বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৬৭ / ৭২ · ৬,৬০১৬,৭০০ / ৭,১৯১

৬,৬০১.
বেননেভিস কী?
  1. ক) পর্বতশৃঙ্গ
  2. খ) মালভূমি
  3. গ) নদী
  4. ঘ) সমভূমি
ব্যাখ্যা
বেননেভিস যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ।এটি স্কটল্যান্ডের লোচাবার অঞ্চলে গ্র্যাম্পিয়ান পর্বতমালার পশ্চিম প্রান্তে ফোর্ট উইলিয়াম শহরের কাছাকাছি অবস্থিত।
৬,৬০২.
'সেভেন সিস্টার্স' বলতে কী বোঝায়?
  1. ভারতের সাতটি নদী
  2. উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য
  3. পশ্চিম ভারতের সাতটি রাজ্য
  4. বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী সাতটি জেলা
ব্যাখ্যা
সেভেন সিস্টার্স:
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।
- ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া সর্বপ্রথম রাজ্যগুলোকে একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন। 
- ১৯৭২ সালে এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।
- আসামের গুয়াহাটিকে সেভেন সিস্টার্স রাজ্যের প্রবেশদ্বার বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৬,৬০৩.
পাট চাষের ক্ষেত্রে কোন তথ্যটি সঠিক?
  1. পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এটেল মাটি
  2. পাট চাষের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ২৫° থেকে ৩৫° সেলসিয়াস
  3. যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• পাট চাষ:
- উর্বর দো-আঁশ মাটি পাট চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- তবে বেলে ও এঁটেল মাটি ছাড়া সব জমিতেই পাট চাষ করা যায়।
- তবে যে জমিতে বর্ষার শেষের দিকে পলি পড়ে সে জমি পাট চাষের জন্য উত্তম।
- তোষা পাট উঁচু জমিতে এবং দেশী পাট উঁচু ও নিচু দু'ধরনের জমিতেই চাষ করা যায়।
- পাট চাষের জন্যে উপযোগী তাপমাত্রা ১৮° থেকে ৩৩° সেলসিয়াস।
- পাট আঁশ প্রধানত দুটি প্রজাতি, সাদাপাট (Corchorus capsularis) ও তোষাপাট (Corchorus olitorius) থেকে উৎপন্ন হয়।
- ৫.০-৮.৬ পর্যন্ত অম্লমানের (pH) মাটিতে পাট ফলানো যায়।
- বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট এ পর্যন্ত ২৭টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত মানের পাটের জাত উদ্ভাবন করেছে।
- ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, যশোর, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুর অঞ্চলে পাট চাষের পরিমান বেশি।
- পাটের জিনোম আবিষ্কার করেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম।

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া।
২. কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬০৪.
নিচের কোন জলাশয়ে মাছ উৎপাদন হয় না?
  1. মৃত সাগর
  2. নীল নদী
  3. লোহিত সাগর
  4. মারে নদী
ব্যাখ্যা
 Dead Sea:
- ডেড সি বা মৃত সাগর হলো একটি স্থলবেষ্টিত লবণের হ্রদ।
- এটি দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ইসরায়েল এবং জর্ডানের মধ্যে অবস্থিত।
- পানিতে মানুষ ডুবে গেলেও ডেড সি বা মৃত সাগর এমন একটি হ্রদ যেখানে কেউ ডুবে না।
- এর পানি এতটাই ঘণ যে ওই পানিতে কেউ চাইলে শুয়েও থাকতে পারে।
- এতে কোন মাছ উৎপাদন হয় না।
- এই হ্রদটি ইসরায়েল, পশ্চিমতীর ও জর্ডানের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত।

উৎস: Britannica.
৬,৬০৫.
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান 'চন্দ্রনাথ পাহাড়টি' কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. কুমিল্লা
  3. মৌলভীবাজার
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

•বাংলাদেশের পাহাড়:
- ময়নামতি পাহাড় কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত।
- চিম্বুক পাহাড় বান্দরবান জেলায় অবস্থিত।
- ময়মনসিংহ জেলায় অবস্থিত - গারো পাহাড়।
- হিন্দু সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত।
- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড বাজার থেকে ৪কি.মি. পূর্বে চন্দ্রনাথ পাহাড় অবস্থিত
-  কালাউড়া পাহাড় মৌলভীবিাজার জেলায় অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: কুলাউড়া উপজেলা, বান্দরবান জেলা, খাগড়াছড়ি জেলা, সীতাকুন্ড উপজেলা, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

৬,৬০৬.
বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান প্রভাব কী?
  1. মরুকরণ
  2. লবণাক্ততা বৃদ্ধি 
  3. বন্যা হ্রাস
  4. চর জাগা
ব্যাখ্যা

• ফসল উৎপাদনে লবণাক্ততার প্রভাব:
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান প্রভাব লবণাক্ততা বৃদ্ধি।

- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততার প্রভাব দেখা যায়।
- ঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রবল জোয়ারের ফলে সৃষ্ট বন্যায় সরাসরি লবণাক্ত পানি দিয়ে জমি ডুবে যাওয়ায় মাটিতে লবণের পরিমাণ বেড়ে যায়। - আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির বাষ্পীভবনের মাধ্যমে মাটির নিচের লবণ উপরে উঠে আসে।
- ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়।
১৯৭৩ সালে ৮.৩৩ লাখ হেক্টর জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত ছিল।
২০০০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০.২০ লাখ হেক্টরে।
বর্তমানে লবণাক্ততায় আক্রান্ত জমির পরিমাণ ১০.৫৬ লাখ হেক্টর।
অর্থাৎ প্রায় ১৬.৮৯ লাখ হেক্টর উপকূলীয় জমির ৬২.৫২% বর্তমানে বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, নবম- দশম শ্রেণি।

৬,৬০৭.
মঙ্গল গ্রহের কয়টি উপগ্রহ রয়েছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা
মঙ্গল (Mars):
- সূর্য থেকে মঙ্গলের গড় দূরত্ব ২২.৮ কোটি কিলোমিটার।
- এর ব্যাস ৬,৭৮৭ কিলোমিটার।
- সূর্যের চতুদিকে একবার প্রদক্ষিণ করতে মঙ্গলের সময় লাগে প্রায় ৬৮৭ দিন।
- ডিমোস এবং ফোবোস নামক মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ রয়েছে।
- বৃত্তাকার কক্ষপথে ডিমোস প্রতি ৩০ ঘণ্টা ১৭ মিনিট ৫৫ সেকেন্ড এবং ফোবস ৭ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট ১৪ সেকেন্ডে মঙ্গলকে একবার আবর্তন করে।
- মঙ্গলে রয়েছে সৌরজগতের বৃহত্তম আগ্নেয়গিরি নিকস অলিম্পিকা।
- মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, আর্গন প্রভৃতি গ্যাস রয়েছে। মঙ্গলের আকাশ নীল, মাটি লাল ও শুষ্ক ।
- মঙ্গলের তাপমাত্রা ২০" সেলসিয়াস এর অধিক হয় না। তাপমাত্রা রাতে হিমাছের বহু নিচে নেমে যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬০৮.
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর ভারত মহাসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর যে স্রোত প্রবাহিত হয় তার নাম -
  1. আগুলহাস স্রোত
  2. মাদাগাস্কার স্রোত
  3. মৌসুমী স্রোত
  4. মোজাম্বিক স্রোত
ব্যাখ্যা
• মৌসুমী স্রোত (Monsoon Current):
- উত্তর ভারত মহাসাগরের উত্তর উপকূল বরাবর যে স্রোত মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে প্রবাহিত হয় তাকে মৌসুমী স্রোত বলে।
- গ্রীষ্মকালে এটি পশ্চিম হতে পূর্বদিকে এবং শীতকালে একই পথে বিপরীত দিকে প্রবাহিত হয়।
- তাই মৌসুমী স্রোত দু’প্রকার, যেমন- গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন মৌসুমী স্রোত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬০৯.
সমুদ্রতল থেকে রাজশাহীর উচ্চতা কত?
  1. ৮ মিটার
  2. ১০ মিটার
  3. ১৮ মিটার
  4. ২০ মিটার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশের আয়তন: ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি.মি.।
- পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ: বাংলাদেশ।
- মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইলে অবস্থিত।
- সমুদ্রতল থেকে দিনাজপুরের উচ্চতা ৩৭.৫০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে বগুড়ার উচ্চতা ২০ মিটার।
- সমুদ্রতল থেকে নারায়নগঞ্জ এবং রাজশাহীর উচ্চতা ৮ মিটার।
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৫,১৩৮ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৭১১ কি.মি.।
- কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ১৫৫ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৬১০.
বাল্টিক রাষ্ট্র কোনটি?
  1. হাঙ্গেরি
  2. রোমানিয়া
  3. লিথুয়ানিয়া
  4. ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা
বাল্টিক রাষ্ট্র:
- উত্তর-পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক সাগরের পূর্বতীরে অবস্থিত রাষ্ট্রসমূহ বাল্টিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত।
- এই অঞ্চলে তিনটি দেশ রয়েছে;
• এস্তোনিয়া,
• লাতভিয়া এবং
• লিথুয়ানিয়া।
- বাল্টিক রাষ্ট্রসমূহ বর্তমানে ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অংশ।

তথ্যসূত্র - Britannica.com & WorldAtlas.com
৬,৬১১.
বায়ুমণ্ডলের সর্বশেষ স্তর হলো -
  1. ক) এক্সোমন্ডল
  2. খ) মেসোমন্ডল
  3. গ) স্ট্রাটোমন্ডল
  4. ঘ) ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
এক্সোমন্ডল (Exosphere):
- বায়ুমণ্ডলের সর্বশেষ স্তর হলো এক্সোমন্ডল।
- থার্মোস্ফিয়ার বা তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত এই এক্সোমন্ডলের বিস্তার।
- এই স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এক্সোমন্ডলের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
ক) এক্সোমন্ডলের পরই বিষমমন্ডল শুরু হয়।
খ) আয়নমন্ডলের বহি:সীমাই হলো এক্সোমণ্ডল যেখানে হাইড্রোজেন গ্যাসের উপস্থিতি বেশি পাওয়া যায় ।
গ) এ মন্ডলের মধ্যে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান যেমন খুব সামান্য পরিমানে আর্গন, হিলিয়াম, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন পাওয়া যায়।
- এই মন্ডলে মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৬১২.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে কয় ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়?
  1. ক) ২
  2. খ) ৪
  3. গ) ৫
  4. ঘ) ৩
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-
ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় এবং
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়।

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায় : দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।   
খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায় : দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।   

তথ্যসূত্র:- ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬১৩.
গ্রহরাজ বলা হয় কোন গ্রহকে?
  1. পৃথিবী
  2. মঙ্গল
  3. বুধ
  4. বৃহস্পতি
ব্যাখ্যা
বৃহস্পতি (Jupiter) গ্রহ:
- সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি।
- একে গ্রহরাজ বলা হয়।
- পৃথিবীর তুলনায় বৃহস্পতি প্রায় ১৩০০ গুণ বড়।
- সূর্য থেকে গড় দূরত্ব ৭৭ কোটি কিলোমিটার।
- বৃহস্পতির সূর্যের চারিদিকে একবার আবর্তন করতে সময় লাগে প্রায় ১২ বছর।
- বৃহস্পতির উপগ্রহের সংখ্যা ৬৭টি।
- বৃহস্পতির বায়ুমন্ডলে হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, মিথেন এবং হিলিয়াম রয়েছে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি পোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬১৪.
মেক্সিকো এবং কিউবাকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
  1. ডেবিস প্রণালী
  2. ফ্লোরিডা প্রণালী
  3. ইউকাটান প্রণালী
  4. হাডসন প্রণালী 
ব্যাখ্যা

- মেক্সিকো এবং কিউবাকে পৃথক করেছে ইউক্যাটান প্রণালী (Yucatan Channel)।
- এটি মেক্সিকোর ইউক্যাটান উপদ্বীপ এবং কিউবা দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সংযুক্ত করেছে: মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।
- বিশেষত্ব: এটি বিখ্যাত 'গাল্ফ স্ট্রিম' সমুদ্রস্রোতের প্রধান প্রবেশপথ।

এছাড়াও, 
- ডেভিস প্রণালী (Davis Strait)
- অবস্থান: গ্রিনল্যান্ড এবং কানাডার বাফিন দ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: গ্রিনল্যান্ড ও বাফিন দ্বীপকে।
- সংযুক্ত করেছে: উত্তরে বাফিন উপসাগর এবং দক্ষিণে ল্যাব্রাডর সাগরকে (আটলান্টিক মহাসাগরের অংশ)।

• ফ্লোরিডা প্রণালী (Straits of Florida)
- অবস্থান: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য এবং কিউবার মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও কিউবাকে।
- সংযুক্ত করেছে: মেক্সিকো উপসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরকে।

• হাডসন প্রণালী (Hudson Strait)
- অবস্থান: কানাডার কুইবেক প্রদেশ এবং বাফিন দ্বীপের মাঝে অবস্থিত।
- পৃথক করেছে: বাফিন দ্বীপ ও কানাডার মূল ভূখণ্ডকে (কুইবেক/ল্যাব্রাডর)।
- সংযুক্ত করেছে: পশ্চিমে হাডসন উপসাগর এবং পূর্বে ল্যাব্রাডর সাগরকে (আটলান্টিক মহাসাগর)।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬,৬১৫.
'ভেঙ্গী ভ্যালি' কোথায় অবস্থিত?
  1. মৌলভীবাজার
  2. খাগড়াছড়ি
  3. রাঙামাটি
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বিভিন্ন উপত্যকা বা ভ্যালি:
- কাপ্তাই থেকে প্লাবিত উপত্যকা বা ভ্যালি 'ভেঙ্গি ভ্যালি' নামে পরিচিত।
-এটি রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে অবস্থিত।

অন্যদিকে,
- হালদা ভ্যালি : খাগড়াছড়ি
- সাজেক ভ্যালি : রাঙামাটি
- বালিশিরা ভ্যালি : মৌলভীবাজার।
- সাঙ্গু ভ্যালি - চট্টগ্রাম
- নাপিত খালি ভ্যালি - কক্সবাজার

সূত্র:  জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা। লিঙ্ক 
৬,৬১৬.
বাংলাদেশের কোথায় লোহা খনির সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. নওগাঁ
  2. দিনাজপুর
  3. জামালপুর
  4. রংপুর
ব্যাখ্যা
- দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার ইসবপুর গ্রামে দেশের প্রথম লোহা খনি আবিষ্কার করেছে ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি)।
- ১৮ জুন ২০১৯ এই খনি আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এখানে উন্নত মানের ম্যাগনেটাইট রয়েছে বলে জিএসবি জানায়।
(তথ্যসূত্রঃ দৈনিক প্রথম আলো, ১৮ জুন ২০১৯)
৬,৬১৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চল বিখ্যাত মণিপুরী নাচের জন্য খ্যাত?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) রংপুর
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) বরিশাল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চল মণিপুরী নাচের জন্যে বিখ্যাত।
- সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলায় বসবাসকারী মণিপুরী সম্প্রদায় সংস্কৃতির দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং ঐতিহ্যবাহী।
- তাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বলতম দিক হলো মণিপুরী নৃত্য যা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
- আঠারো শতকের শেষের দিকে মণিপুরীরা ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করে।

তথ্যসূত্র:- মৌলভীবাজার জেলা সরকারি ওয়েবসাইট।
৬,৬১৮.
”লাইন অব কন্ট্রোল” কোন দুইটি দেশের মধ্যকার সীমান্তবর্তী রেখা?
  1. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  2. ভারত ও চীন
  3. ভারত ও নেপাল
  4. ভারত ও পাকিস্তান
ব্যাখ্যা
• ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তী সীমান্ত রেখা - ”লাইন অব কন্ট্রোল।
• বাংলাদেশ ও ভারত মধ্যবর্তী সীমান্ত রেখা - র‍্যাডক্লিফ রেখা।
• ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্তবর্তী রেখা - ম্যাকমাহন লাইন।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,৬১৯.
বর্তমানে ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের জন্য কোন স্কেলটি ব্যবহার করা হয়?
  1. সিসমোগ্রাফ 
  2. মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল 
  3. মারকেলি স্কেল 
  4. কোনটি নয় 
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপ:
- ভূমিকম্প হলো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এই দুর্যোগ পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ শিলায় জমে থাকা শক্তির হঠাৎ মুক্তির ফলে সৃষ্টি হয়।
- এর ফলে ভূত্বকের কিছু অংশ আন্দোলিত হয়ে ভূ-অভ্যন্তর থেকে ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়, যা মৃদু কম্পন থেকে প্রবল ধ্বংসযজ্ঞ পর্যন্ত হতে পারে।
- ভূমিকম্প মূলত টেকটোনিক প্লেটের চলাচল বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ঘটে থাকে।
- আগে ভূমিকম্পের তীব্রতা নির্ণয়ে রিখটার স্কেল (Richter Scale) ব্যবহার করা হতো।
- যা ১৯৩৫ সালে চার্লস এফ. রিখটার উদ্ভাবন করেন।
- তবে এই স্কেলটি শুধু মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প (magnitude ৩–৭) পর্যন্ত যথাযথ ফল দিত।
- বর্তমানে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেন মোমেন্ট ম্যাগনিচিউড স্কেল (Moment Magnitude Scale).

অন্যদিকে,
- সিসমোগ্রাফ: এটি একটি যন্ত্র, যা ভূমিকম্পের কম্পন রেকর্ড করে।
- মারকেলি স্কেল: এটি ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বা intensity পরিমাপ করে।

উৎস:
১. প্রথম আলো;
২. Britannica.

৬,৬২০.
সামুদ্রিক সমগভীরতা রেখাকে কী বলে?
  1. আইসোবাথ
  2. আইসোহেলাইন
  3. আইসোবার
  4. আইসোহাইট
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাল্পনিক রেখা:
- আইসোবার: ভূপৃষ্ঠের সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোহেলাইন: সমুদ্রের সম লবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানের সংযোগকারী রেখা।
- আইসোথার্ম: ভূপৃষ্ঠের সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোহাইট: ভূপৃষ্ঠের সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা।
- আইসোবাথ: সামুদ্রিক সমগভীরতা রেখা।
- আইসোজিওথার্ম: ভূগর্ভস্থ সমোষ্ণ রেখা।
- আইসোশেশমল: সমভূমিকম্প তীব্রতা রেখা।

উৎস: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রিটানিকা।
৬,৬২১.
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) কবে গঠন করা হয়?
  1. ২০০৯ সালে
  2. ২০১০ সালে
  3. ২০১১ সালে
  4. ২০১২ সালে
ব্যাখ্যা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর:
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিডিএম) ২০১২ সালে গঠন করা হয়।
- ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২’ অনুমোদনের পর এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর আগে ১৯৭৩ সালে গঠিত ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তর এবং ১৯৯২ সালে সৃষ্ট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো (ডিএমবি) একীভূত হয়ে ডিডিএম গঠিত হয়।
- এই অধিদপ্তর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জরুরি সহায়তা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব পালন করে।

উল্লেখ্য, 
- এটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাজ করে।
- ডিডিএম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৬,৬২২.
ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযোগকারী জলপথ -
  1. ডোভার প্রণালী
  2. পক প্রণালী
  3. মালাক্কা প্রণালী
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মালাক্কা প্রণালী:
- এটি ভারত মহাসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরকে সংযোগকারী জলপথ।
- মালাক্কা প্রণালী সুমাত্রা এবং মালয় উপদ্বীপের মধ্যে অবস্থিত।
- এর আয়তন প্রায় ২৫,০০০ বর্গ মাইল (৬৫,০০০ বর্গ কিমি)।
- প্রণালীটি ৫০০ মাইল (৮০০ কিমি) দীর্ঘ।
- এটি দক্ষিণে মাত্র ৪০ মাইল (৬৫ কিমি) ও উত্তরে ১৫৫ মাইল (২৪৯ কিমি) পর্যন্ত বিস্তৃত।
- প্রণালীটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণকারী শিপিং চ্যানেলগুলির মধ্যে একটি।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬,৬২৩.
সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা -
  1. ক) আইসোহাইট
  2. খ) আইসোথার্ম
  3. গ) আইসোবার
  4. ঘ) আইসোহেলাইন
ব্যাখ্যা
- আইসোহাইট : সমবৃষ্টিপাত সম্পন্ন স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোথার্ম : সমতাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোবার : সমচাপ বিশিষ্ট স্থানসমূহের যোগকারী রেখা
- আইসোহেলাইন : সমুদ্রের সমলবণাক্ততা সম্পন্ন স্থানসমূহের সংযোগকারী রেখা
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল-বিওবি এবং সায়েন্সডিরেক্ট ওয়েবসাইট)
৬,৬২৪.
জয়পুরহাট জেলা কোন বিভাগে অবস্থিত?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) রাজশাহী
  3. গ) ময়মনসিংহ
  4. ঘ) খুলনা
ব্যাখ্যা
জয়পুরহাট জেলা রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত। রাজশাহী বিভাগে মোট ৮ টি জেলা রয়েছে। এগুলো হলো রাজশাহী, বগুড়া, নওগা, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, চাপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাট। (সূত্রঃ এলজিআরডি মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট)
৬,৬২৫.
বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট বিভাগ কোনটি?
  1. ক) খুলনা
  2. খ) ময়মনসিংহ
  3. গ) রাজশাহী
  4. ঘ) সিলেট
ব্যাখ্যা

- ময়মনসিংহ বিভাগ: ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর এবং নেত্রকোণা জেলা সমন্বয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এর আয়তন ১০,৫৫২ বর্গ কিঃমিঃ।
এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট বিভাগ।
- অন্যদিকে, বাংলাদেশের বৃহত্তম বিভাগ হলো চট্টগ্রাম। এর আয়তন ৩৩,৯০৪ বর্গ কি.মি।

উল্লেখ্য যে,  সিলেট বিভাগ আয়তন: ১২,২৯৮.৪ বর্গ কিমি। 
সোর্সঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং বাংলাপিডিয়া

 
৬,৬২৬.
নীল নদের উৎস কোনটি?
  1. ইথিওপিয়ার পবর্তমালা
  2. ভিক্টোরিয়া হ্রদ
  3. আন্দিজ পর্বতমালা
  4. মিনোসোটার হ্রদ
ব্যাখ্যা
নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস ।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

তথ্যসূত্র- Britannica.com & Worldatlas.com
৬,৬২৭.
কোনটি সুনামি সৃষ্টির অন্যতম কারণ?
  1. বজ্রপাত
  2. চন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
  3. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
  4. ঘূর্ণিঝড়
ব্যাখ্যা

• সুনামি (Tsunami):

- সমুদ্র তলদেশে ভূমিকম্পের ফলে সুনামি সংঘটিত হয়।
- বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সুনামি সংঘটনের সম্ভাবনা কম।
- ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়।
- ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে সুনামি সংঘটিত হয়। তবে এর ফলে প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হয় ভারতের পূর্ব উপকূল। যার পরিণতিতে ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারায়।
- ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সিনুয়েলেষু দ্বীপে সংঘটিত ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে সমগ্র ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় বহু সংখ্যক লোকের মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৬২৮.
তিব্বত মালভূমি কোন কোন পর্বতমালায় ঘেরা?
  1. কারাকোরাম, আন্দিজ, আল্পস
  2. সিয়েরা নেভাদা, হিমালয়, রকি
  3. কুনলুন, হিমালয়, চিলিয়ান
  4. আল্পস, উরাল, কুনলুন,
ব্যাখ্যা
তিব্বত মালভূমি: 
- বিশ্বের "ছাদের" (Roof of the World) উপাধিতে পরিচিত তিব্বত মালভূমি।
- যার গড় উচ্চতা ১৪,৮০০ ফুট এর বেশি।
- এটি উচ্চ পর্বতমালায় বেষ্টিত:
- উত্তরে: কুনলুন ও সংশ্লিষ্ট পর্বতমালা
- উত্তর-পূর্বে: চিলিয়ান পর্বতমালা
- দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে: হিমালয় ও কারাকোরাম পর্বতমালা।
- এই মালভূমিতে আর্কটিক  ও আন্টার্কটিকা বাদে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিষ্টি পানির সংরক্ষণ রয়েছে।
- এজন্য একে "পৃথিবীর তৃতীয় মেরু" (Third Pole) বলাও হয়।

অন্যদিকে,
- আল্টিপ্লানো মালভূমি, দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম-মধ্য অংশে অবস্থিত,
- দুইটি আন্দিজ পর্বতমালার মাঝে।
- এর গড় উচ্চতা ১২,৩০০ ফুট এবং এটি তিব্বতের বাইরে বিশ্বের অন্যতম বিস্তৃত উচ্চ মালভূমি।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস। 
৬,৬২৯.
পৃথিবীর কোন অক্ষাংশতে আহ্নিক গতির বেগ সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. ০° অক্ষাংশ
  2. ২৩.৫° অক্ষাংশ
  3. ৬৬.৫° অক্ষাংশ
  4. ৯০° অক্ষাংশ
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও অক্ষরেখা:
- আহ্নিক গতি নিরক্ষরেখায় সর্বাপেক্ষা বেশি। নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। 
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে।
- পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয়।
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন।
- এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্রায়)।

উল্লেখ্য:

- পৃথিবীর দুই মেরু হতে সমান দূরত্বে (পৃথিবীর মাঝখানে) পূর্ব-পশ্চিমে পৃথিবীকে ঘিরে থাকা কল্পিত বৃত্তকে বলা হয় নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখা বলে।
- নিরক্ষরেখার সমান্তরালে উত্তরে ও দক্ষিণে কতকগুলো রেখা কল্পনা করা হয়। এই রেখাগুলোকে অক্ষরেখা বা সমাক্ষরেখা বলে।
- অক্ষরেখাসমূহের দূরত্ব সর্বত্র সমান। নিরক্ষেরেখা থেকে উত্তরে বা দক্ষিণে কোনো স্থানের কৌণিক দূরত্বের মানকে ডিগ্রিতে প্রকাশ করলে তাকে অক্ষাংশ বলে। 
- নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার মান ০°। নিরক্ষরেখা থেকে ৯০° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় সুমেরু এবং ৯০° দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় কুমেরু।
- এছাড়া ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রামে- কর্কটক্রান্তি এবং ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষাংশে বলা হয় মকরক্রান্তি।
- ৬৬.৫° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশকে বলা হয় যথাক্রমে সুমেরু বৃত্ত এবং কুমেরু বৃত্ত।
- বিষুবরেখা বা নিরক্ষরেখাকে বলা হয় মহাবৃত্ত।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৩০.
বাংলাদেশের কোন জেলায় প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়?
  1. হবিগঞ্জ
  2. সিলেট
  3. সুনামগঞ্জ
  4. ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা
প্রাকৃতিক গ্যাস বাংলাদেশের প্রধান খনিজ সম্পদ। ১৯৫৫ সালে বার্মা ওয়েল কোম্পানি এদেশে সর্বপ্রথম সিলেটের হরিপুরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৫৭ সালে এই ক্ষেত্র থেকে গ্যাসের উৎপাদন শুরু হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশে মোট ২৮টি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী এবং পেট্রোবাংলা)
৬,৬৩১.
এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় কীভাবে প্রভাব ফেলে?
  1. শীতকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধি
  2. বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে
  3. গ্রীষ্মকালীন তাপমাত্রা কমায়
  4. ঘূর্ণিঝড় বৃদ্ধি পায়
ব্যাখ্যা

◉ এল নিনো বাংলাদেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক আবহাওয়ায় বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।

- বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা কমানোর কোনো সরাসরি সম্পর্ক এল নিনোর সাথে পাওয়া যায় না।
- এল নিনো সাধারণত বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা বাড়ায় না, বরং কিছু ক্ষেত্রে এটি ঘূর্ণিঝড়ের ফ্রিকোয়েন্সি বা তীব্রতা কমাতে পারে। - এল নিনো সাধারণত শীতকালীন তাপমাত্রার উপর সরাসরি বা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে না বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। 
- এর প্রভাব বেশি দেখা যায় বর্ষাকালীন বৃষ্টিপাত এবং সামগ্রিক জলবায়ু প্যাটার্নে। 
- শীতকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ এল নিনোর সাথে সরাসরি যুক্ত নয় এই অঞ্চলে।
 
• এল নিনো:
- এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার একটি জলবায়ু ঘটনা,
- যা বিশ্বব্যাপী এবং আঞ্চলিক আবহাওয়ার উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। 
- বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আবহাওয়ার ক্ষেত্রে এল নিনোর প্রভাব নিম্নরূপে বিশ্লেষণ করা যায়:
- এল নিনোর সময় উষ্ণ সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড় গঠনের জন্য অনুকূল পরিবেশ কমিয়ে দেয়। 
- তবে, এটি সম্পূর্ণরূপে ঘূর্ণিঝড় বন্ধ করে না; শুধু তাদের ধরন বা সময় পরিবর্তন করতে পারে।
∴ সুতরাং সঠিত উত্তর  বর্ষার বৃষ্টিপাতের ধরনে অনিয়ম সৃষ্টি করে।

উৎস: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এবং NOAA ওয়েবসাইট।

৬,৬৩২.
সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় ‘ওটিস‘ কোথায় আঘাত হানে?
  1. মেক্সিকো
  2. লিবিয়া
  3. বাংলাদেশ
  4. নেপাল
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ‘ওটিস‘:
- মেক্সিকোয় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়গুলোর একটি ওটিস।
- ২৭ অক্টোবর, ২০২৩ তারিখে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ওটিস আঘাত হানে।
- ঝড়টির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬৫ মাইল। এতে ঘরবাড়ি ও হোটেলের ছাদ ভেঙে পড়েছে, রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে, পানিতে বেশ কিছু গাড়ি ডুবে গেছে।

উৎস: ২৭ অক্টোবর, ২০২৩, প্রথম আলো।
৬,৬৩৩.
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস কবে পালিত হয়?
  1. ৫ জুন
  2. ১০ অক্টোবর
  3. ১৩ অক্টোবর
  4. ১৬ নভেম্বর
ব্যাখ্যা

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস–২০২৫:
- International Day for Disaster Risk Reduction – IDDRR 2025.
- আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস: ১৩ অক্টোবর।
- প্রতিপাদ্য: “Fund Resilience, Not Disasters”
- মূল লক্ষ্য: দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে প্রতিক্রিয়ামূলক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং প্রো-অ্যাকটিভ (আগাম) সহনশীলতা ও ঝুঁকি হ্রাসে বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য,
- ১৩ অক্টোবর এটি প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী পালিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস, যার শুরু ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আহ্বানে।
- উদ্দেশ্য: দুর্যোগ ঝুঁকি সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি হ্রাস, ও কম ক্ষয়ক্ষতির লক্ষ্যে বৈশ্বিক উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করা।

উৎস: UNDRR ওয়েবসাইট ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ।

৬,৬৩৪.
দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ের কার্যক্রম কোনটি?
  1. ক) পূর্ব প্রস্তুতি
  2. খ) প্রতিরোধ
  3. গ) প্রশমন
  4. ঘ) উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
•  উন্নয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ের একটি কার্যক্রম। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র 
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্র বলতে দুর্যোগ মোকাবেলার সাথে পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত পর্যায়গুলোকে বুঝানো হয়ে থাকে।
- দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রকে দুইটি পর্যায়ে বিভক্ত করা যায়। যথা-

ক. দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়:- দুর্যোগ পূর্ব ঝুঁকি হ্রাস পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- পূর্ব প্রস্তুতি, প্রতিরোধ এবং প্রশমন।

খ. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়:- দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পর্যায়ে তিন ধরনের কার্যক্রম চালানো হয়। এগুলো হলো- সাড়া প্রদান, পুনরুদ্ধার এবং উন্নয়ন।

তথ্যসূত্র: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
৬,৬৩৫.
বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস কেন্দ্র কোনটি?
  1. ক) BCSIR
  2. খ) BCSCL
  3. গ) SPARRSO
  4. ঘ) NIPORT
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো - SPARRSO
- এর পূর্ণরুপ - (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

অন্যদিকে
- BCSIR (Bangladesh Council of Scientific and Industrial Research) হলো বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ।
- BCSCL (Bangladesh Communication Satellite Company Limited) হলো বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড।
- NIPORT (National Institute of Population Research and Training) জনসংখ্যা গবেষণা বিষয়ক জাতীয় প্রতিষ্ঠান।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট।
৬,৬৩৬.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের আধিক্য আছে?
  1. ক) স্ট্রাটোমন্ডল
  2. খ) ট্রপোমন্ডল
  3. গ) মেসোমন্ডল
  4. ঘ) আয়নমন্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল
ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিঃমিঃ পর্যন্ত স্ট্র্যাটোমন্ডল নামে পরিচিত।
- এই স্তরে ওজোন গ্যাসের আধিক্য রয়েছে।
- এই স্তরে বায়ুতে অতি সুক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল ও পরিবেশ বই।
৬,৬৩৭.
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলা সৃষ্টি হয়?
  1. অস্তরীভূত শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. স্তরীভূত শিলা
  4. আদি শিলা
ব্যাখ্যা

রূপান্তরিত শিলা:
- ভূ-আন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন ধরনের শিলার সৃষ্টি করে, যাকে রূপান্তরিত শিলা বলা হয়।
- যেমন-কাঁদা রূপান্তরিত হয়ে স্লেট, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিসে পরিণত হয়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৬৩৮.
পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুই গোলার্ধে বিভক্ত করেছে কোন রেখাটি?
  1. কেন্দ্র
  2. মেরু
  3. নিরক্ষরেখা
  4. দ্রাঘিমারেখা 
ব্যাখ্যা
• নিরক্ষরেখা (Equator):
→ পৃথিবীকে উত্তর ও দক্ষিণে সমান দুইটি গোলার্ধে বিভক্তকারী কাল্পনিক অক্ষরেখাটি নিরক্ষরেখা নামে অভিহিত।
→ ভূ-গোলককে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টনকারী সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অক্ষরেখা নিরক্ষরেখা।
→ নিরক্ষরেখার মান হলো ০°।
→ নিরক্ষরেখার অপর নামসমূহ হলো- বিষুবরেখা (Equator) ও মহাবৃত্ত (Great Circle)।
→ নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবী আহ্নিক গতির বেগ সর্বাধিক।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৩৯.
বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় সিডর কখন আঘাত হানে?
  1. ১৬ নভেম্বর, ২০০৭
  2. ১৩ নভেম্বর, ২০০৭
  3. ১৫ নভেম্বর, ২০০৭
  4. ১৮ নভেম্বর, ২০০৭
ব্যাখ্যা

সিডর:
- সিডর (SIDR) শব্দের অর্থ চোখ।
- সিডরকে ১৯৭০ ও ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ের পর সবচেয়ে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় বিবেচনা করা হয়।
- বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা শ্রীলঙ্কার দেওয়া নাম অনুসারে সিডরের নাম ঠিক করে।
- ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে ঘূর্ণিঝড় সিডর বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ড ভাবে আঘাত হানে।
- আঘাতের সময় সিডরের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৬০ কিলোমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৪০.
কোন কোন মাসে কাল-বৈশাখী ঝড় হয়?
  1. ফাল্গুন-চৈত্র
  2. চৈত্র-বৈশাখ
  3. বৈশাখ-জৈষ্ঠ্য
  4. বৈশাখ
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড়:
- বাংলাদেশের কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্মকালীন জলবায়ুর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ ঝড় হতে দেখা যায় বলে একে কালবৈশাখী ঝড় বলে।
- সাধারণ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের প্রবল গরমের সময় কালবৈশাখী ঝড় হয় বাংলাদেশে।
- কাল শব্দের অর্থ ধ্বংস এবং বৈশাখ মাসে উৎপত্তি হয় বলে একে কালবৈশাখী নামে অভিহিত করা হয়।

উল্লেখ্য,
- মার্চ-এপ্রিল মাসে সন্ধ্যার দিকে আকাশ হঠাৎ কালো মেঘে ঢেকে বজ্রবিদ্যুৎসহ প্রবল ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হয়
- এ ঝড়ে বাৎসরিক বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সংঘটিত হয়।
- অনেক সময় বৃষ্টিপাতের সাথে শিলাবৃষ্টিও হয়ে থাকে।
- দেশের পূর্বাঞ্চলে এ ঝড় অধিক হয়ে থাকে।
- কালবৈশাখী ঝড়ে মানুষ, পশুপাখি ও সম্পদহানি ঘটে এবং কাঁচা ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়।
- এছাড়া ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) ২২ এপ্রিল ২০২২, বিবিসি বাংলা।
৬,৬৪১.
'তাকলামাকান মরুভূমি' অবস্থিত -
  1. ক) চীনে
  2. খ) পাকিস্তানে
  3. গ) ভারতে
  4. ঘ) মঙ্গোলিয়ায়
ব্যাখ্যা
• তাকলামাকান মরুভূমি মধ্য এশিয়ার অন্তর্গত চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে অবস্থিত এবং বিশ্বের বৃহত্তম বালুকাময় মরুভূমিগুলির মধ্যে অন্যতম।
• বিখ্যাত কিছু মরুভূমির অবস্থান - 
- থর মরুভূমি : ভারত ও পাকিস্তান।
- গোবি মরুভূমি : চীন ও মঙ্গোলিয়া
- মোজাবে মরুভূমি : যুক্তরাষ্ট্র
- সাহারা মরুভূমি : আফ্রিকা

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
৬,৬৪২.
সুরমা, কুশিয়ারা ও কালনী নদীর মিলিত স্রোতধারার নাম কী?
  1. মেঘনা
  2.  পদ্মা
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. ধলেশ্বরী
ব্যাখ্যা

মেঘনা নদী:
- ভারতের আসামের বরাক নদী নাগা-মনিপুর পাহাড়ের দক্ষিণ থেকে উৎপত্তি লাভ করে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়ে সিলেট জেলায় প্রবেশ করেছে।
- শাখা দুইটি সুরমা ও কুশিয়ারা নামে বিভক্ত হয়েছে।
- সুরমা, কুশিয়ারা ও কালনী নদীর মিলিত স্রোতধারাই মেঘনা নদী।
- সুরমা নামক শাখাটি প্রথমে খাসিয়া ও জয়ন্মিয়া পাহাড়ের নিকট দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ছাতক, সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিকট দিয়ে অগ্রসর হয়েছে।
- এরপর আজমিরিগঞ্জের কাছে উত্তর সিলেটের সুরমা, দড়িগণ সিলেটের কুশিয়ারা এবং হবিগঞ্জের কালনী নদী একসঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- পরে সুরমা, কুশিয়ারা ও কালনী নদীর মিলিত প্রবাহ কালনী নামে কিছুদূর অগ্রসর হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করেছে।
- মেঘনা নদী কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের নিকট পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে মিলিত হয়ে দড়িাণ-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে এবং চাঁদপুরের কাছে পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নামে আরও দড়িাণে অগ্রসর হয়ে ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- বাংলাদেশে মেঘনা বিধৌত অঞ্চলের আয়তন প্রায় ২৯,৭৮৫ বর্গকিলোমিটার।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া। 

৬,৬৪৩.
বাংলাদেশে সামুদ্রিক বন্দর কয়টি?
  1. ২ টি
  2. ৩ টি
  3. ৪ টি
  4. ৫ টি
ব্যাখ্যা
সমুদ্র বন্দর:
- বাংলাদেশে সামুদ্রিক বন্দর ৩টি।

১. চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর:
- চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম শহরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দর।
- এটি কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত।

২. মংলা সমুদ্র বন্দর:
- মংলা বন্দর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত।
- এটা দেশের ২য় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর।
- বন্দরটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১ ডিসেম্বর, ১৯৫০ সালে।
- এটি পশুর নদী ও মংলা নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত।

৩. পায়রা গভীর সমুদ্র বন্দর:
- বাংলাদেশের ৩য় সমুদ্র বন্দর 'পায়রা বন্দর' পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার রাবনাবাদ চ্যানেলের পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
- এটি বাংলাদেশের তৃতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র গভীর সমুদ্র বন্দর।

তথ্যসূত্র: সংশ্লিষ্ট বন্দরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৬৪৪.
Which is the widest river in Bangladesh?
  1. ক) The Padma
  2. খ) The Maghna
  3. গ) The Jamuna
  4. ঘ) The Surma
  5. ঙ) None
ব্যাখ্যা
- চাঁদপুরের পর থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত পদ্মা ও মেঘনার মিলিত ধারার নাম মেঘনা।
- উৎপত্তিস্থলে মেঘনার নাম ছিল বরাক নদী।
- ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় মেঘনা বঙ্গোপসাগরের সাথে মিলিত হয়েছে।
- এটি বাংলাদেশের গভীর ও প্রশস্ততম নদী এবং অন্যতম বৃহৎ ও প্রধান নদী।

সূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণী এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৬৪৫.
ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি ও ঘূর্ণনের জন্য কোন বল প্রভাব ফেলে?
  1. ইলেকট্রোম্যাগনেটিক বল
  2. কোরিওলিস বল
  3. যান্ত্রিক বল
  4. মহাকর্ষ বল
ব্যাখ্যা

• ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড় হলো নিম্নচাপের কারণে সৃষ্ট একটি প্রবল ঘূর্ণায়মান সামুদ্রিক ঝড়, যেখানে তীব্রবেগে বাতাস, ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাত ঘুরতে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় হলো আবহাওয়া জনিত বায়ুমণ্ডলীয় দুর্যোগ।
- কোরিওলিস বলের কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণনের দিক আলাদা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরে।
- এবং দক্ষিণ গোলার্ধে এটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় ছিল ১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড়।
- এই ঝড় সর্বকালের সবচেয়ে মারাত্মক গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় হিসেবে পরিচিত।
- এই ঝড়ে প্রায় ৩ থেকে ৫ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
- এবং প্রায় ১০.৫ মিটার উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস উপকূলে ধ্বংস সাধন করেছিল।

উৎস: Britannica ও বাংলাপিডিয়া।

৬,৬৪৬.
কোনটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়- 
  1. দুর্যোগ প্রতিরোধ
  2. দুর্যোগ প্রশমন 
  3. সাড়াদান
  4. দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি
ব্যাখ্যা

 - সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান নয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা:

- সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়।
- দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান।
- দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়।
- দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই এর ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন।
- অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৪৭.
বিশ্বের বৃহত্তম নদী অববাহিকা 'আমাজান' কোন জলবায়ু অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ক) ক্রান্তীয় মহাদেশীয় জলবায়ু অঞ্চল
  2. খ) নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল
  3. গ) ক্রান্তীয় সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল
  4. ঘ) মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল নিরক্ষরেখা বা বিষুবরেখার উভয় পার্শ্বে ৫° উত্তর ও দক্ষিন অক্ষাংশের মধ্যে যে উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু বলে। 
- আর পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে এ জলবায়ু বিরাজ করে তাকে নিরক্ষীয় জলবায়ু অঞ্চল বলে। 
- বিশ্বের বিভিন্ন এলাকায় এ জলবায়ু দেখা গেলেও আমাজান নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এ জলবায়ুর প্রভাব বেশী দেখা যায় বলে একে আমাজানীয় জলবায়ুও বলে। 
- সাধারনত: নিরক্ষ রেখার উভয় আর্শ্বে পৃথিবীর মধ্যভাগের প্রায় ১০০০ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে এ জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত রয়েছে ।
 
উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাণিজ্যিক ভূগোল; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৬৪৮.
ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মরক্কো
  2. খ) গ্রিস
  3. গ) তুরস্ক
  4. ঘ) ইতালি
ব্যাখ্যা

হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াডে বর্ণিত ইতিহাস বিখ্যাত ট্রয় নগরী বর্তমান তুরস্কে অবস্থিত। গ্রিস এবং ট্রয়ের মধ্যকার ট্রোজান যুদ্ধের জন্য এই নগরী বিখ্যাত।
উৎসঃ ব্রিটানিকা

৬,৬৪৯.
জলবায়ু পরিবর্তনে 'অভিযোজন' বলতে বুঝায় -
  1. ক) জলবায়ু পরিবর্তনের তহবিল সংগ্রহ
  2. খ) জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো
  3. গ) জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো
  4. ঘ) কোনোটি নয়
ব্যাখ্যা
• জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রধান দুইটি কৌশল অবলম্বন করা হয়। যথা:
১। মিটিগেশন (Mitigation)
২। অভিযোজন কৌশল (Adaptation Strategy)

• মিটিগেশন (Mitigation):
- মিটিগেশন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাইস তাপমাত্রা কমানোর জন্য কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো গ্যাসসমূহের (CO2, CH4, CFC) বৃদ্ধি যা বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা ধরে রেখে গ্রিন হাউসের ন্যায় করার দরুন বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে বায়ুমণ্ডলের জীবাণুজ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
- বনায়ন করতে উৎসাহিত করতে হবে। বন নিধন হ্রাস করতে হবে।

• অভিযোজন (Adaptation Strategy):
- পরিবর্তিত জলবায়ুতে বেঁচে থাকার জন্য গৃহীত সকল ধরনের কর্মকাণ্ড হলো অভিযোজন বা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৫০.
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত সাধারণত যে অঞ্চলে দেখা যায় -
  1. মেরু অঞ্চলে
  2. নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  3. পার্বত্য অঞ্চলে
  4. নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি:
- শীতল ও উষ্ণ বায়ু মুখোমুখি উপস্থিত হলে উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু একে অপরের সঙ্গে মিশে না গিয়ে তাদের মধ্যবর্তী এলাকায় অদৃশ্য বায়ুপ্রাচীরের (Front) সৃষ্টি করে।
- বায়ুপ্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় শীতল বায়ুর সংস্পর্শে উষ্ণ বায়ুর তাপমাত্রা হ্রাস পায় ফলে শিশিরাঙ্কের সৃষ্টি হয়।
- ফলে উভয় বায়ুর সংযোগস্থলে বৃষ্টিপাত ঘটে, একে বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি বলে।
- বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টিপাত সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে দেখা যায়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,৬৫১.
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোনটি?
  1. ক) কিলিমাঞ্জারো
  2. খ) কোসিয়াস্কো
  3. গ) এভারেস্ট
  4. ঘ) এলবুর্জ
ব্যাখ্যা
মাউন্ট এভারেস্ট:

- পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট।
- এভারেস্ট এশিয়ার ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর অংশে অবস্থিত।
- এটি চীন ও নেপালের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সীমানায় অবস্থিত
- ২৯শে মে ১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমন্ড হিলারি এবং স্থানীয় নেপালি শেরপা তেনজিং নোরগে আনুষ্ঠানিকভাবে মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণকারী প্রথম পুরুষ হয়েছিলেন।

অন্যদিকে,
- আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কিলিমাঞ্জারো।
- ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এলবুর্জ।
- উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ম্যাককিনলি।
- দক্ষিন আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ অ্যাাকাস্কোগুয়া।
- ওশেনিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কোসিয়াস্কো।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৬,৬৫২.
আয়তনের দিক থেকে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের বৃহত্তম দেশ নিম্নের কোনটি?
  1. কলম্বিয়া
  2. উরুগুয়ে
  3. পেরু
  4. ব্রাজিল
ব্যাখ্যা

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ:
- দক্ষিণ আমেরিকার মহাদেশ ১২ টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- দেশগুলো হচ্ছে - ব্রাজিল, কলম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, পেরু, ভেনেজুয়েলা, চিলি, ইকুয়েডর, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, গায়ানা, সুরিনাম।
- স্বাধীন দেশ - ১২ টি।
- জাতিসংঘভুক্ত দেশ  - ১২ টি
- আয়তনে বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ - ব্রাজিল।
- ব্রাজিল, গায়ানা এবং সুরিনাম ছাড়া সবকটিতেই স্প্যানিশ সরকারি ভাষা।
- ব্রাজিলের সরকারী ভাষা পর্তুগিজ। 
 
সূত্র: ওয়াল্ড এটলাস।

৬,৬৫৩.
West Bank কোন নদীর পশ্চিম তীর অবস্থিত?
  1. ইউফ্রেটিস নদী
  2. টাইগ্রিস
  3. জর্ডান
  4. নীল
ব্যাখ্যা
• পশ্চিম তীর(West Bank):
- পশ্চিম তীর (West Bank) হলো একটি ভূখণ্ড যা জর্ডান নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
- এটি মধ্যপ্রাচ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত অঞ্চল, মূলত ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
- পশ্চিম তীরের পূর্ব সীমান্তে জর্ডান নদী, এবং পশ্চিমে ইসরায়েল রয়েছে।
- অঞ্চলটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আংশিকভাবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ এবং আংশিকভাবে ইসরায়েল দ্বারা পরিচালিত হয়।
- জেরুজালেম শহরের পূর্ব অংশও এই অঞ্চলের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬,৬৫৪.
ছোট ও মাঝারি তীব্রতার ঘূর্ণিঝড় বন্দরের উপর দিয়ে অতিক্রম করার ক্ষেত্রে কত নং বিপদ সংকেত দেয়া হয়?
  1. ৬ নং
  2. ৭ নং
  3. ৮ নং
  4. ৯ নং
ব্যাখ্যা
সতর্কতা ও বিপদ সংকেত:
ঘূর্ণিঝড়ের সময় সতর্কতা ও বিপদ বুঝানোর জন্য সমুদ্র বন্দরের জন্য ১১টি সংকেত রয়েছে এবং নদীবন্দরের জন্য ৪ টি সংকেত রয়েছে।
সমুদ্র বন্দরের ১১টির মধ্যে প্রথম চারটি সতর্কতা ও স্থানীয় সংকেত। পরের তিনটি বিপদ সংকেত এবং তার পরের তিনটি মহাবিপদ সংকেত। ১১নং সংকেত মূলত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সংকেত।
নিম্নে সমুদ্র বন্দরের ১১টি সংকেতের অর্থ দেওয়া হল
১ নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত:
জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার পর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সম্মুখীন হতে পারে। দূরবর্তী এলাকায় একটি ঝড়ো হাওয়ার অঞ্চল রয়েছে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ কিলোমিটার (কি.মি.)। ফলে সামুদ্রিক ঝড়ের সৃষ্টি হবে।

২ নং দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত:
দূরে গভীর সাগরে একটি ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কিলোমিটার। বন্দর এখনই ঝড়ে কবলিত হবে না, তবে বন্দর ত্যাগকারী জাহাজ পথে বিপদে পড়তে পারে।

৩ নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত:
বন্দর ও বন্দরে নোঙর করা জাহাজগুলোর দুর্যোগ কবলিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্দরে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে এবং ঘূর্ণি বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০-৫০ কি.মি. হতে পারে।

৪ নং স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত:
বন্দর ঘূর্ণিঝড় কবলিত। বাতাসের সম্ভাব্য গতিবেগ ঘণ্টায় ৫১-৬১ কি.মি.। তবে ঘূর্ণিঝড়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়ার মতো তেমন বিপজ্জনক সময় এখনও আসেনি।

৫ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৬ নং বিপদ সংকেত:
বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৭ নং বিপদ সংকেত:

বন্দর ছোট বা মাঝারি তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২-৮৮ কি.মি.। ঝড়টি বন্দরের উপর বা এর নিকট দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

৮ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়তে পারে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে বাম দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

৯ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি. বা এর বেশি হতে পারে। প্রচণ্ড ঝড়টি বন্দরকে ডান দিকে রেখে উপকূল অতিক্রম করবে।

১০ নং মহাবিপদ সংকেত:
বন্দর প্রচণ্ড বা সর্বোচ্চ তীব্রতর এক সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়বে। ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কি.মি.বা তার বেশি হতে পারে।

১১ নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত:
আবহাওয়ার বিপদ সংকেত প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় আবহাওয়া কর্মকর্তা পরিস্থিতি দুর্যোগপূর্ণ বলে মনে করেন।

উৎস: ঘূর্নিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচী (সিপিপি) ওয়েবসাইট ও বিবিসি বাংলা।
৬,৬৫৫.
ইউরোপের ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি কি ধরনের সমভূমির উদাহরণ? 
  1. ক্ষয়জাত সমভূমি
  2. কার্স্ট সমভূমি
  3. হৈমবাহিক সমভূমি 
  4. সঞ্চয়জাত সমভূমি
ব্যাখ্যা
ক্ষয়জাত সমভূমি: 

• বায়ুপ্রবাহ, সৌরতাপ, বৃষ্টিপাত, পানিস্রোত, হিমবাহ প্রভৃতি দ্বারা ক্ষয় হয়ে ধীরে ধীরে অপেক্ষাকৃত নিম্নভূমিতে পরিণত হয়ে ক্ষয়জাত সমভূমি গঠিত হয়। 
• ইউরোপের ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি ক্ষয়জাত সমভূমির উদাহরণ।
• সমভূমিতে সাধারণত কোনো উচ্চভূমি, নিম্নভূমি বা খাড়া ঢাল থাকে না। 
• সমভূমিসমূহ সাধারণত মহাদেশের সীমান্তে, মহাসাগরের তীরে অথবা মহাদেশীয় ভূ-ভাগের অভ্যন্তরে হতে পারে।
• হিমবাহের মাধ্যমে যে সমভূমি সৃষ্টি হয় তাদেরকে হৈমবাহিক সমভূমি বলে ।
• উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশ, ফিনল্যান্ড, পূর্ব কানাডা এবং সুইডেনে  হৈমবাহিক সমভূমি দেখা যায়।
• যুগোশ্লোভিয়ার কার্স্ট অঞ্চলে কার্স্ট সমভূমি জাতীয় সমভূমি দেখা যায়।
• সমুদ্র সমতল থেকে প্রায় সম উচ্চতায় সুবিস্তৃত স্থলভাগকে সমভূমি বলা হয়। 
• কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েকশ মিটার উঁচুতেও সমভূমি গঠিত হতে পারে।
• সমভূমি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কয়েকশত ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় অবস্থিত হতে পারে।
• সমভূমিতে মৃদু ঢাল বিশিষ্ট ভূমি, ছোট ছোট টিলা, পাহাড় এবং নদী উপত্যকার উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। 
• পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেক সমভূমি। 

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৫৬.
জুম চাষ হয় কোন অঞ্চলে?
  1. ক) সমতল অঞ্চলে
  2. খ) পাহাড়ি অঞ্চলে
  3. গ) উপকূলীয় অঞ্চলে
  4. ঘ) হাওর অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
• জুমচাষ (Jhum)  বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলে সর্বাধিক প্রচলিত চাষাবাদ পদ্ধতি।
- এর প্রকৃত অর্থ হলো স্থান পরিবর্তনের মাধ্যমে চাষাবাদ করা।
- এ ধরনের চাষাবাদে শুষ্ক মৌসুমে বনভূমি কেটে বা পুড়িয়ে স্বল্পসময়ের জন্য (১-৩ বছর) ফসল চাষাবাদের পর প্রাকৃতিক বনভূমির পুনর্জন্ম ও মৃত্তিকার উর্বরতার ক্ষয়পূরণের জন্য দীর্ঘসময় (১০-৪০ বছর) পতিত রাখা হয়।
- জুম বা স্থানান্তর চাষাবাদ সাধারণভাবে ‘সুইডেন চাষাবাদ’ বা জঙ্গল পরিষ্কার ও পোড়ানো চাষাবাদ হিসেবে পরিচিত।
- এ ধরনের প্রাচীন চাষাবাদ অধিকাংশ উপজাতীয় অধিবাসীদের অতি পরিচিত।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৬,৬৫৭.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়?
  1. পূর্ব- দক্ষিণাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. দক্ষিণ- পশ্চিমাঞ্চলে
  4. পশ্চিম- পূর্বাঞ্চলে
ব্যাখ্যা

খরা (Drought): 
- ফসল জন্মানোর স্বাভাবিক সময়ে শস্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতার চাইতে জমিতে কম আর্দ্রতা থাকলে সে সময়কে বাংলাদেশে ক্ষরা অবস্থা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রকোপ দেখা যায়।
- ১৯৯৪-৯৫ খ্রিষ্টাব্দের খরা এবং পরবর্তীতে ১৯৯৫-৯৬ খ্রিষ্টাব্দের খরা খাদ্যশস্যের বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান কৃষিফসল ধান ও পাট মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
- খরার প্রকোপে শাকসবজি, তামাক, কলা, অন্যান্য শস্যের ফলন দারুণভাবে ব্যাহত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বিএড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৬৫৮.
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রধানত কোন দুইটি কৌশল অবলম্বন করা হয়?
  1. ক) মিটিগেশন
  2. খ) অভিযোজন কৌশল
  3. গ) অভিবাসন
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করার জন্য প্রধান দুইটি কৌশল অবলম্বন করা হয়। যথা - 
১। মিটিগেশন (Mitigation) 
২। অভিযোজন কৌশল (Adaptation Strategy)

১। মিটিগেশন (Mitigation): মিটিগেশন হলো জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমানো। জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ বায়ুমণ্ডলে গ্রিন হাইস গ্যাসসমূহের (CO2, CH4, CFC) বৃদ্ধি যা বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা ধরে রেখে গ্রিন হাউসের ন্যায় করার দরুন বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করছে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা কমানোর জন্য কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাসের মতো জীবাণুজ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তি যেমন সৌরশক্তি, বায়ু শক্তি ইত্যাদির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বনায়ন করতে উৎসাহিত করতে হবে। বন নিধন হ্রাস করতে হবে।
২। অভিযোজন (Adaptation Strategy): পরিবর্তিত জলবায়ুতে বেঁচে থাকার জন্য গৃহীত সকল ধরনের কর্মকাণ্ড হলো অভিযোজন
বা জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো।     

তথ্যসূত্র:- পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৫৯.
দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত একটি দেশ নয় কোনটি?
  1. কানাডা
  2. ইকুয়েডর
  3. ব্রাজিল
  4. সুরিনাম
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ আমেরিকা (South America):

- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত একটি দেশ নয় - কানাডা।
- আয়তনে চতুর্থ বৃহত্তম মহাদেশ দক্ষিণ আমেরিকা।
- এ মহাদেশ দেখতে ত্রিকোণোকৃতির ।
- এ মহাদেশের সর্বোচ্চ স্থান আকাঙ্কাগুয়া ।
- দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ ১৪টি দেশ নিয়ে গঠিত।
- এর মধ্যে আয়তনে বৃহত্তম ব্রাজিল এবং ক্ষুদ্রতম সুরিনাম।
- ফকল্যান্ড দ্বীপ এ মহাদেশে অবস্থিত।
- দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম এবং পৃথিবীর প্রশস্ততম নদী আমাজান।
- এ মহাদেশের অন্তর্গত ইকুয়েডরকে 'চির বসন্তের দেশ বলা হয়।
- নিরক্ষরেখা দেশটির উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৬,৬৬০.
নিচের কোনটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির উদাহরণ?
  1. ইতালির ভিসুভিয়াস
  2. পোপো আগ্নেয়গিরি
  3. জাপানের ফুজিয়ামা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
আগ্নেয়গিরির শ্রেণিবিভাগ:
- পৃথিবীর আগ্নেয়গিরিসমূহকে প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা যায়। যেমন:
ক. সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano),
খ. সুপ্ত আগ্নেয়গিরি (Dormant Volcano) এবং,
গ. মৃত আগ্নেয়গিরি (Extinct Volcano).

⇒ সক্রিয় আগ্নেয়গিরি:
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি থেকে এখনও অগ্ন্যুৎপাত হয়।
- সক্রিয় আগ্নেয়গিরি দুই ধরনের।
- যেমন যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে অবিরত লাভা নির্গত হয় সেগুলো অবিরাম আগ্নেয়গিরি।
- অন্যদিকে যে সকল আগ্নেয়গিরি থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর মাঝে মাঝে অগ্ন্যুৎপাত হয়, তাকে সবিরাম আগ্নেয়গিরি বলে।
- যেমন: ইতালির ভিসুভিয়াস আগ্নেয়গিরি।

⇒ সুপ্ত আগ্নেয়গিরি:
- সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে বহু বছর অগ্ন্যুৎপাত না হলেও যে কোনো সময়ে অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে।
- যেমন: জাপানের ফুজিয়ামা

⇒ মৃত আগ্নেয়গিরি:
- সুপ্ত আগ্নেয়গিরি থেকে পুনরায় অগ্ন্যুৎপাত হবার সম্ভাবনা থাকে না।
- যেমন: পোপো আগ্নেয়গিরি।
- মৃত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে বৃষ্টির পানি জমে হ্রদ সৃষ্টি হলে, তাকে আগ্নেয় হ্রদ (Vent) বলে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৬১.
পৃথিবীর সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ কোনটি? 
  1. ক) বৈকাল 
  2. খ) কাস্পিয়ান সাগর 
  3. গ) লেক আসাল
  4. ঘ) টিটিকাকা 
ব্যাখ্যা
- লেক আসাল হলো বিশ্বের সর্বাধিক লবণাক্ত পানির হ্রদ।
- এটি আফ্রিকার জিবুতিতে অবস্থিত।

পৃথিবীর প্রধান হ্রদসমূহ:
- পৃথিবীর গভীরতম ও প্রাচীনতম হ্রদ বৈকাল (রাশিয়া)।
- পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ কাস্পিয়ান সাগর (মধ্য এশিয়া)
- পৃথিবীর উচ্চতম হ্রদ টিটিকাকা (বলিভিয়া)
- বৃহত্তম স্বাদু পানির হ্রদ সুপিরিয়র (যুক্তরাষ্ট্র)
- ভিক্টোরিয়া হ্রদ : আফ্রিকা।

(তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা)
৬,৬৬২.
বাংলাদেশের কোন দুটি বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী?
  1. সিলেট ও চট্টগ্রাম
  2. খুলনা ও ময়মনসিংহ
  3. সিলেট ও ময়মনসিংহ
  4. চট্টগ্রাম ও রংপুর
ব্যাখ্যা
 সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশে মোট বিভাগ ৮টি তার মধ্যে ২টি বিভাগের সবগুলো জেলা সীমান্তবর্তী।
- বিভাগগুলো হলো - ময়মনসিংহ ও সিলেট।
- ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা।
- সিলেট বিভাগের সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলো হলো- সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৬৬৩.
বিশ্বব্যাংকের জলবায়ু ঝুঁকি রিপোর্ট অনুযায়ী,২০৪০-২০৫৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা কত হতে পারে?
  1. ২৫.৭১°C
  2. ২৬.০৩°C
  3. ২৬.৫৯°C
  4. ২৭.৩০°C
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জলবায়ু:
- বাংলাদেশ একটি আর্দ্র, উষ্ণ, মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল, যেখানে গড় তাপমাত্রা ২৫.৭১°C এবং বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ২,১৭৪.১০ মিমি।
- দেশটির জলবায়ু এল নিনো সাউদার্ন অসসিলেশন (ENSO) এবং ইন্ডিয়ান ওশান ডিপোল (IOD) দ্বারা প্রভাবিত হয়।
- ১৯৭১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা প্রতি দশকে ০.১৬°C বৃদ্ধি পায়।

প্রক্ষেপিত তাপমাত্রা: SSP3-7.0 মডেলের অধীনে, ২০২০-২০৩৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা ০.৪১°C বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.০৩°C এবং ২০৪০-২০৫৯ সাল পর্যন্ত ০.৮৯°C বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.৫৯°C হতে পারে।

তীব্র তাপমাত্রার ঝুঁকি: মধ্য শতাব্দী নাগাদ বাংলাদেশে তাপমাত্রার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতার কারণে তাপমাত্রা অনুভূত হবে আরো বেশি। ২০৪০-২০৫৯ সালের মধ্যে ৩৫°C তাপমাত্রা অতিক্রম করা দিনগুলির সংখ্যা বছরে প্রায় ১৩৩.৪৭ দিন হতে পারে।

আপেক্ষিক বৃষ্টিপাত: ১৯৭১-২০২০ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মৌসুমে এবং অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পরিবর্তিত হয়েছে। পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগগুলো বিশেষ করে বসন্তকালে শুষ্ক হয়ে পড়েছে, এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগগুলো বছরের অধিকাংশ সময় বৃষ্টিপাতের মুখে রয়েছে।

প্রক্ষেপিত বৃষ্টিপাত: SSP3-7.0 মডেলের অধীনে ২০৪০-২০৫৯ সালের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলীয় বিভাগগুলোতে বসন্তকালে বৃষ্টিপাত কমবে, এবং উত্তরাঞ্চলীয় বিভাগগুলোতে গ্রীষ্ম মৌসুমে বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি পাবে।

জলবায়ু সম্পর্কিত বিপদ: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বন্যা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের ক্ষয় বাড়বে। এছাড়া, দেশটির প্রধান নদী সিস্টেমে বন্যার প্রাবল্য এবং উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে খরা বাড়তে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের সিসমিক ঝুঁকিকে আরও বাড়াতে পারে, বিশেষ করে উত্তর ও পূর্ব সীমান্ত এলাকায় ভূমিকম্প এবং ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

উৎস: Bangladesh Climate Risk Country Profile, World Bank Climate Change Portal.
৬,৬৬৪.
বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে -
  1. ৩টি
  2. ৪টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন:
- ২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে।
- এগুলো হলো: মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা।
- সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের।
- বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

বৈশ্বিক ঝুঁকিতে থাকা পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১২টি করে দেশের তালিকা:
• বন্যা:
- বাংলাদেশ, চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, মোজাম্বিক, লাওস, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, বেনিন, রুয়ান্ডা।
• ঝড়:
- ফিলিপাইন, বাংলাদেশ, মাদাগাস্কার, ভিয়েতনাম, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, হাইতি, সামোয়া, টোঙ্গা, চীন, হন্ডুরাস, ফিজি।
• মরুকরণ:
- মালাউয়ি, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়ে, ভারত, মোজাম্বিক, নাইজার, মৌরিতানিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, শাদ, কেনিয়া, ইরান।
• সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি:
- সব নিচু দ্বীপদেশ, ভিয়েতনাম, মিসর, তিউনিসিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মৌরিতানিয়া, মেক্সিকো, চীন, মিয়ানমার, বাংলাদেশ, সেনেগাল, লিবিয়া।
• কৃষিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা:
- সুদান, সেনেগাল, জিম্বাবুয়ে, মালি, জাম্বিয়া, নাইজার, মরক্কো, ভারত, মালাউয়ি, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৬৬৫.
সূর্য হতে আগত অতিবেগুনি রশ্মি বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে শুষে নেয়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. মেসোমন্ডল
  3. স্ট্রাটোমন্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
স্ট্রাটোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের দ্বিতীয় স্তর হলো স্ট্রাটোমন্ডল বা স্ট্রাটোস্ফিয়ার যা উর্ধ্বে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এটি এমনই একটি স্তর যা জলীয়বাষ্পবিহীন।
- স্ট্রাটোমন্ডল ও মেসোমন্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে বলা হয় স্ট্রাটোবিরতি বা স্ট্রাটোপস।
- স্ট্রাটোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ অনেক কম।
- এই স্তরেই ওজোন (O₃) গ্যাসের পরিমাণ বেশি থাকায় সূর্য হতে আগত অতিবেগুনি রশ্মি এই ওজোন স্তর শুষে নেয়।
- এই স্তরের নিম্নে উষ্ণতার তেমন পরিবর্তন না হলেও ১০ কিলোমিটার থেকে ধীরে ধীরে উষ্ণতা বাড়তে বা ওজোনোস্ফিয়ার থাকে। এই উষ্ণতা বৃদ্ধি উচ্চ স্ট্রাটোমন্ডলে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
- পৃথিবীতে প্রাণিজগতের বসবাসের উপকারী পরিবেশ তৈরিতে এই স্তরের ভূমিকা রয়েছে। এই স্তরেই সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মি শোষণ করে নেয়া হয়।
- স্ট্রাটোমন্ডলে ধূলিকণার পরিমাণ নগন্য এবং মেঘ দেখাই যায় না।
- এই স্তরে আবহাওয়া শুষ্ক ও শান্ত থাকে। সাধারণত জেট বিমানগুলো এই স্তর দিয়ে চলাফেরা করতে পারে কারণ ঝড়-বৃষ্টি থাকে না।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমে যেতে থাকে এবং তা স্ট্রাটোমন্ডলের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌছায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৬৬.
Which layer of the atmosphere contains the most greenhouse gases responsible for global warming?
  1. Troposphere
  2. Stratosphere
  3. Mesosphere
  4. Thermosphere
ব্যাখ্যা

স্ট্রাটোমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তর স্ট্রাটোমণ্ডল।
- ট্রপোবিরতির উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্ট্রাটোমণ্ডল নামে পরিচিত।
- স্ট্রাটোমণ্ডল ও মেসোমণ্ডলের মধ্যবর্তী অঞ্চলে তাপমাত্রার স্থিতাবস্থাকে স্ট্রাটোবিরতি (Stratopause) বলে।

⇒ স্ট্রাটোমণ্ডলের বৈশিষ্ট্য:
- বায়ুমণ্ডলের এই স্তরেই ওজোন (০3) গ্যাসের স্তর বেশি পরিমাণে আছে।
- এ ওজোন স্তর সূর্যের আলোর বেশিরভাগ অতিবেগুনি রশ্মি (Ultraviolate rays) শুষে নেয়। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা ৪০ সেলিসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
- এই স্তরের বায়ুতে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা ছাড়া কোনোরকম জলীয়বাষ্প থাকে না। ফলে আবহাওয়া থাকে শান্ত ও শুষ্ক।
- ঝড়বৃষ্টি থাকে না বলেই এই স্তরের মধ্য দিয়ে সাধারণত জেট বিমানগুলো চলাচল করে।
- প্রায় ৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা পুনরায় হ্রাস পেতে শুরু করে। এটি স্ট্রাটোমণ্ডলের শেষ প্রান্ত নির্ধারণ করে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৬৭.
গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া কোন দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন?
  1. বাংলাদেশ
  2. মালদ্বীপ
  3. ফিনল্যান্ড
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব:  
- বিশ্বের আবহাওয়া ও ঋতুগত ধরন দিন দিন অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
- কোনো ঋতুতেই এখন আর আমরা প্রকৃতির কাছ থেকে স্বাভাবিক আচরণ পাচ্ছি না।
- বৃষ্টির সময়ে অনাবৃষ্টি, খরার সময়ে বৃষ্টি, গরমের সময় ঠান্ডা হাওয়া, আর শীতকালে তপ্ত বাতাস—সব মিলিয়ে একটি এলোমেলো আবহাওয়া আজ বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, 
- বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, গ্রিনহাউস প্রভাব পৃথিবীর কিছু অঞ্চলের জন্য সুফল বয়ে আনবে। যেমন: কানাডা, রাশিয়া, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশে লক্ষ লক্ষ একর জমি বরফমুক্ত হয়ে চাষাবাদ ও বসবাসের উপযোগী হয়ে উঠবে।

এছাড়াও, 
- এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে সমান সুফল আনবে না। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাবে পৃথিবীর প্রায় ৪০ শতাংশ দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
- গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশসহ বহু দেশের উপকূলীয় এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- এতে সমুদ্র উপকূলবর্তী বহু বিখ্যাত শহর ও জনপদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।  
৬,৬৬৮.
বাংলাদেশের জলবায়ুতে সর্বাপেক্ষা প্রভাব বিস্তার করে নিচের কোনটি?
  1. ক) বৃষ্টিপাত
  2. খ) বায়ুর তাপ
  3. গ) বায়ুর চাপ
  4. ঘ) সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
বৃষ্টিপাত
- বাংলাদেশের জলবায়ুতে সর্বাপেক্ষা প্রভাব বিস্তার করে বৃষ্টিপাত।
- ক্রান্তীয় মৌসুমি অঞ্চলে অবস্থানের কারণে এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।
- বার্ষিক বৃষ্টিপাত চক্রের ঋতুগত পার্থক্য অতি সুস্পষ্ট এবং তা তাপমাত্রার ঋতুগত চক্রের তুলনায় অধিকতর সুনির্দিষ্ট। শীতকাল বৃষ্টিহীন ঋতু এবং ডিসেম্বর শুষ্কতম মাস।
- ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে আগত জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ুর প্রভাবে কিছু বৃষ্টিপাত সংঘটিত হয়ে থাকে।
- বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের মাত্র ২-৪% এ সময়ে ঘটে থাকে। দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে শীতকালীন বৃষ্টিপাত ২০ মিমি-এরও কম এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তা ৪০ মিমি-এর কিছু বেশি হয়ে থাকে।
- উত্তর-পূর্বাংশে অতিরিক্ত কিছু আর্দ্র বায়ু মেঘালয় মালভূমিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ঊর্ধ্বে উঠে যাওয়ার প্রভাবে ঠান্ডা হয়ে জমাট বেঁধে মেঘের সৃষ্টি করে।
- ফলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এ অঞ্চলে সামান্য বেশি হয়ে থাকে। শীতকাল পার হয়ে প্রাক-মৌসুমী গ্রীষ্মঋতুর আগমন ঘটতে থাকলে ভূ-পৃষ্ঠের প্রচন্ড উত্তাপ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণে আর্দ্রতার কারণে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে।
- বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের ১০-২৫% এ ঋতুতে সংঘটিত হয়ে থাকে যা বজ্রবিদ্যুৎসহ ধ্বংসাত্মক কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে অনুষঙ্গ হিসেবে সংঘটিত হয়ে থাকে।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া।
৬,৬৬৯.
ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চলের গড় তাপমাত্রা কত?
  1. ১৮° - ২৬°
  2. ২০° - ২৮°
  3. ২৩° - ৩০°
  4. ১৪° - ২৪°
ব্যাখ্যা
ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল:
- পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের বিভিন্নতার কারণে জলবায়ুর ধরনেরও পার্থক্য দেখা যায়। ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের ৩০°-৪৫° অক্ষাংশের মধ্যে যে সকল মহাদেশসমূহের অবস্থান তাদের পশ্চিমাংশ জুড়েই ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু অঞ্চল বিস্তৃত।
- পশ্চিম এশিয়ার তুরস্ক, সিরিয়া, লেবানন, ইসরায়েল; দক্ষিণ ইউরোপের পুর্তগাল, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস; ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপ সাইপ্রাস, চিলি, করসিকা, মালটা; আফ্রিকার তিউনেশিয়া, লিবিয়া, মরক্কো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া এই অঞ্চলের উদাহরণ।

বৈশিষ্ট্য:
- ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো উষ্ণ, শুষ্ক ও বৃষ্টিহীন গ্রীষ্মকাল এবং শীতকাল বৃষ্টিবহুল। 
- এই অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে গড় উষ্ণতা থাকে ২০° - ২৮° সে. এবং শীতকালে উষ্ণতা ১০° সে. এর কম থাকে।
- এই জলবায়ু অঞ্চলে যে বৈশিষ্ট্যটি উল্লেখযোগ্য তা হলো- এখানে সমুদ্র বায়ুর প্রভাবে শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় এবং বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮ সে.মি থেকে ৭৫ সে.মি।
- সাধারণত অন্যান্য এলাকার তুলনায় সমুদ্র উপকূলে বৃষ্টিপাতের হার বেশি।
- বৃষ্টিপাত অধিক বলে এখানে শীতকালীন বৃক্ষ যেমন- জলপাই, কর্ক, তুঁত, নিম, পাইন গাছের উৎপত্তি লক্ষ্যণীয়। কম বৃষ্টি হয় এমন স্থানে
ঝোপঝাড় জন্মে।
- প্রকৃতপক্ষে ভূ-মধ্যসাগরীয় জলবায়ু স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক।

উৎস: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৭০.
‘নিকলী হাওর’ কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. সুনামগঞ্জ
  2. হবিগঞ্জ
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. সিলেট
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশে মোট ৩৭৩টি হাওর রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটে সর্বাধিক ১০৫টি, কিশোরগঞ্জে ৯৭টি এবং সুনামগঞ্জে ৯৫টি হাওর রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হাওর হলো হাকালুকি হাওর। এটি সিলেট ও মৌলভীবাজার জেলা জুড়ে বিস্তৃত। এর আয়তন ২১,৫০০ হেক্টর৷
অন্যদিকে,
- সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওরের আয়তন ১১,৭০০ হেক্টর।
- নিকলী হাওর - কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায় অবস্থিত।
সূত্রঃ বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৬,৬৭১.
নিচের কোনটি সত্য নয়?
  1. ক) ইরাবতী মায়ানমারের একটি নদী
  2. খ) গােবী মরুভূমি ভারতে অবস্থিত
  3. গ) থর মরুভূমি ভারতের পশ্চিমাংশে অবস্থিত
  4. ঘ) সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশে অবস্থিত
ব্যাখ্যা

গোবী মরুভূমি (Gobi Desert) মধ্য এশিয়ায় অবস্থিত একটি বিশাল মরুভূমি।
- মরুভূমিটির অবস্থান মঙ্গোলিয়া ও চীন - দুই দেশে বিস্তৃত।
- মরুভূমিটি আনুমানিক ১৩ লক্ষ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট।

উৎসঃ ব্রিটানিকা ডটকম।

এছাড়া,
- ইরাবতী মায়ানমারের একটি নদী
- থর মরুভূমি ভারতের পশ্চিমাংশে অবস্থিত
- সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশে অবস্থিত
উপরে প্রদত্ত তথ্যগুলো সঠিক।

৬,৬৭২.
'দারফুর' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) মিশর
  2. খ) মরক্কো
  3. গ) সুদান
  4. ঘ) লিবিয়া
ব্যাখ্যা

- দারফুর সুদানের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
- অঞ্চলটি তিনটি স্বায়ত্বশাসিত প্রদেশ নিয়ে গঠিত।
- এই তিনটি প্রদেশ হচ্ছে: পশ্চিম দারফুর, দক্ষিণ দারফুর এবং উত্তর দারফুর।

৬,৬৭৩.
ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি কিসের ইঙ্গিত দেয়?
  1. ভালো আবহাওয়া
  2. বৃষ্টির সম্ভাবনা
  3. আসন্ন ঝড়
  4. তাৎপর্যহীন
ব্যাখ্যা

• ব্যারোমিটারে পারদের উচ্চতার উপর আবহাওয়ার সম্ভাব্য ঘটনা:
- ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলে - ভালো আবহাওয়ার ইঙ্গিত
- কমলে - বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
- হঠাৎ কমে গেলে - ঝড়ের পূর্বাভাস।

তথ্যসূত্র: পদার্থ বিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৬৭৪.
জৈবিক দুর্যোগ নিচের কোনটি দ্বারা সংক্রমিত হয়?
  1. ভাইরাস
  2. ব্যাকটেরিয়া
  3. পরজীবী
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা

জৈবিক দুর্যোগ (Biological hazard):
- জৈবিক দুর্যোগ (Biological hazard) হলো এমন ধরনের দুর্যোগ যা জীবাণু, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, পরজীবী অথবা অন্যান্য সংক্রামক এজেন্টের মাধ্যমে মানুষের স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
- এই ধরনের দুর্যোগ সাধারণত মহামারির আকারে দেখা দেয় এবং সমাজের সবস্তরের মানুষের জীবন ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- জৈবিক দুর্যোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: কোভিড-১৯ মহামারি, ২০১৭ সালের চিকুনগুনিয়া প্রাদুর্ভাব, ২০০৭ সালের বার্ড ফ্লু, ২০০৪ সালের নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণ, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু জ্বরের ব্যাপক বিস্তার।
- এছাড়াও সোয়াইন ফ্লু, জিকা ভাইরাস ইত্যাদিও জৈবিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
- এ ধরনের দুর্যোগ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চরম চাপে ফেলে, জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়।
- তাই জৈবিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সচেতনতা, স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা অপরিহার্য। 

সূত্র: পরিবেশ বিজ্ঞান, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৬৭৫.
পটুয়াখালীর জলবায়ু কেমন?
  1. সমভাবাপন্ন
  2. চরমভাবাপন্ন
  3. মৃদুভাবাপন্ন
  4. ক+গ
ব্যাখ্যা
মৃদুভাবাপন্ন:
- জলভাগের অবস্থান কোনো এলাকার জলবায়ুকে মৃদুভাবাপন্ন করে।
- যেমন: কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী সমুদ্র উপকূলে অবস্থিত হওয়ায় এসব স্থানের জলবায়ু মৃদুভাবাপন্ন।
- সমুদ্র নিকটবর্তী জলবায়ুকে সমভাবাপন্ন বা মৃদুভাবাপন্ন জলবায়ু বলে। 

অন্যদিকে -
- সমুদ্রের নিকটবর্তী এলাকায় শীত-গ্রীষ্ম তেমন পার্থক্য না হলেও সমুদ্র উপকূল থেকে দূরের এলাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয়ই বেশি হয়।
- এ কারণে সমুদ্রের দূরবর্তী জলবায়ুকে মহাদেশীয় চরমভাবাপন্ন জলবায়ু বলা হয়।
- স্থলভাগের চেয়ে জলভাগ অনেক ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়।
- কারণ পানির আপেক্ষিক তাপ ধারণ ক্ষমতা বেশি।
- তবে সৌরতাপ ভূমি অপেক্ষা সমুদ্রের অনেক গভীরে প্রবেশ করে তাপ বিস্তার করে।
- এ কারণেই অনেক দীর্ঘ সময়ে সমুদ্র উত্তপ্ত হয়।
- আবার তাপ বিকিরণের ক্ষেত্রে সমুদ্র পুনরায় ধীরে ধীরে তাপ হারায় যা ভূমির ক্ষেত্রে আরও দ্রুত হয়।
- ফলে সমুদ্র ঠান্ডা হতেও দীর্ঘ সময় লাগে।
- মূলত এ কারণেই গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকা ভূ-ভাগের অভ্যন্তরের তুলনায় শীতল হয় এবং শীতকালে তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৭৬.
'প্রেইরি তৃণভূমি'র অবস্থান কোথায়?
  1. ক) উত্তর আমেরিকা
  2. খ) দক্ষিণ আমেরিকা
  3. গ) আফ্রিকা
  4. ঘ) পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া
ব্যাখ্যা
• তৃণভূমি হলো ঘাস দ্বারা আচ্ছাদিত সুবিস্তৃত ভূমি।
- সাধারণত স্বল্প বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে তৃণভূমি গড়ে উঠে।

• পৃথিবীর বিখ্যাত কিছু তৃণভূমি:
- প্রেইরি (উত্তর আমেরিকা)
- প্যাম্পাস ও ল্যানোস (দক্ষিণ আমেরিকা)
- সাভানা (আফ্রিকা)
- স্তেপ (পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া) প্রভৃতি।

সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা।
৬,৬৭৭.
বাংলাদেশের সর্বশেষ স্থলবন্দরের নাম-
  1. ক) বিশ্বনাথ
  2. খ) গোয়াইনঘাট
  3. গ) ভোলাগঞ্জ
  4. ঘ) তালাশ
ব্যাখ্যা
বর্তমানে দেশে স্থলবন্দরের সংখ্যা ২৪ টি। ২৪ তম স্থলবন্দরের নাম- ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর।
৬,৬৭৮.
বাংলাদেশের কোথায় ল্যাটেরাইটযুক্ত মাটি পাওয়া যায়?
  1. মধুপুর গড়
  2. লালমাই পাহাড়
  3. বরেন্দ্রভূমি
  4. সবগুলো
ব্যাখ্যা
লোহিত মৃত্তিকা:
- বাংলাদেশের অপেক্ষাকৃত উঁচু প্লাইস্টোসিন চত্বরগুলোতে এক প্রকার মাটি দেখতে পাওয়া যায়।
- এর আয়তন প্রায় ১১,০৯৫.৫৬ বর্গ কি.মি.।
- প্লাইস্টোসিন যুগের এ চত্বরগুলো ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর গড়, গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড়, উত্তরবঙ্গের বরেন্দ্রভূমি এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় নামে পরিচিত।
- এসব অঞ্চলের মৃত্তিকায় চুনের পরিমাণ বেশি।
- রাসায়নিক দিক হতে এসব মৃত্তিকাকে ল্যাটেরাইট শ্রেণীর মৃত্তিকা বলা যায়।
- লাল কাঁকড়যুক্ত হওয়ায় এ মৃত্তিকার বর্ণ লাল।
- তাই একে লোহিত মৃত্তিকা বলে।

উৎস: এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৭৯.
লাক্ষাদ্বীপ কোন সাগরে অবস্থিত?
  1. আরব সাগর
  2. লোহিত সাগর
  3. দক্ষিণ চীন সাগর
  4. কৃষ্ণসাগর
ব্যাখ্যা
লাক্ষাদ্বীপ:
- লাক্ষাদ্বীপ ভারতের একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল।
- এটি আরব সাগরে অবস্থিত একটি প্রবাল দ্বীপপুঞ্জ।
- এটি ৩৬টি ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত।
- আয়তন: প্রায় ৩২ বর্গকিলোমিটার।
- রাজধানী: কাভারাত্তি।
- ভাষা: মালয়ালম, ধিবেহি (মাহল) ও ইংরেজি।

⇒ এই অঞ্চলের সবচেয়ে দক্ষিণতম দ্বীপ মিনিকয় এবং সবচেয়ে উত্তরের দ্বীপ আমিনদিভি গ্রুপের দ্বীপগুলি।
- লাক্ষাদ্বীপ বিখ্যাত মূলত সাদা বালি, আর পান্না সবুজ পানির অগভীর জলাশয়ের জন্য।
- রয়েছে স্বচ্ছ পানির হ্রদও।
- এখানের দ্বীপগুলোতে মূলতবিভিন্ন উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের বাস।

উৎস: Britannica.
৬,৬৮০.
ভোর রাতে পূর্ব আকাশে 'শুকতারা' নামে পরিচিত?
  1. শনি
  2. মঙ্গল
  3. নেপচুন
  4. শুক্র
ব্যাখ্যা
শুক্র (Venus):
- সূর্যের চারিদিকে ঘুরে আসতে শুক্রের সময় লাগে ২২৫ দিন।
- সূর্য থেকে এর গড় দূরত্ব প্রায় ১০.৮ কোটি কিলোমিটার।
- ভোর রাতে পূর্ব আকাশে শুক্র গ্রহকে বলা হয় শুকতারা।
- সন্ধ্যাবেলায় পশ্চিম আকাশে একে বলা হয় সন্ধ্যাতারা।
- শুক্র গ্রহেরও কোনো উপগ্রহ নেই।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৮১.
'UNDRR' এর সদরদপ্তর-
  1. ক) নিউইয়র্কে
  2. খ) জাকার্তায়
  3. গ) ভিয়েনায়
  4. ঘ) জেনেভায়
ব্যাখ্যা

- United Nations Office for Disaster Risk Reduction (UNDRR) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৯ সালে।
- এটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জাতীয় কর্মকৌশল বাস্তবায়ন।
- এর সদরদপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত।
উৎসঃ UNDRR'র ওয়েবসাইট।

৬,৬৮২.
আমাজন নদী নিম্নের কোন দেশে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ব্রাজিল
  2. পেরু
  3. কলম্বিয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

আমাজন নদী:
- অবস্থান: দক্ষিণ আমেরিকা ৬টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- এগুলো হলো: ব্রাজিল, পেরু, কলম্বিয়া, ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর, বলিভিয়া। 

উল্লেখ্য,
- আমাজন নদী দক্ষিণ আমেরিকার দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের পরে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী। 
- দৈর্ঘ্য প্রায় ৬,৪০০ কিমি।
- উৎপত্তিস্থান: পেরুর আন্দিজ পর্বতমালার নেভাদো মিস্মি পর্বত।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরে পতিত হয়।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) Live Science.

৬,৬৮৩.
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তি কার্যকরের ফলে বাংলাদেশের আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছে-
  1. ক) ৯৭০০ একর
  2. খ) ১০০৪১ একর
  3. গ) ১৩০০০ একর
  4. ঘ) ১৭১১০ একর
ব্যাখ্যা
২০১৫ সালের ১ আগস্ট ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ফলে উভয় দেশের অভ্যন্তরে থাকা ছিটমহলগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। এতে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতের ১৭১৬০ একর জমি বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হয় এবং ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৭১১০ একর জমি ভারতের সাথে যুক্ত হয়। যার ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশের ভূখন্ডে বাড়তি ১০০৪১.২৫ একর জমি যুক্ত হয়। (সূত্রঃ বিবিসি বাংলা, ৩১ জুলাই ২০১৫)
৬,৬৮৪.
বাংলাদেশের প্রধান বন গবেষণা কেন্দ্র কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. কুমিল্লা
  3. চট্টগ্রাম
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা

•  বন গবেষণা কেন্দ্র:
-  BFRI এর পূর্ণরূপ— Bangladesh Forest Research Institute.
- বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের বনসম্পদ সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টির জন্য গবেষণা পরিচালনা করে। - ১৯৫৫ সালে মূলত ফরেস্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। 
- এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কেন্দ্র বর্তমানে চট্টগ্রামের ষোলশহরে অবস্থিত।
- বিএফআরআই পরিচালনা করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। 
- সুন্দরবনের করমজলে একটি বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বন গবেষণার আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৬,৬৮৫.
একক বন হিসেবে বাংলাদেশের বৃহত্তম বন কোনটি?
  1. শালবন
  2. সামাজিক বন
  3. সুন্দরবন
  4. গ্রামীন বন
ব্যাখ্যা
সুন্দরবন:
- সুন্দরবন হলো বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি প্রশস্ত বনভূমি। 
- প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৃথিবীর বৃহত্তম নিরবিচ্ছিন্ন জোয়ারধৌত ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন। 
- একক হিসেবে বাংলাদেশের বৃহত্তম ব ন সুন্দরবন।
- সুন্দরবন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলা এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যের চব্বিশ পরগণা জেলায় অবস্থিত।
- সমগ্র সুন্দরবনের প্রায় ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে স্থিত।
- সুন্দরবন ম্যানগ্রোভ বনভূমির মৃত্তিকা ও বাস্তুসংস্থান অনন্য।
- এবং এ বনভূমিতে জোয়ারভাটার কারণে জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার প্রভাব সুস্পষ্ট। 
- ১৯০৩ সালে মি. প্রেইন সুন্দরবনের গাছপালার উপর লিখিত তাঁর গ্রন্থে ৩৩৪টি উদ্ভিদ প্রজাতি লিপিবদ্ধ করেছেন।
- ১৯৯৬ সালে সুন্দরবনে তিনটি অভয়ারণ্য ও ২০১২ সালে তিনটি ডলফিন অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
- এবং ২০১৪ সালে সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড কে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- ১৯৯২ সালে সুন্দরবন ৫৬০তম রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
- ইউনেস্কো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনের ১,৩৯,৭০০ হেক্টর বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য এলাকাকে ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৬৮৬.
বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের লাইফ লাইন বলা হয় কোন নদীকে?
  1. গড়াই
  2. তিস্তা
  3. কপোতাক্ষ
  4. করতোয়া
ব্যাখ্যা
পশ্চিমাঞ্চলের লাইফ লাইন: 
- গড়াই নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত যা পশ্চিমাঞ্চলের লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত।   
- এটি গঙ্গা তথা পদ্মার একটি প্রধান শাখানদী ।  
- গড়াই নদীটি কুষ্টিয়া জেলার হতাশহরিপুর ইউনিয়নে প্রবহমান পদ্মা নদী হতে উৎপত্তি লাভ করে মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার নাকোল ইউনিয়ন পর্যন্ত প্রবাহিত হয়ে মধুমতি নদীতে পতিত হয়েছে। 
- কুষ্টিয়া জেলার উত্তরে হার্ডিঞ্জ সেতুর ১৯ কিলোমিটার ভাটিতে তালবাড়িয়া নামক স্থানে গড়াই নদী পদ্মা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। 
- এই নদীটি কুষ্টিয়া জেলার ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গণেশপুর নামক স্থানে ঝিনাইদহ জেলায় প্রবেশ করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৬৮৭.
পৃথিবীর ভূত্বক তৈরির প্রধান উপাদান হচ্ছে-
  1. নাইট্রোজেন
  2. কার্বন
  3. হাইড্রোজেন
  4. ম্যাগনেসিয়াম
ব্যাখ্যা
• ভূত্বক (Earth's Crust):
- ভূপৃষ্ঠে শিলার যে কঠিন বহিরাবরণ দেখা যায় তাই ভূত্বক।
- তৃঅভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় ভূত্বকের পুরুত্ব সবচেয়ে কম; গড়ে ২০ কিলোমিটার।
- ভূত্বক মহাদেশের তলদেশে গড়ে ৩৫ কিলোমিটার এবং সমুদ্র তলদেশে তা গড়ে মাত্র ৫ কিলোমিটার পুরু।
- সাধারণভাবে মহাদেশীয় ভূত্বকের এ স্তরকে সিয়াল (Sial) স্তর বলে, যা সিলিকন (Si) ও অ্যালুমিনিয়াম (AI) দ্বারা গঠিত।
- এটি সিয়াল স্তরের তুলনায় ভারী এবং এর প্রধান খনিজ উপাদান সিলিকন (Si) ও ম্যাগনেসিয়াম (Mg) যা সাধারণভাবে সিমা (Sima) নামে পরিচিত।
- অনুমান করা হয় যে, এ ব্যাসল্ট স্তরই সারা পৃথিবী জুড়ে বহিরাবরণ ও গভীর সমুদ্র তলদেশে বিদ্যমান।
- ভূত্বকের উপরের ভাগেই বাহ্যিক অবয়বগুলো দেখা যায়।
যেমন- পর্বত, মালভূমি, সমভূমি ইত্যাদি।
- ভূত্বকের নিচের দিকে প্রতি কিলোমিটারে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
৬,৬৮৮.
পৃথিবীর দীর্ঘতম কৃত্রিম খাল কোনটি?
  1. সুয়েজ খাল
  2. পানামা খাল
  3. গ্র্যান্ড খাল
  4. কিয়েল খাল
ব্যাখ্যা

গ্রান্ড খাল:
- গ্রান্ড খালের অবস্থান চীনে।
- এর দৈর্ঘ্য ১৭৭৬ কি.মি.।
- গ্রান্ড খাল পৃথিবীর প্রাচীনতম ও দীর্ঘতম কৃত্রিম খাল।
- ৫৮১-৬১৮ খ্রিস্টাব্দে এই খালের প্রাচীনতম অংশের খনন কাজ করা হয়।
- এটি চীনের বেইজিং এবং হ্যাংচ্যাং এর মধ্যে অবস্থিত। এর অন্য নাম বেইজিং-হাংজু গ্র্যান্ড খাল।

অন্যদিকে,
- গভীরতম কৃত্রিম খাল পানামা খাল।
- প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবেশদ্বার বলা হয় পানামা খালকে।
- বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জাহাজ চলাচলের পথ সুয়েজ খাল।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬,৬৮৯.
বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত কত?
  1. ২০৯ সে.মি.
  2. ২০৭ সে.মি.
  3. ২০৫ সে.মি.
  4. ২০৩ সে.মি.
ব্যাখ্যা

গড় বৃষ্টিপাত:
-
 ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মৌসুমি বায়ু বঙ্গোপসাগরের জলীয় বাষ্প নিয়ে আসে, যা বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়ে বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করে। 
- বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ঘটে সিলেট ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় অঞ্চলে।
- বিশেষ করে সিলেট জেলার উত্তর অংশে যা ৫১০০ মি.মি. পর্যন্ত পৌঁছায়।
- বাংলাদেশের বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত সাধারণত ২০৩ সেন্টিমিটার (৮০ ইঞ্চি)।
- তবে অঞ্চলভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন;
- পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় অঞ্চলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম- প্রায় ১৫০ সে.মি. এবং
- দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে বেশি- প্রায় ৩০০ সে.মি.।
- দেশের মোট বৃষ্টিপাতের ৭০–৮০ শতাংশ বর্ষাকালে (জুন–অক্টোবর) ঘটে।
- বাংলাদেশ একটি বৃষ্টিবহুল দেশ হলেও, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্থান ও ঋতুভেদে ভিন্নভাবে ঘটে, যা দেশের জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।

উৎস: Bangladesh Meteorological Department ও প্রথম আলো পত্রিকা।

৬,৬৯০.
কোন সময়ে আবহাওয়া বিভাগ জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়?
  1. বন্যার সময়ে
  2. ভারী বৃষ্টির সময়ে
  3. ভূমিকম্পের সময়ে
  4. ঘূর্ণিঝড়ের সময়ে
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড়:
- ঘূর্ণিঝড়কালিন সময়ে বাতাসের গতিবেগ, জোয়ার-ভাঁটার সময়কাল, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত এলাকার প্রাকৃতিক গঠন ইত্যাদি বিষয়গুলো বিবেচনা করে আবহাওয়া বিভাগ জলোচ্ছাস সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়।
- স্পারসো ও আবহাওয়া বিভাগ রাডারের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণ করে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা, গতিবেগ ও গতিপথ সম্পর্কে পূর্বাভাস দেবার পাশাপাশি জলোচ্ছাস সম্পর্কেও পূর্বাভাস দিয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৯১.
কোন মালভূমির সাথে পর্বতের কোনো সংযোগ থাকে না?
  1. ক) মহাদেশীয় মালভূমি
  2. খ) ক্ষয়জাত সমভূমি
  3. গ) সঞ্চয়জাত সমভূমি
  4. ঘ) পাদদেশীয় মালভূমি
ব্যাখ্যা
মহাদেশীয় মালভূমি : সাগর বা নিম্নভূমি পরিবেষ্টিত বিস্তীর্ণ উচ্চভূমিকে মহাদেশীয় মালভূমি বলে। এ ধরনের মালভূমির সঙ্গে পর্বতের কোনাে সংযােগ থাকে না। স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব, গ্রিনল্যান্ড, এন্টার্কটিকা এবং ভারতীয় উপদ্বীপ এর অন্যতম উদাহরণ। (রেফারেন্স- ভূগােল ও পরিবেশ-৯ম-১০ম শ্রেণি)
৬,৬৯২.
কোনটি ক্ষয়জাত সমভূমি?
  1. সুন্দরবন
  2. বরেন্দ্রভূমি
  3. করতোয়া তীরবর্তী দিনাজপুর
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা উচ্চভূমি ক্ষয়ের ফলে যে সমভূমি গঠিত হয় তাকে ক্ষয়জাত সমভূমি বলে।
বাংলাদেশের মধুপুর ও ভাওয়ালগড় এবং বরেন্দ্রভূমি হলো ক্ষয়জাত সমভূমি।
সুন্দরবন ও ফরিদপুর হলো নদীবাহিত পলি দ্বারা সৃষ্ঠ বদ্বীপ, তিস্তা, করতোয়া ও আত্রাই নদী সংলগ্ন রংপুর ও দিনাজপুর জেলা হলো সঞ্চয়জাত পাদদেশীয় পলল সমভূমি।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৬৯৩.
ওয়ার্ল্ডফিশের সর্বশেষ হিসেবে বিশ্বের মোট ইলিশের কত শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়?
  1. ক)  ৮৬ শতাংশ
  2. খ)  ৬৫ শতাংশ
  3. গ)  ৪৫ শতাংশ
  4. ঘ)  ৫৬ শতাংশ
ব্যাখ্যা
- মৎস্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশের সর্বশেষ হিসেবে বিশ্বের মোট ইলিশের ৮৬ শতাংশ এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত হচ্ছে।
- অথচ চার বছর আগেও বিশ্বের মোট ইলিশের উৎপাদনের ৬৫ শতাংশ আসত বাংলাদেশ থেকে।
- বাংলাদেশের পরই ইলিশের উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে ভারত। পাঁচ বছর আগে দেশটিতে বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ ইলিশ উৎপাদিত হতো। তবে চলতি বছর তাদের উৎপাদন প্রায় সাড়ে ১০ শতাংশে নেমেছে।
- মা ইলিশ রক্ষা অভিযানের অংশ হিসেবে প্রতিবছর ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে এই মাছ ধরা বন্ধ থাকে।

 (উৎস: প্রথম আলো)।
৬,৬৯৪.
তামাবিল স্থল বন্দরের অপর প্রান্তে ভারতের কোন স্থান অবস্থিত?
  1. ক) ডাউকি
  2. খ) পেট্রোপোল
  3. গ) গোয়াহাটি
  4. ঘ) সিকিম
ব্যাখ্যা
• সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন সীমামত্মবর্তী এলাকা তামাবিল।
• তামাবিল স্থল শুল্ক বন্দর দিয়েই ভারত থেকে কয়লা আমদানী করা হয়।
• তামাবিলের অপর প্রান্তে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ডাউকী বাজার।
৬,৬৯৫.
বায়ুমন্ডলের ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর কোনটি?
  1. স্ট্র্যাটোমন্ডল
  2. এক্সোমন্ডল
  3. মেসোমন্ডল
  4. ট্রপোমন্ডল
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল (Troposphere):
- ট্রপোমন্ডল বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন অর্থাৎ ভূ-পৃষ্ঠ সংলগ্ন স্তর।
- মেরু এলাকায় এ স্তরের গভীরতা প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং নিরক্ষীয় এলাকায় ১৬ থেকে ১৯ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর গড় গভীরতা প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
- এ স্তরের জলীয়বাষ্প এবং ধূলিকণা অশান্ত বায়ুর সাথে মিশ্রিত হয়ে মেঘ, ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ প্রভৃতি সৃষ্টি করে।
- এ মন্ডলটিকে ক্ষুদ্রমন্ডলও বলা হয়ে থাকে।
- এ স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপরের দিকে তাপমাত্রা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকে।
- উষ্ণতা হ্রাসের এ হার প্রতি কিলোমিটারে ৬.৫° সেলসিয়াস যা স্বাভাবিক তাপ হ্রাস হার (Normal Lapse Rate বা Environmental Lapse) নামে পরিচিত।
- ট্রপোমন্ডলে বায়ুর ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।
- এ স্তরের শেষ সীমাকে ট্রপোবিরতি (Tropopause) বলে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৯৬.
উচ্চতা অনুসারে মেঘ কয় প্রকার?
ব্যাখ্যা
মেঘের প্রকারভেদ (Types of Couds): উচ্চতা অনুসারে মেঘকে তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। যথা-
ক. উঁচু মেঘ,
খ. মধ্যম উঁচু মেঘ এবং
গ. নিচু মেঘ।

উঁচু মেঘ (High Cloud): উঁচু মেঘের উচ্চতা সাধারণত ৬,০০০ মিটার হতে ১২,০০০ মিটার।
মধ্যম উঁচু মেঘ (Medium High Cloud): এ মেঘ ২,০০০ হতে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় উৎপন্ন হয়।
নিচু আকাশের মেঘ (Low Colud): ভূ-পৃষ্ঠের নিকটবর্তী অঞ্চলে ২,০০০ মিটারের মধ্যে এ জাতীয় মেঘ গঠিত হয়। এটি অপেক্ষাকৃত ভারী বলে আকাশের নিচে ভেসে বেড়ায়।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৯৭.
কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্পকালীন সময়ের বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের অবস্থাকে বলা হয় -
  1. ক) জলবায়ু
  2. খ) আবহাওয়া
  3. গ) বায়ুপ্রবাহ
  4. ঘ) সমুদ্রস্রোত
ব্যাখ্যা
♦উল্লেখিত প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো - আবহাওয়া

আবহাওয়া
:
- বায়ুমণ্ডল ও তার গঠনকারী উপাদানভেদে বায়ুমন্ডলের বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে বৈচিত্র্যময় হয়।
- বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে চাপ, তাপ, আর্দ্রতা ও বায়ুপ্রবাহের পার্থক্য তৈরি হলেই প্রতিদিনের বায়ুপ্রবাহ, বায়ুতাপ ও চাপের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।
- কোনো স্থানের দৈনন্দিন বায়ুর গড় তাপ, চাপ, বায়ুপ্রবাহের বৈশিষ্ট্য, বায়ুর আর্দ্রতা, বারিপাত ইত্যাদি উপাদানের অবস্থা।
- কোনো নির্দিষ্ট স্থানের স্বল্পকালীন সময়ের বায়ুমণ্ডলের উপাদানসমূহের অবস্থাকে বলা হয় আবহাওয়া।
- আবহাওয়া নিয়ত পরিবর্তনশীল এবং এটি একটি ক্ষুদ্র এলাকার বায়ুমণ্ডলের স্বল্পমেয়াদী অবস্থাকে তুলে ধরে।
- আবহাওয়া সম্পর্কিত যে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা যায় “আবহাওয়া পূর্বাভাস কেন্দ্র” থেকে।
- সাধারণত আবহাওয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বলেই প্রতিঘন্টা বা প্রতি দিনের আবহাওয়া পর্যালোচনা করে আবহাওয়ার গড় বের করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৬৯৮.
আমাজন রেইনফরেস্ট কয়টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত?
  1. ৬টি 
  2. ৮টি 
  3. ৯টি 
  4. ১১টি 
ব্যাখ্যা

আমাজন রেইনফরেস্ট:
- আমাজন রেইনফরেস্ট হলো দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত পৃথিবীর বৃহত্তম ক্রান্তীয় বা নিরক্ষীয় রেইনফরেস্ট যা প্রায় ৭ মিলিয়ন বর্গ কি.মি. এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং আমাজন নদী অববাহিকার অধিকাংশ অংশ ধারণ করে।
- এটি মূলত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘনবর্ধন বনাঞ্চল।
- একে প্রায়শই "পৃথিবীর ফুসফুস" বলা হয়। 
- এটি বিশ্বের মোট জীববৈচিত্র্যের এক-তৃতীয়াংশের আবাসস্থল
- আমাজন রেইনফরেস্টে পাওয়া গেছে ১৬,০০০ প্রজাতি এবং ৩৯০ বিলিয়ন বিভিন্ন রকমের গাছ যারা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন বছর ধরে টিকে রয়েছে।
- আমাজন বন পৃথিবীর অক্সিজেনের একটি বড় অংশ সরবরাহ করে এবং বিপুল পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উল্লেখ্য,
- আমাজন বন ৯টি দেশ জুড়ে বিস্তৃত।
- দেশগুলো হলো: ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ভেনিজুয়েলা, সুরিনাম, পেরু, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, গায়ানা এবং ফ্রেঞ্চ গায়ানা।
- এর মধ্যে আমাজন বনের ৬৪% রয়েছে ব্রাজিলে।

উৎস: World Atlas.

৬,৬৯৯.
পানামা খাল কোন মহাদেশে অবস্থিত?
  1. ক) এশিয়া
  2. খ) আফ্রিকা
  3. গ) অস্ট্রেলিয়া
  4. ঘ) উত্তর আমেরিকা
ব্যাখ্যা
পানামা খাল: 
- আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- খালটি উত্তর আমেরিকার দেশ পানামাতে অবস্থিত।
- পানামা খালটির নির্মাণ ১৯০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছিল এবং ১৯১৪ সালে শেষ হয়েছিল।
- ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত পানামা খালটি আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- ১৯৭৯ সালের পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পানামা প্রজাতন্ত্রের যৌথ সংস্থা খালটির নিয়ন্ত্রণ করে।
- ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র পানামার কাছে খালটি পুরোপুরি হস্তান্তর করে।

অন্যদিকে,
- মিশরে অবস্থিত সুয়েজ খাল লোহিত সাগরকে ভূমধ্যসাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- জার্মানিতে অবস্থিত কিয়েল খাল উত্তর সাগরকে বাল্টিক সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।
- চীনে অবস্থিত গ্রান্ড খাল বিশ্বের দীর্ঘতম কৃত্রিম খাল। 

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,৭০০.
ওশেনিয়া মহাদেশে জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ কোনটি? [ মার্চ,২০২৬]
  1. নাউরু
  2. পালাউ
  3. টুভালু
  4. কিরিবাতি
ব্যাখ্যা

• ওশেনিয়া মহাদেশ:
- ওশেনিয়া হলো দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের সকল দ্বীপকে একত্রিত করে গঠিত একটি মহাদেশ। 
- এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ।
- ওশেনিয়ার মোট স্বাধীন দেশ ১৪টি।
- এই মহাদেশের সর্বশেষ স্বাধীন দেশ হলো পালাউ (Palau)।
- এটি ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাস্টশিপ থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা লাভ করে।

- ওশেনিয়া মহাদেশকে চারটি প্রধান অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে:
• অস্ট্রেলেশিয়া- অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড);
• মেলানেশিয়া- পাপুয়া নিউগিনি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, ভানুয়াতু, ফিজি, পালাউ);
• মাইক্রোনেশিয়া- ফেডারেল স্টেট অব মাইক্রোনেশিয়া, কিরিবাতি, নাউরু, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ;
• পলিনেশিয়া- সামোয়া, টোঙ্গা, টুভালু। 

- ওশেনিয়ার বৃহত্তম দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া।
- আর ক্ষুদ্রতম দেশ আয়তনে হলো নাউরু।
- জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম দেশ হলো টুভালু।

- এই মহাদেশের দীর্ঘতম নদী হলো মারে-ডার্লিং (Murray-Darling River system), যা অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভারত মহাসাগরে পতিত হয়েছে।
- মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত হলো পুনকাক জায়া, যা ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে অবস্থিত।

উৎস:
Worldometer [link]. 
World Population Review [link].