বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৪০১৫০০ / ১,৬০৩

৪০১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত কত সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. ১৮৪০ সালে
  2. ১৮৩১ সালে
  3. ১৮৭৫ সালে
  4. ১৮৪৫ সালে
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত। 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪০২.
নিচের কোন পত্রিকাটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়নি?
  1. উত্তরাধিকার
  2. ধানশালিকের দেশ
  3. বার্তা
  4. ঢাকা নিউজ
ব্যাখ্যা

• 'ঢাকা নিউজ' পত্রিকা:
- ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
- এটি ছিলো ইংরেজি ভাষার একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল আলেক্সান্ডার ফর্বেসের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৮৬৯ সালে এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- এটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা নয়। 

• অন্যদিকে:
- বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 

• বাংলা একাডেমি পত্রিকা:
- গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলায় রচিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

• উত্তরাধিকার:
- মাসিক পত্রিকা।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

• ধানশালিকের দেশ:
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা।
- কিশোরোপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

• বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা:
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

• বাংলা একাডেমি জার্নাল:
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
- বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

• বার্তা:
- একাডেমির কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ এতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে।
- বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।

৪০৩.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কার ছদ্মনাম?
  1. শওকত ওসমান
  2. মীর মোশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
ব্যাখ্যা

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২ সালে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শৈশবেই মায়ের মৃত্যু ঘটে।
- পিতার দ্বিতীয় বিয়োর পর তিনি মামার বাড়িতে কোলকাতায় বসবাস শুরু করেন।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়।
- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় খুব অগ্রগতি না হলেও নিজ চেষ্টায় তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন এবং বেদান্তদর্শনে পারদর্শী হন।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামে লিখতেন।
তিনি বাংলা সাহিত্যের যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
- সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার মধ্যযুগীয় বৈশিষ্ট্যের ছিল।
- বিশেষত ব্যঙ্গ ও বিদ্রূপকবিতার জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত গ্রামাঞ্চলে ঘুরে প্রাচীন কবিয়ালদের জীবনী ও তথ্য সংগ্রহ করে, মুখে মুখে পদ্য রচনা করতেন। 
- তিনি অজস্র কবিতা লিখেছেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর কবিতা সংগ্রহ দীর্ঘ ভূমিকার সঙ্গে প্রকাশ করেন।
- তিনি ১৮৫৯ সালের ২৩ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।
- সাংবাদিক ও কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সাহিত্যিক ও সামাজিক অবদান বাঙালি সমাজে চিরস্মরণীয়।
--------------------------------- 
অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেন যেসব ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন: 
- গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়া এবং উদাসীন পথিক।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর সবচেয়ে প্রচলিত ছদ্মনাম হলো-
- প্রিয়দর্শী, মুসাফির, সত্যপীর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।    

৪০৪.
'ব্রাহ্মণসেবধি' এর সম্পাদক ছিলেন -
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুকুমার রায়
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা- 
- 'ব্রাহ্মণসেবধি' (১৮২১),
- সম্বাদ কৌমুদী, 
- ফারসি ভাষায় 'মিরাত-উল- আখবার' (১৯২২)। 

• 'ব্রাহ্মণসেবধি':
- রাজা রামমোহন রায় ১৮২১ সালে 'ব্রাহ্মণসেবধি' প্রকাশ করেন।
- পত্রিকাটির এক পৃষ্ঠায় বাংলা এবং অপর পৃষ্ঠায় এর ইংরেজি অনুবাদ থাকতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০৫.
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত সর্বপ্রথম যে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় - 
  1. ঢাকা প্রকাশ 
  2. সমকাল 
  3. বঙ্গদর্শন 
  4. শিখা 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বঙ্গদর্শন।
---------------------
বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত: ‘আমার সোনার বাংলা’ সম্পর্কিত বিস্তারিত- 

রচনা ও প্রেক্ষাপট:
• ‘আমার সোনার বাংলা’ রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• বিশ শতকের প্রথম দুই দশকে স্বদেশী আন্দোলনের সময় গানটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল।
• ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গবিরোধী রাজনীতিক, স্বদেশী কর্মী ও বিপ্লবীরা বাঙালি জনগণকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এই গান প্রচার করেন।
• গানটি ব্রিটিশদের বঙ্গভঙ্গ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে রচিত।
 
সঙ্গীত ও প্রকাশনা:
• ‘আমার সোনার বাংলা’ সঙ্গীতটির — প্রথম ১০ পঙ্‌ক্তি বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত।
• গানটি রবীন্দ্রনাথের — ‘গীতবিতান’ এর — স্বরবিতান অংশভুক্ত।
• সুর করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্বয়ং, তবে এতে বাউল — গগন হরকরার সুরের প্রভাব পড়েছিল।
• প্রথম প্রকাশ: ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকায়, ১৩১২ বঙ্গাব্দ (১৯০৫)।
 
‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকা:
- প্রথম প্রকাশ: ১৮৭২ সালে, সম্পাদক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
 ------------------
অন্য আলোচনা:

• 'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকা: 
- 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
- এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
- ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার। পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। ।

• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।

• 'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র ছিল শিখা পত্রিকাটি।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)।

• অপশনের এই পত্রিকাগুলোতে - “আমার সোনার বাংলা” প্রকাশিত হয়নি।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
- বাংলাপিডিয়া।

৪০৬.
স্বর্ণকুমারী দেবী কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. প্রগতি
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. পরিচয়
ব্যাখ্যা
স্বর্ণকুমারী দেবী:
- তিনি ছিলেন কবি, নাট্যকার, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী।
- তিনি ১৮৫৫ সালের ২৮শে আগস্ট জোড়াসাকোঁর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এর দশম সন্তান এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ভগ্নী।
- তিনি আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মহিলা ঔপন্যাসিক ।
- ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণকুমারী সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রতিভার ছাপ রাখেন এবং জোড়াসাঁকোর সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল ও সাহিত্য কর্মকান্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
- স্বর্ণকুমারী দেবী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক 'ভারতী' পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪০৭.
'সংবাদ প্রভাকর' বাংলায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয় কত সালে?
  1. ১৮৩৯ সালে
  2. ১৮৩৮ সালে
  3. ১৮৩৪ সালে
  4. ১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ও পত্রিকা:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপক প্রেমচন্দ্র তর্কবাগীশের প্রেরণায় এবং বন্ধু যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের আনুকূল্যে ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি মাসে সাপ্তাহিক 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা প্রকাশ করেন।

• অর্থসংকটের কারণে মাঝে চার বছর বন্ধ থাকার পর ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট সপ্তাহে তিন সংখ্যা হিসেবে পত্রিকাটি আবার প্রকাশিত হতে থাকে। তাঁর সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে 'সংবাদ প্রভাকর' বাংলায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪০৮.
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর কী উপাধি ছিলো?
  1. পণ্ডিত
  2. মহামহোপাধ্যায়
  3. রায় বাহাদুর 
  4. ভাষাচার্য 
ব্যাখ্যা

• হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি - মহামহোপাধ্যায়। 
----------------

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে
- বাল্মীকির জয়
- মেঘদূত
- প্রাচীন বাংলার গৌরব

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৪০৯.
”আব্দুল্লাহ” উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো?
  1. কল্লোল
  2. মোসলেম ভারত
  3. বঙ্গদর্শন
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা

আব্দুল্লাহ (১৯৩৩) উপন্যাসটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।
- উপন্যাসটি রচনা করেন কাজী ইমদাদুল হক।

কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি শিক্ষক (১৯২০) পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
- আঁখিজল (১৯০০)
- মোসলেম জগতে বিজ্ঞান চর্চা (১৯০৪),
- ভূগোল শিক্ষা প্রণালী (দু ভাগ, ১৯১৩, ১৯১৬),
- নবীকাহিনী (১৯১৭),
- প্রবন্ধমালা (১৯১৮),
- কামারের কান্ড (১৯১৯) ।
১৯২৬ সালের ২০ মার্চ কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া

৪১০.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন ছদ্মনামে 'নীলদর্পণ' নাটকটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন?
  1. টিমোথি পেনপয়েম
  2. গৌড়তটবাসী মশা
  3. দত্তকুলোদ্ভব কবি
  4. এ নেটিভ
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত' A Native' ছদ্মনামে 'নীলদর্পণ' নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861)

--------------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি ও নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। এবং বাংলা সাহিত্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক তিনি।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)। 
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত। মাদ্রাজে অবস্থানকালেই Timothy Penpoem ছদ্মনামে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ The Captive Ladie (১৮৪৮) এবং দ্বিতীয় গ্রন্থ Visions of the Past প্রকাশিত হয়।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

অন্যদিকে,
• 'গৌড়তটবাসী মশা' হলো বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন-এর একটি সাহিত্যিক ছদ্মনাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪১১.
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকে জোহরা বেগমের ছদ্মনাম কী ছিল?
  1. ক) হিরনবালা
  2. খ) মুন্নুবেগ
  3. গ) মরিয়ম খাতুন
  4. ঘ) জাহানারা বেগম
ব্যাখ্যা
'রক্তাক্ত প্রান্তর' নাটকে জোহরা বেগম 'মুন্নুবেগ' ছদ্মনাম ধারন করে এসে স্বামীকে মুসলিম শিবিরে ফিরিয়ে নিতে চেষ্টা করে। 

মুনীর চৌধুরী রচিত 'রক্তাক্ত প্রান্তর' রচিত হয়েছে মহাকবি কায়কোবাদের 'মহাশ্মশান' গ্রন্থের কাহিনি থেকে। 
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' মুনীর চৌধুরীর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মৌলিক নাটক। 
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধের (১৭৬১) ঘটনা অবলম্বনে তিন অঙ্ক বিশিষ্ট নাটকটি রচিত।  
- 'রক্তাক্ত প্রান্তর' ঐতিহাসিক নাটক নয়, এটি  ইতিহাস-আশ্রিত নাটক।
- চরিত্র: ইব্রাহিম কার্দি, জোহরা, হিরন বালা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১২.
কোন সাহিত্যিক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন - 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়'। 

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত এবং 'খাঁটি বাঙালি কবি' সম্পর্কে তথ্য: 
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।
- তিনি ছিলেন আধুনিককালের মানুষ কিন্তু তিনি আধুনিকতাকে পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারেন নি।
- তাঁর কবিতার বিষয়বস্তু ছিল চমৎকার।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'কবিতা সংগ্রহ' দীর্ঘ ভূমিকাসহ প্রকাশ করেন।
- তিনি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে 'খাঁটি বাঙালি কবি' হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র তাকে 'গুরু' বলেও আখ্যায়িত করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধিক্ষণের কবি বলা হয়। 

• ঈশ্বরচন্দ্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো - ভারতচন্দ্র রায়, রামপ্রসাদ সেন, নিধুগুপ্ত, হরু ঠাকুর ও কয়েকজন কবিয়ালের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া, লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ।
৪১৩.
‘সাহিত্যরত্ন’ কার উপাধি?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. কাজেম আল কোরায়েশী
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন। 
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। 
• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।

তাঁর রচিত অন্যান্য উপন্যাসগুলো হলো:
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমনি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাই না ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
• হুতোম পেঁচা ছদ্মনামে লিখতেন 'কালীপ্রসন্ন সিংহ'৷

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪১৪.
'নির্জনতার কবি' কার উপাধি?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. নির্মলেন্দু গুণ
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেন বুদ্ধদেব বসু।
• জীবনানন্দ দাশ ছিলেন সাদাসিধা মানুষ। জনতার কোলাহল থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করতেন। আজীবন নিজেকে আড়াল করে রাখতে চেয়েছেন। স্বেচ্ছায় ও সচেতন ভাবে প্রশ্রয় দিয়েছেন নিজের প্রসঙ্গে নানা কৌতূহলোদ্দীপক বিভ্রান্তিকে। এজন্যই বুদ্ধদেব বসু তাকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

জীবনানন্দ দাশের উপাধি / অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

অন্যদিকে, 
• নির্মলেন্দু গুণকে কবিদের কবি বলা হয়। 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
• রবীন্দ্রনাথের পর বাংলা সাহিত্যে বুদ্ধদেব বসুকে সব্যসাচী লেখক বলা হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪১৫.
'বীরবল' নামে কাকে অভিহিত করা হয়?
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) প্রমথ চৌধুরী
  3. গ) প্রমথনাথ বিশী
  4. ঘ) প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষার প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত প্রমথ চৌধুরী।
• তিনি 'বীরবল' ছদ্মনাম ব্যবহার করে অনেক রচনা প্রকাশ করেন।
• তাঁকে বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক বলা হয়।
• 'বীরবলের হালখাতা' তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
• তিনি মাসিক সবুজপত্র (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থঃ
- তেল নুন লকড়ি,
- বীরবলের হালখাতা,
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- নানাচর্চা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ।

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৪১৬.
'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি ধারাবাহিকভাবে কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. বিজলী
  2. মোসলেম ভারত 
  3. মাসিক মোহাম্মদী 
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাসসমূহ:
কাজী নজরুল ইসলামের তিনটি উপন্যাস রয়েছে। এগুলো হলো-
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যু-ক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস:
- 'মৃত্যুক্ষুধা' কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী উপন্যাস। ১৯২৭-১৯৩০- এসময়ের মধ্যে উপন্যাসটি রচিত এবং সওগাত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে মুদ্রিত হয় (অগ্রহায়ণ ১৩৩৪-১৩৩৬ ফাল্গুন)।

- 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাসটি একটি সামাজিক উপন্যাস, যা প্রধানত দারিদ্র্য, ক্ষুধা, ধর্মান্তরণ, সাম্যবাদী চেতনা এবং নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনসংগ্রামের চিত্র তুলে ধরে।

- উপন্যাসটি নজরুলের বাস্তব অভিজ্ঞতাপ্রসূত। ১৯২৬ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত নজরুল কৃষ্ণনগরে বাস করতেন। এ নগরের চাঁদসড়কের ধারে বিরাট কম্পাউন্ডওয়ালা একতলা বাংলো প্যাটার্নের একটি বাড়িতে তাঁর থাকার ব্যবস্থা ছিল। মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসের পটভূমি উক্ত বাড়ি, ওমান কাথলি পাড়া এবং কলতলার পারিপার্শ্বিককে কেন্দ্র করে রচিত।

- উপন্যাসের প্রথমাংশ কৃষ্ণনগরে এবং শেষাংশ কলকাতায় রচিত। কৃষ্ণনগরে অবস্থানকালে নিদারুণ দুঃখ-কষ্ট এবং দুঃসাধ্য কৃষ্ণসাধন ছিল নজরুলের নিত্য জীবনযাত্রার অঙ্গ। তাই দারিদ্রের চিত্র, সাম্য ও বিপ্লবীচেতনা এ উপন্যাসের রূপকল্পের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। তাঁর বহুল পঠিত 'দ্রারিদ্র' কবিতাটিও এ সময়ের রচনা।

- উপন্যাসের প্রধান চরিত্রগুলো হলো- আনাস, রুবি, মেজো বৌ, প্যাঁকালে, কুর্শি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মৃত্যু-ক্ষুধা' উপন্যাস।

৪১৭.
ভারত সরকার কর্তৃক দীনেশচন্দ্র সেন কোন উপাধি লাভ করেন?
  1. বাংলার মিল্টন
  2. দেশবন্ধু
  3. রায়বাহাদুর
  4. ইতিহাসকার
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির ইতিহাস প্রণয়নের পাশাপাশি তিনি রচনা করেন কবিতা, উপন্যাস ও গল্প। সব মিলে তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ৬০।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

------------
তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খন্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খন্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

উৎস: বাংলাপিডিইয়া।
৪১৮.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন দীর্ঘ বাইশ বছর কোন পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
  1. দৈনিক আজাদ
  2. মাসিক মোহাম্মদী
  3. দৈনিক সোলতান
  4. সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ
ব্যাখ্যা

'দৈনিক আজাদ' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

------------------------
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন (১৮৯৭-১৯৭৮) সাংবাদিক, সাহিত্যিক। ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- ১৯২২ সালে মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক হিসেবে তাঁর সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- পরে তিনি সাপ্তাহিক মোসলেম জগৎ, দি মুসলমান, দৈনিক সোলতান, মাসিক মোহাম্মদী প্রভৃতি পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ১৯৩৬ সালে দৈনিক আজাদে যোগদান করে তিনি ১৯৪০-৬২ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৬৪ সালে প্রেস ট্রাস্ট অব পাকিস্তান পরিচালিত দৈনিক পাকিস্তানের সম্পাদক নিযুক্ত হয়ে তিনি ১৯৭২ সালে অবসর গ্রহণ করেন।

আবুল কালাম রচিত ও অনূদিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- ত্রিস্রোতা,
- খরতরঙ্গ,
- দৃষ্টিকোণ,
- নতুন চীন নতুন দেশ,
- দিগ্বিজয়ী তাইমুর,
- ইলিয়ড,
- পলাশী থেকে পাকিস্তান,
- অতীত দিনের স্মৃতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪১৯.
মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন-
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. স্বর্ণকুমারী দেবী
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• স্বর্ণকুমারী দেবী:
- র্ণকুমারী দেবী আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বাঙালি মহিলা ঔপন্যাসিক।
- স্বর্ণকুমারী দীর্ঘ ত্রিশ বছর মাসিক ভারতী পত্রিকার লেখক ও সম্পাদক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন।
- তিনি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্যা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় বোন ছিলেন।
- তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস 'দীপনির্বাণ'।
- সম্ভবত তার সবচেয়ে সেরা গ্রন্থ কাহাকে (১৮৯৮)। এ গ্রন্থটি The Unfinished Song নামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- দীপ নির্বাণ,
- মেবার রাজ,
- মালতী,
- বিদ্রোহ,
- বিচিত্রা,
- স্বপ্নবাণী,
- মিলনরাত্রি।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- গাঁথা,
- কবিতা ও গান।

তাঁর রচিত নাটক:
- বসন্ত উৎসব,
- দেব কৌতুক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২০.
'লাঙল' পত্রিকার প্রচ্ছদে সম্পাদক হিসেবে কার নাম ছাপা হতো?
  1. সুভাষচন্দ্র বসুর
  2. মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের
  3. কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমেদের
  4. সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের
ব্যাখ্যা
• 'লাঙল' সাপ্তাহিক পত্রিকা:
• 'লাঙল' সাপ্তাহিক পত্রিকা। কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 'লাঙল পত্রিকা' ছিল ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ নামে শ্রমিক শ্রেণীর একটি সংগঠনের মুখপত্র।

• নজরুল এর সম্পাদক হলেও পত্রিকার প্রচ্ছদে তাঁর নাম ছাপা হতো মুখ্য পরিচালক হিসেবে, আর সম্পাদক হিসেবে ছাপা হতো মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের নাম। এছাড়া পত্রিকার প্রচ্ছদে কাঁধে লাঙলবাহী একজন কৃষকের ছবিও থাকত।

• পত্রিকার প্রথম পাতায় মানুষের মহত্ত্ব প্রচারের উদ্দেশ্যে চণ্ডীদাসের একটি উক্তি মুদ্রিত হতো।

• লাঙলের প্রথম সংখ্যার প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘সাম্যবাদী’ শিরোনামে এগারোটি কবিতার সমাহার। কৃষক, নারী, দিনমজুর, কুলি প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর পীড়িত ও নির্যাতিত জীবন বর্ণনাত্মক এ কবিতাগুলি পরবর্তীকালে পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার এই বিশেষ সংখ্যার প্রায় পাঁচ হাজার কপি ছাপানো হয়েছিল, কিন্তু এর চাহিদা এতই ব্যাপক ছিল যে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সব কপিই বিক্রি হয়ে যায়। নজরুল ‘কৃষক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়ে’র আহবায়ক হিসেবে এ সংখ্যায়ই সংগঠনের ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন।

• নজরুল লাঙলের অন্যান্য সংখ্যায়ও নিজের কিছু বিখ্যাত কবিতা প্রকাশ করেন, যেমন ‘কৃষাণের গান’, ‘সব্যসাচী’ এবং ‘সর্বহারা’। লাঙ্গলে অন্যান্য লেখকের রচনাসমূহের বিষয়বস্ত্ত ছিল তৎকালীন সমাজতন্ত্রী নেতা কার্ল মার্কস, লেনিন বা সোভিয়েত রাশিয়ার রাজনৈতিক গতিধারা, চীনের পুনর্জাগরণ ইত্যাদি।

• ১৯২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে লাঙলের একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। তাতে তাঁর জীবনী এবং অপ্রকাশিত কয়েকটি চিঠি স্থান পায়। পত্রিকার লেখকদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন কমরেড মুজাফ্ফর আহমেদ ও সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪২১.
'কলমগীর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আবদুল হক
  3. মোজাম্মেল হক 
  4. আবদুল করিম
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন।  যেমন- নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালে তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে, 
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
• আবদুল করিমের উপাধি সাহিত্যবিশারদ।
• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪২২.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি 'বন্দ্যোপাধ্যায়'।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।
- তাঁর প্রকৃত নাম- ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামেও স্বাক্ষর করতেন।
- ১৮৩৯ সালে সংস্কৃত কলেজ ঈশ্বরচন্দ্রকে ‘বিদ্যাসাগর’ উপাধি প্রদান করে।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।

• বিদ্যাসাগরের কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থের নাম:
- শকুন্তলা, 
- সীতার বনবাস, 
- ভ্রান্তিবিলাস ইত্যাদি।

• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রচিত শিক্ষামূলক গ্রন্থ:
- আখ্যান মঞ্জুরী,
- বোধোদয়,
- বর্ণপরিচয়,
- কথামালা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর পারিবারিক পদবি অনুসারে, তাঁর প্রকৃত নাম- 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়', কিন্তু তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪২৩.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. অশীতিপর শর্মা
  2. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  3. নবকুমার
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪২৪.
বাংলা ভাষায় চলিতরীতি প্রতিষ্ঠায় কোন পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে?
  1. ধূমকেতু
  2. কল্লোল
  3. সবুজপত্র
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় চলিতরীতি প্রতিষ্ঠায় 'সবুজপত্র' পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 
 
• সবুজপত্র পত্রিকা:
- ১৯১৪ সালে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। 
- বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং তের বছর চলে। 
- এই পত্রিকার সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর ভাবে জড়িত ছিলেন।
- এই পত্রিকা রবীন্দ্রনাথের চিন্তা এবং ভাষারীতির আধুনিকতা বিকাশে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল।
- সবুজপত্র মাসিক পত্রিকা ছিল এবং এই পত্রিকার সম্পাদনার মাধ্যমে প্রমথ চৌধুরী প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়। 
- এ সাময়িকীতে শুধু সবুজ রং-ই ব্যবহার করা হতো। নন্দলাল বসু অঙ্কিত একটি সবুজ তালপাতা এর প্রচ্ছদে ব্যবহূত হতো। 
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪২৫.
বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো কোনটি?
  1. কবিকণ্ঠহার
  2. কবিরঞ্জন
  3. নব কবিশেখর
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন। মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।

- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

•  তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল:
- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪২৬.
'সুবচনী' ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন কে?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. রাজশেখর বসু
  3. সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুভাষ মুখোপাধ্যায়:
- ১৯১৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন।
- সুভাষ মুখোপাধ্যায় একটি বিখ্যাত কবিতা, 'ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, আজ বসন্ত'।
- তিনি 'সুবচনী' ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন

অন্যদিকে,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪২৭.
‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে খ্যাত ঔপন্যাসিক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- সাহিত্যরত্ন মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক। পাবনা জেলার শাহজাদপুরের চরবেলতৈল গ্রামে তাঁর জন্ম। 

- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর (১৮৮০-১৯৩১) প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রতী হন।

- তাঁর রচিত প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা (১৯১৪) লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন। সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি "সাহিত্যরত্ন" উপাধি লাভ করেন।

তাঁর অন্যান্য উপন্যাস হলো:
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা। 

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৪২৮.
মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক ছিলেন-
  1. সৈয়দ শামসুল হক 
  2. সিকান্দার আবু জাফর 
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দিন
  4. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
ব্যাখ্যা

• 'সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- সমকাল ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি প্রগতিশীল সাহিত্য সাময়িকী। সিকান্দার আবু জাফর-এর সম্পাদনায় এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৩৬৪ বঙ্গাব্দের (১৯৫৭) ভাদ্র মাসে।

- এ সংখ্যার লেখকবৃন্দ ছিলেন কবিতায় শামসুর রাহমান ও আবুল হোসেন, গল্পে শওকত ওসমান ও আলাউদ্দিন আল আজাদ, প্রবন্ধ রচনায় মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ, এ.কে নাজমুল করিম, কাজী দীন মুহম্মদ, আনিসুজ্জামান, কামরুল হাসান, আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন ও কাজী মোতাহার হোসেন এবং পুস্তক সমালোচনায় আবদুল গনি হাজারী ও চাকলাদার মাহবুব আলম।

- দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত পত্রিকাটির সহযোগী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৃতীয় বর্ষ প্রথম সংখ্যা থেকে সিকান্দার আবু জাফরের একক সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হতে থাকে এবং সপ্তম বর্ষ থেকে এটি অনিয়মিত হয়ে পড়ে।

- ১৯৬১ সালে 'রবীন্দ্র জন্ম-শতবার্ষিকী সংখ্যা' হিসেবে সমকালের একটি বিশেষ সংখ্যা এবং অষ্টম বর্ষের নবম-দ্বাদশ সংখ্যাটি (পৌষ-চৈত্র, ১৩৭১) বিশেষ 'কবিতা সংখ্যা' হিসেবে প্রকাশিত হয়। এতে কবিতাবিষয়ক আটটি দীর্ঘ প্রবন্ধ এবং পূর্ববাংলার ৫৭জন কবির ১৯১টি কবিতা মুদ্রিত হয়েছিল। ত্রয়োদশ বর্ষে পত্রিকাটির মাত্র তিনটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। মাসিক সমকাল এভাবেই ১৯৭০ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪২৯.
কোনটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয়?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. দিগদর্শন
  3. ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  4. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
ব্যাখ্যা
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয় - ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান।
- এটি হেনরি ডিরোজিও সম্পাদিত পত্রিকা।

• জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩০.
মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম ছিল-
  1. ভ্রমর
  2. জাবালি
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. যুবনাশ্ব
ব্যাখ্যা
• মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- কালকূট ও ভ্রমর।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩১.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৮৪ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৩২.
প্রেমেন্দ্র মিত্র কোন পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন?
  1. বাংলার কথা
  2. বঙ্গবাণী
  3. সংবাদ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র - সংবাদ, বঙ্গবাণী এবং বাংলার কথা পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে কাজ করেন।

প্রেমেন্দ্র মিত্র:

- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পাঁক,
- কুয়াশা,
- মিছিল,
- উপনয়ন ,
- আগামীকাল,
- প্রতিশোধ,
- প্রতিধ্বনি ফেরে,
- অন্য এক নাম,
- পা বাড়ালেই রাস্তা ইদ্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৩৩.
মুকুন্দদাসের পিতৃদত্ত নাম -
  1. অক্ষয়
  2. মহেন্দ্রলাল
  3. শিবনাথ
  4. যজ্ঞেশ্বর
ব্যাখ্যা
মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৩৪.
‘বালক’ পত্রিকাটি প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী 
  2. কাদম্বরী দেবী 
  3. ইন্দিরা দেবী
  4. জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
ব্যাখ্যা

• ‘বালক’ পত্রিকা:
‘বালক’ ছিল কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত একটি পারিবারিক সচিত্র মাসিক শিশু-পত্রিকা। ১২৯২ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় জ্ঞানদানন্দিনী দেবী–র সম্পাদনায়। তিনি ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজোবৌঠাকুরানী। যদিও সম্পাদক ছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, পত্রিকার কার্যাধ্যক্ষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১২৯৩ বঙ্গাব্দে কার্য্যধ্যক্ষের পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবসর নেন। ফলে জ্ঞানদানন্দিনীর পক্ষে একা পত্রিকা দেখাশোনা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। সচিত্র মাসিক পত্রিকা 'বালক' তাই দীর্ঘায়ু হয়নি, মাত্র এক বছর চলেছিল।

পরে এটি যুক্ত হয় ঠাকুরবাড়িরই বিখ্যাত পত্রিকা 'ভারতী'র সঙ্গে, যুগ্ম-পত্রিকার নাম হয় 'ভারতী ও বালক'। প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১২৯৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (ইংরাজী ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে)। তৎকালীন 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদক স্বর্ণকুমারী দেবী 'বালক' পত্রিকার সম্পাদনা করেন। 'ভারতী'র সাথে যুগ্মভাবে 'বালক'-এর আয়ুষ্কাল ছিল সাত বছর এবং এই সাতবছরে শিশুসাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে বাংলায় জাগরণ এনেছিলো 'বালক' পত্রিকা। 

‘বালক’ পত্রিকায় ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের পাশাপাশি তৎকালীন বহু খ্যাতনামা লেখকের রচনা প্রকাশিত হতো, যা বাংলা শিশুসাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: ‘বালক’ পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪৩৫.
'সত্য সুন্দর দাস' কার ছদ্মনাম?
  1. কালি প্রসন্ন সিংহ
  2. মোহিত লাল মজুমদার
  3. মালাধর বসু
  4. কাজেম আল কোরায়েশী
  5. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• মোহিতলাল মজুমদার এর ছদ্মনাম 'সত্যসুন্দর দাস'। 
 - তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’  ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• মোহিতলাল মজুমদার: 
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়।
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।

অন্যদিকে,
- কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম — হুতোম পেঁচা।
- মালাধর বসু গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।
- 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৪৩৬.
বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন কে?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3.  বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা
• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।

- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।

- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধি লাভ করেন।

- মোজাম্মেল হক কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক 'সময়' পত্রিকায় প্রথম সাংবাদিকতার কাজ শুরু করেন। 

- তিনি তাঁর জোহরা উপন্যাসের মধ্য দিয়ে মুসলমান সমাজের বেদনাঘন চিত্র অঙ্কন করেছেন।

- মোজাম্মেল হক 'লহরী' (১৮৯৯), মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন। চল্লিশ বছর যাবৎ তিনি শান্তিপুর মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনার ও কিছুকাল ভাইস-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি ত্রিশ বছর নদীয়া জেলা বোর্ডের শিক্ষা কমিটির সদস্য, বিশ বছর অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট ও কিছুকাল বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির (১৯১১) সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৩৭.
আবদুল করিমকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধিতে ভূষিত করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ
  2. নদীয়া সাহিত্য সভা
  3. এশিয়াটিক সোসাইটি
  4. বাংলা একাডেমি
ব্যাখ্যা
আবদুল করিম:
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। সাহিত্যবিশারদ তাঁর উপাধি। 
- হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৩৮.
বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত কিশোর সাহিত্য পত্রিকা কোনটি?
  1. বার্তা 
  2. ধান শালিকের দেশ
  3. উত্তরাধিকার
  4. বাংলা একাডেমি জার্নাল
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা ও সাময়িকী:

- ধান শালিকের দেশ - ত্রৈমাসিক কিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- বার্তা  - মাসিক মুখপাত্র।
- বাংলা একাডেমি পত্রিকা - গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক।
- বাংলা একাডেমি জার্নাল: ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
- উত্তরাধিকার - সৃজনশীল সাহিত্য মাসিক পত্রিকা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট।
৪৩৯.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ক্রান্তি
  2. নয়া সড়ক
  3. কালিকলম
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

অন্যদিকে,
- 'ক্রান্তি' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম কাকে 'চারণকবি'র মর্যাদা প্রদান করেন?
  1. আবদুল হাকিম
  2. ভারতচন্দ্র রায়গুনাকর
  3. গোবিন্দদাস
  4. মুকুন্দদাস
ব্যাখ্যা
• মুকুন্দদাস:
- মুকুন্দদাস ছিলেন একজন চারণকবি। ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম।

- তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর। রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস। পরে গুরুপ্রদত্ত এ নামেই তিনি সর্বসাধারণের নিকট পরিচিত হন।

- বিদেশী পণ্য বর্জন এবং ব্রিটিশের শাসন-শোষণের কথা তিনি অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় বর্ণনা করেন।
- তাঁর রচিত 'ছিল ধান গোলা ভরা/ শ্বেত ইঁদুরে করল সারা' জাতীয় গানে ইংরেজ সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তিনি তিন বছর কারাদন্ড ভোগ করেন এবং জরিমানার অর্থ জোগান দিয়ে সর্বস্বান্ত হন।

- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৪১.
'ভারতী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. স্বর্ণকুমারী দেবী
ব্যাখ্যা
• ভারতী:
- ভারতী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৪৯-১৯২৫) পরিকল্পনা-প্রসূত মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ১৫ শ্রাবণ (২৯ জুলাই, ১৮৭৭ খ্রি)।
- ভারতী-র প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)।
- তবে কার্যত পত্রিকা প্রকাশের সবরকম দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। 
- ভারতী-র প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর তিনটি রচনা প্রদান করেন।
- ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ।
- দ্বিজেন্দ্রনাথ ১২৮৪ থেকে ১২৯০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন।
- পরে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্বর্ণকুমারী দেবী। তিনি ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৪২.
রাজশেখর বসু'র ছদ্মনাম কোনটি?
  1. পরশুরাম
  2. যাযাবর
  3. দাদাভাই
  4. প্রিয়দর্শী
ব্যাখ্যা
• রাজশেখর বসু'র ছদ্মনাম - পরশুরাম

অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
- সৈয়দ মুজতবা আলী'র ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
- রোকনুজ্জামান এর ছদ্মনাম - দাদাভাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৩.
প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম কী?
  1. টেকচাঁদ ঠাকুর
  2. বীরবল
  3. যাযাবর
  4. জাবালি
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম - বীরবল।

• আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ ছদ্মনাম:
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - 'যুবনাশ্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪৪.
'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কোন কবি কে?
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. কাজেম আল কোরেশী
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. হাসান হাফিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি কায়কোবাদ। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা পূর্বপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ। তিনি আধুনিক বাংলাসাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুম-কানন।
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিব-মন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

• কবির মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়:
- প্রেমের ফুল।
- প্রেমের বাণী।
- প্রেম-পারিজাত।
- মন্দাকিনী-ধারা।
- গওছ পাকের প্রেমের কুঞ্জ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৪৫.
‘জমীরউদ্দীন মোল্লা’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন-
  1. ক) মীর মশাররফ হোসেন
  2. খ) জসীমউদ্দীন
  3. গ) মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
  4. ঘ) আবুল ফজল
ব্যাখ্যা
• জমীরউদ্দীন মোল্লা’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন - জসীমউদ্দীন

অন্যদিকে,
• মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম হলো: গৌড়তটবাসী মশা, উদাসীন পথিক, গাজী মিয়াঁ।
• ‘মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ’ জহির রায়হানের প্রকৃত নাম।
• লেখক আবুল ফজল ‘শমসের উল আজাদ’ ছদ্মনামে লিখতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৬.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. শ্রীমতী কনিষ্ঠা
  2. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
  3. ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা
  4. টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর;
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর;
- আন্নাকালী পাকড়াশী;
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য;
- নবীনকিশোর শর্মণ;
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা;
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ;
- শ্রীমতী কনিষ্ঠা;
- শ্রীমতী মধ্যমা;

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৪৭.
'যাযাবর' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. ক) বিমল কর
  2. খ) বিমল মিত্র
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু
  4. ঘ) বিনয় মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
অপশনে বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের পুরো নাম নেই। তবে এখানে অপশন ঘ) ই সঠিক উত্তর হবে।

- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট।
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস:- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৪৮.
চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার প্রতিষ্ঠাকারী পত্রিকা কোনটি?
  1. কল্লোল 
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. সাধনা 
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার এই পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৪৯.
‘মঞ্জু’ ছদ্মনাম কে ব্যবহার করতেন?
  1. ক) আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. খ) আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. গ) আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  4. ঘ) আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
‘মঞ্জু’ (ডাকনাম) ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন আখতারুজ্জামান ইলিয়াস।
আলাউদ্দিন আল আজাদ এর ছদ্মনাম - বাদশা (ডাকনাম)।
আবদুল মান্নান সৈয়দ এর ছদ্মনাম - আশোক সৈয়দ।
আবুল কালাম শামসুদ্দীন এর সাহিত্যিক নাম ছিল - শামসুদ্দীন আবুল কালাম।
৪৫০.
'শওকত ওসমান' এর প্রকৃত নাম কোনটি?
  1. শাহ্‌ আজিজুর রহমান
  2. শেখ শওকত ওসমান
  3. শেখ আজিজুল রহমান
  4. শেখ আজিজুর রহমান
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম — শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।

উল্লেখ্য,
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৪৫১.
প্যারীচাঁদ মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. কণ্ঠস্বর
  2. স্বদেশ
  3. অগত্যা
  4. মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা
মাসিক পত্রিকা:
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে,
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'স্বদেশ'।
- 'অগত্যা' পত্রিকার সম্পাদক - ফজলে লোহানী।
- 'কণ্ঠস্বর' পত্রিকার সম্পাদক - আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৫২.
'প্রগতি' প্রথমে কী ধরনের পত্রিকা হিসেবে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. বার্ষিক 
  2. দৈনিক 
  3. মাসিক
  4. সাপ্তাহিক
ব্যাখ্যা

'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ।
- কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৫৩.
আধুনিক বাংলা গানের জগতে কবি নজরুল কী নামে খ্যাত ছিলেন?
  1. ব্যাঙাচি
  2. দুখু মিয়া
  3. বুলবুল
  4. বিদ্রোহী কবি
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কাজী নজরুল ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। 
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৪.
প্রবোধকুমার কোন সাহিত্যিকের প্রকৃত নাম?
  1. তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়
  2. মানিক বন্দোপাধ্যায়
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ মে পিতার কর্মস্থল বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন ত্রিশোত্তর বাংলা কথাসাহিত্যের একজন শক্তিমান লেখক।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- চিহ্ন,
- চতুষ্কোণ,
- সার্বজনীন,
- আরোগ্য ইত্যাদি।

• ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ,
- হলুদ পোড়া,
- আজ কাল পরশুর গল্প,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ গল্প,
- ফেরিওয়ালা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৫৫.
শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি রামপ্রসাদ সেন কোন উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. ক) গুণাকর
  2. খ) কাব্যসুধাকর
  3. গ) কবিরঞ্জন
  4. ঘ) কবিকণ্ঠহার
ব্যাখ্যা
• শাক্তপদাবলির আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি - রামপ্রসাদ সেন।
- পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কুমারহট্ট গ্রামের কবিরাজ বংশে তাঁর জন্ম।
- নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদের কবিত্ব ও সঙ্গীতখ্যাতির কথা শুনে তাঁকে নিজের রাজসভায় যোগদানের আহবান জানান এবং ‘কবিরঞ্জন’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- একসময় মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা যাওয়ার পথে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নদীর পাড়ে রামপ্রসাদের গান শুনে মুগ্ধ হন।
- তিনি ভক্তিভাব এবং রাগ ও বাউল সুরের মিশ্রণে এক ভিন্ন সুরের সৃষ্টি করেন, যা বাংলা সঙ্গীতজগতে ‘রামপ্রসাদী সুর’ নামে পরিচিত। 
- তিনি শাক্ত পদাবলীর আদি ও শ্রেষ্ঠ কবি।
- তার গানের সুর 'রামপ্রসাদি সুর' নামে পরিচিত।
- তার রচিত শ্যামাসঙ্গীতের সংখ্যা প্রায় তিনশ।

• তাঁর কয়েকটি জনপ্রিয় গান হলো:
- ‘মন রে কৃষি কাজ জানো না’
- ‘ডুব দেরে মন কালী বলে’
- ‘মা আমায় ঘুরাবি কত’ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৫৬.
কোন লেখকের পিতৃদত্ত নাম গন্ধর্বনারায়ণ?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
• দীনবন্ধু মিত্রের পিতৃদত্ত নাম - গন্ধর্বনারায়ণ

উল্লেখ্য, 
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর পৈত্রিক পদবি - বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর প্রকৃত নাম - 'ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়'।

দীনবন্ধু মিত্র:
- রায়বাহাদুর দীনবন্ধু মিত্র একজন নাট্যকার ছিলেন।
- ১৮৩০ সালে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চৌবেড়িয়া গ্রামে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলেজে পড়ার সময়ই ঈশ্বর গুপ্তের সংস্পর্শে গিয়ে সংবাদ প্রভাকর, সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা লিখতে শুরু করেন। তবে নাটক ও প্রহসন লিখেই তিনি সর্বাধিক খ্যাতি অর্জন করেন।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত প্রহসন:
- সধবার একাদশী,
- বিয়ে পাগলা বুড়ো ও
- জামাই বারিক।

দীনবন্ধু মিত্র রচিত নাটক:
- লীলাবতী,
- নবীন তপস্বিনী,
- কমলে কামিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৫৭.
'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন কোন কবি?
  1. কুসুমকুমারী দাশ
  2. জাহানারা ইমাম
  3. কামিনী রায়
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়:
- কামিনী রায় একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি, সমাজকর্মী এবং নারীবাদী লেখিকা। ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- তিনি 'জনৈক বঙ্গমহিলা' ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ আলো ও ছায়া প্রকাশিত হয় ১৮৮৯ সালে। হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এর ভূমিকা লিখে দেন।
- বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগত্তারিণী পদক (১৯২৯) লাভ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলো হলো:
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- গুঞ্জন (শিশুকাব্য),
- ধৰ্ম্মপুত্র (অনুবাদ),
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোকসঙ্গীত (সনেট),
- অম্বা (নাটক)।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৫৮.
কিশোর পত্রিকা 'বালক' প্রতিষ্ঠা কার অমর কীর্তি?
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী
  2. সেলিনা হোসেন
  3. আল মাহমুদ
  4. কাদম্বরী দেবী
ব্যাখ্যা

• কিশোর পত্রিকা 'বালক' প্রতিষ্ঠা স্বর্ণকুমারী দেবীর অমর কীর্তি। 

-----------------
• ‘বালক’ পত্রিকা:
‘বালক’ ছিল কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত একটি পারিবারিক সচিত্র মাসিক শিশু-পত্রিকা। ১২৯২ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় জ্ঞানদানন্দিনী দেবী–র সম্পাদনায়। তিনি ছিলেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেজোবৌঠাকুরানী। যদিও সম্পাদক ছিলেন জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, পত্রিকার কার্যাধ্যক্ষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

১২৯৩ বঙ্গাব্দে কার্য্যধ্যক্ষের পদ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অবসর নেন। ফলে জ্ঞানদানন্দিনীর পক্ষে একা পত্রিকা দেখাশোনা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। সচিত্র মাসিক পত্রিকা 'বালক' তাই দীর্ঘায়ু হয়নি, মাত্র এক বছর চলেছিল।

পরে এটি যুক্ত হয় ঠাকুরবাড়িরই বিখ্যাত পত্রিকা 'ভারতী'র সঙ্গে, যুগ্ম-পত্রিকার নাম হয় 'ভারতী ও বালক'। প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ১২৯৩ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (ইংরাজী ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে)। তৎকালীন 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদক স্বর্ণকুমারী দেবী 'বালক' পত্রিকার সম্পাদনা করেন। 'ভারতী'র সাথে যুগ্মভাবে 'বালক'-এর আয়ুষ্কাল ছিল সাত বছর এবং এই সাতবছরে শিশুসাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে বাংলায় জাগরণ এনেছিলো 'বালক' পত্রিকা। 

‘বালক’ পত্রিকায় ঠাকুরবাড়ির সদস্যদের পাশাপাশি তৎকালীন বহু খ্যাতনামা লেখকের রচনা প্রকাশিত হতো, যা বাংলা শিশুসাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উৎস: ‘বালক’ পত্রিকা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৪৫৯.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা সাহিত্যে কী নামে পরিচিত?
  1. সনেটের কবি
  2. ছন্দকবি
  3. মধুকবি
  4. ট্র্যাজেডি কবি
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন বাংলা সাহিত্যের যুগপ্রবর্তক কবি। তিনি তাঁর কাব্যের বিষয় সংগ্রহ করেছিলেন প্রধানত সংস্কৃত কাব্য থেকে, কিন্তু পাশ্চাত্য সাহিত্যের আদর্শ অনুযায়ী সমকালীন ইংরেজি শিক্ষিত বাঙালির জীবনদর্শন ও রুচির উপযোগী করে তিনি তা কাব্যে রূপায়িত করেন এবং তার মধ্য দিয়েই বাংলা সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

• উনিশ শতকের বাঙালি নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদন তাঁর অনন্যসাধারণ প্রতিভার দ্বারা বাংলা ভাষার অন্তর্নিহিত শক্তি আবিষ্কার করে এই ভাষা ও সাহিত্যের যে উৎকর্ষ সাধন করেন, এরফলেই তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• নাটক:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী।

• কাব্য:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য (পত্রকাব্য),
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

• প্রহসন:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাস, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬০.
বিখ্যাত 'নেমেসিস' নাটক কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. কল্লোল
  2. শনিবারের চিঠি
  3. ধূমকেতু
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• 'নেমেসিস':
- নুরুল মোমেনের শ্রেষ্ঠ নাটক 'নেমেসিস'।
- নাটকটি ১৯৪৪ সালে "শনিবারের চিঠি" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- নাটকটি পঞ্চাশ-দশকের মন্বন্তরের পটভূমিতে রচিত।
- এর রচনাশৈলী ও পরিকল্পনা অভিনব।
- একটি মাত্র চরিত্রের মাধ্যমে দীর্ঘ সংলাপের ভিতর দিয়ে পুরো নাট্যকাহিনী বিবৃত হয়েছে যার মধ্যে একটি পরিপূর্ণ ছবি পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।
- ফলে নাটকটি নাট্যামোদীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং এ নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলা নাট্যসাহিত্যে অধিষ্ঠিত হন।
- নাটকটি গ্রন্থাকারে প্রকাশ পায় ১৯৪৮ সালে

• নুরুল মোমেন:
- নুরুল মোমেন এর জন্ম ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গায় ১৯০৬ সালে।
- নুরুল মোমেনের প্রথম নাটক 'রূপান্তর' ১৯৪২ সালে ঢাকা বেতার-এ প্রচারিত হয়।
- ১৯৪৭ সালে নাটকটি গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়।
- নুরুল মোমেন রচিত প্রথম রম্যগ্রন্থ 'বহুরূপা'।
- ১৯৪৮ সালে 'বহুরূপা' নামক রম্যরচনাটি প্রকাশিত হয়।

• নুরুল মোমেন রচিত অন্যান্য রম্যগ্রন্থ হলো:
- নরসুন্দর,
-হিংটিং ছট (প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ড)।

• নুরুল মোমেন রচিত বিখ্যাত নাটকসমূহ:
- নেমেসিস,
- যদি এমন হতো,
- নয়া খান্দান,
- আলোছায়া,
- আইনের অন্তরালে,
- শতকরা আশি,
- রূপলেখা,
- যেমন ইচ্ছা তেমন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৬১.
মুক্তিযুদ্ধকালে 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. শওকত ওসমান 
  3. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  4. রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা

• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

-আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। তাঁর প্রথম কবিতা 'উনিশ শ'উনপঞ্চাশ' প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর 'রূপালি স্নান' প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। 'রূপালি স্নান' কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

অন্যদিকে, 
• আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; 'শওকত ওসমান' তাঁর সাহিত্যিক নাম।
• রাজশেখর বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম- পরশুরাম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৬২.
"শ্রীমতি কনিষ্ঠা" ছদ্মনামটি কার?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কয়েকটি ছদ্মনাম:
এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা

অন্যদিকে,
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম লীলাময় রায়। 
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।  
- 'তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৩.
মুকুন্দ দাসের উপাধি কী?
  1. স্বভাব কবি
  2. ছান্দাসিক কবি
  3. চারন কবি
  4. প্রকৃতির কবি
ব্যাখ্যা
বাংলার কবি, গীতি নাট্য চেতনার বহিঃপ্রকাশ হয়েছে নানা ভাবে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম জাগাতে, দেশের পরাধীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার প্রেরণা জোগাতে যেসব কবিরা গান গেয়ে ও যাত্রাভিনয় করে স্থানে স্থানে ঘুরে বেড়িয়েছেন, তাদেরকে চারণ কবি বলা হয়।
- মুকুন্দদাস (১৮৭৮-১৯৩৪) ছিলেন একজন চারণকবি।
- তিনি বিদেশী পণ্য বর্জন এবং ব্রিটিশের শাসন-শোষণের কথা তিনি অত্যন্ত সহজবোধ্য ভাষায় বর্ণনা করেন।
- তাঁর রচিত ‘ছিল ধান গোলা ভরা/ শ্বেত ইঁদুরে করল সারা’ জাতীয় গানে ইংরেজ সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বিচারে তিনি তিন বছর কারাদন্ড ভোগ করেন এবং জরিমানার অর্থ জোগান দিয়ে সর্বস্বান্ত হন।
-  তিনি ১৯২২ সালে  অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।
৪৬৪.
কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস 'বাঁধনহারার' প্রথম কিস্তি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু
  2. বিজলী
  3. কল্লোল
  4. মোস্‌লেম ভারত
ব্যাখ্যা
'মোস্‌লেম ভারত' পত্রিকা:
- ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে প্রকাশিত হয়।
- ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
- পত্রিকার প্রতি সংখ্যার প্রথম পাতার শীর্ষে রবীন্দ্রনাথের একটি বাণী সংকলিত হতো।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা বিরাট ভূমিকা পালন করে।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে মোসলেম ভারত বিরাট ভূমিকা পালন করে।
- কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস বাঁধনহারার প্রথম কিস্তি মোসলেম ভারতের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।

'বাঁধনহারা' উপন্যাস:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রথম উপন্যাস।
- ১৯২৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হলেও ১৯২১ সালেই 'মোসলেম ভারতে' ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপন্যাস।
- নুরুর সঙ্গে মাহবুবার প্রণয় এবং পরে বিয়ের উদ্দ্যোগ অনেক দুর এগিয়ে গেলেও নুরু হঠাৎ পালিয়ে গিয়ে সৈনিক জীবন শুরু করেন। এভাবেই এই উপন্যাসের কাহিনি গড়ে উঠে।

এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র গুলো হচ্ছে:
- নুরু,
- মাহবুবা,
- রাবেয়া,
- সাহসিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৬৫.
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. সাধনা
  2. বঙ্গদর্শন
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- ’সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশের তারিখ ১৮৩১ সালের ২৮ জানুয়ারি, শুক্রবার (১৬ মাঘ, ১২৩৭ বঙ্গাব্দ)।
- প্রকাশক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯)। পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য।
- তাঁর মৃত্যুর কারণে ১৮৩২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ৬৯তম সংখ্যার পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পুনরায় সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
- ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি বারত্রয়িক রূপে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পুনরায় পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার পত্রিকা প্রকাশে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে।
- ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন ’সংবাদ প্রভাকর’ বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

অন্যদিকে,
- ’সাধনা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- ’বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- ’ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
৪৬৬.
'কায়কোবাদ' এর উপাধি -
  1. কাব্যকণ্ঠ
  2. কবিকন্ঠহার
  3. কবিকঙ্কন
  4. কাব্যভূষণ
ব্যাখ্যা

• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• ‘কবিকন্ঠহার’ মধ্যযুগের কবি বিদ্যাপতির উপাধি ছিলো।
• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল ‘কবিকঙ্কন’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৬৭.
কোনটি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম নয়?
  1. কবিরত্ন
  2. লেখরাজ সামন্ত
  3. ত্রিবিক্রম বর্মণ
  4. কলমগীর
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।

সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- ১৯২২ সালের ২৫ জুন তাঁর মৃত্যু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৮.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান
  2. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  3. বাঙ্গাল গেজেট
  4. সমাচার চন্দ্রিকা
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা - ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট।

অন্যদিকে,
• হেনরি ডিরোজিও সম্পাদিত পত্রিকা - ডেইলি দি ইস্ট ইন্ডিয়ান।
• গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট।
• ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা - সমাচার চন্দ্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৬৯.
‘মুসাফির’ ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• ‘মুসাফির’ ছদ্মনামে সৈয়দ মুজতবা আলী লিখতেন।

• সৈয়দ মুজতবা আলীর অন্য ছদ্মনাম:
- সত্যপীর,
- ওমর খৈয়াম,
- প্রিয়দর্শী।

এছাড়া,
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর।

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন-
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৭০.
"মৌমাছি" কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  2. বিমল মিত্র
  3. বিমল ঘোষ
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম - মৌমাছি।

অন্যদিকে, 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
• বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম - জাবালি।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
যেমন:
নীল লোহিত,
নীল উপাধ্যায়,
সনাতন পাঠক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৭১.
কোন লেখক 'ওমর খৈয়াম' ছদ্মনামে লিখতেন?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. সেলিম আল দীন
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

• 'ওমর খৈয়াম' ছদ্মনামে লিখতেন - সৈয়দ মুজতবা আলী

অন্যদিকে,
- গোলাম মোস্তফা ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কাব্য সুধাকর।

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৭২.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  2. ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্‌  
  3. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  4. সৈয়দ অলিউল্লাহ্‌
ব্যাখ্যা

'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৭৩.
১৯২১ সালে ভারত সরকার দীনেশচন্দ্র সেনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার
  2. লোক-সাহিত্যবিশারদ
  3. বাংলার মিল্টন
  4. রায়বাহাদুর
ব্যাখ্যা
• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ ও বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার।
- তাঁর জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘রামতনু লাহিড়ী রিসার্চ ফেলোশিপ’ পেয়ে (১৯১৩) তিনি মৈমনসিংহ-গীতিকাসহ পূবর্ববঙ্গ-গীতিকা (চার খন্ড, ১৯২৩-১৯৩২) এবং এর ইংরেজি ভাষ্যে Eastern Bengal Ballads (চার খন্ড, ১৯২৩-১৯৩২) সংকলন ও সম্পাদনা করেন। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসাহিত্য বিলুপ্তি থেকে উদ্ধার এবং এ সাহিত্য বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপনের লক্ষ্যে গ্রন্থ প্রণয়নে তিনি অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয়,
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য,
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য,
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড),
-আশুতোষ-স্মৃতিকথা,
- বাংলার পুরনারী,
প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান।

অন্যদিকে, 
• বাংলার মিল্টন বলা হয় হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়কে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭৪.
কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. মাহেনও
  2. সওগাত
  3. ধূমকেতু
  4. কালিকল
ব্যাখ্যা

'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।
- পত্রিকাটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো।
- বিশের দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের ব্যর্থতার পর সশস্ত্র বিপ্লববাদের পুনরাবির্ভাবে ধূমকেতু পত্রিকার তাৎপর্যপূর্ণ অবদান    ছিল।
- এক অর্থে এ পত্রিকা হয়ে উঠেছিল সশস্ত্র বিপ্লবীদের মুখপত্র।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো ‘কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু, আয় চলে আয়রে ধূমকেতু'।
- ধূমকেতুর ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের প্রচ্ছন্ন রাজনৈতিক কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে’ প্রকাশিত হলে ৮ নভেম্বর পত্রিকার ওই সংখ্যাটি নিষিদ্ধ করা হয়।

অন্যদিকে,
 - 'মাহে নও'  একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৯৪৯ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৭১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত এটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়। আবদুর রশিদ এর প্রথম প্রকাশক ও সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- 'সওগাত' পত্রিকা - ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কালিকলম  সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)। মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪৭৫.
'দিগদর্শন' কোন ধরনের পত্রিকা ছিলো?
  1. মাসিক
  2. অর্ধ-সাপ্তাহিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. ত্রৈমাসিক
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
-  বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত মাসিক সাময়িকী ছিল।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগ্দর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৭৬.
অক্ষয়কুমার ছাড়া ''তত্ত্ববোধিনী'' পত্রিকা সম্পাদনা করেন -
  1. ক) রাজা রামমোহন রায়
  2. খ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. ঘ) প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশ সচেতন পত্রিকা 'তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা'
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৪৩ সালে। 
- মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠিতা এবং অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন এর সম্পাদক। 

- বাংলা গদ্যের ইতিহাসে এই পত্রিকাটি নবযুগের সুত্রপাত করতে সক্ষম হয়। 
- তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র হিসেবে এই পত্রিকার প্রকাশ।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। 
- পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল পত্রিকাটির স্বর্ণযুগ হিসাবে বিবেচিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৪৭৭.
কলকাতা থেকে প্রকাশকালে 'নবযুগ' পত্রিকার মালিক ও পরিচালক ছিলেন- 
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মুজফ্‌ফর আহমদ
  3. শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক 
  4. মাওলানা আহমদ আলী
ব্যাখ্যা

• 'নবযুগ' পত্রিকা:
- নবযুগ কলকাতা থেকে প্রকাশিত এক পাতার একটি সান্ধ্য দৈনিক। এটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ১২ জুলাই, কলকাতার ৬ নং টার্ন স্ট্রিট থেকে। পত্রিকাটির মূল্য ছিল এক পয়সা।

- এর মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক এবং যুগ্ম সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজফ্‌ফর আহমদ। পত্রিকায় পরিচালকের নাম মুদ্রিত হতো, কিন্তু সম্পাদকের নাম থাকত না। স্বাধীনচেতা, অসাম্প্রদায়িক ও গণমুখী পত্রিকা হিসেবে এটি পরিচিত ছিল।

- ফজলুল হক কৃষক প্রজা পার্টি গঠনের মানসে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন; একই সময়ে নজরুল ইসলাম, মুজফ্‌ফর আহমদ ও কতিপয় সমমনা ব্যক্তি ব্রিটিশবিরোধী গণজাগরণের লক্ষ্যে একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশেরও চিন্তাভাবনা করছিলেন। এ ব্যাপারে ফজলুল হকের বাসভবনে একাধিকবার সভা হয় এবং তাতে পত্রিকার নামসহ অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে আলোচনা হয়। শেষপর্যন্ত নজরুলের প্রস্তাব অনুযায়ী পত্রিকার নাম হয় নবযুগ।

- নবযুগে প্রকাশিত নজরুলের আবেগময় ও বলিষ্ঠ ভাষায় ব্রিটিশবিরোধী সম্পাদকীয় ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষকে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ করে। নজরুলের রচনাগুণে নবযুগ বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে; এমনকি গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পত্রিকাটি কোনোদিন দুবারও ছাপাতে হতো।

- নবযুগে স্বাধীনতা ও গণজাগরণবিষয়ক লেখা প্রকাশিত হওয়ায় ব্রিটিশ সরকার পত্রিকার কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার সতর্ক করে দেয়; এক পর্যায়ে জামানতের ১,০০০ টাকা বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ২,০০০ টাকা জামানত দিয়ে নবযুগ পুনরায় প্রকাশিত হতে থাকে। কিন্তু অল্পকাল পরে ফজলুল হকের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে নজরুল ও মুজফ্ফর আহমদ সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ফলে এক বছরের মধ্যে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

- ১৯৪২ সালে ফজলুল হক যখন বাংলার প্রধানমন্ত্রী তখন তাঁর উদ্যোগে এবং নজরুলের সম্পাদনায় নবযুগ পুনরায় প্রকাশিত হয়। এ সময় কবি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে খুলনার মাওলানা আহমদ আলী সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ পর্বে মোট দুবছর চালু থাকার পর পত্রিকাটি চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৪৭৮.
'চতুরঙ্গ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. রফিক আজাদ
  2. হুমায়ুন কবির
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. আবুল হুসেন 
ব্যাখ্যা

• 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা:
- 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা সম্পাদনা করে হুমায়ুন কবির স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে ত্রৈমাসিক ‘চতুরঙ্গ’ অবিস্মরণীয় নাম। ‘চতুরঙ্গ’-এর প্রথম সংখ্যা (আশ্বিন ১৩৪৫) বের হয় ১৯৩৮ খ্ৰীষ্টাব্দের শেষ দিকে, অক্টোবর মাসে। তবে উদ্যোগ শুরু হয়েছিল বছরের প্রথম দিকেই।

- ঐ ঐতিহাসিক উদ্যোগের প্রধান তিন কলাকুশলী হুমায়ুন কবির (১৯০৬-১৯৬৯), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪), আতাউর রহমান। তবে প্রথম থেকেই হুমায়ুন কবিরই ছিলেন প্রধান উদ্যোক্তা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া এবং 'চতুরঙ্গ' পত্রিকা।

৪৭৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “দুঃখের কবি” বলে অভিহিত করেছেন কাকে? 
  1. বিদ্যাপতিকে 
  2. রামকৃষ্ণ পরমহংসকে 
  3. চণ্ডীদাসকে 
  4. বিবেকানন্দকে 
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৈষ্ণব পদাবলীর আদি রচয়িতা কবি চণ্ডীদাস-কে “দুঃখের কবি” বলে অভিহিত করেছেন।
----------------------
• চণ্ডীদাস:
- চণ্ডীদাস মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের এক বিশিষ্ট বৈষ্ণব কবি।
- তিনি চৈতন্যপূর্ব যুগের কবি।
- তিনি জাতিতে ব্রাহ্মণ ছিলেন।
-  চণ্ডীদাসের বিখ্যাত উক্তি— “শোন হে মানুষ ভাই, সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই”—মানুষের মর্যাদা ও মানবতার সর্বোচ্চ মূল্যকে তুলে ধরে।
- এই মানবতাবাদী চেতনার কারণেই তাঁকে বাংলা ভাষার প্রথম মানবতাবাদী কবি বলা হয়।
- তাঁর কাব্যে মানবপ্রেম, বিরহ ও দুঃখের গভীর অনুভব প্রকাশ পেয়েছে।
- তাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে “দুঃখের কবি” বলে অভিহিত করেন।
-  ‘বহুদিন পরে বঁধুয়া এলে,দেখা না হইত পরাণ গেলে,' ‘সই কেবা শুনাইল শ্যাম নাম’, ‘সখি কেমনে ধরিব হিয়া’ প্রভৃতি পদে তাঁর কাব্যিক শক্তি ও বৈষ্ণব ভাবধারার পরিচয় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

- চণ্ডীদাসের নামে চারজন কবির পরিচয় পাওয়া যায়—
- বড়ু চণ্ডীদাস, দ্বিজ চণ্ডীদাস, দীন চণ্ডীদাস ও চণ্ডীদাস;
- যার ফলে তাঁর পরিচয় নিয়ে কিছু জটিলতা আছে।

উৎস:
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম;
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৮০.
কোন কবি ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেছিলেন?
  1. ক) মালাধর বসু
  2. খ) ভারতচন্দ্র রায়
  3. গ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ঘ) কানাহরি দত্ত
ব্যাখ্যা
• মালাধর বসু ‘গুণরাজ খান’ উপাধি লাভ করেছিলেন।

• মালাধর বসু ভগবতের প্রথম বাংলা অনুবাদক।
- তাঁর কাব্য 'শ্রীকৃষ্ণবিজয়' মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় অনুবাদ গ্রন্থ।
- মালাধরের একমাত্র কাব্য শ্রীকৃষ্ণবিজয়ের রচনাকাল ১৩৯৫-১৪০২ শকাব্দ (১৪৭৩-১৪৮০ খ্রি)।
- চৈতন্যদেবের (১৪৮৬-১৫৩৩) সন্ন্যাস গ্রহণের পূর্বে ভাগবতকে প্রথম বাংলায় প্রচার ও জনপ্রিয় করে তোলার কৃতিত্ব মালাধর বসুর।
- মালাধর বসু বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকটবর্তী কুলীন গ্রামে সম্ভবত পনের শতকের প্রথমার্ধে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি গৌড়েশ্বরের কাছ থেকে 'গুণরাজ খান' উপাধি পেয়েছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৮১.
মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতির উপাধি-
  1. কবিকঙ্কন
  2. মুখোপাধ্যায়
  3. কবিকন্ঠহার
  4. রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- মিথিলার রাজা বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন ।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধী দিয়েছেন।
- কবি ভারতচন্দ্র ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।
- কৃত্তিবাসের আসল পদবি ছিল ‘মুখোপাধ্যায়’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।

৪৮২.
বঙ্গদূত পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮৩৯ সালে
  2. খ) ১৭৮০ সালে
  3. গ) ১৮৩৩ সালে
  4. ঘ) ১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা

রামমােহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদারের সম্পাদনায় ১৮২৯ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই মে প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক ‘বঙ্গদূত'।
পত্রিকাটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতাে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

৪৮৩.
কোন কবিকে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত করেছিল?
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2. হাসন রাজা
  3. মুকুন্দদাস
  4. গোবিন্দচন্দ্র দাস
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরণ ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন।
- মোজাম্মেল হক 'লহরী', 'মোসলেম ভারত' ও 'শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকা'র সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।

অন্যদিকে,
মুকুন্দদাস - চারণকবি।
হাসন রাজা - মরমি কবি।
গোবিন্দচন্দ্র দাস - স্বভাব কবি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৮৪.
বাংলাসাহিত্যে 'কালকূট' নামে পরিচিত কোন লেখক?
  1. সমরেশ মজুমদার
  2. শওকত ওসমান
  3. সমরেশ বসু
  4. আলাউদ্দিন আল আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'সমরেশ বসু' বাংলা সাহিত্যে 'কালকূট' নামে পরিচিত। 

তাছাড়া, 
- শেখ আজিজুর রহমানের ছদ্মনাম - 'শওকত ওসমান'  

বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন লেখক ও তাদের ছদ্মনাম:
- সোমেন চন্দ এর ছদ্মনাম - ইন্দ্রকুমার সোম। 
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন। 
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।   
- বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম - মৌমাছি। 
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর। 
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত। 
- বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম - জাবালি। 
-  সৈয়দ মুজতবা আলী এর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী। 
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়  এর ছদ্মনাম - নীল লোহিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৮৫.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন?
  1. পাঁচটি
  2. ছয়টি
  3. সাতটি
  4. নয়টি
ব্যাখ্যা
⇒ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: 
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪৮৬.
সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম কী?
  1. টেকচাঁদ ঠাকুর
  2. ভ্রমর
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা
• সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত

অন্যদিকে,
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৮৭.
বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সমাচার দর্পণ
  3. বঙ্গদর্শন
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উল্লেখ্য,
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র- সমাচার দর্পণ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

৪৮৮.
'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম-
  1. দৃষ্টিহীন
  2. লীলাময় রায়
  3. নীহারিকা দেবী
  4. টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত'
- তিনি  কবি, ঔপন্যাসিক, সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পিতার কর্মস্থল  নোয়াখালী শহরে তাঁর জন্ম।
- আদি নিবাস বর্তমান  মাদারীপুর জেলায়। 
- ১৯২১ সালে  প্রবাসী পত্রিকায় ‘নীহারিকা দেবী’ ছদ্মনামে অচিন্ত্যকুমারের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়।
-  রবীন্দ্রনাথ ও শরৎচন্দ্রের পরে কল্লোল যুগের যেসব লেখক সাহিত্যজগতে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেন, তিনি ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ- উপন্যাস:
- কাকজ্যোৎস্না ,
- বিবাহের চেয়ে বড় ,
- প্রাচীর ও প্রান্তর ,
- প্রথম কদমফুল ;

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- অমাবস্যা ,
- আমরা ,
- প্রিয়া ও পৃথিবী ,
- নীল আকাশ,
- পূর্ব-পশ্চিম ,
- উত্তরায়ণ;

অন্যদিকে,
• দক্ষিনারঞ্জন মিত্রমজুমদারের ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম- লীলাময় রায়।
• প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৪৮৯.
'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- স্লোগানটি কোন পত্রিকার শিরোদেশে ছাপা হতো?
  1. সাধনা
  2. শিখা
  3. পরিচয়
  4. কল্লোল
ব্যাখ্যা
• 'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।

- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব' কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯০.
'বাংলার মিল্টন' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কোন কবিকে?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- কবি, আইনজীবী হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ে জন্ম ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে।
- হেমচন্দ্রের প্রধান পরিচয় একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে। হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তিনি তাঁর রচনায় দেশপ্রেমকে তুলে ধরেন।
- ১৮৭২ সালের জুলাই মাসে এডুকেশন গেজেট-এ তাঁর 'ভারতসঙ্গীত' কবিতাটি প্রকাশিত হলে ব্রিটিশ সরকার তাঁর প্রতি রুষ্ট হন, এমনকি পত্রিকার সম্পাদক ভূদেব মুখোপাধ্যায়কেও এজন্য জবাবদিহি করতে হয়।
- হেমচন্দ্রের প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'চিন্তাতরঙ্গিণী' ১৮৬১ সালে প্রকাশিত হয়।
- কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে 'বৃত্রসংহার' (২ খণ্ড, ১৮৭৫-৭৭) মহাকাব্য। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বনে রচিত এ কাব্যে মূলত সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় ঘোষিত হয়েছে।
- তাঁকে 'বাংলার মিল্টন' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে খিদিরপুরে নিঃসহায় ও নিঃস্ব অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্য:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- বীরবাহু কাব্য (আখ্যান কাব্য),
- আশাকানন (রূপক কাব্য),
- কবিতাবলী (খণ্ড কবিতার সংকলন),
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৪৯১.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. হরিনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা

'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৪৯২.
মাসিক মোহাম্মদী কোন সালে প্রকাশিত হয়? 
  1. ১৯২৬
  2. ১৯২৭
  3. ১৯২৮
  4. ১৯২৯
ব্যাখ্যা
• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা।
- ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪৯৩.
গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধি প্রদান করেন-
  1. ক) বিপ্রদাস পিপিলাই
  2. খ) শ্রীজীব গোস্বামী
  3. গ) বিজয় গুপ্ত
  4. ঘ) কানা হরিদত্ত
ব্যাখ্যা
- গোবিন্দদাস রচিত সংস্কৃত নাটকের নাম ‘সংগীতমাধব’।
- গোবিন্দদাসের আসল পদবি সেন।
- বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য ছিলেন গোবিন্দদাস ।
- গোবিন্দদাসের নামে প্রায় সাড়ে চারশত বৈষ্ণবপদ পাওয়া যায়।
- মিথিলার কবি বিদ্যাপতি ছিলেন গোবিন্দদাসের কাব্যগুরু।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবিরাজ' উপাধি দেন।
- শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে ‘কবীন্দ্র’ উপাধিও প্রদান করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৪.
জীবনানন্দ দাশ কে 'চিত্ররূপময় কবি' বলেছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে চিত্ররূপময় বলেছেন। সুতরাং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় জীবনানন্দ দাশ চিত্ররূপময় কবি

জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে “চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।
- তাঁকে বলা হয়ে থাকে- ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রূপসী বাংলার কবি।
- ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধের একটি বিখ্যাত উক্তি: “সকলেই কবি নন, কেউ কেউ কবি”
- “বনলতা সেন” তাঁর একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। “বনলতা সেন” কবিতার উপর আডগার এলেন পো এর প্রভাব রয়েছে।

জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- ধূসর পাণ্ডুলিপি,
- বনলতা সেন,
- ঝরা পালক,
- মহাপৃথিবী,
- সাতটি তারার তিমির,
- বেলা অবেলা কালবেলা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯৫.
‘শ্রীকান্ত আচার্য’ ছদ্মনামটি কার?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

- ‘শ্রীকান্ত আচার্য’ ছদ্মনামটি- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের। 

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্মস্থান হলো পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রাম।
- তিনি ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনামগুলির মধ্যে প্রধান হল অনিলা দেবী।
- এছাড়াও, তিনি অমুরুপা দেবী, অপরাজিতা দেবী, শ্রী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রী কান্ডশর্মা, সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় এবং পশুরাম ইত্যাদি নামেও লেখালেখি করতেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপাধি হলো অপরাজেয় কথাশিল্পী।
- বাংলা সাহিত্যে তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য তাঁকে 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' বলা হয়।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক 'ডিলিট' উপাধি লাভ করেন।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- 'শ্রীকান্ত',
- 'দেবদাস',
- 'গৃহদাহ',
- 'চরিত্রহীন',
- 'দত্তা',
- 'পরিণীতা',
- 'পল্লীসমাজ',
- 'বড়দিদি',
- 'পথের দাবী, ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি পরিচিত ছদ্মনাম হলো কমলাকান্ত।
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত 'পালামৌ’ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ ভ্রমণকাহিনী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সবচেয়ে পরিচিত ছদ্মনাম ছিল- ভানুসিংহ ঠাকুর।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৪৯৬.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত কোন পত্রিকা সম্পাদনার মাধ্যমে অমর হয়ে আছেন?
  1. প্রগতি
  2. পরিচয়
  3. কবিতা
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• 'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- বুদ্ধদেব বসু।
'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক বুদ্ধদেব বসু ও অজিত দত্ত।
'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪৯৭.
'গৌড়তটবাসী মশা' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন সেগুলো হলো-
- গৌড়তটবাসী মশা, 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে, 
------------------
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- ভানুসিংহ ঠাকুর, 
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর, 
- আন্নাকালী পাকড়াশী, 
- দিকশূণ্য ভট্টাচার্য, 
- নবীনকিশোর শর্মণঃ, 
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা, 
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ, 
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা, 
- শ্রীমতি মধ্যমা।

• অন্নদাশঙ্ক রায়ের অনেক লেখা 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়েছিল।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ছদ্মনাম 'ভ্রমণকারী বন্ধু'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৪৯৮.
অক্ষয়কুমার দত্ত কার পৃষ্ঠপোষকতায় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা সম্পাদনা করেন?
  1. প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৪৯৯.
'ভ্রমর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু 
  2. বিমল মিত্র
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম- 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।

অন্যদিকে, 
----------------
 - বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫০০.
'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. মুন্সি আহমদ আলী
  3. আবুল হুসেন
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা
শিখা পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।