বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা / ১২ · ৬০১৭০০ / ১,১৮৫

৬০১.
মাচু পিচু কোন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষের নিদর্শন?
  1. ইনকা সভ্যতা
  2. মায়া সভ্যতা
  3. অ্যাজটেক সভ্যতা
  4. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মাচু পিচু:
- মাচু পিচু প্রাচীন ইনকা ধ্বংসাবশেষের একটি স্থান, যা পেরুর কুসকো শহর থেকে প্রায় ৫০ মাইল (৮০ কিমি) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।
- এটি আন্দিজ পর্বতমালার কর্ডিলেরা দে ভিলকাবাম্বা অঞ্চলে অবস্থিত।
- উরুবাম্বা নদীর উপত্যকার ওপরে, দুটি উঁচু শৃঙ্গ—মাচু পিচু ("প্রাচীন শৃঙ্গ") এবং হুয়াইনা পিচু ("নতুন শৃঙ্গ")—এর মাঝখানে একটি সংকীর্ণ স্থানে গড়ে উঠেছে।
- উচ্চতা: ৭,৭১০ ফুট (২,৩৫০ মিটার)।
- এটি প্রাক-কলম্বিয়ান যুগের অন্যতম প্রধান ধ্বংসাবশেষ, যা প্রায় সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
- ১৯৮৩ সালে মাচু পিচুকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে ঘোষণা করে।

এছাড়া, 
- মায়া সভ্যতা মধ্য আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিল।
- অ্যাজটেক সভ্যতা বর্তমান মেক্সিকো অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- মেসোপটেমিয়া মধ্যপ্রাচ্যের টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল, আধুনিক ইরাকের বৃহত্তর অংশ গঠন করে।

উৎস: Britannica.
৬০২.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের স্থিতিকাল -
  1. ক) ৬ বছর
  2. খ) ৫ বছর
  3. গ) ৭ বছর
  4. ঘ) ৪ বছর
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- ১৯১৪ সালে শুরু হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ।
- এটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক সংঘাত যাতে ইউরোপের বেশিরভাগ অংশের পাশাপাশি এশিয়া, উত্তর আমেরিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দূরবর্তী দেশগুলি জড়িত। 
- জার্মানি, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি এবং তুরস্কের কেন্দ্রীয় শক্তি - ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইতালি, জাপান এবং পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রবাহিনীর সাথে লড়াই করেছিল।
- ১৯১৮ সালে কেন্দ্রীয় শক্তির পরাজয়ের মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়। অর্থ্যাৎ প্রায় ৪ বছর ধরে এই যুদ্ধ চলে।

- ২৮ জুন, ১৯১৪ সালে বসনিয়ান সার্ব গ্যাভরিলো প্রিন্সিপ দ্বারা সারাজেভোতে আর্চডিউক ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ এবং তার স্ত্রী সোফির হত্যার স্ফুলিঙ্গ হিসাবে কাজ করেছিল যা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করেছিল।
- জার্মানির সমর্থনের আশ্বাসে, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি জুলাইয়ে যুদ্ধ ঘোষণা করে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানায়।
- ২৮ জুলাই যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর, অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি বেলগ্রেডে বোমাবর্ষণ শুরু করে।
- ১৯১৪ সালের আগস্টে বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে জার্মানির আক্রমণ শুরু হয়।
- ২৮ আগস্ট, ১৯১৪ সালে নৌ যুদ্ধ শুরু হয়। জার্মান সাবমেরিন ২০ অক্টোবর বাণিজ্যিক ট্রাফিক আক্রমণ শুরু করে এবং ইংল্যান্ড নৌ অবরোধের সাথে প্রতিক্রিয়া জানায়।
- ১১ নভেম্বর ১৯১৮ সালে প্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৬০৩.
বিজ্ঞানের চর্চা প্রথম শুরু হয় কোথায়?
  1. ক) ইংল্যান্ডে
  2. খ) চীনে
  3. গ) মিশরে
  4. ঘ) গ্রিসে
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন গ্রিসে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে প্রথম বিজ্ঞানের চর্চা শুরু হয়।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন এবং চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের কারণ গ্রিকরাই প্রথম নির্ণয় করে।
- চাদের নিজস্ব আলো নেই এবং পৃথিবী একটি গ্রহ যা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয় এ সত্য গ্রিকরাই প্রথম উদঘাটন করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নকম-দশম শ্রেণী)
৬০৪.
'ট্রয় নগরী' বর্তমানে কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইরাক
  2. গ্রীস
  3. তুরস্ক
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

ট্রয় নগরী:
- ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের হেসারলিক বা আনাতোলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত।
- ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর অস্তিত্ব এবং এর ধ্বংসের ইতিহাস প্রাচীন গ্রীক হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াড-এ পাওয়া যায়।
- ট্রয় নগরী ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যুক্ত হয়।
- ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ শতকে এবং শেষ খ্রিষ্টপূর্ব ১২৪০ শতকে।
- দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলেছিল যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধ ট্রোজান যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- যুদ্ধের কারণ ছিল হেলেন নামের এক সুন্দরী মহিলাকে কেন্দ্র করে, যিনি ট্রয়ের রাজা প্রিয়াম এর পুত্র পারিস দ্বারা অপহৃত হন।
- গ্রীক রাজা মেনেলাউস তার স্ত্রীর ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

• ট্রয়ের ঘোড়া (Trojan Horse):
- ট্রয়ের ঘোড়া ছিল গ্রীক বাহিনীর একটি কৌশল। তারা একটি বিশাল কাঠামো, যা একটি ঘোড়ার মতো দেখতে, ট্রয়ের শহরে রেখে যায়। এতে গ্রীক সৈন্যরা লুকিয়ে ছিল। ট্রয়ের বাসিন্দারা এটি উপহার মনে করে শহরে নিয়ে আসে। রাতের বেলায় সৈন্যরা বের হয়ে শহরের দরজা খুলে দেয়, এবং গ্রীক বাহিনী ট্রয় ধ্বংস করে। এটি প্রতারণা ও কৌশলের প্রতীক হয়ে আছে।

উৎস: Britannica ওয়েবসাইট। 

৬০৫.
পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে বিবেচিত কোনটি?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  3. ফিনিশীয় সভ্যতা
  4. সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর প্রাচীনতম সভ্যতা হলো মেসোপটেমিয়া সভ্যতা। বর্তমান ইরাক, সিরিয়া ও তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ইউফ্রেতিস ও তাইগ্রিস নদীর মধ্যবর্তী অববাহিকায় মেসোপটেমীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- মেসোপটেমিয়ায় গড়ে উঠা প্রথম সভ্যতা হলো সুমেরীয় সভ্যতা। আনুমানিক প্রায় ছয় হাজার বছর পূর্বে বর্তমান ইরাকে সুমেরীয় সভ্যতার বিকাশ লাভ করেছিলো।
- সুমেরীয় সভ্যতার পর পর্যায়ক্রমে মেসোপটেমিয়ায় ব্যাবিলনীয়, অ্যাসেরীয় এবং ক্যালডীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- সভ্যতাগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিকশিত হলেও একই স্থানে গড়ে উঠায় এদের একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা হিসেবে অভিহিত করা হয়।
(তথ্যসূত্র: হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা)
৬০৬.
JKLF এর পূর্ণনাম কী?
  1. ক) Jammu Kashmir Liberation Front
  2. খ) Jammu Kashmir Liberty Front
  3. গ) Jammu Kashmir Liberaty Fedaration
  4. ঘ) Jammu Kashmir Liberal Front
ব্যাখ্যা
- JKLF (Jammu-Kashmir Liberation Front) হলো ভারতের কাশ্মীর রাজ্যের স্বাধীনতাকামী গেরিলা সংগঠন।
- এটির প্রতিষ্ঠাতা আমানুল্লাহ খান এবং মকবুল ভাট। এটি ১৯৭৭ সালে ব্রিটেনের বার্মিংহামে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ভারত সরকার ২০১৯ সালে ইয়াছিন মালিককে গ্রেফতার ও JKLF কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

তথ্যসূত্র:- সাউথ এশিয়া টেরোরিজম পোর্টাল।
৬০৭.
ব্যাবিলন কোন দুই নদীর মাঝে অবস্থিত ছিল?
  1. দানিয়ুব ও ভলগা
  2. নীল ও টাইগ্রিস
  3. টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস
  4. সিন্ধু ও গঙ্গা
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- ব্যাবিলন প্রাচীন মধ্যপ্রাচ্যের শহর।
- এই শহরের ধ্বংসাবশেষ বাগদাদ থেকে প্রায় ৫৫ মাইল (৮৯ কিমি) দক্ষিণে, ইরাকের আধুনিক শহর আল-হিল্লার কাছে অবস্থিত।
- এটি ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের দিকে আমোরীয় রাজাদের শাসনের অধীনে আসে।
- শহরটি ব্যাবিলোনিয়ার রাজধানী হয়ে ওঠে এবং টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদী ব্যবস্থার প্রধান বাণিজ্যিক শহর ছিল।
- এটি নেবুচাদনেজার দ্বিতীয় এর অধীনে নিও-ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের রাজধানী হিসাবে তার সর্বশ্রেষ্ঠ গৌরব অর্জন করেছিল।
- নেবুচাঁদনেজার পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৬০৮.
কোন সভ্যতা লেখার পদ্ধতি হিসেবে 'কিউনিফর্ম' ব্যবহার করেছিল?
  1. সুমেরীয় সভ্যতা
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  3. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
কিউনিফর্ম (Cuneiform):
- কিউনিফর্ম সুমেরীয়দের তৈরি প্রাচীন লিপি।
- কিউনিফর্ম বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ও চিত্রের সমন্বয়ে লেখার পদ্ধতি।
- এই লিপির আকৃতি কীলক বা ছোট্ট তীরের মতো হওয়ার কারণে এদের কিউনিফর্ম বা কীলক লিপি বলা হয়।
- এটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে গঠিত কোনো বর্ণমালা নয় এবং এতে নির্দিষ্ট বা ধরাবাঁধা কোনো অক্ষরও নেই।
- কাদামাটির চার কোনা পাতে লেখার পর আগুনে পুড়িয়ে একে স্থায়ী করা হতো।
- এটি প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় ব্যবহার করা হতো।
- হামুরাবীর আইনবিধি এই লিখন পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করা হয়।

⇒ সুমেরীয়দের পর আক্কাদিয়ানরাও তাদের ভাষা লেখার জন্য এই লিখন পদ্ধতি গ্রহণ করে।
- সুমেরীয় ও আক্কাদিয়ান বাদে অ্যাসিরিয়ান, ব্যাবিলনিয়ান, এব্লেইট, আমোরাইট, অ্যালামাইট, হাত্তিক, হুররিয়ান, উরার্তিয়ান, হিট্টাইট, লুউইয়ান ভাষা এই লিখন পদ্ধতিতে লেখা হতো।
- কিউনিফর্ম লিপিকে প্রথম সংস্কার করেন পারস্য সম্রাট দারিয়ুস।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) World History Encyclopedia.
৬০৯.
ক্রিস্টোফার কলম্বাস কত সালে আমেরিকা আবিষ্কার করেন?
  1. ১৪১৮ সালে
  2. ১৪৩২ সালে
  3. ১৪৯২ সালে
  4. ১৪৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
ক্রিস্টোফার কলম্বাস:
- তিনি ছিলেন ইতালীয় নাবিক এবং স্পেনের নৌআভিযাত্রী।
- আনুমানিক ১৪৫১ সালের ৩১শে অক্টোবর, ইতালির জেনোয়াতে জন্মগ্রহণ করেন।
-অন্বেষণকারী ক্রিস্টোফার কলম্বাস স্পেন থেকে আটলান্টিক মহাসাগর জুড়ে চারটি ভ্রমণ করেছিলেন।
- তিনি ইউরোপ থেকে এশিয়ার পশ্চিমে সরাসরি জলপথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন।চিল
- তিনি এরপর আমেরিকা আবিষ্কার করেছিলেন।
- ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কার করেন ১৪৯২ সালে।
- যদিও তিনি তথাকথিত নিউ ওয়ার্ল্ডকে ‘আবিষ্কার’ করেননি।
- লক্ষ লক্ষ মানুষ ইতিমধ্যেই সেখানে বাস করেছিল।
- তবে তার যাত্রা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার শতবর্ষের অনুসন্ধান এবং উপনিবেশের সূচনা করে।

উৎস: History Channel.
৬১০.
প্রাচীন মেসোপটেমিয়া সভ্যতার বর্তমান ভৌগলিক অবস্থা কোথায়?
  1. প্যারাগুয়ে
  2. ইরাক
  3. পাকিস্তান
  4. মেক্সিকো
ব্যাখ্যা

মেসোপটেমীয় সভ্যতাঃ
‘মেসোপটেমীয়া’ একটি গ্রিক শব্দ,যার অর্থ - দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা ও ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকাটির নাম- মেসোপটেমিয়া।
- গ্রীক লেখকগণ মূলত এর নামকরণ করেন।
- মেসোপটেমিয়া দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো - উত্তর ও দক্ষিণ। উত্তর অংশের বর্তমান নাম - অ্যাসেরীয় ও দক্ষিণ অংশের নাম - মেসোপটেমিয়া।
- তবে এটি একটি অভিন্ন এলাকা হিসাবেই পরিচিত ছিলো।
- এই অঞ্চলটিতেই খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিলো।
- বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থান - বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল অবস্থিত।
- এছাড়াও সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান ও কুয়েতে - এই সভ্যতার কিছু অংশ রয়েছে। মেসোপটেমিয়ার লোকজন বহু-ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলো।

উৎসঃ হিস্টোরি.কম ও ব্রিটানিকা।

৬১১.
সভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান-
  1. পিরামিড নির্মাণ
  2. বর্ণমালার আবিষ্কার
  3. আইন প্রণয়ন
  4. দার্শনিক চিন্তা
ব্যাখ্যা
• রোমান সভ্যতা: 
- বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হচ্ছে আইন প্রণয়ন।

- খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রোমানরা ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনগুলো সুষ্ঠুভাবে একসঙ্গে সাজাতে সক্ষম হন।
- ৫৪০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে সর্বপ্রথম আইনগুলো খোদাই করে লিখিত হয়।
- রোমান আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান।
- রোমান আইনকে তিনটি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। যেমন-
• বেসামরিক আইন:
- এই আইন পালন করা রোমান নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল।
- এই আইন লিখিত অলিখিত দুই রকম ছিল।
• জনগণের আইন: 
- জনগণের আইন এ আইন সকল নাগরিকের জন্য প্রযোজ্য ছিল।
- তাছাড়া ব্যক্তিগত অধিকার রক্ষার বিষয়টি এই আইনে ছিল।
- তবে এর মাধ্যমে দাসপ্রথাও স্বীকৃতি লাভ করে।
- সিসেরো এ আইনের প্রণেতা।
• প্রাকৃতিক আইন:
- এ আইনে মূলত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হয়েছে।
- খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতকে সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রথম সমস্ত রোমান আইনের সংগ্রহ ও সংকলন প্রকাশ করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা,  নবম- দশম শ্রেণি।
৬১২.
ইনকা সভ্যতা কোন মহাদেশে অবস্থিত ছিল?
  1. আফ্রিকা
  2. দক্ষিণ আমেরিকা
  3. ইউরোপ
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা ছিল দক্ষিণ আমেরিকার পেরু, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, ও চিলি অঞ্চলে বিস্তার লাভ করা একটি প্রাচীন ও উন্নত সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা আমেরিকার বৃহত্তম প্রাক-কলম্বিয়ান সভ্যতা।
- এই সভ্যতা পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় ১৩শ থেকে ১৬শ শতাব্দী পর্যন্ত বিকশিত হয়।
- ইনকা সভ্যতার বিস্ময়কর স্থাপত্য ও প্রকৌশলের সেরা উদাহরণ হলো মাচু পিচু।
- এটি ইনকা সম্রাট পাচাকুতির দ্বারা নির্মিত একটি রাজকীয় এস্টেট বা ধর্মীয় স্থান।
- মাচু পিচু নিখুঁতভাবে কাটা পাথরের দেওয়াল ও টেরেসের জন্য পরিচিত।
- ইনকা সভ্যতার মাচু পিচু নগরীটি পৃথিবীর ৭ম আশ্চর্যের একটি। 
- এই স্থাপনাটি এখন ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত।

উৎস: Britannica.

৬১৩.
বিখ্যাত ধর্মপ্রবর্তক জরথুষ্ট্র কোন সভ্যতার সাথে সম্পর্কিত?
  1. পারস্য সভ্যতা
  2. মিশরীয় সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. ক্যালডীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

জরথুষ্ট্র :
• জরথুষ্ট্র একজন ধার্মিক ও দার্শনিক।
• তিনি পারসীয়দের ধর্মের(পারসিক) সন্ধান দেন।
- জরথুষ্ট্র নামক একজন ধার্মিক ও দার্শনিক পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন।
- তার প্রচারিত এ ধর্মকে বলা হয় জরথুষ্ট্রবাদ।
- জরথুষ্ট্রবাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে 'জেন্দআবেস্তা'।
- জরথুষ্ট্রবাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে প্রচলিত বহু দেবতা ও যাদুবিদ্যার অবসান এবং ধর্মে নৈতিকতা ও দার্শনিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

পারস্য সভ্যতা:

- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- সভ্যতার ইতিহাসে দুটি ক্ষেত্রে পারসীয়দের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমটি সুষ্ঠু ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দ্বিতীয় ধর্মীয় ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা নিয়ে আসা।
- সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার জন্য সম্রাট দারিয়ুস একটি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন।
- সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়নেরও সম্রাটের দৃষ্টি ছিল।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।
- পারসীয়গণ লিখার জন্য ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত।
- পারস্য স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পিরামিডের আকৃতিতে তৈরি সম্রাট কাইরাসের সমাধি।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৪.
প্রাচীন মিশরীয়দের চিত্রলিপির নাম-
  1. সুমেরীয় লিপি
  2. হায়ারোগ্লিফিক লিপি
  3. কিউনিফর্ম লিপি
  4. চৈনিক লিপি
ব্যাখ্যা
মিশরীয় লিপি: 
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।
- মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের কাণ্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে।
- গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় 'প্যাপিরাস'।
- এই শব্দ থেকে ইংরেজি পেপার শব্দের উৎপত্তি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৫.
নব্যপ্রস্তর যুগের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার -
  1. ক) কয়লা
  2. খ) আগুন
  3. গ) লোহা
  4. ঘ) লিখন পদ্ধতি
ব্যাখ্যা
নব্য প্রস্তরযুগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কীর্তি হল চাকার আবিষ্কার। চাকার আবিষ্কার, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, পরিবহন এবং যুদ্ধকৌশলে (যুদ্ধে পাথর ব্যবহার) পরিবর্তন ঘটায়। কৃত্রিম পদ্ধতিতে আগুন জ্বালানোর কৌশল আয়ত্ত এবং এর ব্যাপক ব্যবহার নব্য প্রস্তর যুগের অর্জন। মূলত চকমকি পাথর ছিল এ সময়ের মানুেষর দিয়াশলাই। [সূত্র: ebookbou.edu.bd]
৬১৬.
কোন সভ্যতার মানুষরা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে?
  1. পারস্য
  2. সিন্ধু
  3. ফিনিশীয়
  4. চৈনিক
ব্যাখ্যা
ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয়দের সামনে ছিল সাগর আর পিছনে ছিল পাহাড়।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।
 - ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত। 
- এ কারণে ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে। 
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬১৭.
ফিনিশিয়া সভ্যতার বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থান-
  1. মিশর
  2. লেবানন
  3. জর্ডান
  4. ইরাক
ব্যাখ্যা

• ফিনিশিয়া সভ্যতার অবস্থান ও পরিচয়:
⇒ ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে একশত পঁচিশ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং পনের কিলোমিটার প্রস্থ সম্বলিত একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয় একটি সম্প্রদায়ের নাম।
- কৃষিকাজ করার মতো কোন উর্বর ভূমি না থাকায় তাদের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল বাণিজ্য।
- ফিনিশীয়রা ছিল শান্তিপ্রিয়। যুদ্ধ পছন্দ করত না বলে তারা সাম্রাজ্য গড়তে পারেনি।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে তাদের উত্থান হয়েছিল।
- নানা ঘটনা প্রবাহের পর ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার টায়ার নগরী দখল করে একে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন।
- আর তখনই ফিনিশীয় সভ্যতার পতন ঘটে।

• ইতিহাসে ফিনিশিয়দের অবদান:
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।
- ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত।
- এ কারণে ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে।
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে।
- আধুনিক বর্ণমালার সূচনা এখান থেকে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং ইতিহাস, বাংলাদেশে উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৬১৮.
কোন জাতি সিন্ধু সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত করে?
  1. অস্ট্রিক জাতি
  2. দ্রাবিড় জাতি
  3. নেগ্রিটো জাতি
  4. ভোটচীনীয় জাতি
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ থেকে ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত এই সভ্যতার বিস্তার ছিলো।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- দ্রাবিড় জাতি কর্তৃক সিন্ধু সভ্যতার প্রতিষ্ঠিত হয়।
- উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা হলেও এর বিস্তৃতি ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কালের কন্ঠ পত্রিকা।
৬১৯.
রোমান সভ্যতার আকাশের দেবতা হিসেবে পরিচিত কোনটি?
  1. নেপচুন
  2. ভেনাস
  3. মিনার্ভা
  4. জুপিটার
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২০.
Cleopatra was the queen of -
  1. China
  2. Rome
  3. Egypt
  4. Greece
  5. Spain
ব্যাখ্যা
ক্লিওপেট্রা:
- ক্লিওপেট্রা ছিলেন ইতিহাসের বিখ্যাত মিশরীয় রানী।
- খ্রিস্টপূর্ব ৬৯ সালে আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন জুলিয়াস সিজারের প্রেমিকা এবং পরে মার্ক অ্যান্টনির স্ত্রী।
- ৫১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তার পিতা টলেমি XII এর মৃত্যুতে রানী হয়েছিলেন।
- ক্লিওপেট্রা সক্রিয়ভাবে রোমান রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছিলেন।
- অক্টাভিয়ানের রোমান বাহিনী তাদের সম্মিলিত বাহিনীকে পরাজিত করার পর, অ্যান্টনি এবং ক্লিওপেট্রা আত্মহত্যা করেন।
- মিশর তখন রোমান আধিপত্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।

উৎস: Britannica.
৬২১.
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা কোনটি?
  1. চৈনিক সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
• সুমেরীয়।
• ব্যাবিলনীয়।
• অ্যাসেরীয়।
• ক্যালেডীয়।
- Mesopotamia মানে হলো দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা 'মেসোপটেমীয় সভ্যতা'।
- ফোরাত ও দজলা নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার নামকরণ হয়েছে গ্রিক শব্দে।
- ওই সময় উরুক নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর ছিল। এ শব্দ থেকেই ইরাকের নাম রাখা হয়।
- বর্তমান ইরাকের বেশির ভাগ অংশ এবং সিরিয়ার কিছু অংশ একসময় মেসোপটেমীয় সভ্যতারই
অংশ ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ সালের দিকে এ অঞ্চল পার্সিয়ানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে রোমানদের দখলে যায়। মুসলিম শাসনামলে এ অঞ্চল ইরাক নামে পরিচিতি পায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬২২.
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. ভেসপাসিয়ান
  2. ক্লডিয়াস
  3. জাস্টিনিয়ান
  4. মার্কাস অরেলিয়াস
ব্যাখ্যা

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র -  Britannica.com

৬২৩.
কোন চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান বিরোধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে?
  1. ক) হরিয়ানা চুক্তি
  2. খ) সিমলা চুক্তি
  3. গ) তাসখন্দ চুক্তি
  4. ঘ) ডেটন চুক্তি
ব্যাখ্যা
১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধ:
- ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
- ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশই কাশ্মীরকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করত।
- কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করে ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পাক-ভারত যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ আগস্ট পাকিস্তান বাহিনী ভারত আক্রমণ করলে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হয়।
- ৬ সেপ্টেম্বর ভারত লাহোর আক্রমণে অগ্রসর হয়।
- ১৭ দিন যুদ্ধের পর জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ২৩ সেপ্টেম্বর যুদ্ধ বিরতি ঘোষিত হয়।
- ১৯৬৬ সালের ১০ জানুয়ারি স্বাক্ষরিত ‘তাসখন্দ চুক্তি'র মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিরোধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। 

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬২৪.
দারিয়ুস দ্য গ্রেট কোন সভ্যতার সম্রাট ছিলেন?
  1. রোমান 
  2. গ্রিক 
  3. পারস্য 
  4. মিশরীয়
ব্যাখ্যা

দারিয়ুস দ্য গ্রেট:
- 'দারিয়ুস' পারস্য সভ্যতার সম্রাট ছিলেন।

⇒ বর্তমান ‘ইরান’ নামে পরিচিত অঞ্চলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন পরাশক্তি পারস্য সাম্রাজ্য।
- পারস্য অঞ্চলে ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬৫১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে উৎপত্তি লাভ করা একাধিক সাম্রাজ্যের সমষ্টি।
- ঐতিহাসিকরা এই সময়কালকে মোট চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- আকামেনিদ সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০-খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০), সেলুসিড সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩১২-খ্রিস্টপূর্ব ৬৩), পার্থিয়ান সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ২৪৭-২২৪ খ্রিস্টাব্দ) এবং সর্বশেষ সাসানীয় সাম্রাজ্য (২২৬-৬৫১ খ্রিস্টাব্দ)।

⇒ আকামেনিদ সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট দারিয়ুস দ্য গ্রেট।
- তাঁর শাসনামলে সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটে।
-  দারিয়ুস পার্সেপোলিস নগরীর গোড়াপত্তন করেন।
- সম্রাট দারিয়ুস বিভিন্ন পরিমাপের একক নির্ধারণের পাশাপাশি অভিন্ন মুদ্রাও চালু করেন। 
- পৃথিবীর ইতিহাসে পারসিকরাই সর্বপ্রথম, যারা এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মাঝে সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- পৃথিবীর প্রথম ডাকসেবা এই সম্রাটের হাত ধরেই চালু হয়।
- এসব কারণে দারিয়ুসকে পারস্য সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়।
- ৪৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট দারিয়ুস মারা যান। নিজের তৈরি করা সমাধিক্ষেত্র ‘নাকশে রুস্তম’-এ তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। 

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।

৬২৫.
কোন মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে জাপানে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণ করা হয়?
  1. হ্যারি এস ট্রুম্যান
  2. রোনাল্ড রিগ্যান
  3. জন এডামস
  4. জিমি কার্টার
ব্যাখ্যা
লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টের জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বে প্রথম কোন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র।
- মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে।
- নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে।
- নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

উৎস: History.com.
৬২৬.
কোন দেশে প্রথম পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়?
  1. ইতালি
  2. জাপান
  3. জার্মানি
  4. চীন
ব্যাখ্যা
পারমাণবিক বোমা:
- ১৯৪৫ সালের ১৬ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকোর মরুভূমিতে বিশ্বে সর্বপ্রথম পারমাণবিক বোমার পরিক্ষা চালায়।
- এই বোমা পরিক্ষার পরিকল্পনার নাম ছিলো ম্যানহাটন প্রজেক্ট।
- ১৯৪৫ সালের ৬ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা শহরে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম লিটলবয় নামের পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে।
- ৯ আগস্ট ফ্যাটম্যান নামের বোমা নিক্ষেপ করা হয় নাগাসাকি শহরে।

সূত্রঃ সিটিবিটিও ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডটকম।
৬২৭.
বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক কে?
  1. সক্রেটিস
  2. হিপোক্রেটস
  3. থুকিডাইডিস
  4. হেরোডোটাস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন গ্রিস:
- হােমারের ‘ইলিয়াড ও ওডিসি' মহাকাব্য এ সভ্যতার অপূর্ব নির্দশন।
- সাহিত্য ক্ষেত্রে চুড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল নাটক রচনায়।
- বিয়ােগান্ত নাটক রচনায় গ্রিকরা বিশেষ পারদর্শী ছিল।
- এসকাইলাসকে এই ধরনের নাটকের জনক বলা হয়। তার রচিত নাটকের নাম প্রমিথিউস বাউন্ড'।
- গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ছিলেন সােফোক্লিস। তিনি একশটিরও বেশি নাটক রচনা করেন। তাঁর বিখ্যাত নাটকের মধ্যে রাজা ইডিপাস, আন্তিগােনে ও ইলেকট্রী অন্যতম।
- আর একজন বিখ্যাত নাট্যকারের নাম ইউরিপিদিস। এরিস্টোফেনেসের মিলনান্তক ও ব্যঙ্গ রচনায় বিশেষ খ্যাতি ছিল।
- ইতিহাস রচনায়ও গ্রিকরা কৃতিত্ব দেখিয়েছিল।
- হেরোডোটাস ইতিহাসের জনক নামে পরিচিত ছিলেন। হেরোডোটাস রচিত ইতিহাস-সংক্রান্ত প্রথম বইটি ছিল গ্রিস ও পারস্যের মধ্যে যুদ্ধ নিয়ে।
- থুকিডাইডেস ছিলেন বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক।
- তাঁর বইটির শিরােনাম ছিল 'দ্য পেলােপনেসিয়ান ওয়র'।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬২৮.
Drone বলতে কি বুঝায়?
  1. ক) যাত্রীবাহী দ্রুতগামী বিমান
  2. খ) যাত্রীবিহীন বিমান
  3. গ) চালকসহ বিমান
  4. ঘ) চালকবিহীন বিমান
ব্যাখ্যা
প্রােগ্রাম নিয়ন্ত্রিত চালকবিহীন ছােট আকাশযান বা বিমানকে ড্রোন (Drone) বলে। সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে চললেও Communication Satelite দ্বারাও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ছােট ছােট ড্রোন সাধারণত রিমােট কন্ট্রোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিয়া।
৬২৯.
উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope) কে আবিষ্কার করেছেন?
  1. মার্কো পোলো
  2. আমেরিগো ভেসপুচি
  3. ভাস্কো ডা গামা
  4. বার্তোলোমেউ ডিয়াজ
ব্যাখ্যা

• উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope): 
- উত্তমাশা অন্তরীপ আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশে, কেপ উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত একটি পাথুরে খাড়া পাহাড়ি অঞ্চল।
- ১৪৮৮ সালে পর্তুগিজ নাবিক বার্তোলোমেউ ডিয়াজ সর্বপ্রথম ইউরোপ থেকে ফিরে যাওয়ার পথে এই অন্তরীপটি দেখেন।
- তিনি আফ্রিকার দক্ষিণ সীমা নির্ধারণ করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
- একটি মতে, ডিয়াজ প্রথমে এটিকে "ঝড়ের অন্তরীপ" (Cape of Storms) নামে অভিহিত করেন কারণ এই অঞ্চলে প্রবল ঝড় দেখা দিত।
- পরে পর্তুগালের রাজা জন দ্বিতীয় (John II) এটিকে "উত্তমাশা অন্তরীপ" (Cape of Good Hope) নাম দেন, কারণ এটি প্রমাণ করেছিল যে ইউরোপ থেকে সমুদ্রপথে ভারতে যাওয়া সম্ভব।
- আবার অনেকে মনে করেন, এই নাম ডিয়াজ নিজেই দিয়েছিলেন।
- এই অন্তরীপটি আফ্রিকা ঘুরে ভারতের দিকে ইউরোপীয় নৌপথ আবিষ্কারের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
- এটি বিশ্ব ইতিহাসে নৌবাণিজ্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।

উৎস: Britannica.

৬৩০.
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা উদ্ভবের সময়কাল কোনটি?
  1. প্রাচীন গ্রীস সময়কাল
  2. প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকাল
  3. ১৬০০-১৮০০ সাল
  4. প্রাচীন রোম সময়কাল
ব্যাখ্যা
আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা:
- আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তার পুরোধা নিকোলো ম্যাকিয়াভেলী (১৪৬৯-১৫২৭) ইতালীর ফ্লোরেন্স নগরীর সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- জীবনের বিভিন্নঘাত প্রতিঘাতের এক পর্যায়ে তিনি তাঁর যুগান্তকারী পুস্তক ‘দি প্রিন্স’ (১৫৩২) রচনা করেন।
- ‘দি প্রিন্স’ পুস্তকে ম্যাকিয়াভেলীর রাষ্ট্রচিন্তার মূল বিষয়গুলো বিবৃত হয়েছে।
- রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর আরও পুস্তক রয়েছে, এর মধ্যে ‘ডিসকোর্স’, ‘দি আর্টঅব ওয়ার' অন্যতম।

⇒ ম্যাকিয়াভেলীর রাজনৈতিক চিন্তাধারা তৎকালীন ইতালীর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রেনেসাঁ বা নবজাগরণের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিল।
- প্রথমত: তৎকালীন অন্তর্দ্বন্দে লিপ্ত দুর্বল এবং খন্ডবিখন্ড ইতালীকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করে ম্যাকিয়াভেলী একত্রিত করার ব্রত নিয়ে একটি শক্তিশালী শাসন ব্যবস্থার অধীনে আনতে চেয়েছিলেন।
- দ্বিতীয়ত: রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সন্তান হিসাবে খ্যাত ম্যাকিয়াভেলী রাজনৈতিক বিষয়াদিকে ইহজাগতিক চেতনার দ্বারা পরিচালিত করার মানসে তাকে মধ্যযুগীয় তথা ধর্মীয় ও নৈতিকতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।
- ম্যাকিয়াভেলী ছাড়াও আধুনিক রাষ্ট্র কাঠামোর চিন্তার ত্বাত্ত্বিক উন্নয়ন ঘটান - থমাস হব্স, জন লক, জেন বেডিন প্রমুখ।

⇒ পরবর্তীতে ইউরোপে সামন্তবাদীদের সাথে সংঘাতের মধ্যে দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার উন্মেষ ঘটে।
- পৃথিবীর ইতিহাসে ১৬০০ - ১৮০০ সাল সময়টি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
- এই সময়ে ইউরোপ জুড়ে রেনেসাঁর মাধ্যমে সর্বক্ষেত্রে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। সাহিত্য, শিল্প, বিজ্ঞান, রাষ্ট্রচিন্তা - সর্বক্ষেত্রে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে শুরু করে।
- এই সময়েই মূলত আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার উদ্ভভ ঘটে।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, SSHL, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩১.
ইনকা সভ্যতার স্থপতি ছিলেন কে?
  1. জরখৃস্ট
  2. রামসিস
  3. হাম্বুরাব্বী
  4. মানকো কাপেন
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।
৬৩২.
ইনকা সভ্যতার অবস্থান কোথায়?
  1. আফ্রিকা
  2. এশিয়া
  3. দক্ষিণ আমেরিকা
  4. উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা ১৪৩৮ খ্রি. – ১৫৩৩ খ্রি. পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
- দক্ষিণ আমেরিকার পেরু অঞ্চলে এ সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- মাচু-পিচু নগরী প্রতিষ্ঠা করে ইনকারা।
- মাচু-পিচু কে ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ঘোষণা করা হয়।

উৎস: Britannica.
৬৩৩.
সম্রাট দারিয়ুস কোন গণনা রীতি চালু করে দিনপঞ্জি তৈরি করেন?
  1. ১০ মাসে বছর ও ২৫ দিনে মাস
  2. ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস
  3. ১৫ মাসে বছর
  4. ৬ মাসে বছর
ব্যাখ্যা

পারস্য সভ্যতা:
- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- রাজা ক্যামবিসাস আততায়ীর হাতে নিহত হলে দারিয়ুস নামক এক সামন্ত অভিজাত খ্রিস্টপূর্ব ৫২২ অব্দে পারস্যের সম্রাট নিযুক্ত হন। তাঁর শাসনামলে পারস্য গ্রীক ও রোমানদের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। রাজা দারিয়ুসের মৃত্যুর পর তার পুত্র জারেক্সস পারস্য শাসন করেন। পারস্য সাম্রাজ্যের শেষ দিকে দুর্বল শাসনের কারণে রাজশক্তির ক্ষয় হয়। ৩৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার পারস্য আক্রমণ করে দখল করে নেন। 

⇒ সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- মিশরীয় চিকিৎসা বিদ্যালয়কে তিনি সংস্কার করেন।
- বিখ্যাত ক্যালডীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী 'নেবুরিমানু'কে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা দেন। এছাড়া ক্যালডীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী 'কিদিন'ও পারস্য সম্রাটের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।

উৎস: i) ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৪.
হাব ও টজলকিন ক্যালেন্ডার কারা তৈরি করেছিল?
  1. রোমানরা
  2. ক্যালডীয়রা 
  3. মায়ারা
  4. ব্যবিলনীয়রা
ব্যাখ্যা

• মায়া সভ্যতা (Maya Civilization):
- মায়া সভ্যতা ছিল তৎকালীন পৃথিবীর অন্যতম আধুনিক, উন্নত ও জ্ঞানসমৃদ্ধ সভ্যতা।
- এ সভ্যতার অধিবাসীদের বলা হতো মায়ান।
- এর বিস্তৃতি ছিল মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, বেলিজ, এল সালভাদর ও হন্ডুরাস অঞ্চলে।
- মায়ারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসব অঞ্চলে বসবাস শুরু করে এবং ৯ম শতাব্দী পর্যন্ত সমৃদ্ধি লাভ করে।
- তাদের প্রধান নগরীগুলোর মধ্যে ছিল চিচেন ইৎজা, টিকাল, পালেনকে ও কোপান ।
- মায়া সভ্যতার রাজনৈতিক ব্যবস্থা ছিল নগর-রাষ্ট্র ভিত্তিক; প্রতিটি শহর-রাষ্ট্রের নিজস্ব শাসক ও ধর্মীয় কেন্দ্র ছিল।
- তারা ছিল দক্ষ স্থপতি, গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ ও কৃষিবিদ।
• মায়া সভ্যতার দুটি পর্যায়।
- প্রাচীন মায়া সভ্যতা: খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ – ২৫০ খ্রিস্টাব্দ। 
- ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা: ২৫০ – ৯০০ খ্রিস্টাব্দ (সভ্যতার স্বর্ণযুগ)।
- মায়ারা প্রথম দিকের সভ্যতাগুলোর মধ্যে যারা শূন্য সংখ্যার ধারণা ব্যবহার করেছিল।
- তারা অত্যন্ত দক্ষ জ্যোতির্বিদ ছিল এবং গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।
- লিখনপদ্ধতি: চিত্রলিপি (Hieroglyphic) ব্যবহার করত, যা পাথর, মৃৎপাত্র ও ছালার পাতায় লেখা হতো।
- স্থাপত্যকীর্তি: পিরামিড আকৃতির মন্দির, প্রাসাদ ও বলখেলা ক্ষেত্র নির্মাণ করেছিল।
• মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল।
-  হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার। ও
-  টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

- এই দুটি ক্যালেন্ডারের সমন্বয়ে তারা তৈরি করেছিল Calendar Round, যা প্রায় ৫২ বছরব্যাপী এক চক্র সম্পন্ন করত।
- ৯ম শতাব্দীর পর থেকে মায়া সভ্যতার পতন শুরু হয়।
- জলবায়ু পরিবর্তন, খরা, যুদ্ধ ও কৃষি উৎপাদন হ্রাস ছিল প্রধান কারণ।

উৎস:  ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম ওয়েবসাইট। 

৬৩৫.
প্রাচীন কোন সভ্যতায় সপ্তাহকে প্রথম সাত দিনে বিভক্ত করা হয়?
  1. ক্যালডীয় 
  2. ফিনিশীয় 
  3. মিসরীয়
  4. অ্যাসেরিয়
ব্যাখ্যা

ক্যালডীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় বসবাসকারী সেমিটিক জাতিভুক্ত ক্যালডীয়রা এ সভ্যতা গড়ে তোলে বলে ইতিহাসে এটি ক্যালডীয় সভ্যতা নামে পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা নেবোপালেসার এ্যাসিরীয়দের সমৃদ্ধ রাজধানী নিনেভা ধ্বংস করে পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও তাদের সভ্যতা গড়ে তোলে বলে এ সভ্যতা নতুন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা নামেও পরিচিত।
- এ সাম্রাজ্যের উল্লেখযোগ্য শাসক ছিলেন সম্রাট নেবুচাঁদনেজার।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দে ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের পতন ঘটিয়ে পারস্য সম্রাট কাইরাস ক্যালডীয়দের উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে।

⇒ উল্লেখযোগ্য অবদান:
- ক্যালডীয়রাই প্রথম সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে।
- তারাই প্রতিদিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি বের করে।
- বছরের দৈর্ঘ্যও তারা বের করে।
- এ যুগের জ্যোতির্বিজ্ঞানীগণ ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পান। তা থেকে ১২টি রাশিচক্রের সৃষ্টি হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৩৬.
ইনকা সভ্যতা কোথায় গড়ে উঠেছিল?
  1. ভেনেজুয়েলা
  2. পেরু
  3. মেক্সিকো
  4. উরুগুয়ে
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ইনকা সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে।
- সভ্যতার উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০-১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।

উৎস: Britannica.

৬৩৭.
দ্রাবিড় জাতি কোন সভ্যতার পত্তন করেছিল?
  1. চৈনিক সভ্যতা
  2. সিন্ধু সভ্যতা
  3. পারস্য সভ্যতা
  4. হিব্রু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
দ্রাবিড়:
- ভারতে আর্যদের আগমনের পূর্বে দ্রাবিড় জাতির বসবাস ছিল।
- এই জাতিগোষ্ঠী দক্ষিণে ইন্দো-আফ্রিকার নিগ্রোদের গোত্রভুক্ত।
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে যে আদিবাসীদের অস্তিত্বের কথা সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারের ফলে জানা যায় এরাই দ্রাবিড় জাতি।
- তারাই সিন্ধু সভ্যতার পত্তন করেছিল।
- প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগেই ভারতে দ্রাবিড়দের অবস্থান ছিল বলে অনুমান করা হয়।

উল্লেখ্য,
⇒ সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতা:
- সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতা হচ্ছে দ্রাবিড়রা।
- এই সভ্যতার অধিবাসীরা ছিল দ্রাবিড়, অস্ট্রোলয়েড, ভূ-মধ্যসাগরীয় মঙ্গোলীয় এবং আলপানীয় গোত্রভুক্ত।
- তবে এদের মধ্যে দ্রাবিড়দের সংখ্যাই ছিল বেশি।
- এ কারণে অধিকাংশ পণ্ডিতের ভাষ্য সিন্ধু সভ্যতার প্রকৃত নির্মাতা হচ্ছে দ্রাবিড়রা।
- এ কারণেই সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতি দ্রাবিড়ীয় সংস্কৃতি নামে পরিচিত।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৩৮.
ইউফ্রেটিস নদীর অন্য নাম কী?
  1. ক) নীলনদ
  2. খ) দজলা
  3. গ) টাইগ্রিস
  4. ঘ) ফোরাত
ব্যাখ্যা
- ইউফ্রেটিস নদীর অন্য নাম হচ্ছে ফোরাত নদী

• মেসোপটেমীয় সভ্যতা (Mesopotamian Civilization):
- বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা মেসােপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর তীরে।
- টাইগ্রিস নদীর অন্য নাম - দজলা এবং ইউফ্রেটিস নদীর অপর নাম - ফোরাত নদী।

- মেসোপটেমীয় কথাটি দ্বারা বুঝায় দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- সুপ্রাচীন মেসোপটেমিয়া বর্তমান সময়ের ইরাক ও সিরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত এবং এই এলাকাকে সভ্যতার আঁতুরঘর হিসেবে ধরা হয়।

- মেসােপটেমীয় সভ্যতার চারটি পর্ব ছিল।
সেগুলাে হলাে -
- সুমেরীয় সভ্যতা,
- ব্যবিলনীয় সভ্যতা,
- অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও
- ক্যালডীয় সভ্যতা।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬৩৯.
ফিনিশীয় সভ্যতার কতটি বর্ণমালা ছিল?
  1. ১২টি
  2. ২২টি
  3. ২৪টি
  4. ৪৪টি
ব্যাখ্যা
ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয়দের সামনে ছিল সাগর আর পিছনে ছিল পাহাড়।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে তাদের উত্থান হয়েছিল।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।
- ফিনিশীয় নাবিকরা রাতে তারা দেখে জাহাজ চালাত।
- এ কারণে ধ্রুবতারাকে অনেকে ফিনিশীয় তারা বলে থাকে।

উল্লেখ্য,
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের উদ্ভাবন করে।
- আধুনিক বর্ণমালার সূচনা এখান থেকে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪০.
Where was the world's oldest civilization?
  1. ক) Greece
  2. খ) Mesopotamia
  3. গ) Rome
  4. ঘ) India
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:

- বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা গড়ে উঠেছিল মেসোপটেমিয়ায়।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভূক্ত নয় কুমেরীয়।
- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায় - সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাশেরীয় ও ক্যালেডীয়।
- মেসোপটেমিয়া মানে হলো দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- ফোরাত ও দজলা নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার নামকরণ হয়েছে গ্রিক শব্দে।
- ওই সময় উরুক নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর ছিল। এ শব্দ থেকেই ইরাকের নাম রাখা হয়।
- বর্তমান ইরাকের বেশির ভাগ অংশ এবং সিরিয়ার কিছু অংশ একসময় মেসোপটেমীয় সভ্যতারই অংশ ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ সালের দিকে এ অঞ্চল পার্সিয়ানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।পরে রোমানদের দখলে যায়।মুসলিম শাসনামলে এ অঞ্চল ইরাক নামে পরিচিতি পায়।

তথ্যসূত্র - দৈনিক কালের কন্ঠ, ৯ জুন ২০১৮।
৬৪১.
'ওরাকল বোন' (Oracle Bones) কোন প্রাচীন সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত?
  1. মায়া সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. হিট্টাইট সভ্যতা
  4. চৈনিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা

চীন সভ্যতা:
- চীনের তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- প্রথমটি হোয়াং হো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াং জে কিয়াং নদীর তীরে আর তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে।
- চীনের এই প্রাচীন সভ্যতা সৃষ্টি হয় শাং রাজাদের ও চৌ রাজাদের যুগে।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে এখানে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- চীনের আদি মানুষ 'পিকিং মানুষ' নামে পরিচিত।
- চীনবাসীরা হোয়াং-হো ও ইয়াংসি নদীর দুটি পাড়েই বসবাস করত। 
- তাদের লিখন পদ্ধতির নাম আইডিও গ্রাফ। 
 
⇒ 'ওরাকল বোন' (Oracle Bones) চীনা সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত।
- 'ওরাকল বোন' মূলত প্রাচীন চীনা শাং সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত।
- এই হাড়গুলোর উপর ভবিষ্যদ্বাণীমূলক লেখা খোদাই করা হতো যা প্রাচীন চীনা লেখার প্রাচীনতম রূপ হিসেবে পরিচিত। 
- ওরাকল হাড়টি ১০০ বছরেরও বেশি আগে চীনে আবিষ্কৃত হয়েছিল। 
- ওরাকল হাড়ের উপর লেখা হল চীনা লেখার প্রথম রূপ।
- এই হাড়গুলি তখনকার সময়ের সামাজিক, ধর্মীয় ও প্রশাসনিক জীবন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে, যেমন rulers-দের জীবন, যুদ্ধ, কৃষি, আবহাওয়া, এবং এমনকি রাজকীয় দাঁতের ব্যথার কারণও। 
 
উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) EBSCO.
iii) BBC.

৬৪২.
কোন দেশের প্রাচীন রাজাদের 'কাইজার' বলা হতো?
  1. ফ্রান্স
  2. জার্মানি
  3. জাপান
  4. মিশর
ব্যাখ্যা
- জার্মান সম্রাটগণ কাইজার নামে পরিচিত ছিলো।

এছাড়াও -
- রোমান সম্রাটদের উপাধি ছিলো সিজার।
- প্রাচীন মিশরীয় সম্রাট বা রাজাদের উপাধি ছিলো ফারাও।
- ফারাও শব্দের অর্থ বড়বাড়ি। বিশাল প্রাসাদে বসবাসকারী ফারাওদের মনে করা হতো ঈশ্বরের সন্তান।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং হিস্টোর ডটকম
৬৪৩.
নিচের কোনটি প্রাচীন মেসোপটেমিয়া অঞ্চলের নগর সভ্যতা নয়?
  1. আক্কাদীয় সভ্যতা
  2. মিনোয়ান সভ্যতা
  3. ব্যবিলনীয় সভ্যতা
  4. ক্যালডীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- মিনোয়ান সভ্যতা প্রাচীন মেসোপটেমিয়া অঞ্চলের নগর সভ্যতা নয়। 

মেসোপটেমীয় সভ্যতা: 

- খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা-ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।
- এই উর্বর ভূখণ্ডের উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি; দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর, পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।

মেসোপটেমীয়ার অর্ন্তভুক্ত সভ্যতাসমূহ
প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
যেমন:
→ সুমেরীয়,
→ ব্যবিলনীয়,
→ এ্যাসিরীয়,
→ ক্যালডীয় ও
→ আক্কাদীয় সভ্যতা।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৪.
কোন সভ্যতা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. পারস্য সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারোতে এবং পাঞ্জাবের হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।

উল্লেখ্য,
⇒ পরিমাপ পদ্ধতি:
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
- তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত।
- তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত।
- দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৫.
নিচের কোন সভ্যতাটি মেসোআমেরিকা অঞ্চলে বিকশিত হয়নি?
  1. ইনকা সভ্যতা
  2. অ্যাজটেক সভ্যতা
  3. মায়া সভ্যতা
  4. ওলমেক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোআমেরিকা হলো বর্তমান মেক্সিকো এবং মধ্য আামেরিকা নিয়ে গঠিত অঞ্চল। ১৬ শতকে স্পেনিশদের আর্বিভাবের পূর্বে মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চল মেসোআমেরিকা হিসেবে অভিহিত।

মেসোআমেরিকা অঞ্চলে স্থানীয় আদিবাসীদের দ্বারা বেশ কয়েকটি বিখ্যাত সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। এগুলোর মধ্যে ওলমেক সভ্যতা, মায়া সভ্যতা ও অ্যাজটেক সভ্যতা প্রধান।
এদের মধ্যে ওলমেক সভ্যতা হলো প্রথম মেসোআমেরিকান সভ্যতা এবং অ্যাজটেক সভ্যতা হলো সর্বশেষ মেসোআমেরিকান সভ্যতা।

অন্যদিকে,
ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে বিকশিত হয়েছিলো।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৬৪৬.
'অন্ধ পাখি' বলা হয় কাকে?
  1. সফোক্লিস
  2. হোমার
  3. হেরোডোটাস
  4. থুকিডাইডিস
ব্যাখ্যা
হোমার
- একজন আইওনিয়ান গ্রিক ছিলেন।
- আনুমানিক অষ্টম খ্রিস্টপূর্বাব্দে এশিয়া মাইনর (আধুনিক তুরস্ক) উপকূলে অথবা সংলগ্ন দ্বীপগুলোর কোনো একটিতে বসবাস করতেন।
- কিংবদন্তি অনুসারে তিনি অন্ধ ছিলেন এবং নানা জায়গায় ঘুরে ঘুরে চারণ কবি হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
- এ জন্য তাকে 'অন্ধ পাখি' বলা হত। 
- হোমার ছিলেন এক প্রাচীন গ্রিক মহাকাব্যিক কবি।
- তিনি ইলিয়াড ও ওডিসি মহাকাব্য এবং হোমারীয় স্তোত্রাবলির রচয়িতা।
- কথাসাহিত্য ও সাহিত্যের সাধারণ ইতিহাসে এই দুই মহাকাব্যের প্রভাব অপরিসীম।
- হোমারের সময়কাল নিয়ে প্রাচীনকালেই যথেষ্ট বিতর্ক ছিল; আজও আছে।
- হেরোডোটাসের মতে, হোমার হেরোডোটাসের জন্মের চারশো বছর আগে অর্থাৎ ৮৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ বিদ্যমান ছিলেন।
- কিন্তু অন্যান্য প্রাচীন সূত্রে তাঁকে ট্রয় যুদ্ধের অনেক নিকটবর্তী সময়ের (১১৯৪-১১৮৪ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) মানুষ মনে করা হয়েছে।

উৎস: ব্রিটানিকা। 
৬৪৭.
বাইজেন্টাইনের রাজধানী ছিল-
  1. কনস্টান্টিনোপল
  2. চিচেন ইৎজা
  3. প্যালেস্টাইন
  4. আলেকজান্দ্রিয়া
ব্যাখ্যা
বাইজেন্টাইন:
-সম্রাট ডায়োক্লোটিয়ান রোম সাম্রাজ্য পূর্ব ও পশ্চিমে ভাগ করেন। পূর্ব রোম সাম্রাজ্যই বাইজেন্টাইন নামে পরিচিত।
-৩৩০ খ্রিস্টাব্দে এ রাজধানী প্রতিষ্ঠিত হয়।
-বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যা ছিল ক্রসেডর নাম খ্যাত খ্রিষ্টান সাম্রাজ্য।
-বাইজেন্টাইনের অবস্থান - বসফরাস প্রণালীর ইউরোপীয় অংশে।
-বাইজেন্টাইনের রাজধানী- কনস্টান্টিনোপল।
- কনস্টান্টিনোপল নামকরণ করা হয় সম্রাট প্রথম কনস্টান্টিন এর নাম অনুসারে।
- ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদের হাতে কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটে।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৪৮.
খ্রিস্টধর্মের প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলনের প্রবর্তক মার্টিন লুথার কোন দেশের নাগরিক?
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) জার্মানি
  3. গ) যুক্তরাজ্য
  4. ঘ) ফ্রান্স
ব্যাখ্যা
মার্টিন লুথার হলেন জার্মানির একজন বিখ্যাত ধর্মযাজক।
• ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে মার্টিন লুথার জার্মানিতে প্রচলিত পোপ নিয়ন্ত্রিত চার্চতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠে প্রতিবাদী খ্রিস্টধর্ম বা প্রোটেস্ট্যান্ট আন্দোলনের সূচনা করেন।
• এই আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে খ্রিস্টান প্রোটেস্টেন্ট সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।
• এর অংশ হিসেবে ১৫৪৩-১৫৫৫ সময়ে জার্মানিতে ক্যাথলিক ও প্রোটেস্টান্টদের মধ্যে গৃহযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
• পরবর্তীতে অগসবার্গ সন্ধির মাধ্যমে এই সংঘাতের অবসান হয় এবং খ্রিস্টান প্রোটেস্টেন্ট সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৬৪৯.
প্রাচীন নগরী পালমিরা কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ব্রাজিল
  2. সিরিয়া
  3. মেক্সিকো
  4. ইরাক
ব্যাখ্যা
পালমিরা:
- বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে প্রাচীন ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের শহর পালমিরা।
- পালমিরা বর্তমান সিরিয়ার হমস প্রদেশে অবস্থিত।

সিরিয়া:
- আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্র।
- সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল বরাবর অবস্থিত।
- আয়তন: ৭১,৪৯৮ বর্গ মাইল (১৮৫,১৮০ বর্গ কিমি)।
- সীমান্তবর্তী দেশ: তুরস্ক, ইরাক, জর্ডান, লেবানন ও ইসরায়েল।
- রাজধানী: দামেস্ক।
- ভাষা: আরবি (অফিসিয়াল), কুর্দি, আর্মেনিয়ান।
- ধর্ম: ইসলাম (প্রধানত সুন্নি), এছাড়াও খ্রিস্টান।
- মুদ্রা: সিরিয়ান পাউন্ড।
- দেশটি ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬৫০.
চীনের মহাপ্রাচীরের সংরক্ষিত অংশের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৯,৮৫০ কি.মি.
  2. ৭,৮৭০ কি.মি.
  3. ৮,৮৫০ কি.মি.
  4. ৯,০১০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
চীনের মহাপ্রাচীর:
- চীনের মহাপ্রাচীর নির্মিত হয়- চৌ-রাজ বংশের আমলে।
- রাজা শিহুয়াং তি এই প্রাচীর তৈরি করেন।
- হুনদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যে প্রাচীর নির্মিত হয়েছিল এখন তা বিশ্বের আশ্চর্য বস্তুর একটি।
- চীনের উত্তর সীমান্ত জুড়ে অবস্থিত চীনের মহাপ্রাচীরের  সংরক্ষিত অংশের দৈর্ঘ্য ৮,৮৫০ কিমি বা ৫,৪৯৯ মাইল।

উৎস: ব্রিটানিকা & বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]
৬৫১.
পৃথিবীতে মনুষ্য নির্মিত সর্ববৃহৎ স্থাপনা কোনটি?
  1. চীনের মহাপ্রাচীর
  2. মিশরের পিরামিড
  3. ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান
  4. আর্টিমিসের মন্দির
ব্যাখ্যা
চীন সভ্যতা:
- চীনের তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- প্রথমটি হোয়াং হো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াং জে কিয়াং নদীর তীরে আর তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে।
- চীনের এই প্রাচীন সভ্যতা সৃষ্টি হয় শাং রাজাদের ও চৌ রাজাদের যুগে।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে এখানে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- চীনের আদি মানুষ 'পিকিং মানুষ' নামে পরিচিত।
- চীনবাসীরা হোয়াং-হো ও ইয়াংসি নদীর দুটি পাড়েই বসবাস করত। 
- তাদের লিখন পদ্ধতির নাম আইডিও গ্রাফ। 
 
উল্লেখ্য,
- চৌ বংশের রাজা শি-হুয়াং তি-এর রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল 'চীনের মহাপ্রাচীর'।
- হুনদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য এই প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল।
- দেড় হাজর মাইল দীর্ঘ এই প্রাচীরের উচ্চতা ছিল গড়ে ২৪ ফুট।
- এই প্রাচীরের উপর দিয়ে ৬ জন অশ্বারোহী পাশাপাশি চলতে পারত।
- চীনের প্রাচীর বিশ্বের আশ্চর্য বস্তুর একটি।
- চীনের মহাপ্রাচীরকে বলা হয় মানুষের হাতে তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপত্য।
 
উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫২.
নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ নরপতি ছিলেন কে?
  1. হাম্বুরাবী
  2. নেবুচাঁদনেজার
  3. অগাস্টাস
  4. রোমিউলাস
ব্যাখ্যা
→ নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য শ্রেষ্ঠ নৃপতি ছিলেন নেবুচাঁদনেজার।

• নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য: 

- হাম্বুরাবীর মৃত্যুর পর ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের স্থায়িত্ব বেশী দিন হয়নি।
- এ সময় সুমেরীয় অঞ্চল আবার অনেকগুলো ক্ষুদ্র নগর রাষ্ট্রে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- নিষ্ঠুর সামরিক নীতি প্রয়োগ করে মেসোপটেমিয়া বিশাল এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলে তারা।
- খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্দশ শতকে এ অঞ্চলে উত্থান ঘটে অ্যাসিরিয়ানদের।
- খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতকে অ্যাসিরিয়ানদের পরাজিত করে সামন্তরাজা নেবুচাঁদনেজার।
- তিনি ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে নতুন একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সাম্রাজ্য 'নব্য ব্যাবিলনীয়' সাম্রাজ্য নামে পরিচিত।
- এই সাম্রাজ্যের শ্রেষ্ঠ নৃপতি ছিলেন নেবুচাঁদনেজার।
- রাজা রাণীর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য নগর দেয়ালের উপরে এক মনোরম উদ্যান নির্মাণ করেন।
- এ উদ্যানই বিশ্বখ্যাত 'ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান' বা 'ঝুলন্ত উদ্যান' নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- 'ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান'।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৫৩.
মায়া সভ্যতার ধর্মীয় ক্যালেন্ডারের নাম কী?
  1. হাব
  2. কাতুন
  3. টজলকিন
  4. উইনাল
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

→ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com

৬৫৪.
আধুনিক তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান, ইরাক, কুয়েত ইত্যাদি রাষ্ট্রগুলাে প্রাচীন কোন সভ্যতার অংশ?
  1. মেসোপটেমিয় সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. পারস্য সভ্যতা
  4. ইনকা সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমিয় সভ্যতা: 
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা ‘মেসোপটেমীয় সভ্যতা’।
- আধুনিক ইরাক রাষ্ট্রের সীমারেখার মধ্যেই প্রাচীনকালে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- আধুনিক তুরস্ক, সিরিয়া, ইরান, ইরাক ও কুয়েত ইত্যাদি রাষ্ট্রগুলাে মেসোপটেমিয় সভ্যতার অংশ।
-  ফোরাত (ইউফ্রেটিস) ও দজলা (টাইগ্রিস) নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ হতে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের মধ্যে মেসোপটেমিয়ায় অতি উন্নত এক সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- মেসোপটেমিয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে।
- মেসোপটেমিয় সভ্যতারই চারটি পর্ব ছিল।
- সেগুলো হলো: সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতা।
 
অন্যদিকে -
- প্রাচীন ভারতে সিন্ধু নদের তীরে গড়ে উঠেছিল সিন্ধু সভ্যতা।
- প্রাচীন রোমের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল রোমান সভ্যতা।
- ইউরােপের বলকান উপদ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ভূমধ্য সাগরের তীরে ক্ষুদ্র পার্বত্য অঞ্চলে খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০ নাগাদ যে সভ্যতা গড়ে ওঠেছিল মানব সভ্যতার ইতিহাসে তাই গ্রিক সভ্যতা নামে পরিচিত। 
- খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে প্রাচীন মিশরে মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠে।
 
উৎস: Britannica
৬৫৫.
পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি?
  1. অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় 
  2. আল-কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয়
  3. হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় 
  4. আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় 
ব্যাখ্যা

• আল-কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয়:
- মরক্কোর ফেজ শহরে অবস্থিত আল-কারাওইন বিশ্ববিদ্যালয় ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খ্যাত এবং এটি আজও শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
- বিশ্ববিদ্যালয়টি মরক্কোর ফাতিমা আল-ফিহরি কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং
- এটি বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত।

অন্যদিকে,
• অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়,
- এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় প্রায় ১০৯৬ সাল থেকে।

• হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের ক্যামব্রিজ শহরে অবস্থিত।
- ১৬৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি আমেরিকার সবচেয়ে প্রাচীন ও অন্যতম খ্যাতনামা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

• আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া শহরে অবস্থিত একটি খ্যাতনামা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়।
- ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি মিশরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উৎস:
১. Oxford Scholastica Academy;
২. সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট। 

৬৫৬.
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে কবে?
  1. ক) ১৯৯০ সালে
  2. খ) ১৯৯১ সালে
  3. গ) ১৯৯২ সালে
  4. ঘ) ১৯৯৩ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৯১ সালের ২৫ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভের পদত্যাগের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।
এর আগে ১৯২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর পূর্বেকার রাশিয়ান সাম্রাজ্যের সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকগুলোর সমন্বয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মাধ্যমে ১৫টি দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
(সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
৬৫৭.
শিখ ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত কে?
  1. ক) গুরু নানক
  2. খ) শ্রীচৈতন্য
  3. গ) মহাবীর
  4. ঘ) সিদ্ধার্থ গৌতম
ব্যাখ্যা
শিখ (Sikhism) 
• উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ - ১৫ শতকের শেষের দিকে ভারতীয় উপমহাদেশের পাঞ্জাব অঞ্চলে শিখ ধর্ম, ধর্ম এবং দর্শন প্রতিষ্ঠিত হয়। • এর সদস্যরা শিখ নামে পরিচিত। 
• প্রবর্তক - গুরু নানক।
• ধর্মগ্রন্থ - গ্রন্থ সাহেব (আদি গ্রন্থ)।
• উপাসনালয় - গুরু দুয়ারা।
• পবিত্র স্থান - শিখদের পবিত্র ধর্মীয় স্থান - পাঞ্জাবের অমৃতসরে অবস্থিত ‘স্বর্ণমন্দির’। 

অন্যদিকে,
মহাবীর প্রবর্তিত ধর্ম হলো জৈন ধর্ম।
বৌদ্ধধর্ম বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মসমূহের অন্যতম। সিদ্ধার্থ গৌতম এর প্রবর্তক।
হিন্দু ধর্মের নির্দিষ্ট কোন প্রচারক নেই। তবে, প্রধান সংস্কারক -  শ্রীচৈতন্য।

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস প্রথম পত্র, বিএ, বিএসএস; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৬৫৮.
নিচের কোন ঘটনাটি আগে ঘটেছিল?
  1. ক) জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠা
  2. খ) চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব
  3. গ) ভারতের স্বাধীনতা
  4. ঘ) রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব
ব্যাখ্যা

- রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লব সংঘটিত হয় ১৯১৭ সালে।
- চীনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব শুরু হয় ১৯৬৬ সালে।
- ভারত স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৪৭ সালে।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৪৫ সালে।

৬৫৯.
অটোমান সাম্রাজ্যের শুরু হয়েছিলো কোন শহর থেকে?
  1. ক) আনাতোলিয়া
  2. খ) ইস্তাম্বুল
  3. গ) কাবুল
  4. ঘ) দামেস্ক
ব্যাখ্যা
অটোমান সাম্রাজ্যে:

- অটোমান সাম্রাজ্যের শুরু হয়েছিলো আনাতোলিয়া শহর থেকে।
- তুরস্কের ভাষায় অটোমান সাম্রাজ্যের নাম ওসমানী সাম্রাজ্য। তার দলের সদস্যদের বলা হতো ওসমানী। তুরস্কের ভাষায় ওথমান।
- ছয়শ বছর ধরে তৈরি হওয়া সাম্রাজ্যের পতন হয়েছিল আজ থেকে ঠিক একশো বছর আগে।
- অটোমান সুলতানদের পূর্বপুরুষ তুরকিকরা ছিলেন মধ্য এশিয়ার বাসিন্দা। তারা ছিলেন অনেকটা যাযাবর গোষ্ঠী।
- সেখান থেকে দশম শতকে তারা পার্সিয়া বা আধুনিক ইরানের ভেতর দিয়ে নিজেদের বসবাসের উপযোগী জমির সন্ধানে অভিবাসন শুরু করেন।
- একাদশ শতকের দিকে তারা আর্মেনিয়া এবং আনাতোলিয়ার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করতে থাকেন। সেই সময় ওই এলাকা ছিল বাইজেন্টাইন রাজত্বের অধীনে।
- এরতুরুল-এর মৃত্যুর পর গোত্রপতি হন তার সন্তান প্রথম ওসমান। তার নামেই পরবর্তীতে ওসমানী রাজত্ব বা অটোমান এমপায়ারের জন্ম হয়। তার দলের লোকজনদের ডাকা হতো ওসমানী।
- ১৩০১ সালে যখন তিনি প্রথম বাইজেন্টাইন একটি বাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করেন। 
- এরপর থেকে তিনি ও তার উত্তরসূরিরা ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় বহু দেশ দখল করেন। এই সাম্রাজ্যের আওতায় ছিল আজকের তুরস্ক, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, গ্রীস, আলবেনিয়া, মিশর, মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, জর্ডান, প্যালেস্টাইন, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, সৌদি আরবের কিছু অংশ এবং উত্তর আফ্রিকার উপকূলের বড় একটি অংশ।
- পরবর্তী ছয়শ বছর অটোমান সাম্রাজ্য টিকে ছিল।
- এই সাম্রাজ্য তাদের সেরা সময় সময় কাটিয়েছে সুলতান সুলেমান দি ম্যাগনিফিসেন্ট এর আমলে।

তথ্যসূত্র - বিবিসি বাংলা,৭ মে ২০২২।
৬৬০.
খন্দকের যুদ্ধের অপর নাম কী?
  1. ক) আহরার
  2. খ) আহযার
  3. গ) আহযাব
  4. ঘ) আহগায
ব্যাখ্যা
আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধ:
- বনু নযির গোত্র মদিনা থেকে নির্বাসিত হলে তাদের একাংশ হুয়াই বিন আখতাবের নেতৃত্বে খায়বারে গিয়ে বসতি স্থাপন করে। 
- তারা আশেপাশের আরব গোত্রগুলোকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে তোলে। 
- হুয়াই মক্কায় গিয়ে কুরাইশদের সঙ্গে ষড়যন্তে লিপ্ত হয়। 
- তারা সিদ্ধান্ত নেয় একযোগে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করা হবে, যাতে তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। 
- আরবের বিভিন্ন গোত্রের প্রায় ১০,০০০ সৈন্য মদিনা আক্রমণের জন্য একত্র হয়। 
- কুরাইশ ব্যতীত তাদের মধ্যে বনু নযির, বনু ওয়ায়ল অন্তর্ভূক্ত ছিল। 
- আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে দশ হাজার সৈন্যের সম্মিলিত বাহিনী মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হয়। 
- পঞ্চম হিজরীতে আরবের বিভিন্ন গোত্রের গঠিত এ বাহিনী একযোগে মদিনা আক্রমণ করার কারণে এ যুদ্ধকে 'আহযাব বা দলসমূহের যুদ্ধ' বলা হয়। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬৬১.
ব্যাবিলনীয় সভ্যতার যুগে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন ঘটে -
  1. জ্যোতির্বিদ্যায়
  2. পঞ্জিকায়
  3. আইনশাস্ত্রে
  4. গণিতশাস্ত্রে
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:

- মেসোপটেমিয়ায় আগত এ্যমোরাইট জাতি ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এই এ্যমোরাইট জাতির বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরাবী পৃথিবীর প্রথম আইন প্রণেতা বলে বিবেচিত।
- তারকা মণ্ডল, সূর্য ও রাশিচক্র সম্বন্ধে যথেষ্ট উৎসাহী ছিল এবং এ সম্বন্ধে যুক্তি সংগত ধারণাও লাভ করেছিল।
- জ্যোতিষীগণ এক ধরণের জলঘড়ি ও সূর্যঘড়ির আবিষ্কার ও ব্যবহার আয়ত্ন করেছিল।
- বর্ষপঞ্জিকাকে বছর, মাস ও দিনে বিভক্ত করে ব্যবহার করার কৌশলও তারা আবিষ্কার করেন।
- শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে তারা অনেক উন্নতি করতে পেরেছিল।
- বিশেষ করে আইনশাস্ত্রে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা চরম উৎকর্ষতা লাভ করেছিল।

- ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় ধর্মের প্রভাব দেখা যায়। প্রথমত, তারা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক ছিল।
- তাদের প্রধান দেবতার নাম 'মারদুক' আর প্রধান দেবী 'ইশতার'। 
- খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে অ্যাসিরিয়ানদের পরাজিত করে সামন্তরাজা নেবুচাঁদনেজার ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে নতুন একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- নেবুচাঁদনেজার পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- 'ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬২.
'কোড অব হাম্মুরাবি' কোন সভ্যতার?
  1. ব্যাবিলনীয়
  2. অ্যাসিরীয়
  3. পারস্য
  4. গ্রিক
ব্যাখ্যা
কোড অব হাম্মুরাবি:
- নগররাষ্ট্র ব্যাবিলন ছিল মেসোপটেমিয়ার কেন্দ্রবিন্দু।
- ১৭৬০ খ্রিষ্টপূর্ব বেশ কয়টি ধারাবাহিক যুদ্ধের পর ব্যাবিলনের শক্তিমান রাজা হাম্মুরাবি অন্য সব বিপক্ষ নগররাষ্ট্রগুলো গুঁড়িয়ে দেন।
- রাজা হাম্মুরাবি ১৭৯২ থেকে ১৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ব্যাবিলন শাসন করেন। 

⇒ ২৮২টি আইনের সমন্বয়ে তৈরি, পাথরে খোদাই করা এই কোডটি ব্যাবিলনের রাজা হাম্মুরাবি প্রাচীন মেসোপটেমিয়া শাসনের জন্য তৈরি করেছিলেন।
- তাঁর আইনগুলো ‘কোড অব হাম্মুরাবি’ নামে পরিচিত।
- এটি সবচেয়ে পুরোনো লিখিত আইন।
- আইনগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী কাদামাটিতে লিখে আগুনে পুড়িয়ে সংরক্ষণ করা হতো।
- বিষয় অনুসারে আইনগুলো নানা শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। যেমন পারিবারিক বিষয়, বাণিজ্য, ধর্ম ও দাসপ্রথা।
- জনসাধারণ যদিও পড়তে জানত না, তবু আইনভঙ্গকারীদের দাঁত উপড়ে নেওয়া বা শূলে চড়ানোর মতো শাস্তি ভোগ করতে হতো।

উৎস: i) History.com
ii) প্রথম আলো।
৬৬৩.
মায়া সভ্যতার বিখ্যাত পিরামিড-মন্দির ‘এল কাস্তিলো’ কোন প্রাচীন নগরীতে অবস্থিত?
  1. চিচেন ইৎজা
  2. টিকাল
  3. পালেনকে
  4. কোপান
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- মায়া সভ্যতাকে বলা হয় রহস্যময় সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতার অবস্থান ছিল মধ্য আমেরিকায়। মেক্সিকো, বেলিজ, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর ও হন্ডুরাসের রেইনফরেস্টের মধ্যে এটি অবস্থিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ সালের প্রথম দিকে মায়ারা গ্রামে বসতি স্থাপন করেছিল।
- টিকাল, পালেনকে, কোপান ও চিচেন ইৎজা ছিল এই শহরগুলোর মধ্যে বিখ্যাত, যেগুলো বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
- প্রায় ৬০০ বছর ধরে মায়ার লোকেরা ঐশ্বর্যময় সভ্যতা নিয়ে টিকে ছিল।

উল্লেখ্য,
- মায়া সভ্যতার অন্যতম বিখ্যাত পিরামিড-মন্দির ‘এল কাস্তিলো’। এটি ‘কুকুলকান মন্দির’ নামেও পরিচিত।
- এটি মেক্সিকোর ইউকাটান উপদ্বীপের প্রাচীন শহর চিচেন ইৎজায় অবস্থিত। 
- এটি ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে নির্মিত একটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট এবং বিশ্বের নতুন সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- চিচেন ইৎজা ১৯৮৮ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্য স্থান হিসেবে স্বীকৃত এবং ২০০৭ সালে এটি বিশ্বের নতুন সাত আশ্চর্যের মধ্যে স্থান পায়। 

উৎস: i) Britannica.
ii) The Daily Star Bangla.

৬৬৪.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পক্ষ অবলম্বন করেনি কোন দেশ?
  1. ক) রাশিয়া
  2. খ) ইতালি
  3. গ) জাপান
  4. ঘ) জার্মানি
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ:

- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির পক্ষ অবলম্বন করেনি রাশিয়া বা তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।
- ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর জার্মানি পোল্যান্ড আক্রমণ করে। এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

- ৩ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ : ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যুদ্ধ ঘোষণা।
- ১৯১৮ সালের ভার্সাই চুক্তি অনুসারে পোল্যান্ডকে রক্ষার জন্য ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।
- ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ৩০ নভেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়ন ফিনল্যান্ড আক্রমণ করে।
- জার্মানির মিত্র জাপান হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মার্কিন নৌঘাঁটি পার্ল হারবারে বোমা নিক্ষেপ করে। এর প্রতিশোধে বিশ্বযুদ্ধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র।

- ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।

- অক্ষ শক্তির দেশগুলো হলো - জার্মানি, জাপান, ইতালি ইত্যাদি।
- মিত্রশক্তিতে ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন, চীন, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস প্রভৃতি দেশ।

তথ্যসূত্র - Britannica & History.com
৬৬৫.
'বায়তুল হিকমা' কী?
  1. প্রমোদ কেন্দ্র
  2. কারাগার
  3. আব্বাসীয় রাজপ্রাসাদ
  4. জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
বায়তুল হিকমা:
- বায়তুল হিকমা একটি জ্ঞানচর্চাকেন্দ্র।
- অষ্টম শতাব্দীতে নির্মিত।
- বর্তমান ইরাকের বাগদাদে বায়তুল-হিকমা প্রতিষ্ঠিত।
- একে হাউজ অব উইজডম বা জ্ঞানের ভান্ডার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
- অনুবাদকেন্দ্র হিসেবে যাত্রাপথ শুরু হলেও ক্রমেই তা গবেষণাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মানমন্দিরে পরিণত হয়েছিল।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল আব্বাসীয় শাসনামলে।
- গণিত, জ্যোতির্বিদ্যা, চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, প্রাণিবিদ্যা, ভূগোল ও মানচিত্র অঙ্কনবিদ্যা বেশি চর্চা হতো এখানে।
- ভারতীয়, গ্রিক ও পারস্যের অমূল্য গ্রন্থ সংগ্রহের ওপর জোর দেওয়া হতো।
- সংগ্রহের পর সেগুলো অধ্যয়ন ও আলোচনা চলত দিনের পর দিন।
- অনুবাদ করার কাজও চলত সমানতালে।

উৎস: Britannica.
৬৬৬.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সুমেরীয় সভ্যতা 
  2. গ্রীক সভ্যতা
  3. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  4. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

- মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয় গ্রীক সভ্যতা।

• মেসোপটেমীয় সভ্যতা :

- মেসোপটেমীয় সভ্যতাকে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ্রিক ভাষার শব্দ 'মেসোপটেমিয়া' অর্থ হলো "দুই নদীর মধ্যবর্তী দেশ"।

• ভৌগোলিক অবস্থান :
- বর্তমানে ইরাক, কুয়েত, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল নিয়ে এই সভ্যতা বিস্তৃত ছিল।
- এটি টাইগ্রিস (দজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফুরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর ভূমিতে গড়ে ওঠে।
- উৎপত্তি : আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ - ৩৫০০ অব্দের দিকে এই সভ্যতার সূচনা ঘটে। [সোর্স : ব্রিটানিকা]

• সভ্যতার ধাপসমূহ : মেসোপটেমীয় সভ্যতা চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত।
১. সুমেরীয় সভ্যতা (প্রাচীনতম)।
২. ব্যাবিলনীয়
৩. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
৪. ক্যালডীয় সভ্যতা

উৎস : এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৬৬৭.
মহেঞ্জোদারোতে পাওয়া গেছে কোনটি?
  1. ক) রত্নভাণ্ডার
  2. খ) গ্রন্থাগার
  3. গ) গোসলখানা
  4. ঘ) শস্যাগার
ব্যাখ্যা
সিন্ধুসভ্যতার এলাকায় যেসব শহর আবিষ্কৃত হয়েছে তারমধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সবচেয়ে বড় শহর৷ শহরগুলোর বাড়িঘরের নকশা দেখে সহজেই বোঝা যায় যে, সিন্ধুসভ্যতা যুগের অধিবাসীরা উন্নত নগরকেন্দ্রিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, কূপ ও স্নানাগার ছিলো। মহেঞ্জোদারোতে একটি বৃহৎ স্নানাগার এর নিদর্শন পাওয়া গেছে যার মাঝখানে বিশাল চৌবাচ্চাটি ছিলো সাতার কাটার উপযোগী।
উৎসঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি
৬৬৮.
হিব্রুরা কোন ধর্মের অনুসারী?
  1. খ্রিস্টান
  2. জৈন
  3. হিব্রু
  4. ইহুদী
ব্যাখ্যা
হিব্রুদের পরিচয়: 
- হিব্রু জাতি প্রাচীন মিসরীয় এবং মেসোপটেমীয় সভ্যতার পর প্রাচীন মানব সভ্যতায় অবদান রেখেছিল।
- হিব্রুরাই ইহুদী ধর্মের অনুসারী এবং ইসরাইলী জাতি হিসেবে সমধিক পরিচিত।
- ঐতিহাসিকদের মতে প্রাচীন ফোরাত নদীর (ইউফ্রেটিস নদী) অপর পাড় থেকে যে সব মানবগোষ্ঠী বিতাড়িত হয়ে প্যালেস্টাইনে বসতি স্থাপন করে-তারাই হিব্রু জনগোষ্ঠী।
- হিব্রু শব্দের অর্থ 'বিদেশী' (Alien)।
- তাই নৃতাত্ত্বিক অর্থে হিব্রুরা কোনো নির্দিষ্ট জাতি নয়।
- মিসরীয় ও ব্যাবিলনীয় উৎস থেকে আহরিত হয়েছিল হিব্রু সভ্যতার অনেক উপাদান।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৬৯.
কোন দূর্গ আক্রমণের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা হয়?
  1. ক) বুরবো প্যালেস
  2. খ) ভার্সাই দূর্গ
  3. গ) বাস্তিল দূর্গ
  4. ঘ) ফোর্ট লুইস
ব্যাখ্যা
- ১৭৮৯ সালে পৃথিবী বিখ্যাত ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের শত বছরের পুরনো রাজতন্ত্র ও সামন্তব্যবস্থা ভেঙে জনগণের অধিকার স্বীকৃত হয়।
- ১৪ জুলাই ১৭৮৯ সালে বাস্তিল দূর্গে আক্রমণের মাধ্যমে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা ঘটে। বাস্তিল দূর্গ ছিলো একটি রাজকীয় কারাগার।
- ফরাসি বিপ্লবের ফলে ফ্রান্সের তৎকালীন রাজা ষোড়শ লুই এর পতন ঘটে।
- ফরাসি বিপ্লবের শ্লোগান ছিলো স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব।
- নেপোলিয়ান বোনাপার্টকে ফরাসি বিপ্লবের শিশু বলা হয়।
(সূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৬৭০.
গ্রিক সংস্কৃতি কোন নামে বেশি পরিচিত?
  1. হেলেনীয় সংস্কৃতি
  2. রোমান সংস্কৃতি
  3. অটোমান সংস্কৃতি
  4. পার্সিয়ান সংস্কৃতি
ব্যাখ্যা

গ্রিক সভ্যতা:
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৭১.
চৈনিক সভ্যতা কোন নদীর তীরে গড়ে উঠেছিলো?
  1. ক) ব্রহ্মপুত্র
  2. খ) হোয়াংহো
  3. গ) ইরাবতী
  4. ঘ) আমুর
ব্যাখ্যা
- খ্রিস্টপূর্ব প্র্রায় ২০০০ বছর পূর্বে হোয়াংহো নদীর তীরে প্রথম চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠে।
- পরবর্তীতে ইযাংসিকিয়াং নদীর তীর এবং দক্ষিণ চীনেও চৈনিক সভ্যতা বিকাশ লাভ করে।
- চৈনিক সভ্যতা বিকাশে শাং এবং চৌ রাজবংশের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
- বিভিন্ন কারণে পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতার পতন ঘটলেও চৈনিক সভ্যতা এখনো তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রেখে বিরাজমান রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৬৭২.
প্রাচীন পারস্যের প্রধান ধর্মের নাম কী ছিল?
  1. বাহাই ধর্ম
  2. শিখ ধর্ম
  3. জরথুষ্ট্রবাদ
  4. জৈন ধর্ম
ব্যাখ্যা
প্রাচীন পারস্যের প্রধান ধর্মের নাম ছিল জরথুষ্ট্রবাদ।

পারস্য সভ্যতা:

- আজকের ইরান দেশটি প্রাচীনকালে পারস্য নামে পরিচিত ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫৫৯ অব্দ থেকে ৩০০ অব্দের মধ্যে এখানে পারস্য সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- সভ্যতার ইতিহাসে দুটি ক্ষেত্রে পারসীয়দের অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- প্রথমটি সুষ্ঠু ও দক্ষ প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং দ্বিতীয় ধর্মীয় ক্ষেত্রে একটি নতুন ধারণা নিয়ে আসা।
- সুন্দরভাবে সাম্রাজ্য পরিচালনা করার জন্য সম্রাট দারিয়ুস একটি দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন।
- সম্রাট দারিয়ুস চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নের জন্য কাজ করেন।
- জ্যোতির্বিদ্যার উন্নয়নেরও সম্রাটের দৃষ্টি ছিল।
- সম্রাট দারিয়ুস ১২ মাসে বছর ও ৩০ দিনে মাস গণনার রীতি চালু করে পারসীয় দিনপঞ্জি তৈরি করেন।
- পারসীয়গণ লিখার জন্য ৩৯টি কিউনিফর্ম চিহ্ন ব্যবহার করত।
- পারস্য স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হলো পিরামিডের আকৃতিতে তৈরি সম্রাট কাইরাসের সমাধি।

উল্লেখ্য,
- জরথুষ্ট্র নামক একজন ধার্মিক ও দার্শনিক পারসীয়দের নতুন ধর্মের সন্ধান দেন।
- তার প্রচারিত এ ধর্মকে বলা হয় জরথুষ্ট্রবাদ।
- জরথুষ্ট্রবাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হচ্ছে 'জেন্দআবেস্তা'।
- জরথুষ্ট্রবাদের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের মধ্যে প্রচলিত বহু দেবতা ও যাদুবিদ্যার অবসান এবং ধর্মে নৈতিকতা ও দার্শনিক আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৩.
ইনকা সভ্যতার স্থপতি কে ছিলেন?
  1. হুয়াইনা কাপাক
  2. মানকো কাপেন
  3. ফ্রান্সিসকো পিজারো
  4. তুপাক ইউপানকি
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

৬৭৪.
কোন্ যুদ্ধের মাধ্যমে সালাহ্উদ্দিন আইয়ুবী ক্রুসেডারদের থেকে জেরুজালেম উদ্ধার করেন?
  1. ক) কুরুন হামার যুদ্ধ
  2. খ) কায়রোর যুদ্ধ
  3. গ) হিত্তিনের যুদ্ধ
  4. ঘ) এডেসার যুদ্ধ
ব্যাখ্যা
- গাজী সালাহ্উদ্দিন আইয়ূবী ১১৩৮ সালে টাইগ্রীস নদীর তীরে তিকরিত নামক স্থানে এক কুর্দি পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। 
- ১১৭১ সালে সর্বশেষ ফাতিমি খলিফা আল-আদিদের মৃত্যু হলে তিনি আব্বাসীয়দের অনুকূলে আইয়ুবী বংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১১৭৫ সালে তিনি আব্বাসীয় খলিফা কর্তৃক বৈধ সুলতান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। 
- ক্রুসেডারদের বিরুদ্ধে কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য লাভ করে তিনি গাজী উপাধি লাভ করেন। 
- ১২৫০ সালে আইয়ুবী শাসনের অবসান হয়।
 
ক্রুসেডারদের সাথে সংঘর্ষ (১১৮৬-৯৩) :
 ১১৮৭ সালের ৪ জুলাই ফ্রাংকদের সাথে তাঁর হিত্তিনের যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং এতে জয়লাভ করে জেরুজালেম দখল করে নেন।
এর ফলে জার্মান সম্রাট ফ্রেডারিক বারবারোসা, ফ্রান্সের রাজা ফিলিপ অগাস্টাস ও ইংল্যান্ডের রাজা রিচার্ড তাঁর বিরুদ্ধে ৩য় ক্রুসেড আহ্বান করেন।
সম্মিলিত বাহিনী জেরুজালেম উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে ১১৯২ সালে তাঁর সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করে। 
১১৯৩ সালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
 
উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৭৫.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. ক) এডওয়ার্ড হিথ
  2. খ) ইয়ান জনসন
  3. গ) উইনস্টন চার্চিল
  4. ঘ) ডেভিড লয়েড
ব্যাখ্যা

- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তি ছিল সার্বিয়া, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, ইতালি এবং যুক্তরাষ্ট্র।
- এ সময় যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হেনরি আসকুইথ ও ডেভিড লয়েড জর্জ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন।

৬৭৬.
কত সালে সিন্ধুর মহেঞ্জোদারো শহরে খননকার্যের মাধ্যমে সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন উন্মোচিত হয়?
  1. ১৯২১ সালে
  2. ১৯২০ সালে
  3. ১৯১৯ সালে
  4. ১৯২২ সালে
ব্যাখ্যা
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন।
- আনুমানিক ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্ব থেকে ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বে সিন্ধু নদীর তীরে এই সভ্যতার সূচনা হয়।
- ১৯২১ সালে পাঞ্জাবের হরপ্পা ও ১৯২২ সালে সিন্ধুর মহেঞ্জোদারো শহরে খননকার্যের মাধ্যমে সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন উন্মোচিত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা ছিলো একটি উন্নত নগর সভ্যতা।

• সিন্ধু সভ্যতার পরিমাপ পদ্ধতি:
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
- তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত।
- তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত।
- দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি।
৬৭৭.
মধ্য এশিয়ার গ্রেট গেমের সময় কোন দেশটি ‘বাফার স্টেট’ হিসেবে কাজ করেছিল?
  1. ইরান
  2. চীন
  3. তুর্কমেনিস্তান
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

মধ্য এশিয়ার গ্রেট গেম (Great Game):
- মধ্য এশিয়ার 'গ্রেট গেম' হলো ১৯শ শতাব্দীর একটি বিখ্যাত ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা।
- এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্য এবং রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যে মধ্য এশিয়ায় আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা। 
- রাশিয়া যখন এশিয়ার দিকে প্রসারিত হচ্ছিল, তখন ব্রিটিশরা ভারত রক্ষায় আফগানিস্তান ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালায়। রাশিয়া চেয়েছিল মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে, আর ব্রিটেন চেয়েছিল রাশিয়াকে ভারতের সীমান্ত থেকে দূরে রাখতে।  
- এর মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল আফগানিস্তান, পারস্য (ইরান), তিব্বত এবং মধ্য এশিয়ার বুখারা ও খিভা অঞ্চল।
- ১৯০৭ সালের অ্যাংলো-রাশিয়ান কনভেনশন এর মাধ্যমে ইরান ও আফগানিস্তানে প্রভাবের ক্ষেত্র নির্ধারণের মাধ্যমে এই গেমের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। 

উল্লেখ্য,
- মধ্য এশিয়ার ‘গ্রেট গেম’ ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে আফগানিস্তান প্রধান ‘বাফার স্টেট’ বা মধ্যবর্তী নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করেছিল।
- ব্রিটিশ ভারত এবং রুশ সাম্রাজ্যের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ বা সংঘাত এড়াতে আফগানিস্তানকে একটি নিরপেক্ষ বাফার বা বাফার স্টেট হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

উৎস: Britannica.

৬৭৮.
ক্যালডীয় সভ্যতার প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. সাইরাস
  2. সারগন
  3. নবোপোলাসার
  4. হাম্মুরাবি
ব্যাখ্যা

ক্যালডীয় সভ্যতা (Chaldean Civilization):
- ক্যালডীয়রা ছিল একটি সেমিটিক জাতি যারা আসিরীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর ব্যবিলনে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
- একে 'নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য'ও বলা হয়।
- কালক্রম: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ থেকে ৫৩৯ অব্দ পর্যন্ত এই সভ্যতার স্থায়ীত্ব ছিল।
- প্রধান সম্রাট: নবোপোলাসার (প্রতিষ্ঠাতা) এবং তাঁর পুত্র সম্রাট নেবুচাদনেজার (শ্রেষ্ঠ শাসক)।
- কেন্দ্রবিন্দু: এই সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল পুনরায় সংস্কার করা জাঁকজমকপূর্ণ 'ব্যাবিলন' শহর।

• স্থাপত্যে :নেবুচাদনেজারের আমলে ব্যবিলন শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও সুন্দর শহরে পরিণত হয়। তিনি শহরের চারদিকে বিশাল প্রাচীর এবং নীল রঙের চকচকে ইটের তৈরি 'ইশতার গেট' নির্মাণ করেন।

• জ্যোতির্বিদ্যার উন্নতি: ক্যালডীয়রা আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত উন্নত ছিল।
- তারা সাত দিনে এক সপ্তাহ এবং ১২ মাসে এক বছরের হিসাব নিখুঁতভাবে করতে পারত।
- তারাই প্রথম সপ্তাহের সাত দিনের নামকরণ গ্রহ-নক্ষত্রের নামে করেছিল।

- ধর্ম: তারা বহু ঈশ্বরবাদী ছিল। তাদের প্রধান দেবতা ছিলেন 'মারদুক' (Marduk)। প্রতিটি বড় স্থাপত্য বা মন্দির তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হতো।

• পতন: খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যবিলন দখল করেন।
- এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যবিলনীয় ও ক্যালডীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৭৯.
পৃথিবীর ইতিহাসে কারা প্রথম সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে?
  1. ফিনিশীয়রা 
  2. হিব্রুরা 
  3. গ্রীকরা 
  4. ইজিয়ানরা
ব্যাখ্যা

ফিনিশীয় সভ্যতা:
- ভূমধ্যসাগর এবং লেবানন পর্বতের মাঝে ১২৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৫ কিলোমিটার প্রস্থ সম্বলিত একখণ্ড সরু উপকূল অঞ্চলে ফিনিশীয় নামের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রটি গড়ে উঠেছিল।
- ফিনিশীয় একটি সম্প্রদায়ের নাম। তাদের সামনে ছিল সাগর আর পিছনে ছিল পাহাড়। 
- কৃষিকাজ করার মতো কোন উর্বর ভূমি না থাকায় তাদের আয়ের একমাত্র উৎস ছিল বাণিজ্য।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দে তাদের উত্থান হয়েছিল।
- নানা ঘটনা প্রবাহের পর ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক বীর আলেকজান্ডার টায়ার নগরী দখল করে একে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন। আর তখনই ফিনিশীয় সভ্যতার পতন ঘটে।

⇒ প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে। তাদের মূল অবদানসমূহ জড়িয়ে আছে নৌ-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। তাদের ছিল অনেকগুলো সমুদ্র বন্দর। তাদের বিখ্যাত দুটি বন্দর হলো টায়ার ও সিডন। 
- ফিনিশীয় বণিকগণ জাহাজ নিয়ে ব্যবসার জন্য ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগড় পাড়ি দিত।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে ফিনিশীয়দের খ্যাতি ছিল প্রচুর।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।

⇒ ফিনিশীয়দের উন্নতির মূলে ছিল নৌ-বাণিজ্য। ফিনিশীয়গণ বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিল। তারা স্পেন থেকে সোনা, রুপা ও টিন এনে তা বিভিন্ন দেশে বিক্রি করত।
- ফিনিশীয়রা বাণিজ্যের পাশাপাশি কারিগরি ক্ষেত্রেও দক্ষতা অর্জন করেছিল। 
- গ্রিক কবি হোমারের লেখায় ফিনিশীয়দের তৈরি পোশাক ও সোনার অলংকারের কথা রয়েছে।
- হিব্রুদের গ্রন্থে রয়েছে ফিনিশীয়দের সোনা, রুপা, লোহা ও কাঠের দ্রব্যের কথা।
- এ্যাসিরীয়দের রাজপ্রাসাদের আসবাবপত্র তৈরি করে দিয়েছিল ফিনিশীয় কারিগররা।
- তারা জেরুজালেমে তৈরি করেছিল মন্দির।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮০.
কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয় কোন সভ্যতায়?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা: 
- রোমান স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর বিশালতা।
- সম্রাট হার্ডিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যানথিয়ন রোমানদের স্থাপত্যের এক অসাধারণ নিদর্শন।
- ৮০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট টিটাস কর্তৃক নির্মিত কলোসিয়াম নাট্যশালা নির্মিত হয়,
- যেখানে একসঙ্গে ৫৬০০ দর্শক বসতে পারত।
- স্থাপত্যকলার পাশাপাশি রোমান ভাস্কর্যেরও উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল।
- রোমান ভাস্করগণ দেব-দেবী, সম্রাট, দৈত্য, পুরাণের বিভিন্ন চরিত্রের মূর্তি তৈরি করতেন মার্বেল পাথরের।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা,  নবম- দশম শ্রেণি।
৬৮১.
’বর্ণ ও কাগজ’ আবিষ্কার করা হয় কোন সভ্যতায়?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. মিশরীয় সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. চৈনিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• মিশরীয় সভ্যতা:
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ -৩২০০ অব্দে নীল নদের অববাহিকায় গড়ে উঠে।
- মিশরীয়দের বলা হয় ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ নির্মাতা।
- মিশরীয়রা সর্বপ্রথম লিখন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
- ধর্মীয় চিন্তা, শিল্প, ভাস্কর্য, লিখন পদ্ধতি, কাগজের আবিষ্কার, জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চা-সবকিছুই তাদের অবদানে সমৃদ্ধ।
- মিশরীয়দের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, তাদের জীবন ধর্মীয় চিন্তা ও বিশ্বাস দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল বর্ণ এবং কাগজ আবিষ্কার। 
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখনপদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- মিশরীয়দের চিত্রলিপি নাম -হায়ারোগ্লিফিক।

উৎস : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি worldatlas.
৬৮২.
প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে কারা নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত? 
  1. রোমানরা 
  2. ফিনিশীয়রা 
  3. সুমেরীয়রা
  4. চৈনিকরা 
ব্যাখ্যা
• ফিনিশীয়দের অবদান:
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের পরিচয় শ্রেষ্ঠতম নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে।
- তাদের মূল অবদানসমূহ জড়িয়ে আছে নৌ-বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে।
- তাদের ছিল অনেকগুলো সমুদ্র বন্দর।
- তাদের বিখ্যাত দুটি বন্দর হলো - টায়ার ও সিডন। 

উল্লেখ্য, 
- লেবাননে ছিল সিডার গাছের বন। তাই গাছ কেটে নৌকা বানানো ছিল তাদের জন্য সহজ।
- ফিনিশীয় বণিকগণ জাহাজ নিয়ে ব্যবসার জন্য ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণসাগড় পাড়ি দিত।
- তারা সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চলে পোতাশ্রয়, বড় বড় জাহাজ ও বন্দর নির্মাণ করে।
- মূলত ফিনিশীয়রাই প্রথম পৃথিবীর ইতিহাসে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক সভ্যতা গড়ে তোলে।

উৎস: ইতিহাস ,নবম-দশম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৩.
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে কোন শক্তির হাতে?
  1. তুর্কি
  2. স্পেন
  3. পর্তুগিজ
  4. মঙ্গোল
ব্যাখ্যা

• বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য:
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৩৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বিতীয় রাজধানীর নামকরণ করা হয় কনস্টান্টিনোপল।
- পূর্ব রাজধানীকে কেন্দ্র করে রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল তথা পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া মাইনরসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল শাসিত হতো।

• বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন:
- পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইসলামী সভ্যতার উত্থান ও বিকাশের পটভূমিতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমা ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে পড়তে থাকে।
- আব্বাসীয় শাসনামল পর্যন্ত ইসলামী সাম্রাজ্য পশ্চিম ইউরোপের স্পেন, সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- ১২৫৮ সালে মোঙ্গল নেতা হালাকু খানের হাতে বাগদাদের পতন ঘটার পর ইসলামী সভ্যতার নেতৃত্ব গ্রহণ করে ওসমানীয় তুর্কিরা।
- চতুর্দশ শতাব্দী থেকে ওসমানীয় তুর্কিদের শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় তুর্কি খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদের হাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটে।
- পরবর্তী পর্যায়ে তুর্কি শক্তি সমগ্র গ্রিস অঞ্চলসহ পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।

তথ্যসূত্র: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬৮৪.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রশক্তির দেশ ছিল কোনটি?
  1. ক) হাঙ্গেরী
  2. খ) জার্মান
  3. গ) বেলজিয়াম
  4. ঘ) তুরস্ক
ব্যাখ্যা
• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ( ১৯১৪-১৯১৮):
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল ১৯১৪ সালের ২৮ জুন অস্ট্রিয়ার যুবরাজ আর্কডিউক ফার্ডিন্যাস্ড বসনিয়র রাজধানী সারায়েভোতে - আততায়ীর হাতে নিহত হবার ঘটনার মধ্য দিয়ে।
- যুদ্ধ শুরু হয়- ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়- ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধে কেন্দ্রীয় শক্তিজোট ছিল- জার্মান, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, হাঙ্গেরী, বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি জোট ছিল- রাশিয়া, ফ্রান্স, সার্বিয়া, বেলজিয়াম, জাপান, বৃটেন, যুক্তরাষ্ট্র।
- যুদ্ধের ফলাফল- মিত্র শক্তির বিজয়।
- চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী ঘটে।

তথ্যসূত্র: Britannica & History.com
৬৮৫.
মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল -
  1. নতুন প্রস্তর যুগে
  2. মধ্য প্রস্তর যুগে
  3. প্রাচীন প্রস্তর যুগে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
নতুন প্রস্তর যুগ:
- নতুন প্রস্তর যুগের সময় তৈরি পাথরের অস্ত্র অনেক বেশি উন্নত ছিল।
- এ যুগে মানুষ কৃষিকাজ শিখেছিল।
- কৃষি আর পশু পালন ছিল মানুষের প্রধান পেশা।
- এরই পাশাপাশি মাটির রকমারি বাসন-কোসন তৈরি করতে শিখে।
- নতুন পাথরের যুগের মানুষ কাপড় বুনতে পারতো।
- শিকারি জীবনের অবসান হওয়ায় এ যুগের মানুষ স্থায়ী বসতি স্থাপন করে।
- মানুষ স্থায়ী বসবাস গড়ার কারণেই ধীরে ধীরে গ্রামের বিকাশ ঘটলো।
- সিন্ধু নদীর উপত্যকা এবং বেলুচিস্তানে এই সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল।
- দক্ষিণ ভারতে পাওয়া যায় উন্নত ধরনের পাথরের কুঠার।
- এ যুগে মৃতদেহকে কবর দেয়া হতো। কবরের উপরে তৈরি করা হতো সমাধি।

তথ্যসূত্র- ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৬.
গ্রিক ও তার বাহিরের সংস্কৃতির সংমিশ্রণে কোন সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো?
  1. ক) পারসিক সভ্যতা
  2. খ) হেলেনিস্টিক সভ্যতা
  3. গ) হেলেনিক সভ্যতা
  4. ঘ) ওলমেক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- আলেকজান্ডার কর্তৃক উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়া দখলের পর গ্রিক সংস্কৃতি ও স্থানীয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণে যে ভিন্ন সভ্যতা বিকশিত হয় তা ‘হেলেনিস্টিক সভ্যতা’ নামে পরিচিত।
- এই সভ্যতার কেন্দ্রভূমি ছিলো প্রাচীন মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া। এজন্যে এই সভ্যতা অনেক ক্ষেত্রে ‘আলেকজান্দ্রিয়া সভ্যতা’ নামেও পরিচিত।
অন্যদিকে,
- হেলেনিক সভ্যতা বিকশিত হয় গ্রিসের মূল ভূখন্ডে।
- ওলমেক সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো মেসোআমেরিকা অঞ্চলে।
- পারসিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো বর্তমান ইরানে।
(তথ্যসূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৬৮৭.
টাইবার নদীর তীরে কোন সভ্যতা গড়ে ওঠে?
  1. ইজিয়ান
  2. গ্রিক
  3. রোমান
  4. ফিনিশীয়
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- ইউরোপ মহাদেশের দক্ষিণ ভাগে ইতালী অবস্থিত।
- ইতালীর একটি নদীর নাম হলো টাইবার।
- এই টাইবার নদীর দক্ষিণ তীরে প্রাচীন যুগে বিখ্যাত রোম নগরীর পত্তন ঘটে
- সাতটি পর্বতের মধ্যবর্তী সমতলভূমি নিয়ে রোম নগরী গঠিত হয়।
- ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা গোষ্ঠীর একদল মানুষ খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে উত্তর ইতালীতে বসবাস করত।
- এরা ল্যাটিন নামে পরিচিত ছিল।
- ক্রমে এদের ভাষা ল্যাটিন ভাষা নামে পরিচিতি লাভ করে।
- কিংবদন্তি আছে যে, ল্যাটিন রাজা রোমিউলাস একটি নগর পত্তন করে।
- তাঁর নামানুসারে নগরটির নামকরণ করেন রোম।
- রোমিউলাস এর পর ছয়জন রাজা রোমে পর পর রাজত্ব করনে।
- গ্রিসের উত্তর-পশ্চিমে প্রাচীন রোম নগরী ঘিরে উত্থান ঘটে এ সভ্যতার।
- ৮ম খ্রিস্টপূর্বাব্দের মাঝামাঝি থেকে ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রোমান সভ্যতা সগৌরবে টিকে ছিল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৮৮.
কোন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্থান পাঞ্জাবের অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে অবস্থিত?
  1. ক) হিন্দু
  2. খ) বৌদ্ধ
  3. গ) শিখ
  4. ঘ) জৈন
ব্যাখ্যা
▪ ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যে অবস্থিত অমৃতসর স্বর্ণমন্দির শিখ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উপাসনালয় বা গুরুদুয়ারা এবং পবিত্রতম স্থান।
▪ ১৬০৪ সালে শিখদের পঞ্চম গুরু অর্জন এটি প্রথম নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে মহারাজা রঞ্জিত সিং তার সময়ে এটি স্বর্ণোখোচিত করে পুনঃনির্মাণ করেন।
▪ ১৯৮৪ সালে ভারতীয় সেনাবাহিনী শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের উদ্দেশ্যে স্বর্ণমন্দিরে অপারেশন ব্লু স্টার পরিচালনা করে যার জের ধরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী শিখ দেহরক্ষীদের দ্বারা নিহত হন।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা। 
৬৮৯.
ফার্টাইল ক্রিসেন্টের বিস্তার-
  1. ইরাক , সিরিয়া ও লেবানন
  2. টাইগ্রিস-ইউফ্রেতিস নদী
  3. ফিলিস্তিন, জর্ডান, সিরিয়া
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা: 
- 'মেসোপটেমিয়া' এসেছে গ্রিক শব্দ মেসোস (Mesos) তথা 'মধ্যবর্তী' এবং পটামোস (Potamos) অর্থাৎ 'নদী' থেকে।
- 'মেসোপটেমিয়া' অর্থ 'দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি' দজলা ফোরাত কিংবা টাইগ্রিস-ইউফ্রেতিস যাই বলা হোক,
- মেসোপটেমিয়া সভ্যতার বিস্তার দুটি নদীর মাঝখানে অবস্থিত।
-  মানচিত্রের মাঝে এই উর্বর ভূমিরূপকে দেখাতো অনেকটাই অর্ধচন্দ্র তথা বাঁকানো চাঁদের মতো।
- তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে 'ফার্টাইল ক্রিসেন্ট'।
- মূলত ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন আর জর্দান মিলেই এই ফার্টাইল ক্রিসেন্টের বিস্তার।
- অনেকে কুয়েতের উত্তরাংশ এবং তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাশাপাশি ইরানের পশ্চিম দিকের একাংশকে এই উর্বর অর্ধচন্দ্রাকৃতির ভূমিরূপ তথা ফার্টাইল ক্রিসেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৯০.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলাে-
  1. ক) সুশাসন
  2. খ) রাষ্ট্র
  3. গ) নৈতিকতা
  4. ঘ) সমাজ
ব্যাখ্যা

সভ্যতা (Civilization)
সাধারণ অর্থে সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা।

এ প্রসঙ্গে ম্যাকাইভার এবং পেজ এর মন্তব্য প্রণিধানযোগ্য। তারা বলেন, আমরা যা তা হলো সংস্কৃতি এবং আমরা যা ব্যবহার করি তা হলো সভ্যতা।

জেরি এবং জেরি বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন, নীতি-নৈতিকতার সমন্বিত রূপ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এবং বৃহত্তর সমাজ যার মধ্যে নির্দিষ্ট।”

স্কট বলেন, “সভ্যতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।”

বটোমোর বলেন, “সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয়”।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধারা তথা সংস্কৃতির উন্নত ধরন। সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমষ্টিকে বোঝায়।
সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির অধিকতর অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রবাহিত হয়।

সুত্রঃ সমাজবিজ্ঞান প্রথম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি। সমাজের বিশ্লেষণ করেই সভ্যতার সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যায়।

৬৯১.
পৃথিবীকে প্রথম অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেন কারা?
  1. অ্যাশেরীয়রা
  2. সুমেরীয়রা
  3. ক্যালডীয়রা
  4. ফিনিশীয়রা
ব্যাখ্যা
অ্যাশেরীয় সভ্যতার অবদান:
- তারা সর্বপ্রথম পৃথিবীকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করেন।

- অ্যাশেরীয়রা বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রী কোণে ভাগ করে।

অন্যদিকে,
- সুমেরীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান চাকা আবিষ্কার। 
- সপ্তাহকে সাত দিনে বিভক্ত করে ক্যালডীয়রা।
- ফিনিশীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান বর্ণমালার উদ্ভাবন ও লিখন পদ্ধতির আবিষ্কার। তারা মিশর ও ব্যাবিলনের বর্ণমালা থেকে ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের সমন্বয়ে সহজ লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে।

 উৎস: ব্রিটানিকা এবং হিস্টরি.কম।
৬৯২.
কনস্টান্টিনোপল-এর পতন কবে হয়েছিল?
  1. ১৪৩৩ সালে
  2. ১৪১৭ সালে
  3. ১৪৪৮ সালে
  4. ১৪৫৩ সালে
ব্যাখ্যা
কনস্টান্টিনোপল-এর পতন হয়েছিল ১৪৫৩ সালে।

বাইজান্টাইন সাম্রাজ্য:

- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন।
- ৩৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দ্বিতীয় রাজধানীর নামকরণ করা হয় কনস্টান্টিনোপল।
- পূর্ব রাজধানীকে কেন্দ্র করে রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চল তথা পূর্ব ইউরোপ, পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া মাইনরসহ পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল শাসিত হতো

বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের পতন:
- পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে ইসলামী সভ্যতার উত্থান ও বিকাশের পটভূমিতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের সীমা ষষ্ঠ শতাব্দী থেকে ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে পড়তে থাকে।
- আব্বাসীয় শাসনামল পর্যন্ত ইসলামী সাম্রাজ্য পশ্চিম ইউরোপের স্পেন, সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
- ১২৫৮ সালে মোঙ্গল নেতা হালাকু খানের হাতে বাগদাদের পতন ঘটার পর ইসলামী সভ্যতার নেতৃত্ব গ্রহণ করে ওসমানীয় তুর্কিরা।
- চতুর্দশ শতাব্দী থেকে ওসমানীয় তুর্কিদের শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়।
- ১৪৫৩ সালে ওসমানীয় খলিফা দ্বিতীয় মোহাম্মদের হাতে বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলের পতন ঘটে।
- পরবর্তী পর্যায়ে তুর্কি শক্তি সমগ্র গ্রিস অঞ্চলসহ পূর্ব ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
- ১৪৫৩ সাল ইউরোপ তথা পৃথিবীর ইতিহাসে একটি মাইল ফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

উৎস: আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬৯৩.
'Orientalism' শব্দটির অর্থ-
  1. ক) প্রাচীন
  2. খ) প্রাচ্যবাদ
  3. গ) পুঁজিবাদ
  4. ঘ) সাম্যবাদ
ব্যাখ্যা
Orientalist শব্দটির অর্থ প্রাচ্যবাদ। মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব এশিয়ার সংস্কৃতি বােঝাতে পশ্চিমারা শব্দটি ব্যবহার করে থাকে। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
৬৯৪.
'Black Lives Matter' কী ধরনের আন্দোলন?
  1. ক) বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলন
  2. খ) সরকার পতন বিরোধী আন্দোলন
  3. গ) মানবাধিকার বিষয়ক আন্দোলন
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• আন্দোলন:
- 'Black Lives Matter' একটি বর্ণবাদ বিরোধী অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন
- সামাজিক মাধ্যমে ২০১৩ সালে এর যাত্রা শুরু হয়।
- আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি শ্বেতাঙ্গদের সহিংস আচরণের প্রতিবাদ থেকেই আফ্রো-আমেরিকান সম্প্রদায়ের মাঝে এর উৎপত্তি ঘটে।

উৎস: বিবিসি নিউজ।
৬৯৫.
১৭২৫ সালে ইউরােপের কোন শহরে বিশ্বের প্রাচীনতম রেস্তোরা চালু হয়েছিল?
  1. প্যারিস
  2. সালজবার্গ
  3. মাদ্রিদ
  4. কিয়েটো
ব্যাখ্যা
বিশ্বের প্রাচীনতম রেস্তোরা:
- বিশ্বের প্রাচীনতম রেস্তোরা স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ শহরে অবস্থিত।
- রেস্তোরাটির নাম সোব্রিনো দে বোতিন।
- গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুক অনুসারে, এটিই বিশ্বের প্রাচীনতম রেস্তোরাঁ।
- প্রাচীন রেস্তোরাঁটির পুরনো সব মেন্যু এখনও চালু রয়েছে।
- স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের বিখ্যাত প্লাসা মাইয়র স্কয়ার প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো।
- চারদিকে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও সুভেনিরের দোকান।

উল্লেখ্য,
- ফরাসি জিন বোতিন ও তার স্ত্রী ১৭২৫ সালে এ রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠা করেন।
- প্রথমে এটি ছিল সরাইখানা।
- যার নাম ছিল ‘কাসা বোতিন’।
- কিছুদিন পর তার ভাইপো রেস্তোরাঁর মালিক হন।
- নাম দেন ‘সোব্রিনো দে বোতিন’।

উৎস: Restaurante Botín ওয়েবসাইট।
৬৯৬.
প্রাচীন মিশরীয় সম্রাট বা রাজাদের উপাধি ছিল -
  1. ফারাও
  2. ইখনাটন
  3. জার
  4. নারমার
ব্যাখ্যা
ফারাও:
- প্রাচীন মিশরের সম্রাটদের 'ফারাও' বলা হতো।
- ফারাও শব্দের অর্থ বড় বাড়ি।
- বিশাল প্রাসাদে বসবাসকারী ফারাওদের মনে করা হতো ঈশ্বরের সন্তান।
- তাঁরা একই সঙ্গে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- মিশরের 'ফারাও' বা সম্রাটের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মেনেস, প্রথমত আহমোজ, রাজা তুথমোস, সম্রাট ইখনাটন এবং প্রথম ও দ্বিতীয় র‍্যামেসিস।
- পরাক্রমশালী তৃতীয় র‍্যামেসিসের মৃত্যুর পর ফারাওদের শাসন দুর্বল হয়ে পড়ে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬৯৭.
The ancient city of Troy was located in -
  1. Italy
  2. Turkey
  3. Greece
  4. Egypt
  5. Spain
ব্যাখ্যা
ট্রয় নগরী:
- ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর বর্ণনা পাওয়া যায় হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াড -এ।
- ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের হেসারলিক বা আনাতোলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত
- ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ শতকে এবং শেষ খ্রিষ্টপূর্ব ১২৪০ শতকে।
- দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলেছিল যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধ ট্রোজান যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়েছিল, সেই সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী নারী স্পার্টার রানি ও ট্রয় রাজপুত্র প্যারিসের প্রেমিকা হেলেনের জন্য।
- ১৯৯৮ সালে ইউনেসকোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যুক্ত হয় ট্রয়।

উল্লেখ্য,
- ইলিয়াড এবং ওডিসির কারনে এই রোমান্টিক ট্রয়ের ট্র্যাজেডি অমর হয়ে আছে।
- এই ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর রাজা ছিলেন প্রিয়াম এবং রাণীর নাম ছিলেন হেকবা।
- তাদের আদরের পুত্রের নাম ছিল প্যারিস।
- এই প্যারিসই ছিল মূলত ট্রয় যুদ্ধের পেছনে মূল হোতা।
- সেই সময় পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরী রমণী ছিল হেলেন।
- হেলেন ছিলেন স্পার্টার রাজা মেনেলাউস এর স্ত্রী।
- প্যারিস স্পার্টা থেকে হেলেনকে নিয়ে ট্রয়ে পালিয়ে যায়।
- এতে ক্রোধান্বিত হয়ে মেনেলাউস তার ভাই আগামেমনন এর সহায়তায় ট্রয় আক্রমণ করে।
- গ্রিক ও ট্রোজানদের মধ্যে দীর্ঘ দশ বছর ধরে যুদ্ধ হয়।
- পরবর্তীতে গ্রিকদের দ্বারা ট্রয় নগরী ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

উৎস: Britannica.
৬৯৮.
US Bill of Rights - এর প্রস্তাবক কে?  
  1. থমাস জেফারসন
  2. আব্রাহাম লিংকন
  3. জেমস ম্যাডিসন
  4. জর্জ ওয়াশিংটন
ব্যাখ্যা

- US Bill of Rights - এর প্রস্তাবক: জেমস ম্যাডিসন। 

• United States Bill of Rights:

- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম ১০ টি সংশোধনীকে 'Bill of Rights' বা অধিকারের বিল বলে অভিহিত করা হয়।
- ১৭৮৭ সালে প্রণীত সংবিধানের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে জেমস ম্যাডিসন প্রস্তাবিত প্রথম ১০টি সংশোধনীই 'Bill of Rights' নামে পরিচিত।
- এই সংশোধনীগুলি ১৭৯১ সালের ১৫ ডিসেম্বর কার্যকর হয় ।
- এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য গৃহীত হয়েছিল এবং আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনের পর সংবিধানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

⇒ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর ১৭৮৭ সালে ফিলাডেলফিয়ায় একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- সেই সম্মেলনে মার্কিন সংবিধান রচিত হয়।
- কিন্তু এই সংবিধানে নাগরিকদের অধিকারগুলোর কোন নির্দিষ্ট উল্লেখ ছিল না।
- মার্কিন রাজনৈতিক নেতা জেমস মেডিসন ১৭৮৯ সালে মার্কিন কংগ্রেসে ১২টি সংশোধনী প্রস্তাব করেন, যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ করতে চেয়েছিল।
- তিনি পরবর্তীতে একে 'বিল অব রাইটস' নামে পরিচিত করেন।
- ম্যাডিসনের প্রস্তাবিত কিছু সংশোধনী সরাসরি অনুমোদিত হয়েছিল, এবং কিছু সংশোধনী পরিবর্তন ও সংযোজন করা হয়।
- সর্বশেষ, ১৭৯১ সালে ১০টি সংশোধনী মার্কিন সংবিধানে সংযুক্ত করা হয় এবং এগুলি বিল অব রাইটস হিসেবে পরিচিত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৬৯৯.
হুনাইন ও তাবুকের অভিযান কোন সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়?
  1. ক) রোমান সাম্রাজ্য
  2. খ) পারস্য সাম্রাজ্য
  3. গ) গ্রিক সাম্রাজ্য
  4. ঘ) চৈনিক সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
হুনাইন ও তাবুকের অভিযান:
- মহানবী (সা.) এর জীবদ্দশায় বড় দুটি গাযওয়াহ হলো মুতার যুদ্ধ ও তাবুক অভিযান। 
- অভিযান দুটিই ছিল মক্কা থেকে অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী অঞ্চল সিরিয়ার 'রোমান শাসকদের' বিরুদ্ধে।
- এর মাধ্যমে আরবের সীমারেখার বাইরে গিয়ে ইসলামের শত্রুদের মোকাবেলা করার প্রেরণা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়েই অনুমোদিত হয়। 
- একদিকে তাবুক অভিযানে কৌশল অবলম্বন করে শত্রুকে ভয়-ভীতির মধ্যে রাখা হয়েছিল। 
- অন্যদিকে মুতার যুদ্ধে একাধিক মুসলিম সেনাপতির শাহাদাত বরনের ঘটনার মধ্যদিয়ে মুসলিম সেনাবাহিনী যে কোন যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবেলার প্রশিক্ষণ লাভ করে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০০.
মেসোপটেমিয়া সভ্যতার সাথে কোন নদীটি জড়িত? 
  1. নীলনদ
  2. ইউফ্রেটিস
  3. ভলগা
  4. দানিয়ুব
ব্যাখ্যা
• মেসোপটেমীয় সভ্যতা: 
- ‘মেসোপটেমীয়া’ একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ - দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা ও ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উপত্যকাটির নাম - মেসোপটেমিয়া। গ্রীক লেখকগণ মূলত এর নামকরণ করেন।
- মেসোপটেমিয়া দুই ভাগে বিভক্ত ছিলো - উত্তর ও দক্ষিণ। উত্তর অংশের বর্তমান নাম - অ্যাসেরীয় ও দক্ষিণ অংশের নাম - মেসোপটেমিয়া।
- তবে এটি একটি অভিন্ন এলাকা হিসাবেই পরিচিত ছিলো। এই অঞ্চলটিতেই খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিলো।
বর্তমান ভৌগোলিক অবস্থান - বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়ার বেশিরভাগ অঞ্চল অবস্থিত।
- এছাড়াও সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান ও কুয়েতে - এই সভ্যতার কিছু অংশ রয়েছে। মেসোপটেমিয়ার লোকজন বহু-ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলো।

উৎস: হিস্টোরি.কম ও ব্রিটানিকা।