বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

মোট প্রশ্ন৩০,৮৩২এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশ বিষয়াবলি

PrepBank · পাতা ১১১ / ৩০৬ · ১১,০০১১১,১০০ / ৩০,৮৩২

১১,০০১.
বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের নাম কী?
  1. ক) বঙ্গবন্ধু
  2. খ) মহানায়ক
  3. গ) রাজনীতির কবি
  4. ঘ) আমি মুজিব বলছি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও ভারত সরকার যৌথ প্রযোজনায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিক উপলক্ষ্যে তার জীবনী নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে।
গত ২১ জানুয়ারি ২০২১ ভারতের মুম্বাইয়ে চলচ্চিত্রটির শুটিং শুরু হয়।
- চলচ্চিত্রটির পরিচালক শ্যাম বেনেগাল।
- চিত্রনাট্য রচয়িতা শ্যামা জাইদি।
অভিনয় শিল্পীবৃন্দ:
- বঙ্গবন্ধু চরিত্রে : আরেফিন শুভ
- বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব চরিত্রে : তিশা (বড়বেলা) এবং দিঘি (ছোটবেলা)
- বঙ্গবন্ধুর মায়ের চরিত্রে : দিলারা জামান
- বঙ্গবন্ধুর বাবার চরিত্রে : চঞ্চল চৌধুরী
- শেখ হাসিনা চরিত্রে : নুসরাত ফারিয়া (ছোটবেলা) এবং জান্নাতুল সুমাইয়া (বড়বেলা)
- আইয়ুব খান চরিত্রে : মিশা সওদাগর।
(সুত্র: বিবিসি বাংলা, ঢাকা ট্রিবিউন এবং লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার)
১১,০০২.
অপারেশন জ্যাকপট কী?
  1. পাকিস্তানি বাহিনীর বিশেষ অভিযান
  2. মুক্তিযুদ্ধে-নৌ-কমান্ডোদের পরিচালিত অভিযান
  3. ভারতীয় বাহিনীর বিশেষ অভিযান
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

অপারেশন জ্যাকপট:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-কমান্ডো বাহিনীর পরিচালিত প্রথম অভিযান ছিল 'অপারেশন জ্যাকপট'।
- ১৯৭১ সালের ১৬ই অগাস্ট প্রথম প্রহরে দেশের দুইটি সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম ও মোংলা, এবং দুইটি নদী বন্দর  চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জে একযোগে একই নামে পরিচালিত অপারেশনগুলো চালানো হয়েছিল।
- অপারেশন জ্যাকপট ছিল একটি আত্মঘাতী অভিযান।
- এই অভিযানকে মুক্তিযোদ্ধারা সফল অভিযান বলে বর্ণনা করেন, কারণ এই অপারেশনে পাকিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশ থেকে আসা অস্ত্র, খাদ্য ও তেলবাহী ২৬টি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়া হয়েছিল।
- এ অভিযানে অংশগ্রহণকারী কোন গেরিলা শত্রুপক্ষের হাতে ধরা পড়েননি।

উৎস: বিবিসি নিউজ।[লিঙ্ক]

১১,০০৩.
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে?
  1. ফজলে হাসান আবেদ
  2. আখতার হামিদ খান
  3. মোহাম্মদ ইব্রাহিম
  4. ফজলুর রহমান খান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড):

- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে পল্লী উন্নয়ন বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও প্রায়োগিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত একটি স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- এটি ১৯৫৯ সালে কুমিল্লা জেলার কোর্টবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন আখতার হামিদ খান।
- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমীর কার্যক্রম একটি বোর্ড অব গভর্নর্স কর্তৃক পরিচালিত হয়। 
- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এ বোর্ডের চেয়ারম্যান।
- প্রশাসনিকভাবে বার্ড স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত। মহাপরিচালক
বার্ডের প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা।
- এছাড়াও পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলায় অবস্থিত।
- এই একাডেমীর মূল দায়িত্ব প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনা ও পরামর্শ সেবা প্রদান
করা।

তথ্যসূত্র- বার্ড ও আরডিএ ওয়েবসাইট।
১১,০০৪.
অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩ অনুযায়ী মোট আমদানি ব্যয়ের পরিমাণ কত?
  1. ক) ৩৬৪৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  2. খ) ৪৫৬৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  3. গ) ৩৪৯৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
  4. ঘ) ৫২,৭১৩.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৩
- বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা- ১৬৯.৮৩ মিলিয়ন।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কি.মি.-এ ১,১৬৩ জন।
- মাথাপিছু জাতীয় আয় ২৭৬৫ মার্কিন ডলার।
- মাথাপিছু জিডিপি  ২,৬৫৭ মার্কিন ডলার।
- মোট রপ্তানি আয় ৩৭,০৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
- মোট আমদানি ব্যয় ৫২,৭১৩.১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

উৎস: অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
১১,০০৫.
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে কে সর্বপ্রথম নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেছিলেন?
  1. ক) আলী মর্দান খলজি
  2. খ) গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি
  3. গ) মুহম্মদ শিরান খলজি
  4. ঘ) আলাউদ্দিন জানি
ব্যাখ্যা
গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি ১২১২ থেকে ১২২৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ১৫ বছর স্বাধীন সুলতান হিসেবে বাংলা শাসন করেন।
তিনিই সর্বপ্রথম বাংলায় নৌবাহিনী গঠন করেন। নিজের নামে মুদ্রা চালু করেন।
তিনি তাঁর পূর্বের শাসক আলি মর্দান খলজির মতো স্বাধীন শাসক ছিলেন।
১২২৭ খ্রিষ্টাব্দে যুবরাজ নাসিরুদ্দিন মাহমুদ লখনৌতি আক্রমণ করলে ইওজ খলজি পরাজিত ও নিহত হন।
[সূত্রঃ নবম-দশম শ্রেণি (বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা)]
১১,০০৬.
নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠানটি রাবার নিয়ে গবেষণা করে?
  1. BFIU
  2. BFIDC
  3. BFRI
  4. BSFIC
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (BFIDC):
- বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৫৯ সালের ৩ অক্টোবর তারিখে প্রকাশিত ৬৭ নং অধ্যাদেশ বলে বর্তমান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (BFIDC) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা।
- এর প্রধান কার্যালয় ৭৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় নিজস্ব ভবনে অবস্থিত।
- ১৯৬০-৬১ সনে কাপ্তাইস্থ কাঠ (লগ) আহরণ প্রকল্পের মাধ্যমে বিএফআইডিসি'র যাত্রা শুরু হয়।
- সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৬১-৬২ সালে বনবিভাগ হতে কর্পোরেশনের কাছে দেশের রাবার চাষ ও এর উন্নয়নের কার্যক্রম ন্যস্ত করা হয়।
- দেশের বনভূমি থেকে বনজ সম্পদ আহরণ, কাঠ ভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, বনজ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, প্রক্রিয়াজাত করা এবং রাবার বাগান সৃষ্টি, কাঁচা রাবার উৎপাদন ও বাজারজাত করা এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

উল্লেখ্য,
- BFIDC রাবার নিয়ে গবেষণা করে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা BFIU।
- বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নে গবেষণা পরিচালনার জন্য একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন BSFIC.

উৎস: i) বাংলাদেশ রাবার বোর্ড ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
১১,০০৭.
জনসংখ্যার দিক থেকে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান কততম?
  1. তৃতীয়
  2. চতুর্থ
  3. পঞ্চম
  4. অষ্টম
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্ট-২০২০ অনুসারে জনসংখ্যায় বাংলাদেশের অবস্থান:
- বিশ্বে : অষ্টম
- এশিয়ায় : পঞ্চম
- মুসলিম বিশ্বে : চতুর্থ
- দক্ষিণ এশিয়ায় : তৃতীয়।
- রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা ১৬.৪৭ কোটি।
(তথ্যসূত্র: লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার : আগস্ট, ২০২০)
১১,০০৮.
সম্প্রতি, ইউনেস্কোর 'অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায়' কোন শাড়ি বুনন শিল্প স্থান পেয়েছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. জামদানি শাড়ি
  2. টাঙ্গাইল শাড়ি
  3. রাজশাহী সিল্ক শাড়ি
  4. মনিপুরী শাড়ি
ব্যাখ্যা

ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা:
- বাংলাদেশের শতাব্দীপ্রাচীন টাঙ্গাইল শাড়ি বুনন শিল্প ইউনেসকোর 'অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের' তালিকায় স্থান পেয়েছে।
- ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ভারতের নয়াদিল্লিতে ইউনেস্কো ২০০৩ কনভেনশনের চলমান ২০-তম আন্তঃরাষ্ট্রীয় পর্ষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যা এই কনভেনশনের অধীনে বাংলাদেশের জন্য ষষ্ঠ স্বীকৃতি।

উল্লেখ্য,
- এর আগে ২০০৮ সালে বাংলাদেশের বাউল গান, ২০১৩ সালে জামদানি বুনন শিল্প, ২০১৬ সালে মঙ্গল শোভাযাত্রা, ২০১৭ সালে শীতলপাটি বুনন শিল্প এবং ২০২৩ সালে ‘ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র’ ইউনেস্কোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পায়।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা প্রতিবেদন। [link]

১১,০০৯.
টিআইপি মতে, মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান - (২০২৪ সাল)
  1. প্রথম ধাপ
  2. দ্বিতীয় ধাপ
  3. তৃতীয় ধাপ
  4. চতুর্থ ধাপ
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের অবস্থান

- ‘ট্রাফিকিং ইন পারসনস (টিআইপি) রিপোর্ট ২০২৪’ শীর্ষক প্রতিবেদনে, মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকার বিগত বছরের তুলনায় সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা চালিয়েছে।
- তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান আগের মতো দ্বিতীয় ধাপেই (টিয়ার-২) রয়ে গেছে।
- এই ধাপে বাংলাদেশের প্রতিবেশীদের মধ্যে রয়েছে ভারত, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা।
- মানব পাচার বন্ধে যেসব দেশ টিভিপিএর ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পেরেছে, সেগুলোকে প্রথম ধাপে (টিয়ার-১) রাখা হয়েছে।
- যেসব দেশ ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পারেনি, কিন্তু উল্লেখযোগ্যভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেগুলোকে দ্বিতীয় ধাপে (টিয়ার-২)।
- দ্বিতীয় ধাপে আবার নজরদারির একটি তালিকা (টিয়ার-২ ওয়াচ লিস্ট) রাখা হয়েছে।
- যেসব দেশ টিভিপিএর ন্যূনতম মানদণ্ড অর্জন করতে পারেনি, আবার পাচার বন্ধে উল্লেখযোগ্য চেষ্টাও চালাচ্ছে না, সেগুলোকে তৃতীয় ধাপে (টিয়ার-৩) রাখা হয়েছে।
- এ ছাড়া আছে বিশেষ ক্ষেত্রের (স্পেশাল কেস) একটি তালিকা।

মানব পাচার পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে মার্কিন প্রতিবেদনে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
মানব পাচার অপরাধের তদন্ত ও বিচারের প্রচেষ্টা বাড়ানো। দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মেয়াদে কারাদণ্ডের বিষয়টি রয়েছে।
• প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে পাচারের শিকার ব্যক্তি শনাক্তের প্রচেষ্টা বাড়ানো।
• পাচারবিরোধী ট্রাইব্যুনালের জনবলের সক্ষমতা শক্তিশালী করা।
• পাচারের শিকার সবার জন্য সুরক্ষাসেবার প্রাপ্যতা ও গুণমান বাড়ানো।
• নিয়মিতভাবে আইনের প্রয়োগ। অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগ কোম্পানিসহ দালালদের নজরে রাখা।
• রোহিঙ্গা পাচারের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের তদন্ত ও বিচার বাড়ানো।
• শিশু যৌন পাচার প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো।
• আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য প্রশিক্ষণ বাড়ানো।
• দেশ ছাড়ার আগে অভিবাসী কর্মীদের প্রশিক্ষণের মান উন্নত করা।

সূত্র- টিআইপি ওয়েবসাইট (লিংক) ও প্রথম আলো।
১১,০১০.
বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা কে ছিলেন?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. আবু হোসেন সরকার
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. এ.কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমী:
- বাংলা একাডেমী  বাংলা ভাষা সংক্রান্ত সর্ববৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
- ১৩৬২ বঙ্গাব্দের ১৭ অগ্রহায়ণ (৩ ডিসেম্বর ১৯৫৫) ঢাকার বর্ধমান হাউসে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫২ সালের  ভাষা আন্দোলন এবং এ দেশের মুসলিম মধ্যবিত্তের জাগরণ ও আত্মপরিচয় বিকাশের প্রেরণায় এ প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়।
- ১৯২৫ সালে কলকাতায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়  মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ বাংলা ভাষায় জ্ঞানসাধনা ও সাহিত্যচর্চার প্রস্তাব করেন।
- ১৯৪০ সালে এ.কে ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া মুসলিম এডুকেশন কনফারেন্সে তিনি বাংলা সরকারকে একটি অনুবাদ বিভাগ স্থাপনের অনুরোধ করেন।
- বিভাগোত্তরকালে ১৯৪৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় পূর্ব-পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনে মূল সভাপতির অভিভাষণে শহীদুল্লাহ্ একটি একাডেমি গড়ার কথা বলেন।
- ১৯৫৩ সালে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে, কিন্তু তা ব্যর্থ হয়।
- পরের বছর পূর্ববাংলা আইনসভার নির্বাচনে বিজয়ী  যুক্তফ্রন্ট পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ গ্রহণ করে, কিন্তু অল্পদিনেই তাদের পতন হওয়ায় সে প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
- দ্বিতীয়বার যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার ১৯৫৫ সালের ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসে (স্থাপিত ১৯০৬) বাংলা একাডেমীর উদ্বোধন করেন।
- এভাবে বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাস্তব রূপ লাভ করে।
- বাংলা একাডেমির স্বপ্নদ্রষ্টা কে ছিলেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা একাডেমি।
১১,০১১.
বিখ্যাত ‘মারি চুক্তি’ কত সালে সম্পাদিত হয়েছিল?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৫ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

মারি চুক্তি:
- ১৯৫৫ সালে বিখ্যাত 'মারি চুক্তি' সম্পাদিত হয়েছিল। 

⇒ স্বাধীন পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ পাকিস্তান সংবিধান রচনায় ব্যর্থ হলে দ্বিতীয় গণপরিষদ ১৯৫৫ সালের ৭ জুলাই মারিতে প্রথম অধিবেশনে মিলিত হয়। এ অধিবেশনে পাকিস্তানের সকল প্রদেশের নেতাগণ, বিশেষ করে মুসলিম লীগ, আওয়ামী লীগ ও যুক্তফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ সংবিধান সম্পর্কে একটি আপোস চুক্তি সম্পাদন করেন।
- এটি 'মারি চুক্তি' নামে খ্যাত।
- মারি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন এ. কে. ফজলুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, আতাউর রহমান খান ও মোস্তাক হোসেন গুরমানী।

⇒ এ চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল নিম্নরুপ -
- পাকিস্তানে দুটি প্রদেশ থাকবে। একটি গঠিত হবে 'পূর্ব বাংলা' নাম পরিবর্তন করে পূর্ব পাকিস্তান' নামে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের সকল প্রদেশকে নিয়ে একটি ইউনিট গঠিত হবে এবং এর নাম হবে  'পশ্চিম পাকিস্তান।
- প্রদেশ দুটিতে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হবে।
- উভয় প্রদেশে সংখ্যাসাম্য নীতি' (Principle of Parity) অনুসরণ ও কার্যকর করা হবে।
- যুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
- বাংলা ও উর্দু উভয়ই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে।

⇒ মারি চুক্তি সম্পাদনের পর ১৯৫৫ সালের ১১ আগস্ট চৌধুরী মোহাম্মদ আলী প্রধানমন্ত্রী হন।
- তার মন্ত্রিপরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন এ. কে. ফজলুল হক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বিরোধী দলের নেতা।
- মারি চুক্তির আলোকে ১৯৫৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের সকল প্রদেশকে একত্রিত করে একটি প্রদেশ গঠন করা হয়।
- অতঃপর ১৯৫৬ সালের ৮ জানুয়ারি দ্বিতীয় গণপরিষদে 'পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের' বিল উত্থাপন করা হয়।
- ২ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দিলে সংবিধান বলবৎ হয়।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) সংগ্রামের নোটবুক।
iii) স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস। 

১১,০১২.
কারখানা কোন ধরণের উপযোগ সৃষ্টি করে?
  1. স্বত্বগত
  2. রুপগত
  3. নির্মাণ
  4. সময়গত
ব্যাখ্যা
- কারখানা বিভিন্ন উপাদান থেকে শেষ পণ্য তৈরি করে।
- এখানে উপাদানসমূহ রুপগত বা ফর্ম ইউটিলিটি সৃষ্টি করে, অর্থাৎ উপাদানগুলোকে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে একটি নতুন রূপে পরিণত করে।
-সুতরাং, কারখানা রুপগত বা ফর্ম ইউটিলিটি সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে,
- স্বত্বগত বা সাবস্ট্যান্স ইউটিলিটি হলো পণ্যের গুণ বা মানদণ্ড যা তার স্বত্বে বিদ্যমান থাকে।
- কারখানা তা সৃষ্টি করে না।

উৎস:  Investopedia Website [link]
১১,০১৩.
রপ্তানি আয়ের দিক দিয়ে কোনটি প্রধান অর্থকরী ফসল? [মার্চ, ২০২৫]
  1. চা
  2. পাট
  3. রাবার
  4. চাল
ব্যাখ্যা
অর্থকরী ফসল:
- যেসব কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা হয়, সেগুলোকে অর্থকরী ফসল বলে।
- বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী কৃষিপণ্য হচ্ছে পাট, চা ও তামাক।
- বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসলসমূহ: পাট, চা, আখ বা ইক্ষু, তামাক, তুলা, রাবার, ফুল প্রভৃতি।

⇒ পাট:
- পাট এক ধরনের কৃষিপণ্য।
- বাংলাদেশে পাটকে সোনালী আঁশ বলা হয়ে থাকে।
- রপ্তানি আয়ের দিক দিয়ে পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল।
- পাট রপ্তানিতে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম।
- বাংলাদেশে বছরে প্রায় ১৬ লক্ষ মে. টন পাট উৎপাদিত হয় যা বিশ্বে দ্বিতীয়।
- পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

উৎস: i) কৃষি তথ্য সার্ভিস।
ii) পাট অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১১,০১৪.
কোনটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. অলিখিত দলিল
  2. দুষ্পরিবর্তনীয়
  3. সাংবিধানিক প্রাধান্য
  4. রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি
ব্যাখ্যা
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য নয় - অলিখিত দলিল।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বৈশিষ্ট্য:

⇒ ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একটি মূল দলিল।
- এ সংবিধানটি উৎকৃষ্ট এবং বিভিন্ন দিক দিয়ে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
• লিখিত দলিল।
দুষ্পরিবর্তনীয়
• রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• মৌলিক অধিকার।
• এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র।
• প্রজাতন্ত্র।
• এক-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
• সংসদীয় পদ্ধতির সরকার।
• বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
• ন্যায়পাল।
• সাংবিধানিক প্রাধান্য।

উৎস: i) বাংলাদেশের সংবিধান।
ii) পৌরনীতি, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০১৫.
নিচের কোনটি নাগরিকের আইনগত কর্তব্য?
  1. ভোট দান করা
  2. শিক্ষার প্রসার ঘটানো
  3. দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
  4. মানুষের সেবা করা
ব্যাখ্যা

নাগরিকত্ব ও কর্তব্য:
- বাংলাদেশের নাগরিকত্ব মূলত ও প্রধাণত জন্মসূত্রে নির্ধারিত হয়।
- নাগরিকের যেমন আছে রাষ্টপ্রদত্ত আধিকার, তেমনি আছে রাষ্ট্র নির্ধারিত কর্তব্য।
- রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের কর্তব্য দুই ধরণের। যথা -
১. নৈতিক,
২. আইনগত কর্তব্য।

→ আইনগত কর্তব্য:
• ভোট দান করা, 
• নিয়মিত কর প্রদান,
• আইন মেনে চলা,
• সরকারি সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ।

→ নৈতিক কর্তব্য:
• মানুষের সেবা করা,
• দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
• শিক্ষার প্রসার ঘটানো,
• পরিবেশ পরিষ্কার রাখা।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০১৬.
বাংলাদেশ সরকারের কোন সাংবিধানিক সংস্থাটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?
  1. বাংলাদেশ কর্ম কমিশন
  2. বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন
  3. ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি
  4. ক + গ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন:
- বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন গঠিত হয় ৮ এপ্রিল ১৯৭২।
- এই কমিশন মূলত বিভিন্ন সরকারি পদ ও চাকরি নিয়োগ দানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি সাংবিধানিক সংস্থা। 
- ৮ এপ্রিল সিভিল সার্ভিস দিবস হিসাবে পালিত হয়।
- বর্তমানে মোট ২৬ টি ক্যাডার রয়েছে। এর মধ্যে ১৪টি সাধারণ ও ১২টি পেশাগত/কারিগরি ক্যাডার।
- ১৯৭৭ সালের ২২ ডিসেম্বর এই কমিশনের নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন।

অন্যদিকে,
- রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি গঠন করেছে সরকার।
- ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটি সাংবিধানিক সংস্থা নয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন ওয়েবসাইট।
১১,০১৭.
খরিপ–২ মৌসুমের সময়কাল কোনটি?
  1. চৈত্র - আষাঢ়
  2. শ্রাবণ - আশ্বিন
  3. জ্যৈষ্ঠ - শ্রাবণ
  4. আশ্বিন - ফাল্গুন
ব্যাখ্যা

কৃষিক্ষেত্রে মৌসুম:
- ফসল উৎপাদনের জন্য সারাবছরকে দুইটি মৌসুমে ভাগ করা যায়। যথা:
i) রবি মৌসুম:
- শীতকালীন শস্যকে বলে রবি শস্য।
- আশ্বিন থেকে ফাল্গুন হচ্ছে রবি মৌসুম।
- মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য মার্চ পর্যন্ত, মতান্তরে মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য এপ্রিল পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে।
- গ্রীষ্মকালে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে ফসল তোলা হয়।
- বোরো ধান, গম, মসুর ডাল, যব, সরিষা, পেঁয়াজ, মটরশুঁটি ইত্যাদি ফসলকে এ মৌসুমের প্রধান শস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, গাজর, লাউ, শিম, টমেটো, আলু ইত্যাদিও এ মৌসুমে চাষ করা হয়।

ii) খরিপ মৌসুম:
- চৈত্র থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ মৌসুম বলে। খরিপ মৌসুমে বিশেষ করে আষাঢ় থেকে ভাদ্র মাসের মধ্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। খরিপ মৌসুমে তাপমাত্রা ও বায়ুর আর্দ্রতা বেশি পরিলক্ষিত হয়। খরিপ মৌসুমকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: খরিপ-১ বা গ্রীষ্মকাল এবং খরিপ- ২ বা বর্ষাকাল।

⇒ খরিপ-১ মৌসুম:
- চৈত্র মাস থেকে আষাঢ় মাস (মধ্য মার্চ হতে মধ্য জুলাই) পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ বলা হয়। এইসময়কে গ্রীষ্মকালও বলা হয়।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিপ-১ শস্য বলে। যেমন- আউশ ধান, পাট, কাউন, ভুট্টা, তিল, মিষ্টি কুমড়া, কচু ও ঝিঙ্গা ইত্যাদি।

⇒ খরিপ-২ মৌসুম:
- শ্রাবণ মাস থেকে আশ্বিন মাস (মধ্য জুলাই হতে মধ্য অক্টোবর) পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ বলে। এই সময় বর্ষাকাল।
- এ মৌসুমে উৎপন্ন ফসলগুলোকে খরিপ-২ শস্য বলে। যেমন- আমন ধান, ভুট্টা, মাষকলাই, বর্ষাকালীন সবজি ইত্যাদি ।

এছাড়াও,
- কিছু ফসল ও শাক-সবজি আছে যেগুলো উভয় মৌসুমেই বা সারা বছর চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। এদেরকে বারোমাসী ফসল বলে। যেমন- কলা, পেঁপে ইত্যাদি।


উৎস: i) কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১১,০১৮.
তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কত বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ?
  1. ১০ বছর
  2. ১২ বছর
  3. ১৫ বছর
  4. ২০ বছর
ব্যাখ্যা
এলএনজি আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি:
- বর্তমানে শুধু কাতার ও ওমান থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি হয়।
- তৃতীয় দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
- এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং পার্টনারশিপের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদে এলএনজি আমদানিতে চুক্তি করবে পেট্রোবাংলা; যা কার্যকর হবে ২০২৬ সাল থেকে।
- ২০২৮ থেকে ২০৪০ সাল পর্যন্ত বছরে এলএনজি সরবরাহ হবে ১০ লাখ টন।

উৎস: ২৬ অক্টোবর, ২০২৩, সমকাল।
১১,০১৯.
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন কে? (জানুয়ারি, ২০২৬) 
  1. সৈয়দ রেফাত আহমেদ
  2. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
  3. জুবায়ের রহমান চৌধুরী 
  4. সালাহ উদ্দিন আহমদ
ব্যাখ্যা

• ২৬তম প্রধান বিচারপতি: 
- বাংলাদেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। 
- ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। 
- সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এই নিয়োগ দেন। শপথ গ্রহণের দিন থেকেই তার এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
- শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
 - পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো। 

১১,০২০.
জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেয়া হয়-
  1. ২৯ মার্চ, ১৯৭০
  2. ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে
  3. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
  4. ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
বঙ্গবন্ধু' উপাধি:
- ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়া হয়। মুক্তি দেয়া হয় রাজবন্দীদেরও।
- শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি লাভে ঢাকায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যায়।
- ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দি উদ্যান) শেখ মুজিবকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি দেয়া হয়।
- পাঁচ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে উক্ত সমাবেশে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদের প্রস্তাবনায় শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- উক্ত সভাতেই ‘জয় বাংলা' স্লোগানের উদ্ভব ঘটে।
- সভায় ‘বঙ্গবন্ধু’ ছয়দফা ও এগার দফা দাবি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০২১.
সৈয়দ রেফাত আহমেদ বাংলাদেশের কততম প্রধান বিচারপতি?
  1. ২৪ তম
  2. ২৫ তম
  3. ২৬ তম
  4. ২৭ তম
ব্যাখ্যা
প্রধান বিচারপতি:
- বর্তমানে (আগস্ট, ২০২৪) বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
- তিনি বাংলাদেশের ২৫ তম প্রধান বিচারপতি।
- সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়েছেন।
- সৈয়দ রেফাত আহমেদের জন্ম ১৯৫৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে এএলবি(অনার্স) উত্তীর্ণ হন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এমএ পাস করার পর যুক্তরাষ্ট্রের টাফ্‌ট ইউনিভার্সিটির ফ্লেচার স্কুল অব ল এন্ড ডিপ্লোমেসি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
- ১৯৮৪ সালে জেলা জজ আদালত, ১৯৮৬ সালে সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০২ সালে সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন।
- তিনি 'গ্লোবাল জুডিশিয়াল ইনস্টিটিউট অন এনভাইরনমেন্ট, ব্রাজিল' এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

তথ্যসূত্র - ডেইলী স্টার, ১০ আগস্ট, ২০২৪।
১১,০২২.
ঐতিহাসিক ২১দফা দাবির প্রথমটি কী ছিল?
  1. ক) শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক
  4. ঘ) বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
ব্যাখ্যা
• একুশ দফা: 
- একুশ দফা  ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পূর্ববাংলায় মুসলিম লীগ শাসনের অবসানকল্পে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর  যুক্তফ্রণ্ট নামে এক নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হয়।
- এ মোর্চা গঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষক-শ্রমিক পার্টির সভাপতি এ.কে ফজলুল হক, আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, এবং আওয়ামী মুসলিম লীগ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রণ্টের পক্ষ থেকে ২১টি প্রতিশ্রুতি সম্বলিত যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো ঘোষণা করা হয় তা-ই ২১-দফা নামে পরিচিত।
⇒ এ ২১দফা দাবির প্রথমটি ছিল 'বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে'। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
১১,০২৩.
মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর. এম আবু তাহের কত নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন?
  1. ৬ নং সেক্টর
  2. ৮ নং সেক্টর
  3. ৯ নং সেক্টর
  4. ১১ নং সেক্টর
ব্যাখ্যা
- ১৯৭১ সালের ১০-১৭ জুলাই কলকাতায় তাজউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যুদ্ধাঞ্চলের অধিনায়কদের সম্মেলনে সমগ্র দেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- প্রত্যেক সেক্টরে একজন করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। ১১টি সেক্টরকে ৬৪টি সাব সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।
এগারোটি সেক্টর হলো:
১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালি জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশের সমগ্র এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর জিয়াউর রহমান এবং মেজর রফিকুল ইসলাম
২ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর এবং নোয়াখালি জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর খালেদ মোশাররফ এবং মেজর এ.টি.এম হায়দার
৩ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে চূড়ামনকাঠি (শ্রীমঙ্গলের নিকট) থেকে সিলেট এবং দক্ষিণে ব্রাহ্মণবাড়ীয়ার সিঙ্গারবিল পর্যন্ত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর কে.এম শফিউল্লাহ এবং মেজর এ.এন.এম নূরুজ্জামান
৪ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : উত্তরে সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা থেকে দক্ষিণে কানাইঘাট থানা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর চিত্তরঞ্জন দত্ত
৫ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সিলেট জেলার দুর্গাপুর থেকে ডাউকি (তামাবিল) এবং জেলার পূর্বসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর মীর শওকত আলী
৬ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
- সেক্টর কমান্ডার : উইং কমান্ডার এম খাদেমুল বাশার
৭ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া এবং দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাংশ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর নাজমুল হক এবং সুবেদার মেজর এ. রব ও মেজর কাজী নূরুজ্জামান
৮ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর ও পটুয়াখালী জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর আবু ওসমান চৌধুরী এবং মেজর এম.এ মঞ্জুর
৯ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : বরিশাল ও পটুয়াখালি জেলা এবং খুলনা ও ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. এ জলিল এবং মেজর এম. এ মঞ্জুর
১০ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : সমুদ্র ও নৌ অঞ্চল
- সেক্টর কমান্ডার : নিয়মিত কোন সেক্টর কমান্ডার ছিলো না
১১ নং সেক্টর:
- সেক্টর এলাকা : টাঙ্গাইল জেলা এবং কিশোরগঞ্জ মহকুমা ব্যতীত সমগ্র ময়মনসিংহ জেলা
- সেক্টর কমান্ডার : মেজর এম. আবু তাহের এবং স্কোয়াড্রন লীডার হামিদুল্লাহ
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১১,০২৪.
কোন আন্দোলন চলাকালীন শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়?
  1. ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান
  2. অসহযোগ আন্দোলন
  3. ছয় দফা আন্দোলন
  4. শিক্ষা আন্দোলন
ব্যাখ্যা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অসহযোগ আন্দোলন
- ১৯৭০ এর নির্বাচনের পর ৩ মার্চ, ১৯৭১ জাতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইয়াহিয়া খান ১ মার্চেই সেই অধিবেশন স্থগিত করেন।
- এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন, যা ২৫ মার্চ পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
- অসহযোগ মানে সহযোগিতা না করা। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পূর্ব বাংলার জনগণ তৎকালীন ইয়াহিয়া সরকারের সব রকম সরকারি নির্দেশ অমান্য করে।
- এর ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙ্গে পড়ে ও ট্যাক্স আদায় বন্ধ হয়ে যায়।
- ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে আপামর জনতার পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'জাতির জনক' হিসাবে ঘোষণা দেন আ.স.ম আব্দুর রব।

সূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১১,০২৫.
সংবিধানের কততম সংশোধনী দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়েছিলো?
  1. ক) চতুর্দশ সংশোধনী
  2. খ) পঞ্চদশ সংশোধনী
  3. গ) ষোড়শ সংশোধনী
  4. ঘ) সপ্তদশ সংশোধনী
ব্যাখ্যা
পঞ্চদশ সংশোধনী:
সংসদে উত্থাপন: ২৫ জুন, ২০১১
উত্থাপনকারী: আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমদ
সংসদে গৃহীত: ৩০ জুন, ২০১১ 

-পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন আইনের মাধ্যমে সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়।
 অর্থ্যাৎ ৫৮ক অনুচ্ছেদটি বাতিল করা হয়।
-ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র,
  গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়।
-এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও
  দেওয়া হয়। ৪ক অনুচ্ছেদে ‘জাতির পিতার প্রতিকৃতি’ 
 সংযুক্ত করা হয়।
- ৬৫(৩) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। 
- সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের
   পথ রুদ্ধ করা হয়। 
- পূর্বের ৪টি তফসিলের সাথে আরো নতুন ৩টি তফসিল যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তফসিল সংখ্যা – ৭টি।

[উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান]
১১,০২৬.
সংসদ আইন প্রনয়ন করে সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুসারে?
  1. ক) অনুচ্ছেদ - ৭৯
  2. খ) অনুচ্ছেদ - ৮০
  3. গ) অনুচ্ছেদ - ৮১
  4. ঘ) অনুচ্ছেদ - ৮২
ব্যাখ্যা
অনুচ্ছেদ - ৮০ঃ আইনপ্রণয়ন পদ্ধতি -- “(১) আইনপ্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হইবে।
(২) সংসদ কর্তৃক কোন বিল গৃহীত হইলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিতে হইবে।
[(৩) রাষ্ট্রপতির নিকট কোন বিল পেশ করিবার পর পনর দিনের মধ্যে তিনি তাহাতে সম্মতিদান করিবেন কিংবা অর্থবিল ব্যতীত অন্য কোন বিলের ক্ষেত্রে বিলটি বা তাহার কোন বিশেষ বিধান পুনর্বিবেচনার কিংবা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্দেশিত কোন সংশোধনী বিবেচনার অনুরোধ জ্ঞাপন করিয়া একটি বার্তাসহ তিনি বিলটি সংসদে ফেরত দিতে পারিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।]
(৪) রাষ্ট্রপতি যদি বিলটি অনুরূপভাবে সংসদে ফেরত পাঠান, তাহা হইলে সংসদ রাষ্টপতির বার্তাসহ তাহা পুনর্বিবেচনা করিবেন; এবং সংশোধনীসহ বা সংশোধনী ব্যতিরেকে সংসদ পুনরায় বিলটি গ্রহণ করিলে সম্মতির জন্য তাহা রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হইবে এবং অনুরূপ উপস্থাপনের সাত দিনের মধ্যে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিবেন; এবং রাষ্ট্রপতি তাহা করিতে অসমর্থ হইলে উক্ত মেয়াদের অবসানে তিনি বিলটিতে সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে।
(৫) সংসদ কর্তৃক গৃহীত বিলটিতে রাষ্ট্রপতি সম্মতিদান করিলে বা তিনি সম্মতিদান করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইলে তাহা আইনে পরিণত হইবে এবং সংসদের আইন বলিয়া অভিহিত হইবে।”
১১,০২৭.
কামরুল হাসানের বিখ্যাত চিত্রকর্ম কোনগুলো?
  1. তিনকন্যা ও নাইওর
  2. সোনার তরী ও ভোরের আলো
  3. মায়ের কোলে ও যুদ্ধের ছবি
  4. গ্রামীণ জীবন ও শহরের আলো
ব্যাখ্যা

শিল্পী কামরুল হাসান:
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
- ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর পিতার কর্মস্থল কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার নারেঙ্গা গ্রামে।
- কামরুল হাসানের শিক্ষাজীবন কাটে কলকাতায়।
- তিনি কলকাতার মডেল এম ই স্কুল (১৯৩০-৩৫) এবং কলকাতা মাদ্রাসায় (১৯৩৬-৩৭) প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।
- ১৯৩৮ সালে তিনি কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টস-এ ভর্তি হন এবং ১৯৪৭ সালে চিত্রকলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
- ‘তিনকন্যা’ ও ‘নাইওর’ তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্ম।
- ১৯৮৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১১,০২৮.
দেশের সর্বশেষ প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরটি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) যশোর
  2. খ) মেহেরপুর
  3. গ) কিশোরগঞ্জ
  4. ঘ) নরসিংদি
ব্যাখ্যা
বর্তমানে দেশে প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর - ২১টি। দেশের ২১তম প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘর - আমঝুপি নীলকুঠী জাদুঘর, মেহেরপুর।
১১,০২৯.
পরমাণু শক্তির শান্তিপূ্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি খাদ্য নিরাপত্তা নিম্নের কোন প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য?
  1. BINA
  2. BARI
  3. Seed Certification Agency
  4. BADC
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA):
- বাংলাদেশে নার্সভুক্ত (NARS) প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ‍ইনস্টিটিউট (বিনা) একটি অন্যতম ও একক প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) বাংলাদেশের পারমাণবিক কৌশল কাজে লাগিয়ে কৃষিখাতে অবদান রাখার একমাত্র প্রতিষ্ঠান।
- এর প্রধান কাজ হলো পরমাণু শক্তির শান্তিপূ্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাৎপর্য্পূণ অবদান রাখা।
- বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- প্রধান কার্যালয়ের মোট ১১টি বিভাগের সমন্বয়ে বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- বিনা'র মোট ১৩টি উপকেন্দ্র রয়েছে।

অন্যদিকে,
- BADC-এর প্রধান কাজ কৃষি উন্নয়ন।
- বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী (Seed Certification Agency)-এর প্রধান কাজ বীজের মান নিয়ন্ত্রণ।
- BARI-এর প্রধান কাজ কৃষি বিষয়ক ফসলের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা।

উৎস: BINA ওয়েবসাইট।
১১,০৩০.
মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বসূচক খেতাব প্রদান করা হয় কবে?
  1. ১৯৭১ সালে
  2. ১৯৭২ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা

মুক্তিযুদ্ধের খেতাব:
- ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্ন খেতাব প্রদান করা হয়। 
- স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এই খেতাব দেওয়া হয়।
- সর্বোচ্চ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ : ৭জন।
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরউত্তম : ৬৮ জন।
- তৃতীয় সর্বোচ্চ খেতাব বীরবিক্রম : ১৭৫ জন।
- চতুর্থ সর্বোচ্চ খেতাব বীরপ্রতীক : ৪২৬জন।

মহিলা বীরপ্রতীক:
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য ২ জন মহিলাকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- তাঁরা হলেন- ডা. সেতারা বেগম ও তারামন বিবি।
- তারামন বিবি ও ডা. সেতারা বেগম ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে যথাক্রমে ১১ ও ২ নং সেক্টরে যুদ্ধ করেন।

উৎস: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১১,০৩১.
বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ মুক্তি পায় -
  1. ১৯৬২ সালে
  2. ১৯৬০ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৬ সালে
ব্যাখ্যা
চলচ্চিত্র :
- পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম সবাক বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্য  চলচ্চিত্র মুখ ও মুখোশ মুক্তি পায় ১৯৫৬ সালের ৩ আগষ্ট।
- ১৯৫৬ সালে ১টি ছবি মুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের যাত্রা শুরু করা হয়। 
- এর প্রযোজনায় ছিলেন নুরুজ্জামান, শহীদুল আলম, কলিমউদ্দিন আহমেদ, এম এ হাসান ও আব্দুল জব্বার খান।
- পরিচালকের নিজের লেখা নাটক ডাকাত অবলম্বনে এ ছবির কাহিনী তৈরি হয়।
- ১৯৫৭ সালের ৩ এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান আইন পরিষদে বিল পাশের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা (ইপিএফডিসি) প্রতিষ্ঠত হয়।
- এফডিসি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ভিত্তি স্থাপিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর।
১১,০৩২.
ব্রিটিশ শাসন বিরোধী ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা 'স্বাধীনতা লড়াই' ছিল -
  1. ফরায়েজী আন্দোলন
  2. নীল বিদ্রোহ
  3. ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
  4. সিপাহী বিদ্রোহ
ব্যাখ্যা

সিপাহী বিদ্রোহ:
- ব্রিটিশ শাসন বিরোধী ভারতীয়দের প্রথম জাতীয় সংগ্রাম বা 'স্বাধীনতা লড়াই' ছিল সিপাহী বিদ্রোহ।

⇒ ১৮৫৭ সালের ২৯ মার্চ ব্যারাকপুরের সেনানিবাসে ‘মঙ্গল পান্ডে' নামক একজন সিপাহী প্রকাশ্যে বিদ্রোহ করে।
- ক্রমে এ বিদ্রোহ মিরাট, দিল্লি, বেরলী, ফতেহপুর, কানপুর, বুন্দেল খণ্ড, রোহিলা খণ্ড, এলাহাবাদ, অযোধ্যা, কলকাতা, বিহার, চট্টগ্রাম, ঢাকা, যশোর এবং দিনাজপুর প্রভৃতি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
- বিদ্রোহীরা মোগল সম্রাট ২য় বাহাদুর শাহকে ভারতের বাদশাহ ও বিদ্রোহের নেতা ঘোষণা করে।
- মারাঠা নেতা নানা সাহেব, ঝাঁসির রাণি লক্ষ্মীবাঈ, মৌলভী লিয়াকত আলী, মৌলভী আহম্মদ উল্লাহ প্রমুখ বিদ্রোহে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
- সিপাহীরা জেলখানা ভেঙ্গে কয়েদিদের মুক্তি, খাজাঞ্চিখানা লুঠ এবং সর্বত্র ব্রিটিশদের আক্রমণ করে।
- এ লড়াই শুধু সিপাহীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, ভারতের হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে ব্যাপক গণমানুষ এর প্রতি সমর্থন ও সহানুভূতি প্রকাশ করে।

⇒ এ সংগ্রামের কারণকে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ এ দু শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।
• পরোক্ষ কারণ: 
- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক অসন্তোষ।

• প্রত্যক্ষ কারণ:
- ১৮৫৬ সালে সেনাবাহিনীতে ‘এনফিল্ড রাইফেল' প্রচলন করা হয়।
- এতে ব্যবহৃত কার্তুজ দাঁতে কেটে ভরতে হতো।
- গুজব রটে যে, এ কার্তুজে শুকর ও গরুর চর্বি মেশানো আছে।
- এটি ধর্মনাশের একটি পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র বলে ভারতের হিন্দু-মুসলমান সিপাহীদের মধ্যে দারুন বিক্ষোভের সূচনা করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০৩৩.
সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশের কোন জেলায়?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) কিশোরগঞ্জ
  3. গ) মুন্সিগঞ্জ
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পৈতৃক নিবাস বাংলাদেশর কিশোরগঞ্জ জেলার মসুয়া গ্রামে। তার পিতা বিখ্যাত সাহিত্যিক সুকুমার রায় এবং পিতামহ সন্দেশ পত্রিকার সম্পাদক ও সাহিত্যিক উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী। তবে সত্যজিৎ রায় ১৯২১ সালের ২ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
তার বিখ্যাত চলচ্চিত্রের মধ্যে পথের পাঁচালী (১৯৫৫), অপরাজিত (১৯৫৬), অশনি সংকেত (১৯৭৩), হীরক রাজার দেশে (১৯৮০) ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সত্যজিৎ রায় রচিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ফেলুদা সিরিজ, শঙ্কু সিরিজ, বিষয় চলচ্চিত্র প্রভৃতি। তিনি ১৯৯২ সালে বিশেষ অস্কার পুরস্কার লাভ করেন। সত্যজিৎ রায় ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
(সূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১১,০৩৪.
'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ'-এর গায়ক জর্জ হ্যারিসন কোন বাদক দলেন সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. পিঙ্ক ফ্লয়েড
  2. কুইন
  3. বিটলস
  4. স্কোরপিয়ন
ব্যাখ্যা
কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ:
- মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের মুখে যুদ্ধ বিরতি ঘটিয়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে বাধাগ্রস্ত করতে জাতিসংঘে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
- তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা কংগ্রেসের অনেক সদস্য, বিভিন্ন সংবাদপত্র, শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সর্বস্তরের জনগণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভূমিকা পালন করে।
- মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’।
- ভারতের খ্যাতিমান শিল্পী রবি শঙ্কর মুক্তিযুদ্ধে মানুষকে উজ্জীবিত করেন।
- তিনি বাংলাদেশ কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে অন্যতম।
- রবি শঙ্করের আহবানে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পী জর্জ হ্যারিসন কন্সার্টে যোগ দেন।
- জর্জ হ্যারিসন 'কন্সার্ট ফর বাংলাদেশ' থেকে প্রাপ্ত অর্থ মুজিবনগর সরকারের কাছে তুলে দেন।

উল্লেখ্য,
- জর্জ হ্যারিসন 'বিটলস'-এর সদস্য ছিলেন।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
         ii) ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, প্রথম আলো।
১১,০৩৫.
১৯৫২ সালের ৩১ জানুয়ারি কার সভাপতিত্বে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়? 
  1. শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক
  2. আবুল কাশেম
  3. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  4. কাজী গোলাম মাহবুব
ব্যাখ্যা

একুশে ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত আন্দোলন: 
- খাজা নাজিমুদ্দিন পূর্ব বাংলার প্রধান মন্ত্রীর পদ ছেড়ে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন ১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারি ঢাকা সফরে আসেন।
- ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানের জনসভায় তিনিও জিন্নাহর মতো ঘোষণা করেন, 'উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।'
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করে।
- সংগ্রাম পরিষদের আহ্বানে ৪ ফেব্রুয়ারি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
- ৩১ জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
- কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে ৪০ সদস্য বিশিষ্ট সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
- এই সভায় ২১ ফেব্রুয়ারি পূর্ববাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের দিন দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০৩৬.
উপমহাদেশে দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা রহিত করেন কে?
  1. ওয়ারেন হেস্টিংস
  2. লর্ড ক্যানিং
  3. রবার্ট ক্লাইভ
  4. লর্ড কার্জন
ব্যাখ্যা

দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা:
- ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাংলার গভর্নর রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
- দ্বৈতশাসন অনুসারে রাজস্ব প্রশাসন ও দেশ রক্ষার ভার থাকে কোম্পানির হাতে এবং নিয়ামত বা প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পিত হয় নবাবের হাতে।
- দ্বৈত শাসনের দায়িত্বহীনতার ফলে বাংলার জনজীবনে অরাজকতা নেমে আসে।
- অবাধ লুণ্ঠন ও যথেচ্ছভাবে রাজস্ব আদায়ের ফলে গ্রাম্যজীবন ধ্বংস হয়ে যায়।
- নবাবের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় প্রশাসন পরিচালনায় ব্যর্থ হন। 
- সারাদেশে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা।
- এই পরিস্থিতিতে ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা রহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,০৩৭.
প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কার পরামর্শ গ্রহণ করেন?
  1. সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পীকার
  4. কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি: 
- সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান।
- প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়।
- তাঁর হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই।

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ ও শাসনসংক্রান্ত ক্ষমতা ও কার্যাবলি: 
- সংসদ নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আস্থাভাজন নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত করেন।
- প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না।
- রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের নিয়োগ ও তাঁদের দপ্তর বণ্টন করেন।
- তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারকবৃন্দ, রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনারদের নিয়োগ দান করেন।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও বিচারসংক্রান্ত কাজ:
- রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি কারও পরামর্শ গ্রহণ করেন না।
- সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিগণও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১১,০৩৮.
কোন আদিবাসী জনগোষ্ঠী 'বৈসাবি' উৎসব পালন করে?
  1. চাকমা
  2. মারমা
  3. ত্রিপুরা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
বৈসাবি:
- বৈসাবি হচ্ছে বাংলাদেশে তিন আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব।
- পাহাড়ে বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ উপলক্ষে পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর প্রধানতম সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব এটি।
- বাংলাদেশের তিনটি আদিবাসী সম্প্রদায় (ত্রিপুরা, মারমা ও চাকমা) এই বর্ষবরণ উৎসব পালন করে।
- মূলত বৈ’ শব্দাংশটি ত্রিপুরাদের বৈসু থেকে, ‘সা’ মারমাদের সাংগ্রাই থেকে এবং ‘বি’ চাকমাদের বিজু থেকে এসেছে।
- বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু এই তিন নামের আদ্যাক্ষর নিয়ে 'বৈসাবি' নামের উৎপত্তি।
- চৈত্র মাসের শেষ দুটি দিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিন এই তিন দিন অনুষ্ঠান পালন করে।
- প্রতিটি সম্প্রদায় নিজ নিজ বিশ্বাস ও সংস্কার অনুসারে প্রার্থনা করে নতুন বছর যেন সুখে-শান্তিতে কেটে যায়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৩৯.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে?
  1. ক) ২৭ নং অনুচ্ছেদে
  2. খ) ২৯ নং অনুচ্ছেদে
  3. গ) ১৯ নং অনুচ্ছেদে
  4. ঘ) ১৭ নং অনুচ্ছেদে
ব্যাখ্যা
সুযোগের সমতা
১৯৷ (১) সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা নিশ্চিত করিতে রাষ্ট্র সচেষ্ট হইবেন৷
(২) মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসাম্য বিলোপ করিবার জন্য, নাগরিকদের মধ্যে সম্পদের সুষম বন্টন নিশ্চিত করিবার জন্য এবং প্রজাতন্ত্রের সর্বত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমান স্তর অর্জনের উদ্দেশ্যে সুষম সুযোগ-সুবিধাদান নিশ্চিত করিবার জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন৷
(৩) জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা রাষ্ট্র নিশ্চিত করিবেন।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান
১১,০৪০.
'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' অনুষ্ঠিত হয়েছিল-
  1. লন্ডনে
  2. নিউইয়র্কে
  3. ফ্লোরেন্সে
  4. ওয়াশিংটনে
ব্যাখ্যা

- ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট বাংলাদেশের শরণার্থীদের সাহায্য করার উদ্দেশ্যে জর্জ হ্যারিসনের তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক সিটির ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়েছিল 'দ্যা কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'।
- জর্জ হ্যারিসনকে অনুষ্ঠানটি করার জন্য উদ্বুদ্ধ করেন বিখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

১১,০৪১.
অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৯
  2. ১৯২০
  3. ১৯২১
  4. ১৯২২
ব্যাখ্যা

অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির একটি সুবৃহৎ প্রাসাদ বিড়লা হাউসের প্রাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাঁর ঘাতক ছিলেন নাথুরাম গডসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
          ii) ব্রিটানিকা।

১১,০৪২.
নিচের সুলতানি শাসকদের মধ্যে কার শাসনকাল সবার আগে?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. জালাল উদ্দিন মাহমুদ শাহ
ব্যাখ্যা
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৪২ সাল থেকে ১৩৫৮ সাল পর্যন্ত শাসন করে।
বাকিরা তার পরের শাসক।
সিকান্দার শাহ (১৩৫৮-১৩৯৩), গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ (১৩৯৩-১৪১১), জালাল উদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪১৫ এবং ১৪১৮-১৪৩১) এবং নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ (১৪৫২-১৪৫৯) সময় পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,০৪৩.
'সোনা মসজিদ স্থলবন্দর' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. দিনাজপুর
  4. ফেনী
ব্যাখ্যা
• সোনা মসজিদ স্থলবন্দর:
- সোনা মসজিদ স্থল বন্দরটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপেজলার সোনা মসজিদ সীমান্তে অবস্থিত।
- সোনা মসজিদ স্থল বন্দরের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলার ইংলিংশ থানার মহাদীপুর ইউনিয়ন অবস্থিত।
 -স্থলপথে আমদানি- রপ্তানি কার্যক্রম সহজতর করার লক্ষ্যে ১২/০১/২০০২ খ্রি: তারিখে সোনা মসজিদ শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ।
১১,০৪৪.
জাতীয় সংসদের কার্যাবলী নয় কোনটি?
  1. নির্বাচন পরিচালনা করা
  2. আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলি
  3. সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন
  4. শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যাবলি
ব্যাখ্যা
⇒ নির্বাচন পরিচালনা করা জাতীয় সংসদের কার্যাবলী নয়।

জাতীয় সংসদের কার্যাবলী:
- বাংলাদেশের আইনসভাকে জাতীয় সংসদ বলে আখ্যা দেয়া হয়।
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ মূলত: সংসদীয় গণতন্ত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- সংসদীয় গণতন্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হলেন প্রধান নির্বাহী।
- জাতীয় সংসদের কার্যাবলি সংবিধান প্রণীত নীতি অনুযায়ী সংঘটিত হয়। আইন প্রণয়ন হলো জাতীয় সংসদের প্রধান কাজ।
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত।
- বাংলাদেশের আইনসভার কার্যাবলিসমূহ সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত।

⇒ আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কার্যাবলি: আইন প্রণয়ন করার কাজটি আইন সভার প্রধান কাজ। বাংলাদেশের সংবিধানের মৌলিক নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আইন বিভাগ এই কাজটি করে থাকে। এই বিভাগটি নতুন আইন প্রণয়ন ও পুরাতন আইন বাতিলের ক্ষমতা রাখে।

⇒ সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন: বাংলাদেশের আইন সভা সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে। দেশের সংবিধান উল্লিখিত দুইটি ক্ষমতাই আইন সভাকে প্রদান করেছে। এক্ষেত্রে আইন সভা সংবিধান সংশোধনকল্পে বিভিন্ন সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ ও প্রয়োজনে গণভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

⇒ বিচার সংক্রান্ত কার্যাবলি: প্রয়োজনের নিরীখে কখনও বাংলাদেশের আইন সভা বিচার সম্পর্কিত কার্যাদিও সম্পাদন করে থাকে। এমনকি রাষ্ট্রপতিও যদি কোন গুরুতর অসদাচরণ করেন তাহলে সংবিধানের ৫২ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদ তাঁর অভিশংসন অর্থাৎ বিচারিক কাজটি করতে পারবে। নির্বাচন সংক্রান্ত বিরোধের বিচার সংক্রান্ত ব্যাপারেও বাংলাদেশের আইনসভা ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

⇒ শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যাবলি: তত্ত্বগতভাবে শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণকল্পে অর্থাৎ শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে আইন বিভাগ ভূমিকা পালন করে। তবে রাষ্ট্রভেদে তা ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করতে দেখা যায়।

⇒ অর্থ-সংক্রান্ত কার্যাবলি: বাংলাদেশের আইন সভা নানাবিধ অর্থ সংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে। বিশেষ করে অর্থের অপচয় রোধে আইন সভা গণতান্ত্রিক পদ্ধতির চর্চা করে তা নিয়ন্ত্রণ করে। বাজেট পেশসহ সরকারি আয়-ব্যয়ের পর্যালোচনা, পরবর্তী বছরের ব্যয় বরাদ্দের কাজ গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কার্যকর করে তোলে। বাংলাদেশের আইন সভার অনুমতি ছাড়া কর ধার্য বা পুরাতন কর ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস সম্ভব হয় না।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৪৫.
কোন সংগঠন পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের 'নিউক্লিয়াস' হিসেবে পরিচিতি পায়?
  1. তমদ্দুন মজলিশ
  2. স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ
  3. বাঙালি সংস্কৃতির স্বাধিকার পরিষদ
  4. সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ
ব্যাখ্যা
⇒ 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের 'নিউক্লিয়াস' হিসেবে পরিচিতি পায়।

স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ:

- ১৯৬২ সালে কয়েকজন ছাত্রনেতা গোপনে ছাত্রদের সংগঠিত করার উদ্যোগ নেন।
- তারা মনে করতেন পাকিস্তানের কাঠামোয় বাঙালির জাতিসত্তার বিকাশ সম্ভব নয়।
- এই সংগঠনটি ছিল 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' নামে পরিচিত।
- সংগঠনের নেতৃত্ব দেন সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক এবং কাজী আরেফ আহমেদ।

উল্লেখ্য,
-পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে দুটি মতাদর্শ বিদ্যমান ছিল—
১. মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে নিজস্ব রাজনৈতিক ধারা।
২. মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রতি ঝোঁক।
- সাম্রাজ্যবাদবিরোধী তিন ছাত্রনেতা ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের ভেতরে গোপন সংগঠন 'স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ' গঠন করেন।
- এই সংগঠন পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশের 'নিউক্লিয়াস' হিসেবে পরিচিতি পায়।

তথ্যসূত্র: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো নিউজ।
১১,০৪৬.
ভাষা আন্দোলনের সূচনার সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত সংগঠন -
  1. ছাত্রলীগ
  2. গণতান্ত্রিক যুবলীগ
  3. তমদ্দুন মজলিস
  4. পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিস:
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়ন বিজ্ঞানের অধ্যাপকদ্বয় আবুল কাসেম ও নুরুল হক ভূঁইয়া ধূমায়িত অসন্তোষকে সাংগঠনিক রূপদানের প্রচেষ্টায় ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিস গঠন করেন। নবগঠিত তমদ্দুন মজলিসই ভাষা আন্দোলনের গোড়াপত্তন করে।
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রশ্নটিকে অধ্যাপক আবুল কাসেম তার দিবারাত্রির স্বপ্ন করে তুলেছিলেন। ভাষা আন্দোলনের নির্ভীক মুখপত্র সাপ্তাহিক সৈনিকেরও তিনি প্রতিষ্ঠাতা।
- ‘তমদ্দুন মজলিসের প্রথম গঠনতন্ত্র রচিত হয়েছিল ১৯৪৮ সালে, আর তা ছাপা হয় ১৯৫০ সালে। এরপর ১৯৫২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তখনকার কেন্দ্রীয় পরিষদের কয়েকটি বৈঠকে মূল গঠনতন্ত্রের কয়েকটি ধারা সংশোধিত হয়। বিভিন্ন সময়ে সংশোধিত এ গঠনতন্ত্র প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে।
- তমদ্দুন মজলিসের প্রথম গঠনতন্ত্রে চারটি উদ্দেশ্যের কথা বলা হয়। ক) কুসংস্কার গতানুগতিকতা ও প্রতিক্রিয়াশীলতা দূর করে সুস্থ ও সুন্দর তমদ্দুন গড়ে তোলা। খ) যুক্তিবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত সর্বাঙ্গ সুন্দর ধর্মভিত্তিক সাম্যবাদের দিকে মানবসমাজকে এগিয়ে নেয়া। গ) মানবিক মূল্যবোধের ওপর সাহিত্য ও শিল্পের মারফত নতুন সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা এবং ঘ) নিখুঁত চরিত্র গঠন করে গণজীবনের উন্নয়নে সহায়তা করা।
- তমদ্দুন মজলিস গঠন সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর আহ্বায়ক ও তমদ্দুন মজলিসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শামসুল আলম বলেন, ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর এ দেশের সাহিত্য-সংস্কৃতির অঙ্গনে তমদ্দুন মজলিস ছিল একটি চমকে দেয়া বিপ্লবী নাম। ভাষা আন্দোলনে তমদ্দুন মজলিস এবং এর মুখপত্র সৈনিকের এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে।
- ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাসেমের উদ্যোগে সাপ্তাহিক সৈনিকের যাত্রা হয়। এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট কথাশিল্পী শাহেদ আলী। অন্যতম সম্পাদক ছিলেন এনামুল হক। সৈনিক একই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ, পুঁজিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কলম যুদ্ধ চালাত। সাপ্তাহিক সৈনিক বিভিন্ন সময়ে যেসব বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে তাতেও সৈনিকের আদর্শ সম্পর্কে একটা বক্তব্য উঠে আসত। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া। 
ii) বণিকবার্তা। 

১১,০৪৭.
বাংলাদেশে বাস নেই এমন উপজাতির নাম -
  1. হুদি
  2. হুনজা
  3. মাহাতো
  4. বানাই
ব্যাখ্যা
- হুনজা পাকিস্তানের একটি উপজাতি 
- বাংলাদেশে মোট ৫০ টি উপজাতি রয়ছে।

- ২৩ শে র্মাচ ২০১৯ বাংলাদেশ সরকার ৫০ টি উপজাতির নাম উল্লখে করে গেজেট প্রকাশ করে।
- উপজাতিসমূহ হল: 
ওরাওঁ, কোচ, কোল, কন্দ, কড়া, খারিয়া/খাড়িয়া, খারওয়ার/খাড়োয়ার, খাসিয়া, খিয়াং, খুমি, গারো, গঞ্জু, গড়াইত,
গুর্খা, চাক, চাকমা, ডালু, তঞ্চঙ্গা, ত্রিপুরা, তেলী, তুরী, মালপাহাড়ি, পাংখোয়া, পাত্র, বাগদি, বানাই, বাড়াইক, বেদিয়া,
বম, বর্মণ, ভিল, ভূমিজ, ভূঁইমালি, মণিপুরী, মারমা, মুন্ডা, ম্রৌ, মাহাতো, মালো, মাহালী, মুসহর, রাখাইন, রাজোয়ার,
লোহার, লুসাই, শবর, সাঁওতাল, হুদি, হো এবং হাজং।

সূত্র: বাংলাদেশ সরকারি গেজেট, ২৩ মার্চ ২০১৯),  ব্রিটানিকা।
১১,০৪৮.
বাংলাদেশে ফসল উৎপাদনের ‘খরিপ-২’ মৌসুম কোনটি?
  1. ক) বৈশাখ থেকে জ্যৈষ্ঠ
  2. খ) আষাঢ় থেকে ভাদ্র
  3. গ) চৈত্র থেকে জ্যৈষ্ঠ
  4. ঘ) আশ্বিন থেকে ফাল্গুন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ফসল উৎপাদনের জন্য জলবায়ুর ভিত্তিতে সারা বছরকে প্রধান দুটি মৌসুম যথা—রবি মৌসুম ও খরিপ মৌসুম হিসেবে ভাগ করা হয়েছে।
এই দুই মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের ফসল জন্মে। 
সাধারণত আশ্বিন থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত সময়কালকে রবি মৌসুম বলে।
রবি শস্য মূলত শীতকালীন শস্য বা ফসল হিসেবে পরিচিত। 
 
খরিপ মৌসুমকে দুইভাগে ভাগ করা হয়।
খরিপ- ১: চৈত্র মাস থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-১ মৌসুম বা গ্রীষ্মকাল বলা হয়।
খরিপ-২ঃ আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাস পর্যন্ত সময়কে খরিপ-২ মৌসুম বা বর্ষাকাল বলা হয়।

[সূত্রঃ কৃষিশিক্ষা, ৭ম শ্রেণি]
১১,০৪৯.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  2. মজনু শাহ্
  3. মুহাম্মদ মুহসীনউদ্দীন দুদু
  4. মীর কাসিম
ব্যাখ্যা
• ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।

• ফরায়েজি আন্দোলন:
হাজী শরীয়তউল্লাহ  দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন। দেশে ফিরে তিনি বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তাদের মধ্যে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার প্রবেশ করেছে। ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার আর অনাচারমুক্ত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হন। এই প্রতিজ্ঞার বশবর্তী হয়ে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে তিনি এক ধর্মীয়-সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। হাজী শরীয়তউল্লাহর এই ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের নামই 'ফরায়েজি আন্দোলন'।

• হাজী শরীয়তউল্লাহ :
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ।
- তিনি বাংলার একজন ইসলামি সংস্কারক।
- বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলার শাসশাইল গ্রামে ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর নামানুসারে শরিয়তপুর জেলার নামকরণ করা হয়েছে।
- তিনি দীর্ঘ বিশ বছর মক্কায় অবস্থান করেন। সেখানে তিনি ইসলাম ধর্মের ওপর লেখাপড়া করে অগাধ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ শ্রেণি।
১১,০৫০.
বাংলাদেশের কৃষিতে ‘অনুপম’ কোন ফসলের জাত?
  1. ক) কলা
  2. খ) আম
  3. গ) গম
  4. ঘ) টমেটো
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে চাষকৃত কলার জাত:
১. খাটো জাত -- সিঙ্গাপুরী, কাবুলী, মেহের সাগর (জয়েন্ট গর্ভারনার)
২. মাঝারি আকার -- অমৃত সাগর, সবরি, অনুপম, মালভোগ, মর্তমান, চাঁপা, অগ্নিশ্বর, কবরী
৩. লম্বাকৃতির জাত -- কাঁঠালি, আনাজি

উল্লেখ্য, হিম সাগর - আমের জাত।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) ওয়েবসাইট।
১১,০৫১.
স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয়েছিল -
  1. ক) ৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  2. খ) ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  3. গ) ১৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে
  4. ঘ) ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে
ব্যাখ্যা
• পতাকা:
- প্রথম পতাকা উত্তোলন ২ মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্র জনতার সমাবেশে তৎকালীন ঢাকসুর ভিপি আ.স.ম আব্দুর রব স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা প্রথম উত্তোলন করেছিল।
- গৃহীত হয় ৬ মার্চ।
- সংবিধানের ৪ নং অনুচ্ছেদের জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে।
- ২রা মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিবস।
- প্রথম নকশাকার – শিব নারায়ণ দাস (৬ জুন ১৯৭০)
- প্রথম আনুষ্ঠানিক উত্তোলন – ২৩ মার্চ ১৯৭১, বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে এবং একই দিনে সারা বাংলাদেশে।
- বাংলাদেশের বাহিরে প্রথম উত্তোলন – কলকাতাস্থ পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনারে।
- জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত – ১০:৬ (৫:৩)।

উৎস: স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস
১১,০৫২.
মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চীফ অব স্টাফ কে ছিলেন?
  1. কর্নেল এম.এ.জি ওসমানী
  2. লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম.এ রব
  3. গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকার
  4. মেজর জিয়াউর রহমান
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানি সৈন্যদের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার অদম্য বাসনায় ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও রাজনৈতিক কর্মীরা মুক্তিবাহিনীতে যোগদান করে যুদ্ধের কৌশল, অস্ত্র চালনা ও বিস্ফোরক সম্পর্কে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
- প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বিভিন্ন সেক্টরে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিয়োজিত করা হয়।
- কলকাতার ৮ নং থিয়েটার রোডে বাংলাদেশ বাহিনীর সদরদপ্তর স্থাপিত হয়।
- ১২ এপ্রিল থেকে এই সদরদপ্তর কার্যক্রম শুরু করে।
- লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম.এ রব এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ.কে খন্দকারকে যথাক্রমে চীফ অব স্টাফ এবং ডেপুটি চীফ অব স্টাফ নিয়োগ করা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৫৩.
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় ১৭৯৩ সালের--
  1. ক) ২৫শে মার্চ
  2. খ) ২২শে মার্চ
  3. গ) ২৭শে মার্চ
  4. ঘ) ২৩শে মার্চ
ব্যাখ্যা
• ১৭৮৬ সালে লর্ড কর্নওয়ালিসকে ভারতের গভর্নর জেনারেল ও সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেয়ার পর তিনি ১৭৯৩ সালে ২২শে মার্চ চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন।
• ঐ বছর ২২শে মার্চ নির্দিষ্ট রাজস্ব পরিশোধের বিনিময়ে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার জমিদারদের নিজ নিজ জমির ওপর স্থায়ী মালিকানা দান করে যে বন্দোবস্ত চালু করা হয়, তাকেই ‘চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত’ বলা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১১,০৫৪.
উপমহাদেশে রেল যোগাযোগ চালু হয় কত সালে?
  1. ১৮৫৩ সালে
  2. ১৮৫৬ সালে
  3. ১৮২২ সালে
  4. ১৮৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
লর্ড ডালহৌসি:
-উপমহাদেশে ইংরেজ শাসকদের মাঝে সব চেয়ে সাম্রাজ্যবাদী ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।
- তিনি ১৮৫৩ সালে উপমহাদেশে রেল যোগাযোগ চালু করেন।
- তিনি ১৮৫৬ সালে বিধবা আইন পাস করেন।
- তিনি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করেন।
- ১৮৫০ সালে তিনি কলকাতা থেকে ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত টেলিগ্রাফ লাইন স্থাপন করেন।
উল্লেখ্য :
- বাংলাদেশে দর্শনা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রথম রেল লাইন স্থাপন করা হয়-১৮৬২ সালে।
- বিশ্বের প্রথম রেল লাইন স্থাপিত হয়- লন্ডনে।

উৎস: ইতিহাস,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
১১,০৫৫.
চলতি অর্থবছরের বাজেটে অনুমিত মুদ্রাস্ফিতির হার -
  1. ক) ৫.৩ শতাংশ
  2. খ) ৫.৬ শতাংশ
  3. গ) ৬.৫ শতাংশ
  4. ঘ) ৭.২ শতাংশ
ব্যাখ্যা
• ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের বাজেটে অনুমিত মুদ্রাস্ফিতির হার - ৫.৬%। 
• ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটে অনুমিত গড় মূল্যস্ফিতি ছিল ৫.৩ শতাংশ। 

তথ্যসূত্র: অর্থ বিভাগ ওয়েবসাইট। 
১১,০৫৬.
'Election Monitoring' করে থাকে—
  1. রাজনৈতিক দল
  2. বিরোধী দল
  3. সুশীল সমাজ
  4. মন্ত্রিসভা
ব্যাখ্যা
- 'Election Monitoring' করে থাকে সুশীল সমাজ। 
- ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ (EWG) হল ২৯ সদস্যের একটি নির্দলীয় জাতীয় সুশীল (নাগরিক) সমাজের সংগঠনের জোট যারা বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সুশাসনের প্রতি একটি সাধারণ প্রতিশ্রুতি ভাগ করে নেয়।
- এটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং
(i) নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ;
(ii) নির্বাচনী বিষয় এবং সংস্কারের উপর সমর্থন; এবং,
(iii) সমাজের সকল অংশকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে এবং নির্বাচনী সংস্কারের উপর জনসাধারণের সংলাপ প্রচারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে নাগরিক ও ভোটার শিক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনকে সমর্থন করার জন্য কাজ করে আসছে।

- EWG কার্যক্রম প্রার্থী এবং নির্বাচিত কর্মকর্তাদের মধ্যে বৃহত্তর জবাবদিহিতা এবং সততা বৃদ্ধি করে, এটি নারী, যুব এবং অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে আরও উৎসাহিত করে।
- কার্যক্রমের লক্ষ্য নির্বাচন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঝুঁকি হ্রাস করা।

উৎস: Election Working Group (EWG), Bangladesh
১১,০৫৭.
ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হন কোন শিক্ষক?
  1. ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব
  2. ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা
  3. ড. শামসুজ্জোহা
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা

◉ ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. শামসুজ্জোহা। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের ওপর সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ ঠেকাতে তিনি সামনে এগিয়ে যান এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে শহিদ হন।

অন্যদিকে,
- ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব, ড. জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা এবং মুনীর চৌধুরী—তিনজনই ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহিদ হন। তাঁদের মৃত্যু বাঙালি জাতির জন্য গভীর শোকের বিষয় হলেও, তা গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে নয়। তাই প্রশ্নের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে ড. শামসুজ্জোহাই সঠিক উত্তর

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান:
- আইয়ুব সরকারের নিপীড়নের প্রতিবাদে ২০ জানুয়ারি, ১৯৬৯ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রসভা ও প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। এ মিছিলে পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা আসাদউজ্জামান নিহত হলে গণজাগরণ রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানের।
- শহিদ আসাদ ছিলো ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ।
- ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে সংগ্রামী জনতা সান্ধ্য আইন উপেক্ষা করে মিছিল বের হরে। সেখানে পুলিশের গুলিতে নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর এবং ছুরিকাঘাতে রুস্তম নিহত হন।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি সার্জেন্ট জহুরুল হক এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি রাবির ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন।
- এর ফলে সৃষ্টি হওয়া তীব্র জনরোষে আইয়ুব সরকার ২২ ফেব্রুয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সহ  সকল আসামিকে মুক্তি বাধ্য হয়।
- এই আন্দোলনের চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে আইয়ুব সরকারের পতন ঘটে এবং আইয়ুব খান ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক। বাংলাপিডিয়া।

১১,০৫৮.
মুক্তিযুদ্ধকালে বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সর্বশেষ শহীন হন কে?
  1. ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর
  2. সিপাহী হামিদুর রহমান
  3. ল্যান্স নায়েক মুন্সী আব্দুর রউফ
  4. সিপাহী মোস্তফা কামাল
ব্যাখ্যা

• বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর:
- ১৯৪৯ সালে বরিশাল জেলায় জন্ম।
- বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ৭ নং সেক্টরে যুদ্ধরত অবস্থায় বিজয়ের মাত্র ২ দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হন।
- বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে তিনি সর্বশেষ শহীদ হন।
- চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছোট সোনমসজিদ প্রাঙ্গনে তার সমাধি রয়েছে।

অন্যদিকে,
- মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে প্রথম শহিদ হন বীরশ্রেষ্ট্র আব্দুর রউফ।
- মুক্তিযুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সিপাহী হামিদুর রহমান সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১১,০৫৯.
রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা কত?
  1. ১২০০ মেগাওয়াট
  2. ১৩২০ মেগাওয়াট
  3. ৪০০০ মেগাওয়াট
  4. ১৪০০ মেগাওয়াট
ব্যাখ্যা
রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র: 
- রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার রামপালে অবস্থিত।
- এটি একটি কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা: বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (প্রাঃ) লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)।
- প্রকল্পের ক্ষমতা: ১,৩২০ (২×৬৬০) মেগাওয়াট ক্ষমতা (সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি)।
- প্রকল্প ব্যয়: ১৬,০০০ কোটি টাকা।

উৎস: বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
১১,০৬০.
বাংলাদেশের একমাত্র কিশোর সংশোধন প্রতিষ্ঠানটি কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) যশোর
  2. খ) গাজীপুর
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) কোনাবাড়ি
ব্যাখ্যা
কিশোর সংশোধন প্রতিষ্ঠান:

- বাংলাদেশের একমাত্র কিশোর সংশোধন প্রতিষ্ঠানটি গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের অস্ত্র কারখানাও গাজীপুরে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - গাজীপুর জেলার ওয়েবসাইট।
১১,০৬১.
বীমা কোম্পানিগুলাে জাতীয়করণ করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
বীমা প্রতিষ্ঠান:
- বীমা হচ্ছে একজনের ঝুঁকিকে অনেকের কাঁধে বিস্তৃত করার একটি বৈধ ব্যবস্থা।
- ১৯৪৭-১৯৭১ সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে বীমা ব্যবসা ভাল অবস্থায় ছিল।
- এ সময় ৪৯টি জীবন ও সাধারণ বীমা কোম্পানি ব্যবসায় পরিচালনা করত।

⇒ বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর ৯৫ দ্বারা বীমা শিল্পকে জাতীয়করণ করে।
- এই আদেশবলে প্রতিরক্ষা, ডাক জীবন বীমা এবং বিদেশি জীবন বীমা কোম্পানিসমূহ ব্যতীত এদেশে ব্যবসারত সকল বীমা কোম্পানি ও সংস্থাকে সরকারি খাতের ৫টি কর্পোরেশনের অধীনে ন্যস্ত করা হয়।
- এগুলি হচ্ছে জাতীয় বীমা কর্পোরেশন, তিস্তা বীমা কর্পোরেশন, কর্ণফুলি বীমা কর্পোরেশন, রূপসা জীবন বীমা কর্পোরেশন এবং সুরমা জীবন বীমা কর্পোরেশন।

⇒ বাংলাদেশের বীমা কোম্পানিগুলি বীমা আইন-১৯৭৩ এর অধীনে কাজ করে।
- ১৯৭৩ সালের ১৪ মে বীমা কর্পোরেশন আইন ১৯৭৩-এর আওতায় বীমা শিল্পে অবকাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়।
- এই আইনের আওতায় ৫টি কর্পোরেশনের স্থলে ২টি কর্পোরেশন স্থাপন করা হয়।
- একটি হচ্ছে সাধারণ বীমা ব্যবসায়ের জন্য সাধারণ বীমা কর্পোরেশন, এবং অন্যটি জীবন বীমা ব্যবসায়ের জন্য জীবন বীমা কর্পোরেশন।
- এগুলা অর্থ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন।

উৎস: i) সাধারণ বীমা কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
ii) জীবন বীমা কর্পোরেশন ওয়েবসাইট।
১১,০৬২.
এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় আমানতে বর্তমানে শীর্ষে রয়েছে কোন ব্যাংক?
  1. ডাচ বাংলা ব্যাংক
  2. ইসলামী ব্যাংক
  3. ইউসিবি ব্যাংক
  4. আইএফআইসি ব্যাংক
ব্যাখ্যা
এজেন্ট ব্যাংকিং:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে ব্যাংকের প্রতিনিধি হয়ে যে সব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা জনগণকে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করছে তারাই ব্যাংকের এজেন্ট।
- এসব এজেন্ট এর মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে সাশ্রয়ীমূল্যে ব্যাংকিং সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।
- মূলতঃ এটাই এজেন্ট ব্যাংকিং।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা–সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করে।
- দেশে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া।
- দেশজুড়ে ২১ হাজার কেন্দ্রের মাধ্যমে দেওয়া এই সেবা জনপ্রিয়তা পেয়েছে। 
- এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় বর্তমানে আমানতে শীর্ষে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক।
- এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় বর্তমানে ঋণে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।
- এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় বর্তমানে হিসাবে শীর্ষে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া।
- এজেন্ট ব্যাংকিং সেবায় বর্তমানে আউটলেটে শীর্ষে রয়েছে ডাচ-বাংলা ব্যাংক।

অন্যদিকে -
- বিশ্বের প্রথম এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা চালু হয়েছিল ব্রাজিলে। 

উৎস: i) বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।
         ii) ১৭ জানুয়ারী ২০২৪, প্রথম আলো। [link]
১১,০৬৩.
'আওয়ামী মুসলিম লীগ' থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে 'আওয়ামী লীগ' করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৪৯ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫৫ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ:
- ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম।
- পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ করা হয়।
- মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং শামসুল হক ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
- ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমান দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন।
- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালে আওয়ামী লীগ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা ও শোষণমুক্তি এ চারটি মূলনীতির উপর দলটি পরিচালিত হচ্ছে।
- স্বাধীনতার পর থেকে দেশ পুনর্গঠন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটি অনবদ্য অবদান রেখেছে।
- ১৯৮১ সাল থেকে শেখ হাসিনা দলটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৬৪.
'সোহরাই' কোন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জাতীয় উৎসব?
  1. সাঁওতাল
  2. চাকমা
  3. গারো
  4. মারমা
  5. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চলে।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।
- সাঁওতালদের প্রধান উপাস্য যদিও সূর্য, পর্বত দেবতা (মারাং বুরু) তাদের জন্য যথেষ্ট মর্যাদাব্যঞ্জক হয়ে গ্রামদেবতায় পরিণত হয়েছে।
- তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব।
- সোহরাই উৎসব সাঁওতালদের একপ্রকার জাতীয় উৎসব।
- যা পৌষ সংক্রান্তির দিন অত্যন্ত জাঁকজমকের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
- সাঁওতাল সমাজে পুরুষের আধিপত্য অপেক্ষাকৃত বেশি।
- সাঁওতালদের ভাষা আছে কিন্তু লেখ্য বর্ণমালা নেই, তেমনি তাদের ধর্ম আছে কিন্তু কোন আনুশাসনিক ধর্মগ্রন্থ নেই।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।

১১,০৬৫.
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয় কবে?
  1. ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ০১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  3. ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  4. ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫:
- গুমের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রেখে ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয়।
- গুম একটি চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে অধ্যাদেশে।
- অধ্যাদেশে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে।
- এই অধ্যাদেশের অধীনে অপরাধ জামিন ও আপস অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
- এ ছাড়া গুমের আদেশ বা অনুমতি দেওয়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সমান সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫।

১১,০৬৬.
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুসারে, কোনো আসনে নির্ধারিত কত শতাংশ ভোট না পড়লে সংশ্লিষ্ট আসনে পুনরায় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে?  
  1. ৩৫ শতাংশ
  2. ৪০ শতাংশ
  3. ৪৫ শতাংশ
  4. ৪৮ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন:
- গঠন:  ৩ অক্টোবর; ২০২৪ সাল। 
- প্রধান: ড. বদিউল আলম মজুমদার

• প্রধান সুপারিশসমূহ:  
১) নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও গঠন:
- নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠন (রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত)
- কমিশনের আর্থিক, প্রশাসনিক ও কর্মী নিয়োগের স্বাধীনতা নিশ্চিত।
- রিটার্নিং অফিসার হিসেবে জেলা প্রশাসকের পরিবর্তে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা নিয়োগ।

২) ভোটার তালিকা ও যাচাই:
- সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও বায়োমেট্রিক-ভিত্তিক ভোটার তালিকা।
- নিয়মিত আপডেট, মৃত বা ভুয়া ভোটার অপসারণ।
- ভোটার যাচাইয়ে কঠোর ব্যবস্থা।

৩) নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা:
- 'না' ভোট (No Vote) বিধান পুনঃপ্রবর্তন।
- কোনো আসনে ৪০% ভোট না পড়লে নির্বাচন বাতিল ও পুনর্নির্বাচন।
- প্রার্থীদের হলফনামা, সম্পদ বিবরণী ও দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক

৪) তত্ত্বাবধায়ক সরকার: নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা।

৫) প্রবাসী পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা। 


 তথ্যসূত্র: নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন ও বিবিসি। 

১১,০৬৭.
প্রাচীন বাংলার ‘বঙ্গ’ বর্তমান কোন অঞ্চল নিয়ে গঠিত?
  1. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  2. ফরিদপুর ও পটুয়াখালি
  3. সিলেট ও চট্টগ্রাম
  4. রাজশাহী ও দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
•  ’বঙ্গ’ একটি অতি প্রাচীন জনপদ।
- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করতো।
- তাই এ জনপদটি পরিচিত 'বঙ্গ' নামে।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়-একটি বিক্রমপুর ও আরেকটি নাব্য।
- ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালির নিচু জলাভূমি এ নব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। 

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১১,০৬৮.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে 'ফ্লোর ক্রসিং' সম্পর্কে বলা হয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ-২৯
  2. অনুচ্ছেদ-৪৭
  3. অনুচ্ছেদ-৫২
  4. অনুচ্ছেদ-৭০
ব্যাখ্যা
ফ্লোর ক্রসিং:
- জাতীয় সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করা বা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কথা বলাকে বলা হয় ফ্লোর ক্রসিং৷
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুসারে কোন ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদে সেই দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান বা সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যায়।

⇒ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি -
(ক) উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহলে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হবার অযোগ্য হবেন না।

অন্যদিকে, 
- অনুচ্ছেদ-২৯: সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা, 
- অনুচ্ছেদ-৪৭: কতিপয় আইনের হেফাজত। 
- অনুচ্ছেদ-৫২: রাষ্ট্রপতির অভিশংসন।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১১,০৬৯.
পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে ১৯৬৮ সালের কত তারিখে?
  1. ১ জানুয়ারি
  2. ৩ জানুয়ারি
  3. ৮ জানুয়ারি
  4. ১০ জানুয়ারি
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৮ সালের ৩ জানুয়ারি পাকিস্তান সরকার আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দাযের করে।
- ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে এই মামলায় অভিযুক্ত করা হয়।
- এই মামলায় প্রধান আসামী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ মোট আসামী ছিলো ৩৫ জন।
- ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ১৯ জুন কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই মামলার বিচারকার্য শুরু হয়।
- এই মামলার অন্যতম আসামী সার্জেন্ট জহুরুল হককে ১৫ ফেব্রুযারি ১৯৬৯ ঢাকা সেনানিবাসে বন্দি অবস্থায় গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এতে আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে।
- যার কারণে আইয়ুব খান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রয়ারি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধু সহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তিদানে বাধ্য হয়।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা: নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 
১১,০৭০.
বঙ্গবন্ধু কবে পূর্ব পাকিস্তানের নাম ‘বাংলাদেশ’ রাখেন?
  1. ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯
  2. ২৩ মার্চ ১৯৬৯
  3. ৫ ডিসেম্বর ১৯৬৯
  4. ২ মার্চ ১৯৭১
ব্যাখ্যা
- ১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিক উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তান ভূখণ্ডের নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’।
(সূত্র: অসমাপ্ত আত্মজীবনী)
১১,০৭১.
হরিকেল জনপদ কোন কোন জেলায় বিস্তৃত ছিল?
  1. কুমিল্লা ও নোয়াখালী
  2. সিলেট ও চট্টগ্রাম
  3. নোয়াখালী ও বরিশাল
  4. ঢাকা ও বগুড়া
ব্যাখ্যা

হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১,০৭২.
ঐতিহাসিক ছয় দফার প্রথম দফা ছিলো কোনটি?
  1. ক) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌
  2. খ) মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা
  3. গ) কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা
  4. ঘ) বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা
ব্যাখ্যা
• ছয় দফা আন্দোলনের পটভূমি:
- ‘পাকিস্তান’ রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে।
- লাহোর প্রস্তাবে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের কথা বলা হলেও পাকিস্তানে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই পূর্ব বাংলার জনগণের উপর শুরু হয় পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতন।
- ফলে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক বৈষম্য পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে প্রকট আকার ধারণ করে।
- পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠীর অপশাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে।
- ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হলে পূর্ব পাকিস্তান সম্পূর্ণ অরক্ষিত হয়ে পড়ে।
- সামরিক দিক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের অসহায় অবস্থা এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য থেকে মুক্তির লক্ষে শুরু হয় স্বাধিকারের আন্দোলন।
- শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এ আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

- ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলের এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
- উক্ত সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ‘ছয় দফা' কর্মসূচি পেশ করেন।
- এরপর তিনি জনমত সৃষ্টি করতে ছয় দফা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন।
- ছয় দফা কর্মসূচিকে তিনি ‘পূর্ব বাংলার বাঁচার দাবি’ বলে অভিহিত করেন।

• দফা গুলো হলো:
- প্রথম দফা: প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন‌।
- দ্বিতীয় দফা: কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা,
- তৃতীয় দফা: মুদ্রা বা অর্থ-সম্বন্ধীয় ক্ষমতা, 
- চতুর্থ দফা: রাজস্ব, কর বা শুল্ক সম্বন্ধীয় ক্ষমতা, 
- পঞ্চম দফা: বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক ক্ষমতা এবং 
- ষষ্ঠ দফা: আঞ্চলিক সেনাবাহিনী গঠনের ক্ষমতা। 

সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৭৩.
সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিল -
  1. ৩১ জন
  2. ৩৪ জন
  3. ৩৭ জন
  4. ৩৯ জন
ব্যাখ্যা

সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য:
- ১১ এপ্রিল, ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
- এই কমিটির মোট সদস্য ছিল ৩৪ জন।
- আওয়ামী লীগ ছাড়া একমাত্র সদস্য ছিলেন ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
- এই কমিটির প্রধান বা সভাপতি ছিলেন ড. কামাল হোসেন।
- সংবিধান রচনা কমিটির একমাত্র মহিলা সদস্য ছিলেন বেগম রাজিয়া বানু।

তথ্যসূত্র- বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১১,০৭৪.
নিচের কোন জন ভাষা শহীদ নন?
  1. ক) আবুল বরকত
  2. খ) মতিউর রহমান
  3. গ) আব্দুস সালাম
  4. ঘ) আব্দুল জব্বার
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে ছাত্ররা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ, শফিউর রহমান এবং আব্দুল জব্বার সহ আরো অনেকে শহিদ হন।
অন্যদিকে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেন। এছাড়া ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে মতিউর নামে নবম শ্রেণীর একছাত্র শহিদ হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১১,০৭৫.
দেশের কৃষিতে এককভাবে কোন সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি?
  1. ইউরিয়া সার
  2. টিএসপি সার
  3. ডিএপি সার
  4. ডিএসপি সার
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে উৎপাদিত রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া সার প্রধান।
- এছাড়া অন্যান্য সারের মধ্যে টিএসপি ও ডিএপি উল্লেখযোগ্য।
- বিসিআইসি’র উৎপাদিত পণ্যের ৮০ শতাংশই বিভিন্ন রাসায়নিক সার, যার মধ্যে ৭০ শতাংশ ইউরিয়া সার এবং ১০ শতাংশ 
- কৃষি জমিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সারগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবহৃত সার - ইউরিয়া সার; পরিমাণ - ২,৪৫০ হাজার/২৪.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন
- দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যবহৃত সার - ডিএপি (DAP); পরিমাণ – ১,৩০০.০০ হাজার/১৩.০০ লক্ষ মেট্রিক টন।

উৎস: বিসিআইসি ওয়েবসাইট।
১১,০৭৬.
বাংলাদেশ ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে -
  1. ১৯৭২ সালে
  2. ১৯৭৩ সালে
  3. ১৯৭৪ সালে
  4. ১৯৭৫ সালে
ব্যাখ্যা
OIC:
- OIC-এর পূর্ণরূপ: The Organisation of Islamic Cooperation.
- এটি একটি ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা।
- এটি মুসলিম দেশগুলোর একটি রাজনৈতিক জোট।
- গঠিত হয়: ২৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯, মরক্কোতে অনুষ্ঠিত রাবাত সম্মেলনের মাধ্যমে।
- ইসরাইল কর্তৃক আল আকসা মসজিদে অগ্নিসংযোগের প্রেক্ষাপটে OIC গঠিত হয়।
- প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়: রাবাত, মরক্কো (১৯৬৯ সালে)।

⇒ প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ২৪টি।
- বর্তমান সদস্য: ৫৭টি।
- সদরদপ্তর: জেদ্দা, সৌদি আরব।
- বর্তমান মহাসচিব: ইব্রাহিম তাহা।
- এর অফিসিয়াল ভাষা: আরবি, ইংরেজি এবং ফরাসি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ OIC-এর সদস্যপদ লাভ করে ১৯৭৪ সালে। 

উৎস: OIC ওয়েবসাইট।
১১,০৭৭.
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই এলাকায় অবস্থিত উপত্যকা বা ভ্যালি কোনটি?
  1. ক) হালদা ভ্যালি
  2. খ) ভেঙ্গি ভ্যালি
  3. গ) সাঙ্গু ভ্যালি
  4. ঘ) বালিশিরা ভ্যালি
ব্যাখ্যা
- কাপ্তাই থেকে প্লাবিত উপত্যকা বা ভ্যালি 'ভেঙ্গি ভ্যালি' নামে পরিচিত। 
- এই 'ভেঙ্গি ভ্যালি' রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত। 

অন্যদিকে,
- হালদা ভ্যালি: খাগড়াছড়ি
- সাজেক ভ্যালি: রাঙামাটি
- বালিশিরা ভ্যালি: মৌলভীবাজার।
- সাঙ্গু ভ্যালি: চট্টগ্রাম
- নাপিত খালি ভ্যালি: কক্সবাজার।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।
১১,০৭৮.
কত সালে খাদ্য মন্ত্রণালয় স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. ২০১৩ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১৪ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ইতিহাস:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ১৯৪৩ সালে অবিভক্ত বাংলায় সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ মোকাবেলার লক্ষ্যে ও খাদ্য সামগ্রী সরবরাহের জন্য ব্রিটিশ ভারতে বেঙ্গল সিভিল সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।
​- এ ডিপার্টমেন্ট প্রধান প্রধান শহরে বিধিবদ্ধ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতঃ দ্রুত উক্ত রেশনিং ব্যবস্থা সম্প্রসারিত করে।
- ​ভারতবর্ষ বিভক্তির পর ১৯৫৫ সালে সিভিল সাপ্লাই ডিপার্টমেন্ট বিলুপ্ত করা হলে এর বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
​- পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১৯৫৬ সালে কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিভিল সাপ্লাই অবয়বে খাদ্য বিভাগ চালু করা হয়।
- ​বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- পরবর্তীতে এ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সময়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্য বিভাগ ইত্যাদি নামে পরিচালিত হতে থাকে। 
​- সর্বশেষ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১২ খ্রিঃ তারিখের ০৪.৪২৩.০২২.০২.০১.০০২. ২০১২.৯৬ নং পত্র সংখ্যা দ্বারা খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে পুনর্গঠিত করে (১) খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং (২) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নামে ২টি মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হলে খাদ্য মন্ত্রণালয় স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 

​উৎস: খাদ্য মন্ত্রণালয় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১১,০৭৯.
সরকারের আয়ের প্রধান উৎস কোনটি?
  1. ক) আয়কর
  2. খ) সম্পূরক শুল্ক
  3. গ) আমদানি শুল্ক
  4. ঘ) মূল্য সংযোজন কর
ব্যাখ্যা
২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেটের মোট আকার ৬,০৩,৬৮১ কোটি টাকা।
বাজেটের অর্থসংস্থান:
- এনবিআর কর রাজস্ব : ৫৪.৭ শতাংশ
- অভ্যন্তরীণ ঋণ : ১৮.৮ শতাংশ
- বৈদেশিক ঋণ : ১৬.২ শতাংশ
- কর বহির্ভূত রাজস্ব : ৭.১ শতাংশ
- এনবিআর বহির্ভূত কর রাজস্ব : ২.৬ শতাংশ
- বৈদেশিক অনুদান : ০.৬ শতাংশ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়ের উৎস সমূহ:
- প্রথম : মূ্ল্য সংযোজন কর (৩৮.৭ শতাংশ)
- দ্বিতীয় : আয়কর (৩১.৮ শতাংশ)
- তৃতীয় : সম্পূরক শুল্ক (১৬.৫ শতাংশ)
- চতুর্থ : আমদানি শুল্ক (১১.৫ শতাংশ)
- অন্যান্য : ১.৫ শতাংশ।

(তথ্যসূত্রঃ অর্থবিভাগ ওয়েবসাইট)
১১,০৮০.
শরীফ শিক্ষা কমিশন কত সালে গঠিত হয়?
  1. ১৯৫৮ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা

শরীফ শিক্ষা কমিশন:
- ঔপনিবেশিক আমলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও পূর্ণগঠনের যথাযোগ্য পন্থা সুপারিশ করার জন্য ১৯৫৮ সালে ৩০শে ডিসেম্বর জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন করা হয়।
- এস.এম শরীফকে এ জাতীয় শিক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করা হয়।
- তাঁর নামানুসারে এ কমিশন শরীফ কমিশন নামেও পরিচিত।
- এ কমিশন ১৯৫৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সরকারের নিকট রিপোর্ট পেশ করেন।
- তবে শিক্ষা সম্পর্কে শরীফ কমিশনের প্রতিবেদন ১৯৬২ সালের সবার সামনে প্রকাশিত হলে প্রতিবাদের ঝড় উঠে।
- ভাষা আন্দোলনের বিয়োগান্তক স্মৃতি যখন এদেশবাসীর মনে তখনও উজ্জ্বল-ঠিক তখন 'উর্দুকে জনগণের ভাষায় পরিণত করার প্রস্তাব করে।
- আরবি এবং পরে রোমান বর্ণমালায় বা হরফে লিপিবদ্ধ করার প্রস্তাব বাঙালি জনগণ মেনে নিতে পারেনি।
- ছাত্র-শিক্ষক- বুদ্ধিজীবী-তথা সমগ্র বাঙালি জনগণই শরীফ কমিশনের সুপারিশ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,০৮১.
‘মনপুরা-৭০’ চিত্রকর্মটি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে আঁকা হয়েছিল?
  1. ১৯৭১ সালের ঘূর্ণিঝড়
  2. ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ
  3. ১৯৭০ সালের জলোচ্ছ্বাস
  4. ১৯৮০ সালের বন্যা
ব্যাখ্যা

মনপুরা ৭০:
- ১৯৭০ সালের ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের প্রেক্ষাপট নিয়ে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা চিত্রকর্ম হলো 'মনপুরা - ৭০'।
- এটি জয়নুল আবেদিনের শিল্পকর্ম।
- আধুনিক যুগে জয়নুল আবেদিন শিল্পচর্চার পথিকৃৎ।
- তাঁর ১৯৪৩-এর বাংলার মন্বন্তর-ভিত্তিক চিত্রমালা তাঁকে ভারতব্যাপী খ্যাতি এনে দেয়।
- দুর্ভিক্ষ ও বিপর্যয়ের স্কেচে, তুলির কালো রেখা থেকে বর্ণপ্রয়োগ ও স্পেস ব্যবহারে নিজস্ব শৈলীতে রূপান্তরিত করেন।

• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাজ:
- ‘বিদ্রোহী’, ‘মই দেওয়া’, ‘সাঁওতাল যুগল’, ‘সংগ্রাম’।
- লোকশৈলীর মটিফে জ্যামিতিক বিন্যাসে: ‘পাইন্যার মা’, ‘প্রসাধন’, ‘গুণটানা’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১,০৮২.
সর্বশেষ কতসালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল? (অক্টোবর-২০২৫)
  1. ২০১৮ সাল
  2. ২০১৫ সাল
  3. ২০১৯ সাল
  4. ২০২১ সাল
ব্যাখ্যা

কৃষি শুমারি:
- স্বাধীনতার পর প্রথম কৃষি শুমারি হয় ১৯৭৭ সালে।
- তার আগে বাংলাদেশ ভূখন্ডে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ১৯৬০ সালে সর্ব প্রথম কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়।
- কৃষি শুমারিতে কৃষির অন্তর্ভুক্ত বিষয় ৩টি।
- যথা: শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ।
- দেশে মোট কৃষিশুমারি হয় ৬টি।
- সর্বশেষ কৃষি শুমারি করা হয় ২০১৯ সালে।
- এই শুমারির স্লোগান ছিল 'কৃষি শুমারি সফল করি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি'।
- বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গাইডলাইন অনুসারে পরিসংখ্যান ব্যুরো কৃষি শুমারি পরিচালনা করে।

উৎস: কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট এবং বিবিএস ওয়েবসাইট।

১১,০৮৩.
কাকে আহবায়ক করে ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়?
  1. ক) অধ্যাপক নুরুল হক ভূইয়া
  2. খ) আবদুল মতিন
  3. গ) কাজী গোলাম মাহবুব
  4. ঘ) অধ্যাপক আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
- ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ সালের ৩১শে জানুয়ারি মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করা হয়।
- এর আহবায়ক মনোনীত হন কাজী গোলাম মাহবুব।
- ২০শে ফেব্রুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগের কার্যালয়ে এই পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবদুল মতিন, অলি আহাদ, গোলাম মাহবুব প্রমুখের জোরালো ভূমিকায় পরদিন ২১শে ফেব্রুয়ারি সরকার ঘোষিত ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন তমুদ্দিন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তমুদ্দিন মজলিসের উদ্যোগে গঠিত প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর আহবায়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হক ভূঞা।
- ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ পুনর্গঠন করা (দ্বিতীয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’) হলে এর আহবায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম।
- ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আমতলার ছাত্রসভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীউল হক।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, বাংলাপিডিয়া এবং ভাষা আন্দোলনে ঢাকা : আহমদ রফিক)
১১,০৮৪.
সম্প্রতি বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্য কোন প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়? [এপ্রিল, ২০২৫]
  1. অ্যামাজন
  2. স্টারলিংক
  3. মেটা
  4. বাইটড্যান্স
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে স্টারলিংক: 
- বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর জন্য স্পেসএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংককে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।

- ২৯ মার্চ, ২০২৫ স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিডা থেকে নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই নিবন্ধনও স্টারলিংককে দেওয়া হয়েছে।
-  গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়।
- সেখানে বাংলাদেশের জন্য স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট–সেবা চালুর সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
- প্রযুক্তি খাতের ব্যক্তিরা বলছেন, স্টারলিংক বাংলাদেশে এলে দুর্গম এলাকায় খুব সহজে উচ্চগতির ইন্টারনেট-সেবা পাওয়া যাবে।
- ফলে ইন্টারনেট-সেবার ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য ঘুচে যাবে।
- গ্রামে বসেই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিংসহ ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ করতে পারবেন তরুণেরা।
- দুর্যোগের পর দ্রুত যোগাযোগ প্রতিস্থাপনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে স্টারলিংক।

উৎস: প্রথম আলো (৬ এপ্রিল ২০২৫)
১১,০৮৫.
'ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী' সংক্রান্ত তফসিল কোনটি?
  1. দ্বিতীয়
  2. তৃতীয়
  3. চতুর্থ
  4. পঞ্চম
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল সংযোজন করা হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানে তফসিল ৭টি। যথা:
- প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন,
- দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত),
- তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা,
- চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানবলী,
- পঞ্চম তফসিল: ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ,
- ষষ্ঠ তফসিল: ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা,
- সপ্তম তফসিল: ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।

১১,০৮৬.
মৌলিক গণতন্ত্রের কয়টি স্তর ছিল?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল। যথা-
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য যে, 
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৮৭.
১৩৩৮ সালে সোনারগাঁও এ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন কে?
  1. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
  3. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  4. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
ব্যাখ্যা

বাংলায় মুসলিম শাসন: 
- ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁওয়ে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন।
- এর আগে বাংলার শাসকরা দিল্লির সুলতানদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত থাকলেও, তিনি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে শাসন শুরু করেন।
- তাঁর শাসনামলের পর থেকে ১৫৩৮ সাল পর্যন্ত বাংলা প্রায় দু'শ বছর স্বাধীন সুলতানি শাসনের অধীনে ছিল।
- এই সময় বাংলায় ইলিয়াস শাহী, হাবশি ও হোসেন শাহী বংশের শাসকগণ শাসন করেছেন।
- তাঁরা সুশাসন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটান, যা বাংলার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
- এজন্য ১৩৩৮ সালকে বাংলার স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা বছর বলা হয়।

সূত্র: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১১,০৮৮.
ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হচ্ছে-
  1. ক) বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত
  2. খ) বিমানবন্দর থেকে যাত্রাবাড়ি পর্যন্ত
  3. গ) খিলক্ষেত থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত
  4. ঘ) কুড়িল থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত
ব্যাখ্যা

এক নজরে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

দৈর্ঘ্য: বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। ২৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৩১টি র‌্যাম্পসহ মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার।

ব্যয়: প্রকল্পের মোট ব্যয় ৮ হাজার ৯৪০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ২ হাজার ৪১৩ কো ৮৪ লাখ টাকা। বাকি টাকা দেবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।
এটি সরকারের First Track প্রকল্পগুলোর একটি। 

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো এবং যুগান্তর।

১১,০৮৯.
বাংলাদেশে নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কে?  [জানুয়ারি, ২০২৬] 
  1. জন স্মিথ
  2. ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন
  3. ডেভিড মিলার 
  4. পিটার জনসন
ব্যাখ্যা

• ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন:
- বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূতের নাম ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন।
- ১৯ ডি‌সেম্বর, ২০২৫ সালে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে অনুমোদন দি‌য়ে‌ছে মার্কিন সিনেট।
- ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পুরো নাম ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। 
- ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। 
- ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। 
- ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তথ্যসূত্র: বণিক বার্তা ও বাংলা ট্রিবিউন। 

১১,০৯০.
বাংলায় মাৎস্যন্যায়ের সময়কাল প্রায় কত বছর স্থায়ী হয়েছিল?
  1. ২৫ বছর
  2. ৫০ বছর
  3. ১০০ বছর 
  4. ২০০ বছর
ব্যাখ্যা

মাৎস্যন্যায়:
- ‘মাৎস্যন্যায়’ বাংলার ৭ম-৮ম শতক সময়কালকে নির্দেশ করে।
- রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর থেকে পাল রাজবংশের অভ্যুদয়ের পূর্ব পর্যন্ত সময়কালকে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের সময়টি ছিল মোটামুটিভাবে ৬৫০-৭৫০ সালের মধ্যকার প্রায় ১০০ বছর।

• সে সময় বাংলার রাজনীতিতে চরম বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে।
- প্রায় সমসাময়িক লিপি, খালিমপুর তাম্রশাসন এবং সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতম কাব্যে পাল বংশের পূর্ববর্তী সময়ের বাংলার নৈরাজ্যকর অবস্থাকে ‘মাৎস্যন্যায়’ বলে উল্লেখ করা হয়।
- বাংলা অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা যখন চরমে, তখন সিংহাসনে বসেন রাজা গোপাল। রাজা গোপালের হাত ধরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে পাল বংশ। রাজা গোপাল সিংহাসনে বসার মাধ্যমে অবসান ঘটে মাৎস্যন্যায়ের। 

উল্লেখ্য,
- সংস্কৃত শব্দ মাৎস্যন্যায়ের আক্ষরিক অর্থ ‘মাছের ন্যায়’।
- মাছেদের জগতে যেমন বড় মাছ ছোট ছোট মাছ খেয়ে ফেলে; তেমনি মানবসমাজে দুর্বলরা সবলদের হাতে, ক্ষমতাহীনরা শোষিত হয় ক্ষমতাবানদের হাতে।
- এভাবে অরাজকতা আর বিশৃঙ্খলা গ্রাস করে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১১,০৯১.
বাংলাদেশের কোন জেলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধিক্ষেত্র রয়েছে?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. চট্টগ্রাম
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
ওয়ার সিমেট্রি:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বার্মায় সংঘটিত যুদ্ধে যে ৪৫০০০ কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মায়ানমার (তৎকালীন বার্মা), আসাম, এবং বাংলাদেশে ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে।
- বাংলাদেশে দুটি কমনওয়েলথ রণ সমাধিক্ষেত্র আছে, যার একটি কুমিল্লায় এবং অপরটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

⇒ ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি বাংলাদেশের কুমিল্লাতে অবস্থিত একটি কমনওয়েলথ যুদ্ধ সমাধি। ময়নামতি রণ সমাধিক্ষেত্র মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (১৯০৩-১৯৪৫) নিহত ভারতীয় (তৎকালীন) ও বৃটিশ সৈন্যদের কবরস্থান। এটি ১৯৪৬ সালে তৈরি হয়েছে। কুমিল্লা শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের খুব কাছেই এই যুদ্ধ সমাধির অবস্থান। এই সমাধিক্ষেত্রটি Commonwealth War Graves Commission (CWGC) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ও তারাই এ সমাধিক্ষেত্র পরিচালনা করেন। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে সকল ধর্মের ধর্মগুরুদের সমন্বয়ে এখানে একটি বার্ষিক প্রার্থনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। সমাধিক্ষেত্রটিতে ৭৩৬টি কবর আছে। এর মধ্যে অধিকাংশ কবর হল সে সময়কার হাসপাতালের মৃত সৈনিকগণের। তাছাড়াও যুদ্ধের পর বিভিন্ন স্থান থেকে কিছু লাশ স্থানান্তর করেও এখানে সমাহিত করা হয়। সর্বমোট ৭২৩ জন নিহতের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছিল।

⇒ চট্টগ্রাম রণ সমাধিক্ষেত্র ১৯৪৩-১৯৪৪ সালে তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামে তৎকালীন সময়ে ছিল অনেক বড় হাসপাতাল। এছাড়া চট্টগ্রাম ছিল যুদ্ধ-সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্র, গভীর সমুদ্র বন্দর যেখান থেকে মিত্র বাহিনী আরাকান এলাকায় তাঁদের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতো। ব্রিটিশ সেনাবাহিনী দ্বারা নির্মিত এই সমাধিক্ষেত্রে প্রথম দিকে ৪০০টি কবর ছিল। বর্তমানেএই সমাধিক্ষেত্রের ৭৫৫টি কবর আছে। সর্বমোট ৭৩৮ জন নিহতের পরিচয় জানা সম্ভব হয়েছিল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,০৯২.
স্বৈরাচার এরশাদ পতন আন্দোলনে নিহত শহীদ কে?
  1. হামিদুর রহমান
  2. মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা
  3. নূর হোসেন
  4. রফিক
ব্যাখ্যা

⇒ স্বৈরাচার এরশাদ পতন আন্দোলনে নিহত শহীদ নূর হোসেন।

শহীদ নূর হোসেন:
- গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার এরশাদের পতন হয় ৬ই ডিসেম্বর, ১৯৯০ সালে।
- এই আন্দোলনের কারণে বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে।
- এর তিন বছর আগে আরেকটি গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হলেও সেটি ব্যর্থ হয়।।
- সেই আন্দোলনের সময় গণতন্ত্রের দাবিতে বুকে-পিঠে শ্লোগান লিখে রাস্তায় নামা এক তরুণ নুর হোসেন পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
- নূর হোসেনের বুকে-পিঠে লেখা শ্লোগান 'স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক'।
- ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর নূর হোসেন শহীদ হন।

তথ্যসূত্র - প্রথম আলো ও বিবিসি বাংলা।

১১,০৯৩.
ঐতিহাসিক জেলহত্যা ঘটনায় বাংলাদেশের কয় জন জাতীয় নেতাকে হত্যা করা হয়?
  1. ২ জন
  2. ৩ জন
  3. ৪ জন
  4. ৫ জন
ব্যাখ্যা
জেলহত্যা:
- জেলহত্যা ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়।
- ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়।
- এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে 'জেলহত্যা' নামে পরিচিত।

- হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা হলেন:
• সৈয়দ নজরুল ইসলাম,
• তাজউদ্দীন আহমদ,
• ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং
• এ এইচ এম কামারুজ্জামান।

উল্লেখ্য,
- তাদের এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি স্মরণার্থে প্রতি বছর ৩রা নভেম্বর 'জেলহত্যা দিবস' পালিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা।
১১,০৯৪.
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি’ বইটির লেখক কে?
  1. ক) অমর্ত্য সেন
  2. খ) আকবর আলি খান
  3. গ) মোহাম্মদ ইউনুস
  4. ঘ) আবুল বারকাত
ব্যাখ্যা
সাবেক তত্ত্বাধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক সচিব আকবর আলি খানের নতুন বই ‘বাংলাদেশে বাজেট: অর্থনীতি ও রাজনীতি’। অর্থনীতি বিষয়ে তাঁর আরও দুটি পাঠকপ্রিয় গ্রন্থ- ‘পরার্থপরতার অর্থনীতি’ এবং ‘আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি’।
উৎসঃ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন এবং দৈনিক পত্রিকা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার মে-জুন, ২০২১।
১১,০৯৫.
'থ্রি জিরো তত্ত্বের' উদ্ভাবক কে?
  1. অমর্ত্য সেন
  2. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  3. অ্যাডাম স্মিথ
  4. পল স্যামুয়েল
ব্যাখ্যা
'থ্রি জিরো' তত্ত্ব:
- থ্রি জিরো তত্ত্ব আর্থিক স্বাধীনতা, কর্মঠ জনশক্তি তৈরি এবং পরিবেশ উন্নয়নে বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর একটি মডেল।
- ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ।
- গ্রামীণ ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ ধারণার প্রবর্তক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বজুড়ে আলাদা সম্মান পেয়েছেন তাঁর এই থ্রি জিরো তত্ত্বের জন্য।
- এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, যা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য অর্জনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- সেগুলো হলো জিরো দারিদ্র্য, জিরো বেকারত্ব ও জিরো নেট কার্বন নিঃসরণ।

তথ্যসূত্র: Yunus Centre.
১১,০৯৬.
জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কত?
  1. নবম
  2. দশম
  3. অষ্টম
  4. পঞ্চম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার উত্তর পূর্ব অংশে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে ভারতের ত্রিপুরা, মিজোরাম রাজ্য এবং মায়ানমারের পাহাড়ী এলাকা এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর।
- সাংবিধানিক নাম: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ,
- আন্তর্জাতিক ডায়ালিং কোড: +৮৮০,
- আন্তর্জাতিক সময় অঞ্চল: বিএসটি (জিএমটি +৬ ঘণ্টা),
- জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন,
- জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীর ৮ম বৃহত্তম দেশ।

উৎস: i) Worldometer. [link]
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১১,০৯৭.
বাংলাদেশের একমাত্র তেল শোধনাগারের নাম কী?
  1. Petrobangla Oil & Co.
  2. Meghna Oil & Co.
  3. Eastern Refinery
  4. Jamuna Refinery
ব্যাখ্যা
ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড:
- বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার হলো ইস্টার্ণ রিফাইনারি লিমিটেড।
- এটি চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত।
- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)-এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান।
- এটি একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি।
- কোম্পানি আইন ১৯১৩ (সংশোধিত, ১৯৯৪) অনুযায়ী এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- একদল পাকিস্তানি শিল্প-উদ্যোক্তা ১৯৬৩ সালে এ প্রকল্পটির উদ্যোগ নেয় এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর তীরে এ পরিশোধনাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৬৮ সাল থেকে পরিশোধন কেন্দ্রটিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।
- ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড তাদের নিজস্ব পরিশোধন ইউনিটের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল শোধিত করে থাকে।
- এর বার্ষিক পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লক্ষ টন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১১,০৯৮.
পুন্ড্রনগর কোন শাসনামলের স্মৃতি ধারন করে?
  1. গুপ্ত
  2. পাল
  3. সেন
  4. মুঘল
ব্যাখ্যা
পুন্ড্র:
- প্রাচীন বাংলার অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদের নাম পুন্ড্র।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তীকালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।

⇒ সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুন্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুন্ড্রনগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুন্ড্রই ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রাজ্য।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,০৯৯.
কোন দু’টি সংসদ নির্বাচন মাত্র দু’বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ক) ৩য় ও ৪র্থ
  2. খ) ৩য় ও ৫ম
  3. গ) ৩য় ও ৬ষ্ঠ
  4. ঘ) ২য় ও ৩য়
ব্যাখ্যা
⇨ ৩য় ও ৪র্থ সংসদ নির্বাচন মাত্র দু'বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
⇨ ৩য় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালের ৭ মে । 
⇨ ৪র্থ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ। 
⇨ স্বৈরশাসক এরশাদ যেকোন উপায়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল। 
⇨ তাই দু বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবার জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করে।
⇨ কিন্তু ১৯৮৮ সালের নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশ গ্রহণ ১৯৮৬ সালের নির্বাচন থেকে কম ছিল।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১,১০০.
এখন পর্যন্ত কতটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে?
  1. ৭টি 
  2. ৮টি 
  3. ৯টি 
  4. ১০টি 
ব্যাখ্যা

পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা:
- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা হলো একটি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের সুনির্দিষ্ট কৌশল, যা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরকারের পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রণীত হয়।
- বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯৭৩ সালে।
- ২০২০ সাল পর্যন্ত ৭টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়েছে। 

- পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো-
• সম্পদের দক্ষ ব্যবহার, 
• অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, 
• কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন, 
• শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, 
• অবকাঠামো উন্নয়ন, 
• দারিদ্র্য বিমোচন, 
• কর্মসংস্থান সৃষ্টি, 
• টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি।
----------------------
• বাংলাদেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাগুলো হলো:
- প্রথম (১৯৭৩-১৯৭৮): যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন, কৃষি ও শিল্প উন্নয়ন।
- দ্বিতীয় (১৯৮০-১৯৮৫): মৌলিক চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালীকরণ।
- তৃতীয় (১৯৮৫-১৯৯০): শিল্পায়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন।
- চতুর্থ (১৯৯০-১৯৯৫): অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য হ্রাস।
- পঞ্চম (১৯৯৭-২০০২): ৭% প্রবৃদ্ধি অর্জন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি।
- ষষ্ঠ (২০১১-২০১৫): টেকসই প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক নিরাপত্তা।
- সপ্তম (২০১৬-২০২০): SDG লক্ষ্য অর্জন ও প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।

উৎস:
১. জাতীয় তথ্য বাতায়ন;
২. বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন।