপূর্ব, মিন্টো, ঝুমকা, সিঁদুর, ও শ্রাবণী।


উৎস: বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সহায়তা কেন্দ্র।

১৬,৫৮৪.
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্র কোথায় প্রতিষ্ঠা করে?
  1. পন্ডিচেরী
  2. চন্দননগর
  3. কালিকট
  4. সুরাট
ব্যাখ্যা

⇒ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে প্রথম বাণিজ্য কেন্দ্র সুরাটে প্রতিষ্ঠা করে।

ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:

- ভারতীয় উপমহাদেশে সবার শেষে আগমন ঘটে ফরাসিদের।
- ১৬৬৪ খ্রিস্টাব্দে 'ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠিত হয় এবং ভারতবর্ষে বাণিজ্য শুরু করে।
- ফরাসি মন্ত্রী কোলবার্টের পৃষ্ঠপোষকতায় এই কার্যক্রম শুরু হয়।
- ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথমে মুম্বাইয়ের সুরাটে ও পরে পন্ডিচেরীতে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- অল্পদিনের মধ্যেই তারা বাংলার চন্দননগরে আরও একটি কুঠি স্থাপন করে।
- এছাড়া কারিকল, মসলিপট্টম, কাশিমবাজার এবং বালেশ্বরেও তাদের কুঠি ছিল।
- ফরাসিরা ভারতীয় উপমহাদেশে প্রায় একশ বছর বাণিজ্য করে।
- ইংরেজগণ ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে ফরাসিদের চন্দননগর এবং ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী কুঠি দখল করে নেয়।
- স্বদেশে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে বিবাদের জের হিসেবে এখানেও বিবাদ চলতে থাকে। কিন্তু ইংরেজগণ উন্নততর সামরিক শক্তি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উপমহাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করে নেয়।
- পরপর তিনটি কর্ণাটক যুদ্ধে ফরাসিরা পরাজিত হলে ফরাসিদের সাম্রাজ্য ও বাণিজ্য বিস্তার সফল হয়নি।
- এর ফলস্বরূপ ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে উপমহাদেশ থেকে বিদায় নিতে হয়।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,৫৮৫.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ এর রিপোর্ট অনুসারে দেশে একক পণ্য হিসেবে সর্বোচ্চ আমদানি হয় -
  1. সার
  2. তুলা
  3. গম
  4. তৈলবীজ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

একক পণ্য আমদানি:

- একক পণ্য হিসেবে সর্বোচ্চ আমদানি - তুলা।

শিল্পজাত পণ্য আমদানি:
- শিল্পজাত পণ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ আমদানি - পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যসামগ্রী।
- শিল্পজাত পণ্য হিসেবে ২য় সর্বোচ্চ আমদানি - সার।
- শিল্পজাত পণ্য হিসেবে ৩য় সর্বোচ্চ আমদানি - সুতা।

প্রাথমিক পণ্য আমদানি:
- প্রাথমিক পণ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ আমদানি - তুলা।
- প্রাথমিক পণ্য হিসেবে ২য় সর্বোচ্চ আমদানি - গম।
- প্রাথমিক পণ্য হিসেবে ৩য় সর্বোচ্চ আমদানি - তৈলবীজ।

তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১৬,৫৮৬.
১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি কোন বঙ্গাব্দ ছিল?
  1. ১৩৫৭
  2. ১৩৫৮
  3. ১৩৬০
  4. ১৩৬২
ব্যাখ্যা

একুশে ফেব্রুয়ারির ঘটনাবলি:
- ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ছিল বৃহস্পতিবার, ৮ ফাল্গুন ১৩৫৮ বঙ্গাব্দ।
- পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররা জমায়েত হতে থাকে।
- সরকার ১৪৪ ধারা জারি করায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ছাত্ররা দুজন দুজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে।
- বেলা ১১ টায় ছাত্রসভা শুরু হয়। সভায় ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- ১৪৪ ধারা ভাঙার পন্থা হিসেবে দশজন দশজন করে ছাত্র রাস্তায় মিছিল বের করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
- মেডিকেল হোস্টেলের নিকটেই ছিল জগন্নাথ হলের অডিটোরিয়াম যেখানে পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের সভা বসত। 
- বেলা সোয়া তিনটার দিকে এম.এল.এ. এবং মন্ত্রীরা মেডিকেল কলেজের সামনে দিয়ে পরিষদে আসতে থাকেন।
-  এক পর্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। ঘটনাস্থলেই আব্দুল জব্বার ও রফিকউদ্দিন আহমদ শহীদ হন।
- ১৭ জনের মত গুরুতর আহত হয়।
- তাদের মধ্যে রাত আটটায় আবুল বরকত শহীদ হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৬,৫৮৭.
বিশ্বের বৃহৎ বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হয় -
  1. ক) ৩১ জানুয়ারি ২০২২
  2. খ) ৩১ ডিসেম্বর, ২০২১
  3. গ) ১ জানুয়ারি, ২০২২
  4. ঘ) ১ ডিসেম্বর, ২০২১
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ জানুয়ারি ২০২২ 'Regional Comprehensive Economic Partnership (RCEP)' নামে বিশ্বের বৃহৎ বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হয়।
১৫ নভেম্বর ২০২০ ভিয়েতনামের হ্যানয়ে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল ASEAN সম্মেলনের মাধ্যমে RCEP শীর্ষক বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) স্বাক্ষরিত হয়। 
চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত দেশ হলো ১৫টি। ASEAN ভুক্ত ১০টি দেশ— ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম এবং তাদের FTA অংশীদার— অস্ট্রেলিয়া, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন। 
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট। 
১৬,৫৮৮.
কোন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত Sears Tower-এর স্থপতি?
  1. ফয়েজ উল্লাহ
  2. এহসান খান
  3. এফ আর খান
  4. রোহানি বাহারিন
ব্যাখ্যা
এফ আর খান:
- ফজলুর রহমান খান একজন স্থপতি।
- তিনি ১৯২৯ সালে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

⇒ ফজলুর রহমান খান সারা বিশ্বে খ্যাতিলাভ করেছেন পৃথিবীর উচ্চতম (১৯৭৩ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত) ইমারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অবস্থিত Sears Tower (পরবর্তীতে উইলিস টাওয়ার নামে পরিচিত) ডিজাইনার হিসেবে।
- ১৯৫৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান স্কিডমুর-এ যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়।
- ফজলুর রহমান খান শিকাগোর একশ তলা উঁচু জন হ্যানকক সেন্টার এবং একশ দশ তলা উঁচু সিয়ার্স টাওয়ার-এর নকশা তৈরি করেন।
- ইঞ্জিনিয়ারিং নিউজ রেকর্ডস কর্তৃক ‘কন্সট্রাকশনস ম্যান অব দি ইয়ার’ মনোনীত হওয়ার পর ১৯৭১ সালে শিকাগোর ওন্টারিও সেন্টারে একটি ফলকে তাঁর সম্বন্ধে মন্তব্য লেখা হয় ‘ইনোভেশন ফলোজ প্রোগ্রাম’।
- ছিলেন এশিয়াটিক সোসাইটি অব পাকিস্তানের সভাপতিও।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৯ সালে তাঁকে মরণোত্তর ‘স্বাধীনতা পদকে’ ভূষিত করে এবং তাঁর স্মরণে স্মারক একটি ডাকটিকিট প্রকাশ করে।

উৎস: The Daily Star Bangla.
১৬,৫৮৯.
২০২১ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয় -
  1. ক) মুজিবনগর দিবস ১৭ এপ্রিল
  2. খ) স্বাস্থ্য দিবস ৭ এপ্রিল
  3. গ) ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ
  4. ঘ) অনশন ধর্মঘট দিবস ১৩ ই মার্চ
ব্যাখ্যা
• ৭ ই মার্চ:
- ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয় ঐতিহাসিক ৭ ই মার্চ
- প্রতি বছর ৭ মার্চ তারিখকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
- জাতীয় পর্যায়ের দিবস পালনের তালিকায় ৭ মার্চকে ‘ক’ ক্যাটাগরিভূক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ এদেশের স্বাধীনতার মূল প্রেরণা। বিশ্ব ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে এর স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেস্কো ভাষণটিকে ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্ত করেছে।

উৎস: বিবিসি বাংলা ও প্রথম আলো এবং বাংলাপিডিয়া লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার মার্চ-এপ্রিল, ২০২১। 
১৬,৫৯০.
ড. মুহাম্মদ ইউনুস কোন সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ২০০৬ সালে
  2. ২০০৩ সালে
  3. ২০০৪ সালে
  4. ২০০৫ সালে
ব্যাখ্যা

• ড. মুহাম্মদ ইউনুস : 
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশী নোবেল বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ। 
- তিনি ১৯৪০ সালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিষয়ের একজন শিক্ষক। 
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ (Microcredit) এবং 'সামাজিক ব্যবসা' ধারণার প্রবর্তক।
- অধ্যাপক ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা। 
- মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার প্রাপ্তির দিক থেকে তিনি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয়। 

- তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'দারিদ্র্যহীন বিশ্বের অভিমুখে' এবং '(Banker to the Poor)।
- তিনি বিশ্ব খাদ্য পুরষ্কার পেয়েছিলেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য বই :
A world of three zeros,
Creating a world unlimited potential ,
Without poverty,
Super happiness,

উৎস: ইউনূস সেন্টার।

১৬,৫৯১.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হলে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা ডিজাইন করা হয়?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হল
  2. শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল
  3. ফজলুল হক মুসলিম হল
  4. মাস্টারদা' সূর্যসেন হল
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকা:
- পতাকা বিধি (১৯৭২) অনুসারে জাতীয় পতাকার রং গাঢ় সবুজ এবং সবুজ অংশের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত।
- আয়তাকার এই পতাকার অনুপাত হচ্ছে অনুপাত: ১০:৬ (৫:৩)।
- লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার মোট দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ।
- প্রথম অবস্থায় পতাকার কেন্দ্রস্থলে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত ছিল।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার এই রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।

⇒ ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে পতাকা উত্তোলন করেন সে পতাকার আদলে মুজিবনগর সরকার জাতীয় পতাকার নমুনা নির্ধারণ করেন।
- শিবনারায়ণ দাস বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকার অন্যতম এবং মূল নকশাকার।
- তিনি একজন ছাত্রনেতা ও স্বভাব আঁকিয়ে ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের (বর্তমান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) ১১৬ নং কক্ষে রাত এগারটার পর পুরো পতাকার নকশা সম্পন্ন করেন।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা করেন কামরুল হাসান।

উল্লেখ্য
- শিব নারায়ন প্রথম ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন।
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন অংশগ্রহণ করে কারাবরণ করেন তিনি।
- তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। 
- ১৯৭০ সালের ৭ জুন ঢাকার পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত ছাত্রদের এক সামরিক কুচকাওয়াজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অংশ গ্রহণের কথা ছিল।
- এ লক্ষ্যে ১৯৭০ সালের ৬ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ১০৮ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগ নেতা আসম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, কাজী আরেফ আহমদ, মার্শাল মনিরুল ইসলাম পতাকার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেন।
- বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা স্বপন কুমার চৌধুরী, জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগ নেতা নজরুল ইসলাম, কুমিল্লা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা শিবনারায়ণ দাশ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সাধারণ সাধারণ সম্পাদক হাসানুল হক ইনু ও ছাত্রনেতা ইউসুফ সালাউদ্দিন।
- ছাত্র নেতারা এই বাহিনীর একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন।
- সভায় কাজী আরেফের প্রাথমিক প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করে আলোচনা শেষে সবুজ জমিনের ওপর লাল সূর্যের মাঝে হলুদ রঙের বাংলার মানচিত্র খচিত পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়।
- কামরুল আলম খান তখন ঢাকা নিউমার্কেটের এক বিহারি দরজির দোকান থেকে বড় এক টুকরো সবুজ কাপড়ের মাঝে লাল একটি বৃত্ত সেলাই করে আনেন।
- এরপর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিতুমীর হলের ৩১২ নম্বর কক্ষের এনামুল হকের কাছ থেকে অ্যাটলাস নিয়ে ট্রেসিং পেপারে আঁকা হলো পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র।
- শিবনারায়ণ দশ পরিশেষে নিপুণ হাতে মানচিত্রটি এঁকে দেন লাল বৃত্তের মাঝে।
- এ পতাকাই পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ২মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় উত্তোলিত হয়।

উৎস: i) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস।
ii) প্রথম আলো।
১৬,৫৯২.
দ্বৈত শাসনের ফলে কোন দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়?
  1. ছিয়াত্তরের দুর্ভিক্ষ
  2. উনসত্তরের দুর্ভিক্ষ
  3. সত্তরের দুর্ভিক্ষ
  4. ঊনিশর দুর্ভিক্ষ
ব্যাখ্যা
• দ্বৈত শাসন:
- দিল্লি কর্তৃক ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে দেওয়ানি বা খাজনা ও কর আদায়ের ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের।
- এতে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে।
- অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলোআনা।
- ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে।
- ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
- যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
- দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় তিনি সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হন।
- সারা দেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ সালে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটান।

উল্লেখ,
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর ইংরেজি -১৭৭০ সাল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
১৬,৫৯৩.
৭ মার্চের ভাষণটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে -
  1. ক) ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  2. খ) ৩০ অক্টোবর, ২০১৭ সালে
  3. গ) ২২ অক্টোবর, ২০১৭ সালে
  4. ঘ) ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭ সালে
ব্যাখ্যা
৭ই মার্চের ভাষণটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে - ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর।

• ৭ই মার্চের ভাষণ:
- বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসের অসামান্য ও অপরিহার্য এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। 
- ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) প্রদত্ত ভাষণ।
- এই ভাষণের মাধমে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বাঙালি জাতির প্রতি স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।

৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের বিশ্ব স্বীকৃতি:
- বিশ্ব ইতিহাসে যে ভাষণগুলো বিখ্যাত হয়ে আছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক এই ভাষণটি সেগুলোর অন্যতম।
- বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ Jacob F. Field এর বিশ্বসেরা ভাষণ নিয়ে লেখা "We shall Fight on the beaches: The Speeches that Inspired History" শীর্ষক গ্রন্থে বঙ্গবন্ধু সাতই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি স্থান পেয়েছে।

- কেবল তাই নয়, ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণটিকে World's Documentary Heritage এর মর্যাদা দিয়ে International Memory of the World Register-এ অর্ন্তভুক্ত করেছে।
- বাঙালি জাতির স্বাধীনতার প্রতীক এই দূরদর্শী ভাষণের স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক মহত্তর অর্জন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৫৯৪.
বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত সেনাসদস্য -
  1. সৈয়দ মাহবুবুল হক
  2. নঈম খান
  3. আবুল কালাম
  4. মকবুল হোসেন
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু হত্যা:
- বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে নিহত হয় দুই সেনাসদস্য - কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হক
- ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সেনাবাহিনীর কিছুসংখ্যক বিপথগামী সদস্য ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করে।
- বঙ্গবন্ধু ছাড়াও সেই রাতে তাঁর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তাঁর জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা কর্নেল জামিলউদ্দিন আহমেদ, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
- ওই কালরাতেই বিপথগামী সেনাসদস্যদের আরেকটি দল বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগের নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাঁকে এবং তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনিকে হত্যা করে।
- এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত ও তাঁর কন্যা বেবি, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় আবদুল নঈম খানকেও হত্যা করা হয়।
- ওই সময় বঙ্গবন্ধুর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে অবস্থান করায় বেঁচে যান।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ১৫ আগস্ট ২০২২।
১৬,৫৯৫.
কোন আমলে সিলেটের নাম জালালাবাদ ছিল?
  1. ক) সেন
  2. খ) তুর্কী
  3. গ) সুলতানী
  4. ঘ) মৌর্যযুগে
ব্যাখ্যা
সিলেট
- সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ।
- দশম শতাব্দীতে মহারাজা শ্রীচন্দ্র কর্তৃক উৎকীর্ণ পশ্চিমবাগ তাম্রলিপি থেকে জানা যায় যে, তিনি সিলেট জয় করেছিলেন।
- ঐতিহাসিকদের ধারণা, সিলেট বা শ্রীহট্ট (সমৃদ্ধ হাট) বহু আগে থেকেই একটি বর্ধিষ্ণু বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে বর্তমান ছিল।
- প্রাচীন শ্রীহট্টে বিপুল হারে বাঙালি অভিবাসন হয়েছিল।
- ১৪ শতকে ইয়েমেনের সাধক পুরুষ হযরত শাহজালাল (র.) সিলেট জয় করেন এবং ইসলাম প্রচার শুরু করেন।
- মোগল যুগে পাঠান বীর খাজা ওসমান সিলেটের স্থানীয় সামন্তদের সহায়তায় আক্রমণকারী মোগলদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন।
- ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহের সময়ে সিলেটে বিদ্রোহীরা বৃটিশ বেনিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ব্যর্থ হয়।

উৎস: সিলেট জেলার পটভূমি, sylhet.gov.bd.
১৬,৫৯৬.
একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে-
  1. ক) হবিগঞ্জে
  2. খ) নোয়াখালিতে
  3. গ) বান্দরবানে
  4. ঘ) খুলনায়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
জেলাগুলো হলো- রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি।
উৎসঃ বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট।

১৬,৫৯৭.
কোন সংস্থাটি খোলা বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য-দ্রব্য বিক্রি করে থাকে?
  1. ক) BSTI
  2. খ) TCB
  3. গ) BADC
  4. ঘ) DAE
ব্যাখ্যা
- Trading Corporation of Bangladesh (TCB) খোলা বাজারে সরকারের পক্ষ থেকে ন্যায্যমূল্যে বিভিন্ন পণ্য-দ্রব্যাদি বিক্রি করে থাকে।
- এছাড়া বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সরবরাহ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ করা, চাহিদা ও যোগানের মধ্যে সামঞ্জস্য রেখে আপদকালীন সময়ের জন্য বিভিন্ন পণ্য মজুদ করা, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পণ্য আমদানি করা ইত্যাদি কার্যাদিও টিসিবি করে থাকে।
- টিসিবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ টিসিবি ওয়েবসাইট)
১৬,৫৯৮.
পাকিস্তান বাহিনী কত হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন?
  1. ৯০ হাজার
  2. ৯১ হাজার 
  3. ৯২ হাজার
  4. ৯৩ হাজার
ব্যাখ্যা

স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ঃ 
- মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় বাহিনী মিলে ‘যৌথ কমান্ড’ গঠন করে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর। 
- মুক্তিবাহিনীর সাথে ভারতের সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে ৬-১৬ ডিসেম্বর। 
- যৌথ বাহিনীর দুর্বার আক্রমণে পাকিস্তানি হানাদারবাহিনী অবশেষে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তান বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজী ৯৩ হাজার সৈন্যসহ যৌথ বাহিনীর নিকট আত্মসমর্পণ করেন।
- পাকিস্তানের পক্ষে নিয়াজী এবং যৌথ বাহিনীর পক্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন।
- এতে অস্থায়ী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
- পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয়।
- বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যূদয় হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

উৎসঃ  বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৬,৫৯৯.
বাংলাদেশে স্থানীয় প্রশাসন কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. জেলা পরিষদ
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. ইউনিয়ন পরিষদ
  4. গ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের "স্থানীয় প্রশাসন" একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা যা সরকারের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারী দ্বারা পরিচালিত হয়।
বাংলাদেশের স্থানীয় প্রশাসন কাঠামোর স্তর তিনটি। যথা:
১. বিভাগীয় প্রশাসন (Divisional Administration)
২. জেলা প্রশাসন (District Administration)
৩. উপজেলা প্রশাসন (Upazila Administration)

অন্যদিকে, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর প্রধানস্তর তিনটি। যথা:
১। জেলা পরিষদ 
২। উপজেলা পরিষদ 
৩। ইউনিয়ন পরিষদ

অর্থাৎ,
স্থানীয় প্রশাসনের সর্বনিম্ন স্তর - উপজেলা প্রশাসন
স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর - ইউনিয়ন  ইউনিয়ন পরিষদ।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৬,৬০০.
কোন সময়ে ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ৩২০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ৩২১ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ৩২২ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ৩২৪ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
গুপ্ত সাম্রাজ্য: 
- ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিষ্টাব্দে।
- তখন বাংলায় কিছু স্বাধীন রাজ্যের উত্থান ঘটে।
- এগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সমতট রাজ্য ও পশ্চিম বাংলার পুষ্করণ রাজ্য উল্লেখযোগ্য।
- গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালেই বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধিকারে আসে।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।
- সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত বাংলার উত্তরাংশ গুপ্ত সাম্রাজ্যের অধীনস্থ একটি 'প্রদেশ' বা 'ভুক্তি' হিসেবে পরিগণিত হতো।
- মৌর্যদের মতো গুপ্তদের রাজধানী ছিল মহাস্থানগড়ের পুণ্ড্রনগর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।