১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের সাধারণ বৈশিষ্ট্য
→ বৃহৎ শাসনতন্ত্র: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের প্রথম পরিচয় হল এটি ছিল একটি বৃহৎ শাসনতন্ত্র। মোট ১০৫ পৃষ্ঠার এ শাসনতন্ত্রে একটি প্রস্তাবনা (Preamble), ১৩টি অংশ (Part), ২৩৪টি বিধি (Article) এবং ৬টি তালিকা সন্নিবেশিত ছিল। এ শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ছাড়াও প্রাদেশিক শাসন ব্যবস্থার উল্লেখ ছিল। সুতরাং এ শাসনতন্ত্র ছিল আয়তনে বড়।
→ লিখিত শাসনতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র ছিল লিখিত প্রকৃতির।
→ ইসলামী আদর্শ: ইসলামি আদর্শ ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র ছিল মূলত একটি ইসলামি আদর্শ ভিত্তিক শাসনতন্ত্র। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র নামে আখ্যায়িত করা হয়। এর প্রস্তাবনায় ইসলামি সাম্য, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার নীতি অনুসৃত হয়।
→ যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়। এ শাসনতন্ত্রে বলা হয় যে, পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র গঠন করা হবে। এতে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক সরকাগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের বিধান রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইনকে অনুসরণ করা হয়।
→ প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্র: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে প্রজাতান্ত্রিক গণতন্ত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র মতে পাকিস্তান ছিল একটি প্রজাতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এ শাসনতন্ত্রে দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব শাসন চালু করার বিধান রাখা হয়। রাষ্ট্র প্রধান জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের দ্বারা নির্বাচিত হতেন।
→ সংসদীয় ব্যবস্থা: সংসদীয় ব্যবস্থা ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এ শাসনতন্ত্রে পাকিস্তানে সংসদীয় শাসন প্রবর্তনের বিধান রাখা হয়। আরও বলা হয় যে, কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভা হবে প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। শাসনতন্ত্র মতে মন্ত্রিসভা আইনসভার নিকট দায়ী থাকত।
→ মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি: এ শাসনতন্ত্রে জনগণের মৌলিক অধিকারের উল্লেখ ছিল। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়। মৌলিক অধিকার সংরক্ষণের ব্যাপারে আদালতের প্রয়োজনীয় ভূমিকার কথা স্বীকার করা হয়।
→ এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা: পাকিস্তানের প্রথম শাসনতন্ত্র কেন্দ্র ও প্রদেশে এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তন করে। এ শাসনতন্ত্রে উল্লেখ করা হয় যে, পাকিস্তানের আইনসভা হবে এক কক্ষবিশিষ্ট। কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে সমস্যা সমাধান ও আলোচনার জন্য এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভার বিধান রাখা হয়।
→ বিচার বিভাগের প্রাধান্য: ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্রকে বিশ্লেষণ করলে বিচার বিভাগের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
এ শাসনতন্ত্রের বিচার বিভাগের প্রাধান্য স্বীকৃতি পায়। আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিচার বিভাগই ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান কবচ। তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিচার বিভাগের প্রাধান্য স্বীকার করা হয়।
উৎস: বাংলাদেশের রাজনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।