বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৬৯ / ৭২ · ৬,৮০১৬,৯০০ / ৭,১৯১

৬,৮০১.
মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি?
  1. ডুরাল্ড লাইন
  2. সনোরা লাইন
  3. সিগফ্রিড লাইন
  4. ওডারনিস লাইন
ব্যাখ্যা
• সীমারেখা: 
- মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র বিভক্তকারী সীমারেখা - সনোরা লাইন।

এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা: 
- ওডারনিস লাইন – জার্মানি ও পোল্যান্ড।
- হিন্ডেনবার্গ লাইন – জার্মানি ও ফ্রান্স (ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট)
- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
- সিগফ্রিড লাইন- জার্মানি ও ফ্রান্স।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৬,৮০২.
বায়ুমন্ডলের স্তর কয়টি?
  1. ক) ৩ টি
  2. খ) ৪ টি
  3. গ) ৫ টি
  4. ঘ) ৭ টি
ব্যাখ্যা
ভূপৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্বে ১০০০০ কি.মি. পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত। তবে বায়ুমন্ডলের ৯৭ ভাগ উপাদানই ৩০ কি.মি. এর মধ্যে অবস্থিত। বায়ুমন্ডলে মোট ৫ টি উপাদান রয়েছে। এগুলো হলো ট্রপোমন্ডল, স্ট্রাটোমন্ডল, মেসোমন্ডল, তাপমডল এবং এক্সোমন্ডল। প্রথম তিনটি সমমন্ডল এবং শেষের দুইটি বিষমমন্ডলে অবস্থিত। (সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৮০৩.
কোন সংস্থা ভূ-উপগ্রহ চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ করে?
  1. স্পারসো
  2. প্রশিকা 
  3. রেড ক্রিসেন্ট
  4. সিপিপি
ব্যাখ্যা
• প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা:
- বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো-এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা। 

- পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
- ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

- জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।
- বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮০৪.
নিচের কোনটি পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য নয়?
  1. পাললিক শিলার মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়।
  2. পাললিক শিলা স্তরীভূত, নরম ও হালকা এবং সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
  3. পাললিক শিলা আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয়।
  4. পাললিক শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
ব্যাখ্যা
পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
⇒ পাললিক শিলার বৈশিষ্ট্য: পাললিক শিলা স্তরীভূত, নরম ও হালকা এবং সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।
- এর মধ্যে জীবাশ্ম দেখা যায়।
- এই শিলায় ছিদ্র দেখা যায়।
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- পাললিক শিলা আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয় না।
- আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্টি হয় আগ্নেয় শিলা।

উল্লেখ্য, 
- বৃষ্টি, বায়ু, তুষার, তাপ, সমুদ্রের ঢেউ প্রভৃতি শক্তির প্রভাবে আগ্নেয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত ও বিচূর্ণীভূত হয়ে রূপান্তরিত হয় এবং কাঁকর, কাদা, বালি ও ধুলায় পরিণত হয়।
- ক্ষয়িত শিলাকণা জলস্রোত, বায়ু এবং হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে পলল বা তলানিরূপে কোনো নিম্নভূমি, হ্রদ এবং সাগরগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে।
- পরবর্তীতে ঐসব পদার্থ ভূগর্ভের উত্তাপে ও উপরের শিলাস্তরের চাপে জমাট বেঁধে কঠিন শিলায় পরিণত হয়।
- পাললিক শিলা ভূপৃষ্ঠের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ দখল করে আছে। তবে মহাদেশীয় ভূত্বকের আবরণের ৭৫ ভাগই পাললিক শিলা।
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে।
- স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে একে স্তরীভূত শিলাও বলে। পাললিক শিলা যৌগিক, জৈবিক বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হতে পারে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।
- জীবদেহ থেকে উৎপন্ন হয় বলে কয়লা ও খনিজ তেলকে জৈব শিলাও বলে।
- অনেক পাললিক শিলার মধ্যে নানাপ্রকার উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দেহাবশেষ বা জীবাশ্ম দেখা যায়।

তছাড়াও,
⇒ আগ্নেয়গিরি বা ভূমিকম্পের ফলে অনেক সময় ভূত্বকের দুর্বল অংশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। তখন পৃথিবীর অভ্যন্তর থেকে উত্তপ্ত গলিত লাভা নির্গত হয়ে আগ্নেয় শিলার সৃষ্টি করে।
- এভাবে ব্যাসল্ট ও গ্রানাইট শিলার সৃষ্টি হয়।
- আগ্নেয় শিলাকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) বহিঃজ আগ্নেয় শিলা ও
(খ) অন্তঃজ আগ্নেয় শিলা।

তথ্যসূত্র- ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী। 
৬,৮০৫.
কোন সালে গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত রেখাটিকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়?
  1. ১৭৮৪ সালে
  2. ১৮৪৮ সালে
  3. ১৮৮৪ সালে
  4. ১৯৪৮ সালে
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮৮৪ সালে গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত রেখাটিকে মূল মধ্যরেখা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

মূল মধ্যরেখা (Prime Meridian):

- মূল মধ্যরেখা প্রকৃতপক্ষে লন্ডনের গ্রীনিচ মানমন্দির বরাবর কল্পিত এক দ্রাঘিমারেখা।
- ১৮৮৪ সালে এই দ্রাঘিমারেখাকে মূল মধ্যরেখা (০° দ্রাঘিমারেখা) হিসেবে স্থির করে এই রেখার পূর্ব ও পশ্চিমে অন্য দ্রাঘিমারেখাগুলোর মান নির্ধারণ করা হয়।

উল্লেখ্য,
- গ্রীনিচ মান মন্দির বরাবর যে কল্পিত দ্রাঘিমা রেখা রয়েছে সেটির মান (০°) ধরা হয়।
- প্রতি ১° দ্রাঘিমান্তরে ৪ মিনিট সময়ের পার্থক্য হয়।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮০৬.
সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে -
  1. ৮.১০ মিনিট
  2. ৮.৩২ মিনিট
  3. ৮.৪৩ মিনিট
  4. ৮.৫৭ মিনিট
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):
- সূর্য একটি নক্ষত্র।
- এটি মাঝারি আকারের হলুদ বর্ণের।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ লক্ষ ৮৪ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- সূর্যের বিকিরণকৃত তাপের মাত্র ২০০ কোটি ভাগের ১ ভাগ পৃথিবীতে আসে।
- আলোর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৩ লক্ষ কিলোমিটার।
- সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ১৯ সেকেন্ড বা ৮.৩২ মিনিট।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮০৭.
ব্রহ্মপুত্র নদের উৎপত্তি -
  1. ক) কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর
  2. খ) সিকিমের পার্বত্য অঞ্চল
  3. গ) হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ
  4. ঘ) মণিপুর রাজ্যের পার্বত্য অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra):
- ব্রহ্মপদ নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

- এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮০৮.
কোন গ্রহে এসিড বৃষ্টি হয়?
  1. মঙ্গল
  2. পৃথিবী
  3. শুক্র
  4. বুধ
ব্যাখ্যা
- শুক্র গ্রহে এসিড বৃষ্টি হয়। 

শুক্র গ্রহ:

- পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটতম গ্রহ শুক্র।
- শুক্র সূর্যের দ্বিতীয় নিকটতম।
- শুক্রের গড় তাপমাত্রা অন্যান্য সকল গ্রহ থেকে বেশি।

এছাড়াও, 
- পৃথিবী সূর্যের তৃতীয় নিকটতম গ্রহ।
- বুধ সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহ। এতে কোন বায়ুমণ্ডল নেই।
- এর কোন কোন উপগ্রহ নেই।

উৎস: নাসা ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, BBC Earth.
৬,৮০৯.
'হনসু দ্বীপ' কোন দেশে অবস্থিত?
  1. শ্রীলংকা
  2. জাপান
  3. উত্তর কোরিয়া
  4. ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বীপরাষ্ট্র জাপান:
- জাপান একটি দ্বীপরাষ্ট্র।
- জাপানের প্রধান চারটি রয়েছে।
- এগুলো হলো: শিকোকু, কিউসু, হনসু ও হোক্কাইডো।
- আয়তনে জাপানের বৃহত্তম দ্বীপ হনসু।
- রাজধানী টোকিও হনসু দ্বীপে অবস্থিত।
- হনসু জাপানের মূল ভূখণ্ড হিসেবে গণ্য হয়। 
- জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট ফুজি এবং এর বৃহত্তম হ্রদ, বিওয়া হ্রদ হনসু দ্বীপে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৬,৮১০.
নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে কী বলে?
  1. নদী মনস্তি
  2. নদী জিকস্তি
  3. নদী শিকস্তি
  4. নদী পয়স্তি
ব্যাখ্যা
নদী ভাঙ্গনের সাথে জড়িত কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- নদীখাতে পানি প্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদী ভাঙ্গন বলে।
- নদী ভাঙ্গনের শিকার হয় পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহ।
- নদীর তরঙ্গাঘাতে তীরের যে জমি নষ্ট হয় তাঁকে নদী শিকস্তি বলে।
- নদীতে ভেঙে যাওয়া জমির স্থানে নতুন চর জাগা বা পুনর্গঠনকে নদী পয়স্তি বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮১১.
ঘূর্ণিঝড়, 'সিডর' ও 'আইলা' বাংলাদেশে আঘাত হানে _____ এবং _____ সালে। 
  1. ২০০৭, ২০০৮ 
  2. ২০০৮, ২০০৯ 
  3. ২০০৭, ২০০৯
  4. ২০০৭, ২০০৬
ব্যাখ্যা

♣ ঘূর্ণিঝড় 'সিডর' ও 'আইলা' বাংলাদেশে আঘাত হানে ২০০৭ এবং ২০০৯ সালে।

♦ ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো একটি অন্যতম প্রাকৃতিক দুর্যোগ যা প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানুষ ও প্রাণিজগতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
- সারা বিশ্বে ঘূর্ণিঝড় নানা নামে পরিচিত।
- অনিয়মিত বায়ুর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো ঘূর্ণিঝড় ও প্রতীপ ঘূর্ণিঝড়।
- উপরের ও নিচের বায়ুর পারস্পরিক ক্রিয়ার মাধ্যমে এই ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
- এই ঝড়ের সময় বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ ঘন্টায় ৬৫ কি.মি বা তারও বেশি হয়।
- দ্রুত উর্দ্ধগামী বায়ু জলীয়বাষ্পপূর্ণ থাকলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘূর্ণিঝড় উষ্ণ জলরাশি থেকে সৃষ্টি হয় যার গড় উঞ্চতা ২৭° সেলসিয়াস।
- বাংলাদেশে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় গুলোর মধ্যে সিডর ও আইলা অন্যতম।

♦ সিডর:
- ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় সিডর।
- এই ঘূর্ণিঝড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়, ধ্বংস হয় মানুষের ঘরবাড়ি।
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নামটি ঠিক করে।
- সিডর সবদ্যার অর্থ চোখ।
- উপকূলে আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।
- তবে এ সময় দমকা হাওয়ার বেগ উঠছিল ঘণ্টায় ৩০৫ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- সিডরের প্রভাবে উপকূলে ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।
- ঘূর্ণিঝড় এবং তদুপরি জলোচ্ছাসের প্রভাবে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায় ।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় ছাড়াও ভারতের চেন্নাই, তামিলনাড়ু এবং আরও কিছু রাজ্য সিডর এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- তবে বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বাধিক।

♦ আইলা:
- ২০০৯ সালের ২৫শে মে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আইলা ৷
- যার বাতাসের গতিবেগ ছিল ৭০-৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত।
- আইলা উত্তর ভারত মহাসাগরে জন্ম নেওয়া একটি ঘূর্ণিঝড়।
- ২১ মে ভারতের কলকাতা থেকে ৯৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে এর উৎপত্তি।
- তবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ এবং ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে আইলা আঘাত হানে ২০০৯ সালের ২৫ মে।
- মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা এর নামকরণ করেন 'আইলা'।
- ‘আইলা’ শব্দের অর্থ ডলফিন বা শুশুকজাতীয় জলচর প্রাণী।
- নামটি এই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নির্ধারণ করেন জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা ‘ইউএন এস্কেপ'-এর (UN Escape) বিজ্ঞানীরা ।
- বাংলাদেশে আইলা পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
- আইলার প্রভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৭১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে।
- এই দুই অঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছে মোট ১৯৩ জন।

♦ উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশে আঘাত হানা উল্লেখ্যযোগ্য ঘূর্ণিঝড় -
• মহাসেন (২০১৩)।
• কোমেন (২০১৫)।
• রোয়ানু (২০১৬)।
• মোরা (২০১৭)।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া ও দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার রিপোর্ট।

৬,৮১২.
পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব কত?
  1. ৩,২০,০০০ কিমি
  2. ৪,২০,০০০ কিমি
  3. ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার
  4. ১,৫০,০০০ কিমি
ব্যাখ্যা
• চাঁদ:
- পৃথিবী থেকে চাঁদের গড় দূরত্ব ৩,৮১,৫০০ কিলোমিটার।
- চাঁদ পৃথিবীর চারদিকে নিজ কক্ষপথে ২৯ দিনে একবার আবর্তন করে।
- চাঁদের ব্যাস ৩.৪৭৫ কিলোমিটার। ১৯৬৯ সালের ২১ শে জুলাই সর্বপ্রথম মানুষ চাঁদে অবতরণ করেন।
- চাঁদে পানি, বায়ু, উদ্ভিদ বা প্রাণী নেই। চাঁদে বহু সমতলভূমি, পাহাড় পর্বত ও বৃহদাকার গর্তের উপরিভাগ দেখা যায়।
- চাঁদের সবচেয়ে বড় গহ্বরটির নাম আইটকেন।
- চাঁদের আকাশ দিনে-রাতে একই রকম কালো।
- চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। সূর্যের আলোতে চাদ আলোকিত হয়।
- চাঁদের যে পৃষ্ঠে সূর্যালোক পড়ে সে পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ১০০" সেলসিয়াস এর ওপরে এবং অন্ধকার পৃষ্ঠের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ১৫০ সেলসিয়াসের নীচে।

উৎস:
১. Baylor University Media Release. 
২. বাংলা ট্রিবিউন। [Link]
৬,৮১৩.
নিচের কোন জেলায় টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নেই?
  1. বগুড়া
  2. মৌলভীবাজার
  3. সুনামগঞ্জ
  4. রাঙামাটি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূ-প্রাকৃতিক শ্রেণিবিভাগ:
- অবস্থান, ভূমির গঠন ও ভূ-তাত্ত্বিক সময়কাল অনুসারে বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধানত তিনটি বৃহৎ শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- প্রায় ৭০ মিলিয়ন বছর পূর্বে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় এ পাহাড়গুলো গঠিত হয়েছে বলে এগুলোকে টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বলা হয়।
- এ পাহাড়গুলো বেলেপাথর, শ্লেট জাতীয় প্রস্তর এবং কর্দম দ্বারা গঠিত।
- এ পাহাড়গুলোকে আসামের লুসাই এবং মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয় বলে মনে করা হয়।

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অবস্থান:
- রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত। 

এছাড়াও - 
- কুমিল্লা, রাজশাহী এবং বগুড়ায় আছে প্লাইস্টোসিনকালের পাহাড়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮১৪.
আয়তনে আফ্রিকা মহাদেশের বৃহত্তম দেশ কোনটি?
  1. ক) সুদান
  2. খ) কঙ্গো
  3. গ) আলজেরিয়া
  4. ঘ) মৌরিতানিয়া
ব্যাখ্যা
আয়তনে আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় দেশ হলো আলজেরিয়া (২৩ লক্ষ ৮২ হাজার বর্গ কি.মি. প্রায়)। পূর্বে সুদান ছিলো বড় দেশ। কিন্তু দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হয়ে সুদান থেকে পৃথক হয়ে যাওয়ায় সুদানের আয়তন কমে যায়। আয়তনে সবচেয়ে ছোট আফ্রিকান দেশ সিচেলিস (৪৯১ বর্গ কিমি প্রায়)। জনসংখ্যায় সবচেয়ে বড় দেশ নাইজেরিয়া (১৯ কোটি ৬০ লক্ষ প্রায়) এবং সবচেয়ে ছোট দেশ সিচেলিস (প্রায় ১ লক্ষ)। মিসর আফ্রো-এশিয়ান রাষ্ট্র। মিসরের সিনাই উপদ্বীপ এশিয়ায় অবস্থিত। (সূত্রঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস, ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ এবং ব্রিটানিকা ডটকম)
৬,৮১৫.
চন্দ্রগ্রহণ কখন হয়?
  1. যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে
  2. যখন চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে পৃথিবী অবস্থান করে
  3. ক ও খ
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• সূর্যগ্রহণ:
- যখন সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যে চাঁদ অবস্থান করে তখন হয় সূর্যগ্রহণ।
- চাঁদ যখন পৃথিবীর কক্ষপথে ঘোরে, তখন তার প্রদক্ষিণ করার পথে কখনও কখনও সে এসে পড়ে সূর্য এবং পৃথিবীর মাঝখানে।
- তখন সূর্য থেকে আলোর বিচ্ছুরণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সূর্যের গ্রহণ ঘটে।
- অন্যভাবে বললে বলা যায়, চাঁদ এই সময় পৃথিবীকে তার ছায়ায় ঢেকে ফেলে। 

• চন্দ্ৰগ্ৰহণ:
- চন্দ্রগ্রহণ হয় যখন চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে পৃথিবী অবস্থান করে।
- পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়।
- চন্দ্রগ্রহণের সময় আমরা দেখি চাঁদের পিঠে পৃথিবীর ছায়া।

এছাড়্রাও, 
• পূর্ণিমা:
- পূর্ণিমা তখনই হয়, যখন পৃথিবীর এক পাশে সূর্য এবং তার উল্টো পাশে চাঁদ অবস্থান করে।

• অমাবস্যা:
- চাঁদ ও পৃথিবী আবর্তনকালে যখন চাঁদ, পৃথিবী ও সূর্য একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- চাঁদের অবস্থান হয় পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে, সেই অবস্থাকে বলে অমাবস্যা।

উৎস: ৪ ডিসেম্বর ২০২১, বিবিসি বাংলা।
৬,৮১৬.
পৃথিবীর পরিধি কত?
  1. ৪৫ ডিগ্রি
  2. ৯০ ডিগ্রি
  3. ১৮০ ডিগ্রি
  4. ৩৬০ ডিগ্রি
ব্যাখ্যা
পৃথিবী:
- পৃথিবীর পরিধি ৩৬০ ডিগ্রি।
- পৃথিবীকে বলা হয় আদর্শ গ্রহ।
- একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই উদ্ভিদ ও প্রাণীর বসবাসের উপযোগী পরিবেশ রয়েছে।
- সূর্য থেকে পৃথিবীর গড় দুরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস প্রায় ১৩ হাজার কিলোমিটার।
- পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে সময় লাগে ৩৬৫ দিন ৫ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড।
- পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮১৭.
'নর্দার্ন লিমিট লাইন' কোন দুটি দেশের সামুদ্রিক সীমানা বিভাজন রেখা?
  1. উত্তর কোরিয়া ও চীন
  2. দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান
  3. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া
  4. চীন ও জাপান
ব্যাখ্যা

• নর্দার্ন লিমিট লাইন:
- নর্দার্ন লিমিট লাইন (NLL) হলো উত্তর কোরিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়া এর মধ্যকার সামুদ্রিক সীমানা।
- এটি ১৯৫৩ সালের কোরিয়ান অস্ত্রবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের এক মাস পর টানা হয়।
- নর্দার্ন লিমিট লাইন দক্ষিণ কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি দ্বীপের ওপর ভিত্তি করে স্থলভিত্তিক মিলিটারি ডিমার্কেশন লাইন (MDL) থেকে সাগরে প্রসারিত করা হয়েছে।
- মূলত এটি দক্ষিণ কোরিয়ার বেসামরিক জাহাজ, বিশেষত মাছ ধরার নৌকাকে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড থেকে দূরে রাখার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

তথ্যসূত্র: দি ন্যাশনাল কমিটি অব নর্থ কোরিয়া ওয়েবসাইট। Link

৬,৮১৮.
দুই বা ততোধিক নদীর মিলনস্থলকে কি বলে?
  1. ক) দোয়াব
  2. খ) নদীসঙ্গম
  3. গ) নদীসংযম
  4. ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
দোয়াব : প্রবহমান দুটি নদীর মধ্যবর্তী ভূমিকে দোয়াব বলে।
নদীসঙ্গম : দুই বা ততােধিক নদীর মিলনস্থলকে নদীসঙ্গম বলে।
(রেফারেন্স - বাংলাপিডিয়া)
৬,৮১৯.
উত্তর রোডেশিয়া কোন দেশের পূর্বনাম?
  1. ক) জাম্বিয়া
  2. খ) জিম্বাবুয়ে
  3. গ) ইথিওপিয়া
  4. ঘ) তাইওয়ান
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের পুরাতন নাম:
- জাম্বিয়া - উত্তর রোডেশিয়া।
- জিম্বাবুয়ে - দক্ষিণ রোডেশিয়া।
- ঘানা - গোল্ড কোস্ট।
- চীন - ক্যাথে।
- ইরাক - মেসোপটেমিয়া।
- থাইল্যান্ড - শ্যাম দেশ।
- জাপান - নিপ্পন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৬,৮২০.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. পাবনা
  2. কুষ্টিয়া
  3. নওগাঁ
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
চলন বিল:

- চলন বিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিল।
- সমৃদ্ধতম জলাভূমিগুলির একটি।
- দেশের সর্ববৃহৎ এ বিল বিভিন্ন খাল বা জলখাত দ্বারা পরস্পর সংযুক্ত অনেকগুলি ছোট ছোট বিলের সমষ্টি।
- বর্ষাকালে এগুলি সব একসঙ্গে একাকার হয়ে প্রায় ৩৬৮ বর্গ কিমি এলাকার একটি জলরাশিতে পরিণত হয়।
- বিলটি সংলগ্ন তিনটি জেলা নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ-এর অংশবিশেষ জুড়ে অবস্থান করছে।
- চলন বিল সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ ও পাবনা জেলার চাটমোহর উপজেলা দুটির অধিকাংশ স্থান জুড়ে বিস্তৃত।
- এটি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলা ও গুমনী নদীর উত্তর পাড়ের মধ্যে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৮২১.
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব কোনটি?
  1. নতুন সড়কপথ সৃষ্টি
  2. মহাশুন্যে অভিযান
  3. মেরু অঞ্চলের বরফ গলন 
  4. সমুদ্রের পানি নিচে নেমে যাওয়া
ব্যাখ্যা
• বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব: 
→ জলবায়ু পরিবর্তন।
→ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি।
→ মেরু অঞ্চলের বরফ গলন।
→ সমুদ্রে পৃষ্ঠের উচ্চতা পরিবর্তন।
→ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস।
→ রোগব্যাধি।

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রতিরোধের উপায়:
- পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যা সমাধানে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হলো:-
১. পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও কার্বন উৎপাদনের হারকে কমিয়ে আনা;
২. যানবাহন ও কল-কারখানার দূষিত গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণ;
৩. যথাযথ মাত্রায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার;
৪. বিকল্প জ্বালানি যেমন- কয়লা, খনিজ তেল, পারমানবিক শক্তি এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি, জৈব গ্যাস ব্যবহার করা;
৫. প্রাকৃতিক বন সংরক্ষণ এবং নতুন বন সৃজন;
৬. পরিবেশ বান্ধব শিল্পায়ন;
৭. জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রভৃতি।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮২২.
বাংলাদেশে সম্প্রতি কত তারিখে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে?
  1. ১৯ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ২২ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- ভূ-আলোড়নের সময়ে অথবা অন্য কোন প্রাকৃতিক কারণে ভূ-পৃষ্ঠের একটি অংশ যখন হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য কেঁপে উঠে, তখন ভূ-ত্বকের এই কম্পনকে ভূমিকম্প বলা হয়।
- ভূ-গর্ভস্থ যে স্থানে এই কম্পনের সৃষ্টি হয়, তাকে ভূমিকম্পের উৎস স্থল বা কম্পকেন্দ্র (Centre বা Focus) বলা হয়।
- কম্পকেন্দ্র বরাবর লম্বভাবে ভূ -পৃষ্ঠের যে বিন্দুটি রয়েছে,তাকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলা হয়।

⇒ ২০২০ সালে 'Bangladesh National Building Code' (BNBC) প্রকাশিত রির্পোটে সমগ্র বাংলাদেশকে চারটি ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চলে বা Seismic Zone এ বিভক্ত করা হয়েছে। অঞ্চলগুলো হলো:
১. খুবই গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট, ময়মনসিংহ সহ উত্তরাঞ্চল)।
২. গুরুতর ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: উচ্চ মধ্য, উত্তর-পশ্চিম অংশ ও দক্ষিণ- পূর্বাঞ্চল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রংপুর ইত্যাদি জেলা)।
৩. মাঝারী ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: নিম্ন মধ্য এবং উত্তর পশ্চিম অংশ (ঢাকা, কুমিল্লা, নাটোর, নোয়াখালী, পাবনা, সুন্দরবন ইত্যাদি)।
৪. কম ভূমিকম্প প্রবন অঞ্চল: দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চল (রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা ইত্যাদি)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে সম্প্রতি ২১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটিত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী জেলা শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে এবং ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
- বাংলাদেশে ২১ ও ২২ নভেম্বর দুই দিনে চার দফা ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে রিখটার স্কেলে ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। এই ভূমিকম্পে ১০ জনের মৃত্যু হয়। 

উৎস: i) ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।

৬,৮২৩.
পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টনের্ডো কোথায় হয়?
  1. উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ায়
  2. ভারত মহাসাগরের নিকট
  3. ইন্দোনেশিয়া ও প্রশান্ত সাগরের নিকটবর্তী এলাকায়
  4. ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কায়
ব্যাখ্যা
• টর্নেডো:
- টর্নেডো মূলত অতি দ্রুত আবর্তনশীল ক্ষুদ্র আকারের অথচ প্রলয়ঙ্কারী বজ্রঝড়।
- এটি চোঙ আকৃতির হয়ে থাকে এবং এই বজ্রঝড়ের মধ্যভাগে বায়ু অতিদ্রুত বেগে উপরে উঠতে থাকে।
- এই চোঙ যদি ভূমি স্পর্শ করে তখন ধ্বংসলীলা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। তবে চোঙ ভূমি স্পর্শ না করলে তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয় না।
- টর্নেডোর ব্যাস ভূ-পৃষ্ঠের উপরে ১০০ থেকে ৫০০ গজ পর্যন্ত হয়।
- টর্নেডোর ভিতরে ও বাইরের বায়ু চাপের গড় পার্থক্য প্রায় ২ ইঞ্চি। তবে কখনো কখনো তা ৫ ইঞ্চি হয়ে যায়।
- টর্নেডোর চোঙ মাটি স্পর্শ করলে ব্যাপক শব্দে সবকিছু ধূলিসাৎ হয়ে যায় এবং কালো মেঘে ছেঁয়ে যায়।

টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য: 
→ ভূমিতে টর্নেডোর রৈখিক গতিবেগ বিভিন্ন টর্নেডোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন- উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো দক্ষিণ
পশ্চিম দিক থেকে আসে।
→ টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
→ টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫
মাইল হয়।
→ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডোপ্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
→ সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের
উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮২৪.
নিম্নোক্ত কোন দেশটি মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত?
  1. তাইওয়ান
  2. হংকং
  3. কিরগিজস্তান
  4. মঙ্গোলিয়া
ব্যাখ্যা

• মধ্য এশিয়া: 
- মধ্য এশিয়ার দেশ ৫ টি। যথা: 
- কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, তুর্কমেনিস্তান।

- অপরদিকে, 
- হংকং, তাইওয়ান, মঙ্গোলিয়া হচ্ছে পশ্চিম এশিয়ার দেশ।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৬,৮২৫.
বাংলাদেশে পানীয় জলের জন্য অধিকাংশ মানুষ নির্ভর করে-
  1. ক) নদীর পানির উপর
  2. খ) নলকূপের পানির উপর
  3. গ) বৃষ্টির পানির উপর
  4. ঘ) পুকুরের পানির উপর
ব্যাখ্যা
পানীয় জলের জন্য বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ নির্ভর করে অগভীর নলকূপের পানির উপর। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ১৯৯৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি আবিষ্কৃত হয়।
৬,৮২৬.
সাজেক উপত্যকা কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি 
  2. রাঙামাটি 
  3. বান্দরবান 
  4.  সিলেট 
ব্যাখ্যা

• সাজেক:

- সাজেক উপত্যকা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্গত সাজেক ইউনিয়নে অবস্থিত।
- সাজেক উপত্যকা একটি বিখ্যাত পর্যটন আকর্ষণ।
- সাজেকে সর্বত্র মেঘ, পাহাড় আর সবুজের দারুণ মিতালী চোখে পড়ে । 
- এখানে তিনটি হেলিপ্যাড বিদ্যমান ; যা থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করা যায় ।
- সাজেক ভ্যালি রাঙামাটি জেলার সর্বউত্তরের মিজোরাম সীমান্তে অবস্থিত।
- সাজেকের উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে রাঙামাটির লংগদু, পূর্বে ভারতের মিজোরাম, পশ্চিমে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা অবস্থিত।
- সাজেক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন।যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল।
- সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্থিত বিজিবি ক্যাম্প।
- সাজেক রুইলুইপাড়া এবং কংলাক পাড়া এই দুটি পাড়ার সমন্বয়ে গঠিত।
- সাজেকে মূলত লুসাই, পাংখোয়া এবং ত্রিপুরা আদিবাসী বসবাস করে।
- সাজেক ভ্যালিকে বলা হয় রাঙামাটির ছাদ।

তথ্যসূত্র - রাঙ্গামাটি জেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

৬,৮২৭.
দোয়াব কী?
  1. নদীর উৎপত্তিস্থল
  2. দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল
  3. সাগরের সাথে নদীর মিলিত স্থান
  4. দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থল
ব্যাখ্যা

• দোয়াব অঞ্চল: দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব অঞ্চল বলে ।

• নদীর মোহনা (Mouth): নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে নদীর মোহনা বলে।

• নদীর উৎস (Source): নদীর উৎপত্তিস্থলকে নদীর উৎস বলে ।

• নদীসঙ্গম (Confluence): পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলো নিজ নিজ পথে প্রবাহিত হয়। এক সময় ঐ নদীগুলো একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়। ফলে মিলিত স্রোতধারা ক্রমশ অধিকতর বড় হয়। এভাবে দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থলকে নদীসঙ্গম বলে ।

• নদী অববাহিকা (River Basin): মূল নদী, বিভিন্ন শাখানদী ও উপনদী প্রভৃতির মধ্য দিয়ে যে সকল স্থানের বা অঞ্চলের পানিরাশি প্রবাহিত হয় তখন এ অঞ্চলকে ঐ নদীর অববাহিকা বলে। যেমন- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সিন্ধু নদের অববাহিকা।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮২৮.
ভূ-অভ্যন্তরস্থ কোন স্তরটি অত্যধিক তাপ ও চাপে আঠালো অবস্থায় রয়েছে?
  1. বহিঃ কেন্দ্রমন্ডল
  2. অন্তঃস্থ কেন্দ্রমন্ডল
  3. গুরুমন্ডল
  4. অশ্মমন্ডল
ব্যাখ্যা
• গুরুমন্ডল (Mantle):
- অশ্মমন্ডলের অব্যবহিত পর থেকে ভূ-অভ্যন্তরে প্রায় ২,৮৮৫ কি.মি. পর্যন্ত পুরুত্ব বিশিষ্ট স্তরটিকে গুরুমন্ডল বলে।
- এই স্তরটির গাঠনিক উপাদানগুলো হলো-সিলিকা, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, কার্বন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ।
- অত্যধিক তাপ ও চাপে গুরুমন্ডলের উপাদানগুলো কঠিন ও তরলের মাঝামাঝি আঠালো অবস্থায় রয়েছে।

- গুরুমন্ডলের প্রধান স্তর দুইটি হলো-
(ক) লোহা ও ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা তৈরি উর্ধ্ব গুরুমন্ডল (৭০০ কি.মি. বিস্তৃত) এবং
(খ) আয়রন অক্সাইড, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড ও সিলিকন অক্সাইড সমৃদ্ধ নিম্ন গুরুমন্ডল। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮২৯.
জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা হয় কত সালে?
  1. ১৯৯০ সালে 
  2. ১৯৯২ সাল
  3. ১৯৯৪ সালে 
  4. ১৯৯৫ সালে 
ব্যাখ্যা

• জাতীয় বৃক্ষমেলা: 
- জাতীয় পর্যায়ে বৃক্ষমেলার সূচনা হয় ১৯৯৪ সালে বন বিভাগের উদ্যোগে। 
- তবে এই সামাজিক আন্দোলনের বীজ বপন হয়েছিল আরও আগেই। 
- ১৯৯১ সালের ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দেশের প্রতিটি নাগরিককে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়। 
- এরপর ১৩ আগস্ট গাজীপুরের শালনা গ্রামে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী একটি মেহগনি গাছ রোপণ করে ‘বৃক্ষরোপণ অভিযান ৯১’-এর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। 
- ধীরে ধীরে এ কর্মসূচি পরিণত হয় একটি বৃহৎ জনসম্পৃক্ত সবুজ আন্দোলনে।

উল্লেখ্য, 
- ২০২৫ সালের জাতীয় বৃক্ষমেলার প্রতিপাদ্য ‘পরিকল্পিত বনায়ন করি, সবুজ বাংলাদেশ গড়ি’।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো ও বাংলান ট্রিবিউন। (Link1) (Link2) 

৬,৮৩০.
নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে কী বলে?
  1. ক) নদীগর্ভ
  2. খ) উপনদী
  3. গ) মোহনা
  4. ঘ) শাখানদী
ব্যাখ্যা
• নদী:
 - প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নির্দিষ্ট খাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত জলধারাকে নদী বলে।

- নদীর মোহনা (Mouth): নদী উৎপত্তি লাভ করে সাগর বা হ্রদের সাথে যে স্থানে মিলিত হয় সেই মিলিত স্থানকে নদীর মোহনা বলে।

এছাড়াও -
- দোয়াব অঞ্চল:
দুটি নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলকে দোয়াব অঞ্চল বলে।
- উপনদী ((Tributary): বিভিন্ন উৎস হতে যখন ছোট ছোট নদী উৎপত্তি লাভ করে কোনো বড় নদীতে মিলিত হয় তখন এ ছোট নদীগুলোকে সে বড় নদীর উপনদী বলে। যেমন- যমুনার উপনদী করতোয়া, তিস্তা এবং মেঘনার উপনদী সুরমা ও কুশিয়ারা।

- শাখানদী (Distributory):
কখনো কখনো বড় কোনো নদী হতে ¯্রােতধারা বের হয়ে অন্য কোনো নদী, সাগর, হ্রদ বা পুনরায় মূল নদীর সাথে মিলিত হয়। এরূপ মূল নদী হতে যে সকল নদী বের হয় তাকে শাখানদী বলে। যেমন- ইছামতি, গড়াই, আড়িয়াল খাঁ প্রভৃতি পদ্মার শাখানদী।

 - নদীসঙ্গম (Confluence):
পার্বত্য অঞ্চলে প্রাথমিক অবস্থায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নদীগুলো নিজ নিজ পথে প্রবাহিত হয়। এক সময় ঐ নদীগুলো একটি অপরটির সাথে মিলিত হয়। ফলে মিলিত স্রোতধারা ক্রমশ অধিকতর বড় হয়। এভাবে দুই বা ততোধিক নদীর মিলন স্থলকে নদীসঙ্গম বলে।

- নদী অববাহিকা (River Basin):
মূল নদী, বিভিন্ন শাখানদী ও উপনদী প্রভৃতির মধ্য দিয়ে যে সকল স্থানের বা অঞ্চলের পানিরাশি প্রবাহিত হয় তখন এ অঞ্চলকে ঐ নদীর অববাহিকা বলে। যেমন- পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে সিন্ধু নদের অববাহিকা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৩১.
ব্রহ্মপুত্র নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে কোন জেলা দিয়ে?
  1. লালমনিরহাট
  2. কুড়িগ্রাম
  3. গাইবান্ধা
  4. জামালপুর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রধান নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদী- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও রাজশাহী–চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- ব্রহ্মপুত্র নদী- তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- মেঘনা নদী - ভারতের বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পরে মেঘনা নামে পরিচিত হয়।
- যমুনা নদী- বাংলাদেশে প্রবেশের পর ব্রহ্মপুত্র নদী যমুনা নামে পরিচিত হয় এবং কুড়িগ্রাম–লালমনিরহাট অঞ্চল দিয়ে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়।
- করতোয়া নদী- পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মহানন্দা নদী- ভারতের মালদহ জেলা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী- রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সাঙ্গু নদী- বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী- বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৩২.
Time difference of Bangladesh with "Greenwich Mean Time" is
  1. ক) 5
  2. খ) 6
  3. গ) 7
  4. ঘ) 8
ব্যাখ্যা
• গ্রিনিচ মান সময়:
- বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাজ্যের গ্রিনিচ মানমন্দিরের সময়ের পার্থক্য +৬ ঘন্টা। অর্থাৎ, ৬ ঘন্টা আগে।
- পৃথিবীতে প্রতি ডিগ্রি দ্রাঘিমার জন্যে সময়ের পার্থক্য হয় ৪ মিনিট করে।
- সেজন্যে বাংলাদেশ মূল মধ্যরেখা বা গ্রিনিচ মানমন্দির থেকে ৯০ ডিগ্রি পূর্বদিকে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সাথে গ্রিনিচের সময়ের পার্থক্য ৯০ x ৪ = ৩৬০ মিনিট বা ৬ ঘন্টা।
- গ্রীনিচের পূর্ব দিকে অবস্থিত স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচের থেকে এগিয়ে থাকে।
- অন্যদিকে, গ্রীনিচের পশ্চিমের স্থানগুলোর সময় গ্রীনিচ থেকে পিছিয়ে থাকে।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮৩৩.
The longest river in the world is located in -
  1. Africa
  2. Asia
  3. South America
  4. Europe
ব্যাখ্যা
নীল নদ:

- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস ।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

তথ্যসূত্র- Britannica.com & Worldatlas.com
৬,৮৩৪.
বাংলাদেশ কোনটির উপর অবস্থিত?
  1. ক) ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
  2. খ) ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা
  3. গ) ৯০° উত্তর অক্ষরেখা
  4. ঘ) ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের উপর দিয়ে ২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা অতিক্রম করেছে। এটি ‘ট্রপিক অব ক্যান্সার’ বা ‘কর্কটক্রান্তি রেখা’ নামে পরিচিত।
এছাড়া ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখাও দেশের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৮৩৫.
সূর্য পৃথিবীর চেয়ে কতগুণ বড়?
  1. ১০ লক্ষ
  2. ১১ লক্ষ
  3. ১২ লক্ষ
  4. ১৩ লক্ষ
ব্যাখ্যা
সূর্য (Sun):

- সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত মাঝারি আয়তনের নক্ষত্র সূর্য।
- পৃথিবীর ব্যাস প্রায় ১৩,০০০ কিলোমিটার এবং সূর্যের ব্যাস প্রায় ১৪,০০০০০ কিলোমিটার।
- সূর্যের আয়তন পৃথিবী অপেক্ষা প্রায় ১৩ লক্ষ গুণ বড়।
- পৃথিবী থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১৫০ মিলিয়ন কিলোমিটার।
- সূর্য তার নিজস্ব গ্যালাক্সির চতুর্দিকে বৃত্তাকার পথে ২০ কোটি বছরে একবার প্রদক্ষিণ করে।
- নিজ কক্ষপথে প্রায় ২৫ দিনে একবার আবর্তন করে। সূর্যের কেন্দ্রভাগে তাপমাত্রা ৮ মিলিয়ন থেকে ৪০ মিলিয়ন ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা প্রায় ৫,৭০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৩৬.
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড  – 
  1. একটি নদীর মোহনা
  2. একটি উপকূলীয় সৈকত 
  3. একটি সমুদ্র দ্বীপ
  4. একটি সমুদ্র খাদ 
ব্যাখ্যা

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড:
- এটি একটি সমুদ্র খাদ।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)  খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত,
- যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত।
- গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের আরও কিছু বদ্বীপমুখী খাদ দেখতে পাওয়া যায়,
- যেমন সিন্ধু নদীর মোহনার অদূরে সিন্ধু খাদ, মিসিসিপি বদ্বীপের পশ্চিম পাশে মিসিসিপি খাদ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

৬,৮৩৭.
বাংলাদেশ কত ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে অবস্থিত?
  1. ৮৮°০১´ থেকে ৯২°৪১´
  2. ৮২°০১´ থেকে ৯৮°৪১´
  3. ২৪°৩০´ থেকে ২৬°৩৮´
  4. ২০°৩৪´ থেকে ২৬°৩৮´
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানা:
- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
- বাংলাদেশ ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষরেখা থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষরেখার মধ্যে এবং ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের মাঝামাঝি স্থান দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩.৫° উত্তর অক্ষরেখা) অতিক্রম করেছে।
- পূর্ব-পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৪৪০ কি.মি. এবং উত্তর-উত্তর পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-দক্ষিণ পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কি.মি.।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় ও আসাম; পূর্বে আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম এবং মিয়ানমার; দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমে ভারতের, পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৮৩৮.
বলকান অঞ্চল কোথায় অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপ
  2. উত্তর ইউরোপ
  3. মধ্য এশিয়া
  4. উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ
ব্যাখ্যা
- বলকান দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত। এটি একটি পার্বত্য ও উপদ্বীপ অঞ্চল।

বলকান রাষ্ট্র:
- বলকান হলো দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপে অবস্থিত একটি পার্বত্য অঞ্চল।
- বলকান পর্বতমালার পাদদেশ বা বলকান পেনিনসুলায় অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।

এই অঞ্চলে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ হলো:
- ক্রোয়েশিয়া,
- কসোভো,
- মন্টিনিগ্রো,
- বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা,
- রােমানিয়া,
- সার্বিয়া,
- উত্তর মেসিডোনিয়া,
- স্লোভেনিয়া,
- বুলগেরিয়া,
- আলবেনিয়া।

উল্লেখ্য,
- গ্রিস এবং তুরস্কের কিছু অংশও বলকান অঞ্চলে অবস্থিত।

সূত্র: ব্রিটানিকা
৬,৮৩৯.
বাংলাদেশে উন্নতমানের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে—
  1. ক) রাণীগঞ্জে
  2. খ) বিজয়পুরে
  3. গ) জামালগঞ্জে
  4. ঘ) জকিগঞ্জে
ব্যাখ্যা
- দেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বেশি গভীরতার কয়লাখনি জয়পুরহাট জেলার জামালগঞ্জে অবস্থিত। 
- এক কিলোমিটার গভীরতায় এই খনির অবস্থান।
- এখানে কয়লার মজুত প্রায় ১০০ কোটি মেট্রিক টন।
 
উৎস : প্রথম আলো
৬,৮৪০.
Grand Canal is located in -
  1. ক) Russia
  2. খ) China
  3. গ) United States
  4. ঘ) Canada
ব্যাখ্যা
- Beijing-Hangzhou Grand Canal, popularly known as the Grand Canal located in China.
- It is not only the world’s longest artificial river or canal, it is also a tourist destination.
- The canal starts at Beijing before passing through Tianjin and the Hebel, Shandong, Jiangsu, and Zhejiang provinces to the city of Hangzhou, connecting the Yangtze and Yellow Rivers.
- In 2014, the Grand Canal was listed as a World Heritage Site by UNESCO during the Conference on World Heritage.
- The Grand Canal’s total length is approximately 1,104 miles while its greatest height is at 138 feet at the summit of the Shandong Mountains. 

Source: Worldatlas.com
৬,৮৪১.
What is the total production capacity of Matarbari power plant?
  1. 800 megawatt
  2. 1200 megawatt
  3. 1400 megawatt
  4. 2000 megawatt
  5. 2400 megawatt
ব্যাখ্যা
মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র:
- মাতারবাড়ি তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলো বাংলাদেশের একটি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
- এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা ইউনিয়নে অবস্থিত।
- মোট উৎপাদন ক্ষমতা: ১২০০ মেগাওয়াট।

⇒ প্রকল্পের নাম: মাতারবাড়ি আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট।
- সংস্থা: কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল)।

⇒ জাপানের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে মাতারবাড়ির এই বিদ্যুৎকেন্দ্র।
- বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার মধ্যে ১৬ জুন ২০১৪ ইং তারিখে একটি ঋণচুক্তি সম্পাদিত হয়।

উৎস: বিদ্যুৎ বিভাগ ওয়েবসাইট।
৬,৮৪২.
মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা কয়টি?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্ত:
- বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৮৪৩.
ডেড সি বা মৃত সাগর কোথায় অবস্থিত?
  1. লেবানন
  2. জর্ডান
  3. মিশর
  4. লিবিয়া
ব্যাখ্যা

• ডেড সি:
- ডেড সি, যা লবণ সাগর নামেও পরিচিত।
- এটি একটি লবণাক্ত হ্রদ যা দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায়, জর্ডান এবং ইসরায়েল এর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।
-  সমুদ্রপৃষ্ঠের চেয়ে ৪৩০.৫ মিটার নিচে অবস্থিত,
- যা একে পৃথিবীর সবচেয়ে নিম্নভূমির স্থলভাগ হিসেবে পরিচিত।
- এর লবণাক্ততা সাধারণ সমুদ্রের চেয়ে প্রায় দশ গুণ বেশি।
- এই হ্রদের একটি প্রধান পানির উৎস হলো জর্ডান নদী।
- তবে এর কোনো প্রাকৃতিক নিষ্কাশন পথ নেই।
- ফলে এটি প্রধানত বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি হারায়।
-  এই হ্রদে জীবনের অস্তিত্ব প্রায় নেই।
- শুধুমাত্র শৈবাল এবং কিছু আণুবীক্ষণিক জীব ছাড়া আর কিছু বেঁচে থাকতে পারে না।
 
উৎস: World Atlas. 

৬,৮৪৪.
কোনটি সমষ্টিগত সম্পদের উদাহরণ?
  1. ক) বাড়িঘর
  2. খ) রেলপথ
  3. গ) ভূ-সম্পত্তি
  4. ঘ) আসবাবপত্র
ব্যাখ্যা

- সমষ্টিগত সম্পদ: যেসব সম্পদের মালিকানা সমাজ বা রাষ্ট্রের হাতে থাকে সেসব সম্পদকে সমষ্টিগত সম্পদ বলে।
- অর্থাৎ জনগণের ব্যবহৃত সম্পদ ও সরকারি সম্পদ একত্রে মিলে সমষ্টিগত সম্পদ সৃষ্টি হয়।
যেমন- রেলপথ, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল, পার্ক, চিড়িয়াখানা ইত্যাদি।

- অপরদিকে, বাড়িঘর, ভূ-সম্পত্তি, আসবাবপত্র হলো ব্যাক্তিমালিকানাধীন সম্পদ৷

উৎসঃ অর্থনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৪৫.
মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি?
  1. সনোরা লাইন
  2. ম্যাকনামারা লাইন
  3. ডুরান্ড লাইন
  4. হিন্ডারবার্গ লাইন
ব্যাখ্যা
সনোরা লাইন:
- যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো কে পৃথককারী লাইন কে সনোরা লাইন বলা হয়।
- এ লাইনটি মেক্সিকোর সনোরা প্রদেশকে যুক্তরাষ্ট্র অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্য থেকে পৃথক করেছে।
- এটি ১৮৫৩ সালে এই সীমান্তরেখা ভাগ করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু সীমারেখা:
- ডুরান্ড লাইন: পাকিস্তান ও আফগানিস্তান।
- সিগফ্রিড লাইন: জার্মান ও ফ্রান্স।
- ম্যাকনামারা লাইন: সাবেক উত্তর ও দক্ষিণ ভিয়েতনাম।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল: চীন ও ভারত।
- ওডের-নিস লাইন: জার্মান ও পোল্যান্ড।
- ব্ল লাইন: লেবানন ও ইসরাইল।
- হিন্ডারবার্গ লাইন: জার্মান ও পোল্যান্ড। 

উৎস: Britannica.
৬,৮৪৬.
আফ্রিকান নদীর জনক হিসাবে পরিচিত -
  1. নাইজার নদী
  2. নীল নদ
  3. কঙ্গো নদী
  4. কাগেরা নদী
ব্যাখ্যা
• নীল নদ:
→ নীল নদ, আফ্রিকান নদীর জনক হিসাবে পরিচিত।
→ দুটি প্রধান উপনদী মিলিত হয়ে নীল নদ তৈরি করে; সাদা নীল এবং নীল নীল।
→ এটি আফ্রিকার দীর্ঘতম নদী।
→ নীল নদের নিষ্কাশন অববাহিকা প্রায় ৩,৩৪৯ মিলিয়ন বর্গমাইল।
→ এটি এগারোটি দেশের অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে; কেনিয়া, উগান্ডা, তানজানিয়া, মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইথিওপিয়া, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, ডিআর কঙ্গো এবং ইরিত্রিয়া।
→ নদীটির সর্বাধিক প্রস্থ ২.৮ কিলোমিটার এবং গড় গভীরতা ৮-১১ মিটার।

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬,৮৪৭.
কোন সাবমেরিন ক্যানিয়ন বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত?
  1. ক) Indus Canyon
  2. খ) Mona Canyon
  3. গ) Swatch of No Ground
  4. ঘ) Bering Canyon
ব্যাখ্যা
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground):
সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড খাদ আকৃতির সামুদ্রিক অববাহিকা বা গিরিখাত, যা বঙ্গোপসাগরের মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করেছে।

- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের পশ্চিমে অবস্থিত। গঙ্গা খাদ নামেও এটি পরিচিত।
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের প্রস্থ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার, তলদেশ তুলনামূলকভাবে সমতল এবং পার্শ্ব দেয়াল প্রায় ১২ ডিগ্রি হেলানো। মহীসোপানের কিনারায় খাদের গভীরতা প্রায় ১,২০০ মিটার।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে যে, সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড অবক্ষেপপূর্ণ ঘোলাটে স্রোত এনে বেঙ্গল ফ্যানে ফেলছে।
- বঙ্গীয় ডিপ সি ফ্যানের অধিকাংশ পলল গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সঙ্গমস্থলে উদ্ভূত।
- সোয়াচ অফ নো গ্রাউন্ডটি বঙ্গোপসাগরের ১৪ কিলোমিটার প্রশস্ত গভীর সমুদ্রের উপত্যকা।
এই উপত্যকার গভীরতম রেকর্ড করা অঞ্চলটি প্রায় ১৩৫০ মি।
- সাবমেরিন উপত্যকাটি বেঙ্গল ফ্যান বা বঙ্গ পাখার অংশ, বিশ্বের বৃহত্তম সাবমেরিন পাখা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৪৮.
দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও জলবায়ুতে বৈচিত্র্য দেখা যায় কেন?
  1. দ্রাঘিমার ভিন্নতার কারণে
  2. উচ্চতার পার্থক্যের কারণে
  3. সমুদ্র থেকে দূরত্বের তারতম্যের কারণে
  4. উদ্ভিদ আচ্ছাদনের ভিন্নতার কারণে
ব্যাখ্যা

উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
- উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৮৪৯.
SPARSO-এর প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত?
  1. সাভার
  2. আগারগাঁও
  3. মতিঝিল
  4. তেজগাঁও
ব্যাখ্যা

• SPARRSO:
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

- এর প্রধান কাজ হলো মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষি, বন, মৎস্য, পরিবেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস), পানি সম্পদ ও ভূমি জরিপের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা করা, তথ্য সরবরাহ করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং নীতি নির্ধারণে সরকারকে সহায়তা করা

তথ্যসূত্র: SPARSO ওয়েবসাইট।

৬,৮৫০.
কোন দুটি মহাসাগর কে ইংলিশ চ্যানেল সংযুক্ত করেছে?
  1. ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে
  2. আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর
  3. উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগর
  4. উত্তর সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর
ব্যাখ্যা
ইংলিশ চ্যানেল:
- ইংলিশ চ্যানেল আটলান্টিক মহাসাগরের একটি অংশ।
- এটি উত্তর ফ্রান্স থেকে গ্রেট ব্রিটেনের দ্বীপকে পৃথক করে এবং উত্তর সাগরে আটলান্টিকের সাথে মিলিত হয়।
- এই চ্যানেল উত্তর সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি প্রায় ৫৬৩ কিমি (৩৫০ মাইল) দীর্ঘ এবং এর প্রস্থে ২৪০ কিমি (১৫০ মাইল)।
- ডোভার প্রণালী হলো এই চ্যানেলের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ।
- পূর্বদিকে এর বিস্তার কমে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার হয়ে যায় এবং সেখানে এটি ডোভার প্রণালীর মাধ্যমে উত্তর সাগরের সাথে সংযুক্ত।
- ইংলিশ চ্যানেলের প্রধান দ্বীপগুলির মধ্যে আছে আইল অভ ওয়াইট এবং চ্যানেল দ্বীপপুঞ্জ।

উৎস: Britannica.
৬,৮৫১.
উপকূলে সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা কত?
  1. ক) ২৫-৫০ মিটার
  2. খ) ৩০-৪৫মিটার
  3. গ) ৩০-৫০ মিটার
  4. ঘ) ৩৫-৬৫ মিটার
ব্যাখ্যা
সুনামি সৃষ্টির কারণ ও সুনামির গতিবিধি
• সমুদ্রতলে জিও টেকটোনিক প্রক্রিয়ার দরুণ ভূ-আন্দোলনের ফলে যে কম্পন হয় তা প্রধানত দু’ভাবে হয়ে থাকে। যথা : সমান্তরালভাবে ও উলম্বভাবে।
• সুনামির সময় সমুদ্রতলে উলম্ব আলোড়ন হয়। এর ফলে সমুদ্রতলের ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থান বিশাল অঞ্চলজুড়ে বসে যায় বা কোনো স্থান খাড়াভাবে ওপরে উঠে আসে ও সমুদ্রতলে ফাটলের সৃষ্টি করে যার ফলে তলদেশের সমতা নষ্ট হয়।
• দ্রুত সমুদ্রপৃষ্ঠের পানির সমতা রক্ষার জন্য পানিরাশির প্রচন্ড উলম্বচাপের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রম্নতিতে উপরিভাগের পানির সমতা রক্ষার জন্য সুনামি সৃষ্টি হয়। সুনামির সৃষ্টির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণেও সুনামি সৃষ্টি হয়ে থাকে।
• এছাড়া পারমানবিক বিস্ফোরণ, ভূমিধ্বস, উল্কাপিন্ডের পতন ইত্যাদি কারণেও সুনামি হতে পারে। সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে যে ঢেউয়ের সৃষ্টি করে তা প্রবলবেগে উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়।
• সুনামির একেকটি ঢেউ ঘন্টায় ৬৪০-৯৬০ কি.মি বেগে প্রবাহিত হয়। সুনামির ঢেউ উপকূলের দিকে আসতে থাকলে ঢেউয়ের গতির প্রচন্ডতা কমলেও ঢেউয়ের উচ্চতা বেড়ে যায় বহুগুণে।
• গভীর সমুদ্রে সুনামির উৎপত্তিস্থলে সুনামির উচ্চতা মাত্র কয়েক সে.মি. উঁচু কিন্তু উপকূলে সুনামির ঢেউয়ের উচ্চতা ৩০-৫০ মিটার উঁচু আকার ধারণ করে।                          

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৫২.
রিখটার স্কেলে ভূমিকম্প কত মাত্রার বেশি হলে তা আমরা অনুভব করতে পারি?
  1. ২ মাত্রা
  2. ৩ মাত্রা
  3. ৪ মাত্রা
  4. ৫ মাত্রা
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প: 
- পৃথিবীর ভেতরে হঠাৎ সৃষ্ট কোনো কম্পন যখন ভূপৃষ্ঠে আকস্মিক আন্দোলন সৃষ্টি করে, সেটাকেই ভূমিকম্প বলে।
- ভূমিকম্প কয়েক সেকেন্ড থেকে মিনিট খানেক পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ঘটতে পারে। 
- ভূমিকম্প একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি দেশ বা অঞ্চল পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। 
- বড় ধরনের ভূমিকম্প নদীর গতিপথও পরিবর্তন করতে পারে। 
- ভূমিকম্পের ফলে আমাদের অন্যতম প্রধান নদী ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ বদলে গিয়েছিল। 
- পৃথিবীর মাঝে জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।
- ২০১০ সালে হাইতিতে, ২০১১ সালে জাপানে এবং ২০১৫ সালে নেপালের ভূমিকম্প ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল।
- জাপানের ভূমিকম্পের পর সেখানে সৃষ্ট সুনামি নিউক্লিয়ার শক্তি কেন্দ্রে আঘাত করে একটি নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনা ঘটিয়েছিল। 
- ভুমিকম্পের মাত্রা পরিমাপ করা হয় রিখটার স্কেলে। 
- রিখটার স্কেলে ৫ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আমরা অনুভব করতে পারি। 
- এই স্কেলে এক মাত্রা বেড়ে যাওয়া মানে তার শক্তি ৩০গুন বেড়ে যাওয়া। 
- ১৮৮৪ সালে মানিকগঞ্জ এলাকায় রিখটার স্কেলে ৭ মাত্রার বড় একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। 

উৎস: বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮৫৩.
বাংলাদেশের স্বতন্ত্র ঋতু বলা হয় -
  1. ক) বর্ষা
  2. খ) শরৎ
  3. গ) হেমন্ত
  4. ঘ) বসন্ত
ব্যাখ্যা
স্বতন্ত্র ঋতু:
- বাংলাদেশের 'বর্ষাকাল'কে স্বতন্ত্র ঋতু বলা হয়।
- বাংলাদেশে জুন থেকে অক্টোবর মাস (জ্যৈষ্ঠ - কার্তিক) পর্যন্ত বর্ষাকাল।
- গ্রীষ্ম ও শীতের মাঝামাঝি বৃষ্টিবহুল সময়কে বর্ষাকাল বা বর্ষা ঋতু বলে।
- বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হয়।
- এই বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
- এই প্রক্রিয়ায় বর্ষাকালে দেশের সারাবছরের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৮০ ভাগ বৃষ্টি হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম দশম শ্রেণি।
৬,৮৫৪.
ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে কোন নদীর উৎপত্তি?
  1. পদ্মা নদী
  2. মেঘনা নদী
  3. ব্রহ্মপুত্র নদ
  4. কর্ণফুলী নদী
ব্যাখ্যা

কর্ণফুলী নদী : 
- এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম। 
- ভারতের মিজোরামের রাজ্যের লুসাই পাহাড় থেকে কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তি।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- উৎস থেকে মোহনা পর্যন্ত এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার।
- হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- পদ্মা নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- মেঘনা নদী ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন।
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৫৫.
বাকল্যান্ড বাঁধ কোন নদীতে অবস্থিত?
  1. তুরাগ
  2. যমুনা
  3. বুড়িগঙ্গা
  4. পদ্মা
ব্যাখ্যা
বাকল্যান্ড বাঁধ:
- বাকল্যান্ড বাঁধ ঢাকা শহরের দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা নদীর উত্তর তীরে একটি শহর পরিবেষ্টনী বাঁধ।
- ১৮৬৪ সালে তৎকালীন নগর কমিশনার সি.টি বাকল্যান্ড এই বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেন।
- নদীর ঘাট পর্যন্ত কার্গো ও যাত্রীবাহী স্টিমার চলাচল সুগম করার জন্য পাড়ের নিম্নভাগে পলি প্রতিরোধ করা এবং প্লাবন ও ভাঙন থেকে ঢাকা শহর রক্ষা প্রকল্পের অধীনে এই বাঁধ নির্মিত হয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৫৬.
বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে কত কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ?
  1. ২৫ কিলোমিটার
  2. ৩০ কিলোমিটার
  3. ৩৫ কিলোমিটার
  4. ৪০ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
বায়ুমন্ডল: 
- ভূ-পৃষ্ঠের চারপাশ যে বায়বীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত রয়েছে তাকেই সহজ ভাষায় বলা হয় বায়ুমন্ডল।
- মূলত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উর্ধ্ব দিকে যে বায়বীয় আস্তরণ তাই বায়ুমন্ডল নামে পরিচিত ।
- এই মন্ডলটি নানা প্রকার গ্যাসীয় উপাদান দ্বারা গঠিত।
-   বায়ুমন্ডলের বয়স প্রায় ৩৫ কোটি বছর।
- এর গভীরতা প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার।
-  এই বায়ুমন্ডলের প্রায় ৯৭ শতাংশই ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৩০ কিলোমিটার এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
 - বায়ুমন্ডলের একটির উপর আরেকটি পর্যায়ক্রমে অবস্থিত।
- সাধারণত উপরের স্তরের বায়ু নিচের বায়ুস্তরে ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।
- বায়ুর এই চাপের জন্যই পৃথিবীপৃষ্ঠ হতে যত উপরে উঠা যায়,বায়ুর ঘনত্ব ততই কমতে থাকে। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠে এই বায়ুচাপের ঘনত্ব সব থেকে বেশি দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬,৮৫৭.
ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে কোন জেলার মধ্য দিয়ে প্রবেশ করেছে?
  1. রংপুর
  2. লালমনিরহাট
  3. কুড়িগ্রাম
  4. গাইবান্ধা
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন নদীর প্রবেশ পথ:
- পদ্মা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মেঘনা ভারতের আসাম রাজ্যের নাগা-মনিপুর পার্বত্য অঞ্চলে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- যমুনা ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একাট শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- করতোয়া নদী পঞ্চগড় জেলার ভিটগড়ের নিকট বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- মহানন্দা নদী পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পুনরায় ভারতে প্রবেশ করে।
- কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- ফেনী নদী ফেনী জেলার পূর্ব সীমানা দিয়ে প্রবেশ করে সন্দ্বীপ প্রণালির উত্তরে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- নাফ নদী বাংলাদেশের টেকনাফ ও মিয়ানমারের সীমানা নির্দেশ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৫৮.
বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন কত বর্গ কিলোমিটার?
  1. ৫,৮৯৬ বর্গ কিলোমিটার
  2. ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার
  3. ৬,১১২ বর্গ কিলোমিটার
  4. ৬,১২৮ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা

সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি । এ বনের অধিকাংশ এলাকা জোয়ার ভাটার কারণে দিনে দু'বার লোনা পানি দ্বারা বিধৌত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়। ম্যানগ্রোভ বন হলো উপকূলীয় বন।
- এর অন্য নাম বাদাবন।

• সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা দেশের আয়তনের ৪.২%, সমগ্র বনভূমির প্রায় ৪৪% এবং বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির ৩৮.১২%, এর মধ্যে ৬৯% স্থলভাগ ও ৩১% জলভাগ।

উল্লেখ্য,
- সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি। সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা। তন্মধ্যে খুলনা জেলাস্থ সুন্দরবনের আয়তন ২০৭২.২৪ বর্গ কিলোমিটার।
- সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী। সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। বন্যপ্রাণীসমূহের মধ্যে: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি।

• ইউনেস্কো ৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে ৭৯৮তম 'World Heritage site' বা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উৎস: i) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

৬,৮৫৯.
বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. মার্চ
  2. এপ্রিল
  3. মে
  4. জুন
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের উষ্ণতম জেলা - রাজশাহী।
- বাংলাদেশের শীতলতম জেলা - সিলেট।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম স্থান - লালপুর, নাটোর।
- বাংলাদেশের শীতলতম স্থান - শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
- বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস - এপ্রিল।
- বাংলাদেশের শীতলতম মাস - জানুয়ারি।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৮৬০.
দেশের ৩৫তম নদীবন্দর কোনটি?
  1. রূপপুর নদীবন্দর
  2. মীরসরাই রাসমনি নদীবন্দর
  3. বালাগঞ্জ নদীবন্দর
  4. পাকুন্দিয়া নদীবন্দর
ব্যাখ্যা
- দেশের ৩৫তম নদীবন্দর হলো সিলেট জেলার বালাগঞ্জ নদীবন্দর।
- গত ২৮ জুন ২০২০ বালাগঞ্জকে ৩৫তম নদীবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
- ১৯৬০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সর্বপ্রথম ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, বরিশাল, চাঁদপুর ও টঙ্গীকে নদীবন্দর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
(সূত্র: নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়)
৬,৮৬১.
পামির মালভূমি কোথায় অবস্থিত?
  1. পূর্ব ইউরোপে
  2. দক্ষিণ আমেরিকায়
  3. উত্তর আফ্রিকায়
  4. মধ্য এশিয়ায়
ব্যাখ্যা

পামির মালভূমি:
- পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু ভূমির নাম পামীর মালভূমি।
- সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ১৬,০০০ ফুটের মতো।
- 'পামির মালভূমি' মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত।
- মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত পামীর পর্বতমালাকে ঘিরে এ মালভূমিটির অবস্থান।
- তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, তিব্বত, চীন এবং পাকিস্তানের কিছু অংশ পর্যন্ত এ মালভূমিটি বিস্তৃত।
- এ অঞ্চলটি মূলত বিভিন্ন উঁচু পর্বতের মিলনস্থল।
- এ কারণে তাই পামীর মালভূমিকে পৃথিবীর ছাদ বলা হয়।

সূত্র: ব্রিটেনিকা ওয়েবসাইট।

৬,৮৬২.
বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. অলিভার শেলডন
  2. গ্রেকিউনাস
  3. ল্যামেটার
  4. এরাটোস্থেনিস
ব্যাখ্যা
বিগ ব্যাং:
- বিগ ব্যাং তত্ত্বের প্রবক্তা জি ল্যামেটার (১৯২৭ সাল)।
- কোনো এক সময় মহাবিশ্বের সব বস্তুপিন্ড একত্রিত অবস্থায় ছিল এবং এক মহাবিস্ফোরণের ফলেই এগুলো ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
- প্রকৃতপক্ষে বিগ ব্যাং বলতে মহাবিশ্ব সৃষ্টির 'শুরু' বোঝায় যখন থেকে স্থান ও সময় গণনা আরম্ভ হয়।
- বিগ ব্যাং সিদ্ধান্ত অনুসারে, মহাবিশ্বের উৎপত্তি ঘটেছে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে।
- এই সিদ্ধান্তে বলা হয় যে, মহাবিশ্ব একটি একটি সুপারনোভা বা মহাস্থির বিস্ফোরণের ফলে প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে গ্রহাণুগুলি আরম্ভিক অবস্থায় ছিল।

উৎস: পদার্থবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৬৩.
Which two countries have the world's longest land border?
  1. United States and Canada
  2. United States and Mexico
  3. Russia and Kazakhstan
  4. Chile and Argentina
  5. India and Bangladesh
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর দীর্ঘতম স্থল সীমান্ত:
1. আমেরিকা ও কানাডা: দৈর্ঘ্য ৮৮৯৩ কিলোমিটার।
2. কাজাকিস্তান ও রাশিয়া: দৈর্ঘ্য ৭৬৪৪ কিলোমিটার।
3. আর্জেন্টিনা ও চিলি: দৈর্ঘ্য ৬৬৯১ কিলোমিটার।
4. চীন ও মঙ্গোলিয়া: দৈর্ঘ্য ৪৬৩০ কিলোমিটার।
5. ভারত ও বাংলাদেশ: দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে,
- বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম স্থল সীমান্ত হলো স্পেন এবং মরক্কো।

উৎস: World Atlas.
৬,৮৬৪.
বাংলাদেশের ২৭ তম গ্যাস ক্ষেত্র কোথায় আবিষ্কৃত হয়েছে?
  1. ক) ভোলায়
  2. খ) বড় পুকুরিয়া
  3. গ) বিয়ানীবাজারে
  4. ঘ) কুমিল্লায়
ব্যাখ্যা
ভোলার উত্তর প্রান্তে ভেদুরিয়া নামক স্থানে নতুন ক্ষেত্রটি আবিষ্কৃত হয়েছে বাপেক্সেরই ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপের (থ্রি-ডি সাইসমিক সার্ভে) তথ্যের ভিত্তিতে। এটি দেশে আবিষ্কৃত ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র। ক্ষেত্রটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভোলা নর্থ’।
উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো
৬,৮৬৫.
নিরক্ষরেখার অন্য নাম - 
  1. কর্কটক্রান্তি রেখা
  2. মকরক্রান্তি রেখা
  3. বিষুবরেখা 
  4. প্রধান মধ্যরেখা
ব্যাখ্যা

• নিরক্ষরেখা :
- পৃথিবীর ঠিক মাঝখান দিয়ে যে রেখাটি পূর্ব-পশ্চিমে সমগ্র পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে তাকে নিরক্ষরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার অপর নাম হলো- বিষুবরেখা (Equator),  অক্ষরেখা (০° Latitude), মহাবৃত্ত (Great circle)।
- নিরক্ষরেখার উপর সারাবছর সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- আর নিরক্ষরেখা থেকে যতই উত্তর বা দক্ষিণে যাওয়া যায়, সূর্যকিরণ তির্যকভাবে পড়তে থাকে।


অন্যদিকে, 
- ২৩°৫' উত্তর অক্ষরেখাকে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫০° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা বলে।
- বাংলাদেশের উপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে।
- এই দুটি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে সূর্যের আলো লম্বভাবে পৃথিবীতে পড়ে।
- সুমেরুবৃত্ত ও কুমেরুবৃত্ত: উত্তর গোলার্ধে ৬৬.৫° উত্তর অক্ষরেখাকে সুমেরুবৃত্ত এবং ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত বলে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি। 

৬,৮৬৬.
বেন নেভিস কোন দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ?
  1. আয়ারল্যান্ড
  2. যুক্তরাজ্য
  3. ফ্রান্স
  4. ইতালি
ব্যাখ্যা

বেন নেভিস:
- যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হল বেন নেভিস।
- এটি স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ড অঞ্চলের ফোর্ট উইলিয়াম শহরের কাছে অবস্থিত।
- এর উচ্চতা প্রায় ১,৩৪৫ মিটার (৪,৪১৩ ফুট)।
- যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটি গ্র্যাম্পিয়ান পর্বতমালার অংশ।

উল্লেখ্য,
- বেন নেভিসসহ যুক্তরাজ্যে ২০০ টিরও বেশি পর্বত রয়েছে যার বেশিরভাগই স্কটল্যান্ডে।
- প্রকৃতপক্ষে, যুক্তরাজ্যের ২০০টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে ১৯২টি স্কটল্যান্ডে পাওয়া যায়।

উৎস: i) Britannica.
ii) Global Adventure Challenges.

৬,৮৬৭.
বাংলাদেশের কোন জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ?
  1. কুমিল্লা
  2. সিলেট
  3. দিনাজপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি:
- বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলাটি কয়লা সমৃদ্ধ।
- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত।
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কয়লা খনি।
- বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ১৯৮৫ সালে আবিষ্কৃত হয়।
- এর থেকে প্রাপ্ত কয়লা দিয়ে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
- বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দেশের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র।

তথ্যসূত্র: পার্বতীপুর উপজেলা ওয়েবসাইট।
৬,৮৬৮.
বিশ্ব বিখ্যাত 'গ্রান্ড ট্রাঙ্ক' রোডটি বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে শুরু হয়ে কোথায় শেষ হয়েছে?
  1. ক) যশোর
  2. খ) দিল্লী
  3. গ) আগ্রা
  4. ঘ) পাঞ্জাব
ব্যাখ্যা
গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ষোল শতকে সুলতান শেরশাহ কর্তৃক নির্মিত বাংলার সোনারগাঁও থেকে পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত সুদীর্ঘ সড়ক। এ দীর্ঘ সড়ক পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক কাজে গতি সৃষ্টি করা। এছাড়া, প্রতিরক্ষার কৌশলগত দিক সামনে রেখে সমগ্র সাম্রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নিতবিধানও এর লক্ষ্য ছিল। উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬,৮৬৯.
On the bank of which river is the city of Rome located?
  1. Hudson
  2. Thames
  3. Tiber
  4. Danube
  5. None of these
ব্যাখ্যা
• টাইবার (Tiber) নদী:
- টাইবার (Tiber) নদী হলো ইতালির একটি প্রধান নদী, যার তীরে গড়ে উঠেছে রোম শহর যা প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের কেন্দ্র।

উল্লেখ্য,
- টেমস- এটি লন্ডন শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
- হাডসন - এটি নিউইয়র্ক শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
- সিন - প্যারিস শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।
- সুমিদা - টোকিও শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,৮৭০.
বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচারের ব্যবস্থা করে কোন প্রতিষ্ঠান?
  1. পানি উন্নয়ন বোর্ড
  2. গ্রামীন উন্নয়ন বোর্ড
  3. বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড
  4. রেড ক্রস
ব্যাখ্যা
- নিম্নে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনার কতিপয় পন্থা সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-
১. আবহাওয়ার তথ্যভিত্তিক পূর্বাভাস ও সতীকরণ যথা সময়ে প্রচার করা।
২. বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পারসো এর মাধ্যমে ভূ-উপগ্রহের চিত্র ও রাডার চিত্রের সাহায্যে উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণের ব্যবস্থার উন্নয়ন করা।
৩. পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র হতে বন্যা সংক্রান্ত পূর্বাভাস প্রচার ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা।
৪. ঘূর্ণিঝড় পূর্ব ও পরবর্তি সংকেত দান, সতর্কীকরণ,উদ্ধার ও পূণর্বাসন ইত্যাদি কাজে সরকারি সংস্থা ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি)-এর কার্যক্রমের আওতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৫. জরুরি পরিস্থিতিতে আর্তদের চিকিৎসা, উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পূণর্বাসন কাজে সামরিক বাহিনীর সদস্যবৃন্দ কর্তৃক বেসামরিক প্রশাসনকে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা দান করা।
৬. বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন সংস্থা কর্তৃক দুর্যোগ সংক্রান্ত সংকেতসমূহ প্রচারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা।
৭. সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাসমূহ যেমন- অক্সফাম, ডিজাস্টার, ফোরাম, কেয়ার বাংলাদেশ, কারিতাস, প্রশিকা, সিসিডিবি, বিডিপিসি (বাংলাদেশ দুর্যোগ প্রস্তুতি কেন্দ্র) ইত্যাদি সংস্থার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা।
- এছাড়া রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৭১.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মি পাওয়া যায়?  
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. আয়নমণ্ডল
ব্যাখ্যা

তাপমণ্ডল
- তাপমণ্ডল হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর, যা মেসোবিরতির উপরে শুরু হয়ে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এখানে বায়ু অত্যন্ত হালকা এবং চাপ খুবই কম থাকে।
- এই স্তরে রঞ্জন রশ্মি ও অতিবেগুনি রশ্মি পাওয়া যায়।
- তাপমাত্রা উচ্চতার সাথে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং প্রায় 1480∘ সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছায়।
- এই স্তরের নিম্ন অংশকে আয়নমণ্ডল বলা হয়।
- পৃথিবীর পৃষ্ঠে সূর্যের তাপের পরিমাণ অনুযায়ী নির্ধারিত পাঁচটি তাপীয় বলয় রয়েছে :
- উষ্ণমণ্ডল,
- উত্তর নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল,
- দক্ষিণ নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল,
- উত্তর হিমমণ্ডল,
- দক্ষিণ হিমমণ্ডল।

উৎস : ব্রিটানিকা।

৬,৮৭২.
ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা কোনটি?
  1. ক) আইসোহেলাইন
  2. খ) আইসোথার্ম
  3. গ) আইসোহাইট
  4. ঘ) আইসোবার
ব্যাখ্যা
- আইসোবার : সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা
- আইসোহাইট : সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোথার্ম : সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
(তথ্যসূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ব. এবং সায়েন্সডিরেক্ট ওয়েবসাইট)
৬,৮৭৩.
বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) বেইজিং, চীন
  2. খ) মারকানা, ব্রাজিল
  3. গ) ইডেন গার্ডেন, কলকাতা
  4. ঘ) পিয়ং ইয়ং, উত্তর কোরিয়া
ব্যাখ্যা
Rungrado 1st of May Stadium is the largest football stadium in the world. It is located in Pyongyang, North Korea. It has a capacity of 114,000 spectators.
Source: Worldatlas
৬,৮৭৪.
ঘূর্ণিঝড় মিধিলি'র নামকরণ করে-
  1. ওমান
  2. মালদ্বীপ
  3. মালয়েশিয়া
  4. থাইল্যান্ড
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় 'মিধিলি':
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'মিধিলি' ১৭ নভেম্বর, ২০২৩ তারিখে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে।
- এর গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার।
- ‘মিধিলি’ নামটি দিয়েছে মালদ্বীপ।
- ‘মিধিলি’ অর্থ ‘ফলপ্রসু বিষয়’। 
- আবার কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিধিলি নামের অর্থ হল বিশাল গাছ, অর্থাৎ মহীরুহ।

উল্লেখ্য,
- বিশ্ব আবহওয়া সংস্থার অধিভুক্ত প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৩টি দেশের প্রস্তাবিত নামগুলো পরপর প্রয়োগ করা হয়।
- মিধিলির পরের নামটি মায়ানমারের ‘মিগজাউম’।
- ২০২০ সালে মোট ১৩টি দেশ ১৩টি করে মোট ১৬৯টি নাম দেয়।
- ১৩টি দেশ হলো: বাংলাদেশ, ভারত, মলদ্বীপ, মায়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ইরান, কাতার, সৌদি আরব, আরব-আমিরাত এবং ইয়েমেন।
- ডব্লিওএমও'র ভারতীয় উপমহাদেশের এই সদস্য দেশগুলোই নাম দেয়।

উৎস: ১৭ নভেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
৬,৮৭৫.
মানচিত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সাধারণত কোন স্কেলটি অনুসরণ করা হয়?
  1. আমেরিকান স্কেল
  2. ব্রিটিশ স্কেল
  3. ইন্ডিয়ান স্কেল
  4. চাইনিজ স্কেল
ব্যাখ্যা
মানচিত্রের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সাধারণত ব্রিটিশ স্কেল অনুসরণ করা হয়।

মানচিত্র:

- কোনো স্থানের অবস্থান থেকে শুরু করে ঐ স্থানের খুঁটিনাটি বিষয় সম্পর্কে অবহিত হওয়ার জন্য মানচিত্রের কোনো বিকল্প নেই।
- খুব কম সময়ে সহজ উপায়ে ঘরে বসে সারা বিশ্বকে জানার জন্যই মানচিত্রের উৎপত্তি।
- একটি মানচিত্রের মধ্যে কী ধরনের তথ্য থাকবে তা নির্ভর করবে- (ক) স্কেল, (খ) অভিক্ষেপ, (গ) কনভেনশনাল সাইন, (ঘ) মানচিত্র অঙ্কনকারীর দক্ষতা এবং (ঙ) মানচিত্র অঙ্কনের ধরনের উপর।
- একটি বৃহৎ স্কেলের মানচিত্রের মধ্যে একটি স্থানকে বেশি তথ্য দিয়ে দেখানো যায়।

উল্লেখ্য,
⇒ ভূসংস্থানিক মানচিত্র (Topographic map):
- এই মানচিত্রগুলো প্রকৃত জরিপকার্যের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়।
- সাধারণত এর মধ্যে প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক দুই ধরনের উপাদান দেখতে পাওয়া যায়।
- ভূপ্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে পাহাড়, মালভূমি, সমভূমি, নদী, উপত্যকা, হ্রদ প্রভৃতি দেখানো হয়।
- অন্যদিকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হিসেবে রেলপথ, হাটবাজার, পোস্ট অফিস, সরকারি অফিস, খেলার মাঠ, মসজিদ, মন্দির প্রভৃতি নিখুঁতভাবে দেখানো হয়।
- এই মানচিত্রের স্কেল ১:২০,০০০ হলে ভালোভাবে বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পায়।
- বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন স্কেলে এই মানচিত্র তৈরি করে।
- সবচেয়ে আদর্শ ও জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রিটিশদের তৈরি করা মানচিত্র যার স্কেল ছিল ১:২৫,০০০ থেকে ১:১০০,০০০ এবং আমেরিকাতে এই মানচিত্রের স্কেল থাকে সাধারণত ১:৬২,৫০০ এবং ১:১২৫,০০০।
- সাধারণত ব্রিটিশ স্কেলটি অনুসরণ করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮৭৬.
নিচের কোনটি জলবায়ুর নিয়ামক?
  1. ক) বায়ুর তাপ
  2. খ) আর্দ্রতা
  3. গ) বায়ু প্রবাহের দিক
  4. ঘ) বায়ুর চাপ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু (Climate )
কোন অঞ্চলের বায়ুর তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বায়ুর চাপ, বায়ু প্রবাহ, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, ঝড়, বায়ুপুঞ্জ, মেঘাচ্ছন্নতা ইত্যাদির দীর্ঘদিনের সামগ্রিক রূপকে ঐ স্থানের জলবায়ু বলা হয়।  
মূলত: কোন স্থানের ২৫-৩০ বছরের দৈনন্দিন আবহাওয়া পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে সে স্থানের জলবায়ু নির্ধারণ করা হয় বা এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
 আবহাওয়ার মত জলবায়ুরও প্রধান উপাদানগুলো হচ্ছে :
- বায়ুর তাপ, 
- চাপ, 
- আর্দ্রতা, 
- বৃষ্টিপাত ইত্যাদি। 
 
আর এ উপাদানগুলোর নিয়ন্ত্রনকারী নিয়ামকসমূহ হচ্ছে : 
- সমুদ্র স্রোত, 
- অক্ষাংশ, 
- ভূ-পৃষ্ঠের উচ্চতা, 
- সমুদ্র হতে দূরত্ব, 
- বায়ু প্রবাহের দিক ইত্যাদি ।
 
কোন স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ুর এ উপাদানসমূহ এবং এদের নিয়ন্ত্রনকারী নিয়ামকসমূহের পরিবর্তনের সাথে সাথে উক্ত স্থানের আবহাওয়া ও জলবায়ুরও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাণিজ্যিক ভূগোল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,৮৭৭.
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি কোথায় দেখা যায়?
  1. টাঙ্গাইল
  2. গাজীপুর
  3. বাগেরহাট
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- চাপালিশ, ময়না, তেলসুর প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।

ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের পাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ যেমন ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি, দিনাজপুর ও রংপুর জেলার বরেন্দ্র বনভূমিকে ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি বলা হয়।
- এই বনভূমির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শীতকালে এই বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায় এবং গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।
- শাল, কড়ই, হিজল প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।

স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, উত্তরে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট জেলা, পূর্বে হরিণঘাটা নদী, পিরোজপুর ও বরিশাল জেলা এবং পশ্চিমে রাইমঙ্গল, হাড়িয়াভাঙ্গা নদী ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আংশিক প্রান্তসীমা পর্যন্ত এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এটি খুলনা বিভাগের ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত।
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল বৃক্ষ সমৃদ্ধ।
- সুন্দরি, গরান, গেওয়া, ধুন্দল, কেওড়া প্রভৃতি এই বনের বৃক্ষ।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৭৮.
নিচের কোনটি অনিয়মিত বায়ু?
  1. অয়ন বায়ু
  2. প্রতীপ ঘূর্ণিবাত
  3. স্থলবায়ু
  4. পার্বত্য বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৭৯.
মাউন্ট এভারেস্ট-এর উচ্চতা কত?
  1. ৮,৮৪২.৮৬ মিটার
  2. ৮,৮২৮.৮৬ মিটার
  3. ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার
  4. ৮,৮৬৮.৮৬ মিটার
ব্যাখ্যা
মাউন্ট এভারেস্ট:
- মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার গ্রেট হিমালয়ের চূড়ায় অবস্থিত পর্বত যা চীন ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
- তিব্বত এবং নেপালের সীমান্তে উত্থিত, লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে একটি টেকটোনিক সংঘর্ষ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট তৈরি হয়েছিল।
- মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয়ের মাঝের অংশে অবস্থিত।
- এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।

উৎস: i) Britannica।
ii) National Geographic।
৬,৮৮০.
বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরকে স্ট্রাটোমণ্ডল বলা হয়?
  1. প্রথম স্তর
  2. দ্বিতীয় স্তর
  3. তৃতীয় স্তর
  4. চতুর্থ স্তর
ব্যাখ্যা
• বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

• স্ট্রাটোমণ্ডল (Stratosphere):
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

• স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (O3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এই ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৮৮১.
নদী ভাঙনের প্রধান কারণ কোনটি? 
  1. নদীর গতিপথ পরিবর্তন
  2. উজানে প্রচুর বৃষ্টি
  3. মূল নদীর গভীরতা কমা
  4. হিমালয়ের বরফগলা পানির প্রবাহ
ব্যাখ্যা

• নদীভাঙন: 
- নদীভাঙন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে নদীর তীব্র স্রোত, বন্যা বা অতিরিক্ত জলপ্রবাহের কারণে নদীর পাড় ও পাশের জমি ক্ষয় হয়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
- নদীভাঙনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
- নদী যখন স্বাভাবিক প্রবাহ ছেড়ে ডান বা বাম দিকে সরে যায়, তখন স্রোতের চাপ নদীতীরের ওপর বেড়ে যায়।
- এর ফলে তীরের মাটি ধীরে ধীরে কেটে যেতে থাকে এবং ক্ষয় বৃদ্ধি পায়।
- এই ধারাবাহিক ক্ষয়ের ফলেই নদীভাঙন ঘটে।

উল্লেখ্য,
- নদী ভাঙন মূলত প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট—এই দুই ধরনের কারণে ঘটে।
• প্রাকৃতিকভাবে:
- নদীর বাঁক ও মোহনায় স্রোত বেশি থাকায় ভাঙন তীব্র হয়। 
- নদী যখন এঁকেবেঁকে প্রবাহিত হয়, তখন বাইরের পাড়ে ভাঙন ধরে এবং ভেতরের দিকে পলি জমে।
- এছাড়া নদীর নাব্যতা কমে গেলে পানির চাপ বেড়ে গিয়ে ভাঙন আরও বাড়ে।

• মানবসৃষ্ট কারণের মধ্যে রয়েছে:
- নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা, যা নদীতীরকে দুর্বল করে তোলে।
- অপরিকল্পিত বাঁধ ও স্থাপনা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ায়।
- নদী অববাহিকায় বন উজাড় হলে মাটির বাঁধন কমে যায় এবং ক্ষয়প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
- তাছাড়া নদীতীরের মাটি যদি বেলে বা পলিযুক্ত নরম হয়, তবে স্রোতের চাপে তা সহজেই ভেঙে পড়ে।

উৎস: 
১. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর;
২. বাংলাপিডিয়া;
৩. প্রথম আলো পত্রিকা। 

৬,৮৮২.
ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে কী বলে?
  1. বিন্দু
  2. অনুকেন্দ্র
  3. সমকেন্দ্র
  4. উপকেন্দ্র
ব্যাখ্যা
ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিূকম্প বলে।
- একটি শান্ত পুকুরে টিল ছুড়লে যেভাবে ঢেউ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে তেমনি পৃথিবীর অভ্যন্তরে যেখানে তরঙ্গ শক্তি উৎপত্তি হয় সেখানে থেকে মুক্ত শক্তি টেউয়ের মত শিলায় তরঙ্গের সৃষ্টি করে এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৮৩.
বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ অনুসারে, মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল নিচের কোনটি?
  1. চট্টগ্রাম শহর
  2. সিলেট শহর
  3. ঢাকা শহর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূমিকম্প অঞ্চল:
- বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০ এ, দেশকে চারটি ভূমিকম্প অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে মাটির গতিবিধি বিভিন্ন স্তরের।
অঞ্চল ১: Z = ০.১২
অঞ্চল ২: Z = ০.২
অঞ্চল ৩: Z = ০.২৮
অঞ্চল ৪: Z = ০.৩৬

- প্রতিটি অঞ্চলে একটি সিসমিক জোন সহগ (Z) রয়েছে, যা মাটির সর্বোচ্চ বিবেচিত ত্বরণ (PGA) নির্দেশ করে।
- এই ত্বরণ কঠোর মাটি/শিলা (সাইট ক্লাস SA) এর জন্য g (মাধ্যাকর্ষণ ত্বরণ) এর এককে মাপা হয়।

• গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভূমিকম্প তথ্য:
- অঞ্চল ৪ (সর্বাধিক ভূমিকম্প প্রবণ): উত্তর-পূর্বাঞ্চল (সিলেট) অন্তর্ভুক্ত। PGA = ০.৩৬g।
- ঢাকা শহর: মাঝারি ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২)।
- চট্টগ্রাম শহর: উচ্চ ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চলে (Z = ০.২৮)।

অন্যদিকে,
• ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই এ, 
- ১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা-
অঞ্চল ১: (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল
অঞ্চল ২: (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); মধ্য অঞ্চল
অঞ্চল ৩: (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫); দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (BNBC) ২০২০।

৬,৮৮৪.
একই অক্ষাংশে থাকা দিনাজপুর ও শিলং-এর জলবায়ুতে বৈচিত্র্য প্রধানত কোন কারণে ঘটে?
  1. সমুদ্র থেকে দূরত্ব
  2. উচ্চতার পার্থক্য
  3. দ্রাঘিমার তারতম্য
  4. উদ্ভিদ আচ্ছাদন
ব্যাখ্যা

• উচ্চতা (Altitude):
- সমুদ্র সমতল থেকে যতই উপরে ওঠা যায়, উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলীয় তাপমাত্রা ততই হ্রাস পায়।
- সাধারণত প্রতি ১,০০০ মিটার উচ্চতায় প্রায় ৬° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়।
- উচ্চতার পার্থক্যের কারণে দুই জায়গা একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও একটি অপরটির চেয়ে ভিন্ন জলবায়ু ধারণ করে।
- যেমন- দিনাজপুর ও শিলং একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধু উচ্চতার তারতম্যের জন্য এদের জলবায়ু ভিন্ন রকম।
- উচ্চতা বেশি হওয়াতে শিলং-এ দিনাজপুরের চেয়ে তাপমাত্রা কম হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৮৮৫.
ভূগোলের কোন শাখা খনিজ ও শক্তিসম্পদ নিয়ে আলোচনা করে?
  1. আঞ্চলিক ভূগোল
  2. অর্থনৈতিক ভূগোল
  3. পরিবেশ ভূগোল
  4. ব্যবহারিক ভূগোল
ব্যাখ্যা
মানব ভূগোলের শাখাসমূহ:
- আঞ্চলিক ভূগোল,
- জনসংখ্যা ভূগোল,
- নগর ভূগোল,
- অর্থনৈতিক ভূগোল,
- পরিবহন ভূগোল,
- বাণিজ্যিক ভূগোল,
- সাংস্কৃতিক ভূগোল,
- পরিবেশ ভূগোল,
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা,
- বসতি ভূগোল,
- ব্যবহারিক ভূগোল।

⇒ অর্থনৈতিক ভূগোল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন ধারণের নিমিত্তে সকল প্রকার অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপ, বিকাশ, বিস্তার, বিবর্তন এবং বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে বিচার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে, তাই অর্থনৈতিক ভূগোল বলবো।
- অর্থনৈতিক ভূগোল বিশ্বব্যাপী কৃষি, শিল্প, খনিজ ও শক্তিসম্পদ প্রভৃতি উৎপাদন, উৎপাদনের ভৌগোলিক নিয়ামক ও বণ্টন প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করে।
- এছাড়াও অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বাণিজ্যের বৈশিষ্ট্য এবং আমদানি-রপ্তানি পণ্য প্রভৃতির ব্যাখ্যাও অর্থনৈতিক ভূগোলের অন্তর্ভুক্ত।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৮৬.
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় নদী কোনটি?
  1. রিও দ্য লা প্লাটা নদী
  2. পুরুস নদী
  3. আরাগুইয়া নদী
  4. আমাজন নদী
ব্যাখ্যা
আমাজন নদী:
- পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী আমাজন নদী।
- আমাজন নদীর দৈর্ঘ্য ৬৪০০ কি.মি।
- এটি দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে বড় নদী।
- নদীটি দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাংশে অবস্থিত, পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- এই নদীটি - পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় উৎপন্ন হয় এবং আটলান্টিক মহাসাগরে যুক্ত হয়েছে।
- আমাজনের মূল স্রোতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ব্রাজিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬,৮৮৭.
চেঙ্গী নদী কোন নদীর উপনদী?
  1. ফেনী নদীর
  2. কর্ণফুলী নদীর
  3. নাফ নদীর
  4. সাঙ্গু নদীর
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী।
- মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের লংলেহ কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কর্ণফুলী।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি।
- অর্থাৎ চেঙ্গী নদী কর্ণফুলী নদীর উপনদী।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৮৮৮.
পদ্মা নদীর শাখানদী কোনটি? 
  1. মাথাভাঙ্গা
  2. গড়াই
  3. ভৈরব
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

পদ্মা নদী:
- বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা।
- এ নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক দিয়ে অগ্রসর হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট গঙ্গা নামে সমভূমিতে প্রবেশ করেছে।
- গঙ্গা নদীর মূল প্রবাহ রাজশাহী জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সীমানা বরাবর এসে কুষ্টিয়ার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট যমুনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিশেছে। -
- অত:পর তিন নদীর মিলিত স্রোত মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- পদ্মার শাখানদীগুলোর মধ্যে কুমার, ভৈরব, গড়াই, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, আড়িয়াল খাঁ উল্লেখযোগ্য।

 উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৮৯.
সাম্প্রতিক সময়ে ভোলায় কত টিসিএফ গ্যাস আবিষ্কৃত হয়েছে? [নভেম্বর, ২০২৮]
  1. ৪.১০৯ টিসিএফ
  2. ৫.১০৯ টিসিএফ
  3. ৬.১০৯ টিসিএফ
  4. ৭.১০৯ টিসিএফ
ব্যাখ্যা
দ্বীপজেলা ভোলার সাম্প্রতিক গাসক্ষেত্র:
- দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপজেলা ভোলায় আরো সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকার উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের সন্ধান মিলেছে।
- এর পরিমাণ প্রায় ৫.১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)।
- ভোলার শাহবাজপুর ও ইলিশায় ২.৪২৩ টিসিএফ এবং চর ফ্যাশনে ২.৬৮৬ টিসিএফ মজুদ গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- স্পট মার্কেটে (খোলাবাজার) প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দর ১০.৪৬ মার্কিন ডলার, সেই হিসাবে ৫.১০৯ টিসিএফ গ্যাসের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ছয় লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।
- বর্তমানে ভোলায় পাঁচটি কূপ দিয়ে দৈনিক ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হচ্ছে।
- বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট।

উৎস: কালের কণ্ঠ রিপোর্ট।
৬,৮৯০.
কোন অক্ষাংশ রেখাটি উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমারেখা হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. ৩৬° উত্তর অক্ষাংশ
  2. ৩৮° উত্তর অক্ষাংশ
  3. ৪১° উত্তর অক্ষাংশ
  4. ৪৫° উত্তর অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা

৩৮° উত্তর অক্ষাংশ উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে সীমারেখা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 

কোরিয়া বিভাজন:
- ১৯১০ সাল থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত কোরিয়া উপদ্বীপ জাপানের অধীনে ছিল।
- ১৯১০ সালে কোরীয় উপদ্বীপে জসন সাম্রাজ্যের ২৬তম রাজা গুজুং ছিলেন দায়িত্বে। তার শাসনামলের সময় কোরিয়া দখল করে নেয় জাপান।

⇒ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে দুই পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোরিয়ার আক্রমণ করে।
- কোরিয়ার দক্ষিণ দিক থেকে আক্রমণ করে মার্কিন সেনাবাহিনী এবং উত্তর দিক থেকে আক্রমণ করে সোভিয়েত কমিউনিস্ট-এর রেড আর্মি।
- ১৯৪৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের যৌথ বাহিনীর কাছে জাপানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
- ফলে ১৯৪৫ সালে মার্কিন প্রশাসন কোরীয় উপদ্বীপকে ৩৮° সমান্তরাল রেখায় ভাগ করে।
- ফলে কোরিয়া বিভক্ত হয়ে উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া গঠন করে।

উৎস: Britannica.

৬,৮৯১.
কোন যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ পরিমাপ করা যায়?
  1. ব্যারোমিটার
  2. হাইগ্রোমিটার
  3. সেক্সট্যান্ট
  4. অ্যানিমোমিটার
ব্যাখ্যা

- সেক্সট্যান্ট যন্ত্রের সাহায্যে সূর্যের উন্নতি কোণ নির্ণয় করে অক্ষাংশ নির্ণয় করা যায়। 
- বিষুবলম্ব: সূর্য যেদিন যে অক্ষাংশের উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় সেটাই সেদিনের সূর্যের বিষুবলম্ব।
- স্থানটি যদি উত্তর গোলার্ধে হয় তবে উত্তরবাচক বিষুবলম্ব যোগ করতে হবে এবং দক্ষিণবাচক বিষুবলম্ব বিয়োগ করতে হবে।
- দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণবাচক বিষুবলম্ব যোগ এবং উত্তরবাচক বিষুবলম্ব বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে,
• ব্যারোমিটার (Barometer):
- এটি বায়ুমণ্ডলের চাপ (Atmospheric Pressure) পরিমাপের যন্ত্র।
- সাধারণত আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও উচ্চতা নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

• হাইগ্রোমিটার (Hygrometer):
- এটি বাতাসে আর্দ্রতা (Humidity) পরিমাপের যন্ত্র।
- আবহাওয়া বিজ্ঞান ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

• অ্যানিমোমিটার (Anemometer):
- এটি বায়ুর বেগ (Wind Speed) ও দিক নির্ণয়ের যন্ত্র।
- আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৮৯২.
বাংলাদেশের কোন জেলা পলল সমভূমি নামে পরিচিত?
  1. ঢাকা
  2. কক্সবাজার
  3. দিনাজপুর 
  4. বগুড়া
ব্যাখ্যা

• পাদদেশীয় পলল সমভূমি :
- অনেক সময় পাহাড়িয়া নদী দ্বারা পলি সঞ্চিত হয়ে পাহাড়ের পাদদেশে নতুন সমভূমি গড়ে ওঠে।
- এরূপ সমভূমিকে পাহাড়ের পাদদেশীয় পলল সমভূমি বলা হয়।
- বাংলাদেশের রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অধিকাংশ স্থানই পলল সমভূমি নামে পরিচিত। 
- তিস্তা, আত্রাই, যমুনেশ্বরী প্রভৃতি নদী দ্বারা এ অঞ্চল বিধৌত।
- এসব নদী হিমালয় পর্বত হতে উৎপন্ন হয়েছে। 
- ফলে নদীগুলো সহজেই পাহাড় হতে পলল বহন করে এ অঞ্চলে সঞ্চয় করে পাদদেশীয় পললভূমি গঠন করেছে। 
- পাহাড়ের পাদদেশে দুই বা ততোধিক পলল পাখা বা কোণ মিলিত হয়েও পাদদেশীয় পলল সমভূমি গঠন করতে পারে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৮৯৩.
আমাজন জঙ্গল নিচের কোন দেশের অংশ নয়?
  1. প্যারাগুয়ে
  2. সুরিনাম
  3. বলিভিয়া
  4. পেরু
ব্যাখ্যা
আমাজন জঙ্গল:
- আমাজন রেইনফরেস্ট হল বিশ্বের বৃহত্তম বন এবং এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় গাছপালা এবং প্রাণী দ্বারা আচ্ছাদিত শেষ বড় স্থান। 
- আমাজন বনাঞ্চল হল একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় রেইনফরেস্ট যা দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের উত্তর দিকে অবস্থিত।
- এটি ৯ টি দেশে বিস্তৃত যথা: ব্রাজিল, বলিভিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, ফ্রেঞ্চ গায়ানা এবং গায়ানা।
- এর আয়তন প্রায় ৫৫ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার যার বৃহত্তম অংশ (৬০%) ব্রাজিলে অবস্থিত এবং সেই দেশের প্রায় অর্ধেক জুড়ে রয়েছে।
- বিশ্বের মোট প্রাণী বৈচিত্র্যের ১০ ভাগের এক ভাগের আবাসস্থল আমাজন।
- এটি বিশ্বের ২০% মিঠাপানির উৎস।
- এটি বিশ্বের ২০% অক্সিজেনের উৎস।
- পৃথিবীর ফুসফুস নামে খ্যাত।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, আমাজনের ওয়েবসাইট [লিঙ্ক] এবং ওয়াইল্ডলাইফ ডট ওআরজি [লিঙ্ক]
৬,৮৯৪.
চিকেন নেক কোনটি?
  1. শিলিগুড়ি করিডোর
  2. তিনবিঘা করিডোর
  3. কোলিল করিডর
  4. দুই জার্মারি সংযোগস্থল
ব্যাখ্যা

চিকেন নেক:
- 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর।

⇒ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ নামে পরিচিত।
- ভারতের মানচিত্রে শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটা অনেকটা বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলেও বর্ণনা করেন।
- এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এর সঙ্গে উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত।

অন্যদিকে,
 তিনবিঘা করিডোর:
- লালমনিরহাট জেলাধীন পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছিটমহল ছিল দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা।
- এ ছিটমহলের সাথে তৎকালীন পাকিস্তানের মূল ভূখন্ডের যোগাযোগের জন্য একটি ‘প্যাসেজ ডোর’ এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল, যা বর্তমানে ‘তিন বিঘা করিডোর’ নামে পরিচিত।

উৎস: i) BBC.
ii) যুগান্তর।

৬,৮৯৫.
সুনামির (Tsunami) কারণ হল-
  1. ক) চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  2. খ) আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. গ) সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
  4. ঘ) ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা
সুনামি:
সুনামি (Tsunami) ‘সুনামি’ জাপানি শব্দ। বাংলায় এর অর্থ ‘পোতাশ্রয় ঢেউ’। সাগর বা নদী বা অন্য কোন জলক্ষেত্রে ভূমিকম্পের, ভূমিধ্বসের কিংবা আগ্নেয়গিরির উদগীরণের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসকেই বলা হয় সুনামি। বিভিন্ন কারণে সুনামির সৃষ্টি হতে পারে। কারণগুলোর মধ্যে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্নূৎপাত, ভূমিধ্বস অন্যতম। তন্মধ্যে দুটি কারণ উলে­খযোগ্য হলো সমুদ্রতলের ২০-৩০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্প সংঘটন এবং টেকটোনিক পে­টের আকষ্মিক উত্থান-পতন।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া
৬,৮৯৬.
নিচের কোনটি কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী?
  1. কাসালং
  2. হালদা
  3. বোয়ালখালী
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদী:
- আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী। 
 ⇒ কর্ণফুলীর প্রধান উপনদী কাসালং, হালদা এবং বোয়ালখালী।

উল্লেখ্য, 
- কাপ্তাই নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীতে বাঁধ দিয়ে 'কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র' স্থাপন করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তীরে অবস্থিত।
- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।
- এটি পার্বত্য এলাকার পাকশমিমুরা রেঞ্জ থেকে বের হয়ে পূর্বদিকে হালদা নদীর প্রায় সমান্তরালে সমগ্র ফটিকছড়ি উপজেলা ঘুরে পূর্ব ধলাই নামক স্থানে হালদা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।

সূত্র- বাংলাপিডিয়া, ভূগোল ও পরিবেশ ৯ম-১০ম শ্রেণি
৬,৮৯৭.
বাংলাদেশে শরৎকাল বিরাজ করে কখন?
  1. আষাঢ়-শ্রাবণ
  2. ভাদ্র-আশ্বিন
  3. কার্তিক-অগ্রহায়ণ
  4. পৌষ-মাঘ
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে মোট ঋতুর সংখ্যা ৬টি।
এগুলো হলো:
- গ্রীষ্মকাল : বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস
- বর্ষাকাল : আষাঢ় ও শ্রাবণ মাস
- শরৎকাল : ভাদ্র ও আশ্বিন মাস
- হেমন্তকাল : কার্তিক ও অগ্রহায়ণ মাস
- শীতকাল : পৌষ ও মাঘ মাস
- বসন্তকাল : ফাল্গুন ও চৈত্র মাস।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
৬,৮৯৮.
আমাজন বনভূমি কোন ধরণের বনভুমি?
  1. ক) ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল
  2. খ) গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল
  3. গ) ঘনবর্ধন বনাঞ্চল
  4. ঘ) উপক্রান্তীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল
  5. ঙ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আমাজন পৃথিবীর বৃহত্তম রেইন ফরেস্ট। এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল। এর আয়তন প্রায় ২.৬ মিলিয়ন বর্গ মাইল। এটি ৯ টি দেশ যথা- ব্রাজিল, বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, গায়ানা, সুরিনাম ও ফ্রে গায়ানা জুড়ে বিস্তৃত।
উৎস: ওয়ার্ল্ডওয়াইল্ডলাইফ সংস্থার ওয়েবসাইট
৬,৮৯৯.
Corruption Perceptions Index-2020 অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ কোনটি?
  1. সিঙ্গাপুর
  2. ডেনমার্ক
  3. নরওয়ে
  4. আইসল্যান্ড
ব্যাখ্যা
- Transparency International প্রকাশিত Corruption Perceptions Index-2020:
- সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ : ডেনমার্ক ও নিউজিল্যান্ড
- শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ : সোমালিয়া ‍ও দক্ষিণ সুদান
বাংলাদেশের অবস্থান:
- দুর্নীতিবিরোধী সূচকে : ১৪৬তম
- শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকায় : ১২তম।
- বাংলাদেশর স্কোর : ২৬ (১০০ এর মধ্যে)।
(তথ্যসূত্র: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ওয়েবসাইট)
৬,৯০০.
দক্ষিণ তালপট্টি কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত?
  1. নাফ
  2. তেতুলিয়া
  3. আড়িয়াল খাঁ
  4. হাড়িয়াভাঙ্গা
ব্যাখ্যা
• দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
- পূর্ববাশা বা নিউ মুর আইল্যান্ড বঙ্গোপসাগরের অবস্থিত ভারতের ছোটো জনবসতিহীন সাগরমুখী দ্বীপ। 
- এটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ অঞ্চলের উপকূলে অবস্থিত এবং১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনার অদূরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ জেগে ওঠে। 
- নদীর মোহনা থেকে দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান।

উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।