বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাক্যের প্রকারভেদ

মোট প্রশ্ন৭৫৪এই পাতা৪৮প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাক্যের প্রকারভেদ

PrepBank · পাতা / · ৭০১৭৪৮ / ৭৫৪

৭০১.
‘যেমন দেখতে লোভনীয় তেমন খেতেও মজা’- কোন ধরনের বাক্যের দৃষ্টান্ত?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. অনুজ্ঞা বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যেমন দেখতে লোভনীয়, তেমন খেতেও মজা।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।
- যখন বৃষ্টি নামল, তখন আমরা ছাতা খুঁজতে শুরু করলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭০২.
'তুমি আসলে আমি যাব' -এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাসূচক
  2. কার্যকরসূচক
  3. ইচ্ছাসূচক
  4. পারস্পরিকবাচক
ব্যাখ্যা

• 'তুমি আসলে আমি যাব।'- এটি কার্যকারণাত্মক বা কার্যকরসূচক বাক্য।

• কার্যকারণাত্মক বাক্য:
- যদি কোনো বাক্যে ক্রিয়া নিষ্পত্তি কোনো বিশেষ শর্তের অধীনে এমন বোঝায়, তাহলে তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে।
- এই ধরনের বাক্যের অন্য নাম শর্তসূচক, শর্তসাপেক্ষ বাক্য।
যেমন:
- মন দিয়ে না পড়লে পাশ করা যায় না। 
- তুমি আসলে আমি যাব।

অন্যদিকে,
• ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন:
- মহারাজের জয় হোক।
- আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাসূচক বাক্য বলে।
- একে আজ্ঞাসুচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
- সদা সত্য কথা বলবে।
- কাছে এসো।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭০৩.
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে অর্থানুসারে বাক্য কত প্রকার?
  1. ক) ৩
  2. খ) ৫
  3. গ) ৭
  4. ঘ) ৮
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে অর্থানুসারে বাক্যকে সাত ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা:
১. বিবৃতিমূলক বা বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য 
২. প্রশ্নবোধক বা প্রশ্নাত্মক বাক্য
৩. অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
৪. ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
৫. কার্যকারণাত্মক বাক্য
৬. সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যোতক বাক্য
৭. বিস্ময় বা আবেগসূচক বাক্য 

উৎস : বাংলা একাডেমির আধুনিক ব্যাকরণ। 
৭০৪.
কোনটি অধীন খণ্ডবাক্য?
  1. সবার খাওয়া হয়ে গেছে।
  2. একলা চলো রে।
  3. যারা ভালো ছেলে।
  4. তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
ব্যাখ্যা
অধীন খণ্ডবাক্য:
- একটি বড় বাক্যের অন্তর্গত যে খণ্ডবাক্যটি তার অর্থ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করার জন্য স্বাধীন খণ্ডবাক্যের ওপর নির্ভরশীল, তাকে অধীন খণ্ডবাক্য বা আশ্রিত বা অপ্রধান খণ্ডবাক্য বলে। অধীন খণ্ডবাক্যকে সম্পূর্ণ বাক্য থেকে তুলে নিয়ে আলাদাভাবে লিখলে তার পরিপূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় না, আকাঙ্ক্ষা থেকে যায়।

যেমন:
- যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
• এ বাক্যের 'যারা ভালো ছেলে' খণ্ডবাক্যকে আলাদা করে লিখলে 'আকাঙ্ক্ষা' গুণের বিঘ্ন ঘটে।

অন্যদিকে,
স্বাধীন খণ্ডবাক্য:
- একটি বড় বাক্যের অন্তর্গত যে খণ্ডবাক্য তার নিজের অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য কোনো খন্ডবাক্যের ওপর নির্ভরশীল নয়, তাকে স্বাধীন বা প্রধান খণ্ডবাক্য বলে।

যেমন:
- যারা ভালো ছেলে, তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
• এ বাক্যের 'তারা শিক্ষকের আদেশ পালন করে'- এ খণ্ডবাক্যটিকে আলাদা বাক্য হিসেবেও লেখা যেতে পারে। স্বাধীন খণ্ডবাক্যকে সম্পূর্ণ বাক্য থেকে তুলে নিয়ে আলাদাভাবে লিখলেও তার পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায়।

এরূপ - সবার খাওয়া হয়ে গেছে। এবং একলা চলো রে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৭০৫.
'সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ।' বাক্যটির যৌগিক রূপ কোনটি?
  1. যদিও সে পরিশ্রমী, কিন্তু নির্বোধ।
  2. সে পরিশ্রমী হলেও, কিন্তু নির্বোধ।
  3. সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ।
  4. সে পরিশ্রমী হলেও, সে নির্বোধ।
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।

• সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে-
- যৌগিক বাক্যে একাধিক সমাপিকা ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়।
- এজন্য সরলবাক্যকে যৌগিক বাক্য করতে হলে সরল বাক্যের মাঝখানের অসমাপিকা ক্রিয়াকে সমাপিকা ক্রিয়া রূপান্তর করতে হয়।
- সরল বাক্যে একটি মাত্র ক্রিয়া থাকলে যৌগিক বাক্য গঠনের সময়ে আরেকটি ক্রিয়া তৈরি করে নিতে হয়।
- সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোন অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়।

যেমন:
• সরল বাক্য: সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ। 
• যৌগিক বাক্য: সে পরিশ্রমী বটে, কিন্তু নির্বোধ। 

• সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।
• যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।

• সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।
• যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।

• সরল বাক্য: সৎ ব্যক্তি বলে সকলে তাকে সম্মান করে।
• যৌগিক বাক্য: লোকটি সৎ, তাই সকলে তাকে সম্মন করে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৭০৬.
“যেমন কাজ করবে তেমন ফল পাবে”- বাক্যটির সরল রূপ কোনটি?
  1. ক) কাজ অনুযায়ী ফল পাবে
  2. খ) যেমন কর্ম তেমন ফল
  3. গ) কর্মেই ফলের পরিচয়
  4. ঘ) কাজের উপর ফল নির্ভর করে
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমনঃ
- তার বয়স বাড়লেও বুদ্ধি বাড়েনি।
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে,
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে,

“যেমন কাজ করবে তেমন ফল পাবে”- বাক্যটির সরল রূপঃ কাজ অনুযায়ী ফল পাবে।
 
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৭০৭.
'তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।' যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন -
  1. ক) তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন তথাপি বাড়ি যেতে বললেন
  2. খ) তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন
  3. গ) তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন কিন্তু বাড়ি যেতে বললেন
  4. ঘ) তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন না
ব্যাখ্যা
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে পরিণত করতে হলে সরল বাক্যের কোনো অংশকে নিরপেক্ষ বাক্যে রূপান্তর করতে হয়৷
এবং যথাসম্ভব সংযোজক বা বিয়োজক অব্যয়ের প্রয়োগ করতে হয়৷
যেমন-
সরল বাক্য- তিনি আমাকে পাঁচ টাকা দিয়ে বাড়ি যেতে বললেন।
যৌগিক বাক্য- তিনি আমাকে পাঁচটি টাকা দিলেন এবং বাড়ি যেতে বললেন।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭০৮.
যৌগিক শব্দ কোনটি?
  1. ক) প্রবীণ
  2. খ) সন্দেশ
  3. গ) রাজপুত
  4. ঘ) মহাযাত্রা
  5. ঙ) চিকামারা
ব্যাখ্যা
যে সকল শব্দের ব্যবহারিক ও ব্যুৎপত্তিগত অর্থ একই তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমনঃ চিকামারা, গায়ক, বাবুয়ানা, মধুর, দৌহিত্র। প্রবীণ ও সন্দেশ হলো রূঢ়ি শব্দ। রাজপুত ও মহাযাত্রা যোগরূঢ় শব্দ। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭০৯.
'ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।' বাক্যটি কোন জাতীয় বাক্য?
  1. ক) যৌগিক বাক্য
  2. খ) সরল বাক্য
  3. গ) জটিল বাক্য
  4. ঘ) মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা

যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমনঃ
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- ভালো ছেলেরা শিক্ষকের আদেশ পালন করে।
- রক্ষকই ভক্ষক।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি

৭১০.
‘সে ঢাকা যাবে।’—এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. আদেশবাচক বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সক্রিয় বাক্য
ব্যাখ্যা
• বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকা-না থাকা বিবেচনায় বাক্যকে দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় :
- সক্রিয় বাক্য
- অক্রিয় বাক্য

• সক্রিয় বাক্য:
যে বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে, সেগুলোকে সক্রিয় বাক্য বলে.
যেমন:
- আমার মা চাকরি করেন।
- সে ঢাকা যাবে।

• অক্রিয় বাক্য:
যেসব বাক্যের বিধেয় অংশে ক্রিয়া থাকে না, সেগুলোকে অক্রিয় বাক্য বলে।
যেমন:
- তিনি বাংলাদশের নাগরিক।

• তবে অতীত ও ভবিষ্যৎ কালের প্রয়োগে এগুলো সক্রিয় বাক্য হয়ে যায়।
যেমন: 
- ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন’ বা ‘তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হবেন’।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৭১১.
কোনটি জটিল বাক্য?
  1. লোকটির সবই আছে কিন্তু সুখী নয়।
  2. যে বইটি আমি কিনেছি সেটি খুব দামি।
  3. গরিব হলেও লোকটি সৎ।
  4. তিনি আসতে পারলেন না, কারণ তিনি অসুস্থ।
ব্যাখ্যা

• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।

যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবুও, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।

যেমন:
- যে রক্ষক, সে ভক্ষক।
- যে ছেলেটি এখানে এসেছিল, সে আমার ভাই।
- যে বইটি আমি কিনেছি, সেটি খুব দামি।
- যদি তুমি যাও, তবে তার দেখা পাবে।

অন্যদিকে,
- লোকটির সবই আছে কিন্তু সুখী নয়।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।
- গরিব হলেও লোকটি সৎ।- -এটি একটি সরল বাক্য।
- তিনি আসতে পারলেন না, কারণ তিনি অসুস্থ।- এটি একটি যৌগিক বাক্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭১২.
মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ দিয়ে তৈরি হয় -
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• গঠনগত দিক থেকে বাক্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যেমন,
- সরল বাক্য,
- জটিল বাক্য,
- যৌগিক বাক্য।

• জটিল বাক্য: একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন-
যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১৩.
"মহারাজের জয় হোক।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. বিবৃতিমূলক
  2. অনুজ্ঞাসূচক
  3. প্রার্থনাসূচক
  4. আবেগবাচক 
ব্যাখ্যা

•"মহারাজের জয় হোক।"- এটি প্রার্থনাসূচক বাক্য। 

ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
- যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে।
- একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন -
→ মহারাজের জয় হোক।
→ আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।

৭১৪.
কোনটি আশ্রিত বাক্য?
  1. তা মুখ দেখেই বুঝেছি
  2. সে যে অপরাধ করেছে
  3. সে-ই সুখ লাভ করে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।

যথা:
আশ্রিত বাক্য:
- যে পরিশ্রম করে,
- সে যে অপরাধ করেছে,

প্রধান খণ্ডবাক্য:
- সে-ই সুখ লাভ করে।
- তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭১৫.
সরল বাক্যের বৈশিষ্ট্য নয় কোনটি?
  1. বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে।
  2. এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
  3. সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
  4. সরল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক থাকতে পারে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন -
- জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

সরল বাক্যে অনেক সময়ে ক্রিয়া অনুপস্থিত থাকে।
যেমন -
- আমরা তিন ভাইবােন।

বাক্যের মধ্যে এক বা একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকলেও সরল বাক্য হয়।
যেমন -
- জনাব মাহবুব খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে পায়চারি করতে করতে বাজারের দিকে গেলেন।

অন্যদিকে,
সরল বাক্যে সাপেক্ষ যোজক থাকতে পারে এটা ভুল। সাপেক্ষ যোজক থাকলে তা জটিল বাক্য হয়ে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১৬.
'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।' কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. সরল 
  2. মিশ্র 
  3. যৌগিক 
  4. জটিল 
ব্যাখ্যা

• সরল থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর:
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তর করতে হলে মৌলিক অর্থওমূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করা যেতে পারে-

• সূত্র: বাক্য পরিবর্তিত হলেও মৌলিক অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন:
- সরল: 'ইহাদের ন্যায় রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'
- জটিল: 'ইহারা যেরূপ, এরূপ রূপবতী রমণী আমার অন্তঃপুরে নাই।'

• সূত্র: সরল বাক্যের উদ্দেশ্য বা কর্তা ও বিধেয় বা সমাপিকা ক্রিয়াকে পরিবর্তন না করে সাধারণত জটিল বাক্যের প্রধান খণ্ডবাক্যটি গঠিত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমও হয়।
যেমন:
- সরল: 'তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা হওয়া সত্ত্বেও তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'
- জটিল: 'যদিও তুমি নবমালিকা কুসুমকোমলা, তথাপি তোমায় আলবালজলসেচনে নিযুক্ত করিয়াছেন।'

• সূত্র: সরল বাক্যের বাকি অংশ বিশেষ্য, বিশেষণ বা ক্রিয়া-বিশেষণস্থানীয় অপ্রধান বা আশ্রিত খণ্ডবাক্যে পরিণত হয়।
যেমন:
- সরল: 'ভূস্বামী স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করিলে প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'
- জটিল: 'ভূস্বামী যখন স্বাধিকারে অধিষ্ঠান করেন, তখন প্রজারা একদিনের নিমিত্ত নিশ্চিন্ত থাকিতে পারে না।'

• সূত্র: প্রধান ও অপ্রধান খণ্ডবাক্য সাপেক্ষ সর্বনাম (যা, তা) কিংবা যোজক শব্দ (যদি, তবে) দ্বারা যুক্ত হয়।
যেমন:
- সরল: 'কার্যে ক্ষতি না হইলে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'
- জটিল: 'যদি কার্যে ক্ষতি না হয়, তবে তথায় গিয়া অতিথি সৎকার করুন।'

- সরল: 'কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করাই তাহার একমাত্র প্রয়োজন।'
- জটিল: 'যাহা তাঁহার একমাত্র প্রয়োজন, তাহা হইল কেবল লোভের উপভোগ আহরণ করা।'

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭১৭.
'দয়া করে আমার একটা কাজ করে দিন।'- কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. আবেগবাচক বাক্য
  2. প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  4. বিবৃতিবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• বক্তব্যের লক্ষ্য অনুযায়ী বাক্যকে বিবৃতিবাচক, নেতিবাচক, প্রশ্নবাচক, অনুজ্ঞাবাচক ও আবেগবাচক প্রভৃতি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য: আদেশ, নিষেধ, অনুরােধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বােঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন-
• আমাকে একটি কলম দাও।
• দয়া করে আমার একটা কাজ করে দিন।
• তার মঙ্গল হােক।
• সৎপথে তার মতি হোক।
• সদুপায়ে জীবিকা অর্জনের চেষ্টা করো।

• বিবৃতিবাচক বাক্য: সাধারণভাবে কোনাে বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলােকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন-
• আমরা রােজ বেড়াতে যেতাম।
• তারা তােমাদের ভােলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য: বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলাে প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন-
• তােমার নাম কী?
• সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?
• আর কি পথ আছে?

• আবেগবাচক বাক্য: কোনাে কিছু দেখে বা শুনে অবাক হয়ে যে ধরনের বাক্য তৈরি হয়, তাকে আবেগবাচক বাক্য বলে।
যেমন-
• দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
• অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তাে ভয়েই মরি!
• দৃশ্যটি কী দারুণ!
• আহা! দৃশ্যটি ভুলবার নয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭১৮.
"আমি বাংলা বিভাগের ছাত্র।" - বাক্যটির জটিল রূপ কোনটি?
  1. আমি যে বাংলা বিভাগের ছাত্র, তা সবাই জানে।
  2. আমার বিভাগের নাম বাংলা।
  3. আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।
  4. আমি একটি বিভাগের ছাত্র এবং তার নাম বাংলা।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।
-----------
ব্যাখ্যা:
মূল বাক্য: "আমি বাংলা বিভাগের ছাত্র।" - এটি একটি সরল বাক্য (একটি উদ্দেশ্য + একটি বিধেয়)।

জটিল বাক্যের বৈশিষ্ট্য:
- একটি প্রধান খণ্ডবাক্য + এক বা একাধিক আশ্রিত খণ্ডবাক্য।
- সংযোজক শব্দ (যে, যা, যার, যেখানে ইত্যাদি) দ্বারা যুক্ত থাকে।
- যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত- তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।

সুতরাং সঠিক উত্তর: গ) আমি যে বিভাগের ছাত্র তার নাম বাংলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭১৯.
‘দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।'
উপরের বাক্যটিকে জটিল বাক্যে পরিণত করলে হবে –
  1. ক) যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
  2. খ) যে দুর্জন সেই পরিত্যাজ্য।
  3. গ) দুর্জন লোক মাত্রই পরিত্যাজ্য।
  4. ঘ) দুর্জন লোককে সকলে পরিত্যাগ করে।
ব্যাখ্যা
সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্য রূপান্তর:
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যোজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়। যেমন:

সরল বাক্য: দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লোক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য। 
 
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ। 
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করোনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।
 
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৭২০.
নেতিবাচক: “শহিদের মৃত্যু নেই” বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. শহিদদের মৃত্যু নেই।
  2. শহিদেরা অমর।
  3. শহিদেরা বেঁচে আছে।
  4. শহিদের কি মৃত্যু হয়?
ব্যাখ্যা
• নেতিবাচক বাক্য থেকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর:
নেতিবাচক বাক্যকে অস্তিবাচক বাক্যে রূপান্তর করতে হলেমৌলিক অর্থ বা মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে নিচের সাধারণ সূত্রগুলো অবলম্বন করতে হবে।

সূত্র: ১
বাক্য পরিবর্তিত হলেও মূল অর্থ অপরিবর্তিত থাকবে।
যেমন -
নেতিবাচক: সেটা কখনোই সফল হতে পারে না।
অস্তিবাচক: সেটা সর্বদাই অসফল হয়।

সূত্র: ২ 
'না', 'নয়', 'নি', 'নেই', 'নহে' ইত্যাদি নঞর্থক পদ তুলেদিতে হয় এবং শব্দের পরিবর্তন ঘটিয়ে হ্যা-বাচক ভাব ফুটিয়ে তুলতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: কোথাও শান্তি ছিল না
অস্তিবাচক: সর্বত্র অশান্তি ছিলো।

সূত্র: ৩
প্রয়োজনমতো নেতিবাচক শব্দের বাক্যাংশকে অস্তিবাচক শব্দদ্বারা অস্তিবাচকে রূপান্তর করতে হয়।
যেমন -
নেতিবাচক: শহিদের মৃত্যু নেই।
অস্তিবাচক: শহিদেরা অমর।

উৎস: ভাষা - শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৭২১.
সরল বাক্যকে যৌগিক বাক্যে রূপান্তর করুন: "পরিশ্রম করলে ফল পাবে"
  1. ফল পাবার জন্য পরিশ্রম করতে হবে।
  2. পরিশ্রম না করলে ফল পাবে না।
  3. ফল পাবে কিন্তু তার জন্য পরিশ্রম করতে হবে।
  4. পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
ব্যাখ্যা
যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্য:
- যৌগিক বাক্যে দুটি সমাপিকা ক্রিয়া থাকে; অন্যদিকে সরল বাক্যে থাকে একটি সমাপিকা ক্রিয়া।
- তাই যৌগিক বাক্য থেকে সরল বাক্যে রূপান্তরের সময়ে মাঝখানের সমাপিকা ক্রিয়াকে অসমাপিকা ক্রিয়ায় রূপান্তর করে নিতে হয়।
যেমন:
যৌগিক বাক্য: সে এখানে এল এবং সব কথা খুলে বলল।
সরল বাক্য: সে এখানে এসে সব কথা খুলে বলল।

যৌগিক বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত, কিন্তু অভদ্র নয়।
সরল বাক্য: লােকটি অশিক্ষিত হলেও অভদ্র নয়।

যৌগিক বাক্য: পরিশ্রম কর তবেই ফল পাবে।
সরল বাক্য: পরিশ্রম করলে ফল পাবে।

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭২২.
সরল বাক্য নয় কোনটি?
  1. অনেকের নিবাস থাকলেও আমার নিবাস নাই।
  2. তিনি ধনী কিন্তু দাতা নন।
  3. ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
  4. অনেকেরই জীবনে দুঃখের পর সুখ আসে।
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য নয়- তিনি ধনী কিন্তু দাতা নন। 

[প্রদত্ত বাক্যে 'তিনি ধনী' একটি স্বাধীন বাক্য এবং 'দাতা নন' আরেকটি স্বাধীন বাক্য। দুটি নিরপেক্ষ বাক্য 'কিন্তু' অব্যয় যোগে সংযুক্ত হয়েছে। সুতরাং এটি একটি যৌগিক বাক্য।]

--------------
• যৌগিক বাক্য:
পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

উল্লেখ্য,
যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, কিন্তু, ও, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত থাকে।

অন্যদিকে,
--------------- 
• সরল বাক্য:
কে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যথা-
- অনেকের নিবাস থাকলেও আমার নিবাস নাই।
- ইন্দ্রের ঐরাবতের মতো আমার পদ্মা।
- অনেকেরই জীবনে দুঃখের পর সুখ আসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯- সংস্করণ)।
৭২৩.
'যেই তার দর্শন পেলাম, সেই আমরা প্রস্থান করলাম'- এ বাক্যের 'সেই আমরা প্রস্থান করলাম' কোন ধরনের বাক্য?
  1. আশ্রিত বাক্য
  2. মিশ্র বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. প্রধান খণ্ডবাক্য
ব্যাখ্যা

• যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
• যেমন- যেই তার দর্শন পেলাম (আশ্রিত বাক্য), সেই আমরা প্রস্থান করলাম (প্রধান খণ্ডবাক্য)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭২৪.
নিচের কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. হুররে, আমরা জিতেছি!
  2. ভালো লোক ভালো কাজের পরামর্শ দেন।
  3. এখান থেকে বিদায় হও।
  4. তিনি এবার গ্রামে যাবেন না। 
ব্যাখ্যা

অর্থানুসারে বাক্যকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে-
১. বর্ণনা বা বিবরণমূলক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু বর্ণনা বা বিবৃত করা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় বর্ণনামূলক বাক্য।
যেমন-
- পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে। 
- লোকটি প্রতিদিন পুকুরে সাতার কাটে। 
- সে কবিতা লিখছে ইত্যাদি।

এ বাক্যকে আবার অস্তিবাচক বা হ্যাঁসূচক বাক্য ও নেতিবাচক বা না-সূচক বাক্য- এ দুভাগে ভাগ করা
হয়েছে।

ক. অস্তিবাচক বাক্য:
যে বাক্য দ্বারা কোনো কিছুর বর্ণনায় ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়, সে বাক্যকে বলা হয় অস্তিবাচক বাক্য।
যেমন-
- আমি প্রত্যদিন সকালে হাটি।
- ছাত্ররা নিয়মিত লেখাপড়া করে।
- ভালো লোক ভালো কাজের পরামর্শ দেন।

খ. নেতিবাচক বাক্য:
যে বাক্যের সাহায্যে কোন কিছুর নেতিবাচক বর্ণনা দেয়া হয়, তাকে বলা হয় নেতিবাচক বাক্য।
যেমন-
- সে এখন আর গান গায় না।
- ছেলেটির অসুখ এখনও ভালো হয়নি।
- তিনি এবার গ্রামে যাবেন না ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবোধক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে কোনো কিছু জিঞ্জাসা বা প্রশ্ন করা হয়, তাকে বলা হয় প্রশ্নবোধক বাক্য।
যেমন:
- তুমি কি লোকটিকে চিন?
- সে কি আজ বাড়ি যাবে?
- তুমি কি প্রতিদিন স্কুলে যাও ইত্যাদি।

৩. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য: যে বাক্যের সাহায্যে আদেশ, উপদেশ, অনুরোধ, নিষেধ, প্রস্তাব ইত্যাদি প্রকাশিত হয় তাকে বলা হয় অনুজ্ঞাসূচক বাক্য। যেমন-
আদেশ : এখান থেকে বিদায় হও।
অনুরোধ : দয়া করে আমার কাজটি করে দাও।
উপদেশ : অযথা সময় নষ্ট করো না।
নিষেধ : অনুমতি ছাড়া কখনও তার ঘরে প্রবেশ করো না।
প্রস্তাব : চল, খেলার মাঠে ফুটবল খেলি আসি।

৪. ইচ্ছাসূচক বাক্য: এ ধরনের বাক্যে শুভজনক প্রার্থনা, আশিস, আকাঙ্ক্ষা করা হয়।
যথা-
- তোমার মঙ্গল হোক।
- পরীক্ষায় সফল হও।

৫. বিস্ময়সূচক বাক্য: যে বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বুঝায় তাকে বিস্ময়সূচক বাক্য বলে।
যথা-
- হুররে, আমরা জিতেছি!

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৫.
‘ঘটনাটি শুনে রাখ’- বাক্যে কোন ক্রিয়া রয়েছে?
  1. ক) যৌগিক ক্রিয়া
  2. খ) মিশ্র ক্রিয়া
  3. গ) প্রযোজক ক্রিয়া
  4. ঘ) অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সাইরেন বেজে উঠল।
- ঘটনাটি শুনে রাখ।

মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্ প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন:
- আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
- ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৭২৬.
"সে কি যাবে" এটি কী ধরনের বাক্য?
  1. ক) আদেশসূচক
  2. খ) বিষ্ময়সূচক
  3. গ) প্রশ্নসূচক
  4. ঘ) বিবৃতিসূচক
ব্যাখ্যা

প্রশ্নসূচক- এ ধরনের বাক্যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়।
যথাঃ যাবে নাকি? কেন এসেছ? 'সে কি যাবে?' - এ বাক্যে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছে।

বিষ্ময়সূচক- এ ধরনের বাক্যে আশ্চর্যজনক কিছু বোঝায়।
যেমনঃ তাজ্জব ব্যপার!

আদেশসূচক- 
এ ধরনের বাক্যে আদেশ করা হয়।
যেমনঃ চুপটি করে বস।

বিবৃতিসূচক-
সাধারণভাবে হ্যাঁ বা না বোধক বাক্য।
যেমনঃ সে ঢাকা যাবে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।

৭২৭.
'কাকলি বললো যে শম্পাই কাজটি করেছে' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল বাক্য
  2. খ) জটিল বাক্য
  3. গ) যৌগিক বাক্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

একটি প্রধান বাক্যের সাথে এক বা একাধিক খণ্ড বাক্য সাধারনভাবে বা কোন অনুগামি সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সাপেক্ষ সর্বনাম দিয়ে যুক্ত হয়ে পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
এখানে, 'কাকলি বললো যে' প্রধান বাক্য আর 'শম্পাই কাজটি করেছে' হলো- অপ্রধান বা খণ্ড বাক্য।                                               
উৎস-  বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭২৮.
”তাঁর মঙ্গল হোক।” কী ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. বিবৃতিবাচক বাক্য
  2. প্রশ্নবাচক বাক্য
  3. আবেগবাচক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ বা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে যে বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- আমাকে একটি কলম দাও। (আদেশ/অনুরোধ)।
- তাঁর মঙ্গল হোক। (প্রার্থনা)।

• বাক্যের অন্য প্রকারগুলো হলো:

• বিবৃতিবাচক বাক্য :
যেসব বাক্যে কোনো তথ্য বা ঘটনা সাধারণভাবে বলা হয়, সেগুলো বিবৃতিবাচক বাক্য।
এগুলো দুই রকমের হতে পারে:

• ইতিবাচক: যেমন —
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
নেতিবাচক: যেমন —
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

• প্রশ্নবাচক বাক্য:
বক্তা যখন কারও কাছ থেকে কোনো তথ্য জানতে চায়, তখন প্রশ্নবাচক বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

• আবেগবাচক বাক্য:
কোনো আবেগ (আনন্দ, বিস্ময়, দুঃখ, ভয় ইত্যাদি) প্রকাশ করতে যে বাক্য হয়।
উদাহরণ:
- দারুণ! আমরা জিতে গিয়েছি।
- অত উঁচু পাহাড়ে উঠে আমি তো ভয়েই মরি!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, নবম দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৭২৯.
"মনের কষ্ট মনে চেপে রেখো না"- বাক্যে চেপে রাখা কোন প্রকার ক্রিয়ার উদাহরণ? 
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) জটিল ক্রিয়া
  3. গ) যৌগিক ক্রিয়া
  4. ঘ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
"মনের কষ্ট মনে চেপে রেখো না"- বাক্যে 'চেপে রাখা' যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৭৩০.
নিচের কোনটি মিশ্রবাক্য?
  1. ক) যদিও লোকটি ধনী তথাপি সে কৃপণ
  2. খ) সে কাল আসবে তারপর আমি যাবো
  3. গ) এখনই যাও নচেৎ তার দেখা পাবে না
  4. ঘ) সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ
ব্যাখ্যা
উল্লিখিত বাক্য সমূহের মধ্যে মিশ্র বা জটিল বাক্য হলো ‘যদিও লোকটি ধনী তথাপি সে কৃপণ’।
অন্যদিকে ‘সে কাল আসবে তারপর আমি যাবো’ এবং ‘এখনই যাও নচেৎ তার দেখা পাবে না’ বাক্যদুটি যৌগিক বাক্য। সে পরিশ্রমী হলেও নির্বোধ- সরল বাক্য।
(সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি : ড. হায়াৎ মাহমুদ)
৭৩১.
যৌগিক বাক্য নয় কোনটি?
  1. তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
  2. এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
  3. যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
  4. দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক বাক্য নয়- যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
- এটি একটি জটিল বাক্য।

• জটিল বাক্য:
যে বাক্যে প্রধান খণ্ডবাক্যের অধীন এক বা একের বেশি অপ্রধান খণ্ডবাক্য থাকে বা একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হলে তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে।
যেমন:
- যদি তুমি সাবধান না হও, তাহলে বিপদে পড়বে।
[প্রদত্তে বাক্যে ‘যদি তুমি সাবধান না হও’ অপ্রধান খণ্ডবাক্য‌ আর ‘বিপদে পড়বে’ অংশটি প্রধান খণ্ডবাক্য। যা ‘তাহলে’ যোজকের মাধ্যমে দুটি বাক্যকে যুক্ত করেছে।]

--------------------
• যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন যোজক যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।+
৭৩২.
নিচের কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. যারা সৎ তারা সুখী।
  2. সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
  3. দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।
  4. আমার যে গেঞ্জিটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।
ব্যাখ্যা
• সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি। একটি যৌগিক বাক্য।

• যৌগিক বাক্য:

দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ন

অন্যদিকে,
- যারা সৎ তারা সুখী।- এটি একটি সরল বাক্য।
- সে চাকুরী পেয়েছে, তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।- এটি একটি সরল বাক্য।
- আমার যে গেঞ্জিটি হারিয়েছিল সেটি ফিরে পেয়েছি।- এটি একটি জটিল বাক্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৩৩.
'যে ভালো কাজ করে, সে সম্মান পায়।' – এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. সাপেক্ষ বাক্য 
ব্যাখ্যা

• 'যে ভালো কাজ করে, সে সম্মান পায়।' - জটিল বাক্য।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
যথা -
আশ্রিত বাক্য ....... প্রধান খণ্ডবাক্য
১. যে পরিশ্রম করে,.....সে-ই সুখ লাভ করে।
২. সে যে অপরাধ করেছে,......তা মুখ দেখেই বুঝেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৭৩৪.
'আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।' এটি কোন ধরেনের বাক্য?
  1. বিবৃতিমূলক
  2. অনুজ্ঞাবাচক
  3. প্রার্থনাসূচক
  4. বিস্ময়বাচক 
ব্যাখ্যা

• ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য:
যে বাক্যে ইচ্ছা, প্রার্থনা, উচ্ছ্বাস ইত্যাদি অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে। একে ইচ্ছাসূচক, ইচ্ছাবোধক বাকাও বলা হয়।
যেমন:
- মহারাজের জয় হোক।
- আমি যদি জন্ম নিতেম কালিদাসের কালে।

অন্যদিকে, 
--------------------
• অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, প্রার্থনা, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য বলে। 
যেমন-
- তাঁর মঙ্গল হোক।
- সদা সত্য কথা বলবে।

• বিবৃতিবাচক বাক্য:
সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন:
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)। 

৭৩৫.
'আমাকে একটি কলম দাও।' - কোন ধরনের বাক্যের উদাহরণ?
  1. আবেগসূচক বাক্য
  2. প্রশ্নবোধক বাক্য
  3. বিবৃতিমূলক বাক্য
  4. অনুজ্ঞাসূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞাসূচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয় ।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।

অন্যদিকে,
বিবৃতিমূলক বাক্য:
- সাধারণভাবে কোনো বিবরণ প্রকাশ পায় যেসব বাক্যে, সেগুলোকে বিবৃতিমূলক বাক্য বলে।
- বিবৃতিবাচক বাক্য ইতিবাচক বা নেতিবাচক হতে পারে।
যেমন –
- আমরা রোজ বেড়াতে যেতাম।
- তারা তোমাদের ভোলেনি ।

প্রশ্নবোধক বাক্য:
- বক্তা কারও কাছ থেকে কিছু জানার জন্য যে ধরনের বাক্য বলে, সেগুলো প্রশ্নবাচক বাক্য।
যেমন –
- তোমার নাম কী?
- সুন্দরবনকে কোন ধরনের বনাঞ্চল বলা হয়?

আবেগসূচক বাক্য:
- যে বাক্য দ্বারা মনের আবেগ ও আকস্মিক ভাব প্রকাশ পায় বলা হয়- আবেগসূচক বাক্য।
যেমন:
বিস্ময় প্রকাশে: কী বীভৎস, এই নারকীয় হত্যাকান্ড।
আবেগ প্রকাশে: বাহ্‌ ! অনেক সুন্দর লাগছে প্রাকৃতিক দৃশ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৩৬.
"জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. খণ্ড বাক্য
ব্যাখ্যা
"জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।" এটি সরল বাক্য।

• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
- যথা: জ্ঞানী লোক সকলের শ্রদ্ধার পাত্র।
- এখানে 'জ্ঞানী লোক' উদ্দেশ্য এবং 'সকলের শ্রদ্ধার পাত্র' বিধেয়।

• মিশ্র বা জটিল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষ ভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে মিশ্র বা জটিল বাক্য বলে।
- যথা- "যে পরিশ্রম করে, সে-ই সুখ লাভ করে।"
- এই বাক্যে 'যে পরিশ্রম করে' আশ্রিত বাক্য এবং 'সে-ই সুখ লাভ' করে প্রধান খণ্ডবাক্য।

• যৌগিক বাক্য:
- পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- জ্ঞাতব্য: যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি প্রভৃতি অব্যয় যোগে সংযুক্ত বা সমন্বিত থাকে।
- যেমন- নেতা জনগণকে উৎসাহিত করলেন বটে, কিন্তু, কোনো পথ দেখাতে পারলেন না।
- "সে অনেক পড়েছে কিন্তু পাস করতে পারে নি।" বাক্যটি একটি যৌগিক বাক্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম - ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৩৭.
কোনটি অনুজ্ঞাসূচক বাক্য?
  1. আর তো পথ নেই।
  2. দুর্জনকে দূরে রেখো।
  3. এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
  4. মরতে তো একদিন হবেই।
ব্যাখ্যা

• অনুজ্ঞাসূচক বাক্য- দুর্জনকে দূরে রেখো।

• অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য:
যে বাক্যে আদেশ, অনুরোধ, উপদেশ, নিষেধ ইত্যাদি অর্থ প্রকাশ পায় তাকে অনুজ্ঞা-বাক্য বলে। একে আজ্ঞাসূচক, আজ্ঞাবাচক, অনুজ্ঞাসূচক, আদেশসূচক বাক্যও বলা হয়।
যেমন:
• আদেশ: কাছে এসো।
• উপদেশ: সদা সত্য কথা বলবে।
• অনুরোধ: দয়া করে আমার কাজটা করে দেবেন/দিন।
• নিষেধ: "সুচেতনা, ওইখানে যেয়ো নাকো তুমি।
• প্রস্তাব: চলো, নাটক দেখে আসি।

অন্যদিকে, 
• আর তো পথ নেই।
• এটা তো মানুষের ধর্ম নয়।
• মরতে তো একদিন হবেই।

প্রদত্ত বাক্যগুলো নির্দেশাত্মক বাক্যের উদাহরণ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৩৮.
জটিল বাক্যে রুপান্তরিত করুন: বৃষ্টি হলে বের হব না'-
  1. ক) যদি বৃষ্টি না হয়, তবে আমরা বের হব না।
  2. খ) যদি বৃষ্টি না হয়, তবে আমরা বের হব না।
  3. গ) বৃষ্টি হলো এবং আমরা বের হলাম।
  4. ঘ) যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।
ব্যাখ্যা
'বৃষ্টি হলে বের হব না'-এর জটিল রূপ = যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।

বাক্যের মূল অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সরল, জটিল ও যৌগিক বাক্যের পারস্পরিক রূপান্তর করা সম্ভব।

সরল বাক্য থেকে জটিল বাক্যে রূপান্তরের নিয়ম: 
যে-সে, যিনি-তিনি, যারা-তারা, যা-তা ইত্যাদি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যেহেতু-সেহেতু, যখন-তখন, যত-তত, যেমন-তেমন ইত্যাদি সাপেক্ষ যােজক যুক্ত করে সরল বাক্যকে জটিল বাক্যে রূপান্তরিত করা যায়।
যেমন -
সরল বাক্য: দুর্জন লােক পরিত্যাজ্য।
জটিল বাক্য: যেসব লােক দুর্জন, তারা পরিত্যাজ্য।
সরল বাক্য: তুমি চেষ্টা না করায় ব্যর্থ হয়েছ।
জটিল বাক্য: যেহেতু তুমি চেষ্টা করােনি, তাই ব্যর্থ হয়েছ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।।
৭৩৯.
কোনটি আদেশসূচক বাক্য?
  1. ক) তোমাকে বসতে বলেছি
  2. খ) পরীক্ষায় সফল হও
  3. গ) সে ঢাকা যাবে না
  4. ঘ) হুররে, আমরা জিতেছি!
ব্যাখ্যা
তোমাকে বসতে বলেছি - আদেশসূচক বাক্য;
পরীক্ষায় সফল হও - ইচ্ছাসূচক বাক্য;
সে ঢাকা যাবে না - বিবৃতিমূলক বাক্য;
হুররে, আমরা জিতেছি! - বিস্ময়সূচক বাক্য।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪০.
“তুমি আমার সঙ্গে প্রপঞ্চ করেছো।” - বাক্যটি কোন কারণে যোগ্যতা হারিয়েছে?
  1. উপমার ভুল প্রয়োগ
  2. বাগধারার শব্দ পরিবর্তন
  3. দুর্বোধ্যতা
  4. গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা

দুর্বোধ্যতা:
অপ্রচলিত, দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যের যোগ্যতা বিনষ্ট হয়।
যেমন -- তুমি আমার সাথে প্রপঞ্চ করেছো।
এখানে, প্রপঞ্চ শব্দটি 'মায়া' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে; কিন্তু শব্দটি প্রচলিত নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯)।

৭৪১.
কোনটি মৌলিক শব্দ নয়?
  1. ক) গোলাপ
  2. খ) হাত
  3. গ) চলন্ত
  4. ঘ) লাল
ব্যাখ্যা
যে সব শব্দকে বিশ্লেষণ বা ভাঙা যায় না, তাদের মৌলিক শব্দ বলে। যেমনঃ গোলাপ, হাত, লাল, মা ইত্যাদি। অন্যদিকে যেসব শব্দকে ভাঙা বা বিশ্লেষণ করা যায় তাদের সাধিত শব্দ বলে। যেমনঃ চলন্ত = চল্ + অন্ত। ডুবুরি = ডুব + উরি, গরমিল = গর + মিল ইত্যাদি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৪২.
'তুমি অধম বলে আমি উত্তম হব না কেন?' কোন ধরনের বাক্য?
  1. জটিল বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. মিশ্র বাক্য
ব্যাখ্যা
• সরল বাক্য:
- যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া (বিধেয়) থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- পুকুরে পদ্মফুল জন্মে।
- তুমি অধম বলে আমি উত্তম হব না কেন?
- দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য।
- চুল পাকলেও তার বুদ্ধি পাকেনি।
- পরিশ্রমী লোকই সাফল্য লাভ করে।
- দারদ্র্য হলেও তিনি সুখী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৭৪৩.
'যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না' - এটি কোন ধরনের বাক্য?
  1. ক) সরল
  2. খ) জটিল
  3. গ) হ্যা-বাচক
  4. ঘ) যৌগিক
ব্যাখ্যা
জটিল বা মিশ্র বাক্য : যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ডবাক্য ও তাকে আশ্রয় বা অবলম্বন করে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। জটিল বাক্যে একাধিক খণ্ডবাক্য থাকে। এদের মধ্যে একটি প্রধান থাকে, এবং অন্যগুলো সেই বাক্যের উপর নির্ভর করে। যেমনঃ যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে; যে ভিক্ষা চায় তাকে দান করো; যদি বৃষ্টি হয়, তবে বের হব না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৭৪৪.
যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে? এটি একটি-
  1. যৌগিক বাক্য
  2. সরল বাক্য
  3. মিশ্র বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
জটিল বাক্য:
- একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।

যেমন:
- তুমি আসবে বলে হে স্বাধীনতা সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল।
- মা ছিল না বলে কেউ তার চুল বেঁধে দেয়নি। 
- তুমি আসবে বলে আমি অপেক্ষা করছি।
- যদি তারে নাই চিনি গো, সে কি আমায় নেবে চিনে?

উল্লেখ্য,
মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণের ২০১৯ সংস্করণে জটিল বাক্যকে মিশ্র বাক্যও বলা হয়েছে।
এই ক্ষেত্রে দুটোই অপশনে থাকলে জটিল বাক্য উত্তর করাটা বেশি যুক্তিযুক্ত।

উৎস: মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ গ্রন্থ।
৭৪৫.
কোনটি যৌগিক বাক্য?
  1. যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।
  2. সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।
  3. বিপদ আসলে তখন দুঃখও আসে।
  4. যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে।
ব্যাখ্যা

যৌগিক বাক্য:
- দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (-) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- সে নিরপরাধ, অতএব সে মুক্তি পাবে।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ।
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

অন্যদিকে,
জটিল বাক্য - যেহেতু সে নিরপরাধ, সেহেতু সে মুক্তি পাবে। যখন বিপদ আসে, তখন দুঃখও আসে।

উল্লেখ্য, 
- বিপদ আসলে তখন দুঃখও আসে। - এটি ভুল বাক্য। 
- এর সঠিক যৌগিকরূপ = বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৭৪৬.
"সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।" কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল বাক্য
  2. জটিল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. প্রবাদ বাক্য
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

“সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে মোরা পরের তরে।” — এই বাক্যটি যৌগিক বাক্য।
কারণ এখানে দুটি স্বাধীন উপবাক্য আছে—

"সকলের তরে সকলে আমরা"
"প্রত্যেকে মোরা পরের তরে"
যা কমা দিয়ে যুক্ত হয়েছে।

• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।

- এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;), কোলন (:), ড্যাশ (−) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।

যেমন:
- দোষ স্বীকার কর, তোমাকে শাস্তি দেয়া হবে না।
- হামিদ বই পড়ছে, আর সীমা রান্না করছে।
- তিনি সত্যের পূজারি, এজন্য তিনি জগতের সর্বত্র আদৃত।
- সে ভালো ফল করেছে তাই আমরা আনন্দিত হয়েছি।
- সে ঘর ঝাড়ু দিল, ঘর মুছল, তারপর পড়তে বসল ৷
- অন্ধকার হয়ে এসেছে অথচ সে বাসাই ফিরেনি।
- এখনই যাও, নচেৎ তার দেখা পাবে না।
- তোমরা চেষ্টা করেছ, কিন্তু আশানুরূপ ফল পাওনি এতে দোষের কিছু নেই।

যৌগক বাক্য গঠনে শর্ত:
- যৌগিক বাক্যে কমপক্ষে দুটো খণ্ডবাক্য থাকবে।
- খণ্ডবাক্যগুলো পরস্পর নিরপেক্ষ বা স্বাধীন, এক অপরের ওপর নির্ভরশীল নয়।
- খণ্ডবাক্যগুলো বিভিন্ন যোজক যোগে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। কখনো কখনো এগুলো উহ্যও থাকতে পারে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৭৪৭.
"দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লিখে।" - কোন ধরনের বাক্য?
  1. সরল
  2. জটিল 
  3. যৌগিক 
  4. মিশ্র
ব্যাখ্যা

• সরল বাক্য (simple sentence):
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
- লিপা স্কুলে যায়।
- পাখিগুলাে নীল আকাশে উড়ছে।
- তিনি ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।
- দুর্বিষহ বানানটি অধিকাংশ ব্যক্তি ভুল লিখে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৭৪৮.
'দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।’- কোন ধরনের বাক্য?
  1. অনুজ্ঞাবাচক বাক্য
  2. আবেগবাচক বাক্য
  3. বিবৃতিবাচক বাক্য
  4. বিস্ময়সূচক বাক্য
ব্যাখ্যা
• 'দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর।’- অনুজ্ঞাবাচক বাক্য

বাক্য:
- এক বা একাধিক শব্দ দিয়ে গঠিত পূর্ণ অর্থবোধক ভাষিক একককে বাক্য বলে।
- বাক্যের মধ্যে স্থান পাওয়া প্রত্যেকটি শব্দকে পদ বলে।
- এদিক দিয়ে পদ হলো বাক্যের একক।
- বাক্য দিয়ে বক্তার মনের ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয়।
যেমন -
- সজল ও লতা বই পড়ে।
এটি একটি বাক্য। পাঁচটি শব্দ দিয়ে গঠিত এই বাক্যে বক্তার মনের ভাব পুরোপুরি প্রকাশিত হয়েছে।

অনুজ্ঞাবাচক বাক্য:
- আদেশ, নিষেধ, অনুরোধ, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে অনুজ্ঞাবাচক বাক্য হয়।
যেমন -
- আমাকে একটি কলম দাও।
- তার মঙ্গল হোক।
- দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ কর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯, ২০২২ সংস্করণ)।