বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ৭২ · ৮০১৯০০ / ৭,১৯১

৮০১.
বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর কোথায় নির্মাণ করা হচ্ছে?
  1. ক) কক্সবাজার
  2. খ) কুতুবদিয়া
  3. গ) মহেশখালি
  4. ঘ) মংলা
ব্যাখ্যা

গভীর সমুদ্রবন্দর বাংলাদেশের মহেশখালীর সোনাদিয়ায় (পরবর্তীতে মাতারবাড়ী) গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে ভারত, চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশই তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ‘ডিপ সি-পোর্ট প্রজেক্ট’ নামে তিন পর্বের প্রকল্প বাস্তাবায়িত হবে ২০৫৫ সালের মধ্যে। 

- বন্দর নির্মাণে মোট ব্যায়ের ৩০% অর্থের যোগান দেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বাকি ৭০% অর্থসংস্থান হবে সরকারি-বেসরকারি অংশগ্রহণে (PPP)।

- সোনাদিয়া গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে মহেশখালী দ্বীপের প্রায় সাত বর্গমাইল এলাকাজুড়ে গড়ে উঠবে নয়নাভিরাম উপশহর। যেখানে আমদানি-রপ্তানি ও বন্দর সংশ্লিষ্ট যাবতীয় অবকাঠামো গড়ে উঠবে। 

- গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মিত হলে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের হলদিয়া ও কলকাতা বন্দরের পণ্য, তাদের উত্তরাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির স্বল্প খরচে ও কম সময়ে আনা-নেয়ার সুবিধা হবে। এ ছাড়া মিয়ানমার ও চীনের ইউনান প্রদেশের পণ্যসামগ্রী পরিবহণের কাজে এ গভীর সমুদ্রবন্দরকে সহজে ব্যবহার করা যাবে।

উৎস: Banglapedia
৮০২.
নীল নদের উৎস কোনটি?
  1. ইথিওপিয়ার পবর্তমালা
  2. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  3. আন্দিজ পর্বতমালা
  4. মিনোসোটার হ্রদ
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com
৮০৩.
বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল কোন নদীসমূহ থেকে উদ্ভূত?
  1. কর্ণফুলী এবং গঙ্গা 
  2. গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থল
  3. যমুনা এবং তিস্তা
  4. মেঘনা এবং কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড: 
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কিছু বদ্বীপমুখী খাদ দেখতে পাওয়া যায়, যেমন সিন্ধু নদীর মোহনার অদূরে সিন্ধু খাদ, মিসিসিপি বদ্বীপের পশ্চিম পাশে মিসিসিপি খাদ।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- ধারণা করা হয়, বঙ্গোপসাগরের নিচে কান্দা ও উপ-বদ্বীপ উপত্যকার আকারে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড সাগর অভিমুখে প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার সম্প্রসারিত হয়ে আছে।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের দিকে মুখ করে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের মোহনার কাছে বালুচর ও শৈলশিরার অবস্থিতি এই ইঙ্গিতই বহন করে যে, এই খাদ দিয়েই পলল বঙ্গোপসাগরের গভীরতর অংশে বাহিত হয়।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
-এগুলো যথাক্রমে হিমালয়ের দক্ষিণ ও উত্তর দিক থেকে আসছে।
- বর্তমান অবস্থায় স্বল্প পরিমাণের ঘোলাটে স্রোত আর বালি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের মাধ্যমে মহীসোপান থেকে গভীর সমুদ্রে পলল পরিবহণের প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৮০৪.
নিচের কোন দ্বীপটি ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত? 
  1. ম্যাকাও
  2. কমোরাস
  3. মাল্টা
  4. সিচেলিস
ব্যাখ্যা

- মাল্টা দ্বীপটি ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত।

ভূমধ্যসাগর:
-
ভূমধ্যসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে জিব্রাল্টার প্রণালী দ্বারা সংযুক্ত।
- এটি পশ্চিমে জিব্রাল্টার থেকে পূর্বে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর উত্তরে ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিসের মতো দেশ থেকে দক্ষিণে মিশর, লিবিয়া এবং তিউনিসিয়ার মতো দেশ পর্যন্ত প্রসারিত।
- এর মোট আয়তন প্রায় ২.৫ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার।
- গভীরতা: ভূমধ্যসাগরের গড় গভীরতা প্রায় ১,৫০০ মিটার,
- তবে এর গভীরতম স্থান, ক্যালিপসো ডিপ, প্রায় ৫,২৬৭ মিটার গভীর।
- দ্বীপপুঞ্জ: সিসিলি, সার্ডিনিয়া, ক্রিট, মাল্টা এবং সাইপ্রাস।

অন্যদিকে,
- ভারত মহাসাগরে অবস্থিত: মাদাগাস্কার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মরিশাস,, কমোরোস, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লক্ষদ্বীপ।
- দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত:  স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ, প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ, ম্যাকাও, লুজন।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৮০৫.
জাপানি ভাষায় 'সুনামি' শব্দের অর্থ কী?
  1. সমুদ্রের ঢেউ
  2. পোতাশ্রয়ের ঢেউ
  3. ভূমিকম্পের ঢেউ
  4. আগ্নেয়গিরির ঢেউ
ব্যাখ্যা

সুনামি (Tsunami): 
- সুনামি (Tsunami) একটি জাপানি শব্দ।
- জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়।
- এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির।
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে।
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ,নবম-দশম শ্রেণি।

৮০৬.
ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ৩০টি
  2. ৩১টি
  3. ৩২টি
  4. ৩৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে- ভারত ও মিয়ানমার।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮০৭.
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কোথায় অবস্থিত?
  1. কুলাউড়া
  2. বড়লেখা
  3. কমলগঞ্জ 
  4. শ্রীমঙ্গল
ব্যাখ্যা

• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। 
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮০৮.
বেরিং প্রণালি বিচ্ছিন্ন করেছে-
  1. আফ্রিকা ও ইউরোপকে
  2. আমেরিকা ও এশিয়াকে
  3. এশিয়া ও আফ্রিকাকে
  4. ওশেনিয়া ও এশিয়াকে
ব্যাখ্যা
- বেরিং প্রণালি এশিয়া মহাদেশের রাশিয়ার সাইবেরিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের আলাস্কাকে পৃথক করেছে।
- বেরিং প্রণালি বেরিং সাগরের সাথে চুকচি সাগরের সংযোগ সাধন করেছে।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৮০৯.
বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ স্থাপিত হয়-
  1. ক) আগারগাঁওয়ে
  2. খ) গাজীপুরে
  3. গ) রাঙামাটিতে
  4. ঘ) সিলেটে
ব্যাখ্যা

• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথাঃ
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী ও
- সিলেট
• বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
• এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

৮১০.
Which one is the widest River in Bangladesh?
  1. Jamuna
  2. Meghna
  3. Surma
  4. Padma
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী: 
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী। 
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে ।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- উপনদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮১১.
পারস্য উপসাগর কোন মহাসাগরের অংশ?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. আর্কটিক মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

পারস্য উপসাগর:
- পারস্য উপসাগর ভারত মহাসাগরের একটি অংশ (এক ধরনের ভূমধ্যসাগরীয় সমুদ্র) এবং এটি পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত।
- এটি ওমান উপসাগরের সম্প্রসারিত অংশ, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- এর আয়তন প্রায় ২,৫১,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ৯০ মিটার, এবং গড় গভীরতা প্রায় ৫০ মিটার।
- উপসাগরটি ইরান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত ও ইরাকসহ কয়েকটি দেশ দ্বারা বেষ্টিত।
- মোট উপকূলরেখা প্রায় ৫,১১৭ কিলোমিটার, যার মধ্যে ইরানের উপকূলরেখা দীর্ঘতম (প্রায় ১,৫৩৬ কিমি)।
- পারস্য উপসাগরকে কিছু অঞ্চলে “Arabian Gulf” বা “Gulf of Iran” নামে উল্লেখের চেষ্টা থাকলেও, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নামটি সাধারণত “Persian Gulf” হিসাবেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৮১২.
দারফুর হলো ... একটি শহরের নাম।
  1. সুদানের
  2. উগান্ডার
  3. লেসোথোর
  4. ঘানার
ব্যাখ্যা

- দারফুর সুদানের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
- অঞ্চলটি তিনটি স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ নিয়ে গঠিত।
- এই তিনটি প্রদেশ হচ্ছেঃ পশ্চিম দারফুর, দক্ষিণ দারফুর এবং উত্তর দারফুর।
- এটি সুদানের গোলযোগপূর্ণ অঞ্চল।
- দারফুর অঞ্চলে বর্তমানে জাতিগত সংঘাত চলছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও বিবিসি।

৮১৩.
বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে কোন ধরনের বৃষ্টি হয়?
  1. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত
  2. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত
  3. পরিচলন বৃষ্টিপাত
  4. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের প্রকারভেদ:
-মোট ৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাত প্রধানত ৪টি ভাগে বিভক্ত।
এই ৪টি প্রকার হলো:
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত 
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত 
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত এবং 
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত।

শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত: 
-জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু ভূ-পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সময় পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে তা পর্বতের ঢাল বেয়ে উপরের দিকে উঠে যায়।
- এই বায়ু শীতল হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।
- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু মেঘালয় পাহাড়ে বাধা পাওয়ায় সিলেট এলাকায় প্রচুর শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি।
৮১৪.
পাটনি চর কোথায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী
  2. ভোলা
  3. সুন্দরবন
  4. লক্ষ্মীপুর
ব্যাখ্যা
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
বাংলাদেশের বিভিন্ন চরের অবস্থান:
সুন্দরবনের চরসমূহ:
- পাটনি চর
- দুবলার চর।
লক্ষ্মীপুর জেলার চরসমূহ:
- চর গজারিয়া
- চর আলেকজান্ডার।
-ভোলা জেলার চরসমূহ:
- চরফ্যাশন
- চর মানিক
- চর কুকড়ি মুকড়ি
- চর নিউটন
- চর নিজাম প্রভৃতি।
নোয়াখালী জেলার চরসমূহ:
- ভাসান চর
- সুবর্ণ চর
- চর শ্রীজনী
- চর শাহাবানী প্রভৃতি।
ফেনী জেলার চরসমূহ:
- মুহুরীর চর
রাজশাহী জেলার চর:
- নির্মল চর
(তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৮১৫.
বাষ্পীভবনের প্রধান উৎস -
  1. নদী
  2. হ্রদ
  3. সমুদ্র
  4. ভূপৃষ্ঠস্থ জলাশয়
ব্যাখ্যা
বাষ্পীভবন (Evaporation):

- বাষ্পীভবন এমন একটি প্রক্রিয়া যার দ্বারা নদী, হ্রদ, জলাশয় বা সমুদ্রের পানি সূর্যের তাপে বাষ্পে পরিণত হয় এবং তা বায়ুমন্ডলের মিশে যায়।
- বাষ্পীভবনের প্রধান উৎস সমুদ্র।
- এই জলীয়বাষ্প হালকা বলে তা উপরে উঠে বায়ুমন্ডলে অদৃশ্য হয়ে যেতে সক্ষম হয়।
- এক্ষেত্রে বায়ুর উষ্ণতার পরিমাণের উপর নির্ভর করে যে কতটুকু জলীয়বাষ্প ধারণ করা সম্ভব হবে।
- জলীয়বাষ্প প্রধানত সমুদ্র থেকে বাষ্পীভূত হলেও নদ-নদী ও উদ্ভিদ জগতও জলীয়বাষ্পের অন্যতম উৎস।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৬.
জাপান ও রাশিয়ার মধ্যকার বিরোধপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জের নাম কী?
  1. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
  2. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
  3. দিয়াগো গার্সিয়া
  4. গ্রেট বেরিয়ার রিফ
ব্যাখ্যা
• কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:
- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঠিক উত্তরে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের কাছ থেকে এই দ্বীপগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়।
- বিতর্কিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের চারটির মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় দ্বীপ কুনাশির।
- চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে এই কুড়িল দ্বীপপুঞ্জকে জাপান তাদের নর্দান টেরিটরি হিসাবে অভিহিত করে। 
- এমনকি এই বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসান ঘোষণা হওয়া শান্তিচুক্তিতেও স্বাক্ষর করেনি।

উৎস: Britannica.
৮১৭.
নিচের কোন এলাকার জলবায়ু অধিক মৃদুভাবাপন্ন?
  1. কক্সবাজার
  2. চট্টগ্রাম 
  3. পটুয়াখালী
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

সমুদ্র থেকে দূরত্ব (Distance from the sea):
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। 
- যেমন- কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানকার জলবায়ু রাজশাহীর তুলনায় বেশ মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী এলাকার তাপমাত্রায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য হয় না। এ ধরনের জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।
- কিন্তু সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম উভয়ই চরম হয়। কারণ স্থলভাগ জলভাগ অপেক্ষা যেমন দ্রুত উষ্ণ হয়, আবার দ্রুত ঠান্ডাও হয়।
- এজন্য গ্রীষ্মকালে মহাদেশের অভ্যন্তরভাগের এলাকা অত্যন্ত উত্তপ্ত থাকে, আবার শীতকালে প্রচন্ড শীত অনুভূত হয়।
- এ ধরনের জলবায়ুকে মহাদেশীয় বা চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮১৮.
Ninety Degree East Ridge কী?
  1. দ্রাঘিমারেখা
  2. একটি পাহাড় এর নাম
  3. একটি সুমুদ্রখাত এর নাম
  4. একটি শৈলশিরা
ব্যাখ্যা
৯০° পূর্ব-শৈলশিরা (Ninety Degree East Ridge):
- এই শৈলশিরাটি বঙ্গোপসাগরের মাঝ বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে প্রায় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা বরাবর বিস্তৃত বলে একে ৯০° পূর্ব শৈলশিরা বলে।
- এটি বেঙ্গল শৈলশিরা নামেও পরিচিত।
- এই শৈলশিরা ১৫০° উত্তর অক্ষাংশ থেকে শুরু করে ৩০° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত প্রায় ৫,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮১৯.
জিব্রাল্টার প্রণালী কোন কোন মহাদেশকে পৃথক করেছে?
  1. দক্ষিণ আমেরিকা ও ইউরোপ
  2. উত্তর আমেরিকা ও দক্ষিণ আমেরিকা
  3. ইউরোপ থেকে আফ্রিকা
  4. এশিয়া ও ইউরোপ
ব্যাখ্যা

জিব্রাল্টার প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোজনকারী একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
- জিব্রাল্টার প্রণালী পূর্বে ভূমধ্যসাগরকে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সমুদ্র প্রণালী।
- এটি উত্তর আফ্রিকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটি মরক্কো ও স্পেনকে পৃথক করে।
- যার গড় গভীরতা ১,২০০ ফুট (৩৬৫ মিটার)।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৮২০.
পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় গঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯৮২ সালে
  2. খ) ১৯৮৯ সালে
  3. গ) ১৯৯২ সালে
  4. ঘ) ২০০১ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৮৯ সালে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় গঠিত হয়। এর পূর্বে তা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভাগ ছিলো। ২০১৮ সালের ১৪ মে এর নামকরণ করা হয় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। (সূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট)
৮২১.
’সুন্দরবন’ কী ধরনের বনাঞ্চল?
  1. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি
  2. স্রোতজ বনভূমি
  3. ক্রান্তীয় আর্দ্র পর্ণমোচী বন
  4. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি
ব্যাখ্যা

• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন: 
- উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্ত সীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত। 
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। 
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনাঞ্চাল বিস্তৃত ।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায় ।

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি :
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
১. ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
২. দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায় ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮২২.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের অংশ না কোনটি?
  1. ক) পূর্বপ্রস্তুতি
  2. খ) সাড়াদান
  3. গ) উন্নয়ন
  4. ঘ) এখানের সবগুলোই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের অংশ
ব্যাখ্যা
পূর্বপ্রস্তুতি, দুর্যোগ সংগঠন ও এর প্রভাব, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন, প্রতিরোধ, প্রশমন এগুলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের অংশ৷
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই
৮২৩.
পরিচলন প্রক্রিয়ায় কোন অঞ্চলে সারাবছর নিয়মিত বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে
  2. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  4. মেরুবৃত্তীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
দিনের বেলায় সূ্র্যকিরণের জন্যে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠে শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে যে বৃষ্টিপাত ঘটায় তাকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

নিরক্ষীয় অঞ্চলে স্থলভাগ অপেক্ষা জলভাগের বিস্তৃতি অধিক এবং এখানে সূর্য সর্বদা লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ সব সময় বেশি থাকে। ফলে এই হালকা জলীয়বাষ্প উপরে উঠে শীতল বায়ু সংস্পর্শে এসে নিরক্ষীয় অঞ্চলে সারাবছর বিকাল অথবা সন্ধ্যায় পরিচলন প্রক্রিয়ায় বৃষ্টি ঘটায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮২৪.
৩১ জুলাই ২০১৫ তারিখে ছিটমহল বিনিময় কার্যকর করার মাধ্যমে বাংলাদেশের কতটি “ছিটমহল” ভারতের ভৌগোলিক সীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?
  1. ক) ৫১টি
  2. খ) ৫৭ টি
  3. গ) ১০৯ টি
  4. ঘ) ১১১ টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়। ফলে বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডে ১০০৪১.২৫ একর ভূমি যোগ হয়। এর ফলে বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে ভারতের ১১১টি ছিটমহল এবং ভারতের ভূখন্ডের ভিতর বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল যুক্ত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া এবং ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি
৮২৫.
হরমুজ প্রণালী সংযুক্ত করেছে -
  1. ভূমধ্যসাগর এবং লোহিত সাগর
  2. পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর
  3. কৃষ্ণ সাগর এবং মর্মর সাগর
  4. ভূমধ্যসাগর এবং আরব সাগর
ব্যাখ্যা
হরমুজ প্রণালী:
- অবস্থান: পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর ও আরব সাগর সংযোগকারী জলপথ।
- প্রস্থ: ৩৫-৬০ মাইল (৫৫-৯৫ কিমি)।
- হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ।
- পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল বহনকারী ট্যাঙ্কারদের জন্য এটি প্রধান পথ।
- ২০১০-এর দশকে বিশ্বজুড়ে সরবরাহকৃত মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে।
- তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) রপ্তানির ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ, যা বিশ্বব্যাপী সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশ বহন করে।
- হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানী রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি একটি প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: Britannica.
৮২৬.
'বেলেপাথর' রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলায় পরিণত হয়?
  1. চুনাপাথর
  2. মার্বেল
  3. স্লেট
  4. কোয়ার্টজাইট
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা (Metamorphic Rocks):
- আগ্নেয় ও পাললিক শিলা যখন প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ এবং রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে রূপ পরিবর্তন করে নতুন রূপ ধারণ করে তখন তাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- ভূআন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প, রাসায়নিক ক্রিয়া কিংবা ভূগর্ভস্থ তাপ আগ্নেয় ও পাললিক শিলাকে রূপান্তরিত করে।

যেমন: 
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল,
- বেলেপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট,
- কাদা ও শেল রূপান্তরিত হয়ে স্লেট,
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস;
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৮২৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলটি ভারতের সীমান্তে অবস্থিত নয়?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. কক্সবাজার
  3. রাঙ্গামাটি
  4. শেরপুর
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের কক্সবাজার ভারতের সীমান্তে অবস্থিত নয়। 

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাসমূহ:

- বাংলাদেশের ৮ টি বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা হল ৬৪।
- এর মধ্যে সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে ৩২ টি।
- এই সীমান্তবর্তী জেলাগুলো ভারত ও মিয়ানমার এর সাথে।
- ভারতের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ৩০ টি জেলার আর মিয়ানমারের সাথে রয়েছে ৩টি জেলার।
- এদের মধ্যে ১টি জেলার (রাঙ্গামাটি) আবার দুই দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে।
- ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ ব্যতীত সকল বিভাগের সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের ৩টি সীমান্তবর্তী জেলা হল কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান।
- অপরদিকে ভারতের সাথে যে ৩০ টি সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে তার মধ্যে-

এছাড়াও, 
- চট্টগ্রাম বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো - চট্ট্রগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি।
- খুলনা বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো - সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া।
- রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো - রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট।
- রংপুর বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো - পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম।
- ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো - জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।
- সিলেট বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো - সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

সূত্র: ডিএমপি নিউজ ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮২৮.
অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি কত ধরনের?
  1. দুই ধরনের
  2. তিন ধরনের
  3. চার ধরনের
  4. পাঁচ ধরনের
ব্যাখ্যা
মালভূমি (Plateaus):
• পর্বত থেকে নিচু কিন্তু সমভূমি থেকে উঁচু খাড়া ঢালযুক্ত ঢেউ খেলানো বিস্তীর্ণ সমতলভূমিকে মালভূমি বলে।
• মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
• অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন ধরনের। যথা-
(ক) পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি (Intermontane Plateau),
(খ) পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau) ও
(গ) মহাদেশীয় মালভূমি (Continental Plateau)।

(ক) পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি: এই মালভূমি পর্বতবেষ্টিত থাকে। তিব্বত মালভূমি একটি পর্বতমধ্যবর্তী মালভূমি যার উত্তরে কুনলুন ও দক্ষিণে হিমালয় পর্বত এবং পূর্ব-পশ্চিমেও পর্বত ঘিরে আছে।
- দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া, মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো এবং এশিয়ার মঙ্গোলিয়া ও তারিম এ ধরনের মালভূমি।

(খ) পাদদেশীয় মালভূমি: উচ্চ পর্বত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে এর পাদদেশে তলানি জমে যে মালভূমির সৃষ্টি হয় তাকে পাদদেশীয় মালভূমি বলে।
- উত্তর আমেরিকার কলোরাডো এবং দক্ষিণ আমেরিকার পাতাগোনিয়া পাদদেশীয় মালভূমি।

(গ) মহাদেশীয় মালভূমি: সাগর বা নিম্নভূমি পরিবেষ্টিত বিস্তীর্ণ উচ্চভূমিকে মহাদেশীয় মালভূমি বলে।
- এ ধরনের মালভূমির সঙ্গে পর্বতের কোনো সংযোগ থাকে না। স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, গ্রিনল্যান্ড, এন্টার্কটিকা এবং ভারতীয় উপদ্বীপ এর অন্যতম উদাহরণ।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮২৯.
বাংলাদেশের মোট বিভাগ কয়টি?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভাগসমূহ:
- বাংলাদেশ আটটি প্রধান প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত যাদের বাংলায় 'বিভাগ' হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- বাংলাদেশের ৮টি বিভাগগুলো হলো:
• ঢাকা বিভাগ,
• চট্টগ্রাম বিভাগ,
• রাজশাহী বিভাগ,
• খুলনা বিভাগ,
• সিলেট বিভাগ,
• বরিশাল বিভাগ,
• রংপুর বিভাগ,
• ময়মনসিংহ বিভাগ।

উল্লেখ্য,
- ভাষা আন্দোলনের পূর্ববর্তী বিভাগ: ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী,
- সিলেট বিভাগ: ১৯৫৪ সাল,  
- খুলনা বিভাগ: ১৯৬০ সাল,
- বরিশাল বিভাগ: ১৯৯৩ সাল,
- রংপুর বিভাগ: ২০১০ সাল,
- সর্বশেষ ময়মনসিংহ বিভাগ: ২০১৫ সাল।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮৩০.
নিম্নের কোন করিডোর দ্বারা বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটান হতে বিচ্ছিন্ন?
  1. ক) ইস্ট-ওয়েস্ট ইকোনমিক করিডোর
  2. খ) মুম্বাই-ব্যাঙ্গালোরের অর্থনৈতিক করিডোর
  3. গ) শিলিগুরি করিডোর
  4. ঘ) ইস্ট-ওয়েস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডোর হাইওয়ে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশ পৃথিবীর উত্তর এবং পূর্ব গোলার্ধ উভয় ক্ষেত্রেই অবস্থিত। 
- ভৌগোলিকভাবে, বাংলাদেশের বড় অংশ গঙ্গা (পদ্মা), ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী এবং তাদের উপনদীর সঙ্গমস্থলে উর্বর গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র ব-দ্বীপে অবস্থিত। 
- বাংলাদেশ ভারতের রাজ্যগুলোর দ্বারা সীমাবদ্ধ: উত্তর এবং পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গ দ্বারা; উত্তরে আসাম; উত্তর ও উত্তর-পূর্বে মেঘালয়; পূর্বে ত্রিপুরা ও মিজোরাম। 
- দক্ষিণ-পূর্বে, এটি মিয়ানমারের সাথে একটি ছোট সীমান্ত ভাগ করে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ অংশ বঙ্গোপসাগরে খোলে।
- শিলিগুড়ি করিডোর দ্বারা বাংলাদেশ নেপাল ও ভুটান থেকে এবং উত্তরে সিকিম দ্বারা চীন থেকে বিচ্ছিন্ন।

উৎস: World Atlas
৮৩১.
ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং কোন অঞ্চলে আঘাত হানে?
  1. ক) বরিশাল
  2. খ) চট্রগ্রাম
  3. গ) খুলনা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• ২৪ অক্টোবর ২০২২ ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং বাংলাদেশের উপকূলবর্তী বরিশাল, চট্রগ্রাম ও খুলনা বিভাগে আঘাত হানে। ‘সিত্রাং’ নামকরণ করে থাইল্যান্ড। ভিয়েতনামি ভাষায় যার অর্থ ‘পাতা’।  

তথ্যসূত্র:- লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার নভেম্বর ২০২২। 
৮৩২.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূ-পৃষ্ঠের বিন্দুকে বলা কী বলা হয়?
  1. এনডোসেন্টার
  2. পিকপয়েন্ট
  3. এপিসেন্টার
  4. মিডপয়েন্ট
ব্যাখ্যা

• এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র , 
এটি ভূপৃষ্ঠের উপর অবস্থিত একটি বিন্দু যা ভূগর্ভস্থ বিন্দুর ঠিক উপরে অবস্থিত (যাকে বলা হয়(যেখানে ফল্ট ফেটে যায় , সেখানে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয় ।
- ভূমিকম্পের প্রভাব কেন্দ্রস্থলের আশেপাশে সবচেয়ে তীব্র নাও হতে পারে। 
- তিনটি বা ততোধিক ভূকম্পিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রতিটি কেন্দ্রস্থলে ভূকম্পিক তরঙ্গের ভ্রমণের সময়ের সমানুপাতিক চাপ গণনা করে কেন্দ্রস্থলটি সনাক্ত করা যেতে পারে।
 - চাপগুলির ছেদ বিন্দু কেন্দ্রস্থল চিহ্নিত করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৮৩৩.
বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম সীমান্ত কোনটি ?
  1. ভারত - বাংলাদেশ সীমান্ত
  2. ভারত - পাকিস্তান সীমান্ত
  3. পাকিস্তান - চীন সীমান্ত
  4. মিয়ানমার - থাইল্যান্ড সীমান্ত
ব্যাখ্যা
 বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট ৫১৩৮ কিলোমিটার সীমারেখা রয়েছে।
- বাংলাদেশের সর্বমোট স্থলসীমা ৪৪২৭ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের সীমানা ২৭১ কিলোমিটার (২৮০ কিলোমিটার মাধ্যমিক ভূগোল)।
- বাংলাদেশের উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশ ও ভারতের সীমারেখার দৈর্ঘ্য ৪১৫৬ কিলোমিটার।

উৎসঃ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইট।

বাংলাদেশ-ভারত মোট সীমানা ৪১৫৬ কি.মি।

Source: dlrs.gov.bd
৮৩৪.
কোন সময়ে সংঘটিত বন্যায় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল?
  1. ক) ১৯৭০
  2. খ) ১৯৮৮
  3. গ) ১৯৯২
  4. ঘ) ১৯৯৮
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপক। বন্যা এলাকা প্লাবিত হয় বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি করে।
পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ব-দ্বীপ বাংলাদেশ তথা এ ঢালু সমভূমির দেশে বিভিন্ন শতাব্দীতে বন্যা হয়েছে।
১৯৫৪ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ।
এগুলোর মধ্যে ১৯৯৮ সালে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যাটি সংঘটিত হয় এবং এতে সবচেয়ে বেশি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩৫.
ম্যাকনামারা লাইন কোন দুটির মধ্যকার সীমারেখা?
  1. ভারত ও চীন
  2. উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
  3. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  4. রাশিয়া ও ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ম্যাকনামারা লাইন : উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম
অন্যদিকে:
- ম্যাকমোহন লাইন : ভারত ও চীন
- ম্যানারহেইম লাইন : ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া
- ডুরান্ড লাইন : পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৮৩৬.
ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার উঁচু ভূমিকে কী বলা হয় ?
  1. ক) লালমাই পাহাড়
  2. খ) ভাওয়াল গড়
  3. গ) মধুপুর গড়
  4. ঘ) খ ও গ
ব্যাখ্যা
আজ থেকে প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলা হয়। ঐ সময়ে গঠিত ভূমিরূপ প্লাইস্টোসিন কালের ভূমি নামে পরিচিত।
বাংলাদেশে অবস্থিত প্লাইস্টোসিন কালের ভূমিরূপগুলো হলো:
- রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, রংপুর ও জয়পুরহাট জেলার বরেন্দ্রভূমি
- ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলায় অবস্থিত - মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় অবস্থিত ভাওয়াল গড়।
- কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়।
- দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ হলো প্লাইস্টোসিন কালে গঠিত ভূমিরূপ।

- ভাওয়াল ও মধুপুর বনাঞ্চলের আয়তন - ৪,১০৩ বর্গকিঃমিঃ।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার। এর মাটির রং - লালচে ও ধূসর।
- প্রধান বৃক্ষ - শাল/গজারি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ বই, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৩৭.
মার্বেল কোন ধরনের শিলা?
  1. আগ্নেয় শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. মিশ্র শিলা
  4. পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।

- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

⇒ রূপান্তরিত শিলার বৈশিষ্ট্যসমূহ:
১। রূপান্তরিত শিলা স্ফটিক যুক্ত;
২। এই শিলা অত্যন্ত কঠিন;
৩। এই শিলায় জীবাশ্ম নেই;
৪। কোনো কোনো রূপান্তরিত শিলায় ঢেউ খেলানো স্তর দেখা যায়।

- রূপান্তরিত শিলার প্রকারভেদ:
ক. আগ্নেয়শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে আগ্নেয়শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: গ্রানাইট থেকে নিস (Gneiss) তৈরি হয়।
খ. পাললিক শিলা প্রচন্ড তাপে ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে, পাললিক শিলা থেকে রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয়।
- যেমন: বেলেপাথর থেকে কোয়ার্টজাইট (Quartzite) তৈরি হয়।

অন্যদিকে,
পাললিক শিলা: কংগ্লোমারেট, ব্রেকসিয়া, গ্রেওয়েক, বেলেপাথর, কাদাপাথর, কোয়ার্টজ, ডলোমাইট, ক্যালসাইট, জিপসাম, কয়লা, চুনাপাথর ইত্যাদি পাললিক শিলার উদাহরণ।
আগ্নেয় শিলা: গ্রানাইট।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৩৮.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদি সৃষ্টি হয়?
  1. স্ট্রাটোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. ট্রপোমন্ডল
  4. মেসোমন্ডল
ব্যাখ্যা

ট্রপোমণ্ডল (Troposphere): 
- এই স্তরটি বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তর, ভূপৃষ্ঠের সঙ্গে লেগে আছে।
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষারপাত, শিশির ও কুয়াশা সবকিছুই এই স্তরে সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমণ্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি (Tropopause)।
- এই স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে নিরক্ষীয় অঞ্চলে প্রায় ১৬-১৯ কিলোমিটার।
- মেরু অঞ্চলে প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।

উল্লেখ্য,
- বায়ুমণ্ডল যে সমস্ত উপাদানে গঠিত তাদের প্রকৃতি, বৈশিষ্ট্য ও উষ্ণতার পার্থক্য অনুসারে ভূপৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়।
- যথা- ট্রপোমণ্ডল, স্ট্রাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল, তাপমণ্ডল ও এক্সোমন্ডল।
- স্তরগুলোর প্রথম তিনটি সমমণ্ডল (Homosphere) এবং পরবর্তী দুটি বিষমমণ্ডল (Hetrosphere)-এর অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৩৯.
পাললিক শিলার সৃষ্টি হয়-
  1. ক) মহীঢালে
  2. খ) নিমজ্জিত শৈলশিরায়
  3. গ) গভীর সমুদ্রের সমভূমিতে
  4. ঘ) গভীর সমুদ্রখাতে
ব্যাখ্যা
গভীর সমুদ্রের সমভূমি : মহীঢাল শেষ হওয়ার পর থেকে সমুদ্র তলদেশে যে বিস্তৃত সমভূমি দেখা যায় তাকে গভীর সমুদ্রের সমভূমি বলে। এর গড় গভীরতা ৫,০০০ মিটার। এ অঞ্চলটি সমভূমি নামে খ্যাত হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বন্ধুর। কারণ গভীর সমুদ্রের সমভূমির উপর জলমগ্ন বহু শৈলশিরা ও উচ্চভূমি অবস্থান করে। আবার কোথাও রয়েছে নানা ধরনের আগ্নেয়গিরি। এ সমস্ত উচ্চভূমির কোনাে কোনটি আবার জলরাশির উপর দ্বীপরুপে অবস্থান করে। সমুদ্রের এ গভীর অংশে পলিমাটি, সিন্ধুমল, আগ্নেয়গিরি থেকে উত্থিত লাভা ও সুক্ষ্ম ভস্ম প্রভৃতি সঞ্চিত হয়। এ সকল সঞ্চিত পদার্থ স্তরে স্তরে জমা হয়ে পাললিক শিলার সৃষ্টি করে।
৮৪০.
রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) পাবনা
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৭ সালে।
Source: bbc.com
৮৪১.
বাংলাদেশে গম চাষ করা হয় কোন মৌসুমে?
  1. বর্ষাকালে
  2. শীতকালে
  3. গ্রীস্মকালে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
গম চাষ:
- গম চাষের জন্য শীতকাল বা রবি মৌসুম সবচেয়ে উপযুক্ত।
- এ সময়ে তাপমাত্রা ১৫-২০° সেন্টিগ্রেড থাকার কারণে গমের বৃদ্ধি ও বিকাশ ভালো হয়।
- শীতকালে পর্যাপ্ত শুষ্ক এবং রৌদ্রজ্জ্বল পরিবেশ দানার গুণগত মান উন্নত করে।
- তাপমাত্রা ৩০-৩৫° সেন্টিগ্রেড ছাড়ালে গমের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
- শুষ্ক মৌসুমে পানি সরবরাহ সীমিত থাকলেও গম খরা সহিষ্ণু। তাই, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে শীতকালে গমের চাষ সবচেয়ে লাভজনক।

উল্লেখ্য:
- দিনাজপুর, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, জামালপুর, যশোর ও কুষ্টিয়া জেলায় বেশি চাষ হয়।
- বাংলাদেশে গমের অনেক উচ্চফলনশীল অনুমোদিত জাত রয়েছে।
- তন্মধ্যে কাঞ্চন, আকবর, অঘ্রাণী, প্রতিভা, সৌরভ, গৌরব, শতাব্দী, প্রদীপ, বিজয় ইত্যাদি জাত জনপ্রিয়।

উৎস: কৃষি তথ্য সার্ভিস ওয়েবসাইট ও বাংলাদেশ কৃষি আবহাওয়া তথ্য পোর্টাল।
৮৪২.
বঙ্গোপসাগরের প্রবেশপথ বলা হয় -
  1. মোজাম্বিকা প্রণালী
  2. পক প্রণালী
  3. হরমুজ প্রণালী
  4. দার্দানেলিস প্রণালী
ব্যাখ্যা
• পক প্রণালী :
- দক্ষিণ-পূর্ব ভারত এবং উত্তর শ্রীলঙ্কার মধ্যে বঙ্গোপসাগরের একটি প্রবেশপথ।
- এটি ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে পৃথক করে।
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর কে যুক্ত করে। 

• হরমুজ প্রণালী- পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগর এর সাথে সংযুক্তকারী চ্যানেল ।
- এই প্রণালীটি ইরানকে ও আরব উপদ্বীপ ওমান (দক্ষিণ) থেকে পৃথক করে।

• মোজাম্বিকা প্রণালী,- ভারত মহাসাগরের একটি প্রণালী যা, মোজাম্বিকা ও মাদাগাস্কার কে পৃথক করেছে।

দার্দানিসিলস প্রণালী :
- ভূমধ্যসাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে সংযুক্তকারী প্রণালী, দার্দানেলিস প্রাণালী।


উৎস: ব্রিটানিকা ও The Business Standard.
৮৪৩.
নিচের কোনটি ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ?
  1. ক) চাপালিশ
  2. খ) কেওড়া
  3. গ) গজারি
  4. ঘ) সেগুন
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ হলো সমুদ্র উপকূলের লোনা পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের শ্বাসমূল থাকে।

- বাংলাদেশের সুন্দরবন বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি। এ বনে জন্মানো ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের মধ্যে রয়েছে:
- সুন্দরী
- গরান
- গেওয়া
- কেওড়া
- গোলপাতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- গজারী বা শাল, চাপালিশ ও সেগুন ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদ নয়।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বনবিভাগ)
৮৪৪.
দক্ষিণ আফ্রিকা কোন দুইটি মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর এবং ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আফ্রিকা:
- দক্ষিণ আফ্রিকা আফ্রিকা মহাদেশের সর্বদক্ষিণে অবস্থিত রাষ্ট্র।
- দেশটির দক্ষিণে ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগর অবস্থিত।
- দুই মহাসাগর মিলিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলীয় তটরেখার দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭৩৯ মাইল।

⇒ দক্ষিন আফ্রিকার রাজধানী ৩টি। যথা:
• নির্বাহী বা প্রশাসনিক রাজধানী: প্রিটোরিয়া।
• সংসদীয় রাজধানী: কেপ টাউন।
• বিচার বিভাগীয় রাজধানী: ব্লোয়েমফন্টেইন।

উল্লেখ্য,
- মহাসাগর পৃথিবীর প্রায় ৭১% আয়তন দখল করে আছে।
- বিশ্বে পাঁচটি প্রধান মহাসাগর রয়েছে: প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, আর্কটিক মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর।
- আটলান্টিক এবং ভারত মহাসাগর উভয়ের উপকূলরেখা সহ পৃথিবীতে মাত্র তিনটি দেশ রয়েছে।
- এই দেশগুলি হলো: দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর এবং ইসরাইল।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) Britannica.
৮৪৫.
বাঙালি নদী কোথায় যমুনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে?
  1. বগুড়া
  2. নীলফামারি
  3. রংপুর
  4. গাইবান্ধা
ব্যাখ্যা
‘বাঙালি’ নদী:
- বাঙালি নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের গাইবান্ধা, বগুড়া এবং সিরাজগঞ্জ জেলার একটি নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ১৮৩ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১৪৩ মিটার।
- নদীটির প্রকৃতি সর্পিলাকার।
- হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতির নামে বাংলাদেশের একমাত্র নদী এটি।ং

⇒ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বা 'পাউবো' কর্তৃক পাথরাজ নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী নং ৭৯।
- ২০০৭ সালে নদীটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে যমুনা নদীর সঙ্গে নদীটির মিশে যাবার আশঙ্কায়।
- এর ফলে এলাকার ব্যাপক ভৌগোলিক পরিবর্তন হতে পারে।

⇒ বাঙালি নদীর উৎপত্তি নীলফামারী জেলার তিস্তা নদী থেকে। 
- বাঙ্গালী নদী রংপুর জেলায় ঘাঘট নদীর অব্যাহত প্রবাহ।
- নদীটি পূর্ব প্রান্তে যমুনা নদীর সঙ্গে এবং পশ্চিমে রামনগরে কাটাখালির মাধ্যমে করতোয়া নদীর সঙ্গে সংযুক্ত।
- বাঙ্গালী নদী দক্ষিণে প্রবাহিত হওয়ার সময় যমুনা নদী থেকে বেরিয়ে আসা বাউলাই নদীকে উপনদী হিসেবে গ্রহণ করেছে।
- আরও দক্ষিণে প্রবাহিত হওয়ার পর নদীটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পশ্চিম শাখা হলহলিয়া এবং পূর্ব শাখা বাঙ্গালী নামেই প্রবাহিত হয়।
- বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার উত্তরে যমুনার উপনদী মানস-মধুখালী বাঙ্গালী নদীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- এই প্রবাহ কয়েক কিলোমিটার প্রবাহিত হওয়ার পর পুনরায় বিভক্ত হয়ে একটি শাখা ইছামতি নাম ধারণ করে সিরাজগঞ্জে দক্ষিণমুখী হয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

⇒ বাঙালি নদীর অনেক শাখা নদী আছে যথা: বেলাল, মানস, মধুখালি, ইছামতি, ভলকা এবং অন্যান্য।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৮৪৬.
সংক্ষিপ্ত পথে চলতে হলে জাহাজের চালককে কী অনুসরণ করতে হবে?
  1. ক) ধ্রুব নক্ষত্র
  2. খ) অক্ষাংশ
  3. গ) বায়ু প্রবাহের দিক
  4. ঘ) সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
সমুদ্রস্রোতের প্রধান কারণ বায়ুপ্রবাহ। বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের উপরিভাগের পানির সঙ্গে ঘর্ষণ তৈরি করে এবং ঘর্ষণের জন্য পানিতে ঘূর্ণন তৈরি কর। সমুদ্রের পানি একটি নির্দিষ্ট গতিপথ অনুসরণ করে চলাচল করে তাই সংক্ষিপ্ত পথে চলতে হলে জাহাজের চালককে সমুদ্রস্রোত অনুসরণ করতে হবে।
৮৪৭.
পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান থাকে -
  1. ক) ২১ জুন
  2. খ) ২১ সেপ্টেম্বর
  3. গ) ২৩ সেপ্টেম্বর
  4. ঘ) ২৩ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর দীর্ঘতম দিন ২১ জুন।
- পৃথিবীর ক্ষুদ্রতন দিন ২৩ ডিসেম্বর।
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর পৃথিবীর সর্বত্র দিবারাত্রি সমান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম - দশম শ্রেণি।
৮৪৮.
নিচের কোনটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব হিসেবে ধরা হয়?
  1. জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
  2. রোগব্যাধি বৃদ্ধি
  3. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা
  4. উল্লিখিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব:
→ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন জলবায়ুর ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলে।
- জলবায়ু পরিবর্তন ঘটে, যা মৌসুমী বৈচিত্র্য ও আবহাওয়ার চরম অবস্থা সৃষ্টি করে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন—ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যা ও অতিবৃষ্টি বৃদ্ধি পায়।
- মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকে, ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, যা উপকূলীয় অঞ্চল ও দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
- জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়, কারণ বিভিন্ন প্রাণী ও উদ্ভিদ তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারায়।
- রোগব্যাধি বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

→ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- কার্বন উৎপাদনের হার কমানো এবং পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণ করা।
- যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা।
- জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করা।
- বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা, যেমন—সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি ও জৈব গ্যাস।
- প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন করা, যাতে কার্বন শোষণের হার বৃদ্ধি পায়।
- পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করা, যা পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব কমাবে।
- জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ, যাতে সবাই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

তথ্যসুত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৪৯.
ADB এর গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের কয়টি জেলা খুবই উচ্চ খরার ঝুঁকিতে রয়েছে?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা
খরার ঝুঁকি:
- পৃথিবীর বেশির ভাগ অংশের জলবায়ুর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো খরা। মূলত দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়।
- এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা দেয় পানির অভাব।
- কুয়া, খাল, বিলের মতো নিত্যব্যবহার্য পানির আধার শুকিয়ে যায়।

⇒ গত কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে সবচেয়ে বড় খরা মোকাবেলা করেছে।
- খরার কারণে সে সময় দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- এরপর ১৯৯৭ সালে খরার কারণে কৃষিতে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি মোকাবেলা করতে হয় বাংলাদেশকে।
- এত বছর পর এসেই প্রাকৃতিক এ দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো কমেনি।

⇒ দেশের প্রায় ২২টি জেলা খরার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ৬ জেলা। 
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক অ্যাটলাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

উৎস: বণিক বার্তা।
৮৫০.
কোন দুইটি দেশের মাঝে বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত অবস্থিত?
  1. আর্জেন্টিনা-চিলি
  2. চীন-রাশিয়া
  3. যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা
  4. রাশিয়া-কাজাখস্তান
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত:
- বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্ত হলো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার সীমান্ত।
- এই দুইটি দেশের মাঝে ৮৮৯৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে যা বিশ্বের দীর্ঘতম।

অন্যদিকে, 
- চীন-রাশিয়া সীমান্ত বিশ্বের ৬ষ্ঠ দীর্ঘতম সীমান্ত।
- রাশিয়া-কাজাখস্তান বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম এবং
- আর্জেন্টিনা-চিলি বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম সীমান্ত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৮৫১.
নিচের কোন নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করা হয়?
  1. নাফ নদী
  2. হালদা নদী
  3. তিতাস নদী
  4. ডাকাতিয়া নদী
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- সম্প্রতি সরকার এই নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে।
- বাংলাদেশের সীমানায় উৎপত্তি ও সমাপ্তি হয়েছে হালদা নদী। 
- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।

তথ্যসূত্র - মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৮৫২.
আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থ চারদিকে সঞ্চিত হয়ে কিসের সৃষ্টি করে?
  1. ক) সমভূমির
  2. খ) মালভূমির
  3. গ) অগ্ন্যুৎপাতের
  4. ঘ) সমুদ্রের
ব্যাখ্যা
অনেক সময় আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত পদার্থ চারদিকে সঞ্চিত হয়ে মালভূমির সৃষ্টি করে। ভারতের দাক্ষিণাত্যের কৃষ্ণমৃত্তিকাময় মালভূমি এরূপ নির্গত লাভা দিয়ে গঠিত। (রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
৮৫৩.
বাংলাদেশের কোন দ্বীপে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় দেখা যায়?
  1. দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ
  2. নিঝুম দ্বীপ
  3. মনপুরা
  4. মহেশখালী
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের একমাত্র পার্বত্য দ্বীপ মহেশখালীতে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় রয়েছে।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

 টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
• ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। ]
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।

• খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫৪.
'ময়নামতি' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) লালমাই
  2. খ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  3. গ) কুমিল্লা
  4. ঘ) চাঁদপুর
ব্যাখ্যা
ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান। এ যাবৎ আবিষ্কৃত লালমাই অঞ্চলের প্রাচীনতম সভ্যতার নিদর্শন হল ময়নামতি প্রত্নস্থল। বর্তমানে ময়নামতি অঞ্চলে যে ধ্বংশস্তুপ দেখা যায় তা প্রকৃতপক্ষে একটি প্রাচীন নগরী ও বৌদ্ধ বিহারের অবশিষ্টাংশ । Source: parjatan.gov.bd
৮৫৫.
নিচের কোন দিনকে মহাবিষুব বলা হয়?
  1. ২১ জুন
  2. ২১ মার্চ
  3. ২১ মে
  4. ২১ জুলাই
ব্যাখ্যা
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১এ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।
- ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা মহাবিষুব বলে। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ: নবম-দশম শ্রেণি এবং ব্রিটানিকা।
৮৫৬.
বাংলাদেশের 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন' কবে প্রণীত হয়?
  1. ২০০৯
  2. ২০০১
  3. ২০১২
  4. ২০১৩
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন:
- বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন ২০১২ সালে প্রণীত হয়।
- এই আইন প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য ছিল- দুর্যোগ মোকাবেলার কার্যক্রমকে সমন্বিত, লক্ষ্যভিত্তিক এবং কার্যকর করা এবং 
- সকল ধরনের দুর্যোগে সক্ষম একটি ব্যবস্থা তৈরি করা।
- ২০১২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর এই আইন প্রণীত হয়।
- একই বছরে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরও প্রতিষ্ঠা করে, যা আইন পাসের মাধ্যমে     কার্যকর হয়।

উল্লেখ্য,
- দুর্যোগ হলো এমন একটি আকস্মিক এবং গুরুতর ঘটনা, যা প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট কারণে ঘটে এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের   ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- দুর্যোগের প্রকারভেদ:
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ: যেমন বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি।
• মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: যেমন যুদ্ধ, বনভূমি ধ্বংস, দূষণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।

উৎস:
১. Britannica;
২. ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫৭.
বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল কোনটি?
  1. চা
  2. ইক্ষু
  3. পাট
  4. গম
ব্যাখ্যা

পাট (Jute):
- পাট বাংলাদেশের প্রধান অর্থকরী ফসল। 
​- বাংলাদেশে সাধারণত দুই প্রকার পাট চাষ হয়, দেশি এবং তোষা পাট। 
​- রংপুর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, যশোর, ঢাকা, কুষ্টিয়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, পাবনা প্রভৃতি জেলায় পাট চাষ ভালো হয়।
- পাট উষ্ণ অঞ্চলের ফসল।
​- পাট চাষের জন্য অধিক তাপমাত্রা (২০ থেকে ৩৫° সেলসিয়াস) এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের (১৫০ থেকে ২৫০ সেন্টিমিটার) প্রয়োজন হয়।
- নদীর অববাহিকায় পলিযুক্ত দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক।

​তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৮৫৮.
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে কী বোঝায়?
  1. নির্দিষ্ট অঞ্চলের তাপমাত্রার পরিবর্তন
  2. পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা হ্রাস
  3. পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  4. মহাকাশের তাপমাত্রার পরিবর্তন
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন: 
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
- এটিকে গ্রিন হাউজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা হয়।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্যাসকে দায়ী করা হয়।
- এগুলো হলো কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরো কার্বন, মিথেন, ওজোন, জলীয়বাষ্প প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণ:
- ১৮০০ সালের প্রথম দিকে শিল্প বিপ্লবের পর থেকেই কয়লা, তেল, গ্যাসোলিনের মত জ্বীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার বৃদ্ধি পায়।
- ফলে বায়ুমন্ডলে গ্রিন হাউজ গ্যাসের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।
- এর ফলে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই- অক্সাইড বৃদ্ধি, বনায়ন এবং জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়।
- কল-কারখানা ও যানবাহনের নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া, নগরায়ন, বাড়ি ঘরের অবকাঠামোগত বৈশিষ্ট্য, অতিরিক্ত খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভরতার কারণে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৫৯.
কালাহারি মরুভূমি কোন দেশে অবস্থিত? 
  1. বতসোয়ানা
  2. নামিবিয়া
  3. দক্ষিণ আফ্রিকা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

কালাহারি মরুভূমি: 
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- আফ্রিকার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি অঞ্চল মরুভূমি দ্বারা আবৃত।
- কালাহারি মরুভূমি আফ্রিকার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম।
- এবং বিশ্বের মধ্যে ষষ্ঠ বৃহত্তম মরুভূমি।
- এটি তিনটি দেশে বিস্তৃত।
- বতসোয়ানা,নামিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা।
- এর আয়তন প্রায় ৯,৩২,০০০ বর্গ কিমি।
- এটি বতসোয়ানার ৭০% অঞ্চল,
- নামিবিয়ার পূর্ব অংশ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তর অংশ জুড়ে বিস্তৃত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৮৬০.
উত্তর আমেরিকার রকি কোন ধরনের পর্বত?
  1. ক্ষয়জাত
  2. ভঙ্গিল
  3. ল্যাকোলিথ
  4. সঞ্চয়জাত
ব্যাখ্যা
পর্বত (Mountain):
- ভূ-পৃষ্ঠের অতি উচ্চ, সুবিস্তৃত এবং খাড়া ঢাল বিশিষ্ট শিলাস্তুপকে পর্বত বলে।
- পর্বত সাধারণত ৬০০ মিটারের বেশি উচ্চতা সম্পন্ন হয়।
- তবে পর্বতের উচ্চতা সমুদ্র সমতল থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
- কোনো কোনো পর্বত বিচ্ছিন্নভাবে অবস্থান করে, যেমন- পূর্ব আফ্রিকার কিলিমানজারো।
- পর্বত গঠনের প্রক্রিয়াকে ওরোজেনেসিস (Orogenesis) বলে।
- পৃথিবীর প্রতিটি পর্বত দেখতে বাহ্যিকভাবে স্বতন্ত্র হলেও উৎপত্তিগত ও গঠন প্রকৃতির দিক দিয়ে এদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
- উৎপত্তিগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পর্বতকে চার ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা-
ক. ভঙ্গিল পর্বত,
খ. আগ্নেয় পর্বত,
গ. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত এবং,
ঘ. উত্থিত ক্ষয়জাত পর্বত।

উল্লেখ্য,
⇒ ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountain):
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- চার ধরনের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বত সর্বাধিক বিস্তৃত।
- অভিসারী প্লেট সীমানায় সংকোচনজনিত চাপে এ ধরনের পর্বত গঠিত হয় বলে এর শিলা কাঠামো ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত।
- ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।
-যেমন: এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৬১.
মাঝারি উচ্চতার মেঘ কোনটি?
  1. সিরোকিউমুলাস
  2. অল্টোকিউম্যুলাস
  3. স্ট্রাটাস
  4. স্ট্রাটো-কিউমুলাস
ব্যাখ্যা

• উঁচু উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ।
উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস
- সিরোকিউম্যুলাস
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।

• মাঝারি উচ্চতার মেঘ:
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস
- নিম্বোস্ট্রেটাস

• নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ:
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত।
নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস
- কিউম্যুলাস
- কিউম্যুলোনিম্বাস।

সূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 

৮৬২.
লন্ডন কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. পটোম্যাক
  2. টেইবার
  3. টেমস
  4. হাডসন
ব্যাখ্যা
টেমস নদী:
- লন্ডন টেমস নদীর তীরে অবস্থিত।
- টেমসকে ইংল্যান্ডের প্রধান নদী বলা হয়।
- টেমস নদীর দৈর্ঘ্য ৩৩০ কি.মি.

নদীর তীরবর্তী শহরসমূহ,
- ওয়াশিংটন ডিসি পটোম্যাক নদীর তীরে অবস্থিত।
- হাডসন নদীর তীরে নিউইয়র্ক সিটি অবস্থিত।
- রাইন নদীর তীরে স্ট্রাসবার্গ অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৮৬৩.
পানামা খাল কোন দুটি মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে?
  1. ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর ও উত্তর সাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর ও আর্কটিক মহাসাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

পানামা খাল (Panama Canal):
- এর অবস্থান মধ্য আমেরিকার পানামা প্রজাতন্ত্র।
- এটি একটি কৃত্রিম জলপথ।
- পানামা খাল প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- দৈর্ঘ্য: প্রায় ৮০ কিমি (৫০ মাইল)।
- নির্মাণকাল: ১৯০৪-১৯১৪।
- শাসন: প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নির্মিত, বর্তমানে পানামা কর্তৃক পরিচালিত।
- বিশেষত্ব: বিশ্ব বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্র।
- প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য: লক সিস্টেম, যা জাহাজকে খালের উচ্চতা অনুযায়ী উপরে-নিচে নিয়ে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৮৬৪.
'চন্দ্রদ্বীপ' কোন জেলার পূর্বনাম?
  1. ক) যশোর
  2. খ) নোয়াখালি
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
ক্ষিণ ভারতীয় লেখনী এবং আইন-ই-আকবরীর সাক্ষ্য হতে মনে হয়, চন্দ্রদ্বীপ অঞ্চলের অন্য নাম ছিল ‘বঙ্গালদেশ’। আইন-ই-আকবরী গ্রন্থের বাকলা সরকার (বর্তমান বরিশাল, পূর্বের বাখরগঞ্জ জেলা) এবং চন্দ্রদ্বীপ একই স্থান বলে স্বীকৃত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৮৬৫.
ব্যাফিন উপসাগর কোন প্রণালীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে যুক্ত?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. ডেভিস প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. মালাক্কা প্রণালী
ব্যাখ্যা

ব্যাফিন উপসাগর: 
- এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সাগর।
- এটি কানাডার বেফিন দ্বীপ ও গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ–পশ্চিম উপকূলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
- এর দক্ষিণে ডেভিস প্রণালী ও ল্যাব্রাডর সাগর হয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে যুক্ত।
- এটি উত্তরে ন্যারেস প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত।
- বছরের অধিকাংশ সময় এই উপসাগরটি বরফে আচ্ছাদিত থাকে।
- ভাসমান বরফ ও হিমশৈলের কারণে এই উপসাগর নৌ চলাচল অত্যন্ত সীমিত।

উৎস: ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ব্রিটানিকা।

৮৬৬.
কয়টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়?
  1. ক) ৪টি
  2. খ) ৩টি
  3. গ) ২টি
  4. ঘ) ৫টি
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাত
• জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু উপরে উঠে শীতল হয়ে যায় ও ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয়। এই মেঘের মধ্যে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানির কণা থাকে তা মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূ-পৃষ্ঠে পতিত হয়। মূলত পানির কণাগুলো যখন বড় বড় কণায় পরিণত হয়ে ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসে তাকেই বলা হয় বৃষ্টিপাত।

বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ
৪টি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বাকাশে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে বৃষ্টিপাতকে প্রধানত ৪টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা -  
১। পরিচলন বৃষ্টিপাত
২। শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত
৩। ঘূর্ণিবাত বৃষ্টিপাত 
৪। সংঘর্ষ বৃষ্টিপাত। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৮৬৭.
কোন গ্রহের ব্যাস পৃথিবীর ব্যাসের অর্ধেক?
  1. বুধ
  2. মঙ্গল
  3. শনি
  4. নেপচুন
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- বছরের অধিকাংশ সময় একে দেখা যায়।
- খালি চোখে মঙ্গল গ্রহকে লালচে দেখায়।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার এবং পৃথিবীর ব্যাসের প্রায় অর্ধেক।
- এই গ্রহে দিনরাত্রির পরিমাণ পৃথিবীর প্রায় সমান।
- সূর্যের চারদিকে একবার ঘুরতে মঙ্গলের সময় লাগে ৬৮৭ দিন।
- মঙ্গল গ্রহের উপরিভাগে রয়েছে গিরিখাত ও আগ্নেয়গিরি।
- এ গ্রহে অক্সিজেন ও পানির পরিমাণ খুবই কম এবং কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ এত বেশি (শতকরা ৯৯ ভাগ) যে প্রাণীর অস্তিত্ব থাকা সম্ভব নয়।
- মঙ্গলে ফোবস ও ডিমোস নামে দুটি উপগ্রহ রয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৮৬৮.
কেওক্রাডং এর উচ্চতা কত?
  1. ক) ৬১০ মিটার
  2. খ) ১২৩০ মিটার
  3. গ) ১২৩১ মিটার
  4. ঘ) ১১৩০ মিটার
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় সমূহের গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- এগুলো মূলত রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশে অবস্থিত।
- অন্যতম উচ্চ পাহাড়চূড়া কেওক্রাডং এর উচ্চতা ১২৩০ মিটার
- সর্বোচ্চ পাহাড়চূড়া তাজিংডং এর উচ্চতা ১২৩১ মিটার।
- দুটি চূড়াই বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই।
৮৬৯.
জাপান ও রাশিয়ার মধ্যকার বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কোনটি?
  1. পেরেজিল দ্বীপপুঞ্জ
  2. কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ
  3. স্প্রাটলি দ্বীপপুঞ্জ
  4. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ
ব্যাখ্যা
কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ:

- রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে বিরোধপূর্ণ দ্বীপ কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ ও শাখালিন দ্বীপপুঞ্জ।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের ঠিক উত্তরে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের কাছ থেকে এই দ্বীপগুলো সোভিয়েত ইউনিয়ন দখল করে নেয়।
- বিতর্কিত কুড়িল দ্বীপপুঞ্জের চারটির মধ্যে দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় দ্বীপ কুনাশির।
- চারটি দ্বীপের সমন্বয়ে এই কুড়িল দ্বীপপুঞ্জকে জাপান তাদের নর্দান টেরিটরি হিসাবে অভিহিত করে। 
- এমনকি এই বিরোধের কারণে রাশিয়া ও জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অবসান ঘোষণা হওয়া শান্তিচুক্তিতেও স্বাক্ষর করেনি।

তথ্যসূত্র - Britannica.
৮৭০.
ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ কোনটি?
  1. ভূগর্ভস্থ বাষ্প
  2. হিমবাহের প্রভাব
  3. শিলাচ্যুতি
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• অপশনে উল্লিখিত সবগুলোই ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

• ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ শিলারাশিতে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক অবমুক্তির কারণে সৃষ্ট এই স্পন্দনের মাত্রা মৃদু কম্পন থেকে প্রচন্ড ঘূর্ণনের মধ্যে হতে পারে।
- তাই ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।

• ভূমিকম্পের প্রধান কারণগুলো হলো:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত। এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

• ভূমিকম্পের অপ্রধান কারণ:
- শিলাচ্যুতি,
- তাপ বিকিরণ,
- ভূগর্ভস্থ বাষ্প,
- ভূগর্ভস্থ চাপের বৃদ্ধি বা হ্রাস,
- হিমবাহের প্রভাব ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৮৭১.
গ্রিনল্যান্ড কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. দক্ষিণ মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. ভারত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

গ্রিনল্যান্ড:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দ্বীপের নাম: গ্রীনল্যান্ড।
- দ্বীপটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।
- সারা বছর তুষার আবৃত থাকে গ্রীনল্যান্ড।
- গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে স্বায়ত্বশাসিত দ্বীপরাষ্ট্র হিসাবে শাসন কাজ পরিচালনা করে।
- এর রাজধানী - নুক (Nuuk) এবং ২১ লক্ষ ৬৬ হাজার বর্গ কিলোমিটার প্রায়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com

৮৭২.
কত সালের ভূমিকম্পের দ্বারা যমুনা নদীর উৎপত্তি ঘটেছে?
  1. ১৭৬২ সাল
  2. ১৭৮৭ সাল
  3. ১৮৬২ সাল
  4. ১৮৮৭ সাল
ব্যাখ্যা

যমুনা নদী:
- ব্রহ্মপুত্র-যমুনা বাংলাদেশের দ্বিতীয় এবং বিশ্বের দীর্ঘতম নদীসমূহের মধ্যে অন্যতম। প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মপুত্র নদের নিম্ন প্রবাহ যমুনা নামে অভিহিত।
- ১৭৮৭ সালে সংঘটিত প্রচণ্ড ভূমিকম্প ও ভয়াবহ বন্যার ফলে ব্রহ্মপুত্রের তৎকালীন গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান কালের যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের একটি হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে। তারপর তিব্বত ও আসামের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ কুড়িগ্রাম জেলা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদ ময়মনসিংহের দেওয়ানগঞ্জের কাছে এটি দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে ⎯ একটি যমুনা নামে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- অপর শাখা পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে ময়মনসিংহের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরবের নিকট মেঘনায় পতিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ⎯ ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা।
- যমুনার উপনদী: তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই, কালজানি, তোরসা, জলঢাকা, নাগর, দুপচাপিয়া, যমুনেশ্বরী, রায়ঢাক, ধবলা, ঘাঘট, বাঙালি, বড়াল, গঙ্গা, নারদ নদ, ধবল বা দুধকুমার, তুলসী গঙ্গা, শিব বরনাই।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন,
ii) ভূগোল, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়,
iii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি,
iv) বাংলাপিডিয়া।

৮৭৩.
কোন দ্রাঘিমা রেখাকে আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা বলা হয়?
  1. ০°
  2. ৯০°
  3. ১২০°
  4. ১৮০°
ব্যাখ্যা

• আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা:
- পৃথিবীপৃষ্ঠে কল্পিত ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা নামে পরিচিত।
- এশিয়া ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অংকিত এই রেখা স্থলভাগ এড়িয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয়।

- ১৮০° পূর্ব ও পশ্চিম দ্রাঘিমা মূলত একই দ্রাঘিমা রেখা।
- ফলে একই দ্রাঘিমা রেখায় সময়ের ব্যবধান হয়ে যাচ্ছে ২৪ ঘন্টা এবং তারিখের ক্ষেত্রে দুইটি তারিখ হয়ে যাচ্ছে।
- তারিখ, সময় ও সাপ্তাহিক দিন নির্ধারনের এই সমস্যা সমাধানের উদেশ্যে ১৮৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন-এ 'দ্রাঘিমা ও সময়' সম্পর্কিত আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাকে 'আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা' হিসাবে স্থির করা হয়।
- আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে কল্পনা করা হয় এবং রেখাটি সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাংশ এবং এ্যালিউশয়ান, ফিজি ও চ্যাথাম দ্বীপপুঞ্জের স্থলভাগকে এড়িয়ে ১১° পূর্ব দিয়ে বেঁকে এবং বেরিং প্রণালিতে ১২° পূর্ব দিকে বেঁকে কল্পনা করা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৭৪.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ক) ২৮
  2. খ) ৩০
  3. গ) ৩২
  4. ঘ) ৩৩
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সাথে ২টি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
- একটি ভারত এবং অপরটি মিয়ানমার।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উৎস: বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ওয়েবসাইট।
৮৭৫.
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের জৈবিক উপাদানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-
  1. গড় আয়ু ও জীবনযাত্রার মান
  2. অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি
  3. নদী ভাঙন ও টর্নেডো
  4. জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন:
- বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন নির্ভর করে নানা উপাদানের উপর, যেমন-
- আর্থসামাজিক, প্রাকৃতিক, জৈবিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং শিল্পায়ন-নগরায়ণ।

 
• প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ
১) জলবায়ু পরিবর্তন
২) বৈশ্বিক উষ্ণতা
৩) ভৌগোলিক পরিবর্তন
৪) নদী ভাঙন
৫) অতিবৃষ্টি
৬) অনাবৃষ্টি
৭) টর্নেডো ইত্যাদি
 
• জৈবিক উপাদানসমূহ
জন্ম ও মৃত্যুহার
জনসংখ্যার ঘনত্ব
গড় আয়ু
জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।

৮৭৬.
বাংলাদেশের ছয় ঋতুর সঠিক অনুক্রম কোনটি?
  1. গ্রীষ্ম, বর্ষা, বসন্ত, হেমন্ত, শীত ও শরৎ
  2. বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত ও গ্রীষ্ম
  3. শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা
  4. গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ছয় ঋতুর সঠিক অনুক্রম হলো:
ঘ) গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
---------------------
বাংলাদেশ ষড়ঋতু:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এদেশে ঋতুর আবির্ভাব ঘটে এবং সেগুলি পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়।
- ভৌগোলিক অবস্থানের দরুণ এখানকার জলবায়ু নাতিশীতোষ্ণ।
- যদিও বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত উপক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির তথা উষ্ণ ও আর্দ্র, তথাপি প্রচলিত বাংলা বর্ষপঞ্জিতে বছরকে ছয়টি ঋতুতে বিভক্ত করা হয়েছে।
- যথা: 
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত।
প্রতি দু মাস অন্তর ঋতু বদল হয়।
উল্লেখ্য যে,
সব সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ঋতুপরিবর্তন সীমাবদ্ধ থাকে না, কখনও কখনও কোনো কোনো ঋতুর শুরু ও শেষ কিংবা ব্যাপ্তিতে পরিবর্তন ঘটে।

উৎস:
- বাংলাপিডিয়া।
৮৭৭.
সর্বশেষ BNBC প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশের খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত -
  1. ক) চট্টগ্রাম
  2. খ) সিলেট
  3. গ) নোয়াখালী
  4. ঘ) সাতক্ষীরা
ব্যাখ্যা
 ⇨ ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্টে প্রথম সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
⇨ সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন  অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো -
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12

তথ্যসূত্র:-  BNBC প্রকাশিত Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট।
৮৭৮.
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয় কোনটি?
  1. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস
  2. কালবৈশাখী ও টর্নেডো
  3. হিমবাহ ধ্বস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- হিমবাহ ধ্বস বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়। 

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ: 

- পৃথিবীর প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
- এদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জলবায়ুগত বৈশিষ্ট্য, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রভৃতি কারণে প্রায় প্রতি বছরই কোনো না কোনো দুর্যোগে আক্রান্ত হয়।
- ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন, ক্ষয়ক্ষতি হয় সম্পদ ও জীবনের।
- বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস, কালবৈশাখী ও টর্নেডো, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, খরা, আর্সেনিক, ভূমিকম্প ও সুনামি অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৭৯.
বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এদেশের জলবায়ুকে কয়টি ঋতুতে ভাগ করা যায়?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
জলবায়ু:
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূ-প্রকৃতি এখানকার জলবায়ুর ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে থাকে।
- মৌসুমী বায়ুর অত্যধিক প্রভাবের দরুণ এখানকার জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন, তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে এদেশের জলবায়ুকে তিনটি ঋতুতে ভাগ করা যায়।

এগুলো হলো:
• গ্রীষ্মকাল।
• বর্ষাকাল।
• শীতকাল।

সূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮০.
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকার দেশের কতটি এলাকাকে সংরক্ষিত ঘোষণা করেছে? [মে, ২০২৫]
  1. ৪১টি
  2. ৪৪টি
  3. ৪৭টি
  4. ৫৪টি
ব্যাখ্যা
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা:
- দেশের বন্যপ্রাণি সংরক্ষনে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে সরকার সারা দেশে সর্বমোট ৫৪টি সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করেছে।

উল্লেখ্য,
- ৫৪টি সংরক্ষিত এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে সহব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।
- সংরক্ষিত এলাকাগুলোতে সরকার, স্থানীয় জনগণ এবং আইইউসিএনের মতো বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাঘ, ঘড়িয়াল, ডলফিন, শকুন ইত্যাদি প্রজাতি সংরক্ষণে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।
- সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
ii) প্রথম আলো।
৮৮১.
বায়ুমন্ডলের উপাদান সমূহের মধ্যে কোনটির পরিমাণ সর্বাধিক?
  1. সিলিকন
  2. নাইট্রোজেন
  3. অক্সিজেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদান সমূহ:
- নাইট্রোজেন : ৭৮.০২%
- অক্সিজেন : ২০.৭১%
- আর্গন : ০.৮০%
- কার্বন ডাইঅক্সাইড : ০.০৩%
- জলীয়বাষ্প : ০.৪১%
- ধূলিকণা : ০.০১%
- অন্যান্য গ্যাস : ০.০২%।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৮৮২.
হিন্ডেনবার্গ লাইন কোন দুটি দেশের মধ্যকার সীমারেখা?
  1. ফ্রান্স ও জার্মানি
  2. জার্মানি ও পোল্যান্ড
  3. যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো
  4. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা
হিন্ডেনবার্গ লাইন : জার্মানি ও ফ্রান্স

অন্যদিকে,
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড
- সিগফ্রিড লাইন : জার্মানি ও ফ্রান্স
- সনোরা লাইন : যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো।
- ডুরান্ড লাইন : পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।

(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৮৮৩.
হালদা নদী কেন বিখ্যাত?
  1. ক) এখান থেকে মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়
  2. খ) এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়
  3. গ) এর মোহনায় সমুদ্রবন্দর গড়ে উঠেছে
  4. ঘ) এর নিচ দিয়ে টানেল করা হচ্ছে
ব্যাখ্যা

- হালদা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি জেলা পার্বত্য চট্টগ্রামের বদনাতলী নামক পাহাড় হতে উৎপন্ন হয়ে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাউজান, এবং চট্টগ্রাম সদরের কোতোয়ালী থানার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালুরঘাটের নিকটে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলেছে। এর মোট দৈর্ঘ্য ৮১ কিলোমিটার হলেও মাত্র ২৯ কিলোমিটার অংশে সারা বছর বড় নৌকা চলাচলের উপযোগী থাকে।
- হালদা নদী থেকে ডিম আহরণ, আহরিত ডিম থেকে রেণু উৎপাদন এবং পরিচর্যার প্রযুক্তি স্থানীয়দের সম্পূর্ণ নিজস্ব (Indigenous) যা স্মরণাতীত কাল থেকে ধর্মীয় অনুভূতি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সংমিশ্রণে উদ্ভাবিত এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
- এটিই বিশ্বের একমাত্র জোয়ারভাটার নদী যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।
- জাতীয় অর্থনীতিতে প্রতি বছর হালদার অবদান ৮০০ কোটি টাকা যা এখানে প্রাপ্ত ডিম, উৎপাদিত রেণু এবং মাছ থেকে আসে। এছাড়াও রয়েছে কৃষিজ উৎপাদন, যোগাযোগ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যা হালদার অবদানকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সোর্সঃ BdFISH Bangla

৮৮৪.
বায়ুমণ্ডলে নিচের কোন উপাদানটি সবচেয়ে কম?
  1. ক) ওজোন
  2. খ) হাইড্রোজেন
  3. গ) মিথেন
  4. ঘ) কার্বন-ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের পরিমাণঃ নাইট্রোজেন ৭৮.০৯%, অক্সিজেন ২০.৯৫%, আর্গন ০.৯৩%, কার্বন-ডাই-অক্সাইড ০.০৩৮%, হাইড্রোজেন ০.০০০০৫%, মিথেন ০.০০০১৫%, ওজোন ০.০০০০৪%।
Source: britannica.com/science/chemical-element/The-atmosphere
৮৮৫.
গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কোনটি?
  1. সেকরিন্টাং
  2. শিলং
  3. নকরেক
  4. জৈন্তিয়া
ব্যাখ্যা

গারো পাহাড়:
- বাংলাদেশের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উঁচু পাহাড় গারো পাহাড়।
- গারো পাহাড় বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত, পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বিস্তৃত একটি পর্বতশ্রেণি।
- মূলত ভারতের মেঘালয় রাজ্যের গারো-খাসিয়া পর্বতশ্রেণির একটি অংশকে গারো পাহাড় বলে।
- এর কিছু অংশ রয়েছে ভারতের আসাম রাজ্যে ও বাংলাদেশের শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।
- ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলাগুলো এ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের মোট আয়তন প্রায় আট হাজার ১৬৭ বর্গকিলোমিটার।
- গারো পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম নকরেক, যা ভারত অংশে অবস্থিত।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৪ হাজার ৬৫২ ফুট বা এক হাজার ৪০০ মিটার।
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং।
- মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলং এ পাহাড়েই অবস্থিত।
- তবে গারো পাহাড়ের প্রধান শহর তুরা।
- গারো পাহাড় বিশ্বের অন্যতম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি।

উল্লেখ্য,
- তাজিংডং বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৮৮৬.
নিচের কোনটি পাললিক শিলা?
  1. ক) মার্বেল
  2. খ) গ্রানাইট
  3. গ) চুনাপাথর
  4. ঘ) নিস
ব্যাখ্যা
• পাললিক শিলা:
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- এ শিলার পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠের প্রাথমিক শিলাগুলো যুগ যুগ ধরে রৌদ্র, বৃষ্টি, বায়ুপ্রবাহ সাগর তরঙ্গ প্রভৃতি নানা প্রকার ঘাত- প্রতিঘাত ও রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খন্ড-বিখন্ড ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে বালি, কাঁকর, কাঁদা প্রভৃতিতে পরিণত হয়।
- ক্ষয়িত শিলাকণা জলস্রোত, বায়ু এবং হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে পলল বা তলানিরূপে কোনো নিম্নভূমি, হ্রদ এবং সাগরগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে। পরবর্তীতে ঐসব পদার্থ ভূ-গর্ভের উত্তাপে ও উপরের শিলাস্তরের চাপে জমাট বেঁধে কঠিন শিলায় পরিণত হয়।
- পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ।
- তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে।
- স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে।
⇒ চুনাপাথর, বেলেপাথর, পাথুরিয়া কয়লা, সৈন্ধব লবণ, খড়িমাটি প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
- ভূ-পৃষ্ঠের ক্রিয়ারত বিভিন্ন প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াই পাললিক শিলার উৎপত্তির জন্য কাজ করে।
- তবে, বিচুর্ণীভবন, পরিবহন, সঞ্চায়ন, সুদৃঢ়করণ ও জোড়ন ইত্যাদি প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি - বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৮৭.
রিখটার স্কেল কোন বিষয়ের পরিমাপ করে?
  1. ভূমিকম্পের কেন্দ্র সনাক্ত 
  2. কম্পনজনিত ঘটনা
  3. ভূমিকম্পের তীব্রতা
  4. বিস্ফোরণ 
ব্যাখ্যা

- রিখটার স্কেল হল একটি লগারিদমিক স্কেল যা ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ধারণে ব্যবহৃত হয়।
- এটি ১৯৩৫ সালে ভূকম্পবিদ চার্লস এফ. রিখটার এবং বেনো গুটেনবার্গ দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল।
- এটি ভূমিকম্পের আকার নির্ধারণের জন্য সিসমোগ্রাফ দ্বারা ক্যালিব্রেটেড বৃহত্তম ভূকম্পিক তরঙ্গের প্রশস্ততা (উচ্চতা) এর লগারিদম ব্যবহার করে।

- অপরদিকে, 
⇒ সিসমোগ্রাফ হল ভূমিকম্প, বিস্ফোরণ এবং অন্যান্য ভূমি-কম্পনজনিত ঘটনা দ্বারা সৃষ্ট ভূমিকম্প তরঙ্গ সনাক্ত এবং রেকর্ড করার জন্য ব্যবহৃত একটি যন্ত্র। 

- রিকটার স্কেল ও সিসমোগ্রাফ দুটাই ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা

৮৮৮.
বাঙ্গালি উপভাষা অঞ্চল কোনটি?
  1. নন্দীয়া
  2. ত্রিপুরা
  3. পুরুলিয়া
  4. বরিশাল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কারণে বিভিন্ন উপভাষার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় স্বতন্ত্র শ্রেণির প্রমিত ভাষা গড়ে উঠলেও ঢাকায় তা হয়নি; এমনকি ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী হওয়ার পরেও নয়।

বাংলাদেশের উপভাষাসমূহকে প্রধানত চার শ্রেণিতে ভাগ করা যায়, যথা:
১. উত্তরবঙ্গীয় দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও পাবনায় প্রচলিত উপভাষা;
২. রাজবংশী রংপুরের উপভাষা;
৩. পূর্ববঙ্গীয় (ক) ঢাকা, ময়মনসিংহ, ত্রিপুরা, বরিশাল ও সিলেটের উপভাষা, (খ) ফরিদপুর, যশোর ও খুলনার উপভাষা এবং
৪. দক্ষিণাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও চাকমা উপভাষা।

পশ্চিমবঙ্গের উপভাষাগুলি প্রধানত দু শ্রেণিতে বিভক্ত:
১. রাঢ়ী ও ঝাড়খন্ডী (দক্ষিণ-পশ্চিম বর্ধমান ও প্রেসিডেন্সি বিভাগের অধিকাংশ) এবং ২. বরেন্দ্রী ও কামরূপী (গোয়ালপাড়া থেকে পূর্ণিয়া পর্যন্ত)।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া 


সাধারণত একটি ভাষার অনেক উপভাষা থাকে। বাংলা ভাষারও তেমনি অনেকগুলি উপভাষা আছে। উপভাষা হল সেই ভাষার আঞ্চলিক রূপ। ঝাড়খণ্ড থেকে শুরু করে কামরূপ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের কথ্য ভাষা বাংলা।
১) ঝাড়খণ্ডী উপভাষা
২) রাঢ়ী উপভাষা
৩) সমতট উপভাষা
৪) বরেন্দ্রী উপভাষা
৫) কামরূপী উপভাষা

সমতট উপভাষা আবার দুটো অংশে বিভক্ত। - ১) রাঢ়ী উপভাষার মত এই উপভাষার প্রচলনও এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে। এর আবার দুটি ভাগ আছে। একটি বিশুদ্ধ সমতটী বা বঙ্গালী ভাষা। এটি ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, যশোহর অঞ্চলে প্রচলিত।
এবং ২) অন্যটি চাটিগ্রামী যা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সন্দীপ, শ্রীহট্ট, কাছাড়, ত্রিপুরা ও চাকমা অঞ্চলে প্রচলিত।

উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে "বরিশাল"ই সবচেয়ে যুক্তি সঙ্গত উত্তর।

৮৮৯.
লোহিত সাগরের তীরবর্তী কয়টি দেশ রয়েছে?
  1. ৫ টি
  2. ৬ টি
  3. ৪ টি
  4. ৮ টি
ব্যাখ্যা
- লোহিত সাগরের তীরবর্তী ৬টি দেশ।

• লোহিত সাগর (Red Sea):

- ভারত মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- যা আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি সুয়েজ প্রণালী ও বাব এল-মানদেব প্রণালীর মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত।​

→ অবস্থান ও সীমান্তবর্তী দেশসমূহ:
- উত্তর সীমা: সিনাই উপদ্বীপ, সুয়েজ উপসাগর ও আকাবা উপসাগর;
- দক্ষিণ সীমা: বাব এল-মানদেব প্রণালী, যা গালফ অব অ্যাডেনের সাথে সংযুক্ত;
- লোহিত সাগরের তীরবর্তী ৬টি দেশ;
- পূর্ব তীর: সৌদি আরব ও ইয়েমেন;
- পশ্চিম তীর: মিশর, সুদান, ইরিত্রিয়া ও জিবুতি।

→ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য:
- দৈর্ঘ্য: প্রায় ১,২০০ মাইল (১,৯৩০ কিলোমিটার);
- সর্বোচ্চ প্রস্থ: ১৯০ মাইল;
- গভীরতা: গড় গভীরতা প্রায় ৪৫০ মিটার,
- সর্বোচ্চ গভীরতা ৩,০৪০ মিটার;
- আয়তন: প্রায় ৪৫০,০০০ বর্গ কিলোমিটার​।

উৎস: Britannica.
৮৯০.
ময়নামতির পূর্বনাম কি?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) রোহিতগিরি
  3. গ) সিংহজানী
  4. ঘ) বিক্রমপুর
ব্যাখ্যা

ময়নামতির প্রাচীন নাম ছিলাে রােহিতগিরি যা দেব রাজাদের রাজধানী ছিলাে।
প্রত্নতাত্ত্বিকগণ এই স্থানটি বর্তমানে কুমিল্লার ময়নামতির বলে ধারণা করেন।
বাংলাদেশে অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি। এটি দেববংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব খ্রিস্টীয় আট শতকে নির্মাণ করেন। সুতরাং, এর আসল নাম ''ভবদেব মহাবিহার''।
বিহারে মােট ১১৫টি ভিক্ষুকক্ষ ও মধ্যভাগে প্রধান মন্দির সহ অনেকগুলাে মন্দির রয়েছে।
উৎসঃ শালবন বিহারের নাম-ফলক ও বড় কামতা ইউনিয়ন ওয়েবসাইট

৮৯১.
ভূপৃষ্ঠের মোট কত ভাগ পানি?
  1. ৬০%
  2. ৬৫%
  3. ৭০%
  4. ৭৫%
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীই একমাত্র গ্রহ যা জীবন ধারণের জন্য পরিচিত।
- এই গ্রহে জীবনকে সমর্থন করার সবচেয়ে বড় কারণগুলির মধ্যে একটি হল জল। পৃথিবী আসলেই জলময় জায়গা।
- পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের প্রায় 71% জল দ্বারা আচ্ছাদিত
- এই জলভাগের 96.5% রয়েছে মহাসাগরে।
- অবশিষ্ট জল নদী, হ্রদ, অন্যান্য ছোট জলাশয়, ভূগর্ভস্থ জলাশয়, বরফের ছিদ্র এবং হিমবাহ, বায়ুমণ্ডলীয় জলীয় বাষ্পর মধ্যে পাওয়া যেতে পারে।

উৎস: worldatlas
৮৯২.
আয়তনে প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি -
  1. লালমাই পাহাড়
  2. বরেন্দ্রভূমি
  3. মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: 

• 'মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়' প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ভূ-প্রকৃতির অন্তর্গত।
• উত্তরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র হতে দক্ষিণে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত এ উচ্চভূমি বিস্তৃত। 
• এ অঞ্চলটি টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে গঠিত। 
• আয়তন- ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
• গড় উচ্চতা:  প্রায় ৬-৩০ মিটার। 
• এটি প্লাইস্টোসিনকালের দ্বিতীয় বৃহত্তম উচ্চভূমি। 
• এখানকার মাটি লালচে এবং কঙ্করময় বলে কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়।
• এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আনারস উৎপন্ন হয়। 
• বনজঙ্গলে পরিপূর্ণ এ উচ্চভূমি গজারি বৃক্ষের বনভূমি হিসেবেও পরিচিত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৮৯৩.
ইউরোপের রুগ্ন মানুষ বলা হয় কোন দেশ কে?
  1. সাইপ্রাস
  2. তুর্কিয়ে
  3. রোমানিয়া
  4. বেলারুশ
ব্যাখ্যা
ইউরোপের রুগ্ন মানুষ:
- অষ্টাদশ শতক নাগাদ তুর্কিয়ে সামরিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি সব দিক থেকেই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। 
- তাছাড়া এই সময় থেকে অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতেও তুরস্ক ব্যর্থ হতে থাকে। 
- এইসব দুর্বলতার জন্যই ব্যঙ্গ করে তুর্কিয়েকে 'ইউরোপের রুগ্ন 'মানুষ' বলা হত।
এছাড়া,
বেলারুশকে সাদা রাশিয়া বলা  হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৮৯৪.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা কোনটি?
  1. রামু
  2. থানচি
  3. শিবগঞ্জ
  4. টেকনাফ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী স্থান:
সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকাষা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৮৯৫.
বাংলাদেশের গভীরতম নদী কোনটি?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) মেঘনা
  3. গ) পদ্মা
  4. ঘ) ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:

- বাংলাদেশের গভীরতম নদী মেঘনা।
- মেঘনা নদীকে চিরযৌবনা নদী বলা হয়।
- কারন, মেঘনা নদীতে সব সময় জোয়ার-ভাটা বহমান থাকে।
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নদী ও প্রশস্ততম নদী। চাঁদপুরের পর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনার মিলিত ধারার নাম মেঘনা।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় মেঘনা বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনার শাখা নদী হলো তিতাস ও ডাকাতিয়া ।

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৬.
নীলগিরি-নীলাচল কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. বান্দরবান
  3. রাঙামাটি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
- নীলগিরি ও নীলাচল বান্দরবানে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ এখানকার প্রধান আকর্ষণ।
- এই হ্রদের চারদিকে সবুজ ঘেরা পাহাড়, নীলাভ পানি এবং হ্রদের ধারে ছোট ছোট টিলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য পর্যটকদের কাছে অনাবিল আনন্দ উপভোগের এক মোহনীয় স্থানে রূপান্তরিত করেছে।
- এখানে বৌদ্ধ বিহার ও চাকমা রাজার রাজবাড়ি অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
- খাগড়াছড়ির বনভূমি, পাহাড় ও প্রাকৃতিক ঝরনা।
- বান্দরবানের মেঘলা, শৈলপ্রপাত, নীলগিরি ও নীলাচল ইত্যাদি পর্যটন স্পট অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৮৯৭.
ডাকাতিয়া কোন নদীর উপ নদী?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. যমুনা
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:

- মেঘনা নদীকে চিরযৌবনা নদী বলা হয় কারন, মেঘনা নদীতে সব সময় জোয়ার-ভাটা বহমান থাকে।
- মেঘনা নদী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ নদী ও প্রশস্ততম নদী।
- চাঁদপুরের পর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনার মিলিত ধারার নাম মেঘনা।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় মেঘনা বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনার উপ নদী হলো তিতাস ও ডাকাতিয়া।

তথ্যসূত্র - মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।
৮৯৮.
চা চাষের জন্য বার্ষিক কত সেন্টিমিটার এর অধিক বৃষ্টিপাত আবশ্যক?
  1. ২০০ সেন্টিমিটার
  2. ২৫০ সেন্টিমিটার
  3. ২৮০ সেন্টিমিটার
  4. ৩০০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা
চা চাষ:

- চা চাষের জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু বিশেষ উপযোগী।
- সাধারণত যেসব স্থানে ২৬০-২৮° সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে সেসব স্থান চা চাষের উপযুক্ত।
- গাছের বৃদ্ধিকালীন সময়ে ২০° সেলসিয়াস এর অধিক তাপমাত্রা প্রয়োজন।
- চা চাষের জন্য বার্ষিক ২০০ সেন্টিমিটার এর অধিক বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের আর্দ্রতা ৭০-৯০% আবশ্যক।
- অতিবৃষ্টি এবং অনাবৃষ্টি বা খরা কোনোটিই চা গাছের জন্য উপযুক্ত নয়।
- চা গাছের জন্য যেমন প্রচুর পানি প্রয়োজন তেমনি উপযুক্ত নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও থাকতে হয়।

[তবে চা চাষের জন্য ১৭৫ - ২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত আবশ্যক। যেহেতু প্রশ্নে চা চাষের জন্য কত সেন্টিমিটার  অধিক বৃষ্টিপাত প্রয়োজন চাওয়া হয়েছে সে অনুযায়ী ২০০ সেন্টিমিটার উত্তর ঠিক আছে।]

তথ্যসূত্র - ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।[লিঙ্ক]
৮৯৯.
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং ২৩°৫ উত্তর অক্ষরেখার ছেদবিন্দু পড়েছে কোথায়?
  1. ফরিদপুরে
  2. কুমিল্লায়
  3. চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে
  4. লন্ডন শহরে
ব্যাখ্যা
 ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা:
- ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার (২৩°৫ উত্তর অক্ষরেখা) ছেদবিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।

অন্যদিকে,
- কর্কটক্রান্তি এবং ৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার ছেদবিন্দু ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার অবস্থিত।
- এই স্থানেই বঙ্গবন্ধুর নামে নির্মাণ করা হবে দেশের প্রথম মান মন্দির। 
- চারটি উত্তর দক্ষিণ রেখা এবং তিনটি পূর্ব পশ্চিম রেখা, সব মিলিয়ে ১২ জায়গায় ছেদ করেছে।
- ১২টি বিন্দুর ১০টি বিন্দুই পড়েছে সাগরে-মহাসাগরে, সেখানে কেউ যেতে পারে না।
- এর মধ্যে শুধু দুটি ছেদ বিন্দু পড়েছে স্থলভাগে।
- এর একটি পড়েছে সাহারা মরুভূমিতে, সেখানেও কেউ যেতে পারে না।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি, লাইভ এমসিকিউ সাম্প্রতিক সমাচার।
৯০০.
ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের কয়টি জেলার সীমান্ত রয়েছে?
  1. ৩০টি
  2. ৩১টি
  3. ৩২টি
  4. ৩৩টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সীমানা:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
- তিনদিকের মূলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানা রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সাতটি রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলা হয়।
- রাজ্যগুলো হলো: আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল, মনিপুর, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং মিজোরাম।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।