বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

মোট প্রশ্ন১,৬০৩এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

সাহিত্যিক ছদ্মনাম, উপাধি এবং পত্রিকা-সাময়িকী ও সম্পাদক

PrepBank · পাতা ১০ / ১৬ · ৯০১১,০০০ / ১,৬০৩

৯০১.
জীবনানন্দ দাশ কোন পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করতেন?
  1. দৈনিক নবযুগ
  2. জ্ঞানান্বেষণ
  3. দৈনিক স্বরাজ
  4. সম্বাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
⇒ জীবনানন্দ দাশ:  
• তিনি ধূসরতার কবি, তিমির হননের কবি, নির্জনতার কবি, রুপসী বাংলার কবি প্রভৃতি বিশেষণে পরিচিত। 
•  তিনি ছিলেন বাংলা কাব্যান্দোলনে রবীন্দ্রবিরোধী 'তিরিশের কবিতা' নামে খ্যাত কাব্যধারার অন্যতম কবি। 
• তিনি ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
• মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন একজন কবি। 

⇒ তিনি 'ব্রহ্মবাদী' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। 
⇒ তিনি ‘দৈনিক স্বরাজ’ পত্রিকার সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেছিলেন।
⇒ ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়।    

অন্যদিকে,
- ‘জ্ঞানান্বেষণ’ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- দৈনিক নবযুগ (১৯২০) পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমেদ যুগ্মভাবে পত্রিকা সম্পাদনা করেন। 
- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া। 
৯০২.
'দৈনিক আজাদ' সম্পাদনা করতেন কে?
  1. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  2. কাজী নজরুল ইসলাম
  3. সিকান্দার আবু জাফর
  4. মকবুল হোসেন চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'দৈনিক আজাদ' আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা।
- দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন।

উল্লেখ্য,
- ‘দৈনিক নবযুগ’ (১৯২০) পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও মুজাফফর আহমেদ যুগ্মভাবে পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- ‘যুগবাণী' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- মকবুল হোসেন চৌধুরী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞেসা, ড. সৌমিত্র শেখর; বাংলাপিডিয়া।

৯০৩.
‘অনুরূপা দেবী’ ছদ্মনামে লিখতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে,
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেন। এগুলো হলো:
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

• অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত ব্যবহৃত ছদ্মনাম - নীহারিকা দেবী।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় 'কমলাকান্ত' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯০৪.
‘স্বভাব কবি’ বলা হয় কাকে?
  1. গোবিন্দচন্দ্র দাস
  2. সুকান্ত ভট্টাচার্য
  3. আবদুল করিম
  4. ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবে বিখ্যাত।
- রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- গোবিন্দ চন্দ্র দাস কে ‘স্বভাব কবি’ বলা হয়।

অন্যদিকে,
• কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য কে গণমানুষের কবি বলা হয়।
• আবদুল করিম কে সাহিত্যবিশারদ বলা হয়।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে:
- প্রেম ও ফুল,
- কুঙ্কুম,
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু্‌,
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা ইত্যাদি।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯০৫.
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পর 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা কে সম্পাদনা করেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. রামদাস সেন
  3. সঞ্জীবচন্দ্র
  4. গঙ্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা

'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।
- বঙ্গদর্শনের ভাষা ছিল খুব উন্নত মানের সাধু বাংলা।
- সাহিত্য, সমাজ, বিজ্ঞান, রাজনীতি, ধর্মতত্ত্ব ও দর্শন সম্পর্কিত মূল্যবান প্রবন্ধ এবং উপন্যাস এতে প্রকাশিত হতো।
- বঙ্গদর্শনকে তখন শিক্ষিত বাঙালি সমাজের প্রথম মুখপত্র বলা হতো, কেননা বাঙালি জাতির আধুনিক চিন্তা ও মনন এর মাধ্যমেই প্রথম প্রকাশ লাভ করে।
- বঙ্গদর্শনের প্রধান লেখক বঙ্কিমচন্দ্র হলেও গঙ্গাচরণ, রামদাস সেন, অক্ষয় সরকার, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ পন্ডিতও এতে নিয়মিত লিখতেন।
- বঙ্কিমচন্দ্র রচিত ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম্’ এই পত্রিকায়ই প্রথম মুদ্রিত হয়।
- বঙ্কিমচন্দ্রের পরে তাঁর ভাই সঞ্জীবচন্দ্র ও শ্রীশচন্দ্র স্বল্প সময় বঙ্গদর্শন সম্পাদনা করেন।
- ২০০০ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গের নৈহাটিস্থ বঙ্কিমভবন গবেষণাকেন্দ্র কর্তৃক বঙ্গদর্শন নবরূপে ষাণ্মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯০৬.
নিচের কোনটি রাজা রামমোহন রায় -এর ছদ্মনাম?
  1. শিব প্রসাদ রায়
  2. পরশুরাম
  3. বনফুল
  4. কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপোস্য
ব্যাখ্যা

বাংলার নবজাগরণের আদি পুরুষ রাজা রামমোহন রায় এর জন্ম ১৭৭২ সালের ২২শে মে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ও ব্রাহ্মণ পরিবারে ।
- দিল্লির বাদশা কতৃক ১৮৩০ সালে তিনি রাজা উপাধি লাভ করেন।
- রামমোহন রায় কলকাতায় ২০ আগস্ট, ১৮২৮ সালে ইংল্যান্ড যাত্রার আগে দ্বারকানাথ ঠাকুরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন।
- রাজা রামমোহন রায় শিব প্রসাদ রায় ছদ্মনামে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ করতেন। 
- তিনি প্রায় ৩০ টি গ্রন্থ রচনা করেন, তাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বেদান্তগ্রন্থ, বেদান্তসার, ভট্টাচার্যের সহিত বিচার, গোস্বামীর সহিত বিচার, সহমরন বিষয়ক প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ, গৌড়ীয় ব্যাকরণ ইত্যাদি।

কিছু উল্লেখযোগ্য লেখকের ছদ্মনাম নিম্নরুপ- 
- মীর মোশাররফ হোসেন - গাজী মিয়া
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর - ভানুসিংহ
- প্রমথ চৌধুরী - বীরবল
- প্যারীচাঁদ মিত্র - টেকচাঁদ ঠাকুর
- কাজেম আল কোরায়েশী - কায়কোবাদ
- কালী প্রসন্ন সিংহ - হুতোম পেঁচা
- ফররুখ আহমদ - বানভট্ট
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় - বনফুল
- বিমল ঘোষ - মৌমাছি
- রাজশেখর বসু - পরশুরাম
- সমরেশ বসু - কাল্কূট
- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় - নীল লোহিত

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯০৭.
বাংলা সাহিত্যে গোবিন্দচন্দ্র দাস কী হিসেবে পরিচিত ছিলেন- 
  1. নাগরিক কবি 
  2. স্বভাবকবি
  3. পল্লীকবি
  4. বিদ্রোহী কবি
ব্যাখ্যা

• গোবিন্দচন্দ্র দাস:
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ছিলেন বাংলা সাহিত্যেরে একজন স্বভাবকবি। ১৮৫৫ সালের ১৬ জানুয়ারি ঢাকা জেলার ভাওয়ালের জয়দেবপুরে এক দরিদ্র পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- গোবিন্দচন্দ্র দাস ভাওয়ালের কবি হিসেবেও বিখ্যাত।
- ১৮৮৭-৮৮ সালে কলকাতায় অবস্থানকালে তিনি মাসিক পত্রিকা 'বিভা' প্রকাশ করেন। এবং শেরপুরে 'চারুবার্তা' কাগজের অধ্যক্ষ ছিলেন।
রবীন্দ্রনাথের সমকালে আধুনিক গীতিকবিতার ধারায় কবিতা রচনা করেই গোবিন্দচন্দ্র খ্যাত হন।
- অ্যালেন হিউম রচিত 'অ্যায়োএক' কবিতা অনুবাদের জন্য তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।
- নরনারীর ইন্দ্রিয়জ প্রেম গোবিন্দচন্দ্রের কাব্যের মুখ্য বিষয়বস্তু। তবে স্বদেশপ্রেম, পল্লিপ্রকৃতি ও মানবজীবনের কথাও তাঁর কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।

তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো হচ্ছে:
- প্রসূন,
- প্রেম ও ফুল,
- কুকুম,
- মগের মুলুক (ব্যঙ্গকাব্য),
- কস্তুরী,
- চন্দন,
- ফুলরেণু (সনেট),
- বৈজয়ন্তী,
- শোক ও সান্ত্বনা,
- শোকোচ্ছ্বাস ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৯০৮.
'শিখা' পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন না কে?
  1. আবদুল কাদির
  2. আবুল হুসেন
  3. মুন্সি আহমদ আলী
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

•  আবুল মনসুর আহমদ - এ পত্রিকার সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

অন্যদিকে,
• আবুল হুসেন, আবদুল কাদির, এবং মুন্সি আহমদ আলী প্রত্যেকেই শিখা পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
• আবুল হুসেন ছিলেন এর প্রথম সম্পাদক, আবদুল কাদির এর প্রকাশনার দায়িত্বে ছিলেন, এবং মুন্সি আহমদ আলী এটি মুদ্রণের দায়িত্ব পালন করেন। 
----------------- 
শিখা পত্রিকা: 
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে। 
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত। 
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- তাই প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
 মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা। 
- শিখার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলাপিডিয়া।
 

৯০৯.
‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন -
  1. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  2. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
  3. কাঙাল হরিনাথ
  4. মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন
ব্যাখ্যা
‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকা:
- কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ (১৯২০) মাসে মাসিক ‘মোসলেম ভারত’ প্রকাশিত হয়।
- প্রথম বছর নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হলেও পরের বছর অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়। সব মিলিয়ে মাত্র ১৭টি সংখ্যা বেরিয়েছে।
- রবীন্দ্রনাথের বাণী পত্রিকাটির প্রতি সংখ্যার সূচনাতে মুদ্রিত হতো।
- ‘মোসলেম ভারত' নজরুলের প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে প্রধান সহায়ক হয়েছে। প্রতি সংখ্যায় নজরুলের একাধিক রচনা এখানে মুদ্রিত হয়।
- নজরুলের কামাল পাশা, মোহররম, সাত ইল বিদ্রোহী, বাঁধন-হারা আরব, বিদ্রোহী, (উপন্যাস, কিস্তিতে) ইত্যাদি নানা ধরনের লেখা এই পত্রিকার পৃষ্ঠায় ছড়িয়ে আছে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১০.
‘সাধনা’ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  4. জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
ব্যাখ্যা
• ’সাধনা’ পত্রিকা:
- এটি জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারের তরুণ-বংশধরদের সম্পাদিত চতুর্থ পত্রিকা।
- সাধনা প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৯৮ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ মাসে (ডিসেম্বর, ১৮৯১)।
- ১৮৯১ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশ ঘটে।
- চতুর্থ বছর সম্পাদনার ভার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই গ্রহণ করেন।
- এই পত্রিকার প্রধান লেখক ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯১১.
মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. নয়া সড়ক
  2. সওগাত
  3. মাসিক মোহাম্মদী
  4. কোহিনূর
ব্যাখ্যা
• 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা:
- মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ১৯২৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হয়। পরে আবার দুই বছর বন্ধ থাকার পর ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বর মাসে এটি ঢাকা থেকে পুনঃপ্রকাশিত হয় এবং ১৯৭০ সাল পর্যন্ত এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকে।
- আকরম খাঁর পরে মুজিবুর রহমান খাঁ ও বদরুল আনাম খাঁ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, আখতারুল আলম, আ.ন.ম গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ প্রমুখ তরুণ সাংবাদিক-সাহিত্যিক এর সম্পাদনা-সহযোগীর দায়িত্ব পালন করেন।

অনদিকে, 
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- 'সওগাত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন- 'মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন'।
- মোহাম্মদ এয়াকুব আলী চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকা- 'কোহিনূর'।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯১২.
ইয়ংবেঙ্গলের মুখপত্র “জ্ঞাণান্বেষণ” - পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. ক) রাধানাথ শিকদার
  2. খ) দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
  3. গ) হরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
 দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়
- পত্রিকা-সম্পাদক, সমাজসেবক।
- ১৮১৪ সালে তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল কাঁচড়াপাড়ার ভাটপাড়ায়।
- তিনি হেয়ার স্কুল ও হিন্দু কলেজে পড়াশুনা করেন এবং সেই সূত্রে ইয়ং বেঙ্গল দলের কর্মী ও ডিরোজিওর প্রিয় পাত্র ছিলেন।
- দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায় ছাত্রাবস্থায়ই জ্ঞানান্বেষণ (১৮৩১) পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- পরে তিনি ভারত পত্রিকা, সমাচার হিন্দুস্থানী ইত্যাদি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯১৩.
রাজা রামমোহন রায় সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. সম্বাদ কৌমুদী
  2. জ্ঞানান্বেষণ
  3. বঙ্গদূত
  4. সম্বাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা
-'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন রাজা রামমোহন রায়।
- এটি একটি সাময়িক পত্রিকা৷ যা ১৮২১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
- এটি সমাচার দর্পণ পত্রিকার জবাব স্বরূপ প্রকাশিত হয়৷

- সম্বাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক - ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- জ্ঞানান্বেষণ পত্রিকার সম্পাদক - দক্ষিণারঞ্জন মুখোপাধ্যায়।
- বঙ্গদূত পত্রিকার সম্পাদক - নীলমণি হালদার৷
- কল্লোল প্রথম সম্পাদক ছিলেন - দীনেশরঞ্জন দাশ

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার
৯১৪.
‘দিগদর্শন’ পত্রিকাটি কোথা থেকে প্রকাশিত হয়েছিল?
  1. কলকাতা মিশন
  2. শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন
  3. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. বিশ্বভারতী
ব্যাখ্যা
'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বঙ্গভূমিতে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সাময়িক পত্রিকা।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা।
- জোশুয়া মার্শম্যানের পুত্র জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পদনায় শ্রীরামপুর ব্যাপটিস্ট মিশন থেকে প্রকাশিত হয়।
- বাংলা গদ্যের সূচনায় যেমন মিশনারিদের নামই প্রধান, তেমনি সাময়িক পত্রের ইতিহাসের সূচনায় তাঁরাই প্রাধান্য লাভ করেছেন। 'যুবলোকের কারণ সংগৃহীত নানা উপদেশ' এই পত্রিকায় অন্তর্ভুক্ত হত। এতে ভূগোল, ইতিহাস, দেশবিদেশের জ্ঞাতব্য তথ্য, কৌতুককর অথবা বিস্ময়জনক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাহিনি সহজ ভাষায় পরিবেশিত হত বলে তা স্কুল বুক সোসাইটির বিদ্যালয়সমূহে পাঠ্য- পুস্তকরূপে প্রচলিত ছিল।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯১৫.
বাংলা সাহিত্যে চলিত ভাষারীতির প্রথম মুখপত্র ছিল কোনটি?
  1. ধূমকেতু
  2. শিখা
  3. সবুজপত্র
  4. ভারতী
ব্যাখ্যা
'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৬.
কথাসাহিত্যিক "শওকত ওসমান" এর প্রকৃত নাম কী ছিলো?
  1. শওকত আহমেদ
  2. শেখ আজিজুর রহমান
  3. শওকত রহমান
  4. শাহ আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

• শওকত ওসমান: 
- শওকত ওসমান কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
- ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সবলসিংহপুর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম শেখ আজিজুর রহমান; ‘শওকত ওসমান’ তাঁর সাহিত্যিক নাম।
- ‘নেকড়ে অরণ্য’ - শওকত ওসমান রচিত উপন্যাস। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত নেকড়ে অরণ্য গ্রন্থে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলার নরনারীর নির্যাতনের করুণ বিবরণ আছে।
- তাঁর জননী ও ক্রীতদাসের হাসি উপন্যাস দুটি প্রশংসিত হয়েছে।
- জননীতে সামাজিক জীবন ও ক্রীতদাসের হাসিতে রাজনৈতিক জীবনের কিছু অন্ধকার দিক উন্মোচিত হয়েছে।
- 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' শওকত ওসমান রচিত মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক উপন্যাস। 

• শওকত ওসমান রচিত কয়েকটি উপন্যাস -
- ক্রীতদাসের হাসি,
- সমাগম,
- রাজা উপাখ্যান,
- দুই সৈনিক,
- নেকড়ে অরণ্য,
- পতঙ্গ পিঞ্জর,
- রাজসাক্ষী,
- জলাঙ্গী,
- পুরাতন খঞ্জর,
- বনি আদম,
- জননী,
- চৌরসন্ধি,

• শওকত ওসমান রচিত নাটক -
- তস্কর নস্কর,
- পূর্ণ স্বাধীনতা চূর্ণ স্বাধীনতা,
- আমলার মামলা।

• শওকত ওসমান রচিত গল্পগ্রন্থ -
- ঈশ্বরের প্রতিদ্বন্দী,
- পিঁজরাপোল,
- জন্ম যদি তব বঙ্গে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ও বাংলাপিডিয়া।

৯১৭.
একটানা এগারো বছর সার্থকতার সঙ্গে 'ভারতী' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন- 
  1. স্বর্ণকুমারী দেবী 
  2. দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. হিরণ্ময়ী দেবী
  4. সরলা দেবী
ব্যাখ্যা

• 'ভারতী' পত্রিকা:
'ভারতী' জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিকল্পনা-প্রসূত মাসিক পত্রিকা। পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১২৮৪ বঙ্গাব্দের ১৫ শ্রাবণ (২৯ জুলাই, ১৮৭৭ খ্রি)। ভারতী-র প্রথম সম্পাদক ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬)। তবে কার্যত পত্রিকা প্রকাশের সবরকম দায়িত্ব পালন করেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। ভারতী পত্রিকার সম্পাদনার ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। দ্বিজেন্দ্রনাথ ১২৮৪ থেকে ১২৯০ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পত্রিকাটির সম্পাদক ছিলেন।

তাঁর পরবর্তী সময়ে স্বর্ণকুমারী দেবী ১২৯১ থেকে ১৩০১ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত টানা এগারো বছর পত্রিকাটির সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি নিয়মিত প্রকাশনা, সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল ভাষা রক্ষা এবং পত্রিকার গুণগত মান বজায় রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তাঁর দক্ষ সম্পাদনার ফলে ‘ভারতী’ পত্রিকাটি ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে এবং সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে তিনি আবার ১৩১৫–১৩২১ বঙ্গাব্দে ৭ বছর সম্পাদনা করেন (মোট ১৮ বছর)।

১৩০২-১৩০৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত সময়ে হিরণ্ময়ী দেবী ও সরলা দেবী যৌথভাবে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এক বছর (১৩০৫ বঙ্গাব্দ) ভারতী-র সম্পাদক ছিলেন।

সরলা দেবী ১৩০৬-১৩১৪ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত নয় বছর পত্রিকাটির একক-সম্পাদক ছিলেন এবং পরবর্তী ১৩৩১ বঙ্গাব্দ থেকে ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের কার্তিক পর্যন্ত সরলা দেবীকে পুনরায় তিন বছর পত্রিকাটির দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয়েছিল। 

১৩৩৩ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে ভারতী পত্রিকাটি প্রকাশনার সর্বমোট পঞ্চাশ বছরের মধ্যে ত্রিশ বছরেরও অধিক নারী কর্তৃক সম্পাদিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৯১৮.
বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. নয়া সড়ক
  2. সওগাত
  3. ধানশালিকের দেশ
  4. দৈনিক নবযুগ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি থেকে ছয়টি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগুলো হচ্ছে-

১. বাংলা একাডেমি পত্রিকা: গবেষণামূলক ত্রৈমাসিক। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উপর বিশেষ গুরুত্বসহ অন্যান্য বিষয়েও বাংলায় রচিত গবেষণামূলক প্রবন্ধ এতে প্রকাশিত হয়।

২. উত্তরাধিকার: মাসিক পত্রিকা। এতে সৃজনশীল রচনা, যথা: গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, গ্রন্থ-সমালোচনা ইত্যাদি মুদ্রিত হয়।

৩. ধানশালিকের দেশ: ত্রৈমাসিক কিশোর পত্রিকা। কিশোরোপযোগী গল্প, কবিতা, ছড়া ইত্যাদি এই পত্রিকায় মুদ্রিত হয়।

৪. বাংলা একাডেমি বিজ্ঞান পত্রিকা: ষাণ্মাসিক এই পত্রিকাটি বিজ্ঞান বিষয়ক রচনার সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৫. বাংলা একাডেমি জার্নাল: ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত ষাণ্মাসিক পত্রিকা। বাংলা সাহিত্যের নির্বাচিত রচনা ইংরেজির অনুবাদ এবং বাংলা সাহিত্য ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় রচিত মৌলিক রচনা এতে প্রকাশিত হয়। এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

৬. বার্তা: একাডেমির কার্যক্রম ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের বিবরণ এতে উপস্থাপিত হয়ে থাকে। বর্তমানে এটি একটি অনিয়মিত প্রকাশনা।

অন্যদিকে, 
----------------
• 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।

• 'সওগাত' পত্রিকা ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।

•  'দৈনিক নবযুগ' পত্রিকাটি কাজী নজরুল ইসলাম ও কমরেড মুজাফ্ফর আহমদ এর সাথে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। দৈনিক নবযুগ পত্রিকা ১৯২০ সালের ১২ জুলাই প্রথম প্রকাশিত হয়। এটির মালিক ও পরিচালক ছিলেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।

উৎস: বাংলা একাডেমি ওয়েবসাইট; বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯১৯.
'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক - 
  1. সিকান্‌দার আবু জাফর
  2. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
  3. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  4. শওকত ওসমান
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন - সিকান্‌দার আবু জাফর

সিকান্‌দার আবু জাফর:
- ১৯১৯ সালের ১৯ মার্চ সাতক্ষীরা জেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে তাঁর জন্ম। তাঁদের আদি নিবাস ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে।
- তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক।
- তাঁর পূর্ণ নাম সৈয়দ আল্ হাশেমী আবু জাফর মুহম্মদ বখ্ত সিকান্দার । 
- আবু জাফর ১৯৫০ সালে  কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন সময়ে দৈনিক নবযুগ, ইত্তেফাক, সংবাদ ও মিল্লাত পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। 
- তিনি মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক (১৯৫৭-১৯৭০) ছিলেন।
- তাঁর রচিত ‘আমাদের সংগ্রাম চলবেই, জনতার সংগ্রাম চলবেই’ গানটি মুক্তিযুদ্ধের সময় জনগণকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
- তিনি নাটকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) এবং একুশে পদক (১৯৮৪, মরণোত্তর) লাভ করেন। 
- ১৯৭৫ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং বনানী কবরস্থানে তিনি সমাহিত হন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।

৯২০.
স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ কোন পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন?
  1. দৈনিক ইত্তেফাক
  2. দৈনিক গণকণ্ঠ
  3. দৈনিক বাংলার বাণী
  4. দৈনিক আজাদ
ব্যাখ্যা

• আল মাহমুদ (১৯৩৬-২০১৯):
- তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা কবি এবং বিশ শতকের বাংলা সাহিত্যে তিনি এক প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিভা। 
- তাঁর প্রকৃত নাম: মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ।
- যিনি আল মাহমুদ নামে অধিক পরিচিত।
- তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, ছোটগল্প লেখক, শিশুসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক ছিলেন।
- স্বাধীনতা-উত্তরকালে আল মাহমুদ দৈনিক ”গণকণ্ঠ” এর সম্পাদক ছিলেন। এই পত্রিকাটি ১৯৭২ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হওয়া শুরু হয় এবং তিনি এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- লোক লোকান্তর,
- কালের কলস,
- সোনালী কাবিন,
- পাখির কাছে ফুলের কাছে,
- অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- ডাহুকী,
- উপমহাদেশ,
- আগুনের মেয়ে,
- চেহারার চতুরঙ্গ,
- কাবিলের বোন ইত্যাদি

• তাঁর রচিত গল্পগ্রন্থ:
- পানকৌড়ির রক্ত,,
- সৌরভের কাছে পরাজিত,
- গন্ধবণিক,
- ময়ূরীর মুখ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯২১.
কার সম্পাদনায় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক’ প্রকাশিত হয়?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. মহম্মদ রওশন আলী
ব্যাখ্যা
⇒ কাজী ইমদাদুল হক:
- কাজী ইমদাদুল হক একজন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক।
- তিনি ১৮৮২ সালের ৪ নভেম্বর খুলনা জেলার গোদাইপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি কবিতা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিক্ষা ও নীতিমূলক শিশুসাহিত্য রচনায় খ্যাতি অর্জন করেন।
- ১৯২০ সালের মে মাসে ইমদাদুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় শিক্ষাবিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘শিক্ষক’। পত্রিকাটি তিন বছর চালু ছিল।
- আবদুল্লাহ উপন্যাসের লেখক হিসেবেই তাঁর সমধিক পরিচিতি। এতে তৎকালীন মুসলিম সমাজের নানা দোষত্রুটি অতিশয় দক্ষতার সঙ্গে তিনি তুলে ধরেন।
- ‘আবদুল্লাহ’ কাজী ইমদাদুল হকের অসমাপ্ত উপন্যাস। কাজী ইমদাদুল হক মৃত্যুবরণ করলে অধ্যাপক কাজী আনােয়ারুল কাদির মূল লেখকের খসড়া অবলম্বনে অসমাপ্ত উপন্যাসটির ১১টি পরিচ্ছেদ রচনা করেন।
- উপন্যাসটিতে চিত্রিত হয়েছে গ্রামীণ মুসলিম সমাজের পিরভক্ত, ধর্মীয় কুসংস্কার, পর্দাপ্রথা, আশরাফ-আতরাফ বৈষম্য, হীন স্বার্থপরতা সম্প্রদায়বিদ্বেষ ইত্যাদির বিরুদ্ধে মানবতাবাদী প্রতিবাদ।

• কাব্য: আঁখিজল, লতিকা।
• প্রবন্ধ: প্রবন্ধমালা।
• শিশুতোষ গ্রন্থ: নবীকাহিনী।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯২২.
কোন কবির উপাধি 'চারণকবি'?
  1. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  2. মুকুন্দদাস
  3. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  4. রামপ্রসাদ সেন
ব্যাখ্যা

মুকুন্দদাস:
- ঢাকার বিক্রমপুরে তাঁর জন্ম। তাঁর পিতৃদত্ত নাম ছিল যজ্ঞেশ্বর।
- রামানন্দ নামক এক সাধকের নিকট দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম হয় মুকুন্দদাস।
- তিনি ১৯২২ সালে  অসহযোগ আন্দোলন এবং ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলনে স্বদেশপ্রেমের গান ও যাত্রাপালা লিখে ও গেয়ে জনসাধারণকে জাগিয়ে তোলেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও  কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে চারণকবির মর্যাদা দেন।
- সাধনসঙ্গীত, পল্লীসেবা, ব্রহ্মচারিণী, পথ, সাথী, সমাজ, কর্মক্ষেত্র প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
- মুকুন্দদাস সারাজীবনে সাতশত মেডেল এবং বহু পুরস্কার পেয়েছেন, কিন্তু ‘চারণকবি’ উপাধির মাধ্যমেই তিনি আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
 
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯২৩.
নিচের কোনটি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা?
  1. বঙ্গদর্শন
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. শনিবারের চিঠি
  4. সংবাদ প্রভাকর
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে আক্রমণ করা।

- প্রথম প্রকাশ ১০ শ্রাবণ ১৩৩১ সন। আকার ডবল ক্রাউন, চবিবশ পৃষ্ঠা এবং অনুরূপ আকারের খামে মোড়া। খামে চাবুক প্রহাররত এক বীর পুরুষের মূর্তি, সবুজ কালিতে ছাপা।
- যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। মূল্য প্রতি সংখ্যা এক আনা, বার্ষিক ডাকমাশুলসহ তিন টাকা।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে উলেখযোগ্য ছিলেন, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়, সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়, মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।
সাপ্তাহিক শানিবারের চিঠির ২৭তম সংখ্যা ১৩৩১ সনের ৯ ফাল্গুনে বের হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৩৩৩ সনে পত্রিকার তিনটি বিশেষ সংখ্যা বের হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে 'জুবিলী সংখ্যা', আষাঢ় মাসে 'বিরহ সংখ্যা' ও কার্তিক মাসে 'ভোট সংখ্যা' প্রকাশিত হয়। পরে পত্রিকাটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

- দশ মাস পর ১৩৩৪ সনের ভাদ্র মাসে পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পর পত্রিকাটির সম্পাদক হন নীরদচন্দ্র চৌধুরী। কিন্তু নতুন প্রকাশক সজনীকান্তর সঙ্গে নীরদচন্দ্র চৌধুরির মতানৈক্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করলে সজনীকান্ত নিজেই সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৩৩৬ সনের কার্তিক মাসে পত্রিকাটি তৃতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৩৩৮ সনের আশ্বিন থেকে শুরু করে সজনীকান্তর মৃত্যু অবধি এটি প্রকাশিত হয়েছে।

- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এরূপ মন্তব্য থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল গোষ্ঠীর কবিরা কেউই রেহাই পাননি। সমকালীন পত্র-পত্রিকায় এসব লেখকদের যে লেখাই প্রকাশ পেত, শনিবারের চিঠি গোষ্ঠীর মনোপুত না হলে প্যারোডি ও কার্টুনের মাধ্যমে তাদের লেখা নিয়ে রসিকতা করা হতো। এ রসিকতার সবচেয়ে বেশি শিকার হন কাজী নজরুল ইসলাম। এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই 'বিদ্রাহী' কবিতার প্যারোডি প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি সংখ্যাতেই তাঁর কোনো-না-কোনো কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো।

অন্যদিকে, 
-----------------------
• 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা:
- ১৮৭২ সালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) কর্তৃক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- উনিশ শতকের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, বিশেষত বাংলা গদ্যের গঠনে এর অবদান অবিস্মরণীয়।
- পত্রিকাটি ১৮৭৬ পর্যন্ত মাত্র চার বছর প্রকাশিত হয়।

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপ ত্র।
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা।
- এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৩৯ সাল থেকে এটি দৈনিক পত্রিকায় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯২৪.
‘সংবাদ প্রভাকর’ প্রথম কবে সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়?
  1. ১৮৩৯ সালে
  2. ১৮৪০ সালে
  3. ১৮৩১ সালে
  4. ১৮৩৫ সালে
ব্যাখ্যা
সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯২৫.
নিচের কোন ব্যাক্তি দীর্ঘদিন 'দৈনিক আজাদ' পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন?
  1. শামসুদ্দীন আবুল কালাম
  2. কাজী আব্দুল ওদুদ
  3. আবুল কালাম শামসুদ্দীন
  4. আবুল হাসান
ব্যাখ্যা
• আবুল কালাম শামসুদ্দীন দৈনিক আজাদ পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে ১৯৩৬ সালে যোগ দেন এবং দীর্ঘ বাইশ বছর সম্পাদনা করেন
- দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন মওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ।

• আবুল কালাম শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা সমূহ-
- ১৯২৩-এ সহযোগী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক মোহাম্মদী পত্রিকায়।
- সওগাত পত্রিকার সম্পাদনা বিভাগে (১৯২৬) কর্মরত ছিলেন।

• আবুল কালাম শামসুদ্দীন:
- আবুল কালাম শামসুদ্দীন একজন সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।
- ১৮৯৭ সালের ৩ নভেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালে তাঁর জন্ম।
- তিনি ১৯১৯ সালে ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করার পর কলকাতার রিপন কলেজে বিএ শ্রেণিতে ভর্তি হন।
- কিন্তু ওই সময় (১৯২০-২১) খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি তাতে যোগ দেন এবং বিএ পরীক্ষা না দিয়ে কলকাতার গৌড়ীয় সুবর্ণ বিদ্যায়তন থেকে উপাধি পরীক্ষা (১৯২১) পাস করেন।

• আবুল কালাম রচিত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- কচি পাতা (শিশুসাহিত্য)
- ত্রিস্রোতা (অনুবাদ),
- পোড়োজমি বা অনাবাদী জমি,
- দৃষ্টিকোণ (প্রবন্ধ সংকলন),
- ইলিয়ড (বঙ্গানুবাদ),
- পলাশী থেকে পাকিস্তান (ইতিহাস) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৬.
কালিদাস রায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. মৌমাছি
  2. হুতুম পেঁচা
  3. বেতালভট্ট
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা
• কালিদাস রায়ের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - বেতালভট্ট।

অন্যদিকে,
• বিমল ঘোষ ব্যবহৃত ছদ্মনাম - মৌমাছি।
• কালীপ্রসন্ন সিংহের ব্যবহৃত ছদ্মনাম - হুতুম পেঁচা।
• সমরেশ বসু ব্যবহৃত ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯২৭.
সমালোচনামূলক সাময়িকী পত্রিকা কোনটি?
  1. দিগদর্শন‌
  2. কল্লোল
  3. তত্ত্বোবধিনী
  4. শনিবারের চিঠি
ব্যাখ্যা

• 'শনিবারের চিঠি' পত্রিকা:
- শনিবারের চিঠি স্যাটায়ার ধর্মী সাহিত্যিক পত্রিকা। প্রথম দিকে এটি সাপ্তাহিক পরে মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল হাস্য কৌতুকের মাধ্যমে সমসাময়িক সাহিত্য-চর্চাকে সমালোচনার মাধ্যমে আক্রমণ করা।

- প্রথম প্রকাশ ১০ শ্রাবণ ১৩৩১ সন। আকার ডবল ক্রাউন, চব্বিশ পৃষ্ঠা এবং অনুরূপ আকারের খামে মোড়া। খামে চাবুক প্রহাররত এক বীর পুরুষের মূর্তি, সবুজ কালিতে ছাপা।

- যোগানন্দ দাস ছিলেন একাধারে উক্ত পত্রিকার প্রথম সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর। মূল্য প্রতি সংখ্যা এক আনা, বার্ষিক ডাকমাশুলসহ তিন টাকা।

- শনিবারের চিঠির প্রায় সব রচনা বেনামে প্রকাশিত হয়েছে। লেখকদের মধ্যে উলে­খযোগ্য ছিলেন, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামানন্দ চট্টপাধ্যায়,  সুনীতিকুমার চট্টপাধ্যায়, অশোক চট্টপাধ্যায়, সুবিমল রায়,  মোহিতলাল মজুমদার, সজনীকান্ত দাস, যোগানন্দ দাস, নীরদচন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ।

- সাপ্তাহিক শানিবারের চিঠির ২৭তম সংখ্যা ১৩৩১ সনের ৯ ফাল্গুনে বের হওয়ার পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৩৩৩ সনে পত্রিকার তিনটি বিশেষ সংখ্যা বের হয়। জ্যৈষ্ঠ মাসে ‘জুবিলী সংখ্যা’, আষাঢ় মাসে ‘বিরহ সংখ্যা’ ও কার্তিক মাসে ‘ভোট সংখ্যা’ প্রকাশিত হয়। পরে পত্রিকাটি আবার বন্ধ হয়ে যায়।

- দশ মাস পর ১৩৩৪ সনের ভাদ্র মাসে পত্রিকাটি মাসিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পর পত্রিকাটির সম্পাদক হন নীরদচন্দ্র চৌধুরী। কিন্তু নতুন প্রকাশক সজনীকান্তর সঙ্গে নীরদচন্দ্র চৌধুরির মতানৈক্য হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করলে সজনীকান্ত নিজেই সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৩৩৬ সনের কার্তিক মাসে পত্রিকাটি তৃতীয়বারের মতো বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৩৩৮ সনের আশ্বিন থেকে শুরু করে সজনীকান্তর মৃত্যু অবধি এটি প্রকাশিত হয়েছে।

- হাস্য-কৌতুক ও তীর্যক মন্তব্যের মাধ্যমে শনিবারের চিঠি ত্রিশ ও চল্লিশের দশকের বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে বিশিষ্ট স্থান অধিকার করে আছে। এরূপ মন্তব্য থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, প্রমথ চৌধুরী, কল্লোল গোষ্ঠীর কবিরা কেউই রেহাই পাননি। সমকালীন পত্র-পত্রিকায় এসব লেখকদের যে লেখাই প্রকাশ পেত, শনিবারের চিঠি গোষ্ঠীর মনোপুত না হলে প্যারোডি ও কার্টুনের মাধ্যমে তাদের লেখা নিয়ে রসিকতা করা হতো। এ রসিকতার সবচেয়ে বেশি শিকার হন কাজী নজরুল ইসলাম। এ পত্রিকার প্রথম সংখ্যাতেই ‘বিদ্রাহী’ কবিতার প্যারোডি প্রকাশিত হয় এবং প্রায় প্রতিটি সংখ্যাতেই তাঁর কোনো-না-কোনো কবিতা নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো।

অন্যান্য অপশন গুলোর বিশ্লেষণ:
•  দিগদর্শন:
ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের সঙ্গে যুক্ত। প্রধানত শিক্ষামূলক ও জ্ঞানবর্ধক পত্রিকা। ভাষা শিক্ষা, নীতিকথা ও সাধারণ জ্ঞান উপস্থাপনই পত্রিকার উদ্দেশ্য। সমালোচনামূলক পত্রিকা নয় এটি।
 
• কল্লোল:
আধুনিকতাবাদী সাহিত্যচর্চার গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা। নতুন কবিতা, গল্প ও সাহিত্য আন্দোলনের সূতিকাগার। যদিও সাহিত্যিক বিতর্ক ও মতাদর্শ ছিল, তবে এটি মূলত সৃজনশীল সাহিত্যপত্র।

• তত্ত্বোবধিনী: 
ব্রাহ্ম সমাজের সঙ্গে যুক্ত। ধর্ম, সমাজ সংস্কার ও দার্শনিক আলোচনাভিত্তিক পত্রিকা। সামাজিক-ধর্মীয় চিন্তাচর্চা থাকলেও সাহিত্যিক ব্যঙ্গ বা আক্রমণমূলক সমালোচনা ছিল না। সমালোচনামূলক সাময়িকী নয় এটি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯২৮.
'শমসের উল আজাদ' ছদ্মনামটি কার?
  1. অহিদুর রেজা
  2. আবুল ফজল
  3. এম. ওবায়দুল্লাহ
  4. মোঃ শহীদুল হক
ব্যাখ্যা
আবুল ফজল এর ছদ্মনাম - শমসের উল আজাদ।

অন্যদিকে,
• অহিদুর রেজা এর ছদ্মনাম - হাসন রাজা।
• এম. ওবায়দুল্লাহ এর ছদ্মনাম - আসকার ইবনে শাইখ।
• মোঃ শহীদুল হক এর ছদ্মনাম - শহীদুল জহির।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ,ড. সৌমিত্র শেখর।
৯২৯.
'শিখা' পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন কে? 
  1. কাজী মোতাহার হোসেন
  2. হাসান হাফিজুর রহমান
  3. হাসান আজিজুল হক
  4. হুমায়ুন কবির
ব্যাখ্যা

• কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক।
- তিনি 'বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন' এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন, আবুল ফজল প্রমুখের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে তিনি 'মুসলিম সাহিত্য সমাজ' প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন অল্প কিছুকাল উক্ত সংগঠনের মুখপত্র 'শিখা' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

তাঁর উলেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ হচ্ছে:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য কর,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহা,
- আলোক বিজ্ঞান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯৩০.
মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা কোনটি?
  1. আজীজন্নাহার
  2. সমাচার সভারাজেন্দ্র
  3. সুধাকর
  4. মিহির
ব্যাখ্যা

• 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকা:
- মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা 'সমাচার সভারাজেন্দ্র'।
- ১৮৩১ সালে এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 'সমাচার সভারাজেন্দ্র' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেখ আলিমুল্লাহ।
- এটি সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল।
- এটি পুরোপুরি বাংলা ভাষার পত্রিকা ছিল না। ছিল বাংলা-পারসি দ্বিভাষিক পত্রিকা।

অন্যদিকে, 
• মীর মশাররফ হোসেনের 'আজীজন্নাহার' (বাঙালি মুসলমান সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা)। 
• শেখ আবদুর রহিম সম্পাদিত পত্রিকা 'সুধাকর' এবং 'মিহির'। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৩১.
'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর মুখপত্ররূপে কোন পত্রিকা প্রকাশিত হয়?
  1. জ্ঞানাঙ্কুর
  2. ব্রাহ্মণসেবধি
  3. জ্ঞানান্বেষণ
  4. বঙ্গদূত
ব্যাখ্যা
• ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী ও এর মুখপাত্র:
- ইংরেজি ভাবধারা পুষ্ট বাঙালি যুবকরাই ইয়ং বেঙ্গল নামে পরিচিত ।
- ইয়ং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন ডিরোজিও ।
- ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীর মুখপাত্র স্বরূপ জ্ঞানান্বেষণ, এনকোয়ারার প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- ইয়ং বেঙ্গল এর সদস্য ছিলেন কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাধানাথ শিকদার, প্যারীচাঁদ মিত্র ,তারাচাঁদ চক্রবর্তী প্রমুখ ।

- ১৮৩৩ সালে মাইকেল মধুসূধন দত্ত হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। আর এই কলেজেই 'ইয়ং বেঙ্গল' গোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছিলো ডিরোজিওর হাত ধরে।
- পরবর্তীতে তিনি ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠী দ্বারা ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত হন। হিন্দু কলেজের অধ্যাপক ডিরোজিওর স্বদেশানুরাগে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি ইয়ং বেঙ্গল গোষ্ঠীতে নাম লেখান।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি, হুমায়ুন আজাদ এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৩২.
‘গৌড়তটবাসী মশা’ ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন কে?
  1. বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
  2. সৈয়দ মুজতবা আলী
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সুনীল গঙ্গেপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
‘গৌড়তটবাসী মশা’ ছদ্মনামে শীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য রচনা করেছেন।

তাঁর অন্যান্য ছদ্মনামগুলো হলো:
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

অন্যদিকে,
• বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল - ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
• সৈয়দ মুজতবা আলী তাঁর বিভিন্ন গ্রন্থে কয়েকটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেন, এগুলো হলো: প্রিয়দর্শী, মুসাফির, ওমর খৈয়াম ও সত্যপীর।
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় 'নীললোহিত', 'সনাতন পাঠক', 'নীল উপাধ্যায়' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন।

• গুরুত্বপূর্ণ কিছু কবি ও সাহিত্যিকদের ছদ্মনাম:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ব্যবহৃত ছদ্মনাম কস্যচিৎ ‘উপযুক্ত ভাইপোস্য’।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম যাযাবর।  
- বিমল ঘোষের ছদ্মনাম মৌমাছি।  
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম বনফুল।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৩৩.
কোনটি মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম?
  1. ক্বচিৎ প্রৌঢ়
  2. দত্তকুলোদ্ভব কবি
  3. লেখরাজ সামন্ত
  4. কালপুরুষ
ব্যাখ্যা

মাইকেল মধুসূদন দত্ত ব্যবহৃত ছদ্মনামগুলো হলো:
- Timothy Penpoem,
- দত্তকুলোদ্ভব কবি,
- এ নেটিভ।

অন্যদিকে,
প্রেমেন্দ্র মিত্র এর ছদ্মনাম - লেখরাজ সামন্ত।
বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিল - ক্বচিৎ প্রৌঢ়।
সুবোধ ঘোষের ছদ্মনাম - কালপুরুষ।

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার।
- তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'দ্য ক্যাপটিভ লেডি'।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৩৪.
বাংলা কাব্যের 'চিত্ররূপময়' কবি
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) জীবনানন্দ দাশ
  3. গ) শামসুর রাহমান
  4. ঘ) বুদ্ধদেব বসু
ব্যাখ্যা
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় প্রকৃতি কাব্যময় হয়ে উঠেছে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জীবনানন্দের 'ধূসর পান্ডুলিপি' পড়ে তার কবিতাকে 'চিত্ররূপময় কবিতা' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।
জীবনানন্দের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ -
- ঝরাপালক (১৯২৮)
- ধূসর পান্ডুলিপি (১৯৩৬)
- বনলতা সেন (১৯৪২)
- সাতটি তারার তিমির (১৯৪৮)
- রূপসী বাংলা (১৯৫৭)

উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৫.
'রসরাজ' কার উপাধি?
  1. বিহারীলাল চক্রবর্তী
  2. অতুলপ্রসাদ সেন
  3. অমৃতলাল বসু
  4. আবদুল গাফ্‌ফার চৌধুরী
ব্যাখ্যা

• 'রসরাজ' অমৃতলাল বসুর উপাধি।

------------------
• অমৃতলাল বসু:
- বাংলা নাট্যসাহিত্যে নাট্যকার হিসেবেও অমৃতলালের নাম সগৌরবে উচ্চারিত হয়।
- তিনি রঙ্গ-ব্যঙ্গমূলক নাটক রচনা ও তাতে অভিনয় করে সুধীসমাজ কর্তৃক ‘রসরাজ' উপাধিতে ভূষিত হন।
- নাটক, প্রহসন ও নকশা জাতীয় তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশ। তিনি প্রহসন ও ব্যঙ্গ রচনাতেই অধিক সফল হয়েছেন।
- সমকালের নাগরিক ও গ্রামীণ সমাজের নানা দিক নিয়ে এসব ব্যঙ্গাত্মক নাটক রচিত হয়।

• উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম:
- তিলতর্পণ,
- বিবাহ বিভ্রাট,
- তরুবালা,
- কালাপানি,
- বাবু,
- বিমাতা,
- আদর্শ বন্ধু,
- অবতার,
- চোরের উপর বাটপাড়ি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সৌমিত্র এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৩৬.
আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা
  1. সুধা
  2. মোহাম্মদী 
  3. নয়া সড়ক
  4. কালিকলম
ব্যাখ্যা
• 'নয়া সড়ক' পত্রিকা:
- 'নয়া সড়ক' একটি বার্ষিক সাহিত্যপত্র। ১৯৪৮ সালে পত্রিকাটি প্রকাশ হয় আবু জাফর শামসুদ্দীন ও মোহাম্মদ নাসির আলির যৌথ সম্পাদনায়।
- মনে করা হয়, ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের পর এটিই স্বাধীন পূর্ববাংলার প্রথম বাংলা সাহিত্যপত্র।
- পত্রিকার নামকরণেই বোঝা যায় নতুনের দিকে যাত্রার প্রত্যাশী ছিলেন আয়োজকগণ।
- এই সাহিত্যপত্রে মূলত মুসলিম লেখকদের লেখা ছিল। এই লেখকদের অনেকেই পরবর্তীকালে স্বনামে খ্যাত হয়েছিলেন। এই সাহিত্যপত্রটি আজ দুর্লভ।
- বাংলা একাডেমির 'দুষ্প্রাপ্য' বিভাগে এর প্রথম সংখ্যাটি রক্ষিত আছে।

অন্যদিকে, 
• ১৯০১ সালে দক্ষিণারঞ্জনের সম্পাদিত মাসিক 'সুধা' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। চার বছর ধরে গোটা বিশেক সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
• মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
• কালিকলম  সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)। মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৭.
মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যজীবনের সূত্রপাত হয় কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
  2. হিতকরী
  3. সংবাদ প্রভাকর
  4. আজিজননেহার
ব্যাখ্যা
গ্রামবার্তা প্রকাশিকা:
• গ্রামবার্তা প্রকাশিকা উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসিক পত্রিকা। ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের সম্পাদনায় এটি প্রথম প্রকাশিত হয়। পরের বছর (১২৭১ বঙ্গাব্দের আষাঢ়) থেকে এটি পাক্ষিক এবং ১৮৭১ সাল (১২৭৮ বঙ্গাব্দের বৈশাখ) থেকে সাপ্তাহিকে পরিণত হয়।

• প্রথমদিকে পত্রিকাটি মুদ্রিত হতো কলকাতার গিরিশ বিদ্যারত্ন প্রেস থেকে; পরে ১৮৬৪ সালে কুমারখালিতে মথুরানাথ যন্ত্র স্থাপিত হলে সেখান থেকে মুদ্রিত হতে থাকে। এ ছাপাখানাটি ১৮৭৩ সালে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়র পিতা মথুরানাথ মৈত্রেয় হরিনাথকে দান করেন।

• গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় তৎকালীন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের খ্যাতনামা পন্ডিতরা লিখতেন। রবীন্দ্রনাথের বিভিন্নবিষয়ক প্রবন্ধ, ছড়া ইত্যাদিও এতে প্রকাশিত হতো।

• প্রখ্যাত মুসলিম লেখক মীর মশাররফ হোসেনের সাহিত্যচর্চার হাতেখড়িও হয় এ পত্রিকার মাধ্যমে। তিনি প্রথমে এর একজন মফঃস্বল সাংবাদিক ছিলেন। ছাত্র থাকাকালীন অবস্থায় এ পত্রিকায় তাঁর অনেক লেখা প্রকাশিত হয়। হরিনাথ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু। এ পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি পরবর্তীকালে মুসলমান রচিত আধুনিক বাংলা সাহিত্যে সমন্বয়ধর্মী ধারার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন, যা পরবর্তী সময়ে বহু মুসলিম সাহিত্যিক কর্তৃক অনুসৃত হয়েছে।

এছাড়াও,
• মীর মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর (১৮৩১) সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এবং মশাররফ 'আজিজননেহার' (১৮৭৪) ও 'হিতকরী' (১৮৯০) নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৩৮.
হুতোম পেঁচা ছদ্মনামে লিখতেন কে?
  1. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  2. প্যারীচাঁদ মিত্র
  3. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ে
  4. কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
• কালীপ্রসন্ন সিংহ এর ছদ্মনাম- 'হুতোম পেঁচা'।

অন্যদিকে, 
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - বনফুল।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম - যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৩৯.
‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি যে পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় মুদ্রিত থাকতো-
  1. সওগাত
  2. মোহাম্মদী
  3. সমকাল
  4. শিখা
ব্যাখ্যা

'শিখা' পত্রিকা:
- শিখা পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যার শিরোদেশে ‘জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব’ কথাটি মুদ্রিত থাকত।
- ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তারা ১৯২৭ সালে 'শিখা' নামে একটি বার্ষিক মুখপত্র প্রকাশ করে।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হতো।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত হয়।
- আর মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত।
- শিখার পাঁচটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- শিখা ছিল সমকালের অন্যান্য সাময়িকপত্র থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ধরনের।
- প্রথম সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই পত্রিকাটি বুদ্ধিজীবী সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 
- মুসলিম সাহিত্য-সমাজের সারা বছরের কর্মকান্ডের পরিচয় বহন করত শিখা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৪০.
'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর ছদ্মনাম কোনটি?
  1. হুতোম প্যাঁচা
  2. অবধূত
  3. যাযাবর
  4. কালকূট
ব্যাখ্যা
'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর ছদ্মনাম  'হুতোম প্যাঁচা'।

• কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- তিনি ছিলেন একাধারে সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে 'হুতোমী বাংলা' রীতির প্রবর্তক ।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ মাত্র তেরো বছর বয়সে 'বিদ্যোৎসাহিনী সভা' প্রতিষ্ঠা করেন।

- তিনি "হুতোম প্যাঁচার নকশা” (১৮৬২) ও "সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য অনুবাদ" (১৮৬৬) এই দুটি গ্রন্থের জন্য অমর হয়ে আছেন।

• হুতোম প্যাঁচার নকশা:
- হুতোম প্যাঁচার নকশা তাঁর শ্রেষ্ঠ মৌলিক রচনা।
- এতে কলকাতার সামাজিক ব্যঙ্গচিত্র অঙ্কন করা হয়েছে এবং কলকাতার কথ্য ভাষাকে প্রথম সাহিত্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
- বাংলা গদ্যের উন্নয়নে হুতোম প্যাঁচার নকশা মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

অন্যদিকে,
- অবধূত - স্বামী কালিকানন্দ।
- যাযাবর - বিনয় মুখোপাধ্যায় ।
- কালকূট - সমরেশ বসু। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ।
৯৪১.
'পরশুরাম' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. রাজশেখর বসু
  2. বিমল ঘোষ
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. সমরেশ বসু
  5. ক ও গ
ব্যাখ্যা
• 'পরশুরাম' রাজশেখর বসু ও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম। 

• রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম - পরশুরাম।

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, 
---------------
• বিমল ঘোষের ছদ্মনাম - মৌমাছি।
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - কালকূট ও ভ্রমর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪২.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করেন কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  4. যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: 
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। 
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭)  ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভ করেন। 
- সাহিত্যকর্মে অসাধারণ অবদানের জন্য শরৎচন্দ্র কুন্তলীন পুরস্কার (১৯০৩), জগত্তারিণী স্বর্ণপদক (১৯২৩), বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সদস্যপদ (১৯৩৪) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের 'ডি.লিট' উপাধি (১৯৩৬) লাভ করেন

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলাপিডিয়া।
৯৪৩.
‘হুতোমী বাংলা’ কার রচনাকে বলা হয়?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  2. গিরিশচন্দ্র ঘোষ
  3. চন্ডীচরণ মুনশী
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
কালীপ্রসন্ন সিংহ, সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক, সমাজকর্মী।
তিনি কলকাতার এক ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।

- তিনি বাংলা ভাষা অনুশীলনের জন্য ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’, ‘বিদ্যোৎসাহিনী পত্রিকা’, ‘বিদ্যোৎসাহিনী রঙ্গমঞ্চ’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- “হুতোম প্যাঁচার নকশা” (১৮৬২) ও "সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য অনুবাদ” (১৮৬৬) এই দুটি গ্রন্থের রচয়িতা তিনি।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ অনুসৃত রীতির ভাষা হলো ‘হুতোমী বাংলা’।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৪.
'জরাসন্ধ' কার ছদ্মনাম?
  1. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  2. রাজশেখর বসু
  3. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  4. বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• 'চারুচন্দ্র চক্রবর্তী' এর ছদ্মনাম- জরাসন্ধ। 

অন্যদিকে,
- 'নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের' ছদ্মনাম 'সুনন্দ'।
-  'রাজশেখর বসুর' ছদ্মনাম- 'পরশুরাম'।
- 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়' এর ছদ্মনাম-'বনফুল'।

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৫.
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নির্ভরযােগ্য ঐতিহাসিক নিদর্শন কোনটি?
  1. ক) শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
  2. খ) চর্যাপদ
  3. গ) মনসামঙ্গল
  4. ঘ) বৈষ্ণব পদাবলী
ব্যাখ্যা

বাংলা সাহিত্যের আদি গ্রন্থ 'চর্যাপদ'। ধারণা করা হয় সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী কোন এক সময়ে চর্যাপদ রচিত হয়েছিল।
ড. শহীদুল্লাহর মতে - ৬৫০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
সুকুমার সেনের মতে- ৯০০-১৩৫০ সালের মধ্যে রচিত।
এবং ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে- পদগুলাে ৯৫০ থেকে ১২০০ সালের মধ্যে রচিত।
চর্যাপদ বাংলা ভাষার প্রথম কাব্যগ্রন্থ/কবিতা সংকলন/গানের সংকলন।
এটি বাংলা সাহিত্যের আদি যুগের একমাত্র লিখিত নিদর্শন।
১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন।
উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা এবং লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯৪৬.
মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সম্পাদিত পত্রিকাটির নাম কী?
  1. শিখা
  2. পূর্বাশা
  3. সওগাত
  4. সংবাদ প্রবাকর
ব্যাখ্যা

• সওগাত:
- সওগাত  একটি সচিত্র মাসিক পত্রিকা।
- ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) অগ্রহায়ণ মাসে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের সম্পাদনায়  কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- ১৩২৭ বঙ্গাব্দের চৈত্রমাসে (১৯২১ সালের মার্চ-এপ্রিল) অনিবার্য কারণবশত এর প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়।
- দীর্ঘ ছয় বছর পর ১৩৩৩ বঙ্গাব্দের (১৯২৬ সাল) আষাঢ় মাসে সওগাত-নবপর্যায় নামে পুনরায় এর প্রকাশনা শুরু হয়
- এবং ১৩৩৭ বঙ্গাব্দ (১৯৩০ সাল) পর্যন্ত নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ার পর অনিয়মিত হয়ে পড়ে। 
- ১৯৫০ থেকে প্রায় তিন বছর সওগাতের কোনো সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি। ১
- ৯৫২ সালের নভেম্বর/ডিসেম্বর (অগ্রহায়ণ ১৩৫৯) থেকে পত্রিকাটি ঢাকা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে।

অন্যদিকে,
- অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন ’শিখা’ পত্রিকার সম্পাদক।
- সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা- পূর্বাশা।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত পত্রিকা- সংবাদ প্রভাকর।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৪৭.
মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত পত্রিকা-
  1. সওগাত
  2. মোহাম্মদী
  3. আজীজন নেহার
  4. মোসলেম ভারত
ব্যাখ্যা
• 'আজীজন নেহার' পত্রিকা:
- মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত মাসিক 'আজীজন নেহার'। এই পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৭৪ সালে।

- মুসলমানদের সাহিত্যচর্চার জন্য পত্রিকা প্রকাশ ও সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু হলেও মুসলমান পরিচালিত পত্রিকার লেখক ও পাঠকের অভাব সহ বিভিন্ন কারণে পত্রিকাটি বেশি দিন চলেনি। মনে করা হয়, মশাররফ হোসেন তাঁর প্রথম স্ত্রীর নামে এই পত্রিকার নামকরণ করেছিলেন।
- এই পত্রিকাটি বিলুপ্ত হলে তিনি 'হিতকরী” (১৮৯০) নামে অন্য একটি স্বল্পায়ু পাক্ষিক পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

অন্যদিকে, 
• মোহাম্মদী একটি বাংলা মাসিক পত্রিকা। ১৯০৩ সালের আগস্ট মাসে মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পাদনায় কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
• ১৯২০ সালে কলকাতা থেকে মোজাম্মেল হকের সম্পাদনায় 'মোসলেম ভারত' মাসিক সাহিত্যপত্র হিসেবে প্রকাশিত হয়।
• ১৯১৮ সালে প্রকাশিত হয় 'সওগাত' পত্রিকা। এর সম্পাদক ছিলেন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৪৮.
‘ননসেন্স ক্লাব’ এর মুখপত্র ছিল কোনটি?
  1. ক) হ-য-ব-র-ল
  2. খ) মন্ডা মিঠাই
  3. গ) সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা
  4. ঘ) শব্দকল্পদ্রুম
ব্যাখ্যা
বাংলা শিশু সাহিত্যের এক অনন্য নাম সুকুমার রায়, (১৮৮৭-১৯২৩)। 
- পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতৃপ্রতিষ্ঠিত 'সন্দেশ' পত্রিকা পরিচালনা ও সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন।
- বিলেতে থাকা অবস্থায় তিনি এ পত্রিকার জন্য নিয়মিত গল্প, কবিতা ও নিজের আঁকা ছবি পাঠাতেন।
- সুকুমার রায় প্রেসিডেন্সিতে ছাত্র থাকাকালে ‘ননসেন্স ক্লাব’ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, যার মুখপত্র ছিল 'সাড়ে-বত্রিশ-ভাজা'
- বিলেত থেকে ফিরে তিনি গঠন করেন ‘মানডে ক্লাব’।
- এখানে আলোচনা ও পাঠের সঙ্গে থাকত ভূরিভোজের ব্যবস্থা।
- তাই ব্যঙ্গ করে কেউ কেউ একে বলত ‘মন্ডা ক্লাব’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৯৪৯.
কাঙ্গাল হরিনাথ সম্পাদিত 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়- 
  1. ১৮৬২ সালে 
  2. ১৮৬৩ সালে
  3. ১৮৬৪ সালে 
  4. ১৮৬৫ সালে 
ব্যাখ্যা

গ্রামবার্তা প্রকাশিকা: 
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকা উনিশ শতকের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাংলা পত্রিকা।
- কাঙাল হরিনাথ নামে পরিচিত হরিনাথ মজুমদারের এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।  
- তাঁর সম্পাদনায় ১৮৬৩ সালে এটি প্রথম মাসিক হিসেবে প্রকাশিত হয়
- পরবর্তী সময়ে পত্রিকাটি পাক্ষিক ও সাপ্তাহিক রূপ লাভ করে।

- এই পত্রিকার মূল লক্ষ্য ছিল- 
- গ্রামীণ সমাজের সমস্যা তুলে ধরা; 
- এবং কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপর সংঘটিত শোষণ ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করা।

- হরিনাথ মজুমদার আপসহীনভাবে ব্রিটিশ নীলকর ও মহাজনদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লেখালেখি করতেন; 
- ফলে পত্রিকাটি ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করে। 

- গ্রামবার্তা প্রকাশিকায় সাহিত্য, দর্শন ও বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ প্রকাশিত হতো।
- সে সময়ের বহু খ্যাতনামা লেখক এখানে লিখতেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনা যেমন এতে স্থান পেয়েছিল, তেমনি মীর মশাররফ হোসেন ও জলধর সেনের সাহিত্যজীবনের সূচনাও এই পত্রিকার মাধ্যমে ঘটে।

- দীর্ঘ আঠারো বছর গ্রামবার্তা প্রকাশিকা সম্পাদনার পর হরিনাথ মজুমদার সাংবাদিকতা ছেড়ে ধর্মসাধনায় মনোনিবেশ করেন।
- এই পত্রিকার মাধ্যমে তিনি শিক্ষা বিস্তার ও সামাজিক শোষণের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন সংগ্রাম করে বাংলা সাংবাদিকতা ও সমাজচেতনার ইতিহাসে স্থায়ী অবদান রেখে গেছেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৯৫০.
সঞ্জয় ভট্টাচার্য সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. পূর্বমেঘ
  2. পূর্বাশা
  3. প্রগতি
  4. প্রবাসী
ব্যাখ্যা

• 'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়।
- ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি। পূর্বাশা' ছিল মাসিক পত্রিকা।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

অন্যদিকে, 
• 'পূর্বমেঘ' পত্রিকা: ঢাকা থেকে নির্ভেজাল সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ ও তা টিকিয়ে রাখা যখন কষ্টকর ছিল, সে সময়েই রাজশাহী থেকে 'পূর্বমেঘ' (১৯৬০) নামে সাহিত্যপত্রিকা প্রকাশ হয় এবং এক দশকের বেশি সময় টিকে থাকে। বঙ্গাব্দের হিসেবে ১৩৬৭ থেকে ১৩৭৮ পর্যন্ত 'পূর্বমেঘের' আয়ুকাল।

• 'প্রগতি' ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'। সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
• 'প্রবাসী' পত্রিকা ১৯০১ সালে প্রকাশিত হয়। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় এটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৫১.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি বলা হয় কাকে?
  1. শামসুর রাহমান
  2. মুকুন্দরাম চক্রবর্তী
  3. ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
ব্যাখ্যা

• বাংলা সাহিত্যের প্রথম নাগরিক কবি - ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
অন্যদিকে,
- আধুনিক যুগের নাগরিক কবি - শামসুর রাহমান।

ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর:
- অন্নদামঙ্গল কাব্যের রচয়িতা ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর।
- তিনি মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি।
- তিনি নবদ্বীপের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আদেশে তিনি অন্নদামঙ্গলকাব্য রচনা করেন।
- রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ভারতচন্দ্রকে 'রায়গুণাকর' উপাধি দেন।
- ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরকে মধ্যযুগের 'শেষ বড় কবি' বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

৯৫২.
বাংলা সংবাদ-সাময়িকপত্র প্রকাশের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন -
  1. ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  2. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
  3. শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিরা
  4. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
'দিগদর্শন' পত্রিকা:
- বাংলা সংবাদ-সাময়িকপত্র প্রকাশের প্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন শ্রীরামপুরের ব্যাপ্টিস্ট মিশনারিরা
- ১৮১৮ সালে মিশনের পক্ষে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় প্রথম বাংলা সাময়িক পত্র দিগ্দর্শন।
- এর ২৬টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়।
- দিগ্দর্শনের প্রথম সংখ্যাটি ১৮১৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকাটিতে ইংরেজি প্রবন্ধও প্রকাশিত হতো।
- ১৮২১ সালের পরে এটি বন্ধ হয়ে যায়।
- এটি বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ভবিষ্যৎ সাময়িক পত্রিকাসমূহের জন্য সন্দেহাতীতভাবে মানসম্মত দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৩.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. দিকশূন্য ভট্টাচার্য
  2. নবীন কিশোর শর্মণঃ
  3. অনুরূপা দেবী
  4. শ্রীমতি কনিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট নয়টি ছদ্মনামে লিখেতেন। এগুলো হলো-
- ভানুসিংহ ঠাকুর,
- অকপটচন্দ্র ভাস্কর,
- আন্নাকালী পাকড়াশী,
- দিকশূন্য ভট্টাচার্য,
- নবীন কিশোর শর্মণঃ,
- ষষ্ঠীচরণ দেবশর্মাঃ,
- বাণী বিনোদ বিদ্যাবিনোদ,
- শ্রীমতি মধ্যমা ও
- শ্রীমতি কনিষ্ঠা।

অন্যদিকে,
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৪.
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. সমকাল
  2. কণ্ঠস্বর
  3. নয়া সড়ক
  4. নতুন কবিতা
ব্যাখ্যা
'কণ্ঠস্বর' পত্রিকা:
- আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সম্পাদিত ‘কণ্ঠস্বর’ কেবল একটি পত্রিকা নয়, একটি বৃহৎ আন্দোলনের সূতিকাগার।
- এই পত্রিকার সারথি হিসেবে, পত্রিকার সাহিত্যাদর্শ আর সাহিত্য-উদ্দেশ্যের নির্মাতা হিসেবে, সাংগঠনিক কাজকর্মের সম্পাদক হিসেবে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ নিষ্ঠার সঙ্গে যে পরিশ্রম করেছেন, তা বাংলাদেশের সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
- বাংলাদেশের বাংলা সাহিত্যে বিশ শতকের ষাটের দশকে বেশ কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন বা ছোট-কাগজ প্রকাশিত হয়ে সাহিত্য ক্ষেত্রে নতুন দিগ্বলয় সৃষ্টি করে। এর মধ্যে 'কণ্ঠস্বর' অন্যতম।

অন্যদিকে,
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- 'নতুন কবিতা' পত্রিকার সম্পাদক - আবদুর রশীদ খান।
- আবু জাফর শামসুদ্দীন সম্পাদিত পত্রিকা - নয়া সড়ক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৫.
'ভেড়াকান্ত' ছদ্মনামে একটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ রচনা করেন কে?
  1. হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় 
  2. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. সৈয়দ মুজতবা আলী 
ব্যাখ্যা

• 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী':
- 'গাজী মিয়াঁর বস্তানী' মীর মশাররফ হোসেন রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
- লেখক ব্যঙ্গের মাধ্যমে সমাজের অন্যায়, অনাচার, সামাজিক দুর্নীতি এবং সেই সমাজভুক্ত মানুষগুলোর নৈতিক অধঃপতন, মনুষ্যত্ব ও হৃদয়হীন আচরণ তুলে ধরেছেন এ গ্রন্থে।
- লেখক নিজেকে 'ভেড়াকান্ত' নামে উল্লেখ করেছেন।
- তাছাড়া আলকাতরা সান্যাল, কটা পেস্কার, জয়ঢাক, ছিড়িয়া খাতুন, অরাজকপুর, নচ্ছারপুর, জমদ্বারগ্রাম ইত্যাদি নামচয়নের মধ্যেও লেখকের ব্যঙ্গের তীব্রতা লক্ষ করা যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৯৫৬.
'সব্যসাচী' ছদ্মনামে লিখতেন-
  1. মোহিতলাল মজুমদার
  2. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  3. মোজাম্মেল হক
  4. সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
• মোহিতলাল মজুমদার:
- মোহিতলাল মজুমদার ছিলেন কবি, প্রাবন্ধিক, সাহিত্যসমালোচক।
- ১৮৮৮ সালের ২৬ অক্টোবর নদীয়ার কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস হুগলির বলাগড়ে।
- পেশায় তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন।
- তিনি তাঁর সমালোচনামূলক প্রবন্ধগুলিতে 'কৃত্তিবাস ওঝা', 'সব্যসাচী', 'শ্রী সত্যসুন্দর দাস' ইত্যাদি ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
- তিনি মৃত্যুবরণ করেন ২৬ জুলাই ১৯৫২ সালে।

তাঁর প্রকশিত কাব্যগ্রন্থ:
- স্বপন,
- বিস্ময়,
- স্মরগল,
- হেমন্ত গোধূলী। 

তাঁর রচিত প্রবন্ধ গ্রন্থ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্য,
- সাহিত্যকথা,
- বিচিত্র কথা,
- কবি শ্রীমধূদন। 

সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- সন্ধিক্ষণ,
- কাব্য সঞ্চয়ন। 

অন্যদিকে, 
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।
• মোজাম্মেল হকের ছদ্মনাম 'শান্তিপুরের কবি'। 
• সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম 'নীল লোহিত' ও 'সনাতন পাঠক।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫৭.
আবদুল করিমের উপাধি ছিল-
  1. সাহিত্য বিশারদ
  2. সাহিত্যরাজ
  3. সাহিত্য রত্ন
  4. সাহিত্য সম্রাট
ব্যাখ্যা
•  আবদুল করিম:
- আবদুল করিম ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার।
- বৃহত্তর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার সুচক্রদন্ডী গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯২০-২১ সালে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ তাঁর রচিত বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুথির বিবরণ শিরোনামে দুখণ্ডে প্রকাশ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত পুথির বেশির ভাগ মুসলমান কবিদের লেখা এবং ঐগুলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে। হিন্দু কবিদের লেখা অবশিষ্ট পুথিগুলি রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরকে দেওয়া হয়।
- আবদুল করিম এগারোটি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন।
- তাঁর সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন।
- নদীয়া সাহিত্য সভা তাঁকে 'সাহিত্যসাগর' উপাধি দিয়ে সম্মানিত করে এবং চট্টল ধর্মমন্ডলী তাঁকে 'সাহিত্য বিশারদ' উপাধিতে ভূষিত করে।
- তিনি বরাবরই 'শেষোক্ত' খেতাবটি পছন্দ করতেন এবং নিজ নামের সঙ্গে তা ব্যবহার করতেন।

অন্যদিকে,
• 'নজিবর রহমান' এর উপাধি সাহিত্য রত্ন।
• বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বাংলা উপন্যাসের জনক বলা হয়। তিনি 'বাংলার স্কট' ও 'সাহিত্য সম্রাট' নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৮.
'ভ্রমর' ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন কোন সাহিত্যিক?
  1. বিমল মিত্র
  2. সমরেশ বসু
  3. বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্র
ব্যাখ্যা
• সমরেশ বসুর ছদ্মনাম - 'কালকূট' ও 'ভ্রমর'।

• আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ ছদ্মনাম:
- প্রমথ চৌধুরীর ছদ্মনাম- বীরবল।
- প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম - টেকচাঁদ ঠাকুর।
- সতীনাথ ভাদুড়ীর ছদ্মনাম- চিত্রগুপ্ত।
- মণীশ ঘটকের ছদ্মনাম - 'যুবনাশ্ব'।
- বিমল মিত্র 'জাবালি' ছদ্মনামে লিখতেন।
- বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৫৯.
কোনটি সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত পত্রিকা?
  1. ইনকিলাব
  2. মাসিক পত্রিকা
  3. সমকাল
  4. সাধনা
ব্যাখ্যা
• ‘সমকাল' পত্রিকা:
- সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত ১৯৫৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত মাসিক সাহিত্যপত্র ‘সমকাল'।
- এর সহকারী সম্পাদক ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান, আজকের বাংলাদেশের আধুনিক সাহিত্যের বীজতলা নির্মাণে ‘সমকালে’র ভূমিকা অনস্বীকার্য।
- পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের বাংলাদেশের বাঙালি উল্লেখযােগ্য লেখকদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি 'সমকালে' লেখেন নি। 'সমকালে' লেখা ছিল গর্বের।
- সম্পাদক সিকান্দার আবু জাফর একজন সংগঠকের মতাে বাংলাদেশের বাঙালি লেখকদের বিনির্মাণে ‘সমকাল' পত্রিকা নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন।
- 'সমকাল' ছাড়াও তিনি দৈনিক ইত্তেফাক (সহযোগী সম্পাদক) ও দৈনিক মিল্লাত (সহযোগী সম্পাদক) পত্রিকার সাথে যুক্ত ছিলেন।

অন্যদিকে,
- দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন মাওলানা এম এ মান্নান।
- প্যারিচাঁদ মিত্র রাধানাথ শিকদারের সহযোগে সম্পাদনা করেন - মাসিক পত্রিকা।
- রবীন্দ্র-ভ্রাতুষ্পুত্র সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পাদনায় 'সাধনা' প্রকাশিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬০.
সবুজপত্র পত্রিকাটির সম্পাদক কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. শেখ ফজলুল করিম
  3. প্রমথ চৌধুরী
  4. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন
ব্যাখ্যা
• 'সবুজপত্র' পত্রিকা:
- বাংলা সাহিত্যের চলতি রীতির প্রচলণের অগ্রণী ভূমিকা পালন করে সবুজপত্র পত্রিকা। 
- প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় ১৯১৪ সালে মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়।
- বাংলা বৈশাখ ১৩২১ বঙ্গাব্দে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়। 
- বাংলা গদ্যরীতির বিকাশে এই পত্রিকার গুরুত্ব অপরিসীম।
- সাধু গদ্যরীতির বদলে চলিত গদ্যরীতি এই পত্রিকা ব্যবহার ও প্রতিষ্ঠা করে। 
- বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেও এই পত্রিকায় লেখার সুবাদে চলিত গদ্যরীতির স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব এবং পরে তা চর্চা করেন।
- সাহিত্য জগতে এই পত্রিকা 'সবুজপত্র গোষ্ঠী' তৈরিতে সক্ষম হয়। 
- ১৯২৭ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬১.
'পূর্বাশা' কোন ধরনের পত্রিকা ছিলো?
  1. দৈনিক
  2. মাসিক
  3. বার্ষিক
  4. ত্রৈমাসিক
ব্যাখ্যা
'পূর্বাশা' পত্রিকা:
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন - সঞ্জয় ভট্টাচার্য। এটি ছিল মাসিক পত্রিকা
- এটি কুমিল্লা থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা। এর প্রকাশকাল ছিল ১৯৩২ সাল।
- টানা সাত বছর চলার পর বন্ধ হয়ে আবার পুনরায় কলকাতা থেকে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত হয়। ১৯৭১ সালে স্থায়ীবভাবে বন্ধ হয়ে যায় পত্রিকাটি।
- আধুনিক বিখ্যাত লেখকদের প্রায় সবাই এই পত্রিকায় লিখেছেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬২.
শহীদুল্লা কায়সারের প্রকৃত নাম কী?
  1. আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  2. কাজী শহীদুল্লাহ
  3. আবু মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ব্যাখ্যা
শহীদুল্লা কায়সার:
- শহীদুল্লা কায়সার একজন কথাসাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক।
- তিনি ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর প্রকৃত নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ।
- ১৯৪৯ সালে ঢাকার সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় শহীদুল্লার সাংবাদিক জীবন শুরু হয়।
- শহীদুল্লা কায়সার বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬২)এবং আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬২) লাভ করেন।

তাঁর রচিত উপন্যাসগুলো হলো:
- সারেং বৌ,
- সংশপ্তক,
- কৃষ্ণচূড়া মেঘ,
- তিমির বলয়,
- দিগন্তে ফুলের আগুন,
- সমুদ্র ও তৃষ্ণা,
- চন্দ্রভানের কন্যা,
- কবে পোহাবে বিভাবরী (অসমাপ্ত)।

স্মৃতিকথা:
- রাজবন্দীর রোজনামচা।

ভ্রমণবৃত্তান্ত:
- পেশোয়ার থেকে তাসখন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৬৩.
‘সুনন্দ’ ছদ্মনামে লিখতেন কোন লেখক?
  1. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  2. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  3. চারুচন্দ্র চক্রবর্তী
  4. সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়:
- তিনি প্রাবন্ধিক, সাহিত্যিক ছিলেন। প্রকৃত নাম তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়, ‘নারায়ণ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- ১৯১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর জেলার বালিয়াডিঙ্গিতে তাঁর জন্ম।
- নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় শনিবারের চিঠির নিয়মিত লেখক ছিলেন।
- জীবনের শেষ সময়ে তিনি সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় ‘সুনন্দ ছদ্মনামে লিখতেন

অন্যদিকে,
- 'অনিলা দেবী' ছদ্মনামে লিখতেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
- চারুচন্দ্র চক্রবর্তী এর ছদ্মনাম- জরাসন্ধ। 

তাঁর রচিত উপন্যাস: 
- উপনিবেশ,
- সম্রাট ও শ্রেষ্ঠী,
- শিলালিপি,
- লালমাটি ইত্যাদি।

জীবনের শেষ সময়ে তিনি সাপ্তাহিক দেশ পত্রিকায় ‘সুনন্দ’ ছদ্মনামে লিখতেন।
৯৬৪.
বাংলা সাহিত্যের প্রথম মাসিক কিশোর পত্রিকার নাম কী?
  1. ক) ধান শালিকের দেশ
  2. খ) সন্দেশ
  3. গ) আঙুর
  4. ঘ) কালিকলম
ব্যাখ্যা
• বাংলা সাহিত্যের প্রথম মাসিক কিশোর পত্রিকার নাম হচ্ছে - আঙুর।
 ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত কিশোর মাসিক পত্রিকা 'আঙুর' যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,
- ধান শালিকের দেশ -বাংলা একাডেমি কতৃক প্রকাশিত ত্রৈমাসিক কিশোর সাহিত্য পত্রিকা।
- সন্দেশ - সুকুমার রায় প্রকাশিত কিশোর পত্রিকা
- কালিকলম - প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রকাশিত মাসিক সাহিত্য পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬৫.
'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত কে?
  1. বড়ু চণ্ডীদাস
  2. বিদ্যাপতি
  3. আলাওল
  4. কৃত্তিবাস ওঝা
ব্যাখ্যা
• বিদ্যাপতি:
- তিনি বৈষ্ণব কবি এবং পদসঙ্গীত ধারার রূপকার ছিলেন।
- মিথিলার সীতামারী মহকুমার বিসফি গ্রামে এক বিদগ্ধ শৈব ব্রাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তাঁদের পারিবারিক উপাধি ছিল ঠক্কর বা ঠাকুর। তাঁর পিতার নাম গণপতি ঠাকুর।
- তিনি 'মৈথিল কোকিল' ও 'অভিনব জয়দেব' নামে খ্যাত।
- তাঁর অন্যান্য উপাধি ছিল- নব কবিশেখর, কবিরঞ্জন, কবিকণ্ঠহার, পণ্ডিত ঠাকুর, সদুপাধ্যায় ও রাজপণ্ডিত।
- তিনি অপভ্রংশ ভাষায় 'কীর্তিলতা' নামে ঐতিহাসিক কাব্য লিখেছিলেন।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৬৬.
'টেকচাঁদ ঠাকুর' কার ব্যবহৃত ছদ্মনাম?
  1. কালীপ্রসন্ন সিংহ 
  2. প্রমথ চৌধুরী
  3. নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. প্যারীচাঁদ মিত্রে
ব্যাখ্যা

• প্যারীচাঁদ মিত্রের ছদ্মনাম- টেকচাঁদ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
• 'কালীপ্রসন্ন সিংহ' এর ছদ্মনাম- হুতোম প্যাঁচা।
• প্রমথ চৌধুরীর সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল- বীরবল।
• নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম- সুনন্দ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৬৭.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে কোন প্রতিষ্ঠান বিদ্যাসাগর উপাধি প্রদান করেন?
  1. ক) সংস্কৃত কলেজ
  2. খ) প্রেসিডেন্সি কলেজ
  3. গ) ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ
  4. ঘ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে সংস্কৃত কলেজ বিদ্যাসাগর উপাধি প্রদান করেন। 

- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কে ১৮৩৯ সালে কলকাতা'র সংস্কৃত কলেজ থেকে 'বিদ্যাসাগর' উপাধি দেওয়া হয়।
- তিনি এই কলেজেরই ছাত্র ছিলেন।
- অসাধারণ মেধার কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়।
- সংস্কৃত কলেজের ছয়টি বিভাগের ছয়জন অধ্যাপক ঈশ্বরচন্দ্রের বিদ্যাসাগর উপাধি সংক্রান্ত প্রশংসাপত্রে স্বাক্ষর করেন।

(সূত্রঃ বিসিসি বাংলা এবং আনন্দবাজার পত্রিকা)
৯৬৮.
'সংবাদ প্রভাকর' কী ধরনের পত্রিকা ছিল?
  1. ষাণ্মাসিক পত্রিকা
  2. মাসিক পত্রিকা
  3. সাপ্তাহিক পত্রিকা
  4. ত্রৈমাসিক পত্রিকা 
ব্যাখ্যা

‘সংবাদ প্রভাকর’ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পাদিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ছিল। 
--------------------------------------------------
• ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি ও সাংবাদিক।
- ১২১৮ বঙ্গাব্দের ২৫ ফাল্গুন (মার্চ ১৮১২) পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার কাঞ্চনপল্লী বা কাঁচড়াপাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী কবি হিসেবে পরিচিত।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিল তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন যুগসন্ধিক্ষণের কবি (১৭৬১ – ১৮৬০)।
- তাকে যুগসন্ধিক্ষণের  কবি বলা হয় কারণ তার রচনায় মধ্যযুগের সাহিত্যরীতি ও বিষয়বস্তু যেমন ছিল, তেমনি আধুনিক যুগের প্রভাবও ছিল স্পষ্ট।
- তিনি ছিলেন দুই যুগের মেলবন্ধনের প্রতীক।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন।
- অল্পদিনের মধ্যেই এটি বন্ধ হলেও ১৮৩৬ সালে পুনরায় প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৩৯ সালে ‘সংবাদ প্রভাকর’ বাংলা ভাষার প্রথম দৈনিক পত্রিকায় পরিণত হয়।
- এছাড়া ‘সংবাদ প্রভাকর’ ছাড়াও ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন প্রভৃতি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা – সৌমিত্র শেখর;
লাল নীল দীপাবলী বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী – হুমায়ুন আজাদ।

৯৬৯.
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্যবহৃত ছদ্মনাম কোনটি?
  1. মৈনাক
  2. জরাসন্ধ
  3. সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়
  4. যাযাবর
ব্যাখ্যা
• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়:
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- শরৎচন্দ্রের প্রথম উপন্যাস বড়দিদি (১৯০৭) ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশিত গল্পের নাম 'মন্দির'।
- তিনি 'মন্দির' গল্পের জন্য ১৯০৩ সালে কুন্তলীন সাহিত্য পুরষ্কার লাভকরেন।
- শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত রাজনৈতিক উপন্যাস হলো 'পথের দাবী' যা ১৯২৬ সালে প্রকাশিত হয়। এটি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছিল।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সাতটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন এগুলো হলো:
- অনিলা দেবী;
- অপরাজিতা দেবী;
- শ্রী চট্টোপাধ্যায়;
- অনুরূপা দেবী;
- পরশুরাম;
- শ্রীকান্ত শর্মা ও
- সুরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, 
• চারুচন্দ্র চক্রবর্তী ছদ্মনাম- জরাসন্ধ।
• মৈনাক, নেপথ্যে প্রভৃতি ছদ্মনামে কবি শামসুর রহমান কবিতা লিখতেন।
• বিনয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ছিলো- যাযাবর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭০.
'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন-
  1. অতুলপ্রসাদ সেন
  2. আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. অদ্বৈত মল্লবমর্ণ
ব্যাখ্যা

• অদ্বৈত মল্লবমর্ণ:
- তিনি মূলত ছিলেন ঔপন্যাসিক। তিনি ১৯১৪ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গোকর্ণ গ্রামে মালো বংশে জন্ম গ্রহণ করেন।
- অদ্বৈত মল্লবর্মন ত্রিপুরা পত্রিকায় সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।
- তিনি 'নবশক্তি' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- মোহাম্মদী পত্রিকায় বেনামে কবিতা লিখতেন তিনি।
- তার সুবিখ্যাত উপন্যাস 'তিতাস একটি নদীর নাম' ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা:
- নয়া বসত,
- রামধনু,
- দু রঙা প্রজাপতি,
- শাদা হাওয়া,
- দলবেঁধে,
- সাগরতীর্থে,
- রাঙামাটি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৭১.
'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. নীলমণি হালদার
  3. অক্ষয়কুমার দত্ত
  4. রাজা রামমোহন রায়
ব্যাখ্যা
নীলমণি হালদার — 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।

• 'বঙ্গদূত' পত্রিকা:
- রামমোহন ও তাঁর অনুগামীদের দ্বারা পরিচালিত হয়ে নীলমণি হালদার 'বঙ্গদূত' পত্রিকা সম্পাদনা করেন।
- বঙ্গদূত ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- পত্রিকাটি প্রকাশিত হয় ১০ই মে, ১৮২৯ সালে।
- এটি সংস্কারবাদী প্রগতিমুখী চিন্তায় পরিচালিত হতো।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭২.
‘বনফুল’ কাব্যগ্রন্থ কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ক) জ্ঞানাঙ্কুর
  2. খ) তত্ত্ববোধিনী
  3. গ) বঙ্গদর্শন
  4. ঘ) সবুজপত্র
ব্যাখ্যা
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বনফুল কাব্যগ্রন্থের কিছু কবিতা ১৮৭৬ সালে  জ্ঞানাঙ্কুর ও প্রতিবিম্ব নামক দুটি পত্রিকায় প্রকাশ পায়।
- ‘বনফুল’ কাব্যগ্রন্থ ১৮৮০ সালে প্রকাশিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ।
- মাত্র ১৫ বছর বয়সে তাঁর ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়।

- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘কবি-কাহিনী’ (প্রকাশ:১৮৭৮)।
-  ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি এশীয়দের মধ্যে সাহিত্যে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
- আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন।
- ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকায় তাঁর “অভিলাষ” কবিতাটি প্রকাশিত হয়। এটিই ছিল তার প্রথম প্রকাশিত রচনা। 
- প্রথম প্রকাশিত কবিতা: ‘হিন্দুমেলার উপহার’ (১৮৭৪)।
-  প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: ‘কবি-কাহিনী’ ( ১৮৭৮ )।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৩.
'সংবাদ প্রভাকর' কত সালে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রথম প্রকাশিত হয়? 
  1. ১৮৩১ সালে 
  2. ১৮৩৬ সালে 
  3. ১৮৩৯ সালে 
  4. ১৮৪১ সালে 
ব্যাখ্যা
 • সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।
- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৭৪.
'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকার প্রকাশক কে ছিলেন?
  1. রাজা রামমোহন রায়
  2. হাজী শরীয়তউল্লাহ
  3. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
  4. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
'সম্বাদ কৌমুদী' পত্রিকা:
- খ্রিষ্টান মিশনারিরা সমাচার দর্পণ পত্রিকার মাধ্যমে হিন্দু ধর্মমতের প্রতি কটাক্ষপাত করত বলে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে রাজা রামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্মিলিত ভাবে ১৮২১ সালে 'সম্বাদ কৌমুদী' নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
- এর প্রথম সংখ্যায় পত্রিকার উদ্দেশ্য সম্পর্কে লিখিত ছিল 'লোকহিতসাধনই এই সংবাদপত্র প্রকাশের প্রধান লক্ষ্য। দেশবাসীর অভাব অনুযোগের কথাও ইহাতে ভদ্রভাবে আলোচিত হইবে'।
- রাজা রামমোহন রায় নিয়মিত এই পত্রিকার জন্য প্রবন্ধ লিখতেন।
 
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৯৭৫.
নিচের কোনটি ভিন্ন?
  1. ক) সুধাকর
  2. খ) মিহির
  3. গ) হাফেজ
  4. ঘ) কোহিনুর
ব্যাখ্যা
সুধাকর, মিহির ও হাফেজ পত্রিকাগুলোর সম্পাদক শেখ আব্দুর রহিম। পত্রিকাগুলোতে মুসলমানদের মহিমা, তত্ত্ব, জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে আলোচনা হতো। অপরদিকে কোহিনুর পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মোঃ ইয়াকুব আলী চৌধুরী। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৭৬.
শিশু পত্রিকা 'আঙুর' সম্পাদনা করেন -
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. মদনমোহন তর্কালঙ্কার
  3. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. মুহম্মদ আবদুল হাই
ব্যাখ্যা
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ:
- ১৮৮৫ সালের ১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার পেয়ারা গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ভারতীয় উপমহাদেশের একজন স্মরণীয় বাঙালি ব্যক্তিত্ব, বহুভাষাবিদ, বিশিষ্ট শিক্ষক ও দার্শনিক ছিলেন।
- তিনি 'জ্ঞানতাপস' হিসেবে অধিক পরিচিত।
- তাঁকে 'চলিষ্ণু অভিধান' বলা হয়।
- তাঁরই সম্পাদনা ও প্রকাশনায় মুসলিম বাংলার প্রথম শিশু পত্রিকা আঙুর (১৯২০) আত্মপ্রকাশ করে।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট জাতিসত্তা সম্পর্কে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বিখ্যাত উক্তি- ''আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশি সত্য আমরা বাঙালি।''
- ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত 'বাঙ্গালা ভাষার ইতিবৃত্ত' রচনা করেন ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

তাঁর ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- ভাষা ও সাহিত্য,
- বাঙ্গালা ব্যাকরণ,
- বাংলা সাহিত্যের কথা,
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস ইত্যাদি।
এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির 'আঞ্চলিক ভাষার অভিধান' সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও বাংলাপিডিয়া।
৯৭৭.
'আজাদ' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা করেন কে?
  1. মওলানা আকরম খাঁ
  2. মুহম্মদ আবদুল হাই
  3. গোলাম মোস্তফা
  4. মওলানা মােহাম্মদ আলী
ব্যাখ্যা

• মাওলানা আকরম খাঁ:
- মাওলানা আকরম খাঁ ১৮৬৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের চবিবশ পরগনা জেলার হাকিমপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি মূলত সাংবাদিক, রাজনীতিক, ইসলামিশাস্ত্রজ্ঞ ছিলেন।
- তিনি বাংলাসহ আরবি, উর্দু, পারসি ও সংস্কৃত ভাষায় ব্যুৎপন্ন ছিলেন।
- তাঁর সম্পাদনায় ১৯০৩ সালে 'মাসিক মোহাম্মদী' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- তাঁর সম্পাদিত দুটি স্বল্পস্থায়ী দৈনিক পত্রিকার নাম: উর্দু দৈনিক 'জামানা' (১৯২০) ও বাংলা দৈনিক 'সেবক' (১৯২১)।
- তাঁর সাংবাদিক জীবনের কীর্তি 'আজাদ' পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা (১৯৩৬ সালের ৩১শে অক্টোবর থেকে)।
- তিনি ১৮ই অগস্ট, ১৯৬৮ মৃত্যুবরণ করেন।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলো:
- হজরত মোহাম্মদ-এর (স.) জীবনী 'মোস্তফা চরিত' (১৯২৩),
- মোসলেম বাংলার সামাজিক ইতিহাস (১৯৬৫) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৭৮.
’অনিলা দেবী’ ছদ্মনামে কে সাহিত্য রচনা করতেন?
  1. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  2. সমরেশ বসু
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
  4. নীহাররঞ্জন গুপ্ত
ব্যাখ্যা

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছদ্মনাম ‘অনিলা দেবী'।
- ​তিনি “নারীর মূল্য” প্রবন্ধটি “অনিলা দেবী” ছদ্মনামে যমুনা পত্রিকায় প্রকাশ করেন।

​• ​তাঁর আরও কিছু ছদ্মনাম- 
​​- অপরাজিতা দেবী;
​- শ্রী চট্টোপাধ্যায় ;
​- অপরূপা দেবী;
​- পরশুরাম;
​- শীকান্ত শর্মাতার ;

• শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ​বিখ্যাত উপন্যাসগুলো হচ্ছে -
​- দেবদাস,
​- দেনা পাওনা,
​- গৃহদাহ, চরিত্রহীন,
​- পল্লী সমাজ,
​- পথের দাবী ইত্যাদি।

​অন্যদিকে,
​- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর ছদ্মনাম- কস্যচিৎ উপযুক্ত ভাইপো।
- সমরেশ বসুর  ছদ্মনাম- কালকূট।
- নীহাররঞ্জন গুপ্ত এর ছদ্মনাম- দাদা ভাই; বাণভট্ট।

​উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৭৯.
বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা কোনটি?
  1. জয়তী
  2. বেগম
  3. নারীশক্তি
  4. শিলালিপি
ব্যাখ্যা
• ‘বেগম’ পত্রিকা:
- ‘বেগম’বাংলাদেশে নারীদের প্রকাশিত প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা।
- ১৯৪৭ সালের ২০ জুলাই কলকাতা থেকে এটি প্রকাশিত হয়।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মেয়েদের এগিয়ে আনার লক্ষ্যে সাহিত্যচর্চার পৃথক ক্ষেত্র হিসেবে বেগমের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
- বেগম পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন এবং প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদিকা ছিলেন সুফিয়া কামাল।
- পরে পত্রিকাটি সম্পাদনা করেছেন নূরজাহান বেগম।

অন্যদিকে,
- শিলালিপি (১৯৬৯) সেলিনা পারভীন সম্পাদিত পত্রিকা।
- নারীশক্তি পত্রিকার সম্পাদক ডা. লুৎফর রহমান।
- জয়তী (১৯৩০) আবদুল কাদির সম্পাদিত পত্রিকা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮০.
মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয় কোনটি?
  1. মুসাফির
  2. গৌড়তটবাসী মশা 
  3. গাজী মিয়াঁ
  4. উদাসীন পথিক
ব্যাখ্যা
• মীর মশাররফ হোসেন ব্যবহৃত ছদ্মনাম নয়- মুসাফির।
• ‘মুসাফির’ ছদ্মনামে সৈয়দ মুজতবা আলী লিখতেন।

• মীর মশাররফ হোসেন যেসকল ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করেছেন সেগুলো হলো- 
- গৌড়তটবাসী মশা 
- গাজী মিয়াঁ এবং
- উদাসীন পথিক।

----------------------
• মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন ছিলেন ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক।
- ১৮৪৭ সালের ১৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার লাহিনীপাড়ায় তাঁর জন্ম।
- মশাররফ হোসেন ছাত্রাবস্থায় সংবাদ প্রভাকর ও কুমারখালির  গ্রামবার্তা প্রকাশিকা-র মফঃস্বল সংবাদদাতার দায়িত্ব পালন করেন। এখানেই তাঁর সাহিত্যজীবনের শুরু।
- গ্রামবার্তা প্রকাশিকার সম্পাদক ‘কাঙাল হরিনাথ’ ছিলেন তাঁর সাহিত্যগুরু।
- তিনি আজিজননেহার ও হিতকরী নামে দুটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।
- মীর মশাররফ ছিলেন বঙ্কিমযুগের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও উনিশ শতকের বাঙালি মুসলমান সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।

তাঁর রচিত সাহিত্যকর্ম:
• নাটক:
- বসন্তকুমারী, 
- জমীদার দর্পণ, 
- বেহুলা গীতাভিনয়।

• প্রহসন:
- টালা অভিনয়,
- এর উপায় কি,
- ফাঁস কাগজ,
- ভাই ভাই এইতো চাই।

• উপন্যাস:
- বিষাদ-সিন্ধু।

• আত্মজীবনীমূলক রচনা:
- উদাসীন পথিকের মনের কথা, 
- গাজী মিয়াঁর বস্তানী,
- আমার জীবনী,
- কুলসুম জীবনী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮১.
দীনেশরঞ্জন দাশ কোন পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন?
  1. কল্লোল
  2. কবিতা
  3. প্রগতি
  4. কালিকলম
ব্যাখ্যা
'কল্লোল' পত্রিকা:
- ১৯২৩ সালে প্রথম কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' পত্রিকা প্রকাশিত হয়।
- এ পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাশ
- 'কল্লোল' পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন অচিন্ত্যকমার সেনগুপ্ত, শৈলজানন্দ মুখােপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু, প্রেমেন্দ্র মিত্র, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

অন্যদিকে,
- বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত পত্রিকা 'কবিতা' ও 'প্রগতি'।
- প্রেমেন্দ্র মিত্র সম্পাদিত পত্রিকা কালিকলম।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮২.
‘মোসলেম ভারত’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন কে?
  1. মীর মশাররফ হোসেন
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  3. কাজী ইমদাদুল হক
  4. মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক
ব্যাখ্যা

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক 'মোসলেম ভারত' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

• মোসলেম ভারত:
- মোসলেম ভারত  মাসিক সাহিত্য সাময়িকী হিসেবে ১৯২০ সালে  কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
- পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে শান্তিপুরের কবি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের নাম মুদ্রিত হলেও প্রকৃতপক্ষে এর যাবতীয় কর্মকান্ড পরিচালিত হতো তাঁর পুত্র এবং নির্বাহী সম্পাদক আফজালুল হক কর্তৃক।
- পত্রিকার প্রতি সংখ্যার প্রথম পাতার শীর্ষে রবীন্দ্রনাথের একটি বাণী সংকলিত হতো এবং তা হলো: ‘মানব-সংসারে জ্ঞানালোকের দিয়ালি-উৎসব চলিতেছে। প্রত্যেক জাতি আপনার আলোটীকে বড় করিয়া জ্বালাইলে তবে সকলে মিলিয়া এই উৎসব সমাধা হইবে।’
- আখ্যাপত্রে ‘মোসলেম’ শব্দটি থাকলেও এটি ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পত্রিকা। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে খ্যাতিমান লেখকদের লেখা এতে প্রকাশিত হতো।
- নজরুলের কবিপ্রতিভার বিকাশে মোসলেম ভারত বিরাট ভূমিকা পালন করে।
- কাজী নজরুল ইসলামের পত্রোপন্যাস বাঁধনহারার প্রথম কিস্তি মোসলেম ভারতের প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
- নজরুলের মোট ৪০টি লেখা মোসলেম ভারতে প্রকাশিত হয়। 

• মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক:
- তিনি পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুরের বাউইগাছি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- মুসলিম সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, গোঁড়ামি, পশ্চাৎপদতা ও আত্মবিস্মৃতির বিরুদ্ধে তিনি লেখনী ধারণ ও সংগঠনের মাধ্যমে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেন।

• তাঁর রচিত উপন্যাস:
- জোহরা,
- দরাফ খান গাজী।

• তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- কুসুমাঞ্জলি,
- অপূর্ব দর্শন,
- প্রেমহার,
- জাতীয় ফোয়ারা,
- ইসলাম সংগীত,
- হযরত মুহম্মদ ইত্যাদি।

• তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- মহর্ষি মনসুর,
- ফেরদৌসি চরিত ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল হক এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৮৩.
হুমায়ুন কবির কোন পত্রিকা সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন?
  1. স্বাক্ষর
  2. কালিকলম
  3. চতুরঙ্গ
  4. পূর্বাশা
ব্যাখ্যা
হুমায়ুন কবির:
• হুমায়ুন কবির রাজনীতিবিদ, লেখক ও দার্শনিক ছিলেন। সাহিত্যক্ষেত্রে প্রথমত কবি হিসেবেই হুমায়ুন কবিরের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
• তিনি ‘চতুরঙ্গ’ পত্রিকার সম্পাদনা করে স্মরণীয় হয়ে আছেন।
• তিনটি কাব্যগ্রন্থ স্বপ্নসাধ, সাথী ও অষ্টাদশী প্রকৃতি ও প্রেমবিষয়ক তাঁর স্বচ্ছ রোম্যান্টিক মানসের পরিচয় বহন করে।
• ১৯৪৫ সালে তাঁর 'নদী ও নারী' উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় এবং একই বছর Men and Rivers নামে এর একটি ইংরেজি সংস্করণও প্রকাশিত হয়। এ উপন্যাসে কবির পদ্মানদীর পরিবেশে বাঙালি মুসলমান সমাজজীবনের একটি নিখুঁত চিত্র উপস্থাপন করেছেন। ১৯৬৫ সালে ঢাকায় উপন্যাসটি চলচ্চিত্রায়িত হয়।
• ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষায় তিনি দর্শন, সাহিত্য, শিক্ষানীতি ও সমাজতত্ত্ব বিষয়ে মৌলিক প্রবন্ধ রচনা করেছেন।

অন্যদিকে,
- ‘স্বাক্ষর’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন রফিক আজাদ ও সিকদার আমিনুল হক।
- 'কালিকলম' প্রত্রিকাটি সম্পাদনা করেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। 
- 'পূর্বাশা' পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সঞ্জয় ভট্টাচার্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৪.
বিহারীলাল চক্রবর্তী সম্পাদিত পত্রিকার নাম কি?
  1. ক) সাধনা
  2. খ) পূর্ণিমা
  3. গ) সোমপ্রকাশ
  4. ঘ) গ্রামবার্তা প্রকাশিকা
ব্যাখ্যা
বিহারীলাল কাব্যচর্চার পাশাপাশি পত্রিকা সম্পাদনার কাজও করেছেন। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা: পূর্ণিমা, সাহিত্য-সংক্রান্তি, অবোধবন্ধু প্রভৃতি। পূর্ণিমা পত্রিকাটি ১৮৯৫ সালে প্রকাশিত হয়। সূত্রঃ Livemcq লেকচার পিডিএফ ও বাংলাপিডিয়া।
৯৮৫.
'সংবাদ প্রভাকর' প্রতিষ্ঠাকালে কোন ধরনের পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়?
  1. দৈনিক পত্রিকা
  2. সাপ্তাহিক পত্রিকা
  3. অর্ধ-সাপ্তাহিক পত্রিকা
  4. ত্রৈমাসিক পত্রিকা
ব্যাখ্যা
• সংবাদ প্রভাকর:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন। কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।

- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এই পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হতো।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলোও সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হতো।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৮৬.
‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন-
  1. ক) সোমেন চন্দ
  2. খ) শেখ আলিমুল্লাহ
  3. গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ঘ) কালীপ্রসন্ন সিংহ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে প্রগতিশীল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের পত্রিকা ‘ক্রান্তি’।

- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন সোমেন চন্দ।
- ‘ক্রান্তি’ পত্রিকাটি ১৯৪০ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত হয়।
- ‘ক্রান্তির’ প্রথম সংখ্যার সম্পাদক ছিলেন রণেশ দাশগুপ্ত।

•১৯৪৭-এর আগে হলেও এই পত্রিকার মাধ্যমেই তৎকালীন পূর্ব-বাংলা,পরে পূর্ব পাকিস্তানে প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার বীজ অঙ্কুরিত ও পল্লবিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৭.
জসীম উদ্‌দীন কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি লাভ করেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যাল
  3. বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা
• জসীম উদ্‌দীন:
- জসীম উদ্‌দীন একজন প্রখ্যাত বাঙালি কবি ও শিক্ষাবিদ।
- তিনি ১৯০৩ সালের ১ জানুয়ারি ফরিদপুর জেলার তাম্বুলখানা গ্রামে মাতুলালয়ে জন্ম গ্রহণ করেন।
- জসীম উদ্‌দীনের কর্মজীবন শুরু হয় পল্লিসাহিত্যের সংগ্রাহক হিসেবে।
- জসীম উদ্‌দীনকে 'পল্লিকবি' বলা হয়। 
- ‘সুচয়নী’ জসীম উদ্‌দীন রচিত নির্বাচিত কবিতার সংকলন গ্রন্থ।

• জসীম উদ্‌দীন অর্জিত পুরস্কার ও সম্মাননা:
- জসীম উদ্‌দীন বাংলা সাহিত্যের একজন বিশেষ সম্মানিত ও বহু পুরস্কারে পুরস্কৃত কবি। তিনি প্রেসিডেন্টের প্রাইড অব পারফরমেন্স পুরস্কার (১৯৫৮) অর্জন করেন।
- তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক ডক্টর অব লিটারেচার ডিগ্রি (১৯৬৯), বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক (১৯৭৬) ও স্বাধীনতা দিবস পুরস্কারে (মরণোত্তর, ১৯৭৮) ভূষিত হন। 
- তিনি ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারের জন্যও মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেন। 

• জসীম উদ্‌দীন রচিত গানের সংকলনগুলো হলো:
- রঙ্গিলা নায়ের মাঝি,
- গাঙ্গের পাড়,
- জারিগান। 

তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ:
- বালুচর,
- রূপবতী,
- রাখালী,
- নক্সী কাঁথার মাঠ,
- ধানখেত,
- সোজন বাদিয়ার ঘাট,
- মাটির কান্না,
- মা যে জননী কান্দে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৮৮.
'আল-এসলাম' পত্রিকার সম্পাদক কে ছিলেন?
  1. আবদুল কাদির
  2. শেখ আবদুর রহিম
  3. মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ
  4. আল মাহমুদ
ব্যাখ্যা

• আল-এসলাম:
'আল-এসলাম' ছিল আঞ্জুমানে ওলামায়ে বাঙ্গালার মাসিক মুখপত্র।
- মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর সম্পদনায় কলকাতা থেকে ১৯১৫ সালে পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয়।
- প্রথম সংখ্যায় আভাষ দেওয়া হয়েছিল এই বলে 'স্বধর্ম, স্বজাতি, স্বদেশ ও সঙ্গে সঙ্গে মাতৃভাষার সেবা করিবার নিমিত্তই আল-এসলামের প্রচার।'
- ধর্মীয় শিক্ষায় সুশিক্ষিত একদল মুসলমানের দ্বারা পত্রিকাটি দীর্ঘদিন পরিচালিত হয়েছিল।
- পত্রিকাটিতে 'গল্প বা উপন্যাস প্রকাশের নিদর্শন না থাকলেও চিন্তামূলক এবং অনুসন্ধান ও পরিশ্রম সাপেক্ষ প্রবন্ধ ও আবেগপ্রবণ কবিতা এতে প্রকাশ করা হত।'
- লেখকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল বাকী, ইসলামাবাদী, আবদুল গফুর সিদ্দিকী, মোহাম্মদ মুজাফ্ফর উদ্দীন, মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্, আব্দুল লতীফ, মোহাম্মদ কে. চাঁদ, মুজফ্ফর আহমদ, শেখ হবিবর রহমান কায়কোবাদ, সিরাজী, মোজাম্মেল হক, মিসেস আর, এস, হোসেন প্রমুখ।
- পত্রিকাটিতে মুসলমানদের ধর্ম ইতিহাস দর্শন সমাজ সাহিত্য সংস্কৃতি প্রভৃতি বিষয় আলোচনা হত।
- সাহিত্যক্ষেত্রে মুসলমানদের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এই পত্রিকার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।

উৎস : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস : মাহবুবুল আলম।

৯৮৯.
মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র ছিলো-
  1. শিখা
  2. প্রগতি
  3. কল্লোল
  4. ক্রান্তি
ব্যাখ্যা
• শিখা :
- শিখা  ১৯২৬ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম সাহিত্য-সমাজের মুখপত্র।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও বাণিজ্য বিভাগের অধ্যাপক আবুল হুসেন ছিলেন শিখা পত্রিকার প্রথম সংখ্যার সম্পাদক।
- শিখা বছরে একবার প্রকাশিত হত।
- প্রথম সংখ্যার প্রকাশকাল চৈত্র ১৩৩৩ (৮ এপ্রিল ১৯২৭)।
- পত্রিকাটি মুসলিম সাহিত্য-সমাজের পক্ষে আবদুল কাদির কর্তৃক মুসলিম হল থেকে প্রকাশিত এবং মুন্সি আহমদ আলী কর্তৃক সাত রওজার (ঢাকা) ইসলামিয়া প্রেস থেকে মুদ্রিত। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।
৯৯০.
'দাদাভাই' ছদ্মনামটি নিচের কোন লেখকের?
  1. রাজশেখর বসু
  2. রোকনুজ্জামান খান
  3. সমরেশ বসু
  4. সতীনাথ ভাদুড়ী
ব্যাখ্যা
রোকনুজ্জামান খান:
- তিনি সাংবাদিক, শিশুসংগঠক ছিলেন।
- তিনি সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনের কন্যা নূরজাহান বেগমকে বিয়ে করেন।
- নূরজাহান সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
- ১৯৫৫ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় যোগদান করে ‘দাদাভাই’ ছদ্মনামে শিশুদের পাতায়।
- ‘কচি-কাঁচার আসর’ সম্পাদনা শুরু করেন এবং আমৃত্যু এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
- আর এ থেকেই তিনি ‘দাদাভাই’ নামে দেশব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠেন।

এছাড়া,
- রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
- সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম - কালকূট।
- সতীনাথ ভাদুড়ী এর ছদ্মনাম - চিত্রগুপ্ত।

উৎস:
১) বাংলাপিডিয়া।
২) বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৯১.
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম-
  1. দৃষ্টিহীন
  2. পরশুরাম
  3. কালকূট
  4. এ নেটিভ
ব্যাখ্যা

• মাইকেল মধুসূদন দত্তের ছদ্মনাম- এ নেটিভ।

- মাইকেল মধুসূদন দত্ত ' A Native' ছদ্মনামে নাটকটির ইংরেজি অনুবাদ করেন ও নাম দেন 'Nil Darpan or The Indigo Planting Mirror' (1861) 
---------------
• মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত একজন মহাকবি, নাট্যকার। তিনি ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে জম্ম গ্রহণ করেন।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা ভাষার সনেট প্রবর্তক।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। 
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রয়োগ করেন তাঁর রচিত ‘পদ্মাবতী’ নাটকে। (দ্বিতীয় অঙ্ক দ্বিতীয় গর্ভাঙ্কে)
- অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ - তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য। অর্থাৎ, এই কাব্যটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত।
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত রচিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ দ্য ক্যাপটিভ লেডি। এটি ইংরেজিতে রচিত।

তাঁর রচিত কাব্যগুলো হলো:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য, 
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী।

অন্যদিকে,
মধুসূদন মজুমদারের ছদ্মনাম ছিলো- দৃষ্টিহীন।
​রাজশেখর বসু এর ছদ্মনাম - পরশুরাম।
সমরেশ বসু এর ছদ্মনাম - কালকূট।​

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৯২.
বঙ্কিমচন্দ্রের সাহিত্য চর্চা শুরু হয় কোন পত্রিকার মাধ্যমে?
  1. ক) তত্ত্ববোধিনী
  2. খ) বঙ্গদর্শন
  3. গ) সংবাদ প্রভাকর
  4. ঘ) সবুজপত্র
ব্যাখ্যা

- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৫২ সালে 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মাধ্যমে সাহিত্যিক জীবন শুরু করেন।
- তিনি 'বঙ্গদর্শন' (১৮৭২) পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া ও লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

৯৯৩.
'উদাসীন পথিক' ছদ্মনামটি কার?
  1. রাজশেখর বসু
  2. মধুসূদন মজুমদার
  3. মীর মশাররফ হোসেন
  4. হরীনাথ মজুমদার
ব্যাখ্যা

মীর মশাররফ হোসেন:
- মীর মশাররফ হোসেন (১৮৪৭-১৯১২) ছিলেন একজন বাঙালি ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও প্রাবন্ধিক।
- তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান গদ্যশিল্পী ও মুসলিম সাহিত্যিকদের পথিকৃৎ।
- 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা’ (১৮৪৩)- পত্রিকার মাধ্যমেই তিনি সাহিত্যজীবনে প্রবেশ করেন। 

- মীর মশাররফ হোসেন সাহিত্য রচনায় প্রধানত দুইটি ছদ্মনাম ব্যবহার করেছেন:
- উদাসীন পথিক; 
- গাজী মিয়াঁ। 

উদাসীন পথিক’:
- ‘উদাসীন পথিক’ ছদ্মনামে তিনি তাঁর ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা এবং পারিবারিক পটভূমি ভিত্তিক ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’ রচনা করেন।
- ‘উদাসীন পথিকের মনের কথা’ মীর মশাররফ হোসেনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বোধের সংমিশ্রণে লেখা আত্মজীবনীভিত্তিক সাহিত্যকর্ম।
- এই গ্রন্থকে সরাসরি উপন্যাস বা আত্মজীবনী বলা কঠিন;
- কারণ এতে লেখকের পারিবারিক ইতিবৃত্ত, ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং সমসাময়িক বাস্তব ঘটনার মিশ্রণ দেখা যায়।
- লেখক তাঁর মা-বাবার প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশের সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাস ও সামাজিক বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন। 
- এছাড়াও, বইটিতে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মিলনের যে কামনা রয়েছে, তার গভীর তাৎপর্যও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
------------------------------ 
অন্যদিকে,
- রাজশেখর বসুর ছদ্মনাম ছিল "পরশুরাম"
- মধুসূদন মজুমদার এর ছদ্মনাম ছিল "দৃষ্টিহীন”।
- হরীনাথ মজুমদার ‘কাঙ্গাল হরিনাথ’ নামে পরিচিত ছিলেন। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৯৯৪.
ব্রাহ্মসমাজের সভার মুখপত্র ছিলো- 
  1. সংবাদ প্রভাকর
  2. তত্ত্ববোধিনী
  3. কল্লোল 
  4. বঙ্গদর্শন
ব্যাখ্যা

• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- এটি ব্রাহ্মসমাজের তত্ত্ববোধিনী সভার মুখপত্র ছিলো। ব্রাহ্মধর্মের প্রচার এবং তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- উনিশ শতকের শ্রেষ্ঠ গদ্যলেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজনারায়ণ বসু, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমুখ এ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন এবং তাঁদের লেখার মাধ্যমে তখন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে এক নবযুগের সূচনা হয়।

- বেদান্ত-প্রতিপাদ্য ব্রহ্মবিদ্যার প্রচার পত্রিকারমুখ্য উদ্দেশ্য হলেও জ্ঞানবিজ্ঞান, ইতিহাস, সাহিত্য, ধর্ম, রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতত্ত্ব এবং দর্শনবিষয়ক মূল্যবান রচনাও এতে প্রকাশিত হতো।

- তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা ১৯৩২ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছে। অক্ষয়কুমারের পরে বিভিন্ন সময়ে এর সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন নবীনচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, অযোধ্যানাথ পাকড়াশী, হেমচন্দ্র বিদ্যারত্ন, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

অন্যদিকে, 
--------------------
'সংবাদ প্রভাকর' বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক পত্রিকা। দৈনিক পত্রিকা রূপে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ১৮৩৯ সালে প্রকাশিত হয়। 

• ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দ আধুনিক লেখকদের সাহিত্যিক মুখপত্র হিসেবে কলকাতা থেকে মাসিক 'কল্লোল' প্রকাশিত হয়। এর সম্পাদক ছিলেন দীনেশরঞ্জন দাস। রবীন্দ্র-রোমান্টিক বিরুদ্ধধারা হিসেবে আধুনিক সাহিত্যের সূচনার ক্ষেত্রে এ পত্রিকার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

• বাংলা উপন্যাসের জনক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় ১৮৭২ সালে প্রথম মাসিক 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এ পত্রিকার মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রভূত উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে বঙ্কিমচন্দ্র একটি শক্তিশালী লেখকগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৯৫.
'সংবাদ প্রভাকর' - পত্রিকাটি ১৯৩১ সালে কোন ধরনের পত্রিকারূপে প্রকাশ পায়?
  1. ত্রৈমাসিক
  2. দৈনিক
  3. ষান্মাসিক
  4. সাপ্তাহিক
ব্যাখ্যা

• 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকা:
- 'সংবাদ প্রভাকর' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।
- তিনি ১৮৩১ সালে সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন।
- কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় কিন্তু ১৮৩৬ সালে পুনর্বার ছাপা হয়।

- ১৮৩৯ সালে বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক পত্রিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়।
- সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি এ পত্রিকায় সাহিত্যচর্চাও হত।
- 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়', 'দীনবন্ধু মিত্রের' প্রাথমিক রচনাগুলো সংবাদ প্রভাকরেই প্রথম প্রকাশিত হত।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষণ্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

৯৯৬.
১৮৪৩ সালে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় -
  1. নবযুগ পত্রিকা
  2. তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা
  3. বঙ্গদর্শন পত্রিকা
  4. কল্লোল পত্রিকা
ব্যাখ্যা
• 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা:
- ১৮৪৩ সালের ১৬ আগস্ট দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অক্ষয়কুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- অক্ষয়কুমার দত্ত এ পত্রিকায় ১৮৫৫ সাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
- তৎকালীন উদার, বিজ্ঞানমনস্ক ও দেশসচেতন পত্রিকা ছিলো 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা।
- এই পত্রিকার প্রথম সম্পাদক ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত।
- অক্ষয়কুমার অবসর নিলে পত্রিকার সম্পাদক হন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
- তবে অক্ষয়কুমারের সম্পাদনাকাল ছিল পত্রিকার স্বর্ণযুগ। 

অন্যদিকে,
'নবযুগ' পত্রিকা- এর সম্পাদক ছিলেন - কাজী নজরুল ইসলাম।
'বঙ্গদর্শন' পত্রিকা - এর সম্পাদক ছিলেন - বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
'কল্লোল' পত্রিকা - এর সম্পাদক ছিলেন - দীনেশরঞ্জন দাশ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৯৭.
জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত পত্রিকা কোনটি?
  1. বাঙ্গাল গেজেট
  2. দিগদর্শন
  3. বেঙ্গল গেজেট
  4. বঙ্গদূত 
ব্যাখ্যা

'বেঙ্গল গেজেট' পত্রিকা:
- ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয় ভারতের প্রথম মুদ্রিত সংবাদপত্র জেমস অগাস্টাস হিকি সম্পাদিত 'বেঙ্গল গেজেট'।
- পত্রিকাটিতে মূলত বিজ্ঞাপন, বিদেশি ইংরেজি পত্রিকা থেকে উদ্ধৃতি, সংবাদদাতাদের বিবরণধর্মী লেখা ছাপা হতো।
- 'পোয়েটস্ কর্নার' বলে একটি বিশেষ অংশ ছিল। প্রকাশের প্রথম মাস দশেক কোনো রাজনৈতিক বিবাদপূর্ণ লেখা প্রকাশিত হয় নি।
- পরে প্রশাসনের বিপক্ষে কিছু লেখা বের হলে ১৭৮০ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই নবেম্বর ফোর্ট উইলিয়াম থেকে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ডাকঘর মারফত পত্রিকা বিতরণ বন্ধ করা হয়। পরে হিকি মামলায় জড়িয়ে পড়েন।

​কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদপত্র:
- বেঙ্গল গেজেট - ১৭৮০ সাল(জেমস অগাস্টাস হিকি)।
- দিগদর্শন - ১৮১৮ (জন ক্লার্ক মার্শম্যান)।
- বাঙ্গাল গেজেট - ১৮১৮ (গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য )।
- সম্বাদ কৌমুদী - ১৮২১(রাজা রামমোহন রায়)।
- বঙ্গদূত -১৮২২ (নীলমণি হালদার)।
- সংবাদ প্রভাকর (সাপ্তাহিক) - ১৮৩১ (ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত )। 
- তত্ত্ববোধিনী - ১৮৪৩ (অক্ষয়কুমার দত্ত)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

৯৯৮.
কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘নতুনের গান’ শিরোনামের রণসঙ্গীতটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
  1.  ধূমকেতু
  2. বঙ্গদর্শন
  3. শিখা
  4. মোহাম্মদী
  5. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত ‘নতুনের গান’ শিরোনামের রণসঙ্গীতটি প্রথম শিখা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। 
------------------------
• রণসংগীত:

- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের রণসংগীত এর রচয়িতা। 
- এই রণসঙ্গীত প্রথমে ‘নতুনের গান’ শিরোনামে ১৩৩৫ বঙ্গাব্দে শিখা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- পরে এর নাম হয় ‘চল চল চল’। 
- এই কবিতাটি নজরুলের সন্ধ্যা কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত। 
- এই কবিতা থেকে নির্বাচিত প্রথম ২১টি চরণ বাংলাদেশের রণসংগীত হিসেবে গ্রহণ করা হয়। 
- ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এটি আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। 
- বর্তমানে সামরিক ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এই রণসংগীতের প্রথম ২১টি লাইন পরিবেশন করা হয়। 
------------------ 
• কাজী নজরুল ইসলাম:
- কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, গীতিকার, দার্শনিক, এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে অগ্রগামী ও প্রগতিশীল ভাবনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। 
- নজরুল ১৮৯৯ সালের ২৪শে মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- তিনি কৈশোরে থিয়েটার ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত হন।
- ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করার পর সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন। 
- পরবর্তীতে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী কবিতা ও সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করেন।
- তাঁর কবিতায় মানুষের প্রতি অন্যায়, সামাজিক শোষণ ও অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মূলভাব হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে।

- নজরুল বাংলা কাব্যে নতুন ধারার জন্ম দেন, ইসলামী সঙ্গীত (গজল), শ্যামা সংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতির মাধ্যমে।
- তিনি প্রায় ৩০০০ গান রচনা করেছেন, যেগুলো নজরুল গীতি নামে পরিচিত।
- তিনি মধ্যবয়সে পিক্স ডিজিজে আক্রান্ত হয়ে সাহিত্যচর্চা ও মানসিক ভারসাম্য হারান।
- ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে সপরিবারে ঢাকা আসেন নজরুল  এবং এখানেই তিনি ১৯৭৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

• নজরুলের বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ হলো —
- অগ্নিবীণা, বিষের বাঁশি, চক্রবাক, প্রলয় শিখা, দোলনচাঁপা ও ভাঙার গান।

• তাঁর গল্পগ্রন্থ — শিউলিমালা, বেদনার দান ও পদ্মগোখরা।

• তাঁর নাটক — আলেয়া, ঝিলিমিলি, মধুমালা ও পুতুলের বিয়ে।

• তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস — বাঁধনহারা, মৃত্যুক্ষুধা ও কুহেলিকা।

• তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ — যুগবাণী (যা নিষিদ্ধ হয়েছিল) ও রাজবন্দীর জবানবন্দী।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলাপিডিয়া।

৯৯৯.
বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় এর ছদ্মনাম কী?
  1. ভানুসিংহ
  2. জরাসন্ধ
  3. বনফুল
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বনফুল।

• অন্যান্য কিছু লেখকদের ছদ্মনাম: 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর ছদ্মনাম - ভানুসিংহ ঠাকুর।
• 'চারুচন্দ্র চক্রবর্তী' এর ছদ্মনাম- জরাসন্ধ। 
• 'বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - কমলাকান্ত।
• 'প্রমথ চৌধুরী' এর সাহিত্যিক ছদ্মনাম - বীরবল।
• 'টেকচাঁদ ঠাকুর' ছদ্মনামে সাহিত্য রচনা করতেন প্যারীচাঁদ মিত্র।

উৎস:  বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১,০০০.
নারী সমাজের উন্নতির জন্য 'নারীশক্তি' নামে পত্রিকাটির প্রকাশক কে ছিলেন?
  1. ক) রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
  2. খ) বেগম শামসুন নাহার মাহমুদ
  3. গ) কবি সুফিয়া কামাল
  4. ঘ) ডা. লুৎফুর রহমান
ব্যাখ্যা
নারী সমাজের উন্নতির জন্য 'নারীশক্তি' নামে পত্রিকাটির প্রকাশক- ডা. লুৎফুর রহমান 

'নারীশক্তি' পত্রিকা
কলকাতায় মোহাম্মদ লুৎফর রহমান পতিতা নারীদের সামাজিক পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ‘নারীতীর্থ’ (১৯২২) নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলেন।
- এ সংগঠনের কার্যনির্বাহক কমিটির সভাপতি ছিলেন  বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩৬)।
-  লুৎফর রহমান ছিলেন এর সম্পাদক।
- ‘নারীতীর্থ’- সংগঠনের মুখপত্র 'নারীশক্তি' পত্রিকাটি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান -এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হতো বাংলা ১৩২৯ সনে।
- এ মাসিক পত্রিকাটির মোট ছয়টি সংখ্যা প্রকাশ হয়েছিলো।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।