বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা ১২ / ১৬ · ১,১০১১,২০০ / ১,৬০৩

১,১০১.
‘শিখা’ পত্রিকাটি কোন প্রতিষ্ঠানের মুখপত্র ছিল?
  1. ঢাকা প্রেস ক্লাব
  2. বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ
  3. মুসলিম সাহিত্য-সমাজ
  4. কলকাতা সাহিত্য পরিষদ
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়। শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১০২.
‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ শ্রমিক শ্রেণীর সংগঠনের মুখপত্র কোনটি?
  1. লাঙল
  2. কল্লোল
  3. ধূমকেতু
  4. সওগাত
ব্যাখ্যা
'লাঙল' পত্রিকা:
- লাঙল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- লাঙল ছিল ‘শ্রমিক-প্রজা-স্বরাজ-সম্প্রদায়’ নামে শ্রমিক শ্রেণীর একটি সংগঠনের মুখপত্র।
- নজরুল এর সম্পাদক হলেও পত্রিকার প্রচ্ছদে তাঁর নাম ছাপা হতো মুখ্য পরিচালক হিসেবে, আর সম্পাদক হিসেবে ছাপা হতো মণিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের নাম।

কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- কাজী নজরুল ইসলাম ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’।
- কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,১০৩.
মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচার কোন পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল?
  1. লহরী
  2. হিতকরী
  3. বাসনা
  4. মিহির ও সুধাকর
ব্যাখ্যা
• মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচার 'মিহির ও সুধাকর’ পত্রিকার উদ্দেশ্য ছিল।

• 'মিহির ও সুধাকর’ পত্রিকা:

- শেখ আবদুর রহিম সুধাকরের সঙ্গে মিহিরের নাম সংযুক্ত করে ১৮৯৫ সালে ‘মিহির ও সুধাকর' প্রকাশ করেন।
- ১৯০৮ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটির অস্তিত্ব ছিল। শেষবছর সৈয়দ ওসমান আলী সম্পাদনা করেছিলেন।

- ড. কাজী আবদুল মান্নান এই পত্রিকাপ্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন, 'মুখ্যত সাহিত্যচর্চার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই এ পত্রিকার আবির্ভাব হয়েছিল; কিন্তু তখন মুসলমান সমাজে ধর্ম ও জাতির জন্য যে দুর্ভাবনা দেখা দিয়েছিল এবং সে ভাবনার যে উচ্চকিত কণ্ঠ ধ্বনিত হয়ে উঠেছিল, তাতে নিছক সাহিত্যচর্চার বাসনা বিঘ্নিত হওয়া অসম্ভব ছিল না।

- ইসলাম ধর্মের পবিত্র আদর্শ প্রচার ও মুসলমান জাতির সর্বাঙ্গীন কল্যাণ সাধনই ছিল এই পত্রিকায় প্রধান ব্রত। বাংলায় মুসলমানকে জ্ঞানে ও ত্যাগে, শিক্ষায় ও সাহিত্যে সমৃদ্ধিবান ও সংঘবদ্ধ করে তোলার জন্য পত্রিকার পরিচালক ও লেখকগণ অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।

------------------
অন্যদিকে,
• ‘লহরী' পত্রিকা:
- লহরী' নামক 'নানা বিষয়িনী কবিতাময়ী সমালোচনী পত্রিকা' মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ১৯০০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটিতে কেবল কবিতাই প্রকাশিত হতো। সম্পাদক হিন্দু কবিগণের কবিতা স্থান দিতেন।
- 'লহরী'তে প্রকাশিত কবিতাগুলোর যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে, কবির আত্মগত ভাবকল্পনাকে আশ্রয় করে খণ্ড কবিতা, মুসলমানদের জাতীয় গৌরব, তুরস্কের মহিমা প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে এবং সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে অবলম্বন করে কবিতা দেখা যায়।'
- পত্রিকাটি কিছুকাল পরেই অকালমৃত্যুর অধীন হয়েছিল।

-----------------------
• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

-----------------
• ‘বাসনা' পত্রিকা:
- বাসনা' নামে সাহিত্য মাসিকটি প্রকাশিত হয়েছিল রংপুরের কাকিনা থেকে ১৯০৮ সালে। শেখ ফজলল করিম ছিলেন এর সম্পাদক।
- পত্রিকাটি প্রায় দুই বৎসর স্থায়ী হয়েছিল। নিয়মিত লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রিয়াজউদ্দীন আহমদ, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, তসলিমুদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নুরুল হোসেন, মুনসী হামেদ আলী, খগেন্দ্রনারায়ণ দাস, ললিতমোহন সেন প্রমুখ।

- ধর্ম ইতিহাস দর্শন বিজ্ঞান জীবনী সমালোচনা প্রভৃতি বিষয়ে রচিত প্রবন্ধ এবং গল্প কবিতা এতে প্রকাশিত হতো। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসলেখকগণ নিজ নিজ সমাজ ও ঐতিহ্য সম্বন্ধে সচেতন ছিলেন।

- 'হিন্দু মুসলমান উভয় শ্রেণির লেখকই তাঁদের স্বীয় ধর্ম, সংস্কৃতি ও সমাজ সম্পর্কে নিজেদের ভাবনা পত্রিকায় প্রকাশ করেছেন। ইতিহাস, দর্শন প্রভৃতি চর্চা করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ঐক্য কামনা করেছেন।'
- এই পত্রিকাটির সমালোচনা বিভাগ ছিল বেশ সমৃদ্ধ।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১০৪.
‘কবিকন্ঠহার’ কোন কবির উপাধি?
  1. মুকুন্দরাম
  2. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
  3. বিদ্যাপতি
  4. ভারতচন্দ্র রায়
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন বিদ্যাপতি।
- তিনি ছিলেন পঞ্চদশ শতকের কবি।
- কবির রচনায় মোহিত ছিলেন মিথিলার রাজা শিবসিংহ।
- এ জন্য সে বিদ্যাপতিকে 'কবিকন্ঠহার' উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।

• অন্যদিকে:
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর উপাধি ছিল কবিকঙ্কন ।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কবি ভারতচন্দ্রকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধী দিয়েছেন।
- কবি ভারতচন্দ্র ছিলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর ও লাল নীল দীপাবলি।
১,১০৫.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাংবাদিক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. শহীদুল্লা কায়সার
  3. শামসুদ্দীন আবুল কামাল
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
- শামসুর রাহমান ছিলেন কবি, সাংবাদিক। তিনি ১৯২৯ সালে পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈত্রিক বাড়ি ঢাকা জেলার রায়পুর থানার পাড়াতলী গ্রামে।

- তাঁর ডাক নাম 'বাচ্চু'। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি 'মজলুম আদিব' ছদ্মনামে লিখতেন।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত সোনার বাংলা পত্রিকায়।

- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য, প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে-র প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। কলকাতা থেকে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় তাঁর ‘রূপালি স্নান’ প্রকাশ করে কবিতার বৃহত্তর বাংলায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ‘রূপালি স্নান’ কে বলা যায় শামসুর রাহমানের আগমনী কবিতা।

- শামসুর রাহমান ১৯৫৭ সালে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করেন ইংরেজী দৈনিক মর্নিং নিউজ-এর সহসম্পাদক হিসেবে।
- ১৯৭০ সালে প্রকাশিত তাঁর নিজ বাসভূমে কাব্য তিনি উৎসর্গ করেন আবহমান বাঙলার শহীদদের উদ্দেশ্যে।

----------------------
• তাঁর রচিত আত্মস্মৃতি:
- স্মৃতির শহর,
- কালের ধুলোয় লেখা।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অক্টোপাস,
- অদ্ভুত আঁধার এক,
- নিয়ত মন্তাজ,
- এলো সে অবেলায়।

• তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- বন্দী শিবির থেকে,
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ,
- এক ফোঁটা কেমন অনল,
- বুক তাঁর বাংলাদেশের হৃদয়,
- নিজ বাসভূমে,
- স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি,
- কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে,
- না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন।

• তাঁর রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
-আমৃত্যু তাঁর জীবনানন্দ,
- কবিতা এক ধরনের আশ্রয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১০৬.
'সবুজপত্র' প্রকাশিত হয় -
  1. ১৯০৯
  2. ১৯১৪
  3. ১৯১০
  4. ১৯২১
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১০৭.
কবি কায়বোবাদকে নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক ভূষিত উপাধি নয় কোনটি?
  1. কাব্যভূষণ
  2. সাহিত্যসাগর 
  3. বিদ্যাভূষণ
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়বোবাদকে- কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

তাঁর অন্যান্য কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

অন্যদিকে, 
• আবদুল করিমকে নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১০৮.
'সাহিত্য সংক্রান্তি' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. সুকুমার সেন
  4. মোহিতলাল মজুমদার
ব্যাখ্যা
• 'সাহিত্য সংক্রান্তি' পত্রিকার সম্পাদক - বিহারীলাল চক্রবর্তী।

বিহারীলাল চক্রবর্তী:

- তিনি ১৮৩৫ সালে নিমতলা, কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের আধুনিক গীতিকবিতার স্রষ্টা।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'সারদা মঙ্গল' কাব্য পড়ে তাঁকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ 'সারদা মঙ্গল'।
- তাঁর শেষ কাব্যগ্রন্থ 'সাধের আসন'। একে 'সারদা মঙ্গল' কাব্যের পরিশিষ্ট বলা হয়।
- তিনি ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীত শতক,
- বন্ধু-বিয়োগ,
- প্রেম প্রবাহিণী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বঙ্গসুন্দরী,
- সারদা মঙ্গল,
- সাধের আসন।

তাঁর সম্পাদিত অন্যান্য পত্রিকা:
- পূর্ণিমা
- অবোধ বন্ধু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১০৯.
'ছন্দোরাজ' নামে পরিচিত কে?  
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও ' ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১১০.
'অন্নদাশঙ্কর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. লীলাময় রায়
  2. কালকূট
  3. পরশুরাম
  4. নীহারিকা দেবী
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'অন্নদাশঙ্কর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়

অন্যদিকে,
- 'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- 'সমরেশ বসু' এর ছদ্মনাম - কালকূট।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,১১১.
বৃহত্তর খুলনা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা কোনটি?
  1. ক) আজাদ
  2. খ) ইত্তেফাক
  3. গ) পূর্বাশা
  4. ঘ) সমাজ দর্পণ
ব্যাখ্যা
'সমাজ দর্পণ' বৃহত্তর খুলনা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা। ১৮৭১ সালে এটি প্রকাশিত হয়। উৎস: শীকর, বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসিনা নাজিলা।
১,১১২.
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন কে সম্পাদনা করেন?
  1. শহীদ কাদরী
  2. আবদুর রশীদ খান
  3. আশরাফ সিদ্দিকী
  4. খ ও গ
ব্যাখ্যা
'নতুন কবিতা' পত্রিকা:
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এতে লিখেছিলেন: হাবীবুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মামুন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মনোজ সেনগুপ্তসহ তেরোজন কবি।
- সম্পাদকগণ দাবি করেছিলেন যে, সংকলনটি হবে 'সাহিত্য পথের নতুন যাত্রীদের কাব্য সৃষ্টির খতিয়ান'।
- কিন্তু উত্তরকাল দেখা গেছে এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কবি হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেকে কবিতা লিখলেও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১১৩.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কার ছদ্মনাম?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  2. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯): কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
• তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
• ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে,
- আবু জাফর শামসুদ্দীন ‘অল্পদর্শী’ ছদ্মনামে লিখতেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১১৪.
বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা কোনটি?
  1. শিখা
  2. প্রগতি
  3. ক্রান্তি
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'ক্রান্তি' পত্রিকা:
- বাংলাদেশের প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা — 'ক্রান্তি।'
- ঢাকায় ১৯৩৯ সালে গঠিত হয় 'প্রগতি' লেখক শিল্পী সংঘ।
- এই সংঘের মুখপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয় 'ক্রান্তি' পত্রিকা। 
 - এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
- প্রথম প্রকাশক ছিলেন- সোমেন চন্দ। 

অন্যদিকে,
• ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।
•  'প্রগতি' পত্রিকা ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
• 'চতুরঙ্গ' পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন হুমায়ুন কবির। এটি ১৯৩৯ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,১১৫.
নিচের কোনটি মাসিক পত্রিকা?
  1. শিখা
  2. পূর্বাশা
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে,
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- সংবাদ প্রভাকর - ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১১৬.
'সত্যপীর' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্‌
  2. মীর মশাররফ হোসেন
  3. সৈয়দ মুজতবা আলী 
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, ওমর খৈয়াম, মুসাফির ও সত্যপীর।

অন্যদিকে,
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
• মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনামগুলো হলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়াঁ এবং  উদাসীন পথিক।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম:
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাস্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১১৭.
"কালি ও কলম" কোন ধরনের প্রকাশনা হিসেবে উল্লেখযোগ্য?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. কবিতা
  4. পত্রিকা
ব্যাখ্যা

• "কালি ও কলম" - এক ধরনের পত্রিকা হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।
----------
• "কালি ও কলম" পত্রিকা:
- সাহিত্য, শিল্প, সংস্কৃতি বিষয়ক বাংলা মাসিক প্রত্রিকা, যা ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়।
- ২০০৪ সাল থেকে এটি বিরতি দিয়ে প্রকাশ হলেও বর্তমানে এটি মাসিক ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ছিলেন - সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
- প্রকাশক আবুল খায়ের, এবং সম্পাদক - সুব্রত বড়ুয়া।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,১১৮.
রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল -
  1. রফিক
  2. বাবু
  3. দুলাল
  4. জীবন
ব্যাখ্যা
রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল - জীবন।
- কর্মজীবনে তিনি সাংবাদিকতা, শিক্ষকতা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।
- তিনি ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া,
- অসম্ভবের পায়ে,
- কোনো খেদ নেই,
- হৃদয়ের কী বা দোষ,
- সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে,
- প্রিয় শাড়িগুলো,
- অপর অরণ্যে,
- হৃদয়ের কি বা দোষ,
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১১৯.
'মজলুম আদিব' ছদ্মনামটি কার?
  1. মধুসূদন মজুমদার
  2. আবু জাফর শামসুদ্দীন
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. শামসুর রাহমান
ব্যাখ্যা

কবি, সাহিত্যিক শামসুর রহমান 'মজলুম আদিব ' ছদ্মনামটি ব্যবহার করেন। 

অন্যদিকে, 
- আবু জাফর শামসুদ্দীন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শীর্ষক সাপ্তাহিক কলাম লিখে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
- মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
- কাজী নজরুল ইসলামের ছদ্মনামগুলি হল: ধূমকেতু, নুরু, নরুল ইসলাম, ব্যাঙাচি ইতাদি।

শামসুর রাহমান (১৯২৯-২০০৬):
- কবি, সাংবাদিক শামসুর রহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরান ঢাকার ৪৬ নম্বর মাহুতটুলীতে জন্মগ্রহণ করেন। 
- শামসুর রহমান বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কবি হিসেবে খ্যাত।

- আঠারো বছর বয়সে শামসুর রাহমান প্রথম কবিতা লেখা আরম্ভ করেন। ১৯৪৩ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ‘উনিশ শ’উনপঞ্চাশ’ প্রকাশিত হয় নলিনীকিশোরগুহ সম্পাদিত 'সোনার বাংলা' পত্রিকায়। 
- ১৯৬০ সালে তাঁর প্রথম কাব্য - "প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে"- এর প্রকাশ কবিতায় তাঁর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।
- তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা ‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’।

- যুদ্ধকালীন লেখা কবিতাগুচ্ছ মুক্তিযুদ্ধ শেষে ‘বন্দী শিবির থেকে’ নামে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ফসল অজস্র গল্প, উপন্যাস কবিতার মধ্যে ‘বন্দী শিবির থেকে’র কবিতাগুচ্ছ এক অনন্য মর্যাদার অধিকারী।

তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ:
- রােদ্র করােটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালােকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- শূন্যতায় তুমি শােকসভা,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- প্রেমের কবিতা,
- ইকারুসের আকাশ,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১২০.
'বেগম’ পত্রিকার প্রথম প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন কে?
  1. নূরজাহান বেগম
  2. শামসুন্নাহার বেগম
  3. বেগম রোকেয়া
  4. সুফিয়া কামাল
ব্যাখ্যা

‘বেগম’ পত্রিকা:
- বেগম বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,১২১.
'ভ্রমণকারী বন্ধু' কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত একজন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি ১৮১২ সালে শিয়ালডাঙ্গা, কাঁচড়াপাড়া, পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাযুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা 'সংবাদ প্রভাকর' সম্পাদনা করেন।  তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- তিনি ১৮৫৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১২২.
'রাজ শেখর বসু' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম -
  1.  লীলাময় রায়
  2. পরশুরাম
  3. কালকূট
  4. নীহারিকা দেবী
ব্যাখ্যা

• 'রাজ শেখর বসু' এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

অন্যদিকে,
- 'অন্নদাশংকর রায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।
- 'সমরেশ বসু' এর ছদ্মনাম - কালকূট।
- 'অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।

• রাজশেখর বসু,
- তিনি লেখক, বিজ্ঞানী, অভিধান প্রণেতা।
- ১৮৮০ সালের ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার বামুনপাড়া গ্রামে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম;
- তাঁর পৈতৃক নিবাস নদীয়া জেলার উলা গ্রামে।
- পিতা দার্শনিক পন্ডিত চন্দ্রশেখর বসু ছিলেন দ্বারভাঙ্গা রাজ এস্টেটের ম্যানেজার।
- তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা মোট একুশ।

 • তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- রম্য-রচনা; 
- গড্ডলিকা ;
- কজ্জলী;
- হনুমানের স্বপ্ন; 
- গল্পকল্প;
- গল্প কৃষ্ণকলি ;
- আনন্দীবাঈ;

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,১২৩.
'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. কাঙাল হরিণাথ
  2. নীলমণি হালদার
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১২৪.
হাসন রাজার উপাধি ছিল-
  1. ক) চারণ কবি
  2. খ) মরমি কবি
  3. গ) কবি কঙ্কণ
  4. ঘ) লৌকিক কবি
ব্যাখ্যা
• হাসন রাজা এর প্রকৃত নাম অহিদুর রেজা।
- তাঁর উপাধি মরমি কবি।
- তিনি সিলেট জেলার সুনামগঞ্জে লক্ষ্মণশ্রী গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- পিতৃকুল ও মাতৃকুল উভয়ই ছিল অযোধ্যাবাসী এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বী।
- পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁরা সুনামগঞ্জ আসেন এবং সেখানেই স্থায়িভাবে বসবাস শুরু করেন।

• তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত গান হলো
- 'লোকে বলে বলেরে, ঘর বাড়ি ভালা নায় আমার'
- 'মাটির পিঞ্জিরার মাঝে বন্দী হইয়ারে',
- 'আঁখি মুঞ্জিয়া দেখ রূপরে',
- 'সোনা বন্ধে আমারে দেওয়ানা বানাইল',
- 'মরণ কথা স্মরণ হইল না হাছন রাজা তোর',
- 'আমি যাইমুরে যাইমুরে আল্লার সঙ্গে',
- 'কানাই তুমি খেইর খেলাও কেনে',
- 'একদিন তোর হইব রে মরন রে হাসন রাজা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১২৫.
কার পৃষ্ঠপোষকতায় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. অক্ষয়কুমার দত্ত
ব্যাখ্যা
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ। 
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২) বাংলাপিডিয়া।
১,১২৬.
'কালকূট' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. সমরেশ বসু
  2. রাজশেখর বসু
  3. বিমল ঘোষ
  4. রাজনারায়ণ বসু
ব্যাখ্যা
• সমরেশ বসুর জন্মনাম সুরথনাথ বসু; কিন্তু সমরেশ বসু নামেই লেখক পরিচিতি সমধিক।
সমরেশ বসু কালকূট ও ভ্রমর ছদ্মনামে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচনা করেছেন। 

অন্যদিকে, 
• কবি বিমল ঘোষের ছদ্মনাম- 'মৌমাছি'। 
• রাজশেখর বসু 'পরশুরাম' ছদ্মনামে লিখতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১২৭.
”সনাতন পাঠক” কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. প্রমেন্দ্র মিত্র
  4. হরিনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ”সনাতন পাঠক”।

• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেন।
- নীল লোহিত
- নীল উপাধ্যায়
- সনাতন পাঠক

অন্যদিকে,
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - কমালাকান্ত।
- প্রমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম ছিলো - কৃত্তিবাস ভদ্র
- হরিনাথ মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিলো- কাঙাল হরিনাথ।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস।
১,১২৮.
‘মুকুল’ নামে ছোটদের জন্য প্রকাশিত ম্যাগাজিনের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) গোলাম মোস্তফা
  2. খ) লুৎফর রহমান
  3. গ) আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন।
  4. ঘ) ফররুখ আহমদ
ব্যাখ্যা
‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন। 

জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত আবদুল্লাহ আল মুতী শরফুদ্দিন এর জন্ম ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি  সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে।
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষা বিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।

উল্লেখযোগ্য বইগুলির মধ্যে রয়েছে
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১২৯.
‘কলমসৈনিক’ - উপাধিটি কোন সাহিত্যিকের?
  1. আবদুল করিম
  2. আবদুল হক
  3. আবদুল কাদির
  4. মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
খ) আবদুল হক-এর উপাধি হল 'কলমসৈনিক'।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘কলমসৈনিক’ উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।
• মোজাম্মেল হক - কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস:
১. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
২. প্রথম আলো পত্রিকা। 
৩. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩০.
জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. দিগদর্শন
  2. গভর্নমেন্ট গেজেট
  3. ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া
  4. বাঙ্গাল গেজেট
ব্যাখ্যা
• জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত পত্রিকা নয় - বাঙ্গাল গেজেট
- এটি ১৮১৮ সালে গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য সম্পাদনা করেন।

জন ক্লার্ক মার্শম্যান:
- তিনি ১৭৯৪ সালে ব্রডমিড, ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি শ্রীরামপুর মিশনে শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উন্নতিতে প্রায় ত্রিশ বছর অবদান রাখেন।
- তিনি ১৮৭৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 • তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা:
- দিগদর্শন,
- সমাচার দর্পণ,
- ফ্রেন্ড অব ইন্ডিয়া,
- গভর্নমেন্ট গেজেট

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩১.
বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. নতুন কবিতা
  2. কবিতা
  3. নয়া সড়ক
  4. মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে - কবিতা
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেননি।

অন্যদিকে,
'নতুন কবিতা':
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।

'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।

মাসিক পত্রিকা: 
- তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'।
- ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৩২.
চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম কী?
  1. জরাসন্ধ
  2. দৃষ্টিহীন
  3. চিত্রগুপ্ত
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ

অন্যদিকে,
- মধুসূদন মজুমদার এর ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।
- সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম - কালকূট।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩৩.
ছান্দসিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আব্দুল কাদির
  3. সুফিয়া কামাল
  4. সুকুমার রায়
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরকে ছান্দসিক কবি বলা হয়।

• আবদুল কাদির:
- কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- ১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা' পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭) ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।

প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা (১৯৪৪),
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- লোকায়ত সাহিত্য (১৮৮৫)।

অন্যদিকে, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,১৩৪.
সুফিয়া কামাল কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. সওগাত
  2. জননী
  3. বেগম
  4. বাসন্তী
ব্যাখ্যা
• সুফিয়া কামাল:
- সুফিয়া কামাল ছিলেন কবি, বুদ্ধিজীবী ও সমাজনেত্রী। সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০শে জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে।
- তাঁর পিতা সৈয়দ আবদুল বারি এবং মাতা সৈয়দা সাবেরা খাতুন।
- 'সওগাত' সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন (১৮৮৮-১৯৯৪) ১৯২৬ সালে তাঁর প্রথম কবিতা 'বাসন্তী' প্রকাশ করেন।
- ১৯৩১ সালে সুফিয়া মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম 'ভারতীয় মহিলা ফেডারেশন'-এর সদস্য নির্বাচিত হন।
- তিনি 'বেগম' (১৯৪৭) পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৬৯ সালে 'মহিলা সংগ্রাম পরিষদ' (বর্তমানে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ) গঠিত হলে তিনি তার প্রতিষ্ঠাতাপ্রধান নির্বাচিত হন এবং আজীবন তিনি এর সঙ্গে জড়িত থাকেন।
- তাঁকে 'জননী সাহসিকা' বলা হয়।
- ১৯৯৯ সালের ২০শে নভেম্বর ঢাকায় তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- মন ও জীবন,
- উদাত্ত পৃথিবী,
- সাঁঝের মায়া,
- অভিযাত্রিক,
- মোর যাদুদের সমাধি পরে,
- মায়া কাজল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৫.
'ব্রাক্ষ্মণ সেবধি’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রামমোহন রায়
  3. অক্ষয়কুমার বড়াল
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধের অন্যতম নায়ক রাজা রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন ১৭৭২ সালে, হুগলির রাধানগর নামক স্থানে।
- ব্রাক্ষ্মণ সেবধি (১৮২১) রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা।
-পত্রিকাটি দুই ভাষায়(ইংরেজী+ বাংলা) প্রকাশিত হতো।
- বাংলায় সম্বাদ কৌমুদি (১৮২১), পারসি ভাষায় মিরাৎ-উল-আখবার (১৮১৫) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৩৬.
চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম ছিল- 
  1. মৌমাছি
  2. লীলাময় রায়
  3. নীহারিকা দেবী
  4. জরাসন্ধ
ব্যাখ্যা

• চারুচন্দ্র চক্রবর্তী ছদ্মনাম - জরাসন্ধ।

অন্যদিকে, 
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম- মৌমাছি।
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম- নীহারিকা দেবী।
• অন্নদাশঙ্কর রায়ের ছদ্মনাম - লীলাময় রায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৩৭.
"কবিতা" পত্রিকার সম্পাদনার সাথে জড়িত ছিলেন না কে?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু
  2. খ) রাজশেখর বসু
  3. গ) প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. ঘ) সমর সেন
ব্যাখ্যা
"কবিতা" পত্রিকার সম্পাদনার সাথে জড়িত ছিলেন না রাজশেখর বসু। 

- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি ‘কবিতা' পত্রিকায় সূচনা পর্বে সম্পাদনাসূত্রে জড়িত থাকলেও পরবর্তী দীর্ঘকাল বুদ্ধদেব বসুই ‘কবিতা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- ‘কবিতা' ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে (আশ্বিন, ১৩৪২) প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো: শুধু কবিতা ও কবিতা- বিষয়ক গদ্য এখানে ছাপা হতো।
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লেখেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর। 
১,১৩৮.
জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. নজু মিয়া 
  2. নজর আলী 
  3. তুজম্বর আলি
  4. জসুউদ্দীন মোল্লা
ব্যাখ্যা

"তুজম্বর আলি" জসীম উদ্‌দীন ব্যবহৃত ছদ্মনাম।

• ১৯৭১ সালে বাঙলার দুর্দিনের সময় বেঁচে ছিলেন মহান কবি জসীম উদ্‌দীন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ সেই অভিজ্ঞতাকে সম্বল করে তিনি ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' নামে একটি কবিতা সংকলন ছাপিয়েছিলেন। সংকলনের 'লেখকের কথা' অংশে জসীম উদ্‌দীন জানান- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই সংকলনের কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠান হয়েছিল।

উল্লেখ্য, 
• জসীম উদ্‌দীন 'জমীরউদ্দীন মোল্লা' ছদ্মনামেও লিখাছেন। 

অন্যদিকে, 
• বাল্যকালে কাজী নজরুল ইসলামকে 'তারা ক্ষ্যাপা', 'নজর আলী', 'দুখু মিয়া' নামে ডাকা হতো।

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলাপিডিয়া; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৩৯.
জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
  1. বিষ্ণু দে 
  2. বিহারীলাল চক্রবর্তী 
  3. বুদ্ধদেব বসু
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দ দাশের কবিতাকে "চিত্ররূপময়” কবিতা বলে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে 'নির্জনতার কবি' বলে আখ্যায়িত করেছেন।

-------------------
• জীবনানন্দ দাশ:
- জীবনানন্দ দাশ ছিলেন একজন কবি ও শিক্ষাবিদ। তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।

- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক। তিনি ব্রহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি।

- জীবনানন্দ ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী তিরিশের কবিতা নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি।
- তাঁর 'ধূসর পাণ্ডুলিপি' কাব্যের অন্তর্গত 'মৃত্যুর আগে' কবিতার সাথে আইরিশ কবি ডব্লিউ, বি. ইয়েটস-এর 'The falling of the Leaves' কবিতার মিল রয়েছে।

- তাঁর 'মহাপৃথিবী' কাব্যের অন্তর্গত 'হায় চিল' কবিতার সাথে ইয়েটস্-এর 'He reproves the curlow' কবিতার মিল রয়েছে।
- 'বনলতা সেন' কবিতাটিতে অ্যাডগার এলেন পো-র 'টু হেলেন' কবিতার প্রভাব রয়েছে। জীবনানন্দ দাশের 'বনলতা সেন' কাব্যগ্রন্থ নিখিলবঙ্গ রবীন্দ্রসাহিত্য সম্মেলনে পুরস্কৃত (১৯৫৩) হয়।

- বাংলাদেশে ষাটের দশকে বাঙালির জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধে সংগ্রামী বাঙালি জনতাকে তাঁর 'রূপসী বাংলা' কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো তীব্রভাবে অনুপ্রাণিত করে।
- এছাড়া জীবনানন্দ দাশের 'শ্রেষ্ঠ কবিতা' গ্রন্থটিও ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৫৪) লাভ করে।

জীবনানন্দ দাশের উপাধিসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৪০.
ধুমকেতু কার ছদ্মনাম?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র
  3. জীবনানন্দ দাস
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• 'ধূমকেতু' কাজী নজরুল ইসলামের ছদ্মনাম।

• এছাড়াও,
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অনেকগুলো ছদ্মনাম রয়েছে।
যেমন:
- ধূমকেতু,
- নুরু,
- ব্যাঙাচি,
- নজর আলী ইতাদি।

• কাজী নজরুল ইসলাম:

কাজী নজরুল ইসলাম,(১৮৯৯-১৯৭৬)  বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- নজরুল ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ  (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। নজরুলের ডাক নাম ছিল ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।
-  তিনি ধূমকেতু ছদ্মনামে লিখতেন।                       
-  করাচি সেনানিবাসে বসে রচিত এবং কলকাতার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত নজরুলের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ (সওগাত, মে ১৯১৯) নামক প্রথম গদ্য রচনা।
-  তাঁর প্রথম প্রকাশিত কবিতা ‘মুক্তি’ (বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা, জুলাই ১৯১৯)।
-  ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে  কলকাতা ফেরার পর নজরুলের দুটি ঐতিহাসিক ও বৈপ্লবিক সৃষ্টিকর্ম হচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ও ‘ভাঙার গান’ সঙ্গীত। এ দুটি রচনা বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল; ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্য নজরুল বিপুল খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৪১.
রফিক আজাদ সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সাহিত্য
  2. সাধনা
  3. স্বাক্ষর
  4. নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা
'স্বাক্ষর' পত্রিকা:
- বাংলাদেশের ইতিহাসে উত্তাল ষাটের দশকে যে-কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিল, 'স্বাক্ষর' এগুলোর একটি।
- ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে 'স্বাক্ষর-এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন দুই কবি; রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক। পরে বিভিন্নজন এর সম্পাদকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: ইমরুল চৌধুরী, প্রশান্ত ঘোষাল, আসাদ চৌধুরী, রণজিৎ পালচৌধুরী।
- সাহিত্যে প্রথাবদ্ধতার বিরুদ্ধে ছিল এঁদের সংগ্রাম। রবীন্দ্র-রোম্যান্টিকতা, জীবনানন্দীয় প্রণয়- আকুলতা, সমাজবাদী মতবাদনিষ্ঠতার বিরুদ্ধে পাশ্চাত্য দর্শন প্রভাবিত হয়ে 'স্বাক্ষরে'র লেখকগণ লেখনীধারণ করেন।
- জীবনের নর্থকতাকে পরিত্যাজ্য মনে করেন নি তাঁরা। যৌনতা, বিশেষ করে নাগরিক যৌনাচার নানা মাত্রায় উঠে এসেছে তাঁদের সাহিত্যে। বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্য বিকাশে সে কারণে 'স্বাক্ষর'-এর ভূমিকা প্রশংসার্হ।

অন্যদিকে,
- সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদিত পত্রিকা - সাধনা।
- সুরেশ্চন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত পত্রিকা - সাহিত্য।
- 'নয়া সড়ক' পত্রিকা সম্পাদিত হতো আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪২.
'সওগাত' পত্রিকাটি কোথা থেকে প্রকাশিত হতো?
  1. ঢাকা
  2. কলকাতা
  3. রাজশাহী
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
• 'সওগাত' পত্রিকা:
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম। তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন 'বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী' নামে একটি ছোট গল্প পাঠান। এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।
- সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন- বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৪৩.
রাজশেখর বসু'র ছদ্মনাম -
  1. চিত্রগুপ্ত
  2. যুবনাশ্ব
  3. কমলাকান্ত
  4. পরশুরাম
ব্যাখ্যা
• পরশুরাম - রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম। 

অন্যদিকে, 
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম 'যুবনাশ্ব'।
- কমলাকান্ত - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৪.
'সংবাদ প্রভাকর' কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. ত্রৈমাসিক
  2. ষান্মাসিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা
'সংবাদ প্রভাকর':
পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

এছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত আরও কিছু পত্রিকা সম্পাদনা করেন
- সংবাদ রত্নাবলী,
- পাষণ্ডপীড়ণ,
- সংবাদ সাধুরঞ্জন ।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর। 
২) বাংলাপিডিয়া।
১,১৪৫.
'আবদুল্লাহ' উপন্যাসটি প্রথম কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. সমকাল
  2. মোসলেম ভারত
  3. বিচিত্রা 
  4. মাসিক মোহাম্মদী
ব্যাখ্যা

• 'আবদুল্লাহ' উপন্যাস:
- 'আবদুল্লাহ' কাজী ইমদাদুল হক রচিত একটি উপন্যাস। এটি মোসলেম ভারত পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হতো। ১৯৩৩ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- কাজী ইমদাদুল হকের 'আবদুল্লাহ' উপন্যাসের 'তৎকালীন মুসলিম মধ্যবিত্ত সমাজের চিত্র' অঙ্কিত হয়েছে।
- উপন্যাসটি রচনাকালীন সময়ে কাজী ইমদাদুল হকের মৃত্যু হলে, কাজী আনোয়ারুল কাদির ইমদাদুল হকের খসড়া অবলম্বন করে অসমাপ্ত উপন্যাসটি সমাপ্ত করেন। উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্তি, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।
- শিল্পের বিচারে 'আবদুল্লাহ্' উৎকৃষ্ট উপন্যাস নয়, তবে বাংলার সামাজিক বিবর্তনের, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের অগ্রযাত্রার সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা সুচারুভাবে ফুটে উঠায় গ্রন্থটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:
• উপন্যাস: আবদুল্লাহ্।

• কাব্য:
- আঁখিজল ও
- লতিকা।

• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৪৬.
'নারীশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. সেলিনা পারভীন
  2. নীলমণি হালদার
  3. ডা. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান
  4. মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• 'নারীশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ডা. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান।

• নারীশক্তি:
- কলকাতায় মোহাম্মদ লুৎফর রহমান পতিতা নারীদের সামাজিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘নারীতীর্থ’ (১৯২২) নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
- এ সংগঠনের কার্যনির্বাহক কমিটির সভাপতি ছিলেন বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩৬)। এবং লুৎফর রহমান ছিলেন এর সম্পাদক।
- ‘নারীতীর্থ’- সংগঠনের মুখপত্র 'নারীশক্তি' পত্রিকাটি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান -এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো বাংলা ১৩২৯ সনে।
- এ মাসিক পত্রিকাটির মোট ছয়টি সংখ্যা প্রকাশ হয়েছিলো।

অন্যদিকে,
- সেলিনা পারভীন সম্পাদিত পত্রিকা 'শিলালিপি’।
- নীলমণি হালদার সম্পাদিত পত্রিকা 'বঙ্গদূত'।
- মোজাম্মেল হক সম্পাদিত পত্রিকা 'মোসলেম ভারত'।

উৎস: উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৪৭.
'তুজম্বর আলি' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. অমিয় চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনাম ব্যবহার করে জসীম উদ্‌দীন রচিত কাব্যগ্রন্থ 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে'। 

অন্যদিক,
• জীবনানন্দ দাশের উপাধি বা অভিধাসমূহ হলো:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

• অমিয় চক্রবর্তী "বঙ্গনারী" ছদ্মনামে প্রবন্ধ-নিবিন্ধ প্রকাশ করতেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৪৮.
সওগাত পত্রিকার প্রথম সংখ্যা কোন সালে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. ১৯১৫
  2. ১৯১৮
  3. ১৯২০
  4. ১৯২২
ব্যাখ্যা
• 'সওগাত' পত্রিকা:
সওগাত একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা। ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পত্রিকার প্রথম সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় বেগম রোকেয়ার এবং পরবর্তী পৃষ্ঠায় মানকুমারী বসুর একটি করে কবিতা মুদ্রিত হয়।

- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।
- তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন ‘বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী’ নামে একটি ছোটগল্প পাঠান।
- কাজী নজরুলের  মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাসটিও সওগাত ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে।

উল্লেখ্য,
• সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৪৯.
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়-
  1. ক) পাদুমাবৎ
  2. খ) মহুয়া
  3. গ) চন্দ্রাবতী
  4. ঘ) পদ্মাবতী
ব্যাখ্যা
• হিন্দি কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সীর 'পাদুমাবৎ' জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন সম্পাদিত গ্রন্থ: 
- The Kashmiri Ramayana 
- Comprising the Sriramavataracarita and the Lava-Kusayuddha Caritra of Divakara Prakasa Bhatta. (1930)

• মহাকবি সৈয়দ আলাওলের শ্রেষ্ঠ রচনা পদ্মাবতী কাব্যগ্রন্থ।
- হিন্দি কবি মালিক মুহম্মদ জায়সী-এর পাদুমাবৎ অবলম্বনে পদ্মাবতী কাব্যটি রচনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৫০.
প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম কোনটি?
  1. হুতুম পেঁচা
  2. টেকচাঁদ ঠাকুর
  3. বনফুল
  4. ভানুসিংহ ঠাকুর
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন প্যারীচাঁদ মিত্র।

অন্যদিকে, 
• 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বনফুল।
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - হুতুম পেঁচা।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ছদ্মনাম- ভানুসিংহ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৫১.
কোনটি বিশ শতকের পত্রিকা?
  1. সাধনা
  2. পূর্বাশা
  3. সমাচার দর্পণ
  4. তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা
• 'পূর্বাশা' বিশ শতকের পত্রিকা।

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

------------------
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

------------------
• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।
- ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

------------------
• তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৫২.
কাজেম আল কোরেশী এর ছদ্মনাম কী ছিল?
  1. দাদাভাই
  2. কায়কোবাদ
  3. বীরবল
  4. ওমর খৈয়াম
ব্যাখ্যা

• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি,
- তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা 
- আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি। 
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- কুসুম কানন,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম ও
- মহরম শরীফ।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম- ওমর খৈয়াম।
- রোকনুজ্জামান এর ছদ্মনাম- দাদাভাই।
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- 'বীরবল'।


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৫৩.
'সবুজপত্র' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন সময়ে?
  1. উনিশ শতকের শুরুতে
  2. বিশ শতকের শুরুতে
  3. উনিশ শতকের শেষে
  4. বিশ শতকের শেষে
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে (অর্থ্যাৎ বিশ শতকের শুরুতে) মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৪.
'ধানশালিকের দেশ' কোন প্রকারের পত্রিকা?
  1. ক) সাপ্তাহিক
  2. খ) মাসিক
  3. গ) পাক্ষিক
  4. ঘ) ত্রৈমাসিক 
ব্যাখ্যা
'ধানশালিকের দেশ' একটি কিশোর পত্রিকা। 
- এটি একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকা। 
- এটি প্রকাশিত হয় বাংলা একাডেমি থেকে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৫৫.
'সংবাদ প্রভাকর' সাপ্তাহিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয় কত সালে? 
  1. ১৮৩৪ সালে
  2. ১৮৩১ সালে
  3. ১৮৩৬ সালে
  4. ১৮৩৯ সালে
ব্যাখ্যা

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।

- পত্রিকাটি প্রকাশে পাথুরিয়া ঘাটার যোগেন্দ্রমোহন ঠাকুরের ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও অপরিহার্য। তাঁর মৃত্যুর কারণে ১৮৩২ সালের ২৫ মে প্রকাশিত ৬৯তম সংখ্যার পর পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। তাঁর মৃত্যুর চার বছর পর ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত পুনরায় সংবাদ প্রভাকর প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ১৮৩৬ সালের ১০ আগস্ট থেকে পত্রিকাটি বারত্রয়িক রূপে প্রকাশিত হতে থাকে। পুনরায় পাথুরিয়াঘাটার ঠাকুর পরিবার পত্রিকা প্রকাশে সহযোগিতার হাত সম্প্রসারণ করে।

- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সুযোগ্য সম্পাদনায় পত্রিকার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে ১৮৩৯ সালের ১৪ জুন সংবাদ প্রভাকর বাংলায় প্রকাশিত সর্বপ্রথম দৈনিক পত্রিকারূপে আবির্ভূত হয়।

- ১৮৫৩ সাল থেকে পত্রিকাটির মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। মাসিক সংবাদ প্রভাকরে ঈশ্বরচন্দ্র প্রাচীন বাংলার ‘কবিয়াল’ ও গীতিকারদের জীবনী ও কর্মগাথা সংগ্রহ ও প্রকাশ করেছিলেন। ঈশ্বরচন্দ্রের মৃত্যুর পর তাঁর ভাই রামচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ প্রভাকরের সম্পাদক নিযুক্ত হন।

 - ১৮৪০ ও ১৮৫০-এর দশকে পত্রিকাটি নারীশিক্ষা ও বিধবা-বিবাহের প্রতি সমর্থন প্রদান করা ছাড়াও কৌলীন্য প্রথার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জমিদারদের সহায়তার কারণে পত্রিকাটি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে ততটা জোরালোভাবে সমালোচনা না করে বরং শাসকদের পক্ষেই অবস্থান নেয়। তবে, নীলচাষের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে সংবাদ প্রভাকর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। 

- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাওগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত। ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৫৬.
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮১৮ সালে
  2. ১৮২০ সালে
  3. ১৮২১ সালে
  4. ১৮১৯ সালে
ব্যাখ্যা
'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- ১৮১৮ সালে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৭.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কৃষ্ণকান্ত
  2. শ্রীকান্ত 
  3. কমলাকান্ত 
  4. ভেড়াকান্ত 
ব্যাখ্যা

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যিক ছদ্মনাম- কমলাকান্ত।

------------------------
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ। ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত প্রথম উপন্যাস 'রাজমোহনস ওয়াইফ'। উপন্যাসটি ইংরেজিতে লেখা।
- তাঁর রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক উপন্যাস 'দুর্গেশনন্দিনী' প্রকাশিত হয় ১৮৬৫। এটি তাঁর রচিত প্রথম বাংলা উপন্যাসও।
- 'ললিতা তথা মানস' (১৮৫৬) কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। এটি তাঁর রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ।
- 'কপালকুণ্ডলা' তাঁর রচিত দ্বিতীয় বাংলা উপন্যাস (১৮৬৬)।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস সমূহ:
- কপালকুণ্ডলা,
- মৃণালিনী,
- বিষবৃক্ষ,
- ইন্দিরা,
- যুগলাঙ্গুরীয়,
- চন্দ্রশেখর,
- রাধারানী,
- রজনী,
- কৃষ্ণকান্তের উইল,
- রাজসিংহ ইত্যাদি।

তাঁর রচিত প্রবন্ধ:
- লোকরহস্য,
- কমলাকান্তের দপ্তর,
- বিবিধ সমালোচনা,
- সাম্য,
- কৃষ্ণচরিত্র,
- ধর্মতত্ত্ব অনুশীলন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৫৮.
'শিখা' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৮ সালে
  2. ১৯২৭ সালে
  3. ১৯২৬ সালে
  4. ১৯২৫ সালে
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের। তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৯.
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকনাম কী ছিল?
  1. প্রবোধ
  2. বাচ্চু
  3. মানিক
  4. কুমার
ব্যাখ্যা
• মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়:
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ খ্রিষ্টাব্দে বিহারের সাঁওতাল পরগনার দুমকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের নিকট মালবদিয়া গ্রামে।
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার, ‘মানিক’ তাঁর ডাকনাম।
- বন্ধুদের সঙ্গে বাজি ধরে তিনি রচনা করেন 'অতসীমামী' এবং পরবর্তীতে তা বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- মাত্র একুশ বছর বয়সে তাঁর বিখ্যাত 'দিবারাত্রির কাব্য' রচনা করেন।
- তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক উপন্যাস ও দুশো চব্বিশটি গল্প তিনি রচনা করেছেন।
- পদ্মানদীর মাঝি ও পুতুলনাচের ইতিকথা উপন্যাস দুটি তাঁর বিখ্যাত রচনা। এ দুটির মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প:
- অতসী মামী ও অন্যান্য গল্প,
- প্রাগৈতিহাসিক,
- মিহি ও মোটা কাহিনী,
- সরীসৃপ,
- সমুদ্রের স্বাদ ইত্যাদি।

তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হলো:
- জননী (প্রথম প্রকাশিত),
- চিহ্ন,
- পদ্মানদীর মাঝি,
- দিবারাত্রির কাব্য,
- পুতুলনাচের ইতিকথা,
- শহরবাসের ইতিকথা,
- অহিংসা,
- শহরতলী,
- সোনার চেয়ে দামি,
- স্বাধীনতার স্বাদ,
- ইতিকথার পরের কথা,
- আরোগ্য।

অন্যদিকে,
- শামসুর রাহমানের ডাক নাম ছিল -বাচ্চু।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৬০.
'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. মালাধর বসু 
  2. বিদ্যপতি 
  3. মুকুন্দদাস
  4. রামপ্রসাদ সেন 
ব্যাখ্যা

• মুকুন্দদাস 'চারণকবি' হিসেবে পরিচিত।

• মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে মুকুন্দদাসের (১৮৭৮-১৯৩৪) জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু 'চারণকবি' উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৬১.
বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' উপাধি দেয়া হয়েছে-  
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে 
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে 
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 
  4. রাজশেখর বসুকে 
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' উপাধিটি বিহারীলাল চক্রবর্তীর।
-------------------------------
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের একজন কবি এবং গীতিকার ছিলেন।
- তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে ও পরিচিত।
- বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের প্রথম গীতি-কবি হিসেবে পরিচিত।
- ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পূর্বপুরুষদের আদি নিবাস ছিল ফরাসডাঙ্গায় এবং তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।

- বাংলা সাহিত্যে প্রথম বিহারীলাল গীতি কবিতা শুনিয়েছে বলে তাকে বাংলা গীতি কবিতার 'ভোরের পাখি' বলা হয়।
- রবীন্দ্রনাথ তাকে এ উপাধি দিয়েছেন। 

- বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কারণ- 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করতেন যে তাঁর গীতিকবিতা বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা করেছিল, ঠিক যেমন ভোরের প্রথম পাখির ডাক নতুন দিনের আগমনী বার্তা বহন করে। 
- তাঁর কাব্যধারা ছিল বিশুদ্ধ গীতিকাব্য। 

• বিহারীলালের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ সারদামঙ্গল।
• বিহারীলালের রচনাবলির মধ্যে রয়েছে:
- সঙ্গীতশতক;
- বন্ধুবিয়োগ;
 - প্রেমপ্রবাহিণী;
- নিসর্গসন্দর্শন;
- বঙ্গসুন্দরী;
- সারদামঙ্গল;
- নিসর্গসঙ্গীত;
- সাধের আসন এবং
- ধূমকেতু।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,১৬২.
কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. মাসিক মোহাম্মদী
  2. লহরী
  3. হিতকরী
  4. নয়া সড়ক
ব্যাখ্যা

• 'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

অন্যদিকে,
-----------------
• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা।
- ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

• 'লহরী' পত্রিকা:
- লহরী' নামক 'নানা বিষয়িনী কবিতাময়ী সমালোচনী পত্রিকা' মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় ১৯০০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটিতে কেবল কবিতাই প্রকাশিত হতো। সম্পাদক হিন্দু কবিগণের কবিতা স্থান দিতেন।
- 'লহরী'তে প্রকাশিত কবিতাগুলোর যে পরিচয় পাওয়া যায় তাতে, কবির আত্মগত ভাবকল্পনাকে আশ্রয় করে খণ্ড কবিতা, মুসলমানদের জাতীয় গৌরব, তুরস্কের মহিমা প্রভৃতি বিষয় অবলম্বনে এবং সমসাময়িক সমাজের বিভিন্ন সমস্যাকে অবলম্বন করে কবিতা দেখা যায়।' - পত্রিকাটি কিছুকাল পরেই অকালমৃত্যুর অধীন হয়েছিল।

• 'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র। পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৬৩.
'সত্যসুন্দর দাস' কার ছদ্মনাম?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. মোহিতলাল মজুমদার
  4. জীবনানন্দ দাশ
ব্যাখ্যা
• 'সত্যসুন্দর দাস' মোহিতলাল মজুমদারের ছদ্মনাম।

মোহিতলাল মজুমদার:
- তিনি ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাচঁড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- ১৯২৮ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে লেকচারার পদে যোগদান করেন এবং ১৯৪৪ সালে অবসরে যান।
- তিনি বঙ্গদর্শন পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন পসারী,
- বিস্মরণী,
- স্মরগরল, 
- হেমন্ত গোধূলি।

• তাঁর প্রবন্ধ সমালোচনা :
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধুসূদন।

অন্যদিকে,
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের ছদ্মনাম: নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর।
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের উপাধি: দুঃখবাদী কবি।
- জীবনানন্দ দাশকে বলা হয় চিত্ররূপময়, রুপসী বাংলার কবি, ধূসরতার কবি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৬৪.
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. লাঙল
  2. ধূমকেতু
  3. মোসলেম ভারত
  4. যুগবাণী
ব্যাখ্যা
• "ধূমকেতু" পত্রিকা:
'ধূমকেতু' কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা। বিপ্লবীদের মুখপত্র এ পত্রিকাটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের ২৬ শ্রাবণ (১১ আগস্ট ১৯২২)
আত্মপ্রকাশ করে।

এর প্রথম সংখ্যায় নজরুলের অনলবর্ষী দীর্ঘ কবিতা ‘ধূমকেতু’ প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটি শুরুতে ফুলস্কেপ কাগজের চার পৃষ্ঠায় এবং পরে আট পৃষ্ঠায় মুদ্রিত হতো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বাণী দিয়ে ধূমকেতুকে অভিনন্দন জানান, যা প্রতি সংখ্যায় পত্রিকার শিরোনামের নিচে ছাপা হতো।

ধূমকেতুতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রবন্ধ ও কবিতার মাধ্যমে নজরুল অকুতোভয়ে স্বরাজ ও স্বাধীনতার দাবি ঘোষণা করেন। তাঁর অগ্নিঝরা ভাষা ও নির্ভীক বক্তব্যের জন্য পত্রিকাটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং বিক্রয়ের দিক থেকে সেকালের সকল পত্রিকাকে ছাড়িয়ে যায়। পত্রিকায় বিপ্লবী বক্তব্য প্রচারের কারণে নজরুল রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হন এবং ১৯২৩ সালের ২৩ জানুয়ারি এক বছরের জন্য কারারুদ্ধ হন।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ জানুয়ারি সংখ্যাটি ‘নজরুল সংখ্যা’ হিসেবে প্রকাশিত হয়। পরে কিছুদিনের জন্য বন্ধ থেকে পত্রিকাটি বীরেন সেনগুপ্ত ও অমরেশ কাঞ্জিলালের সম্পাদনায় পুনরায় প্রকাশিত হয়, কিন্তু অনিয়মিতভাবে চলে এবং এ বছরেরই মার্চ মাসে চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।

অন্যদিকে, 
• 'লাঙল' সাপ্তাহিক পত্রিকা। কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় ১৯২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। 

• 'মোসলেম ভারত' মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে শান্তিপুরের কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নাম মুদ্রিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এর যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হতো তাঁর পুত্র এবং নির্বাহী সম্পাদক আফজালুল হক কর্তৃক।

• 'যুগবাণী' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৫.
বাংলা সাহিত্যে 'ছন্দোরাজ' নামে পরিচিত ছিলেন- 
  1. দ্বিজেন্দ্রনাথ রায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. সুকুমার রায় 
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগ্‌ধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়।
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায় আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন।

অন্যদিকে,
- মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মানব রসের তিনি প্রথম এবং একমাত্র স্রষ্টা। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে দুঃখ-বর্ননার কবি হিসাবেও আখ্যায়িত করা হয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৬৬.
'সম্বাদ কৌমুদী' কোন ধরনের পত্রিকা ছিলো?
  1. সাপ্তাহিক
  2. বার্ষিক
  3. মাসিক
  4. দৈনিক
ব্যাখ্যা
'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা:
- খ্রিষ্টান মিশনারিরা সমাচার দর্পণ পত্রিকার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মমতের প্রতি কটাক্ষপাত করত বলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মিলিত ভাবে ১৮২১ সালে 'সম্বাদ কৌমুদী' নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- এর প্রথম সংখ্যায় পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত ছিল 'লোকহিতসাধনই এই সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য। দেশবাসীর অভাব অনুযোগের কথাও ইহাতে ভদ্রভাবে আলোচিত হইবে'।
- রাজা রামমোহন রায় নিয়মিত এই পত্রিকার জন্য প্রবন্ধ লিখতেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১৬৭.
প্রতিষ্ঠাকালে 'সংবাদ প্রভাকর' - কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. দৈনিক
  2. অর্ধ-সাপ্তাহিক
  3. সাপ্তাহিক
  4. ত্রৈমাসিক
ব্যাখ্যা

• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।

প্রথম দৈনিক পত্রিকা: 
- ১৮৩৯ সালে সংবাদ প্রভাকর বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
 
পত্রিকাটি সম্পর্কে বিশেষ তথ্য:
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৬৮.
“সমাচার দর্পণ” সংবাদপত্রের সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. জেমস অগাস্টাস হিকি
  2. জেমস সিল্ক বাকিংহাম
  3. ভবানীচরণ ব্যানার্জি
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা
সমাচার দর্পণ:
- এটি ছিল বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণ (১৮১৮-১৮৫২)  শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত  জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত ।
- প্রথম পর্যায় ১৮১৮ সালের ২৩ মে (১০ জ্যৈষ্ঠ, ১২২৫) শনিবার সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়। 
- পত্রিকাটির মূল্য ছিল মাসিক দেড় টাকা।
-  শ্রীরামপুর মিশন ১৮২৯ সাল হতে পত্রিকাটি দ্বিভাষিক (বাংলা ও ইংরেজি) করার ব্যবস্থা করে।
- ১৮৩২ সাল হতে সপ্তাহে দুবার প্রকাশ আবশ্যকবোধ হলে এর প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয় ১১ জানুয়ারি বুধবার।
- ১৮৪০ সালের ১ জুলাই থেকে সম্পাদকের ওপর নতুন বাংলা সাপ্তাহিক পত্র গবর্ণমেন্ট গেজেট সম্পাদনার ভার ন্যস্ত হওয়ার কারণে ২৫ ডিসেম্বর ১৮৪১ তারিখে সমাচার দর্পণের শেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৯.
'পূর্বাশা' কোন ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. ক) দৈনিক
  2. খ) মাসিক
  3. গ) ষান্মাসিক
  4. ঘ) ত্রৈমাসিক
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি ছিল মাসিক পত্রিকা

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭০.
নিচের কোন পত্রিকার সাথে অক্ষয়কুমার দত্তের নামটি জড়িত?
  1. ক) চতুরঙ্গ
  2. খ) সম্বাদ কৌমুদী
  3. গ) প্রগতি
  4. ঘ) তত্ত্ববোধিনী
ব্যাখ্যা
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা  ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র।
- ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া]
১,১৭১.
সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতির ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে কোন পত্রিকাটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সবুজপত্র
  3. ধূমকেতু
  4. চতুরঙ্গ
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।

অন্যদিকে,
- কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকা - 'ধূমকেতু'।
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- ‘চতুরঙ্গ'- পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন হুমায়ুন কবির।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৭২.
'রায়বাহাদুর' উপাধি পান কে?
  1. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. সমর সেন
  3. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. দীনেশচন্দ্র সেন
ব্যাখ্যা

• সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক 'রায়বাহাদুর' উপাধি পান

দীনেশচন্দ্র সেন: 
- দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার। জন্ম মাতুলালয়ে, ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর মানিকগঞ্জ জেলার বগজুরি গ্রামে।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'বাংলা ভাষা ও সাহিত্য' নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,১৭৩.
সাপ্তাহিক 'সুধাকর' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. শেখ আবদুর রহিম
  2. মীর মশাররফ হোসেনের
  3. মোহাম্মদ আকরাম খাঁ
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

• 'সুধাকর' পত্রিকা:
- সুধাকর কলকাতা থেকে ১৮৮৯ সালের ৮ নভেম্বর (১২৯৬ বঙ্গাব্দের ২৩ কার্তিক) প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা।
রেয়াজুদ্দীন আহমদ, মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ ও শেখ আবদুর রহিমের প্রচেষ্টায় এটি প্রকাশিত হয় এবং এর প্রথম সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম (মতান্তরে মোহাম্মদ রেয়াজউদ্দীন আহমদ)।

- পত্রিকা প্রকাশের লক্ষ ও উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের অতীত গৌরব ও ইসলামের মাহাত্ম্য প্রচার করা। এক পর্যায়ে এটি মিহির ও সুধাকর নামে প্রকাশিত হয়।

- খ্রিস্টান মিশনারিদের পরিচালিত খ্রিস্টীয় বান্ধব পত্রিকার সঙ্গে সুধাকরের ধর্মবিষয়ে বহু বিতর্ক হয়; এমনকি গো-হত্যার ব্যাপারে টাঙ্গাইলের মৌলবি নইমুদ্দীনের পক্ষে এবং মীর মশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে এটি প্রচারাভিযান চালায়। ধর্ম, সমাজ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ইত্যাদি ছাড়াও সাহিত্যবিষয়ক মৌলিক রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।

- ১৯১০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,১৭৪.
সুফিয়া কামাল রচিত 'তাহারেই পড়ে মনে' কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?
  1. পূর্বমেঘ
  2. মাসিক মোহাম্মদী
  3. ভারতী
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
বেগম সুফিয়া কামাল কবি, বুদ্ধিজীবী, সমাজনেত্রী।
সুফিয়া কামালের জন্ম ১৯১১ সালের ২০ জুন বরিশালের শায়েস্তাবাদে এক অভিজাত পরিবারে। 

- কবি সুফিয়া কামালের বিখ্যাত কবিতা ‘তাহারেই পড়ে মনে’ প্রথম প্রকাশিত হয় মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- এটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। 
- এটি ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত হয়। 

তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- সাঁঝের মায়া (১৯৩৮)
- মায়া কাজল (১৯৫১),
- মন ও জীবন (১৯৫৭),
- উদাত্ত পৃথিবী (১৯৬৪),
- অভিযাত্রিক (১৯৬৯) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭৫.
বাংলা সাহিত্যে ‘নটগুরু’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন-
  1. গিরিশচন্দ্র সেন
  2. রামনারায়ণ তর্করত্ন
  3. মনোমোহন বসু
  4. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
ব্যাখ্যা
• গিরিশচন্দ্র ঘোষ:
- বাংলা নাটকের সমৃদ্ধসাধনে গিরিশচন্দ্র ঘোষের (১৮৪৪-১৯১২) অবদান অপরিসীম।
- যশস্বী অভিনেতা এবং প্রতিভাশালী নাট্যকারের যুগ্নবৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে তিনি পচাঁত্তরখানি সমাপ্ত ও চারখানি অসমাপ্ত নাটক প্রহসন রচনা করেন। এতে বাংলা নাটকের ইতিহাস যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী হয়ে ওঠে এবং তিনি সে সময়কার সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ও খ্যাতিসম্পন্ন নাট্যকার হিসেবে গৌরবময় আসন অলংকৃত করতে সক্ষম হন।

• গিরিশচন্দ্রের প্রধান ও শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠা ছিল ‘নটগুরু’ হিসেবে।

• গিরিশচন্দ্র ঘোষের নাটকে তাঁর নিজের প্রবর্তিত ‘গৈরিশ ছন্দের’ ব্যবহার হয়েছে। এতে তিনি যথেষ্ট সার্থকতা অর্জন করেন। অভিনয়ে উপযোগী ভাষাসৃষ্টির উদ্দেশ্য এর পশ্চাতে কার্যকরী ছিল।

তাঁর গৈরিশ ছন্দের নমুনা:
যবে ধনু ধরি করে,
ঘোর সিংহনাদে প্রবেশ করেছি রণে-
যক্ষ রক্ষ গন্ধর্ব কিন্নর আদি চরাচর
কে কবে হয়েছে স্থির?
যদি যায় প্রাণ মাতঃ করগো কল্যাণ
সেই দর্পে সেই শরাসন করে
সেই রণক্ষেত্রে আনন্দ যথায় মম
হইব ধরণীশায়ী অনন্ত শয্যায়।

গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুবর্তী নাট্যকারগণের ওপর এই ছন্দের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তীকালের ভক্তিমূলক পৌরাণিক নাটকের ক্ষেত্রেও তাঁর প্রভাব অনস্বীকার্য।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
১,১৭৬.
সিকান্দায় আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকাটির নাম কি?
  1. সওগাত
  2. কল্লোল
  3. সমকাল
  4. ধূমকেতু
ব্যাখ্যা

• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে, 
• ঐতিহাসিক 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সাহিত্যিক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন। 
• বিংশ শতাব্দীর বিশের দশকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা 'কল্লোল'-এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
• কাজী নজরুল ইসলামের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় অর্ধসপ্তাহিক পত্রিকা ধূমকেতু (১৯২২)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৭৭.
প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম কী?
  1. নীল লোহিত
  2. হাবু শর্মা
  3. শ্রীমতী রাধামণি দেবী
  4. দৃষ্টিহীন
ব্যাখ্যা
• প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী

অন্যদিকে,
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল লোহিত।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
- 'দৃষ্টিহীন' ছদ্মনামে লিখতেন দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৭৮.
'গৌড়তটবাসী মশা' কার ছদ্মনাম?
  1. শওকত ওসমান
  2. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত 
  3. মীর মোশাররফ হোসেন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী
ব্যাখ্যা

'গৌড়তটবাসী মশা' ছদ্মনাম- মীর মশাররফ হোসেনের।  
------------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- মীর মশাররফ হোসেনের প্রচলিত ছদ্মনাম ছিল ‘গাজী মিয়া’।
- তিনি আরও যেসব ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন: গৌড়তটবাসী মশা, উদাসীন পথিক।
- তিনি গো-জীবন নামক প্রবন্ধ রচনা করে মামলায় জড়িয়ে পড়েন।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (১৮৪৩), পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন - যার সম্পাদক ছিলেন কাঙ্গাল হরিনাথ।

- তাঁর নাটকগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
• 'বসন্তকুমারী' ও
• 'জমিদার দর্পণ'।

• মীর মশাররফ হোসেনের আত্মজীবনীমূলক রচনা হচ্ছে গাজী মিয়াঁর বস্তানী। 

- তার রচিত প্রহসন হচ্ছে:
• ফাঁস কাগজ', 
•'ভাই ভাই এইতো চাই', 
• 'এর উপায় কি'।

- তাঁর সবচেয়ে জনপ্রিয় সাহিত্যকর্ম হলো কারবালার যুদ্ধকে উপজীব্য করে লেখা উপন্যাস 'বিষাদ সিন্ধু' - যার তিনটি খণ্ড হলো:
• মহররম পর্ব,
• উদ্ধার পর্ব ও
• ইয়াজিদ বধ পর্ব।
-----------------------------------
অন্যদিকে, 
•  ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের  ছদ্মনাম- ‘ভ্রমণকারী বন্ধু’।
• সৈয়দ মুজতবা আলীর সবচেয়ে প্রচলিত ছদ্মনাম হলো-
- প্রিয়দর্শী, মুসাফির, সত্যপীর।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; 
বাংলাপিডিয়া।    

১,১৭৯.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৪২ সালে
  2. ১৮৪৩ সালে
  3. ১৮৭২ সালে
  4. ১৮৭৩ সালে
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৮০.
বাংলা সাহিত্যে 'ভোরের পাখি' বলা হয় কাকে? 
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. রাজশেখর বসু
  3. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  4. বিহারীলাল চক্রবর্তী
ব্যাখ্যা
• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচত।
- বাংলা গীতিকবিতার জনক হিসেবে পরিচিত বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- তিনি আধুনিক বাংলা গীতিকাব্যের প্রথম ও প্রধান কবি।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' উপাধিতে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল চক্রবর্তীর প্রথম সার্থক গীতিকবিতা ‘বঙ্গসুন্দরী’।
- তার শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ: সারদা মঙ্গল।

বিহারীলাল চক্রবর্তী রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বঙ্গসুন্দরী,
- নিসর্গ সন্দর্শন,
- বন্ধু বিয়োগ,
- সারদা মঙ্গল,
- প্রেমপ্রবাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৮১.
'রসরাজ' কোন সাহিত্যিকের উপাধি?
  1. মুকুন্দদাস
  2. সুভাষ মুখপাধ্যায়
  3. পঞ্চনান কর্মকার
  4. অমৃতলাল বসু
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'রসরাজ' অমৃতলাল বসুর উপাধি।

• অমৃতলাল বসু:
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে নাট্যকার হিসেবেও অমৃতলালের নাম সগৌরবে উচ্চারিত হয়।
- তিনি রঙ্গ-ব্যঙ্গমূলক নাটক রচনা ও তাতে অভিনয় করে সুধীসমাজ কর্তৃক ‘রসরাজ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- নাটক, প্রহসন ও নকশা জাতীয় তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশ।
- তিনি  প্রহসন ও ব্যঙ্গ রচনাতেই অধিক সফল হয়েছেন।
- সমকালের নাগরিক ও গ্রামীণ সমাজের নানা দিক নিয়ে এসব ব্যঙ্গাত্মক নাটক রচিত হয়।

উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- তিলতর্পণ (১৮৮১),
- বিবাহ বিভ্রাট (১৮৮৪),
- তরুবালা (১৮৯১),
- কালাপানি (১৮৯২),
- বাবু (১৮৯৩),
- বিমাতা (১৮৯৩),
- আদর্শ বন্ধু (১৯০০),
- অবতার (১৯০২),
- চোরের উপর বাটপাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৮২.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে?
  1. ঋষি
  2. কমলাকান্ত
  3. রায়বাহাদুর
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালে চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁকে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়।
- তিনি হিন্দু ধর্মনুরাগীদের থেকে 'ঋষি' উপাধি লাভ করেন।

• উপনিবেশিক সরকারের কর্মকর্তা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন। তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্তৃপক্ষ তাঁকে ১৮৯১ সালে ‘রায়বাহাদুর’ এবং ১৮৯৪ সালে ‘Companion of the Most Eminent Order of the Indian Empire’ (CMEOIE) উপাধি প্রদান করে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'কমলাকান্ত' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন। তাঁর 'কমলাকান্তের দপ্তর' নামে একটি প্রবন্ধ গ্রন্থ রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৩.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. সম্বাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. তত্ত্ববোধনী
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা
• বঙ্গদর্শন পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।

• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক, সাংবাদিক, বাংলার নবজাগরণের অন্যতম প্রধান পুরুষ।
- ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন চব্বিশ পরগনা জেলার কাঁঠালপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে।
- আনন্দমঠ, দেবী চৌধুরানী ও সীতারাম তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস।

অন্যদিকে,
- সম্বাদ প্রভাকর সম্পাদনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তত্ত্ববোধনী সম্পাদনা করেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- ভারতী সম্পাদনা করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৮৪.
’কবিকন্ঠহার’ কোন কবির উপাধি ছিলো?  
  1. চন্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  4. ভারতচন্দ্র
ব্যাখ্যা

 • মিথিলার রাজসভার কবি ছিলেন - বিদ্যাপতি। তাঁর উপাধি হলো 'কবিকণ্ঠহার'। 

• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,১৮৫.
'কলমগীর' কোন লেখক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. আবদুল হক
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  4. সেলিম আল দীন
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

অন্যদিকে, 
• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
• প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত, কৃত্তিবাস ভদ্র।
• নাট্যকার সেলিম আল দীনের প্রকৃত নাম মইনুদ্দিন আহমেদ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৬.
'হুতোম প্যাঁচা' কোন লেখকের সাহিত্য ছদ্মনাম?
  1. বিনয় মুখোপাধ্যায়ের
  2. প্যারিচাঁদ মিত্রের
  3. কালীপ্রসন্ন সিংহের
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম- হুতোম প্যাঁচা। 

• কালীপ্রসন্ন সিংহের ছদ্মনাম 'হুতোম প্যাঁচা'। কালীপ্রসন্ন সিংহ ছিলেন একজন  সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক ও সমাজকর্মী। প্রজন্ম পরম্পরায় তিনি তাঁর অসাধারণ সাহিত্যকর্ম 'হুতোম প্যাঁচার নকশা' (১৮৬২) এবং 'পুরাণসংগ্রহ' (মহাভারত থেকে পৌরাণিক গল্পের সংগ্রহ, ১৮৬০-১৮৬৬)-এর জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

অন্যদিকে, 
• বিনয় মুখোপাধ্যায়ের  ছদ্মনাম- যাযাবর। 
• প্যারিচাঁদ মিত্রের টেকচাঁদ ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর। 
• বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- বনফুল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড সৌমিত্র শেখর।
১,১৮৭.
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  3. সজনীকান্ত দাস
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা

'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১,১৮৮.
সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পরিচয়
  2. পূর্বাশা
  3. নয়া সড়ক
  4. মাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা

'পরিচয়' পত্রিকা:
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 'পরিচয়' পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য চর্চায় পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
- বাংলা সাহিত্যে তিরিশের আধুনিকতা আন্দোলনে 'পরিচয়' পত্রিকার অবদান অনস্বীকার্য।
- 'কল্লোল’, ‘কালিকলম', ‘পরিচয়’- এর নাম একসঙ্গে উচ্চারণের দাবি রাখে।
- ১৯৩১ সালে ত্রৈমাসিক পত্রিকাটি কলকাতা থেকে আত্মপ্রকাশ করে।

অন্যদিকে,
'পূর্বাশা' পত্রিকা: 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
'নয়া সড়ক' পত্রিকা: 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
মাসিক পত্রিকা: তৎকালীন একটি বিশিষ্ট পত্রিকা ছিল 'মাসিক পত্রিকা'। ১৮৫৪ সালে প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদারের সম্পাদনায় এই পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৮৯.
“বাঙ্গাল গেজেট” পত্রিকাটি কবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮০
  2. ১৮১৮
  3. ১৮২১
  4. ১৮২৯
ব্যাখ্যা

উপমহাদেশের কারো বা কোন বাঙ্গালী কর্তৃক সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা - বাঙ্গাল গেজেট।
এর সম্পাদক - গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য ও প্রকাশকাল - ১৮১৮।
উল্লেখ্য, ১৮১৮ সালেই বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িকী - 'দিকদর্শন' প্রকাশিত হয়।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৯০.
‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ' নূরন্নেসা খাতুনকে কোন উপাধিতে ভূষিত করেছে?
  1. সাহিত্য নন্দিনী 
  2. সাহিত্য সরস্বতী
  3. বিদ্যার ঝুড়ি 
  4. বিদ্যাবিনোদিনী 
ব্যাখ্যা

নূরন্নেসা খাতুনকে ‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ’ তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ 'সাহিত্য সরস্বতী' উপাধিতে ভূষিত করেছিল। 
----------------------------------------
নূরন্নেসা খাতুন:
- নূরন্নেসা খাতুন ছিলেন প্রথম মুসলিম মহিলা ঔপন্যাসিক।
- তিনি ১৮৯৪ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তাঁর পিতা খোন্দকার হাবিবুস সোবহান সরকারি চাকুরে ছিলেন।
- ১৯২৩ সালে শ্রীরামপুর (হুগলী) থেকে তাঁর প্রথম উপন্যাস স্বপ্নদৃষ্টা প্রকাশিত হয়। 
- স্বপ্নদৃষ্টা উপন্যাসটি বেগম রোকেয়ার পদ্মরাগের (১৯২৪) চেয়ে এক বছর আগে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তী সময়ে তিনি জানকী বাঈ বা ভারতে মোসলেম বীরত্ব, আত্মদান, ভাগ্যচক্র, বিধিলিপি, নিয়তি প্রভৃতি উপন্যাস ও উপন্যাসধর্মী রচনা প্রকাশ করেন।
- তাঁর সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নিখিল বঙ্গ সাহিত্য সমিতি’ তাঁকে বিদ্যাবিনোদিনী উপাধিতে অভিহিত করে। 
- এবং ‘নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ’ তাঁকে সাহিত্য সরস্বতী উপাধিতে ভূষিত করে।
- ১৯৭৫ সালের ৬ই এপ্রিল তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। 

১,১৯১.
মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকার নাম কী?
  1. মোসলেম ভারত
  2. হিতকরী
  3. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  4. বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা
• সমাচার সভারাজেন্দ্র:
- মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা ‘সমাচার সভারাজেন্দ্র’।
- ১৮৩১ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ ।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। 
- এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৯২.
মুসলিম সাহিত্য সমাজের বার্ষিক মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকার পঞ্চম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন-
  1. ক) আবুল হুসেন
  2. খ) মোহাম্মদ আবদুর রশিদ
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) কাজী মোতাহার হোসেন
ব্যাখ্যা
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের বার্ষিক মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের চৈত্র মাসে বা ১৯২৭ সালে।
শিখার মোট পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল। প্রথম সংখ্যা আবুল হুসেন, দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংখ্যা কাজী মোতাহার হোসেন, চতুর্থ সংখ্যা মোহাম্মদ আবদুর রশিদ এবং পঞ্চম সংখ্যা আবুল ফজল সম্পাদনা করেন।
শিখার মুখবাণী ছিল -''জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব''।
[সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া]
১,১৯৩.
'কলমসৈনিক' কার উপাধি?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবদুল করিম
  3. আবদুল হক
  4. আবদুল হাকিম
ব্যাখ্যা

আবদুল হক-এর উপাধি হলো 'কলমসৈনিক'।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে 'কলমসৈনিক' উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি সাহিত্যবিশারদ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি ছান্দসিক কবি।
• আবদুল হাকিম মধ্যযুগের বিখ্যাত একজন বাঙালি কবি। তিনি তার রচিত নূরনামা কাব্যের জন্য অধিক পরিচিত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; প্রথম আলো পত্রিকা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৯৪.
'রংপুর বার্তাবহ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ
  4. গুরুচরণ শর্মা রায়
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র 'রংপুর বার্তাবহ'।
- এর সম্পাদক ছিলেন গুরুচরণ শর্মা রায়।
- এটি ১৮৪৭ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- ঢাকা প্রকাশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- এটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম পত্রিকা।
উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,১৯৫.
মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্রিকা -
  1. মাসিক মোহাম্মদী
  2. হিতকরী
  3. সাধনা
  4. মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়।
- পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে,
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- ’সাধনা’ পত্রিকা জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক সম্পাদিত পত্রিকার নাম ‘মোসলেম ভারত‘।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৬.
'কলমসৈনিক'— কার উপাধি?
  1. আবদুল হক
  2. আবদুল করিম 
  3. মালাধর বসু
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

• 'কলমসৈনিক' আবদুল হকের উপাধি।
- বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার পক্ষে সাহসী ও ক্ষুরধার লেখনীর মাধ্যমে তিনি বিশ শতকের ষাটের দশকে ‘কলমসৈনিক’ উপাধি লাভ করেন।

অন্যদিকে,
• আবদুল করিমের উপাধি - সাহিত্যবিশারদ।
• আবদুল কাদিরের উপাধি - ছান্দসিক কবি।
• 'মালাধর বসু' এর উপাধি- গুণরাজ খান।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,১৯৭.
'শ্রীকান্ত শর্মা' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম - হাবু শর্মা।
• 'কমলাকান্ত' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের কিছু ছদ্মনাম হলো:
- নবকুমার,
- কবিরত্ন,
- অশীতিপর শর্মা,
- ত্রিবিক্রম বর্মণ,
- কলমগীর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১৯৮.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন-
  1. বুদ্ধদেব বসু 
  2. ক্ষিতিমোহন সেন
  3. মহাত্মা গান্ধী
  4. ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'কবিগুরু':
ক্ষিতিমোহন সেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "কবিগুরু" উপাধি দেন, যা তাঁর কাব্যিক প্রজ্ঞা এবং তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই দেওয়া হয়েছিল।  

উল্লেখ্য,
------------------
• 'গুরুদেব':
মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "গুরুদেব" বলে সম্বোধন করেছিলেন, যা ছিল তাঁর নৈতিক ও বৌদ্ধিক নেতৃত্ব ও প্রতি সম্মানের প্রকাশ।

• 'বিশ্বকবি': 
"বিশ্বকবি" পণ্ডিত ব্রহ্মবান্ধব উপাধ্যায় প্রথম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে "বিশ্বকবি" উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট রোমান ক্যাথলিক পণ্ডিত, সমাজ সংস্কারক এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ।

• 'ভারতের মহাকবি':
'ভারতের মহাকবি' উপাধিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে চীনের কবি চি লিজন দিয়েছিলেন। এই উপাধিটি রবীন্দ্রনাথের বিশ্বব্যাপী সাহিত্যিক অবদানের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধদেব বসু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে কোনো বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করেননি, বরং তিনি তাঁর সাহিত্যিক অবদানের জন্য রবীন্দ্রনাথকে 'আদিগন্ত ব্যাপ্ত' এবং 'স্বরাট' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া; 'আমর ছেলেবেলা' বুদ্ধদেব বসু।

১,১৯৯.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা কত খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দ
  2. ১৭৭৮ খ্রিষ্টাব্দ
  3. ১৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ১৭৪৫ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,২০০.
'সমাচার দর্পণ' বাংলা ভাষার প্রথম- 
  1. সাপ্তাহিক পত্রিকা 
  2. দৈনিক পত্রিকা
  3. মাসিক পত্রিকা
  4. অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা 
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- বাংলা ভাষার প্রথম সংবাদপত্র- 'সমাচার দর্পণ'।  ১৮১৮ সালের মে মাসে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান। এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।