বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৮১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / · ৬০১৭০০ / ৮১৫

৬০১.
অ্যান্টিবডি কে গঠন করে? 
  1. নিউট্রাফিল
  2. বেসোফিল
  3. মনোসাইট
  4. লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
অ্যাগ্রানুলোসাইট: 
- এ ধরনের শ্বেত রক্তকোষের সাইটোপ্লাজম দানাহীন ও স্বচ্ছ। 
- অ্যাগ্রানুলোসাইট শ্বেত রক্তকোষ দুরকমের; যথা- লিম্ফোসাইট ও মনোসাইট। 
- দেহের লিম্ফনোড, টনসিল, প্লিহা ইত্যাদি অংশে এরা তৈরি হয়। 
- লিম্ফোসাইটগুলো বড় নিউক্লিয়াসযুক্ত ছোট কোষ। 
- মনোসাইট ছোট, ডিম্বাকার ও বৃক্কাকার নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট বড় রক্তকোষ। 
- লিম্ফোসাইট অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশ করা রোগজীবাণু ধ্বংস করে। 
- এভাবে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। 
- মনোসাইট ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় রোগজীবাণুকে ধ্বংস করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০২.
মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের-
  1. এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
  2. অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে
  3. এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে
  4. এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৩.
মানব শিশুদের অস্থায়ী বা দুধদাঁতের সংখ্যা কয়টি?
  1. ১৬ টি
  2. ১৮ টি
  3. ১৫ টি
  4. ২০ টি
ব্যাখ্যা
দাঁত (Tooth): 
- মাছ, সরিসৃপ এবং সমস্ত মেরুদন্ডী প্রাণির (স্তন্যপায়ী বাদে) দাঁত আজীবন অসংখ্যবার পড়তে ও উঠতে থাকে কিন্তু স্তন্যপায়ীদের (যেমন: মানুষ) দাঁত সারা জীবন মাত্র দুবার গজায়। 
- মানব শিশুদের অস্থায়ী দাঁত বা দুধদাঁতের সংখ্যা ২০ টি, যেগুলো পড়ে গিয়ে পরবর্তীতে ১৮ বছরের মধ্যে উপরে ও নিচের চোয়ালে ১৪-১৬ টি করে মোট ২৮-৩২ টি পর্যন্ত স্থায়ী দাঁত ওঠে। 
- মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। 
যেমন- 
১। কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়। 
২। ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়। 
৩। অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়। 
৪। পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়। 

- মাড়ির সবচেয়ে পেছনের বা শেষের দাঁত দুটোকে আক্কেল দাঁত বলা হয়। 
- প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ৮ টি কর্তন দাঁত, ৪ টি ছেদন দাঁত, ৮ টি অগ্রপেষণ দাঁত, ৮ টি পেষণ দাঁত এবং ০-৪ টি আক্কেল দাঁত থাকে। 
- প্রতিটি দাঁতের তিনটি অংশ থাকে। 
১। মুকুট: মাড়ির উপরের অংশ, 
২। মূল: মাড়ির ভিতরের অংশ এবং 
৩।  গ্রীবা: দাঁতের মধ্যবর্তী অংশ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬০৪.
কোনটির অস্থির বৈশিষ্ট্য?
  1. ক) স্থিতিস্থাপক
  2. খ) তন্তুময়
  3. গ) দৃঢ়
  4. ঘ) নরম
ব্যাখ্যা

অস্থি (Bone): অস্থি যােজক কলার রূপান্তরিত রূপ। এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা। অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত। মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলাে ছড়ানাে থাকে। একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রােগ হয়।
বয়স বাড়লে অবশ্য এমনিতেই ভারসাম্যটি হাড় ক্ষয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। অস্থি মূলত ফসফরাস, সােডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি। এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে। জীবিত অস্থিকোষে 40% জৈব এবং 60% অজৈব যৌগ পদার্থ নিয়ে গঠিত। অস্থি বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন ‘ডি’ এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়ােজন। এসব খাবারের অভাবে অস্থির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
উৎস: নবম দশম শ্রেণি,জীববিজ্ঞান

৬০৫.
Which organ is known as the human body's biochemical lab?
  1. Brain
  2. Kidney
  3. Liver
  4. Eye
  5. Heart
ব্যাখ্যা
• যকৃৎকে মানবদেহের জৈব রসায়নাগার বলা হয়। 

• যকৃৎ:
- যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। 

• এটি দেহের ওজনের প্রায় ৩-৫%। 
- এটি মূলত পরিবর্তনশীল বাহ্যিক অবস্থা সত্ত্বেও দেহের অভ্যন্তরীণ স্থিতি বা সাম্য রক্ষাকারী গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। 
- যকৃতে নানা ধরণের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয় যা দেহের বিপাক ক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- এই কারণে যকৃৎ কে বলা হয় মানবদেহের জৈব রসায়নাগার। 

• যকৃত-এর কাজ:
- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে।
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে।
- যকৃত ভিটামিন A, D, E, K ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে।
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে।
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে।
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে।
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (প্রাণিবিজ্ঞান), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৬০৬.
একজন ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ জীবনের কোন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়? 
  1. কৈশোরে 
  2. জন্মের পর 
  3. কখনোই পরিবর্তিত হয় না 
  4. শৈশবের পর 
ব্যাখ্যা

রক্তের গ্রুপ (Blood Group): 
- মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় দুটি প্রধান ধরনের 'A' এবং 'B' অ্যান্টিজেন থাকে।
- পাশাপাশি, রক্ত রসে 'a' এবং 'b' নামক দুটি ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে। 
- অ্যান্টিজেন হলো এক প্রকারের পদার্থ যা যদি কোনো জীবদেহে প্রবেশ করে, তবে সেই জীবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
- অপরদিকে, অ্যান্টিবডি হলো এমন একটি পদার্থ যা জীবদেহকে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 
- অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয়, যা রক্তের গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- কার্লল্যান্ড স্টেইনার ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে, তা 'A', 'B', 'O' এবং ‘AB’-এই চারটি গ্রুপে ভাগ করেন। 
- রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন হয় না; একজন ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ জীবনের শেষ পর্যন্ত একই রকম থাকে। ফলে, রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করা সম্ভব হয় অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির মাধ্যমে। 
- নিচে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতি সম্পর্কিত একটি টেবিল দেওয়া হলো, যা রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করতে সহায়তা করে।


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬০৭.
হৃৎপিণ্ড প্রতি মিনিটে গড়ে কত বার সংকোচিত ও প্রসারিত হয়?
  1. ৬৮ বার
  2. ৭২ বার
  3. ৭৬ বার
  4. ৭৮ বার
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড: 
- হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি মোচাকৃতির অঙ্গ, এটা পেরিকার্ডিয়াম নামে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে। 
- হৃৎপিণ্ড হৃৎপেশি দ্বারা গঠিত, হৃৎপেশি এক ধরনের স্বাধীন অনৈচ্ছিক পেশি, যা কারো নিয়ন্ত্রণ ছাড়া নিজে নিজেই সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম। 
- প্রতি মিনিটে কম বেশি ৭২ বার হৃৎপিণ্ড সংকোচিত ও প্রসারিত হয়। 
- হৃৎপিণ্ড তিন সতরে গঠিত। যথা- ক. বাইরের স্তর বা এপিকার্ডিয়াম খ. মাঝের স্তর বা মায়োকার্ডিয়াম এবং গ. ভিতরের স্তর বা এন্ডোকার্ডিয়াম। 
- এদের মধ্যে মায়োকার্ডিয়ামই সবচেয়ে পুরু এবং এর সংকোচনের কারণে হৃৎপিণ্ড পাম্প করে রক্ত সঞ্চালন করে। 
- হৃৎপিণ্ড একটি চার প্রকোষ্ঠবিশিষ্ট ফাঁপা অঙ্গ। 
- হৃৎপিণ্ডের উপরের প্রকোষ্ঠ দুটির নাম ডান অলিন্দ ও বাম অলিন্দ এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি যথাক্রমে ডান ও বাম নিলয়। 
- অলিন্দে প্রাচীর পাতলা ও নিলয়ের প্রাচীর পুরু থাকে, বাম নিলয়ের প্রাচীর অধিকতর পুরু থাকে। 
- অলিন্দ ও নিলয় দুটি আলাদা প্রাচীর দ্বারা পৃথক থাকে, আয়তনে অলিন্দগুলো নিলয়ের চেয়ে আকারে ছোটো হয়। 
- ডান অলিন্দ ও ডান নিলয়ের মাঝে ডান অলিন্দ-নিলয় ছিদ্র থাকে, ঐ ছিদ্রপথে তিন কপাট বিশিষ্ট কপাটিকা থাকে। রক্ত এ ছিদ্রপথে অলিন্দ থেকে নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- অনুরূপভাবে বাম অলিন্দ ও নিলয়ের দুই কপাট বিশিষ্ট মাঝে কপাটিকা থাকে, এক্ষেত্রেও বাম অলিন্দ থেকে রক্ত কেবল মাত্র নিলয়ে প্রবেশ করতে পারে। 
- এছাড়া মহাধমনি ও বাম নিলয়ের সংযোগস্থলে ও ফুসফুসীয় ধমনি এবং ডান নিলয়ের সংযোগস্থলে অর্ধচন্দ্রাকৃতির কপাটিকা রয়েছে, এ কপাটিকাগুলো রক্তের গতিপথ একদিকে নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
৬০৮.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি হল-
  1. Vitamin K
  2. Vitamin A
  3. Vitamin B
  4. Vitamin C
ব্যাখ্যা
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিনটি হলো- Vitamin K (ভিটামিন কে)।

ভিটামিন কে (Vitamin K):
- ভিটামিন কে-এর রাসায়নিক নাম ফাইটাল নেপথোকুইনোন।
- ভিটামিন কে তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুর সংস্পর্শে ক্ষতিগ্রস্ত হয় না।

ভিটামিন কে-এর উৎস:
- সবুজ শাক সবজি, ডিমের কুসুম, দুধ, যকৃত, মাংস, মাছ, লেটুস পাতা, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মটরশুঁটি ইত্যাদিতে ভিটামিন কে পাওয়ার যায়।

ভিটামিন কে-এর কাজ:
- কোনো কারণে রক্তক্ষরণ হলে রক্ত জমাট বাঁধতে ভিটামিন কে সাহায্য করে।
- রক্ত জমাটকরণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন প্রোথ্রম্বিনের সক্রিয়করণে ভিটামিন কে কাজ করে।
- ভিটামিন কে পিত্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে।
- ভিটামিন কে যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকলাপ বজায় রাখে।

ভিটামিন কে-এর অভাবজনিত সমস্যা:
- ভিটামিন কে-এর অভাবে রক্ত জমাট বাঁধা ব্যাহত হয়, ফলে সামান্য কাটাছেঁড়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬০৯.
অগ্ন্যাশয় রসে আমিষ পরিপাকে সাহায্যকারী এনজাইম কোনটি? 
  1. ট্রিপসিনোজেন
  2. ট্রাইপেপটাইডেজ
  3. জিলেটিনেজ
  4. পেপসিনোজেন
ব্যাখ্যা
- অগ্ন্যাশয় রসে আমিষ পরিপাকে সাহায্যকারী এনজাইম হলো- ট্রিপসিনোজেন। 

পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: 
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য। 
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো- 
১. পাচক রস: পেপসিনোজেনজিলেটিনেজ। 
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। 
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ। 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়। 
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না। 
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১০.
কোনটি উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে?
  1. বিষন্নতা
  2. বংশগত কারণে
  3. নিদ্রাহীনতা
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্তচাপ: 
- উচ্চ রক্তচাপকে ডাক্তারি ভাষায় হাইপারটেনশন (Hypertension) বলে। 
- শরীর ও মনের স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তচাপ যদি বয়সের জন্য নির্ধারিত মাত্রার উপরে অবস্থান করতে থাকে, তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে। 
- রক্তের চাপ যদি কম থাকে তা হলে তাকে নিম্ন রক্তচাপ বলে। 
- হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে হৃদপিণ্ড থেকে ধমনির মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকালে ধমিন গাত্রে কোনো ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ যদি হয় সব সময় ১৬০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি এবং ডায়াস্টোলিক সব সময় ৯৫ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি থাকে, তবে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে বলা যায়। 
- উত্তেজনা, চিন্তা, বিষন্নতা, নিদ্রাহীনতা বা অন্য কোনো কারণে যদি রক্তচাপ সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে, তবে তাকে হাইপারটেনশন বলা যাবে না এবং এ অবস্থায় কোনো ওষুধরেও প্রয়োজন হয় না। 
- উচ্চ রক্তচাপ বংশগত (Genetic High blood presere) হতে পারে। 
- উচ্চরক্তচাপ ভীতির কোনো কারণ নয় তবে নিয়মিত ঔষধ সেবনে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। 

- হৃদপিণ্ড থেকে রক্তনালীর মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকালে ধমনি প্রাচীরে যে চাপের সৃষ্টি করে তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃদপিণ্ড একটা নির্দিষ্ট নিয়মে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়।
- হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণকে যথাক্রমে সিস্টোল (Systole) এবং ডায়াস্টোল (Diastole) বলে। 
- মানুষের রক্তচাপ প্রধানত অ্যাসকালটেটরি (Auscultatory) পদ্ধতিতে নির্ণয় করা হয়।
- অ্যাসকালটেটরি বা শ্রুতি নির্ভর পদ্ধতি (Auscultatory Method)। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১১.
রেচনতন্ত্রের অংশ নয় কোনটি? 
  1. বৃক্ক
  2. ইউরেটর
  3. অগ্ন্যাশয়
  4. ইউরেথ্রা 
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয়
অগ্নাশয় একটি মিশ্র গ্রন্থি (অন্তঃক্ষরা ও বহিঃক্ষরা)। এর প্রধান কাজ হরমোন (ইনসুলিন, গ্লুকাগন) উৎপাদন ও পাচক রস নিঃসরণ করা। 

মানবদেহের রেচনাতন্ত্র অংশ:

- বৃক্ক: মূত্র তৈরি করে, শরীর থেকে বর্জ্য অপসারণ করে।
- ইউরেটর: কিডনি থেকে মূত্রকে মূত্রাশয় পর্যন্ত পরিবহন করে।
- মূত্রাশয়: মূত্র সংরক্ষণ করে।
- ইউরেথ্রা: মূত্র দেহ থেকে বের করে।

তথ্যসূত্র: NCTB, মাধ্যমিক রসায়ন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬১২.
ইনসুলিন কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ৫০টি
  2. ৫১টি
  3. ৫২টি
  4. ৫৩টি
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৩.
পারপুরা রোগে কোন উপাদান প্রভাবিত হয়?
  1. হিমোগ্লোবিন
  2. অনুচক্রিকা
  3. শ্বেত রক্ত কণিকা
  4. লোহিত রক্ত কণিকা
ব্যাখ্যা

রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা: 
- মানুষের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের তারতম্য ঘটলে যে অস্থার সৃষ্টি হয়, তাকে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা বলা হয়। 
যেমন-
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া অথবা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়া। 

২। পলিসাইথিমিয়া: 
- দেহে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পাওয়াকে পলিসাইথিমিয়া রোগ বলে। 

৩। পারপুরা: 
- ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা হতে পারে। এ রোগে অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। 

৪। লিউকেমিয়া: 
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১৪.
কোনটিকে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়?
  1. মেডুলা
  2. সেরিবব্রাম
  3. পনস
  4. সেরিবেলাম
ব্যাখ্যা
কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র: 
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ হলো মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জু। 
- মস্তিষ্ক হলো সমগ্র স্নায়ুতন্ত্রের চালক। 
- মানুষের মস্তিষ্ক করোটির মধ্যে সুরক্ষিত। 
- মস্তিষ্ক মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা আবৃত। 
- মানুষের মস্তিষ্কের প্রধান অংশ তিনটি। 
যথা- (ক) গুরুমস্তিষ্ক (খ) মধ্যমস্তিষ্ক (গ) পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক। 

গুরুমস্তিষ্ক: 
- মস্তিষ্কের প্রধান অংশ হলো গুরুমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম। 
- এটা ডান ও বাম খণ্ডে বিভক্ত, এদের ডান ও বাম সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার বলে। 
- মানব মস্তিষ্কে সেরিব্রাল হেমিস্ফিয়ার অধিকতর উন্নত ও সুগঠিত, এই দুইখণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে স্নায়ুতন্তু দ্বারা সংযুক্ত। 
- এর উপরিভাগ ঢেউ তোলা ও ধূসর বর্ণের, দেখতে ধূসর বর্ণের হওয়ায় একে ধূসর পদার্থ বা গ্রে ম্যাটার বলে। 
- গুরুমস্তিষ্কের অন্তঃস্তরে কেবলমাত্র স্নায়ুতন্ত্র থাকে, স্নায়ুতন্তুর রং সাদা। 
- তাই মস্তিষ্কের ভিতরের স্তরের নাম শ্বেত পদার্থ বা হোয়াইট ম্যাটার। 
- শ্বেত পদার্থের ভিতর দিয়ে স্নায়ুতন্তু এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যায়। 
- ধূসর পদার্থের কয়েকটি স্তরে বিশেষ আকারে স্নায়ুকোষ দেখা যায়, এই স্নায়ুকোষগুলো গুরুমস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গুচ্ছ বেঁধে স্নায়ুকেন্দ্র সৃষ্টি করে। 
- এগুলো বিশেষ বিশেষ কর্মকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। 
- দর্শন, শ্রবণ, ঘ্রাণ, চিন্তা-চেতনা, স্মৃতি, জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক ও পেশি চালনার ক্রিয়াকেন্দ্র গুরুমস্তিষ্কে অবস্থিত। 
- সেরিব্রামের নিচের অংশ হলো- থ্যালামাস ও হাইপোথ্যালামাস। 
- এগুলো ধূসর পদার্থের পুঞ্জ। 
- ক্রোধ, লজ্জা, গরম, শীত, নিদ্রা, তাপ সংরক্ষণ ও চলন এই অংশের কাজ। 

মধ্যমস্তিস্ক: 
- গুরুমস্তিষ্ক ও পনস-এর মাঝখানে মধ্যমস্তিষ্ক অবস্থিত। 
- মধ্যমস্তিষ্ক দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তির সাথেও সম্পর্কযুক্ত। 

পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্ক: 
- লঘুমস্তিষ্ক গুরুমস্তিষ্কের নিচে ও পশ্চাতে অবস্থিত। 
- এটা গুরুমস্তিষ্কের চেয়ে আকারে ছোট। 
- দেহের ভারসাম্য রক্ষা করা পশ্চাৎ বা লঘুমস্তিষ্কের প্রধান কাজ। 
- এছাড়া লঘুমস্তিষ্ক কথা বলা ও চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- এর তিনটি অংশ- গনস সেরিবেলাম: পনসের বিপরীতদিকে অবস্থিত খন্ডাংশটি হলো সেরিবেলাম। 
- এটা অনেকটা ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে। 
- সেরিবেলাম ডান ও বাম দু'অংশে বিভক্ত। 

পনস: 
- পনস লঘুমস্তিষ্কের সামনে ও নিচে অবস্থিত। 
- একে মস্তিষ্কের যোজক বলা হয়। 
- এটা গুরুমস্তিষ্ক, লঘুমস্তিষ্ক ও মধ্যমস্তিষ্ককে সুষুম্নাশীর্ষকের সাথে সংযোজিত করে। 

মেডুলা: 
- এটা মস্তিষ্কের নিচের অংশ। 
- সুষুম্নাশীর্ষক পনসের নিম্নভাগ থেকে মেরুরজ্জুর উপরিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত। 
অর্থাৎ, এটা মস্তিষ্ককে মেরুরজ্জুর সাথে সংযোজিত করে, এজন্য একে মস্তিষ্কের বোঁটা বলা হয়। 
- মস্তিষ্কের এ অংশ হৃৎস্পন্দন, খাদ্যগ্রহণ ও শ্বসন ইত্যাদি কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।
৬১৫.
রেচন প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য কী? 
  1. খাদ্য হজম করা 
  2. হরমোন উৎপাদন করা 
  3. দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করা
  4. রক্ত গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করা 
ব্যাখ্যা

মানুষের রেচন প্রক্রিয়া: 
- রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। 
- রেচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয়ে দেহের শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য বজায় থাকে। 
- অতিরিক্ত পানি, লবণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং জৈব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত রেচনের মাধ্যমে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। 
- এই প্রক্রিয়ার জন্য মানবদেহে বিশেষ অঙ্গ রয়েছে, যা রেচন কাজে অংশগ্রহণ করে এবং এসব অঙ্গকে রেচন অঙ্গ বলা হয়। 
- রেচন অঙ্গগুলোর সমন্বয়ে রেচনতন্ত্র গঠিত হয়। 
- রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে শতকরা ৮০% রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়; বাকি ২০% রেচন পদার্থ বিভিন্ন ক্রিয়াকর্মে উৎপন্ন ও বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। 
- মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গের নাম বৃক্ক, আর বৃক্কের একক হলো নেফ্রন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৬.
সিস্টোলিক চাপ বলতে কোনটি বুঝায়? 
  1. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন চাপ
  2. হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ চাপ
  3. হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ চাপ
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ড (Heart): 
- মানুষের রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থার মূল অংশ হলো হৃৎপিণ্ড, ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা। 
- হৃৎপিণ্ড অবিরাম সংকোচিত ও প্রসারিত হয়ে রক্তকে ধমনি ও শিরার মাধ্যমে সারা দেহে প্রেরণ করে। 
- হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ একটি নির্দিষ্ট ছন্দে ঘটে, যা রক্ত সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 
- সিস্টোল (Systole) হলো হৃৎপিণ্ডের সংকোচন পর্যায়, যখন রক্ত অলিন্দ থেকে ভেন্ট্রিকলে অথবা ভেন্ট্রিকল থেকে ধমনিতে প্রবাহিত হয়। 
- ডায়াস্টোল (Diastole) হলো হৃৎপিণ্ডের প্রসারণ পর্যায়, যখন হৃৎপিণ্ড রক্ত গ্রহণের জন্য আলগা হয়ে যায়। 
- সিস্টোলের সময় হৃৎপিণ্ডের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে, যা সিস্টোলিক চাপ নামে পরিচিত। 
- অলিন্দে যখন সিস্টোল হয়, তখন ভেন্ট্রিকল ডায়াস্টোল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৭.
হৃৎপিণ্ডের বাইরের আবরণকে কী বলা হয়?
  1. এন্ডোকার্ডিয়াম
  2. মায়োকার্ডিয়াম
  3. প্লুরা
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

হৃৎপিণ্ডের বাইরের আবরণ বা থলিটিকে পেরিকার্ডিয়াম (Pericardium) বলা হয়।
 
মানুষের হৃদপিণ্ড:
- মানুষের হৃদপিণ্ড ৪ প্রকোষ্ঠ বিশিষ্ট। দুটি অলিন্দ ও দুটি নিলয়।
• হৃদপিণ্ডের স্তর ৩টি। যথা-
- এপিকার্ডিয়াম,
- মায়োকার্ডিয়াম ও
- এন্ডোকার্ডিয়াম।

-হৃদপিণ্ডের বাইরের আবরণকে পেরিকার্ডিয়াম বলে।
- এটি একটি দ্বিস্তরবিশিষ্ট পর্দা যা হৃৎপিণ্ডকে সুরক্ষা দেয় এবং এর সঠিক অবস্থানে থাকতে সাহায্য করে।
- দুটি পেরিকার্ডিয়াল স্তরের মাঝে পেরিকার্ডিয়াল ফ্লুইড থাকে, যা হৃৎপিণ্ডের সংকোচনের সময় ঘর্ষণ রোধ করে।

উল্লেখ্য: 
- অস্থির আবরণের নাম: পেরিঅস্ট্রিয়াম।
- তরুণাস্থির আবরণের নাম: পেরিকন্ড্রিয়াম।
- ফুসফুসের আবরণের নাম: প্লুরা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১৮.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৯৩.৬° ফারেনহাইট
  2. ৩৭° সেলসিয়াস
  3. ৮৭.৬° ফারেনহাইট
  4. ৩৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭° সেলসিয়াস (৯৮.৬° ফারেনহাইট)।

• মানবদেহ:
- মানবদেহের রক্তে প্লাজমার পরিমাণ ৫৫%।
- মানবদেহের রক্তে রক্তকণিকার পরিমাণ ৪৫%।
- মানুষের শরীরে মোট হাড়ের সংখ্যা ২০৬ টি।
- করোটিতে অস্থির সংখ্যা ২৯ টি।
- মানবদেহে মোট কশেরুকার সংখ্যা ৩৩ টি।
- মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া।
- মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া (৪৪ টি)ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।

উৎস:
১. প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. ব্রিটানিকা।
৬১৯.
কোন রক্তগ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয়?
  1. O
  2. A
  3. B
  4. AB
ব্যাখ্যা

- AB রক্ত গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা (universal recipient) বলা হয় কারণ এই গ্রুপের একজন ব্যক্তি অন্য যেকোনো রক্ত ​​গ্রুপের (A, B, O, এবং AB) কাছ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারেন। 

রক্তের গ্রুপ: 
- লোহিত রক্ত কণিকার প্লাজমা মেমব্রেনে অবস্থিত বিভিন্ন অ্যান্টিজেনের উপস্থিতির ভিত্তিতে রক্তের শ্রেণীবিন্যাসকে 'রক্ত গ্রুপ' বলে। 
- রক্ত কণিকায় আ্যান্টিজেনের উপস্থিত ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে রক্তের যে শ্রেণীবিন্যাস, তা ব্লাড গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- মানুষের রক্তে A ও B এ দু'ধরনের আ্যান্টিজেন থাকতে পারে। 
- মানুষের রক্তের গ্রুপকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- O, A, B এবং AB। 

O রক্তের গ্রুপ: 
- O গ্রুপের রক্তের কণিকা ঝিল্লিতে কোন অ্যান্টিজেন নাই। 
- O রক্তের গ্রুপের লোকেরা সাধারণত সর্বজনীন রক্ত দাতা হিসাবে পরিচিত এবং শুধুমাত্র O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে। 

AB রক্তের গ্রুপ: 
- AB রক্তের গ্রুপে A ও B দুটি অ্যান্টিজেন থাকে। 
- AB রক্তের গ্রুপকে সর্বজনীন গ্রহীতা বলা হয় কারণ সব গ্রুপের রক্ত এটি গ্রহণ করতে পারে এবং শুধুমাত্র AB রক্তের গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

A রক্তের গ্রুপ: 
- A রক্তের গ্রুপে A অ্যান্টিজেন থাকে। 
- A রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র A এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং টাইপ A এবং AB ব্যক্তিদের দান করতে পারে। 

B রক্তের গ্রুপ: 
- B রক্তের গ্রুপে B অ্যান্টিজেন থাকে। 
- B রক্তের গ্রুপের ব্যক্তি শুধুমাত্র B এবং O রক্তের গ্রুপ থেকে রক্ত ​​গ্রহণ করতে পারে এবং B এবং AB গ্রুপের ব্যক্তিদের রক্ত ​​দান করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২০.
মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ কত মিলিমিটার অব মার্কারি?
  1. ক) ১০০/৫০
  2. খ) ১৪০/৭০
  3. গ) ১২০/৮০
  4. ঘ) ১৫০/৯০
ব্যাখ্যা
রক্তনালির ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রাচীর গাত্রে যে পার্শ্বচাপ প্রয়োগ করে তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃদপিণ্ডের নিলয়ের সংকোচন অবস্থায় রক্তচাপ বেশি থাকে এবং এ চাপকে সিস্টোলিক চাপ বলে।
- অপরদিকে ভেন্ট্রিকলের প্রসারণ অবস্থায় রক্তচাপ সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে আসে। একে বলা হয় ডায়াস্টোলিক চাপ।
- একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক সিস্টোলিক চাপ হলো ১১০-১২০ মি.মি. (পারদ) এবং স্বাভাবিক ডায়াস্টোলিক চাপ ৭০-৮০ মি.মি. (পারদ)।
- এজন্য মানবদেহের স্বাভাবিক রক্তচাপ গড়ে ১২০/৮০ মি.মি. (পারদ)।
৬২১.
ইনসুলিন কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিডের সমন্বয়ে গঠিত? 
  1. ৫১ টি
  2. ৫০ টি
  3. ৫২ টি
  4. ৫৩ টি
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইহা অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।

- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২২.
রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠিত হয় - 
  1. লৌহ ও প্রোটিনের সমন্বয়ে
  2. কপার এবং লিপিডের সমন্বয়ে
  3. জিংক এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
  4. ম্যাঙ্গানিজ এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৩.
রক্ত জমাট বাঁধানো কোনটির কাজ?
  1. লোহিত কণিকা
  2. শ্বেতকণিকা
  3. লসিকা
  4. অণুচক্রিকা
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট: 

• মানুষের রক্ত কণিকা ৩ ধরনের। যথা: ১. লোহিত রক্ত কণিকা; ২. শ্বেত রক্ত কণিকা এবং ৩. অণুচক্রিকা। 
• অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট বা থ্রম্বোসাইট হলো নিউক্লিয়াসবিহীন।
• এটি গোলাকার বা ডিম্বাকার বা রড আকৃতির হয়ে থাকে। 
• এর ব্যাস দুই থেকে তিন মাইক্রোমিটার এবং আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ১০ দিন।
• পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরও বেশি হয়।
• এটি লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার চেয়েও আকারে ছোট।
• অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।
• ‘ভিটামিন কে’ রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর তৈরিতে সাহায্য করে।
• রক্তে হেপারিন থাকায় দেহের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি। 

৬২৪.
মানবদেহে রক্তচাপ মাপা হয় কোন যন্ত্রে? 
  1. ব্যারোমিটার
  2. স্পিগমোম্যানোমিটার
  3. থার্মোমিটার
  4. গ্যালভানোমিটার
ব্যাখ্যা

• স্পিগমোম্যানোমিটার (Sphygmomanometer) হলো একটি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র যা মানবদেহের রক্তচাপ পরিমাপের জন্য বিশেষভাবে তৈরি।

- রক্তচাপ হলো রক্তের চাপ যা ধমনী প্রাচীরের উপর প্রয়োগ করে, এবং এটি মানবদেহের স্বাস্থ্য নিরীক্ষার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক, এবং অন্যান্য জটিলতা প্রতিরোধ করা যায়।

এটি সাধারণত দুটি অংশে বিভক্ত:
- কফ (Cuff): বাতাস ভর্তি ব্যান্ড যা বাহুর চারপাশে বাঁধা হয়।
- মনিটর বা ম্যানোমিটার: যা চাপের মান দেখায়, যা ম্যানুয়াল বা ডিজিটাল হতে পারে।

রক্তচাপ পরিমাপের প্রক্রিয়া:
- ব্যান্ডকে বাহুর উপরে বাঁধা হয় এবং কফে বাতাস ভর্তি করা হয়, যাতে রক্ত প্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়।
- স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করে ধমনীতে রক্ত প্রবাহের শব্দ শুনে সিস্টোলিক (উচ্চচাপ) এবং ডায়াস্টোলিক (নিম্নচাপ) মান নির্ধারণ করা হয়।

সাধারণ ব্যবহার:
- হাসপাতালে ও ক্লিনিকে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা।
- বাড়িতে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য ডিজিটাল স্পিগমোম্যানোমিটার ব্যবহার।
- হৃদরোগ ও রক্তচাপ জনিত রোগ নিরীক্ষণ।
 
তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 
- ব্রিটানিকা [লিংক]।

৬২৫.
পরিণত মানুষের কঙ্কালতন্ত্র কয়টি অস্থি নিয়ে গঠিত?
  1. ২৯০টি
  2. ২০৬টি
  3. ৩০০টি
  4. ৩০৬টি
ব্যাখ্যা

• মানুষের দেহের কঙ্কালতন্ত্র প্রধানত অস্থি বা হাড় নিয়ে গঠিত। এটি দেহকে একটি দৃঢ় কাঠামো প্রদান করে, বিভিন্ন অঙ্গকে রক্ষা করে এবং মাংসপেশীর সংযুক্তির মাধ্যমে আন্দোলন সম্ভব করে। পূর্ণ বয়স্ক মানুষের দেহে সাধারণত ২০৬টি অস্থি থাকে। এই অস্থিগুলি শরীরের বিভিন্ন অংশে বিভক্ত, যেমন খুলি, হাত ও পায়ের হাড়, কাঁধ ও পিঠের হাড়। শিশুরা জন্মের সময় অনেক বেশি অস্থি নিয়ে জন্মায়, কিন্তু বড় হওয়ার সাথে সাথে কিছু অস্থি একত্রিত হয়ে সংখ্যা কমে ২০৬ হয়। তাই, মানুষের কঙ্কালতন্ত্র মূলত ২০৬টি অস্থি নিয়ে গঠিত।

- সঠিক উত্তর: খ) ২০৬ টি।

মানব কঙ্কাল: 
- মানব দেহের গঠন কাঠামো হলো কঙ্কাল।
- অস্থি (Bone) ও তরুণাস্থি (Cartilage) দ্বারা গঠিত যে তন্ত্র দেহের মূল কাঠামো গঠন করে এবং অভ্যন্তরীণ নরম অঙ্গগুলোকে রক্ষা করে দেহের ভার বহন করে এবং পেশি সংযোজনের জন্য উপযুক্ত স্থান সৃষ্টি করে তাকে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
- মানবদেহের কঙ্কালতন্ত্র মোট ২০৬ টি অস্থি নিয়ে গঠিত।
- হৃদপিন্ড, ফুসফুস, পাকস্থলী, যকৃত, মগজ ইত্যাদি দেহের কোমল অঙ্গসমূহকে অস্থির আবরণে সুরক্ষিত রাখে।
- অস্থিগুলো ঐচ্ছিক মাংসপেশি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকায় ইচ্ছাকৃত অঙ্গ সঞ্চালন ও চলাফেরা করা সম্ভব হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬২৬.
বৃক্কের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে কতটুকু গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট পুনঃশোষিত হয়?
  1. ৯০ ঘন সে.মি.
  2. ১২০ ঘন সে.মি.
  3. ১২৪ ঘন সে.মি.
  4. ১২৫ ঘন সে.মি.
ব্যাখ্যা
• বৃক্কের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ১২৪ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট পুনঃশোষিত হয় এবং রক্তে ফিরে যায়। 

• বৃক্ক:
- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• নেফ্রন:
- বৃক্কের গঠন ও কার্যকরী একককে বলা হয় নেফ্রন।
- প্রতিটি নেফ্রন প্রায় ৩ সে.মি. লম্বা। 

• রেচনের শারীরবৃত্তকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- নাইট্রোজেনজাত বর্জ্য উৎপাদন।
- মূত্র সৃষ্টি। 

• বিজ্ঞানী কুশনীর মতে ৩ টি ধাপে মূত্র সৃষ্টি হয়। যথা-
- অতিপরিস্রাবন।
- নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ।
- সক্রিয় ক্ষরণ। 

• নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণ:
- মানবদেহে প্রতি মিনিটে ১২৫ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট উৎপন্ন হয়।
- এর মধ্যে নির্বাচনমূলক পুনঃশোষণের মাধ্যমে ১২৪ ঘন সে.মি. পুনঃশোষিত হয় এবং রক্তে ফিরে যায়। 
- বাকি ১ ঘন সে.মি. গ্লুমেরুলার ফিলট্রেট মূত্র তৈরি করে।
- অর্থাৎ সাধারণত প্রতি মিনিটে কেবল ১ ঘন সে.মি. মূত্র উৎপন্ন হয়। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
৬২৭.
জীবিত অস্থিতে পানির পরিমাণ-
  1. ২০ -৩০ %
  2. ৩০ - ৪০ %
  3. ৪০ - ৫০ %
  4. ৭০ - ৮০ %
ব্যাখ্যা
• অস্থি (Bone):
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ।
- এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত।
- মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে।
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে।
- এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়।
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি।
- এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে।
- জীবিত অস্থিকোষে 40% জৈব এবং 60% অজৈব যৌগ পদার্থ নিয়ে গঠিত।
- অস্থি বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৮.
উচ্চ রক্তচাপ আছে এমন ব্যক্তিদের ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ সর্বদা -
  1. ৮৮ মিমি পারদচাপের বেশি
  2. ৯২ মিমি পারদচাপের বেশি
  3. ৯০ মিমি পারদচাপের বেশি
  4. ৯৫ মিমি পারদচাপের বেশি
ব্যাখ্যা
উচ্চ রক্তচাপকে ডাক্তারি ভাষায় হাইপারটেনশন (Hypertension) বলে। শরীর ও মনের স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তচাপ যদি বয়সের জন্য নির্ধারিত মাত্রার উপরে অবস্থান করতে থাকে, তবে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলে।
রক্তের চাপ যদি কম থাকে তা হলে তাকে নিম্নরক্তচাপ বলে। হৃদপিন্ডের সংকোচন ও প্রসারণের ফলে হৃদপিন্ড থেকে ধমনির মাধ্যমে রক্ত প্রবাহকালে ধমিন গাত্রে কোনো ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ যদি হয় সব সময় ১৬০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি এবং ডায়াস্টোলিক সব সময় ৯৫ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ বা তার বেশি থাকে, তবে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে বলা যায়।
উত্তেজনা, চিন্তা, বিষন্নতা, নিদ্রাহীনতা বা অন্য কোনো কারণে যদি রক্তচাপ সাময়িকভাবে নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম করে, তবে তাকে হাইপারটেনশন বলা যাবে না এবং এ অবস্থায় কোনো ওষুধরেও প্রয়োজন হয় না।
উচ্চ রক্তচাপ বংশগত (Genetic High blood pressure) হতে পারে। উচ্চরক্তচাপ ভীতির কোনো কারণ নয় তবে নিয়মিত ঔষধ সেবনে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

সুত্রঃ হৃদযন্ত্রের যত কথা, বিজ্ঞান, এসএসসি।
৬২৯.
মানুষের হৃৎপিণ্ডের নিচের প্রকোষ্ঠ দুইটিকে কি বলে?
  1. Anterior
  2. Posterior
  3. Ventricles
  4. Atria
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ডে ৪টি প্রকোষ্ঠ থাকে। 

• হৃৎপিণ্ড: 
- রক্ত সংবহন তন্ত্রের প্রধান অঙ্গ হৃৎপিণ্ড। এটা পাম্পের মতো কাজ করে, ফলে রক্ত সংবহনতন্ত্রে রক্ত প্রবাহ সচল থাকে।

• হৃৎপিণ্ডের অবস্থান:
 - হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরে দুই ফুসফুসের মাঝখানে একই বাম দিকে অবস্থিত।

• হৃৎপিণ্ডের গঠন:
- মানব হৃৎপিণ্ড সম্পূর্ণভাবে চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।
- এর উপরের প্রকোষ্ঠ দুটি ডান ও বাম অলিন্দ (Atria) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটি ডান ও বাম নিলয় (Ventricles) নামে পরিচিত।
- নিলয় অলিন্দের তুলনায় আকারে বড়, প্রাচীর পুরু ও পেশিবহুল।
- প্রকোষ্ঠ বিভক্ত থাকলেও গোটা হৃৎপিণ্ড একটি একক হিসাবে কাজ করে এবং পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

অপশন আলোচনা:
→ Anterior Chamber: কর্নিয়া এবং আইরিশের মাঝে অবস্থিত।
→ Posterior Chamber: আইরিশের পিছে এবং ল্যান্সের সামনে এর অবস্থান।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩০.
ডোপামিন হরমোন কোথা থেকে ক্ষরিত হয়?
  1. মস্তিষ্ক
  2. অগ্ন্যাশয়
  3. পিটুইহারি গ্রন্থি
  4. লিভার
ব্যাখ্যা
- স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে।
- মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে - পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক যুবতীদেরও হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
৬৩১.
মেরুদণ্ড কতটি অস্থিখণ্ডক (vertebra) দ্বারা গঠিত?
  1. ৩০ 
  2. ২৯
  3. ৩৩
  4. ২৩ 
ব্যাখ্যা

মেরুদণ্ড (Vertebral column): 
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত, এ সকল অস্থিখণ্ডককে কশেরুকা (vertebra) বলে। 
- কশেরুকাগুলো কোমলাস্থি নির্মিত চাকতি দ্বারা পরস্পর যুক্ত থাকে। 
- এদের সিমফাইসিস স্থির অবস্থায় বা চলমান অবস্থায় এটি দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। 

কশেরুকার প্রকারভেদ: 
- দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থানের ভিত্তিতে ৩৩টি কশেরুকাকে ৫টি ভাগে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) গ্রীবাদেশীয় (cervical) কশেরুকা- ৭টি, 
(২) বক্ষদেশীয় (thoracic) কশেরুকা- ১২টি, 
(৩) কটিদেশীয় (lumbar) কশেরুকা- ৫টি, 
(৪) শ্রোণিদেশীয় (sacral) কশেরুকা- ৫টি (একীভূত) ও 
(৫) পুচ্ছদেশীয় (coccygeal) কশেরুকা- ৪টি (একীভূত)। 
- পুচ্ছ অঞ্চলের ৪টি কশেরুকা একীভূত হয়ে যথাক্রমে ১টি স্যাক্রাম (sacrum) ও ১টি কক্কিক্স (coccyx) গঠন করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩২.
মানুষের শরীরে সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে ভিটামিন 'ডি' তৈরির শেষ ধাপটি কোথায় সম্পন্ন হয়?
  1. অন্ত্রে
  2. ত্বকে
  3. যকৃতে
  4. কিডনিতে
ব্যাখ্যা
রিকেটস (Rikets): 
- এটি কোনো ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ নয়, ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে এ রোগ হয়। 
- অন্ত্রে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস শোষণ, দাঁত ও হাড় গঠন প্রভৃতি শারীরবৃত্তীয় কাজে এই ভিটামিন প্রয়োজন। 
- দুধ, মাখন, ডিম, কডলিভার তেল ও হাঙ্গরের তেলে প্রচুর ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। 
- সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের ত্বকে জমা থাকা কোলেস্টেরল থেকেও এটি তৈরি হয়, তবে সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি তৈরির শেষ ধাপটি সংঘটিত হয় কিডনিতে। 

- দেহের হাড়গুলো দুর্বল হওয়া, গিঁট ফুলে যাওয়া, হাড়গুলো বিশেষ করে পায়ের হাড় বেঁকে যাওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ। 
- এছাড়া এই রোগে অনেক সময় দেহের কাঠামো ঠিক থাকে না, হাড়গুলো ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং বক্ষদেশ সরু হয়ে যায়। 
- শিশুদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। 
- চোখ এবং জননাঙ্গ ঢেকে রেখে নবজাতককে কিছুক্ষণ রোদে রাখা ভালো। এতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে শরীরে কোলেস্টেরল থেকে ভিটামিন 'ডি' তৈরি হয়। 
- নিয়মিতভাবে সারা শরীর সারা দিন কালো বা গাঢ় রঙের কাপড়ে ঢেকে রাখলে কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঘরের বাইরে না বের হলে ত্বক পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় না এবং এ কারণে ভিটামিন 'ডি'-এর ঘাটতি দেখা দিতে পারে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩৩.
শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় শ্বসনের কয়টি পর্যায় থাকে? 
  1. তিনটি
  2. দুইটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
শ্বসন: 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় প্রাণী বিরামহীনভাবে পরিবেশ থেকে অক্সিজেন (O2) গ্রহণ করে, সে অক্সিজেনের সাহায্যে কোষ মধ্যস্থ সরল খাদ্যকে জারিত করে খাদ্যস্থিত স্থিতিশক্তিকে গতিশক্তিতে রূপান্তর করে এবং এতে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে (CO2) দেহ হতে ত্যাগ করে তাকে শ্বসন (Respiration) বলে।
- শ্বসনের দুইটি পর্যায় থাকে। 
যথা- ১। বহিঃশ্বসন (External respiration) ও ২। অন্তঃশ্বসন (Internall respiration) । 

- ফুসফুসের অ্যালভিওলাসের বায়ুর সাথে ফুসফুসীয় রক্ত জালিকার মধ্যে প্রশ্বাস ও নিশ্বাসের সময় যে গ্যাসীয় আদান প্রদান হয় তাকে বহিঃশ্বসন বলে। 
- অপরদিকে রক্তের মাধ্যমে অক্সিজেন (O2) দেহের কলাকোষে প্রবেশ করে কোষস্থ খাদ্যের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি, কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO2) ও পানি উৎপাদন করার প্রক্রিয়াকে অন্তঃশ্বসন বলে। 
- এতে নিম্নের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে- 

- যে সকল অঙ্গ সম্বিলিতভাবে দেহ ও প্রকৃতির মধ্যে শ্বসন গ্যাস (O2 ও CO2) বিনিময় প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে তাদের সমষ্টিকে শ্বসনতন্ত্র বলে। 
- শ্বসনতন্ত্র রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং বিপাকে সৃষ্ট গ্যাসীয় বর্জ্য অপসারণ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৪.
পিত্তরস কোন অঙ্গের মাধ্যমে ডিওডেনামে পৌঁছায়? 
  1. খাদ্যনালি
  2. শিরা
  3. পিত্তনালি
  4. রক্তনালি
ব্যাখ্যা
যকৃত (Liver): 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- এটি মধ্যচ্ছদের নিচে, পাকস্থলীর ডান পাশে অবস্থিত। 
- যকৃতের রঙ গাঢ় বাদামি এবং এটি আকারে ত্রিকোণাকার। 
- যকৃতের নিচে কলস আকৃতির পিত্তথলি (Gallbladder) সংযুক্ত থাকে। 

যকৃতের কার্যাবলি: 
- যকৃত থেকে ক্ষারীয় প্রকৃতির গাঢ় সবুজ বর্ণের পিত্তরস নিঃসৃত হয়। 
- পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পিত্তনালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবাহিত হয়। 
- পাচন প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। 
- রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে (গ্লাইকোজেন সংরক্ষণ ও মুক্তি)। 
- প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাট বিপাক ঘটায়। 
- দেহের বিষাক্ত পদার্থ অপসারণ করে (ডিটক্সিফিকেশন)। 
- রক্তে কোলেস্টেরল ও হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। 
- যকৃতে বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়, তাই একে "দেহের রসায়ন গবেষণাগার" বলা হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৫.
মানবদেহের ভারসাম্য রক্ষাকারী অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) চোখ
  2. খ) কান
  3. গ) নাক
  4. ঘ) জিহ্বা
ব্যাখ্যা

কানের অংশ হলো তিনটি- বহিঃকর্ণ, মধ্যকর্ণ এবং অন্তঃকর্ণ। অন্তঃকর্ণের স্যাকুলাস ও ইউট্রিকুলাস শরীরের ভারসাম্য রক্ষার সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত।
এটি দেহের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে মস্তিষ্ককে সাহায্য করে এবং দেহ অবস্থানের অনুভূতির উদ্রেক করে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৩৬.
অ্যান্টিবডি কী ধরনের জৈব যৌগ? 
  1. কার্বোহাইড্রেট
  2. নিউক্লিক অ্যাসিড
  3. গ্লাইকোপ্রোটিন
  4. লিপিড
ব্যাখ্যা
অ্যান্টিবডি: 
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত। 
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামাইনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG), 
২। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA), 
৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM), 
৪।  ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD) এবং 
৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
৬৩৭.
তরুণাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কী বলা হয়?
  1. কনড্রিন
  2. কলাজেন
  3. হায়ালিন 
  4. ইলাস্টিন
ব্যাখ্যা

তরুণাস্থি বা কোমলাস্থির গঠন (Structure of cartilage): 
- দেহের অভ্যন্তরের নমনীয়, নরম ও স্থিতিস্থাপক যোজক কলাকে তরুণাস্থি বা কার্টিলেজ বলে। 
- মানুষের নাক, কান, হিউমেরাস ও ফিমারের মস্তক, বিভিন্ন অস্থিসন্ধি, শ্বাসনালি, আন্তঃকশেরুকা চাকতি ইত্যাদিতে তরুণাস্থি থাকে। 
- তরুনাস্থির ম্যাট্রিক্সকে কনড্রিন (chondrin) বলে, ইহা অর্ধকঠিন, নমনীয় ও স্থিতিস্থাপক। 
- কনড্রিন কনড্রোমিউকয়েড ও কনড্রোঅ্যালবুনয়েড নামক দু'ধরনের প্রোটিন নিয়ে গঠিত। 
- তরুণাস্থির কোষকে কনড্রোসাইট বলে। 
- কনড্রোসাইটগুলো এককভাবে অথবা গুচ্ছাকারে ল্যাকুনা নামক গহ্বরে অবস্থান করে। 
- তরুণাস্থি পেরিকন্ড্রিয়াম নামক আবরণীতে আবৃত থাকে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৮.
ইনসুলিন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. শর্করা
  2. প্রোটিন
  3. লিপিড
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ১৯১৬ সালে Sir Edward Sharpy-Schafer সর্বপ্রথম ইনসুলিন আবিষ্কার ও নামকরণ করেন।
- ইনসুলিন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যা মানুষ সহ সকল স্তন্যপায়ী প্রাণীর অগ্ন্যাশয় বিটা কোষ গুচ্ছ হতে ক্ষরিত হয়।
- ইনসুলিন রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজের উচ্চমাত্রাকে কমিয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে।
- কোন কারণে অগ্নাশয় হতে ইনসুলিন মিশ্রিত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় বা ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এমতাবস্থায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়াবেটিস রোগীকে ইনজেকশনের মাধ্যমে ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয়। 
- ১৯৪৫ সালে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সর্বপ্রথম ইনসুলিনের আণবিক গঠন আবিষ্কার করেন।

- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল আমিষ বা প্রোটিন
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন-B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 
- ইনসুলিন  হরমোনটি তৈরি হয় দেহের প্যানক্রিয়াস বা অগ্ন্যাশয় নামের অঙ্গে।
- ইনসুলিন গ্লাইকোজেন সিম্থেটেজ উৎসেচককে সক্রিয় করে গ্লাইকোজেনেসিস পদ্ধতিতে রক্তের অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্লাইকোজেন পরিবর্তিত করে যকৃৎ এবং পেশিকোষে জমা রাখে। 
- ইনসুলিন যকৃতে ফসফোরাইলেজ উৎসেচকের সক্রিয়তা হ্রাস করে গ্লাইকোজেন অ্যানালাইসিসের হার হ্রাস করে।
- ইনসুলিন হরমোন অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ শোষণে বাধা দেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৯.
মানব দেহে সাধারণভাবে ক্রোমোজোম থাকে-
  1. ২৫ জোড়া
  2. ২৪ জোড়া
  3. ২৩ জোড়া
  4. ২০ জোড়া
ব্যাখ্যা
• মানবেদেহে সাধারণত ক্রোমোজোম থাকে ২৩ জোড়া। 

• মানবেদেহে ক্রোমোজোম:
 -মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
- এ ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় অটোজোম।
- অটোজোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই।
- অপর এক জোড়া ক্রোমোজোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোজোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম।
- লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
 
উৎস: জীববিজ্ঞান-২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪০.
শ্বেত রক্ত কণিকা কীভাবে জীবাণুকে ধ্বংস করে?
  1. হজম প্রক্রিয়ায়
  2. অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে 
  3. ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় 
  4. লাল রক্তকণিকার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্ত কণিকা: 
- শ্বেত কণিকার নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই। এইগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ।
- শ্বেত কণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকণিকা বলে, ইংরেজিতে এই কণিকাকে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- রক্তে এদের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- শ্বেত রক্ত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- শ্বেত কণিকাগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে, দ্রুত শ্বেত কণিকার সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকণিকা থাকে। শিশু ও অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা বেড়ে যায়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৪১.
মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহনে প্রধান ভূমিকা রাখে- 
  1. শ্বেত রক্তকোষ
  2. লোহিত রক্তকোষ
  3. রক্তরস
  4. অণুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

- মানবদেহে অক্সিজেন পরিবহনে লোহিত রক্তকোষ (Red Blood Cells) প্রধান ভূমিকা পালন করে। লোহিত রক্তকোষে হিমোগ্লোবিন নামক এক প্রকার লৌহঘটিত রঞ্জক পদার্থ থাকে, এই হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন নামক অস্থায়ী যৌগ গঠন করে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। 

রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু। 
- ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়। 
- উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- রক্তের উপাদান দুটি। যথা- রক্তরস (55%) এবং রক্তকোষ (45%)। 

রক্তরস: 
- রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। 
- রক্তরসের প্রায় 91-92% অংশ পানি এবং ৪-9% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। এসব রক্তরসের ভিতর বিভিন্ন ধরনের প্রোটিন এবং বর্জ্য পদার্থ থাকে। 

রক্তকোষ: 
- রক্তকোষ তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকোষ (Erythrocyte বা Red blood cells বা RBC), শ্বেত রক্তকোষ (Leukocyte বা white blood cells বা WBC) এবং অণুচক্রিকা (Thrombocytes বা Blood platelet)। 
- লোহিত রক্তকোষ হিমোগ্লোবিন নামে একটি লৌহজাত যৌগ থাকে, যার জন্য রক্ত লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- শ্বেত রক্তকোষ জীবাণু ধ্বংস করে দেহের প্রকৃতিগত আত্মরক্ষায় অংশ নেয়। 
- মানবদেহে বেশ কয়েক ধরনের শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৪২.
ভ্রূণ অবস্থায় মাতৃগর্ভে হৃদস্পন্দন শুরু হয় কত সপ্তাহ থেকে?
  1. ক) চার সপ্তাহ
  2. খ) ছয় সপ্তাহ
  3. গ) আটাশ সপ্তাহ
  4. ঘ) আঠারো সপ্তাহ
ব্যাখ্যা

ভ্রূণ অবস্থায় মাতৃগর্ভে হৃদস্পন্দন শুরু হয় ছয় সপ্তাহ থেকে এবং আমৃত্যু এ স্পন্দন চলতে থাকে।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৪৩.
নিচের কোনটি অগ্রমস্তিষ্কের অংশ?
  1. ক) সেরেবেলাম
  2. খ) হাইপোথ্যালামাস
  3. গ) কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা
  4. ঘ) সেরেব্রাল পেডাঙ্কল
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
- সেরেব্রাম, থ্যালামাস, হাইপোথ্যালামাস হলো অগ্রমস্তিষ্কের অংশ।
- সেরেব্রাল পেডাঙ্কল, কর্পোরা কোয়াড্রিজেমিনা, সেরেব্রাল অ্যাকুইডাক্ট হলো মধ্যমস্তিষ্কের অংশ।
- সেরেবেলাম, মেডুলা অবলংটা, পনস হলো পশ্চাৎমস্তিষ্কের অংশ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৪৪.
বৃহদন্ত্র : কোলন :: ক্ষুদ্রান্ত : ?
  1. ইলিয়াম
  2. মলাশয়
  3. কোলন
  4. সিকাম
ব্যাখ্যা
• পরিপাক নালি:
- মানবদেহে পরিপাক ও পরিশোষণ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে সংগঠিত হয়।
- পরিপাকতন্ত্র পরিপাক নালি ও পরিপাক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত।
- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত ৮-১০ মিটার বিস্তৃত দীর্ঘ নালি বিশেষ যা কোথাও থলির ন্যায় স্ফীত আবার কোথাও কুণ্ডলীকৃত।

• পরিপাক নালির অংশসমূহ:
- মুখছিদ্র,
- মুখবিবর,
- গলবিল,
- অন্ননালি,
- পাকস্থলি,
- ক্ষুদ্রান্ত্র,
- বৃহদন্ত্র।

• ক্ষুদ্রান্ত:
- পাকস্থলির পাইলোরাস অংশের পর থেকে ইলিওকোলি পর্যন্ত প্রায় ৬-৭ মিটার লম্বা বিস্তৃত অংশ ক্ষুদ্রান্ত।
• এটি আবার ৩ অংশে বিভক্ত। যথা:
- ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম।
- ডিওডেনামে মূলত অগ্ন্যাশয় রসের এনজাইমের ক্রিয়া এবং জেজুনাম ও ইলিয়ামে আন্ত্রিক রসের এনজাইমের ক্রিয়ার পরিপাক ঘটে।

• বৃহদন্ত্র:
- পৌষ্টিকনালির শেষোক্ত বৃহৎ নলাকার অংশ যা ক্ষুদ্রান্ত্রের পর থেকে প্রায় ২ মিটার লম্বা মলাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত।
• বৃহদন্ত্র তিনটি অংশে বিভক্ত। যথা:
- সিকাম, কোলন ও মলাশয়।
- সিকাম বৃহদন্ত্রের প্রথম, বড় স্ফীত ও গোলাকার থলের মতো অংশ।
- সিকাম থেকে একটি ক্ষুদ্র আঙ্গুল ও বন্ধ থলের ন্যায় প্রসারিত অংশকে অ্যাপেনডিক্স বলা হয়।
- এটি একটি নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
স্বাভাবিক অবস্থায় মানুষের শরীরে রক্তের pH এর মান কত থাকে?
  1. প্রায় ৭
  2. প্রায় ৭.৮
  3. প্রায় ৭.৪
  4. প্রায় ৬ - ৭ এর মধ্যে
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
দেহের বিভিন্ন তরল পদার্থের মধ্যে রক্ত একটি উৎকৃষ্ট বাফার দ্রবণ। স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তের pH = ৭.৪ এর কাছাকাছি থাকে। তাই রক্ত সামান্য ক্ষারীয় প্রকৃতির বাফার দ্রবণ। রক্তের pH কোনো কারণে ০.৫ এর বেশি পরিবর্তিত হলে জীবন সংকটাপন্ন হয়।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৪৬.
চোখের কোন স্তরটি আলোক সংবেদী?
  1. রেটিনা
  2. স্ক্লেরা
  3. কর্নিয়া 
  4. লেন্স
ব্যাখ্যা

- রেটিনা হলো মানুষের চোখের সবচেয়ে ভেতরের আলোক সংবেদী স্তর। এতে রড ও কোণ নামক দুই ধরনের বিশেষ আলোক সংবেদী কোষ থাকে, যা আলোকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে অপটিক স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে পাঠায় এবং আমাদের দেখতে সাহায্য করে। 

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৬৪৭.
হৃৎপিণ্ডের বহিঃস্তরের নাম কী?
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. এন্ডোকার্ডিয়াম
  3. পেরিকার্ডিয়াম
  4. এপিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা
হৃৎপিণ্ডের বহিঃস্তরকে এপিকার্ডিয়াম বলে।

• হৃৎপিণ্ডের গঠন:
- হৃৎপিণ্ড বক্ষ গহ্বরের বাম দিকে দুই ফুসফুসের মাঝখানে অবস্থিত একটি ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গ।
- এটি হৃৎপেশি নামক এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি দ্বারা গঠিত।
- এটি পেরিকার্ডিয়াম নামক পাতলা পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে।

• হৃৎপিণ্ডের প্রাচীরে তিনটি স্তর থাকে।
যথা-
১। বহিঃস্তর বা এপিকার্ডিয়াম:
- বহিঃস্তর মূলত যোজক কলা দ্বারা গঠিত।
- এতে বিক্ষিপ্তভাবে চর্বি থাকে।
- এটি আবরণী কলা দিয়ে আবৃত থাকে।

২। মধ্যস্তর মায়োকার্ডিয়াম:
- এটি বহিঃস্তর এবং অন্তঃস্তরের মাঝখানে অবস্থান করে।
- এটি দৃঢ় অনৈচ্ছিক পেশি দিয়ে গঠিত।

৩। অন্তঃস্তর এন্ডোকার্ডিয়াম:
- এটি সব থেকে ভেতরের স্তর।
- হৃৎপিণ্ডের প্রকোষ্ঠগুলো অন্তঃস্তর দিয়ে আবৃত থাকে।
- অন্তঃস্তরটি হৃৎপিণ্ডের কপাটিকাগুলোকেও আবৃত করে রাখে।
- হৃৎপিণ্ডের ভেতরের স্তর ফাঁপা এবং চারটি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৪৮.
একটি নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন কত?
  1. ১.৫-২.০ কেজি
  2. ২.৫-৩.০ কেজি
  3. ৩.৫-৫.০ কেজি
  4. ৫.৫-৬.০ কেজি
ব্যাখ্যা
শিশুর বিকাশ: 
- শিশুর বর্ধন ও বিকাশ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। 
- শিশুর বয়স বাড়ার সাথে তার ওজন ও উচ্চতা যেমন বৃদ্ধি পায় তেমনি তার অঙ্গ সঞ্চালন, শক্তি, সামর্থ্যও বৃদ্ধি পায়। 
- তার দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ এবং মাথার আকার ও গঠনের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়। 
- মাথার (মগজ) বর্ধনের ফলে শিশুর শিক্ষণ ক্ষমতা বেড়ে যায় এবং সেই সাথে সাথে তার স্মৃতিশক্তি ও যুক্তির ক্ষমতাও বাড়ে। 
- এই ভাবেই শিশুরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠে। 
- একজন পূর্ণদেহী মানুষ হতে একটি শিশুকে অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হয়। 
- একেক ধাপের পরিণতি পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতি ও সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজন। 
যেমন- 
১। জন্মপূর্বকাল (Prenatal Period): 
- সূচনামুহূর্ত থেকে জন্মগ্রহণ পর্যন্ত সময়কাল। 
- মাতৃগর্ভের অর্থাৎ যখন থেকে মানব সন্তানের জন্ম হয় তখন থেকে ৯ মাস বা ২৮০ দিন পর্যন্ত এই ধাপ বিস্তৃত। 
- এই সময়কাল বেশ সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এই সময়ের বর্ধন খুব দ্রুত। কারণ এই সময়ের মধ্যে স্পষ্ট হয় মানব কাঠামো এবং তার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য। 
- নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন ২.৫-৩.০ কেজি। 
- একটি সুস্থ সদ্যজাত শিশু জন্মের পরই চিৎকার করে কাঁদে। 
- তারা দিনে ২৪ ঘন্টার মধ্যে প্রায় ২০ ঘন্টাই ঘুমায়। 
- কান্নাই তাদের একমাত্র অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম। 

২। নবজাতকাল (Neonatal Period): 
- শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে নবজাতকাল শুরু হয় এবং শেষ হয় ২ সপ্তাহ বা ১৪ দিন পর। 
- কাজেই অন্যান্য বিকাশমূলক স্তরের চেয়ে নবজাতকাল বেশ সংক্ষিপ্ত। 
- এই ধাপে শিশু নতুন পরিবেশের সাথে পরিচিত হয় এবং খাপ খাইয়ে চলার প্রচেষ্টা শুরু হয়। 
- একটি ভিন্নতর পরিবেশের সাথে সঙ্গতি বিধান করার সময় নবজাত শিশুর অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৯.
লিউকেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ কোনটি?
  1. হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটি
  2. অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া
  3. লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বৃদ্ধি
  4. শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

- লিউকেমিয়া রোগের প্রধান লক্ষণ হলো শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক বৃদ্ধি, যা অপরিণত ও অকার্যকর শ্বেত রক্ত কণিকা হিসেবে অস্থি মজ্জা ও রক্তে জমা হয়ে স্বাভাবিক রক্তকণিকা উৎপাদন ব্যাহত করে। 

রক্ত ও এর অস্বাভাবিক অবস্থা: 

- রক্ত হলো প্রাণীদেহের একটি লাল বর্ণের, অস্বচ্ছ, লবণাক্ত এবং সামান্য ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষের রক্ত লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতির কারণে লাল রঙের হয়। 
- রক্তের বিভিন্ন উপাদানের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে রক্তের অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি হয়। 

রক্তের বিভিন্ন অস্বাভাবিক অবস্থা: 
১। অ্যানিমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা বা হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে অ্যানিমিয়া হয়। 

২। লিউকেমিয়া: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে (৫০,০০০-১,০০০,০০০) একে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলা হয়। 

৩। পলিসাইথেমিয়া: 
- লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বৃদ্ধি পেলে একে পলিসাইথেমিয়া বলে। 

৪। পারপুরা: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় কমে গেলে পারপুরা হয়। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে এ অবস্থা দেখা দিতে পারে। 

৫। থ্যালাসেমিয়া: 
- থ্যালাসেমিয়া হলো বংশগত রক্তের রোগ, যা সাধারণত শিশু অবস্থায় শনাক্ত হয়। এ রোগে হিমোগ্লোবিনের গঠনগত ত্রুটির কারণে লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙে যায়, ফলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়। রোগীকে সাধারণত প্রতি ৩ মাস অন্তর রক্ত সঞ্চালন করতে হয়, তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে রক্তশূন্যতার হার কমতে পারে। 

৬। লিউকোসাইটোসিস: 
- শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা ২০,০০০-৩০,০০০ হলে একে লিউকোসাইটোসিস বলা হয়। নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগে এটি হতে পারে। 

৭। থ্রম্বোসাইটোসিস: 
- অনুচক্রিকার সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে গেলে একে থ্রম্বোসাইটোসিস বলা হয়। রক্তনালির অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধাকে থ্রম্বোসিস বলা হয়। হৃৎপিণ্ডের করোনারি রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে করোনারি থ্রম্বোসিস এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বাঁধলে তাকে সেরিব্রাল থ্রম্বোসিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৫০.
গর্ভাবস্থায় নিচের কোনটি স্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি?
  1. ক) ৫০ পাউণ্ড
  2. খ) ২৮ পাউণ্ড
  3. গ) ৪০ পাউণ্ড
  4. ঘ) ১৫ পাউণ্ড
ব্যাখ্যা

স্বাভাবিক উচ্চতা ও ওজনের একজন গর্ভবতী মহিলার জন্য আদর্শ ওজন বৃদ্ধি হলো গড়ে ২৮ পাউণ্ড।
কিন্তু ওজন বৃদ্ধি 25 থেকে 40 পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

সোর্স: https://www.urmc.rochester.edu/

৬৫১.
মেরুরজ্জু থেকে কয় জোড়া মেরুরজ্জীয় স্নায়ু (Spinal nerves) বের হয়?
  1. ১১ জোড়া
  2. ২৩ জোড়া
  3. ৩১ জোড়া
  4. ৪৬ জোড়া
ব্যাখ্যা

• মেরুরজ্জু (Spinal cord):
- মেরুরজ্জু স্নায়ুতন্ত্রের অংশ। 
- মেরুরজ্জু করোটির পেছনে অবস্থিত ফোরামেন ম্যাগনাম (Foramen magnum) নামক ছিদ্র থেকে কটিদেশের কশেরুকা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মেরুরজ্জু বা সুষুম্না কাণ্ড মেরুদণ্ডের কশেরুকার ভেতরের ছিদ্রপথে সুরক্ষিত থাকে।
- মেরুরজ্জুতে শ্বেত পদার্থ এবং ধূসর পদার্থ থাকে। তবে এদের অবস্থান মস্তিষ্কের ঠিক উল্টো। অর্থাৎ শ্বেত পদার্থ থাকে বাইরে আর ভিতরে থাকে ধূসর পদার্থ।
- দুই কশেরুকার মধ্যবর্তী ছিদ্র দিয়ে মেরুরজ্জু থেকে ৩১ জোড়া মেরুরজ্জীয় স্নায়ু (Spinal nerves) বের হয়। এসব ঘাড়, গলা, বুক, পিঠ, হাত ও পায়ের স্নায়ু। এসব স্নায়ু মিশ্র প্রকৃতির।
- মেরুরজ্জীয় স্নায়ুগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে সংকেত আদান-প্রদান করে।
- এই স্নায়ুগুলো ৮ জোড়া সারভিকাল, ১২ জোড়া থোরাসিক , ৫ জোড়া লাম্বার , ৫ জোড়া স্যাক্রাল এবং ১ জোড়া কক্সিজিয়াল স্নায়ু নিয়ে গঠিত। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৬৫২.
মানুষের চোখের শ্বেত মন্ডলের সামনের অংশের নাম -
  1. রেটিনা
  2. কর্নিয়া
  3. আইরিস
  4. তারার
ব্যাখ্যা
চোখ: 
- কর্নিয়ার পেছনে অস্বচ্ছ আবরণীকে আইরিশ বলা হয়। 
- একটি শক্ত গোলকের মধ্যে বিভিন্ন জৈব পদার্থের সমন্বয়ে চক্ষু গঠিত, গোলকটির নাম অক্ষি গোলক। 
- গোলকটির বাইরের অংশ একটি শক্ত সাদারঙের অস্বচ্ছ তন্তু দিয়ে আবৃত, এই আবরণীর নাম শ্বেতমন্ডল। 
- শ্বেত মন্ডলের সামনে খানিকটা অংশ উত্তল ও স্বচ্ছ, এই অংশের নাম কর্নিয়া। 
- শ্বেত মন্ডলের ভেতরের গায়ে কালো রঙের আস্তরণ থাকে এক বলে কৃষ্ণমন্ডল। 
- আইরিশ চোখের উপর পতিত আলো নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন মানুষের আইরিশের রঙ বিভিন্ন হয়। 
- অক্ষিগোলকের ভেতরের পৃষ্ঠে গোলাপী রঙের ঈষদচ্ছ আলোক সংবেদন আবরণকে রেটিনা বলে। 
- এটি রড এবং কোন নামে কতগুলো স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা গঠিত এবং এগুলো চক্ষু স্নায়ুর সাথে সংযুক্ত থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান) এবং পদার্থবিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৩.
নিচের কোনটি মানবদেহের রাসয়নিক দূত হিসেবে কাজ করে?
  1. ক) উৎসেচক
  2. খ) হরমোন
  3. গ) স্নায়ুতন্ত্র
  4. ঘ) পেশী
ব্যাখ্যা

যে জৈব-রাসায়নিক তরল শরীরের কোনো কোষ বা গ্রন্থি থেকে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশে নিঃসরিত হয়ে রক্তরস বা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় উৎপত্তিস্থল থেকে দূরে বাহিত হয়ে দেহের বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে এবং ক্রিয়ার পর ধ্বংস প্রাপ্ত হয় তাদের হরমোন বলে।

সে হিসেবে হরমোনকে রাসায়নিক দূত বলা যায়।

উৎস: নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞান

৬৫৪.
অমরা গ্রন্থি থেকে কোন হরমোন নিঃসৃত হয়?
  1. প্রোজেস্টেরন
  2. থাইরক্সিন
  3. অ্যাড্রানালিন
  4. ইস্ট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি: 
- এই গুন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- অ্যাড্রানালিন হরমোন। এ হরমোন যৌন অঙ্গের বৃদ্ধি করে এবং যৌন লক্ষণ প্রকাশে সহায়তা করে।

• ডিম্বাশয় এর অনাল গ্রন্থি: 
- এই অনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) ইস্ট্রোজেন, (খ) প্রোজেস্টেরন এবং (গ) রিলাক্সিন। এ হরমোন নারী সুলভ লক্ষণগুলো সৃষ্টি করে, ঋতুচক্র নিয়ন্ত্রণ করে, গর্ভাবস্থায় জরায়ু, ভ্রূণ ও অমরা ইত্যাদির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডিম্বাণু উৎপাদনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। 

• অমরা গ্রন্থি: 
- অমরা থেকে নিঃসৃত হরমোন হলো- (ক) গোনাডোট্রপিক এবং (খ) প্রোজেস্টেরন। এ হরমোন ডিম্বাশয়ের অনাল গ্রন্থিকে উত্তেজিত করে এবং স্তন গ্রন্থির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৫৫.
মস্তিষ্কের ক্ষমতা ক্ষয় পেতে থাকে স্নায়ু কোষের- 
  1. অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেলে
  2. এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে গেলে
  3. এক-চতুর্থাংশ ধ্বংস হয়ে গেলে
  4. এক-চতুর্থাংশ বেড়ে গেলে
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৬.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. আয়োডিন
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা
হিমোগ্লোবিন: 
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ। 
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়। 
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা। 
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে। 
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে। 
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। 

- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৭.
রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে কোন নালির মাধ্যমে?
  1. ফুসফুসীয় ধমনী
  2. ধমনী
  3. শিরা
  4. কৈশিক জালিকা
ব্যাখ্যা
শিরা (Vein):

• যেসব নালির ভিতর দিয়ে রক্ত প্রবাহিত বা সঞ্চালিত হয়, তাকে রক্তনালি বা রক্তবাহিকা বলে।
• গঠন, আকৃতি এবং কাজের ভিত্তিতে রক্তবাহিকা বা রক্তনালি তিন ধরনের - ধমনি, শিরা এবং কৈশিক জালিকা।
• ধমনী: অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে সমগ্র দেহে নিয়ে যায়।  
• কৈশিক জালিকা: ক্ষুদ্রতম ধমনি এবং ক্ষুদ্রতম শিরার মধ্যে সংযোগ সাধন করে। 
• শিরা: যেসব নালি দিয়ে রক্ত দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃৎপিন্ডে ফিরে আসে তাদের শিরা বলে। 
• শিরার প্রাচীর ধমনির মতো তিন স্তরবিশিষ্ট।
• শিরার প্রাচীর কম পুরু, কম স্থিতিস্থাপক ও কম পেশিময়।
• এদের নালিপথ একটু চওড়া এবং কপাটিকা থাকে।
• ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে আসা শিরাটি ছাড়া অন্য সব শিরা কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত পরিবহন করে হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে।
• ফুসফুসীয় শিরা বা পালমোনারি শিরা অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত ফুসফুস থেকে হৃৎপিন্ডে পৌঁছে দেয়।
• একইভাবে, পালমোনারি ধমনী কার্বন ডাই অক্সাইড সমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিন্ড থেকে ফুস্ফুসে নিয়ে যায়। 
• লসিকা এক রকম হালকা হলুদ বর্ণের স্বচ্ছ ক্ষারীয় তরল যোজক কলা।


উৎস: উচ্চ-মাধ্যামিক জীববিজ্ঞান বই। 
৬৫৮.
নিচের কোনটি স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত?
  1. পারকিনসন'স
  2. উচ্চ রক্তচাপ
  3. সিওপিডি
  4. মায়োকার্ডাইটিস
ব্যাখ্যা
পারকিনসন'স ডিজিজ স্নায়ুরোগ হিসেবে পরিচিত।

• স্নায়ুরোগ:

- স্নায়ুরোগ হল স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন যেকোনো অবস্থা।
- স্নায়ুতন্ত্র শরীরের একটি জটিল নেটওয়ার্ক যা মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ড থেকে শরীরের বাকি অংশে বার্তা প্রেরণ এবং গ্রহণ করে।
- স্নায়ু রোগের ফলে বিভিন্ন ধরণের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
- স্নায়ুতে ব্যথা, অসাড়তা, ঝিনঝিনি বা জ্বালাপোড়া;
- মাংসপেশীর দুর্বলতা বা পক্ষাঘাত;
- চলাফেরায় অসুবিধা;
- সমন্বয়ের অভাব;
- বক্তৃতা বা গিলে ফেলার সমস্যা;
- মূত্রাশয় বা অন্ত্রের নিয়ন্ত্রণ হারানো;
- সংবেদনশীলতা হ্রাস;
- জ্ঞান হারানো।
- উদাহরণ: স্ট্রোক, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, আলঝেইমার'স ডিজিজ, GBS, মেনিনজাইটিস প্রভৃতি স্নায়ুরোগ হিসাবে পরিচিত।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা, মায়োকার্ডাইটিস, এন্ডোকার্ডাইটিস ইত্যাদি হৃদরোগ হিসাবে পরিচিত।
- নিউমোনিয়া, অ্যজমা, সিওপিডি, ব্রঙ্কিয়েকটেসিস ইত্যাদি ফুসফুসের রোগ হিসাবে পরিচিত।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৫৯.
পিত্তরসের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. অম্লীয়
  2. নিরপেক্ষ
  3. ক্ষারীয়
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা

যকৃৎ (Liver): 
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। 
- যকৃৎ মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। 
- যকৃৎ-এর রং লালচে খয়েরি। 
- যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। 
- প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে যে কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে যেখানে পিত্তরস জমা হয়। এই পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬০.
মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম কী? 
  1. মায়োকার্ডিয়াম
  2. পেরিকার্ডিয়াম
  3. অস্ট্রিয়াম
  4. মেনিনজেস
ব্যাখ্যা
স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একক কে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬১.
রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন কোনটি?
  1. ইস্ট্রোজেন
  2. অ্যাড্রেনালিন
  3. থাইরক্সিন
  4. ইনসুলিন
ব্যাখ্যা

•  ইনসুলিন হলো রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন।

• ইনসুলিন:
- ইনসুলিন একটি হরমোন।
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে।
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়।
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়।
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন।
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে।

অন্যান্য অপশন:
- ইস্ট্রোজেন: ওভারি (ডিম্বাশয়) থেকে নিঃসৃত হয়ে প্রজনন এবং সেকেন্ডারি যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে, গ্লুকোজের সাথে কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
- অ্যাড্রেনালিন: এটি স্ট্রেসের সময় অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে অস্থায়ীভাবে রক্তের শর্করা বাড়িয়ে দেয়, কিন্তু নিয়মিত নিয়ন্ত্রণ করে না।
- থাইরক্সিন: এটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়ে দেহের বিপাকীয় হার (Metabolic Rate) নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু গ্লুকোজের সরাসরি নিয়ন্ত্রক নয়।

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৬২.
নিচের কোনটি মানবদেহের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষাকারী স্নায়ু হিসেবে পরিচিত?
  1. অডিটরি স্নায়ু
  2. ট্রকলিয়ার স্নায়ু
  3. অলফ্যাক্টরি স্নায়ু
  4. হাইপোগ্লোসাল স্নায়ু
ব্যাখ্যা
• মানবদেহের শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষাকারী স্নায়ু হিসেবে পরিচিত "অডিটরি স্নায়ু"।

•  স্নায়ুতন্ত্র:
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ মস্তিষ্ক।
- প্রাপ্তবয়ষ্ক মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি।
- মস্তিষ্কের আবরণীর নাম মেনিনজেস।
- একটি পূর্নাঙ্গ স্নায়ু কোষকে নিউরন বলে।
- মস্তিষ্কে প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) নিউরন থাকে।

• করোটিক স্নায়ু:

- করোটিক স্নায়ু মস্তিষ্ক, মুখ, ঘাড় এবং ধড়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক সংকেত পাঠায়।
- আমরা যে স্বাদ, গন্ধ, কথা শুনতে এবং অনুভূতি অনুভব করি তাতে করোটিক স্নায়ু সহায়তা করে।
- মানুষের ১২ জোড়া করোটিক স্নায়ু রয়েছে।

• নিম্নে আরো কিছু করোটিক স্নায়ুর নাম ও কাজ উল্লেখ করা হলো:
(১) অলফ্যাক্টরি - ঘ্রাণ অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
(২) অপটিক - দর্শন অনুভূতি মস্তিষ্কে পৌঁছায়।
(৩) অকুলোমোটর - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
(৪) ট্রকলিয়ার - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (মধ্যমস্তিষ্কের পৃষ্ঠ-পার্শ্বদেশে অবস্থান)
(৫) ট্রাইজেমিনাল - সংশ্লিষ্ট অঙ্গ থেকে সংবেদ মস্তিষ্কে প্রেরণ।
(৬) অ্যাবডুসেন্স - অক্ষিগোলকের সঞ্চালন। (পনস ও মেডুলার সংযোগস্থলের অঙ্কীয়দেশে অবস্থান)
(৭) ফ্যাসিয়াল - স্বাদ গহণ, চর্বন, গ্রীবা সঞ্চালন।
(৮) অডিটরি (অ্যাকাউস্টিক) - শ্রবণ ও ভারসাম্য রক্ষা।
(৯) গ্লসোফ্যারিঞ্জিয়াল - স্বাদ গ্রহণ, জিহ্বা ও গলবিলের সঞ্চালন।
(১০) ভেগাস (নিউমোগ্যাস্ট্রিক) - সংশ্লিষ্ট অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ।
(১১) স্পাইনাল অ্যাক্সেসরি - মাথা ও কাঁধের সঞ্চালন।
(১২) হাইপোগ্লোসাল - জিহ্বার সঞ্চালন।

উৎস: জীববিজ্ঞান ২য় পত্র(একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি), গাজী আজমল ও গাজী আসমত।
৬৬৩.
মানবদেহে ইনসুলিন নিঃসরণ করে ___। 
  1. থাইরয়েড
  2. যকৃত
  3. কিডনি
  4. অগ্ন্যাশয়
ব্যাখ্যা

• ইনসুলিন হলো মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হরমোন, যা ইনসুলিন নিঃসরণ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

- রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি হলে ইনসুলিন নিঃসরণ হয় এবং কোষে গ্লুকোজ প্রবেশ করিয়ে শক্তি উৎপাদন ও সংরক্ষণে সাহায্য করে।
- এটি দেহকে সুস্থ রাখার জন্য অপরিহার্য।

• অগ্ন্যাশয় ও ইনসুলিনের সম্পর্ক:
- প্যানক্রিয়াস হলো একটি অঙ্গ যা পেটের পিছনের দিকে অবস্থান করে।
- এটি দুটি প্রধান কাজ করে; এটি পাচন শক্তি নিঃসরণ এবং হরমোন নিঃসরণ উভয় কাজ করে।
- অগ্ন্যাশয়ের মধ্যে ল্যাংগারহ্যান্স (Islets of Langerhans) নামে বিশেষ কোষ থাকে।
- এই ল্যাংগারহ্যান্স এর মধ্যে বিটা কোষ (Beta cells) ইনসুলিন হরমোন উৎপন্ন করে।
- ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজকে কোষের মধ্যে প্রবেশ করায় এবং গ্লুকোজকে গ্লাইকোজেন (যকৃত ও মাংসপেশিতে) বা চর্বি হিসেবে সংরক্ষণে সাহায্য করে।
- এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র:
- NCTB মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বই। 

৬৬৪.
শরীরে পানি কত ভাগ কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়?
  1. ১৬%
  2. ১২%
  3. ১৪%
  4. ১০%
ব্যাখ্যা

• মানব শরীরের প্রায় ৬০%- ৭৫% জল দিয়ে গঠিত। জল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি পরিবহন এবং পদার্থবিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে পানি কমে গেলে ডিহাইড্রেশন হয়। যদি শরীরের মোট পানির পরিমাণের প্রায় ১০%–১৬% কমে যায়, তখন মারাত্মক প্রভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষভাবে, শরীরে প্রায় ১০% পানি হ্রাস হলে স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব পড়ে এবং মানুষ সংজ্ঞা হারাতে পারে। এই পর্যায়ে মস্তিষ্ক ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না, অজ্ঞান হওয়া সম্ভব এবং জীবনসংকটজনক অবস্থার সৃষ্টি হয়। তাই পর্যাপ্ত পানি গ্রহণ শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম এবং জীবন রক্ষার জন্য অপরিহার্য।

সঠিক উত্তর: গ) ১০%
 
- উল্লেখ্য, অধিকাংশ মানুষ ৩–৪% পরিমাণ শরীরের জল কমে গেলেও তা সহজেই সহ্য করতে পারে এবং এতে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দেয় না। ৫–৮% হ্রাস হলে ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরা অনুভূত হতে পারে। মোট শরীরের জলের ১০% এর বেশি হ্রাস হলে শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে, যা তীব্র তৃষ্ণার সঙ্গে যুক্ত থাকে। শরীরের জলের ১৫–২৫% ক্ষতি হলে মৃত্যুও ঘটতে পারে।

 • মানবদেহ ও পানি:
- পানি খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান।
- দেহের গঠন ও অভ্যন্তরীণ কাজ পানি ছাড়া চলতে পারে না।
- আমাদের দৈহিক ওজনের ৬০%- ৭৫% হচ্ছে পানি।
- আমাদের রক্ত, মাংস, স্নায়ু, দাঁত, হাড় ইত্যাদি প্রতিটি অঙ্গ গঠনের জন্য পানির প্রয়োজন।
পানি জীবদেহে দ্রাবকের কাজ করে, খাদ্য উপাদানের পরিপাক ও পরিশোষণে সাহায্য করে।
- বিপাকের ফলে দেহে উৎপন্ন ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং
- বিষাক্ত পদার্থগুলোকে পানি মূত্র ও ঘাম হিসেবে শরীর থেকে বের করে দেয়।
- একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ২-৩ লিটার পানি পান করা উচিত, কারণ প্রায় ঐ পরিমাণ পানি প্রত্যেকদিনই আমাদের শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
- শরীরে পানি ১০% কমে গেলে সংজ্ঞা লোপ পায়, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬৫.
অণুচক্রিকা (Platelet) সম্পর্কে কোনটি সঠিক? 
  1. এটি রক্ত তঞ্চনে সাহায্য করে 
  2. এতে নিউক্লিয়াস থাকে 
  3. এটি দীর্ঘায়ু কোষ যা প্রায় ৬ মাসের উপড়ে বেঁচে থাকে
  4. এটি সম্পূর্ণরূপে অস্থিমজ্জার অংশ নয়
ব্যাখ্যা

অণুচক্রিকা: 
- অণুচক্রিকা বা থ্রম্বোসাইটকে ইংরেজিতে প্লেটলেট (Platelet) বলে। অণুচক্রিকাগুলো গোলাকার, ডিম্বাকার অথবা রড আকারের হতে পারে। এদের সাইটোপ্লাজম দানাদার এবং সাইটোপ্লাজমে কোষ অঙ্গাণু- মাইটোকন্ড্রিয়া, গলগি বস্তু থাকে; কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না। 
- অনেকের মতে, অণুচক্রিকাগুলো সম্পূর্ণ কোষ নয়; এগুলো অস্থিমজ্জার বৃহদাকার কোষের ছিন্ন অংশ। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় দেড় থেকে সাড়ে চার লাখ। অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা সাধারণত আরো বেশি বা কম হয়। 

- অণুচক্রিকার প্রধান কাজ হলো রক্ত তঞ্চন করা বা জমাট বাঁধানোতে (blood clotting) সাহায্য করা। 
- যখন কোনো রক্তবাহিকা বা কোনো টিস্যু আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে কেটে যায়, তখন সেখানকার অণুচক্রিকাগুলো সক্রিয় হয়ে উঠে অনিয়মিত আকার ধারণ করে এবং থ্রম্বোপ্লাসটিন (Thromboplastin) নামক পদার্থ তৈরি করে। এ পদার্থগুলো রক্তের প্রোটিন প্রোথ্রমবিনকে থ্রমবিনে পরিণত করে। 
- থ্রমবিন পরবর্তীকালে রক্তরসের প্রোটিন-ফাইব্রিনোজেনকে ফাইব্রিন জালকে পরিণত করে রক্তকে জমাট বাঁধায় কিংবা রক্তের তঞ্চন ঘটায়। 
- ফাইব্রিন একধরনের অদ্রবণীয় প্রোটিন, যা দ্রুত সুতার মতো জালিকা প্রস্তুত করে। এটি ক্ষতস্থানে জমাট বাঁধে এবং রক্তক্ষরণ বন্ধ করে। 
- তবে রক্ত তঞ্চন প্রক্রিয়াটি আরও জটিল, এ প্রক্রিয়ার জন্য আরও বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ এবং ভিটামিন K ও ক্যালসিয়াম আয়ন জড়িত থাকে। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৬৬.
রক্ত কণিকার উৎপত্তি কোথায় ঘটে?
  1. ফুসফুস 
  2. হৃৎপিণ্ড
  3. অস্থিমজ্জা
  4. যকৃত
ব্যাখ্যা

• রক্ত কণিকার উৎপত্তি প্রধানত অস্থিমজ্জাতে ঘটে। অস্থিমজ্জা হল হাড়ের মধ্যবর্তী স্পঞ্জ জাতীয় অংশ, যা লাল ও হলুদ মজ্জা দ্বারা গঠিত। লাল অস্থিমজ্জা মূলত রক্তকণিকা উৎপাদনের জন্য দায়ী। এখানে স্টেম সেল বা মূল কোষ থাকে, যেগুলো থেকে লোহিত কণিকা, শ্বেতকণিকা এবং রক্তের অন্যান্য কোষ গঠিত হয়। শিশু ও তরুণদের হাড়ের অধিকাংশ অংশে লাল অস্থিমজ্জা থাকে, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি কিছুটা কমে যায় এবং হলুদ মজ্জার পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। তাই রক্ত কণিকার উৎপত্তি অস্থিমজ্জাই।

- সঠিক উত্তর: গ) অস্থিমজ্জা।

• রক্ত:
- রক্ত একটি অস্বচ্ছ তরল পদার্থ।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে রক্তের রং লাল দেখায়।
- এটি ক্ষারধর্মী, লবণাক্ত স্বাদযুক্ত পদার্থ।
- এটি রক্তরস ও রক্ত কণিকার সমন্বয়ে গঠিত।

• রক্ত কণিকা:
- মানবদেহে তিন প্রকার রক্ত কণিকা দেখা যায়।
যথা-
- লোহিত রক্ত কণিকা,
- শ্বেত রক্ত কণিকা এবং
- অণুচক্রিকা।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনে ভুমিকা রাখে।
- যকৃত রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণী, NCTB।

৬৬৭.
যকৃত কোন ভিটামিন সঞ্চয় করতে পারে না?
  1. ভিটামিন এ
  2. ভিটামিন ডি
  3. ভিটামিন সি
  4. ভিটামিন কে
ব্যাখ্যা
- যকৃতের ভিটামিন সি সঞ্চয় করা সম্ভব নয়, কারণ ভিটামিন সি (আসকর্বিক অ্যাসিড) একটি জলে-দ্রবণীয় ভিটামিন, যা শরীরের মাধ্যমে সহজে ফেলে দেওয়া হয়। 

যকৃত: 

- দেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি হলো যকৃত। 
- যকৃত পেটের উপরিভাগে ডানদিকে অবস্থিত। 
- প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের শরীরে যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- যকৃত থেকে পিত্তরস নামক এক প্রকার রস নিঃসৃত হয়ে যকৃতনালীর মধ্যে দিয়ে ধীরে ধীরে এসে পিত্তথলিতে জমা হয়। 
- পিত্তনালীর মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতকে শরীরের জৈব রসায়নাগার বলে। 

- যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও গ্লাইকোজেনকে চর্বিরূপে জমা রাখে। 
- যকৃত অতিরিক্ত এমাইনো এসিডকে ইউরিয়ায় পরিণত করে। 
- যকৃত ভিটামিন এ, ডি, ই, কে ও ফলিক এসিড সঞ্চয় করে। 
- যকৃতের হেপাটোসাইট কোষ অনবরত পিত্তরস তৈরি করে পিত্তথলিতে জমা করে। 
- যকৃত কোলেস্টেরল উৎপাদন করে। 
- যকৃত দেহ থেকে বিভিন্ন রোগজীবাণু অপসারিত করে। 
- এছাড়াও যকৃত চর্বি ও কোলেস্টেরল পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করে। 

উৎস: গার্হস্থ্য বিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৮.
প্রাণিদেহের তরল যোজক কলা কোনটি?
  1. ক) কোমলাস্থি
  2. খ) লসিকা
  3. গ) মূত্র
  4. ঘ) ঘাম
ব্যাখ্যা

- তরল যোজক কলার মাতৃকা তরল। মাতৃকায় বিভিন্ন ধরনের জৈব পদার্থ দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে। তরল যোজক কলা দুই ধরনের- রক্ত এবং লসিকা।
- কোমলাস্থি ও অস্থি হলো স্কেলিটাল যোজক টিস্যু।
- মূত্র ও ঘাম হলো দেহ থেকে নির্গত বর্জ্য পদার্থ।

সূত্র: মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি 

৬৬৯.
হিমোগ্লোবিন কোন জাতীয় পদার্থ?
  1. আমিষ
  2. স্নেহ
  3. আয়োডিন
  4. লৌহ
ব্যাখ্যা

হিমোগ্লোবিন:
- হিমোগ্লোবিন এক ধরনের আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় পদার্থ।
- হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির জন্য রক্তের রং লাল হয়।
- এর প্রধান কাজ হলো ধমনি থেকে দেহের সব স্থানে অক্সিজেন ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করা।
- হিমোগ্লোবিনের প্রতিটি অণুতে চারটি আয়রন পরমাণু থাকে। আর প্রতিটি আয়রন পরমাণু একটি করে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
- রক্তে ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহত কণিকার অক্সিজেনের মাধ্যমে।
- একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে।
 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী।

উৎস: জীববিজ্ঞান, দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. গাজী আজমল) এবং প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭০.
বহিঃক্যারোটিড ধমনির কোনটি গলবিলে রক্ত বহন করে? 
  1. লিঙ্গুয়াল ধমনি
  2. ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি
  3. অক্সিপিটাল ধমনি
  4. সুপিরিয়র থাইরয়েড ধমনি
ব্যাখ্যা
বহিঃক্যারোটিড ধমনি: 
- এটি মাথার ত্বক এবং ঘাড়ে রক্ত সরবরাহ করে। 
- বহিঃক্যারোটিড ধমনি থেকে উৎপন্ন শাখাগুলো- 
সুপিরিয়র থাইরয়েড ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি ও ল্যারিংক্সে রক্ত বহন করে। 
লিঙ্গুয়াল ধমনি: জিহ্বা ও সাবলিঙ্গুয়াল গ্রন্থিতে রক্ত বহন করে। 
ফেসিয়াল ধমনি: মুখমণ্ডল, চোখ, সাব-ম্যাক্সিলারি গ্রন্থি এবং মুখমণ্ডলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
অক্সিপিটাল ধমনি: অক্সিপিটাল অঞ্চলের ত্বক ও পেশিতে রক্ত বহন করে। 
ফ্যারিঞ্জিয়াল ধমনি: গলবিলে রক্ত বহন করে। 
- এছাড়া বহিঃক্যারোটিড ধমনি আন্তঃম্যাক্সিলারি ও সুপারফিসিয়াল টেমপোরাল ধমনিতে বিভক্ত হয়। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭১.
নিচের কোনটি মানবদেহে অবস্থিত সাইনাস নয়?
  1. Nasal sinus
  2. Frontal sinus
  3. Maxillary sinus
  4. Sphenoid sinus
ব্যাখ্যা
• শ্বসন অঙ্গের সমস্যা: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক অথবা অন্য কোন এজেন্ট দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে, যা নানা রকম রোগ সৃষ্টি করে। 
যেমন- 
সাইনুসাইটিস (Sinusitis): 
- আমাদের করোটি ও মুখমণ্ডলের অস্থিগুলোর ভেতরে কিছু বায়ুপূর্ণ ফাঁকা স্থান রয়েছে যেগুলোকে সাইনাস বলে। 

- মানুষের মুখমণ্ডলে ৪ জোড়া সাইনাস আছে। 
যথা- 
(ক) ম্যাক্সিলারি সাইনাস, 
(খ) ফ্রন্টাল সাইনাস, 
(গ) এথময়েড সাইনাস এবং 
(ঘ) স্কেনয়েড সাইনাস। 

- এসকল সাইনাস মিউকাস পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে এবং পিচ্ছিল মিউকাস সৃষ্টির মাধ্যমে নাসিকা পথকে সিক্ত ও জীবাণুমুক্ত রাখে। 
- ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা ছত্রাক দ্বারা সাইনাস আক্রান্ত হলে যে প্রদাহের সৃষ্টি হয় তাকে সাইনুসাইটিস বলে। 
- সাইনুসাইটিস ৮ সপ্তাহের কম সময় থাকলে তাকে একিউট (Acute) সাইনুসাইটিস এবং ৩ মাসের অধিককাল থাকলে তাকে ক্রনিক (Chronic) সাইনুসাইটিস বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭২.
কোনটি রক্তের কাজ নয়?
  1. কলা (Tissue) হতে ফুসফুসে বর্জ্য পদার্থ বহন করা
  2. ক্ষুদ্রান্ত্র হতে কলাতে খাদ্যের সারবস্তু বহন করা
  3. হরমোন বিতরণ করা
  4. জারক রস (enzyme) বিতরণ করা
ব্যাখ্যা
• জারক রস বিতরণ করা রক্তের কাজ নয়।

• রক্ত:
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা।
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়।
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়।
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রং লাল হয়।
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে।

• রক্তের কাজ:
- অক্সিজেন পরিবহন,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণ,
- খাদ্যসার পরিবহন,
- তাপের সমতা রক্ষা,
- বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন,
- হরমোন পরিবহন,
- রোগ প্রতিরোধ,
- রক্ত জমাট বাঁধা।

উৎস:
১. বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৩.
মানুষের দেহে মোট কতটি ক্রোমোসোম থাকে?
  1. ক) ৪৪টি
  2. খ) ৪৫টি
  3. গ) ৪৬টি
  4. ঘ) ৪৭টি
ব্যাখ্যা
মানবদেহের প্রতিটি কোষে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোসোম থাকে। এ ২৩ জোড়া ক্রোমোসোমের মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় অটোসোম। অটোসোম দেহের নানা প্রকার গঠন প্রণালি ও জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। লিঙ্গ নির্ধারণে এদের কোনও ভূমিকা নেই। অপর এক জোড়া ক্রোমোসোমকে বলা হয় সেক্স ক্রোমোসোম বা লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারণ করে লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম। লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোসোম জোড়াকে X এবং Y নামে চিহ্নিত করা হয়।
৬৭৪.
সাধারণভাবে, মানুষের দেহে মোট কতটি হাড় থাকে?
  1. ২১৬
  2. ২০৬
  3. ১২৬
  4. ২৩৬
ব্যাখ্যা

মানুষের কঙ্কালতন্ত্র: 
- একজন মানুষের দেহে ২০৬ টুকরা হাড় থাকে। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- 
(১) অক্ষীয় কঙ্কাল, 
(২) উপানীয় কঙ্কাল। 

- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঞ্চালিক গঠনকে করোটি বলে। করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে। 
- করোটির যে অংশ মস্তিষ্ক আবৃত করে রাখে তাকে করোটিকা বলে। 
- সর্বমোট ১৪টি অস্থি নিয়ে মুখমণ্ডল গঠিত। 
- ৩৩টি অসম আকৃতির সীমিত সঞ্চালনক্ষম অস্থিখণ্ডক সমন্বয়ে মেরুদণ্ড গঠিত। 

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৫.
মানুষের লোহিত রক্ত কণিকা কোথায় তৈরি হয়?
  1. প্লীহাতে
  2. অস্থিমজ্জায়
  3. হৃদপিন্ডে
  4. যকৃতে
ব্যাখ্যা
লোহিত রক্ত কণিকা

• অস্থিমজ্জায় তৈরি হয় এবং প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে।
• এদের গড় আয়ু ১২০ দিন।
• হিমোগ্লোবিন নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় রক্ত লাল দেখায়।
• এরা প্রধানত অক্সিজেন এবং সামান্য পরিমান কার্বন-ডাই-অক্সাইড পরিবহন করে।
• রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ হ্রাস পাওয়াকে রক্তশূন্যতা বা Anaemia বলে।
• ভিটামিন বি-১২, ফলিক এসিড, আমিষ বা লৌহ স্বল্পতা হলে Anaemia হয়।
• লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল।



উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৭৬.
মানবদেহের মেরুদণ্ডে হাড়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ২৯টি
  2. খ) ২৫টি
  3. গ) ৬০টি
  4. ঘ) ২৬টি
ব্যাখ্যা

একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ২৬টি।
আর নবজাতকের শরীরে মেরুদণ্ডে হাড় থাকে ৩৩টি।
পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির শরীরে মেরুদণ্ডে থাকেঃ
- ৭টি গ্রীবাদেশীয় কশেরুকা
- ১২টি বক্ষদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি কটিদেশীয় কশেরুকা
- ৫টি হাড় একীভূত হয়ে একটি শ্রোণিদেশীয় কশেরুকা
- ৪টি হাড় একীভূত হয়ে একটি পুচ্ছদেশীয় কশেরুকা 
- এই সর্বমোট ২৬টি কশেরুকা।
শৈশাবস্থায় শ্রোণিদেশীয় ও পুচ্ছদেশীয় হাড়গুলো একীভূত না হওয়ায় তখন মেরুদণ্ডে মোট অস্থির সংখ্যা থাকে ৩৩টি।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

৬৭৭.
চোখের কোন অংশে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়?
  1. লেন্স
  2. কর্নিয়া 
  3. রেটিনা
  4. ফোবিয়া সেন্ট্রালিস
ব্যাখ্যা

ফোবিয়া সেন্ট্রালিস (Fovea centralis):
- অন্ধবিন্দুর কাছাকাছি রেটিনার একটি অংশে প্রচুর কোণ কোষ দেখা যায়, রড কোষ থাকে না।
- এ অংশকে হলুদ বিন্দু (yellow spot) বা ফোবিয়া সেন্ট্রালিস বলে।
কাজ: এখানে সবচেয়ে ভাল প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

- লেন্স:
- পিউপিলের পিছনে অবস্থিত ও সিলিয়ারী বডির সাথে সাসপেনসরি লিগামেন্টযুক্ত হয়ে ঝুলে থাকা একটি স্বচ্ছ স্থিতিস্থাপক ও দ্বিউত্তল চাকতির মতো অংশকে লেন্স বলে।
লেন্স (Lens) এর কাজ: লেন্সের মাধ্যমে বস্তু থেকে আগত আলোক রশ্মি রেটিনার নির্দিষ্ট অংশে প্রতিফলিত হয়।

কর্নিয়া (Cornea):
- স্ক্লেরা আবরণীর সম্মুখ ভাগের স্বচ্ছ অংশের নাম কর্নিয়া।
কাজ: কর্নিয়ার মাধ্যমে চোখের ভেতরে আলো প্রবেশ করে।

 রেটিনা (Retina):
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা।
- এ স্তরটি আলোক সংবেদী।
- এতে আলোক সংবেদী কোষ (Photoreceptor) থাকে।
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত।
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ।
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী।
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী।
কাজ: রেটিনাতে বস্তুর প্রতিবিম্ব তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান), এইচ এস সি, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭৮.
ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে কোন ধমনি?
  1. ভার্টিব্রাল ধমনি
  2. ফ্রেনিক ধমনি
  3. সার্ভিকাল ধমনি
  4. সিলিয়াক ধমনি
ব্যাখ্যা
সাবক্লেভিয়াল ধমনি: 
- দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত বহন করে। 
যেমন- 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত বহন করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত বহন করে। 
• ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
• সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
 ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৯.
মানুষের শরীরে মোট কতধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে?
  1. ক) ২৬
  2. খ) ৩৬
  3. গ) ৫৬
  4. ঘ) ৬৬
ব্যাখ্যা
মানুষের শরীরে মোট ২৬ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন মৌল আছে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর রসায়ন বোর্ড বই
৬৮০.
স্নায়ুতন্ত্রকে কয়ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ক) ১ ভাগে
  2. খ) ২ ভাগে
  3. গ) ৩ ভাগে
  4. ঘ) ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা

প্রাণিদেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও এর অসংখ্য কোষের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করে স্নায়ুতন্ত্র। স্নায়ুতন্ত্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার হয় - মেরুদন্ডী প্রাণিতে।
মেরুদন্ডী প্রাণীরা আজ পৃথিবীতে প্রাধান্য বিস্তারকারী গোষ্ঠী। এ আধিপত্যের অন্যতম কারণ - উন্নত মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হচ্ছে মস্তিষ্ক এবং একক হচ্ছে - নিউরন। অসংখ্য নিউরনের সমন্বয়ে মস্তিষ্ক গঠিত।
মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রধানত ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র (Central nervous system)
২. প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র (Peripheral nervous system)

উৎসঃ মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক জীববিজ্ঞান বোর্ড বই।

তবে, মাধ্যমিক (উন্মুক্ত) ও অষ্টম শ্রেণীর সাধারণ বিজ্ঞান বইতে স্নায়ুতন্ত্রকে ৩ ভাগে বিভক্ত দেখানো হয়েছে।
যথা - কেন্দ্রীয়, প্রান্তীয় ও স্বয়ংক্রিয়।

তবে, এই ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞান বোর্ড বইগুলো অধিকতর গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ২ ভাগকে সঠিক উত্তর ধরে নিচ্ছি।

৬৮১.
যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন কোনটি?
  1. ক) টেস্টোস্টেরন
  2. খ) গ্লুকাগন
  3. গ) থাইরক্সিন
  4. ঘ) অ্যাড্রেনালিন
ব্যাখ্যা
টেস্টোস্টেরন পুরুষের যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান হরমোন। তবে, নারীদের স্বাস্থ্যগত অনেক দিকের সঙ্গেও এই হরমোনের প্রভাব রয়েছে।
৬৮২.
ডেনড্রাইটের মূল কাজ কী?
  1. অন্য নিউরনকে পুষ্টি প্রেরণ করা
  2. স্নায়ু উদ্দীপনা সংরক্ষণ করা
  3. অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু উদ্দীপনা গ্রহণ করা
  4. স্নায়ু উদ্দীপনা প্রেরণ করা
ব্যাখ্যা

- ডেনড্রাইটের প্রধান কাজ হল অন্য নিউরন বা পরিবেশ থেকে স্নায়বিক সংকেত বা তথ্য গ্রহণ করা এবং তা নিউরনের কোষদেহের দিকে পরিচালিত করা। 

নিউরনের গঠন: 
- প্রতিটি নিউরন কোষদেহ এবং প্রলম্বিত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত। 
(a) কোষদেহ (Cell body): 
- প্লাজমামেমব্রেন, সাইটোপ্লাজম আর নিউক্লিয়াস নিয়ে গঠিত নিউরনের গোলাকার, তারকাকার, অথবা ডিম্বাকার অংশ কোষদেহ নামে পরিচিত।  এখানে সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবস্তু, লাইসোজোম, চর্বি, গ্লাইকোজেন, রঞ্জক কণাসহ অসংখ্য নিসল দানা থাকে। 

(b) প্রলম্বিত অংশ: 
- কোষদেহ থেকে সৃষ্ট শাখা-প্রশাখাকেই প্রলম্বিত অংশ বলে। 
- প্রলম্বিত অংশ দুই ধরনের। 
(i) ডেনড্রন (Dendron): 
- কোষদেহের চারদিকের শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে।
- ডেনড্রন থেকে যে শাখা বের হয় তাদের ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রন সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক পর্যন্ত হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে। 

(ii) অ্যাক্সন (Axon): 
- কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তদুটির নাম অ্যাক্সন। এর চারদিকে পাতলা আবরণটিকে নিউরিলেমা বলে। নিউরিলেমা এবং অ্যাক্সনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে স্নেহ পদার্থের একটি স্তর থাকে, একে মায়েলিন (Myelin) বলে। অ্যাক্সনের শেষ মাথা অ্যাক্সন টারমিনালে বিভক্ত হয়ে যায়, এবং এই টারমিনালগুলো দিয়ে সিন্যাপস মারফত অন্য নিউরনের ডেনড্রাইটে স্নায়ু তাড়না প্রেরণ করা হয়। 
- বহুসংখ্যক অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইট মিলিত হয়ে স্নায়ু গঠন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৮৩.
মানবদেহে শারীরিক চাপ ও বিপদজনক পরিস্থিতিতে সহায়তাকারী হরমোন কোনটি? 
  1. গ্লুকাগন
  2. ইনসুলিন
  3. থাইরক্সিন
  4. অ্যাডরেনালিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের কয়েকটি মুখ্য নালিবিহীন গ্রন্থির পরিচিতি: 
১। পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland): 
- পিটুইটারি গ্রন্থি বা হাইপোফাইসিস মস্তিষ্কের নিচের অংশে অবস্থিত। এটি মানবদেহের প্রধান হরমোন উৎপাদনকারী গ্রন্থি, কারণ একদিকে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন সংখ্যায় যেমন বেশি, অপরদিকে অন্যান্য গ্রন্থির উপর এসব হরমোনের প্রভাবও বেশি। দেহের সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নালিবিহীন গ্রন্থি হলেও এটি আকারে সবচেয়ে ছোট। এই গ্রন্থি থেকে গোনাডোট্রপিক, সোমাটোট্রপিক, থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH), এডরেনোকর্টিকোট্রপিন ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নির্গত করে। 

২। থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland): 
- থাইরয়েড গ্রন্থি গলায় ট্রাকিয়ার উপরের অংশে অবস্থিত। এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণ হয়। থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন থাইরক্সিন (Thyroxine) সাধারণত মানবদেহে স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। থাইরয়েডের আরেকটি হরমোন ক্যালসিটোনিন (calcitonin) ক্যালসিয়াম বিপাকের সাথে জড়িত। 

৩। প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি (Parathyroid gland): 
- একজন মানুষের সাধারণত চারটি প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থি থাকে, যার সবগুলোই থাইরয়েড গ্রন্থির পিছনে অবস্থিত। এই গ্রন্থি হতে নিঃসৃত প্যারাথরমোন (Parathormone) মূলত ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাসের বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। 

৪। থাইমাস গ্রন্থি (Thymus gland): 
- থাইমাস গ্রন্থি গ্রীবা অঞ্চলে অবস্থিত। থাইমাস গ্রন্থি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিকাশে সাহায্য করে। শিশুকালে এই গ্রন্থি বিকশিত থাকে পরে বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে ছোট হয়ে যায়। এই গ্রন্থি থেকে থাইমোসিন (thymosin) হরমোন নিঃসরণ হয়। পূর্ণবয়স্ক মানুষে সাধারণত এই হরমোন থাকে না, থাকলেও খুবই নিম্ন মাত্রায়। 

৫। অ্যাডরেনাল বা সুপ্রারেনাল গ্রন্থি (Adrenal gland): 
- অ্যাডরেনাল গ্রন্থি কিডনির উপরে অবস্থিত। অ্যাডরেনাল গ্রন্থি দেহের অত্যাবশ্যকীয় বিপাকীয় কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থি মূলত কঠিন মানসিক ও শারীরিক চাপ থেকে পরিত্রাণে সাহায্য করে। অ্যাডরেনালিন (adrenalin) এই গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোনগুলোর একটি। 

৬। আইলেটস অফ ল্যাংগারহ্যানস (Islets of langerhans): 
- আইলেটস্ অফ ল্যাংগারহ্যানস অগ্ন্যাশয়ের মাঝে অবস্থিত, এই কোষগুচ্ছ শরীরের শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। এর নালিহীন কোষগুলো ইনসুলিন (insulin)ও গ্লুকাগন (glucagon) নিঃসরণ করে যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 

৭। গোনাড বা জনন অঙ্গ গ্রন্থি: 
- এটি মেয়েদের ডিম্বাশয় এবং ছেলেদের শুক্রাশয়ে অবস্থিত। জনন অঙ্গ থেকে নিঃসৃত হরমোন দেহের পরিণত বয়সের লক্ষণগুলো বিকশিত করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়াও প্রাণীর জনন অঙ্গের বৃদ্ধির পাশাপাশি জননচক্র এবং যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। জনন অঙ্গ থেকে পরিণত বয়সের পুরুষ-দেহে টেস্টোস্টেরন (testosterone) এবং স্ত্রী-দেহে ইস্ট্রোজেন (estrogens) হরমোন উৎপন্ন হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৮৪.
লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত কোন এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে? 
  1. লাইপেজ
  2. ট্রিপসিন
  3. টায়ালিন
  4. পেপসিন
ব্যাখ্যা
মুখবিবর: 
- মুখ পরবর্তী অংশটি মুখবিবর। 
- মুখ বিবরের ঊর্ধ্ব প্রাচীর তালুর অস্থি ও পেশি দিয়ে, সামনের প্রাচীর ঠোঁটের পেশি দিয়ে এবং পার্শ্ব প্রাচীর গালের পেশি দিয়ে গঠিত। 
- তালুর অগ্রভাগ অস্থিনির্মিত এবং শক্ত, পেছনের অংশ মাংসল ও নরম। 
- তালুর পেছনের অংশের মধ্যভাগ থেকে একটি অপেক্ষাকৃত সরু আলজিহবা মুখবিবরে ঝুলে থাকে। 
- মানুষের ঊর্ধ্ব ও নিম্ন চোয়াল দাঁতযুক্ত। 
- এছাড়া মুখবিবরে তিন জোড়া লালাগ্রন্থি থাকে। 
- নিম্নে চোয়ালের অস্থির সাথে জিহ্বাযুক্ত থাকে। 
- পৃষ্ঠতলের উপর থাকে স্বাদকোরক এগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক বস্তুর প্রতি সংবেদনশীল। 
- জিহ্বার অগ্রভাগ মিষ্টি, দুই পার্শ্ব নোনা, পশ্চাৎ ভাগের দুই পার্শ্ব টক এবং পেছনের দিক তিক্ত স্বাদ গ্রহণ করে। 

কাজ: 
- দাঁত খাদ্য দ্রব্যকে কাটা, ছেঁড়া ও পেষণে সাহায্য করে। 
- জিহ্বা খাদ্য দ্রব্যের স্বাদ গ্রহণ করে এবং পেষণের সময় লালারস মিশ্রিত করে খাদ্য দ্রব্যকে পিচ্ছিল করে পেছনে ঠেলে দেয়। 
- লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত “মিউসিন” খাদ্যকে পিচ্ছিল করে আর টায়ালিন ও মল্টেজ এনজাইম খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৫.
আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে কোনটি?
  1. ট্রিপসিন
  2. টায়ালিন
  3. অ্যামাইলেজ
  4. লাইপেজ
ব্যাখ্যা
আমিষ: 
- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্য কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে গঠিত। 
- আমিষে শতকরা ১৬ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে। 
- আমিষে সামান্য পরিমাণে সালফার, ফসফরাস এবং আয়রন থাকে। 
- শুধু আমিষ জাতীয় খাদ্যই শরীরে নাইট্রোজেন সরবরাহ করে বলে পুষ্টি বিজ্ঞানে আমিষকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 

- অগ্ন্যাশয়ে অ্যামাইলেজ, ট্রিপসিন, কাইমোট্রিপসিন এবং লাইপেজ এনজাইম তৈরি হয়। 
- এই এনজাইমগুলো ডিওডেনামে এসে খাদ্যের সঙ্গে মিশে। 
- ট্রিপসিন ও কাইমোট্রিপসিন আমিষ জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- লাইপেজ স্নেহ খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 
- অ্যামাইলেজ শর্করা জাতীয় খাদ্য হজমে সাহায্য করে। 

অন্যদিকে, 
- মুখবিবরের লালাগ্রন্থি থেকে হজমে সাহায্যকারী উপাদান হিসেবে নিঃসৃত এনজাইমটি হলো টায়ালিন। 
- টায়ালিন এনজাইম স্টার্চ, গ্লাইকোজেন, ডেক্সট্রিন অণুকে আর্দ্রবিশ্লিষ্ট করে প্রথমে দ্রবণীয় স্টার্চ এবং পরে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন অণুতে পরিণত করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি, জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৮৬.
কোনটির অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়?
  1. ভিটামিন B1
  2. ভিটামিন B12
  3. ভিটামিন B2
  4. ভিটামিন B3
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন B কমপ্লেক্স: 

• থায়ামিন (B1)- দেহে থায়ামিনের চরম অভাবে বেরিবেরি রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
• রাইবোফ্ল্যাভিন (B2)- এর অভাবে ঠোঁটের দুপাশে ফাটল দেখা দেয়, মুখে ও জিভে ঘা হয়, ত্বক খসখসে হয়।
• নিয়াসিন বা নিকোটিনিক এসিড (B3) অভাবে পেলেগ্রা রোগ হয়।
• এই রোগের উপসর্গগুলি হল স্মৃতিভ্রংশ (ডিমেনশিয়া), উদরাময় এবং চর্মরোগ বা ডার্মাটাইটিস। 
• পিরিডক্সিন (B6) এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দেয়।।
• ফলিক এসিড (B9) এর অভাবে অ্যানিমিয়া রোগ দেখা দিতে পারে। এছাড়া এর অভাবে গর্ভস্থ শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশ ব্যাহত হয়।
• কোবালামিন বা সায়ানোকোবালামিন (B12) এর অভাবে রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) রোগ দেখা দেয়।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি। 
৬৮৭.
কানের পিনা হচ্ছে -
  1. তরুণাস্থি
  2. অস্থি
  3. অস্থিসন্ধি
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• অস্থি (Bone):
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা।
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত। মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে।
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। বয়স বাড়লে অবশ্য এমনিতেই ভারসাম্যটি হাড় ক্ষয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে।
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি। এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে।  

• তরুণাস্থি (Cartilage):

- তরুণাস্থি অস্থির মতো শক্ত নয়। এগুলো অপেক্ষাকৃত নরম এবং স্থিতিস্থাপক। এটি যোজক কলার ভিন্নরূপ।
- এর কোষগুলো একক বা জোড়ায় জোড়ায় খুব ঘনভাবে স্থিতিস্থাপক মাতৃকাতে বিস্তৃত থাকে।
- তরুণাস্থি কোষগুলো থেকে কন্ড্রিন নামক এক ধরনের শক্ত, ঈষদচ্ছ রাসায়নিক বস্তু বের হয়। 
- সব তরুণাস্থি একটি তন্তুময় যোজক কলা নির্মিত আবরণী দিয়ে পরিবেষ্টিত থাকে, একে পেরিকন্ড্রিয়াম বলে। এই আবরণটি দেখতে চকচকে সাদা, তাই আমরা সাধারণত তরুণাস্থিকে সাদা, নীলাভ এবং চকচকে দেখতে পাই।
- আমাদের দেহে কয়েক রকম তরুণাস্থি আছে (যেমন কানের পিনার তরুণাস্থি)। তরুণাস্থি বিভিন্ন অস্থির সংযোগস্থলে, কিংবা অস্থির কিছু অংশে উপস্থিত থাকে।

• অস্থিসন্ধি (Joint):
- দুই বা ততোধিক অস্থির সংযোগস্থলকে অস্থিসন্ধি বলে।
- প্রতিটি অস্থিসন্ধির অস্থিগুলো একরকম স্থিতিস্থাপক রজ্জুর মতো বন্ধনী দিয়ে দৃঢ়ভাবে আটকানো থাকে, ফলে অস্থিগুলো সহজে সন্ধিস্থল থেকে বিচ্যুত হতে পারে না।
- সন্ধিস্থল বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সঞ্চালনে সাহায্য করে।

উৎস: জীব বিজ্ঞান (নবম ও দশম শ্রেণি)।

৬৮৮.
রক্ত জমাট বাঁধার জন্য দায়ী নিচের কোনটি?
  1. ক) লোহিত রক্তকণিকা
  2. খ) লিউকোসাইট
  3. গ) প্লেইটলেট
  4. ঘ) হেপারিন
ব্যাখ্যা
- অণুচক্রিকা বা প্লেইটলেট অস্থায়ী প্লেইটলেট প্লাগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ করে। রক্তজমাট ত্বরাণ্বিত করতে বিভিন্ন ক্লটিং ফ্যাক্টর ক্ষরণ করে৷ আবার প্রয়োজন শেষে রক্তজমাট বিগলনেও সাহায্য করে৷
- বেসোফিলের সাইটোপ্লাজমে যে দানা থাকে তা থেকে হেপারিন তৈরি হয়। হেপারিন রক্তবাহিকার ভিতরে রক্তজমাট প্রতিরোধ করে।
- লোহিত রক্তকণিকা বা শ্বেত রক্তকণিকা রক্ত জমাট বাঁধার সাথে সম্পর্কিত নয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৬৮৯.
নিচের কোনটি চোখের একমাত্র আলোকসংবেদী অংশ?
  1. পিউপিল
  2. আইরিশ
  3. রেটিনা
  4. অন্ধবিন্দু
ব্যাখ্যা

• চোখের একমাত্র আলোকসংবেদী অংশ হলো রেটিনা (গ)। রেটিনা চোখের ভেতরের পেছনের অংশে অবস্থিত এক সূক্ষ্ম ঝিল্লি, যেখানে আলোর রশ্মি কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। এতে অসংখ্য আলোকগ্রাহী কোষ বা ফটোরিসেপ্টর (রড ও কোণিকা) থাকে, যা আলো ও রঙ শনাক্ত করে স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। এই সংকেত থেকেই আমরা বস্তু দেখতে পাই। অন্যদিকে পিউপিল হলো আলো প্রবেশের পথ, আইরিশ রঙ নিয়ন্ত্রণ করে, আর অন্ধবিন্দুতে কোনো আলোকসংবেদী কোষ নেই। তাই রেটিনাই একমাত্র অংশ যা সরাসরি আলো অনুভব করতে সক্ষম।

রেটিনা: 
- চক্ষু গোলকের সবচেয়ে ভেতরের স্তর রেটিনা। 
- চোখের 'রেটিনা' স্তরটি আলোক সংবেদী, এতে আলোক সংবেদী কোষ থাকে। 
- আলোক সংবেদী কোষগুলো রড ও কোণ কোষ নিয়ে গঠিত। 
- চোখে রড কোষের সংখ্যা প্রায় সত্তর লক্ষ। 
- কোণ কোষগুলো উজ্জ্বল আলোতে রঙিন বস্তু দর্শনের জন্য উপযোগী। 
- রড কোষগুলো অনুজ্জ্বল আলোতে দর্শনের উপযোগী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।

৬৯০.
অস্থি মূলত কোন ধরণের কলার রূপান্তরিত রূপ? 
  1. স্নায়ুকলা
  2. যোজককলা
  3. পেশিকলা
  4. আবরণী কলা
ব্যাখ্যা
অস্থি (Bone): 
- অস্থি যোজক কলার রূপান্তরিত রূপ। 
- এটি দেহের সবচেয়ে দৃঢ় কলা। 
- অস্থির মাতৃকা বা আন্তঃকোষীয় পদার্থ এক ধরনের জৈব পদার্থ দিয়ে গঠিত। 
- মাতৃকার মধ্যে অস্থিকোষগুলো ছড়ানো থাকে। 
- একদিকে অস্থির পুরাতন অংশ ক্ষয় হতে থাকে এবং অন্যদিকে অস্থির মধ্যে নতুন অংশ গঠন হতে থাকে। 
- এই ভারসাম্য নষ্ট হলে অস্থির বিভিন্ন ধরনের রোগ হয়। 
- বয়স বাড়লে অবশ্য এমনিতেই ভারসাম্যটি হাড় ক্ষয়ের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। 
- অস্থি মূলত ফসফরাস, সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের বিভিন্ন যৌগ দিয়ে তৈরি। 

- এছাড়া অস্থিতে প্রায় 40-50 ভাগ পানি থাকে। 
- জীবিত অস্থিকোষে 40% জৈব এবং 60% অজৈব যৌগ পদার্থ নিয়ে গঠিত। 
- অস্থি বৃদ্ধির জন্য ভিটামিন 'ডি' এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার প্রয়োজন। 
- এসব খাবারের অভাবে অস্থির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। 
- সূর্যের আলো ত্বকে অবস্থিত কোলেস্টেরলের এমন রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটায়, যা যকৃৎ এবং বৃক্কে আরও কিছু ধারাবাহিক পরিবর্তনের পর ভিটামিন ডি সংশ্লেষণ করে। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণ সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসা উচিত। 
- যারা সবসময় ঘরে বসে থাকেন বা সারা শরীর আবৃতকারী পোশাক পরেন, তাদের ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯১.
Which organ produces bile?
  1. Brain
  2. Kidney
  3. Gallbladder
  4. Liver
  5. Stomach
ব্যাখ্যা
• মানবদেহে যকৃৎ থেকে পিত্তরস উৎপন্ন হয়। 

• পিত্তরস (Bile) বা পিত্ত:
- যকৃত কোষ থেকে নিঃসৃত পিত্তরস হলদে-সবুজ, আঠালো, তিক্ত স্বাদধারী ক্ষারীয় তরল পদার্থ। এর pH মান 8-8.6

• যকৃত কোষ (হেপাটোসাইট) অবিরাম পিত্ত ক্ষরণ করে এবং পিত্তথলিতে জমা রাখে।
- যকৃত কোষ স্টেরয়েড থেকে পিত্ত লবণ, যেমন-সোডিয়াম গ্লাইকোকোলেট (sodium glycocholate) ও সোডিয়াম টরোকোলেট (sodium taurocholate) সংশ্লেষ করে।
- পরিপাক অঙ্গ হিসেবে যকৃতের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো পিত্ত উৎপাদন ও ক্ষরণ।

• পিত্তরসের কাজ:
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ইমালসিফিকেশন (emulsification) প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত করে।
- পিত্তলবণ চর্বি পরিপাককারী এনজাইম লাইপেজকে সক্রিয় করে পরিপাকে সাহায্য করে।
- পিত্তলবণ চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন A, D, E, K-কে শোষণে সহায়তা করে ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল। 
৬৯২.
মানুষের চোখে রড কোষের কাজ কী?
  1. রং দেখা
  2. অন্ধকারে দেখা
  3. আলোর প্রতিসরণ
  4. চোখের আকৃতি বজায় রাখা
ব্যাখ্যা

- মানুষের চোখে প্রধানত দুই ধরনের আলোক সংবেদনশীল কোষ থাকে রড (Rod) এবং কোন (Cone)
- এই কোষগুলো চোখের রেটিনাতে অবস্থান করে এবং আলো শোষণ করে আমাদের দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করে।

• রড কোষ হলো এমন কোষ যা বিশেষভাবে কম আলো, রাত, বা অন্ধকারে দেখার ক্ষমতা প্রদান করে।


• রড কোষের বৈশিষ্ট্য ও কাজ:
- অন্ধকারে দৃষ্টি: রড কোষ খুবই সংবেদনশীল, তাই দুর্বল আলো বা অন্ধকারে দৃষ্টিশক্তি বজায় রাখে।
- রং শনাক্ত করতে অক্ষম: রড কোষ কেবল আলোর উপস্থিতি এবং তীব্রতা শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রং চিনতে পারে না। ফলে অন্ধকারে সবকিছু ধূসর বা সাদাটে দেখা যায়।
- চলমান ও নরম আলোর জন্য উপযুক্ত: রড কোষ রাতের আলোতে বা কম আলোতে সৃজনশীল এবং অঙ্গভঙ্গি সমন্বয় করতে সাহায্য করে।

• কোন কোষের সঙ্গে তুলনা:
- কোন কোষ সাধারণ আলোতে রং এবং সূক্ষ্ম বিবরণ দেখতে সাহায্য করে।
- কোন কোষ রঙের তিনটি প্রকার শনাক্ত করতে পারে লাল, সবুজ, নীল।
- রড কোষ কেবল গ্রেস্কেল বা কালো-সাদা আলোর মাত্রা শনাক্ত করতে পারে।

সারসংক্ষেপে, রড কোষ হলো রাতের বা দুর্বল আলোতে দৃষ্টি রক্ষাকারী কোষ, যা আমাদের অন্ধকারে দৃষ্টি এবং পরিবেশের আলো অনুযায়ী চোখের অভিযোজন নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র:
- NCTB জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
- Britannica [লিংক]।

৬৯৩.
ইস্ট্রোজেন হরমোন নিঃসৃত হয় কোন অংশ থেকে?
  1. ক) শুক্রাশয়
  2. খ) অগ্নাশয় গ্রন্থি
  3. গ) ডিম্বাশয়
  4. ঘ) থাইমাস গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
ডিম্বাশয় থেকে ইস্ট্রোজেন, প্রোজেস্ট্রেরণ ও রিলাক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়।
৬৯৪.
মানবদেহের রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক প্রতিরক্ষাস্তরের অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. লাইসোজোম
  2. গ্যাস্ট্রিক জুস
  3. সিলিয়া
  4. লিম্ফোসাইট
ব্যাখ্যা
• প্রথম প্রতিরক্ষা স্তর:
- ত্বক,
- লোম,
- লাইসোজাইম এনজাইম
- সিলিয়া,
- কানের মোম,
- অশ্রু, শ্লেষ্মা ও লালা,
- পাকস্থলির অ্যাসিড ও এনজাইম,
- রেচন ও জনন অঙ্গের অ্যাসিড,
- মাইক্রোবায়োম, 

• দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:
- ফ্যাগোসাইটস,
- ন্যাচারাল কিলার কোষ,
- কমপ্লিমেন্ট তন্ত্র,
- সাইটোকাইনস,
- ইন্টারফেরন,
- অ্যাকিউট ফেজ প্রোটিন,
- প্রদাহ,
- জ্বর,
- রক্ত তঞ্চন,
• সুনির্দিষ্ট বা স্পেসিফিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মানবদেহের তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর গঠন করে
- স্পেসিফিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (অর্জিত অনাক্রম্যতা)

• তৃতীয় প্রতিরক্ষা স্তর:

- লিম্ফোসাইটস,
- অ্যান্টিবডি,
- স্মৃতিকোষ,

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৫.
ইনসুলিন হচ্ছে একটি -
  1. ক) নিউক্লিক এসিড
  2. খ) প্রোটিন
  3. গ) অ্যামাইনো এসিড
  4. ঘ) গ্লুকোজ
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন হচ্ছে এক ধরনের হরমোন যা অগ্ন্যাশয় থেকে নির্গত হয়।
- ইনসুলিন মূলত অ্যামিনাে অ্যাসিড নিয়ে গঠিত একটি সরল প্রােটিন।
- রক্তে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে, অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন নির্গমন বৃদ্ধি করে দেয়।
- ইনসুলিন অনুতে ৪৮/৫১টি এমাইনো এসিড থাকে।

"A peptide is a short chain of amino acids. The amino acids in a peptide are connected to one another in a sequence by bonds called peptide bonds. Typically, peptides are distinguished from proteins by their shorter length, although the cut-off number of amino acids for defining a peptide and protein can be arbitrary."
Source: Nature.com

তাই প্রশ্নের ধরন অনুসারে,
সঠিক উত্তর - খ) প্রোটিন।
তবে, যদি অপশনে প্রোটিন না থাকে তাহলে "অ্যামাইনো এসিড" উত্তর হবে।

৬৯৬.
কোলেস্টেরল দেহের কোথায় সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে?
  1. ত্বকে
  2. মগজে
  3. বৃক্কে
  4. পাকস্থলীতে
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল: 
- কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড -এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 
- মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে। 
- যকৃত এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। 
- কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে। 
- স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে। 
- স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। 
যথা- 
১। উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং 
২। নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL)। 

- রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে। 
- রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। 
- রক্তে HDL -এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। 
- রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯৭.
কোন ধরনের রক্ত কণিকার ‍নির্দিষ্ট কোন আকার নেই?
  1. ক) লোহিত কণিকা
  2. খ) শ্বেতকণিকা
  3. গ) অণুচক্রিকা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
শ্বেতরক্তকণিকার  ‍নির্দিষ্ট কোন আকার নেই। 

- রক্তরসে উপস্থিত বর্ণহীন, বিভিন্ন আকৃতির নিউক্লিয়াসযুক্ত বৃহদাকৃতির রক্তকোশগুলিকে শ্বেতরক্তকণিকা বলে।

শ্বেত রক্ত কণিকা-
- শ্বেত রক্তকণিকায় নিউক্লিয়াস আছে।
- শ্বেত রক্তকণিকার আকার অনিয়মিত ও বড়।
- শ্বেত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন নেই।
- শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা লোহিত রক্তকণিকার তুলনায় অনেক কম।
- শ্বেত রক্তকণিকার গড় আয়ু ১-১৫ দিন।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
৬৯৮.
অক্সিহিমোগ্লোবিন ভেঙ্গে অক্সিজেন কোষে কোন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে? 
  1. অভিস্রবণ
  2. পরিবহন
  3. ব্যাপন
  4. নিঃসরণ
ব্যাখ্যা
অক্সিজেন পরিবহন (Transportation of Oxygen): 
- রক্তের মাধ্যমে দু'ভাবে কোষে অক্সিজেন পরিবাহিত হয়। 
- ৯৭-৯৮% অক্সিজেন পরিবাহিত হয় লোহিত কণিকার হিমোগ্লোবিনের সাথে রাসায়নিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন হিসেবে এবং ২-৩% পরিবাহিত হয় প্লাজমায় দ্রবীভূত হয়ে। 
- প্রতিটি হিমোগ্লোবিন অণু ৪টি লৌহ যুক্ত হিম ও ৪টি গ্লোবিনের সমন্বয়ে গঠিত। 
- একটি করে লৌহ অণু প্রতিটি হিম গ্রুপের কেন্দ্রে অবস্থান করে এবং প্রতিটি লৌহ অণুর সাথে একটি করে অক্সিজেন অণুযুক্ত হতে পারে। ফলে একটি হিমোগ্লোবিন অণু একই সাথে ৪টি অক্সিজেন অণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। 
- অক্সিজেনের সাথে হিমোগ্লোবিনের রাসায়নিক বিক্রিয়া উভমুখী। 
• Hb4 + 4O2 ⇔ 4HbO
হিমোগ্লোবিন + অক্সিজেন ⇔ অক্সিহিমোগ্লোবিন 
- হিমোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি থাকলে অক্সিজেন ও হিমোগ্লোবিন মিলে HbO2 তৈরি করবে। আবার অক্সিজেনের পরিমাণ যেখানে কম সেখানে HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন এবং হিমোগ্লোবিন পৃথক হবে। 
- ফুসফুসে অ্যালভিওলাসের প্রাচীর গাত্রের কৈশিক জালকে অক্সিজেন এর পরিমাণ বেশি। ফলে অক্সিজেন এবং Hb4 যুক্ত হয়ে HbO2 উৎপন্ন করে এবং সংবহনতন্ত্রের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে দেহকোষের কাছে আসে। 
- দেহকোষে যেহেতু অক্সিজেনের পরিমাণ কম তাই HbO2 ভেঙ্গে অক্সিজেন মুক্ত হয়ে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় কোষে প্রবেশ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৯.
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র কতটি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ২০৪ টি
  2. ২০৬ টি
  3. ২০৫ টি
  4. ২০৮ টি
ব্যাখ্যা
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র: 
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট অস্থি, তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টি করে, নির্দিষ্ট আকার আকৃতি দান করে, ভার বহন করে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদি সুরক্ষিত রাখে, তাদেরকে একত্রে কঙ্কালতন্ত্র বলে। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্র ২০৬টি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত এবং এ ধরনের কঙ্কালতন্ত্রকে অন্তঃকঙ্কাল বলে, কারণ বাইরে থেকে এ কঙ্কাল দেখা যায় না। 
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। 
যথা- (১) অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton) (২) উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton)। 
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে।
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা- (ক) করোটি, (খ) মেরুদণ্ড ও (গ) বক্ষপিঞ্জর।
- মানুষের একজোড়া অগ্রপদ বা হাত, একজোড়া পশ্চাৎপদ বা পা, বক্ষ অস্থিচক্র (Pectoral girdle) ও শ্রোণিচক্র (Pelvic girdle) নিয়ে উপাঙ্গীয় কঙ্কালতন্ত্র গঠিত। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০০.
নিচের কোন শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন?
  1. ক) লিম্ফোসাইট
  2. খ) নিউট্রোফিল
  3. গ) ইওসিনোফিল
  4. ঘ) বেসোফিল
ব্যাখ্যা

- শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র দানার উপস্থিতির ভিত্তিতে শ্বেত রক্তকণিকা দুধরনের - গ্র‍্যানিউলোসাইট এবং অ্যাগ্রানুলোসাইট।
- যে শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাদার সে সব কণিকাকে গ্র‍্যানিউলোসাইট বলে। নিউট্রোফিল, ইওসিনোফিল এবং বেসোফিল হলো গ্র‍্যানিউলোসাইট।
- যে শ্বেত রক্তকণিকার সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন, তাদেরকে অ্যাগ্রানুলোসাইট বলে। মনোসাইট এবং লিম্ফোসাইট হলো এ ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি