বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

মোট প্রশ্ন৮১৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

মানবদেহ ও শারীরতত্ত্ব

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৮১৫

২০১.
পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন ব্যক্তির গড় নাড়ীর স্পন্দন প্রতি মিনিটে কত বার?
  1. ৬৬ বার
  2. ৭২ বার
  3. ৭৮ বার
  4. ৮০ বার
ব্যাখ্যা
• পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন মানুষের হৃৎস্পন্দন গড়ে প্রতি মিনিটে ৭২ বার।

• রক্তচাপ:

- হৃৎপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় প্রবাহমান রক্ত ধমনির স্থিতিস্থাপক প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে, তাকে রক্তচাপ বলে।
- হৃৎপিণ্ড থেকে দেহে প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরের ওপর দুই ধরনের পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে। যথা:

১. সিস্টোলিক চাপ বা সিস্টোল:
- হৃৎপিণ্ডের ভেন্ট্রিকল সিস্টোল থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরে যে উচ্চ পার্শ্বীয় চাপের সৃষ্টি করে তাকে সিস্টোলিক চাপ বলে।
- এ চাপ ১১০-১৪০ মি.মি. পারদ (Hg).

২. ডায়াস্টোলিক চাপ বা ডায়াস্টোল:
- হৃৎপিণ্ডের ভেন্ট্রিকলদ্বয় ডায়াস্টোল থাকা অবস্থায় প্রবাহমান রক্ত ধমনির প্রাচীরে যে পার্শ্বীয় নিম্নচাপের সৃষ্টি করে তাকে ডায়াস্টোলিক চাপ বলে।
- ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৬০-৯০ মি.মি. পারদ (Hg) পর্যন্ত ওঠানামা করে।
- সুস্থ স্বাভাবিক পূর্ণবয়স্ক মানুষের সিস্টোলিক চাপ ১২০ মি.মি. পারদ এবং ডায়াস্টোলিক চাপ ৮০ মি.মি. পারদ (Hg).
- এ পরিমাপকে আদর্শ রক্তচাপ ধরা হয়।
- স্ফিগমোম্যানোমিটার নামক যন্ত্রের সাহায্যে মানুষের রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়।
- একবার সিস্টোল এবং তার পরবর্তী ডায়াস্টোলকে একত্রে হৃৎস্পন্দন বা হার্টবিট বলে।
- পূর্ণবয়স্ক সুস্থ একজন মানুষের হৃৎস্পন্দন গড়ে প্রতি মিনিটে ৭২ বার।
- রক্তের সান্দ্রতা (viscosity), প্রান্তীয় রোধ (peripheral resistance) এবং দেহের রক্তের মোট পরিমাণের ওপর রক্তচাপ নির্ভর করে।
- রক্তচাপ মাপার জন্য Sphygmomanometer ও Stethoscope ব্যবহার করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান।
২০২.
কোন ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে?
  1. ভিটামিন A
  2. ভিটামিন C
  3. ভিটামিন K
  4. ভিটামিন D
ব্যাখ্যা
• ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

• রক্ততঞ্চন: 
- দেহের কোথাও ক্ষত সৃষ্টির ফলে কোনো রক্তবাহিকার এন্ডোথেলিয়াম ক্ষতিগ্রস্ত হলে রক্তপাত বন্ধের উদ্দেশে ও সংক্রমণ প্রতিরোধে যে জটিল জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায়
   ফাইব্রিন জালক সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষতস্থানে রক্তকে থকথকে পিণ্ডে পরিণত করে সে প্রক্রিয়াকে রক্তের জমাট বাঁধা বা রক্ত তঞ্চন বলে।
• এ প্রক্রিয়ায় অণুচক্রিকা ও রক্তরসে উপস্থিত ১৩ ধরনের ক্লটিং ফ্যাক্টর (clotting factor) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

• এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ ৪টি ফ্যাক্টর হলো-
(i) ফাইব্রিনোজেন,
(ii) প্রোথ্রম্বিন,
(iii) থ্রম্বোপ্লাস্টিন ও
(iv) Ca2+

• এর মধ্যে ২ নং ফ্যাক্টর টি হলো প্রোথ্রম্বিন। এটি প্লাজমা প্রোটিন।
-  এটি ভিটামিন K-র উপস্থিতিতে যকৃতে সংশ্লেষিত হয়। এটি রক্ত তঞ্চনের সময়ে প্রম্বিনে পরিণত হয়।
- ভিটামিন K রক্ত জমাট বাঁধতে ভূমিকা রাখে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি; গাজী আজমল।
২০৩.
বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে কী বলে?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. রেচন
  4. কিডনী
ব্যাখ্যা

মানুষের বৃক্ক:
- যে প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন বলে।
- যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র বলে।
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- বৃক্কের গাঠনিক বা কার্যিক একককে নেফ্রন বলে।
- মানুষের প্রতিটি বৃক্কে ১০-১২ লাখ নেফ্রন থাকে।
- বৃক্ক মানুষের দেহে এবং রক্তে পানির ভারসাম্য রক্ষা করে।
- রক্তে লবণের পরিমান নিয়ন্ত্রণ করে।
- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার,প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থুলত্ব ৩ সেন্টিমিটার।
- পুরুষ মানুষের প্রতিটি বৃক্কের ওজন ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং প্রতিটি মহিলা মানুষের বৃক্কের ওজন ১৩০-১৫০ গ্রাম।

তথ্যসূত্র - জীববিজ্ঞান,একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি,গাজী আজমল ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৪.
রক্তের লাল রঙের জন্য কোন পদার্থ দায়ী? 
  1. হিমোগ্লোবিন 
  2. প্লাজমা 
  3. লিউকোসাইট 
  4. বিলিরুবিন
ব্যাখ্যা

• হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকায় অবস্থিত একটি লৌহঘটিত প্রোটিন রঞ্জক। এই প্রোটিনে আয়রন বা লোহা থাকায় এটি অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন গঠন করে, যার ফলে রক্ত উজ্জ্বল লাল দেখায়।

• রক্ত: 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- তবে কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২০৫.
Platelet বা অণুচক্রিকা প্রধানত কোথায় তৈরি হয়?
  1. যকৃত
  2. প্লাজমায়
  3. হৃদপিণ্ড
  4. অস্থিমজ্জা
ব্যাখ্যা

◉ অণুচক্রিকা (Platelet) হলো রক্তের একটি ক্ষুদ্রকণিকা, যা রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে (Blood clotting) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি অস্থিমজ্জায় (Bone marrow) তৈরি হয়।

রক্তের উপাদান: 
- রক্ত এক প্রকার যোজক কলা। 
- এর অন্তঃকোষ মাধ্যমটি তরল, হলুদ বর্ণের জলীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত, এ তরল পদার্থকে প্লাজমা বা রক্তরস বলে। 
- এ প্লাজমার মধ্যে রক্তকণিকাগুলো ভাসমান অবস্থায় থাকে। 
- রক্তের দু'টি উপাদান- (১) রক্তরস এবং (২) রক্ত কণিকা। সমগ্র রক্তের ৫৫% রক্তরস এবং বাকি ৪৫% রক্তকণিকা। 
- রক্ত কণিকা প্রধানত তিন ধরনের। 
যথা- লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা। 

অণুচক্রিকা: 
- ইংরেজিতে এদেরকে প্লাটিলেট (Platelet) বলে। 
- অণুচিক্রকা আকারে ছোট, বর্তুলাকার ও বর্ণহীন, এরা গুচ্ছাকারে থাকে। 
- অস্থিমজ্জার মধ্যে অণুচক্রিকা উৎপন্ন হয়। 
- অণুচক্রিকাগুলোর গড় আয়ু ৫-১০ দিন। 
- পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘন মিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। 
- অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 
- কোন রক্তবাহী নালির ক্ষতি হলে এরা অনতিবিলম্বে থ্রোম্বোপ্লাষ্টিন নামক এক প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য নিঃসরণ করে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৬.
মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা কত?
  1. ৩৯০.১৫ কেলভিন
  2. ৩১০.১৫ কেলভিন
  3. ৩৭৭.০৪ কেলভিন
  4. ২৯৮.৩২ কেলভিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের তাপমাত্রা:
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।
- কেলভিন স্কেলে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩১০.১৫ কেলভিন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২০৭.
কোনটি দেহকোষ নয়?
  1. স্নায়ুকোষ
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. শুক্রাণু
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• দেহকোষ (Somatic cell):
- বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে এসব কোষ অংশগ্রহণ করে।
- মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজনের মাধ্যমে দেহকোষ বিভাজিত হয় এবং এভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে।
- বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠনে দেহকোষ অংশ নেয়।
উদাহরণ: স্নায়ুকোষ, রক্ত, রক্তকণিকাসমূহ, ফুসফুস, হৃদপিন্ড,অস্থিকোষ ইত্যাদি।

• জননকোষ (Gametic cell):
- যৌন প্রজনন ও জনঃক্রম দেখা যায়, এমন জীবে জননকোষ উৎপন্ন হয়।
- মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজন ঘটে এবং জনন কোষ উৎপন্ন হয়।
- অপত্য জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃজনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক থাকে।
- পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে।
- পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট এই প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে।
- জাইগোট বারবার বিভাজনের মাধ্যমে জীবদেহ গঠন করে।
উদাহরণ: শুক্রাণু ও ডিম্বাণু।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
২০৮.
মানবদেহে ফুসফুস থেকে ধমনী এবং কৈশিকনালির মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে কোন রক্ত কণিকা?
  1. লোহিত রক্ত কণিকা
  2. শ্বেত রক্ত কণিকা
  3. অণুচক্রিকা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্ত কণিকা কোষগুলো ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণ করে হৃদযন্ত্র, ধমনী এবং কৈশিকনালির মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।

মানব দেহের রক্তের কাজ পরিচালনায় বিভিন্ন প্রকার কোষের ভূমিকা:
 - তিন প্রকারের রক্ত কণিকা (যেমন- লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অণুচক্রিকা) তথা রক্ত কোষ প্রাণী দেহে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে।
- ধমনী, শিরা এবং কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
- লোহিত রক্ত কণিকা কোষগুলো ফুসফুসে অক্সিজেন গ্রহণ করে হৃদযন্ত্র, ধমনী এবং কৈশিকনালির মাধ্যমে দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
- শ্বেত রক্ত কণিকা জীবাণু ধ্বংস করে আত্মরক্ষায় অংশ নেয়, রোগ প্রতিরোধ করে এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ গঠনেও অংশ নেয়।
- অণুচক্রিকা কোষগুলো রক্ততঞ্চন অথবা রক্ত জমাট বাঁধায় অংশ নেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি, প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৯.
হৃদপিণ্ড থেকে ফুস্ফুসে রক্ত সরবরাহ করে কোন রক্তনালী?
  1. হেপাটিক শিরা
  2. কার্ডিয়াক ধমনী
  3. পালমোনারি শিরা
  4. পালমোনারি ধমনী
ব্যাখ্যা
• যেসব নালীর মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে সারাদেহে বা সারাদেহ থেকে রক্ত হৃদপিণ্ড তে সঞ্চালিত হয় সেগুলো কে বলা হয় রক্তনালী। 

• পালমোনারি ধমনী (Pulmonary Artery) হল সেই রক্তনালী, যা হৃদপিণ্ডের ডান নিলয় (right ventricle) থেকে ফুসফুসে (lungs) রক্ত বহন করে।

- এ ধমনী শরীরের একমাত্র ধমনী, যা অক্সিজেনবিহীন (deoxygenated) রক্ত বহন করে।
-  অধিকাংশ ধমনী অক্সিজেনযুক্ত রক্ত বহন করে, কিন্তু পালমোনারি ধমনী ব্যতিক্রম—এটি অক্সিজেনবিহীন রক্তকে ফুসফুসে নিয়ে যায়। 

- পরবর্তীতে ফুস্ফুস থেকে অক্সিজেন যুক্ত রক্ত পালমোনারি শিরার মাধ্যমে আবার হৃদপিণ্ডের বাম অলিন্দ বা আট্রিয়ামে ফিরে আসে। পালমোনারি শিরা আবার দেহের একমাত্র শিরা যা অক্সিজেন যুক্ত রক্ত বহন করে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান – নবম-দশম শ্রেণি, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। 
-জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী; গাজী আজমল।
- Gray's Anatomy – The Anatomical Basis of Clinical Practice.
২১০.
প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীরে কোন ধরনের আবরণী টিস্যু দেখা যায়?
  1. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু
  2. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু
  3. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:

- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) আবরণী টিস্যু,
(খ) যোজক টিস্যু,
(গ) পেশি টিস্যু এবং
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু।

আবরণী টিস্যু: আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না।
• কাজ- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে। ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়। এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

• প্রকারভেদ: কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-

১. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়। যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।
• কাজ- প্রধানত ছাঁকন এবং আবরণ সৃষ্টি।

২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
• কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা। যেমন- প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর।
• কাজ- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ। 



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২১১.
ডোপামিন উৎপাদনকারী মস্তিষ্কের কোষ নষ্ট হলে কোন রোগের সৃষ্টি হয়?
  1. কোয়াশিওরকর
  2. এপিলেপ্‌সি
  3. পারকিন্‌সন
  4. পক্ষাঘাত
ব্যাখ্যা

• ডোপামিন উৎপাদনকারী মস্তিষ্কের কোষ যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তবে এটি পারকিনসনের রোগের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ডোপামিন একটি নিউরোট্রান্সমিটার যা মস্তিষ্কের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে সংকেত পাঠায়। যখন এই কোষগুলি ধ্বংস হয়, তখন মস্তিষ্ক সঠিকভাবে নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। ফলে শারীরিক নড়াচড়ায় ধীরতা, হাত কাঁপা, শরীরের জোরালো অচলতা এবং চলাফেরায় অসুবিধা দেখা দেয়। পারকিনসন রোগ সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিকভাবে হাত বা পায়ে ছোট কাঁপানি বা স্থিরতার মতো লক্ষণ প্রকাশ পায়। সময়ে সময়ে রোগটি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন কাজকর্মও কঠিন হয়ে যায়। সঠিক চিকিৎসা এবং থেরাপির মাধ্যমে লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

- সঠিক উত্তর: গ) পারকিনসন।

• পারকিন্‌সন রোগ:
- এ রোগ মস্তিষ্কে এমন এক অবস্থা যাতে হাতে ও পায়ের কাঁপুনী হয় এবং আক্রান্ত রোগী নড়াচড়া, হাঁটাহাটি করতে অপারগ হয়।
- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।
- এছাড়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক বলা হয়। এটি একটি মারাত্মক ব্যাধি।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
• পক্ষাঘাত:
- শরীরের কোনো অংশের মাংস পেশির কার্য ক্ষমতা নষ্ট হওয়াকে পক্ষাঘাত বলে।
- সাধারণত মস্তিষ্কের কোনো অংশের ক্ষতির কারণে ঐ অংশের সংবেদন গ্রহণকারী পেশিগুলো কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে।
- আংশিক বা সম্পূর্ণ প্যারালাইসিস হতে পারে, যাতে শরীরের এক পাশের কোনো অঙ্গ বা উভয় পাশের অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
যেমন- দু'হাত ও পায়ের পক্ষাঘাত।

• এপিলেপ্‌সি:
- এটি মস্তিষ্কের একটি রোগ। এ রোগকে মৃগী রোগও বলা হয়।
- আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর খিঁচুনী বা কাঁপুনি দিতে থাকে। অনেক সময় রোগী অজ্ঞান হয়। অনেক সময় রোগী হঠাৎ সাময়িকভাবে কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শরীরে কাঁপুনি দিতে দিতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
- কোনো কারণে রোগী পানিতে পড়লে নিজ শক্তিতে উঠতে পারে না। ফলে ডুবে মারা যায়।
- এ রোগ যে কোনো বয়সে হতে পারে। তবে ৫ থেকে ২০ বছর বয়সে ব্যাপকতা বেশি দেখা যায়।

• কোয়াশিওরকর:
- প্রোটিন বা আমিষের অভাবে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়।
- কোয়াশিওরকর (Kwashiorkor) শিশুদের প্রোটিন ঘাটতিজনিত এক রোগ। বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করার পরে সাধারণত এ রোগ দেখা দেয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১২.
হরমোন ডোপামিন এর কাজ কি?
  1. মস্তিষ্কের ভারসাম্য ঠিক রাখা
  2. ফুস্ফুসের রক্তের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা
  3. পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে।
মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না। ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়। এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক যুবতীদেরও হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২১৩.
নিচের কোনটি বৃক্কের বাইরের আবরণ হিসেবে থাকে?
  1. প্লুরা
  2. পেরিকার্ডিয়াম
  3. পেরিটোনিয়াম
  4. মেনিনজিস
ব্যাখ্যা

বৃক্কের গঠন:
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ।
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে।
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়।
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল।
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত। এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল।
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে।
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে

অন্যদিকে,
- প্লুরা: ফুসফুস আবৃতকারী ঝিল্লী।
- পেরিকার্ডিয়াম: হৃৎপিণ্ড আবৃতকারী ঝিল্লী।
- মেনিনজিস: মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুকে আবৃত করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১৪.
পেপসিন কোন ধরনের খাদ্য পদার্থ ভেঙে পরিপাক করে? 
  1. আমিষ 
  2. শর্করা 
  3. স্নেহ 
  4. মিনারেল 
ব্যাখ্যা

পেপসিন (Pepsin): 
- পেপসিন এক ধরনের এনজাইম, যা আমিষকে ভেঙে দুই বা ততোধিক অ্যামাইনো এসিড দিয়ে তৈরি যৌগ গঠন করে, যা পলিপেপটাইড নামে পরিচিত।
• আমিষ → পলিপেপটাইড
- শর্করা এবং স্নেহজাতীয় খাদ্য সাধারণত পাকস্থলীতে পরিপাক হয় না, কারণ এদের পরিপাকের জন্য গ্যাস্ট্রিক রসে নির্দিষ্ট কোনো এনজাইম থাকে না। 
- পাকস্থলীতে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছানো মাত্র উপরোক্ত রসগুলো নিঃসৃত হয়। 
- পাকস্থলীর অনবরত সংকোচন ও প্রসারণ এবং এনজাইমের ক্রিয়ার ফলে খাদ্য মিশ্র মণ্ডে পরিণত হয়, একে পাকমণ্ড বা কাইম (chyme) বলে। 
- এই মণ্ড অনেকটা স্যুপের মতো এবং কপাটিকা ভেদ করে ক্ষুদ্রান্দ্রে প্রবেশ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৫.
শ্বেত রক্ত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে গেলে কী ঘটে?
  1. লিউকেমিয়া
  2. অ্যানিমিয়া
  3. থ্যালাসেমিয়া
  4. পারপুরা
ব্যাখ্যা
লিউকেমিয়া
- নিউমোনিয়া, প্লেগ, কলেরা প্রভৃতি রোগে শ্বেত কণিকার সংখ্যা বেড়ে যায়। 
- কিন্তু যদি শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যধিক হারে বেড়ে ৫০,০০০-১,০০০,০০০ হয়, তাহলে তাকে লিউকেমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সার বলে। 

রক্ত উপাদানের অস্বাভাবিক অবস্থা:


উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ-মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান।
২১৬.
মানুষের চোয়ালে কয় ধরনের স্থায়ী দাঁত থাকে?
  1. ১৬
ব্যাখ্যা
• মানুষের চোয়ালে ৪ ধরনের স্থায়ী দাঁত থাকে। 

• দাঁত:
- মানবদেহে সবচেয়ে শক্ত অংশ দাঁত।

• প্রাপ্ত বয়সে মুখগহ্বরে উপরে ও নিচের চোয়ালে সাধারণত ১৬ টি করে মোট ৩২ টি দাঁত থাকে।
• মানবদেহে দাঁত দুইবার গজায়। প্রথমবার শিশুকালে দুধদাঁত, দুধদাঁত পড়ে গিয়ে ১৮ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার স্থায়ী দাঁত গজায়।

মানুষের স্থায়ী দাঁত চার ধরনের। সেগুলো হলো:
(i) কর্তন দাঁত (Incisor): এই দাঁত দিয়ে খাবার কেটে টুকরা করা হয়।
(ii) ছেদন দাঁত (Canine): এই দাঁত দিয়ে খাবার ছেঁড়া হয়।
(iii) অগ্রপেষণ দাঁত (Premolar): এই দাঁত দিয়ে চর্বণ, পেষণ উভয় কাজ করা হয়।
(iv) পেষণ দাঁত (Molar): এই দাঁত খাদ্যবস্তু চর্বণ ও পেষণে ব্যবহৃত হয়।

• মানুষের দন্তসংকেত হলো:  ICPM/ ICPM = (৮ × ২) / (৮ × ২) = ১৬ + ১৬ = ৩২

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২১৭.
কোন শ্বেত রক্তকণিকায় হেপারিন থাকে?
  1. লিম্ফোসাইট
  2. নিউট্রিফিল
  3. বেসোফিল
  4. ইউসিনোফিল
ব্যাখ্যা
শ্বেত রক্তকণিকা (Leucocytes): 
- শ্বেত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম leucocytes. 
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতি ঘন মি. লি. রক্তে প্রায় ৬০০০টি বিভিন্ন ধরনের শ্বেত কণিকা থাকে। 
- শ্বেতকণিকা আকারে লোহিত কণিকা অপেক্ষা বড়। 
- এদের নিউক্লিয়াস আছে। 
- রক্তে লোহিত ও শ্বেত কণিকার অনুপাত সাধারণত ৫০০:১। 
- শ্বেত কণিকা লোহিত অস্থিমজ্জা, প্লীহা ও লসিকা গ্রন্থি ইত্যাদি হতে উৎপন্ন হয়। 
- সাইটোপ্লাজমের গঠনের ভিত্তিতে শ্বেত কণিকাকে প্রধানত দু ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
১। দানাদার শ্বেত কণিকা (Granulocyte): 
- নিউক্লিয়াসের বৈশিষ্ট্য, গঠন ও রঞ্জকধারণ ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে দানাদার শ্বেত কণিকাসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
ক) নিউট্রোফিল (Neutrophil): 
- কোষের দানাগুলো সূক্ষ্ম ও বেগুনি রঙের। কোষসমূহ আকারে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র। 
- পরিণত কোষে নিউক্লিয়াস ২-৭ টি ক্ষুদ্র খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যায়। 

খ) ইওসিনোফিল (Eosinophil): 
- কোষগুলো গোলাকার, সাধারণত নিউক্লিয়াস ২ খণ্ডে বিভক্ত, সাইটোপ্লাজমে অপেক্ষাকৃত বড় দানা থাকে। 

গ) বেসোফিল (Basophil): 
- কোষগুলো গোলাকার, সাইটোপ্লাজমের দানাগুলো ক্ষারধর্মী রঞ্জক দ্বারা রঞ্জিত হয় এবং স্থূল ধরনের। 
- বেসোফিল হেপারিন উপাদান ধারণ করে। 

২। অদানাদার শ্বেতকণিকা (Agranulocyte): 
- আকার ও আকৃতির ওপর ভিত্তি করে অদানাদার শ্বেত কণিকাকে আবার ২ ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা: 
ক) মনোসাইট: 
- এদের সাইটোপ্লাজম দানাবিহীন। 
- কোষগুলো মোটামুটি গোলাকার। 
- আকৃতিতে সর্ববৃহৎ। 

খ) লিম্ফোসাইট: 
- লিম্ফোসাইটের সাইটোপ্লাজমে কোনো দানা থাকে না। 
- লিম্ফোসাইট আবার দুই প্রকার। 
• বড় লিম্ফোসাইট এবং 
• ছোট লিম্ফোসাইট। 

শ্বেত কণিকার কাজ: 
- শ্বেত কণিকা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। 
যথা: 
১। ফ্যাগোসাইটোসিস (Phagocytosis) প্রক্রিয়ায় এরা ক্ষণপদের সাহায্যে রোগ-জীবাণুকে ভক্ষণ করে ধ্বংস করে। 
২। লিম্ফোসাইট তৈরি করে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, এজন্য এদেরকে দেহের আণুবীক্ষণিক সৈনিক বলে। 
৩। বেসোফিল নিঃসৃত হেপারিন রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধা রোধ করে রক্তপ্রবাহ অব্যাহত রাখে। 
৪। এন্টিবডি তৈরি করে জীবাণু ধ্বংস করে। 
৫। হিস্টামিনের মাধ্যমে এলার্জিক বিক্রিয়া হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান)।
২১৮.
ঐচ্ছিক পেশির অভ্যন্তরে কোন দুটি প্রোটিন মায়োফাইব্রিল গঠন করে? 
  1. গ্লুকোজ ও ইনসুলিন
  2. হিমোগ্লোবিন ও ফাইব্রিন
  3. কোলাজেন ও ক্যারাটিন
  4. অ্যাকটিন ও মায়োসিন
ব্যাখ্যা
ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ বা রৈখিক পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা, দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 

- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। 
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৯.
মানব দেহের দীর্ঘতম কোষ কোনটি?
  1. নেফ্রন
  2. নিউরন
  3. শুক্রাণু
  4. লোহিত রক্তকণিকা
ব্যাখ্যা
• নিউরন:
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান কেন্দ্র হলো মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের একক নিউরন, আর অসংখ্য নিউরন নিয়ে গঠিত হয়েছে মস্তিষ্ক।
- প্রাণিদেহের যে তন্ত্র দেহের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে, বিভিন্ন জৈবিক কার্যাবলির সমন্বয় সাধন করে এবং উদ্দীপনায় সাড়া দিয়ে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশের মধ্যে সম্পর্ক রক্ষা করে, সে তন্ত্রকে স্নায়ুতন্ত্র বলে।
- মানবদেহের সবচেয়ে দীর্ঘতম কোষ হলো নিউরন যা প্রায় 1.37 মিটার লম্বা।
- প্রতিটি নিউরন দুটি অংশ নিয়ে গঠিত- কোষদেহ এবং প্রলম্বিত অংশ।
- প্রলম্বিত অংশ দুই ধরনের: (i) ডেনড্রন (ii)অ্যাক্সন।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, ৯ম-১০ম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা।
২২০.
Spinal Nerve কয়টি?
  1. ২৯ টি
  2. ২৯ জোড়া
  3. ৩১ টি
  4. ৩১ জোড়া
ব্যাখ্যা
• স্নায়ুতন্ত্র:
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যগত একককে স্নায়ুকোষ বা নিউরন বলে।
- মানবদেহের দীর্ঘতম কোষ হলো স্নায়ুকোষ।
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অংশ হলো মস্তিষ্ক।
- মস্তিষ্কের গড় ওজন - ১.৩৬ কেজি।
- মানুষের করোটিক স্নায়ু ১২ জোড়া।
- সুষুম্না স্নায়ু ৩১ জোড়া।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২২১.
ইনসুলিন কোন ধরনের পদার্থ?
  1. অ্যান্টিবডি
  2. ভিটামিন
  3. এনজাইম
  4. হরমোন
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন এক ধরনের হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে।
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোন কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় (ডায়াবেটিস) রোগ হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২২.
'বৃক্ক' মানবদেহের কোন তন্ত্রের একটি অঙ্গ?
  1. জননতন্ত্র
  2. পরিপাক তন্ত্র
  3. রেচনতন্ত্র
  4. স্নায়ুতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মানুষের রেচন প্রক্রিয়া: 

- রেচন মানবদেহের একটি জৈবিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দেহে বিপাক প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন বর্জ্য পদার্থগুলো নিষ্কাশিত হয়। 
- দেহের এ সকল বর্জ্য পদার্থগুলো শরীরে কোন কারণে জমতে থাকলে নানা রকমের অসুখ দেখা দেয়, পরবর্তীতে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। 
- রেচন প্রক্রিয়ায় দেহের বিষাক্ত পদার্থ নিষ্কাশিত হয়ে দেহ থেকে বের করে দিয়ে দেহের শারীরবৃত্তীয় ভারসাম্য রক্ষা করে। 
- শরীরের অতিরিক্ত পানি, লবণ, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জৈব পদার্থগুলো সাধারণত রেচনের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। 
- রেচন পদার্থ নিষ্কাশনের জন্য মানবদেহে সুনির্দিষ্ট অঙ্গ রয়েছে। 
- যে সব অঙ্গ রেচন কাজে অংশ গ্রহণ করে তাদেরকে রেচন অঙ্গ বলা হয়। এটি রেচনতন্ত্র নামে পরিচিত। 
- রেচনতন্ত্রের মাধ্যমে শতকরা ৮০% রেচন পদার্থ নিষ্কাশিত হয়। বাকি ২০% রেচন পদার্থ বিভিন্ন ক্রিয়াকর্মে উৎপন্ন ও বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হয়। 
- মানবদেহের রেচনতন্ত্রের একটি অঙ্গ হলো- বৃক্ক বা Kidney.  
- আর বৃক্কের একক হলো নেফ্রন। 

ছবির উৎস: কালের কণ্ঠ

রেচন পদার্থ:  
- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়। 
- রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে। 
- যেমন: নাইট্রোজেনঘটিত যৌগ অ্যামোনিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন, কার্বন ডাইঅক্সাইড, পিত্ত রঞ্জক, বিভিন্ন ধরনের লবণ এবং ঘাম ও পানি বিপাকীয় বর্জ্য পদার্থ। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৩.
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত পদার্থকে কী বলে?
  1. প্রাণরস
  2. এনজাইম
  3. হরমোন
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
♦ 'গ্রন্থি': যে সমস্ত অঙ্গসমূহ এক বা একাধিক রাসায়নিক যৌগ উৎপাদন এবং ক্ষরণের কাজে নিয়োজিত থাকে তাকে 'গ্রন্থি' বলে । 
- মানবদেহে দুই ধরনের গ্রন্থি রয়েছে- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি ও বহিঃক্ষরা গ্রন্থি।
১. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি - হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারী, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, প্যানক্রিয়াস বা অগ্নাশয় , টেস্টিস, ওভারী, প্লাসেন্টা।
২. বহিঃক্ষরা গ্রন্থি – ঘর্মগ্রন্থি , ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি, স্তন গ্রন্থি, সেরোমিনাস গ্রন্থি, সেবাসিয়াস গ্রন্থি , মেবোমিয়ান গ্রন্থি , যকৃত এবং মিউকাস ।

• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি : প্রাণীদেহের নালীবিহীন গ্রন্থিসমূহ হতে নিঃসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশ্রিত হয়ে রক্ত দ্বারাই দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবাহিত হয়। এ সকল গ্রন্থিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলে।
• এই রস নির্দিষ্ট পরিমাণে নিঃসৃত হয়ে দেহের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
• উদাহরণস্বরূপ-থাইরয়েড নামক অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি কর্তৃক নিঃসৃত হরমোন 'থাইরক্সিন' প্রাণীর বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রিত করে।

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বৈশিষ্ট্য:

• কোন নালীপথ নেই। রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে ক্রিয়াশীল অঙ্গে পৌঁছায়।
• ক্ষরিত পদার্থ হরমোন বা প্রাণরস নামে পরিচিত।
• এ সব গ্রন্থি হতে নিঃসৃত রস দূরবর্তী নির্দিষ্ট অঙ্গে ক্রিয়াশীল হয়।

উৎস: একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণীর জীববিজ্ঞান ২য় পত্র বই (উন্মুক্ত)।
২২৪.
রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে -
  1. অণুচক্রিকা
  2. শ্বেত রক্তকণিকা
  3. প্লাটিলেট
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট: 

• মানুষের রক্ত কণিকা ৩ ধরনের। যথা: ১. লোহিত রক্ত কণিকা; ২. শ্বেত রক্ত কণিকা এবং ৩. অণুচক্রিকা। 
• অণুচক্রিকা বা প্লাটিলেট বা থ্রম্বোসাইট হলো নিউক্লিয়াসবিহীন।
• এটি গোলাকার বা ডিম্বাকার বা রড আকৃতির হয়ে থাকে। 
• এর ব্যাস দুই থেকে তিন মাইক্রোমিটার এবং আয়ুষ্কাল ৫ থেকে ১০ দিন।
• পরিণত মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে অণুচক্রিকার সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ। অসুস্থ দেহে এদের সংখ্যা আরও বেশি হয়।
• এটি লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকার চেয়েও আকারে ছোট।
• অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে।
• ‘ভিটামিন কে’ রক্ত জমাট বাঁধার ফ্যাক্টর তৈরিতে সাহায্য করে।
• রক্তে হেপারিন থাকায় দেহের অভ্যন্তরে রক্ত জমাট বাঁধে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম - দশম শ্রেণি এবং প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ - দ্বাদশ শ্রেণি। 
২২৫.
নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয়-
  1. ধমনীর ভেতর দিয়ে
  2. শিরার ভেতর দিয়ে
  3. স্নায়ুর ভেতর দিয়ে
  4. ল্যাকটিয়ালের ভেতর দিয়ে
ব্যাখ্যা
- নাড়ীর স্পন্দন প্রবাহিত হয় ধমনির ভেতর দিয়ে। 

ধমনি: 
- হৃদপিণ্ড থেকে উৎপন্ন হয়েছে যে সকল রক্তবাহী নালী দেহের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে তাদের ধমনি বলে। 
- ধমনির ভিতর দিয়ে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত দ্রুতগতিতে দেহের বিভিন্ন অংশে প্রবাহিত হয় বলে এতে নাড়ীর স্পন্দন আছে। 
- যেসকল রক্তবাহী নালী দেহের বিভিন্ন অংশ থেকে হৃদপিন্ডে রক্ত পরিবহন করে তাকে শিরা বলে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৬.
অ্যান্টিবডিগুলোর মধ্যে মানবদেহে কোনটি সবচেয়ে বেশি থাকে?
  1. IgG
  2. IgE
  3. IgA
  4. IgD
ব্যাখ্যা
• অ্যান্টিবডিগুলোর মধ্যে মানবদেহে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে IgG।. এটি রক্তে এবং অন্যান্য শরীরের তরলে সর্বাধিক উপস্থিত অ্যান্টিবডি, যা দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। IgG প্রধানত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং টক্সিনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এবং দীর্ঘমেয়াদে রোগ প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এছাড়া এটি প্লাসেন্টা অতিক্রম করে গর্ভস্থ শিশুকে প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদান করে, যা একে অন্যান্য অ্যান্টিবডির তুলনায় অনন্য করে তোলে। অপরদিকে, IgA বেশি থাকে মিউকাসে, IgE অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়ায় সক্রিয় এবং IgD এর পরিমাণ খুবই কম। তাই সঠিক উত্তর: ক) IgG.

• অ্যান্টিবডি: 
- দেহের প্রতিরক্ষাতন্ত্র (immune system) থেকে উৎপন্ন এক ধরনের দ্রবণীয় গ্লাইকোপ্রোটিন যা রোগ-ব্যাধি সৃষ্টিকারী নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনকে (যেমন-ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে তাকে অ্যান্টিবডি বলে। 
- প্রত্যেকটি অ্যান্টিবডি হচ্ছে ইমিউনোগ্লোবিউলিন (সংক্ষেপে Ig) নামে বিশেষ ধরনের একেকটি প্রোটিন অণু। 
- শ্বেত রক্তকণিকার অন্যতম প্রধান কণিকা লিম্ফোসাইট। লিম্ফোসাইট দু'ধরনের: (১) T-কোষ ও (২) B-কোষ। 
- B-লিম্ফোসাইট কয়েক উপধরনে বিভক্ত যার একটি হচ্ছে প্লাজমা B-কোষ, সংক্ষেপে প্লাজমাকোষ নামে পরিচিত। 
- প্লাজমাকোষ থেকে অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হয়। 
- প্রয়োজনে প্রত্যেক প্লাজমাকোষ প্রতি সেকেন্ডে কয়েক হাজার অ্যান্টিবডি উৎপন্ন করতে পারে। 
- মানুষের দেহে প্রায় ১০০ মিলিয়ন (১০ কোটি) ধরনের অ্যান্টিবডি উৎপন্ন হতে পারে। 

অ্যান্টিবডির প্রকারভেদ: 
- অ্যান্টিবডির গড়নে যে ভারী শৃঙ্খল রয়েছে তাতে অ্যামিনো এসিডের ক্রমের (sequence) ভিত্তিতে ভারী শৃঙ্খল ৫ ধরনের: γ-(gamma), α-(alpha), μ-(mu), €-(epsilon) এবং δ-(delta)। 
- এ পাঁচ ধরনের ভারী শৃঙ্খলবিশিষ্ট অ্যান্টিবডিগুলো নিচে বর্ণিত ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত। 
যেমন- 
১। ইমিউনোগ্লোবিউলিন A (IgA): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১৫% হচ্ছে IgA । 
- এ ধরনের অ্যান্টিবডি মিউকাস ঝিল্লিতে আবৃত থাকে, যেমন-পরিপাক, জনন ও শ্বসনতন্ত্রে বিস্তৃত হয় এবং সেখানে রোগ সৃষ্টিকারী অনুজীর ও অণুকণাকে প্রশমিত করে। 
- মায়ের দুধেও IgA পাওয়া যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুদেছে স্থানান্তরিত হয়। 

২।  ইমিউনোগ্লোবিউলিন D (IgD): 
- দেহের মোট Ig-র মধ্যে ১%-এরও কম হচ্ছে IgD । 
- রক্ত, লসিকা ও লিফোসাইট B-কোষে এ lg পাওয়া যায়। 
- এর কাজ অজ্ঞাত হলেও বিজ্ঞানিদের ধারণা, IgD B-কোষকে সক্রিয়করণে ভূমিকা পালন করে। 

৩। ইমিউনোগ্লোবিউলিন E (IgE): 
- দেহের মোট ।g-র মধ্যে প্রায় ০.১% হচ্ছে IgE । 
- এটি দুর্লভ Ig । 
- B-কোষ, মাস্টকোষ ও বেসোফিলে এ Ig পাওয়া যায়। 
- হিস্টামিন ক্ষরণকে উদ্দীপ্ত করে এটি প্রদাহ সাড়া সক্রিয় করে। 
- বিভিন্ন অ্যালার্জিক সাড়া দানে (যেমন-সন্ধিবাতে) এ অ্যান্টিবডির ভূমিকা বেশ নেতিবাচক প্রমাণিত হয়েছে। 

৪। ইমিউনোগ্লোবিউলিন G (IgG): 
- দেহের মোট ইমিউনোগ্লোবিউলিনের (Ig) 75% IgG । 
- রক্ত, লসিকা, অন্ত্র ও টিস্যু তরলে এ Ig বিস্তৃত থাকে। 
- কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমিক সক্রিয় করে এবং অনেক বিষাক্ত পদার্থকে প্রশমিত করে। 
- IgG ই একমাত্র অ্যান্টিবডি যা গর্ভাবস্থায় অমরা অতিক্রম করে মায়ের অর্জিত প্রতিরক্ষাকে ভ্রূণদেহে বাহিত করে। 

৫। ইমিউনোগ্লোবিউলিন M (IgM): 
- দেহের মোট IG-এর ৫-১০% IgM । 
- ABO ব্লাড গ্রুপের রক্তকণিকার অ্যান্টিবডি এ ধরনের। 
- IgM পাওয়া যায় রক্ত ও লসিকায়। 
- এটি কমপ্লিমেন্ট সিস্টেমকে সক্রিয় করে এবং বহিরাগত কোষকে পরস্পরের সঙ্গে আসঞ্জিত করে দেয়। 
- অধিকাংশ ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে স্পেসিফিক ইমিউন সাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে IgG & IgM একত্রে কাজ করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
২২৭.
'গলগন্ড' মানবদেহের কোন গ্রন্থির একটি রোগ?
  1. অ্যাড্রেনাল
  2. পিট্যুইটারি
  3. থাইরয়েড
  4. হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
খাদ্যের উপাদান:

- খাদ্যের ৬টি উপাদান শর্করা, স্নেহ পদার্থ, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ লবন এবং পানি প্রধানত আমাদের দেহে ৩টি কাজ করে:
১. বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরন ও রক্ষণাবেক্ষণ।
২. তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান।
৩. রোগ প্রতিরোধ ও সুস্থতা প্রদান।

খনিজ লবন:
- কয়েক রকমের খনিজ পদার্থ রয়েছে। খনিজ পদার্থের মধ্যে ক্যালসিয়াম, লৌহ ও আয়োডিন উল্লেখযোগ্য।
- দুধ, পনির, ছোট মাছের কাঁটা, কলমী শাক ইত্যাদিতে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায়।
- কলিজা, ডিম, মাংস ইত্যাদিতে লৌহ এবং সামুদ্রিক মাছ ও লবনে আয়োডিন পাওয়া যায়।
- আয়োডিনের অভাবে গলগণ্ড রোগ, লৌহের অভাবে রক্ত শূন্যতা, ক্যালসিয়ামের অভাবে রিকেট ইত্যাদি রোগের সৃষ্টি হয়।

গলগন্ড (Goitre):

- গলগন্ড থাইরয়েড গ্রন্থির একটি রোগ।
- খাবারে আয়োডিনের অভাব থাকলে থাইরয়েডের গ্রন্থির আয়তন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গলগন্ডের সৃষ্টি করে।
- যে সকল এলাকার মাটিতে আয়োডিনের পরিমাণ কম সে সকল এলাকার শিশুদের এমন রোগ বেশি দেখা যায়।
- লবণের পরিমাণ কম তাই এ সকল এলাকার শিশুদের বেশি পরিমাণে গলগন্ড রোগ দেখা দেয়।

- গলগন্ড প্রধানত দু'প্রকার। যথা-
(ক) সরল গলগন্ড:
- আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থিদ্বয় অথবা যে কোনো একটি ফুলে যায়।
- ফলে গলার কিছু অংশ ফুলে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে।
- এটিই সরল গলগন্ড নামে পরিচিত।

• লক্ষণ: আলসেমি বা কুঁড়েমি, নিদ্রাহীনতা, শুকনো চামড়া, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, মানসিক প্রতিবন্ধকতা, পড়াশুনায় অমনোযোগী হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি এ রোগের লক্ষণ।
• প্রতিরোধ: যে অঞ্চলে এর প্রাদুর্ভাব দেখা দেবে সে অঞ্চলের খাওয়ার পানির সাথে অতি সামান্য মাত্রায় আয়োডিন মেশানো যেতে পারে। আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করা।

(খ) টক্সিক গলগন্ড:
- অতিমাত্রায় থাইরক্সিন হরমোন নিঃসরণের ফলে এ রোগ দেখা দেয়।

• লক্ষণ: হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি, বুক ধড়পড় করা, ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া ও অধিক ঘাম হওয়া ইত্যাদি।
• প্রতিরোধ ব্যবস্থা- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রেডিওঅ্যাক্টিভ আয়োডিন ব্যবহার করার মাধ্যমে এ গ্রন্থির বৃদ্ধি রোধ করা যায়। আয়োডিনযুক্ত খাবার যেমন- সামুদ্রিক শৈবাল, সামুদ্রিক মাছ, ইত্যাদি খাওয়া।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৮.
অগ্ন্যাশয়ের অন্তঃক্ষরা অংশ কোন হরমোন নিঃসরণ করে?
  1. এড্রিনালিন ও গ্লুকাগন
  2. ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
  3. অ্যাড্রিনালিন ও করটিসল 
  4. থাইরক্সিন ও ট্রাইআইডোথাইরনিন
ব্যাখ্যা

অগ্ন্যাশয় (Pancreas): 
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি। 
- এটি একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। 
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয় বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। 
- অগ্ন্যাশয়রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। 
- অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়। 
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। 
- এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ এবং স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে। তাছাড়াও অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা, দেহতাপ প্রভৃতি নিয়ন্ত্রণ করে। 
- অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন যেমন: গ্লুকাগন ও ইনস্যুলিন নিঃসরণ করে। 
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৯.
করোনারি ধমনিতে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য কোন ওষুধ দেওয়া হয়?
  1. ডক্সিসাইক্লিন
  2. ইনসুলিন
  3. নাইট্রোগ্লিসারিন
  4. অ্যাট্রোপিন
ব্যাখ্যা

• করোনারি ধমনি সরু হয়ে গেলে হৃদপেশিতে রক্ত সরবরাহ কমে যায়, যাকে এনজাইনা বলা হয়।
- নাইট্রোগ্লিসারিন একটি শক্তিশালী ভ্যাসোডিলেটর (Vasodilator) যা রক্তনালীকে প্রসারিত করে হৃদপিণ্ডে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ দ্রুত বৃদ্ধি করে।
- অন্যদিকে, ডক্সিসাইক্লিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ করে এবং অ্যাট্রোপিন সাধারণত হৃদস্পন্দন বাড়াতে ব্যবহৃত হয় কিন্তু এটি সরাসরি রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধির প্রাথমিক ওষুধ নয়।

• হার্ট অ্যাটাক:
- হৃদপেশিতে আঘাত লেগে বুকে ব্যথা ও চাপ সৃষ্টি হয়ে ২০-৪০ মিনিটের মধ্যে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ফিরে না আসলে হৃদপেশির মৃত্যু ঘটতে থাকে এবং এরূপ ৬-৮ ঘণ্টা ধরে পেশি মারা যেতে থাকলে তবে হার্ট অ্যাটাক ঘটে থাকে।
- হৃদপেশির আঘাতজনিত কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়।
- যখন হৃদপেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় তখন তা আর সঠিকভাবে সংকোচন ঘটাতে পারে না এবং হৃদপিণ্ডের স্পন্দন থেমে যায় ও ফলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট হয় এবং দেহের বিভিন্ন অঞ্চলে রক্ত প্রেরণে অক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে পাঁচ মিনিটের মধ্যে স্পন্দন শুরু না হলে মস্তিষ্ক বিনষ্ট ও রোগীর মৃত্যু ঘটে।
-অধিকাংশ ক্ষেত্রে ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশনজনিত হার্ট অ্যাটাক থেকে রোগীর মৃত্যু ঘটে।
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি কার্ডিও পালমোনারি সঞ্চালন করা সম্ভব হয় তবে রোগী মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেতে পারে।


• হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলো হলো:
- ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইব্রিলেশন,
- রক্তে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি,
- উচ্চ রক্ত চাপ,
- তামাক সেবন।

• হার্ট অ্যাটাকের চিকিৎসা:
- তাৎক্ষণিক ডাক্তারের শরণাপন্য হওয়া ও অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- রক্ত জমাট বাঁধানো প্রতিহত করার জন্য অ্যাসপিরিন দেয়া।
- করোনারি ধমনির মধ্যে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া।
- বুকের ব্যথার চিকিৎসা আরম্ভ করা।
- নিয়মিত খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করা।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩০.
মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ কত?
  1. ২০০-৩০০ mg/dl
  2. ৩০০-৪০০ mg/dl
  3. ৪০০-৫০০ mg/dl
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
কোলেস্টেরল:

• কোলেস্টেরল এক বিশেষ ধরনের জটিল স্নেহ পদার্থ বা লিপিড এবং স্টেরয়েড-এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
• মানুষের প্রায় প্রত্যেক কোষ এবং টিস্যুতে কোলেস্টেরল থাকে।
• যকৃৎ এবং মগজে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
• কোলেস্টেরল অন্যান্য স্নেহ পদার্থের সাথে মিশে রক্তে স্নেহের বাহক হিসেবে কাজ করে।
• স্নেহ এবং প্রোটিনের যৌগকে লাইপোপ্রোটিন বলে।

• স্নেহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে লাইপোপ্রোটিন দুই রকম। যথা: 
১. উচ্চ ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (High Density Lipoprotein-HDL) এবং
২. নিম্ন ঘনত্ব বিশিষ্ট লাইপোপ্রোটিন (Low Density Lipoprotein-LDL) । 

• রক্তের LDL-এর পরিমাণের বৃদ্ধির সাথে কোলেস্টেরলের আধিক্যের সম্পর্ক আছে।
• রক্তে LDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। একে খারাপ কোলেস্টেরল বলে। 
• রক্তে HDL-এর পরিমাণ বেশি থাকা শরীরের জন্য উপকারী। একে ভালো কোলেস্টেরল বলে। 
• রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক পরিমাণ ১০০-২০০ mg/dl.
• রক্তে কোলেস্টেরলের আধিক্য হৃদরোগের আশঙ্কা বাড়ায়।
• LDL-এর পরিমাণ ১৫০ mg/dl থেকে বেশি হলে তাকে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান এবং জীববিজ্ঞান বই, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩১.
মাতৃদেহ থেকে ভ্রূণের রক্তে পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে কোন অঙ্গ?
  1. জরায়ু
  2. নাভি
  3. অমরা
  4. ডিম্বাশয়
ব্যাখ্যা
অমরা (Placenta):
- যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু-টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। 
- ভ্রূণ জরায়ুতে পৌঁছানোর 4-5 দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। 
- ক্রমবর্ধমানশীল ভ্রূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। 
- নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। 
- এভাবে ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। 
- প্রসবের সময় অমরা দেহ থেকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়। 

- অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। 
- ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য খাদ্যের দরকার। শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভ্রূণের রক্তে প্রবেশ করে। 
- অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। 
- অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডের বিনিময় ঘটে। 
- অমরা একই সাথে বৃক্কের মতো কাজ করে। 
- বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভ্রূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। 
- অমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এ হরমোন ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে। 
- অমরাতে প্রচুর রক্তনালি থাকে। 
- অমরা, আম্বিলিকাল কর্ড দ্বারা ভ্রূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে, একে নাড়িও বলা হয়। 
- এটা মূলত একটি নালি, যার ভিতর দিয়ে মাতৃদেহের সাথে ভ্রূণের বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। 
- গর্ভাবস্থায় অমরা থেকে এমন কতগুলো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন এবং প্রসব সহজ করতে সহায়তা করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩২.
আমিষ পরিপাকে পাচক রসে সাহায্যকারী এনজাইম কোনটি?
  1. প্রোলিডেজ
  2. কোলাজিনেজ
  3. ট্রিপসিনোজেন
  4. পেপসিনোজেন
ব্যাখ্যা
- আমিষ পরিপাকে পাচক রসে সাহায্যকারী এনজাইম হলো- পেপসিনোজেন

পরিপাকতন্ত্রে খাদ্যদ্রব্যের পরিপাক ও পরিশোষণ: 
- দৈনন্দিন জীবনে মানুষ যে সব আমিষ জাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে তন্মধ্যে দুধ, মাছ, মাংস, ডিম ও ডাল উল্লেখযোগ্য। 
- এ সকল খাদ্য পরিপাকে যে সকল সাহায্যকারী এনজাইম ভূমিকা রাখে তা হলো-
১. পাচক রস: পেপসিনোজেন ও জিলেটিনেজ।
২. অগ্ন্যাশয় রস: ট্রিপসিনোজেন, কার্বক্সিপেপটাইডেজ- এ. বি ইলাস্টেজ, কোলাজিনেজ প্রভৃতি। 
৩. আন্ত্রিক রস: অ্যামাইনোপেপটাইডেজ, ট্রাইপেপটাইডেজ ও প্রোলিডেজ

- আমিষ বা প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের পরিপাক পাকস্থলিতে শুরু হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রে শেষ হয়।
- মুখবিবরের লালা রসে আমিষ পরিপাককারী এনজাইম না থাকায় মুখবিবরে আমিষের কোনো পরিপাক হয় না।
- কেবলমাত্র খাদ্য চিবানোর ফলে লালারস মিলে খাদ্যকে পিচ্ছিল ও নরম করে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৩.
রক্ত জমাট বাঁধার পর হালকা হলুদ রংয়ের স্বচ্ছ যে রস পাওয়া যায়, তাকে কী বলে? 
  1. লসিকা
  2. প্লাজমা
  3. সিরাম
  4. অ্যান্টিজেন
ব্যাখ্যা
সিরাম: 
- রক্ত থেকে রক্তকণিকা এবং রক্ত জমাট বাঁধার জন্য যে প্রয়োজনীয় প্রোটিন আছে, সেটাকে সরিয়ে নেওয়ার পর যে তরলটি রয়ে যায়, তাকে সিরাম বলে। 
অর্থাৎ, রক্ত জমাট বাঁধার পর হালকা হলুদ রংয়ের যে স্বচ্ছ রস পাওয়া যায়, তাকে সিরাম বলে। 
- রক্তরস বা প্লাজমা এবং সিরামের মাঝে মূল পার্থক্য হলো রক্তরসে রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় প্রোটিন থাকে, সিরামে সেটি থাকে না। 

রক্তরস বা প্লাজমা: 
- রক্তের তরল অংশকে প্লাজমা বলে। 
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ। 
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন এবং O, CO, এবং N, জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৪.
কোন নিউরোট্রান্সমিটার মুড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে?
  1. অ্যাসিটাইলকোলিন
  2. ডোপামিন
  3. গ্লুটামেট
  4. GABA
ব্যাখ্যা

◉ ডোপামিন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার, যা সুখ, প্রেরণা এবং পুরস্কারমূলক অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করে।

ডোপামিন:
- ডোপামিন মস্তিষ্কে তৈরি একটি নিউরোট্রান্সমিটার (দুটি স্নায়ু কোষের মধ্যে রাসায়নিক বার্তাবাহক)।
- এটি মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ এবং শরীরের স্নায়ু এবং পেশী কোষের মধ্যে বার্তা যোগাযোগ করতে সহায়তা করে।
- এটি শরীরের নিয়ন্ত্রণ এবং সমন্বয়, মেজাজ, স্মৃতি, মনোযোগ, অনুপ্রেরণা ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
- এটি শরীরের অনেক কাজের সাথে জড়িত যেমন উত্তেজনা এবং ঘুম, জ্ঞান এবং আচরণ, মেজাজ, স্তন্যদান, শিক্ষা ইত্যাদি। 
- এটি একটি সত্যিকারের চাপের পরিস্থিতিতে শরীরের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন বিপদ সনাক্ত করা এবং এটি থেকে পালানো।
- ডোপামিনের ঘাটতি হলে উদাসীনতা, বিষণ্নতা ও পারকিনসন রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- অতিরিক্ত ডোপামিন স্কিজোফ্রেনিয়া ও আসক্তির (Addiction) সাথে সম্পর্কিত।

উৎস:
i) জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Care Hospitals Website. [Link] 

২৩৫.
ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে কে?
  1. ক) নিউট্রোফিল
  2. খ) ইওসিনােফিল
  3. গ) বেসােফিল
  4. ঘ) হেপারিন
ব্যাখ্যা

গ্র‍্যানোলোসাইট শ্বেত রক্তকণিকার একটি ধরন৷
এদের সাইটোপ্লাজম সূক্ষ্ম দানাযুক্ত। গ্রানুলােসাইট শ্বেত কণিকাগুলাে নিউক্লিয়াসের আকৃতির ভিত্তিতে তিন প্রকার।
যথা: নিউট্রোফিল, ইওসিনােফিল এবং বেসােফিল।

- নিউট্রোফিল ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়া জীবাণু ভক্ষণ করে।
- ইওসিনােফিল ও বেসোফিল হিস্টামিন নামক রাসায়নিক পদার্থ নিঃসৃত করে দেহে এলার্জি প্রতিরোধ করে।
- বেসােফিল হেপারিন নিঃসৃত করে রক্তকে রক্ত বাহিকার ভেতরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়।

উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২৩৬.
মানুষের রক্ত লাল রঙের হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি?
  1. রক্তে লাল তন্তুর উপস্থিতি 
  2. রক্তে লৌহ আয়নের বৃদ্ধি 
  3. হিমোগ্লোবিন নামক লৌহ-ঘটিত প্রোটিনের উপস্থিতি
  4. রক্তে অক্সিজেনের উপস্থিতি
ব্যাখ্যা

রক্ত: 
- প্রাণীদেহের রক্ত এক ধরনের লাল বর্ণের অস্বচ্ছ, আন্তঃকোষীয় লবণাক্ত এবং খানিকটা ক্ষারধর্মী তরল যোজক টিস্যু। 
- একজন পূর্ণবয়স্ক সুস্থ মানুষের দেহে প্রায় ৫-৬ লিটার রক্ত থাকে, যা মানুষের দেহের মোট ওজনের প্রায় ৮%। 
- মানুষ এবং অন্যান্য মেরুদণ্ডী প্রাণীদেহের রক্ত লাল রঙের। 
- রক্তের রসে লাল রঙের হিমোগ্লোবিন নামে লৌহ-ঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকায় রক্তের রঙ লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 
- কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড হিমোগ্লোবিনের সাথে যুক্ত হয়ে ফুসফুসে পরিবাহিত হয়, তবে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সিংহভাগ বাইকার্বনেট আয়ন হিসেবে রক্ত দ্বারা ফুসফুসে পরিবাহিত হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৩৭.
মানুষের হার্টে কতটি প্রকোষ্ঠ থাকে? 
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।

• হৃৎপিণ্ড:
- হৃৎপিণ্ড রক্ত সংবহনতন্ত্রের অন্তর্গত এক ধরনের পাম্প।
- হৃৎপিণ্ড অনবরত সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে সারা দেহে রক্ত সঞ্চালন ঘটায়।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড বক্ষগহ্বরে ফুসফুস দুটির মাঝখানে এবং মধ্যচ্ছদার ওপরে অবস্থিত।
- হৃৎপিণ্ডটি দ্বিস্তরী পেরিকার্ডিয়াম পর্দা দিয়ে বেস্টিত থাকে।
- মানুষের হৃৎপিণ্ড চারটি প্রকোষ্ঠ নিয়ে গঠিত।
- ওপরের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম অলিন্দ (Atrium) এবং নিচের প্রকোষ্ঠ দুটিকে যথাক্রমে ডান এবং বাম নিলয় ( Ventricles) বলে।
- দুটি অলিন্দের ভেতরকার প্রাচীর পাতলা কিন্তু নিলয় দুটির প্রাচীর পুরু এবং পেশিবহুল।
- ডান অলিন্দের সঙ্গে একটি ঊর্ধ্ব মহাশিরা এবং একটি নিম্ন মহাশিরা যুক্ত থাকে।
- বাম নিলয়ের সঙ্গে চারটি পালমোনারি শিরা যুক্ত থাকে।
- ডান নিলয় থেকে ফুসফুসীয় ধমনি এবং বাম নিলয় থেকে মহাধমনি উৎপত্তি হয়েছে।

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৩৮.
কোনটি কোলেস্টেরল নয়?
  1. Glucagon
  2. HDL
  3. LDL
  4. Triglycerides
ব্যাখ্যা
গ্লুকাগন কোলেস্টেরল নয়। এটি অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানসের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত একধরনের হরমোন। গ্লুকাগন শরীরে অধিক পরিমাণে দেখা গেলে ডায়াবেটিস হতে পারে।

কোলেস্টেরল:

- কোলেস্টেরল হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ।
- এটি প্রাণী কোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- লিপোপ্রোটিন নামক যৌগ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্তে প্রবাহিত হয়।
- তিন প্রকার লিপোপ্রোটিন দেখা যায়। যথা:
১. HDL (High-Density Lipoprotein, or “good” cholesterol)-কে সাধারণত ভাল কোলেস্টেরল বলা হয়। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

২. LDL (Low-Density Lipoprotein, or “bad” cholesterol)-কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়।
- সাধারণত আমাদের রক্তে ৭০% LDL থাকে। ব্যক্তি বিশেষে এর পার্থক্য দেখা যায়।

৩. Triglycerides লিপোপ্রোটিন বা কোলেস্টেরল আমাদের খাদ্যে এবং শরীরে চর্বি হিসেবে থাকে।

উৎস: জীববিজ্ঞান(উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)।
২৩৯.
হৃৎচক্রের স্বাভাবিক সময়কাল কত?
  1. ক) ০.৮ সেকেন্ড
  2. খ) ০.৫ সেকেন্ড
  3. গ) ৭৫ সেকেন্ড
  4. ঘ) ৬০ সেকেন্ড
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ব্যক্তির হৃৎস্পন্দনের হার প্রতি মিনিটে প্রায় ৭০-৮০ বার। প্রতি হৃৎস্পন্দন সম্পন্ন করতে সিস্টোল ও ডায়াস্টোলের যে চক্রাকার ঘটনাবলি অনুসৃত হয় তাকে কার্ডিয়াক চক্র বা হৃৎচক্র বলে। যদি প্রতি মিনিটে গড়ে ৭৫ বার হৃৎস্পন্দন হয়, তবে হৃৎচক্রের সময়কাল = ৬০/৭৫ সেকেন্ড = ০.৮ সেকেন্ড। স্বাভাবিকভাবেই অ্যাট্রিয়াল চক্র এবং ভেন্ট্রিকুলার চক্র উভয়েরই স্থিতিকাল ০.৮ সেকেন্ড।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৪০.
করোটিতে মোট কতটি অস্থি থাকে?
  1. ২৯
  2. ৩১
  3. ৩২
  4. ৩৩
ব্যাখ্যা
• অক্ষীয় কঙ্কাল:
- কঙ্কালতন্ত্রের যে অস্থিগুলো দেহের অক্ষ রেখা বরাবর অবস্থান করে কোমল, নমনীয় অঙ্গগুলোকে ধারণ করে ও রক্ষা করে এবং দেহ কাণ্ডের গঠনগুলো সংযুক্ত করে অবলম্বন দান করে তাদের একত্রে অক্ষীয় কঙ্কাল বলে।
- অক্ষীয় কঙ্কাল প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
যথা -
(ক) করোটি,
(খ) মেরুদণ্ড ও
(গ) বক্ষপিঞ্জর।

• করোটি:
- মুখমণ্ডলীয় ও করোটিকার অস্থি সমন্বয়ে গঠিত মাথার কঙ্কালিক গঠনকে করোটি বলে।
- করোটিতে মোট ২৯টি অস্থি থাকে।

• মেরুদণ্ড:
- অ্যাটলাস অস্থি থেকে কক্কিক্স অস্থি পর্যন্ত বিস্তৃত দণ্ডাকৃতির যে গঠন মানবদেহের কেন্দ্রীয় অক্ষ গঠন করে তাকে মেরুদণ্ড বা শিরদাঁড়া বলে।

• বক্ষপিঞ্জর:
বক্ষদেশীয় ১২টি কশেরুকার সঙ্গে ১২ জোড়া পশুকা যুক্ত হয়ে যে খাঁচার মত আকৃতি গঠন করে তাকে বক্ষপিঞ্জর বলে।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪১.
জন্ডিসে আক্রান্ত হয়-
  1. যকৃত
  2. কিডনি
  3. পাকস্থলী
  4. হৃৎপিণ্ড
ব্যাখ্যা
• জন্ডিসে শরীরের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি যকৃত বা লিভারে আক্রান্ত হয়।
- কোনাে ব্যক্তি ভাইরাল হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে সাধারণত জন্ডিস দেখা দেয়।
- জন্ডিস দেখা দিলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায়।
- বিলিরুবিন তৈরি হয় যকৃতে এবং অস্থিমজ্জায়। জমা হয় প্লীহাতে। যা কনজুগেশনের মাধ্যমে যকৃতে পৌঁছায়।
- জন্ডিস আক্রান্ত ব্যাক্তির দেহত্বক, মুখ, চোখ এবং থুথু হলুদ বর্ণের হয়।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪২.
মানুষের বৃদ্ধি হরমোন কী নামে পরিচিত?
  1. গ্লুকাগন
  2. সোমাটোস্ট্যাটিন
  3. সোমাটোট্রপিন
  4. ইনসুলিন
ব্যাখ্যা
মানবদেহের বৃদ্ধিতে দুটি হরমোন প্রধান ভূমিকা পালন করে।
- একটি হচ্ছে পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত গ্রোথ হরমোন (Growth Hormone, GH) এবং অন্যটি থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন (Thyroxine)।

• বৃদ্ধি হরমোন: 

- যে হরমোন দেহের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে তাকে গ্রোথ হরমোন বলা হয়। 
- মানুষের গ্রোথ হরমোন সাধারনভাবে সোমাটোট্রপিন নামে পরিচিত। 

• দেহের বৃদ্ধিতে গ্রোথ হরমোনের ভূমিকা:
- গ্রোথ হরমোন ১৯১টি অ্যামিনো এসিড নিয়ে গঠিত এক শিকল বিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্র প্রোটিন অণু।
- মানুষের উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধিতে এ হরমোন প্রধান ভূমিকা রাখে বলে একে গ্রোথ হরমোন বলা হয়।

• মানুষের বৃদ্ধিজনিত অধিকাংশ শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপ এ হরমোন দিয়ে নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমন-
- পেশির বৃদ্ধি: এ হরমোনের প্রভাবে প্রোটিন পরিপাকের ফলে সৃষ্ট সরল ও তরল অ্যামিনো এসিড কোষে গৃহীত হয় ও এদের গ্রহণ মাত্রা বৃদ্ধি পায়। ফলে, কোষে প্রোটিন সংশ্লেষের হার বেড়ে যায় ও পেশির বৃদ্ধি সাধন ঘটে।
-  দেহের ক্ষয়রোধ: সাধারণত ক্ষুধার্ত অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি এসিডের পরিমাণ কমে যায়। এ অবস্থায় গ্রোথ হরমোনের প্রভাবে রক্তে গ্লুকোজ ও ফ্যাটি এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দেহের ক্ষয় রোধ হয়।
- কঙ্কালতন্ত্রের বৃদ্ধি: তরুণাস্থির আয়তন বৃদ্ধি, অস্টিওরাস্টের আবির্ভাব, অস্থিতে ক্যালসিয়াম আয়ন সঞ্চয়, কনড্রিওসাইট ও অস্টিওসাইটের পূর্ণতা প্রাপ্তি ইত্যাদি সব কার্যক্রম এ হরমোন দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- আয়ন বৃদ্ধি: এ হরমোনের প্রভাবে খাদ্যবস্তু থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন আয়ন বিশেষ করে ক্যালসিয়াম আয়ন পৌষ্টিকনালি থেকে শোষিত হয় এবং বৃক্ক থেকে বিভিন্ন আয়ন শোষণের মাধ্যমে দেহে আয়ন বৃদ্ধি ঘটায়। এসব আয়ন দৈহিক বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক।

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
২৪৩.
পিত্তরসের প্রধান বৈশিষ্ট্য কী? 
  1. অম্লীয়, লালচে তরল 
  2. অম্লীয়, বাদামী তরল 
  3. ক্ষারজাতীয়, স্বচ্ছ তরল 
  4. ক্ষারজাতীয়, হলদে সবুজ তরল 
ব্যাখ্যা

যকৃত (Liver): 
- মানুষের মধ্যচ্ছদার ঠিক নিচে পাকস্থলির ডানদিকে বিস্তৃত গাঢ় লালচে বর্ণের ত্রিকোণাকার ও পিত্তরস নিঃসরণকারী গ্রন্থিকে যকৃত বলা হয়। 
- যকৃতের বেশির ভাগ অংশ দেহের ডানদিকে অবস্থিত। 
- যকৃত মানবদেহের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ গ্রন্থি। 
- একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের যকৃতের ওজন প্রায় ১.৫-২.০ কেজি। 
- এটি চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে বিভক্ত। ডান খণ্ডটি অপেক্ষাকৃত বড় এবং এই খণ্ডের নিচে পেয়ালার মতো পিত্তরস ধারণকারী একটি থলে থাকে, একে পিত্তথলি বলে। 
- পিত্তথলি ৭-৮ সে.মি. লম্বা, পিত্তথলি থেকে পিত্ত ডিওডেনামে উন্মুক্ত হয়। 
- পিত্তরস হলদে সবুজ বর্ণের একটি ক্ষার জাতীয় তরল পদার্থ, এতে শতকরা ৮০% পানি ও ২০% অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে। 
- যকৃত থেকে ক্ষরণকৃত পিত্তরসে, খাদ্য পরিপাকে সাহায্যকারী কোন এনজাইম না থাকায় খাদ্য পরিপাকে এদের প্রত্যক্ষ কোন ভূমিকা নেই। তবে এরা শর্করা, প্রোটিন, ভিটামিন প্রভৃতি খাদ্যকে পরিপাকের পর রক্তস্রোতে পরিবাহিতকরণে সাহায্য করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৪.
নিচের কোনগুলো রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত প্রধান হরমোন?
  1. থাইরক্সিন ও অ্যাড্রেনালিন
  2. ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন
  3. সিক্রেটিন ও গ্যাস্ট্রিন
  4. মেলাটোনিন ও কর্টিসল
ব্যাখ্যা

• ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন হলো অগ্ন্যাশয় থেকে নিঃসৃত প্রধান হরমোন, যা রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে মূল ভূমিকা পালন করে।

• অগ্ন্যাশয় (Pancreas):
- অগ্ন্যাশয় পাকস্থলীর পিছনে আড়াআড়িভাবে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিশ্রগ্রন্থি।
- এটি একাধারে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে।
- বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয় থেকে অগ্ন্যাশয়রস নিঃসৃত হয়।
- অগ্ন্যাশয়রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক এনজাইম থাকে।
- এসব এনজাইম যথাক্রমে আমিষ, স্নেহজাতীয় খাদ্য ও শর্করা পরিপাকে সহায়তা করে।
- অগ্ন্যাশয় দেহের অম্ল-ক্ষারের সাম্যতা, পানির সাম্যতা ও দেহতাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
 
• অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়:
- অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে।
- এই অংশ থেকে ইনস্যুলিন ও গ্লুকাগন হরমোন নিঃসৃত হয়।
- ইনস্যুলিন রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজকে কোষে প্রবেশে সহায়তা করে এবং রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়।
- গ্লুকাগন যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে রূপান্তর করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায়।
- এই দুই হরমোনের সম্মিলিত ক্রিয়ায় রক্তের গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় থাকে।
- গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এরা বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
 
• অন্যান্য অপশন:
- থাইরক্সিন ও অ্যাড্রেনালিন → বিপাক ও জরুরি প্রতিক্রিয়ায় জড়িত হরমোন।
- সিক্রেটিন ও গ্যাস্ট্রিন → পরিপাক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন।
- মেলাটোনিন ও কর্টিসল → ঘুমচক্র ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।

২৪৫.
প্রাণিদেহে আবরণী টিস্যু কয় ধরনের?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা
প্রাণী টিস্যুর প্রকারভেদ:

- কোন বিশেষ টিস্যু গঠনকারী কোষের সংখ্যা, বৈশিষ্ট্য এবং তাদের নিঃসৃত বা সৃষ্ট আন্তঃকোষীয় পদার্থ বা মাতৃকার বৈশিষ্ট্য, পরিমাণ, উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে প্রাণী টিস্যুকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) আবরণী টিস্যু,
(খ) যোজক টিস্যু,
(গ) পেশি টিস্যু এবং
(ঘ) স্নায়ু টিস্যু।

আবরণী টিস্যু: আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তি পর্দার উপর বিন্যস্ত থাকে। এ প্রকার টিস্যুর মাতৃকা থাকে না।
• কাজ- কোন অঙ্গের বা নালীর ভেতরের এবং বাইরের আবরণ তৈরি করে। ত্বকীয় টিস্যু রূপান্তরিত হয়ে রক্ষণ, ক্ষরণ, শোষণ, ব্যাপন এবং পরিবহন ইত্যাদি কাজে অংশ নেয়। এটি রূপান্তরিত হয়ে গ্রন্থি টিস্যু এবং জার্মিনাল টিস্যুতে পরিণত হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।

• প্রকারভেদ: কোষের আকৃতি, প্রাণী দেহে অবস্থান এবং কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী আবরণী টিস্যু তিন প্রকার। যথা-

১. আঁইশ আকৃতি আবরণী টিস্যু- এ প্রকার টিস্যুর কোষগুলো আঁইশের ন্যায় চ্যাপ্টা এবং নিউক্লিয়াস বড়। যেমন- বৃক্কের বোম্যান্স ক্যাপসুল প্রাচীর।
কাজ- প্রধানত ছাঁকন এবং আবরণ সৃষ্টি।

২. ঘনাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো ঘনকের ন্যায়। যেমন- বৃক্কের সংগ্রাহক নালিকা।
কাজ- প্রধানত পরিশোষণ এবং আবরণ সৃষ্টি।

৩. স্তম্ভাকৃতি আবরণী টিস্যু- এ টিস্যুর কোষগুলো স্তম্ভের ন্যায় সরু এবং লম্বা। যেমন- প্রাণীদের অন্ত্রে অন্তঃপ্রাচীর।
কাজ- প্রধানত ক্ষরণ, রক্ষণ এবং শোষণ।



উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
২৪৬.
শ্বাসনালীর ভেতরে আবৃত প্রদাহকে কী বলে?
  1. ডিপথেরিয়া
  2. নিউমোনিয়া
  3. ব্রঙ্কাইটিস
  4. যক্ষ্মা
ব্যাখ্যা
ব্রঙ্কাইটিস:

• ব্রঙ্কাইটিস হলো শ্বাসনালীর ভিতরে আবৃত ঝিল্লিতে প্রদাহ বা সংক্রমণ ।
• শ্বাসনালী হলো ফুসফুসের সাথে বাইরের বাতাসের সংযোগকারী নল।
• ব্রঙ্কাইটিস তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
• অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ধূলিকণা মিশ্রিত আবহাওয়া, ঠান্ডা লাগা এবং ধূমপান থেকে এ রোগ হতে পারে।

⮚ লক্ষণ:
• কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়।
• কাশির সাথে কফ থাকে।
• জ্বর হয়।
• শরীর ক্রমান্বয়ে দূর্বল হয়।

⮚ প্রতিকার:
• ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
• ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে ।


Image: Human Lung (Britannica) 

উৎস: ব্রিটানিকা এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৪৭.
বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয় কোনটি?
  1. বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
  2. বৃক্ক প্রতিস্থাপন
  3. কম পরিমান পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
  4. ডায়ালাইসিস
ব্যাখ্যা
• বেশি পরিমাণ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ বৃক্ক বিকল প্রতিকারের পন্থা নয়।

• বৃক্ক:

- বৃক্ক হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রেচন অঙ্গ, যা দেহের রেচন পদার্থ (যেমন ইউরিয়া) ছেঁকে মূত্র তৈরি করে এবং রক্ত পরিশোধন করে।

• বৃক্ক বিকল:
- রোগ-ব্যাধির কারণে বৃক্কের সক্ষমতা কমে যাওয়াকে বৃক্ক বিকল (kidney failure) বলে।
• বৃক্কের বৈকল্য দুই রকমের। যথা-
- দীর্ঘস্থায়ী (chronic), 
- তাৎক্ষণিক (acute) ।

• বৃক্ক বিকল প্রতিকারে করনীয়:
→ নিয়ন্ত্রিত আহার:
- কম পরিমাণ প্রোটিন ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ। 
- কম প্রোটিন গ্রহণ করলে কম ইউরিয়া তৈরি হবে যা বৃক্কের জন্য উপকারী হবে। 
- আহারের সময় কম লবণ গ্রহণ করা। 

→ ডায়ালাইসিস: নিয়ন্ত্রিত আহারের পরও যদি রক্তে ইউরিয়ার মাত্রা বেশি হয় তাহলে ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ায় চিকিৎসা নিতে হবে। 

→ বৃক্ক প্রতিস্থাপন: যদি ডায়ালাইসিসে কাজ না হয় তাহলে সর্বশেষ চিকিৎসা হিসেবে বৃক্ক প্রতিস্থাপন করতে হবে। 

তথ্যসূত্র:
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
২৪৮.
রক্ত কোন ধরনের টিস্যু? 
  1. Cuboidal Epithelial Tissue
  2. Skeletal Connective Tissue 
  3. Fluid Connective Tissue
  4. Fibrous Connective Tissue
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)। 
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা। 
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা। 
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ। 
- রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে। 
যথা- 
• লোহিত রক্তকণিকা, 
• শ্বেত রক্তকণিকা এবং 
• অণুচক্রিকা। 

উৎস: জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৪৯.
ফুসফুসের প্রদাহকে কী বলে? 
  1. নেফ্রাইটিস
  2. নিউমোনিয়া
  3. হেপাটাইটিস
  4. ব্রঙ্কাইটিস
ব্যাখ্যা
নিউমোনিয়া ও ফুসফুস: 
- মানুষের শ্বসন অঙ্গ হচ্ছে একজোড়া ফুসফুস (lungs)। বাম ফুসফুসটি আকারে ছোট, দুই লোব বিশিষ্ট এবং ডান ফুসফুস আকারে বড়, তিন লোব বিশিষ্ট। 
- ফুসফুসের আবরণকে বলা হয়- প্লুরা। 
- ফুসফুসের প্রদাহকে নিউমোনিয়া বলে। 
- নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয় মানবদেহের ফুসফুস। 
- নিউমোকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া এ রোগের অন্যতম কারণ। 
- অত্যধিক ঠান্ডা লাগলে এ রোগ হতে পারে। 
- এছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের আক্রমণে নিউমোনিয়া হতে পারে। 
- যকৃতের প্রদাহকে হেপাটাইটিস এবং কিডনির প্রদাহকে নেফ্রাইটিস বলে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫০.
ডান ফুসফুস কতটি খণ্ডে বিভক্ত? 
  1. এক খণ্ডে
  2. দুই খণ্ডে
  3. তিন খণ্ডে
  4. চার খণ্ডে
ব্যাখ্যা
ফুসফুস: 
- ফুসফুস শ্বাসতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। 
- বক্ষগহ্ববরের ভেতর হৃদপিন্ডের দু'পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত। 
- এটি স্পঞ্জের ন্যায় নরম ও কোমল, হালকা লালচে রঙের। 
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে ও বাম ফুসফুস দু'খণ্ডে বিভক্ত। 


- ফুসফুস দু'ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দ্বারা আবৃত।
- দু'ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়। ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোন ঘর্ষণ লাগে না। 
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। 
- বায়ু থলিগুলোই হলো অ্যালভিওলাস (Alveolus)। 
- বায়ুথলি পাতলা আবরণী দ্বারা আবৃত হয়, প্রতিটি বায়ুথলি কৈশিকনালিকা দ্বারা পরিবেষ্টিত। 
- এ বায়ুথলি ও কৈশিক নালিকাগুলোর ভেতর দিয়ে গ্যাসীয় আদান প্রদান ঘটে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫১.
হাইলামের মধ্য দিয়ে কোনটি বৃক্কে প্রবেশ করে? 
  1. ইউরেটার
  2. পেলভিস
  3. রেনাল ধমনি
  4. রেনাল শিরা
ব্যাখ্যা
বৃক্কের বাহ্যিক গঠন: 
- প্রত্যেক বৃক্ক নিরেট, চাপা দেখতে অনেকটা শিম বীজ বা বাংলা "৫” সংখ্যার মতো এবং কালচে লাল রংয়ের। 
- একটি পরিণত বৃক্কের দৈর্ঘ্য ১০-১২ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ৫-৬ সেন্টিমিটার এবং স্থূলত্ব ৩ সেন্টিমিটার। 
- একেকটির ওজন পুরুষে ১৫০-১৭০ গ্রাম এবং নারীদেহে ১৩০-১৫০ গ্রাম। 
- বৃক্কের বাইরের দিক উত্তল ও ভিতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। 
- হাইলামের মধ্য দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বহির্গত হয় এবং রেনাল ধমনি ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- বৃক্কে প্রবেশকারী রেনাল শিরা দেহের সবচেয়ে বড় শিরা। 
- সম্পূর্ণ বৃক্ক ক্যাপসুল (capsule) নামক তন্তুময় যোজক টিস্যুর সুদৃঢ় আবরণে বেষ্টিত। 
- বৃক্কের অগ্রপ্রান্তে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি (adrenal gland) টুপির মতো আচ্ছাদন তৈরি করে সংযুক্ত থাকে। 

বৃক্কের অন্তর্গঠন: 
- বৃক্কের লম্বচ্ছেদে তিনটি সুস্পষ্ট অংশ দেখা যায়। 
যেমন- বাইরে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত গাঢ় অঞ্চলটি কর্টেক্স রেনাল ক্যাপসুল (cortex), মধ্যখানে হালকা লাল রঙের মেডুলা (medulla) এবং ভিতরে সাদাটে পেলভিস (pelvis)। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
২৫২.
অস্থি বিন্যাস অনুযায়ী মানুষের অন্তঃকঙ্কালকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
ব্যাখ্যা
মানুষের কঙ্কালতন্ত্র:
- ভ্রূণীয় মেসোডার্ম স্তর থেকে সৃষ্ট অস্থি, তরুণাস্থি ও লিগামেন্ট এর সমন্বয়ে গঠিত যে তন্ত্র দেহের কাঠামো সৃষ্টি করে, নির্দিষ্ট আকার আকৃতি দান করে, ভার বহন করে এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদি সুরক্ষিত রাখে, তাদেরকে একত্রে কঙ্কালতন্ত্র বলে।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্র ২০৬টি অস্থির সমন্বয়ে গঠিত। 
- এ ধরনের কঙ্কালতন্ত্রকে অন্তঃকঙ্কাল বলে। কারণ বাইরে থেকে এ কঙ্কাল দেখা যায় না।
- মানুষের কঙ্কালতন্ত্রকে প্রধান দুটি অংশে ভাগ করা হয়। যথা— (১) অক্ষীয় কঙ্কাল (Axial skeleton) (২) উপাঙ্গীয় কঙ্কাল (Appendicular skeleton) । 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৩.
গুরুমস্তিস্ক বলা হয় কোনটিকে?
  1. সেরিব্রাম
  2. মেডুলা অবলংগাটা
  3. করোটি
  4. পনস
ব্যাখ্যা
• মস্তিস্কের সেরিব্রামকে গুরুমস্তিস্কও বলা হয়।

- মস্তিষ্কের মধ্যে অগ্রমস্তিষ্ক বা সেরিব্রাম সবচেয়ে বড়।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সামনের অংশ স্ফীত হয়ে করোটিকা বা খুলির মধ্যে মস্তিষ্ক গঠন করে।
- করোটিকার ভেতরে মেনিনজেস নামক পর্দা দ্বারা মস্তিষ্ক আবৃত থাকে।
- আমাদের সকল চিন্তা-ভাবনা এবং কার্যক্রম পরিচালিত হয় মস্তিষ্ক থেকে।
- অসংখ্য নিউরন এবং হরমোনের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই কাজগুলো সম্পন্ন হয়।
- মস্তিষ্ক তিনটি অংশে বিভক্ত থাকে। যথা-
১. অগ্রমস্তিষ্ক(Forebrain or Prosencephalon),
২. মধ্যমস্তিষ্ক(Midbrain or Mesencephalon) ও
৩. পশ্চাৎমস্তিষ্ক(Hindbrain or Rhombencephalon)।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৪.
ভার্টিব্রাল ধমনি দেহের কোন অঞ্চলে রক্ত সরবরাহ করে?
  1. বৃক্ক
  2. ডায়াফ্রাম
  3. পাকস্থলী 
  4. মেরুদণ্ড
ব্যাখ্যা

সাবক্লেভিয়াল ধমনি ও তার শাখাসমূহ: 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনি দেহের প্রতিপাশে ফুসফুসের উপর দিয়ে বিভিন্ন শাখায় বিভক্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ করে। 
- সাবক্লেভিয়াল ধমনির শাখাগুলোর কাজ হলো বিভিন্ন অঙ্গের রক্ত সরবরাহ করা। 
- প্রধান শাখাগুলোর রক্ত সরবরাহের অঞ্চলসমূহ হচ্ছে- 
• সার্ভিকাল ধমনি: অক্সিপুটের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 
ভার্টিব্রাল ধমনি: মেরুদণ্ডের রক্ত সরবরাহ করে। 
সিলিয়াক ধমনি: পাকস্থলী ও যকৃতে রক্ত সরবরাহ করে। 
ফ্রেনিক ধমনি: ডায়াফ্রামে রক্ত সরবরাহ করে। 
বৃক্কীয় ধমনি: বৃক্কে রক্ত সরবরাহ করে। 
• মেসেন্টেরিক ধমনি: অন্ত্রের বিভিন্ন অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• জনন ধমনি: গোনাডে রক্ত সরবরাহ করে। 
• ইলিয়াক ধমনি: পেলভিস অঞ্চল, উরু, পা ইত্যাদি অংশে রক্ত সরবরাহ করে। 
• আন্তঃম্যামারি ধমনি: স্তনগ্রন্থি, বক্ষীয় প্রাচীর ও পেরিকার্ডিয়ামে রক্ত সরবরাহ করে। 
• থাইরোসার্ভিকাল ধমনি: থাইরয়েড গ্রন্থি, ল্যারিংক্স ও ঘাড়ের পেশিতে রক্ত সরবরাহ করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৫.
বৃক্কের বাইরের আবরণ হিসেবে কোন ঝিল্লী থাকে? 
  1. পেরিটোনিয়াম
  2. মেনিনজিস
  3. প্লুরা
  4. পেরিকার্ডিয়াম
ব্যাখ্যা

• রেচন ও রেচনতন্ত্র: 
- প্রাণীদেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রকার জৈবিক (biological) বা শারীরবৃত্তীয় (physiological) কার্যাবলী সংঘটিত হয়। 
- যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় কোষীয় বিপাকের ফলে সৃষ্ট নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয় তাকে রেচন (Excretion) বলে এবং যে তন্ত্রের মাধ্যমে রেচনকার্য সম্পন্ন হয় তাকে রেচনতন্ত্র (Excretory system) বলে। 
- বৃক্ক মানবদেহের প্রধান রেচন অঙ্গ। 

বৃক্কের গঠন ও কাজ (Structure and function of kidney): 
- বৃক্ক মেরুদণ্ডী প্রাণীদের প্রধান রেচন অঙ্গ। 
- মানুষের উদরগহ্বরের পশ্চাৎ মেরুদণ্ডের উভয় পাশে একটি করে মোট দুটি বৃক্ক থাকে। 
- পূর্ণাঙ্গ মানুষের প্রতিটি বৃক্ক প্রায় ১১-১২ সে.মি. লম্বা, ৫-৬ সে.মি. প্রস্থ এবং ৩ সে.মি. পুরু হয়। 
- সজীব অবস্থায় বৃক্কের রং খয়েরি লাল। 
- আকৃতিতে অনেকটা শীম বীজের মত। এর বাইরের দিক উত্তল এবং ভেতরের দিক অবতল। 
- অবতল অংশের ভাঁজকে হাইলাম (hilum) বলে। এর ভেতর দিয়ে ইউরেটার ও রেনাল শিরা বের হয় এবং রেনাল ধমনী ও স্নায়ু বৃক্কে প্রবেশ করে। 
- সমগ্র বৃক্ক স্বচ্ছ, পাতলা পেরিটোনিয়াম ঝিল্লী দ্বারা আবৃত থাকে। 

অন্যদিকে, 
- মেনিনজিস: মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুকে আবৃত করে। 
- প্লুরা: ফুসফুস আবৃতকারী ঝিল্লী। 
- পেরিকার্ডিয়াম: হৃৎপিণ্ড আবৃতকারী ঝিল্লী। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৬.
নিচের কোনটি মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড নয়?
  1. গ্লাইসিন
  2. ভ্যালিন
  3. লিউসিন
  4. থ্রিওনাইন
ব্যাখ্যা
আমিষ: 

- কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন- এই চারটি মৌলের সমন্বয়ে আমিষ তৈরি হয়। 
- শরীরে আমিষ পরিপাক হওয়ার পর সেগুলো অ্যাামাইনো এসিডে পরিণত হয়। 
- মানুষের শরীরে এ পর্যন্ত ২০ ধরনের অ্যামাইনো এসিডের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং এই অ্যামাইনো এসিড হচ্ছে আমিষ গঠনের একক। 
- ২০ টি অ্যামাইনো এসিডের মধ্যে ৮ টি অ্যামাইনো এসিডকে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড বলা হয়। 
- এগুলো হলো:
• লাইসিন,
• ট্রিপেটোফ্যান,
• মিথিওনিন,
• ভ্যালিন,
• লিউসিন,
• আইসোলিউসিন,
• ফিনাইল অ্যালানিন ও
• থ্রিওনাইন। 

- এই ৮ টি অ্যামাইনো এসিড ছাড়া অন্য সবগুলো অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে সংশ্লেষ করতে পারে।
- প্রাণিজ প্রোটিনে এই অপরিহার্য আটটি অ্যামাইনো এসিড বেশি থাকে বলে এর পুষ্টিমূল্য বেশি। 
- উদ্ভিজ্জ খাদ্যের মধ্যে ডাল, সয়াবিন, মটরশুঁটি বীজ এবং ভুট্টার মধ্যে পুষ্টিমূল্য বেশি এমন প্রোটিন পাওয়া যায়।
- অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাদ্যে অপরিহার্য অ্যামাইনো এসিড থাকে না বলে এদের পুষ্টিমূল্য কম।
- প্রাণিদেহের গঠনে প্রোটিন অপরিহার্য।
- দেহকোষের বেশির ভাগই প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
- দেহের হাড়, পেশি, লোম, পাখির পালক, নখ, পশুর শিং ইত্যাদি সবগুলোই প্রোটিন দিয়ে তৈরি হয়।
- প্রাণীদেহের শুষ্ক ওজনের প্রায় ৫০% হচ্ছে প্রোটিন। 
 
উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৭.
পিত্তের বর্ণের জন্য দায়ী-
  1. বিলিরুবিন
  2. জারক রস
  3. ভিটামিন
  4. পিত্তরস
ব্যাখ্যা
• বিলিরুবিন (Bilirubin):
- বিলিরুবিন (Bilirubin) হলো একটি পিগমেন্ট বা রঞ্জক পদার্থ, যা লোহিত রক্তকণিকার হিমোগ্লোবিন ভাঙনের ফলে উৎপন্ন হয়।
- এটি প্রধানত যকৃত (লিভার) দ্বারা প্রক্রিয়াকরণ হয়ে পিত্তরসে (Bile) প্রবেশ করে এবং অন্ত্রে নিঃসৃত হয়।
- বিলিরুবিনের উপস্থিতির কারণেই পিত্তরস হলুদ-সবুজ বর্ণ ধারণ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৫৮.
যক্ষ্মা রোগের টিকা কোনটি?
  1. ডিপিটি
  2. টিটি
  3. এমএমআর
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
যক্ষ্মা:

• যক্ষ্মা একটি বায়ুবাহিত সংক্রামক রোগ।
• কারণ: সাধারণত Mycobacterium tuberculosis নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এ রোগ হয়।
• অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করলে অতি সহজে দেহে রোগ জীবাণুর বিস্তার ঘটে।
• লক্ষণ: 
- রোগীর ওজন কমতে থাকে, আস্তে আস্তে শরীর দুর্বল হতে থাকে।
- সাধারণত তিন সপ্তাহের বেশি সময় কাশি থাকে।
- খুসখুসে কাশি হয় এবং কখনো কখনো কাশির সাথে রক্ত যায়।
- রাতে ঘাম হয়, বিকেলের দিকে জ্বর আসে। দেহের তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়ে না।
- বুকে পিঠে ব্যথা হয়।
- অজীর্ণ ও পেটের পীড়া দেখা দেয়।

• যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক হিসেবে দেয়া হয় বিসিজি (Bacillus Calmatte Guerin) টিকা।
• টিকার আবিষ্কারক ক্যালসাট ও গুয়েচিন।
• ব্যাকটেরিয়া থেকে যক্ষ্মা রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি করা হয়।
• ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও টিটেনাস প্রতিষেধক হিসেবে ডিপিটি (DPT) টিকা দেয়া হয়।
• টিটি (Tetanus Toxoid) প্রতিষেধক টিকা দেয়া হয় মায়েদের গর্ভাবস্থায় শিশুকে টিটেনাস রোগ থেকে রক্ষার জন্য।

উৎস: জীববিজ্ঞান, ৯ম- ১০ম শ্রেণি এবং WHO এর ওয়েবসাইট।
২৫৯.
ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তনালী
  2. খ) পৌষ্টিকনালী
  3. গ) হৃদপেশী
  4. ঘ) হাতের পেশী
ব্যাখ্যা
মানুষের হাত এবং পায়ের পেশী ঐচ্ছিক পেশীর উদাহরণ।

- মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন এবং অসংখ্য তন্তুর সমন্বয়ে গঠিত যে টিস্যু সংকোচন ও প্রসারণে সক্ষম তাকে পেশি বলে ।
- মানবদেহে পেশি যথাক্রমে তিন প্রকার । ১) কঙ্কাল পেশী ২) হৃদ পেশী ৩) মসৃণ পেশী।

- পেশির কাজসমূহ- 
১) দেহের নির্দিষ্ট আকার গঠন করা।
২) শক্তি সংরক্ষন করা।
৩) হৃদপেশী দেহে রক্ত সঞ্চালনে সহয়তা করে।
৪) দেহের অঙ্গগুলিকে রক্ষা করা।
৫) দেহের আকৃতি দান করা ও অস্থি চলাচলে সহায়তা করা।

সূত্র: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 
২৬০.
কোন জাতীয় খাদ্যের কারণে মুত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়?
  1. প্রোটিন
  2. লিপিড
  3. কার্বোহাইড্রেট
  4. ভিটামিন
ব্যাখ্যা
প্রোটিন জাতীয় খাদ্যের কারণে মুত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।

• রেচন পদার্থ:
- রেচন পদার্থ বলতে মূলত নাইট্রোজেনঘটিত বর্জ্য পদার্থকে বোঝায়।
- মানবদেহের রেচন পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে আসে।
- স্বাভাবিক মূত্রের ভর হিসেবে প্রায় 95% হলো পানি।
- অন্যান্য উপাদানের মধ্যে আছে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ও বিভিন্ন ধরনের লবণ।
- ইউরোক্রোম নামে এক ধরনের রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতিতে মূত্রের রং হালকা হলুদ হয়।
- আমিষ-জাতীয় খাদ্য খেলে মূত্রের অম্লতা বৃদ্ধি পায়।
- আবার ফলমূল এবং তরিতরকারি খেলে সাধারণত ক্ষারীয় মূত্র তৈরি হয়।

• বৃক্ক (Kidney):
- মানবদেহের উদরগহ্বরের পিছনের অংশে, মেরুদণ্ডের দুদিকে বক্ষপিঞ্জরের নিচে পিঠ-সংলগ্ন অবস্থায় দুটি বৃক্ক অবস্থান করে।
- প্রতিটি বৃক্ক দেখতে শিমবিচির মতো এবং এর রং লালচে হয়।
- বৃক্কের বাইরের পার্শ্ব উত্তল এবং ভিতরের পার্শ্ব অবতল হয়।
- বৃক্ক সম্পূর্ণরূপে এক ধরনের তন্তুময় আবরণ দিয়ে বেষ্টিত থাকে, একে রেনাল ক্যাপসুল বলে।
- বৃক্কের ইউরিনিফেরাস নালিকার ক্ষরণকারী অংশ এবং কাজ করার একককে নেফ্রন বলে।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬১.
রক্তরসে বিদ্যমান জৈব পদার্থ কোনটি?
  1. ক) পানি
  2. খ) লৌহ
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) ক্যালসিয়াম
ব্যাখ্যা

- রক্তরসের দুইটি প্রধান উপাদান হলো পানি এবং কঠিন পদার্থ। কঠিন পদার্থ জৈব এবং অজৈব উভয় ধরনের হতে পারে।
- লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, তামা, ফসফরাস ইত্যাদি হলো অজৈব পদার্থ।
- ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ইউরিক এসিড, গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনোজেন, বিলিরুবিন, হরমোন ইত্যাদি রক্তরসে বিদ্যমান জৈব পদার্থ।
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৬২.
'স্ট্রোক' আকস্মিক অজ্ঞান বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে- এটি কী?
  1. হৃৎপিণ্ডের সজোরে সংকোচন বা বন্ধ হয়ে যাওয়া
  2. মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা
  3. হৃৎপিণ্ডের অংশবিশেষের অসাড়তা
  4. ফুসফুসে হঠাৎ বিকল হয়ে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধার ফলে স্ট্রোক হয়। যাতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যা একটি রক্ত সঞ্চালনের জনিত একটি রোগ।

• স্ট্রোক:
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণকে চলতি কথায় স্ট্রোক বলা হয়।

• স্ট্রোকের কারণ:
- সাধারণত ধমনিগাত্র শক্ত হয়ে যাওয়া ও উচ্চ রক্ত চাপজনিত কারণে মস্তিষ্কে রক্ষক্ষরণ হতে পারে।
- অনেক সময় অত্যধিক স্নায়ুবিক চাপ, যেমন: উত্তেজনা বা অধিক পরিশ্রমের কারণে এরূপ রক্তক্ষরণ হয়।
- নির্গত রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের ক্ষতি সাধন করে, রক্ত মস্তিষ্কের গহ্বরে ও মাথার খুলিতে ঢুকে গেলে রোগীর মৃত্যুও ঘটতে পারে।

• লক্ষণ:
- প্রচন্ড মাথা ব্যথা,
- ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া,
- কয়েক মিনিটের মধ্যে রোগী সংজ্ঞা হারিয়ে যাওয়া,
- মাংস পেশি শিথিল হয়ে যাওয়া,
- শ্বসন ও নাড়ির স্পন্দন কমে যাওয়া,
- মুখমন্ডল লালবর্ণ ধারণ করা ইত্যাদি।

• প্রতিরোধের উপায়:
- ধূমপান চিরতরে পরিহার করা,
- যারা উচ্চ রক্ত চাপে ভুগছেন তা নিয়ন্ত্রণে রাখা,
- যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন তা নিয়ন্ত্রণে রাখা,
- দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা, সুন্দর ও সাধারণ জীবন যাপনকরা,
- সুষম খাবার, পরিমিত ঘুম এবং ব্যায়াম করা ইত্যাদি।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২৬৩.
কোন অঙ্গে O2 এবং CO2 এর বিনিময় ঘটে?
  1. ব্রঙ্কিউল
  2. ব্রঙ্কাস
  3. ট্রাকিয়া
  4. অ্যালভিওলাস
ব্যাখ্যা
অ্যালভিওলাসের গঠন: 
- ফুসফুসে স্কোয়ামাস এপিথেলিয় কোষে গঠিত ও কৈশিক-জালিকাসমৃদ্ধ প্রকোষ্ঠের মতো গ্যাসীয় বিনিময় তলকে অ্যালভিওলাস (বহুবচনে-অ্যালভিওলাই) বলে।
- মানুষের ফুসফুসে প্রায় ৭০-৯০ বর্গমিটার আয়তনের তল জুড়ে ৭০০ মিলিয়ন (৭০ কোটি)-এরও বেশি সংখ্যক অ্যালভিওলাই রয়েছে। 
- প্রত্যেক অ্যালভিওলাসের প্রাচীর অত্যন্ত পাতলা, মাত্র ০.১µm পুরু, এর বহির্দেশ ঘন কৈশিকজালিকা-সমৃদ্ধ। 
- কৈশিকনালিকাগুলো পালমোনারি ধমনি থেকে সৃষ্টি হয় পরে পুনর্মিলিত হয়ে পালমোনারি শিরা গঠন করে। 
- প্রাচীরটি আর্দ্র স্কোয়ামাস (আঁইশাকার) এপিথেলিয়াম নির্মিত। 
- এতে কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তুও রয়েছে। 
- শ্বসনের সময় সংকোচন-প্রসারণ সহজতর হয়। 

- অ্যালভিওলাস-প্রাচীরের কিছু বিশেষ কোষ প্রাচীরের অন্তঃতলে ডিটারজেন্ট (detergent)-এর মতো রাসায়নিক পদার্থ ক্ষরণ করে, যে পদার্থকে সারফেকট্যান্ট (surfactant) বলে। 
- এ পদার্থ অ্যালভিওলাস-প্রাচীরের তরল পদার্থের পৃষ্ঠটান (surface tension) কমিয়ে দেয়, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় ফুসফুস কম পরিশ্রমে সংকুচিত ও প্রসারিত হতে পারে। 
- এ পদার্থ বাতাস ও অ্যালভিওলাস-প্রাচীর সংলগ্ন তরল পদার্থে O2 ও CO2-এর দ্রুত বিনিময়ে সাহায্য করে। 
- এ পদার্থ অ্যালভিওলাসে আগত জীবাণুও (ব্যাকটেরিয়া) ধ্বংস করে। 
- ২৩ সপ্তাহ বয়স্ক মানবভ্রূণে সর্বপ্রথম সারফেকট্যান্ট ক্ষরণ শুরু হয়। 
- এ কারণে ২৪ সপ্তাহের আগে মানবভ্রূণকে স্বাধীন অস্তিত্বের অধিকারী গণ্য করা হয় না। 
- অনেক দেশে তাই এ সময়কাল পর্যন্ত গর্ভপাতের অনুমতি দেয়া হয়। 

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
২৬৪.
শ্বেত রক্তকোষে কোন পদার্থ নেই? 
  1. প্রোটিন 
  2. DNA 
  3. হিমোগ্লোবিন 
  4. নিউক্লিয়াস 
ব্যাখ্যা

শ্বেত রক্তকোষ বা লিউকোসাইট: 
- শ্বেত কোষের নির্দিষ্ট কোনো আকার নেই, এগুলো হিমোগ্লোবিনবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত বড় আকারের কোষ। 
- শ্বেত কোষের গড় আয়ু ১-১৫ দিন। 
- হিমোগ্লোবিন না থাকার কারণে এদের শ্বেত রক্তকোষ, ইংরেজিতে White Blood Cell বা WBC বলে। 
- শ্বেত কোষের সংখ্যা RBC-এর তুলনায় অনেক কম। 
- এরা অ্যামিবার মতো দেহের আকারের পরিবর্তন করে। 
- ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় এটি জীবাণুকে ধ্বংস করে। 
- শ্বেত কোষগুলো রক্তরসের মধ্য দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে। রক্ত জালিকার প্রাচীর ভেদ করে টিস্যুর মধ্যে প্রবেশ করতে পারে। 
- দেহ বাইরের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে দ্রুত শ্বেত কোষের সংখ্যার বৃদ্ধি ঘটে। 
- মানবদেহে প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে ৪-১০ হাজার শ্বেত রক্তকোষ থাকে। 
- অসুস্থ মানবদেহে এর সংখ্যা সাধারণত বেড়ে যায়। 
- শ্বেত রক্ত কোষে DNA থাকে। 
- শ্বেত রক্তকণিকায় প্রোটিন থাকে, কারণ এগুলো কোষের অংশ। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৬৫.
শারীরবৃত্তীয় বিপাকে ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে কী বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়? 
  1. সালফার
  2. অক্সিজেন
  3. নাইট্রোজেন
  4. কার্বন ডাই–অক্সাইড
ব্যাখ্যা
রেচনতন্ত্র (Excretory system): 
- বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিপাক ক্রিয়ার ফলে শরীরে উপজাত দ্রব্য হিসেবে নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি হয়। 
- এসব বর্জ্য পদার্থ সাধারণত দেহের জন্য ক্ষতিকর এবং দেহ থেকে নিষ্কাশনের প্রয়োজন হয়। 
- দেহ থেকে এসব অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য পদার্থ নিষ্কাশন করার পদ্ধতিকে রেচন প্রক্রিয়া বলে। 
- যে তন্ত্রের সাহায্যে রেচন প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়, তাকে রেচনতন্ত্র বলে। 
- একজোড়া বৃক্ক, একজোড়া ইউরেটার, একটি মূত্রথলি এবং একটি মূত্রনালি (ইউরেথ্রা) নিয়ে মানুষের রেচন তন্ত্র গঠিত। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৬.
রক্তের কোন কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে?
  1. প্লাজমায়
  2. রক্তরসে
  3. লোহিত রক্ত কণিকায়
  4. শ্বেত রক্ত কণিকায়
ব্যাখ্যা
রক্ত: 
- রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। 
- রক্তরস এবং কয়েক ধরনের রক্ত কণিকার সমন্বয়ে রক্ত গঠিত হয়। 
- মানুষ ও অন্যান্য মেরুদন্ডী প্রাণিদেহের রক্ত লাল রঙের হয়। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় হিমোগ্লোবিন নামক লৌহঘটিত প্রোটিন জাতীয় পদার্থ থাকে যার ফলে রক্তের রং লাল হয়। 
- হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনের সাথে যুক্ত হয়ে অক্সিহিমোগ্লোবিন যৌগ গঠন করে অক্সিজেন পরিবহন করে। 

রক্তের কাজ: 
- রক্ত দেহের বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। 
যথা - 
• খাদ্য পরিপাকের পর তার সারাংশ রক্তের সাথে মিশ্রিত হয়। রক্ত সেই খাদ্যসারকে দেহের সকল অংশে নিয়ে যায়। এভাবে জীবকোষগুলো পুষ্টি সাধন করে। 
• রক্তের লোহিত কণিকাস্থ হিমোগ্লোবিন অক্সিজেনকে ফুসফুস হতে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায় এবং কোষগুলো হতে কার্বন-ডাই অক্সাইড বহন করে এনে ফুসফুসের মাধ্যমে বাইরে বের করে দেয়।
• দেহের মধ্যে সর্বদাই দহন ক্রিয়া সম্পাদিত হচ্ছে। তাতে বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে যে বিভিন্ন তাপমাত্রার সৃষ্টি হয়, তা রক্তের মাধ্যমে দেহের সর্বত্র পরিব্যাপ্ত হয় এবং এভাবে দেহে তাপের সমতা রক্ষা পায়। 
• নালীবিহীন গ্রন্থিগুলোতে অন্তঃনিসৃত রস সরাসরি রক্তে মিশে। এ রসকে হরমোন বলে। সঞ্চালিত রক্তের দ্বারা হরমোন প্রয়োজন অনুযায়ী দেহের বিভিন্ন অংশে সরবরাহ হয়। 
• রক্তের শ্বেত কণিকা ফ্যাগোসাইটোসিস প্রক্রিয়ায় প্রবেশকৃত অবৈধ ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেহকে রোগমুক্ত রাখে। 
• দেহের কোনো স্থান কেটে গেলে অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। ফলে রক্তপাত বন্ধ হয়। 
• রক্ত দেহের বিভিন্ন প্রকার দূষিত পদার্থ ও বর্জ্য উপাদান ফুসফুস, মূত্রাশয় ও ত্বকে নিয়ে আসে ও সেখান হতে তাদের নিষ্কাশন করতে সহায়তা করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৭.
চোখ, জিহ্বা ও গলবিলের পেশি কোন ধরনের পেশি?
  1. অরৈখিক পেশি 
  2. মসৃণ পেশি
  3. হৃদপিণ্ড পেশি
  4. ঐচ্ছিক পেশি
ব্যাখ্যা

ঐচ্ছিক বা কঙ্কাল বা অমসৃণ বা রৈখিক পেশি: 
- যেসব পেশি স্নায়ুবিক অথবা হরমোন উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে কর্মতৎপর হয় অর্থাৎ যেসব পেশি স্বেচ্ছায় সংকুচিত ও প্রসারিত হয়ে দেহ সঞ্চালনের মুখ্য ভূমিকা পালন করে তাদের ঐচ্ছিক পেশি বলে। 
- এসব পেশি কঙ্কালের সাথে আটকে থাকে বলে এদেরকে কঙ্কাল পেশি বলে। 
- এসকল পেশির কোষগুলো তন্তুর মতো, তাই এদেরকে পেশিতন্ত্র বলে। 
- প্রতিটি পেশিকোষ এন্ডোমাইসিয়াম নামক যোজক কলার আবরণে আবৃত। 
- কোষগুলো বিক্ষিপ্ত না থেকে গুচ্ছাকারে বান্ডল সৃষ্টি করে। এ গুচ্ছাকার বান্ডলকে ফ্যাসিকুলাস বলে। এ বান্ডলগুলো পেরিমাইসিয়াম আবরণে আবৃত থাকে। 
- পেশিকোষগুলো নলাকার লম্বা, দৈর্ঘ্যে ১-৪০ মিলিমিটার, প্রস্থে ০.০১-০.১০ মিলিমিটার হয়। 

- কোষগুলো সারকোলেমা নামক আবরণে আবৃত থাকে। এদের সাইটোপ্লাজমকে সারকোপ্লাজম বলে। 
- কোষের অভ্যন্তরে অসংখ্য ডিম্বাকার নিউক্লিয়াস থাকে। 
- প্রতিটি পেশিকোষের অভ্যন্তরে কতকগুলো অতিসূক্ষ্ম তন্তু বা মায়োফাইব্রিল পাওয়া যায়। 
- প্রধানতঃ অ্যাকটিন ও মায়োসিন নামক প্রোটিন দিয়ে মায়োফাইব্রিল গঠিত। 
- বিভিন্ন অস্থির সাথে, চোখে, জিহ্বায়, গলবিল ইত্যাদিতে ঐচ্ছিক পেশি থাকে। 
- ঐচ্ছিক পেশির সংকোচন প্রসারণে প্রাণীরা স্থানান্তরিত হয় এবং ইচ্ছানুসারে অঙ্গ সঞ্চালন করতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৮.
জিহ্বার কোন অংশে স্বাদ গ্রহণের জন্য স্বাদ কোরক থাকে?
  1. জিহ্বার পেশিতে
  2. জিহ্বার নিচের অংশে
  3. জিহ্বার উপরের আস্তরণে
  4. জিহ্বার অগ্রপ্রান্তের নিচে
ব্যাখ্যা

• জিহ্বার উপরের আস্তরণে স্বাদ কোরক থাকে, যেগুলোর মাধ্যমে আমরা খাদ্যের বিভিন্ন স্বাদ অনুভব করি।

• জিহ্বা (Tongue):
- জিহ্বা হলো মুখগহ্বরে অবস্থিত একটি লম্বা পেশিবহুল অঙ্গ।
- এটি মানুষের স্বাদ ইন্দ্রিয় হিসেবে কাজ করে।
- জিহ্বা দিয়ে আমরা টক, ঝাল, মিষ্টি ও তিতা স্বাদ গ্রহণ করি।
- জিহ্বার উপরিভাগে একটি বিশেষ আস্তরণ (epithelium) থাকে।
- এই আস্তরণের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে স্বাদ কোরক (Taste buds) অবস্থান করে।
- স্বাদ কোরক রাসায়নিক উদ্দীপনার মাধ্যমে মস্তিষ্কে স্বাদের অনুভূতি পৌঁছে দেয়।
- জিহ্বার বিভিন্ন অংশে স্বাদের সংবেদন তুলনামূলকভাবে ভিন্ন হতে পারে।
 
• জিহ্বার কাজ:
- খাদ্যের স্বাদ গ্রহণ করা।
- খাদ্য গিলতে সাহায্য করা।
- খাদ্যবস্তুকে নেড়েচেড়ে দাঁতের নিকট পৌঁছে দেওয়া।
- খাদ্যবস্তুকে লালার সাথে মিশ্রিত করতে সহায়তা করা।
- কথা বলতে সাহায্য করা।
 
• জিহ্বার যত্ন:
- দাঁত ব্রাশ করার সময় নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার করা উচিত।
- শিশুদের জিহ্বা পরিষ্কার না করলে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে।
- জ্বর বা কিছু রোগে জিহ্বার উপর সাদা বা হলদে পর্দা পড়তে পারে।
- এ সময় পানিতে লবণ গুলে কুলকুচি করলে উপকার পাওয়া যায়।
- জিহ্বায় ঘা বা অস্বাভাবিক দাগ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হয়।
 
• অন্যান্য অপশন:
- জিহ্বার পেশিতে → পেশি জিহ্বার নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে।
- জিহ্বার নিচের অংশে → লালাগ্রন্থির নালির অবস্থান থাকে।
- জিহ্বার অগ্রপ্রান্তের নিচে → রক্তনালি ও স্নায়ুর উপস্থিতি বেশি থাকে।

উৎস: বিজ্ঞান, ৬ষ্ঠ শ্রেণি।

২৬৯.
কত শতাংশ স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে?
  1. ২৫% 
  2. ২০%
  3. ১০%
  4. ৫০%
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক। 
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাঁধা পাওয়াকে স্ট্রোক বলে। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন- স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি। 

২৭০.
কোনটির ভাঙ্গনের ফলে বিলিরুবিন তৈরি হয়?
  1. পিত্তথলি
  2. লোহিত রক্তকণিকা
  3. শ্বেত রক্তকণিকা
  4. অনুচক্রিকা 
ব্যাখ্যা

বিলিরুবিন তৈরি হয় লোহিত রক্তকণিকা ভাঙ্গনের ফলে।

বিলিরুবিন:
- বিলিরুবিন হলো একটি হলুদ-বাদামী পিগমেন্ট, যা পুরানো বা ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকার ভাঙ্গনের ফলে তৈরি হয়।
- যকৃত (লিভার) এই বিলিরুবিন প্রক্রিয়াজাত করে এবং পিত্তের (bile) মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়।
- লোহিত রক্ত কণিকার অধিক ভাঙন কিংবা যকৃত বা পিত্তনালীর কোনো সমস্যার কারণে রক্তে বিলিরুবিনের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে।
- এই বিলিরুবিন তখন শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হতে থাকে। এ অবস্থাকে বলা হয় জন্ডিস।
- জন্ডিস হলে রক্তে বিলরুবিনের মাত্রা বেড়ে যায় ফলে ত্বক, চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়।
- বিলিরুবিন মূলত প্লীহা ও যকৃতের ম্যাক্রোফেজেসে (যেখানে পুরোনো লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যায়) উৎপন্ন হয়।

লোহিত রক্তকণিকা (Red Blood Cells):
-  লোহিত রক্তকণিকার বৈজ্ঞানিক নাম হলো ইরিথ্রোসাইট (Erythrocyte)।
- এদের প্রধান কাজ হলো ফুসফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন কোষে অক্সিজেন পরিবহন করা এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ফুসফুসে ফিরিয়ে আনা।
-  লোহিত রক্তকণিকায় হিমোগ্লোবিন (Hemoglobin) নামক একটি বিশেষ প্রোটিন থাকে, যা অক্সিজেন পরিবহনে প্রধান ভূমিকা পালন করে। হিমোগ্লোবিন রক্তকে লাল দেখায়।
- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকাগুলোতে কোনো নিউক্লিয়াস থাকে না।
- এদের গড় আয়ুষ্কাল প্রায় ১২০ দিন।
- লোহিত রক্তকণিকা মূলত অস্থি মজ্জা (Bone marrow) থেকে উৎপন্ন হয়।
- পুরানো বা ক্ষতিগ্রস্ত লোহিত রক্তকণিকাগুলি প্লীহা (spleen) এবং যকৃত (liver) এ ভেঙে যায়। এই ভাঙ্গনের ফলেই হিমোগ্লোবিন থেকে বিলিরুবিন তৈরি হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি এবং উচ্চ মাধ্যমিক প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। ব্রিটানিকা।

২৭১.
Which hormone is responsible for increasing the level of glucose in the bloodstream?
  1. Insulin 
  2. Melatonin
  3. Testosterone
  4. Glucagon
  5. Vasopressin
ব্যাখ্যা

• গ্লুকাগন অগ্ন্যাশয়ের আলফা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়। যখন রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, তখন এটি যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেনকে গ্লুকোজে ভেঙে ফেলে রক্তে সরবরাহ করে, যা শরীরের শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখে।

- খাবার গ্রহণের দীর্ঘ বিরতিতে, যখন রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে যায়, তখন গ্লুকাগন যকৃতে গ্লাইকোজেনোলাইসিস (Glycogenolysis) প্রক্রিয়া সক্রিয় করে এবং রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ নিশ্চিত করে।
- মস্তিষ্ক তার শক্তির জন্য সরাসরি গ্লুকোজের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, গ্লুকাগন মূলত হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা নিম্ন রক্তশর্করা জনিত জটিলতা থেকে আমাদের রক্ষা করে।
- কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাবার (যেমন: ভাত, রুটি, ফল) পরিপাক হয়ে ক্ষুদ্রান্ত্রের মাধ্যমে সরাসরি রক্তে গ্লুকোজ হিসেবে শোষিত হয়।
- রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ থাকলে ইনসুলিন তা যকৃৎ এবং পেশিতে 'গ্লাইকোজেন' হিসেবে জমা রাখে, যা বিপদের সময় বা না খেয়ে থাকলে শক্তির জোগান দেয়।

অন্যান্য অপশন:
- Insulin: ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায় এবং এটি অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয়।
- Melatonin: মেলাটোনিন ঘুম ও জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণ করে এবং এটি পিনিয়াল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।
- Testosterone: টেস্টোস্টেরন মূলত পুরুষের প্রজননতন্ত্রের বিকাশ ও গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে।
- Vasopressin: ভ্যাসোপ্রেসিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং বৃক্কের মাধ্যমে পানি পুনঃশোষণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করে।

উৎস: ব্রিটানিকা। [link]

২৭২.
রজঃচক্রের সূচনাকে কী বলা হয়?
  1. মেনোপজ
  2. ইমপ্লান্ট্যাশন
  3. মেনার্কি
  4. গ্যাস্ট্রুলেশন
ব্যাখ্যা
• রজঃচক্রের সূচনাকে মেনার্কি (menarche) বলা হয়। 

• রজঃচক্র:
- স্ত্রীলোকের সমগ্র যৌন জীবনকালে প্রতি ২৮ দিন (২৪-৩২ দিন) অন্তর ৩-৫ দিন ধরে জরায়ুর অন্তঃস্থ স্তর বা এন্ডোমেট্রিয়ামের অবক্ষয়ের ফলে রজঃস্রাব এবং পরে দেহের অন্যান্য জননাঙ্গসমূহের যেমন-ডিম্বাশয়, জরায়ু ইত্যাদির যে পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন ঘটে তাকে রজঃচক্র বলে। 

• রজঃচক্রের মূল বিষয়গুলো হলো:  
→ পিরিয়ড বা মাসিক স্রাব:
- এটি রজঃচক্রের প্রথম পর্যায়, যেখানে জরায়ুর ভেতরের স্তর (এন্ডোমেট্রিয়াম) ভেঙে রক্ত ও টিস্যু আকারে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।
→ ডিম্বাশয় চক্র:
- ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু পরিপক্ক হয় এবং ডিম্বস্ফোটন (Ovulation) ঘটে, অর্থাৎ ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হয়ে আসে।
→ জরায়ু চক্র:
- ডিম্বাণু নিষিক্ত না হলে জরায়ুর ভেতরের স্তরটি ভেঙে যায় এবং মাসিক চক্র আবার শুরু হয়।

• সাধারণত, রজঃচক্র ১০ থেকে ১৬ বছর বয়সের মধ্যে শুরু হয়।
- তবে এটি ভৌগলিক অবস্থান এবং শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন হতে পারে। 

• প্রথম রজচক্রকে অর্থাৎ রজঃচক্রের সূচনাকে মেনার্কি (menarche) বলা হয়।
- যৌন জীবনকালের শেষে রজঃচক্রের নিবৃত্তি বা বন্ধ হওয়াকে মেনোপজ (menopause) বলা হয়।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
- জীববিজ্ঞান ২য় পত্র, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, গাজী আজমল।
২৭৩.
স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকরী একককে কী বলা হয়?
  1. অ্যাক্সন 
  2. নিউরন
  3. নেফ্রন 
  4. ডেক্সন 
ব্যাখ্যা

স্নায়ুতন্ত্র: 
- স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ মস্তিষ্ক।
- স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকরী একককে বলে নিউরন। 
- মস্তিষ্কের নিউরন থাকে ১০ মিলিয়ন। 
- মানুষের মস্তিষ্কের ওজন ১.৩৬ কেজি। 
- মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম মেনিনজেস। 
- মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং রক্ত প্রবাহে বাধা পাওয়াকে বলে স্ট্রোক। 
- স্নায়ুকোষের এক-চতুর্থাংশ বা ২৫% ধ্বংস হয়ে গেলে মস্তিষ্কের ক্ষমতা লোপ পেতে থাকে। 
- স্নায়ুকোষ ধ্বংস হলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন স্মৃতিভ্রংশ, বুদ্ধিবৈকল্য ইত্যাদি হতে পারে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৪.
রক্তের লোহিত কণিকার প্রধান কাজ কোনটি? 
  1. অক্সিজেন পরিবহন করা 
  2. রোগ প্রতিরোধ করা 
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবহন করা 
  4. নাইট্রোজেন পরিবহন করা 
ব্যাখ্যা

লোহিত রক্ত কণিকা: 
- লোহিত রক্ত কণিকার আয়ু ১২০ দিন। 
- লাল অস্থিমজ্জায় লোহিত রক্ত কণিকা তৈরি হয়। 
- লোহিত রক্তকণিকা প্লীহাতে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়। 
- রক্ত কণিকার মধ্যে লোহিত রক্ত কণিকার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। 
- লোহিত রক্তকণিকা শ্বাসকার্যে অক্সিজেন পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 
- লোহিত রক্ত কণিকায় নিউক্লিয়াস থাকে না, দেখতে অনেকটা বৃত্তের মতো দ্বি-অবতল। 

উৎস: জীববিজ্ঞান নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৫.
পাকস্থলিতে শর্করা পরিপাকের জন্য কোন এনজাইম থাকে? 
  1. মলটেজ
  2. পেপসিন
  3. অ্যামাইলেজ
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
খাদ্য পরিপাকে বিভিন্ন তন্ত্রের গ্রন্থির ভূমিকা: 
- মানুষের মুখবিবরে কেবলমাত্র শর্করার পরিপাক ঘটে। 
- মুখবিবরে লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারস খাদ্য পরিপাকের রাসায়নিক কার্যক্রমে মূল ভূমিকা পালন করে। 
- মূলত তিন ধরনের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালারসের সাথে খাদ্যবস্তু মিশ্রিত হয়। 
- লালারসে মিউসিন এবং দু'প্রকারের পরিপাকীয় এনজাইম যথা- টায়ালিন ও মলটেজ থাকে। 
- যে সকল এনজাইম পরিপাকে অংশ নেয় সেগুলো হচ্ছে- 
১. লালা রসে: টায়ালিন ও মলটেজ। 
২. পাকস্থলি রসে: শর্করা পরিপাককারী কোন এনজাইম নেই। 
৩. অগ্ন্যাশয় রসে: অ্যামাইলেজ ও মলটেজ। 
৪. আন্ত্রিক রসে: অ্যামাইলেজ, মলটেজ, সুক্রেজ, ল্যাকটেজ, আইসোমলটেজ। 

মিউসিন: 
- মিউসিন খাদ্য বস্তুর সাথে মিশ্রিত হয়ে খাদ্য বস্তুকে নরম ও পিচ্ছিল করে। 

টায়ালিন: 
- টায়ালিন এনজাইম প্রধানত সিদ্ধ বা রন্ধণকৃত স্টার্চ, গ্লাইকোজেন ও ডেক্সট্রিন অণুকে হাইড্রোলাইসিস করে ক্ষুদ্রতর ডেক্সট্রিন, মলটোজ ও আইসোমলটোজে পরিণত করে। 

মলটেজ: 
- ক্লোরিনের উপস্থিতিতে মলটেজ এনজাইম সামান্য পরিমাণ মলটোজের উপর ক্রিয়া করে গ্লুকোজে পরিণত করে। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৬.
ইনসুলিন কী?
  1. এক প্রকার ভিটামিন
  2. এক প্রকার মানব হরমোন 
  3. কার্বোহাইড্রেট
  4. প্রোটিন
ব্যাখ্যা

ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৭৭.
প্রাণী কোষে সাধারণত কোন অঙ্গানুটি থাকে না?
  1. সেন্ট্রোসোম
  2. নিউক্লিয়াস
  3. প্লাস্টিড
  4. লাইসোসোম
ব্যাখ্যা
প্রাণী কোষের বৈশিষ্ট্য: 
- প্রাণী কোষে কোন কোষ প্রাচীর থাকে না।
- পাতলা স্থিতিস্থাপক প্লাজমা ঝিল্লী দ্বারা প্রাণী কোষ আবৃত অবস্থায় থাকে। 
- প্রাণী কোষে সাধারণত প্লাস্টিড থাকে না। 
- প্রাণী কোষের সঞ্চিত খাদ্য গ্লাইকোজেন। 
- প্রাণী কোষে সেন্ট্রোসোম থাকে। 
- প্রাণী কোষে সাধারণত কোন কোষ গহ্বর থাকে না; থাকলেও আকারে ক্ষুদ্রাকৃতির হয় এবং ক্ষণস্থায়ী। 
- পূর্ণাঙ্গ প্রাণী কোষের আকার পরিবর্তিত হয়। 
- প্লাজমা পর্দায় মাইক্রোভিলাই থাকে। 
- নিউক্লিয়াস সাধারণত কোষের কেন্দ্রস্থলে থাকে। 
- সকল কোষেই লাইসোসোম থাকে। 
- স্নেহ দ্রব্য অর্ধতরল অবস্থায় থাকে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৮.
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি? 
  1. আন্ত্রিক গ্রন্থি
  2. লালাগ্রন্থি
  3. যকৃত গ্রন্থি
  4. গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি
ব্যাখ্যা
যকৃত: 
- যকৃত মানবদেহের সর্ববৃহৎ গ্রন্থি। 
- মধ্যচ্ছদার নিচে পাকস্থলীর ডানপাশে গাঢ় বাদামী বর্ণের ত্রিকোণাকার অঙ্গ। 
- যকৃতের সাথে কলস আকৃতির পিত্তথলি সংযুক্ত থাকে। 
- যকৃত থেকে নিঃসৃত পিত্তরস পিত্তথলিতে জমা থাকে। 
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণসম্পন্ন গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তনালির মাধ্যমে পিত্তরস যকৃত থেকে ডিওডেনামে আসে। 
- যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়। 

- যকৃত পিত্তরস তৈরি করে। 
- ক্ষারীয় পিত্তরস পিত্তথলিতে জামা রাখে। 
- পিত্তরসে কোন এনজাইম থাকে না, তাই যকৃত উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজ দেহে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত রাখে। 
- রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি হলে গ্লুকোজ সরবরাহ করে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। 
- পিত্তরস চর্বি জাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে পরিপাকে সহায়তা করে। 
- অতিরিক্ত অ্যামাইনো অ্যাসিড যকৃতে আসার পর রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড ও নাইট্রোজনজনিত বর্জ্য পদার্থ তৈরি করে এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শোষণে সাহায্য করে। 

উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭৯.
মানবদেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম কী?
  1. রেডিও আলনা
  2. ফিমার
  3. এনামেল
  4. চুল
ব্যাখ্যা
• এনামেল:
- মানবদেহের সবচেয়ে কঠিন অংশের নাম এনামেল।
- এনামেল হল মানবদেহের দাঁতের উপরিভাগে থাকা একটি কঠিন, সাদা স্তর যা দাঁতের অভ্যন্তরীণ অংশকে সুরক্ষা দেয়।
- এটি হাইড্রোক্সিপাটাইট স্ফটিক (ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট আয়ন) দ্বারা গঠিত।
- যা এটিকে মানবদেহের সবচেয়ে কঠিন ও শক্ত পদার্থে পরিণত কর

অন্যদিকে,
- ফিমার পশ্চাৎপদের প্রথম বড় অস্থি। ইহা দেহের সবচেয়ে লম্বা ও ভারী অস্থি।তবে এটি এনামেলের মতো কঠিন নয়।
- রেডিও আলনা অস্থিটি রেডিয়াস ও আলনা নামক পৃথক অথচ পরস্পরের সাথে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ দুটি অস্থি নিয়ে গঠিত।
- রেডিয়াস লম্বা এবং মস্তক বর্তমান।অন্যদিকে আলনা লম্বা ও নলাকার।
- চুল মূলত ক্যারাটিন (Keratin) দিয়ে তৈরি, যা শক্ত কিন্তু এনামেলের মতো কঠিন নয়।

উৎস: প্রাণীবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  ও ব্রিটানিকা।
২৮০.
রক্তের কোন উপাদান আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌছে দেয়?
  1. ক) শ্বেত কণিকা
  2. খ) বেসোফিল
  3. গ) গ্র‍্যানুলোসাইট
  4. ঘ) লোহিত কণিকা
ব্যাখ্যা

নিঃশ্বাস প্রশ্বাস বা শ্বসন প্রক্রিয়ায় আমরা বাতাস থেকে যে অক্সিজেন গ্রহণ করি, সেটি ফুসফুসে আমাদের রক্তের সাথে মিশে যায়।
রক্তের লােহিত কণিকা এই অক্সিজেন আমাদের শরীরের কোষে পৌঁছে দেয়৷
উৎসঃ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি

২৮১.
শিরার প্রধান কাজ কী? 
  1. রক্তে পুষ্টি সরবরাহ করা
  2. রক্তের প্রবাহ দ্রুত করানো
  3. কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত হৃদপিণ্ডে নিয়ে আসা
  4. অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত দেহে পৌঁছে দেওয়া
ব্যাখ্যা
শিরা: 
- যে সব রক্তনালীর মাধ্যমে সাধারণত কার্বন ডাই-অক্সাইডসমৃদ্ধ রক্ত দেহের বিভিন্ন অঙ্গ থেকে হৃৎপিণ্ডে বহন করে নিয়ে আসে, তাদের শিরা বলে। 
- ব্যতিক্রম পালমোনারি শিরাটি ফুসফুস থেকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত হৃৎপিণ্ডে নিয়ে আসে এবং Umbilical Vein মাতৃদেহ থেকে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত ভ্রূণে নিয়ে আসে। 
- শিরার প্রাচীর ধমনির মতো ৩টি স্তরে গঠিত হলেও প্রাচীর বেশ পাতলা ও গহ্বর বড়। 
- শিরায় কপাটিকা থাকায় শিরা দিয়ে রক্ত ধীরে ধীরে একমুখে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনি প্রান্তের কৌশিক জালিকাগুলো ক্রমশ একত্রিত হয়ে প্রথমে সূক্ষ্ম শিরা বা উপশিরা গঠন করে। 
- উপশিরাগুলো পরস্পর মিলিত হয়ে পরে শিরা গঠন করে। 
- কতগুলো শিরা মিলে মহাশিরা গঠন করে, এভাবে শিরা কৈশিক জালিকা থেকে শুরু হয় এবং হৃৎপিণ্ডে শেষ হয়। 

ধমনি: 
- যে সব রক্তনালির মাধ্যমে রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে বাহিত হয়, তাকে ধমনি বা আর্টারি (Artory) বলে। 
- ধমনির প্রাচীর পুরু এবং তিনটি স্তরে গঠিত, এদের গহ্বর (Lumen) ছোট। 
- ধমনিতে কোনো কপাটিকা থাকে না, ফলে ধমনি দিয়ে রক্ত বেগে প্রবাহিত হয়। 
- ধমনির স্পন্দন আছে। 
- ধমনি দেহের বিভিন্ন অংশে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়, এদের শাখা ধমনি (Arteriol) বলে। এগুলো ক্রমশ শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত হয়ে অবশেষে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। এভাবে ধমনি হৃদপিণ্ড থেকে শুরু হয়ে কৈশিক জালিকায় শেষ হয়। 
- ধমনির মাধ্যমে হৃদপিণ্ড থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পরিবাহিত হয়। 
- তবে ব্যতিক্রম হলো পালমোনারি ধমনি যা কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2) যুক্ত রক্ত হৃদপিণ্ড থেকে ফুসফুসে নিয়ে আসে এবং Umbilical artery CO2 যুক্ত রক্ত ভ্রূণ থেকে মাতৃদেহে নিয়ে আসে। 

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮২.
কোনটি অনৈচ্ছিক পেশি?
  1. ক) হাতের পেশি
  2. খ) পায়ের পেশি
  3. গ) বুকের পেশি
  4. ঘ) হৃৎপিন্ডের পেশি
ব্যাখ্যা
হৃৎপিন্ডের পেশি দেখতে ঐচ্ছিক পেশির মত হলেও কাজ করে অনৈচ্ছিক পেশির মত৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর জীব বিজ্ঞান বোর্ড বই
২৮৩.
মানুষ কোন পর্বের প্রাণী?
  1. ক) হোমো সেপিয়েন্স
  2. খ) একাইনোডার্মাটা
  3. গ) অ্যানেলিডা
  4. ঘ) কর্ডাটা
ব্যাখ্যা

কর্ডাটা পর্বের প্রাণি- মানুষ, কুনােব্যাঙ, রুই মাছ ইত্যাদি।
একাইনােডারমাটা পর্বের প্রাণি- তারামাছ, সমুদ্র শশা ইত্যাদি।
অ্যানেলিডা পর্বের প্রাণি হলাে- কেঁচো, জোঁক ইত্যাদি।
হোমো সেপিয়েন্স মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম।
উৎসঃ বিজ্ঞান, অষ্টম শ্রেণি।

২৮৪.
পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষ থেকে কোন রাসায়নিক পদার্থটি নিঃসৃত হয়?
  1. H2SO4
  2. HCl
  3. HNO3
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

পরিপাক নালি:
- মানবদেহে পরিপাক ও পরিশোষণ পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে সংগঠিত হয়।
- পরিপাকতন্ত্র পরিপাক নালি ও পরিপাক গ্রন্থি নিয়ে গঠিত।
- মানুষের পরিপাক নালি মুখ থেকে পায়ু পর্যন্ত ৮-১০ মিটার বিস্তৃত দীর্ঘ নালি বিশেষ যা কোথাও থলির ন্যায় স্ফীত আবার কোথাও  কুণ্ডলীকৃত।
- বিভিন্ন অংশ যেমন- মুখছিদ্র, মুখবিবর, গলবিল, অন্ননালি, পাকস্থলি, ক্ষুদ্রান্ত্র (ডিওডেনাম, জেজুনাম ও ইলিয়াম), বৃহদন্ত্র (সিকাম, কোলন ও মলাশয়) দ্বারা পরিপাক নালি গঠিত।

• পাকস্থলি:
- বক্ষ গহ্বরের ডায়াফ্রামের নীচে উদরের উপরের অংশে অন্ননালি ও ক্ষুদ্রান্ত্রের মাঝখানে বাঁকানো থলির মত অংশই পাকস্থলি।
- একে কয়েকটি অংশে ভাগ করা যায়। যেমন- কার্ডিয়া, ফার্নডাস ও ছোট-বড় বাঁক, পাইরোলাস ও গ্রাসনালি।
- পাকস্থলির প্রত্যেক অংশের মিউকোসা স্তরে অসংখ্য গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থি থাকে। এই গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিগুলো থেকে প্রতিদিন প্রায় দু'লিটার গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়।
- পাকস্থলির প্রাচীর পেশীবহুল এবং নলাকার গ্রন্থি সমৃদ্ধ। 

• কাজ:
- খাদ্যদ্রব্যকে সাময়িকভাবে জমা রাখে এবং বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে।
- গ্যাস্ট্রিন হরমোন গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। গ্যাস্ট্রিক জুসের ৯৯.৪৫% পানি।
- পাকস্থলীর প্যারাইটাল কোষ থেকে নিঃসৃত HCI জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে।
- মিউসিন HCI-এর ক্ষতিকর ভূমিকা থেকে পাকস্থলীর প্রাচীরকে রক্ষা করে।
- গ্যাস্ট্রিক রসের এনজাইমগুলো HCI-এর উপস্থিতিতে আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্য পরিপাকে সাহায্য করে।

উৎস: জীববিজ্ঞান (প্রাণিবিজ্ঞান) দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৮৫.
ডোপামিন হরমোনের স্বল্পতার কারণে কোন রোগটি হয়? 
  1. এপিলেপসি 
  2. পারকিনসন
  3. প্যারালাইসিস
  4. স্ট্রোক
ব্যাখ্যা
• পারকিনসন: 
- স্নায়ুকোষ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে থাকে।
- মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত হরমোন ডোপামিন শরীরের পেশির নড়াচড়ায় সাহায্য করে।
- পারকিনসন রোগাক্রান্ত রোগীর মস্তিষ্কে ডোপামিন তৈরির কোষগুলো ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।
- ডোপামিন ছাড়া ঐ স্নায়ু কোষগুলা পেশি কোষগুলোতে সংবেদন পাঠাতে পারে না।
- ফলে মাংসপেশি তার কার্যকারিতা হারায়।
- এ রোগ সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পরে হয়।
- তবে ব্যতিক্রম হিসেবে যুবক যুবতীদেরও হতে পারে।

উৎসঃ জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি
২৮৬.
ইনসুলিন গঠনে মোট কতটি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে? 
  1. ৪১ টি 
  2. ৪৮ টি 
  3. ৪৯ টি 
  4. ৫১ টি 
ব্যাখ্যা
ইনসুলিন: 
- ইনসুলিন একটি হরমোন। 
- ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের Islets of langerhans এর বিটা কোষ থেকে নিঃসৃত হয় যা রক্তে বিদ্যমান গ্লুকোজকে দেহ কোষে প্রবেশে সাহায্য করে। 
- এর ফলে গ্লুকোজের উচ্চ মাত্রা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়ে স্বাভাবিক মাত্রায় ফিরে আসে। 
- কোনো কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত না হলে বা কম নিঃসৃত হলে অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায় অর্থাৎ ডায়াবেটিস রোগ হয়। 
- এ অবস্থায় ডায়াবেটিক রোগীকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। 
- ইনসুলিন ৫১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্রাকার সরল প্রোটিন। 
- দুটি পলিপেপটাইড চেইন (২১টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন A এবং ৩০টি অ্যামাইনো অ্যাসিড নিয়ে গঠিত চেইন B) দুটি ডাইসালফাইড বন্ডের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে একটি ইনসুলিন অণু গঠন করে। 

উৎস: উদ্ভিদবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৭.
যকৃৎ থেকে নিঃসৃত রসের নাম কী?
  1. পাচক রস
  2. আন্ত্রিক রস
  3. পিত্তরস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• যকৃৎ (Liver):
- মধ্যচ্ছদার নিচে উদরগহ্বরের উপরে পাকস্থলীর ডান পাশে যকৃৎ অবস্থিত। এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় গ্রন্থি। এর রং লালচে খয়েরি।
যকৃতের ডান খণ্ডটি বাম খণ্ড থেকে আকারে কিছুটা বড়। প্রকৃতপক্ষে চারটি অসম্পূর্ণ খণ্ড নিয়ে যকৃৎ গঠিত। প্রতিটি খণ্ড ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র লোবিউল দিয়ে তৈরি। প্রত্যেকটি লোবিউলে অসংখ্য কোষ থাকে। এ কোষ পিত্তরস (bile) তৈরি করে।
- যকৃৎ পিত্তরস তৈরি করে। পিত্তরসের মধ্যে পানি, পিত্ত-লবণ, কোলেস্টেরল ও খনিজ লবণ প্রধান।
- পিত্তরস ক্ষারীয় গুণ সম্পন্ন। যকৃতে বিভিন্ন রকম জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে, তাই একে রসায়ন গবেষণাগার বলা হয়।
- যকৃতের নিচের অংশ পিত্তথলি বা পিত্তাশয় সংলগ্ন থাকে। এখানে পিত্তরস জমা হয়। পিত্তরস গাঢ় সবুজ বর্ণের এবং তিক্ত স্বাদবিশিষ্ট। 
- পিত্তরস ডিওডেনামে এসে পরোক্ষভাবে পরিপাকে অংশ নেয়। পিত্তরসে কোনো উৎসেচক বা এনজাইম থাকে না। 
- পিত্তরস খাদ্যের অম্লভাব প্রশমিত করে এবং ক্ষারীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই পরিবেশ খাদ্য পরিপাকের অনুকূল। কেননা আম্লিক পরিবেশে খাদ্য পরিপাক হয় না।
- পিত্তরস চর্বিজাতীয় খাদ্যকে ক্ষুদ্র দানায় পরিণত করে, যা লাইপেজ সহযোগে পরিপাকে সহায়তা করে।
- যকৃৎ উদ্বৃত্ত গ্লুকোজ নিজদেহে গ্লাইকোজেনরূপে সঞ্চয় করে রাখে।
- পিত্তথলি পিত্তনালির সাহায্যে অগ্ন্যাশয় নালির সাথে মিলিত হয়। এটি যকৃৎ-অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে ডিওডেনামে প্রবেশ করে।

• গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি (Gastric glands):
গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি পাকস্থলীর প্রাচীরে থাকে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস (ট্রিপসিন, লাইপেজ, অ্যামাইলেজ) গ্যাস্ট্রিক রস বা পাচক রস নামে পরিচিত।

• আন্ত্রিকগ্রন্থি (Intestinal glands):
ক্ষুদ্রান্ত্রের প্রাচীরে ভিলাইয়ে আন্ত্রিকগ্রন্থি থাকে। এ গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসের নাম আন্ত্রিক রস।

উৎস: জীববিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

২৮৮.
রক্তে রক্তরসের পরিমান কত?
  1. ৪৫%
  2. ৫৫%
  3. ৬৫%
  4. ৩৫%
ব্যাখ্যা
রক্তের উপাদান:
- মানব দেহের রক্ত প্রধানত রক্তরস ও রক্ত কণিকা নিয়ে গঠিত।
- স্থিতি অবস্থায় কিছুক্ষণ রাখলে রক্ত দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- উপরের হালকা হলুদ বর্ণের প্রায় ৫৫% যে অংশ থাকে তাকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে।
- নিচের গাঢ়তর বাঁকি ৪৫% অংশকে রক্ত কণিকা বলে।
- রক্ত কণিকাগুলো রক্ত রসে ভাসমান অবস্থায় থাকে এবং লোহিত রক্ত কণিকার উপস্থিতিতে রক্ত লাল দেখায়।

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮৯.
লসিকায় কোন রক্তকণিকা উপস্থিত? 
  1. অণুচক্রিকা 
  2. শ্বেত রক্তকণিকা 
  3. লোহিত রক্তকণিকা 
  4. লোহিত ও শ্বেত রক্তকণিকা উভয়ই 
ব্যাখ্যা

লসিকাতন্ত্র: 
- মানব দেহে রক্ত একটি অন্যতম পরিবহন মাধ্যম যার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিভিন্ন কোষ কলায় পৌঁছে এবং বিভিন্ন বিপাকীয় পদার্থ রেচনের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্গে বাহিত হয়। 
- অন্যদিকে দেহের সমস্ত কলা রক্তপূর্ণ কৈশিক জালিকায় বেষ্টিত থাকে। 
- রক্তের কিছু উপাদান কৈশিক জালির প্রাচীর ভেদ করে কোষের চারপাশে অবস্থান করে। এ উপাদানগুলোকে লসিকা (Lymph) বলে। 
- কৈশিক জালিকা ছাড়াও কিছু পরিমাণ কলারস এক ধরনের বদ্ধ নালি দিয়ে গৃহীত ও পরিবাহিত হয়ে পুনরায় রক্তে ফিরে আসে। এ সব নালিকে “লসিকা নালি” বলে। 
- অতএব লসিকা, লসিকানালি ও লসিকাগ্রন্থি সমন্বয়ে গঠিত অন্ত্রকে “লসিকাতন্ত্র” বলে। 

লসিকা: 
- এক ধরনের পরিবর্তিত ঈষৎ ক্ষারধর্মী স্বচ্ছ কলারস যা লসিকা নালির ভেতর দিয়ে পরিবাহিত হয়ে দেহের সকল কোষকে সিক্ত করে। 
- লসিকায় লোহিত রক্ত কণিকা ও অণুচক্রিকা অনুপস্থিত কিন্তু শ্বেত কণিকার সংখ্যা অত্যাধিক। 
- লসিকায় ৯৪% পানি ও ৬% কঠিন পদার্থ থাকে। 
যেমন- প্রোটিন, স্নেহ পদার্থ, কার্বোহাইড্রেট, নাইট্রোজেনযুক্ত পদার্থ, ফসফরাস, সোডিয়াম, ক্লোরাইড, কিছু এনজাইম ও অ্যান্টিবডি। 
- মানুষের দেহে লসিকার পরিমাণ ১-২ লিটার। 

উৎস: প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৯০.
আমাদের দেহকোষ রক্ত হতে গ্রহণ করে-
  1. অক্সিজেন ও গ্লুকোজ
  2. অক্সিজেনে ও রক্তের আমিষ
  3. ইউরিয়া ও গ্লুকোজ
  4. এমাইনো এসিড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড
ব্যাখ্যা
- আমাদের দেহে সকল কাজের জন্য অক্সিজেন দরকার। 
- অক্সিজেন না হলে জীবকোষ বাঁচতে পারে না। 
- রক্তের লোহিত রক্ত কণিকায় অবস্থিত হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে। 
- অক্সিহিমোগ্লোবিন রূপে প্রতিটি কোষে বহন করে। 
- দেহকোষ রক্ত হতে অক্সিজেন ও খাদ্যসার (গ্লুকোজ, অ্যামাইনো এসিড, ফ্যাটিএসিড) গ্রহণ করে। 

উৎস: বিজ্ঞান, সপ্তম শ্রেণি।
২৯১.
নিচের কোনটি রক্তরসের কাজ?
  1. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।
  2. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা।
  3. শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা।
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• রক্তরস বা প্লাজমা:
- রক্তের তরল অংশকে রক্তরস বা প্লাজমা বলে।
- রক্তরসের প্রায় ৯০% পানি, বাকি ১০% দ্রবীভূত অবস্থায় থাকে বিভিন্ন রকমের জৈব এবং অজৈব পদার্থ।
- অজৈব পদার্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের খনিজ পদার্থের আয়ন, যেমন- সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ক্লোরিন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ, আয়োডিন O2, CO2 এবং নাইট্রোজেন জাতীয় গ্যাসীয় পদার্থ।
- জৈব পদার্থগুলো হলো:
১. খাদ্যসার: গ্লুকোজ, অ্যামিনো এসিড, স্নেহপদার্থ, ভিটামিন ইত্যাদি।
২. রেচন পদার্থ: ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, অ্যামোনিয়া, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি।
৩. প্রোটিন: ফাইব্রিনোজেন, গ্লোবিউলিন, অ্যালবুমিন, প্রোথ্রম্বিন ইত্যাদি।
৪. প্রতিরক্ষামূলক দ্রব্যাদি: অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্ড্রুটিনিন ইত্যাদি।
৫. অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির নিঃসৃত বিভিন্ন হরমোন।
৬. কোলেস্টেরল, লেসিথিন, বিলিরুবিন ইত্যাদি নানা ধরনের যৌগ।

• রক্তরসের কাজগুলো হচ্ছে:
১. রক্তকোষসহ রক্তরসে দ্রবীভূত খাদ্যসার দেহের বিভিন্ন অংশে বাহিত করা।
২. টিস্যু থেকে বর্জ্য পদার্থ নির্গত করে, সেগুলো রেচনের জন্য বৃক্কে পরিবহণ করা।
৩. শ্বসনের ফলে কোষের সৃষ্ট CO2 কে বাইকার্বনেট হিসেবে ফুসফুসে পরিবহণ করা।
৪. রক্ত জমাট বাঁধার প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো পরিবহণ করা।
৫. হরমোন, এনজাইম, লিপিড প্রভৃতি দেহের বিভিন্ন অংশে বহন করা।
৬. রক্তের অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করা।

উৎস: বিজ্ঞান- নবম ও দশম শ্রেণি।

২৯২.
ফুসফুসের বায়ুথলিগুলোকে কী বলে?
  1. নিউরন
  2. মেনিনজিস
  3. প্লুরা
  4. অ্যালভিওলাস
ব্যাখ্যা
• ফুসফুস (Lung):
- ফুসফুস শ্বসনতন্ত্রের প্রধান অঙ্গ। বক্ষগহ্বরের ভিতর হৃৎপিণ্ডের দুই পাশে দুটি ফুসফুস অবস্থিত।
- এটি স্পঞ্জের মতো নরম এবং কোমল, হালকা লালচে রঙের।
- ডান ফুসফুস তিন খণ্ডে এবং বাম ফুসফুস দুই খণ্ডে বিভক্ত।
- ফুসফুস দুই ভাঁজবিশিষ্ট প্লুরা নামক পর্দা দিয়ে আবৃত।
- দুই ভাঁজের মধ্যে এক প্রকার রস নির্গত হয়।
- ফলে শ্বাসক্রিয়া চলার সময় ফুসফুসের সাথে বক্ষগাত্রের কোনো ঘর্ষণ হয় না।
- ফুসফুসে অসংখ্য বায়ুথলি বা বায়ুকোষ, সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম শ্বাসনালি ও রক্তনালি থাকে। বায়ুথলিগুলোকে বলে অ্যালভিওলাস (Alveolus) I
- অ্যালভিওলাস ফুসফুসের গঠনগত ও কার্যগত একক।
- অ্যালভিওলাসগুলো ক্ষুদ্র বুদবুদ সদৃশ বায়ুকুঠুরী বিশেষ।
- ডান ফুসফুসে ১০টি ও বাম ফুসফুসে ৮টি লোবিউল থাকে।
- প্রতিটি লোবিউলে ৫০-৮০টি অ্যালভিওলি থাকে।

অন্যদিকে,
- প্লুরা - ফুসফুসের আবরণ।
- নিউরন - স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যক্রমের একক।
- মেনিনজিস - মস্তিষ্ককে আবৃতকারী পর্দার নাম।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি ও প্রাণিবিজ্ঞান, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।।
২৯৩.
সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর ওজন কত হলে তাকে কম ওজনের শিশু বলা হয়?
  1. ক) ৩.৫ কেজির কম
  2. খ) ১.৫ কেজির কম
  3. গ) ২ কেজির কম
  4. ঘ) ২.৫ কেজির কম
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
সদ্যভূমিষ্ঠ শিশুর ওজন ২.৫ কেজির কম হলে তাকে কম ওজন বিশিষ্ট শিশু বলা হয়।
মায়ের অপুষ্টি, মা ও গর্ভস্থ শিশুর বিভিন্ন রোগের কারণে শিশু কম ওজন নিয়ে ভূমিষ্ঠ হতে পারে।
উৎসঃ প্রথম আলো স্বাস্থ্য প্রতিবেদন আর্কাইভ।

২৯৪.
কোনো রোগীর রক্তের pH 6.90; এই অবস্থাকে কী বলে?
  1. অ্যাসিডোসিস
  2. অ্যালকোলাসিস
  3. হাইড্রোসিস
  4. অ্যালকালিমিয়া
ব্যাখ্যা
• অ্যাসিডোসিস:
- মানবদেহে রক্তের স্বাভাবিক pH মান 7.35 থেকে 7.45 এর মধ্যে থাকে।
- এটি সামান্য ক্ষারীয় (alkaline) স্বভাবের।
- রক্তের pH 7.35 এর নিচে নেমে গেলে সেটিকে অ্যাসিডোসিস (Acidosis) বলে।
- এর ফলে রক্তে অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যায় বা ক্ষারীয় উপাদান কমে যায়।

অবস্থার বিশ্লেষণ:
- এখানে রক্তের pH মান 6.90, যা স্বাভাবিক pH-এর থেকে অনেক কম এবং এটি খুবই অ্যাসিডিক।
- এই অবস্থায় শরীরের কার্যপ্রক্রিয়াগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেমন:
- শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা,
- হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া,
- কোষে অক্সিজেন পরিবহন ব্যাহত হওয়া।

অন্য বিকল্পগুলোর ব্যাখ্যা:
- খ) অ্যালকোলাসিস (Alkalosis):
- যখন রক্তের pH 7.45 এর বেশি হয়ে যায় (অত্যধিক ক্ষারীয়), তখন এই অবস্থাকে অ্যালকোলাসিস বলে।

- গ) হাইড্রোসিস (Hydrosis):
- এটি আসলে তাপ বা পানি সংশ্লিষ্ট অবস্থা বোঝায় এবং রক্তের pH এর সাথে সম্পর্কিত নয়।

- ঘ) অ্যালকালিমিয়া (Alkalemia):
- এটি রক্তের pH অত্যধিক ক্ষারীয় হলে (7.45 এর বেশি) ব্যবহার করা হয়।

উৎস: জীববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (গাজী আজমল)।
২৯৫.
লোহিত রক্তকণিকা সঞ্চিত হয়-
  1. প্লীহায়
  2. হৃৎপিন্ডে
  3. ফুসফুসে
  4. যকৃতে
ব্যাখ্যা
• লোহিত কণিকা প্লীহা (Spleen) তে সঞ্চিত থাকে এবং তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে প্লীহা থেকে লোহিত কণিকা রক্তরসে সরবরাহ হয়।

• লোহিত রক্তকণিকা:

- মানবদেহের পরিণত লোহিত রক্তকণিকা দ্বি- অবতল এবং চাকতি আকৃতির।
- হিমোগ্লোবিন নামে রঞ্জক পদার্থ থাকার কারণে দেখতে লাল বর্ণের হয়।
- এজন্য এদেরকে Red Blood Cell বা RBC বলে।
- লোহিত কণিকা অধিক পরিমাণ অক্সিজেন পরিবহন করতে পারে।
- লোহিত কণিকাগুলোর বিভাজন হয় না।
- কণিকাগুলো সর্বক্ষণই অস্থিমজ্জার ভিতরে উৎপন্ন হতে থাকে এবং উৎপন্ন হওয়ার পর রক্তরসে চলে আসে।
- মানুষের লোহিত কণিকার আয়ু প্রায় চার মাস অর্থাৎ ১২০ দিন।

• লোহিত রক্তকণিকার কাজ:
- দেহের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ করা।
- নিষ্কাশনের জন্য কিছু পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইডকে টিস্যু থেকে ফুসফুসে বহন করা।
- হিমোগ্লোবিনের সাহায্যে রক্তের অম্ল-ক্ষারের সমতা বজায় রাখার জন্য বাফার হিসেবে কাজ করা।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৯৬.
রক্তের গ্রুপ কখন পরিবর্তিত হয়? 
  1. শৈশবের পর 
  2. বয়স বাড়লে 
  3. রক্তদানের পর 
  4. কখনোই পরিবর্তিত হয় না 
ব্যাখ্যা
রক্তের গ্রুপ (Blood Group): 
- মানুষের লোহিত রক্ত কণিকায় দুটি প্রধান ধরনের অ্যান্টিজেন থাকে, যেগুলো হলো 'A' এবং 'B'। পাশাপাশি, রক্ত রসে 'a' এবং 'b' নামক দুটি ধরনের অ্যান্টিবডি থাকে। 
- অ্যান্টিজেন হলো এক প্রকারের পদার্থ যা যদি কোনো জীবদেহে প্রবেশ করে, তবে সেই জীবদেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। অপরদিকে, অ্যান্টিবডি হলো এমন একটি পদার্থ যা জীবদেহকে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। 
- অ্যান্টিজেন এবং অ্যান্টিবডির উপস্থিতির ভিত্তিতে মানুষের রক্তকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করা হয়, যা রক্তের গ্রুপ নামে পরিচিত। 
- কার্লল্যান্ড স্টেইনার ১৯০১ সালে মানুষের রক্তের শ্রেণিবিন্যাস করে, তা 'A', 'B', 'O' এবং ‘AB’-এই চারটি গ্রুপে ভাগ করেন। 
- রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন হয় না; একজন ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ জীবনের শেষ পর্যন্ত একই রকম থাকে। ফলে, রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করা সম্ভব হয় অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতির মাধ্যমে। 
- নিচে রক্তের গ্রুপের অ্যান্টিজেন ও অ্যান্টিবডির উপস্থিতি সম্পর্কিত একটি টেবিল দেওয়া হলো, যা রক্তের গ্রুপ চিহ্নিত করতে সহায়তা করে। 


উৎস: জীববিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৭.
রক্তরসে পানির পরিমাণ কত?
  1. ক) ৫৫%
  2. খ) ৭০%
  3. গ) ৯১%
  4. ঘ) ৭৫%
ব্যাখ্যা
- রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের তরল যোজক টিস্যু (Fluid Connective Tissue)।
- মানবদেহে রক্তের প্রধান উপাদান হলো রক্তরস এবং রক্তকণিকা।
- রক্তে শতকরা ৫৫% হলো রক্তরস আর ৪৫% হলো রক্তকণিকা।
- মানুষের শরীরের রক্তরসের ৯১ - ৯২% পানি এবং ৮ -৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।
- রক্তকণিকা ৩ ধরনের হতে পারে: লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং অণুচক্রিকা।

উৎসঃ জীব বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী
২৯৮.
What is the typical body temperature considered normal for most people?
  1. 33°C
  2. 34.5°C
  3. 36.9°C
  4. 39.9°C
  5. 41.5°C
ব্যাখ্যা
মানবদেহের তাপমাত্রা:
- যে থার্মোমিটারের সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয় তাকে ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটার বলে।
- এই থার্মোমিটারে ফারেনহাইট স্কেল ব্যবহার করা হয়।
- ক্লিনিক্যাল থার্মোমিটারে ৯৫-১১০° ফারেনহাইট পর্যন্ত দাগ কাটা থাকে।
- মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮.৪° ফারেনহাইট বা ৩৬.৯° সেলসিয়াস।
- কেলভিন স্কেলে মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩১০.১৫ কেলভিন।

উৎস: পদার্থ বিজ্ঞান, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
২৯৯.
চিন্তার সঙ্গে মস্তিস্কের যে অংশের সম্পর্ক তাকে কী বলা হয়?
  1. সেরিবেলাম
  2. সেরেব্রাম
  3. থ্যালামাস
  4. হাইপোথ্যালামাস
ব্যাখ্যা
• সেরেব্রাম:
- মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ (মস্তিষ্কের প্রায় ৮০% গঠন করে) এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশকে ঢেকে রাখে।
- দুটি সেরেব্রাল হেমিস্ফিয়ার সমন্বয়ে সেরেব্রাম গঠিত।
কাজঃ বাকশক্তি, স্মৃতি শক্তি, চিন্তা, বুদ্ধি-বৃত্তি, সৃজনশীলতা, ইচ্ছা শক্তি, সহজাত প্রবৃত্তি, কর্মপ্রেরণা প্রভৃতির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সর্বোপরি মানুষের ঐচ্ছিক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে।

অন্যদিকে,
- থ্যালামাস: সংবেদী-উদ্দীপনা গ্রহণ করে এবং রিলে করে সেরেব্রামে পাঠায়। মানুষের ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক আচরণের প্রকাশ ঘটায়। ঘুমন্ত মানুষকে হঠাৎ জাগিয়ে তোলা ও পরিবেশ সম্পর্কে সতর্ক করে তোলে।
- হাইপোথ্যালামাস: স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের সকল কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, রাগ, ভাল লাগা, ভীতি, আবেগ প্রভৃতির কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
- সেরেবেলাম: দেহের ভারসাম্য রক্ষা করে। ঐচ্ছিক চলাফেরাকে নিয়ন্ত্রণ করে। পেশির টান ও দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করে।

উৎস:প্রাণি বিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০০.
রক্ত কোন ধরনের টিস্যু?
  1. যোজক টিস্যু
  2. পেশি টিস্যু
  3. স্নায়ু টিস্যু
  4. আবরণী টিস্যু
ব্যাখ্যা
যোজক টিস্যু (Connective Tissue):

• যোজক বা কানেকটিভ টিস্যুতে মাতৃকার (Matrix) পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম।
• গঠন এবং কাজের ভিত্তিতে কানেকটিভ টিস্যু প্রধানত তিন ধরনের হয়। যথা-
(i) ফাইব্রাস যোজক টিস্যু;
(ii) স্কেলিটাল যোজক টিস্যু;
(iii) তরল যোজক টিস্যু। 

রক্ত: 

• রক্ত এক ধরনের ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লালবর্ণের তরল যোজক টিস্যু।
• ধমনি, শিরা ও কৈশিকনালির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রক্ত অভ্যন্তরীণ পরিবহনে অংশ নেয়।
• উষ্ণ রক্তবাহী প্রাণীর দেহে রক্ত তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে।
• রক্তের উপাদান দুটি- রক্তরস (৫৫%) এবং রক্তকণিকা (৪৫%)।
• রক্তরস (Plasma) রক্তের তরল অংশ, এর রং ঈষৎ হলুদাভ। এর প্রায় ৯১-৯২% অংশ পানি এবং ৮-৯% অংশ জৈব ও অজৈব পদার্থ।

উৎস: জীববিজ্ঞান, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।