বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা৮১প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা ১২ / ১২ · ১,১০১১,১৮১ / ১,১৮৫

১,১০১.
সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় কোথায়?
  1. আগ্রাতে
  2. বিহারে
  3. পাঞ্জাবে
  4. হরিয়ানাতে
ব্যাখ্যা

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা হলেও এর বিস্তৃতি ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১০২.
কার রাজত্বকালে ইবনে বতুতা ভারতে এসেছিলেন?
  1. মুহম্মদ বিন তুঘলক
  2. সম্রাট আকবর
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

ইবনে বতুতা:
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- ইবনে বতুতা ১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে একুশ বছর বয়সে বিশ্ব সফরে বের হন।
- এবং আট বছরের মধ্যে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা, আরব, পারস্য, ভূমধ্যসাগরের পূর্ব তীরবর্তী অঞ্চল ও কনস্টান্টিনোপল পরিভ্রমণ করেন।
- ১৩৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি দিল্লিতে পৌঁছেন।
- ইবনে বতুতা ভারতে আসেন মুহম্মদ বিন তুঘলক শাসনামালে।
- সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক তাঁকে দিল্লির কাজী নিযুক্ত করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,১০৩.
মিশরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়েছিল কার নেতৃত্বে?
  1. তুতেনখামেন
  2. মেনেস
  3. হামুরাবি
  4. রামেসেস-২
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা: 
- মিশরীয় সভ্যতা ২৫০০ বছরেরও বেশি সময়ব্যাপী স্থায়ী হয়েছিল।
- প্রাচীন মিশরের নিরবচ্ছিন্ন ও দীর্ঘ ইতিহাসের সূচনা হয় ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে।
- বিশেষ করে নবোপলীয় যুগে।
- মিশরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন হয় মেনেসের নেতৃত্বে।
- যা প্রায় তিন হাজার বছর ধরে স্বমহিমায় উজ্জ্বল ছিল।
- খ্রিষ্টপূর্ব দশম শতকে লিবিয়ার এক যোদ্ধা জাতি ফারাওদের সিংহাসন দখল করে নেয়।
- ৬৭০-৬৬২ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে অ্যাসিরীয়রা মিশরে আধিপত্য বিস্তার করে।
- ৫২৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে পারস্য মিশর দখল করে নিলে প্রাচীন মিশরের সভ্যতার সূর্য অস্তমিত হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১০৪.
পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন কারা?
  1. গ্রিকরা
  2. মেসোপটেমীয়রা 
  3. মিশরীয়রা 
  4. সিন্ধুরা
ব্যাখ্যা

গ্রিক সভ্যতা: 
- ইউরোপ মহাদেশের গ্রিক রাষ্ট্রের অন্তর্গত প্রাচীন কয়েকটি শহরকে কেন্দ্র করে গ্রিক সভ্যতার উদ্ভব ঘটে। 
- বলকান উপকূলের দক্ষিণাংশে অবস্থিত গ্রিক প্রায় পাঁচ হাজার বর্গমাইল ব্যাপী বিস্তৃত। 
- ভূ-প্রকৃতি দেশটিকে তিন ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে।
- যথা: দক্ষিণ গ্রিস, মধ্য গ্রিস ও উত্তর গ্রিস। 
- মেসিডোনিয়ান অধিপতি আলেকজাণ্ডারের শাসনামলে এ সভ্যতার সীমা ছাড়িয়ে আধুনিক মিসর, ইসরাইল, প্যালেষ্টাইন, লেবানন, সিরিয়া, ইরাক ও ইরান হয়ে ভারতবর্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছিল। 
- আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর, ইজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত থাকার কারণে গ্রিক সভ্যতাকে 'ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়। 

উল্লখ্য,
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞানচর্চার সূত্রপাত করে।
- ৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন গ্রিক বিজ্ঞানীরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই এবং বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয়, প্রাকৃতিক কারণে ঘটে- এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।

উৎস: i) Britannica.
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১০৫.
ইনকা সভ্যতার নিদর্শন মাচুপিচু আবিষ্কার করেন কে?
  1. জেমস ব্রুস
  2. হেনরি রলিনসন
  3. আলবার্ট শ্লায়মান
  4. হিরাম বিংহ্যাম
ব্যাখ্যা
ইনকা সভ্যতা: 
- পেরুর সুউচ্চ সবুজ পাহাড় থেকে নেমে এসেছে উরুবামবা নদী।
- এই পাহাড়ি এলাকাতেই প্রাচীন ইনকাদের শহর।
- ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত লাতিন আমেরিকায় ইনকাদের হারানো শহর মাচুপিচু।
- ১৯১১ সালে মার্কিন ঐতিহাসিক হিরাম বিংহ্যাম এই সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কার করেন।
- তিনি শুরুতে মাচুপিচুকে ভিলকা বাম্বা বলে মনে করেন।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উপরে অবস্থিত ইনকা শহর মাচুপিচুর নির্মাণ শেষ হয় ১৪৫০ সালে।
- ধারণা করা হয় ইনকা সম্রাট পাচাকুটির নির্দেশে হয়েছিল এই নির্মাণ।
- কেউ কেউ দাবি করেন- ইউরোপীয়দের আগ্রাসনের সময় মহামারির কবলে পড়েছিল মাচুপিচু।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা,  নবম- দশম শ্রেণি।
১,১০৬.
বিশ্ব সভ্যতায় হিব্রুদের সর্বাধিক অবদান কোন ক্ষেত্রে?
  1. ক) কৃষি
  2. খ) ধর্ম
  3. গ) বর্ণমালায়
  4. ঘ) স্থাপত্য
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতা (Hebrew Civilization)
• আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে হিব্রু সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল প্যালেস্টাইনের জেরুজালেম নগরীকে কেন্দ্র করে।
• হিব্রু মূলত একটি ভাষার (সেমাটিক) নাম। তবে হিব্রু অর্থ ‘নিচ বংশের লোক’ বা ‘যাযাবর’। এই হিব্রু লোকজন তাবুতে বসবাস করতো এবং তাদের প্রধান পেশা ছিল পশুপালন।
• বর্তমান ইসরাইলের অধিবাসীরা হচ্ছে এই হিব্রুদের বংশধর। জেরিকো শহরটি ইসরায়েলে অবস্থিত। এখানে প্রথম নগর সভ্যতার সূচনা হয়েছিল।
বিশ্ব সভ্যতায় হিব্রুদের সর্বাধিক অবদান হলো ধর্মের ক্ষেত্রে
• হিব্রুরাই প্রথম একেশ্বরবাদী ধর্মের সূত্রপাত করে।
• পরবর্তীতে খ্রিস্ট ও ইসলাম ধর্ম এই একেশ্বরবাদী ধর্ম গোটা পৃথিবীতে প্রচার করে।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা এবং হিস্টরি ডট কম।
১,১০৭.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে কোন সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল?
  1. ব্রিটিশ সাম্রাজ্য
  2. ফরাসি সাম্রাজ্য
  3. অটোমান সাম্রাজ্য
  4. আমেরিকান সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: 
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের একটি।
- এ যুদ্ধের ফলে পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত থাকা দেশগুলোর রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আসে।
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- কেন্দ্রীয়শক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৯ সালে ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ যুদ্ধের সূচনা:
- ১৯১৪ সালে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের হবু সম্রাট ডিউক ফার্দিনান্দ সিংহাসনে আরোহণের কিছুদিন আগে সারায়েভো শহরে স্ত্রীসহ সার্বিয়ান বিচ্ছিন্নতাবাদী আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
- অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি সার্বিয়ার ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয় এবং ওই বছরের ২৮ জুলাই যুদ্ধ ঘোষণা করে। এ যুদ্ধে দুই দেশের বন্ধু রাষ্ট্রগুলো ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ে। এতে যোগ দেয় সে সময়ের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রায় সব দেশ। এভাবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা হয়।

⇒ যুদ্ধের ফলাফল: কেন্দ্রীয় শক্তির পতন ও মিত্র শক্তির বিজয়।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলে ৪টি সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল। এগুলো হলো: রুশ, জার্মান, অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় ও অটোমান।
- ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের ফলে জারতন্ত্রের পতন ঘটে।
- যুদ্ধের শেষে জার্মানি পরাজিত হলে এই সাম্রাজ্যেরও অবসান ঘটে।
- অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য ভেঙে একাধিক ছোট ছোট রাষ্ট্রে পরিণত হয়।
- ১৯২২ সাল নাগাদ অটোমান সাম্রাজ্য সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায় যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসের জন্ম দেয়। 

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

১,১০৮.
জাপানের পার্লামেন্টের নাম কি?
  1. ক) ডুমা
  2. খ) ডায়েট
  3. গ) স্টার্লিং
  4. ঘ) নেসেট
ব্যাখ্যা
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাপানের আইনসভার নাম 'ডায়েট'। এর নিম্নকক্ষের নাম হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিস এবং উচ্চকক্ষের নাম হাউজ অব কাউন্সিলর্স। উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিয়া।
১,১০৯.
গ্রিক পুরাণের যুদ্ধের দেবী ছিলেন -
  1. এথেনা
  2. অ্যারেস
  3. আফ্রোদিতি
  4. ডিমিটার
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- গ্রিকদের ১২ টি দেবদেবী ছিল।
- গ্রিকদের বিশ্বাস ছিলো দেবদেবীরা বাস করতেন অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায়।
- জিউস ছিলো দেবতাদের রাজা।
- আর্টেমিস ছিলেন শিকারের বহর-পাওয়ালা দেবী।
- আফ্রোদিতি ছিলেন প্রেম, যৌনতা এবং সৌন্দর্যের দেবী।
- অলিম্পাসের রাণী দেবী হেরা ছিলেন জিউসের বোন এবং স্ত্রী।
- অ্যারেস ছিলেন রক্তপানের দেবতা।
- এথেনা ছিলেন যুক্তি, প্রজ্ঞা এবং যুদ্ধের দেবী।
- আর্টেমিসের যমজ ভাই অ্যাপোলো ছিলেন দেবতাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
- ডিমিটার একজন কৃষি দেবী।
- ডায়োনিসাস ছিলেন জিউসের এক পুত্র যার জন্ম একজন নশ্বর মা।
- গ্রীক প্যান্থিয়নের অনেক দেবতার মতো, হার্মিস একাধিক গোলকের সভাপতিত্ব করেছিলেন।
- পসেইডন গ্রীক সমুদ্র দেবতা হিসাবে সর্বাধিক পরিচিত, তবে তিনি ঘোড়া এবং ভূমিকম্পেরও দেবতা ছিলেন।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
১,১১০.
নিচের কোন দেশটি দূরপ্রাচ্যের অন্তর্গত?
  1. ক) আলজেরিয়া
  2. খ) মঙ্গোলিয়া
  3. গ) রোমানিয়া
  4. ঘ) লাওস
ব্যাখ্যা
 • দূরপ্রাচ্য:
 - ভৌগোলিকভাবে রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল, পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে অবস্থিত দেশসমূহ দূরপ্রাচ্য হিসেবে অভিহিত।
- দূরপ্রাচ্যের দেশ ছয়টি। যথা -
- চীন,
- জাপান,
- উত্তর কোরিয়া,
- দক্ষিণ কোরিয়া,
- মঙ্গোলিয়া,
- তাইওয়ান।

অন্যদিকে,
- সিরিয়া : নিকটপ্রাচ্যের অন্তর্গত
- রোমানিয়া : পূর্ব ইউরোপের অন্তর্গত
- আলজেরিয়া : উত্তর আফ্রিকার দেশ।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস
১,১১১.
উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী কোথায় স্থাপিত হয়?
  1. কুফা
  2. দামেস্ক
  3. বসরা
  4. ইস্তাম্বুল
ব্যাখ্যা
উমাইয়া খিলাফত:

- উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা মুয়াবিয়া (রা.) ইসলামের ইতিহাসে একজন দক্ষ ও দূরদর্শী নৃপতি হিসেবে পরিচিত।
- তিনিই প্রথম ইসলামে রাজতন্ত্রের সূত্রপাত ঘটান এবং মনোনয়ন ভিত্তিক উত্তরাধিকারী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেন।
- তিনি অপর পক্ষে মুসলিম সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করেন।
- উমাইয়া খিলাফতের রাজধানী দামেস্কে স্থাপিত হয়।
- তাঁর সময়ে সমগ্র উত্তর আফ্রিকা মুসলিমদের পদানত হয়।
- তিনি প্রশাসন ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার সাধন করেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসন বিভাগ দিওয়ান আল বারিদ, দিওয়ান আল খাতাম ইত্যাদি বিভাগ চালু করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম নৌ-বাহিনীর রূপকার।

তথ্যসূত্র - ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১২.
রোমীয় যুগে সাহিত্যের প্রধান উপাদান ছিল কোনটি?
  1. ক) ইতিহাস
  2. খ) মানবপ্রেম
  3. গ) ধর্মকেন্দ্রিকতা
  4. ঘ) দেশপ্রেম
ব্যাখ্যা
ইতিহাস:
- সাহিত্যকর্মের সঙ্গে ইতিহাস চর্চাও রোমে সমৃদ্ধি অর্জন করে।
- সে যুগে ইতিহাস দর্শন ও সাহিত্য চর্চার মধ্যে তেমন প্রভেদ ছিল না।
- সাহিত্যের প্রধান উপাদানই ছিল ইতিহাস
- রোমের বিখ্যাত ঐতিহাসিক ছিলেন টিটাস লিভি, ট্যাসিটাস এবং প্লুটার্ক। 
- এ সকল রোমান ঐতিহাসিকরা লিভিকে পম্পিয়ান হিসেবে অভিহিত করেন।
- লিভির বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ The History of Rome from the Foundation of the City, ট্যাসিটাস-এর বিখ্যাত গ্রন্থ 'Annals' এবং 'Histories' আর প্লুটার্ক এর বিখ্যাত ইতিহাস গ্রন্থ 'The Parallel Lives' অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য ছিল।
- এ সব গ্রন্থে লেখকরা তৎকালীন রোমান সংস্কৃতি, রাজনৈতিক বিশৃংখলা, সামাজিক মূল্যবোধ সম্বন্ধে বিবরণ দেন।
- রোমের ইতিহাস, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রধান উৎস হচ্ছে লিভির রচিত রোমের ইতিহাস। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৩.
মায়া সভ্যতার ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার কী নামে পরিচিত?
  1. ওয়ায়েব
  2. জুলিয়ান ক্যালেন্ডার
  3. লং কাউন্ট
  4. হাব
ব্যাখ্যা

মায়া সভ্যতা:
- তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা ছিল এ মায়া সভ্যতা।
- মায়া সভ্যতায় বসবাসকারীদের মায়ানও বলা হতো।
- মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার কয়েকটি দেশ যেমন গুয়েতমালা, বেলিজ, এল সালভাদের, হন্ডরাস প্রভৃতি দেশে মায়া সভ্যতা লোকজনের বসবাস ছিল।
- তারা আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০ অব্দ থেকে এসকল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- মায়া সভ্যতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল মেক্সিকোর অন্যতম প্রদেশ ইয়াকাতানে অবস্থিত চেচেন ইৎজা (Chichen Itza) শহর।
- মায়া সভ্যতাকে দুটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. প্রাচীন মায়া সভ্যতা (খ্রিস্টপূর্ব ১৮০০-২৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত) এবং
২. ক্ল্যাসিক মায়া সভ্যতা (২৫০-৯০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত)।

⇒ মায়ারা দুটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল:
• হাব (Haab): ৩৬৫ দিনের সৌর ক্যালেন্ডার।
• টজলকিন (Tzolk’in): ২৬০ দিনের ধর্মীয় ক্যালেন্ডার।

তথ্যসূত্র - Britannica & history.com

১,১১৪.
প্রাচীন নগর রাষ্ট্র প্রথম গড়ে উঠেছিল কোথায়?
  1. চৈনিক সভ্যতায়
  2. গ্রীক সভ্যতায়
  3. রোম সভ্যতায়
  4. হিব্রু সভ্যতায়
ব্যাখ্যা
গ্রীক সভ্যতা:  
- গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূ-মধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- ইউরোপের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বলকান উপদ্বীপ।
- এর দক্ষিণাংশে একটি ছোট পাহাড়ি দেশ গ্রিস।
- গ্রিস মূলত একটি পর্বতময় দ্বীপ রাষ্ট্র।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।
- গ্রীক সভ্যতায় প্রথম নগর রাষ্ট্র গড়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, 
- গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস।
- রোমানরা পরবর্তিকালে এর নামকরণ করে গ্রিস।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- অসংখ্য নগররাষ্ট্র নিয়ে গড়ে উঠা প্রাচীন গ্রিসে।
- সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা এবং গণতন্ত্র চর্চার মূল কেন্দ্র ছিল এথেন্স।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৫.
Son of God কাদের বলা হয়?
  1. মিশরের রাজাদের
  2. চীনের রাজদের
  3. গ্রিকের রাজাদের
  4. রোমান সম্রাটদের
ব্যাখ্যা
চীনা সভ্যতা:
-চীনের হোয়াংহো ও ইয়াংসিকিয়াং নদীর তীরে চীনা সভ্যতা গড়ে উঠে।
- চীনা সভ্যতার অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক- কসফুসিয়াস।
- চীনের প্রাচীন দার্শনিক- লাউস।
- চীনের রাজাদের বলা হতো- Son of God .
-চীনা জনগোষ্টী - মোঙ্গলীয় বংশোদ্ভুত।
- ঘুড়ির জন্ম প্রাচীন চীনে।
- চীনের মহাপ্রাচীরের নির্মিত সকল অংশের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২১,১৯৬ কিলোমিটার।
- সু সংরক্ষিত অংশ, প্রায় ৮,৮৫০ কিলোমিটার ।
- চীনের মহাপ্রাচীর নির্মিত হয়েছিল ,চীনের উত্তর সীমান্তকে শক্তিশালী করার জন্য।

উৎস: britannica. ইতিহাস, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৬.
রোমান সভ্যতা কোন ক্ষেত্রে অবদানের জন্যে প্রসিদ্ধ?
  1. বর্ণমালা উদ্ভাবন
  2. জাহাজ নির্মাতা
  3. আইন প্রণয়ন
  4. জ্যোতির্বিদ্যা
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৭.
মেসোপটেমিয়া শব্দের অর্থ কি?
  1. ক) দুই রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থান
  2. খ) দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান
  3. গ) দুই নদীর মধ্যবর্তী স্থান
  4. ঘ) দুই মরুভূমির মধ্যবর্তী স্থান
ব্যাখ্যা
- বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হলো মেসোপটেমিয়া।
- আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দে ইরাকে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটাস নদীর উর্বর তীরাঞ্চলে মেসোপটেমিয়া সভ্যতা গড়ে উঠে। বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই - - - - প্রাচীন মেসোপটেমিয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- প্রাচীন মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার উদ্ভব ঘটে। যথা- সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, অ্যাসেরীয়, ক্যালডীয়।
- মেসোপটেমিয়া একটি গ্রিক শব্দ যার অর্থ - দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।


তথ্যসূত্র: নবম ও দশম শ্রেনীর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই।
১,১১৮.
সম্প্রতি (২০২৩) হামাস কী নামে ইসরায়েলে অভিযান চালায়?
  1. অপারেশন আল-আকসা মুভমেন্ট
  2. অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড
  3. অপারেশন আল-আকসা রেস্কিও
  4. অপারেশন আল-আকসা ম্যাস্ট্রি
ব্যাখ্যা
অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড:

- ইসরাইলে হামাস ৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে আক্রমণের মধ্য দিয়ে দুদেশের সংঘাত শুরু হয়।
- এ লড়াইয়ের নাম দেয়া হয়েছে 'অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড'।
- বস্তুত বন্যার জলের মতই সশস্ত্র হামাস বাহিনী ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে।
- এর আগে ২০২১ সালে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে ১১ দিন ধরে সংঘাত চলেছিল। 
- হামাস সদস্য ইজেত আল-রাশক জানান, আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে তারা লড়ছেন।
- ইহুদিদের এখন উৎসব পর্ব চলছে।
- সেই উৎসবের শেষ দিনে এই আঘাত হেনেছে হামাস।
- ইসরায়েলের বন্দর শহর তেল আবিবের উত্তরে পর্যন্ত রকেট হামলা করা হয়েছে।
- সেই সাথে হামাসের সশস্ত্র বাহিনী ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলের দক্ষিণে।

তথ্যসূত্র - ৮ অক্টোবর, ২০২৩, বিবিসি বাংলা ও দৈনিক যুগান্তর, ০৩ নভেম্বর ২০২৩।
১,১১৯.
মানুষ প্রথম চাঁদে অবতরণ করে -
  1. ক) ১৯৬৭ সালে
  2. খ) ১৯৬৮ সালে
  3. গ) ১৯৬৯ সালে
  4. ঘ) ১৯৭০ সালে
ব্যাখ্যা
• মানুষ প্রথম চাঁদে অবতরণ করে ২০ জুলাই, ১৯৬৯ সালে
- যুক্তরাষ্ট্র চন্দ্রবিজয়ী বিশ্বের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র দেশ।
- এপোলো-১১ নামক চন্দ্রযানে করে নীল আর্মস্ট্রং ও এডউইন অলড্রিন চাঁদে অবতরণ করেন।

উৎস: Britannica
১,১২০.
সুমেরীয়রা যে লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলো তার নাম -
  1. প্যাপিরাস
  2. কিউনিফর্ম
  3. হায়ারোগ্লিফিক্স
  4. ইউনিফর্ম
ব্যাখ্যা
কিউনিফর্ম:
- কিউনিফর্ম সুমেরীয়দের তৈরি প্রাচীন লিপি।
- কিউনিফর্ম বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ও চিত্রের সমন্বয়ে লেখার পদ্ধতি।
- এই লিপির আকৃতি কীলক বা ছোট্ট তীরের মতো হওয়ার কারণে এদের কিউনিফর্ম বা কীলক লিপি বলা হয়।
- এটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে গঠিত কোনো বর্ণমালা নয় এবং এতে নির্দিষ্ট বা ধরাবাঁধা কোনো অক্ষরও নেই।
- কাদামাটির চার কোনা পাতে লেখার পর আগুনে পুড়িয়ে একে স্থায়ী করা হতো।
- এটি প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় ব্যবহার করা হতো।
- হামুরাবীর আইনবিধি এই লিখন পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করা হয়।

⇒ সুমেরীয়দের পর আক্কাদিয়ানরাও তাদের ভাষা লেখার জন্য এই লিখন পদ্ধতি গ্রহণ করে।
- সুমেরীয় ও আক্কাদিয়ান বাদে অ্যাসিরিয়ান, ব্যাবিলনিয়ান, এব্লেইট, আমোরাইট, অ্যালামাইট, হাত্তিক, হুররিয়ান, উরার্তিয়ান, হিট্টাইট, লুউইয়ান ভাষা এই লিখন পদ্ধতিতে লেখা হতো।
- কিউনিফর্ম লিপিকে প্রথম সংস্কার করেন পারস্য সম্রাট দারিয়ুস।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) World History Encyclopedia.
১,১২১.
হাইডেলবার্গ মানবের আবিষ্কৃত চোয়ালের হাড়টি কত সালে আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৮৯১ সালে 
  2. ১৯০৭ সালে 
  3. ১৯২৭ সালে 
  4. ১৯৩৯ সালে 
ব্যাখ্যা

হাইডেলবার্গ মানব (Heidelberg Man):
- হাইডেলবার্গ মানব বা 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস' (Homo heidelbergensis) হলো আধুনিক মানুষ (Homo sapiens) এবং নিয়ানডারথাল (Neanderthals) মানুষের সাধারণ পূর্বপুরুষ বলে ধারণা করা হয়।
- এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরের কাছে মাউয়ার (Mauer) নামক স্থানে একটি বালুর খনিতে প্রথম এই প্রজাতির চোয়ালের হাড় (Mauer mandible) আবিষ্কৃত হয়।
- শ্রমিক ড্যানিয়েল হার্টম্যান এটি খুঁজে পান এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক অটো শয়টেনস্যাক (Otto Schoetensack) এটি শনাক্ত করে এর নাম দেন 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ১১০০ থেকে ১৪০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের আকারের কাছাকাছি।
- এরা ছিল প্রথম দিকের এমন এক প্রজাতি যারা শীত প্রধান জলবায়ু বা ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসের জন্য অভিযোজিত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন।

১,১২২.
‘দ্য পলিটিক্স' গ্রন্থের লেখক কে?
  1. ক) প্লেটো
  2. খ) সক্রেটিস
  3. গ) এরিস্টটল
  4. ঘ) ম্যাকিয়াভেলী
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিস্টটলের রাষ্ট্রচিন্তার সংগে পরিচিত হওয়া বাঞ্ছনীয়।
- বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এরিস্টটলের রাষ্ট্র চিন্তা মূলত তাঁর ‘দ্য পলিটিক্স' পুস্তকের মাধ্যমেই প্রকাশ পেয়েছে।
- আটটি পুস্তক সমন্বয়ে রচিত এই গ্রন্থের বিন্যাসের মধ্যে যথেষ্ট বিচ্ছিন্নতা লক্ষ্য করা যায়।
- তাই কেউ কেউ মনে করেন যে, এটি সমগ্র কোন গ্রন্থের একটি ভূমিকা বিশেষ।
- প্লেটোর ন্যায় এরিস্টটলের রাষ্ট্রচিন্তা প্রধানত নগর রাষ্ট্র কেন্দ্রিক।
- এরিস্টটলের রাষ্ট্রচিন্তার সাথে পরিচিত হওয়ার আগে রাষ্ট্রনীতি অধ্যয়নে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি জানা দরকার।
- বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে বিশ্লেষণপূর্বক বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সমস্ত কিছু যাচাই এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণই হলো তাঁর পদ্ধতির মূল কথা।
- এ ধরনের পদ্ধতিকে আরোহী পদ্ধতি (inductive method) বলা হয়।

সূত্র: রাষ্ট্রবিজ্ঞান - ২, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১২৩.
লৌহ ব্যবহার শুরু করে কোন সভ্যতার লোকেরা?
  1. ক) হিট্রাইট সভ্যতা
  2. খ) ইনকা সভ্যতা
  3. গ) হেলেনিস্টিক সভ্যতা
  4. ঘ) ইউজিয়ান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
লৌহ ব্যবহার প্রথম শুরু করে হিট্রাইট সভ্যতার লোকেরা। এশিয়া মাইনরে লৌহ যুগের সূচনা হয় খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ অব্দে।
১,১২৪.
'ম্যাগনাকার্টা' কী?
  1. ক) আমেরিকার নাগরিক অধিকারের সনদ
  2. খ) ব্রিটিশ সংবিধানের অলিখিত অংশ
  3. গ) আমেরিকান সংবিধানের অলিখিত সনদ
  4. ঘ) গ্রিসের প্রথম শাসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
- ম্যাগনাকার্টা (মহা সনদ) - ব্রিটিশ সংবিধানের অলিখিত অংশ।
- ১২১৫ সালের, ১৫ জুন ইংল্যান্ডের রাজা জন এই চুক্তিতে স্বাক্ষরে বাধ্য হন।
- এই চুক্তিকে মানবাধিকারের মহাসনদও বলা হয়।

উৎস:- History.com.
১,১২৫.
ট্রয়ের যুদ্ধের কাহিনী কোন গ্রিক মহাকাব্যে বর্ণিত?
  1. থিওগনি
  2. অডিসি
  3. ইলিয়াড
  4. ইনিড
ব্যাখ্যা
ট্রয় নগরী:
- ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কের হেসারলিক বা আনাতোলিয়া নামক স্থানে অবস্থিত।
- ঐতিহাসিক ট্রয় নগরীর অস্তিত্ব এবং এর ধ্বংসের ইতিহাস প্রাচীন গ্রীক হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াড-এ পাওয়া যায়।
- ট্রয় নগরী ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কোর ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’ তালিকায় যুক্ত হয়।

⇒ ট্রয়ের যুদ্ধ শুরু খ্রিষ্টপূর্ব ১২৫০ শতকে এবং শেষ খ্রিষ্টপূর্ব ১২৪০ শতকে।
- দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলেছিল যুদ্ধ।
- এই যুদ্ধ ট্রোজান যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- যুদ্ধের কারণ ছিল হেলেন নামের এক সুন্দরী মহিলাকে কেন্দ্র করে, যিনি ট্রয়ের রাজা প্রিয়াম এর পুত্র পারিস দ্বারা অপহৃত হন।
- গ্রীক রাজা মেনেলাউস তার স্ত্রীর ফিরিয়ে আনার জন্য ট্রয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

⇒ ট্রয়ের ঘোড়া (Trojan Horse):
- ট্রয়ের ঘোড়া ছিল গ্রীক বাহিনীর একটি কৌশল। তারা একটি বিশাল কাঠামো, যা একটি ঘোড়ার মতো দেখতে, ট্রয়ের শহরে রেখে যায়। এতে গ্রীক সৈন্যরা লুকিয়ে ছিল। ট্রয়ের বাসিন্দারা এটি উপহার মনে করে শহরে নিয়ে আসে। রাতের বেলায় সৈন্যরা বের হয়ে শহরের দরজা খুলে দেয়, এবং গ্রীক বাহিনী ট্রয় ধ্বংস করে। এটি প্রতারণা ও কৌশলের প্রতীক হয়ে আছে।

উৎস: i) BBC.
ii) Britannica.
১,১২৬.
'স্ট্যাচু অব পিস' নিচের কোন শহরে অবস্থিত?
  1. নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
  2. সিউল, দক্ষিণ কোরিয়া
  3. নাগাসাকি, জাপান
  4. হিরোশিমা, জাপান
ব্যাখ্যা
- “স্ট্যাচু অব পিস” ভাস্কর্যটি সিউলে জাপানি দূতাবাসের সামনে অবস্থিত।
- এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানি সৈন্যদের দ্বারা কোরীয় নারীদের নির্যাতিত হওয়ার জন্য জাপানকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা এবং ঐ দুঃসহ স্মৃতিকে স্মরণে রাখতে স্থাপন করা হয়েছিল।
- আর জাপানের নাগাসাকির ‘Peace park’ এ “পিস স্ট্যাচু” অবস্থিত।

উৎস: বর্ডারস অফ মেমোরি।
১,১২৭.
গ্রিক পুরাণে 'ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের দেবী' কে ছিলেন?
  1. এরিস
  2. নেফের তিতি
  3. আফ্রোডাইট
  4. এথেনা
ব্যাখ্যা
• গ্রিক সভ্যতা:
- গ্রিকদের ১২টি দেবদেবী ছিলো।
- জিউস ছিলো দেবতাদের রাজা।
- ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের দেবী - আফ্রোডাইট।
- গ্রিকদের বিশ্বাস ছিলো দেবদেবীরা বাস করতেন অলিম্পাস পর্বতের চূড়ায়।
- হেরা ছিলো জিউসের স্ত্রী।
- এরিস ছিলো যুদ্ধদেবতা।
- এথেনা ছিলো জিউসের কন্যা। 

সূত্র: ব্রিটানিকা।
১,১২৮.
পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর 'জেরিকো' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ফিলিস্তিন
  2. সিরিয়া
  3. মিশর
  4. লেবানন
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর:
- পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর জেরিকো ফিলিস্তিনে অবস্থিত।

⇒ জেরিকো বর্তমান ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে অবস্থিত যা পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর হিসেবে বিবেচিত।
- প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুযায়ী, এর উৎপত্তি প্রায় ৯০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- দামেস্ক এবং আলেপ্পোর মতো শহরগুলোও প্রাচীন, তবে জেরিকোর ইতিহাস তাদের তুলনায় পুরোনো।

উৎস: i) Britannica.
ii) Times of India. [link]
১,১২৯.
কোন সভ্যতার সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত?
  1. রোমান সভ্যতা
  2. মায়া সভ্যতা
  3. মিশরীয় সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩০.
কোন সভ্যতা এখনো তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বজায় রেখেছে?
  1. ক) সিন্ধু সভ্যতা
  2. খ) চৈনিক সভ্যতা
  3. গ) অ্যাজটেক সভ্যতা
  4. ঘ) সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- খ্রিস্টপূর্ব প্র্রায় ২০০০ বছর পূর্বে হোয়াংহো নদীর তীরে প্রথম চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠে।
- পরবর্তীতে ইযাংসিকিয়াং নদীর তীর এবং দক্ষিণ চীনেও চৈনিক সভ্যতা বিকাশ লাভ করে।
- চৈনিক সভ্যতা বিকাশে শাং এবং চৌ রাজবংশের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
- বিভিন্ন কারণে পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতার পতন ঘটলেও চৈনিক সভ্যতা এখনো তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রেখে বিরাজমান রয়েছে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১,১৩১.
Machu Picchu is a symbol of -
  1. ক) Maya civilization
  2. খ) Persian civilization
  3. গ) Inca civilization
  4. ঘ) Hebrew civilization
ব্যাখ্যা
Machu Picchu
- আন্দিজ পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে 7,000 ফুটেরও বেশি উপরে, মাচু পিচু পেরুর সবচেয়ে বেশি দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র।
- ইনকা সাম্রাজ্যের প্রতীক এবং 1450AD এর কাছাকাছি নির্মিত।
- মাচু পিচু 1983 সালে ইউনেস্কোর একটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান মনোনীত করা হয়েছিল।
- 2007 সালে বিশ্বের নতুন সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একটি হিসাবে মনোনীত হয়েছিল।
- কেচুয়া ভারতীয় ভাষায়, 'মাচু পিচু' মানে 'পুরাতন শিখর' বা 'পুরানো পর্বত।'
- মাচু পিচু স্নান এবং ঘর থেকে মন্দির এবং অভয়ারণ্য পর্যন্ত 150 টিরও বেশি ভবন নিয়ে গঠিত।

উৎস: Ten Interesting Facts about Machu Picchu | Blog Posts | WWF, World Wildlife Fund.
১,১৩২.
সর্বপ্রথম একেশ্বরবাদের প্রচার করে কোন জাতি?
  1. এজিয়ান
  2. হিব্রু
  3. হিট্রাইট
  4. হেলেনেস্ট্রিক
ব্যাখ্যা
 ধর্মীয় ক্ষেত্রে হিব্রুদের অবদান
- হিব্রুরা তাদের অবদানের প্রায় পুরোটাই রেখেছিল ধর্মীয় ক্ষেত্রে।
- হিব্রু জাতি সর্বপ্রথম একেশ্বরবাদের প্রচার করে।
- তাদের নবী হযরত মুসা (আ), হযরত দাউদ (আ) এবং হযরত সুলায়মান (আ) মানুষের ধর্মীয় চেতনায় নতুন আলোড়ন তোলে।
- তাদের ধর্মীয় চেতনা কতকগুলো পর্যায়ে পেরিয়ে চূড়ান্ত অবস্থায় পৌঁছেছিল।
- মুসা (আ) এর আগমনের পূর্বস্তর হযরত মূসা (আ) এর আগমনের পূর্বে হিব্রুরা বিভিন্ন জড়বস্তু এবং প্রাকৃতিক বিষয়গুলোর পূজা করত।
- এ সময় যাদুবিদ্যা ও কুসংস্কারে চারদিক ছেয়ে গিয়েছিল।
- জড়বস্তুর পূজা করতে গিয়ে এক সময় দেহধারী দেবতার আবির্ভাব হয়।
- তারা দেবতার বিভিন্ন নামকরণ করে। দেবতাদের প্রধান ছিল 'ঈল'।
- নির্দিষ্ট দেবতার স্তর হিব্রুরা দ্বাদশ থেকে নবম খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত 'ইয়াহওয়েহ' নামক নির্দিষ্ট দেবতার পূজা করত।
- অবশ্য 'ইয়াহওয়েহ' জেহোবা নামেই বেশি পরিচিত ছিল।
- জেহোবা ছিলেন আইন প্রণেতা ও বিশ্বে নৈতিক আদর্শের স্রষ্টা।
- নবীদের আগমনের স্তর ধর্ম সংস্কারের যুগে আমস, হোসিয়া, ঈসা (আ) এবং মিকাহ প্রমুখ নবীদের আবির্ভাব ঘটে হিব্রুদের মাঝে।
- অষ্টম ও সপ্তম খ্রিস্টপূর্বাব্দে নবীদের প্রত্যক্ষ প্রভাব ছিল হিব্রুদের উপর। তারা সর্বশক্তিমান একমাত্র আল্লাহর আরাধনা করার কথা প্রচার করেছিল।
- বিদেশী প্রভাবিত স্তর নবীদের যুগে হিব্রুধর্মের একটা নিজস্ব কাঠামো তৈরি হলেও তা বিদেশী প্রভাবে ধরে রাখা সম্ভব হয় নি। তখন নানা কারণে পুরোহিত বা যাজকদের ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় হিব্রুদের জুগবাদ যাজকীয় ধর্মে রূপান্তরিত হয়। 

উৎস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামের ইতিহাস প্রথম পত্র।
১,১৩৩.
অটোমান সাম্রাজ্যের চূড়ান্ত পতনের সাথে নিচের কোন চুক্তিটি সম্পর্কিত?
  1. ক) সেভেন চুক্তি
  2. খ) লুজান চুক্তি
  3. গ) কাবুল চুক্তি
  4. ঘ) গুড ফ্রাইডে চুক্তি
ব্যাখ্যা
অটোমান সাম্রাজ্য/খিলাফত:
- ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দের দিকে তিনি আনাতোলিয়ায় (বর্তমান তুরস্ক) অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের গোড়া পত্তন করেন।
- অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হলেন ওসমান গাজী বা প্রথম ওসমান। ওসমান গাজীর নাম থেকেই উসমানীয় বা অটোমান নামে উদ্ভব ঘটেছে।
- ১৪৫৩ সালে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মেহমুদ বাইজানটাইনদের পরাজিত করে কনস্টান্টিনোপল বা ইস্তানবুল অধিকার করেন এবং একে অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী করেন।
------------
- সতের শতক থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের সূত্রপাত ঘটে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির সাথে অটোমান সাম্রাজ্য তথা বর্তমান তুরস্কের প্রথমে সেভার্স চুক্তি (১০ আগস্ট ১৯২০) সম্পাদিত হয়। কিন্তু তৎকালীন নব্য প্রতিষ্ঠিত তুর্কি জাতীয়তাবাদী সরকার সেভার্স চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে।
- পরবর্তীতে, ১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই সেভার্স চুক্তির স্থলে লুজান চুক্তি সম্পাদিত হয়। সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- লুজান চুক্তির ফলে বর্তমান তুরস্কের সীমানা নির্ধারিত হয়। অটোমান সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণাধীন আরব প্রদেশ, আর্মেনিয়া, সাইপ্রাস, ঈজিয়ান সাগরের দ্বীপসমূহের উপর থেকে তুরস্ক তার অধিকার তুলে নেয়। এছাড়া আরো কতিপয় বিধি নিষেধ আরোপিত হয়।
- আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক অটোমান খেলাফত বিলুপ্ত করে ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন।
- আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে ২০২৩ সালে লুজান চুক্তির মেয়াদ অবসান হবে।

সূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,১৩৪.
কোন রাষ্ট্রকে কেন্দ্র করে মোসোপটেমিয়া সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো?
  1. ইরান
  2. ইরাক
  3. ফিলিস্তিন
  4. জর্ডান
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা 'মেসোপটেমীয় সভ্যতা'।
- আধুনিক ইরাক রাষ্ট্রের সীমারেখার মধ্যেই প্রাচীনকালে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- ফোরাত (ইউফ্রেটিস) ও দজলা (টাইগ্রিস) নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা।
- খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ হতে খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ অব্দের মধ্যে মেসোপটেমিয়ায় অতি উন্নত এক সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- মেসোপটেমিয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর তীরে।
- মেসোপটেমিয় সভ্যতারই চারটি পর্ব ছিল।
- সেগুলো হলো: সুমেরীয় সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, অ্যাশিরীয় সভ্যতা ও ক্যালডীয় সভ্যতার

উৎস: Britannica.
১,১৩৫.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্র শক্তির দেশ কোনটি?
  1. ক) জার্মানি
  2. খ) তুরস্ক
  3. গ) ইতালি
  4. ঘ) বুলগেরিয়া
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
- ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরি কর্তৃক সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে কেন্দ্রীয় বা অক্ষ শক্তির দেশ:
জার্মানি (প্রুশিয়া সাম্রাজ্য),
তুরস্ক (অটোমান সাম্রাজ্য),
• অস্ট্রো-হাঙ্গেরীয় সম্রাজ্য ও
•‍ বুলগেরিয়া

- মিত্রশক্তির দেশ:
• ফ্রান্স,
• ব্রিটেন,
• জাপান,
• যুক্তরাষ্ট্র,
ইতালি,
• সার্বিয়া,
• মন্টিনিগ্রো প্রভৃতি।
- ২৮ জুন ১৯১৯ ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে জার্মানি এবং মিত্রপক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
- এ চুক্তি অনুযায়ী জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং বিপুল পরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ প্রদানে সম্মত করা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা, হিস্টোরি ডটকম এবং ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৩৬.
'দারিয়ুস' কোন সভ্যতার সম্রাট ছিলেন?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. পারস্য সভ্যতা
  3. ব্যবলনীয় সভ্যতা
  4. হিব্রু সভ্যতা
ব্যাখ্যা
দারিয়ুস দ্য গ্রেট:
- 'দারিয়ুস' পারস্য সভ্যতা সম্রাট ছিলেন।

⇒ বর্তমান ‘ইরান’ নামে পরিচিত অঞ্চলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন পরাশক্তি পারস্য সাম্রাজ্য।
- পারস্য অঞ্চলে ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬৫১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে উৎপত্তি লাভ করা একাধিক সাম্রাজ্যের সমষ্টি।
- ঐতিহাসিকরা এই সময়কালকে মোট চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- আকামেনিদ সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০-খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০), সেলুসিড সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩১২-খ্রিস্টপূর্ব ৬৩), পার্থিয়ান সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ২৪৭-২২৪ খ্রিস্টাব্দ) এবং সর্বশেষ সাসানীয় সাম্রাজ্য (২২৬-৬৫১ খ্রিস্টাব্দ)।

⇒ আকামেনিদ সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট দারিয়ুস দ্য গ্রেট।
- তাঁর শাসনামলে সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটে।
-  দারিয়ুস পার্সেপোলিস নগরীর গোড়াপত্তন করেন।
- সম্রাট দারিয়ুস বিভিন্ন পরিমাপের একক নির্ধারণের পাশাপাশি অভিন্ন মুদ্রাও চালু করেন। 
- পৃথিবীর ইতিহাসে পারসিকরাই সর্বপ্রথম, যারা এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মাঝে সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- পৃথিবীর প্রথম ডাকসেবা এই সম্রাটের হাত ধরেই চালু হয়।
- এসব কারণে দারিয়ুসকে পারস্য সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়।
- ৪৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট দারিয়ুস মারা যান। নিজের তৈরি করা সমাধিক্ষেত্র ‘নাকশে রুস্তম’-এ তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। 

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।
১,১৩৭.
প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি 'ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান' এর নির্মাতা কে ছিলেন?
  1. ক) ফারাও খুফুর
  2. খ) আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট
  3. গ) সম্রাট নেবুচাদ নেজার
  4. ঘ) রাণী ক্লিওপেট্রা
ব্যাখ্যা
• ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ:
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার স্থপতি হাম্মুরাবির সংস্কৃতি অনেকটাই গ্রহণ করেছিল ক্যালডীয়রা।
- সেই সাথে নিজেদের বুদ্ধিমত্তার সংযোগ তাদেরকে অনেক এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।
- ক্যালডীয় সম্রাট নেবুচাঁদ নেজারের সময় ব্যাবিলন শহর খুব জাঁকজমকপূর্ণ হয়।
- পুরো শহর ঘিরে ৫৬ মাইল লম্বা দেয়াল তৈরি হয়।
- চার ঘোড়ার রথ চলতে পারে এমন চওড়া ছিল রাস্তা।
- শহরের মাঝখানে ছিল প্রকাণ্ড তোরণ।
- দেবী ইস্টারের স্মরণে তৈরি এই তোরণের নাম রাখা হয় ‘ইস্টার তোরণ' বা ‘ইস্টার গেট’।
- তোরণের ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া লম্বা রাস্তাটির নাম ছিল ‘মিছিল সড়ক'।
- সম্রাট নেবুচাদ নেজারের রানি বাগান করতে খুব পছন্দ করতেন।
- তাঁরই উৎসাহে সম্রাট নগর দেয়ালের উপরে তৈরি করলেন আশ্চার্য সুন্দর এক বাগান।
- ইতিহাসে যা ‘শূন্য উদ্যান' নামে পরিচিত।
- ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৮.
চীন প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন -
  1. ক) চিয়াং কাই শেক
  2. খ) সান ইয়েৎ সেন
  3. গ) মাও সেতুং
  4. ঘ) ইয়াং সি কিয়াং
ব্যাখ্যা
- ১৯১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি চীনে প্রায় দুই হাজার বছরের রাজতন্ত্র উচ্ছেদ হয়ে প্রজাতন্ত্র কায়েম হয়।
- এই দিন চীনের কিং রাজবংশের সর্বশেষ সম্রাট পুয়িকে সিংহাসন থেকে উৎখাত করা হয়।
- এর আগে ১৯১১ সালের অক্টোবরে সান ইয়েৎ সেনের নেতৃত্বে চীনে প্রজাতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয়।
- সান ইয়েৎ সেন ছিলেন চীন প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট।
- ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ে নেতৃত্বে চীনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

তথ্যসূত্র:- হিস্টোরি ডটকম এবং ব্রিটানিকা।
১,১৩৯.
পৃথিবীর প্রথম মানচিত্র তৈরির কৃতিত্ব কাদের?
  1. ক) গ্রিক
  2. খ) রোমান
  3. গ) আর্য
  4. ঘ) ভারতীয়
ব্যাখ্যা
- এনাক্সিমেন্ডার একজন প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক। 
- তিনি ছিলেন প্রথম ভূগোলবিদ যিনি পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করেছিলেন। 

Source: https://iep.utm.edu
১,১৪০.
'এক দেশ দুই নীতি'র প্রণেতা-
  1. ক) শিন জিং
  2. খ) দেং শিয়াও পিং
  3. গ) ইয়াং পিং
  4. ঘ) চুচুয়াং
ব্যাখ্যা
- হংকং চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও নিজস্ব বিচার বিভাগ, আইনসভা ও নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে।
- ১৯৯৭ সাল থেকে হংকং 'এক দেশ, দুই নীতি’র আওতায় স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করে আসছে। 
- ১৯৯৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে ৫০ বছরের জন্য হংকং চীনের শাসনের অন্তর্ভুক্ত হয়।
- এই নীতি ২০৪৭ সাল পর্যন্ত চালু থাকবে।
- এই 'এক দেশ দুই নীতি'র প্রণেতা দেং শিয়াও পিং।  
উল্লেখ্য,
- নানকিং চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৮৪২ সালে।
- এই চুক্তির মাধ্যমে বৃটিশরা চীন থেকে হংকং দ্বীপ লাভ করেছিলো।

উৎস:- ব্রিটানিকা ও  দৈনিক প্রথম আলো।
১,১৪১.
নগর রাষ্ট্র প্রথম গড়ে উঠেছিল কোন সভ্যতায়?
  1. গ্রীক সভ্যতায়
  2. চৈনিক সভ্যতায়
  3. রোম সভ্যতায়
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
গ্রীক সভ্যতা:  
- গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূ-মধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- ইউরোপের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত বলকান উপদ্বীপ।
- এর দক্ষিণাংশে একটি ছোট পাহাড়ি দেশ গ্রিস।
- গ্রিস মূলত একটি পর্বতময় দ্বীপ রাষ্ট্র।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩০০-১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় যার পূর্ণ বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ ও ৫ম শতকে।
- গ্রিকরা ৩৩৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হয়।

উল্লেখ্য, 
- গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস।
- রোমানরা পরবর্তিকালে এর নামকরণ করে গ্রিস।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- অসংখ্য নগররাষ্ট্র নিয়ে গড়ে উঠা প্রাচীন গ্রিসে।
- সংস্কৃতির বিভিন্ন ধারা এবং গণতন্ত্র চর্চার মূল কেন্দ্র ছিল এথেন্স।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪২.
ওসরোইন (Osroene) রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দী- খ্রিস্টাব্দ ৩য় শতাব্দী) অন্য যে নামে পরিচিত-
  1. মেসোপটেমিয়া রাজ্য
  2. মেসিডোনিয়া রাজ্য
  3. আবগারিদ রাজ্য
  4. এডেসা রাজ্য
ব্যাখ্যা
ওসরোইন:
- ওসরোইন (Osroene) ছিল উচ্চ মেসোপটেমিয়ার একটি প্রাচীন অঞ্চল।
- এটি "এডেসার রাজ্য" নামেও পরিচিত ছিল।
- ওসরোইন রাজ্যের রাজধানীর নাম অনুসারে (বর্তমানে তুরস্কের সানলিউরফা) শহরটির নামকরন করা হয়েছে।
- খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দী থেকে এই শহর বিদ্যমান রয়েছে।
 - Osroene রাজ্য ১৩২  খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২১৪  খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং কিছু ক্ষেত্রে আধা-স্বায়ত্তশাসন চালু ছিল।

উৎস: dbpedia.org.[Link]
১,১৪৩.
নিম্নের কোনটি মিশরীয় সভ্যতার নিদর্শন?
  1. প্যাপিরাস
  2. কিউনিফর্ম
  3. গ্রেট ওয়াল
  4. পার্থেনন
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারােগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।

উল্লেখ্য,
- লেখার কাজে কালি প্রথম ব্যবহার শুরু করে মিশরীয়রা।
- খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ শতকে মিশরীয়রা লেখার জন্য কালির ব্যবহার শুরু করলে এটি লেখালেখির আদর্শ অনুষঙ্গে পরিণত হয়।
- লেখার জন্য মিশরীয়রা প্যাপিরাস নামের একধরনের কাগজ ব্যবহার করত।
- এরপর ওই প্যাপিরাসের উপযোগী করে কালিও তৈরি করত তারা।
- এই কালি তৈরি হতো হাড়ের গুঁড়ো থেকে।
- পুরোপুরি কালো রঙের অমোচনীয় কালির উদ্ভাবন ঘটে চীনের হার্ন রাজবংশের শাসনামলে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) প্রথম আলো।
১,১৪৪.
মিশরীয়রা সর্বপ্রথম কয়টি ব্যঞ্জনবর্ণ আবিষ্কার করে?
  1. ২২টি
  2. ২৩টি
  3. ২৪টি
  4. ২৬টি
ব্যাখ্যা
লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগরসভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখনপদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,১৪৫.
সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতি প্রধানত কিসের উপর নির্ভর করত?
  1. পশুপালন
  2. বাণিজ্য
  3. কৃষি
  4. মৎস্য
ব্যাখ্যা
• অর্থনৈতিক অবস্থা: 
- সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষি নির্ভর।
- অর্থনীতির আর একটি বড় দিক ছিল পশুপালন ও বাণিজ্য।
- কৃষি ও পশুপালনের পাশাপাশি;
- মৃৎপাত্র নির্মাণ, ধাতুশিল্প, বয়নশিল্প, অলংকার নির্মাণ, পাথরের কাজ ইত্যাদিতেও তারা যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল।
- পণ্ডিতদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতার উত্থান-পতনের কাল।

• নগর পরিকল্পনা:
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো নগর দুটো সিন্ধু সভ্যতায়।
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা উন্নত ধরনের নাগরিক সভ্যতায় অভ্যস্ত ছিল।
- নগরির ভিতর দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা।
- রাস্তাগুলো ছিল সোজা।
- প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, কূপ ও স্নানাগার ছিল।
- পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৬.
'মেসোপটেমীয়া' শব্দটি একটি -
  1. গ্রিক শব্দ
  2. রোমান শব্দ
  3. আরবি শব্দ
  4. তুর্কি শব্দ
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ। যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা- ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।
- এই উর্বর ভূখণ্ডের উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি; দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর, পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়ার অর্ন্তভুক্ত সভ্যতাসমূহ প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে। যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৭.
সুমেরীয়দের কিউনিফর্ম লিপি কিভাবে লেখা হতো?
  1. ডান থেকে বামে 
  2. বাম থেকে ডানে
  3. উপর থেকে নিচে 
  4. নিচ থেকে উপরে 
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বসতি গড়ে তোলায় প্রথম নেতৃত্ব দেয় সুমেরীয়রা।
- সুমেরীদের আদি বাসস্থান ছিল মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে।
- সুমেরীয়রা খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের পূর্বেই সুমেরু নগর গড়ে তোলে।

⇒ সুমেরীয়রা একটি ভিন্ন ধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছিল। মিশরীয়দের মতো প্রথম দিকে তারা চিত্রলিপি ধরনের লেখা শুরু করে। দ্রুত ভাব প্রকাশের জন্য ধীরে ধীরে লিখন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে। কাদামাটির শ্লেটে নল-খাগড়ার কলম দিয়ে এক রকম কৌণিক রেখা ফুটিয়ে তোলা হতো। খাঁজ কাটা এ চিহ্নগুলো দেখতে অনেকটা ইংরেজি অক্ষর "V" এর মতো। আবার কখনো কখনো তীরের মতো ডিজাইন। প্রাচীন সুমেরীয়দের এ লিপির নাম দেয়া হয় কিউনিফর্ম যা মেসোপটেমীয় লিপি হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এই লিপি বাম থেকে ডানে লেখা হতো।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.

১,১৪৮.
'ইনকা' কোন অঞ্চলের প্রাচীন সভ্যতা?
  1. পশ্চিম আফ্রিকা
  2. পূর্ব ইউরোপ
  3. দক্ষিণ আমেরিকা
  4. পূর্ব এশিয়া
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

১,১৪৯.
প্রথম ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়-
  1. ক) ১৯৫৪ সালে
  2. খ) ১৯২৮ সালে
  3. গ) ১৮৭৩ সালে
  4. ঘ) ১৭৮৩ সালে
ব্যাখ্যা

- প্রথম ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ৩ সেপ্টেম্বর, ১৭৮৩ সালে।
- এই চুক্তির পক্ষদ্বয় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
- ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটেন যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

উৎসঃ লাইভ এমসিকিউ লেকচার।

১,১৫০.
সপ্তাহকে সর্ব প্রথম সাতদিনে ভাগ করে কারা?
  1. গ্রীকরা
  2. সুমেরীয়রা
  3. রোমানরা
  4. ক্যালডীয়রা
ব্যাখ্যা
→ ক্যালডীয়রা সপ্তাহকে সর্ব প্রথম সাতদিনে ভাগ করে।

• ক্যালডীয় সভ্যতা:

- ক্যালডীয় সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতার শেষ পর্যায়।
- ৬০৫ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সম্রাট নেবুচাদনেজার -এর শাসনামলে গড়ে ওঠে।
- নেবুচাদনেজার ইহুদিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ৫৮৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে জেরুজালেম ধ্বংস করেন।
ক্যালডীয়রা সপ্তাহকে সাত দিনে ভাগ করে।
- এবং দিনরাত্রিকে ২৪ ঘণ্টায় ভাগ করার পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।
- তারা ১২টি নক্ষত্রপুঞ্জের সন্ধান পেয়ে ১২টি রাশিচক্রের ধারণা প্রবর্তন করেন।

• সুমেরীয় সভ্যতা:
- সুমেরীয় সভ্যতা মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে।
- বর্তমান ইরাকের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ছিল।
- তারা প্রথম লিখিত আইন প্রণয়ন করেন,'উর-নাম্মু কোড'।
- সুমেরীয়রা লিখন পদ্ধতি কিউনিফর্ম' নামে পরিচিত।

• রোমান সভ্যতা
- প্রাচীন ইতালির রোম শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
- প্রায় ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- আইন প্রণয়ন, যা আধুনিক আইনের ভিত্তি স্থাপন করে।

উৎস:  ইতিহাস, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫১.
ককেশীয় জাতির প্রধান বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. কালো ত্বক
  2. সরু নাক
  3. চ্যাপটা নাক
  4. ভারি ঠোঁট
ব্যাখ্যা

ককেশীয় বা শ্বেতকায়:
- নৃগোষ্ঠী (Race) বলতে জৈবিক ও দৈহিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানবপ্রজাতির একেকটি উপবিভাগকে বোঝায়।
- মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ অধিবাসী ককেশীয় নৃগোষ্ঠীর।
- ককেশীয় নৃ-গোষ্ঠীর মূল বাসস্থান ইউরোপ, আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায়।

⇒ ককেশীয়দের মাথা প্রধানত লম্বাকৃতির হয়।
- এদের মুখ সরু বা লম্বাকৃতির, নাক প্রধানত খাড়া, চিকন, লম্বা ও সরু, চোখের রং হালকা থেকে কালো বাদামি, ঠোঁট পাতলা ধরনের এবং কান মাঝারি গোছের।
- এদের গায়ের রং প্রধানত সাদা বা লালচে সাদা।
- ককেশীয়দের চুলের রং বাদামি বা সোনালি এবং এরা দীর্ঘ দেহের অধিকারী।

উৎস: i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৫২.
আসিরীয় সভ্যতা ধ্বংস হয়-
  1. ৬১২ অব্দে
  2. ৬১৪ অব্দে
  3. ৬২২ অব্দে
  4. ৬১৩ অব্দে
ব্যাখ্যা
আসিরীয় সভ্যতা:
-ব্যাবিলন থেকে ২০০ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে আশুর নামে একটি শহর গড়ে উঠে, যার আদিবাসীরা আসিরীয় নামে পরিচিত।
- তারা প্রথম যুদ্ধরথের প্রচলন কর।
- প্রথম গোলন্দাজ বাহিনী গঠন করে- আসিরীয়রা।
- তারা বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রি কোনে ভাগ করে ।
- পৃথিবীকে অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে ভাগ করে আসিরীয়রা।
- আসিরীয় সভ্যতা ধ্বংস হয়- ৬১২ অব্দ।

উৎস: britannica. ইতিহাস, এসএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৩.
'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' কোন সভ্যতার অপূর্ব নিদর্শন?
  1. বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  3. হিব্রু সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
⇒ হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' গ্রিক সভ্যতার অপূর্ব নিদর্শন।

গ্রিক সভ্যতা:
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৪.
ওসমান গাজী অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের গোড়া পত্তন করেন কবে?
  1. ১২৬৯ খ্রিস্টাব্দে 
  2. ১২৭৯ খ্রিস্টাব্দে
  3. ১২৮৯ খ্রিস্টাব্দে
  4. ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা

উসমানীয় সাম্রাজ্য:
- ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দের দিকে আনাতোলিয়ায় (বর্তমান তুরস্ক) ওসমান গাজী বা প্রথম ওসমান অটোমান বা উসমানীয় সাম্রাজ্যের গোড়া পত্তন করেন।
- ওসমান গাজীর নাম থেকেই উসমানীয় বা অটোমান নামে উদ্ভব ঘটেছে। তিনি ছিলেন দিরিলিস আর্তুগ্রুল এর ছেলে।
- ১৪৫৩ সালে অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মেহমুদ বাইজানটাইনদের পরাজিত করে কনস্টান্টিনোপল বা ইস্তানবুল অধিকার করেন এবং একে অটোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী করেন।
- সুলতান প্রথম সুলেমানের শাসনামলে (১৫২০-১৫৬৬ খ্রি.) অটোমান সাম্রাজ্য তার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করে। সে সময় বর্তমান গ্রিস, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, মেসিডোনিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন, মিশর, জর্ডান ও আরবের অংশবিশেষ অটৈামান সাম্রাজ্যভুক্ত ছিলো।
- সতের শতক থেকে অটোমান সাম্রাজ্যের পতনের সূত্রপাত ঘটে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানরা কেন্দ্রীয় শক্তির পক্ষ অবলম্বন করে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পরাজয়ের পর ১৯২২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
- শেষ অটোমান সুলতান ছিলেন ষষ্ঠ মুহাম্মদ ওয়াহিদউদ্দিন।
- আধুনিক তুরস্কের জনক মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক অটোমান খেলাফত বিলুপ্ত করে ১৯২৩ সালের ২৯ অক্টোবর তুরস্ককে প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ওয়েবসাইট

১,১৫৫.
মিশরীয়রা কয়টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে?
  1. ১৮টি 
  2. ২২টি 
  3. ২৪টি 
  4. ২৬টি 
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। 
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারােগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।

উল্লেখ্য,
- লেখার কাজে কালি প্রথম ব্যবহার শুরু করে মিশরীয়রা।
- খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ শতকে মিশরীয়রা লেখার জন্য কালির ব্যবহার শুরু করলে এটি লেখালেখির আদর্শ অনুষঙ্গে পরিণত হয়।
- লেখার জন্য মিশরীয়রা প্যাপিরাস নামের একধরনের কাগজ ব্যবহার করত।
- এরপর ওই প্যাপিরাসের উপযোগী করে কালিও তৈরি করত তারা।
- এই কালি তৈরি হতো হাড়ের গুঁড়ো থেকে।
- পুরোপুরি কালো রঙের অমোচনীয় কালির উদ্ভাবন ঘটে চীনের হার্ন রাজবংশের শাসনামলে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) প্রথম আলো।

১,১৫৬.
জেরুজালেম কোন ধর্মাবলম্বীদের নিকট পবিত্র স্থান?
  1. ক) ইসলাম, ইহুদি এবং জৈন
  2. খ) ইসলাম, ইহুদি এবং খ্রিস্টান
  3. গ) ইসলাম, ইহুদি এবং হিন্দু
  4. ঘ) ইসলাম, খ্রিস্টান এবং বৌদ্ধ
ব্যাখ্যা
• জেরুজালেম আধুনিক ইসরাইলে অবস্থিত একটি শহর এবং অনেকের কাছে এটি বিশ্বের অন্যতম পবিত্র স্থান হিসাবে বিবেচিত।
• জেরুজালেম তিনটি বৃহত্তম একেশ্বরবাদী ধর্মের (ইহুদি, ইসলাম এবং খ্রিস্টান) গুরুত্বপূর্ণ গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
• ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিন উভয়ই জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে দাবি করেছে।
• এর শহর এবং এর ভেতরের জায়গাগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য রক্তক্ষয়ী সংঘাত হাজার হাজার বছর ধরে চলছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 
১,১৫৭.
ব্যাবিলন কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. সিন্ধু
  2. ইউফ্রেটিস 
  3. নীল
  4. জর্ডান নদী
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- ব্যাবিলন ইউফ্রেটিস (ফোরাত) নদীর তীরে অবস্থিত।
- ব্যাবিলন ছিল একটি প্রাচীন শহর যা বর্তমানে ইরাকের ইউফ্রেটিস নদীর তীরে অবস্থিত।
- ব্যাবিলন প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম সেরা শহর, মহান স্থাপত্যের শহর এবং শিক্ষার কেন্দ্র হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।
- ব্যাবিলন ইরাকের রাজধানী বাগদাদ থেকে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ছিল। 
- ব্যাবিলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ৪০০০ বছরেরও বেশি আগে, প্রায় ২৩০০ BCE।
- এটি মূলত একটি ছোট বন্দর শহর ছিল। এর আদি বাসিন্দারা ছিল দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার প্রাচীন আক্কাদিয়ান-ভাষী মানুষ।
- ব্যাবিলনের প্রাচীনতম উল্লেখগুলির মধ্যে একটি 'বুক অফ জেনেসিস'-এ শহর যেটিতে বাবেলের টাওয়ারটি নির্মিত হয়েছিল।
- ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান এই শহরে অবস্থিত।

উৎস: Worldatlas.com

১,১৫৮.
কোন চুক্তির মধ্য দিয়ে  তুরস্কে অটোমান সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়?
  1.  লুজান চুক্তি
  2. ভার্সাই চুক্তি
  3. ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি
  4. রোম চুক্তি
ব্যাখ্যা

লুজান চুক্তি (Treaty of Lausanne):
- ১৯২৩ সালে ঐতিহাসিক লুজান চুক্তির মধ্য দিয়ে তুরস্কে অটোমান সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়।

⇒ লুজান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই সুইজারল্যান্ডের লুজান শহরে।
- লুজান চুক্তি স্বাক্ষরকারী: এক পক্ষে তুরস্ক এবং অন্য পক্ষে ছিল ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রীস ও তাদের মিত্ররা।
- এই চুক্তির মাধ্যমে ওসমানীয় সাম্রাজ্যের আনুষ্ঠানিক বিলুপ্তি ঘটে এবং আধুনিক তুরস্ক রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- মূলত, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সালে তুরস্কের উপর অন্যায্যভাবে আরোপিত সেভ্রেস চুক্তির পরিবর্তেই লুজান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

উল্লেখ্য,
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমান সাম্রাজ্যের পরাজয়ের পর মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, জাপান, রোমানিয়া, যুগোস্লাভিয়া) ১৯২০ সালে সেভ্রেস চুক্তির মাধ্যমে অটোমান ভূখণ্ডের ব্যাপক বিভাজনের পরিকল্পনা করে।
- এই চুক্তি অটোমান সাম্রাজ্যকে সঙ্কুচিত করে এবং কুর্দিস্তানের স্বায়ত্তশাসন, আর্মেনিয়ার জন্য ভূখণ্ড এবং গ্রিস, ফ্রান্স, ব্রিটেনের দখলে বিভিন্ন অঞ্চল হস্তান্তরের শর্ত আরোপ করে।
- তবে, মুস্তফা কামাল আতাতুর্কের নেতৃত্বে তুর্কি জাতীয় আন্দোলন এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এবং ১৯১৯-১৯২২ সালে তুর্কি স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে বিজয় অর্জন করে।
- এর ফলে সেভ্রেস চুক্তি বাতিল হয় এবং লুজানে নতুন আলোচনার পথ তৈরি হয়।
- ১৯২২ সালের ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া লুজান সম্মেলনে সাত মাস ধরে আলোচনার পর ১৯২৩ সালের ২৪ জুলাই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

উৎস: Britannica.

১,১৫৯.
ইনকা সভ্যতার সূর্য দেবতা কী নামে পরিচিত ছিল?
  1. আমাতেরাসু
  2. হেলিওস
  3. ইন্তি
  4. সোল
ব্যাখ্যা

ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- এই সভ্যতার রাজধানী ছিল কুজকো।
- এই সভ্যতার স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া।
- ইনকা সভ্যতার সূর্য দেবতা ইন্তি ছিলেন দেবদেবীদের প্রধান।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- তাদের স্থাপত্য, সেচ ব্যবস্থা, প্রাসাদ, মন্দির ও দুর্গের অবশেষ আজও আন্দিজে দেখা যায়।
- ১৫৩২ সালে স্প্যানিশ বিজয়ীদের দ্বারা ইনকা সাম্রাজ্যের পতন ঘটে

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা।

১,১৬০.
মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত প্রথম সভ্যতা -
  1. সুমেরীয় সভ্যতা
  2. আসিরীয় সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমিয়া সভ্যতা
-ট্রাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর অববাহিকায় গড়ে উঠা নগরসভ্যতা।

- পৃথীরি প্রাচীনতম সভ্যতা-মেসোপটেমিয়া সভ্যতা।
-মেসোপটেমিয়া বর্তমান ইরাককে বুঝানো হয়।
- মেসোপটেমিয়া শব্দের অর্থ- দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।

এছাড়াও:
-মেসোপটেমিয়া সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত ছিল- ৪ টি সভ্যতা।
   ১• সুমেরীয় সভ্যতা।
   ২• ব্যাবিলনীয় সভ্যতা।
   ৩• আসিরীয় সভ্যতা।
   ৪• ক্যালডীয় সভ্যতা।

সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমিয়া সভ্যতার প্রাচীনতম ও প্রথম সভ্যতা - সুমেরীয় সভ্যতা
 -  লিখন পদ্ধতি সুমেরীয়রাই প্রথম শুরু করে।
 - সুমেরীয়দের অবদান- কিউনিফর্ম।

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- খ্রিষ্টপূর্ব  ২০৫০ অব্দে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে উঠে।
- ব্যাবিলনীয়দের বড় অবদান আইন প্রণয়নে।
- এ সভ্যতার স্থপতি বলা হয়- হাম্বরাবি।

আসিরীয় সভ্যতা:
-  টাইগ্রিস নদীর তীরে আসিরীয় সভ্যতা গড়ে উঠে, ।
- সামরিক রাষ্ট্র হিসেবে আসিরীয়রা পরিচিত।
- তারা বৃত্তকে ৩৬০ ডিগ্রি কোণে ভাগ করে ।

ক্যালডীয় সভ্যতা:
- রাজা নেবুচাদ নেজার ব্যাবিলনীয় শহরে  ক্যালডীয় সভ্যতা গড়ে তোলে।
ক্যালডীয়রা প্রথম সাপ্তাহকে সাতদিনে ভাগ করে।

উৎস: britannica. ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬১.
আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন 'গেটিসবার্গ ভাষণ' দিয়েছিলেন -
  1. ক) ১৮৬১ সালে
  2. খ) ১৮৬৩ সালে
  3. গ) ১৮৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৮৬৪ সালে
ব্যাখ্যা
• গেটিসবার্গের ভাষণ (Gettysburg Address) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের একটি বিখ্যাত ভাষণ।
• আব্রাহাম লিংকন আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গে এই ভাষণ দেন।
১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর ভাষণটি দিতে তাঁর লেগেছিল তিন মিনিটেরও কম সময়। শব্দ ছিল মাত্র ২৭২টি। অথচ তার শিহরণ লেগেছিল গোটা বিশ্বে। 
• আব্রাহাম লিংকন ছিলেন আমেরিকার ১৬তম প্রেসিডেন্ট। ১৮৬১ সালের ৪ মার্চ থেকে ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
• ১৮৬৩ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাস প্রথার অবসান ঘটান এবং দাসত্ব মোচন ঘোষণার মাধ্যমে দাসদের মুক্ত করে দেন দাসপ্রথাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এ সময় গৃহযুদ্ধ হয়।

তথ্যসূত্র:- কার্নেল ইউনিভার্সিটি ওয়েবসাইট ও কালেরকণ্ঠ রিপোর্ট।
১,১৬২.
কোন বিখ্যাত নেতার ডাকনাম ছিলো 'মাদিবা'?
  1. ক) মার্টিন লুথার
  2. খ) মার্টিন লুথার কিং
  3. গ) নেলসন ম্যান্ডেলা
  4. ঘ) আহমদ সুকর্ণ
ব্যাখ্যা
নেলসন ম্যান্ডেলা
• নেলসন ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার অবিসংবাদিত কৃষ্ণাঙ্গনেতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট।
• তার ডাকনাম ছিলো মাদিবা
• নেলসন ম্যান্ডেলা আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস (ANC) পার্টির নেতা ছিলেন।
• ১৯৪৪ সালে তিনি ANC তে যোগ দেন।
• ১৯৯১-১৯৯৭ সময়ে তিনি ANC এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
• বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কারণে তিনি ১৯৬৩-১৯৯০ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর রোবেন দ্বীপে কারান্তরীণ ছিলেন।
• ১৯৯৪ সালের ১০ মে ম্যান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
• ১৯৯৩ সালে ম্যান্ডেলা শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
• ২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর ম্যান্ডেলা মারা যান।

তথ্যসূত্র:- নেলসন ম্যান্ডেলা ফাউন্ডেশন ওয়েবসাইট।
১,১৬৩.
মহেঞ্জোদারো সভ্যতা আবিষ্কারের প্রধান কৃতিত্বের দাবিদার-
  1. স্যার জন মার্শাল
  2. ননী গোপাল মজুমদার
  3. রাখাল দাস বন্দোপাধ্যায়
  4. দয়ারাম সাহানী
ব্যাখ্যা
মহেঞ্জোদারো নগরীর আবিষ্কার:
- সিন্ধি ভাষায় মহেঞ্জোদারো শব্দের অর্থ হল মৃতের সমাধি বা স্তূপ।
- মহেঞ্জোদারো সভ্যতা আবিষ্কারে প্রধান কৃতিত্ব একজন বাঙ্গালীর।
- তিনি ঐতিহাসিক রাখাল দাস বন্দোপাধ্যায়
- তিনি মহেঞ্জোদারো সভ্যতা আবিষ্কার করেন ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে।

- এরও দুই বছর আগে হরপ্পায় অনুরূপ সংস্কৃতি আবিষ্কৃত হয়।
- আবিষ্কার করেন ঐতিহাসিক দয়ারাম সাহনি।
- এ সময় স্যার জন মার্শাল ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মহাপরিচালক ছিলেন।
- সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কারে তিনজন প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষ ভুমিকা রেখেছিলেন।
- তাঁরা হচ্ছেন কাশীনাথ দীক্ষিত, ননী গোপাল মজুমদার এবং স্যার মর্টিমার হুইলার

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি , বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৪.
মেক্সিকোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি প্রাচীন সভ্যতার নাম -
  1. সুমেরীয় সভ্যতা
  2. অ্যাজটেক সভ্যতা
  3. এ্যাসিরীয় সভ্যতা
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
অ্যাজটেক সভ্যতা:
- উত্তর আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- বর্তমান মেক্সিকো অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- যার বিস্তৃতি ছিল উত্তর আমেরিকার বেশির ভাগ অংশজুড়ে।
- কৃষিকাজের মাধ্যমে আজটেক সভ্যতার প্রসার ঘটে।
- খ্রিস্টীয় ১২ শতকে এ সভ্যতার উৎপত্তি হয়েছিল।
- আজটেকের রাজধানী ছিল টেনোচিটিলান।
- টিনোচ ছিলেন আজটেকদের প্রথম রাজা। 

উল্লেখ্য,
- সৃজনশীল ও উন্নত সংস্কৃতির ধারক হিসেবে প্রায় ৪৫০ বছর নিজেদের সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল আজটেকরা।
- আজটেক সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল ১৫২১ খ্রিষ্টাব্দে স্প্যানিশদের দ্বারা।

অন্যদিকে,
- সুমেরীয়দের আদি বাসস্থান ছিল মেসোপটেমিয়ার (বর্তমান ইরাক) উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এলামের পাহাড়ি অঞ্চলে।
- ব্যাবিলন থেকে প্রায় দু'শ মাইল উত্তরে টাইগ্রিস নদীর তীরে এ্যাসিরীয় সভ্যতা গড়ে ওঠে। 

উৎস: Britannica.
১,১৬৫.
সিন্ধু সভ্যতার প্রধান দুটি নগর কেন্দ্র ছিল -
  1. পাটলিপুত্র ও মথুরা
  2. এথেন্স ও স্পার্টা
  3. হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো
  4. তাম্রলিপ্তি ও বারাণসী
ব্যাখ্যা

- সিন্ধু উপত্যকা সভ্যতার দুটি প্রধান শহর ছিল হরপ্পা এবং মহেঞ্জোদারো। এই শহরগুলো উন্নত নগর পরিকল্পনা এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য পরিচিত ছিল।

সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতা সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল, এবং এ কারণেই এই সভ্যতাকে সিন্ধু সভ্যতা বলা হয়।
- এটি অনেক সময় হরপ্পা সভ্যতা বা হরপ্পা সংস্কৃতির নামে পরিচিত।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কার করেন।
- সিন্ধু সভ্যতা প্রথম সনাক্ত করা হয় পাঞ্জাবে।
- ১৯২১ সালে পাঞ্জাবের হরপ্পা ও ১৯২২ সালে সিন্ধুর মহেঞ্জোদারো শহরে খননকার্যের মাধ্যমে সিন্ধু সভ্যতার নির্দশন উন্মোচিত হয়।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে পরিচিত।
- বিশেষত মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পাতে এই সভ্যতার সবচেয়ে বেশি নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ এবং ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়।

সূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৬.
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান (Hanging Gardens of Babylon) নির্মাণ করেছিলেন কে? 
  1. হাম্মুরাবি
  2. সাইরাস দ্য গ্রেট
  3. দারিয়াস
  4. নেবুচাদনেজার
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা (Babylonian Civilization):
- মেসোপটেমিয়ার টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে সুমেরীয় সভ্যতার পতনের পর ব্যবিলনীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- এটি মূলত দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার 'ব্যবিলন' শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।

• ভৌগোলিক অবস্থান:
- বর্তমান ইরাকের বাগদাদ শহরের দক্ষিণে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে ব্যাবিলন শহরটি অবস্থিত ছিল।

• কালক্রম: এটি প্রধানত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
১. পুরাতন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য: খ্রিস্টপূর্ব ১৮৯৪ – ১৫৯৫ অব্দ (বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরাবির সময়কাল)।
২. নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ – ৫৩৯ অব্দ (সম্রাট নেবুচাদনেজারের সময়কাল)। [ব্রিটানিকা]

• ঐতিহাসিক অর্জন ও অবদান:
- হাম্মুরাবির আইন সংকলন (Code of Hammurabi): বিশ্বের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ লিখিত আইনগুলোর একটি” ।
- ২৮২টি আইনের এই সংকলনটি একটি বিশাল পাথরের স্তম্ভে খোদাই করা ছিল, যার মূলনীতি ছিল "চোখের বদলে চোখ এবং দাঁতের বদলে দাঁত"।
- ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান (Hanging Gardens of Babylon): সম্রাট নেবুচাদনেজার তাঁর রানীর জন্য এটি নির্মাণ করেছিলেন। এটি প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি।

• জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত: ব্যবিলনীয়রা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ গণনায় পারদর্শী ছিল।
- তারা রাশিচক্রের (Zodiac) ১২টি চিহ্নের ধারণা প্রবর্তন করে এবং বর্ষপঞ্জি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• স্থাপত্য: তারা পোড়া ইটের ব্যবহার এবং খিলান ও গম্বুজ নির্মাণে দক্ষ ছিল। ব্যবিলনের 'ইশতার গেট' (Ishtar Gate) তাদের উন্নত স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন।

• সভ্যতার পতন :
-  খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যবিলন দখল করেন। এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যবিলনীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১,১৬৭.
মঙ্গোলীয় গোত্রের মানুষের গায়ের রং কেমন ছিল?
  1. কালো
  2. তামাটে
  3. হলদেটে
  4. সাদা
ব্যাখ্যা
মঙ্গোলীয়:
- মঙ্গোলীয় গোত্রের মানুষ আকারে বেঁটে, দেহ সুগঠিত, শক্ত চিবুক, দাঁড়ি-গোঁফ নেই বললেই চলে।
- মুখাকৃতি গোলাকার এবং গায়ের বর্ণ হলদেটে।
- তিব্বতীয়, চিনা, জাপানি এবং বর্মিদের সমগোত্রীয় এরা।
- তিব্বত এবং মঙ্গোলিয়া হচ্ছে- মেঙ্গালীয়দের আদি ভূমি।
- এরা উত্তর পূর্বের পাহাড়ি পথ ধরে ভারতে প্রবেশ করে।
- এক সময় এরা আর্যদের সাথে মিশে যায়।
- বর্তমানে এই গোষ্ঠীর লোকেরা হিমালয়ের পাদদেশে সিকিম, আলমোরা, গারহ্ওয়াল, ভুটান এবং আসামের পাহাড়ে বসবাস করছে।
- ভারতে মঙ্গোলীয় জাতির লোক হিসাবে গুর্খা, ভুটিয়া এবং খাসিয়াদের নির্দেশ করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৮.
হিব্রুদের বংশধর কারা?
  1. ক) গ্রীসের অধিবাসী
  2. খ) মিশরের অধিবাসী
  3. গ) ইসরাইলের অধিবাসী
  4. ঘ) রোমের অধিবাসী
ব্যাখ্যা
ইহুদিদের পূর্বপুরুষরা ছিলেন হিব্রু জাতির অন্তর্ভূক্ত।
- বাইবেলের পণ্ডিতরা ওল্ড টেস্টামেনে হিব্রু শব্দটি ব্যবহার করেন তাদের পিতৃপুরুষদের বংশধরদের মনোনীত করার জন্য  যেমন ইব্রাহিম, ইসহাক এবং জ্যাকব।
- খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষের দিকে ব্যাবিলনীয় নির্বাসন থেকে ফিরে না আসা পর্যন্ত এই লোকদের ইসরায়েল হিসাবে উল্লেখ করা হয়, সেই সময় থেকে তারা ইহুদি হিসাবে পরিচিত হয়ে ওঠে।

উৎস: ব্রিটানিকা
১,১৬৯.
কোন সভ্যতার মানুষরা নিজ কক্ষপথে আবর্তনরত পৃথিবীর বর্ণনা দেন?
  1. ফিনিশীয় সভ্যতা
  2. গ্রিক সভ্যতা
  3. পারস্য সভ্যতা
  4. চৈনিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
গ্রিক সভ্যতা:
- প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা, মাইসেনিয়ান সভ্যতার পরের সময়কাল।
- প্রাচীন গ্রিস তার উচ্চতায় এশিয়া মাইনর, দক্ষিণ ইতালি, সিসিলি এবং গ্রীক দ্বীপপুঞ্জের বসতি নিয়ে গঠিত।
- এটি শহর-রাজ্যে বিভক্ত ছিল-এথেন্স এবং স্পার্টা।
- গ্রিক সংস্কৃতি হেলেনীয় সংস্কৃতি নামে বেশি পরিচিত।
- সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানব সমাজের মূল্যবান সম্পদ।
- হোমারের মহাকাব্য 'ইলিয়ড' এবং ‘ওডিসি' মহাকাব্যের অপূর্ব নিদর্শন।
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্ৰ গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭০.
ব্যাবিলনীয় সভ্যতার প্রধান দেবতা ছিলো কে?
  1. ইশতার
  2. মারডুক
  3. হাম্বুরাবি
  4. নাগাল
ব্যাখ্যা
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে আমোরাইট নামক এক জাতি বসবাস করত।
- এরা এক সময় মেসোপটেমিয়ায় এসে নগর সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এদের এই সভ্যতাকে বলে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা।
- এ সভ্যতার পত্তন হয় খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে।
- আমোরাইট নেতা হাম্মুরাবী ছিলেন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।
- এই এ্যমোরাইট জাতির বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরাবী পৃথিবীর প্রথম আইন প্রণেতা বলে বিবেচিত।
- তারকা মণ্ডল, সূর্য ও রাশিচক্র সম্বন্ধে যথেষ্ট উৎসাহী ছিল এবং এ সম্বন্ধে যুক্তি সংগত ধারণাও লাভ করেছিল।
- জ্যোতিষীগণ এক ধরণের জলঘড়ি ও সূর্যঘড়ির আবিষ্কার ও ব্যবহার আয়ত্ন করেছিল।
- বর্ষপঞ্জিকাকে বছর, মাস ও দিনে বিভক্ত করে ব্যবহার করার কৌশলও তারা আবিষ্কার করেন।
- শিক্ষা, সংস্কৃতি, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা শাস্ত্রে তারা অনেক উন্নতি করতে পেরেছিল।
- বিশেষ করে আইনশাস্ত্রে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা চরম উৎকর্ষতা লাভ করেছিল।
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় ধর্মের প্রভাব দেখা যায়। প্রথমত, তারা বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসক ছিল।
- তাদের প্রধান দেবতার নাম 'মারডুক' আর প্রধান দেবী 'ইশতার'। 
- খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে অ্যাসিরিয়ানদের পরাজিত করে সামন্তরাজা নেবুচাঁদনেজার ব্যাবিলনকে কেন্দ্র করে নতুন একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- নেবুচাঁদনেজার পৃথিবীর সপ্ত আশ্চর্যের অন্যতম হিসেবে পরিচিত- 'ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান নির্মাণ করেন।

সূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭১.
ফিনিশীয়রা কতটি ব্যঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালা উদ্ভাবন করে?
  1. ক) ২১টি
  2. খ) ২২টি
  3. গ) ২৪টি
  4. ঘ) ৩২টি
ব্যাখ্যা
- সভ্যতার ইতিহাসে ফিনিশীয়দের অন্যতম অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন। ফিনিশীয়রা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালা উদ্ভাবন করে।
- তাদের বর্ণমালা থেকেই আধুনিক বর্ণমালার সূচনা ঘটে। গ্রিকরা ফিনিশীয় বর্ণমালায় স্বরবর্ণ যোগ করে একে পূর্ণতা দান করে।
- গ্রিকরা ফিনিশীয়দের নিকট থেকে কালি, কলম ও কাগজের ব্যবহার শিখে।
- ভূমধ্যসাগরের তীরে প্রাচীন লেবানন এবং সিরিয়া ও ফিলিস্তিন-ইসরাইলের কিছু অংশ জুড়ে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ বছর পূর্বে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
১,১৭২.
আদিম মানুষের সবচেয়ে বড়ো আবিষ্কার কোনটি?
  1. ক) পাথরের অস্ত্র
  2. খ) আগুন
  3. গ) কৃষিকাজ
  4. ঘ) পশু শিকার
ব্যাখ্যা
আদিম মানুষের সবচেয়ে বড়ো আবিষ্কার হচ্ছে - আগুন

- আগুনের আবিষ্কার হয় প্রাচীন প্রস্তর যুগে।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১ লক্ষ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১০ হাজার অব্দ পর্যন্ত সময়কে প্রাচীন প্রস্তর যুগ ধরা হয়।
- নব্য প্রস্তর যুগের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হলো চাকা এবং কৃষিকাজ।

(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক সমাজবিজ্ঞান : দ্বিতীয়পত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,১৭৩.
রোমান সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শন ‘কলোসিয়াম’ হলো -
  1. স্নানাগার
  2. নাট্যশালা
  3. বাগান
  4. মন্দির
ব্যাখ্যা
কলোসিয়াম:
- পৃথিবীর প্রাচীন সমৃদ্ধশালী সভ্যতাগুলোর মধ্যে রোমান সাম্রাজ্য অন্যতম।
- কলোসিয়াম হচ্ছে রোমানদের তৈরি এক বিশাল অ্যাম্ফিথিয়েটার বা নাট্যশালা।
- কালোসিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেসিয়ান (Vespasian) এর শাসনামলে এবং তার পুত্র টিটাস (Titus) ৮০ খ্রিস্টাব্দে এটি সম্পূর্ণ করেন।
- পরে, সম্রাট ডমিশিয়ান (Domitian) কিছু সংস্কার কাজ করেন।
- এটি প্রায় ৫০,০০০ দর্শক ধারণক্ষম ছিল।
- ইউনেস্কো ১৯৯০ সালে কলোসিয়ামকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

⇒ রোমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।

উৎস: i) Britannica.
ii) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৪.
কোন সভ্যতায় বাটখারা ব্যবহার শুরু করে?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. হিব্রু সভ্যতা
  3. ক্যালডীয় সভ্যতা
  4. চৈনিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।

⇒ সিন্ধু সভ্যতায় পরিমাপ পদ্ধতি:
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
- তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত।
- তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত।
- দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৫.
অ্যাজটেক সভ্যতা কে ধ্বংস করে?
  1. গ্রিকরা
  2. রোমানরা
  3. ফরাসিরা
  4. স্প্যানিশরা
ব্যাখ্যা
অ্যাজটেক সভ্যতা:
- উত্তর মেসোআমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- বর্তমান মেক্সিকো অঞ্চলে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- যার বিস্তৃতি ছিল উত্তর আমেরিকার বেশির ভাগ অংশজুড়ে।
- কৃষিকাজের মাধ্যমে আজটেক সভ্যতার প্রসার ঘটে।
- খ্রিস্টীয় ১২ শতকে এ সভ্যতার উৎপত্তি হয়েছিল।
- আজটেকের রাজধানী ছিল টেনোচিটিলান।
- টিনোচ ছিলেন আজটেকদের প্রথম রাজা।

উল্লেখ্য,
- সৃজনশীল ও উন্নত সংস্কৃতির ধারক হিসেবে প্রায় ৪৫০ বছর নিজেদের সভ্যতা টিকিয়ে রাখতে পেরেছিল আজটেকরা।
- আজটেক সাম্রাজ্যের পতন ঘটেছিল ১৫২১ খ্রিষ্টাব্দে স্প্যানিশদের দ্বারা।

উৎস: Britannica.
১,১৭৬.
বামিয়ান যুদ্ধ কোন দেশে সংঘটিত হয়?
  1. ক) মায়ানমার
  2. খ) আফগানিস্তান
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) নেপাল
ব্যাখ্যা

বামিয়ান আফগানিস্তানের একটি শহর। প্রথম ইঙ্গ আফগান যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৮৩৯-৪২ সাল পর্যন্ত। এই যুদ্ধে বামিয়ান শহর জড়িত ছিল।
উল্লেখ্য যে, প্রথম ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ আফগানিস্তান ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মধ্যে সংঘটিত হয়। এতে আফগান জয়লাভ করে। গ্রেট গেমের সময় সংগটিত সংঘর্ষের মধ্যে এটি অন্যতম প্রধান যুদ্ধ।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

১,১৭৭.
কোন সভ্যতাটি মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. হেলেনিস্টিক সভ্যতা
  2. ক্যালডীয় সভ্যতা
  3. অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  4. সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• সভ্যতা:
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হলো মেসোপটেমীয় সভ্যতা।
- বর্তমান ইরাকের ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫,০০০ বছর পূর্বে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

• মেসোপটেমীয়ায় মোট চারটি সভ্যতা গড়ে উঠে।এগুলো হলো:
- সুমেরীয় সভ্যতা
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
- অ্যাসেরীয় সভ্যতা
- ক্যালডীয় বা নব্য ব্যাবিলনীয় সভ্যতা।
- এদের মধ্যে সবার আগে গড়ে উঠেছিল সুমেরীয় সভ্যতা এবং সবার শেষে গড়ে উঠেছিল ক্যালডীয় সভ্যতা।

অন্যদিকে,
- গ্রিক সংস্কৃতি ও বাহিরের সংস্কৃতির সংমিশ্রণে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে হেলেনিস্টিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
১,১৭৮.
প্রাচীন গণতন্ত্রের সূচনা হয় কোন নগরী থেকে?
  1. স্পার্টা 
  2. ট্রয়
  3. কায়রো
  4. এথেন্স
ব্যাখ্যা

 গণতন্ত্রের সূচনা:
- ‘গণতন্ত্র’ পরিভাষাটি ইংরেজি ‘Democracy’ থেকে এসেছে।
- গ্রিক শব্দ Demos অর্থ হলো জনগণ আর Kritos অর্থ শাসনক্ষমতা বা কর্তৃত্ব।
- ব্যুত্পত্তিগত অর্থে গণতন্ত্র হলো জনগণের শাসন।
- খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকে সলোন (Solon) গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করেন।
- প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় গ্রিসের নগররাষ্ট্র এথেন্সে।
- গ্রিক সভ্যতার এথেন্স নগররাষ্ট্র ছিলো তখন গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীলতার ধারক।
- অ্যাথেন্সকে সাধারণত গণতন্ত্রের জন্মস্থান হিসাবে বিবেচনা করা হয়।

উল্লেখ্য,
- প্রাচীন গ্রীসের গণতান্ত্রিক ধারণার মূল উপাদান ছিল ৬টি।

উৎস: Britannica.

১,১৭৯.
মিশরীয় সভ্যতার প্রধান অবদান-
  1. ক) বর্ণমালা উদ্ভাবন
  2. খ) কৃষিকাজ
  3. গ) চিকিৎসাশাস্ত্রে
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদীর তীরে। মিশরীয় সভ্যতার প্রধান অবদান কৃষি কাজ (নীল নদে বাঁধ দিয়ে কৃষি কাজ করত)। সভ্যতায় মিশরীয়দের অবদান ছিল পিরামিড, লিখন পদ্ধতি ও জ্যোতির্বিদ্যাও।
১,১৮০.
ফিনিশীয়দের উদ্ভাবিত বর্ণমালায় কতটি ব্যঞ্জনবর্ণ ছিল?
  1. ২০টি 
  2. ২২টি 
  3. ২৪টি 
  4. ২৬টি
ব্যাখ্যা

ফিনিশীয়দের বর্ণমালায় ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণ ছিল।
------------
• ফিনিশীয় সভ্যতা (Phoenician Civilization):
- প্রাচীন ফিনিশীয় সভ্যতা মূলত লেবানন পর্বত ও ভূমধ্যসাগর এর মধ্যবর্তী উপকূলীয় অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- বর্তমানে এটি প্রধানত লেবানন, সিরিয়া এবং ইসরায়েল অঞ্চলের অংশ।
- ফিনিশীয়দের জন্য উর্বর জমি কম ছিল, তাই তাদের প্রধান অর্থনৈতিক কাজ ছিল সমুদ্র বাণিজ্য।
- তারা প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম দক্ষ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।

- ফিনিশীয় সভ্যতার প্রধান অবদানগুলো হলো:

• নৌচালনা ও বাণিজ্য:
- ফিনিশীয়রা অত্যন্ত দক্ষ নাবিক ছিল।
- তারা ধ্রুবতারা দেখে সমুদ্রপথ নির্ণয় করত।
- ধ্রুবতারাকে কখনো কখনো “Phoenician Star” বলা হতো।

• বর্ণমালার উদ্ভাবন:
- ফিনিশীয়রা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা তৈরি করেন।
- এটি ছিল আধুনিক বর্ণমালার ভিত্তি।
- পরে গ্রিকরা স্বরবর্ণ যোগ করে বর্ণমালাকে সম্পূর্ণ করেন।

• কারিগরি দক্ষতা:
- তারা মাটির পাত্র, কাপড় তৈরি ও রং এবং কাঁচ ও ধাতব দ্রব্য তৈরিতে পারদর্শী ছিল।

উৎস: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,১৮১.
মিশরীয় সভ্যতা কোনটিকে কেন্দ্র করে উঠেছিলো?
  1. ক) ইউফ্রেতিস নদী
  2. খ) জর্ডান নদী
  3. গ) আমুর নদী
  4. ঘ) নীলনদ
ব্যাখ্যা
- আফ্রিকা মহাদেশের উত্তর-পূর্বাংশে নীলনদের তীরে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫ অব্দে পারসিকদের হাতে মিশরীয়দের পতন ঘটে।
- গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস মিশরকে নীলনদের দান হিসেবে অভিহিত করেন।
- লিখন পদ্ধতি, বর্ণমালা ও কাগজ উদ্ভাবন, পিরামিড তৈরি, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিতশাস্ত্র প্রভৃতি ক্ষেত্রে মিশরীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদান বিদ্যমান।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেনী এবং মাধ্যমিক ইতিহাস: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)