বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৭১ / ৭২ · ৭,০০১৭,১০০ / ৭,১৯১

৭,০০১.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়?
  1. ট্রপোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. স্ট্রাটোমন্ডল
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমন্ডল: 
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমন্ডল।
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause)।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না। এ
- রপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০ সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- এ স্তরে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ উভয়ই কম।
- স্ট্রাটোমন্ডলে জলীয়বাষ্প ও ধূলিকণার পরিমাণ খুব নগন্য এবং প্রায় মেঘশূন্য থাকে।
- এই স্তরে বাতাস অত্যন্ত হালকা। বাতাসের ঊর্ধ্ব বা নিম্ন গতি নেই, তবে সমান্তরাল গতি দেখা যায়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ঝড়-বৃষ্টি থাকে না বলে এ স্তরের মধ্য দিয়েই সাধারণত বিমান চলাচল করে থাকে।
- স্ট্রাটোমন্ডলের উপরের দিকে ওজোন (ozone) গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল বা Ozonesphere নামে পরিচিত। 
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি (Ultral Violet Rays) শোষণ করে। 
- জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর।
- তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌঁছাতে পারে না।
- এ স্তর সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করায় তাপমাত্রা (প্রায় ৭৬ সেলসিয়াস) অনেক বেশি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০০২.
কে ''ষাট গম্বুজ'' মসজিদ নির্মাণ করেন?
  1. ক) হযরত আমানত শাহ্‌
  2. খ) বায়েজিদ বোস্তামী
  3. গ) পীর খান জাহান আলী
  4. ঘ) সুফি শাহ্‌ মখদুম
ব্যাখ্যা

ষাট গম্বুজ মসজিদ
- ষাট গম্বুজ মসজিদ বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ।
- মসজিদটি খান-ই-জাহান আলী নির্মাণ করেছিলেন।
- তিনি ১৫শ শতাব্দীতে এটি নির্মাণ করেন। 
- এটি বাংলাদেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের একটির মধ্যে অবস্থিত।
- ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই সম্মান প্রদান করে।
- সুলতান নসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের (১৪৩৫-৫৯) আমলে খান আল-আজম উলুগ খানজাহান সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে খলিফাবাদ রাজ্য গড়ে তোলেন।
- খানজাহান বৈঠক করার জন্য একটি দরবার হল গড়ে তোলেন, যা পরে ষাট গম্বুজ মসজিদ হয়।

উৎস: ষাট-গম্বুজ-মসজিদ - বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন-গণপ্রজাতন্ত্রী, parjatan.gov.bd.

৭,০০৩.
কোনটি পরিবেশবান্ধব শিল্প ব্যবস্থপনায় ব্যবহৃত ‘5R strategy' এর অংশ নয়?
  1. ক) Refuse
  2. খ) Reduce
  3. গ) Recycle
  4. ঘ) Rework
ব্যাখ্যা
5 R Strategy
- 'রিসাইক্লিং'- এর আগে সম্ভব হলে চারটি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত: refuse, reduce, reuse, repurpose, and then recycle.
- ব্যবসার বর্জ্য হ্রাস এবং পুনর্ব্যবহার করার প্রচেষ্টায় এই পদ্ধতিটি অন্তর্ভুক্ত করা ল্যান্ডফিল বর্জ্যকে কমিয়ে দেবে।
- এবং পুনর্ব্যবহার কর্মসূচিকে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যেতে সহায়তা করবে। 
- এই স্ট্র্যাটেজি বাড়ির মধ্যে টেকসই জীবনযাপনের জন্য একটি ব্যবহারিক এবং কার্যকর পদ্ধতির প্রস্তাব দেয়।
- এই নীতিগুলি গ্রহণ করে আমরা অপচয় কমাতে পারি, সম্পদ সংরক্ষণ করতে পারি এবং একটি পরিষ্কার এবং সবুজ গ্রহে অবদান রাখতে পারি।
- 5Rs আলিঙ্গন করার দিকে আমাদের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের আরও টেকসই ভবিষ্যতের কাছাকাছি নিয়ে আসে।


উৎস: The 5 R's: Refuse, Reduce, Reuse, Repurpose, Recycle, RoadRunner Recycling।
৭,০০৪.
কোন দেশগুলো মেডিসিন লাইন/সীমানা দ্বারা বিভক্ত?
  1. ব্রাজিল ও বলিভিয়া
  2. যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা
  3. জার্মানি ও পোল্যান্ড
  4. মিশর ও সুদান 
ব্যাখ্যা

◉ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা মেডিসিন লাইন দ্বারা বিভক্ত।

মেডিসিন লাইন/সীমানা (Medicine Line):
- মেডিসিন লাইন (Medicine Line) হলো যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার সীমানা।
- বিশেষ করে ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা (49th parallel) বরাবর টানা সীমারেখাকে বোঝাতে মেডিসিন লাইন ব্যবহার করা হয়।
- ৪৯° উত্তর অক্ষরেখা  (49° N latitude) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মধ্যে দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমান্তের একটি অংশ যা প্রধানত সোজা রেখা।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ অরক্ষিত (unfortified) সীমান্ত হিসেবে পরিচিত।
- এটি প্রায় ৫,৫২৫ মাইল দীর্ঘ সীমান্ত। 
- এই সীমান্ত ১৮৪৬ সালের ওরেগন ট্রিটি (Oregon Treaty) দিয়ে নির্ধারিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- কানাডার স্থানীয়রা এই লাইনটিকে মেডিসিন লাইন হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। 

অন্যদিকে,  
- ওডার-নীস লাইন হলো জার্মানি এবং পোল্যান্ডের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সীমানা।
- ২২° উত্তর অক্ষরেখা (22°N parallel) মিশর এবং সুদানের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক সীমানা। এটি হালায়েব ত্রিভুজ (Hala'ib Triangle) নামেও পরিচিত।

উৎস: i) Americas.org
ii) History.com

৭,০০৫.
ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বেতারতরঙ্গ কোন স্তরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) আয়নমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠের উপরের দিকে ৮০ কি.মি. থেকে ৫০০ কি.মি. পর্যন্ত স্তর হলো তাপমন্ডল। তাপমন্ডলের নিচের অংশকে বলা হয় আনয়মন্ডল।
ভূপৃষ্ঠ থেকে পাঠানো বিভিন্ন বেতারতরঙ্গ আয়নমন্ডলের বিভিন্ন আয়নে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরে আসে।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,০০৬.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয় -
  1. ক) আসাম
  2. খ) মেঘালয়
  3. গ) হরিয়ানা
  4. ঘ) ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য ৫টি। যথা- আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয় - হরিয়ানা।

• সীমান্তবর্তী স্থান:

 বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য নয়- বিহার।
• উত্তরে- ভারতের পশ্চিবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশ।
• পূবে - ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম প্রদেশ এবং মিয়ানমার।
• দক্ষিণে - বঙ্গোপসাগর, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ (ভারত), মিয়ানমার।
• পশ্চিমে - ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ।
• ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
• মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি।
• ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের একমাত্র জেলা রাঙামাটি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০০৭.
'আল্পস পর্বতমালা' কোন শ্রেণির পর্বত?
  1. ক্ষয়জাত পর্বত
  2. চ্যুতি-স্তূপ পর্বত
  3. ভঙ্গিল পর্বত
  4. আগ্নেয় পর্বত
ব্যাখ্যা
ভঙ্গিল পর্বত (Folded Mountain):
- পাললিক শিলাস্তর আনুভূমিক আলোড়ন বা মহাদেশীয় পর্বতের সংকোচনের ফলে কুঞ্চিত হয়ে ঢেউয়ের আকারে যে পর্বত সৃষ্টি হয় তাকে ভঙ্গিল পর্বত বলে।
- চার ধরনের পর্বতের মধ্যে ভঙ্গিল পর্বত সর্বাধিক বিস্তৃত।
- অভিসারী প্লেট সীমানায় সংকোচনজনিত চাপে এ ধরনের পর্বত গঠিত হয় বলে এর শিলা কাঠামো ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত।
- ভঙ্গিল পর্বত সাধারণত পাললিক শিলা দ্বারা গঠিত।
-যেমন: এশিয়ার হিমালয়, দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ, উত্তর আমেরিকার রকি এবং ইউরোপের আল্পস পর্বতমালা।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০০৮.
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোন রেখাটি অতিক্রম করেছে?
  1. ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
  2. ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
  3. ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ক ও খ উভয়
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখা:
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত।
- যেটি ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত।
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
- অর্থাৎ বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে পশ্চিম-পূর্বে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা বা ট্রপিক অব ক্যান্সার (কর্কটক্রান্তি রেখা) অতিক্রম করেছে।
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে।

উল্লেখ্য,
- ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০০৯.
ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত- 
  1. মাদাগাস্কার
  2. সাইপ্রাস
  3. মরিশাস
  4. কমোরোস
ব্যাখ্যা

- সাইপ্রাস ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত।

ভূমধ্যসাগর:

- ভূমধ্যসাগর আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে জিব্রাল্টার প্রণালী দ্বারা সংযুক্ত।
- এটি পশ্চিমে জিব্রাল্টার থেকে পূর্বে মধ্যপ্রাচ্য পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এর উত্তরে ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিসের মতো দেশ থেকে দক্ষিণে মিশর, লিবিয়া এবং তিউনিসিয়ার মতো দেশ পর্যন্ত প্রসারিত।
- এর মোট আয়তন প্রায় ২.৫ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার।
- গভীরতা: ভূমধ্যসাগরের গড় গভীরতা প্রায় ১,৫০০ মিটার,
- তবে এর গভীরতম স্থান, ক্যালিপসো ডিপ, প্রায় ৫,২৬৭ মিটার গভীর।
- দ্বীপপুঞ্জ: সিসিলি, সার্ভিনিয়া, ক্রিট, মাল্টা এবং সাইপ্রাস।

অন্যদিকে,
- ভারত মহাসাগরে অবস্থিত: মাদাগাস্কার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মরিশাস,, কমোরোস, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লক্ষদ্বীপ।
- দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থিত: স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জ, প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ, ম্যাকাও, লুজন।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৭,০১০.
জিব্রাল্টার প্রণালী পৃথক করেছে-
  1. ক) ইতালি-সিসিলি
  2. খ) আফ্রিকা-স্পেন
  3. গ) ফ্রান্স-ব্রিটেন
  4. ঘ) আমেরিকা-এশিয়া
ব্যাখ্যা

জিব্রাল্টার প্রণালী পৃথক করেছে আফ্রিকা-স্পেন।
মেসিনা প্রণালী পৃথক করেছে ইতালী-সিসিলি।
বেরিং প্রণালী পৃথক করেছে এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে।

৭,০১১.
'মহেশখালী দ্বীপ' কোন ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
  2. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  3. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ এবং
খ. উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- মহেশখালী কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একমাত্র পার্বত্য দ্বীপ।
- মহেশখালী দ্বীপে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় রয়েছে।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত। এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

তথ্যসূত্র:
i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০১২.
আঙ্গরপোতা ছিটমহল বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) বাগেরহাট
  2. খ) লালমনিরহাট
  3. গ) নীলফামারী
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
লালমনিরহাট জেলার বৃহত্তম ছিটমহল দুটি হচ্ছে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা। তিন বিঘা করিডরের মাধ্যমে এই দুই ছিটমহলকে মূল ভূখন্ডের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৭,০১৩.
সাহারা মরুভূমি কোথায় অবস্থিত?
  1. এশিয়া মহাদেশে
  2. আফ্রিকা মহাদেশে
  3. দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ
  4. ওশেনিয়া মহাদেশে
ব্যাখ্যা

সাহারা মরুভূমি:
- প্রায় ৯,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমিকে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ (গরম) মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- আয়তনের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি,
- শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের মেরু মরুভূমির পরেই অবস্থান।
- এবং এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩১% অংশ দখল করে রেখেছে।
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, মরক্কো, তিউনিশিয়া, চাঁদ, মালি, নাইজার, মরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা।
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৭,০১৪.
ভলগা নদী কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইউক্রেন
  2. রাশিয়া
  3. জার্মানি
  4. পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা

- ভলগা নদী রাশিয়ায় অবস্থিত।

• ভলগা নদী (Volga River):
- উৎপত্তি: মস্কোর উত্তরে ভ্যালডাই হিলস।
-পতিত হয়েছে:  ক্যাসপিয়ান সাগরে, দক্ষিণে প্রায় ৩,৫৩০ কিমি দূরে।
- নদীর মোট দৈর্ঘ্য: প্রায় ৩,৫৭,০০০ মাইল।
- এটি প্রায় ২০০ উপনদী, ১,৫১,০০০ নদী ও স্থায়ী ও অস্থায়ী নালা সমন্বিত।

- এটি ইউরোপের দীর্ঘতম নদী এবং পশ্চিম রাশিয়ার প্রধান নৌপথ।
- এটি রাশিয়ার ঐতিহাসিক কেন্দ্রস্থল এবং দেশের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূল উৎস।
- ভলগা নদীর অববাহিকা ইউরোপীয় রাশিয়ার প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ এলাকায় বিস্তৃত এবং এটি প্রায় রাশিয়ার জনসংখ্যার অর্ধেকের আবাসস্থল।
- অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে এটি বিশ্বের প্রধান নদীর মধ্যে গণ্য।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

৭,০১৫.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা কত?
  1. ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. ১৫০ নটিক্যাল মাইল
  3. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৭০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের দক্ষিণ অংশে বাংলাদেশ অবস্থিত।
- ২০°৩৪' উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষরেখা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- আর ৮৮°০১' পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২°৪১' পূর্ব দ্রাঘিমারেখা পর্যন্ত বিস্তৃত আমাদের এই দেশ।
- বাংলাদেশের প্রায় মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫) অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।
- দক্ষিণে অবস্থিত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।
- পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ,
- উত্তরে পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং আসাম ও মেঘালয় রাজ্য,
- পূর্বে আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য এবং মিয়ানমার অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- বঙ্গোপসাগরের উপকূল রেখার দৈর্ঘ্য ৭১৬ কিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল বা ২২.২২ কিলোমিটার।
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল বা ৩৭০.৪০ কিলোমিটার। 
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০১৬.
The city 'Frankfurt' is renowned for
  1. ক) Agricultural Product
  2. খ) Book Fair
  3. গ) Medicine Industry
  4. ঘ) Ice Hockey
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের বৃহত্তম বইমেলা অনুষ্ঠিত হয় জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরে।
- প্রতি বছর অক্টোবর মাসে বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়।
- প্রায় ৫০০ বছর ধরে ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলা আয়োজিত হয়ে আসছে।

সূত্র: ডেইলি স্টার। 
৭,০১৭.
কুশিয়ারা ও সুরমা নদী মিলিত হয়েছে- 
  1.  চাঁদপুর 
  2. আজমিরীগঞ্জ 
  3. ভৈরব
  4. গোয়ালন্দ
ব্যাখ্যা

- কুশিয়ারা ও সুরমা: আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।

গুরত্বপূর্ণ নদীসমূহের মিলিত স্থান:
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা: ভৈরব বাজার।
-  হালদা ও কর্ণফুলী: কালুরঘাট, চট্টগ্রাম।
- তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র: চিলমারি, কুড়িগ্রাম।
- পদ্মা ও যমুনা: গোয়ালন্দ, রাজবাড়ি।
- পদ্মা ও মেঘনা: চাঁদপুর।
- কুশিয়ারা ও সুরমা: আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০১৮.
নিচের কোন জেলায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় আছে?
  1. বগুড়া
  2. রাজশাহী
  3. মৌলভীবাজার
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে আবার দুইভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো-
• দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।
• উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড় এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র দেশ সাম্প্রতিককালের পলি দ্বারা গঠিত এক বিস্তীর্ণ সমভূমি।
- এই প্লাবন সমভূমির বয়স ১২,০০০ বছরের কম।
- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রভৃতি প্রধান নদীসহ অসংখ্য উপনদী এবং শাখানদী জালের ন্যায় সমগ্র দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। ন
- বন্যার সঙ্গে বাহিত পলিমাটি সঞ্চিত হয়ে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই প্লাবন সমভূমি সৃষ্টি হয়েছে।
- এ প্লাবন সমভূমির আয়তন প্রায় ১,২৪,২৬৬ বর্গকিলোমিটার।
- এ অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য জলাভূমি ও নিম্নভূমি। স্থানীয়ভাবে এগুলোকে বিল, ঝিল ও হাওড় বলে।
- রাজশাহী অঞ্চলের চলনবিল, ঢাকার আড়িয়াল বিল, গোপালগঞ্জের বিল, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ময়মনসিংহ এবং শেরপুর জেলার হাওড় ও বিল উল্লেখযোগ্য।
- মেঘনা নদীর মোহনায় হাতিয়া, সন্দ্বীপ, শাহবাজপুর এবং ভোলা জেলায় বেশ কিছু দ্বীপ অবস্থিত। এছাড়া দক্ষিণ উপকূলে আরও কিছু ছোট ছোট দ্বীপ রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০১৯.
ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি স্থল-
  1. ক) সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল
  2. খ) কৈলাশ শৃঙ্গের মানস হ্রদ
  3. গ) আসামের লুসাই পাহাড়
  4. ঘ) মিজোরামের লুসাই পাহাড়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল:

- করতোয়া নদী সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- পদ্মা নদী গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদী আসামের লুসাই পাহাড়।
- কর্ণফুলী নদী মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয়ের কৈলাশ শৃঙ্গের মানস হ্রদ। 
- সাঙ্গু নদী মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদী খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদী মহালড্রীম, দার্জিলিং থেকে উৎপত্তি স্থল।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০২০.
কেন্দ্রমণ্ডল প্রধানত কোন কোন পদার্থ দ্বারা গঠিত?
  1. অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  2. সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম
  3. লৌহ ও নিকেল
  4. ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

• কেন্দ্রমণ্ডল:
- গোলাকার পৃথিবীর ব্যাসার্ধ প্রায় ৬৩৭১ কি.মি.।
- পৃথিবীর কেন্দ্রের চারদিকে প্রায় ৩৪৮৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের যে গোলক রয়েছে, সেই গোলকটির নাম কেন্দ্রমন্ডল।
- বৈজ্ঞানিকদের মতে, কেন্দ্রমণ্ডল লৌহ, নিকেল, পারদ, সীসা প্রভৃতি কঠিন ও ভারী গদার্থ দ্বারা গঠিত।
- এ স্তরে নিকেল (Nickel) ও লৌহের (Ferus) পরিমাণ বেশি থাকায় এ স্তরটি সংক্ষেপে নাইফ (Nife) নামে পরিচিত।
- এটি পানি অপেক্ষা ১০/১২ গুণ এবং পৃথিবীর অন্যান্য অংশ অপেক্ষা দ্বিগুণের অধিক ঘন।
- কিন্তু প্রচণ্ড তাপ ও চাপে এটি সম্ভবত কঠিন অবস্থায় নেই।

উল্লেখ্য,
- ভূকম্পন তরঙ্গ থেকে বুঝা যায় যে, কেন্দ্রমণ্ডল দুটি অংশে বিভক্ত: বাইরের অংশ এবং ভিতরের অংশ।
- বাইরের অংশ তরল এবং ভিতরের অংশ কঠিন অবস্থায় আছে বলে অনুমান করা হয়।
- কেন্দ্রমন্ডলের বাইরের অংশের বিস্তৃতি প্রায় ২২৭০ কি.মি.।
- কেন্দ্রমন্ডলের ভিতরের অংশটি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,২১৬ কি.মি. ব্যাসার্ধের মধ্যে কঠিন অবস্থায় রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; নবম দশম শ্রেণি।

৭,০২১.
কোন জলবায়ুতে মানুষ বসবাস করতে পছন্দ করে?
  1. ক) সমভাবাপন্ন
  2. খ) শীত
  3. গ) চরমাভাবাপন্ন
  4. ঘ) গরম
ব্যাখ্যা
জলবায়ুর প্রভাব জনবসতির বন্টন নিয়ন্ত্রণ করে। চরমভাবাপন্ন জলবায়ুর চেয়ে সমভাবাপন্ন জলবায়ুতে মানুষ বসবাস করতে পছন্দ করে। (রেফারেন্সঃ নবম দশম শ্রেণির ভূগোল)
৭,০২২.
মহাকাশে নীহারিকা বলতে কী বোঝায়?
  1. সূর্যের কাছাকাছি এক ধূমকেতু
  2. মহাকাশে গ্রহ ও উপগ্রহের সমষ্টি 
  3. মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ
  4. পৃথিবীর নিকটে আলো উৎপন্ন করা জ্যোতিষ্ক
ব্যাখ্যা

• নীহারিকা (Nebula): 
- নীহারিকা হলো মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ। 
- নীহারিকা হলো ধূলিকণা, হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস এবং প্লাজমা দ্বারা গঠিত এক ধরনের বিশাল আন্তঃনাক্ষত্রিক মেঘ। 
- দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে এদেরকে মহাকাশে অসংখ্য স্বল্পালোকিত তারকার আস্তরণ বা মেঘের মতো দেখায়। 
- এদের আকার বিচিত্র। কিছু নীহারিকার দেহ গ্যাসীয় পদার্থে পূর্ণ, তাই এদেরকে গ্যাসীয় নীহারিকা বলে। 
- এক একটি নীহারিকার মধ্যবর্তী দূরত্ব ব্যাপক। 
- এক একটি নীহারিকার মাঝে কোটি কোটি নক্ষত্র থাকতে পারে। 
- এরা যেহেতু পৃথিবী থেকে কোটি কোটি আলোক বর্ষ দূরে রয়েছে, তাই এদের মাঝে যেসব নক্ষত্র রয়েছে তাদের পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায় না। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৭,০২৩.
কোন মহাদেশে মিসিসিপি নদী অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে
  2. উত্তর আমেরিকা মহাদেশে
  3. এশিয়া মহাদেশে
  4. আফ্রিকা মহাদেশে
ব্যাখ্যা

মিসিসিপি নদী:
- মিসিসিপি নদী উত্তর আমেরিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী,
- এর দৈর্ঘ্য ৬,২৭০ কিলোমিটার।
- নদীটির উৎস ইটাস্কা হ্রদ এবং এর প্রশস্ততম অংশ হলো বেনা।

উল্লেখ্য, 
- বিশ্বের অন্যান্য দীর্ঘতম নদীর মধ্যে নীল নদ ৬,৬৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নিয়ে আফ্রিকায় অবস্থিত।
- দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬,৪০০ কিলোমিটার, এটি বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী হিসেবে পরিচিত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদীর দৈর্ঘ্য ৪,৭০০ কিলোমিটার। 

সূত্র:- Worldatlas.com

৭,০২৪.
মানবসৃষ্ট দুর্যোগের একটি উদাহরণ হলো -
  1. ঘূর্ণিঝড়
  2. মরুকরণ
  3. সুনামি
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ:
- যে অবস্থা অস্বাভাবিক ও অসহনীয় পরিবেশের সৃষ্টি করে এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশের ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটে তাই দুর্যোগ।
- এর ফলে বাহ্যিকভাবে ক্ষতিসাধন, জীবনহানি কিংবা পরিবেশগতভাবে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয়। 
 
দুর্যোগ বিভিন্নভাবে ও বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। প্রধানত দুর্যোগ দুই ধরনের-
১/ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও
২/ মানবসৃষ্ট দুর্যোগ।
 
প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- প্রাকৃতিক কারণে যে সকল দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে।
- প্রাকৃতিক দুর্যোগ আকস্মিকভাবে ঘটে এবং সাধারণত এর উপর মানুষের কোন নিয়ন্ত্রন থাকে না।
- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, টর্নেডো, ভূমিকম্প, খরা, নদীভাঙন, সুনামি, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ।
 
মানবসৃষ্ট দুর্যোগ:
- মানুষের অসচেতনতা বা দূরদৃষ্টির অভাবে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয় তাকে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে।
- মানুষের প্রাণহানি ঘটানোর পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।
- যেমন- যুদ্ধ-বিগ্রহ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, মরুকরণ, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়; অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড বই।
৭,০২৫.
ভারতের কোন রাজ্যটি সেভেন সিস্টার্সের অন্তর্ভূক্ত নয়?
  1. পাঞ্জাব
  2. নাগাল্যান্ড
  3. মণিপুর
  4. অরুণাচল
ব্যাখ্যা
সেভেন সিস্টার্স:

- সেভেন সিস্টার্সের অরুণাচল রাজ্যটির সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত নেই।
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলো হচ্ছে -আসাম, অরুণাচল, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড।
- ভারতের সেভেন সিস্টারস খ্যাত রাজ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন নয় মণিপুর, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচল রাজ্য।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

তথ্যসূত্র - ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৭,০২৬.
‘তুমব্রু সীমান্ত’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবান
  2. রাঙ্গামাটি
  3. খাগড়াছড়ি
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
 সীমান্ত:
• অবস্থান:
- তুমব্রু সীমান্ত বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নে অবস্থিত।

•  সংগঠনসমূহ ও গোলাগুলি:
- এই সীমান্তে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি • অর্গানাইজেশনের (আরএসও) মধ্যে প্রায় গোলাগুলি হয়।

•  ব্রিজ নির্মাণ:
- তুমব্রু সীমান্তের কোনারপাড়া শূন্যরেখায় খালে ব্রিজ নির্মাণ করছে মিয়ানমার।

•  ব্রিজ নির্মাণের কৌশল:
- রোহিঙ্গাদের শূন্যরেখা থেকে তাড়িয়ে দেয়ার কৌশল হিসেবে এ ব্রিজ নির্মাণ করা হয়।

অন্যদিকে,
• বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট ৩২টি।
• ভারতের সাথে ৩০টি জেলা।
•  মিয়ানমারের সাথে ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান) জেলার সীমান্ত রয়েছে।
• রাঙ্গামাটি একমাত্র জেলা যার সাথে ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমান্ত রয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৭,০২৭.
নিচের কোনটি অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা?
  1. ব্যাসল্ট
  2. রায়োলাইট
  3. ডলোরাইট
  4. কেওলিন
ব্যাখ্যা
- ভূঅভ্যন্তরের উত্তপ্ত ম্যাগমা ভূপৃষ্ঠের বাহিরে না এসে ভূগর্ভে জমাটবদ্ধ হয়ে যে আগ্নেয় শিলা তৈরি তা অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা নামে পরিচিত।
এরূপ শিলার মধ্যে রয়েছে:
- ডলোরাইট
- গ্রানাইট
- গ্যাব্রো
- ল্যাকোলিথ
- ব্যাথোলিথ
- ডাইক
- সিল প্রভৃতি।
অন্যদিকে,
- ব্যাসল্ট ও রায়োলাইট : বহিঃজ আগ্নেয় শিলা
- কেওলিন : পাললিক শিলা।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,০২৮.
নিচের কোনটি রূপান্তরিত শিলা নয়?
  1. কোয়ার্টজাইট
  2. নিস
  3. গ্রাফাইট
  4. চুনাপাথর
ব্যাখ্যা
• রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে।
- রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।
- ভূ-ত্বাত্তিক সময় ব্যাপী মহাদেশের যে সঞ্চারণ এবং উত্থান-পতন হয়েছে এ শিলা থেকে তা জানা যায়।
- এ শিলা সূদুর অতীতকালের প্লেট সঞ্চারণের সাক্ষ্য বহন করে।
- রূপান্তরিত শিলা মার্বেল পাথর, শ্লেট, গার্নেট ইত্যাদির মত মূল্যবান খনিজ সম্পদ ধারণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০২৯.
বাংলাদেশে ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু বিরাজ করে কোন বায়ুর প্রভাবে?
  1. ক) মৌসুমি বায়ু
  2. খ) অয়ন বায়ু
  3. গ) পশ্চিমা বায়ু
  4. ঘ) নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু সাধারণত সমভাবাপন্ন। দেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করায় এখানে ক্রান্তীয় জলবায়ু বিরাজ করে। কিন্তু মৌসুমি বায়ুর প্রভাব এ দেশের জলবায়ুর উপর এত বেশি যে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের জলবায়ু ক্রান্তীয় মৌসুমি জলবায়ু নামে পরিচিত। উষ্ণ ও আদ্র গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল বাংলাদেশের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৭,০৩০.
বাংলাদেশের সুন্দরবনে কতো প্রজাতির হরিণ দেখা যায়?
  1. ক) ১
  2. খ) ২
  3. গ) ৩
  4. ঘ) ৪
ব্যাখ্যা
সুন্দরবনের উল্লেখযোগ্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে রয়েছে চিত্রা হরিণ এবং মায়া হরিণ।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৭,০৩১.
বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ কোনটি?
  1. ক) টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ
  2. খ) প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
  3. গ) টেকটোনিককালের ভূমিরূপ
  4. ঘ) প্লাবন সমভূমি
ব্যাখ্যা
- ভূ-প্রকৃতি অনুসারে বাংলাদেশে তিন ধরনের ভূমিরূপ দেখা যায়।
এগুলো হলোঃ
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী
- প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ
- প্লাবন সমভূমি।
- এদের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন ভূমিরূপ হলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী। আনুমানিক প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বে এগুলো গঠিত হয়।
- দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও কক্সবাজার এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ প্রভৃতি জেলা জুড়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়শ্রেণী অবস্থিত।
- দেশের মোট আয়তনের প্রায় ২০ শতাংশ অঞ্চল টারশিয়ারি যুগে গঠিত।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,০৩২.
৯০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার মধ্যে সময়ের ব্যবধান কত মিনিট?
  1. ৪ মিনিট
  2. ৪ ঘন্টা
  3. ৬০ মিনিট 
  4. ৬ ঘন্টা
ব্যাখ্যা

গ্রিনিচ মান সময়: 
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে। 
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে। 
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।  
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে। 
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০৩৩.
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় কী হিসেবে পরিচিত?
  1. সাইক্লোন
  2. হারিকেন
  3. টাইফুন
  4. আসনা
ব্যাখ্যা
সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়:
• সাইক্লোন, টাইফুন ও হারিকেন সবগুলোই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়। 

• হারিকেন:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চল, মধ্য এবং পূর্ব উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর, ক্যারিবিয়ান সাগর এবং মেক্সিকো উপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে 'হারিকেন' বলা হয়।
- যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, কিউবা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে হারিকেন আঘাত করে।

• টাইফুন: 
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'।
- চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

• সাইক্লোন: 
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত।
- সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।

• এ ছাড়াও, দক্ষিণ পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় সিভিয়ার ট্রপিক্যাল সাইক্লোন।
• আর দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত মহাসাগরে একে ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়।

• যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় হয় না: 
- পৃথিবীর বিষুব রেখা বরাবর সাগরে সাধারণত কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।
- বিষুব রেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়।
- অন্যদিকে দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরেও কোনো ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় না।

উল্লেখ্য, কোনো টাইফুন তার এলাকা থেকে সরে গিয়ে হারিকেন প্রবণ অঞ্চলে প্রবেশ করলে একে তখন একে হারিকেন হিসেবেই ডাকা হয়। একইভাবে কোনো হারিকেন দিক পরিবর্তন করে টাইফুনের এলাকায় চলে এলেও একে তখন টাইফুন বলা হয়।

ঘূর্ণিঝড় 'আসনা': 
- সম্প্রতি আরব সাগরের উত্তরাংশে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে।
- এই ঘূর্ণিঝড়টির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আসনা’।
- এর অর্থ সর্বোচ্চ, উজ্জ্বলতম এবং প্রশংসনীয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘আসনা’ দিয়েছে পাকিস্তান।
- উত্তর-পূর্ব আরব সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম দিকে অগ্রসরের সঙ্গে ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘আসনা’য় পরিণত হয়েছে। 

উৎস: Tropical Cyclone Naming/World Meteorological Organization. 
৭,০৩৪.
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কোন ধরনের বনভূমি?
  1. ম্যানগ্রোভ বন
  2. শুষ্ক কাঁটাযুক্ত বন
  3. চিরহরিৎ বন
  4. পত্রপতশীল জাতীয়
ব্যাখ্যা
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: 
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ১২৫০ হেক্টর আয়তনের বন জীববৈচিত্র্যে ভরপুর।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
-  বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- উল্লূক ছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির দুর্লভ জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ এবং উদ্ভিদ।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 
৭,০৩৫.
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কোন অভীষ্টতে 'জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কার্যক্রম' সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে?
  1. ৩ নং অভীষ্ট
  2. ৮ নং অভীষ্ট
  3. ১১ নং অভীষ্ট
  4. ১৩ নং অভীষ্ট
ব্যাখ্যা
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা:   
- টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, যা গ্লোবাল গোল নামেও পরিচিত। 
- দারিদ্র্যের অবসান ও পৃথিবীকে রক্ষা করার জন্য  জাতিসংঘ কর্তৃক  2015 সালে এবং 2030 সালের মধ্যে সকল মানুষ শান্তি ও সমৃদ্ধি উপভোগ করার জন্য একটি সর্বজনীন আহ্বান হিসাবে গৃহীত হয়েছিল।  

♣ ১৭টি স্বতন্ত্র অভীষ্ট:  
• লক্ষ্য ১: দারিদ্র্য বিলোপ;
• লক্ষ্য ২: ক্ষুধা মুক্তি;
• লক্ষ্য ৩: সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ;
• লক্ষ্য ৪: গুনগত শিক্ষা;
• লক্ষ্য ৫: লিঙ্গ/জেন্ডার সমতা;
• লক্ষ্য ৬: নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন;
• লক্ষ্য ৭: সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি;
• লক্ষ্য ৮: শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি;
• লক্ষ্য ৯: শিল্প, উদ্ভাবন ও অবকাঠামো;
• লক্ষ্য ১০: অসমতার হ্রাস;
• লক্ষ্য ১১: টেকসই নগর ও জনপদ;
• লক্ষ্য ১২: পরিমিত ভোগ ও টেকসই উৎপাদন;
• লক্ষ্য ১৩: জলবায়ু পরিবর্তন কার্যক্রম; 
• লক্ষ্য ১৪: জলজ জীবন; 
• লক্ষ্য ১৫: স্থলজ জীবন;
• লক্ষ্য ১৬: শান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান;
• লক্ষ্য ১৭: অভীষ্ট অর্জনে অংশীদারিত্ব।    

উৎস:
ইউএনডিপি ওয়েবসাইট এবং জাতিসংঘ বাংলাদেশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।  
৭,০৩৬.
বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়। এটিকে বলা হয় -
  1. সাইক্লোন
  2. হ্যারিকেন
  3. টাইফুন
  4. কালবৈশাখী
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে বৈশাখ মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়। এটিকে বলা হয় কালবৈশাখী ঝড়।

কালবৈশাখী ঝড়:

- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।
- কালবৈশাখী ঝড়ের অপর নাম নরওয়েস্টার।
- কালবৈশাখী ঝড় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে ইংরেজিতে নরওয়েস্টার বলা হয়।
- এই ঝড়ের গতিবেগ ৫৫ থেকে ৮০ কি. মি. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- বাংলাদেশে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আগত শীতল ও শুষ্ক বায়ু এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে আগত উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুর সংঘর্ষে সাধারণত কালবৈশাখী ঝড় সংঘটিত হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়।
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।

অন্যদিকে,
- সাধারণত আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়গুলোকে হ্যারিকেন নামে অভিহিত করা হয়।
- বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় 'সাইক্লোন' হিসেবে পরিচিত। সাইক্লোনের কারণে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও ভারতে প্রচুর জানমালের ক্ষতি হয়।
- উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড়কে বলা হয় 'টাইফুন'। চীন, তাইওয়ান, ফাইলিপাইন ও জাপানে প্রায় প্রতি বছরই টাইফুনের কারণে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বিবিসি বাংলা।
৭,০৩৭.
‘দাহনা' কোন দেশের মরুভূমি?
  1. ক) ইরাক
  2. খ) সৌদি আরব
  3. গ) ইয়েমেন
  4. ঘ) ইরান
ব্যাখ্যা
• বর্তমানে সৌদি রাজবংশ কর্তৃক আরবের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়।
- হাদরামাউত, ইয়েমেন এবং ওমান নিয়ে দক্ষিণ আরব গঠিত।
- আরব ভূখণ্ডের এক-তৃতীয়াংশ মরুময়।
- ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশের মিলনকেন্দ্র হিসাবে পরিগণিত হলেও এদেশ যেন সমগ্র বিশ্ব হতে বিচ্ছিন্ন।
- উত্তর-ভাগে ‘নুফুদ’ মরুভূমি এবং নুফুদ হতে আরম্ভ করে দক্ষিণ ভাগ পর্যন্ত প্ৰায় ৮০০ মাইল এলাকা জুড়ে রয়েছে সৌদি আরবের বৃহত্তম মরুভূমি ‘আল-দাহনা’ [আদ-রার, আল-খালি]।

সূত্র: ব্রিটানিকা ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৩৮.
বাংলাদেশ ঘূর্ণিঝড় বেশি দেখা যায় কখন?
  1. বৈশাখ ও জৈষ্ঠ
  2. আষাঢ় ও শ্রাবণ
  3. কার্তিক ও অগ্রাহায়ণ
  4. পৌষ ও মাঘ
ব্যাখ্যা
হেমন্তকাল : কার্তিক ও অগ্রাহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল হিসেবে বিবেচিত।
এ সময়ে প্রধান বৈশিষ্ট্য হলাে তাপমাত্রার সমান অবস্থা এবং শীতের আগমন বার্তা।
এক সময় হেমন্ত এতদাঞ্চলে নবান্নের মাস হিসেবে পরিচিত ছিল। অর্থাৎ নতুন ধান উত্তোলন এবং তজ্জনিত উৎসব।
তবে বর্তমানে সারাবছর ধান উৎপাদন হওয়াতে ঐ বিষয়টি আর দেখা যায় না।
হেমন্তকালে একটি অন্যতম জলবায়ুগত প্রপঞ্চ হলাে উপকূলীয় ঘূর্ণিঝড়।
মৌসুমী বায়ুগতি বদলানাের সময় নিরক্ষীয় বলয়ে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়ে বঙ্গোপসাগরের উপর কেন্দ্রীভূত হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও ভারতীয় উপকূলে প্রচণ্ড বেগে আঘাত হানে।

উৎস: ব্যাচেলর অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৩৯.
বাংলাদেশের কোন স্থানে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. নেত্রকোনা
  2. শেরপুর
  3. দিনাজপুর
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
চীনামাটি:
- চীনামাটি (Porcelain) বা চায়না ক্লে এক ধরনের মাটি। 
- এটি প্রধানত সিরামিক শিল্পে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 
- কেওলিন নামের প্রাকৃতিক খনিজযুক্ত পদার্থের মিশ্রণকে বৃহৎ চুল্লি বা ভাটিতে ১২০০ থেকে ১৪০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়িয়ে এই মাটি তৈরি করা হয়।
- উচ্চ তাপমাত্রায় পোড়ানোর ফলে চীনামাটির ভেতরে ম্যালাইট নামক খনিজ গঠিত হয়।
- মৃৎশিল্পে ব্যবহৃত অন্যান্য উপাদানের তুলনায় চীনামাটি অধিকতর শক্ত, ভারবহ ও স্বচ্ছ হয়ে থাকে।

⇒ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ভূপৃষ্ঠে অথবা অন্তর্ভূপৃষ্ঠে চীনামাটির সন্ধান পাওয়া গেছে।
- নেত্রকোনা জেলার বিজয়পুর ও গোপালপুরে, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায়, চট্টগ্রামের হাইটগাঁও ও সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে চীনামাটির মজুদ রয়েছে। এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার মধ্যপাড়া, বড়পুকুরিয়া ও দীঘিপাড়া এবং নওগাঁ জেলার পত্নীতলায় ভূপৃষ্ঠের নিকটে চীনামাটি মজুদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- দুর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর ও এর আশপাশের এলাকায় রয়েছে চীনামাটির খনি। 

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৭ সালে বর্তমান নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত ভেদিকুরা নামক স্থানে প্রথম চীনামাটির সন্ধান লাভ করে।

উৎস: i) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
ii) কালের কন্ঠ।
৭,০৪০.
”সাগরকন্যা” নামে পরিচিত কোন জেলা?
  1. কক্সবাজার
  2. চাঁদপুর
  3. খুলনা
  4. পটুয়াখালী 
ব্যাখ্যা

সাগরকন্যা:
- পটুয়াখালী জেলাকে বলা হয় সাগরকন্যা।
- বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি।
- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা।
- একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭,০৪১.
ম্যাপল পাতার দেশ কোনটি?
  1. সুইডেন
  2. নরওয়ে
  3. কোরিয়া
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা
• কানাডাকে "ম্যাপল পাতার দেশ" বলা হয় কারণ ম্যাপল গাছ ও এর পাতা দেশটির জাতীয় পরিচয়, ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
• কানাডার বিস্তীর্ণ বনভূমিতে প্রচুর ম্যাপল গাছ জন্মে, যেখান থেকে বিখ্যাত ম্যাপল সিরাপ তৈরি হয়।
• ১৯৬৫ সালে কানাডার জাতীয় পতাকায় লাল রঙের একটি ম্যাপল পাতা স্থায়ীভাবে যুক্ত হয়, যা এখন বিশ্বজুড়ে কানাডার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
• এছাড়াও ম্যাপল পাতা কানাডার সৈনিকদের পোশাকে, মুদ্রা, সরকারি প্রতীক ও ক্রীড়া দলে ব্যবহৃত হয়ে জাতীয় গর্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

উৎস: : ব্রিটানিকা ও কানাডার জাতীয় ওয়েবসাইট।
৭,০৪২.
নিচের কোনটি আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপপুঞ্জ?
  1. দিয়াগো গার্সিয়া
  2. পালাউ
  3. হাওয়াই
  4. বাহামা
ব্যাখ্যা
বাহামা দ্বীপপুঞ্জ:
- বাহামা দ্বীপপুঞ্জ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্বে, কিউবা ও হিস্পানিওলা দ্বীপের উত্তরে অবস্থিত প্রায় ৭০০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দ্বীপপুঞ্জ।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র।
- নাসাউ হচ্ছে বাহামা দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী, বৃহত্তম শহর এবং প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ:
⇒ প্রশান্ত মহাসাগর:
- পাপুয়া নিউ গিনি, হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন, পালাউ, নাউরু, তাহিতি, ফিজি, সলোমান দ্বীপপুঞ্জ ইত্যাদি।

⇒ আটলান্টিক মহাসাগর:
- যুক্তরাজ্য, বাহামা, বারমুডা, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, জ্যামাইকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, কিউবা ইত্যাদি।

⇒ ভারত মহাসাগর:
- মাদাগাস্কার, সেইসিলিশ, মরিশাস, দিয়াগো গার্সিয়া, মালদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর, মালাগাছি ইত্যাদি।

উৎস: World Atlas.
৭,০৪৩.
পশ্চিম আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চল কী নামে পরিচিত?
  1. প্রেইরি
  2. সাহেল
  3. তুন্দ্রা
  4. ল্যানোস
ব্যাখ্যা
সাহেল (Sahel):
- সাহেল অঞ্চল বলে অভিহিত পশ্চিম আফ্রিকার সাব সাহারা অঞ্চল।
- এই অঞ্চলের উল্লেখযোগ্য দেশগুলো হচ্ছে মৌরিতানিয়া, মালি ও নাইজার প্রভৃতি।
- এই অঞ্চলে সাভানা বনভূমি রয়েছে।

অন্যদিকে,
- প্রেইরি (Prairie): উত্তর আমেরিকার উর্বর তৃণভূমি।
- তুন্দ্রা: সব থেকে উত্তরের স্থল বায়োম হলো তুন্দ্রা।
- ল্যানোস (Llanos): দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত তৃণভূমি।

উৎস: Britannica.
৭,০৪৪.
‘ওডারনিস লাইন’ লাইন কোন দুটি দেশে সীমারেখা?
  1. ক) ভারত ও পাকিস্তান
  2. খ) পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  3. গ) জার্মানি ও ফ্রান্স
  4. ঘ) জার্মানি ও পােল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• সীমারেখা:
- ‘আলপাইন লাইন'- ইতালি ও ফ্রান্স।
- ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ - ভারত ও পাকিস্তান।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - ভারত ও চীন।
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত ও চীন।
- কার্জন লাইন - পোল্যান্ড ও রাশিয়া।
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- 'ম্যাজিনো লাইন' - জার্মানি ও ফ্রান্স

উৎস: ব্রিটানিকা
৭,০৪৫.
বাংলাদেশে গড়ে কী পরিমাণ বার্ষিক বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ২০৩ সেন্টিমিটার
  2. ২০৩০ সেন্টিমিটার
  3. ২০o৩ সেন্টিমিটার
  4. ৩০৩ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

• বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত:
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০৩ সেন্টিমিটার। 
- মাস অনুসারে জুলাই মাসে সর্বাধিক ৫২৩.০ মি.মি. এবং জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন ৯ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে ।
- বাংলাদেশে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয় সিলেট জেলায়।
- সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয় রাজশাহী জেলায়।

উৎস: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

৭,০৪৬.
স্ট্যানলি ও লিভিংস্টোন জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত?
  1. সুইজারল্যান্ড
  2. জিম্বাবুয়ে
  3. ভেনিজুয়েলা
  4. কঙ্গো
ব্যাখ্যা
স্ট্যানলি ও লিভিস্টেন জলপ্রপাত কঙ্গোতে অবস্থিত।

লিভিংস্টোন জলপ্রপাত:
- লিভিংস্টোন জলপ্রপাত গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে অবস্থিত।
- এটি কঙ্গো নদীর একটি বিশাল জলপ্রপাতের ধারা যা কঙ্গোর কিনশাসা এবং মাটাডি শহরের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি কঙ্গো নদীর নিম্ন প্রবাহে অবস্থিত।
- এই জলপ্রপাতটি ৩৫০ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে ৩২টি ছোট-বড় জলপ্রপাত এবং র‌্যাপিডের সমন্বয়ে গঠিত।

স্ট্যানলি জলপ্রপাত:
- স্ট্যানলি জলপ্রপাত কঙ্গোতে অবস্থিত।
- স্ট্যানলি জলপ্রপাত ২০০ ফুট উচ্চতা থেকে পতিত হয় ।
- এটি বর্তমানে বোয়ামা নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- স্টবাক জলপ্রপাত: সুইজারল্যান্ড।
- অ্যাঞ্জেলস জলপ্রপাত: ভেনিজুয়েলা। 
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত: কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র। 
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত: জিম্বাবুয়ে। 

উৎস: Britannica.
৭,০৪৭.
‘মাউন্ট ফুজি’ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. জাপান
  2. তানজানিয়া
  3. নাইজেরিয়া
  4. দক্ষিণ আফ্রিকা
ব্যাখ্যা
দ্বীপরাষ্ট্র জাপান ও মাউন্ট ফুজি: 
- মাউন্ট ফুজি জাপানের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটি জাপানের তিনটি পবিত্র পর্বতের একটি।
- ২০১৩ সালের ২২ জুন সংস্কৃতিক এলাকা হিসেবে এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করা হয়।
- অস্বাভাবিক উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে গত ১৩০ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে দেরিতে মাউন্ট ফুজিতে তুষারপাত হয়েছে।
- প্রতি বছর ফুজি তুষারে ঢেকে যাওয়ার ঘটনা সরকারিভাবে ঘোষণা করে কোফুর স্থানীয় আবহাওয়া অফিস।

উল্লেখ্য, 
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি দ্বীপ রয়েছে।
- এগুলো হলো: শিকোকু,  কিউসু,  হনসু ও হোক্কাইডো।
- আয়তনে বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং
- জাপানের বৃহত্তম হ্রদ বিওয়া হ্রদ হনসু দ্বীপে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র:  ইত্তেফাক ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস।
৭,০৪৮.
স্ক্যান্ডিনেভিয়া বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝানো হয়?
  1. পূর্ব ইউরোপ
  2. উত্তর ইউরোপ
  3. পশ্চিম ইউরোপ
  4. দক্ষিণ ইউরোপ
ব্যাখ্যা
স্ক্যান্ডিনেভিয়া:
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া ঐতিহাসিকভাবে স্ক্যান্ডিয়া, উত্তর ইউরোপের অংশ।
- স্ক্যান্ডিনেভিয়া হলো ইউরোপের উত্তরে অবস্থিত একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান রাষ্ট্র মূলত ৩টি।
- যথা: নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্ক।
- দেশ তিনটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত দিক থেকে পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত।

⇒ তবে ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং ফারো আইল্যান্ডকেও অনেক ক্ষেত্রে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাষ্ট্র হিসেব গণ্য করা হয়।

অন্যদিকে,
⇒ নর্ডিক অঞ্চল বলতে স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশ + ফিনল্যান্ড + আইসল্যান্ডকে বুঝায়।
- স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলো আসলে নর্ডিক অঞ্চলের মধ্যে পরে।

• নর্ডিক অঞ্চলভূক্ত দেশ ৫টি।
- যথা: আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন এবং ফিনল্যান্ড।

উল্লেখ্য,
- তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে পাতলা জনবহুল উত্তর অঞ্চল, মৎস্য সম্পদের একটি আপেক্ষিক সম্পদ, দীর্ঘ আয়ু এবং উচ্চ স্তরের সাক্ষরতা।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) Britannica.
৭,০৪৯.
বাংলাদেশকে কয়টি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে?
  1. চারটি
  2. তিনটি
  3. দুইটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের ভূ-কম্পন অঞ্চল:
- ২০১৬ সালে প্রকাশিত 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) রিপোর্ট অনুযায়ী, সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়।
- সর্বশেষ ২০২০ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে।

•  অঞ্চলগুলো হলো:
১) খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36

২) গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28

৩) মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
- এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2

৪) কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল:
- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12

উল্লেখ্য,
BANGLADESH NATIONAL BUILDING CODE (BNBC) সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রিপোর্টে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূমিকম্প সংঘটন অঞ্চলে (Seismic Zone) বিভক্ত করে।

• অঞ্চলগুলো হলো:
১. মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা -৭),
২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ: মধ্যাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা ৬),
৩. কম ঝুঁকিপূর্ণ: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল (রিখটার স্কেলে তীব্রতা-৫)।
পরে, ২০০৬ সালে প্রকাশিত রির্পোটেও তিনটি ভূমিকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও,
- মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বইয়ের সর্বশেষ সংস্করণে ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত রির্পোর্ট অনুসারে, ভূমিকম্পের প্রবণতার ভিত্তিতে সমগ্র বাংলাদেশকে ৩টি অঞ্চলে ভাগ করে দেখানো হয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ-জাতীয়-বিল্ডিং-কোড-(BNBC Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট) ওয়েবসাইট।
৭,০৫০.
কখন বাংলাদেশে বর্ষাকাল থাকে?
  1. মাঘ - বৈশাখ
  2. পৌষ - ফাল্গুন
  3. জ্যৈষ্ঠ - কার্তিক
  4. কার্তিক - পৌষ
ব্যাখ্যা
বর্ষাকাল:
- গ্রীষ্ম ও শীতের মাঝামাঝি বৃষ্টিবহুল সময়কে বর্ষাকাল বা বর্ষা ঋতু বলে।
- জুন মাসের প্রথম দিকে মৌসুমি বায়ুর আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বর্ষাকাল শুরু হয়ে যায়।
- বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস (জ্যৈষ্ঠ-কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।

উল্লেখ্য, 
- বর্ষাকালে সূর্য বাংলাদেশে প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেয়। ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।
- কিন্তু আকাশে মেঘ থাকে এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, ফলে এ সময় অধিক তাপমাত্রা অনুভূত হয় না।
- গড় তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াস।
- বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরের উপর দিয়ে আসার সময় প্রচুর জলীয়বাষ্প সমৃদ্ধ থাকে।
- এ জলীয়বাষ্প শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- বছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ এ সময়ে হয়।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭,০৫১.
নিচের কোনটি বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ?  
  1. ভূমিকম্প
  2. আগ্নেয়গিরি উদগীরণ
  3. বজ্রপাত 
  4. সুনামি
ব্যাখ্যা

∗ দুর্যোগের শ্রেণিবিভাগ :
- UNITR (United Nations Institute for Training and Research) দুর্যোগকে মোট ৪ ভাগে ভাগ করেছে—
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ,
• মানুষসৃষ্ট দুর্যোগ,
• দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ,
• দুর্ঘটনাজাতীয় দুর্যোগ।
--------------------------------------
◊ প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপবিভাগ- বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ, আর্দ্রতা, ঘনীভবন ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তনের ফলে যে দুর্যোগ সৃষ্টি হয়, সেগুলোকে বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্ট   প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়।
- বায়ুমণ্ডলীয় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের উদাহরণ:
• বজ্রপাত: বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের ঘনীভবন ও বৈদ্যুতিক চার্জের পার্থক্য থেকে ঘটে
• ঘূর্ণিঝড়/টাইফুন/হারিকেন: নিম্নচাপ, উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠ ও বায়ুপ্রবাহের অস্থিরতার ফলে সৃষ্টি হয়।
• বন্যা: অতিবৃষ্টি, মেঘ ফাটল বা নদীর অতিপ্রবাহের কারণে বন্যা হয়।
• কালবৈশাখী: বসন্তে বায়ুচাপের হঠাৎ পরিবর্তনে গঠিত তীব্র স্থানীয় ঝড়।
• তাপপ্রবাহ: এলাকায় দীর্ঘ সময় অস্বাভাবিক উচ্চ তাপমাত্রা বজায় থাকলে তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হয়। 
• শিলাবৃষ্টি: মেঘে তৈরি বরফকণা প্রবল উর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহে বড় হয়ে নিচে পড়লে শিলাবৃষ্টির সৃষ্টি হয়।

উৎস : ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৫২.
অস্ট্রেলিয়ায় ঘূর্ণিঝড়কে স্থানীয়ভাবে কী বলা হয়? 
  1. হারিকেন
  2. টাইফুন
  3. উইলি-উইলি
  4. সাইক্লোন
ব্যাখ্যা

• অস্ট্রেলিয়ায় ঘূর্ণিঝড়:
- অস্ট্রেলিয়ায় ঘূর্ণিঝড়কে স্থানীয়ভাবে “উইলি-উইলি” বলা হয়। 
- এটি মূলত ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের একটি স্থানীয় নাম।
- উইলি-উইলি সাধারণত নিম্নচাপ, তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টিপাত দ্বারা চিহ্নিত হয়।

উল্লেখ্য, 
- ঘূর্ণিঝড় হলো নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট একটি প্রবল ঘূর্ণায়মান সামুদ্রিক ঝড়, যেখানে তীব্রবেগে বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত ঘুরতে থাকে।
- সমুদ্রের কোনো স্থানে বাতাসের চাপ কমে গেলে সেখানে নিম্নচাপ তৈরি হয় এবং চাপের পার্থক্যের কারণে বাতাস প্রবলভাবে ঘূর্ণায়মান হয়, যা ঘূর্ণিঝড় হিসেবে পরিচিত।
- উত্তর গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে।

- বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে একই ধরনের ঝড়কে বিভিন্ন নামে ডাকা হয় যেমন:
• আমেরিকায় হারিকেন;
• জাপানে টাইফুন;
• কেরিবিয়ান অঞ্চলে জোয়ান;
•  ফিলিপাইনে বাগুইড;
• ভারতে সাইক্লোন। 

উৎস:
১. Britannica;
২. বাংলাপিডিয়া।

৭,০৫৩.
চা বোর্ডের অধীনে বাংলাদেশের নিবন্ধিত চা বাগানের সংখ্যা কতটি? [ডিসেম্বর,২০২৫]
  1. ১৬৮ টি
  2. ১৭০ টি
  3. ১৭১ টি
  4. ১৬৯ টি
ব্যাখ্যা

- চা বোর্ডের অধীনে বাংলাদেশের নিবন্ধিত চা বাগান - ১৭১ টি।

- মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত - ৯০ টি চা বাগান।
- হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত - ২৫টি চা বাগান।
- সিলেট জেলায় অবস্থিত ১৯টি চা বাগান।
-চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত ২২ টি চা বাগান।
- পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত ১১ টি চা বাগান।
- রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত ২ টি চা বাগান।
- ঠাকুরগাঁও জেলায় অবস্থিত ১ টি চা বাগান।
- খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় অবস্থিত ১ টি চা বাগান।

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড।

৭,০৫৪.
ধান চাষের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা কত?
  1. ১৬° থেকে ৩২° সেলসিয়াস
  2. ১৬° থেকে ৩৫° সেলসিয়াস
  3. ১৬° থেকে ২২° সেলসিয়াস
  4. ১৬° থেকে ৩০° সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা
ধান চাষ:
- ধান চাষের জন্য ১৬° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন এবং
- ১০০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় ধানের ফলন ভালো হয়।
- নদী অববাহিকায় পলিমাটি ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এজন্য বাংলাদেশের সর্বত্রই ধান জন্মে।

এছাড়াও,
- পাট উষ্ণ অঞ্চলের ফসল। পাট চাষের জন্য অধিক তাপমাত্রা (২০° থেকে ৩৫° সেলসিয়াস) এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের (১৫০ থেকে ২৫০ সেন্টিমিটার) প্রয়োজন হয়।
- নদীর অববাহিকায় পলিযুক্ত দোআঁশ মাটি পাট চাষের জন্য বিশেষ সহায়ক।
- সাধারণত গম চাষের জন্য ১৬° থেকে ২২° সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৫০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতের প্রয়োজন। এ কারণে বাংলাদেশে বৃষ্টিহীন শীত মৌসুমে পানিসেচের মাধ্যমে গম চাষ ভালো হয়।

সূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৭,০৫৫.
দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী আমাজন কোথায় পতিত হয়েছে?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. দক্ষিণ মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

আমাজন নদী: 
- আমাজন নদী পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৪০০ কিলোমিটার।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।
- এই নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত।
- আমাজন নদী পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত।
- এই নদীটির উৎপত্তি পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায়।
- আমাজন নদী আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
- আমাজন নদী বিশ্বের সর্বাধিক পানিপ্রবাহবিশিষ্ট নদী।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৭,০৫৬.
দিয়াশলাই শিল্পে ব্যবহৃত হয় কোন গাছের কাঠ? 
  1. গেওয়া
  2. কেওড়া
  3. গরান
  4. ধুন্দল
ব্যাখ্যা

• শিল্প উন্নয়নে বনভূমির গুরুত্ব:
- কাগজ শিল্প: রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
- সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।

- দিয়াশলাই শিল্প: সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে। এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।
- রেয়ন শিল্প: চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৫৭.
তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদী কোথায় মিলিত হয়েছে?
  1. লালমনিরহাট
  2. ময়মনসিংহ
  3. কুড়িগ্রাম
  4. কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয়ের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়ে তিব্বত ও আসাম হয়ে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- অন্যদিকে, তিস্তা নদী সিকিমের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত চিতামু হ্রদ থেকে সৃষ্টি হয়েছে। উৎপত্তির পর ভারতের সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নদীটি নীলফামারী জেলার খড়িবাড়ি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- তিস্তা নদী কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী নদীবন্দরের দক্ষিণে ব্রহ্মপুত্র নদে পতিত হয়েছে। তিস্তা নদীর সর্বমোট দৈর্ঘ্য ৩১৫ কিমি, তার মধ্যে ১১৫ কিমি বাংলাদেশ ভূখন্ডে অবস্থিত।
উৎসঃ মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ বই ও বাংলাপিডিয়া।
৭,০৫৮.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয় কোনটি?
  1. ক) সাড়াদান
  2. খ) প্রতিরোধ
  3. গ) প্রশমন
  4. ঘ) পূর্বপ্রস্তুতি
ব্যাখ্যা
• দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ,
- দুর্যোগ প্রশমন এবং
- দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি ।
সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবেলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

• দুর্যোগ সংগঠনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে:
- সাড়াদান,
- পুনরুদ্ধার ও
- উন্নয়ন।

• অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।
৭,০৫৯.
জ্যামাইকা কোন মহাদেশের অন্তর্গত?
  1. ক) ইউরোপ
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) উত্তর আমেরিকা
  4. ঘ) দক্ষিণ আমেরিকা
ব্যাখ্যা
জ্যামাইকা উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত

উত্তর আমেরিকা মহাদেশ:
- বার্বাডোজ, বেলিজ, কানাডা, কোস্টারিকা, কিউবা, ডমিনিকা, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, গ্রানাডা, গুয়াতেমালা হাইতি, হন্ডুরাস, জ্যামাইকা, মেক্সিকো, নিকারাগুয়া, পানামা, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট এবং গ্রেনাডাইনস
ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশগুলো উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্গত।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৭,০৬০.
পৃথিবীর কোন দেশে সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. ব্রাজিল 
  3. রাশিয়া
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি বনভূমি:
- পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে রাশিয়ায়।
- বিশ্বের মোট বনভূমির ২০.৪১ শতাংশই রাশিয়ায়।
- দেশটিতে ৮১ কোটি ৪৮ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর বনভূমি রয়েছে। 
- পৃথিবীর মোট আবাসযোগ্য জমির আট ভাগের এক ভাগ পড়েছে রাশিয়ায়। আয়তনের বিশালত্বের কারণে দেশটি নয়টি সময় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। দেশটির বনভূমির বড় অংশ রয়েছে ফার ইস্টার্ন ফেডারেল অঞ্চলে। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সাইবেরিয়ান ফেডারেল অঞ্চল। এসব এলাকার বেশির ভাগ গাছই লার্চ, পাইন ও স্প্রুস জাতের।

⇒ জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, পৃথিবীর স্থলভাগের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা ৪.৬ বিলিয়ন হেক্টর এলাকায় বনভূমি রয়েছে। 
- পৃথিবীর মোট বনভূমির বেশির ভাগ নির্দিষ্ট কিছু দেশে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
⇒ বিশ্বের শীর্ষ বনভূমির দেশ:
১. রাশিয়া (২০.৪১ শতাংশ),
২. ব্রাজিল (১২ শতাংশ),
৩. কানাডা (৯ শতাংশ),
৪. যুক্তরাষ্ট্র (৭ শতাংশ),
৫. চীন (৫.৩ শতাংশ)।

উৎস: i) Global Forest Resources Assessment 2025, FAO.
ii) প্রথম আলো।

৭,০৬১.
নিচের কোনটি উত্তর ইউরোপের দেশ?
  1. ডেনমার্ক
  2. সুইডেন
  3. নরওয়ে
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
পূর্ব ইউরোপের দেশসমূহ:
• বেলারুশ
• বুলগেরিয়া
• চেক প্রজাতন্ত্র
• হাঙ্গেরি
• পোল্যান্ড
• মলদোভা
• রোমানিয়া
• রাশিয়া
• স্লোভাকিয়া
• ইউক্রেন

উত্তর ইউরোপের দেশসমূহ:
• নরওয়ে
• সুইডেন
• ডেনমার্ক
• ফিনল্যান্ড
• আইসল্যান্ড
• যুক্তরাজ্য
• আয়ারল্যান্ড
• লিথুয়ানিয়া
• লাটভিয়া
• এস্তোনিয়া

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৭,০৬২.
'গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ' কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. উত্তর মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
প্রশান্ত মহাসাগর:

- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
- প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন ৬৩৮০০০০০ বর্গ মাইল।
- প্রশান্ত মহাসাগর গড় গভীরতা ১৪,০৪০ ফুট।
- প্রশান্ত মহাসাগর দক্ষিণে অ্যান্টার্কটিক অঞ্চল থেকে উত্তরে আর্কটিক বৃত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত।
- পশ্চিমে এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ এবং পূর্বে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে অবস্থিত।
- পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত।
- প্রশান্ত মহাসাগর পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে রয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৭,০৬৩.
আবহাওয়া সম্পর্কিত বিজ্ঞান কোনটি?
  1. ক) ওয়েদারলজি
  2. খ) মেটালার্জি
  3. গ) এস্ট্রোলজি
  4. ঘ) মেটিওরোলজি
ব্যাখ্যা
Meteorology - the branch of science concerned with the processes and phenomena of the atmosphere, especially as a means of forecasting the weather; আবহাওয়াবিদ্যা; বায়ুবিজ্ঞান।
Source: Oxford
৭,০৬৪.
কোনটির জন্য ভূপৃষ্ঠের ধীর পরিবর্তন সংঘটিত হয়?
  1. বৃষ্টিপাত
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূকম্পন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তন প্রক্রিয়া: 
- ভূপৃষ্ঠ সর্বদা পরিবর্তনশীল এবং এটি বিভিন্ন ভূপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়।
- ভূপ্রক্রিয়া বলতে প্রাকৃতিকভাবে ভূমিরূপের পরিবর্তনকারী কার্যাবলিকে বোঝায়, যেমন নদীর অবক্ষেপণ।
- এই প্রক্রিয়াগুলো সৌরশক্তি, মাধ্যাকর্ষণ ও ভূতাপীয় শক্তির সাহায্যে পরিচালিত হয়।
- বহিঃশক্তি নির্ভর প্রক্রিয়াগুলো ধীরে পরিবর্তন আনে, যেমন: নগ্নীভবন ও অবক্ষেপণ।
- অন্তঃশক্তি নির্ভর প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত পরিবর্তন ঘটায়, যেমন: ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণ।
- এসব ভূপ্রক্রিয়া ভূপৃষ্ঠকে ধীরে বা দ্রুত সময়ের ব্যবধানে রূপান্তরিত করে।

ধীর পরিবর্তন:
- ধীর পরিবর্তন হলো আকস্মিক পরিবর্তনের একেবারেই বিপরীত অবস্থা।
- অনেকগুলো প্রাকৃতিক শক্তি যেমন- সূর্যতাপ, বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত, নদী, হিমবাহ প্রভৃতি দ্বারা যে পরিবর্তন ধীরে ধীরে সংঘটিত হয় তাকে ধীর পরিবর্তন বলে। এই ধীর পরিবর্তন বিশাল এলাকা জুড়ে হয়ে থাকে।

আকস্মিক পরিবর্তন:
- পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ এখনও উত্তপ্ত ও গলিত অবস্থায় রয়েছে। এসব উত্তপ্ত বস্তুর মধ্যে তাপ ও চাপের পার্থক্য হলে ভূত্বকে যে আলোড়ন ঘটে তাকে ভূআলোড়ন বলে। এ ভূআলোড়নের ফলেই ভূপৃষ্ঠের বেশিরভাগ পরিবর্তন হয়ে থাকে। বিভিন্ন ভূমিরূপ গঠনকারী শক্তির প্রভাবে ভূগর্ভে সর্বদা নানারূপ পরিবর্তন হচ্ছে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূকম্পন, পৃথিবীর অভ্যন্তরের সংকোচন, ভূগর্ভের তাপ ও অন্যান্য প্রচন্ড শক্তির ফলে ভূপৃষ্ঠে হঠাৎ যে পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে আকস্মিক পরিবর্তন বলে। এরূপ পরিবর্তন খুব বেশি স্থান জুড়ে হয় না। আকস্মিক পরিবর্তন সংঘটিত হয় প্রধানত ভূমিকম্প, সুনামি ও আগ্নেয়গিরি দ্বারা।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৬৫.
বাংলাদেশের এফ. সি. ডি. আই প্রকল্পের উদ্দেশ্য কী?
  1. বন্যা নিয়ন্ত্রণ
  2. নিষ্কাশন
  3. সেচ প্রকল্প
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects):
-  অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর।

৭,০৬৬.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে-
  1. পরিবহন প্রক্রিয়ায়
  2. বাষ্পীভূত প্রক্রিয়ায়
  3. বিকিরণ প্রক্রিয়ায়
  4. পরিচলন প্রক্রিয়ায়
ব্যাখ্যা

- বায়ুর তাপের প্রধান উৎস সূর্য।
- বিকিরণ প্রক্রিয়ায় সূর্য থেকে পৃথিবীতে তাপ আসে।
- বায়ুমণ্ডলের মোট শক্তির ৯৯.৯৭% আসে সূর্য থেকে।
- পৃথিবী তাপ হারিয়ে শীতল হয় বিকিরণ পদ্ধতি।
- ভূপৃষ্ঠ উত্তপ্ত হয় পরিবহন প্রক্রিয়া।
- পানি ও বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের বিনিময় হয় পরিচলন প্রক্রিয়ায়।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০৬৭.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন স্তরটি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়?
  1. প্রশমন
  2. পুনরুদ্ধার
  3. প্রতিরোধ
  4. সাড়াদান
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

⇒ সাড়াদান:
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়

⇒ পূর্বপ্রস্তুতি:
- পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা পথ নাটক অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র, টর্চ-ব্যাটারি ও প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

⇒ প্রতিরোধ:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহন, যেমন- বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও মেরামত, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত স্কুল ও ঘরবাড়ি নির্মাণ, নদী খনন ইত্যাদি বুঝায়। কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন যথেষ্ট ব্যয়বহুল, যা বাংলাদেশের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে বৈদেশিক সাহায্য ব্যতীত তৈরি করা কষ্টসাধ্য। অপরদিকে, অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- দুর্যোগ মোকাবিলার প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম অপেক্ষাকৃত স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

⇒ প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

⇒ পুনরুদ্ধার:
- :দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়।

⇒ উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৬৮.
'V' আকৃতির উপত্যকা প্রধানত কোন প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয়?
  1. পার্শ্বক্ষয়ের ফলে
  2. পার্শ্বক্ষয় তলদেশের ক্ষয়ের চেয়ে বেশি হলে
  3. তলদেশের ক্ষয় পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে বেশি হলে
  4. পাহাড়ের স্খলনের ফলে
ব্যাখ্যা

• 'V' আকৃতির উপত্যকা সৃষ্টি প্রক্রিয়া:

- পার্বত্য অঞ্চলে নদীর স্রোতের গতিবেগ বেশি।
- তলদেশের ক্ষয় পার্শ্বক্ষয়ের চেয়ে বেশি।
- নদী উপত্যকার মধ্যভাগ ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ইংরেজি 'V' অক্ষরের মতো আকৃতি ধারণ করে।
- পরে পার্শ্বক্ষয় বৃদ্ধি পেলে উপত্যকা প্রশস্ত হতে থাকে।

তথ্যসূত্র: তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৬৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়?
  1. চাঁদপুর
  2. চাঁপাই নবাবগঞ্জ  
  3. রাজশাহী
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

-  চাঁপাই নবাবগঞ্জ সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

আর্সেনিক (Arsenic):
- আর্সেনিক দূষণ একটি Global Problem.
- তাইওয়ানে প্রথম শনাক্তকরণ হয়।
- পৃথিবীর সকল মহাদেশের ৫০ টির মতো দেশে ভূগর্ভস্থ বা ভূউপরিস্থ পানিতে উচ্চমাত্রার আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে চাঁপাই নবাবগঞ্জ উপজেলার বড়ঘরিয়া মৌজায় কয়েকটি কূপে পরীক্ষা চালিয়ে সর্বপ্রথম ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি লক্ষ্য করে।
- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে, পানিতে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ০.০১ পিপিএম আর্সেনিকের মাত্রা গ্রহণযোগ্য। 
- তবে যখন কোন এলাকার পানিতে ০.০১ পিপিএম এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আর্সেনিক থাকে তখন সেই এলাকার পানিকে আর্সেনিক দূষণযুক্ত বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আর্সেনিক দূষণের মাত্রা বেশি।
- এবং উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে এ দূষণের মাত্রা কম।
- সর্বোচ্চ দূষণযুক্ত জেলাগুলো হচ্ছে চাঁদপুর (৯০%), মুন্সিগঞ্জ (৮৩%), গোপালগঞ্জ (৭৯%), মাদারীপুর (৬৯%), নোয়াখালী (৬৯%), সাতক্ষীরা (৬৭%), কুমিল্লা (৬৫%), ফরিদপুর (৬৫%), শরিয়তপুর (৬৫%), মেহেরপুর (৬০%) ও বাগেরহাট (৬০%)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৭০.
চর কুকরি মুকরি কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. নোয়াখালী
  2. ভোলা
  3. লক্ষ্মীপুর
  4. বরগুনা 
ব্যাখ্যা

চর কুকরি মুকরি:
- চর কুকরি মুকরি ভোলা জেলায় অবস্থিত।
- চর কুকরি মুকরির অবস্থান ভোলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপাসাগরের কোল ঘেষা মেঘনা নদীর মোহনায় যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসাবে পরিচিত।
- এক সময় এই চরে অধিক কুকুর ও ইঁদুর (এখানে মেকুর নামে পরিচিত) পাওয়া যেত, এ কারণেই এটি চর কুকরি মুকরি নামে স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত হয়ে উঠে।
- ১৯৮৯ সালের ১৪ মে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার একর জমিতে সংরক্ষিত শ্বাসমূলীয় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষের বনায়ন শুরু হয়।
- চর কুকরি মুকরির বনভূমিতে স্থান পেয়েছে সুন্দরী, গেওয়া, পশুর, কেওড়া, নারিকেল, বাঁশ ও বেত। 
- মাছ ধরা ও কৃষিকাজ চর কুকরি মুকরিতে বসবাসকারী মানুষের প্রধান পেশা।

উল্লেখ্য,
- চর মানিক: ভোলা,
- চর জব্বর: ভোলা,
- চর নিউটন: ভোলা,
- চর সাকুচিয়া: ভোলা,
- চর গজারিয়া :লক্ষীপুর,
- চর আলেকজান্ডার: লক্ষীপুর,
- দুবলার চর: সুন্দরবনের দক্ষিণে,
- মহুরীর চর: ফেনী,
- নির্মল চর: রাজশাহী।

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৭,০৭১.
ফরিদপুরের বাঘিয়া ও চান্দা বিলে কোন ধরনের কয়লা পাওয়া গেছে?
  1. পীটজাতীয়
  2. লিগনাইট জাতীয়
  3. বিটুমিনাস
  4. লিগনাইট ও পীট
ব্যাখ্যা
ফরিদপুরের বাঘিয়া ও চান্দা বিল, খুলনার কোলাবিল এবং সিলেটের কিছু অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে পীট জাতীয় কয়লার
সন্ধান পাওয়া গেছে। 
এছাড়াও রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, নওগাঁ এবং সিলেট জেলায় উৎকৃষ্ট মানের বিটুমিনাস এবং
লিগনাইট জাতীয় কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে।
 
উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৭,০৭২.
প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণগুলোকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ২ ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৫ ভাগে
  4. ৪ ভাগে
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

• পরিবেশ দূষণ (Environment Pollution):
- পরিবেশে জীবের স্বাভাবিক অবস্থা বা জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টিতে সক্ষম ক্ষতিকর অবস্থার নাম দূষণ।
- অন্যদিকে পানি, বাতাস, মৃত্তিকা বা পরিবেশের কোনো উপাদানের ভৌত, রাসায়নিক বা জৈবিক যে কোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিবর্তনই প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণ।
- মানুষের বহুমুখী কর্মকান্ডই পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় কারণ।

• প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের কারণ:
- প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষণের প্রধান কারণসমূহকে দুইটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- যথা: ক. প্রাকৃতিক কারণ এবং খ. মানবসৃষ্ট কারণ।

প্রাকৃতিক কারণ: বন্যা ও খরা, ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত।

মানবসৃষ্ট কারণ: গাছপালা নিধন, পাহাড় কর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, কীটনাশক ব্যবহার, ভূ-গর্ভস্থ পানি আহরণ, শিল্প র্বজ্য, জ্বালানি দহনের নির্গত ধোঁয়া।

সূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৭৩.
দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত অন্তরীপ- 
  1. হর্ন অন্তরীপ
  2. ট্রাফালগার অন্তরীপ
  3. গার্দাফুই অন্তরীপ
  4. উত্তমাশা অন্তরীপ
ব্যাখ্যা

উত্তমাশা অন্তরীপ দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত। 
--------------------------------------- 
• উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope):
- উত্তমাশা অন্তরীপ হলো আফ্রিকার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূ-প্রান্ত।
- এটি দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত কেপ পেনিনসুলার অংশ।
- সাধারণভাবে, যখন কোনো ভূপৃষ্ঠ ক্রমশ সরু হয়ে সাগরে প্রবেশ করে, তখন সেই অংশকে অন্তরীপ বলা হয়।

- উত্তমাশা অন্তরীপের প্রথম আবিষ্কার করেন পর্তুগিজ অভিযাত্রী বার্থোলোমিউ ডিয়াজ।
- তিনি ১৪৮৮ সালে এই কেপে পৌঁছান এবং প্রথমে এটিকে নাম দেন ‘কেপ অব স্টর্মস’।
- পরে পর্তুগিজরা এই নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘কেপ অব গুড হোপ’ বা উত্তমাশা অন্তরীপ।
----------------------------------------------
• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অন্তরীপের উদাহরণ:
- হর্ন অন্তরীপ: চিলি। 
- ট্রাফালগার অন্তরীপ: স্পেন।
- গার্দাফুই অন্তরীপ: সোমালিয়া। 
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ: গ্রিনল্যান্ড

উৎস: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস। 

৭,০৭৪.
বাংলাদেশের প্রায় মাঝ বরাবর পূর্ব থেকে পশ্চিমে অতিক্রম করে যাওয়া রেখাটি কোনটি?
  1. বিষুব রেখা 
  2. কর্কটক্রান্তি রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. আর্কটিক সার্কল 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত।
- বাংলাদেশ ২০৩৪' উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮' উত্তর অক্ষরেখা এবং ৮৮০১' পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯২৪১' পূর্ব দ্রাঘিমারেখা পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের প্রায় মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩৫) অতিক্রম করেছে।
- যা এদেশকে ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত করেছে।
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত এবং মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত এবং দক্ষিণে অবস্থিত বিস্তৃত বঙ্গোপসাগর।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৭৫.
আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে কোনটি?
  1. পানামা খাল
  2. বেরিং প্রণালী
  3. সুয়েজ খাল
  4. জিব্রাল্টার প্রণালী
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৭,০৭৬.
সম্প্রতি, কোন মহাসাগরে বিপুল পরিমাণ ন্যানোপ্লাস্টিকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে? [আগস্ট, ২০২৫]
  1. ভারত মহাসাগরে
  2. প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. দক্ষিণ মহাসাগরে
  4. উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
ন্যানোপ্লাস্টিক:
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টন ন্যানোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
- উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে থাকা ন্যানোপ্লাস্টিক এক মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট।
- ন্যানোপ্লাস্টিক উত্তর আটলান্টিক এলাকায় একাধিক স্থান দিয়ে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে প্রবেশ করছে।
- এসব কণা প্রায়ই সূর্যালোকের সংস্পর্শে আসা বৃহত্তর প্লাস্টিকের ধ্বংসাবশেষ ভেঙে যাওয়ার ফলে তৈরি হচ্ছে।
- ব্যাকটেরিয়া থেকে মাছের মধ্যেও এসব কণার প্রবেশ ঘটছে।
- ফলে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণাগুলো সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের পাশাপাশি মানবস্বাস্থ্যের জন্যও গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]
৭,০৭৭.
নিচের কোন নদীটি বাংলাদেশের সীমানায় উৎপত্তি ও সমাপ্তি হয়েছে?
  1. কর্ণফুলী
  2. হালদা
  3. মাতামুহুরি
  4. মহানন্দা
ব্যাখ্যা
হালদা নদী:
- হালদী নদী সরকার ঘোষিত একটি মৎস্য অভয়াশ্রম।
- বাংলাদেশের সীমানায় উৎপত্তি ও সমাপ্তি হয়েছে হালদা নদী।
- চট্টগ্রামে অবস্থিত হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র।
- এটি খাগড়াছড়ি (বাদনাতলী) থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হয়েছে।
- সম্প্রতি সরকার এই নদীকে 'বঙ্গবন্ধু মৎস্য হেরিটেজ' ঘোষণা করেছে।

অন্যদিকে, 
- মাতামুহুরী নদী বাংলাদেশের পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের বান্দরবন ও কক্সবাজার জেলার একটি নদী।
- নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮৭ কিমি।
- নদীটি সর্পিলাকার।
- লামার মাইভার পর্বতে মাতামুহুরী নদীর উৎপত্তি।
• মহানন্দা: হিমালয়ের পাদদেশে দার্জিলিং এর নিকটবর্তী মহালড্রীম পর্বত হতে মহানন্দা নদীর উৎপত্তি হয়েছে।
• কর্ণফুলী: কর্ণফুলী নদী আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়েছে। 

তথ্যসূত্র - মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট ওয়েবসাইট।
৭,০৭৮.
পৃথিবীর গভীরতম নদী কোনটি?
  1. আমাজন
  2. নীল
  3. কঙ্গো
  4. ইয়াংসিকিয়াং
ব্যাখ্যা
কঙ্গো নদী: 
- কঙ্গো নদী আফ্রিকার দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- পানির নিঃসরণ পরিমাণের দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী। 
- কঙ্গো নদীটি বিশ্বের গভীরতম নদী (গভীরতম বিন্দুতে 720 ফুট)।
- এটি বিশ্বের ৯ম দীর্ঘতম নদী।
- এটিই একমাত্র নদী যা দুবার বিষুব রেখা অতিক্রম করে। 
- নদীটি কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে প্রবাহিত হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে প্রবাহিত হয়।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 
৭,০৭৯.
ভূত্বকের গড় গভীরতা কত কিলোমিটার?
  1. ৫ কিমি
  2. ১২ কিমি
  3. ২০ কিমি
  4. ৩৫ কিমি
ব্যাখ্যা
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তা ভূত্বক নামে পরিচিত। এর গড় গভীরতা ২০ কি. মি.।
- মহাদেশীয় অঞ্চলে এর গড় গভীরতা ৩৫ কি. মি. এবং সমুদ্র তলদেশে গড় গভীরতা ৫ কি. মি.।
- সিয়াল ও সিমা নামে এর দুটো স্তর রয়েছে।
- ভূত্বক গঠনকারী প্রধান উপাদান হলো অক্সিজেন ও সিলিকন।
(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,০৮০.
পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু মালভূমিটির নাম কী?
  1. পামির মালভূমি
  2. পাটাগোনিয়া মালভূমি
  3. তিব্বত মালভূমি
  4. মঙ্গোল মালভূমি
ব্যাখ্যা
- পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতার মালভূমি হচ্ছে পামির মালভূমি।

পামির মালভূমি:
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভূমির নাম পামীর মালভূমি।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ১৬,০০০ ফুটের মতো।
- 'পামির মালভূমি' মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত পামীর পর্বতমালাকে ঘিরে এ মালভূমিটির অবস্থান।
- তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তিব্বত, চীন এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ পর্যন্ত এ মালভূমিটি বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলটি মূলত বিভিন্ন উঁচু পর্বতের মিলনস্থল।
- এ কারণে তাই পামীর মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়।

সূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।
৭,০৮১.
পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ স্থলভাগের কোন অংশে বসবাস করে?
  1. মালভূমি
  2. সমভূমি
  3. মরুভূমি
  4. কোনটিই নয় 
ব্যাখ্যা
• সমভূমি:
→ সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
→ সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
→ সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়।
পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি।
→ মানুষের আবাস এবং অর্থনৈতিক কামকান্ড সমভূমিতে সংঘটিত হয়।
→ সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
 → আফ্রিকা মহাদেশে সমভূমির পরিমাণ সবচেয়ে কম।
→ ইউরেশিয়ার উত্তরাংশ জুড়ে পৃথিবীর বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৮২.
আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে সবচেয়ে বড় মহাসাগর কোনটি? 
  1. উত্তর মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. প্রশান্ত মহাসাগর
  4. আটলান্টিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
বারিমণ্ডলের ধারণা: 
- বারিমণ্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Hydrosphere, Hydro' শব্দের অর্থ পানি এবং 'sphere' শব্দের অর্থ মণ্ডল। 
- পৃথিবীর সকল স্থানেই বারিমণ্ডলের অস্তিত্ব রয়েছে। 
যেমন- বায়ুমণ্ডলে পানি রয়েছে জলীয়বাষ্প হিসাবে, ভূ-পৃষ্ঠে পানি রয়েছে তরল ও কঠিন অবস্থায় এবং ভূ-গর্ভে রয়েছে ভূ-গর্ভস্থ তরল পানি হিসাবে। 
- পৃথিবীর মোট জলরাশির শতকরা ৯৭ ভাগ রয়েছে সমুদ্রে। মাত্র ৩ ভাগ রয়েছে নদী, হিমবাহ, ভূ-গর্ভস্থ, হ্রদ, মৃত্তিকা জীবমণ্ডল ও বায়ুমণ্ডলে। 
- মহাসাগর, সাগর ও উপসাগরের জলরাশি লবনাক্ত এবং নদী, হ্রদ ও ভূ-গর্ভের পানি, বৃষ্টির পানি ও ঝর্ণার পানি মিঠা। 
- আয়তন এবং গভীরতার ভিত্তিতে বারিমণ্ডলকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। 
যথা - 
১। মহাসাগর (Ocean), 
২। সাগর (Sea), 
৩। উপসাগর (Bay), 
৪। হ্রদ (Lake)। 

মহাসাগর (Ocean): 
- উন্মুক্ত বিস্তীর্ণ জলরাশি বা পানি রাশিকে মহাসাগর (Ocean) বলে। 
- পৃথিবীতে মোট পাঁচটি মহাসাগর রয়েছে। 
যথা: প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean), আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean), ভারত মহাসাগর (Indian Ocean), উত্তর মহাসাগর (North Ocean), দক্ষিণ মহাসাগর (South Ocean)। 
- মহাসাগরসমূহের মধ্যে আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর সবচেয়ে বড়। 


উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৮৩.
পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ কত?
  1. ১২,৮০০ কিলোমিটার
  2. ৪,০০০ কিলোমিটার
  3. ৬,৪০০ কিলোমিটার
  4. ৪০,০০০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আকার-আকৃতি (Size and shape of the Earth): 
- পৃথিবীর প্রকৃত আকৃতি হলো অনেকটা অভিগত গোলকের (Oblate spheriod) মতো।
- পৃথিবীর নিরক্ষীয় 'পূর্ব-পশ্চিম' ব্যাস ও মেরুদেশীয় 'উত্তর-দক্ষিণ' ব্যাস ভিন্ন।
- মেরুদেশীয় ব্যাস হলো ১২,৭১৪ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় ব্যাস হলো ১২,৭৫৭কিলোমিটার।
- এদের মধ্যে পার্থক্য হলো ৪৩ কিলোমিটার।
- পৃথিবীর গড় ব্যাস হলো ১২,৭৩৪.৫ কিলোমিটার।
- গণনার সুবিধার জন্য একে ১২,৮০০ কিলোমিটার ধরা হয়।
- এই হিসেবে পৃথিবীর গড় ব্যাসার্ধ হলো ৬,৪০০ কিলোমিটার।
- পৃথিবীর পরিধির মধ্যে নিরক্ষীয় পরিধি ৪০,০৭৭ কিলোমিটার।
- এটাই সর্ববৃহৎ পরিধি এবং মেরুদেশীয় পরিধি ৪০,০০৯ কিলোমিটার।
- গণনার সুবিধার জন্য গড় পরিধি ৪০,০০০ কিলোমিটার ধরা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৭,০৮৪.
ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

ভূ-প্রকৃতি (Physiography):
- বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম ব-দ্বীপ।
- এদেশের ভূ-খন্ড উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে বিস্তৃত।
- উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিকের পাহাড়ি অংশ ব্যতীত সমগ্র দেশ নদীবিধৌত পলল দ্বারা গঠিত সমভূমি।
- এই পললের পুরুত্ব প্রায় ১৮-২২ কিলোমিটার।
- ভূ-প্রকৃতির ভিন্নতার উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ।
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ।
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৮৫.
পাদদেশীয় পলল সমভূমি দেখা যায় বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে?
  1. খুলনা-বাগেরহাট
  2. রংপুর-দিনাজপুর
  3. চট্টগ্রাম-কক্সবাজার
  4. কুমিল্লা-নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

পাদদেশীয় পলল সমভূমি:
- পাহাড়ের পাদদেশে নদীবাহিত পানি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমি গড়ে ওঠে তাকে পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলে।
- বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থানই পাদদেশীয় পলল সমভূমি নামে পরিচিত।
- তিস্তা, আত্রাই, যমুনেশ্বরী প্রভৃতি নদী দ্বারা এ অঞ্চল বিধৌত।
- এসব নদী হিমালায় পর্বত হতে উৎপন্ন হয়েছে। ফলে নদীগুলো সহজেই পাহাড় হতে পলল বহন করে এ অঞ্চলে সঞ্চয় করে পাদদেশীয় পললভূমি গঠন করেছে।
- পাহাড়ের পাদদেশে দুই বা ততোধিক পলল পাখা বা কোণ মিলিত হয়েও পাদদেশীয় পলল সমভূমি গঠন করতে পারে।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৭,০৮৬.
বাংলাদেশের ফুসফুস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় নিচের কোনটি?
  1. ক) চট্টগ্রামের পাহাড়সমূহকে
  2. খ) মধুপুরের বনভূমিকে
  3. গ) বঙ্গোপসাগরকে
  4. ঘ) সুন্দরবনকে
ব্যাখ্যা
- বিশ্ব মানচিত্রে এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের অবস্থান।
- আজকের যে বাংলাদেশ তার দক্ষিণ সীমান্তে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি।
- দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে মায়ানমার (বার্মা)।
- বাকি তিন দিকের সীমানা ঘিরে রেখেছে ভারত।
- বাংলাদেশের উত্তর সীমার অদূরে রয়েছে হিমালয় পর্বত।
- উত্তর সীমায় আরো রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, অরুণাচল ও আসাম রাজ্য ।
- ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ।
- দেশটি অবস্থানগত দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত।
- দেশটির তিন দিকে স্থল আর এক দিকে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি একে অপরূপ সৌন্দর্য দান করেছে।
- ম্যানগ্রোভ বন নামে পরিচিতি সুন্দরবন, বিভিন্ন নদ-নদী, পাহাড় পর্বত বাংলাদেশকে এক পৃথক পরিচিতি প্রদান করেছে।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
৭,০৮৭.
আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক কোনটি?
  1. বায়ুর তাপ
  2. বায়ুর চাপ
  3. সমুদ্রস্রোত
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা

আবহাওয়া ও জলবায়ু : 
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নিদিষ্ট সময়ের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ, তুষারপাত, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদি উপাদানের গড় অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
- আবহাওয়া সবসময়ই পরিবর্তনশীল।
- কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের কয়েক বছরের গড় আবহাওয়াকে জলবায়ু বলে।
- পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় কোনো স্থানের বায়ুর তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ইত্যাদির ৩০-৪০ বছরের গড় অবস্থাকে সে স্থানের জলবায়ু বলা হয়।

• আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামকসমূহ -
- অক্ষাংশ,
- উচ্চতা,
- সমুদ্র থেকে দূরত্ব,
- স্থলভাগ ও জলভাগের অবস্থান,
- সমুদ্রস্রোত,
- ভূমির ঢাল,
- মৃত্তিকার গঠন,
- বনভূমির অবস্থান।

অন্যদিকে, 
• আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান -
- বায়ুর তাপ,
- বায়ুর চাপ,
- বায়ু প্রবাহ,
- বায়ুর আর্দ্রতা,
- পানিচক্র ও বৃষ্টিপাত।

উল্লেখ্য,
- 'সমুদ্রস্রোত' আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ামক।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৭,০৮৮.
কোন সাগরে মানুষ ডুবে না?
  1. লোহিত সাগর
  2. ভূমধ্য সাগর
  3. মৃত সাগর
  4. প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা

Dead Sea:
- Dead Sea বা মৃত সাগরে মানুষ ডুবে না।
- Dead Sea হলো একটি স্থলবেষ্টিত লবণের হ্রদ।
- এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ইসরায়েল এবং জর্ডানের মধ্যে অবস্থিত।

⇒ Dead Sea এর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত উচ্চ লবণাক্ততা, যা এর পানি এমনভাবে অতি লবণাক্ত করে তোলে যে, এতে কোনো জীবন্ত প্রাণী বাস করতে পারে না, তাই এর নাম "মৃত সাগর"।
- এটি পৃথিবীর সবচেয়ে নীচু স্থান, প্রায় ৪৩০ মিটার (১,৪১০ ফুট) সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নিচে।
- পানিতে মানুষ ডুবে গেলেও ডেড সি বা মৃত সাগর এমন একটি হ্রদ যেখানে কেউ ডুবে না।
- এর পানি এতটাই ঘণ যে ওই পানিতে কেউ চাইলে শুয়েও থাকতে পারে।
- এতে কোন মাছ উৎপাদন হয় না।
- এই হ্রদটি ইসরায়েল, পশ্চিমতীর ও জর্ডানের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.

৭,০৮৯.
’খুলনা ও পটুয়াখালী অঞ্চল’ কোন ভূ-অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. প্লাবন সমভূমি
  2. পাদদেশীয় সমভূমি
  3. প্লাইস্টোসিন
  4. টারশিয়ারি
ব্যাখ্যা

• ভূপ্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের ভূমিকে তিনটি প্রধান ভূ-অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।

- টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চল,
- প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি ,
- এবং প্লাবন সমভূমি 

• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমি:
- আনুমানিক ২৫০০০ বছর পূর্বের  সময়কে প্লাইস্টানকাল বলে।
• প্লাইসটোসিন উচ্চভূমির অন্তর্গত ভূ-অঞ্চাল হল
- লালমাই পাহাড়ি অঞ্চল,
- বরেন্দ্রভূমি,
- মধুপুর ভাওয়ালের গড়। 

• টারশিয়ারি পাহাড় অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল:
-  উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চল,
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চালের পাহাড় সমূহ।

• প্লাবন সমভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত ভূ-অঞ্চল- 
১. রংপুর দিনাজপুরের পাদদেশীয় সমভূমি ।
২. ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, নোয়াখালি, কুমিল্লা অঞ্চলের অন্তর্গত বন্যা প্লাবন সমভূমি।
৩. ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে ব-দ্বিপ সমভূমি।
৪. নোয়খালী ও ফেনী নদীর নিম্ন ভাগ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সমভূমি।
৫. খুলনা, পটুয়াখালী অঞ্চল ও বরগুনা জেলার অংশবিশেষ স্রোতজ সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৭,০৯০.
নীলনদ উৎপত্তি লাভ করে -
  1. ক) ভিক্টোরিয়া হ্রদ থেকে
  2. খ) আন্দিজ পর্বতমালা থেকে
  3. গ) ব্ল্যাক ফরেস্ট থেকে
  4. ঘ) কুনকুন পর্বত থেকে
ব্যাখ্যা
• বিশ্বের কয়েকটি প্রধান নদীর উৎপত্তি স্থল-
- নীলনদ: ভিক্টোরিয়া হ্রদ, আফ্রিকা মহাদেশ।
- হোয়াংহো নদী: কুনকুন পর্বত, চিন দেশ।
- মিসিসিপি নদী: মিনোসোটার হ্রদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
- দানিয়ুব নদী: ব্ল্যাক ফরেস্ট, ইউরোপ।    
- মারে ডার্লিং নদী: কোমিয়াস্কে, অষ্ট্ৰেলিয়া।
- তিস্তা নদী: সিকিমের পর্বত অঞ্চল।
- আমাজান নদী: আন্দিজ পর্বতমালা, দক্ষিণ আমেরিকা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৯১.
মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করে কোন প্রণালী?
  1. ডেভিস প্রণালী
  2. তাতার প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. মেসিনা প্রণালী
ব্যাখ্যা
• ডেভিস প্রণালী:
- বাফিন উপসাগর এবং ল্যাব্রাডর সাগর কে যুক্ত করেছে ।

• তাতার প্রণালী:
- জাপান সাগর ও ওখোটস্ক সাগর কে যুক্ত করেছে।

• বসফরাস প্রণালী:
- মর্মর সাগর ও কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে ।

• মেসিনা প্রণালী:
 - তিরেনিয়ান সাগর (Tyrrhenian Sea) ও আয়োনিয়ান সাগর (Ionian Sea)-কে সংযুক্ত করে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৭,০৯২.
সাহারা মরুভূমির সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
  1. মাউন্ট এটনা
  2. মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো
  3. মাউন্ট কুসি
  4. অ্যাটলাস পর্বত
ব্যাখ্যা

- মাউন্ট কুসি (Mount Koussi) সাহারা মরুভূমির সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।
- এটি চাদে অবস্থিত একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি যা সাহারা মরুভূমির সর্বোচ্চ বিন্দু হিসেবে পরিচিত।

• সাহারা মরুভূমি:

- প্রায় ৯,২০০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সাহারা মরুভূমিকে বিশ্বের বৃহত্তম উষ্ণ (গরম) মরুভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- আয়তনের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম মরুভূমি,
- শুধুমাত্র অ্যান্টার্কটিকা ও আর্কটিকের মেরু মরুভূমির পরেই অবস্থান।
- এবং এটি আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় ৩১% অংশ দখল করে রেখেছে।
- সাহারা মরুভূমি উত্তর আফ্রিকার ১১টি দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত।
- এই দেশগুলো হলো: আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া, সুদান, মরক্কো, তিউনিশিয়া, চাঁদ, মালি, নাইজার, মরিতানিয়া, পশ্চিম সাহারা।
 
উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৭,০৯৩.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিংডং এর উচ্চতা কত?
  1. ক) ১২৩১ মিটার
  2. খ) ১২৩০ মিটার
  3. গ) ১১৫০ মিটার
  4. ঘ) ১০০০ মিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে অবস্থিত পাহাড়সমূহ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল গঠিত।
এ অঞ্চলের পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার। এখানকার পাহাড়গুলো পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ক্রমশ বেড়েছে। 

• বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ তাজিংডং বান্দরবান জেলায় অবস্থিত যার বর্তমান নাম বিজয়। এর উচ্চতা ১,২৩১ মিটার। 
• আবার এ অঞ্চলের দক্ষিণ-পূর্বপ্রান্তে বান্দরবান জেলার কিওক্রাডং পর্বত অবস্থিত যার উচ্চতা ১,২৩০ মিটার।

সূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৯৪.
মালাক্কা প্রণালী সংযুক্ত করেছে -
  1. উত্তর সাগর ও বেরিং সাগর
  2. ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
  4. পূর্বচীন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগর
ব্যাখ্যা

 মালাক্কা প্রণালী: 
- মালাক্কা প্রণালী আন্দামান সাগর (ভারত মহাসাগর) ও দক্ষিণ চীন সাগর (প্রশান্ত মহাসাগর) সংযোগকারী জলপথ।
- দৈর্ঘ্য: ৫০০ মাইল (ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর৮০০ কিমি)
- প্রস্থ:দক্ষিণ অংশে: ৪০ মাইল (৬৫ কিমি), উত্তরে: ১৫৫ মাইল (২৫০ কিমি)
- মালয় উপকূলে অবস্থিত মালাক্কা বন্দর থেকে নামকরণ করা হয়েছে, যা ১৬শ ও ১৭শ শতকে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র ছিল।
- মালাক্কা প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম সমুদ্রপথ।
- এটি এশিয়ার প্রধান বাণিজ্যিক ও জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- আন্তর্জাতিক শিপিং ট্রাফিকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে চীন, ভারত ও জাপানের জন্য।

অন্যদিকে -
- বেরিং প্রণালী এশিয়া এ আমেরিকাকে পৃথক করেছে এবং উত্তর সাগর ও বেরিং সাগরকে সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- জিব্রাল্টার প্রণালি আফ্রিকা থেকে ইউরোপকে পৃথক করেছ এবং ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সাগরকে সংযুক্ত করেছে।

উৎস: Britannica.

৭,০৯৫.
কোনটি অর্থনৈতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়?
  1. খনিজ ও শক্তিসম্পদ
  2. শিল্প
  3. কৃষিকাজ
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
মানব ভূগোলের শাখাসমূহ:
- আঞ্চলিক ভূগোল,
- জনসংখ্যা ভূগোল,
- নগর ভূগোল,
- অর্থনৈতিক ভূগোল,
- পরিবহন ভূগোল,
- বাণিজ্যিক ভূগোল,
- সাংস্কৃতিক ভূগোল,
- পরিবেশ ভূগোল,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা,
- বসতি ভূগোল,
- ব্যবহারিক ভূগোল।

অর্থনৈতিক ভূগোল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন ধারণের নিমিত্তে সকল প্রকার অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, বিকাশ, বিস্তার, বিবর্তন এবং বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে, তাই অর্থনৈতিক ভূগোল বলবো।
- অর্থনৈতিক ভূগোল বিশ্বব্যাপী কৃষি, শিল্প, খনিজ ও শক্তিসম্পদ প্রভৃতি উৎপাদন, উৎপাদনের ভৌগোলিক নিয়ামক ও বণ্টন প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।
- এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য প্রভৃতির ব্যাখ্যাও অর্থনৈতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৯৬.
নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে কী নামে অভিহিত করা হয়?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. দ্রাঘিমাংশ
  4. অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
অক্ষাংশ:
- নিরক্ষরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্র বিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে অক্ষাংশ বলা হয়।
- ভূ-পৃষ্ঠে কোনো একটি স্থানের প্রকৃত দূরত্ব জানতে হলে এর অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশ নির্ণয় করা প্রয়োজন।
- অক্ষাংশ নির্ণয় করতে হলে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে ঠিক মধ্যবিন্দু অর্থাৎ কেন্দ্র থেকে উক্ত স্থানটির কৌণিক দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে।
- এক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে নিরক্ষরেখা বরাবর একটি রেখা কল্পনা করা হয়, যেটি নিরক্ষীয় তল সৃষ্টি করে।
- নিরক্ষীয় তল থেকে উত্তর মেরু বিন্দুর কৌণিক দূরত্ব ৯০০। অতএব, উত্তর মেরুর অক্ষাংশের মান হলো ৯০° উত্তর অক্ষাংশ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৭,০৯৭.
Which of the following ecosystems covers the largest area of the earth's surface ?
  1. ক) Desert Ecosystem
  2. খ) Mountain Ecosystem
  3. গ) Freshwater Ecosystem
  4. ঘ) Marine Ecosystem
ব্যাখ্যা
Marine ecosystems are the largest of Earth's aquatic ecosystems that covers the largest area of the earth's surface.
Source: britannica.com
৭,০৯৮.
বাংলাদেশের কোন জেলায় খরা বেশি হয়?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) দিনাজপুর
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে শুষ্ক আবহাওয়া ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং অল্পসংখ্যক নদী থাকার কারণে খরার প্রবণতা বেশি। যেমন দিনাজপুর, বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ইত্যাদি।  

তথ্যসূত্র:- সাধারণ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৭,০৯৯.
ব্ল্যাক ফরেস্ট কোন ধরনের পর্বত?
  1. ক) আগ্নেয়
  2. খ) ভঙ্গিল
  3. গ) ল্যাকোলিথ
  4. ঘ) স্তূপ
ব্যাখ্যা
জার্মানিতে অবস্থিত ব্ল্যাক ফরেস্ট একটি চ্যূতি-স্তূপ পর্বতের উদাহরণ। ভূআলোড়নের ফলে ভূপৃষ্ঠের শিলাস্তরে সংকোচন-প্রসারণ ঘটে কোথাও ফাটল সৃষ্টি হয় আবার কোথাও ভূমি উপরের দিকে উত্থিত হয়। এভাবে যে পর্বতের সৃষ্টি হয় তা হলো স্তূপ পর্বত। জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, পাকিস্তানের লবণ পর্বত, পাকিস্তানের বিন্ধ্যা ও সাতপুরা পর্বত ইত্যাদি স্তূপ পর্বতের উদাহরণ। (সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৭,১০০.
নিচের কোন শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা সর্বাধিক?
  1. রূপান্তরিত শিলা
  2. পাললিক শিলা
  3. আগ্নেয় শিলা
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

শিলা:
- ভূত্বক গঠিনকারী উপাদানসমূহ শিলা নামে পরিচিত।
- গঠন অনুসারে শিলা তিন প্রকার। যথা:
• আগ্নেয় শিলা।
• পাললিক শিলা।
• রূপান্তরিত শিলা।

⇒ পাললিক শিলা:
- এদের মধ্যে পাললিক শিলা গঠিত হয় পলি সঞ্চিত হয়ে। পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য সমূহ হলো:
• জীবাশ্ম দেখা যায়।
• স্তর লক্ষ্য করা যায়।
• পাললিক শিলা নরম, ভঙ্গুর।
• সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- বেলেপাথর, চুনাপাথর, কাঁদাপাথর, কয়লা, কেওলিন, শেল প্রভৃতি পাললিক শিলার উদাহরণ।
- অন্যদিকে, আগ্নেয় ও রূপান্তরিত শিলায় জীবাশ্ম দেখা যায় না।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।