বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা৫০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৭২ / ৭২ · ৭,১০১৭,১৫০ / ৭,১৯১

৭,১০১.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলা নয়?
  1. ক) মার্বেল
  2. খ) গ্রাফাইট
  3. গ) কোয়ার্টজাইট
  4. ঘ) গ্রানাইট
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা প্রচণ্ড চাপ, উত্তাপ, রাসায়নিক ক্রিয়া প্রভৃতির ফলে রূপ পরিবর্তন করে যে নতুন শিলায় পরিণত হয় তা রূপান্তরিত শিলা নামে পরিচিত।

বিভিন্ন রূপান্তরিত শিলা:
- কয়লা রূপান্তরিত হয়ে গ্রাফাইট
- চুনাপাথর রূপান্তরিত হয়ে মার্বেল
- বেলপাথর রূপান্তরিত হয়ে কোয়ার্টজাইট
- গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিস।

অন্যদিকে,
গ্রানাইট হলো একটি অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
৭,১০২.
বাংলাদেশের কোন বিভাগের সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশেরই সীমান্ত সংযােগ আছে?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) বরিশাল
  3. গ) চট্টগ্রাম
  4. ঘ) ময়মনসিংহ
  5. ঙ) কোনােটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার এর আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে।
ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।
রাঙামাটি হলো চট্টগ্রাম বিভাগের একটি জেলা। 
অর্থাৎ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশেরই সীমান্ত সংযােগ আছে। 
ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
উৎসঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,১০৩.
সাধারণত কোন ধরনের এলাকায় ক্লাউডবার্স্ট (Cloudburst) বা মেঘ বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেশি থাকে?
  1. পাহাড়ি এলাকায়
  2. উপকূলীয় এলাকায়
  3. শহুরে এলাকায়
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• মেঘ বিস্ফোরণ (Cloudburst):

- ক্লাউডবার্স্ট হল অল্প সময়ের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট স্বল্প জায়গায় শিলাবৃষ্টি এবং বজ্রপাত সহ অতি বৃষ্টিপাত।
- এর ফলে আকস্মিক বন্যা এবং ভূমিধ্বস হতে পারে।  
- সাধারণত যখন ১০ বর্গকিলোমিটার (৩.৮৬ বর্গ মাইল) অঞ্চলে এক ঘন্টার মধ্যে ১০ সেন্টিমিটার (৩.৯৪ ইঞ্চি) এর বেশি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তাকে ক্লাউড বিস্ফোরণ বা ক্লাউডবার্স্ট বলে থাকে।
- এটি হিমালয়ান অঞ্চল এবংপার্বত্য এলাকায় বেশি ঘটে থাকে।  
- সাধারণত ক্লাউডবার্স্ট বর্ষা ঋতুতে হয়ে থাকে। তবে বিশেষজ্ঞদের অনেকের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এর পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মেঘ বিস্ফোরণের বৈশিষ্ট্য:
- হঠাৎ ঘটে: মেঘ বিস্ফোরণ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং খুব কম সময়ের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- সংকীর্ণ এলাকা: এটি সাধারণত খুব ছোট এলাকা জুড়ে ঘটে। মেঘ বিস্ফোরণের পরিধি কয়েক বর্গ কিলোমিটারের বেশি হয় না।
- ভারী বৃষ্টিপাত: মেঘ বিস্ফোরণের ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয়। কখনও কখনও এটি এতটাই প্রবল হয় যে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় নদী এবং জলাশয়গুলো পানিতে ভরে যায়, যা বন্যার সৃষ্টি করে।
- সম্প্রতি আগস্ট, ২০২৪-এ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণের জন্য ত্রিপুরা সংলগ্ন বাংলাদেশের কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী সহ ১১ টি জেলাইয় ভয়াবহ বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

Image Source: Shankar IAS Academy
উৎস: ব্রিটানিকা এবং Times of India এবং প্রথম আলো। 
৭,১০৪.
কোন সম্মেলনে 'জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন  (UNFCCC)' গৃহীত হয়?
  1. জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন
  2. বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন
  3. স্টকহোম সামিট
  4. বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে
ব্যাখ্যা
♣ UNFCCC: 
• ১৯৯২ সালের ৩-১৪ জুন ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও শহরে অনুষ্ঠিত 'বিশ্ব ধরিত্রী সম্মেলনে' 'জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন  (UNFCCC)' গৃহীত হয়। 
 • UNFCCC means United Nations Framework Convention on Climate Change.  
• এটি কার্যকর হয় ১৯৯৪ সালের ২১ মার্চ। এতে মোট ১৯৭ টি দেশ ও সংস্থা স্বাক্ষর করে। 
 
 - এর উদ্দেশ্য জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা। 
- ১৯৯৫ সাল থেকে 'জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (COP)' নামে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 

♣ বিশ্বের প্রথম পরিবেশ সম্মেলন (স্টকহোম সামিট) ১৯৭২ সালে স্টকহোম, সুইডেনে অনুষ্ঠিত হয়।  

উৎস:
UNFCCC ওয়েবসাইট, জাতিসংঘ বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।
৭,১০৫.
পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান কোথায়?
  1. ক) ক্যারিবিয়ান সাগর
  2. খ) ভারত মহাসাগর
  3. গ) ভূমধ্য সাগর
  4. ঘ) আরব সাগর
ব্যাখ্যা
ক্যারিবিয়ান সাগর:

- পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ক্যারিবিয়ান সাগরে।
- ক্যারিবিয়ান সাগর হল আটলান্টিক মহাসাগরের ২য় বৃহত্তম প্রান্তিক সমুদ্র যা পশ্চিম গোলার্ধে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে ভৌগলিকভাবে অবস্থিত।
- ক্রিস্টোফার কলম্বাস ছিলেন প্রথম ইউরোপীয় যিনি ক্যারিবিয়ান সাগরে প্রবেশ করেন এবং ১৪৯২ সালে বাহামা দ্বীপে অবতরণ করেন।
- কলম্বাসের এই অঞ্চল আবিষ্কারের পর, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ স্পেন, ডাচ প্রজাতন্ত্র, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ডেনমার্ক, সহ বেশ কয়েকটি দেশ দ্বারা উপনিবেশিত হতে শুরু করে।
- ক্যারিবিয়ান সাগরকে পাঁচটি অববাহিকায় বিভক্ত করা হয়েছে যেগুলি নিমজ্জিত রেঞ্জ এবং পর্বতমালা দ্বারা একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন।
- ক্যারিবিয়ান সাগরে ১২টি দেশ এবং ২২টি দ্বীপ অঞ্চল সহ ৭০০০ টিরও বেশি দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৭,১০৬.
আবু মুসা দ্বীপ কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. ক) লোহিত সাগর
  2. খ) ওমান সাগর
  3. গ) পারস্য সাগর
  4. ঘ) কৃষ্ণ সাগর
ব্যাখ্যা

আবু মুসা দ্বীপ পারস্য উপসাগরে অবস্থিত।
ইরানের পূর্বনাম ছিল পারস্য।
আবু মুসা দ্বীপ নিয়ে ইরান ও আরব আমিরাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে।
উৎসঃ সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের সরকারি ওয়েবসাইট।

৭,১০৭.
তিস্তা ও করতোয়া নদী সংলগ্ন রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ভূমিরূপ হলো-
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. পলল পাখা
  3. ব-দ্বীপ
  4. পাদদেশীয় পলল সমভূমি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশর তিস্তা, করতোয়া ও আত্রাই নদী সংলগ্ন রংপুর ও দিনাজপুর জেলার ভূমিরূপ হলো সঞ্চয়জাত পাদদেশীয় পলল সমভূমি।
- পাহাড়িয়া নদী পাদদেশে পলি সঞ্চয় করে যে সমভূমি গড়ে তোলে তা পাদদেশীয় প্লাবন সমভূমি নামে পরিচিত।
- হিমালয় পর্বত থেকে উৎপন্ন নদীসমূহ দ্বারা বয়ে আসা পলি দ্বারা রংপুর ও দিনাজপুর জেলার নদী তীরবর্তী পাদদেশীয় পলল সমভূমি গড়ে উঠেছে।
(তথ্যসূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী, পৃষ্ঠা- ৬২)
৭,১০৮.
নিচের কোন দেশটির কোন সমুদ্রবন্দর নেই?
  1. ক) বেলজিয়াম
  2. খ) কলম্বিয়া
  3. গ) সুইজারল্যান্ড
  4. ঘ) কুয়েত
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত দেশসমূহের মধ্যে সুইজারল্যান্ডের কোন সমুদ্রবন্দর নেই। দেশটি একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।
অন্যদিকে,
- আন্টওয়ার্প : বেলজিয়ামের সমুদ্রবন্দর
- মিনা আল শুওয়াইথ : কুয়েতের সমুদ্রন্দর
- কার্টাগেনা ও সান্টা মার্তা : কলম্বিয়ার সমুদ্রবন্দর।
(সূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৭,১০৯.
দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী কোনটি?
  1. ক) নীলনদ
  2. খ) ইয়াংসিকিয়াং
  3. গ) আমাজন
  4. ঘ) মিসিসিপি
ব্যাখ্যা
আমাজন নদী, নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।
- এর জলাশয় ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা এবং বলিভিয়া দেশগুলিতে বিস্তৃত।
- নদীটি সাধারণত ১৯ থেকে ৫০ কিমি প্রশস্ত, সর্বাধিক ১০০ কিলোমিটার প্রস্থ।
- আমাজন প্রতি সেকেন্ডে ৩০০০,০০০ ঘন মিটার-এ আটলান্টিক মহাসাগরে উচ্চ পরিমাণে মিঠা জল ছেড়ে দেয়।
- এটি বিশ্বব্যাপী মহাসাগরে প্রবেশকারী মিঠা পানির মোট আয়তনের এক-পঞ্চমাংশ।

উৎস: WorldAtlas
৭,১১০.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. বায়ুর চাপ বৃদ্ধি
  2. কার্বন ডাই-অক্সাইডের অতিরিক্ত নির্গমন
  3. সমুদ্রের তাপমাত্রা কমা
  4. সূর্যের তেজ বৃদ্ধির কারণে
ব্যাখ্যা

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন:
-বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রধান কারণ: কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের অতিরিক্ত নির্গমন।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলতে সাধারণভাবে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে বোঝায়।
- বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি তথা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের গ্রিন হাউস গ্যাসকে দায়ী করা হয়।
- মাত্র চারটি দেশ + ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) বিশ্বের অধিকাংশ কার্বন নির্গমনের জন্য দায়ী।
- চীন হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন নির্গমনকারী দেশ।
- চীন বৈশ্বিক কার্বন নির্গমনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এর জন্য দায়ী।
- চীনের কার্বন নির্গমন বৃদ্ধির মূল কারণ: কোয়লা নির্ভর শক্তি।
- চীনের মাথাপিছু কার্বন নির্গমন: ৮.১ টন।

উৎস: প্রথম আলো রিপোর্ট। 

৭,১১১.
ব-দ্বীপ কী প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ভূমিরূপ?
  1. ক) ক্ষয়ীভবন প্রক্রিয়ায়
  2. খ) অবক্ষেপন প্রক্রিয়ায়
  3. গ) নগ্নীভবন
  4. ঘ) রূপান্তর প্রক্রিয়ায়
ব্যাখ্যা
• অবক্ষেপন:
- নদী, হ্রদ ও সমুদ্র তলদেশে ক্ষয়প্রাপ্ত শিলাখন্ডসমূহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির সাহায্যে বাহিত হয়ে অবক্ষেপিত হয়।
- এইভাবে যুগের পর যুগ অবক্ষেপিত শিলাখন্ডসমূহ জমাট বেঁধে বিভিন্ন প্রকার ভূমিরূপ তৈরি হয়।
⇒ যেমন: ব-দ্বীপ, লোয়েস সমভূমি ইত্যাদি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,১১২.
নিচের কোনটি আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান নয়?
  1. বায়ুর চাপ
  2. পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত
  3. বায়ুর তাপ
  4. বনভূমির অবস্থান
ব্যাখ্যা
- বনভূমির অবস্থান হলো আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান। যথাঃ-

- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ু প্রবাহ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ: 

- অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ,
- সমুদ্রস্রোত,
- বায়ু প্রবাহ,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- বনভূমির অবস্থান,
- ভূমির বন্ধুরতা, ভূমির ঢাল কিংবা পর্বতের অবস্থান (বায়ুপ্রবাহ বাধা পায়)।
- মৃত্তিকার গঠন,
- ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা (উপরের দিকে বায়ুর চাপ/তাপ পরিবর্তিত হয়)।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,১১৩.
ঢাকার কোন দেশের সমুদ্রবন্দর?
  1. ক) সেনেগাল
  2. খ) মরক্কো
  3. গ) কেনিয়া
  4. ঘ) মোজাম্বিক
ব্যাখ্যা
- ঢাকার : সেনেগালের সমুদ্রবন্দর।
অন্যদিকে
- মোম্বাসা : কেনিয়ার সমুদ্রবন্দর
- তাঞ্জিবার ও কাসাব্লাংকা : মরক্কোর সমুদ্রবন্দর
- মাপুতো : মোজাম্বিকের সমুদ্রবন্দর।
(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৭,১১৪.
বাংলাদেশের প্রথম কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি
  2. সাভার, ঢাকা
  3. সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম
  4. বড়পুকুরিয়া, দিনাজপুর
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
- এটি একটি কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

⇒ এটি দেশের প্রথম কয়লা নির্ভর বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

- এটি ২০০৬ সালে গড়ে ওঠে।
- এর মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট।
- কেন্দ্রটিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা ব্যবহার করা হয়।
- এটি পরিচলনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।

উৎস: বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
৭,১১৫.
'গ্রেট বেরিয়ার রীফ' কত এলাকা জুড়ে বিস্তৃত?
  1. ক) ৩৪৪,৪০০০ কি.মি.
  2. খ) ৪৪৪,৪০০০ কি.মি
  3. গ) ৫৪৪,৪০০০ কি.মি কি.মি.
  4. ঘ) ৬৪৪,৪০০০ কি.মি কি.মি.
ব্যাখ্যা
গ্রেট বেরিয়ার রীফ:

- গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ হল বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর সিস্টেম।
- এটি উত্তর-পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের তীরে প্রবাল সাগরে অবস্থিত। 
- এটি আনুমানিক ৩৪৪,৪০০০ কি.মি. বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি ২,৯০০টিরও বেশি পৃথক রিফ সিস্টেম, ৭৬০টি ফ্রেঞ্জ রিফ, ৩০০টি প্রবাল রশ্মি এবং ৯০০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
- এটি অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী এবং টরেস স্ট্রেইট দ্বীপবাসীরা ব্যবহার করত।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৭,১১৬.
ব্রহ্মপুত্র-যমুনার উপনদী কোনটি?
  1. ক) পুনর্ভবা
  2. খ) তিস্তা
  3. গ) মাথাভাঙ্গা
  4. ঘ) সিলোনিয়া
ব্যাখ্যা
- ব্রহ্মপুত্র-যমুনার চারটি প্রধান উপনদী রয়েছে: দুধকুমার, ধরলা, তিস্তা এবং করতোয়া-আত্রাই নদীপ্রণালী।
- এদের মধ্যে দুধকুমার, ধরলা এবং তিস্তা নদী তিনটি খরস্রোতা প্রকৃতির এবং ভারতের দার্জিলিং ও ভূটানের মধ্যবর্তী হিমালয়ের দক্ষিণপার্শ্বে অত্যধিক ঢালবিশিষ্ট অববাহিকা থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- শাখানদীসমূহের মধ্যে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র দীর্ঘতম এবং দুইশত বছর পূর্বে এটিই ছিল ব্রহ্মপুত্রের মূল গতিধারা।
উৎস: বাংলা পিডিয়া। 
৭,১১৭.
রিখটার স্কেল দ্বারা কি পরিমাপ করা হয়?
  1. ক) ভূ-আলোড়নের সংখ্যা
  2. খ) কম্পন সংখ্যা
  3. গ) ভূ-কম্পন শক্তি
  4. ঘ) ক্ষয়-ক্ষতি মাত্রা
ব্যাখ্যা
- রিকটার স্কেল ও সিসমোগ্রাফ দুটাই ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
- ভূমিকম্পের তীব্রতা মাপা হয় রিকটার স্কেলে মাধ্যমে।
- অপরদিকে, সিসমােগ্রাফ ভূপৃষ্ঠের আন্দোলন পরিমাপনের এবং ভূমিকম্পের উৎস খুঁজে বের করার যন্ত্র। এর সাহায্যে অন্যান্য বিস্ফোরণ, প্রচণ্ড ঝড় ইত্যাদির খোঁজ পাওয়া যায়। এছাড়া মেরু অঞ্চলের বরফের গভীরতা, খনিজ তেল ভাণ্ডার ইত্যাদিও এর সাহায্যে বের করা সম্ভব।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৭,১১৮.
লালমাই পাহাড়েরর গড় উচ্চতা-
  1. ২১ মিটার
  2. ১৮ মিটার
  3. ১২ মিটার
  4. ২৫ মিটার
ব্যাখ্যা
• লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার।
- এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।


• বরেন্দ্রভূমি:

- দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বরেন্দ্রভূমি বিস্তৃত।
- প্লাবন সমভূমি হতে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এ স্থানের মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।

•মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়: 
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- মাটির রং লালচে ও ধূসর।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,১১৯.
মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশে কতটি সীমান্তবর্তী জেলা রয়েছে?
  1. ১ টি
  2. ২ টি
  3. ৩ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
-  মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ২টি রাজ্যের সীমান্ত আছে। 

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭,১২০.
নিচের কোনটি বায়ুমন্ডলের উপাদান নয়?
  1. ক) পাথর
  2. খ) জলীয়বাষ্প
  3. গ) ধূলিকণা
  4. ঘ) বিভিন্ন প্রকার গ্যাস
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদান
• পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমন্ডল বেষ্টিত। এই মন্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে। এই গ্যাসীয়
মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান।
• বায়ুমন্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ। এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ।
• বায়ুমন্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই। তাই বায়ুমন্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না।
• সুতরাং বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।   

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,১২১.
ভাওয়ালের সোপান ভূমি কোন সময়ে গঠিত?
  1. সাম্প্রতিককালে
  2. টারশিয়ারি যুগে
  3. প্লাইস্টোসিনকালে
  4. ক ও গ
ব্যাখ্যা

- ভাওয়ালের সোপান ভূমি প্লাইস্টোসিনকালে গঠিত। 

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

⇒ প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। 

• বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।

• মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার।
- এর আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,১২২.
বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট- 
  1. টাঙ্গুয়ার হাওর
  2. চলনবিল
  3. হাইল হাওর
  4. সুন্দরবন
ব্যাখ্যা

রামসার সাইট:
- রামসার কনভেনশন রামসার চুক্তি হলো একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ১৯৭১ সালে ইরানের রামসার শহরে স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো জলাভূমি (wetlands) সংরক্ষণ এবং সারা বিশ্বে এসব এলাকার টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা।
- বাংলাদেশ ১৯৯২ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রামসার সনদ কার্যকর করে।
- বাংলাদেশের ২টি স্থান রামসার সাইট  হিসেবে অন্তর্ভুক্ত।
- রামসার সাইট ২টি হলো: সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর।
- বাংলাদেশের প্রথম রামসার সাইট সুন্দরবন।
- ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবনকে রামসার সাইট (রামসার কনভেনশন কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জলাভূমি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওর।
- এটি সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- ২০০০ সালের ২৯ জানুয়ারি টাঙ্গুয়ার হাওরকে সুন্দরবনের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় 'রামসার সাইট' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

উৎস: Ramsar Convention ওয়েবসাইট।

৭,১২৩.
বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  1. Biosphere
  2. Lithosphere
  3. Atmosphere
  4. Hydrosphere
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডল:

- বায়ুমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere.
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমণ্ডল।
- বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ।
- বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন প্রকার গ্যাসীয় পদার্থ ও জলীয় বাষ্পের সংমিশ্রণে গঠিত।
- বায়ুমণ্ডলের প্রধান দুটি উপাদান হলো নাইট্রোজেন (৭৮.০২%) এবং অক্সিজেন (২০.৭১%), যা মোট উপাদানগুলোর প্রায় ৯৯%। অবশিষ্ট ১% অন্যান্য উপাদান।

অন্যান্য অপশনগুলো বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক স্তর বা অঞ্চলের নাম নির্দেশ করে:
• Biosphere: পৃথিবীতে সমগ্র জীবগোষ্ঠীর বসবাসযোগ্য সমস্ত অঞ্চল।
• Lithosphere: পৃথিবীর কঠিন বাইরের স্তর।
• Hydrosphere: পৃথিবীর সকল জলভাগ।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,১২৪.
ডাউকি চ্যুতি নিম্নের কোন ধরনের দুর্যোগ ঝুঁকির সাথে সম্পৃক্ত?
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. বন্যা
  3. ভূমিকম্প
  4. বজ্রপাত
ব্যাখ্যা
ডাউকি চ্যুতি ভূমিকম্পের সাথে সম্পৃক্ত।

• ডাউকি চ্যুতি:
- বাংলাদেশের সিলেট ও ভারতের আসাম মিলিয়ে ডাউকি চ্যুতি পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় তিন শ কিলোমিটার বিস্তৃত।
- ১৮৯৭ সালে ‘ডাউকি ফল্টে’ ৮ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল।
- ডাউকি চ্যুতি ছাড়াও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার ভূগর্ভে থাকা একটি চ্যুতিও সক্রিয়।
- বাংলাদেশের মার্টির নিচে চ্যুতি আছে মোট ১৩টি।
- ডাউকি চ্যুতি ছাড়াও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার এলাকার ভূগর্ভে থাকা একটি চ্যুতিও সক্রিয়। বাংলাদেশের মার্টির নিচে চ্যুতি আছে মোট ১৩টি।
- সাধারণত ভূগর্ভের ৫ থেকে ১৫ কিলোমিটার গভীরে কোনো ভূমিকম্প হলে তাতে কম্পন বেশি অনুভূত হয়।
- এ ধরনের কম্পনে কংক্রিটের অবকাঠামোর ক্ষতি বেশি হয়। তবে বাংলাদেশের সিলেট থেকে শুরু করে ঢাকা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকার ভূমি মূলত নরম মাটির। ফলে সেখানে কম্পন বেশি হলেও তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি কম হয়।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,১২৫.
বাংলাদেশের সর্বপূর্বের স্থানের নাম কী?
  1. আখাইনঠং
  2. জকিগঞ্জ
  3. মনাকষা
  4. সাজেক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান:
- সর্বপূর্বের স্থান : আখাইনঠং।
- উপজেলা : থানচি।
- জেলা : বান্দরবান।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের স্থান - বাংলাবান্ধা।
- উপজেলা : তেঁতুলিয়া
- জেলা : পঞ্চগড়।

- সর্ব দক্ষিণের স্থান : ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্টমার্টিন।
- উপজেলা : টেকনাফ
- জেলা : কক্সবাজার

- সর্বপশ্চিমের:- স্থান : মনাকষা।
- উপজেলা : শিবগঞ্জ।
- জেলা : চাপাইনবাবগঞ্জ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,১২৬.
সমুদ্র উপকূল থেকে দূরবর্তী স্থানে কেমন জলবায়ু বিরাজ করে?
  1. উষ্ণভাবাপন্ন
  2. চরমভাবাপন্ন
  3. মৃদুভাবাপন্ন
  4. সমভাবাপন্ন
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর একটি নিয়ামক হলো সমুদ্র থেকে দূরত্ব। এই দূরত্বের কারণে একটি স্থানের জলবায়ুর পরিবর্তন নিম্নরূপ:

সমভাবাপন্ন: সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকার জলবায়ু সাধারণত এমন হয়ে থাকে। এইসব অঞ্চলের বায়ুর তাপমাত্রা শীত, গ্রীষ্ম ও দিন-রাত্রিতে তেমন পার্থক্য হয় না। সমুদ্র হতে প্রবাহিত আর্দ্র বায়ু শীতকালে বায়ুকে উষ্ণ ও গরমকালে বায়ুকে শীতল করে। 

মৃদুভাবাপন্ন: জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে। সমুদ্র উপকূলের জলবায়ু এমন ধরনের হয়। যেমন বাংলাদেশের কক্সবাজার।

চরমভাবাপন্ন: সমুদ্র উপকূল থেকে দূরবর্তী স্থানে চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বিরাজ করে। চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে গ্রীষ্মকালে তীব্র গরম, শীতকালে তীব্র শীত।

উৎস: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১২৭.
জাপানিজ শব্দ 'সুনামি' এর অর্থ কী?
  1. বিশালাকৃতির ঢেউ
  2. সামুদ্রিক ঢেউ
  3. জলোচ্ছ্বাস
  4. পোতাশ্রয়ের ঢেউ
ব্যাখ্যা
◉ জাপানিজ শব্দ 'সুনামি' এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।

• সুনামি:

- সুনামির (Tsunami) কারন হলো সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।
- সুনামি (Tsunami) জাপানি শব্দ। 
- এর শাব্দিক অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- এখানে 'tsu' অর্থ বন্দর বা harbour এবং 'nami' অর্থ সামুদ্রিক ঢেউ।
- সুনামির উৎপত্তি সমুদ্রতলে।
- সমুদ্র তলদেশে প্রবল ভূমিকম্প সংঘটিত হলে সমুদরপৃষ্ঠে বিশাল যে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয় তাকে সুনামি বলে।
- সর্বপ্রথম সুনামির কথা লিপিবদ্ধ হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে।

উৎস: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১২৮.
মেরুবায়ু কোন বায়ুপ্রবাহের অংশ?
  1. ক) নিয়ত বায়ু
  2. খ) স্থানীয় বায়ু
  3. গ) মৌসুমী বায়ু
  4. ঘ) সমুদ্র ও স্থলবায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহ:
- বায়ু সর্বদা একস্থান হতে অন্যস্থানে প্রবাহিত হয়।
- সাধারণত উচ্চচাপ বলয় থেকে শীতল ও ভারী বায়ু নিম্নচাপ বলয়ে প্রবাহিত হয়।
- বায়ু প্রবাহের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বায়ুপ্রবাহ উত্তর গোলার্ধের ডান দিকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের বাম দিকে বেঁকে যায়।
- বায়ুপ্রবাহ প্রধানত চার প্রকার।
• নিয়ত বায়ু,
• সাময়িক বায়ু,
• স্থানীয় বায়ু, 
• অনিয়মিত বায়ু।

নিয়ত বায়ু:
- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,১২৯.
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে কত সালে?
  1. ক) ২০১২ সালে
  2. খ) ২০১৩ সালে
  3. গ) ২০১৪ সালে
  4. ঘ) ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণ: ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এসব ইটভাটা যাতে পরিবেশ দূষণ ঘটাতে না পারে সেজন্য সরকার পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। কেননা ইটভাটায় সৃষ্ট ধোঁয়া বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ। সনাতন পদ্ধতিতে ইটভাটার পরিবর্তে জ্বালানি সাশ্রয়ী, বায়ুদূষণ রোধে কার্যকরি ও আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন নিশ্চিত করার জন্য ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে।

সূত্র: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৭,১৩০.
নিচের কোন দেশটি মিলেনেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত?
  1. ক) সামোয়া
  2. খ) নাউরু
  3. গ) পাপুয়া নিউগিনি
  4. ঘ) লাওস
ব্যাখ্যা
 • ওশেনিয়া মহাদেশ:
- ওশেনিয়া হল একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল যা অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং মেলানেশিয়া, মাইক্রোনেশিয়া এবং পলিনেশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরের উপ-অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে।
- ওশেনিয়ায় মোট ১৪টি দেশ রয়েছে।
- অস্ট্রেলিয়া ওশেনিয়ার বৃহত্তম এবং জনবহুল দেশ।

• ওশেনিয়ার দেশসমূহ:
- অস্ট্রেলিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, নিউজিল্যান্ড, ফিজি, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ, মাইক্রোনেশিয়া, ভানুয়াতু, সামোয়া, কিরিবাতি, টোঙ্গা, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, পালাউ, টুভ্যালু, নাউরু।

• অঞ্চলভিত্তিক ওশেনিয়ার দেশসমূহ:
- অস্ট্রেলিয়া - ১.অস্ট্রেলিয়া।
- নিউজিল্যান্ড - ১.নিউজিল্যান্ড।
- মাইক্রোনেশিয়া - ১. মাইক্রোনেশিয়া, ২. কিরিবাতি ৩. নাউরু, ৪. মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, ৫. পালাউ।

- মিলেনেশিয়া - "মেলানেশিয়া" শব্দটি গ্রীক থেকে এসেছে এবং এর অর্থ "কালো দ্বীপ"।
- মিলেনেশিয়া দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি অঞ্চল যা প্রায় ২,০০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
এই অঞ্চলের দেশগুলো হলো:
১. পাপুয়া নিউগিনি, ২. সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ৩. ভানুয়াতু এবং ৪. ফিজি।

- পলিনেশিয়া - ১. সামোয়া, ২. টোঙ্গা এবং ৩. টুভ্যালু।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৭,১৩১.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি টনের্ডো কোথায় হয়?
  1. ইন্দোনেশিয়া ও প্রশান্ত সাগরের নিকটবর্তী এলাকায়
  2. উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায়
  3. ভারত মহাসাগরের নিকট
  4. ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কায়
ব্যাখ্যা
টর্নেডো:
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়।
- এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে।
- এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তবে চোঙ ভূমি স্পর্শ না করলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় না।
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়। টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ু চাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি। তবে কখনো কখনো তা ৫ ইঞ্চি হয়ে যায়।
- বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে ১০০০ পাউন্ড।
- টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ মাইল হয়।
- পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
- সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১৩২.
হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান 'চন্দ্রনাথ পাহাড়' কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. কুমিল্লা
  3. মৌলভীবাজার
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

•বাংলাদেশের পাহাড়:
- ময়নামতি পাহাড় কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।
- চিম্বুক পাহাড় বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
- ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত - গারো পাহাড়।
- হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ পাহাড়  সীতাকুন্ডে অবস্থিত।
- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৪কি.মি. পূর্বে চন্দ্রনাথ পাহাড় অবস্থিত

-  কালাউড়া পাহাড় মৌলভীবিাজার জেলায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: কুলাউড়া উপজেলা, বান্দরবান জেলা, খাগড়াছড়ি জেলা, সীতাকুন্ড উপজেলা, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

৭,১৩৩.
বাংলাদেশের কোন ধরনের অঞ্চলে পেঁয়াজ ও গম বেশি উৎপন্ন হয়?
  1. পাহাড়ি অঞ্চল
  2. উপকূলীয় অঞ্চল
  3. খরাপ্রবণ অঞ্চল
  4. বর্ষা বনাঞ্চল
ব্যাখ্যা

• খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- বাংলাদেশে পেঁয়াজ ও গম প্রধানত দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ অঞ্চলে বেশি উৎপন্ন হয়। 
- এই অঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকে এবং আর্দ্রতা তুলনামূলকভাবে কম, যা উভয় ফসলের জন্য উপযোগী।

• গম: এটি মূলত নাতিশীতোষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার ফসল।
- উত্তরে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, কুষ্টিয়া, যশোর এবং রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে শীতকালে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার অনুকূল পরিবেশ গমের চারা বৃদ্ধি এবং দানা গঠনের জন্য সুবিধা দেয়।
• পেঁয়াজ: পেঁয়াজও শীত ও শুষ্ক আবহাওয়ায় ভালো জন্মায়। 
- খরিফ-১ গ্রীষ্মকালীন ও রবি মৌসুমে চাষ করা যায়, তবে উত্তরের উঁচু ও মধ্যম উর্বর জমিতে এবং পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকায় সবচেয়ে ভালো ফলন হয়।

উৎস: The Daily Ittefaq.

৭,১৩৪.
নিচের কোন সমুদ্র কিয়েল খাল দ্বারা সংযুক্ত?
  1. ক্যারিবিয়ান সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর
  2. বাল্টিক সাগর এবং উত্তর সাগর
  3. লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর
  4. বেরিং সাগর এবং প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
কিয়েল খাল:
- এটি উত্তর জার্মানির গুরুত্বপূর্ণ জলপথ।
- উত্তর সাগর এবং বাল্টিক সাগরকে সংযুক্ত করার জন্য ৯৮ কিমি (৬১ মাইল) পূর্ব দিকে প্রসারিত।
- খালটি দুটি সমুদ্রের মধ্যে সবচেয়ে নিরাপদ, সবচেয়ে সুবিধাজনক, সংক্ষিপ্ততম এবং সস্তা শিপিং রুট হিসেবে পরিচিত।
- এটি ১৬০মিটার (৫২৬ ফুট) প্রশস্ত।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে খালটি (কায়সার উইলহেম খাল নামে পরিচিত ছিল) জার্মান সরকারের মালিকানাধীন ছিল।
- খালটি বাল্টিক শিপিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসাবে রয়ে গেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা.কম।
৭,১৩৫.
মধুপুর গড়ের প্রধান বৃক্ষ কোনটি?
  1. সেগুন
  2. গর্জন
  3. শাল
  4. বৈলাম
ব্যাখ্যা
মধুপুর গড়:
- মধুপুর গড় বাংলাদেশের কেন্দ্রভাগে অবস্থিত একটি বৃহৎ উত্থিত এলাকা।
- এই গড়ের দক্ষিণাংশ ভাওয়াল গড় এবং উত্তরাংশ মধুপুর গড় নামে পরিচিত।
- ভূতাত্ত্বিকভাবে এই অঞ্চলটি একটি সোপান এলাকা, যা সংলগ্ন প্লাবনভূমির তুলনায় এক থেকে দশ মিটার উঁচু।
- মধুপুর গড়ের মোট বিস্তার ৪,২৪৪ বর্গ কিমি।
- টাঙ্গাইল-গাজীপুর ও নরসিংদীর অধিকাংশ ভূমির গঠন একই রকম, যা মধুপুর গড় নামে পরিচিত।
- বনের প্রধান বৃক্ষ শাল, যার ফলে এই বনের নামকরণ হয় শালবন।
- কোচ এবং মান্ডা (গারো) নামক দুটি উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর বাস এই মধুপুর গড়ে, যারা মধুপুরের শালবনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল।
- কোচ উপজাতী বাংলাদেশের প্রাচীনতম জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক কালের কন্ঠ, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১।
৭,১৩৬.
Malacca Strait কোথায় অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে
  2. প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. দক্ষিণ এশিয়াতে
  4. আফ্রিকা মহাদেশে
ব্যাখ্যা
মালাক্কা প্রণালী:
- মালাক্কা প্রণালী দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াতে মালয় উপদ্বীপ এবং ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যে অবস্থিত একটি সমুদ্রপ্রণালী।
- এটি ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযোগকারী জলপথ।
- মালাক্কা প্রণালী সুমাত্রা এবং মালয় উপদ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ২৫,০০০ বর্গ মাইল (৬৫,০০০ বর্গ কিমি)।
- প্রণালীটি ৫০০ মাইল (৮০০ কিমি) দীর্ঘ।
- এটি দক্ষিণে মাত্র ৪০ মাইল (৬৫ কিমি) ও উত্তরে ১৫৫ মাইল (২৪৯ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত।
- প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণকারী শিপিং চ্যানেলগুলির মধ্যে একটি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭,১৩৭.
দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা কোন বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অন্তর্গত?
  1. ক) সাধারণ ব্যবস্থাপনা
  2. খ) সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনা
  3. গ) শ্রমসাধ্য ও ব্যয়বহুল প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
দেশের সর্বত্র বনায়ন সৃষ্টি করা, শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেওয়া, বন্যা প্রবণ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বন্যা লেভেলের উপরে আশ্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার অন্তর্গত। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৭,১৩৮.
নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন কোনটির আওতাভুক্ত?
  1. পুনরুদ্ধার
  2. প্রতিরোধ
  3. উন্নয়ন
  4. সাড়া দান
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
দুর্যোগ মোকাবিলার জন্যে দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতির কাজ সম্পন্ন করা আবশ্যক, যা মূলত আক্রান্ত অঞ্চলের অধিবাসীদেরকে দুর্যোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে ও সংঘটনের অব্যবহিত পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদান যেমন- সাড়াদান, পুনরুদ্ধার, প্রশমন উন্নয়ন, প্রতিরোধ, পূর্বপ্রস্তুতি কার্যক্রম সম্পাদন করা প্রয়োজন।

• সাড়াদান (Response):
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন।
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম -১০ম শ্রেনি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১৩৯.
খুলনা হার্ডবোর্ড মিলে কাঁচামাল হিসেবে কোন কাঠ ব্যবহৃত হয়?
  1. চাপালিশ
  2. কেওয়া
  3. সুন্দরী
  4. গেওয়া
ব্যাখ্যা

• খুলনা হার্ড বোর্ড মিলস লি: 
- খুলনা হার্ড বোর্ড মিলস লি, শহর খালিশপুর, খুলনা দেশের একমাত্র সরকারি হার্ডবোর্ড কারখানা। 
- খুলনা হার্ড বোর্ড মিলস লি এর স্থাপনা তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইপিআইডিসি'র) সময়ে ১৯৬৫ সালে। 
- কারখানাটি কানাডীয় সরকারি সাহায্য সংস্থার সহায়তায় স্থাপিত হয়। 
- এটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) এর অধিনস্ত একটি প্রতিষ্ঠান। 
- কারখানার প্রধান কাঁচামাল সুন্দরবনে উৎপাদিত কাঁচা সুন্দরী জ্বালানী কাঠ।
- দেশের একমাত্র সরকারি হার্ডবোর্ড মিলটি ১৯৬৫ সালে স্থাপন করা হয়। 
- কানাডীয় অনুদানে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান শিল্প উন্নয়ন সংস্থা মিলটি স্থাপন করে। 
- স্বাধীনতার পরে সেটি বিসিআইসির কাছে আসে। 
- তখন কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৩ কোটি বর্গফুট।

উল্লেখ্য,
বর্তমানে মিলটি বন্ধ রয়েছে এবং মিলটি চালুর জন্য বাংলাদেশের অন্তবর্তাকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: খুলনা হার্ড বোর্ড মিলস লি. ও প্রথম আলো।

৭,১৪০.
সুন্দরবনের পরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন কোনটি?
  1. লাউয়াছড়া
  2. সাঙ্গু-মাতামুহুরী
  3. রেমা-কালেঙ্গা
  4. টেংরাগিরি
ব্যাখ্যা

রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনাঞ্চল রেমা-কালেঙ্গা।
- এটি সুন্দরবনের পরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন।

⇒ 
রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্যে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বনাঞ্চল।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার খুব কাছে এবং ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন।

⇒ রেমা–কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির আরো সম্প্রসারণ করা হয়।
- বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের চারটি বিটের (কালেঙ্গা, রেমা, ছনবাড়ী আর রশিদপুর) মধ্যে রেমা, কালেঙ্গা আর ছনবাড়ী বিস্তীর্ণ জঙ্গল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য গঠিত।
- বর্তমানে এই বনে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা-লতাগুল্ম পাওয়া যায়।
- রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমে আছে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সাত প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৬৭ প্রজাতির পাখি। এছাড়া ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্মও আছে।

অন্যদিকে,
- টেংরাগিরি বনাঞ্চলটি সুন্দরবনের পর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

৭,১৪১.
”সুয়েজ খাল” কোথায় অবস্থিত?
  1. পেরু
  2. মরক্কো
  3. ভেনেজুয়েলা
  4. মিশর
ব্যাখ্যা

• সুয়েজ খাল- 
- মিশরের সিনাই উপদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত সুয়েজ খাল মনুষ্য নির্মিত একটি কৃত্রিম খাল। 
- খালটি ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরের মাঝে সংযোগ স্থাপন করে।
- ১৮৫৯ সালে শুরু হয়ে দশ বছর ধরে চলে এই খনন কাজ।
- ১৮৬৯ সালে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয় এটি।
- মিশর ১৯৫৬ সালে সুয়েল খালকে জাতীয়করণ করে।

উৎস: Suez Canal Authority.

৭,১৪২.
নিচের কোনটিকে বাংলার দার্জিলিং বলা হয়?
  1. জৈন্তা পাহাড়
  2. নীলগিরি পাহাড়
  3. লালমাই পাহাড়
  4. গারো পাহাড়
ব্যাখ্যা
- বান্দরবান জেলায় অবস্থিত নীলগিরি পাহাড়কে বাংলার দার্জিলিং বলা হয়।
- এটি বান্দরবান-থানছি সড়কের পাশে অবস্থিত যার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২,২০০ ফুট। এটি দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ওয়েবসাইট)
৭,১৪৩.
ইক্ষু উৎপাদনের জন্য কত সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন?
  1. ১২০ সেন্টিমিটার
  2. ১৫০ সেন্টিমিটার
  3. ১৩০ সেন্টিমিটার
  4. ১৪০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

ইক্ষু (Sugarcane): 
- চিনি ও গুড় উৎপাদনের জন্য ইক্ষু বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ফসল।
- ইক্ষু চাষের জন্য সমতলভূমি প্রয়োজন। রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, ঢাকা, যশোর ও ময়মনসিংহ ইক্ষু চাষের প্রধান অঞ্চল।
- ইক্ষু উৎপাদনের জন্য ১৯০ থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং কমপক্ষে ১৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন।
- বেলে দোআঁশ ও কর্দমময় দোআঁশ মাটিতে ইক্ষু চাষ ভালো হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,১৪৪.
বাংলাদেশে সৃষ্ট বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ কোনটি?
  1. মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব
  2. বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার
  3. নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া
  4. নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে বন্যার মানবসৃষ্ট কারণ- নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।

• বন্যার কারণসমূহ-
⇒ মানব সৃষ্ট কারণ:
- অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জলাধার ভরাট করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্ন করা।
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- গঙ্গা নদীর উপর ফারাক্কা ও তিস্তা নদীর উপর নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- বালু ভরাট করে নদীসমূহের স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দান।

⇒ প্রাকৃতিক কারণ:
- বর্ষাকালে উত্তরাঞ্চলে নদীর উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- মূল নদীসমূহের গভীরতা হ্রাস পাওয়া।
- বঙ্গোপসাগরে ভরা জোয়ার।
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ।
- শাখা নদীগুলো পলি দ্বারা ভরাট হয়ে যাওয়া।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম ১০ম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,১৪৫.
চীনের দু:খ নামে পরিচিত কোন নদী?
  1. ইয়াংসিকিয়াং নদী
  2. মেকং নদী
  3. হোয়াংহো নদী
  4. পার্ল নদী
ব্যাখ্যা
→ চীনে দু:খ বলা হুয়াংহো নদী।

• হুয়াংহো নদী:

- হুয়াংহো বা ইয়েলো রিভার (Yellow River) চীনের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- এটি বিশ্বের ষষ্ঠ দীর্ঘতম নদী।
- যা চীনের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলো দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- এই নদীটি চীনের সভ্যতার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত
- এর বুকে জমে থাকা বালির কারণে পানির হলুদ রঙের জন্য বিখ্যাত।
- হুয়াংহে নদীটি চীনের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী বন্যার জন্য পরিচিত।
- ১,৫৯৩ বার বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে।
- তাই এ নদী কে চীনে দু:খ বলা হয়।

উল্লেখ্য, 
- ১৯৩১ সালের বন্যায়  এই বন্যায় প্রায় ৮০ মিলিয়ন মানুষ গৃহহীন হয়েছিল।
- এবং ৩৪,০০০ বর্গমাইল এলাকা প্লাবিত হয়েছিল।
-  প্রবাহিত প্রদেশসমূহ:
- চীনের কুইংহাই, সিচুয়ান, গানসু, নিংশিয়া, অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়া, শানসি, , হেনান ও শানডং প্রদেশ।
৭,১৪৬.
স্পারসো কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৮০ সালে
  2. ১৯৮১ সালে
  3. ১৯৮২ সালে
  4. ১৯৮৩ সালে
ব্যাখ্যা
স্পারসো:
- বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) প্রযুক্তি ভিত্তিক বহুমাত্রিক গবেষণা ও প্রয়োগ বিষয়ে একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
- প্রতিষ্ঠানটির ম্যান্ডেট হচ্ছে- কৃষি, বন, মৎস্য, ভূতত্ত্ব, মানচিত্র অংকন, পানি সম্পদ, ভূমি ব্যবহার, আবহাওয়া, পরিবেশ, ভূগোল, সমুদ্র বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অন্যান্য ক্ষেত্রে মহাকাশ ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা এবং উক্ত প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য গবেষণা কাজ পরিচালনা করা।
- ১৯৮০ সালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধীন স্পারসো প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন স্থানান্তর করা হয়।
- ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ২৯ নম্বর আইন দ্বারা স্পারসোকে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়।
- ১৯৯৫ সালে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে মহাকাশ সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য স্পারসোকে “ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট” নির্ধারণ করা হয়।
- মহাকাশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, বন, সমুদ্রবিজ্ঞান, মহাকাশ ও বায়ুমন্ডল, পানিসম্পদ বিষয়ে গবেষণার দ্বারা নিজস্ব সক্ষমতা উন্নীতকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালীকরণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিবীক্ষণ ও পূর্বাভাস প্রদান করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য।

তথ্যসূত্র - স্পারসো অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
৭,১৪৭.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
  2. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
  3. মহাশুন্যে অভিযান
  4. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
মেরু অঞ্চলের বরফ গলন
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,১৪৮.
পারস্য উপসাগরের উপকূলীয় দেশ নয় কোনটি?
  1. কুয়েত
  2. ওমান
  3. বাহরাইন
  4. সিরিয়া
ব্যাখ্যা

পারস্য উপসাগর: 
- পারস্য উপসাগরকে কখনও কখনও আরব উপসাগর বা ইরান উপসাগর নামেও ডাকা হয়।
- এটি আনুমানিক ২,৫১০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এবং এর সর্বোচ্চ গভীরতা ৯০ মিটার, আর গড় গভীরতা ৫০ মিটার।
- এই উপসাগরটি ইরান ও আরব উপদ্বীপের মাঝে অবস্থিত। 
- এটি হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ওমান উপসাগরের সাথে যুক্ত।
- ইরানের উল্লেখযোগ্য দ্বীপ: গেশম, হরমুজ, বাহরাইন, আবু মুসা, এবং খার্ক/খার্গ এই উপসাগরে অবস্থিত।

• পারস্য উপসাগরের আটটি উপকূলীয় দেশ হলো:
- বাহরাইন,
- ইরান,
- ইরাক,
- কুয়েত,
- ওমান,
- কাতার,
- সৌদি আরব এবং
- সংযুক্ত আরব আমিরাত।

উল্লেখ্য,
- পারস্য উপসাগরে উপকূলীয় দেশ নয় সিরিয়া।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৭,১৪৯.
Which is known as the Gate of Tears?
  1. Gibraltar
  2. Dardanelles
  3. Bab-el-Mandeb
  4. Bering
  5. Sunda
ব্যাখ্যা
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী 'Gate of Tears' বা ‘কান্নার দ্বার’ নামে পরিচিত।

বাব এল-মান্দেব প্রণালী:
- এশিয়া-আফ্রিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে বাব এল-মান্দেব প্রণালী।
- বাব এল-মান্দেব প্রণালী, আরবি বাব আল-মান্দব, আরব এবং আফ্রিকা (দক্ষিণ-পশ্চিম) মধ্যবর্তী প্রণালী যা লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর এবং ভারত মহাসাগর (দক্ষিণ-পূর্ব) এর সাথে সংযুক্ত করে।
- প্রণালীটি ৩২ কিমি প্রশস্ত এবং পেরিম দ্বীপ দ্বারা দুটি চ্যানেলে বিভক্ত।পশ্চিম চ্যানেলটি ২৬কিমি জুড়ে এবং পূর্ব দিকে ৩ কিমি প্রশস্ত।
- সুয়েজ খাল নির্মাণের সাথে, প্রণালীটি ভূমধ্যসাগর এবং পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগের একটি অংশ গঠন করে।
- প্রণালীটির আরবি নামের অর্থ ‘কান্নার দ্বার’।
- প্রণালীটি এডেন উপসাগর, গভীর জলের অববাহিকা যা লোহিত সাগর এবং আরব সাগরের মধ্যে একটি প্রাকৃতিক সমুদ্র সংযোগ তৈরি করে।
- প্রণালীটির মোট দৈর্ঘ্য, পূর্ব-উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ১৪৮০ কিমি, এবং এর গড় প্রস্থ, উত্তর-উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে পরিমাপ করা হয় ৪৮০ কিমি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭,১৫০.
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ কোন দুর্যোগের জন্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ?
  1. ক) বন্যা
  2. খ) ভূমিকম্প
  3. গ) নদীভাঙন
  4. ঘ) খরা।
ব্যাখ্যা
২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করে।
এগুলো হচ্ছে - 
- মরুকরণ,
- বন্যা,
- ঝড়,
- সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং
- কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা।

- এই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ সহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বন্যা ঝুঁকিতে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অর্থাৎ ১ নম্বরে।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।