বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১১৫ / ৩০৬ · ১১,৪০১১১,৫০০ / ৩০,৮৩২

১১,৪০১.
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বর্তমান (ডিএই) মহাপরিচালক কে? (নভেম্বর, ২০২৫)
  1. এস এম সোহরাব উদ্দিন
  2. এম. আবদুল মতিন
  3. মো. হামিদুর রহমান
  4. আশরাফুল আলম খান
ব্যাখ্যা

⇒ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বর্তমান (ডিএই) মহাপরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর:
- ১৯৮২ সালে ফসল প্রযুক্তি সম্প্রসারণে নিয়োজিত ছয়টি সংস্থা যথা ডিএ(ইএন্ডএম), ডিএ(জেপি), উদ্ভিদ সংরক্ষণ পরিদপ্তর, হর্টিকালচার বোর্ড, তামাক উন্নয়ন বোর্ড এবং সার্ডি একত্রিভূত করে বর্তমান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সৃষ্টি করা হয়।
- কৃষি বিভাগ ১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রবর্তিত প্রশিক্ষণ ও পরিদর্শণ (টিএন্ডভি) পদ্ধতির মাধ্যমে এবং ১৯৯০ সালের পর হতে অদ্যাবধি দলীয় সম্প্রসারণ পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের কৃষি ও কৃষককে অত্যন্ত সফলতা ও সুনামের সাথে সেবা প্রদান করেছে।
- পরিকল্পিত এবং অংশিদারীত্বমূলক সম্প্রসারণ সেবা প্রদানের জন্য ১৯৯৬ সালে নতুন কৃষি সম্প্রসারণ নীতি (এনএইপি) বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। বর্তমানে ৮টি উইং এর সমন্বয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তথ্যসূত্র - কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও কালের কণ্ঠ পত্রিকার রিপোর্ট।

১১,৪০২.
বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকার নাম কী?
  1. ক) বাংলাদেশ
  2. খ) জয়বাংলা
  3. গ) সৈনিক
  4. ঘ) প্রবাসী
ব্যাখ্যা
• মজিবনগর সরকারের প্রকাশিত পত্রিকা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করা হয়। গণমাধ্যম হিসেবে মূল্যবান অবদান রেখেছে এসব পত্র-পত্রিকা।
- সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক জয়বাংলা’।
- আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক।
- ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হতো।

এছাড়াও -
- বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার 'বাংলাদেশ' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।
- গেরিলা আক্রমণ ও সম্মুখ সমরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নানা ধরনের তৎপরতার খবরের পাশাপাশি এই পত্রিকাগুলোতে থাকতো বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ও আন্দোলনের খবর এবং বাঙালি কুটনীতিকদের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণী।

[নোট: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় ‘সাপ্তাহিক জয়বাংলা’। বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার 'বাংলাদেশ' নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।]

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪০৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
  1. ক) ২ নং সেক্টর
  2. খ) ৩ নং সেক্টর
  3. গ) ১০ নং সেক্টর
  4. ঘ) ৮ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
মুক্তিযুদ্ধ:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিলো।
- নৌ-বাহিনীর অধীনে ছিল-১০ নং সেক্টর (সকল নদী ও -বঙ্গোপসাগর)।
- ১০ নং সেক্টরে কোনো সেক্টর কমান্ডার ছিল না।
- চট্টগ্রাম-১নং সেক্টর,
- ঢাকা-২ নং সেক্টর,
- রাজশাহী-৭ নং সেক্টর,
- মুজিবনগর-৮ নং সেক্টর,
- সুন্দরবন- ৯ নং সেক্টর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া
১১,৪০৪.
হাজী শরীয়তউল্লাহ ভারতবর্ষকে কী বলে ঘোষণা করেছিলেন?
  1. দারুল ইসলাম
  2. দারুল আমান
  3. দারুল হারব
  4. দারুল হিজরত
ব্যাখ্যা

ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলন ছিল উনিশ শতকে বাংলায় সংঘটিত একটি ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- প্রাথমিক পর্যায়ে এ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ধর্ম সংস্কার, কিন্তু পরবর্তী সময়ে এই আন্দোলনে আর্থ-সামাজিক সংস্কারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- এ আন্দোলনের প্রবক্তা হাজী শরীয়তউল্লাহ। 
- হাজী শরীয়তউল্লাহ বাংলায় ব্রিটিশ শাসনকে মুসলমানদের আধ্যাত্মিক জীবনের জন্য ক্ষতিকর বলে বিবেচনা করতেন।
- হাজী শরীয়তউল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন। জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ফরায়েজী আন্দোলন অসামান্য দ্রুততার সঙ্গে ঢাকা, ফরিদপুর, বাকেরগঞ্জ (বর্তমান বরিশাল), ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা (বর্তমান কুমিল্লা), চট্টগ্রাম ও -নোয়াখালী জেলাসমূহে এবং আসাম প্রদেশে বিস্তারলাভ করে।
- হিন্দু জমিদার ও ইউরোপীয় নীলকরদের সঙ্গে অবিরাম সংঘর্ষের ফলে আন্দোলনটি ক্রমান্বয়ে আর্থ-সামাজিক রূপ পরিগ্রহ করে।
- ১৮৪০ সালে হাজী শরীয়তউল্লাহর মৃত্যুর পর তার একমাত্র পুত্র মুহসীনউদ্দীন ওরফে দুদু মিয়াকে ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা ঘোষণা করা হয়।
- তিনি ফরায়েজী আন্দোলনকে একটি সুবিন্যস্ত ও শক্তিশালী সাংগঠনিক রূপ দেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনভূক্ত সমগ্র অঞ্চলকে তিনি কয়েকটি সার্কেলে বিভক্ত করেন।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪০৫.
বাংলাদেশের মোট বনভূমির পরিমাণ - [মার্চ, ২০২০]
  1. ক) ২.৩২ মিলিয়ন হেক্টর
  2. খ) ১.৬০ মিলিয়ন হেক্টর
  3. গ) ৩.৭২ মিলিয়ন হেক্টর
  4. ঘ) ৪.৫ মিলিয়ন হেক্টর
ব্যাখ্যা
সুত্রঃ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০১৯
১১,৪০৬.
বাংলাদেশের জিডিপি (GDP)-তে কোন খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি? [অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪]
  1. সেবা
  2. শিল্প
  3. কৃষি
  4. বাণিজ্য
ব্যাখ্যা
খাতভিত্তিক GDP:
- কৃষি খাতের অবদান ১১.০২ শতাংশ।
- শিল্প খাতের অবদান ৩৭.৯৫ শতাংশ।
- সেবা খাতের অবদান ৫১.০৪ শতাংশ।

⇒ বাংলাদেশের জিডিপি (GDP)-তে সেবা খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি।
- আবার, কর্মসংস্থানের দিক থেকে বৃহৎখাত: কৃষিখাত (৪৫.০০% শ্রমশক্তি নিয়োজিত) এবং ছোট খাত: শিল্পখাত (১৭.০০% শ্রমশক্তি নিয়োজিত)।
- জিডিপির সর্ববৃহৎ খাত: সেবাখাত (১৩টি খাত নিয়ে গঠিত) এবং ছোট খাত: কৃষিখাত।
- সার্বিকভাবে অর্থনীতি/ জিডিপিতে কৃষি ও সেবা খাতের অবদান: ক্রমহ্রাসমান এবং শিল্পখাতের অবদান: ক্রমবর্ধমান।

উল্লেখ্য,
- ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জিডিপি'র চূড়ান্ত হিসাবের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

উৎস: i) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪।
১১,৪০৭.
২০১৫-১৬ ভিত্তিবছর হতে অর্থনীতির মোট খাত-
  1. ক) ১৫টি
  2. খ) ১৭টি
  3. গ) ১৯টি
  4. ঘ) ১৩টি
ব্যাখ্যা
- ২০১৫-১৬ ভিত্তিবছর হতে অর্থনীতির মোট খাত ১৯টি

১)  কৃষি ও বনজ এবং মৎস্য সম্পদ
২) খনিজ ও খনন
৩ ) ম্যানুফ্যাকচারিং
৪ ) বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাষ্প এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা
৫) পানি সরবরাহ, পয়নিষ্কাশন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুর্নব্যবহার কার্যক্রম 
৬ ) নির্মাণ 
৭ ) পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, যানবাহন ও মোটরসাইকেল মেরামত  
৮) পরিবহণ এবং সংরক্ষণ
৯ ) আবাসন এবং খাদ্য পরিবেশন কার্যক্রম 
১০) তথ্য ও যোগাযোগ 
১১ ) আর্থিক এবং বীমা কার্যক্রম
১২) রিয়েল এস্টেট কার্যক্রম   
১৩ ) পেশাদার, বৈজ্ঞানিক এবং প্রযুক্তিগত কার্যক্রম 
১৪) প্রশাসনিক ও সহায়তামূক পরিষেবা কার্যক্রম 
১৫) জনপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা 
১৬ ) শিক্ষা 
১৭) মানবস্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা কার্যক্রম 
১৮) শিল্পকলা ও বিনোদন 
১৯ ) অন্যান্য সেবা কার্যক্রম।

- ২০০৫-০৬ ভিত্তিবছরে অর্থনীতির মোট খাত ছিল ১৫টি‌।


উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ ডাইনামিক প্যানেল।
১১,৪০৮.
বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার কোন দেশ?
  1. ভারত
  2. সৌদি আরব
  3. চীন
  4. যুক্তরাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার সমূহ:
- প্রথম : চীন
- দ্বিতীয় : যুক্তরাষ্ট্র
- তৃতীয় : ভারত।
- সর্বাধিক বাণিজ্য ঘাটতি : চীনের সাথে
- সর্বাধিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত : জার্মানির সাথে।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট)
১১,৪০৯.
৫ আগস্ট ২০২৫ এ প্রকাশিত জুলাই ঘোষণাপত্রে কয়টি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে?
  1. ২৭টি
  2. ২৮টি
  3. ৩০টি
  4. ৩২টি
ব্যাখ্যা

• জুলাই ঘোষণাপত্রে ২৮টি ধারা (clause) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, এটি রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও শাসন কাঠামোর সংস্কারের পাশাপাশি ছাত্র-জনতা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্বীকৃতি ও আইনি সুরক্ষা বিষয়গুলোকে সংজ্ঞায়িত করে। 

• জুলাই ঘোষণাপত্র: 
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৫ আগস্ট ২০২৫ আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে।
- জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।  

ঘোষণাপত্রের মূল বিষয়গুলো:
- জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের জাতীয় বীর ঘোষণা।
-  ছাত্র-জনতাকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হবে।
-  এই ঘোষণাপত্র সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
-  মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট ও জুলাই ঘোষণাপত্র।

১১,৪১০.
উপকূলীয় বনের বৃক্ষ নয় কোনটি?
  1. গরান
  2. গেওয়া
  3. গর্জন
  4. পশুর
ব্যাখ্যা
⇒ 'গর্জন' উপকূলীয় বনের বৃক্ষ নয়।

উপকূলীয় বন:
- সমুদ্র উপকূলে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা বনকে উপকূলীয় বন বলা হয়।
- এ ছাড়া পরিকল্পিত উপায়ে সমুদ্র উপকূলে সামাজিক বন গড়ে তোলা হলেও তাকে উপকূলীয় বন বলে।
- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় উপকূলীয় বন অবস্থিত।
- খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও পটুয়াখালীর উপকূলীয় বন সুন্দরবন নামে পরিচিত।
- প্রতিনিয়ত সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বনও বলা হয়।
- সুন্দরবন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন।
- এ বনের মোট আয়তন ৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার।
- এ বন পৃথিবীর বৃহত্তম উপকূলীয় প্রাকৃতিক বন।
- এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি। এ ছাড়া পশুর, গেওয়া, গরান, কেওড়া, গোলপাতা প্রভৃতি এ বনের উল্লেখযোগ্য বৃক্ষ।
- এ বনের প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। চিত্রা হরিণ, চিতাবাঘ, বন্য শূকর, বানর, কুমির, ঘড়িয়াল, অজগর এবং নানা প্রজাতির পাখি, কীটপতঙ্গ এ বনে বাস করে।
- এ বনের বৃক্ষ থেকে প্রাপ্ত কাঠ গৃহনির্মাণ, নিউজপ্রিন্ট তৈরি ও জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

তথ্যসূত্র - কৃষি শিক্ষা, ৭ম শ্রেণি বোর্ড বই।
১১,৪১১.
কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন কখন বাতিল হবে?
  1. দলটি যদি নির্বাচনে জয়ী না হয়
  2. দলটি যদি দেশের আইন লঙ্ঘন করে
  3. দলটি যদি নির্বাচন কমিশনকে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়
  4. দলটি যদি পরপর দুইটি সাধারণ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে
ব্যাখ্যা
নিবন্ধন বাতিল:
⇒ কোন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন নিম্নোক্ত কারণে বাতিল হবে, যথা:
- দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কমিটি কর্তৃক দলকে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলে কিংবা নিবন্ধন বাতিলের জন্য দলের প্রধান ও সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিবদের সমপর্যায়ের পদাধিকারী কর্তৃক দলীয় সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীসহ কমিশন বরাবর আবেদন করা হলে;
- নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দল সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে;
- এই আইন ও বিধিমালার অধীন কমিশনে প্রেরিতব্য কোন তথ্য পরপর তিন বছর প্রেরণ করতে ব্যর্থ হলে;
- রাজনৈতিক দলটি পরপর দুইটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে;

এছাড়াও,
- কমিশন নিবন্ধন বাতিলের পূর্বে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে শুনানীর সুযোগ প্রদান করবেন।
- বিলুপ্ত ঘোষিত নিবন্ধিত কোন রাজনৈতিক দলের নাম অনুযায়ী অপর কোন দলকে নিবন্ধিত করা হবে না।
- বিলুপ্ত ও বাতিলকৃত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের নাম সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হবে।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১১,৪১২.
দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যান কে? [জানুয়ারি, ২০২৫]
  1. মোঃ মোকাম্মেল হক
  2. আবু হেনা মোস্তফা জামান
  3. ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন
  4. মোঃ মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
দুর্নীতি দমন কমিশন: 
- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ৫(১) ধারার বিধানমতে  জনাব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনকে কমিশনের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ করা হয়।

- দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ১৩ ধারার বিধানমতে কমিশনের চেয়ারম্যান জনাব ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এর পদমর্যাদা বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের বিচারকের সমরূপ। 
- কমিশনার জনাব মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও কমিশনার  ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ এর পদমর্যাদা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনারগণ দুদক আইন ২০০৪ এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ৫ (পাঁচ) বছর মেয়াদের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

উৎস: দুর্নীতি দমন কমিশন ওয়েবসাইট।
১১,৪১৩.
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস কবে?
  1. ক) ৩ মার্চ
  2. খ) ৭ মার্চ
  3. গ) ২৬ মার্চ
  4. ঘ) ২ মার্চ
ব্যাখ্যা
২ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস।

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কলাভবনে প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল।
- ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ছিল ‘জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত’। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়ার পর সংগ্রামী ছাত্র সমাজের উদ্যোগে ২ মার্চ বিক্ষোভ হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন প্রাঙ্গণের বটতলায়। বেলা ১১টার দিকে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ডাকসুর ভিপি আ স ম আব্দুর রব। এমন সময় ছাত্রলীগের নেতা শেখ জাহিদ হোসেন একটি বাঁশের মাথায় পতাকা বেঁধে মঞ্চে এলেন।

- রব ছাড়াও সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন ডাকসুর জিএস আব্দুল কুদ্দুস মাখন ও শাহজাহান সিরাজ। সেই ছাত্র সমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজসহ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। সেখান থেকেই স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠের কথা উঠেছিল।

- ২ মার্চের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তির বীজ বপন হয়েছিল। বক্তব্যে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা  বলেছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যেকোনো ত্যাগ-তিতিক্ষার জন্য তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। 

 সূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা।
১১,৪১৪.
‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ অনুযায়ী প্রণীত হয় -
  1. ক) মর্লি-মিন্টো সংস্কার আইন
  2. খ) ভারত স্বাধীনতা আইন
  3. গ) ভারত শাসন আইন
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন

- ১৯৪৭ সালের জুন মাসে মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে মি. জিন্নাহর প্ররোচনায় অবাঙালি মুসলিম লীগ নেতাদের সমর্থনে ভারত বিভক্তি সংক্রান্ত মাউন্টব্যাটেনের '৩ জুন পরিকল্পনা' গৃহীত হয়।
- এটিই ‘৩ জুন পরিকল্পনা’ বা ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ নামে খ্যাত।
- মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই যে আইন পাস করে তা 'ভারত স্বাধীনতা আইন' নামে খ্যাত।


তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১১,৪১৫.
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার কে? [জানুয়ারি,২০২৬]
  1. মেহেদী হাসান মিরাজ
  2. তাইজুল ইসলাম
  3. সাকিব আল হাসান
  4. মাশরাফি বিন মর্তুজা
ব্যাখ্যা

টেস্ট ক্রিকেট:
- বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট উইকেট-শিকারি তাইজুল ইসলাম।
- রেকর্ড গড়ার তারিখ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- মাইলফলক: টেস্টে ২৫০ উইকেট পূর্ণ সাকিব আল হাসানকে টপকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ
- প্রতিপক্ষ দেশ:  আয়ারল্যান্ড।
- বিশেষ অর্জন: বিশ্বের মাত্র কিছু বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে ২৫০+ উইকেট ক্লাবে প্রবেশ করে।
- ক্যারিয়ারের হাইলাইট: টেস্টে সেরা বোলিং – ৮/৩৯ (বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ইনিংস)

উৎস: বিবিসি নিউজ।

১১,৪১৬.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন-
  1. ফকির মজনু শাহ
  2. মঙ্গল পাণ্ডে
  3. সৈয়দ নিসার আলী
  4. নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু
ব্যাখ্যা

তিতুমীরের বিদ্রোহ:
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত তিতুমীর ও ও তাঁর অনুসারীরা সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ অবলম্বন করেন।
- ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তিতুমীর তাঁর প্রধান ঘাটি স্থাপন করেন। নির্মাণ করেন ইতিহাস খ্যাত তাঁর 'বাঁশের কেল্লা'।
- ইংরেজ জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমীরের বাহিনীতে যোগ দিলে ধর্ম সংস্কার আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়।
- কোম্পানি ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দে তিতুমীরের বিরুদ্ধে বিশাল সেনা বাহিনী প্রেরণ করে। মেজর স্কটের নেতৃত্বে এই বাহিনী তিতুমীরের নারিকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে।
- ইংরেজদের কামান বন্দুকের সামনে বীরের মতো লড়াই করে পরাজিত হয় তিতুমীরের বাহিনী।
- তিনি যুদ্ধে শহীদ হন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১,৪১৭.
১৯৪৩ সালে বাংলার দুর্ভিক্ষের উপর ছবি এঁকে বিখ্যাত হন কোন শিল্পী?
  1. এস, এম, সুলতান
  2. কামরুল হাসান
  3. মোস্তফা মনোয়ার
  4. জয়নুল আবেদীন
ব্যাখ্যা

- ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে জয়নুল আবেদিন ধারাবাহিকভাবে একাধিক চিত্র স্কেচ করেন।
- এ দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। 
- সস্তা প্যাকিং পেপারে চাইনিজ ইঙ্ক ও তুলির আচরে ‘দুর্ভিক্ষের রেখাচিত্র’ নামে পরিচিত জয়নুলের এ চিত্রকর্মে ফুটে উঠেছে শব-সওদাগরদের নিষ্ঠুরতা ও নৈতিক কলুষতা, সে সাথে নিপীড়িতের অমানবিক দুর্দশা।

• জয়নুল আবেদিন:
- তিনি একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অসাধারণ প্রতিভাবান শিল্পী।
- ইনস্টিটিউট অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফ্টস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশে আধুনিক শিল্প আন্দোলনের তিনিই পুরোধা।
- জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালে ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন।
-  ১৯৪৮ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানের (বর্তমান  চারুকলা ইনস্টিটিউ) তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। 

• বিশেষ চিত্রকর্মসমূহ:
- দুর্ভিক্ষ (১৯৪৩)।
- দ্য রেবেল ক্রো (১৯৫১)।
- দুই মহিলা, পাইন্যার মা, মহিলা (১৯৫৩)।
- ফসল মাড়াই (১৯৬৩)।
- নবান্ন (১৯৬৯)।
- মনপুরা (১৯৭০)।
- সংগ্রাম (১৯৭৬)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,৪১৮.
বাংলাদেশের সরকারি ইপিজেডের সংখ্যা কত?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
ইপিজেড:

- বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে সংসদ প্রণীত একটি আইনের ভিত্তিতে ১৯৮৩ সালে প্রথম ইপিজেড প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়।
- বাংলাদেশের মোট ইপিজেডের সংখ্যা ৯টি।
- সরকারি ইপিজেড ৮টি এবং বেসরকারি ১টি।
- বাংলাদেশের প্রথম ইপিজেড হচ্ছে চট্টগ্রাম ইপিজেড।
- যাত্রা শুরু- ১৯৮৩ সালে।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইপিজেড- ঢাকার সাভারে।
- 'কোরিয়ান ইপিজেড' চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র বেসরকারি ইপিজেড।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১।
১১,৪১৯.
সরকারি গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা কতজন?
  1. ৮৩২ জন
  2. ৮৩৪ জন
  3. ৮৩৬ জন
  4. ৮৩৮ জন
ব্যাখ্যা

• জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর শহীদদের গেজেট:
- জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪-এ শহীদদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে সরকার।
- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এটি প্রকাশ করেছে।
- সরকারি এ গেজেট অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যা ৮৩৬ জন।
- সরকারি গেজেট অনুযায়ী, ২ আগস্ট পর্যন্ত শহীদের সংখ্যা ছিল ৮৪৪ জন। ৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে ৮ জনের নাম বাদ দিয়ে আরেকটি গেজেট করেছে মন্ত্রণালয়। এই গেজেট অনুযায়ী, শহীদের সংখ্যা এখন ৮৩৬ জন।
উল্লেখ্য,
- ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ তহবিল করা হচ্ছে।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রথম আলো।

১১,৪২০.
রাঢ় জনপদের প্রধান নগর বা রাজধানী কোনটি ছিল?
  1. তাম্রলিপ্তি
  2. গৌড়
  3. কোটিবর্ষ
  4. পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা

রাঢ়, তাম্রলিপ্তি:
- বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস থেকে বলা যায় যে, রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- জনপদটি দুটি অংশে বিভক্ত ছিল।
- একটি ছিল দক্ষিণ রাঢ় এবং অন্যটি ছিল উত্তর রাঢ়।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- রাঢ় বা সূহ্মদেশের অন্তর্গত তাম্রলিপ্তের কথা টলেমির ভূগোলে উল্লিখিত ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪২১.
'চির উন্নত বিজয় নিশান' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর 
  2. ঢাকা 
  3. রাজশাহী
  4. যশোর
ব্যাখ্যা

চির উন্নত বিজয় নিশান:
- 'চির উন্নত বিজয় নিশান' গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে অবস্থিত।
- এটি বর্তমানে দেশের সর্বোচ্চ পতাকা-স্তম্ভ (ফ্ল্যাগ পোল)।
- উচ্চতা: ১২০ ফুট। 
- এতে উত্তোলিত জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ২৮ ফুট এবং প্রস্থ ১৬.৮ ফুট। ‘চির উন্নত বিজয় নিশান’ বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে জাতির গৌরবগাথাকে বহন করছে।

উল্লেখ্য,
- ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে কালিয়াকৈরের সফিপুরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে নবনির্মিত এ পতাকা-স্তম্ভের উদ্বোধন করা হয়।
- বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এ পতাকা-স্তম্ভের উদ্বোধন করেন। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।

১১,৪২২.
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ করা হয় কত তারিখে?
  1. মে, ১৯৭১
  2. জুন, ১৯৭১
  3. জুলাই, ১৯৭১
  4. আগস্ট, ১৯৭১
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশকে ১১ টি সেক্টরে ভাগ:
- মুক্তিযুদ্ধকালীন ১৯৭১ সালের ১০ ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় এবং বাংলাদেশের রণাঙ্গনকে ৪টি সামরিক অঞ্চলে ভাগ করা হয়।
- ১১ই এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ প্রথম বেতার ভাষণ দিলেন মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি দেশবাসিকে জানানোর জন্য, তাতে চারজন আঞ্চলিক অধিনায়কদের কথা বললেন, যাদের নেতৃত্বে যুদ্ধ পরিচালিত হচ্ছে।
- ১৯৭১ সালের ১১- ১৭ জুলাই পর্যন্ত কলকাতাস্থ ৮ নং থিয়েটার রোডের প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সদর দপ্তরে সেক্টর কমান্ডার এবং উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

- বাংলাদেশ বাহিনীর নেতৃত্ব, সংগঠন, প্রশিক্ষণ, অভিযান, প্রশাসন ইত্যাদি বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে মোট চারটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল সেখানে।
- সেসব সিদ্ধান্তের মধ্যে প্রধানতম ছিল সুষ্ঠুভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা, এবং প্রতি সেক্টরের জন্য একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।
- পাশাপাশি প্রতিটি সেক্টরকে অঞ্চল ভেদে ভাগ করা হয় কয়েকটি সাব-সেক্টরে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের রণাঙ্গনকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় ১৯৭১ সালের জুলাই মাসে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি ও সংগ্রামের নোটবুক।

১১,৪২৩.
নিচের কোনটি সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল?
  1. ক) স্বত্ব বিলোপ নীতি বাতিল
  2. খ) ভাইসরয় নামক পদের সৃষ্টি
  3. গ) গভর্নর জেনারেল নামক পদের সৃষ্টি
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
ফলাফল ও মূল্যায়ন:-
• সিপাহী বিদ্রোহের ফলাফল সুদূরপ্রসারী। এ বিদ্রোহ সফল না হলেও এটি ভারতে ব্রিটিশ শাসনের মূলে প্রচন্ড আঘাত হানে।
• ১৮৫৮ সালে বিদ্রোহ শেষে এক ঘোষণা বলে মহারাণী ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন এবং অবসান হয় একশ বছরের কোম্পানি শাসন।
• ব্রিটিশ রাজ ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি’ বাতিল ঘোষণা করে। সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়। বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে নির্বাসনে পাঠানো হয়।
• ভারতবর্ষের বিষয়াবলী দেখাশোনার জন্য ‘ভাইসরয়’ নামক একটি পদ সৃষ্টি করা হয়। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১১,৪২৪.
পাকিস্তানের তৌহিদী জনতার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান' হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি
  2. পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ
  3. সংস্কৃতি সংসদ
  4. পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের তৌহিদী জনতার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান' হিসেবে পরিচিত পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ।

পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ:
- শুরু থেকেই ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় তার মধ্য থেকে জন্ম নিতে থাকে অনেক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
- পাকিস্তান সৃষ্টির পর সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিল 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'।
- ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর এটি গঠিত হয়েছিল।
- সংগঠনের পরিচয় দেয়া হয়েছিল 'পাকিস্তানের তৌহিদী জনতার সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান' হিসেবে।
- রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের প্রথম পর্বে সংগঠনটির ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি।
- তমুদ্দুন মজলিশ পুস্তিকা প্রকাশ করে জানিয়ে দেয় পূর্ববাংলার শিক্ষার বাহন, আইন আদালত ও অফিসের ভাষা বাংলা করতে হবে।

বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:
- প্রাদেশিক সরকার ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য একটি ভাষা কমিটি গঠন করে।
- এর সভাপতি ছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ এবং সেক্রেটারি ছিলেন কবি গোলাম মোস্তফা।
- দেড় বছর ব্যাপক আলাপ আলোচনার পর কমিটি সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করে।
- রিপোর্টে বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ ও বর্ণমালার প্রচুর সংস্কারের পরামর্শ দেয়া হয়।
- নতুন ভাষার নামকরণ হয় 'সহজ বাংলা'। 

সংস্কৃতি সংসদ:
- ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সংস্কৃতি সংসদ' নামে আরেকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়।
- এই সংগঠনটি ক্রমে পূর্ববাংলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।

পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ:
- ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয় 'পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ'।
- সংসদের নিয়মিত পাক্ষিক সাহিত্য সভা বসত।
- এ সমস্ত সংগঠনের তৎপরতার মধ্য দিয়ে ভাষা প্রশ্নের গুরুত্ব মানুষের কাছে স্পষ্ট হতে থাকে।
- তারা বুঝতে পারে রাষ্ট্রভাষা বাংলা না হলে পূর্ববাংলায় সব ধরনের উন্নতি থেমে যাবে।

উল্লেখ্য,
- এভাবে ভাষা আন্দোলনের একটি সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়ে যায়।
- যার শক্তির উপর দাঁড়িয়ে রূপ লাভ করে ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন এবং চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের ২১ ফেব্রুয়ারিতে।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪২৫.
বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় কোন স্থানে?
  1. দিল্লি
  2. পাটনা
  3. কানপুর
  4. বিহার
ব্যাখ্যা

বক্সারের যুদ্ধ:
- বক্সারের যুদ্ধ সংঘটিত হয় বিহারে।
- ১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর বিহারের বক্সার নামক স্থানে সংঘটিত এ যুদ্ধে ইংরেজরা জয়লাভ করে। 
- বাদশাহ দ্বিতীয় শাহ আলম পুনরায় ইংরেজ শিবিরে আশ্রয় নেন। সুজাউদ্দৌলা রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান এবং অযোধ্যা ইংরেজ বাহিনীর পদানত হয়। মীর কাসিম নিরুদ্দেশ হন এবং এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কিছু জানা যায় নি।
- বক্সার ছিল একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ।
- এ যুদ্ধের পর বাংলা ইংরেজ কোম্পানির শাসনের অধীনে আবদ্ধ হয়। 

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১১,৪২৬.
কোন দশক থেকে চাষীরা সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শুরু করে?
  1. পঞ্চাশ দশক
  2. ষাট দশক
  3. সত্তর দশক
  4. আশির দশক
ব্যাখ্যা
বাগদা চিংড়ি:
- বাগদা চিংড়ির বৈজ্ঞানিক নাম Penaeus monodon।
- লোনা পানিতে উৎপাদিত চিংড়িকে Shrimp এবং স্বাদু পানিতে উৎপাদিত চিংড়িকে Prawn বলা হয়'।
- বাগদা লোনা পানির চিংড়ি (Shrimp)।
- রপ্তানি বাজারে এটি Black Tigar Shrimp নামে পরিচিত।
- বাগদা চিংড়ি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উপকূল ও সামুদ্রিক অঞ্চলে উদ্ভুত একটি মৎস্য প্রজাতি।

উল্লেখ্য,
- চিংড়ি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী রপ্তানি পণ্য।
- দেশের মোট উৎপাদিত চিংড়ির বেশীরভাগই উৎপাদিত হয় দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিশেষ করে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায়।
- সত্তর দশকের শুরু থেকেই মূলত উপকূলীয় অঞ্চলের চাষীরা সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ শুরু করে।
- আশির দশক থেকে দেশে বাণিজ্যিকভাবে বাগদা চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি হচ্ছে।
- আশির দশকের শুরুতে আধা-লোনা পানিতে মৎস্য খামার স্থাপন প্রকল্পের উদ্যোগে খুলনা অঞ্চলে পোল্ডারের মধ্যে এবং কক্সবাজার অঞ্চলে লবণের সাথে চিংড়ি চাষ শুরু করা হয়।
- আশির দশকের মাঝামাঝি চিংড়ি চাষ প্রকল্পে মৎস্য অধিদপ্তর হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনে সাফল্য অর্জন করে এবং বেসরকারি পর্যায়ে চিংড়ি হ্যাচারি স্থাপনে সহায়তা প্রদান করে।

উৎস: i) পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
ii) মৎস্য অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
iii) ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, প্রথম আলো।
১১,৪২৭.
ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ বাংলাদেশের কোন জেলায় প্রথম আঘাত করে?
  1. ক) সাতক্ষীরা
  2. খ) বাগেরহাট
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) পটুয়াখালী
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ ১৫১ কিলোমিটার গতিবেগে সাতক্ষীরা উপকূলে আঘাত করে। সুপার সাইক্লোন ‘আম্পান’ একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়, যা বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী ভারতের পূর্বাংশে এবং বাংলাদেশে আঘাত হানে। এ শতাব্দীতে বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া এটিই প্রথম সুপার সাইক্লোন। এই ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশে মারা গেছেন ১৬ জন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে প্রাথমিকভাবে প্রায় সাড়ে এগারোশ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান।
১১,৪২৮.
ছয় দফার চতুর্থ দফায় কোন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. ক) শুল্ক সম্বন্ধীয়
  2. খ) অর্থ ও মুদ্রা
  3. গ) বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
  4. ঘ) পররাষ্ট্র সংক্রান্ত
ব্যাখ্যা
• ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে '৬ দফা দাবি' পেশ করেন।
• আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দফা উত্থাপন করা হয় লাহোর প্রস্তাবের সাথে মিল রেখে ২৩ মার্চ।
• ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালিদের অধিকারের সনদ যার মধ্যে বাঙালিদের জীবনের দাবি নিহিত ছিল। নিম্নে ছয় দফা কর্মসূচি উল্লেখ করা হল।

১। শাসনতান্ত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় প্রকৃতি: ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচিত হবে। 

২। পররাষ্ট্র সংক্রান্ত: বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা ছাড়া সকল বিষয় অঙ্গরাষ্ট্র বা প্রদেশের হাতে ন্যস্ত থাকবে। বৈদেশিক সম্পর্ক ও প্রতিরক্ষা বিষয় ন্যস্ত থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে।

৩। অর্থ ও মুদ্রা: দেশের দুই অঞ্চলের জন্য দুটি পৃথক অথচ সহজে বিনিময়যোগ্য মুদ্রা চালু করার ব্যবস্থা থাকবে। এ রকম
ব্যবস্থা চালু সম্ভব না হলে দুই অঞ্চলের জন্য একই মুদ্রা থাকবে, তবে সংবিধানে এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে যাতে এক অঞ্চলের মুদ্রা অন্য অঞ্চলে পাচার না হতে পারে।

৪। শুল্ক সম্বন্ধীয়: সকল প্রকার ট্যাক্স, খাজনা ও কর ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের হাতে থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয় নিবার্হের জন্য আদায়কৃত অর্থের একটা অংশ কেন্দ্রীয় সরকার পাবে।

৫। বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা: বৈদেশিক মুদ্রার ওপর প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। 

৬। আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা: আঞ্চলিক সংহতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্যগুলো আধা—সামরিক বাহিনী বা মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করতে পারবে। 

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪২৯.
'বিজু' কোন জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় উৎসব?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
চাকমা: 
- চাকমা জনগোষ্ঠীর সবচাইতে বড় উৎসবের নাম বিজু।
- এটি চৈত্র্যের শেষ দুদিন ও বৈশাখের প্রথম দিন মিলে টানা তিন দিন ধরে চলে (মারমা ও ত্রিপুরারাও ভিন্ন নামে একই উৎসব পালন করে)।
- পুরানো বছরকে বিদায় দিয়ে নূতন বছরকে বরণ করা বিজু উৎসবের উপলক্ষ, তবে এর সামাজিক তাৎপর্য বাঙালী মুসলমানদের ঈদ বা বাঙালী হিন্দুদের শারদীয় দুর্গোৎসবের সাথে তুলনীয়।
- অতীতে কৃষি-নির্ভর গ্রামীন জীবনের ছন্দের সাথে তাল মিলিয়ে বিজু উৎসব পালিত হত।
- তবে শহুরে প্রেক্ষাপটে বিজু এখন আর শুধুমাত্র পানাহার, বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ানো, বা বন্ধুবান্ধব আত্মীয় স্বজনের সাথে সাক্ষাতের আনন্দ ইত্যাদির মধ্যে সীমিত নেই।
- সামাজিক মিলন বা পুনর্মিলনের একটি সময় ছাড়াও বিজু এখন চাকমা তথা পাহাড়ী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সচেতন অনুশীলন তথা পুনঃনির্মাণের একটা উপলক্ষও বটে।

উৎস: সমাজতত্ত্ব - ২, বিএ ও বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৩০.
প্রতাপ আদিত্য কে ছিলেন?
  1. বাংলার বারো ভূঁইয়াদের একজন
  2. রাজপুত রাজা
  3. বাংলার শাসক
  4. মোগল সেনাপতি
ব্যাখ্যা
বারো ভূঁইয়া:
- বাংলায় কররানী বংশের রাজত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে বাংলার সোনারগাঁ, খুলনা, বরিশাল প্রভৃতি অঞ্চলে কিছুসংখ্যক জমিদার স্বাধীন রাজার মতো রাজত্ব শুরু করে।
- ১৫৭৬ সালে সম্রাট আকবর পশ্চিম বাংলা ও উত্তর বাংলার অধিকাংশই দখল করে নেন।
- এক দল জমিদার বা ভূস্বামী একযোগে পূর্ব বাংলার ওপর মোগল আক্রমণ প্রতিহত করেন।
- এরাই বারো ভূঁইয়া নামে পরিচিত।
- বারো ভূঁইয়াদের প্রধান ছিলেন ঈশা খাঁ।
- আকবরের সেনাপতি মানসিংহ বারবার চেষ্টা করেও ঈশা খাঁকে পরাজিত করতে পারেননি।
- সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলেও বারো ভূঁইয়ারা মোগলবিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

⇒ বারো-ভূঁইয়া শব্দটির অর্থ বারোজন ভূঁইয়া।
- প্রকৃতপক্ষে বাংলায় আফগান শাসনামল ও মুগল শক্তির উত্থানের মধ্যবর্তী সময়ে এদেশের বিভিন্ন এলাকা বহু সামরিক প্রধান, ভূঁইয়া এবং জমিদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- তারা কখনও যৌথভাবে এবং বেশিরভাগ সময় পৃথকভাবে মুগল আগ্রাসন প্রতিহত করেছিলেন এবং স্বাধীন বা অর্ধ-স্বাধীন শাসকরূপে তাঁদের নিজ নিজ এলাকা শাসন করেছিলেন।
- এ অবস্থায় বহু ভূঁইয়া বিদ্রোহ করেছিলেন।
- তবে শেষ পর্যন্ত বারো ভূঁইয়াগণ মুঘল সুবাদার ইসলাম খানের হাতে পরাজিত হন এবং মুঘল বশ্যতা স্বীকার করেন।
- ফলে বাংলায় মুঘল শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্য বারো ভুঁইয়াদের মধ্যে সর্বাধিক সম্পদশালী ও প্রভাবশালী ছিলেন। ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতাপের ক্ষমতা ও খ্যাতি পুরো ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়েছিল।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএএস এইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৩১.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে, বাংলাদেশের সর্বাধিক বনাঞ্চল সম্পন্ন জেলা কোনটি?
  1. বাগেরহাট
  2. খুলনা
  3. রাঙ্গামাটি 
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে, 

• সর্বাধিক বনাঞ্চল সম্পন্ন জেলা (৫টি)
- রাঙ্গামাটি = ১৩,৭৮,৫৬৪.১৩ একর।
- বান্দরবান = ৭,৯৭,৫৪১.৪৯ একর।
- বাগেরহাট = ৫,৬৬,৫১২.৯৫ একর।
- খাগড়াছড়ি = ৫৫৪,১১৬.২১ একর।
- খুলনা = ৫,৬৪,০৮১.৬১ একর।

উৎস: বিবিএস (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)।

১১,৪৩২.
বর্তমানে কোন দেশের সাথে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে?
  1. জাপান
  2. ভুটান
  3. চীন
  4. ভারত
ব্যাখ্যা
বর্তমানে ভুটানের সাথে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে।

- অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে ভুটানের ১৮টি এবং ভুটানে বাংলাদেশের ৯০টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
- এছাড়া ভুটানকে আরও ১৬টি ও বাংলাদেশেকে ১০টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের জন্য সম্মত হয়েছে।
- ভুটান ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও নেপালের সাথে PTA স্বাক্ষরের বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

সূত্র- প্রথম আলো ও কালের কণ্ঠ।
১১,৪৩৩.
ফরায়েজী আন্দোলনকে কোন নেতা রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন?
  1. ক) হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. খ) তিতুমীর
  3. গ) দুদু মিয়া
  4. ঘ) নবাব সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলন:

- ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন দুদু মিয়া
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়াত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
-  শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। 
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৩৪.
সুনাগরিকের গুণ নয় কোনটি?
  1. বিবেক
  2. বুদ্ধি
  3. বিচক্ষণতা
  4. আত্মসংযম
ব্যাখ্যা

• সুনাগরিক:
- রাষ্ট্রের সব নাগরিক সুনাগরিক নয়।
-  আমাদের মধ্যে যে বুদ্ধিমান, যে সকল সমস্যা অতি সহজে সমাধান করে, যার বিবেক আছে সে ন্যায়-অন্যায়, সৎ-অসৎ বুঝতে পারে এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত থাকে, আর যে আত্মসংযমী সে বৃহত্তর স্বার্থেনিজের ক্ষুদ্র স্বার্থত্যাগ করতে পারে।
- এসব গুণসম্পন্ন নাগরিকদের বলা হয় সুনাগরিক।
- সুনাগরিকের প্রধানত তিনটি গুণ রয়েছে।
যথা-
১। বুদ্ধি,
২। বিবেক
৩। আত্মসংযম

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১,৪৩৫.
নাগরিক সংগঠন 'সুশাসনের জন্য নাগরিক' কত সালে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ১৯৯৮ সালে
  2. ২০০০ সালে
  3. ২০০২ সালে
  4. ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
সুজন:
- সুজন দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি নাগরিক সংগঠন।
- গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সকল স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলাই সুজন-এর মূল লক্ষ্য।
- ‘সুজন’ পরিচালনার মূলনীতি হলো দলনিরপেক্ষতা, একতা, সততা, স্বচ্ছতা, সমতা ও অসাম্প্রদায়িকতা।
- ১২ নভেম্বর ২০০২ তারিখে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ‘সিটিজেন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন্স (সিএফই)’ নামে সংগঠনটি প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।
- প্রারম্ভিক পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচিত হতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করলেও, পরবর্তীতে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয় এবং লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০০৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সংগঠনটির নামকরণ করা হয় ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক’, সংক্ষেপে ‘সুজন’।
- ‘সুজন’ দাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো এনজিও নয়।
- এটি একটি নির্দলীয় স্বেচ্ছাব্রতী নাগরিক উদ্যোগ।
- একদল সচেতন নাগরিকের সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনা থেকেই এর সৃষ্টি।
- এই উদ্যোগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের নেতৃত্বে ও অর্থায়নেই এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

তথ্যসূত্র - সুজন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
১১,৪৩৬.
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
  1. ক) ৪ টি
  2. খ) ৭ টি
  3. গ) ১১ টি
  4. ঘ) ১৪ টি
ব্যাখ্যা
- যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে।
- এসব সেক্টরকে আবার ৬৪টি সাব সেক্টরে ভাগ করা হয়। এছাড়া তিনটি বিগ্রেড ফোর্স গঠন করা হয়।
- ১০ নং সেক্টর ছিল একমাত্র নৌ সেক্টর যেখানে কোন নিয়মিত কমান্ডার ছিলো না।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,৪৩৭.
বাংলাদেশ প্রথম এলডিসি তালিকায় যুক্ত হয় কবে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৯৮৫ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা

Least Developed Countries (LDC):
- Least Developed Countries বা স্বল্পোন্নত দেশ বলতে সেসব দেশ বুঝায় যেগুলোর অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মানবিক উন্নয়ন অপর্যাপ্ত।
- বর্তমানে বিশ্বে ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে, এর মধ্যে এশিয়া মহাদেশের ৮টি দেশ হয়েছে।
- সর্বশেষ সাও টোমে ও প্রিন্সিপ ২০২৪ সালে LDC থেকে উর্ত্তীণ হয়েছে।
- বাংলাদেশ ১৯৭৫ সালে LDC তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এ পর্যন্ত মোট ৮টি দেশ LDC তালিকা থেকে উত্তরণ করতে সমর্থ হয়েছে।
- বাংলাদেশ ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো LDC তালিকা থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করে।
- অর্জিত লক্ষ্যসমূহ ২০২১ সাল পর্যন্ত অক্ষুন্ন থাকায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে LDC তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে।
- ২০২৬ সালে LDC-ভুক্ত দেশের তালিকা থেকে উর্ত্তীণ হবে বাংলাদেশ, নেপাল, লাওস।

উৎস: UNCTAD ওয়েবসাইট। 

১১,৪৩৮.
‘আলোকিত মানুষ তৈরি'র কর্মসূচি কোন সংগঠনের?
  1. এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. গ্রামীণ ব্যাংক
  3. ব্র্যাক
  4. বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র:
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র আজ একটি দেশব্যাপী আন্দোলন।
- আলোকিত জাতীয় চিত্তের একটি বিনীত নিশ্চয়তা।
- মানবজ্ঞানের সামগ্রিক চর্চা এবং অনুশীলনের পাশাপাশি হৃদয়ের উৎকর্ষ ও জীবনের বহুবিচিত্র কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে উচ্চতর শক্তি ও মনুষ্যত্বে বিকশিত হবার একটি সপ্রাণ পৃথিবী।
- ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাতা: আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
- সারা দেশের সবখানে আলোকিত, কার্যকর ও উচ্চমূল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা, জাতীয় শক্তি হিশেবে তাদের সংঘবদ্ধ ও সমুন্নত করা এবং এরই পাশাপাশি দেশের মানুষের চিত্তের সামগ্রিক আলোকায়ন ঘটানো বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য,
⇒ ‘আলোকিত মানুষ চাই’ হলো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের শ্লোগান।

উৎস: বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ওয়েবসাইট।
১১,৪৩৯.
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র 'অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী' এর পরিচালক কে?
  1. শাহরিয়ার কবির
  2. সুভাষ দত্ত
  3. তারেক মাসুদ
  4. খান আতাউর রহমান
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র-
- Stop Genocide: জহির রায়হান,
- ওরা ১১ জন : চাষী নজরুল ইসলাম,
- আবার তোরা মানুষ হ : খান আতাউর রহমান,
- হাঙ্গর নদী গ্রেনেড : চাষী নজরুল ইসলাম,
- অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী : সুভাষ দত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,৪৪০.
জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কয়টি ইকোনমিক জোন নিয়ে গঠিত?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড):
- দেশের বৃহত্তম অর্থনৈতিক অঞ্চল জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় এলাকা সন্দ্বীপ চ্যানেলের পাশে প্রায় ১৩৭ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল

⇒ 'জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল' ৩টি ইকোনমিক জোন নিয়ে গঠিত। এটি চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই ও সীতাকুন্ড উপজেলা এবং ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত।
- এই শিল্পনগরের আয়তন ৩৩ হাজার ৮০৫ একর।
- এর ৪১ শতাংশ বা ১৪ হাজার একরে শুধু শিল্পকারখানা হবে, বাকি ৫৯ শতাংশ এলাকার মধ্যে আছে খোলা জায়গা, বনায়ন, বন্দর–সুবিধা, আবাসন, স্বাস্থ্য, প্রশিক্ষণ ও বিনোদনকেন্দ্র।
- ২০১৬ সালে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল নামে এই শিল্পনগরের উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: i) বেপজা ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।

১১,৪৪১.
বাংলাদেশের ইতিহাসে যে ঘটনাটি আগে ঘটেছিল-
  1. যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন
  2. আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা
  3. ভাষা আন্দোলন
  4. তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
- ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে বাংলা ভাষার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিভাগের অধ্যক্ষ আবুল কাসেমের নেতৃত্বে প্রথম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায় ১৯৫২ সাল।
- যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয় ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর এবং নির্বাচন হয় ৮-১২ মার্চ, ১৯৫৪ সালে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৪২.
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বিমানবন্দর কয়টি? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১০টি
ব্যাখ্যা
বিমানবন্দর:
- বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক ও পাঁচটি অভ্যন্তরীণ মিলিয়ে মোট আটটি বিমানবন্দর চালু আছে।
- হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা; শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম; ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট; বরিশাল বিমানবন্দর, - কক্সবাজার বিমানবন্দর; যশোর বিমানবন্দর; শাহ মখদুম বিমানবন্দর, রাজশাহী; ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর।
- এছাড়া তিনটি বিমানবন্দর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট অপারেশনের জন্য তৈরি হয়েছে যেগুলোর একটি ঢাকার তেজগাঁও-এ অবস্থিত পুরনো বিমানবন্দর।
- এটি বর্তমানে বিশেষ কাজে ব্যবহৃত হয় এবং এখানে বিমানচালকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
- এটিসহ বগুড়া ও সিলেটের শমসেরনগরে অবস্থিত অন্য দুটি বিমানবন্দর এখন অবধি বেসামরিক বিমান পরিবহন পরিচালনার সরকারি অনুমোদন পায়নি।
- বাংলাদেশে আরও তিনটি পুরনো এয়ারস্ট্রিপ আছে।
- কুমিল্লা, পাবনার ঈশ্বরদী এবং ঠাকুরগাঁও-এর এই এয়ারস্ট্রিপগুলি নিয়মিত বিমানবন্দর হিসেবে উন্নত হতে পারে।
- বাগেরহাটে খান জাহান আলী বিমানবন্দর নামে একটি নতুন বিমানবন্দর নির্মাণাধীন আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৪৩.
পঞ্চদশ সংশোধনী বিল কত সালে পাস হয়? 
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী: 
- তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়।
- সময়: জুলাই, ২০১১ সালে।
- ১৯৭২ মূল সংবিধানের রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতি যথা: জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করা হয়।
- রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম রাখার পাশাপাশি সকল ধর্মচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।
- জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।

১১,৪৪৪.
দেশে মোট সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা কত?
  1. ১০টি
  2. ১১টি
  3. ১২টি
  4. ১৩টি
ব্যাখ্যা
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:

- দেশে মোট সিটি কর্পোরেশন আছে - ১২টি।
- দেশে মোট উপজেলা আছে - ৪৯৫টি।
- মেট্রো থানা আছে - ১০৫টি।
- পৌরসভা আছে - ৩২৭টি।
- ইউনিয়নের সংখ্যা - ৪৫৯৬টি।
- মোট গ্রামের সংখ্যা - ৯০০৪৯টি।

তথ্যসূত্র - পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইট।
১১,৪৪৫.
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (OIC) নারী উন্নয়ন সংস্থার সংবিধিতে বাংলাদেশ কবে স্বাক্ষর করে?
  1. ক) ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
  2. খ) ১৪ অক্টোবর ২০২১
  3. গ) ১৪ নভেম্বর ২০২১
  4. ঘ) ১৪ ডিসেম্বর ২০২১
ব্যাখ্যা
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (OIC) নারী উন্নয়ন সংস্থার সংবিধিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ।

সূত্র: Live MCQ বিশেষ সাম্প্রতিক সমাচার: এপ্রিল, ২০২১ – এপ্রিল, ২০২২
১১,৪৪৬.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক কত সালে "কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি" গঠন করেন?
  1. ১৯১২ সালে
  2. ১৯১৬ সালে
  3. ১৯২১ সালে
  4. ১৯২৬ সালে
ব্যাখ্যা
এ.কে. ফজলুল হক:
- আবুল কাশেম ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তিনি ছিলেন কলকাতা করপোশনের প্রথম বাঙালি মুসলমান, বাংলার প্রধানমন্ত্রী, পূর্বপাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
- তিনি ছিলেন অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- আবুল কাশেম ফজলুল হক বাগ্মী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯১৮ সালে ফজলুল হক লিখিত ভারত মুসলিম লীগের দিল্লী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন। তার বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাকে ‘শের-ই-বঙ্গাল’ উপাধি দেয়। ‘শের-ই-বঙ্গাল’ অর্থ বাংলার বাঘ। সেই থেকে তিনি শেরে বাংলা নামে পরিচিত।

⇒ ১৯১২ সালে ফজলুল হক কলকাতায় "কেন্দ্রীয় জাতীয় মুসলিম শিক্ষা সমিতি" (Central Muslim Educational Association) গঠন করেন। এই শিক্ষা সমিতির মাধ্যমে তিনি মুসলমানদের শিক্ষাকে স্তরে স্তরে এগিয়ে নিয়েছিলেন।
- আবুল কাশেম ফজলুল হকের প্রচেষ্টায় ১৯১৬ সালে কলকাতায় 'বেকার হোস্টেল' ও 'কারমাইকেল হোস্টেল' প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৪৭.
বাংলাদেশে বোনা আমন ধান কাটা হয় -
  1. অগ্রহায়ণ মাসে
  2. ফাল্গুন মাসে
  3. বৈশাখ মাসে
  4. ভাদ্র মাসে
ব্যাখ্যা
- আমন ধান মূলত দুই প্রকার; রোপা আমন ও বোনা আমন।
- রোপা আমন অন্য জমিতে চারা প্রস্তুত করে, সেই চারা ক্ষেতে রোপণ করে ধান উৎপন্ন হয় বলে এর এরূপ নাম।
- রোপা আমন আষাঢ় মাসে বীজতলায় বীজ বোনা হয়, শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে মূল জমিতে রোপণ করা হয় এবং কার্তিক-অগ্রহায়ণ-পৌষ (এলাকাভেদে) মাসে ধান কাটা হয়।
- বোনা আমন ছিটিয়ে বোনা হয়।
- চৈত্র-বৈশাখ মাসে মাঠে বোনা আমনের বীজ বপন করা হয় এবং অগ্রহায়ণ মাসে পাকা ধান কাটা হয়।
- একে আছড়া আমন, বাওয়া আমন বা গভীর পানির আমনও বলা হয়।
[সূত্রঃ কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)]
১১,৪৪৮.
'Bank for the Poor' নামে পরিচিত ব্যাংক কোনটি?
  1. ব্র্যাক ব্যাংক
  2. সোনালী ব্যাংক
  3. জনতা ব্যাংক
  4. গ্রামীণ ব্যাংক
ব্যাখ্যা
গ্রামীণ ব্যাংক:
- 'Bank for the Poor' নামে পরিচিত ব্যাংক গ্রামীণ ব্যাংক।

⇒ গ্রামীণ ব্যাংক বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়ন ব্যাংক।
- গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৭৬ সালের প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
- ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর ব্যাংক হিসেবে চালু হয়।
- গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- গ্রামীন ব্যাংকের ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা বাংলাদেশের বাইরে প্রথম মালয়েশিয়ায় চালু করে।
- গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ভূমিহীন এবং দরিদ্র নারীদের পাঁচ জনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল গঠনের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে এবং এ ঋণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে।
- ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে সমাজের নীচ থেকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সৃষ্টির প্রচেষ্টার প্রশংসায় ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ১৩ জন পরিচালক নিয়ে গঠিত।

উল্লেখ্য,
- ইউনূস তার গবেষণা ও অভিজ্ঞতা থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের নীতিমালা তৈরি করেছেন।
- গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্পটি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার 'জোবরা' গ্রামে একটি অ্যাকশন গবেষণা পাইলট প্রকল্প হিসাবে শুরু হয়েছিল।
- ১৯৮৩ সালে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং প্রান্তিক দরিদ্রদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্পটি একটি ব্যাংকে রূপান্তরিত হয়।
- এর ৯৮% ঋণগ্রহীতা নারী।
- এই নারীদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে উন্নত জীবনে এগিয়ে গেছে।
- গ্রামীণ ব্যাংকের সবচেয়ে মানবিক ও ব্যতিক্রমী কর্মসূচি হল সংগ্রাম (ভিক্ষুক) সদস্যদের কর্মসূচি।
- গ্রামীণ ব্যাংক ভিক্ষুকদের আর্থিক সক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করার জন্য সুদ-মুক্ত ঋণ দেয়।

উৎস: i) গ্রামীণ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
ii) BBC.
১১,৪৪৯.
জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর বর্তমান সভাপতি কে? [মার্চ, ২০২৬] 
  1. অর্থমন্ত্রী
  2. জনপ্রশাসন মন্ত্রী
  3. প্রধানমন্ত্রী 
  4. মন্ত্রিপরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা

- জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) এর বর্তমান সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
- ৫ মার্চ, ২০২৬  তারিখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসভাপতি করে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার) গঠন করেছে সরকার।
- নতুন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর এবং পরিদপ্তর স্থাপন, পুনর্গঠন এবং নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিবেচনা করে নিকার।
- এ ছাড়া নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, থানা গঠন বা স্থাপনের প্রস্তাব বিবেচনা এবং বিভাগ, জেলা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, থানার সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাব বিবেচনা করে নিকার।
- নিকারের সদস্য হিসেবে রয়েছেন— স্থানীয় সরকার, অর্থ, স্বরাষ্ট্র, শিল্প ও আইনমন্ত্রী।
- এছাড়া জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবকেও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা।[লিঙ্ক]

১১,৪৫০.
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির সমন্বয়ে গঠিত রাজনৈতিক দলের নাম কী?
  1. বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি
  2. জাতীয় নাগরিক পার্টি
  3. বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি
  4. ন্যাশনাল পিপলস্‌ পার্টি
ব্যাখ্যা
জাতীয় নাগরিক পার্টি:
- জুলাই গণ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরুণদের দ্বারা গঠিত নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি আত্মপ্রকাশ করেছে।
- নতুন দলটির নামের ইংরেজি রূপ হবে ‘ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি’ (এনসিপি)।
- ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নতুন দলের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেয়া হয়।
- ১৭১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
- জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
- মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আছেন হাসনাত আবদুল্লাহ ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) পদে সারজিস আলম।
- এছাড়া, দলটির সদস্য পদে অভ্যুত্থানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনসহ ৪৩ জনকে রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - পত্রিকা রিপোর্ট। [link]
১১,৪৫১.
শশাঙ্কের রাজধানীর নাম কী?
  1. পুন্ড্র
  2. গৌড়
  3. চন্দ্রনগর
  4. কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা

শশাঙ্ক: 
- শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন রাজা।
- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ড. নীহাররঞ্জনের মতে শশাঙ্ক "স্বতন্ত্র স্বাধীন নরপতিরূপে সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিকারী হইয়াছিলেন।"
- শশাঙ্ক প্রথম জীবনে স্বাধীন রাজা ছিলেন না, গুপ্ত বংশীয় মহাসেন নামক এক রাজার সামন্ত ছিলেন।
- ষষ্ঠ শতকের শেষের দিকে গৌড়ের পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন।
- এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে শশাঙ্ক সপ্তম শতকের শুরুতে আনুমানিক ৬০৬ সালে গৌড়ে এক স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- স্বাধীন গৌড়রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- কর্ণসুবর্ণ ছিল শশাঙ্কের রাজধানী।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি নামক স্থানটিই প্রাচীন কর্ণসুবর্ণ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪৫২.
মুজিবনগর সরকারের কত সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছিল?
  1. ৬ জন
  2. ৮ জন
  3. ১০ জন
  4. ১২ জন
ব্যাখ্যা
মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা কমিটি গঠন:

- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহবায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।
- কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
• অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি)।
• মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি)।
• মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা)।
• ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি)।
• খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৫৩.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে চলাফেরার স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৩৬
  2. অনুচ্ছেদ ৩৭
  3. অনুচ্ছেদ ৩৮
  4. অনুচ্ছেদ ৩৯
ব্যাখ্যা
চলাফেরার স্বাধীনতা:
- জনস্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধ চলাফেরা, যে কোন স্থানে বসবাস ও বসতিস্থান এবং বাংলাদেশ ত্যাগ ও বাংলাদেশে পুনঃপ্রবেশ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। [অনুচ্ছেদ-৩৬]

সমাবেশের স্বাধীনতা:

জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তি সঙ্গত বাধা নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে ও নিরস্ত্র অবস্থায় সমবেত হওয়ার এবং জনসভা ও শোভাযাত্রায় যোগদান করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। [অনুচ্ছেদ-৩৭]

সংগঠনের স্বাধীনতা:
জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতার স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে সমিতি বা সংঘ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। [অনুচ্ছেদ-৩৮]

চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্স্বাধীনতা:
বাংলাদেশ সংবিধানে প্রত্যেক নাগরিককে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হয়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও অন্যান্য আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হয়। [অনুচ্ছেদ- ৩৯(১), ৩৯ ২ক), ৩৯ ২খ)]

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
বাংলাদেশের সংবিধান।
১১,৪৫৪.
'NAEM' প্রতিষ্ঠানটি কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. শিক্ষা
  2. ক্রীড়া
  3. জনসংখ্যা গবেষণা
  4. নদী বিষয়ক গবেষণা
ব্যাখ্যা
জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (NAEM):
- নায়েম বাংলাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্র এবং এটি শিক্ষার উৎকর্ষ সাধনে কাজ করে যাচ্ছে।
- NAEM- এর পূর্ণরুপ: National Academy for Educational Management.
- শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দে এডুকেশন এক্সটেনশন সেন্টার (EEC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- একটি বিবর্তন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে এটিকে জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ রূপান্তর করা হয়।
- নায়েমের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণকে জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা, ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের গুণাবলি দ্বারা সমৃদ্ধ করা।

উৎস: NAEMওয়েবসাইট।
১১,৪৫৫.
আকবরের শাসনামলে কোন সংগীতজ্ঞ সর্বশ্রেষ্ঠ বলে বিবেচিত ছিলো?
  1. বাইজু বাওরা
  2. আমির খসরু
  3. তানসেন
  4. বীরবল
ব্যাখ্যা
-  তানসেন ছিলেন সম্রাট আকবরের দরবারের সর্বশ্রেষ্ঠ সংগীতজ্ঞ ও অন্যতম নবরত্ন।

সম্রাট আকবর:

- তৃতীয় মোগল সম্রাট অবুল ফতেহ জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ আকবর।
- পিতা হুমায়ুনের মৃত্যুর পর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে বসেন আকবর।
- তখন তাঁর বয়স ছিল ১৩ বছর।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- আকবর সঙ্গীতপ্রিয় ও সঙ্গীতপিপাসু ছিলেন।
- আকবরের দরবারে জ্ঞানী, গুণী, বিদ্যান, বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কদর ও প্রাধান্য ছিল।
- তার দরবারে ভারতীয়, ইরানী তুরানী, কাশ্মীরি গায়ক ছিলেন।
- বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আবুল ফজলের তথ্য মতে, আকবরের দরবারে ৩৬ জন গায়ক ছিলেন।
- আইন-ই-আকবরী মুঘল সম্রাট আকবরের (১৫৫৬-১৬০৫) দরবারের ঐতিহাসিক আবুল ফজল কর্তৃক রচিত আকবরনামা গ্রন্থের তৃতীয় খন্ড।
- সম্রাট আকবরের শাসনামলে 'বাংলার বারো ভুঁইয়ার' অভ্যুত্থান ঘটে।
- ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞ তানসেন সম্রাট আকবরের দরবারের সবচেয়ে প্রতিভাবান বুদ্ধিজীবী এবং শিল্পী ছিলেন।

উল্লেখ্য,
- কৃষিকাজের সুবিধার্থে মুগল সম্রাট আকবর বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- এটি কার্যকর হয় সম্রাট আকবরের সিংহাসন-আরোহণের সময় থেকে।
- নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
- তাঁর শাসনামলে রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে মোগল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
- ১৫৮২ সালে আকবর ‘দীন-ই-ইলাহি’ ধর্মের প্রবর্তন করেন।
- খাজনা আদায়ের সুবিধার জন্য তাঁর আদেশে প্রাচীন বর্ষপঞ্জি সংস্কার করে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়।
- মোগল সম্রাট আকবর 'জিজিয়া কর' রহিত করেন।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৫৬.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিতব্য বায়োপিক এর পরিচালকের নাম -
  1. ক) শ্যাম বেনেগাল
  2. খ) নাসিরুদ্দিন
  3. গ) তানভীর মোকাম্মেল
  4. ঘ) এস এস রাজমৌলি
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিতব্য ‘বায়োপিক’ এর নাম - বঙ্গবন্ধু। পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। চিত্রনাট্য লিখবেন অতুল তিওয়ারি।
১১,৪৫৭.
'এলাহাবাদ চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৯৫ সালে
  2. খ) ১৮৬৫ সালে
  3. গ) ১৭৯৩ সালে
  4. ঘ) ১৭৬৫ সালে
ব্যাখ্যা
• এলাহাবাদ চুক্তি:
- ১২ আগস্ট, ১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে এলাহাবাদের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- সম্রাট আলমগীরের পুত্র মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম, বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভের হাতে একটি চুক্তিপত্র তুলে দিয়েছিলেন যা ইতিহাসে এলাহাবাদ চুক্তি হিসেবে পরিচিত।
- এলাহাবাদ চুক্তি অনুসারে (১৭৬৫) শাহ আলম বার্ষিক ২৬ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বা দিউয়ানি প্রদান করেন।
- কোম্পানি কোরা ও এলাহাবাদকে বাদশাহর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্মত হয়।    

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যাল।
১১,৪৫৮.
কোন বাংলাদেশি ইদান পুরস্কার লাভ করেন?
  1. ক) ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  2. খ) শেখ হাসিনা
  3. গ) ফজলে হাসান আবেদ
  4. ঘ) ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ইদান পুরস্কারকে শিক্ষাক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পুরস্কার বিবেচনা করা হয়। ২০১৯ সালে তৃতীয় ইদান পুরস্কার লাভ করেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ইদান পুরস্কারের জন্যে ফজলে হাসান আবেদ এর নাম ঘোষণা করা হয়। পুরস্কার গ্রহণের পূর্বেই ২০ ডিসেম্বর ২০১৯ তিনি মারা যান। ২৪ জানুয়ারি তার পরিবারের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ইদান পুরস্কার ২০১৬ সালে হংকং এর ড. চার্লস চেন ইদান প্রবর্তন করেন। (সূত্রঃ ইদান প্রাইজ ওয়েবসাইট এবং ডেইলি স্টার)
১১,৪৫৯.
১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কতটি লাভ করে?
  1. ১৬৭টি
  2. ১৬৯টি
  3. ২৮৮টি
  4. ৩১৩টি
ব্যাখ্যা
১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন:
- ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- আইনগত কাঠামো আদেশ অনুযায়ী জাতীয় পরিষদের আসন সংখ্যা ৩১৩ নির্ধারণ করা হয়।
- এর মধ্যে সাধারণ আসন সংখ্যা ৩০০ এবং নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ১৩।
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৮৮টি আসন লাভ করে।

অন্যদিকে,
- জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসন আওয়ামী লীগ লাভ করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্ৰ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৬০.
On which date the Ministry of Railways was established in Bangladesh?
  1. December 4, 2011
  2. January 31, 2011
  3. January 14, 2012
  4. Februry 01, 2012
  5. Februry 14, 2012
ব্যাখ্যা
রেলপথ মন্ত্রণালয়:
- দেশের গণপরিবহন মাধ্যমসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের রেলওয়ে সরকারের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রীয় পরিবহন খাত।
- এ দেশে প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা- জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে।
- ১৯৪৭ সালের পূর্বে অবিভক্ত ভারতবর্ষে রেলওয়ে বোর্ডের মাধ্যমে তৎকালীন রেলওয়ে পরিচালিত হতো।
- ১৯৭৩ সালে বোর্ডের কার্যক্রম বিলুপ্ত করে একে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাথে সংযুক্ত করা হয়।
- পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে রেলপথ বিভাগ গঠন করা হয়।
- রেলপথ বিভাগের সচিব ডিজি কাম সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

⇒ ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে অথরিটি (বিআরএ)গঠন করা হয়।
- ১৯৯৬-২০০৩ সময়কালে এডিবি এর অর্থায়নে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়।
- এরপর যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সড়ক ও রেলপথ বিভাগ হতে বাংলাদেশ রেলওয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হতো।
- গণমানুষের চাহিদা ও সময়ের দাবিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ২৮-০৪-২০১১ তারিখের ০৪.৪২৩.০২২.০২.০১.০০৩.২০১১.৪০ নং প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকার যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতায় রেলপথ বিভাগ নামে নতুন বিভাগ সৃষ্টি করে।
- পরবর্তীতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ০৪-১২-২০১১ তারিখের এস আরও নং ৩৬১ আইন/২০১১ অনুযায়ী রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।

উৎস: রেলপথ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১১,৪৬১.
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি প্রথমবার সরকার গঠন করে কতসালে?
  1. ১৯৭৯ সাল
  2. ১৯৭৮ সাল
  3. ১৯৭৭ সাল
  4. ১৯৮০ সাল
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি:
- ১৯৭৫-এর নভেম্বরের উন্মাতাল রাজপথে অভিষেক ঘটে তাঁর। তিনি স্বাধীনতার ঘোষক ও যোদ্ধা।
- রমনা বটমূলের খোলা চত্ত্বরে ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)’ নামে এই নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা - শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
-  ১৯৭৯ সালের ২৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
- স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এই প্রথম সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। 
- প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে

উৎস : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।

১১,৪৬২.
পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে কত সালে?
  1. ১৯৪৭ সালে
  2. ১৯৪৮ সালে
  3. ১৯৪৯ সালে
  4. ১৯৫০ সালে
ব্যাখ্যা
ভাষা আন্দোলন:

- ১৯৪৭ সাল থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষায় আরবি হরফ চালুর চেষ্টা করে।
- এরপর আরবিতে বাংলা শিক্ষা দেয়া শুরু হয়।
- চালু হয় এ ধরনের অনেকগুলো শিক্ষাকেন্দ্র।
- সেখানে বয়স্ক ছাত্রদের বিনামূল্যে আরবি হরফের বই দেওয়া হতে থাকে।
- পূর্ববাংলার জনগণ কিছুদিনের মধ্যেই পাকিস্তানিদের অসাধু উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার নিজস্ব সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। ফলে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যের বিরুদ্ধে প্রবল জনমত সৃষ্টি হতে থাকে।
- প্রথমে এগিয়ে আসে পূর্বপাকিস্তান মুসলিম লীগের 'ভাষা কমিটি'।
- এই কমিটির বক্তব্য ছিল, পূর্ববাংলার মানুষকে অশিক্ষিত বানানোর জন্যই শাসকদের এই ষড়যন্ত্র।
- প্রবল নিন্দা জানায় 'পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশ'। প্রতিবাদে ফেটে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৬৩.
দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিনিয়োগের জন্যে গঠিত তহবিল কোনটি?
  1. BIDF
  2. BDF
  3. BIDA
  4. BSEC
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বৈদেশিক ‍মুদ্রার রিজার্ভ দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের লক্ষ্যে সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়ন ফান্ড বা Bangladesh Infrastructure Development Fund (BIDF) গঠন করেছে।
- গত ১৫ মার্চ ২০২১ এই তহবিলের উদ্বোধন করা হয়।
- এই তহবিল থেকে সর্বপ্রথম পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে ৫,৪১৭ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করে
(তথ্যসূত্র: ডেইলি স্টার)
১১,৪৬৪.
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কততম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়?
  1. ৬২ তম
  2. ৬৩ তম
  3. ৬৪ তম
  4. ৬৫ তম
ব্যাখ্যা
২১ ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:

- প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়।
- ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর ৩০তম অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব পাস হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে পৃথিবীর ১৮৮টি দেশে এই দিনটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন শুরু হয়।
- ২০০৭ সালের ১৬ মে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন হয় যেখানে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের আহবান জানানো হয় এবং একই প্রস্তাবে ২০০৮ সালকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা বর্ষ ঘোষণা করা হয়।
- পরবর্তীতে ২০১০ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৫তম অধিবেশনে ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব পাস হয়।

তথ্যসূত্র - ইউনেস্কো ও জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১১,৪৬৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ১১৭
  2. অনুচ্ছেদ ১১৮
  3. অনুচ্ছেদ ১১৯
  4. অনুচ্ছেদ ১২০
ব্যাখ্যা

• নির্বাচন কমিশন:
- বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য একটি নির্বাচন কমিশন আছে।
- নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান।
- নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, সংসদ নির্বাচন ও অন্য নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠন কথা বলা হয়েছে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন নির্বাচন কমিশন সমন্বয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদেরকে রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগ দান করেন।
অন্যদিকে,
- ১১৭ নং অনুচ্ছেদ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কিত।
- ১১৯ নং অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব সম্পর্কিত।
- ১২০ নং অনুচ্ছেদ  নির্বাচন কমিশনের কর্মচারীগণ সম্পর্কিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান।

১১,৪৬৬.
বাংলাদেশের কোন রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের উদ্বোধন করেন?
  1. আব্দুস সাত্তার
  2. খন্দকার মোশতাক আহমেদ
  3. জিয়াউর রহমান
  4. উপরের কেউ নন
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার। 

জাতীয় সংসদ:
- ১৯৮২ সালের ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন উদ্বোধন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তার।
- এই ভবনটি শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত এবং এর নকশা করেছেন বিশ্বখ্যাত স্থপতি লুই আই কান।
- তবে লুই আই কানের মৃত্যুর পর, হেনরি এম প্যামব্যাম ও মাজহারুল ইসলাম এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন।
- এটি বাংলাদেশের আইন প্রণয়ন ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পরিচালনার প্রধান কেন্দ্র।

সূত্র - জাতীয় সংসদ ভবনের ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া ।

১১,৪৬৭.
সরকার দেশে অর্থনেতিক অঞ্চল নির্মাণের উদ্দেশ্যে নিচের কোন জেলাটিতে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে?
  1. টেকনাফ
  2. আনোয়ারা
  3. মীরসরাই
  4. মহেশখালী
ব্যাখ্যা
সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক: 
- সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে টেকনাফ উপজেলার সাগর তীরে অবস্থিত।
- বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সমুদ্র সৈকত, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ও অন্যান্য পর্যটন স্পটসমূহের জন্য কক্সবাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের চিত্ত বিনোদন ও নৈসর্গিক প্রাকৃতিক শোভা দেখার জন্য অন্যতম গন্তব্যস্থল।
- সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের অবস্থান খুবই চমৎকার জায়গায়।
- এর একদিকে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি, অন্যদিকে সবুজবেষ্টিত পাহাড়।
- বেজা জানিয়েছে, ৯৫০ একরের বেশি আয়তনের সাবরাং ট্যুরিজম পার্কটি কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
- কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের মাধ্যমে ট্যুরিজম পার্কের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।
- সাবরাং ট্যুরিজম পার্কের ভেতরে ১০০ একর জায়গায় বিদেশিদের জন্য একটি 'এক্সক্লুসিভ জোন' স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চফল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
- বিদেশি পাসপোর্ট দেখিয়ে প্রবেশ করতে হবে এ জোনে।
- অন্যদিকে টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ৩০০ একর জমিতে দেশের প্রথম দ্বীপভিত্তিক নাফ ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের কাজ করছে বেজা।

উৎস: THE BUSINESS STANDARD বাংলা (৩০ ডিসেম্বর, ২০২৩)
প্রথম আলো (১৭ জুলাই ২০২৪)
১১,৪৬৮.
২০২৩-২৪ অর্থবছরের ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কত শতাংশ?
  1. ৫.১০%
  2. ৬.১২%
  3. ৬.৬৬%
  4. ৭.২০%
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

- সদ্যবিদায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৪) মোট দেশজ উৎপাদন প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) হয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ।


বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, 
• বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের ত্রৈমাসিক জিডিপির হিসাব প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, যা অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ০১ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩য় কোয়ার্টারে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা অর্থবছরের ১ম ও ২য় কোয়ার্টারে ছিল ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ ও ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।

• ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৪৬ শতাংশ, যা অর্থবছরের ১ম ও ২য় কোয়ার্টারে ছিল ১ দশমিক ০৪ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৩য় কোয়ার্টারের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা অর্থবছরের ১ম ও ২য় কোয়ার্টারে ছিল  শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ ও ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

• পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থির মূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের সেবাখাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যা অর্থবছরের ১ম ও ২য় কোয়ার্টারে ছিল ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরের ৩য় কোয়ার্টারের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা অর্থবছরের ১ম ও ২য় কোয়ার্টারে ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ।

সূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো।
১১,৪৬৯.
কর্মসংস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় খাত কোনটি?
  1. কৃষি
  2. সেবা
  3. শিল্প 
  4. বাণিজ্য
ব্যাখ্যা

কর্মসংস্থানের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় খাত কৃষি।

খাত ভিত্তিক জিডিপি:

⇒ জিডিপিতে বিভিন্ন খাতের অবদান -
- শিল্প: ৩৭.৪৪%।
- সেবা: ৫১.৬২%।
- কৃষি: ১০.৯৪%।

⇒ খাত ভিত্তিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার (স্থির মূল্যে):
- সেবা: ৪.৫১%,
- শিল্প: ৪.৩৪%,
- কৃষি: ১.৭৯%। 

⇒ বিভিন্ন খাতে মোট শ্রমশক্তির হার:
- কৃষি: ৪৪.৬৭%, 
- সেবা: ৩৭.৯৬%।
- শিল্প: ১৭.৩৭%, 

এছাড়াও,
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা: ১৭২.২৮ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১৭১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক হার: ১.১২%।
- মাথাপিছু জাতীয় আয়: ২,৮২০ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি: ২,৬৭১ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয়: ৪৩,৯৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয়: ৬৪,৩৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

উৎস: বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৫।

১১,৪৭০.
ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন কে?
  1. দুদু মিয়া
  2. মীর নিসার আলী
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. মজনু শাহ
ব্যাখ্যা

ফরায়েজি আন্দোলন:
- ফরায়েজি আন্দোলন ছিল একটি ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলন।
- উনিশ শতকের প্রথমার্ধে হাজী শরীয়তুল্লাহ ফরায়েজী আন্দোলনের সূত্রপাত করেন।
- তিনি বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- হাজী শরীয়তুল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে হাজী শরীয়তুল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- হাজী শরীয়তুল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- দুদু মিয়া ফরায়েজি আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪৭১.
অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানের প্রতিষ্ঠিত চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর নাম কী?
  1. সিপিডি
  2. সুজন
  3. বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি
  4. বিকল্প উন্নয়ন সংস্থা
ব্যাখ্যা
CPD (সিপিডি):
- CPD-এর পূর্ণরূপ: Center for Policy Dialogue.
- সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) হলো বাংলাদেশের একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা যা সরকারি বিভিন্ন বাণিজ্যিক পদক্ষেপের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কাজ করে।
- এটি ১৯৯৩ সালে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সদর দপ্তর: ধানমন্ডি, ঢাকা।

⇒ সিপিডির লক্ষ্য বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের জন্য একটি চাহিদা-চালিত এবং জবাবদিহিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া গড়ে তোলা, তথ্যবহুল বিতর্ক উদ্দীপিত করা, জ্ঞান তৈরি করা এবং গবেষণা, সংলাপ, প্রচার এবং সমর্থনের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণকে প্রভাবিত করা।

অন্যদিকে,
- সুজনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

উৎস: i) সিপিডি ওয়েবসাইট।
ii) প্রথম আলো।
১১,৪৭২.
মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কে?
  1. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
  2. তাজউদ্দিন আহমেদ
  3. এ কে খন্দকার
  4. আতাউল গণি ওসমানি
ব্যাখ্যা
জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি:

- জেনারেল মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানি বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী এবং মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
- ১৯১৮ সালের ১ নভেম্বর সুনামগঞ্জে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি হাইস্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৩৯ সালের জুলাই মাসে দেরাদুনে ব্রিটিশ ভারতীয় সামরিক একাডেমী থেকে সামরিক কোর্স সম্পন্ন করে রাজকীয় বাহিনীতে কমিশন্ড অফিসার হিসেবে যোগ দেন (অক্টোবর ১৯৪০)।
- ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি ক্যাপ্টেন পদে উন্নীত হন।
- ১৯৪৭ সালে সেনাবাহিনীর সিনিয়র অফিসার কোর্স সম্পন্ন করার পর ওসমানী লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ভারত বিভাগের পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং পরদিনই লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে উন্নীত হন।
- আতাউল গণি ওসমানী ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। সত্তরের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
- ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হলে ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত হন।
- ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৭৩.
বাহাদুর শাহ জাফরকে কোথায় নির্বাসিত করা হয়?
  1. আন্দামানে
  2. আফগানিস্তানে
  3. রেঙ্গুনে
  4. আফ্রিকায়
ব্যাখ্যা
- ইংরেজরা সিপাহী বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে বার্মায় নির্বাসিত করে।

বাহাদুর শাহ:
- দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ছিলেন সর্বশেষ মুঘল সম্রাট।
- ১৮৩৭ সালে তিনি দিল্লির সিংহাসনে আরোহন করেন।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়। 
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয়ার কারণে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরকে রেঙ্গুনে (বার্মা) নির্বাসিত করেন।
- বাহাদুর শাহের নির্বাসনের মধ্য দিয়ে ভারতে মোগল শাসনের চূড়ান্ত অবসান ঘটে।

সূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৭৪.
নিচের কোন শাসক 'নৃপতি তিলক' উপাধি লাভ করেন?
  1. আলাউদ্দীন হোসেন শাহ
  2. শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ
  3. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  4. নাসিরউদ্দীন নুসরত শাহ
ব্যাখ্যা

আলাউদ্দীন হোসেন শাহ:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে আলাউদ্দীন হোসেন শাহ এক উজ্জল অধ্যায়ের সূচনা করেন।
- তিনি সামান্য অবস্থা থেকে নিজ যোগ্যতায় বাংলাদেশে হাবশি শাসনের অবসান ঘটিয়ে হোসেন শাহী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি আরবদেশীয় ও সৈয়দ বংশের লোক ছিলেন।
- ১৪৯৩ সালে হোসেন শাহ 'আলাউদ্দীন হোসেন শাহ' উপাধি গ্রহণ করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- একারণে আধুনিক ঐতিহাসিকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহকে মধ্যযুগের 'গোপাল' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- সুলতান আলাউদ্দীন হোসেন শাহ প্রজাদের কল্যাণের জন্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করতেন।
- হিন্দু লেখকগণ আলাউদ্দীন হোসেন শাহের সুশাসনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘নৃপতি তিলক', 'জগৎভূষণ', 'কৃষ্ণাবতার' প্রভৃতি উপাধিতে ভূষিত করেন।
- আলাউদ্দীন হোসেন শাহ একজন নিষ্ঠাবান মুসলমান ছিলেন।
- তিনি বহু মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খানকাহ নির্মাণ করেন।
- হোসেন শাহ বাংলা সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষকতা করে বাংলা ভাষাকে রাজদরবারে স্থান দেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় বহু আরবি, ফার্সি ও সংস্কৃত গ্রন্থ বাংলা ভাষায় অনুবাদ করা হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,৪৭৫.
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কোথায় নির্মিত হয়?
  1. বরগুনা, বরগুনা জেলা
  2. রামপাল, বাগেরহাট
  3. বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
  4. সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র,
- এটি ২০০৬ সালে স্থাপিত হয়।
- কেন্দ্রটি কয়লা ভিত্তিক এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে সংগৃহীত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

উল্লেখ্য, 
- এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। 
- কেন্দ্রটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB)।

সূত্র: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১১,৪৭৬.
বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর এর পদবি কী ছিলো?
  1. ক) ফ্লাইট লেঃ
  2. খ) সিপাহী
  3. গ) ল্যান্স নায়েক
  4. ঘ) ক্যাপ্টেন
ব্যাখ্যা
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ গণ-
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমান,
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল,
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর,
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান,
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ,
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন,
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,৪৭৭.
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ কোন নদীর উপর অবস্থিত?
  1. ক) পদ্মা
  2. খ) মেঘনা
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) তিস্তা
ব্যাখ্যা
 হার্ডিঞ্জ ব্রিজ:
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজ বাংলাদেশের পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশি থেকে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলা পর্যন্ত যুক্তকারী একটি রেলসেতু।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ রেলসেতু হিসেবে পরিচিত।
- পাবনা জেলার পাকশি রেলস্টেশনের দক্ষিণে পদ্মা নদীর উপর এই সেতুটি অবস্থিত।
- হার্ডিঞ্জ ব্রীজটি ১৯১২ সালে পদ্মা নদীর ওপর স্থাপন করা হয়। 
- তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নাম অনুসারে এই সেতুর নামকরণ করা হয়।
- হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দৈর্ঘ্য ১,৭৯৮.৩২ মিটার বা ৫৮৯৪ফুট বা ১.৮ কিমি।
- এর উপর দুটি ব্রড-গেজ রেললাইন রয়েছে। 

উৎস: হার্ডিঞ্জ-ব্রীজ, kushtia.gov.bd.
১১,৪৭৮.
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর বহির্বিশ্বে প্রথম তুলে ধরেন কে?
  1. ক) মার্ক টালি
  2. খ) সাইমন ড্রিং
  3. গ) অ্যান্থনি মাসকারেনহাস
  4. ঘ) ডেভিট ফ্রস্ট
ব্যাখ্যা
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র সময় ব্রিটেনের ‘ডেইলি টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকা ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে গোপনে অবস্থান করে পাকবাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন।
পরবর্তীতে ৩০শে মার্চ ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় তিনি ‘ট্যাংকস ক্র্যাশ রিভোল্ড ইন পাকিস্তান’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে সর্বপ্রথম পাকবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের খবর বহির্বিশ্বে প্রচার করেন।
এই ঘটনার পর তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে ১৬ ডিসেম্বর মিত্রবাহিনীর ট্যাংকে চড়ে তিনি ঢাকায় প্রবেশ করেন।
(সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো)
১১,৪৭৯.
মুন্ডা বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন কে?
  1. ক) কমরেড মনিসিংহ
  2. খ) কানু মুন্ডা
  3. গ) বিরসা মুন্ডা
  4. ঘ) ভবানী পাঠক
ব্যাখ্যা
১৮৯৯-১৯০০ সালে ভারতের রাঁচিতে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ও জমিদারদের বিরুদ্ধে প্রবল মুন্ডা বিদ্রোহ বা উলগুলান সংগঠিত হয়। এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন বিরসা মুন্ডা।
বিরসাকে মুন্ডারা ভগবান হিসেবে গণ্য করত। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ বাহিনীর নিকট ‍মুন্ডারা পরাজিত হলে বিরসা মুন্ডাকে গ্রেফতার করা হয় এবং রাঁচি কারাগারে তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
(সূত্রঃ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : সপ্তম শ্রেণী)
১১,৪৮০.
How many Islamic Shariah-based banks are there in the country?
  1. ক) 11
  2. খ) 14
  3. গ) 12
  4. ঘ) 10
ব্যাখ্যা
• দেশে বর্তমানে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক রয়েছে - ১০টি। এগুলো হলো - 
• ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, সোশ্যাল ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী, আল-আরাফাহ্, এক্সিম, শাহজালাল, স্ট্যান্ডার্ড ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক।

তথ্যসূত্র: Live MCQ সাম্প্রতিক সমাচার জানুয়ারি, ২০২৩
১১,৪৮১.
According to Economic Survey-2022, how many countries does Bangladesh export medicines and raw materials of medicines?
  1. ক) 105
  2. খ) 117
  3. গ) 145
  4. ঘ) 157
ব্যাখ্যা
ঔষধ শিল্প
- বর্তমানে দেশে চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ঔষধ দেশে উৎপাদিত হয়।
- বর্তমানে শুধুমাত্র কিছু হাইটেক প্রোডাক্ট ব্লোড ইত্যাদি) আমদানি করা হয়।
- বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ঔষধ আমদানিকারক দেশ হতে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে এবং সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মানসম্পন্ন ঔষধ সুনাম অর্জন করেছে।
- বর্তমানে বাংলাদেশের ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন প্রকারের ঔষধ ও ঔষধের কাঁচামাল উন্নত বিশ্বের ইউরোপ ও আমেরিকাসহ ১৫৭টি দেশে রপ্তানি করছে।
- ঔষধ রপ্তানির পরিমাণ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। 


 উৎস: বাংলাদেশ-অর্থনৈতিক-সমীক্ষা-২০২২, portal.gov.bd.
১১,৪৮২.
'রাখাইন' ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর বসবাস বাংলাদেশের কোন জেলায়?
  1. ক) রাঙামাটি
  2. খ) পটুয়াখালি
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
- রাখাইন  বাংলাদেশে বসবাসরত একটি আদিবাসী জনগোষ্ঠী যারা আঠারো শতকের শেষে আরাকান থেকে বাংলাদেশে এসে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে বসতি স্থাপন করে।
- রাখাইনদের হাজার বছরের পুরানো এক সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে।
- রাখাইনরা কৃষি ও মৎস্য শিকার ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্য, নৌকা নির্মাণ, কারিগর, ব্যবসা, বৃক্ষ কর্তন, তাঁত বুনন ইত্যাদির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে। তাছাড়া পেং থিং (স্বর্ণকার), পেং ফে (কামার), পেং পু (কাঠের নক্সাকার), পেং চোয়ে (রঙের নক্শাকার), পেং রে (রাজমিস্ত্রি), পেং সী (চিত্রকর), পেং বো-য়ে (গোলাকৃতি কাঠের নক্সাকার), পেং থে ম (ধাতব মিস্ত্রি) ইত্যাদি পেশায়ও তারা জড়িত।
- সামাজিক অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে:
ছামাদা (বিবাহ রীতি), সাংগ্রেং (জলকেলি উৎসব), নাই চাই-কূ (বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ উৎসব), পাইলং পোয়ে (নৌকা বাইচ ও মেলা), চিয়াং-পোয়ে (বলি খেলা ও মেলা), রাঠাহ্ পোয়ে (রথ মেলা), চা-ছো-দ পোয়ে (বয়ান মেলা), নাহ্ থো মাংগালা (কন্যা ও পুত্র শিশুর কর্ণ ছেদন অনুষ্ঠান), লো থোয়ে মাংগালা (চাষ উৎসব), কাও-ছাই-ছাহ্ পোয়ে (নবান্ন উৎসব), মাহ-ইং (ফানুস উড্ডয়ন উৎসব), বর্ষাবরণ উৎসব ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৮৩.
‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’-এ কোন শিল্পী অংশগ্রহণ করেননি?
  1. জন লেনন
  2. লিওন রাসেল
  3. বিলি প্রেস্টন
  4. রিঙ্গো স্টার
ব্যাখ্যা
কনসার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এমন একটি আয়োজনে যোগ দিয়েছিলেন।

⇒ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বখ্যাত সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্কর।
- বাংলাদেশের জনগণের সাহায্যার্থে কিছু করার জন্য তিনি প্রথম যোগাযোগ করেন জনপ্রিয় বিটলসের অন্যতম সদস্য জর্জ হ্যারিসনের সঙ্গে।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।
- ১৯৭১ সালের ১লা অগাস্টের সেই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন পপ সঙ্গীতের তৎকালীন সুপারস্টার বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসন এবং এরিক ক্ল্যাপটনের মত তারকারা।

উল্লেখ্য,
- ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ শুরু হয়েছিল পণ্ডিত রবিশঙ্করের একটি সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়ে।
- এ কনসার্টের জন্য তিনি তৈরি করেছিলেন ‘বাংলাদেশ ধুন’ বলে নতুন একটি সুর।
- আর তাঁর সঙ্গে সরোদে যুগলবন্দী ছিলেন ওস্তাদ আলী আকবর খান।
- তবলায় সহযোগিতা করেছিলেন বিখ্যাত আল্লারাখা।
- তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। সেদিন ম্যাডিসন স্কয়ারের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিবাদী গানের রাজা বব ডিলান।
- সেদিন বব ডিলানের সঙ্গে গিটার বাজিয়েছিলেন জর্জ হ্যারিসন, ব্যাস লিওন রাসেল ও ট্যাম্বুরিন রিঙ্গো স্টার।
- সে অনুষ্ঠানে বিটলসের অন্যতম সদস্য রিঙ্গো স্টার, লিওন রাসেল, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি প্রেস্টন, ডন প্রেস্টন প্রমুখ গান গেয়েছেন, গিটার বাজিয়েছেন।

এছাড়াও,
- জন লেনন শেষ পর্যন্ত কনসার্ট ফর বাংলাদেশে অংশ নেননি।

উৎস: i) প্রথম আলো।
ii) BBC।
১১,৪৮৪.
ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে কবে? 
  1. ২০০০ সালে
  2. ২০১৫ সালে
  3. ১৯৯৯ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

ইউনেস্কো ও বাংলা ভাষা: 
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে সারা বিশ্বে এ দিবস পালন শুরু হয়।
- বাংলা ভাষাকে বিশ্বের মাঝে যথাযথভাবে তুলে ধরার জন্য ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সরকার ইউনেস্কোকে 'একুশে পদক' প্রদান করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান সরকার বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ায় এবং পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকার ছাত্র ও সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসে।
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস থেকে ১৪৪ ধারা ভেঙে ছাত্র-ছাত্রীরা মিছিল বের করে। 
- মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ আরও কয়েকজন মাটির বীর সন্তান।
- মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য ভাষা শহীদদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগকে স্মরণ করে জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি 'অমর একুশে', ভাষা শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করে।

⇒ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার বিষয়ে প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন কানাডাপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এবং কানাডার বহুভাষিক ও বহুজাতিক সংগঠন ‘মাতৃভাষা প্রেমিক গোষ্ঠী’। তৎকালীন সরকার ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৯ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল জনসভায় ঘোষণা করেন যে, পৃথিবীর বিকাশমান ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলির মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় গবেষণার জন্য ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের (ইউনেসকো) ১৬০তম অধিবেশনে বাংলাদেশসহ ২৭টি দেশের সমর্থন নিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি এই বিশেষ দিবসটিকে বিশ্বের ১৮৮টি দেশ প্রথম বারের মতো ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করে। 
- ইউনেসকোর পর জাতিসংঘও ৫ ডিসেম্বর ২০০৮ তারিখে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎস: i) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১১,৪৮৫.
বাংলাদেশের অতি পরিচিত খাদ্য গোলআলু। এ খাদ্য আমাদের দেশে আনা হয়েছিল-
  1. ইউরোপের হল্যান্ড থেকে
  2. এশিয়ার থাইল্যান্ড
  3. আফ্রিকার মিশর থেকে
  4. দক্ষিণ আমেরিকার পেরু-চিলি থেকে
ব্যাখ্যা
• ব্রিটিশ গভর্নর ওয়ারেন হেস্টিংস-এর মাধ্যমে উপমহাদেশে হল্যান্ড থেকে আলু চাষের বিস্তার হয়।

• সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষ তথা বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস।
তিনি ১৭৭২ থেকে ১৭৮৫ সাল পর্যন্ত টানা ১৩ বছর দায়িত্বে থাকাকালে নিজ উদ্যোগে আলুর চাষ করেছিলেন।

• ১৮৪৭ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত ‘দ্য গার্ডেনিং মান্থলি’ ম্যাগাজিনের একটি সংখ্যায় ভারতে আলু চাষ সম্পর্কে প্রথম তথ্য পাওয়া যায়।

উচ্চফলনশীল জনপ্রিয় জাতসমূহের মধ্যে নিচের জাতগুলি উল্লেখযোগ্য-
(ক) কার্ডিনাল- আয়তাকার, লালচে কন্দ, অগভীর চোখ, চামড়া মসৃণ। জাতটি হল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে। ফলনক্ষমতা হেক্টর প্রতি ২০-৩০ মে টন।
(খ) ডায়ামেন্ট- হল্যান্ডের অন্য একটি জাত, ডিম্বাকার থেকে আয়তাকার, ফ্যাকাসে হলুদ কন্দ, চামড়া মৃসণ ও চোখ অগভীর। এটি মোটামুটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বিবিসি বাংলা পত্রিকা রিপোর্ট।
১১,৪৮৬.
স্থানীয় প্রশাসনকে কয় স্তরে ভাগ করা হয়েছে?
ব্যাখ্যা
স্থানীয় প্রশাসন:
- সরকারের প্রবর্তিত নীতিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পর্যায়ে নিযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি কর্তৃক এলাকাভিত্তিক শাসন ব্যবস্থাকে স্থানীয় প্রশাসন বলে।
- স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশে এবং প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীনে দায়িত্ব পালন করে।
- স্থানীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ঠ যারা, তারা সকলেই সরকারী কর্মচারী।
- স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের নীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়।
- নাগরিকের প্রতি বাংলাদেশ সরকারের দায়-দায়িত্বপালনের জন্য এবং স্থানীয় প্রশাসনিক কাজ যুগোপযোগি করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। এগুলি হল-
• বিভাগ।
• জেলা।
• উপজেলা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৮৭.
দশম পণ্য হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে -
  1. ক) ঢাকাই মসলিন
  2. খ) ফজলি আম
  3. গ) বাগদা চিংড়ি
  4. ঘ) রংপুরের শতরঞ্জি
ব্যাখ্যা
• জিআই (GI):
- জিআই (GI) এর পূর্ণরুপ হলো (Geographical indication) ভৌগলিক নির্দেশক।
- WIPO (world intellectual property organization) হলো  জিআই পণ্যের স্বীকৃতি দানকারী প্রতিষ্ঠান।
- দশম পণ্য হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে বাগদা চিংড়ি
- এর ফলে অন্য কোনো দেশ বাগদা চিংড়িকে আর তাদের পণ্য বলে পরিচয় দিতে পারবে না।
- সম্প্রতি পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর এ স্বীকৃতি দিয়েছে।
- বিশ্ববাজারে বাগদা চিংড়িকে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পণ্য হিসেবে তুলে ধরতে ২০১৯ সালের মে মাসে মৎস্য অধিদফতর জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে।
- নিয়ম অনুযায়ী জার্নালে প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে কেউ আপত্তি না করলে সেই পণ্যের জিআই সনদ পেতে আর কোনো বাধা থাকে না।
- গত ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়।

- ভৌগোলিক নির্দেশক (Geographical indication) হচ্ছে একটি প্রতীক বা চিহ্ন, যা পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ এবং প্রচার করে।
- কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটাকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- দেশের প্রথম ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (জিআই) হিসেবে নিবন্ধন পায় জামদানি।

- বাংলাদেশের GI পণ্য সমূহ: ১. জামদানি ২. ইলিশ ৩. চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম ৪. বিজয়পুরের সাদা মাটি ৫. দিনাজপুরের কাটারীভোগ ৬. কালিজিরা ৭. রংপুরের শতরঞ্জি ৮. রাজশাহী সিল্ক ৯. ঢাকাই মসলিন ১০. বাগদা চিংড়ি
১১,৪৮৮.
সরকারের পতাকা বিধি ১৯৭২ অনুসারে, বাংলাদেশের পতাকার আকার কত?
  1. ৮:৪
  2. ১০:৬
  3. ৬:৩
  4. ১০:৫
ব্যাখ্যা
জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য সংক্রান্ত
- সরকারের পতাকা বিধি ১৯৭২ অনুসারে বাংলাদেশের পতাকার আকার হচ্ছে ১০:৬।
- এক্ষেত্রে দৈর্ঘ্য ১০ ফুট হলে প্রস্থ হবে ৬ ফুট।
- পতাকা বিধিতে ভবনে ব্যবহারের জন্য তিনটি সুনির্দিষ্ট সাইজ উল্লেখ করা আছে। তা হলো–
(ক) ১০ ফুট  বাই ৬ ফুট
(খ) ৫ ফুট বাই ৩ ফুট এবং
(গ) ২.৫ ফুট বা ১.৫ ফুট।
- অপরদিকে গাড়িতে ব্যবহারের জন্য দুটি আয়তনের পতাকার কথা বলা আছে তা হলো– ১৫ ইঞ্চি বাই ১০ ইঞ্চি এবং ১০ ইঞ্চি বাই ৬ ইঞ্চি।
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনের বর্তমান রূপটির রূপকার শিল্পী কামরুল হাসান।
- বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি রয়েছে তা গৃহীত হয় ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি।
- ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি সরকারিভাবে গৃহীত হয়।
- মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইন হিসেবে বিবেচ্য করা হয় শিব নারায়ণ দাসকে।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৮৯.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করা হয় -
  1. ১৯৫৪ সালের ৪ মে
  2. ১৯৫৪ সালের ৪ এপ্রিল
  3. ১৯৫৪ সালের ৩০ মে
  4. ১৯৫৪ সালের ৩০ এপ্রিল
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।

• যুক্তফ্রন্ট:
- ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টের মূল লক্ষ্য ছিল - প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি। 
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।ত

উৎস:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড।
১১,৪৯০.
১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল কয় জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়?
  1. ৩ জন
  2. ৪ জন
  3. ১০ জন
  4. ১১ জন
ব্যাখ্যা
- ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
- ১০ই এপ্রিল সরকার ৪টি সামরিক জোনে বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করে
- ১১ই এপ্রিল তা পুনর্গঠিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
- এ ছাড়া বেশ কিছু সাব-সেক্টর এবং জেড, কে এবং এস নামে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১১,৪৯১.
ভারতের কোন বাণিজ্যিক ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে?
  1. ক) সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
  2. খ) রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
  3. গ) স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
  4. ঘ) ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বর্তমানে বিদেশি তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা ৯টি। এগুলো হলো:
- স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড
- হাবিব ব্যাংক লিমিটেড
- স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
- কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন
- ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান
- সিটি ব্যাংক এনএ
- উরি ব্যাংক
- হংকং সাংহাই ব্যাংকিং কর্পোরেশন (এইচএসবিসি) লিমিটেড এবং
- ব্যাংক আল-ফালাহ লিমিটেড।
এদের মধ্যে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক লিমিটেড সবচেয়ে পুরনো এবং বৃহৎ বিদেশি ব্যাংক।

(সূত্রঃ বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট)
১১,৪৯২.
বঙ্গবন্ধুর প্রথম চীন সফরের উদ্দেশ্য ছিলো-
  1. ক) চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে যোগদান
  2. খ) শান্তি সম্মেলনে যোগদান
  3. গ) সরকারি সফর
  4. ঘ) চোখে অস্ত্রোপচার
ব্যাখ্যা
- ১৯৫২ সালের ২-১২ অক্টোবর চীনের পিকিংয়ে ‘পিস কনফারেন্স অব দ্য এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওন্স’ অনুষ্ঠিত হয়।
- এই শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধু ও তার অপর চারজন সহযাত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।
- বঙ্গবন্ধুর প্রথম চীন সফরের অভিজ্ঞাতা তিনি ১৯৫৪ সালে কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় ডায়েরিতে লিখে যান যা ‘আমার দেখা নয়াচীন’ নামে বই আকারে প্রকাশ করা হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৯৫৭ সালে পাকিস্তান সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে দ্বিতীয়বার চীন সফরে যান।
(তথ্যসূত্র: আমার দেখা নয়াচীন এবং প্রথম আলো)
১১,৪৯৩.
হাজী শরীয়তুল্লাহ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. ফরিদপুর
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা
হাজী শরীয়তুল্লাহ:
- হাজী শরীয়তুল্লাহ ১৭৮১ সালে ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার অন্তর্গত শামাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পরবর্তীতে তাঁর নামানুসারে শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে।
- মাত্র আট বছর বয়সে পিতাকে হারানোর পর চাচার তত্ত্বাবধানে প্রতিপালিত হন শরীয়তুল্লাহ্।
- কলকাতা ও হুগলীতে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর তিনি আঠারো বছর বয়সে মক্কা গমন করেন।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,৪৯৪.
'খেলাঘর' আসলে কী?
  1. শিশু সংগঠন
  2. সাংস্কৃতিক সংগঠন
  3. ক্রীড়া সংগঠন
  4. সামাজিক সংগঠন
ব্যাখ্যা
খেলাঘর:
- খেলাঘর একটি শিশু সংগঠন।
- শিশুকিশোরদের সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্য খেলাঘর কাজ করে।
- অসাম্প্রদায়িক, বিজ্ঞানমনস্ক ও মানবিকবোধসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলা সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।
- খেলাঘরের জন্ম ১৯৫২ সালের ২ মে।
- এই দিন দৈনিক সংবাদ-এর সাপ্তাহিক শিশু সাহিত্যপাতা খেলাঘর আত্মপ্রকাশ করে।
- কবি হাবিবুর রহমান ছিলেন খেলাঘরের ‘ভাইয়া’।
- পুরনো ঢাকার জেলখানা রোডে দীন মোহাম্মদ নবীর নেতৃত্বে প্রথম শাখা আসর গঠিত হয় ‘আমাদের খেলাঘর’ নামে।
- বর্তমানে সারাদেশে খেলাঘরের পাঁচশতাধিক শাখা আসর রয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৯৫.
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যরা কীসের ভিত্তিতে সংগঠিত হয়?
  1. জাতীয় স্বার্থ রক্ষা
  2. জ্ঞান ও মেধা
  3. সমজাতীয় মনোভাব ও স্বার্থ
  4. মুক্ত বুদ্ধির চর্চা
ব্যাখ্যা
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হলো নির্দলীয়, অরাজনৈতিক ও বেসরকারি ব্যক্তিবর্গের সমষ্টি। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সদস্যগণ সমজাতীয় মনোভাব এবং স্বার্থের দ্বারা পরস্পরের সাথে আবদ্ধ থাকে।
চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর মূখ্য উদ্দেশ্য হলো সরকারি নীতি ও সিদ্ধান্তকে নিজেদের অনুকূলে প্রভাবিত করার মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এদের কোন বৃহৎ বা জাতীয় লক্ষ্য থাকে না।

(তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : প্রথমপত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি : মো. মোজাম্মেল হক)
১১,৪৯৬.
সরকারি যাবতীয় সিদ্ধান্ত সর্বপ্রথম কোথায় গৃহীত হয়?
  1. আইনসভায়
  2. সুপ্রিমকোর্টে
  3. সচিবালয়ে
  4. সরকারি কর্মকমিশনে
ব্যাখ্যা

• কেন্দ্রীয় প্রশাসন:
- সেক্রেটারিয়েট বা সচিবালয় বাংলাদেশ প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থিত যা শাসনব্যবস্থার স্নায়ুকেন্দ্র স্বরূপ।
- সরকারি যাবতীয় সিদ্ধান্ত সর্বপ্রথম সচিবালয়ে গৃহীত হয়
- সাধারণত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও তার বিভাগসমূহের অফিসগুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলে।
- প্রধানমন্ত্রীর পছন্দানুযায়ী প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে একজন মন্ত্রী নিযুক্ত হন।
- মন্ত্রী হলেন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ও মন্ত্রণালয়ের প্রধান।
- মন্ত্রণালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাতথা প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তাহিসেবে দায়িত্ব পালন করেন একজন সচিব।
- সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে সেবা, যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ এবংনির্দিষ্ট পদসোপানের মধ্য দিয়ে তিনি সচিব পদে উন্নীত হন।
- মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় কাজের ভার সচিবের ওপর ন্যস্ত থাকে।
- তিনি মন্ত্রীকে যাবতীয় কাজে সহায়তা করেন। মন্ত্রণালয় পরিচালনার ব্যাপারে মন্ত্রী সচিবের নিকট থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরামর্শ গ্রহণ করেন।
-  সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয়ে সচিব মন্ত্রীর সহচর হিসেবে কাজ করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১,৪৯৭.
হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র কোনটি?
  1. নয় নম্বর বিপদ সংকেত
  2. ঘেটুপুত্র কমলা
  3. আমার আছে জল
  4. শ্রাবণ মেঘের দিন
ব্যাখ্যা
হুমায়ূন আহমেদের চলচ্চিত্র:
 
- হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে।
- তিনি কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম ছবি আগুনের পরশমণি (১৯৯৫) এবং শেষ ছবি ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২)।
- তাঁর অন্যন্যা চলচ্চিত্র গুলো হলো,
- শ্রাবণ মেঘের দিন (২০০০), দুই দুয়ারী (২০০১), চন্দ্রকথা (২০০৩), নয় নম্বর বিপদ সংকেত (২০০৭) এবং আমার আছে জল (২০০৮)।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১১,৪৯৮.
ইউরোপের কোন শহরে ইউক্রেন ইস্যুতে চলমান উত্তেজনা হ্রাসের ব্যাপারে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া?
  1. ক) ভিয়েনা
  2. খ) জেনেভা
  3. গ) প্যারিস
  4. ঘ) ব্রাসেলস
ব্যাখ্যা
২১ জানুয়ারি, ২০২২: সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় কূটনৈতিক পর্যায়ের বৈঠকে ইউক্রেন ইস্যুতে চলমান উত্তেজনা হ্রাসের ব্যাপারে সম্মত হয় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। 
এমন সময়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যখন ইউক্রেন সীমান্ত সংলগ্ন রুশ ভূখণ্ডে সামরিক শক্তি বাড়িয়ে ইউক্রেনে হামলার আশঙ্কা জোরদার করছে রাশিয়া। এই ইস্যুতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে সম্প্রতি অস্থিরতা তৈরি হয়।
উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট। 
১১,৪৯৯.
কার উদ্যোগে তমুদ্দিন মজলিস প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ক) অধ্যাপক রমেশচন্দ্র সেন
  2. খ) আব্দুর রাজ্জাক
  3. গ) সৈয়দ আমির আলি
  4. ঘ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)। শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর।

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।
১১,৫০০.
১১ দফা কর্মসূচি কারা ঘোষনা করে?
  1. ছাত্র ইউনিয়ন
  2. ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ
  3. বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
  4. ছাত্র ফেডারেশন
ব্যাখ্যা
১১ দফা কর্মসূচি:

- ১১ দফা কর্মসূচি ঘোষনা করে ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ।
- ১৯৬৮ সালের শেষের দিকে মওলানা ভাসানী বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে 'ঘেরাও কর্মসূচি' নামে নতুন এক আন্দোলনের ডাক দেন।
- এর সঙ্গে যুক্ত হয় ডাকসু ও চারটি ছাত্র সংগঠনের সাত জন নেতা প্রণিত ১১ দফা কর্মসূচি।
- ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্র নেতৃবৃন্দ ১১ দফা ঘোষণা করেন।
- মূলত ৬ দফার বিস্তারিত রূপই ১১ দফা।
- কেন্দ্রীয় শাসন থেকে বাঙালিদের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে স্বাধিকার অর্জনই ছিল ১১ দফা দাবির মূল বক্তব্য।
- এগার দফার আন্দোলনই ঊনসত্তরের গণ আন্দোলনে পর্যবসিত হয়।
- ১১ দফার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফাও অন্তর্ভুক্ত করে আরো ৫টি দাবি সন্নিবেশিত করা হয়।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগারো দফা দাবির মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়দফা অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এগারো দফায় বাঙালি মধ্যবিত্ত ও কৃষক-শ্রমিকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
- এগারো দফার আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানে ব্যাপক সমর্থন লাভ করে এবং আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব ছাত্র-নেতৃবৃন্দের হাতে চলে আসে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।