বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

তড়িৎ ও জৈব রসায়ন ও তাদের জাতকসমূহ

মোট প্রশ্ন২৬৭এই পাতা৬৭প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

তড়িৎ ও জৈব রসায়ন ও তাদের জাতকসমূহ

PrepBank · পাতা / · ২০১২৬৭ / ২৬৭

২০১.
কঁচু খেলে গলা চুলকায় কঁচুতে উপস্থিত কোন যৌগের কারণে?
  1. ক্যালসিয়াম সালফেট
  2. ক্যালসিয়াম অক্সালেট
  3. ম্যগনেসিয়াম অক্সালেট
  4. ক্যালসিয়াম নাইট্রেট
ব্যাখ্যা
• কঁচুতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট থাকার কারণে কঁচু খেলে গলা চুলকায়।

-কচু খাওয়ার পর গলা চুলকানোর প্রধান কারণ হলো এতে থাকা একটি বিশেষ যৌগ ক্যালসিয়াম অক্সালেট (Calcium Oxalate)।
- এই যৌগটি সূক্ষ্ম সূচের মতো স্ফটিক আকারে থাকে, যা মুখ বা গলার সংবেদনশীল টিস্যুকে জ্বালাপোড়া বা চুলকানি অনুভূতি দেয়।

প্রতিকার:
- ভালভাবে রান্না করা: উচ্চ তাপে রান্না করলে বা উপযুক্ত পদ্ধতিতে কচু প্রক্রিয়াজাত করলে ক্যালসিয়াম অক্সালেটের পরিমাণ কমে যায়।
- লেবুর রস বা দই ব্যবহার: খাবারের সাথে লেবুর রস বা দই মিশিয়ে খেলে চুলকানি কম হয়।
- নুন মাখানো: রান্নার আগে কচুতে লবণ মাখিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে এই যৌগগুলোর কার্যকারিতা কমে।
- এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া, তবে সঠিক পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াজাত করলে সমস্যা এড়ানো যায়।

উৎস: USDA অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২০২.
পানি (H₂O) কোন ধরনের যৌগ?
  1. জৈব
  2. অজৈব
  3. মিশ্র
  4. অ্যারোমাটিক যৌগ
ব্যাখ্যা
• অজৈব যৌগ: যে সকল যৌগে কার্বন-হাইড্রোজেন বন্ধন (C-H) থাকে না এবং সাধারণত খনিজ বা ভূ-তাত্ত্বিক উৎস থেকে পাওয়া যায় তাদেরকে অজৈব যৌগ বলা হয়। ।
পানি (H₂O) হলো একটি অজৈব যৌগ।

এর কারণ হলো:
-  জৈব যৌগ সাধারণত কার্বন (C) এবং হাইড্রোজেন (H) এর সরাসরি বন্ধন (C–H bond) ধারণ করে।
-  পানি-তে কার্বন নেই। এটি হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের বন্ধনে তৈরি। তাই  এটি একটি অজৈব যৌগ।

-   পানি জীবদেহের জন্য অপরিহার্য হলেও রাসায়নিক গঠনের দিক থেকে এটি জৈব রসায়নের  (C-H ভিত্তিক) অংশ নয়।
-  পানিতে কার্বন-হাইড্রোজেন (C-H) বন্ধন নেই, যা জৈব যৌগের মূল শর্ত।
-  এটি প্রাকৃতিকভাবে খনিজ বা ভূতাত্ত্বিক উৎস (নদী, সমুদ্র, বৃষ্টি) থেকে পাওয়া যায়, জীবদেহ থেকে সংশ্লেষিত হয় না।
-   এর গঠন ও ধর্ম অজৈব যৌগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ (যেমন: উচ্চ গলনাঙ্ক, তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা)।

অন্যদিকে, 
•  জৈব: জৈব যৌগে অবশ্যই C-H বন্ধন থাকতে হয়, যা পানিতে নেই।
মিশ্র: মিশ্র যৌগ বলতে সাধারণত মিশ্রণ বোঝায় (যেমন: লোহা-কার্বন মিশ্রণ), যা পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অ্যারোমাটিক যৌগ: যে সকল জৈব যৌগের অণুতে এক বা একাধিক বেনজিন চক্র উপস্থিত থাকে তাদেরকে অ্যারোমাটিক যৌগ বলা হয়। পানি অ্যারোমাটিক যৌগ নয়। 


তথ্যসূত্র:
- রসায়ন, ৯ম ০ ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী।
২০৩.
Which chemical compound is responsible for the sweet aroma of fruits?
  1. Alcohol
  2. Ester
  3. Amine
  4. Carboxylic Acid
  5. None of these
ব্যাখ্যা

• ফলের সুগন্ধের পেছনে মূলত উদ্বায়ী এস্টার যৌগগুলো কাজ করে। বিভিন্ন ফলের নির্দিষ্ট গন্ধ নির্দিষ্ট ধরণের এস্টারের উপস্থিতির কারণে হয়, যেমন- পাকা কলার গন্ধে থাকে অ্যামাইল অ্যাসিটেট এবং কমলার গন্ধে থাকে অক্টাইল অ্যাসিটেট।

• এস্টার: 

- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -COOR.
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
• মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস, 
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৪.
একটি অণু বা পরমানুর সম্মিলিত চার্জ-
  1. ক) ধণাত্মক
  2. খ) ঋণাত্মক
  3. গ) শূন্য
  4. ঘ) অশূন্য
ব্যাখ্যা
নিউক্লিয়াসের ভেতরে ধণাত্মক চার্জ যুক্ত প্রোটন এবং এর বাইরে ঋণাত্মক চার্জ যুক্ত ইলেকট্রন থাকে বলে একটি অণু বা পরমানুর সম্মিলিত চার্জ শূন্য হয়৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর পদার্থ বিজ্ঞান বোর্ড বই
২০৫.
পৃথিবীতে অজৈব যৌগের সংখ্যা কত?
  1. ক) প্রায় ৯০ হাজার
  2. খ) প্রায় ৮০ লক্ষ
  3. গ) প্রায় ৩৯ হাজার
  4. ঘ) প্রায় ১ কোটি
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
কার্বনের ক্যাটেনেশন ও জৈব যৌগের সমাণুতার জন্য বর্তমানে আবিষ্কৃত জৈব যৌগের সংখ্যা প্রায় ৮০ লক্ষ। অন্যদিকে অজৈব যৌগের সংখ্যা ১ লাখেরও কম (প্রায় ৯০ হাজার মাত্র)
সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২০৬.
জৈব যৌগের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়
  2. নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়
  3. জৈব যৌগ পানিতে অদ্রবণীয়
  4. বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ সুপরিবাহী
ব্যাখ্যা
• তড়িৎ বিশ্লেষ্য না হওয়ায় বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ সুপরিবাহী নয় বরং অপরিবাহী। 

• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
উদাহরণ:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3-OH), অ্যানিলিন (C6H5-NH2) ইত্যাদি।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
- জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
- জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
- জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৭.
সাবানের তুলনায় ডিটারজেন্টের প্রধান সুবিধা কোনটি?
  1. কম ফেনা তৈরি করে
  2. সহজে নষ্ট হয়
  3. খর পানিতেও কাজ করে
  4. লবণের সাথে বিক্রিয়া করে
ব্যাখ্যা

- সাবান খর পানিতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় তলানি (স্কাম) তৈরি করে, যার ফলে সাবান সহজে ফেনা তৈরি করতে পারে না এবং অপচয় হয়। কিন্তু ডিটারজেন্ট খর পানির এই আয়নগুলোর সাথে কোনো অদ্রবণীয় পদার্থ তৈরি করে না এবং খর পানিতেও চমৎকার ফেনা তৈরি করে কাপড় দ্রুত পরিষ্কার করতে পারে। এটিই সাবানের তুলনায় ডিটারজেন্টের সবচেয়ে বড় এবং প্রধান সুবিধা। 

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২০৮.
ড্রাই সেলে ক্যাথোড হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. লৌহ দণ্ড
  2. জিংক দণ্ড
  3. কার্বন দণ্ড
  4. অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
• ড্রাই সেলে ক্যাথোড হিসেবে কার্বনের দণ্ড ব্যবহার করা হয়।

• ড্রাই সেল:

- ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ হলো এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ। 

• ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 
- সাধারণত টর্চলাইট জ্বালাতে, রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, খেলনা চালাতে ড্রাই সেল ব্যবহার করা হয়।
 
• ড্রাই সেলের গঠন:
- ড্রাই সেল অ্যানোড এবং ক্যাথোড দ্বারা গঠিত।
- ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে সাধারণত ধাতব জিংকের তৈরি ছোট কৌটা ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড NH4Cl জিংক ক্লোরাইড (ZnCl2) ও পাতিত পানি মিশ্রিত করে প্রস্তুতকৃত কাই (paste) দ্বারা জিংকের তৈরি ছোট কৌটা পূর্ণ করা হয়।
- এরপর জিংকের কৌটাটির মাঝখানে একটি কার্বন (গ্রাফাইট) দণ্ড প্রবেশ করানো হয়।
- ড্রাই সেলে কার্বন দণ্ড ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- ড্রাই সেলের অ্যানোড ও ক্যাথোড প্রান্তকে যদি বাল্ব বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের দুই প্রান্তে যুক্ত করা হয় তখন ইলেকট্রনের প্রবাহ সৃষ্টি হয় অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।

• ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে জিঙ্ক এবং ক্যাথোড হিসেবে কার্বন দণ্ড ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২০৯.
জৈব যৌগ নামকরণের পদ্ধতির মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. উদ্ভূত পদ্ধতি
  2. ডেকেন পদ্ধতি
  3. ট্রিভিয়াল পদ্ধতি
  4. ইউপ্যাক (IUPAC) পদ্ধতি
ব্যাখ্যা

• জৈব যৌগের নামকরণের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। এর মধ্যে “উদ্ভূত পদ্ধতি” হলো সেই পদ্ধতি যেখানে যৌগটির নাম স্বাভাবিক বা সাধারণ ব্যবহারের সূত্রে তৈরি হয়। “ডেকেন পদ্ধতি” একটি সুনির্দিষ্ট বা প্রচলিত নামকরণের পদ্ধতি নয়; এটি রাসায়নিক সাহিত্যে ব্যবহৃত কোনো স্বীকৃত নামকরণ পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত নয়। “ট্রিভিয়াল পদ্ধতি” হলো যৌগটির প্রচলিত বা সাধারণ নাম ব্যবহার করার পদ্ধতি। অন্যদিকে, “ইউপ্যাক (IUPAC) পদ্ধতি” হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, বৈজ্ঞানিক ও মানসম্মত নামকরণের পদ্ধতি। তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে জৈব যৌগের নামকরণের স্বীকৃত পদ্ধতির সঙ্গে “ডেকেন পদ্ধতি” অন্তর্ভুক্ত নয়।

• জৈব যৌগ:
-  হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে। হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতক সমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 

•  জৈব যৌগের নামকরণের ক্ষেত্রে সার্বজনিনভাবে কিছু বিধি বিধান অনুসরণ করা হয়।

• বর্তমানে প্রচলিত তিনটি পদ্ধতিতে জৈব যৌগের নামকরণ করা হয়। যথা-
- সাধারণ বা ট্রিভিয়াল পদ্ধতি (Common or trivial system)
- উদ্ভূত বা জাত পদ্ধতি (Derived system)
- আন্তর্জাতিক পদ্ধতি বা জেনেভা পদ্ধতি বা ইউপ্যাক পদ্ধতি (International system or Genava system or
IUPAC system) .

অন্যদিকে,
• ডেকেন কোন নামকরণ পদ্ধতি নয়। এটি একটি উচ্চতর অ্যালকেন। এর সংকেত হলো C10H22

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২১০.
কোনটি জৈব যৌগ নয়? 
  1. CH4
  2. Na2CO3
  3. CH3OH
  4. C6H5NH2
ব্যাখ্যা
জৈব যৌগ: 
- সকল জৈব যৌগে কার্বন পরমাণু বিদ্যমান। 
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে এক বা একাধিক বিভিন্ন মৌল যেমন- H, O, N, S, P, X ইত্যাদি যৌগ মূলত যুক্ত থাকে। 
- আবার কার্বনের দ্বারা গঠিত সকল যৌগই জৈব যৌগ নয়। 
যেমন- CO2, CO, Na2CO3 ইত্যাদি। 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে। 
যেমন- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১১.
মোম-এর মূল উপাদান কী?
  1. হাইড্রোকার্বন
  2. কার্বন
  3. মিথেন
  4. হাইড্রোজেন
ব্যাখ্যা
মোমের তিন অবস্থা: 
- মোম হলো বিভিন্ন হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ। 
- হাইড্রোজেন এবং কার্বন মিলে গঠিত জৈব যৌগই হলো হাইড্রোকার্বন। 
- মোমের প্রজ্বলনে মোমের কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় এই তিনটি অবস্থাই দেখা যায়। 
- মোম বাতিতে মোমের মধ্যে একটি সুতা থাকে। এ সুতাতে আগুন জ্বালালে সুতার চারদিকে হাইড্রোকার্বন অণুগুলো তাপে গলে তরলে পরিণত হয়। অর্থাৎ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হয়। 
- ঐ তরল মোম আগুনের তাপে প্রথমে বাষ্পে পরিণত হয়। অতপর ঐ বাষ্পীয় মোম বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে কার্বন ডাই-অক্সাইড, জলীয় বাষ্প, আলো এবং তাপ উৎপন্ন করে। তরল মোমের কিছু অংশ ঠান্ডা হলে তা কঠিন মোমে পরিণত হয়। 
- অর্থাৎ তাপের প্রভাবে মোমের কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় এই তিন অবস্থারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২১২.
কার্বনের এক অণু সমান পুরু একটি স্তরকে কী বলা হয়?
  1. গ্রাফিন
  2. কার্বন-১৪ ডেটিং
  3. গ্রাফাইট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গ্রাফিন
- বিজ্ঞানের জগতে সুপারম্যাটেরিয়াল তথা বিস্ময় বস্তু গ্রাফিন।
- মূলত কার্বনের এক অণু সমান পুরু একটি স্তরকেই বলা হয় গ্রাফিন।
- এর গঠন এমন যে, নমনীয় হলেও এটি দুর্দান্ত মজবুত, টেকসই ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- ২০০৪ সালে আবিষ্কার হওয়ার পর থেকে এর নানামুখী ব্যবহার ও চাহিদা বেড়েই চলেছে।
- আর সেই চাহিদা পূরণে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন। চীনের নতুন উৎপাদনশীল শক্তি বিকাশেও ভূমিকা রাখছে গ্রাফিন।
- গ্রাফিন উৎপাদনে বড় অগ্রগতি অর্জনকারী একটি প্রতিষ্ঠান হলো পূর্ব চীনের চেচিয়াং প্রদেশের নিংবো শহরের ন্যাশনাল গ্রাফিন ইনোভেশন সেন্টার বা এনজিআইসি।

অপরদিকে, 
• কার্বন-১৪ ডেটিং হচ্ছে জৈব উপাদান ধারণকারী বস্তুর বয়স নির্ধারণের একটি পদ্ধতি। 
• গ্রাফাইট হচ্ছে অঙ্গার বা কার্বনের একটি রূপ এর স্ফটিক ষট-কৌনিক আকৃতির। 

সূত্র- ব্রিটানিকা।
২১৩.
নিচের কোন জৈব যৌগটিতে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি নেই?
  1. ক) ফরমালিন
  2. খ) বিউটিন
  3. গ) ক্লোরোপিক্রিন
  4. ঘ) ইথাইন
ব্যাখ্যা
- গ্যামাক্সিন, হেক্সাক্লোরো ইথেন, ফসজিন, পাইরিন, ক্লোরোপিক্রিন, ফ্রেয়ন ইত্যাদি হলো হাইড্রোজেনবিহীন জৈব যৌগ।
- ফরমালিন, বিউটিন, ফরমিক এসিড, বিউটেন, ইথাইন ইত্যাদি বেশিরভাগ জৈব যৌগতেই হাইড্রোজেন উপস্থিত থাকে।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
২১৪.
জৈব যৌগের মূল উপাদান কোনটি?
  1. নাইট্রোজেন
  2. অক্সিজেন
  3. কার্বন
  4. ফসফরাস
ব্যাখ্যা
• কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।

• উদাহরণ:  মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।
- কার্বন জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয় কারণ কার্বন ক্যাটেনেশন ধর্ম সম্পন্ন মৌল। 
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়।
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
- জৈব যৌগের দহনের পর কোন অবশেষ থাকে না।
- জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
- জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর প্রকৃতির হয়। 

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৫.
নিচের কোনটি সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড নয়?
  1. অক্সালিক এসিড
  2. পামিটিক এসিড
  3. স্টিয়ারিক এসিড
  4. প্রোপানোয়িক এসিড
ব্যাখ্যা

- অক্সালিক এসিড একটি ডাই-কার্বক্সিলিক এসিড, যা কোনো ফ্যাটি এসিড নয়। ফ্যাটি এসিড সাধারণত দীর্ঘ কার্বন শিকলযুক্ত মনো-কার্বক্সিলিক এসিড হয়ে থাকে। অক্সালিক এসিডের সংকেত  (COOH)2, যেখানে কোনো দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল নেই। 

ফ্যাটি এসিড: 
- অ্যালিফেটিক এসিডের অণুতে একটি মাত্র কার্বক্সিলমূলক থাকলে এদেরকে মনোকার্বক্সিল এসিড বলে। 
- অ্যালিফেটিক মনোকার্বক্সিলিক এসিড শ্রেণীকে ফ্যাটি এসিডও বলা হয়। 
- সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের সাধারণ সংকেত হল CnH2n+1COOH. 
- ফ্যাটি এসিড সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত উভয় প্রকার হতে পারে। 
যেমন- 
১। সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
• প্রোপানোয়িক এসিড, 
• স্টিয়ারিক এসিড, 
• পামিটিক এসিড। 

২। অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড: 
• অক্সালিক এসিড, 
• অলিয়িক এসিড, 
• লিনোলিক এসিড। 
- অসম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিডের কার্বন শিকলে এক বা একাধিক দ্বি-বন্ধন থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী ও নাগ)।

২১৬.
ফরমালিন কী?
  1. ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণ
  2. ফরমালডিহাইডের ৩০% জলীয় দ্রবণ
  3. ফরমালডিহাইডের ১০% জলীয় দ্রবণ
  4. ফরমালডিহাইডের ৬০% জলীয় দ্রবণ
ব্যাখ্যা
• ফরমালিন:
- মিথান্যাল বা ফরমালডিহাইডের ৪০% জলীয় দ্রবণকে ফরমালিন বলে।
- ফরমালিনে শতকরা ৪0% মিথান্যাল, ৫২% পানি ও ৮% মিথাইল অ্যালকোহলের মিশ্রিত থাকে।
 
এছাড়াও
- 95.6% ইথানল ও 4.4% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- 6 -10% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে। 

উৎস: রসায়ন, ৯ম- ১০ম শ্রেণি।
২১৭.
খর পানিতে উত্তম ফেনা তৈরি করে কোনটি? 
  1. সাবান
  2. ইমালশান
  3. লবণ
  4. ডিটারজেন্ট
ব্যাখ্যা
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২১৮.
প্রাকৃতিক রাবার কোন জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয় নয়?
  1. এসিটোন
  2. পেট্রোল
  3. বেনজিন 
  4. ইথার
ব্যাখ্যা

- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়। যেমন- এসিটোন (acetone) এবং মিথানলের (methanol) মতো জৈব দ্রাবকে প্রাকৃতিক রাবার অদ্রবণীয়। 

রাবার: 
- পেনসিলের লেখা মোছার ইরেজার এক ধরনের রাবার। সাইকেল, রিকশা বা অন্যান্য গাড়ির টায়ার, টিউব, জন্মদিনে ব্যবহৃত বেলুন ইত্যাদি রাবারের তৈরি। পানির পাইপ, সার্জিক্যাল মোজা, কনভেয়ার বেল্ট, রাবার ব্যান্ড, বাচ্চাদের দুধ খাওয়ানোর নিপলও রাবারের তৈরি সামগ্রী। 

রাবারের ভৌত ধর্ম: 
- প্রাকৃতিক রাবার পানিতে অদ্রবণীয় একটি অদানাদার কঠিন পদার্থ। 
- রাবার কিছু কিছু জৈব দ্রাবক (যেমন- এসিটোন, মিথানল) এগুলোতে অদ্রবণীয় হলেও টারপেন্টাইন, পেট্রোল, ইথার, বেনজিন এগুলোতে সহজেই দ্রবণীয়। 
- রাবার সাধারণত সাদা বা হালকা বাদামি রঙের হয়। 
- রাবার একটি স্থিতিস্থাপক পদার্থ অর্থাৎ একে টানলে লম্বা হয় এবং ছেড়ে দিলে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। 
- বেশিরভাগ রাবারই তাপ সংবেদনশীল অর্থাৎ তাপ দিলে গলে যায়। বিশুদ্ধ রাবার বিদ্যুৎ এবং তাপ কুপরিবাহী। তবে বিজ্ঞানীরা বিশেষভাবে তৈরি বিদ্যুৎ পরিবাহী রাবার আবিষ্কার করেছেন। 

রাবারের রাসায়নিক ধর্ম: 
- প্রায় প্রতিটি পদার্থ তাপ দিলে আয়তনে বাড়ে কিন্তু রাবারের বেলায় ঠিক উল্টোটি ঘটে অর্থাৎ তাপ দিলে রাবারের আয়তন কমে যায়। 
- রাবারের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ধর্ম হলো এটি বেশ কিছু রাসায়নিক পদার্থ (যেমন- দুর্বল ক্ষার, এসিড, পানি) এগুলোর সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়া করে না। যে কারণে কোনো কিছু রক্ষা করার জন্য প্রলেপ দেওয়ার কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। 
- রাবার দীর্ঘদিন রেখে দিলে সেটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। এর কারণ হলো রাবার বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে। অক্সিজেন ছাড়াও আরও কিছু রাসায়নিক পদার্থ, বিশেষ করে ওজোন (O3) প্রাকৃতিক রাবারের সাথে বিক্রিয়া করে, যার কারণে রাবার ধীরে ধীরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২১৯.
পটাশ অ্যালামের অপর নাম কী? 
  1. ব্লিচিং পাউডার
  2. বেকিং সোডা
  3. চুন
  4. ফিটকিরি
ব্যাখ্যা

ফিটকিরি: 
- প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের দেশে এন্টিসেপটিক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার প্রচলিত। 
- ফিটকিরি অ্যালুমিনিয়াম সালফেট, পটাশিয়াম সালফার ও ২৪ অণু পানির যৌগ। 
- ফিটকিরির রাসায়নিক সংকেত হচ্ছে [K2SO4.Al2(SO4)3. 24H2O] । 
- ফিটকিরি বা পটাস অ্যালামে ২৪ অণু কেলাস পানি যুক্ত থাকে। 
- ফিটকিরি মানুষের কাছে পটাশ অ্যালাম নামে পরিচিত। 
- ফিটকিরি একটি দ্বি-লবণ অর্থাৎ দুটি লবণ (পটাসিয়াম সালফেট এবং অ্যালুমিনিয়াম সালফেট) এর সাধারণ মিশ্রণ। 
- অ্যালাম কঠিন অবস্থায় সুনির্দিষ্ট আকৃতির কেলাস। 
- এটি সাধারণত কঠিন অবস্থায় বাজারে প্রচলিত। 

অন্য অপশনগুলো-
ক) ব্লিচিং পাউডার - Ca(OCl)2, আলাদা রাসায়নিক পদার্থ।
খ) বেকিং সোডা - NaHCO3, রান্নায় ব্যবহৃত হয়।
গ) চুন - CaO বা Ca(OH)2, নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি এবং রসায়ন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২০.
এস্টারের কার্যকরী মূলক হিসেবে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. -COOR
  2. -OH
  3. -CO
  4. -CHO
ব্যাখ্যা

• এস্টারের কার্যকরী মূলক হলো -COOR, যেখানে R একটি অ্যালকাইল বা অ্যারাইল মূলককে নির্দেশ করে। এস্টার মূলত কার্বোক্সিলিক অ্যাসিড ও অ্যালকোহলের বিক্রিয়ায় তৈরি হয়, এ প্রক্রিয়াকে এস্টারিফিকেশন বলে। এই যৌগে কার্বনাইল গ্রুপ (C=O) একটি অক্সিজেন পরমাণুর মাধ্যমে অন্য একটি কার্বনযুক্ত মূলকের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যা -COOR গঠন সৃষ্টি করে। অন্য অপশন গুলোর মধ্যে -OH হলো অ্যালকোহলের কার্যকরী মূলক, -CO কিটোন বা অ্যাসিডের অংশ এবং -CHO অ্যালডিহাইডের কার্যকরী মূলক। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) -COOR

এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে।
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -COOR।
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধিযুক্ত হয়। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে।
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়।
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২১.
পলিথিন কোন বিক্রিয়ার মধ্যমে তৈরি হয়?
  1. সংযোজন
  2. ঘনীভবন
  3. পানিগ্রাহী
  4. সালফোনেশন
ব্যাখ্যা
• সংযোজন বিক্রিয়া:
- যে বিক্রিয়ায় দুই বা ততোধিক যৌগ বা মৌল যুক্ত হয়ে নতুন যৌগ উৎপন্ন করে সে বিক্রিয়াকে সংযোজন বিক্রিয়া বলা হয়। 

• সংযোজন পলিমার:
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন ক্ষুদ্র অণুর অপসারণ ব্যাতিত মনোমার অণুসমূহ পরস্পর যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকল পলিমার গঠন করে এবং গঠিত পলিমারের আণবিক ভর মনোমারের আণবিক ভরের পূর্ণ গুণিতক হয় তাকে সংযোজন পলিমার বলে।
- সাধারণত দ্বিবন্ধন যুক্ত যৌগসমূহ যেমন অ্যালকিন, প্রতিস্থাপিত অ্যালকিন ও ভিনাইল যৌগসমূহে সংযোগ পলিমারকরণ (addition polymerization) ঘটে।

• পলিথিন:
- ১০০০-১২০০ বায়ু চাপে ইথিন গ্যাসকে তরলীকৃত করে সমান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে ২০০০০ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করলে ইথিনের অসংখ্য অণু পরপর যুক্ত হয়ে যুত পলিমার পলিথিন গঠন করে।
- পলিথিন তৈরির এই প্রক্রিয়া টি সংযোজন বিক্রিয়ার মাধ্যমে ঘটে। 
- পলিথিন একটি সাদা অসচ্ছ ও শক্ত প্লাস্টিক পদার্থ।

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন; ৯ম ও ১০ম শ্রেণী। 
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২২.
ব্যাটারির এক ধরণের সংযােগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় কিন্তু উল্টো সংযােগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় না কোন যন্ত্রে?
  1. ক) ডায়োড
  2. খ) ট্রানজিস্টর
  3. গ) ক্যাপাসিটর
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ডায়োড এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যেখানে ব্যাটারির এক ধরনের সংযোগে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, উল্টো সংযােগে হয় না।
ডায়োডের ব্যবহারের কোন শেষ নেই। সাধারণ ডায়োড ছাড়াও বিভিন্ন রঙিন ছােট ছােট আলো হল Light Emitting Diode.
ডায়ােডের আরাে একটি ব্যবহার হচ্ছে AC থেকে DC তৈরি করা অর্থাৎ ডায়োড রেক্টিফায়ার হিসাবে কাজ করে।
উৎসঃ পদার্থবিজ্ঞান বোর্ড বই, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৩.
ডিটারজেন্ট এবং সাবানের মধ্যে মূল ভিন্নতা কী?
  1. সাবান ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, ডিটারজেন্ট গলে না
  2. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে না
  3. উভয়ই ঠান্ডা পানিতে গলে
  4. ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না
ব্যাখ্যা

• ডিটারজেন্ট এবং সাবানের মধ্যে মূল ভিন্নতা হচ্ছে - ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায়, সাবান গলে না। 

পরিষ্কারক উপাদান: 
- সাবান এবং প্রাকৃতিক উপাদান ছাড়াও আধুনিক জীবনে পরিষ্কারক হিসেবে ডিটারজেন্ট, ইমালশান, পলিশ ইত্যাদি ব্যবহৃত হচ্ছে। 

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৪.
কোন ধরনের অ্যালকোহল মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়?
  1. মিথানল 
  2. ইথানল
  3. রেকটিফাইড স্পিরিট 
  4. পাওয়ার অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা

- মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে পাওয়ার অ্যালকোহল ব্যবহার করা হয়। পাওয়ার অ্যালকোহল হলো মূলত পেট্রোল এবং ইথানলের একটি মিশ্রণ, যাতে অল্প পরিমাণে বেনজিন বা অন্য কোনো উদ্বায়ী তরল পদার্থও থাকতে পারে।

অ্যালকোহল: 

- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়, এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়, এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়, এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে, তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৫.
ইউরিয়া সারে কতভাগ নাইট্রোজেন থাকে?
  1. ৪৪%
  2. ৪৬%
  3. ৫৬%
  4. ৬৪%
ব্যাখ্যা
ইউরিয়া সারে মোট ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে।

ইউরিয়া:
- ইউরিয়া সারে সাধারণত ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে।
-এটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ সার, যা ফসলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- ইউরিয়া ব্যবহারের মাধ্যমে মাটিতে নাইট্রোজেন সরবরাহ করা হয়, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সহায়ক।

বৈশিষ্ট্য:
- রাসায়নিক গঠন: ইউরিয়ার রাসায়নিক সূত্র হলো CH₄N₂O।
- এটি সহজে দ্রবণীয় এবং দ্রুত উদ্ভিদের শোষণের জন্য প্রস্তুত।
- সঠিক মাত্রায় ইউরিয়া ব্যবহার করলে এটি ফসলের ফলন বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
- তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে মাটির পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়াম সালফেট নাইট্রোজেন জাতীয় সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- অ্যামোনিয়াম সালফেটে শতকরা ২০.৫ ভাগ নাইট্রোজেন থাকে।

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বিসিআইসি ওয়েবসাইট।
২২৬.
মল্ট থেকে কোন এনজাইম নিঃসৃত হয়?
  1. জাইমেস
  2. ডায়াস্টেস
  3. মলটেস
  4. ইনভারটেস
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহলের শিল্পোৎপাদন:
ঈস্ট: 
- ঈস্ট এক প্রকার ছত্রাক জাতীয় নিম্ন স্তরের এককোষী উদ্ভিদ। 
- পচা প্রাণিজ বা উদ্ভিজ পদার্থ থেকে ঈস্ট খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে। 
- ঈষ্টের কোষে জাইমেস (zymase), ইনভারটেস (invertase), মলটেস (maltase) ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। 

মল্ট: 
- বার্লির দানাকে পানিতে 15°C তাপমাত্রায় অন্ধকারে খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বার্লির দানা অংকুরিত হয় এবং অংকুরিত শুষ্ক বার্লির দানাকে গুঁড়া করে নিলে মল্ট গুড়া পাওয়া যায়। 
- মল্ট থেকে ডায়াস্টেস এনজাইম নিঃসৃত হয়। 

এনজাইম: 
- এনজাইম হল এক প্রকার প্রাণ-শক্তিহীন, অদানাদার, নাইট্রোজেন বিশিষ্ট, অজানা, রহস্যময় জটিল জৈব যৌগ। 
- ঈস্ট (Yeast), ছত্রাক (fungus) বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণী কোষ হতে এনজাইম নিঃসৃত হয়। 
যেমন- ঈস্ট কোষে জাইমেস, ইনভারটেস, মলটেস প্রভৃতি এনজাইম থাকে। 
- এনজাইমগুলো নিজে পরিবর্তিত না হয়ে জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, এজন্য এনজাইমকে জৈব প্রভাবক বলে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২৭.
নিম্নলিখিত অপশন গুলোর মধ্যে কোনটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন?
  1. ইথাইন
  2. বিউটিন
  3. ইথেন
  4. ইথিন
ব্যাখ্যা

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের উদাহরণ হচ্ছে - ইথেন। 

• হাইড্রোকার্বন:
- হাইড্রোজেন ও কার্বন দ্বারা গঠিত সরলতম জৈব যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন (Hydrocarbon) বলে।

• সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন:
- যে সকল হাইড্রোকার্বন অণুর কার্বন শিকলে কেবলমাত্র একক বন্ধন বিদ্যমান এবং এদের অবশিষ্ট যোজনীগুলো হাইড্রোজেন দ্বারা পূর্ণ থাকে তাদেরকে অ্যালিফেটিক বা সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন (alkane) বলা হয়।
- এদের সাধারণ সংকেত হলো CnH2n+2 যেখানে n=1,2,3 ইত্যাদি।

• ইথেন:
- ইথেন একটি সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন বা অ্যালকেন। ইথেনের রাসায়নিক সংকেত হলো: C2H6 
- এটি হলো ২ কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন। এতে ২ টি কার্বনের সাথে ৬ টি হাইড্রোজেন পরমাণু একক বন্ধনের মাধ্যমে যুক্ত থাকে।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২৮.
তড়িৎ রাসায়নিক কোষে ব্যবহৃত ধাতব বা গ্রাফাইট দণ্ডকে কী বলা হয়? 
  1. রেজিস্টার 
  2. ইলেকট্রন 
  3. ইলেকট্রোড 
  4. ক্যাপাসিটর 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ (Electrochemical cell): 
- যে যন্ত্রের সাহায্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে রাসায়নিক শক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎ শক্তিতে অথবা বিদ্যুৎ শক্তি ব্যবহার করে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো হয় তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষে একই বা দুইটি ভিন্ন তড়িৎ বিশ্লেষ্যের দ্রবণে দুইটি ধাতব দণ্ড বা একটি ধাতব দণ্ড ও একটি গ্রাফাইট দণ্ড আংশিক ডুবানো থাকে। 
- অতঃপর দণ্ড দুটিকে একটি ধাতব তার দিয়ে সরাসরি বা ব্যাটারির মাধ্যমে সংযোগ দেওয়া হয়। 
- কোষে ব্যবহৃত ধাতব দণ্ড বা গ্রাফাইট দণ্ডকে তড়িৎদ্বার বা ইলেকট্রোড (Electrode) বলা হয়। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষ দুই প্রকার। 
যথা- 
১। তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ (Electrolytic Cell): 
- যে কোষে বাইরের কোনো উৎস থেকে তড়িৎ প্রবাহিত করে কোষের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো যায় সেই কোষকে তড়িৎ বিশ্লেষ্য কোষ বলে। 

২। গ্যালভানিক কোষ (Gavlanic Cell): 
- যে কোষে রাসায়নিক পদার্থসমূহ বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে সেই কোষকে গ্যালভানিক কোষ বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৯.
কোন ধরনের যৌগ টলেন বিকারকের উপস্থিতিতে চিহ্নিত হয়? 
  1. অ্যালডিহাইড
  2. কার্বোক্সিলিক এসিড
  3. কিটোন
  4. অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা

• টলেন বিকারক হলো একটি রাসায়নিক পদার্থ যা বিশেষ করে কার্বনিল সমৃদ্ধ যৌগগুলোর উপস্থিতি শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলত একটি জার্নিক নীল আয়রন (Tollens’ reagent) যা অয়ন আকারে থাকে। টলেন বিকারক অ্যালডিহাইডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে তাত্ক্ষণিকভাবে একটি ধাতব রূপে চাদরের মতো চকমকান সিলভার (silver mirror) সৃষ্টি করে। এই প্রতিক্রিয়াটি হয় অ্যালডিহাইডের অক্সিকরণ এবং সিলভার আয়নের হ্রাস দ্বারা। তবে কার্বোক্সিলিক অ্যাসিড, কিটোন বা অ্যালকোহল সাধারণভাবে টলেন বিকারকের সঙ্গে এই ধরণের ধাতব চাদর উৎপন্ন করতে পারে না। সুতরাং, টলেন বিকারক বিশেষভাবে অ্যালডিহাইড চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হয়।

টলেন বিকারক:
- অতিরিক্ত NH4OH দ্রবণে AgNO3 যোগ করলে যে বর্ণহীন দ্রবণ উৎপন্ন হয় তাকে টলেন বিকারক বলা হয়। এতে [Ag(NH3)2]+ আয়ন থাকে। এটি একটি মৃদু জারক।
AgNO3 + NH4OH→ [Ag(NH3)2]OH + NH4NO3 + H2O

টলেন বিকারকসহ অ্যালডিহাইডকে একটি কাঁচের টেস্টটিউবে উত্তপ্ত করলে টেস্টটিউবের গায়ে কাঁচের মত ধাতব সিলভারের প্রলেপ পড়ে দর্পণের মত দেখায়। ইহাকে সিলভার দর্পন বলে। কিটোন এ বিক্রিয়া প্রদর্শন করে না। এ বিক্রিয়াটি তাই অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণের বিক্রিয়া।
CH3CHO (অ্যালডিহাইড) + 2[Ag(NH3)2] OH→ H3C-COONH4 + 2Ag↓ + 3NH3↑ + H2O

এছাড়াও, অ্যালডিহাইড শনাক্তকরণে ফেহলিং দ্রবণ ব্যাবহার করা হয়। 

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
- অ্যালকোহল - অ্যাসিটাইল ক্লোরাইড পরীক্ষা অথবা লুকাস বিকারক দ্বারা অ্যালকোহল শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হয়। 
-  কিটোন - আইডোফর্ম টেস্ট অথবা 2,4-ডাইনাইট্রোফিনাইলহাইড্রাজিন (2,4-DNPH) টেস্ট দ্বারা কিটোন শনাক্ত করা হয়। 
- কার্বোক্সিলিক এসিড - সোডিয়াম বাইকার্বোনেট টেস্ট দ্বারা শনাক্ত করা হয়। 

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৩০.
কৃত্রিম পলিমার নয় কোনটি?
  1. সেলুলোজ
  2. পলিস্ট্যারিন
  3. পলিইথিলিন
  4. পলিভিনাইল ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- গ্রিক শব্দ 'পলি' (poly) অর্থ বহু বা অনেক এবং 'মেরোস' (meros) অর্থ একক বা অংশ। 
- এ দুটি শব্দ থেকেই পলিমার শব্দের উৎপত্তি। 
- প্রকৃতঅর্থে পলিমার বলতে বোঝায় বহু অংশযুক্ত উচ্চ আণবিক ভর সম্পন্ন বৃহদাকার অণু। 
- পলিমার সাধারণত দুই প্রকার। যথা- 
ক) প্রাকৃতিক পলিমার ও 
খ) কৃত্রিম পলিমার। 

ক) প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে প্রাপ্ত পলিমার এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, সেলুলোজ ইত্যাদি। 

খ) কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত পলিমার সমূহ এ জাতীয় পলিমার। 
যেমন- পলিইথিলিন, পলিস্ট্যারিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), নাইলন, টেফলন, টেরিলিন ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩১.
অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার কোনটি? 
  1. তৈল
  2. চর্বি
  3. সাবান
  4. ডিটারজেন্ট
ব্যাখ্যা
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। 

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হল তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদদেহে কিন্তু চর্বি প্রাণিদেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন- সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 
(৫) পরিপাকতন্ত্রে চর্বির তুলনায় তৈল সহজে হজম হয় এবং তৈলে কলেস্টেরল কম থাকে। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী ও নাগ)।
২৩২.
সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টারের উদাহরণ হচ্ছে -  
  1. ডিটারজেন্ট
  2. চর্বি
  3. সাবান
  4. তৈল
ব্যাখ্যা

• সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টারকে মূলত ট্রাইগ্লিসারাইড বলা হয়। গ্লিসারিনের সঙ্গে উচ্চতর সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিড (যেমন স্টিয়ারিক বা পামিটিক এসিড) এস্টার গঠন করলে যে যৌগ সৃষ্টি হয়, সেটিই চর্বি। চর্বি কঠিন অবস্থায় থাকে এবং প্রাণিজ উৎসে বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে তৈল সাধারণত অসম্পৃক্ত এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হওয়ায় তরল হয়। সাবান ও ডিটারজেন্ট গ্লিসারিন এস্টার নয়; এগুলো ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ।
- তাই প্রদত্ত অপশন গুলোর মধ্যে সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টারের সঠিক উদাহরণ হলো খ) চর্বি।

 
তৈল ও চর্বি: 
- তৈল ও চর্বিকে একত্রে লিপিড বলে। 
- তৈল ও চর্বি হল গ্লিসারল বা গ্লিসারিন এর উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের এস্টার। 
- উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের মধ্যে সম্পৃক্ত পামিটিক এসিড, স্টেয়ারিক এসিড এবং অসম্পৃক্ত অলিয়িক এসিড, লিনোলিক এসিড ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তৈল ও চর্বির পার্থক্য: 
(১) সম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো কঠিন চর্বি এবং অসম্পৃক্ত কার্বক্সিলিক এসিডের গ্লিসারিন এস্টার হলো তৈল। 
(২) তৈলের গলনাঙ্ক 20°C এর কম হয়, কিন্তু চর্বির গলনাঙ্ক 20°C এর অধিক হয়। 
(৩) তৈল উদ্ভিদ দেহে কিন্তু চর্বি প্রাণি দেহে উৎপন্ন হয়। 

তৈল ও চর্বির গুরুত্ব: 
(১) খাদ্যরূপে তৈল ও চর্বি থেকে আমরা শক্তি থাকি। 
[1g তৈল বা চর্বি = 9 cal = 9 ×4.184 J খাদ্যমান] 
(২) তৈল ও চর্বির ক্ষারীয় বিশ্লেষণে সাবান ও উৎপন্ন হয়। 
(৩) রং- বার্নিশ ও প্রসাধনী তৈরিতে তৈল চর্বি ব্যবহূত হয়। 
(৪) তৈলকে নিকেল উপস্থিতিতে হাইড্রোজেনেশন বা হাইড্রোজেন সংযোজন দ্বারা চর্বিতে পরিণত করা যায়। 
যেমন - সয়াবিন তৈলকে হাইড্রোজেনেশন করে মার্জারিন নামক চর্বি তৈরি করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, (হাজারী নাগ)।

২৩৩.
সাধারণত জৈব অম্লের কার্যকরী মূলক কোনটি?
  1. কার্বক্সিল মূলক (-COOH)
  2. হাইড্রক্সিল মূলক (-OH)
  3. কার্বনিল মূলক (>C=O)
  4. অ্যালডিহাইড মূলক (-CHO)
ব্যাখ্যা

জৈব অম্ল বা কার্বক্সিলিক অ্যাসিডের প্রধান কার্যকরী মূলক হলো কার্বক্সিল মূলক (-COOH)। 
- এই মূলকটি একটি কার্বনিল গ্রুপ (C=O) এবং একটি হাইড্রক্সিল গ্রুপ (-OH) এর সমন্বয়ে গঠিত।

• জৈব অম্ল বা এসিড:
- যে জৈব যৌগে কার্বক্সিল গ্রুপ (-COOH) বিদ্যমান থাকে তাকে জৈব এসিড (অম্ল) বা ফ্যাটি এসিড বলে।
- কার্বক্সিল মূলকের হাইড্রোজেন পরমাণুটি জলীয় দ্রবণে বিয়োজিত হয়ে H+ আয়ন দান করে, যার ফলে যৌগটি অম্লীয় ধর্ম প্রদর্শন করে।
- সাধারণত অজৈব অ্যাসিডের তুলনায় দুর্বল প্রকৃতির হয়।
- জৈব এসিড টক স্বাদ সম্পন্ন হয়।
- পানি ও জৈব দ্রাবকে দ্রবণীয়।
- উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, অক্সালিক অ্যাসিড, অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড (CH3COOH) ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৩৪.
কলায় ব্যবহৃত এস্টার কোনটি? 
  1. অ্যামাইল বিউটাইরেট
  2. মিথাইল বিউটাইরেট
  3. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  4. অকটাইল অ্যাসিটেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে। 
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R । 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি। 
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে। 
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়। 
যেমন - 
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি: 
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
• মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস, 
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট, 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৫.
পেট্রোলিয়ামে শতকরা কত ভাগ গ্যাসোলিন থাকে?
  1. ১০
  2. ১৩
ব্যাখ্যা
পেট্রোলিয়ামে
শতকরা ৫ ভাগ গ্যাসোলিন থাকে।
শতকরা ২ ভাগ পেট্রোলিয়াম গ্যাস থাকে।
শতকরা ১০ ভাগ ন্যাপথা থাকে।
শতকরা ১৩ ভাগ ক্যারোসিন থাকে।

সূত্র - রসায়ন, নবম দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
২৩৬.
নিচের কোন কাজে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়?
  1. চেতনানাশক হিসেবে
  2. পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে
  3. রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
ইথানল থেকে ক্লোরোফরম প্রস্তুতির মূলনীতি: 
- ইথানল, ব্লিচিং পাউডার ও পানির মিশ্রণকে পাতন করলে ক্লোরোফরম পাতিত তরল রূপে সংগৃহীত হয়। 
 -ব্লিচিং পাউডার ও পানি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন দ্বারা ইথানল প্রথমে জারিত হয়ে অ্যাসিটালডিহাইড বা ইথান্যাল উৎপন্ন করে এবং পরে ক্লোরিনেশন দ্বারা ক্লোরাল এবং শেষে ক্ষারীয় বিশ্লেষণের ফলে ক্লোরোফরম উৎপন্ন হয়। 
 

ক্লোরোফরম  ব্যবহার: 
১। চেতনানাশক হিসেবে ক্লোরোফরম ব্যবহার করা হয়। 
২। পরীক্ষাগারে বিকারক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৩। ফাংগাসের বংশবৃদ্ধি রোধ, জৈবযৌগের সংশ্লেষণ এবং ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
৪। চর্বি, তেল, মোম, রাবার নিষ্কাশনে জৈব দ্রাবক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৩৭.
পরীক্ষাগারে উৎপাদিত প্রথম জৈব যৌগ কোনটি?
  1. ক) অ্যালকোহল
  2. খ) ইথানল
  3. গ) ইউরিয়া
  4. ঘ) পাইরিন
ব্যাখ্যা

- ১৮১৫ সালে বিজ্ঞানী বার্জেলিয়াস প্রস্তাব করেন যে, জৈব যৌগসমূহ কেবল সজীব উদ্ভিদ ও প্রাণিদেহে এক রহস্যময় প্রাণশক্তির প্রভাবে উৎপন্ন হয়ে থাকে। তাই একে পরীক্ষাগারে উৎপন্ন করা সম্ভব নয়। একে প্রাণশক্তি মতবাদ বলা হয়। তখন সব বিজ্ঞানী এ মতবাদ গ্রহণ করেন।
- ১৮২৮ সালে বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলার পরীক্ষাগারে অজৈব অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড লেড সায়ানেট দ্রবণের বিক্রিয়া ঘটিয়ে আকস্মিকভাবে পরীক্ষাগারে ইউরিয়া প্রস্তুত করেন।
- ইউরিয়া হলো প্রথম জৈব যৌগ যা পরীক্ষাগারে উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এজন্য বিজ্ঞানী ফ্রেডরিক উহলারকে জৈব রসায়নের জনক বলা হয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৩৮.
সাবান তৈরির সময় কোন যৌগটি উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয়?
  1. ইথানল
  2. অ্যাসিটিক অ্যাসিড
  3. গ্লিসারিন
  4. সোডিয়াম ক্লোরাইড
ব্যাখ্যা

সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়।

• সাবান:
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
- এর রাসায়নিক নাম হলো সোডিয়াম স্টিয়ারেট (C17H35COONa)।
- সাবানের আয়নিক গ্রুপ হলো COO-Na+
- সাবান তৈরি করা হয় চর্বি এবং ক্ষার থেকে।
- সাবান তৈরির উপজাত হিসেবে গ্লিসারিন পাওয়া যায়

উৎস: রসায়নবিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণী।

২৩৯.
শুষ্ক কোষে অ্যানোড হিসেবে কাজ করে কোনটি?
  1. ক) কার্বন দন্ড
  2. খ) ম্যাঙ্গানিজ অক্সাইড
  3. গ) দস্তার কৌটা
  4. ঘ) কার্বন পাউডার
ব্যাখ্যা

টর্চ লাইট, বিভিন্ন রকম রিমােট কন্ট্রোলার, নানা রকম খেলনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয় সেগুলােকে ড্রাইসেল বা শুষ্ক কোষ বলে।
সাধারণ ড্রাইসেলে দস্তার চোঙ ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বা অ্যানােড হিসেবে কাজ করে আর ধাতব টুপি দিয়ে ঢাকা কার্বনদণ্ড ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বা ক্যাথােড হিসেবে কাজ করে।
সূত্রঃ বিজ্ঞান অষ্টম শ্রেণি

২৪০.
পোটেনশিওমিটার (Potentiometer) যন্ত্রটি কীসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ
  2. তড়িৎ বিভব পরিমাপ
  3. তড়িৎ রোধ পরিমাপ
  4. তড়িৎ ক্ষমতা পরিমাপ
ব্যাখ্যা

পোটেনশিওমিটার (Potentiometer) হলো একটি তড়িৎ পরিমাপক যন্ত্র, যা মূলত তড়িৎ বিভব (Voltage) পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি একটি নির্ভুল (Precise) এবং উচ্চ সংবেদনশীল (High Sensitivity) যন্ত্র, যা তড়িৎ বিভবের তুলনামূলক মান পরিমাপ করতে সাহায্য করে।

পোটেনশিওমিটারের ব্যবহার:
- এটি একটি ভেরিয়েবল রেজিস্টর (Variable Resistor) হিসাবে কাজ করে।
- এটি তড়িৎ বিভবের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারে এবং সাধারণ ভোল্টমিটারের তুলনায় এটি আরও নির্ভুল পরিমাপ দেয়।
- পোটেনশিওমিটারের সাহায্যে দুটি কোষের তড়িচ্চালক বলের তুলনা করা যায়। 
- পোটেনশিওমিটার ইলেকট্রনিক সার্কিটে ভোল্টেজ কন্ট্রোলার হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ, 
ক) তড়িৎ প্রবাহ পরিমাপ – এটি অ্যামিটার (Ammeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
গ) রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ – এটি ওহমমিটার (Ohmmeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।
ঘ) তড়িৎ ক্ষমতা পরিমাপ – এটি ওয়াটমিটার (Wattmeter) দিয়ে পরিমাপ করা হয়।

উৎস: রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৪১.
পলিথিন ব্যাগ কোন মনোমার থেকে তৈরি?
  1. ফেনল
  2. মেলামাইন
  3. ভিনাইল ক্লোরাইড
  4. ইথিলিন
ব্যাখ্যা

- পলিথিন (polyethylene) হলো একটি পলিমার যা ইথিলিন (ethylene) নামক মনোমার অণুগুলোর পলিমারাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হয়। 

পলিমার (Polymer): 
- পলিমার হলো বহু ছোট মনোমার অণু একত্রে যুক্ত হয়ে গঠিত বৃহৎ অণু, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ, যেমন পলিথিন ব্যাগ, পিভিসি পাইপ, সুইচ বোর্ড, কাপড় ও রাবারে পাওয়া যায়। 
- পলিমার (Polymer) শব্দটি এসেছে দুটি গ্রিক শব্দ পলি (Poly) ও মেরোস (Meros) থেকে। পলি শব্দের অর্থ হলো অনেক (Many) এবং মেরোস শব্দের অর্থ অংশ (Part)। অর্থাৎ, অনেকগুলো ছোট অণু পরপর যুক্ত হয়ে বড় আকারের যে অণু তৈরি হয় তাকে পলিমার বলে। 
- যে ছোট অণু থেকে পলিমার তৈরি হয়, তাকে বলে মনোমার (Monomer)। 
- যে পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার করা হয় তা 'ইথিলিন' নামের মনোমার থেকে তৈরি এক ধরনের পলিমার। একইভাবে, পিভিসি পাইপ (PVC) হলো ভিনাইল ক্লোরাইড নামের মনোমার থেকে তৈরি পলিমার। তবে সব সময় একটি মনোমার থেকেই পলিমার তৈরি হবে এমন নয়, একের অধিক মনোমার থেকেও পলিমার তৈরি হতে পারে। 
যেমন- বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ড তৈরিতে ব্যবহৃত বস্তু। বৈদ্যুতিক সুইচে ব্যাকেলাইট নামের একটি পলিমার ব্যবহার করা হয়। ব্যাকেলাইট তৈরি হয় ফেনল ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থেকে। আবার, মেলামাইনের থালা-বাসন হলো মেলামাইন রেজিন নামের পলিমার, যা তৈরি হয় মেলামাইন ও ফরমালডিহাইড নামের দুটি মনোমার থাকে। 

প্রাকৃতিক পলিমার: 
- পাট, সিল্ক, সুতি কাপড়, রাবার প্রভৃতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পলিমার। 

কৃত্রিম পলিমার: 
- মেলামাইন, রেজিন, বাকেলাইট, পিভিসি, পলিথিন প্রভৃতি হলো কৃত্রিম পলিমার। এগুলো প্রকৃতিতে পাওয়া যায় না, শিল্পকারখানায় কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে হয়। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

২৪২.
শুষ্ক কোষে কোনটি ইলেকট্রন দান করে? 
  1. দস্তার খোল
  2. কার্বন দণ্ড
  3. কয়লার গুড়া
  4. ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
শুষ্ক কোষ (Dry Cell): 
- শুষ্ক কোষ হল একটি প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি সেল, যা লেকল্যান্স বিদ্যুৎ কোষের একটি ভিন্ন রূপ। 
- এ বিশেষ লেকল্যান্স কোষে বিদ্যুৎ উত্তেজক হিসেবে NH4Cl এর পেস্ট এবং ক্যাথোডের গায়ে H2 গ্যাস দ্বারা পোলারন বা ছদন নিবারক হিসেবে জারকরূপে কঠিন ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) ব্যবহৃত হয় বলে একে শুষ্ক কোষ বলে। 

গঠন: 
- শুষ্ক বিদ্যুৎ কোষে জিংক অর্থাৎ দস্তার তৈরি একটি একমুখ বন্ধ ফাঁপা চোঙকে বহিঃপাত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা ঋণাত্মক পাত বা অ্যানোড হিসেবে কাজ করে। 
- চোঙটিকে একটি কাগজের মোড়কে ঢেকে রাখা হয়। 
- এ চোঙের ঠিক মাঝখানে একটি কার্বন দণ্ড (কোষের নিষ্ক্রিয় তড়িৎদ্বাররূপে) কোষের ধনাত্মক পাত বা ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে। 
- কার্বন দণ্ডের মাথায় একটি পিতলের টুপি থাকে। 
- এ কার্বন দণ্ডটি আলকাতরাযুক্ত কাগজের উপর খাড়াভাবে বসানো থাকে ফলে কার্বন দণ্ড থেকে দস্তার ফাঁপা চোঙ বিচ্ছিন্ন থাকে। 
- এর চারপাশে কাগজের থলিতে MnO2 ও গুঁড়া কার্বনের একটি আঠালো পেস্ট থাকে। 
- কাগজের থলি সচ্ছিদ্র পাত্রের কাজ করে এবং কার্বন গুঁড়া ব্যবহারের ফলে ক্যাথোডের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল বেড়ে যায়। 
- দস্তার চোঙ ও কাগজের থলির মাঝে আঠালো স্টার্চের গুঁড়া, NH4Cl ও সামান্য ZnCl2 এর একটি পেস্ট থাকে, যা MnO2 কে ভেজা রাখতে সাহায্য করে। 
- কোষের উপরের মুখে পিচ বা গালা স্তর থাকে। 
- জিঙ্ক (Zn) বা দস্তা ইলেক্ট্রন দান করে এবং ম্যাঙ্গানিজ ডাই অক্সাইড ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে
- এ কোষের E.M.F. প্রায় 1.5 Volt. 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (হাজারী নাগ)।
২৪৩.
সিলিন্ডারে যে গ্যাস বিক্রি করা হয় তা প্রধানত-
  1. বিউটেন
  2. ইথেন
  3. প্রোপেন
  4. মিথেন
ব্যাখ্যা
বিউটেন: 
- সিলিন্ডারে করে বাজারে যে গ্যাস বিক্রি করা হয় তার মূল উপাদান হলো বিউটেন, যা সাধারণ তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে। 
- কিন্তু উচ্চচাপে তরল অবস্থায় পরিবর্তিত করা হয় যা উচ্চচাপ যুক্ত আধারে সংরক্ষণ ব্যবহার ও স্থানান্তরের জন্য সুবিধাজনক। 
- বিউটেন একটি চার কার্বন বিশিষ্ট হাইড্রোকার্বন। 
- কক্ষতাপমাত্রায় বিউটেন একটি গ্যাসীয় পদার্থ। 
- এলপিজি মূলত বিউটেন ও প্রোপেন এর সমন্বয়ে গঠিত হয়। 
 - বিউটেনের রাসায়নিক সংকেত C4H10. 
 - বিউটেনের দুটি আইসোমার বা সমাণু আছে। 
যথা- n-বিউটেন এবং আইসো বিউটেন। 
- আইসো বিউটেনের আরেকটি নাম মিথাইল প্রোপেন, এটি মূলত জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। 
- এলপিজি মূলত একটি আমদানিনির্ভর পণ্য, এটি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। 
 
উৎস: দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকা (০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩)।
২৪৪.
ফল পাকানোর জন্য দায়ী-
  1. ইথিলিন
  2. মিথিলিন
  3. এস্টার
  4. জিবেরেলিন
ব্যাখ্যা
• ইথিলিন (C₂H₄):
- ইথিলিন (C₂H₄) একটি উদ্ভিদের হরমোন, যা ফল পাকানোর জন্য প্রধানত দায়ী।
- এটি একটি গ্যাসীয় উদ্ভিদ হরমোন, যা স্বাভাবিকভাবে ফল, ফুল ও অন্যান্য উদ্ভিদকোষ উৎপন্ন করে।
- ইথিলিন ফলের কোষে কিছু এনজাইম সক্রিয় করে ফক পাকতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে,
- মিথিলিন (Methyline) – এটি একটি রাসায়নিক যৌগ, যা ফল পাকানোর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
- এস্টার (Ester) – এটি মূলত সুগন্ধি যৌগ, যা ফলের সুগন্ধ বাড়ায়, তবে পাকানোর কাজে সরাসরি ভূমিকা রাখে না।
- জিবেরেলিন (Gibberellin) – এটি গাছের বৃদ্ধি ও অঙ্কুরোদগমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তবে ফল পাকানোর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
২৪৫.
কোনটি ভিনেগার? 
  1. 6-10% CH3-COOH
  2. 6-10% HCOOH
  3. 6-10% C6H5COOH
  4. 6-10% C2H5COOH
ব্যাখ্যা
ভিনেগার
- প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষক হিসেবে ভিনেগার অতুলনীয়। 
- ইথানোয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH3-COOH) -এর 6-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে। 
- এটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভস। 
- এটি বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ও দামে সস্তা এবং অতি সহজে পানিতে দ্রবীভূত হয়। 
- খাদ্য দ্রব্যে প্রিজারভেটিভস হিসেবে একে ব্যবহার করলে খাদ্যদ্রব্যের pH এর মান কমিয়ে দেয়। 
- তখন অণুজীবগুলো আর বংশ বিস্তার করতে পারে না। যেমন- অধিকাংশ অণুজীবের বংশ বিস্তারের অনুকূল pH এর মান 6.5-7.5 এর মধ্যে। 
- তাই প্রাকৃতিক খাদ্য সংরক্ষণে ভিনেগারের কোনো তুলনা হয় না। 

ভিনেগারের ব্যাপক ব্যবহারের কারণ: 
১. মাত্র ৬% ইথানোয়িক এসিডের জলীয় দ্রবণ হওয়ায় এর কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। 
২. যদিও ভিনেগার এসিডের দ্রবণ কিন্তু খাদ্যের সাথে এটি গ্রহণে পেটে এসিডিটির কোনো সমস্যা হয় না। 
৩. ভিনেগার ব্যবহারে খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘ সময় টাটকা থাকে। 
৪. পানিতে অতি সহজেই যেকোনো অনুপাতে মিশ্রণীয়। 
৫. দামে সস্তা এবং সহজেই সংগ্রহ করা যায়। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৬.
ভিনেগারের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. HCl
  2. HNO3
  3. CH3COOH
  4. H2SO4
ব্যাখ্যা

• CH3COOH — ভিনেগার মূলত ৫–৬% ইথানয়িক অ্যাসিড (Acetic acid) এর জলীয় দ্রবণ।
 
• অ্যাসিডের ধারণা ও শ্রেণিবিভাগ:
- যেসব রাসায়নিক পদার্থ পানিতে আয়নিত হয়ে হাইড্রোজেন আয়ন (H+) উৎপন্ন করে, তাদের অ্যাসিড বলে।
- উদাহরণ: HCl → H+ + Cl-, CH3COOH → CH3COO- + H+.
- স্বাদে টক এবং নীল লিটমাসকে লাল করে।

• জৈব অ্যাসিড:
- ফলমূল বা উদ্ভিজ্জ উৎসে পাওয়া যায়।
- অণুতে সাধারণত কার্বক্সিল মূলক (-COOH) উপস্থিত থাকে।
- সাধারণত দুর্বল প্রকৃতির এবং আংশিকভাবে আয়নিত হয়।
- উদাহরণ: সাইট্রিক অ্যাসিড, টারটারিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড, অ্যাসিটিক অ্যাসিড।

• অজৈব বা খনিজ অ্যাসিড:
- খনিজ পদার্থ থেকে প্রস্তুত।
- অধিকাংশই শক্তিশালী এবং সম্পূর্ণ আয়নিত হয়।
- উদাহরণ: হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড (HCl), নাইট্রিক অ্যাসিড (HNO3), সালফিউরিক অ্যাসিড (H2SO4), ফসফরিক অ্যাসিড (H3PO4)।

• ভিনেগার (Vinegar):
- ৫–৬% ইথানয়িক অ্যাসিড (CH3COOH) এর জলীয় দ্রবণ।
- এটি একটি দুর্বল জৈব অ্যাসিড।
- খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
- ব্যাকটেরিয়ার ক্রিয়া প্রতিরোধ করে খাদ্য পচন রোধ করে।
- মাছ ও মাংস নরম করতেও ব্যবহৃত হয়।

• ভিনেগারের রাসায়নিক ধর্ম:
- CH3COOH + H2O ⇌ CH3COO- + H3O+.
- আংশিক আয়নিত হয়, তাই এটি দুর্বল অ্যাসিড।
- pH মান ৭-এর কম।
 
• অন্যান্য অপশন:
- HCl → শক্তিশালী অজৈব অ্যাসিড, পাকস্থলীতে খাদ্য হজমে সহায়ক।
- HNO3 → শক্তিশালী নাইট্রিক অ্যাসিড, সার ও বিস্ফোরক প্রস্তুতে ব্যবহৃত।
- H2SO4 → শক্তিশালী সালফিউরিক অ্যাসিড, ব্যাটারি ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত।

উৎস: বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৪৭.
জৈব যৌগের প্রধান উপাদান কোনটি?
  1. ক্যালসিয়াম
  2. কার্বন
  3. লোহা
  4. সোডিয়াম
ব্যাখ্যা
• জৈব যৌগ:
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতকসমূহকে জৈব যৌগ বলে।'
যেমন:- মিথেন (CH4), মিথানল (CH3OH), অ্যানিলিন (C6H5NH2) ইত্যাদি।

কার্বনের ক্যাটেনেশন ধর্মের কারণে এটি জৈব যৌগের প্রধান উপাদান হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জৈব যৌগের বৈশিষ্ট্য:
- জৈব যৌগে কার্বনের সাথে হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি মৌল যুক্ত থাকে।  
- প্রধানত সমযোজী বন্ধন দ্বারা গঠিত হয়। 
- নিম্ন গলনাঙ্ক ও নিম্ন স্ফুটনাংক বিশিষ্ট হয়।
- জৈব যৌগ পোলার দ্রাবক যেমন পানিতে অদ্রবণীয়, কিন্তু জৈব দ্রাবক যেমন, ইথার ও বেনজিনে দ্রবণীয়। তবে হাইড্রক্সিল মূলক যুক্ত যৌগ (চিনি, অ্যালকোহল) পানিতে দ্রবণীয়।
-জৈব যৌগের দহনের পর কোনো অবশেষ থাকে না। 
-জৈব যৌগ গলিত অবস্থায় বা দ্রবণে আয়নিত হয় না বলে তড়িৎ বিশ্লেষ্য নয়। অর্থাৎ বিশুদ্ধ জৈব যৌগ তড়িৎ অপরিবাহী।
-জৈব বিক্রিয়ার কৌশল জটিল ও মন্থর গতির হয়।

তথ্যসূত্র:
- রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৪৮.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নয় কোনটি?
  1. ক) লেকল্যান্স কোষ
  2. খ) শুষ্ক কোষ
  3. গ) ড্যানিয়েল কোষ
  4. ঘ) নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ
ব্যাখ্যা

ব্যাখ্যা:
তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষঃ যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষঃ যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

২৪৯.
প্রাথমিক কোষের উদাহরণ কোনটি? 
  1. লেড সঞ্চয়ী কোষ 
  2. ড্যানিয়েল কোষ 
  3. নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ 
  4. লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ 
ব্যাখ্যা

তড়িৎ রাসায়নিক কোষ: 
- যে কোষে রাসায়নিক জারণ বিজারণ বিক্রিয়ার ফলে রাসায়নিক শক্তি তড়িৎ শক্তিতে পরিণত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে। 
- তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে। 
যেমন- ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ। 

২। সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: 
- যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে। 
যেমন- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

২৫০.
স্টার্চ থেকে গাঁজন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন অ্যালকোহলের নাম কী?
  1. ইথানল
  2. মিথানল
  3. আইসোপ্রোপানল
  4. মিথাইল অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে।
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫১.
1 মোল ইলেকট্রনের চার্জ হলো -
  1. 1 F
  2. 1 C
  3. 1.62 C
  4. 1.60245 × 10-19 C
ব্যাখ্যা
ফ্যারাডে (Faraday): 
- এক মোল পরিমাণ ইলেকট্রনের চার্জকে 96500 কুলম্ব ধরা হয়। 
- মোল পরিমাণ তড়িৎ চার্জকে এক ফ্যারাডে বলা হয়। 
- ফ্যারাডের প্রতীক হলো F. 
- এক ফ্যারাডে = 96500 C তড়িৎ চার্জ। 

ফ্যারাডের সূত্রের সাহয্যে ইলেকট্রনের চার্জ গণনা: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণের সমীকরণ মতে, একযোজী এক মোল ক্যাটায়নকে চার্জ মুক্ত করতে 1 F বিদ্যুৎতের প্রয়োজন হয়। 
- এক মোল ক্যাটায়নের সংখ্যা হলো অ্যাভোগাড্রো সংখ্যা NA
- একটি ইলেকট্রনের চার্জ = e -
∴ NA × e¯ = 1 ফ্যারাডে = 96500 কুলম্ব (C). 
∴ e - = 96500 C/NA = 96500 C/6.022 x 1023 = 1.60245 × 10-19 C. 
- এভাবে হিসাবকৃত ইলেকট্রনের চার্জের পরিমাণ বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত ইলেকট্রনের চার্জের সমান। 
- এ থেকে ফ্যারাডের সূত্রের তাৎপর্য বোঝা যায় এবং প্রমাণিত হয় যে, 1 মোল ইলেকট্রন = 1 ফ্যারাডে (F). 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (ড. হাজারী ও নাগ)।
২৫২.
নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে কোন সার প্রস্তুত করা হয়?
  1. টিএসপি
  2. সবুজ সার
  3. পটাশ
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

◉ নাইট্রোজেন গ্যাস থেকে ইউরিয়া সার প্রস্তুত করা হয়।

• ইউরিয়া [(NH2)2C=O]: উদ্ভিদের মৌলিক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে নাইট্রোজেন একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
- জমিতে নাইট্রোজেনের অভাব দূর করার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।
- মাটিতে ইউরিয়েজ নামক এক প্রকার এনজাইম ইউরিয়াকে ধীরে ধীরে বিয়োজিত করে এ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাই অক্সাইডে পরিণত করে।
- উৎপন্ন এ্যামোনিয়া মাটিতে উপস্থিত পানিতে দ্রবীভূত হয়ে এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড উৎপন্ন করে।
- এ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড পানিতে আংশিক বিয়োজিত হয়ে ও আয়ন উৎপন্ন করে।
- উদ্ভিদ আয়ন পুষ্টি উপাদান হিসেবে শোষণ করে।

উৎস: রসায়ন-১ম পত্র, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ ঊন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৩.
বায়োগ্যাসে মিথেনের পরিমাণ কত?
  1. ৩৩%
  2. ৬৫%
  3. ৮৫%
  4. ৪০%
ব্যাখ্যা
বায়োগ্যাস:
প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুরূপ গ্যাস নানা রকম প্রাণী ও উদ্ভিদের বর্জ্য থেকে তৈরি করার ব্যবস্থা করা যায়। এ ধরনের গ্যাসকে বলে বায়োগ্যাস।

- বায়ো অর্থ জীবন। প্রাণী বা উদ্ভিদ জীবনের অধিকারী বিধায় এদের দেহ এবং দেহ নিঃসৃত পদার্থ পচনশীল।
- গোবর, মলমূত্র, পাতা, খড়কুটো প্রভৃতি পদার্থ পানিতে মিশিয়ে বাতাসের অনুপস্থিতি রাখলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে গাজন প্রক্রিয়া ঘটে। ফলে এক ধরনের বর্ণহীন দাহ্য গ্যাস উৎপন্ন হয়। এর শতকরা ৬০-৭০ ভাগই মিথেন গ্যাস। ইহাই বায়োগ্যাস নামে পরিচিত।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই (উন্মুক্ত)।

অপশনে ৬৫% থাকায় উত্তর হিসেবে এটাই বেছে নেওয়া হচ্ছে।
আরো অনেক উৎসে বায়োগ্যাসে মিথেনের বিভিন্ন মাপ বা রেঞ্জ দেওয়া আছে। সবগুলোতেই উত্তর ৭০% এর কাছাকাছি।
২৫৪.
তড়িৎ বিশ্লেষণ পদ্ধতিতে কোন তড়িৎদ্বারের মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ থেকে বের হয়?
  1. অ্যানোড
  2. ক্যাথোড
  3. অ্যানোড ও ক্যাথোড দুইটিতেই
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

- তড়িৎ বিশ্লেষণ (electrolysis) প্রক্রিয়ায় অ্যানোড একটি ধনাত্মক তড়িৎদ্বার (positive electrode), যেখানে ঋণাত্মক আয়ন বা অ্যানায়নগুলো এসে ইলেকট্রন ত্যাগ করে জারিত হয়। এই ত্যাগের মাধ্যমে ইলেকট্রনগুলো দ্রবণ থেকে বেরিয়ে বাহ্যিক সার্কিটে প্রবেশ করে।অন্যদিকে, ক্যাথোড একটি ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার (negative electrode), যেখানে ধনাত্মক আয়ন বা ক্যাটায়নগুলো এসে ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয়। বাহ্যিক সার্কিট থেকে ইলেকট্রন ক্যাথোডে প্রবেশ করে। 

তড়িৎদ্বার: 
- তড়িৎ বিশ্লেষণে দুটি ধাতব পরিবাহী বা গ্রাফাইট দন্ড ব্যবহৃত হয়, যা তড়িৎদ্বার হিসেবে কাজ করে। একটির মাধ্যমে ইলেকট্রন কোষে প্রবেশ করে, অন্যটির মাধ্যমে বের হয়ে যায়। 
- তড়িৎদ্বার ইলেকট্রনিক পরিবাহী ও ইলেকট্রোলাইট পরিবহীর মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের যোগসূত্র স্থাপন করে এবং কোষের বর্তনী পূর্ণ করে। 
- একটি তড়িৎ রাসায়নিক কোষ গঠনের জন্য দুটি তড়িৎদ্বারের প্রয়োজন। 
যেমন-
১। অ্যানোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ধনাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন দ্রবণ ছেড়ে চলে যায়, তাকে অ্যানোড তড়িৎদ্বার বা ধনাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- অ্যানোড তড়িৎদ্বারে জারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, অ্যানোডে অ্যানায়নগুলো ইলেকট্রন ত্যাগ করে আধান মুক্ত হয়। 

২। ক্যাথোড তড়িৎদ্বার: 
- যে তড়িৎদ্বার ব্যাটারির ঋণাত্মক প্রান্তের সাথে যুক্ত থাকে এবং যার মাধ্যমে ইলেকট্রন ব্যাটারি থেকে দ্রবণে প্রবেশ করে, তাকে ক্যাথোড তড়িৎদ্বার বা ঋণাত্মক তড়িৎদ্বার বলে। 
- ক্যাথোড তড়িৎদ্বারে বিজারণ ক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, ক্যাথোডে ক্যাটায়নগুলো ইলেকট্রন গ্রহণ করে আধান মুক্ত হয়। 

উৎস: রসায়ন, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৫৫.
পেট্রোলিয়ামের সঙ্গে ইথানল মিশিয়ে যে জ্বালানী তৈরি হয় তাকে বলে- 
  1. বায়ো গ্যাস
  2. রেকটিফাইড স্পিরিট
  3. মেথিলেটেড স্পিরিট
  4. পাওয়ার অ্যালকোহল
ব্যাখ্যা
অ্যালকোহল: 
- অ্যালকোহল বলতে সাধারণভাবে ইথানলকে বোঝায়। 
- স্টার্চ থেকে গাঁজন ক্রিয়ার মাধ্যমে ইথানল উৎপাদন করা হয়। 
- এটি একটি শক্তিশালী জৈব দ্রাবক। 
- ৯৫.৬% ইথানল ও ৪.৪% পানির মিশ্রণকে রেকটিফাইড স্পিরিট বলে। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটকে হোমিও ওষুধে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানলকে পারফিউম, কসমেটিক্স, ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হয়। 
- ইথানল পানীয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। 
- পানীয় হিসেবে ইথানলকে ব্যবহার না করার জন্য রেটিফাইড স্পিরিটের সাথে সামান্য মিথানল যোগ করে দেয়া হয়। 
- রেকটিফাইড স্পিরিটের সাথে মিথানল যুক্ত থাকলে এটি সম্পূর্ণভাবে পানের অযোগ্য হয়। এ মিশ্রণকে মেথিলেটেড স্পিরিট বলে। 
- ঔষধ শিল্পে ও খাদ্য শিল্পে ব্যবহৃত অ্যালকোহলের মধ্যে মিথানল যোগ করা হয় না। 
- ইথানলকে মোটর ইঞ্জিনের জ্বালানী হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। 
- পেট্রোলিয়াম জাতীয় উপাদানের সাথে প্রায় ৩০% ইথানল যোগ করে এ ধরনের জ্বালানী তৈরী করা হয়। এভাবে ব্যবহৃত অ্যালকোহলকে পাওয়ার অ্যালকোহল বলে
- অ্যালকোহলকে জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করলে জীবাশ্ম জ্বালানীর উপর চাপ কম পড়ে। তাছাড়া এটি পরিবেশ বান্ধব। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৬.
প্রোটিন মূলত কোন মনোমারের পলিমার? 
  1. গ্লুকোজ
  2. অ্যামাইনো এসিড
  3. ফ্যাটি অ্যাসিড
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- পলিমার শব্দটি গ্রিক শব্দ (পলি অর্থ 'বহু বা অনেক' এবং মেরোস অর্থ 'অংশ') থেকে উৎপত্তি হয়েছে। 
অর্থাৎ, পলিমার বলতে একই ধরনের অনেকগুলো ছোট ছোট অংশ যুক্ত হয়ে যে উচ্চ আণবিক ভবিশিষ্ট বৃহদাকার অণু তৈরি হয় তাকে বুঝায়। 
- যে ক্ষুদ্র অণু যুক্ত হয়ে পলিমার তৈরি হয় তাকে মনোমার বলা হয়। 
-পলিমার সাধারণত দুই প্রকার।
যথা: 
১। প্রাকৃতিক পলিমার: 
- সাধারণভাবে প্রাকৃতিক উৎস বিশেষ করে উদ্ভিদ ও প্রাণি থেকে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে প্রাকৃতিক পলিমার বলে। 
যেমন: প্রাকৃতিক রাবার, স্টার্চ, তুলা, রেশম, পশম, সিল্ক, উল ও পাট ইত্যাদি। 
- প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন বিভিন্ন শস্য দানা বিশেষ করে চাল, গম, ভুট্টা, যব ও গোল আলু এসব স্টার্চ গ্লুকোজের প্রাকৃতিক পলিমার। 
- মাছ, মাংস ও ডিম এসব প্রোটিন অ্যামাইনো এসিডের পলিমার। 

২। কৃত্রিম পলিমার: 
- পরীক্ষাগারে বা শিল্প-কারখানায় কৃত্রিমভাবে প্রস্তুত করে যে সমস্ত পলিমার পাওয়া যায়, তাদেরকে কৃত্রিম পলিমার বলে। 
যেমন: পলিইথিলিন, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (PVC), পলিস্ট্যারিন, টেফলন, টেরিলিন ও নাইলন ইত্যাদি। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৫৭.
শুষ্ক কোষে ক্যাথোড হিসেবে কোনটি ব্যবহার করা হয়?
  1. লৌহ দণ্ড
  2. দস্তার কৌটা
  3. কার্বন দণ্ড
  4. তামার দণ্ড
ব্যাখ্যা
• শুষ্ক কোষে ক্যাথোড হিসেবে কার্বনের দণ্ড ব্যবহার করা হয়।

• ড্রাই সেল:
- ড্রাই সেল বা শুষ্ক কোষ হলো এক ধরনের গ্যালভানিক কোষ। 

• ড্রাই সেলের মাধ্যমে রাসায়নিক শক্তিকে বিদ্যুৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়। 
- সাধারণত টর্চলাইট জ্বালাতে, রেডিও বাজাতে, টিভির রিমোট চালাতে, খেলনা চালাতে ড্রাই সেল ব্যবহার করা হয়।
 
• ড্রাই সেলের গঠন:
- ড্রাই সেল অ্যানোড এবং ক্যাথোড দ্বারা গঠিত।
- ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে সাধারণত ধাতব জিংকের তৈরি ছোট কৌটা ব্যবহার করা হয়।
- ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2) অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড NH4Cl জিংক ক্লোরাইড (ZnCl2) ও পাতিত পানি মিশ্রিত করে প্রস্তুতকৃত কাই (paste) দ্বারা জিংকের তৈরি ছোট কৌটা পূর্ণ করা হয়।
- এরপর জিংকের কৌটাটির মাঝখানে একটি কার্বন (গ্রাফাইট) দণ্ড প্রবেশ করানো হয়।
- ড্রাই সেলে কার্বন দণ্ড ক্যাথোড হিসেবে কাজ করে।
- ড্রাই সেলের অ্যানোড ও ক্যাথোড প্রান্তকে যদি বাল্ব বা কোনো ইলেকট্রনিক যন্ত্রের দুই প্রান্তে যুক্ত করা হয় তখন ইলেকট্রনের প্রবাহ সৃষ্টি হয় অর্থাৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়।
• ড্রাই সেলে অ্যানোড হিসেবে জিঙ্ক এবং ক্যাথোড হিসেবে কার্বন দণ্ড ব্যবহৃত হয়। 

তথ্যসূত্র:
- মাধ্যমিক রসায়ন, ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২৫৮.
সামান্য অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় কোন তাপমাত্রায় ও চাপে ইথিনকে উত্তপ্ত করে পলিথিন তৈরি করা হয়?
  1. 100 atm চাপে ও 100°C তাপমাত্রায়
  2. 100 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
  3. 1000 atm চাপে ও 100°C তাপমাত্রায়
  4. 1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায়
ব্যাখ্যা
পলিমার: 
- যে বিক্রিয়ায় কোনো পদার্থের অনেকগুলো ক্ষুদ্র অণু পরস্পর যুক্ত হয়ে বৃহৎ অণু গঠন করে সেই বিক্রিয়াকে পলিমারকরণ বিক্রিয়া (Polymerization Reaction) বলে।
- পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় যে ছোট অণুগুলো অংশগ্রহণ করে তাদের প্রত্যেকটিকে এক একটি মনোমার (monomer) বলে এবং বিক্রিয়ার ফলে যে বৃহৎ অণু গঠিত হয় তাকে পলিমার অণু বলে।
- দুইটি মনোমার একসাথে যুক্ত হলে তাকে বলে ডাইমার (dimer), তিনটি মনোমার একসাথে যুক্ত হয়ে তৈরি হয় ট্রাইমার (trimer)।
- এভাবে অনেকগুলো মনোমার এক সাথে যুক্ত হয়ে পলিমারের সৃষ্টি হয়।
- খাদ্যের একটি প্রধান উপাদান প্রোটিন, এই প্রোটিনও অ্যামাইনো এসিডের একটি পলিমার। 
- পলিমারকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবিভাগ করা যেতে পারে।
- তবে গঠন প্রকৃতি অনুযায়ী পলিমার দুই প্রকার।
যথা- সংযোজন বা যুত পলিমার এবং ঘনীভবন পলিমার। 

সংযোজন বা যুত পলিমার (Addition Polymer): 
- যে পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় মনোমার অণুগুলো সরাসরি একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে দীর্ঘ শিকলবিশিষ্ট পলিমার গঠন করে তাকে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলা হয়।
- সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়ায় গঠিত পলিমারকে সংযোজন পলিমার বলে।

সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া: 
- সামান্য পরিমাণ অক্সিজেনের উপস্থিতিতে 1000 atm চাপে ও 200°C তাপমাত্রায় ইথিনকে উত্তপ্ত করলে পলিথিন উৎপন্ন হয়
- এই বিক্রিয়াকে সংযোজন পলিমারকরণ বিক্রিয়া বলে।
- এই বিক্রিয়ায় ইথিনকে মনোমার বলা হয়।


উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৫৯.
অটোমোবাইল ব্যাটারিতে যে এসিড ব্যবহার করা হয়, তা হলো -
  1. হাইড্রোক্লোরিক এসিড
  2. হাইড্রোফ্লোরিক এসিড
  3. সালফিউরিক এসিড
  4. নাইট্রিক এসিড
ব্যাখ্যা
- সৌর প্যানেলে তৈরি সৌরবিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য সালফিউরিক এসিড (H2SO4) ব্যবহার করা হয়।
- বাসাবাড়িতে আইপিএস (IPS) চালানোর জন্য এবং গাড়িতে যে ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়, তার অত্যাবশ্যকীয় একটি উপাদান হলো সালফিউরিক এসিড (H₂SO₄)।
- ফসল উৎপাদনের জন্য সার হলো অতি প্রয়োজনীয় একটি জিনিস।
- সার হিসেবে আমরা যেগুলো ব্যবহার করি তার মধ্যে অন্যতম হলো অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3), অ্যামোনিয়াম সালফেট [(NH4)2SO4] ও অ্যামোনিয়াম ফসফেট [(NH4)3PO4]।
- সার কারখানায় এগুলো তৈরি করা হয় যথাক্রমে নাইট্রিক এসিড (HNO3), সালফিউরিক এসিড (H2SO4) এবং ফসফরিক এসিড (H3PO4) ব্যবহার করে।

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি [২০১৭ সংস্করণ]।
২৬০.
আনারসের সুগন্ধি তৈরিতে কোন এস্টার ব্যবহৃত হয়? 
  1. অকটাইল অ্যাসিটেট
  2. অ্যামাইল বিউটাইরেট
  3. আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট
  4. মিথাইল বিউটাইরেট
ব্যাখ্যা
এস্টার: 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের কার্বোক্সিল মূলকের -OH অংশকে অ্যালকক্সি বা অ্যারাইলক্সি দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে যে যে যৌগ গঠিত হয় তাকে এস্টার বলে।
- এস্টারের কার্যকরী মূলক -CO-O-R. 
- কার্বোক্সিলিক এসিডের এস্টারসমূহ সুগন্ধি।
- এস্টারের কারণেই বিভিন্ন ফল সুগন্ধি হয়ে থাকে।
- সংশ্লেষিত এস্টার দিয়ে ফলের সুগন্ধি তৈরি করা হয়।
- তেল, চর্বি, আঠা, সেলুলোজ, রঙ, ভার্ণিশ ইত্যাদির দ্রাবক হিসেবে এস্টার ব্যবহৃত হয়।
- বিউটাইল অ্যাসিটেট 'পেনিসিলিন' -এর দ্রাবক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- কৃত্রিম মনোরম স্বাদ ও সুগন্ধি তৈরিতে।
যেমন:
এস্টার ⇒ সুগন্ধির প্রকৃতি
• আইসোবিউটাইল ফরমেট ⇒ রাসবেরী, 
• আইসোঅ্যামাইল অ্যাসিটেট ⇒ কলা, 
• অকটাইল অ্যাসিটেট ⇒ কমলা, 
মিথাইল বিউটাইরেট ⇒ আনারস
• অ্যামাইল বিউটাইরেট ⇒ অ্যাপ্রিকট এবং 
• আইসোঅ্যামাইল ভ্যালেরেট ⇒ আপেল। 

উৎস: রসায়ন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬১.
যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান করে তাকে কী বলা হয়?
  1. বিজারক
  2. জারক
  3. ক্ষারক
  4. জারিত
ব্যাখ্যা
• বিজারক:
- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন দান/ত্যাগ করে সেগুলোকে বিজারক বলে।
- ইলেক্ট্রন দান/বর্জনের প্রক্রিয়াটিকে জারণ বলে।
- বিজারক - সকল ধাতু, হাইড্রোজেন।

• জারক:
- যে মৌল বা যৌগ ইলেকট্রন গ্রহণ করে তাকে জারক বলে।
- ইলেক্ট্রন গ্রহণের প্রক্রিয়াটিকে বিজারণ বলে।
- জারক - অক্সিজেন, ক্লোরিন, ফ্লোরিন, ব্রোমিন, আয়োডিন, পটাশিয়াম ইত্যাদি।

• ক্ষারক:
- ক্ষারক হলো মূলত ধাতব অক্সাইড বা হাইড্রোক্সাইড।
- কিছু কিছু ক্ষারক আছে যারা পানিতে দ্রবীভূত হয় আর কিছু আছে যারা দ্রবীভূত হয় না।
- যে সমস্ত ক্ষারক পানিতে দ্রবীভূত হয় তাদেরকে বলে ক্ষার। তাহলে ক্ষার হলো বিশেষ ধরনের ক্ষারক।

উৎস: রসায়ন বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬২.
অকটেনের সংকেত -
  1. C8H16
  2. C8H14
  3. C8H18
  4. C8H20
ব্যাখ্যা
অ্যালকেন: 
- কার্বন-কার্বন একক বন্ধন যুক্ত সম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন গুলোকে অ্যালকেন বলা হয়। 
- অ্যালকেন শুধুমাত্র হাইড্রোজেন এবং কার্বন পরমাণূ দ্বারা গঠিত যারা একক বন্ধনে আবদ্ধ থাকে।
- অ্যালকেনের সাধারণ রাসায়নিক সংকেত হলো CnH2n+2। 
- অকটেন একটি অ্যালকেন, যেখানে ১টি পরমাণুতে ৮ টি কার্বন থাকে।
- অকটেনের সংকেত C8H18

- অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বনের সাথে হাইড্রোজেন সংযোজন করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 
- প্রভাবক নিকেল ধাতু (Ni) এর উপস্থিতিতে 150-180° সে. তাপমাত্রায় অ্যালকিন ও অ্যালকাইনের সাথে হাইড্রোজেন সংযুক্ত করে অ্যালকেন প্রস্তুত করা হয়। 

অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম: 
- অ্যালকেনের ভৌত ধর্ম বিশেষ করে ভৌত অবস্থা, গলনাংক, স্ফুটনাংক নির্ভর করে যৌগের অণুতে কার্বনের সংখ্যার উপর। 
- এক থেকে চার কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেন গ্যাসীয়। 
- পাঁচ থেকে পনের কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা তরল। 
- ষোল থেকে উচ্চতর কার্বন বিশিষ্ট অ্যালকেনের ভৌত অবস্থা কঠিন। 

অন্যদিকে, 
CnH2n  হচ্ছে অ্যালকিনের সাধারণ সংকেত।
CnH2n - 2 হচ্ছে অ্যালকাইনের সাধারণ সংকেত। 

উৎস: রসায়ন প্রথম পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৩.
নিচের কোনটি ডিটারজেন্টের বৈশিষ্ট্য নয়? 
  1. ঠান্ডা পানিতে গলে যায়
  2. সিনথেটিক পদার্থ থেকে তৈরি 
  3. উত্তম ফেনা তৈরি করে 
  4. লবণের সাথে বিক্রিয়া করে চুন তৈরি করে
ব্যাখ্যা

ডিটারজেন্ট: 
- ডিটারজেন্ট বিশেষভাবে সিনথেটিক পদার্থ থেকে প্রস্তুত করা হয়, এই সিনথেটিক পদার্থ তৈরিতে বিভিন্ন কাচাঁমাল ব্যবহৃত হয়। 
যেমন- পেট্রোলিয়াম উপজাতসমূহ, সাবান তৈরির উপাদান, উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ চর্বি ইত্যাদি। 
- এছাড়া ডিটারজেন্টের মধ্যে থাকে গন্ধদ্রব্য, রঙ এবং কখনো জীবাণুনাশক পদার্থ। 
- ডিটারজেন্ট খর পানিতে কাজ করে এবং উত্তম ফেনা তৈরি করে। 
- ডিটারজেন্ট লবণের সাথে বিক্রিয়া করে দই বা চুন উৎপন্ন করে না। 
- ডিটারজেন্টের কঠিন তলে ঢোকার ক্ষমতা বেশি। 
- ডিটারজেন্ট ঠান্ডা পানিতে গলে যায় কিন্তু সাবান ঠান্ডা পানিতে সহজে গলে না। 

উৎস: সাধারণ বিজ্ঞান, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬৪.
প্রাথমিক তড়িৎ রাসায়নিক কোষ কোনটি?
  1. ড্যানিয়েল কোষ
  2. লেকল্যান্স কোষ
  3. এসিড স্টোরেজ কোষ
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
তড়িৎ রাসায়নিক কোষ:
যে তড়িৎ কোষে রাসায়নিক শক্তি বৈদ্যুতিক শক্তিকে রূপান্তরিত হয়, তাকে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ বলে।

তড়িৎ রাসায়নিক কোষকে স্বতঃস্ফূর্ততার ভিত্তিতে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
১. প্রাথমিক কোষ বা প্রাইমারি কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষ নিজের রাসায়নিক শক্তি থেকে সরাসরি তড়িৎ উৎপন্ন করে তড়িৎ প্রবাহ বজায় রাখে, তাকে প্রাথমিক কোষ বলে।
- লেকল্যান্স কোষ, ড্যানিয়েল কোষ, শুষ্ক কোষ বা ড্রাই সেল ইত্যাদি হলো প্রাথমিক কোষ।
২. সেকেন্ডারি কোষ বা সঞ্চয়ী কোষ: যে তড়িৎ রাসায়নিক কোষে বাইরে থেকে বিদ্যুত প্রবাহিত করে বিদ্যুত শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপে সঞ্চিত করা হয় এবং পরে ঐ রাসায়নিক শক্তিকে পুনরায় বিদ্যুত শক্তিতে রূপান্তরিত করা হয়, তাকে সেকেন্ডারি কোষ বলে।
- লেড-এসিড স্টোরেজ কোষ, নিকেল অক্সাইড সঞ্চয়ী কোষ, লেড সঞ্চয়ী কোষ ইত্যাদি হলো সেকেন্ডারি কোষ।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি। 
২৬৫.
নিচের কোনটি ব্যতিক্রম?
  1. ক) পানি
  2. খ) ইথানল
  3. গ) বেনজিন
  4. ঘ) ইথার
ব্যাখ্যা

যে পদার্থ অন্যান্য পদার্থকে দ্রবণে দ্রবীভূত করতে পারে তাকে দ্রাবক বলে।
আর যে পদার্থটি দ্রাবক দ্বারা দ্রবণে দ্রবীভূত হয়, তাকে বলা হয় দ্রব।
- পানি, অ্যামোনিয়া ইত্যাদি হলো অজৈব দ্রাবক পদার্থ।
- ইথানল, বেনজিন, ইথার, ক্লোরোফর্ম ইত্যাদি হলো জৈব দ্রাবক পদার্থ।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক রসায়ন বই, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

২৬৬.
সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত কোনটি?
  1. C17H35CONa
  2. C17H35COONa
  3. C17H35COOK
  4. C15H33COONa
ব্যাখ্যা
সাবান: 
- সাধারণত সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK) । 
এখানে R কে অ্যালকাইল মূলক বলা হয়, R এর সাধারণ সংকেত CnH2n+1 এবং n এর মান 12 থেকে 18 পর্যন্ত। 
যেমন: সোডিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COONa এবং পটাশিয়াম স্টিয়ারেট সাবানের সংকেত C17H35COOK । 
- তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়া করে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরি হয়। 
- সাবান ও গ্লিসারিন তৈরির এই প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে। 
- সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সাবান এবং গ্লিসারিনের মিশ্রণের মধ্যে NaCl যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো NaCl কে ঘিরে একত্র হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে উঠে, একে সোপ কেক বলে। 
- সোপ কেককে ছাঁকনির সাহায্যে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়। 
- সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য যা তেল বা চর্বি এবং ক্ষার থেকে প্রস্তুত করা হয়। 
- ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে সাবানকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা- 
১। প্রসাধনী সাবান (Cosmetic soap): 
- ত্বককে পরিষ্কার করার জন্য যেসব সাবান ব্যবহার করা হয় তাদেরকে প্রসাধনী সাবান বলে। 

২। লন্ড্রি সাবান (Laundry soap): 
- কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করার জন্য যেসব সাবান ব্যবহার করা হয় তাদেরকে কাপড় কাচা সাবান বা লন্ড্রি সাবান বলা হয়। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।
২৬৭.
কোনটি অর্গানিক যৌগ হিসেবে পরিচিত?
  1. কস্টিক সোডা
  2. মরিচা
  3. চুন
  4. ইউরিয়া
ব্যাখ্যা

• অপশন গুলোর মধ্যে ইউরিয়া অর্গানিক যৌগ হিসেবে পরিচিত। অর্গানিক যৌগ হলো সেই যৌগ যেটিতে প্রধানত কার্বন এবং হাইড্রোজেন থাকে, এবং প্রায়ই নাইট্রোজেন, অক্সিজেন বা সালফারও থাকতে পারে। ইউরিয়া হলো একটি নাইট্রোজেনযুক্ত অর্গানিক যৌগ। 

জৈব যৌগ: 
- কার্বন ও হাইড্রোজেন দ্বারা গঠিত যৌগসমূহকে হাইড্রোকার্বন বলা হয় এবং এই হাইড্রোকার্বন ও এদের জাতসমূহকে বলা হয় জৈব যৌগ। 
যেমন- 
• মিথেন, 
• ইথেন, 
• বেনজিন, 
• ইউরিয়া, 
• প্রোপিন, 
• পেন্টাইন ইত্যাদি। 
- জৈব যৌগের বিক্রিয়া হতে সাধারণত অনেক বেশি সময় লাগে। 
- জৈব যৌগসমূহ সাধারণত সমযোজী বন্ধনের মাধ্যমে গঠিত হয়। 

অজৈব যৌগ: 
- যেকোনো দুই বা ততোধিক মৌলের সমন্বয়ে অজৈব যৌগ গঠিত হয়। 
যেমন- 
• পানি, 
• খাবার লবণ, 
• খাবার সোডা, 
• কাপড় কাচার সোডা, 
• কস্টিক সোডা, 
• চুন, 
• মরিচা ইত্যাদি। 

উৎস: রসায়ন, নবম-দশম শ্রেণি।