বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৬৪ / ৭২ · ৬,৩০১৬,৪০০ / ৭,১৯১

৬,৩০১.
বাংলাদেশের সর্বউত্তরে অবস্থিত স্থান কোনটি?
  1. ক) জায়গীর জোত
  2. খ) ছেঁড়া দ্বীপ
  3. গ) মনাকাষা
  4. ঘ) আখানইঠং
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে- পঞ্চগড়(জেলা), তেতুলিয়া(উপজেলা), বাংলাবান্ধা(ইউনিয়ন), জায়গীর জোত(স্থান)
- বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে- কক্সবাজার(জেলা), টেকনাফ(উপজেলা), সেন্টমার্টিন(ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ(স্থান)।
- বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগ­ঞ্জ(জেলা), শিবগঞ্জ(উপজেলা), মনাকাষা(স্থান)।
- বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে- বান্দরবান(জেলা), থানচি(উপজেলা), আখানইঠং(স্থান)।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৩০২.
এক্সোমণ্ডলে কোন দুটি উপাদানের আধিক্য বিদ্যমান?
  1. ক) অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন
  2. খ) হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন
  3. গ) আর্গন ও নাইট্রোজেন
  4. ঘ) হাইড্রোজেন ও নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলের সর্বশেষ স্তর হলো এক্সোমণ্ডল। তাপমণ্ডল থেকে উপরের দিকে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত এক্সোমণ্ডল বিস্তৃত।
এক্সোমণ্ডলে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম স্তরের প্রাধান্য বেশি। এছাড়া সামান্য পরিমাণে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও আর্গন গ্যাসও বিদ্যমান রয়েছে।
এই স্তরের তাপমাত্রা ৩০০ ডিগ্রি থেকে প্রায় ১৬৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
এক্সোমণ্ডলের পর থেকে আন্তগ্রহ বা ইন্টারপ্লানারি স্পেসের শুরু হয়েছে।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৩০৩.
ইউরিয়া সারের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে কোনটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক্লিংকার
  2. মিথেন গ্যাস
  3. কয়লা
  4. ফার্নেস ওয়েল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের সার কারখানাগুলোতে ইউরিয়া সার উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেন গ্যাস ব্যবহৃত হয়।
- প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রাপ্যতার জন্যে সিলেট, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে সার কারখানা গড়ে উঠেছে।
(তথ্যসূত্রঃ ভুগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী এবং বিসিআইসি ওয়েবসাইট)
৬,৩০৪.
আর্দ্র ও উষ্ণ বায়ু কোন শীতল পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে যে কুয়াশা তৈরী হয় তাকে বলে-
  1. অ্যাডভেকশান কুয়াশা
  2. বিকিরণ কুয়াশা
  3. বাষ্পীয় কুয়াশা
  4. উর্ধ্ব ঢাল কুয়াশা
ব্যাখ্যা
কুয়াশা (Fog):
- কুয়াশা হচ্ছে ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন বা তার কাছাকাছি জমা হওয়া মেঘ।
- মেঘ ও কুয়াশার মধ্যে স্থান ও গঠন প্রক্রিয়া ছাড়া ভৌতিক কোনো পার্থক্য নাই।
- বায়ুর উর্ধ্ব গমন ও রূদ্ধতাপীয় শীতলতার ফলে মেঘ গঠিত হয়।
- কিন্তু বিকিরনের মাধ্যমে তাপ বর্জন অথবা একটি শীতল তলের উপর দিয়ে বায়ু প্রবাহের ফলে কুয়াশা তৈরী হয়।
- আরেক ধরনের কুয়াশা তৈরী হয় যদি বায়ুতে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প যোগ হয় এবং বায়ু জলীয়বাস্প সম্পৃক্ত হয়।

i) শীতলতার ফলে সৃষ্ট কুয়াশা (Frogs caused by cooling):
ক) অ্যাডভেকশান কুয়াশা (Advection Fog): আর্দ্র ও উষ্ণবায়ু কোনো শীতল পৃষ্ঠের উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে কম্বলের মত স্তরের কুয়াশা তৈরী হতে থাকে যাকে অ্যাডভেকশান কুয়াশা বলে।

খ) বিকিরণ কুয়াশা (Radiation Fog): শান্ত, শীতল ও পরিচ্ছন্ন আবহাওয়া সমৃদ্ধ রাতে বিকিরণের ফলে ভূপৃষ্ঠ শীতল হলে শিশিরাংকের চেয়ে কম তাপমাত্রায়, ভূপৃষ্ঠের উপর পাতলা আবরণে কুয়াশা জমে। শীতলতার মাত্রার উপর নির্ভর করে কুয়াশার ঘনত্ব ও বৃদ্ধি পায়।
-অধিক ঘনত্বের কুয়াশা নিচে নেমে আসে এভাবে কুয়াশার পকেট তৈরী করে। বড় বড় কুয়াশা পকেট সাধারনত নদী উপত্যকায় দেখা যায়, ঐ সবক্ষেত্রে অনেক পুরুত্বের কুয়াশা স্তর ও সৃষ্টি হয়।

গ) উর্ধ্বঢাল কুয়াশা (Upslope Fog): অপেক্ষাকৃত আর্দ্র বায়ু পাহাড়ের ঢাল বেয়ে উপরে ওঠে যেতে থাকলে রূদ্ধতাপীয় শীতলতার ফলে যদি তাপমাত্রা শিশিরাংকে শীতল হয় তবে কুয়াশা জমা হতে থাকে। ভারী হওয়ায় এটি তখন ঢোল বেয়ে নীচে নেমে আসে।

ii) বাস্পীভবনের ফলে সৃষ্ট কুয়াশা (Evaporation Fog)
ক) বাষ্পীয় কুয়াশা (Steam fog): যখন শীতল বায়ু কোন উষ্ণ পানির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন ঐ বায়ুকে জলীয় বাষ্পে সম্পৃক্ত করতে কিছু পানি বাষ্পীভূত হয়। -এ বাষ্পীভূত বায়ু শীতল বায়ুর সংস্পর্শে ঘনীভূত হয় ও বায়ুতে ভাসতে থাকে; এর তাপমাত্রা নিচের পানির চেয়ে বেশী থাকে।
-এ বাষ্পীয় রূপ (Steaming appearance) কুয়াশার বাষ্পীয় কুয়াশা (Steam fog) বলে।

খ) সম্মুখবর্তী বা বারিপাত কুয়াশা (Frontal or Precipitation fog): যখন উষ্ণ ও শীতল বায়ু সংমিশ্রন বা সম্মুখ মিলন হয়, তখন উষ্ণ বায়ু শীতল বায়ুর উপরে উঠে যায় এবং মেঘের সৃষ্টি হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়।
-নিচের শীতল বায়ু যদি শিশিরাংকের কাছাকাছি তাপমাত্রায় থাকে তবে বেশ কিছু বৃষ্টি কণা বাষ্পীভূত হয়ে কুয়াশা তৈরী করে।
-এ ধরনের কুয়াশাকে সম্মুখবর্তি কুয়াশা বা বারিপাত কুয়াশা বলে।
-ফলে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ঘনীভূত পানিকণা ভূমিতে পতনের সময় আবার মেঘে পরিণত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি.এ/বি.এস.এস. প্রোগ্রাম,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩০৫.
প্রাকৃতিক মানচিত্র কোন স্কেলে অঙ্কন করতে হয়?
  1. বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র
  2. ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র
  3. ক ও খ উভয়ই
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মানচিত্র:
• স্কেলের উপর ভিত্তি করে মানচিত্রকে প্রধান দু'ভাগে ভাগ করা যায়।
- যথা:
১. ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র:
- যখন ব্যাপক এলাকাকে ছোট করে কাগজে অঙ্কন করা হয় তখন তাকে ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র বলে।
- এ ক্ষেত্রে সমগ্র পৃথিবী বা মহাদেশ বা দেশের বড় এলাকাকে একটি ছোট কাগজে দেখানো হয়।
- ভূ-চিত্রাবলীর মানচিত্র ও দেওয়াল মানচিত্র ক্ষুদ্র স্কেলের মানচিত্র।

২. বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র:
- ক্ষুদ্র এলাকাকে বৃহৎ স্কেলে অঙ্কন করে যখন অনেক বড় করে দেখান হয়, তখন তাকে বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র বলে।
- যেমন: ১"=১৬ মাইল; ১৬"= ১মাইল।
- যেমন মৌজা মানচিত্র বা ক্যাডাস্ট্রাল মানচিত্র, ভূ-সংস্থানিক মানচিত্র বৃহৎ স্কেলের মানচিত্র।

উল্লেখ্য,
প্রাকৃতিক মানচিত্র (Physical map):
- যে মানচিত্রে কোনো দেশ বা অঞ্চলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক ভূমিরূপ যেমন: পর্বত, মালভূমি, ভূমি, নদী, হ্রদ ইত্যানি সম্পর্কে তথ্য থাকে তাকে প্রাকৃতিক মানচিত্র বলে।
- প্রাকৃতিক মানচিত্র বৃহৎ স্কেলে অঙ্কন করা হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৩০৬.
ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র “SPARRSO” কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ১৯৭৬ সালে
  2. ১৯৭৮ সালে
  3. ১৯৭৭ সালে
  4. ১৯৮০ সালে
ব্যাখ্যা
• SPARRSO:
- বাংলাদেশের একমাত্র ঘূর্ণিঝড় ও দুর্যোগের পূর্বাভাস কেন্দ্র হলো SPARRSO (Space Research and Remote Sensing Organisations)।
- এটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি প্রতিষ্ঠান যা ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির প্রধান কার্যালয় ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র: SPARRSO ওয়েবসাইট।
৬,৩০৭.
গঙ্গা ও যমুনার মিলিত ধারা কী নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে?
  1. ক) যমুনা
  2. খ) পদ্মা
  3. গ) মেঘনা
  4. ঘ) ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
গঙ্গা ও যমুনার মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়৷ এই তিন নদীর মিলিত প্রবাহ মেঘনা নামে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী
৬,৩০৮.
বাংলাদেশের উচ্চতম পাহাড়ের নাম কী?
  1. বিজয়
  2. কেওক্রাডং
  3. গারো
  4. চন্দ্রনাথ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পাহাড়:

- বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং বৃহত্তম পাহাড় গারো পাহাড়।
- বাংলাদেশের ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ জেলাসমূহ গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।
- গারো পাহাড়ের উত্তর এবং উত্তর পশ্চিমে রয়েছে আসাম এবং পূর্বে মেঘালয়ে খাসি পাহাড়।
- আয়তন প্রায় ৮১৬৭ বর্গ কিলোমিটার। 
- গারো পাহাড়ের দীর্ঘতম নদীটির নাম সিমসাং।
- নদীটির উৎপত্তি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৪০০ মিটার উচ্চতায় নকরেক অঞ্চলে, পরবর্তীতে নদীটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে প্রবাহিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
- বাংলাদেশের উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং বা বিজয়, যা বান্দরবানে অবস্থিত এবং উচ্চতা ১২৩১ মিটার।
- চন্দ্রনাথ পাহাড় চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে অবস্থিত এবং যা হিন্দুদের পবিত্র তীর্থস্থান।
- ২০১৭ সালের দিকে একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাকা হাফং কে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ হিসাবে দাবি করেছে যা বান্দরবান জেলার মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত। তবে এটি সরকারিভাবে স্বীকৃত নয়।

তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
৬,৩০৯.
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা ও কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদ বিন্দুটি বাংলাদেশের কোন জেলায় পড়েছে?
  1. ঢাকা
  2. মুন্সীগঞ্জ
  3. ফরিদপুর
  4. মাগুরা
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা: 
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। 
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত। 
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- কর্কটক্রান্তি রেখা এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার ছেদ বিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।
- এছাড়াও বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে। 

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩১০.
ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোজনকারী একমাত্র প্রাকৃতিক পথ কোনটি?
  1. মালাক্কা প্রণালী
  2. জিব্রাল্টার প্রণালী
  3. পক প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা
জিব্রাল্টার প্রণালী:
- জিব্রাল্টার প্রণালী ইউরোপ থেকে আফ্রিকাকে পৃথক করেছে।
- ভূমধ্যসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে সংযোজনকারী একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
- জিব্রাল্টার প্রণালী পূর্বে ভূমধ্যসাগরকে পশ্চিমে আটলান্টিক মহাসাগরের সাথে সংযোগকারী সমুদ্র প্রণালী।
- এটি উত্তর আফ্রিকাকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইউরোপের আইবেরীয় উপদ্বীপ থেকে পৃথক করেছে।
- প্রণালীটি মরক্কো ও স্পেনকে পৃথক করে।
- যার গড় গভীরতা ১,২০০ ফুট (৩৬৫ মিটার)।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬,৩১১.
নিচের কোন দেশটিতে স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই? 
  1. সৌদি আরব
  2. নাউরু
  3. বাহরাইন
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• নদী বিহীন দেশ:
- কিছু দেশ এত ছোট যে সেখানে নদী থাকার জায়গাই নেই।
- অনেক ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র, শহর-রাষ্ট্র, অথবা যে-সব দেশে শুধুমাত্র মৌসুমি পানি প্রবাহ ঘটে।
- যা প্রকৃতপক্ষে স্থায়ী নদী হিসেবে বিবেচিত হয় না।
- এই মানদণ্ড অনুযায়ী, বিশ্বে মোট ১৯টি দেশ রয়েছে যেগুলোর মধ্যে কোনো স্থায়ী প্রাকৃতিক নদী নেই।

- নদী বিহীন দেশগুলো হলো যথা:
- কোমোরোস, জিবুতি, লিবিয়া, বাহামাস, বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত,ইয়েমেন,মাল্টা, মোনাকো, ভ্যাটিকান সিটি,  কিরিবাটি, নাউরু,  টোঙ্গা, টুভ্যুলু।

উৎস: World Atlas. 

৬,৩১২.
জোয়ার-ভাঁটার তেজ কটাল কখন হয়?
  1. ক) পঞ্চমীতে
  2. খ) সপ্তমীতে
  3. গ) অমাবস্যায়
  4. ঘ) অষ্টমীতে
ব্যাখ্যা
- পূর্ণিমা ও অমাবস্যার তিথিতে পৃথিবী, চন্দ্র ও সূর্য প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করে।
- এ সময় চন্দ্র ও সূর্যের মিলিত আকর্ষণের জন্য জোয়ারের পানি খুব বেশি ফুলে ওঠে।
- ফলে প্রবল জোয়ারের সৃষ্টি হয় তাকে তেজ কটাল বা ভরা কটাল বা ভরা জোয়ার বলে।

অন্যদিকে,
- অষ্টমীর তিথিতে চন্দ্র ও সূর্য পৃথিবীর সাথে এক সমকোণে থেকে পৃথিবীকে আকর্ষণ করে।
- তাই চন্দ্রের আকর্ষণে যেখানে জোয়ার হয় সূর্যের আকর্ষণে সেখানে ভাঁটা হয়।
- চন্দ্র পৃথিবীর নিকট থাকায় তার কার্যকরী শক্তি সূর্য অপেক্ষা বেশি।
- কিন্তু চন্দ্রের আকর্ষণে যে জোয়ার হয়, সূর্যের আকর্ষণের তা বেশি স্ফীত হতে পারে না। ফলে মরা কটাল হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩১৩.
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পৃথক করেছে- 
  1. জাভা সাগর এবং আন্দামান সাগর
  2. বঙ্গোপসাগর এবং ভারত মহাসাগর
  3. লোহিত সাগর ও আরব সাগর
  4. বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সাগর
ব্যাখ্যা

• আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ যা বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান সাগরকে পৃথক করে।
- দুটি প্রধান দ্বীপগুচ্ছ নিয়ে গঠিত, আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
- এই দ্বীপপুঞ্জগুলো বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত।
- এবং ভারতের অধীনস্থ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে মোট ৫৭২টি দ্বীপ রয়েছে্

উল্লেখ্য
- ২০০৪ সালে, ভারত মহাসাগরে সংঘটিত হয়।
-  শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট সুনামি এই দ্বীপপুঞ্জে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ করে।

উৎস: World Atlas.

৬,৩১৪.
আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করে কোন প্রণালী?
  1. দার্দানিলিস প্রণালী
  2. মোজাম্বিক প্রণালী
  3. বসফরাস প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা

পক প্রণালী: 
- এই প্রণালী ভারত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত।
- পক প্রণালী আরব উপসাগর এবং বঙ্গোপসাগরকে সংযুক্ত করে।
- এটি শ্রীলঙ্কার মান্নার জেলা এবং ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যকে পৃথক করেছে।
- শ্রীলঙ্কা ও ভারত পৃথক করেছে পক প্রণালী।

অন্যদিকে, 
- মোজাম্বিক প্রণালী - ভারত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- বসফরাস প্রণালী- মর্মর সাগর এবং কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করেছে।
- দার্দানিলিস প্রণালী- মর্মর সাগর ও ইজিয়ান সাগরকে যুক্ত করেছে।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৬,৩১৫.
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা ও কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদ বিন্দুটি ফরিদপুর জেলার কোন উপজেলায় পড়েছে?
  1. ভাঙ্গা
  2. মধুখালী
  3. সালথা
  4. বোয়ালমারী
ব্যাখ্যা
কর্কটক্রান্তি রেখা: 
- বাংলাদেশ ট্রপিক অব ক্যানসার বা কর্কটক্রান্তি রেখার উপর অবস্থিত। 
- সাড়ে ২৩° উত্তর অক্ষরেখা কর্কটক্রান্তি রেখা নামে পরিচিত। 
- এটি বাংলাদেশের পূর্ব-পশ্চিম বরাবর প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করেছে। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করেছে এমন জেলাগুলো হচ্ছে - চুয়াডাঙা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি।
- এছাড়াও, বাংলাদেশের উপর দিয়ে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা অতিক্রম করেছে। 
- কর্কটক্রান্তি রেখা এবং ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার ছেদ বিন্দু পড়েছে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
৬,৩১৬.
কে সর্বপ্রথম উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্যকে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন?
  1. সিউ-কা-ফা
  2. জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া
  3. লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য
  4. জ্যোতিরিন্দ্র সিনহা
ব্যাখ্যা
সেভেন সিস্টার্স:
- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- এই সাত রাজ্যের আয়তন ২,৬২,১৭৯ বর্গকিলোমিটার, যা ভারতের মোট এলাকার প্রায় ৭.৯৭ শতাংশ।
- এ অঞ্চলের জনসংখ্যা ভারতের মোট জনসংখ্যার ৩.৭৮ শতাংশ।
- ত্রিপুরার সাংবাদিক জ্যোতি প্রসাদ সাইকিয়া সর্বপ্রথম রাজ্যগুলোকে একত্রে ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে উল্লেখ করেন।
- ১৯৭২ সালে এই সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্সের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- আসামের মাধ্যমে রাজ্যগুলো ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
- আগে এসব রাজ্য ভারতের অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
- রাজ্যগুলাে হচ্ছে: অরুণাচল, আসাম, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা।

⇒ ভারতের সেভেন সিস্টার্সের রাজ্যসমূহ ও রাজধানী -
১. আসাম - দিসপুর,
২. মিজোরাম - আইজল,
৩. অরুনাচল - ইটানগর,
৪. মেঘালয় - শীলং,
৫. ত্রিপুরা - আগরতলা,
৬. মণিপুর - ইম্ফল,
৭. নাগাল্যান্ড - কোহিমা।

উৎস: Ministry of Home Affairs ওয়েবসাইট।
৬,৩১৭.
পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার ককেশাস অঞ্চলের মধ্যে কোন সাগর অবস্থিত?
  1. তিমুর সাগর 
  2. জাভা সাগর
  3. কাস্পিয়ান সাগর
  4. কৃষ্ণ সাগর
ব্যাখ্যা

কৃষ্ণ সাগর:
- কৃষ্ণ সাগর পূর্ব ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার কোকেশীয় অঞ্চলের মধ্যে অবস্থিত।
- এটি আটলান্টিক মহাসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রান্তীয় সাগর।
- এটি ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থান করে।
- এবং এর সীমানায় রয়েছে বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, ইউক্রেন, রাশিয়া, জর্জিয়া ও তুরস্ক।
- কৃষ্ণ সাগরের দক্ষিণ-মধ্য অংশের সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ২,২১০ মিটার (৭,২৫০ ফুট)।

উল্লেখ্য,
- কৃষ্ণ সাগর বসফরাস প্রণালীর মাধ্যমে মর্মর সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত।
- কৃষ্ণ সাগরকে দারদানেলিস প্রণালী ভূমধ্যসাগর ও এজিয়ান সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে।
- এটি পূর্ব ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে।
- এছাড়াও, কৃষ্ণ সাগর ক্রার্চ প্রণালী দ্বারা আজভ সাগরের সঙ্গে যুক্ত। 
----------------------------- 
অন্যদিকে, 
- তিমুর সাগর পূর্ব তিমুর ও অস্ট্রেলিয়ার মাঝে অবস্থিত।
- জাভা দ্বীপের উত্তরে জাভা সাগর অবস্থিত।
- কাস্পিয়ান সাগর এশিয়া ইউরোপের মাঝে, ককেসাস পর্বতমালার পূর্বে এবং স্তেপ ও মধ্য এশিয়ার পশ্চিমে অবস্থিত। 

উৎস: Britannica.

৬,৩১৮.
কোনটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়?
  1. ক) শৈত্যপ্রবাহ
  2. খ) ঘূর্ণিঝড়
  3. গ) পরিবেশ দূষণ
  4. ঘ) ভূমিকম্প
ব্যাখ্যা

• জাতিসংঘের প্রশিক্ষণ ও গবেষণা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান দুর্যোগসমূহকে চার ভাগে ভাগ করেছে।
• এগুলো হলোঃ
১) প্রাকৃতিক দুর্যোগ: বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, নদী ভাঙ্গন, ভূমিকম্প, শৈত্যপ্রবাহ ইত্যাদি।
২) দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ: মহামারী, খরা ইত্যাদি।
৩) মানবসৃষ্ট দুর্যোগ: যুদ্ধ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বনাঞ্চল ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ ইত্যাদি এবং
৪) দুর্ঘটনাজনিত দুর্যোগ।

৬,৩১৯.
নীল নদের উৎস কোনটি?
  1. ইথিওপিয়ার পবর্তমালা
  2. মিনেসোটার হ্রদ
  3. লেক ভিক্টোরিয়া
  4. আন্দিজ পর্বতমালা
ব্যাখ্যা

নীল নদ:
- নীল নদ আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী।
- নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬৬৫০ কি.মি।
- আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া নীল নদের উৎস ।
- বিভিন্ন দেশ হয়ে ভূ-মধ্যসাগরে নীল নদ পতিত হয়।
- নীলনদ ১১টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
- নীল নদের অববাহিকা মিশর, সুদান, দক্ষিণ সুদান, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, বুরুন্ডি, রুয়ান্ডা, উগান্ডা এবং তানজানিয়া জুড়ে বিস্তৃত।
- এই নদ দুটি উপনদী নিয়ে গঠিত: সাদা নীল এবং নীল নীল।

​তথ্যসূত্র - Britannica.com & Worldatlas.com

৬,৩২০.
কোনটি স্থানীয় বায়ুর উদাহরণ?
  1. আরব মালভূমির সাইমুম
  2. চীনের বৃষ্টিপাত ও ঝড়
  3. ভিয়েতনামের ঘূর্ণিবাত বায়ু
  4. বাংলাদেশের মৌসুমি বায়ু
ব্যাখ্যা
স্থানীয় বায়ু:

- স্থানীয় প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও বিবিধ ভৌগোলিক কারণে যে বায়ুপ্রবাহের সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় স্থানীয় বায়ুপ্রবাহ।
- রকি পবর্তের চিনুক, ফ্রান্সের কেন্দ্রীয় মালভূমি থেকে প্রবাহিত মিস্ট্রাল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের পম্পাস অঞ্চলের উত্তরে পাম্পেরু, আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব উপকূলে বোরা, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ ইতালিতে সিরাক্কা, আরব মালভূমির সাইমুম, মিসরের খামসিন ও ভারতীয় উপমহাদেশের লু কয়েকটি স্থানীয় বায়ুর উদাহারণ।
- উপত্যকা ও পার্বত্য বায়ু দিনের বেলায় পর্বতের গা বেয়ে উপরের দিকে যে বায়ু প্রবাহিত হয় তাকে উপত্যকা বায়ু।
- ভূমির বন্ধুরতায় পার্বত্য অঞ্চলে বায়ুপ্রবাহ ভিন্নরকম হয়। দিনের বেলায় পর্বত উপত্যকার তলদেশ থেকেও পর্বত গাত্র অনেক বেশি উষ্ণ হয়। এসময় পর্বতের পাদদেশের নিম্নচাপ ও উপত্যকার তলদেশে উচ্চচাপ সৃষ্টি হয় বলেই এই ধরনের বায়ুপ্রবাহ সৃষ্ট হয়।
- অপরদিকে রাতের বেলায় তাপ বিকিরণের ফলে পর্বতগাত্র শীতল হয় এবং এ সময় উপত্যকা উষ্ণ থাকে। এসময় পর্বতের গা বেয়ে ভারী ও শীতল বায়ু উপত্যকার নিচের দিকে নেমে আসে। এই প্রবাহিত বায়ুকে বলা হয় পার্বত্য বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসওএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩২১.
বাংলাদেশের কোন নদীকে ‘চর উৎপাদী’ নদী বলা হয়?
  1. পদ্মা
  2. যমুনা
  3. মেঘনা
  4. তিস্তা
ব্যাখ্যা
চর উৎপাদী নদী:
- নদীখাতে অতিরিক্ত পলি সঞ্চয়নের কারণে বহুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়।
- এরূপ বহু শাখা বিশিষ্ট পানির ধারা অনেকটা চুলের বিনুনীর মতো দেখতে।
- একে বিনুনী নদী বা চর উৎপাদী নদীও বলা হয়।
- বাংলাদেশের যমুনা নদীতে এ ধরনের বিনুনী বিন্যাস দেখা যায়।
- এজন্য যমুনা নদীকে 'চর উৎপাদী' নদী বলা হয়।

উল্লেখ্য,
- যমুনা নদী মূলত ব্রহ্মপুত্রের শাখা।
- যমুনা নদীর পূর্ব নাম ছিল জোনাই নদী।
- তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতধারাটি যমুনা নামে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে গোয়ালন্দের কাছে এসে পদ্মার সাথে মিলিত হয়েছে।
- যমুনার শাখানদী হলো- ধলেশ্বরী, বুড়িগঙ্গা।
- উপনদীগুলো হলো- তিস্তা, ধরলা, করতোয়া, আত্রাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩২২.
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে বিভক্তকারী নদী কোনটি?
  1. সাঙ্গু
  2. নাফ
  3. হালদা
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা

নাফ নদী:
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে পৃথক করেছে নাফ নদী।
- নাফ নদী কক্সবাজার জেলার সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব কোণ দিয়ে প্রবাহিত প্রলম্বিত খাঁড়ি সদৃশ নাফ নদী মায়ানমারের আরাকান থেকে কক্সবাজার জেলাকে বিভক্ত করেছে।।
- কক্সবাজার জেলার দক্ষিণে এটি একটি বড় নদী।
- আরাকান ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের অন্যান্য পাহাড় থেকে উৎসারিত নাফ নদী বঙ্গোপসাগরে এসে পড়েছে।
- ১.৬১ কিমি থেকে ৩.২২ কিমি প্রস্থবিশিষ্ট এই নদী জোয়ারভাটা প্রবণ।
- বাংলাদেশের দক্ষিণতম উপজেলা টেকনাফ নাফ নদীর ডান তীরে অবস্থিত।
- মায়ানমারের আকিয়াব বন্দর নাফ নদীর বাম তীরে অবস্থিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৩২৩.
বাংলাদেশের খরাপ্রবণ এলাকা মূলত কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. উত্তরাঞ্চলে
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. দক্ষিণাঞ্চলে
  4. ক ও খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
খরা: 
- দীর্ঘ সময় ধরে চলা শুষ্ক আবহাওয়া, অপর্যাপ্ত বৃষ্টি, বৃষ্টিপাতের তুলনায় বাষ্পীভবন ও প্রস্বেদনের পরিমাণ বেশি হলে খরার সৃষ্টি হয়।
- এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দেখা দেয় পানির অভাব।
- কুয়া, খাল, বিলের মতো নিত্যব্যবহার্য পানির আধার শুকিয়ে যায়।
- ১৯৬০ থেকে ১৯৯১ সাল, এই সময়সীমার মাঝে বাংলাদেশ মোট ১৯টি খরার মুখোমুখি হয়েছিলো।
- এর মাঝে সবচেয়ে তীব্র ছিল ১৯৬১, ১৯৭২, ১৯৭৬, ১৯৭৯ ও ১৯৮৯ সালের খরা।
- এরপর ১৯৯৭ সালেও তীব্র খরা দেখা দেয়।
- সেই খরার কারণে কৃষিতে প্রায় ৫০ কোটি ডলারের ক্ষতি মোকাবেলা করতে হয় বাংলাদেশকে।
- সেসময় ১০ লাখ টন ধান ক্ষতির শিকার হয়। যার মধ্যে ছয় লাখ টন ছিল রোপা আমন।
- সব মিলিয়ে কৃষিতে এ ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫০ কোটি ডলার।
- এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট অ্যান্ড ডিজাস্টার রিস্ক অ্যাটলাস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে দেশের প্রায় ২২টি জেলা খরার ঝুঁকিতে রয়েছে।
- এর মধ্যে খুবই উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ছয় জেলা।
- খরাপ্রবণ এসব এলাকা মূলত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত।

উৎস: বিবিসি বাংলা [৩০ জুন ২০২৪]
৬,৩২৪.
ইসরাইল-এর সমুদ্রবন্দর কোনটি?
  1. ক) আকাবা
  2. খ) আন্টওয়ার্প
  3. গ) জেদ্দা
  4. ঘ) হাইফা
ব্যাখ্যা
হাইফা ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত ইসরাইলের প্রধান সমুদ্রবন্দর।
জর্ডানের সমুদ্রবন্দরের নাম আকাবা।
আন্টওয়ার্প বেলজিয়ামের সমুদ্রবন্দর।
জেদ্দা সৌদি আরবের সমুদ্রবন্দর।
উৎসঃ ব্রিটানিকা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের ওয়েবসাইট
৬,৩২৫.
কোন নদী গারো পাহাড় থেকে উৎপন্ন?
  1. ধলেশ্বরী
  2. বলেশ্বরী
  3. সুরমা
  4. সোমেশ্বরী
ব্যাখ্যা
সোমেশ্বরী নদী: 
- উত্তরের গারো পাহাড় থেকে নেমে আসা নদী সোমেশ্বরী। 
- সোমেশ্বরী নদীর আগের নাম ছিল 'সমসাঙ্গ'। 
- সোমেশ্বরী নদীর উৎপত্তিস্থল আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে। 
- নেত্রকোণার দূর্গাপুর উপজেলার বিজয়পুর (বাংলাদেশের একমাত্র সাদা মাটির পাহাড় নামে খ্যাত) ও ভবানীপুর গ্রামের ভিতর দিয়ে এই সোমেশ্বরী নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- বছরের বেশিরভাগ সময় সোমেশ্বরীর একপাশ জুড়ে থাকে বালুচর, অন্য পাশে হালকা নীলাভ জল।

উল্লেখ্য, গারো পাহাড়ে কংস নদীরও উৎপত্তি। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৩২৬.
পৃথিবীর গভীরতম মহাসাগর কোনটি?
  1. ক) আটলান্টিক মহাসাগর
  2. খ) প্রশান্ত মহাসাগর
  3. গ) ভারত মহাসাগর
  4. ঘ) উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
পৃথিবীর গভীরতম ও বৃহত্তম মহাসাগর হলো প্রশান্ত মহাসাগর বা প্যাসিফিক ওশান। প্রশান্ত মহাসাগরের গড় গভীরতা ৪,২৭০ মিটার এবং আয়তন ১৬.৬ কোটি বর্গকিলোমিটার।

প্রশান্ত মহাসাগরে পৃথিবীর গভীরতম সমুদ্রখাত মারিয়ানা ট্রেঞ্চ অবস্থিত। মারিয়ানা ট্রেঞ্চের চ্যালেঞ্জার ডিপ হলো পৃথিবীর গভীরতম স্থান যার গভীরতা প্রায় ৩৬,১৯৭ ফুট।

আয়তনে ও গভীরতায় পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর হলো দক্ষিণ মহাসাগর। এটির আয়তন ১.৪৭ কোটি বর্গকিলোমিটার এবং গড় গভীরতা ১৪৯ মিটার।

(তথ্যসূত্র: মাধ্যমিক ভূগোল ও পরিবেশ এবং ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৬,৩২৭.
পৃথিবীর সর্বোচ্চ জলপ্রপাত কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ভেনেজুয়েলা
  2. ব্রাজিল
  3. কানাডা
  4. জম্বিয়া
ব্যাখ্যা
• অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত:
- পৃথিবীর সর্বোচ্চ জলপ্রপাত হল - অ্যাঞ্জেল জলপ্রপাত।
- এটি কেরেপাকুপাই মেরি নামেও পরিচিত।
- এটি ভেনেজুয়েলার কানাইমা ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত।
- এই জলপ্রপাতের উচ্চতা - ৩,২১২ ফুট।
- এখানে বছরের উষ্ণতম মাসে জলপ্রপাতের জল মাটিতে পড়ার আগেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা।
৬,৩২৮.
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে নদীর সংখ্যা -
  1. ৯০৩টি
  2. ৯০৫টি
  3. ৯০৭টি
  4. ৯০৯টি
ব্যাখ্যা
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দেশে নদীর সংখ্যা - ৯০৭টি।

- ১০ আগস্ট, ২০২৩ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন দেশের নদ-নদীর সংখ্যা ও তাদের দৈর্ঘ্য সংক্রান্ত তথ্যের একটি খসড়া তালিকা প্রকাশ করে। তালিকায় থাকা সব নদী জীবন্ত, অর্থাৎ এসব নদী মরে যায়নি। বর্ষায় এসব নদীতে পানি থাকে। কিছু নদী শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যায়। তবে একেবারে অস্তিত্ব নেই বা হারিয়ে গেছে - এমন কোনো নদী তাদের তালিকায় নেই। প্রকাশিত তথ্য অনুসারে -

- মোট নদী -  ৯০৭টি।
- দীর্ঘতম নদী - ইছামতী (৩৩৪ কিলোমিটার)।
- বিভাগ বিবেচনায় সর্বোচ্চ নদী - সিলেট বিভাগে (১৫৭টি)।
- সবচেয়ে কম নদী চট্টগ্রাম বিভাগে (৬০টি)।
- ২টি নদীর দৈর্ঘ্য ৩০০ কিলোমিটারের বেশি, এগুলো হলো ইছামতী ও ধনু।

তথ্যসূত্র: নদী রক্ষা কমিশন ওয়েবসাইট।
৬,৩২৯.
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের অপর নাম কী?
  1. নিউমুর দ্বীপ
  2. হাতিয়া
  3. সোনাদিয়া দ্বীপ
  4. শাহ পরীর দ্বীপ
ব্যাখ্যা
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ:
- এটি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার অন্তর্ভূক্ত বঙ্গোপসাগরের অগভীর সামুদ্রিক মহীসোপান (continental shelf) এলাকায় জেগে ওঠা একটি  উপকূলবর্তী দ্বীপ। 
- দ্বীপটি মূলত  গঙ্গা-পদ্মা নদীপ্রণালী-এর বিভিন্ন শাখা নদীর পলল অবক্ষেপণের ফলে গড়ে উঠেছে।
- দ্বীপটির বর্তমান আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার। 
- ১৯৭০ সালের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের পর হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনার অদূরে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপ জেগে ওঠে।
- ১৯৭১ সালের মাঝামাঝি সময়ে দ্বীপটির অভ্যুদয় ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়।
- ভারত নতুন জেগে ওঠা দ্বীপটিকে ‘নিউমুর দ্বীপ’ The New Moore Island) নামে চিহ্নিত করে।
- সে সময় পশ্চিমবঙ্গে দ্বীপটিকে কখনও ‘নিউমুর’ আবার কখনও ‘পূর্বাশা’ নামে অভিহিত করা হতো।
- ভারত সরকারও দ্বীপটিকে নিজ রাষ্ট্রীয় সীমানার অন্তর্ভূক্ত বলে দাবী করে থাকে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৩০.
শুভলং ঝর্ণা কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. বান্দরবন
  2. সিলেট
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
ব্যাখ্যা

শুভলং ঝর্ণা:
- শুভলং ঝর্ণা বাংলাদেশের রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলায় অবস্থিত।
- রাঙ্গামাটি সদর হতে শুভলং ঝর্ণার দুরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার।
- শুকনো মৌসুমে শুভলং ঝর্নায় খুব সামান্য পানি থাকে।
- বর্ষা মৌসুমে শুভলং ঝর্ণার জলধারা প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু থেকে নিচে আছড়ে পড়ে কাপ্তাইয়ের জলে গিয়ে মেশে।

উল্লেখ্য,
- রাঙামাটির অন্যান্য কিছু দর্শনীয় স্থান- হ্রদ, চাকমা রাজবাড়ি, রাজবন বৌদ্ধ বিহার, পর্যটন ঝুলন্তত ব্রিজ, ফুরামোন পর্বত, উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৩১.
বৈশ্বিক উষ্ণতার মূল কারণ-
  1. ক) কার্বন ডাই অক্সাইড বৃদ্ধি
  2. খ) নাইট্রাস অক্সাইড বৃদ্ধি
  3. গ) অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি
  4. ঘ) ক ও খ
ব্যাখ্যা
বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রধান কারণ - কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন, সিএফসি, নাইট্রাস অক্সাইড৷ এসবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া৷ গ্রিন হাইজ গ্যাসগুলোর মূল উৎস হচ্ছে - যানবাহন, শিল্প-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ইত্যাদি থেকে সৃষ্ট ধোয়া৷
উৎসঃ বিজ্ঞানঃ নবম দশম শ্রেণী
৬,৩৩২.
'চর কুকড়ি মুকড়ি' কোথায় অবস্থিত? 
  1. লক্ষীপুর
  2. ভোলা
  3. ফেনী
  4. নোয়াখালী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের চরসমূহ:
- নদীর মাঝে বা মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে জেগে উঠা ভূখণ্ড চর নামে পরিচিত।
- লক্ষ্মীপুর জেলা: চর গজারিয়া ও চর আলেকজান্ডার।
- ভোলা জেলা: চরফ্যাশন, চর মানিক, চর কুকড়ি মুকড়ি, চর নিউটন, চর নিজাম প্রভৃতি।
- নোয়াখালী জেলা: ভাসান চর, সুবর্ণ চর, চর শ্রীজনী, চর শাহাবানী প্রভৃতি।
- ফেনী জেলা: মুহুরীর চর।
- রাজশাহী জেলা: নির্মল চর।
- সুন্দরবন: দুবলার চর, পাটনি চর।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৩৩৩.
বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগে কোনটি অবস্থিত?
  1. ১২০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  2. ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা
  3. ১২০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
  4. ৯০ ডিগ্রি পশ্চিম দ্রাঘিমারেখা
ব্যাখ্যা
প্রমাণ সময় (Standard Time):
- দ্রাঘিমারেখার উপর মধ্যাহ্ন সূর্যের অবস্থানের সময়কালকে দুপুর ১২টা ধরে স্থানীয় সময় নির্ধারণ করলে একই দেশের মধ্যে সময় গণনার বিভ্রাট হয়।
- সেজন্য প্রত্যেক দেশের একটি প্রমাণ সময় নির্ণয় করা হয়।
- প্রত্যেক দেশেই সেই দেশের মধ্যভাগের কোনো স্থানের দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী যে সময় নির্ণয় করা হয় সে সময়কে ঐ দেশের প্রমাণ সময় বলে।
- অনেক বড়ো দেশ হলে কয়েকটি প্রমাণ সময় থাকে।
- আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের চারটি এবং কানাডাতে পাঁচটি প্রমাণ সময় রয়েছে।
- গ্রিনিচের (০ ডিগ্রি দ্রাঘিমা) স্থানীয় সময়কে সমগ্র পৃথিবীর প্রমাণ সময় হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রমাণ সময় গ্রিনিচের সময় অপেক্ষা ৬ ঘণ্টা অগ্রবর্তী।
- ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমারেখা বাংলাদেশের প্রায় মধ্যভাগে অবস্থিত।
- এ কারণে এ দ্রাঘিমার স্থানীয় সময়কে বাংলাদেশের প্রমাণ সময় ধরে কাজ করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,৩৩৪.
মেঘনা নদীর উপনদী কোনটি?
  1. মহানন্দা
  2. পুনর্ভবা
  3. কুলিখ
  4. তিতাস
ব্যাখ্যা
মেঘনা নদী:
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী।
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।

⇒ উপনদী:
- তিতাস,  ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া, বাউলাই।

« অন্যদিকে,
- ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদের প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।
- পদ্মা নদীর উপনদী: মহানন্দা, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, নগর, কুলিখ।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৩৩৫.
বাংলাদেশের অতি তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. রংপুর
  2. কুষ্টিয়া
  3. দিনাজপুর
  4. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ব্যাখ্যা
খরা:
- কোনো এলাকা বৃষ্টিহীন অবস্থায় থাকলে বা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। এর ফলে মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় এবং পানির স্তর নিচে নেমে যায়। এরূপ অবস্থাকে খরা বলে।
- বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহে খরার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
- বিগত অর্ধ শতকের ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৭৮, ১৯৭৯, ১৯৮১, ১৯৮২, ১৯৮৯, ১৯৯২, ১৯৯৪, ১৯৯৫ এবং ২০১৬ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অধিক মাত্রায় খরা দেখা দেয়।

⇒ বাংলাদেশের খরাপ্রবণ অঞ্চল:
- অতি তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল: রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ,
- তীব্র খরাপ্রবণ অঞ্চল: দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশোর জেলা এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশবিশেষ,
- মাঝারি খরাপ্রবণ অঞ্চল: রংপুর ও বরিশাল জেলা এবং দিনাজপুর, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার অংশবিশেষ,
- সামান্য খরাপ্রবণ অঞ্চল: তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র এবং মেঘনার পললভূমি এলাকা।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৩৬.
বাংলাদেশের পাহাড়সমূহ কোন যুগের?
  1. ক) প্লাইস্টোসিন যুগের
  2. খ) টারশিয়ারি যুগের
  3. গ) কোয়াটারনারী যুগের
  4. ঘ) মায়োসিন যুগের
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- আজ থেকে প্রায় ২০ লক্ষ বছর পূর্বের সময়কে টারশিয়ারি যুগ বলা হয়।
- বাংলাদেশের পাহাড়শ্রেণী ভূতাত্ত্বিকভাবে টারশিয়ারি যুগের।
- বাংলাদেশে অবস্থিত টারশিয়ারি যুগের পাহাড়গুলোকে আবার দুইটি ভাগে বিভক্ত:
i) বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান এবং চট্টগ্রাম জেলার অংশবিশেষে অবস্থিত পাহাড়সমূহ নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।
ii) বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ছোট-বড় পাহাড়গুলো নিয়ে এ অঞ্চল গঠিত।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশের ভূতত্ত্ব তিন ধরণের:
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ,
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ।
৬,৩৩৭.
কোনো এক আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনাকে কী বলে?
  1. আপদ
  2. বিপর্যয়
  3. দুর্যোগ
  4. প্রাকৃতিক দুর্যোগ
ব্যাখ্যা
দুর্যোগ ও বিপর্যয় (Disaster and Hazard): 
- দুর্যোগ হচ্ছে এরূপ ঘটনা, যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
- ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
- দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে ঐ জনবসতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে না।
- এর জন্য বাইরের সাহায্য বা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়।
- অন্যদিকে বিপর্যয় বলতে বোঝানো হয়েছে কোনো এক আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনাকে।
- এই ঘটনা জীবন, সম্পদ ইত্যাদির উপর প্রতিকূলভাবে আঘাত করে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,৩৩৮.
কোন ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টি গোচরীভূত হয়?
  1. ক) হেইল-বপ
  2. খ) লেক্সেল
  3. গ) হ্যালির ধূমকেতু
  4. ঘ) কোহুটেক
ব্যাখ্যা
ধূমকেতু :
- ধূমকেতু এক ধরনের জ্যোতিষ্ক। ধূমকেতুর দুইটি অংশ রয়েছে। যেমন: মস্তক বা কেন্দ্র ও পুচ্ছ। 
- কোনো কোনো ধূমকেতুর মস্তক বা কেন্দ্র গ্রহ অপেক্ষা বড় হয়ে থাকে।
- ধূমকেতুর রয়েছে গ্যাসীয় পদার্থের তৈরি সুদীর্ঘ পুচ্ছ।
- অধিকাংশ ধূমকেতু উপবৃত্তাকার কক্ষপথে গ্রহসমূহের আবর্তন পথের উল্টোদিকে ছুটে চলে।
- হ্যালির ধূমকেতু প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর আকাশে দৃষ্টিগোচরীভূত হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৩৯.
'ফিশার ভিলেজ' কোন দুটি জেলায় অবস্থিত?
  1. মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুর
  2. শরীয়তপুর ও নেত্রকোনা
  3. ফরিদপুর ও বরিশাল
  4. খুলনা ও কিশোরগঞ্জ
ব্যাখ্যা
২১ জুন ২০২১ সালে, শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ‘হাইলসার’ গ্রাম ও নেত্রকোনার ‘দক্ষিণ বিশিউড়া’ গ্রামকে ‘ফিশার ভিলেজ’ হিসেবে ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করা হয়।
সোর্স: দৈনিক পত্রিকা
৬,৩৪০.
ডাউকি ফল্ট বরাবর একটি প্রচণ্ড ভূমিকম্পের পর বাংলাদেশের কোন নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে?
  1. ব্ৰহ্মপুত্র নদী
  2. পদ্মা নদী
  3. কর্ণফুলি নদী
  4. মেঘনা নদী
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra):
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এরপর ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- ধরলা ও তিস্তা প্রধান উপনদী।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের মাটির নিচে ভূমিকম্পের দুটি বড় উৎস আছে।
- একটি হচ্ছে উত্তরাঞ্চলের ডাউকি চ্যুতি বা ফাটল (ফল্ট)।
- ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) প্রথম আলো।
৬,৩৪১.
নিম্নের কোন জলপ্রপাতটি সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত?
  1. স্ট্যানলি জলপ্রপাত
  2. গুয়ারিয়া জলপ্রপাত
  3. স্টবাক জলপ্রপাত
  4. লিভিংস্টোন জলপ্রপাত
ব্যাখ্যা
স্টবাক জলপ্রপাত:
- স্টবাক জলপ্রপাত সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত।
- ইউরোপীয় মহাদেশে অবস্থিত এই জলপ্রপাতের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট (৯৮৪ ফুট)।
- এটি সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ জলপ্রপাত।
- গ্রীষ্মে উষ্ণ বাতাস চারদিকে জল ঘোরা করে, যাতে জলপ্রপাতগুলি সমস্ত দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এছাড়াও,
- গুয়ারিয়া জলপ্রপাত ব্রাজিলে অবস্থিত।
- এঞ্জেল জলপ্রপাত ভেনিজুয়েলায় অবস্থিত।
- নায়াগ্রা জলপ্রপাত যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অবস্থিত।
- স্ট্যানলি ও লিভিংস্টোন জলপ্রপাত কঙ্গোতে অবস্থিত। 

উৎস: Britannica.
৬,৩৪২.
নিচের কোনটি যমুনা নদীর শাখানদী?
  1. আত্রাই
  2. শীতলক্ষ্যা
  3. ধলেশ্বরী
  4. বুড়িগঙ্গা
ব্যাখ্যা

• যমুনা (Jamuna):
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়।
- সেটিই আজকের যমুনা নদী।
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়।
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে।
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৩৪৩.
'তিতাস' নদীর তীরে কোন শহর?
  1. কুমিল্লা
  2. ভৈরব
  3. কিশোরগঞ্জ
  4. ব্রাক্ষণবাড়িয়া
ব্যাখ্যা

- 'তিতাস' নদীর তীরে প্রধান শহর হলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

• তিতাস নদী: 
- তিতাস নদী বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রধান ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী।
- এটি একটি আন্তঃসীমান্ত নদী, যা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত।
- এটি মেঘনা নদীর একটি উপনদী। 
- তিতাস নদী মেঘনা নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করে, আখাউড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলা অতিক্রম করে আবার মেঘনায় মিলিত হয়।
- এর গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ৯৮ কিলোমিটার। 
- এই নদীর নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত 'তিতাস গ্যাস ফিল্ড' (বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র) নামকরণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

৬,৩৪৪.
এশিয়ার দীর্ঘতম নদী কোনটি?
  1. ইয়াংজি নদী
  2. নীল নদ
  3. মিসিসিপি নদী
  4. হলুদ নদী
ব্যাখ্যা
• ইয়াংজি নদী এশিয়ার দীর্ঘতম নদী, যার দৈর্ঘ্য ৩,৯১৫ মাইল।
• এটি তিব্বতের মালভূমি থেকে শুরু হয়ে ১১টি প্রদেশের মধ্য দিয়ে পূর্ব চীন সাগরে পৌঁছানোর আগে প্রবাহিত হয়। 
• এশিয়ার দ্বিতীয় দীর্ঘতম হলুদ নদী।

অন্যদিকে,
- নীল নদের অববাহিকায মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠে।
- বিশ্বের  দীর্ঘতম নদী- নীল নদ।

উৎস : WorldAtlas {লিংক}
৬,৩৪৫.
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে কোনটি?
  1. সুয়েজ খাল
  2. পানামা খাল
  3. মালাক্কা প্রণালী
  4. পক প্রণালী
ব্যাখ্যা
পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ কে পৃথক করেছে।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৬,৩৪৬.
'চলনবিল' সাম্প্রতিককালের কোন প্লাবন সমভূমিতে অবস্থিত?
  1. পাদদেশীয় পলল সমভূমি
  2. সিলেট অববাহিকা
  3. গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি
  4. ব-দ্বীপ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলো হলো:
• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
• সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম এ এলাকার নদীগুলো প্রায়ই গতি পরিবর্তনের কারণে নতুন নতুন পললভূমি গঠিত হতে দেখা যায়।
- এ সমভূমির গড় উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার।

দেশের সমগ্র সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি একই ধরনের নয় বলে একে আবার নিম্নলিখিত কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে আলোচনা করা যায়। যথা: 
ক) কুমিল্লার বা ত্রিপুরার সমভূমি,
খ) পাদদেশীয় পলল সমভূমি,
গ) সিলেট অববাহিকা,
ঘ) গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি,
ঙ) ব-দ্বীপ।

⇒ গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনার প্লাবন সমভূমি:
- বৃহত্তর ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের অংশ বিশেষ নিয়ে এ প্লাবন সমভূমি গঠিত।
- এই অঞ্চলেও বেশ কিছু বিল ও হাওড় আছে।
- বাংলাদেশের বৃহত্তম বিল 'চলনবিল' এই এলাকাতে অবস্থিত
- এ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থানই বর্ষার সময় পানিতে প্লাবিত হয়।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৪৭.
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমা বিরোধ মামলার রায় হয় কত সালে?
  1. ২০১৪ সালের ৭ জুলাই
  2. ২০১২ সালের ৭ জুলাই
  3. ২০১২ সালের ১৪ মার্চ
  4. ২০১৪ সালের ১৪ মার্চ
ব্যাখ্যা
• সমুদ্র সীমা:
- বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মামলার রায় হয় ২০১২ সালের ১৪ মার্চ।
- জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল International Tribunal for the Law of the Sea (ITLOS) এ সমুদ্রসীমা বিষয়ক এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।
এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ লাভ করে ১,১১,৬৩১ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমা।

অন্যদিকে,
- PCA (Permanent Court of Arbitration) আদালতে  ৭ই জুলাই, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি হয়।

উৎস: সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ওয়েবসাইট এবং বিবিসি পত্রিকা রিপোর্ট।
৬,৩৪৮.
সিডর- কী?
  1. ক) ঘূর্ণিঝড়
  2. খ) সুনামি
  3. গ) টাইফুন
  4. ঘ) সাইক্লোন
ব্যাখ্যা
• সিডর হচ্ছে ঘূর্ণিঝড়। 

• সিডর (Sidr)  এ যাবৎকালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী।
- বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রীয় অঞ্চল থেকে উৎপত্তি লাভের পরই ক্রমশ শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে।
- এ সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘন্টায় প্রায় ২৬০ কিমি সাফাইর-সিম্পসন (Saffire-Simpson scale) অনুযায়ী ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়ের সমতুল্য।
- ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রচন্ডভাবে আঘাত করে।
- ঘূর্ণিঝড় এবং তদুপরি জলোচ্ছাসের প্রভাবে প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারায়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় ছাড়াও ভারতের চেন্নাই, তামিলনাড়ু এবং আরও কিছু রাজ্য সিডর এর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
- তবে বাংলাদেশে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বাধিক। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 
৬,৩৪৯.
পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম খাল হচ্ছে -
  1. সুয়েজ খাল
  2. পানামা খাল
  3. গ্রান্ড খাল
  4. ম্যানচেস্টার খাল
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম খাল গ্রান্ড খাল। 

গ্রান্ড খাল:

- গ্রান্ড খাল পৃথিবীর বৃহত্তম কৃত্রিম খাল হিসেবে পরিচিত।
- এটি চীনের বেইজিং এবং হ্যাংচ্যাং এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত এবং এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮০০ কিলোমিটার।
- গ্রান্ড খালকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- এই খালটি প্রথমে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছিল, তবে ৬০৭ সালে এটি পুনঃউদ্বোধন করা হয়।

এছাড়াও, 
পানামা খাল:
- পানামা খাল (Panama Canal) পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃত্রিম জলপথ।
- খালটি উত্তর আমেরিকাকে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে।
- প্রশান্ত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরকে যুক্ত করেছে পানামা খাল।
- খালটি তৈরি করেছিলো যুক্তরাষ্ট্র।

সুয়েজ খাল:
- সুয়েজ খালের অবস্থান সিনাই উপদ্বীপ, মিশর।
- সুয়েজ খাল সংযুক্ত করেছে - ভূমধ্যসাগর ও লোহিত সাগরকে।
- সুয়েজ খাল পৃথক করেছে - এশিয়া ও আফ্রিকা মহাদেশকে।
- এর খনন কাজ শুরু হয় ১৮৫৯ সালে।
- সুয়েজ খাল মিশর জাতীয়করণ করে ১৯৫৬ সালে।

উৎস: Britannica ও প্রত্রিকা নিউজ। 

৬,৩৫০.
পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা কোনটি?
  1. লাইন অব ডিমারকেশন
  2. সনেরা লাইন
  3. পার্পল লাইন
  4. ম্যাকমোহন লাইন
ব্যাখ্যা
বিভিন্ন দেশের সীমানা:

- ডুরান্ড লাইন - পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- ম্যাকমোহন লাইন - ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা।
- রেডক্লিফ লাইন - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমারেখা।
- লাইন অব ডিমারকেশন - পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব কন্ট্রোল - ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমানা।
- লাইন অব একচুয়াল কন্ট্রোল - চীন ও ভারত মধ্যে সীমানা।
- পার্পল লাইন - ইসরাইল ও সিরিয়ার মধ্যে সীমানা।
- সনেরা লাইন - মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র মধ্যকার সীমানা।

তথ্যসূত্র - Britannica.com
৬,৩৫১.
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কী ধরনের বনভূমি?
  1. স্রোতজ বনভূমি
  2. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ
  3. ক্রান্তীয় পাতাঝরা 
  4. পত্র পতনশীল জাতীয়
ব্যাখ্যা

• লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান:
- মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।
- ১৯২৫ সালে বনায়ন করে সৃষ্ট বনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে।
- লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ জাতীয় বনের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা।
- এটি একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল।
- এর আয়তন ১২৫০ হেক্টর।
- বাংলাদেশের ৭টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও ১০টি জাতীয় উদ্যানের মধ্যে এটি অন্যতম।
- বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে এই বনকে 'জাতীয় উদ্যান' হিসেবে ঘোষণা করে।
- বিলুপ্তপ্রায় উল্লুকের জন্য এ বন বিখ্যাত।
- নিরক্ষীয় অঞ্চলের চিরহরিৎ বর্ষাবন বা রেইন ফরেষ্টের মতো এখানে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়।
- সূর্যের আলোর জন্য প্রতিযোগিতা করে এ বনের গাছপালা খুব উঁচু হয়ে থাকে, এবং অনেক ওপরে ডালপালা ছড়িয়ে চাঁদোয়ার মত সৃষ্টি করে।
- এই বন এতই ঘন যে মাটিতে সূর্যের আলো পড়েনা বললেই চলে।

উল্লেখ্য,
• বাংলাদেশের বনভূমি:
- যে কোনো দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- মাটির গুণাগুণ ও জলবায়ুর তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
- যথা :
১. ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
২. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি।
৩. স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন।

⇔ ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৩৫২.
Which of the following is known as the 'Dark Continent'?
  1. Asia
  2. Africa
  3. Europe
  4. Australia
  5. South America
ব্যাখ্যা
কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক উপনাম:
Dark Continent - Africa,
Father of Waters - Mississippi River(USA),
Holy Land - Palestine,
Isle of Pearls - Bahrain,
Island Continent - Australia,
Key to Mediterranean - Gibraltar,
Manchester of the Orient - Osaka( Japan),
Paradise on Earth - Kashmir Vally,
Gift of Nyle - Egypt.
China's Sorrow - Yellow River.

উৎস: world atlus.
৬,৩৫৩.
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ১২০ কি.মি.
  2. খ) ১২৫ কি.মি.
  3. গ) ১৩০ কি.মি.
  4. ঘ) ১৫০ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দৈর্ঘ্য ১২০ কি.মি.।

• কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতটি পৃথিবীর দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত। 
- কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্হিত একটি পর্যটন শহর।
- এটি চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত। কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত।
- এখানে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার শহর থেকে বদরমোকাম পর্যন্ত একটানা ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বিস্তৃত।
- এখানে রয়েছে বাংলাদেশের বৃহত্তম সামুদ্রিক মৎস্য বন্দর এবং সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশান।

সূত্র: কক্সবাজার জেলা ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইট।
৬,৩৫৪.
সেন্টমার্টিনস দ্বীপ ভৌগোলিকভাবে কয়টি অংশে বিভক্ত?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
ব্যাখ্যা
- সেন্টমার্টিনস ৭.৩১৫ কিমি দীর্ঘ এবং উত্তর-উত্তরপশ্চিম এবং দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিক জুড়ে বিন্যস্ত।
- ভৌগোলিকভাবে এটি তিনটি অংশে বিভক্ত।
- উত্তরাঞ্চলীয় অংশকে বলা হয় নারিকেল জিনজিরা বা উত্তর পাড়া এবং এ অংশ ২,১৩৪ মিটার দীর্ঘ ও ১,৪০২ মিটার প্রশস্ত।
- দক্ষিণাঞ্চলীয় অংশটি দক্ষিণ পাড়া হিসেবে পরিচিত, যা ১৯২৯ মিটার দীর্ঘ এবং - এর সাথে সংযুক্ত রয়েছে দক্ষিণ পূর্ব দিকে বিস্তৃত একটি সংকীর্ণ লেজের মতো এলাকা, যার সর্বোচ্চ প্রশস্ততা ৯৭৫ মিটার। - একটি সংকীর্ণ কেন্দ্রীয় অঞ্চল বা মধ্য পাড়া দুইটি অংশকে সংযুক্ত করেছে।
- বেল্ট বা ফিতার মতো এই অঞ্চলটির দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ যথাক্রমে ১৫২৪ মিটার ও ৫১৮ মিটার এবং সংকীর্ণতম অংশটি গলাচিপা নামে পরিচিত।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৫৫.
প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম-
  1. ক) টর্নেডো
  2. খ) সাইক্লোন
  3. গ) টাইফুন
  4. ঘ) হ্যারিকেন
ব্যাখ্যা

- প্রশান্ত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় টাইফুন।
- আটলান্টিক মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় হ্যারিকেন।
- বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে উৎপত্তি হওয়া ঝড়কে বলা হয় সাইক্লোন।
- সাধারণত স্বল্প সময় নিয়ে স্বল্প এলাকায় টর্নেডো হয়ে থাকে। স্থলভাগে উচ্চচাপ সৃষ্টির কারণে টর্নেডো হয়।

উৎস: পত্রিকা রিপোর্ট।

৬,৩৫৬.
নিচের কোনটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র?
  1. ক) বেলারুশ
  2. খ) উত্তর কোরিয়া
  3. গ) ভেনেজুয়েলা
  4. ঘ) আলজেরিয়া
ব্যাখ্যা
- উল্লিখিত দেশসমূহের মধ্যে বেলারুশের কোন সমুদ্রবন্দর নেই। দেশটি একটি স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র।
অন্যদিকে,
- নাম্পো : উত্তর কোরিয়ার সমুদ্রবন্দর
- লা গুয়েরা : ভেনেজুয়েলার সমুদ্রন্দর
- আলজিয়ার্স : আরজেরিয়ার সমুদ্রবন্দর।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস)
৬,৩৫৭.
'উম্মত্ত পঞ্চাশ' (Furious Fifties) কোন বায়ুর সাথে সম্পর্কিত?
  1. অয়ন বায়ু
  2. মৌসুমি বায়ু
  3. পশ্চিমা বায়ু
  4. মেরু বায়ু
ব্যাখ্যা
পশ্চিমা বায়ু (Westerlies):
-৩৫° থেকে ৬০° অক্ষাংশের মাঝে উভয় গোলার্ধে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ ও হালকা বায়ু প্রবাহিত হয়ে মেরু অভিমুখে গমন করে। এ বায়ুকে পশ্চিমা বায়ু বলে।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু দক্ষিণ পশ্চিম দিক থেকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে উত্তর পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়।
- উত্তর গোলার্ধে স্থলভাগের আধিক্যের জন্য বায়ু প্রবাহ ইতম্ভ ও স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন গতির হলেও গড় গতি দক্ষিণ পশ্চিমেই হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে প্রবাহ মোটামুটি নিয়ত।
- দক্ষিণ গোলার্ধে এ প্রবাহ ৪০° থেকে ৬০° অক্ষাংশে সর্বাধিক।
- এ অঞ্চলকে বলা হয় 'গর্জনশীল চল্লিশা' (Roaring Forties), 'উম্মত্ত পঞ্চাশ' (Furious Fifties) এবং 'শাণিত ষাট' (Screaming Sixties)।

উৎস:-(পৃষ্ঠা নং ১৫৮) ভূগোল ও পরিবেশ পরিচিতি, বি এ /বি এস এস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৫৮.
আলোকবর্ষ ব্যবহার করে কী পরিমাপ করা হয়?
  1. ওজন
  2. সময়
  3. দূরত্ব
  4. উপরের কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
আলোক বর্ষ:
- Light year বা আলোক বর্ষ হলো একটি দৈর্ঘ্য পরিমাপের একক, যা দিয়ে জ্যোতির্বিদ্যা সম্পর্কিত দূরত্ব মাপা হয়।
- এক বছরে আলো যতদুর যায়, তা ই আলোক বর্ষ।
- এক আলোক বর্ষ = ৯.৪৬ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার বা ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল।

তথ্যসূত্র - NASA ওয়েবসাইট।
৬,৩৫৯.
উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত এলাকাকে কী বলে?
  1. শৈবাল সাগর
  2. ফকল্যান্ড স্রোত
  3. পশ্চিম উপকূল স্রোত
  4. ব্রাজিল স্রোত
ব্যাখ্যা
• উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত:
→ ক্যানারি স্রোত দক্ষিণাভিমুখী হয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় উত্তর পূর্ব অয়ন বায়ুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়। পরবর্তীতে কর্কটক্রান্তি রেখা দক্ষিণ দিক দিয়ে পশ্চিম দিকে উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত নামে প্রবাহিত হয়।
→ উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত একটি উষ্ণ স্রোত।
→ উত্তর নিরক্ষীয় এই স্রোতটি পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে বাঁধাপ্রাপ্ত হয়ে দুইটি শাখায় বিভক্ত হয়। তন্মধ্যে একটি শাখা ক্যারিবিয়ান সাগরের মধ্য দিয়ে মেক্সিকো উপসাগরে প্রবেশ করে এবং অপর শাখাটি উপসাগরীয় স্রোতের সাথে মিলিত হয়।
→ অর্থাৎ উত্তর নিরক্ষীয় স্রোতের উভয় শাখাই উপসাগরীয় স্রোতের মিলিত রূপ।
→ উপসাগরীয় স্রোত, ক্যানারি স্রোত ও উত্তর নিরক্ষীয় এই তিনটি স্রোত মূলত একই স্রোত এবং এই তিনটি স্রোত উপসাগরীয়, ক্যানারি ও উত্তর নিরক্ষীয় স্রোত নামে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে প্রবাহিত হয়।
→ এই স্রোতসমূহের অভ্যন্তরে অর্থাৎ জলাবর্তের অভ্যন্তরে কোনো স্রোত প্রবাহিত হয় না।
→ অভ্যন্তরের এই স্রোতহীন জলে ভাসমান আগাছা শৈবাল জন্মে। তাই একে শৈবাল সাগর বলা হয়। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৬০.
দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হওয়ার সময় কয়টি লক্ষ্য স্থির করা হয়?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
• সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক:
- ২০১৫ সালের ১৪ থেকে ১৮ মার্চ জাপানের সেন্দাই শহরে অনুষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের তৃতীয় দুর্যোগের ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ক সম্মেলন।
- এই সম্মেলনের শেষদিন দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস সংক্রান্ত সেন্দাই ফ্রেমওয়ার্ক : ২০১৫-২০৩০ গৃহীত হয়।
- এই ফ্রেমওয়ার্কে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের জন্যে সাতটি লক্ষ্য স্থির করা হয়।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কার্যালয়।
৬,৩৬১.
নিচের কোনটি পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রণালী?
  1. ক) হরমুজ প্রণালী
  2. খ) তাতার প্রণালী
  3. গ) মালাক্কা প্রণালী
  4. ঘ) পক প্রণালী
ব্যাখ্যা
মালাক্কা প্রণালী:
- ভারত মহাসাগর (আন্দামান সাগর) কে প্রশান্ত মহাসাগর (দক্ষিণ চীন সাগর) এর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। 
- এটি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়শিয়াকে পৃথক করেছে।
- এর দৈর্ঘ্য - ৮০০ কি.মি (৫০০ মাইল)
- দৈর্ঘ্যের হিসাবে এটিই সবচেয়ে দীর্ঘ প্রণালী।
----------------
তাতার প্রণালী:-
- ওখটস্ক ও জাপান সাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- রাশিয়া ও শাখানিলকে পৃথক করেছে।
- এর দৈর্ঘ্য ৬৩২ কি.মি. (৩৯৩ মাইল)।
-----------
- হরমুজ প্রণালী একটি সরু জলপথ যা পশ্চিমের পারস্য উপসাগরকে পূর্বে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে এবং আরব উপদ্বীপ থেকে ইরানকে পৃথক করেছে।
- পক প্রণালি ভারত মহাসাগরের বঙ্গোপসাগর ও পক উপসাগরকে যুক্ত করেছে।

উৎস : ব্রিটানিকা।
৬,৩৬২.
নিম্ন উচ্চতার মেঘ-
  1. কিউম্যুলোনিম্বাস
  2. সিরাস
  3. অল্টোস্ট্রেটাস
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
মেঘ (CLOUD):

• সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার ভিত্তিতে মেঘকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো:
১. উঁচু উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬,০০০ মিটারের উর্ধ্বে অবস্থিত মেঘসমূহ উঁচু উচ্চতার মেঘ। উঁচু উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- সিরাস,
- সিরোকিউম্যুলাস, 
- সিরোস্ট্রেটাস প্রভৃতি।
২. মাঝারি উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত মেঘসমূহ মাঝারি উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। মাঝারি উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- অল্টোস্ট্রেটাস,
- কিউম্যুলাসস্ট্রেটাস, 
- নিম্বোস্ট্রেটাস। 
৩. নিম্ন উচ্চতার মেঘ: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত মেঘসমূহ নিম্ন উচ্চতার মেঘ নামে পরিচিত। নিম্ন উচ্চতার মেঘসমূহ হলো:
- স্ট্রেটাস,
- স্ট্রেটোকিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলাস,
- কিউম্যুলোনিম্বাস

উৎস: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। 
৬,৩৬৩.
নিচের কোনটি বলকান রাষ্ট্র?
  1. ক) ইন্দোনেশিয়া
  2. খ) রােমানিয়া
  3. গ) ইথিওপিয়া
  4. ঘ) স্কটল্যান্ড
ব্যাখ্যা

বলকান দেশঃ
বলকান পর্বতমালার পাদদেশ বা বলকান পেনিনসুলায় অবস্থিত দেশসমূহ এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
মূলত ১০টি দেশকে বলকান দেশ বলে।
যথা -
- আলবেনিয়া,
- বসনিয়া ও হার্জেগােভিনা,
- বুলগেরিয়া,
- ক্রোয়েশিয়া,
- কসােভাে,
- মন্টিনিগ্রো,
- মেসিডােনিয়া,
- রােমানিয়া,
- সার্বিয়া ও
- স্লোভেনিয়া
এছাড়াও,
তুরস্কের ইউরােপিয়ান অংশ ও গ্রীসকেও এই অঞ্চলের অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে থাকে।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস ও ব্রিটানিকা.কম।

৬,৩৬৪.
বাংলাদেশের জলসীমা বা উপকূলীয় সীমানা কত কি.মি.?
  1. ৬১০ কি.মি.
  2. ৬৭৮ কি.মি.
  3. ৭১৬ কি.মি.
  4. ৭৬১ কি.মি.
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য:
- সর্বমোট সীমারেখা- ৪,৭১১ কি.মি. [BGB'র তথ্য মতে ৫,১৩৮ কি.মি.]
-  স্থলসীমা- ভারত-বাংলাদেশ ৩,৭১৫ কি.মি. ও মায়ানমার-বাংলাদেশ ২৮০ কি.মি. [BGB: ৪,১৫৬ কি.মি. ও ২৭১ কি.মি.]
- জলসীমা বা উপকূলীয় সীমানা- ৭১৬ কি.মি. [BGB: ৭১১ কি.মি.]
- ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সাথে বাংলাদেশের ৩২টি জেলার সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে ৩০টি এবং মিয়ানমারের সাথে ৩টি।
- বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল।
- বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৩৬৫.
বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ কোনটি?
  1. ঝালকাঠি
  2. পটুয়াখালী
  3. ভোলা
  4. পিরোজপুর
ব্যাখ্যা
• ভোলা জেলার :
- ভোলা বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ।
- ভোলা, জেলা হিসেবে  স্বীকৃতি পায়  ১৯৮৪ সালে।
- পূর্বে এটি নোয়াখালী জেলার অধিনে sub division ছিল।
- নোয়াখালী জেলার অধিনে sub division হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল ১৮৪৫ সালে।
- তখন এর প্রশাসনিক কেন্দ্র ছিল বর্তমান দৌলতখানে।
- ১৮৬৯ সালে sub division হিসেবে বরিশাল জেলার অধিনে যুক্ত হয় ।
- পরবর্তীতে ১৮৭৬ সালে প্রশাসনিক কেন্দ্র দৌলতখান থেকে ভোলায় স্থানান্তর হয়।
- বর্তমান ভোলা জেলাতে ৭ টি উপজেলা, ৭০ টি ইউনিয়ন রয়েছে।

উৎস: ভোলা জেলা ওয়েবসাইট।
৬,৩৬৬.
নিচের কোনটি আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া?
  1. জলোচ্ছাস
  2. ঘূর্ণিঝড়
  3. বিচূর্ণীভবন
  4. অগ্ন্যুৎপাত
ব্যাখ্যা
• আকষ্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়াসমূহ:
→ ভূ-গর্ভস্থ গলিত ম্যাগমাসমূহ ভূ-গর্ভে তাপ ও চাপের তারতম্য এবং অন্যান্য ভূমিরূপ গঠনকারী শক্তির প্রভাবে প্রচন্ড আলোড়িত হয়।
→ এইরূপ আকস্মিক আলোড়নের ফলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূ-কম্পন, ভূ-অভ্যন্তরে সংকোচন ও প্রসারণ ইত্যাদি নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ফলে অত্যন্ত আকস্মিকভাবে, স্বল্প সময়ের জন্য, অপেক্ষাকৃত স্বল্প বিস্তৃত স্থান জুড়ে যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়, তাকে আকস্মিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া বলা হয়।
 → অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, সুনামি ইত্যাদি আকস্মিক পরিবর্তনকারী প্রক্রিয়া। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৬৭.
আকস্মিক বন্যাপ্রবণ অঞ্চল কোনটি?
  1. খুলনা অঞ্চল
  2. সিলেট অঞ্চল
  3. উপকূলীয় অঞ্চল
  4. সিরাজগঞ্জ অঞ্চল
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে সাধারণত চার ধরনের বন্যা সংঘটিত হয়।
এগুলো হলো:
- বৃষ্টিজনিত বন্যা
- উপকূলীয় বন্যা
- নদীসৃষ্ট বন্যা
- আকস্মিক বন্যা।
- বাংলাদেশেরে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ী নদীর পানি উপচে পড়ে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে।
- এপ্রিল-মে এবং সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় পাহাড়ী নদীর উপচে পড়া পানির কারণে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
- আকস্মিক বন্যায় হাওরাঞ্চলের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়।
অন্যদিকে,
- বৃহত্তর খুলনা ও যশোর অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত বন্যা দেখা যায়।
- উপকূলীয় অঞ্চলে উপকূলীয় বন্যা দেখা দেয়।
- নদী সংলগ্ন জেলাসমূহে নদীসৃষ্ট বন্যা দেখা যায়।
(তথ্যসূত্র: বন্যা সাড়াদান ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা : বাংলাদেশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর)
৬,৩৬৮.
অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব কোনটি?
  1. অগ্নিকাণ্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়।
  2. পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে।
  3. উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়।
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব (Rainless or Impact of drought):
• আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
• খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
• উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়।
• প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।
• পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে।
•  অগ্নিকাণ্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়।

উল্লেখ্য,
⇒ খরা (Drought):
দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।

⇒ বৃষ্টিহীন ও খরাযুক্ত পরিবেশ মানুষ ও জীবজগতের স্বাভাবিক কাজকর্মের বিঘ্ন সৃষ্টি করে। বনজ সম্পদ বৃদ্ধি তথা অধিক বৃক্ষরোপণ করে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৬৯.
প্যাম্পাস তৃণভূমি কোন অঞ্চলে অবস্থিত?
  1. ক) দক্ষিণ আমেরিকা
  2. খ) উত্তর আমেরিকা
  3. গ) মধ্য-পূর্ব আফ্রিকা
  4. ঘ) ইউরেশিয়া
ব্যাখ্যা
প্যাম্পাস হলো দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে অবস্থিত একটি তৃণভূমি।
এছাড়া ক্যাম্পোস ও ল্যানোস তৃণভূমিও দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত।
পৃথিবীর অন্যান্য তৃণভূমির মধ্যে আফ্রিকার সাভানা, উত্তর আমেরিকার প্রেইরি, পূর্ব ইউরোপ ও মধ্য-পশ্চিম এশিয়ার ইউরেশিয়ান স্তেপ প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
(সূত্রঃ ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ও ব্রিটানিকা)
৬,৩৭০.
'হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাকশন' এর মূল উদ্দেশ্য ছিল -
  1. ক) সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ
  2. খ) টেকসই পরিবেশ উন্নয়ন
  3. গ) দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমানো
  4. ঘ) নিউক্লিয়ার বর্জ্য ঝুঁকি হ্রাস
ব্যাখ্যা
- জাপানের কোবে নগরীতে বিশ্বের ১৬৮টি দেশের প্রতিনিধি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ও দুর্যোগ জনিত ঝুঁকি কমাতে
২০০৫ সালের জানুয়ারিতে একটি সম্মেলন করেন।
-  উক্ত সম্মেলন হিউগো ফ্রেমওয়ার্ক ফর অ্যাকশন নামে পরিচিত।
- পরিবেশ বিষয়ক উক্ত কর্মকাঠামোতে টেকসই উন্নয়নের জন্য, বিভিন্নমুখী আপদ মোকাবেলার কৌশল, দুর্যোগের ভয়াবহতা
ও প্রকোপ হ্রাস করা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকে জাতীয় উন্নয়ন কর্মকান্ড মূলধারায় অন্তর্ভূক্ত করা, ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতীয়
সামর্থ্যকে শক্তিশালী করা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বিনিয়োগ করা, দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনে সুশীল
সমাজকে সম্পৃক্ত করা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। 
 
উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ বাংলা; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
 
৬,৩৭১.
নিউজিল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে পৃথক করেছে-
  1. সুন্দা প্রণালী
  2. বেরিং প্রণালী
  3. কুক প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা
কুক প্রণালী:
- নিউজিল্যান্ডের উত্তর ও দক্ষিণ দ্বীপকে পৃথক করেছে।
- তাসমান সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করেছে।
- এটি প্রায় ১৪ মাইল প্রশস্ত এবং ৪২০ ফুট গভীর।
- ১৬৪২ সালে ডাচ নাবিক আবেল তাসমান এটিকে উপসাগর ভেবে প্রবেশ করেন।
- ১৭৭০ সালে ক্যাপ্টেন জেমস্‌ কুক এটির সত্যতা যাচাই করে প্রণালী হিসেবে অভিহিত করেন।
- তার নামানুসারে এটি কুক প্রণালী হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া,
- সুন্দা প্রণালী সুমাত্রা থেকে জাভাকে পৃথক করেছে এবং ভারত মহাসাগর ও জাভা সাগরকে যুক্ত করেছে।
- বেরিং প্রণালী এশিয়া থেকে উত্তর আমেরিকাকে পৃথক করেছে এবং বেরিং সাগর ও উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে।
- ডোভার প্রণালী ফ্রান্স ও ব্রিটেনকে পৃথক করেছে এবং ইংলিশ চ্যানেল ও উত্তর সাগরকে যুক্ত করেছে।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।
৬,৩৭২.
বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী কোনটি?
  1. পদ্মা
  2. মেঘনা
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. যমুনা
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী কোনটি?
এখানে "বৃহত্তম নদী" শব্দটি দৈর্ঘ্য, প্রশস্ততা, প্রবাহের ভিত্তিতে বোঝানো হয়েছে।
বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা। কিন্তু বৃহত্তম নদী সম্পর্কে কোন কোন রেফারেন্সে কোনকিছু বলা নাই।
সবকিছু বিবেচনা করে 'মেঘনা' বাংলাদেশের বৃহত্তম নদী হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।

পদ্মা নদী:

- পদ্মার অপর নাম কীর্তিনাশা।
- ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি।
- রাজশাহীর কাছে কুষ্টিয়ার উত্তর প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। 
- তারপর গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। 
- এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- অতঃপর তিন নদীর মিলিত স্রোত বঙ্গোপসাগরে ঢুকেছে।

উল্লেখ্য,
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।

উৎস: i) ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৩, কালের কন্ঠ।
         ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,৩৭৩.
বাংলাদেশে প্রধানত কোন জাতের কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে?
  1. বিটুমিনাস
  2. লিগনাইট
  3. পীট
  4. ক, খ, গ
ব্যাখ্যা
কয়লা:
- বাংলাদেশে আবিস্কৃত মোট কয়লা ক্ষেত্র ৫টি।
- বাংলাদেশে প্রধানত বিটুমিনাস, লিগনাইট ও পীট জাতীয় কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে
- বাংলাদেশের ফরিদপুরে বাঘিয়া ও চান্দা বিল, খুলনার কোলা বিল এবং সিলেটের কিছু অঞ্চলে পিট জাতীয় কয়লার সন্ধান পাওয়া গেছে।
- বিটুমিনাস ও লিগনাইট কয়লা পাওয়া গেছে যথাক্রমে রাজশাহী, নওগাঁ এবং সিলেট জেলায়।
- বিটুমিনাস ও লিগনাইট উৎকৃষ্ট মানের কয়লা এবং পিট জাতীয় কয়লা নিম্নমানের।
- দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া থেকে লিগনাইট কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে এবং এর পরিমাণ দৈনিক প্রায় ৩,০০০ মেট্রিক টন।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
৬,৩৭৪.
দুর্যোগ জনিত প্রশমনের অংশ হিসেবে কোন পর্যায়ে 'অনুশীলন বা সিমুলেশন' করা হয়ে থাকে?
  1. প্রাক দুর্যোগ
  2. দুর্যোগকালীন
  3. দুর্যোগপরবর্তী
  4. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
উৎস: স্কুল অফ এডুকেশন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৭৫.
কোন বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না?
  1. ক) আর্দ্র বায়ু
  2. খ) শুষ্ক বায়ু
  3. গ) সম্পৃক্ত বায়ু
  4. ঘ) পরিপৃক্ত বায়ু
ব্যাখ্যা
শুষ্ক বায়ুতে জলীয়বাষ্প থাকে না। আর্দ্র বায়ু জলীয়বাষ্প পূর্ণ থাকে। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ পরিমাণ জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু হলো সম্পৃক্ত বা পরিপৃক্ত বায়ু। (সূত্রঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬,৩৭৬.
ঢাকার প্রতিপাদ স্থান হচ্ছে -
  1. আটলান্টিক মহাসাগরে
  2. চিলির নিকটবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. মেক্সিকো উপসাগরে
  4. ভারত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা
প্রতিপাদ স্থান (Antipode):
- পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দুর ঠিক বিপরীত দিকের বিন্দুকে সেই স্থানের প্রতিপাদ স্থান বলে।
- বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র ভেদ করে সরলরেখা টানলে চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে গিয়ে বের হবে।
- অর্থাৎ ঢাকার প্রতিপাদ স্থান- চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরে।
- প্রতিপাদ স্থান সম্পূর্ণরূপে একে অন্যের বিপরীতে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী পৃষ্ঠের কোনো বিন্দু থেকে পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্য দিয়ে একটি কল্পিত রেখা পৃথিবীর ঠিক বিপরীত দিকে টানলে ঐ কল্পিত রেখা যে বিন্দুতে পৃথিবী পৃষ্ঠের বিপরীত পাশে মিলিত হয় সেই স্থানই ঐ বিন্দুর প্রতিপাদ স্থান।
- প্রতিপাদ স্থানদ্বয়ের অক্ষাংশ এক, তবে এরা পরস্পর বিপরীত গোলার্ধে অবস্থান করে।
- প্রতিপাদ স্থান দুইটির অক্ষাংশের মান এক হলেও এদের দ্রাঘিমার পার্থক্য ১৮০°।
- অর্থাৎ ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত বাংলাদেশ আর চিলির নিকট প্রশান্ত মহাসাগরের ঐ স্থানটি ৯০° পশ্চিম দ্রাঘিমায় অবস্থিত হবে অর্থাৎ ঠিক বিপরীত ঢাকার প্রতিপাদ স্থান।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,৩৭৭.
সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর উপকূলে কোন সুপার সাইক্লোনটি আঘাত হানে?
  1. ইয়াস
  2. গুলাব
  3. আম্ফান
  4. ফণী
ব্যাখ্যা
- যেসব সাইক্লোনের গতিবেগ ঘন্টায় ১২০ নটিক্যাল মাইল বা ২২২ কিলোমিটারের অধিক হয় তাদের সুপার সাইক্লোন বলা হয়।
- বঙ্গোসাগর উপকূলে আঘাতকারী সর্বশেষ সুপার সাইক্লোন হলো আম্ফান। গত ২০ মে ২০২০ বঙ্গোসাগরের উত্তর উপকূলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে আম্ফান আঘাত হেনেছিলো।
- আম্ফানের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিলো ঘন্টায় ২৭০ কিলোমিটাররের অধিক। বঙ্গোসাগরে সৃষ্ট সকল ঘূর্ণিঝড়ের মধ্যে আম্ফানের গতিবেগই ছিলো সর্বোচ্চ।
- থাইল্যান্ড ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের নামকরণ করেছিলো। আম্ফান অর্থ আকাশ। তবে আক্ষরিক অর্থ দৃঢ়তা বা স্বাধীন চিত্ত।
অন্যদিকে,
- ফণী (৩ মে ২০১৯), ইয়াস (২৬ মে ২০২১) এবং গুলাব (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১) সুপার সাইক্লোন ছিলো না।
(তথ্যসূত্র: বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা, বিবিসি বাংলা এবং ডেইলি স্টার)
৬,৩৭৮.
‘আমু দরিয়া’ নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়?
  1. ক) পামীর মালভূমি
  2. খ) হিমালয় পর্বত
  3. গ) ইউরাল পর্বত
  4. ঘ) আল্পস পর্বত
ব্যাখ্যা

'আমু দরিয়া' মধ্য এশিয়ার দীর্ঘতম নদী।
এর উৎপত্তিস্থল হলো পামীর মালভূমি।
সূত্র: ব্রিটানিকা

৬,৩৭৯.
সমুদ্র বন্দরের জন্য সতর্ক সংকেত কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৬টি
  3. ৮টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা
সতর্ক সংকেত:
- ঝড়ের সময় আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সমুদ্রবন্দরের ক্ষেত্রে ১১টি এবং নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ৪টি সংকেত নির্ধারিত আছে।
এই সংকেতগুলো সমুদ্রবন্দর ও নদীবন্দরের ক্ষেত্রে ভিন্ন বার্তা বহন করে।
- সমুদ্রবন্দর সমূহের জন্যে সংকেত ১১টি।
এগুলো হলো:
• ১-নং দূরবর্তী সতর্ক সংকেত,
• ২-নং দূরবর্তী হুশিয়ারি সংকেত,
• ৩-নং স্থানীয় সতর্ক সংকেত,
• ৪-নং স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত,
• ৫-নং বিপদ সংকেত,
• ৬-নং বিপদ সংকেত,
• ৭-নং বিপদ সংকেত,
• ৮-নং মহাবিপদ সংকেত,
• ৯-নং মহাবিপদ সংকেত,
• ১০-নং মহাবিপদ সংকেত,
• ১১-নং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সংকেত।

উল্লেখ্য:
- বাংলাদেশে নদীবন্দর সমূহের জন্যে দুর্যোগের সংকেত চারটি।
এগুলো হলো:
• ১-নং নৌ সতর্ক সংকেত,
• ২-নং নৌ হুশিয়ারি সংকেত,
• ৩-নং নৌ বিপদ সংকেত,
• ৪-নং নৌ মহাবিপদ।

তথ্যসূত্র - দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
৬,৩৮০.
টারশিয়ারি যুগের পাহাড় বাংলাদেশের মোট ভূমির কোন অংশ দখল করে? 
  1. ১২ শতাংশ
  2. ১৫ শতাংশ
  3. ২০ শতাংশ
  4. ১০ শতাংশ
ব্যাখ্যা

• টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।

• প্রকারভেদ: টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:
• ক. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়সমূহ:
- রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার পূর্বাংশ এ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা ৬১০ মিটার।

তথ্যসূত্র: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,৩৮১.
বরেন্দ্র অঞ্চলের আয়তন কত বর্গ কিলোমিটার?
  1. ৪,১০৩ বর্গ কি.মি.
  2. ৬,৬৬৫ বর্গ কি.মি.
  3. ৯,৩২০ বর্গ কি.মি.
  4. ১২,২২৪ বর্গ কি.মি.
ব্যাখ্যা
- নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ বরেন্দ্রভূমি নামে পরিচিত। এটির আয়তন প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- এই ভূমিরূপ প্রায় ২৫ হাজার বছর পূর্বে প্লাইস্টোসিনকালে গঠিত হয়েছিলো।
- প্লাবন সমভূমি থেকে বরেন্দ্রভূমি ৬ থেকে ১২ মিটার অধিক উচ্চতায় অবস্থিত।
- বরেন্দ্রভূমির মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা-৬০)
৬,৩৮২.
মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কত?
  1. ৮,৮৪৮ মিটার
  2. ৮,৮৪৮ ফুট
  3. ৮,৮৪৬ মিটার
  4. ৮,৮৪৬ ফুট
ব্যাখ্যা
এভারেস্ট পর্বত:
- মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত।
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার গ্রেট হিমালয়ের চূড়ায় অবস্থিত পর্বত যা চীন ও নেপালের সীমান্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
- তিব্বত এবং নেপালের সীমান্তে উত্থিত, লক্ষ লক্ষ বছর আগে ভারতীয় এবং ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে একটি টেকটোনিক সংঘর্ষ থেকে মাউন্ট এভারেস্ট তৈরি হয়েছিল।
- মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয়ের মাঝের অংশে অবস্থিত।
- এভারেস্টের উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট।

উৎস: i) Britannica।
ii) National Geographic।
৬,৩৮৩.
আগ্নেয় ও পাললিক শিলা রূপান্তরিত হয়ে কোন শিলা সৃষ্টি হয়?
  1. অস্তরীভূত শিলা
  2. রূপান্তরিত শিলা
  3. স্তরীভূত শিলা
  4. আদি শিলা
ব্যাখ্যা
 রূপান্তরিত শিলা:
- অনেক সময় প্রচন্ড তাপ ও চাপের জন্য রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় আগ্নেয় ও পাললিক শিলা নতুন এক ধরনের শিলায় রূপান্তরিত হয় এবং আগের তুলনায় কঠিন ও কেলাসিত হয়, এই শিলাকে রূপান্তরিত শিলা বলে ।
- পূর্বের রূপ ও অবস্থার পরিবর্তন হয় বলে একে রূপান্তরিত শিলা বলে। রূপান্তরিত শিলা মূলত আগ্নেয় ও পাললিক শিলার পরিবর্তিত রূপ।
- যেমন- চুনাপাথর পরিবর্তিত হয়ে মার্বেল, বেলেপাথর পরিবর্তিত হয়ে কোয়ার্টজাইট, কাঁদা পরিবর্তিত হয়ে শ্লেট, গ্রানাইট পরিবর্তিত হয়ে নীসে, কয়লা পরিবর্তিত হয়ে গ্রাফাইটে পরিণত হয়।
- রূপান্তরিত শিলা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আগ্নেয় শিলার সাথে একত্রে ভূ-ভাগের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ গঠন করেছে।

-অর্থাৎ ভূ-আন্দোলন, অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য রাসায়নিক ক্রিয়ার ফলে আগ্নেয় ও পাললিক শিলা অত্যধিক তাপ ও চাপে পরিবর্তিত হয়ে এক নতুন ধরনের শিলার সৃষ্টি করে, যাকে রূপান্তরিত শিলা বলা হয়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৮৪.
ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় কত কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত?
  1. ১০০০ কিমি
  2. ১০০০০ কিমি
  3. ১৫০০০ কিমি
  4. ২০০০০ কিমি
ব্যাখ্যা

বায়ুমন্ডল:
- পৃথিবী পৃষ্ঠের চারপাশে বেষ্টন করে যে অদৃশ্য বায়বীয় আবরণ রয়েছে তাই হলো বায়ুমন্ডল।
- বায়ুমন্ডলের ইংরেজি প্রতিশব্দ Atmosphere।
- বায়ুমন্ডল পৃথিবীর অপরিহার্য অংশ।
- এটি আমরা দেখতে পাইনা কিন্তু অনুভব করতে পারি।
- বায়ুমন্ডল মাধ্যাকর্ষণ শক্তির ফলে পৃথিবীর গায়ের সাথে লেগে থাকে এবং আবর্তন করে।
- তবে বায়ুকঠিন ভূমির সাথে সমানভাবে চলতে না পারায় সামান্য পশ্চাতে পড়ে থাকে।
- বিজ্ঞানীগণের ধারণা, বায়ুমন্ডলের বয়স প্রায় ৩৫০ কোটি বছর।
- বায়ুমন্ডল ভূ-অভ্যন্তরের নির্গত গ্যাস থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে মাত্র ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে বায়ুমন্ডলের ৯০ শতাংশ অবস্থান করছে।
- ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ১০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমন্ডল বিস্তৃত।

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,৩৮৫.
বায়ুপ্রবাহ মূলত কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৮৬.
উচ্চতা বাড়লে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রার পরিবর্তন কেমন হয়?
  1. ক) কমে
  2. খ) বাড়ে
  3. গ) একই থাকে
  4. ঘ) অনেক বাড়ে
ব্যাখ্যা
উচ্চতার সাথে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রার সম্পর্ক:

- উচ্চতা বাড়লে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা কমে ।
- সাধারণত প্রতি ১০০০ মিটার উচ্চতায় গেলে তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস হ্রাস পায়।
- তাই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হয়েও রাজশাহীর এবং শিলং এর তাপমাত্রার এত পার্থক্য।

তথ্যসূত্র: একাদশ শ্রেনীর  ভূগোল বই।
৬,৩৮৭.
বাংলাদেশে বন গবেষণা কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. রাজশাহী
  2. কুমিল্লা
  3. চট্টগ্রাম
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই):
- বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) দেশের বন গবেষণা বিষয়ক একমাত্র জাতীয় প্রতিষ্ঠান।
- দেশের বনজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে ‘‘ফরেস্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’’ নামে ১৯৫৫ সালে চট্টগ্রামে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে বন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করে ১৯৬৮ সালে উক্ত ল্যাবরেটরিকে বন বিষয়ক একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়।
- এ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৫ সাল থেকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় (বর্তমানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়)-এর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
- প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৬ সালে National Agriculture Research System (নার্স) এর আওতাভুক্ত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট।
৬,৩৮৮.
বাংলাদেশে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন কোনটি?
  1. শালবন
  2. মধুপুর বন
  3. সুন্দরবন
  4. ভাওয়াল গড় বন
ব্যাখ্যা

• ম্যানগ্রোভ:
- ম্যানগ্রোভ (Mangrove)  বলতে সাধারণভাবে জোয়ারভাটায় প্লাবিত বিস্তির্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বন (Mangrove forest), জোয়ারভাটায় বিধৌত লবনাক্ত সমতলভূমি।
- উষ্ণমন্ডলীয় ও উপ-উষ্ণমন্ডলীয় অক্ষাংশের আন্তপ্লাবিত আবাসস্থলের সমন্বয়ে ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম গঠিত। 
- পৃথিবীতে ১০২টি দেশে ম্যানগ্রোভের অস্তিত্ব থাকলেও কেবলমাত্র ১০টি দেশে ৫০০০ বর্গ কিমি এর বেশি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে।
- পৃথিবীর সমগ্র ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের ৪৩% ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া এবং নাইজার এ অবস্থিত এবং এদের প্রত্যেকটি দেশে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ২৫% হতে ৬০% ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে।
- বাংলাদেশে অবস্থিত ম্যানগ্রোভ বন (সুন্দরবন) পৃথিবীর একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে পরিচিত ।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

৬,৩৮৯.
আকিয়াব কোন দেশের সমুদ্র বন্দর?
  1. ক) জর্ডান
  2. খ) মায়ানমার
  3. গ) মিশর
  4. ঘ) ইরান
ব্যাখ্যা

আকিয়াব মিয়ানমারের একটি সমুদ্রবন্দর।
অন্যদিকে জর্ডানের বিখ্যাত সমুদ্রবন্দরের নাম আকাবা।
মিশরের পোর্ট সৈয়দ এবং ইরানের বন্দর আব্বাস সমুদ্র বন্দর বিবিধ কারণে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র-worldatlas.com

৬,৩৯০.
কোন প্রণালী এজিয়ান সাগর ও মর্মর সাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. বসফরাস প্রণালী
  2. দার্দানেলিস প্রণালী
  3. বাব এল মান্দেব প্রণালী
  4. ডোভার প্রণালী
ব্যাখ্যা

- দারদানেলিস উত্তর-পশ্চিম তুরস্কের একটি সরু প্রণালী।
- এর দৈর্ঘ্য ৩৮ মাইল (৬১ কিমি)।
- প্রস্থ ০.৭৫ থেকে ৪ মাইল (১.২ থেকে ৬.৫ কিমি)।
- এটি এজিয়ান সাগরকে মারমারা সাগরের সাথে সংযুক্ত করে।
- ট্রড অঞ্চলের দারদানাস শহরের নামে প্রণালীটির নামকরণ হয়েছে।

অন্যদিকে,
ইংলিশ চ্যানেল – উত্তর সাগরকে যুক্ত করে-ডোভার প্রণালী।
মরমর সাগর – কৃষ্ণ সাগরকে যুক্ত করে-বসফরাস প্রণালীা।
এডেন – লোহিত সাগরকে যুক্ত করে- বাব এল মান্দেব প্রণালী।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬,৩৯১.
নিচের কোন দেশটি ইন্দোচীন অঞ্চলের অন্তর্গত নয়?
  1. লাওস
  2. থাইল্যান্ড
  3. কম্বোডিয়া
  4. ভিয়েতনাম
ব্যাখ্যা
থাইল্যান্ড ইন্দোচীনের অংশ নয়। অন্য তিনটি দেশ এই অঞ্চলের অন্তর্গত।

ইন্দোচীন:
- ইন্দোচীনের অন্তর্ভুক্ত ভিয়েতনাম, লাওস এবং কম্বোডিয়া। 
- ফ্রান্স অষ্টাদশ শতকে ইন্দোচীন হিসাবে পরিচিত বর্তমান ভিয়েতনাম, লাওস ও কম্বােডিয়ার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত অঞ্চলটির উপর শাসন অব্যাহত রাখে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে জাপান ইন্দোচীন দখল করে নেয়।
- ১৯৪৫ সালে ভিয়েতনাম স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
- ফ্রান্স ভিয়েতনামকে ফরাসি ইউনিয়নের অধীনে একটি পৃথক রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি দিয়ে ১৯৪৬ সালে দেশটির উপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

সূত্র: ব্রিটানিকা।
৬,৩৯২.
আয়তন অনুসারে এশিয়ার সবচেয়ে ছোট দেশ কোনটি ?
  1. ক) ওমান
  2. খ) ইয়েমেন
  3. গ) ভুটান
  4. ঘ) মালদ্বীপ
ব্যাখ্যা

- আয়তনে এশিয়ার এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র মালদ্বীপ। দেশটির আয়তন প্রায় ৩০০ বর্গ কিলোমিটার। .
- জনসংখ্যায় এশিয়ার এবং দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্রতম রাষ্ট্র মালদ্বীপ।
- আয়তন অনুসারে এশিয়ার দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ সিঙ্গাপুর।
উৎসঃ ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ 2021

৬,৩৯৩.
নিম্নের কোনটি 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত?
  1. তিনবিঘা করিডোর
  2. কোলিল করিডোর
  3. শিলিগুড়ি করিডোর
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
চিকেন নেক:
- 'চিকেন নেক' হিসেবে পরিচিত শিলিগুড়ি করিডোর।

⇒ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাকি দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে রেখেছে যে সরু অংশটা, সেটাই আসলে ‘শিলিগুড়ি করিডর’ নামে পরিচিত।
- ভারতের মানচিত্রে শিলিগুড়ি শহরের কাছে অবস্থিত এই করিডরটা অনেকটা বাঁকানো মুরগির ঘাড়ের মতো দেখায় বলে এই জায়গাটাকে অনেকে ‘চিকেনস নেক’ বলেও বর্ণনা করেন।
- এই করিডরের সবচেয়ে সরু অংশটা মাত্র ২১ কিলোমিটার চওড়া, যার আশেপাশেই রয়েছে অন্তত চারটি দেশের আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
- এর সঙ্গে উত্তরে নেপাল, পূর্বে বাংলাদেশ ও ভুটান এবং উত্তরে চীন সীমান্ত।

উৎস: i) BBC.
ii) যুগান্তর।
৬,৩৯৪.
ফরাসি দার্শনিক জ্যা জ্যাক রুশোর বিখ্যাত গ্রন্থ -
  1. ক) The Social Contract
  2. খ) The Spirit of Laws
  3. গ) Power: A New Social Analysis
  4. ঘ) The Leviathan
ব্যাখ্যা
• 'The Social Contract' ফরাসি দার্শনিক জ্যা জ্যাক রুশোর একটি বিখ্যাত বই।
তাঁর কয়েকটি বিখ্যাত বই - 
- A Discourse Upon the Origin and Foundation of the Inequality Among Mankind
- A Discourse on the Sciences and the Arts
- Confessions
- Emile: or, On Education

অন্যদিকে, 
• সপ্তদশ শতাব্দীতে টমাস হবস তার বিখ্যাত ‘The Leviathan’ গ্রন্থে সামাজিক চুক্তি মতবাদ বিষয়ে আলোচনা করেন।
• বার্ট্রান্ড রাসেলের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম Power: A New Social Analysis.
• 'The Spirit of Laws'- গ্রন্থের রচয়িতা ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

তথ্যসূত্র:- ব্রিটানিকা।
৬,৩৯৫.
কুশিয়ারা ও সুরমা আজমিরীগঞ্জের কাছে কী নামে অগ্রসর হয়েছে?
  1. মেঘনা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. কালনী
  4. ধোয়াই
ব্যাখ্যা

মেঘনা নদী: 
- মেঘনা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশস্ততম নদী। 
- মেঘনার উৎপত্তি: আসামের লুসাই পাহাড় হতে বরাক নদী নামে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ: সুরমা ও কুশিয়ারা নামে সিলেট জেলা দিয়ে ।
- সুরমা ও কুশিয়ারা মিলিত হয়েছে আজমিরীগঞ্জে এবং নামধারণ করেছে কালনী।
- কালনী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের মিলিত স্রোতের নাম: মেঘনা (ভৈরববাজার)।
- উপনদী: ব্রহ্মপুত্র, গোমতী, শীতলক্ষা, ধলেশ্বরী, ডাকাতিয়া।

⇒ বিভিন্ন নদ-নদীর মিলনস্থল:
- পদ্মা ও মেঘনা: চাঁদপুর। 
- যমুনা ও পদ্মা: গোয়ালন্দ। 
- সুরমা ও কুশিয়ারা: ভৈরব (আজমিরীগঞ্জ)। 
- পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা: ভৈরব বাজার। 
- তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র: কুড়িগ্রামের চিরমারীতে।

উৎস: i) জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ওয়েবসাইট। 
ii) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,৩৯৬.
বাংলাদেশে বার্ষিক সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত নিম্নের কোন স্টেশনে রেকর্ড করা হয়?
  1. ক) সিলেট
  2. খ) টেকনাফ
  3. গ) কক্সবাজার
  4. ঘ) সন্দ্বীপ
ব্যাখ্যা
- সিলেটে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪১৮০ মিমি, মেঘালয় মালভূমির পাদদেশ সংলগ্ন সুনামগঞ্জে এর পরিমাণ ৫৩৩০ মিমি এবং লালাখাল (জৈন্তিয়াপুর উপজেলা) নামক স্থানে ৬৪০০ মিমি।
- বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ঘটে থাকে এই লালাখালে।
- মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা থেকে সরাসরি উত্তর দিকে মাত্র ১৬ কিমি দূরে অবস্থিত। চেরাপুঞ্জিতে বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বিস্ময়কর রকমের বেশি, ১০৮২০ মিমি।
উৎসঃ বাংলাপিডিয়া।
৬,৩৯৭.
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় কোনটি?
  1. বাহরাইন
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. ফিলিপাইন
  4. ব্রুনাই
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় জলবায়ুর অন্তর্গত দেশ নয় - বাহরাইন।

• নিরক্ষীয় জলবায়ু:
-  নিরক্ষরেখায় অবস্থানকারী দেশসমূহ এবং এই নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থানরত দেশসমূহে নিরক্ষীয় জলবায়ু বিরাজমান বলে একে বলা হয় নিরক্ষীয় জলবায়ু।

• অবস্থান ও দেশসমূহ:
- নিরক্ষরেখার উভয় পাশে ৫° অক্ষাংশের মধ্যে নিরক্ষীয় অঞ্চল অবস্থিত।
-  সূর্যের উত্তরায়ন ও দক্ষিণায়নের ফলে এ অঞ্চলে দুইবার মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রা দেখা যায়। কোনো কোনো স্থানে নিরক্ষরেখার উত্তর ও দক্ষিণে ১০° অক্ষাংশের সীমা পর্যন্ত নিরক্ষরেখা বিস্তৃত।

- বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী ৯৬৫ কি. মি. এলাকাজুড়ে এই জলবায়ুর প্রভাব বিস্তৃত।
- আফ্রিকার কঙ্গো নদী অববাহিকা ও গিনি উপকূলীয় এলাকা, মধ্য আমেরিকার পূর্ব উপকূলের পানামা, হন্ডুরাস, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূল এই জলবায়ু অঞ্চলের অর্ন্তগত।

- এছাড়াও নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত দেশগুলো যেমন- মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, ফিলিপাইন, আমাজান নদীর অববাহিকা, পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার দক্ষিণাঞ্চল জুড়েও এই জলবায়ু প্রভাব বিস্তার করে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৯৮.
আল্পস পর্বত নিম্নের কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ইতালি
  2. অস্ট্রিয়া
  3. স্লোভেনিয়া
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
আল্পস পর্বত:
- আল্পস পর্বত ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।
- এটি একটি বিস্তৃত পর্বতমালা যা দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে অবস্থিত।
- অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, লিচেনস্টাইন, মোনাকো, স্লোভেনিয়া এবং সুইজারল্যান্ড নামে আটটি আল্পাইন দেশ জুড়ে রয়েছে এই পর্বতমালা।
- আল্পস পর্বতশ্রেণী প্রায় ১,২০০ কিমি অর্ধচন্দ্রাকার আকারে বিস্তৃত।

উল্লেখ্য,
- আল্পস এক ধরনের ভঙ্গিল পর্বত।
- আল্পস পর্বতমালাকে তিনটি বিস্তৃত ভাগে ভাগ করা যায়: পূর্ব, মধ্য এবং পশ্চিম আল্পস।
- এটি একটি অবিচ্ছিন্ন পর্বতশ্রেণী এবং বিভিন্ন উচ্চতা এবং গভীরতার অসংখ্য চূড়া এবং উপত্যকা নিয়ে গঠিত।
- সুইজারল্যান্ডের ভ্যালাইস ক্যান্টনে অবস্থিত ২২.৬ কিমি দীর্ঘ আলেচ হিমবাহটি আল্পসের বৃহত্তম হিমবাহ।
- এই পর্বতমালা দক্ষিণ ফ্রান্সের মোনাকোর কাছে ভূমধ্যসাগরের উত্তর থেকে সুইজারল্যান্ড, তারপর উত্তর ইতালি হয়ে দক্ষিণ জার্মানি এবং অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে।
- আল্পস পর্বতশ্রেণি আলবেনিয়ায় রুক্ষ অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের উপকূলে শেষ হয়েছে।

উৎস: i) Worldatlas.
ii) ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,৩৯৯.
সুন্দরবনকে কখন সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করা হয়?
  1. ক) ১৮৭২ সালে
  2. খ) ১৮৭৮ সালে
  3. গ) ১৮৭৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৯২ সালে
ব্যাখ্যা
• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন।
- এ-বনের জীববৈচিত্র্য বিশ্বের যে কোনো ম্যানগ্রোভ বনের তুলনায় অনেক বেশি সমৃদ্ধ।
- সুন্দরবন ১৮৭৮ সনে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ১৯৭৯ সনে সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বভার বন বিভাগ গ্রহণ করে।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন ৬০১৭ বর্গকিলোমিটার। তন্মধ্যে স্থলভাগ ৪,১৪৩ বর্গকিলোমিটার (৭০%) এবং জলভাগ ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার (৩০%)।
- সমগ্র সুন্দরবন খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে বিস্তৃত।

এছাড়া,
- ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য কেন্দ্র এবং ৩টি বিশেষায়িত বণ্যপ্রানী (ডলফিন) অভয়ারণ্য বিদ্যমান।
- ৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সনে UNESCO সুন্দরবনের ৩টি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যকে ৭৯৮তম World Heritage Site হিসেবে ঘোষণা করে।
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ সনে নীলকমলে World Heritage Site-এর নামফলক উন্মোচন করেন।
- সুন্দরবনের জলভাগ জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ায় ১৯৯২ সনের ২১ মে থেকে এটি Ramsar Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।


তথ্যসূত্র: বন সংরক্ষকের দপ্তর, খুলনা।
৬,৪০০.
নিম্নলিখিত কোন তারিখে কর্কটসংক্রান্তি হয়?
  1. ২৩ সেপ্টেম্বর
  2. ২১ জুন
  3. ২১ মার্চ
  4. ২২ ডিসেম্বর
ব্যাখ্যা

- সূর্যকে প্রদক্ষিণের সময় পৃথিবী আপন মেরুরেখায় কক্ষপথের সঙ্গে ৬৬.৫° কোণে হেলে থাকে।
- পৃথিবী ৬৬.৫° কোণ করে চলার কারণে ২১ মার্চ সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- এরপর ধীরে ধীরে সূর্যের কিরণ উত্তর গোলার্ধের দিকে যেতে থাকে।
- সূর্যকে পরিক্রমণ করতে করতে ২১ জুন পৃথিবী এমন এক জায়গায় আসে যে তখন সূর্যের রশ্মি ভূপৃষ্ঠের ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশে অর্থাৎ কর্কটক্রান্তির উপর লম্বভাবে পড়ে।
- এ সময় উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকে থাকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্য থেকে সবচেয়ে বেশি দূরে থাকে।
- সে কারণে এই সময় উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য ও তাপমাত্রাও বেশি হয়ে থাকে।
- উত্তর গোলার্ধে ২১ জুন দীর্ঘতম দিন ও ক্ষুদ্রতম রাত হয়। ২১ জুন সূর্য উত্তরায়ণের শেষ সীমায় পৌঁছায়, একে কর্কটসংক্রান্তি বলে। 

এছাড়াও, 
- ২৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় ২১ মার্চের মতো সূর্য নিরক্ষরেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়। সেদিন সর্বত্র দিবারাত্রি সমান থাকে। ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে আবার সূর্য দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে কিরণ বেশি দিতে থাকে। ২২ ডিসেম্বর এমনভাবে কোণ করে থাকে তাতে দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন এবং উত্তর গোলার্ধে সবচেয়ে ছোট দিন হয়।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।