বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা ১১ / ১৬ · ১,০০১১,১০০ / ১,৬০৩

১,০০১.
বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ কোন পত্রিকায় প্রথম মুদ্রিত হয়?
  1. তত্ত্ববােধিনী
  2. বঙ্গদর্শন
  3. ভারতী
  4. দিগদর্শন
ব্যাখ্যা

'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০০২.
'শিখা' পত্রিকাটি কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলো?
  1. বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. বাংলা একাডেমি
  3. ফোর্ড উইলিয়াম কলেজ
  4. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
ব্যাখ্যা
'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০০৩.
'যাযাবর' কোন লেখক এর ছদ্মনাম?
  1. রাজশেখর বসু
  2. মধুসূধন মজুমদার
  3. হরীনাথ মজুমদার
  4. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়:
- যাযাবর' ছদ্মনামটি সাহিত্যিক বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের।
-  
বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় একজন বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক, সাংবাদিক এবং গীতিকার।
- তিনি ১৯০৮ সালের ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের ঢাকার ফেগুনামার গ্রাম, ব্রিটিশ ভারত (বর্তমানে বাংলাদেশ) এ জন্মগ্রহণ করেন।
- যাযাবর নামে "দৃষ্টিপাত" রম্যরচনা লিখে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় লেখক হয়ে ওঠেন।

• ছোটগল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধ সংকলন মিলিয়ে বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের গ্রন্থগুলো:
- 'দৃষ্টিপাত',
- 'জনান্তিকে',
- 'ঝিলম নদীর তীরে',
- 'লঘুকরণ',
- 'হ্রস্ব ও দীর্ঘ্‌
- 'যখন বৃষ্টি নামল',
- যাযাবর অমনিবাস।

অন্যদিকে, 
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম ছিল "পরশুরাম"
- মধুসূদন মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিল "দৃষ্টিহীন”।
- হরীনাথ মজুমদার ছিলেন একজন সাংবাদিক, কবি, লেখক এবং বাউল শিল্পী, যিনি ‘কাঙ্গাল হরিনাথ’ নামে পরিচিত ছিলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০০৪.
'কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক কে?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. সমর সেন
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা

'কবিতা' পত্রিকা:
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকার নাম হচ্ছে - কবিতা।
- বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনা সূত্রে সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে।
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো। 
- আধুনিক এমন কোনো বাঙালি উল্লেখযোগ্য কবি নেই, যিনি 'কবিতা' পত্রিকায় লিখেন নি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০০৫.
বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে কোন পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম?
  1. তত্ত্ববোধিনী
  2. মোসলেম ভারত
  3. সবুজপত্র
  4. সাধনা
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম। সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে।
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়।
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০৬.
'নবনূর' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. শেখ ফজলল করিম
  2. রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ
  3. সৈয়দ এমদাদ আলী
  4. শেখ আব্দুর রহিম
ব্যাখ্যা
• 'নবনূর' পত্রিকা ১৯০৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- সৈয়দ এমদাদ আলী এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

অন্যদিকে,
• 'বাসনা' পত্রিকা ১৯০৮ সালে প্রকাশিত হয়।
- শেখ ফজলল করিম এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

• বিশ শতকের পত্রিকা নয় - মিহির।
- এটি ১৮৯২ সালে প্রকাশিত হয়। 
- সম্পাদক ছিলেন -শেখ আবদুর রহিম। 
উল্লেখ্য,
• হাফেজ, মিহির ও সুধাকর এই তিনটি পত্রিকারই সম্পাদক ছিলেন শেখ আবদুর রহিম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০৭.
মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. নয়া সড়ক
  2. সমকাল
  3. সাধনা
  4. মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা

'মোসলেম ভারত' পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক 'মোসলেম ভারত' প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- 'মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

অন্যদিকে,
- আবু জাফর শামসুদ্দীন এবং মোহাম্মদ নাসির আলির সম্পাদনা পত্রিকা - নয়া সড়ক।
- মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন সিকান্দার আবু জাফর।
- রবীন্দ্র- ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় পত্রিকা - সাধনা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০০৮.
কোন লেখকের ছদ্মনাম ‘কালপেঁচা’?
  1. বিনয় ঘোষ
  2. বিনয় মজুমদার
  3. বিনয় কৃষ্ণ চৌধুরী
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
বিনয় ঘোষ:
- বিনয় ঘোষ ছিলেন - সাংবাদিক, সমাজতাত্ত্বিক, লেখক, সাহিত্যসমালোচক, বাংলা ভাষা ও লোকসংস্কৃতির গবেষক।
- তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘কালপেঁচা’। ১৯১৭ সালের ১৪ জুন কলকাতায় তাঁর জন্ম, পৈতৃক নিবাস ছিল যশোরে।
- তিনি মার্কসবাদে বিশ্বাসী ছিলেন; তাই তাঁর রচনায় মার্কসীয় জীবনদর্শনের অনুশীলন লক্ষ করা যায়।
- ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের (১৯৪৩) সঙ্গে বিনয় ঘোষের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। এখানে তাঁর ল্যাবরেটরী নাটকটি অভিনীত হয়।
- পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণ ও ক্ষেত্রসমীক্ষা-ভিত্তিক আলোচনাগ্রন্থ পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি (১৯৫৭) তাঁর বিশিষ্ট রচনা।
- মার্কসবাদের আলোকে সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা ও বিশ্লেষণ এসব গ্রন্থের প্রধান আকর্ষণ।

তাঁর রাজনীতিবিষয়ক গ্রন্থ:
- আন্তর্জাতিক রাজনীতি,
- সোভিয়েট সভ্যতা (২ খন্ড),
- ফ্যাসিজম ও জনযুদ্ধ,
- সোভিয়েট সমাজ ও সংস্কৃতি প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম - হুতোম পেঁচা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০০৯.
বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পত্রিকা 'কল্লোল' এর প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. দীনেশরঞ্জন মিত্র
  2. অজিতকুমার দত্ত
  3. দীনেশরঞ্জন দাশ
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র
ব্যাখ্যা
১৯২৩ সালে প্রথম কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।
- রবীন্দ্র-রোম্যান্টিক বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য। 

 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন
- অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত,
- শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়,
- বুদ্ধদেব বসু,
- প্রেমেন্দ্র মিত্র,
- মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া]
১,০১০.
নিচের কোন সাময়িকপত্রটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়?
  1. ক) কল্লোল
  2. খ) পরিচয়
  3. গ) চতুরঙ্গ
  4. ঘ) লোকায়ত
ব্যাখ্যা
'লোকায়ত' ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি সাহিত্য পত্রিকা। ১৯৮২ সালে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরিচয় কলকাতা থেকে প্রকাশিত সাহিত্য পত্রিকা। সম্পাদক ছিলেন সুধীন্দ্রনাথ দত্ত। উৎস: শীকর, বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসিনা নাজিলা।
১,০১১.
'কাব্যকন্ঠ' - কোন কবির উপাধি?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. বিদ্যাপতি
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা

মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক: 
- তিনি ছিলেন একজন কবি।
- পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার নাম ‘মোসলেম ভারত‘।

তাঁর সাহিত্যকর্ম:
কাব্যগ্রন্থ:
- অপূর্বদর্শন ,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- কুসুমাঞ্জলি,
- হজরত মহাম্মদ ইত্যাদি।  
 
উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী  ইত্যাদি।  
 
গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি-মনসুর,
- ফেরদৌসী-চরিত ইত্যাদি।  
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,০১২.
'সংবাদ প্রভাকর' কত সালে 'দৈনিক' পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩১ সালে
  2. ১৮৩৯ সালে
  3. ১৮৩৬ সালে
  4. ১৮৩৭ সালে
ব্যাখ্যা

'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১,০১৩.
'ভারতী' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রমেশচন্দ্র দত্ত
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার
  3. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  4. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ভারতী পত্রিকা:
- পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ১৫ শ্রাবণ (২৯ জুলাই, ১৮৭৭ খ্রি)।
- ভারতী-র প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)।
- তবে কার্যত পত্রিকা প্রকাশের সবরকম দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
- ভারতী-র প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর তিনটি রচনা প্রদান করেন।
- ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ।
- দ্বিজেন্দ্রনাথ ১২৮৪ থেকে ১২৯০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন।
- পরে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন স্বর্ণকুমারী দেবী। তিনি ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- ভারতীর লেখকদের একটি দীর্ঘ তালিকা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন 
- অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়, অনুরূপা দেবী,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ,  অমৃতলাল বসু,  অসিতকুমার হালদার, ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণী,  উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, কালিদাস রায়, গিরীন্দ্রমোহিনী দাসী,  দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার,  দীনেশচন্দ্র সেন, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, নিরূপমা দেবী,  প্রমথ চৌধুরী,  যদুনাথ সরকার,  শিবনাথ শাস্ত্রী,  রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী এবং  রমেশচন্দ্র দত্ত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০১৪.
দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. দৃষ্টিহীন
  2. দিকশূন্য
  3. প্রিয়দর্শী
  4. অল্পদর্শী
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ব্যবহৃত ছদ্মনাম- দৃষ্টিহীন। 

অন্যদিকে,
- সৈয়ত মুজতবা আলী তার বিভিন্ন গ্রন্থে তিনটি ছদ্মনাম ব্যবহার করে, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, মুসাফির ও সত্যপীর।
- 'দিকশূন্য ভট্টাচার্য'- 'রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর' এর ছদ্মনাম।
- আবু জাফর শামসুদ্দিন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

---------------------
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০১৫.
'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন?
  1. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
  2. জেমস অগাস্টাস হিকি
  3. গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য
  4. উইলিয়াম কেরি
ব্যাখ্যা
 • 'বাঙ্গাল গেজেট':
- 'বাঙ্গাল গেজেট' পত্রিকার প্রথম সম্পাদক- গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য।
- এটি বাঙালি পরিচালিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- এটি ১৮১৮ সালে প্রকাশিত হয়; পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করতে পারে নি।

অন্যদিকে,
- জন ক্লার্ক মার্শম্যান প্রথম বাংলা সাময়িকপত্র 'দিগদর্শন' ও সাপ্তাহিক 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন ।
- 'দিগদর্শন' ১৮১৮ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত হয়।
- 'সমাচার দর্পণ' ১৮১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়।

- জেমস অগাস্টাস হিকি 'বেঙ্গল গেজেট' ইংরেজি সাময়িকপত্রটির সম্পাদক ছিলেন ।
- এটি ১৭৮০ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০১৬.
ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র -
  1. দৈনিক সমকাল
  2. ঢাকা প্রকাশ
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. শিখা
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকা: 
- 'ঢাকা প্রকাশ' পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন- 'কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার'।
- 'ঢাকা প্রকাশ' হলো ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র।
- এটির সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পত্রিকাটি ১৮৬১ সালের ৭ মার্চ বাবুবাজারের ‘বাঙালা যন্ত্র’ থেকে প্রথম প্রকাশিত হয়। ঢাকা প্রকাশ প্রায় ১০০ বছর টিকে ছিলো।
- ঢাকা প্রকাশের প্রথম সম্পাদক ছিলেন কবি  কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
- পরিচালকগণের মধ্যে প্রধান ছিলেন ব্রজসুন্দর মিত্র, দীনবন্ধু মৌলিক, ঈশ্বরচন্দ্র বসু, চন্দ্রকান্ত বসু প্রমুখ। ।

অন্যদিকে,
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।

সংবাদ প্রভাকর: 
- সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন

- ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র শিখা পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে।

উৎস:
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,০১৭.
'দৃষ্টিহীন' কোন সাহিত্যিক ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. দিজেন্দ্রলাল রায় 
  2. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
  3. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  4. আবু জাফর শামসুদ্দিন
ব্যাখ্যা

• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ১৮৭৭ সালে উলাইল গ্রাম, ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন।

- বিদ্যালয়ের অধ্যয়ন-শেষে পিতার সঙ্গে ২১ বছর বয়সে মুর্শিদাবাদে গিয়ে সেখানে ৫ বছর বাস করেন। এই সময় থেকেই 'সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকা', 'প্রদীপ' প্রভৃতি পত্রিকাতে প্রবন্ধাবলী প্রকাশ করতে থাকেন এবং নিজেও 'সুধা' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করেন।

- এরপর পিতৃম্বসার জমিদারী তত্ত্বাবধানের ভারপ্রাপ্ত হয়ে ময়মনসিংহে আসেন। সেই সময় থেকে দশ বছর ধরে বাঙলার লুপ্তপ্রায় 'কথাসাহিত্যে'র সংগ্রহ ও গবেষণা করেন। পরে এই সংগৃহীত উপদানসমূহ ড. দীনেশচন্দ্র সেনের উপদেশানুযায়ী রূপকথা, গীতিকথা, রসকথা ও ব্রতকথা-এই চারভাগে বিভক্ত করে পূর্ববঙ্গের পল্লী-অঞ্চলের লুপ্তপ্রায় বিপুল কথাসাহিত্যকে 'ঠাকুরমার ঝুলি', 'ঠাকুরদাদার ঝুলি', 'দাদামশায়ের থলে', 'ঠানদিদির থলে' প্রভৃতি গল্পগ্রন্থে স্থায়ী রূপদান করেছেন।

- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের সাহিত্যিক ছদ্মনাম - দৃষ্টিহীন।

অন্যদিকে, 
---------------
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম- হাবু শর্মা।

• দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কোনো সুপরিচিত ছদ্মনাম নেই, তবে তিনি 'ডি. এল. রায়' নামেও পরিচিত ছিলেন, যা তাঁর নামের আদ্যক্ষর। 

• আবু জাফর শামসুদ্দিন 'অল্পদর্শী' ছদ্মনামে 'বৈহাসিকের পার্শ্বচিন্তা' শিরোনামে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় কলাম লিখতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০১৮.
'মৈনাক' ছদ্মনামে পত্রিকায় কলাম লিখতেন-
  1. শামসুর রাহমান
  2. সৈয়দ শামসুল হক
  3. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  4. শওকত আলী
ব্যাখ্যা
• শামসুর রাহমান:
⇒ নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানা থেকে আরেকটু ভেতরে মেঘনাপাড়ের গ্রাম পাড়াতলী- কবি শামসুর রাহমানের পৈতৃক নিবাস। তবে জন্মেছিলেন ঢাকা শহরের ৪৬ নম্বর মাহুতটুলির বাড়িতে। দশ ভাইবোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ তিনি।

⇒ ১৯৪৮ সালে যখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর তখন মননের গহীন তলাটে কবিতার যে আবাদভূমি গড়ে উঠেছিল- তা কেবল উর্বরই হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে নলিনীকিশোর গুহের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতা- তারপর দে ছুট। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। এখন গদ্য-পদ্য মিলিয়ে তার গ্রন্থসংখ্যা প্রায় একশ'র কোঠা ছুঁই ছুঁই।

⇒ 'মর্নিং নিউজ'-এ সাংবাদিকতার মধ্যদিয়ে ১৯৫৭ সালে যে চাকরি জীবন শুরু করেছিলেন, একই পেশায় থেকে ১৯৮৭ সালে দৈনিক বাংলার সম্পাদক পদ থেকে তিনি চাকরিতে ইস্তফা দেন।
⇒ মূলত কবি হলেও সাহিত্যে তার কাজ বহুমাত্রিক। অনুবাদ সাহিত্য থেকে গদ্যের বিভিন্ন প্রশাখায় বিচরণ করেছেন তিনি।
⇒ 'মৈনাক' ছদ্মনামে কলামও লিখেছেন নিয়মিত। 

• তিনি একাধিক পুরস্কার ও উপাধিকে ভূষিত হন:
- পেয়েছেন আদমজী পুরস্কার (১৯৬৩), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৯), একুশে পদক (১৯৭৭)।
- সাংবাদিকতার জন্যে পেয়েছেন জাপানের মিৎসুবিশি পদক (১৯৯২), ভারতের আনন্দ পুরস্কার (১৯৯৪) ছাড়াও বহু পুরস্কারে ভূষিত কবি শামসুর রাহমান।
- ভারতের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডি লিট উপাধিতেও ভূষিত।

• শামসুর রাহমান রচিত কিছু উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বাংলাদেশ স্বপ্ন দ্যাখে,
- প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে,
- রৌদ্র করোটিতে,
- বিধ্বস্ত নীলিমা,
- নিরালোকে দিব্যরথ,
- নিজ বাসভূমে,
- বন্দী শিবির থেকে,
- ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,
- আমি অনাহারী,
- প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে,
- উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ,
- বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়,
- হরিণের হাড়,
- তুমি নিঃশ্বাস তুমি হৃদস্পন্দন ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর: ‘কালের ধুলোয় লেখা’ শামসুর রাহমান।
১,০১৯.
বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কালিকলম
  2. কবিতা
  3. সমকাল
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'। সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

অন্যদিকে,
-----------------
- 'কালিকলম' সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)। মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত হতো।

- 'কবিতা' কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ ১ অক্টোবর ১৯৩৫ (আশ্বিন ১৩৪২)। পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হলেও বুদ্ধদেব বসুই এর প্রধান পরিচালক ছিলেন। 

- মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন - সিকান্দার আবু জাফর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০২০.
কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্‌ফর আহমদ এর যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. ধূমকেতু
  2. যুগবাণী 
  3. দৈনিক নবযুগ
  4. লাঙ্গল
ব্যাখ্যা

• 'দৈনিক নবযুগ':
- পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।
- দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফ্‌ফর আহমদ ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক। পরে ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে পত্রিকাটি পুনঃপ্রকাশিত হলে নজরুল এককভাবে এর সম্পাদক হন।

------------------
• কাজী নজরুল ইসলাম সম্পাদিত পত্রিকাসুমূহ:
- 'ধূমকেতু' ১৯২২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'লাঙ্গল' (১৯২৫) পত্রিকার প্রধান পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম, এটি ১৯২৫ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম কমরেড মুজাফফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন।

• কাজী নজরুল ইসলামের সংগীত বিষয়ক গ্রন্থ:
- চোখের চাতক,
- নজরুল গীতিকা,
- সুর সাকী,
- বনগীতি প্রভৃতি।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দি,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০২১.
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর কোন কাব্য রচনা করে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি লাভ করেন?
  1. সত্য পীরের পাঁচালি
  2. বিদ্যাসুন্দর
  3. অভয়ামঙ্গল
  4. অন্নদামঙ্গল
ব্যাখ্যা
• ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর: 
- মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি এবং বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর। 
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্য রচনা করেন।
- ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যের ৩টি খণ্ড ছিল।
- এ কাব্যের জন্য মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে ‘রায়গুণাকর’ উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্রের প্রথম কাব্য ছিল বিমিশ্র দেবতা সত্যনারায়ণের সম্মানে রচিত একটি পাঁচালি।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের শেষ বড় কবি বা নাগরিক কবিও বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০২২.
'ইয়ংবেঙ্গল' কি?
  1. ক) ব্রিটিশ শাসকদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান
  2. খ) সমাজ সংস্কারমূলক প্রতিষ্ঠান
  3. গ) ইংরেজদের সহযোগীতায় গড়ে উঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
  4. ঘ) ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট তরুন ছাত্রগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত ইংরেজি ভাবধারাপুষ্ট এক তরুন ছাত্রগোষ্ঠী।

ডিরোজিও, হেনরি লুই ভিভিয়ান(১৮০৯-১৯৩১) হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ছিলেন।
- 'ইয়ংবেঙ্গল' ডিরোজিও প্রভাবিত এক তরুন ছাত্রগোষ্ঠী।
- এদের মধ্যে  প্রধান ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রসিককৃষ্ণ মল্লিক, দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়, রামগোপাল ঘোষ, রামতনু লাহিড়ী, প্যারীচাঁদ মিত্র ও তারা চাঁদ চক্রবর্তী।
- ছাত্র হিসেবে সকলেই ছিলেন প্রতিভাবান, ইংরেজি শিক্ষার প্রতি প্রবল আগ্রহী।
- প্রথম জীবনে হিন্দুধর্মের প্রতি অশ্রদ্ধাপরায়ণ ও ঐতিহ্য সম্পর্কে অত্যন্ত সমালোচনা-মুখর। 
- প্রচলিত হিন্দুত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ তাদের ঐক্যসূত্র। 
- ঊনবিংশ শতাব্দীর সাহিত্য, ধর্ম, নীতি গঠনে তাদের বিশিষ্ট ভূমিকা ছিল। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২৩.
'ছন্দের জাদুকর' কে?
  1.  কাজী নজরুল ইসলাম
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত 
  4. সুকুমার রায়
ব্যাখ্যা

• 'সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত' কে 'ছন্দের জাদুকর' বলা হয়।

------------------
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কবি ও ছান্দসিক সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারিতে।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।

- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। প্রথম জীবনে তিনি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দেবেন্দ্রনাথ সেন, অক্ষয়কুমার বড়াল প্রমুখের দ্বারা প্রভাবিত হন। পরে রবীন্দ্রানুসারী হলেও তিনি কবিস্বভাবে হয়ে ওঠেন স্বতন্ত্র।

- তিনি নানাবিধ ছন্দোনির্মাণ ও ছন্দ উদ্ভাবনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন। বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি 'ছন্দের জাদুকর' ও 'ছন্দোরাজ' নামে সাধারণ্যে পরিচিত।

- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায় ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা 'ছন্দ-সরস্বতী' প্রকাশিত হয়। বাংলা শব্দের সঙ্গে আরবি-ফারসি শব্দের সমন্বিত ব্যবহার দ্বারা বাংলা কাব্যভাষার শক্তি বৃদ্ধির প্রাথমিক কৃতিত্ব তাঁরই।

- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হলো:
- সবিতা,
- সন্ধিক্ষণ,
- বেণু ও বীণা,
- হোম শিখা,
- ফুলের ফসল,
- কুহু ও কেকা,
- তুলির লিখন,
- অভ্র-আবীর,
- হসন্তিকা,
- বেলা শেষের গান,
- বিদায়-আরতি,
- কাব্যসঞ্চয়ন,
- শিশু-কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০২৪.
‘ছন্দোরাজ’ নামে পরিচিত ছিলেন কে?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  3. সুকুমার রায়
  4. আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি।
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি।
- এজন্য তিনি, 
‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০২৫.
"মোসলেম ভারত" পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৮
  2. ১৯১৪
  3. ১৯২৩
  4. ১৯২০
ব্যাখ্যা
- ‘মোসলেম ভারত’ মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন - মোজাম্মেল হক।
- পত্রিকার প্রথম সংখ্যা ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে (এপ্রিল-মে, ১৯২০) এবং সর্বশেষ সংখ্যা ১৩২৮ বঙ্গাব্দের পৌষ মাসে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি, ১৯২১-২২) প্রকাশিত হয়।
- এর বর্ণবহুল প্রচ্ছদে ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিল্পকলা তুলে ধরা হতো
- ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা বিরাট ভূমিকা পালন করে।
সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,০২৬.
বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
  2. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন
  3. মোহাম্মদ নাসির আলি
  4. ডা. লুৎফর রহমান
ব্যাখ্যা
• 'বেগম' পত্রিকা:
- 'বেগম' বাংলার প্রথম সচিত্র মহিলা সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়। সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের  আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৫০ সালে বেগম ঢাকায় স্থানান্তরিত হয়।

- বেগমের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন বেগম সুফিয়া কামাল। পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

- বেগমের প্রথম সংখ্যা ছাপা হয়েছিল ৫০০ কপি এবং প্রতিকপির মূল্য ছিল চার আনা। প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদে বেগম রোকেয়ার  ছবি ছাপা হয়েছিল। পত্রিকাটির একটি বিশেষ আকর্ষণ এর বার্ষিক ঈদসংখ্যা।  প্রথম ঈদসংখ্যা প্রকাশিত হয় ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে, দাম ছিল ২ টাকা।

- গোড়ার দিকে মহিলাদের ছদ্মনামে অনেক পুরুষও বেগমে লিখতেন। ১৯৪৮ সালে বেগমে প্রথমবারের মতো লেখিকাদের ছবি ছাপা হয়। মেয়েরা, বিশেষত মহিলা লেখিকগণ যাতে একত্র হয়ে নিজেদের এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন, সে উদ্দেশ্যে বেগম পত্রিকার অফিসেই ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বেগম ক্লাব।

- ক্লাবের প্রথম সভানেত্রী ছিলেন শামসুন্নাহার মাহমুদ এবং সম্পাদিকা নূরজাহান বেগম। পঞ্চাশের দশকে সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সমাজকর্মের ক্ষেত্রে  বেগম ক্লাবের কার্যক্রম এক নব দিগন্তের সূচনা করে। প্রথম দিকে মাসে একবার, পরের দিকে বছরে একবার লেখিকারা সম্মিলিত হয়ে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতেন। ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বেগম ক্লাব সক্রিয় ছিল।

- দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মহিলাদের প্রগতিশীল চিন্তা এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে বিগত অর্ধ শতক ধরে বেগম পত্রিকা নারী সমাজের উন্নতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

পত্রিকাটির প্রথম দশকে যাঁরা লিখেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-
- রাজিয়া খাতুন,
- শামসুন্নাহার মাহমুদ,
- সেলিনা পন্নী,
- প্রতিভা গাঙ্গুলী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- 'নারীশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ডা. লুৎফর রহমান।
- 'নয়া সড়ক' (১৯৪৮) মোহাম্মদ নাসির আলি ও আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০২৭.
কালীপ্রসন্ন সিংহ ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. কালকূট
  2. হুতোম পেঁচা
  3. বনফুল
  4. টেকচাঁদ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম - হুতোম পেঁচা।

অন্যদিকে, 
- সমরেশ বসুর ছদ্মনাম 'কালকূট'।
- বনফুল ছদ্মনামে লিখতেন 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়'।
- প্যারীচাঁদ মিত্র এর ছদ্মনাম ছিল টেকচাঁদ ঠাকুর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০২৮.
বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন -
  1. প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
  2. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
  3. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  4. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা সাহিত্যের 'স্বভাব কবি' হচ্ছেন গোবিন্দচন্দ্র দাস
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- তাঁর প্রথমা পত্নী সারদাসুন্দরীর মৃত্যুর প্রায় সাত বছর পর তিনি দ্বিতীয়বার দারপরিগ্রহ করেন।
- কিন্তু কবিতার মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রথমা পত্নীকে অমর করে রেখেছেন।

অন্যদিকে, 
- প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - শ্রীমতী রাধামণি দেবী।
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - নীল লোহিত।
- তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম 'হাবু শর্মা'।

তাঁর কাব্যগ্রন্থ:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০২৯.
সমর সেন কোন পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. কবিতা
  2. পরিচয়
  3. পূর্বাশা
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
• বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সমর সেন এই তিন কবি 'কবিতা' পত্রিকার সূচনা পর্বের সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন।
- পত্রিকাটি  ১৯৩৫ সালে প্রথম প্রকাশ পায় এবং ১৯৬১ সাল পর্যন্ত চলে। 
- এ পত্রিকায় শুধু কবিতা ও কবিতা বিষয়ক গদ্য ছাপা হতো।

অন্যদিকে,
• বুদ্ধদেব বসু ও অজিত দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা - প্রগতি।
- এটি ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয়।

• সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা - পূর্বাশা।
- এটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদিত পত্রিকা - পরিচয়।
- এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়।
- তিনি একাধারে ১২ বছর এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩০.
"মুসাফির" কোন লেখকের ছদ্মনাম?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. আবুল হোসেন
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা

সৈয়দ মুজতবা আলী:
- ১৯০৪ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কাজী নজরুল ইসলামের 'রুবাইয়াৎ-ই-ওমর খৈয়াম' গ্রন্থের ভূমিকা লিখেন।
- ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
- 'দেশে বিদেশে' সৈয়দ মুজতবা আলীর প্রথম গ্রন্থ।
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী; ওমর খৈয়াম; মুসাফির; সত্য পীর।

অন্যদিকে,
মীর মশাররফ হোসেনর ছদ্মনাম গুলো: গৌড়তটবাসী মশা, গাজী মিয়া এবং উদাসীন পথিক।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৩১.
'কাব্যভূষণ ও বিদ্যাভূষণ' কার উপাধি?
  1. শেখ ফজলুল করিম
  2. কাজেম আল কোরায়েশী
  3. মালাধর বসু
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
- 'কাজেম আল কোরেশী / কায়কোবাদ' এর উপাধি   - 'কাব্যভূষণ ও বিদ্যাভূষণ'। 

• অন্যদিকে: 
- 'মোহাম্মদ নজিবর রহমান' এর উপাধি- সাহিত্যরত্ন।  
- 'মালাধর বসু' এর উপাধি- গুণরাজ খান।  
-------------------------------- 
• কায়কোবাদ:
- ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী।
- ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- বাঙালি মুসলমান কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচয়িতা কায়কোবাদ।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য 'বিরহবিলাপ' প্রকাশিত হয়।
- বাংলা কাব্যসাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ তাঁকে ‘কাব্যভূষণ’, ‘বিদ্যাভূষণ ও ‘সাহিত্যরত্ন’ উপাধিতে ভূষিত করে।
 
• তাঁর রচিত অন্যান্য কাব্যগ্রন্থ: 
- অশ্রুমালা।
- মহাশ্মশান (পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) অবলম্বনে কাব্যটি রচিত)।
- শিবমন্দির।
- অমিয়ধারা।
- শ্মশান-ভস্ম।
- মহরম শরীফ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৩২.
'শিখা' পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. আবুল হুসেন
  2. মোতাহার হোসেন চৌধুরী
  3. মুন্সি আহমদ আলী
  4. আবদুল কাদির
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক। শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৩.
বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা 'বার্তাবহ যন্ত্র' ছাপাখানা কোথায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
  1. ঢাকা
  2. যশোর
  3. কুষ্টিয়া
  4. রংপুর
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
'বার্তাবহ যন্ত্র' ছাপাখানা:
- বাংলাদেশের প্রথম ছাপাখানা।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৮৪৭ সাল।
- স্থান: রংপুর।
- এই ছাপাখানা হতে প্রকাশিত হতো বাংলাদেশের প্রথম সাময়িক পত্রিকা 'রঙ্গপুর বার্তাবহ'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৩৪.
পৃথিবীর প্রথম দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হয় ____ থেকে।
  1. ক) জার্মান
  2. খ) ইংল্যান্ড
  3. গ) ফ্রান্স
  4. ঘ) গ্রীস
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রথম দৈনিক পত্রিকা ১৭০২ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ড থেকে প্রকাশিত হয়। উৎস: লাইভ এমসিকিউ বাংলা লেকচার।
১,০৩৫.
স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা কোনটি?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. বঙ্গদর্শন
  3. শনিবারের চিঠি
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা। প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।

- পত্রিকাটি ১৯৩০-৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।

- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
---------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা। আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৩৬.
'সবুজপত্র' প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১৪ সালে
  2. ১৯১৮ সালে
  3. ১৯২২ সালে
  4. ১৯২৩ সালে
ব্যাখ্যা

 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে।
- সবুজপত্রের প্রথম সংখ্যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত এবং সম্পাদকের নিজের লেখা সন্নিবেশিত হয়।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৩৭.
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় কী ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. বনফুল
  2. ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  3. মৌমাছি
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা

• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল-  ক্বচিৎ প্রৌঢ়।

অন্যদিকে,
• বালাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম ছিল- বনফুল।
• বিমল ঘোষ এর ছদ্মনাম ছিল- মৌমাছি।
• সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম ছিল- কালকূট।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মনাম: 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়- নীল ‍উপাধ্যায়, নীল লোহিত, সনাতন পাঠক।
• তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় - হাবু শর্মা।
• সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।
• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত - নীহারিকা দেবী। 
• বিমল মিত্র - জাবালি।
• সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৩৮.
মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় কোন পত্রিকার সংবাদদাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন?
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. আজিজননেহার
  3. হিতকরী
  4. সুধাকর
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় ‘সংবাদ প্রভাকর’ ও ‘কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল’ সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৩৯.
কোন সাহিত্যিক 'হুতোম প্যাঁচা' নামে পরিচিত?
  1. ক) শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. খ) বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. গ) প্যারীচাঁদ মিত্র
  4. ঘ) কালিপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
- 'কালিপ্রসন্ন সিংহ' বাংলা সাহিত্যে 'হুতোম প্যাঁচা' নামে পরিচিত

অপরদিকে,
- 'কমলাকান্ত' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- 'অনিলাদেবী' শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম।
- 'টেকচাঁদ ঠাকুর' প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪০.
বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র -
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. সমাচার দর্পণ
  3. বেঙ্গল গেজেট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার দর্পণ' — বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র।

'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা: 
- ১৮১৮ সালে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র। 
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

• পত্রিকাটিতে যেসব সংবাদ ছাপানো হতো:
ক. জজ, কালেক্টর ও অন্য রাজকর্মচারীদের নিয়োগ।
খ. ইংল্যান্ড ও ইউরোপ থেকে আগত সংবাদ এবং দেশের নানা সমাচার।
গ. বাণিজ্যবিষয়ক নতুন সংবাদ।
ঘ. জন্ম, বিবাহ ও মৃত্যুবিষয়ক সংবাদ।
ঙ. ভারতবর্ষের প্রাচীন ইতিহাস, পণ্ডিতলোক এবং বইয়ের বিবরণ।
চ. গভর্নর কর্তৃক জারিকৃত আইন ও হুকুম প্রভৃতির বিবরণ।
ছ. ইউরোপীয়দের রচিত বই থেকে এবং ইংল্যান্ড হতে আসা বইয়ের শিল্প ও কলকারখানার বিবরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৪১.
"দুঃখবাদী কবি" ছিলেন কে?
  1. মোজাম্মেল হক
  2. মুকুন্দদাস
  3. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  4. মরমি কবি
ব্যাখ্যা

যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত (১৮৮৭-১৯৫৪) আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
- রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।
- দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন "দুঃখবাদী কবি" আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর।
- প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন।

অন্যদিকে,
মোজাম্মেল হক - শান্তিপুরের কবি।
মুকুন্দদাস - চারণকবি। 
হাসন রাজা - মরমি কবি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৪২.
সাহিত্য বিষয়ক পত্রিকা 'শনিবারের চিঠি' প্রথম কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৯২৪
  2. ১৯৩১
  3. ১৯৩৪
  4. ১৯৪২
ব্যাখ্যা
শনিবারের চিঠি পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি  স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- উল্লেখ্য, পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন - যোগানন্দ দাস। এছাড়াও, নীরদ চন্দ্র চৌধুরীও এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী।
১,০৪৩.
নিচের কোন পত্রিকাটি ১৯২৩ সালে মাসিক সাহিত্য হিসেবে প্রকাশ পায়?
  1. ক) সবুজপত্র
  2. খ) কল্লোল
  3. গ) কালিকলম
  4. ঘ) প্রগতি
ব্যাখ্যা
১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক ‘কল্লোল’ প্রকাশিত হয়।
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র সাহিত্যিক বলয় তৈরী হয়েছিল এবং ‘কল্লোল যুগ’ নামে আলাদা একটি যুগের সৃষ্টি হয়।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
- প্রমথ চৌধুরী নতুন সাহিত্য রীতি প্রবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কথ্য বাংলাকে অগ্রাধিকার দেন, যা ‘বীরবলী’ ভাষা (তাঁর ছদ্মনাম ‘বীরবল’ থেকে) রূপে পরিচিতি লাভ করে। 
- কালিকলম সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)। মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।
- প্রগতি একটি সাহিত্য পত্রিকা। বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায় ঢাকা থেকে প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৩৪ সনের আষাঢ় মাসে (জুলাই ১৯২৭)।
- প্রগতির প্রধান বিষয় ছিল সাহিত্যে আধুনিকতা। এ বিষয়ে তরুণ লেখকদের অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে কল্লোল-র চেয়ে প্রগতির ভূমিকা ছিল বেশি বলিষ্ঠ। 

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৪৪.
'সওগাত' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন
  2. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  3. কাজী আব্দুল ওদুদ
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

• 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- 'মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন'।

• 'সওগাত' পত্রিকা:
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন সওগাতের প্রধান লেখকদের অন্যতম।
- তিনি যখন করাচিতে বেঙ্গল রেজিমেন্টে কর্মরত, তখন 'বাউন্ডুলের আত্মকাহিনী' নামে একটি ছোট গল্প পাঠান।
- এটিই ছিল তাঁর সওগাতে প্রকাশিত প্রথম লেখা।
- সওগাতের অন্যান্য প্রধান লেখক ছিলেন বেগম রোকেয়া, কাজী আবদুল ওদুদ, আবুল কালাম শামসুদ্দীন, আবুল মনসুর আহমদ এবং আবুল ফজল।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এতে লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৪৫.
চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম কী?
  1. জরাসন্ধ
  2. বাণভট্ট
  3. সুনন্দ
  4. চিত্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

• চারুচন্দ্র চক্রবর্তীর ছদ্মনাম - জরাসন্ধ

অন্যদিকে
নীহাররঞ্জন গুপ্তের ছদ্মনাম - বাণভট্ট।
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - সুনন্দ।
সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৪৬.
নিচের কোন কবিকে ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করেন?
  1. ক) বিষ্ণু দে
  2. খ) অমিয় চক্রবর্তী
  3. গ) জীবনানন্দ দাস
  4. ঘ) সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

অমিয় চক্রবর্তী্র  উল্লেখযোগ্য পুরস্কার:- ইউনেস্কো পুরস্কার (১৯৬০), ভারতীয় ন্যাশনাল একাডেমী পুরস্কার। বিশ্ব ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৬৩) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৭০) উপাধিতে ভূষিত করেন।

১৯৭০ সালে ভারত সরকার বুদ্ধদেব বসুকেও ‘পদ্মভূষণ’ পুরস্কারে ভূষিত করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া

 
১,০৪৭.
বাংলা চলিতরীতির মুখপত্র বলা হয় কোন পত্রিকা কে?
  1. প্রগতি
  2. ভারতী
  3. সবুজপত্র
  4. শিখা
ব্যাখ্যা
- সবুজপত্র  বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী।
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ।
-এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন। 
- মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়, পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায়  ও সুরেশ চক্রবর্তী সম্পাদনার কাজে সাহায্য করেন।  
- এই পত্রিকাকে কেন্দ্র করে এক নতুন সাহিত্যগোষ্ঠী এবং সাকহিত্যিক আদর্শ গড়ে উঠে। 
- এই পত্রিকাকে অবলম্বন করে চলিতরীতি বাংলাগদ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। 
- সবুজপত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিন্তা ও ভাষা রীতির আধুনিকতার বিকাশে বিশেষ সহায়ক হয়েছিলো। 
- এরপর থেকে রবীন্দ্রনাথ চলিত রীতির গদ্য লেখায় অধিক উৎসাহী হন।  

[উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া] 
১,০৪৮.
'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  2.  মীর মশাররফ হোসেন
  3. আবুল হোসেন
  4. শেখ আলিমুল্লাহ
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকা:
মুসলমান সম্পাদিত প্রথম সংবাদপত্র 'সমাচার সভারাজেন্দ্র'। এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। ১২৩৭ বঙ্গাব্দের ২৫শে ফাল্গুন অর্থাৎ ১৮৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ হলেও খুব অল্প দিন পরেই তা বন্ধ হয়ে যায়। এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা। এর সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ, প্রকাশিত হতো কলকাতার কলিঙ্গা নামক স্থান থেকে। পত্রিকাটি সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা যায় না।

অন্যদিকে,
• ‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

------------------------
• 'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- ‘হিতকরী’র প্রথম প্রকাশ ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১৫ই বৈশাখ।‘হিতকরী’ প্রথমে পাক্ষিক হিসাবে প্রকাশিত হলেও চাহিদার কারণে দ্বিতীয় বর্ষ থেকে ‘দাশাহিকে’ (দশ দিন অন্তর) রূপান্তরিত হয়। ‘হিতকরী স্থায়ী হয়েছিল পাঁচ বছর, প্রকাশ ছিল অনিয়মিত। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

---------------------
• ‘শিখা’ পত্রিকা
ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজের মুখপাত্র ‘শিখা’ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৭ সালে। এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন আবুল হোসেন। 'জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব'- উক্তিটি পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় লেখা থাকতো। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৪৯.
’শনিবারের চিঠি’ পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. নীরদ চন্দ্র চৌধুরী
  3. অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. রামানন্দ চট্টপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি’ পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে - তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন - সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।
- উল্লেখ্য, পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন - যোগানন্দ দাস।
- এছাড়াও, নীরদ চন্দ্র চৌধুরীও এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৫০.
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৫২ সালে
  2. ১৮৬২ সালে
  3. ১৮৫৩ সালে
  4. ১৮৬৩ সালে
ব্যাখ্যা
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি থেকে কুমারখালি বাংলা পাঠশালা'র প্রধান শিক্ষক হরিনাথ মজুমদারের (কাঙাল হরিনাথ) সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫১.
কোন পত্রিকার মাধ্যমে রবীন্দ্রযুগের সূত্রপাত হয়?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. কল্লোল 
  3. ভারতী
  4. বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা

• দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ও সম্পাদিত ১৮৭৭ সালে প্রথম প্রকাশিত ‘ভারতী’ পত্রিকার মাধ্যমে রবীন্দ্রযুগের সূত্রপাত।
- বিভিন্ন সময়ে স্বর্ণকুমারী দেবী, হিরন্ময়ী দেবী ও সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ, সৌরীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় ও মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় এই পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
-  পত্রিকাটিকে কেন্দ্ৰ করে ‘ভারতী গোষ্ঠী' নামে সাহিত্যিক চক্র গড়ে ওঠে—সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, হেমেন্দ্রকুমার রায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ অনেক কবিসাহিত্যিক এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
- এই পর্যায়ের লেখকগণ চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে মৌলিকতার তেমন পরিচয় দিতে পারেন নি, রবীন্দ্র ছায়াতেই তাঁদের বিকাশ ঘটেছিল।

- জীবেন্দ্র সিংহ রায় এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ভারতী নিঃসন্দেহে উঁচু জাতের পত্রিকা; দীর্ঘদিন তা বাঙালি পাঠকের সেবা করেছে, বহু নবীন লেখক সৃষ্টি করেছে, অপরিমিত সাহিত্যসম্ভার পরিবেশন করে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে, ফলে বাংলা সাময়িক পত্রের ইতিহাসে ভারতী বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।

১,০৫২.
সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন কোন উপাধি পান?
  1. পণ্ডিতরাজ
  2. রায়বাহাদুর
  3. কবিরাজ
  4. সাহিত্যরত্ন
ব্যাখ্যা
দীনেশচন্দ্র সেন:
- তিনি শিক্ষাবিদ, গবেষক, লোক-সাহিত্যবিশারদ, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকার ছিলেন।
- ১৮৯৬ সালে দীনেশচন্দ্রের পুথিসংগ্রহ, পুথিপাঠ এর সময় তাঁর কর্মজীবনে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্বের সূচনা হয়। তিনি উপাচার্য স্যর আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের আহবানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হন।
- ১৯২০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ নামে একটি নতুন বিভাগ খোলা হলে দীনেশচন্দ্র সেন এ বিভাগের প্রধান নিযুক্ত হন। বারো বছর তিনি যোগ্যতার সঙ্গে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করে ১৯৩২ সালে অবসর নেন।
- তিনি 'মৈমনসিংহ-গীতিকা' (১৯২৩) ও 'পূর্ববঙ্গ গীতিকা (১৯২৬)' সম্পাদনা করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।
- সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের জন্য দীনেশচন্দ্র সেন ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৫৩.
'হিতকরী' পত্রিকা কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে কত খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

• 'হিতকরী' পত্রিকা:
-'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

---------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক। ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৪.
“কোহিনূর” - পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. ক) শেখ আবদুর রহিম
  2. খ) রওশন আলী
  3. গ) সৈয়দ এমদাদ আলী
  4. ঘ) শেখ ফজলল করিম
ব্যাখ্যা
কোহিনূর:
- মাসিক পত্রিকা।
- ১৩০৫ বঙ্গাব্দের আষাঢ় (জুলাই ১৮৯৮) মাসে কুষ্টিয়া থেকে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়; পরে ফরিদপুরের পাংশা এবং শেষে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতো।
- এর সম্পাদক ছিলেন পাংশানিবাসী এ.কে.এম মোহাম্মদ রওশন আলী চৌধুরী।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৫.
শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন-
  1. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী
  4. মোহাম্মদ নজিবর রহমান
ব্যাখ্যা
⇒ মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- কবি, সাংবাদিক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক (১৮৬০-১৯৩৩) পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক মুসলিম জীবনাদর্শ, ইসলামের নবজাগরন ইত্যাদি অবলম্বনে কাব্য রচনা করলেও জীবনী ও উপন্যাস  রচনায় বৈশিষ্ট্য দেখিয়েছেন। 
- মোজাম্মেল হক লহরী (১৮৯৯),  মোসলেম ভারত (১৯২০) ও শান্তিপুর মাসিক সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন।
- মোজাম্মেল হক ছিলেন মূলত কবি, তবে তাঁর গদ্যরচনাও আছে।
- তিনি বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক ‘কাব্যকণ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত হন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৫৬.
কোন লেখকের উপাধি 'তিমির হননের কবি'?
  1. বুদ্ধদেব বসু
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. জীবনানন্দ দাশ
  4. জসীম উদ্‌দীন
ব্যাখ্যা

জীবনানন্দ দাশের উপাধি সমূহ:
- ধূসরতার কবি,
- তিমির হননের কবি,
- রূপসী বাংলার কবি,
- নির্জনতার কবি।

জীবনানন্দ দাশ:
- তিনি কবি, শিক্ষাবিদ ছিলেন।
- তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি নিবাস ছিল বিক্রমপুরের গাওপাড়া গ্রামে।
- তাঁর পিতা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন স্কুলশিক্ষক ও সমাজসেবক।
- মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি।
- ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় এক ট্রাম-দুর্ঘটনায় আহত হন এবং ২২ অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৭.
মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় কত সালে?
  1. ১৯১১ সালে
  2. ১৯১৪ সালে
  3. ১৯১৭ সালে
  4. ১৯২৭ সালে
ব্যাখ্যা

'সবুজপত্র' পত্রিকা:
১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- সবুজপত্র পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন প্রমথ চৌধুরীর।
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশেও এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করেন এবং পরে তা চর্চা করেন।
- 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয় এই পত্রিকা।
- এই পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায় ১৯২৭ সালে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

১,০৫৮.
বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কোনটি?
  1. বেঙ্গল গেজেট
  2. দিগদর্শন
  3. সমাচার দর্পণ
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা:
- ১৮১৮ সালে হুগলির শ্রীরামপুর থেকে খ্রিষ্টান মিশনারিরা 'সমাচার দর্পণ' পত্রিকা প্রকাশ করে।
- সমাচার দর্পণ পত্রিকা সম্পাদনা করেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।
- এটি জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত বাংলা ভাষার প্রথম সাপ্তাহিক সংবাদপত্র
- সমাচার দর্পণে প্রথমাবস্থায় সম্পাদকীয়-বিভাগে পন্ডিত ছিলেন 'জয়গোপাল তর্কালঙ্কার'।
- প্রথম পর্যায়ে, ১৮১৮ সালের ২৩ মে (শনিবার) সমাচার দর্পণের প্রথম সংখ্যা বের হয়।

অন্যদিকে,
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা: ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
'দিগদর্শন' পত্রিকা: বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা: ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১,০৫৯.
বাংলা সাহিত্যে 'সুবচনী' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন -
  1. ক) রোকনুজ্জামান খান
  2. খ) সতীনাথ ভাদুড়ী
  3. গ) অহিদুর রেজা
  4. ঘ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
- 'সুবচনী' হচ্ছে সুভাষ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম। 

এছাড়া,
- 'রোকনুজ্জামান খান' এর ছদ্মনাম- 'দাদাভাই'।
- 'সতীনাথ ভাদুড়ী' এর ছদ্মনাম- 'চিত্রগুপ্ত'।
- 'অহিদুর রেজা' এর ছদ্মনাম- 'হাসান রেজা'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬০.
মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি - 
  1. আল মাহমুদ
  2. ফররুখ আহমদ
  3. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
  4. মীর মশাররফ হোসেন
ব্যাখ্যা

ফররুখ আহমদ: 
- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। 
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

ফররুখ আহমদ রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ হলো:
- সাত সাগরের মাঝি,
- সিরাজাম মুনীরা,
- নৌফেল ও হাতেম,
- মুহূর্তের কবিতা,
- সিন্দাবাদ,
- হাতেমতায়ী,
- নতুন লেখা,
- হাবেদা মরুরকাহিনী।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৬১.
‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন-
  1. অক্ষয়কুমার দত্ত
  2. দীনেশরঞ্জন দাশ
  3. রণেশ দাশগুপ্ত
  4. যোগানন্দ দাস
ব্যাখ্যা
• ‘শনিবারের চিঠি’ পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি  স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।
- প্রথম প্রকাশিত হয় - ১৯২৪ সালে।
- পত্রিকাটি ১৯৩০ - ৪০ এর দশকে কলকাতা কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যের জগতে বেশ আলোড়ন তুলেছিলো। এই পত্রিকার সঙ্গে কল্লোল গোষ্ঠীর দ্বন্দ ছিলো আক্রমণাত্মক; তবে তৎকালীন সাহিত্যকে বিশেষভাবে পত্রিকাটি অনুপ্রাণিত করেছিল।
- পত্রিকার প্রাণপুরুষ ছিলেন সজনীকান্ত দাস। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকাটির প্রকাশনার সাথে জড়িত ছিলেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন।

- উল্লেখ্য, যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। এছাড়াও, নীরদ চন্দ্র চৌধুরীও এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে।
- লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন,  অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়, মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

অন্যদিকে,
• ‘তত্ত্ববোধিনী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৪৩ সালে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠিতা এবং অক্ষয়কুমার দত্ত ছিলেন এর সম্পাদক। 
• ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।
• 'কল্লোল' প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও সাহিত্য বিষয়ক সাময়িকী।
১,০৬২.
'সুধা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. গোলাম মোস্তফা
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. হুমায়ুন আজাদ
  4. দ্বিজেন্দ্রলাল রায়
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার:
- বাংলা শিশুসাহিত্যের ধারায় সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাম দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
- প্রধানত 'ঠাকুরমার ঝুলি' শীর্ষক অবিস্মরণীয় গ্রন্থের জন্যই বাঙালি পাঠকসমাজে সমধিক পরিচিত তিনি।
- ১৮৭৭ সালের ১৫ এপ্রিল (১২৮৪ বঙ্গাব্দের ২ বৈশাখ) ঢাকা জেলার অন্তর্গত সাভারের উলাইল গ্রামের সম্ভ্রান্ত মিত্র মজুমদার বংশে দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দক্ষিণারঞ্জনের প্রথম গ্রন্থ 'উত্থান' কাব্য প্রকাশিত হয় ১৯০২ সালে।

তাঁর উল্লাখযোগ্য গ্রন্থ:
- ঠাকুরমার ঝুলি,
- ঠাকুরদাদার ঝুলি,
- দাদা মশায়ের থলে,
- বাংলার সোনার ছেলে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৩.
“সুবচনী” ছদ্মনামে সাহিত্য চর্চা করতেন -
  1. ক) মধুসূদন মজুমদার
  2. খ) বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. গ) সুভাষ মুখোপাধ্যায়
  4. ঘ) সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
• সুভাষ মুখোপাধ্যায় - সুবচনী।

অন্যদিকে,
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় - যাযাবর।
- সতীনাথ ভাদুড়ী - চিত্রগুপ্ত।
- মধুসূদন মজুমদার - দৃষ্টিহীন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬৪.
সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে এলাহাবাদ হিন্দু সাহিত্য সম্মেলন কোন উপাধিতে ভূষিত করে?
  1. ভাষাচার্য
  2. সাহিত্য বাচস্পতি
  3. পদ্মবিভূষণ
  4. জ্ঞানতাপস
ব্যাখ্যা
• সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়:
- তিনি ছিলেন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ ভাষাবিজ্ঞানী।
- ১৮৯০ সালের ২৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার শিবপুরে তাঁর জন্ম।
- সুনীতিকুমার ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় ৩৮০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেন।
- তাঁর বিখ্যাত রচনা হলো ‘অরিজিন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অব দি বেঙ্গলি ল্যাংগুয়েজ দি (ওডিবিএল, ১৯২৬)’।
- এটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তাঁর খ্যাতি দেশবিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘ভাষাচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- ভাষাতত্ত্ব এবং সাহিত্য-সংস্কৃতি ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য তাঁকে এলাহাবাদ হিন্দু সাহিত্য সম্মেলন ‘সাহিত্য বাচস্পতি’ (১৯৪৮) এবং ভারত সরকার ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৬৩) উপাধিতে ভূষিত করে। 
- ১৯৭৭ সালের ২৯ মে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ:
- বেঙ্গলি ফোনেটিক রিডার্স,
- বাংলা ভাষাতত্ত্বের ভূমিকা,
- সরল ভাষা প্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- ল্যাঙ্গুয়েজ এণ্ড লিটারেচর অফ মডার্ন ইন্ডিয়া।

অন্যদিকে,
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৫.
শিখা পত্রিকার ৫ম বর্ষের সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) আবুল হাসান
  2. খ) আবুল হুসেন
  3. গ) আবুল ফজল
  4. ঘ) আব্দুল কাদির
ব্যাখ্যা
শিখা পত্রিকার ৫ম বর্ষের সম্পাদক ছিলেন আবুল ফজল। 

আবুল ফজল মুসলিম সাহিত্য সমাজের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে 'বুদ্ধির মুক্তি' আন্দোলন গড়ে তোলেন। 
- এ আন্দোলনের মুখপত্র শিখা পত্রিকা। 
- আবুল ফজল শিখা পত্রিকার ৫ম সংখ্যা (১৯৩১) সম্পাদনা করেন। 
- আবুল ফজল  উপন্যাস,  ছোটগল্প, নাটক, আত্মকথা, ধর্ম, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।

তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি উপন্যাসগ্রন্থ হলো:
- চৌচির 
- প্রদীপ ও পতঙ্গ
- রাঙ্গা প্রভাত

গল্পগ্রন্থ:
- মাটির পৃথিবী
- মৃতের আত্মহত্যা প্রভৃতি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬৬.
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে কোন উপাধিতে অভিহিত করা হয়?
  1. বাঙালি কবি
  2. ছন্দের জাদুকর
  3. নাট্যকার
  4. ছান্দসিক কবি
ব্যাখ্যা

• “সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে ছন্দের জাদুকর উপাধিতে অভিহিত করা হয়"। 
----------------------------------------
সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন প্রসিদ্ধ বাঙালি কবি ও ছড়াকার।
- সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের জন্ম ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার কাছে নিমতা গ্রামে।
- পেশায় তিনি কবি, ছড়াকার এবং অনুবাদক ছিলেন।
- তাঁর সাহিত্যিক শক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো ছন্দের অসাধারণ দক্ষতা, ভাষার গভীর বোঝাপড়া এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও ঐতিহ্য বিষয়ক পাণ্ডিত্য।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে ‘ছন্দের জাদুকর’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
- তিনি তাঁর কবিতায় ছন্দের কারুকার্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
- ‘কুহু ও কেকা’,
- ‘বেণু ও বীণা’,
- ‘পালকির গান',
- ‘ফুলের ফসল’।

উৎস: 
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,০৬৭.
নিচের কোনটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা?
  1. ক) বঙ্গদর্শন
  2. খ) দিগ্দর্শন
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) সমাচার দর্পণ
ব্যাখ্যা
- বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা হচ্ছে দিগ্দর্শন

• দিগ্দর্শন:
- দিগ্দর্শন বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশন কর্তৃক প্রকাশিত এবং বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান কর্তৃক সম্পাদিত এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- সর্বমোট ২৬টি বাংলা সংস্করণ এবং ১৬টি করে ইংরেজি ও উভয়ভাষায় সংস্করণ প্রকাশিত হয়।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগ্দর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,০৬৮.
হুমায়ুন কবিরের সাথে যৌথ সম্পাদনায় বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বাশা
  2. প্রগতি
  3. চতুরঙ্গ
  4. চিত্রদর্শন
ব্যাখ্যা
⇒ বুদ্ধদেব বসু:
- বুদ্ধদেব বসু একজন সাহিত্যিক, সমালোচক ও সম্পাদক।
- তিনি ১৯০৮ সালের ৩০ নভেম্বর কুমিল্লায় জন্মগ্রহণ করেন।
- বাংলা কাব্যের পঞ্চপাণ্ডবের অন্যতম বুদ্ধদেব বসু।
- বুদ্ধদেব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলেন এবং জগন্নাথ হলে থাকা অবস্থায় তার সম্পাদনায় ‘বাসন্তিকা’ পত্রিকা প্রকাশিত হতো যা এখনো প্রকাশিত হয়। 
- তিনি প্রগতি (১৯২৭-২৯) ও কবিতা (১৩৪২-৪৭) নামে আরো দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- এছাড়া তিনি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বিখ্যাত ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চতুরঙ্গ’ ও সম্পাদনা করতেন।

• বুদ্ধদেব বসু রচিত গল্প:
- অভিনয়, অভিনয় নয়;
- রেখাচিত্র;
- হাওয়া বদল ইত্যাদি।

• বুদ্ধদেব রচিত উপন্যাস:
- তিথিডোর,
- সাড়া,
- সানন্দা,
- লালমেঘ,
- পরিক্রমা,
- কালো হাওয়া,
- নির্জন স্বাক্ষর,
- নীলাঞ্জনার খাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• 'পূর্ববাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
• বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা 'চিত্রদর্শন'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৬৯.
দীনবন্ধু মিত্র এর উপাধী কি ছিল?
  1. ক) দাদা ভাই
  2. খ) চারণ কবি
  3. গ) রায়বাহাদুর
  4. ঘ) পদাতিক কবি
ব্যাখ্যা
১৮৭১ সালে লুসাই যুদ্ধের সময় দীনবন্ধু কাছাড়ে সফল্ভাবে ডাকবিভাগ পরিচালনা করেন, যার জন্য তৎকালীন সরকার তাঁকে ‘রায়বাহাদুর’ উপাধীতে ভূষিত করে। [সূত্র: লাইভ এমসিকিউ লেকচার]
১,০৭০.
'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -
  1. হাসান হাফিজুর রহমান
  2. দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
  3. রফিক আজাদ
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা
রফিক আজাদ:
- রফিক আজাদ টাঙ্গাইল জেলার জাহিদগঞ্জের গুণীগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- রফিক আজাদের ডাক নাম ছিল 'জীবন'।
- বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা 'উত্তরাধিকার' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন
- তাঁর বিখ্যাত কবিতা 'ভাত দে হারামজাদা'। এটি 'সীমাবদ্ধ জলে, সীমিত সবুজে' কাব্যগ্রন্থে সংকলিত।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া।
- প্রেমের কবিতা।
- হাতুড়ির নিচে জীবন।
- অপর অরণ্যে।
- করো অশ্রুপাত।
- প্রেম ও বিরহের কবিতা।
- পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি।
- সশস্ত্র সুন্দর।
- অঙ্গীকারের কবিতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭১.
‘ভারতী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3.  স্বর্ণকুমারী দেবী
  4. সবাই 
ব্যাখ্যা
• ‘ভারতী’ পত্রিকা:
- ‘ভারতী’ পত্রিকা প্রকাশিত হয় ১৮৭৭ খ্রিষ্টাব্দে, রবীন্দ্র-ভাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায়।
- পরে স্বর্ণকুমারী দেবী, সরলা দেবী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ এ পত্রিকার সম্পাদক হন।
- ‘ভারতী, একটি লেখক গোষ্ঠি গোড়ে তোলে। এই লেখক গোষ্ঠিই মূলত রবীন্দ্রানুসারী।
- রবীন্দ্রনাথসহ, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী প্রমুখ নিয়মিত এই পত্রিকায় লিখতেন। পত্রিকাটি দীর্ঘায়ু লাভ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৭২.
নিচের কোন দুইজন লেখক ‘প্রগতি’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন?
  1. ক) বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত
  2. খ) বুদ্ধদেব বসু ও হরিশ্চন্দ্র মিত্র
  3. গ) বুদ্ধদেব বসু ও কালীপ্রসন্ন সিংহ
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু ও জয়কালী বসু
ব্যাখ্যা
• ঢাকা থেকে ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি মাসিক পত্রিকা ছিল।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাসে ঢাকা যে পিছিয়ে ছিল না, ’প্রগতি’ পত্রিকাটির প্রকাশ তার প্রমাণ।

- কল্লোল, কালিকলম ও প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম।
- বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে পত্রিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭৩.
'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা কার সম্পাদনায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৪.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায় কোন পত্রিকাটি প্রকাশ হয়?
  1. নতুন কবিতা
  2. মাসিক মোহাম্মদী
  3. নয়া সড়ক
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা
'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র।
- ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমীর 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭৫.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা নয় কোনটি?
  1. বার্তা
  2. ধানশালিকের দেশ
  3. সাহিত্য পত্রিকা
  4. বাংলা একাডেমি জার্নাল
ব্যাখ্যা
• সাহিত্য পত্রিকা:
- সাহিত্য পত্রিকা  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি গবেষণা পত্রিকা।
- পত্রিকাটি  প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩৬৪ বঙ্গাব্দের (১৯৫৭) আষাঢ় মাসে।  
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্য এবং এ দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত গবেষণামুলক প্রবন্ধ প্রকাশের উদ্দেশ্যেই মূলত পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়।
- এটি বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা নয়। 

অন্যদিকে:
- বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। 

বাংলা একাডেমি পত্রিকা:
- গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক।
- বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলায় রচিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

উত্তরাধিকার:
- মাসিক পত্রিকা।
- এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

ধানশালিকের দেশ:
- ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা।
- কিশোরোপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

• বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা:
- ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

বাংলা একাডেমি জার্নাল:
- ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা।
- বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়।
- এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

বার্তা:
- একাডেমির কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ এতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে।
- বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

সূত্র: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট ও বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৬.
‘ছন্দের জাদুকর’ হিসেবে পরিচিত কে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. সমর সেন
  3. সত্যেন সেন
  4. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
ব্যাখ্যা

• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
 - কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক।
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
-  বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন, যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম  লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৭৭.
মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সুধাকর
  2. হিতকরী
  3. চিত্রদর্শন
  4. স্বদেশ
ব্যাখ্যা
'হিতকরী' পত্রিকা:
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান।
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।

অন্যদিকে,
- শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকার নাম - সুধাকর।
- বিহারীলাল রায় সম্পাদিত পত্রিকা - চিত্রদর্শন।
- আহমদ ছফা সম্পাদিত পত্রিকার নাম - স্বদেশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র ও শেখর; বাংলাপিডিয়া।
১,০৭৮.
দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮১০ সালে
  2. ১৮১৮ সালে
  3. ১৮৭৩ সালে
  4. ১৮১৯ সালে
ব্যাখ্যা
'দিগ্দ‌র্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি শ্রীরামপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
- বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক জোশুয়া মার্শম্যান এর পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যান সম্পাদিত মাসিক সাময়িকী ছিল।
- কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ গ্রন্থাগারে দিগ্দর্শনের কপিসমূহ সংরক্ষিত আছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৭৯.
'উদীচী' হচ্ছে একটি-----
  1. ক) কাব্যগ্রন্থ
  2. খ) গানের সংকলন
  3. গ) সংবাদপত্র
  4. ঘ) সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান
ব্যাখ্যা
• 'উদীচী' একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন।
- যার প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেন। 

• সত্যেন সেন বিক্রমপুরের সোনারঙ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি সাহিত্যিক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন।

তাঁর রচিত বিখ্যাত উপন্যাস:
- আলবেরুনী,
- পাপের সন্তান,
- অভিশপ্ত নগরী,
- ভোরের বিহঙ্গী,
- সাত নম্বর ওয়ার্ড,
- পদচিহ্ন,
- রুদ্ধদ্বার মুক্তপ্রাণ।

তাঁর রচিত শিশু সাহিত্য:
- পাতাবাহার,
- অভিযাত্রী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮০.
চলিত রীতি প্রবর্তনে কোন পত্রিকাটি মূল ভূমিকা পালন করে?
  1. কল্লোল
  2. সমাচার দর্পণ
  3. বঙ্গদর্শন
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যে চলিত গদ্যরীতির প্রবর্তক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- 'সবুজপত্র' পত্রিকা ১৯১৪ সালে প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদিত বিশিষ্ট সাহিত্য পত্রিকা।
- এটি বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে প্রথম প্রকাশিত হয় এবং ১৩ বছর চলে।
- এটি চলিত রীতি প্রবর্তনে মূল ভূমিকা পালন করে।

--------------------
• প্রমথ চৌধুরী:
- বাংলা ভাষার সাধু ও চলিত রূপের মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা করেন প্রমথ চৌধুরী।
- বাংলা গদ্যে চলিত রীতির প্রবর্তক ও বিদ্রূপাত্মক প্রাবন্ধিক হলেন প্রমথ চৌধুরী।
- প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম 'বীরবল
- ‘বীরবলেন হালখাতা’ তাঁর রচিত প্রথম চলিত রীতির গদ্য রচনা।
- প্রমথ চৌধুরী রচিত 'বীরবলের হালখাতা' ১৯০২ সালে ভারতী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এ গদ্য/প্রবন্ধ রচনায় তিনি প্রথম চলিত রীতির প্রয়োগ ঘটান।
- বাংলা কাব্য সাহিত্যে তিনিই প্রথম ইতালীয় সনেটের প্রবর্তন করেন।
- তিনি মাসিক ‘সবুজপত্র’ (১৯১৪) পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• প্রমথ চৌধুরী প্রবন্ধগ্রন্থ:
- নানা কথা,
- আমাদের শিক্ষা,
- রায়তের কথা,
- প্রবন্ধ সংগ্রহ,
- বীরবলের হালখাতা,
- তেল-নুন-লকড়ি ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- চার ইয়ারী কথা,
- নীললোহিত ও
- আহুতি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১,০৮১.
ছান্দসিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  2. আব্দুল কাদির
  3. সুকুমার রায়
  4. সত্যেন সেন
ব্যাখ্যা

• আবদুল কাদিরকে ছান্দসিক কবি বলা হয়।

আবদুল কাদির:
- কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, ছান্দসিক ও সম্পাদক।
- ১৯২৬ সালে 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' এর নেতৃত্বে ঢাকার বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলনের তিনি প্রধান উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করেন।
- মুসলিম সাহিত্য সমাজ থেকে প্রকাশিত ‘শিখা' পত্রিকার তিনি প্রকাশক ও লেখক (১৯২৭) ছিলেন।

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা :
- দিলরুবা (১৯৩৩),
- উত্তর বসন্ত (১৯৬৭)।

প্রবন্ধ:
- বাংলা কাব্যের ইতিহাস : মুসলিম সাধনার ধারা (১৯৪৪),
- কবি নজরুল (১৯৭০),
- কাজী আবদুল ওদুদ (১৯৭৬),
- লোকায়ত সাহিত্য (১৮৮৫)।


অন্যদিকে, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত “ছন্দের জাদুকর” এবং “ছন্দের রাজা” হিসেবে খ্যাত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৮২.
'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. অনুরূপা দেবী
  3. অন্নদাশঙ্কর রায়
  4. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
ব্যাখ্যা
• অন্নদাশঙ্কর রায়:
- অন্নদাশঙ্কর রায় ছিলেন ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি, চিন্তাবিদ। তিনি ১৯০৪ সালের ১৫ মার্চ ভারতের উড়িষ্যা প্রদেশের ঢেঙ্কানলে জন্মগ্রহণ করেন।

- তিনি উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত লেখার নাম 'তিনটি প্রশ্ন' (প্রবাসী', ১৯২০)।
- তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম 'অসমাপিকা' (১৯৩০)।
- তাঁর প্রথম কবিতাগ্রন্থের নাম 'রাখী' (১৯৩২)।
- তিনি 'লীলাময় রায়' ছদ্মনামে লিখতেন।

--------------
• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- অসমাপিকা,
- আগুন নিয়ে খেলা,
- পুতুল নিয়ে খেলা। 

• তাঁর রচিত ভ্রমণকাহিনি:
- পথে প্রবাসে,
- ইউরোপের চিঠি।

• তাঁর রচিত ছোটগল্প:
- প্রকৃতির পরিহাস,
- মন পবন,
- কামিনী কাঞ্চন ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
অনুরূপা দেবীর ছদ্মনাম - অনুপমা দেবী। 
অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৮৩.
বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ - কার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. ক) ড. আহমদ শরীফ
  2. খ) আব্দুল মান্নান সৈয়দ
  3. গ) আল-মুতী শরফুদ্দিন
  4. ঘ) আব্দুল হাই
ব্যাখ্যা
আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন একজন জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ ও প্রশাসক।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী ১৯৩০ সালের ১ জানুয়ারি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- আল-মুতী শরফুদ্দিন বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বিজ্ঞান বিশ্বকোষ-এর প্রধান সম্পাদক ছিলেন।
- ‘মুকুল’ নামে ছোটদের ম্যাগাজিনের সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন।
- তিনি এদেশে বিজ্ঞানকে ছোটদের মধ্যে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ।
- তাঁর প্রকাশিত বিজ্ঞান, পরিবেশ ও শিক্ষাবিষয়ক বইয়ের সংখ্যা ২৮।
- আবদুল্লাহ আল-মুতী প্রকাশিত প্রথম বইয়ের নাম ‘এসো বিজ্ঞানের রাজ্যে।’ 

তার রচিত উল্লেখযোগ্য বইগুলো মধ্যে রয়েছে -
- বিজ্ঞান ও মানুষ,
- এ যুগের বিজ্ঞান,
- বিপন্ন পরিবেশ,
- বিজ্ঞান-জিজ্ঞাসা,
- সাগরের রহস্যপুরী,
- মেঘ বৃষ্টি রোদ এবং
- পরিবেশের সংকট ঘনিয়ে আসছে।
- তারার দেশের হাতছানি 

[উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া ]
১,০৮৪.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেছিলেন?
  1. কল্লোল
  2. স্বরাজ
  3. প্রগতি
  4. কবিতা
ব্যাখ্যা

• জীবনানন্দ দাশ:  
-  তিনি ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি প্রভৃতি বিশেষণে পরিচিত। 
-  তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী 'তিরিশের কবিতা' নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
- তিনি 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি ‘দৈনিক স্বরাজ’ পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেছিলেন।
- ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।    

- অন্যদিকে,
- কবি বুদ্ধদেব বসু ঢাকা থেকে 'প্রগতি' এবং কলকাতা থেকে 'কবিতা' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। 
-  কল্লোল পত্রিকার সম্পাদক দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১,০৮৫.
দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলা সাহিত্যের দুঃখবাদী কবি বলা হয় কাকে?
  1. যতীন্দ্রমোহন বাগচী 
  2. যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
  3. রামনিধি গুপ্ত 
  4. গোবিন্দদাস 
ব্যাখ্যা

• যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত:
- যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরে তাঁর জন্ম।
- রবীন্দ্র যুগের কবি হয়েও রবীন্দ্রনাথের প্রভাব এড়িয়ে যে কয়জন কবি-সাহিত্যিক নতুন ভাবনা ও স্বতন্ত্র বক্তব্য নিয়ে কাব্যচর্চা করেন, যতীন্দ্রনাথ তাঁদের অন্যতম।

- যতীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন যুক্তিবাদী ও মননশীল লেখক; সমাজ ও সমকাল তাঁর কাব্যের বিষয়বস্তু। ভাষার মধ্যে তর্ক, কটাক্ষ ও প্রচ্ছন্ন পরিহাস তাঁর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দর্শন ও বিজ্ঞান উভয় দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি ছিলেন দুঃখবাদী, আর এই দুঃখবাদ তাঁর কাব্যের মূল সুর। প্রকৃতি ছলনাময়ী, জীবন দুঃখময়, সুখ অনিত্য ও ক্ষণিকের এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি জগৎ-সংসারকে দেখেছেন। কোনোরূপ ভাববাদের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাস্তব পর্যবেক্ষণ থেকে তিনি দুঃখ ও নৈরাশ্যের চিত্র এঁকেছেন। 

- যতীন্দ্রনাথের ভাষা আবেগমুক্ত ও যুক্তিসিদ্ধ; তিনি সরাসরি বিষয়ের প্রকাশ ঘটান। তবে অন্ত্যপর্বের কাব্যগুলিতে তাঁর রোম্যান্টিক বিহবলতা ও চাঞ্চল্য প্রকাশ পেয়েছে। মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন ও রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাসী ছিলেন। তাঁর জীবনদৃষ্টিতে মানবতাবাদ ও দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর মমতা লক্ষণীয়। 

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ:
- মরীচিকা,
- মরুশিখা,
- মরুমায়া,
- সায়ম্,
- ত্রিযামা,
- নিশান্তিকা এবং
- কবিতা-সংকলন অনুপূর্বা।

[প্রথম তিনখানি কাব্যের নামকরণে অগ্নি, রুদ্র ও মরুর দহন এবং শেষের তিনটির নামকরণে রাত্রির অন্ধকারের প্রতীক-দ্যোতনা প্রকাশ পেয়েছে।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,০৮৬.
বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন কে?
  1. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত 
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 
  4. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা

• বিহারীলাল চক্রবর্তী:
- বিহারীলাল চক্রবর্তী আধুনিক বাংলা গীতিকবিতার অন্যতম পুরোধা এবং রবীন্দ্রনাথের কাব্যগুরু হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ১৮৩৫ সালের ২১ মে কলকাতায়  জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁদের আদি পারিবারিক পদবি ছিল ‘চট্টোপাধ্যায়’।
 - আধুনিক বাংলা সাহিত্যে গীতি কবিতার প্রবর্তক বিহারীলাল চক্রবর্তী।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিহারীলাল চক্রবর্তীকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- কারণ বিহারীলালই প্রথম বাংলায় ব্যক্তির আত্মলীনতা, ব্যক্তিগত অনুভূতি ও গীতোচ্ছ্বাস সহযোগে কবিতা রচনা করে বাংলা কবিতাকে নতুন এক প্রেরণা দান করেন। এ ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রথম।
- এইজন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে 'ভোরের পাখি' বলে আখ্যায়িত করেন।
- বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন।
- তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি।
- এসব পত্রিকায় অন্যদের রচনার পাশাপাশি তাঁর নিজের রচনাও প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া  ভারতী,  সোমপ্রকাশ, কল্পনা  প্রভৃতি পত্রিকায়ও তাঁর রচনা প্রকাশিত হয়েছে।
- বিহারীলাল ১৮৯৪ সালের ২৪ মে মৃত্যুবরণ করেন।

• বিহারীলাল চক্রবর্তী কাব্যগ্রন্থ গুলো:
- স্বপ্নদর্শন,
- সঙ্গীতশতক,
- বন্ধুবিয়োগ, 
- প্রেমপ্রবাহিণী, 
- নিসর্গসন্দর্শন, 
- বঙ্গসুন্দরী, 
- সারদামঙ্গল, 
- নিসর্গসঙ্গীত, 
- মায়াদেবী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৮৭.
আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে কোন পত্রিকাটি প্রকাশিত হয়েছিলো?
  1. পূর্বাশা
  2. কল্লোল
  3. প্রগতি
  4. হিতকরী 
ব্যাখ্যা

'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়।
- এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাস।
- রবীন্দ্র-রোমান্টিক বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- সাত বছর এই পত্রিকা টিকে ছিলো।
- অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রমুখ ছিলেন এই পত্রিকার সম্পাদক।

অন্য অপশন,
• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা।
- এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।

• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- প্রগতি ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'।
- সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ।
- বাংলাদেশে সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

• 'হিতকরী' পত্রিকা: 
- 'হিতকরী' পত্রিকা ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কুষ্টিয়ার লাহিনীপাড়া থেকে মীর মশাররফ হোসেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। 
- পরবর্তীতে এর সম্পাদক হন মোসলেম উদ্দীন খান। 
- বাঙালি মুসলিমদের মাতৃভাষা বাংলাচর্চা এবং হিন্দু মুসলিম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ ও প্রবন্ধ ছাপা হয় পত্রিকাটিতে।

মূলত এই পত্রিকাগুলো কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়নি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৮৮.
ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত পত্রিকার নাম কী?
  1. সুধাকর
  2. আঙুর
  3. সবুজপত্র
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্:
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ছিলেন একাধারে বহুভাষাবিদ, পণ্ডিত, সাহিত্যিক, ধর্মবেত্তা ও শিক্ষাবিদ।
 - ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯ জানুয়ারি, ১৯২৬ সালে ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কর্তৃক আয়োজিত প্রতিষ্ঠা সভার সভাপতি ছিলেন ।

- তিনি ‘আঙুর’ ‘দি পিস' ,বঙ্গভূমিক’ “তকবীর’পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

• তাঁর রচিত অনুবাদ গ্রন্থ:
- দীওয়ানে হাফিজ'
- মহানবী’ (১৯৪০),
- ‘অমিয়শতক' (১৯৪০),
- ‘বাণী শিকওয়াহ’,
- ‘জওয়াব-ই-শিকওয়াহ'
- ‘রুবাইয়াত-ই-ওমর খ্যায়াম'

• তাঁর সম্পাদিত গ্রন্থ:
- পদ্মাবতী;
- প্রাচীন ধর্মগ্রন্থে শেষ নবী।

অন্যদিকে,
- ’সুধাকর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন -শেখ আব্দুর রহিম।
- ’সবুজপত্র’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - প্রমথ চৌধুরী।
- ’পূর্বাশা’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- মাহবুবুল আলম, বাংলাপিডিয়া।
১,০৮৯.
'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' - কোন শতকের পত্রিকা?
  1. আঠারো শতকের
  2. উনিশ শতকের
  3. বিশ শতকের
  4. একুশ শতকের
ব্যাখ্যা

• 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকা:
- বাংলার মফস্বল থেকে প্রকাশিত প্রথম সংবাদপত্র মাসিক ‘গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’।
- এটি উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা।
- ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- যদিও প্রকাশের পরের বছর থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল থেকে সাপ্তাহিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালি থেকে প্রকাশ হয়।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো।
- আঠারো বছর গ্রামবার্তা প্রকাশিকা সম্পাদনা করার পর সাংবাদিকতা ত্যাগ করে হরিনাথ ধর্মসাধনায় মনোনিবেশ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৯০.
'নতুন কবিতা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. আবদুর রশীদ খান
  3. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  4. আবু জাফর শামসুদ্দীন
ব্যাখ্যা

'নতুন কবিতা' পত্রিকা:
- আবদুর রশীদ খান ও আশরাফ সিদ্দিকী যৌথভাবে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি কবিদের প্রথম সংকলন 'নতুন কবিতা' সম্পাদনা করেন।
- সংকলনটি প্রকাশিত হয় ১৩৫৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯৪৯ খ্রিষ্টাব্দে।
- এতে লিখেছিলেন: হাবীবুর রহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, শামসুর রাহমান, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, আলাউদ্দিন আল আজাদ, আবদুর রশীদ খান, আশরাফ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মামুন, বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, মনোজ সেনগুপ্তসহ তেরোজন কবি।
- সম্পাদকগণ দাবি করেছিলেন যে, সংকলনটি হবে 'সাহিত্য পথের নতুন যাত্রীদের কাব্য সৃষ্টির খতিয়ান'।
- কিন্তু উত্তরকাল দেখা গেছে এঁদের মধ্যে অধিকাংশই কবি হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, অনেকে কবিতা লিখলেও স্বাচ্ছন্দ্য হারিয়েছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১,০৯১.
‘ঘরে বাইরে’ উপন্যাসটি কোন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়?
  1. শিখা
  2. সংবাদ প্রভাকর
  3. বঙ্গদর্শন
  4. সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
'ঘরে-বাইরে' উপন্যাস: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘ঘরে-বাইরে’ উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে 'সবুজপত্র' পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
- এটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এটি চলিত ভাষায় লেখা রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস। 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: 
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ১৮৬১ সালের ৭ মে (১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ বৈশাখ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর অভিজাত ঠাকুর পরিবারে। 
- তাঁর পিতা মহর্ষি  দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর]] এবং পিতামহ প্রিন্স  দ্বারকানাথ ঠাকুর। 
- রবীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চতুর্দশ সন্তান। 

তাঁর রচিত কিছু উপন্যাস: 
- বৌঠাকুরাণীর হাট, 
- রাজর্ষি, 
- চোখের বালি, 
- নৌকাডুবি, 
- ঘরে-বাইরে এবং 
- যোগাযোগ ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা (ড. সৌমিত্র শেখর)।
১,০৯২.
‘পরিচয়’ পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. জীবনানন্দ দাশ
  2. সুধীন্দ্রনাথ দত্ত
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা

• সুধীন্দ্রনাথ দত্ত:
- ১৯০১ সালের ৩০ অক্টোবর কলকাতার হাতীবাগানে তাঁর জন্ম।
- তিনি ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক ও পত্রিকা সম্পাদক।
- ত্রৈমাসিক 'পরিচয়' পত্রিকা সম্পাদনা করে তিনি অমর হয়ে আছেন।
- সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন ত্রিশের দশকের রবীন্দ্রকাব্যধারার বিরোধী খ্যাতিমান কবিদের অন্যতম।
- ফরাসি কবি মালার্মের প্রতীকী কাব্যাদর্শ তিনি অনুসরণ করেন।
- 'তন্বী' কাব্যগ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করেন।
- ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, মননশীলতা ও নাগরিক বৈদগ্ধ্য তাঁর কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
- বাংলা কবিতায় তিনি দর্শনচিন্তার নান্দনিক প্রকাশ ঘটান।
- তিনি বাংলা গদ্যের আধুনিক রূপেরও প্রবর্তক।
- ১৯৬০ সালে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- তন্বী,
- অর্কেষ্ট্রা,
- ক্রন্দসী,
- উত্তরফাল্গুনী,
- সংবর্ত,
- প্রতিদিন,
- দশমী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১,০৯৩.
‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে কাকে ভূষিত করা হয়েছিল?
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. কাজী আবদুল ওদুদ
  3. কাজী মোতাহার হোসেন
  4. সিকান্দার আবু জাফর
ব্যাখ্যা

• ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে কাজী মোতাহার হোসেনকে ভূষিত করা হয়েছিল।

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭–১৯৮১) ছিলেন বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক। 
- তিনি সাহিত্যচর্চা ও জ্ঞানচর্চা—উভয় ক্ষেত্রেই নিজস্ব অবস্থান গড়ে তুলেছিলেন।
- ঢাকায় মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠায় তিনি বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
- তিনি শিখা’ পত্রিকায় মুখপত্র ‘হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
- এছাড়া, তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’–এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন, যা তৎকালীন সমাজে যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসার ঘটায়।
- ১৯২৬ সালে কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন ও আবুল ফজলের সহযোগিতায় তিনি মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- তিনি কিছুদিন ‘শিখা’ পত্রিকাটি সম্পাদনাও করেছিলেন।
- শিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
- সেই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাকিস্তান সরকার তাঁকে ১৯৬০ সালে ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধিতে সম্মানিত করে।
- ‘সঞ্চয়ন’ কাজী মোতাহার হোসেন রচিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধসংকলন।
- এই গ্রন্থে তাঁর সাহিত্যবোধ ও বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

• তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশনার মধ্যে রয়েছে:
- সঞ্চয়ন, 
- নির্বাচিত প্রবন্ধ,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস, এবং 
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

১,০৯৪.
'শনিবারের চিঠি' পত্রিকাটির সম্পাদক কে ছিলেন?  
  1. সজনীকান্ত দাস
  2. সুবিমল রায়
  3. যোগানন্দ দাস
  4. মোহিতলাল মজুমদার 
ব্যাখ্যা

শনিবারের চিঠি:
- শনিবারের চিঠি ছিল বাংলা সাহিত্যের একটি ব্যঙ্গধর্মী (স্যাটায়ার) সাহিত্যিক পত্রিকা।
- শুরুতে এটি সাপ্তাহিক হিসেবে প্রকাশিত হলেও পরে মাসিক পত্রিকায় রূপ নেয়।
- পত্রিকাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল হাস্য–কৌতুক ও তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্যচর্চা ও সাহিত্যিক প্রবণতাগুলোর সমালোচনা করা।
- ১৯৩০ ও ১৯৪০-এর দশকে কলকাতা-কেন্দ্রিক বাংলা সাহিত্যজগতে এই পত্রিকা বিশেষ আলোড়ন সৃষ্টি করে।
- এ সময় কল্লোল গোষ্ঠীর সঙ্গে এর সম্পর্ক ছিল স্পষ্টতই দ্বন্দ্বমূলক ও আক্রমণাত্মক;
- যদিও সামগ্রিকভাবে তৎকালীন সাহিত্যচর্চাকে এটি নতুনভাবে উদ্দীপিত করেছিল।

- পত্রিকাটির প্রাণপুরুষ ছিলেন সজনীকান্ত দাস।
- তিনি দীর্ঘদিন এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। 
- তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পত্রিকার প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- তবে পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন যোগানন্দ দাস।

- উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শনিবারের চিঠির অধিকাংশ রচনাই বেনামে প্রকাশিত হতো।
- তবু এর সঙ্গে যুক্ত লেখকদের মধ্যে ছিলেন- 
- অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়, সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়, মোহিতলাল মজুমদার, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১,০৯৫.
কোন লেখকের ছদ্মনাম 'ভ্রমণকারী বন্ধু'?
  1. সৈয়দ মুজতবা আলী
  2. বিমল মিত্র
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. রোকনুজ্জামান খান
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- তিনি ছিলেন কবি, সাংবাদিক। 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- তিনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত। কারণ তিনি সমকালের সামাজিক ও ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে কবিতা রচনা করলেও তাঁর ভাষা, ছন্দ ও অলঙ্কার ছিলো মধ্যযুগীয়। ব্যঙ্গ-বিদ্রূপই ছিল তাঁর রচনার বিশেষত্ব।
- তিনি প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।

অন্যদিকে,
সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনাম - প্রিয়দর্শী।
বিমল মিত্রের ছদ্মনাম - জাবালি।
রোকনুজ্জামান খানের ছদ্মনাম - দাদাভাই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া; লাইভ এমসিকিউ লেকচার।
১,০৯৬.
কোন লেখক কাব্যচর্চায় 'অশীতিপর শর্মা' ছদ্মনামটি ব্যবহার করতেন?
  1. অমিয় চক্রবর্তী
  2. জীবনানন্দ দাশ
  3. সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
  4. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত:
- তিনি ছিলেন কবি ও ছান্দসিক। 
- কলকাতার নিকটবর্তী নিমতা গ্রামে ১৮৮২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- পিতা রজনীনাথ দত্ত ছিলেন কলকাতার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং পিতামহ অক্ষয়কুমার দত্ত  ছিলেন তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার সম্পাদক।
- সত্যেন্দ্রনাথ ছিলেন ভারতী পত্রিকাগোষ্ঠীর অন্যতম বিশিষ্ট কবি। 
- বাংলা ভাষার নিজস্ব বাগধারা ও ধ্বনি সহযোগে নতুন ছন্দসৃষ্টি তাঁর কবিপ্রতিভার মৌলিক কীর্তি। এজন্য তিনি ‘ছন্দের জাদুকর’ ও ‘ছন্দোরাজ’ নামে সাধারণ্যে পরিচিত। 
- ১৯১৮ সালে ভারতী পত্রিকার বৈশাখ সংখ্যায়  ছন্দ সম্পর্কিত তাঁর প্রসিদ্ধ রচনা ‘ছন্দ-সরস্বতী’ প্রকাশিত হয়। 
- সত্যেন্দ্রনাথ একাধিক ছদ্মনামে কাব্যচর্চা করতেন। যেমন নবকুমার, কবিরত্ন, অশীতিপর শর্মা, ত্রিবিক্রম বর্মণ, কলমগীর ইত্যাদি।
- ১৯২২ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যু হয়।
- তাঁর মৃত্যুর পর রচিত 'সত্যেন-প্রয়াণ' কবিতা কাজী নজরুল ইসলাম লিখেন।

• তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্য:
- সবিতা, 
- সন্ধিক্ষণ, 
- বেণু ও বীণা, 
- কুহু ও কেকা,
- অভ্র আবীর, 
- হসন্তিকা, 
- বেলা শেষের গান, 
- বিদায় আরতি, 
- কাব্যসঞ্চয়ন।

• তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- তীর্থরেণু, 
- মণি মঞ্জুষা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া
১,০৯৭.
'ঢাকা দর্পণ' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন কে?
  1. নবীনচন্দ্র সেন
  2. হরিশ্চন্দ্র মিত্র
  3. কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার
  4. মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকা দর্পণ' পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন: 'হরিশ্চন্দ্র মিত্র'। 
------------------- 
• হরিশ্চন্দ্র মিত্র:
- হরিশচন্দ্র মিত্র তিনি একাধারে কবি, নাট্যকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক ছিলেন।
- তিনি ১৮৩৭ সালে ঢাকায় এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- ১৮৫৮ সালে তাঁর প্রথম কবিতা ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সংবাদ প্রভাকর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ১৮৬০ সালে হরিশ্চন্দ্র ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র মাসিক  কবিতা কুসুমাবলী প্রকাশ করেন।
- ১৮৬২ সালে তিনি ‘অবকাশরঞ্জিকা’ নামে অপর একটি মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

- ১৮৬৩ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘সাপ্তাহিক ঢাকা দর্পণ’ প্রকাশ করেন।
- তাঁর সম্পাদনাকৃত অন্যান্য পত্রিকার মধ্যে রয়েছে ‘কাব্য প্রকাশ’ (১৮৬৪), ‘হিন্দু হিতৈষী’ (১৮৬৫) এবং ‘হিন্দু রঞ্জিকা’ (১৮৬৮)।
- হরিশ্চন্দ্র ‘মাসিক মিত্র প্রকাশ’ (১৮৭০) নামক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন। পত্রিকাটি উনিশ শতকে ঢাকা থেকে প্রকাশিত সর্বোৎকৃষ্ট সাময়িকীসমূহের অন্যতম বলে বিবেচিত হয়।
- তাঁর প্রথম গ্রন্থ শুভস্য শীঘ্রং নামক একটি নাটক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
১,০৯৮.
'সুমিত্রা দেবী' ছদ্মনামে কে লিখতেন?
  1. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  2. মহাশ্বেতা দেবী
  3. অনুরূপা দেবী
  4. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
ব্যাখ্যা
• 'সুমিত্রা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন - মহাশ্বেতা দেবী। 

• অন্যদিকে: 
- অনুরূপা দেবী এর ছদ্মনাম অনুপমা দেবী। 
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত এর ছদ্মনাম দাদাভাই। 
- নীহারিকা দেবী' এর ছদ্মনাম অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত।

বিঃদ্রঃ রোকনুজ্জামান খানও দাদাভাই ছদ্মনামে লিখতেন। 

সূত্র: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০৯৯.
সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. সনাতন পাঠক
  2. প্রিয়দর্শী
  3. সত্য পীর
  4. মুসাফির
ব্যাখ্যা
•  সৈয়দ মুজতবা আলী ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয়- সনাতন পাঠক। 

•  সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ে লেখালেখিতে ‘নীললোহিত’, ‘সনাতন পাঠক’ ও ‘নীল উপাধ্যায়’ প্রভৃতি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

-------------
• সৈয়দ মুজতবা আলীর ছদ্মনামগুলো হলো -
- ওমর খৈয়াম, 
- প্রিয়দর্শী, 
- সত্য পীর, 
- মুসাফির।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,১০০.
'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. জোশুয়া মার্শম্যান
  3. জেম্স অগাস্টাস হিকি
  4. জন ক্লার্ক মার্শম্যান
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেম্স অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।