বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১৩৩ / ৩০৬ · ১৩,২০১১৩,৩০০ / ৩০,৮৩২

১৩,২০১.
অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদান্তে শিল্পখাতে অবদান হবে -
  1. ৩৭.৫৮%,
  2. ৪২.৫৮%,
  3. ৪৭.৫৮%,
  4. ৪১.৮৬%
ব্যাখ্যা
• পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা:
- বাংলাদেশে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করে- পরিকল্পনা কমিশন।
- স্বাধীন বাংলাদেশের এ পর্যন্ত মোট ৮ টি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
- যার মধ্যে এ পর্যন্ত ৭টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে।
- অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদ জুলাই, ২০২০ - জুন, ২০২৫।
- প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মেয়াদ ছিল ১৯৭৩-১৯৭৮।

- অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মেয়াদান্তে অর্থনীতির বড় তিনটি খাতের অবদান হবে - 
- শিল্প খাতে - ৪১.৮৬%,
- সেবা খাতে - ৪৭.৫৮%,
- কৃষি খাতে - ১০.৫৬%।

তথ্যসূত্র: পরিকল্পনা কমিশন।
১৩,২০২.
ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর কে ছিলেন?
  1. খাজা নাজিমউদ্দীন
  2. ফিরোজ খান নুন
  3. নুরুল আমিন
  4. লিয়াকত আলী খান
ব্যাখ্যা

ভাষা আন্দোলন:
- ফিরোজ খান নুন ভাষা আন্দোলনের সময় পূর্ব বাংলার গভর্নর ছিলেন।
- প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমউদ্দীন।
- পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন নুরুল আমিন।
- বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের প্রথম ঘটনা হলো ভাষা আন্দোলন। 
- ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে। 
- এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে ১৯৪৭ সালে এবং চূড়ান্ত রূপ লাভ করে ১৯৫২ সালে। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম- দশম শ্রেণি।

১৩,২০৩.
বিবিএস SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে পুরুষদের প্রথম বিবাহের গড় বয়স কত?
  1. ক) ২১.৯ বছর
  2. খ) ২২.৫ বছর
  3. গ) ২৪.২ বছর
  4. ঘ) ২৬.৫ বছর
ব্যাখ্যা
বিবিএস SVRS Report-2019 অনুসারে বাংলাদেশে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রথম বিবাহের গড় বয়স ২৪.২ বছর।
অন্যদিকে, মহিলাদের প্রথম বিবাহের গড় বয়স ১৮.৫ বছর।
(সূত্র: SVRS Report-2019, বিবিএস ওয়েবসাইট)
১৩,২০৪.
বিশ্বব্যাংকের শ্রেণীবিন্যাস অনুসারে বাংলাদেশ একটি-
  1. ক) অনুন্নত দেশ
  2. খ) নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ
  3. গ) উন্নয়নশীল দেশ
  4. ঘ) উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ
ব্যাখ্যা
বিশ্বব্যাংকের শ্রেণীবিন্যাস অনুসারে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ১০৪৫ মা. ডলারের অধিক হওয়ায় ২০১৫ সালের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা করে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণ করবে।

(তথ্যসূত্র: প্রথম আলো)
১৩,২০৫.
বাংলাদেশ নিচের কোন সংস্থার সদস্য নয়?
  1. ক) D-8
  2. খ) NAM
  3. গ) BIMSTEC
  4. ঘ) G-7
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ G-7 এর সদস্য নয়।

এছাড়াও - 
- বাংলাদেশ D-8 এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য (১৫ জুন, ১৯৯৭)।
- বাংলাদেশ NAM এর সদস্যপদ লাভ করে - ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশ BIMSTEC এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য (৬ জুন, ১৯৯৭ সালে)।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১৩,২০৬.
বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে জনপ্রিয় লোকসঙ্গীতের নাম কী?
  1. ক) ভাওয়াইয়া
  2. খ) ভাটিয়ালি
  3. গ) জারিগান
  4. ঘ) সারিগান
ব্যাখ্যা
ভাওয়াইয়া উত্তরবঙ্গে প্রচলিত এক প্রকার লোকগীতি।
- রংপুর ও ভারতের কুচবিহার জেলা এ গানের জন্মস্থান।
- ভাওয়াইয়া গান সুরলালিত্যে ভরপুর এবং এর একটি নিজস্ব গীতরীতি আছে।
- বৈশিষ্ট্যগত কারণে সাধারণত উত্তর বাংলার শিল্পী ছাড়া এ গানের সুরসংযোজনা সকলের পক্ষে সম্ভব হয় না।
যেমন:
- ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’,
- ‘যে জন প্রেমের ভাব জানে না’,
- ‘কোন দ্যাশে যান মইশাল বন্দুরে’,
- ‘নউতোন পিরিতির বড় জ্বালা’ ইত্যাদি অধিক জনপ্রিয়।  

 - শিল্পী  আববাসউদ্দীন আহমদ ভাওয়াইয়া গান জনপ্রিয় করে তোলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,২০৭.
নিম্নের কোনটি সুপার কম্পিউটার?
  1. ক) মিনিক্স
  2. খ) জুটাক
  3. গ) আলবাইসিন
  4. ঘ) ইন্টেল ইনইউসি
ব্যাখ্যা
- ২৫ বছরের কাজ ২৪ ঘণ্টায় করে দেবে আলবাইসিন নামের এই নতুন সুপার কম্পিউটার। 
- নতুন এই সুপার কম্পিউটার নির্মাণে ব্যয়িত হয়েছে ১.৩৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ। 
উৎস: www.tbsnews.net/
১৩,২০৮.
নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় ময়লাদেওয়ের পূজা করে কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী?
  1. হাজং
  2. মারমা
  3. লুসাই
  4. চাকমা
ব্যাখ্যা
হাজং:
- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস।
- এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে। তবে প্রধান বসবাস শ্রীবর্দি, ঝিনাইগাতি, হালুয়াঘাট, ধোবাউড়া, নালিতাবাড়ি, সুসং দুর্গাপুর, কলমাকান্দা ও বিরিশিরি এলাকায়।
- নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, হাজংদের আদিনিবাস উত্তর বার্মায়। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে হাজংদের পূর্বপুরুষের দলটি তাদের আদিনিবাস ত্যাগ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় প্রথমে প্রবেশ করে।
- সপ্তদশ শতকে মুগলদের দ্বারা বিতাড়িত হয়ে হাজংরা গারো পাহাড়ে আশ্রয় নেয় এবং পরে সমতলভূমিতে বসতি স্থাপন করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।
- হাজং নারীরা যে কাপড় পরিধান করে সেটিকে তারা ‘পাথিন’ বলে।
- প্রতিটি হাজং বাড়িতে ছোট করে হলেও সৃষ্টিকর্তাকে প্রণাম জানানোর জন্য আলাদা একটি ঘর নির্মাণ করে। হাজংরা সেটিকে ‘দেওঘর’ বলে।
- নবজাত শিশুর মঙ্গল কামনায় হাজংরা ময়লাদেওয়ের পূজা করে থাকে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩,২০৯.
কোন চুক্তির মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে?
  1. আলীগড় চুক্তি
  2. এলাহাবাদ চুক্তি
  3. লক্ষ্মৌ চুক্তি
  4. মুর্শিদাবাদ চুক্তি
ব্যাখ্যা

এলাহাবাদ চুক্তি:
- রবার্ট ক্লাইভ ও মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম-এর মধ্যে এলাহাবাদ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৭৬৫ সালে।
- ১৭৬৫ সালে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির ফলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দিউয়ানি লাভ করেছিল।
- সম্রাট শাহ আলমকে কোম্পানি প্রতি বছর ২৬ লক্ষ টাকা দান করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
- এই চুক্তির ফলে রাজস্ব আদায় ও দেশ রক্ষার ভার ছিল কোম্পানির উপর, অন্যদিকে নিজামত তথা বিচার ও প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব বর্তায় নবাবের উপর।
- কোম্পানির সরাসরি দিউয়ানির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য যে অর্থ ও লোকবল প্রয়োজন তা যেমন ছিলনা, তেমনি এদেশীয় ভাষা ও আইন কানুন সম্পর্কে কোম্পানির কর্মচারীদের জ্ঞানও ছিল না।
- তাই রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব সরাসরি গ্রহণ তাদের জন্য সম্ভব ছিল না।
- এ সকল দিক চিন্তা করেই তারা দ্বৈত শাসন নীতি প্রবর্তন করা হয়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২১০.
নিচের কোনটি সাংবিধানিক পদ?
  1. ক) চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন
  2. খ) প্রধান নির্বাচন কমিশনার
  3. গ) চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন
  4. ঘ) চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড
ব্যাখ্যা
প্রধান নির্বাচন কমিশন, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, চেয়ারম্যান ও সদস্য সরকারি কর্ম কমিশন, ইত্যাদি বাংলাদেশের সাংবিধানিক পদ। চেয়ারম্যান, মানবাধিকার কমিশন; চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন; চেয়ারম্যান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ইত্যাদি সাংবিধানিক পদ নয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩,২১১.
সম্প্রতি বাংলাদেশের সাথে কোন দেশের ট্রানজিট চুক্তি হয়?
  1. ক) নেপাল
  2. খ) ভারত
  3. গ) ভুটান
  4. ঘ) মিয়ানমার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ট্রানজিট সুবিধায় যানবাহন চলাচলের বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
- গত ২২ মার্চ, ২০২৩ এ  ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
- বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

উৎস: প্রথম আলো, Live MCQ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার।
১৩,২১২.
নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করা কোন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমাজকর্ম
  2. ইতিহাস
  3. পৌরনীতি ও নাগরিকতা
  4. সমাজবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা

পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের পরিসর বা বিষয়বস্তু:
- নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য।
- সামাজিক ও রাজনৈতিক প্ৰতিষ্ঠান।
- যেমন- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, নির্বাচন, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি।
- নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৩,২১৩.
পাকিস্তানের কোন ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে?
  1. ক) ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান
  2. খ) স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান
  3. গ) সেন্ট্রাল ব্যাংক অব পাকিস্তান
  4. ঘ) রিজার্ভ ব্যাংক অব পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশে বর্তমানে বিদেশি তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা ৯টি। এগুলো হলো:

- স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড
- হাবিব ব্যাংক লিমিটেড
- স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
- কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন
- ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান
- সিটি ব্যাংক এনএ
- উরি ব্যাংক
- হংকং সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এইচএসবিসি) লিমিটেড এবং
-ব্যাংক আল-ফালাহ লিমিটেড।

[এদের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড সবচেয়ে পুরনো এবং বৃহৎ বিদেশি ব্যাংক।]

উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
১৩,২১৪.
ইরাটম কী?
  1.  উন্নত জাতের চা
  2. উন্নত জাতের ইক্ষু
  3. উন্নত জাতের পাট
  4. উন্নত জাতের ধান
ব্যাখ্যা

 বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত:
- বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত একটি উন্নত জাতের ধানের নাম ইরাটম।
- এরুপ আরো কিছু উন্নতজাতের ধান হলো ব্রি হাইব্রিড - ১ চান্দিনা, মালা , বিপ্লব, দুলাভোগ, সুফলা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
• বিটি-ওয়ান (১৯৬৬ সালে তৈরি), বিটি-২ (১৯৭৫), বিটি-৪ (১৯৮১), বিটিএস-১ (১৯৮৫) ও টিভি-১ (১৯৪৯): উন্নত জাতের চা।
• ঈশ্বরদী ৩৯, ঈশ্বরদী ৪০, বিএসআরআই আখ ৪১, বিএসআরআই আখ ৪২, বিএসআরআই আখ ৪৩ এবং বিএসআরআই আখ ৪৪। : উন্নত জাতের ইক্ষু।
• বিজেআরআই তোষা পাট-৬ (ও-৩৮২০) উন্নত জাতের পাট।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস।

১৩,২১৫.
ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন কে?
  1. ক) রামতনু লাহিড়ী
  2. খ) রাধানাথ শিকদার
  3. গ) কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের ত্রিশের দশকে হিন্দু কলেজের শিক্ষানুরাগী ও মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন ছাত্রদেরকে সমকালীন কলকাতার সমাজ ইয়ং বেঙ্গল হিসেবে আখ্যায়িত করে। এদের গুরু ছিলেন হিন্দু কলেজের তরুণ শিক্ষক হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও। তার অনুসারী ছাত্রদের মধ্যে ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাধানাথ শিকদার, রামতনু লাহিড়ী, প্যারিচাঁদ মিত্র, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, তারাচাঁদ চক্রবর্তী প্রমুখ। (সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১৩,২১৬.
'কারাগারের রোজনামচা' নামকরণ করেন কে?
  1. ক) শেখ রেহেনা
  2. খ) শেখ হাসিনা
  3. গ) তারিক সুজাত
  4. ঘ) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রচিত দ্বিতীয় আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ হলো কারাগারের রোজনামচা।
- এটি ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা একাডেমি প্ৰকাশ করে। 
- এই গ্রন্থটি মূলত একটি ডায়রি যা বঙ্গবন্ধু ১৯৬৬-১৯৬৮ সময়ে কারাগারে বন্দিবস্থায় লিখেছিলেন।
- এর ভূমিকা লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- নামকরণ করেন শেখ রেহেনা।
- প্রচ্ছদ ও নকশা করেন তারিক সুজাত।
- প্রচ্ছদে ব্যবহৃত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি অঙ্কন করেন শিল্পী রাসেল কান্তি দাশ।

উৎস: প্রথম আলো।
১৩,২১৭.
২০২৪ সালে কততম অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে?
  1. ৪র্থ
  2. ৫ম
  3. ৬ষ্ঠ
  4. ৭ম
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক শুমারি:
- অর্থনৈতিক শুমারি হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সুনির্ধারিত অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের প্রেক্ষিতে একটি নির্দিষ্ট সমগ্রকের (Population) সকল অর্থনৈতিক ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ গণনা পদ্ধতি।
- অর্থনৈতিক শুমারির মূল লক্ষ্য হলো সময়ের বিবর্তনে একটি দেশের অর্থনীতিতে যে কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটে, সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) কর্তৃক ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ৪র্থ অর্থনৈতিক শুমারি পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
- অর্থনৈতিক শুমারির মাধ্যমে কৃষি বহির্ভূত অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
- এ শুমারির মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের অকৃষি খাত বিশেষ করে শিল্প ও সেবা খাতকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নমুখী করার লক্ষ্যে মানসম্মত পরিসংখ্যান প্রণয়ন করা।

⇒ ২০২৪ সালে ৪র্থ অর্থনৈতিক শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪ এর তথ্য উপাত্তের মাধ্যমে দেশের শিল্প উন্নয়ন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা যাবে, সরকারের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, বদ্বীপ পরিকল্পনা, পরবর্তী ৯ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এর আলোকে পরিকল্পনা পরিবীক্ষণ, জাতীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও সম্পদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,
⇒ বাংলাদেশে ১ম অর্থনৈতিক শুমারি ১৯৮৬ সালের ২৭-২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এ শুমারির নাম ছিল “কৃষি বহির্ভূত অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও অক্ষম ব্যক্তিদের শুমারি-১৯৮৬"।
- ২য় অর্থনৈতিক শুমারিতে ২০০১ এবং ২০০৩ সালে দুটি পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। শহর এলাকায় ২০০১ সালে এবং পল্লী এলাকায় ২০০৩ সালে।
- ৩য় অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।
১৩,২১৮.
সংবিধান সংস্কার কমিশন কোন বিষয়ে গণভোট পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুপারিশ করে?
  1. সংবিধান সংশোধন
  2. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  3. স্থানীয় সরকার নির্বাচন
  4. বিচারপতি নিয়োগ
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- ৯ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

⇒ সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটের বিধান পুনর্বহালের সুপারিশ করেছে। 
- এছাড়াও, কমিশন সংবিধানের প্রস্তাবনায় জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে। 
- কমিশন সংবিধানের মূলনীতি হিসেবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে।
- বিদ্যমান সংবিধানের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগের অধিকারসমূহ সমন্বিত করে ‘মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা’ নামে একটি একক সনদ গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা আদালতে বলবৎযোগ্য হবে এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকার ও নাগরিক, রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে বিদ্যমান তারতম্য দূর করবে।
- পাশাপাশি, কমিশন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব করছে, যেখানে একটি নিম্নকক্ষ জাতীয় সংসদ (ন্যাশনাল এ্যাসেম্বলি) এবং একটি উচ্চকক্ষ (সিনেট) থাকবে এবং এখানে উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর।
- রাষ্ট্রীয় কার্যাবলীতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনয়ন এবং রাষ্ট্রীয় অঙ্গ ও প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি) গঠন এবং আইনসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কিংবা আইনসভা ভেঙে গেলে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত, সর্বোচ্চ ৯০ (নব্বই) দিন মেয়াদের একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

উৎস: i) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ।
ii) সংবিধান সংস্কার কমিশন।

১৩,২১৯.
মুক্তিযুদ্ধে আকবর বাহিনী কোথায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. চট্টগ্রাম
  4. মাগুরা
ব্যাখ্যা
- প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিল।
- এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।
- এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।
- ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়।
- মুক্তিযুদ্ধে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল।
- এসব সংগঠন স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল।
- যেমন: টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী, মাগুরার আকবর বাহিনী ইত্যাদির কথা স্মরণীয় হয়ে আছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩,২২০.
'ছয় দফা' কখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছিলো?
  1. ক) ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  2. খ) ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬
  3. গ) ২০ এপ্রিল, ১৯৬৬
  4. ঘ) ২৩ মার্চ, ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
• 'ছয় দফা':
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- পরবর্তীতে ২৩ মার্চ, ১৯৬৬ সালে লাহোরের এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ দফা দাবি ঘোষণা করেন।
- ৬ দফা দাবিকে বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ৬ দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলার কারণ - এটি বাঙালির ন্যায্য অধিকারের সনদ।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
১৩,২২১.
দেশে প্রথম ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট কোথায় স্থাপন করা হবে? [ জুন, ২০২৫]
  1. মুন্সিগঞ্জ
  2. নারায়ণগঞ্জ
  3. কুমিল্লা
  4. ঢাকা
ব্যাখ্যা
ভ্যাকসিন প্লান্ট: 
- দেশে প্রথম ভ্যাকসিন প্লান্ট হতে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জে।
- সিরাজদীখানে কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে এই কারখানা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
- মোট ৩ হাজার ১২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ভ্যাকসিন প্লান্টটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
- এই কারখানায় ১৫ ধরনের টিকা উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- প্লান্টটিতে ২০২৮ সালের মধ্যে ছয় ধরনের,
- ও ২০২৯ সালে আরও ৯ ধরনের টিকা উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
- ২০৩০ সালে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

উৎস: সমকাল।[লিঙ্ক]
১৩,২২২.
কার বিবরণের মাধ্যমে জানা যায়, 'কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট'?
  1. হিউয়েন সাঙ
  2. বাণভট্ট
  3. কৌটিল্য
  4. কালিদাস
  5. আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ। তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববর্তী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল এবং এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী 'লালমাই' এলাকা।
- একেবারে সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ না করা গেলেও ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২২৩.
বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গণচেতনার সর্বপ্রথম বহিঃপ্রকাশ -
  1. ক) মহান মুক্তিযুদ্ধ
  2. খ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  3. গ) যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  4. ঘ) ভাষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
• বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূলভিত্তি হচ্ছে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন
- স্বাধীন বংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পেছনে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
- ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব বাংলার গণতান্ত্রিক আন্দোলন সুসংহত হয় এবং অগ্রগতি লাভ করে।
- ভাষা আন্দোলনের চেতনাই জনগণের মধ্যে পরবর্তীকালে একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের এক নতুন চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং এর মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটে।
- বাঙালি জনগণের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক আকাক্সক্ষাকে হাজারগুণে বাড়িয়ে দেয় এ আন্দোলন।
- তাই ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গণচেতনার সর্বপ্রথম বহিঃপ্রকাশ এবং স্বাধিকার আন্দোলনের এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলন এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

- এই রাষ্ট্রের কর্ণধাররা প্রথমই শোষণ ও বৈষম্যের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নেয় বাঙালির প্রাণের ভাষা বাংলাকে।
- অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার ৫৪.৬০% বাংলা, ২৮.০৪% পাঞ্জাবি, ৫.৮% সিন্ধি, ৭.১% পশতু, ৭.২% উর্দু এবং বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক।
- এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষির দিক থেকে ৩য় স্থানে। অন্যদিকে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যার ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী। এখানে ৯৮% বাংলা এবং মাত্র ১.১% ছিল উর্দু ভাষী। অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসএইচএল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও যুগান্তর।
১৩,২২৪.
বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনার (Perspective Plan) সময়সীমা কত?
  1. ২০২১-২০৩০
  2. ২০২৪-২০৩২
  3. ২০২১-২০৪১
  4. ২০২২-২০৫০
ব্যাখ্যা
প্রেক্ষিত পরিকল্পনা:
- বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ৮টি পঞ্চবার্ষিক ও ২টি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণীত হয়েছে।
- প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণীত হয় ১৯৭৩-১৯৭৮ সময়ে।
- সর্বশেষ অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মেয়াদকাল জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২৫ পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, 
- প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ ২০১০ থেকে ২০২১ এবং দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ : ২০২১ থেকে ২০৪১ সাল।
- পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী।
- বিকল্প চেয়ারম্যান অর্থমন্ত্রী,
- ভাইস চেয়ারম্যান পরিকল্পনা মন্ত্রী।

উৎস: পরিকল্পনা কমিশন ও বাংলাপিডিয়া।
১৩,২২৫.
কোনটির মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি বন্ধ হয়?
  1. পণ্যের দাম কমা
  2. মূলধনের জোগান কমা
  3. মুনাফার হার কমা
  4. সরকারি ব্যয় হ্রাস
ব্যাখ্যা

মুদ্রাস্ফীতি:
- যদি পণ্যের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ অনেক বেড়ে যায় অর্থাৎ দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক অতিরিক্ত মাত্রায় টাকা ছাপায় তখনই মুদ্রাস্ফীতি ঘটে।
- বাজারে উৎপাদনের তুলনায় মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। অর্থাৎ মুদ্রাস্ফীতি হলো মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি।
- এতে করে টাকা তথা মুদ্রার মান হ্রাস পায়, পক্ষান্তরে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়।
- একই পরিমাণ পণ্য ক্রয়ে পূর্বাপেক্ষা অধিক অর্থ ব্যয় হয়।
- উৎপাদনের তুলনায় বাজারে মুদ্রার সরবরাহ কমে গেলে মুদ্রা সংকোচন ঘটে।

⇒ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রনের উপায়:
- মুদ্রাস্ফীতি দূর করতে হলে অর্থের পরিমাণ কমাতে হবে। এ অর্থের পরিমাণ কমাতে হলে ব্যাংক সৃষ্ট ঋণের পরিমাণও কমাতে হবে। 
- মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূর করতে হলে সরকারি ব্যয় হ্রাস করতে হবে।
- মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার পণ্যসামগ্রীর দামের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারে। এভাবে পণ্যসামগ্রীর সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য বেধে দেওয়া হলে দামস্তর একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়।
- মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ন্যায্যমূল্যে ভোগ্যপণ্য সরবরাহের জন্য সরকার 'ন্যায্য মূল্যের বিক্রয় কেন্দ্র' স্থাপন করতে পারে। এছাড়া সরকার রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে পারে।
- মুদ্রাস্ফীতির সময় শ্রমিকগণ মজুরির হার বাড়ানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। তাদের অধিক মজুরি দেয়ার ফলে উৎপাদন ব্যয় এবং মূল্যস্তর বেড়ে যায়; তখন শ্রমিকেরা পুনরায় মজুরি বৃদ্ধির দাবি করে।
- অত্যাবশ্যক দ্রব্যাদির মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রেশনিং ব্যবস্থা চালু করে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কিছুটা কমানো যেতে পারে।
- মুদ্রাস্ফীতি চরম আকার ধারণ করলে অনেক সময় পুরাতন মুদ্রা পরিত্যাগ করে নতুন মুদ্রার প্রচলন করা হয়। কোন কোন সময় বেশি মূল্যের নোটকে অচল করে দেওয়া হয়।
- করের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হলে জনগণের ব্যয়যোগ্য আয় হ্রাস পায়। এর ফলে ভোগব্যয় কমে আসে। এ অবস্থায় সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পাবে। এর ফলে দ্রব্যমূল্য কমবে ও চলতি আয় হ্রাস পেয়ে পূর্ণ নিয়োগ স্তরে ফিরে আসবে এবং মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূর হবে।
- বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ সুদের হার বাড়লে বিনিয়োগ চাহিদা হ্রাস পায়। এর ফলে বিনিয়োগ সংকুচিত হয় এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পায়। এভাবে সামগ্রিক চাহিদা হ্রাস পেলে মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূরীভূত হয়।
- মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূরীকরনের অন্যতম উপায় হল বিদেশ থেকে আমদানি বৃদ্ধি। এ ক্ষেত্রে দেশীয় পণ্যের যোগান বৃদ্ধির সুযোগ থাকে না। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে ভোগ্যপণ্য ও বিনিয়োগ দ্রব্য আমদানি করে দেশে সামগ্রিক যোগান বৃদ্ধি করা যায়। এর ফলে সামগ্রিক চাহিদা যোগানের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি ব্যবধান দূর করা যায়।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২২৬.
স্যার সৈয়দ আহমদ খান কোন আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন?
  1. ক) আলীগড় আন্দোলন
  2. খ) ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলন
  3. গ) ফরায়েজী আন্দোলন
  4. ঘ) খিলাফত আন্দোলন
ব্যাখ্যা
উনিশ শতকের মধ্যভাগে স্যার সৈয়দ আহমদ খান উত্তর ভারতের আলীগড় আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ আন্দোলনের মূলে ছিলো মুসলমানদের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা এবং ইংরেজদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মুসলমানদের উন্নয়ন সাধন।

এই লক্ষ্যে সৈয়দ আহমদ খানের প্রচেষ্টায় আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি কংগ্রেসের বিরোধিতায় বিভিন্ন সময় তিনটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
সৈয়দ আহমদ খান ১৮৯৮ সালে মারা যান।

অন্যদিকে,

ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের উদ্যোক্তা ছিলেন হেনরী লুই ভিভিয়ান ডি রোজিও।
ফরায়েজী আন্দোলনের উদ্যোক্তা হাজী শরীয়ত উল্লাহ এবং খিলাফত আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন মাওলানা শওকত আলী, মাওলানা মুহম্মদ আলী প্রমুখ।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট)
১৩,২২৭.
বাংলার সবচেয়ে 'সমৃদ্ধ জনপদ' হিসাবে পরিচিত কোনটি?
  1. বঙ্গ 
  2. হরিকেল
  3. পুণ্ড্র
  4. গৌড় 
ব্যাখ্যা

• পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- বলা হয় যে, পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড্র জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি। 

১৩,২২৮.
কোন জাতীয় সংসদে কোনো সংরক্ষিত মহিলা আসন ছিলো না?
  1. ক) তৃতীয়
  2. খ) চতুর্থ
  3. গ) পঞ্চম
  4. ঘ) ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমান পর্যন্ত মোট ১১টি সংসদ গঠিত হয়েছে।
- চতুর্থ জাতীয় সংসদে নারীদের জন্যে কোন সংরক্ষিত আসন ছিলো না।
- বিভিন্ন সংসদে নারীদের জন্যে সংরক্ষিত আসন: 
- প্রথম সংসদ: ১৫টি
- দ্বিতীয় সংসদ : ৩০টি
- তৃতীয় সংসদ : ৩০টি
- পঞ্চম সংসদ: ৩০টি
- ষষ্ঠ সংসদ : ৩০টি
- সপ্তম সংসদ : ৩০টি
- অষ্টম সংসদ : ৪৫টি
- নবম সংসদ: ৫০টি
- দশম সংসদ: ৫০টি
- একাদশ সংসদ : ৫০টি।

উৎস: সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।
১৩,২২৯.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কতটি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ৬২
  2. খ) ৬৪
  3. গ) ৬৬
  4. ঘ) ৬৮
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও সাব-সেক্টর সমূহ:

- মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল।
- ১১টি সেক্টরের অধীনে ৬৪টি সাব-সেক্টরে ভাগ করা হয়।
- ঢাকা ও কুমিল্লা অঞ্চল নিয়ে ২নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- চট্টগ্রাম অঞ্চল নিয়ে ১নং সেক্টর গঠন করা হয়।
- নৌ সেক্টর ছিলো ১০ নং  সেক্টরের অধিনে ।
- ১০ নং সেক্টরের নিয়মিত কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিলো না।
- ২ নং সেক্টর প্রথমে মেজর খালেদ মোশাররফ এবং পরে মেজর এ.টি.এম হায়দারের অধীনে ছিল।
- ১ নং সেক্টরে সেক্টর প্রধান ছিলেন প্রথমে মেজর জিয়াউর রহমান এবং পরে মেজর রফিকুল ইসলাম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৩০.
বাংলায় কোন শতকে পাল শাসনের সূচনা ঘটে?
  1. সপ্তম শতাব্দী
  2. অষ্টম শতাব্দী
  3. নবম শতাব্দী
  4. দশম শতাব্দী
ব্যাখ্যা
- পাল বংশ প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী রাজবংশ। পালরা প্রায় চারশ বছর বাংলা শাসন করে।
- অষ্টম শতাব্দীতে ৭৫০ সালে গোপাল মাৎস্যনায় অবস্থার অবসান ঘটিয়ে পাল শাসনের সূত্রপাত করেন। গোপাল ৭৫০ খ্রি. থেকে ৭৮১ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
- পাল বংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক ছিলেন ধর্মপাল। তিনি প্রায় (৭৮১-৮২১ খ্রি.) ৪০ বছর বাংলা শাসন করেন। তার উপাধি ছিলো পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ প্রভৃতি।
- পাল বংশের সর্বশেষ শাসক হলেন মদনপাল (১১৪৩-১১৬১ খ্রি.)।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১৩,২৩১.
বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতাসীন নারী সরকার প্রধান -
  1. শেখ হাসিনা
  2. সামিয়া সুলুহু হাসান
  3. আমিনাটা টিটউরে
  4. সিবল সিবার
ব্যাখ্যা

বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতাসীন নারী সরকার প্রধান:
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
- ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠনের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।
- শেখ হাসিনা পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে অনন্য রেকর্ড সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন বিশ্বরাজনীতিতে।
- বিশ্বে শেখ হাসিনাই সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতাসীন নারী সরকারপ্রধান।
- এরই মধ্যে চার মেয়াদে ২০ বছর সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়।
- ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগের জয়যাত্রা শুরু হয়।
- ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ ও ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। 

উৎস: ৮ জানুয়ারি, ২০২৪, কালের কন্ঠ। 

১৩,২৩২.
সপ্তম বিপিএলে ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত হন কে?
  1. ক) মোস্তাফিজুর রহমান
  2. খ) মোহাম্মদ আমির
  3. গ) আন্দ্রে রাসেল
  4. ঘ) রাইলি রুশো
ব্যাখ্যা
১১ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে ১৭ জানুয়ারী ২০২০ অনুষ্ঠিত হয় সপ্তম বিপিএল আসর। বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে এর নামকরণ করা হয় বঙ্গবন্ধু বিপিএল। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট মোট ৩টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় মোট ৭টি দল অংশগ্রহণ করে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় রাজশাহী রয়্যালস এবং রানার্সআপ হয় খুলনা টাইগার্স।প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স এবং সিলেট থান্ডার্স।ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট নির্বাচিত হন রাজশাহী রয়্যালসের অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল।(সূত্র: প্রথম আলো)
১৩,২৩৩.
১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন কে?
  1. মীর নিসার আলী
  2. মীর কাসিম
  3. নবাব সিরাজউদ্দৌলা
  4. আলীবর্দি খান
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ: 
- ১৭৬৪ সালের বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হন বাংলার সাবেক নওয়াব মীর কাসিম, মুগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম এবং অযোধ্যার নওয়াব সুজাউদ্দৌলা।
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে তারা একটি সম্মিলিত মিত্রশক্তি গঠন করেছিলেন।
- কিন্তু ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে কোম্পানির বাহিনী তাদের পরাজিত করে।
- এই যুদ্ধে মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন, শাহ আলম ইংরেজদের শিবিরে আশ্রয় নেন এবং সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান।
- বক্সারের যুদ্ধে ইংরেজদের বিজয়ের ফলে বাংলার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত হয় এবং
- পরবর্তীতে ১৭৬৫ সালে কোম্পানি মুগল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দীউয়ানি লাভ করে। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১৩,২৩৪.
কোনটি রাষ্ট্রের প্রাণস্বরূপ?
  1. জনসমষ্টি
  2. সরকার
  3. সার্বভৌমত্ব
  4. নির্দিষ্ট ভূখন্ড
ব্যাখ্যা

সার্বভৌমত্ব:
- সার্বভৌমত্ব হল রাষ্ট্রের প্রাণস্বরূপ।
- সার্বভৌমত্বের মাধ্যমেই রাষ্ট্র তার অস্তিত্ব প্রকাশ করে।
- জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখন্ড ও সরকার থাকার পরও যদি তাদের সার্বভৌমত্ব না থাকে তবে রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।
- সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য অনেক সময় চরম মূল্য দিতে হয়।
- সার্বভৌমত্বের বৈশিষ্ট্য দ্বারাই অন্য সকল সংগঠন অপেক্ষা রাষ্ট্রকে আলাদা ও ক্ষমতাবান হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- রাষ্ট্রের মূল উপাদান চারটি।
- এগুলো হল- জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখন্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব।
- এদের যেকোন একটি অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্র গঠিত হওয়া সম্ভব নয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (এসএসসি প্রোগ্রাম) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৩৫.
১৯৭২ সালের সংবিধানে কতগুলো সংরক্ষিত মহিলা আসন রাখা হয়েছিল?
  1. ১৫টি
  2. ২৫টি
  3. ৩৫টি
  4. ৪৫টি
ব্যাখ্যা
এক কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদ:
- ১৯৭২-এর সংবিধানে এক কক্ষবিশিষ্ট আইন পরিষদের ব্যবস্থা করা হয়।
- সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে ৩০০ জন সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১৫ জন সদস্য নিয়ে আইন পরিষদ গঠিত হয়। 
- আইন পরিষদ জাতীয় সংসদ বলে অভিহিত হবে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৩৬.
তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের জন্য তখনকার বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয়-দফা দাবি পেশ করেন। ঐ সম্মেলন কোথায় হয়েছিল?
  1. ঢাকায়
  2. নারায়ণগঞ্জে
  3. লাহোরে
  4. করাচীতে
ব্যাখ্যা
ছয়দফা:
- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে একটি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষার দাবি সংবলিত একটি কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ইতিহাসে এটিই ৬ দফা কর্মসূচি নামে পরিচিত।
- ৬ দফা দাবি বাঙালি জাতির ‘মুক্তির সনদ’ বা ‘ম্যাগনেকার্টা’ হিসাবে পরিচিত।
- ছয় দফা দাবি ঐতিহাসিক ‘লাহোর প্রস্তাব’ এর ভিত্তিতে রচিত।
- ছয় দফা আন্দোলনের প্রথম শহিদ - মনু মিয়া।

দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা,
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৩৭.
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. নোট প্রচলন
  2. সরকারের ব্যাংক
  3. নিকাশ ঘর
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলী:
বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যাবলী নিচে আলোচনা করা হল:
- নোট প্রচলন
- সরকারের ব্যাংক
- অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার
- ঋণ নিয়ন্ত্রণ
- ঋণদানের শেষ আশ্রয়স্থল
- বৈদেশিক বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা
- নিকাশ ঘর
- উন্নয়নমূলক কার্যাবলী
- অন্যান্য কাজ
- উপরিউক্ত কাজ ছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক অথনৈতিক বিষয়ে গবেষণা করা, অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান তৈরি করা, ব্যাংক কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া, উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় উপাত্ত ও পরামর্শ দেয়া ইত্যাদি দায়িত্ব পালন করে থাকে।

উৎস: অর্থনীতি ২য় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৩৮.
বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র কোনটি?
  1. ক) ময়নামতি
  2. খ) সোনারগাঁ
  3. গ) পাহাড়পুর
  4. ঘ) মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন পুরাকীর্তি। প্রসিদ্ধ এই নগরী ইতিহাসে পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর নামেও পরিচিত ছিল। এক সময় মহাস্থানগড় বাংলার রাজধানী ছিল
( বাংলাপিডিয়ার আলোকে)

১৩,২৩৯.
কালাজ্বর নির্মূলে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পায় -
  1. পাকিস্তান
  2. ভুটান
  3. ভারত
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
• কালাজ্বর নির্মূলে বাংলাদেশ:
- বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কালাজ্বর নির্মূলে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। 
- ভারতের দিল্লিতে ডব্লিউএইচওর চার দিনব্যাপী চলা ৭৬তম দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কালাজ্বর:
- কালাজ্বর সাধারণত স্ত্রী বেলে মাছির কামড়ে ছড়ায়।
- বেলে মাছি ঘর এবং ঘরের আশপাশের ফাটলে বিশেষ করে স্যাঁতসেঁতে জায়গায় থাকে।  
- সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত সময়ে এ মাছি বেশি কামড়ায়।
- এর জীবাণু শরীরে প্রবেশের পর তা রক্তের লোহিত কণিকাকে আক্রান্ত করে এবং সেখানে বংশবৃদ্ধি শুরু করে।
- ফলে লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায় এবং রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।

উৎস: প্রথম আলো।
১৩,২৪০.
লক্ষ্মৌ চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
  2. ব্রিটিশ শাসন জোরদার
  3. প্রাদেশিক বিভাজন 
  4. ঐক্য গড়ে তোলা
ব্যাখ্যা

লক্ষ্মৌ চুক্তি:
- ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে হিন্দু–মুসলিম ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল-
- ভারতের বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা,
- পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা,
- এবং সম্মিলিতভাবে স্বরাজ বা আত্মশাসন অর্জনের পথ সুগম করা।

- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ১৯১১ সালে রদ হওয়ায় মুসলমান সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি হয়।
- এর পাশাপাশি ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করতে বাধ্য হয়।
- ফলে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন সমঝোতার পরিবেশ গড়ে ওঠে।
- এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগ—উভয়েই পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।
- ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্মৌ শহরে দুই দল একযোগে তাদের বার্ষিক অধিবেশন আয়োজন করে।
- এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যা ইতিহাসে লক্ষ্মৌ চুক্তি নামে পরিচিত।

- এই চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস মুসলিম লীগের পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মুসলমানদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়।
- অন্যদিকে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের সঙ্গে একত্রে সাংবিধানিক সংস্কার ও স্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালাতে সম্মত হয়।
- এর ফলে হিন্দু–মুসলিম রাজনৈতিক ঐক্য দৃঢ় হয়।
- এবং ব্রিটিশ সরকারের ওপর সাংবিধানিক সংস্কার আনার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৪১.
মেসোপটেমীয়া বলতে কী বুঝায়?
  1. ক) বিরোধপূর্ণ অঞ্চল
  2. খ) দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
  3. গ) সভ্যতার তীর্থভূমি
  4. ঘ) প্রাচীন ভাষা
ব্যাখ্যা
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার অবস্থান খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখন্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা- ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়। 
- প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে। যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার জন্ম টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস দুই নদীর মধ্যবর্তী উর্বর সমতল অঞ্চলে।
- এই অঞ্চল আরো পাঁচটি সভ্যতার জন্মস্থান।
- যে সভ্যতাগুলো বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানামুখি অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৪২.
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে কে?
  1. সামরিক বাহিনী
  2. সচিব
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. বিরোধী দল
ব্যাখ্যা
বিরোধী দল:

- দল প্রথার ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সে দলই শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- নির্বাচনে পরাজিত দল বা দলগুলি আইন সভাতে বিরোধী দলের ভূমিকা নেয়। 
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
- সরকার বিরোধী দলের সমালোচনার চাপে একক কোন সিদ্ধান্ত জনগণের উপর চাপিয়ে দিতে পারে না।
- বিরোধী দল সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের সমালোচনা করে সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি জনসাধারণের সামনে তুলে ধরে।
- জনগণের অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- সরকার যাতে জনগণের অধিকার খর্ব করে কোন সিদ্ধান্ত নিতে না পারে সে ব্যাপারে বিরোধী দলকে সচেষ্ট থাকতে হয়।
- আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না।
- গণতন্ত্র মানেই বিভিন্ন মতামতের সংমিশ্রণ।
- এক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সহাবস্থান অবশ্যই থাকতে হয়।
- শক্তিশালী বিরোধী দলের অভাবে সরকার স্বৈরাচারী হয়ে যেতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৪৩.
কোন গাছের কাঠ হতে দিয়াশলাই কাঠি তৈরি হয়?
  1. গরান
  2. গেওয়া
  3. বাঁশ
  4. ধুন্দল
ব্যাখ্যা
• দিয়াশলাই শিল্প:
- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে।
- এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

• কাগজ শিল্প:
- রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।

• নিউজপ্রিন্ট কারখানা:
- সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর ভিত্তি করে খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি গড়ে উঠেছে।

• রেয়ন শিল্প:
- চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৪৪.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম নারী চিকিৎসক কে ছিলেন?
  1. ক) ডা. জোহরা বেগম কাজী
  2. খ) মনজুলা ময়মুন
  3. গ) ডা. মমতাজ বেগম
  4. ঘ) ডা. ফিরোজা বেগম
ব্যাখ্যা

অবিভক্ত বাংলার প্রথম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী।

তিনি ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
২৩ বছর বয়সেই তিনি দিল্লির 'লেডি হাডিং মেডিকেল কলেজ' থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমবিবিএস পাস করেন। এজন্য পুরস্কার হিসেবে পান ভাইসরয় পদক।
১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন।
১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশকিছু বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেলে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।
তার কারণে চিকিৎসা শাস্ত্রে এদেশে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়। দীর্ঘ কর্মময় জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে পান একুশে পদক, রোকেয়া পদক ও বিএমএ স্বর্ণপদক।
তিনি ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন।

১৩,২৪৫.
বাংলাদেশের কোন জেলায় 'কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়' স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. গোপালগঞ্জ
  3. কুড়িগ্রাম
  4. নীলফামারী
ব্যাখ্যা
কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য আইন করার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় সংসদ।
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বুধবার ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২১’ নামে এই বিলটি পাসের জন্য তুললে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।
বিলে বলা হয়েছে, এ বিশ্ববিদ্যালয় কৃষি বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষাদান এবং গবেষণা ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
উৎস: দৈনিক যুগান্তর।
১৩,২৪৬.
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম কি?
  1. ক) সুবর্নগ্রাম
  2. খ) পুন্ড্রবর্ধন
  3. গ) চন্দ্রদ্বীপ
  4. ঘ) সিংহজানী
ব্যাখ্যা

মহাস্থানগড় বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রাচীন নগরী। প্রসিদ্ধ এই নগরী ইতিহাসে পুণ্ড্রবর্ধন বা পুণ্ড্রনগর নামেও পরিচিত ছিল।
প্রাচীন নগরী পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী মহাস্থানগড় বগুড়ায় অবস্থিত করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত ছিল।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৪৭.
SDG বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রথম লক্ষ্যমাত্রা কোনটি?
  1. ক্ষুধামুক্তি
  2. বৈষম্য হ্রাস
  3. লিঙ্গ সমতা
  4. দারিদ্র্য নির্মূল
ব্যাখ্যা

• টেকসই উন্নয়ন জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহিত হয় - ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫।
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- ১৭টি।
টেকসই উন্নয়ন উদ্দেশ্য - ১৬৯টি।
টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নের সময়কাল- ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০৩০।

• ​টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা- ১৭টি।
১. দারিদ্র্য নির্মূল;
২. ক্ষুধামুক্তি;
৩. সুস্বাস্থ্য;
৪. মানসম্পন্ন শিক্ষা;
৫. লিঙ্গ সমতা;
৬. বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন;
৭. সাশ্রয়ী ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি;
৮. উপযুক্ত কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি;
৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো;
১০. বৈষম্য হ্রাস;
১১. টেকসই শহর ও জনগণ;
১২. পরিমিত ভোগ;
১৩. জলবায়ুবিষয়ক পদক্ষেপ;
১৪. পানির নিচে প্রাণ;
১৫. স্থলভাগের জীবন;
১৬. শান্তি ও ন্যায়বিচার এবং
১৭. লক্ষ্য অর্জনে অংশীদারত্ব।

উৎস : বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

১৩,২৪৮.
বাজেট ২০২৩-২৪ অনুযায়ী করমুক্ত আয়সীমা কত?
  1. ক) ২৫০০০০
  2. খ) ২৯০০০০
  3. গ) ৩২০০০০
  4. ঘ) ৩৫০০০০
ব্যাখ্যা
বাজেট ২০২৩-২৪:

- করমুক্ত আয়সীমা ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
- এটি দেশের ৫২ তম (অন্তর্বর্তীকালীন বাজেট বাদে)। 
- এটি আওয়ামী লীগ সরকারের টানা ১৫তম এবং মোট ২৪ তম বাজেট।
- বাজেটের স্লোগান উন্নয়নের অভিযাত্রার দেড় দশক পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।
- বাজেটের আকার- ৭,৬১,৭৮৫ কোটি।
- GDP'র প্রবৃদ্ধি ৭.৫%।
- সর্বোচ্চ বরাদ্দ - জনপ্রশাসন খাতে (১,৬৭,৮৮০ কোটি টাকা)।

তথ্যসূত্র - বাজেট ২০২৩-২৪।
১৩,২৪৯.
নিচের কোনটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়?
  1. ক) বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন
  2. খ) বাংলাদেশ ব্যাংক
  3. গ) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
  4. ঘ) জাতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা
সংবিধানের সুস্পষ্ট বিধি মোতাবেক যে প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে রয়েছে:
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন
- বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন
- মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়
- জাতীয় সংসদ
- এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় প্রভৃতি।
অন্যদিকে বাংলা একাডেমি, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন হলো সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
(সূত্রঃ রাষ্ট্রবিজ্ঞান : স্নাতক শ্রেণী এবং বাংলাদেশ সংবিধান)
১৩,২৫০.
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে কত সালে?
  1. ২০০৬ সাল
  2. ২০০৯ সাল
  3. ২০১২ সাল
  4. ২০০৮ সাল
ব্যাখ্যা

• রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন:
- রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নির্বাচন কমিশনের অধীন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে শতাধিক রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে।

⇒ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে।
- ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের মূল আইনে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের কোনো বিধান না থাকলেও রাজনীতির প্রতি বিতশ্রদ্ধ ১/১১ সরকার ১৯৭২ সালের Representation of People Order (RPO) পরিবর্তন করে সংশোধন আকারে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের Representation of People (Amendment) Ordinance, 2008 নামক একটি আইন করে।
- এই আইনে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের একটি অতিরিক্ত অধ্যায় সংযোজন করা হয়।
- উক্ত অধ্যায়ে ৯টি ধারা (৯০এ থেকে ৯০আই) রয়েছে।
- ৯০এ অনুসারে নির্বাচনে অংশগ্রণেচ্ছু দলসমূহকে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

⇒ ৯০বি(১)এ ধারার বিধি অনুসারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন পেতে হলে:
(i) বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দরখাস্ত দাখিলের তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে দলীয় নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমপক্ষে একটি আসন লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(ii) উক্তরূপ নির্বাচনের যেকোন একটিতে দরখাস্তকারী দল কর্তৃক নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত আসনসমূহে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যার ৫% ভোট লাভ করে থাকতে হবে অথবা,
(iii) কেন্দ্রীয় কমিটি ও অফিস, অফিসসহ কমপক্ষে ১০টি জেলা কমিটি এবং অফিসসহ কমপক্ষে ৫০টি উপজেলা/থানা কমিটি থাকতে হবে।

উল্লেখ্য,
- ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এটিএম শামছুল হুদার নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের বিধান চালু করে।
- ওই বছরই প্রথম দফায় বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন।

উৎস: i) বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

১৩,২৫১.
Who was the Chief Election Commissioner in the 1970 election?
  1. Syed Badrul Ahsan
  2. Abdus Sattar
  3. A.T.M. Shamsul Huda
  4. Hannan Shah
  5. None of them
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের নির্বাচন:
- ১৯৬২ সালে মৌলিক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয়।
- ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের জনগণ সর্বপ্রথম দেশের কেন্দ্রীয় আইন পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ লাভ করে।
- নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
- ১৯৭০ সালের ১ জানুয়ারি সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
- ফলে সেদিন থেকেই নির্বাচনী প্রচারাভিযান শুরু হয়।
- ১৯৭০ সালের ৫ অক্টোবর জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
- কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে বন্যা হয়।
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয় ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর।
- এবং প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হয় ১৭ ডিসেম্বর।
 
উল্লেখ্য,
- ১৯৭০ এর পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট ২৪টি দল অংশগ্রহণ করে।
- আওয়ামী লীগ প্রধান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান 'নৌকা' প্রতীক নিয়ে ঐতিহাসিক ছয় দফার পক্ষে প্রচারাভিযানে নামেন।
- জাতীয় পরিষদে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসন লাভ করে।
 
 অন্যদিকে -
- পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৪৪টি আসনের মধ্যে জুলফিকার আলী ভূট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি ন্যাপ৮৮টি আসন লাভ করে।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি (১০টি মহিলা সংরক্ষিত আসন ছাড়া) আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৮৮ টি আসনে জয়লাভ করে।
- এভাবে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করে।
- নির্বাচনে জয়লাভ করলেও আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে রাজি ছিলেন না পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী।
 
উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১৩,২৫২.
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জনপ্রশাসন খাতের অবদান কত শতাংশ?
  1. ২১.২%
  2. ২৩.৫%
  3. ২৫.৩%
  4. ২৭.৭%
ব্যাখ্যা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট:
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া খাতসমূহ,
• প্রথম অবস্থানে জনপ্রশাসন - ২৩.৫%।
• দ্বিতীয় অবস্থানে শিক্ষা ও প্রযুক্তি - ১৪.০%।
• তৃতীয় অবস্থানে পরিবহন ও যোগাযোগ - ৯.০%।
- উন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত: পরিবহন ও যোগাযোগ।
- অউন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত: সুদ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ অর্থবছর।

১৩,২৫৩.
বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের মধ্যে ইলিশের পরিমাণ-
  1. ১০ শতাংশ
  2. ১২ শতাংশ
  3. ১৪ শতাংশ
  4. ২০ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• ইলিশ উৎপাদনে,
- বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম,
- ভারত বিশ্বে দ্বিতীয়,
- মিয়ানমার বিশ্বে তৃতীয়।
• বাংলাদেশের মোট উৎপাদিত মাছের মধ্যে ইলিশের পরিমাণ- ১২%।
• মোট দেশজ উৎপাদনে ইলিশের অবদান- ১%।
• বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬% (World Fish- এর তথ্যানুসারে)
• বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৫% (FAO এর The State of World Fisheries and Aquaculture 2020 এর তথ্যানুসারে)।

১৩,২৫৪.
মুজিবনগর সরকার কতজন সদস্য বিশিষ্ট পরিকল্পনা কমিশন গঠন করেছিল?
  1. ৫ জন
  2. ৬ জন
  3. ৭ জন
  4. ৮ জন
ব্যাখ্যা
পরিকল্পনা কমিশন:

- পরিকল্পনা কমিশন গঠন দেশ শত্রুমুক্ত করার পরপরই যেহেতু পুনর্গঠন একটি কাজ হবে এবং সে কাজে সরকারের পক্ষে কোনরূপ কালক্ষেপণ করা যাবে না।
- স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে মুজিবনগর সরকার পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে।
- কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন ড. মুজাফফর আহমদ চৌধুরী। সদস্য ছিলেন -
(১) ড. খান সরওয়ার মুর্শেদ।
(২) ড. মোশাররফ হোসেন।
(৩) ড. এস. আর. বোস।
(৪) ড. আনিসুজ্জামান।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৫৫.
সংবিধানের কততম ভাগ মৌলিক অধিকার সংবলিত?
  1. পঞ্চম ভাগ
  2. দ্বিতীয় ভাগ
  3. তৃতীয় ভাগ
  4. সপ্তম ভাগ
ব্যাখ্যা
• সংবিধানের ভাগ মোট ১১টি।
• প্রতিটি ভাগে বিভিন্ন বিধান সংবলিত।
- প্রথম ভাগ: প্রজাতন্ত্র;
- দ্বিতীয় ভাগ: রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
- তৃতীয় ভাগ: মৌলিক অধিকার;
- চতুর্থ ভাগ: নির্বাহী বিভাগ;
- পঞ্চম ভাগ: আইনসভা।
- ষষ্ঠ ভাগ: বিচারবিভাগ।
- সপ্তম ভাগ: নির্বাচন;
- অষ্টম ভাগ:মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক;
- নবম ভাগ: বাংলাদেশের কর্মবিভাগ এবংজরুরী বিধানাবলী।
- দশম ভাগ: সংবিধান-সংশোধন।
- একাদশ ভাগ: বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।
১৩,২৫৬.
‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প কবে চালু হয়?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৮ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
একটি বাড়ি একটি খামার:
- আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৯৯৬ সালের শাসনামলে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প শুরু হয়। 
- একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত সমবায় সমিতি ভিত্তিক একটি দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক পরিকল্পনা।
- এই প্রকল্পের আওতায় গ্রামের দরিদ্র পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিক ইউনিট হিসেবে তৈরি করার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বিএনপি-জামায়াত জোট পরবর্তীতে ক্ষমতায় এসে এই প্রকল্প বন্ধ করে দেয়।
- আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসলে আবার চালু হয় এ প্রকল্প।
- ২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- ব্যাংকটি মূলত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পেরই পরবর্তী রূপ।
- দারিদ্র্য বিমোচনে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প ভূমিকা রেখেছে।

উৎস: i) একটি বাড়ি একটি খামার ওয়েবসাইট।
          ii) ৩ অক্টোবর ২০১৬, প্রথম আলো।
১৩,২৫৭.
’দ্বীন-ই-ইলাহী‘ ধর্ম কে প্রবর্তন করেন?
  1. ফিরোজ শাহ তুঘলক
  2. মহম্মদ বিন তুঘলক
  3. সম্রাট আকবর
  4. সম্রাট বাবর
ব্যাখ্যা
দ্বীন-ই-ইলাহী:
- সম্রাট আকবর ১৫৮২ খ্রি. দ্বীন-ই-ইলাহী নামক এক নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- প্রকৃত অর্থে এটি ছিল একটি ভ্রাতৃত্বের সংঘ।
- আকবর ফতেহপুর সিক্রিতে একটি ইবাদাতখানা তৈরী করেন।
- হিন্দু পন্ডিত, আলেম-উলেমা, জেসুইট মিশনারী ও অন্যান্য ধর্মের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকতেন।
- আকবর সকলের মতামত মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এই সকল ধর্মের দ্বন্দ্বকে একপাশে রেখে সকল ধর্মের ভাল দিকগুলো একত্রিত করে একটি নতুন ধর্মমত প্রবর্তন করেন।
- এটিই দ্বীন-ই-ইলাহী নামে পরিচিত।
- আকবর নিজে 'ইমাম-ই-আদিল' উপাধি গ্রহণ করেন।
- সম্রাটের ধর্মনীতির মূল কথাই ছিল পরধর্ম সহিঞ্চুতা বা "সুলহ-ই-কুল"।
- প্রতি রবিবার সম্রাট নিজে এই ধর্মের দীক্ষা দিতেন।
- সম্রাট আকবরের মৃত্যুর সাথে সাথে দ্বীন-ই-ইলাহীরও অবসান ঘটে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৫৮.
বর্তমানে সর্বোচ্চ আয়কর হার কত?
  1. ক) ১৫ শতাংশ
  2. খ) ২০ শতাংশ
  3. গ) ২৫ শতাংশ
  4. ঘ) ৩০ শতাংশ
ব্যাখ্যা
চলতি ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে সর্বোচ্চ আয়কর হার নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন করহার ৫ শতাংশ।
বাজেটে সাধারণ (পুরুষদের ক্ষেত্রে) করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লক্ষ টাকা। এর পরবর্তী ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর আয়কর হার ৫ শতাংশ। পরবর্তী ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর আয়কর হার ১০ শতাংশ। পরবর্তী ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর আয়কর হার ১৫ শতাংশ। পরবর্তী ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের উপর আয়কর হার ২০ শতাংশ। অবশিষ্ট আয়ের উপর করহার ২৫ শতাংশ।
২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের পূর্বে সর্বোচ্চ করহার ছিলো ৩০ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ।
(সূত্র: অর্থবিভাগ)
১৩,২৫৯.
পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ শুরু হয় কবে?
  1. ক) ডিসেম্বর 2014
  2. খ) ডিসেম্বর 2015
  3. গ) মার্চ 2014
  4. ঘ) এপ্রিল 2014
ব্যাখ্যা

এক নজরে পদ্মা সেতু :

অফিসিয়াল নাম : পদ্মা বহুমুখী সেতু (Padma Multipurpose Bridge)
সেতুর ধরন : দ্বিতল (ওপরে সড়ক এবং নিচে রেলপথ)
প্রত্যক্ষভাবে জড়িত স্থান/জেলা/উপজেলা ৩টি- ১. মাওয়া, লৌহজং উপজেলা, মুন্সিগঞ্জ জেলা, ২. শিবচর উপজেলা, মাদারীপুর জেলা ও ৩. জাজিরা উপজেলা, শরীয়তপুর জেলা।
সংযোগস্থল :  মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মাওয়া ও শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলা।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : ৪ জুলাই ২০০১।
নির্মাণকাজ উদ্বোধন : ১২ ডিসেম্বর ২০১৫।

দৈর্ঘ্য : ৬.১৫ কি.মি. (২০,১৭৭.১৭ ফুট)।
প্রস্থ : ১৮.১০ মি. (৫৯.৩৮ ফুট)
সংযোগ সড়কসহ সেতুর মোট দৈর্ঘ্য : ৯.৩০ কি.মি.
লেন : ৪টি 
সেতুর আয়ুষ্কাল : ১০০ বছর 
ভূমিকম্পের সহনীয় মাত্রা : রিখটার স্কেল ৯ 
স্প্যান : ৪১টি
পিলার বা পিয়ার : ৪২টি

১৩,২৬০.
জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়-
  1. ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  4. ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫:
- ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ সালে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়েছে।
- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ মুদ্রণ ও প্রকাশনা বিভাগ থেকে আদেশটি জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করা হয়েছে।

• আদেশে বলা হয়েছে, সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুথানের মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের প্রকাশ ঘটেছে। এ গণঅভ্যুত্থানের ফলে ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটে। চব্বিশের ৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং ৮ আগস্ট বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকারিতা ও স্বীকৃতি লাভ করে। রাষ্ট্রীয় সংস্কার সাধনের মাধ্যমে সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থায় সংস্কারের সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে ৬টি সংস্কার কমিশন গঠন করে এবং এই কমিশনসমূহ স্ব স্ব প্রতিবেদন সরকারের নিকট পেশ করে।

• আদেশে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনগুলোতে অন্তর্ভুক্ত সুপারিশের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনাক্রমে সংবিধান সংস্কারসহ অন্যান্য সংস্কারের সুপারিশ সম্বলিত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ প্রণয়ন করে এবং রাজনৈতিক দল ও জোটসমূহ সম্মিলিতভাবে এ সনদে স্বাক্ষর ও তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করে।

• আদেশে আরো বলা হয়েছে, সংবিধান সংস্কার বিষয়ে জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী জনগণের অনুমোদন প্রয়োজন এবং এ উদ্দেশ্যে গণভোট অনুষ্ঠান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও পরিষদ কর্তৃক সংবিধান সংস্কার করার আবশ্যকতা রয়েছে। তাই জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন সম্পন্ন করার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা একান্ত প্রয়োজন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের ভিত্তিতে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরামর্শক্রমে, রাষ্ট্রপতি এই আদেশ জারি করলেন। এই আদেশ জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ নামে অভিহিত হবে।

উৎস: বাসস ও জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫।

১৩,২৬১.
বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল কোন সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন?
  1. ১নং সেক্টর
  2. ২নং সেক্টর
  3. ৩নং সেক্টর
  4. ৪নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল:
- তাঁর জন্ম ১৯৪৯ সালে বরিশালের দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপাড়া গ্রামে।
- ১৯৬৮ সালে তিনি পাকিস্তানের চতুর্থ ইস্ট-বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন।
- মুক্তিযুদ্ধ শুরুর কয়েকদিন পূর্বে বক্সার হিসাবে সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা অবৈতনিক ল্যান্স নায়েক হিসাবে পদোন্নতি পান।
- ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ৪ ইষ্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টকে সিলেট ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মোতায়েন করে।
- বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল ২নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
- তিনি মেজর খালেদ মোশারফের নেতৃত্বে আশুগঞ্জ, উজানিস্বর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
- ১৮ এপ্রিল অসীম সাহসের সাথে যুদ্ধ করতে করতে শহীদ হন।
- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরুইন গ্রামের জনগণ মোস্তফা কামালকে তাঁর শাহাদাতের স্থানের পাশেই সমাহিত করে।
- মুক্তিযুদ্ধে সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাবে ভূষিত করে।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।

১৩,২৬২.
'চেরাউ নৃত্য' কোন ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য?
  1. বম
  2. লুসাই
  3. হাজং
  4. ম্রো
ব্যাখ্যা
বম জনগোষ্ঠী:
- বাংলাদেশের বান্দরবানে বেশিরভাগ বম জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
- বমদের গ্রামগুলির চারপাশে শক্ত গাছের খুঁটি পুঁতে বেষ্টনী তৈরি করা হতো।
- বমরা মাটিতে খুঁটি পুঁতে উঁচু পাহাড়ের উপর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তাতে বাড়িঘর নির্মাণ করে। তাদের ঘরকে মাচাং বলা হয়। মাচাং বাঁশ বা কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়।
- সামাজিক আচার-আচরণ, বিচার সালিশ এবং বিবাদ মীমাংসার জন্য এদের নিজস্ব সামাজিক অবকাঠামো আছে।
- এই কাঠামো সামগ্রিকভাবে সামাজিক আচার-ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
- বমরা তাদের জীবন পরিচালনা করে বম কাস্টমারি ল’ গ্রন্থের নির্দেশিকা অনুযায়ী।
- বমদের বাঁশনৃত্য তাদের জীবনেরই অপরিহার্য অংশ। এটি পরিবেশ থেকে নেওয়া নৃত্যানুষ্ঠান।
- 'চেরাউ নৃত্য' বম জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য।
- বমদের চেরাউ নৃত্য ও সঙ্গীত আসলে কোন আনন্দের বা উৎসবের নৃত্য বা গান নয়।
- এ নৃত্য ও গান পরিবেশিত হয় বম পরিবারের দুঃখ ও শোকের দিনে। বিশেষ করে পরিবারের কারও অকাল বা অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে এই গান করা হয়।
- শোকের সময় মানুষকে সান্ত্বনা ও সাহস দেওয়ার এটাই বমদের রীতি।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৩,২৬৩.
মুজিববর্ষের সময়কাল কত?
  1. ক) ১৭ মার্চ, ২০২০-২৬ মার্চ, ২০২১
  2. খ) ১৭ মার্চ, ২০২০-১৬ ডিসেম্বর, ২০২১
  3. গ) ১৭ মার্চ, ২০২০-২৬ মার্চ, ২০২২
  4. ঘ) ১৭ মার্চ, ২০২০-৩১ মার্চ, ২০২২
ব্যাখ্যা
- মুজিববর্ষের সময়কাল: ১৭ মার্চ ২০২০ - ৩১ মার্চ ২০২২
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে ঘোষিত মুজিববর্ষের সময়কাল আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
- মহামারি করোনার কারণে মুজিববর্ষের ঘোষিত কর্মসূচি শেষ করতে না পারায় এর সময়সীমা বাড়ানো হয়।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। 
১৩,২৬৪.
What is the population growth rate of Bangladesh by Economic Review - 2022?
  1. ক) 1.22%
  2. খ) 1.25%
  3. গ) 1.35%
  4. ঘ) 1.37%
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২২ অনুসারে, 

মোট জনসংখ্যা = ১৭ কোটি ৮ লাখ (১৭০.৮ মিলিয়ন)
জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার = ১.৩৭%
জনসংখ্যার ঘনত্ব = ১১৪০/বর্গ কি.মি.
গড় আয়ু/প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল =  ৭২.৮ বছর (পুরুষ - ৭১.২ বছর ও নারী - ৭৪.৫ বছর)
স্বাক্ষরতার হার (৭ বছরের অধিক) =  ৭৫.২%  (পুরুষ - ৭৭.৪% ও নারী - ৭২.৯%)

পুরুষ ও নারীর অনুপাত = ১০০.২ : ১০০
ডাক্তার প্রতি জনসংখ্যার অনুপাত =  ১ : ১৭২৪
সুপেয় পানি গ্রহণকারী = ৯৮.৩%

দারিদ্র্যের হার =  ২০.৫%
চরম দারিদ্র্যের হার = ১০.৫%
স্থূল জন্মহার (প্রতি হাজারে) =  ১৮.১ জন
স্থূল মৃত্যুহার (প্রতি হাজারে) =  ৫.১ জন

সূত্র: অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২২
১৩,২৬৫.
কোন গভর্নর জেনারেলের শাসনকালে ভারতে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়?
  1. লর্ড হার্ডিঞ্জ
  2. লর্ড ডালহৌসি
  3. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
  4. লর্ড ক্যানিং
ব্যাখ্যা

লর্ড ডালহৌসি:
- ভারতে প্রথম রেল চলাচল শুরু হয়েছিল লর্ড ডালহৌসির শাসনকালে। 
- তাঁর সময়েই ১৮৫৩ সালে বোম্বে (মুম্বাই) থেকে থানে পর্যন্ত প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হয়।
- ডালহৌসিকে ভারতের রেলপথের জনক বলা হয়।
- তাঁর সময়েই ভারতে রেলপথ, টেলিগ্রাফ এবং ডাক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ শুরু হয়েছিল। 

উল্লেখ্য,
- ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড হার্ডিঞ্জের পর মাত্র ৩৬ বৎসর বয়সে লর্ড ডালহৌসী এ উপমহাদেশে আসেন।
- ব্রিটিশ ভারতের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাম্রাজ্যবাদী ছিলো লর্ড ডালহৌসি।
- ইংল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এ পর্যন্ত যত সাম্রাজ্যবাদী শাসক এ উপমহাদেশে প্রেরণ করেছেন তার মধ্যে লর্ড ডালহৌসী ছিলেন ঘোর সাম্রাজ্যবাদী। লর্ড ডালহৌসীর সাম্রাজ্যবাদ নীতির তিনটি লক্ষ্য ছিল-
ক. পাশ্চাত্য সভ্যতা ও শাসনের প্রসার,
খ. ইংরেজ সাম্রাজ্যের সংহতি স্থাপন ও,
গ. উপমহাদেশে ব্রিটিশ পণ্যের বাজার সৃষ্টি।

এছাড়াও,
- ডালহৌসী কঠোরতার সাথে স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য প্রসারের পথ আরও প্রশস্ত করে তোলেন।
- তিনি গভর্নর জেনারেলের কাজের চাপ কমানোর লক্ষ্যে বাংলার জন্য একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নর (ছোট লাট) নিযুক্ত করেন।
- তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাস করে হিন্দু বিধবা বিয়েকে আইনসঙ্গত করেন। এ বিষয়ে পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ডালহৌসীকে সাহায্য করেন। ডালহৌসী এমন একটি আইন পাস করান যাতে এদেশীয়গণ ধর্মান্তরিত হলেও তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ভোগ করতে পারে।
- তিনি পূর্তবিভাগের প্রতিষ্ঠিত গঙ্গা খাল খনন ও জল সেচ ব্যবস্থার উন্নতি সাধন করেন।
- তিনি রাজপথ ও সড়কগুলোর উন্নয়ন করেন। তাঁরই সময়ে কলকাতা হতে পেশোয়ার পর্যন্ত গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড পুনরায় চালু হয়।
- তিনি বনভূমি সংরক্ষণ নীতি প্রবর্তন করেন এবং চা ও কফি বাগানের প্রসার সাধন করেন।
- তিনি রুরকির ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও স্থাপন করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচসএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৬৬.
শাহ সুলতান বলখীর মাজার কোথায় অবস্থিত?
  1. নেত্রকোনা
  2. ঢাকা
  3. মহাস্থানগড়
  4. শাহজাদপুর
ব্যাখ্যা

শাহ সুলতান বলখীর মাজার:
- শাহ সুলতান মাহিসওয়ার (রঃ) একজন দরবেশ ও বিখ্যাত সাধক ছিলেন।
- উপাধি ও ইতিহাস: বলা হয় তিনি বলখ রাজ্যের রাজার পুত্র ছিলেন, এজন্য তাকে বলখী বলা হয়। তাঁর জীবনের বিস্তারিত ইতিহাস অস্পষ্ট।
- অবস্থান: মাজারটি মহাস্থানগড়, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত।

ঊল্লেখো, 
- মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল।
- এটি করতোয়া নদীর তীরে অবস্থিত এবং বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১০ কিমি উত্তরে।
- ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: সেন বংশের শেষ রাজা লক্ষ্মণ সেন (১০৮২–১১২৫) গৌড়ের রাজা ছিলেন, সেই সময় মহাস্থানগড় অরক্ষিত ছিল।
- মহাস্থানগড় বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন নগর কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৩,২৬৭.
সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ কবে অবৈধ ঘোষণা করে?
  1. ক) ফেব্রুয়ারি, ২০১১
  2. খ) ফেব্রুয়ারি, ২০১৪
  3. গ) ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
  4. ঘ) ফেব্রুয়ারি, ২০১০
ব্যাখ্যা
• ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি ছিলো:
- জাতীয়তাবাদ
- সমাজতন্ত্র
- গণতন্ত্র ও
- ধর্মনিরপেক্ষতা।
• ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার এই চারটি মূলনীতিতে প্রথমবার পরিবর্তন আনা হয়।
• কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট ২০১০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংশোধনীকে বাতিল ঘোষণা করে।
• ফলে ২০১১ সালের ৩ জুলাই জাতীয় সংসদে গৃহিত সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ‍বাহাত্তরের মূল সংবিধানের রাষ্ট্র পরিচালনার চারটি মূলনীতি পুনঃস্থাপন করা হয়। (পুনরায় পরিবর্তন করা হয়)
 • এছাড়া, ২০১১ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩,২৬৮.
CPD এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Centre for Political Development
  2. Council for People’s Democracy
  3. Centre for Policy Dialogue
  4. Committee for Public Discussion
ব্যাখ্যা

CPD:
- পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- CPD হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: ঢাকার ধানমন্ডি।
- সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

সূত্র: CPD ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো পত্রিকা।

১৩,২৬৯.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতার পাহাড় চূড়া কোনটি?
  1. গারো পাহাড়
  2. জৈয়ন্তিকা পাহাড় 
  3. কালা পাহাড়
  4. চন্দ্রনাথ পাহাড়
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের পাহাড়:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণী।
- গারো পাহাড় মূলত পূর্ব গারো পাহাড়, পশ্চিম গারো পাহাড় এবং দক্ষিণ গারো পাহার এই তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত।
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ৮৯°৫০´ পূর্ব হতে ৯০°৫০´ পূর্ব অক্ষাংশ এবং ২৮°০৮´ উত্তর হতে ২৬°০১´ উত্তর  দ্রাঘিমাংশে এর আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এবং এই অঞ্চলসমূহ এই পাহাড়ের পাদদেশীয় পালিজ সমৃদ্ধ।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হচ্ছে তাজিংডং।
- এটি বিজয় নামেও পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ নবম দশম শ্রেণি।

১৩,২৭০.
তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ কী ছিল?
  1. নীল চাষিদের নিপীড়ন
  2. জমির খাজনা নিয়ে দ্বন্দ্ব 
  3. ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ
  4. বাজারমূল্য বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলন কৃষি উৎপাদনের দুই-তৃতীয়াংশের দাবিতে সংগঠিত বর্গাচাষিদের আন্দোলন।
- ১৯৪৬-৪৭ সালে এ আন্দোলন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল।
- মূলত তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন বাংলার প্রাদেশিক কৃষকসভার কম্যুনিস্ট কর্মীরা।
- তাদের নেতৃত্বে বর্গাচাষিরা ভূমিমালিক শ্রেণীর বিরুদ্ধে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ হয়। খুব দ্রুত নিচের স্তরে এর নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
- এ তেভাগা আন্দোলন বাংলার ১৯টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ে।
- আন্দোলনটি তীব্র আকার ধারণ করে দিনাজপুর, রংপুর, জলপাইগুড়ি, খুলনা, ময়মনসিংহ, যশোর এবং চবিবশ পরগনা জেলায়।
- এ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বর্গাচাষিদের অধিকার আদায়।

• তেভাগা আন্দোলনের মূল কারণ:
- জমির মালিক ও বর্গাচাষীদের মধ্যে ফসলের ভাগ নিয়ে অসন্তোষ।
- বর্গাচাষীদের উপর জমিদার ও জোতদারদের শোষণ।
- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ এবং এর পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকট।
- ফ্লাউড কমিশনের সুপারিশ যা উৎপাদিত ফসলের দুই-তৃতীয়াংশ চাষীদের দেয়ার কথা বলেছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয়নি।

উল্লেখ্য,
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- কৃষকদের অধিকার আদায়ে তেভাগা আন্দোলনে অগ্রপথিকের ভূমিকা পালন করেন নড়াইলের অমল সেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

১৩,২৭১.
কোনটি মুরগির সংকর জাত?
  1. ক) আঁচিল
  2. খ) সাদা লেগহর্ন
  3. গ) অস্টালপ
  4. ঘ) রুপালি
ব্যাখ্যা

রুপালি ও সোনালী হলো মুরগির সংকর জাত।
- দেশি জাতের মধ্যে রয়েছে: চাটগে, আসিল, উদোলা গলা।
- বিদেশি জাতের মুরগি:সাদা লেগহর্ন, রোড আইল্যান্ড রেড, অস্টালপ ।
- দেশে বহুল পরিচিত মুরগি বয়লার, সোনালী, পাকিস্তানি ইত্যাদি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক কৃষি শিক্ষা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

১৩,২৭২.
১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
  1. নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু
  2. প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার 
  3. ভগৎ সিং
  4. মাস্টারদা সূর্য সেন
ব্যাখ্যা
১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মাস্টারদা সূর্য সেন।

মাস্টারদা সূর্য সেন:

- তার পুরো নাম সূর্যকুমার সেন।
- মাস্টারদা সূর্যসেনের জন্ম ১৮৯৪ সালে চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়া গ্রামে।

⇒ বিএ পড়ার সময় তিনি তাঁর এক শিক্ষক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন।
- অধ্যাপক সতীশ চন্দ্র চক্রবর্তী যুগান্তর নামে বিপ্লবী দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।
- শিক্ষকতা করার কারণে তিনি পরিচিত মহলে 'মাস্টারদা' আখ্যা পান।

⇒ সূর্যসেন যখন নোয়াপাড়া উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ের ছাত্র তখন বঙ্গভঙ্গকে (১৯০৫) কেন্দ্র করে বাংলায় স্বদেশী আন্দোলন শুরু হয়।
- ক্রমে এই আন্দোলন বিশেষ করে চট্টগ্রাম এলাকায় বিপ্লবী আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯১৬ সালে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজে বি.এ. শ্রেণিতে পড়াকালীন শিক্ষক শতীশচন্দ্র চক্রবর্তী কর্তৃক বৈপ্লবিক আদর্শে দীক্ষিত হন সূর্যসেন।
- সূর্যসেন চট্টগ্রামে ফিরে গিয়ে ব্রিটিশ বিরোধী একটি বিপ্লবী দল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন।
- সূর্য সেন ১৯১৮ সালে চট্টগ্রামে ফিরে বিপ্লবী যুগান্তর দলকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

⇒ ১৯৩০ সালের চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রধান সংগঠক মাস্টারদা সূর্যসেন।
- ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিলের সশস্ত্র বিদ্রোহ ছিল সূর্যসেনের নেতৃত্বে বিপ্লবীদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার ফসল।
- ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১৩,২৭৩.
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (BPATC) কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. ধামরাই
  2. নবাবগঞ্জ
  3. সাভার
  4. দোহার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র:
- BPATC এর পূর্ণরূপ Bangladesh Public Administration Training Centre. 
- বাংলাদেশ সরকারের প্রধান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র BPATC।
- ক্যাডার ও নন-ক্যাডারভুক্ত সকল সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ১৯৮৪ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি ঢাকার অদূরে সাভার উপজেলায় অবস্থিত।
- সরকারের একজন সচিব এর প্রধান কর্মকর্তা।
- বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধানের পদবী রেক্টর। 

উৎস: বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) ওয়েবসাইট।
১৩,২৭৪.
প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ হয়ে আউট হয়েছেন কে?
  1. তামিম ইকবাল
  2. সাকিব আল হাসান
  3. মুশফিকুর রহিম
  4. নাজমুল হাসান শান্ত
ব্যাখ্যা
অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড:
- প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ হয়ে আউট হয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

উল্লেখ্য, 
- নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুশফিক 'হ্যান্ডল দ্য বল' আউট হয়েছেন।
- কিন্তু  'হ্যান্ডল দ্য বল'-এই নিয়মটি আর নেই, এটাকে 'অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড' হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ক্রিকেট ইতিহাসে মুশফিক ২৩তম ব্যাটসম্যান, যিনি 'অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড' আউট হয়েছেন।
- টেস্ট ক্রিকেটে ৭২ বছর পর দেখা যায় এমন আউট।
- 'হ্যান্ডল দ্য বল' এর হিসেবে ১৩তম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই আউটের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

ক্রিকেটের আইন-৩৭: অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড
- খেলা চলমান অবস্থায় যদি ব্যাটসম্যান ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতিপক্ষের ফিল্ডারকে কথায় বা কাজে বাঁধা প্রদান করেন, তাহলে তিনি আউট হবেন।

উৎস: i) ICC Cricket.
         ii) ৬ ডিসেম্বর ২০২৩, The Business Standard.
১৩,২৭৫.
বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর সর্বপ্রথম কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য হয়?
  1. কমনওয়েলথ
  2. জাতিসংঘ
  3. ওআইসি
  4. ডাব্লিউটিও
ব্যাখ্যা
- স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ প্রথম কোন বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে ১৯৭২ সালের ১৮ এপ্রিল কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে। 

Commonwealth: 

- ১৯৪৯ সালে ঐতিহাসিক লন্ডন ঘোষণার মাধ্যমে আধুনিক কমনওয়েলথের যাত্রা শুরু হয়। 
- মার্চের দ্বিতীয় সোমবার প্রতিবছর কমনওয়েলথ দিবস পালন করা হয়। 
- এর সচিবালয় অবস্থিত মার্লবোরো হাউজ, লন্ডন, যুক্তরাজ্য। 

উল্লেখ্য, 
- ১৯৬১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বর্ণবাদ নিয়ে সমালোচনার জেরে কমনওয়েলথ থেকে সরে যায়।
- স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ সর্বপ্রথম কমনওয়েলথের সদস্যপদ লাভ করে। 

সূত্র: সংস্থাগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাই।
১৩,২৭৬.
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া খাত কোনটি?
  1. জনপ্রশাসন
  2. শিক্ষা ও প্রযুক্তি
  3. পরিবহন ও যোগাযোগ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট:
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া খাতসমূহ,
• প্রথম অবস্থানে জনপ্রশাসন - ২২.১%।
• দ্বিতীয় অবস্থানে শিক্ষা ও প্রযুক্তি - ১৪.০%।
• তৃতীয় অবস্থানে পরিবহন ও যোগাযোগ - ১০.৪%।
- উন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত পরিবহন ও যোগাযোগ ।
- অউন্নয়ন বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত খাত ভর্তুকি ও প্রণোদনা ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় বাজেট ২০২৪-২৫ অর্থবছর।
১৩,২৭৭.
কোন শাসকের সময়ে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. টিক্কা খান
  3. জুলফিকার আলী
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা:
- ১৯৬৮ সালের আইয়ুব খান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় বঙ্গবন্ধুকে প্রধান আসামী করা হয়।
- মোট ৩৫ জনকে এই মামলার আসামী করা হয়।
- মামলার নাম ‘রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য’। তবে এটি ‘আগরতলা ষড়যন্ত্র’ মামলা হিসেবেই বেশি পরিচিত।
- গণঅভ্যুত্থানের মুখে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৭৮.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল কোন রাষ্ট্র?
  1. বুলগেরিয়া
  2. ইরাক
  3. ইরান
  4. পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন: 
- পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী নির্যাতন বন্ধ করার জন্য সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান।
- তিনি ইয়াহিয়াকে বাংলাদেশের জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যও বলেন।
- সোভিয়েত পত্রপত্রিকা, প্রচার মাধ্যমগুলো বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের কাহিনি ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
- সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে কিউবা, যুগোস্লাভিয়া, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, চেকোস্লোভাকিয়া, পূর্ব জার্মানিসহ তৎকালীন - সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে সমর্থন জানায়।
- লন্ডন ছিল বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারের প্রধান কেন্দ্র।
- ব্রিটেন ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, পশ্চিম জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও কানাডার প্রচার মাধ্যমগুলো পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
- ইরাক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানায়।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ, প্রচার মাধ্যম, কংগ্রেসের অনেক সদস্য এ দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সোচ্চার ছিল। 
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার, চীন এবং ইরান ও সৌদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য মুসলিম দেশ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১৩,২৭৯.
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম সার কারখানায় কোন সার উৎপন্ন হয়?
  1. পটাশ
  2. টিএসপি
  3. ইউরিয়া
  4. জিপসাম
ব্যাখ্যা
ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম সার কারখানা হলো ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা।
- এটি নরসিংদীতে অবস্থিত।
- দেশের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ১৯৭০ সালে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলায় বার্ষিক ৩,৪০,০০০ মেঃ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ইউরিয়া ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরী লিঃ এবং ১৯৮৫ সালে বার্ষিক ৯৫,০০০ মেঃ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা স্থাপিত হয়।

 উল্লেখ্য,
- ১২ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক এ কারখানার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
- সার উৎপাদনের ক্ষমতা: বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন।
- বিসিক জানায়, কারখানাটি ৩০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
- ১১০ একর জমিতে কারখানাটি নির্মিত হবে।
- নির্মাণ ব্যয়: ১৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
- কারখানাটির দৈনিক সার উৎপাদন হবে ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম সার কারখানা, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্লু গ্যাস থেকে পরিবেশদূষণকারী আহরণ করা হবে এবং ক্যাপচার করা কার্বন ডাই-অক্সাইড ব্যবহার করে ইউরিয়া সারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে (প্রায় ১০ শতাংশ)।
- এটি দেশে ‘অত্যাধুনিক, শক্তি সাশ্রয়ী ও সবুজ’ সার কারখানা, যা ইউরিয়া সারের আমদানি কমিয়ে দেবে এবং কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।

উৎস: i) ১২ নভেম্বর ২০২৩, প্রথম আলো।
         ii) বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
১৩,২৮০.
বাংলাদেশের প্রধান আইন কর্মকর্তা কে?
  1. আইনমন্ত্রী
  2. আইন সচিব
  3. অ্যাটর্নি জেনারেল
  4. ন্যায়পাল
ব্যাখ্যা
অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী। 
- অ্যাটর্নি জেনারেল হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রধান ও মুখ্য আইন পরামর্শক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী।
- অ্যাটর্নি জেনারেল সাধারণত সুপ্রিম কোর্টের সম্মানীয় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীগণের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত হন।
- বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৪(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন কোন ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন।

উৎস: এটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ওয়েবসাইট।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
১৩,২৮১.
কোন শাসক বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেন?
  1. বল্লাল সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. বিশ্বরূপ সেন
  4. বিজয় সেন
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:

- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের শেষের দিকে সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন বংশের শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত সেন।
- বিজয় সেনের সময়েই বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৮২.
স্বাধীনতা দিবস কোনটি?
  1. ১৬ ডিসেম্বর
  2. ২৬ শে মার্চ
  3. ২১ শে মার্চ
  4. ১৭ শে মার্চ
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দিবস:

- স্বাধীনতা দিবস এবং জাতীয় দিবস - ২৬ মার্চ
- জাতীয় শোক দিবস - ১৫ আগষ্ট
- সশস্ত্রবাহিনী দিবস - ২১ নভেম্বর
- মুক্তিযোদ্ধা দিবস - ০১ ডিসেম্বর
- বিজয় দিবস - ১৬ ডিসেম্বর

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন
১৩,২৮৩.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কোন ধরনের?
  1. এককেন্দ্রিক রাজতন্ত্র
  2. সংসদীয় গণতন্ত্র 
  3. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার 
  4. সংসদীয় ইসলামিকপ্রজাতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• সরকার কাঠামো:
- বাংলাদেশ একটি এককেন্দ্রিক সরকার কাঠামোভিত্তিক রাষ্ট্র।
- কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে সকল প্রশাসনিক ক্ষমতা ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থার ধরণ - সংসদীয় গণতন্ত্র।
- রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে সারা দেশকে বিভিন্ন প্রশাসনিক এককে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
- তবে সকল প্রশাসনিক কর্মকান্ড পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে কেন্দ্রীয় সচিবালয়।
- কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের সকল প্রশাসনিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী।
- রাষ্ট্রপতির নামে রাষ্ট্রের সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীপরিষদের কার্যকরি প্রধান হিসেবে সকল কার্য পরিচালনা করে থাকেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৮৪.
কিসের প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলন এর ডাক দেয়া হয়?
  1. পাক সরকারের পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য
  2. তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক শাসন
  3. জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ
  4. পাক বাহিনীর বর্বর অত্যাচার
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন 
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতকরণ এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। 
- অসহযোগ আন্দোলন ২ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অসহযোগ মানে সহযোগিতা না করা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পূর্ব বাংলার জনগণ তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকারের সব রকম সরকারি নির্দেশ অমান্য করে।
- এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।
- ২ মার্চ, ১৯৭১ ঢাবির বটতলায় প্রথমবারের মত বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলিত হয়। বাংলাদেশের প্রথম এই জাতীয় পতাকার ডিজাইন করেন শিব নারায়ণ দাস।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগের সভায় আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।
- ৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনতার উদ্দেশ্যে তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন, যা এদেশের মানুষকে আজও অনুপ্রাণিত করে।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৮৫.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী জিডিপিতে সেবাখাতের অবদান কত শতাংশ?
  1. ৩৩.২৭%
  2. ৩৭.৯৫%
  3. ৪৫.৩৮%
  4. ৫১.০৮%
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪:
- অর্থনীতি/জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান = ১১.০২%।
- অর্থনীতি/জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান = ৩৭.৯৫%।
- অর্থনীতি/জিডিপিতে সেবাখাতের অবদান= ৫১.০৮%।

অন্যদিকে,
- অর্থনীতি/জিডিপিতে কৃষিখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ৪৫%।
- অর্থনীতি/জিডিপিতে শিল্পখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ১৭%।
- অর্থনীতি/জিডিপিতে সেবাখাতে নিয়োজিত জনশক্তির পরিমাণ - ৩৮%।

তথ্যসূত্র - অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১৩,২৮৬.
কোথায় স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করা হয়?
  1. রেসকোর্স ময়দানে
  2. মুজিবনগরে
  3. পল্টন ময়দানে
  4. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায়
ব্যাখ্যা
স্বাধীনতার ইশতেহার:
- ১৯৭১ সালের ১ মার্চ ইয়াহিয়া খানের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় সমগ্র পূর্ব-পাকিস্তান বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।
- স্বাধিকার আন্দোলন পরিণত হয় স্বাধীনতা আন্দোলনে।
- ২ মার্চ হরতাল চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনে 'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের' ছাত্র সমাবেশে স্বাধীন বাংলার মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।
- ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্রলীগ আয়োজিত বিক্ষোভ গণসমাবেশে স্বাধীন বাংলাদেশের ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ ‘স্বাধীনতার ইশতেহার' ঘোষণা করেন।
- ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন।
- তিনি এদিন এ সমাবেশে তাঁর ভাষণে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে 'অসহযোগ আন্দোলনের’ ডাক দেন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৩,২৮৭.
নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কোন নীতি অনুসরণ করে?
  1. জন্মস্থান নীতি ও অনুমোদন সূত্র
  2. জন্মসূত্র ও অনুমোদন সূত্র
  3. জন্মস্থান নীতি
  4. জন্মনীতি
ব্যাখ্যা

নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
নাগরিকতা অর্জনের দু'টি পদ্ধতি রয়েছে।
এগুলো হচ্ছে: (ক) জন্মসূত্রে নাগরিক এবং (খ) অনুমোদনসূত্রে নাগরিক।

- যারা জন্মগতভাবে কোন রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে জন্মসূত্রে নাগরিক বলে।
- আর যারা কতকগুলো শর্তপূরণ করে শর্ত আরোপকারী রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে তাদেরকে অনুমোদনসূত্রে নাগরিক বলে।

জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি:
জন্মসূত্রে নাগরিকতা অর্জনের ক্ষেত্রে দু'টি নীতি মেনে চলা হয়- (ক) জন্মস্থান নীতি ও (খ) জন্মনীতি।
(ক) জন্মস্থান-নীতি:
- জন্মস্থান নীতি অনুযায়ী শিশু যে রাষ্ট্রে ভূমিষ্ট হয় সে রাষ্ট্রের নাগরিকতা অর্জন করে।
- যদি কোন রাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজ, বিমান কিংবা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সেই রাষ্ট্রের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
যেমন- বাংলাদেশের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বা তাদের পতাকাবাহী বিমান বা দূতাবাসে জন্মগ্রহণ করে তবে সে সন্তান কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হবে।
- অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই নীতি অনুসরণ করে।

(খ) জন্মনীতি:
- এই নীতি অনুযায়ী শিশু যেখানেই ভূমিষ্ট হোক না কেন, পিতা-মাতার নাগরিকতাই তার নাগরিকতা নির্ধারণ করবে। যেমন:
- জাপানের কোন পিতা-মাতার সন্তান যদি রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করে তবে সেই সন্তান জাপানের নাগরিক বলে বিবেচিত হবে।
- বাংলাদেশ, ফ্রান্স, জাপান, ইতালী প্রভৃতি রাষ্ট্র জন্মনীতি মেনে চলে।

অনুমোদনসূত্রে নাগরিকতা অর্জন:
যদি কোন ব্যক্তি অনুমোদনসূত্রে নাগরিক হতে চায় তবে তাকে নাগরিকতা অর্জনের জন্য নিম্নলিখিত এক বা একাধিক শর্ত পূরণ করতে হয়:
(১) অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করতে হয়, (২) সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে হয়,
(৩) সরকারি চাকরি করতে হয়, (৪) সম্পত্তি ক্রয় করতে হয়, (৫) ভাষা জানতে হয়, (৬) নির্দিষ্ট সময় বসবাস করতে হয়।
অনুমোদনের শর্ত রাষ্ট্রভেদে আলাদা হতে পারে। শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একজন বিদেশীকে অনুমোদনকারী রাষ্ট্রের নিকট আবেদন করতে হয় এবং আবেদন মঞ্জুর হলেই একজন বিদেশী অনুমোদনদানকারী রাষ্ট্রের অনুমোদনসূত্রে নাগরিকে পরিণত হয়।

উৎস: পৌরনীতি, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,২৮৮.
কোন বিখ্যাত গায়ক ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের জন্য গান গেয়েছিলেন?
  1. ক) Elvis Presley
  2. খ) George Harrison
  3. গ) Michel Jackson
  4. ঘ) Michel George
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'। জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১৩,২৮৯.
হাওরের গেটওয়ে বলা হয় যে জেলাকে?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. কিশোরগঞ্জ
  3. নেত্রকোনা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
হাওরের গেটওয়ে:
- হাওর হচ্ছে জলপূর্ণ বিস্তৃত প্রান্তর।
- এটি অগভীর। বর্ষাকালে সাগরের মতো মনে হয় এবং শীতের মৌসুমে শুধু ফসলের মাঠ।
- হাওরের গেটওয়ে বলা হয় কিশোরগঞ্জ জেলাকে।
- অষ্টগ্রাম, মিঠামইন, ইটনা এই তিনটি উপজেলা ঘিরেই কিশোগঞ্জ জেলার বিশাল হাওর এলাকা বিস্তৃত।
- এ অঞ্চল দিয়ে হাওরাঞ্চলের প্রবেশপথ হওয়ায় কিশোরগঞ্জকে হাওরের গেটওয়ে বলা হয়।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।
১৩,২৯০.
‘বাঙ্গালীর ইতিহাস‘ বইটির লেখক কে?
  1. ক) নীহারঞ্জন রায়
  2. খ) নীহারঞ্জন দাস
  3. গ) নীহারঞ্জন গুপ্ত
  4. ঘ) আশুতোষ মুখপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• নীহাররঞ্জন রায়, ভারতের শেষ বহুশাস্ত্রজ্ঞদের মধ্যে অন্যতম একজন।
মানব অভিজ্ঞতার রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিকগুলির মধ্যে সমন্বয় সাধনে নীহাররঞ্জন রায় এর প্রয়াস পরিণতি লাভ করেছে তাঁর প্রধান সাহিত্যকর্ম বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে।

তাঁর রচিত গ্রন্থ:
- Maurya and Sunga Art (১৯৪৭) 
- বাঙ্গালীর ইতিহাস (১৯৪৯) 
- Nationalism in India 
- Idea and Image of Indian Art.

তাঁর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা হচ্ছে:
- Mughal Court Painting (১৯৭৪),
- The Sikh Gurus and the Sikh Society (১৯৭০),
- Dutch Activities in the East (সম্পাদিত, ১৯৪৬),
- An Approach to Indian Art (১৯৭৪)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১৩,২৯১.
বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ের বিষয়বস্তু-
  1. বিচার বিভাগ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. আইনসভা
  4. নির্বাচন কমিশন
ব্যাখ্যা

• পঞ্চম অধ্যায়- আইনসভা।
- এই অধ্যায়ের পরিচ্ছেদ: তিনটি, 
- ১ম পরিচ্ছেদ: সংসদ,
- ২য় পরিচ্ছেদ: আইন প্রনয়ন ও অর্থসংক্রান্ত পদ্ধতি।
- ৩য় পরিচ্ছেদ: অধ্যাদেশপ্রণয়ন-ক্ষমতা।

• বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
- প্রথম অধ্যায় প্রজাতন্ত্র।
- দ্বিতীয় অধ্যায় রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
- তৃতীয় অধ্যায়- মৌলিক অধিকার।
- চতুর্থ অধ্যায় নির্বাহী বিভাগ।
- পঞ্চম অধ্যায়- আইনসভা।
- ষষ্ঠ অধ্যায়- বিচার বিভাগ।
- সপ্তম অধ্যায় নির্বাচন।
- অষ্টম অধ্যায় মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- নবম অধ্যায় বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
- দশম অধ্যায় সংবিধানের সংশোধন।
- একাদশ অধ্যায়- বিবিধ।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৩,২৯২.
হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্বে কে আসেন?
  1. মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ
  2. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  3. মজনু শাহ
  4. মাওলানা মুহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- জী শরিয়ত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখ্য, 
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩,২৯৩.
স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করেন কে?
  1.  আবুল কালাম আজাদ
  2. সত্যরঞ্জন বখসী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. কিরণ শংকর রায়
ব্যাখ্যা

• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ সালে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এরকম চরম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা ঘোষণা করে।
- ঠিক এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু।
- প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাস 'বসু-সোহরাওয়ার্দী' প্রস্তাব নামে খ্যাত।
- ১৯৪৭ সালের ২৭শে এপ্রিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং এর পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলা রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- পরবর্তীকালে শরৎচন্দ্র বসু তাঁর এক প্রস্তাবে অখণ্ড বাংলাকে একটি 'সোস্যালিস্ট রিপাবলিক' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৩,২৯৪.
বাংলাদেশ নিচের কোন সংস্থাটির সদস্য নয়?
  1. NAM
  2. BRICS
  3. BIMSTEC
  4. OIC
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ — BRICS এর সদস্য নয়।

• BRICS এর সদস্যদেশ:
- ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর, ও ইথিওপিয়া।

এছাড়াও - 
- বাংলাদেশ OIC এর সদস্য (২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪)।
- বাংলাদেশ NAM এর সদস্যপদ লাভ করে - ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ সালে।
- বাংলাদেশ BIMSTEC এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য (৬ জুন, ১৯৯৭ সালে)।

বাংলাদেশ যেসব আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য তার কতিপয় নাম উল্লেখ করা হলো:
- (UN), IBRD, IDA, IFC, ICSID, MIGA, IMF, ILO, FAO, UNESCO, UPU, ITU, WMO, UNIDO, IFAD, IAEA, WTO, UNHCR, UNCTAD, UNFPA, UNDP, CEDAW, IPCC, OIC, NAM, কমনওয়েলথ, সিরডাপ, জি-৭৭, সার্ক, বিমসটেক প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র:
- সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওয়েবসাইট।
১৩,২৯৫.
সম্প্রতি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ‘ইউরোফাইটার টাইফুন’ ক্রয়ে বাংলাদেশ কোন দেশের সঙ্গে  সম্মতিপত্র সাক্ষর করেছে?
  1. ফ্রান্স
  2. জার্মানি
  3. ইতালি
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

‘ইউরোফাইটার টাইফুন':
ইতালি থেকে জঙ্গি বিমান ইউরোফাইটার টাইফুন (মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট-এমআরসিএ) কিনতে আলোচনা চলছে।
এরই অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার ইতালির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লিওনার্দো এসপিএর সঙ্গে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) বা সম্মতিপত্র সই করেছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী।

উল্লেখ্য,
- নতুন এই যুদ্ধবিমান সম্পর্কে ইউরোফাইটারের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধবিমান বিশ্বের সবচেয়ে সক্ষম ৪.৫ জেনারেশন মাল্টিরোল যুদ্ধবিমানগুলোর একটি।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক সুইংরোল কমব্যাট বিমান।
- বিশ্বের নয়টি দেশের বিমানবাহিনীর কাছে এই যুদ্ধবিমান রয়েছে।
- দুই ইঞ্জিনের ইউরোফাইটার টাইফুন সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম। 

উৎস: প্রথম আলো নিউজ প্রতিবেদন

১৩,২৯৬.
অলিম্পিক গেমসের কোন আসরে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা প্রথমবার অংশগ্রহণ করে?
  1. মস্কো, ১৯৮০
  2. লস এঞ্জেলেস্‌, ১৯৮৪
  3. সিউল, ১৯৮৮
  4. বার্সেলোনা, ১৯৯২
ব্যাখ্যা
- ১৯৮০ সালেই মস্কো অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের।
- কিন্তু শেষ মুহূর্তে গেমস বয়কট করে।
- ১৯৮৪ সালে লস্ অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা প্রথমবার অংশগ্রহণ করে।
- এরপর নিয়মিত অলিম্পিক গেমসে লাল-সবুজের পতাকা উড়ছে।
- তবে কোনো আসরেই পদক জেতা হয়নি বাংলাদেশের।

উৎস: বাংলাদেশ প্রতিদিন। 
১৩,২৯৭.
কোন জেলায় সর্বাধিক পাট উৎপাদন হয়?
  1. ফরিদপুর
  2. রাজবাড়ী
  3. নাটোর
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
- ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে দেশে মোট পাট উৎপাদন : ৬৮.১৯ লক্ষ বেল।
পাট উৎপাদনে শীর্ষ তিন জেলা:
- প্রথম : ফরিদপুর
- দ্বিতীয় : পাবনা
- তৃতীয় : কুষ্টিয়া।
(তথ্যসূত্র: কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০১৯ এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২০)
১৩,২৯৮.
'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' কী?
  1. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সচিত্র দলিল
  2. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের জন্য নির্মিত জাদুঘর
  3. জুলাই গণঅভ্যুত্থানর জন্য নির্মিত একটি ভাস্কর্য
  4. জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বা দেয়ালচিত্র
ব্যাখ্যা

দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ':
- জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ।
- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রখ্যাত প্রাণিবিজ্ঞানী, প্রাইমেটোলজিস্ট ও নৃতত্ত্ববিদ জেন গুডঅলকে ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ আর্টবুক উপহার দিয়েছেন।

- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২৪ সেপ্টেম্বর কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে বাংলাদেশে গত জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানী ঢাকার দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন 'দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ' উপহার প্রদান করেন।

উৎস: পত্রিকার রিপোার্ট। [লিঙ্ক]

১৩,২৯৯.
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট কতবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়? (নভেম্বর, ২০২৫)
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

⇒ গণভোট:
- বাংলাদেশে ৩ বার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৭৭, ১৯৮৫ ও ১৯৯১ সালে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।
- এর মধ্যে ২ বার অনুষ্ঠিত হয় প্রশাসনিক গণভোট।
- এবং ১ বার অনুষ্ঠিত হয় সাংবিধানিক গণভোট।

⇒ প্রথম গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট হয় ১৯৭৭ সালে।
- প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন কার্যের বৈধতা দান।
- ফলাফল ৯৮.৮০% 'হ্যাঁ' ভোট।

⇒ দ্বিতীয় গণভোট:
- প্রশাসনিক গণভোট ১৯৮৫ সালে।
- হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সমর্থন যাচাইয়ের লক্ষ্যে হ্যাঁ-না ভোট।
- ফলাফল ৯৪.১৪% হ্যাঁ ভোট।

⇒ তৃতীয় গণভোট:
- সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়- ১৯৯১ সালে।
- এটি সর্বশেষ গনভোট।
- সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী আইন প্রস্তাব।
- ফলাফল ৮৪.৩৮% হ্যাঁ ভোট।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন, ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৩,৩০০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা শহর কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ১ নং সেক্টর 
  2. ২ নং সেক্টর 
  3. ৩ নং সেক্টর 
  4. ৪ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধ:
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য তৎকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে (বর্তমান বাংলাদেশ) ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে।
- এটি ছিলো যুদ্ধ পরিচালনার একটি সামরিক কৌশল।
- ১৯৭১ সালের জুন মাসে প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে এই সেক্টর গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

⇒ সেক্টরগুলো:
- ১নং সেক্টর: চট্টগ্রাম ও পাবর্ত্য চট্টগ্রাম,
- ২নং সেক্টর: ঢাকা, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও কুমিল্লার অংশবিশেষ,
- ৩নং সেক্টর: কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ, 
- ৪ নং সেক্টর: মৌলভীবাজার ও সিলেটের পূর্বাংশ, 
- ৫নং সেক্টর: সিলেট ও সুনামগঞ্জ, 
- ৬নং সেক্টর: রংপুর, দিনাজপুর,
- ৭নং সেক্টর: রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,
- ৮নং সেক্টর: কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর,
- ৯নং সেক্টর: খুলনা, বরিশাল,
- ১০নং সেক্টর: সকল নৌপথ ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল,
- ১১নং সেক্টর: টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।