বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

মোট প্রশ্ন৭,১৯১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ভূগোল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

PrepBank · পাতা ৬৩ / ৭২ · ৬,২০১৬,৩০০ / ৭,১৯১

৬,২০১.
চীনের 'ইয়ারলুং জাংবো' নদী বাংলাদেশে কী নামে পরিচিত?
  1. পদ্মা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. আত্রাই
  4. তিস্তা
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra) নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশের মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর তিব্বত হয়ে ভারতের আসাম রাজ্যের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- বাংলাদেশে ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে।
- মেঘনা নদীতে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত।
- বাংলাদেশ অংশে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়েছে।
- প্রধান শাখানদী: বংশী ও শীতলক্ষ্যা।
- প্রধান উপনদী: ধরলা ও তিস্তা।

⇒ ১৭৮৭ সালে ডাউকি চ্যুতিতে তীব্র ভূমিকম্পের পর ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- সংঘটিত ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্রের তলদেশ উপরে উত্থিত হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়।
- যা বর্তমানে যমুনা নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- পৃথিবীর উচ্চতম নদী ইয়ারলাং জাংবো (Yarlung Zangbo)।
- হিমালয় দুহিতা এই নদীটি চীনের তিব্বত থেকে নেমে ভারতের অরুণাচল ও আসাম প্রদেশ হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- তিব্বতে এর নাম সাংপো, অরুণাচলে সিয়ং এবং আসাম ও বাংলাদেশে এর নাম হয়েছে ব্রহ্মপুত্র।

উৎস: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
৬,২০২.
বুড়িমারি স্থলবন্দর বাংলাদেশের কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) রংপুর
  2. খ) লালমনিরহাট
  3. গ) পঞ্চগড়
  4. ঘ) কুড়িগ্রাম
ব্যাখ্যা
বুড়িমারী স্থলবন্দর :- লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বুড়িমারী সীমান্তেএ স্থল বন্দর অবস্থিত।
- ভারত, ভূটান এবং নেপালের সঙ্গে স্থলপথে মালামাল আমদানী ও রপ্তানির সুবিধার্থে বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ বন্দরটি চালু করা হয় ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দে।
- এ বন্দর দিয়ে ভারত, ভূটান ও নেপাল হতে কয়লা, কাঠ, টিম্বার, পাথর, সিমেন্ট, চায়না ক্লে, বল ক্লে, কোয়ার্টজ, রাসায়নিক সার, কসমেটিক সামগ্রী, পশু খাদ্য, বিভিন্ন ধরণের ফলমূল, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, ডাল, গম, বিভিন্ন ধরণের বীজ, তামাক ডাটা প্রভৃতি মালামাল আমদানী করা হয়।
- বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হয় ইলিশ মাছ, মেলামাইনের তৈরী বাসনপত্র এবং ঔষধ সহ কতিপয় মালামাল। 

• কয়েকটি স্থলবন্দরের নাম ও অবস্থান:
০ বেনাপোল স্থলবন্দর: বেনাপোল, শার্শা, যশোর
০ বুড়িমারী স্থলবন্দর: পাটগ্রাম, লালমনিরহাট
০ আখাউড়া স্থলবন্দর: আখাউড়া, বাহ্মনবাড়িয়া
০ ভোমরা স্থলবন্দর: ভোমরা, সাতক্ষীরা সদর
০ নাকুগাঁও স্থলবন্দর: নালিতাবাড়ী, শেরপুর
০ তামাবিল স্থলবন্দর: গোয়াইনঘাট সিলেট
০ সোনাহাট স্থলবন্দর: ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম
০ দর্শনা স্থলবন্দর: দামুরহুদা, চুয়াডাঙ্গা
০ বিলোনিয়া স্থলবন্দর: বিলোনিয়া, ফেনী

সূত্র: বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ
৬,২০৩.
জলবায়ু পরিমাপ করতে কত বছরের পরিবর্তনকে বিবেচনায় নিতে হয়?
  1. ক) ৫
  2. খ) ১০
  3. গ) ২০
  4. ঘ) ৪০
ব্যাখ্যা
কোনো স্থানের একটি নির্দিষ্ট দিনের বায়ুর তাপ, চাপ, আর্দ্রতা, মেঘাচ্ছন্নতা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহের দৈনন্দিন সামগ্রিক অবস্থাকে সেই দিনের আবহাওয়া বলে।
কোনো একটি অঞ্চলের সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ বছরের গড় আবহাওয়ার অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি
৬,২০৪.
পৃথিবীর দক্ষিণতম শহর 'উশুইয়া' কোন দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত?
  1. দক্ষিণ জর্জিয়া দ্বীপ
  2. তাসমানিয়া দ্বীপ
  3. ফকল্যান্ড দ্বীপ
  4. তিয়েরা দেল ফুয়েগো দ্বীপ
ব্যাখ্যা

দ্বীপপুঞ্জ:
- তিয়েরা দেল ফুয়েগো: পৃথিবীর শেষ প্রান্তের দ্বীপ।
- তিয়েরা দেল ফুয়েগো হলো দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণতম প্রান্তে অবস্থিত একটি বিশাল দ্বীপপুঞ্জ,
- যা ম্যাগেলান প্রণালী দ্বারা মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন।
- পৃথিবীর দক্ষিণতম শহর 'উশুয়ায়া' (Ushuaia), তিয়েরা দেল ফুয়েগো দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত।

• ভৌগোলিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বিভাজন: 
- অবস্থান: এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের মিলনস্থলে অবস্থিত।
- এর দক্ষিণে বিখ্যাত 'কেপ হর্ন' (Cape Horn) অবস্থিত।
- বিভাজন: এই দ্বীপপুঞ্জটি দুটি দেশের মধ্যে বিভক্ত:
- চিলি: পশ্চিম অংশ এবং দক্ষিণ দিকের দ্বীপগুলো চিলির অন্তর্ভুক্ত।
- আর্জেন্টিনা: পূর্ব অংশটি আর্জেন্টিনার একটি প্রদেশ।
- প্রধান দ্বীপ: এর সবচেয়ে বড় দ্বীপটির নাম হলো 'ইসলা গ্রান্দে দে তিয়েরা দেল ফুয়েগো'।

গুরুত্বপূর্ণ শহর ও স্থান
- উশুয়াইয়া (Ushuaia): এটি আর্জেন্টিনার অন্তর্ভুক্ত একটি শহর, যাকে 'পৃথিবীর দক্ষিণতম শহর' বলা হয়।
- এখান থেকেই অ্যান্টার্কটিকা অভিযানের জাহাজগুলো রওনা দেয়।
- পুন্তা এরেনাস (Punta Arenas): এটি চিলির অংশে অবস্থিত এই অঞ্চলের অন্যতম বড় ও গুরুত্বপূর্ণ শহর।

উৎস: - Worldatlas.

৬,২০৫.
পৃথিবীর অধিকাংশ মরুভূমি মহাদেশের পশ্চিমাংশে অবস্থিত কেন?
  1. আয়ন বায়ুর জন্য
  2. পশ্চিমা বায়ুর জন্য
  3. মেরু বায়ুর জন্য
  4. সমুদ্র বায়ুর জন্য
ব্যাখ্যা

• আয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু (Trade winds):
- কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ বলয় দুটি (২৫° থেকে ৩৫, উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশ) হতে সারা বছর নিয়মিতভাবে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের (০° থেকে ১০° উঃ ও দঃ অক্ষাংশ) দিকে বায়ু প্রবাহিত হচ্ছে। এ বায়ুকে আয়ন বা বাণিজ্য বায়ু বলা হয়।
- উত্তর গোলার্ধে এ বায়ু নিরক্ষীয় প্রদেশের দিকে আসার সময় পৃথিবীর আবর্তনের জন্য ফেরেলের সূত্র অনুসারে বেঁকে উত্তর-পূর্ব বায়ুতে পরিণত হয়।
- দক্ষিণ গোলার্ধে এরূপ বায়ু প্রবাহ নিরক্ষীয় প্রদেশের দিকে আসতে থাকে এবং ফেরেলের সূত্র অনুসারে বাঁ দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব প্রবাহে পরিণত হয়।
এদের যথাক্রমে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু (North-East Trade Winds) ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু (South-East Trade Winds) বলে।
- এ বায়ু দুটির সাহায্যে পূর্বকালে বাণিজ্যের জন্য পালের জাহাজ অধিক যাতায়াত করত বলে এদেরকে বাণিজ্য বায়ুও বলা হয়।
- উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু ঘণ্টায় ১৬ কি. মি. এবং দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু অধিকাংশ সময় বাধাহীনভাবে সমুদ্রপথে চলে বলে প্রায় ২২.৪ কি. মি. বেগে প্রবাহিত হয়ে থাকে।
- আয়ন বায়ু উচ্চ অক্ষাংশ (শীতল স্থান) হতে নিম্ন অক্ষাংশে (উষ্ণতর স্থান) প্রবাহিত হয় বলে এদের জলীয়বাষ্প ধারণ করার শক্তি বৃদ্ধি পায়। - তাই এ বায়ুতে সাধারণত বৃষ্টিপাত হয় না।
- ফলে এ বায়ু প্রবাহের গতিপথে মহাদেশগুলোর পশ্চিমে পৃথিবীর অধিকাংশ (কালাহারি, সাহারা, আতাকামা প্রভৃতি) মরুভূমিগুলো অবস্থিত। তবে এ বায়ুর যে অংশ সমুদ্রের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উচ্চ পর্বতগাত্রে বাধা পায় সে অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়। তাই আয়ন বায়ু প্রভাবযুক্ত অঞ্চলে মহাদেশসমূহের পূর্ব দিকে কখনো কখনো বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে।

উৎস: ভূগোল দ্বিতীয় পত্র, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী।

৬,২০৬.
গ্রীন হাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে?
  1. উত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
  2. বৃষ্টিপাত কমে যাবে
  3. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
  4. সাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
ব্যাখ্যা
• গ্রিন হাউস ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি- নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে।

- গ্রীন হাউস ইফেক্টের কারনে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উপকূলীয় এলাকার এক বিরাট অংশ পানির নীচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- আইসিসি ২০০৭ সালে তার সতর্কীকরণে বলেছে ২০৫০ সাল নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৪৫ সে.মি. বাড়লে বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী ১০-১৫ শতাংশ ভূমি পানির নিচে চলে যাবে। আনুমানিক ৩.৫ কোটি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হবে।

• গ্রিন হাউজ প্রভাব:
- ওজোন স্তরে ক্ষত সৃষ্টি হলে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পেয়ে কৃষি ও পরিবেশের ওপর যে বিরুপ প্রভাব ফেলে একেই গ্রিন হাউজ প্রভাব (Green House Effect) বলা হয়।
- গ্রিন হাউস ইফেক্টের ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হচ্চে।
- ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ ক্রমে গলে যাচ্ছে।
- এর ফলে বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর নিম্নভূমি ক্রমশ নিমজ্জিত হবে।
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস।

• কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে:
- জলীয় বাষ্প,
- কার্বন ডাই-অক্সাইড,
- নাইট্রাস অক্সাইড,
- মিথেন,
- ওজোন,
- ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি।
- কার্বন ডাই সালফাইড এবং কার্বনিল সাইফাইড পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস।

উৎস:
১. বাংলাপিডিয়া।
২. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২০৭.
স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ক) ১৯৭৪ সালে
  2. খ) ১৯৭৭ সালে
  3. গ) ১৯৮০ সালে
  4. ঘ) ১৯৮২ সালে
ব্যাখ্যা
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৭ সালে প্রথম, ১৯৮৩-৮৪ সালে দ্বিতীয়, ১৯৯৬ সালে তৃতীয়, ২০০৮ সালে চতুর্থ এবং ২০১৯ সালের ৯-২০ জুন সর্বশেষ পঞ্চম কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়৷ পাকিস্তান আমলে ১৯৬০ সালে প্রথম নমুনা আকারে কৃষিশুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
[সূত্রঃ বিবিএস ওয়েবসাইট এবং দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকা]
৬,২০৮.
'তামাবিল স্থলবন্দর' বাংলাদেশের কোন স্থানে অবস্থিত?
  1. জকিগঞ্জ
  2. বিয়ানীবাজার
  3. গোয়াইনঘাট
  4. জৈন্তাপুর
ব্যাখ্যা

 তামাবিল স্থলবন্দর: 
- সিলেট জেলার অন্তর্গত গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল নামক স্থানে অবস্থিত।
- তামাবিল স্থলবন্দরের বিপরীতে ডাউকি, শিলং, মেঘালয়, ভারত। 
- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে তামাবিল স্থলবন্দরের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
- জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আওতায় তামাবিল স্থল শুল্ক ষ্টেশনের কার্যক্রম চালু হয়।
- ভারত হতে আমদানিকৃত পণ্য গ্রহণ, সংরক্ষণ, কাস্টমস্ কর্তৃক রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা ও সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক তামাবিল স্থলবন্দর ঘোষণা করা হয়।
- প্রাথমিকভাবে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বন্দরের ২৩.৭২ একর জমি অধিগ্রহণপূর্বক প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মিত হয়।
- পরবর্তীতে ২৭-১০-২০১৭ খ্রি: তারিখে তামাবিল স্থলবন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।

উৎস: বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট। 

৬,২০৯.
প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র-  [অর্থনৈতিক সমীক্ষা,২০২৪]
  1. বিবিয়ানা
  2. ইলিশা-১
  3. তিতাস
  4. বাখরাবাদ
ব্যাখ্যা

গ্যাসক্ষেত্র: 
- উত্তোলনযোগ্য, প্রমাণিত ও সম্ভাব্য (2P) গ্যাসের মজুদের পরিমাণের হিসাবে দেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র – তিতাস (পরিমাণ – ৬৩৬৭ বি.ঘ.ফু)।
- এটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় অবস্থিত।
- দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র – বিবিয়ানা (পরিমাণ – ৫৮১৮.৩ বি.ঘ.ফু), এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- প্রাথমিক মজুদের পরিমাণের হিসাবে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র – বিবিয়ানা (প্রাথমিক মোট মজুদ পরিমাণ – ৮৩৫০.০ বি.ঘ.ফু)।
- এটি হবিগঞ্জ জেলায় অবস্থিত।
- দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র – তিতাস (পরিমাণ – ৮১৪৮.৯ বি.ঘ.ফু)।
- দেশের উৎপাদনরত ২০টি গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদনরত কূপের সংখ্যা – ১০৯টি।
- এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কূপ রয়েছে – বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের; ২৬টি। দ্বিতীয় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের – ২৩টি।

উৎস: অর্থনৈতিক সমীক্ষা  ২০২৪। প্রথম আলো।[লিঙ্ক]

৬,২১০.
COP 26-এ COP মানে কী?
  1. কনফারেন্স অব প্যারিস
  2. কনফারেন্স অব দ্য পাওয়ার
  3. কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
  4. কনফারেন্স অব দ্য প্রটোকল
ব্যাখ্যা
কপ সম্মেলন (Cop Conference):
- COP-এর পূর্ণরূপ: Conference of the Parties.
- জলবায়ুতে মানুষের সৃষ্টি ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলায় ১৫৪টি দেশ ১৯৯২ সালে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতিসংঘের ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনে (UNFCCC) স্বাক্ষর করে।
- জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সম্মেলন (COP) প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়।
- এখানে আলোচনা করা হয় কিভাবে ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে আনার উপায় অর্জন করা উচিত এবং কী অগ্রগতি হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করা।

উল্লেখ্য,
⇒ ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29):
- সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বরে আজারবাইজানের বাকুতে ২৯তম জলবায়ু সম্মেলন (COP-29) অনুষ্ঠিত হয়েছে।
- এ জলবায়ু সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ফাইন্যান্স কপ’ বা ‘জলবায়ুর আর্থিক সম্মেলন’।
- বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি ছিল, তাদের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি পোষাতে বছরে ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন (১ লাখ ৩০ হাজার কোটি) ডলার দিতে হবে।
- চূড়ান্ত চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩৫ সাল পর্যন্ত দরিদ্র দেশগুলোকে প্রতিবছর অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলার দেবে উন্নত দেশগুলো।

উৎস: UNFCCC ওয়েবসাইট।
৬,২১১.
নিচের কোনটি গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলাফল?
  1. ক) সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া
  2. খ) মেরু অঞ্চলে বরফ গলে যাওয়া
  3. গ) নিম্নভূমি নিমজ্জিত হওয়া
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়ার ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে মেরু অঞ্চলসহ পৃথিবীর অন্যান্য স্থানে সঞ্চিত থাকা বরফ গলতে শুরু করবে। যার কারণে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর স্থলভাগের অনেক নিম্নভূমি সমুদ্রের পানিতে নিমজ্জিত হবে।
(তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা)
৬,২১২.
কোনটি বন্যা হওয়ার মানব-সৃষ্ট কারণ?
  1. উজানে প্রচুর বৃষ্টি
  2. বৃক্ষ কর্তন
  3. ভূমিকম্প
  4. তীব্র জোয়ার-ভাটা
ব্যাখ্যা
• বন্যার কারণ (Causes of Flood):
- বন্যা হওয়ার দুটি কারণ যথা : ১. প্রাকৃতিক কারণ, ২. মানব-সৃষ্ট কারণ।

•মানব-সৃষ্ট কারণ:
- নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন ;
- গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ;
- অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব;
- অপরিকল্পিত নগরায়ণ;
- অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট নির্মাণ।
- জলাশয় ভরাট।

• প্রাকৃতিক কারণ:
- উজানে প্রচুর বৃষ্টি;
- ভৌগোলিক অবস্থান;
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব;
- নদীর গভীরতা কম;
- হিমালয়ের বরফগলা পানিপ্রবাহ;
- বঙ্গোপসাগরের তীব্র জোয়ার-ভাটা।
- ভূমিকম্প।

• বন্যা :
- বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম।
- এ দেশের বন্যা অর্থনৈতির ওপর ভয়াবহ  প্রভাব ফেলে।
- প্রকৃতপক্ষে এ দেশের প্রেক্ষিতে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়ে যদি মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষতিসাধন হয় তাহলেই বন্যা হয়েছে বলে ধরা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬,২১৩.
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্য কতটি?
  1. ৪টি 
  2. ৫টি 
  3. ৬টি 
  4. ৭টি 
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন সেভেন সিস্টার্সের রাজ্য ৪টি।

সেভেন সিস্টার্স:

- উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত।
- রাজ্যগুলো হচ্ছে -আসাম, অরুণাচল, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মণিপুর, মিজোরাম ও নাগাল্যান্ড।
- ভারতের সেভেন সিস্টারস খ্যাত রাজ্যগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ৪টি রাজ্য - আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম।
- ভারতের মোট ৫টি রাজ্য বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী।
- এগুলো হলো: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

উৎস: ওয়ার্ল্ড এটলাস।

৬,২১৪.
যমুনা নদী কোন স্থানে পদ্মার সাথে মিলিত হয়?
  1. কুষ্টিয়া
  2. গোয়ালন্দ
  3. চাঁদপুর
  4. ফরিদপুর
ব্যাখ্যা

যমুনা নদী:
- এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান নদী।
- ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা যমুনা নদী নামে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়েছে।
- এটি গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়ে দক্ষিণ-পূর্বদিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান উপনদী হলো ধরলা, তিস্তা, করতোয়া ও আত্রাই।
- এছাড়া যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২১৫.
Which continent is current/region warming at about twice the global average rate?
  1. Africa
  2. Asia
  3. Antarctica
  4. The Arctic 
ব্যাখ্যা

- বর্তমানে এশিয়া মহাদেশ বৈশ্বিক গড় হারের প্রায় দ্বিগুণ উষ্ণ হচ্ছে।
- ২০২৪ সাল ছিল এশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ অথবা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ বছর।
- এ সময়ে দীর্ঘমেয়াদি তাপপ্রবাহ এবং ভয়াবহ সমুদ্র তাপমাত্রার কারণে এ অঞ্চলের অর্থনীতি, বাস্তুতন্ত্র ও সমাজে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
- এশিয়ায় ভূমির পরিমাণ বিশাল এবং তা আর্কটিক পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় উষ্ণতা বৃদ্ধির হারও বেশি।
- স্থলভাগে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সাধারণত সমুদ্রের চেয়ে বেশি হয়, ফলে মহাদেশটি দ্বিগুণ হারে উত্তপ্ত হচ্ছে।
- ২০২৪ সালে এশিয়ার সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণতা ছিল রেকর্ড পরিমাণ।
- এ সময় সমুদ্রপৃষ্ঠ প্রতি দশকে ০.২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বেড়েছে, যা বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।
- বিশেষ করে উত্তর ভারত মহাসাগর ও পূর্ব চীন সাগরসহ সমুদ্রের বিস্তীর্ণ অংশে এই উষ্ণতা লক্ষ করা গেছে।
- এতে উপকূলীয় নিচু এলাকাগুলো ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

৬,২১৬.
সিলেট কোননদীর তীরে অবস্থিত?
  1. আড়িয়াল খাঁ
  2. সুরমা
  3. চন্দনা
  4. রূপসা
ব্যাখ্যা
সিলেট:
- সিলেটের উত্তরে ভারতের খাসিয়া-জৈন্তিয়া পাহাড়, দক্ষিণে মৌলভীবাজার জেলা, পূর্বে ভারতের কাছাড় ও করিমগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা।
- সিলেট জেলা ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সুলতানী আমলে সিলেটের নাম ছিল জালালাবাদ।

উল্লেখ্য,
⇒ সিলেট সুরমা নদীর তীরে অবস্থিত।
- সিলেটের প্রধান ও দীর্ঘতম নদী সুরমা, অপর বৃহৎ নদী হলো কুশিয়ারা।
- এ জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ৮২টি হাওর-বিল রয়েছে। এগুলোর মধ্যে সিংগুয়া বিল (১২.৬৫ বর্গ কিমি), চাতলা বিল (১১.৮৬ বর্গ কিমি) উল্লেখযোগ্য।

উৎস: সিলেট জেলা ওয়েবসাইট।
৬,২১৭.
বাংলাদেশে প্রথম কত সালে কয়লা খনি পাওয়া যায়?
  1. ১৯৮৫ সালে
  2. ১৯৮৩ সালে
  3. ১৯৮১ সালে
  4. ১৯৭৯ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জি.এস.বি):

• গঠন এবং উদ্দেশ্য:
- জি.এস.বি হলো বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর, যা ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর গঠিত হয়।

• খনন ক্ষেত্রগুলি:
- ১৯৮৫ সালে: দিনাজপুর জেলার বড়পুকুরিয়া এলাকায় খনি পাওয়া যা্‌
- ১৯৮৯ সালে: রংপুর জেলার খালাশপীর নামক স্থানে খনি পাওয়া যায়,
- ১৯৯৫ সালে: দিনাজপুরের দীঘিপাড়াতে (পার্মিয়ান যুগের গন্ডোয়ানা কয়লাক্ষেত্র)।

• প্রকল্পের মাধ্যমে অবস্থান উত্তোলন:
- বড়পুকুরিয়া কয়লা অববাহিকায় ১৯৮৫ সাল থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে জি.এস.বি ৭টি উত্তোলন কূপ (drill holes) খনন করে।
- জি.এস.বি এ কয়লাক্ষেত্রের মজুত, গুরুত্ব ও বিস্তার নির্ণয় করতেও সমর্থ হয়।

• কৃষ্টি অনুমান:
- বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৫টি কয়লা ক্ষেত্র আবিস্কৃত হয়েছে এবং এই ক্ষেত্রগুলিতে মোট মজুদ কয়লার পরিমাণ আনুমানিক ৩৩০০ মিলিয়ন টন।

• বিসিএমসিএল এবং খনি ইজারা:
- খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর সাথে সহযোগিতায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল)-এর অনুকূলে ১৯৯৪ সালে খনি ইজারা মঞ্জুর করা হয়।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
৬,২১৮.
উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে -
  1. বসফরাস প্রণালী
  2. পানামা খাল
  3. বেরিং প্রণালী
  4. ম্যাজেলান প্রণালী
ব্যাখ্যা

পানামা খাল:
- বিশ্ব বাণিজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ রুট।
- পানামা প্রজাতন্ত্রের বুক চিরে বয়ে চলা কৃত্রিম খালটি জাহাজ চলাচলের জন্য ১৯০৪ সালে খনন করা হয় যেটি বিশ্ববাসীর কাছে পানামা খাল হিসেবে সমাধিক পরিচিত।
- ১৯০৪ সালে এর খনন কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৪ সালে সমাপ্ত হয়।
- পানামা খালের দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৩০ থেকে ৯০ মিটার পর্যন্ত।
- তবে গভীর জলভাগ থেকে এর দৈর্ঘ্য হিসেব করলে এর দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ৮২ কিলোমিটার।
- গভীরতা স্থানভেদে ৪৬ থেকে ৮৫ ফুট।
- এটি আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে এবং উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশকে পৃথক করেছে।
- এই খাল নির্মাণের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পুর্ব থেকে পশ্চিম উপকূলে চলাচলকারী জাহাজ গুলোর পথ প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র - এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

৬,২১৯.
২২ ডিসেম্বর তারিখে সূর্য কোন রেখার উপর লম্বভাবে কিরণ দেয়?
  1. কর্কটক্রান্তি
  2. মকরক্রান্তি
  3. অক্ষরেখা
  4. নিরক্ষরেখা
ব্যাখ্যা

২২ ডিসেম্বর:
- ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত।
- ২২ ডিসেম্বর দক্ষিণ গোলার্ধে সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত।

⇒ মকরক্রান্তি রেখা:
- দক্ষিণ গোলার্ধে ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে মকরক্রান্তি রেখা নামে অভিহিত করা হয়।
- ২২ শে ডিসেম্বর তারিখে সূর্য ২৩.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখায় (মকরক্রান্তি) লম্বভাবে কিরণ দেয়।
- উক্ত তারিখে দক্ষিণ মেরু বিন্দু অর্থ্যাৎ ৯০° দক্ষিণ থেকে ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টা দিন থাকে।
- ফলে ৬৬.৫° দক্ষিণ অক্ষরেখাকে কুমেরু অঞ্চলের শেষ সীমানা ধরা হয় এবং এই অক্ষরেখাকে কুমেরুবৃত্ত (Antarctic Circle) নামে অভিহিত করা হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

৬,২২০.
নিচের কোন জেলায় প্লাইস্টোসিন যুগের সোপান ভূমি পাওয়া যায়?
  1. রাঙ্গামাটি
  2. বরিশাল
  3. খাগড়াছড়ি
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি:
- ভূপ্রকৃতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো:
১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ,
২. প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ এবং
৩. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি।

• প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিনকাল বলে।
- এ অঞ্চলের মাটির রং লাল ও ধূসর।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্লাইস্টোসিনকালে এসব উচ্চভূমি গঠিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

ক) বরেন্দ্রভূমি:
- বরেন্দ্রভূমি রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট এবং রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত।
- এর আয়তন ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
- প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা ৬ থেকে ১২ মিটার।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের সর্ববৃহৎ উঁচুভূমি।
- বর্তমানে বরেন্দ্র বহুমুখী সেচ প্রকল্প এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ অঞ্চলটিকে কৃষিকাজের জন্য বিশেষ উপযোগী করা হয়েছে।

খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়:
- টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলার মধুপুর এবং গাজীপুর জেলার ভাওয়ালের গড় নিয়ে এলাকাটি গঠিত।
- এটি প্লাইস্টোসিন যুগের দ্বিতীয় বৃহত্তম উঁচুভূমি।
- সমভূমি থেকে এর গড় উচ্চতা প্রায় ৩০ মিটার এবং আয়তন ৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার।
- এখানকার মৃত্তিকা কৃষিকাজের জন্য তেমন উপযোগী নয়। এটি দেশের গজারী বৃক্ষের কেন্দ্র হিসাব পরিচিত।

গ) লালমাই পাহাড়:
- কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত এ পাহাড়টি বিস্তৃত।
- এর আয়তন প্রায় ৩৪ বর্গকিলোমিটার এবং গড় উচ্চতা ২১ মিটার।
- এ পাহাড়ের মাটি লাল এবং নুড়ি, বালি ইত্যাদি দ্বারা গঠিত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২২১.
কোন অঞ্চলে স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি?
  1. ক) নিরক্ষীয় অঞ্চলে
  2. খ) মেরু অঞ্চলে
  3. গ) ক্রান্তীয় অঞ্চলে
  4. ঘ) প্রান্তীয় অঞ্চলে
ব্যাখ্যা
নিরক্ষীয় অঞ্চলে (Equatorial region) স্থলভাগের চেয়ে জলভাগের বিস্তৃতি বেশি এবং এখানে সূর্যকিরণ সারা বছর লম্বভাবে পড়ে।
৬,২২২.
মৃত সাগর কোন দেশে অবস্থিত?
  1. ওমান
  2. মিশর
  3. ইরান
  4. জর্ডান
ব্যাখ্যা
ডেড সি:

- ডেড সি বা মৃত সাগর জর্ডানে অবস্থিত।
- মৃত সাগর বা লবণ সাগর নামেও পরিচিত।
- ডেড সি জর্ডান এবং ইসরায়েলের মধ্যে অবস্থিত দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার একটি লবণাক্ত হ্রদ।
- এই প্রাকৃতিক বিস্ময়টি সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে ৪৩০.৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
- ডেড সি পৃথিবীর সবচেয়ে লবণাক্ত জলাশয়গুলির মধ্যে একটি, সাধারণ সমুদ্রের জলের তুলনায় প্রায় দশ গুণ বেশি লবণাক্ত।
- এটি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে পানি হারায়। 
- উচ্চ লবণাক্ত স্তর এবং কঠোর জলবায়ু জন্যে ডেড সি তে কোনো মাছ জন্মায় না।

তথ্যসূত্র - Worldatlas.com
৬,২২৩.
গড় হিসেবে বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস কোনটি?
  1. জানুয়ারি
  2. এপ্রিল
  3. জুন
  4. আগস্ট
ব্যাখ্যা
গ্রীষ্মকাল:
- মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে গ্রীষ্মকাল।
- এটিই দেশের উষ্ণতম ঋতু।
- এ ঋতুতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সে. এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২১ ডিগ্রি সে. পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- গড় হিসেবে বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস এপ্রিল।
- এ সময়ে সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে দেশের দক্ষিণ থেকে উত্তরদিকে তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বেশি থাকে।
- এপ্রিল মাসের গড় তাপমাত্রা কক্সবাজারে ২৭.৬৪ ডিগ্রি সে., নারায়ণগঞ্জে ২৮.৬৬ ডিগ্রি সে. এবং রাজশাহীতে প্রায় ৩০ ডিগ্রি সে. থাকে।
- গ্রীষ্মকালে সূর্য উত্তর গোলার্ধের কর্কটক্রান্তি রেখার নিকটবর্তী হওয়ায় বায়ুর চাপের পরিবর্তন হয় এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু প্রবাহিত হতে থাকে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,২২৪.
নিচের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়? 
  1. বায়ু দূষণ
  2. দুর্ভিক্ষ
  3. মহামারী
  4. কালবৈশাখী
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী মানবসৃষ্ট আপদ (hazard) নয়।

‘আপদ (Hazard):

- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
⇒ প্রাকৃতিক আপদ:
- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন, কালবৈশাখী ইত্যাদি।

⇒ মানবসৃষ্ট আপদ:
- ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড, বায়ু দূষণ, দুর্ভিক্ষ, মহামারী  ইত্যাদি।

⇒ কারিগরি আপদ:
- বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৬,২২৫.
নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়ে যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে কী ধরনের সমভূমি বলা হয়?
  1. ক) ব-দ্বীপ
  2. খ) হিমবাহ
  3. গ) সামুদ্রিক
  4. ঘ) উপকূলীয়
ব্যাখ্যা
• ব-দ্বীপ:
- নদীর গতিপথের সর্বশেষ পর্যায়ে অর্থাৎ সমুদ্রে পতিত হওয়ার পূর্বে নদীর গতি সর্বাধিক মন্থর থাকে এবং পানিতে পলির পরিমাণ থাকে সর্বাধিক। ফলে নদীর মোহনাতে প্রচুর পরিমাণে পলি সঞ্চিত হয়। এ পলি সঞ্চিত হতে হতে বাংলা মাত্রাহীন ‘ব’ এর মতো যে সমভূমির সৃষ্টি হয় তাকে ব-দ্বীপ বলে।
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ, পাকিস্তানের সিন্ধু, মিশরের নীল, ব্রহ্মদেশের ইরাবতী, চীনের ইয়াংসি, হোয়াংহো, উত্তর আমেরিকার মিসিসিপি, ইতালির পো প্রভৃতি নদীর মোহনায় বিস্তীর্ণ ব-দ্বীপ গঠিত হয়েছে।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২২৬.
Where does the Brahmaputra enter Bangladesh?
  1. ক) Lalmonirhat
  2. খ) Nilphamari
  3. গ) Kurigram
  4. ঘ) Bhurungamari
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র (Brahmaputra):

- ব্রহ্মপদ নদ হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- এটি তিব্বত ও আসামের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- এই নদ ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে ভৈরব বাজারের দক্ষিণে মেঘনায় মিলিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের ভিতরে এ নদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৭ কিলোমিটার।
- ধরলা ও তিস্তা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান উপনদী।
- আর প্রধান শাখানদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা। 

তথ্যসূত্র: ভুগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২২৭.
ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে কী বলা হয়?
  1. Focus (ফোকাস)
  2. Fault (ফল্ট)
  3. Epicenter (উৎসকেন্দ্র)
  4. Seismic Zone (ভূকম্পীয় অঞ্চল)
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্প:
- ভূ-অভ্যন্তরে আকস্মিক সৃষ্ট কম্পনের দরুণ আকস্মিকভাবে ভূমির যে কম্পন হয় তাকে ভূমিকম্প বলে। 
- ভূ-অভ্যন্তরের যে স্থানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয় তাকে কেন্দ্র (Centre বা Focus) বলে।
- কেন্দ্র থেকে সোজা উপরের দিকে ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে উপকেন্দ্র (Epicentre) বলে।
- ভূমিকম্পের উৎপত্তির কেন্দ্র হতে দূরত্ব বৃদ্ধির সাথে ভূ-কম্পন শক্তি হ্রাস পায়।
- ভূমিকম্পের কেন্দ্র ভূ-অভ্যন্তরের প্রায় ১৬-২০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত হয়ে থাকে।
- যে যন্ত্রের সাহায্যে ভূমিকম্প পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় সিসমোগ্রাফ।

উৎস: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২২৮.
কোন নদী 'কীর্তিনাশা' নামে পরিচিত?
  1. পদ্মা নদী
  2. যমুনা নদী
  3. মেঘনা নদী
  4. ব্রহ্মপুত্র নদী
ব্যাখ্যা
পদ্মা নদী:
- পদ্মা নদী 'কীর্তিনাশা' নামে পরিচিত। 
- ভারতের মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি।
- রাজশাহীর কাছে কুষ্টিয়ার উত্তর প্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
- তারপর গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে।
- এই মিলিত ধারা পদ্মা নামে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়েছে।
- অতঃপর তিন নদীর মিলিত স্রোত বঙ্গোপসাগরে ঢুকেছে।
- শাখা নদী: মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ, ভৈরব, মাথাভাঙা, কুমার, কপোতাক্ষ, শিবসা, পশুর (বা পসুর) বড়াল প্রধান।
- উপনদী: মহানন্দা, ট্যাঙ্গন, পুনর্ভবা, নগর, কুলিক।

উল্লেখ্য,
- দেশের দীর্ঘতম নদী পদ্মা।
- দেশের তিন বিভাগের ১২টি জেলায় প্রবাহিত নদীটির দৈর্ঘ্য ৩৪১ কিলোমিটার।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
              ii) বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,২২৯.
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়-
  1. ক) কয়লা
  2. খ) প্রাকৃতিক গ্যাস
  3. গ) এলএনজি
  4. ঘ) তেল
ব্যাখ্যা
পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। এতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কয়লা। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দেশের সর্ববৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। (সূত্রঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
৬,২৩০.
ভূ-প্রকৃতি অনুযায়ী, বরেন্দ্রভূমি কোন যুগের পাহাড়?
  1. প্লাইস্টোসিনকালের সোপান
  2. টারাশয়ারি যুগের পাহাড়
  3. সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি
  4. পাদদেশীয় পলল সমভূমি
ব্যাখ্যা
প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ:
- আনুমানিক ২৫,০০০ বছর পূর্বের সময়কে প্লাইস্টোসিন কাল বলে।
- দেশের উত্তর-পশ্চিমাংশের বরেন্দ্রভূমি, মধ্যভাগের মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় এবং কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড় বা উচ্চভূমি এর অন্তর্ভুক্ত।

⇒ টারাশয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ:
- বাংলাদেশের মোট ভূমির ১২ শতাংশ এলাকা নিয়ে টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ গঠিত।
- টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বত উত্থিত হওয়ার সময় যে সকল পর্বতের সৃষ্টি হয়েছে সেগুলো টারশিয়ারি যুগের পাহাড় নামে পরিচিত।
- দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ও উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি ভূমি যেমন রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং হবিগঞ্জের পাহাড়গুলো টারশিয়ারি যুগের।
- এগুলো সবচেয়ে প্রাচীন ভূমি।

⇒ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি:
- টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ি এলাকা এবং প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ ব্যতীত সমগ্র বাংলাদেশ সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমির অন্তর্ভুক্ত।
- সাম্প্রতিককালের প্লাবন সমভূমি অঞ্চলটি পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, মেঘনা প্রভৃতি নদ-নদী ও এদের উপনদী, শাখানদী বাহিত পলিমাটি দ্বারা গঠিত।

উৎস: i) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
         ii) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৩১.
পাহাড়ের বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে কোন বনভূমি প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠে? 
  1. ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বন
  2. স্রোতজ বন
  3. শ্বাসমূলীয় বন
  4. ক্রান্তীয় পাতাঝরা বন
ব্যাখ্যা

• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- পাহাড়ের অধিক বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে ক্রান্তীয় চিরহরিৎ এবং কম বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাতাঝরা গাছের বনভূমি দেখা যায়।

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি 
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
এ বনভূমিকে দুই অংশে ভাগ করা হয়েছে- 
(ক) ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর জেলার মধুপুর ও ভাওয়ালের বনভূমি; 
(খ) দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় বরেন্দ্র বনভূমি অবস্থিত। 
শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

তথ্যসূত্র: ভূগোল পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি। 

৬,২৩২.
আগ্নেয় পর্বতের আরেক নাম কী?
  1. অববাহিকা পর্বত
  2. ভাঁজজাত পর্বত
  3. সঞ্চয়জাত পর্বত
  4. ক্ষয়জাত পর্বত
ব্যাখ্যা
আগ্নেয় পর্বত: 
- আগ্নেয় পর্বত আগ্নেয়গিরি থেকে উদগিরিত পদার্থ সঞ্চিত ও জমাট বেঁধে আগ্নেয় পর্বত সৃষ্টি হয় ।
- আগ্নেয় পর্বতকে সঞ্চয়জাত পর্বতও বলে।
- এই পর্বত সাধারণত মোচাকৃতির (Conical) হয়ে থাকে।
- আগ্নেয় পর্বতের উদাহরণ হলো-
- ইতালির ভিসুভিয়াস, কেনিয়ার কিলিমানজারো, জাপানের ফুজিয়ামা এবং ফিলিপাইনের পিনাটুবো পর্বত।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৩৩.
বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কোনটি?
  1. ক) মেঘনা
  2. খ) পদ্মা
  3. গ) কর্ণফুলী
  4. ঘ) যমুনা
ব্যাখ্যা
 • কর্ণফুলী নদী :
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম কর্ণফুলী।
- মিজোরামের লুসাই পাহাড়ের লংলেহ কর্ণফুলী নদীর উৎপত্তিস্থল।
- বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী কর্ণফুলী।
- পাহাড়ি এ নদী চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
- কর্ণফুলী নদীর প্রধান উপনদী হালদা, কাসালং, বোয়ালখালি, চেঙ্গী, শিলক, রাঙখিয়াং ইত্যাদি।
- রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই নামক স্থানে বাঁধ দিয়ে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
- এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট।
- দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরটি এই নদীর তীরে চট্টগ্রামে অবস্থিত। 

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৩৪.
বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা রয়েছে কোন দেশের?
  1. ক) শ্রিলংকা
  2. খ) থাইল্যান্ড
  3. গ) ভারত
  4. ঘ) ক ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সাথে সমুদ্রসীমা আছে দুটি দেশেরঃ ভারত এবং মিয়ানমার। তাদের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে কয়েকবছর আগে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হয় নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত Permanent Court Arbitration (PCA) বা স্থায়ী সালিশী আদালতে। ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ এ আদালতে মামলা দায়ের করে। আদালত শুনানি শেষে ৭ জুলাই ২০১৪ রায় প্রদান করে। এতে বিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গ কিমি সমুদ্রসীমার মধ্যে বাংলাদেশ ১৯,৪৬৭ এবং ভারত ৬,১৩৫ বর্গকিমি এলাকা পায়। এর আগে ২০১২ সালে ১৪ই মার্চ ITLOS বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমুদ্রসীমার রায় প্রদান করে। Permanent Court Arbitration (PCA) ১৮৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর সদস্য সংখ্যা ১২২ টি। বাংলাদেশ ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল এর সদস্য হয়।

উৎসঃ মাধ্যমিক ভূগোল

৬,২৩৫.
পৃথিবীতে চাপ বলয়ের সংখ্যা কতটি রয়েছে?
  1. ৭টি
  2. ৮টি
  3. ৫টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

 চাপ বলয়:
- পৃথিবীতে মোট চাপ বলয়ের সংখ্যা ৭টি। এর মধ্যে উচ্চচাপ বলয় চারটি এবং নিম্নচাপ বলয় তিনটি।
এগুলো হলো:
- নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়
- কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়
- মকরীয় উচ্চচাপ বলয়
- উত্তর মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- দক্ষিণ মেরুবৃত্ত নিম্নচাপ বলয়
- উত্তর মেরু উচ্চচাপ বলয় এবং
- দক্ষিণ মেরু উচ্চচাপ বলয়।

সূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক প্রাকৃতিক ভূগোল,নবম-দশম শ্রেণি। 

৬,২৩৬.
নিচের কোনটি নিয়ত বায়ুপ্রবাহ?
  1. উপত্যকা বায়ু
  2. পার্বত্য বায়ু
  3. মৌসুমি বায়ু
  4. অয়ন বায়ু
ব্যাখ্যা

বায়ুপ্রবাহের প্রকারভেদ:
- বায়ুপ্রবাহ মূলত চার প্রকার। যথা-
# নিয়মিত বায়ু।
# স্থানীয় বায়ু।
# সাময়িক বায়ু।
# অনিয়মিত বায়ু।

• নিয়ত বায়ুপ্রবাহ তিন প্রকার। যথা-
# অয়ন বায়ু।
# মেরু বায়ু।
# পশ্চিমা বায়ু।

• সাময়িক বায়ু প্রধানত দুই প্রকার। যথা-
# স্থলবায়ু ও সমুদ্রবায়ু।
# মৌসুমি বায়ু।

• স্থানীয় বায়ু হলো দুই প্রকার। যথা-
# পার্বত্য বায়ু।
# উপত্যকা বায়ু।

• অনিয়মিত বায়ু দুই প্রকার। যথা-
# ঘূর্ণিবাত বায়ু।
# প্রতীপ ঘূর্ণিবাত বায়ু।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২৩৭.
যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা কী নামে পরিচিত?
  1. ক) শিশিরাঙ্ক
  2. খ) আপেক্ষিক আর্দ্রতা
  3. গ) তুল্য আর্দ্রতা
  4. ঘ) কুয়াশা
ব্যাখ্যা
বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপ পদ্ধতি: বায়ুর আর্দ্রতা পরিমাপের জন্য সংখ্যাতাত্ত্বিক মানে প্রকাশের ক্ষেত্রে দুটি পদ্ধতি উলে-খয্যেগ্য। এগুলো হলো-

• আপেক্ষিক আর্দ্রতা (Relative Humidity):
- নির্দিষ্ট পরিমাণ বায়ুতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প উপস্থিত থাকে তার পরিমাণকে বলা হয় বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা।
- আপেক্ষিক আর্দ্রতা দ্বারা বায়ুর চাপ বা তাপমাত্রার কোনো তারতম্য ঘটে না বরং তাপমাত্রা বেড়ে গেলে বায়ুতে জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতাও বাড়তে থাকে।
- এ কারণেই আপেক্ষিক আর্দ্রতার মান জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া সাপেক্ষে তাপমাত্রার বৃদ্ধির ফলে বৃদ্ধি পায়।
- সাধারণত বায়ুতে যে পরিমাণ জলীয়বাষ্প উপস্থিত থাকে তার মান গ্রাম/কিলোগ্রামে প্রকাশ করা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, এই মান একক আয়তনের বায়ুর মধ্যে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণকে বুঝায়।
- যেমন- এক কিলোগ্রাম বায়ুতে এক গ্রাম জলীয়বাষ্প আছে ।

• তুল্য আর্দ্রতা (Absolute Humidity):
- কোনো নির্দিষ্ট আয়তনের বায়ুতে অবস্থিত জলীয়বাষ্পের প্রকৃত পরিমাপকে তুল্য আর্দ্রতা বলে।
- তুল্য আর্দ্রতা দুই পদ্ধতিতে পরিমাপ করা যায়। যথা- হাইগ্রোমিটার এবং সাইক্রোমিটার।
- উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২৫০° সে. তাপমাত্রায় সম্পৃক্ত ১ কিলোগ্রাম বায়ুতে ২০ গ্রাম জলীয়বাষ্প থাকে।
- যদি কোনো সময়ের বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্পের পরিমাণ ১০ গ্রাম হয় তবে ঐ সময়ের তুল্য আর্দ্রতা হবে ১০/২০ অথবা ৫০ শতাংশ।

 • তুল্য আর্দ্রতার সাথে শিশিরাঙ্কের সম্পর্ক রয়েছে।
- যে তাপমাত্রার বায়ু জলীয়বাষ্পে সম্পৃক্ত হয় তা শিশিরাঙ্ক নামে পরিচিত।
- অর্থাৎ বায়ুতে উপস্থিত জলীয়বাষ্প দ্বারা ঐ বায়ুতে সম্পৃক্ত করতে হলে যে তাপমাত্রা পর্যন্ত শীতল করা প্রয়োজন সেই তাপমাত্রাকে শিশিরাঙ্ক (Dew Point) বলে।
- শিশিরাঙ্কের চেয়ে কম তাপমাত্রার বায়ুস্থ জলীয়বাষ্প শিশির (Dew) হিসেবে জমে যেতে পারে।

সূত্র: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৩৮.
নিম্নের কোনটি অহিমালয়ী নদী?
  1. ক) ব্রহ্মপুত্র
  2. খ) মেঘনা
  3. গ) গঙ্গা
  4. ঘ) উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা
- দুটি হিমালয়ী নদী গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র, সম্মিলিত স্রোতোধারায় বিশ্বের যে-কোন নদী-ব্যবস্থার তুলনায় সবচেয়ে বেশি অবক্ষেপ বঙ্গোপসাগরে এনে ফেলছে। 
- এই দুই নদী অপর অহিমালয়ী নদী মেঘনার সহযোগে বিশ্বের সর্ববৃহৎ যে বদ্বীপটির সৃষ্টি করেছে, সেটি গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ বা বঙ্গীয় বদ্বীপ নামে পরিচিত।
- গঙ্গানদী তার উত্তরপূর্বমুখী যাত্রায় কয়েকটি বদ্বীপের সৃষ্টি করে পরে সেগুলোকে পরিত্যাগ করে বর্তমান অবস্থান গ্রহণ করেছে। জেমস রেনেলের মানচিত্রে দেখা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ ছিল পূর্বমুখী যা ময়মনসিংহের কাছে আদি ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপ গঠন করেছিল। 
- বর্তমানে এই নদের গতিপথটি সোজা দক্ষিণমুখী। অবশ্য পূর্বে এই দুটি নদী আলাদা আলাদাভাবে বঙ্গোপসাগরে পতিত হতো, বর্তমান গঠনে এরা পরিশেষে সম্মিলিতভাবে সাগর সঙ্গমে মিলিত হচ্ছে। 
- নদীসমূহের এই বদ্বীপ গঠন কার্যক্রম বাংলাদেশের উপকূল রেখার প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ গঠনে অবদান রেখেছে।
 
উৎস: বাংলাপিডিয়া
৬,২৩৯.
NDMAC এর পূর্ণরূপ -
  1. ক) National Disaster Management Advisory Counsel
  2. খ) National Disaster Management Administrative Committee
  3. গ) National Disaster Management Advisory Committee
  4. ঘ) National Disaster Management Administrative Counsel
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপঃ
- NDMC = National Disaster Management Council.
- NDMAC = National Disaster Management Advisory Committee
- DDMC = District Disaster Management Committee
- UZDMC = Upazila Disaster Management Committee.
- UDMC = Union Disaster Management Committee
৬,২৪০.
নিচের কোনটি গ্রীন হাউস গ্যাস নয়?
  1. ওজোন
  2. নাইট্রোজেন
  3. মিথেন
  4. কার্বন ডাই-অক্সাইড
ব্যাখ্যা

• নাইট্রোজেন গ্রীন হাউস গ্যাস নয়।

গ্রীন হাউস গ্যাস: 
- গ্রীন হাউজ ইফেক্টের জন্য দায়ী গ্যাসগুলোকে বলা হয় গ্রীন হাউজ গ্যাস। 
- কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রীন হাউজ গ্যাস হচ্ছে - 
• জলীয় বাষ্প, 
• কার্বন ডাই অক্সাইড, 
• নাইট্রাস অক্সাইড, 
• মিথেন, 
• ওজোন, 
• ক্লোরোফ্লোরো কার্বন ইত্যাদি। 
- কার্বন ডাই সালফাইড (CS2) এবং কার্বনিল সাইফাইড (COS) পরোক্ষ গ্রিন হাউজ গ্যাস। 

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি, ব্রিটানিকা এবং Royal Society of Chemistry.

৬,২৪১.
গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে কোন নদী?
  1. পদ্মা
  2. ব্রহ্মপুত্র
  3. যমুনা
  4. কর্ণফুলী
ব্যাখ্যা
পদ্মা:
- বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী পদ্মা।
- ভারতে এই নদীর নাম গঙ্গা।
- গঙ্গা নদী হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- এরপর প্রথমে দক্ষিণ-পশ্চিম ও পরে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে ভারতের হরিদ্বারের নিকট সমভূমিতে পড়েছে।
- এরপর ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহার রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ধুলিয়ান নামক স্থানে ভাগীরথী (হুগলি নদী) নামে এর একটি শাখা বের হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,২৪২.
আয়তন এবং গভীরতার দিক থেকে সবচেয়ে বড় মহাসাগর কোনটি?
  1. ক) প্রশান্ত মহাসাগর
  2. খ) আটলান্টিক মহাসাগর
  3. গ) ভারত মহাসাগর
  4. ঘ) উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
• পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর প্রশান্ত মহাসাগর।
• প্রশান্ত মহাসাগরের আয়তন - ১৬ কোটি ৮৭ লক্ষ বর্গকিলোমিটার।
• গড় গভীরতা - গড় - ৪,১৮৮ মি.; সর্বোচ্চ গভীরতা - ১০,৯২০ মি.
• এই মহাসাগরে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ প্রবাল প্রাচীর গ্রেট বেরিয়ার রিফ অবস্থিত।
• ২৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রবাল প্রাচীর অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত‌।
• আর পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগরের নাম আটলান্টিক মহাসাগর। 

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস এবং ভূগোল প্রথম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৪৩.
নিচের কোনটি পাললিক শিলার উদাহরণ?
  1. শেল
  2. স্লেট
  3. মার্বেল
  4. ব্যাসল্ট
ব্যাখ্যা
শিলার প্রকারভেদ:
ভূ-ত্বক গঠনকারী সকল শিলাসমূহকে গঠন প্রণালির ভিত্তিতে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
ক. আগ্নেয় শিলা: ব্যাসল্ট, গ্রানাইট ইত্যাদি।
খ. পাললিক শিলা: বেলে পাথর, শেল, লিগনাইট, বিটুমিনাস, জিপসাম, ডলোমাইট ইত্যাদি।
গ. রূপান্তরিত শিলা: কাঁদা রূপান্তরিত হয়ে স্লেটে, গ্রানাইট রূপান্তরিত হয়ে নিসে পরিণত হয়।

পাললিক শিলা
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠন করে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- এ শিলার পলি সাধারণত স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়। আর স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয় বলে এ শিলাকে স্তরীভূত শিলাও বলা হয়।
- পাললিক শিলা ভূ-ত্বকের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ। তবে মহাদেশীয় ভূ-ত্বকের উন্মুক্ত অংশের প্রায় ৭৫ ভাগই পাললিক শিলায় গঠিত। 
- পাললিক শিলার প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্তরীভূত, জীবাশ্ম বিশিষ্ট, অকেলাসিত, তরঙ্গচিহ্ন ও কোমলতা ইত্যাদি।

• পাললিক শিলা প্রধানত তিন প্রকার। যথা: 
১। যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- বেলেপাথর
২। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- চুনাপাথর এবং 
৩। জৈবিক উপায়ে গঠিত পাললিক শিলা। যেমন- বাংলাদেশের জামালগঞ্জের কয়লা ও গোপালগঞ্জের পিট কয়লা।

তথ্যসূত্র: ভূগোল প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৪৪.
আহ্নিক গতির বেগ কোন অক্ষাংশে সর্বাপেক্ষা বেশি?
  1. সুমেরু বিন্দুতে
  2. মেরু প্রদেশে
  3. কর্কটক্রান্তি রেখায়
  4. নিরক্ষরেখায়
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর আহ্নিক গতি:
- পৃথিবী সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষে অনবরত পশ্চিম হতে পূর্ব দিকে আবর্তন করছে। পৃথিবীর এই আবর্তনকে আহ্নিক গতি বা দৈনিক গতি বলা হয় ৷
- নিজ অক্ষে একবার ঘুরতে পৃথিবীর মোট ২৩ ঘন্টা ৫৬ মিনিট ৪ সেকেন্ড বা ২৪ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। এই সময়কে সৌরদিন বলা হয়।
- পৃথিবী গোলাকার হলেও এর ব্যাস সর্বত্র সমান নয়।
- নিরক্ষরেখা বরাবর পৃথিবীর ব্যাস সর্বাপেক্ষা বেশি হওয়ায় এই অঞ্চলে পৃথিবীর আহ্নিক গতির বেগও সর্বাপেক্ষা বেশি (ঘন্টা প্রতি ১৭০০ কি.মি. প্ৰায়)।
- এই গতিবেগ মেরুদ্বয়ের দিকে ক্রমশ কমে আসতে থাকে এবং ৯০° উত্তর ও ৯০° দক্ষিণ মেরুবিন্দু দ্বয়ে প্রায় স্তিমিত হয়ে যায়৷
- ঢাকায় আহ্নিক গতির বেগ প্রায় ১৬০০ কি.মি./ঘন্টা।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৬,২৪৫.
বায়ুমন্ডলের কোন স্তর দিয়ে জেট বিমান চলাচল করে?
  1. ট্রপোস্ফিয়ার
  2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার
  3. মেসোস্ফিয়ার
  4. থার্মোস্ফিয়ার
ব্যাখ্যা
বায়ুমণ্ডলকে পাঁচটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ট্রপোমণ্ডল,
২. স্ট্রাটোমন্ডল,
৩. মেসোমণ্ডল,
৪. তাপমণ্ডল ও
৫. এক্সোমণ্ডল।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ:
- মেঘ, বৃষ্টিপাত, বজেওপাত, বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, তুষাড়পাত, শিশির, কুয়াশা ট্রপোস্ফিয়ারে সৃষ্টি হয়। সাধারনত এই স্তর দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল করে।
- ওজোন গ্যাস থাকে স্ট্রেটোস্ফিয়ারে। এই স্তর দিয়ে জেট বিমান উড়ে।
- উল্কা মেসোস্ফিয়ারে অবস্থান করে।
- থার্মোস্ফিয়ারের নিচের অংশকে আয়নমন্ডল বলে।  বেতার তরঙ্গ আয়নমন্ডলে বাধাগ্রস্থ হয়ে ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসে।
- সবচেয়ে উচু স্তর হলো এক্সোমন্ডল যেখানে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেনের গ্যাস থাকে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, ৯ম-১০ম শ্রেণি এবং ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম (উন্মুক্ত)।
৬,২৪৬.
খরার প্রভাব দেশের কোন অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়?
  1. পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চল
  2. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল
  3. পূর্ব-দক্ষিণাঞ্চল
  4. উত্তর-পূর্বাঞ্চল
ব্যাখ্যা
- দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।

• খরা (Drought) :
- দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে।
- অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়।
- সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।

• অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব:
- আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়
- প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে
- পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে
- অগ্নিকান্ডের উপদ্রব বেড়ে যায়

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি।
৬,২৪৭.
নিচের কোনটি ট্রপোমন্ডলে সৃষ্টি হয়?
  1. ক) ঝড়
  2. খ) মেঘ
  3. গ) বৃষ্টি
  4. ঘ) সবগুলো
ব্যাখ্যা
ট্রপোমন্ডল:
- বায়ুমন্ডলের যে স্তরটি ভূ-ত্বকের সব থেকে নিচের স্তরে অবস্থিত সেটি হলো ট্রপোমন্ডল বা ট্রপোস্ফিয়ার।
- এই স্তরে বায়ুপ্রবাহ, ঝড়, মেঘ, বৃষ্টি, কুয়াশা, তুষারপাত, শিশির ইত্যাদির সৃষ্টি হয়।
- ট্রপোমন্ডলের শেষ প্রান্তের অংশের নাম ট্রপোবিরতি বা ট্রপোপজ।
- ট্রপোবিরতি এলাকায় তাপমাত্রা ৫৪০ সেলসিয়াসের নিচে থাকে।
- ট্রপোমন্ডলের গভীরতা পৃথিবীর চারিদিকে সবসময় সমান থাকে না।
- ভিন্ন ভিন্ন অক্ষাংশে ও ঋতুভেদে এই গভীরতার পার্থক্য হয়।

তথ্যসূত্র:- ভূগোল ও পরিবেশ, এস এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৪৮.
হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের আধিক্য রয়েছে কোন স্তরে?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. আয়নোমণ্ডল
  3. মেসোমণ্ডল
  4. এক্সোমন্ডল
ব্যাখ্যা
এক্সোমন্ডল (Exosphere): 
- তাপমন্ডলের উপরে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত যে বায়ুস্তর আছে তাকে এক্সোমণ্ডল বলে।
- এই স্তরে হিলিয়াম ও হাইড্রোজেন গ্যাসের প্রাধান্য দেখা যায়।
- এক্সোমন্ডল, তাপমণ্ডল অতিক্রম করে ৯৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রসারিত হয়।
- এটি ক্রমান্বয়ে আন্তগ্রহ স্থান (Interplanetary Space) এ প্রবেশ করে।
- এ স্তরের তাপমাত্রা প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস থেকে ১৬৫০° সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়।
- এ স্তরে খুব সামান্য পরিমাণ গ্যাস যেমন- অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, আর্গন এবং হিলিয়াম ধারণ করে, কেননা মাধ্যাকর্ষণের ঘাটতির কারণে গ্যাস অণু বা কণাগুলো সহজে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৪৯.
বঙ্গোপসাগর কোন মহাসাগরের অংশ?
  1. প্রশান্ত মহাসাগর
  2. ভারত মহাসাগর
  3. আটলান্টিক মহাসাগর
  4. আর্কটিক মহাসাগর
ব্যাখ্যা

বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগরের উত্তর‑পূর্ব অংশ। 
- এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান উপসাগরগুলোর মধ্যে একটি।
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপসাগর হিসেবে বঙ্গোপসাগরকে বিবেচনা করা হয়।
- এর আয়তন মোট আয়তন ২৬,০০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- বঙ্গোপসাগরের গড় গভীরতা ২,৬০০ মিটার,
- সর্বোচ্চ গভীরতা ৪,৬৯৪ মিটার।
- পশ্চিমে শ্রীলঙ্কা এবং ভারত, 
- উত্তরে বাংলাদেশ এবং 
- পূর্বে মায়ানমার (বার্মা) এবং মালয় উপদ্বীপের উত্তর অংশ অবস্থিত। 
- বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলো (চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা) বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে যুক্ত।
- গঙ্গা‑ব্রহ্মপুত্র‑মেঘনা নদীর মিলিত প্রবাহ এই উপসাগরে পতিত হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৬,২৫০.
বাংলাদেশের পূর্ব থেকে পশ্চিমে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি কত??
  1. ৭৬০ কিমি
  2. ৪৪০ কিমি
  3. ৭৪০ কিমি
  4. ৪৬০ কিমি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিচিতি :
- বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি দেশ।
- এই দেশের ভূখণ্ডগত বিস্তৃতি ১৪৭, ৫৭০ বর্গ কিলোমিটার, যা গ্রীসের চাইতে সামান্য বড়। 
- এর ভৌগোলিক অবস্থান ২০°৩৪´ উ থেকে ২৬°৩৮´ উ অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১´ পূ থেকে ৯২°৪১´ পূ দ্রাঘিমাংশে।
- পূর্ব থেকে পশ্চিমে এর সর্বোচ্চ বিস্তৃতি প্রায় ৪৪০ কিমি
- উত্তর উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্বে সর্বোচ্চ বিস্তৃতি ৭৬০ কিমি। 
- বাংলাদেশের সর্বপূর্বের : স্থান : আখাইনঠং, উপজেলা : থানচি জেলা : বান্দরবান।
- সর্বপশ্চিমের: - স্থান : মনাকষা - উপজেলা : শিবগঞ্জ - জেলা : চাঁপাইনবাবগঞ্জ। 
- সর্বদক্ষিণের: - স্থান : ছেঁড়া দ্বীপ - উপজেলা : টেকনাফ - জেলা : কক্সবাজার।
- সর্বউত্তরের:- স্থান : বাংলাবান্দা - উপজেলা: তেঁতুলিয়া- জেলা : পঞ্চগড়।
- বাংলাদেশ ৮টি মূল প্রশাসনিক অঞ্চল সমন্বয়ে গঠিত, যা বিভাগ নামে পরিচিত। এগুলো হলো বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রংপুর বিভাগ।
- এসকল বিভাগের অধীনে রয়েছে ৬৪টি জেলা এবং এই ৬৪টি জেলাকে বিভক্ত করা হয়েছে মোট ৪৯৫টি উপজেলায়।

তথ্যসূত্র- জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,২৫১.
কোন প্রণালী ভারত মহাসাগর ও জাভা সাগরকে যুক্ত করেছে?
  1. জিব্রাল্টার প্রণালী
  2. ফরমোজা প্রণালী
  3. পক প্রণালী
  4. সুন্দা প্রণালী
ব্যাখ্যা
 সুন্দা প্রণালী:
- সুন্দা প্রণালী ভারত মহাসাগর ও জাভা সাগরকে যুক্ত করেছে।
- এটি ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ ও সুমাত্রা দ্বীপকে পৃথক করেছে।
- সুন্দা প্রণালী ব্যতীত মালাক্কা প্রণালীও ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরকে যুক্ত করেছে।
- সুন্দা প্রণালীর সর্বনিম্ন প্রস্থ প্রায় ২৪ কি.মি এবং সর্বনিম্ন গভীরতা প্রায় ২০ মিটার। 

অন্যদিকে,
- পক প্রণালী ভারত মহাসাগরের বঙ্গোপসাগর ও পক উপসাগরকে যুক্ত করেছে।
- ফরমোজা প্রণালী প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরকে যুক্ত করেছে।
- জিব্রাল্টার প্রণালী ভূম্যসাগরকে উত্তর আটলান্টিক সাগরের সাথে যুক্ত করেছে।

উৎস: WorldAtlas.
৬,২৫২.
বাংলাদেশে দীর্ঘতম দিন-
  1. ২১ জুন
  2. ২২ জুন
  3. ২০ জুন
  4. ১৯ জুন
ব্যাখ্যা
দীর্ঘতম দিন:
- ২১ জুন উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।

অন্যদিকে-
- ২২ ডিসেম্বর উত্তর গোলার্ধের সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বিপরীত অবস্থা বিরাজ করে।
- ২১শে মার্চ ও ২৩শে সেপ্টেম্বর সূর্য নিরক্ষরেখার (০°) উপর লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে এই দুই দিন পৃথিবীর সর্বত্র দিন-রাত্রির দৈর্ঘ্য সমান হয়।
- ২১শে মার্চ উত্তর গোলার্ধে বসন্তকাল থাকায় এই উত্তর গোলার্ধে বিষুব 'বাসন্ত বিষুব’ (Vernal Spring Equinox) নামে অভিহিত।
- অপরদিকে ২৩শে সেপ্টেম্বর উত্তর গোলার্ধে শরৎকাল বিরাজ করায় উত্তর গোলার্ধে এই বিষুব ‘শারদ বিষুব' (Autumnal Equinox) নামে অভিহিত হয়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৫৩.
নিম্নের কোনটি মানবসৃষ্ট আপদ নয়?
  1. নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা
  2. শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা
  3. পারমানবিক দুর্ঘটনা
  4. নদী ভাঙ্গন
ব্যাখ্যা

আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

উল্লেখ্য,
- প্রাকৃতিক আপদ: ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছাস, বজ্রঝড়, টর্ণেডো, বন্যা, ভূমিকম্প, সুনামি, খরা, নদী ভাঙ্গন ইত্যাদি।
- মানবসৃষ্ট আপদ: ভবনধ্বস, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি।
- কারিগরি আপদ: বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ড, শিল্প ও কলকারখানায় দুর্ঘটনা, পারমানবিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।

৬,২৫৪.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি টনের্ডো কোথায় হয়?
  1. ভিয়েতনাম
  2. ইন্দোনেশিয়া
  3. উত্তর আমেরিকা
  4. ভারত মহাসাগরের নিকট
ব্যাখ্যা
• টর্নেডোর বৈশিষ্ট্য: 
→ টর্নেডোতে প্রথমত আকস্মিকভাবে বায়ুচাপের হ্রাস ঘটে বলেই বড় বড় ইমারতে ফাটল ধরে।
→ বায়ুর আবর্তন হয় অত্যন্ত দ্রুতবেগে। ফলে বায়ুপ্রবাহের সম্মুখে প্রতি বর্গফুটে বায়ুচাপের পরিমাণ হয় ১৬০ থেকে
১০০০ পাউন্ড।
→ টর্নেডোর উত্তোলন ক্ষমতা অনেক ভয়ঙ্কর। ভয়ঙ্কর বেগে টর্নেডোর বায়ু উপরের দিকে উত্থিত হয় এবং পথে যা পায়
তাই তুলে নেয়।
→ ভূমিতে টর্নেডোর রৈখিক গতিবেগ বিভিন্ন টর্নেডোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকমের হয়। যেমন- উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো দক্ষিণ
পশ্চিম দিক থেকে আসে।
→ টর্নেডোর গতিপথ অর্ধবৃত্তাকার হতে পারে এবং উত্তর গোলার্ধে টর্নেডো ডানদিকে আবর্তিত হয়।
→ টর্নেডোর গতিবেগ ঘন্টায় ৫ হতে ৬৫ মাইল হয়ে থাকে। তবে কখনো কখনো গড় গতিবেগ ঘন্টায় ৩৫ থেকে ৪৫
মাইল হয়।
→ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি টর্নেডো প্রবণ এলাকা উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া।
→ সমুদ্রের উপর টর্নেডো সৃষ্টি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে, মেক্সিকো উপসাগরে এবং চীন ও জাপানের
উপকূলের নিকটস্থ সমুদ্রে গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রকোপ দেখা যায়।
 
তথ্যসূত্র: ভূগোল (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৫৫.
নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard)?
  1. ভূমিকম্প
  2. ভূমিধস
  3. সুনামি
  4. খরা
ব্যাখ্যা
কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) হচ্ছে খরা।

‘আপদ (Hazard):
- আপদ একটি অস্বাভাবিক ঘটনা যা প্রাকৃতিক, মানব সৃষ্ট বা কারিগরি ক্রটির কারণে ঘটতে পারে এবং মানুষের জীবন ও জীবিকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।
- এর ফলস্বরূপ বিপর্যয় সংঘটনের মাধ্যমে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপদ ও হুমকির মধ্যে নিপতিত করে।
- দুর্যোগ যেমন ভূমিকম্প, বন্যা ইত্যাদির প্রাথমিক এবং প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে অবকাঠামোর উপর যার পুনঃনির্মাণ খুব ব্যয়বহুল কাজ।
- সব চরম ঘটনাই হচ্ছে আপদ।

⇒ খরা ( Drought):
- কোনো এলাকা দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে উক্ত এলাকাটির মাটির স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে।
- উক্ত এলাকার মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায় ও ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যায়। মাটির এরূপ অবস্থাকে খরা বলা হয়।
- বাংলাদেশের উওর-পশ্চিমাঞ্চল অনাবৃষ্টি বা খরার প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়।
- খরা উপদ্রুত অঞ্চলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে পানির অভাব দেখা দেয়।
- বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল পর্যাপ্ত ফসলের অভাবে খাদ্যদ্রব্যের অভাব প্রকট হয়ে পড়ে।
- গাছপালা বিহীন শুষ্ক প্রকৃতি ও তীব্র গরমে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

অন্যদিকে, 
- ভূমিকম্প, ভূমিধস, সুনামি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard) নয়।

উৎস: i) ভূগোল প্রথম পত্র, HSC প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২।
৬,২৫৬.
কোন ধরনের শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে?
  1. রূপান্তরিত শিলা 
  2. আগ্নেয় শিলা
  3. পাললিক শিলা 
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

- পাললিক শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। 

• পাললিক শিলা (Sedimentary Rocks):
- পলি সঞ্চিত হয়ে যে শিলা গঠিত হয়েছে তাকে পাললিক শিলা বলে।
- বৃষ্টি, বায়ু, তুষার, তাপ, সমুদ্রের ঢেউ প্রভৃতি শক্তির প্রভাবে আগ্নেয় শিলা ক্ষয়প্রাপ্ত ও বিচূর্ণীভূত হয়ে রূপান্তরিত হয় এবং কাঁকর, কাদা, বালি ও ধুলায় পরিণত হয়।
- ক্ষয়িত শিলাকণা জলস্রোত, বায়ু এবং হিমবাহ দ্বারা পরিবাহিত হয়ে পলল বা তলানিরূপে কোনো নিম্নভূমি, হ্রদ এবং সাগরগর্ভে সঞ্চিত হতে থাকে।
- পাললিক শিলা ভূপৃষ্ঠের মোট আয়তনের শতকরা ৫ ভাগ দখল করে আছে।
- তবে মহাদেশীয় ভূত্বকের আবরণের ৭৫ ভাগই পাললিক শিলা।
- পলল বা তলানি থেকে গঠিত হয় বলে এরূপ শিলাকে পাললিক শিলা বলে ।
- পাললিক শিলা যৌগিক, জৈবিক বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গঠিত হতে পারে।
- বেলেপাথর, কয়লা, শেল, চুনাপাথর, কাদাপাথর ও কেওলিন পাললিক শিলার উদাহরণ।
- জীবদেহ থেকে উৎপন্ন হয় বলে কয়লা ও খনিজ তেলকে জৈব শিলাও বলে।
- অনেক পাললিক শিলার মধ্যে নানাপ্রকার উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দেহাবশেষ বা জীবাশ্ম দেখা যায়।

উৎস: ভূগোল, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,২৫৭.
বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের ইউনিয়ন কোনটি?
  1. ক) হাতিয়া
  2. খ) কক্সবাজার
  3. গ) টেকনাফ
  4. ঘ) সেন্টমার্টিন
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সর্ব পশ্চিমে- চাঁপাইনবাবগঞ্জ (জেলা), শিবগঞ্জ (উপজেলা), মনাকাষা (স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব পূর্বে- বান্দরবান (জেলা), থানচি (উপজেলা), আখানইঠং( স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে-কক্সবাজার (জেলা), টেকনাফ (উপজেলা), সেন্টমার্টিন (ইউনিয়ন), ছেঁড়া দ্বীপ (স্থান)।
বাংলাদেশের সর্ব উত্তরে- পঞ্চগড় (জেলা), তেতুলিয়া (উপজেলা), বাংলাবান্ধা (ইউনিয়ন), জায়গীর জোত (স্থান)।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
৬,২৫৮.
২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা কত ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পাবে?
  1. ক) ০.২ - ৩.১
  2. খ) ৩.১ - ৪.৮
  3. গ) ১.৩ - ৩.৫
  4. ঘ) ১.১ - ৬.৪
ব্যাখ্যা
IPCC এর চতুর্থ মুল্যায়ন রিপোর্ট অনুযায়ী গত একশো বছরে পৃথিবীর তাপমাত্রা প্রায় ০.৭ ডিগ্রি বেড়েছে৷ ২১০০ সালের মধ্যে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ১.১-৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেতে পারে।
উৎসঃ বিজ্ঞান-নবম দশম শ্রেণি
৬,২৫৯.
ভূমিকম্পের প্রধান কারণ কোনটি?
  1. ভূমিধস
  2. আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত
  3. টেকটোনিক প্লেটের সরণ
  4. ভূগর্ভস্থ চাপ 
ব্যাখ্যা

ভূমিকম্পের প্রধান কারণ:
- ভূমিকম্পের প্রধান কারণ- টেকটোনিক প্লেটের সরণ।
- পৃথিবীর ভূত্বক বিভিন্ন প্লেট বা ফলকে গঠিত।
- এই প্লেটের সঞ্চালন ভূমিকম্পের প্রধান কারণ। 
- টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ, বিচ্যুতি বা ঘর্ষণের ফলে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে বড় আকারের ভূমিকম্প সৃষ্টি করে।
- এছাড়াও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, শিলাচ্যুতি ও ভাঁজ, ভূমিধস এবং ভূগর্ভস্থ বাষ্প বা গ্যাসের চাপও ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে, তবে টেকটনিক প্লেটের নড়াচড়াই মূল কারণ।
- ভূমিকম্প সাধারণত সেই স্থানে হয় যেখানে পৃথিবীর দুটি ব্লক হঠাৎ একে অপরের পাশে পিছলে যায়।
- যে তল বরাবর এই পিছলে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, তা চ্যুতিতল বা ফল্ট প্লেন নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থলকে হাইপোসেন্টার বা কেন্দ্র বলা হয়;
- এবং এর ঠিক ওপরে যে স্থান থাকে তাকে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র বলা হয়।
- ভূমিকম্পের ধরণে রয়েছে ফোরশক বা পূর্বাভাস কম্পন, যা ছোট আকারের।
- এই কম্পন মূল ভূমিকম্পের আগে ঘটে।

উৎস:
১. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি;
২. প্রথম আলো।

৬,২৬০.
পদ্মা ও যমুনা নদী কোন জেলায় মিলিত হয়েছে?
  1. ফরিদপুর
  2. চাঁদপুর
  3. রাজবাড়ি
  4. নারায়ণগঞ্জ
ব্যাখ্যা
যমুনা (Jamuna): 
- ব্রহ্মপুত্র একসময় বিশাল স্রোতধারা নিয়ে ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ নদ।
- যমুনা নদীও ছিল ব্রহ্মপুত্রের শাখা নদী।
- মূলত ১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে ব্রহ্মপুত্রের স্রোতধারা দেওয়ানগঞ্জের কাছে এসে ওই শীর্ণকায় খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেটিই আজকের যমুনা নদী। 
- এটি দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়ে রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দের নিকট পদ্মার সাথে মিলিত হয়। 
- এরপর এই মিলিত স্রোত দক্ষিণ-পূর্ব দিকে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। 
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা। 
- যমুনার উপনদীগুলোর মধ্যে ধরলা, তিস্তা, করতোয়া, আত্রাই অন্যতম।

উল্লেখ্য, 
- বাংলাদেশের প্রধান নদী পদ্মা। এ নদী গঙ্গা নামে মধ্য হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন হয়েছে।
- পদ্মা ও যমুনা রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দায় মিলিত হয়ে পদ্মা নাম ধারণ করেছে এবং
- এটি চাঁদপুরে মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে মেঘনা নাম ধারণ করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।

তথ্যসূত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,২৬১.
১৭৮৭ সালের ভূমিকম্পের ফলে কোন নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল?
  1. পদ্মা
  2. তিস্তা
  3. মেঘনা
  4. ব্রহ্মপুত্র
ব্যাখ্যা
ব্রহ্মপুত্র নদ:
- ব্রহ্মপুত্র নদ হিমালয় পর্বতের তিব্বত অংশে অবস্থিত মানস সরোবর থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে।
- তিব্বত অঞ্চল অতিক্রম করে এটি ভারতের অরুণাচল প্রদেশ ও আসাম রাজ্যে প্রবেশ করে এবং পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
- বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর এটি ময়মনসিংহ জেলার দেওয়ানগঞ্জের কাছে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বাঁক নিয়ে প্রবাহিত হয়।
- ভৈরববাজারের দক্ষিণে মেঘনা নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত এই নদী 'পুরাতন ব্রহ্মপুত্র' নামে পরিচিত।
- এই নদীর প্রধান শাখা নদী হলো বংশী ও শীতলক্ষ্যা এবং প্রধান উপনদী হলো ধরলা ও তিস্তা।

উল্লেখ্য,
- ১৭৮৭ সালে তীব্র ভূমিকম্পে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল।
- যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যায় এবং নদীটির পানিধারণ ক্ষমতা হ্রাস পায়।
- এর ফলে নদীর পুরনো গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে একটি নতুন স্রোতধারা সৃষ্টি হয়, যা বর্তমানে যমুনা নদী নামে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৬২.
একাধিক খনিজ পর্দাথের সমন্বয়ে তৈরি হয় কোনটি?
  1. শিলা
  2. পানি
  3. বাযু
  4. উদ্ভিজ্জ 
ব্যাখ্যা
• খনিজ:
→ খনিজ হলো প্রাকৃতিক অজৈব পদার্থ, যার সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন এবং ভৌত রাসায়নিক ধর্ম রয়েছে। যথা:
কোয়ার্টজ, ফেলসপার, হীরা, সোনা, পারদ, গন্ধক ইত্যাদি।
→ একাধিক খনিজের সংমিশ্রনে শিলা গঠিত হয়ে থাকে। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৬৩.
সাহারা মরুভূমি ও সাভানা বনভূমির মধ্যবর্তী পরিবর্তনশীল অঞ্চলকে কী বলে?
  1. প্রেইরি
  2. তুন্দ্রা
  3. সাহেল
  4. রেইনফরেস্ট
ব্যাখ্যা
আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল:
- সাহারা মরুভূমি ও সাভানা বনভূমির মধ্যবর্তী পরিবর্তনশীল অঞ্চলকে সাহেল বলে। 

- সাহেল হল আফ্রিকার একটি ভূখণ্ড যা সেনেগাল এবং মৌরিতানিয়ার আটলান্টিক উপকূল থেকে ইরিত্রিয়ার লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত।
- সাহেল উত্তরে সাহারা মরুভূমি এবং দক্ষিণে উর্বর সাভানার মধ্যে একটি বাফার বা ট্রানজিশন জোনের মতো কাজ করে।
- সাহেল একসময় বেশ কয়েকটি আদিবাসী আফ্রিকান রাজ্যের আবাসস্থল ছিল।
- আরবি ভাষায় সাহেলের আক্ষরিক অর্থ "প্রান্ত" বা "সীমানা"।

উৎস: World Atlas.
৬,২৬৪.
দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় কত সালে কঠিন শিলা আবিষ্কৃত হয়?
  1. ১৯৬৬ সালে
  2. ১৯৬৮ সালে
  3. ১৯৭২ সালে
  4. ১৯৭৪ সালে
ব্যাখ্যা
কঠিন শিলা (Hard Rock):
- পাললিক শিলা থেকে পৃথক এবং সাধারণভাবে শক্ত, ঘন, কেলাসিত আগ্নেয় অথবা রূপান্তরিত শিলাকে কঠিন শিলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরের মধ্যপাড়ায় কঠিন শিলার খনি পাওয়া গিয়েছে।
- আবিষ্কারক ও আবিষ্কারের সন: জিএসবি, ১৯৭৪ সালে।
- গভীরতা: ১২৮ মিটার।
- মজুদ: ১৭১ মেট্রিক টন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৬ সালে রংপুর জেলার বদরগঞ্জ থানার রানীপুকুর নামক স্থানে প্রায় ১৮২ মিটার মাটির নিচে প্রথম কঠিন শিলার সন্ধান পাওয়া যায়।
- দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার মধ্যপাড়ায় ১২৮ মিটার মাটির নিচে কঠিন শিলা রয়েছে যা ২০০৭ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু হয়।
- মধ্যপাড়ায় গ্রানোডায়োরাইট, কোয়ার্টজ, ডায়োরাইট, নিস্ ইত্যাদি কঠিন শিলা পাওয়া যায়।
- এছাড়া নওগাঁ জেলার পত্নীতলা, সিলেট জেলার ভোলাগঞ্জ এবং পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়ায় কঠিন শিলা পাওয়া গেছে।
- রেললাইন, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, নদীর বাঁধসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে কঠিন শিলা ব্যবহৃত হয়।

উৎস: i) বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ বাংলা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ওয়েবসাইট।
৬,২৬৫.
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠন করা হয় কত সালে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০০৯ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৫ সালে
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট: 
- বর্তমানে বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে পৃথিবীর অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গ্রহণের পর সরকার কর্তৃক ২০০৯ সালে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা ২০০৯ (বিসিসিএসএপি, ২০০৯)  চুড়ান্ত করা হয়।
- উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম এই ধরণের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করে।
- জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও অভিযোজন কর্মসূচি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP), 2009' বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে।
- এই কর্মপরিকল্পনায় ৬টি থিমেটিক এরিয়ায় ৪৪টি কার্যক্রম চিহ্নিত করা হয়েছে।
- জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার জন্য এবং BCCSAP, ২০০৯ এ উল্লিখিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড (BCCTF) গঠন করা হয়েছিল ২০১০ সালে। 
- জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বলবৎ করা হয় জলবায়ু ট্রাস্ট আইন-২০১০। 

সূত্র: বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ও অর্থনৈতিক সমীক্ষা - ২০২৩।
৬,২৬৬.
GPS এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Global Positioning Structure
  2. General Positioning System
  3. Global Positioning System
  4. Geographical Projection System
ব্যাখ্যা
জিপিএস: 
- বর্তমানে মানচিত্র তৈরি, পঠন এবং ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে আধুনিক ব্যবহার হচ্ছে জিপিএস এবং জিআইএস।
- জিপিএস (GPS)-এর ইংরেজি হলো Global Positioning System (GPS)।
- কোনো একটি স্থানের ভৌগোলিক অবস্থান জানতে চাইলে সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে জিপিএস-এর মাধ্যমে জানা।
- জিপিএস দ্বারা কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানের অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ, উচ্চতা ও দূরত্ব জানা যায়।
- এছাড়া ঐ স্থানের উত্তর দিক, তারিখ ও সময় জানা যায়।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
৬,২৬৭.
বাংলাদেশের সাথে ভারতের কয়টি রাজ্যের সীমান্ত আছে? 
  1. ৫টি
  2. ৪টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মোট জেলা- ৩২টি।
- বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মিয়ানমার দুটি দেশের সীমান্ত রয়েছে।
- ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩০টি।
- মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা- ৩টি (কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান)।
- বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।
- বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
- সীমান্ত রাজ্য হলো:  পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, এবং মিজোরাম।

- বাংলাদেশের সাথে মায়ানমারের ২টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

৬,২৬৮.
বাংলাদেশের সর্বাধিক বনাঞ্চাল রয়েছে কোন জেলায়? ( মে ২০২৫)
  1. বান্দরবান
  2. রাঙামাটি
  3. বাগেরহাট
  4. খুলনা
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের বনাঞ্চালের পরিমাণ - ৬৩,৬৩,৩০৯.৩৩ একর। ( মে ২০২৫)
- সর্বাধিক বনাঞ্চাল সম্পন্ন জেলা ৫ টি।
- রাঙামাটি - ১৩,৭৮,৫৫৫.১৩ একর।
- বান্দরবান - ৭, ৯৭,৫১৬.৪৯ একর।
- বাগেরহাট - ৫,৬৬,৫১২.৯৫ একর।
- খাগড়াছড়ি - ৫,৫৪,১১৬.২১ একর।
- খুলনা - ৫,৪৬,০৮১.৬১ একর।


উৎস:
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৩।
৬,২৬৯.
কর্ণফুলী নদীর উৎস ভারতের কোন রাজ্যে?
  1. মেঘালয়
  2. মণিপুর
  3. মিজোরাম
  4. ত্রিপুরা
ব্যাখ্যা
কর্ণফুলী নদীর উৎস ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুসাই পাহাড়ে।

কর্ণফুলী নদী:
- বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি নদী।
- এটি ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে ।
- এই নদীর মোহনাতে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম বন্দর অবস্থিত।
- এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার।
- এটি চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির প্রধান নদী।
- এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী।
- উপ- নদী (Tributary): ইছামতি, হালদা, তুইলিয়ান পুই অথবা সাজাল লুই, থেগা অথবা কাওপুই, শুভলং-মরম ছড়া, ভান্দরজুরি খাল, শাইলক খাল, হীরার ছড়া।
- শাখা-নদী (Distributary): নাই।

⇒ ১৯৬৪ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর বাঁধ দিয়ে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কাপ্তাই বাঁধ তৈরি করা হয়।
- এই বাঁধে সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে কাপ্তাই জলবিদ্যুেকন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৭০.
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় সীমার দৈর্ঘ্য কত?
  1. ক) ১২ কি.মি.
  2. খ) ২৫০ কি.মি.
  3. গ) ২০০ কি.মি.
  4. ঘ) ৭১১ কি.মি.
ব্যাখ্যা
• বিজিবি এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে:
- বাংলাদেশের মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য : ৫,১৩৮ কিলোমিটার
- মোট স্থলসীমান্ত : ৪,৪২৭ কি.মি.
- ভারতের সাথে স্থলসীমান্ত : ৪,১৫৬ কি.মি.
- মিয়ানমারের সাথে স্থলসীমান্ত : ২৭১ কি.মি.
- সমুদ্রতট রেখার দৈর্ঘ্য : ৭১১ কিলোমিটার।


• মাধ্যমিক ভূগোল বইয়ের তথ্যানুসারে:
- মোট সীমান্ত : ৪,৭১১ কিলোমিটার
- মোট স্থলসীমান্ত : ৩,৯৯৫ কি.মি.
- ভারতের সাথে স্থলসীমান্ত : ৩,৭১৫ কি.মি.
- মিয়ানমারের সাথে স্থলসীমান্ত : ২৮০ কি.মি.
- সমুদ্রতট রেখার দৈর্ঘ্য : ৭১৬ কি.মি.।


তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণী : পৃষ্ঠা- ১৪৯, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর এবং বিজিবি
৬,২৭১.
বর্তমানে পৃথিবীতে কয়টি মহাসাগর রয়েছে?
  1. ৭ টি
  2. ৬ টি
  3. ৫ ‍টি
  4. ৮ ‍টি
ব্যাখ্যা
→ পৃথিবীতে ৫টি মহাসাগর রয়েছে।
•মহাসাগর (Oceans): 

- ভূপৃষ্ঠের বিশাল, বিস্তৃত, সুগভীর ও লবণাক্ত জলরাশিকে মহাসাগর বলে।
- পৃথিবীর প্রায় ৭১% জায়গা জুড়ে রয়েছে এ মহাসাগর।
- পৃথিবীর মহাসাগরসমূহের জলরাশির আয়তন প্রায় ১.৩৩২ বিলিয়ন কিউবিক কিলোমিটার।
- প্রতিটি মহাসাগরের তলে রয়েছে বিশাল বিশাল পর্বতমালা, বিস্তীর্ণ অববাহিকা এবং উপত্যকা।
- মহাসাগর শব্দটি এসেছে গ্রীক 'ওকিয়ানোজ' শব্দ থেকে।
- জলভাগের মোট আয়তন ৩৬১,৪১৯,০০০ বর্গ কিলোমিটার (৭০.৯%)।
- এবং মহাসাগরসমূহের আয়তন ৩৩৫,২৫৮,০০০ বর্গ কিলোমিটার।

• পৃথিবীতে ৫টি মহাসাগর রয়েছে-
১. প্রশান্ত মহাসাগর (Pacific Ocean);
২. আটলান্টিক মহাসাগর (Atlantic Ocean);
৩. ভারত মহাসাগর (Indian Ocean);
৪. দক্ষিণ মহাসাগর (Southern Ocean);
৫. উত্তর মহাসাগর (Arctic Ocean)।

উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৭২.
ভারত মহাসাগরে অবস্থিত নিচের কোন দ্বীপটি?
  1. মালদ্বীপ
  2. মাদাগাস্কার
  3. মরিশাস
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
→ বর্ণিত সবগুলো ভারত মহাসাগরের অবস্থিত।
• ভারত মহাসাগর (Indian Ocean):
- ভারত মহাসাগর এশিয়ার দক্ষিণ অংশকে ঘিরে অবস্থিত।
- এবং আফ্রিকা মহাদেশকে অস্ট্রেলিয়া হতে বিচ্ছিন্ন করেছে।
- ভারত মহাসাগর আয়তনে মহাসাগরগুলোর মধ্যে তৃতীয়।
- এর আয়তন প্রায় ৬ কোটি ৮৬ লক্ষ বর্গ কি. মি.।
- এবং গড় গভীরতা প্রায় ৩,৯৬৩ মিটার।
- ভারত মহাসাগর পৃথিবীর জলভাগের প্রায় ২০% এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
- সুন্ডাখাদ (৭,৭২৫ মিটার) এর গভীরতম সমুদ্রখাত।

→ ভারত মহাসাগরের দ্বীপসমূহ:
- আন্দামান এবং নিকোবর,মালদ্বীপ।
- মাদাগাস্কার (পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম দ্বীপ), 
- শ্রীলংকা, মরিশাস, মৌরতানিয়া, ভিক্টেরিয়া।

উৎস: উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ প্রশিক্ষণ, বি এড, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৭৩.
সার্ক আবহাওয়া গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত ছিলো-
  1. ক) গুজরাটে
  2. খ) ঢাকায়
  3. গ) কলম্বোয়
  4. ঘ) থিম্পুতে
ব্যাখ্যা

২০১৬ সালে ৪টি আঞ্চলিক সংস্থার সমন্বয়ে সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র পুণঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

৪টি সংস্থা হচ্ছে -
১) সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (নয়া দিল্লী),
২) সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্র (ঢাকা),
৩) সার্ক বন কেন্দ্র (থিম্পু) ও
৪) সার্ক উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (মালে)।

সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র-এর বর্তমানে এর সদরদপ্তর - গান্ধীনগর, গুজরাট, ভারত

উল্লেখ্য, উপরে উল্লিখিত এই চারটি সংস্থা ২০১৬ সাল থেকে স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত।

(সূত্র: সার্ক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র ওয়েবসাইট)

৬,২৭৪.
১৮০° দ্রাঘিমারেখার অপর নাম কী?
  1. নিরক্ষরেখা
  2. আর্ন্তজাতিক তারিখ রেখা
  3. মকরক্রান্তি রেখা
  4. কর্কটক্রান্তি রেখা
ব্যাখ্যা
⇒ ১৮০° দ্রাঘিমা রেখাটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা হিসাবে চিহ্নিত।

দ্রাঘিমা রেখা:

- ভূ-পৃষ্ঠের কোনো স্থানে মূল মধ্যরেখার সাথে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুতে সৃষ্ট কৌণিক দূরত্বকে দ্রাঘিমাংশ বলে।
- যে কাল্পনিক রেখার মাধ্যমে দ্রাঘিমাংশ প্রকাশ করা হয়, তাকে দ্রাঘিমা রেখা বলে।
- অর্থাৎ পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ মেরু সংযোগকারী কাল্পনিক রেখাসমূহ দ্রাঘিমা রেখা।
- যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের নিকটবর্তী গ্রীনিচ নামক স্থানে একটি মান মন্দির বরাবর যে দ্রাঘিমা রেখা অতিক্রম করেছে, তাকে মূল দ্রাঘিমা রেখা বা মূল মধ্যরেখা বলা হয়।
- এই মূল মধ্যরেখাটির মান ০° ধরে নেয়া হয়।
- প্রতি ১° অন্তর অন্তর একটি করে দ্রাঘিমা রেখা কল্পনা করা হয়।
- মূল মধ্যরেখা থেকে পূর্বে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০টি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা কল্পনা করা হয়।
- অপরদিকে মূল মধ্য রেখা থেকে পশ্চিমে মোট ১৮০° পর্যন্ত মোট ১৮০ টি পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা কল্পনা করা হয়।
- পৃথিবী গোলাকৃতির হওয়ার ১৮০° পূর্ব ও ১৮০° পশ্চিম দ্রাঘিমা রেখা মূলত একই মধ্যরেখার পড়ে।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৭৫.
সমুদ্রের তলদেশে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সীমানা কত?
  1. ১২ নটিক্যাল মাইল
  2. ১২০ নটিক্যাল মাইল
  3. ২০০ নটিক্যাল মাইল
  4. ৩৫০ নটিক্যাল মাইল
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা
- ২০১২ সালে ITLOS এবং ২০১৪ সালে PCA যথাক্রমে মিয়ানমার ও ভারত সাথে সমুদ্রসীমা নিয়ে করা মামলায় বাংলাদেশের পক্ষে রায় দেয়।
- এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ মোট ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিমি সমুদ্রসীমা অর্জন করে। 
- বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা - ১২ নটিক্যাল মাইল।
- অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা - ২০০ নটিক্যাল মাইল।
- মহীসোপান বা সমুদ্রের তলদেশে বাংলাদেশ ভূখণ্ডের সীমানা - উপকূল থেকে ৩৫০ নটিক্যাল মাইল।

উল্লেখ্য, 
- ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিমি।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,২৭৬.
ওজোন স্তর কোথায় অবস্থিত?
  1. ট্রপোমণ্ডলে
  2. স্ট্রাটোমণ্ডলে
  3. মেসোমণ্ডলে
  4. এক্সোমণ্ডলে
ব্যাখ্যা
- সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণকারী ওজোন স্তর স্ট্রাটোমণ্ডলের ওপরের দিকে অবস্থিত।

স্ট্রাটোমণ্ডল:
- বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটি হলো স্ট্রাটোমণ্ডল।
- যা ভূ-পৃষ্ঠ থেকে উপরের দিকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এ স্তরের শেষ সীমা স্ট্রাটোবিরতি।
- এ স্তরে ২০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত তাপমাত্রার কোনো পরিবর্তন হয় না।
- স্ট্রাটোবিরতিতে তাপমাত্রা ০° সেলসিয়াস বা এর কাছাকাছি হয়।
- স্ট্রাটোমণ্ডলের উপরের দিকে ওজোন গ্যাসের স্তর রয়েছে যা ওজোন মন্ডল নামে পরিচিত।
- এ স্তরটির গভীরতা ১২-১৬ কিলোমিটার।
- ওজোন স্তর সূর্যরশ্মির অতি বেগুনি রশ্মি শোষণ করে।
- জীবজগতের জন্য সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি খুবই ক্ষতিকর।
- তবে এটি ওজোন স্তর ভেদ করে পৃথিবীতে পৌছাতে পারে না।

সূত্র: ভূগোল-১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৭৭.
ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় গঠিত কমিটি-
  1. UZDMC
  2. UDMC
  3. NDMAC
  4. NDMC
ব্যাখ্যা

UDMC :
- UDMC-এর পূর্ণরূপ: Union Disaster Management Committee.
- ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় UDMC।
- এই কমিটি দুর্যোগের ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, পূর্বপ্রস্তুতি, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার প্রভৃতি কর্মকাণ্ড করে থাকে।
- স্বাভাবিক সময়ে প্রতি মাসের অন্তত একবার UDMC এর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- DMC গঠিত হয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বার এনজিও কর্মকর্তা দুর্যোগের বিপর্যস্ত গ্রুপের প্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, এবং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের সমন্বয়ে।
- স্বাভাবিক সময়ে এ কমিটি একটি করে মিটিং করে এবং দুর্যোগ কালীন সময়ে একাধিক মিটিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

• বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিষয়ের পূর্ণরূপ:
- NDMC: National Disaster Management Council.
- NDMAC: National Disaster Management Advisory Committee.
- DDMC: District Disaster Management Committee.
- UZDMC: Upazila Disaster Management Committee.

উৎস: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।

৬,২৭৮.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও পোল্যান্ডের মধ্যে কোন সীমারেখা নির্ধারিত হয়?
  1. ম্যানারহেইম লাইন
  2. ওডারনিস লাইন
  3. সনোরা লাইন
  4. জিগফ্রিড লাইন
ব্যাখ্যা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মিত্রশক্তি কর্তৃক জার্মানি ও পোল্যান্ডের মাঝে নিরূপিত সীমারেখা হলো ওডারনিস লাইন।

অন্যদিকে,
- জিগফ্রিড লাইন (জার্মানি নির্মিত) : ফ্রান্স-জার্মানি সীমান্ত
- ম্যানারহেইম লাইন (ফিনল্যান্ড নির্মিত) : ফিনল্যান্ড-রাশিয়া সীমান্ত
- সনোরা লাইন : যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো।

(তথ্যসূত্র: হিস্টোরি এবং ব্রিটানিকা)
৬,২৭৯.
পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বড় কারণ __
  1. ক) পানিতে আর্সেনিকের পরিমাণ হ্রাস
  2. খ) পরিবেশ দূষণ হ্রাস
  3. গ) ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ কামনো
  4. ঘ) উৎপাদন খরচের আধিক্য
ব্যাখ্যা
- ২০০২ সালে প্রণীত বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন অনুযায়ী দেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০২ অনুযায়ী -
- সকল বা যে কোন প্রকার পলিথিন শপিং ব্যাগ, বা পলিইথাইলিন বা পলিপ্রপাইলিনের তৈরী অন্য কোন সামগ্রী বা অন্য যে কোন সামগ্রী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তাহা হইলে, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, সমগ্র দেশে বা কোন নির্দিষ্ট এলাকায় এইরূপ সামগ্রীর উৎপাদন, আমদানী, বাজারজাতকরণ, বিক্রয়, বিক্রয়ের জন্য প্রদর্শন, মজুদ, বিতরণ, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে পরিবহন বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করিবার বা প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত শতাধীনে ঐ সকল কার্যক্রম পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশ জারী করিতে পারিবে এবং উক্ত নির্দেশ পালনে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তি বাধ্য থাকিবেন।

• পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ: সরকার পরিবেশ দূষণ রোধে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে ঢাকা শহরে এবং একই সালের মার্চ থেকে সারাদেশে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। পরিবেশ অধিদপ্তর নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ যাতে ব্যবহার হতে না পারে সে লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে থাকে। পাশাপাশি সরকার জনগণকেও সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

উৎস: ভূগোল ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০০২।
৬,২৮০.
'কালাপানি' কোন দুইটি দেশের মধ্যকার বিরোধপূর্ণ অঞ্চল?
  1. ভারত ও পাকিস্তান
  2. ভারত ও চীন
  3. ভারত ও নেপাল
  4. ভারত ও ভুটান
ব্যাখ্যা

• কালাপানি:
- কালাপানি হলো ভারত ও নেপালের মধ্যে একটি সীমান্ত বিরোধপূর্ণ অঞ্চল।
- এটি উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় জেলায় অবস্থিত।
- বর্তমানে এই অঞ্চল ভারত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
- নেপাল দাবি করে যে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নেপালের অংশ, যেহেতু সেখান দিয়ে মাহাকালী নদীর উৎস বইছে।
- ভারত বলে এটি তাদের ভূখণ্ড এবং দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় প্রশাসনের অধীনে।

উৎস: i) BBC.
ii) Institute Of Peace & Conflict Studies.

৬,২৮১.
পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী সবচেয়ে প্রাচীন নৃগোষ্ঠী কোনটি?
  1. ক) চাকমা
  2. খ) মারমা
  3. গ) মুরং
  4. ঘ) লুসাই
ব্যাখ্যা
- পার্বত্য চট্টগ্রামে মোট ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে।
- এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন নৃগোষ্ঠী হলো মুরং বা ম্রো সম্প্রদায়।
- এরা আনুমানিক ১৪৩০ খ্রিষ্টাব্দে আরাকান রাজ্য থেকে বান্দরবান জেলায় এসে বসতি স্থাপন করে।
- বান্দরবান জেলায় বর্তমানে প্রায় ২৮ হাজারের অধিক মুরং জনগোষ্ঠী বাস করে যা সংখ্যায় বান্দরবানের দ্বিতীয় বৃহত্তম সম্প্রদায়।
- জনসংখ্যায় দেশের বৃহত্তম ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী হলো চাকমা।
- মারমা সম্প্রদায় পার্বত্য চট্টগ্রামের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং লুসাই সম্প্রদায় ক্ষুদ্রতম নৃগোষ্ঠী।
(সূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী – সপ্তম শ্রেণী এবং বান্দরবান জেলা ও নৃগোষ্ঠী সনদ ওয়েবসাইট)
৬,২৮২.
কোনটি ধলেশ্বরী নদীর প্রধান শাখা নদী?
  1. মেঘনা
  2. বুড়িগঙ্গা
  3. ব্রহ্মপুত্র
  4. শীতলক্ষ্যা
ব্যাখ্যা
ধলেশ্বরী নদী:
- ধলেশ্বরী নদী বাংলাদেশের উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত।
- নদীটির দৈর্ঘ্য ২৯২ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ১৪৪ মিটার।
- ধলেশ্বরী নদী সর্পিলাকার প্রকৃতির।
- এটি যমুনা নদীর একটি শাখা, যা টাঙ্গাইল জেলার উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে যমুনা থেকে শুরু হয়েছে।
- নারায়ণগঞ্জের কাছে শীতলক্ষা নদীর সাথে মিশে পরে মেঘনা নদীতে পতিত হয়েছে।
- ধলেশ্বরীর প্রধান শাখা নদী হলো বুড়িগঙ্গা।
- পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তালিকায় ধলেশ্বরীর নম্বর উত্তর-কেন্দ্রীয় অঞ্চলের নদী নং ২৭।
 
উল্লেখ্য,
- যমুনার প্রধান শাখানদী ধলেশ্বরী এবং ধলেশ্বরীর শাখানদী বুড়িগঙ্গা।

তথ্যসূত্র: i) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
৬,২৮৩.
মহাকাশ থেকে প্রবেশ করলে উল্কাগুলো বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে পুড়ে যায়?
  1. ট্রপোমণ্ডল
  2. তাপমণ্ডল
  3. স্ট্রাটোমণ্ডল
  4. মেসোমণ্ডল
ব্যাখ্যা
উল্কা ও উল্কাপিন্ড (Meteors & Meteoroids):
- উল্কা মহাশূন্যে বিচরণরত ক্ষুদ্রাকৃতি বিশিষ্ট কঠিন বস্তু।
- ক্ষুদ্রায়তনের এই উল্কাপিন্ড একত্রে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করে বাতাসের সাথে সংঘর্ষে প্রজ্জ্বলিত হয়ে তুষারপাতের মতো ঝরে পড়তে থাকে।
একে উল্কাবৃষ্টি বলে।
- উল্কা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে পৃথিবী পৃষ্ঠে পতিত হলে, তাকে উল্কাপিন্ড বলে।
- মহাকাশ থেকে প্রবেশ করলে উল্কা গুলো বায়ুমন্ডলের মেসোমন্ডল স্তরে পুড়ে যায়।

তথ্যসূত্র - ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৮৪.
ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে ন্যূনতম কত ডিগ্রি সেলসিয়াস প্রয়োজন হয়?
  1. ২৪°
  2. ২৫°
  3. ২৬°
  4. ২৭°
ব্যাখ্যা
ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস (Cyclone and Tidal Surge):
- বাংলাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত বঙ্গোপসাগর গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির একটি আদর্শ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত।
- বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়সমূহের মধ্যে কোনো কোনোটি মারাত্মক ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করে।
- সাধারণত এপ্রিল-মে এবং অক্টোবর-ডিসেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়ে থাকে।
- ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য সমুদ্র পৃষ্ঠে সাধারণত ২৭° সেলসিয়াস বা এর বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ এবং চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে।
- এসময় উচ্চচাপযুক্ত বায়ু প্রবলবেগে ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রভাগে যেখানে নিম্নচাপ থাকে সেদিকে ধাবিত হয়।
- এ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়।
- এটি সমুদ্রপৃষ্ঠে উৎপত্তি লাভ করে মহাদেশীয় মূলভাগের দিকে অগ্রসর হয়।
- ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রস্থলকে চোখ বলে।
- এটি দেখতে অনেকটা মানুষের চোখের মতো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৮৫.
দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য কী?
  1. দুর্যোগ প্রতিহত করা
  2. দুর্যোগের পরে দ্রুত পুনর্বাসন করা
  3. দুর্যোগের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি পূরণ করা
  4. দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষতি হ্রাস করা
ব্যাখ্যা
দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি:
- দুর্যোগের ফলে ঝুঁকি ও ক্ষতি হ্রাসের লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্বকালে গৃহীত কার্যক্রমকে দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলে। 
- অর্থাৎ দুর্যোগপূর্ব সময়ে গৃহীত ব্যবস্থাপনা যা দুর্যোগের ঝুঁকি ও ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে তাকেই দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলা যায়।

অন্যদিকে,
- দুর্যোগের পরপরই সাড়াদান করা প্রয়োজন। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।
- দুর্যোগের ফলে জৈব ও অজৈব সকল সম্পদ, প্রাকৃতিক পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদি খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়, পুনঃনির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বলা হয়।

উৎসঃ ভূগোল ও পরিবেশ, নবম -দশম শ্রেণি এবং এইচ.এস.সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৮৬.
বাংলাদেশের সীমানার কোন দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য অবস্থিত?
  1. পূর্ব ও পশ্চিম
  2. উত্তর ও পূর্ব
  3. উত্তর ও পশ্চিম
  4. শুধু পশ্চিম
ব্যাখ্যা

◉ বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় রাজ্য অবস্থিত। এছাড়াও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রয়েছে।

বাংলাদেশের সীমানা: 
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্য হচ্ছে ৫টি।
এগুলো হলো -
→ ত্রিপুরা,
→ আসাম,
→ মিজোরাম,
→ মেঘালয় ও
→ পশ্চিমবঙ্গ।

সীমান্তবর্তী স্থান:
- বাংলাদেশের উত্তরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয় রাজ্য অবস্থিত।
- পশ্চিম দিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের সীমানা রয়েছে।
- পূর্ব দিকে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য এবং মিয়ানমার রয়েছে।
- দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং ভারতীয় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সীমানা রয়েছে, পাশাপাশি মিয়ানমারেরও অবস্থান রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা মোট ৩২টি।
- এর মধ্যে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা ৩০টি, এবং মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলার সংখ্যা ৩টি। বাংলাদেশের রাঙামাটি জেলা হলো একমাত্র জেলা, যেটা ভারত ও মিয়ানমার উভয় দেশের সীমানার সঙ্গে সংযুক্ত।

সূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬,২৮৭.
নিচের কোনটি জলজ উদ্ভিদ নয়? 
  1. হিজল
  2. করচ
  3. ডুমুর
  4. গজারী
ব্যাখ্যা
জলজ উদ্ভিদ:
- জলজ উদ্ভিদ সহজে পানিতে ভাসতে পারে, কারণ এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে।
- অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদের কাণ্ড ফাঁপা।
- এদের কাণ্ডে অনেক বায়ু কুঠুরী থাকে, তাই এরা পানিতে ভাসতে পারে।
- এই বায়ু কুঠুরী জলজ উদ্ভিদকে পানিতে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
- করচ, হিজল ও ডুমুর - জলজ উদ্ভিদ।

⇒ জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে।
- বায়ুমণ্ডলে ০.০৩% এবং পানিতে ০.৩% কার্বন ডাই-অক্সাইড আছে, তাই জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণ হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।

অন্যদিকে,
- গজারীর অপর নাম শাল।
- গাছ কাটার পর গোড়া থেকে চারা গজানোর কারণে এর নাম গজারি হয়েছে মনে করা হয়।
- লাল মাটির পাহাড়, ছোট ছোট টিলা জমিতে গজারি ভালো জন্মে।
- গজারী জলজ উদ্ভিদ নয়।
- পানিতে এ গাছ বেশিদিন বাঁচে না।

উৎস: জীববিজ্ঞান, নবম-দশম শ্রেণি।
৬,২৮৮.
বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন কত?
  1. ৬৬১৭ বর্গ কিলোমিটার
  2. ৬৭১৭ বর্গ কিলোমিটার
  3. ৬৩১৭ বর্গ কিলোমিটার
  4. ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার
ব্যাখ্যা
ম্যানগ্রোভ:
- ম্যানগ্রোভ (Mangrove) বলতে সাধারণভাবে জোয়ারভাটায় প্লাবিত বিস্তির্ণ জলাভূমিকে বোঝায়।
- ম্যানগ্রোভ বন জোয়ারভাটায় বিধৌত লবনাক্ত সমতলভূমি।

• সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম প্রাকৃতিক ম্যানগ্রোভ বনভূমি ।
- এ বনের অধিকাংশ এলাকা জোয়ার ভাটার কারণে দিনে দু'বার লোনা পানি দ্বারা বিধৌত হয় বলে একে ম্যানগ্রোভ বন বলা হয়।
- ম্যানগ্রোভ বন হলো উপকূলীয় বন।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০০০০ বর্গ কিলোমিটার।
- বাংলাদেশের সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬০১৭ বর্গ কিলোমিটার যা সুন্দরবনের মোট আয়তনের প্রায় ৬২ ভাগ।
- এর অন্য নাম বাদাবন।

⇒ সুন্দরবন সংলগ্ন জেলা ৩টি।
- সেগুলো হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা।

⇒ সুন্দরবনের প্রধান বৃক্ষ হলো সুন্দরী।
- সুন্দরী গাছের নাম থেকেই এই বনের নাম হয়েছে সুন্দরবন।
- সুন্দরবনের অন্যান্য গাছের মধ্যে গরান, গেওয়া, কেওড়া, ধুন্দল, গোলপাতা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
- বন্যপ্রাণীসমূহের মধ্যে: রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ, বানর ইত্যাদি।

⇒ ১৮৭৮ সালে সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।
- ৭ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনকে ৭৯৮তম 'World Heritage site' বা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের বৃহত্তম বনাঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বনভূমি।
- আবার একক বন হিসাবে বৃহত্তম বন সুন্দরবন সুন্দরবন বনাঞ্চল।

উল্লেখ্য,
- খুলনা জেলা ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ১৮৭৮ সালে সমগ্র সুন্দরবন এলাকাকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।
- বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, ১৮৭৫ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।
- সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ১৮৬৫ সালেে বর্তমান খুলনা এবং বাগেরহাট জেলাধীন সুন্দরবনের বনাঞ্চলকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়।
- ১৮৭৬ সালে বর্তমান সাতক্ষীরা জেলাধীন সুন্দরবনের বনাঞ্চলকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়।
- অতঃপর ১৮৭৮ সালে পূর্বে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষিত খুলনা, বাগেরহাট এবং সাতক্ষীরা জেলাধীন সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়।

উৎস: i) বনবিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।
৬,২৮৯.
কলোরাডো মালভূমিতে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ও গভীর গিরিখাতটির নাম কী?
  1. মারিয়ানা খাত
  2. মিন্ডানাও খাত
  3. গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন
  4. ডাউকি ফল্ট 
ব্যাখ্যা
মালভূমি:
→ পর্বত থেকে কম উচ্চতার তবে সমভূমি থেকে অধিক উচ্চতার খাড়া ঢালযুক্ত বিস্তীর্ণ সমতল ভূমিকে মালভূমি বলে।
→ মালভূমির উচ্চতা শত মিটার থেকে কয়েক হাজার মিটার পর্যন্ত হতে পারে।
→ পৃথিবীর বৃহত্তম মালভূমির উচ্চতা ৪,২৭০ থেকে ৪,১৯০ মিটার।
→ কলোরাডো মালভূমিতে সর্বাপেক্ষা দীর্ঘ ও গভীর গিরিখাতটির নাম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন।

- অবস্থানের ভিত্তিতে মালভূমি তিন ধরনের। যথা -
(ক) পর্বত মধ্যবর্তী মালভূমি,
(খ) পাদদেশীয় মালভূমি,
(গ) মহাদেশীয় মালভূমি। 

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ (নবম-দশম শ্রেণি), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৯০.
আয়তনের দিক থেকে পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর কোনটি?
  1. আরব সাগর
  2. ক্যারিবিয়ান সাগর
  3. দক্ষিণ চীন সাগর
  4. কোনোটি নয় 
ব্যাখ্যা

পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর:
- আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর ফিলিপাইন সাগর।
- এর আয়তন: ৫৭,০০০,০০ বর্গ কিলোমিটার। 

• পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর:
১. ফিলিপাইন সাগর (৫,৬৯৫,০০০ বর্গকি.মি.), 
২. কোরাল সাগর (৪,৭৯১,০০০ বর্গকি.মি.), 
৩. আরব সাগর (৩,৮৬২,০০০ বর্গকিমি),
৪. দক্ষিণ চীন সাগর (৩,৬৮৫,০০০ বর্গকি.মি.),
৫. ওয়েডেল সাগর (২,৮০০,০০০ বর্গকিমি)।

উল্লেখ্য,
- গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকড অনুসারে, দক্ষিণ চীন সাগর পৃথিবীর বৃহত্তম সাগর।

উৎস: i) World Atlas. 
ii) Britannica. 
iii)  Visual Capitalist ওয়েবসাইট।

৬,২৯১.
পৃথিবীর গভীরতম মহাসাগর কোনটি?
  1. আটলান্টিক মহাসাগর
  2. প্রশান্ত মহাসাগর
  3. ভারত মহাসাগর
  4. উত্তর মহাসাগর
ব্যাখ্যা
প্রশান্ত মহাসাগর: 
- পৃথিবীর বৃহত্তম ও গভীরতম মহাসাগর হল প্রশান্ত মহাসাগর,
- এর গভীরতম স্থান মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।
- এর পরেই অবস্থান আটলান্টিক মহাসাগরের, এটি আকারে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং এর গভীরতম স্থান ন্যায়ার্স বা পুয়ের্তোরিকো ট্রেঞ্চ।

এছাড়াও,
- ভারত মহাসাগরের গভীরতম স্থান হল সুন্দা ট্রেঞ্চ। 
- ভূমধ্যসাগরের মধ্যে সবচেয়ে গভীর স্থান মাতাপ্যান এবং
- উত্তর মহাসাগরের গভীরতম স্থান ইউরেশিয়ান বেসিন। 

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এটলাস।
৬,২৯২.
'বিরিশিরি' কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) কিশোরগঞ্জ
  2. খ) নেত্রকোনা জেলায়
  3. গ) শেরপুর জেলায়
  4. ঘ) সিলেট জেলায়
ব্যাখ্যা
‘বিরিশিরি’ নেত্রকোণা জেলার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত। বিরিশিরি এলাকায় সাগরদিঘী, দূর্গাপুর রাজবাড়ী, পুরাকীর্তিক নিদর্শন মঠগড়সহ বিভিন্ন ধরনের দর্শনীয় স্থান রয়েছে।
Source: banglatribune.com
৬,২৯৩.
শীতলক্ষ্যা নদী উৎপন্ন হয়েছে-
  1. ক) যমুনা নদী হতে
  2. খ) পদ্মা নদী হতে
  3. গ) ব্রহ্মপুত্র নদী হতে
  4. ঘ) মেঘনা নদী হতে
ব্যাখ্যা
• শীতলক্ষ্যা নদী (Shitalakshya River)  পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উৎপন্ন।
- শীতলক্ষ্যা কলাগাছিয়ার কাছে ধলেশ্বরী নদীতে পড়েছে।
- বাংলাদেশের অন্যতম নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ বন্দর ও শহর এই নদীর তীরে অবস্থিত।
- বাংলাদেশের এককালীন বিখ্যাত মসলিন শিল্প শীতলক্ষ্যা নদীর উভয় তীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।

সূত্র: বাংলাপিডিয়া
৬,২৯৪.
সমবৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে বলা হয় -
  1. আইসোথার্ম
  2. আইসোবার
  3. আইসোহাইট
  4. আইসোপ্লিথ
ব্যাখ্যা
সমবৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line) বলে।

সমরেখ পদ্ধতি:

- পরিমাণগত বা ঘনত্ব জ্ঞাপক একই মান বিশিষ্ট বিভিন্ন স্থানকে মানচিত্রের উপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় সেই রেখাকে সমমান রেখা বা Isopleth line বলে।
- এ রেখা সমমান বিশিষ্ট অঞ্চলের ওপর দিয়ে টানা হয়।
- প্রকৃতিক বিষয় আবহাওয়া, জলবায়ু ইত্যাদি সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের উপাত্ত প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- যেমন- সমতাপ বা সমোষ্ণরেখা, সমচাপ রেখা, সমবর্ষণ রেখা এবং সমোষ্ণ রেখা।

উল্লেখ্য,
সমোষ্ণ রেখা (Isotherm line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর সমান তাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যুক্ত করা হয় সে রেখাকে সমোষ্ণ রেখা বলে।

সমচাপ রেখা (Isobar line):
- ভূপৃষ্ঠের ওপর বায়ুর সমচাপ বিশিষ্ট স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমচাপ রেখা (Isobar line) বলে।

সমবর্ষণ রেখা (Isohyet line):
- সমবৃষ্টিপাতযুক্ত স্থানগুলোর ওপর দিয়ে যে রেখা টানা হয় তাকে সমবর্ষণ রেখা বলে।
- সমান উচ্চতা বিশিষ্ট স্থানগুলোকে মানচিত্রের ওপর যে রেখা দ্বারা যোগ করা হয় তাকে সমোচ্চ রেখা বলে।
- এ সমস্ত রেখা কাল্পনিক।

উৎস: ব্যবহারিক ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৬,২৯৫.
জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ু পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিবাত ঢালে কোন ধরনের বৃষ্টিপাত ঘটায়?
  1. পরিচলন বৃষ্টি
  2. শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টি
  3. বায়ুপ্রাচীরজনিত বৃষ্টি
  4. সাইক্লোনিক বৃষ্টি
ব্যাখ্যা
জলীয়বাষ্পপূর্ণ উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ু প্রবাহ পথে পর্বতে বাধাপ্রাপ্ত হলে উপরের দিকে উঠে গিয়ে পর্বতের উঁচুতে শীতল ও ঘনীভূত হয়ে পর্বতের প্রতিবাত ঢালে প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়। এরূপ বৃষ্টিপাত শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত নামে পরিচিত।

এই বায়ু যখন পর্বত অতিক্রম করে অপরপ্রান্তে যায় তখন এতে জলীয়বাষ্প কমে যায়। পর্বতের অপর প্রান্তে বৃষ্টিপাত কম যা ‘বৃষ্টিচ্ছায়া অঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত।

বর্ষাকালে বাংলাদেশের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে আগত জলীয়বাষ্পপূর্ণ মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়। এই বায়ু হিমালয় পর্বতে বাঁধা প্রাপ্ত হয়ে বাংলাদেশে শৈলোৎক্ষেপ প্রক্রিয়ায় প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।

(তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ : নবম-দশম শ্রেণি)
৬,২৯৬.
সোমপুর মহাবিহার কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) নওগাঁ
  3. গ) জয়পুরহাট
  4. ঘ) কুমিল্লা
ব্যাখ্যা
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর মহাবিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত।
 
সোমপুর মহাবিহার প্রাচীন বাংলার একটি বৌদ্ধ বিহার।
- পাহাড়পুরএর উৎখননকৃত বিহার কমপ্লেক্সের সঙ্গে সোমপুর মহাবিহারকে অভিন্ন মনে করা হয়।
- পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল (আনু. ৭৮১-৮২১ খ্রি) এ বিহার স্থাপন করেন।
- ধ্বংসাবশেষ হতে কিছু মাটির সিল পাওয়া গেছে, যেখানে উৎকীর্ণ রয়েছে ‘শ্রী-সোমপুরে-শ্রী-ধর্মপালদেব-মহাবিহারিয়ার্য-ভিক্ষু-সংঘস্য’। 

 [উৎসঃ নওগাঁ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাপিডিয়া।
৬,২৯৭.
পৃথিবীর ভূত্বক কয়টি বৃহৎ টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত?
  1. ৫টি
  2. ৭টি
  3. ৯টি
  4. ১১টি
ব্যাখ্যা

টেকটোনিক প্লেট:
- টেকটোনিক প্লেট হচ্ছে পাথরের একটি স্তর যা পৃথিবীর অভ্যন্তরের গলিত অংশটির সবচেয়ে বাইরের আবরণ।
- টেকটোনিক প্লেট এর উপরে পৃথিবীর সবকিছু অবস্থান করছে।
- ১৯১২ খ্রিষ্টাব্দে আবহাওয়াবিদ আলফ্রেড ওয়েগেনারের মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব বা কন্টিনেন্টাল ড্রিফট থেকে টেকটোনিক প্লেট ধারণার জন্ম হয়।
- মহীসঞ্চারণ তত্ত্ব অনুসারে কোনো একসময় সবগুলো মহাদেশ মিলে একটি মহাদেশ ছিল যাকে প্যানজিয়া বলা হয়।

⇒ পৃথিবীর ভূত্বক ৭টি বৃহৎ টেকটোনিক প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো হলো:
- প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট (Pacific Plate),
- উত্তর আমেরিকান প্লেট (North American Plate),
- ইউরেশীয় প্লেট (Eurasian Plate),
- আফ্রিকান প্লেট (African Plate),
- অ্যান্টার্কটিক প্লেট (Antarctic Plate),
- ভারত-অস্ট্রেলীয় প্লেট (Indo-Australian Plate) ও
- দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট (South American Plate)।

উৎস: Worldatlas.

৬,২৯৮.
বাংলাদেশে ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কত রেকর্ড করা হয়েছে?
  1. ২.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  2. ২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  3. ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
  4. ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে,
- দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করেছে দেশের সবচেয়ে উত্তরে পঞ্চগড়ের তেতুলিয়াতে।
- ৮ জানুয়ারি ২০১৮ সালে তেতুলিয়াতে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
এর-  আগে সবচেয়ে কম তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয়েছিলো ১৯৬৮ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে আর সেটি ছিলো ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

উৎস: বিবিসি বাংলা।

৬,২৯৯.
কালবৈশাখী ঝড় সর্বাপেক্ষা বেশি সংঘটিত হয়-
  1. ক) উত্তরাঞ্চলে
  2. খ) পশ্চিমাঞ্চলে
  3. গ) পূর্বাঞ্চলে
  4. ঘ) দক্ষিণাঞ্চলে
ব্যাখ্যা
কালবৈশাখী ঝড় পূর্বাঞ্চলে সর্বাপেক্ষা বেশি সংঘটিত হয় এবং এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণও অধিক। উৎসঃ ভূগোল ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী
৬,৩০০.
কোথায় সুনামি হওয়ার সম্ভাবনা সর্বাধিক?
  1. দক্ষিণ চীন সাগরে
  2. প্রশান্ত মহাসাগরে
  3. আটলান্টিক মহাসাগরে
  4. ভারত মহাসাগরে
ব্যাখ্যা

- সুনামি একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
- এটি মূলত জাপানি শব্দ।
- এর অর্থ পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
- সমুদ্র তলদেশে প্রচন্ড মাত্রার ভূকম্পন বা অগ্ন্যুৎপাতের ফলে কিংবা অন্য কোনো কারণেই ভূ আলোড়নের সৃষ্টি হলে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে প্রবল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়।
- ভূকম্পনে সৃষ্ট এ সমুদ্র ঢেউ সুনামি নামে পরিচিত।
- পৃথিবীর মহাসাগর সমূহের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর অংশে সুনামি হবার সম্ভাবনা সর্বাধিক।