বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৬০১৭০০ / ১,৬০৩

৬০১.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'সমাচার দর্পণ' কী ধরনের সংবাদপত্র ছিল?
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. পাক্ষিক
  4. মাসিক
ব্যাখ্যা

সমাচার দর্পণ:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত 'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে ১৮১৮ সালের মে মাসে।
- 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান ।
- এই সংবাদপত্রের প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬০২.
কোনটি অন্নদাশংকর রায়ের ছদ্মনাম?
  1. লীলাময় রায়
  2. জরাসন্ধ
  3. কালকূট
  4. দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশংকর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়

অন্যদিকে,
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী'র ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- সমরেশ বসু'র ছদ্মনাম - কালকূট।
 
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। 
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
 
তাঁর রচিত প্রধান উপন্যাস:
- যার যথা দেশ,
- অজ্ঞাতবাস,
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- মর্তের স্বর্গ,
- অপসরণ। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৬০৩.
"জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।" কোন পত্রিকার মূলমন্ত্র ছিল? 
  1. প্রগতি 
  2. শিখা
  3. ক্রান্তি 
  4. কল্লোল 
ব্যাখ্যা

• 'শিখা' পত্রিকার মূলমন্ত্র ছিল "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।"

• 'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র হিসেবে 'শিখা' পত্রিকা ১৯২৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকাটি প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল মুসলমান সমাজে কুসংস্কার, জড়তা দূর করে জ্ঞান ও যুক্তিবাদী চেতনার বিকাশ ঘটানো।
- এটি ছিল তৎকালীন মুসলিম সমাজের বুদ্ধিবৃত্তিক জাগরণের এক মূল্যবান দলিল, যা অসাম্প্রদায়িক ও ধর্মনিরপেক্ষ চিন্তাধারার প্রসার ঘটিয়েছিল। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত হতো।
- ১৯২৭ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি ছিল একটি বার্ষিক পত্রিকা।
- প্রথম সংখ্যায় আবুল হুসেন সম্পাদক ছিলেন, পরবর্তীতে কাজী মোতাহার হোসেন, মুহাম্মদ আব্দুর রশিদ, আবুল ফজল প্রমুখ দায়িত্ব পালন করেন।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব' কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০৪.
প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪ সালে
  2. ১৯১৫ সালে
  3. ১৯১৪ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে চলতি রীতির প্রচলনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬০৫.
‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  2. আবুল হোসেন
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. মুরলীধর বসু
ব্যাখ্যা
• ‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না - আবুল হোসেন। 
 
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬০৬.
শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক' কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. কাজী আবদুল ওদুদ
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা

• ১৯২০ সালের মে মাসে কাজী ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা 'শিক্ষক'। 
​- পত্রিকাটি তিন বছর চালু ছিল।

​-----------------------
• কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক ছিলেন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক। তিনি ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি। আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবন্মগ বাংলাপিডিয়া।

৬০৭.
'প্রিয়দর্শী' ছদ্মনামে কে লিখেছেন?
  1. সুফিয়া কামাল 
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আব্দুল মানান সৈয়দ 
  4. কাজী ইমদাদুল হক 
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬০৮.
পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) সমাচার দর্পণ
  2. খ) ঢাকা প্রকাশ
  3. গ) রংপুর বার্তাবহ
  4. ঘ) বরিশাল হিতৈষী
ব্যাখ্যা
- রংপুর বার্তাবহ পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- রংপুরের কুনডি পরগণার জমিদার কালীচন্দ্র রায়ের আর্থিক আনুকূল্যে ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সমাচার দর্পণ শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত  জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

[উৎস: বাংলাপিডিয়া]
৬০৯.
বিখ্যাত সাহিত্যপত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক কে?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• 'কবিতা' পত্রিকা:
- কবিতা’ পত্রিকা বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদনায় প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যপত্র।
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৫ সালে এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলমান ছিল।
- সূচনা পর্বে পত্রিকার সম্পাদনায় বুদ্ধদেব বসু ছাড়াও প্রেমেন্দ্র মিত্র এবং সমর সেন ছিলেন যুক্ত।
- শুধুমাত্র কবিতা এবং কবিতা-সংক্রান্ত আলোচনার জন্য নিবেদিত এ পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

অন্যদিকে,
- অক্ষয়কুমার দত্ত 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- কাজী নজরুল ইসলাম 'লাঙ্গল', 'ধুমকেতু' ও 'নবযুগ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১০.
বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. অক্ষয়কুমার দত্ত
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১১.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন না কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. জয়গোপাল তর্কালঙ্কার
ব্যাখ্যা

তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-  ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষাই ছিল এর উদ্দেশ্যে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন। 
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।

বিভিন্ন সময়ে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদকবৃন্দ:
- নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়,
- সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর,
- অযোধ্যানাথ পাকড়াশী,
- হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন,
- দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উল্লেখ্য,
- সমাচার দর্পণ পত্রিকার প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার' 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকায় সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৬১২.
'দৃষ্টিপাত'-এর লেখক 'যাযাবর'-এর প্রকৃত নাম কি?
  1. ভূদর মুখোপাধ্যায়
  2. বিনয় মুখোপাধ্যায়
  3. আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
  4. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম - 'যাযাবর'।

• আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ ছদ্মনাম: 
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল। 
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম-'সুনন্দ'। 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম টেকচাঁদ ঠাকুর। 
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'হাবু শর্মা'।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন। 
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১৩.
নিচের কোন সাহিত্যিকের ছদ্মনাম মৌমাছি?  
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. কালিকানন্দ 
  3. বিমল মিত্র
  4. বিমল ঘোষ 
ব্যাখ্যা

বিমল ঘোষ
- বাংলা শিশুসাহিত্যের একজন জনপ্রিয় লেখক হলেন বিমল ঘোষ।
- তিনি ‘মৌমাছি’ ছদ্মনামে সর্বাধিক পরিচিত।
- তিনি ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’-এ ছোটদের জন্য ‘আনন্দমেলা’ বিভাগ চালু করেছিলেন। 
- তিনি দীর্ঘদিন ‘আকাশবাণী কলকাতা’-র সঙ্গে কাজ করেছেন।
- তিনি শিশু-কিশোরদের জন্য অনেক গল্প, উপন্যাস ও নাটক লিখেছেন।
- এছাড়া তিনি ‘মণিমালা’ নামে একটি শিশু-কিশোর সংগঠনও গড়ে তুলেছিলেন।

- তাঁর বিখ্যাত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- চেঙাবেঙা,
- কামাল পরদেশী, 
- ইউরোপের অগ্নিকোণে।
------------------------- 
অন্যদিকে,
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম- লীলাময় রায়।
- কালিকানন্দের ছদ্মনাম- অবধূত।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া

৬১৪.
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়কোবাদ ভূষিত উপাধি নয় কোনটি?
  1. কাব্যভূষণ
  2. বিদ্যাভূষণ
  3. সাহিত্যরত্ন
  4. সাহিত্য বিশারদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত),
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- মহরম শরীফ।

অন্যদিকে,
• 'শেখ ফজলল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১৫.
নিচের কোন কবির উপাধি ‘বিদ্বদ্বল্লভ’?
  1. ক) মাণিক দত্ত
  2. খ) দ্বিজ মাধব
  3. গ) মুকুন্দরাম
  4. ঘ) বসন্তরঞ্জন রায়
ব্যাখ্যা
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও পুথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দে) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলায় কাকিল্যা গ্রামে মল্লরাজগুরু বৈষ্ণবমহন্ত শ্রীনিবাসের দৌহিত্র শ্রী দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পুথি আবিষ্কার করেন।

• ১৯১৬ (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে ’শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
• বসন্তরাজকে ‘বিদ্বদ্বল্লভ' উপাধি দেয়া হয়৷ নবদ্বীপের ভূবনমোহন চতুস্পাঠীর অধ্যক্ষ কর্তৃক এই উপাধি প্রদান করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১৬.
'সজনীকান্ত দাস' সম্পর্কিত পত্রিকার নাম কী?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. রবিবারের ডাক
  3. বিজলী
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
শনিবারের চিঠি পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি  স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- উল্লেখ্য, পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন - যোগানন্দ দাস।
- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬১৭.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হত?
  1. জ্ঞানাঙ্কুর
  2. প্রতিবিম্ব
  3. ভারতী
  4. বিচিত্রা
ব্যাখ্যা
'কবি-কাহিনী' রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- 'ভারতী' পত্রিকায় পৌষ-চৈত্র, ১২৮৪ বঙ্গাব্দ (১৮৭৮ খ্রি.) সংখ্যায় এর কবিতাগুলো ছাপা হত। 
- ১৮৭৮ সালেই এর কবিতাগুলো নিয়ে 'কবি-কাহিনী' গ্রন্থ প্রকাশিত হলে গ্রন্থাকার হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিচয় আরম্ভ হয়। 
- চার সর্গে বিভক্ত এই নাতিদীর্ঘ কাব্যের নায়ক এক কবি এবং নায়িকা নলিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬১৮.
নিচের কোনটি অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা?
  1. পূর্বাশা
  2. ধূমকেতু
  3. সওগাত
  4. সমকাল
ব্যাখ্যা
• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।


-------------------
• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:

- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল। টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

• 'সওগাত' পত্রিকা:
- সওগাত একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা।
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম। তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ নামে একটি ছোট গল্প পাঠান।এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।
- সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল। এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।

• 'সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান।
- তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬১৯.
কবিতা বিষয়ক পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) কবিতা
  2. খ) চিত্রদর্শন
  3. গ) মোসলেম ভারত
  4. ঘ) কল্লোল
ব্যাখ্যা
• কবিতাবিষয়ক পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু।

• পত্রিকা 'কবিতা': 
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- ঢাকা থেকে প্রগতি (১৯২৭-১৯২৯) এবং  কলকাতা থেকে কবিতা (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র-  প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

এছাড়া, 
- 'কল্লোল' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
- বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা -'চিত্রদর্শন'।
- 'মোসলেম ভারত' - পত্রিকাটি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক এর সম্পাদনায় ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২০.
উনিশ শতকের পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. তত্ত্ববােধিনী
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা

• 'কল্লোল'  উনিশ শতকের পত্রিকা নয়।
- এটি বিশ শতকের পত্রিকা। 

• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।

------------------
অন্যদিকে,
বঙ্গদর্শন পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
------------------
• তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
-----------------
• সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

------------------
সুতরাং, দেখা যাচ্ছে,
- 'কল্লোল' পত্রিকা পত্রিকাটি - বিশ শতকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে, 
বঙ্গদর্শন, তত্ত্ববোধিনী ও সংবাদ প্রভাকর - উনিশ শতকের পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬২১.
সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক পত্রিকা “চতুরঙ্গ” কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯৩১
  2. খ) ১৯৩৫
  3. গ) ১৯৩৯
  4. ঘ) ১৯৪৩
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির সম্পাদিত বিখ্যাত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকা “চতুরঙ্গ” ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়। তার ;রচিত বিখ্যাত উপন্যাস - নদী ও নারী। উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য।
৬২২.
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাটি প্রথমে কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. ত্রৈমাসিক
  2. দৈনিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. বার্ষিক
ব্যাখ্যা
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৬২৩.
'কবিরঞ্জন' উপাধিটির কার?
  1. রামপ্রসাদ সেন
  2. রামনিধি গুপ্ত
  3. শেখ ফয়জুল্লাহ
  4. মালধর বসু
ব্যাখ্যা
• রামপ্রসাদ সেন:
- রামপ্রসাদ সেন বাংলা ভক্তিগীতির, বিশেষত শ্যামাসঙ্গীতের শ্রেষ্ঠ রূপকার, সাধককবি, গায়ক।
- সংসারের বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টকে গৌরব মনে করে মায়ের উদ্দেশে তিনি গান বেঁধেছেন: 'আমি কি দুঃখেরে ডরাই।'
- রামপ্রসাদ প্রচুর গান রচনা করেছিলেন যার বেশির ভাগই হারিয়ে গেছে।
- কৃষ্ণচন্দ্র তাকে 'কবিরঞ্জন' উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে 'রামপ্রসাদী সুর' নামে
পরিচিত।
- রামপ্রসাদ নিজে এই সুরে কালী বা শ্যামার উদ্দেশে অনেক সঙ্গীত রচনা করেন, যা শ্যামাসঙ্গীত নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৪.
'তমুদ্দিন মজলিস' এর মুখপত্র 'সৈনিক' পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন -
  1. কামরুদ্দীন আহমদ
  2. আবুল কালাম
  3. শাহেদ আলী
  4. আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা

তমদ্দুন মজলিশ:
তমদ্দুন মজলিশ  ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। দেশে ইসলামী আদর্শ ও ভাবধারা সমুন্নত করার প্রত্যয় নিয়ে ভারত বিভাগের অব্যবহিত পরেই ঢাকায় গড়ে উঠে এই সংগঠনটি।
- ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ও অধ্যাপকের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিলো - বাংলা ভাষার মাধ্যমে সংস্কৃতির সেবা করা। পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাংলা ভাষার পক্ষে সংস্থাটির ভূমিকা ছিলো প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তিনি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

- তমদ্দুন মজলিশের মুখপত্র ছিলো - সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকা
- এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৪ নভেম্বর (২৮ কার্তিক ১৩৫৫)।
- শুরুতে সৈনিক পত্রিকার সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শাহেদ আলী এবং পরে সভাপতি হন আবদুল গফুর

১৯৪৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু?" শিরোনামে বাংলা ভাষার পক্ষে তমদ্দুন মজলিশ একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।

উৎস: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র (প্রথম খন্ড), পৃষ্ঠা - ৪৯ ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী।

৬২৫.
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত ছদ্মনাম— 
  1. কালকূট
  2. সুনন্দ
  3. জাবালি
  4. চিত্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ব্যবহৃত ছদ্মনাম — সুনন্দ।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- কালকূট ও ভ্রমর।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২৬.
কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকা-
  1. ক) সমকাল
  2. খ) প্রগতি
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) ক্রান্তি
ব্যাখ্যা

• কলকাতা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকাঃ
- কালিকলম
- কল্লোল।
• ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকাঃ
- শিখা,
- প্রগতি,
- ক্রান্তি,
- লোকায়ত,
- সমকাল ইত্যাদি
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৬২৭.
প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী ছিলো? 
  1. লেখরাজ সামন্ত
  2. মৈনাক
  3. বীরবল
  4. নবকুমার
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বীরবল।

অন্যদিকে,
​প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
​শামসুর রাহমান ব্যবহৃত ছদ্মনাম- মৈনাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬২৮.
‘প্রগতি’ মাসিকপত্রটি প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ঢাকা থেকে
  2. খ) কুষ্টিয়া থেকে
  3. গ) কলকাতা থেকে
  4. ঘ) রংপুর থেকে
ব্যাখ্যা
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- মাসিকপত্র ‘প্রগতি’ র  সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, ‘প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ।

তথ্যসূত্র:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৯.
কত সালে 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮২১ সালে
  2. ১৮৪৩ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৯৩২ সালে
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬৩০.
সাহিত্যিক- উপাধি নয়-
  1. ক) কাব্য-সুধাকর
  2. খ) দৌলত-উজির
  3. গ) পরশুরাম
  4. ঘ) রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

- রাজেন্দ্রশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

অপরদিকে,
- কাব্য-সুধাকর, দৌলত উজির বাহারাম খাঁ এবং রায়গুণাকর যথাক্রমে গোলাম মোস্তফা, আসাউদ্দীন (দৌলত উজির বাহারাম খাঁ-র প্রকৃত নাম) এবং ভারতচন্দ্র’র সাহিত্যিক উপাধি।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৩১.
'চতুরঙ্গ' পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন-
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হুমায়ুন কবির
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা:
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে ত্রৈমাসিক 'চতুরঙ্গ' অবিস্মরণীয় নাম। 'চতুরঙ্গ'-এর প্রথম সংখ্যা (আশ্বিন ১৩৪৫) বের হয় ১৯৩৮ খ্রীষ্টাব্দের শেষ দিকে, অক্টোবর মাসে। তবে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল বছরের প্রথম দিকেই।
- ঐ ঐতিহাসিক উদ্যোগের প্রধান তিন কলাকুশলী হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪), আতাউর রহমান। তবে প্রথম থেকেই হুমায়ুন কবিরই ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা।

------------------
• হুমায়ুন কবির:
- হুমায়ুন কবির ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, লেখক, দার্শনিক। তিনি ফরিদপুর জেলার কোমরপুর গ্রামে ১৯০৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম খান বাহাদুর কবিরুদ্দিন আহমদ।
- লেখক ও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি বেশ খ্যাতি কুঁড়িয়েছেন।
- 'নদী ও নারী' উপন্যাসটির রচয়িতা হুমায়ুন কবির।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- ধারাবাহিক।
- শরৎ সাহিত্যের মূলতত্ত্ব।
- বাংলার কাব্য।
- মার্কসবাদ।
- শিক্ষক ও শিক্ষার্থী।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নসাধ।
- সাথী।
- অষ্টাদশী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা।

৬৩২.
কবি, প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক বিষ্ণু দে কোন পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন?
  1. ক) বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা
  2. খ) কালিকলম
  3. গ) সাহিত্যপত্র
  4. ঘ) পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

কবি, প্রাবন্ধিক ও চিত্র সমালোচক বিষ্ণু দে ১৯৪৮ সালে 'সাহিত্যপত্র' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদকমণ্ডলীর একজন ছিলেন।

বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা- কালিপ্রসন্ন সিংহ

কালিকলম- প্রেমেন্দ্র মিত্র

পূর্বাশা- সঞ্জয় ভট্টাচার্য

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৬৩৩.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত দীর্ঘ বারো বছর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. ক) পরিচয়
  2. খ) চিত্রদর্শন
  3. গ) সাম্যবাদী
  4. ঘ) ভারতী
ব্যাখ্যা
• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, (১৯০১-১৯৬০) ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক। ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
১৯৩১ সাল থেকে দীর্ঘ বারো বছর তিনি পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৫-৪৯ সময়কালে তিনি স্টেটসম্যান পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। প্রমথ চৌধুরীর সবুজপত্রের সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল।
• সুধীন্দ্রনাথ কর্মজীবনের পাশাপাশি সাহিত্যচর্চাও করেছেন। আধুনিক মনন ও বৈশ্বিক চেতনার কারণে তিনি বাংলা কাব্যে স্বতন্ত্র স্থান লাভ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি:
• কাব্য:
- তন্বী,
- অর্কেস্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- দশমী;

• গদ্যগ্রন্থ:
- স্বগত,
- কুলায় ও কালপুরুষ।
এছাড়া প্রতিধ্বনি (১৯৫৪) নামে তাঁর একটি অনুবাদগ্রন্থও আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৩৪.
কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম ছিল না?
  1. নবকুমার
  2. কলমগীর
  3. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  4. ভ্রমর
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন।
যেমন,
নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম ছিলো - 'ভ্রমর'।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
 - কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম  লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৩৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. অনুপমা দেবী
  2. অনুরূপা দেবী
  3. নীহারিকা দেবী
  4. অন্নকালী দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্ৰী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৬৩৬.
’বনফুল’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
ব্যাখ্যা
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি একজন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।
- জন্ম ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলার মণিহারী গ্রামে।
- বলাইচাঁদের পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল হুগলি জেলার শিয়ালখালায়। 
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন।

তাঁর রচিত কাব্যসংকলন:
-  বনফুলের কবিতা ,
- অঙ্গারপর্ণী,
- চতুর্দশী ,
- আহবনীয়,
- করকমলেষু , 
- বনফুলের ব্যঙ্গ কবিতা,
- নতুন বাঁকে,
- প্রভৃতি তাঁর কাব্য সংকলন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬৩৭.
'সন্দেশ' পত্রিকা কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  2. খ) সুকুমার রায়
  3. গ) সত্যজিৎ রায়
  4. ঘ) অন্নদাশংকর রায়
ব্যাখ্যা
উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৩ সালে বিখ্যাত শিশুতোষ মাসিক পত্রিকা 'সন্দেশ' প্রথম প্রকাশিত হয় যা আজও  কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি জনপ্রিয় শিশুকিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- দেশবিদেশের গল্প, হাস্যকৌতুক, জ্ঞান বিজ্ঞানের কথা ইত্যাদি লেখার পাশাপাশি নিজের আঁকা নানা বুদ্ধিদীপ্ত ছবি সংযোজনের মাধ্যমে সন্দেশকে তিনি তরুণ হূদয়ের যোগ্য একটি পত্রিকা হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর পুত্র সুকুমার রায় 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৩৮.
নিচের কোনটি বিংশ শতাব্দীর পত্রিকা?
  1. ঢাকা প্রকাশ
  2. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
সবুজপত্র পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

অন্যদিকে,
- কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত - ঢাকা প্রকাশ (১৮৬১- উনিশ শতক) হল ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা পত্রিকা।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা - (১৮৬৩ -উনিশ শতক) পত্রিকা হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে প্রকাশিত হয়।
• তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা- (১৮৪৩ - উনিশ শতক) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৩৯.
"কবিতা" পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. বিষ্ণু দে
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• "কবিতা" পত্রিকা:
- কবিতাবিষয়ক পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু।

- ঢাকা থেকে 'প্রগতি' (১৯২৭-১৯২৯) এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' (১৯৩৫-১৯৬০) পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা তাঁর জীবনের উল্লেখযোগ্য কর্ম।

- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন। পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।

- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।
- কবিতাবিষয়ক 'কবিতা' পত্রিকাটি তখন সাহিত্যিক মহলে উচ্চ প্রশংসা লাভ করে; রবীন্দ্রোত্তর কবিতা-আন্দোলনেও এর ভূমিকা স্বীকৃত। বুদ্ধদেব নিজেও রবীন্দ্র- প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে আসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৪০.
আবদুল মান্নান সৈয়দ কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. মান্নান আলী
  2. সোহেল সৈয়দ
  3. অশোক সৈয়দ
  4. সৈয়দ আশরাফ
ব্যাখ্যা
আবদুল মান্নান সৈয়দ:
- তিনি ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি প্রথম জীবনে 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নজরুল পুরস্কার (১৯৯৮), নজরুল পদক (২০০১) ইত্যাদি পদক ও পুরস্কার লাভ করেন।
- তিনি ২০১০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পরিপ্রেক্ষিতের দাস-দাসী,
- শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি,
- অ-তে অজগর,
- পোড়ামাটির কাজ,
- ক্ষুধা প্রেম আগুন,

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- সত্যের মতো বদমাশ,
- চলো যাই পরোক্ষে,
- মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা,
- নেকড়ে হায়েনা আর তিন পরী ইত্যাদি।

তাঁর রচিত স্মৃতিকথা:
- স্মৃতির নোটবুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪১.
স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল -
  1. ক) পূর্বাশা
  2. খ) কালিকলম
  3. গ) পূর্বমেঘ
  4. ঘ) নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্য পত্র। 
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলীর যৌথ সম্পাদনায়। 
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর স্বাধীন পূর্ব বাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্য পত্রিকা ছিল 'নয়া সড়ক'। 
- এ সাহিত্য পত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। 
অন্যদিকে, 
- 'পূর্বাশা' পত্রিকাটি সঞ্জয় ভট্টাচার্য এর সম্পাদনায় ১৯৩২ সালে কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্য বিষয়ক 'কালিকলম' পত্রিকাটি প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় ১৯২৬ (১৩৩৩ বঙ্গাব্দ) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'পূর্বমেঘ' সাহিত্য পত্রিকাটি জিল্লুর রহমানের সম্পাদনায় ১৯৬০ সালে রাজশাহী থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪২.
'নয়া সড়ক' পত্রিকা কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. বার্ষিক
  2. ষান্মাসিক
  3. মাসিক
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৪৩.
‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের সুত্রপাত করে কোন পত্রিকাটি?
  1. ধুমকেতু
  2. শিখা
  3. ভারতী
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা
বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন:
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারবিরোধী একটি প্রগতিশীল আন্দোলন।
- বাংলার মুসলমান সমাজের যে ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার ও কুপ্রথা বিরাজমান ছিল, সেসব দূরীকরণই ছিল এ আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
- এই সমাজ তাদের মুখপত্র হিসেবে ‘শিখা’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করত, যার প্রতিটি সংখ্যায় লেখা থাকত ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'।
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন গঠিত হয় কয়েকজন আলোকিত মানুষের উদ্যোগে।
- তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির প্রমুখ।

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)।
- পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৪, দাম আট আনা, মুদ্রণ সংখ্যা ১০০০।
- এই পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন অধ্যাপক আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ও আবুল ফজল। 
-  শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
৬৪৪.
কোন পত্রিকায় লেখার মাধ্যমে শরৎচন্দ্রের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পরে?
  1. ক) ভারতী
  2. খ) মুখ ও মুখোশ
  3. গ) প্রথম আলো
  4. ঘ) প্রগতি
ব্যাখ্যা
ভারতী পত্রিকায় বড়দিদি উপন্যাস লেখার মাধ্যমে শরৎচন্দ্রের সাহিত্যের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পরে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
৬৪৫.
শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন-
  1. বদরুদ্দীন ওমর
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বিজন ভট্টাচার্য
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম। 

• মোজাম্মেল হক কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক সময় পত্রিকায় প্রথম সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন; পরে শান্তিপুর রামনগর ভার্নাকুলার স্কুলে দ্বিতীয় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। এর এক বছর পর ১৮৮৭ সালে তিনি শান্তিপুর জুনিয়র জুবলি মাদ্রাসার শিক্ষক নিযুক্ত হন। তামাচিকা বঙ্গ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবেও তিনি চাকরি করেন।

• মোজাম্মেল হক 'লহরী' (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। চল্লিশ বছর যাবৎ তিনি শান্তিপুর মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনার ও কিছুকাল ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ত্রিশ বছর নদীয়া জেলা বোর্ডের শিক্ষা কমিটির সদস্য, বিশ বছর অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট ও কিছুকাল বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (১৯১১) সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৪৬.
১৯২৭ সালে 'শিখা' পত্রিকাটি কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. বার্ষিক
  4. ত্রৈমাসিক
ব্যাখ্যা

• 'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।

• 'শিখা' পত্রিকা সম্পর্কিত কিছু অতিরিক্ত তথ্য:
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৪৭.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম কী ছিল?
  1. কালকূট
  2. মৌমাছি
  3. বনফুল
  4. যাযাবর
ব্যাখ্যা

• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল- বনফুল।

অন্যদিকে,
• বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম ছিল- মৌমাছি।
• সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম ছিল- কালকূট।
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল- যাযাবর।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম: 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- নীল ‍উপাধ্যায়, নীল লোহিত, সনাতন পাঠক।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় - হাবু শর্মা।
• সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত - নীহারিকা দেবী। 
• বিমল মিত্র - জাবালি।
• সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৪৮.
"চার-ইয়ারী কথা" গ্রন্থের গল্পগুলো প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ভারতী 
  2. পরিচয় 
  3. সাধনা 
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• "চার-ইয়ারী কথা" গল্পগ্রন্থ:
- প্রমথ চৌধুরী রচিত "চার-ইয়ারী কথা" প্রথম প্রকাশিত হয় 'সবুজপত্র' পত্রিকায়। ১৩২২ বঙ্গাব্দের চৈত্র, ১৩২৩-এর বৈশাখ ও জৈষ্ঠ্য সংখ্যায় তিন কিস্তিতে গল্পটি প্রকাশিত হয়। বহু প্রশংসিত হবার পর, এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় ১৯১৬ সাধারণাব্দে।

- প্রমথ চৌধুরী বইটি উৎসর্গ করেন স্ত্রী ইন্দিeরা দেবী চৌধুরাণীকে। ১৯৪৪-এ এই বইটির ইন্দিরা দেবীকৃত ইংরেজি তর্জমা 'Tale of Four Friends' প্রকাশ করে বিশ্বভারতী।

- গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে চার বন্ধুর প্রেমের কাহিনি। গল্পগ্রন্থের নায়িকা চারজনই ইউরোপীয়। গল্পগ্রন্থে প্রথম নায়িকা উন্মাদ, দ্বিতীয় চোর, তৃতীয় প্রতারক ও চতুর্থ নায়িকা মৃত্যুর পর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।

- সেসময় অনেকেই প্রমথ চৌধুরীকে মুখে বলেছেন: তাঁর নায়িকাগুলির বর্ণনা, কথোপকথন ও চরিত্রাঙ্কন এত নিখুঁত যে মনে হওয়াই স্বাভাবিক যে 'চার ইয়ারি কথা'-র চারটি নায়িকার সঙ্গে বিলেতে তাঁর নিশ্চয়ই পরিচয় ছিল। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন লেখা সম্ভব নয়।

- প্রত্যুত্তরে প্রমথ চৌধুরী বলেন: “প্রথম নায়িকা হচ্ছে পাগল, দ্বিতীয়টি চোর, তৃতীয়টি জুয়াচ্চোর, আর চতুর্থটি ভূত। বলা বাহুল্য, একরকম চারটি সম্পূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রের নায়িকার একটির পর একটির সঙ্গে পরিচয় হওয়া অসম্ভব। এই চারটিই আমার মনগড়া। তবে এর ভিতর তৃতীয় গল্পের নায়িকার সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল, যাকে আমি রিণী নামে গড়ে তুলেছি।"

- সেকালে পাঠক সমাজের বিশেষ উৎসাহ ছিল তৃতীয় গল্পের রহস্যময়ী নায়িকা রিণীকে নিয়ে। বিশেষত রিণীর সঙ্গে লেখকের কোনো সম্পর্ক ছিল কিনা তা-ই নিয়ে। আত্মকথায় এ বিষয়ে প্রমথ চৌধুরী যা লিখেছিলেন তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে। আর যে কিছুটা অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে তা বৈশাখী-তে (১৩৫২) প্রকাশিত হয়েছে।

উৎস: চার-ইয়ারী কথা' গল্পগ্রন্থ।
৬৪৯.
বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
  1. সমাচার চন্দ্রিকা
  2. সমাচার দর্পণ
  3. তত্ত্ববোধিনী
  4. বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র - 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫০.
প্রতিষ্ঠার পর থেকে 'শিখা' পত্রিকার মোট কয়টি সংখ্যা প্রকাশ পেয়েছিল?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

শিখা পত্রিকা: 
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৫১.
'সবুজপত্র' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জসীম উদ্‌দীন
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- 'সবুজপত্র' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫২.
'কল্লোল' পত্রিকাটি প্রথম সম্পাদনা করেন কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম 
  2. দীনেশরঞ্জন দাশ
  3. মোজাম্মেল হক 
  4. সজনীকান্ত দাস 
ব্যাখ্যা

• 'কল্লোল' পত্রিকা:
- অতি আধুনিক লেখকগোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবে এই পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

• 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন: 
- অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত,
- শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়,
- বুদ্ধদেব বসু,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৫৩.
‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা সর্বশেষ কবে পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ১৮৯০ সাল
  2. ১৯৩২ সাল
  3. ১৯০০ সাল
  4. ১৯৪০ সাল
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৫৪.
কাজী নজরুল ইসলামের সাথে আর কে 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি সম্পাদনা করতেন?
  1. মুজাফ্‌ফর আহমদ
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা:
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫৫.
নীহাররঞ্জ গুপ্তের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. দাদাভাই 
  2. বাণভট্ট
  3. সুনন্দ
  4. ক ও খ 
ব্যাখ্যা

• নীহাররঞ্জ গুপ্তের ছদ্মনাম - বাণভট্ট, দাদাভাই।

অন্যদিকে,
• 'সুনন্দ' ছদ্মনামে লিখতেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়।

এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম হলো- 
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল- যাযাবর। 
• মধুসূদন মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিল- দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫৬.
'কণ্ঠস্বর' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ
  3. আবদুর রশীদ খান
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

'কণ্ঠস্বর' পত্রিকা:
- আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’ কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি বৃহৎ আন্দোলনের সূতিকাগার।
- এই পত্রিকার সারথি হিসেবে, পত্রিকার সাহিত্যাদর্শ আর সাহিত্য-উদ্দেশ্যের নির্মাতা হিসেবে, সাংগঠনিক কাজকর্মের সম্পাদক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিষ্ঠার সঙ্গে যে পরিশ্রম করেছেন, তা বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
- বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে বিশ শতকের ষাটের দশকে বেশ কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোট-কাগজ প্রকাশিত হয়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে নতুন দিগ্বলয় সৃষ্টি করে। এর মধ্যে 'কণ্ঠস্বর' অন্যতম।

অন্যদিকে,
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- 'নতুন কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক - আবদুর রশীদ খান।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা - নয়া সড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৫৭.
'নয়া সড়ক' কোন ধরনের সাহিত্যপত্র ছিল?
  1. মাসিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. বার্ষিক
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা
• "নয়া সড়ক" পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র। পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমির 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫৮.
অদ্বৈত মল্লবর্মণ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. ক) সাহিত্য
  2. খ) নবশক্তি
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) শিখা
ব্যাখ্যা
- অদ্বৈত মল্লবমর্ণ ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি। 
- তার সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৫৯.
মীর মশাররফ হোসেন কোন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন?
  1. আজিজননেহার
  2. হিতকরী
  3. সুধাকর
  4. ক এবং খ উভয়ই 
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭–১৯১১):
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক। উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে তিনি পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্রের যুগে তিনি গদ্যশিল্পে অসাধারণ প্রতিভার পরিচয় দেন।

জীবনপরিচয়:
জন্ম: ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর — কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে।
কর্মজীবন শুরু: ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-য় মফঃস্বল সংবাদদাতা হিসেবে।
সাহিত্যগুরু: গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক — ‘কাঙাল হরিনাথ’।
সম্পাদনা করেছেন: আজিজননেহার ও হিতকরী নামের পত্রিকা।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৬০.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন -
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন স্বনামধন্য বাঙালি কবি, লেখক এবং সেই সাথে বিশিষ্ট ছড়াকারও।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন
- পথে প্রবাসে ও ইউরোপের চিঠি তাঁর রচিত দুইটি ভ্রমণকাহিনি।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের প্রথম কবিতাগ্রন্থ - রাখী (১৯৩২)।

তাঁর রচিত উপন্যাস গুলো:
- কঙ্কাবতী,
- দুঃখমোচন,
- অপসরণ,
- অজ্ঞাতবাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬৬১.
'সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সত্যেন সেন
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. শামসুর রাহামান
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন কথাশিল্পী। ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভকরেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• শামসুর রাহমান বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখতে গিয়ে নানা ছদ্মনাম নিয়েছেন। সেগুলো হচ্ছে: সিন্দবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, নেপথ্যে, মৈনাক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬২.
'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. দীনেশরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
- 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৬৩.
'ভারতী' পত্রিকা কে সম্পাদনা করতেন?
  1. নিরুপমা দেবী
  2. কামিনী রায়
  3. স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. মানকুমারী বসু
ব্যাখ্যা

- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন।

উল্লেখ্য,
- কিশোর পত্রিকা "বালক" [১৮৮৫] স্বর্ণকুমারী দেবীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৬৬৪.
'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. আবদুল্লাহ আল-মুতী
  2. আবদুল মান্নান সৈয়দ
  3. আল মাহমুদ
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা
• আবদুল মান্নান সৈয়দ:
• আবদুল মান্নান সৈয়দ (১৯৪৩-২০১০) কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য-সমালোচক। ১৯৪৩ সালের ৩ আগস্ট পশ্চিম বঙ্গের চবিবশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন।

• আবদুল মান্নান সৈয়দ ১৯৬০ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন এবং পাঁচ দশক ধরে লেখা অব্যহত রাখেন। তাঁর প্রথম গ্রন্থ 'জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ' প্রকাশিত হয় ১৯৬৭ সালে। তাঁর কবিতায় কখনো মৃত্যুচেতনা, কখনো রোমান্টিকতা, কখনো সুররিয়ালিজম, প্রতীকধর্মী আবার কখনো এ্যাবসার্ডধর্মী ভাবনার প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। তাছাড়া আবদুল মান্নান সৈয়দ ছন্দ বিষয়ে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। প্রবোধচন্দ্র সেন ও শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ছিলেন তাঁর ছন্দবিষয়ক শিক্ষক।

• সাহিত্য রচনার প্রথম দিকে তিনি 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। 

----------------
কবিতা, উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-গবেষণা, কাব্যনাটক, স্মৃতিকথাসহ তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা দেড় শতাধিক। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
• কবিতা গ্রন্থ:
জন্মান্ধ কবিতাগুচ্ছ; নির্বাচিত কবিতা; কবিতা কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড; পরাবাস্তব কবিতা; পার্ক স্ট্রিটে এক রাত্রি; মাছ সিরিজ। 

• ছোটগল্প:
সত্যের মতো বদমাশ; চলো যাই পরোক্ষে; মৃত্যুর অধিক লাল ক্ষুধা। 

• উপন্যাস:
পরিপ্রেক্ষিতের দাসদাসী; অ-তে অজগর; গভীর গভীরতর অসুখ; ক্ষুধা প্রেম আগুন; শ্রাবস্তীর দিনরাত্রি।

• নাটক/কাব্যনাটক:
চাকা (১৯৮৫), নাট্যগুচ্ছ (১৯৯১), কবি ও অন্যেরা (১৯৯৬)। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৬৫.
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা কোনটি?
  1. বালক
  2. সাধনা
  3. ভারতী
  4. পরিচয় 
ব্যাখ্যা

• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

অন্যদিকে, 
• কিশোর পত্রিকা "বালক" [১৮৮৫] স্বর্ণকুমারী দেবীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
• 'ভারতী' পত্রিকা: 'ভারতী' পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়। পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
• 'পরিচয়' পত্রিকা:  সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিদিয়া। 

৬৬৬.
‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত হন কে?
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. মুহম্মদ এনামুল হক
  3. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  4. ড মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা

সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
-  ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো ‘অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)’।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৬৬৭.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  3. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত 
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা

• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• অন্নদাশঙ্কর রায় রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন-
ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপটচন্দ্র ভাস্কর, আন্নাকালী পাকড়াশী, দিকশূণ্য ভট্টাচার্য, নবীনকিশোর শর্মণঃ, ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, শ্রীমতি কনিষ্ঠা, শ্রীমতি মধ্যমা।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন। সেগুলো হলো- অনিলা  দেবী, অপরাজিতা দেবী,শ্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুরূপা দেবী, শ্রীকান্ত শর্মা ও পরশুরাম।

• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬৬৮.
মোসলেম ভারত প্রকাশিত হয়-
  1. ক) ১৯১৮
  2. খ) ১৯২০
  3. গ) ১৯২২
  4. ঘ) ১৯২৭
ব্যাখ্যা
- ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিখ্যাতি লাভের পশ্চাতে এই পত্রিকার বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল।
- ‘মোসলেম’ শব্দটি থাকলেও এটি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পত্রিকা। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
অন্যদিকে,
- ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয় ‘সওগাত’ পত্রিকা।
- এর সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- ১৯২২ সালে কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘ধূমকেতু’।
- ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয় ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপত্র ‘শিখা’।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৬৯.
পাদ্রি লঙ সাহেব 'ডিফেন্স অব বেঙ্গল' নামে কাকে অভিহিত করেন?
  1. রামরাম বসু
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• প্যারীচাঁদ মিত্র:
- ১৮১৪ সালের ২২ জুলাই কলকাতায় তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন লেখক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিসেবী, ব্যবসায়ী।
- তাঁর ছন্দনাম  “টেকচাঁদ ঠাকুর”।
- 'আলালের ঘরে দুলাল' প্যারীচাঁদ মিত্রের প্রথম গ্রন্থ।
- বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃৎ প্যারীচাঁদ মিত্র। পাদ্রি লঙ সাহেব তাকে ডিফেন্স অব বেঙ্গল নামে অভিহিত করেন।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭০.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮১৮ সালে
  2. ১৮২৬ সালে
  3. ১৮১৯ সালে
  4. ১৮১৭ সালে
ব্যাখ্যা
‘দিগদর্শন’ পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো দিগদর্শন।
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
- দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- দিগ্দর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সমাচার দর্পণ সাময়িকী।
- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য এর প্রকাশনায় প্রকাশিত বেঙ্গল গেজেট হলো কোন বাঙালির উদ্যোগে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
- ঢাকা প্রকাশ হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৭১.
‘সাহিত্য বিশারদ’ কার উপাধি?
  1. নজিবর রহমান
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শেখ ফজলল করিম
  4. মালাধর বসু
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'শেখ ফজলল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে সাহিত্যবিশারদ (১৯১৬) এবং কাব্যরত্নাকর (১৯১৭) উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে।

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি - সাহিত্য রত্ন। 
'মালাধর বসু' এর উপাধি- গুণরাজ খান 

উল্লেখ্য, 
আবদুল করিমেও ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৬৭২.
'কাব্য সুধাকর' কার উপাধি?
  1. কায়কোবাদ 
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. নজিবর রহমান
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

• গোলাম মোস্তফা:
- ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

• গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

• গোলাম মোস্তফা রচিত রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

অন্যদিকে,
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্যরত্ন।
• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৭৩.
নিচের কোনটি বার্ষিক সাহিত্য পত্রিকা?
  1. নয়া সড়ক
  2. শনিবারের চিঠি
  3. কল্লোল
  4. উত্তরাধিকার
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

অন্যদিকে,
'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ সালে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- রবীন্দ্র-রোম্যান্টিক সাহিত্যের বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য। 
- সাত বছর এ পত্রিকাটি টিকে ছিল।

‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।

‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকা:
- মাসিক উত্তরাধিকার ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে।
- ২০০৯ সালের আগে পর্যন্ত এটি ত্রৈমাসিক আকারেই প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৬৭৪.
'মহামহোপাধ্যায়' কার উপাধি?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 
ব্যাখ্যা
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি - মহামহোপাধ্যায়। 

----------------------
• হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে,
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৭৫.
'অকপটচন্দ্র ভাস্কর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনাম গুলো:
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যবহৃত ছদ্মনাম 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৭৬.
কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা 'পূর্বাশা' এর সম্পাদক কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) কাজী নজরুল ইসলাম
  3. গ) দীনেশরঞ্জন দাস
  4. ঘ) সঞ্জয় ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

'পূর্বাশা' পত্রিকা
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

তাছাড়া, 
- বুদ্ধদেব বসু প্রকাশিত পত্রিকা কবিতা।
- 'কল্লোল' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন - দীনেশরঞ্জন দাশ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৭৭.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. আহমদ শরীফ
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভাষাচার্য’ উপাধি দেন।

• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- পশ্চিমবঙ্গের হাওরায় ১৮৯০ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ভাষাচার্য উপাধি দেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- Original and Development of Bengali language.(এটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়)।
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স।
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা।
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ।
- ল্যাঙ্গুয়েজ এন্ড লিটারেচার অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৭৮.
'সত্যপীর' কার ছদ্মনাম?
  1. শওকত ওসমান
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সৈয়দ শামসুল হক
ব্যাখ্যা

• সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

-----------------
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনাম গুলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়া এবং  উদাসীন পথিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৭৯.
‘বীরবল' নিম্নোক্ত একজন লেখকের ছদ্মনাম-
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. ধূর্জটি প্রসাদ মুখোপাধ্যায়
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরী:
- প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক।
- তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। 
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। 

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ। 

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৬৮০.
'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. শেখ আবদুর রহিম
  2. আল মাহমুদ
  3. রওশন আলী চৌধুরী
  4. আহমদ ছফা
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- ১৯৪৩ সালের ৩০ জুন চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া গ্রামের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে তাঁর জন্ম।
- ষাটের দশকে তাঁর সাহিত্য-জীবনের সূচনা হয়।
- 'উত্থানপর্ব' পত্রিকার সম্পাদক - আহমদ ছফা। 
- সৃষ্টিধর্মী লেখক হিসেবে তিনি গল্প, উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব দেখান।

আহমদ ছফা রচিত উপন্যাস:
- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কার,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী,
- পুষ্পবৃক্ষ ও বিহঙ্গপুরাণ,
- একজন আলী কেনানের উত্থান-পতন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮১.
বিমল মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম-
  1. চিত্রগুপ্ত
  2. যুবনাশ্ব
  3. জাবালি
  4. যাযাবর
ব্যাখ্যা
বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।

অনদিকে, 
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম- যুবনাশ্ব।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮২.
নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. ধূমকেতু
  2. লাঙ্গল
  3. দৈনিক আজাদ
  4. ক + খ
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়।

-------------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮৩.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'?
  1. অন্নদাশংকর রায়
  2. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

অন্নদাশংকর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।

অন্যদিকে,
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী'র ছদ্মনাম -  জরাসন্ধ।
দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
সমরেশ বসু'র ছদ্মনাম - কালকূট।

অন্নদাশঙ্কর রায়:
- তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তিনি ২৮ শে অক্টোবর, ২০০২ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৬৮৪.
নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম- 
  1. কালকূট
  2. ভ্রমর
  3. জাবালি
  4. বানভট্ট
ব্যাখ্যা

• 'বানভট্ট' নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম 'জাবালি' 
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৮৫.
সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত 'পূর্বাশা' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৩০ সালে
  2. ১৯৩১ সালে
  3. ১৯৩২ সালে
  4. ১৯৩৩ সালে
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।
- এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮৬.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. ভ্রমণকারী বন্ধু
  2. পরশুরাম
  3. সত্যপীর
  4. দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- ‘সত্যপীর’ - সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম।
- 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৬৮৭.
‘ওমর খৈয়াম' কার ছদ্মনাম?
  1. মােহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. রোকনুজ্জামান খান
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
- দাদাভাই - রোকনুজ্জামান খান।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬৮৮.
'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে সাহিত্য রচনা করেছেন কে?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. দীনবন্ধু মিত্র
ব্যাখ্যা
• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' ছদ্মনামে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।
• অতি অল্প হইল, আবার অতি অল্প হইল, ব্রজবিলাস, বিধবা বিবাহ ও যশোরের হিন্দু ধর্মরক্ষিণী সভা, রত্ন পরীক্ষা। এই পাঁচটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের বেনামি রচনা।

• 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য' নামে প্রথম রচনা 'অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)।
• উক্ত বেনামিতে দ্বিতীয় রচনা 'আবার অতি অল্প হইল' (১৮৭৩)। এই বই দুটি বহুবিবাহ বিষয়ে তারানাথ তর্কবাচস্পতির লিখিত বক্তব্যের প্রতিবাদে লেখা, বিতর্কমূলক উত্তর-প্রত্যুত্তর।

• তৃতীয় রচনা ‘ব্রজবিলাস’ (নভেম্বর, ১৮৮৪) - ''কবিকুলতিলকস্য কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য'' ছদ্মনামে রচিত। বিধবাবিবাহের বিরুদ্ধে ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের রচনার প্রত্যুত্তরে লিখেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
 
• চতুর্থ রচনা ‘কস্যচিৎ তত্ত্বণ্বেষিণ’ ছদ্মনামে রচিত ‘বিধবা বিবাহ ও যশোহর হিন্দুধর্ম রক্ষণী সভা’।

• পঞ্চম রচনা ‘কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো-সহচরস্য’ ছদ্মনামে রচিত- রত্নপরীক্ষা।
-------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতালপঞ্চবিংশতি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৮৯.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত সংবাদপত্র কোনটি?
  1. সাধনা
  2. হিতকারী
  3. বঙ্গদূত
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
বঙ্গদর্শন:
- বঙ্গদর্শন মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও  দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে,
- ’সাধনা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিল সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদারের সম্পাদনায় ’বঙ্গদূত’ প্রকাশিত হয়।
- ’হিতকারী পত্রিকার’ সম্পাদক মীর মশাররফ হোসেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৬৯০.
মোহিতলাল মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম -
  1. শ্রী সত্যসুন্দর দাস
  2. কৃত্তিবাস ওঝা
  3. সব্যসাচী
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মোহিতলাল মজুমদার: 
- কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক। পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন।
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’ ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

তাঁর প্রকশিত কাব্যগ্রন্থ:

- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা , ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯১.
Linguistic Survey of India কার তত্ত্বাবধানে গঠিত হয়?
  1. ক) জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. খ) জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন
  3. গ) জোশুয়া মার্শম্যান
  4. ঘ) হেনরি লুই ভিভিয়ান ডিরোজিও
ব্যাখ্যা
• ভারতের জনসমীক্ষার প্রয়োজনে  Linguistic Survey of India জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর তত্ত্বাবধায়নে গঠিত হয়। 

• জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন ১৮৫১ সালের ৭ জানুয়ারি আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ ও ভাষাতাত্ত্বিক।
- সংস্কৃত ভাষাসহ অন্যান্য প্রাচ্যভাষা ও ভাষাতত্ত্বে তাঁর আগ্রহ ছিল।

প্রধান সাহিত্যকর্মঃ
• বিদ্যাপতির পদাবলি সংবলিত An Introduction to the Maithili Language of North India
• বিহারের সাতটি উপভাষার ব্যাকরণ Seven Grammars of the Dialects and Subdialects of Bihari Language
• Bihar Peasant Life
• A Dictionary of the Kashmiri Language

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯২.
শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কবিতা
  2. পরিচয়
  3. কণ্ঠস্বর
  4. কালিকলম
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম। যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

অন্যদিকে,
'কবিতা' পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র।
'পরিচয়' পত্রিকা সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’ কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি বৃহৎ আন্দোলনের সূতিকাগার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬৯৩.
‘পূর্বাশা’ পত্রিকাটি প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. রংপুর
  2. ঢাকা
  3. কলকাতা
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৬৯৪.
'কালপুরুষ' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. সুবোধ ঘোষ
  2. রাজশেখর বসু
  3. সমরেশ বসু
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘সুবোধ ঘোষ’ এর ছদ্মনাম - কালপুরুষ।

অন্যদিকে,
• রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
• সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম - কালকূট।

• জীবনানন্দ দাশ এর উপাধি ও ছদ্মনাম সমূহ:
- ধুসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯৫.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার প্রকাশকাল-
  1. ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
  2. ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দ
  3. ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দ
  4. ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দ
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৯৬.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. নীল লোহিত
  2. কমলাকান্ত
  3. বীরবল
  4. সুনন্দ
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ”নীল লোহিত”।
--------------------------------
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন।
- নীল লোহিত।
- নীল উপাধ্যায়;
- সনাতন পাঠক;

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - কমলাকান্ত।
- প্রমথ চৌধুরী এর ছদ্মনাম - বীরবল।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - সুনন্দ।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
৬৯৭.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. কবিতা
  2. কল্লোল
  3. পরিচয়
  4. ক্রান্তি
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
- 'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- বুদ্ধদেব বসু।
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- 'ক্রান্তি' পত্রিকার ১ম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন- রণেশ দাশগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯৮.
'যুবনাশ্ব' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. ​বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের
  2. সতীনাথ ভাদুড়ীর 
  3. ​বিমল মিত্রের 
  4. মণীশ ঘটকের
ব্যাখ্যা

• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

​অন্যদিকে, 
• ​বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।
• ​বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
• ​সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৬৯৯.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে ভোরের পাখি উপাধি দিয়েছেন- 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজশেখর বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বুদ্ধদেব বসু 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' বলা হয়- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 

বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার ভোরের পাখি বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধি দিয়েছেন। 
- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে।
- এছাড়াও তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। 

• বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ- সারদামঙ্গল।

• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৭০০.
আবু জাফর শামসুদ্দীন কোন ছদ্মনামে সংবাদপত্রে কলাম লিখতেন?
  1. বহুদর্শী
  2. দৃষ্টিহীন
  3. মৈনাক
  4. অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো:
• উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
-সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল,
- পরিত্যক্ত স্বামী।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।