বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

মোট প্রশ্ন১,১৮৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বৈশ্বিক ইতিহাস (সভ্যতা, প্রাচীন ও মধ্যযুগ ইত্যাদি)

PrepBank · পাতা ১০ / ১২ · ৯০১১,০০০ / ১,১৮৫

৯০১.
ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা হয় কাদের?
  1. আশেরীয়দের
  2. মিশোরীয়দের
  3. ব্য়াবিলনীয়দের
  4. ক্যালডিয়দের
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা:
- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মিশরীয় সভ্যতার যাত্রা শুরু হয়েছিল। 
- রাজা মেনেস মিশরের প্রথম রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। তিনি প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন।
- উচ্চ মিসরের রাজধানী ছিল থিবস (Thebes)। দক্ষিণ মিসরের মেক্ষিশ শহরে নতুন রাজধানী স্থাপন করা হয়।
- রাজা মেনেসের পর থেকে তিন হাজার বছর পর্যন্ত প্রাচীন মিসরে ৩১টি রাজবংশের ইতিহাস পাওয়া যায়।
- মিসরের 'ফারাও' বা সম্রাটের মধ্যে বিখ্যাত ছিলেন রাজা মেনেস, প্রথম আহমোজ, রাজা থুতমোস, সম্রাট ইখনাটন, তৃতীয় আমেনহোটেপ এবং প্রথম ও দ্বিতীয় র‍্যামেসিস।
- মিশরীয়দের বলা হয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা।
- সবচেয়ে বড় পিরামিড ফারাও খুফুর পিরামিড যার উচ্চতা ৪৮১ ফুট।
- সবচেয়ে বড় মন্দির কারনাক মন্দির।
- ভাস্কর্যের অধিকাংশ নিদর্শন দেখা যায় সমাধি, সৌধ ও মন্দিরের প্রবেশ পথে।
- মন্দিরের ভেতরের দেয়াল সাজানো হতো মূর্তি খোদাই করে। 
- মিশরীয় ভাস্কর্যের সবচেয়ে গৌরব 'স্ফীংস' তৈরিতে।
- এর দেহ ছিল সিংহের আর মাথা ছিল ফারাওয়ের। এর দ্বারা বুঝানো হতো ফারাও সিংহের মতো বলবান।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০২.
চাকা আবিষ্কার হয় কোন যুগে?
  1. মধ্য প্রস্তর যুগ
  2. তাম্র যুগ
  3. নব্য প্রস্তর যুগ
  4. প্রাচীন প্রস্তর যুগ
ব্যাখ্যা

নব্য প্রস্তর যুগ:
- 'নব্যপ্রস্তর' শব্দটি এসেছে ইংরেজি Neolithic প্রতিশব্দ থেকে।
- আনুমানিক ৮০০০-৩৫০০ খ্রিস্টপূর্ব অব্দের মধ্যে ও নিকট প্রাচ্যে নব্য প্রস্তরযুগের প্রথম বিকাশ ঘটে।
- অতঃপর ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল এবং অবশেষে খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে ইংল্যান্ডে এ যুগের সূচনা হয়।
- এ যুগে তাঁত বা বয়ন শিল্পের বিকাশ ঘটে।
- নব্য প্রস্তরযুগের গুরুত্বপূর্ণ একটি কীর্তি হল চাকার আবিষ্কার।
- চাকার আবিষ্কার, মৃৎশিল্প, তাঁতশিল্প, পরিবহন এবং যুদ্ধকৌশলে পরিবর্তন ঘটায়।
- কৃত্রিম পদ্ধতিতে আগুন জ্বালানোর কৌশল আয়ত্ত্ব এবং এর ব্যাপক ব্যবহার নব্য প্রস্তর যুগের অর্জন।
- নব্য প্রস্তরযুগে বিবাহ ও পরিবার ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।
- নব্য প্রস্তরযুগের শেষপর্যায়ে এসে সীমিত আকারে তামার ব্যবহার শুরু হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৩.
জাভা মানবের জীবাশ্ম কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
  1. চীন
  2. দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. চিলি
ব্যাখ্যা

জাভা মানব (Java Man):
- জাভা মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির প্রথম আবিষ্কৃত জীবাশ্ম।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৮৯১ সালে ওলন্দাজ (ডাচ) অ্যানাটমিস্ট এবং ভূতাত্ত্বিক ইউজিন ডুবোয়া (Eugene Dubois) ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের সোলো নদীর তীরে এই জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন।
- এটি ছিল ইউরোপের বাইরে আবিষ্কৃত প্রথম আদিম মানুষের জীবাশ্ম। ডুবোয়া এর নাম দিয়েছিলেন 'পিথেকানথ্রোপাস ইরেক্টাস' (Pithecanthropus erectus), যার অর্থ 'সোজা হয়ে দাঁড়ানো বানর-মানুষ'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- জাভা মানবের মাথার খুলি ছিল পুরু, কপাল ছিল নিচু এবং চোখের ওপরের হাড় (Brow ridge) ছিল বেশ চওড়া।
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ৯০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের চেয়ে ছোট কিন্তু ওরাংওটাং-এর চেয়ে বড়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

৯০৪.
হিব্রু সভ্যতা কোন ক্ষেত্রে অবদানের জন্যে প্রসিদ্ধ?
  1. নৌ বাণিজ্য
  2. ধর্ম সংস্কার
  3. কৃষিকাজ
  4. বর্ণমালা উদ্ভাবন
ব্যাখ্যা
হিব্রু সভ্যতা বর্তমান প্যালেস্টাইনে বিকশিত হয়েছিলো।
- হিব্রু সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো জেরুজালেম নগর।
- খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১৮০০ অব্দে হযরত ইব্রাহিম (আ.) নেতৃত্বে হিব্রু সভ্যতার সূচনা ঘটে।

বিশ্ব সভ্যতায় হিব্রুদের সর্বাধিক অবদান হলো ধর্মের ক্ষেত্রে
- হিব্রুরাই প্রথম একেশ্বরবাদী ধর্মের সূত্রপাত করে।
- পরবর্তীতে খ্রিস্ট ও ইসলাম ধর্ম এই একেশ্বরবাদী ধর্ম গোটা পৃথিবীতে প্রচার করে।

এছাড়া ডিউটোরোনোমিক কোড নামে আইন প্রণয়নের জন্যেও হিব্রু সভ্যতা বিখ্যাত।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং ইতিহাস : এসএসসি প্রোগ্রাম : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৯০৫.
'পোড়ামাটির সেনাবাহিনী' কোন দেশের প্রত্নবস্তু?
  1. ক) চীন
  2. খ) নেপাল
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) ওমান
ব্যাখ্যা
প্রত্নবস্তু:
- ২৪৬ এবং ২০৯  খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে নির্মিত।
- প্রথম কিন সম্রাটের সমাধীতে প্রতিষ্ঠিত হয় পোড়ামাটির মূর্তি।
- পাঞ্জাবি সৈন্যদের মূর্তিগুলির আকার ১.৭ মিটার (৫ ফুট ৮ ইঞ্চি) এবং ১.৯ মিটার (৬ ফুট ২ ইঞ্চি) এর মধ্যে রয়েছে; কমান্ডাররা সবাই মিলে ২ মি।
- ভাঙা সিরামিক পদার্থের নিম্ন অর্ধেক কঠিন পোড়ামাটির মৃত্তিকা তৈরি করা হয়েছিল, উপরের অর্ধেক ঠালা ছিল।
- টুকরা molds মধ্যে তৈরি করা হয় এবং তারপর কাদামাটি পেস্ট সঙ্গে একত্রিত।
- 'পোড়ামাটির সেনাবাহিনী' চীন দেশের প্রত্নবস্তু।

উৎস:national geographic.[link]
৯০৬.
‘অ্যাপোলো’ গ্রিকদের কীসের দেবতা ছিলেন?
  1. ক) প্রধান দেবতা
  2. খ) জ্ঞানের দেবতা
  3. গ) সাগরের দেবতা
  4. ঘ) সূর্য দেবতা
ব্যাখ্যা
- প্রাচীন গ্রিসের অধিবাসীরা বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা করতো। তাদের দেবদেবীর সংখ্যা ছিল বারোজন।
এদের মধ্যে:
- প্রধান দেবতা : জিউস
- সূর্য দেবতা : অ্যাপোলো
- সাগরের দেবতা : পোসিডন
- জ্ঞানের দেবী : অ্যাথেনা।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯০৭.
পাথরের বদলে তামার ব্যবহার প্রথম শুরু হয় -
  1. দক্ষিণ ভারতে
  2. উত্তর ভারতে
  3. মাদ্রাজ সংস্কৃতিতে
  4. পশ্চিম ভারতে
ব্যাখ্যা
তাম্রযুগ:
- নতুন প্রস্তর যুগের শেষদিকে ভারতের আদি মানবেরা ধাতুর ব্যবহার শিখে।
- নতুন পাথরের যুগে উন্নত ধরনের হাতিয়ার তৈরি হত। এইজন্য প্রয়োজন ছিল শক্ত পাথরের।
- প্রাগৈতিহাসিক যুগের শেষদিকে ভারতে ব্যাপকভাবে তামার ব্যবহার শুরু হয়।
- উত্তর ভারতে প্রথম পাথরের বদলে তামার ব্যবহার শুরু হয়।
- এ সময় তামা দিয়ে মূলত: অস্ত্র এবং সাধারণ পাত্র তৈরি করা হতো।
- উত্তর ভারতের প্রায় সর্বত্রই তামার তৈরি দ্রব্য-সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে।
- সবচেয়ে বেশি এ অঞ্চলে পাওয়া দ্রব্য সামগ্রীর মধ্যে কুঠার, তলোয়ার, হারপূণ, তীরের ফলা, বাটালি ইত্যাদির নাম করা যেতে পারে।
- তামা আবিষ্কারের বহুকাল পর মানুষ লোহার সন্ধান পায়।
- তামা ব্যবহারের যুগটিকে ইতিহাসে তাম্রযুগ বলা হয়। আর, লোহা ব্যবহারের যুগটি পরিচিত ছিল লৌহ যুগ নামে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯০৮.
‘ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয় -
  1. ব্যাবিলন সভ্যতা
  2. মিসরীয় সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. সিন্ধু সভ্যতা
ব্যাখ্যা

গ্রিক সভ্যতা: 
- অবস্থান দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের এজিয়ান সাগর তীরে; খ্রিস্টপূর্ব ১২০০–১৪৬ অব্দ পর্যন্ত।
- এথেন্সে গণতন্ত্রের সূচনা ঘটে।
- গ্রিক সভ্যতাকে ‘ওসেনিয়ান' (সাগরীয়) সভ্যতা বলা হয়। 
- অপরদিকে মিসর, ব্যাবিলন সভ্যতা ছিল নদীকেন্দ্রিক সভ্যতা।
- এ সভ্যতাকে ২টি ভাগে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। যথা: ১. হেলেনিক যুগ, ২. হেলেনিস্টিক যুগ।
- প্রধান শহর-রাষ্ট্র: এথেন্স, স্পার্টা, করিন্থ, থিবস। 
- হোমারের মহাকাব্য ‘ইলিয়াড’ ও ‘ওডিসি’তে গ্রিকদের বীরত্বের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯০৯.
প্রাচীন মিশরের লিখন পদ্ধতির নাম কী ছিলো?
  1. কিউনিফর্ম
  2. হায়ারোগ্লিফিক্স
  3. হিয়ারাটিক লিপি
  4. ডেমোটিক লিপি
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা: 
- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার সময়কাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ অব্দ।
- এ সময়কালে মিশরীয়গণ এক উন্নতমানের নগর সভ্যতা গড়ে তোলে।
- কৃষি, বাণিজ্য, শিল্পকলা, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে অগ্রগতি প্রাচীন মিশরীয়দেরকে সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় স্থান দিয়েছে।
- মিশরীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল- রাজ পরিবারের সদস্যবর্গ, পুরোহিত, অভিজাত, লিপিকর, ব্যবসায়ী, শিল্পী, কৃষক ও ভূমিদাস। 
- মিশরীয়দের মধ্যে এক-বিবাহ প্রথা প্রচলিত ছিল।
- এমনকি আইনসঙ্গতভাবে ফারাওদের (রাজাদের) একাধিক বিয়ে করার অধিকার ছিল না।
- মিশরীয় সমাজ ছিল মাতৃতান্ত্রিক এবং মেয়েরা উচ্চ সামাজিক মর্যাদা ভোগ করত।
- প্রাচীন মিশরের রাজাদের বলা হতো 'ফারাও'।
- সূর্য দেবতার সন্তান হিসেবে তিনি ছিলেন আমানরে।
- ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে রাজা মেনেস প্রথম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতা।

স্থাপত্য ও ভাস্কর্য: 
- মিশরীয়দের বলা হয় ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা।
- ফারাও, অভিজাত আর ধনীদের জন্য তৈরি হলো বড় বড় দালানকোঠা।
- সবচেয়ে বড় পিরামিড ফারাও খুফুর পিরামিড যার উচ্চতা ৪৮১ ফুট।
- মিশরীয় ভাস্কর্যের সবচেয়ে গৌরব 'স্ফীংস' তৈরিতে। বহুখণ্ড পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হতো এ ভাস্কর্য। এর দেহ ছিল সিংহের আর মাথা ছিল ফারাওয়ের। এর দ্বারা বুঝানো হতো ফারাও সিংহের মতো বলবান।

লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন:  
- মিশরীয়রা প্রথম লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করে। তাদের লিখন পদ্ধতির নাম হায়ারোগ্লিফিস্ক। তারা এমনি ২৪টি ব্যঞ্জনধ্বনি বা চিহ্ন আবিষ্কার করে। তারা প্যাপিরাসের পাতায় লিখত, ক্রীট, ফিনিশিয়া, লিভিয়া সভ্যতা এ লিপির ব্যবহার করে।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১০.
মিশরীয় সভ্যতার নিদর্শন কোনটি?
  1. প্যাপিরাস
  2. গ্রেট ওয়াল
  3. কিউনিফর্ম
  4. পার্থেনন
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতার নিদর্শন - প্যাপিরাস।

মিশরীয় সভ্যতা:

- প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৩২০০ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত সময়ে নীলনদের অববাহিকায় একটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
- এ সময় থেকে মিশর প্রাচীন সভ্যতায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে শুরু করে।
- একই সময়ে নিম্ন ও উচ্চ মিশরকে একত্রিত করে 'নারমার' বা 'মেনেস' একাধারে মিশরের প্রথম নরপতি এবং পুরোহিত হন।
- তিনি প্রথম ফারাও-এর মর্যাদাও লাভ করেন।
- এরপর থেকে ফারওদের অধীনে মিশর প্রাচীন বিশ্বসভ্যতার অগ্রগতিতে একের পর এক উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে শুরু করে।

⇒ লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার:
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত, এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।
- মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের মন্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে।
- পরে এই কাগজের উপর তারা লিখতে শুরু করে।
- গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় 'প্যাপিরাস'। যে শব্দ থেকে ইংরেজি 'পেপার' শব্দের উৎপত্তি। এখানে উল্লেখ্য নেপোলিয়ান বোনাপার্টের মিশর জয়ের সময় একটি পাথর আবিষ্কৃত হয়, যা রসেটা স্টোন নামে পরিচিত।
- এতে গ্রিক এবং 'হায়ারোগ্লিফিক' ভাষায় অনেক লেখা ছিল; যা থেকে প্রাচীন মিশরের অনেক তথ্য জানা যায়।

অন্যদিকে,
- কিউনিফর্ম সুমেরীয়দের তৈরি প্রাচীন লিপি। এই লিপির আকৃতি কীলক বা ছোট্ট তীরের মতো হওয়ার কারণে এদের কিউনিফর্ম বা কীলক লিপি বলা হয়। এটি প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় ব্যবহার করা হতো। হামুরাবীর আইনবিধি এই লিখন পদ্ধতিতে লিপিবদ্ধ করা হয়। কিউনিফর্ম বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন ও চিত্রের সমন্বয়ে লেখার পদ্ধতি।
- পার্থেনন ও গ্রেট ওয়াল যথাক্রমে গ্রিস ও চীনের বিখ্যাত ঐতিহাসিক স্থান।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১১.
আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি কোনটি?
  1. স্বর্ণ
  2. ব্রোঞ্জ
  3. তামা
  4. লোহা
ব্যাখ্যা
লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিক সভ্যতা গড়ে ওঠার কারণে লোহাকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি বলা হয়।

লৌহযুগ:
- খ্রিষ্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- এশিয়া মাইনরে বসবাসকারী হিট্রাইটদের মধ্যে সর্বপ্রথম লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লৌহের ব্যবহার শুরু করা ছিল মানবসভ্যতার বিকাশে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
- লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহার সভ্যতার সামাজিক ভিত্তিকে অনেক মজবুত এবং এর পরিধিকে আরও প্রসারিত করে।
- গৃহনির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী, আসবাবপত্র, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কুঠার, লাঙলের ফলা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে সভ্যতার দ্রুত উত্থান ঘটে।
- উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রশক্তির প্রয়োগ আরও সহজ হয়।
- ফলে শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।
- এসব কারণেই লোহাকে আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি বলা হয়।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৯১২.
জার্মানির ইহুদি জনগোষ্ঠী হলোকাস্টের শিকার হয়েছিল -
  1. ক) প্রথম বিশ্বযুদ্ধে
  2. খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে
  3. গ) আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে
  4. ঘ) আফিম যুদ্ধে
ব্যাখ্যা
হলোকাস্ট (Holocaust):
- জার্মানির নাজি সরকার ১৯৪১-৪৫ সময় সীমায় নিজ দেশের দখলিকৃত অঞ্চলে ইহুদি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হত্যা কনসেনটেশন ক্যাম্পে নিয়ে রাখা, গ্যাস চেম্বারে রেখে হত্যা ইত্যাদি নানা ঘটনা চিহ্নিত হয়ে আছে ‘হলোকাস্ট' হিসেবে।
- হলোকাস্টের ঘটনায় প্রায় ৬০ লাখ ইহুদিকে হত্যা ও ডিপোর্টেশনের জন্য জার্মানরা সারা বিশ্বের কাছে তাদের সম্মান হারিয়েছে।
- ইহুদি হত্যার দায়ভার আজও জার্মানি বহন করে চলেছে।
- ওই সময় ইউরোপে যে ইহুদি জনগোষ্ঠী বসবাস করতো, তার তিনভাগের দুই ভাগই হলোকাস্টের শিকার হয়েছিল।
- অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে জার্মানি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন যেসব অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল, সেইসব জায়গায় 'কনসেনট্রেশন ক্যাম্প' তৈরি করে ইহুদি জনগোষ্ঠীতে সেখানে স্থানান্তর করেছিল।
- যেমন, বলা যেতে পারে Auschwitz, Belzec, Chelmno, Majdanek, Sobibor, Treblinka ক্যাম্পের কথা।
- এইসব স্থাপনাগুলো আজকের পোল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে অবস্থিত।
- আজও সেই ক্যাম্পগুলো সেভাবে রেখে দেয়া হয়েছে স্মৃতি চিহ্ন হিসেবে।

সূত্র: বিশ্বরাজনীতির ১০০ বছর, তারেক শামসুর রেহমান।
৯১৩.
মহাকাব্য ‘ইলিয়ড’ আর ‘ওডিসি’ এর রচিয়তা কে ছিলেন?
  1. ক) হিরোডোটাস
  2. খ) হোমার
  3. গ) অ্যারিস্টটল
  4. ঘ) সক্রেটিস
ব্যাখ্যা
• ইউরোপে মূলত একটি পার্বত্যময় দ্বীপ রাষ্ট্র।
- এর তিনদিক এড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা বেষ্টিত।
- এ সভ্যতার মূল কেন্দ্র ছিল গ্রিক উপদ্বীপ এবং প্রধান শহর ছিল এথেন্স।
- ইউরোপ মহাদেশের এ অঞ্চলটিতেই প্রথম সভ্যতার উন্মেষ ঘটে ।
- আনুমানিক ১৩০০ থেকে ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে গ্রিক সভ্যতার সূচনা হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ ও ৫ম অব্দে (শতকে) গ্রিক সভ্যতার পূর্ণ বিকাশ ঘটে।
- তারা ৩৩৮ খৃস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত সভ্যতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গ্রিসের পূর্ব নাম ছিল হেলাস।
- পরবর্তীকালে রোমানরা এ দেশের নামকরণ করেন গ্রিস।
- তাই গ্রিক সভ্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে ইউরোপীয় সভ্যতা বোঝা যায় না।
- গ্রিসের মহাকবি হোমার হাজার হাজার বছরের পুরানো কাহিনী নিয়ে রচনা করেছেন মহাকাব্য ‘ইলিয়ড’ আর ‘ওডিসি’।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৪.
প্রাচীন মিশরীয়দের চিত্রলিপির নাম কী?
  1. সুমেরীয় লিপি
  2. ব্রাহ্মী লিপি
  3. হায়ারোগ্লিফিক লিপি
  4. চারু লিপি
ব্যাখ্যা
মিশরীয় লিপি: 
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখনপদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পবিত্র অক্ষর।
- মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের কাণ্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে।
- গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় 'প্যাপিরাস'।
- এই শব্দ থেকে ইংরেজি পেপার শব্দের উৎপত্তি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯১৫.
'জাস্টিনিয়ান' কোন সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন?
  1. ইনকা
  2. বাইজেন্টাইন
  3. মেসোপটেমীয়
  4. গ্রিক
ব্যাখ্যা
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
- বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী নারীদের অধিকারের স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম শাসকদের একজন ছিলেন থিওডোরা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৯১৬.
রোমান সভ্যতার সমুদ্রের দেবতার নাম কী?
  1. নেপচুন
  2. জুপিটার
  3. ভেনাস
  4. মিনার্ভা
ব্যাখ্যা
রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় ও প্রথম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- রোমানরা ইতালি ও ইতালির পশ্চিম দিকে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিনদের একটি ক্ষুদ্র জাতি থেকে সুবিশাল সাম্রাজ্যের বিকাশ হয়, মধ্য ইটালির ল্যাটিয়ামে রোম ছিল তাদের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য-সংস্কৃতিতে গ্রিক সভ্যতার প্রভাব পরিলক্ষিত হয়.
- সে যুগে রোমান সাহিত্য চর্চা ছিল ব্যাপক। মলিয়ে পুটাস এবং টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন। ফলে শাসনকার্যে ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র পাকাপোক্ত হয়ে বসতে পারেনি।
- রোমানদের নিকট আকাশের দেবতা জুপিটার হিসেবে খ্যাত।
- গ্রিক দেবতা এথেনার জায়গায় রোমীয় দেবতা মিনার্ভা স্থান দখল করে।
- রোমের প্রেমের দেবতা ছিলেন ভেনাস।
- বাতাস এবং সমুদ্রের দেবতা নেপচুন রোমানদের নিকট খুবই জনপ্রিয় ও শক্তিশালী ছিল।
- প্রাচীন সভ্যতায় রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব হলো রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- রোমান দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন (সিভিল ও ক্রিমিনাল'ল) খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতেই সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৭.
প্রাচীনকালে হিব্রু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল বর্তমান কোন অঞ্চলকে কেন্দ্র করে?
  1. ক) ইরান
  2. খ) মিশর
  3. গ) প্যালেস্টাইন
  4. ঘ) তুরস্ক
ব্যাখ্যা
• হিব্রুদের পরিচয়:
- বর্তমান প্যালেস্টাইন অঞ্চল ঘিরে প্রাচীনকালে যে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সেটি হিব্রু সভ্যতা নামে পরিচিত।
- হিব্রু সভ্যতার মূল অবদান হলো ধর্মীয় ক্ষেত্রে।
- খ্রিস্ট ধর্ম ও ইসলাম ধর্ম সমগ্র বিশ্বজুড়ে এক ঈশ্বরের আরাধনার যে কথা প্রচার করেছে তার প্রথম সূচনা ঘটিয়েছে হিব্রুরা।
- প্যালেস্টাইনের জেরুজালেম নগরীকে কেন্দ্র করে হিব্রু সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- প্যালেস্টাইনের পূর্বদিকে রয়েছে জর্ডান, পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর, উত্তরে লেবানন ও দক্ষিণে সৌদি আরব।
- হিব্রুদের উৎপত্তির ইতিহাস খুব স্পষ্ট নয়। তারা নৃতাত্ত্বিকভাবে একটি নতুন জাতি নয়।
- হিব্রুদের নামের উৎপত্তি সম্পর্কেও সন্দেহ রয়েছে।
- জানা যায় যে হিব্রুদের শত্রু তাদের ‘খাবিরু’ অথবা 'হাবিরু' বলে অভিহিত করত।
- সম্ভবত এই নামটি অপভ্রংশ হয়ে হিব্রু হয়েছে।
- মনে করা হয় যে হিব্রুগণ ছিল অভিবাসী বা যাযাবর জনসাধারণ, যাদের আদি বাসভূমি ছিল আরবের মরুভূমি এবং বর্তমান ইসরাইলের অধিবাসীগণ হলো হিব্রুদের বংশধর।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯১৮.
নিম্নের কোন দেশে প্রাচীন নগরী 'পালমিরা' অবস্থিত?
  1. মেক্সিকো
  2. সিরিয়া
  3. ব্রাজিল
  4. ইরাক
ব্যাখ্যা
পালমিরা:
- বিশ্বের অন্যতম সবচেয়ে প্রাচীন ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের শহর পালমিরা।
- পালমিরা বর্তমান সিরিয়ার হমস প্রদেশে অবস্থিত।

সিরিয়া:
- আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্র।
- সিরিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল বরাবর অবস্থিত।
- আয়তন: ৭১,৪৯৮ বর্গ মাইল (১৮৫,১৮০ বর্গ কিমি)।
- রাজধানী: দামেস্ক।
- ভাষা: আরবি (অফিসিয়াল), কুর্দি, আর্মেনিয়ান।
- ধর্ম: ইসলাম (প্রধানত সুন্নি), এছাড়াও খ্রিস্টান।
- মুদ্রা: সিরিয়ান পাউন্ড।
- দেশটি ১৯৬২ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।

সূত্র - Britannica.com
৯১৯.
"কিউনিফর্ম"  লিপি কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. সুমেরিয় সভ্যতা
  2. অ্যাসেরিয় সভ্যতা
  3. ক্যালিডিয় সভ্যতা
  4. রোমান সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সুমেরিয়রা  “কিউনিফর্ম”  লিপি উদ্ভাবন করেন।

•সুমেরিয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমিয়ার সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হচ্ছে সুমেরিয় সভ্যতা।
- তারা উন্নত সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।
-“কিউনিফর্ম”  লিপি উদ্ভাবন করেছিল ।
- তারা চাকা আবিষ্কার করেছিল।
-লুনার ক্যালেন্ডার বা চন্দ্রপঞ্জিকা আবিষ্কার করেছিল।

• অ্যাসেরিয় সভ্যতা:
- অ্যাসেরিয়রা প্রথম বৃত্তকে ৩৬০ তে বিভক্ত করেছিলো।
- পৃথিবীকে প্রথম অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশে বিভক্ত করেছিলেন।

ক্যালিডিয় সভ্যতা:
- ক্যালিডিয় সভ্যতার স্থপতি ছিলেন নেবুচাদ নেজার।
- নেবুচাদ নেজার ব্যাবিলনের শূন্যউদ্যান নির্মাণ করেন।
- তারা সর্বপ্রথম সপ্তাহকে ৭ দিনে বিভক্ত করেন।
- তারা সর্বপ্রথম দিনকে ১২ জোড়া ঘণ্টায় বিভক্ত করেন।

•রোমান সভ্যতা:
- ইতালির রোম শহরকে কেন্দ্র করে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছে।
- রোমের বিখ্যাত সম্রাট ছিল জুলিয়াস সিজার,তার বিখ্যাত উক্তি, “Veni,Vidi,Vici”(এলাম, দেখলাম, জয় করলাম।
- রোমান সভ্যতার সবচেয়ে জনপ্রিয় মতবাদ ছিল স্টয়িকবাদ(অভিযোগ না করে বা আপনার আবেগ না দেখিয়ে ব্যথা বা সমস্যা অনুভব করা)।
- এই সভ্যতার বিখ্যাত কবি ছিলেন ভার্জিল তার বিখ্যাত মহাকাব্য ইনিড।

উৎস:ব্রিটানিকা ।
৯২০.
পানিপথের ২য় যুদ্ধ সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৫২৬
  2. খ) ১৫৩৬
  3. গ) ১৫৫৬
  4. ঘ) ১৫৪৬
ব্যাখ্যা
পানিপথের যুদ্ধ:
- পানিপথের প্রথম যুদ্ধ হয় ১৫২৬ সালে সম্রাট বাবর ও ইব্রাহিম লোদীর মধ্যে।
- পানিপথের ২য় যুদ্ধ হয় ১৫৫৬ সালে আকবরের সেনাপতি বৈরাম খাঁ এবং হিমুর মধ্যে।
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ হয় ১৭৬১ সালে আহমদ শাহ আবদালী এবং  মারাঠাদের মধ্যে।

উৎস: একাদশ দ্বাদশ শ্রেনীর ইতিহাস বই। 
৯২১.
‘হেলেনিস্টিক সভ্যতার’ কেন্দ্রভূমি ছিলো কোনটি?
  1. ক) রোম
  2. খ) কনস্টান্টিনোপল
  3. গ) আলেকজান্দ্রিয়া
  4. ঘ) ব্যাবিলন
ব্যাখ্যা
আলেকজান্ডার কর্তৃক উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়া দখলের পর গ্রিক সংস্কৃতি ও স্থানীয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণে যে ভিন্ন সংস্কৃতি বিকশিত হয় তা ‘হেলেনিস্টিক সভ্যতা’ নামে পরিচিত।
এই সভ্যতা কেন্দ্রভূমি ছিলো প্রাচীন মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া। এজন্যে এই সভ্যতা অনেক ক্ষেত্রে ‘আলেকজান্দ্রিয়া সভ্যতা’ নামেও পরিচিত।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস)
৯২২.
ধাতুর যুগের প্রথম ধাতু কোনটি?
  1. লোহা
  2. তামা
  3. সোনা
  4. রুপা
ব্যাখ্যা

ধাতুর যুগ:
- নতুন প্রস্তর যুগের শেষদিকে ভারতের আদি মানবেরা ধাতুর ব্যবহার শিখে।
- নতুন পাথরের যুগে উন্নত ধরনের হাতিয়ার তৈরি হত। এইজন্য প্রয়োজন ছিল শক্ত পাথরের। এই পাথর খুঁজতে গিয়েই এক সময় মানুষ তামার সন্ধান পায়।

উল্লেখ্য,
- স্বর্ণের সন্ধান পেয়েছিল মানুষ প্রথমেই। এর উজ্জ্বলতা তাদের আকৃষ্টও করেছিল। কিন্তু, অভিজ্ঞতা দিয়ে তারা দেখেছে অস্ত্র ও ব্যবহার্য দ্রব্য তৈরিতে স্বর্ণের চেয়ে তামা বেশি কার্যকর। এভাবেই, প্রাগৈতিহাসিক যুগের শেষদিকে ভারতে ব্যাপকভাবে তামার ব্যবহার শুরু হয়। তবে, অঞ্চলভেদে তামার ব্যবহারের তারতম্য ছিল।

⇒ প্রত্নতত্ত্ববিদগণ মনে করেন, উত্তর ভারতে প্রথম পাথরের বদলে তামার ব্যবহার শুরু হয়। এ সময় তামা দিয়ে মূলত: অস্ত্র এবং সাধারণ পাত্র তৈরি করা হতো। উত্তর ভারতের প্রায় সর্বত্রই তামার তৈরি দ্রব্য-সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। তবে, সবচেয়ে বেশি এ অঞ্চলে পাওয়া দ্রব্য সামগ্রীর মধ্যে কুঠার, তলোয়ার, হারপূণ, তীরের ফলা, বাটালি ইত্যাদির নাম করা যেতে পারে।
- তামা ব্যবহারের যুগটিকে ইতিহাসে তাম্রযুগ বলা হয়। 

⇒ তামা আবিষ্কারের বহুকাল পর মানুষ লোহার সন্ধান পায়। লোহা ব্যবহারের যুগটি পরিচিত ছিল লৌহ যুগ নামে।
- এই দুই যুগের মাঝ পর্বে আরেক ধরনের ধাতু ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ধাতুটি হচ্ছে ব্রোঞ্জ। তামা এবং টিন মিশিয়ে এই ব্রোঞ্জ তৈরি করা হতো। এ যুগে মানুষ ব্রোঞ্জ তৈরির কায়দা উদ্ভাবন করতে পেরেছিল।
- লোহা আবিষ্কারের পর তামার ব্যবহার কমে যায়।
- পণ্ডিতগণ মনে করেন, আর্যরা ভারতে প্রথম লোহার ব্যবহার শুরু করেছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯২৩.
হেলেনিস্টিক সভ্যতা কোথায় বিকশিত হয়েছিলো?
  1. আলেকজান্দ্রিয়া
  2. এথেন্স
  3. রোম
  4. ইউক্যাটান উপদ্বীপ
ব্যাখ্যা
- আলেকজান্ডার কর্তৃক উত্তর আফ্রিকা ও পশ্চিম এশিয়া দখলের পর গ্রিক সংস্কৃতি ও স্থানীয় সংস্কৃতির সংমিশ্রণে যে সভ্যতা বিকশিত হয় তা ‘হেলেনিস্টিক সভ্যতা’ নামে পরিচিত।
- এই সভ্যতার কেন্দ্রভূমি ছিলো প্রাচীন মিশরের আলেকজান্দ্রিয়া। এজন্যে এই সভ্যতা অনেক ক্ষেত্রে ‘আলেকজান্দ্রিয়া সভ্যতা’ নামেও পরিচিত।
অন্যদিকে,
- রোম নগরীকে কেন্দ্র করে রোমান সভ্যতা, এথেন্সকে কেন্দ্র করে হেলেনিক সভ্যতা এবং ইউক্যাটান উপদ্বীপে মেসোআমেরিকান সভ্যতা বিকশিত হয়।
(তথ্যসূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৯২৪.
নিম্নের কোন সভ্যতা মধ্য আমেরিকা অঞ্চলে বিকশিত হয় নি?
  1. অ্যাজটেক সভ্যতা
  2. ওলমেক সভ্যতা
  3. ইনকা সভ্যতা
  4. মায়া সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোআমেরিকা হলো বর্তমান মেক্সিকো এবং মধ্য আামেরিকা নিয়ে গঠিত অঞ্চল। ১৬ শতকে স্পেনিশদের আর্বিভাবের পূর্বে মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চল মেসোআমেরিকা হিসেবে অভিহিত।

মেসোআমেরিকা অঞ্চলে স্থানীয় আদিবাসীদের দ্বারা বেশ কয়েকটি বিখ্যাত সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো। এগুলোর মধ্যে ওলমেক সভ্যতা, মায়া সভ্যতা ও অ্যাজটেক সভ্যতা প্রধান।
এদের মধ্যে ওলমেক সভ্যতা হলো প্রথম মেসোআমেরিকান সভ্যতা এবং অ্যাজটেক সভ্যতা হলো সর্বশেষ মেসোআমেরিকান সভ্যতা।

অন্যদিকে,
ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে বিকশিত হয়েছিলো।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৯২৫.
নিচের কোনটি মেসোপটেমীয় সভ্যতার অংশ নয়?
  1. ব্যাবিলনীয়
  2. এসেরীয়
  3. ক্যালডীয়
  4. গ্রীক
ব্যাখ্যা
- গ্রীক সভ্যতা মেসোপটেমীয় সভ্যতার অংশ নয়। 

• মেসোপটেমীয় সভ্যতা: 

- মূলত সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, এসেরীয় এবং ক্যালডীয় সভ্যতার সম্মিলিত রূপকেই আমরা জেনে থাকি মেসোপটেমীয় সভ্যতা হিসেবে।
- এই সভ্যতা শুরু হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৫০০০ অব্দের দিকে।
- বর্তমান ইরাক থেকে শুরু করে ফার্টাইল ক্রিসেটের প্রায় পুরোটা ছিল এই সভ্যতার বিস্তার।
- এই সভ্যতার বিকাশ যে অঞ্চলে ঘটেছিল তার উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি, দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর,
- পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।
- উত্তর ও পূর্বদিকে উচ্চ পার্বত্যাঞ্চল মেসোপটেমিয়াকে প্রাকৃতিক প্রাচীরের সুবিধা দিয়েছে।
- আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সুমেরীয়, আক্কাদীয়, আমোরাইট, ক্যাসাইট, এসেরীয় এবং ক্যালডীয় জাতিগোষ্ঠী মিলে প্রাচীনকালে এই ভূখণ্ডে একটি উন্নত সভ্যতা গড়ে তুলেছিল।
- কৃষির জন্য সেচ আর যাতায়াতের ক্ষেত্রে চাকার আবিষ্কার ছিল এই সভ্যতার জন্য যুগান্তকারী অর্জন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
৯২৬.
'নেফারতিতি' প্রাচীন কোন সভ্যতার রানী ছিলেন?
  1. গ্রিক
  2. রোমান
  3. মিশর
  4. ব্যবলনীয়
ব্যাখ্যা
নেফারতিতি:
- নেফারতিতি ছিলেন প্রাচীন মিশরের সবচেয়ে রহস্যময়, ক্ষমতাবান ও জনপ্রিয় রানী।
- তাঁর জন্ম আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ১৩৭০ অব্দে।
- নেফারতিতি নামের অর্থ ‘সবচেয়ে সুন্দর মানুষটি এসেছে’। নামের মতোই সুন্দর ছিলেন তিনি।
- তিনি ছিলেন মিসরের বিখ্যাত ফারাও আখেনাতেনের রাজমহিষী।
- নেফারতিতির জন্ম আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৭০ অব্দে।

উৎস: Britannica.
৯২৭.
ট্রাফালগারের যুদ্ধে কোন দেশ জয়লাভ করে?
  1. ফ্রান্স
  2. স্পেন
  3. জার্মানি
  4. ইংল্যান্ড
ব্যাখ্যা
 ট্রাফালগার স্কয়ার:
- ট্রাফালগার স্কয়ার ইংল্যান্ডের সেন্ট্রাল লন্ডনে অবস্থিত।
- এটি একটি সাধারণ জনগণের মিলনস্থল।
- ১৮০৫ সালে ইংল্যান্ড ফ্রান্স ও স্পেনের সম্মিলিত বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করে।
- ট্রাফালগারের যুদ্ধ জয়কে স্মরণীয় করে রাখতে লন্ডনের কেন্দ্রস্থল একটি চত্ত্বরের নামকরণ করা হয় ট্রাফালগার স্কয়ার।

উৎস: Britannica.
৯২৮.
রাশিয়ার প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন-
  1. ক) গর্ভাচেব
  2. খ) রুশো
  3. গ) স্ট্যালিন
  4. ঘ) লেনিন
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়নকারী রাশিয়া।
• ১৯২২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী যোসেফ স্ট্যালিন রাশিয়ার প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।
উৎসঃ রাশিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট।

৯২৯.
নিচের কোন সভ্যতাটি পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক?
  1. গ্রিক সভ্যতা
  2. মিশরীয় সভ্যতা
  3. সিন্ধু সভ্যতা
  4. পারস্য সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারোতে এবং পাঞ্জাবের হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।

উল্লেখ্য,
⇒ পরিমাপ পদ্ধতি:
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
- তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত।
- তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত।
- দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩০.
'মাচ্চু পিচ্চু' কোন প্রাচীন সভ্যতার স্থাপত্য নিদর্শন?
  1. মায়া
  2. আজটেক
  3. ইনকা
  4. রোমান
ব্যাখ্যা

 • ইনকা সভ্যতা:
- ইনকা সভ্যতা দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিলো ইনকা সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় মাচু পিচুতে।
- সভ্যতার উত্থান-পতনকাল হচ্ছে ১৪০০-১৫৭২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
- ইনকা সভ্যতার স্থপতি মানকো কাপেন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৯৩১.
কোন সভ্যতায় পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবন হয়?
  1. গ্রিক সভ্যতায়
  2. মিশরীয় সভ্যতায়
  3. চৈনিক সভ্যতায়
  4. সিন্ধু সভ্যতায়
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের মহেঞ্জোদারোতে এবং পাঞ্জাবের হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।

⇒ পরিমাপ পদ্ধতি:
- সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসিরা দ্রব্যের ওজন ও পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
- তাদের এই পরিমাপ পদ্ধতির আবিষ্কার সভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে বিবেচিত।
- তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা মাপের ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত।
- দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩২.
কনস্টান্টিনোপল কোন সাম্রাজ্যের সাথে সম্পর্কিত?
  1. রোমান সাম্রাজ্য
  2. গ্রিক সাম্রাজ্য
  3. মঙ্গোল সাম্রাজ্য
  4. হ্যান সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
রোমান সাম্রাজ্য:
- কনস্টান্টিনোপল আধুনিক তুরস্কের একটি প্রাচীন শহর যা এখন ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- প্রথম দিকে ছিল এটা একটি বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- ক্রমে গ্রিক সভ্যতার পতন ৪৭৬ (খ্রি.) ঘটলে এই রোম সমগ্র ইতালি ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করে এক বিশাল রোমান সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী কনস্টান্টিনোপল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই নামকরণ করা হয়েছিল সম্রাট কনস্টানটাইনের নামানুসারে।

উৎস: i) History.com
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৩.
কাদের প্রতিরোধ করার জন্য চীনের মহাপ্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল?
  1. পারস্য
  2. হুন
  3. রুশ
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
চীনের মহাপ্রাচীর:
- চৌ যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে।
- এ যুগের লেখা অনেক গ্রন্থ পাওয়া গেছে।
- চৌ বংশের রাজা শি-হুয়াং তি-এর রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল 'চীনের মহাপ্রাচীর'।
- হুনদের আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য এই প্রাচীর তৈরি করা হয়েছিল
- দেড় হাজর মাইল দীর্ঘ এই প্রাচীরের উচ্চতা ছিল গড়ে ২৪ ফুট।
- এই প্রাচীরের উপর দিয়ে ৬ জন অশ্বারোহী পাশাপাশি চলতে পারত।
- চীনের মহাপ্রাচীর বিশ্বের আশ্চর্য বস্তুর একটি।

উৎস: Britannica.
৯৩৪.
লৌহ যুগের সূচনা আনুমানিক কখন শুরু হয়?
  1. ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
  2. ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
  3. ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
  4. ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
ব্যাখ্যা

লৌহ যুগ (Iron Age):
- ব্রোঞ্জ যুগের সমাপ্তির পর মানুষ যখন লোহার আকরিক গলিয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি তৈরি করতে শিখল, তখন থেকেই লৌহ যুগের সূচনা হয়।
- আনুমানিক ১,২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই যুগের বিস্তার শুরু হয়।

• প্রযুক্তিগত বিপ্লব:
- ব্রোঞ্জের তুলনায় লোহা ছিল অনেক বেশি সহজলভ্য এবং শক্ত। 
- লোহার তৈরি কুঠার ও লাঙল কৃষিকাজে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনে,
- যার ফলে মানুষ কঠিন মাটি চাষ করা এবং গহিন জঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষিজমি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়।

• সামরিক শক্তি ও সাম্রাজ্য বিস্তার:
- লোহার তৈরি তলোয়ার, বর্শা এবং বর্ম সৈন্যদের অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে।
- এই যুগে হিট্টাইট (Hittites) এবং পরবর্তীকালে অ্যাসিরীয় ও পারস্য সাম্রাজ্যের মতো বিশাল শক্তিগুলোর উত্থান ঘটে।

নগরায়ন ও সমাজ:
- লোহার ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বড় বড় নগর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
- এই সময় বাণিজ্যের প্রসার ঘটে এবং সমাজে শ্রম বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

• লিপি ও সংস্কৃতি:
- অধিকাংশ উন্নত লিখন পদ্ধতি এবং সাহিত্যিক ঐতিহ্যের বিকাশ এই যুগে ঘটে।
- মুদ্রার প্রচলন এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নও এই সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট (Britannica.com) এবং হিস্টোরি ডট কম।[লিঙ্ক]

৯৩৫.
কোন সভ্যতায় সর্বপ্রথম জ্যামিতি আলোচনা শুরু হয়?
  1. মেসোপটেমীয় সভ্যতা 
  2. চীন সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতার অবদান: 
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর। সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ। ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে।
- মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।

এছাড়াও,
- খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে। ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৩৬.
ইনকা সভ্যতার রাজধানী ছিল-
  1. ভিলকাবাম্বা
  2. কুজকো 
  3. মাচু পিচু
  4. লিমা
ব্যাখ্যা

• ইনকা সভ্যতা:
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার রাজধানী ছিল কুজকো।
- এই সভ্যতার স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ভাষা: কেচুয়া
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- তাদের স্থাপত্য, সেচ ব্যবস্থা, প্রাসাদ, মন্দির ও দুর্গের অবশেষ আজও আন্দিজে দেখা যায়।
- ১৫৩২ সালে স্প্যানিশ বিজয়ীদের দ্বারা ইনকা সাম্রাজ্যের পতন ঘটে

উৎস: ব্রিটানিকা।

৯৩৭.
সিন্ধু সভ্যতা কোন যুগের সভ্যতা?
  1. লোহা যুগ
  2. প্রস্তর যুগ
  3. মধ্যযুগ
  4. ব্রোঞ্জ যুগ
ব্যাখ্যা

সিন্ধু সভ্যতা ব্রোঞ্জ যুগের সভ্যতা। 
-------------
• সিন্ধু সভ্যতা:
- প্রাচীন সিন্ধু সভ্যতা (Indus Valley Civilization) ভারতের উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন নগরভিত্তিক সভ্যতা।
- এটি মূলত সিন্ধু নদ এবং তার অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল।
- সভ্যতার সময়কাল আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০০–১৩০০ অব্দ, যা ব্রোঞ্জ যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- সিন্ধু সভ্যতার প্রধান নগরগুলো হলো হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো।  
- এই নগরগুলোতে উন্নত নগর পরিকল্পনা লক্ষ্য করা যায়, যেখানে পাকা রাস্তা, দোতলা-তিনতলা বাড়ি এবং প্রতিটি বাড়িতে শৌচাগার, গোসলখানা ও কূপ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- এই সভ্যতার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর ছিল, তবে বাণিজ্যও ছিল অত্যন্ত উন্নত।

- সিন্ধু সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- 
• নগর পরিকল্পনা, যেখানে পাকা রাস্তা ও সুসংগঠিত জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে বাড়িগুলো নির্মাণ করা হতো।
• এছাড়া এই সভ্যতায় দ্রব্যের ওজন মাপার জন্য বাটখারা এবং দৈর্ঘ্য মাপার জন্য স্কেল ব্যবহার করা হতো।

- এই সভ্যতার আরেকটি উল্লেখযোগ্য অবদান হলো সিলমোহর।
- সিলমোহর পাথর বা হাড়ের তৈরি হতো এবং বাণিজ্য ও প্রশাসনে ব্যবহার করা হতো।
- সিলমোহরের মাধ্যমে তারা প্রশাসনিক স্বাক্ষর এবং বাণিজ্য চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করত।

উৎস: Britannica ও ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৯৩৮.
ঐতিহাসিক 'পেত্রা নগরী' এর গোড়াপত্তন করে কারা?
  1. ক) সুমেরীয়
  2. খ) নাবাতাইন
  3. গ) কাসাইট
  4. ঘ) ক্যালডীয়
ব্যাখ্যা
- নাবাতাইন ছিল আরবের একটি জাতিগোষ্ঠী।
- তারা শক্তিশালী নাবাতাইন রাজ্য এর গোড়াপত্তন করে যা খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দী থেকে ১০৬ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বর্তমান জর্ডান অঞ্চলে বিকাশ লাভ করেছিল।
- পেত্রা নগরী ছিল প্রাচীন এই নাবাতাইন রাজ্যের রাজধানী। 
- পেত্রা নগরী হলো বিশ্বের নতুন সপ্তম আশ্চর্য এর একটি। 
 
 
The Nabatean Kingdom was a powerful political entity which flourished in the region of modern-day Jordan between the 4th century BCE and 106 CE and is best known today for the ruins of its capital city of Petra. Although it is clear that a wealthy community was thriving in the immediate vicinity of Petra by 312 BCE (attested to by the Greek expedition mounted against it), scholars usually date the Nabatean Kingdom from 168 BCE, the date of their first known king, to 106 CE when it was annexed by the Roman Empire under Trajan (98-117 CE).
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা 
৯৩৯.
আফ্রিদি উপজাতি কোন দেশে বাস করে?
  1. ক) আফগানিস্তান
  2. খ) অস্ট্রেলিয়া
  3. গ) পাকিস্তান
  4. ঘ) উজবেকিস্তান
ব্যাখ্যা
- আফ্রিদি স্পিন ঘর রেঞ্জের পূর্বাঞ্চল থেকে উত্তর পাকিস্তান পর্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসকারী পশতুন উপজাতি।
- আফ্রিদি এবং ভারতের মুঘল রাজবংশের সৈন্যদের মধ্যে ১৬ এবং ১৭ শতকে প্রায়শই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
- আফ্রিদিদের সাথে ব্রিটিশদের মুখোমুখি প্রথম অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধের (1839-42) সময় শুরু হয়েছিল, বিশেষত যখন জেনারেল জর্জ পোলক কাবুলে যাত্রা করার সময় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন।
- ১৮৯৩ সালে খাইবার অঞ্চলের আফ্রিদিরা ডুরান্ড লাইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণে আসে, যা আফগানিস্তান এবং ব্রিটিশ ভারতের মধ্যে উপজাতীয় অঞ্চলকে বিভক্ত করেছিল।
- ১৯৩০-এর দশকে ভারতীয় কংগ্রেস পার্টি আফ্রিদিকে ব্রিটিশ বিরোধী লাল শার্ট আন্দোলনের জন্য সমর্থন তালিকাভুক্ত করে, যা প্যান-ইসলামিজম এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদের সংমিশ্রণ।
- স্বাধীনতার সাথে সাথে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে আফ্রিদির ভূমি পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয়, যা পরবর্তীতে একটি স্বাধীন পাখতুনিস্তান বা পশতুন রাষ্ট্রের জন্য আফগান-সমর্থিত আন্দোলনের সম্মুখীন হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯৪০.
রোমান সাম্রাজ্য এর সময়কাল ছিল -
  1. ক) ৭২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৪৯৬ খ্রিষ্টাব্দ
  2. খ) ২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৩২৫ খ্রিষ্টাব্দ
  3. গ) ২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দ
  4. ঘ) ৪২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৪৫৬ খ্রিষ্টাব্দ
ব্যাখ্যা
- রোমান সাম্রাজ্য এর সময়কাল: ২৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দ - ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দ 
- প্রাচীন রোম নগরকে কেন্দ্র করে রোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রথম রোমান সম্রাট ছিলেন - অগাস্টাস (Augustus)

সোর্স: ব্রিটানিকা।
৯৪১.
পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা কোনটি?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
  3. চৈনিক সভ্যতা
  4. গ্রিক সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- এ সভ্যতাকে চারটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়-
• সুমেরীয়।
• ব্যাবিলনীয়।
• অ্যাসেরীয়।
• ক্যালেডীয়।
- Mesopotamia মানে হলো দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা 'মেসোপটেমীয় সভ্যতা'।
- ফোরাত ও দজলা নদীর মাঝখানে গড়ে ওঠা এই সভ্যতার নামকরণ হয়েছে গ্রিক শব্দে।
- ওই সময় উরুক নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর ছিল। এ শব্দ থেকেই ইরাকের নাম রাখা হয়।
- বর্তমান ইরাকের বেশির ভাগ অংশ এবং সিরিয়ার কিছু অংশ একসময় মেসোপটেমীয় সভ্যতারই
অংশ ছিল।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০ সালের দিকে এ অঞ্চল পার্সিয়ানদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরে রোমানদের দখলে যায়। মুসলিম শাসনামলে এ অঞ্চল ইরাক নামে পরিচিতি পায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৯৪২.
কোন সভ্যতার আইনকে 'প্রতিশোধমূলক আইন' বলা হয়?
  1. ক) হিব্রু সভ্যতা
  2. খ) রোমান সভ্যতা
  3. গ) ক্যালডীয় সভ্যতা
  4. ঘ) সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সুমেরীয়দের প্রতিশোধমূলক আইন:
- সাধারণভাবে সুমেরীয়দের আইনকে বলা হয় 'প্রতিশোধমূলক আইন'। 
অর্থাৎ চোখের বদলে চোখ, হাতের বদলে হাত ইত্যাদি। 
- সুমেরীয়দের আইনের মূল বিষয় ছিল- 
• প্রথমত- অপরাধীকে তার কৃত অপরাধের জন্য তদ্রুপ শাস্তি দেয়া। 
• দ্বিতীয়ত- একধরণের বিচার আদালত বিদ্যমান ছিল, যেখানে বাদী বিবাদী উভয়কেই হাজির করা হতো। 
• তৃতীয়ত- ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদার প্রতি লক্ষ্য রাখা হতো। 

- বিশেষ করে সামরিক বাহিনীর বিচারকার্য কঠোর ছিল। 
- অথচ সামরিক বাহিনীতে একমাত্র অভিজাতদেরই অংশগ্রহণ করার সুযোগ ছিল। 
- অন্যান্য সমাজের মতো সুমেরীয় আইনও গড়ে ওঠেছিল তাদের সামাজিক বিধি ব্যবস্থার মধ্যদিয়েই। 
- সুমেরীয়দের বিখ্যাত সম্রাট 'ডুঙি' প্রথম আইন সংকলন করেন। 
- সুমেরীদের আইন ব্যবস্থা পরবর্তী সমসাময়িক সভ্যতাগুলির উপর প্রভাব বিস্তার করে ছিল। 
- সুমেরীয় আইনের মূল অধ্যায় ছিল- 
ক. প্রতিশোধমূলক আইন,
খ. আইনে অসমতা এবং
গ. আকষ্মিক ও ইচ্ছাকৃত হত্যার স্বল্প পার্থক্য। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৩.
'ওরাকল বোন' (Oracle Bones) কোন সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত?
  1. ইজিয়ান সভ্যতা
  2. ক্যালডীয় সভ্যতা
  3. চীন সভ্যতা
  4. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

চীন সভ্যতা:
- চীনের তিনটি অঞ্চলে প্রাচীন চৈনিক সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- প্রথমটি হোয়াং হো নদীর তীরে, দ্বিতীয়টি ইয়াং জে কিয়াং নদীর তীরে আর তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের ভূখণ্ডে।
- চীনের এই প্রাচীন সভ্যতা সৃষ্টি হয় শাং রাজাদের ও চৌ রাজাদের যুগে।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দে এখানে সভ্যতার উন্মেষ ঘটেছিল।
- চীনের আদি মানুষ 'পিকিং মানুষ' নামে পরিচিত।
- চীনবাসীরা হোয়াং-হো ও ইয়াংসি নদীর দুটি পাড়েই বসবাস করত। 
- তাদের লিখন পদ্ধতির নাম আইডিও গ্রাফ। 

⇒ 'ওরাকল বোন' (Oracle Bones) চীনা সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত।
- 'ওরাকল বোন' মূলত প্রাচীন চীনা শাং সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে সম্পর্কিত।
- এই হাড়গুলোর উপর ভবিষ্যদ্বাণীমূলক লেখা খোদাই করা হতো যা প্রাচীন চীনা লেখার প্রাচীনতম রূপ হিসেবে পরিচিত। 
- ওরাকল হাড়টি ১০০ বছরেরও বেশি আগে চীনে আবিষ্কৃত হয়েছিল। 
- ওরাকল হাড়ের উপর লেখা হল চীনা লেখার প্রথম রূপ।
- এই হাড়গুলি তখনকার সময়ের সামাজিক, ধর্মীয় ও প্রশাসনিক জীবন সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে, যেমন rulers-দের জীবন, যুদ্ধ, কৃষি, আবহাওয়া, এবং এমনকি রাজকীয় দাঁতের ব্যথার কারণও। 
 
উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) EBSCO.
iii) BBC.

৯৪৪.
কোন চুক্তির মাধ্যমে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়?
  1. ক) প্রথম ভার্সাই চুক্তি
  2. খ) দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি
  3. গ) প্যারিস চুক্তি
  4. ঘ) বার্লিন চুক্তি
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি:
- বিধ্বংসী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- স্থান: ফ্রান্সের ভার্সাই নগরী।
- পক্ষসমূহ: মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান) এবং জার্মানি।
- এই চুক্তির জন্য জার্মানি ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসান হয়
- চুক্তির খসড়ার মূল নকশা করেন চারজন নেতা যারা ইতিহাসে বিগ ফোর হিসেবে খ্যাত। 
- এরা হলেন বৃটেনের ডেভিড লয়েড জর্জ, ফ্রান্সের জর্জেস ক্ল্যামেনকু, যুক্তরাষ্ট্রের উড্রো উইলসন এবং ইতালির ভিটোরিও অরল্যান্ডো। 
- এই চুক্তিতে জার্মানিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। 

উৎস: National Geographic Society.
৯৪৫.
স্যার মর্টিমার হুইলার এর মতে সিন্ধু সভ্যতা শুরু হয়েছিল -
  1. ২৯৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  2. ২৭৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  3. ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে
  4. ৩৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
ব্যাখ্যা
সিন্ধু সভ্যতা:
- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- স্যার জন মার্শালের মতে সিন্ধু সভ্যতার সবচেয়ে গৌরবের সময় ছিল খ্রিস্টপূর্ব ৩২৫০ থেকে ২৭৫০ অব্দের মধ্যে।
- ঐতিহাসিক আইভার রিজনার সিন্ধু সভ্যতার উদ্ভবকাল মনে করেন ৩৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ। 
- প্রত্নতত্ত্ববিদ স্যার মর্টিমার হুইলারের মতে, সিন্ধু সভ্যতা শুরু হয়েছিল ২৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- এটি উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা হলেও এর বিস্তৃতি ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে এই সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
- পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৪৬.
কোন সভ্যতায় দুই চাকা বিশিষ্ট 'রথ' ব্যবহার শুরু হয়েছিল?
  1. সুমেরীয় সভ্যতা
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  3. ক্যালেডীয় সভ্যতা
  4. মিশরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
• সুমেরীয় সভ্যতা (Sumerian Civilization):
- মেসোপটেমীয়া অঞ্চলে সবচেয়ে প্রাচীন যে সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল, তার নাম সুমেরীয় সভ্যতা।
- বর্তমানে ইরাকের টাইগ্রীস ও ইউফ্রেটিস (তৎকালীন দজলা ও ফোরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর স্থানে সুমেরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন ঘটে।
- ‘চাকা’ আবিষ্কার – সুমেরীয়রা প্রথম চাকার ব্যবহার শুরু করে।
- তাদের কৃষকরা প্রথম দুই চাকা বিশিষ্ট 'রথ' (Chariot) ব্যবহার শুরু করেছিল।
- উন্নত সেচ ব্যবস্থা – টাইগ্রিস ও ইউফ্রিটিস নদীর পানি ব্যবহার করে কৃষির উন্নতির জন্য তারা উন্নত সেচ ব্যবস্থার উদ্ভাবন করেছিলো ।

এছাড়াও,
- তারা বিশ্বের প্রথম মহাকাব্য হিসাবে বিবেচিত “গিলগামেশের মহাকাব্য” (Epic of Gilgamesh) রচনা করেছিলেন।
- জলঘড়ি ও চন্দ্রপঞ্জিকা আবিষ্কারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন সুমেরীয়রা।
- সুমেরীয়রা বহু ঈশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিল। তাদের অনেক দেবতা ছিল। প্রধান দবতা ‘নাগাল’।
- ২২৩৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে লুগালজাগেসি (King Lugalzagesi) আক্কাডীয়ান রাজা ‘সারগন’ এর নিকট পরাজিত হলে সুমেরীয় সাম্রাজ্যের অবসান হয়। 

উৎস: Britannica & History.com.
৯৪৭.
বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য কোন কোন অঞ্চলের উপর বিস্তৃত ছিল?
  1. ইতালি, গ্রীস, তুরস্ক ও উত্তর আফ্রিকা
  2. ভারত, চীন ও জাপান
  3. জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন
  4. রাশিয়া, মিশর ও পারস্য
ব্যাখ্যা

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র -  Britannica.com

৯৪৮.
ইরানি কমান্ডার কাশেম সুলাইমানি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ড্রোন-
  1. ক) ইউএস বি ২
  2. খ) এফ ১১
  3. গ) ইউএসডি-২
  4. ঘ) এমকিউ রিপার ৯
ব্যাখ্যা
গত ৩ জানুয়ারী ২০২০ ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরের নিকটে মার্কিন ড্রোন বিমান এমকিউ ৯ রিপার থেকে ছোড়া হেলফায়ার-২ ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় নিহত হন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আল কুদস বাহিনীর কমান্ডার কাশেম সুলাইমানি। কাশেম সুলাইানি ১৯৯৮ সাল থেকে ইরানের আল কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল। কাশেম সুলাইমানিকে ইরানের দ্বিতীয় শীর্ষ ক্ষমতাধর ব্যক্তি বিবেচনা করা হতো। (সূত্রঃ দৈনিক যুগান্তর)
৯৪৯.
কোনটি বস্তুগত সংস্কৃতির উদাহরণ?
  1. লাঙলের পরিবর্তে ট্রাক্টর চালানো
  2. ঘর থেকে বের হবার সময় ডান পা আগে দেওয়া
  3. লোক সংস্কৃতির বদলে পপ গান শোনা
  4. সালামের পরিবর্তে হ্যালো বলা
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- সংস্কৃতি বলতে আমরা সাধারণত সমাজের মানুষের জীবন-যাপনের ধারাকে বুঝে থাকি।
- সংস্কৃতি মানুষের জীবনধারার প্রতিফলন।
- আমাদের আচার-আচরণ, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, রুচি, ব্যবহার্য বস্তুগত উপাদানসমূহ ইত্যাদিই সংস্কৃতি। 
- সংস্কৃতি হলো আমাদের জীবন-প্রণালি।
- সংস্কৃতি মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে: বস্তুগত ও অবস্তুগত।

বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।
- সামাজিক পরিবর্তনের রেশ ধরে সভ্যতার উন্নয়নের ফলে সংস্কৃতির এসব উপাদানের মধ্যেও এসেছে পরিবর্তন।
- যেমন আগে মানুষ লাঙল, কাস্তে, মাটির হাঁড়ি, ঘরবাড়ি, লুঙ্গি, শাড়ি ইত্যাদি ব্যবহার করতো কিন্তু বর্তমানে কলের লাঙল, ধানকাটার মেশিন, স্টিলের হাড়ি পাতিল ইত্যাদি ব্যবহার করে থাকে।

অন্যদিকে -
অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন- চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫০.
পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন কারা?
  1. চীনারা
  2. ভারতীয়রা
  3. গ্রিকরা
  4. রোমানরা
ব্যাখ্যা
গ্রিকদের অবদান:
- গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞান চর্চা শুরু করে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দে।
- পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অংকন করেন গ্রিক বিজ্ঞানিরা।
- তারাই প্রথম প্রমাণ করেন যে, পৃথিবী একটি গ্রহ এবং তা নিজ কক্ষপথে আবর্তিত হয়।
- গ্রিক জ্যোতির্বিদরা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের কারণ নির্ণয় করতে সক্ষম হন।
- চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই, বজ্র ও বিদ্যুৎ জিউসের ক্রোধের কারণে নয় প্রাকৃতিক কারণে ঘটে।
- এই সত্য তারাই প্রথম আবিষ্কার করেন।
- জ্যামিতি বিষয়ে পণ্ডিত ইউক্লিড পদার্থবিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন।
- বিখ্যাত গণিতবিদ পিথাগোরাস, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটসের যথেষ্ট খ্যাতি ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি, উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫১.
সৌর পঞ্জিকা কোন সভ্যতার আবিষ্কার?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. রোমান সভ্যতা
  3. গ্রিক সভ্যতা
  4. ক্যালেডীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতা ছিল কৃষিনির্ভর।
- সে কারণে নীল নদের প্লাবন, নাব্যতা, পানি প্রবাহের মাপ জোয়ারভাটা ইত্যাদি ছাড়াও জমির মাপ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল।
- এসবের সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্র ও অংক শাস্ত্রের ছিল গভীর যোগাযোগ।
- ফলে এ দুটি বিদ্যা তারা আয়ত্ত করেছিল প্রয়োজনের তাগিদে।
- তারা অংক শাস্ত্রের দুটি শাখা- জ্যামিতি এবং পাটিগণিতের প্রচলন করে।
- মিশরীয় সভ্যতার মানুষ যোগ, বিয়োগ ও ভাগের ব্যবহার জানত।

⇒ খ্রিস্টপূর্ব ৪২০০ অব্দে তারা পৃথিবীতে প্রথম সৌর পঞ্জিকা আবিষ্কার করে।
- ৩৬৫ দিনে বছর এ হিসাবের আবিষ্কারকও তারা।
- প্রাচীন মিশরের অধিবাসীরা সময় নির্ধারণের জন্য সূর্য ঘড়ি, ছায়াঘড়ি, জলঘড়ি আবিষ্কার করে।
- ধর্মের কারণে মিশরীয়রা বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী ছিল ।
- চিকিৎসাশাস্ত্রেও প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভ করেছিল।
- চিকিৎসা শাস্ত্রে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ‘মেটেরিয়া মেডিকা' বা ঔষুধের তালিকা প্রণয়নে সক্ষম হয়।
- মিশরীয়রা দর্শন, সাহিত্য চর্চাও করত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৫২.
'অ্যাজটেক সভ্যতা' কোন দেশে গড়ে উঠেছিল?
  1. পেরু
  2. মেক্সিকো
  3. চিলি
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা

• অ্যাজটেক সভ্যতা: 
- ১৫১৯ সালের দিকে মধ্য মেক্সিকোতে অ্যাজটেক সভ্যতার এক সমৃদ্ধ নগরের সন্ধান পায়।
- প্রথম বসতি গড়েছিল আজলটান অঞ্চলে। 
- জায়গাটি ছিল মেক্সিকোর উত্তরে কিংবা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও। 
- সভ্যতা বিকাশের গোড়ার দিকে আজটেকরা ছিল যাযাবর।

উল্লেখ্য, 
- মায়া সভ্যতা গড়ে ওঠে মধ্য আমেরিকায়।
- ইনকা সভ্যতা গড়ে ওঠে  পেরুতে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা,  নবম- দশম শ্রেণি।

৯৫৩.
'কিউনিফর্ম' লিখন পদ্ধতির আবিস্কার করেন কারা?
  1. মিশরীয়রা
  2. সুমেরীয়রা
  3. চৈনিকরা
  4. ব্যবিলনীয়রা
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা:
- 'কিউনিফর্ম' লিখন পদ্ধতির আবিস্কার করেন সুমেরীয়রা।
- সুমেরীয় সভ্যতার অন্যতম কীর্তি ছিল একধরনের লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন।
- এই পদ্ধতি ছিল প্রথমতঃ চিত্রলিপি এবং পরবর্তীতে তা শব্দলিপিতে রূপান্তরিত হয়। এই লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' নামে পরিচিত।
- সুমেরের বিখ্যাত শহর নিপ্পুরে এ কিউনিফর্ম (Cuneiform) চিত্রলিপির প্রায় চার হাজার মাটির চাকতি পাওয়া গেছে।
- এসকল কিউনিফর্ম বর্ণভিত্তিক নয়, বরং একে বলা যেতে পারে অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি।

এছাড়াও,
- সুমেরীয়রা বিদ্যাশিক্ষায় উৎকর্ষ সাধন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- যেমন, সুমেরীয়রা 'গিলগামেশ' নামক মহাকাব্য রচনা করেছিল।
- ইউরুকের কিংবদন্তী রাজা গিলগামেশকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল এই বিখ্যাত 'গলগামেশ' নামক মহাকাব্য।
- ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই মহাকাব্য রচিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

উৎস: i) ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৫৪.
ত্রিপিটক কোন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মগ্রন্থ?
  1. ক) ইহুদি
  2. খ) হিন্দু
  3. গ) বৌদ্ধ
  4. ঘ) শিখ
ব্যাখ্যা
বৌদ্ধধর্ম
• বৌদ্ধধর্ম বিশ্বের প্রাচীনতম ধর্মসমূহের অন্যতম। সিদ্ধার্থ গৌতম এর প্রবর্তক।
• উপাসনালয় - বৌদ্ধ ধর্মের উপাসনালয় মঠ নামে পরিচিত।  
• পবিত্র স্থান - বুদ্ধ গয়া।
• বৌদ্ধধর্মের ধর্মগ্রন্থ - ত্রিপিটক

অন্যদিকে,
• ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ - হিব্রু বাইবেল (তাওরাত)।
• হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ - বেদ।
• শিখদের ধর্মগ্রন্থ - গ্রন্থ সাহেব (আদি গ্রন্থ)।

তথ্যসূত্র:- ইতিহাস প্রথম পত্র, বিএ, বিএসএস; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৯৫৫.
ওয়াটার’লু যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি ছিলেন-
  1. ক) রডারিক ফার্দিনান্ড
  2. খ) সিন ফ্রে
  3. গ) আর্থার ওয়েলেসলি
  4. ঘ) অ্যাডমিরাল নেলসন
ব্যাখ্যা
১৮১৫ সালের ১৮ জুন বেলজিয়ামের ওয়াটার লু নামক স্থানে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধ ‘ওয়াটারলু যুদ্ধ' নামে পরিচিত।
এই যুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাপতি প্রথম ডিউক অব ওয়েলিংটন আর্থার ওয়েলেসলি ফ্রান্সের সম্রাট নেপােলিয়ান বােনাপোর্টকে পরাজিত করেন।
পরবর্তীতে নেপােলিয়ানকে সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়। এই দ্বীপেই ১৮২১ সালে নেপােলিয়ান মারা যান।
উৎসঃ history.com
৯৫৬.
জাপানের সামরিক বাহিনী পার্ল হারবার আক্রমণ করে কত তারিখ?
  1. ৫ ডিসেম্বর ১৯৪১ সালে
  2. ৬ ডিসেম্বর ১৯৪১ সালে
  3. ৭ ডিসেম্বর ১৯৪১ সালে
  4. ৮ ডিসেম্বর ১৯৪১ সালে
ব্যাখ্যা
পার্ল হারবার আক্রমণ:

- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ পার্ল হারবার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় নৌঘাঁটি।
- ঘাঁটিটি বানানো হয় ১৯০৮ সালে।
- এরপর ১৯৪০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান নৌঘাঁটি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে স্থানান্তর করা হয়।
- কৌশলগত দিক দিয়ে এই ঘাঁটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক এলাকা।
- যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় দুই হাজার মাইল এবং জাপান থেকে প্রায় চার হাজার মাইলে দূরে অবস্থিত ছিল এই নৌঘাঁটি।
- ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রশান্ত মহাসাগরের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হারবারে অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটিতে আক্রমণ করে বসে জাপানের সামরিক বাহিনী।
- জাপানের এই আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে যায়।
- জাপানের এই অতর্কিত ও ধ্বংসাত্মক হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বযুদ্ধে উদাসীন থাকা যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে অংশ নেয় সক্রিয়ভাবে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে জাপান ছিল আগ্রাসি একটা দেশ। চীনের সঙ্গে পরপর দুটি যুদ্ধজয়ের পর রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধজয়ে জাপান আরও বেশি আগ্রাসি হয়ে ওঠে।
- এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জয়লাভ করায় জাপান আরও সাম্রাজ্যবাদী হয়ে ওঠে।
- ১৯৩১ সালে চীনের মাঞ্চুরিয়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে জাপান তাদের আধিপত্য বিস্তার শুরু করে।

তথ্যসূত্র - দৈনিক প্রথম আলো, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২।
৯৫৭.
কোন যুদ্ধ চলাকালে বেলফোর ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) আফিম যুদ্ধ
  2. খ) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
  3. গ) শীতল যুদ্ধ
  4. ঘ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
ব্যাখ্যা
১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বৃটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব স্যার আর্থার বেলফোর প্রখ্যাত ব্রিটিশ-ইহুদী লর্ড রথচাইল্ডের কাছে প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে যে চিঠি লিখেছেন সেটাই ইতিহাসে বেলফোর ঘোষণা নামে খ্যাত।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।
৯৫৮.
'Falkland war' was fought between -
  1. ক) France and Armenia
  2. খ) Italy and Germany
  3. গ) Argentina and Türkiye
  4. ঘ) United Kingdom and Argentina
ব্যাখ্যা
ফকল্যান্ড যুদ্ধ যুক্তরাজ্য ও আজের্ন্টিনা মধ্যে সংঘটিত হয়েছিলো?

• ফকল্যান্ড যুদ্ধ:

- যুদ্ধ সংঘটিত হয়- ২ এপ্রিল, ১৯৮২ সালে।
- শেষ হয়- ১৪ জুন, ১৯৮২ সালে।
- পক্ষসমুহ: যুক্তরাজ্য ও আজের্ন্টিনা।
- যুদ্ধ সংঘটরেন স্থান- পকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ  দ্বীপ।
- যুদ্ধের ফলাফল- যুক্তরাজ্য বিজয়ী ও ফকল্যান্ড সহ কয়েকটি দ্বীপাঞ্চলে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়।

- ২ এপ্রিল, ১৯৮২ সালে আর্জেন্টিনার  তৎকালাীন সামরিক সরকার দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ, দক্ষিণ জর্জিয়া ও দক্ষিণ স্যান্ডইচ দ্বীপে আক্রমণ করে দখল করে নেয়।
- ব্রিটিশ তৎকালাীন প্রধানমন্ত্রী আজেন্টিনার উপর সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেন।
- সকল নৌযুদ্ধে হেরে আর্জেন্টিনা ১৪ জুন, ১৯৮২ সালে আত্মসর্মপনে সম্মত হয় । এর ফলে ঐসকল দ্বীপে আবার ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ১৯৮৩ সালে আজের্ন্টিনায় সামরিক সরকার ক্ষমতা হারায়।

তথ্যসূত্র: Britannica & History.com
৯৫৯.
কোন সভ্যতার উদ্ভাবিত লিখন পদ্ধতিকে 'পবিত্র অক্ষর' বলা হয়?
  1. মিশরীয়
  2. ফিনিশীয়
  3. ক্যালেডীয়
  4. গ্রীক
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার
- প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে। প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর

সূত্র- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৯৬০.
কোন চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপের “Thirty years’ war” এর সমাপ্তি ঘটে?
  1. ভারসাই চুক্তি, ১৯১৯
  2. ওয়েস্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি, ১৬৪৮
  3. প্যারিস চুক্তি, ১৭৮৩
  4. লুজান চুক্তি, ১৯২৩
ব্যাখ্যা
Thirty years war:
- ইউরোপে ধর্মকেন্দ্রিক যুদ্ধের সর্বশেষ উদাহরণ ছিলো ত্রিশ বছরব্যাপী যুদ্ধ।
- প্রোটেস্টান্ট জার্মানির উপর অস্ট্রিয়ান হ্যাপসবার্গের-এর প্রভাব অক্ষুন্ন রাখা, ডেনমার্কের রাজার উচ্চভিলাষ, বাল্টিক অঞ্চলে সুইডেনের একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার এবং হ্যাপসবার্গকে পরাজিত করে ফ্রান্সকে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শক্তিতে পরিণত করা এসব নিয়েই যুদ্ধ প্রলম্বিত হতে থাকে।
- ধর্মান্ধতা, স্বার্থপরতা, নিজেদের উচ্চাকাংক্ষা এবং প্রাধান্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ইউরোপের সকল দেশ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- দীর্ঘ ত্রিশবছর ধরে যুদ্ধে সমগ্র জার্মানি ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়।

⇒ ওয়েস্টফেলিয়া চুক্তি:
- ত্রিশ বছরব্যাপী অবিরামভাবে যুদ্ধ করার পর বিপর্যস্ত ইউরোপের সকল দেশের প্রতিনিধিরা ১৬৪৮ সালে ওয়েস্টফেলিয়াতে মিলিত হয়ে দুটি ভিন্ন শান্তিচুক্তি পাস করে
- ১৬৪৮ সালের ২৪শে অক্টোবর ওয়েস্টাফেলিয়া চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে দীর্ঘ ত্রিশ বছরব্যাপী ধর্মজনিত এই যুদ্ধের অবসান ঘটায়।
- ওয়েস্টফেলিয়া শান্তি চুক্তি ইউরোপের শান্তির স্বপক্ষে প্রথম এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
- এটি ইউরোপকে একটি আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে আসতে সক্ষম হয়।
- এই সন্ধির ভূ-খন্ডগত সীমানা নেপোলিয়নের যুগ পর্যন্ত বহাল থাকে।

উৎস: i) Britannica.
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬১.
আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি বলা হয় কাকে?
  1. ক) ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব
  2. খ) মাহাতির মোহাম্মদ
  3. গ) টুঙ্কু আব্দুল রহমান
  4. ঘ) নাজিব রাজা
ব্যাখ্যা
মাহাতির মোহাম্মদ (১৯২৫ - বর্তমান)
• আধুনিক মালয়েশিয়ার স্থপতি যিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন (১৯৮১ - ২০০৩ এবং ২০১৮ - ২০২০)। • তিনি মালয়েশিয়াকে একটি শিল্পোন্নত দেশে রুপান্তরিত করেছেন।
• তিনি ১৯৬৪ সালে ‘United Malays National Organization’ (UMNO) দল থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
• টুঙ্কু আব্দুল রহমানের সাথে বিরোধের জের ধরে ১৯৬৯ সালে তাকে ‘UMNO’ থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে ১৯৭০ সালে আবার দলটিতে যোগদান করেন।
• বিশ্বের অন্যতম প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহাথির মোহাম্মদ আবারো মালয়েশিয়ার সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তাঁর বয়স এখন ৯৭ বছর।

তথ্যসূত্র:- প্রথম আলো এবং বিবিসি বাংলা। 
৯৬২.
কোন সভ্যতায় পৃথিবীর প্রথম লিখিত আইনের প্রচলন হয়?
  1. মায়া সভ্যতা
  2. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. ক্যালেডীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- মেসোপটেমিয়ায় গড়ে ওঠা সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা সুমেরীয় সভ্যতা।
- সুমেরীয় সভ্যতার সবচেয়ে বড় অবদান চাকা আবিষ্কার।
- পৃথিবীর প্রথম লিখিত আইনের প্রচলন হয় ব্যাবিলনে।
- সর্বপ্রথম পঞ্জিকার প্রচলন করে ব্যাবিলনীয় সভ্যতায়।
- ৭ দিনে সপ্তাহ গণনা শুরু করে ক্যালেডীয়রা।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৩.
বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত কোন গোষ্ঠীভুক্ত?
  1. মঙ্গোলীয় নরগোষ্ঠী
  2. ককেশীয় নরগোষ্ঠী
  3. আদি- অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠী
  4. নিগ্রয়েড নরগোষ্ঠী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত আদি- অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠী ভুক্ত।

অস্ট্রেলীয় নৃগোষ্ঠী:

- অ্যাবরিজিনাল জনগণ অস্ট্রেলিয়ার প্রাচীনতম অধিবাসী, যারা প্রায় 65,000 বছর আগে এখানে বসতি স্থাপন করে।
- অস্ট্রেলিয়ার অ্যাবরিজিনাল জনগণের মধ্যে প্রায় ২৫০টিরও বেশি আলাদা ভাষা এবং সংস্কৃতি বিদ্যমান। প্রত্যেক নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব রীতিনীতি এবং বিশ্বাস রয়েছে।
- ঐতিহ্যগতভাবে, অ্যাবরিজিনাল জনগণ শিকার এবং সংগ্রহের মাধ্যমে জীবনযাপন করতেন, যেখানে প্রকৃতি এবং পরিবেশের সাথে গভীর সম্পর্ক ছিল।
- তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসগুলোর মধ্যে "ড্রিমটাইম" বা স্বপ্নের সময়কালের ধারণা বিদ্যমান, যা তাদের সংস্কৃতির মৌলিক অংশ।
- অ্যাবরিজিনাল শিল্পের মধ্যে পেইন্টিং, খাদ্য প্রস্তুতি, এবং বিভিন্ন হস্তশিল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা তাদের সংস্কৃতি ও বিশ্বাসকে প্রকাশ করে।

এছাড়া,
- অস্ট্রেলীয়রাই অস্ট্রিক বা নিশাদ জাতি নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মানুষ প্রধানত আদি- অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠী ভুক্ত।

উৎস: ব্রিটানিকা, Australian Government - Indigenous Australians.
৯৬৪.
কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত ছিলেন কোন শাসক?
  1. বল্লাল সেন
  2. রামপাল
  3. বিজয় সেন
  4. ধর্মপাল
ব্যাখ্যা
কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৫.
নিচের কোনটি মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্গত?
  1. সিন্ধু
  2. মায়া
  3. ব্যবিলনীয়
  4. পারস্য
ব্যাখ্যা
মেসোপটেমীয় সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ অব্দে মিশরে যখন নগর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, সেই সময় আরো কিছু নগর সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এই নগর সভ্যতাগুলোর আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, একই ভূখণ্ডে গড়ে ওঠার কারণে এদেরকে একত্রে মেসোপটেমীয় সভ্যতা বলা হয়।
- বর্তমান ইরাক রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যেই প্রাচীন মেসোপটেমীয়া অঞ্চল অবস্থিত।
- মেসোপটেমীয়া একটি গ্রিক শব্দ।
- যার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
- মেসোপটেমীয়া বলতে টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস (দজলা- ফোরাত) এই দুই নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে বোঝায়।
- এই উর্বর ভূখণ্ডের উত্তরে আর্মেনিয়ার পার্বত্যাঞ্চল, পশ্চিম ও দক্ষিণে আরব মরুভূমি; দক্ষিণ-পূর্বে পারস্য উপসাগর, পূর্বে এলাম পার্বত্যাঞ্চল এবং পশ্চিমে ভূমধ্যসাগর অবস্থিত।
- আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৫,৫০০ অব্দে দক্ষিণ মেসোপটেমীয়ার অধিবাসীরা ইউফ্রেতিস নদীর পানির প্রবাহ পরিবর্তন করে এবং পানি সেচের ব্যবস্থা করতে শেখে। - মেসোপটেমীয়ায় কৃষি কাজের জন্য এ ধরনের সেচ ব্যবস্থার খুবই দরকার ছিল।

মেসোপটেমীয়ার অর্ন্তভুক্ত সভ্যতাসমূহ:
- প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বেশ কয়েকটি নগর সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- যেমন: সুমেরীয়, ব্যবিলনীয়, এ্যাসিরীয়, ক্যালডীয় ও আক্কাদীয় সভ্যতা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৬.
রোমানদের সমুদ্র ও বাতাসের দেবতা –
  1. জুপিটার
  2. ভেনাস
  3. মিনার্ভা
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা

• রোমান সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব ২য় ও ১ম শতকে রোমানরা গ্রিক সাম্রাজ্য দখল করে।
- ইতালি ও ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী দেশগুলো জয় করে।
- লাতিন জাতি থেকে রোমান সাম্রাজ্যের বিকাশ ঘটে।
- রোম ছিল মধ্য ইটালির ল্যাটিয়াম অঞ্চলের প্রধান শহর।
- রোমান সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে গ্রিক প্রভাব স্পষ্ট ছিল। রোমান সাহিত্যচর্চা ছিল ব্যাপক।
- মলিয়ে পুটাস ও টেরেন্স ছিলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার।
- রোমানরা গণপ্রজাতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন।
- ধর্মীয় প্রভাব বা পুরোহিততন্ত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি।
- রোমানদের আকাশের দেবতা – জুপিটার।
- জ্ঞানের দেবী – মিনার্ভা (গ্রিক এথেনার সমতুল্য)।
- প্রেমের দেবী – ভেনাস।
- সমুদ্র ও বাতাসের দেবতা – নেপচুন
- রোমানদের অন্যতম কৃতিত্ব ছিল রোমান আইন ব্যবস্থা (Roman Law)।
- দেওয়ানী ও ফৌজদারী আইন খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে সংকলিত হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (১ম পত্র), এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৬৭.
পারস্য বর্তমানে কী নামে পরিচিত?
  1. ফ্রান্স
  2. তুরস্ক
  3. ইরান
  4. আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
পারস্য:
- পারস্য বর্তমানে ইরান নামে পরিচিত।
- পারস্যের নামকরণ 'ইরান' করা হয় ২১ মার্চ, ১৯৩৫ সালে।
- পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিলো জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা। ধর্মগ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস: প্রথমপত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৬৮.
নিচের কোনটি মেসোপটেমীয় সভ্যতা নয়?
  1. ক) সুমেরীয় সভ্যতা
  2. খ) পারস্য সভ্যতা
  3. গ) অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) ক্যালডীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় মেসোপটেমীয় সভ্যতাকে।
- বর্তমান ইরাকের ইউফ্রেতিস ও টাইগ্রিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ বছর পূর্বে মেসোপটেমীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতা চারটি পর্যায়ে গড়ে উঠেছিলো।
এগুলো হলো:
- সুমেরীয় সভ্যতা
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
- অ্যাসেরীয় সভ্যতা এবং
- ক্যালডীয় সভ্যতা।
- এদের মধ্যে সবার আগে গড়ে উঠেছিল সুমেরীয় সভ্যতা এবং সবার শেষে গড়ে উঠেছিল ক্যালডীয় সভ্যতা।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং হিস্টোরি ওয়েবসাইট)
৯৬৯.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অক্ষশক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশ নয় কোনটি?
  1. ক) ইতালি
  2. খ) অস্ট্রিয়া
  3. গ) হাঙ্গেরি
  4. ঘ) জার্মানি
ব্যাখ্যা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War - I):
• গত শতাব্দীর প্রথম ভাগে বিশ্বের পরাশক্তিগুলো প্রধানত ইউরোপে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ১৯১৪ সাল থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সময়ে সংঘটিত এই যুদ্ধটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নামে পরিচিত।
• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ “মহাযুদ্ধ” বা “The Great War” নামে ইতিহাসে বিখ্যাত। এই যুদ্ধের মাধ্যমে বিশ্ব প্রথম সামরিক শক্তির সর্বগ্রাসী চেহারা প্রত্যক্ষ করে। এর আগে কোন যুদ্ধে এতো প্রাণহানি ঘটে নি।
• চার বছরের যুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সবচেয়ে বেশি প্রায় ৩৭ লাখ প্রাণহানি ঘটে রাশিয়ার।
• এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপের বহু দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে নড়বড়ে অবস্থানে চলে যায়।

একনজরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ
• যুদ্ধ সংঘটনকাল - ২৮ জুলাই, ১৯১৪ - ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দ।
• যুদ্ধ সংঘটন স্থান - ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্য।
• অক্ষশক্তি - জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, গ্রীস ও তুরস্ক।
• মিত্রশক্তি - রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান, চীন, সার্বিয়া, রোমানিয়া ও বেলজিয়াম প্রভৃতি দেশ।
• ফলাফল - মিত্রশক্তি বিজয়ী।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও হিস্টরি.কম।
৯৭০.
পারস্য বর্তমানে কোন নামে পরিচিত?
  1. ইরাক
  2. তুরস্ক
  3. ইরান
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

পারস্য:
- পারস্য বর্তমানে ইরান নামে পরিচিত।
- পারস্যের নামকরণ 'ইরান' করা হয় ২১ মার্চ, ১৯৩৫ সালে।
- পারস্য সভ্যতার ধর্ম ছিল জরথুস্ত্র।
- জরথুস্ত্রের আর্বিভাব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে।
- পারস্যের সাসানীয় রাজবংশের সম্রাট আরদাশিরের সময় জরথুস্ত্র ধর্ম রাজকীয় মর্যাদা লাভ করে।
- জরথুস্ত্রবাদ ছিলো একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী। বিশ্বের অন্যান্য ধর্মের উপর জরথ্রুস্ত্র ধর্মের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- এদের প্রধান দেবতার নাম আছর মাজদা। ধর্মগ্রন্থের নাম জেন্দাবেস্তা।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ষষ্ঠ শ্রেণী এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস: প্রথমপত্র: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৭১.
'টায়ার ও সিডন' কোন সভ্যতার বিখ্যাত দুটি শহর?
  1. সিন্ধু সভ্যতা
  2. ফিনিশীয় সভ্যতা
  3. অ্যাজটেক সভ্যতা
  4. ইনকা সভ্যতা
ব্যাখ্যা
সভ্যতা:
- খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩ হাজার বছর পূর্বে ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী লেবাননে ফিনিশীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিলো।
- ফিনিশীয় সভ্যতার বিখ্যাত দুটো বন্দর শহর হলো টায়ার ও সিডন।
- সাগর তীরবর্তী হওয়ায় ফিনিশীয়রা নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা হিসেবে খুবই প্রসিদ্ধ ছিলো। তাদের মূল পেশাও ছিলো নৌবাণিজ্য।
- ফিনিশীয়রা ২২টি ব্যাঞ্জনবর্ণ সম্বলিত বর্ণমালা উদ্ভাবন করে যা থেকে আধুনিক বর্ণমালার উদ্ভব হয়।

অন্যদিকে,
- অ্যাজটেক সভ্যতার শহর : তেহুচিটলান।
- ইনকা সভ্যতার শহর : মাচুপিচু।
- হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সিন্ধু সভ্যতার শহর।

উৎস: ইউনেস্কো ওয়েবসাইট এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।[লিঙ্ক]
৯৭২.
রোমান সভ্যতা গড়ে ওঠে—
  1. নীল নদীর তীরে
  2. টাইবার নদীর তীরে
  3. দানিউব নদীর তীরে
  4. ইউফ্রেটিস নদীর তীরে
ব্যাখ্যা
• রােমান সভ্যতা:
- গ্রিক সভ্যতার অবসানের আগেই ইতালিতে টাইবার নদীর তীরে একটি বিশাল সম্রাজ্য ও সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- রােমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই সভ্যতা রােমান সভ্যতা নামে পরিচিত।
- প্রথম দিকে রােম একজন রাজার শাসনাধীন ছিল।
- রাজা স্বৈরাচারী হয়ে উঠলে তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে ৫১০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ রােমে একটি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- রােমান সভ্যতা প্রায় ছয়শ’ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- রোমের অর্থনীতি ছিলো দাসদের উপর নির্ভরশীল।

সভ্যতায় রোমের অবদান:
- রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
- তারা এসব বিষয়ে গ্রিকদের অনুসরণ ও অনুকরণ করেছে।
- তবে সামরিক সংগঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন ও প্রকৌশল বিদ্যায় তারা গ্রিক ও অন্যান্য জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- রোমানদের সবচেয়ে বড় অবদান আইনের ক্ষেত্রে।
- রোমান আইনের ভিত্তি ছিলো - The Twelve Tables.

সূত্র: Britannica ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৭৩.
'দারিয়ুস দ্য গ্রেট' কোন সাম্রাজ্যের সম্রাট ছিলেন?
  1. সেলুসিড সাম্রাজ্য
  2. রোমান সাম্রাজ্য
  3. সাসানীয় সাম্রাজ্য
  4. আকামেনিদ সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
দারিয়ুস দ্য গ্রেট:
- 'দারিয়ুস' পারস্য সভ্যতার সম্রাট ছিলেন।

⇒ বর্তমান ‘ইরান’ নামে পরিচিত অঞ্চলেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন পরাশক্তি পারস্য সাম্রাজ্য।
- পারস্য অঞ্চলে ৫৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৬৫১ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে উৎপত্তি লাভ করা একাধিক সাম্রাজ্যের সমষ্টি।
- ঐতিহাসিকরা এই সময়কালকে মোট চারটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন।
- আকামেনিদ সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৫৫০-খ্রিস্টপূর্ব ৩৩০), সেলুসিড সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ৩১২-খ্রিস্টপূর্ব ৬৩), পার্থিয়ান সাম্রাজ্য (খ্রিস্টপূর্ব ২৪৭-২২৪ খ্রিস্টাব্দ) এবং সর্বশেষ সাসানীয় সাম্রাজ্য (২২৬-৬৫১ খ্রিস্টাব্দ)।

⇒ আকামেনিদ সাম্রাজ্যের তৃতীয় সম্রাট দারিয়ুস দ্য গ্রেট।
- তাঁর শাসনামলে সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তৃতি ঘটে।
-  দারিয়ুস পার্সেপোলিস নগরীর গোড়াপত্তন করেন।
- সম্রাট দারিয়ুস বিভিন্ন পরিমাপের একক নির্ধারণের পাশাপাশি অভিন্ন মুদ্রাও চালু করেন। 
- পৃথিবীর ইতিহাসে পারসিকরাই সর্বপ্রথম, যারা এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার মাঝে সড়কপথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিল।
- পৃথিবীর প্রথম ডাকসেবা এই সম্রাটের হাত ধরেই চালু হয়।
- এসব কারণে দারিয়ুসকে পারস্য সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে গণ্য করা হয়।
- ৪৮৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট দারিয়ুস মারা যান। নিজের তৈরি করা সমাধিক্ষেত্র ‘নাকশে রুস্তম’-এ তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। 

উৎস: i) Britannica. [link]
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, ষষ্ঠ শ্রেণি।
৯৭৪.
কোনটি সপ্তাশ্চর্য নয়?
  1. চীনের মহাপ্রাচীর
  2. কলোসিয়াম
  3. আইফেল টাওয়ার
  4. চিচেন ইৎজা
ব্যাখ্যা
• বর্তমান সপ্তাশ্চর্য:
১. চীনের মহাপ্রাচীর- চীন। 
২.পেত্রা - জর্ডান। 
৩. ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার - ব্রাজিল। 
৪. মাচুপিচ্চ - পেরু। 
৫. চিচেন ইৎজা -মেক্সিকো।  
৬. কলোসিয়াম- ইতালি। 
৭.তাজমহল - ভারত।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৯৭৫.
কোন রোমান সম্রাটের মাধ্যমে খ্রিস্টধর্ম প্রসার লাভ করে?
  1. ক) সম্রাট লেপিডাস
  2. খ) সম্রাট অগাসটাস সিজার
  3. গ) সম্রাট কনস্টানটাইন
  4. ঘ) সম্রাট রোমিউট্রলাস
ব্যাখ্যা
- গ্রিকদের মতো রোমানরা বিভিন্ন দেবদেবীর উপাসনা করতো। তাদের প্রধান দেবতা ছিলো জুপিটার।
- সম্রাট অগাস্টাস সিজার নিজেকে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি নিজের প্রভাব হারানোর ভয়ে খ্রিস্টধর্মের উপর বিধি নিষেধ আরোপ করেন।
- কিন্তু সম্রাট কনস্টানটাইন খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে একে রোমান সাম্রাজ্যের সরকারি ধর্মে পরিণত করেন। তার হাত ধরেই খ্রিস্টধর্ম প্রসার লাভ করে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৯৭৬.
বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী কোন নগরী ছিল?
  1. আলেকজান্দ্রিয়া
  2. জেরুজালেম
  3. এথেন্স
  4. কনস্টান্টিনোপল
ব্যাখ্যা
বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতায় পরিণত হয়েছিল।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা জুড়ে বিস্তৃত।

⇒ কনস্টান্টিনোপল আধুনিক তুরস্কের একটি প্রাচীন শহর যা এখন ইস্তাম্বুল নামে পরিচিত।
- খ্রিস্টপূর্ব ৭৫৩ সালে ইতালির টাইবার নদীর তীরে রোম নগরী স্থাপিত হয়।
- এই নগরীর গোড়াপত্তন করেন রোমাস ও রমুলাস নামে দুই ভাই।
- প্রথম দিকে ছিল এটা একটি বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র।
- ক্রমে গ্রিক সভ্যতার পতন ৪৭৬ (খ্রি.) ঘটলে এই রোম সমগ্র ইতালি ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল দখল করে এক বিশাল রোমান সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।

উল্লেখ্য,
- এই বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য রোমান সম্রাট কনস্টানটাইন কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী বাইজান্টিয়াম নামক স্থানে দ্বিতীয় রাজধানী কনস্টান্টিনোপল প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই নামকরণ করা হয়েছিল সম্রাট কনস্টানটাইনের নামানুসারে।

উৎস: i) History.com
ii) আধুনিক ইউরোপের ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৭.
ভারতীয় বৌদ্ধ ধর্ম কোন কোন সাম্রাজ্যের হাত ধরে মধ্য এশিয়া, চীন ও তিব্বতে বিস্তার লাভ করে?
  1. ক) মৌর্য সাম্রাজ্য
  2. খ) কুষাণ সাম্রাজ্য
  3. গ) গুপ্ত সাম্রাজ্য
  4. ঘ) পুষ্যভূতি সাম্রাজ্য
ব্যাখ্যা
- মৌর্য সাম্রাজ্যের পর কুষাণ সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ভারতীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতার উপর সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রভাব বিস্তার করে। 
- এ সময় ইউফ্রেটিস হতে গঙ্গা নদী পর্যন্ত ভূ-ভাগ কুষাণ শাসনাধীন হলে ভারতে এক মিশ্র সভ্যতার উদ্ভব হয়।
- কুষাণ সাম্রাজ্যকে আশ্রয় করে ভারতীয় বৌদ্ধ ধর্ম মধ্য এশিয়া, চিন ও তিব্বতে বিস্তার লাভ করে। 
- রোম সাম্রাজ্যের সাথে ভারতের বাণিজ্য জলপথে ও স্থলপথে ব্যাপকতা লাভ করে। 
- মোদ্দা কথা হলো, কুষাণ সম্রাটগণ ভারতীয় সংস্কৃতিকে আশ্রয় করে বহির্দেশে তার প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন। 
- কুষাণ শ্রেষ্ঠ কনিষ্ক কুষাণ সাম্রাজ্যের ভারতীয়করণ সম্পন্ন করেন। 
- তিনি অন্তর্বাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যের বিস্তার ঘটান, প্রসার ঘটান বৌদ্ধধর্মের এবং শিক্ষা, শিল্পকলা ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। 
 
উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৭৮.
যুক্তরাজ্যের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কে?
  1. ক) ঋষি সুনাক
  2. খ) থেরেসা মে
  3. গ) ডেভিট ক্যামেরুন
  4. ঘ) জেমস ক্যামেরুন
ব্যাখ্যা
•যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব নেন ঋষি সুনাক
২৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান রাজা।

•ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী ঋষি সুনাক বরিস জনসন সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন
এর পর বাকিংহ্যাম প্যালেসের ১৮৪৪ রুমে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করেন ঋষি । রাজার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বগ্রহণ করেন তিনি।

•৪২ বছর বয়সি ঋষি যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে ৫৭তম প্রধানমন্ত্রী।


উৎস:- যুগান্তর ও প্রথমআলো
৯৭৯.
পরিবহনের জন্য চাকার ব্যবহার কোন সভ্যতার উদ্ভাবন?
  1. মায়া
  2. সুমেরীয়
  3. মঙ্গোল
  4. ইনকা
ব্যাখ্যা
সুমেরীয় সভ্যতা:
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার সবচেয়ে প্রাচীন এবং প্রহম অংশ সুমেরীয় সভ্যতা।
- মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণাংশে এবং পারস্য উপকূল অঞ্চলে বসবাস শুরু করে।
- এই জাতিগোষ্ঠি মধ্য এশিয়া থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে।
- এই সভ্যতার ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের পদবী: 'পাতেজী'।
- তাদের বিখ্যাত শাসক: সম্রাট 'ডুঙি'।
- সুমেরীয় সমাজে শিল্প ও ব্যবসা পরিচালনায় নারীদের অধিকার দেওয়া হয়েছিল।
- পরিবহনের জন্য চাকার ব্যবহার সুমেরীয়দের উদ্ভাবন।
- মেসোপটেমীয় সভ্যতার বিকাশ এবং নিত্য নতুন আবিষ্কারের মূলে সুমেরীয়দের অবদানই অধিক ছিল।
- সুমেরীয় শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যকীর্তি ‘জিগগুরাট' নামক ধর্মমন্দির।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮০.
পৃথিবীর প্রাচীনতম ভাষা কোনটি?
  1. চৈনিক
  2. হিব্রু
  3. মিশরীয়
  4. গ্রিক
ব্যাখ্যা

• পৃথিবীর প্রাচীনতম ভাষা হিব্রু।
• হিব্রু সভ্যতা জেরুজালেম নগরীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
• ঈশ্বরের আরাধনার কথা প্রথম প্রচার করে হিব্রোরা।
• হিব্রুদের সবচেয়ে বড় অবদান ধর্মের ক্ষেত্রে।

৯৮১.
ইন্টারনেট কোন শিল্প বিপ্লব যুগের আবিষ্কার-
  1. শিল্প বিপ্লব-০১
  2. শিল্প বিপ্লব-০২
  3. শিল্প বিপ্লব-০৩
  4. শিল্প বিপ্লব-০৪
ব্যাখ্যা
শিল্প বিপ্লব:
- মানবসভ্যতার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত তিনটি শিল্প বিপ্লব পাল্টে দিয়েছে সারা বিশ্বের গতিপথ।
- প্রথম শিল্প বিপ্লবটি হয়েছিল ১৭৮৪ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারের মাধ্যমে।
- এরপর দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব হয় ১৮৭০ সালে বিদ্যুতের আবিষ্কারের মাধ্যমে ও
- ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেটের আবিষ্কার হয় তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে।
- তবে আগের তিনটি বিপ্লবকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ডিজিটাল বিপ্লব।

                                                                               
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।
৯৮২.
‘হায়ারোগ্লিফিক’ চিত্রলিপি কাদের আবিষ্কার?
  1. মিশরীয় সভ্যতা
  2. মায়া সভ্যতা
  3. ব্যবিলনীয় সভ্যতা
  4. এ্যাসিরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

মিশরীয় সভ্যতা: 
-মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
-পাঁচ হাজার বছর পূর্বে মিশরীয়রা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়। 
-প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি। 
-মিশরীয় সভ্যতার এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর। 
-মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের মন্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে। 
-গ্রিকরা এই কাগজের নাম দেয় ‘প্যাপিরাস’। 
-স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়। 

উৎস:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৩.
মধ্য প্রস্তর যুগের মানুষের প্রধান পেশা কী ছিল?
  1. শিকার ও মাছ ধরা
  2. কৃষি কাজ
  3. মৃৎশিল্প
  4. চাকা আবিষ্কার
ব্যাখ্যা

মধ্যপ্রস্তর যুগ:
- প্রাচীন প্রস্তর যুগ থেকে নতুন পাথরের যুগে প্রবেশের মাঝখানে কিছুটা সময় অতিবাহিত হয়েছে। 
- হাতিয়ারের বিচারে এই যুগটিকে পুরনো পাথরের যুগও বলা যায় না - আবার নতুন পাথরের যুগও বলার উপায় নেই।
- ইতিহাসে এই সময়টি মধ্য প্রস্তর যুগ নামে পরিচিত।
- আজ থেকে ১০,০০০ বছর পূর্বে এ যুগের শুরু হয়েছিল।

⇒ এ যুগে শিকার করা, মাছ ধরা, খাদ্য সংগ্রহ প্রভৃতিতে একটি বিশেষ ধারা ছিল।
- এ যুগের বৈশিষ্ট্য হলো, মানুষ এ সময় বসতি গড়ে তুলেছিল নদী ও হ্রদের তীরে। কারণ, শিকার ও মাছ ধরা ছিল এ সময়ের প্রধান পেশা।

⇒ মধ্য প্রস্তর যুগের হাতিয়ারগুলো ছিল আকারে ছোট ও সূক্ষ্ম। এ যুগের বেশ কিছু হাতিয়ার ভারতবর্ষে পাওয়া গিয়েছে। পাওয়া গিয়েছে নুড়ি পাথরের তীরের ফলা।
- মধ্য প্রস্তর যুগে হাতে বানানো মৃৎপাত্র ব্যবহার করা হতো।
- এ যুগের মানুষ প্রথম দিকে পশু ও মৎস শিকার করলেও শেষ দিকে তারা কৃষিকাজ শুরু করে।
- মধ্য প্রস্তর যুগে বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের চাঁছা-ছিলার অস্ত্র। অস্ত্রগুলো গোল, চতুষ্কোণ অথবা ছুঁচালো হত। এ যুগে পাওয়া হাতকুঠারগুলো ছিল আকারে ছোট। ছোট ছোট তীক্ষ্ণ তীরের ফলা পাওয়া গেছে। ক্ষুদ্র পাথরের হাতিয়ারগুলোর সাথে কাঠের বাট লাগিয়ে তাকে ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করেছে এযুগের মানুষ।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৮৪.
সভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের শ্রেষ্ঠতম অবদান কোনটি?
  1. স্থাপত্যকলা
  2. জ্যোতির্বিদ্যা
  3. আইন প্রণয়ন
  4. বর্ণমালা উদ্ভাবন
ব্যাখ্যা
- সভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হলো আইন প্রণয়ন।
- ষষ্ঠ শতকে সম্রাট জাস্টিনিয়ান প্রথম সমস্ত রোমান আইন সংগ্রহ ও সংকলিত করেন।
- পরবর্তীতে আইনসমূহকে তামার পাতে খোদাই করে জনগণকে দেখানোর জন্যে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
- রোমান আইনসমূহ বেসামরিক আইন, জনগণের আইন ও প্রাকৃতিক আইন নামে তিনভাগে বিভক্ত। আধুনিক বিশ্ব সম্পূর্নভাবে রোমান আইনের উপর নির্ভরশীল।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা)
৯৮৫.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিম ইউরোপ পুনর্গঠনে গৃহিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা-
  1. ক) রুজভেল্ট এইড
  2. খ) নিক্সন পরিকল্পনা
  3. গ) মার্শাল প্ল্যান
  4. ঘ) রিগ্যান ডকট্রিন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইউরোপ পুর্নগঠনের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা মার্শাল প্ল্যান বা মার্শাল পরিকল্পনা নামে পরিচিত। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ সি. মার্শাল এটি প্রণয়ন করেন। ১৯৪৮ সালের ৩ এপ্রিল তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান এতে স্বাক্ষর করেন।
১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত চার বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনায় ১৫ বিলিয়নের মার্কিন ডলারের অধিক বরাদ্দ দেওয়া হয় যার বেশিরভাগই পায় ব্রিটেন এবং ফ্রান্স। ইউরোপ পুর্নগঠনের পাশাপাশি মার্শাল প্লানে পশ্চিম ইউরোপে কমিউনিজমের বিস্তার রোধ, ন্যাটো চুক্তি স্বাক্ষর, সিআইএ এর কর্মপরিধি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিহিত ছিলো।
(সূত্রঃ হিস্টোরি ডটকম)
৯৮৬.
'কনস্টান্টিনোপল' কোন সভ্যতার রাজধানী ছিল?
  1. বাইজেন্টাইন
  2. মায়া
  3. সুমেরীয়
  4. হিব্রু
ব্যাখ্যা

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য:
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে - ১৪৫৩ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল৷
- ১৫ শতকে অটোমান তুর্কি আক্রমণে পতনের আগে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান সভ্যতা ছিল।
- অঞ্চলটিকে সাধারণত পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য বলা হত।
- ৪৭৬ সালে রোমের পতনের ফলে রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অর্ধেক শেষ হয় এবং পূর্ব অর্ধেক বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য হিসাবে পরিচালিত হয়।
- বাইজেনটাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল কনস্টান্টিনোপল।
- বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য ভূমধ্যসাগরের আশেপাশের বেশিরভাগ ভূমি জুড়ে ছিল, যার মধ্যে বর্তমানে ইতালি, গ্রীস এবং তুরস্ক এবং উত্তর আফ্রিকা।
- এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান।
- ১৪ শতকে অটোমান তুর্কিরা দখল করতে শুরু করে এবং ১৪৫৩ সালে এটি অটোমান নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৯৮৭.
ইউরোপীয় রেনেসাঁস বলতে কোনটিকে নির্দেশ করা হয়?
  1. ক) রাজতন্ত্র ও সামন্তবাদের পতন
  2. খ) মধ্যবিত্ত ও বুর্জোয়া শ্রেণীর উদ্ভব
  3. গ) শিল্প বিপ্লব
  4. ঘ) গ্রিক ও রোমান জ্ঞানবিজ্ঞানের পুনর্জন্ম
ব্যাখ্যা
- রেনেসাঁস মানে হলো নবজাগরণ বা পুনর্জন্ম। প্রাচীন গ্রিক ও রোমান জ্ঞানবিজ্ঞান কে জানার গভীর আগ্রহ ও উৎসাহ সৃষ্টিই ‘রেনেসাঁস’ নামে পরিচিত।
- পঞ্চদশ শতকে অটোমানদের নিকট বাইজান্টিয়াম সাম্রাজ্যের পতন রেনেসাঁসকে তরান্বিত করে।
- ইতালির ফ্লোরেন্স শহর থেকে রেনেসাঁসের প্রথম সূত্রপাত ঘটে এবং পরবর্তীতে তা ইউরোপের অন্যান্য দেশে ছড়িযে পড়ে।
- রেনেসাঁসের ফলে ইউরোপের ধর্মকেন্দ্রিক যাজকতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পতন ঘটে এবং মানবতাবাদ, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, শিক্ষা প্রভৃতি গুরুত্ব লাভ করে।
- রেনেসাঁসকে ইউরোপের মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মধ্যে সীমারেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
(তথ্যসূত্রঃ ব্রিটানিকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস : প্রথমপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
৯৮৮.
‘হায়ারোগ্লিফিক’ নামক লিখন পদ্ধতি কাদের আবিষ্কার ছিলো?
  1. ক) চীনাদের
  2. খ) আরবীয়দের
  3. গ) ফিনিশীয়দের
  4. ঘ) মিশরীয়দের
ব্যাখ্যা
‘হায়ারোগ্লিফিক’ নামক লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে মিশরীয়রা।

• মিশরীয় সভ্যতা:

- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার। নগর সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে।
- পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- প্রথম দিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- মিশরীয়রা নলখাগড়া জাতীয় গাছের মন্ড থেকে কাগজ বানাতে শেখে। পরে এই কাগজের উপর তারা লিখতে শুরু করে।
- গ্রীকরা এই কাগজের নাম দেয় ‘প্যাপিরাস’। যে শব্দ থেকে ইংরেজি ‘পেপার’ শব্দের উৎপত্তি।

এখানে উল্লেখ্য
- নেপোলিয়ান বোনাপার্টের মিশর জয়ের সময় একটি পাথর আবিষ্কৃত হয়, যা রসেটা স্টোন নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৮৯.
প্রাচীন মিশরের টলেমী রাজবংশের বিখ্যাত রানী কে ছিলেন?
  1. থুতমোস
  2. ইমেলদা
  3. ক্লিওপেট্রা
  4. আমেনহোটেপ
ব্যাখ্যা
প্রাচীন মিশরের টলেমী রাজবংশ:
- প্রাচীন মিশরের টলেমী রাজবংশের সবচেয়ে বিখ্যাত রানী ছিলেন ক্লিওপেট্রা VII।

⇒ খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫ অব্দে পারস্য রাজশক্তি মিশর অধিকার করলে মিশরীয় সভ্যতার অবসান ঘটে।
- অতঃপর ৩৩২ খ্রিঃপূর্বাব্দে গ্রীক সম্রাট আলেকজান্ডার মিশর অধিকার করেন।
- তার পর থেকে মিশরে "টলেমী রাজবংশ” প্রতিষ্ঠিত হয়।
- টলেমী রাজবংশ দীর্ঘদিন মিশর শাসন করে।
- এই বংশেরই রাণী ছিলেন বহু আলোচিত ও জগত খ্যাত রানী ক্লিওপেট্টা।
- ক্লেওপেট্রার সময় মিশর বারবার রোমানদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। কালক্রমে রোমানরা মিশরে রোমান শাসন বিস্তার করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) ইসলামের ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯০.
লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহার প্রথম শুরু করে কারা?
  1. হিট্টাইটরা
  2. গ্রিকরা
  3. ব্যাবিলনীয়রা
  4. সিন্ধুরা
ব্যাখ্যা

লৌহযুগ:
- লোহার আবিষ্কার ও ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে ব্রোঞ্জযুগের একচেটিয়া অধিকার ও কর্তৃত্ব হ্রাস পেয়েছিল।
- ব্রোঞ্জ ছিল দুষ্প্রাপ্য ও মূল্যবান ধাতু।
- এর ব্যবহার মূলত অভিজাত শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল।
- সহজলভ্য ও দামে সস্তা হওয়ায় লোহার ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়।
- সাধারণ মানুষও তাদের দৈনন্দিন নানা প্রয়োজনে লৌহ নির্মিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে শুরু করে।
- এভাবেই লৌহযুগ নামে নতুন এক সভ্যতার বিকাশ লাভ ঘটে।

⇒ এশিয়া মাইনরে হিট্টাইটরা (Hittites) প্রথম লোহার আবিষ্কার ও এর ব্যবহার শুরু করে।
- খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে মধ্যপ্রাচ্যে লোহার ব্যবহার শুরু হয়।
- লৌহযুগে বর্ণমালাভিত্তিক লিখন পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয়।
- ব্যবসাবাণিজ্য ও মুদ্রা-অর্থনীতি ব্যাপকতা লাভ করে।
- জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হওয়ার ফলে যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হয়।
- এর ফলে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আর্থ- সামাজিক ও সাংস্কৃতিক লেনদেন ও ভাবের আদান-প্রদান বৃদ্ধি পায়।
- গৃহনির্মাণ, বিভিন্ন ধরনের গৃহসামগ্রী, আসবাবপত্র, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কুঠার, লাঙলের ফলা, বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে লোহার ব্যবহারের মাধ্যমে সভ্যতার দ্রুত উত্থান ঘটে।
- উৎপাদন ব্যবস্থায় যন্ত্রশক্তির প্রয়োগ আরও সহজ হয়।
- ফলে শিল্পবিপ্লব ত্বরান্বিত হয়।
- লৌহযুগে শিল্প, বাণিজ্য, নগরায়ন প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পেশাভিত্তিক সামাজিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে।
- লৌহযুগে গ্রিসে এক উন্নত গণতান্ত্রিক নগরসভ্যতার বিকাশ ঘটে।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৯৯১.
চীনের মহাপ্রাচীরের নির্মাণ প্রধানত কোন রাজবংশের সময় শুরু হয়েছিল?
  1. মিং রাজবংশ
  2. হান রাজবংশ
  3. কিন রাজবংশ
  4. ট্যাং রাজবংশ
ব্যাখ্যা
চীনের মহাপ্রাচীর:
- চীনের মহাপ্রাচীর পৃথিবীর প্রাচীন সপ্তাশ্চর্যগুলোর মধ্যে একটি।
- এটি চীনের উত্তর সীমান্তের সাথে দীর্ঘ একটি প্রাচীর যা প্রাচীন চীনকে বিদেশি আক্রমণ থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল।
- এটি পাথর ও ইট দিয়ে তৈরি দীর্ঘ নিরাপত্তাবেষ্টনী।
- চীনের মহাপ্রাচীরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল কিন (Qin) রাজবংশের সময়ে, চীনের প্রথম সম্রাট কিন শি হুয়াং নির্মাণ করেছিলেন।
- এর নির্মাণ প্রকল্পটি পরবর্তী বিভিন্ন রাজবংশ, বিশেষত হান (Han), তাং (Tang) এবং মিং (Ming) রাজবংশে আরও সম্প্রসারিত হয়েছিল।
- এটি ১৯৮৭ সালে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল।

উল্লেখ্য,
- বর্তমান প্রাচীরটি মিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত হয়।
- এই প্রাচীরের দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৮৫০ কিলোমিটার।
- উচ্চতা ৫ - ৮ মিটার।
- প্রাচীরটি চওড়ায় প্রায় ৯.৭৫ মিটার।
- প্রশস্ত প্রাচীরের ওপর চলাচলের জন্য রাস্তা করা আছে।
- চীনের মহাপ্রাচীর মানুষের হাতে তৈরি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্থাপত্য।

উৎস: i) Britannica.
ii) History.com [link]
৯৯২.
মিশরীয় সভ্যতার চূড়ান্ত পতন ঘটেছিল কাদের হাতে?
  1. লিবিয়দের
  2. পারসিদের
  3. রোমানদের
  4. ইংলিশদের
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতার পতন:
- প্রাচীন মিশরের বিশতম রাজবংশের শেষসম্রাট ছিলেন একাদশ রামসেস।
- এ সময় মিশরে গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।
- ১০৮০ খ্রিঃপূর্বাব্দে থিবস শহরের প্রধান পুরোহিত বা ধর্মযাজক সিংহাসন দখল করেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫২৫ অব্দে পারস্য রাজশক্তি মিশর অধিকার করলে মিশরীয় সভ্যতার অবসান ঘটে।
-  অতঃপর ৩৩২ খ্রিঃপূর্বাব্দে গ্রীক সম্রাট আলেকজান্ডার মিশর অধিকার করেন।
- তার পর থেকে মিশরে "টলেমী রাজবংশ" প্রতিষ্ঠিত হয়। টলেমী রাজবংশ দীর্ঘদিন মিশর শাসন করে।
- এই বংশেরই রাণী ছিলেন বহু আলোচিত ও জগত খ্যাত রানী ক্লিওপেট্টা।
- ক্লেওপেট্রার সময় মিশর বারবার রোমানদের দ্বারা আক্রান্ত হয়।
- কালক্রমে রোমানরা মিশরে রোমান শাসন বিস্তার করে।

⇒ মিশরীয় সভ্যতা:
- ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারসিকরা সমগ্র মেসোপটেমিয়া অঞ্চলসহ, ক্যালডীয় সাম্রাজ্য অধিকার করে সভ্যতার সূচনা করে।
- পরবর্তীতে ইউরোপ এবং ভারতবর্ষ পর্যন্ত পারস্য সভ্যতার প্রভাব বিস্তার ঘটে।
- ফলে পারসিকরা যেমন অন্য দেশ ও সভ্যতা থেকে শিক্ষা সংস্কৃতি গ্রহণ করে, তেমনি পারস্যের অনেক কিছুই অন্যান্য দেশের শিক্ষা সংস্কৃতিতে বিস্তার ঘটে।
- পরবর্তী সভ্যতা ও ধর্মতত্ত্বের ওপর পারস্য প্রভাব অত্যধিক।
- বিশেষ করে ভারতবর্সের মৌর্য ও গুপ্ত শাসনামলে পারসিক স্থাপত্য কলা অনুসরণ করা হয়েছে।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৩.
কোন ক্ষেত্রে মিশরীয়রা 'মেটেরিয়া মেডিকা' দিয়ে অগ্রগতি সাধন করে?
  1. জ্যোতির্বিজ্ঞান
  2. দর্শন
  3. চিকিৎসাবিজ্ঞান
  4. ভূগোল
ব্যাখ্যা
- চিকিৎসাবিজ্ঞানে তাদের উন্নতির প্রমাণ হলো মেটেরিয়া মেডিকা গ্রন্থ।

মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতা খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ থেকে ৫২৫ অব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং এটি নীলনদের অববাহিকায় গড়ে ওঠা এক প্রাচীন ও সমৃদ্ধ সভ্যতা। খ্রিস্টপূর্ব ৩২০০ অব্দে নারমার বা মেনেস উচ্চ ও নিম্ন মিশরকে একত্রিত করে প্রথম ফারাও হন এবং ঐক্যবদ্ধ মিশরের সূচনা করেন।

উল্লেখ্য,
- লিখনপদ্ধতি ও কাগজ আবিষ্কার ছিল মিশরীয় সভ্যতার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।
- তারা প্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা তৈরি করে।
- মিশরীয়রা শুরুতে চিত্রের মাধ্যমে ভাব প্রকাশ করত, যা ‘হায়ারোগ্লিফিক’ নামে পরিচিত।
- তারা ‘প্যাপিরাস’ নামে এক ধরনের কাগজ তৈরি করে তার উপর লেখা শুরু করে।
মেটেরিয়া মেডিকা:
- মিশরীয় সভ্যতায় ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ হলো ঔষধের একটি তালিকা।
- এটি ছিল চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন ওষুধ ও তাদের গুণাগুণের বর্ণনা সম্বলিত একটি গ্রন্থ।
- মিশরীয়রা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেও রোগ সারাতো এবং হাড় জোড়া লাগানো, হৃদপিণ্ডের গতি নির্ণয় করত।
- ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ তাদের চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির প্রমাণ।

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামের ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৪.
মিশরীয় সভ্যতার 'শেয়াল দেবতা' কী নামে পরিচিত? 
  1. আনুবিস
  2. শেঠ
  3. হোরাস
  4. ওসিরিস
ব্যাখ্যা
মিশরীয় সভ্যতা:
- মিশরীয় সভ্যতার বিস্তৃতিকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০-৫২৫ পর্যন্ত।
- মিশরে প্রথম এই সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে।
- একটি ছিল উত্তর মিশর অপরটি দক্ষিণ মিশর।
- স্থাপত্য ও ভাস্কর্যে তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্মাতা বলা যায়।
- লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন, সেচ ব্যবস্থা চালু, চিকিৎসা শাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র অংক শাস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান সভ্যতার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়ের সূচনা করেছিল।
- মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য: লিপি বা অক্ষর আবিষ্কার।
- তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়।
- মিশরীয় সভ্যতার প্রথম দিকে তারা ছবি এঁকে মনের ভাব প্রকাশ করত।
- এই লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
- এই চিত্রলিপিকে বলা হয় ‘হায়ারোগ্লিফিক’ বা পবিত্র অক্ষর।
- পিরামিড: মিশরীয় স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন। গিজার গ্রেট পিরামিড পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্যের একটি।
- স্ফিংস: এটি ফারাও খাফরের শাসনকালে নির্মিত বিশাল মূর্তি।
- মিশরীয় সভ্যতায় বিভিন্ন দেবতার উপাসনা করা হত। যেমন -
• পাতালের দেবতা - ওসিরিস,
• যুদ্ধ এবং শিকারের সাথে যুক্ত আকাশের দেবতা - হোরাস,
• সহিংসতা, মরুভূমি এবং ঝড়ের দেবতা - শেঠ,
• শেয়াল দেবতা - আনুবিস,
• জ্ঞানের দেবতা - থোথ।

তথ্যসূত্র - ব্রিটানিকা ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৯৫.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে নিচের কে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না?
  1. ক) চার্চিল
  2. খ) চেম্বারলেন
  3. গ) এটলি
  4. ঘ) গ্লাডস্টোন
ব্যাখ্যা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৪০ সালের মে পর্যন্ত চেম্বারলেন, মাঝে চার্চিল এবং যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত এটলি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
উৎসঃ এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটানিকা।

৯৯৬.
“স্ফিংস” - কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. ক) সিন্ধু সভ্যতা
  2. খ) মিশরীয় সভ্যতা
  3. গ) অ্যাসেরীয় সভ্যতা
  4. ঘ) সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা
মিশরীয় ভাস্কর্য গুলো বেশিরভাগ আঁকা হতো - সমাধি, সৌধ ও মন্দিরের প্রবেশপথে। মন্দিরের ভেতরের দেওয়াল সাজানো হতো মূর্তি খোদাই করে। মিশরীয় ভাস্কর্যের সবচেয়ে গৌরব ‘স্ফিংস’ তৈরীতে। বহু খন্ড পাথরের গায়ে ফুটিয়ে তোলা হতো এই ভাস্কর্য। এর দেহ ছিলো সিংহের আর মাথা ছিলো ফারাওয়ের।
নবম - দশম শ্রেণীর ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বই (উন্মুক্ত)।
৯৯৭.
রোমান স্থাপত্যশৈলীর বিখ্যাত নিদর্শন ‘কলোসিয়াম’ মূলত কোনটির সাথে সম্পর্কিত? 
  1. পাঠশালা
  2. উপাসনালয়
  3. নাট্যশালা 
  4. খেলার মাঠ 
ব্যাখ্যা

• রোমান স্থাপত্য:
- রোমানদের দ্বারা নির্মিত কলােসিয়াম সবচেয়ে বড় স্থাপত্য।
- ৭২ খ্রিস্টাব্দে রোমান সম্রাট ভেসপেশিয়ানের আমলে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়।
- শেষ হয় ৮০ খ্রিস্টাব্দে দশম রোমান সম্রাট টাইটাস ম্যাঙ্মিাসের সময়ে।
- ‘কলােসিয়াম' হলো নাট্যশালা যেখানে পুরাণনির্ভর নাটক প্রদর্শিত হতো।
- স্থানীয়ভাবে এটি অ্যামফিথিয়েট্রাম ফ্ল্যাভিয়াম নামেও পরিচিত।
- রোমানদের সময়ের বিখ্যাত সব গ্ল্যাডিয়েটর এখানে লড়তেন। 
- মূল ৬ একর জমির ওপর নির্মিত কলোসিয়ামটি ১৮৯ মিটার দীর্ঘ।
- ১৫৬ মিটার চওড়া এ স্থাপনাটির বাইরের দেয়ালের উচ্চতা ৪৮ মিটারের বেশি।
- সম্রাট হাড্রিয়ানের তৈরি ধর্মমন্দির প্যনথিয়ন রোমের একটি বড় স্থাপত্য নিদর্শন।
- এখানে একসাথে ৫,৬০০ জন দর্শক বসতে পারত।
- ভাস্কর্যের নিদর্শন হিসেবে রোমে পাওয়া গেছে অনেক মূর্তি।
- এগুলো ছিল সম্রাট, কর্মকর্তা ও দেবতাদের মূর্তি।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং কালেরকন্ঠ ।

৯৯৮.
ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. হাম্মুরাবি
  2. সারগন
  3. নবোপোলাসার
  4. সাইরাস দ্য গ্রেট
ব্যাখ্যা

- ক্যালডীয় সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নবোপোলাসার।

ক্যালডীয় সভ্যতা (Chaldean Civilization):

- ক্যালডীয়রা ছিল একটি সেমিটিক জাতি যারা আসিরীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর ব্যবিলনে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
- একে 'নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য'ও বলা হয়।
- কালক্রম: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ থেকে ৫৩৯ অব্দ পর্যন্ত এই সভ্যতার স্থায়ীত্ব ছিল।
- প্রধান সম্রাট: নবোপোলাসার (প্রতিষ্ঠাতা) এবং তাঁর পুত্র সম্রাট নেবুচাদনেজার (শ্রেষ্ঠ শাসক)।
- কেন্দ্রবিন্দু: এই সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল পুনরায় সংস্কার করা জাঁকজমকপূর্ণ 'ব্যাবিলন' শহর।

• স্থাপত্যে :নেবুচাদনেজারের আমলে ব্যবিলন শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও সুন্দর শহরে পরিণত হয়। তিনি শহরের চারদিকে বিশাল প্রাচীর এবং নীল রঙের চকচকে ইটের তৈরি 'ইশতার গেট' নির্মাণ করেন।

• জ্যোতির্বিদ্যার উন্নতি: ক্যালডীয়রা আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত উন্নত ছিল।
- তারা সাত দিনে এক সপ্তাহ এবং ১২ মাসে এক বছরের হিসাব নিখুঁতভাবে করতে পারত।
- তারাই প্রথম সপ্তাহের সাত দিনের নামকরণ গ্রহ-নক্ষত্রের নামে করেছিল।

- ধর্ম: তারা বহু ঈশ্বরবাদী ছিল। তাদের প্রধান দেবতা ছিলেন 'মারদুক' (Marduk)। প্রতিটি বড় স্থাপত্য বা মন্দির তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হতো।

• পতন: খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যবিলন দখল করেন।
- এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যবিলনীয় ও ক্যালডীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৯৯৯.
সম্প্রতি, কোন দেশে ‘পেনিকো’ নামক প্রাচীন শহরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে? [জুলাই, ২০২৫]
  1. পেরু
  2. গ্রিস
  3. পানামা
  4. সাইপ্রাস
ব্যাখ্যা
প্রাচীন শহর 'পেনিকো’:
- পেরুতে ৩ হাজার ৫০০ বছরের বেশি আগে সমৃদ্ধ বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা 'পেনিকো' নামের একটি প্রাচীন শহরের খোঁজ পাওয়া গেছে।
- পেনিকো নগরটি পেরুর রাজধানী লিমার উত্তরে হুয়াওরা প্রদেশে অবস্থিত।
- বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ১৮০০ সালে পেনিকো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি ছিল একটি কৌশলগত নগরকেন্দ্র, যা সুপে উপত্যকার উপকূলীয় জনগোষ্ঠীকে আন্দিজ পর্বতমালা ও অ্যামাজনের ভেতরের বসতির সঙ্গে যুক্ত করেছিল।
- পেনিকোতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৮টি কাঠামো চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ভবন ও আবাসিক ভবন আছে।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি স্থাপনা হলো বি১–বি৩ নামের একটি বিশাল সরকারি ভবন।
- এই ভবন থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা কাদামাটির ভাস্কর্য, আচার-অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত যন্ত্র এবং ‘পুতুতুস’ নামে শাঁখের তৈরি বাদ্যযন্ত্র আবিষ্কার করেছেন।

তথ্যসূত্র: পত্রিকা রিপোর্ট। [link]
১,০০০.
ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে কোন সেমিটিক জাতি?
  1. ফিনিশিয়ান
  2. অ্যামোরাইট
  3. আকাশীয়
  4. হিতাইট
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা:
- ব্যাবিলনীয় সভ্যতার জনক ছিলো সেমিটিক জাতি।
- এ ব্যাবিলনীয় সভ্যতা গড়ে তোলে এ্যামোরাইট নামক সেমিটিক জাতি।
- প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসে সেমিটিক জাতির অবদান সর্বাধিক।
- প্রকৃত পক্ষে সুমেরীয় রাজা ডুঙির মৃত্যুর পর পরই সুমেরীয় সভ্যতার পতন ঘটে।
- সুমেরীয় সভ্যতার ধ্বংসস্তুপের ওপর গড়ে ওঠে ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য বা সভ্যতা।
- অ্যামোরাইটরা আরব মরুভূমির উত্তরাঞ্চল থেকে মেসোপটেমিয়ায় এসে ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ব্যাবিলনে সভ্যতা গড়ে তোলে।
- এই সভ্যতাকে প্রাচীন ব্যাবিলনীয় সভ্যতা বলা হয়। 

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।