বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৫০১৬০০ / ১,৬০৩

৫০১.
'হুতোম পেঁচা' কার ছদ্মনাম?
  1. কালী প্রসন্ন সিংহ
  2. প্যারীচাদ মিত্র
  3. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  4. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা

• 'হুতোম পেঁচা' কালী প্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম।

অন্যদিকে,
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী- জরাসন্ধ।
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত - বানভট্ট।
- প্যারীচাদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর।

তাঁর দুটি বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম :
- হুতোম প্যাঁচার নকশা (১৮৬২) এবং
- পুরাণসংগ্রহ (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)

- দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ (১৮৬০) নাটক অনুবাদের অভিযোগে জেমস লঙের এক মাসের কারাদন্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা হলে (২৪ জুলাই ১৮৬১) কালীপ্রসন্ন তা পরিশোধ করেন।
- তাঁর অনুসৃত রীতির ভাষাকে বলা হয় 'হুতোমী বাংলা'

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০২.
মুক্তিযুদ্ধের সময় শামসুর রাহমান কোন ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন?
  1. মজলুম আদিব
  2. মজলুমের বাচ্চু 
  3. নাগরিক কবি
  4. জীবন 
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।

- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 

- তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ:
- কালের ধুলোয় লেখা।
- একাত্তরের ঘটনাবলীর প্রত্যক্ষ বিবরণ তিনি আত্মজীবনী কালের ধুলোয় লেখা গ্রন্থে  লিখে গিয়েছেন।

- তাঁর আত্মস্মৃতিমূলক গ্রন্থ:
- স্মৃতির শহর। (কিশোর রচনা)

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫০৩.
'অশীতিপর শর্মা' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. অমিয় চক্রাবর্তী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন - নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০৪.
‘সম্বাদপ্রভাকর” পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. ভবানিচরন বন্দোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এর জন্ম ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে।
- তিনি সংবাদ প্রভাকর (বা 'সম্বাদ প্রভাকর') এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
- তাঁর কবিতায় মধ্যযুগ এবং আধুনিক যুগ উভয়ের লক্ষণ প্রকাশ পায় , তাই তাকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়।

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পত্রিকা এবং তাদের সম্পাদকের নাম নিম্নরূপ-
- সম্বাদ কৌমুদী - রাজ আরামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্ধ্যোপাধ্যায়
- জ্ঞানান্বেষণ - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
- তত্ত্বোবোধিনী - অক্ষয়কুমার দত্ত
- বঙ্গদর্শন - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- সবুজপত্র - প্রমথ চৈধুরী
- সওগাত - মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন
- ধূমকেতূ, লাঙল - কাজী নজরুল ইসলাম
- শিখা - আবুল হোসেন
- সন্দেশ - সুকুমার রায়।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ; সাহিত্যপাঠ একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি (২০২০-২১ সংস্করণ)

৫০৫.
কোন সাহিত্যিককে 'কবিদের কবি' বলা হয়?   
  1. জসীম উদ্‌দীন 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. নির্মলেন্দু গুণ 
  4. নুরুন্নেসা খাতুন 
ব্যাখ্যা

নির্মলেন্দু গুণ:
- নির্মলেন্দু গুণ একজন প্রখ্যাত ও জনপ্রিয় বাংলাদেশী কবি।
- তিনি ১৯৪৫ সালে নেত্রকোণার বারহাট্টার কাশবন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- কবিতার পাশাপাশি তিনি গদ্য, ভ্রমণকাহিনী এবং ছবি আঁকার জন্য বিখ্যাত।
- তার কবিতায় প্রেম, শ্রেণী-সংগ্রাম ও স্বৈরাচারবিরোধী ভাব গভীরভাবে ফুটে উঠে।
- ১৯৭০ সালে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রেমাংশুর রক্ত চাই’ প্রকাশিত হয়।
- এই গ্রন্থের হুলিয়া কবিতা বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পায়।
- কবির রচিত স্বাধীনতা, এই শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো- কবিতাটি এতই জনপ্রিয় যে তা মাধ্যমিক পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
- তাছাড়া, ষাটের দশক থেকে তার সহজ ভাষায় লিখা কবিতা তরুণ কবিদের গভীরভাবে প্রভাবিত করত। 
- এজন্য তাকে ‘কবিদের কবি’ বলা হয়।
- তিনি ১৯৮২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, ২০০১ সালে একুশে পদক, ২০১৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন।

অন্যদিকে, 
- জসিম উদ্দিনকে বলা হয়- পল্লীকবি।
- কাজী নজরুল ইসলামকে বলা হয়- বিদ্রোহী কবি।
- নুরুন্নেসা খাতুনকে বলা হয়- সাহিত্য সরস্বতী।
 
উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
দৈনিক ইনকিলাব। 

৫০৬.
'সুনন্দ' কার ছদ্মনাম ছিল?
  1. বিমল ঘোষ
  2. রাজশেখর বসু
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- জীবনের শেষ সময় তিনি সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় 'সুনন্দ' ছদ্মনামে লিখতেন।

অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম 'পরশুরাম'।
- বিমল ঘোষের ছদ্মনাম 'মৌমাছি'।
- মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম সত্যসুন্দর দাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৫০৭.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. নতুন কবিতা
  3. ঢাকা প্রকাশ
  4. নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা

'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকা: 
- 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র। এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
- ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ।

অন্যদিকে,
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।

'নতুন কবিতা':
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।

'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫০৮.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রকৃত নাম কী?
  1. প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সনন্দা চক্রবর্তী
  3. রানা দাশ গুপ্ত
  4. মানিক মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়,
‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

• তাঁর রচিত  উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫০৯.
নিচের কোন লেখকের সাহিত্যিক ছদ্মনাম "নীহারিকা দেবী"?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  4. মধুসূদন মজুমদার
ব্যাখ্যা

• 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

অন্যদিকে,
অন্নদাশঙ্কর রায় এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - যাযাবর।
মধুসূদন মজুমদার এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৫১০.
ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র কোনটি?
  1. দিগদর্শন
  2. বেঙ্গল গেজেট
  3. আনন্দবাজার পত্রিকা
  4. দি স্টেটসম্যান
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১১.
‘ব্রাক্ষ্মণ সেবধি’ কীসের নাম?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কাব্যগ্রন্থ
  4. পত্রিকা
ব্যাখ্যা

সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধের অন্যতম নায়ক রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৭৭২ সালে, হুগলির রাধানগর নামক স্থানে।
ব্রাক্ষ্মণ সেবধি(১৮২১) রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা। পত্রিকাটি দুই ভাষায়(ইংরেজী+ বাংলা) প্রকাশিত হতো।
বাংলায় সম্বাদ কৌমুদি(১৮২১), পারসি ভাষায় মিরাৎ-উল-আখবার(১৮১৫) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।

৫১২.
'বীরবলের হালখাতা' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) ভারতী
  3. গ) বিশ্বভারতী
  4. ঘ) বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রথম গদ্য রচনা 'বীরবলের হালখাতা'।
- এটি ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 

প্রমথ চৌধুরী, (১৮৬৮-১৯৪৬)  
সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরীর জন্ম ১৮৬৮ সালের ৭ আগস্ট যশোরে।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- তেল-নুন-লাকড়ি (১৯০৬),
- সনেট পঞ্চাশৎ (১৯১৩),
- চার-ইয়ারি কথা (১৯১৬),
- The Story of Bengali Literature (১৯১৭),
- পদচারণ (১৯১৯),
- রায়তের কথা (১৯২৬) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১৩.
মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম -
  1. দৃষ্টিহীন
  2. যুবনাশ্ব
  3. হাবু শর্মা
  4. বনফুল
ব্যাখ্যা
• মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন

অন্যদিকে,
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - বনফুল।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫১৪.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।

- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।

- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫১৫.
'অবদূত' কার ছদ্মনাম?
  1. ক) কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. খ) বিমল মিত্র
  3. গ) কালিকানন্দ
  4. ঘ) মহাশ্বেতা দেবী
ব্যাখ্যা
• কালিকানন্দ এর ছদ্মনাম- 'অবদূত'। 

তাছাড়া, 
• 'বিমল মিত্র' এর ছদ্মনাম- 'জাবালি'। 
• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম- 'হুতোম পেঁচা'। 
• মহাশ্বেতা দেবী এর ছদ্মনাম- 'সুমিত্রা দেবী'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫১৬.
'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. রামনারায়ণ
  3. মুকুন্দদাস
  4. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• মুকুন্দদাস:
-  ১৯০৫ সালে লর্ড কার্জনের বাংলাকে ভাগ করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের সময়কালে মুকুন্দদাস স্বদেশী যাত্রার মাধ্যমে ব্রিটিশ বিরোধী ভাবনাকে প্রচার করেন এবং চারণকবি মুকুন্দাস নামে খ্যাত হন।
-  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সেই  কারণে তিনি ব্রিটিশ সরকারের চক্ষ্মুশূল হয়ে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে কারাবরণ করেন।
- তার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে - গান গেয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন।
 
• মুকুন্দদাসের কয়েকটি বিখ্যাত গান:
- ‘হাসি হাসি পরব ফাঁসি/দেখবে জগৎ বাসী/একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি।’ (বিপ্লবী ক্ষুদিরামের ফাঁসির পর রচিত)
- 'ছেড়ে দেও কাঁচের চুড়ি বঙ্গনারী' (স্বদেশী আন্দোলন বিশেষ করে বিদেশী পন্য বর্জনের সময়)
- ‘ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে।'
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা-কবিতা ব্লগ।

৫১৭.
আধুনিক বাংলা সাহিত্যে ‘মিরাত-উল-আখবার’ পত্রিকার প্রকাশক কে?
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) শেখ আব্দুর রহিম
  3. গ) মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. ঘ) গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা
- ব্রাহ্মন সেবধি (১৮২১) 
- সম্বাদ কৌমুদী (১৮২১) 
- মিরাৎ-উল-আখবার (১৮২২) 

অন্যান্য প্রকাশক/সম্পাদক কর্তৃক প্রকাশিত
পত্রিকা:
• শেখ আব্দুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা:
- সুধাকর                               
- মিহির                                 
- হাফেজ

• মোহাম্মদ আকরম খাঁ সম্পাদিত পত্রিকা:
- মাসিক মোহাম্মদী               
- দৈনিক সেবক

• গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা: বাঙ্গাল গেজেট।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫১৮.
'দাদাভাই' ছদ্মনামে লেখালেখি করতেন কোন সাংবাদিক? 
  1. মনিরুজ্জামান
  2. রোকনুজ্জামান খান
  3. বলাইচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. রাজশেখর বসু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

রোকনুজ্জামান খান:
- রোকনুজ্জামান খান ছিলেন একজন প্রখ্যাত সাংবাদিক ও শিশুসংগঠক।
- ১৯২৫ সালে তিনি ফরিদপুর জেলার পাংশা উপজেলায় সাহিত্য ও সংস্কৃতিসমৃদ্ধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর জ্ঞাতি ছিলেন এয়াকুব আলী চৌধুরী ও রওশন আলী চৌধুরী।
- তিনি মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
- নূরজাহান নিজেও সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- তিনি ইত্তেহাদ-এর ‘মিতালী মজলিস’ এবং মিল্লাত-এর ‘কিশোর দুনিয়া’ শিশুপাতার সম্পাদনা করতেন।
- ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক-এ যোগদান করে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের পাতা কচি-কাঁচার আসর সম্পাদনা শুরু করেন। 
- পরবর্তীতে 'দাদাভাই' ছদ্মনামেই দেশব্যাপী পরিচিত হন।
-
তিনি সম্পাদনা করেছেন শিশুসংকলন ঝিকিমিকি। 
- ১৯৫৬ সালে তিনি কচি-কাঁচার মেলা নামে একটি শিশুসংগঠনও প্রতিষ্ঠা করেন, যা শিশুদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

- তাঁর প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- 
 • হাট্টিমাটিম,
• খোকন খোকন ডাক পাড়ি,
• আজব হলেও গুজব নয়।
-------------------- 
অন্যদিকে, 
- 'হায়াৎ মামুদ'- মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ছদ্মনাম।
- বলাইচাঁদ বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- 'বনফুল'।
- রাজশেখর বসু'র ছদ্মনাম- 'পরশুরাম'। 

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর।

৫১৯.
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ 'রায়বাহাদুর' উপাধিতে ভূষিত হোন কোন ঔপন্যাসিক?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম দিকে ছিলেন ব্রিটিশ উপনিবেশিক সরকারের একজন কর্মকর্তা, পরে হুগলির ডেপুটি কালেক্টর হন।
- ১৮৫৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের যে দুজন ছাত্র বিএ পাস করেন, বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন তাঁদের একজন।
- তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর পদে চাকরি করেন।
- উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে 'রায়বাহাদুর' এবং ১৮৯৪ সালে 'Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire' (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।
- চব্বিশ পরগনা জেলার বারুইপুরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকা অবস্থায় বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর প্রথম দুটি বিখ্যাত উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' (১৮৬৫) ও 'কপালকুণ্ডলা' (১৮৬৬) রচনা করেন।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো:
- দুর্গেশনন্দিনী,
- কপালকুণ্ডলা,
- রাজসিংহ,
- রজনী,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- চন্দ্রশেখর,
- আনন্দমঠ,
- দেবী চৌধুরাণী,
- সীতারাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫২০.
'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯৪০ সালে
  2. ১৯২৪ সালে
  3. ১৯২০ সালে
  4. ১৯১৪ সালে
ব্যাখ্যা
• প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯১৪ সালে।

• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫২১.
কার সম্পাদনায় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২২.
গোবিন্দচন্দ্র দাস কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন?
  1. নাগরিক কবি 
  2. রোমান্টিক গীতিকবি
  3. বৈষ্ণব পদের কবি
  4. স্বভাব কবি
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫২৩.
কোন পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিলো?
  1. সওগাত
  2. সমাচার চন্দ্রিকা
  3. তত্ত্ববােধিনী
  4. বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২৪.
'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত গ্রন্থ-
  1. পথের দাবী
  2. বিন্দুর ছেলে
  3. সতী
  4. নারীর মূল্য
ব্যাখ্যা
⇒ ‘নারীর মূল্য’:
- 'নারীর মূল্য' (১৯২৩) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত নারীর সামাজিক অধিকার ও সমাজে নারীর স্থান সম্পর্কিত মূল্যবান নিবন্ধ গ্রন্থ।
- 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে 'যমুনা' পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- অনিলা দেবী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড় বোনের নাম।

⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তাঁঁর প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত ছোটগল্প: 
- মহেশ,
- বিলাসী,
- সতী, 
- মামলার ফল ইত্যাদি। 

• তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস :
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিত মশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয় ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া ও নারীর মূল্য- নিবন্ধ গ্রন্থ।
৫২৫.
বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা কোন জেলায় প্রতিষ্ঠা করা হয়?
  1. ঢাকা
  2. কুমিল্লা
  3. ফরিদপুর
  4. রংপু্র
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা রংপুর জেলায় প্রতিষ্ঠা করা হয়।

মুদ্রণ শিল্প:
- মুদ্রণ শিল্প প্রযুক্তি হিসেবে সর্বপ্রথম ভারতে চালু করেন পর্তুগিজগণ।
- প্রথম মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় গোয়ায়।
- এরপর মুদ্রণ প্রযুক্তি বোম্বাইয়ে চালু হয় ১৬৭০ সালে।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা উইলকিন্স ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলি জেলার চুঁচুড়ায় একটি ছাপাখানা স্থাপন করেন।
- ১৮৪৭-৪৮ সালে রংপুরে প্রথম ছাপাখানা 'বার্তাবহ যন্ত্র' প্রতিষ্ঠা করা হয় ৷ এটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রথম ছাপাখানা।
- সর্বপ্রথম একজন ইংরেজ আলেকজান্ডার ফারবেখ ঢাকায় ছাপাখানা স্থাপন করেন। ছাপাখানাটির নাম ছিল ‘ঢাকা প্রেস’।
- এই ছাপাখানাটিতে অবশ্য বাংলা মুদ্রণের কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখান থেকে ঢাকা নিউজ নামে ইংরেজি সংবাদপত্র প্রকাশিত হতো।
- ১৮৬০ সালে বাংলা প্রেস বা বাংলা যন্ত্র নামে ঢাকায় দ্বিতীয় ছাপাখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ছাপাখানাটি প্রথমদিকে শুধু বাংলা মুদ্রণের কাজ করত।
- ১৮৬৬ সালে ঢাকায় তিনটি ছাপাখানা ছিল। আর একটি প্রাচীন ছাপাখানা ছিল ফরিদপুরে এবং সেখান থেকে বাংলা 'অমৃতবাজার পত্রিকা' প্রকাশিত হতো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫২৬.
কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' কাব্যগ্রন্থটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) নবনূর পত্রিকা
  2. খ) সাহিত্য পত্রিকা
  3. গ) কোহিনূর পত্রিকা
  4. ঘ) সুধাকর পত্রিকা
ব্যাখ্যা
মহাকবি কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' (১৯০৫)। 
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মুহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত 'কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- পানিপথের ৩য় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত। 
প্রধান চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা বেগম, হিরণ বালা, আতা খাঁ, সুজাউদ্দিন প্রমুখ।
- মুনীর চৌধুরীর রক্তাক্ত প্রান্তরের কাহিনি-উৎস এই গ্রন্থ। 
----------------------------
কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)  
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- কুসুম কানন (১৮৭৩),
- অশ্রুমালা (১৮৯৫),
- শিব-মন্দির (১৯২১),
- অমিয়ধারা (১৯২৩),
- শ্মশান-ভস্ম (১৯২৪) 
- মহরম শরীফ (১৯৩২) ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২৭.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা -
  1. দিগদর্শন
  2. সমাচার দর্পণ
  3. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের ব্রিস্টলে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন, 
- সমাচার দর্পণ, 
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া, 
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভারতবর্ষের ইতিহাস,
- পুরাবৃত্তের সংক্ষিপ্ত বিবরণ,
- জ্যোতিষ গোলাধ্যায়,
- সদ্গুণ ও বীর্জের ইতিহাস ঈশপস ফেলস,
- ক্ষেত্রবাগান বিবরণ,
- Murray's Grammar,
- Outline of the History of Bengal,
- The History of India,
- How Wars Arrive in India.

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২. বাংলাপিডিয়া।
৫২৮.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকাটি প্রথম কোন শহর থেকে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা

'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫২৯.
নিচের কোন পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যের চলিত রীতির প্রচলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে?
  1. ক) সাধনা
  2. খ) সবুজপত্র
  3. গ) ভারতী
  4. ঘ) কালিকলম
ব্যাখ্যা
- 'সবুজপত্র' বাংলা সাহিত্যের চলিত রীতির প্রচলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

• সবুজপত্র পত্রিকা
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩০.
'লাঙ্গল' - পত্রিকার প্রধান সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) কাজী নজরুল ইসলাম
  2. খ) দীনেশরঞ্জন দাশ
  3. গ) মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  4. ঘ) আবুল হুসেন
ব্যাখ্যা
• লাঙ্গল পত্রিকা
- নজরুলের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ছিল সাপ্তাহিক লাঙ্গল পত্রিকা প্রকাশ (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫)।
- তিনি এ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ছিলেন। এর প্রথম সংখ্যাতেই নজরুলের ‘সাম্যবাদী’ কবিতা সমষ্টি মুদ্রিত হয়।
- লাঙ্গল ছিল বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম শ্রেণিসচেতন সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এতে প্রকাশিত ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ দলে’র ম্যানিফেস্টোতে প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি উত্থাপিত হয়।
- এ সময় নজরুল পেশাজীবী শ্রমিক-কৃষক সংগঠনের উপযোগী সাম্যবাদী ও সর্বহারা  কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
-  কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- 'সওগাত' (১৯২৮) পত্রিকার সম্পাদক - মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক - দীনেশরঞ্জন দাশ।
-  'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক আবুল হুসেন ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩১.
সমরেশ বসু কোন ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. জরাসন্ধ
  2. কালকূট
  3. অবধূত
  4. পরশুরাম
ব্যাখ্যা

সমরেশ বসু:
- তিনি ১১ই ডিসেম্বর ১৯২৪ সালে রাজানগর গ্রাম, বিক্রমপিুর-মন্সিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ‘কালকূট’ ছদ্মনামে লিখতেন। 
- তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয় ব্রাত্যজীবন, সমাজের বিকৃতরূপ উন্মোচন ইত্যাদি।
- অশ্লীলতার অভিযোগে তাঁর প্রজাপ্রতি উপন্যাসের বিরুদ্ধে মামিলা হয়। তবে অশ্লীলতা আছে বলে বিচারে প্রমাণিত হয় নি।
- তিনি ১৯৫৫ সালে আনন্দ পুরস্কার ও ১৯৮০ সালে একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন।

তাঁর গ্রন্থ সমূহের নাম:
- গঙ্গা,
- প্রজাপতি,
- বিবর,
- শ্রীমতী ক্যাফে,
- বিটি রোডের ধারে,
- দেখি নাই ফিরে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- 'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- 'চারুচন্দ্র চক্রবর্তী' এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।
- 'কালিকানন্দ' এর ছদ্মনাম - অবধূত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৩২.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন কোন পত্রিকা দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন?
  1. সমকাল
  2. দৈনিক আজাদ
  3. নবযুগ
  4. সাপ্তাহিক মুসলিম
ব্যাখ্যা
দৈনিক আজাদ:
- একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা। ১৯৩৬ সালের ৩১ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে। মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়। 
- পত্রিকা প্রকাশের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতেন মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ ও তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মোহাম্মদ খায়রুল আনাম খাঁ।
- এ সময় পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন ও নজীর আহমদ চৌধুরী। খায়রুল কবির তখন ছিলেন ঢাকার আঞ্চলিক রিপোর্টার।
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫৩৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. মৃণালিনী
  2. বিষবৃক্ষ
  3. চন্দ্রশেখর
  4. তিথিডোর
ব্যাখ্যা
‘তিথিডোর’ উপন্যাস: 
‘তিথিডোর’ হল বুদ্ধদেব বসুর একটি উজ্জ্বল ঔপন্যাসিক সৃষ্টি, যা ১৯৪৯ সালে প্রকাশিত হয়।

উপন্যাসটির বৈশিষ্ট্য: 
• বিষয় ও মৌলিকতা: তিথিডোর বাংলা উপন্যাসের ধারায় স্মরণীয় নির্মাণ, যেখানে বাস্তব-জীবনপ্রীতি এবং পরিবার-সংলগ্নতার পরিচয় পাওয়া যায়।
• কাল ও প্রেক্ষাপট: এই উপন্যাসটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন পরিবর্তনমুখী সমাজের প্রেক্ষাপটে রচিত।
• প্রেম-আখ্যান: সত্যেন ও স্বাতীর প্রেম-আখ্যানের মাধ্যমে চল্লিশের দশকের মধ্যবিত্ত সমাজজীবনের চিত্র ফুটে উঠেছে।
• চরিত্র নির্মাণ: বুদ্ধদেব বসু এখানে চরিত্রের অন্তঃবাস্তবতার রূপকার; তবে এখানে জীবনের বহিরঙ্গ রূপকেও শিল্পিত করেছেন।
====================

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক এবং বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। তিনি ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাংলা উপন্যাসের জনক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

কর্ম ও রচনা:
• প্রথম উপন্যাস: তাঁর প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ', যা ইংরেজিতে রচিত।
• প্রথম সার্থক বাংলা উপন্যাস: 'দুর্গেশনন্দিনী', প্রকাশিত হয় ১৮৬৫ সালে।
• কাব্যগ্রন্থ: 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) হল তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
• দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস: 'কপালকুণ্ডলা', প্রকাশিত হয় ১৮৬৬ সালে।
• ত্রয়ী উপন্যাস: 'আনন্দমঠ', 'দেবী চৌধুরানী' এবং 'সীতারাম'।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
• কপালকুণ্ডলা,
• মৃণালিনী,
• বিষবৃক্ষ,
• ইন্দিরা,
• যুগলাঙ্গুরীয়,
• চন্দ্রশেখর,
• রাধারানী,
• রজনী,
• কৃষ্ণকান্তের উইল,
• রাজসিংহ।

উৎস:
• বাংলাপিডিয়া,
• বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৪.
১৮৪৩ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়?
  1. কল্লোল
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  4. সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

অন্যদিকে,
• কল্লোল পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৩ সালে। পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
• 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ।
• প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা - সমাচার দর্পণ। এর সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৫.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. গভর্নমেন্ট গেজেট
  2. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  3. সমাচার দর্পণ
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান ছিলেন মিশনারি, ইতিহাসবিদ ও সাংবাদিক। তিনি জশুয়া মার্শম্যান ও হান্নাহ্ শেফার্ড দম্পতির প্রথম পুত্র।
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।

- ১৮১২ সাল থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যান শ্রীরামপুর মিশনে তাঁর কর্মতৎপরতা শুরু করেন। মিশনারি কাজে বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য তিনি ইতালি, রোম ও গ্রিস ভ্রমণ করেন। ১৮১৮ সালে তিনি শ্রীরামপুর মিশনারি প্রেসে যোগ দেন এবং একই বছর 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকায় কাজ শুরু করেন। ১৮৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই পত্রিকা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

- ১৮১৮ সাল থেকে ১৮২৭ সাল পর্যন্ত মার্শম্যান প্রভাবশালী পত্রিকা 'Friend of India' (মাসিক ও ত্রৈমাসিক) সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।

- এছাড়াও তিনি ১৮৩৩ সালে সরকারের অনুবাদক এবং ১৮৪০ সালে 'Government Gazette' এর সম্পাদকের দায়িত্ব লাভ করেন।

তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৩৬.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকার নাম-
  1. কিছুধ্বনি
  2. উত্তরাধিকার
  3. লোকায়ত
  4. সুন্দরম
ব্যাখ্যা
অপশনে প্রদত্ত পত্রিকাগুলোর মধ্যে শুধু ‘উত্তরাধিকার’ পত্রিকাটি বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত।

[বর্তমানে পত্রিকাটি মাসিক হলেও এই বি.সি.এস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় এটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা ছিলো। তাই প্রশ্নে 'ত্রৈমাসিক' আকারে উল্লেখ আছে।] 

-------------------------
• উত্তরাধিকার পত্রিকা:
- মাসিক উত্তরাধিকার ১৯৭৩ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- দশ বছর পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে চালু থাকলেও ১৯৮৩ সাল থেকে ত্রৈমাসিকে রূপান্তরিত হয় এবং পত্রিকাটি ধীরে ধীরে অনিয়মিত হয়ে পড়ে। ২০০৯ সালের আগে পর্যন্ত এটি ত্রৈমাসিক আকারেই প্রকাশিত হতো।

- বাংলা একাডেমির প্রথম অঙ্গিকারের কথা মনে রেখেই সম্প্রতি উত্তরাধিকার পত্রিকাকে আবার নবপর্যায়ে এবং নতুন আঙ্গিক ও বিন্যাসে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং জুলাই ২০০৯ থেকে মাসিক হিসেবে এটি প্রতিমাসে নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৫৩৭.
'কবিতা' পত্রিকা'র সাথে যুক্ত ছিলেন -
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সমর সেন
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে - কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৫৩৮.
"সংবাদ প্রভাকর" পত্রিকাটি কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৮৩৬ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৩১ সালে
  4. ১৮৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৩৯.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম -
  1. লেখরাজ সমান্ত
  2. প্রিয়দর্শী
  3. অল্পদর্শী
  4. দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা
সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
• আবু জাফর শামসুদ্দীন ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখতেন।
• প্রেমেন্দ্র মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম হলো: কৃত্তিবাস ভদ্র, লেখরাজ সমান্ত।
• মধুসূদন মজুমদার ‘দৃষ্টিহীন’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪০.
‘দৈনিক নবযুগ’ পত্রিকার সম্পাদক -
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকা:
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক।
- পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪১.
শামসুর রাহমানকে বলা হয়- 
  1. নাগরিক কবি
  2. মার্ক্সবাদী কবি 
  3. স্বভাব কবি 
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা

শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক।
- শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয়ার্ধের অন্যতম প্রধান কবি হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন।
- শামসুর রাহমানের জন্ম তার নানাবাড়িতে।
- তার পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।
- তার পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী এবং মাতা আমেনা বেগম।
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল- বাচ্চু।
- শামসুর রাহমানকে প্রধানত “নাগরিক কবি” বলা হয়।
- কারণ তার কবিতায় নগর জীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে।
- মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি “মজলুম আদিব” ছদ্মনামে লিখতেন।
-  তিনি দৈনিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শামসুর রাহমান তাঁর কবিতায় সাধারণ মানুষ কীভাবে জীবন যাপন করে, শহরের মানুষদের দৈনন্দিন সমস্যা, সুখ–দুঃখ ও সমাজের নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন।
- এই অনন্য কবি-কীর্তি ও সত্যনিষ্ঠ কাব্যচর্চার জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে।
- তিনি ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

- শামসুর রাহমানের অসংখ্য কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
• উল্লেখযোগ্য কিছু কাব্যগ্রন্থ হলো:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (প্রথম কাব্যগ্রন্থ);
- রৌদ্র করোটিতে;
- বিধ্বস্ত নীলিমা;
- বন্দী শিবির থেকে;
- নিজ বাসভূমে;
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়;
- এবং উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ। 
--------------------- 
- মার্ক্সবাদী কবি- বলা হয় বিষ্ণু দে'কে। 
- স্বভাব কবি বলা হয়- গোবিন্দ্রচন্দ্র দাসকে।
- সাহিত্যরত্ন বলা হয়- নজিবর রহমানকে।   

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৫৪২.
'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কী ছিলো?
  1. লীলাময় রায়
  2. দৃষ্টিহীন
  3. নীহারিকা দেবী
  4. পরশুরাম
ব্যাখ্যা

• 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত'
- তিনি  কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল  নোয়াখালী শহরে তাঁর জন্ম।
- আদি নিবাস বর্তমান  মাদারীপুর জেলায়। 
- ১৯২১ সালে  প্রবাসী পত্রিকায় ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
-  রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না ,
- বিবাহের চেয়ে বড় ,
- প্রাচীর ও প্রান্তর ,
- প্রথম কদমফুল ;

 তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা ,
- আমরা ,
- প্রিয়া ও পৃথিবী ,
- নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম ,
- উত্তরায়ণ;

অন্যদিকে,
• 'অন্নদাশংকর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।
• দক্ষিনারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
• 'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৩.
পৃথিবীর প্রথম সংবাদপত্র কোন দেশ থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ইংল্যান্ড
  2. খ) ফ্রান্স
  3. গ) স্কটল্যান্ড
  4. ঘ) জার্মান
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম সংবাদপত্র ১৫৬০ সালে জার্মান থেকে প্রকাশিত হয়। ১৭০২ সালে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয় বিশ্বের প্রথম দৈনিক পত্রিকা। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৪৪.
সাধনা পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা

• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪৫.
কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা?
  1. পরিচয়
  2. সাধনা
  3. বঙ্গদর্শন
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' বিশ শতকের পত্রিকা।

• 'পরিচয়' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'-এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৯৩০ সালে 'কল্লোল' বন্ধ হয়ে গেলে বিষ্ণু দে-ও এ পত্রিকায় যোগ দেন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন।
- সুধীন্দ্রনাথও টানা বার বছর সম্পাদক ছিলেন এ পত্রিকার।
- পরে পত্রিকার মালিকানা-বদল ঘটে এবং গোপাল হালদার এর সম্পাদক হন।
- কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) পশ্চিমবঙ্গ শাখার তত্ত্বাবধানে এখনো 'পরিচয়' প্রকাশ পায়।
- বলা হয়, 'সবুজপত্রে'র পর এরকম উচ্চমানের পত্রিকা বাংলায় আর প্রকাশিত হয় নি।

------------------
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- 'বঙ্গদর্শন' একটি মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

------------------
• ‘ভারতী’ পত্রিকা:
- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন। পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৬.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত 'ধূমকেতু' পত্রিকায় কোন কবিতা প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ করা হয়? 
  1. প্রলয়োল্লাস
  2. আনন্দময়ীর আগমনে
  3. বিদ্রোহী 
  4. রক্তাম্বরধারিণী মা
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ধূমকেতু কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২) আত্মপ্রকাশ করে।

- এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি শুরুতে ফুলস্কেপ কাগজের চার পৃষ্ঠায় এবং পরে আট পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হতো।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো। রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

- নজরুলের প্রচেষ্টায় পত্রিকার কয়েকটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। সেগুলির মধ্যে ২০ পৃষ্ঠার ‘মোহররম সংখ্যা’ (৭ম সংখ্যা, ১৬ ভাদ্র ১৩২৯/ আগস্ট ১৯২২), ১২ পৃষ্ঠার ‘আগমনী সংখ্যা’ (১২শ সংখ্যা, ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২), ১২ পৃষ্ঠার ‘দেওয়ালী সংখ্যা’ (১৫শ সংখ্যা, ২০ অক্টোবর ১৯২২) এবং ‘কংগ্রেস সংখ্যা’ (৩০তম সংখ্যা, ২৭ ডিসেম্বর ১৯২২) ছিল উল্লেখযোগ্য।

- মোহররম সংখ্যাটি প্রচুর ছবিসহ প্রকাশিত হয়েছিল, যার একটি ছিল বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর। আগমনী সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনীতি-সম্পৃক্ত কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ আনা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৪৭.
”অনিলা দেবী” ছদ্মনামে কোন সাহিত্যিক সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. অনুরূপা দেবী
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - অনিলা দেবী।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
-  এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

- তিনি ১৬ই জানুয়ারি, ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
- অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
-  প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৮.
মালাধর বসু কে গুণরাজ খান উপাধি প্রদান করেন কে?
  1. রাজা রঘুনাথ
  2. রাজা কৃষ্ণচন্দ্র
  3. গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ
  4. শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ
ব্যাখ্যা
মালাধর বসু (১৫শ-১৬শ শতক)
- তিনি মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার কুলীনগ্রামে এক  কায়স্থ বংশে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন গৌড়েশ্বর হুসেন শাহের মন্ত্রী এবং তাঁরই সহায়তায়  রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী উক্ত রাজসভায় নিয়োগ লাভ করেন।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- কবিত্বগুণের সম্মাননাস্বরূপ মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের নিকট থেকে ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেন।
- সুলতান শামসউদ্দীন ইউসুফ শাহ (১৪৭৪-৮০) কবিকে এই উপাধি প্রদানের মাধ্যমে কাব্যরচনায় উৎসাহিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৪৯.
কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কবিতা
  2. সমকাল
  3. পূর্বাশা
  4. ক্রান্তি
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫০.
'বীরবল' — কার সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা

• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র সাহিত্যিক ছদ্মনাম — বীরবল।

অন্যান্য অপশন:
• প্রেমেন্দ্র মিত্রের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - কৃত্তিবাস ভদ্র।
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ‘বনফুল’ ছদ্মনামে পরিচিত।
• সমরেশ বসুর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - কালকূট।

--------------------
• প্রমথ চৌধুরী:

প্রমথ চৌধুরী সাহিত্যিক, বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক। তিনি ১৮৬৮ সালের ৭ আগষ্ট যশোরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।

- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি 'সবুজপত্র’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- তিনি ২রা সেপ্টেম্বর, ১৯৪৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সনেট পঞ্চাশৎ,
- পদচারণ।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানাকথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- আত্মকথা,
- প্রবন্ধসংগ্রহ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- আহুতি,
- নীললোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৫৫১.
'গৌড়তটবাসী মশা' কোন সাহিত্যিক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন 
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

•  মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনামগুলো:
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়া এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে,
- বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল - ক্বচিৎ প্রৌঢ়৷
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 'নীললোহিত', 'সনাতন পাঠক', 'নীল উপাধ্যায়' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যবহৃত ছদ্মনাম কস্যচিৎ “উপযুক্ত ভাইপোস্য'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৫৫২.
কাজী নজরুল ইসলামের নামের সাথে জড়িত ধুমকেতু কোন ধরনের প্রকাশনা?
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) পত্রিকা
  3. গ) উপন্যাস
  4. ঘ) ছােটগল্প
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল সম্পাদিত পত্রিকা- দৈনিক নবযুগ (১৯২০), ধূমকেতু (১৯২২), লাঙল।
কাজী নজরুল ইসলামের নামের সাথে সম্পর্কিত 'ধূমকেতু' 'কবিতা/কাব্য' এবং 'পত্রিকা '। 
'ধূমকেতু' কবিতাটি নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'-এর অন্তর্গত। 
 
 
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫৫৩.
নিম্নে কোনটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম?
  1. নীহারিকা দেবী
  2. শ্রীমতী মধ্যমা
  3. অনিলা দেবী
  4. সুমিত্রা দেবী
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম= শ্রীমতী মধ্যমা।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর;
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর;
- আন্নাকালী পাকড়াশী;
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য;
- নবীনকিশোর শর্মণ;
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা;
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ;
- শ্রীমতী কনিষ্ঠা;
- শ্রীমতী মধ্যমা;

অন্যদিকে,
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'অনিলা দেবী'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।
- মহাশ্বেতা দেবীর ছদ্মনাম- সুমিত্রা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।
৫৫৪.
বাংলা সাহিত্যে “কালকূট” নামে পরিচিত কোন লেখক?
  1. সমরেশ মজুমদার
  2. শওকত ওসমান
  3. সমরেশ বসু
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা
• ‘কালকূট’ সমরেশ বসু ব্যবহৃত সাহিত্যিক ছদ্মনাম।

বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন লেখক ও তাদের ছদ্মনাম:
• প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম - বীরবল।
• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
• বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো - যাযাবর।
• সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম - নীল লোহিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৫৫.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা কোথায় থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রংপুর
  3. ঢাকা
  4. কলকাতা
ব্যাখ্যা
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৫৬.
বাঙালীদের প্রচেষ্ঠায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. বাঙ্গাল গেজেট
  3. সমাচার দর্পণ
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• বাঙালীদের প্রচেষ্ঠায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট। 

• 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকা: 
- উপমহাদেশে ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দের এপ্রিল মাসে দিগ্দর্শন নামে বাংলা ভাষায় প্রথম সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়।
- এই মাসিক পত্রিকাটি প্রকাশ করে শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন।
- একই বছর মে মাসে শ্রীরামপুরের খ্রিস্টান মিশনারিরা আরেকটি বাংলা সংবাদপত্র প্রকাশ করে।
- এটি ছিল জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ।
- ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দেই বাঙালি মালিকানায় প্রথম সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেটি প্রকাশিত হয়, প্রকাশক ছিলেন গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য্য, কারো কারো মতে গঙ্গাধর ভট্টাচার্য্য।
- মাঝে মধ্যে এতে ইংরেজি ও হিন্দিতে কিছু নিবন্ধ মুদ্রিত হলেও সাধারণভাবে এর ভাষা ছিল বাংলা।
- হরচন্দ্র রায় ছিলেন বাঙ্গাল গেজেটি-র সম্পাদনাকার্যে গঙ্গাকিশোরের অন্যতম সহযোগী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৫৭.
শেখ আব্দুর রহিম কর্তৃক প্রকাশিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. ক) মিহির
  2. খ) হাফেজ
  3. গ) সুধাকর
  4. ঘ) কোহিনুর
ব্যাখ্যা
হাফেজ, মিহির ও সুধাকর পত্রিকা তিনটির সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম। অপরদিকে কোহিনুর পত্রিকার সম্পাদক রওশন আলী চৌধুরী। উৎসঃ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৫৫৮.
ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্রটি কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়?​
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. ​সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।
- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে।
- অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

​অন্যদিকে,
• ​'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
• ​সুধীন্দ্রনাথ দত্ত "পরিচয়" নামের একটি বিখ্যাত সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
• বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত প্রধান দুটি পত্রিকা হলো "প্রগতি" এবং "কবিতা"।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৫৯.
'সমরেশ বসু' ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. জাবালি
  2. যুবনাশ্ব
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. ভ্রমর
ব্যাখ্যা

• 'সমরেশ বসু' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- সুনন্দ।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬০.
'সবুজপত্র' পত্রিকা কত বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৩২১ বঙ্গাব্দে
  2. ১৩১৪ বঙ্গাব্দে
  3. ১৩২০ বঙ্গাব্দে
  4. ১৩২৫ বঙ্গাব্দে
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকা ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা।
- এটি বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৩ বছর চলে।
- এটি চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

---------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল’।
- ‘বীরবলেন হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৬১.
জাতীয় কবিকাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা হলঃ 
  1. ধূপছায়া
  2. ধূমকেতু
  3. সংগ্রাম
  4. একটিও নয়
ব্যাখ্যা

'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- ধূমকেতু পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বাণী ছাপা হয়েছিল - "আয় চলে আয় রে ধূমকেতু/ আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু-"।
- ধূমকেতুর পূজা সংখ্যায় (২৬শে সেপ্টেম্বর ১৯২২) 'আনন্দময়ীর আগমনে' প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি ব্রিটিশ সরকার দ্বারা বাজেয়াপ্ত হয় এবং তিনি গ্রেফতার হন।

• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা -
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। 

উল্লেখ্য,
➝ 'ধূমকেতু' কবিতাটি নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অগ্নিবীণা'-এর অন্তর্গত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫৬২.
‘কল্লোল’ কোন ধরণের পত্রিকা ছিল? 
  1. দৈনিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. মাসিক
  4. পাক্ষিক 
ব্যাখ্যা

‘কল্লোল’:
- ‘কল্লোল’ ছিল একটি মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- এই পত্রিকাটি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতা ও কল্লোল যুগের সূচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাথমিক সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ ও গোকুলচন্দ্র নাগ।
- এটি বাংলা সাহিত্যের সমকালীন লেখকদের জন্য শক্তিশালী সাহিত্য আন্দোলনের প্রতীক ছিল। 
- পত্রিকাটি নবীন লেখকদের- প্রেমেন্দ্র মিত্র, কাজী নজরুল ইসলাম, বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ- জন্য মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছিল।
- বিশেষ করে যারা রবীন্দ্রনাথের বৃত্তের বাইরে নতুন ধারার সাহিত্য সৃষ্টি করতে চেয়েছিলেন।
- কল্লোল মূলত রবীন্দ্র-বিরোধী সাহিত্য বিপ্লব হিসেবে পরিচিত।
- এটি ১৯২৩ থেকে ১৯২৯ পর্যন্ত প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৩.
ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা কোনটি?
  1. সাধনা
  2. ভারতী
  3. বালক
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা

'সাধনা' জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা। এর পূর্বে অন্যান্য পত্রিকাসমূহ হলো- তত্ত্ববোধিনী,  ভারতী এবং বালক।

• 'সাধনা' পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৪.
তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. অক্ষয় কুমার দত্ত
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৬৫.
‘কালকূট’ নামে লেখেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  2. অন্নদাশঙ্কর রায়
  3. সমরেশ বসু
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - 'কালকূট'।

অন্যদিকে,
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় ।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৬.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. বাসন্তী
  2. বেগম
  3. কালি ও কলম 
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা

• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৬৭.
'কোহিনূর' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. শেখ আবদুর রহিম
  3. মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'কোহিনুর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - 'মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী'।

অন্যদিকে,
• মোজাম্মেল হক এর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়- 'মোসলেম ভারত' পত্রিকা। 
• হাফেজ, মিহির ও সুধাকর এই তিনটি পত্রিকারই সম্পাদক শেখ আবদুর রহিম।
• মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় 'হিতকরী' পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর। 
৫৬৮.
সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. সুবচনী
  2. জাবালি
  3. কালকূট
  4. বাণভট্ট
ব্যাখ্যা
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট।

অন্যদিকে, 
• সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুবচনী। 
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি। 
• নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম - বাণভট্ট। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৬৯.
'মোহাম্মাদি' মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন
  2. সৈয়দ এমদাদ আলী
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী
ব্যাখ্যা

'মোহাম্মাদি' মাসিক পত্রিকা:
- মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকাটি মুসলিম নবজাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে খ্যাত।
- এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ।
-  ১৯০৩ সালে কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তী সময়ে মুজিবুর রহমান খাঁ এবং বদরুল আনাম খাঁও পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
- পত্রিকাটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নিয়মিত চলে;
- এবং ১৯৪৯ সালে ঢাকা থেকে পুনরায় প্রকাশিত হয়ে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।
---------------------- 
অন্যদিকে,
• সওগাত - সচিত্র মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন।
• কোহিনূর - মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন: এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।
• নবনূর' মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সৈয়দ এমদাদ আলী। 

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া। 

৫৭০.
বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. শিখা
  3. ধূমকেতু
  4. দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
• রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীতটি অন্তর্ভুক্ত আছে।

সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'আমার সোনার বাংলা' গানটি বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ১৩১২ (১৯০৫) সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ, কাজী নজরুল ইসলাম।
৫৭১.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন?
  1. চারটি
  2. পাঁচটি
  3. ছয়টি
  4. সাতটি
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭২.
কোন লেখকের পিতৃদত্ত নাম 'গন্ধর্বনারায়ণ' ছিলো?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. নবীনচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
দীনবন্ধু মিত্র:
- দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের অনুপ্রেরণায় কবিতা লিখতেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন।
- তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন। নীলদর্পণ তাঁর শ্রেষ্ঠ নাটক এবং শ্রেষ্ঠ রচনাও।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- দ্বাদশ কবিতা ও
- সুরধুনী কাব্য।

তাঁর রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক

তাঁর রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৩.
'সাহিত্যবিশারদ' কার উপাধি?
  1.  আব্দুল কাদির
  2. আব্দুল করিম
  3. নজিবর রহমান
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• আবদুল করিম:
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- সাহিত্যবিশারদ তাঁর উপাধি। 
- হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পান্ডুলিপিগুলি থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৭৪.
কার সম্পাদনায় মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) বনফুল
  2. খ) বীরবল
  3. গ) টেকচাঁদ ঠাকুর
  4. ঘ) ডি. এল. রায়
ব্যাখ্যা
বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 

- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- তিনি ‘বীরবল’ ছদ্মনামে ওনেক রচনা প্রকাশ করেন।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৫.
বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যে কোন শাখার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত?
  1. প্রবন্ধ
  2. গীতিকবিতা
  3. নাটক
  4. কাব্যনাট্য
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- নিসর্গ সঙ্গীত,
- মায়াদেবী,
- দেবরাণী,
- বাউল বিংশতি,
- সাধের আসন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৭৬.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. ভ্রমণকারী বন্ধু
  2. নীললোহিত
  3. দৃষ্টিহীন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল লোহিত।
- 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন - দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৫৭৭.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র 
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুণ একজন কবি, সাংবাদিক ৷ 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা “সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র ব্যবহৃত ছদ্মনাম হলো - লেখরাজ সমান্ত।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া

৫৭৮.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল' কী ধরণের সাহিত্য পত্রিকা?
  1. বার্ষিক
  2. সাপ্তাহিক
  3. মাসিক
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা
• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

---------------------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।
- 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক করে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গান- আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই।

• তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- তিমিরান্তক।

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- পূরবী,
- নবী কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৭৯.
শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’ রচনাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ভারতবর্ষ
  2. খ) তত্ত্ববোধিনী
  3. গ) সমাচার চন্দ্রিকা
  4. ঘ) নবযুগ
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ‘দেবদাস’ উপন্যাস ১৯১৭ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ‘ভারতবর্ষ’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৮০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কাকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ 
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. দিজেন্দ্রলাল রায় 
ব্যাখ্যা

• 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' বিহারীলাল চক্রবর্তীকে গীতি কাব্য-ধারার 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেছেন।

'ভোরের পাখি' বলার কারণ:
বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করেন। এক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম। তাই তাকে 'ভোরের পাখি' বলা হয়েছে।

--------------------
বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী। তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা 'বঙ্গসুন্দরী'।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদামঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদামঙ্গল।

উল্লেখ্য, 
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়। রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধিতে ভূষিত করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮১.
'শেখ আজিজুর রহমান' এর সাহিত্যিক নাম কোনটি?
  1. শওকত আলী
  2. শামসুর রাহমান
  3. শওকত ওসমান
  4. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
ব্যাখ্যা
⇒ শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ছিলেন।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- 'জাহান্নম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- জাহান্নম হইতে বিদায়,
- দুই সৈনিক,
- সমাগম,
- চৌরসন্ধি, 
- রাজা উপাখ্যান, 
- নেকড়ে অরণ্য, 
- পতঙ্গ পিঞ্জর, 
- রাজসাক্ষী, 
- জলাংগী, 
- পুরাতন খঞ্জর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮২.
‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. মুরলীধর বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সঞ্জয় ভট্টাচার্য
  4. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• ‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না - সঞ্জয় ভট্টাচার্য
- ‘পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৫৮৩.
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কোন উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’ অর্জন করেন?
  1. খোয়াবনামা
  2. চিলেকোঠার সেপাই
  3. দোজখের ওম
  4. খোয়ারি
ব্যাখ্যা
⇒ 'খোয়াবনামা' উপন্যাস:
- ঐতিহাসিক উপাদান নির্ভর উপন্যাস 'খোয়াবনামা' এর রচয়িতা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস। 
- গ্রাম বাংলার নিম্নবিত্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনলেখ্যসহ ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, আসামের ভূমিকম্প, তেভাগা আন্দোলন , ১৯৪৩ সালের- এর মন্বন্তর, পাকিস্তান  আন্দোলন , সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ইত্যাদি ঐতিহাসিক উপাদান নিপুনভাবে উপস্থিত করা হয়েছে। 
- তিনি ১৯৯৫ সালে 'খোয়াবনামা' উপন্যাসের জন্য ‘সাদত আলী আখন্দ পুরস্কার’  ও ১৯৯৬ সালে কলকাতার ‘আনন্দ পুরস্কার’ লাভ করেন। 

⇒ আখতারুজ্জামান ইলিয়াস:
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস (১৯৪৩-১৯৯৭) কথাসাহিত্যিক।
- তাঁর পূর্ণনাম আখতারুজ্জামান মুহম্মদ ইলিয়াস।
- আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
- এদেশের প্রগতিশীল ও মানবতাবাদী সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতিও তাঁর পরোক্ষ সমর্থন ছিল।
- তাঁর লেখায় সমাজবাস্তবতা ও কালচেতনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর রচিত গ্রন্থসমূহ হলো:
• উপন্যাস:
- চিলেকোঠার সেপাই,
- খােয়াবনামা।
(এই দুটি হলো তার মহাকাব্যোচিত উপন্যাস)

• ছােটগল্প:
- অন্য ঘরে অন্য স্বর,
- খোয়ারি,
- দুধভাতে উৎপাত,
- দোজখের ওম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৫৮৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি কে?
  1. ক) ভারতচন্দ্র রায়
  2. খ) নরহরি চক্রবর্তী
  3. গ) বিজয়গুপ্ত
  4. ঘ) মুকুন্দরাম
ব্যাখ্যা
- বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- আধুনিক যুগের নাগরিক কবি শামসুর রাহমান। 

- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
-  ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে  মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়। 

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৫.
আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকায় নাম কী?
  1. ক) ইত্তেফাক
  2. খ) সমকাল
  3. গ) ইত্তেহাদ
  4. ঘ) ইনসাফ
ব্যাখ্যা
আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকায় নাম = 'ইত্তেহাদ'। 
- ১৯৪৬ সালে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দির 'ইত্তেহাদ' পত্রিকার সম্পাদক হন। 
- ১৯৪৮ পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। 

আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন  সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
তিনি ১৯১১ সালের ১২ মার্চ  ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম। 

তাঁর উল্লেখযোগ্য উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা,
- সংকর সংকীর্তন,
- দেয়াল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৮৬.
'শিখা' পত্রিকা বছরে কয়বার প্রকাশিত হয়?
  1. দুইবার
  2. একবার
  3. তিনবার
  4. চারবার
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৮৭.
‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়:
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৯ জুলাই বিহারের পূর্ণিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, কথাশিল্পী, নাট্যকার, প্রবন্ধকার।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় কর্মজীবন শুরু করেন কলকাতার একটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে নিয়োগ লাভের মধ্য দিয়ে।
- স্কুলে পড়ার সময়ে তিনি ‘বনফুল’ ছদ্মনামে কবিতা রচনা করেন
- সম্পাদনা করেন 'বিকাশ' (১৯১৫) নামে হাতে-লেখা একটি সাহিত্যপত্রিকা।
- তাঁর কবিতার প্রধান বিষয় নিসর্গ চেতনা, প্রেম ও আত্ম-উপলব্ধি।
- ১৯৭৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- বনফুলের গল্প, 
- বিন্দু বিসর্গ, 
- অদৃশ্যলোকে,
- তন্বী,  
- অনুগামিনী,
- দূরবীণ,
- মণিহারী, 
- বহুবর্ণ,
- বনফুলের নতুন গল্প ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৫৮৮.
উনিশ শতকে বাংলা গদ্যের গঠনে কোন পত্রিকার অবদান অবিস্মরণীয়?
  1. পূর্বাশা 
  2. পরিচয় 
  3. কল্লোল 
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার অবদান অবিস্মরণীয়। ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা। সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।

- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষান্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৮৯.
বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত ছিলেন-
  1. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  4. অতুলপ্রসাদ সেন
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত ছিলেন।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৫৯০.
গোলাম মোস্তফাকে 'কাব্য সুধাকর' উপাধি দেন -
  1. পাকিস্তান সরকার
  2. ফরিদপুর যুব সংঘ
  3. যশোর সংঘ
  4. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯১.
’সমাচার চন্দ্রিকা’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়  
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. বঙ্কিম চট্টোপাধ্যায়
  4. রাজা রামমোহন
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার চন্দ্রিকা' পত্রিকা:
- রাজা রামমোহনের সঙ্গে মত-পার্থক্যের কারণে সম্বাদ কৌমুদী-র সম্পাদক ভবানীচরণ বন্দোপাধ্যায় পত্রিকা ত্যাগ করেন।
- এবং ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮২২ সালের ৫ মার্চ সমাচার চন্দ্রিকা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- পত্রিকাটি রক্ষণশীল হিন্দুদের মুখপত্রে পরিণত হয়।
- ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পত্রিকা টিকে ছিলো।

• ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি একজন লেখক, সাংবাদিক, কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা ছিলেন।
- রামমোহন রায়-সম্পাদিত সম্বাদ-কৌমুদী পত্রিকায় ১৮২১ সালের ডিসেম্বর মাস সাংবাদিকতার কাজ আরম্ভ করেন। 
- ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস রচনা না করলেও, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সৃজনশীল গদ্য লেখেন।
- তার রচনার তীব্র বিদ্রূপ এবং রঙ্গব্যঙ্গ পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

তাঁর গ্রন্থ:  
- দূতীবিলাস,
- শ্রীশ্রী গয়াতীর্থ,
- আশ্চর্য্য উপাখ্যান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৫৯২.
"সত্যেন্দ্রনাথ দত্তে'র" ছদ্মনাম কী?
  1. শ্রীকান্ত শর্মা
  2. নীল লোহিত
  3. নীল উপাধ্যায়
  4. ত্রিবিক্রম বর্মণ
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

অন্যদিকে,
- ‘শ্রীকান্ত শর্মা’ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল উপাধ্যায়, নীল লোহিত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিক,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদ কাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা,
- অন্যদিকে,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার- ১৫।
৫৯৩.
বিষ্ণু দে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সাহিত্যপত্র
  2. সুধাকর
  3. প্রবাসী
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
• বিষ্ণু দে:
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী।
- ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন।
- তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে।
- বিষ্ণু দে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় (১৯৩১ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত) সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এবং তাঁর প্রকাশিত অপর পত্রিকা হচ্ছে ‘সাহিত্যপত্র’।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হলো:
- উর্বশী ও আর্টেমিস,
- চোরাবালি,
- সাত ভাই চম্পা,
- নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
- তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- রুচি ও প্রগতি,
- সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
- রবীন্দ্রনাথ ও শিল্প সাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা।

• অনুবাদ সাহিত্য:
- এলিয়টের কবিতা।

অন্যদিকে:
- বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকার নাম 'প্রগতি'।
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা ‘সুধাকর’।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা ‘প্রবাসী’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৫৯৪.
বুদ্ধদেব বসু কবি জীবনানন্দ দাশকে কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
  1. চিত্ররূপময় কবি
  2. তিমির হননের কবি
  3. রূপসী বাংলার কবি
  4. নির্জনতার কবি
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন।

- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

উল্লেখ্য,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে 'চিত্ররূপময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জীবনানন্দ দাশের অন্যান্য উপাধিগুলো হলো-
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- শুদ্ধতম কবি হিসেবে অভিহিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৫৯৫.
'কবিকণ্ঠ হার' উপাধি কোন সাহিত্যিকের?
  1. জয়দেব
  2. বিদ্যাপতি
  3. বৃন্দাবন দাস
  4. কৃষ্ণদাস
ব্যাখ্যা
- বিদ্যাপতি ছিলেন মিথিলা রাজসভার মহাকবি।
- ব্রজবুলি ভাষায় রচিত বৈষ্ণব পদাবলির অন্যতম পদকর্তা বিদ্যাপতি।
- রাজা শিবসিংহ রায় তাঁর কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে, 'কবিকণ্ঠ হার' উপাধি দেন।



উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৬.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কত সালে প্রথম 'সংবাদ প্রভাকর' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
  1. ১৮৩৯ সালে
  2. ১৮৩৬ সালে
  3. ১৮৩১ সালে
  4. ১৮৬০ সালে
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৫৯৭.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি প্রদান করে কোন বিশ্ববিদ্যালয়?
  1. কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. বিশ্বভারতী
  4. শান্তিনিকেতন
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।
- সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিলিট উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজবৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৫৯৮.
ছদ্মনামসহ মূল নামের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. মণীশ ঘটক - চিত্রগুপ্ত
  2. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় - সুনন্দ
  3. বিমল মিত্র- দৃষ্টিহীন
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী- যুবনাশ্ব
ব্যাখ্যা
• 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
• মধুসূধন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।

আবার,
'দৃষ্টিহীন' - দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৫৯৯.
'নির্জনতার কবি' ছিলেন কে?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।

জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

-------------------
•  জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ, বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।
- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।

- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।

- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৬০০.
গোলাম মোস্তফাকে 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' উপাধিতে ভূষিত করে কোন সরকার?
  1. ব্রিটিশ সরকার
  2. বাংলাদেশ সরকার
  3. ভারত সরকার
  4. পাকিস্তান সরকার
ব্যাখ্যা
গোলাম মোস্তফা:
- যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।
- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্য-কাহিনী,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- তারানা-ই-পাকিস্তান,
- বনিআদম।

গোলাম মোস্তফা রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- আমার চিন্তাধারা,
- পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।