বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১২৩ / ৩০৬ · ১২,২০১১২,৩০০ / ৩০,৮৩২

১২,২০১.
সম্প্রতি সাউথ আফ্রিকার সাথে তৃতীয় ওডিআই তে বাংলাদেশ জয় লাভ করে-
  1. ক) ১২০ রানে
  2. খ) ৯ উইকেটে
  3. গ) ৮ উইকেটে
  4. ঘ) ৭ উইকেটে
ব্যাখ্যা

- তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সাউথ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে পরাজিত করে ২-১ এ সিরিজ জিতে নেয়।
- ঐ ম্যাচে ৯ ওভারে ৩৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ‘ম্যান অব দ্যা ম্যাচ’ এবং সিরিজে মোট ৮ উইকেট নিয়ে ‘ম্যান অব দ্যা সিরিজ’ হয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
সাউথ আফ্রিকা- ১৫৪-১০ (৩৭ ওভার)
বাংলাদেশ- ১৫৬-১ (২৬.৩ ওভার)

তথ্যসূত্র- Cricbuzz.

১২,২০২.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ কোনটি?
  1. ক) সমন্বয় সাধন
  2. খ) নীতি নির্ধারণ
  3. গ) পরিকল্পনা প্রণয়ন 
  4. ঘ) স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা
- সুশাসন এবং নেতৃত্ব বর্তমান সময়ের অত্যন্ত জনপ্রিয় আলোচ্য বিষয়।
- সঠিক এবং কার্যকরী নেতৃত্ব থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অনেকগুলো পূর্বশর্তের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা অন্যতম। 
- নেতার প্রথম ও প্রধান কাজ হল রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়ন করা।
- জনস্বার্থের অনুকূল, যুগোপযোগী রাষ্ট্রীয় নীতিমালা গ্রহণে নেতৃত্বের দক্ষতার সাথে সুশাসনের বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত।
- বর্তমান সময়ে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সুশাসন হচ্ছে অন্যতম প্রধান চাহিদা।
- সুশাসন ব্যতীত গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভবপর নয়।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বের গুরুত্ব অপরিসীম।
- গণতান্ত্রিকভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন।
- সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্র উন্নতির শীর্ষে অবস্থান করতে পারে।
- দক্ষ ও সঠিক নেতৃত্ব ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়।
১২,২০৩.
চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের দরবারে কৌটিল্য ছিলেন-
  1. ক) অর্থমন্ত্রী
  2. খ) সেনাপতি
  3. গ) প্রধানমন্ত্রী
  4. ঘ) পরিব্রাজক
ব্যাখ্যা
আলেকজান্ডারের মৃত্যুর অব্যহিত পরেই একের পর এক গ্রিক অধিকৃত অঞ্চলসমূহ জয়লাভ করেন মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তার নামানুসারে ভারতবর্ষে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতকে যে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় তা মৌর্য সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। চাণক্য ছিলেন তাঁর প্রধানমন্ত্রী। চাণক্য কৌটিল্য ছদ্মনামে ‘অর্থশাস্ত্র’ নামে এক বিখ্যাত গ্রন্থ রচনা করেন। রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতি কৌশলের সারসংক্ষেপ হচ্ছে এই গ্রন্থ। [সূত্র- বোর্ড বইঃ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়(ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি) ও বাংলাপিডিয়া]
১২,২০৪.
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রদত্ত ১ নম্বর খেতাব কোনটি?
  1. বীর উত্তম
  2. বীরশ্রেষ্ঠ
  3. বীর প্রতীক
  4. বীর বিক্রম
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্যে ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু সরকার মোট ৬৭৬ জনকে চারটি বীরত্বসূচক খেতাব বা উপাধি প্রদান করে। এগুলো হলো:
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

- গত ৬ জুন ২০২১ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বঙ্গবন্ধু হত্যার চার আসামীর মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্যে প্রদত্ত খেতাব বাতিল করে।
- স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বর্তমানে ৬৭২ জনের খেতাব বহাল রয়েছে। এর মধ্য:
- বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- বীর উত্তম: ৬৭ জন।
- বীরবিক্রম: ১৭৪ জন।
- বীরপ্রতীক : ৪২৪ জন।

তথ্যসূত্র - মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২০৫.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কে?
  1. ক) শওকত আলী
  2. খ) রিয়াজউদ্দিন আহমদ
  3. গ) আলী আশরাফ
  4. ঘ) ফজলে রাব্বী মিয়া
ব্যাখ্যা
একাদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। উৎস: জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট
১২,২০৬.
যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচি কী ছিল?
  1. ক) ৬ দফা
  2. খ) ১১ দফা
  3. গ) ২১ দফা
  4. ঘ) ১৫ দফা
ব্যাখ্যা
• ১৯৪৬ সালের পর ১৯৫১ সালে প্রদেশগুলোতে নিবার্চন হবার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তানের প্রদেশগুলোতে নিবার্চন দিলেও পূর্ব বাংলাতে নিবার্চন দেয়নি। এর কারণ মুসলিম লীগের সম্ভাব্য পরাজয়ের ভয়।
• ১৯৪৮-৪৯ সালে কয়েকটি উপনিবার্চনে পরাজয়ে তাদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল।
• ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক নিবার্চন অনুষ্ঠিত হয়।
• শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং হোসেন সোহরাওয়াদীর্র নেতৃত্বে ২১ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট গড়ে ওঠে।
• আওয়ামী লীগ, কৃষক প্রজা পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল একজোট হয়ে ২১ দফা কর্মসুচিকে নিয়ে নিবার্চনে মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্ধিতা করে।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২০৭.
২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে সরকারি বিনিয়োগ কত শতাংশ?
  1. ৭.৫১ শতাংশ
  2. ৬.৫১ শতাংশ
  3. ৯.০০ শতাংশ
  4. ৬.১২ শতাংশ
ব্যাখ্যা

২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে সরকারি বিনিয়োগ -৬.৫১ শতাংশ।

- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে সরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশে,
- যা আগের বছর ছিল ৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এটি ২০১৩ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন।

উল্লেখ্য,
- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ০৩ শতাংশে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

উৎস: ডেইলি স্টার বাংলা।

১২,২০৮.
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার কত নির্ধারণ করা হয়েছে? [জানুয়ারি, ২০২৬]
  1. ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা
  2. ৭ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা
  3. ৭ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকা
  4. ৭ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা
ব্যাখ্যা

২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট:
- চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- একই সঙ্গে বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করে চলতি অর্থবছরের জন্য মোট ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এছাড়া, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি মানে এডিপির আকার ২ লাখ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
- আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সংশোধিত জাতীয় বাজেট কার্যকর হবে।

তথ্যসূত্র- প্রথম আলো। [link]

১২,২০৯.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল '৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি' হিসেবে পরিচিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. খুলনা
  3. সিলেট 
  4. বাগেরহাট
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের - সিলেট অঞ্চলকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।

৩৬০ আউলিয়ার দেশ:
- হযরত শাহজালাল (র.) ছিলেন উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত দরবেশ ও পীর।
- তিনি ছিলেন ওলিকুল শিরোমণি।
- সিলেট অঞ্চলে তার মাধ্যমেই ইসলামের প্রসার ঘটে।
- সিলেটের প্রথম মুসলমান শেখ বোরহান উদ্দিন (র.) এর ওপর রাজা গৌড়গোবিন্দের অত্যাচার এবং এর প্রেক্ষিতে হযরত শাহজালাল (র.) ও তাঁর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার সিলেট আগমন ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
- এ কারণে সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার দেশ বলা হয়।
- কেউ কেউ সিলেটকে পূণ্যভূমি অভিধায়ও অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য,
⇒ সিলেট জেলা:
- মহান সাধক হযরত শাহজালাল (র.) ও হযরত শাহপরাণ (র.)সহ ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি সিলেট একটি প্রাচীন জনপদ।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ। 
- নানকার বিদ্রোহ সিলেটের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। 
- সিলেট জেলা ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- দেশের সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকি সিলেট জেলায় অবস্থিত।
- দেশে সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয় এই বিভাগে।
- সিলেট জেলা প্রাকৃতিক গ্যাস, তেল, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, বালুসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদে অনন্য একটি জেলা। 
- দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত সিলেটের লালাখালে হয়ে থাকে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১২,২১০.
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনটি?
  1. ক) বাংলাদেশ উন্নয়ন ব্যাংক লিমিটেড
  2. খ) বাংলাদেশ ব্যাংক লিঃ
  3. গ) স্টেট ব্যাংক অব বাংলাদেশ
  4. ঘ) বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার-১৯৭২ এর অধীনে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক স্থাপিত হয়।
এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত। প্রধান কার্যালয় ব্যতীত এর আরও দশটি শাখা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর ফজলে কবীর।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট)
১২,২১১.
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে মিয়ানমারকে কয়টি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে?
  1. ৩টি
  2. ২টি
  3. ৫টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাগুলো হচ্ছে:
- আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রোহিঙ্গা গণহত্যা বিষয়ক অন্তর্বর্তীকালীন রায়ে মিয়ানমারকে ৪টি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেছে।

১. গণহত্যা সনদের বিধি-২ অনুযায়ী মিয়ানমারকে তার সীমানার মধ্যে রোহিঙ্গাদের হত্যা, জখম বা মানসিকভাবে আঘাত করা, পুরো জনগোষ্ঠী বা তার অংশবিশেষকে নিশ্চিহ্ন করা এবং তাদের জন্মদান বন্ধের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ থেকে অবশ্যই নিবৃত্ত থাকতে হবে।

২. মিয়ানমারকে অবশ্যই তার সীমানার মধ্যে সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো অনিয়মিত সশস্ত্র ইউনিট বা তাদের সমর্থনে অন্য কেউ যাতে গণহত্যা সংঘটন, গণহত্যার ষড়যন্ত্র, প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে গণহত্যার জন্য উসকানি দেওয়া, গণহত্যার চেষ্টা করা বা গণহত্যার সহযোগী হতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

৩. গণহত্যা সনদের বিধি ২–এর আলোকে গণহত্যার অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত সব সাক্ষ্যপ্রমাণ রক্ষা এবং তার ধ্বংস সাধনের চেষ্টা প্রতিরোধ করতে হবে।

৪. এই আদেশ জারির দিন থেকে চার মাসের মধ্যে আদালতের আদেশ অনুযায়ী মিয়ানমার যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা আদালতকে জানাতে হবে। এরপর থেকে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতি ছয় মাস পরপর এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে।

তথ্যসূত্র - চ্যানেল আই অনলাইন, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০।
১২,২১২.
জাতীয় সংসদের ৩০০নং আসন কোনটি? 
  1. কক্সবাজার
  2. রাঙামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা
সংসদীয় আসন:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ মোট ৩৫০টি আসন নিয়ে গঠিত।
- ৩০০টি আসন থেকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচিত হয়। অবশিষ্ট ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
- জাতীয় সংসদের ৩০০নং আসন হলো বান্দরবান।

উল্লেখ্য,
- জাতীয় সংসদের ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১ 
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।

অন্যদিকে,
- জাতীয় সংসদের ২৯৯নং আসন হলো রাঙামাটি।
- জাতীয় সংসদের ২৯৮নং আসন হলো খাগড়াছড়ি।
- জাতীয় সংসদের ২৯৭নং আসন হলো কক্সবাজার।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,২১৩.
সংবিধানের ভাষারূপ পর্যালোচনার জন্য ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছিলেন -
  1. ক) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. খ) সৈয়দ আলী আহসান
  3. গ) আকবর আলী খান
  4. ঘ) আবু সাঈদ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ভাষারূপ পর্যালোচনার জন্য ড. আনিসুজ্জামান কে আহ্বায়ক করে, সৈয়দ আলী আহসান ও মাযহারুল ইসলামকে ভাষা বিশেষজ্ঞ হিসেবে কমিটি গঠন করা হয়।
১২,২১৪.
সংবিধানের ২৯ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- 
  1. চলাফেরার স্বাধীনতা
  2. জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ
  3. সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা
  4. বিদেশী খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ
ব্যাখ্যা

• অনুচ্ছেদ- ২৯: সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা।
- ২৯(১) প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে।
- (২) কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোন নাগরিক প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ-লাভের অযোগ্য হইবেন না কিংবা সেই ক্ষেত্রে তাঁহার প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।

 অন্যদিকে,
- ২৬ নং:মৌলিক অধিকারের সহিত অসমঞ্জস আইন বাতিল;
- ২৭নং: আইনের দৃষ্টিতে সমতা;
- ২৮ নং: ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য;
- ২৯নং:  সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা;
- ৩০নং:  বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ;
- ৩১নং: আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার;
- ৩২নং: জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ;
- ৩৩নং: গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ;
- ৩৪নং: জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ;
- ৩৫নং: বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ;
- ৩৬নং: চলাফেরার স্বাধীনতা;
- ৩৭নং:সমাবেশের স্বাধীনতা।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১২,২১৫.
অপারেশন জ্যাকপট বলতে বুঝায় -
  1. ক) মুক্তিযুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের অভিযান
  2. খ) মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট এর অভিযান
  3. গ) মুক্তিযুদ্ধে বিমান বাহিনীর অভিযান
  4. ঘ) মুক্তিযুদ্ধে ক্র‍্যাক প্লাটুনের অভিযান
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনীর নৌ-কমান্ডোরা পরিচালিত প্রথম অভিযান অপারেশন জ্যাকপট নামে পরিচিত।
- এদিন নৌ-কমান্ডোরা একযোগে চট্টগ্রাম, মংলা, চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ বন্দরে পাকবাহিনীর উপর হামলা চালায়।
- এতে পাকবাহিনীর ২৬টি নৌযান ধ্বংস হয়।
- মোট ১৪৮ জন নৌ-কমান্ডোরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে এ অপারেশনে অংশ নেয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২,২১৬.
বিখ্যাত ’গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোডটি বাংলাদেশের কোন অঞ্চল থেকে শুরু হয়েছে?
  1. কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি
  2. ঢাকা জেলার পূর্বাচল
  3. যশোর জেলার ঝিকরগাছা
  4. নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা
’গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোড:
- নির্মাতা: গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক ’ রোডের নির্মাতা শেরশাহ।
- দৈর্ঘ্য: আড়াই হাজার কিলোমিটার।
- বিস্তার: সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাব বিস্তৃত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম সড়ক।
- এটি নির্মাণ করা হয়- ষোল শতকে।
- মূল পরিকল্পনায় রাজধানী আগ্রাকে পূর্বে সোনারগাঁও, পশ্চিমে দিল্লি ও লাহোর হয়ে মূলতান, দক্ষিণে বোরহানপুর এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে যোধপুরের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
- সড়ক- ই- আজম নামে পরিচিত এ সড়ক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১২,২১৭.
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' গানটির বর্তমান সুরকার কে?
  1. আলতাফ মাহমুদ
  2. আপেল মাহমুদ
  3. গাজী আনোয়ার
  4. আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা
আলতাফ মাহমুদ:
- আলতাফ মাহমুদ একাধারে একজন সংগীতশিল্পী, সুরকার, সংস্কৃতিকর্মী, চিত্রশিল্পী, ভাষাসৈনিক ও স্বাধীনতাযুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।
- 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গানটির বর্তমান সুরকার হলেন আলতাফ মাহমুদ।
- গানটির প্রথম সুরকার আব্দুল লতিফ হলেও পরবর্তী সময়ে আলতাফ মাহমুদের সুরটিই গৃহীত হয়।
- এই সুরটি ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তাঁর চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’তে ব্যবহার করেন।
- ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে তাঁর বাসায় গোপন ক্যাম্প স্থাপন করেন।
- বাংলা সংস্কৃতি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য ১৯৭৭ সালে আলতাফ মাহমুদকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ‘রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি' বলতে বোঝানো হয়েছে যে একুশে ফেব্রুয়ারিতে বহু মানুষের রক্ত ঝরেছে।
- গানটির রচয়িতা বা গীতিকার হলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও ডেইলী স্টার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
১২,২১৮.
বাংলাদেশের বর্তমান বিভাগ কয়টি?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের বর্তমান বিভাগ ৮ টি।

যথাঃ
- চট্টগ্রাম , রাজশাহী , খুলনা , বরিশাল , সিলেট , ঢাকা , রংপুর , ময়মনসিংহ।
- এর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে ছোট বিভাগ ময়মনসিংহ এবং সবচেয়ে বড় বিভাগ চট্টগ্রাম।
- জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় ঢাকা বিভাগ এবং সবচেয়ে ছোট বরিশাল বিভাগ।
- সবচেয়ে বেশি জেলা রয়েছে ঢাকা বিভাগে (১৩ টি) এবং সবচেয়ে কম চারটি করে জেলা রয়েছে সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে।


সোর্সঃ স্থানীয় সরকার বিভাগ ওয়েবসাইট।

১২,২১৯.
বাংলাদেশ সংবিধান কতটি ভাষায় রচিত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ১টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ সংবিধান:
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয়।
- বাংলাদেশের সংবিধান ২টি ভাষায় রচিত (বাংলা ও ইংরেজি)।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানে মোট ১৫৩ অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- বাংলাদেশ সংবিধান দুষ্পরিবর্তনীয়।
- এতে ১১ টি ভাগ বা অধ্যায় রয়েছে।
- বাংলাদেশের সংবিধান প্রস্তাবনা দিয়ে শুরু এবং সাতটি তফসিল দিয়ে শেষ হয়েছে।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়।

উৎস: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

১২,২২০.
Which of the following is known as 'Black Gold'?
  1. Radioactive sand
  2. Shrimp
  3. Uranium
  4. Jute
  5. Gold
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু খনিজ:
- কক্সবাজারে তেজস্ক্রিয় বালু পাওয়া যায় যাকে ‘কালো সোনা’ বলা হয়।
- বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পাহাড়ে ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- বাংলাদেশের একমাত্র গন্ধক খনি অবস্থিত চট্টগ্রামের কুতুবদিয়ায়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের White Gold হিসেবে পরিচিত চিংড়ি মাছ।
- পাটকে সোনালী আশ বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১২,২২১.
বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান খাত কয়টি? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৫টি
  2. ১৮টি
  3. ১৯টি
  4. ২১টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে জাতীয় আয় পরিমাপ পদ্ধতি:
- বাংলাদেশে জাতীয় আয় গণনার কাজটি করে থাকে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। এই প্রতিষ্ঠান প্রত্যেক বছর চলতি বাজার মূল্যে ও স্থির মূল্যে দ্রব্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করে থাকে। এ হিসাব করার জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে।
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো GDP ও GNI গণনা করার জন্য উৎপাদন ও ব্যয় পদ্ধতি ব্যবহার করে।

⇒ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) উৎপাদন পদ্ধতিতে GDP পরিমাপের জন্য অর্থনীতিকে মোট ১৯টি প্রধান খাতে বিভক্ত করেছে। খাতসমূহ হচ্ছে:
১। কৃষি ও বনজ এবং মৎস্য সম্পদ (উপখাত - ৪টি)।
২। খনিজ ও খনন (গ্যাস, তেল ইত্যাদি) (উপখাত - ২টি)।
৩। ম্যানুফ্যাকচারিং (উপখাত - ৩টি)।
৪। বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাষ্প এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (উপখাত - ২টি)।
৫। পানি সরবরাহ, পয়নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুর্নব্যবহার কার্যক্রম।
৬। নির্মাণ।
৭। পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, যানবাহন ও মোটরসাইকেল মেরামত।
৮। পরিবহণ এবং সংরক্ষণ (উপখাত - ৫টি)।
৯। আবাসন এবং খাদ্য পরিবেশন কার্যক্রম।
১০। তথ্য ও যোগাযোগ।
১১। আর্থিক এবং বীমা কার্যক্রম (উপখাত-৩টি)।
১২। রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম।
১৩। পেশাদার, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রম।
১৪। প্রশাসনিক ও সহায়তামূক পরিষেবা কার্যক্রম।
১৫। জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা।
১৬। শিক্ষা।
১৭। মানবস্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কার্যক্রম।
১৮। শিল্পকলা ও বিনোদন।
১৯। অন্যান্য সেবা কার্যক্রম।

উৎস: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ওয়েবসাইট।

১২,২২২.
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা শাফি ইমাম রুমী মুক্তিবাহিনীর কোন গেরিলা দলের হয়ে যুদ্ধ করেছিলেন?
  1. ক্র্যাক প্লাটুন
  2. কাদেরিয়া বাহিনী
  3. বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স
  4. ঢাকা গেরিলা
ব্যাখ্যা
শহীদ শাফী ইমাম রুমী:

- শাফী ইমাম রুমী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন গেরিলাযোদ্ধা।
- শহীদ জননীখ্যাত জাহানারা ইমামের বড় ছেলে।
- ছেলে রুমী শহীদ হওয়ার জন্য জাহানারা ইমাম শহীদ জননী উপাধী পান।
- ১৯৫১ সালের ২৯ মার্চ শরীফ ও জাহানারা ইমামের উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯৬৮ সালে স্টার মার্কস নিয়ে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ১৯৭০ সালে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
- তিনি সেক্টর ২-এর অধীনে মেলাঘরে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
- এই সেক্টরটি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন খালেদ মোশাররফ ও রশিদ হায়দার।
- প্রশিক্ষণ শেষ করে শাফী ইমাম রুমী ঢাকায় ফেরত আসেন এবং ক্র্যাক প্লাটুনে যোগ দেন।
- ক্র্যাক প্লাটুন হলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা আক্রমণ পরিচালনাকারী একটি সংগঠন।
- রুমী ও তাঁর দলের ঢাকায় আসার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন হামলা করা।
- ১৯৭১ সালের ২৯ আগস্ট তিনি তার নিজের বাড়িতে কাটান এবং এই রাতেই বেশ কিছু গেরিলাযোদ্ধার সঙ্গে পাকবাহিনীর হাতে ধরা পড়েন।

তথ্যসূত্র - দৈনিক যুগান্তর, ২৯ মার্চ ২০২০।
১২,২২৩.
‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ শিরোনামে প্রকাশিত পুস্তিকার সাথে জড়িত ছিলেন না -
  1. নূরুল হক
  2. কাজী মোতাহার হোসেন
  3. আবুল মনসুর আহমদ
  4. অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

- ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ প্রকাশিত হয়।
- এই পুস্তিকার সাথে জড়িত ছিলেন-
সম্পাদক- অধ্যাপক আবুল কাশেম।
অন্যান্য লেখক -কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল মনসুর আহমদ।
- তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠিত হয়। এর আহবায়ক মনোনীত হন নূরুল হক ভূঁইয়া।

তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

১২,২২৪.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে-
  1. ক) লালমনিরহাট জেলায়
  2. খ) গাজীপুর জেলায়
  3. গ) টাঙ্গাইল জেলায়
  4. ঘ) মেহেরপুর জেলায়
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে লালমনিরহাট জেলায়। উৎসঃ Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার
১২,২২৫.
কত সালে বাংলাদেশে মূল্য সংযোজন কর (VAT) চালু হয়?
  1. ১৯৯০ সালে
  2. ১৯৯১ সালে
  3. ১৯৯২ সালে
  4. ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
মূল্য সংযোজন কর (VAT):
- মূল্য সংযোজন কর (মূসক) হচ্ছে কোন পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে তার উৎপাদন ও বণ্টনের প্রতিটি পর্যায় শেষে সংযোজিত মূল্যের ওপর শতকরা হারের কর।
- মূল্য সংযোজন কর বা Value Added Tax (VAT) হলো এক প্রকার পরোক্ষ কর।
- বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের ১ জুলাই থেকে ভ্যাট বা মূসক চালু হয়।
- ২০১২ সালে এটি সংশোধন করে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ পাশ হয় যা ১ জুলাই, ২০১৯ থেকে কার্যকর হয়।

উৎস: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ওয়েবসাইট।
১২,২২৬.
প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষিশুমারি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে কোনটি?
  1. ৩য় কৃষি শুমারি
  2. ৪র্থ কৃষি শুমারি
  3. ৫ম কৃষি শুমারি
  4. ৬ষ্ঠ কৃষি শুমারি
ব্যাখ্যা
পূর্ণাঙ্গ কৃষি শুমারি:
- ২০০৮ সালে সমগ্র দেশে শহর ও পল্লি এলাকায় সকল সাধারণ খানায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে ৪র্থ কৃষি শুমারি পরিচালনা করা হয়।
- তাই এটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ কৃষি শুমারি হিসেবে স্বীকৃত।

উল্লেখ্য,
- এদেশে ১৯৬০ সালে প্রথমবারের মত নমুনা আকারে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৭ সালে প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- কৃষি শুমারি পরিচালনার মাধ্যমে কৃষি খানার সংখ্যা, খানার আকার, ভূমির ব্যবহার, কৃষির প্রকার, শস্যের ধরণ, চাষ পদ্ধতি, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগীর সংখ্যা, মৎস্য উৎপাদন ও চাষাবাদ সংক্রান্ত তথ্যাদি এবং কৃষি ক্ষেত্রে নিয়োজিত জনবল সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

উৎস: i) কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
ii) BBS ওয়েবসাইট।
১২,২২৭.
তত্ত্ববধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম কত তম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ৫ম
  2. ৬ষ্ঠ
  3. ৭ম
  4. ৮ম
ব্যাখ্যা
• তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাস হয়।
- ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান কে প্রধান উপদেষ্টা করে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
- সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে অনুষ্ঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।

উল্লেখ্য,
- ২৭ মার্চ, ১৯৯৬ সালে ১৩তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন করা হয়েছিল।
- ৩০ জুন, ২০১১ সালে ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

উৎস:- আইন মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
১২,২২৮.
২০২২-২৩ অর্থবছরে মাথাপিছু বরাদ্দ কত নির্ধারণ করা হয়েছে?
  1. ক) ৪১,৮২৩ টাকা
  2. খ) ৪১,৯৩৩ টাকা
  3. গ) ৩৯,৮৩৩ টাকা
  4. ঘ) ৪৫,৯৩৩ টাকা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেট ৫১তম (অন্তবর্তীকালীনসহ ৫২তম)।
• বাজেটের আকার ৬ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা।
• অনুমিত জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার - ৭.৫%। 
• মাথাপিছু আয়ের লক্ষ্যমাত্রা (প্রাক্কলিক) - ৩,০০৭ মার্কিন ডলার। 
• মাথাপিছু আয় - ২৮২৪ মার্কিন ডলার। 
মাথাপিছু বরাদ্দ - ৪১,৯৩৩ টাকা। 
• মাথাপিছু ঘাটতি - ১৫,১৫৫ টাকা।

তথ্যসূত্র: অর্থ বিভাগ ওয়েবসাইট।
১২,২২৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে?
  1. ৩৬নং অনুচ্ছেদে
  2. ৩৭নং অনুচ্ছেদে
  3. ৩৮নং অনুচ্ছেদে
  4. ৩৯নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা

৩৯নং অনুচ্ছেদ: চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা - 
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ নম্বর অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদের ১ম উপধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র নাগরিকদের চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
- ২য় উপধারায় বলা হয়েছে, বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকবে।
- তবে এগুলো রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা, নৈতিকতা ইত্যাদি কারণে যুক্তিসঙ্গত আইনি সীমাবদ্ধতার আওতাভুক্ত হতে পারে।
- এই অনুচ্ছেদটি ব্যক্তি স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
- সংবিধানের এই ধারার মাধ্যমে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

অন্যদিকে: 
→ ৩৬নং অনুচ্ছেদে - চলাফেরার স্বাধীনতা, 
→ ৩৭নং অনুচ্ছেদে - সমাবেশের স্বাধীনতা
→ ৩৮নং অনুচ্ছেদে - সংগঠনের স্বাধীনতা। 

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১২,২৩০.
'সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৪' এর শিরোপা কোন দেশ জিতেছে ?
  1. ভারত
  2. নেপাল
  3. ভুটান
  4. বাংলাদেশ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
--------------------
২০২৪ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ শিরোপা লাভ করে।
২০২৪ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ:
- ২০২৪ সালের অক্টোবরে নেপালে অনুষ্ঠিত হয়।
- নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ৭ম সংস্করণ।
- অংশগ্রহণকারী দল: ৭টি।
- মোট ম্যাচ: ১২টি।
- মোট গোল: ৬২টি।
- চ্যাম্পিয়ন: বাংলাদেশ।
- রানার্স আপ: নেপাল।
- সেরা খেলোয়াড়: ঋতুপর্ণা চাকমা।
- সেরা গোলরক্ষক: রূপনা চাকমা।
- ফেয়ার প্লে ট্রফি: ভুটান।

উল্লেখ্য,
- সাতটি দেশ: বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, মালদ্বীপ এবং ভুটান।
- বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
- সর্বোচ্চ ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। 

তথ্যসূত্র: SAFF Championship ওয়েবসাইট।
১২,২৩১.
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক চালুকৃত ডেবিট কার্ডের নাম কী?
  1. ভিসা পে কার্ড
  2. ন্যাশনাল পে কার্ড
  3. ক্রেডিট পে কার্ড
  4. টাকা পে কার্ড
ব্যাখ্যা
টাকা পে কার্ড:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে চালু হয়েছে ‘টাকা পে’ কার্ড।
- এটি ভিসা, মাস্টারকার্ড ও অ্যামেক্সের মতো আন্তর্জাতিক কার্ড সেবার একটি স্থানীয় বিকল্প।
- এই সেবা পুরোপুরি দেশীয় মধ্যস্থতায় চলবে।
- এতে খরচও কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
- প্রাথমিকভাবে রাষ্ট্রমালিকানাধীন সোনালী ব্যাংক, বেসরকারি খাতের দি সিটি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক টাকা পে কার্ড সেবা চালু করেছে।
- টাকা পে কার্ডের লেনদেন নিষ্পত্তি হবে শুধু বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ অব বাংলাদেশ (এনপিএসবি)–এর মাধ্যমে। 
- আপাতত দেশের মধ্যে এই সেবা চালু হয়েছে।
- ভবিষ্যতে টাকা পে কার্ড ভারতেও ব্যবহার করা যাবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
- শুরু থেকেই দেশের সব এটিএম, পয়েন্টস অব সেলস ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই কার্ড ব্যবহার করা যাবে।
- এই কার্ডের নিরাপত্তায় ব্যবহার করা হচ্ছে ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ।
- ১ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে এই ডেবিট কার্ডের উদ্বোধন হয়।

উৎস: ৩১ অক্টোবর ২০২৩, প্রথম আলো।
১২,২৩২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারের চিফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. ক) কর্নেল (অব) এম. এ .জি ওসমানী
  2. খ) মেজর খালেদ মোশাররফ
  3. গ) গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার
  4. ঘ) কর্নেল (অব) এম এ রব
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের-
রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,
উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন- সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- তাজউদ্দিন আহমদ,
পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- খন্দকার মোশতাক আহমেদ,
অর্থমন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এম.মনসুর আলী,
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন- এ এইচ এম কামরুজ্জামান,
প্রধান সেনাপতি ছিলেন- কর্নেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী,
চিফ অব স্টাফ ছিলেন- লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব এবং
ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ছিলেন- গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে. খন্দকার।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

১২,২৩৩.
বাংলা ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছেন নিচের কে ?
  1. ক) ইকবাল
  2. খ) আসাদ
  3. গ) সালাম
  4. ঘ) নুর হোসেন
ব্যাখ্যা

- রফিক উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, আবুল বরকত প্রমুখ ভাষা আন্দোলনের শহীদ।
- আবদুস সালাম (১৯২৫-১৯৫২) একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনের শহীদদের মধ্যে একজন। ভাষা শহীদদের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ মারা যান।
- আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (আসাদ) ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় নবম-দশম শ্রেণি।

১২,২৩৪.
১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে কে ক্ষমতাচ্যুত হন?
  1. বেগম খালেদা জিয়া
  2. হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ 
  3. শেখ হাসিনা
  4. জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে ক্ষমতাচ্যুত হন- জেনারেল হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ ।

• ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হন।
- ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ জেনারেল এরশাদ বাংলাদেশের দ্বিতীয়বার সামরিক শাসন শুরু করেন।
- এরশাদের শাসনকালে দেশ আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ অবস্থার মধ্যে থাকে।
- এরশাদের সামরিক শাসনের অবসানের জন্য দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম চলতে থাকে।
- বহু মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে প্রাণ দেন।
- ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সফল গণঅভ্যুত্থানে সামরিক শাসন অবসান ঘটে।
- গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ ঘটে নি; এরশাদের শাসনের প্রথম থেকেই বিরোধী কার্যক্রম চলতে থাকে।
- ১৯৮২ সালের শেষ থেকে ছাত্র সমাজ সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে।
- শিক্ষানীতি বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
- ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫ দলীয় জোট ও বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট গঠিত হয়।
- বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেন।
- ১৯৮৭ সালে সরকারের পদত্যাগ ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন প্রবল হলেও এরশাদ ক্ষমতায় থাকেন।
- ১৯৯০ সালের শুরু থেকে রাজনৈতিক দলগুলো মিছিল, মিটিং ও হরতাল চালায়।
- সারাদেশের ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে সক্রিয় থাকে।
- ছাত্র সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কারণে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য আন্দোলনকে শক্তিশালী করে।
- ১৯ নভেম্বর ১৯৯০ সালে সরকার পতনের লক্ষ্যে ৮, ৭ ও ৫ দলীয় জোট যৌথ ঘোষণা প্রদান করে।
- ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বাধ্য হন। এরশাদের ক্ষমতা ত্যাগের মধ্যে দিয়ে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটে।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১২,২৩৫.
'Bangladesh Security Exchange Commission' প্রতিষ্ঠিত হয়-
  1. ক) ১৯৭২ সালে
  2. খ) ১৯৮৩ সালে
  3. গ) ১৯৯৩ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হলো BSEC (Bangladesh Security Exchange Commission)।
- এটি ১৯৯৩ সালের ৮ জুন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর বর্তমান চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শিবলী রুবায়েত উল ইসলাম।
- বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জের সংখ্যা দুটো। এগুলো হলো:
- DSE (Dhaka Stock Exchange)
- CSE (Chittagong Stock Exchange)

(তথ্যসূত্রঃ BSEC ওয়েবসাইট)
১২,২৩৬.
'এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে' শিরোনামের মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক পোস্টারের শিল্পী কে?
  1. এস এম সুলতান
  2. জয়নুল আবেদীন
  3. কামরুল হাসান
  4. কাইয়ুম চৌধুরী
ব্যাখ্যা

কামরুল হাসান: 
- কামরুল হাসান (১৯২১-১৯৮৮) প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী।
- প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
- ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর পিতার কর্মস্থল কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- দেশবিভাগের পর কামরুল হাসান  ঢাকা চলে আসেন এবং শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ঢাকায় একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন (১৯৪৮)।
- ঢাকায় চিত্রকলার চর্চা ও প্রসারের লক্ষ্যে ১৯৫০ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন আর্ট গ্রুপ।
- ১৯৬০ সালে তিনি ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প কর্পোরেশনের নকশা কেন্দ্রের প্রধান নকশাবিদ নিযুক্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে উক্ত পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
- কামরুল হাসান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও অসহযোগ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন (১৯৬৯-৭০) এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। 
- পাকিস্তানের সামরিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের রক্তপায়ী, হিংস্র মুখমন্ডল সম্বলিত একটি পোস্টার এঁকে আলোড়ন সৃষ্টি করেন।
- ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে নিরীহ বাঙালির উপর পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর নৃশংস হামলাকে কেন্দ্র করে কামরুল হাসানের ইয়াহিয়ার মুখচ্ছবি দিয়ে আঁকা পোস্টার ‘এই জানোয়ারদের হত্যা করতে হবে’ দেশেবিদেশে বিপুলভাবে সাড়া জাগায় এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে সাধারণ মানুষকেও উদ্বুদ্ধ করে।
- কামরুল হাসানের চিত্রকলায় লৌকিক ও আধুনিক রীতির মিশ্রণ ঘটায় তিনি ‘পটুয়া কামরুল হাসান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন।
- তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১২,২৩৭.
আওয়ামীলীগের ঐতিহাসিক ছয় দফার দ্বিতীয় দফা-
  1. স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবস্থা চালু
  2. ফেডারেল সরকার
  3. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা
ব্যাখ্যা
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের লাহোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা ঘোষণা করেন।
ছয়টি দফা হলো-
১. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
২. ফেডারেল সরকার
৩. মুদ্রা সংক্রান্ত ক্ষমতা
৪. ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য
৫. বৈদেশিক বাণিজ্য
৬. প্যারা মিলিশিয়া গঠন।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,২৩৮.
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে আমদানির পরিমাণ কত?
  1. ৬০ বিলিয়ন
  2. ৬১ বিলিয়ন
  3. ৬৪ বিলিয়ন
  4. ৬৯ বিলিয়ন
ব্যাখ্যা

- ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে, 
- যা এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে ৭ শতাংশ কম। 
- আগের অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৬ হাজার ৫১৪ কোটি ডলারের পণ্য।
- পরিমাণের দিক থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে আমদানি বেড়েছে।
- সব মিলিয়ে সোয়া ১৪ কোটি টন পণ্য আমদানি হয়েছে, 
- যা এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ১৩ কোটি ৭৬ লাখ টনের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি।

- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ৫০টি শুল্ক স্টেশনে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে খালাস হওয়া পণ্যের তথ্য পর্যালোচনা করে আমদানির এই চিত্র পাওয়া গেছে।

উৎস: প্রথম আলো।

১২,২৩৯.
ধান চাষের জন্য আদর্শ তাপমাত্রা কত প্রয়োজন?
  1. ক) ১৬° থেকে ২২°
  2. খ) ১৬° থেকে ৩০°
  3. গ) ২০° থেকে ৩৫°
  4. ঘ) ১৯° থেকে ৩০°
ব্যাখ্যা
- ধান চাষের জন্য ১৬° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- গম চাষের জন্য ১৬° থেকে ২২° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- পাট চাষের জন্য ২০° থেকে ৩৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- ইক্ষু চাষের জন্য ১৯° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৪০.
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো কয় স্তরভিত্তিক?
  1. তিন
  2. চার
  3. দুই
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
 - বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো স্তরভিত্তিক।
- এর দুটি প্রধান স্তর আছে।

• প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।

-  মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা সচিবালয় গঠিত।
- প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর।
- অধিদপ্তরের/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক/পরিচালক। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
১২,২৪১.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানে কী ধরনের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়?
  1. এককেন্দ্রিক ব্যবস্থা
  2. যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা
  3. সামরিক ব্যবস্থা
  4. সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্য

→ বৃহৎ শাসনতন্ত্র: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের প্রথম পরিচয় হল এটি ছিল একটি বৃহৎ শাসনতন্ত্র। মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা (Preamble), ১৩টি অংশ (Part), ২৩৪টি বিধি (Article) এবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল। এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল। সুতরাং এ শাসনতন্ত্র ছিল আয়তনে বড়।

→ লিখিত শাসনতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র ছিল লিখিত প্রকৃতির।

→ ইসলামী আদর্শ: ইসলামি আদর্শ ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল মূলত একটি ইসলামি আদর্শ ভিত্তিক শাসনতন্ত্র। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামে আখ্যায়িত করা হয়। এর প্রস্তাবনায় ইসলামি সাম্য, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার নীতি অনুসৃত হয়।

→ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়। এ শাসনতন্ত্রে বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনুসরণ করা হয়।

→ প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়। রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।

→  সংসদীয় ব্যবস্থা: সংসদীয় ব্যবস্থা ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানে সংসদীয় শাসন প্রবর্তনের বিধান রাখা হয়। আরও বলা হয় যে, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা হবে প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। শাসনতন্ত্র মতে মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়ী থাকত।

→ মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি: এ শাসনতন্ত্রে জনগণের মৌলিক অধিকারের উল্লেখ ছিল। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে আদালতের প্রয়োজনীয় ভূমিকার কথা স্বীকার করা হয়।

→  এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কেন্দ্র ও প্রদেশে এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করে। এ শাসনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয় যে, পাকিস্তানের আইনসভা হবে এক কক্ষবিশিষ্ট। কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সমস্যা সমাধান ও আলোচনার জন্য এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার বিধান রাখা হয়।

→  বিচার বিভাগের প্রাধান্য: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে বিচার বিভাগের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
এ শাসনতন্ত্রের বিচার বিভাগের প্রাধান্য স্বীকৃতি পায়। আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিচার বিভাগই ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান কবচ। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগের প্রাধান্য স্বীকার করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২,২৪২.
মুজিবনগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে কত তারিখে?
  1. ক) ১০ ই মার্চ
  2. খ) ১৭ ই এপ্রিল
  3. গ) ১৬ শে মার্চ
  4. ঘ) ১৭ ই মে
ব্যাখ্যা

• ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে।
• এই সরকারের কাঠামো ছিল নিম্নরূপ-
- রাষ্ট্রপতিঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান;
- উপরাষ্ট্রপতিঃ সৈয়দ নজরুল ইসলাম;
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীঃ তাজউদ্দীন আহমদ;
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীঃ এম মনসুর আলী;
- স্বরাষ্ট্র, কৃষি, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রীঃ এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান,
- পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীঃ খন্দকার মোশতাক আহমেদ;
- প্রধান সেনাপতিঃ কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত এম. এ. জি ওসমানী;
- চিফ অব স্টাফঃ কর্নেল (অব.) আব্দুর রব এবং
- ডেপুটি চিফ অব স্টাফ এবং বিমান বাহিনীর প্রধানঃ গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১২,২৪৩.
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদে বাংলা ভাষার জন্য প্রস্তাব উত্থাপন করেন কত সালে?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত:
- উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন।
- ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর (১২৯৩ বাংলা সালের ১৬ কার্তিক) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের উত্তরে রামরাইল গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত ছিলেন মুনসেফ কোর্টের সেরেস্তাদার।
- তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর হাই স্কুল হতে প্রবেশিকা, ১৯০৮ সালে কলকাতা রিপন কলেজ হতে বি.এ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ হতে বি.এল পরীক্ষা পাস করেন।
- ১৯১১ সালে তিনি কুমিল্লা জেলা বারে যোগদান করেন।
- তিনি ১৯০৭ সালে ত্রিপুরা হিতসাধনী সভা'র সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।
- ১৯৪৮ সালে গণপরিষদের অধিবেশনে কংগ্রেস দলীয় সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও গণপরিষদের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ব্যবহারের দাবি উত্থাপন করেন। 
- ১৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
- ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।


তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্ৰেণী ও বাংলাপিডিয়া।

১২,২৪৪.
নবম T20 বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন কোন দেশ?
  1. ভারত
  2. দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. ইংল্যান্ড
  4. নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা
নবম আইসিসি T-20 বিশ্বকাপ - ২০২৪
আয়োজক দেশ: যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ
সময়কাল:  ২⎯২৯ জুন, ২০২৪
অংশগ্রহণকারী দল: ২০টি 
মোট ম্যাচ: ৫৫টি 
উদ্বোধনী ম্যাচ: যুক্তরাষ্ট্র বনাম কানাডা
ফাইনাল ম্যাচ: ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা 
চ্যাম্পিয়ন দল: ভারত
রানার্স আপ দল: দক্ষিণ আফ্রিকা 
ম্যান অব দ্যা ফাইনাল: বিরাট কোহলি (ভারত)  
ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট: যশপ্রীত বুমরা (ভারত) 
সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক: রহমানুল্লাহ গুরবাজ (আফগানিস্তান)
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি: ফজলহক ফারুকি (আফগানিস্তান) ও আর্শদ্বীপ সিং (ভারত) 
হ্যাটট্রিক (মোট ৩টি): প্যাট কামিন্স: ২টি (অস্ট্রেলিয়া) , ক্রিস জর্ডান: ১টি (ইংল্যান্ড) 
- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা দুই ম্যাচে টি-টোয়েন্টিতে হ্যাটট্রিকের রেকর্ড করেন প্যাট কামিন্স। 
- সর্বোচ্চ মেডেন অভার:  লোকি ফার্গুসন (নিউজিল্যান্ড)।

উৎস: আইসিসি ওয়েবসাইট।  
১২,২৪৫.
নিচের কোনটি শিল্প খাতের অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব প্রতিষ্ঠান?
  1. ক) বাংলাদেশ বস্ত্র শিল্প কর্পোরেশন
  2. খ) বাংলাদেশ বন শিল্প কর্পোরেশন
  3. গ) বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন,
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন (অ-আর্থিক) সংস্থা/রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থা রয়েছে মোট ৪৯টি।
এগুলোর মধ্যে শিল্পখাতের অন্তর্গত প্রতিষ্ঠান - ৬টি।
যথা -
- বাংলাদেশ বস্ত্র শিল্প কর্পোরেশন,
- বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন,
- বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন,
- বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প কর্পোরেশন,
- বাংলাদেশ বন শিল্প কর্পোরেশন ও
- বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন।

উল্লেখ্য, সেবাখাতের অন্তর্ভূক্ত রাষ্ট্রায়াত্ত্ব সংস্থার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি; মোট - ১৯টি।
১২,২৪৬.
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তর- 
  1. সচিবালয়
  2. মাঠ প্রশাসন
  3. মন্ত্রণালয় 
  4. অধিদপ্তর 
ব্যাখ্যা

প্রশাসনিক কাঠামো: 
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো এর দুটি প্রধান স্তর আছে।
- প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- কয়েকটি মন্ত্রণালয় নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রশাসন বা সচিবালয় গঠিত।
- প্রতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত আছে বিভিন্ন বিভাগ বা অধিদপ্তর।
- অধিদপ্তরের/দপ্তরের প্রধান হলেন মহাপরিচালক/পরিচালক।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি, ৬২ পৃষ্ঠা।

১২,২৪৭.
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী বাংলাদেশের জিডিপি এর প্রধান খাত কোনটি?
  1. সেবা খাত
  2. কৃষি খাত
  3. শিল্প খাত
  4. অন্যান্য
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩:
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৬৯.৮৩ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.৩%।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২৭৬৫ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি: ২৬৫৭ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৩৪৯৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৪৬,৭৯৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মূল্যস্ফীতি: ৯.২৪%।
- মোট তফসিলি ব্যাংক: ৬১টি। 
- সাক্ষরতার হার (৭ বছর+): ৭৬.৪%।
- দারিদ্র্যের হার: ১৮.৭%।
- চরম দারিদ্র্যের হার: ৫.৬%।

জিডিপিতে বিভিন্ন খাতে অবদান -
- কৃষি: ১১.২০%।
- শিল্প: ৩৭.৫৬%।
- সেবা: ৫১.২৪%।
• তাই প্রধান খাত সেবা খাত।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩।
১২,২৪৮.
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে আমদানি ক্ষেত্রে শীর্ষ দেশ -
  1. চীন
  2. জাপান
  3. ভারত
  4. ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
দেশভিত্তিক আমদানি:
- ২০২৩-২৪ (জুলাই - ফেব্রুয়ারি সময়ে) অর্থবছরে মোট আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৪৪,১০৮.০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের মোট আমদানি ব্যয়ের (৫২,১১৯.০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) তুলনায় ১৫.৫ শতাংশ কম।

⇒ দেশে আমদানি ক্ষেত্রে শীর্ষ দেশ: চীন।
- আমদানির পরিমাণ: ২৮.৪৬ শতাংশ।

⇒ দ্বিতীয় অবস্থানে আছে: ভারত।
- আমদানির পরিমাণ: ১৩.৪২ শতাংশ।

⇒ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র।
- আমদানির পরিমাণ: ৪.৫১ শতাংশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১২,২৪৯.
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস-
  1. ২৬ মার্চ
  2. ১৪ ডিসেম্বর
  3. ১৬ ডিসেম্বর
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি
ব্যাখ্যা
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস:
- শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ১৪ ডিসেম্বর পালন করা হয়।
- বুদ্ধিজীবী হত্যা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি বুদ্ধিজীবী নিধন ইতিহাসের নৃশংসতম ও বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ।
- ১৪ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় দুই শতেরও বেশি বুদ্ধিজীবীকে তাঁদের বাড়ি থেকে তুলে নেয়া হয়।
- শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির উদ্দেশে বাংলাদেশে শোকাবহ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১২,২৫০.
১৯৬৯ সালে ২০ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে কে নিহত হন?
  1. ড: শামসুজ্জোহা
  2. জহুরুল হক
  3. আসাদুজ্জামান
  4. মতিউর রহমান
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ -এর আন্দোলন বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। সেজন্য এ আন্দোলন গণআন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান নামে অভিহিত হয়েছে।
- ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১০০ জন পূর্বপাকিস্তানী নিহত হয়েছিলেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা তাদের মধ্যে অন্যতম।
- ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ছাত্র ইউনিয়ন মেনন গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান পুলিশের গুলিতে শহীদ হল।
- এ আন্দোলনে আইয়ুব খানের পতন ঘটে। আগরতলা মামলা বাতিল হয়।
- শেখ মুজিব জেল থেকে মুক্তি পেয়ে রেসকোর্সের গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৫১.
কোনটি খরিফ ফসল নয়?
  1. পাট
  2. কচু
  3. ঝিঙ্গা
  4. মুলা
ব্যাখ্যা
কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়।
- যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- কার্তিক থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।
- অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে রবি শস্য বপন করা হয়।
- কম তাপমাত্রায় বপন করা হয়।
- ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিফ মৌসুম:
- গ্রীষ্মকালীন শস্যকে বলে খরিফ শস্য।
- চৈত্র থেকে আষাঢ় এবং শ্রাবণ থেকে আশ্বিন হলো খরিফ মৌসুম।
- খরিফ মৌসুমকে আবার দু ভাগে ভাগ করা হয়।
- যেমন- খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুম।

⇒ খরিফ-১ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময় সীমা এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত বিস্তৃত থেকে তাকে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকালীন মৌসুম বলে।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিফ-১ শস্য বলে।
- যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি ।

⇒ খরিফ-২ মৌসুম:
- যে মৌসুমের সময়সীমা জুলাই মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে তাকে খরিফ-২ মৌসুম বা বর্ষা মৌসুম বলে।
- যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

এছাড়া
- কিছু ফসল ও শাক-সবজি আছে যেগুলো উভয় মৌসুমেই বা সারা বছর চাষাবাদ করা হয়ে থাকে।
- এদেরকে বারোমাসী ফসল বলে। যেমন- কলা, পেঁপে ইত্যাদি।
- আধুনিক চাষাবাদ কলাকৌশলের মাধ্যমে বর্তমানে সারাবছর সবধরনের ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
১২,২৫২.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা -
  1. লামা
  2. আলীকদম
  3. থানচি
  4. রোয়াংছড়ি
ব্যাখ্যা

⇒ সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

⇒ সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

⇒ সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনকষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

⇒ সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র - সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

১২,২৫৩.
সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে কী উল্লেখ রয়েছে?
  1. সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ
  2. বাংলাদেশের নামে মামলার বিধান
  3. মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা
  4. সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের ১৩৭নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে-  সরকারী কর্ম কমিশন প্রতিষ্ঠা।
• সংবিধানের ১৩৮নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- সরকারী কর্ম কমিশনের সদস্য-নিয়োগ।
• সংবিধানের ১৪৬নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- বাংলাদেশের নামে মামলার বিধান।
• সংবিধানের ১২৭নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- মহা হিসাব-নিরীক্ষক পদের প্রতিষ্ঠা।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১২,২৫৪.
কতটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. তিনটি
  2. চারটি
  3. পাঁচটি
  4. ছয়টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট নামে নির্বাচনি জোট গঠিত হয়।
যুক্তফ্রন্টের দলগুলো হলো:
- আওয়ামী মুসলিম লীগ
- কৃষক শ্রমিক পার্টি
- নেজামে ইসলাম
- গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১৯৫৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ২১ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমেদ।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জোট ২৩৭টি ‍মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
১২,২৫৫.
দেশে ‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’ বাস্তবায়ন করবে কোন অধিদপ্তর?
  1. কৃষি অধিদপ্তর
  2. পরিকল্পনা অধিদপ্তর
  3. সমবায় অধিদপ্তর
  4. যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর
ব্যাখ্যা

[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]
-----------------
‘থ্রি-জিরো তত্ত্ব’ বাস্তবায়ন:
- দেশে সমবায় অধিদপ্তর ‘থ্রি-জিরো’ তত্ত্ব ও ‘সামাজিক ব্যবসা’ ধারণা বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদ।
- তিনি ক্ষুদ্রঋণ নামক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জনক হিসেবে সমাদৃত।
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে আলোচিত তার তিন শূন্য বা থ্রি জিরো তত্ত্বের জন্য।
- বিশ্বব্যাপী গৃহীত ‘থ্রি জিরো তত্ত্ব’ একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি,
- যার ভিত্তি হচ্ছে:
→ শূন্য দারিদ্র্য,
→ শূন্য বেকারত্ব,
→ শূন্য কার্বন নিঃসরণ।
- দেশের সমবায় আইন সংশোধন এবং যুগোপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়।
- শূন্যপদ পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়াও
- দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সুষম সম্পদের বণ্টন জন্য সমবায় অধিদপ্তর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 
- দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সমবায় অধিদপ্তরের সদস্যদের নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে পাইল প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর ও কালের কণ্ঠ নিউজ [লিঙ্ক]

১২,২৫৬.
ECNEC এর চেয়ারম্যান বা সভাপতি কে?
  1. ক) অর্থমন্ত্রী
  2. খ) প্রধানমন্ত্রী
  3. গ) পরিকল্পনা মন্ত্রী
  4. ঘ) রাষ্ট্রপতি
ব্যাখ্যা
- জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় জাতীয় নীতি ও উদ্দেশ্য সম্বলিত উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদনের জন্য দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ। 
- এ পরিষদ কর্তৃক প্রণীত লক্ষ ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী সাধারণত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ তাদের নিজ নিজ পরিকল্পনা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করে। 
- মন্ত্রিপরিষদের সকল সদস্য এ পরিষদের সদস্য থাকেন। 
- প্রধানমন্ত্রী তথা সরকার প্রধান পরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করেন। 
- প্রয়োজন মাফিক পরিষদের সভা আহবান করা হয়।
একনেকের বর্তমান বিবেচ্য বিষয়াবলি হচ্ছে: 
- সকল প্রকল্প পরিকল্পনাপত্র যাচাই ও অনুমোদন।
- প্রকল্প মূল্যায়ন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত ৫ কোটি টাকার উর্ধ্বে ব্যয়সাপেক্ষ সকল প্রকল্প যাচাই ও অনুমোদন।
- উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা।
- বেসরকারি ও যৌথ উদ্যোগের বিনিয়োগ প্রকল্পসমূহ যাচাই।
- দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তত্ত্বাবধান ও নীতিমালা পর্যালোচনা।
- সরকারি বিধিবদ্ধ কর্পোরেশনসমূহের আর্থিক কর্মসূচি পর্যালোচনা।
- সরকারি প্রতিষ্ঠানের উৎপন্ন পণ্যাদির মূল্য এবং সরকারি সেবা খাতের রেট, ফি ইত্যাদি নির্ধারণ।
- বৈদেশিক সাহায্য ও ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ বিবেচনা এবং জনশক্তি রপ্তানির ব্যাপারে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহের লক্ষ্য নির্ধারণ ও এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি পর্যালোচনা।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২৫৭.
'স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়েছিল কার নির্দেশনায়?
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমেদ
  2. খ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. গ) শেখ মুজিবুর রহমান
  4. ঘ) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১ মার্চ “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” গঠিত হয় । “স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ” - এর সদস্যগণ হলেন -
১. নুরে আলম সিদ্দিকী (সভাপতি, ছাত্রলীগ)
২. শাজাহান সিরাজ (সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগ)
৩. আ. স. ম. আব্দুর রব (সহ-সভাপতি, ডাকসু)
৪. আব্দুল কুদ্দুস মাখন (সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু)
• এই ৪ ছাত্র নেতাকে মুক্তিযুদ্ধের ৪ খলিফা বলা হত।

তথ্যসূত্র বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম - দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৫৮.
কাগমারি সম্মেলন কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) সিরাজগঞ্জ
  3. গ) টাঙ্গাইল
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা
কাগমারি সম্মেলন হলো ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের চতুর্থ কাউন্সিল ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে দলটির বাম ও ডানপন্থী সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এর ফলে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে আওয়ামী ‍লীগের বামপন্থী সদস্যরা ১৯৫৭ সালের ১৮ মার্চ দল থেকে বেড়িয়ে যায়।

- পরবর্তীতে, ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হয়।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১২,২৫৯.
বাংলাদেশের পদমর্যাদার মানক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকারের স্থান কততম?
  1. ক) প্রথম
  2. খ) তৃতীয়
  3. গ) চতুর্থ
  4. ঘ) দ্বিতীয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পদমর্যাদার মানক্রমে জাতীয় সংসদের স্পিকারের স্থান তৃতীয়। অর্ডার অফ প্রেসিডেন্সি অনুযায়ী সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।
১২,২৬০.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ‘কে ফোর্স’ গঠিত হয় কার নেতৃত্বে?
  1. জিয়াউর রহমান
  2. খালেদ মোশাররফ
  3. কর্ণেল সফিউল্লাহ
  4. মেজর আবু তাহের
ব্যাখ্যা
• মুক্তিযুদ্ধ ফোর্স:
- মুক্তিযুদ্ধে তিনটি ফোর্স গঠিত হয়।
→ জেড ফোর্স’ নামে পরিচিত নিয়মিত বাহিনীর প্রথম ব্রিগেডটি জুলাই মাসে গঠিত হয়।
- ব্রিগেডটি ১ম, ৩য় এবং ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট নিয়ে গঠিত হয়।

→‘এস ফোর্স’ নামে পরিচিত দ্বিতীয় নিয়মিত ব্রিগেডট।
- দ্বিতীয় ও একাদশ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের নিয়ে অক্টোবরে গঠিত হয়।
- এ ব্রিগেডের অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ।

→ ‘কে ফোর্স’ মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে গঠিত হয়।
- ৪র্থ, ৯ম এবং ১০ম ইস্ট বেঙ্গলের সদস্যদের নিয়ে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৬১.
মুজিব নগর সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে কে ছিলেন?
  1. এ এইচ এম কামরুজ্জামান
  2. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  3. তাজউদ্দিন আহমদ
  4. এম. মনসুর আলী
ব্যাখ্যা
মুজিব নগর সরকার:

- ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিব নগর সরকার। 
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহন করেন।
- মুজিবনগর সরকারের তথা প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তর ছিল কলকাতার ৮নং থিয়েটার রোড।
- সরকারকে নীতি নির্ধারণী পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল গঠন করা হয়।
- বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ছিল। 
- রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- শপথ পাঠ করান অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।
- মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন এম.এ.জি ওসমানী।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৬২.
বাংলাদেশের কৃষি পরিবেশ অঞ্চলের সংখ্যা কতটি? [নভেম্বর, ২০২৫]
  1. ১৮টি
  2. ২২টি
  3. ২৫টি
  4. ৩০টি
ব্যাখ্যা

কৃষি পরিবেশ অঞ্চল:
- বাংলাদেশ একটি কৃষি দেশ এবং বাংলাদেশের প্রায় ৮০% লোক সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কৃষি নিয়ে জড়িত।
- বাংলাদেশ একটি ছোট দেশ কিন্তু এটি বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের জমি রয়েছে। 
- বাংলাদেশে ৩০ টি কৃষি-পরিবেশগত অঞ্চল রয়েছে।
- এই ৩০টি এইজেডকে ৮৮টি উপ-অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে এবং এই উপ-অঞ্চলকে আবার ৫৩৫টি কৃষি পরিবেশগত এককে ভাগ করা হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশে ৩০ টি কৃষি-পরিবেশগত অঞ্চল (সংখার ক্রমানুসারে)-
১. পুরাতন হিমালয় পাদভুমি
২. সক্রিয় তিস্তা প্লাবনভুমি
৩. তিস্তা সর্পিল প্লাবনভুমি
৪. করতোয়া-বাঙ্গালী প্লাবনবুমি
৫. নিম্ন-আত্রাই বেসিন
৬. নিম্ন- পূনর্ভবা প্লাবনভুমি
৭. সক্রিয় ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা প্লাবনভুমি
৮. নতুন ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা প্লাবনভুমি
৯. পুরাতন ব্রহ্মপুত্র প্লাবনভুমি
১০. সক্রিয় গঙ্গা প্লাবনভুমি
১১. উচ্চ গঙ্গা প্লাবনভুমি
১২. নিম্ন গঙ্গা প্লাবনভুমি
১৩. গঙ্গা জোয়ার প্লাবনভুমি
১৪. গোপালগঞ্জ-খুলনা জলাভুমি
১৫. আত্রাই বিল/আরিয়াল বিল
১৬. মধ্য মেঘনা প্লাবনভুমি
১৭. নিম্ন মেঘনা প্লাবনভুমি
১৮. নতুন মেঘনা- মোহনা প্লাবনভুমি
১৯. পুনাতন মেঘনা প্লাবনভুমি
২০. পূর্ব সুরমা-কুশিয়ারা প্লাবনভুমি
২১. সিলেট বেসিন
২২. উত্তর-পূর্ব পাদভুমি
২৩. চট্টগ্রাম উপকূল সমভুমি
২৪. সেন্টমার্টিন কোরাল দ্বীপ
২৫. সমতল বরেন্দ্র অঞ্চল
২৬. উচ্চ বরেন্দ্র অঞ্চল
২৭. উত্তর-পূর্ব বরেন্দ্র অঞ্চল
২৮. মধুপুর অঞ্চল
২৯. উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চল
৩০. আখাউড়া সোপান।


উৎস: কৃষক সেবা।

১২,২৬৩.
'একজাতি একরাষ্ট্র' কোন তত্ত্বের মূলমন্ত্র?
  1. ক) কৃষকপ্রজা তত্ত্ব
  2. খ) স্বদেশি তত্ত্ব
  3. গ) দ্বিজাতি তত্ত্ব
  4. ঘ) প্রজাস্বত্ব
ব্যাখ্যা

- দ্বিজাতি তত্ত্বের মূলমন্ত্র একজাতি একরাষ্ট্র।
- হিন্দু ও মুসলিম জনগণ দুটি পৃথক ধর্মীয় দর্শন, সামাজিক আচার-আচরণ এবং সাহিত্যের অধিকারী।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দাবি করেন যে, ''ভারতের হিন্দু ও মুসলমানরা দুটি পৃথক জাতি। ভারতের মুসলমানরা একটি পৃথক জাতি। তাই তাদের প্রয়োজন একটি পৃথক আবাসভূমি ও রাষ্ট্রের।'' তাই একটি জাতির জন্য একটি রাষ্ট্র দরকার।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১২,২৬৪.
কোন সাংবিধানিক পদে শপথ গ্রহণ প্রয়োজন হয় না?
  1. চেয়ারম্যান সহকারী কর্ম কমিশন
  2. এটর্নি জেনারেল
  3. মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
  4. সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য
ব্যাখ্যা
সাংবিধানিক পদ:
- সংবিধান হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আইন।
- সাংবিধানিক উপায়ে যে সকল প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয় তাকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলে।
- সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা, পদের মেয়াদ, পদমর্যাদা, পদত্যাগ ও অপসারণ পদ্ধতি এবং দায়িত্ব সংবিধানে সুনির্দিষ্ট ও সুষ্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
- সংবিধানে উল্লিখিত পদগুলো হলো: মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্য, প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রীম কোর্টের আপীল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অপরাপর কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, ন্যায়পাল, অ্যাটর্নি জেনারেল, সরকারি কর্মকমিশনের সভাপতি ও অপরাপর সদস্য।

এটর্নি জেনারেল:
- এটর্নি জেনারেল, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সরকারের প্রধান আইনজীবী।
- প্রসঙ্গত, অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি সাংবিধানিক পদ হলেও এপদের শপথ গ্রহণ করতে হয় না।
- অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং নিয়োগ লাভের পর তিনি রাষ্ট্রপতি বরাবরে যোগদানপত্র দাখিল সাপেক্ষে পদে আসীন হন।
- এছাড়া ন্যায়পাল পদটিও শপথের অধীন নয়।

উৎস: i) এটর্নি জেনারেল কার্যালয় ওয়েবসাইট।
          ii) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
১২,২৬৫.
নিচের কোন উক্তিটি সত্য নয়?
  1. ক) গারোরা সাধারণত ‘মান্দি' নামে নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
  2. খ) গারোদের ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই।
  3. গ) বর্তমানে গারোদের অধিকাংশ লোক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।
  4. ঘ) গারোদের আদি ধর্মের নাম ছিল ‘সাংসারেক’।
ব্যাখ্যা
গারো

বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলায় বসবাসকারী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে গারোরা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ। গারোরা ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলের মধুপুর, নেত্রকোনা, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুরের শ্রীপুরে বাস করে। 

- গারোরা সাধারণত ‘মান্দি' নামে নিজেদের পরিচয় দিতে পছন্দ করে।
- গারোদের ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা নেই। 
- বর্তমানে গারোদের অধিকাংশ লোক খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। তারা এখন বড়দিনসহ খ্রিষ্ট ধর্মীয় উৎসব পালন করে।
- গারোদের আদি ধর্মের নাম ছিল ‘সাংসারেক’।

তথ্যসূত্র:- ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি, সপ্তম শ্রেণি।
১২,২৬৬.
Bangladesh has recently been elected to which post in the 76 sessions of the UN General Assembly?
  1. President
  2. Vice-President
  3. Krynoce Speaker
  4. Teacher
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন:

- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। 
- স্থানীয় সময় ৭ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদ হলে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে বাংলাদেশ সর্বসম্মতিক্রমে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সহসভাপতি নির্বাচিত হয়।
- বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে নির্বাচিত অন্যান্য সহসভাপতি হলো কুয়েত, লাওস ও ফিলিপাইন।
- মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ শহীদ ৭৬তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। 

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ৮ জুন ২০২১।
১২,২৬৭.
বোরো ধান রোপনের সময়-
  1. ক) মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
  2. খ) মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি
  3. গ) মধ্য জুলাই – মধ্য আগস্ট
  4. ঘ) জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু
ব্যাখ্যা
আউশ ধান রোপনের সময়=মধ্য মার্চ – মধ্য এপ্রিল
আউশ ধান উত্তোলনের সময় =মধ্য জুলাই – মধ্য আগস্ট

আমন ধান রোপনের সময়=জুনের শেষ – সেপ্টেম্বরের শুরু
আমন ধান উত্তোলনের সময়= ডিসেম্বর – জানুয়ারির শুরু

বোরো ধান রোপনের সময়= মধ্য নভেম্বর – মধ্য জানুয়ারি
বোরো ধান উত্তোলনের সময় = এপ্রিল – মে

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান গ্রন্থ-২০২০
১২,২৬৮.
মধুপুর ও ভাওয়াল গড়ের বনাঞ্চল কোন ধরনের বনভূমি?
  1. পত্রপতনশীল
  2. স্রোতজ
  3. চিরহরিৎ ও পত্রপতনশীল
  4. চিরহরিৎ
ব্যাখ্যা

মধুপুর ও ভাওয়াল গড়: 
- টাঙ্গাইলের মধুপুর, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত বনভূমি শালবন নামে পরিচিত। 
- শাল বা গজারি বৃক্ষের আধিক্যের কারণে এই বনভূমিকে শালবন বলা হয়।
- শালবন একটি পত্রপতনশীল বৃক্ষের বনভূমি। যার কারণে শীতকালে এই বনের গাছের পাতা ঝড়ে যায়।
শালবনের মোট আয়তন প্রায় ১.২ লক্ষ হেক্টর।

উৎস: বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

১২,২৬৯.
বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেন?
  1. ক) ১১নং
  2. খ) ১০নং
  3. গ) ৯নং
  4. ঘ) ৮নং
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের দুইজন বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধার একজন কুড়িগ্রামের তারামন বিবি।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কুড়িগ্রাম জেলায় নিজ গ্রাম শংকর মাধবপুরে ছিলেন।
- তিনি ১১ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন যার সেক্টর কমান্ডার ছিলেন আবু তাহের বীর উত্তম। 
- তারামন বিবি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন মুহিব হাবিলদার নামে এক মুক্তিযোদ্ধার উৎসাহে।
- তারামনের বয়স যখন মাত্র ১৩ কিংবা ১৪ তখন তিনিই তারামনকে ক্যাম্পে রান্নাবান্নার জন্য নিয়ে আসেন।
- তিনি ১১ নম্বর সেক্টরে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সৈনিকদের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার নদী-তীরবর্তী অঞ্চল মোহনগঞ্জ, তারাবর, কোদালকাটি ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়িতে অগ্রবর্তী দলের হয়ে কয়েকটি সশস্ত্র যুদ্ধে বীরত্বের সাথে অংশগ্রহণ করেন।  তারামন অনেক যুদ্ধে পুরুষ মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে অংশ নেন। 
- ১৯৭৩ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধুর সরকার মুক্তিযুদ্ধে তারামন বিবির সাহসীকতা ও বীরত্ব পূর্ণ অবদানের জন্য তাঁকে “বীর প্রতীক” উপাধিতে ভূষিত করেন।
- কিন্তু এরপর ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি।
- ১৯৯৫ সালে ময়মনসিংহের একজন গবেষক প্রথম তাঁকে খুঁজে বের করেন এবং নারী সংগঠনগুলো তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসেন।
- অবশেষে ১৯৯৫ সালের ১৯শে ডিসেম্বর এক অনাড়ম্বর পরিবেশে আনুষ্ঠানিক ভাবে তারামন বিবিকে বীরত্বের পুরস্কার তাঁর হাতে তুলে দেয়া হয়।

উৎস:- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,২৭০.
এডমন্ড বার্ক কাকে মানবজাতির শত্রু বলে অভিহিত করেন?
  1. ক) ওয়ারেন হেস্টিংসকে
  2. খ) লর্ড ওয়েলেসলিকে
  3. গ) লর্ড কর্ণওয়ালিসকে
  4. ঘ) লর্ড ডালহৌসিকে
ব্যাখ্যা

- এডমন্ড বার্ক মানবজাতির শত্রু বলে অভিহিত করেন ওয়ারেন হেস্টিংসকে।
- এডমন্ড বার্ক ভারতে দুঃশাসনের জন্য হেস্টিংসকে দায়ী করেন।
- ১৭৮৬ সালে বার্ক কমন্স সভায় হেস্টিংসের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও আনয়ন করেন।
- তবে, ঐতিহাসিকগণ বার্ক কর্তৃক হেস্টিংসের এরকম বর্ণনায় পুরোপুরি একমত নন।

১২,২৭১.
শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন -
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৩ সালে
  3. গ) ১৯৫৪ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫৩ সালে শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং একজন বাঙালি নেতা হিসেবে তাঁর উত্থান হয়। 
• ১৯৫৫ সালে সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সব ধর্মের মানুষের অন্তর্ভুক্তি এবং অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি প্রত্যাহার করে নাম রাখা হয় 'আওয়ামী লীগ'।
• ১৯৫৫ সালের ২১-২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
• ১৯৫৫ সালের  ৬ সেপ্টেম্বর শেখ মুজিবুর রহমান পুনরায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

সূত্র: mujib100.gov.bd
১২,২৭২.
৩৬৫ দিনে বছর কোন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান?
  1. ক) গ্রিক সভ্যতা
  2. খ) সিন্ধু সভ্যতা
  3. গ) মিশরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর।
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্য, পানি প্রবাহের মাপ, জোয়ার-ভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অঙ্কশাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ।
- মিশরীয়রা অঙ্কশাস্ত্রের দুইটি শাখা জ্যামিতি ও পাটিগণিতের প্রচলন করেন।
- তারা যোগ, বিয়োগ ও ভাগেরও ব্যবহার করতে পারত ।
- মিশরীয়রা ৪২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করেন এবং ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসেবও তাদের আবিষ্কার
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্যঘড়ি, ছায়াঘড়ি ও জলঘড়ি আবিষ্কার করে। 

- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল।
- তারা পরলোক বিশ্বাস করত এবং ফারাওরা পরবর্তী জন্মেও রাজা হবেন এই বিশ্বাস তাদের ছিল।
- তাই তারা ফারাওদের দেহ তাজা রাখার পদ্ধতি আবিষ্কার করে  ও মমি তৈরি শুরু করে। 
- চিকিৎসাশাস্ত্রেও প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১২,২৭৩.
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন নূর হোসেন শহীদ হন কবে?
  1. ক) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৮
  2. খ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৭
  3. গ) ১০ নভেম্বর, ১৯৯০
  4. ঘ) ১০ নভেম্বর, ১৯৮৯
ব্যাখ্যা
- নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর পুলিশের গুলিতে ঢাকার জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন মারা যান। এ সময় তার গায়ে সাদা রঙ দিয়ে লেখা ছিলো ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র ‍মুক্তি পাক’।
- নূর হোসেন ব্যতীত নাজিউর রহমান জেহাদ এবং ডা. শামসুল আলম মিলন নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মারা যান।

(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১২,২৭৪.
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন (বিজিটিএফ) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৮০ সালে
  3. ১৯৮৩ সালে
  4. ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা
থিয়েটার নাট্যগ্রুপ:
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর জাতীয় আশা-আকাঙ্খার পরিপূরক হিসাবে জন্ম নিতে থাকে গ্রুপ থিয়েটার।
- সমসাময়িক ঘটনা প্রবাহকে উপজীব্য করে সামাজিক ক্রিয়ার অংশগ্রহণ করতে থাকে।
- ফলে নাটক ক্রমশঃ হয়ে ওঠে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম।
- ১৯৮০ সালের ২৯ নভেম্বর গড়ে উঠে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান।
- সমাজ ও শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং হাজার বছরের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারায় ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে স্বপ্নের স্বদেশ বিনির্মাণে পরিচালিত এই নাট্যান্দোলনের সমন্বিত সংগঠন বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান, যার বর্তমান সদস্য সংগঠন সারা দেশে প্রায় ৪০০টি।
- এই সংগঠনটির প্রতিষ্ঠা পেয়েছিলে যাঁদের হাতে ও নেতৃত্বে তাঁরা হলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রামেন্দু মজুমদার, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন ইউসুফ, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মামুনু রশীদ , আতাউর রহমান সহ অনেক অগ্রজ নাট্যজন।

⇒ বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন (বিজিটিএফ) ২৯ নভেম্বর ১৯৮০ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকা।
- তিন কমিটি ফেডারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করে: সাধারণ কমিটি, কেন্দ্রীয় কমিটি এবং নির্বাহী কমিটি।

উৎস: বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন ওয়েবসাইট।
১২,২৭৫.
'জুলাই জাতীয় সনদ' স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কয়টি দলের নেতা অংশ নেন?
  1. ২০টি
  2. ২২টি
  3. ২৫টি 
  4. ২৮টি
ব্যাখ্যা

• জুলাই জাতীয় সনদ:
- জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
- ১৭ অক্টোবর, ২০২৫ (শুক্রবার) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই সনদ সই হয়।
- প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং যে ২৫টি দলের নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছে, সেই দলগুলো হলো:

১। লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি)
২। খেলাফত মজলিস
৩। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন
৪। আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)
৪। নাগরিক ঐক্য
৬। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)
৭। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)
৮। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
৯। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
১০। গণসংহতি আন্দোলন
১১। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)
১২। গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি)
১৩। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
১৪। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট / জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপার)
১৫। জাতীয় পার্টি / বাংলাদেশ এলডিপি (১২ দলীয় জোট)
১৬। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
১৭। গণফোরাম
১৮। জাকের পার্টি
১৯। জাতীয় গণফ্রন্ট
২০। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি
২১। বাংলাদেশ লেবার পার্টি
২২। ভাসানী জনশক্তি পার্টি
২৩। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
২৪। ইসলামী ঐক্যজোট
২৫। আমজনতার দল

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। (Link)

১২,২৭৬.
বাংলাদেশে কত সালে প্রথম সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৭ সালে
  2. ১৯৮৬ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

গণভোট:
- আক্ষরিক অর্থে গণভোট বলতে জনগণের কাছে উপস্থাপিত করা (refer to the people)-কে বোঝায়।
- আইনসভার দ্বারা প্রণীত আইনকে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান করার জন্য জনসাধারণের কাছে উপস্থাপিত করাকে বলে গণভোট (Referendum)।
- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সরাসরি ভোট দেওয়ার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে তাদের মতামত দেয়।
- এটি মূলত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় জনমত যাচাইয়ের জন্য গণভোটকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়।
- সংবিধানে গণভোট (Referendum) সংক্রান্ত কোনো অনুচ্ছেদ নেই।

⇒ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট।
- প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে। দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে। সবশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

⇒ ১৯৯১ সালে তৃতীয় গণভোটের আগে গণভোট আইন হয়েছিল। সংসদে পাস হওয়া সেই আইনের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, ‘যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনার অথবা ৮, ৪৮, ৫৬, ৫৮, ৮০, ৯২ক বা ১৪২ অনুচ্ছেদ সংশোধনের ব্যবস্থা করিয়া কোনো বিল উক্ত সংবিধানের ১৪২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদে গৃহীত হইবার পর উহাতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিবেন কি করিবেন না, এই প্রশ্ন যাচাইয়ের জন্য সংবিধানের ১৪২(১ক) অনুচ্ছেদ মোতাবেক গণভোটের বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল।’

⇒ ২০ বছর পর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের সেই বিধান বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু জুলাই অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর ওই সংশোধনী বাতিলের মামলায় হাইকোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি গণভোটও পুনর্বহাল করে রায় দেয়।

উৎস: প্রথম আলো।

১২,২৭৭.
বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম আফ্রিকান দেশ কোনটি?
  1. সুদান
  2. উগান্ডা
  3. সিয়েরা লিওন
  4. সেনেগাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্বীকৃতি লাভ:

- ১৯৭২ জানুয়ারি মাসেই পূর্ব জার্মানি, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, সোভিয়েত ইউনিয়ন স্বীকৃতি দেয়।
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ইরাক প্রথম আরব দেশ হিসেবে ০৮ জুলাই ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- সেনেগাল (১ ফেব্রুয়ারি), মালয়েশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), ইন্দোনেশিয়া (২৪ ফেব্রুয়ারি), গাম্বিয়া (মার্চ), গ্যাবন (৬ এপ্রিল), সিয়েরা লিওন (২১ এপ্রিল), ইরাক (৮ জুলাই), দক্ষিণ ইয়েমেন (৩১ জুলাই), উগান্ডা (৫ আগস্ট), বুরকিনা ফাসো (১৯ আগস্ট) প্রভৃতি মুসলিম দেশ ১৯৭২ সালের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
- ইরান ও তুরস্ক ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ, ডিসেম্বর ২১, ২০১৬ ও বিবিসি, মার্চ ২৬, ২০২১।
১২,২৭৮.
বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর কোন বংশের শাসনের সূচনা হয়?
  1. দেব
  2. সেন
  3. গুপ্ত
  4. মৌর্য
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:
- বাংলায় পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের শেষের দিকে সেন বংশের শাসনের সূচনা হয়।
- সেন বংশের শাসনের প্রতিষ্ঠাতা হেমন্ত সেন।
- বিজয় সেনের সময়েই বাংলাদেশে সেন বংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- সেন বংশের সর্বশেষ শাসক লক্ষ্মণ সেন ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজির আক্রমণে নদীয়া ত্যাগ করেন এবং বাংলায় সেন বংশের শাসনের পতন হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২,২৭৯.
কোন মুঘল সম্রাটের শাসনামলে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়?
  1. সম্রাট আকবর
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট হুমায়ূন
  4. সম্রাট জাহাঙ্গীর
ব্যাখ্যা
রাজধানী ঢাকা:
- এটি বাংলাদেশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত বৃহত্তম শহর।
- মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলার রাজধানী ছিল বিহারের রাজমহল।
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইচ্ছানুযায়ী ১৬১০ সালে ঢাকাকে সর্বপ্রথম সুবাহ বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়।
- সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।

উল্লেখ্য,
- মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান অনুযায়ী ১৬ জুলাই ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী ঘোষণা করা হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর-এর নাম অনুসারে রাজধানীর নাম জাহাঙ্গীরনগর রাখা হয়।
- এর আগে সম্রাট আকবরের আমলে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার প্রাদেশিক রাজধানী ছিলো বিহারের রাজমহল।
- বারো ভূইয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে বাংলাকে করতলগত করতে ১৫৭৬ থেকে ১৬০৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বারবার চেষ্টা চালানো হয়। এরপর সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে ইসলাম খান চিশতীকে রাজমহলের সুবেদার নিযুক্ত করেন। তিনি ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে রাজধানী রাজমহল থেকে সরিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৬৫০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার শাহ সুজা রাজধানী আবার রাজমহলে স্থানান্তর করেছিলেন। শাহ সুজার পতনের পর ১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মীর জুমলা আবার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন।
- ১৭১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুবেদার মুর্শিদ কুলি খান রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- বঙ্গভঙ্গের পর ১৯০৫ সালে ঢাকাকে আসাম ও বাংলার রাজধানী করা হয়।
- কংগ্রেসের বাধার মুখে ব্রিটিশ রাজ আবার ১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতায় ফিরিয়ে নেয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান এবং স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠার পর পূর্ব বাংলা নামে নতুন প্রদেশের রাজধানী হওয়ায় ঢাকার উথানে অধিকতর স্থায়ী উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক , প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) The Business Standard.
১২,২৮০.
মহিলা ও ৬৫ বছরের উর্ধ্বের করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা কত টাকা?
  1. ৩ লক্ষ টাকা
  2. ৩.৫ লক্ষ টাকা
  3. ৪.০ লক্ষ টাকা
  4. ৪.৫ লক্ষ টাকা
ব্যাখ্যা
চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে অনুসারে করমুক্ত আয় সীমা:
- সাধারণ করদাতা : ৩ লক্ষ টাকা
- মহিলা, ৬৫ বছর উর্ধ্ব করদাতা : ৩.৫ লক্ষ টাকা
- তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা : ৩.৫ লক্ষ টাকা।
- প্রতিবন্ধি করদাতা : ৪.৫ লক্ষ টাকা।
- যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতা : ৪.৭৫ লক্ষ টাকা।

(তথ্যসূত্র: অর্থ বিভাগ ওয়েবসাইট)
১২,২৮১.
বিবিসি বাংলার জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি নির্বাচিত হন কে?
  1. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. সুভাষ চন্দ্র বোস
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
- বিবিসি বাংলা ২০০৪ সালে শ্রোতাদের জরিপের মাধ্যমে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ২০ জন বাঙালির একটি তালিকা করে।
তালিকা:
- প্রথম : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- দ্বিতীয় : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- তৃতীয় : কাজী নজরুল ইসলাম
- চতুর্থ : শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
- পঞ্চম : সুভাষ চন্দ্র বোস
- ষষ্ঠ : বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
- সপ্তম : জগদীশ চন্দ্র বসু
- অষ্টম : ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
- নবম : আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
- দশম : রাজা রামমোহন রায়
- ১১তম : মীর নিসার আলী তিতুমীর
- ১২তম : লালন শাহ
- ১৩তম : সত্যজিৎ রায়
- ১৪তম : অমর্ত্য সেন
- ১৫তম : বায়ান্নর ভাষা শহিদ
- ১৬তম : মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
- ১৭তম : স্বামী বিবেকানন্দ
- ১৮তম : অতীশ দীপঙ্কর
- ১৯তম : জিয়াউর রহমান
- ২০তম : হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
(তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা)
১২,২৮২.
ইংরেজরা কত বছর ভারতবর্ষ শাসন করে?
  1. দুইশ বছর
  2. তিনশ বছর
  3. চারশ বছর
  4. একশ বছর
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ শাসন:
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনের সূত্রপাত হয়।
- তারপর থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় দুইশ বছর ইংরেজরা ভারতীয় উপমহাদেশ শাসন করে।

উৎস:  নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা।
১২,২৮৩.
বাংলা লোকসাহিত্য সংশ্লিষ্ট ‘আলকাপ’ হলো এক প্রকার?
  1. ক) কর্মসংগীত
  2. খ) পালাগান
  3. গ) সারিগান
  4. ঘ) বিবেকের গান
ব্যাখ্যা

- আলকাপ গান পালাগানের একটি শাখা।
- সাধারণত পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও মালদহ এবং বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে এ গানের প্রচলন বেশি।
- আলকাপ একটি দলীয় ও মিশ্র প্রকৃতির সঙ্গীত প্রদর্শন। এতে নাচ, গান, কথা, ছড়া, অভিনয় ইত্যাদির মিশ্রণ আছে। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

১২,২৮৪.
তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন-
  1. ক) আনোয়ারা বেগম
  2. খ) সুমিত্রা দেবী
  3. গ) মহাশ্বেতা দেবী
  4. ঘ) ইলা মিত্র
ব্যাখ্যা
তেভাগা আন্দোলন:
- তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ছিলেন ইলা মিত্র
- তেভাগা আন্দোলন বাংলায় সংঘটিত বর্গাচাষীদের একটি কৃষক আন্দোলন।
- ১৯৪০ থেকে ১৯৫০ সালে এই আন্দোলন সংঘটিত হয়।
- তেভাগা আন্দোলন যখন স্তিমিত হওয়ার পথে তখন নাচোলের রাণী ইলা মিত্র এই আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করেন।
- এই আন্দোলনের আরেকজন নেতা হলেন হাজী দানেশ।
- তেভাগা আন্দোলনের দাবী ছিলো বর্গাচাষীরা তাদের উৎপন্ন ফসলের এক ভাগ দিবে মালিকপক্ষকে এবং দুই ভাগ পাবে তারা।
- রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, চব্বিশ পরগণা প্রভৃতি জেলায় তেভাগা আন্দোলন সংঘটিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১২,২৮৫.
দেশের সবচেয়ে বড় নেলসন লোস আর্চ টাইপের সেতু কোনটি?
  1. ক) মেঘনা সেতু
  2. খ) পদ্মা সেতু
  3. গ) সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু
  4. ঘ) মধুমতী সেতু
ব্যাখ্যা
দেশের প্রথম ছয় লেনের ‘মধুমতী সেতু’
১০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মধুমতী সেতুর উদ্বোধন করেন। সেতুটি স্থানীয়ভাবে ‘কালনা সেতু’ নামে পরিচিত। এটি দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু। এটি দেশের সবচেয়ে বড় নেলসন লোস আর্চ টাইপের (ধনুকের মতো বাঁকা) সেতু। সেতুটি নড়াইল, গোপালগঞ্জ, খুলনা, মাগুরা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর ও ঝিনাইদহ জেলাকে সংযুক্ত করেছে। এ সেতু হবে এশিয়ান হাইওয়ের অংশ।  

এক নজরে ‘মধুমতী সেতু’
• ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন:- ২৪ জানুয়ারি, ২০১৫।
• অবস্থান:- পূর্ব পাড়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা ও পশ্চিম পাড়ে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা।
• অর্থায়নে:- জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা)। 
• মোট ব্যয়:- ৯৬০ কোটি টাকা।
• দৈঘ্য:- ৬৯০ মিটার।
• প্রস্থ:- ২৭ দশমিক ১০ মিটার। 
• সংযোগ সড়ক:- উভয় পাশে সংযোগ সড়ক ৪ দশমিক ২৭৩ কিলোমিটার, যার প্রস্থ ৩০ দশমিক ৫০ মিটার।

তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার, নভেম্বর ২০২২
১২,২৮৬.
সাংস্কৃতিক সংগঠন 'উদীচী' এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. বদিউল আলম
  2. সত্যেন সেন
  3. ড. রাশেদুল ইসলাম
  4. সিরাজুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• সত্যেন সেন: 
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক, রাজনীতিক।
- ১৯০৭ সালের ২৮ মে মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গিবাড়ি উপজেলার সোনারঙ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘের সংগঠক এবং উদীচী (১৯৬৯) সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। 
-  তাঁর রচিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় চল্লিশ।
- উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থ: উপন্যাস-  ভোরের বিহঙ্গী, অভিশপ্ত নগরী, পদচিহ্ন, পাপের সন্তান, কুমারজীব, বিদ্রোহী কৈবর্ত, পুরুষমেধ, আলবেরুনী, মা, অপরাজেয় ইত্যাদি।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২,২৮৭.
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রথম প্রকল্প চট্টগ্রামের কোথায় শুরু হয়?
  1. জোবরা
  2. হালিশহর
  3. আনোয়ারা
  4. রাউজান
ব্যাখ্যা

• গ্রামীণ ব্যাংক:
- গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়ন ব্যাংক।
- গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৭৬ সালের প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৭৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে প্রাথমিকভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকল্প শুরু করেন।
- গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্পটি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার 'জোবরা' গ্রামে একটি অ্যাকশন গবেষণা পাইলট প্রকল্প হিসাবে শুরু হয়েছিল।
- ১৯৮৩ সালে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্পটি একটি ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়।
- ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর ব্যাংক হিসেবে চালু হয়।
- ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে সমাজের নীচ থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সৃষ্টির প্রচেষ্টার প্রশংসায় ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

তথ্যসূত্র: গ্রামীণ ব্যাংক ওয়েবসাইট।

১২,২৮৮.
'সাংগ্রাই' মারমা সম্প্রদায়ের কী ধরনের উৎসব?
  1. বিয়ের উৎসব
  2. শস্য কাটার উৎসব
  3. ধর্মীয় উৎসব
  4. বর্ষবরণ উৎসব
ব্যাখ্যা
মারমা:
- মারমা বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তারা মঙ্গোলয়েড বর্ণগোষ্ঠীর অন্তর্গত।
- তাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে।
- এই ভাষা ‘ভোট বর্মী’ শাখার বর্মী দলভুক্ত একটি ভাষা।
- বাসস্থান: রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি।
- ধর্ম: বৌদ্ধ।
- সবচেয়ে বড় উৎসব: সাংগ্রাই।
- বর্ষবরণ উৎসব: সাংগ্রাই।
- মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে তিন স্তরবিশিষ্ট প্রথাগত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- গ্রাম পর্যায়ের প্রশাসনিক প্রধান: কারবারি।
- মৌজা পর্যায়ের প্রধান: হেডম্যান।
- সার্কেল প্রধান: রাজা।
- গ্রামের কারবারি মৌজার হেডম্যান এবং সার্কেল প্রধানের মূল দায়-দায়িত্ব হলো জুম ট্যাক্স সংগ্রহ করা।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৪ এপ্রিল, ২০১৭।
১২,২৮৯.
কৈবর্ত বিদ্রোহের নেতা ছিল কে?
  1. ক) কৈবর্ত
  2. খ) অশোক
  3. গ) দিব্য
  4. ঘ) কানু কৈবর্ত
ব্যাখ্যা
রাজা দ্বিতীয় মহিপালের (৯৯৫-১০৪৩) শাসনামলে কৈবর্ত বিদ্রোহ হয়। অনেকে শুধু জেলে সম্প্রদায়কে কৈবর্ত বললেও প্রকৃতপক্ষে জেলে, কৃষক এবং শ্রমজীবী মানুষকে সাধারণত কৈবর্ত বলা হতো।
পাল রাজাদের এক সামন্ত দিব্যর নেতৃত্বে কৈবর্তরা রাজ্যের বরেন্দ্রীয় অংশ দখল করে নেয়।
রাজা দ্বিতীয় মহীপাল কৈবর্তবাহিনীকে আক্রমন করতে দিয়ে নিজে নিহত হন।
উৎস - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী ও বাংলাপিডিয়া।
১২,২৯০.
‘অ্যালায়েন্স’ কী?
  1. ক) বাংলাদেশের দাতা দেশগুলোর জোট
  2. খ) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গার্মেন্টস পণ্য আমদানিকারকদের জোট
  3. গ) গ্রামীণফোনের স্বত্বাধিকারী
  4. ঘ) চীনা সিকিউরিটিজ কোম্পানি
ব্যাখ্যা
‘অ্যালায়েন্স’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক গার্মেন্টস পণ্য আমদানিকারকদের একটি জোট। এটি ২০১৩ সালে রানাপ্লাজা ধ্বসের পর বাংলাদেশে গার্মেন্টসগুলোর কর্মপরিবেশ পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন মিশন শুরু করে। ২০১৯ সালে অ্যালায়েন্স কার্যক্রম শেষ করে।
(সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো)
১২,২৯১.
৩৬তম আইওআই আসরে স্বর্ণপদক জিতেছে কোন বাংলাদেশী?
  1. দেশ আচার্য
  2. আকিব আজমাইন তূর্য
  3. দেবজ্যোতি দাস সৌম্য
  4. জারিফ রহমান
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডে (আইওআই) স্বর্ণপদক জিতেছে সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র দেবজ্যোতি দাস সৌম্য।

আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড
- আইওআই বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাইস্কুল ইনফরমেটিক্স (কম্পিউটার সায়েন্স) প্রতিযোগিতা।
- এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা প্রোগ্রাম লিখে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জিং সমস্যার সমাধান করে থাকে।
- তাই আইওআইয়ের বিজয়ীদের পৃথিবীর সেরা তরুণ কম্পিউটার বিজ্ঞানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
- এবারের ৩৬তম আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়েছে ১ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর।
- ইজিপ্টের আলেকজান্দ্রিয়ার আরব অ্যাকাডেমি ফর সায়েন্স, টেকনোলজি অ্যান্ড মেরিটাইম ট্রান্সপোর্টে বসেছে এবারের আসর। 
- অলিম্পিয়াডের এবারের পর্বে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ দলের চার সদস্য।
- দলে আছে দেবজ্যোতি দাস সৌম্য, জারিফ রহমান, আকিব আজমাইন তূর্য ও দেশ আচার্য।
- দলনেতা হিসেবে আছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের অধ্যাপক এম সোহেল রহমান।

সূত্র- আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াড ওয়েবসাইট।
১২,২৯২.
বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশকে কয়টি বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে?
  1. ক) ৭ টি
  2. খ) ৮ টি
  3. গ) ৯ টি
  4. ঘ) ১০ টি
ব্যাখ্যা

কেন্দ্রের পরেই বাংলাদেশে বিভাগীয় প্রশাসনের স্থান। বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশকে ৮টি বিভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
যথা - ১. ঢাকা বিভাগ ২. চট্টগ্রাম বিভাগ ৩. রাজশাহী বিভাগ ৪. খুলনা বিভাগ ৫. বরিশাল বিভাগ ৬. সিলেট বিভাগ ৭. রংপুর বিভাগ ও ৮. ময়মনসিংহ বিভাগ।
বিভাগীয় প্রশাসনের শীর্ষে অবস্থান করেন বিভাগীয় কমিশনার।
উৎসঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি

১২,২৯৩.
ভারতে গঠিত সর্বপ্রথম সমাজতান্ত্রিক দল -
  1. ক) কংগ্রেস
  2. খ) কমিউনিস্ট পার্টি
  3. গ) নিখিল বঙ্গ প্রজা পার্টি
  4. ঘ) কৃষক প্রজা পার্টি
ব্যাখ্যা
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম দিকের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে,
- ১৮৮৫ সালে বৃটিশ ভারতে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

সর্বপ্রথম সমাজতান্ত্রিক দল ছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি। ১৯২৫ সালে এ সংগঠনটি গঠিত হয়।

উৎস: Live MCQ লেকচার।
১২,২৯৪.
বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের সুরকার কে?  
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সৈয়দ আলী আহসান
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. আলতাফ মাহমুদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের রণসংগীত
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসংগীতের রচয়িতা।
- চল চল চল, উর্ধ্বগগনে বাজে মাদল.. বাংলাদেশের রণসংগীত।
- রণসংগীতটির গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী কাজী নজরুল।
-  রণসঙ্গীতটি 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভূক্ত।
- 'নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১২,২৯৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন গঠিত হয়েছে? 
  1. ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ 
  2. ১৩৮ নং অনুচ্ছেদ 
  3. ১৩৯ নং অনুচ্ছেদ 
  4. ১৪০ নং অনুচ্ছেদ 
ব্যাখ্যা

সংবিধান ও সরকারি কর্ম কমিশন:
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- সংবিধানের ১৩৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশন গঠিত হয়েছে।
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (PSC) হলো একটি সাংবিধানিক সংস্থা।
- এই সংস্থাটি দেশের বিভিন্ন সরকারি চাকরি ও পদে নিয়োগ প্রদান করে।
- কমিশন সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা এবং আপিল সংক্রান্ত বিষয়েও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকে। - বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগ দেন।
- এবং প্রধান বিচারপতি তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান।
---------------------------------------
উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের সংবিধানে সরকারি কর্ম কমিশন সম্পর্কিত মোট ৫টি অনুচ্ছেদ উল্লেখ রয়েছে।
• ১৩৭ নং অনুচ্ছেদে কমিশনের প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
• ১৩৮ নং অনুচ্ছেদে সদস্য নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মাবলী দেওয়া হয়েছে।
• ১৩৯ নং অনুচ্ছেদে কমিশনের সদস্যপদের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে।
• ১৪০ নং অনুচ্ছেদে কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কিত বিষয়বস্তু বলা হয়েছে।
• ১৪১ নং অনুচ্ছেদে কমিশন কীভাবে বার্ষিক রিপোর্ট জমা দেবে তার নিয়ম উল্লেখ রয়েছে।

উৎস: Laws Of Bangladesh ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট। 

১২,২৯৬.
নিচের কোন জেলায় হাজংদের বাস নেই?
  1. ময়মনসিংহ
  2. শেরপুর
  3. সিলেট
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
ফরিদপুর জেলায় হাজংদের কোন বাস নেই।

• হাজং:

- হাজং বাংলাদেশের একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- ময়মনসিংহ জেলার পর্বত সংলগ্ন ভূমিতে হাজংদের বসবাস। এদের কিছুসংখ্যক শেরপুর, সিলেট ও নেত্রকোনা অঞ্চলেও বাস করে।
- বাংলাদেশে বসবাসকারী হাজংদের প্রধান ভাষা বাংলা।

- তবে হাজংদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। এটি তারা নিজেদের মধ্যেই ব্যবহার করে।
- হাজং ভাষার নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই।
- হাজংরা ভাষার লিখিত রূপ দিতে অসমীয়া বর্ণমালা ব্যবহার করে।
- হাজংরা সনাতন ধর্মাবলম্বী।
- হাজং সমাজ পিতৃতান্ত্রিক।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১২,২৯৭.
বাংলাদেশে গ্রামের সংখ্যা কত?
  1. ৮৭,১৯১ টি
  2. ৮৪,৫০০ টি
  3. ৮৫,৫০০ টি
  4. ৮৩,৯০০ টি
ব্যাখ্যা
• গ্রামীণ যোগাযোগ সমীক্ষা:
- বাংলাদেশে গ্রামের সংখ্যা ৮৭,২৩০ টি গ্রাম।
- গ্রামের প্রশাসনিক স্বীকৃতি কম, কিন্তু গ্রামকে কেন্দ্র করে শৈশব থেকে মানুষের বিশাল আবেগ গড়ে উঠে।
- ভুমি প্রশাসনে স্বীকৃত সর্বশেষ ইউনিট মৌজা। দেশের ৮৭,২৩০ টি গ্রামে ৫৬,৩৪৯ মৌজা আছে। একক মৌজার গ্রাম ৪৩,৩৮৬টি।

পঞ্চম আদমশুমারি(২০১১) অনুযায়ী:
- বাংলাদেশে গ্রামের সংখ্যা ৮৭,১৯১ টি। 
- তৎকালীন প্রশ্ন ছিলো এটি। সে হিসেবে উত্তর - ৮৭,১৯১ টি গ্রহণ করা হয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১২,২৯৮.
সংবিধানের ৯ অনুচ্ছেদে ‘বাংলাদেশী’ জাতীয়তাবাদের স্থলে ‘বাঙালী’ জাতীয়তাবাদ প্রতিস্থাপন করা হয় কত সালে?
  1. ক) ২০০৯
  2. খ) ২০১১
  3. গ) ২০১৩
  4. ঘ) ২০১৪
ব্যাখ্যা

সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বাঙালী জাতীয়তাবাদ’ এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ প্রবর্তিত হয়।
আবার ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ‘বাংলাদেশী’ জাতীয়তাবাদের স্থলে ‘বাঙালী’ জাতীয়তাবাদ পূণঃপ্রতিস্থাপন করা হয়।
সনবিধানের ৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে-
(১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে।
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া, বাংলাদেশের সংবিধান এবং parliament.gov.bd]

১২,২৯৯.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩ অনুসারে, বাংলাদেশের মোট আবাদী জমির পরিমাণ কত? [মার্চ, ২০২৫]
  1. ১,৫৯,২৮,০০০ হেক্টর
  2. ১,৮২,৯০,০০০ হেক্টর
  3. ৮০,৪৩,০০০ হেক্টর।
  4. ৪১,০৭,০০০ হেক্টর।
ব্যাখ্যা
মোট আবাদী ও অনাবাদী জমি:
- বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমির (Gross Cropped Area) পরিমাণ ১,৫৯,২৮,০০০ হেক্টর।
- বাংলাদেশের মোট আবাদী জমির (Net Cropped Area) পরিমাণ ৮০,৪৩,০০০ হেক্টর।
- এক ফসলি জমি ২০,৫৭,০০০ হেক্টর।
- দুই ফসলি জমি ৪১,০৭,০০০ হেক্টর।
- তিন ফসলি জমি ১৮,৫৮,০০০ হেক্টর।
- আবাদযোগ্য নয় এমন জমির পরিমাণ ৮২,৯০,০০০ হেক্টর।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৩
১২,৩০০.
বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদে মোট আসন ছিল-
  1. ক) ৩৫০টি
  2. খ) ৩৪৫টি
  3. গ) ৩৩০টি
  4. ঘ) ৩১৫টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭৩ সালে অর্থাৎ প্রথম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ১৫টি। তখন সংসদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ৩১৫টি।
- ১৯৭৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসন করা হয় ৩০টি। তখন সংসদে মোট আসন সংখ্যা হয় ৩৩০টি। 
- পরবর্তীতে ২০০১ সালে সংরক্ষিত নারী আসন করা হয় ৪৫টি।
- সর্বশেষ ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন করা হয় ৫০টি। 
- ফলে বর্তমানে জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৩৫০টি।

উৎসঃ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।