বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন

মোট প্রশ্ন৫২৮এই পাতা২৮প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন

PrepBank · পাতা / · ৫০১৫২৮ / ৫২৮

৫০১.
পাকিস্তানি ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন?
  1. ক) আইয়ুব খান
  2. খ) টিক্কা খান
  3. গ) মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. ঘ) ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
 ইস্কান্দার মির্জা 
- ১৯৪৬ সালে ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে তিনি যুগ্মসচিব নিযুক্ত হন।
- তিনি দেশবিভাগের পর পাকিস্তান সরকারের প্রতিরক্ষা সচিব নিযুক্ত হন।
- পূর্ববাংলা প্রদেশে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল ও গভর্নর জেনারেলের শাসন জারীর পর তিনি ১৯৫৪ সালের ৩০ মে প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন।
- ১৯৫৫ সালের ৫ আগস্ট অসুস্থতার জন্য গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ছুটিতে গেলে তিনি প্রথমে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর জেনারেল এবং পরে গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন।

- তিনি ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত করেন। 
- ১৯৬৯ সালের ১২ নভেম্বর মির্যা লন্ডনে মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: i) ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।
৫০২.
এ.কে ফজলুল হক পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর নিযুক্ত হন কত সালে?
  1. ১৯৫৮ সাল
  2. ১৯৫৩ সাল
  3. ১৯৫৫ সাল
  4. ১৯৫৬ সাল
ব্যাখ্যা

• এ.কে. ফজলুল হক:
- অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন এ.কে. ফজলুল হক।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামের সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। 
- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ কংগ্রেসের যুক্ত অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তাই বিখ্যাত ‘লক্ষ্ণৌ চুক্তি’ নামে অভিহিত হয়।
- ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রী সভার সদস্য মনোনীত হন।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- তিনি কলকাতার মেয়র হোন ১৯৩৫ সালে।
- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে জ্বালাময়ী বক্তৃতায় প্রথম পাকিস্তান প্রস্তাব পেশ করেন।
- তাঁর বক্তৃতায় মুগ্ধ হয়ে পাঞ্জাববাসীরা তাঁকে উপাধি দেয় শের-ই-বঙ্গাল অর্থাৎ বাংলার বাঘ।
- সে থেকে তিনি শের-ই-বাংলা নামেই পরিচিত। 
- ১৯৫৪ সালে দেশের সাধারণ নির্বাচনে তিনি ‘যুক্তফ্রন্ট’ দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- বাংলার নয়নমণি শের-এ-বাংলা এ. কে ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৫০৩.
যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয় কবে?
  1. ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২
  2. ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩
  3. ১৫ মে, ১৯৫৪
  4. ৮ মার্চ, ১৯৫৪ 
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট গঠন:

• যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়- ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৯৫৩ সালে। 
• ১৯৫৩ সালের ১৪ ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের • কৃষক- শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি। 

• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
• যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। 
• এই ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
• ৩১ জানুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
• ৮ মার্চ, ১৯৫৪ তারিখে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
• ১৫ মে, ১৯৫৪ তারিখে পূর্ণাঙ্গ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী এবং ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৪.
১৯৫৬ সালের সংবিধানে রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে কোন দুটি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
  1. উর্দু ও হিন্দি
  2. উর্দু ও ইংরেজি
  3. বাংলা ও ইংরেজি
  4. বাংলা ও উর্দু
ব্যাখ্যা
• শাসনতন্ত্র: 
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দেন।
- ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ২৩ মার্চে এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।
- পাকিস্তানের দুটি আঞ্চলিক ভাষা উর্দু ও বাংলাকে এ শাসনতন্ত্রে রাষ্ট্রভাষা রূপে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- পাশাপাশি ইংরেজি ভাষাকে চালু রাখার বিধানও রাখা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ রাজনৈতিসক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৫.
আইয়ুব খান PODO এবং EBDO আদেশের মাধ্যমে কী নিষিদ্ধ করেন?
  1. সামরিক বাহিনীর কার্যকলাপ
  2. সংবাদপত্র প্রকাশনা 
  3. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভাষা
  4. রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খান:
- আইয়ুব খান সামরিক শাসন যাত্রার ২১ দিনের মাথায় ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজে প্রেসিডেন্ট পদ দখল করেন।

• ক্ষমতাদখলের পর আইয়ুব খান কঠোর হস্তে দুর্নীতি দমন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রন করেন। ১৯৫৯ সালে 'পোডো' (PODO) এবং 'এবডো' (EBDO) নামক দুটি আদেশ জারি করে রাজনৈতিক দলের কার্যকলাপ ও নির্বাচনে রাজনীতিবিদদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করেন।
- জেনারেল আইয়ুব ১৯৫৯ সালে ‘মৌলিক গণতন্ত্র’ নামে নতুন একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। মৌলিক গণতন্ত্রব্যবস্থায় শাসনকাঠামোকে পাঁচটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছিল। ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা ছিল সর্বনিম্ন স্তর এবং এর সদস্যদের বলা হতো ‘মৌলিক গণতন্ত্রী’। ১৯৬৫ সালে পরোক্ষ নির্বাচনব্যবস্থায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আগে নির্বাচিত ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী এ নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলী হিসেবে কাজ করেন। এ নির্বাচনে বিরোধীদলীয় জোটের প্রার্থী ফাতেমা জিন্নাহকে পরাজিত করে আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৫০৬.
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেছিলেন কে? 
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. আইয়ুব খান
  4. মোনায়েম খান 
ব্যাখ্যা

• পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৫০৭.
১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. ক) আইন, বিচার ও সংসদ
  2. খ) কৃষি, বন, সমবায় ও পল্লী
  3. গ) শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড
  4. ঘ) কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
- আওয়ামী লীগ প্রধান হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সাথে রিপাবলিকান নেতা উত্তর - পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের ডা. খাঁন সাহেবের ৫ দফা কর্মসূচীর ভিত্তিতে একটি কোয়ালিশন গঠিত হয় ।
- এর ফলে ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমুন্ত্রী চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করেন ।

- হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ১৯৫৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হন । 
- তার নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।

- ইস্কান্দার মীর্জার গােপন ষড়যন্ত্রে রিপাবলিকান দলীয় কিছুসংখ্যক সদস্য সােহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মন্ত্রিসভা নাজুক অবস্থার সম্মুখীন হয়।
- ১৯৫৭ সালের ১৮ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তথসুত্র:- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
৫০৮.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?
  1. লাঙল
  2. নৌকা
  3. হারিকেন
  4. লাঠিম
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। 
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা। 
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন। 
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। 
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।

যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৯.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কত দিন ক্ষমতায় ছিল?
  1. ৩৬ দিন
  2. ৪৬ দিন
  3. ৫৬ দিন
  4. ৬৬ দিন
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট সরকার:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসসিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আর মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে। 
- ১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- পাটকল ও কর্ণফুলি কাগজের কলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৫১০.
ঐতিহাসিক ২১-দফা দাবীর প্রথম দাবীটি কি ছিল?
  1. ক) বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) পূর্ববাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ
  4. ঘ) বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- এর প্রথম দফা ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।

উৎসঃ ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫১১.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সময়কাল ছিল কত দিন?
  1. ৬০ দিন
  2. ৫৬ দিন
  3. ৫০ দিন
  4. ৬৫ দিন
ব্যাখ্যা

- মাত্র ৫৬ দিন যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার বহাল ছিল।

যুক্তফ্রন্ট: 

- শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- ২১শে ফেব্রুয়ারিকে সরকারি ছুটি ও বর্ধমান হাউসকে বাংলা ভাষার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিলে কেন্দ্রীয় সরকার ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
-  অবশেষে কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগ সরকার ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২ (ক) ধারা বলে ১৯৫৪ সালের ৩০শে মে যুক্তফ্রন্ট সরকার বাতিল করে পূর্ব বাংলায় গভর্নরের শাসন জারি করে।
- এ শাসন ১৯৫৫ সালের ২রা জুন পর্যন্ত বহাল থাকে।
- মাত্র ৫৬ দিনের শাসনের পর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান হয়।
- মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন হয়।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।

৫১২.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কত নং দফায় লাহোর প্রস্তাবের কথা উল্লেখ আছে?
  1. ৬ নং
  2. ১৯ নং
  3. ৮ নং
  4. ২১ নং
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা,
২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন চূড়ান্তভাবে স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয় যার প্রেরণা ছিল ভাষা আন্দোলন। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৩.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা আতাহার আলী
  4. আতাউর রহমান খান
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫১৪.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার কর্মসূচির মূল বক্তব্য ছিল -
  1. ক) পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) পূর্ব বাংলাকে শিল্পায়িত করা
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
স্বায়ত্তশাসনের প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন

- পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে।
- লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্যই ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন।
- কিন্তু ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পর মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দ স্বায়ত্তশাসন প্রদানের পরিবর্তে পূর্ববাংলার জনগণের উপর শোষণ ও জাতিগত নিপীড়ন শুরু করে।
- যুক্তফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের এ আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করে জনগণের মনে আবেদন সৃষ্টি করেন।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির মূল বক্তব্যই ছিল প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
৫১৫.
কয়টি রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
- নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নেয়।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- দলগুলো ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৬.
যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করেন কে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. আইয়ুব খান
  3. গোলাম মুহাম্মদ
  4. ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারী করেন।

⇒ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৭.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার কয়টি ছিলো?
  1. ৭টি
  2. ২১টি
  3. ৬টি
  4. ১৪টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার ছিলো ২১ টি

যুক্তফ্রন্ট:

- যুক্তফ্রন্ট চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রণ্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের ২২৩টি আসনে জয় লাভ করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।
- ৩ এপ্রিল, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয় এবং ৩০ মে, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করেন পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- মাত্র ৫৬ দিন যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫১৮.
আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন -
  1. ১৯৬২ সালের ৮ মার্চ
  2. ১৯৬২ সালের ৮ জুলাই
  3. ১৯৬২ সালের ৮ আগস্ট
  4. ১৯৬২ সালের ৮ জুন
ব্যাখ্যা
১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।

সামরিক শাসন প্রত্যাহার:

- পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
- ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৫১৯.
যুক্তফ্রন্ট গঠিত পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় শেখ মুজিবুর রহমান কোন মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন?
  1. শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়
  2. কৃষি ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন
  3. আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
  4. কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
• ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে যুক্তফ্রন্ট পূর্ববাংলা প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠন করে।
• মন্ত্রিসভার সদস্য ছিল ১৪ জন যেখানে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন কৃষি ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী। কিন্তু, ১৯৫৪ সালের ৩০ মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় পাকিস্তানের কুচক্রী গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পন্থায় এ মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে গভর্নরের শাসন জারি করেন।

 উল্লেখ্য,
• ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব পাকিস্তানের চারটি বিরোধীদলের সমন্বয়ে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামের রাজনৈতিক জোট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্টের শরীক দলসমূহ হলো:
• আওয়ামী মুসলিম লীগ -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি মওলানা ভাসানী।
•  কৃষক শ্রমিক পার্টি -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক।
• নেজামে ইসলাম পার্টি -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি মওলানা আতাহার আলী।
•  গণতন্ত্রী দল -নেতৃত্বাধীন ব্যক্তি হাজী দানেশ।
• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের দাবি ছিল ২১ দফা ও প্রতীক ছিল নৌকা। অপরদিকে মুসলিম লীগের প্রতীক ছিল হারিকেন।
• নির্বাচনের ফলাফল: নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি এবং ৭২টি অসলিম আসনের মধ্যে ১৩টি অর্থাৎ মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২৩৬টি) আসনে জয়লাভ করেন।
• ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আর আওয়ামী মুসলীম লীগ এককভাবে পায় ১৪৩টি আসন।
• ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ১৫টি।

সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া।
৫২০.
'২১ দফা দাবি' কোন জোটের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল?
  1. মুসলিম লীগ
  2. বিএনপি
  3. আওয়ামী লীগ
  4. যুক্তফ্রন্ট
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্টের:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি এবং
৪. হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের নির্বাচনী কর্মসূচির ৪২ দফার প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

নোট: [বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২১.
নেজামে ইসলাম পার্টির নেতা কে ছিলেন?
  1. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  2. মওলানা আতাহার আলী
  3. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৫২২.
পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কোন সালে প্রবর্তিত হয়? 
  1. ১৯৫৫ সালে
  2. ১৯৫৬ সালে
  3. ১৯৫৭ সালে
  4. ১৯৫৮ সালে
ব্যাখ্যা

• পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র বিল:
- পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র বিশেষজ্ঞগণ এ শাসনতন্ত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৬ সালের ২রা মার্চ গভর্নর শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা, ১৩টি অংশ, ২৩৪টি বিধিএবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল।
- এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৩.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  3. শেখ মুজিবুর রহমান
  4. আবুল মনসুর আহমেদ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের মূলমন্ত্র প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। 
- যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৫২৪.
যুক্তফ্রন্টের ঐতিহাসিক ২১-দফার প্রথম দাবিটি কী ছিলো?
  1. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
  2. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করা।
  3. ভাষা শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা।
  4. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা প্রতিষ্ঠা করা।
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্টের -২১ দফা ছিল নির্বাচনী ইশতেহার ।
 নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

- প্রধান দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা;
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা:
৩. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রর্বতন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫২৫.
যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কোথায়?
  1. লাহোর
  2. বরিশাল
  3. ঢাকা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রণ্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- যুক্তফ্রণ্ট  ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩০৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে।
- মুসলিম আসনগুলোতে ভোট প্রদানের শতকরা হার ছিল ৩৭.৬। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া , স্বাধীনতার দলিল পত্র।

৫২৬.
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন-
  1. ক) হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খ) এ কে ফজলুল হক
  3. গ) খাজা নাজিমউদ্দীন
  4. ঘ) আবুল হাশেম
ব্যাখ্যা
অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (১৯৪৬-৪৭ সালে)। [সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
৫২৭.
১৯৫৬ সালের সংবিধান চালু ছিল-
  1. ক) মাত্র ৭ মাস
  2. খ) মাত্র ২৪ মাস
  3. গ) মাত্র ১৮ মাস
  4. ঘ) মাত্র ১২ মাস
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালের সংবিধান:
- পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ১৯৩৫ সালের আইন ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন দ্বারা নতুন রাষ্ট্র পরিচালিত হতে থাকে।
- ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে সংবিধান রচনার জন্য একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করা হয়।
- মূলনীতি কমিটি ১৮ মাস পরে তাদের সুপারিশ ও প্রতিবেদন পেশ করে।
- ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
- প্রতিবেদন প্রকাশের পর পূর্ব বাংলায় ব্যাপক প্রতিবাদ হয় এবং কমিটির সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করা হয়।
- মূলনীতি কমিটি ১৯৫২ সালে দ্বিতীয় এবং ১৯৫৩ সালে তৃতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
- ১৯৫৫ সালে গভর্ণর জেনারেল পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং ১৯৫৬ সালে সংবিধান রচিত হয়।
- এই সংবিধান চালু ছিল মাত্র দু বছর। 
- ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত করা হয়।
- সংবিধান স্থগিত করার সাথে সাথে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৮.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকার কতদিন ক্ষমতায় ছিল?
  1. ৫০ দিন
  2. ৫৬ দিন
  3. ৬০ দিন
  4. ৪৫ দিন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকার: 
- ১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- পাকিস্তান সরকার পূর্ববাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি।
- আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলি কাগজের কলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় কড়ায়।
- পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দি করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।