বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন

মোট প্রশ্ন৫২৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও ১৯৫৬-এর শাসনতন্ত্র আন্দোলন

PrepBank · পাতা / · ৩০১৪০০ / ৫২৮

৩০১.
পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৬ সালে 
  2. ১৯৫৭ সালে 
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৬২ সালে
ব্যাখ্যা

• সামরিক শাসন:
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা নির্বাচিত সংসদীয় সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি জেনারেল আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক এবং একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন।
- কিন্তু উচ্চাভিলাষী আইয়ুব খান এতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না।
- এর মাত্র তিন সপ্তাহ পর, ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট মির্জাকে উৎখাত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেন।
- এর পরের দিন আইয়ুব খান এক আদেশ জারির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।

উৎস: i) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৩০২.
পাকিস্তানের কোন গভর্নর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেন?
  1. খাজা নিজামুদ্দিন
  2. গোলাম মোহাম্মদ
  3. ইস্কান্দার মির্জা
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেন তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।

যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র ) ,প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।
৩০৩.
১৯৫৬ সালের জাতীয় পরিষদে পূর্ব বাংলার জন্য কয়টি আসন বরাদ্দ ছিল?
  1. ক) ১৬৯টি
  2. খ) ১৫০টি
  3. গ) ১৪১টি
  4. ঘ) ১৪৪টি
ব্যাখ্যা
- পাকিস্তানের সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে সংকট বিশেষ করে দুই অংশের মধ্যে বৈরিতা নিরসনকল্পে সােহরাওয়ার্দীর উদ্যোগে (তখন তিনি মােহাম্মদ আলী বগুড়ার মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী) পশ্চিম পাকিস্তানের মারিতে উভয় অংশের নেতৃবৃন্দের মধ্যে সরকার, সংসদ, অর্থনীতি, প্রশাসন সর্বক্ষেত্রে সমান অংশীদারিত্বভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের বিধান সম্বলিত একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা মারি চুক্তি (৭ই জুলাই ১৯৫৫) নামে পরিচিত।- 
- এভাবে ১৯৫৬ সালের ২৯শে ফেব্রুয়ারি সংবিধান পাস হয়।
- এতে ৩০০ আসন বিশিষ্ট একটি জাতীয় পরিষদ গঠন করা হয় এবং সমতানীতি অনুযায়ী পূর্ববাংলার জন্য ১৫০টি এবং পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য ১৫০টি আসন নির্ধারণ করে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালির নির্বাচনে বিজয়ের পথ তথা জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ রুদ্ধ করা হয়।
- তবে সােহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় সরকারের প্রথম আইনমন্ত্রী (১৯৫৪-১৯৫৫) এবং পরে প্রধানমন্ত্রী (১৯৫৬-১৯৫৭) হিসেবে বাঙালিদের সার্বিক উন্নয়নে অনেক ক্ষেত্রে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
- কিন্তু মুসলিম লীগ ও পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী তা কখনােই ভালাে চোখে দেখেনি।
- ১৯৫৬ সালে শাসনতন্ত্র প্রণীত হওয়ার মাত্র ২ বছর ৬ মাসের মধ্যে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী কর্তৃক ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি করে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ বাতিল করা হয়। সকল ক্ষমতা আবার তাদের হাতে কুক্ষিগত হয়। এবার সামরিক জান্তা সরাসরি ক্ষমতা নেয়। এর প্রধান জেনারেল আইয়ুব খান বিভিন্ন ফরমান জারি করে নাগরিকদের অধিকার একের পর এক কেড়ে নেন, সােহরাওয়ার্দী ও শেখ মুজিবসহ বিভিন্ন নেতাকে বন্দি এবং পরবর্তী নির্বাচনের জন্য সােহরাওয়ার্দীসহ অনেক রাজনৈতিক নেতাকে অযােগ্য ঘােষণা করা হয়।

উৎস: https://www.asiaticsociety.org.bd/
৩০৪.
যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বাতিল করেন কে?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. ইস্কান্দার মির্জা 
  3. আইয়ুব খান  
  4. জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ
ব্যাখ্যা
মন্ত্রিসভা গঠন: 
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ।

- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে। 
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৫.
প্রাদেশিক পরিষদের মোট মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসনে জয়লাভ করে?
  1. ২০৩টি
  2. ২২৩টি
  3. ২৪৩টি
  4. ২৬৩টি
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রণ্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- যুক্তফ্রণ্ট  ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩০৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে।
- মুসলিম আসনগুলোতে ভোট প্রদানের শতকরা হার ছিল ৩৭.৬। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া , স্বাধীনতার দলিল পত্র।

৩০৬.
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবরের ফরমানে কে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত হন?
  1. ইসকান্দার মীর্জা
  2. মোহাম্মদ আইয়ুব খান
  3. মালিক ফিরোজ খান নুন
  4. জিয়াউদ্দিন আহমেদ
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের সামরিক শাসন ১৯৫৮-১৯৬২: 
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর রাত ১০:৩০ মিনিটে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মেজর
জেনারেল ইসকান্দার মীর্জা সামরিক বাহিনীর সহায়তায় মালিক ফিরোজ খান নুনের সংসদীয় সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করেন।
- ৭ অক্টোবরের ফরমান বলে ইস্কান্দার মীর্জা পাকিস্তান সশস্ত্রবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করেন,
- ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল করেন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারসমূহকে বরখাস্ত করেন, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদসমূহ ভেঙে দেন, রাজনৈতিক দলসমূহ বিলুপ্ত করেন, মৌলিক অধিকার কেড়ে নেন।
- এরপর নিজেই আইয়ুব খান কর্তৃক উৎখাত হয়ে ২৭.১০.৫৮ তারিখে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩০৭.
প্রতিষ্ঠাকালীন আওয়ামী লীগে বঙ্গবন্ধু ছিলেন -
  1. ক) সভাপতি
  2. খ) সহ-সভাপতি
  3. গ) সাধারণ সম্পাদক
  4. ঘ) যুগ্ম-সম্পাদক
ব্যাখ্যা
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে. এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের নেতৃত্বাধীন বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীদের কনভেনশনে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। নতুন এই দলের নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, আতাউর রহমান খান, শওকত হোসেন ও আলী আহমদ খানকে সহ-সভাপতি করা হয়।
আবার, ফরিদপুরের শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমান (তখন কারাবন্দি), খোন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ.কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম-সম্পাদক এবং ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামীলীগ গঠিত হয়।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া
৩০৮.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে মোট কয়টি আসন ছিল?
  1. ১৬৭টি
  2. ২২৩টি
  3. ৩০৯টি
  4. ৩৭০টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন:
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন।
- পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি, তফসিল ফেডারেশন ২৭টি, খেলাফতে রব্বানী ২টি, খ্রিস্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি, কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে। 

তথ্যসূত্র: স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩০৯.
ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. সিরাজুল আলম
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার কাগমারীর সন্তোষে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
- ৮ ফেব্রুয়ারি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।
- কাগমারী সাংস্কৃতিক সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।
- ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি।
- কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৩১০.
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন বিভাগের দায়িত্ব পান?  
  1. শিক্ষা বিভাগ
  2. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার বিভাগ
  3. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ
  4. কৃষি, সমবায় ও পল্লি উন্নয়ন বিভাগ
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:

• যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়- ৪ ডিসেম্বর, ১৯৫৩ সালে।
• ৩ এপ্রিল, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
• ৩০ মে, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেওয়া হয়।
• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা ক্ষমতায় ছিল মাত্র- ৫৬ দিন।
• যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠিত হয় শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে। 
• যুক্তফ্রন্ট ১৪ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। 
• দায়িত্ব: 
- প্রাদেশিক প্রধানমন্ত্রী এবং অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক; 
- বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার বিভাগ: আবু হোসেন সরকার;  
- শিক্ষা বিভাগ: সৈয়দ আজিজুল হক;
- কৃষি, সমবায় ও পল্লি উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী।
৩১১.
সংসদীয় সরকার উৎখাত করে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন-
  1. জেনারেল আইয়ুব খান
  2. জেনারেল ইয়াহিয়া
  3. মালিক গোলাম মুহাম্মদ
  4. ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা

• ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন :
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- তিনি দেশের সংবিধান বাতিল করেন, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইন পরিষদ ভেঙে দেন এবং মন্ত্রিসভা বাতিল করেন।
- রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
- প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নিয়োগ করা হয় সেনাপ্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে। মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- এর কিছুদিনের মধ্যে ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে অপসারণ করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

৩১২.
আইয়ুব খান রোমান হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগ নেয় কত সালে?
  1. ১৯৫৮ সালে
  2. ১৯৫৯ সালে
  3. ১৯৬০ সালে
  4. ১৯৬১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি:

- আইয়ুব খান বাংলা ভাষার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন।
- তিনি রোমান হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগ নেন ১৯৫৯ সালে।
- বাংলা একাডেমির তৎকালীন পরিচালক সৈয়দ আলী আহসানের সভাপতিত্বে 'বাংলা ভাষা সংস্কার কমিটি' গঠিত হয়।
- কিন্তু বাঙালি প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী মহলে প্রচন্ড বিরোধিতায় আইয়ুবের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩১৩.
ঐতিহ্যবাহী কাগমারী সম্মেলন কোন জেলায় অনুষ্ঠিত হয়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. সিরাজগঞ্জ
  3. পাবনা
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
কাগমারি সম্মেলন:
- কাগমারি সম্মেলন টাঙ্গাইল জেলার কাগমারিতে ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন।
- সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী। 
- ৭ ফেব্রুয়ারি কাউন্সিল অধিবেশনে মূল আলোচ্যসূচি ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন এবং জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি।
- কিন্তু সিয়াটো ও সেন্টোর সামরিক চুক্তির প্রতি  আওয়ামী লীগ নেতা ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী  হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করলে সম্মেলনে মতবিরোধের সৃষ্টি হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩১৪.
১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. শেখ মুজিবুর রহমান
  2. চৌধুরী মোহাম্মদ আলী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।

১৯৫৬ সালের কোয়ালিশন সরকার:

- ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগের কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়।
- এর এক সপ্তাহ পর পশ্চিম পাকিস্তানের কয়েকটি দলের সঙ্গে কোয়ালিশন করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী হন।
- এর ফলে ১৯৫৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চৌধুরী মোহাম্মদ আলী পদত্যাগ করেন।
- ১৯৫৬ সালে কোয়ালিশন সরকারের মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
- ইস্কান্দার মীর্জার গোপন ষড়যন্ত্রে রিপাবলিকান দলীয় কিছুসংখ্যক সদস্য সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিলে মন্ত্রিসভা নাজুক অবস্থার সম্মুখীন হয়।
- ১৯৫৭ সালের ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
৩১৫.
'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয় কোথায়?
  1. ঢাকা
  2. চট্টগ্রাম
  3. রাজশাহী
  4. ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্ট :
 - ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'। 
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- এই ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।

৩১৬.
চার স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন কে?
  1. আইয়ুব খান
  2. ইস্কান্দার মির্জা
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. জুলফিকার আলী ভূট্টো
ব্যাখ্যা

• মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তন:
- ১৯৫৮ সালে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েই জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের শাসন কাঠামো এবং রাজনৈতিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন।
- ১৯৫৯ সালের অক্টোবর মাসে আইয়ুব খান গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে একটি নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন।
- তাঁর এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল ‘মৌলিক গণতন্ত্র'।
- এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংখ্যক লোক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার লাভ করে।
- এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের দুই অঞ্চল থেকে ৪০ হাজার করে ৮০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
- আইয়ুব খান ৪ স্তর বিশিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলেন।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় নিম্ন থেকে উচ্চ স্তরগুলো ছিল : ১. ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে), ২. থানা পরিষদ (পূর্ব বাংলায়) এবং তহশিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), ৩. জেলা পরিষদ, ৪. বিভাগীয় পরিষদ।
- এই পরিষদগুলোতে নির্বাচিত এবং মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য থাকতেন।
- এরাই জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ভোট দানের ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
- ১৯৬০ সালে এসব মৌলিক গণতন্ত্রীদের আস্থা ভোটে আইয়ুব খান পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

[উল্লেখ্য যে, [শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে।]

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩১৭.
মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৬
  2.  ১৯৫৮
  3. ১৯৫৯ 
  4. ১৯৬২
ব্যাখ্যা

আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র :
→ জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর পাকিস্তানের শাসন ও রাজনৈতিক কাঠামোরআমুল  পরিবর্তন করার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রচলিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পরিত্যাগ করে এক অদ্ভুত ও নতুন নির্বাচন কাঠামো প্রবর্তন করেন। তার এই নির্বাচনের মূলভিত্তি ছিল 'মৌলিক গণতন্ত্র'। 

→ মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র।
→ যাতে কেবল নির্দিষ্টসংখ্যক লোকের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অধিকার ছিল।
→ ১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের আদেশ জারি করা হয়।
→ প্রাথমিক অবস্থায় মৌলিক গণতন্ত্র ছিল একটি চার স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থা।
যথা: 
(১) ইউনিয়ন পরিষদ (গ্রামে) এবং টাউন ও ইউনিয়ন কমিটি (শহরে),
(২)থানা পরিষদ (পূর্ব পাকিস্তানে), তহসিল পরিষদ (পশ্চিম পাকিস্তানে), 
(৩) জেলা পরিষদ,
(৪)বিভাগীয় পরিষদ। 

→ এই পরিষদগুলোতে নির্বাচিত ও মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য থাকত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা।

৩১৮.
বঙ্গবন্ধু কত সনে প্রথম মন্ত্রীসভার সদস্য নির্বাচিত হন?
  1. ক) ১৯৫৪ সনে
  2. খ) ১৯৭১ সনে
  3. গ) ১৯৪৮ সনে
  4. ঘ) ১৯৫৬ সনে
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে চানদলীয় জোট যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ৪ এপ্রিল শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
- ১৪ মে এই মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তখন তার বয়স ছিলো ৩৪ বছর। 
- তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।

উৎস: অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩১৯.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন কে?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. এ. কে. ফজলুল হক
  3. মওলানা ভাসানী
  4. শামসুল হক খান
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২০.
পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন কে?
  1. ইস্কান্দার মির্জা
  2. আইয়ুব খান
  3. ইয়াহিয়া খান
  4. ফিরোজ খান
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ১৯৫৬ সালের ২৩শে মার্চ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কার্যকর হয়।
- এই সংবিধানে পাকিস্তানকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্থানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- পাকিস্তানের শাসন ব্যবস্থায় একধরনের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া
৩২১.
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে ছিল-
  1. বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিশ্রুতি
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. দ্রব্যমূল্য হ্রাস কর্মসূচি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের কর্মসূচি:
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারের মধ্যে পূর্ববাংলার সাধারণ কৃষক-শ্রমিক সকলের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল।
- যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার জনগণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল।
• যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার: 
- বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিশ্রুতি,
- প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, দ্রব্যমূল্য হ্রাস কর্মসূচি ।

অন্যদিকে,
- মুসলিম লীগ স্বায়ত্তশাসন, বাংলা ভাষা বিরোধী ভাবমূর্তি গড়ে তোলে।
- মুসলিম লীগ কেবল এই প্রচার চালায় 'ইসলাম বিপন্ন'।
- মুসলিম লীগের মুখপত্র দৈনিক আজাদ যথার্থই এ দলের পরাজয়ের জন্য বাংলাভাষা প্রশ্নকে সঠিকভাবে মোকাবেলা না করা, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের প্রতি অবহেলা,
- পূর্ববাংলার অর্থনৈতিক দুর্গতি, সাধারণ জনগণ থেকে মুসলিম লীগ নেতৃবৃন্দের বিচ্ছিন্নতাকে দায়ী করে।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট মুসলিম লীগ নেতাদের বিভিন্ন দুর্নীতি, দোষ-ত্রুটি জনগণের সামনে উপস্থাপন করে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২২.
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম আসন সংখ্যা ছিল কতটি? 
  1. ২২৩টি
  2. ২২২টি
  3. ৩০০টি
  4. ২৩৭টি
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
-  ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
-  যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসন ছিল।
- যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি।
- মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৩২৩.
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন কে?
  1. গোলাম মোহাম্মদ
  2. মোহাম্মদ আলী বগুড়া
  3. চৌধুরী খালিকুজ্জামান
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি: শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি: মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল: হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

→ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হয়।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।

৩২৪.
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফায় কী উল্লেখ ছিল?
  1. শিক্ষাক্ষেত্রে মাতৃভাষার ব্যবহার
  2. পূর্ব বাংলায় কৃষি সংস্কার
  3. পূর্ব বাংলার জন্য আলাদা মুদ্রানীতি
  4. রাষ্ট্রভাষা বাংলা হতে হবে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট: 
- ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ সালে গঠিত হয় যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্ট কর্তৃক নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালিত হয় ২১ দফার ভিত্তিতে।
- ২১ দফার অন্যতম রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- ২১ দফার প্রথম দফাটি ছিল বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দান।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিলো।

যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা,
২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল। সুতরাং এই ২১ দফা ইস্তেহার দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সূত্র: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৫.
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন -
  1. মালিক ফিরোজ খান
  2. ইয়াহিয়া খান
  3. আইয়ুব খান
  4. ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
• সামরিক শাসন প্রত্যাহার:
- পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।

অন্যদিকে,
- ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
- ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩২৬.
পূর্ব বাংলায় যুক্তফ্রন্ট (১৯৫৪) মন্ত্রিসভা ক্ষমতায় ছিল মাত্র-
  1. ক) ৪৫ দিন
  2. খ) ৫৬ দিন
  3. গ) ৭৫ দিন
  4. ঘ) ৯০ দিন
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত প্রথম অবাধ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে।
৪ এপ্রিল শেরে বাংলার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয় যা ১৫ই মে ১৪ জনে সম্প্রসারণ করা হয়৷ এ মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন।
আদমজী পাটকলে বাঙালি-বিহারি শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে অনেক শ্রমিক নিহত হলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অজুহাত তুলে ৩০শে মে ১৯৫৪ মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে কেন্দ্রের শাসন জারি করে।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী, অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাপিডিয়া]
৩২৭.
‘কাগমারি সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয় কোথায়?
  1. ফরিদপুর
  2. ময়মনসিংহ
  3. দিনাজপুর
  4. টাঙ্গাইল
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৭ সালের ৬-১০ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগের ‘কাগমারি সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি প্রশ্নে সোহরাওয়ার্দীর সাথে মাওলানা ভাসনীর বিরোধ দেখা দেয়। এতে করে ১৮ই মার্চ ১৯৫৭ মাওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
- পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালের ২৪-২৫ জুলাই ঢাকার রূপমহল সিনেমা হলে আয়োজিত গণতান্ত্রিক কর্মী সম্মেলনের মাধ্যমে মাওলানা ভাসানী ‘ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ)’ গঠন করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
৩২৮.
যুক্তফ্রন্ট সরকার কতদিন ক্ষমতায় ছিলো?
  1. ৫২ দিন
  2. ৫৪ দিন
  3. ৫৬ দিন
  4. ৫৮ দিন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকার ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিলো।

যুক্তফ্রন্ট:

- যুক্তফ্রন্ট চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রণ্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের ২২৩টি আসনে জয় লাভ করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।
- ৩ এপ্রিল, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠিত হয় এবং ৩০ মে, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে কেন্দ্রীয় শাসন জারি করেন পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- মাত্র ৫৬ দিন যুক্তফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩২৯.
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. মওলানা ভাসানী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. সৈয়দ আজিজুল হক
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
- মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
- বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
- শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
- কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: শেখ মুজিবুর রহমান।

• যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।  ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।  যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।  ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। 
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়, বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট। যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩০.
কোন চুক্তি অনুযায়ী পূর্ব বাংলার নাম পরিবর্তন করে 'পূর্ব পাকিস্তান' রাখে?
  1. লাহোর চুক্তি
  2. মারী চুক্তি
  3. মাউন্টব্যাটেন চুক্তি
  4. দ্বি জাতি চুক্তি
ব্যাখ্যা

মারী চুক্তি: 
- মারী চুক্তি অনুযায়ী ১৯৫৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের সকল প্রদেশকে এক ইউনিটে পরিণত করে দ্বিতীয় গণপরিষদে একটি বিল পাশ হয়।
- মারী চুক্তির মাধ্যমে 'পূর্ব বাংলার' নাম পরিবর্তন করে 'পূর্ব পাকিস্তান' রাখা হয়।
- মারী চুক্তিতে পূর্ব বাংলার পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী, ফজলুল হক প্রমুখ স্বাক্ষরদান করা সত্ত্বেও, চুক্তির সংখ্যা সাম্য নীতির বিরুদ্ধে বাঙালিদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
-  এ চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানে একটি সংবিধান রচনার দ্বার উন্মুক্ত হয়।

• ১৯৫৫ সালের মারী চুক্তি-প্যারিটি ফর্মুলা: 
- ১৯৫৫ সালের ৭ জুলাই মারীতে পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণ-পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে। 
- নিম্নে মারী চুক্তির প্রধান সিদ্ধান্তগুলো বর্ণনা করা হলো-
১. পাকিস্তানের দুটি প্রদেশ থাকবে; যথা: পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান।
২. পশ্চিম পাকিস্তানের সকল প্রদেশকে এক ইউনিটে পরিণত করে একটি প্রদেশ গঠন করা হবে।
৩. উভয় প্রদেশকে পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হবে।
৪. উভয় প্রদেশের সকল বিষয়ে সংখ্যা সাম্যনীতি কার্যকর করা হবে।
৫. যুক্তনির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা হবে।
৬. পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা ও উর্দু।

উৎস: পৌরনীতি, ২য় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩১.
যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. খাজা নাজিমুদ্দিন
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক 
  4. আবু হোসেন সরকার
ব্যাখ্যা

মন্ত্রিসভা গঠন: 
- যুক্তফ্রন্ট ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ।
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে। 
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি, প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩২.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন -
  1. ক) কৃষি, সমবায়
  2. খ) বাণিজ্য, শ্রম
  3. গ) শিল্প, অর্থ
  4. ঘ) শিক্ষা, স্বাস্থ্য
ব্যাখ্যা
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রির দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভার মেয়াদ ছিল ৫৬ দিন।
 
- ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে পূর্ব পাকিস্তানে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে কোয়ালিশন মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- বঙ্গবন্ধু ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ এই মন্ত্রিসভায় শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও ভিলেজ এইড দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন।
- কিন্তু ১৯৫৭ সালের ৩০ মে দলীয় কাজে মনোনিবেশের জন্যে স্বেচ্ছায় মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি; বাংলাপিডিয়া এবং অসমাপ্ত আত্মজীবনী।
৩৩৩.
পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদে কতটি আসন ছিল?
  1. ক) ১৭১টি
  2. খ) ৩০৯টি
  3. গ) ২৯৮টি
  4. ঘ) ৩১০টি
ব্যাখ্যা
প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন
- ১৯৫৪ সালের মার্চের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচন।
- পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদে আসন ছিল ৩০৯টি।
- প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৩০৯টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়লাভ করে।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ ৯টি আসন লাভ করে।
- মুসলিম লীগ মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমীনসহ প্রভাবশালী ৫ সদস্যের সকলেই নির্বাচনে পরাজিত হন।

উল্লেখ্য,
- মুসলিম নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনে ৩৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
- এই ৯টি আসনের সবগুলোতে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীরা বিজয়ী হন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৩৪.
জেনারেল আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রকে কতটি স্তরে বিভক্ত করেছিল?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয়েই নিজের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভিত্তি সুদৃঢ় ও সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তার মধ্যে প্রধান পদক্ষেপ হলো 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে এক নতুন পদ্ধতি চালু।
- পূর্ব পাকিস্তানের ৪০ হাজার এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ৪০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে বিধান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, 
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৩৫.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার স্থায়িত্বকাল কতদিন?
  1. ৫২ দিন
  2. ৫৪ দিন
  3. ৫৬ দিন
  4. ৫৮ দিন
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল:
- যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও ছুটি পালন, শহীদ মিনার নির্মাণ, বর্ধমান হাউসকে বাংলা একাডেমিতে রূপান্তর করা হবে।
- সে সময় 'নিউ ইয়র্ক টাইমস্' পত্রিকার সংবাদদাতা কালাহানকে দেওয়া ফজলুল হকের তথাকথিত সাক্ষাতকার কেন্দ্রীয় সরকারকে বিচলিত করে তোলে।
- পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা ঘোষণার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
- মুখ্যমন্ত্রী ফজলুল হক নানা চেষ্টা করেও কেন্দ্রীয় সরকারকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।
- কেন্দ্রীয় সরকার '৫৪ সালের ৩০মে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের ৯২(ক) ধারা বলে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বরখাস্ত এবং পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন ঘোষণা করেন।
- এভাবে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান ঘটে।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৬.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি মুসলিম আসন লাভ করে?
  1. ২১৮টি
  2. ২২৩টি
  3. ২৩৩টি
  4. ২৩৮টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচন:
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনের অধীনে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানে ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ এবং পাঁচটি দলের সমন্বয়ে গঠিত যুক্তফ্রন্ট।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান শরিক দলগুলো ছিল: মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, এ. কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজামে ইসলাম, হাজী মোহাম্মদ দানেশের নেতৃত্বাধীন গণতন্ত্রী দল এবং খিলাফতে রব্বানী পার্টি।

নির্বাচনের ফলাফল:
- নির্বাচনী ফলাফল নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা, মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে আসতে অনীহা প্রভৃতি কারণে ভোটদানের হার কম ছিল।
- নির্বাচনী ফলাফল ঘোষিত হয় ২ এপ্রিল।
- নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলমান আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২১৫টি, মুসলিম লীগ ৯টি, খেলাফতে রব্বানী পার্টি ১টি এবং স্বতন্ত্র ১২টি আসন।
- মুসলমান আসনে স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্যে ৮ জন যুক্তফ্রন্টে ও ১ জন মুসলিম লীগে যোগদান করেন।
- ফলে মুসলিম আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- যুক্তফ্রন্টের শরিকদলগুলোর মধ্যে আসনসংখ্যা নিম্নরূপ হয়: আওয়ামী লীগ ১৪২, কৃষক-শ্রমিক পার্টি ৪৮, নেজামে ইসলামী ১৯, গণতন্ত্রী দল ১৩ (১টি আসনে দলীয় পরিচয় অস্পষ্ট)।
- ৭২টি অমুসলমান আসনের ২৪টিতে জাতীয় কংগ্রেস, ২৭টিতে তফশিলি ফেডারেশন (রসরাজ মন্ডল গ্রুপ), সংখ্যালঘু যুক্তফ্রন্ট ১৩টি (এর মধ্যে গণতন্ত্রী দল ৩টি), কমিউনিস্ট পার্টি ৪টি, বৌদ্ধ ২টি, খ্রিস্টান ১টি এবং স্বতন্ত্র ১টি আসনে জয়লাভ করে।
- ফলে, যুক্তফ্রন্ট মোট আসন লাভ করে ২১৫টি+৮টি+১৩টি=২৩৬টি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৭.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন কে?
  1. ক) এ কে ফজলুল হক
  2. খ) শেখ মুজিবুর রহমান
  3. গ) আবুল মনসুর আহমদ
  4. ঘ) আবদুস সালাম খান
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্যরা হলেন:
- এ কে ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন;
- আবু হোসেন সরকার অর্থ;
- আতাউর রহমান খান বেসামরিক সরবরাহ;
- আবুল মনসুর আহমদ জনস্বাস্থ্য;
- কফিল উদ্দিন চৌধুরী বিচার ও আইন;
- সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন;
- আবদুস সালাম খান শিল্প ও পূর্ত;
- শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, ঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন;
- আবদুল লতিফ বিশ্বাস রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার;
- আশরাফ আলী চৌধুরী সড়ক ও গৃহ নির্মাণ;
- হাশিম উদ্দিন আহমদ বাণিজ্য ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন;
- রাজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী স্বাস্থ্য ও কারা;
- ইউসুফ আলী চৌধুরী কৃষি, বন ও পাট এবং
- মোয়াজ্জেম উদ্দিন হোসেন জমিদারি অধিগ্রহণ।

সূত্র: প্রথম আলো।
৩৩৮.
আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রকে কয়টি স্তরে বিভক্ত করেছিল?
  1. ২টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- 'মৌলিক গণতন্ত্র' ব্যবস্থাটি আইয়ুব খানের অভিনব উদ্ভাবন।
- এটি ছিল চারস্তর বিশিষ্ট স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।
- ১৯৫৯ সালে জারিকৃত মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ এর উদ্দেশ্য ছিল জনগণের ইচ্ছেকে সরকারের কাছাকাছি এবং সরকারি কর্মকর্তাদেরকে জনগণের কাছাকাছি এনে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ-এর ব্যবস্থা করা।
- মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের চারটি স্তর ছিল। যথা-
(১) ইউনিয়ন কাউন্সিল (গ্রাম এলাকায়) এবং টাউন কমিটি (শহর এলাকায়)।
(২) থানা কাউন্সিল (পূর্ব পাকিস্তানে) এবং তহশিল কাউন্সিল (পশ্চিম পাকিস্তানে)।
(৩) জেলা কাউন্সিল।
(৪) বিভাগীয় কাউন্সিল।

উল্লেখ্য যে, 
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুক ও বাংলাপিডিয়া মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৩৯.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফা কী ছিল?
  1. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ
  2. সমবায় কৃষিব্যবস্থা প্রবর্তন
  3. রাষ্ট্রভাষা বাংলা
  4. বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্টের -২১ দফা ছিল নির্বাচনী ইশতেহার ।

- প্রধান দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা;
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা:
৩. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রর্বতন করা
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪০.
১৯৬২ সালের  শিক্ষা আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন কে?
  1. ওয়াজিউল্লাহ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. বাবুল
  4. উপরের সবাই
ব্যাখ্যা
১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন:

• ১৯৬২-এর সেপ্টেম্বরে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন হয়।
• শরীফ শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হলে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।
• 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' সংঘটিত হয় শরীফ শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে।
• ১৫ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
১৭ সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে বাবুল, গোলাম মোস্তফা, ওয়াজিউল্লাহ প্রমুখ নিহত হন এবং আহত হয় প্রায় আড়াইশ জন।
• এ আন্দোলনের ফলে সরকার শরীফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত রাখে।
• এ আন্দোলনের গুরুত্ব এ যে, এ সময় থেকে ছাত্ররাই আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
• তখন থেকে আজ পর্যন্ত ছাত্র সম্প্রদায় প্রতি বছর ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবস রূপে পালন করে আসছে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৪১.
'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয় কত সাল?
  1. ১৯৫১ সালে
  2. ১৯৫২ সালে
  3. ১৯৫৩ সালে
  4. ১৯৫৪ সালে
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট গঠন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল সবচেয়ে পুরাতন ও বড় রাজনৈতিক দল।
- বিভিন্ন দলের রাজনীতিবিদগণ বুঝতে পারেন ক্ষমতাসীন সরকারী দল মুসলিম লীগের সাথে নির্বাচনে জয়লাভ করা কঠিন হবে।
- ১৯৪৯ সালে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' নামে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা নেয়।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- দলগুলো ছিল মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন নেজাম-ই-ইসলামী এবং হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪২.
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে বামপন্থি গণতন্ত্রী দলের নেতৃত্ব কে ছিলেন?
  1. মওলানা ভাসানী
  2. হাজী দানেশে
  3. মওলানা আতাহার আলী
  4. এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মুসলিম লীগ ছিল পুরাতন ও বড় দল।
- এছাড়া পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার পরিচালনা করত মুসলিম লীগ।
- ফলে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার পরিকল্পনা নেয়।
- এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

• যুক্তফ্রন্ট মূলত পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি,
৪. হাজী দানেশের বামপন্থি গণতন্ত্রী দল ও
৫. খিলাফত-ই-রাব্বানি।

• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- পূর্ব বাংলার গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে প্রণীত এই ২১ দফা কর্মসুচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। 

 উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৪৩.
ইস্কান্দার মীর্জা কাকে সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত করেন?
  1. লিয়াকত আলী খান
  2. খাজা নাজিমুদ্দীন
  3. আইয়ুব খান
  4. ইয়াহিয়া খান
ব্যাখ্যা
ইস্কান্দার মীর্জা:
- ১৯৫৫ সালের ৫ আগস্ট অসুস্থতার জন্য গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ছুটিতে গেলে ইস্কান্দার মীর্জা প্রথমে পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত গভর্নর জেনারেল এবং পরে গভর্নর জেনারেল নিযুক্ত হন।
- পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান (১৯৫৬) মোতাবেক গভর্নর জেনারেলের পদকে প্রেসিডেন্ট পদে রূপান্তর করা হয়।
- সৈয়দ ইস্কান্দার আলী মীর্জা জাতীয় পরিষদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
- দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে তিনি ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর সামরিক আইন জারি করেন।
- তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আইয়ুব খানকে সামরিক আইন প্রশাসক নিযুক্ত করেন।
- তিন সপ্তাহের মধ্যে আইয়ূব খান এক রক্তপাতহীন সামরিক ক্যুর মাধ্যমে ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- তিনি ইস্কান্দার মীর্জাকে প্রথমে কোয়েটা এবং পরে লন্ডনে নির্বাসনে পাঠান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪৪.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিলের পর পূর্ব বাংলায় কোন ধরনের শাসন জারি হয়?
  1. সামরিক শাসন
  2. প্রেসিডেন্ট শাসন
  3. গভর্নরের শাসন
  4. জরুরি অবস্থা
ব্যাখ্যা

পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রীয় সরকার:
- কেন্দ্রীয় সরকার ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল গোলাম মুহাম্মদ পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বা  গভর্নরের শাসন জারী করেন।
- পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন জারি ছিল ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।
- মুসলিম লীগ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রে মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন ঘটে।
- কেন্দ্রীয় সরকার তিনবার গভর্নরের শাসন জারি করে।
- যুক্তফ্রন্টের দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও কেন্দ্রীয় সরকারের চক্রান্তের ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারেনি।
- ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত পূর্ব বাংলায় কেন্দ্রের শাসন বলবৎ ছিল।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪৫.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রটি গৃহীত হয়েছিল -
  1. প্রথম গণপরিষদ কর্তৃক
  2. দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক
  3. তৃতীয় গণপরিষদ কর্তৃক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র:

• ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
• পাকিস্তান সৃষ্টির ৯ বছর পর শাসনতন্ত্র টি রচিত হয়েছিল। 
• ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়। 
• ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
• প্রথম গণপরিষদ শাসনতন্ত্র প্রণয়নে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। 
• ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
• ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
• ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
• ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চে দ্বিতীয় গণপরিষদ কর্তৃক এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
• ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ যে সংবিধান প্রণীত ও কার্যকর করা হয়েছিল তা মাত্র ২ বছর ৮ মাস চালু ছিল।
• ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল (অব.) ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন এবং ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৬.
যুক্তফ্রন্টে হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন দল কোনটি ছিল?
  1. আওয়ামী মুসলিম লীগ
  2. কৃষক-শ্রমিক পার্টি
  3. নিজাম-ই-ইসলামী
  4. বামপন্থী গণতন্ত্রী দল
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ বিরোধী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গঠন করে।
- এই জোট 'যুক্তফ্রন্ট' নামে পরিচিত।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টে মূলত চারটি রাজনৈতিক দল ছিল।

এগুলো হলো:
- মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন: আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন: কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন: নিজাম-ই-ইসলামী এবং
- হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন: বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৭.
আইয়ুব খান কবে সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন?
  1. ১৯৬২ সালের ৫ মার্চ
  2. ১৯৬২ সালের ১১ জুলাই
  3. ১৯৬২ সালের ১৮ আগস্ট
  4. ১৯৬২ সালের ৮ জুন 
ব্যাখ্যা

- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।

• সামরিক শাসন প্রত্যাহার:
- পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন।
- ১৯৬২ সালের ৮ জুন আইয়ুব খান সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন।
- ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া। 

৩৪৮.
মৌলিক গণতন্ত্রের কতটি স্তর ছিল?
  1. ৭টি
  2. ৬টি
  3. ৫টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:
- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয়েই নিজের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভিত্তি সুদৃঢ় ও সুনিশ্চিত করার জন্য তিনি বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তার মধ্যে প্রধান পদক্ষেপ হলো 'মৌলিক গণতন্ত্র' নামে এক নতুন পদ্ধতি চালু।
- পূর্ব পাকিস্তানের ৪০ হাজার এবং পশ্চিম পাকিস্তানের ৪০ হাজার মৌলিক গণতন্ত্রী সদস্য জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে বিধান করা হয়।

উল্লেখ্য যে, 
[শুধুমাত্র সংগ্রামের নোটবুকে মৌলিক গণতন্ত্রের ৫টি স্তর বলা হয়েছে। কিন্তু  পৌরনীতি ও সুশাসন, ইতিহাস, ও  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খন্ডের মধ্যে  মৌলিক গণতন্ত্রের ৪টি স্তরের কথা বলা হয়েছে। তাই অধিক গ্রহনযোগ্য হিসেবে ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৪৯.
ঐতিহাসিক ২১-দফা দাবীর প্রথম দাবীটি কি ছিল?
  1. ক) বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
  2. খ) প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
  3. গ) পূর্ববাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ
  4. ঘ) বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- এর প্রথম দফা ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
উৎসঃ ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৫০.
পূর্ব পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে আসন সংখ্যা ছিল-
  1. ক) ১৬৮টি
  2. খ) ১৬৯টি
  3. গ) ১৭০টি
  4. ঘ) ১৬৭টি
ব্যাখ্যা
- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে পুরো পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট আসন ছিলো ৩১৩টি।
- এর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ছিলো ১৬৯টি। যার মধ্যে ৭টি ছিলো সংরক্ষিত মহিলা আসন।  
- এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের ৭টি সংরক্ষিত নারী আসনসহ মোট ১৬৭টি আসন পেয়ে জয় লাভ করেছিলো।
অন্যদিকে,
- পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৩১০টি আসনের মধ্যে মোট ২৯৮টি আসন লাভ করে।

উৎস- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
৩৫১.
পূর্ব বাংলায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভার প্রথম মুখ্যমন্ত্রীর নাম কি?
  1. ক) এ কে ফজলুল হক
  2. খ) মুহাম্মদ আলী
  3. গ) ইস্কান্দার মীর্জা
  4. ঘ) খাজা নাজীমউদ্দীন
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্টের মুখ্যমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, স্বায়ত্তশাসন, নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি বিষয়সহ) দায়িত্বে ছিলেন শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক। যুক্তফ্রন্টের কৃষিঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ৪ এপ্রিল এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়।
১৪ মে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তবে ৩০শে মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
উৎসঃ অসমাপ্ত আত্মজীবনী এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৫২.
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কয় দফা দাবি উত্থাপন করে?
  1. ৬ দফা
  2. ১০ দফা
  3. ১৩ দফা
  4. ১১ দফা
ব্যাখ্যা
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান:
- ১৯৬৯ সালে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালের সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
- ১৯৬৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া ও মেনন গ্রুপ), পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ ও ডাকসুর নেতৃবৃন্দ মিলে 'সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ' গঠন করেন।
- ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার সাথে মিলিয়ে আরও কয়েকটি দাবি নিয়ে ১১ দফা দাবি পেশ করে।
- ২২শে মার্চ আইয়ুব খান পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে অপসারণ করেন।
- ২৫শে মার্চ আইয়ুব খান সেনাপ্রধান জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।
-  ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে গ্রাম ও শহরের কৃষক ও শ্রমিকদের মাঝে শ্রেণি চেতনার উন্মেষ ঘটে। 

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
 
৩৫৩.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা রচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন কে?
  1. আবদুল গাফফার চৌধুরী
  2. সিকান্দার আবু জাফর
  3. আলাউদ্দিন আল আজাদ
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচী:
- নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগকে চরম শিক্ষা দেয়ার লক্ষে এ অঞ্চলের কয়েকটি সমমনা দল জোট গঠন করে।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়
-  নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট প্রতীক হিসেবে বেছে নেয় 'নৌকা' এবং 'বাংলা'কে রাষ্ট্রভাষা ও পূর্ব পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনাধিকারের দাবিসহ ২১ দফাভিত্তিক নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- নির্বাচনের প্রাক্কালে বাঙালির জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সমাজের সর্বস্তরের ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা সম্বলিত এমনই একটি বিস্তৃত কর্মসূচি গ্রহণ করে।
- এটি রচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন আবুল মনসুর আহমদ। 

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৪.
পূর্ববাংলার জন্য পাকিস্তানের মোট জাতীয় আয় থেকে কত অংশ ব্যয় করা হতো?
  1. ক) ষাট ভাগ
  2. খ) সাতাশ ভাগ
  3. গ) পঁচিশ ভাগ
  4. ঘ) পনেরো ভাগ
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৬০ ভাগের বসবাস ছিল পূর্ব পাকিস্তানে। জাতীয় আয়ের মাত্র ২৭ ভাগ ব্যয় করা হতো এ অঞ্চলের জন্য। [সূত্র: ইতিহাস বই, এইচএসসি]
৩৫৫.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন কে?
  1. এ কে ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. আবু হোসেন সরকার
  4. সৈয়দ আজিজুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠন:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা, শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- শেরে বাংলা এবং যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান স্বায়ত্তশাসন আদায়ের ব্যাপারে চেষ্টা চালাতে থাকেন।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই মন্ত্রিসভা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বর্ধমান হাউজকে বাংলা একাডেমি করার প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৬.
যুক্তফ্রন্ট মূলত কয়টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল?
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে মূলত ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'হারিকেন'।
- নির্বাচনে মোট আসন ছিল ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

[বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খন্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধঃ দলিলপত্র অধিক গ্রহনযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

তথ্যসূত্র - স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৭.
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি হয় কত সালে?
  1. ১৯৫৭ সালে
  2. ১৯৫৮ সালে
  3. ১৯৫৬ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা

• সামরিক শাসন জারি :
- পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই শাসন ব্যবস্থায় একধরণের স্বৈরতান্ত্রিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রবণতা লক্ষ করা যায়।
- ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনোনীত হন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন।
- সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- সকল রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরোক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৫৮.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল -
i.বিচার বিভাগকে শাসন বিভাগ থেকে পৃথক করা 
ii.বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দান 
iii.সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা 

নিচের কোনটি সঠিক?
  1. i ও ii
  2. i ও iii
  3. ii ও iii
  4. i, ii ও iii
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে ৪টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে ‘একুশ দফা’ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- একুশ দফা প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।

• এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং ইতিহাস, এস এস এইচ এল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৫৯.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রটি হল-
  1. দ্বিতীয় শাসনতন্ত্র
  2. প্রথম শাসনতন্ত্র
  3. তৃতীয় শাসনতন্ত্র
  4. চতুর্থ শাসনতন্ত্র
ব্যাখ্যা
• শাসনতন্ত্র ১৯৫৬:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র।
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে। 

• এ শাসন ব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য:

- যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়।
- পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে।
- এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়।
- এ ক্ষেত্রে ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনসরণ করা হয়।

• প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র:
- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
- এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়।
- রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।

উৎস: ইতিহাস, এএসএসএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬০.
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের  নির্বাচনী ইশতেহার ছিল-
  1. ৬ দফা
  2. ২১ দফা
  3. ১১ দফা
  4. ১৮ দফা
ব্যাখ্যা

• যুক্তফ্রন্টের -২১ দফা ছিল নির্বাচনী ইশতেহার ।
 নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

- প্রধান দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা;
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা:
৩. পাটশিল্পকে জাতীয়করণ করা।
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রর্বতন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহিদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহিদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬১.
কবে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভা বাতিল করা হয়?
  1. ৩০ এপ্রিল, ১৯৫৪ সাল
  2. ৩০ মে, ১৯৫৪ সাল
  3. ৩০ এপ্রিল, ১৯৫৫ সাল
  4. ৩০ মে, ১৯৫৫ সাল
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট সরকারের শাসনামল (১৯৫৪-৫৮):
- যুক্তফ্রন্ট গঠনের সময় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল যে, নির্বাচনে জয়লাভ করলে এ. কে. ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট পার্লামেন্টারি বোর্ডের নেতা নির্বাচিত হবেন।
- সে অনুযায়ী তিনি পূর্ববাংলায় সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পান।
- তিনি ৩ এপ্রিল (১৯৫৪) মন্ত্রিসভা গঠন করেন।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় কেন্দ্রীয় সরকার সুনজরে দেখেনি।
- তারা যুক্তফ্রন্টের ভাঙন চেয়েছে।
- মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে আওয়ামী মুসলিম লীগের সঙ্গে মনোমালিন্য, ৩০ এপ্রিল কোলকাতায় ফজলুল হক প্রদত্ত ভাষণের অপব্যাখ্যা, পূর্ববাংলার বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার বাঙালি-অবাঙালি শ্রমিকদের মধ্যে সংঘটিত দাঙ্গা প্রভৃতি ফজলুল হককে বেকায়দায় ফেলে।
- 'নিউইয়র্ক টাইমস' এর সংবাদদাতা জন পি. কালাহান এ.কে. ফজলুল হকের সাক্ষাতকার বিকৃত করে প্রকাশ করেন।
- উক্ত সাক্ষাতকারে ফজলুল হক পূর্ববাংলার অধিক স্বায়ত্তশাসন পাওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেছিলেন।
- কিন্তু কালাহান লেখেন যে, ফজলুল হক পূর্ববাংলার স্বাধীনতা চান।
- কেন্দ্রীয় সরকার কালাহানের রিপোর্টের ভিত্তিতে ফজলুল হককে দেশদ্রোহী হিসেবে ঘোষণা করে এবং তাঁর মন্ত্রিসভা বাতিল করে (৩০ মে, ১৯৫৪) প্রদেশের ওপর গভর্নরের শাসন জারি করে।
- পূর্ববাংলায় গভর্নরের শাসন চলে ১৯৫৫ সালের ২ জুন পর্যন্ত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬২.
জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানের প্রথম সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন-
  1. ক) ১৯৫৮ সালে
  2. খ) ১৯৬২ সালে
  3. গ) ১৯৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৯৬৯ সালে
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক আইনসভা ও মন্ত্রীপরিষদ বাতিল করেন। ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে সড়িয়ে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। ১৯৬২ সালের ৮ জুন তিনি সামরিক শাসন প্রত্যাহার করেন। ইয়াহিয়া খান ২৫ মার্চ ১৯৬৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া]
৩৬৩.
যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয় কখন?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫১ সালে
  3. ১৯৫৩ সালে
  4. ১৯৫২ সালে
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে 'যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
১. মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী মুসলিম লীগ,
২. শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
৩. মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি এবং
৪. হাজী দানেশের বামপন্থী গণতন্ত্রী দল।

এছাড়াও,
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- আওয়ামী মুসলিম লীগের নির্বাচনী কর্মসূচির ৪২ দফার প্রধান প্রধান দাবি নিয়ে।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

নোট: [বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে সংশোধন আকারে বলা হয়েছে যুক্তফ্রন্ট প্রধানত ৫ টি দলের সমন্বয়ে গঠিত। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র ১ম ও ২য় খণ্ডে চারটি বিরোধী দলের সমন্বয়ে গঠিত বলা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিলপত্র অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায় ৪ টি উত্তর নেওয়া হয়েছে।]

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৬৪.
পাকিস্তানের সংবিধানে উর্দু ও বাংলাকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয় কবে?
  1. ক) ১৯৫২সালে
  2. খ) ১৯৫৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৫২ সালের পর প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে উর্দু ও বাংলাকে পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে অনুমোদন করা হয়। সূত্র- বোর্ড বইঃনবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৫.
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট কতটি আসন লাভ করে?
  1. ৩০৯টি
  2. ২৩৮টি
  3. ২২৩টি
  4. ২১৩টি
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন ও ফলাফল:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন।
- এই নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়।
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
- বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
- ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৬.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের একক দল হিসেবে 'আওয়ামী মুসলিম লীগ' কতটি আসন লাভ করে?
  1. ক) ২২৩টি
  2. খ) ১৪৩টি
  3. গ) ৭২টি
  4. ঘ) ৪৮টি
ব্যাখ্যা
• পাকিস্তান সৃ্ষ্টির পর ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ পূর্ব বাংলায় প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফল:-
- মোট আসন : ৩০৯টি
- মুসলিম আসন : ২৩৭টি
- অমুসলিম আসন : ৭২টি
- যুক্তফ্রন্ট লাভ করে : ২২৩টি আসন

• যুক্তফ্রন্টের প্রাপ্ত ২২৩ টি আসনের মধ্যে দলওয়ারী প্রাপ্ত আসন:-
- আওয়ামী মুসলিম লীগ - ১৪৩ টি
- কৃষক শ্রমিক পার্টি - ৪৮ টি
- নেজামে ইসলাম  - ১৯ টি
- গণতন্ত্রী পার্টি  - ১৩ টি

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬৭.
ইস্কান্দার মির্জা কোন সরকারকে উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন?
  1. ইয়াহিয়া খান
  2. গোলাম মোহাম্মদ
  3. মালিক ফিরোজ খান
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি:
- ইস্কান্দার মির্জা পাকিস্থানে সর্বপ্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর ইস্কান্দার মির্জা মালিক ফিরোজ খানের সংসদীয় সরকার উৎখাত করে দেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন।
- সেনাপ্রধান আইয়ুব খানকে প্রধান সামরিক শাসক নিযুক্ত করেন। সংবিধান বাতিল, আইন পরিষদ ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেয়া হয়।
- মেজর জেনারেল ওমরাও খান পূর্ব বাংলার সামরিক প্রশাসক নিযুক্ত হন।
- প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জার গণতন্ত্র বিরোধী উপরিউক্ত কার্যক্রমে প্রধান সহযোগী ছিলেন আইয়ুব খান।
- উচ্চবিলাসী আইয়ুব খান ২৭ অক্টোবর ২১ দিনের মাথায় ইস্কান্দর মির্জাকে পদচ্যুত করে নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৬৮.
যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য পূর্ব বাংলার আইন পরিষদে সংরক্ষিত আসন ছিল-
  1. ২২৩টি
  2. ২৩৭টি
  3. ৩১০টি
  4. ৩০৯টি
ব্যাখ্যা

- যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ২৩৭টি এবং অমুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত আসন ছিল ৭২টি।
- এই দুইয়ের যোগফলে পূর্ব বাংলার আইন পরিষদের মোট আসন সংখ্যা হয় ৩০৯টি।
- যুক্তফ্রন্ট মোট ২৩৬টি আসনে জয়ী হয়েছিল। এর মধ্যে ছিলো - মুসলিম আসন ২২৩টি এবং অমুসলিম আসন ১৩টি।

উৎসঃ পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৩৬৯.
যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত হয় কবে?
  1. ১৯৫৪ সালে
  2. ১৯৫৩ সালে
  3. ১৯৫২ সালে
  4. ১৯৫৫ সালে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট গঠন: 
-  ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
-  যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে।
- পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসন ছিল।
- যুক্তফ্রন্ট পায় ২২৩টি।
- মুসলিম লীগ মাত্র ১টি আসন লাভ করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭০.
নিচের কোন রাজনৈতিক দলটি যুক্তফ্রন্টের অংশ ছিলো না?
  1. ক) আওয়ামী মুসলিম লীগ
  2. খ) নেজামে ইসলাম
  3. গ) কৃষক প্রজা পার্টি
  4. ঘ) গণতন্ত্রী দল
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলার চারটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
যুক্তফ্রন্টের অন্তর্ভুক্ত রাজনৈতিক দলগুলো হলো:
- আওয়ামী মুসলিম লীগ
- নেজামে ইসলাম
- কৃষক শ্রমিক পার্টি এবং
- গণতন্ত্রী দল।
১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩৭১.
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারে কত দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে?
  1. ১০ দফা
  2. ৩০ দফা
  3. ৩৫ দফা
  4. ২১ দফা
ব্যাখ্যা
• যুক্তফ্রন্ট গঠনের পটভূমি ও ২১ দফা কর্মসূচি:
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে পূর্ব বাংলার জনগণের অসন্তোষ ও মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একত্রিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে এই জোট গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- মওলানা ভাসানীর আওয়ামী মুসলিম লীগ, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকের কৃষক শ্রমিক পার্টি, মওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম পার্টি, হাজী দানেশের গণতন্ত্রী দল এবং খিলাফত-ই-রাব্বানি মিলেই যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ‘নৌকা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া যুক্তফ্রন্ট তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে, যা আওয়ামী মুসলিম লীগের ৪২ দফার ভিত্তিতে প্রণীত।
- এর মূল রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- এই কর্মসূচিতে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি, কৃষক-শ্রমিকের অধিকার, দুর্নীতি দমন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নসহ জনগণের মৌলিক চাহিদা ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
- এই ২১ দফা কর্মসূচিই জনগণের বিপুল সমর্থন এনে দেয় এবং মুসলিম লীগের বিপরীতে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও্র দশম শ্রেণি।
৩৭২.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার অন্তর্ভুক্ত ছিল -
  1. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন
  2. খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা
  3. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা:
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- ২১ দফা ছিল আসলে পূর্ববাংলার মানুষের অধিকারের দলিল।
- সুতরাং এই ২১ দফা দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে। 

⇒ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ছিল নিম্নরূপ:
১. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা,
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা,
৩. পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ করা,
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা,
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা,
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা,
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা,
৮. পূর্ব পাকিস্তানে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা,
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা,
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা,
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা,
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা,
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা,
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা,
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা,
১৬. বাংলা ভাষা গবেষণার জন্য বর্ধমান হাউজে বাংলা একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা,
১৭. রাষ্ট্রভাষা বাংলা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে মিনার নির্মাণ করা,
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করা,
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন কায়েম করা,
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনভাবেই বৃদ্ধি না করা,
২১. পরিষদের কোন সদস্য পদ খালি হলে তিন মাসের মধ্যে উপ-নির্বাচনের ব্যবস্থা করা।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৩.
শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের কয় সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়?
ব্যাখ্যা
প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন:
- চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার হয় ২১ দফা।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়ী হয় এবং মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে।
- নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে জয়ী হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।

উল্লেখ্য,
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

⇒ যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা:
• মুখ্যমন্ত্রী, অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগ: শেরেবাংলা এ কে ফজলুল।
• বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার: আবু হোসেন সরকার।
• শিক্ষা: সৈয়দ আজিজুল হক।
• কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন বিভাগ: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ইতিহাস, SSHL প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
৩৭৪.
মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ জারি করা হয় কবে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৫৭ সালে
  3. ১৯৫৮ সালে
  4. ১৯৫৯ সালে
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র:

- জেনারেল আইয়ুব খান ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ জারি করেন।
- এ ব্যবস্থায় স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় পুরো পাকিস্তানে মৌলিক গণতন্ত্রীদের সংখ্যা ছিলো ৮০ হাজার।
- মৌলিক গণতন্ত্রীরা প্রথমে নির্বাচিত ও মনোনীত এবং ১৯৬২ সাল থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতো।
- এসব মৌলিক গণতন্ত্রীরা পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত করতেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭৫.
পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক নির্বাচন কত সালে অনুষ্ঠিত হয়?
  1. ক) ১৯৫২ সালে
  2. খ) ১৯৫৪ সালে
  3. গ) ১৯৫৬ সালে
  4. ঘ) ১৯৫৭ সালে
ব্যাখ্যা

১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম প্রাদেশিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বংলার চারটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। এই জোটের প্রতীক ছিল নৌকা।
নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে সরকার গঠন করে। যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত হন এ কে ফজলুল হক। ব্যর্থতার অজুহাত তুলে ৩০ মে ১৯৫৪ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল করে কেন্দ্রের শাসন জারি করে। যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভার মেয়াদ ছিল ৫৬ দিন।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

৩৭৬.
১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন মোট কতটি আসনে হয়েছিলো?
  1. ৩০৯
  2. ২৫৭
  3. ৩০১
  4. ২৯৮
ব্যাখ্যা

•যুক্তফ্রন্ট এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক নির্বাচন (১৯৫৪ সাল)
⇒  ১৯৫১ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মুসলিম লীগ সরকার পরাজয়ের আশঙ্কায় নানা টালবাহানা করে নির্বাচনের তারিখ বারবার পিছিয়ে দেয়। অবশেষে সরকার পূর্ব বাংলায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের তারিখ ধার্য 
- ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদে ৩০৯টি আসনে নির্বাচন হয়।
- নির্বাচনে মুসলমান আসনে ৩৭.৬০% ভোট পড়ে।

⇒ নির্বাচনে মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে মুসলমানদের জন্য সংরক্ষিত ২৩৭টি আসনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসনে (আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩টি জয়ী হয় এবং প্রদত্ত ভোটের ৬৪% লাভ করে।
- সরকারি দল মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন যা প্রদত্ত ভোটের ২৭% মাত্র।
- বাকি ৫টি মুসলিম আসনের ৪টি পায় স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবং ১টি পায় খেলাফত-ই-রব্বানী পার্টি।
- এছাড়া মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৯টি আসনের সবকটিই যুক্তফ্রন্ট লাভ করে।
- নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী যুক্তফ্রন্ট প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা গঠনের যোগ্যতা অর্জন করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,নবম ও দশম শ্রেণি।

৩৭৭.
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনে 'পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস' কতটি আসন লাভ করে?
  1. ১৭টি
  2. ২১টি
  3. ২৪টি
  4. ২৭টি
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:

- ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক কাউন্সিল সম্মেলনে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট মূলত ৪টি দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো,
• আওয়ামী লীগ।
• কৃষক শ্রমিক পার্টি।
• নেজামে ইসলাম।
• গণতন্ত্রী দল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে।
- ১৯৫৪ সালের ৮ মার্চের নির্বাচন ছিল পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন ভোটাধিকারের মাধ্যমে সাধারণ নির্বাচন। 
- ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট।
- মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন।
• ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন।
• পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি।
• তফসিল ফেডারেশন ২৭টি।
• খেলাফতে রব্বানী ২টি।
• খ্রিস্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি, কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৮.
পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়-
  1. ক) দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে
  2. খ) লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে
  3. গ) দিল্লি কনভেনশনের মাধ্যমে
  4. ঘ) চৌদ্দ দফার ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা

লাহোর প্রস্তাবে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার দ্বিজাতিতত্ত্বের চূড়ান্ত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তবে, লাহোর প্রস্তাবে সরাসরি পাকিস্তান রাষ্ট্রের কথা বলা হয়নি, বরং ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস্) গঠন করার কথা বলা হয়েছে। তবে, ১৯৪৬ সালে দিল্লীতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লিগের একটা কনভেনশনে জিন্নাহ ‘সার্বভৌম পাকিস্তান রাষ্ট্র’ গঠনের কথা বলেন।
নবম-দশম শ্রেণির বইতে, এক লাইনে দিল্লির ঐ কনভেনশন এবং আরেক লাইনে দ্বিজাতিতত্ত্বের কারণে পাকিস্তান সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।
এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় দেয়াটা কঠিন। ‘পাকিস্তান সৃষ্টি’ সুদীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা অনেকগুলো ঘটনা এবং রাজনৈতিক চিন্তার চূড়ান্ত পরিণতি। নির্দিষ্ট কোন সম্মেলন তথা অনুষ্ঠানে সরাসরি নেয়া কোন সিদ্ধান্ত থেকে দেশভাগ হয়নি। সার্বিকভাবে বিবেচনা করলে পাকিস্তানের সৃষ্টির পেছনে দ্বিজাতিতত্ত্ব মূল উদ্দীপনা হিসেবে কাজ করেছে। আবার এই দ্বিজাতিতত্ত্বও পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করতে অনেক সময় নিয়েছে। আমরা সঠিক উত্তর হিসেবে ‘ক) দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে’ এটাকে ধরলাম।
বিসিএসেও এমন প্রশ্ন প্রায়ই দেয়া হয় যেগুলো নিয়ে তাত্বিকদের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে তর্ক চলে আসছে। এই প্রশ্নেও তেমনি চাইলেই তর্ক করা সম্ভব।
সুত্রঃ ইতিহাস বোর্ড বই, বাংলাপিডিয়া এবং Live MCQ এডমিন প্যানেল।

৩৭৯.
১৯৬২ সালের আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন কী নামে খ্যাত? 
  1. ভাষা আন্দোলন 
  2. জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট আন্দোলন
  3. শিক্ষা আন্দোলন 
  4. স্বদেশী আন্দোলন
ব্যাখ্যা

শিক্ষা প্রেক্ষাপট:
- ১৯৬২ সালের আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন শিক্ষা আন্দোলন নামে খ্যাত।
- পূর্ব পাকিস্তান তথা পূর্ববাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের গৃহীত শিক্ষানীতি এ অঞ্চলের ছাত্র সমাজকে সরকার বিরোধী-আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
- ১৯৪৭-৪৮ সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে একটি ও দু'টি।
- ১৯৬১-৬২ সালে দু' অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪টি ও ৬টি।
- অথচ  ১৯৪৭-৪৮ সালে পূর্ববাংলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংখ্যা ছিল ১৬২০ জন এবং পশ্চিম পাকিস্তানে মাত্র ৬৫৪ জন। 
- কিন্তু ১৯৬২-৬৩ সালে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৭১৪০ জন ও ৯৪৬৪ জন।
- পূর্ববাংলায় ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও পশ্চিম পাকিস্তানে ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

উৎস: ইতিহাস, এসইচএল, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮০.
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টভুক্ত রাজনৈতিক দল কোনটি?
  1. ক) ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি
  2. খ) আওয়ামী মুসলিম লীগ
  3. গ) মুসলিম লীগ
  4. ঘ) কংগ্রেস
ব্যাখ্যা
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
- যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে।
- ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
- এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি।
- নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
- শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৮১.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার খসড়া কে প্রণয়ন করেন?
  1. আবুল মনসুর আহমেদ
  2. ফজলুল হক
  3. মাওলানা ভাসানী
  4. আবুল কাশেম
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি:
- যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের প্রাক্কালে বিভিন্ন দল ও জোট নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো ঘোষণা করে।
- যুক্তফ্রন্ট ২১ দফা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করেছিল।
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে মুসলিম লীগ বিরোধী যুক্তফ্রন্টের প্রেরণাশক্তি ছিল ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন।
- তাই যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির ২১ ফিগারটিকে চিরস্মরণীয় করার জন্য ২১ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে।
- আবুল মনসুর আহমেদ ২১ দফার খসড়া প্রণয়ন করেন।
- ২১ দফার দাবিগুলো ভোটারদের মন জয় করে।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮২.
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুক্তফ্রন্ট সরকারের কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন?
  1. ক) অর্থ ও পরিকল্পনা
  2. খ) শ্রম ও শিল্প
  3. গ) শিক্ষা ও স্বাস্থ্য
  4. ঘ) কৃষি ও সমবায়
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের ৮ মার্চ পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং ৪ এপ্রিল এ কে ফজলুল হককে মুখ্যমন্ত্রী করে ৫ সদস্যের মন্ত্রীসভা গঠন করা হয়। ১৪ মে এ মন্ত্রীসভায় আওয়ামীলীগ যোগদান করলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি, বন, সমবায় এবং পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী হন। তবে ৩০ মে মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় এ মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়া হয়।
সূত্র : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী
৩৮৩.
যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা ইশতেহারের মুখ্য রচয়িতা কে ছিলেন?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. মাওলানা ভাসানী
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. আবুল মনসুর আহমদ
ব্যাখ্যা

যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
- এই দফাগুলো সংক্ষেপে বর্ণিত হলো:
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ করা এবং ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ।
৩. পাটের ব্যবসায় জাতীয়করণ করা।
৪. সমবায় কৃষি ব্যবস্থা প্রবর্তন করা।
৫. পূর্ব পাকিস্তানে লবণ শিল্প প্রতিষ্ঠা করা।
৬. কারিগর মুহাজিরদের কাজের ব্যবস্থা করা।
৭. বন্যা ও দুর্ভিক্ষ রোধের জন্য খাল খনন ও সেচের ব্যবস্থা করা।
৮. শিল্প ও খাদ্যে দেশকে স্বাবলম্বী করা।
৯. অবৈতনিক বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার প্রবর্তন করা।
১০. শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করা।
১১. ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।
১২. শাসন ব্যয় হ্রাস করা ও মন্ত্রীদের বেতন এক হাজার টাকার বেশি না করা।
১৩. দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৪. জন নিরাপত্তা আইন ও অর্ডিন্যান্স প্রভৃতি বাতিল করা।
১৫. বিচার ও শাসন বিভাগ পৃথকীকরণ করা।
১৬. মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন 'বর্ধমান হাউস'কে বাংলা ভাষা গবেষণাগারে পরিণত করা।
১৭. বাংলা ভাষা করার দাবিতে নিহত শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শহীদ মিনার নির্মাণ করা।
১৮. একুশে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা।
১৯. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রদান।
২০. আইন পরিষদের মেয়াদ কোনোভাবেই বৃদ্ধি না করা।
২১. আইন পরিষদের আসন শূন্য হলে তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন দিয়ে তা পূরণ করা।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮৪.
যুক্তফ্রন্ট এর নির্বাচনী ইশতেহার ছিল -
  1. ক) ৬ দফা
  2. খ) ৮ দফা
  3. গ) ১১ দফা
  4. ঘ) ২১ দফা
ব্যাখ্যা
 যুক্তফ্রন্ট
- যুক্তফ্রণ্ট ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
- এ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল।
- এ চারটি দল হলো আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল।
- যুক্তফ্রন্ট চারটি দল নিয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
- নির্বাচনী ইশতেহার ছিল ২১ দফা।
- নির্বাচনে ৩০৯টি আসনের ২২৩টি আসনে জয় লাভ করে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা গঠন করে।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৫.
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভায় আবুল মনসুর আহমদ কোন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন?
  1. ক) জনস্বাস্থ্য মন্ত্ৰী
  2. খ) বিচার ও আইন মন্ত্রী
  3. গ) শিক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন মন্ত্ৰী
  4. ঘ) কোন পদবি ছিল না
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা, ১৯৫৪

১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর 'যুক্তফ্রন্ট' শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে সর্বসম্মতিক্রমে 'সংসদীয় নেতা' নির্বাচন করে। তদানীন্তন পূর্ব বাংলার গভর্নর চৌধুরী খালিকুজ্জামান ২৫ মার্চ শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানান। তিনি ৩ এপ্রিল চার সদস্যবিশিষ্ট এবং পরে ১৫ মে আওয়ামী লীগের ৭ জন এবং কৃষক শ্রমিক পার্টির ৩ জনসহ মোট ১৪ জন নিয়ে বর্ধিত মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য -

১. শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক - মুখ্যমন্ত্রী (স্বরাষ্ট্র, সংস্থাপন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, স্বায়ত্তশাসন, নির্বাচন ও পার্লামেন্টারি বিষয়সহ।)
২. আবু হোসেন সরকার - অর্থমন্ত্রী
৩. আতাউর রহমান খান - খাদ্য ও বেসামরিক সরবরাহ মন্ত্রী
8. আবুল মনসুর আহমদ - জনস্বাস্থ্য মন্ত্ৰী
৫. শেখ মুজিবুর রহমান - কৃষিঋণ, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্ৰী

উল্লেখ্য, 
- 'যুক্তফ্রন্ট' নেতাগণ ২১ ফেব্রুয়ারির স্মৃতি অম্লান করে রাখার জন্য ১৯৫৪ সালে যুক্তফন্টের নির্বাচনি ইশতেহারকে ২১ দফা কর্মসূচিতে লিপিবদ্ধ করেন।
- ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
- যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিলো 'নৌকা'।
- মুসলিম লীগের প্রতীক ছিলো 'হারিকেন'।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
৩৮৬.
১৯৫৪ সালের মে মাসে যুক্তফ্রন্টের কয় সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়?
  1. ৪ সদস্য
  2. ১০ সদস্য
  3. ১৪ সদস্য
  4. ২০ সদস্য
ব্যাখ্যা
মন্ত্রিসভা গঠন: 
- ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের অন্যতম নেতা সোহরাওয়ার্দী কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত থাকায় শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রী সভার মুখ্যমন্ত্রী হন।
- তিনি নিজে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়াও অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্ব নেন।
- ১৯৫৪ সালের মে মাসে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।
- মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে আবু হোসেন সরকার বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার, সৈয়দ আজিজুল হক শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব লাভ করেন।
- নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই মন্ত্রিসভা বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা, ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস ও সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং বর্ধমান হাউজকে বাংলা একাডেমি করার প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করেন।
- কেন্দ্রীয় সরকার এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৭.
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের মূল কারণ কী ছিল?
  1. ভাষা আন্দোলন
  2. রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি
  3. শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি
  4. শুধু সরকারি স্কুলে শিক্ষার সুযোগ
ব্যাখ্যা
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন:
- ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের মূলে ছিল শরিফ শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট।
- এই কমিশন গঠিত হয়েছিল আইয়ুবের সামরিক শাসন জারির পরপর, ৩০ ডিসেম্বর ১৯৫৮।
- কমিশনের প্রধান ছিলেন তৎকালীন শিক্ষাসচিব ড. এস এম শরিফ।
- এই কারণে রিপোর্টটি শরিফ কমিশন রিপোর্ট নামেই পরিচিতি পেয়েছে।
- কমিশন রিপোর্ট দাখিল করেছিল আট মাসের মাথায় ২৬ আগস্ট ১৯৫৯। 

⇒ ১৯৫৯ সালের শেষ দিকে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- কারণ এর কয়েকটি সুপারিশকে শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি ও উচ্চশিক্ষা সংকোচনের জন্য উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়
- যেমন ডিগ্রি কোর্স দুই বছর থেকে তিন বছর করা, কলেজ পর্যায়ে বছর শেষে পরীক্ষা ও তার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী বর্ষে উন্নীত হওয়ার শর্ত, অনার্স ও মাস্টার্স কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলাফলের শর্ত।
- এগুলোকে ছাত্ররা সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বন্ধ করার ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে।
- ফলে রিপোর্টবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৩৮৮.
যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল কয়টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৫টি
  3. গ) ৬টি
  4. ঘ) ৭টি
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
- চারটি বিরোধী রাজনৈতিক দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।

• দলগুলো ছিল: 
– মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বাধীন- আওয়ামী মুসলিম লীগ
– শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক- শ্রমিক পার্টি
– মওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন- নেজাম-ই-ইসলামী এবং
– হাজী দানেশের- বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা। 
– ১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
– ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ। যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
– ২১ ফেব্রুয়ারিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যুক্তফ্রন্টের ইশতেহার করা হয় ২১ দফা।
– ২১ দফা কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
– যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবিতে গণমানুষের অধিকারের কথা তুলে ধরে।
– যুক্তফ্রন্ট তাদের ঐতিহাসিক ২১ দফা দাবির প্রথম দফাটি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণী ও ইতিহাস প্রথম পত্র (এইচ এস সি ) বাংলাদেশ ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৯.
১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল কবে?  
  1. ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ৮ মার্চ
  2. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ এপ্রিল
  3. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মে
  4. ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন: 

• ১৯৫৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানত স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে। 
• ৮ মার্চ, ১৯৫৪ তারিখে যুক্তফ্রন্ট  নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয়েছিল।
• এই নির্বাচনে শতকরা ৩৭.১৯ ভাগ ভোটার ভোট দেয়। 
• ২ এপ্রিল নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়। 
• নির্বাচনে মুসলিম লীগ শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। 
• যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে। 
• মোট ৩০৯টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট লাভ করে ২২৩টি আসন। 
• ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় ৯টি আসন। 
• পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস ২৪টি, তফসিল ফেডারেশন ২৭টি, খেলাফতে রব্বানী ২টি, খ্রিষ্টান ১টি, বৌদ্ধ ১টি, কম্যুনিস্ট পার্টি ৪টি আসন লাভ করে। 
• মূলত মুসলিম লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা, রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে তাদের অবস্থান, প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের বিরোধিতা, পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক দুর্গতি ও নেতৃত্বের জনবিচ্ছিন্নতাই মুসলিম লীগের পরাজয়ের কারণ।
• যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়- ৪ঠা ডিসেম্বর, ১৯৫৩ সালে। 
• ১৫ মে, ১৯৫৪ তারিখে পূর্ণাঙ্গ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৩৯০.
যুক্তফ্রন্টে কার নেতৃত্বাধীন কোন রাজনৈতিক দল ছিল না?
  1. স্যার সলিমুল্লাহ
  2. হাজী দানেশ
  3. মাওলানা আতাহার আলী
  4. মাওলানা ভাসানী
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে পাকিস্তানের মুসলিম লীগ বিরোধী পূর্ব পাকিস্তানের কয়েকটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী মোর্চা বা জোট গঠন করে।
- এই জোট 'যুক্তফ্রন্ট' নামে পরিচিত।
- ১৯৫৩ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘যুক্তফ্রন্ট' গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- যুক্তফ্রন্টে মূলত চারটি রাজনৈতিক দল ছিল।

এগুলো হলো:
- মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন: আওয়ামী মুসলিম লীগ,
- ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন: কৃষক-শ্রমিক পার্টি,
- মাওলানা আতাহার আলীর নেতৃত্বাধীন: নিজাম-ই-ইসলামী এবং
- হাজী দানেশের নেতৃত্বাধীন: বামপন্থী গণতন্ত্রী দল। 

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯১.
যুক্তফ্রন্টের প্রধান কার্যালয় কোথায় ছিল?
  1. ক) রোজ গার্ডেন, টিকাটুলি, পুরান ঢাকা
  2. খ) সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােড
  3. গ) আনন্দ গার্ডেন, সদরঘাট
  4. ঘ) জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান
ব্যাখ্যা
- ময়মনসিংহে আওয়ামী মুসলিম লীগের কাউন্সিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর।
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্টের সভাপতি ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান অফিস সদরঘাটের ৫৬, সিমসন রােডে

- যুক্তফ্রন্টে রাজনৈতিক দল ছিল ৪ টি ।
এগুলো হলো -
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ (মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী)
২. কৃষক প্রজাপার্টি (এ. কে. ফজলুল হক)
৩. নেজামে-ই-ইসলাম (মাওলানা আতাহার আলী)
৪. গণতন্ত্রী দল (হাজী মোহাম্মদ দানেশ)
- যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৯২.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র কী ধরনের ছিল? 
  1. অলিখিত
  2. লিখিত
  3. মৌখিক
  4. প্রথাভিত্তিক
ব্যাখ্যা

১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্য

→ বৃহৎ শাসনতন্ত্র: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের প্রথম পরিচয় হল এটি ছিল একটি বৃহৎ শাসনতন্ত্র। মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা (Preamble), ১৩টি অংশ (Part), ২৩৪টি বিধি (Article) এবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল। এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল। সুতরাং এ শাসনতন্ত্র ছিল আয়তনে বড়।

→ লিখিত শাসনতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র ছিল লিখিত প্রকৃতির।

→ ইসলামী আদর্শ: ইসলামি আদর্শ ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল মূলত একটি ইসলামি আদর্শ ভিত্তিক শাসনতন্ত্র। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামে আখ্যায়িত করা হয়। এর প্রস্তাবনায় ইসলামি সাম্য, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার নীতি অনুসৃত হয়।

→ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়। এ শাসনতন্ত্রে বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনুসরণ করা হয়।

→ প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়। রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৯৩.
ব্যালট বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করা হয় কোনটি?
  1. ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনকে
  2. ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানকে
  3. ১৯৫৬ সালের অধিবেশনকে
  4. ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে
ব্যাখ্যা
১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের বিজয়:
- ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে পত্রপত্রিকায় ব্যালট–বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।

⇒ পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে যুক্তফ্রন্ট গঠন ও ১৯৫৪ সালের নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। বাঙালি জাতি, বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি এবং বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে মুসলিম লীগ নেতৃত্বের কার্যকলাপ ও পাকিস্তানি শাসকদের ছয় বছরের শোষণের বিরুদ্ধে এই নির্বাচন ছিল 'ব্যালট বিপ্লব'। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির কয়েক বছরের মধ্যেই ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের বিভিন্ন উপদল, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, ব্যর্থ শাসন, অঞ্চলভেদে বৈষম্যমূলক নীতি প্রভৃতির কারণে এই সময়ে পূর্ব বাংলায় আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-প্রজা পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজাম-ই-ইসলামী, পাকিস্তান জাতীয় কংগ্রেস প্রভৃতি রাজনৈতিক দলের জন্ম হয়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য স্ব-স্ব জনসমর্থন যাচাইয়ের একটি সুযোগ সৃষ্টি করে। পাকিস্তানের জাতীয় রাজনীতিতে এই নির্বাচন সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৪.
'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' এর সাথে কোন শিক্ষা কমিশনের সম্পর্ক রয়েছে?
  1. পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা কমিশন
  2. মজিদ খান শিক্ষা কমিশন
  3. শরীফ শিক্ষা কমিশন
  4. আকরাম খাঁ শিক্ষা কমিশন
ব্যাখ্যা
- 'বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন' এর সাথে শরিফ শিক্ষা কমিশন (১৯৬২) এর সম্পর্ক রয়েছে।

১৯৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন:

- ১৯৬২ সালের আগস্ট মাসে শরিফ কমিশনের শিক্ষা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ছাত্র আন্দোলন নতুন রূপ লাভ করে।
- এ প্রতিবেদনের সুপারিশের কারণে ছাত্রদের ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, ফলে কঠোর আন্দোলন শুরু হয়, এটি ইতিহাসে ‘বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন’ নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য, 
- ১৫ই আগস্ট থেকে ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ই সেপ্টেম্বর হরতাল পালনকালে পুলিশের গুলিতে কয়েকজন নিহত এবং কয়েকশ’ আহত হন। এই আন্দোলনের চাপে শরিফ কমিশনের সুপারিশ স্থগিত করা হয়। এর ফলে ছাত্ররা আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শক্তিতে পরিণত হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৫.
পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটান কে??
  1. লিয়াকত আলী
  2. টিক্কা খান
  3. ইসকান্দর মির্জা
  4. আইয়ুব খান
ব্যাখ্যা
• ১৯৫৬ সালের সংবিধান:
- সংবিধান একটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালিত হয়।
- ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের পর থেকেই একটি কার্যকর সংবিধান প্রণয়নের দাবি ওঠে।
- নতুন রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান শুরুতে ১৯৪৭ সালের ভারত স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী পরিচালিত হতো।
- সংবিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ সালের নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তান গণপরিষদ।
- এই গণপরিষদের দায়িত্ব ছিল কেন্দ্রীয় আইনসভা হিসেবে কাজ করা এবং একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
- কিন্তু শাসকগোষ্ঠীর অসহযোগিতা ও অনীহার কারণে গণপরিষদের কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে থাকে।
- ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে গণপরিষদ একটি মূলনীতি কমিটি গঠন করে।
- তবে এই কমিটিতে পূর্ব বাংলার প্রতিনিধিত্ব ছিল খুবই কম।
- দীর্ঘ ১৮ মাস পর কমিটি তাদের প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা পূর্ব বাংলার জনগণকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বঞ্চিত করে।
- ফলস্বরূপ, ১৯৫০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয় এবং জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে।
- পরবর্তী সময়ে মূলনীতি কমিটি ১৯৫২ সালে দ্বিতীয় ও ১৯৫৩ সালে তৃতীয় প্রতিবেদন প্রকাশ করে, কিন্তু সংবিধান প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়নি।
- অবশেষে ১৯৫৫ সালের মার্চ মাসে গভর্নর জেনারেল নতুন করে সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেন।
- পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা এক চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং তারই ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচিত হয়। এই সংবিধানটি দুই বছর কার্যকর ছিল।
- তবে ১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইসকান্দর মির্জা সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত হয়ে যায়।
- এর মধ্য দিয়ে পাকিস্তানে সাংবিধানিক শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশটি আবার সামরিক ও স্বৈরশাসনের পথে অগ্রসর হয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৩৯৬.
মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থার প্রবর্তক কে?
  1. ক) ইয়াহিয়া খান
  2. খ) খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. গ) আইয়ুব খান
  4. ঘ) ইস্কান্দার মির্জা
ব্যাখ্যা
মৌলিক গণতন্ত্র হচ্ছে একধরনের সীমিত গণতন্ত্র। এই ব্যবস্থার প্রবর্তক হলেন আইয়ুব খান। ১৯৫৯ সালের ২৭ অক্টোবর তিনি মৌলিক গণতন্ত্র আদেশ জারি করেন। এই ব্যবস্থায় স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় পুরো পাকিস্তানে ৮০,০০০ মৌলিক গণতন্ত্রী ছিলো যারা প্রথমে নিবার্চিত ও মনোনীত এবং ১৯৬২ সাল থেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতো। এসব মৌলিক গণতন্ত্রীরা রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের নির্বাচিত করতেন।
(সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী এবং বাংলাপিডিয়া)
৩৯৭.
১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে কী ধরনের রাষ্ট্র ঘোষণা করা হয়?
  1. ধর্মনিরপেক্ষ
  2. ইসলামি প্রজাতন্ত্র
  3. সমাজতান্ত্রিক
  4. রাজতান্ত্রিক
ব্যাখ্যা

- ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র। 
- এটিকে বিলম্বিত শাসনতন্ত্র বলা চলে।
- সুদীর্ঘ ৯ বছর সাধনার পর শাসনতন্ত্র প্রণেতাগণ এ শাসনতন্ত্রটি দিতে পেরেছিলেন।
-  ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানে দ্বিতীয় গণপরিষদ গঠিত হয়।
- এর অগ্রভাগে ছিল তৎকালীন গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ।
- ১৯৫৫ সালের ৭ই জুলাই এ পরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- এ পরিষদের সদস্য সংখ্যা ছিল ৮০ জন।
- প্রথম গণপরিষদ শাসনতন্ত্র প্রণয়নে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। এ ব্যর্থতাকে পুঁজি করে দ্বিতীয় গণপরিষদ শাসনতন্ত্র রচনায় ব্যাপৃত হয়।
- এ পরিষদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা শাসনতন্ত্র রচনাকে ত্বরান্বিত করে।
- ১৯৫৬ সালের ৯ই জানুয়ারি গণপরিষদে শাসনতন্ত্র বিল উত্থাপিত হয়।
- এ বিলের উপর আলোচনা-সমালোচনা চলে।
- আলোচনার পর ২৯শে ফেব্রুয়ারি গণপরিষদ পাকিস্তানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ধরনের শাসনতন্ত্র গ্রহণ করে।
- অবশেষে ২রা মার্চ গভর্নর জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা শাসনতন্ত্র বিলে সম্মতি দেন।
- ২৩ মার্চে এ শাসনতন্ত্র গৃহীত ও প্রবর্তিত হয়।
- পাকিস্তানের ইতিহাসে এ শাসনতন্ত্রটি ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র নামে পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৩৯৮.
বাংলা ভাষা কত সালে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে মর্যাদা পায়?
  1. ক) ১৯৫৩
  2. খ) ১৯৫৪
  3. গ) ১৯৫৬
  4. ঘ) ১৯৬৬
ব্যাখ্যা
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা

প্রবল আন্দোলনের মুখে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। জাতীয় পরিষদে বাংলা ভাষা বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের একপর্যায়ে এর সদস্য আদেলউদ্দিন আহমদের দেওয়া সংশোধনী প্রস্তাব অনুযায়ী উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকেও অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিল পাস করা হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে মর্যাদা দেয়া হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৯৯.
পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালের -
  1. ক) ফেব্রুয়ারি মাসে
  2. খ) মার্চ মাসে
  3. গ) জুন মাসে
  4. ঘ) এপ্রিল মাসে
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রণ্ট  ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ তারিখে অনুষ্ঠিত পূর্ব বাংলার আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য গঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল সমুহের নির্বাচনী মোর্চা।
• ৪ ডিসেম্বর ১৯৫৩ আওয়ামী মুসলিম লীগ ও শেরে বাংলার কৃষক-শ্রমিক পার্টির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। পরবর্তীতে মাওলানা আতাহার আলীর নেজামে ইসলাম ও হাজী মোহাম্মদ দানেশের গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্টে যোগ দেয়।
• যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিলো নৌকা।
• ১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্টর পক্ষ থেকে ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। ২১ দফা ইশতেহার প্রণয়নে আবুল মনসুর আহমেদ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
• এই নির্বাচনে মোট আসন ছিলো ৩০৯টি। 
• নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
• শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র:-স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র : প্রথম খণ্ড এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
৪০০.
কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা কে ছিলেন?
  1. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
  2. হাজী মোহাম্মদ দানেশ
  3. মওলানা আতাহার আলী
  4. শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
যুক্তফ্রন্ট:
- ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিক লীগকে মোকাবিলার জন্য ৪টি রাজনৈতিক দল 'যুক্তফ্রন্ট' নামে জোট গঠন করে।
- যুক্তফ্রন্টের প্রধান তিন নেতা ছিলেন মওলানা ভাসানী, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
- ১৯৫৪ সালের ৮-১২ মার্চ প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- যুক্তফ্রন্ট প্রধানত পূর্ব বাংলার চারটি বিরোধী দল নিয়ে গঠিত হয়েছিল। যথা:
১. আওয়ামী মুসলিম লীগ: হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
২. কৃষক শ্রমিক পার্টি: শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক।
৩. নেজামে ইসলাম পার্টি: মওলানা আতাহার আলী।
৪. বামপন্থী গনতন্ত্রী দল: হাজী মোহাম্মদ দানেশ।

• যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা:
- ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্ট ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করে। মুখ্যমন্ত্রী হন শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক। অন্যান্য মন্ত্রী-
১. অর্থ, রাজস্ব ও স্বরাষ্ট্র- এ কে ফজলুল হক।
২. বিচার, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার- আবু হোসেন সরকার।
৩. বেসামরিক সরবরাহ ও যোগাযোগ মন্ত্রী- আশরাফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।
৪. শিক্ষা, বাণিজ্য, শ্রম ও শিল্প - সৈয়দ আজিজুল হক।
- পরবর্তীতে ১৫ মে,১৯৫৪ সালে ১৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীসভা গঠিত হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩৪ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসবে কৃষি, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।
- রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ফজলুল হক মন্ত্রীসভা বাংলাকে স্বাধীন করবে এমন অজুহাতে ১৯৫৪ সালের ৩০ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করেন।
- ফজলুল হক মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ৫৬ দিন যার মধ্যে পূর্নাঙ্গ মন্ত্রীসভা দ্বায়িত্বে ছিল মাত্র ১৫ দিন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন (২য় পত্র), প্রফেসর মো: মোজাম্মেল হক।