বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা / ৭২ · ৭০১৮০০ / ৭,১৯১

৭০১.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়?
  1. বাগেরহাট
  2. চাঁপাইনবাবগঞ্জ  
  3. চাঁদপুর
  4. ফরিদপুর 
ব্যাখ্যা

-  চাঁপাইনবাবগঞ্জ সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আর্সেনিক (Arsenic):
- আর্সেনিক দূষণ একটি Global Problem.
- তাইওয়ানে প্রথম শনাক্তকরণ হয়।
- পৃথিবীর সকল মহাদেশের ৫০ টির মতো দেশে ভূগর্ভস্থ বা ভূউপরিস্থ পানিতে উচ্চমাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চাঁপাই নবাবগঞ্জ উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে, পানিতে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ০.০১ পিপিএম আর্সেনিকের মাত্রা গ্রহণযোগ্য। 
- তবে যখন কোন এলাকার পানিতে ০.০১ পিপিএম এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আর্সেনিক থাকে তখন সেই এলাকার পানিকে আর্সেনিক দূষণযুক্ত বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আর্সেনিক দূষণের মাত্রা বেশি।
- এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এ দূষণের মাত্রা কম।
- সর্বোচ্চ দূষণযুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর (৯০%), মুন্সিগঞ্জ (৮৩%), গোপালগঞ্জ (৭৯%), মাদারীপুর (৬৯%), নোয়াখালী (৬৯%), সাতক্ষীরা (৬৭%), কুমিল্লা (৬৫%), ফরিদপুর (৬৫%), শরিয়তপুর (৬৫%), মেহেরপুর (৬০%) ও বাগেরহাট (৬০%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭০২.
সুমাত্রা দ্বীপ কোন দেশের অংশ?
  1. ক) মালয়েশিয়া
  2. খ) ইন্দোনেশিয়া
  3. গ) দক্ষিণ কোরিয়া
  4. ঘ) জাপান
ব্যাখ্যা
সুমাত্রা ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত একটি দ্বীপ। যার আয়তন ১৮৪,৯৫৪ বর্গ মাইল। এককভাবে ইন্দোনেশিয়ার দ্বীপ হিসেবে সুমাত্রা বৃহত্তম (এ অঞ্চলে নিউগিনি আর বোর্নিও সুমাত্রার চেয়ে বড় হলেও এসব দ্বীপে অন্য দেশের অংশ রয়েছে)।
[সূত্রঃ worldatlas ওয়েবসাইট]
৭০৩.
কোন দেশটি ককেশাস অঞ্চলে অবস্থিত নয়?
  1. জর্জিয়া
  2. আর্মেনিয়া
  3. আজারবাইজান
  4. আলজেরিয়া
ব্যাখ্যা
• পশ্চিম এশিয়ার দেশ:
→ পশ্চিম এশিয়া এশিয়ার একটি উপ-অঞ্চল যা মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার পশ্চিমে, পূর্ব ইউরোপের দক্ষিণে, দক্ষিণ ইউরোপের পূর্বে এবং আফ্রিকার উত্তরে অবস্থিত।
→ পশ্চিম এশিয়ায় ১৮টি দেশ রয়েছে।
→ আরব এবং তুর্কি পশ্চিম এশিয়ার দুটি বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী।
→ পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দেশ তুরস্ক। 
→ সবচেয়ে কম জনবহুল সাইপ্রাস।
→ পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে উত্তরের অঞ্চল হল ককেশাস, যেখানে বর্তমান জর্জিয়া, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান অবস্থিত।
→ ককেশাসের দক্ষিণ-পশ্চিমে হচ্ছে আনাতোলিয়া, যা এশিয়া মাইনর নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৭০৪.
রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা কোনটি?
  1. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
  2. নাটোর
  3. সিরাজগঞ্জ
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা
• সীমান্তবর্তী জেলা:
→ চট্টগ্রাম বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- চট্ট্রগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি।
→ খুলনা বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া।
→ রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও জয়পুরহাট।
→ রংপুর বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম।
→ ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।
→ সিলেট বিভাগের সবগুলো জেলাই সীমান্ত সংলগ্ন। জেলাগুলো হলো- সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭০৫.
মানুষের শ্রবণ যন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা কত?
  1. ক) ১-৭৫ ডেসিবল
  2. খ) ৭৫-১০০ ডেসিবল
  3. গ) ১০০-১৩০ ডেসিবল
  4. ঘ) ১৩০-১৫০ ডেসিবল
ব্যাখ্যা
• শব্দ দূষণ (Sound Pollution):
- শব্দ দূষণ অনুযায়ী আমাদের শ্রবণযন্ত্রের স্বাভাবিক ধারণ ক্ষমতা ১-৭৫ ডেসিবল এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। উক্ত মাত্রার উপরের শব্দ মানুষের জন্য ক্ষতিকর।
- সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, মানুষের স্বাভাবিক শ্রবণ ক্ষমতায় ঊর্ধ্বে সৃষ্ট যে কোনো শব্দ যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায় তাই হলো শব্দ দূষণ।

 
  তথ্যসূত্র: ভূগোল (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৬.
কোন জেলায় রেলপথ নেই?
  1. ক) টাংগাইল
  2. খ) মাদারিপুর
  3. গ) হবিগঞ্জ
  4. ঘ) ভৈরববাজার
ব্যাখ্যা
খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, বরিশাল, পটুয়াখালী, মাদারিপুর, শরীয়তপুর, মেহেরপুর, কক্সবাজার ও লক্ষ্মীপুর অঞ্চলে কোনাে রেলপথ নেই। (রেফারেন্স- বাংলাপিডিয়া)
৭০৭.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জায়গা-
  1. ক) ভোলাহাট
  2. খ) শিবগঞ্জ
  3. গ) জকিগঞ্জ
  4. ঘ) মনাকশা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকশা।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

উৎসঃ সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।
৭০৮.
ব্রহ্মপদ নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়ে কোন জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে?
  1. ক) চাপাইনবাবগঞ্জ
  2. খ) কুড়িগ্রাম
  3. গ) রংপুর
  4. ঘ) দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra)
⇨ ব্রহ্মপদ নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে। এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।    
⇨ এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
⇨ বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
⇨ ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
⇨ আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা। 

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭০৯.
বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ মোট আয়তনের কত শতাংশ? [জুন, ২০২৫]
  1. ১৩.৩৮%
  2. ১৫.৩৮%
  3. ১৩.৫৮%
  4. ১৫.৫৮%
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বনজ সম্পদ:
- বনভূমি থেকে যে সকল সম্পদ পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ প্রায় ২৩ লক্ষ হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের প্রায় ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রত বনভূমির পামিাণ প্রায় ১৬ লক্ষ হেক্টর যা দেশের আয়তনের প্রায় ১০.৭৪।
- বাংলাদেশের বৃক্ষ আচ্ছাদিত ভূমির পারিমাণ দেশের মোট আয়তনের ২২.৩৭%।
- ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের বনাঞ্চল রয়েছে।
- যেমন: পাহাড়ী বন, প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বন, সৃজিত উপকূলীয় বন, শালবন, জলাভূমির বন ইত্যাদি।

উৎস: i) বন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট। [link]
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭১০.
বুড়িমারী স্থলবন্দর কোন উপজেলায় অবস্থিত?
  1. ক) হাতিবান্ধা
  2. খ) পাটগ্রাম
  3. গ) চিলমারী
  4. ঘ) ভূরুঙ্গামারী
ব্যাখ্যা
• পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বুড়িমারী সীমান্তে এ স্থল বন্দর অবস্থিত।
• ভারত, ভূটান এবং নেপালের সঙ্গে স্থলপথে মালামাল আমদানী ও রপ্তানির সুবিধার্থে বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ বন্দরটি চালু করা হয় ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে।

সূত্র: লালমনিরহাট জেলা
৭১১.
বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য কয়টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে?
  1. ১০টি
  2. ৭টি
  3. ৫টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

- বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে ।

• বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- যথা- বন্যা, ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি হয়েছে।
- সেই তালিকায় ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

এছাড়াও,
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
- জাতিসংঘ তার সতর্কীকরণে বলেছে পরবর্তী ৫০ বছরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ ফুট বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অংশ প্লাবিত হবে এবং দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। ’আনুমানিক ৩ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে। উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে ঘন ঘন বন্যা, ঝড়, অনাবৃষ্টি, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ঝুঁকি বাড়বে।

- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই এশিয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা যাবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
- ইন্টারগভার্মেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেন্ট চেঞ্জ (আইপিসিসি) এর তথ্যানুযায়ী, ২০৩০ সালের পর এদেশের নদীর প্রবাহ অনেক কমে যাবে

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭১২.
প্রথমবার 'দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়' নামকরণ করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৮২ সালে
  2. খ) ১৯৮৮ সালে
  3. গ) ১৯৯৪ সালে
  4. ঘ) ২০০৪ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তি সময়ে ১৯৭২ সালে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় নামে দুটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।
- ১৯৮২ সালে দুটি মন্ত্রণালয় একীভূত হয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে খাদ্য বিভাগ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ নামে দুটি বিভাগ হয়।
- ১৯৮৮ সালে পুনরায় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগকে ত্রাণ মন্ত্রণালয় নামকরণ করা হয়।
- ১৯৯৪ সালে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নাম হয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
- ২০০৪ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়কে একীভূত করে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় করা হয়।
- ২০০৯ সালে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য বিভাগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ গঠন করা হয়।
- ২০১২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ  বিভাগকে পুনরায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় হিসেবে রূপান্তর করা হয়।
 
উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
৭১৩.
ইন্দোচীন অঞ্চলের দেশ নয় -
  1. ক) লাওস
  2. খ) কম্বোডিয়া
  3. গ) ভিয়েতনাম
  4. ঘ) ইরাক
ব্যাখ্যা
- ইন্দোচীন হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি অঞ্চল।
- ইন্দোচীন একটি ভৌগোলিক শব্দ যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে জনপ্রিয় ছিল।
- এই মহাদেশীয় অঞ্চলটি বর্তমানে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া হিসাবে অধিক পরিচিত।
- এই অঞ্চল ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়া দেশ নিয়ে গঠিত। 
- এই অঞ্চলগুলিতে ভারত ও চীন সভ্যতার প্রভাব আছে।

অন্যদিকে,
- ইরাক মধ্যপ্রাচ্যের দেশ।

উৎস: world atlas.
৭১৪.
ইয়াংসিকিয়াং নদীর দৈর্ঘ্য কত?
  1. ৬৩৮০কিলোমিটার
  2. ৬২৭৫ কিলোমিটার
  3. ৬২৩০ কিলোমিটার
  4. ৬৫৩০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

ইয়াংসিকিয়াং এশিয়ার দীর্ঘতম নদী। এর দৈর্ঘ্য ৬৩৮০ কিলোমিটার।
- এটি তিব্বতের মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয় পূর্ব চীন সাগরে পতিত হয়েছে।
উৎসঃ মাধ্যমিক ভূগোল বই।

ব্রিটানিকার তথ্য মতে, ইয়াংসিকিং নদী - ৬৩০০ কি.মি বা ৩৯১৫ মাইল দীর্ঘ।

৭১৫.
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা ও লবনাক্ততা 
  2. বন্যা ও উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস
  3. লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাস
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

জলবায়ু পরিবর্তন ও মৎস্যখাত:
- জলবায়ু পরিবর্তন মৎস্যখাতে স্থানীয়ভাবে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
- বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রধান কারণ:
• তাপমাত্রা বৃদ্ধি,
• বন্যা,
• লবনাক্ততা।
∗ তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে:
• মাছের প্রজনন ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
• ডিম ফোটা ও লার্ভা বিকাশে সমস্যা হয়।
• পানিতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়।
• এবং হ্যাচারিতে pH এর ওঠানামা রোগ সৃষ্টি করে। 

∗ অনিয়মিত বৃষ্টি ও খরার কারণে নদীর পানির গভীরতা কমে যায়।
- মাছের আবাসস্থল সংকুচিত হয় এবং বন্যা ও খরা পোনা ধুয়ে নিয়ে যায়।
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কিছু প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে, নতুন প্রজাতি আসছে এবং মাছের প্রাকৃতিক মাইগ্রেশন পথ পরিবর্তিত হচ্ছে।
- হঠাৎ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় পোনা ও খামার ধ্বংস করে, যা অর্থনৈতিক ক্ষতি বৃদ্ধি করে।

∗ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নদীতে মা মাছের ডিম কমে যায়, লবণাক্ততা বেড়ে যায়।
- ফলে পানির স্তর ও গুণমান হ্রাস পায় যা প্রজনন ক্ষেত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ুর কারণে পানির গুণগত মান পরিবর্তিত হয়।
- প্ল্যাঙ্কটন উৎপাদন কমে যায়।
- অ্যাসিডিটি বৃদ্ধি পায়।
- এবং পলি জমাট বাঁধার কারণে মাছের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ফলে মাছের উৎপাদন হ্রাস পায়, মৎস্যজীবীর আয় কমে যায় এবং স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।
- এই প্রভাব মোকাবেলায় জলবায়ু-সহনশীল মৎস্যচাষ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য, যার জন্য গবেষণা ও বিনিয়োগ প্রয়োজন।

উৎস:
১.বাণিজ্যিক ভূগোল, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. প্রথম আলো।

৭১৬.
কোন অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়কে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়?
  1. ভূমধ্যসাগর
  2. আর্কটিক সাগর
  3. উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর
  4. বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:
- সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়।

• হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

• টাইফুন:
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

• সাইক্লোন:
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।
- এ ছাড়াও, দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
- আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট।
৭১৭.
পানি দূষণ রোধের উপায় কোনটি?
  1. শিল্প-কারখানার পানি পরিশোধন
  2. পরিমিত সার ব্যবহার
  3. বর্জ্য সরাসরি পানিতে না ফেলা
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায় (Ways to Control Water Pollution):
- পানি দূষণ জীবজগতের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ। তাই পানি যেন দূষিত না হয় সেদিকে সচেতন থাকতে হবে এবং দূষিত পানিকে নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
গ্রহণ করতে হবে।

নিম্নে পানি দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলো তুলে ধরা হলো।
১. নদী, খাল, বিল, পুকুর, হ্রদসহ বিভিন্ন জলাশয়ের পানিতে সরাসরি আবর্জনা না ফেলা।
২. শিল্প-কারখানার পানি শোধন করে জলাশয়ে স্থানান্তর করা।
৩. পয়:নিষ্কাশনের নালা জলাশয়ে সরাসরি সংযুক্ত না করে পরিশোধন করা।
৪. কৃষিক্ষেত্রে পরিমিত মাত্রায় সার এবং কীটনাশক ব্যবহার করা।
৫. জীবজন্তুর মৃতদেহ পানিতে না ফেলা।
৬. রোগাক্রান্ত ব্যক্তির কাপড়-চোপড় জীবাণুনাশক ব্যবহার করে ধৌত করা।
৭. তেলবাহী জাহাজ যাতে দুর্ঘটনা কবলিত না হয় সেদিকে সতর্ক থাকা।
৮. কল-কারখানা স্থাপনের পূর্বে বর্জ্য পরিশোধন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
৯. পারমানবিক বর্জ্য সরাসরি পানিতে না ফেলা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭১৮.
মাউন্ট ভিনসন কোন মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ?
  1. উত্তর আমেরিকা 
  2. ইউরোপ 
  3. অ্যান্টার্কটিকা
  4. ওশেনিয়া 
ব্যাখ্যা
মাউন্ট ভিনসন:
- মাউন্ট ভিনসন হল অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। 
- এটি এলসওয়ার্থ পর্বতমালার সেন্টিনেল রেঞ্জের প্রধান শৃঙ্গের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত।
- কাছাকাছি আরও পাঁচটি উঁচু পর্বতের সাথে, মাউন্ট ভিনসন অ্যান্টার্কটিকার একটি বৃহৎ পর্বতমালার অংশ গঠন করে, যা ভিনসন ম্যাসিফ নামে পরিচিত।
- এই ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১৩ কিলোমিটার প্রশস্ত পর্বতমালাটি রোন আইস শেল্ফকে উপেক্ষা করে এবং দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

উৎস: World Atlas.
৭১৯.
বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কোথায়?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) চট্টগ্রাম
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) ঢাকা
ব্যাখ্যা

- বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত।
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর।
- এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত।
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার।

উৎস: parjatan.gov.bd

৭২০.
কোন নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. ক) সাঙ্গু
  2. খ) হালদা
  3. গ) মেঘনা
  4. ঘ) ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করা হয়েছে। 
- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।

উৎস: মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৭২১.
বঙ্গোপসাগর কোন মহাসাগরের অবস্থিত?
  1. উত্তর মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের অংশ। অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের উত্তরের সম্প্রসারিত বাহু।
- পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ উপসাগরটি পশ্চিমে ভারত ও শ্রীলংকার পূর্ব উপকূল, উত্তরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীপ্রণালী সৃষ্ট বদ্বীপ এবং পূর্বে মায়ানমার উপদ্বীপ থেকে আন্দামান-নিকোবর শৈলশিরা পর্যন্ত বিস্তৃত ভূভাগ দ্বারা বঙ্গোপসাগর তিনদিকে আবদ্ধ।
- সর্বমোট প্রায় ২২ লক্ষ বর্গ কিমি আয়তনের বিশাল এলাকা জুড়ে বঙ্গোপসাগর বিস্তৃত।
- এর গড় গভীরতা প্রায় ২,৬০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৫,২৫৮ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের সর্বউত্তর প্রান্তে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের একটি গিরিখাত সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড।

তথ্যসূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
৭২২.
'হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন' নিচের কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) বায়ু দূষণরোধ
  2. খ) ওজন স্তর
  3. গ) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধি
  4. ঘ) দুর্যোগ প্রশমন
ব্যাখ্যা
হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন:
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দুর্যোগ প্রশমনের ওপর ২০০৫ সালের জানুয়ারি মাসে, জাপানের কোবে নগরীতে ১৬৮টি দেশের সরকারের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশ্বে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ও দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমাতে অধিকতর সামর্থ ও সক্ষম করার লক্ষ্যে একটি বিশ্ব সম্মেলনের আয়োজন করে যা ‘হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর একশন' নামে পরিচিত।
- মূলত দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এটি আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত স্বয়ংসম্পূর্ণ মানদন্ড হিসেবে বিবেচিত।
 
• প্রত্যাশিত ফলাফল এবং কৌশলগত লক্ষ্যকে সামনে রেখে হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক-এ নিম্নবর্ণিত পাঁচটি অগ্রাধিকারকে বিবেচনায় নেয়া হয়;
১। বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসকে জাতীয় ও স্থানীয় অগ্রাধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা;
২। দুর্যোগ ঝুঁকিসমূহ চিহ্নিত, পর্যালোচনা এবং পরিবীক্ষণ এবং আগাম সতর্ক বার্তাকে শক্তিশালী করা;
৩। জ্ঞান, উদ্ভাবন ও শিক্ষার মাধ্যমে দুর্যোগসহিষ্ণু ও নিরাপদ সংস্কৃতি গড়ে তোলা;
৪ । ঝুঁকির অন্তর্নিহিত উপাদান গুলোকে কমিয়ে আনা এবং
৫ ৷ সকল স্তরে কার্যকর সাড়া প্রদানের লক্ষ্যে দুর্যোগ প্রস্তুতিকে শক্তিশালী করা।

সূত্র: জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০১৫।
৭২৩.
কয়লা উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম-
  1. ক) যুক্তরাষ্ট্র
  2. খ) ভারত
  3. গ) অস্ত্রেলিয়া
  4. ঘ) চীন
ব্যাখ্যা
- কয়লা উৎপাদনে বিশ্বে প্রথম চীন। 
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ইন্দোনেশিয়া, তৃতীয় অবস্থানে আছে ভারত।
 
উৎস : স্ট্যাটিস্টা ওয়েবসাইট 
৭২৪.
মেঘালয়ের রাজধানী কোনটি?
  1. ক) শীলং
  2. খ) আইজল
  3. গ) কোহিমা
  4. ঘ) ইম্ফল
ব্যাখ্যা
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের স্বাধীনতাকামী সাতটি রাজ্য একত্রে সেভেন সিস্টারস হিসেবে পরিচিত। রাজ্যগুলাে হলাে—আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল, মনিপুর, মেঘালয় ও মিজোরাম। ৭টি রাজ্যের আয়তন ইন্ডিয়ার মােট আয়তনের ৭ শতাংশ।
ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যসমূহ ও রাজধানীঃ
১. আসাম -- দিসপুর
২. মিজোরাম -- আইজল
৩. অরুনাচল -- ইটানগর
৪. মেঘালয় -- শীলং
৫. ত্রিপুরা -- আগরতলা
৬. মণিপুর -- ইম্ফল এবং
৭. নাগাল্যান্ড -- কোহিমা
উৎসঃ Live MCQ Content (upcoming)
৭২৫.
কোন নদীর উপর ফারাক্কা বাঁধ তৈরি করা হয়েছে?
  1. মেঘনা 
  2. যমুনা 
  3. পদ্মা
  4. গঙ্গা 
ব্যাখ্যা

ফারাক্কা বাঁধ:
ফারাক্কা বাঁধ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যবর্তী গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত একটি ব্যারেজ
• বাঁধটি বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ১৬.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
• এটি ১৯৭৫ সালে চালু হয়।

উল্লেখ্য, 
- এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল গঙ্গার পানি ফিডার ক্যানালের মাধ্যমে হুগলি নদীতে প্রবাহিত করে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখা। 
- ১৯৬১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্প ১৯৭১ সালে সম্পন্ন হয় এবং এর সঙ্গে একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেচ সুবিধাও যুক্ত রয়েছে।
- তবে বাঁধটি চালুর পর থেকেই বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ শুষ্ক মৌসুমে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়;
- যার ফলে নদীর নাব্যতা কমে, পলি জমে, কৃষি ও মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- এবং এর ফলে পরিবেশগত ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। 
- পানির সংকট ও জীবিকা ক্ষতির কারণে সামাজিক-অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি পায়।
- অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়া হলে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
- এসব কারণে পানি বণ্টন নিয়ে ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক বিরোধ চলমান।
- যা আংশিকভাবে নিরসনের জন্য উভয় দেশ ১৯৯৬ সালে ৩০ বছরের ফারাক্কা পানি চুক্তি স্বাক্ষর করে। 
- এই চুক্তিটি ২০২৬ সালে শেষ হবে।

উৎস:
BBC Official Website;
প্রথম আলো।

৭২৬.
মরা কটাল কখন হয়?
  1. পঞ্চমীতে
  2. অষ্টমীতে
  3. নবমীতে
  4. একাদশীতে
ব্যাখ্যা

• মরা কটাল (Neap Tide):
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য সমান্তরাল না থেকে উভয়ই পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তখন চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাটা হয়।
- সূর্যের আকর্ষণের কারণে চন্দ্রের দিকে পানি অধিক স্ফীত হতে পারে না।
- এই ধরনের জোয়ারকে মরা জোয়ার বা মরা কটাল (Neap Tide) বলে। 
- অষ্টমী ও একবিংশ তিথিতে জোয়ার-ভাটার মরা কটাল হয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭২৭.
‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ কোথায় অবস্থিত?
  1. সিলেট
  2. রাজশাহী
  3. বান্দরবান
  4. বরগুনা
ব্যাখ্যা

• ‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ :
- বরগুনার তালতলী উপজেলা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকত পর্যন্ত বিস্তৃত এই বন।
- বন বিভাগের খাতায় ‘টেংরাগিরি বনাঞ্চল’ হলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘ফাতরার বন’ নামে পরিচিত।
- ১৯৬৭ সালে এই নামকরণ করা হয়।
- তখনকার হিসাব অনুযায়ী, বরগুনার বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেঁষে চোখজুড়ানো এই বনের আয়তন ১৩ হাজার ৬৪৪ একর।
- ১৯২৭ সালের জরিপ অনুযায়ী, ১৯৬০ সালের ১২ জুলাই তৎকালীন সরকার এটিকে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ঘোষণা করে।
- লবণাক্ত ও মিষ্টি মাটির অপূর্ব মিশ্রণের কারণে এই বনে গেওয়া, জাম, ধুন্দল, কেওড়া, সুন্দরী, বাইন, করমচা, বলই কেওয়া, গরানগাছের - সমারোহ। এখানে বসত গড়েছে হাজারো প্রজাতির প্রাণী।
- অনাবিল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে সোনাকাটা ইকোপার্ক পর্যটনকেন্দ্র।
- কিন্তু একের পর এক গাছের মৃত্যু প্রকৃতি ও মানুষের এসব আয়োজনকে ভন্ডুল করতে বসেছে।

উৎস: প্রথম আলো এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭২৮.
ভূ-অভ্যন্তরের কোন স্তর 'শিলামণ্ডল' নামে পরিচিত?
  1. অশ্মমণ্ডল
  2. গুরুমণ্ডল 
  3. কেন্দ্রমণ্ডল
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• ভূ-অভ্যন্তরের স্তরসমূহ (Layers of Earth's Interior): 
- বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ভূতত্ত্ববিদগণ ভূ-অভ্যন্তরকে তিনটি প্রধান স্তরে বিভক্ত করেছেন।এ স্তরগুলো হল
(১) অশ্মমণ্ডল, 
(২) গুরুমণ্ডল এবং
(৩) কেন্দ্রমণ্ডল।

• অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক: 
- পৃথিবীর ওপরের কঠিন ও পাতলা শিলাস্তরকে অশ্মমণ্ডল বা ভুত্বক বলে।
- 'অশ্ব' অর্থ শিলা তাই একে 'শিলামণ্ডল'ও বলা হয়।
- এর গভীরতা সর্বত্র সমান নয়। 
- এর গভীরতা ৩ কিলোমিটার (সমুদ্র তলদেশ) হতে ৪০ কিলোমিটার (পর্বতের তলদেশে)।
- তবে গড় গভীরতা প্রায় ১৭কিলোমিটার। এই স্তরের আপেক্ষিক গুরুত্ব ২ থেকে ৩ (অর্থাৎ পানির চেয়ে ২/৩ গুণ ভারি)।
- এ স্তরটি ওপরে থাকায় অন্যস্তর দুটির তুলনায় এর তাপমাত্রা খুবই কম।
- তবে অশ্মমণ্ডলের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে জানা যায় অশ্মমণ্ডল দুটি স্তরে বিভক্ত।
- ওপরের হালকা শিলা স্তরটিকে সিয়াল স্তর এবং নিচের ভারি শিলা স্তরটিকে সিমা স্তর বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী।

৭২৯.
কখন সমুদ্রবায়ু প্রবল বেগে প্রবাহিত হয়?
  1. ক) রাত্রিতে
  2. খ) মধ্যাহ্নে
  3. গ) অপরাহ্ণে
  4. ঘ) সকালে
ব্যাখ্যা

- দিনের বেলায় স্থলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় বলে সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, কিন্তু জলভাগ বেশি উত্তপ্ত হয় না বলে সেখানকার বায়ু উচ্চচাপ যুক্ত হয়। ফলে এ সময় জলভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে বায়ু প্রবাহিত হয়। একে সমুদ্রবায়ু বলে।
- এ বায়ু সকাল ১০টা থেকে প্রবাহিত হতে থাকে।
- বিকালে (অপরাহ্ণে) এ বায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়।
- রাত ৩টায় স্থলবায়ুর বেগ সবচেয়ে বেশি হয়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৩০.
বান্দরবান জেলার পাহাড়গুলো কোন ধরনের পাহাড়ের অন্তর্গত?
  1. ক) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  2. খ) প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  3. গ) সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ :

- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের। 
- পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কদম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৩১.
বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র স্থাপিত হয়-
  1. ক) জালালাবাদে
  2. খ) বেতবুনিয়ায়
  3. গ) তালিবাবাদে
  4. ঘ) মহাখালীতে
ব্যাখ্যা

• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথা-
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী
- সিলেট
- বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
- এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

উৎস: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।

৭৩২.
UNDRR এর পূর্ণরূপ-
  1. United Nations Office for Disaster Risk Reduction
  2. United Nations Division for Relief and Rehabilitation
  3. United Nations Disaster Risk Reduction Agency
  4. United Nations Department of Relief and Rehabilitation
ব্যাখ্যা

• UNDRR:
- পূর্ণরূপ: United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR).
- প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।
- এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় কর্মকৌশল বাস্তবায়ন।
- এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।

উৎস: UNDRR'র ওয়েবসাইট।

৭৩৩.
বাংলাদেশের জলসীমা বা উপকূলীয় সীমানা কত কি.মি.?
  1. ৬১০ কি.মি.
  2. ৬৭৮ কি.মি.
  3. ৭০৪ কি.মি.
  4. ৭১৬ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য:
- সর্বমোট সীমারেখা- ৪,৭১১ কি.মি. [BGB'র তথ্য মতে ৫,১৩৮ কি.মি.]
-  স্থলসীমা- ভারত-বাংলাদেশ ৩,৭১৫ কি.মি. ও মায়ানমার-বাংলাদেশ ২৮০ কি.মি. [BGB: ৪,১৫৬ কি.মি. ও ২৭১ কি.মি.]
- জলসীমা বা উপকূলীয় সীমানা- ৭১৬ কি.মি. [BGB: ৭১১ কি.মি.]
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭৩৪.
বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়-
  1. ক) চট্টগ্রামে
  2. খ) হবিগঞ্জে
  3. গ) কুমিল্লায়
  4. ঘ) সিলেটে
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের দুটি খনিজ তৈল ক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রথম খনিজ তেলক্ষেত্রটি হরিপুর তেলক্ষেত্র।
- এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৬ সালে সিলেটের হরিপুরে।
- ১৯৮৭ সালে তেলক্ষেত্রটি থেকে তেল উৎপাদন শুরু হয়।
- ১৯৯৪ সাল থেকে তেল উৎপাদনে স্থগিত হয়ে যায়।

উৎস: সিলেট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট।

৭৩৫.
পৃথিবীতে চাপ বলয়ের সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৫টি
  2. খ) ৬টি
  3. গ) ৭টি
  4. ঘ) ৮টি
ব্যাখ্যা
পৃথিবীতে মোট চাপ বলয়ের সংখ্যা ৭টি। এর মধ্যে উচ্চচাপ বলয় চারটি এবং নিম্নচাপ বলয় তিনটি।

এগুলো হলো:
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়
- কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়
- মকরীয় উচ্চচাপ বলয়
- উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
- দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

(তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল)
৭৩৬.
তাপমন্ডলের নিস্ন অংশকে বলা হয়-
  1. মেসোবিরতি
  2. স্ট্রাটোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোবিরতি
  4. আয়নমন্ডল
ব্যাখ্যা
• তাপমন্ডল (Thermosphere):
- মেসোবিরতির উপরে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুস্তরকে তাপমন্ডল বা থার্মোস্ফিয়ার বলে। এ মন্ডলে বায়ুস্তর অত্যন্ত হালকা ও চাপ ক্ষীণ।
- তাপমন্ডলের নিস্ন অংশকে বলা হয় আয়নমন্ডল।
• তাপমন্ডলের বৈশিষ্ট্য -
ক) তাপমন্ডলের বায়ু খুব হালকা এবং এখানে তাপের পরিবহনও নগণ্য।
খ) তীব্র সৌর বিকিরনে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনী রশ্মির সংঘাতে এই অংশে বায়ু আয়নযুক্ত হয়। এই জন্য একে
আয়নমন্ডল বা আয়নোস্ফিয়ার বলা হয়।
গ) পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে যে বেতার তরঙ্গ পাঠানো হয় তা এই স্তরের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে
আসে।
ঘ) এই স্তরে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা অত্যন্ত দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৮০° সেলসিয়াসে এসে পৌঁছায়।

উৎস:  উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৩৭.
ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. বসফরাস প্রণালী
  3. পক প্রণালী
  4. বেরিং প্রণালী
ব্যাখ্যা

পক প্রণালী:
- পক প্রণালী ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্য এবং শ্রীলঙ্কার উত্তর অঞ্চলের জাফনা জেলার মধ্যবর্তী অঞ্চল।
- এটি সংযুক্ত করেছে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগরকে।
- পক প্রণালী পৃথক করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে।
- এই প্রণালীর নাম রবার্ট পকের নামে রাখা হয়, যিনি রাজ আমলে মাদ্রাজের গভর্নর (1755–1763) ছিলেন।

অন্যদিকে,
- জিব্রাল্টার প্রণালী উত্তর আফ্রিকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের সাইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- বসফরাস প্রণালী পৃথক করেছে এশিয়া ও ইউরোপকে আর সংযুক্ত করেছে মরমর সাগর ও কৃষ্ণ সাগর।
- বেরিং প্রণালী সংযুক্ত করেছে বেরিং সাগর ও উত্তর সাগর আর পৃথক করেছে এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে।
- মালাক্কা প্রণালী সংযুক্ত করেছে বঙ্গোপসাগর-জাভা সাগর আর পৃথক করেছে সুমাত্রা-মালয়েশিয়াকে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও হিস্টোরি ডটকম।

৭৩৮.
ভারতের কতটি 'ছিটমহল' বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছ?
  1. ১৬২টি
  2. ৫১টি
  3. ১১১টি
  4. ১০১টি
ব্যাখ্যা

⇔ছিটমহল:
- ছিটমহল এমন এক ধরনের ভূখণ্ড, যা নিজের মূল রাষ্ট্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সম্পূর্ণ অন্য দেশের সীমানার ভিতরে অবস্থান করে।
- ১৯৪৭ সালের ভারত ভাগের ফলে এ ধরনের জটিল ভূখণ্ডের সৃষ্টি হয়।
- পরে দীর্ঘ সময়ের আলোচনার পর ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির মাধ্যমে মোট ১৬২টি ছিটমহল পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করে।
- বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে মোট ১০০৪১.২৫ একর জমি যোগ হয়।
- বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের মোট ১১১টি ছিটমহল ছিল।

উল্লেখ্য, 
- ভারতের ভূখণ্ডের মধ্যে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল অবস্থান করছিল।
- ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থল সীমান্ত চুক্তি কার্যকর হয়। 
- এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ বহুদিনের ছিটমহল সমস্যা সমাধান করে।
- দুই দেশের যৌথ জরিপে দেখা যায়, মোট ১৬২টি ছিটমহলে প্রায় ৫৫ হাজারের মতো মানুষ বাস করত।
- এর মধ্যে বাংলাদেশের ভেতরের ছিটমহলগুলোতে ছিল প্রায় ৪১ হাজার লোক,
- আর ভারতের ভেতরের ছিটমহলগুলোতে ছিল প্রায় ১৪ হাজার মানুষ।
- ১৯৭৪ সালের স্থল সীমান্ত চুক্তি ও ২০১১ সালের প্রটোকলের ধারাবাহিকতায় ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পরে দীর্ঘকাল ধরে চলা সীমান্ত জটিলতার অবসান ঘটে।
- চুক্তি অনুযায়ী ভারতের ছিটমহলগুলো বাংলাদেশের অংশ হয় এবং বাংলাদেশের ছিটমহলগুলো ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। 

উৎস: 
বিবিসি বাংলা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট;
প্রথম আলো;
বাংলাপিডিয়া (৩১ জুলাই ২০১৫)।

৭৩৯.
Which state in northeastern India is surrounded by Bangladesh on three sides?
  1. ক) Mizoram
  2. খ) Tripura
  3. গ) Assam
  4. ঘ) Arunachal Pradesh
ব্যাখ্যা
- Tripura is located in the northeastern part of the Indian subcontinent. 
- It is bordered to the north, west, and south by Bangladesh, to the east by the state of Mizoram, and to the northeast by the state of Assam. It is among the smallest of India’s states and is located in an isolated hilly region of the country. 
- The capital is Agartala, near the Bangladesh border in the northwestern part of the state.
 
Source: Britannica
৭৪০.
ককেশাস অঞ্চলে অবস্থিত নয় কোন দেশটি?
  1. জর্জিয়া
  2. আর্মেনিয়া
  3. আজারবাইজান
  4. এস্তোনিয়া
ব্যাখ্যা
• পশ্চিম এশিয়ার দেশ:
→ আরব এবং তুর্কি পশ্চিম এশিয়ার দুটি বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী।
→ পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দেশ তুরস্ক। 
→ সবচেয়ে কম জনবহুল সাইপ্রাস।
→ পশ্চিম এশিয়ার সবচেয়ে উত্তরের অঞ্চল হল ককেশাস, যেখানে বর্তমান জর্জিয়া, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান অবস্থিত।
→ ককেশাসের দক্ষিণ-পশ্চিমে হচ্ছে আনাতোলিয়া, যা এশিয়া মাইনর নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৭৪১.
ভূ-পৃষ্ঠে তাপের পার্থক্য হয় কী ভেদে?
  1. ভূ-প্রাকৃতিক বিন্যাস ভেদে
  2. অক্ষাংশ ভেদে
  3. বায়ুমন্ডল ভেদে
  4. দ্রাঘিমা ভেদে
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠে তাপের পার্থক্য হয় - অক্ষাংশ ভেদে।

• বায়ুর চাপ ও চাপবলয়:
- বায়ুর নিজের ওজোন রয়েছে।
- বায়ুর এ ওজোনের জন্য যে চাপ তৈরি হয় তাকে বায়ুচাপ বলা হয়।
- বায়ুচাপ সর্বত্র সমান নয়। কারণ ভূ-পৃষ্ঠের একেক অক্ষাংশে একেক ধরনের তাপমাত্রা লক্ষ্য করা যায়।
- বর্তুলাকার পৃথিবী যখন ক্রমাগত ঘুরতে থাকে তখন বায়ুমন্ডলের সবচেয়ে নিচের স্তরে যে চাপমন্ডল সৃষ্টি হয় সেগুলোকে বলা হয় চাপমন্ডল বা চাপবলয়।

- বায়ুর চাপবলয়গুলোকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা- উচ্চচাপ বলয় এবং নিম্নচাপ বলয়।

- যে সকল অঞ্চলে বায়ুর চাপ বেশি সে অঞ্চলকে উচ্চচাপ বলয় এবং যে অঞ্চলে বায়ুর চাপ কম সে অঞ্চলকে নিম্নচাপ বলয় বলে।
- বায়ুর এ চাপ বলয়গুলো পৃথিবীর এক একটি অংশে ভূ-পৃষ্ঠকে বলয়ের ন্যায় পূর্ব-পশ্চিমে আবৃত করে অবস্থান করছে।
- এ ধরনের ৭টি চাপ বলয় রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি নিম্নচাপ বলয় এবং চারটি উচ্চচাপ বলয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪২.
জোয়ার-ভাটার প্রধান কারণ কী?
  1. চাঁদ ও সূর্যের আকর্ষণ
  2. পৃথিবীর বার্ষিক গতি
  3. পৃথিবীর ঘূর্ণন
  4. বায়ুর চাপ
ব্যাখ্যা
জোয়ার-ভাটা:
- চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ শক্তি এবং পৃথিবীর কেন্দ্রাতিক শক্তি প্রভৃতির প্রভাবে সমুদ্রের পানি নির্দিষ্ট সময় অন্তর ফুলে উঠে আবার নেমে যায়।
- সমুদ্রের পানি এভাবে ফুলে উঠাকে বলা হয় জোয়ার (High Tide) এবং নেমে যাওয়াকে ভাটা (Ebb or low Tide) বলে।
- প্রতি ১২ ঘন্টা ২৬ মিনিট পরপর এই জোয়ার ভাঁটা সংঘঠিত হয়।
- অর্থাৎ সমুদ্রে একই জায়গায় প্রতিদিন দু'বার জোয়ার ও দু'বার ভাঁটা হয়।
- সমুদ্রের মোহনা থেকে নদীগুলোর স্রোতের বিপরীতে উজানে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত জোয়ার ভাঁটা বেশি অনুভূত হয়।
- সমুদ্রের মধ্যভাগ থেকে উপকূলের কাছে পানির অগভীর অংশে জোয়ারের পানির উচ্চতা বেশি থাকে।

⇒ জোয়ার ভাঁটার কারণ:
- চন্দ্র ও সূর্যের প্রভাবেই এবং পৃথিবীর আবর্তনের ফলে সৃষ্ট কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাবে জোয়ার ভাঁটা হয়। জোয়ার ভাঁটা সংঘটনের কারণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা -
ক. মহাকর্ষণ শক্তির প্রভাব এবং, 
খ. কেন্দ্রাতিগ শক্তির প্রভাব।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৩.
মূল মধ্যরেখা থেকে ৫° পূর্ব দিকে সরে গেলে সময়ের ব্যবধান কত মিনিট হবে?
  1. ক) ১৬
  2. খ) ২০
  3. গ) ২৪
  4. ঘ) ২৮
ব্যাখ্যা
দ্রাঘিমারেখার নিয়মানুসারে মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে অগ্রসর হলে প্রতি ১° দ্রাঘিমার পার্থক্যের জন্য ৪ মিনিট সময়ের ব্যবধান হয়। সুতরাং, ৫×৪=২০ মিনিট।
৭৪৪.
’অগ্নিকাণ্ড’ কোন প্রকারের দুর্যোগ?
  1. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
  2. মহাকাশীয় দুর্যোগ
  3. মানব সৃষ্ট দুর্যোগ
  4. ভূ-অভ্যন্তরস্থ দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
অগ্নিকাণ্ড বা দাবানল:
- আমাদের দেশে দাবানলের ঘটনা সাধারণত ঘটে না।
- কাজেই আমাদের দেশে অগ্নিকাণ্ডকে ঠিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা যাবে না।
- এখানে দুর্ঘটনা বা মানুষের অসাবধানতাই অগ্নিকাণ্ডের কারণ।
- অগ্নিকাণ্ড এটি মানব সৃষ্ট দুর্যোগ।
- দুর্ঘটনাজনিত অগ্নিকাণ্ড সাধারণত শিল্পকারখানা, তেলশোধনাগার, গার্মেন্টস শিল্প, পাটকল, রাসায়নিক গুদাম বা কারখানা, এমনকি বসতবাড়ি, দোকানপাট, অফিস ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে
ঘটতে দেখা যায়।
- এছাড়াও আমাদের দেশে গ্রাম ও শহরাঞ্চলে জ্বলন্ত চুলা, কুপি, মশার কয়েল, সিগারেটের আগুন, হারিকেন বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট প্রভৃতি থেকেও অসাবধানতাবশত অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, অষ্টম শ্রেণি।
৭৪৫.
নিচের কোনটি অনিয়মিত বায়ু? 
  1. মেরু বায়ু 
  2. ঘূর্ণিবাত বায়ু 
  3. পশ্চিমা বায়ু 
  4. সাময়িক বায়ু 
ব্যাখ্যা

 অনিয়মিত বায়ু:
- কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।
- এই অনিয়মিত বায়ু মূলত দুই প্রকার যথা:
- ঘূর্ণিবাত ও প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

অন্যদিকে,
- নিয়ত বায়ু: নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।
- সাময়িক বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়।
- সাময়িক বায় দুই ধরনের যথা মৌসুমি বায়ু এবং স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচ এসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৪৬.
বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কত?
  1. শতকরা ১ ভাগের বেশি
  2. শতকরা ১ ভাগের কম
  3. শতকরা ৯৯ ভাগ
  4. শতকরা ১০০ ভাগ
ব্যাখ্যা
বায়ুর আর্দ্রতা:

- বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ করা না হলে পানিচক্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হত না।
- বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ করাকে তাই বলা হয় বায়ুর আর্দ্রতা।
- বায়ুমন্ডলে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ শতকরা ১ ভাগেরও কম।
- আর্দ্র বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ প্রায় শতকরা ২ থেকে ৫ ভাগ বেশি থাকে।
- বায়ুর এই আর্দ্রতা হাইগ্রোমিটার দ্বারা পরিমাপ করা যায়।
- বায়ুর আর্দ্রতা মূলত দুই প্রকার। যথা-
• পরম আর্দ্রতা ও
• আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণকে বলা হয় পরম আর্দ্রতা।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা হলো কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাণ আর একই আয়তনের বায়ুতে একই উষ্ণতায় পরিপূক্ত করতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প প্রয়োজন এ দুটির অনুপাত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৪৭.
পৃথিবীর জ্বালানি তেলের কত ভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ১৫%
  4. ২০%
ব্যাখ্যা
হরমুজ প্রণালী:
- পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালী।
- আরব উপদ্বীপ থেকে ইরানকে পৃথক করেছে।
- এই চ্যানেলটি ৩৪ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য দুটো লেন রয়েছে এবং প্রতিটি লেন দুই মাইল প্রশস্ত।
- হরমুজ প্রণালী সংকীর্ণ হতে পারে। কিন্তু জ্বালানী তেল বহনের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাহাজ চলাচল করার জন্য বিখ্যাত হরমুজ প্রণালী।
- পৃথিবীতে যে পরিমাণ জ্বালানী তেল রপ্তানি হয়, তার পাঁচ ভাগের এক ভাগ বা ২০% হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭৪৮.
টারশিয়ারি যুগের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড় কোন জেলার অন্তর্ভুক্ত?
  1. রাজশাহী ও পাবনা
  2. নোয়াখালী ও বরিশাল
  3. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
  4. চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক শ্রেণিবিভাগ:
- অবস্থান, ভূমির গঠন ও ভূ-তাত্ত্বিক সময়কাল অনুসারে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধানত তিনটি বৃহৎ শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শ্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
⇒ টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
১। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

২। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৪৯.
জিআইএস (GIS) কৌশল প্রথম কোথায় ব্যবহার শুরু হয়? 
  1. কানাডা
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. জার্মানি
ব্যাখ্যা

• GIS:
- GIS এর পূর্ণরূপ - Geographic Information System.
- ভৌগোলিক তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে সংক্ষেপে জিআইএস বলে।
- এটি কম্পিউটারের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থা যার মধ্য দিয়ে ভৌগোলিক তথ্যগুলোর সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানিক ও পারিসরিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ, মানচিত্রায়ণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করে থাকে।
- ১৯৬৪ সালে কানাডায় সর্বপ্রথম এই কৌশলের ব্যবহার আরম্ভ হয়।
- ১৯৮০ সালের দিক থেকে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯১ সালে ইসপান (Irrigation Support Project for Asia and the Near East) ফ্লাড অ্যাকশন প্লান-১৯ (ফ্যাপ-১৯) প্রকল্পে সর্বপ্রথম বাংলাদেশে জিআইএস ব্যবহার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি ও ব্রিটানিকা। 

৭৫০.
বাকল্যান্ড বাধ কোন নদীর তীরে তৈরী?
  1. ক) সুরমা
  2. খ) কুশিয়ারা
  3. গ) শীতলক্ষ্যা
  4. ঘ) বুড়িগঙ্গা
ব্যাখ্যা
বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ। ১৮৬৪ সনে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন। নদীর ঘাট পর্যন্ত কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭৫১.
'কোয়ার্টজাইট' কোন ধরনের শিলার উদাহরণ?
  1. স্তরীভূত শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. পাললিক শিলা
ব্যাখ্যা
• রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫২.
ইন্দোচীন অঞ্চলে কোন কোন দেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. ভারত, চীন, নেপাল
  2. ভিয়েতনাম, লাওস, কাম্বোডিয়া
  3. থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া
  4. মায়ানমার, লাওস, চীন
ব্যাখ্যা
ইন্দোচীন:
- ইন্দোচীনের অন্তর্ভুক্ত ভিয়েতনাম, লাওস এবং কম্বোডিয়া। 
- অষ্টাদশ শতকে ফ্রান্স ইন্দোচীন হিসেবে পরিচিত বর্তমান ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বোডিয়ার উপর উপনিবেশিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং এই শাসন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত অব্যাহত রাখে।
- তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপান এই ইন্দোচীন অঞ্চল দখল করে নেয়।
- যুদ্ধের পর ১৯৪৫ সালে ভিয়েতনাম স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
- কিন্তু ফ্রান্স ভিয়েতনামের স্বাধীনতা স্বীকার না করে ১৯৪৬ সালে এটিকে ফরাসি ইউনিয়নের অধীনে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশটির উপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৭৫৩.
'ভিসুভিয়াস' আগ্নেয়গিরি হচ্ছে -
  1. ক) সক্রিয়
  2. খ) সুপ্ত
  3. গ) নিষ্ক্রিয়
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরি:
- যে আগ্নেয়গিরি থেকে মাঝে মাঝে বা সব সময় অগ্নুৎপাত হয় তাকে সক্রিয় বা জীবন্ত আগ্নেয়গিরি বলে।
যেমন:
• ইতালির ভিসুভিয়াস।
• হাওয়াই দ্বীপের মাওনালেয়া ও মাওনাকেয়া।
• কোটোপ্যাক্সি ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৫৪.
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন কত সালে প্রণয়ন হয়?
  1. ১৯৯৬ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৮ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন - ১৯৯৫ সালে প্রণয়ন করা হয়।
-  পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে - পরিবেশ অধিদপ্তর তৈরি হয়।
-  পরিবেশ অধিদপ্তর  প্রধান হবে-  একজন মহাপরিচালক৷
-  এ আইনের মাধ্যমে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী উৎপাদন, বিক্রয় ইত্যাদির উপর বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য উৎপাদন, আমদানি, মওজুদকরণ, বোঝাইকরণ, পরিবহণ, ইত্যাদি সংক্রান্ত বাধা নিষেধ আরোপ করা হয়।
-  জাহাজ কাটা বা ভাঙার কারণে সৃষ্ট দূষণ সংক্রান্ত বাধা-নিষেধ নিষেধ আরোপ করা হয়।

উৎস: Laws of Bangladesh

৭৫৫.
বসফরাস প্রণালী কোন শহরের মধ্য দিয়ে যায়?
  1. আঙ্কারা
  2. ইস্তানবুল
  3. সাফা
  4. বুন্দেস
ব্যাখ্যা

• বসফরাস প্রণালী:
- বসফরাস প্রণালী এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যবর্তী অঞ্চলের একটি অংশের সীমানা নির্দেশ করে।
- এটি তুরস্কের ইস্তানবুল শহরকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটিকে তাই ইস্তাম্বুল প্রণালীও বলা হয়।
- এই প্রণালীটি বিশ্বের নৌ চলাচলের ব্যবহৃত সবচেয়ে সরু জলপথ।
- মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে বসফরাস প্রণালী।
- এই প্রণালী এশিয়া থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৭৫৬.
বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সাধারণত কোথায় ঘটে?
  1. পার্বত্য অঞ্চল 
  2. উত্তরাঞ্চল
  3. সুন্দরবন অঞ্চল
  4. উপকূলীয় অঞ্চল
ব্যাখ্যা

আকস্মিক বন্যা:
- পার্বত্য অঞ্চলে অত্যধিক বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যাকে আকস্মিক বন্যা বলা হয়।
- বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সাধারণত পার্বত্য এলাকায় ঘটে, যেখানে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে দ্রুত পানি জমে যায় এবং উঁচু জায়গা থেকে নিচে নামতে থাকে, ফলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হয়।
- বিশেষ করে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলে এ ধরনের বন্যা প্রায়ই দেখা যায়।
- অধিক বৃষ্টিপাতের দরুন ২০১২ সালে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটে আকস্মিক বন্যায় ১০০ মানুষ নিহত হয় ও প্রায় ২,৫০,০০০ লোক পানিবন্দি হয়ে পড়ে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৫৭.
নিচের কোন দেশ ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. পাকিস্তান
  2. মরক্কো
  3. ইসরাইল
  4. পর্তুগাল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তান ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত দেশ।

ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়। ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০°-৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- পশ্চিম এশিয়ার তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল; দক্ষিণ ইউরোপের পুর্তগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস; ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাস, চিলি, করসিকা, মালটা; আফ্রিকার তিউনেশিয়া, লিবিয়া, মরক্কো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই অঞ্চলের উদাহরণ।

বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল। 
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০° - ২৮° সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে
ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।

উৎস: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৫৮.
বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়েছিল কোথায়?
  1. বাখরাবাদ
  2. হরিপুর
  3. রশিদপুর
  4. তিতাস
ব্যাখ্যা

• প্রাকৃতিক গ্যাস
- বাংলাদেশের খনিজ সম্পদের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি সিলেটের হরিপুর এলাকায় দেশের প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়।

- বর্তমানে দেশে মোট ২৯টি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে।
- বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, যেমন- বিবিয়ানা, তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, রশিদপুর ইত্যাদি।
- এর মধ্যে ভোলার ইলিশা-১ কূপটি দেশের সর্বশেষ (২৯তম) গ্যাসক্ষেত্র।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

উৎস: এস এস সি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়  এবং পেট্রোবাংলা।

৭৫৯.
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে  জলবায়ু পরিবর্তনে বছরে অতিরিক্ত মৃত্যুহার কত হতে পারে?
  1. ২.৫ লক্ষ
  2. ১ লক্ষ
  3. ৫ লক্ষ
  4. ১০ লক্ষ
ব্যাখ্যা

• স্বাস্থ্যখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:
- জলবায়ু পরিবর্তন স্বাস্থ্যখাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
- স্বাস্থ্যসেবা খাতে অবকাঠামোর ক্ষতি এবং চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দুর্বল দেশগুলোতে চাপের মুখে পড়ছে।
- তাপপ্রবাহ, বন্যা ও দাবানলের কারণে হিটস্ট্রোক, কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- খরা ও বন্যায় ফসলহানি, অপুষ্টি, এবং নিরাপদ পানির অভাবে ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগের বিস্তার বাড়ছে।
- তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার পরিবর্তনে মশা (ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া), মাছি ও অন্যান্য রোগবাহকের বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে। 
- বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুমান করছে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অপুষ্টি, ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া ও তাপজনিত কারণে প্রতি বছর প্রায় ২.৫ লক্ষ অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটতে পারে।

উল্লেখ্য, 
- উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে বায়ুদূষণকারী কণারমাত্রা বৃদ্ধি শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- বন্যা ও ঝড়ের কারনে ডুবে যাওয়া, জলবাহিত রোগের বিস্তার (কলেরা) ঘটছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বেগ, হতাশা, PTSD এবং অন্যান্য মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- খাতভিত্তিক প্রভাবে কৃষি ও খাদ্য খাতে ফসলের ফলন হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
- জল ও স্যানিটেশন খাতে নিরাপদ পানির অভাব এবং জলবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। 

উৎস: 
1. World Health Organization Website;
2. The Daily Ittefaq;
3. কালের কন্ঠ।

৭৬০.
বাংলাদেশের কোন নদী প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত?
  1. সাঙ্গু
  2. কর্ণফুলী
  3. হালদা
  4. মাতামুহুরী
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের হালদা নদী প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত। 

প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র: 
- বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হলো হালদা নদী।
- খাগড়াছড়ির বাদনাতলী পর্বতশৃঙ্গে উৎপত্তি লাভ করা হালদা নদী কর্ণফুলী নদীর একটা উপনদী।
- এটি চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত যা মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- এছাড়া সম্প্রতি সরকার হালদা নদীকে বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
- হালদা নদী বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী এবং এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র, যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়।

সূত্র: চট্টগ্রাম জেলা ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট ও প্রথম আলো। 

৭৬১.
চামড়া পাকা করা ও রং তৈরির কাজে কোন বৃক্ষের ছাল ব্যবহার করা হয়? 
  1. গেওয়া
  2. গরান 
  3. সুন্দরি
  4. গোলপাতা 
ব্যাখ্যা

বৃক্ষ:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম জোয়ারধৌত বনভূমি।
- এই অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে গড়ান, গেওয়া, সুন্দরী ও গোলপাতা।

- গড়ান গাছের ছালের কষ চামড়া পাকা করা (tanning) ও রং তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।
- গরান বৃক্ষের ছালের কষ জাল রং করতেও ব্যবহার করা হয়। 
- গড়ানের ছাল থেকে এক ধরনের কালো বা গাঢ় রঙের রঞ্জক পাওয়া যায়, যা চামড়াকে শক্ত ও টেকসই করে তোলে।
- গড়ান একটি ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদ;
- তবে দুঃখজনকভাবে এটি আইইউসিএন-এর তালিকায় বাংলাদেশের বিপন্ন প্রজাতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

অন্যদিকে,
• গেওয়া কাঠ নিউজপ্রিন্ট ও দিয়াশলাই কারখানায় ব্যবহার করা হয়। 
• সুন্দরি বড় বড় খুঁটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।
• গোলপাতা ঘরের ছাউনিতে ব্যবহৃত হয়। 

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর;
২. জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৭৬২.
কোনটি কোরিওলিসের প্রভাবে হয়?
  1. বায়ুর চাপ বৃদ্ধি
  2. বায়ুর গতি প্রবাহের পরিবর্তন
  3. বায়ুর নিরক্ষীয় এলাকার লম্বভাবে পতিত হওয়া
  4. বায়ুর দক্ষিণ গোলার্ধে ডান দিকে বেঁকে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• কোরিওলিস প্রভাব:
- ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ু উত্তর গোলার্ধে ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধে বাম দিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
- বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের এই শক্তিকেই বলা হয় কোরিওলিস প্রভাব/শক্তি।
- গোলার্ধভিত্তিক এই পরিবর্তন কোনো প্রবাহিত চলমান বস্তুর উপর পৃথিবীর ঘূর্ণন বলের প্রভাব বলে অনুমান করা যায়।
- এই দিক পরিবর্তনকারী শক্তি -
১. বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনে প্রভাব ফেলে যা সর্বদা লম্বভাবে ক্রিয়া করে।
২. কোরিওলিস শক্তি বায়ুর গতির উপর কোনো প্রভাব ফেলে না।
৩. কোরিওলিসের প্রভাব মেরুতে সবচেয়ে বেশি এবং বিষুবীয় এলাকায় অস্তিত্ব লোপ পায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭৬৩.
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ক্রমশ উপরের দিকে দিগন্ত রেখা কেমন হয়?
  1. ক) বেড়ে যায়
  2. খ) একই রকম থাকে
  3. গ) কমে যায়
  4. ঘ) সরল রেখায় পরিণত হয়
ব্যাখ্যা
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ক্রমশ উপরের দিকে দিগন্ত রেখা - বেড়ে যায়।

• দিগন্ত রেখা:- 
- পৃথিবীর যে কোনো উন্মুক্ত স্থানে দাড়িয়ে চারিদিকে তাকালে মনে হয়, আকাশ ও ভূ-পৃষ্ঠ একটি বৃত্তাকার রেখায় মিশে গেছে। একে বলে দিগন্তরেখা।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে যতো উপরের দিকে উঠা হয়, দিগন্তরেখার পরিধিও একই হারে বাড়তে থাকে। দিগন্তরেখার আকারও বৃত্তাকার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৪.
বান্দরবানের পাহাড়সমূহ কোন যুগের পাহাড়?
  1. প্লাইস্টোসিন কালের
  2. টারশিয়ারি যুগের
  3. সাম্প্রতিক কালের
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস:
i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭৬৫.
শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. আর্কটিক মহাসাগর
  2. আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. দক্ষিণ মহাসাগর
ব্যাখ্যা

শৈবাল সাগর (Sargasso Sea):
- মহাসাগরের মাঝখানে বিভিন্ন স্রোত মিলিত হয়ে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একটি ঘূর্ণস্রোত বা জলাবর্তের সৃষ্টি করে।
- এই বিশাল জলাবর্তের মাঝখানে কোনোরকম জলপ্রবাহ থাকে না বলে স্রোতবিহীন এই অঞ্চলে নানারকম শৈবাল বা শেওলা, আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায়।
- এইজন্য এই অঞ্চলকে শৈবাল সাগর বলা হয়।

⇒ শৈবাল সাগর (Sargasso Sea) উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যভাগে অবস্থিত একটি অনন্য সামুদ্রিক অঞ্চল।
- এটি বিশ্বের একমাত্র 'সমুদ্র' যার কোনো স্থল সীমানা নেই।
- এটি সম্পূর্ণরূপে চারটি প্রধান সমুদ্রস্রোত দ্বারা বেষ্টিত: গালফ স্ট্রিম (Gulf Stream), উত্তর আটলান্টিক স্রোত (North Atlantic Current), ক্যানারি স্রোত (Canary Current), উত্তর বিষুবীয় স্রোত (North Equatorial Current)।
- এই স্রোতগুলো মিলিত হয়ে কয়েক হাজার বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা জুড়ে একটি ঘূর্ণস্রোত বা জলাবর্তের সৃষ্টি করে।
- এই বিশাল জলাবর্তের মাঝখানে কোনোরকম জলপ্রবাহ থাকে না বলে স্রোতবিহীন এই অঞ্চলে নানারকম শৈবাল বা শেওলা, আগাছা ও জলজ উদ্ভিদ জন্মায়।

⇒ ​আটলান্টিক মহাসাগর:

- এটি পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জুড়ে এটি অবস্থিত।
- আয়তনের দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান দ্বিতীয় এবং গভীরতার দিক থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের স্থান তৃতীয়।
- এর আয়তন ৮,৫১,৩৩,০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- অবস্থান: আমেরিকা, ইউরোপ ও আফ্রিকা।
- আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরতম স্থান পোয়ের্তোরিকা ট্রেঞ্চ।
- এর গড় গভীরতা ১১,৯৬২ ফুট এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ২৭,৪৯৩ ফুট।

উৎস: i) Britannica.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৬৬.
হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থানের জন্যে বিখ্যাত কোন পাহাড়?
  1. গারো পাহাড়
  2. চন্দ্রনাথ পাহাড়
  3. চিম্বুক পাহাড়
  4. তাজিংডং
ব্যাখ্যা

- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সনাতন ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ পাহাড়।
- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত এটি। 
- সীতাকুণ্ডের পূর্বদিকে চন্দ্রনাথ পাহাড় আর পশ্চিমে সুবিশাল সমুদ্র ।

•বাংলাদেশের পাহাড়:
- ময়নামতি পাহাড় কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।
- চিম্বুক পাহাড় বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
- ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত - গারো পাহাড়।
- চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত।
- কালাউড়া পাহাড় মৌলভীবিাজার জেলায় অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

৭৬৭.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. ইন্দোনেশিয়া
  2. ভিয়েতনাম
  3. ফিলিপাইন
  4. ব্রুনাই
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় - ভিয়েতনাম
• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
-  সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।

- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৬৮.
প্রবল জোয়ারের কারণ, এ সময় ___
  1. ক) চন্দ্র পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে থাকে
  2. খ) পৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে
  3. গ) সূর্য , পৃথিবী ও চন্দ্র এক সরলরেখায় থাকে
  4. ঘ) সূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সাথে সমকোণ করে থাকে
ব্যাখ্যা
প্রধানত দুটি কারণে জোয়ার-ভাটা সৃষ্টি হয়৷ এগুলো হলো-
১. চাঁদ ও সূর্যের মহাকর্ষ শক্তির প্রভাব এবং
২. পৃথিবীর আবর্তনের ফলে উৎপন্ন কেন্দ্রাতিগ শক্তি৷

সূর্যের আকর্ষণে জোয়ার তত জোরালো হয় না।
তবে চাঁদ ও সূর্য একই সরলরেখায় থাকলে উভয়ের আকর্ষণে জোয়ার অত্যন্ত প্রবল হয়।
অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে অধিকমাত্রায় জোয়ারের ফলে নৌকা, লঞ্চ ডুবে যায় এবং জানমালের ক্ষতি হয়।

উৎস: নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল বোর্ড বই।
৭৬৯.
‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত জেলা কোনটি?
  1. বরিশাল
  2. পটুয়াখালী
  3. ভোলা
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
ভোলা:
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ নামে পরিচিত ভোলা জেলা। 
- ‘কুইন আইল্যান্ড অব বাংলাদেশ’ যা বাংলা করলে ‘বাংলাদেশের দ্বীপের রাণী’ হয়।

⇒ বাংলাদেশের বৃহত্তম দ্বীপ ভোলা।
- ভোলা জেলার পূর্ব নাম দক্ষিণ শাহবাজপুর।
- হিমালয় থেকে নেমে আসা ৩টি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ।
- জেলাটি ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) প্রথম আলো।
৭৭০.
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বাংলাদেশের জন্য কোন তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে?
  1. ঝড়, মরুকরণ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  2. ঝড়, বন্যা, কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা
  3. বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
  4. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা, ঝড়, মরুকরণ
ব্যাখ্যা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বাংলাদেশের ঝুঁকি:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- যার মধ্যে ৩টি দিক বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
- এই তিনটি ঝুঁকিপূর্ণ দিক হলো: বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলো:
১. মরুকরণ
২. বন্যা
৩. ঝড়
৪. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
৫. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা দেশের তালিকা:
১. বন্যা ঝুঁকি:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
২. ঝড় ঝুঁকি:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
৩. মরুকরণ ঝুঁকি:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, ইরাক, কেনিয়া, ইরান।
৪. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ঝুঁকি:
- সব নীচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিশর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
৫. কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা ঝুঁকি:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। [লিঙ্ক]

৭৭১.
কোনটি অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলাফল?
  1. ক) আধুনিক যানবাহন
  2. খ) অধিক কৃষি ফলন
  3. গ) জলাবদ্ধতা
  4. ঘ) উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
- বর্তমানে অপরিকল্পিত নগরায়নের জন্য পরিবেশ ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
-যেমন- পরিবেশ দূষণ, বাসস্থান ও খাদ্যের অভাব, পরিবহন সংকট, যানবাহন সংকট ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র অভাব সমস্যা দেখা দেয়।
- ঢাকা শহরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও সন্তোষজনক নয় এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঠিক নিয়ম-কানুন মেনে না চলার জন্য পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। 
- অপরিকল্পিত নগরায়ন যেমন- নগরবাসীর জন্য নিরাপদ বাসস্থানের সংকট তৈরি করছে।
- ঢাকা শহরে অপরিকল্পিত রাস্তা-ঘাট, বাড়ি-ঘর ও স্থাপনা নির্মানের কারণই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।
- প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জানমালের রক্ষার দিকে সবার সজাগ দৃষ্টি থাকতে হবে।
- অপরিকল্পিত নগরায়ন নগরজীবনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিবেশের মানকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।

 উৎস:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৭২.
ভেঙ্গী ভ্যালি কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. রাঙামাটি
  3. বান্দরবান
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

ভেঙ্গি ভ্যালি:
- এর অবস্থান রাঙামাটি জেলা, কাপ্তাই হ্রদের কারণে প্লাবিত।
- এটি দুই পাহাড়ের মাঝে অবস্থিত প্রশস্ত, নিচু ভূমি, যা পর্যটকদের কাছে পরিচিত।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি অংশ হিসেবে এটি পরিচিত।

• অন্যান্য ভেলী বা উপত্যকাসমূহ:
- হালদা ভেলী: খাগড়াছড়ি।
- বালিশিরা ভেলী: মৌলভীবাজার।
- সাজেক ভেলী: রাঙামাটি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭৭৩.
'গোল্ডেন মিন' ধারণাটির প্রবর্তক-
  1. ক) ইমানুয়েল কান্ট
  2. খ) স্টুয়ার্ট মিল
  3. গ) জেরেমি বেন্থাম
  4. ঘ) এরিস্টটল
ব্যাখ্যা

- গোল্ডেন মিন (সুবর্ণ মধ্যক) ধারণাটির প্রবর্তক এরিস্টটল।
- তিনি সুবর্ণ মধ্যক ধারণাটি ব্যবহার করেন দুটি চরমপন্থার বা মতবাদের মধ্যবর্তী অবস্থান বুঝাতে।
- অর্থাৎ সুবর্ণ মধ্যক হলো দুটি চরমপন্থার মধ্যবর্তী অবস্থা। যেমন- একদিকে সম্পদের প্রাচুর্য এবং অন্য দিকে খুবই অভাব, এ দুটি অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থাই হলো সুবর্ণ মধ্যক।
- এটি নীতিবিদ্যার সাথে জড়িত।
- জেরেমি বেন্থাম উপযোগবাদের জনক।

৭৭৪.
বাংলাদেশের পূর্ব সীমা ভারতের কোন অঞ্চলের সাথে সংযুক্ত?
  1. পশ্চিমবঙ্গ
  2. মেঘালয়
  3. ত্রিপুরা
  4. জলপাইগুড়ি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা (Boundary):
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে অবস্থিত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।
- এ দেশের পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য, পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।
- অন্যদিকে, অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার।

উল্লেখ্য,
১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭৭৫.
কোন দুটি প্লেটের সংযোগস্থল বরাবর মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত?
  1. ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান
  2. ইন্ডিয়ান ও বার্মিজ
  3. ইন্ডিয়ান ও আফ্রিকান
  4. বার্মিজ ও ইউরেশিয়ান
ব্যাখ্যা
ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল বরাবর মাউন্ট এভারেস্ট অবস্থিত।

এভারেস্ট পর্বত
- মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার গ্রেট হিমালয়ের চূড়ায় অবস্থিত পর্বত যা চীন ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
- তিব্বত এবং নেপালের সীমান্তে উত্থিত, লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে একটি টেকটোনিক সংঘর্ষ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট তৈরি হয়েছিল।
- মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয়ের মাঝের অংশে অবস্থিত।
- এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।



উৎস: i) Britannica.
ii) National Geographic.
৭৭৬.
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর ’হাকালুকি হাওর’ কোন কোন জেলায় বিস্তৃত রয়েছে? 
  1. মৌলভীবাজার এবং সুনামগঞ্জ
  2. মৌলভীবাজার এবং সিলেট
  3. হবিগঞ্জ এবং সিলেট
  4. সুনামগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ 
ব্যাখ্যা

হাকালুকি হাওর: 
- হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর।
- মৌলভীবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে হাকালুকি হাওড় অবস্থিত।
- পূর্বে পাথারিয়া পাহাড়,
- এবং পশ্চিমে ভাটেরা পাহাড়,
- এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি।
- এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর, তন্মধ্যে শুধুমাত্র বিলের আয়তন ৪,৪০০ হেক্টর।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা , কুলাউড়া এবং সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জে, গোলাপগঞ্জ  এবং বিয়ানীবাজার জুড়ে বিস্তৃত।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে এর অবস্থান, উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং পূর্বে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশ।
- হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা বিবেচনা করা হয়।

অন্যদিকে,
- টাঙ্গুয়ার হাওর বাংলাদেশের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত একটি হাওর। 
- চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বাইক্কা বিলের অবস্থান। 
- নিকলী হাওর বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া।

৭৭৭.
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ায় এল নিনো প্রধানত কোন প্রভাব ফেলে? 
  1. বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টিপাতে অনিয়ম সৃষ্টি হয় 
  2. গ্রীষ্মে তাপমাত্রা হ্রাস পায়
  3. ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বেড়ে যায়
  4. শীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

- এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।
 
• এল নিনো:
• এল-নিনো:
- এল নিনো (El Nino) একটি স্প্যানিশ শব্দ।
- এর আক্ষরিক অর্থ হলো ছোট ছেলে।
- এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি জলবায়ু ঘটনা। 
- যা বিশ্বব্যাপী এবং আঞ্চলিক আবহাওয়ার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। 

- ‘এল-নিনো’ মূলত উষ্ণ প্রকৃতির জলবায়ুর একটি ধরণ যা মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চ তাপমাত্রার জন্য দায়ী।
- এর স্থায়িত্ব সাধারণত ৯-১৮ মাস।
- বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এল নিনোর প্রভাব নিম্নরূপে বিশ্লেষণ করা যায়:
- এল-নিনো’র সময়ে অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম বৃষ্টি হয় এবং বন্যাও কম হয়।
- এ সময় তাপমাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে যায়।
- এল-নিনো সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৭ বছর অন্তর ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং  National Oceanic and Atmospheric Administration ও  BBC.

৭৭৮.
মধুপুর ও ভাওয়ালের বনাঞ্চল কী ধরনের বনভূমি?
  1. ক্রান্তীয় আর্দ্র পর্ণমোচী বন
  2. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি
  3. স্রোতজ বনভূমি
  4. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের বনভূমি:

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনাঞ্চাল বিস্তৃত ।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায় ।

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি :
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
১. ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি;
২. দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায় ।

• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন: 
উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর; পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্ত সীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত। 
এটি খুলনা বিভাগের ৬,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। 
সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ।

৭৭৯.
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয়-
  1. নিয়ত বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. মেরু বায়ু
  4. অনিয়মিত বায়ু
ব্যাখ্যা

• মৌসুমি বায়ুঃ 
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ু প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মওসুম" শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু।
- এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু। 
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধানত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তী অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চলে এই বায়ু প্রবাহের অন্তর্গত। 

- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়। - এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে। 
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়।
- ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে। 
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে। 
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

৭৮০.
সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পায়?
  1. ২° সেলসিয়াস
  2. ৬° সেলসিয়াস
  3. ৫° সেলসিয়াস
  4. ৪° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
উচ্চতা যত বৃদ্ধি পায় বায়ুমন্ডলীয় তাপমাত্রা তত বেশি হ্রাস পায়। সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়। উচ্চতার জন্যই একই অক্ষাংশে অবস্থিত দুই জায়গার জলবায়ুতে পার্থক্য দেখা যায়। যেমন-দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার ভিন্নতার জন্য এদের জলবায়ু ভিন্নরকম হয়। দিনাজপুরের চেয়ে শিলং এর তাপমাত্রা অনেক কম।
সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭৮১.
ঋতুভিত্তিক বন্যা বলা হয় কোনটিকে?
  1. ক) আকস্মিক বন্যা
  2. খ) মৌসুমী বন্যা
  3. গ) জোয়ার-ভাটাজনিত বন্যা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
মৌসুমী বন্যাকে ঋতুভিত্তিক বন্যা বলা হয়। মৌসুমী বন্যার বিস্তৃতি ব্যাপক। এই বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও বেশি। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৭৮২.
'টিটিকাকা হ্রদ' কোথায় অবস্থিত?
  1. বলিভিয়া
  2. ভেনেজুয়েলা 
  3. চিলি
  4. আর্জেন্টিনা
ব্যাখ্যা

• টিটিকাকা হ্রদ:
- টিটিকাকা হ্রদ পেরু এবং বলিভিয়ার মধ্যে অবস্থিত।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩,৮১০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
- এটিকে পৃথিবীর সর্বোচ্চ বড় হ্রদগুলির মধ্যে একটি।

- ঐতিহাসিক এবং ভূতাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করেন যে এটি প্রায় তিন মিলিয়ন বছরের পুরানো।
- হ্রদটির পরিমাপ ৮,৩০০ বর্গ কিলোমিটার বা ৩,২০০ বর্গ মাইল এবং এর প্রস্থ বিন্দুতে ৮০ কিলোমিটার বা ৫০ মাইল।
- হ্রদ সিস্টেমটি আসলে তার সরু প্রণালী দ্বারা দুটি ভাগে বিভক্ত যা টিকুইনা নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৭৮৩.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদানগুলো কী?
  1. পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন ও প্রশমন
  2. প্রতিরোধ, পুনরুদ্ধার ও সাড়াদান
  3. প্রতিরোধ, প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি
  4. প্রতিরোধ, প্রশমন ও পুনরুদ্ধার
ব্যাখ্যা
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগ সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি হলো দূর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এই ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৭৮৪.
নিরক্ষরেখায় পৃথিবীর ব্যাস কত?
  1. ক) ১২,৭১৪ কি.মি.
  2. খ) ১২,৭৫৭ কি.মি.
  3. গ) ১২,৮০০ কি.মি.
  4. ঘ) ১২,৪৭৬ কি.মি.
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর ব্যাস:
- নিরক্ষরেখায় ব্যাস : ১২,৭৫৭ কিলোমিটার
- মেরুরেখায় ব্যাস : ১২,৭১৪ কিলোমিটার
- পৃথিবীর গড় ব্যাস : ১২,৭৩৪.৫ কিলোমিটার।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলে পৃথিবীর পরিধি : ৪০,০৭৭ কিলোমিটার
- মেরু অঞ্চলে পরিধি : ৪০,০০৯ কিলোমিটার।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৮৫.
'ভেঙ্গী ভ্যালী' কোথায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. খাগড়াছড়ি
  3. রাঙামাটি
  4. মৌলভীবাজার
ব্যাখ্যা
- কাপ্তাই থেকে প্লাবিত উপত্যকা বা ভ্যালি ভেঙ্গি ভ্যালি নামে পরিচিত।
- এটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- হালদা ভ্যালি : খাগড়াছড়ি।
- সাজেক ভ্যালি : রাঙামাটি।
- বালিশিরা ভ্যালি : মৌলভীবাজার।
- সাঙ্গু ভ্যালি - চট্টগ্রাম।
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার।

সূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক পত্রিকা।
৭৮৬.
বিশ্বব্যাংক চিহ্নিত বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকিপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে কোনটি অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. মরুকরণ
  2. ভূমিকম্প
  3. ঝড়
  4. বন্যা
ব্যাখ্যা

বিশ্বব্যাংক ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন -
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো- মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭৮৭.
গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত দ্রাঘিমা রেখাটি মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত হয় -
  1. ১৮৮২ সালে
  2. ১৮৮৪ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৪ সালে
ব্যাখ্যা
মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):
- মূল মধ্যরেখা প্রকৃতপক্ষে লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত এক দ্রাঘিমা রেখা।
- ১৮৮৪ সালে এই দ্রাঘিমা রেখাকে মূলমধ্য রেখা হিসেবে স্থির করে এই রেখার পূর্ব ও পশ্চিমে অন্য দ্রাঘিমা রেখাগুলোর মান নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীনিচ মান মন্দির বরাবর যে কল্পিত দ্রাঘিমা রেখা রয়েছে সেটির মান (০°) ধরা হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হয়।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৮৮.
Which channel separates the continents of Asia and Africa?
  1. ক) Bosphorus Strait
  2. খ) Bering Strait
  3. গ) Strait of Gibraltar
  4. ঘ) Bab el-Mandeb Strait
ব্যাখ্যা
বাব এল-মান্দেব প্রণালী:

- এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালী।
- এই প্রণালী আরবি বাব আল-মান্দব, আরব এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী যা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে।
- প্রণালীটি ৩২ কিমি প্রশস্ত এবং পেরিম দ্বীপ দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত।পশ্চিম চ্যানেলটি ২৬কিমি জুড়ে এবং পূর্ব দিকে ৩ কিমি প্রশস্ত।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের সাথে, প্রণালীটি ভূমধ্যসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগের একটি অংশ গঠন করে।
- প্রণালীটির আরবি নামের অর্থ "কান্নার দ্বার"।
- এটি এডেন উপসাগর, গভীর জলের অববাহিকা যা লোহিত সাগর এবং আরব সাগরের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সমুদ্র সংযোগ তৈরি করে।
- প্রণালীটির মোট দৈর্ঘ্য, পূর্ব-উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ১৪৮০ কিমি, এবং এর গড় প্রস্থ, উত্তর-উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ৪৮০ কিমি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭৮৯.
মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহের কক্ষপথ দুইটির মাঝামাঝি অবস্থানে কোন ধরনের বস্তু রয়েছে?
  1. গ্রহাণুপুঞ্জ
  2. উল্কা
  3. ধূমকেতু
  4. নক্ষত্র
ব্যাখ্যা
• গ্রহাণুপুঞ্জ (Asteroids):
- সৌরজগতে মঙ্গল (Mars) ও বৃহস্পতি (Jupiter) এই দুইটি গ্রহের মধ্যবর্তী অংশে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রহ (১.৬-৮০৫ বর্গ কি. মি.আয়তন বিশিষ্ট) একত্রে পূঞ্জীভূত হয়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। এগুলোকে একত্রে গ্রহাণুপুঞ্জ বলে।
- গ্রহাণুপুঞ্জসমূহ একটি বলয়ের মতো ঘিরে থাকে, যা গ্রহাণুপুঞ্জ বলয় নামে অভিহিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯০.
দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত নয় কোন দেশটি?
  1. জ্যামাইকা
  2. বলিভিয়া
  3. ইকুয়েডর
  4. চিলি
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ:
- দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশ ১২ টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- দেশগুলো হচ্ছে - ব্রাজিল, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরু, ভেনেজুয়েলা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, গায়ানা, সুরিনাম
- আয়তনে বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- ব্রাজিল, গায়ানা এবং সুরিনাম ছাড়া সবকটিতেই স্প্যানিশ সরকারি ভাষা।
- ব্রাজিলের সরকারী ভাষা পর্তুগিজ।
-----------
- অপরদিকে, জ্যামাইকা হচ্ছে উত্তর আমেরিকার দেশ।
 
তথ্যসূত্র: ওয়াল্ড এটলাস।
৭৯১.
UNEP এর সদর দপ্তর কোথায়?
  1. ক) জেনেভা
  2. খ) ওয়াশিংটন ডিসি
  3. গ) নাইরোবি
  4. ঘ) কোপেনহেগেন
ব্যাখ্যা
United Nations Environment Programme ৫ জুন, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কেনিয়ার নাইরোবিতে এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
Source: LiveMCQ Lecture
৭৯২.
জাঙ্গালিয়া ও ডাকাতিয়া কোন নদীর শাখা নদী?
  1. ক) মেঘনা
  2. খ) পদ্মা
  3. গ) যমুনা
  4. ঘ) কর্ণফুলি
ব্যাখ্যা
জাঙ্গাালিয়া ও ডাকাতিয়া মেঘনার শাখানদী।

• মেঘনা (Meghna):
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করেছে।

- এর মধ্যে একটি উত্তর সিলেট থেকে সুরমা নামে এবং অন্যটি দক্ষিণ সিলেট থেকে কুশিয়ারা নামে প্রবাহিত হয়ে হবিগঞ্জের কালনী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- পরে সুরমা, কুশিয়ারা এবং কালনী নদীর মিলিত স্রোত কালনী নাম ধারণ করে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- এরপর মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে।

- অত:পর চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরো দক্ষিণে অগ্রসর হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।
- মেঘনার উপনদীসমূহের মধ্যে মনু, বাউলাই, গোমতী, তিতাস, কাসনি অন্যতম।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
৭৯৩.
কীসের ফলে ’ঋতু পরিবর্তন’ ঘটে?
  1. আহ্নিক গতি
  2. ঘূর্ণন গতি
  3. পর্যায়বৃত্ত গতি
  4. বার্ষিক গতি
ব্যাখ্যা
• বার্ষিক গতি :
- সূর্যের মহাকর্ষ বলের আকর্ষণে পৃথিবী নিজের অক্ষের উপর অবিরাম ঘুরতে ঘুরতে একটি নির্দিষ্ট পথে নির্দিষ্ট দিকে (ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে) এবং নির্দিষ্ট সময়ে সূর্যের চারদিকে ঘুরছে।
পৃথিবীর এই গতিকে বার্ষিক গতি বা পরিক্রমণ গতি বলে।

• বার্ষিক গতির ফল (The results of Revolution):বার্ষিক গতির ফল হলো-
- দিবারাত্রির হ্রাস-বৃদ্ধি,
- ঋতু পরিবর্তন।
-----------------------------------------------------
• ঋতু পরিবর্তন:
- তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে বছরকে চারটি ঋতুতে ভাগ করা হয়—গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, শীত, বসন্ত ও হেমন্ত। তবে সাধারণভাবে চারটি মৌলিক ঋতু হচ্ছে গ্রীষ্ম, শরৎ, শীত ও বসন্ত।
- পৃথিবীকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে—উত্তর গোলার্ধ ও দক্ষিণ গোলার্ধ।
- নিরক্ষরেখার উপরে উত্তর গোলার্ধ আর নিচে দক্ষিণ গোলার্ধ।
- উত্তর গোলার্ধে যখন গ্রীষ্ম, দক্ষিণ গোলার্ধে তখন শীত।
- আবার উত্তর গোলার্ধে যখন শীত, দক্ষিণে তখন গ্রীষ্ম।
- বাংলাদেশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত।
- তাই এখানে জুন মাসে গ্রীষ্ম থাকে, আর তখন দক্ষিণ গোলার্ধে শীতকাল চলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৭৯৪.
কোনটি নদী ভাঙনের মানবসৃষ্ট কারণ?
  1. নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া
  2. বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ
  3. নদীতে চর সৃষ্টি হওয়া
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
নদীভাঙন:
- নদীভাঙন, এক প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ। 
- নদীর পানির স্রোতে নদীর পাড় ভাঙার এই অবস্থাকে নদীভাঙন বলে।
- বন্যা নদীভাঙনের অন্যতম কারণ।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, পদ্মা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকার প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার জুড়ে ভাঙন অব্যাহত আছে। 

- জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশের প্রধান নদী ও শাখানদী দ্বারা দেশের প্রায় ১০০টি উপজেলায় কমবেশি নদীভাঙন প্রক্রিয়া চলে।
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি, নানা ধরনের স্থাপনা ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয় এবং অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।
- নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগণ জমি পুনরূদ্ধার করতে না পারায় ভূমিহীন হয়ে পড়ে। ফলে, তারা শহর ও নগরের ভাসমান মানুষে পরিণত হয়।

নদীভাঙনের কারণসমূহ:

নদীভাঙনের প্রাকৃতিক কারণ সমূহের মধ্যে রয়েছেঃ
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন,
- নদীতে পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া,
- নদীতে চর সৃষ্টি হওয়া,
- অতিবৃষ্টি,
- মার্টির দুর্বল গঠন,
- বন্যা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
নদী ভাঙনের মানবসৃষ্টকারণ সমূহ হলো:
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ,
- নদী শাসন,
- নদীর পাড়ের গাছপালা নিধন,
- নদীতে দ্রুতগতির জলযান চলাচল ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৫.
বাংলাদেশের ভূমিরুপে কোনটির পরিমান বেশি?
  1. ক) প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ
  2. খ) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  3. গ) সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশকে ৩টি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
- টারশিয়ারী যুগের পাহাড়সমূহ,
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

অবস্থান অনুসারে বাংলাদেশের টারশিয়ারী পাহাড়কে দুই ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা -
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়,
- উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়।

বাংলাদেশের মোট ভূমির,
- ১২% টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
- ৮% প্লাইস্টোসিনকালের সোপান সমূহ এবং
- ৮০% সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি
৭৯৬.
বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় কেন?
  1. আয়ন বায়ুর কারণে
  2. উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর কারণে
  3. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর কারণে
  4. পশ্চিমা বায়ুর কারণে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায়ু নামে পরিচিত।
- সুতরাং ঋতু ভেদে জলবায়ুর যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকে মৌসুমী বায়ু বলে।
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে এবং শীতকালে উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয়।

⇒ বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে অধিক তাপের জন্য উত্তর গোলার্ধের কোন স্থানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়।
- এ সময় দক্ষিণ গোলার্ধে সূর্যের তাপ কম বলে উচ্চ চাপের সৃষ্টি হয়।
- তখন দক্ষিণের উচ্চ চাপ অঞ্চল হতে বায়ু উত্তরের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম দিক হতে বাংলাদেশের দিকে আসে বলে একে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু বলে।
- কিন্তু শীতকালে এর বিপরীত অবস্থা ঘটে। শীতকালে এ বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক হতে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু বলে।

উল্লেখ্য,
- গ্রীষ্মকালে এ বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম সমূদ্রের ওপর দিয়ে আসে বলে এতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে, যার ফলে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- পক্ষান্তরে শীতকালীন মৌসুমী বায়ু সাধারণত স্থল ভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে এবং সামান্য বৃষ্টি পাত হয়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭৯৭.
বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ক) ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  2. খ) সাড়ে ২৩ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষরেখা
  3. গ) মূল মধ্যরেখা
  4. ঘ) সাড়ে ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম বরাবর সাড়ে ২৩ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা (ট্রপিক অব ক্যান্সার) অতিক্রম করেছে।
- ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা উত্তর-দক্ষিণ বরাবর বাংলাদেশের মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- রেখা দুটি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায় পরস্পরকে অতিক্রম করেছে।
(সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭৯৮.
বঙ্গোপসাগরের সর্বউত্তর প্রান্তে অবস্থিত-
  1. শ্রীলংকা
  2. মালদ্বীপ
  3. বাংলাদেশ
  4. মায়ানামার
ব্যাখ্যা

- বঙ্গোপসাগরের সর্বউত্তর প্রান্তে বাংলাদেশ অবস্থিত।

• বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal): 

- বঙ্গোপসাগর (Bay of Bengal)  ভারত মহাসাগরের উত্তরের সম্প্রসারিত বাহু।
- ভৌগোলিকভাবে ৫° উত্তর ও ২২° দক্ষিণ অক্ষাংশ এবং ৮০° পূর্ব ও ১০০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত।
- পৃথিবীর সর্ববৃহৎ এ উপসাগরটি পশ্চিমে ভারত ও শ্রীলংকার পূর্ব উপকূল,
- উত্তরে গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা নদীপ্রণালী সৃষ্ট বদ্বীপ ।
- এবং পূর্বে মায়ানমার উপদ্বীপ থেকে আন্দামান-নিকোবর শৈলশিরা (ridges) পর্যন্ত বিস্তৃত ভূভাগ দ্বারা বঙ্গোপসাগর তিনদিকে আবদ্ধ।
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ সীমা শ্রীলংকার দক্ষিণে দন্দ্রা চূড়া (Dondra Head) থেকে সুমাত্রার উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
- সর্বমোট প্রায় ২২ লক্ষ বর্গ কিমি আয়তনের বিশাল এলাকা জুড়ে বঙ্গোপসাগর বিস্তৃত।
- এর গড় গভীরতা প্রায় ২,৬০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা ৫,২৫৮ মিটার।
- বঙ্গোপসাগরের সর্বউত্তর প্রান্তে বাংলাদেশ অবস্থিত।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৭৯৯.
কত মাত্রার ভূমিকম্পের ফলে ১৭৮৭ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পাল্টে যায়?
  1. ক) ৭
  2. খ) ৭.৩
  3. গ) ৭.৮
  4. ঘ) ৮.৭
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- বাংলাদেশের ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকাসমূহ ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল।
- যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৮০০.
IRRI-এর সদর দপ্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. গাজীপুর, বাংলাদেশ
  2. ম্যানিলা, ফিলিপাইন
  3. টোকিও, জাপান
  4. বন, জার্মানি
ব্যাখ্যা
IRRI:
- IRRI-এর পূর্ণরূপ: International Rice Research Institute.
- IRRI হলো একটি স্বাধীন, অলাভজনক, গবেষণা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
- সদর দপ্তর: লস ব্যানোস, ম্যানিলা, ফিলিপাইন।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ১৯৬০ সাল।
- কার্যক্রম পরিচালনা করে - এশিয়া ও আফ্রিকার ১৭টি দেশে।

উৎস: IRRI ওয়েবসাইট।