বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা ১৫ / ১৬ · ১,৪০১১,৫০০ / ১,৬০৩

১,৪০১.
'নতুন কবিতা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. আশরাফ সিদ্দিকী
  2. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  3. হাসান হাফিজুর রহমান
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
'নতুন কবিতা' পত্রিকা:
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এতে লিখেছিলেন: হাবীবুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মামুন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মনোজ সেনগুপ্তসহ তেরোজন কবি।
- সম্পাদকগণ দাবি করেছিলেন যে, সংকলনটি হবে 'সাহিত্য পথের নতুন যাত্রীদের কাব্য সৃষ্টির খতিয়ান'।
- কিন্তু উত্তরকাল দেখা গেছে এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কবি হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেকে কবিতা লিখলেও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪০২.
‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করা হয় কাকে?
  1. দীনবন্ধু মিত্র
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. নুরুল মোমেন
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• বাংলায় সর্বাধিক সংখ্যক নাটক রচয়িতা গিরিশচন্দ্র ঘোষ মঞ্চাভিনয়ের প্রথম যুগে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও অভিনয় প্রতিভাবলে এক জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত হন। ১৮৭৭ সালে মেঘনাদবধ কাব্যে রামচন্দ্র ও মেঘনাদ উভয় ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দেখে সাধারণী পত্রিকার সম্পাদক অক্ষয়চন্দ্র সরকার তাঁকে ‘বঙ্গের গ্যারিক’ আখ্যায় ভূষিত করেন।

-------------------
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- গিরিশচন্দ্র ঘোষ (১৮৪৪-১৯১২)  নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, মঞ্চাভিনেতা। ১৮৪৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতার বাগবাজারে তাঁর জন্ম।

- ১৮৬৭ সালে বাগবাজার সখের যাত্রাদল-প্রযোজিত মধুসূদনের শর্মিষ্ঠা নাটকের গীতিকার হিসেবে গিরিশচন্দ্র নাট্যজগতে প্রবেশ করেন। পরে দীনবন্ধু মিত্রের সধবার একাদশী নাটকে তিনি নিমচাঁদ চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৮৭১ সালে বাগবাজার দল ন্যাশনাল থিয়েটার নামে প্রথম সাধারণ রঙ্গমঞ্চ স্থাপন করে অভিনয় আরম্ভ করে। ১৮৮০ সালে তিনি পার্কার কোম্পানির চাকরি ত্যাগ করে কম বেতনে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারের ম্যানেজার হন। তাঁর রচিত প্রথম মৌলিক নাটক আগমনী (১৮৭৭) এ মঞ্চেই অভিনীত হয়।

-  গিরিশচন্দ্র শেকসপীয়রের ম্যাকবেথ (১৮৯৩) নাটকের বাংলা অনুবাদ করেন এবং বঙ্কিমচন্দ্রের মৃণালিনী, বিষবৃক্ষ ও দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাস, মধুসূদনের  মেঘনাদবধ কাব্য ও নবীনচন্দ্রের পলাশীর যুদ্ধ কাব্যের নাট্যরূপ দেন। তিনি অধিকাংশ নাটকে বিভিন্ন চরিত্রে নিজেই অভিনয় করেছেন এবং বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীকে সুযোগ করে দিয়ে একটি অভিনয় স্কুল গড়ে তুলেছিলেন।

- মধুসূদনের চৌদ্দ মাত্রার অমিত্রাক্ষর ছন্দকে ভেঙ্গে তিনি অভিনয়ের উপযোগী ছোট ছোট ছত্রে বিন্যস্ত করেন। তাঁর নামানুসারে এ ছন্দের নাম হয় ‘গৈরিশ ছন্দ’। 

- তাঁর নাটকের সংখ্যা মোট ৮০। সেগুলির মধ্যে জনপ্রিয় কয়েকটি হলো: অভিমন্যুবধ (১৮৮১), সীতার বনবাস (১৮৮১), সীতাহরণ (১৮৮২), পান্ডবের অজ্ঞাতবাস (১৮৮২), প্রফুল্ল (১৮৮৯), জনা (১৮৯৪), আবু হোসেন (১৮৯৬), বলিদান (১৯০৪), সিরাজদ্দৌলা (১৯০৫), মীরকাশিম (১৯০৬), ছত্রপতি শিবাজী (১৯০৭), শঙ্করাচার্য (১৯১০), বিল্বমঙ্গল ঠাকুর ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
১,৪০৩.
'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. এস, ওয়াজেদ আলী
  3. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  4. লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা

'সওগাত' পত্রিকা:
- 'সওগাত' প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার ১৯১৮ সালে। সম্পাদক ছিলেন- মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।
- তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন 'বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী' নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

১,৪০৪.
'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1. পরিচয় 
  2. পূর্বাশা
  3. মাসিক মোহাম্মদী 
  4. ভারতী 
ব্যাখ্যা

• 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত 'পদ্মানদীর মাঝি' নামক উপন্যাসটি ১৯৩৪ সাল থেকে 'পূর্বাশা' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতে থাকে।
- পদ্মা তীরবর্তী ধীবর-জীবন এর মূল কাহিনি। কুবের-কপিলা এই দুই প্রধান চরিত্রের আন্তঃ-সম্পর্কও উপন্যাসটির ভিন্নমাত্রা সংযোজন করেছে।
- উল্লেখযোগ্য চরিত্র: কুবের, কপিলা, মালা, ধনঞ্জয়, গণেশ, শীতলবাবু, হোসেন মিয়া ইত্যাদি।
- উপন্যাসে "আমারে নিবা মাঝি লগে?"- বিখ্যাত সংলাপটি কপিলা, কুবের কে উদ্দেশ্য করে বলে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'পদ্মানদীর মাঝি' ইংরেজি, রুশ, চীনা, চেক, নরওয়েজিয়া, সুইডিশ প্রভৃতি ভাষায় অনূদিত হয়।

এ উপন্যাসের রহস্যময় চরিত্র হোসেন মিয়া। নতুন চরে জীবনের গান শোনাতে আগ্রহী হোসেন একই সঙ্গে নির্মম ও দয়ার্দ্র, সরল ও ক্রুর, শ্রমী ও মাদক ব্যবসায়ী। ভালো-মন্দ, আলো-ছায়ায় ঘেরা হোসেন মিয়া এই উপন্যাসের এক অপরিহার্য চরিত্র। তবে তার রহস্যাবৃত চরিত্রের সন্ধান সকল মাঝির জানার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিরীহ মাঝিদের কাছে ত্রাতার ভূমিকায় সম্মানিত।

----------------------
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত উল্লেখযোগ্য অন্যান্য উপন্যাস:
- জননী,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরতলী,
- অহিংসা,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- আরোগ্য প্রভৃতি।

উৎস: 'পদ্মা নদীর মাঝি' উপন্যাস; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪০৫.
কোন প্রতিষ্ঠান নূরন্নেছা খাতুন কে ‘সাহিত্য সরস্বতী’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  2. নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ
  3. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
  4. নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সমিতি
ব্যাখ্যা

নূরন্নেছা খাতুন:
- প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক। তিনি ১৯৯৪ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা খোন্দকার হাবিবুস সোবহান সরকারি চাকুরে ছিলেন। পূর্ব-পুরুষ শাহ তাহের ছিলেন পীর।
- স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি ইংরেজি শিক্ষার ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ পান। স্বামীর কর্মোপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে গমন ও ভ্রমণের ফলে বহির্জগত সম্বন্ধে তাঁর জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি পায়। ফলে একজন সাহিত্যিক হিসেবে তাঁর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটে।
- কোহিনুর মাসিক পত্রিকার ১৩১৮ সনের বৈশাখ সংখ্যায় নূরন্নেছা খাতুনের ‘আহবান-গীতি’ নামে একটি কবিতা প্রকাশিত হয়।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস স্বপ্নদৃষ্টা ১৯২৩ সালে শ্রীরামপুর (হুগলী) থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। উল্লেখযোগ্য যে, বেগম রোকেয়ার (১৮৮০-১৯৩৩) পদ্মরাগ উপন্যাসটি এর এক বছর পর ১৯২৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সমিতি’ তাঁকে ‘বিদ্যাবিনোদিনী’ এবং ‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ‘সাহিত্য সরস্বতী’ উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৪০৬.
‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. সিকান্দার আবু জাফর
  2. মোজাম্মেল হক
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
ব্যাখ্যা

• 'সওগাত' পত্রিকা:
'সওগাত' প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল কলকাতার ১৯১৮ সালে। সম্পাদক ছিলেন — মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।

উল্লেখ্য,
- পরবর্তীকালে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।
- তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন ‘বাউন্ডেলের আত্মকাহিনী’ নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।

১,৪০৭.
'শ্রীমতি মধ্যমা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর:
- তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে।
- তাঁর পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং পিতামহ প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর।
- এশিয়ার বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম ১৯১৩ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান।
- ১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনী দেবী রায়চৌধুরীকে বিয়ে করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- তিনি ১৯১৫ সালে ইংরেজ প্রদত্ত 'নাইট' উপাধি পান এবং ১৯১৯ সালে পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কারণে 'নাইট' উপাধি ফিরিয়ে দেন।
- ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট (২২ শ্রাবণ ১৩৪৮) জোড়াসাঁকোর নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীনকিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'কমলাকান্ত' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো: অনিলা দেবী; অপরাজিতা দেবী; শ্রী চট্টোপাধ্যায়; অনুরূপা দেবী; পরশুরাম; শ্রীকান্ত শর্মা ও সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪০৮.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. সমকাল
  3. কালি ও কলম
  4. ইত্তেফাক
ব্যাখ্যা

• 'সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে 'সমকালে'র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতো বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে 'সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

---------------------
• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক ও সাহিত্য-সাময়িকী 'শনিবারের চিঠি' (প্রতিষ্ঠা ১৯২৪) পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রাণপুরুষ ছিলেন কবি-সাহিত্যিক সজনীকান্ত দাস। যদিও পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন যোগানন্দ দাস।
- এই পত্রিকাটিতে তীব্র অথচ হাস্যরসাত্মক সমালোচনার মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্য কর্মকাণ্ডে বিশেষ প্রভাব ফেলা হতো। 

• 'ইত্তেফাক' পত্রিকা:
- ১৯৪৯ সালের ১৫ আগস্ট সাপ্তাহিক হিসেবে ইত্তেফাক যাত্রা শুরু করে যার সম্পাদক ছিলেন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও প্রকাশক ছিলেন ইয়ার মোহাম্মদ খান। বর্তমানে পত্রিকাটির সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তাসমিমা হোসেন।

• 'কালি ও কলম' পত্রিকা:
ঢাকা থেকে প্রকাশিত বর্তমান সময়ের সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতি বিষয়ক জনপ্রিয় মাসিক পত্রিকা 'কালি ও কলম'-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সম্পাদক আবুল হাসনাত। বর্তমানে পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সুব্রত বড়ুয়া এবং সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪০৯.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সাধনা
  2. পূর্বাশা
  3. বাসনা
  4. সুধাকর
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনা করেছেন-
- সাধনা (১৮৯৪),
- ভারতী (১৮৯৮),
- বঙ্গদর্শন (১৯০১),
- তত্ত্ববােধিনী (১৯১১)।

• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

-------------
• ‘ভারতী' পত্রিকা:
- ‘ভারতী' একটি মাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ (১২৮৪ বঙ্গাব্দ) সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর। স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১-১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বাড়ির অনেকেই সম্পাদনা করেন।

---------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ খ্রিষ্টাব্দে মাসিক 'বঙ্গদর্শন' প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভুত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তোলেন।
- বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ 'বঙ্গদর্শন' সম্পাদনা করেন।

------------------
• 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা:
- 'তত্ত্ববােধিনী' পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ছিল। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটির উদ্দেশ্য ছিল ব্রাহ্মসমাজের মাহাত্ম প্রচার‌ করা।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে,
• সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা - পূর্বাশা। এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়। এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
• শেখ ফজলল করিম সম্পাদিত পত্রিকা ‘বাসনা’।
• শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা ‘সুধাকর’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪১০.
'সাহিত্য পত্রিকা'র প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. মুহম্মদ আবদুল হাই
  2. মুহাম্মদ এনামুল হক
  3. সিকান্‌দার আবু জাফর
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
⇒ সাহিত্য পত্রিকা':
- 'সাহিত্য পত্রিকা'র প্রথম সম্পাদক ছিলেন - মুহম্মদ আবদুল হাই। 
- গবেষণার ক্ষেত্র প্রসারের লক্ষ্যে তিনি 'সাহিত্য পত্রিকা' প্রকাশ করেন।
- এটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়। 
- উচ্চমানের জন্য খুব দ্রুত পত্রিকাটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে।
- আবদুল হাই এ পত্রিকাটি সম্পাদনার পাশাপাশি নিরলসভাবে নিজের গবেষণাও চালিয়ে যান। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪১১.
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির মুখপত্র ছিল—
  1. নবযুগ
  2. বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা
  3. মাসিক মোহাম্মদী
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা

• বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ও পত্রিকা:
বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্, মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী, মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

- সমিতির উদ্যোগে মোট সাতটি সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৪৩ সালের ৮-৯ মে সমিতির সপ্তম ও শেষ বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা’ ও ‘সাহিত্যিক’ নামে এর দুটি মুখপত্র ছিল।

- লাহোর প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে কলকাতায় পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি এবং ঢাকায় পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সংসদ গঠিত হলে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির গুরুত্ব হ্রাস পায়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৪১২.
'নবশক্তি' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন কোন ঔপন্যাসিক?
  1. আবু ইসহাক
  2. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ একজন সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

- জীবিকার সন্ধানে অদ্বৈত ১৯৩৪ সালে কুমিল্লার বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবী নরেন্দ্র দত্তের সঙ্গে কলকাতা যান। সেখানে মাসিক পত্রিকা ত্রিপুরা সম্পাদনার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরে তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত নবশক্তি পত্রিকায় যোগ দেন। তিনি মোহাম্মদী, আজাদ, নবযুগ, কৃষক, যুগান্তর প্রভৃতি পত্রিকায়ও সাংবাদিকতা করেন।

- ১৯৪৫ সালে বিখ্যাত দেশ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগদান করে তিনি আমৃত্যু এ দায়িত্ব পালন করেন। মাঝে কিছুদিন উপার্জন বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বভারতীর প্রকাশনা শাখায় খন্ডকালীন চাকরি করেন।

- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন। তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় প্রথম ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো-
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪১৩.
'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করতেন কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. দীনেশরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।  
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে, 
- 'কবিতা' বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪১৪.
'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  3. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  4. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
ব্যাখ্যা

• ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে,
- ‘সওগাত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।
- ‘সাম্যবাদী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪১৫.
কবি কায়কোবাদের আসল নাম কি?
  1. ক) কাজেম আল কোরায়েশী
  2. খ) কাসেম আল কোরায়েশী
  3. গ) কায়কোবাদ আল কোরায়েশী
  4. ঘ) উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)। তার প্রকৃত নাম - কাজেম আল কোরেশী। তিনি মুসলমান কবিদের মধ্যে সর্বপ্রথম সনেট রচনা করেন। তার কাব্যগ্রন্থ-- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য), মহাশশ্মান (মহাকাব্য) ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪১৬.
‘স্বদেশ’ পত্রিকা কোন সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯২৭ সালে
  2. খ) ১৯৬৫ সালে
  3. গ) ১৯৬৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৫ সালে
ব্যাখ্যা
‘স্বদেশ’ পত্রিকা সালে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৬৯ সালে। এর সম্পাদক ছিলেন আহমদ ছফা। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ।
১,৪১৭.
'ধূমকেতু' কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. মাসিক 
  2. অর্ধ-সাপ্তাহিক
  3. দৈনিক 
  4. সাপ্তাহিক 
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' পত্রিকা:
- ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে অর্ধ সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে 'ধূমকেতু' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সম্পাদক। ব্রিটিশ বিরোধী রচনা এখানে ছাপা হতো।
- নজরুলের কবিতা 'আনন্দময়ীর আগমনে' পত্রিকায় প্রকাশ হলে কবিতা ও পত্রিকা উভয়ই ব্রিটিশ সরকার নিষিদ্ধ করে। এজন্য নজরুলকে এক বছর কারাবাসও করতে হয়।

রবীন্দ্রনাথ পত্রিকার সাফল্য কামনা করে লেখেন:
'আয় চলে আয় রে ধূমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু দুর্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।'

কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা:
• 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
• 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪১৮.
"সংবাদ প্রভাকর" পত্রিকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কত সালে পুনর্বার ছাপা হয়?
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৩৮ সালে
  4. ১৮৩৬ সালে
ব্যাখ্যা

সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৪১৯.
'সাহিত্যরত্ন' উপাধিটি কার?
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  3. আবুল হোসেন
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
মোহাম্মদ নজিবর রহমান:
- মোহাম্মদ নজিবর রহমান ছিলেন মূলত ঔপন্যাসিক। তিনি আনুমানিক ১৮৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজিবর রহমান ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রত্যক্ষ অনুপ্রেরণায় সাহিত্যকর্মে ব্রত হন।
- নজিবর রহমান তাঁর উপন্যাসে গ্রামীণ মুসলিম পরিবারের অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন।
- সাহিত্যে অবদানের জন্য তিনি ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধি লাভ করেন।
- প্রথম সামাজিক উপন্যাস আনোয়ারা লিখে তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর জনপ্রিয় উপন্যাসের নাম ‘আনোয়ারা’।

অন্যদিকে,
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,৪২০.
কোন কবিকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়?
  1. ক) যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  2. খ) মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. গ) জীবনানন্দ দাস
  4. ঘ) বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তী মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের মানব-রসের প্রথম ও একমাত্র স্রষ্টা।
- চণ্ডীমঙ্গলের প্রধান কবি হলেন মুকুন্দরাম চক্রবর্তী। তিনি ষোল শতকের কবি।
- মেদিনীপুরের রাজা রঘুনাথ রায়ের অনুরোধে তিনি চণ্ডীমঙ্গল কাব্য লেখেন।
- গণজীবনের করুণ চিত্র তাঁর কাব্যে তুলে ধরেন।
- কবির প্রতিভার স্বকৃতিস্বরূপ রাজা রঘুনাথ তাকে কবিকঙ্কন উপাধি প্রদান করেন।
- তাঁকে দুঃখ বর্ণনার কবি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪২১.
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা ''সংবাদ প্রভাকর' কত সালে দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়?
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৩৬ সালে
  4. ১৮৩৭ সালে
ব্যাখ্যা
'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন থেকে এটি দৈনিক পত্রে রূপান্তরিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪২২.
'দাদা ভাই'র আসল নাম -
  1. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  2. রোকনুজ্জামান খান
  3. রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ক ও খ উভয়েরই
ব্যাখ্যা
• 'দাদা ভাই'র আসল নাম - নীহাররঞ্জন গুপ্ত ও রোকনুজ্জামান খান (ক ও খ উভয়েরই)।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
• কালিকানন্দ এর ছদ্মনাম - অবধূত।
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার ও মধুসূদন মজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - সুনন্দ।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪২৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. টেকচাঁদ ঠাকুর
  2. বীরবল
  3. লীলাময় রায়
  4. ভানুসিংহ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম:
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়টি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।
- এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর;
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর;
- আন্নাকালী পাকড়াশী;
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য;
- নবীনকিশোর শর্মণ;
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মা;
- বাণীবিনোদ বিদ্যাবিনোদ;
- শ্রীমতী কনিষ্ঠা;
- শ্রীমতী মধ্যমা;

• অন্যদিকে:
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম- লীলাময় রায়।
• প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।
• 'প্রমথ চৌধুরী' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- বীরবল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,৪২৪.
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সমালোচনা
  2. বিমল প্রভা
  3. ভ্রমর
  4. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
ব্যাখ্যা
সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৩৪ সালের ২৭শে জুন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি 'Bengal Ryots : Thier Rights and Liabilities' নামের গ্রন্থ লিখে প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ১২৮৪ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত।
- আর তিনি সম্পাদনা করেন 'ভ্রমর' নামের মাসিক পত্রিকা।

তাঁর রচিত উপন্যাসগ্রন্থ:
- কণ্ঠমালা, 
- মাধবীলতা, 
- জলপ্রতাপ চাঁদ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- রামেশ্বরের অদৃষ্ট। 

প্রবন্ধগ্রন্থ:
- যাত্রা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪২৫.
বাংলা সাহিত্যে ‘মধুকবি’ নামে পরিচিত ছিলেন-
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. কায়কোবাদ
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা
মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন মহাকবি, প্রথম আধুনিক নাট্যকার, বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক, অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক, বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী লেখক।

- ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে তাঁর জন্ম।
- বাংলা সাহিত্যে তিনি 'মধুকবি' নামে পরিচিত।

- ১৮৩৩ সালে হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি বাংলা, সংস্কৃত ও ফারসি ভাষা শেখেন। হিন্দু কলেজে অধ্যয়নের সময়েই মধুসূদন দত্ত কাব্যচর্চা শুরু করেন। তখন তাঁর কবিতা জ্ঞানান্বেষণ, Bengal Spectator, Literary Gleamer, Calcutta Library Gazette, Literary Blossom, Comet প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হতো।

- মধুসূদন দত্ত ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯ বছর বয়সে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে 'মাইকেল' শব্দটি যুক্ত হয়।

- তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'। এটি ইংরেজিতে রচিত।
- তিনি প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন 'পদ্মাবতী' নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থ্যাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- 'মেঘনাদবধ কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের লেখা একটি অমর মহাকাব্য। এটি তাঁর সাহিত্যিক জীবনের শ্রেষ্ঠ রচনাও বলা যায়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪২৬.
'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  2. আহমদ ছফা
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. অন্নদাশঙ্কর রায়
ব্যাখ্যা
• আবু জাফর শামসুদ্দীন:
- আবু জাফর শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক, সাহিত্যিক।
- ১৯১১ সালের ১২ মার্চ ঢাকা জেলার গাজীপুরের দক্ষিণবাগ গ্রামে তাঁর জন্ম।
- মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- তাঁর প্রথম উপন্যাস 'পরিত্যক্ত স্বামী' প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

• আবু জাফর শামসুদ্দীন এর ত্রয়ী উপন্যাস:
- ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান,
- পদ্মা মেঘনা যমুনা এবং
- সংকর সংকীর্তন।

• গল্পগ্রন্থ:
- জীবন,
- রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা,
- ল্যাংড়ী।

অন্যদিকে, 
• অন্নদাশঙ্কর রায় 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৪২৭.
সিকান্দার আবু জাফর কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সমকাল
  2. নবযুগ
  3. কণ্ঠস্বর
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা
• সিকান্দার আবু জাফর 'সমকাল' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- সমকাল ছাড়াও নবযুগ, সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক ও দৈনিক মিল্লাত পত্রিকার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
• আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত 'কণ্ঠস্বর' কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি বৃহৎ আন্দোলনের সূতিকাগার।

---------------
• সিকান্দার আবু জাফর রচিত কবিতা:
- প্রসন্ন শহর,
- তিমিরান্তিক,
- বৈরী বৃষ্টিতেl
- বৃশ্চিক-লগ্ন।

• তাঁর রচিত নাটক:
- সিরাজ-উদ-দৌলা,
- মহাকবি আলাওল,
- শকুন্ত উপাখ্যান।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- মাটি আর অশ্রু,
- জয়ের পথে,
- নবী কাহিনী,
- পূরবী।

• তাঁর কয়েকটি অনূদিত গ্রন্থ:
- যাদুর কলস,
- সেন্ট লুইয়ের সেতু,
- রুবাইয়াৎ: ওমর খৈয়াম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪২৮.
’মাসিক পত্রিকা’ সম্পাদনা করেন কে?
  1. প্যারীচাঁদ মিত্র
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা

মাসিক পত্রিকা:
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
প্যারীচাঁদ মিত্রের বিখ্যাত গ্রন্থ আলালের ঘরের দুলাল ১৮৫৫ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে,
- ভারতী পত্রিকা সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- বঙ্গদর্শন পত্রিকা সম্পাদনা করেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- সংবাদ প্রভাকর পত্রিকা সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,৪২৯.
'বানভট্ট' কার ছদ্মনাম?
  1. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  2. সমরেশ বসু
  3. নীহাররঞ্জ গুপ্ত
  4. নীহাররঞ্জ রায়
ব্যাখ্যা

 • 'বানভট্ট' — নীহাররঞ্জ গুপ্তের ছদ্মনাম।

অন্যদিকে,
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।

• আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- বিমল মিত্রের ছদ্মনাম 'জাবালি'।
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - যুবনাশ্ব।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৩০.
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকাটি?
  1. কালিকলম
  2. হিতকরী
  3. সুধাকর
  4. হিতবাদী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।
-------------------------------
মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- পরে তাঁর দ্বিতীয়া স্ত্রী বিবি কুলসুমও এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রাখেন।
- মশাররফ আজিজননেহার (১৮৭৪) ও হিতকরী (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

অন্যদিকে, 
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকার নাম - 'কালিকলম' 
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।
- হিতবাদী - কৃষ্ণকমল ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,৪৩১.
নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ আলী সেলিম
  2. হায়াৎ মামুদ
  3. কাজী আবদুল আলীম
  4. মইনুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা
• নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম - মইনুদ্দিন আহমেদ।

অন্যদিকে,
- ‘হায়াৎ মামুদ’ ছদ্মনামে মনিরুজ্জামান লিখতেন।

সেলিম আল দীন:
- তিনি ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৮ই নভেম্বর তৎকালীন নোয়াখালি জেলার সোনাগাজির সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- সেলিম আল দীন কবিতাই লিখতেন। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর রচিত 'নীল শয়তান: তাহিতি ইত্যাদি' নাটকটি টেলিভিশন ও বেতারে প্রচার হলে তাঁর নাট্যরচনার কথা জানাজানি হয়।
- একই বছর ডাকসু মঞ্চস্থ করে 'জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন' এবং নাট্য প্রতিযোগিতাতেও নাটকটি প্রথম পুরস্কার পায়।
- ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ডাকসু নাট্যচক্র তাঁর লেখা 'এক্সপ্লোসিভ ও মূল সমস্যা' মঞ্চস্থ করলে নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন সবার পরিচিতি পান।

সেলিম আল দীন রচিত নাট্যগ্রন্থ:
- সর্প বিষয়ক গল্প ও অন্যান্য,
- বাসন,
- কেরামতমঙ্গল,
- কিত্তনখোলা,
- হাতহদাই,
- শকুন্তলা,
- মুনতাসীর ফ্যান্টাসি,
- জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,
- চাকা,
- যৈবতী কন্যার মন,
- হরগজ,
- নিমজ্জন ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪৩২.
”বঙ্গদর্শন” মাসিক সাহিত্যপত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

• বঙ্গদর্শন:
- বঙ্গদর্শন মাসিক সাহিত্যপত্রিকা।
- ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

- এতে সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও  দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৮৭৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এর সম্পাদক ও প্রধান লেখক হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র এক গুরু দায়িত্ব পালন করেন।

- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন। বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।

অন্যদিকে,
”সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর” সম্পাদিত পত্রিকা- সাধনা।
”ইশ্বরচন্দ্র গুপ্ত” সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর।
”মীর মশাররফ হোসেন” সম্পাদিত পত্রিকা- হিতকারী।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৪৩৩.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. অনিলা দেবী
  2. অপরাজিতা দেবী
  3. নীহারিকা দেবী
  4. অনুরূপা দেবী
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় ‘নীহারিকা দেবী'। ‘নীহারিকা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।

------------------------------
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- দেনা-পাওনা,
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- পণ্ডিতমশাই,
- পরিণীতা,
- চন্দ্রনাথ,
- দেবদাস,
- চরিত্রহীন,
- গৃহদাহ,
- দত্তা,
- পথের দাবী,
- শেষ প্রশ্ন,
- শেষের পরিচয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৪৩৪.
সংবাদ প্রভাকর সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন? 
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 
২) বাংলাপিডিয়া।

১,৪৩৫.
কোন প্রতিষ্ঠান শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘জগত্তারিণী’ পদক প্রদান করেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. সংস্কৃত কলেজ
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. প্রেসিডেন্সি কলেজ
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বাংলা কথা-সাহিত্যে দুর্লভ জনপ্রিয়তার অধিকারী।
- ১৯০৩ সালে ভাগ্যের সন্ধানে তিনি বার্মা যান এবং রেঙ্গুনে অ্যাকাউন্ট্যাট অফিসে কেরানি পদে চাকরি করেন ।
- প্রবাস জীবনেই তার সাহিত্য সাধনা শুরু হয় এবং তিনি খ্যাতি লাভ করেন।
- ১৯১৬ সালে তিনি কলকাতা ফিরে আসেন এবং নিয়মিতভাবে সাহিত্য সাধনা শুরু করেন।
- তিনি ১৯২৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জগত্তারিণী’ পদক এবং ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. লিট উপাধি লাভ করেন।
- শরৎচন্দ্র ১৬ই জানুয়ারি ১৯৩৮ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ:
- বড়দিদি,
- বিরাজ বৌ,
- গৃহদাহ,
- পল্লিসমাজ,
- চরিত্রহীন,
- পথের দাবী,
- দেনা পাওনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৩৬.
বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য পত্রিকার স্থপতি কে?
  1. ক) কাজী আবুদল ওদুদ
  2. খ) কাঙাল হরিনাথ
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. ঘ) কাজী ইমদাদুল হক
ব্যাখ্যা
'বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা' বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির ত্রৈমাসিক মুখপত্র।
- এর স্থপতি ছিলেন কাজী ইমদাদুল হক। 
- ১৯১১ খ্রিস্টাব্দের ৪ সেপ্টেম্বর কলকাতায়  বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর সাত বছর পর ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি সমিতির কার্যকরী সভায় এর মুখপত্ররূপে একটি পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয় এবং পত্রিকা পরিচালনার জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়।
- উক্ত কমিটির সভাপতি ছিলেন কাজী ইমদাদুল হক এবং সম্পাদক দুজন  মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ও মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৩৭.
জোশুয়া মার্শম্যান কোন পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন?
  1. সমাচার দর্পণ
  2. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  3. সম্বাদ কৌমুদী
  4. বাঙ্গাল গেজেট
ব্যাখ্যা

• জোশুয়া মার্শম্যান: 
- জোশুয়া মার্শম্যান ছিলেন পণ্ডিত, প্রাচ্যবিদ্যাবিশারদ, ধর্মতাত্ত্বিক, শ্রীরামপুর মিশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

- জোশুয়া মার্শম্যান ভারতে সংবাদপত্রের সূচনাকারীদের অন্যতম। তিনি ১৮১৮ সালে প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সমাচার দর্পণ প্রকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। এ ছাড়া তিনি Friends of India নামে একটি মাসিক পত্রিকাও প্রকাশ করেন। পরবর্তীকালে তাঁর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান এটির প্রকাশনা ও সম্পাদনার কাজ চালিয়ে যান।

- ১৮২১ সালে তিনি শিশুদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষামূলক গ্রন্থ School Dialogues; or Lessons on the commandments and the way of Salvation প্রকাশ করেন। মার্শম্যান প্রথম চীনা ভাষায় বাইবেল অনুবাদ করেন। এটি ১৮২১ সালে শ্রীরামপর প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। তিনি কিছু খ্রিস্টীয় প্রার্থনা সঙ্গীতও রচনা করেন।

তিনি যেসকল পত্রিকার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন সেগুল হচ্ছে-
- সমাচার দর্পণ,
- দিগদর্শন,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া।

অন্যদিকে,
--------------------
• মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র 'সমাচার সভারাজেন্দ্র'। এর সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ, প্রকাশিত হতো কলকাতার কলিঙ্গা নামক স্থান থেকে। এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। এটি ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা।

ব্রাহ্মণসেবধিসম্বাদ কৌমুদী পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।

 • রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়। গঙ্গাকিশোর ভাট্টাচার্য ছিলেন এর সম্পাদক। এটি একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিলো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৩৮.
সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল' কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে
  2. ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে
  3. ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে
  4. ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে
ব্যাখ্যা
• 'সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত মাসিক সাহিত্যপত্র 'সমকাল' ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।

- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে 'সমকালে'র ভূমিকা অনস্বীকার্য।

- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযোগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।

- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতো বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে 'সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।

- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৩৯.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছদ্মনামে লেখেন-
  1. আবু জাফর শামসুদ্দিন
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'ভ্রমণকারী বন্ধু' - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের ছদ্মনাম।
তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির কবি হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে,
• 'আবু জাফর শামসুদ্দিন' অল্পদর্শী ছদ্মনামে ‘বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা’ শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।
• 'সৈয়দ মুজতবা আলী'র ছদ্মনাম: প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।
• 'বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৪০.
'বঙ্গদূত' পত্রিকাটি  সম্পাদনা করেছেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজা রামমোহন রায়
  3. নীলমণি হালদার
  4. রণেশ দাশগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• বঙ্গদূত:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমনি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৪১.
‘সাহিত্যবিশারদ’ উপাধিতে খ্যাত কোন সাহিত্যিক?
  1. ক) আবুল ফজল
  2. খ) আবুল হোসেন
  3. গ) আবদুল করিম
  4. ঘ) আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ(১৮৭১-১৯৫৩):
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম। 
- ১৯২০-২১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁর রচিত বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ শিরোনামে দুখন্ডে প্রকাশ করে। তাঁর সংগৃহীত পুঁথির বেশির ভাগ মুসলমান কবিদের লেখা এবং ঐগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুঁথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। 
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পান্ডুলিপিগুলি থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে ‘সাহিত্যসাগর’ উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে ‘সাহিত্য বিশারদ’ উপাধিতে ভূষিত করে
- তিনি বরাবরই শেষোক্ত খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪৪২.
'জরাসন্ধ' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  2. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
  3. বিমল মিত্র
  4. রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা

• 'জরাসন্ধ' চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম।

অন্যদিকে
• 'বাণভট্ট' নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম।
• বিমল মিত্রের ছদ্মনাম- জাবালি। 
• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৪৩.
আবুল ফজলের গড়ে তোলা ‘বুদ্ধির মুক্তি’ আন্দোলনের মুখপত্র বার্ষিক পত্রিকা কেনটি?
  1. ক) শিখা
  2. খ) সবুজ পত্র
  3. গ) কল্লোল
  4. ঘ) সখা
ব্যাখ্যা
• আবুল ফজল মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন।
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা
- আবুল ফজল শিখা পত্রিকার ৫ম সংখ্যা সম্পাদনা করেন।
- আবুল ফজল উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

•  তাঁর প্রধান কয়েকটি রচনাবলি হলো:
- চৌচির
- প্রদীপ ও পতঙ্গ
- মাটির পৃথিবী
- বিচিত্র কথা
- রাঙ্গা প্রভাত
- রেখাচিত্র
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।
‘রেখাচিত্র’ (১৯৬৬) আবুল ফজল রচিত একটি দিনিলিপি। তিনি রেখাচিত্রের জন্য আদমজি পুরস্কার (১৯৬৬) লাভ করেন।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৪৪.
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. নীল উপাধ্যায়
  2. নীল লােহিত
  3. সনাতন পাঠক
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন।
যেমন:
- নীল লোহিত,
- নীল উপাধ্যায়,
- সনাতন পাঠক।

বিভিন্ন লেখক ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো:
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট।
- সোমেন চন্দের ছদ্মনাম - ইন্দ্রকুমার সোম।
- বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম - মৌমাছি।
- সতীনাথ ভাদুড়ী ব্যবহৃত ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - যাযাবর।
- বিমল মিত্র এর ছদ্মনাম - জাবালি।
- কালিকানন্দ এর ছদ্মনাম - অবধূত।
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৪৫.
শওকত ওসমানের প্রকৃত নাম কী ছিল?
  1. শওকত আলী
  2. শেখ আজিজুর রহমান
  3. আজিজ হক 
  4. শওকত মিয়াঁ
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান:
- শওকত ওসমান ছিলেন এক বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।  
- তিনি ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর আসল নাম ছিল শেখ আজিজুর রহমান।
- নাটক, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, রসাত্মক লেখা থেকে শুরু করে শিশু-কিশোর সাহিত্যে পর্যন্ত তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। 

• তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী;
- ক্রীতদাসের হাসি।

• তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস:   
- জাহান্নম হইতে বিদায়;
- দুই সৈনিক;
- নেকড়ে অরণ্য;
- জলাঙ্গী।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটক:
- আমলার মামলা;
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা;
- তস্কর লস্কর;
- কাঁকর মণি।

• শওকত ওসমান এর বিখ্যাত গল্প হল: জন্ম যদি তব বঙ্গে;
• আর তাঁর ভাষা আন্দোলনভিত্তিক উপন্যাস : আর্তনাদ।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,৪৪৬.
'বীরবল' সাহিত্যিক ছদ্মনামটি কার?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. প্রমথ চৌধুরী
ব্যাখ্যা
প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল।'
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।

অন্যদিকে,
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - ভানুসিংহ ঠাকুর, অকপটচন্দ্র ভাস্কর, দিকশূন্য ভট্টাচার্য ইত্যাদি।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ‘অনিলা দেবী'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,৪৪৭.
'কলম-সৈনিক' কার উপাধি?
  1. আবদুল হক
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  4. আবদুল করিম
ব্যাখ্যা
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘কলমসৈনিক’ উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত। তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং প্রথম আলো পত্রিকা রিপোর্ট প্রকাশের (তারিখ: ২৯ জুলাই, ২০১৬)।
১,৪৪৮.
কায়কোবাদ ছদ্মনামে সাহিত্যচর্চা করতেন কে?
  1. কাজেম আল কোরেশী
  2. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ্
  3. অহিদুর রেজা
  4. মইনুদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের কয়েকজন লেখকের সাহিত্যিক নাম:
- কাজেম আল কোরেশী - কায়কোবাদ
- মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ্ - জহির রায়হান
- অহিদুর রেজা - হাসন রাজা
- মইনুদ্দিন আহমেদ - সেলিম আল দীন
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর

১,৪৪৯.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা নয় যেটি
  1. লাঙ্গল
  2. ধূমকেতু
  3. নবযুগ
  4. বিজলী
ব্যাখ্যা
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা: 
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- ‘লাঙ্গল’ (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়। 
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন ।

অন্যদিকে,
• 'বিজলী' পত্রিকা:
- ১৯২০ সালে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার নাম।
- এটি একটি চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা ছিলো, যার উদ্যোক্তা নলিনীকান্ত সরকার, বারীন্দ্রকুমার ঘোষ, শচ্চিদানন্দ সেনগুপ্ত, অরুণ সিংহ এবং দীনেশ রঞ্জন দাস।
- এর সম্পাদকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলো নলিনীকান্ত সরকার, প্রবোধকুমার সান্যাল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৫০.
'কৃত্তিবাস ভদ্র' - কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সতীনাথ ভাদুড়ী
  4. বিমল মিত্র
ব্যাখ্যা

• প্রেমেন্দ্র মিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্র একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, সম্পাদক।
- সাহিত্য-সাধনার প্রথমপর্বে তিনি — ‘কৃত্তিবাস ভদ্র’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- তাঁর জন্ম ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কাশিতে।
- তিনি কল্লোল পত্রিকার একজন নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র কলকাতার সাউথ সাবার্বন স্কুল থেকে ম্যাট্রিক (১৯২০) পাস করে সাহিত্য-সাধনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন।

তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পঞ্চশর,
- বেনামী বন্দর,
- পুতুল ও প্রতিমা,
- মৃত্তিকা ইত্যাদি।

অন্যদিকে
- বিমল মিত্র জাবালি ছদ্মনামে লিখতেন।
• মোহিতলাল মজুমদার এর ছদ্মনাম হলো কৃত্তিবাস ওঝা, সত্যসুন্দর দাস।
• সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস:
১)বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৫১.
‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. মুরলীধর বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. আবুল হোসেন
  4. শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• ‘কালিকলম’ পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না - আবুল হোসেন। 
 
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৪৫২.
মীর মশাররফ হোসেন কোন ছদ্মনামে তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা ‘গাজী মিয়াঁর বস্তানী’ রচনা করেছিলেন?
  1. গৌড়তটবাসী মশা
  2. গাজী মিয়াঁ 
  3. উদাসীন পথিক
  4. ভেড়াকান্ত
ব্যাখ্যা

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন-
- গৌড়তটবাসী মশা,
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

• 'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর ব্যক্তিজীবনের পটভূমিতে রচনা করেছেন 'উদাসীন পথিকের মনের কথা' (১৮৯০)। 
- গ্রন্থটি লেখকের আত্মজীবন নির্ভর কতিপয় বাস্তব ও কাল্পনিক ঘটনা মিশেল উপন্যাসসূলভ সাহিত্যিক উপস্থাপনা। 

• 'গাজী মিয়াঁ' ছদ্মনামে মশাররফ হোসেন তাঁর কর্মজীবন নির্ভর আত্মজীবনী মূলক রচনা 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী'।
- এতে লেখক নিজেকে ভেড়াকান্ত নামে উল্লেখ করেন। 
- এতে বঙ্কিমের 'কমলাকান্তের দপ্তর' -এর প্রভাব পাওয়া যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৫৩.
রাজা রামমোহন রায় রচিত 'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি কোন পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়?
  1. সম্বাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদূত
  3. সমাচার দর্পণ
  4. জ্ঞানান্বেষণ
  5. কল্লোল
ব্যাখ্যা
-'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা৷ যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সমাচার দর্পণ পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়৷

- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- বঙ্গদূত পত্রিকার সম্পাদক - নীলমণি হালদার৷
- কল্লোল প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
১,৪৫৪.
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
‘চন্দ্রশেখর’ উপন্যাস:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত চন্দ্রশেখর (১৮৭৫) উপন্যাসটি প্রথমে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- প্রতাপ ও শৈবলিনীর বাল্যপ্রণয় এবং সেই প্রেমের করুণ পরিণতি এই উপন্যাসের প্রধান কাহিনি। প্রেম, দাম্পত্য আদর্শ, সমাজের শাসন, সতীত্ব ইত্যাদি এই কাহিনিতে বিশেষভাবে সমস্যায়িত হয়েছে।
- এই উপন্যাসের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ বঙ্কিমের নীতি ও প্রথানুগত্য। কেননা, লেখক এখানে ‘তবে যাও প্রতাপ, স্বর্গধামে' বলে নায়ককে পরলোকের পথ দেখিয়েছেন।
- উপন্যাসটির পটভূমি ইংরেজ শাসনের প্রতিষ্ঠা এবং মির কাসিমের সঙ্গে ইংরেজদের সংগ্রাম।
- ইতিহাসাশ্রয়ী ঘটনার সঙ্গে গার্হস্থ্য জীবনের কাহিনির রূপায়ণ ঘটেছে বলে মির কাসিম-দলনি বেগমের সঙ্গে চন্দ্রশেখর-প্রতাপ-শৈবলিনীর আখ্যান রচিত হয়েছে এই উপন্যাসে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চবিবশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।

তাঁর রচিত উপন্যাস:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৫৫.
'সমাচার চন্দ্রিকা' পত্রিকার সম্পাদক - 
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
  5. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ব্যাখ্যা
'সমাচার চন্দ্রিকা' পত্রিকা:
- ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮২২ সালের ৫ মার্চ সমাচার চন্দ্রিকা নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- পত্রিকাটি রক্ষণশীল হিন্দুদের মুখপত্রে পরিণত হয়।
- ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই পত্রিকা টিকে ছিলো।

ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়:
- তিনি একজন লেখক, সাংবাদিক, কলকাতার রক্ষণশীল হিন্দু সমাজের অন্যতম নেতা ছিলেন।
- রামমোহন রায়-সম্পাদিত সম্বাদ-কৌমুদী পত্রিকায় ১৮২১ সালের ডিসেম্বর মাস সাংবাদিকতার কাজ আরম্ভ করেন।
- ভবনীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় উপন্যাস রচনা না করলেও, তিনি বাংলা ভাষায় প্রথম সৃজনশীল গদ্য লেখেন।
- তার রচনার তীব্র বিদ্রূপ এবং রঙ্গব্যঙ্গ পাঠকদের আকৃষ্ট করে।

তাঁর গ্রন্থ:
- দূতীবিলাস,
- শ্রীশ্রী গয়াতীর্থ,
- আশ্চর্য্য উপাখ্যান ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪৫৬.
কোন লেখকের উপাধি 'চারণকবি'?
  1. মুকুন্দদাস
  2. মুকুন্দরাম
  3. আবদুল করিম
  4. নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে  অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে 'চারণকবির' মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

অন্যদিকে,
- আবদুল করিমকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত করে।
- নজিবর রহমান এর উপাধি 'সাহিত্য রত্ন'।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৫৭.
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে বলা হয় -
  1. মুকুন্দচন্দ্র
  2. স্বভাব কবি
  3. কবি কঙ্কণ
  4. কবিরত্ন
ব্যাখ্যা
'চণ্ডীমঙ্গল' কাব্য:
- 'চণ্ডীমঙ্গল’ চণ্ডী নামক লৌকিক-পৌরাণিক দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনি অবলম্বনে লিখিত কাব্য।
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আদি কবি মানিক দত্ত। চণ্ডীমঙ্গল ধারার প্রধান কবির নাম মুকুন্দরাম চক্রবতী৷
- চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের কবি দ্বিজমাধবকে 'স্বভাব কবি' বলা হয়।
চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্রগুলাে হলো: কালকেতু, ফুল্লরা, ধনপতি, ভাঁড়ুদত্ত, মুরারি শীল প্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৫৮.
চট্টল ধর্মমণ্ডলী কর্তৃক আবদুল করিমকে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. সাহিত্য রত্ন
  2. সাহিত্য সুমুদ্র 
  3. সাহিত্য বিশাধ  
  4. সাহিত্য বিশারদ
ব্যাখ্যা

আবদুল করিম চট্টল ধর্মমণ্ডলী কর্তৃক 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত হন। এবং নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করেন।

উল্লেখ্য, 
• 'শেখ ফজলুল করিম' এর উপাধি সাহিত্য- বিশারদ।

অন্যদিকে,
- 'নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্য রত্ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৫৯.
শহীদুল্লা কায়সারের সাংবাদিক জীবন শুরু হয় কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. যুগবাণী
  2. সাপ্তাহিক ইত্তেফাক
  3. সমকাল
  4. দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
• শহীদুল্লা কায়সার:
• শহীদুল্লা কায়সার (১৯২৭-১৯৭১) কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক। ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম আবু নাঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

• ১৯৪৯ সালে ঢাকার 'সাপ্তাহিক ইত্তেফাক' পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়। ১৯৫৮ সালে তিনি 'সংবাদ' পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন; এখানেই তাঁর সাংবাদিকতা ও সাহিত্যকর্মের গৌরবময় অধ্যায় রচিত হয়।

• শহীদুল্লা কায়সারের প্রধান উপন্যাস সারেং বউ (১৯৬২)-এ মানুষ ও তার অস্তিত্বের সংগ্রামের কথা বর্ণিত হয়েছে। তাঁর কাম্য ছিল সুস্থ ও পরিশীলিত জীবনভিত্তিক একটি উন্নত সমাজ।সংশপ্তক (১৯৬৫), কৃষ্ণচূড়া মেঘ, তিমির বলয়, দিগন্তে ফুলের আগুন, সমুদ্র ও তৃষ্ণা, চন্দ্রভানের কন্যা, কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত) তাঁর অন্যান্য উপন্যাস।

• রাজবন্দীর রোজনামচা (১৯৬২) ও পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ (১৯৬৬) তাঁর স্মৃতিকথা ও ভ্রমণবৃত্তান্ত। সারেং বৌ-এর কাহিনী অবলম্বনে উন্নত মানের একটি চলচ্চিত্র এবং সংশপ্তক অবলম্বনে একটি জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল নির্মিত হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪৬০.
কোনটি আবদুল কাদিরের উপাধি?
  1. ছান্দসিক কবি
  2. কলমসৈনিক
  3. সাহিত্যবিশারদ
  4. ছন্দের রাজা
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি

অন্যদিকে,
- আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
- 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
​- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত।

আবদুল কাদির:
- তিনি ১৯০৬ সালের ১লা জুন আড়াই সিধা গ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক, সম্পাদক।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজের (১৯২৬) মাধ্যমে ঢাকায় যে বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন সংঘটিত হয়, আবদুল কাদির ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা।
- তিনি সংগঠনের মুখপত্র বার্ষিক 'শিখা' (১৯২৭) পত্রিকার প্রকাশক ও লেখক ছিলেন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. প্রথম আলো পত্রিকা।
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৬১.
"ছান্দসিক কবি" - বলা হয় কাকে?
  1. আবদুল হক
  2. শেখ ফজলল করিম
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।

অন্যদিকে,
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
• 'শেখ ফজলল করিম' এর উপাধি - সাহিত্য বিশারদ।
• বাংলা সাহিত্যের স্বভাব কবি - গোবিন্দচন্দ্র দাস।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৬২.
জনপ্রিয় সাহিত্যিক 'আসকার ইবনে শাইখ' এর প্রকৃত নাম কোনটি?
  1. মোঃ শহীদুল হক
  2. এম. ওবায়দুল্লাহ
  3. শমসের উল আজাদ
  4. অহিদুর রেজা
ব্যাখ্যা
• এম. ওবায়দুল্লাহ এর ছদ্মনাম - আসকার ইবনে শাইখ।

অন্যদিকে,
• অহিদুর রেজা এর ছদ্মনাম - হাসন রাজা।
• আবুল ফজল এর ছদ্মনাম - শমসের উল আজাদ।
• মোঃ শহীদুল হক এর ছদ্মনাম - শহীদুল জহির।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৬৩.
কোন পত্রিকাটি ১৯১৪ প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. প্রবাসী
  2. নবনূর
  3. সবুজপত্র
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে,
• 'প্রবাসী' পত্রিকা ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়।
- রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৬৪.
কত সালে 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ক) ১৯১২
  2. খ) ১৯১৩
  3. গ) ১৯১৪
  4. ঘ) ১৯১৫
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 

- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৬৫.
কোন কবির উপাধি 'কবিকন্ঠহার'?
  1. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  2. বিদ্যাপতি
  3. মালাধর বসু
  4. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  5. মুকুন্দদাস 
ব্যাখ্যা
• মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তাঁর উপাধি হলো 'কবিকণ্ঠহার'। 

• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,৪৬৬.
লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার 'কাজী নজরুল ইসলাম'কে কোন নামে ডাকতেন?
  1. দুখু মিয়া
  2. নজর আলী
  3. তারা ক্ষ্যাপা
  4. ব্যাঙাচি
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।
- বাল্যকালেই নজরুল লেটোগানের দলে যোগ দেন। লেটোদলের বিখ্যাত কবিয়াল শেখ চাকার তাঁকে 'ব্যাঙাচি' বলে ডাকতেন। এছাড়াও কবি নজরুলের অন্য ছদ্মনামগুলো হলো- ধূমকেতু ও নুরু।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি 'বিদ্রোহী কবি'।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে 'বুলবুল' নামে খ্যাত।

কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা  এবং কবি নজরুল জীবনী।

১,৪৬৭.
Who was the first editor of literary magazine 'Bangadarshan'?
  1. Pari Chad Mitra
  2. Bankim Chandra Chattopadhy
  3. Akshay Kumar Datta
  4. Promoth Chowdhury
ব্যাখ্যা
বঙ্গদর্শন:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: i) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
১,৪৬৮.
প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হতো?
  1. কালিকলম
  2. সাধনা
  3. মোসলেম ভারত
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
‘কালিকলম’ পত্রিকা:
- এটি সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)।
- মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- পত্রিকাটির প্রথম সংখ্যার প্রথম রচনা ছিল শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ধারাবাহিক বড় গল্প ‘মহাযুদ্ধের ইতিহাস’।
- কল্লোল পত্রিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলেছে কালিকলম।
- যদিও দুটি পত্রিকার ভাবাদর্শ ছিল এক, লেখকবৃন্দও প্রায় এক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪৬৯.
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে?
  1. সমরেশ মজুমদার
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. কাঙাল হরিনাথ মজুমদার
  4. মধুসূদন মজুমদার
ব্যাখ্যা
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা:
- উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরের বছর (১২৭১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়) থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল (১২৭৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ) থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হয়।
- প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালিতে মথুরানাথ যন্ত্র স্থাপিত হলে সেখান থেকে মুদ্রিত হতে থাকে।
- এ ছাপাখানাটি ১৮৭৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় হরিনাথকে দান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭০.
‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকাটি কোন স্থান থেকে প্রকাশিত?
  1. ঢাকার পল্টন
  2. নওগাঁর পরিসর
  3. কুষ্টিয়ার কুমারখালী
  4. ময়মনসিংহের ত্রিশাল
ব্যাখ্যা
• গ্রামবার্তা প্রকাশিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থেকে কুমারখালী বাংলা পাঠশালা'র প্রধান শিক্ষক হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৭১.
সাহিত্য পত্রিকা ’কবিতা’ এর সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. অন্নদাশঙ্কর রায়
  2. বুদ্ধদেব বসু
  3. শামসুর রহমান
  4. বিজন ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা

• কবিতা
- কবিতা  কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা।
- প্রথম প্রকাশ ১ অক্টোবর ১৯৩৫ (আশ্বিন ১৩৪২)। 
- পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। 
- যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হলেও বুদ্ধদেব বসুই এর প্রধান পরিচালক ছিলেন।
- পত্রিকার প্রথম বর্ষ প্রথম সংখ্যার প্রথম কবি ছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।
- তাঁর কবিতার নাম ‘তামাসা’। 
- দ্বিতীয় বর্ষ থেকে প্রেমেন্দ্র মিত্র পত্রিকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে তাঁর জায়গায় সম্পাদক হিসেবে আসেন সমর সেন।
- কিন্তু এক বছর পরেই সম্পাদনা ও প্রকাশনার দায়িত্ব এককভাবে চলে আসে বুদ্ধদেবের হাতে। 
- পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দীর্ঘ পত্রে বুদ্ধদেবকে তাঁর সুখকর মতামত জানিয়েছিলেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,৪৭২.
মুজিবনগর সরকারের প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মুখপত্র কোন পত্রিকা?
  1. ক) সৈনিক
  2. খ) পরিচয়
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) জয়বাংলা
ব্যাখ্যা
সাপ্তাহিক জয়বাংলা, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মুজিবনগর থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বাংলা সাপ্তাহিক মুখপত্র। পত্রিকাটি মূলত ছিল মুজিবনগরে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের একটি প্রচার মাধ্যম।
এর লক্ষ্য ছিল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি ও মুক্তিযোদ্ধাদের কৃতিত্ব জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে বিশ্বজনমত সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন লাভসাপ্তাহিক জয়বাংলা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৭১ সালের ১১ মে (২৭ বৈশাখ ১৩৭৮)।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
১,৪৭৩.
‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ প্রকাশ করেছিলেন?
  1. কাঙাল হরিনাথ
  2. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  3. দীনবন্ধু মিত্র
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকা:
- উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরের বছর (১২৭১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়) থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল (১২৭৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ) থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হয়।
- প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালিতে মথুরানাথ যন্ত্র স্থাপিত হলে সেখান থেকে মুদ্রিত হতে থাকে।
- এ ছাপাখানাটি ১৮৭৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় হরিনাথকে দান করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,৪৭৪.
রাজা রামমোহন রায় কোন পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন?
  1. ক) ব্রাহ্মণসেবধি
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) মিরাত-উল- আখবার
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ভারতীয় জাতীয় জাগরণের লক্ষ্যে রাজা রামমোহন রায়ের পৃষ্ঠপোষকতায় কলকাতা থেকে ১৮২১ সালে প্রকাশিত হয় 'সম্বাদ কৌমুদী'
- এর সম্পাদক ছিলেন - ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রকাশক - তারাচাঁদ দত্ত।
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত অন্য দুটি পত্রিকা- 
- 'ব্রাহ্মণসেবধি' (১৮২১), 
- পারসি ভাষায় 'মিরাত-উল- আখবার' (১৯২২)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৭৫.
সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কলমগীর
  2. লেখরাজ সামন্ত
  3. মুসাফির
  4. যাযাবর
ব্যাখ্যা
- সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। 
- সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত কিছু ছদ্মনাম হলো- প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

----------------
সৈয়দ মুজতবা আলী রচিত গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস:
- অবিশ্বাস্য,
- শবনম।

• রম্যরচনা:
- পঞ্চতন্ত্র,
- ময়ূরকণ্ঠী।

• ছোটগল্প:
- চাচা-কাহিনী,
- টুনি মেম।

অন্যদিকে, 
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম- লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
১,৪৭৬.
কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া থেকে প্রকাশিত পত্রিকার নাম কী?
  1. ক) গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. খ) হিতকরী
  3. গ) কালিকলম
  4. ঘ) প্রগতি
ব্যাখ্যা
১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দে কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় 'হিতকরী' পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে সম্পাদক হন - মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালী মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে। 

- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয় তৎকালীন নদীয়া বর্তমান কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থেকে।
- 'কালিকলম' ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৭৭.
গোবিন্দচন্দ্র দাস বাংলা সাহিত্যে কোন নামে পরিচিত?
  1. মার্কসিস্ট কবি
  2. স্বভাব কবি
  3. নাগরিক কবি
  4. রোমান্টিক কবি
ব্যাখ্যা
গােবিন্দচন্দ্র দাস:
- গােবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গােবিন্দচন্দ্র দাস।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

গােবিন্দচন্দ্র দাস রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৭৮.
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালি কবিদের প্রথম পত্রিকা সংকলন কোনটি?
  1. সবুজপত্র
  2. প্রগতি
  3. নতুন কবিতা
  4. ক্রান্তি
ব্যাখ্যা
'নতুন কবিতা':
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এতে লিখেছিলেন: হাবীবুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মামুন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মনোজ সেনগুপ্তসহ তেরোজন কবি।
- সম্পাদকগণ দাবি করেছিলেন যে, সংকলনটি হবে 'সাহিত্য পথের নতুন যাত্রীদের কাব্য সৃষ্টির খতিয়ান'।
- কিন্তু উত্তরকাল দেখা গেছে এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কবি হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেকে কবিতা লিখলেও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৭৯.
‘নবশক্তি’ পত্রিকাটি কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়?
  1. আবুল ফজল
  2. জাফর শামসুদ্দীন
  3. অদ্বৈত মল্লবর্মণ
  4. আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
• অদ্বৈত মল্লবর্মণ:
- অদ্বৈত মল্লবর্মণ ১৯১৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক।
- তিনি 'ত্রিপুরা' পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ‘নবশক্তি’ পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'মোহাম্মদী' পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন।
- তাঁর সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' প্রথম মাসিক 'মোহাম্মদী' পত্রিকায়, ১৩৫২ বঙ্গাব্দে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়।
- তিনি ১৬ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- সাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮০.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. রামমোহন রায়
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮১.
কবি রামপ্রসাদ সেনের উপাধি ছিল-
  1. কবিরঞ্জন
  2. কবিকঙ্কন
  3. গুণরাজ খান
  4. দুঃখের কবি
ব্যাখ্যা

• মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র মধ্যযুগের কবি রামপ্রসাদ সেনকে 'কবিরঞ্জন' উপাধি প্রদান করেন। নবদ্বীপের মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায় রামপ্রসাদকে সভাকবি মর্যাদা দেন।

অন্যদিকে,
• মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল 'কবিকঙ্কন'।
• মালাধর বসু কর্তৃক প্রাপ্ত উপাধি 'গুণরাজ খান'।
• রবান্দ্রনাথ ঠাকুর চণ্ডাদাসকে দুঃখের কবি বলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৮২.
'কল্লোল' পত্রিকা ও কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক নন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. অমিয় চক্রবর্তী
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 
ব্যাখ্যা

• 'কল্লোল' পত্রিকা ও কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠীর লেখক নন - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর 

'কল্লোল' পত্রিকা ও কল্লোল সাহিত্যগোষ্ঠী:

• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল' প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
• এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ' নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
• কল্লোল যুগের একটি প্রধান বৈশিষ্ট ছিল রবীন্দ্র বিরোধিতা।
• যে সময়ে কল্লোলের আবির্ভাব, তখন বাংলা সাহিত্যের সর্বকোণ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাবে প্রোজ্জ্বল।
• কল্লোল যুগের লেখকদের মূল লক্ষ্য ছিল রবীন্দ্র বৃত্তের বাইরে এসে সাহিত্যর একটি মৃত্তিকাসংলগ্ন জগৎ সৃষ্টি করা।
• মূলত বাংলা কবিতায় গদ্যধারার প্রবর্তন শুরু হয় কল্লোল যুগেই।
• কবিতার ক্ষেত্রে যাদের নাম কল্লোল যুগের শ্রেষ্ঠ নায়ক বিবেচনায় প্রচারিত তারা হলেন-
- কবি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত,
- বুদ্ধদেব বসু,
- অমিয় চক্রবর্তী,
- জীবনানন্দ দাশ,
- বিষ্ণু দে।

• এই পাঁচজন বিশিষ্ট কবিকে একসাথে বলা হয় বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব। এ পঞ্চপাণ্ডবই ছিলেন মূলত কল্লোল যুগের কাণ্ডারি।
• তবে কাজী নজরুল ইসলাম, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, সঞ্জয় ভট্টাচর্য, অবনীনাথ রায় প্রমুখ অনেকেরই ভূমিকা কোন অংশে খাটো করে দেখবার উপায় নেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৮৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম -
  1. বনফুল
  2. নীহারিকা দেবী
  3. লীলাময় রায়
  4. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছদ্মনাম - দিকশূন্য ভট্টাচার্য।
------------------- 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন।
এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
- 'বনফুল' ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম- 'নীহারিকা দেবী'।  
- অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম 'লীলাময় রায়'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ( ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,৪৮৪.
'পাষণ্ডপীড়ণ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত উনিশ শতকের প্রথমার্ধে একমাত্র কবি যার কবিতা ছিল হালকা ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের ভরা। তাঁর কবিতায় কল্পনার স্থানও ছিল না।

- ​ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

এছাড়াও তিনি আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন- 
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৮৫.
নিচের কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা?
  1. শনিবারের চিঠি
  2. বঙ্গদর্শন
  3. তত্ত্ববােধিনী
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে  বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

------------------
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

-----------------
• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে,
- শনিবারের চিঠি পত্রিকাটি বিশ শতকে প্রকাশিত হয়।
- অন্যদিকে, বঙ্গদর্শন, তত্ত্ববোধিনী ও সংবাদ প্রভাকর - উনিশ শতকের পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮৬.
'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলনের মুখপত্র কোনটি?
  1. জ্ঞানান্বেষণ
  2. শিখা
  3. কল্লোল
  4. শিকড়
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন:
- ঢাকায় বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের মুখপত্র- শিখা পত্রিকা

- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ প্রতিষ্ঠানটির স্লোগান ছিলো "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।"
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'।
- বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন গঠিত হয় কয়েকজন আলোকিত মানুষের উদ্যোগে।
- তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন, আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, আবদুল কাদির প্রমুখ।
- জ্ঞানের শিখা জ্বালাবার জন্য সংগঠনটি ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪৮৭.
'কমলাকান্ত' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন কে?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'কমলাকান্ত' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
- অনিলা দেবী ছদ্মনামে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পরিচিত। 
- ক্বচিৎ প্রৌঢ়, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছদ্মনাম 'কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো'।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
 - আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৮৮.
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. প্রিয়দর্শী
  2. সত্য পীর
  3. দাদাভাই
  4. মুসাফির
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী: 
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি  কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ- ই- ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।  
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ। 
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর

অন্যদিকে,
দাদাভাই - রোকনুজ্জামান খান।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৪৮৯.
সাহিত্য পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. বিষ্ণু দে
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. হরিনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা
- সাহিত্য পত্রিকা 'কবিতা' এর সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু।

• কবিতা (সাহিত্য পত্রিকা):
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৯০.
বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র- 
  1. দিগদর্শন
  2. সবুজপত্র
  3. বেঙ্গল গেজেট
  4. সমাচার দর্পন
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষার প্রথম সাময়িকপত্র হলো 'দিগদর্শন'।

• দিগদর্শন‌:
- 'দিগদর্শন‌' ছিলো মাসিক পত্রিকা। 
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিদের উদ্যোগে ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় দিগদর্শন সাময়িকপত্র প্রকাশিত হয়।
- দিগদর্শনের মোট ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- দিগ্দর্শন প্রকাশিত হওয়ার একমাস পর (২৩ মে, ১৮১৮) জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘সমাচার দর্পণ’ সাময়িকী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৯১.
রাজা শিবসিংহ বিদ্যাপতিকে কোন উপাধি দিয়েছিলেন?
  1. কঙ্কণকবি 
  2. কবি কণ্ঠহার
  3. কবি কণ্ঠমণি
  4. কাব্যস্বর
ব্যাখ্যা

বিদ্যাপতি:
- বিদ্যাপতি (১৩৭৪–১৪৬০) ছিলেন প্রখ্যাত বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তিনি মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- বিদ্যাপতি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের প্রখ্যাত কবি এবং বৈষ্ণব পদাবলির জনক।
- তিনি মিথিলার রাজা শিবসিংহের সভাকবি ছিলেন। 
- রাজা তাঁকে ‘কবি কণ্ঠহার’ উপাধি প্রদান করেছিলেন।
- বিদ্যাপতি ব্রজবুলি ভাষার প্রবর্তক এবং মৈথিলি কোকিল হিসেবে খ্যাত।
- এছাড়া তাঁকে অভিনব জয়দেব হিসেবেও সম্বোধন করা হয়।

- বিদ্যাপতি মৈথিলী, অবহট্ঠ এবং সংস্কৃত ভাষায় বহু গ্রন্থ ও পদ রচনা করেছেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ব্রজবুলিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলা ভিত্তিক বৈষ্ণব পদাবলি।
- মৈথিলী ভাষার এই পদসঙ্গীত পরে বঙ্গদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় ভাষা ও কীর্তন গায়কদের প্রভাবে ব্রজবুলি নামে পরিচিত হয়।
- এতে প্রধানত বাংলা ও মৈথিলীর মিশ্রণ, সঙ্গে কিছু হিন্দি শব্দও আছে।
- উনিশ শতক পর্যন্ত এই ভাষায় বৈষ্ণব পদ রচিত হয়।
- এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলীও এ ভাষায় রচনা করেছেন।
- চৈতন্যদেব নিজে বিদ্যাপতির পদ শুনতেন, যার কারণে পদগুলোর মর্যাদা ও বিস্তার বৃদ্ধি পায়।

- বিদ্যাপতি আখ্যায়িকা, ইতিহাস, ভূগোল, ধর্ম ও ন্যায়শাস্ত্র সম্পর্কিত গ্রন্থও রচনা করেছেন।
- তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হলো:
- পুরুষপরীক্ষা (নীতিশিক্ষা),
- লিখনাবলী (পত্র লেখার রীতি),
- কীর্ত্তিলতা (ইতিহাস),
- ভূ-পরিক্রমা (ভূগোল),
- দানবাক্যাবলী,
- দুর্গাভক্তিতরঙ্গিণী,
- শৈবসর্বস্বসার,
- বিভাগসার,
- গঙ্গাবাক্যাবলী,
- কীর্তিপতাকা ইত্যাদি।

উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,৪৯২.
'শিখা' পত্রিকাটি কোন সংগঠনের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হতো?
  1. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  2. তমুদ্দুন মজলিস
  3. মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
  4. কল্লোল গোষ্ঠী
ব্যাখ্যা

শিখা পত্রিকা: 
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকাণ্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,৪৯৩.
কোন পত্রিকায় "বুদ্ধি ও মুক্তির আন্দোলন" সম্পর্কিত লেখা প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) শিখা
  2. খ) সমকাল
  3. গ) মোহাম্মদী
  4. ঘ) সওগাত
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে "বুদ্ধি ও মুক্তির আন্দোলন" এর পরিবর্তে "বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলন" হবে। 
শিখা পত্রিকায় "বুদ্ধির মুক্তির আন্দোলন" সম্পর্কিত লেখা প্রথম প্রকাশিত হয়।

• ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হল ইউনিয়ন কক্ষে বাংলা ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি মুসলিম সাহিত্য-সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এ প্রতিষ্ঠানটির স্লোগান ছিলো - "জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব।"
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মূলমন্ত্র ছিল 'বুদ্ধির মুক্তি'।
- বুদ্ধির মুক্তি বলতে তাঁরা বুঝাতেন অন্ধ সংস্কার ও শাস্ত্রানুগত্য থেকে মানুষের বিচারবুদ্ধিকে মুক্তি দান। সংগঠনটি যে নবজাগরণের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজকর্ম ও সাহিত্যচর্চায় ব্রতী হয়, তার মূলে ছিল তুর্কি জাতি প্রতিষ্ঠায় মুস্তফা কামাল পাশার উদ্যম, ভারতের নবজাগরণে বিভিন্ন মণিষীর প্রয়াস এবং মানবতার উদ্বোধনে সর্বকালের চিন্তাচেতনার সংযোগ।
- জ্ঞানের শিখা জ্বালাবার জন্য সংগঠনটি ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। 
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৪.
‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয় কাকে?
  1. মালাধর বসু
  2. বিদ্যাপতি
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন  পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- ‘মৈথিল কোকিল’ বলতে মিথিলার কবি বিদ্যাপতিকে বোঝায়।
- কোকিল যেমন সুললিত সুমধুর গান গেয়ে সকলকে মুগ্ধ করে, মিথিলার রাজসভার কবি বিদ্যাপতিও মৈথিলি ভাষায় সুন্দর পদাবলি ও অন্যান্য গীতিকবিতা রচনা করে সকলকে মুগ্ধ করেছেন বলে তাঁকে ‘মৈথিল কোকিল’ বলা হয়।
- তিনি ছিলেন বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে ব্রজবুলিতে রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,৪৯৫.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা সম্পাদনা করেন -
  1. ডেভিড হেয়ার
  2. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  3. উইলিয়াম কেরি​
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পণ্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৬.
'শ্রীমতী রাধামণি দেবী' - এটি কার ছদ্মনাম?
  1. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  2. অনুরূপা দেবী
  3. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের এর ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।

অন্যদিকে,
অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী।
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - অনিলা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,৪৯৭.
কবি গোলাম মোস্তফা পাকিস্তান সরকার কর্তৃক কোন উপাধিতে ভূষিত হন?
  1. ক) সিতার-ই-ইমতিয়াজ
  2. খ) কাব্যসুধাকর
  3. গ) কবিরঞ্জণ
  4. ঘ) সিতারা-ই-খিদমত
ব্যাখ্যা
কবি গোলাম মোস্তফা ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতার-ই-ইমতিয়াজ' উপাধিতে ভূষিত হন। 
এছাড়া তিনি ১৯৫২ সালে সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ উপাধিতে ভূষিত হন। 

তিনি গীতিকার ও গায়ক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
- তাঁর গানের বিষয় ছিল ইসলামি সংস্কৃতি ও দেশপ্রেম।
- পাকিস্তান আন্দোলনের পটভূমিকায় বহু ইসলামি ও দেশাত্মবোধক গান তিনি রচনা করেন।
- তাঁর রচিত কয়েকটি দেশাত্মবোধক গান খুব জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
- তাঁর নিজের সুরারোপিত কয়েকটি গানের রেকর্ডও পাওয়া যায়।
- তার মধ্যে আববাসউদ্দীনের সঙ্গে গাওয়া রেকর্ডও রয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৮.
কোন কবির উপাধি 'কবিশেখর'?
  1. কামিনী রায়
  2. পঞ্চানন কর্মকার
  3. ফররুখ আহমদ
  4. কালিদাস রায়
  5. কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
কালিদাস রায়:
- রবীন্দ্রানুসারী কবিশেখর কালিদাস রায় ছিলেন একজন কবি ও সমালোচক।
- কালিদাস ‘রসচক্র’ নামে একটি সাহিত্য সংসদ প্রতিষ্ঠা করেন এবং রবীন্দ্র-ভাবধারায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি কাব্যচর্চা শুরু করেন।
- রোমান্টিকতা, প্রেম, পল্লিজীবন, সমাজ, ঐতিহ্যপ্রীতি এবং বৈষ্ণবভাব তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়।
- তাঁর মোট কাব্যগ্রন্থ ১৯টি, তন্মধ্যে কুন্দ (১৯০৭) তাঁর প্রথম প্রকাশিত কাব্য।
- ‘বেতালভট্ট’ ছদ্মনামে রচিত তাঁর রম্যরচনাগুলি পাঠকসমাজে খুবই সমাদৃত হয়েছে।
- তাকে ১৯২০ সালে রংপুর সাহিত্য পরিষদ 'কবিশেখর' উপাধি প্রদান করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- পর্ণপুট,
- ঋতুমঙ্গল,
- রসকদম,
- চিত্তচিতা ইত্যাদি ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,৪৯৯.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত কিশোর পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) সন্দেশ
  2. খ) আঙুর
  3. গ) উত্তরাধিকার
  4. ঘ) ধানশালিকের দেশ
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমী থেকে বর্তমানে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে।
এগুলো হলো:
- বাংলা একাডেমি পত্রিকা (গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক)
- উত্তরাধিকার (মাসিক সাহিত্য পত্রিকা)
- ধানশালিকের দেশ (ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা)
- বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা (বিজ্ঞান বিষয়ক ষাণ্মাসিক)
- বাংলা একাডেমি জার্নাল (ইংরেজি ষাণ্মাসিক পত্রিকা)
- বার্তা (অনিয়মিত পত্রিকা)।

উৎস: বাংলা একাডেমী ওয়েবসাইট
১,৫০০.
কাজী ইমদাদুল হক সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. উত্থানপর্ব
  2. জ্ঞানেরআলো
  3. শিক্ষক
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• কাজী ইমদাদুল হক সম্পাদিত পত্রিকা ‘শিক্ষক’।
- পত্রিকাটি ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকা উত্থানপর্ব।
- বন্দে আলী মিয়া সম্পাদিত পত্রিকা জ্ঞানেরআলো।
- ‘চতুরঙ্গ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন হুমায়ুন কবির।

-------------------
• কাজী ইমদাদুল হক: 
- কাজী ইমদাদুল হক ১৮৮২ সালে খুলনা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 
- 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি।
- আবদুল্লাহ উপন্যাস রচনা করেই তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। 
- বাঙালি মুসলমান সমাজের কল্যাণসাধন ছিল ইমদাদুল হকের সাহিত্য সাধনার মূল লক্ষ্য।
- তিনি বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা (১৯১৮) প্রকাশনা কমিটির সভাপতি ছিলেন। 

 তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।