বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা / ১৬ · ৩০১৪০০ / ১,৬০৩

৩০১.
বাংলা সাহিত্যের "দুঃখবাদী কবি” কে?
  1. গোবিন্দ দাস
  2. যতিন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত;
• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
• রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
• দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন দুঃখবাদী কবি, আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
• প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- মরীচিকা,
- মরুশিখা,
- মরুমায়া,
- সায়ম্,
- ত্রিযামা,
- নিশান্তিকা এবং
- কবিতা-সংকলন অনুপূর্বা।

[প্রথম তিনখানি কাব্যের নামকরণে অগ্নি, রুদ্র ও মরুর দহন এবং শেষের তিনটির নামকরণে রাত্রির অন্ধকারের প্রতীক-দ্যোতনা প্রকাশ পেয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩০২.
কোন পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে কাজী নজরুল ইসলাম সম্পৃক্ত ছিলেন না?
  1. ক) ধূমকেতু
  2. খ) সাম্যবাদী
  3. গ) লাঙ্গল
  4. ঘ) দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা -
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯২৫ সালে প্রকাশিত ‘লাঙ্গল’ পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। 
- কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন 'দৈনিক নবযুগ'।

- 'সাম্যবাদী' (১৯২৩) পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী। 
- 'সাম্যবাদী' (১৯২৫) কাজী নজরুল ইসলাম রচিত কাব্যগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৩.
‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’ ছদ্মনামটি কার?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. মণীশ ঘটক
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা তৃতীয় পর্যায়ে মোহিতলালের সম্পাদনায়ই প্রকাশিত হয়।
- মোহিতলাল মজুমদারের সাহিত্যচর্চার শুরু মানসী পত্রিকার মাধ্যমে।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’ ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধ ও সমালোচনা গ্রন্থ হলো:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- কবি শ্রীমধুসূদন,
- বিচিত্র কথা,
- সাহিত্য কথা।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ হলো:
- স্বপন পসারী,
- স্মরগরল,
- বিস্মরনী,
- হেমন্ত গোধূলি।

অন্যদিকে,
• 'সতীনাথ ভাদুড়ী' এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
• 'মণীশ ঘটক' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
• 'বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৪.
‘দৈনিক আজাদ' পত্রিকার সম্পাদকের নাম কী?
  1. সিকানদার আবু জাফর
  2. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  3. ওয়াজেদ আলী
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
'দৈনিক আজাদ' পত্রিকা:
- এটি একটি জাতীয় বাংলা দৈনিক পত্রিকা।
- ১৯৩৬ সালের ৩১ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় বাংলা ও আসামের মুসলমানদের মুখপত্র হিসেবে দৈনিক আজাদ প্রকাশিত হয়।
- এই পত্রিকার সঙ্গে আরো যুক্ত ছিলেন আবুল কালাম শামসুদ্দীন ও নজীর আহমদ চৌধুরী।
- ভারত বিভাগের (১৯৪৭) পর ১৯৪৮ সালের ১৯ অক্টোবর পত্রিকাটি কলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।
- ভাষা আন্দোলনে আজাদ সাহসী ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩০৫.
ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ থেকে 'বিদ্যাবাচস্পতি' উপাধিতে ভূষিত করা হয় কাকে?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. সুনিতিকুমার চট্টোপাধ্যায় 
  3. সুকুমার সেন 
  4. ড. মুহম্মদ এনামুল হক 
ব্যাখ্যা

• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- তিনি একাধারে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও ভাষাতত্ত্ববিদ ছিলেন। ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বে এম.এ (১৯১২) পাস করেন। দুবছর পর তিনি বি.এল (১৯১৪) ডিগ্রিও অর্জন করেন।
- ১৯২৬ সালে শহীদুল্লাহ্ উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ইউরোপ যান।
- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন বহুভাষাবিদ এবং ভাষাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে তিনি স্বচ্ছন্দে বিচরণ করেছেন। তিনি ১৮টি ভাষা জানতেন; ফলে বিভিন্ন ভাষায় সংরক্ষিত জ্ঞানভাণ্ডারে তিনি সহজেই প্রবেশ করতে পেরেছিলেন।

- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বিখ্যাত উক্তি- "আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।"
- এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র উপাধিসমূহ হলো-
ঢাকা সংস্কৃত পরিষদ তাঁর অপূর্ব অবদানের জন্য তাঁকে 'বিদ্যাবাচস্পতি' উপাধিতে ভূষিত করে। পাকিস্তান আমলে তাঁকে বাংলা সাহিত্য সাধনার জন্য 'প্রাইড অভ পারফর্মেন্স পদক' ও দশ হাজার টাকা পুরস্কার এবং মরণোত্তরকালে 'হিলাল-ই-ইমতিয়াজ' খেতাবে ভূষিত করা হয়। ফরাসি সরকার তাঁকে 'সেভলেয়র দ্যে লা অর্দার দ্যেস আর্টস এত দ্যে লেতর্স' উপাধি প্রদান করেছিল। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেসন্স তাঁকে সম্মানিত সদস্য (ফেলো) রূপে মনোনয়ন করে, কিন্তু পাকিস্তান সরকারের অনুমতির অভাবে সেটা তিনি গ্রহণ করেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে মরণোত্তর সম্মানসূচক 'ডি-লিট' উপাধি দিয়েছে এবং প্রাচীনতম ছাত্রাবাসকে তাঁর নামে নামকরণ করেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কলাভবনটিও তাঁর নামে উৎসর্গীকৃত। ১৯৮০-তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পদক ও ১০ হাজার টাকা পুরস্কারও তাঁকে মরণোত্তর দেওয়া হয়েছে।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
ভাষা ও সাহিত্য,
বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
বাংলা সাহিত্যের কথা।

উৎস:  বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩০৬.
ছন্দের জাদুকর কে?
  1. জসিম উদ্দীন
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য্য
ব্যাখ্যা
⇒ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত: 
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
-  সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।‌

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
৩০৭.
নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী বলা হয় কাকে?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরী
  4. জাহানারা ইমাম
ব্যাখ্যা
• বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন:  
- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন একজন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণ ও নারীর অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তাঁকে মুসলিম নারী জাগরণের অগ্রদূত এবং আলোর দিশারী হিসেবে গণ্য করা হয়।
- রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ৯ই ডিসেম্বর ১৮৮০ সালে রংপুর জেলায় পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- স্বামীর প্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চা শুরু করেন। সমকালীন মুসলমান সমাজে প্রচলিত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ করেন।
- সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল ও আনজুমান -ই- খাওয়াতীন -ই- ইসলাম প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমান নারীদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পথে অগ্রসর হতে সাহায্য করেন।

তাঁর উলে­খযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে:
- মতিচূর (প্রবন্ধ),
- Sultana’s Dream (নকশাধর্মী রচনা),
- পদ্মরাগ (উপন্যাস),
- অবরোধবাসিনী (নকশাধর্মী গদ্যগ্রন্থ) প্রভৃতি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩০৮.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন দীর্ঘ বাইশ বছর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. নবযুগ
  2. দৈনিক আজাদ
  3. সওগাত
  4. দৈনিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯২৩ সালে দৈনিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।
- তিনি দৈনিক 'আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
• নবযুগ বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও রাজনীতিবিদ কমরেড মুজফ্‌ফর আহমদের যুগ্ম সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩০৯.
"লেখরাজ সামন্ত" কার ছদ্মনাম?
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সমরেশ বসু
  4. শম্ভু মিত্র
ব্যাখ্যা
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।

অন্যদিকে,
• মোহিতলাল মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কৃত্তিবাস ওঝা, সত্যসুন্দর দাস।
• 'কালকূট' ও 'ভ্রমর' সমরেশ বসুর ছদ্মনাম।
• শম্ভু মিত্র এর ছদ্মনাম - প্রসাদ দত্ত; শ্রী সঞ্জীব; সুরঞ্জন চট্টোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১০.
একুশে ফেব্রুয়ারি স্মরণে প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে কোন পত্রিকা?
  1. ক) স্বদেশ
  2. খ) সৈনিক
  3. গ) সমকাল
  4. ঘ) দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা
একুশে ফেব্রুয়ারির গুলি ও ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে ২২ ফেব্রুয়ারি সারা দেশে হরতাল পালিত হয়।
- ঐ দিন মিছিলে আবার গুলি চালায় পুলিশ, হতাহত হয় বহু ছাত্র জনতা। 
- একুশের এই রক্তাক্ত ঘটনার পর ২৩শে ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় সাপ্তাহিক 'সৈনিক' এর বিশেষ সংখ্যা। 
- এটি ছিল ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মরণে কোন পত্রিকার প্রথম বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ। 
- সকালে পত্রিকা প্রকাশের মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে নিঃশেষ হয়ে যায় এক হাজার কপি।
- পরে পুনর্মুদ্রণ করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১১.
কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'মহাশ্মশান' কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. মাহেনও
  2. সওগাত
  3. কোহিনূর
  4. লহরী
ব্যাখ্যা
- কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ মহাশ্মশান ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- কাব্যটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত' কোহিনূর' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 -পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে কাব্যটি রচিত।
- কাব্যের তিনটি খন্ড রচিত।
প্রধান চরিত্রঃ
- এব্রাহিম কার্দি
- জোহরা বেগম
- হিরণ বালা
- আতা খাঁ
- লঙ্গ
- রত্নজি
- সুজাউদ্দৌলা,
- সেলিনা
- আহমদ শাহ্ আব্দালী
উল্লেখ্য, 
বাংলাপিডিয়ায়  
কায়কোবাদ রচিত 'মহাশ্মশান' মহাকাব্যের প্রকাশকাল ১৯০৪ সাল দেয়া। 



[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর, বাংলাপিডিয়া।]
৩১২.
কাজী নজরুল ইসলাম এর ‘লাঙল’ পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪১ সালে
  2. ১৯২৫ সালে
  3. ১৯২৩ সালে
  4. ১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
'লাঙল' পত্রিকা:
- ১৯২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়।
- এটি নজরুলের সম্পাদিত দ্বিতীয় পত্রিকা।
- প্রথমটি ছিল ধূমকেতু।
- ‘লাঙল’ ছিল ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ' পার্টির আনুষ্ঠানিক প্ৰকাশনা।

অন্যদিকে:
- ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- 'কল্লোল' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ। 
- 'ধুমকেতু' কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা।

উৎস: লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
৩১৩.
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য কাকে 'রায়বাহাদুর' উপাধি প্রদান করা হয়?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. দীনেশচন্দ্র সেন
  3. মুহম্মদ এনামুল হক
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• দীনেশচন্দ্র সেন:
- দীনেশচন্দ্র সেন (১৮৬৬-১৯৩৯) শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।

- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।

- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

- সৃজনশীল লেখক হিসেবেও দীনেশচন্দ্র সেন পালন করেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। বাংলা সাহিত্য বিষয়ে গবেষণামূলক ও ইতিহাসধর্মী গ্রন্থ প্রণয়ন, পৌরাণিক আখ্যান রচনা, লোকসাহিত্য সম্পাদনা ও বাঙালির।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- বঙ্গ-সাহিত্য পরিচয় (দুই খণ্ড, সম্পাদনা: ১৯১৪),
- সরল বাঙ্গালা সাহিত্য (১৯২২),
- ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য (১৯২২),
- বৃহৎ বঙ্গ (দুই খণ্ড, ১৯৩৫),
- আশুতোষ-স্মৃতিকথা (১৯৩৬),
- বাংলার পুরনারী (১৯৩৯),
- প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান (১৯৪০)।

অন্যদিকে, 
• কবি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়-কে "বাংলার মিল্টন" বলা হয়। তিনি মূলত বাংলা ভাষায় মহাকাব্য রচনা এবং জন মিল্টনের মত মহাকাব্যিক শৈলী অনুসরণের জন্য এই উপাধিতে ভূষিত হন। 
• সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর উপাধি ছিলো- স্বপ্নাতুর কবি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩১৪.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত রণসঙ্গীতটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. কালিকলম
  2. প্রগতি
  3. শিখা
  4. যুগবাণী
ব্যাখ্যা
• 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থ ও রণসঙ্গীত:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসঙ্গীতের রচয়িতা।
- কাজী নজরুল ইসলামের 'সন্ধ্যা' কাব্যগ্রন্থে এই সঙ্গীত অন্তর্ভুক্ত আছে।
- রণসঙ্গীত হিসেবে মূল কবিতাটির ২১ চরণ গৃহীত।
- রণসঙ্গীতটি ‘নতুনের গান' শিরোনামে ঢাকার 'শিখা' পত্রিকায় ১৯২৮ (১৩৩৫) বার্ষিক সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। পরে এর নাম হয় 'চল্ চল্‌ চল্‌'। 

- সঙ্গীতটির কিছু চরণ:
‘চল্ চল্ চল্!/ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল
নিম্নে উতলা ধরণী-তল,/ অরুণ প্রাতের
তরুণ দল-’

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৫.
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।' - চরণগুলি কে লিখেছেন?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা
'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ - সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে ‘ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক।
- ব্রিটিশ বিরােধী রচনা এখানে ছাপা হতাে।
- নজরুলের কবিতা ‘আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে।
- এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।
 
রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে 
উড়িয়ে দে তাের বিজয়কেতন।'
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) লাইভ এমসিকিউ লেকচার -১৬।
৩১৬.
'সাহিত্যরত্ন' উপাধিটি নিচের কোন সাহিত্যিকের?
  1. আবদুল করিম
  2. রামনারায়ণ
  3. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  4. ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা
• নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
• সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি 'সাহিত্যরত্ন' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল করিম এর উপাধি সাহিত্যবিশারদ।
- রামনারায়ণ এর উপাধি তর্করত্ন।
- ভারতচন্দ্র এর উপাধি রায়গুণাকর।

• মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক।
- ১৯২৩ সালের ১৮ অক্টোবর রায়গঞ্জের হাটি কুমরুল গ্রামে তাঁর মৃত্যু হয়।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

• তাঁর উপন্যাস হলো:
- আনোয়ারা,
- প্রেমের সমাধি,
- চাঁদতারা বা হাসান গঙ্গা বাহমণি,
- পরিণাম,
- গরীবের মেয়ে,
- দুনিয়া আর চাইনা ও
- মেহেরুন্নিসা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৭.
'গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা' পত্রিকাটি প্রথম কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  2. কানাহরি দত্ত
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. হরিনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা
• গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক 'গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা'।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থেকে কুমারখালী বাংলা পাঠশালা'র প্রধান শিক্ষক হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- প্রাথমিকভাবে এটি কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেসে ছাপা হতো। প্রকাশনাটি ১৮৬৪ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মথুরানাথ প্রেসে স্থানান্তরিত হয়। এরপর কুষ্টিয়া থেকে সংবাদ পরিবেশন করা হতো। তবে বর্তমানে আর পত্রিকাটির অস্তিত্ব নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩১৮.
‘অশীতিপর শর্মা’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।
• মোহিতলাল মজুমদার তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে ‘কৃত্তিবাস ওঝা’, ‘সব্যসাচী’, ‘শ্রী সত্যসুন্দর দাস’  ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩১৯.
"সবুজপত্র" পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯২৩ সালে
  3. ১৯৩৪ সালে
  4. ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩২০.
'সমকাল ও দৈনিক ইত্তেফাক' পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  3. সৈয়দ শামসুল হক
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতো মাসিক সাহিত্যপত্র সমকাল। সমকাল ছাড়াও দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

---------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:
- সিকান্দার আবু জাফর একজন কবি, সঙ্গীত রচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক ছিলেন। তিনি ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বস্তু সিকান্দার।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- পূরবী,
- মাটি আর অশ্রু,
- নবী কাহিনী,
- জয়ের পথে,
- নতুন সকাল ইত্যাদি।

তাঁর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- বৈরীবৃষ্টিতে,
- তিমিরান্তক,
- বৃশ্চিকলগ্ন,
- কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২১.
ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ প্রথম কোন পত্রিকায় মুদ্রিত হয়েছিল?
  1. ভারতী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতমাতা
  4. সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২২.
কোন সাহিত্যিককে ‘বাংলার মিল্টন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে?
  1. গোবিন্দ চন্দ্র দাশ 
  2. বিষ্ণু দে 
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র 
  4. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন কবি এবং আইনজীবী।
- তিনি ১৮৩৮ সালের ১৭ এপ্রিল হুগলির গুলিটা গ্রামে মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন দেশপ্রেমিক কবি হিসেবে সমাদৃত ছিলেন।
- হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে তাঁর কবিতায় দেশপ্রেমের ভাব ফুটে ওঠে।
- এছাড়া তাঁর রচনায় নারীমুক্তি ও সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর প্রকাশ পেয়েছে।
- বিশেষ করে বিধবাদের প্রতি সমাজের নির্দয় আচরণের বিরুদ্ধে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন।
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবিতায় গভীর ভাব ও উচ্চমানের সাহিত্যিক গুণ দেখা যায়।
- এই কারণে তাকে 'বাংলার মিল্টন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে।
- এখানে 'বাংলার মিল্টন’ বলতে তাকে ইংরেজি কবি জন মিল্টনের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- ১৯০৩ সালের ২৪ মে খিদিরপুরে তিনি নিঃস্ব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

অন্যদিকে,
- গোবিন্দ চন্দ্র দাশকে বলা হয়- স্বভাবকবি।
- বিষ্ণু দে-কে বলা হয় মার্ক্সবাদীকবি।
- প্যারীচাঁদ মিত্রকে বলা হয়- ডিফেন্স অফ বেঙ্গল। 

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া। 

৩২৩.
"বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ" কার ছদ্মনাম?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ।

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।
----------------------
অন্যদিকে,
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ। 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - 'টেকচাঁদ ঠাকুর'।
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৪.
আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. উত্তরণ
  2. প্রতিরোধ
  3. স্বদেশ
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
আহমদ ছফা:
- আহমদ ছফা ছিলেন একজন প্রতিবাদী লেখক, প্রগতিপন্থি সাহিত্যকর্মী ও সংগঠক।
- আহমদ ছফা ৩০শে জুন, ১৯৪৩ সালে গাছবাড়িয়া, চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত ছিলেন চিন্তাবিদ ও সাহিত্যিক।
- তিনি স্বদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৭০ সালের গোড়ার দিকে আহমদ ছফার সম্পাদনায় সাহিত্য পত্রিকা ‘স্বদেশ’ প্রকাশিত হয়েছিল। মাত্র তিন সংখ্যা প্রকাশের পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- স্বদেশ, প্রতিরোধ, সম্ভাবনা, উত্তরণ এবং উত্থানপর্বের তিনি ছিলেন সম্পাদক।

তাঁর প্রকাশিত উপন্যাস গ্রন্থসমূহ হচ্ছে:

- সূর্য তুমি সাথী,
- ওঙ্কর,
- একজন আলী কেনানের উত্থান পতন,
- মরণ বিলাস,
- গাভি বিত্তান্ত,
- অর্ধেক নারী অর্ধেক উশ্বরী,
- বিহঙ্গ পুরাণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৫.
"অকপটচন্দ্র ভাস্কর" ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন লেখক?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. মধুসূদন মজুমদার
  4. মণীশ ঘটক
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- মণীশ ঘটক এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৩২৬.
প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত সবুজপত্র পত্রিকাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯২৪
  2. খ) ১৯২৫
  3. গ) ১৯২৬
  4. ঘ) ১৯২৭
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী। ১৯১৪ সালের ৭মে (২৫শে বৈশাখ, ১৩২১ বঙ্গাব্দ) প্রথম প্রকাশিত হয়। নন্দলাল বসু অঙ্কিত একটি সবুজ তালপাতা এর প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হতো। ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা।
৩২৭.
বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র-
  1. ক) আজাদী
  2. খ) সমাচার দর্পন
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) বেঙ্গল গেজেট
ব্যাখ্যা

যেহেতু নির্দিষ্ট করে 'বাংলাদেশ' লেখা তাই উত্তর হবে, ১৯৭১ সালে ১৭ ডিসেম্বর প্রকাশিত (স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম) দৈনিক আজাদী।

‘রংপুর বার্তাবহ’ বাংলাদেশের বর্তমান ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র।
১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে রংপুরের কুণ্ডি পরগনার জমিদার কালীচন্দ্র রায় চৌধুরীর উদ্যোগ ও আর্থিক সহায়তায় রংপুর থেকে প্রকাশিত হয়।
প্রথম সম্পাদক গুরুচরণ রায়।
পত্রিকাটি ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত চালু ছিল।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র সমাচার দর্পণ।
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত সমাচার দর্পণ ১৮১৮ সালে সাপ্তাহিক হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়।
বাংলা ভাষায় প্রথম সাময়িক পত্র দিকদর্শন (১৮১৮)।
বাঙ্গালী কর্তৃক প্রথম প্রকাশিত সংবাদপত্র বাঙ্গাল গেজেট এবং ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র ঢাকা প্রকাশ (১৮৬১)।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩২৮.
"দত্তকুলোদ্ভব কবি" বলা হয় কাকে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তাকে দত্তকুলোদ্ভব কবি বলা হয়।
- তিনি বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক। তিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দেরও প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসুদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে) অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসুদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- এ নেটিভ।

অন্যদিকে,
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩২৯.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৩০.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. চিত্রগুপ্ত
  2. সুনন্দ
  3. সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. নীহারিকা দেবী
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• 'সুনন্দ' নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩১.
'কালপেঁচা' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিমল ঘোষ
  2. রাজশেখর বসু
  3. বিনয় ঘোষ
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বিনয় ঘোষ:
- বিনয় ঘোষ ছিলেন সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল 'কালপেঁচা'। ১৯১৭ সালের ১৪ জুন কলকাতায় তাঁর জন্ম, পৈতৃক নিবাস ছিল যশোরে।
- বিনয় ঘোষ ইতিহাস ও রাজনীতিবিষয়ক পর্যালোচনায় বিশেষ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়।

তাঁর রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ:
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি,
- সোভিয়েট সভ্যতা (২ খণ্ড),
- ফ্যাসিজম ও জনযুদ্ধ,
- সোভিয়েট সমাজ ও সংস্কৃতি প্রভৃতি।

তাঁর রচিত গবেষণাগ্রন্থ:
- শিল্প সংস্কৃতি ও সমাজ,
- মেট্রোপলিটন মন,
- বাংলার নবজাগৃতি,
- বিদ্যাসাগর ও বাঙালীসমাজ,
- বিদ্রোহী ডিরোজিও,
- সুতানুটি সমাচার,
- বাংলার সামাজিক ইতিহাসের ধারা,
- মধ্যবিত্ত বিদ্রোহ,
- বাংলার বিদ্বৎ সমাজ,
- কলকাতা শহরের ইতিবৃত্ত,
- বাংলার লোকসংস্কৃতি ও সমাজতত্ত্ব প্রভৃতি।

অন্যদিকে, 
------------------
• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম 'পরশুরাম'।
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম 'মৌমাছি'।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৩২.
স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. খ) আহমদ ছফা
  3. গ) আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. ঘ) আহসান হাবীব
ব্যাখ্যা
আবদুল গাফফার চৌধুরী একজন সুপরিচিত বাংলাদেশী গ্রন্থকার, কলাম লেখক। তিনি ভাষা আন্দোলনের স্মরণীয় গান 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' এর রচয়িতা। স্বাধীনতা যুদ্ধে মুজিবনগর সরকারে মাধ্যমে নিবন্ধিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পত্রিকা 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক ছিলেন। গাফফার বরিশাল জেলার এক জলবেষ্টিত গ্রাম উলানিয়ার চৌধুরী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
৩৩৩.
রঙ্গপুর বার্তাবহ প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮৪৭ সালে
  2. খ) ১৯৪৭ সালে
  3. গ) ১৯৫২ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
রঙ্গপুর বার্তাবহ  পূর্ববঙ্গ থেকে প্রকাশিত সর্বপ্রথম বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- রংপুরের কুনডি পরগণার জমিদার কালীচন্দ্র রায়ের আর্থিক আনুকূল্যে ১৮৪৭ সালের আগস্ট মাসে (বাংলা ভাদ্র, ১২৫৪) পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ১৮৫৪ সাল পর্যন্ত তেমন কোন উল্লেখযোগ্য বিরতি ছাড়াই এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন গুরুচরণ শর্মা রায়।
- প্রাথমিক পর্যায়ে পত্রিকাটি ছিল সরকারঘেঁষা এবং ভূস্বামীদের প্রশংসা করা ছিল এর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি বিদেশী শাসন এবং জনগণের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সমালোচনামুখর হয়ে ওঠে।
- ১৮৫৭ সালে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৩৪.
বুদ্ধদেব বসু জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় কোন পত্রিকা প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন?
  1. চতুরঙ্গ
  2. কবিতা
  3. প্রগতি
  4. বাসন্তিকা
ব্যাখ্যা
⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্ম গ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়,
- রেখাচিত্র,
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৫.
"আমারে নিবা মাঝি লগে?"- উক্তিটি কোন উপন্যাসের?
  1. ক) কপালকুণ্ডলা
  2. খ) লাল সালু
  3. গ) পদ্মার পলিদ্বীপ
  4. ঘ) পদ্মা নদীর মাঝি
ব্যাখ্যা
'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর- জীবন এর মূল কাহিনি।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র - কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিঞা ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দোপাধ্যায়, ‘মানিক' তাঁর ডাকনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং পদ্মানদীর মাঝি ।
৩৩৬.
‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. কৃত্তিবাস ওঝা
  2. সুবোধ ঘোষ
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

অন্যদিকে
- ‘সুবোধ ঘোষ’ এর ছদ্মনাম - কালপুরুষ।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৩৭.
প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কালিকলম
  2. স্বদেশ
  3. ভারতী
  4. মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

অন্যদিকে,
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'স্বদেশ'।
- মাসিক পত্রিকা প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩৩৮.
মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র ছিল কোন পত্রিকা?
  1. সাপ্তাহিক জয় বাংলা
  2. বাংলার সৈনিক
  3. বাংলাদেশের হৃদয় হতে
  4. সাপ্তাহিক সৈনিক
ব্যাখ্যা

- মুজিবনগর সরকারের মুখপত্র ছিল 'সাপ্তাহিক জয় বাংলা'।
- এর সম্পাদক ছিলেন আব্দুল মান্নান।
- তমদ্দুন মজলিসের মুখপত্র ছিল 'সাপ্তাহিক সৈনিক'।
- ছায়ানটের মুখপত্র ছিল 'বাংলাদেশের হৃদয় হতে'।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।

৩৩৯.
"মহামহোপাধ্যায়" - উপাধিটি কার?
  1. দীনেশচন্দ্র সেন
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি - মহামহোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান।
- ব্রিটিশ সরকার ১৯১৫ সালের ৩রা জুন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নাইটহুড বা 'স্যার' উপাধি প্রদান করে৷

হরপ্রসাদ শাস্ত্রী:
- তিনি প্রাচ্যবিদ্যা বিশারদ, এবং সংস্কৃতের পণ্ডিত ছিলেন।
- ১৮৯৮ সালে সরকারের দেওয়া সম্মান ‘মহামহোপাধ্যায়' উপাধি (মহারানী ভিক্টোরিয়ার ৬০তম রাজ্যাঙ্কে প্রবর্তিত);
- ১৯১১ সালে ‘সি.আই.ই' উপাধি; ১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের রয়্যাল এশিয়াটিক সোসাইটির অনারারি মেম্বার মনোনয়ন পান। 
- ১৯২৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনারারি ডি.লিট উপাধি লাভ করেন।

তার রচিত সাহিত্যকর্ম:
- বেণের মেয়ে,
- বাল্মীকির জয়,
- মেঘদূত,
- প্রাচীন বাংলার গৌরব।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪০.
বাংলাদেশে ইসলামী রেনেসাঁর কবি কাকে বলা হয়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. ফররুখ আহমদ
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• ফররুখ আহমদকে- বাংলাদেশে ইসলামি রেনেসাঁর কবি বলা হয়। 

ফররুখ আহমদ:
- তিনি ১৯১৮ সাল মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন। 
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- তাঁর কাব্যের মৌলিক প্রবণতা মুসলিম সংস্কৃতির গৌরবকীর্তন ও জাতীয় চেতনার পুনর্জাগরণ।
- পাকিস্তানবাদ, ইসলামিক আদর্শ ও আরব-ইরানের ঐতিহ্য তাঁর কবিতায় উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠেছে।
- বাংলা ভাষায় আরবি-ফারসি শব্দের প্রয়োগনৈপুণ্য এবং বিষয়বস্ত্ত ও আঙ্গিকের অভিনবত্বে তাঁর কবিতা এক বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্য:
- সাত সাগরের মাঝি;
- সিরাজাম মুনিরা; 
- নৌফেল ও হাতেম;
- মুহূর্তের কবিতা;
- হাতেমতায়ী;
- হাবেদা মরুর কাহিনী ইত্যাদি।

তাঁর শিশুতোষ রচনা:
- পাখির বাসা;
- হরফের ছড়া;
- ছড়ার আসর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৪১.
মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. লেখরাজ সামন্ত
  2. দত্তকুলোদ্ভব কবি
  3. ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  4. গৌড়তটবাসী মশা
ব্যাখ্যা
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

অন্যদিকে,
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম- লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল- ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন- গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং উদাসীন পথিক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখরে এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪২.
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৪৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রথম "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. কাজী নজরুল ইসলাম 
  3. ক্ষিতিমোহন সেন 
  4. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বিশ্বকবি':
"বিশ্বকবি" পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

উল্লেখ্য,
• 'গুরুদেব':
মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বৌদ্ধিক নেতৃত্ব ও প্রতি সম্মানের প্রকাশ।

• 'কবিগুরু':
ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন, যা তাঁর কাব্যিক প্রজ্ঞা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই দেওয়া হয়েছিল।

'ভারতের মহাকবি':
'ভারতের মহাকবি' উপাধিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চীনের কবি চি লিজন দিয়েছিলেন। এই উপাধিটি রবীন্দ্রনাথের বিশ্বব্যাপী সাহিত্যিক অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে,
বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোনো বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেননি, বরং তিনি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথকে 'আদিগন্ত ব্যাপ্ত' এবং 'স্বরাট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; 'আমর ছেলেবেলা' বুদ্ধদেব বসু।

৩৪৪.
প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' প্রবন্ধটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. সবুজপত্র
  2. ভারতী
  3. স্বদেশ
  4. চিত্রদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ প্রমথ চোধুরী:
• বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
• বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল’।
- ‘বীরবলেন হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• প্রমথ চৌধুরী রচিত প্রবন্ধগ্রন্থসমূহ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪৫.
'সাম্যবাদী' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা
• 'সাম্যবাদী' পত্রিকার সম্পাদক - মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী

অন্যদিকে,
• 'ধূমকেতু, নবযুগ, লাঙল' পত্রিকার সম্পাদক - কাজী নজরুল ইসলাম।
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
• 'মোহাম্মদী' পত্রিকার সম্পাদক - মোহাম্মদ আকরম খাঁ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৬.
'প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ' এর মুখপাত্র ছিল কোন পত্রিকা?
  1. শিখা
  2. ক্রান্তি
  3. লোকায়ত
  4. সমকাল
ব্যাখ্যা
• 'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা ‘ক্রান্তি’।
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় প্রগতি লেখক ও শিল্পী সংঘ। ১৯৪০ সালে এই সংঘের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- সংঘের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন সোমেন চন্দ, রণেশ দাশগুপ্ত, সত্যেন সেন, কিরণশঙ্কর সেনগুপ্ত, সতীশ পাকরাশী প্রমুখ।
- এই সংঘ ছিল মূলত সাম্রাজ্যবাদ, সাম্প্রদায়িক্তা, যুদ্ধ, আধিপত্যবাদ বিরোধী এবং মেহনতি মানুষের পক্ষে লেখনী ধারণকারী প্রতিষ্ঠান।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে ‘ক্রান্তি’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালের শেষ দিকে ।
- ‘ক্রান্তি’র প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত, আর প্রকাশক ছিলেন সোমেন চন্দ।
- পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
• লোকায়ত, সমকাল ইত্যাদি ঢাকা থেকে প্রকাশিত বাংলা সাহিত্য পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৭.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ‘সমকাল' পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৫৩ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৭৫ সালে
  4. ১৯৬৭ সালে
ব্যাখ্যা
• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

---------------------------------
• সিকান্দার আবু জাফর:

- তিনি ১৯১৯ সালে তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতরচয়িতা, নাট্যকার ও সাংবাদিক।
- 'সমকাল' পত্রিকার সম্পাদক করে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- তাঁর রচিত বিখ্যাত গান- আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই।

• তাঁর রচিত গ্রন্থাবলি:
কবিতা:
- প্রসন্ন প্রহর,
- তিমিরান্তক।

উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- পূরবী,
- নবী কাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৪৮.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা 'সম্বাদ কৌমুদী' কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৮২১
  2. খ) ১৮২২
  3. গ) ১৮২৩
  4. ঘ) ১৮২৫
ব্যাখ্যা

'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
এটি একটি সাময়িক পত্রিকা৷ যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
এটি সমাচার দর্পণ পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়৷
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৩৪৯.
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. জয়বাংলা
  2. বাংলাদেশ
  3. আজাদ
  4. মুক্তির ডাক
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা পত্রিকা:
- মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পত্র-পত্রিকা প্রকাশ করা হয়।
- গণমাধ্যম হিসেবে মূল্যবান অবদান রেখেছে এসব পত্র-পত্রিকা।
- সে সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় 'সাপ্তাহিক জয়বাংলা'।
- আব্দুল মান্নান এম.এন.এ. ছিলেন এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি এবং জিল্লুর রহমান এম.এন.এ. ছিলেন প্রধান সম্পাদক।
- ১১ মে থেকে ১৬ ডিসেম্বর এটি প্রকাশিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বহিঃবিশ্বে জনমত গঠনের উদ্দেশ্যে মুজিবনগর সরকার Bangladesh (বাংলাদেশ) নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ করে।
- গেরিলা আক্রমণ ও সম্মুখ সমরসহ মুক্তিযোদ্ধাদের নানা ধরনের তৎপরতার খবরের পাশাপাশি এই পত্রিকাগুলোতে থাকতো বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম ও নির্দেশাবলী, রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দের বিবৃতি ও তৎপরতা, প্রবাসী বাঙালিদের সংগঠন ও আন্দোলনের খবর এবং বাঙালি কুটনীতিকদের কার্যক্রমের বিস্তারিত বিবরণী।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫০.
'গভর্নমেন্ট গেজেট' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ার্সন
  2. উইলিয়াম কেরি
  3. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫১.
'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. এস, ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  4. লুৎফর রহমান 
ব্যাখ্যা

'সওগাত' পত্রিকা:
- 'সওগাত' প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার ১৯১৮ সালে। সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।
- তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী' নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

৩৫২.
নিচের কোন লেখকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'?
  1. মণীশ ঘটক
  2. বিমল মিত্র
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'মণীশ ঘটক' এর ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব

অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম 'জাবালি'।

উৎস: বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৫৩.
'বাংলার স্কট' বলা হয় কাকে?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত 
  3. শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়
  4. অমিয় চক্রবর্তী 
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক ও প্রবন্ধকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে "বাংলার স্কট" বলা হয়। ইংরেজি ঐতিহাসিক রোম্যান্স-উপন্যাস রচয়িতা স্যার ওয়াল্টার স্কটের লেখার শৈলী এবং ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ উপন্যাস রচনার সাথে সাদৃশ্য থাকায় সমালোচকরা বঙ্কিমচন্দ্রকে এই উপাধিতে ভূষিত করেছেন।  

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'সাহিত্য সম্রাট' নামেও পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত ঊনবিংশ শতাব্দীর বাঙালি কবি ও নাট্যকার, যিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার প্রবর্তক এবং ‘মহাকবি’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। তিনি ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ ও ‘সনেট’ এর জনক। তাঁকে ‘আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি’ এবং ‘দত্তকুলোদ্ভব কবি’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়। 

• বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তার জন্য 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' উপাধিতে ভূষিত হন। এছাড়াও, তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট (D.Litt) উপাধি লাভ করেন। 

• আধুনিক বাংলা কবিতার অন্যতম পথিকৃৎ ও রবীন্দ্রোত্তর যুগের কবি অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬) বুদ্ধদেব বসু কর্তৃক "কবির কবি" উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। এছাড়া তিনি অন্যতম "তিরিশের কবি" বা "পঞ্চপাণ্ডব" কবি হিসেবে পরিচিত।  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৪.
'ব্যাঙাচি' কার ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. সুকুমার রায়
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী’, 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

অন্যদিকে,
•  হুতোম পেঁচা ছদ্মনামে লিখতেন 'কালীপ্রসন্ন সিংহ'৷
• 'সমরেশ বসু' ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কালকূট।

অভিসম্বন্ধ: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং কবি নজরুল জীবনী।
৩৫৫.
'স্বাক্ষর' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন-
  1. হুমায়ুন আজাদ
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. রফিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• 'স্বাক্ষর' পত্রিকা:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে উত্তাল ষাটের দশকে যে-কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল, 'স্বাক্ষর' এগুলোর একটি। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে 'স্বাক্ষর-এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- এর সম্পাদক ছিলেন দুই কবি; রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক। পরে বিভিন্নজন এর সম্পাদকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইমরুল চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষাল, আসাদ চৌধুরী, রণজিৎ পালচৌধুরী।

- সাহিত্যে প্রথাবদ্ধতার বিরুদ্ধে ছিল এঁদের সংগ্রাম। রবীন্দ্র-রোম্যান্টিকতা, জীবনানন্দীয় প্রণয়- আকুলতা, সমাজবাদী মতবাদনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য দর্শন প্রভাবিত হয়ে 'স্বাক্ষরে'র লেখকগণ লেখনীধারণ করেন।

- জীবনের নর্থকতাকে পরিত্যাজ্য মনে করেন নি তাঁরা। যৌনতা, বিশেষ করে নাগরিক যৌনাচার নানা মাত্রায় উঠে এসেছে তাঁদের সাহিত্যে। বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্য বিকাশে সে কারণে 'স্বাক্ষর'-এর ভূমিকা প্রশংসার্হ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৫৬.
কোন কবির উপাধি 'কবিশেখর'?
  1. কায়কোবাদ
  2. বিদ্যাপতি
  3. কালিদাস রায়
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• কালিদাস রায়:
- রবীন্দ্রানুসারী কবিশেখর কালিদাস রায় ছিলেন একজন কবি ও সমালোচক।
- কালিদাস ‘রসচক্র’ নামে একটি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রবীন্দ্র-ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- রোমান্টিকতা, প্রেম, পল্লিজীবন, সমাজ, ঐতিহ্যপ্রীতি এবং বৈষ্ণবভাব তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়।
- তাঁর মোট কাব্যগ্রন্থ ১৯টি, তন্মধ্যে কুন্দ (১৯০৭) তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- ‘বেতালভট্ট’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর রম্যরচনাগুলি পাঠকসমাজে খুবই সমাদৃত হয়েছে।
- তাকে ১৯২০ সালে রংপুর সাহিত্য পরিষদ 'কবিশেখর' উপাধি প্রদান করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- পর্ণপুট,
- ঋতুমঙ্গল,
- রসকদম,
- চিত্তচিতা ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৫৭.
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকাটি কোথা থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. কলকাতা
  2. ঢাকা
  3. করাচি
  4. মুর্শিদাবাদ
ব্যাখ্যা

'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৫৮.
'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. কাঙাল হরিণাথ
  2. নীলমণি হালদার
  3. রাজা রামমোহন রায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

 • 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকার সম্পাদক:
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন  - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা - স্বদেশ।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - প্রমথ চৌধুরী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন- সাধনা (১৮৯৪), ভারতী (১৮৯৮), বঙ্গদেশ (১৯০১), তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)।
- বুদ্ধদেব বসুর সম্পাদিত পত্রিকা- প্রগতি (১৯২৭-২৯), কবিতা (১৯৩৫-৪০)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

৩৫৯.
'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত কে?
  1. সেলিনা হোসেন
  2.  জাহানারা ইমাম
  3.  সুফিয়া কামাল
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা

'জননী সাহসিকা' হিসেবে পরিচিত সুফিয়া কামাল। 

সুফিয়া কামাল: 

- সুফিয়া কামাল বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা কবি, লেখিকা ও নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ।
- তিনি বরিশালের শায়েস্তাবাদে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন।
- তার পৈতৃক নিবাস কুমিল্লায়।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- তার রচিত প্রথম কবিতা 'বাসন্তী'; এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।

• সুফিয়া কামাল রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- অভিযাত্রিক,
- মায়া কাজল ইত্যাদি।

• তার উল্লেখযোগ্য গল্পগ্রন্থ:
- কেয়ার কাঁটা,
- একাত্তরের ডায়েরী।

অন্যদিকে,
- বাংলা একাডেমির প্রথম মহিলা পরিচালক সেলিনা হোসেন।
- 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত জাহানারা ইমাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৩৬০.
আবদুল কাদিরের উপাধি -
  1. কলমসৈনিক
  2. ছান্দসিক কবি
  3. কাব্যভূষণ
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।

অন্যদিকে,
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্যরত্ন।
• 'কাজেম আল কোরায়েশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি - কাব্যভূষণ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬১.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির প্রথম মুখপত্রের নাম কী? 
  1. সাহিত্যিক
  2.  মোসলেম ভারত
  3. মোহাম্মদী
  4. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা
ব্যাখ্যা

• বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ও পত্রিকা:
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

- সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’ ও ‘সাহিত্যিক’ নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।

অর্থ্যাৎ, 
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির প্রথম মুখপত্রের নাম - ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’। 

১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি সমিতির কার্যকরী সভায় এর মুখপত্ররূপে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয় এবং পত্রিকা পরিচালনার জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়। উক্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন  কাজী ইমদাদুল হক এবং সম্পাদক দুজন  মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক; আর সদস্য ছিলেন  মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ, মঈনউদ্দীন হোসায়েন ও  মুজাফ্ফর আহমদ। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (এপ্রিল ১৯১৮) কলকাতার ৪৭/২ মির্জাপুর স্ট্রিট থেকে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা প্রথম প্রকশিত হয়।

- লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি এবং ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ গঠিত হলে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির গুরুত্ব হ্রাস পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩৬২.
ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ কোন পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়। বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬৩.
আবুল কালাম শামসুদ্দীন কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন না?
  1. ক) দৈনিক আজাদ
  2. খ) দৈনিক মোহাম্মদী
  3. গ) নবযুগ
  4. ঘ) সওগাত
ব্যাখ্যা
আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ- 
- ১৯২৩-এ সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকায়। 
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন। 
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন। 

দৈনিক নবযুগ (১৯২০) পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমেদ যুগ্মভাবে পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৪.
'সংবাদ প্রভাকর ও গ্রামবার্তা প্রকাশিকা'-তে সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ফররুখ আহমদ
  2. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
মীর মশাররফ হোসেন একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, এবং প্রাবন্ধিক, যিনি উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর সাহিত্যিক কর্মজীবন ও গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্মগুলি নিম্নরূপ:

• জীবনীসংক্রান্ত তথ্য:
জন্ম: ১৩ নভেম্বর ১৮৪৭, কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া গ্রামে।
সাহিত্যিক জীবনের সূচনা: সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-তে সংবাদদাতা হিসেবে।
সাহিত্যগুরু: ‘কাঙাল হরিনাথ’, যিনি গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র সম্পাদক ছিলেন।
সম্পাদিত পত্রিকা: আজিজননেহার এবং হিতকরী।

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:

নাটক:
• বসন্তকুমারী, 
• জমীদার দর্পণ, 
• বেহুলা গীতাভিনয়।

প্রহসন (হাস্যরসাত্মক নাটক):
• টালা অভিনয়, 
• এর উপায় কি, 
• ফাঁস কাগজ, 
• ভাই ভাই এইতো চাই।

উপন্যাস:
• বিষাদ-সিন্ধু: এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস, যেখানে কারবালার ঘটনা ফুটে উঠেছে।

আত্মজীবনীমূলক রচনা:
• উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
• গাজী মিয়াঁর বস্তানী, 
• আমার জীবনী, 
• কুলসুম জীবনী।

• মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যিক অবদান:
তিনি বাংলা সাহিত্যে মুসলিম সমাজের প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হন এবং গদ্যশিল্পের ক্ষেত্রে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের যুগে অন্যতম প্রধান অবদানকারী ছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্মে সমকালীন সমাজব্যবস্থা, জমিদারি প্রথার অন্যায় অত্যাচার এবং মুসলিম সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে।

উৎস:
i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর,
ii) বাংলাপিডিয়া।
৩৬৫.
জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. কল্লোল
  3. সাধনা
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।
 
অন্যদিকে,
• 'বঙ্গদর্শন' - ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় প্রকাশিত।
• 'কল্লোল' - ১৯২৩ সালে দীনেশরঞ্জন দাসের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• 'পূর্বাশা' পত্রিকা- ১৯২৩ সালে কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৬৬.
'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।' - এই উক্তিটি কোন পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো?
  1. প্রবাসী
  2. সওগাত
  3. শিখা
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)।
- পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৪, দাম আট আনা, মুদ্রণ সংখ্যা ১০০০।
- এই পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন অধ্যাপক আবুল হুসেন, কাজী মোতাহার হোসেন, মোহাম্মদ আবদুর রশিদ ও আবুল ফজল।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৬৭.
নিচের কোনটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম?
  1. অনুপমা দেবী
  2. নীহারিকা দেবী
  3. অনিলা দেবী
  4. শ্রীমতী রাধামণি দেবী
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী।

অন্যদিকে,
- অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
-  প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৬৮.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার কোন কবিকে 'স্বভাব কবি' হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে? 
  1. চণ্ডীদাস
  2. দ্বিজমাধব
  3. মানিকদত্ত
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  5. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যধারার দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' হিসেবে অভিহিত করা হয়। 
---------------------------
• দ্বিজমাধব:

- ষোড়শ শতাব্দীর চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান কবিদের মধ্যে দ্বিজমাধব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। 
- তাকে এই কাব্যধারার ‘স্বভাবকবি’ বলা হয়। 
- দ্বিজমাধবের রচনায় সহজ-সরল ভাষা এবং প্রাকৃতিক বর্ণনার প্রকাশ লক্ষণীয়। 
- তিনি মূলত চণ্ডীমঙ্গল বা মঙ্গলচণ্ডীর গীত রচনায় নিবেদিত ছিলেন।

দ্রষ্টব্য: 
- সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যে ‘স্বভাবকবি’ হিসেবে গোবিন্দচন্দ্র দাস পরিচিত। 
- তবে চণ্ডীমঙ্গল কাব্যে দ্বিজমাধবকে এই বিশেষণ দিয়ে অভিহিত করা হয়।

 
• চণ্ডীমঙ্গল কাব্য:
- চণ্ডীমঙ্গল মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্য ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান শাখা।
- এখানে লৌকিক দেবী চণ্ডীর মাহাত্ম্য এবং পৃথিবীতে তাঁর পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে।
- এই ধারার আদি কবি হিসেবে খ্যাত- মানিক দত্ত। 
- এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বিশেষভাবে খ্যাত।
- তাঁর রচনায় চণ্ডীমঙ্গল সর্বাধিক সাহিত্যিক উৎকর্ষ লাভ করে।
- মুকুন্দরামের চণ্ডীমঙ্গলে দেবীমাহাত্ম্যের পাশাপাশি সমসাময়িক বাঙালি সমাজের বাস্তব চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

- চন্ডীমঙ্গল কাব্যের উল্লেখযোগ্য কবিগণ হলেন -
- মানিকদত্ত, দ্বিজ মাধব, মুকুন্দরাম চক্রবর্তী, দ্বিজরাম দেব, মুক্তরাম সেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

৩৬৯.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা গদ্যকে সাহিত্য গুণসম্পন্ন ও সর্বভাব প্রকাশক্ষম করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের সৃষ্ট গদ্যরীতির প্রভাবেই পরবর্তী পর্যায়ে বাংলা গদ্যের পরিণত রূপের সৃষ্টি হয়।

- তিনি বাংলা গদ্যে সুললিত শব্দবিন্যাস, পদবিভাগ ও যতি সন্নিবেশে সুবোধ্য ও শিল্প গুণান্বিত করে তোলেন। বাংলা গদ্যের অন্তর্নিহিত ধ্বনিঝংকার ও সুরবিন্যাস তিনিই প্রথম উপলব্ধি করেন। তিনি বাংলা গদ্যকে শ্বাসপর্ব ও অর্থপর্ব অনুসারে ভাগ করে সেখানে যতিচিহ্ন স্থাপন করেন।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে বাংলা গদ্যের 'প্রথম শিল্পী' বলে অভিহিত করেছেন।
- প্রমথনাথ বিশি বিদ্যাসাগরকে 'বাংলা গদ্যের যথার্থ শিল্পী' নামে অভিহিত করেন।
- তাকে 'বাংলা গদ্যের জনক' বলা হয়। কারণ তিনি প্রথম বাংলা গদ্যকে গতিশীল করে প্রাণ দান করেছেন। সুতরাং, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের পূর্বে অনেকেরই গদ্যের বিকাশে অবদান থাকলেও, বাংলা ভাষার প্রথম সাহিত্যিক গদ্যের স্রষ্টা তাকেই বলা যায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭০.
‘আনন্দময়ীর আগমনে’ কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. লাঙল
  2. শিখা
  3. ধূমকেতু
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা

• 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা:
- কাজী নজরুল ইসলাম 'আনন্দময়ীর আগমনে' কবিতা রচনার জন্য কারাবরণ করেণ।
- ৭৯ লাইনের বৃটিশ বিরোধী এই কবিতাটিতে নজরুলের ক্ষুব্ধ মনের প্রকাশ পাওয়া যায় জ্বালাময়ী শব্দের অন্তরালে।
- 'ধূমকেতু' পত্রিকার পূজা সংখ্যায় 'আনন্দময়ীর আগমনে' (২৬ শে সেপ্টেম্বর, ১৯২২) কবিতাটি প্রকাশিত হলে কাজী নজরুল ইসলাম কুমিল্লা থেকে ৮ই নভেম্বর গ্রেফতার হন।
- এই কবিতার জন্য কাজী নজরুল ইসলামের কারাদণ্ড হয়েছিল।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিল 'দুখু মিয়া'। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- অগ্নিবীণা,
- বিষের বাঁশী,
- ছায়ানট,
- সাম্যবাদী,
- সর্বহারা,
- সিন্ধু-হিন্দোল,
- চক্রবাক,
- ফণি-মনসা,
- প্রলয়-শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৩৭১.
‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. সমকাল
  2. পূর্বাশা
  3. স্বদেশ
  4. পূর্বমেঘ
ব্যাখ্যা
⇒ ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি।
- কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে ।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

⇒ এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় কথাসাহিত্যিক।
- ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দের ২৯ মে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- স্নাতক শ্রেণিতে অধ্যয়নের সময় বিচিত্রা পত্রিকায় তাঁর প্রথম গল্প ‘অতসী মামী’ প্রকাশিত হয়। 
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জীবনের প্রথম পর্বে মনোবিজ্ঞানী ফ্রয়েড, ইয়ুং, অ্যাডলার প্রমুখ দ্বারা প্রভাবিত হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি মার্কসবাদে দীক্ষা নেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: ‘পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭২.
কোন লেখিকার ছদ্মনাম 'জনৈক বঙ্গমহিলা'?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. বেগম রোকেয়া
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. কামিনী রায়
ব্যাখ্যা
• কামিনী রায়ের ছদ্মনাম - জনৈক বঙ্গমহিলা

অন্যদিকে,
- 'জননী সাহসিকা' হিসেবে খ্যাত সুফিয়া কামাল।

কামিনী রায়:
- ১৮৬৪ সালের ১২ অক্টোবর বাকেরগঞ্জের বাসন্ডা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তাঁর পিতা চণ্ডীচরণ সেন ছিলেন একজন ঐতিহাসিক উপন্যাস লেখক ও পেশায় বিচারক।
- কামিনী রায় মাত্র আট বছর বয়স থেকে কবিতা লেখা শুরু করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭৩.
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মাসিক সংবাদ প্রভাকরে ঈশ্বরচন্দ্র প্রাচীন বাংলার ‘কবিয়াল’ ও গীতিকারদের জীবনী ও কর্মগাথা সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রামচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক নিযুক্ত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭৪.
বাংলা নাট্য সাহিত্যে 'নাট্যচার্য' কার উপাধি?
  1. ক) সাঈদ আহমদ
  2. খ) সেলিম আল দীন
  3. গ) আতাউর রহমান
  4. ঘ) ড. ইনামুল হক
ব্যাখ্যা
বাংলা নাটকে নতুন ধারার প্রবর্তক নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন।
৩৭৫.
জাহানারা ইমাম কী নামে খ্যাত?
  1. বাংলার রাণী
  2. শহীদ জননী
  3. মুক্তিযোদ্ধা জননী
  4. জননী সাহসিকা
ব্যাখ্যা
জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম 'শহীদ জননী' হিসেবে খ্যাত।
- তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য শহীদ শফি ইমাম রুমীর মা।
- তিনি ১৯৯২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’র আহবায়ক হন।
- জাহানারা ইমাম ১৯৭১-এর স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে গণ-আদালত গড়ে তোলেন।

তাঁর রচিত কয়েকটি গ্রন্থ:
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৭৬.
'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

• 'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

•  ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে,
- ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- ‘সাম্যবাদী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৭৭.
নিচের কোনটি রাজনৈতিক সাময়িকী?
  1. ক) সভ্যতা
  2. খ) সংস্কৃতি
  3. গ) সমাচার সভারাজেন্দ্র
  4. ঘ) সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• বদরুদ্দীন উমর একজন বাংলাদেশি মার্কসবাদী–লেনিনবাদী তাত্ত্বিক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী) (উমর)-এর নেতা।
- তিনি সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী ছিলেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের।
- তিনি 'সংস্কৃতি' নামে একটি রাজনৈতিক সাময়িকী সম্পাদনা করেছেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৬)
- সংস্কৃতির সংকট (১৯৬৭)
- সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা (১৯৬৮)
- যুদ্ধোত্তর বাঙলাদেশ (১৯৭৪)
- যুদ্ধ পূর্ব বাঙলাদেশ (১৯৭৬) ইত্যাদি

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৭৮.
'বেগম' পত্রিকার দ্বিতীয় সম্পাদিকা কে ছিলেন?
  1. ক) সুফিয়া কামাল
  2. খ) নূরজাহান বেগম
  3. গ) স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. ঘ) ফ্লোরা নাসরিন খান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা বেগম। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তৎকালীন সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল। পরে পত্রিকাটির সম্পাদনার শুরু করেন মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের কন্যা নূরজাহান বেগম। নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর পর বর্তমানে এর দায়িত্বে আছে নূরজাহান বেগমের জ্যেষ্ঠ কন্যা ফ্লোরা নাসরিন খান। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
৩৭৯.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কোন সাহিত্যিক?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় একজন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি ও চিন্তাবিদ।
- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।
- 'তিনটি প্রশ্ন' ১৯২০ সালে প্রবাসী পত্রিকায় প্রকাশিত অন্নদাশঙ্করের প্রথম লেখা।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা,
- সত্যাসত্য ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- তারুণ্য,
- বিনুর বই,
- দেশকাল পাত্র,
- জীয়ন কাটি,
- ইশারা,
- নতুন করে বাঁচা ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য, কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো সহচরস্য। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮০.
'আন্নাকালী পাকড়াশী' কার ছদ্মনাম?
  1. প্রমথ চৌধুরী
  2. দীনবন্ধু মিত্র
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত ‘নাইট’ উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে ‘নাইট’ উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮১.
'নবকুমার, কবিরত্ন' কার ছদ্মনাম?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. সমরেশ বসু
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত কবি ও ছান্দসিক।
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার, কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে,
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী।
- সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কালকূট।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া
৩৮২.
মধ্যযুগের নাগরিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. কৃত্তিবাস ওঝা
  4. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
ব্যাখ্যা
ভারতচন্দ্র রায়: 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- উনবিংশ শতাব্দীর কলকাতায় ভারতচন্দ্র অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিলেন এবং ৪৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৩.
'বিদ্যাভূষণ' কার উপাধি?
  1. চণ্ডীচরণ মুনশী
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কায়কোবাদ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী। 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৮৪.
'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত লেখক হলেন -
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. মোহিতলাল মজুমদার
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'অপরাজেয় কথাশিল্পী' নামে পরিচিত। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের  প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- কমলাকান্ত।
• মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম - সত্যসুন্দর দাস।
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৩৮৫.
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য 'কাব্য সুধাকর' অভিধা প্রদান করা হয় কাকে?
  1. কায়কোবাদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• গোলাম মোস্তফা:
- গোলাম মোস্তফা ছিলেন একজন কবি ও লেখক। যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ১৮৯৭ সালে তাঁর জন্ম।

- গোলাম মোস্তফা পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।

- তাঁর "বিশ্বনবী" গ্রন্থখানি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। এতে তিনি হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে ঐতিহাসিক মহামানব হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি আল-কুরআনও (১৯৫৮) অনুবাদ করেন।

- তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম। পাকিস্তান আন্দোলনের পটভূমিকায় বহু ইসলামি ও দেশাত্মবোধক গান তিনি রচনা করেন।

- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।

• তাঁর মৌলিক কাব্য:
রক্তরাগ (১৯২৪), খোশরোজ (১৯২৯), কাব্য-কাহিনী (১৯৩২), সাহারা (১৯৩৬), হাস্নাহেনা (১৯৩৮), বুলবুলিস্তান (১৯৪৯), তারানা-ই-পাকিস্তান (১৯৫৬), বনিআদম (১৯৫৮), গীতিসঞ্চালন (১৯৬৮) ইত্যাদি।

• অনুবাদকাব্য:
মুসাদ্দাস-ই-হালী (১৯৪১), কালামে ইকবাল (১৯৫৭), শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০) ।

• তাঁর গদ্যরচনার মধ্যে-
বিশ্বনবী (১৯৪২), ইসলাম ও কমিউনিজম (১৯৪৬), ইসলাম ও জেহাদ (১৯৪৭), আমার চিন্তাধারা (১৯৫২), পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ইত্যাদি প্রধান।

-----------------
অন্যদিকে, 
• 'কায়কোবাদ' বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘে থেকে 'কাব্যভূষণ', 'বিদ্যাভূষণ ও 'সাহিত্যরত্ন' উপাধিতে ভূষিত হন। 
• হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় মূলত মহাকাব্যের কবি ছিলেন। 'বাংলার মিল্টন' তার উপাধি/ অভিধা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৬.
আবুল ফজলের গড়ে তোলা ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের মুখপত্র ছিল-
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) শিখা
  3. গ) ক্রান্তি
  4. ঘ) কণ্ঠস্বর
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা
- আবুল ফজল শিখা পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

•  তাঁর প্রধান কয়েকটি রচনাবলি হলো:
- চৌচির
- প্রদীপ ও পতঙ্গ
- মাটির পৃথিবী
- বিচিত্র কথা
- রাঙ্গা প্রভাত
- রেখাচিত্র
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।
• ‘রেখাচিত্র’ (১৯৬৬) আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। তিনি রেখাচিত্রের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৮৭.
’সনাতন পাঠক’ কোন লেখকের সাহিত্যিক ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

‘সনাতন পাঠক’ হলো 'সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম।

এছাড়াও তিনি পরিচিত ছিলেন-
- নীল উপাধ্যায়
- নীল লোহিত

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় রচিত উপন্যাস:
- পূর্ব-পশ্চিম
- আত্মপ্রকাশ
- সেই সময়
- প্রথম আলো
- অরণ্যের দিনরাত্রি  
- একা এবং কয়েকজন ।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- সত্য পীর।
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার এর ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম- 'কালকূট'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৮৮.
কোন লেখক 'কৃত্তিবাস ওঝা' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. বিমল ঘোষ
  3. সুবোধ ঘোষ
  4. আবদুল মান্নান সৈয়দ
ব্যাখ্যা
মোহিতলাল মজুমদার 'কৃত্তিবাস ওঝা' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।

অন্যদিকে,
বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম - মৌমাছি৷
‘সুবোধ ঘোষ’ এর ছদ্মনাম - কালপুরুষ।
আবদুল মান্নান সৈয়দ 'অশোক সৈয়দ' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

মোহিতলাল মজুমদার:
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- ১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে অবসরে যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৮৯.
বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে কোন পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য?
  1. ক) দৈনিকা আজাদ
  2. খ) সমকাল
  3. গ) পূর্বমেঘ
  4. ঘ) স্বদেশ
ব্যাখ্যা
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। 
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি।
- 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর
৩৯০.
'ত্রিবিক্রম বর্মণ' কোন কবির ছদ্মনাম?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলা সাহিত্য 'ছন্দের জাদুকর' বা 'ছন্দের রাজা' হিসেবে খ্যাত।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- হোমশিখা,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থ রেণু,
- মণি মঞ্জুষা।

অন্যদিকে, 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

• 'বনফুল' ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯১.
কবি কায়কোবাদের উপাধি ছিল-
  1. বিদ্যাভূষণ
  2. কাব্যকণ্ঠ
  3. সাহিত্যসাগর
  4. সাহিত্য বিশারদ
ব্যাখ্যা
• নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।
• আবদুল করিমকে নদীয়া সাহিত্য সভা 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯২.
'পরিচয়' কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. ত্রৈমাসিক
  2. ষান্মাসিক
  3. মাসিক
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'-এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৯৩০ সালে 'কল্লোল' বন্ধ হয়ে গেলে বিষ্ণু দে-ও এ পত্রিকায় যোগ দেন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন।
- সুধীন্দ্রনাথও টানা বার বছর সম্পাদক ছিলেন এ পত্রিকার।
- পরে পত্রিকার মালিকানা-বদল ঘটে এবং গোপাল হালদার এর সম্পাদক হন।
- কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) পশ্চিমবঙ্গ শাখার তত্ত্বাবধানে এখনো 'পরিচয়' প্রকাশ পায়।
- বলা হয়, 'সবুজপত্রে'র পর এরকম উচ্চমানের পত্রিকা বাংলায় আর প্রকাশিত হয় নি।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৩.
'বীরবল' ছদ্মনামটি কার?
  1. বিনয় মুখোপাধ্যায়
  2. সুধীন্দ্ৰনাথ দত্ত
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. কাজী নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• প্রমথ চৌধুরী: 
• বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী'র ছদ্মনাম বীরবল।
- ১৯১৪ সালে মাসিক  সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি।
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে।
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

• তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা হলো:
- বিশ্বভারতী (১৩৪৯-৫০),
- রূপ ও রীতি (১৩৪৭-৪৯) এবং
- অলকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৩৯৪.
'কবিতা' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায়
  4. খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

'কবিতা' পত্রিকা:
-  কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র
- যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হলেও বুদ্ধদেব বসুই এর প্রধান পরিচালক ছিলেন।
- কবিতা পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার প্রথম কবি ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। তাঁর কবিতার নাম ‘তামাসা’।
- আশ্বিন ১৩৪২ বঙ্গাব্দ থেকে চৈত্র ১৩৬৭ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত কবিতা পত্রিকার পঁচিশ বছরের জীবনকালে সর্বমোট ৩৪৫জন লেখক এতে অবদান রেখে গেছেন।

অন্যদিকে:
- 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক সুধীন্দ্রনাথ দত্ত।
- 'কালি-কলম' পত্রিকার সম্পাদক মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্র।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা

৩৯৫.
চলিত রীতির প্রথম গদ্যরচনা কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) ভারতী
  3. গ) বিশ্বভারতী
  4. ঘ) হিতকরী
ব্যাখ্যা
বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬)।
- তাঁর ছদ্মনাম 'বীরবল'। 
- চলিত রীতিতে তাঁর প্রথম রচনা 'বীরবলের হালখাতা'। 
- এটি ভারতী পত্রিকায় ১৯০২ সালে প্রকাশিত হয়। 

- ১৯১৪ সালে মাসিক সবুজপত্র প্রকাশনা এবং তার মাধ্যমে বাংলা চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তন তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি। 
- একে কেন্দ্র করে তখন একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। 
- স্বয়ং রবীন্দ্রনাথও এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 
- প্রমথ চৌধুরী ‘বীরবল’ ছদ্মনামে এ পত্রিকায় ব্যঙ্গরসাত্মক প্রবন্ধ ও নানা গল্প প্রকাশ করেন।
- তাঁর এ ছদ্মনাম থেকে তখন বাংলা সাহিত্যে বীরবলী ধারা প্রবর্তিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৬.
'টেকচাঁদ ঠাকুর' - কার ছদ্মনাম?
  1. সতীনাথ ভাদুড়ী
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. সমরেশ বসু
  4. মধুসূদন মজুমদার
ব্যাখ্যা
খ) প্যারীচাঁদ মিত্র-এর ছদ্মনাম হল 'টেকচাঁদ ঠাকুর'। তিনি 'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'আলালের ঘরের দুলাল' (১৮৫৮) রচনা করেছেন।

অন্যান্য লেখকদের ছদ্মনাম:
ক) সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত;
গ) সমরেশ বসু - কালকূট;
ঘ) মধুসূদন মজুমদার - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৩৯৭.
‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. সিকান্‌দার আবু জাফর
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. মোহাম্মদ নাসির আলি
ব্যাখ্যা

‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে,
আবু জাফর শামসুদ্দীন এবং মোহাম্মদ নাসির আলির সম্পাদনা পত্রিকা - নয়া সড়ক।
মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন - সিকান্‌দার আবু জাফর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

৩৯৮.
"কাঙাল হরিনাথ" কোন পত্রিকাটির সম্পাদনার সাথে জড়িত?
  1. সাধনা
  2. কল্লোল
  3. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  4. হিতকরী
ব্যাখ্যা
• 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকা:
এটি উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা। যদিও প্রকাশের পরের বছর থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

প্রথম মুদ্রণ স্থান: প্রথম দিকে কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে মুদ্রিত হতো, পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালি থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করে।

উল্লেখ্য, 
গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো। আঠারো বছর গ্রামবার্তা প্রকাশিকা সম্পাদনা করার পর সাংবাদিকতা ত্যাগ করে হরিনাথ ধর্মসাধনায় মনোনিবেশ করেন।

অন্যদিকে,
• ‘সাধনা’ পত্রিকা সম্পাদনা করেন সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
• 'কল্লোল' - ১৯২৩ সালে দীনেশরঞ্জন দাসের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
• 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৩৯৯.
কোন পত্রিকাটি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় আত্মপ্রকাশ করে?
  1. প্রগতি
  2. পূর্বাশা
  3. পরিচয়
  4. ক্রান্তি
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
'পরিচয়' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতার আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল', 'কালিকলম', 'পরিচয়'-এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক হিসেবে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের সম্পাদনায় পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৯৩০ সালে 'কল্লোল' বন্ধ হয়ে গেলে বিষ্ণু দে-ও এ পত্রিকায় যোগ দেন এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে একযুগ এখানে সংযুক্ত ছিলেন। সুধীন্দ্রনাথও টানা বার বছর সম্পাদক ছিলেন এ পত্রিকার।
- পরে পত্রিকার মালিকানা-বদল ঘটে এবং গোপাল হালদার এর সম্পাদক হন।
- কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) পশ্চিমবঙ্গ শাখার তত্ত্বাবধানে এখনো 'পরিচয়' প্রকাশ পায়।
- বলা হয়, 'সবুজপত্রে'র পর এরকম উচ্চমানের পত্রিকা বাংলায় আর প্রকাশিত হয়নি।

অন্যদিকে,
- 'প্রগতি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- রণেশ দাশগুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা 'ক্রান্তি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৪০০.
'কাব্যকন্ঠ' কোন কবির উপাধি?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  3. বিদ্যাপতি
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি ছিলেন একজন কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার নাম ‘মোসলেম ভারত‘।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অপূর্বদর্শন ,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- কুসুমাঞ্জলি,
- হজরত মহাম্মদ ইত্যাদি।

উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী ইত্যাদি।

গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি-মনসুর,
- ফেরদৌসী-চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।