বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৭০ / ৭২ · ৬,৯০১৭,০০০ / ৭,১৯১

৬,৯০১.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য নয় কোনটি?
  1. আসাম
  2. মেঘালয়
  3. মিজোরাম 
  4. মণিপুর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যে নয় মণিপুর।
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি। 
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান)।
- একমাত্র রাঙ্গামাটি জেলার সাথে বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে। যথা- পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়।
- বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ২টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের রাখাইন ও চিন প্রদেশর সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে।

উল্লেখ্য,
- অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এই সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- সেভেন সিস্টার্সের (আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম ও মেঘালয়) এই চারটি রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের সীমান্ত আছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৯০২.
স্থানীয় বায়ু কোনটি?
  1. পশ্চিমা বায়ু
  2. মেরু বায়ু
  3. অয়ন বায়ু
  4. পার্বত্য বায়ু
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯০৩.
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রায় কত অ্যাটমোস্ফিয়ার?
  1. ০.৫ atm
  2. ১ atm
  3. ১.৫ atm
  4. ২ atm
ব্যাখ্যা

বায়ুর চাপ :
- বায়ু তার ওজনের কারণে চারদিকে যে চাপ প্রদান করে, তাকে বায়ুর চাপ বলা হয়।
- বায়ু সাধারণত নিচ থেকে ওপরের দিকে স্তরে স্তরে সজ্জিত থাকে।
- সমুদ্রের সমতল অর্থাৎ নিম্নস্তরে বায়ুর চাপ সবচেয়ে বেশি;
- কারণ নিম্নস্তরে বায়ুর ওজন ও গভীরতা বেশি থাকে।
- সমুদ্রপৃষ্ঠের বায়ুর স্বাভাবিক চাপ প্রায় ৭৬ সে.মি বা ৭৬০ মিলিমিটার পারদ স্তম্ভের সমান।
- সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর চাপ প্রায় ১ অ্যাটমোস্ফিয়ার (atm) হিসেবে ধরা হয়।

উৎস : ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯০৪.
নিম্নের কোন শহরকে সাত পাহাড়ের দেশ বলা হয়?
  1. কায়রো
  2. প্যারিস
  3. জুরিখ
  4. রোম
ব্যাখ্যা
সাত পাহাড়ের দেশ:
- সাত পাহাড়ের দেশ বলা হয় রোমকে।
- কারন ইতালির রাজধানী রোম নগরীতে সাতটি পাহাড় রয়েছে।
- এগুলোর নাম হলো অ্যাভেনটাইন, কেইলিয়ান, ক্যাপিটোলাইন, ইসকুইলিন, প্যালেটাইন, কুইরিনাল ও ভিমিনাল।
- এই পাহাড়গুলো নগরীর ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে।
- এজন্য রোম নগরীকে সাত পাহাড়ের দেশ বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- রোমুলাসের আদি শহর প্যালাটাইন পাহাড়ের উপর নির্মিত হয়েছিল।
- রোম রোমা প্রভিন্সিয়া (প্রদেশ), ল্যাজিও অঞ্চল এবং ইতালি দেশের রাজধানী।

উৎস: Britannica.
৬,৯০৫.
‘সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড’ কোথায় অবস্থিত?
  1. নাফ নদীতে
  2. যমুনা নদীতে
  3. সন্দ্বীপ চ্যানেলে
  4. বঙ্গোপসাগর
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)  খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত। 
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। 
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
-  সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো।
- মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 
৬,৯০৬.
২১ মার্চ দক্ষিণ গোলার্ধে কোন ঋতু চলে?
  1. গ্রীষ্ম
  2. শরৎ
  3. হেমন্ত
  4. বসন্ত
ব্যাখ্যা
মহাবিষুব:
- ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সূর্য ঠিক পূর্বদিকে ওঠে এবং ঠিক পশ্চিমদিকে অস্ত যায়।
- বছরে মাত্র এই দুটি দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয় এবং ঐ দিনটিকে বাসন্ত বিষুব বা মহাবিষুব বলে।

উল্লেখ্য,
⇒ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল ও দক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল:
- পৃথিবী তার কক্ষপথে চলতে চলতে ২২ ডিসেম্বরের পর থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত এমন স্থানে ফিরে আসে যখন সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দিতে থাকে।
- ফলে ২১ মার্চ পৃথিবীর সর্বত্র দিনরাত্রি সমান হয়।
- দিনের বেলায় সূর্যকিরণের কারণে ভূপৃষ্ঠের বায়ুস্তর গরম হয় এবং রাত্রিবেলায় বিকিরিত হয়ে ঠান্ডা হয়।
- এই সময় উত্তর গোলার্ধে বসন্তকালদক্ষিণ গোলার্ধে শরৎকাল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯০৭.
Headley Center for Climate Prediction and Research (HCCPR)-এর হিসাব অনুযায়ী ২০৮০ সালে বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিমাণ কত হবে? 
  1. ২৫ সেন্টিমিটার
  2. ৩০ সেন্টিমিটার
  3. ৪০ সেন্টিমিটার
  4. ৬০ সেন্টিমিটার
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ঝুঁকি: 
- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূল প্রভাবগুলোর কারণে ও সমুদ্র উপকূলীয় দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসকারী একটি বড় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা নাজুক হয়ে ওঠেছে।
- এখানকার ৬০ শতাংশ ভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে মাত্র ৫ মিটার উপরে।
- 'Headley Center for Climate Prediction and Research (HCCPR)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২০৮০ সালে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পাবে।
- ফলশ্রুতিতে, অবকাঠামো, বাসস্থান, কৃষি এবং জীবিকার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হবে। সমুদ্র উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল ঝড় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতেও থাকবে।
- 'Inter-governmental Panel on Climate Change (IPCC)' এর প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০৫০ সালে বাংলাদেশের ভূমির ১৭ শতাংশ এবং খাদ্য উৎপাদনের ৩০ শতাংশ হারিয়ে যাবে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। 

৬,৯০৮.
ভূমধ্যসাগর কোন দুইটি মহাদেশের মাঝে অবস্থিত?
  1. ইউরোপ ও এশিয়া
  2. ইউরোপ ও আফ্রিকা
  3. এশিয়া ও আফ্রিকা
  4. ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা

ভূমধ্যসাগর (Mediterranean Sea):
- ভূমধ্যসাগর বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম সমুদ্র।
- ভূমধ্যসাগর হল ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে অবস্থিত একটি আন্তঃমহাদেশীয় সমুদ্র যা পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগর থেকে পূর্বে এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি স্পেন ও মরক্কোর মধ্যবর্তী জিব্রাল্টার প্রণালী থেকে তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে ইস্কেন্দেরুন উপসাগর পর্যন্ত প্রায় ২,৫০০ মাইল (৪,০০০ কিমি) বিস্তৃত। 
- আয়তন: প্রায় ২.৫ মিলিয়ন বর্গকিলোমিটার।
- এর সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ১৬,০০০ ফুট (৪,৯০০ মিটার)। 
- ভূমধ্যসাগরের উত্তরে ইউরোপ মহাদেশ; পূর্বে এশিয়া এবং দক্ষিণে আফ্রিকা অবস্থিত। 
- এটি পশ্চিমে জিব্রাল্টার প্রণালী (Strait of Gibraltar) দিয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে এবং দক্ষিণ-পূর্বে সুয়েজ খাল দিয়ে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- এটি উত্তর-পূর্বে দারদানেলিস প্রণালী, মারমারা সাগর এবং বসফরাস প্রণালীর মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগরের সাথে সংযুক্ত।

⇒ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল হলো ভূমধ্যসাগরের চারপাশে অবস্থিত দেশগুলিকে ঘিরে থাকা একটি ভৌগোলিক অঞ্চল।
- ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত ২২টি দেশ: স্পেন, ফ্রান্স, মোনাকো, ইতালি, মাল্টা, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, মন্টিনিগ্রো, আলবেনিয়া, গ্রীস, তুরস্ক, সাইপ্রাস, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, মিশর, লিবিয়া, তিউনিশিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো।

উৎস: Worldatlas.

৬,৯০৯.
পিনাটুবো পর্বত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ফিলিপাইনে
  2. জাপানে
  3. জার্মানিতে
  4. ইতালিতে
ব্যাখ্যা
পিনাটুবো পর্বত:
- পিনাটুবো পর্বত (Mount Pinatubo) ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপের পশ্চিম অংশে অবস্থিত।
- এটি একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি।
- ১৯৯১ সালে এর সর্বশেষ বড় অগ্নুৎপাত ঘটে।

উল্লেখ্য,
- পিনাটুবো পর্বতের অগ্নুৎপাতের ফলে ফিলিপাইনের আশপাশের এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং প্রায় ১০০,০০০ মানুষ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল।
- এটি একটি অন্যতম প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যা বৈশ্বিক জলবায়ুতে কিছু সময়ের জন্য ঠান্ডা প্রভাব সৃষ্টি করে।

উৎস: Britannica.
৬,৯১০.
২০১১ সালে জাপানে সংঘটিত সুনামির সৃষ্টি হয় কত মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে?
  1. ক) ৭.৭
  2. খ) ৮
  3. গ) ৮.৭
  4. ঘ) ৮.৯
ব্যাখ্যা
২০১১ সালে জাপানের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ভয়াবহ সুনামি সংঘটিত হয়। ৮.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এই সুনামি সৃষ্টি হয়। জাপানের রাজধানী টোকিও শহরের প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এই সুনামি আঘাত হেনেছিলো। এর ফলে জাপানের পাঁচটি পারমানবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণীর ভূগোল ও পরিবেশ বোর্ড বই।
৬,৯১১.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনাঞ্চল কোনটি?
  1. লাউয়াছড়া
  2. মধুপুর গড়
  3. রেমা–কালেঙ্গা
  4. রাতারগুল
ব্যাখ্যা

রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য:
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনাঞ্চল রেমা-কালেঙ্গা।
- এটি সুন্দরবনের পরে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক বন।


- রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত।
- এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এবং জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র্যে দেশের সবচেয়ে সমৃদ্ধ বনাঞ্চল।
- এটি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার খুব কাছে এবং ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন।

• রেমা–কালেঙ্গা অভয়ারণ্য ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে এটির আরো সম্প্রসারণ করা হয়।
- বনবিভাগের কালেঙ্গা রেঞ্জের চারটি বিটের (কালেঙ্গা, রেমা, ছনবাড়ী আর রশিদপুর) মধ্যে রেমা, কালেঙ্গা আর ছনবাড়ী বিস্তীর্ণ জঙ্গল নিয়ে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য গঠিত।
- বর্তমানে এই বনে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৬৭ প্রজাতির পাখি, ৭ প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা-লতাগুল্ম পাওয়া যায়।
- রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রমে আছে ৩৭ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, সাত প্রজাতির উভচর, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১৬৭ প্রজাতির পাখি। এছাড়া ৬৩৮ প্রজাতির গাছপালা ও লতাগুল্মও আছে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

৬,৯১২.
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী সামুদ্রিক প্রণালী কোনটি?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. হরমুজ প্রণালী
  3. মালাক্কা প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা
পক প্রণালী:
- পক প্রণালী ভারতীয় রাজ্য তামিলনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার মধ্যবর্তী একটি সামুদ্রিক প্রণালী।
- এটি বঙ্গোপসাগর ও মান্নার উপসাগরকে একসঙ্গে যুক্ত করেছে।
- প্রণালীটি ৮৫ মাইল দীর্ঘ ।
- এই প্রণালীটি ৪০-৮৫ মাইল প্রশস্ত।
- জাফনা বন্দর, উত্তর শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক কেন্দ্র, এই প্রণালীতে অবস্থিত।
- ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির গভর্নর রবার্ট পকের নামে এই প্রণালীর নামকরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬,৯১৩.
আরাকান পাহাড় হতে ‍উৎপন্ন নদী কোনটি?
  1. ফেনী নদী
  2. সাঙ্গু নদী
  3. কর্ণফুলি নদী
  4. নাফ নদী
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন নদীর উৎপত্তিস্থল:

- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল গঙ্গা নামে হিমালয় পর্বতের গাঙ্গোত্রী হিমবাহ।
- মেঘনা নদীর উৎপত্তিস্থল আসামের লুসাই পাহাড়।
- যমুনা নদীর উৎপত্তিস্থল ব্ৰহ্মপুত্ৰ নামে কৈলাশ শৃঙ্গের মানস সরোবর হ্রদ।
- কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।
- করতোয়া নদীর উৎপত্তিস্থল সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল।
- সাঙ্গু নদীর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমানার আরাকান পাহাড়।
- হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির বাদানাতলী পর্বতশৃঙ্গ।
- মহানন্দা নদীর উৎপত্তিস্থল মহালড্রীম, দার্জিলিং।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯১৪.
বাংলাদেশের সবচেয়ে শীতলতম মাস বলা হয় কোন মাস কে?
  1. জুন
  2. আগস্ট
  3. জানুয়ারি
  4. সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা
• ভৌগোলিক অবস্থান:
 → বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয়সহ উত্তর-পূর্বে আসাম পাহাড়ী অঞ্চল রয়েছে এবং এর মাঝে বাংলাদেশ নীচু সমতল ভূমি। এরূপ অবস্থানের জন্য বাংলাদেশে দুটি রূপে মৌসুমী জলবায়ুর প্রভাব দেখা যায়।
→ মৌসুমী জলবায়ুর প্রধান এবং অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর দিক পরিবর্তিত হয়।
→ নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী মাস শীত কাল বলে পরিচিত।
জানুয়ারী হচ্ছে সবচেয়ে শীতল মাস। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯১৫.
কোনটিকে পশ্চিমা বাহিনীর নদী বলা হয়?
  1. হাকালুকি হাওর
  2. বুড়িগঙ্গা নদী
  3. শীতলক্ষ্যা নদী
  4. ডাকাতিয়া বিল
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ন ভৌগলিক উপনাম: 
- সোনালী আঁশের দেশ - বাংলাদেশ।
- ভাটির দেশ- বাংলাদেশ।
- পশ্চিমা বাহিনীর নদী - ডাকাতিয়া বিল।
- বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার - চট্রগ্রাম।
- বারো আউলিয়ার দেশ- চট্রগ্রাম।
- বাংলার ভেনিস- বরিশাল।
- হিমালয়ের কন্যা - পঞ্চগড়।
- সাগর কন্যা - কুয়াকাটা।

সূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বিভিন্ন পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,৯১৬.
নিচের কোন জেলায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় র‍য়েছে?
  1. বান্দরবান
  2. নেত্রকোনা
  3. সিলেট
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে ধারণা করা হয়।
- এ যুগের পাহাড়সমূহ বেলেপাথর, শেল ও কর্দম দ্বারা গঠিত।

উল্লেখ্য,
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে:
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।
- সাম্প্রতিককালে আবিস্কৃত তাজিনডং (বিজয়) পর্বতশৃঙ্গটি দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ যার উচ্চতা ১,২৩১ মিটার।
- এটি আবিস্কৃত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ছিল কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।

উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার উত্তরাংশ, সিলেট জেলার উত্তর ও উত্তর- পূর্বাংশ এবং মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার দক্ষিণের পাহাড়গুলো এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- এখানকার পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ২৪৪ মিটারের বেশি নয়।
- উত্তরের পাহাড়গুলো স্থানীয়ভাবে টিলা নামে পরিচিত।
- এগুলোর উচ্চতা ৩০ থেকে ৯০ মিটার।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯১৭.
সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহকে যোগকারী রেখাকে বলা হয়- 
  1. আইসোথার্ম
  2. আইসোবার
  3. আইসোহাইট
  4. আইসোহেলাইন
ব্যাখ্যা
সমরেখ পদ্ধতি:
- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
⇒ সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

⇒ সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

⇒ সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সম বৃষ্টিপাত যুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯১৮.
বৃষ্টিপাতকে কয় শ্রেণিতে ভাগ করা যায়?
  1. ২ শ্রেণিতে
  2. ৩ শ্রেণিতে
  3. ৪ শ্রেণিতে
  4. ৫ শ্রেণিতে
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাতের শ্রেণিবিভাগ:
- চারটি উপায়ে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ঊর্ধ্বে উত্থিত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায় বলে একে চারটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা যায়।
যথা -
১. পরিচলন বৃষ্টিপাত (Convectional Rain)
২. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain)
৩. ঘূর্ণিবাত বৃষ্টি (Cyclonic Rain)
৪. সংঘর্ষ বৃষ্টি (Frontal Rain)

উল্লেখ্য,
১) পরিচলন বৃষ্টি (Convectional Rain): দিনের বেলায় সূর্যের কিরণে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে সোজা উপরে উঠে যায় এবং শীতল বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঐ জলীয়বাষ্প প্রথমে মেঘ ও পরে বৃষ্টিতে নিনান হয়ে সোজাসুজি নিচে নেমে আসে। এরূপ বৃষ্টিপাতকে পরিচলন বৃষ্টি বলে।

(২) শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি (Orographic Rain): জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যদি গমনপথে কোনো উঁচু পর্বতশ্রেণিতে বাধা পায় তাহলে ঐ বায়ু উপরের দিকে উঠে যায়। তখন জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু ক্রমশ প্রসারিত হয় এবং পর্বতের উঁচু অংশে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে (Windward slope) বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি বলে।

(৩) বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি (Frontal Rain): শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে। বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়। ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে। এ প্রকার বৃষ্টিপাত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

(৪) ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain): কোনো অঞ্চলে বায়ুমন্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে। শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাতকে ঘূর্ণি বৃষ্টি বলে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯১৯.
'হনসু দ্বীপ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. শ্রীলংকা
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. জাপান
  4. চীন
ব্যাখ্যা
• জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো:
→ শিকোকু,
→ কিউসু, 
→ হনসু ও
→ হোক্কাইডো।
- আয়তনে জাপানের বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ হনসু দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৬,৯২০.
সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ কোনটি?
  1. পৃথিবী
  2. শুক্র
  3. বুধ
  4. ইউরেনাস
ব্যাখ্যা

বুধ:
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ।
-
সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি থাকায় বুধের কক্ষপথগত গতি প্রায় ৪৭ কিমি/সেকেন্ড।
- যার কারণে  বুধ সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহে পরিণত হয়েছে।
- বুধকে সৌরজগতের  সবচেয়ে ছোট ও ক্ষুদ্রতম গ্রহ ও বলা হয়।
- এর ব্যাস প্রায় ৪,৮৫০ কিলোমিটার।
- এবং সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ৫৮ কোটি কিলোমিটার।
- বুধ সূর্যের চারদিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৮৮ দিন সময় নেয়।
- এই গ্রহে দিনের বেলায় তাপমাত্রা প্রায় ৪০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠলেও রাতে তা হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায়।
- বুধের নিজস্ব কোনোবায়ুমণ্ডল নেই, ফলে তাপমাত্রার পার্থক্য অত্যন্ত বেশি হয়।
- এছাড়া এর কোনো উপগ্রহও নেই।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯২১.
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করার প্রক্রিয়াকে কী বলে? 
  1. পূর্ব প্রস্তুতি
  2. প্রশমন
  3. পুনরুদ্ধার
  4. সাড়াদান
ব্যাখ্যা

• পূর্ব প্রস্তুতি:
- প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস করার লক্ষ্যে দুর্যোগ পূর্ব সময়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোকে পূর্ব প্রস্তুতি বলে।

• প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে প্রশমন বলে।
- দুর্যোগ প্রশমন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মজবুত ও পাঁকা ভবনসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রভৃতি।

• পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে সম্পদ, অবকাঠামো, পরিবেশ ইত্যাদির যে ক্ষতি হয় তা পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগ পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকে পুনরুদ্ধার বলে। এক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, স্বেচ্ছাসেবী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাহায্য ও সহায়তা প্রয়োজন হয়। যেমন- ঘরবাড়ি নির্মাণ, রাস্তাঘাট মেরামত ইত্যাদিতে অর্থ ও প্রযুক্তি যোগান।

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯২২.
ভূমিরূপ এবং এর বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করা হয় কোথায়? 
  1. Soil geography
  2. Biogeography
  3. Geomorphology
  4. Climatology
ব্যাখ্যা

• ভূমিরূপবিদ্যা (Geomorphology):
- ভূমিরূপ এবং এর বিবর্তন নিয়ে গবেষণা করে। 
- ভূমিরূপবিদ্যা হলো ভূমিরূপ এবং এর পরিবর্তনের অধ্যয়ন।
- এটি ভূমিরূপের গঠন, গঠন প্রক্রিয়া এবং পরিবর্তনের কারণ বিশ্লেষণ করে।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠে কাজ করা শক্তি এবং ভূমিরূপ পরিবর্তনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হয়।
- ভূমিরূপবিদগণ একটি গ্রহের নগ্নীভবন এবং ক্ষয়ীভবনের ভূমিরূপের পরিবর্তন সম্পর্কে আলোচনা করে। 

অন্যদিকে,
• জলবায়ুবিদ্যা (Climatology): জলবায়ুবিদ্যা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার ধরন এবং পৃথিবীতে এর প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করে।
• জীবভূগোল (Biogeography): পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রাণিজগৎ এবং উদ্ভিদের বণ্টন নিয়ে জীবভূগোল আলোচনা করে।
• মৃত্তিকা ভূগোল (Soil geography): মৃত্তিকা ভূগোলবিদগণ অশ্মমণ্ডলের উপরিভাগের মৃত্তিকা এবং এর বণ্টন ও বিন্যাস সম্পর্কে আলোচনা করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯২৩.
সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. বাংলাদেশ
  2. ভারত
  3. নেপাল
  4. মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা
SAARC:
- SAARC-এর পূর্ণরূপ: South Asian Association for Regional Cooperation.
- দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর একটি বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরাম।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮৫, ঢাকায়।
- সার্কের বর্তমান সদস্য সংখ্যা ৮টি।

উল্লেখ্য,
সার্কের কিছু আঞ্চলিক কেন্দ্র সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশে অবস্থিত।
- সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: গুজরাত, গান্ধীনগর ভারত,
- সার্ক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র: কলম্বো, শ্রীলংকা,
- সার্ক কৃষিবিষয়ক কেন্দ্র ও আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র: ঢাকা, বাংলাদেশ,
- সার্ক যক্ষ্মা ও এইচআইভি/এইডস কেন্দ্র: কাঠমান্ডু, নেপাল,
- সার্ক শক্তি কেন্দ্র: পাকিস্তান,
- সার্ক বন গবেষণা কেন্দ্র: থিম্পু, ভুটান,
- সার্ক মানব সম্পদ উন্নয়ন কেন্দ্র: ইসলামাবাদ, পাকিস্তান,
- সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র: মালদ্বীপ,

উৎস: SAARC ওয়েবসাইট।
৬,৯২৪.
ভূ-মধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেছে?
  1. বেরিং প্রণালী
  2. পক প্রণালী
  3. পানামা খাল
  4. সুয়েজ খাল
ব্যাখ্যা

সুয়েজ খাল :
- মিশরের অর্থনীতিতে সুয়েজ খালের গুরুত্ব অপরিসীম। 
- ১৮৬৯ সালে একজন ফরাসি ব্যক্তিত্ব ফার্দিন্যান্ড ডি লেসসেপস এর নির্দেশনায় সুয়েজ খাল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
- ১৯৫৬ সালে মিশর এটি জাতীয়করণ করে।
- ভূ-মধ্যসাগর এবং লোহিত সাগরকে সংযুক্ত করেছে সুয়েজ খাল।
- এই জলপথের একপ্রান্তে রয়েছে পোর্ট সৈয়দ বন্দর এবং অপরপ্রান্তে সুয়েজ বন্দর।
- এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জাহাজ চলাচলের পথগুলির মধ্যে একটি।

উল্লেখ্য,
- বেরিং প্রণালী সংযুক্ত করেছে বেরিং সাগর ও উত্তর সাগর আর পৃথক করেছে এশিয়া ও উত্তর আমেরিকাকে।
- পক প্রণালী সংযুক্ত করেছে ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর আর পৃথক করেছে ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে।
- পানামা খাল আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে।

 উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্রিটানিকা।

৬,৯২৫.
১৮৭৪ সালে ঢাকা শহরে পানি সরবরাহ করার জন্য প্রথম পানি সরবরাহ কার্যক্রম স্থাপিত হয়-
  1. ক) সদরঘাটে
  2. খ) চাঁদনীঘাটে
  3. গ) পোস্তাগোলায়
  4. ঘ) শ্যামবাজারে
ব্যাখ্যা
১৮৭৪ সালে ঢাকা শহরে পানি সরবরাহ হয় চাঁদনীঘাট প্রকল্পের মাধ্যমে।
- চাঁদনীঘাটের এই প্রকল্পটি ছিলো ঢাকায় পানি সরবরাহের প্রথম প্রকল্প।
- ঢাকায় পানি সরবরাহের দ্বিতীয় প্রকল্প স্থাপিত হয় সায়েদাবাদে।

উৎস: পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা - বাংলাপিডিয়া ও যুগান্তর রিপোর্ট।
৬,৯২৬.
গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় কত ঘণ্টা আগে?
  1. ১ ঘন্টা
  2. ২ ঘন্টা
  3. ৬ ঘণ্টা
  4. ১২ ঘন্টা
ব্যাখ্যা
গ্রীনিচ মান সময়:
- গ্রীনিচ মান সময় অপেক্ষা বাংলাদেশ সময় ৬ ঘণ্টা আগে অর্থাৎ +৬ ঘন্টা।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- অর্থাৎ ২ দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৮ মিনিট।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণী ও ব্রিটানিকা।
৬,৯২৭.
বন্যা প্রতিরোধে কী রকম বাঁধ শহরে দেখা যায়?
  1. ক) বেড়ি বাঁধ
  2. খ) কংক্রিট বাঁধ
  3. গ) প্রকৌশলগত বাঁধ
  4. ঘ) বেষ্টনীমূলক বাঁধ
ব্যাখ্যা
বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অন্তর্গত সহজ প্রকৌশলগত ব্যবস্থাপনার একটি অংশ হচ্ছে শহর বেষ্টনীমূলক বাঁধ দেয়া। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৬,৯২৮.
নিচের কোনটি একই সাথে জলবায়ুর নিয়ামক ও উপাদান?
  1. বায়ু প্রবাহ
  2. বায়ুর চাপ
  3. বায়ুর তাপ
  4. বায়ুর আর্দ্রতা
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু:
- পৃথিবীর প্রতিটি স্থানের বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া লক্ষ্য করা যায়।
- সে কারণেই পৃথিবীর সকল স্থানের জলবায়ু এক রকম নয়।
-  জলবায়ুরও প্রধান উপাদান হলো বায়ুর চাপ, তাপ, বায়ুপ্রবাহ, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত ইত্যাদি।
- আর এই সব উপাদানের ক্ষেত্রে নানা রকম বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন নিয়ামকের উপর ভিত্তি করে।
- জলবায়ুর নিয়ামক গুলো হল-  সমুদ্রস্রোত, বায়ুপ্রবাহের দিক, ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, অক্ষাংশ, ভূমির ঢাল, মৃত্তিকা, বন ভূমির অবস্থা, পর্বতের অবস্থা ইত্যাদি।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬,৯২৯.
নিচের কোন জেলার সাথে ভারতের সীমান্ত নেই?
  1. নওগাঁ
  2. নড়াইল
  3. শেরপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

⇒ নড়াইল জেলার সাথে ভারতের সীমান্ত নেই।

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৯৩০.
রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড ও ক্রিমিয়াকে পৃথক করেছে কোন প্রণালি?
  1. সিসিলি প্রণালি
  2. ফ্লোরিডা প্রণালি
  3. ডেভিস প্রণালি
  4. কার্চ প্রণালি
ব্যাখ্যা

কার্চ প্রণালি:
- কৃষ্ণসাগর ও অ্যাজভ সাগর কার্চ প্রণালি দ্বারা পরস্পরের সাথে যুক্ত।
- কার্চ প্রণালি রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে পৃথক করেছে।
- অ্যাজভ সাগরের তীরে ইউক্রেনের মারিয়াপোল ও রাশিয়ার রোস্টভ সমুদ্রবন্দর অবস্থিত।
- ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কার্চ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

অন্যদিকে,
- ফ্লোরিডা প্রণালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবা থেকে পৃথক করেছে।
- সিসিলি প্রণালীটি সিসিলি দ্বীপকে ইতালি থেকে পৃথক করেছে।
- কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডকে পৃথক করেছে ডেভিস প্রণালী।

উৎস: Britannica.

৬,৯৩১.
বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক কারণ কোনটি?
  1. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  2. ধূলিঝড়
  3. দাবানল
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক কারণ:
১. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত: আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোঅক্সাইড, হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস প্রভৃতি বায়ুর সাথে মিশে বায়ুকে দূষিত করে।
২. জৈব ও অজৈব পদার্থ: বিভিন্ন প্রকার জৈব ও অজৈব পদার্থের স্বাভাবিক পচনের ফলে যে গ্যাস সৃষ্টি হয় তা বায়ুকে
দূষিত করে।
৩. দাবানল ও ধূলিঝড়: বিস্তৃত বনাঞ্চলে দাবানল হলে তা ব্যাপক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বায়ুকে দূষিত করে।
- এছাড়া মরু এলাকায় ধূলিঝড়ও বায়ু দূষণ ঘটায়।
৪. গ্যাসক্ষেত্রের বিস্ফোরণ: গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে যে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে তা বায়ুকে দূষিত করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৩২.
রাশিয়ান কোন প্রতিষ্ঠান রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে?
  1. ক) পিইএল-এমইএল কোম্পানি
  2. খ) গ্যাজপ্রম
  3. গ) টিভিএল জয়েন্ট স্টক
  4. ঘ) রোসাটম
ব্যাখ্যা
- পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে।
- এটি নির্মাণে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা করছে রাশিয়া।
- রাশিয়ান রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম এতে কারিগরি সহায়তা করছে।
- অপর রাশিয়ান কোম্পানি টিভিএল জয়েন্ট স্টক এতে জ্বালানি সরবরাহ করবে।
- তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন প্রকল্পে অর্থ সহায়তা করছে ভারত সরকার।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট।
- মোট ব্যয় প্রায় ১২.৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে রাশিয়া সরকার ঋণ দিচ্ছে ১১.৪ বিলিয়ন ডলার।
- ২০২৩ সালে কেন্দ্রটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ওয়েবসাইট এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
৬,৯৩৩.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা এর দ্রাঘিমাংশ কত?
  1. ৮৮°০১′ পশ্চিম দ্রাঘিমা
  2. ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা
  3. ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা
  4. ৯২°৪১′ পশ্চিম দ্রাঘিমা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
⇒ যেহেতু বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা তাইলে আমরা বলতে পারি যে বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের সীমান্তবর্তী স্থান মনাকষা এর দ্রাঘিমাংশ ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।

উল্লেখ্য,
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৫) অতিক্রম করেছে। পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

সর্ব পশ্চিম:
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের স্থান মনাকষা। ( ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা শিবগঞ্জ।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের জেলা চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্ব পূর্ব:
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বের স্থান আখাইনঠং।(৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা)
- বাংলাদেশের সবচেয়ে পূর্বের উপজেলা থানচি।
- দেশের সর্ব পূর্বের জেলা বান্দরবান।

সর্ব উত্তর:
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের সীমান্তবর্তী স্থান বাংলাবান্ধা। (অক্ষাংশ ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলার তেঁতুলিয়া।  
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়।

সর্ব দক্ষিণ:
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের স্থান ছেড়াদ্বীপ। (অক্ষাংশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা)
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের উপজেলা টেকনাফ।
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট জেলার সরকারি ওয়েবসাইট এবং ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৩৪.
হালদা ও কর্ণফুলী নদী কোন স্থানে মিলিত হয়েছে?
  1. চাঁদপুর
  2. রাজশাহী
  3. চট্টগ্রাম 
  4. রাজবাড়ি
ব্যাখ্যা

মিলিত স্থান:
- হালদা নদীর উৎপত্তি পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড় থেকে।
- নদীটি ফটিকছড়ি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করে।
- এর প্রবাহপথ হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলা অতিক্রম করে চট্টগ্রাম শহরের চান্দগাঁও থানার কাছে পৌঁছায়।
- হালদা নদী অবশেষে কালুরঘাট ব্রিজের কাছাকাছি অঞ্চলে কর্ণফুলী নদীর সঙ্গে মিলিত হয়।
- এই স্থানে একটি বিশাল ‘হালদা চর’ গড়ে উঠেছে, যা হালদা নদীর মাছের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
• হালদা নদী চট্টগ্রাম শহরের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।
- হালদা নদী বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র, বিশেষত রাউজান ও ফটিকছড়ি অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ। 
- এটি কর্ণফুলীর একটি প্রধান উপনদী হিসেবে কার্যকর।
• কর্ণফুলী নদী দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশে, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। 
- নদীটির উৎস ভারতের মিজোরামের মিজো পাহাড়, এবং এটি বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়।
- চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য কর্ণফুলী নদী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণকেন্দ্র।

উৎস:
১. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৯৩৫.
হরমুজ প্রণালী পৃথক করেছে কোন‌‌ দুটি দেশকে?
  1. ক) ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত
  2. খ) ইরান ও সৌদিআরব
  3. গ) সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরান
  4. ঘ) ইরান ও ইয়েমেন
ব্যাখ্যা

জিব্রাল্টার ও লোহিত উপসাগরকে
- হরমুজ প্রণালী সংযুক্ত করেছে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে।
- অপরদিকে, পৃথক করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানকে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৬,৯৩৬.
কোরিয়া প্রণালী দক্ষিণ কোরিয়াকে কোন দেশ থেকে পৃথক করেছে?
  1. চীন
  2. রাশিয়া
  3. জাপান
  4. উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা
কোরিয়া প্রণালী: 
- কোরিয়া প্রণালী হল একটি বৃহৎ, ঝলমলে জলরাশি যা দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানকে পৃথক করে।
- এই প্রণালীটি পূর্ব চীন সাগর, হলুদ সাগর এবং বিশাল প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত জাপান সাগরকে সংযুক্ত করে। 
- জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া উভয়ই জাহাজের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের অনুমতি দেয়, যা তাদের জন্য সুসংবাদ যারা এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের লেন ব্যবহার করতে চান।
- প্রণালীর জল তার গভীরতম স্থানে 300 ফুট নীচে নেমে যায় এবং সুশিমা দ্বীপ দ্বারা দুটি ভাগে বিভক্ত।
- পূর্ব দিকে প্রবাহিত জলধারাকে সুশিমা প্রণালী বলা হয়, অন্যদিকে পশ্চিমে প্রবাহিত জলধারা একসময় চোসেন প্রণালী নামে পরিচিত ছিল।

উৎস: World Atlas.
৬,৯৩৭.
ফিলিস্তিন কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. ক) এশিয়া
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) ইউরোপ
  4. ঘ) ওশেনিয়া
ব্যাখ্যা

ফিলিস্তিন মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ যা ভৌগোলিকভাবে এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত।
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ঘােষণা করা হয় ১৫ নভেম্বর ১৯৮৮ সালে। স্বাধীন ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দানকারী প্রথম দেশ আলজেরিয়া। ফিলিস্তিন জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করে ২৯ নভেম্বর, ২০১২ সালে।
উৎসঃ ফিলিস্তিনি সরকারি ওয়েবসাইট।

৬,৯৩৮.
মিসর ও সৌদি আবরকে বিভাজনকারী সাগর -
  1. লোহিত সাগর
  2. আরব সাগর
  3. বাল্টিক সাগর
  4. কৃষ্ণ সাগর
ব্যাখ্যা
লোহিত সাগর:
- লোহিত সাগর (Red sea) ভারত মহাসাগরের একটি বিশেষ অংশ। 
- এশিয়া মহাদেশকে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে পৃথক করেছে লোহিত সাগর।
- লোহিত সাগর সৌদি আরব (এশিয়া) এবং মিশর (আফ্রিকা) কে পৃথক করেছে।
- এর দক্ষিণে বাব এল মান্দের প্রণালী। 
- লোহিত সাগরে জলে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে, যা বাতাস থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে ট্রিকোডেসামিয়াম রিথ্রিয়াম নামে এক ধরনের অজৈব যৌগ গঠন করে।
- এর রং লাল হওয়ায় এই সাগরের জল লাল দেখায়।

উৎস: World Atlas.
৬,৯৩৯.
নিচের কোন বৃষ্টিপাত দীর্ঘস্থায়ী হয়?
  1. ক) পরিচলন বৃষ্টি
  2. খ) ঘূর্ণি বৃষ্টি
  3. গ) শৈলােৎক্ষেপ বৃষ্টি
  4. ঘ) বায়ুপ্রাচীর জনিত বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণি বৃষ্টি (Cyclonic Rain) : কোনাে অঞ্চলে বায়ুমণ্ডলে নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হলে জলভাগের উপর থেকে জলীয়বাষ্প পূর্ণ উষ্ণ এবং স্থলভাগের উপর থেকে শুষ্ক শীতল বায়ু ঐ একই নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে অনুভূমিকভাবে ছুটে আসে। শীতল বায়ু ভারী বলে উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপর ধীরে ধীরে উঠতে থাকে। জলভাগের উপর থেকে আসা উষ্ণ বায়ুতে প্রচুর জলীয়বাষ্প থাকে। ঐ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠলে তার ভিতরে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরুপ বৃষ্টিপাতকে ঘুর্ণি বৃষ্টি বলে। এই বৃষ্টিপাত সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয়। মধ্য ইউরােপের বিভিন্ন দেশে শীতকালে এরুপ বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। (রেফারন্সঃ WMO Article)
৬,৯৪০.
কোন অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বেশি দেখা যায়?
  1. বৃষ্টিহীন অঞ্চলে
  2. শুষ্ক অঞ্চলে
  3. অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে
  4. ক এবং খ
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার অংশবিশেষ, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, মৌলভীবাজার, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার পাহাড়ি অঞ্চলে এ বনভূমি অবস্থিত। 
​- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষ এবং অপেক্ষাকৃত কম বৃষ্টিযুক্ত অঞ্চলে পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমি অবস্থিত। 
​- চিরহরিৎ বৃক্ষসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো চাপালিশ, তেলসুর, ময়না প্রভৃতি। 
​- আর পাতাঝরা বা পর্ণমোচী বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, শিমুল, কড়ই, জারুল, সেগুন উল্লেখযোগ্য। 
​- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ ও পাতাঝরা বৃক্ষের বনভূমির মোট আয়তন প্রায় ১৫,৩২৬ বর্গ কিলোমিটার।

​তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৪১.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়?
  1. ক) বান্দরবান
  2. খ) সিলেট
  3. গ) মৌলভীবাজার
  4. ঘ) রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৬.০১° সেলসিয়াস এবং গড় বৃষ্টিপাত ২০৩ সেন্টিমিটার।
মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়৷
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি।
৬,৯৪২.
৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুকে কী বলে?
  1. গর্জনশীল চল্লিশ
  2. অর্শ্ব অক্ষাংশ
  3. অয়ন বায়ু
  4. মেরু বায়ু
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু:
- উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ও দক্ষিণ গোলার্ধের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে পশ্চিম বায়ু প্রবাহিত হয়।
- ৩০° অক্ষাংশে কিছু বায়ু পৃথিবীর গা-ঘেঁষে মেরুর দিকে ৬০° অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছালে মেরু এলাকা থেকে আগত শীতল ও ভারী বায়ু মুখোমুখি হয়। এসময় অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু উপরের দিকে উঠে গেলেও এর এক অংশ মেরুবৃত্তের নিম্নচাপে প্রবাহিত হয় বলেই একে পশ্চিমা বায়ু বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধের বিশাল স্থলভাগের জন্য স্থানীয়ভাবে পশ্চিমা বায়ু পরিবর্তনশীল।
- দক্ষিণ গোলার্ধে জলাবিস্তৃতি ভূমিরূপের কারণেই পশ্চিমা বায়ু প্রবলভাবে প্রবাহিত হয় এবং এ কারণেই এই বায়ুপ্রবাহের ধরণকে তখন বলা হয় প্রবল পশ্চিমা বায়ু।
- ৪০° থেকে ৪৭° দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত পশ্চিমা বায়ুর গতিবেগ সব থেকে বেশি বলেই এই অঞ্চলের নামকরণ করা হয়েছে গর্জনশীল চল্লিশ (Roaring Forties)।

- নিরক্ষীয় শান্ত বলয়ের মত ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়েও দুটি শান্ত বলয়ের সৃষ্টি হয়।
- ৩০° থেকে ৫০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে দুটি ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়ের অবস্থান রয়েছে।
- প্রাচীনকালে আটলান্টিক মহাসাগরের উপর দিয়ে জাহাজ প্রবাহিত হবার সময় ইউরোপ থেকে আমেরিকায় অশ্ব ও অন্যান্য পশু রপ্তানি করে নিয়ে যেত।
- এই অঞ্চলের বায়ু প্রবাহের জন্য বাতাসের গতি যখন মন্থর হয়ে যেতো নাবিকরা তখন খাদ্য ও পানীয় জলের অনেক অভাবে তাদের অশ্বগুলো সমুদ্রে ফেলে দিতো। এ জন্য আটলান্টিক মহাসাগরের ক্রান্তীয় শান্ত বলয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলে।
- উত্তর গোলার্ধে ৩০° থেকে ৩৫° উত্তর অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত অঞ্চলটিতে শীতকালেও পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৪৩.
পামীর মালভূমি কোন চারটি দেশের সংযোগস্থলে অবস্থিত?
  1. তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, চীন
  2. তুরস্ক, সিরিয়া, ইরাক, ইরান
  3. কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, রাশিয়া
  4. ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন
ব্যাখ্যা
পামির মালভূমি: 
- পামির মালভূমি মধ্য এশিয়ার একটি বিশাল এবং উঁচু মালভূমি।
-  এটি "পৃথিবীর ছাদ" নামেও পরিচিত,
- কারণ এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ মালভূমিগুলির মধ্যে একটি।
- পামির মালভূমি এশিয়ার বেশ কয়েকটি পর্বতশ্রেণী, যেমন হিমালয়, কারাকোরাম, হিন্দুকুশ, কুনলুন এবং তিয়ান শান-এর মিলনস্থল।
- এটি প্রধানত তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, চীন এবং পাকিস্তান  কিছু অংশে বিস্তৃত। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬,৯৪৪.
নিচের কোনটিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়?
  1. মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি
  2. উপকূলীয় বনভূমি
  3. সিলেটের পাহাড়ি বনভূমি
  4. চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনভূমি
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে-
• ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি।
• দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়।
- গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৯৪৫.
বৈকাল হ্রদ কোন দেশে অবস্থিত?
  1. কানাডা
  2. রাশিয়া
  3. কাজাখস্তান
  4. মঙ্গোলিয়া
ব্যাখ্যা

বৈকাল হ্রদ (Lake Baikal):
- বৈকাল হ্রদ রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ায় অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন (প্রায় ২০–২৫ মিলিয়ন বছর) ও সবচেয়ে গভীর মিঠাপানির হ্রদ।
- সর্বাধিক গভীরতা প্রায় ১,৬২০ মিটার (৫,৩১৫ ফুট)।
- আয়তন প্রায় ৩১,৫০০ বর্গ কিলোমিটার।
- পানির পরিমাণের দিক থেকে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির হ্রদ, যেখানে পৃথিবীর মোট হিমমুক্ত মিঠাপানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রয়েছে।
- ৩৩০টির বেশি নদী ও উপনদী এতে প্রবেশ করে; একমাত্র নির্গমন নদী হলো আঙ্গারা (Angara)।

উৎস: Encyclopaedia Britannica।

৬,৯৪৬.
বাংলাদেশ কোন অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত?
  1. শীতপ্রধান অঞ্চল
  2. ক্রান্তীয় অঞ্চল
  3. উপক্রান্তীয় অঞ্চল
  4. মেরু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- কোন দেশের ভৌগলিক অবস্থান বলতে অক্ষরেখা ও দ্রাঘিমা রেখাভিত্তিক অবস্থানকে বোঝায়।
- বাংলাদেশ ৮৮° ০১′ থেকে ৯২° ৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা এবং ২০°৩৪′, থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষ রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল।
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃতি ৪৪০ কিলোমিটার।
- উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিস্তৃতি প্রায় ৭৬০ কিলোমিটার।
- দেশের প্রায় মাঝ বরাবর পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- বাংলাদেশ ক্রান্তীয় অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- বাংলাদেশের তিনদিকের স্থলভাগ ভারত ও মিয়ানমার দ্বারা বেষ্টিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৪৭.
শিকস্তি-পয়স্তি কিসের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ক) নদী অববাহিকার উৎসব
  2. খ) ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত
  3. গ) নদী তীরবর্তী ভূমির ভাঙা গড়া
  4. ঘ) নদী ভরাটে চর জাগা
ব্যাখ্যা
- নদীখাতে পানি প্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদী ভাঙ্গন বলে।
- নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ।
- নদীর তরঙ্গাঘাতে তীরের যে জমি নষ্ট হয় তাঁকে নদী শিকস্তি বলে।
- নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে নদী পয়স্তি বলে।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৪৮.
আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে কোন দেশে?
  1. ইকুয়েডর
  2. ভেনেজুয়েলা
  3. ব্রাজিল
  4. পেরু
ব্যাখ্যা
আমাজান:
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম বৃষ্টিপ্রধান অঞ্চল।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ৯ টি দেশজুড়ে এর অবস্থান। 
- আমাজনের বেশিরভাগ অংশ রয়েছে - ব্রাজিলে (৬৪%)।
- আমাজন ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা নামে নয়টি দেশে বিস্তৃত। 
=========
- আমাজন নদী নীল নদের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম নদী।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬,৯৪৯.
পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বায়ুপ্রবাহ বছরের সকল সময় একই দিকে প্রবাহিত হয়। একে কী বলে?
  1. সাময়িক বায়ু
  2. স্থানীয় বায়ু
  3. অনিয়মিত বায়ু
  4. নিয়ত বায়ু
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে বায়ুপ্রবাহ বছরের সকল সময় একই দিকে প্রবাহিত হয়। একে নিয়ত বায়ু বলে।

নিয়ত বায়ু:

- যে বায়ু সর্বদাই উচ্চচাপ অঞ্চল হতে নিম্নচাপ অঞ্চলে দিকে প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে।
- নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সারা বছর একই দিকে প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ুপ্রবাহ পৃথিবীর চাপ বলয়গুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- নিয়ত বায়ুকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা: অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু।

অন্যদিকে -
• সাময়িক বায়ু: কোনো নির্দিষ্ট দিক, বা বছরের কোনো নির্দিষ্ট ঋতুতে যে বায়ুপ্রবাহ জল ও স্থলভাগের তাপের তারতম্য সৃষ্টি করে তাকেই বলা হয় সাময়িক বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু: স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়প্রবাহ।

• অনিয়মিত বায়ু: কোনো স্থানে অধিক উত্তাপের জন্য বায়ুচাপ কমে নিম্নচাপের অথবা অত্যাধিক শীতের জন্য কোনো স্থানীয় বায়ু শীতল জলে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্টি যে বায়ুপ্রবাহ তাকে বলা হয় অনিয়মিত বায়ু প্রবাহ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৫০.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের পরিবেশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচের (FCDI) কারণে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে?
  1. বরেন্দ্র অঞ্চল
  2. মধুপুর গড় অঞ্চল
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. চলন বিল অঞ্চল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বরেন্দ্র অঞ্চলের পরিবেশ বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচের (FCDI) কারণে খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প (Flood Control, Drainage and Irrigation Projects):
- অনুচ্চ ভূ-সংস্থানের কারণে একটি স্বাভাবিক বৎসরে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকার কমপক্ষে ২০% এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে থাকে।
- ১৯৯৮ সালের মতো মারাত্মক পর্যায়ে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার পরিমাণ প্রায় ৭০% এ গিয়ে পৌঁছতে পারে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পসমূহ বন্যার তীব্রতা হ্রাসকরণে অথবা বন্যা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশনের উপায় হিসেবে ব্যবহূত হয়, যেগুলো শস্য উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি করে।

⇒ ১৯৬৪ সালে দেশজুড়ে ৫৮টি বন্যা প্রতিরোধ এবং নিষ্কাশন প্রকল্প সম্বলিত একটি মাস্টার প্ল্যান গৃহীত হয়েছিল যার আওতাভুক্ত এলাকা ছিল ৫.৮ মিলিয়ন হেক্টর।
- তিন ধরনের পোল্ডার বা উদ্ধারকৃত নিম্নভূমি এই বন্যা প্রতিরোধ ও নিষ্কাশন কর্মকান্ডের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ছিল: পোল্ডারসহ মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পানি নিষ্কাশন; টাইডাল স্লুইস গেটের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নিষ্কাশন; এবং পাম্পের মাধ্যমে বন্যার পানি নিষ্কাশন।
- ১৯৯৩ সালে সর্বমোট আর্দ্রভূমির পরিমাণ ছিল ৩.১৪ মিলিয়ন হেক্টর যার মধ্যে ১.৫৫ মিলিয়ন হেক্টরে চাষাবাদ হয়েছিল এবং ১.৩৮ মিলিয়ন হেক্টর ভূমি থেকে পানি নিষ্কাশিত হয়েছিল ভূ-পৃষ্ঠের উপরের নালীসমূহের মাধ্যমে।
- অধিকন্তু নিষ্কাশন ব্যবস্থা সম্বলিত সেচের আওতাধীন এলাকার পরিমাণ ১.১৭ মিলিয়ন হেক্টরে এসে দাঁড়ায়।
- ১৯৯৯ সালে বন্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে এমন এলাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৪.৬২ মিলিয়ন হেক্টরে।
- বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যার ক্ষয়ক্ষতি ও নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস করণ এবং উদ্বৃত্ত পানি সেচকার্যে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে বহু সংখ্যক ভেড়িবাঁধ, বাঁধ এবং খাল নির্মাণ ও খনন করেছে। 

তিস্তা বাঁধ প্রকল্প:
- (পর্ব ১) রংপুর, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী জেলায় অবস্থিত।
- প্রকল্পটির আওতাভুক্ত সর্বমোট এলাকার পরিমাণ ১,৩২,০০০ হেক্টর, এর মধ্যে সেচযোগ্য এলাকার পরিমাণ ১,১১,৪০৬ হেক্টর।
- তিস্তা নদীর উপর বাঁধ নির্মাণ করে প্রবাহের দিক পরিবর্তন করে নদীর পানিকে সেচ কার্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।
- খাল খনন করে শস্য ক্ষেত্র পর্যন্ত সেচের পানি নিয়ে যাওয়া হয়।
- প্রধানত বর্ষা মৌসুমে সম্পূরক সেচ হিসেবে এই প্রকল্পের আওতায় সেচকার্য পরিচালিত হয়।
- প্রকল্পটি সম্পাদিত হয় ১৯৯৩ সালে।

উত্তরাঞ্চলে নলকূপ প্রকল্প:
- দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলায় এই প্রকল্পের অবস্থান।
- প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পের আওতাভুক্ত এলাকায় ২৫৪ মিমি ব্যাসের এবং ৯১.৪ মিটারের উপরে গড় গভীরতায় ৩৮০টি নলকূপ বসানো হয়।
- পিছনের বৎসরগুলিতে আরও অধিক সংখ্যক নলকূপ বসানো হয়েছে যার সর্বমোট সংখ্যা ১,২১৯ এ পৌঁছেছে।
- এসকল নলকূপের মাধ্যমে ৫৬,০৫২ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে।

বরেন্দ্র অঞ্চল:
- দেশের উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্রভূমি এবং মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় অঞ্চল প্লাইস্টোসিন যুগের সোপান সমূহের অন্তর্গত।
- বরেন্দ্র অঞ্চল সোপান সমূহের গড় উচ্চতা ১৯ থেকে মিটারের মধ্যে অসংখ্য নদীনালা দ্বারা এ সোপান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত।
- বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানি দ্বারা বছরব্যাপি সেচ সবিধা চালু হওয়ায় এলাকার এক ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রুপান্তরিত হয়েছে।
- বর্তমানে বিএমডিএ কর্তৃক পরিচালিত ১৫৭৯০ টি সেচযন্ত্র হতে সেচের মাধ্যমে প্র্রায় ৪৫ লক্ষ মে.টন খাদ্য শস্য উৎপাদিত হচ্ছে।
- বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচের ফলে বরেন্দ্র অঞ্চল খুব বেশি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
- বরেন্দ্র অঞ্চল রাজশাহী বিভাগের প্রায় ৯,৩২০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলে গভীর নলকূপের মাধ্যমে অধিক পরিমাণ পানি উত্তোলনের কারণে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে ঘূর্ণিঝড়, সুনামি ও অন্যদেশের ভূমিকম্পের প্রভাব প্রভৃতির দ্বারা মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৯৫১.
নিম্নের কোনটি ভূ-অভ্যন্তরস্থ দুর্যোগ?
  1. খরা
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বন্যা
  4. ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা
ভূ-অভ্যন্তরস্থ দুর্যোগ:
- ভূ-অভ্যন্তর উত্তপ্ত বলে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের যে তারতম্য হয়, তাতে ভূ-অভ্যন্তরে প্রচন্ড শক্তির সৃষ্টি হয় এবং ভূ-ত্বকের আকস্মিক ও ধীর পরিবর্তন হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরের আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি হয়ে থাকে।
- এসব দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় দূষণের উদ্ভব হতে পারে।
- যেমন আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে গ্রাম, শহর ও জনপদ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য,
⇒ ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে পম্পেই নগর লাভার নিচে চাপা পড়ে।
- এছাড়া ছাই, ভস্ম ইত্যাদি চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে বাতাস দূষিত করে তোলে।

⇒ ভূমিকম্পের ফলে বহু মানুষ, জীবজন্তু মারা যায় এবং ঘরবাড়ি বিনষ্ট হয়।
- মৃতদেহসমূহ দ্রুত সরাতে না পারলে তা পচে দুর্গন্ধ এবং রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।
- ফলে বায়ু, পানি এবং মৃত্তিকা দূষণ দেখা দেয়।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৫২.
সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদী কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. কর্ণফুলী
  4. গড়াই
ব্যাখ্যা
⇒ সবচেয়ে বেশি জেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম: পদ্মা।
- জেলার সংখ্যা: ১২টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত নদীর নাম: মেঘনা।
- উপজেলার সংখ্যা: ৩৬টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত বিভাগের নাম: ঢাকা।
- নদীর সংখ্যা: ২২২টি।

⇒ সবচেয়ে বেশি নদী প্রবাহিত জেলার নাম: সুনামগঞ্জ।
- নদীর সংখ্যা: ৯৭টি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৬,৯৫৩.
'সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-৩০' হচ্ছে একটি-
  1. জাপানের উন্নয়ন কৌশল
  2. সুনামি দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  3. দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
  4. ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাস কৌশল
ব্যাখ্যা
সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ১৪ মার্চ - ১৮ মার্চ ২০১৫ তারিখে জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক: ২০১৫-৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য এবং চারটি অগ্রাধিকারের রূপরেখা স্থির করা হয়।
- দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

সাতটি লক্ষ্য:
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী দুর্যোগে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাথে সরাসরি দুর্যোগের অর্থনৈতিক ক্ষতি হ্রাস করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে গুরুতর অবকাঠামোর দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুবিধাগুলির মধ্যে মৌলিক পরিষেবাগুলির ব্যাঘাতকে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা,
- ২০২০ সালের মধ্যে জাতীয় এবং স্থানীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কৌশলসহ দেশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে এই কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য তাদের জাতীয় কর্মের পরিপূরক করার জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই সহায়তার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যথেষ্ট পরিমাণে বৃদ্ধি করা,
- ২০৩০ সালের মধ্যে বহু-বিপদ প্রারম্ভিক সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ ঝুঁকির তথ্য এবং মূল্যায়নের প্রাপ্যতা এবং অ্যাক্সেস উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট।
৬,৯৫৪.
বাংলাদেশের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র কয়টি?
  1. ক) ৩টি
  2. খ) ৪টি
  3. গ) ৫টি
  4. ঘ) ৬টি
ব্যাখ্যা
• ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র:
• বর্তমানে বাংলাদেশে ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র ৪টি। যথাঃ
- রাঙ্গামাটি (বেতবুনিয়া)
- গাজীপুর (তালিবাবাদ)
- মহাখালী ও
- সিলেট
• বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রটি ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উদ্বোধন করেন।
• এটি বাংলাদেশের প্রথম ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট।
৬,৯৫৫.
বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট জয়ী হলেন-
  1. ক) নিশাত মজুমদার
  2. খ) আসমা খানম
  3. গ) নিশাত খন্দকার
  4. ঘ) সুরাইয়া ইসলাম
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী নারী নিশাত মজুমদার (১৯মে, ২০১২), দ্বিতীয় এভারেস্ট বিজয়ী নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন।
বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম এবং এভারেস্টের দুই দিক থেকে দুইবার জয় করেন এম এ মুহিত।
উৎসঃ বিবিসি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।
৬,৯৫৬.
সাধারণত কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগটি বাংলাদেশ হয়না?
  1. ভূমিকম্প
  2. খরা
  3. শৈত্য প্রবাহ
  4. অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ:
- বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ।
- তবে বাংলাদেশে কোন আগ্নেয়গিরি না থাকায় এখানে অগ্ন্যুৎপাত কিংবা দাবানল সংঘটিত হয় না।

অন্যদিকে,
বাংলাদেশে সংঘটিত প্রাকৃতিক দুর্যোগসমূহ হলো:
- বন্যা
- ঘূর্ণিঝড়
- ভূমিকম্প
- টর্নেডো
- জলোচ্ছ্বাস
- নদীভাঙন
- খরা
- বজ্রপাত
- শৈত্য প্রবাহ
- ভূমিধ্বস প্রভতি।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া
৬,৯৫৭.
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের কোন অঞ্চলে খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে? 
  1. উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চালে
ব্যাখ্যা

• জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর, ঢাকা ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু অংশে তীব্র খরা প্রবণ এলাকা।
- রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার কিছু অংশ মাঝারি খরাপ্রবণ এলাকা।
- তবে বর্তমানে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ হ্রাস পাওয়ার শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা অববাহিকায় খরার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
- খরাতে খাপ খাওয়ানোর কৌশল হিসাবে চাষ পদ্ধতির পরিবর্তন, কম পানি লাগে এমন ফসলের চাষ, জাবড়া প্রয়োগ ইত্যাদি পদ্ধতিকে উৎসাহিত করে উপযোগী ফসলের চাষ করতে হবে।

উৎস: কৃষি শিক্ষা,নবম-দশম শ্রেনি।

৬,৯৫৮.
ভূমিকম্পের ফলে বাংলাদেশে কোন নদীর গতিপথ বদলে গিয়েছিল?
  1. যমুনা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. মেঘনা
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প (Earthquake):

- ভূ-গাঠনিক দিক থেকে বাংলাদেশ ক্রমশ ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
- বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতের পাদদেশীয় অঞ্চলে, পূর্বে ইন্দো-বার্মা সীমান্তে আরাকান-ইয়োমা পার্বত্য অঞ্চলে, উত্তরে আসামের খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে মূলত বৃহদাকার ফাটল ও দুইটি প্লেটের মধ্যবর্তী অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
- বাংলাদেশে ১৮৯৭ সালে ভুমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়।
- ১৫৪৮ সাল থেকে বাংলাদেশে এবং তৎসংলগ্ন এলাকাতে ভূমিকম্প সংক্রান্ত রেকর্ড সংগ্রহ শুরু হয়।
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূ-কম্পন অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
- যথা- 
১) মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (রিখটার স্কেল মাত্রা: ৭)। 
২) মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (রিখটার স্কেল মাত্রা: ৬)।
৩) কম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল (রিখটার স্কেল মাত্রা: ৫)। 
উল্লেখ্য, গবেষণা অনুসারে, আড়াই হাজার বছর আগে ভূমিকম্পের কারণে গঙ্গার পথ হঠাৎ স্থানান্তরিত হয়ে যায়। 

ছবির উৎস: দৈনিক গোপালগঞ্জ নিউজ পত্রিকা 
উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৫৯.
ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র বলতে কী বোঝায়?
  1. যে দেশের ভৌগোলিক সীমানা ছোট
  2. যে দেশে নদ-নদীর সংখ্যা বেশি এবং সমভূমি কম
  3. যে দেশের সমভূমির পরিমাণ পার্শ্ববর্তী দেশের তুলনায় কম
  4. যে দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে অন্য দেশের অবস্থান
ব্যাখ্যা
ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র:
- একটি স্বাধীন দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে যদি অন্য কোন স্বাধীন দেশ অবস্থান করে, তবে তাকে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র বলে।
- পৃথিবীতে ছিদ্রায়িত রাষ্ট্র ২টি।
- এগুলো হলো ইতালি ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
- স্যানমেরিনো এবং ভ্যাটিকান সিটি নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ইতালির অধিভুক্ত।
- দক্ষিণ আফ্রিকার অভ্যন্তরে ‘লেসোথ’ নামের আরেকটি স্বাধীন রাষ্ট্র অবস্থিত।

উৎস: ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস, ব্রিটানিকা।
৬,৯৬০.
‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বলতে নিচের কোনটিকে নির্দেশ করে?
  1. ক) নির্ভরশীল জনসংখ্যার আধিক্য
  2. খ) জনসংখ্যার ঋণাত্মক বৃদ্ধির হার
  3. গ) নির্ভরশীল অপেক্ষা কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা অধিক
  4. ঘ) স্থিতিশীল জনসংখ্যা
ব্যাখ্যা
- যখন একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা অর্থাৎ ১৫ থেকে ৫৯ বছর বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের অধিক হয় তখন তাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থায় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী (১৫ বছরের কম ও ৬০+) সংখ্যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অপেক্ষা কম হয়।
- বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ অবস্থা অতিবাহিত করছে। বর্তমানে দেশে ১৫-৫৯ বছর বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ শতকরা ৬৩.৩ শতাংশ।
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের তথ্যানুসারে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা ভোগ করবে।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হলে একটি দেশ দ্রুত উন্নয়ন সাধন করতে পারে।
(তথ্যসূত্র: বিবিএস ও জাতিসংঘ ওয়েসাইট এবং ডেইলি স্টার)
৬,৯৬১.
বাংলাদেশের নিম্নলিখিত জেলাসমূহের মধ্যে কোন জেলায় নিচু ভূমির (Low land) পরিমাণ সবচেয়ে বেশি?
  1. ক) মুন্সিগঞ্জ
  2. খ) সিরাজগঞ্জ
  3. গ) কিশোরগঞ্জ
  4. ঘ) হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের মাঝারি নিম্ন ভূমি ছড়িয়ে আছে - কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, গোপালগঞ্জ জেলার অনেক বড় একটা অংশ জুড়ে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে নিচু ভূমিগুলো সাধারণত হাওর, বিল এবং খাল এসব নিয়েই গঠিত। অধিকাংশ হাওর এবং বিল সিলেট বিভাগ, কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলা জুড়ে অবস্থিত।
Source: bbs.gov.bd
৬,৯৬২.
‘লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল‘ কোন দুটি দেশের সীমানাকে নির্দেশ করে?
  1. ক) ভারত ও পাকিস্তান
  2. খ) পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  3. গ) ভারত ও চীন
  4. ঘ) জার্মানি ও পোল্যান্ড
ব্যাখ্যা
সীমারেখা:
- লাইন অব কন্ট্রোল : ভারত-পাকিস্তান।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল : ভারত-চীন।
- সনোরা লাইন : যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো
- ম্যাকমোহন লাইন : ভারত-চীন
- ব্লু লাইন : ইসরাইল-লেবানন

- গ্রিন লাইন : ইসরাইল-জর্ডান
- ওডারনিস লাইন : জার্মানি ও পোল্যান্ড
- ম্যানারহেইম লাইন : ফিনল্যান্ড ও রাশিয়া
- ম্যাজিনো লাইন : জার্মানি-ফ্রান্স
- সিগফ্রিড লাইন : জার্মানি-ফ্রান্স
- র‌্যাডক্লিফ লাইন : ভারত-বাংলাদেশ।

তথ্যসূত্র: হিস্টোরি এবং ব্রিটানিকা।
৬,৯৬৩.
পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি? 
  1. টাঙ্গানিকা হ্রদ
  2. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  3. বৈকাল হ্রদ
  4. সুপিরিয়র হ্রদ
ব্যাখ্যা

বৈকাল হ্রদ: 
- যা দক্ষিণ সাইবেরিয়ার বুরিয়াত প্রজাতন্ত্র ও ইরকুতস্ক ওব্লাস্ট-এর মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত।
- বিশ্বের বৃহত্তম মিঠা পানির হ্রদ হিসেবে এটি খ্যাত।
- যা আয়তনের দিক থেকে নয় বরং পানির পরিমাণ বা আয়তন (volume) অনুসারে প্রথম।
- পৃথিবীর মোট ভূপৃষ্ঠের কমপক্ষে ২২% মিঠা পানি এই হ্রদে সংরক্ষিত।
- উত্তর আমেরিকার সমস্ত গ্রেট লেকসের পানির পরিমাণ একত্র করলেও তা লেক বাইকাল পূর্ণ করতে পারে।
- বৈকাল হ্রদ সবচেয়ে গভীরতম হ্রদ।
- এটি বিশ্বের অন্যতম স্বচ্ছ (clearest) হ্রদ হিসেবেও পরিচিত।

অপরদিকে,
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশুদ্ধ পানির আধার।
- টাঙ্গানিকা হ্রদ এটি বিশ্বের দীর্ঘতম স্বাদু পানির হ্রদ।
- সুপিরিয়র হ্রদ উত্তর আমেরিকার সর্ববৃহৎ হ্রদ। 

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 

৬,৯৬৪.
ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধ কোন অঞ্চল নিয়ে?
  1. ক) দোকলাম মালভূমি
  2. খ) কালাপানি
  3. গ) জনপথ রোড
  4. ঘ) কাশ্মীর
ব্যাখ্যা

দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও নেপালের মধ্যে কালাপানি নিয়ে বিরোধ চলছে।
দোকলাম মালভূমি নিয়ে মূলত চীন ও ভুটান বিরোধ চললেও ভারতের নিরাপত্তার জন্য এটা হুমকি।
কাশ্মীর নিয়ে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের ত্রি-মুখী দ্বন্দ্ব ভারত সৃষ্টির শুরু থেকেই।
অন্যদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের নাম ‘জনপথ রোড’।
সূত্র: বিবিসি।

৬,৯৬৫.
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?
  1. প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
  2. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
  3. বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়
  4. সমাজসেবা মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশে আবহাওয়া বিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনাকারী একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- আবহাওয়া উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস পদ্ধতির মান-উন্নয়নসহ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য অধিকতর নির্ভুল তথ্য প্রদান এ অধিদপ্তরের অন্যতম দায়িত্ব।
- আবহাওয়া অধিদপ্তরের সদর দপ্তর ঢাকার আগারগাওয়ে অবস্থিত।

উৎস: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট।

৬,৯৬৬.
কোন বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়?
  1. মহাদেশীয় বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. চিনুক বায়ু
  4. স্থানীয় বায়ু
ব্যাখ্যা
মৌসুমি বায়ু:
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়।
- ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যে বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয় তাকে বলা হয় মৌসুমি বায়ু।
- মৌসুমি শব্দটি এসেছে আরবি ভাষায় "মত্তসুম” শব্দ থেকে যার অর্থ হলো ঋতু। এটি একটি আঞ্চলিক বায়ু।
- সূর্যের উত্তরায়ণ ও দক্ষিণায়নের ফলে শীত ও গ্রীষ্মে ঋতুভেদে স্থলভাগ ও জলভাগের তাপের তারতম্য হয় বলেই মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়।
- প্রধাণত দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ দেখা যায়।
- এছাড়াও কর্কটক্রান্তি অঞ্চলে যেমন- যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকার কিছু অংশ, মধ্য এশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত ইত্যাদি অঞ্চল এই বায়ুপ্রবাহের অন্তর্গত।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে লম্বভাবে সূর্যকিরণ পতিত হওয়ার জন্য কর্কটক্রান্তির বায়ুর চাপ কমে যায় ও সুবৃহৎ নিম্নচাপ কেন্দ্র সৃষ্টি হয়।
- এ অবস্থায় দক্ষিণ গোলার্ধের ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে আগত দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করে।
- এশিয়া মহাদেশের নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যাওয়া এই বায়ুকে তাই বলা হয় উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মের মৌসুমি বায়ু।
- মধ্য এশিয়ায় নিম্নচাপের দ্বারা দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু উৎপন্ন হয়। ফলে চীন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, জাপান, কম্বোডিয়া, লাওস ইত্যাদি দেশে বৃষ্টিপাত ঘটে।
- মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পাকিস্তান, মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হয়।
- অপরদিকে শীতকালে সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে এবং মকরক্রান্তিতে তখন নিম্নচাপ সৃষ্ট হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগ শীতল হয় বলে তখন ঐ স্থানে উচ্চচাপ বলয় সৃষ্টি হয়।
- এই সময় বায়ু উত্তর-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয় বলে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে এবং এই বায়ু শুষ্ক থাকে।
- মৌসুমি বায়ু নিরক্ষরেখা অতিক্রম করলে ফেরেলের সূত্রানুযায়ী বাম দিকে বেঁকে যায় এবং উত্তর-পশ্চিমে মৌসুমি বায়ুরূপে উত্তর অস্ট্রেলিয়ার দিকে অগ্রসর হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৬৭.
নিচের কোনটি বায়ুমন্ডলের উপাদান নয়?
  1. ক) জলীয়বাষ্প
  2. খ) ধূলিকণা
  3. গ) বিভিন্ন প্রকার গ্যাস
  4. ঘ) বিভিন্ন প্রকার কঠিন পদার্থ
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডলের উপাদান
• পৃথিবীপৃষ্ঠ ও তার চারদিক জুড়ে বায়ুমন্ডল বেষ্টিত। এই মন্ডল নানা রকমের গ্যাসের মিশ্রণে গঠিত হয়েছে। এই গ্যাসীয়
মিশ্রণ ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রায় সমান।
• বায়ুমন্ডলে আরও রয়েছে অসংখ্য ধূলিকণার সংমিশ্রণ। এই সব কঠিন ও তরল কণিকাকে একত্রে বলা হয় রঞ্জক পদার্থ।
• বায়ুমন্ডলের বর্ণ, গন্ধ, আকার কিছুই নেই। তাই বায়ুমন্ডলের এই সব উপাদান স্বাভাবিক অবস্থায় অনুভব করা যায় না।
• সুতরাং বায়ুমন্ডলের উপাদান বলতে বিভিন্ন প্রকার গ্যাস, জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা ও কণিকার সংমিশ্রণকে বুঝায়।   

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৬৮.
বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী নদী বন্দরের জন্য কয় ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করা হয়?
ব্যাখ্যা
- আবহাওয়া বিভাগ সমুদ্র ও নদী বন্দরের জন্য পৃথক সংকেত প্রচার করে।
- বিপদের গুরুত্ব অনুযায়ী সমুদ্র বন্দরের জন্য এক থেকে দশ (১-১০) ধরনের ও নদী বন্দরের জন্য এক থেকে চার (১-৪) ধরনের ঝড় সতর্কীকরণ সংকেত প্রদান করে।
- অধুনা আবহাওয়া বিভাগের প্রচারিত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী বা সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (CPP) এর আঞ্চলিক দপ্তরসমূহ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মোবাইল ও জনসংযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় জনসাধারণকে ঝড়ের পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি তাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরিয়ে নিতে কাজ করছে।
- এর পাশাপাশি ১টি থেকে ৩টি পতাকা উত্তোলন ও মাইক, মেগাফোন ইত্যাদির সাহায্যে সিপিপি ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থাসমূহ সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার জনগণকে সতর্ক করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৯৬৯.
কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত শৃঙ্গ কোন দুটি দেশে অবস্থিত?
  1. ক) ভারত ও ভুটান
  2. খ) নেপাল ও ভুটান
  3. গ) চীন ও নেপাল
  4. ঘ) নেপাল ও ভারত
ব্যাখ্যা
কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত শৃঙ্গটি নেপাল ও ভারতের মধ্যে অবস্থিত একটি পর্বত শৃঙ্গ। এটি বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ।
মাউন্ট এভারেস্ট আবিষ্কারের পূর্বে এটিকে সর্বোচ্চ শৃঙ্গ বিবেচনা করা হতো।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট।
৬,৯৭০.
বাংলাদেশের কোন জেলায় প্লাইস্টোসিন চত্বরভূমি রয়েছে?
  1. ক) কুমিল্লা
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) জয়পুরহাট
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা

প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ : আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে। এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর। দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত। প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। নিম্নে এসব উচ্চভূমি বর্ণনা করা হলো:

বরেন্দ্রভূমি : বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার। এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি। বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় : টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত। এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি। সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার। এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

লালমাই পাহাড় : কুমিল্লা  শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত। এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৭১.
২০০৪ সালের ভয়ংকর সুনামি ঢেউয়ের গতি ছিল ঘন্টায় ----
  1. ক) ১০০-২০০ কি.মি
  2. খ) ৩০০-৪০০ কি.মি
  3. গ) ৭০০-৮০০ কি.মি
  4. ঘ) ৯০০-১০০০ কি.মি
ব্যাখ্যা
Indian Ocean tsunami waves travelled at speeds of up to 800km/h.
Source: bbc.com
 
৬,৯৭২.
ঐতিহাসিক 'পানাম নগর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) সোনারগাঁও এ
  2. খ) ময়নামতিতে
  3. গ) মহাস্থানগড়ে
  4. ঘ) বৌদ্ধ বিহারে
ব্যাখ্যা
পানাম নগর পৃথিবীর ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি। যা নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও এ অবস্থিত।
উৎসঃএকুশে টিভি
৬,৯৭৩.
'দানিয়ুব' কোন মহাদেশের বিখ্যাত নদী?
  1. আফ্রিকা
  2. ওশেনিয়া
  3. দক্ষিণ আমেরিকা
  4. ইউরোপ
ব্যাখ্যা
• দানিয়ুব নদী:
- দানিয়ুব নদী (Danube River) ইউরোপ মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদী।
- এটি মোট ২,৮৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ।
- এটি ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- দেশগুলো হলো: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, সার্বিয়া, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভাকিয়া, মলদোভা, ইউক্রেন এবং রোমানিয়া।
- উৎস: দানিয়ুব নদীর উৎস জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট পর্বতে।
- দানিয়ুব নদী কৃষ্ণ সাগরে পতিত হয় যা রোমানিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে অবস্থিত।
উল্লেখ্য,
- ইউরোপ মহাদেশের বৃহত্তম নদী হলো ভলগা নদী।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,৯৭৪.
'ত্রাণ ও পুনর্বাসন' দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কোন কার্যক্রমের অংশ?
  1. পূর্বপ্রস্তুতি
  2. প্রশমন
  3. সাড়াদান
  4. পরিকল্পনা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র:
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- সুতরাং দুর্যোগকে কার্যকরভাবে মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।

⇒ পূর্বপ্রস্তুতি:
পূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে দুর্যোগের পূর্বেই ব্যবস্থা গ্রহণকে বোঝায়। ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠিকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রনয়ণ, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

⇒ প্রশমন:
- দীর্ঘ সময়ব্যাপী নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে দুর্যোগ সংঘটনের হার হ্রাস করা এবং দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহন করাকে দুর্যোগ প্রশমন বলে।
- মজবুত পাকা ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল অবলম্বন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।

⇒ সাড়াদান:
- সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

⇒ পুনরুদ্ধার:
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুন:নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়।

⇒ উন্নয়ন:
- দুর্যোগে বিপর্যস্ত এলাকাকে পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অব্যবহিত পর উক্ত এলাকার ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহন করা আবশ্যক।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৭৫.
শাত-ইল-আরব হলো-
  1. তারিম নদী ও হেলমন্দ নদীর মিলিত প্রবাহ
  2. আমুদরিয়া ও শীরদরিয়া নদীর মিলিত প্রবাহ
  3. টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ
  4. ইরাবতি ও সালুইন নদীর মিলিত প্রবাহ
ব্যাখ্যা
• শাত-ইল-আরব:
- টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মিলিত প্রবাহ।
- এই জলপথের অবস্থান পারস্য উপসাগরে।
- শাত-ইল-আরব জলপথের অধিকারকে কেন্দ্র করেই মূলত ইরাক-ইরান বিরোধ শুরু হয়।
- বর্তমানে এটি ইরানের দখলে রয়েছে।
- ১৯৮০-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ হয়েছিল।
- তার আগে, শাত-ইল আরব জলপথকে কেন্দ্র করে ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিরোধ অবসানের উদ্দেশ্যে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুন আলজিয়ার্স চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এতে ইরানের পক্ষে রেজা শাহ পাহলভী এবং ইরাকের তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন স্বাক্ষর করেন।
- তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছরের মাথায় দেশ দুটি শাত-ইল-আরবকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
- চুক্তির বিষয়বস্তু ছিল শাত-ইল-আরব সহ বিরোধপূর্ণ সীমানা নিয়ে ইরাক ও ইরানের মধ্যে মীমাংসা।

উৎস: Britannica.
৬,৯৭৬.
’স্টবাক জলপ্রপাত’ কোথায় অবস্থিত?
  1. কানাডা 
  2. অস্ট্রিয়া
  3. সুইজারল্যান্ড
  4. জাম্বিয়া 
ব্যাখ্যা

স্টবাক জলপ্রপাত:
- স্টবাক জলপ্রপাত সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
- ইউরোপীয় মহাদেশে অবস্থিত এই জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট।
- এটি সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ জলপ্রপাত।
- গ্রীষ্মে উষ্ণ বাতাস চারদিকে জল ঘোরা করে, যাতে জলপ্রপাতগুলি সমস্ত দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে,
- ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত জাম্বিয়া/জিম্বাবুয়ে অবস্থিত।
- 'গুয়ারিয়া' জলপ্রপাত ব্রাজিলে অবস্থিত।
- এঞ্জেল জলপ্রপাত ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থিত।
- স্ট্যানলি ও লিভিংস্টোন জলপ্রপাত কঙ্গোতে অবস্থিত।
- ইগুয়াজু জলপ্রপাত ব্রাজিল/আর্জেন্টিনা অবস্থিত।

উৎস: Britannica.

৬,৯৭৭.
হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে নিম্নের কোন নদী উৎপন্ন হয়?
  1. মেঘনা নদী
  2. কর্ণফুলী নদী
  3. যমুনা নদী
  4. ব্রহ্মপুত্র নদ
ব্যাখ্যা

• ব্রহ্মপুত্র:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের নিকটে মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রথমে তিব্বতের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে ও পরে আসামের ভিতর দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়েছে
- অতঃপর ব্রহ্মপুত্র কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্বে বাঁক নিয়ে ময়মনসিংহ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় পতিত হয়েছে।
- ধরলা ও তিস্তা, ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- এবং বংশী ও শীতলক্ষ্যা প্রধান শাখানদী।

•মেঘনা নদী:
- আসামের বরাক নদী নাগা-মণিপুর অঞ্চল থেকে উৎপন্ন হয়ে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশের সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে।

• কর্ণফুলী নদী:
- আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

• যমুনা নদী:
- ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা পরিবর্তন হয়ে বর্তমান যমুনা নদীর সৃষ্টি হয়েছে। মূলত যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর স্রোতধারা একই হলেও মূল উৎস এক নয়। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৬,৯৭৮.
'মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ' নিম্নের কোন অঞ্চলের অন্তর্গত?
  1. পলিনেশিয়া
  2. মেলানেশিয়া
  3. মাইক্রোনেশিয়া
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
⇒ পলিনেশিয়া:
- মধ্য ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ১০০০টিরও বেশি দ্বীপ নিয়ে পলিনেশিয়া অঞ্চল গঠিত।
- এটিকে বৃহত্তর ওশেনিয়া অঞ্চলের একটি উপ-অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা হয়।
- পলিনেশিয়ার আদি অধিবাসীদেরকে 'পলিনেশীয়' বলা হয়।
- নিউজিল্যান্ড পলিনেশিয়ার বৃহত্তম দেশ।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জটিকেও পলিনেশিয়ার অন্তর্গত করা হয়; এটি পলিনেশিয়া ত্রিভুজের উত্তর শীর্ষবিন্দুটি গঠন করেছে।

• পলিনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- টোঙ্গা; টুভ্যালু ও সামোয়া।

⇒ মেলানেশিয়া:
- 'মেলানেশিয়া' শব্দটি গ্রীক থেকে এসেছে এবং এর অর্থ 'কালো দ্বীপ'।
- মেলানেশিয়া দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত একটি অঞ্চল।
- এটি প্রায় ২,০০০ দ্বীপ নিয়ে গঠিত।

• মেলানেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- সলোমান দ্বীপপুঞ্জ; ফিজি; ভানুয়াতু; ও পাপুয়া নিউগিনি।

⇒ মাইক্রোনেশিয়া:
- মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলটি প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিমে অবস্থিত।
- এ অঞ্চলটি ফিলিপাইনের পূর্বে এবং নিউগিনি দ্বীপের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত।

• মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের দেশসমূহ:
- নাউরু; পালাউ; কিরিবাতি; মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ এবং মাইক্রোনেশিয়া।

উৎস: World Atlas.
৬,৯৭৯.
আমাজন বেসিনের ক্রান্তীয় অতিবৃষ্টি বনাঞ্চল (Tropical Rainforest) কী নামে পরিচিত?
  1. Pampas
  2. Selvas
  3. Prairies
  4. Savanna
ব্যাখ্যা
- আমাজন বেসিনের ক্রান্তীয় অতিবৃষ্টি বনাঞ্চল স্থানীয়দের কাছে "Selvas" নামে পরিচিত।

আমাজন নদী:

- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য - ৬৪০০ কি.মি।
- এটি দক্ষিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- আমাজন নদী ৯টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর অংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- এই নদীটি পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

সূত্র: ব্রিটানিকা & Center for International Earth Science Information Network.
৬,৯৮০.
বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত দ্বীপ কোনটি?
  1. কুতুবদিয়া দ্বীপ
  2. সেন্ট মার্টিন দ্বীপ
  3. সোনাদিয়া দ্বীপ
  4. শাহ পরীর দ্বীপ
ব্যাখ্যা
বাতিঘর:
- বাতিঘরের জন্য বিখ্যাত কুতুবদিয়া দ্বীপ।
- কুতুবদিয়া কক্সবাজার জেলায় একটি দ্বীপ উপজেলা।
- চান্স এন্ড ব্রাদার্স কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক মনোনীত স্থপতি নেয়ার বার্মিংহাম এর তত্ত্বাবধানে ১৮৪৬ সালের দিকে কুতুবদিয়ায় আটতলা তথা আটকক্ষ বিশিষ্ট বাতিঘরটি নির্মাণ করা হয়।
- ১২০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট গোলাকৃতি আলোক স্তম্ভের প্রতিটি কক্ষে মূল্যবান কাঁচ খচিত জানালা ছিল।
- কক্ষের চারদিকে রেলিং ছিল।
- সর্বোচ্চ কক্ষে বাতিঘরটি প্রজ্জ্বলন করা হতো।
- ১৯ মাইল দূর থেকে নাবিকরা এ বাতিঘর থেকে আলো প্রত্যক্ষ করে দিক চিহ্নিত করতো।
- শংখ নদীর তীব্র স্রোতের তোড়ে বাতিঘরটি ধ্বংস হতে থাকে।

উল্লেখ্য,
- ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে বাতিঘরটি পুরোপুরি ধ্বংস হলে গভীর সমুদ্রে চলাচলরত নাবিক ও মাঝিমাল্লাদের কথা মাথায় রেখে তদানীন্তন সরকার ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে একই এলাকায় অর্থাৎ এর দু’কিলোমিটার পূর্বে বাঁধের ভেতরে প্রায় সাত একর জমিতে আরো একটি বাতিঘর নির্মাণ করে।
- ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে ২৯ এপ্রিল প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে পুনঃ নির্মিত বাতিঘরটি সাগরে বিলীন হয়ে যায়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৯৮১.
কোন দুর্যোগটি ঋতুর সাথে সম্পর্কিত নয়?
  1. বন্যা
  2. ভূমিকম্প
  3. বৃষ্টি
  4. খরা
ব্যাখ্যা
- ভূমিকম্প সংঘঠিত হওয়ার সাথে ঋতুর সাথে কোন সম্পর্ক নেই।
• ভূমিকম্প
:
- ভূমিকম্প পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সংঘটিত হয়।
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে।
- ভূ-অভ্যন্তরস্থ শিলারাশিতে সঞ্চিত শক্তির আকস্মিক অবমুক্তির কারণে সৃষ্ট এই স্পন্দনের মাত্রা মৃদু কম্পন থেকে প্রচন্ড ঘূর্ণনের মধ্যে হতে পারে।
 
ভূমিকম্পের কিছু প্রধান কারণ রয়েছে:
- পৃথিবীর উপরিভাগ কতগুলো ফলক/প্লেট দ্বারা গঠিত।
- এই প্লেটসমূহের সঞ্চালন প্রধানত ভূমিকম্প ঘটিয়ে থাকে।
- আবার অগ্নুৎপাতের ফলে প্লেটসমূহের উপর ভূকিম্পন সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য,
- বন্যা, খরা, বৃষ্টি, এগুলো ঋতুর সাথে হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৯৮২.
‘Gulf Of Mexico’ কোন মহাসাগরে অবস্থিত?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা
মেক্সিকো উপসাগর (Gulf Of Mexico):
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত।

⇒ মেক্সিকো উপসাগর উত্তর আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপসাগর।
- এর দক্ষিণে মেক্সিকো, পূর্বে কিউবা এবং উত্তর ও পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলের দ্বারা পরিবেষ্টিত।
- এটি ফ্লোরিডা প্রণালীর মাধ্যমে আটলান্টিক মহাসাগর এবং ইউকাটান প্রণালীর মাধ্যমে ক্যারিবিয়ান সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম উপসাগরগুলির মধ্যে একটি।
- এর আয়তন ১,৫০৭,৬৩৯ বর্গ কিলোমিটার।
- গড় গভীরতা প্রায় ১,৬১৫ মিটার।

উৎস: World Atlas.
৬,৯৮৩.
যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোকে বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি?
  1. ডুরান্ড লাইন
  2. ম্যাজিনো লাইন
  3. ওডারনিস লাইন
  4. সনোরা লাইন
ব্যাখ্যা

সনোরা লাইন:
- যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোকে পৃথককারী সীমান্তরেখা সনোরা লাইন।
- এটি মেক্সিকোর সনোরা প্রদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য থেকে পৃথক করেছে।
- ১৮৫৩ সালে এই সীমান্ত রেখা ভাগ করা হয়।

• আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা:
- ওডারনিস লাইন- জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- সিগফ্রিড লাইন- জার্মানি ও ফ্রান্স।
- হিন্ডারবার্গ লাইন- জার্মানি ও ফ্রান্স।
- ডুরান্ড লাইন- পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
- ম্যাজিনো লাইন- জার্মানি ও ফ্রান্স।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬,৯৮৪.
সুনামির ফলে উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কী সংঘটিত হয়? 
  1. ভূমিকম্প
  2. জলোচ্ছ্বাস
  3. ঘূর্ণিঝড়
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা

সুনামি (Tsunami): 
- সুনামি একটি জাপানি শব্দ।
- জাপানি ভাষায় এর অর্থ হলো 'পোতাশ্রয়ের ঢেউ'।
- সুনামির পানির ঢেউ সমুদ্রের স্বাভাবিক ঢেউয়ের মতো নয়।
- এটা সাধারণ ঢেউয়ের চেয়ে অনেক বিশালাকৃতির।
- অতি দ্রুত ফুঁসে ফুলে ওঠা জোয়ারের মতো, যা উপকূল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে।
- সুনামির পানির ঢেউগুলো একের পর এক উঁচু হয়ে আসতেই থাকে তাই একে ঢেউয়ের রেলগাড়ি বা 'ওয়েভ ট্রেন' বলে।
- সুনামি হলো পানির এক মারাত্মক ঢেউ যা সমুদ্রের মধ্যে বা বিশাল হ্রদে ভূমিকম্প বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে।
- পানির নিচে কোনো পারমাণবিক বা অন্য কোনো বিস্ফোরণ, ভূপাত ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে।
- সুনামির ক্ষয়ক্ষতি সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এর আশেপাশে সুনামির ধ্বংসাত্মক লীলা সংঘটিত হয়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ভারত মহাসাগরে যে সুনামি সৃষ্টি হয় তা এই মহাসাগরের আশেপাশে ১৪টি দেশে আঘাত হানে এবং মারাত্মক একটি দুর্যোগ সৃষ্টি করে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৮৫.
বাংলাদেশের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের কত অংশ বৃষ্টিপাত গ্রীষ্মকালে হয়ে থাকে?
  1. ক) এক-তৃতীয়াংশ
  2. খ) এক-চতুর্থাংশ
  3. গ) এক-পঞ্চমাংশ
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের এক-পঞ্চমাংশ বৃষ্টিপাত গ্রীষ্মকালে হয়ে থাকে। উৎসঃ ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই
৬,৯৮৬.
সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে কোন কোম্পানি?
  1. শেল অয়েল কোম্পানি
  2. বার্মা অয়েল কোম্পানি
  3. টার্নার মরিসন অ্যান্ড কোম্পানি
  4. হোয়াইট হল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন
ব্যাখ্যা
সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র: 
-  বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ হলো প্রাকৃতিক গ্যাস।
- ১৯৫৫ সালে বার্মা অয়েল কোম্পানি এদেশে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- ১৯৫৭ সাল থেকে গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়।
- দেশে বর্তমানে আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের সংখ্যা ২৯ টি।
- বাংলাদেশের অন্যান্য খনিজ সম্পদের মধ্যে কয়লা, চুনাপাথর, কঠিন শিলা, গন্ধক, খনিজ তেল প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।

উল্লেখ্য, 
-সম্প্রতি সিলেটের হরিপুরে পুরোনো গ্যাসকূপ (সিলেট-৭) সংস্কার করতে গিয়ে নতুন করে গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
-এ কূপ থেকে প্রতিদিন অন্তত ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী এবং পেট্রোবাংলা, প্রথম আলো।
৬,৯৮৭.
নিরক্ষরেখার অন্তর্গত দেশগুলোতে কোনটি মাটি ক্ষয়ের কারণ?
  1. অধিক বনাঞ্চল
  2. অধিক তাপ
  3. ঊর্ধ্বমুখী বায়ু প্রবাহ
  4. মেরুবায়ু
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য:
- নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী দেশগুলোতে সূর্য প্রায় সারাবছরই লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এখানে গ্রীষ্মঋতুর প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
- এই অঞ্চলে উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য দিন-রাতের মধ্যে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তনশীল থাকে।
- শীতের প্রকোপ একদম নেই বললেই চলে।
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ-
• সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে।
• দিনের ব্যাপ্তি সারা বছর একই থাকে।
• অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
• এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
• অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
• এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৮৮.
মাউন্ট এভারেস্ট কোন দুইটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল বরাবর অবস্থিত?
  1. ইন্ডিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ান
  2. ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান
  3. ইন্ডিয়ান ও অ্যান্টার্কটিক
  4. ইন্ডিয়ান ও বার্মিজ
ব্যাখ্যা
মাউন্ট এভারেস্ট ইন্ডিয়ান ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল বরাবর অবস্থিত।

এভারেস্ট পর্বত
- মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার গ্রেট হিমালয়ের চূড়ায় অবস্থিত পর্বত যা চীন ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
- তিব্বত এবং নেপালের সীমান্তে উত্থিত, লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে একটি টেকটোনিক সংঘর্ষ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট তৈরি হয়েছিল।
- মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয়ের মাঝের অংশে অবস্থিত।
- এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।

উৎস: i) Britannica।
ii) National Geographic।
৬,৯৮৯.
শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল কোথায় অবস্থিত?
  1. কুমিল্লা
  2. সিলেট
  3. মৌলভীবাজার
  4. হবিগঞ্জ
ব্যাখ্যা
- শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল মৌলভীবাজার জেলার শেরপুরে অবস্থিত।
- ২০১৬ সালে শ্রীহ্ট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
- এর মোট আয়তন ৩৫২ একর।
- বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) সারাদেশে ৯৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের অনুমোদন পেয়েছে।
- এর মধ্যে ৬৮টি সরকারি এবং ২৯টি বেসরকারি।

(তথ্যসূত্র: বেজা ওয়েবসাইট)
৬,৯৯০.
দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. সাঙ্গু
  4. ইছামতি
ব্যাখ্যা

• দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী:
- দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী ইছামতি।
- নদীর দৈর্ঘ্য ৩৩৪ কিলোমিটার।
- নদীটি খুলনা বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - (ভারত) ভৈরব-কপোতাক্ষ (দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা)।
- নদীটির পতনমুখ - রায়মঙ্গল (শ্যামনগর, সাতক্ষীরা)।

• দেশের দীর্ঘতম নদী:
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।
- নদীটি তিন বিভাগের ১২টি জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
- নদীটির পতনমুখ - মেঘনা (ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর)।

• তৃতীয় দীর্ঘতম নদী:
- তৃতীয় দীর্ঘতম নদী সাঙ্গু।
- নদীর দৈর্ঘ্য ২৯৪ কিলোমিটার।
- নদীটি চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- প্রবেশ পথ - মিয়ানমার সীমান্ত (থানচি, বান্দরবান)।
- নদীটির পতনমুখ - বঙ্গোপসাগর (বাঁশখালী, চট্টগ্রাম)।

উৎস: বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট।

৬,৯৯১.
নিচের কোন অঞ্চল নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত নয়?
  1. গিনি উপকূল
  2. তিব্বত মালভূমি
  3. কঙ্গো নদীর অববাহিকা
  4. দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ু:
- নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫ ডিগ্রি অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
- কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০ ডিগ্রি অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।
- সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য: 
- সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়ার জন্য এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বেশি থাকে। 
- অধিক সূর্য তাপ ও জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাষ্পীভবনের মাত্রাও বেশি।
- এই সকল এলাকায় পরিচলন বৃষ্টিপাত বেশি হয় এবং বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৭০০-২৫০০ মিলিমিটার।
- অধিক বৃষ্টিপাতের জন্য চিরহরিৎ বনাঞ্চল দেখা যায়।
- এ অঞ্চলের মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য খুব উপকারী হলেও এখানে মাটি ক্ষয় হয়। অতিরিক্ত তাপ ও বৃষ্টিপাতই এই মাটি ক্ষয়ের কারণ।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৯২.
নদীভাঙনের কারণ কোনটি?
  1. নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিতি
  2. অত্যধিক বৃষ্টিপাত
  3. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

নদীভাঙন:
- জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে বাংলাদেশের প্রধান নদী ও শাখানদী দ্বারা দেশের প্রায় ১০০টি উপজেলায় কমবেশি নদীভাঙন প্রক্রিয়া চলে।
- বর্ষাকালে নদীখাতে প্রবল বেগে পানিপ্রবাহ, নদী খাতের উভয় পার্শ্বে নরম মাটি ও ফাটলের অবস্থানের কারণে যে ক্ষয় হয়ে থাকে, তাকে নদীভাঙন বলে।
- পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি, নানা ধরনের স্থাপনা ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয় এবং অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে। - নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ জমির মালিকগণ জমি পুনরূদ্ধার করতে না পারায় ভূমিহীন হয়ে পড়ে। ফলে, তারা শহর ও নগরের ভাসমান মানুষে পরিণত হয়।

নদীভাঙনের কারণসমূহ:
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
- নদী গর্ভে নরম, ক্ষয়িষ্ণু শিলার উপস্থিতি।
- বাহিত শিলার কাঠিন্যতা।
- নদীগর্ভে ফাটলের উপস্থিতি।
- বন্যার সময়ে প্রবল পানির আঘাত।
- অত্যধিক বৃষ্টিপাত।
- নদী তীর থেকে অত্যধিক পরিমাণে বৃক্ষ নিধন।
- নদী তীর ও তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন।
- নদী তীর দখলের মাধ্যমে নদীর গতিপথে বাধা দেয়া ও গতিপথ পরিবর্তন করা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৯৯৩.
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমের উপজেলা কোনটি?  
  1. শিবগঞ্জ
  2. মনাকষা
  3. থানচি
  4. শ্যামপুর
ব্যাখ্যা

 বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের:
- স্থান : বাংলাবান্দা।
- উপজেলা : তেঁতুলিয়া।
- জেলা : পঞ্চগড়।

সর্ব দক্ষিণের
- স্থান : ছেঁড়া দ্বীপ/সেন্ট মার্টিন্স।
- উপজেলা : টেকনাফ।
- জেলা : কক্সবাজার।

সর্বপশ্চিমের:
- স্থান : মনাকষা।
- উপজেলা : শিবগঞ্জ।
- জেলা : চাপাইনবাবগঞ্জ।

সর্বপূর্বের:
- স্থান : আখাইনঠং।
- উপজেলা : থানচি।
- জেলা : বান্দরবান।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৯৯৪.
ভূমিকম্পের সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল কোনটি?
  1. ক) দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল
  2. খ) নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চল
  3. গ) দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
  4. ঘ) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
• ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন  অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো -
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল।)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.36
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.28
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.2
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল -- দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)
এসব অঞ্চলের Seismic Zone Coefficient (Z) = 0.12   

তথ্যসূত্র: BNBC প্রকাশিত Seismic Design সমীক্ষার রিপোর্ট।
৬,৯৯৫.
বাংলাদেশের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কি ধরণের বনাঞ্চল?
  1. চিরহরিৎ বন 
  2.  জলাভূমি বন
  3. পর্ণমোচী বন
  4. ম্যানগ্রোভ বন
ব্যাখ্যা

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। 
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে অবশিষ্ট চিরহরিৎ বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৯৯৬.
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা থেকে হিমালয়ের কোন শৃঙ্গ দেখা যায়?
  1. ক) কাঞ্চন জঙ্গা
  2. খ) চিম্বুক
  3. গ) এভারেস্ট
  4. ঘ) কেওক্রাডং
ব্যাখ্যা

- ঢাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে দেশের সর্ব উত্তরের হাজার বছরের গৌরবগাথা আর প্রাচীন ইতিহাস-ঐতিহ্যের অগণিত স্মৃতিমণ্ডিত জেলা পঞ্চগড়।
- হিমালয়ের পাদদেশে জেলাটির ভৌগলিক অবস্থান হওয়ায় পঞ্চগড়কে বলা হয় হিমালয় কন্যা।
- প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ পঞ্চগড়। খালি চোখে হিমালয়ের সর্বোচ্চ চূড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা অবলোকন, পাহাড়ি ঢল থেকে নেমে আসা স্বচ্ছ জলাধারার নদী, সমতল ভূমির চা-বাগান, বিস্তৃর্ণ বনাঞ্চল আর প্রাগৌতিহাসিক নানা স্থাপনা আর দুর্গ পঞ্চগড়কে গড়ে তুলতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে।

উৎসঃ দৈনিক যুগান্তর রিপোর্ট।

৬,৯৯৭.
প্লাইস্টোসিনকালের সোপান দেখা যায় না কোন অঞ্চলে?
  1. গাজীপুর
  2. সিলেট
  3. টাংগাইল
  4. কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, গাজীপুর, টাংগাইলের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৯৮.
মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত কোনটি?
  1. বন্যা
  2. অগ্ন্যুৎপাত
  3. ভূমিকম্প
  4. রাসায়নিক বিষক্রিয়া
ব্যাখ্যা
বিপর্যয়:
- বিপর্যয় বলতে বিপদ বা আপদের সম্ভাবনাকে বুঝায়।
- অর্থাৎ যে সকল ঘটনা একটি এলাকার জনগণের জীবন, জীবিকা ও পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, এমনকি একেবারে ধ্বংস করতে পারে, সে সকল ঘটনাকেবিপর্যয় বলে।
- বিপর্যয় দুই ধরনের হতে পারে। যেমন:
১. প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যেমন-ঝড়, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি।
২. মানব-সৃষ্ট বিপর্যয়, যেমন-পানি দূষণ, বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, রাসায়নিক বিষক্রিয়া, যুদ্ধ ইত্যাদি।

- বিপর্যয় মানেই দুর্যোগ নয়, বরং দুর্যোগের আশংকা বা সম্ভাবনা মাত্র।
- একটি এলাকায় সংঘটিত যে কোনো বিপর্যয় বা আপদ যখন উক্ত এলাকার অধিবাসীগণ তাদের নিজস্ব চেষ্টা ও সম্পদের সাহায্যে মোকাবিলা করতে সক্ষম না হয়, কেবল তখনই সেই আপদটি দুর্যোগে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৯৯৯.
‘অলিভ টারটল’ বাংলাদেশের কোন দ্বীপে পাওয়া যায়?
  1. চর আলেকজান্ডার
  2. মনপুরা দ্বীপ
  3. ভোলা দ্বীপ
  4. সেন্টমার্টিন
ব্যাখ্যা
‘অলিভ টারটল’:
- বিশ্বের দুর্লভ জলপাইরঙা কাছিম বা অলিভ রিডলে টার্টল পাওয়া যায় বাংলাদেশের সেন্টমার্টিনে৷
- দেশের ভৌগোলিক সীমায় বঙ্গোপসাগরে কচ্ছপ বিচরণ করে।
- পশ্চিমে সুন্দরবন থেকে দক্ষিণ-পূর্বের সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত সমুদ্র সৈকতের বালুচরে এরা ডিম পাড়তে আসে।
- শীতকাল থেকে বর্ষার শুরু পর্যন্ত কচ্ছপের ডিম পাড়ার সময়। স্থান ও প্রজাতিভেদে দিন-ক্ষণ পরিবর্তন হয়।
- বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় এখন পর্যন্ত পাঁচ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে।
- এর মধ্যে অলিভ রিডলে, গ্রিন টারটল এবং হকসিবল্ড এই তিন প্রজাতির কচ্ছপ কক্সবাজার উপকূলে ডিম পাড়তে আসে।

উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো।
৭,০০০.
শীতকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে কোন বায়ু প্রবাহিত হয়?
  1. উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  2. উত্তর-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
  3. দক্ষিণ-পূর্ব মৌসুমি বায়ু
  4. দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
শীতকাল:
- নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস এদেশে শীতকাল বিরাজ করে।
- এ সময় সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থান করে বলে বাংলাদেশে এর রশ্মি তীর্যকভাবে পড়ে এবং উত্তাপের পরিমাণ যথেষ্ট কমে যায়।
- এ ঋতুতে বাংলাদেশের আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক, শীতল ও আরামদায়ক থাকে বলে সবচেয়ে সুন্দর ও উপভোগ্য ঋতু বলতে এ ঋতুকে বোঝায়।
- শীতকালে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন উষ্ণতার তাপমাত্রা যথাক্রমে ২৯° সে. ও ১১° সে. এবং গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৭.৭° সে.।

⇒ এসময় দক্ষিণাংশ থেকে উত্তরদিকে ক্রমশ তাপমাত্রা কম থাকে।
- এ সময় বাংলাদেশের উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।
- এ বায়ু স্থলভাগের উপর দিয়ে আসে বলে জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে।
- তবে হিমালয় পর্বতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় তুষারকণা হতে সামান্য পরিমাণে জলীয়বাষ্প বহন করে।
- এ বায়ু দেশের পূর্বাঞ্চলের পর্বতসমূহ বাধা পেয়ে সামান্য বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- কোন কোন বছর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বঙ্গোপসাগর হতে আগত ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকদিন বৃষ্টিপাত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, বিএড প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।